Bally Sadharan Granthagar
Lathikhela O Asishikha Ed. 1st
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
বন্দে মাতরম্
লাঠিখেলা
ও অসিশিক্ষা
শ্রীপুলিনবিহারী দাস প্রণীত
প্রথম সংস্করণ
( সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত )
১৩৩১
No text on this page.
উৎসর্গ পত্র ।
ভবিষ্যতের আশস্থল, স্বদেশভক্ত প্রিয়তম ছাত্র ও যুবকগণের করকমলে এই
ক্ষুদ্র পুস্তক সাদরে অর্পিত হইল।
No text on this page.
পৃষ্ঠা সূচীপত্র পৃষ্ঠা বিষয় “পাক্ষিক • “রাবান্তিক” “গোমুখ" ঢাল ও শৃঙ্গ |} / ••• ১০ ••• ১১ ১১ ৩০ শৃঙ্গ চিত্র ১১ ১ ১ উৎসর্গ-পত্র ভূমিকা পূর্বাভাস :-- অসির নাম অসি-বন্দনা, পুস্তকের সাহায্যে অসিশিক্ষার উপায় উপক্রমণিক। — স্থান নির্দেশ সময়-:ি(র্দেশ শিক্ষাগুরু ও আচাৰ্য লক্ষণ শিক্ষাথী লক্ষণ ••• অভিবাদন প্রয়ােজন (১) অসির বর্ণনা অসি চিত্র অসি মুষ্টি অসির গতি — গুড় শি জড় বেশ সাধারণ হিতবাক্য :- জ্ঞান-বুদ্ধি সাহস কৌশল ক্ষিপ্ৰকারিতা ১ * * ১২ বল ও শক্তি ০ ০ ০ ৪ ••• ৪ * ০। ধৈৰ্য্য (শম দম ) সপ্ত-সাদি পাঠারম্ভ :- পাঠপর্যায়ের অঙ্গ :- ঘাত সমাত (শ্যামঘাত ) বিষম ঘাত (মিলবার্ট) ১৪ ৫ ১৪ ১৪ ০ ০ ১৪ ৭ • • • চতুম্মুখী ১৪ ১৪ * * * ৫ ১৪ . ১৪ ত্রিত্রা: সর্পদংশন ঃ- “টান” “টিপ “ছে ল” বভিন্ন অসি-গতির তুলনা আত্মরক্ষা সতর্কতা :- প্রথম দ্বিতীয় ৭ এ এ এ এ এ . মিশ্রঘাত নির্ঘাত পাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গের তুলনা নির্ঘাত বিভাগ - হনমন্তী শঙ্খাসুরী শূরসেনী বাম হস্তে অভ্যাসের প্রয়ােজন অভিবাদন অভিবাদন প্রয়ােজন বাম হস্ত দ্বারা প্রয়ােগ ও প্রতিকার সম্বন্ধে নিয়মাদি ১৫ ৭ ••• ৭ তৃতীয় ০ ০ ০ • • • স্থতি ( দা ড়াইবার ভঙ্গী ) “একাঙ্গ স্থিতি” • ‘ভকান্তি একাঙ্গে অভিযান স্থিতি ঐ চিত্র বিভিন্ন স্থতির নাম স্থিতি চিত্র স্থতি বর্ণনা :- “একা, ••• ১০ ০ ০ ০ ৮ । । ১০ একঘাত দ্বি ঘাত ১৭ বাম হস্তে ক্রীড়াকালে পদের আঘাত-সম্পর্কে নিয়মাদি ত্রি ঘাত S চতুর্ঘাত ২১ পঞ্চঘাত ২৪ ১০ ১০ ১০
No text on this page.
সূচীপত্র পৃষ্ঠ ঢাল ও শৃঙ্গ ১১ শৃঙ্গ চিত্র ০ ০ ০ ১১ ••• পৃষ্ঠা বিষয় / “পাক্ষিক po “রাবান্তিক” yo “গোমুখ” • ১০ ১ সাধারণ হিতবাক্য :- ১ জ্ঞান-বুদ্ধি সাহস কৌশল ক্ষিপ্ৰকারিতা বল ও শক্তি ধৈৰ্য্য ( শম-দম) সপ্ত-সাদি পাঠারম্ভ - ৫ পাঠপর্যায়ের অঙ্গ :- ১২ • • ০ ০ ০ ১২ ০ ০ ০ । । । ১২ • • • উৎসর্গ-পত্র ভূমিকা পূর্বাভাস :-- অসির নাম অসি-বন্দনা পুস্তকের সাহায্যে অসিশিক্ষার উপায় উপক্রমণিক। স্থান নির্দেশ সময়-নির্দেশ শিক্ষাগুরু ও আচাৰ্য লক্ষণ শিক্ষার্থী লক্ষণ অভিবাদন প্রয়ােজন (১) অসির বর্ণনা অসি চিত্র অসি ১ষ্টি অসির গতি — গুড় শি জড় বেশ ত্রাস ত্রিত্রা: সর্পদংশন ঃ- “টান” “টিপ “ছে ল” বিভিন্ন অসি-গতির তুলনা আত্মরক্ষা: সতর্কতা : প্রথম দ্বিতয় ৪ ••• ৪ ১৪ ৫ ১৪ ১৪ সমঘাত (শ্যামঘাত) বিষম ঘাত (মিলবার্ট) ৫ ১৪ . . . ৭ চতুম্মুখী ১৪ ১৪ ৫ ১৪ ১৪ । মিশ্রঘাত নির্ঘাত পাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গের তুলনা নির্ঘাত বিভাগ :- হনমন্তী শঙ্খসুরী ••• ৭ ৭ ০ ০ ০ শূরসেনী ৭ . • • তৃতীয় ০ ৮ ০ ০ प ••• ••• ০ ০ ০ স্থিতি (দ। ডাইবার ভঙ্গী) “এাঙ্গ স্থিতি” • ভলকান্তি” একাঙ্গে অভিযান স্থিতি ঐ চিত্র বিভিন্ন স্থিতির নাম স্থিতি চিত্র স্থিতি বর্ণনা :- বাম হস্তে অভ্যাসের প্রয়ােজন অভিবাদন অভিবাদন প্রয়ােজন বাম হস্ত দ্বারা প্রয়ােগ” ও “প্রতিকার সম্বন্ধে নিয়মাদি ঘাত :- একঘাত ১৭ বাম হস্তে ক্রীড়াকালে পদের আঘাত-সম্পর্কে নিয়মাদি ত্রি ঘাত ১৯ চতুর্ঘাত পঞ্চযাত ২৪ . . ৫ . . •• দ্বি ঘাত ০ ১০ ১০ ০ “একা, - ••• | L পৃষ্ঠা ৪৭ ৪৭ ৪৮ ৪৮ ৮ । । ৪৮ ৪৮ ৪১ ৪৯ ৪৯ • ৪৯ . . . ৩ ০ ০ ৪: ১ যষ্ঠ ক্ৰম ৪ বিষয় পৃষ্ঠা বিষয় ষড় ঘাত তৃতীয় পাঠ সপ্তঘাত २० চতুর্থ পাঠ অষ্ট ঘাত পঞ্চম পাঠ নব ঘাত। ষষ্ঠ পাঠ দশ ঘাত ••• ২৮ সপ্তম পাঠ একাদশ ঘাত অষ্টম পাঠ দ্বাদশ ঘাত ৩২ নবম পাঠ ভযােদশ ঘাত ৩৪ দশম পাঠ চতুর্দশ ঘাত ••• ৩৭ একাদশ পাঠ শৃঙ্গসহ ক্রীড়াকালে সতর্কতা ৪০ দ্বাদশ পাঠ পঞ্চদশ ঘাত ৪০ এয়ােদশ পাঠ শ্যামঘাত (সমঘাত) ৪১ চতুর্দশ পাঠ প্রথম ক্রম পঞ্চদশ পাঠ ৪০ দ্বিতীয় ক্রম যােড়শ পাঠ ৪১ তৃতীয় ক্রম সপ্তদশ পাঠ ৪১ চতুর্থ ক্রম অষ্টাদশ পাঠ পঞ্চম ক্রম উনবিংশ পাঠ ৪২ বিংশ পাঠ 8२ সপ্তম ক্রম একবিংশ পাঠ ৪২ অষ্টম ক্রম দ্বাবিংশ পাঠ নবম ক্রম এয়ােবিংশ পাঠ ৪৩ দশম ক্রম চতুর্বিংশ পাঠ বিষম ঘাত :- উভয় হস্তে লাঠি কিম্বা অসি :- ৪৩ প্রথম ক্ৰম প্রথম পাঠ ৪৩ দ্বিতীয় ক্রম ( উত্তর স্থিতি ) ৪ ৩ দ্বিতীয় পাঠ তৃতীয় ক্রম তৃতীয় পাঠ চতুর্থ ক্রম ৪৪ চতুর্থ পাঠ পঞ্চম ক্রম ৪৪ পঞ্চম পাঠ ৪৪ যষ্ঠ পাঠ গহ্বর ৪৫ সপ্তম পাঠ চতুর্মুখী :- ৪৫ অষ্টম পাঠ শৃঙ্গ দ্বারা প্রতিকার হেতু শৃঙ্গধারণের নিয়ম ৪৬ নবম পাঠ চতুর্মুখী প্রথম ধারা ৪৬ দশম পাঠ দ্বিতীয় ধারা একাদশ পাঠ তৃতীয় ধারা দ্বাদশ পাঠ ত্রয়ােদশ পাঠ চতুর্থ ধারা ৪৬ পঞ্চম ধারা চতুর্দশ পাঠ ষষ্ঠ ধারা পঞ্চদশ পাঠ যােড়শ পাঠ মিশ্রঘাতঃ- ৪৬ নির্ঘাত প্রথম পাঠ ৪৭ মৰ্ম্মস্থল :- দ্বিতীয় পাঠ বায় ৫৪ ৫৪ ৪৩ . . ৩ • • • ৪৩ ০ ০ ০ ৮ ০ ০ • • । যষ্ঠ ক্ৰম • • • ৪৬ ৪৬ ৫ . . ৫৮ ; ގެ ০ ০ . ৪৭ বিষয় • মৰ্ম্মবিভাগ মৰ্ম্মসমীপে আঘাতের ফল ধাতু • ৬১ ০ মৰ্ম্ম তুলনা ৬১ ৭০ | ৩ ০ ০ ০ ৭০ সদ্য প্রাণহর মর্মসমূহ :- শৃঙ্গাটক ( মস্তিষ্ক চিত্র ) অধিপতি ( মস্তিকাস্থি চিত্র) # ০৯ ৭০ ০ ০ ০ ৭০ ৬২ ৭০ ৭০ • • • ৭১ ০ ০ ০ ৭১ ০ ০ ০ ৭১ ০ ০ ০ ৭১ ৭১ ০ ০ ০ ০ ০ ০ এ ৫ ০ ৭১ ৬৪ ৭২ == ০ ০ ০ ৭৩ ৬৪ ৬৪ ৭৭ পৃষ্ঠা বিষয় অংসফলক অংস নীলা-মন্যা ফণ বিধুর ককাটিকা অপাঙ্গ আবৰ্ত্ত রুজাকর মৰ্ম্মসমূহ :- গুলফ মণিবন্ধ কূর্চ্যশিরা বিশৈল্য মৰ্ম্মসমূহ :- উৎক্ষেপ স্থাপনী পদচালনা- বিনােদ ৬৪ প্রথম পাঠ দ্বিতীয় পাঠ তৃতীয় পাঠ ৬৪ চতুর্থ পাঠ পঞ্চম পাঠ ষষ্ঠ পাঠ সপ্তম পাঠ অষ্টম পাঠ নবম পাঠ যুযুৎসু :- প্রথম পাঠ দ্বিতীয় পাঠ (ব্যাঘ্র থাবা) তৃতীয় পাঠ ৬৭ চতুর্থ পাঠ পঞ্চম পাঠ ষষ্ঠ পাঠ সপ্তম পাঠ অষ্টম পাঠ নবম পাঠ দশম পাঠ একাদশ পাঠ ক্ষত প্রতিকার নাম-নির্ঘণ্ট ৭৮ ৭৯ ••• ৮০ bo [ কঙ্কাল (সম্মুখ চিত্র ) ] কণ্ঠশিরা বা শিরা-মাতৃকা হৃদয় নাভি বস্তি পায়ু (গু) [ কঙ্কাল (পৃষ্ঠ চিত্র) ] কালান্তর প্রাণ-হর মৰ্ম্মসমূহ : সীমন্ত অপলাপ অপস্তম্ভ স্তনরােহিত স্তনমূল বৃহতী পার্শ্বসন্ধি কটিক তরুণ নিতম্ব ক্ষিপ্ত ( হস্ত চিত্র ) (পাদ চিত্র) তল (তল হৃদয় ) ইন্দ্রবন্তি বৈকল্যকর মর্মসমূহ : কুচ্চ জানু কুৰ্পর আনি উব্বী লােহিতাক্ষ বিটুপ কক্ষধর কুকুন্দর ৮১ ৮৩ ৮৩ ৮৪ ৮৬ ৮৭ betr . ০ ০ ০ ৮৯ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ৮৯ ৬৮ ০৫ ০ ০ ০ ০ ৬৮ . • • • año ০ ০ ০ চিত্র সূচী পৃষ্ঠা পৃষ্ঠা ৪ চিত্র ৪৩। অন্তর-বাম ( অন্তর উত্তর) ৪৪। কটী-ঘাত ৪৫। কক্ষ-উত্তর থ ::: ৩২ ১০ ৫ ০ ০ চিত্র ১। অসি একাঙ্গের অভিযান স্থিতি ৩। “স্থিতি”—চিত্র ৪। শৃঙ্গ (কৃষ্ণসার শৃঙ্গ নির্মিত ) ৫। শৃঙ্গ (ইস্পাত নির্শিত ) ৬। শৃঙ্গ (কাষ্ঠ-নিম্মিত) ৭। শির ৮। মােড়। ১১ ৪৬। ৩৩ । ১১ :: . ০ ০ ৪৮। ০ ০ ০ ৩৩ ১১ ১৭ • • • ১৭ + ০ ০ ৩৪ ০ + ১ ১৮ p sp ৩৪ ০ ০ ০ ১৮ ৩৪ ৩৫ ০ ০ ০ ৩৫ ০৫০ ২ ০ • • • • • ২১ ২২ ৪ ও ৩ • • • ২২ ২২ ০ ০ ০ | ০ ০ ১০। কুচ ১১। তামেচা ১২। বাহেরা ১৩। কটী ১৪। হাতকাটি ১৫। চির ১৬। চির-অপর পার্শ্ব হইতে ১৭। ভাণ্ডার ১৮। পালট ১৯। গ্রীবাণ যাণ্ড্য ২১। কড়ক ২২। হুল ( আরম্ভকালে) ২৩। হুল ( শেষভাগে) ২৪। শির-দক্ষিণ ২৫। যাণ্ড্য-উত্তর ২৬। সাকম্ (সাকম উত্তর) ২৭। ত্রিহর ( ত্রিহরা) ••• ৩৭ ২৪ ২৪ ০ ০ ৩৭ ২৫ ৮ ১০ ০ ০ ০ ৩৭ २६ ৪৭। পৃষ্ঠ দক্ষিণ ভাণ্ডার ঘাত ৪৯। অঙ্ক দক্ষিণ ৫৩। ঘাটিকা দক্ষিণ ৫১। পৃষ্ঠ উত্তর অঙ্ক, উত্তর ৫৩। কুটি দক্ষিণ ৫৪। কক্ষ দক্ষিণ ৫৫। ঘাটিকা উত্তর ৫৬। যবেগ। দক্ষিণ ৫৭। যবেগা উত্তর ৪৮। ভর্জা ৪৯। কুটী উত্তর ৬০। পঞ্জর উত্তর ৬১। পঞ্জর উত্তর (প্রকারান্তর) ৬২। পঞ্জর দক্ষিণ ৬৩। কূৰ্চ্চাধঃ ৬৪। প্রপদ অংসহুল উত্তর ৫৬। অংসহুল উত্তর ( প্রকারান্তর) ৬৭। শৃঙ্গবাহী ৫৮। চতুষ্কা ৬৯। মণিবন্ধ পুর: ৭০। মণিবন্ধ পৃষ্ঠ ৭১। কথা ৭২। ঠো ৭৩। অর্ধপাদ পাতল ৭৫। অধস্তল ৭৬। মণিবন্ধ অধঃ ৭৭। আলীঢ় (পাল ) ৭৮। গল আনী নেত্রহুল দক্ষিণ ৮০। উদর ৮১। হনুমূল দক্ষিণ ৮২। চক্রিকা উত্তর :: : ৩৮ ৬ । ৩৮ ৮ ২৭ २१ মােড়া-উত্তর • • ২৭ ৩০। মন ০ ০ ০ ২৮ ৫। ৩ । । । ২৮ ২৯ । । । ৪১ ৭৪। • • । ৪৪ ••• ৯ ৪৫ * ৩ । ৪১ ৩১। হীনায় ৩২। আসর ৩৩। চাপনি ৩৪। গুলফাধঃ চাকি ৩৬। চাকি (প্রকারান্তর) ৩৭। দক্ষিণ আনী জঙ্ঘা ৩৯। আনী ৪০। আনী ( প্রকারান্তর) ৪১। দ্বিগড় ৪২। পিণ্ডি ৭১। ও ৪ ০ ০ ৩১ a & ৮৮ ০ . পৃষ্ঠা পৃষ্ঠা ৮১ ৮১ ৮১ ৫৪ • + ৮২ ৫৪ ৫৪ * * * ৮২ ৮২ । । । प ৫ ৪ •• ৮৪ ৮৪ :: ৬৪ ... ৮৪ : ৮৪ ৮৫ ৮৫ ৭৩ ৮৫ ১৮। ৭৩ * * ৭৩ • • • ৮৭ ৭৪ . . . ৮৭ ৮৭ ৭৪ ৭৪ চিত্র ৮৩। মণিবন্ধ উদ্ধ ৮৪। অধর দক্ষিণ ৮৫। নেহুন উত্তর ৮৬। গলবিন্দু ৮৭। অংসহুল দক্ষিণ ৮৮। চক্রিকা দক্ষিণ ৮৯। হনুমূল উত্তর অধর উত্তর ৯১। মস্তিষ্ক চিত্র ৯২। মস্তকাস্থি চিত্র ৯৩। কঙ্কাল (সম্মুখ চিত্র ) ৯৪। কঙ্কাল (পৃষ্ঠ চিত্র) ৯৫। হস্ত চিত্র ৯৬। পাদ চিত্র ৯৭। ১ বিনােদ ২য় (ক) বিনােদ ৯৯। ২য় (খ) বিনােদ ১০০। ৩য় বিনােদ ১০১। ৪র্থ বিনােদ ১০২। ৫ম্ বিনােদ ১০৩। ৬ষ্ঠ বিনােদ ১০৪। ৭ম্ বিনােদ ১০৫। ৮ম্ (ক) বিনােদ ১০৬। ৮ম্ (খ) বিনােদ ১০৭। ৯ বিনােদ ১০৮। ১•বিনােদ ১১শ বিনােদ ১১০। ১২শ বিনােদ ১১১'। ১৩শ বিনােদ ১১২। ১৪শ বিনােদ ১১৩। ১৫শ (ক) বিনােদ ১১৫। ১৫শ (খ) বিনােদ ১১৫। ১৬শ বিনােদ ১৭শ বিনােদ ১১৭। ১৮শ বিনােদ ১১৮। ১৯শ (ক) বিনােদ ১৯৯। ১৯শ (খ) বিনোদ ১২। ২০ শ বিনােদ ১২১। ২১শ বিনােদ ১২২। ২২শ বিনােদ ২৩শ বিনােদ চিত্র ১২৪। ২৪শ বিনােদ ১২৫। ২৫শ (ক) বিনােদ ১২৬। ২৫শ (খ) বিনােদ ১২৭। ২৬শ বিনােদ ১২৮। ২৭শ চিনােদ ১২৯। ২৮শ বিনােদ ১৩। ২৯শ বিনােদ ১৩১। ৩০শ বিনােদ ১৩২। ১ম যুযুৎসু (ক) ১৩৩। ১ম যুযুৎসু (খ) ১৩৪। ২য় যুযুৎসু (ক) ১৩৫। ২য় যুযুৎসু (খ) ১৩৬। ৩য় যুযুৎসু (ক) ১৩৭। ৩য় যুযুৎসু (খ) ১৩৮। ৪র্থ যুযুৎসু (ক) ১৩৯। ৪র্থ যুযুৎসু (খ) ১৪ । ৫ম যুযুৎসু ১৪১। ৬ষ্ঠ যুযুৎসু (ক) ১৪২। ৬ষ্ঠ যুযুৎসু (খ) ১৪৩। ৭ যুযুৎসু (ক) ১৪৪। ৭ যুযুৎসু (খ) ১৪৫। ৮ যুযুৎসু (ক) ১৪৬। ৮ যুযুৎসু (খ) ১৪৭। ম্যুযুৎসু ১৪৮। ১০ যুযুৎসু (ক) ১৪৯। ১০ যুযুৎসু (খ) ১৫০। ১১শ যুযুৎসু (ক) ১৫১। ১১শ বুযুৎসু (খ) ১৫২। ১২শ যুযুৎসু (ক) ১৫৩। ১২শ যুযুৎসু (খ) ১৫৪। ১৩শ যুযুৎসু ১৫৫। ১৪শ যুযুৎসু (ক) ১৪শ যুযুৎসু (খ) ১৫৭। ১৫শ যুযুৎসু ১৫৮। ১৬শ যুযুৎসু (ক) ১৫৯। ১৬শ যুযুৎসু (খ) ১৬০। ১৭শ যুযুৎসু ১৮শ যুযুৎসু ১৬২। সাকম দক্ষিণ । ১৬৩। আসর উত্তর। ৮ ০ ০ ৮৭ ৭৫ ৮৭ ৭৫ ৮৮ ••• ৮৮ ৭৬ ৮৮ ••• ৭৬ ৮৯ ৮৯ ৭৬ ৩ । ৭৭ * * ০ ০ ০ ৭৭ ৯ ৭৭ ৭৮ ০ ০ ৯ ৯ ৭৮ . . . ৭৮ ... ৭৮ ৯২ ••• ৭৯ ৭১ ৭১ •• ৭৯ ৫ ০ ০ ৮০ শুদ্ধি পত্র শুদ্ধি পত্র bo ৮০ শুদ্ধিপত্র অনবধানতা বশতঃ এই পুস্তকে কতকগুলি মুদ্রাকর প্রমাদ ঘটিয়াছে। সকলগুলি শুদ্ধিপত্রে দিতে গেলে লম্বা তালিকা হইয়া পড়ে। সাংঘাতিক ভুল কয়েকটি নিম্নে নির্দেশ করা গেল। ৩৩ পৃষ্ঠায় ৪র্থ ছবিটির নীচে “অঙ্ক” স্থলে “অঙ্ক, দক্ষিণ” হইবে। ৩৫ পৃষ্ঠায় ১ম ছবিটির নীচে “কুটি উত্তর” স্থলে “ভ্রুকুটি দক্ষিণ” হইবে। ৪৪ পৃষ্ঠায় ২য় কলমে নীচের দিক হইতে ৪র্থ লাইনে “অটস্তল” স্থানে “অধস্তল” হইবে। ৪৫ পৃষ্ঠায় ১ম ছবিটির নীচে “গহ্বর অধস্তল স্থানে শুধু “অধস্তল” হইবে। এবং ছবিব নীচ হইতে যে লেখা তাহার Heading হইবে—‘গহ্বর'। নিম্নের ছবি দুইটি ৪১ পৃষ্ঠায় হইবে। সাম দক্ষিণ আসর উত্তর ভূমিকা . “শরীরমাদ্যম খলু ধৰ্ম সাধন”। শরীর সুস্থ না ও চিত্তের দৃঢ়তা এবং সাধারণ স্বাস্থ্য ও কষ্টসহিষ্ণুতা থাকিলে মন সুস্থ থাকে না। মন সুস্থ না থাকিলে সাধন করিয়া মানব নির্ভীক ও কর্মঠ হইয়া দেশের ও বুদ্ধিবৃত্তির ফুরণ হয় না। বুদ্ধিবৃত্তির স্ফুরণ না হইলে জগতের প্রভূত কল্যাণ-সাধনের উপযােগী হইতে পারে। জ্ঞান-বল জন্মিতেই পারে না। জ্ঞান-বল না থাকিলে “ভীম” কিম্বা “স্যাণ্ডোর” ন্যায় স্বাভাবিক শারীরিক উন্নতি লাভও লাভও অসম্ভব। অনুন্নত অবস্থায় পতিত বল সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না; কিন্তু