Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Ramakrishner Aro Galpo

Mitra,shishirkumar Ed · 2010/02/13

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শিশুতােষ সিরিজের দশম শখ।
আষাঢ়-১৩২৮ ।
শিশুতােষ সিরিজ
সম্পাদক
কুম মিg,
আরাে
গল্প
|
7।

সূচী ।
১২
১৮
চাষার প্রতিজ্ঞা
কল্পবৃক্ষ
পুরােহিত ও পােয়ালিনী
কাঠুরে ও সন্ন্যাসী
ব্যাসদেবের নদী পার
জটিল ও দীনবন্ধু দাদা
ও সেকরা
দুই ভাই
সাধু ও ভগবান
আকবর ও ফকির
তামাক খাওয়া
তাঁতীর বিপদ
সন্ন্যাসী ও জমিদার
জেলের মাছ চুরি
চাষার ছেলে
পুরােহিতের ছেলে
৩২
৩৪
৩৮
৪০
৪২
৪৪

রামকৃষ্ণেৱ আৰৱ গল্প।
চাষার প্রতিজ্ঞা
এক দেশে একবার ভয়ঙ্কর অজন্মা হইয়াছিল।
বহুকাল বৃষ্টি না হওয়ায়, জলের অভাবে ক্ষেতের
ফশল শুকাইতে আরম্ভ করিল। দুই এক দিনের
মধ্যে জল না পাইলে একটী ফশলরও বাঁচিবার
আশা রহিল না। নালা কাটিয়া নদী হইতে ক্ষেতে
জল আনিবার জন্য সকল চাষাই ব্যস্ত হইয়া উঠিল
এবং ভাের হইতে না হইতে কোদাল লইয়া ক্ষেতে
যাইয়া নালা কাটিতে সুরু করিয়া দিল। বেলা
দুপুর বাজিবার পূর্বেই অনেকেই স্নান আহার
করিবার জন্য বাড়ী ফিরিল কিন্তু একজন চাষা

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
তাহার শলগুলি বাঁচাইবার জন্য স্নান আহার
ভুলিল, বেলার দিকেও চাহিল না, নদীর জল
ক্ষেতে আনিবার জন্য ক্রমাগতই নালা কাটিয়া
চলিল। এদিকে সেই চাষার স্ত্রী দুপুর বাজিয়া
গেল তবুও স্বামীকে বাড়ী ফিরিতে না দেখিয়া
মেয়েটার হাতে এক বাটী তৈল দিয়া মাঠে পাঠাইয়া
দিল। চাষার মেয়ে মাঠে আসিয়া বলিল, “বাবা
দুপুর যে বাজে। মা তৈল পাঠাইয়া দিয়াছে।
তৈল মাখিয়া স্নান করিতে যাও।”
চাষা তখনও নালা কাটিতেছিল, সে কন্যার
কথার উত্তরে বলিল,-
“মা, আজ ক্ষেতে জল আনিতে না পারিলে
ফশল একটীও বাঁচিবে না, জল ক্ষেতে আজকে
আনা
এখন আমার নাইবার খাইবার
চাইই।
সময় নাই।”
দুইটা বাজিয়া গেল, তবুও সেই চাষার স্নান
আহারের কথা মনে পড়িল না।
বেলা যতই
বাড়িতেছিল তাহার স্ত্রীও ততই ব্যস্ত হইয়া
২

* 'কাল- বলি, হঁাগা, আজ এখনও কি স্নান করিবার সময় হয় নাই ?” পৃষ্ঠা

No text on this page.

চাষার প্রতিজ্ঞা
উঠিতেছিল। রান্নাবান্ন সমস্তই ঠাণ্ডা হইয়া গেল,
সে আর কতক্ষণ এমন ভাবে ভাত কোলে করিয়া
বসিয়া থাকিবে ? বসিয়া বসিয়া শেষে বিরক্ত
হইয়া সে নিজেই স্বামীকে ডাকিবার
ক্ষেতে আসিয়া উপস্থিত হইল। সে স্বামীর
নিকটে উপস্থিত হইয়া মহা বিরক্ত স্বরে বলিল,-
“লি হাগা, আজ এখনও কি স্নান করিবার
বেলা হয় নাই। রান্নাবান্না জুড়াইয়া যে একেবারে
হীম হইয়া গেল ? তােমার সব কাজেই দেখিতে
পাই বাড়াবাড়ী। নাও, ঢের কাজ হইয়াছে, এখন
স্নান আহার করিতে চল। যেটুকু বাকি রহিল
সেটুকু কাল করিলেই পারিবে।”
চাষা সেই দারুণ রৌদ্রে গলদ ঘৰ্ম্ম হইয়া
প্রাণপণ শক্তিতে নালা কাটিয়া যাইতেছিল, সহসা
এই কথা কাণে যাওয়ায় রাগে তাহার সর্বশরীর
জ্বলিয়া উঠিল, সে কোদাল ফেলিয়া উঠিয়া দাড়াইল
ও স্ত্রীর দিকে কটমট করিয়া চাহিয়া বলিল,-
“মূখ, কাণ্ডজ্ঞানহীন মেয়েমানুষ, দেখিতে

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
পাইতেছ না সমস্ত ফশল মরিতে বসিয়াছে, ফসল
মরিলে তােমাদেরও যে অনাহারে মরিতে হইবে।
আজ আমি প্রতিজ্ঞা করিয়াছি ক্ষেতে জল না
আনিয়া জলস্পর্শ করিব না।”
স্বামীর নিকট ধমক খাইয়া চাষার স্ত্রী মুখখানি
চূণ করিয়া বাড়ী ফিরিয়া আসিল। আর চাষা
সারাদিন পরিশ্রম করিয়া শেষে তাহার প্রতিজ্ঞা
রক্ষা করিল। সন্ধ্যার সময় নদীর জল যখন
কল্ক করিয়া তাহার ক্ষেতে ঢুকিতে লাগিল
তখন একটা অভিনব আনন্দে তাহার বুকের
ভিতরটাও কল্কল, করিয়া উঠিল। সন্ধ্যার সময়
বাড়ী আসিয়া চাষ তাহার স্ত্রীকে ডাকিয়া বলিল,-
“দেরে, এইবার এক ছিলিম তামাক ও
তৈল দে।”
স্ত্রী তৈল ও তামাক আনিয়া দিল। চাষ।
মনের আনন্দে ভরপূর হইয়া তামাক খাইল
তাহার পর স্নান করিয়া আসিয়া আহারে বসিল।
সেই দিন সেই চাষার আর কোন ভাবনা চিন্তা
৪

চাষার প্রতিজ্ঞা
ছিল না, সে সেদিন আহার করিয়াছিলও যেমন,
ঘুমটাও সেদিন তাহার তেমনি গাঢ় হইয়াছিল।
অপর একজন চাষাও নদী হইতে তাহার
ক্ষেতে জল আনিবার জন্য নালা কাটিতে আরম্ভ
করিয়াছিল, কিন্তু তাহার স্ত্রী আসিয়া বলিল,
“ওগাে, বেলা ঢের হইয়াছে, স্নান আহার করিতে
চল।”
-
স্ত্রী স্বয়ং যখন ডাকিতে আসিয়াছে, তখন কি
আর সে আপত্তি করিতে পারে ? সে এক মুখ
হাসিয়া বলিল,--
“তুমি যখন নিজে এত কষ্ট করিয়া আমাকে
ডাকিতে আসিয়াছ
তখন কি আর আমি
বিলম্ব করিতে পারি ? চল চল।” চাষা কোদাল
কাধে করিয়া স্ত্রীর পিছনে পিছনে বাড়ী চলিয়া
গেল। কাজেই তাহার নালা কাটিতে বিলম্ব
হইয়া পড়িল, এদিকে জল অভাবে ক্ষেতের ফশল
গুলিও মরিয়া গেল।
আহার নিদ্রা ভুলিয়া দৃঢ় প্রতিজ্ঞ না হইলে,

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
চাষার যেমন নদী হইতে নালা কাটিয়া ক্ষেতে জল
আনা সম্ভব নয়, তেমনই ভগবান লাভের প্রবল ইচ্ছা
হইলে ভগবানের আশীর্বাদ লাভ করাও কাহার
পক্ষে সম্ভব নহে।
(6

কষ্প বৃক্ষ
এক পথিক অনেক দূর হইতে হাটিয়া
আসিতেছিল, হাটিয়া হাটিয়া ক্ষুধায় ও তৃষ্ণায় সে
বড়ই কাতর হইয়া পড়িয়া এক গাছের তলায়
বসিয়া পড়িল। পথিক যে গাছটার তলায় আসিয়া
বসিয়াছিল, সেটা ছিল একটা কল্প বৃক্ষ। কল্প বৃক্ষের
মজা হইতেছে এই যে, তাহার তলায় বসিয়া যে
যাহা চাহিবে সে তাহাই পাইবে। পথিক সেই
গাছের তলায় কিছুক্ষণ বসিয়া থাকিবার পর মনে
মনে ভাবিল, যদি এখন আমি এক পেট আহার ও
এক ঘটী ঠাণ্ডা জল পাইতাম তাহা হইলে আর
আমায় কে পায়। পথিকের এই কথা মনে হইবার
সঙ্গে সঙ্গে অমনি তাহার নিকট একপেট আহার
ও এক ঘটী ঠাণ্ডা জল আসিয়া হাজির হইল।
পথিকের আনন্দ দেখে কে, সে তৃপ্তি সহিত সবটা
খাবার খাইয়া ফেলিল ও এক ঘটী জল খাইয়া
৭

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
অনেকটা সুস্থ হইল। তাহার পর কিছুক্ষণ বাদে
আবার তাহার মনে হইল, এখন যদি একটা বাঘ
আসিয়া আমাকে মুখে করিয়া লইয়া যায় তাহা
হইলে
পথিকের কথাটা আর শেষ হইল না অমনি
একটা বাঘ আসিয়া তাহাকে মুখে করিয়া লইয়া
গেল।
ভগবানও ঠিক
এই কল্প বৃক্ষের মত।
তাহাকে দুর্বল ও ক্ষমতাহীন ভাবে, সে সেইরূপ
অবস্থায় থাকে,—আর যে তাহাকে সর্বশক্তিমান
বলিয়া বিশ্বাস করে, সে তাহার নিকট যাহা চায়
তাহাই পায় ।
যে
प

পুরােহিত ও গােয়ালিনী ।
এক গােয়ালিনী নদীর পার হইতে আসিয়া
এক পুরােহিতের বাড়ীতে দুধ যােগাইত। কিন্তু
খেয়া নৌকার জন্য তাহার রােজই দুধ আনিতে
বেলা হইয়া পড়িত। রােজ রােজ দুধ দিতে বেলা
হইবার দরুণ একদিন ব্রাহ্মণ মহা গরম হইয়া
গােয়ালিনীকে বলিলেন,-“তাের রােজ রােজ দুধ
আনিতে এত বেলা হয় কেন ?”
গােয়ালিনী বলিল,-“ঠাকুর, কি করিব বলুন,
আমাকে নদীর ওপার হইতে আসিতে হয়,-খেয়া
ঘাটে আসিয়া খেয়া নৌকার জন্য আমাকে অনেকক্ষণ
বসিয়া থাকিতে হয়, কাজেই বেলা হইয়া পড়ে।”
গােয়ালিনীর কথায় পুরােহিত বলিলেন,-
“ভগবানের নাম করিয়া মানুষ অনায়াসে সমুদ্র
পার হইয়া আসে, আর তুই এই ছােট নদীটা পার
হইতে পারিস না।”
৫

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
গােয়ালিনী আর কোন কথা বলিল না, কিন্তু
পরদিন হইতে সে ঠিক সময়েই ব্রাহ্মণের বাড়ীতে
দুধ জোগাইতে আরম্ভ করিল। ইহার কিছু দিন
পরে পুরােহিত একদিন আবার গােয়ালিনীকে
জিজ্ঞাসা করিলেন, “হারে, এখন আর তাের দুধ
আনিতে দেরী হয় না কেন?”
গােয়ালিনী বলিল,-“ঠাকুর, এখন তো আর
আমার খেয়া নৌকার জন্য বসিয়া থাকিতে হয়
না-আপনার কথা মত এখন আমি ভগবানের নাম
করিয়া নদী পার হইয়া আসি।”
পুরােহিত গােয়ালিনীর এ কথা বিশ্বাস করিতে
পারিলেন না,গােয়ালিনী কেমন করিয়া নদী
পার হইয়া আইসে সেইটুকু নিজে দেখিতে ইচ্ছা
করিলেন। ব্রাহ্মণ একদিন গােয়ালিনী কেমন
করিয়া নদী পার হয় দেখিবার জন্য গােয়ালিনীর
সহিত চলিলেন। গােয়ালিনী নদীর তীরে
আসিয়। একবার ভগবানের নাম উচ্চারণ করিয়া
নদীর জলের উপর দিয়া চলিতে আরম্ভ করিল।

। কিন্তু তিনি কিছু দূর গিয়াই দেখিলেন, তিনি ক্রমেই ডুবিয়া যাইতেছেন- পৃষ্ঠ। ১১

No text on this page.

পুরােহিত ও গােয়ালিনী
পুরােহিতও তাহার পিছনে পিছনে চলিলেন। কিন্তু
তিনি কিছুদূর গিয়াই দেখিলেন, তিনি ক্রমেই ডুবিয়া
যাইতেছেন। ব্রাহ্মণের এই অবস্থা দেখিয়া
গােয়ালিনী বলিল,-
“ঠাকুর, এ কি ! তুমি ভগবানের নামও করিলে,
অথচ পাছে জলে কাপড় ভিজিয়া যায় সেই জন্য
কাপড় সামলাইতেছ। দেখিতেছি, ঠাকুর, তােমার
ভগবানের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস নেই।”
ভগবানের উপর বিশ্বাস না থাকায় ব্রাহ্মণের
কি দুর্দশা হইল তাহা তােমরা বুঝিতেই পারিতেছ।
ভগবানের উপর যদি সম্পূর্ণ বিশ্বাস থাকে, তাহা
হইলে মানুষ অসাধ্য সাধন করিতে পারে।
১১

কাঠুরে ও সন্ন্যাসী।
এক কাঠুরে বনে কাঠ কাটিত। বাজারে সে
কাঠ বেচিয়া সামান্য যাহা কিছু পাইত তাহাতে অতি
কষ্টে তাহার দিন কাটিত। একদিন কাঠুরে বনে
কাঠ কাটিতেছিল সেই সময় সেইখান দিয়া একজন
সন্ন্যাসী যাইতেছিলেন। তিনি কাঠুরেকে কাঠ
কাটিতে দেখিয়া বলিলেন,-“ভাই, তুমি এমন
বনের ধারে কাঠ কাটিতেছ কেন ? বনের ভিতর
প্রবেশ কর, নিশ্চয়ই তােমার অধিক পয়সা
হইবে।”
সন্ন্যাসী চলিয়া গেলেন,কাঠুরে সন্ন্যাসীর
কথার ভাব কিছু বুঝিতে পারিল না। যাহা হউক,
পরদিন সে সন্ন্যাসীর কথা মত বনের ভিতর প্রবেশ
করিল।
বনের ভিতর কিছুদূর গিয়াই সে দেখিল,
বনের একটা দিক শুধু চন্দন গাছের বন হইয়া
রহিয়াছে। চন্দন গাছের বন দেখিয়া কাঠুরের

কাঠুরে ও সন্ন্যাসী
আনন্দ আর ধরে না। সে যত পারিল সে দিন
চন্দন কাঠ কাটিয়া লইয়া বাজারে উপস্থিত হইল।
চন্দন কাঠ,কাজেই অন্য দিন সে কাঠ বেচিয়া
যাহা পাইত তাহার চারি গুণ দাম পাইল। কাঠুরের
বেশ সুখেই দিন কাটিতে লাগিল। একদিন কাঠ
কাটিতে গিয়া কাঠুরের হঠাৎ মনে হইল, সন্ন্যাসী
তাহাকে বলিয়াছিলেন, বনের ভিতরে প্রবেশ
কর,কই তিনি তাে চন্দন কাঠের কথা কিছু
বলেন নাই। দেখি না, আর একটু অগ্রসর হইয়া
যদি অন্য কিছু পাই ! কাঠুরের এই কথা যেমন
মনে হইল অমনি সে চন্দন বন ফেলিয়া আরও
একটু বনের ভিতর অগ্রসর হইল। চন্দন বন
ফেলিয়া কিছুদুর গিয়াই সে একটী তামার খনি
দেখিতে পাইল। এই ভাবে সে যতই বনের ভিতর
অগ্রসর হইতে লাগিল, ততই সে তামার খনির
পর সােণার খনি, সােণার খনির পর হীরের খনি
দেখিতে পাইল এবং অতি অল্প দিনের মধ্যেই
সে একজন মস্ত ধনী হইয়া পড়িল।

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
সত্য জ্ঞান লাভ করিতে হইলে কেবল কাঠুরের
মত বনের ধারে কাঠ কাটিলে চলিবে না, বনের
ভিতর অগ্রসর হইতে হইবে,—যতই তােমরা বনের
ভিতর অগ্রসর হইবে, ততই নূতন নূতন জ্ঞান লাভ
করিতে পারিবে। সন্ন্যাসী তাই কাঠুরেকে
বলিয়াছিলেন, অগ্রসর হও। আমরাও বলি,
অগ্রসর হও। যতই অগ্রসর হইবে ততই নূতন
জ্ঞান লাভ করিতে পারিবে।
১৪

ব্যাসদেবের নদী পার।
নদীর কুলে
একদিন ব্যাসদেব যমুনা পার হইতে যাইতে
ছিলেন, সেই সময় গােপীরা আসিয়া সেইখানে
উপস্থিত হইল। তাহাদেরও যমুনা পার হইতে
হইবে। বর্ষাকাল—যমুনা তখন কানায় কানায়
ভরিয়া উঠিয়াছে। খেয়া নৌকাও নাই। গােপীরা
ভাবিয়া আকুল কেমন করিয়া নদী পার হইবে।
ব্যাসদেবকে দেখিয়া গােপীরা
বলিল,-“ঠাকুর, আমাদের নদী পার হইতে
হইবে, খেয়া নৌকা একখানিও নাই,আমরা
কেমন করিয়া নদী পার হইব ?
গােপীদের কথা শুনিয়া ব্যাসদেব বলিলেন,-
“সে জন্য তােমাদের ভাবিতে হইবে না, আমি
হার ব্যবস্থা করিয়া দিব। কিন্তু আমি বড় ক্ষুধার্ত,
তােমরা আমাকে কিছু খাইতে দাও।”
গােপীদিগের সহিত দুধ, ননী, মাখন ছিল,

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
-
তাহারা ব্যাসদেবকে তখনই তাহা খাইতে দিল।
ব্যাসদেব পরম তৃপ্তির সহিত সেই সকল আহার
করিলেন। আহার শেষ হইলে গােপীরা বলিল,-
“ঠাকুর এইবার আমাদের পারের ব্যবস্থা করুন।
ব্যাসদেব যমুনার কুলে দাঁড়াইয়া বলিলেন,-
“হে যমুনে। আজ যদি আমি কিছু আহার না করিয়া
থাকি, তবে আমাদের একটু পথ দাও।”
ব্যাসদেবের কথা শেষ হইতে না হইতে অমনি
যমুনা দুই দিকে সরিয়া গেল ও মাঝখানে পথ
বাহির হইয়া পড়িল। এই ব্যাপারে গােপীরা
একেবারে অবাক হইয়া গেল। তাহারা মনে মনে
ভাবিল, এ কি রকম হইল! এই মাত্র ব্যাসদেব
আহার করিলেন,—অথচ তিনি যেমন বলিলেন,
আমি যদি কিছু আহার করিয়া না থাকি তবে যমুনা
পথ দাও, অমনি যমুনা পথ দিল, ইহার কারণ
কি ?
ইহার কারণ যে কি, গােপীরা তাহা কেমন
করিয়া বুঝিবে ? ব্যাসদেবের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল

ব্যাসদেবের নদী পার
তিনি কেহই নন, তাহার ভিতরে যে ভগবান
রহিয়াছেন তিনিই সব। কাজেই তিনি
আহার করেন নাই, ভগবানই আহার করিয়া-
ছিলেন। তাই তাহার কথায় যমুনা পথ দিয়াছিল।
ভগবানের উপর যে এরূপ বিশ্বাস করিতে পারে
তাহার নিজের বলিয়া আর কিছুই থাকে না।
১৭

জটিল ও দীনবন্ধু দাদা।
একদেশে এক বালক ছিল,তাহার নাম জটিল।
জটিল বড় দুঃখী। পৃথিবীতে মা ভিন্ন জটিলের
আর কেহ ছিল না। জটিল রােজ একাকী বনের
ভিতর দিয়া পাঠশালায় যাইত।
বনের ভিতর
দিয়া একাকী যাইতে তাহার বড় ভয় হয়।
দিন সে তাহার মাকে বলিল,-“মা, বনের ভিতর
দিয়া পাঠশালায় যাইতে আমার বড় ভয় করে।”
জটিলের কথায় জটিলের মার চোখে জল
আসিল, তিনি বলিলেন,—“বাবা, ভয় কি ?
যখনই তােমার ভয় হইবে তখনই দীনবন্ধু দাদা
বলিয়া ডাকিও, তাহা হইলে আর তােমার কোন
ভয় থাকিবে না।”
জটিল জিজ্ঞাসা করিল,-“হঁ মা, দীনবন্ধু
দাদা কে ?”
জটিলের মা বলিলেন,-তােমার বড় দাদা।”
১

গবান বালকের মূর্তি ধরিয়া জটিলকে দেখা দিলেন। পৃষ্ঠা ১

No text on this page.