চেষ্টা ও হইয়া থাকা অপেক্ষা মৃত্যুই শ্রেয়স্কর।' অনুশীলন দ্বারা কৌশল অধিকাংশ লােকেই আয়ত্ত জ্ঞান-বলের ন্যায় চরিত্র-বলও একটি প্রধান বল । করিয়া আত্মরক্ষার যােগ্যতা লাভ করিতে পারে ; চরিত্রের অভাবে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান, গুণ ও যােগ্যতা বিনষ্ট এমন কি, শিক্ষার কৌশল দ্বারা অকৌশলী “ভীম” হইয়া যায় ; চরিত্ৰ-বলের অভাব হেতুই অনেক যােগ্য কি “স্যাণ্ডের ন্যায় বলশালীকেও নিরস্ত করা ব্যক্তিও তাহাদের যোগ্যতা দেশের ও জগতের গুরুতর অসম্ভব হয় না। অনিষ্টসাধনে প্রয়ােগ করিয়া থাকেন। এইরূপ বিশ্বাসের বশবর্তী হইয়াই লাঠিখেলা ও ছাত্র-জীবনে ও যৌবন-প্রারম্ভে অনেকে না বুঝিয়া অসিশিক্ষা-সম্বন্ধে আমার সামান্য অভিজ্ঞতাটুকু—যাহ। কুসংসর্গে পড়িয়া চরিত্র-বল হারাইয়া তাহাদের ভবিষ্যৎ “প্রবাসীতে” ধারাবাহিক প্রবন্ধাকারে প্রকাশিত ও সমস্ত যােগ্যতা বিনষ্ট করিয়া ফেলে । যাহাতে হইয়াছিল, তাহাই কিঞ্চিৎ পরিবর্ধিত, পরিশােধিত, ছাত্রগণ ও যুবকবর্গ কুসংসর্গে না পড়িতে পারে, সে ও পরিবর্তিত করিয়া পুস্তকাকারে দেশবাসীদের সমক্ষে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন দেশ-হিতকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি মাত্রেরই উপস্থিত করিলাম। সহৃদয় দেশবাসীদের মধ্যে যদি কর্তব্য। ছাত্রগণ ও যুবকবৃন্দই ভবিষ্যতের আশস্থল। কাহারাে এ-বিষয়ে সামান্য মনোেযােগও আকৃষ্ট হয়, যাহাদের চরিত্র-বল নাই, তাহারা সাধারণতঃ ভীরু তবেই আমার পরিশ্রম সার্থক জ্ঞান করিব। এ-সম্বন্ধে ও কাপুরুষ হইয়া থাকে। আবার আত্মরক্ষার শক্তির গুণিগণ কোনও নৃতন তত্ত্ব জানাইয়া দিলে, কিম্বা ভ্রম, অভাব হেতু যাহারা সৰ্ব্বদাই ভয়ে ভীত জড়সড় ভ্রান্তি ও ক্রুটী সংশােধন করিয়া দিলে নিতান্তই বাধিত হইয়া থাকে, তাহারা জীবিত থাকিয়াও মৃত। তাহাদের হইব। উন্নতিই কোথায়, সুখই কোথায়, আনন্দই কোথায়, এবং বিভিন্ন কারণে চিত্রগুলির মধ্যে সামান্য-সামান্য জীবনধারণেরই বা সার্থকতা কোথায় ? ক্রটী রহিয়া গেল,আশা করি শিক্ষার্থীগণ তাহা উপেক্ষা শরীর ও মনের সুস্থতা সাধন এবং চরিত্রের বিশুদ্ধতা- করিবেন; এবং চিত্র ও বর্ণনা, এই উভয়ের সমন্বয় রক্ষা-হেতু বিভিন্ন ব্যায়াম-কৌশল ও শিক্ষা-পদ্ধতি সাধন করিয়াই শিক্ষা-পদ্ধতিতে অগ্রসর হইবেন। প্রচলিত আছে। তন্মধ্যে লাঠিখেলা ও অসিশিক্ষা চিত্রগুলির গঠন-কাৰ্য্যে “প্রবাসী”-সম্পাদক, মাননীয় অন্যতম। আমার বিশ্বাস—সমস্ত নিয়ম-প্রণালী, প্রতিজ্ঞা শ্ৰীযুত রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের সুযােগ্য পুত্র ও গুরুর শাসন ( discipline) প্রতিপালন করিয়া বিশুদ্ধ শ্ৰীমান্ অশােক চট্টোপাধ্যায় বি-এ (ক্যান্টাব,) এবং পদ্ধতিতে লাঠিখেলা ও অসিশিক্ষা অভ্যাস করিলে, কলিকাতা মেডিকেল কলেজের সুযােগ্য ছাত্ৰ শ্ৰীমান্ অন্যান্য ব্যায়াম-পদ্ধতি অপেক্ষা অতি অল্প সময়ে ও শরদিন্দু ঘােষাল এম্ বি, আমাকে যথেষ্ট সাহায্য অতি সহজে শরীরের লঘুতা, মনের প্রফুল্লতা, চরিত্র করিয়াছেন; এজন্য তাহাদিগকে আন্তরিক ধন্যবাদ • ; জানাইতেছি ; মৰ্ম্মস্থল-নির্দেশ ও মৰ্ম্মচিত্র গঠন-কাৰ্যে প্রপীড়িত হওয়াতে ভ্ৰষ্টবুদ্ধি ও প্রমাদগ্রস্ত হইয়া চতুর্দিক সহায়তা হেতু শ্ৰীমান শরদিন্দুর নিকট আমি নিতান্তই অন্ধকারময় কিম্বা অব্যক্ত দেখিতে থাকে, এবং পরস্পর কৃতজ্ঞ রহিয়াছি। পরস্পরের প্রতি আক্রোশ করতঃ স্বপক্ষীয়গণকেই প্রহার পূর্বাভাস করিতে থাকে। অতি পুরাকালে, যে-সময়ে গুণহীন ও অযােগ্য এরূপ ঘটনা যাহারা প্রত্যক্ষ দেখিয়াছেন তাহারাই অসুর প্রকৃতি ব্যক্তিগণ স্বাভাবিক শারীরিক বলে দৃপ্ত ইহার সত্যতা উপলব্ধি করিতে পারিবেন। হইয়া স্পর্ধা-সহকারে গুণী ও যােগ্য দেব-প্রকৃতি ব্যক্তি যন্ত্রযুক্ত অন্যান্য অস্ত্র-শস্ত্রাদি আবিষ্কৃত হওয়ার পূর্বে গণের সমানাধিকার লাভের জন্য,ও তাহাদের যােগ্যতালব্ধ- বােধ হয় অসিই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ অস্ত্র বলিয়া পরিগণিত ফলে পূর্ণ-ভােগ-লালসায় প্রলুব্ধ হইয়া,এবং আধিপত্য-হেতু হইত; নিম্নোদ্ধত প্রচলিত “অসি-বন্দনা” হইতে ঐরূপই নানারূপ অত্যাচার ও উৎপীড়নে রত হইয়া পৃথিবীতে আভাস পাওয়া যায়, যথা :- ধারাবাহিক উচ্ছলতার সূত্রপাত করিতেছিল, তখন বন্দে অসি, বীরকরচারি, হুঙ্কারি, অরাতি-বিদারি, ঐ সমস্ত দেব-প্রকৃতি ব্যক্তিগণ জ্ঞানানুশীলনে প্রবৃত্ত অত্যাচার প্রতিকারি, সমর-ভূমি-বিহারি । হইয়া আত্মরক্ষার্থে নানা আয়ুধ ও অস্ত্র-শস্ত্রের আবিষ্কার অসিধারণ বঞ্চিতানাম্ ভিক্ষা সদা সম্বল, করিতে থাকেন ; ঐ সময়েই অসিও আবিষ্কৃত হয়। অধীনতা চির জীবন, বিভিন্ন প্রয়ােজন-সাধন ও বিভিন্ন আকৃতি-অনুযায়ী অসির অসিধারক পরদাস্য মােচনকারী বিভিন্ন নামকরণ হইয়াছিল, যথা :—অসি, বিশসন, খঙ্গ, তীক্ষ্ণধার, দুরাসদ, গর্ভ, বিজয়, ও ধর্মপাল ; বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মীন্তব তেজসা হি অসি, অসির অপর এক নাম নিস্ত্রিংশ,তদ্ভিন্ন তরবারি, করবাল ত্বংহি অধীনতা ছেদক, রিপু-রুধির-রঞ্জিত, প্রভৃতি অপরাপর নামও প্রচলিত রহিয়াছে। বিভিন্ন ত্বং হি ভীতি-নিবারী। নামীয় অস্ত্রের বিভিন্ন প্রকারের বিশিষ্টতা নির্ণয় কর। বিজ্ঞান-জ্ঞান-কৰ্ম্ম-ধৰ্ম্ম-ধন-ধান্যানা, বর্তমানে অসম্ভব। গৃহ-সুত-কলত্র-শৌর্য-সাহস-কীর্তিনাম দূর হইতে আত্মরক্ষা করিতে হইলে শরাসন, নালীক, ত্বং হি রক্ষণকারী । শতী, কামান, বন্দুক প্রভৃতিই শ্রেষ্ঠ। জনসঘ মধ্যে মুরলীং ত্যা মুরারি, তব সায়েন তরবারি, পতিত হইলে কিম্বা প্রতিপক্ষের অতি সন্নিকটবর্তী হইলে কারাগারে শৃঙ্খলিত-স্বজননী-দেবকী-পাশ-নাশনকারী। অসি ও গদা প্রভৃত্তিই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু গদাধারী অপেক্ষা বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে সুশিক্ষিত ও পবিত্রতা সম্পন্ন সুকৌশলী সৰ্বাবরণ-পরিত্যক্তা, তব হি শক্ত্যা, অসি, অসি-ধারীই শ্রেষ্ঠ ; কারণ অসি-চালন অপেক্ষা গদা- সৰ্বাসুর-বিমর্দিনী, ভৈরবী ভয়ঙ্করী, ভীমা ভীষণা চ চালনে সহজেই ক্লান্তি আনয়ন করে । কালী করালী । শম-দম-সম্পন্ন মন্ত্রাভিজ্ঞ ( মন্ত্র অর্থে গুপ্ত কৌশল ) বর্তমান যুগে অসির ঐ সমস্ত শক্তি-সামর্থ্য কিছুই অসি-ধারী একাকী অসিপাণি হইয়া দ্রুতপদে বিচিত্র নাই বটে, তথাপিও নীচ প্রকৃতির দুবৃত্তগণ হইতে কপে বিচরণ করিতে থাকিলে প্রতিপক্ষগণ তাহাকে আত্মরক্ষা অনেক সময়েই লাঠি কিম্বা অসি দ্বারা সহস্রবৎ জ্ঞান করিতে থাকে, এবং অসিবেগে প্রভগ্ন সম্ভবপর হইতে পারে । হইয়া কেহ কেহ ছিন্নবাহু, কেহ কেহ ছিন্নো, কেহ দুষ্ট লােক, চোর, ডাকাত প্রভৃতি হইতে সাধুজনের কেহ ছিন্ন বন্ধু এবং কেহ কেহ ছিন্নমস্তক হইয়া ধরাতলে রক্ষা, এবং ধৰ্ম্মতঃ সৰ্ব্ব বিষয়ে সৰ্ব্ব রকমে দেশের উন্নতি পতিত হইতে থাকে। আবার কেহ কেহ বা অসি-ঘাতে ও কল্যাণ-সাধন-হেতু নারূপ বাধা, বিঘ্ন, উৎপাত, উৎপীড়ন ও অত্যাচার দূর করিবার নিমিত্তই লাঠি-খেলা নামে এক প্রবল সম্প্রদায় গঠিত হইয়া সমস্ত ভারতবর্ষে ও অসি-শিক্ষার প্রয়ােজন হইয়া থাকে। উৎপীড়ন আরম্ভ করিয়াছিল। যেরূপ সিংহের গুহা হইতে বন্য পশু দূরে পলায়ন বিভিন্ন-ভাষী ও বিভিন্ন দেশবাসী শিক্ষিত, অশিক্ষিত করিয়া চলিয়া যায়, সেইরূপ যে-নগরে একটীমাত্র প্রসিদ্ধ নানা প্রকৃতির লােক তাহাদের অন্তর্ভুক্ত হইত বলিয়া অসিধারী থাকে, সে নগর হইতে ভীত হইয়া ক্ষুদ্রাশয় তাহাদের মধ্যে অসি-শিক্ষা প্রদানকালে, অবস্থা বিশেষে জন-শত্রুগণ দূরে চলিয়া যায়। কিন্তু যে-স্থানে অসিধারী শিক্ষা সৌকাৰ্য্যার্থে নানা ভাষার নানারূপ সাঙ্কেতিক শব্দ পুরুষ রাজকোপে নিগৃহীত, কিম্বা জনশত্রুগণ অপর ব্যবহৃত হইত; অধিকন্তু তাহাদের মন্ত্র-গুপ্তির সুবিধা-হেতু কোনও শক্তিদ্বারা সমর্থিত, তথায় অবশ্যই অন্য কথা। অপরের অবােধ্য “রামাশী-নামে এক সাঙ্কেতিক ভাষারও বৌদ্ধ যুগের শেষভাগে “অহিংসা পরমােধৰ্ম” এই সৃষ্টি হইয়াছিল। পরিশেষে বিভিন্ন দেশ, কাল ও পাত্রের বাক্যের নানারূপ বিকৃত ব্যাখ্যার ফলে এক দিকে যেমন সম্পর্কে বিজড়িত হওয়াতে এই পদ্ধতির বর্ণনায় সংস্কৃত, তথাকথিত বিবেকের তাড়নায় তথাকথিত ধার্মিক ও হিন্দী, রামাশী ও বিভিন্ন প্রাদেশিক এবং সামান্য জ্ঞানিগণ, কীট, পতঙ্গ ও হিংস্র পশু প্রভৃতির প্রতি দয়ার্দ্র- বৈদেশিক ভাষারও সংমিশ্রণে নানারূপ সাঙ্কেতিক শব্দ চিত্ত হইতেছিলেন, এবং মানুষের যন্ত্রণা ভুলিয়া গিয়া প্রবেশ করিয়াছিল। ঐ সমস্ত শব্দের প্রকৃতিগত মানুষের রক্ত দ্বারাই ছারপােকার আহার যােগাইতে- বিশ্লেষণ এ স্থানে অসম্ভব ; শব্দগুলি ও তাহাদের ছিলেন, তেমনই প্রতিক্রিয়া-ফলে অপর দিকে এক সাঙ্কেতিক অভিপ্রায় যথাস্থানেই সন্নিবেশিত হইবে। সম্প্রদায়ের তথাকথিত উপাসকগণ নরবলি, নরহত্যা হইতে প্রথম শিক্ষাথী গণের পক্ষে অসি লইয়া অভ্যাস করা আরম্ভ করিয়া নানারূপ অত্যাচার-উৎপীড়নে দেশকে নিতান্তই বিপজ্জনক। প্রথম প্রথম তাহাদের লাঠি লইয়াই জালাতন করিতেছিল। অভ্যাস করিতে হইবে। শিক্ষার পূর্ণতা প্রাপ্ত হইলে শ্রীমৎ শঙ্করাচার্যের প্রভাবে ক্ষত্রিয়-সমাজ পুনর্গঠিত, লাঠি ও অসি পরিচালনে সমান দক্ষতাই জন্মিয়া থাকে। ও ঐ সমস্ত অত্যাচার-উৎপীড়ন বাহ্যতঃ ক্ষান্ত হইলেও লাঠির আঘাতে শরীর গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়, অসির প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ ও দুবৃত্তগণ অরণ্য ও পৰ্ব্বতের আশ্রয় গ্রহণ আঘাতে শরীর কাটিয়া যায়। অসি লইয়া সর্বদা সর্বত্র করিয়া দ্যবৃত্তি ও কাপালিক বৃত্তি অবলম্বন করিল। বিচরণ করা অসম্ভব, কিন্তু লাঠি সর্বদা সঙ্গে থাকিলে কিন্তু “অহিংসা পরমােধৰ্ম্ম” এই বাক্যের বিকৃত ব্যাখ্যার অধিকাংশস্থলেই আত্মরক্ষা সম্ভবপর হয়, এবং অন্যান্য প্রভাব ভারতবর্ষ হইতে বিদূরিত হইল না। তথাকথিত নানারূপ প্রয়ােজনও সাধিত হইয়া থাকে। লাঠি ও ধার্মিক ও জ্ঞানিগণ তথাকথিত জ্ঞানচর্চার আতিশয্য হেতু অসি শিক্ষার প্রণালী সম্পূর্ণই একরূপ, তাই এই পুস্তিকার সংসার অনিত্য দেখিতে লাগিল, এবং আত্মরক্ষা ও নাম “লাঠি খেলা ও অসি-শিক্ষা” হইল। বর্ণনা মধ্যে দেশের প্রকৃত উন্নতি-সম্পর্কে সৰ্ব্ব রকমে উদাসীন হইয়া বিভিন্ন বিষয় পরিস্ফুট করিবার সুবিধা হেতু কখনও বা পড়িল ; তাহাদের প্রভাব ক্ষত্রিয় ও অন্যান্য সমাজে “অসি” কখনও বা “লাঠি” শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে। পতিত হওয়ায় দেশ ক্রমে নিস্তেজ ও নির্বীৰ্য্য হইয়া শুধু পুস্তক পাঠ করিয়া লাঠিখেলা ও অসিশিক্ষা বৈদেশিকগণের করকবলিত হইয়া পড়িল, এবং সঙ্গে সঙ্গে আয়ত্ত করা একটু কষ্টকর বটে; তবে গণিত বিজ্ঞান- অসিবিদ্যা, ধনুর্বিদ্যা প্রভৃতিও জন-সমাজ হইতে ক্রমেই দর্শনাদি শাস্ত্র যেরূপ পুস্তক ও শিক্ষক উভয়ের সাহায্যে লােপ পাইতে লাগিল। সহজে আয়ত্ত করা যায়, লাঠিখেলা ও অসি-শিক্ষা সম্বন্ধেও কিন্তু তখনও কতিপয় দস্য-সজ্জা স্থানে স্থানে দলবদ্ধ সেই কথা সম্পূর্ণ প্রযােজ্য হইতে পারে। হইয়া লাঠি, অসি, গদা, ধনু, ছুরিকা প্রভৃতির অভ্যাস লাঠি ও অসি শিক্ষা কদাচ একক হইতে পারে না, করিতেছিল। কালক্রমে তাহাদের মধ্য হইতে “গ” অথবা পুস্তকাগারে বসিয়া সমালােচকের গরিমায় পৃষ্ঠার | পর পৃষ্ঠা পড়িয়া গেলেও কোনই ফল লাভের কিম্বা অর্থ যােগ বিয়ােগ অবােধ্য হয়, এবং যােগ-বিয়ােগ-পদ্ধতি বােধের সম্ভাবনা থাকে না। যাহার সঙ্গে সদা সর্বদা যাহার সঙ্গে সদা সর্বদ। আয়ত্ত না করিলে মিশ্ৰভাগ, লঘুকরণ প্রভৃতি অবােধ্য অভ্যাস করিতে পারা যাইবে, এরূপ একজন সঙ্গী সংগ্রহ হয়, এবং ধারাবাহিক ক্রম অনুসরণ না করিলে যেরূপ করিয়া লইতে পারিলেই ভাল হয় ; এবং তাহার সঙ্গে জটিল-সম্পাদ্য গণিত-ফল অবােধ্য হয়,লাঠি ও অসি- একযােগে উপক্রমণিকা, প্রথম পাঠ ও বর্ণনা হইতে আরম্ভ শিক্ষা সম্পর্কেও সেইরূপ নির্দিষ্ট ধারাবাহিক ক্রম অনুসরণ করিয়া ধীরে ধীরে লিখিত পদ্ধতির অনুসরণ করিতে করিয়া অভাসে রত না থাকিলে সমস্তই অবােধ্য বলিয়া থাকিলে, আমার সম্পূর্ণই বিশ্বাস যে, লাঠি ও অসিশিক্ষা মনে হইবে। তাই শিক্ষার্থীগণকেও অনুরােধ সম্পূর্ণ সম্ভবপর হইতে পারে। শুধু পাঠ করিয়া লিখিত জানাইতেছি, যেন তাঁহারা নিজেদের মধ্যে বিশ্বাসী বর্ণনা যেরূপ অবােধ্য মনে হয়,—দুইজনে লাঠি লইয়া বন্ধুর সহযােগে, একেবারে প্রথম হইতেই প্রত্যক্ষভাবে নিয়ম পদ্ধতির অনুরূপে দাড়াইয়া প্রত্যক্ষভাবে ক্রমে লিখিত পদ্ধতির অনুসরণ করিয়া শিক্ষাভ্যাসে রত লিখিত পদ্ধতির অনুসরণ করিয়া গেলে আর সেরূপ থাকেন; তবেই দেখিতে পাইবেন যে, ‘ক্রমে সমস্তই অবােধ্য বলিয়া মনে হইবে না। বুঝিতে পারিতেছেন। অবশ্য উপযুক্ত শিক্ষকের সাহায্য আবার যেরূপ গণিতে প্রথম গণন শেষ না করিলে পাইলে শিক্ষালাভ অপেক্ষাকৃত অনেক সহজ হইতে পড়ে।