জটিল ও দীনবন্ধু দাদা
সেই দিন হইতে পাঠশালায় যাইবার সময় যখনই
জটিলের ভয় হইত তখনই সে চীৎকার করিয়া
ডাকিত দীনবন্ধু দাদা, দীনবন্ধু দাদা, আমার বড়
ভয় করিতেছেকই এস, আমাকে দেখা দাও।”
সরল বিশ্বাসী বালকের ডাকে কি আর ভগবান্
স্থির থাকিতে পারেন ? ভগবান বালকের মূর্তি
ধরিয়া জটিলকে দেখা দিলেন। তিনি জটিলের
সম্মুখে আসিয়া বলিলেন,-এই যে ভাই, আমি
আসিয়াছি। আর তাে ভাই তােমার ভয় করিবার
কিছু নাই। চল আমি তােমাকে তােমার পাঠশালায়
রাখিয়া আসি।”
পাঠশালার নিকটে আসিয়া ভগবান্ বলিলেন,
-“ভাই যখনই তুমি আমাকে ডাকিবে, তুখনই
আমি আসিয়া উপস্থিত হই। তবে আর ভাই
তােমার ভয় কি ?”
সরল বিশ্বাসের এমনই শক্তি যে সে ভগবানকেও
টানিয়া আনিতে পারে।

ভণ্ড সেরা। এক গ্রামে এক সেরা ছিল, তাহার মত ভক্ত বড় দেখিতে পাওয়া যায় না। সেরা গােড়া বৈষ্ণবের মত সর্বাঙ্গে ভগবানের নাম তিলক কাটিয়া দোকানের ভিতর বসিয়া থাকিত এবং দিন রাত কেবল ভগবানের নাম করিত। সেরার চাল- চলন দেখিয়া গ্রামের সকলেই সেরাকে বড় ভাল মানুষ বলিয়া জানিত, এবং সকলেই তাহাকে বিশ্বাস করিত। যখনই যাহার যাহা কিছু গহনা গড়াইবার দরকার হইত তখনই সে ওই সেরার দোকানেই যাইত। কারণ সকলেই ভাবিত অমন লােকের দ্বারা জুয়াচুরী বাটপারী হইতে পারে না। যখনই সেরার দোকানে খরিদ্দারগণ আসিত তখনই সেরা ভিতর হইতে বলিয়া উঠিত,- “কেশব, কেশব।”

ভণ্ড সেরা
সঙ্গে সঙ্গে একজন কারিকর অমনি বলিত,
“গােপাল—গােপাল।”
তাহার সুরে সুর দিয়া অপর একজন কারিকর
অমনি বলিত,—“হরিহরি।”
সেরা ভিতর হইতে তখনি আবার বলিত,
দোকানে না উঠিতেই এইরূপ ভগবানের নাম
শুনিয়া খরিদ্দারগণের মনে একেবারে দৃঢ় বিশ্বাস
হইত,-“আহা, সেরার মত ভাল লােক আর
দ্বিতীয় নাই।”
কিন্তু আসল কথা, সেরাটা ছিল ভণ্ড।
সেরা ভিতর হইতে বলিত কেশব অর্থাৎ এরা
সব কে? কারিকর উত্তর দিত, গােপাল অর্থাৎ
এদের মুখ দেখিয়া বুঝিয়াছি ইহারা গরুপাল।”
তখনি আবার একজন বলিত, “হরি হরি।” অর্থাৎ
তাহলে চুরি করা যাক। সে অমনি ভিতর
হইতে বলিত, হর হর অর্থাৎ হঁা, নিরেট
চুরি কর।
২১

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
শুধু তিলক মালা পরিলেই যে সে সাধু হইবে
তাহার কোন মানে নাই। যাহার প্রাণে ভক্তি
আছে, ভগবানে বিশ্বাস আছে, সেই যথার্থ সাধু।

দুই ভাই
এক গ্রামে দুই ভাই বাস করিত। কিছুদিন
বাদে বড় ভাই সন্ন্যাসী হইয়া বাহির হইয়া গেল।
বড় ভাই সন্নাসী হইয়া নানাতীর্থ ঘুরিয়া বার বৎসর
বাদে একবার জন্মভূমি দেখিতে আসিল।
বৎসর বাদে বড় ভাই বাড়ী আসিয়াছে, ঘােট
ভাইয়ের আর আনন্দ ধরে না। নানা কথার পর
ছােট ভাই জিজ্ঞাসা করিল,-“আচ্ছা দাদা, ঘর
সংসার ছাড়িয়া এই বার বৎসর তুমি সন্ন্যাসী হইয়া
ঘুরিয়া বেড়াইলে, ইহাতে তুমি লাভ করিলে কি?”
বড় ভাই মৃদু হাসিয়া বলিলেন, “আমি কি
লাভ করিয়াছি ?-আমার সহিত এস এখনি তাহা
দেখিতে পাইবে।”
এই কথা বলিয়া বড় ভাই ছােট ভাইকে সঙ্গে
লইয়া নদীর
কূলে
আসিয়া উপস্থিত হইলেন এবং
হাটিয়া নদী পার হইয়া চলিয়া গেলেন। সেটা
২৩

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
খেয়া ঘাট, খেয়া নৌকা ক্রমাগতই এপার ওপার
করিতেছিল। ছােট ভাই একটি পয়সা দিয়া খেয়া
নৌকায় বড় ভাইয়ের পিছনে পিছনেই পরপারে
যাইয়া উপস্থিত হইল,তাহার পর বড় ভাইয়ের দিকে
চাহিয়া বলিল,-“দাদা, এই বার বৎসর এত কষ্ট
করে এত পরিশ্রম করে তুমি শেষ এই ক্ষমতা লাভ
করিলে যাহার দাম একটী পয়সা মাত্র।”
বড় ভাই ছােট ভাইয়ের এ কথার কোন উত্তর
দিতে পারিলেন না। সত্যই ত, তিনি যে ক্ষমতা
লাভ করিয়াছেন তাহার মূল্য কেবল মাত্র একটী
পয়সা। সামান্য একটু ক্ষমতা লাভ করিবার জন্য
যাহারা সন্ন্যাসী হয় তাহাদের কেবল কষ্ট ও
পরিশ্রমই সার হয়। আর যাহারা কেবল
ভগবানকে পাইবার আশায় সন্ন্যাস গ্রহণ করে
তাহাদেরই সন্ন্যাস সার্থক হয়।
২৪

সাধু ও ভগবান।
একদেশে এক পরম ধাৰ্মিক সাধু ছিলেন।
কঠিন যােগ সাধনা করিয়া তিনি অদ্ভুত ক্ষমতা লাভ
করিয়াছিলেন। সাধু অন্য সব বিষয়েই সাধুর
মতনই ছিলেন কিন্তু এই অদ্ভুত ক্ষমতা লাভ করিয়া
তাহার মনে মনে বেশ একটু অহঙ্কার হইয়াছিল।
ভগবান এই সাধুকে কিছু শিক্ষা দিবার জন্য এক
দিন ব্রাহ্মণের বেশে সেই সাধুর নিকট আসিয়া
উপস্থিত হইলেন। সাধু ব্রাহ্মণকে দেখিয়া বসিবার
জন্য আসন দিলেন, এবং তাহার নিকট তিনি কি
জন্য আসিয়াছেন জিজ্ঞাসা করিলেন।
সেই সময় সেইখান দিয়া একটা হাতী
যাইতেছিল। ভগবান বলিলেন,-“হে মহাপুরুষ।
শুনিলাম, যােগ সাধনার দ্বারা অদ্ভুত ক্ষমতা লাভ
করিয়াছেন। আচ্ছা মহাপুরুষ, আপনি যদি ইচ্ছা

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
-
করেন তাহা হইলে কি এই হাতীটাকে এখনি
মারিয়া ফেলিতে পারেন ?”
সাধু বেশ একটু অহঙ্কারের সহিত বলিলেন,-
“নিশ্চয়ই। ইহা এমন কিছু কঠিন নহে।”
কথাটা শেষ করিয়া সেই সাধু এক মুঠা ধূলা
লইয়া বিড় বিড় করিয়া কয়েকটা মন্ত্র বলিয়া হাতীর
দিকে ছুড়িয়া দিলেন। সঙ্গে
সঙ্গে সঙ্গে হাতীটা
সেইখানেই পড়িয়া মরিয়া গেল। ভগবান
বলিলেন,-“আপনি যথার্থই সাধু। কি অদ্ভুত
ক্ষমতা আপনার ! এত বড় একটা হাতীকে
অনায়াসে মারিয়া ফেলিলেন, আচ্ছা আপনি ইচ্ছা
করিলে এই হাতীটাকে বাঁচাইয়াও নিশ্চয়ই
দিতে পারেন।”
সাধু অহঙ্কারে ফুলিতে ফুলিতে বলিলেন,
“নিশ্চয়ই।”
আবার একমুঠা ধূলা লইয়া মন্ত্র পড়িয়া যেমন
হাতীর দিকে ছুড়িয়া দিলেন, অমনি হাতীটা আবার
ধড়মড়িয়া উঠিয়া দাড়াইল ও যেদিকে যাইতেছিল
২৬,

সাধু ও ভগবান
সেই দিকে চলিয়া গেল। ভগবান বলিলেন,-
“আপনি যথার্থই ক্ষমতাবান পুরুষ। কিন্তু আমার
একটী প্রশ্ন আছে। এই হাতীটাকে মারিয়া ফেলিয়া
এবং আবার এই হাতীটাকে বাঁচাইয়া দিয়া
আপনার লাভ হইল কি ? ইহার দ্বারা কি আপনি
ভগবান লাভ করিতে পারিবেন ?”
ভগবানের এই কথায় সাধুর চোখ ফুটিল।
তিনি বুঝিলেন, এই সকল ক্ষমতা কিছুই নহে।
সেই হইতে তিনি সমস্ত অহঙ্কার ভুলিয়া ভগবান
লাভ করিবার জন্য আবার নূতন সাধনা আরম্ভ
করিলেন। সামান্য একটু শক্তি লাভ করিয়া যাহারা
সর্বশক্তিমান ভগবানকে ভুলিয়া যায় তাহারাই
পৃথিবীতে সর্বাপেক্ষা নির্বোধ।
নির্বোধ। সামান্য একটু
অহঙ্কার থাকিলে আর ভগবানকে পাওয়া যায় না।

আকবর ও ফকির।
আর বাদসাহের রাজত্বে এক ফকির
দিল্লীর নিকটে—এক বনে—বাস করিতেন।
ফকিরের নিকট জ্ঞান লাভ করিবার জন্য দলে দলে
মােক দেশ বিদেশ হইতে আসিত। কিন্তু দীন হীন
ফকিরের এমন সম্বল ছিল না যে, তিনি তাঁহার
কুটীরে তাহাদের রাখিয়া শিক্ষা দান করিতে
পারেন। এইজন্য ফকিরের মনে মনে বড়
আপশােষ হইত। অনেক চিন্তার পর ফকির
স্থির করিলেন তিনি বাসার নিকট কিছু সাহায্য
ভিক্ষা করিবেন। মনে মনে এইরূপ স্থির করিয়া
একদিন ফকির আবর বাসার নিকট
গিয়া উপস্থিত হইলেন। বাদসা তখন নমাজ
পড়িতেছিলেন, ফকির তাঁহার পিছনে গিয়া
বসিলেন। বাদসা ভগবানের নিকট প্রার্থনা
করিতেছিলেন,-“হে ভগবান,
তুমি আমায়

,
বাশা তখন নমাজ পড়িতেছিলেন, ফকির তাহার
পিছনে গিয়া বসিলেন।
छ
২৮

No text on this page.

আকবর ও ফকির
আরও ধন, আরও শক্তি, আরও রাজত্ব প্রদান
ফকির আকবরের পিছনেই বসিয়াছিলেন,
আরের এই প্রার্থনার কথাগুলি সমস্তই তিনি
স্পষ্টই শুনিতে পাইলেন। ফকির আর একটীও
কথা না বলিয়া ধীরে ধীরে উঠিয়া দাড়াইলেন ও
সেই মসজিদ হইতে বাহির হইয়া যাইতেছিলেন।
আবর ফকিরকে উঠিয়া যাইতে দেখিয়া ইঙ্গিতে
আবার তাহাকে বসিতে বলিলেন। বাসার
আদেশ ফকির অমান্য করিতে পারিলেন না,
তাহাকে আবার বসিতে হইল।
নমাজ শেষ হইবার পর আবর ফকিরকে
জিজ্ঞাসা করিলেন,“ফকির, তুমি আমার সহিত
দেখা করিতে আসিয়াছিলে, কিন্তু আমাকে একটা
কথাও না বলিয়া চলিয়া যাইতেছিলে কেন?”
উত্তরে ফকির বলিলেন,-“বাদসা, আমি
যেজন্য আপনার নিকট আসিয়াছিলাম সেজন্য আর
আপনাকে বিরক্ত করিতে চাহি না।”

রামকৃষ্ণের আমরা গল্প
আকবর কিন্তু ফকিরকে ছাড়িলেন না, তাহার
আসিবার কারণটুকু জানিবার জন্য ফকিরকে
নানা ভাবে জেদাজেদী করিতে লাগিলেন।
আকবরের জেদাজেদীতে বাধ্য হইয়া শেষে ফকির
বলিলেন,—“বাদসা, রােজই দলে দলে লােক
আমার নিকটে গিয়া কিছু শিক্ষা লাভ করিতে চায়,
কিন্তু আমার এমন সম্বল নাই, যাহাতে তাহাদের
আমার কুটীরে রাখিয়া শিক্ষা দিতে পারি, তাই
আমি আপনার নিকট কিছু সাহায্য প্রার্থনা করিতে
আসিয়াছিলাম।”
ফকিরের এই কথা শুনিয়া আর বলিলেন,
-“ফকির, তবে তুমি আমাকে এ কথা না বলিয়া
চলিয়া যাইতেছিলে কেন?”
ফকির বলিলেন, “বাদসা, যখন আমি
দেখিলাম আপনিও একজন ভিখারী, ভগবানের
নিকট ধন, শক্তি, রাজত্ব ভিক্ষা করিতেছেন, তখন
আমি মনে মনে ভাবিলাম ভিখারীর নিকট আর
ভিক্ষা করিয়া লাভ কি ? যদি ভিক্ষা করাই আমার