উপক্রমণিকা • স্থান নির্দেশ :— আকস্মিক যে কোন কারণেই মনের একাগ্রতা সাধন পবিত্র, সমতল ও ছায়াপ্রধান স্থানই শিক্ষা-প্রদানের সম্ভব হইবে না, তাহাও শিক্ষালাভের শ্রেষ্ঠ সময় নহে। পক্ষে শ্রেষ্ঠ। দক্ষিণ ও পূর্বদিকে বায়ুপথ উন্মুক্ত থাকিলেই প্রথম শিক্ষার্থীগণের পক্ষে অতি পরিশ্রম কোনও ভাল হয়, স্থানটি যেন এরূপ না হয় যে, মস্তক সূৰ্য্যকিরণে ক্রমেই সঙ্গত নয় । প্রথম প্রথম কক্ষপুটে (বগলে) ঘৰ্ম্ম এবং পদ ছায়াতে থাকে, কিম্বা অন্য কারণে মশুকে অধিক উৎপন্ন হইলেই শিক্ষায় বিরত হওয়া কর্তব্য ; কতিপয় উত্তাপ ও পদে অপেক্ষাকৃত অধিক ঠাণ্ডা লাগিতে পারে। দিবস পরে মস্তকে ও ললাটে ঘর্ম দেখা দিলেই শিক্ষায় প্রথম শিক্ষারম্ভকালে সম্পূর্ণ ছায়াপূর্ণ স্থানই শ্রেষ্ঠ। ক্রমে ক্ষান্ত হওয়া কর্তব্য ; ক্রমে অভ্যাস দ্বারা সমস্ত শরীর কষ্টসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি করিবার নিমিত্ত সম্পূর্ণ রৌদ্রমধ্যে ধীরে ঘর্মাক্ত হইলেও অবসন্নতা আসিবে না। ক্রমে সমস্ত ধীরে অভ্যাস করাই সঙ্গত। দিন খেলায় রত থাকিলেও কোনরূপ কষ্ট বােধ হইবে আর্জ, পিচ্ছিল, কর্দমময়ও বালুকাময় প্রভৃতি স্থান, । কিন্তু ক্রমাগত চালনা করিতে করিতে হস্তদ্বয় যেখানে পদস্থাপনা দৃঢ় থাকিবার সম্ভাবনা নাই, তাহা অবসন্ন হইয়া পড়িলে তখনই খেলায় ও শিক্ষায় ক্ষান্ত প্রথম শিক্ষার্থীগণের পক্ষে উপযোগী নহে। হওয়া বিধেয়। শিক্ষাপ্রদান-স্থানে প্রবেশ করিয়া অবিশ্বাসী ও শিক্ষাগুরু ও আচাৰ্য লক্ষণ :- অনিষ্টাকাঙ্খী ব্যক্তিগণ যাহাতে নানারূপ কুট দৃষ্টি নিক্ষেপ যাহারা অসি শিক্ষা-সম্বন্ধীয় সমুদায় বিভাগ, অঙ্গ ও কিম্বা কুট বাক্য প্রয়োগ দ্বারা প্রথম শিক্ষার্থীগণের চঞ্চলতা বিশেষত্ব সম্পর্কে সৰ্ব্ব রকমে অভিজ্ঞ ও সৰ্বরূপ-সংশয় ও প্রমাদ উৎপাদন করিতে না পারে সে বিষয়ে বিশেষ পরিশূন্য এবং উপযুক্ত শিক্ষার্থী নির্ণয়ে ও সৰ্ব্ব বিষয় সতর্কতার প্রয়ােজন। শিক্ষার্থীগণ শিক্ষায় কতক দূর পরিবক্তকরণে সুদক্ষ ; শম, দম, ধৈৰ্য্য ও নিষ্ঠা-সম্পন্ন ; অগ্রসর হইলে এবং একবার তাহাদের এই বিদ্যার প্রতি কদাচ কোনও নিন্দনীয় কর্মে লিপ্ত হন না, সৰ্ব্বদাই আসক্তি জন্মিলে, আর দুষ্টগণের দুষ্ট চেষ্টায় কোনই মধুরভাষী ; আদিগুরু ও আচাৰ্যগণের প্রতি ভক্তি- ব্যাঘাত উৎপাদন করিতে পারিবে না। সম্পন্ন, এবং লাঠিখেলা ও অসিশিক্ষা-সম্পর্কে তাহাদের সময় নির্দেশ - প্রিয় ও হিতকর কর্মে লিপ্ত থাকেন ; তাহারাই উপযুক্ত সাধারণতঃ প্রাতঃকাল ও বৈকাল বেলায় শিক্ষালাভের আচাৰ্য্য ও শিক্ষাগুরু। প্রকৃষ্ট সময় ;:সম্পূর্ণ অভুক্তাবস্থায় কি পূর্ণ ভােজনের শম-সর্বপ্রকারে মন ও চিত্তকে সংযত রাখিবার শক্তি। অব্যবহিত পরেই শিক্ষালাভ করিতে নাই। অতি শীত দম-সর্ব অবস্থাতে বাহেন্দ্রিয় ও সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এবং শারীরিক চেষ্টা ও অতি উষ্ণ মুহূর্তও প্রথম শিক্ষার্থীগণের পক্ষে শ্রেষ্ঠ সংযত রাখিবার শক্তি। সময় নহে। শিক্ষায় কতকদূর অগ্রসর হইলে ক্রমে নিষ্ঠা—সর্ব বিষয় ও সর্বকৰ্ম্ম সৰ্বাঙ্গ সুন্দররূপে সম্পন্ন করিবার প্রবৃত্তি কষ্টসহিষ্ণুতা আয়ত্ত করিবার নিমিত্ত অল্পে অল্পে অতি ও যােগ্যতা। শীত ও অতি উত্তাপে পুরাতন পাঠ অভ্যাস করা যাইতে শিক্ষাগুরুগণ পরীক্ষা করিয়া উপযুক্ত শিক্ষার্থীগণকেই পাবে। শিক্ষা প্রদান করিয়া থাকেন; লােভী, ধূর্ত, কৃতঘ্ন বৃষ্টির মধ্যে, অসুস্থ শরীরে, মানসিক অবসাদ ও (উপকার হস্তা), মন্দবুদ্ধি (মূখ) ব্যক্তিকে কদাচ অসিশিক্ষা ও চঞ্চলতার অবস্থায়, কিম্বা যে সময়ে নৈসর্গিক অথবা দান করেন না। ;
( ২ ) শিক্ষার্থী লক্ষণ :- করিতে হইবে ; অবশ্য-সত্যব্রত ব্রহ্মচর্যা ও অভিবাদন- যে সমস্ত শিক্ষার্থী শুদ্ধবংশাগত ও তরুণ-বয়স্ক ; এবং পরায়ণ হইতে হইবে; আদিগুরু ও আচাৰ্য্যগণের প্রিয় শীল, শোৰ্য্য, শৌচ;আচার, বিনয়, শক্তি, বল, মেধা, ধৃতি, ও হিতকর কর্মে রত থাকিয়া তাহাদের আদেশ ও স্মৃতি, মতি ও প্রতিপত্তি বিশিষ্ট ; যাহাদের জিহ্বা, ওষ্ঠ উপদেশ প্রতিপালনে সচেষ্ট থাকিতে হইবে, এবং ও দন্তাগ্র সুক্ষ্ম,মুখ, চক্ষু ও নাসিকা সরল,-চিত্ত, বাক্ ও তাহাদের অনুমতি অনুসারেই লাঠি ও অসিবিদ্যা- চেষ্টা বিশুদ্ধ ; এবং যাহারা কষ্ট-সহিষ্ণু, তাহারাই শ্রেষ্ঠ ; সম্পর্কিত কর্মে লিপ্ত হইতে হইবে। যাহারা ইহার বিপরীত গুণান্বিত তাহারই অধম । কাম—হিতাহিত বিচারশূন্য হইয়া বাসনা কামনার পরিতৃপ্তি সাধনে মানুষ কখনও সৰ্বরকমে সৰ্বগুণসম্পন্ন হয় না ; ঐকান্তিক আসক্তি। তাই গুণ ও দোষের তারতম্য বিচারে গুণাধিক্যের মােহ--কোনওরূপ উত্তেজনা কিম্বা আতঙ্কের বশবর্তী হইয়া হিতাহিত বিচার শূন্য । প্রাধান্য লক্ষ্য করিয়াই শিক্ষার্থীগণকে শিক্ষা প্রদান করা অভিমান-কল্পিত নিজ গৌরবের অবহেলা অনুভবে যে ক্ষোভের উদয় কৰ্তব্য; যাহাদের মধ্যে দোষের আধিক্য, তাহারই পরিবর্জনীয়, যাহারা অবাধ্য, অমনোেযােগী, গুরুদ্ৰোহী অহঙ্কার—নিজের কল্পিত শ্রেষ্ঠত্বের অভিব্যক্তি কিংবা সংস্কার। ও নিন্দাকারী; যাহারা প্রবঞ্চক, লােভী, কপটাচারী ও ঈর্ষা--অন্যের শ্রীবৃদ্ধি দর্শনে অসুখানুভব। নিয়ম শাসনের অবমাননাকারী ; তাহারা সর্বতােরূপেই ককৰ্শতাকঠোর ব্যবহার ও কঠোর বাক্য প্রয়ােগ । পিশুনতা-কুটিল ব্যবহার। অযােগ্য ও অস্পৃশ্য। পবিত্রতা-নির্দোষ অথচ বিলাসিতা-সম্পক শূহ হিতকর ও প্রীতিকর শুদ্ধবংশ—যে বংশে কোনরূপ নিন্দনীয় ও জঘন্য কর্মের সম্পর্ক নাই। অবস্থা। শীল-সৎস্বভাব। ব্রহ্মচর্য--যাহা চিরস্থায়ী ও চিরসত্য তাহাই ব্ৰহ্ম ; সেই চিরসত্যের শৌর্য-নির্ভীক কৰ্ম্মতৎপরতা। শৌচ—অস্বাস্থ্যকর ও অপবিত্র আহার, বিহার