আকবর ও ফকির
দরকার হয় তাহা হইলে ভগবানের নিকটেই
ভিক্ষা করিব।”
ফকিরের কথায় আবর আর কোন কথা
কহিতে পারিলেন না। ফকির নিজের কুটীরে
ফিরিয়া গেলেন। আকবর বাদসার সহিত সাক্ষাৎ
করিতে আসিয়া তাহার এইটুকু শিক্ষা হইল, মানুষ
মানুষকে ভিক্ষা দিতে পারে না। মানুষ মাত্রেই
কাঙ্গাল-কাঙ্গাল কি কাঙ্গালকে ভিক্ষা দিতে
পারে ? সকল ঐশ্বর্য্যের মালিক যিনি, যাহার অনন্ত
শক্তি, সেই ভগবান ভিন্ন কি কেহ কাহাকেও কিছু
দিতে পারে ? যদি ভিক্ষাই চাহিতে হয় তবে
তাহারই নিকট চাওয়া উচিত।
৩১
৩

তামাক খাওয়া
এক দেশে এক তামাক খেকো বুড়াে ছিল।
এক দণ্ড বুড়াের তামাক না হইলে চলিত না। এক
দিন রাত্রি দুপুরের সময় সেই বুড়াের ঘুম ভাঙ্গিয়া
গেল এবং তাহার তামাক খাইবার বড় ইচ্ছা হইল।
বুড়াে তাড়াতাড়ি বিছানা ছাড়িয়া উঠিয়া কলিকা
লইয়া তামাক সাজিল কিন্তু চারিদিক খুঁজিয়া
দেখিল আগুন নাই, কাজেই সে প্রতিবাসীর বাড়ী
হইতে আগুন আনিতে চলিল। রাত্রি দুপুরে
পাড়ার সকলেই
ঘুমাইতেছিল, বুড়াে অনেক
ডাকাডাকি হাকাহকি করিয়া একজনকে তুলিল।
এত রাত্রে কে ডাকে দেখিবার জন্য সেই লােকটী
ব্যস্ত সমস্ত হইয়া দরজা খুলিয়া দিল এবং বুড়ােকে
দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিল,-“এত রাত্রে !
ব্যাপার কি ?”

তামাক খাওয়া
বুড়াে বলিল,-“আমি একটু তামাক খাইব,
তাই আগুন চাহিতে আসিয়াছি।”
লােকটা তাে বুড়োর কথা শুনিয়া একেবারে
অবাক। হাসিতে হাসিতে বলিল,-“এত রাত্রে
আমার বাড়ীতে আগুন চাহিতে আসিয়াছেন,
আপনার হাতেই যে লণ্ঠন জ্বলিতেছে।”
বুড়াের তখন মনে হইল, তাই ত! আমার
হাতেই ত লণ্ঠন জ্বলিতেছে।
কোন কথা কহিল না। যেমন গিয়াছিল তেমনি
ফিরিয়া আসিল।
মানুষ যাহা চায় তাহা তাহার ভিতরেই আছে।
কিন্তু তবুও তাহারা মায়ায় এমনি অন্ধ যে তাহার
জন্যই চারিদিকে হাতড়াইয়া মরে।
বুড়াে আর
৩৩

তাঁতীর বিপদ
.
এক গ্রামে এক অতি বাস করিত। তাঁতি
পরম ভক্ত, ভগবান ভিন্ন সে আর কিছুই জানিত
না। গ্রামের সকলেই তাঁতিকে বড় ভাল বাসিত
ও বিশ্বাস করিত। তাতি যখন বাজারে কাপড়
বিক্রয় করিতে যাইত, তখন কোন
কোন খরিদ্দার
কাপড়ের দাম কত জিজ্ঞাসা করিলে সে বলিত,
“ভগবানের ইচ্ছায় এই কাপড় খানায় সূতা
পড়িয়াছে এক টাকার,ভগবানের ইচ্ছায় কাপড়-
খানি তৈয়ারী করিতে পারিশ্রমিক লাগিয়াছে
চারি আনা, ভগবানের ইচ্ছায় লাভ দুই আনা।
কাজেই ভগবানের ইচ্ছায় এই কাপড়খানির দাম
হইতেছে এক টাকা ছয় আনা।”
লােকের এই গতির উপর এমনি অগাধ
বিশ্বাস ছিল, যে তাহারা আর কোন কথা না বলিয়া
দাম ফেলিয়া দিয়া কাপড় লইয়া চলিয়া যাইত।
৩৪

তাঁতীর বিপদ
রাত্রে আহারের পর প্রতিদিন গতি অনেক রাত্রি
পৰ্যন্ত ঘরের দাওয়ায় বসিয়া ভগবানের নাম করিত,
তাহার পর শুইতে যাইত। একদিন রাত্রে সে
তাহার ঘরের দাওয়ায় বসিয়া ভগবানের নাম
করিতেছে, এই সময় একজন ডাকাত সেই রাস্তা
দিয়া যাইতেছিল। ডাকাতেরা তাহাদের ডাকাতীর
মালপত্র বহিবার জন্য একটা মুটে খুঁজিতেছিল,
তাহারা তাঁতিকে দাওয়ার উপর বসিয়া থকিতে
দেখিয়া মােট বহাইবার জন্য তাহাকে জোর করিয়া
তাহাদের সহিত টানিয়া লইয়া চলিল। ডাকাতেরা
তাহার পর এক বাটীতে ডাকাতী করিয়া ডাকাতীর
জিনিস পত্র তাঁতির মথায় তুলিয়া দিল। সেই সময়
চৌকিদার আসিয়া পড়াতে ডাকাতেরা যে যেদিকে
পারিল পলাইল, কেবল তাঁতি পলাইতে পারিল না,
সে মাল শুদ্ধ ধরা পড়িয়া গেল। সে রাত্রি তাহার
হাজতে থাকিতে হইল। পরদিন চৌকিদার
তাহাকে হাকিমের নিকট হাজির করিল। এই
ঘটনার কথা সকাল হইতে না হইতেই সমস্ত গ্রামময়

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
ছড়াইয়া পড়িল। গ্রামের লােক তাতিকে দেখিবার
জন্য দলে দলে ছুটিয়া আসিল। তাহারা সকলেই
এক বাক্যে হাকিমের নিকট বলিল,-“এই
লােকের দ্বারা চুরি অসম্ভব।”
হাকিম তাতিকে সত্য কথা বলিতে বলিলেন,
তাঁতি বলিল,-“হুজুর, ভগবানের ইচ্ছায় কাল
রাত্রে আমি আমার ঘরের দাওয়ায় বসিয়া ভগবানের
নাম করিতে ছিলাম, সেই সময় ভগবানের ইচ্ছায়
সেই রাস্তা দিয়া একদল ডাকাত যাইতেছিল।
ভগবানের ইচ্ছায় তাহারা আমাকে জোর করিয়া
টানিয়া তাহাদের সঙ্গে লইয়া চলিল। ভগবানের
ইচ্ছায় তাহার পর তাহারা এক বাটীতে ডাকাতি
করিল। ভগবানের ইচ্ছায় ডাকাতীর মালপত্র
বাঁধিয়া আমার মাথায় তুলিয়া দিল, তাহার পর
ভগবানের ইচ্ছায় চৌকিদার আসিয়া পড়িল,
ভগবানের ইচ্ছায় ডাকাতেরা পলাইল, আমি ধরা
পড়িলাম।”
তাঁতির কথায় হাকিম বুঝিলেন, লােকটী সত্যই