ও মানসিক চিন্তা অনুভূতি ও সম্পক লাভ হেতু যে সমস্ত উপায়, কৌশল, শিক্ষা- পদ্ধতি ও কর্মচেষ্টা ; তাহার সমষ্টিভূত নিয়ম-প্রণালীর অনুসরণই পরিত্যাগ। ব্রহ্মচর্য্য। “ব্ৰহ্ম” অর্থাৎ “চিরসত্য” সম্পর্কিত যে “চৰ্য্যা” অর্থাৎ আচার-প্রতিষ্ঠিত নিয়ম-শাসনে ভক্তি, বিশ্বাস, ও অনুরক্তি। “আচরণ” তাহাই ব্ৰহ্মচৰ্য্য। বিনয়-নম্রতা ও গুরুজনগণের আদেশ পালনে তৎপরতা। অভিবাদন প্রয়ােজন ঃ- শক্তি---পরিশ্রম ক্ষমতা। বল–শারীরিক সামর্থ্য। শ্রেষ্ঠ, জ্ঞানী, গুণী ও গুরুজনের অভিবাদনে মানব মেধা—এক সঙ্গে ও এক সময়ে বহু বিষয় মনে ধারণ করিয়া তৎসম্পকে বিনয়ী হইয়া থাকে, এবং মন হইতে ক্ৰমে অভিমান বিচার ও আলোচনা করিবার ক্ষমতা। অহঙ্কারাদি লােপ পাইতে থাকে ; আবার উহাতে ধতি-বহু পুরাতন বিষয়ও স্মরণ করিয়া রাখিবার ক্ষমতা। গুণিগণের গুণের প্রতিও সম্মান প্রদর্শিত হইয়া থাকে। স্মৃতি—উপযুক্ত মুহূর্তে, ও অবিলম্বে প্রয়ােজনীয় বিষয় স্মরণ করিবার যাহারা গুণ ও গুণীর সম্মান করে না, তাহারা জগতের ক্ষমতা। মতি~~-ঐকান্তিকতা ; প্রকৃত আকাঙ্খ। শিক্ষাগুরু ও আচাৰ্যগণ প্রতিপত্তি--নিশ্চিত জ্ঞান ও কর্তব্যবুদ্ধি। সমস্ত শিক্ষার্থীগণকেই চিত্ত-অনুভব শক্তি; অভিনিবিষ্টতা ; যে শক্তি মনকে কোন বিষয় পূর্বোক্তরূপ প্রতিশ্রুতি প্রতিপালনে বাধ্য রাখিবেন। সম্পর্কে চেতনাযুক্ত করিয়া রাখে। যাহারা ইহার অন্যথা করিবেন, কিম্বা যে সমস্ত শিক্ষার্থী, চেষ্টা—অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়গণের হাব, ভাব, ভঙ্গী। ঐ সমস্ত প্রতিশ্রুতি প্রতিপালনে অবহেলা করিবে, সমস্ত শিক্ষাথীগণকেই কাম, ক্রোধ, লােভ, মােহ, তাহাদের অধৰ্ম্ম হইবে, বিদ্যা নিষ্ফলা হইবে ও তাহা অভিমান, অহঙ্কার, ঈৰ্যা, কর্কশতা, পিশুনতা মিথ্যাকথন প্রকাশ পাইবে না; এবং তাহারা সৰ্বরূপে স্বদেশ, আলস্য ও অযশস্কর কর্ম পরিত্যাগ করিতে হইবে; স্বজাতি, স্বধৰ্ম্ম ও সমগ্র মানব জাতির শত্রু হইয়া আহার, বিহার ও পরিধান-সম্পর্কে পবিত্রতা অবলম্বন দাড়াইবে । . ;
। ; ; ( ৩ ) অসির বর্ণনা :— ক্ষমতাও অনেক অধিক,—মুষ্টির নিকটবর্তী অংশে অতি অসি কিম্বা লাঠি, শিক্ষার্থীগণের প্রত্যেকের নিজের গুরু আঘাত পতিত হইলেও, মুষ্টি স্থিরভাবে ধৃত থাকিলে দুই হস্ত অষ্ট অঙ্গুলী পরিমাণ দীর্ঘ হওয়াই বিধেয়। নিজ লাঠি কিম্বা অসি বিশেষ কিছুই বিচলিত হয় না । ইহার অধিক দীর্ঘ হইলে ঘুরাইতে ফিরাইতে অসুবিধা অসির পূৰ্ব্ব কথিত অর্ধাংশের পরবর্তী যে অংশ হইবে, এবং সময়ে সময়ে ভূমিতেও রুদ্ধ হইয়া পড়িবে । বাকী রহিল, তাহার প্রথম অর্ধাংশ,—অর্থাৎ মুষ্টি ব্যতি আবার প্রমাণ অপেক্ষা ক্ষুদ্র হইলেও বিশেষ কার্যকারী রেকে অসির অগ্রভাগের চতুর্থাংশ, ও মুষ্টির নিকটবর্তী হইবে না। সুতরাং দীর্ঘাকৃতি ব্যক্তির পক্ষে যে অসি অর্ধাংশ,—এই উভয় অংশের মধ্যবর্তী যে চতুর্থাংশ, কিম্বা লাঠি প্রমাণস্বরূপ হইবে, তাহা খর্বাকৃতি ব্যক্তির তাহা দ্বারাই প্রতিপক্ষ কিম্বা আততায়ীকে আঘাত পক্ষে বিশেষ উপযােগী হইবে না। করিতে হইবে; কারণ ঐ অংশটুকুরই কাৰ্য্যকারী আঘাত অসির আকৃতি ঠিক সরল নহে, কিঞ্চিৎ বক্র ; ঠিক করিবার ক্ষমতা সৰ্ব্বাপেক্ষা অধিক। সরলভাবে দাড়াইলে মুষ্টিসহ অসি লম্বভাবে ভূমি যেরূপ ক্রিকেট কিম্বা ডাংগুলি খেলার মধ্যে দেখা হইতে নাভি পর্যন্ত হইবে । কিন্তু অসির ধারের দিকের যায় যে, যে অঘাত ব্যাট কিম্বা দণ্ডের অগ্রভাগ দ্বারা বক্ৰাকৃতি দৈঘ্যের পরিমাপ করিলে, অসিধারীগণের সম্পন্ন হয়, তাহার ফলে সাধারণতঃ আহত পদার্থ উদ্ধে নিজ নিজ হস্তের দুই হস্ত ত্রয়ােদশ অঙ্গুলী হইবে। উখিত হইয়া নিকটেই পতিত হয় (কট উঠে ও অধিক লাঠি কিম্বা অসি মুষ্টিবদ্ধ করিয়া ধরিলে কর পৃষ্ঠের দূরে যায় না) ; এবং যে আঘাত মুষ্টির নিকটবর্তী সূঙ্গে অঙ্গুষ্ঠ ব্যতিরেকে চারিটি অঙ্গুলীর যে প্রথম সন্ধি অঙ্গুলীর যে প্রথম সন্ধি অংশ দ্বারা সম্পন্ন হয়, তাহার ফলে হাতে ঝাঁঝ লাগে এবং রেখা হইবে, তাহার পরবর্তী সন্ধি রেখার সমসূত্রে, আহত পদার্থ একেবারেই দূরে যায় না। কিন্তু পূৰ্ব্বকথিত অর্থাৎ ঐ অঙ্গুলীগুলির তিনটি সন্ধি রেখার ঠিক মধ্য মধ্যবর্তী চতুর্থাংশ দ্বারা যে আঘাত সম্পন্ন হয়, তাহার সন্ধি রেখার সমসূত্রে অসির ধারের দিক কল্পনা করিয়া ফলে অল্প আয়াসেই আহত পদার্থ বহু দূরে চলিয়া লইতে হইবে ; এবং বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনীর মধ্যের দিকে যায়;—অসি কিম্বা লাঠির বিভিন্ন অংশের কার্যকারিতা ও অসি-পৃষ্ঠ কল্পনা করিতে হইবে। আঘাত করিবার তদনুরূপ। যে কোনও বিশিষ্ট সরল দণ্ডের ঐ নিরূপিত কালে, বিশেষতঃ শিক্ষা লাভ কালে, আততায়ীর কিম্বা মধ্যবর্তী চতুর্থাংশের কোনও বিশেষ স্থানকে পদার্থ- প্রতিপক্ষের শরীরে ধারের দিক ঠিক লক্ষ্য স্থানে পড়িতেছে বিজ্ঞানে দোলন কেন্দ্র ( ৩entic• (f scillation) কি না, সে বিষয়ে প্রথম হইতেই সবিশেষ দৃষ্টি রাখিতে কহিয়া থাকে। ঐ স্থানের কার্যকারিতা বিজ্ঞানে হইবে । জ্ঞাতব্য। অসি কিম্বা লাঠি মুষ্টিবদ্ধ করিয়া পারণ করিলে, বিশেষ দ্রষ্টব্য :- মুষ্টি ব্যতিরেকে যে অংশ বাকী থাকিবে, তাহার মুষ্টির প্রতিপক্ষকে আঘাত করিবার কালে, সে (প্রতি- দিকের প্রথম অর্ধাংশ প্রতিপক্ষের আঘাত প্রতিরােধ পক্ষ ) প্রতিরােধ নিমিত্ত তাহার লাঠি কিম্বা অসি কি করিবার নিমিত্ত ব্যবহার করিতে হইবে, যেন প্রতি ভাবে ধারণ করিল, শিক্ষার্থী আঘাত কারী তৎপ্রতি লক্ষ্য পক্ষের আঘাত নিজ লাঠি কিম্বা অসির ঐ অংশের করিয়া কদাচ আঘাত করিবে না। প্রতিপক্ষ বিশুদ্ধ মধ্যেই পতিত হয় ; তবে উরু দেশের নিম্নের দিকের ভাবে তাহার লাঠি কিম্বা অসি ধারণ না করিলে, কিম্বা আঘাত গুলি-সম্বন্ধে অনেক সময়েই ভিন্নরূপ হইয়া থাকে । আঘাত কারীর আঘাতের প্রতিরােধ করিতে না পারিলে মুষ্টির নিকবর্তী অংশের আঘাত বিশেষ কার্যকারী আঘাত কারীর অসির কিম্বা লাঠির ঐ নিরূপিত মধ্যবত্ত হয় না; সুতরাং ঐ অংশের ধার নষ্ট হইলেও বিশেষ ক্ষতি চতুর্থাংশ ও ধারের দিক ঠিক যেন প্রতিপক্ষের শরীরের হয় না; আবার ঐ অংশের প্রতিবন্ধকতা দেওয়ার প্রকৃত লক্ষ্য স্থানেই পতিত হয়। আঘাত বিশুদ্ধ ভাবে == .