তীর বিপদ
নির্দোষী ও সরল বিশ্বাসী। তিনি গতিকে ছাড়িয়া
দিতে হুকুম দিলেন। তাঁতি খালাস পাইয়া তাহার
বন্ধুবর্গকে বলিতে লাগিল যে, “ভগবানের ইচ্ছায়
আমি আবার খালাস পাইয়াছি।”
ভগবানের উপর সমস্ত ভার অর্পণ করিয়া যে
কেবল তাহার কর্তব্যটুকু প্রতিপালন করে সেই
যথার্থ সাধু।
৩৭

সন্ন্যাসী ও জমিদার ।
;
এক গ্রামে সন্ন্যাসীদের একটা মঠ ছিল।
সন্ন্যাসীরা প্রতিদিন প্রাতে ভিক্ষা করিতে বাহির
হইতেন। একদিন এক সন্ন্যাসী রাস্তা দিয়া যাইতে
যাইতে দেখিলেন, গ্রামের জমিদার একটী দরিদ্র
লােককে নিদারুণ ভাবে প্রহার করিতেছেন। এই
ব্যাপার দেখিয়া সন্ন্যাসীর প্রাণ গলিয়া গেল ; তিনি
জমিদারের নিকট গিয়া মিনতি পূর্ণ
বলিলেন,-“এ লােকটাকে আর মারিবেন না।”
সন্ন্যাসীর কথায় জমিদারের রাগটা গিয়া পড়িল
সন্ন্যাসীর উপর। জমিদার সেই লােকটাকে ছাড়িয়া
সন্ন্যাসীকে প্রহার করিতে আরম্ভ করিলেন এবং
এমন মার মারিলেন যে তাঁহাকে সেইখানে অজ্ঞান
হইয়া পড়িতে হইল। মঠের সন্ন্যাসীরা এই সংবাদ
পাইয়া সেই সন্ন্যাসীকে ধরাধরি করিয়া মঠে লইয়া
আসিলেন, এবং তাঁহার মুখে চোখে জলের
৩১,

সন্ন্যাসী ও জমিদার
ঝাপটা দিয়া তাহার জ্ঞান ফিরাইয়া আনিবার চেষ্টা
করিতে লাগিলেন। বহু কষ্টে যখন তাহার জ্ঞান
হইল, সন্ন্যাসী যখন চোখ মেলিয়া চাহিলেন, তখন
অপরাপর সন্ন্যাসীরা জিজ্ঞাসা করিলেন,—“বন্ধু,
এখন তােমায় যাহারা শুশ্রুষা করিতেছেন
তাহাদের চিনিতে পারিতেছ ?”
সেই সন্ন্যাসী মৃদু স্বরে বলিলেন,-“আমায়
যিনি একটু পূর্বে প্রহার করিয়াছেন তিনিই আমায়
এক্ষণে শুশ্রুষা করিতেছেন।”
যথার্থ যিনি সাধু তাহার শত্রু মিত্র ভেদ থাকে
। তিনি সকল আত্মার ভিতরেই ভগবানকে
দেখিয়া থাকেন।

জেলের মাছ চুরি
এক দেশে এক জেলে ছিল, সে রাত্রে পরের
পুকুরে মাছ চুরি করিয়া বেড়াইত। একদিন
ঘুরঘুটে অন্ধকার রাত্রে সে মাছ চুরি করিবার জন্য
এক জনের বাগানে প্রবেশ করিল। বাগানের
মাঝখানে পুকুর, জেলে নিঃশব্দে পুকুরের নিকটে
গিয়া ঝপাৎ করিয়া পুকুরে জাল ফেলিয়া দিল।
পুকুরের মালিক যিনি তিনি সজাগ হইয়া পুকুর
পাহারা দিতেছিলেন,—জালের শব্দ শুনিবা মাত্র
তিনি আলাে দিয়া চোর ধরিতে তখনি দুইজন
লােক পাঠাইয়া দিলেন। আলল লইয়া দুইজন
লােক পুকুরের দিকে আসিতেছে দেখিয়া জেলে
তাড়াতাড়ি জালখানা পুকুরের ভিতর ফেলিয়া দিয়া,
সাধুর মতন মুখে কতকটা ছাই মাখিয়া, একটা
গাছের তলায় বসিয়া পড়িল। যাহারা চোর
ধরিতে আসিয়াছিল তাহারা কোথায় কাহাকেও
৪০

জেলের মাছ চুরি
দেখিতে পাইল না, কেবল একজন সাধুকে গাছের
তলায় বসিয়া থাকিতে দেখিল। পুকুরের
মালিককে আসিয়া তাহারা তাহাই বলিল।
পুকুরের মালিক, তাহার বাগানে সাধু আসিয়াছেন
শুনিয়া, তাড়াতাড়ি ছুটিয়া আসিয়া সাধুকে
প্রণাম করিলেন এবং প্রচুর সামগ্রী পাঠাইয়া
দিলেন। জেলে পালাই পালাই করিয়াও পালাইবার
সুবিধা করিয়া উঠিতে পারিল না, এ দিকে ভাের
হইয়া গেল। সকাল হইবার সঙ্গে সঙ্গে দলে দলে
লােক সাধু দেখিতে আসিতে লাগিল ও যে যাহা
পারিল সে তাহা দিয়া সাধুর সেবা করিতে
লাগিল। জেলে মনে মনে ভাবিল, আমি সাধু নই,
কেবল সাধুর মত হইয়া বসিয়াছি বলিয়া আজ
লােকে আমায় কত সম্মান করিতেছে। যদি
আমি যথার্থ সাধু হই তাহা হইলে লােকে আমায় না
জানি আরও কত ভক্তি করিবে, সম্মান করিবে,
এমন কি হয়তাে আমি ভগবানকেও পাইতে
পারিব।
৪১

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
এই কথা মনে হইবার সঙ্গে সঙ্গে জেলের
মনের ময়লা দূর হইয়া গেল। সে সেই দিন বুঝিতে
পারিল পৃথিবী মিথ্যা—একমাত্র ভগবানই সত্য।
এবং সেই চেষ্টায় সব ছাড়িয়া বাহির হইয়া পড়িল।
সাধু সাজিবারও এমন মজা যে তাহাতেও মনের
ময়লা দূর হইয়া যায়।
চাষার ছেলে
এক চাষার একটা বড় সুন্দর ছেলে হইয়াছিল।
চাষা তাহার সেই ছেলেটাকে প্রাণের চেয়ে বেশী
ভাল বাসিত। হঠাৎ একদিন সেই ছেলেটী
ভেদ বমি হইয়া মরিয়া গেল। ছেলেটী মরিয়া
যাওয়ায় বাড়ী শুদ্ধ সকলে হাহাকার করিয়া
কঁদিতে লাগিল। কিন্তু চাষ সে জন্য একেবারেই
কাতর হইল না, সে বাড়ীর অপর অপর লােক
দিগকে নানা ভাবে বুঝাইয়া সান্ত্বনা দিতে লাগিল।
82

চাষার ছেলে
চাষার এই ভাব দেখিয়া চাষার স্ত্রীর মনে মনে
স্বামীর উপর বড় রাগ হইল।
সে দুঃখ করিয়া
চাষাকে বলিল,-“এমন একটা ছেলে মরিয়া
গেল, তুমি কি পাষাণ! তাহার জন্য এক ফোটা
চোখের জলও ফেলিলে না। বাড়ী শুদ্ধ সকলে
কাঁদিতেছে, আর তুমি তাে বেশ শান্ত রহিয়াছ।”
চাষা শান্ত স্বরে বলিল,-“দেখ, কাল রাত্রে
আমি স্বপ্ন দেখিয়াছি যে আমি রাজা হইয়াছি,
আমার আটা ছেলে, তাহাদের লইয়া আমি বড়ই
সুখে রাজত্ব করিতেছি, তাই বুঝিতে পারিতেছি না,
যে এই আটু ছেলের জন্য কাঁদিব, না আমাদের
হরির জন্য কঁদিব ?” এই চাষা যথার্থই জ্ঞানী
পুরুষ। সে বুঝিয়াছিল যে আমরা জাগারণ অবস্থায়
যাহা করি বা যাহা দেখি তাহাও ঠিক স্বপ্নের মত
মিথ্যা। ভগবান ব্যতীত পৃথিবীতে সত্য জিনিস
কিছুই নাই। কাজেই জ্ঞানী পুরুষেরা শােক দুঃখে
একেবারেই বিচলিত হন না।
৪৩

পুরােহিতের ছেলে
এক গ্রামে এক ঠাকুর মন্দির ছিল। এই
মন্দিরের যিনি পুরােহিত ছিলেন অর্থাৎ যিনি প্রত্যহ
ঠাকুরের পূজা করিতেন, তাহার একদিন হঠাৎ
অন্য গ্রামে যাইবার বিশেষ দরকার পড়িল। এক
দিন রাত্রে তিনি আর ফিরিতে পারিবেন না দেখিয়া
ছেলেকে ডাকিয়া বলিয়া গেলেন, “আজ রাত্রে তুই
ঠাকুরের শীতলটা দিয়া আসি, আজ রাত্রে হয়
তাে আমি আর ফিরিতে পারিব না।”
পুরােহিত ছেলের উপর পূজার ভার দিয়া
চলিয়া গেলেন। পুরােহিতের ছেলে সন্ধ্যার পর
ঠাকুরের শীতল দিতে মন্দিরে গিয়া উপস্থিত হইল।
পুরােহিতের ছেলে কখনও ঠাকুরের পূজা করে
নাই, কেমন করিয়া পূজা করিতে হয় তাহাও সে
জানে না। মন্দিরে গিয়ে ঠাকুরের নৈবেদ্য দেখিয়া
সে ভাবিল, ঠাকুর প্রতিমার ভিতর হইতে বাহির
৪৪

পুরােহিতের ছেলে
হইয়া নিশ্চয়ই রােজ এই সকল সামগ্রী আহার
করেন। তাই সে বহুক্ষণ চক্ষু বুজিয়া ঠাকুরের
সম্মুখে বসিয়া রহিল, কিন্তু ঠাকুরকে তবুও আসিতে
না দেখিয়া সে হাত দুইটী জোড় করিয়া বলিল,
“ঠাকুর, শীঘ্র আসিয়া আহার কর। রাত বড়
বেশী হইতেছে, আমি ছেলে মানুষ, আর কতক্ষণ
বসিয়া থাকিব ?”
কিন্তু ঠাকুর কোন কথা কহিলেন না।
ঠাকুরকে না আসিতে দেখিয়া পুরােহিতের
ছেলের কেমন ভয় হইল, সে কঁদিয়া ফেলিল।
সে কাঁদিতে কাদিতে বলিল, “ঠাকুর, বাবা আমায়
তােমার পূজা করিতে বলিয়া গিয়াছেন, আমি মন্ত্র
তন্ত্র কিছুই জানি না, তাই কি ঠাকুর তুমি আসিতেছ
? ঠাকুর শীঘ্র এস, তুমি না আসিলে বাবা কাল
আমাকে বড় বকিবেন।”
পুরােহিতের ছেলে আর কিছু বলিতে পারিল
, কেবলই ফুপাইয়া ফুপাইয়া কঁদিতে লাগিল।
হঠাৎ সে ঠাকুরের দিকে চাহিয়া দেখিল, ঠাকুর
৪৫

রামকৃষ্ণের আরাে গল্প
সম্মুখে বসিয়া আহার করিতেছেন। ঠাকুরের আহার
শেষ হইলে পুরােহিতের ছেলে যখন মন্দির হইতে
বাহির হইয়া আসিল তখন সকলে জিজ্ঞাসা করিতে
লাগিল, “নৈবেদ্য
সকল কোথায় রাখিয়া
আসিলে ?”
পুরােহিতের ছেলে বলিল, “নৈবেদ্য ! সে
ত সব ঠাকুর খাইয়াছেন।”
ঠাকুর খাইয়াছেন! পুরােহিতের ছেলের
কথায় সকলে অবাক হইয়া গেল। তাহার পর
মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করিয়া নৈবেদ্যের শূন্য পাত্র
সকল দেখিয়া তাহাদের আর আশ্চর্যের সীমা
পরিসীমা রহিল না। সরল বিশ্বাসের এমনি শক্তি
যে তাহাতে পাষাণের ঠাকুরও সজীব হইয়া আহার
শিশির কুমার মিত্র, বি. এ. কর্তৃক শিশির পাবলিশিং হাউস হইতে
প্রকাশিত এবং কলিকাতা-৩৩নং গৌরীবেড় লেন ‘সূৰ্য্য-প্রেসে
শ্রীসুবােধচন্দ্র সরকার দ্বারা মুদ্রিত।

সে হাত দুটি জোড় করিয়া বলিল, ঠাকুর,শীঘ্র আসিয়া
আহার কর।
পৃষ্ঠা ৪৬

শিশির পাবলিশিং হাউসের
শিশুতােষ সিরিজ
নৈতিক, পারমার্থিক ও জাতীয় শিক্ষার পক্ষে অপরিহার্য
প্রতি মাসে একখানি করিয়া প্রকাশিত হয়
আশ্বিন হইতে বর্ষ আরন্তু
সডাক বার্ষিক মূল্য ৪১
প্রতি সংখ্যা |
প্রকাশিত হইয়াছে
১। পৃথিবীর জন্ম
২। প্রকৃতির পরাভব
৩। কানুর কীর্তি
৪। আৰ্য্য ও অনাৰ্য
৫। আজগুবি জন্মকথা
ছেলেদের বিষ্ণুপুরাণ
গল্পে রামকৃষ্ণ
৮। সত্যযুগের কথা
। উদোলবুড়াের সাঁওতালী গল্প
১। রামকৃষ্ণেব আরাে গল্প
১। সতী
১২। উদোলবুডাের আরাে গল্প

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Ramakrishner Aro Galpo

Author
Mitra,shishirkumar Ed
Title
Ramakrishner Aro Galpo
File name
Ramakrishner Aro Galpo
Text
OCR done
Citation
1921
Published
2010/02/13
Publisher
Brindaban And Son, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
68
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Fiction
Keywords
Kalpabriksha
DLI number
511305
Barcode
4990010018465.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
tdlnXTSyWZ7
Download PDF

Ramakrishner Aro Galpo