আঘাতের অংশ।প্রডবােধের অংশ। ( ৪ ) পতিত হইলে, এবং প্রতিপক্ষ বিশুদ্ধ ভাবে প্রতিরােধ অসি মুষ্টি :- করিতে পারিলে, উভয়ের মুষ্টির সন্নিকটবর্তী অংশেই অসি মুষ্টির আকৃতির উপরেও অসির কার্যকারিতা উভয়ের লাঠি কিম্বা অসির পরস্পর সংঘর্ষ হইবে; সুতরাং যথেষ্ট নির্ভর করিয়া থাকে। মুষ্টিও অসিধারীর হস্তের কাহারও ধারের অংশ নষ্ট হইবে না। ঠিক পরিমাপ অনুযায়ীই হওয়া বিধেয়। অসিমুষ্টি সাধা- অসির আকৃতি সম্পূর্ণ সরল নয়, দিকের অর্ধাংশ রণতঃ ছয় অঙ্গুলী দীর্ঘ হইয়া থাকে। মুষ্টির ধরিবার অতি সামান্য রকমে ক্রমে বক্র হইয়া থাকে, মধ্য স্থানটি দৈর্ঘ্যে তর্জনীর হস্ত সন্ধির উপরের দিক হইতে চতুর্থাংশ অপেক্ষাকৃত অধিক বক্র, এবং অগ্রভাগের কনিষ্ঠার হস্ত সন্ধির নিম্ন পৰ্যন্ত হইবে, এবং ঐ স্থানটির চতুর্থাংশ আরও কিঞ্চিৎ অধিক বক্র। অগ্রভাগের চতু- আকৃতি প্রায় বাদামের অনুরূপ হইবে। যে অংশটি কনিষ্ঠা- থাংশের উভয় দিকেই ধার থাকে ; এই অংশ দ্বারাই ‘হুল’ জুলী-সংলগ্ন থাকিবে তাহার সুলতা সর্বাপেক্ষা অল্প হইবে, “চির” প্রভৃতি আঘাতের প্রয়ােগ করিতে হয়, এবং যে অংশ তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলী সংলগ্ন থাকিবে, তাহা তদ- আততায়ীর শরীরের মধ্যে অসি প্রবেশ করাইয়া দিতে পেক্ষা কিঞ্চিৎ অধিক স্কুল হইবে ; যে অংশ মধ্যমাঙ্গুলী- সুবিধা হয়, অথবা অসি-পৃষ্ঠ দ্বারা পায়ু-মুলের মধ্য হইতে সংলগ্ন থাকিবে তাহার সুলত। সর্বাপেক্ষা অধিক হইবে। উর্ধ্ব দিকে আততায়ীর শরীর চিরিয়া ফেলা যায় ; কিম্বা বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ ব্যতিরেকে অন্য চারিটি অঙ্গুলী এক সঙ্গে বক্র সম্মুখ হইতেই আততায়ীর গলদেশের পশ্চাদিক কাটিয়া করিয়া, বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের সহিত হস্ত-সন্ধিস্থলের নিম্নাংশে সংলগ্ন ফেলা যায়। নিম্নে মুষ্টি সহ অসির এক চিত্র দেওয়া করিলে,ঐ স্থানের প্রত্যেক অঙ্গুলী-সংলগ্ন স্থান হইতে সেই গেল- সেই অঙ্গুলীর অগ্রভাগ পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের পরিমাপ লইয়াই অঙ্গুলী বিভিন্ন অসিধারী ব্যক্তির নিজ নিজ অসি মুষ্টির বিভিন্ন স্থানের স্থূলতা নির্ণয় করিয়া লইতে হইবে । বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে ও বিশুদ্ধ পরিমাপ-অনুসারে অসি ও দুই ইস্ত অ অঙ্গুলী অসি-মুষ্টি প্রস্তুত হইলে, এবং ভারকেন্দ্র দোলনকেন্দ্র মুষ্টির নিকটবর্তী অংশের স্থূলতা ও প্রস্থ সৰ্ব্বাপেক্ষা নির্দিষ্ট স্থানে পতিত হইলে, অসিধারী ব্যক্তির অসি- অধিক হইবে। এবং অগ্রভাগের দিক ক্রমশঃ অপেক্ষাকৃত চালনাতে আয়াস না হইয়া বরং আরাম ও আনন্দই ক্ষীণ হইয়া আসিবে। অসিটি এরূপ ভাবে নির্মিত হইবে অনুভব হইবে; এবং ক্রমে অসি-মুষ্টি হস্তের সঙ্গে যেন মুষ্টি ভিন্ন অসির ভারকেন্দ্র (centre of gravity) এমনভাবে মিলিত হইয়া থাকিবে যে, অসিকে ভিন্ন মুষ্টির নিকবর্তী অর্ধাংশের ঠিক মধ্যদেশে অবস্থিত হয়। পদার্থ বলিয়া মনে না হইয়া হস্তেরই অংশ বলিয়া মনে ভারকেন্দ্র মুষ্টি হইতে কিঞ্চিৎ দূরে অবস্থিত না হইবে। থাকিলে সংক্রামিত অসিবেগ নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী হইবে; দ্রবীভূত লাক্ষার সঙ্গে সূক্ষ্ম বালুকা কিম্বা সূক্ষ্ম তাহাতে আঘাতের তীব্রতা সাধনে কোনই সহায়তা প্রস্তর চুর্ণ উত্তমরূপে মিলিত করিয়া অসিমুষ্টির শূন্যগর্তে পাওয়া যাইবে না; আবার ভারকেন্দ্র মুষ্টি হইতে অত্যধিক প্রবেশ করাইয়া তন্মধ্যে অসির পশ্চাৎ-প্রান্তস্থ, অতিরিক্ত দূরে হইলে অসি সঞ্চালনে, অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে হস্ত অংশটুকু সম্পূর্ণ দৃঢ়রূপে নিবদ্ধ করিয়া দিলেই, অসি সন্ধি ক্লান্ত হইয়া পড়িবে। ও মুষ্টি অনেক দিন পর্যন্ত দৃঢ় সংলগ্ন থাকিবে। রে দুই হস্ত উভয়পূণ্ঠে ধার " বলে ; ( ৫ ) অসির দৃঢ়তা-সম্পর্কে উৎকর্ষ সাধন করিয়া আসিকে ও অনুশীলন করিতে হইবে। এবিষয়ে প্রথম হইতেই গুরুত্বে যত লঘু করা যাইবে, অসিধারী ব্যক্তির পক্ষে সম্যক জ্ঞান না জন্মিলে, “নিঘাত ক্রীড়া কালে, অসি ততই আনন্দদায়ক হইবে । কিম্বা প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রকৃত শক্তি পরীক্ষায়, অথবা অসির গতি :- প্রকৃত আততায়ী-সংঘৰ্য-কালে নিঃশঙ্করূপে আত্মরক্ষা ও হন্তের বিভিন্নরূপ গতি হইতেই অসি কিম্বা লাঠির আক্রমণ করা যাইবে না । বিভিন্নরূপ গতি উৎপন্ন হইয়া থাকে । যেমন অসির আঘাত তিন প্রকার, যথা—“গুড় দিশ” লাঠি কিম্বা অসির যে গতি হস্তের মণিবন্ধ হইতে “জড় বেশ” ও “ত্রাস, সেইরূপ সর্পের আঘাতও তিন উৎপন্ন হয়, তাহাকে “গুড় দিশ” (গরদেশ, বৃত্তগতি) প্রকার, যথা—“টা’, প্রকার, যথা—“টান”, “টিপ” ও “ছােল”। আবার বলে ; গুড় দিশের আঘাতে মণিবন্ধকে কেন্দ্র করিয়া সর্পের বিষদাতের সঙ্গে বিশেষ ভাবে শরীরের সংস্পর্শ লাঠি কিম্বা অসি চক্রাকারে ঘুরিয়া আইসে। এইরূপ হইলে সাধারণতঃ যেরূপ আর রক্ষা থাকে না, সেইরূপ আঘাতে হস্তের অন্য দুই সন্ধির বিশেষ ক্রিয়া হয় না। বিশেষভাবে অসির তীক্ষ্ণ ধারের সঙ্গে শরীরের সংস্পর্শ লাঠি কিম্বা অসির যে গতি কফোণি (কনুই) হইলে সাধারণতঃ ত্রাণ পাওয়া সাধারণতঃ ত্রাণ পাওয়া যায় না। সেইজন্যই হইতে উৎপন্ন হয়, তাহাকে “জড় বেশ” (জড় প্রবেশ) সর্পদংশনের সঙ্গে অসির আঘাতের তুলনা হইয়া থাকে। “জড়বেশের আঘাতের গুরুত্ব সাধারণতঃ সর্পের বিষ দাত অন্যান্য দন্তগুলি অপেক্ষা। কিঞ্চিৎ পেশীর শক্তি ও অসির ভারের উপরেই নির্ভর করে, দীর্ঘ। অধিকাংশ সর্পেরই বিষ-দাঁতের মধ্যভাগের উভয় গতির উপরে ততটা নয়। পার্শ্বে দুইটি সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকে ; সেইহেতু ফণাধারী লাঠি কিম্বা অসির যে গতি স্কন্ধ-সন্ধি হইতে বিষাক্ত সর্পগণ আঘাত করিবার কালে, মস্তক পার্শ্বের উৎপন্ন হয়, তাহাকে “ত্রাস” (তরাস) বলে ; ত্রাসের দিকে হেলাইয়া দেয় ; তাহাতে বিষ বিষবন্ধ হইতে আঘাতে লাঠি কিম্বা অসি অপেক্ষাকৃত অধিক দূর নির্গত হইয়া দাত বাহিয়া পড়িতে থাকে, এবং ক্রমে ব্যাপিয়া চালিত হয় (sweeping stroke), এবং আঘাতের ক্ষত-মধ্যে প্রবিষ্ট হয়। গুরুত্বও আপক্ষাকৃত অধিক বলিয়াই ধারণা জন্মে। সর্পের বিষদাতের অগ্রভাগের সঙ্গে সংস্পর্শ হওয়া ক্রীড়াকালে কিম্বা আততায়ী-সংঘর্ষে শুধু একটিমাত্র মাত্রই যদি তাড়াতাড়ি শরীর সরাইয়া লওয়া যায়, সন্ধির ক্রিয়া হয়, এবং অপর দুইটি সন্ধি নিষ্ক্রিয় থাকে তবে শরীরে সামান্য একটি আঁচড় লাগিবে মাত্র এবং এরূপ ঘটনা অতি বিরল। তবে আঘাতটি প্রধানতঃ সাধারণতঃ বিষ-বন্ধ, হইতে বিষ গড়াইয়া আসিয়া রক্তের হস্তের যে সন্ধি হইতে উৎপন্ন হয়, তদনুযায়ীই তাহার সহিত মিলিত হইতে অবসর পাইবে না। এইরূপ নাম হইয়া থাকে। যেমন,-অশিক্ষিত হস্তে উৰ্দ্ধ হইতে দংশনকে “টান” বলে ; সাধারণতঃ ইহা সাঘাতিক নিম্নে আঘাতের উপক্রম করিলে, হস্তকে প্রথমতঃ উচ্চে হয় না। তুলিবার ও পরিশেষে নিম্নে নামাইবার নিমিত্ত স্কন্ধ সর্পের যে দংশনে, বিষ-দাতটি সম্পূর্ণ শরীর-মধ্যে দেশের ক্রিয়া হইলেও, কফোণির (কনুইর ) সন্ধি বিদ্ধ হইয়া যায়, তাহাকে “টিপ’ বলে ; এই প্রকার হইতেই প্রকৃত প্রস্তাবে আঘাতটি সম্পন্ন হয় বলিয়া দংশনে সাধারণত রক্ষা পাওয়া যায় না, কারণ ইহাতে উহাকে “জড় বেশের” আঘাতই বলা হয়। ক্ষতও অধিক গভীর হয় এবং বিষও অধিক পরিমাণে শিক্ষার প্রারম্ভ হইতেই, প্রত্যেকটি আঘাত প্রয়ােগ শরীরে প্রবিষ্ট হয়। করিবার সঙ্গে সঙ্গেই, বিশেষ মনােযােগসহকারে লক্ষ্য যে-প্রকার দংশনে বিষ-দাতের কিয়দংশমাত্র শরীরে করিয়া, কোটি “গুড় দিশের কোটি “জড়বেশের প্রবিষ্ট হয়, কিন্তু বিষ-বন্ধু প্রবিষ্ট হওয়ার পূর্বেই কোন ও কোনটি “ত্রাসের আঘাত,-তাহা নির্ণয়, পৰ্যালােচনা রূপে শরীর কিম্বা সর্পের মস্তক অপসারিত করা যায়, ( ৬ ) সে প্রকার দংশনকে “ছােল” বলে ; তাহাতে শরীরে অবসন্ন হওয়ার পূৰ্বেই দ্রুতগতি-নিবন্ধন অন্যান্য অংশের একটি অগভীর রেখা অঙ্কিত হয় ও সামান্য রক্তও দৃঢ়তা আসিয়া উপযু পরিভাবে সেই অংশকে সাহায্য নির্গত হয়। এইরূপ দংশনে কখনও জীবন নাশ হয়, করিয়াছিল, পদার্থবিজ্ঞানে এই ব্যাপাবকে ক্ষুদ্র শক্তির কখনও বা হয় না। 77977 (superposition of small effects) #feat সর্পের যে দংশন সর্বাপেক্ষা মৃদু অর্থাৎ “টান” থাকে। গুড়দিশের আঘাতের কার্যকারিতাও এইরূপ ; তৎসদৃশ অসির আঘাত সর্বাপেক্ষা অধিক গুরুতর ; তীক্ষ্ণধারের বিভিন্ন বিন্দুগুলি উপযু পরিভাবে প্রায় কারণ “গুড়দিশের” আঘাতে অসি যেরূপ বিদ্যুৎ-গতিতে একই সময়ে প্রযুক্ত হইয়া অতর্কিতে আশ্চৰ্য্য ফল ধাবিত হইয়া থাকে, অন্য দুই প্রকার আঘাতে সেরূপ দেখাইয়া থাকে। হয় না। অসির আঘাতের তীব্রতা দ্রুতগতির উপরেই সর্পের যে দংশন সর্বাপেক্ষা সাঙ্ঘাতিক, অর্থাৎ “টিপ” অধিক নির্ভর করে। তৎসদৃশ অসির আঘাত, অর্থাৎ “জড়বেশ” অন্য দুই তীক্ষ্ণধার অসির দ্রুতগতির দ্বারাই অতীব গুরুতর প্রকার আঘাত হইতে অপেক্ষাকৃত অল্প সাঘাতিক ; ও আপাত অসম্ভব কৰ্ম্মও সাধিত হইয়া থাকে, শারীরিক কারণ “জড়বেশের” আঘাতে সাধারণতঃ হস্তপেশীর বলের অধিক প্রয়ােজন হয় না; অসিখানা আরামের শক্তি ও অসির গুরুত্ব-হেতু যত দূর সম্ভব ততদূরই সহিত চালনা করিতে যে সামান্য বলের প্রয়ােজন হয় প্রতিপক্ষের শরীরে অসি প্রবিষ্ট হইবে,—পরন্তু প্রতি- তাহাই যথেষ্ট তবে শারীরিক দৃঢ়তা, কষ্ট সহিষ্ণুতা, পক্ষের শরীর হইতে অসি আপনা হইতে মুক্ত হইয়াও স্থ্যৈ ও ক্ষিপ্ৰকারিতারও যথেষ্ট প্রয়ােজন হইয়া আসিবে না; তাহা মুক্ত করিতেও অতিরিক্ত বলের থাকে। প্রয়ােজন হইবে । সেই হেতু, এবং প্রতিপক্ষ প্রবল ঝটিকাবাতের দ্রুতগতিত্ব ব্যতিরেকে অন্য ‘জড়বেশের” আঘাত প্রতিরােধ করিয়া ফেলিলে তাহাকে কোনও শক্তি নাই, তথাপিও উহা বৃহৎ বৃহৎ গৃহ, পুনরাঘাত করিতে কিম্বা প্রতিপক্ষের প্রতি-আঘাতের প্রতিরােধ করিতে অনেক বিলম্ব হইবে। বৃক্ষাদিও ভাঙ্গিয়া চুরমার করিতে সমর্থ হয়। গিয়াছে, কোনও ঘূর্ণীপাক-প্রবল-ঝটিকাতে একটি দীর্ঘ বহু লােকের মধ্যে পতিত হইয়া সংগ্রাম কিম্বা বংশ-শলাকা একটি প্রকাণ্ড আম্রবৃক্ষকে ভেদ করিয়া আত্মরক্ষা করিতে হইলে আত্মরক্ষা করিতে হইলে “ত্রাসের” আঘাত বিশেষ অর্ক-নির্গত হইয়া অবস্থিত ছিল। শলাকাটির অগ্রমুখ কাৰ্য্যকারী ও প্রয়ােজনীয় হইয়া থাকে। ঐ অবস্থায় অপেক্ষাকৃত দৃঢ় থাকিলে ইহা অসম্ভব নহে; কারণ যখনই যাহাকে যে আঘাত করিতে হইবে, তাহা অবস্থা- আম্রবৃক্ষের অভ্যন্তরে বলপ্রয়োেগ-সহ শলাকাটিকে বিদ্ধ মুসারে “গুড়দিশে” কিম্বা জড়বেশে” আরম্ভ ও প্রয়ােগ করিবার চেষ্টা করিলে উহা আবৃক্ষকে যে আঘাত করিয়া “ত্রাসে” অসি চালনা করিয়া তৎক্ষণাৎই অপর করিবে, ঘাত-প্রতিঘাতের নিয়মানুসারে আবৃক্ষও কোনও আঘাতের উপক্রম সহকারে সংগ্রামে রত থাকিতে সমশক্তিদ্বারা শলাকাটিকে বিপরীত দিকে আঘাত করিবে। পারিলেই শ্রেষ্ঠ ফল পাওয়া যায়। সেই আঘাতের ফলেই সাধারণ অবস্থায় আবৃক্ষকে কোনও আঘাতের প্রয়ােগ আরম্ভ করিয়া, • অর্থাৎ ভেদ করিতে যে সময় লাগিবে, সে-সময়ের মধ্যে শলাকাটি আঘাতটি ক্ষেপণ করিয়া, পুনরায় সংহরণ কিম্বা প্রত্যাহণ বাকিয়া ভাঙ্গিয়া যাইবে। কিন্তু ঝটিকাবাতের প্রবল করিতে হইলে, অধিকাংশ সময়েই কফোণির (কনুইর ) দ্রুতগতি হেতু শলাকাটি এত বিদ্বেগে চলিয়াছিল ক্রিয়ার সংযমনের উপরেই নির্ভর করিতে হয়। • সমস্ত যে আষবৃক্ষের প্রতিঘাত হেতু শলাকাটি ভাঙ্গিবার হস্ত-সদ্ধির ক্রিয়ার উপরেই সংযমন আয়ত্ত করিতে পারিলে অবকাশ হওয়ার পূর্বেই, উহা সরলভাবে বৃক্ষকে ভেদ ক্ষিপ্ৰকারিতা হেতু ও “ধাঁধার প্রয়ােগে প্রতিপক্ষের করিয়া চলিয়া গিয়াছিল ; শলাকাটির কোনও অংশ ভ্রান্তি উৎপাদনে কৃতিত্ব জন্মিবার সম্ভাবনা।
রাখিতে হয়। ( ৭ ) “গুড় দিশে” প্রয়ােগ করিলে আঘাতের তীব্র গতি আত্মরক্ষা-হেতু প্রধানতঃ তিনটি বিষয়ে সবিশেষ দৃষ্টি সাধিত হয়। “জড় বেশে” প্রয়ােগ করিলে আঘাতের সংযমন সহজ প্রথমতঃ-হস্তের মুষ্টি হইতে অসির অর্ধাংশের ঠিক সাধ্য হয়। মধ্যভাগদ্বারাই,—অর্থাৎ মুষ্টি ব্যতিরেকে অসির ভার- “ত্রাসে” প্রয়ােগ করিলে আঘাতের গুরুত্ব ও তীব্রতা কেন্দ্রের স্থান দ্বারাই প্রতিপক্ষের আঘাত প্রতিহত করিতে হইবে। এ-বিষয়ের আবশ্যকতা পূর্বেও কথিত হইয়াছে। যেমন সত্ত্ব, রজঃ ও তম গুণের যথাযােগ্য সমাবেশ ও এই ভার কেন্দ্র হইতে অসির অগ্রবিন্দুর দিকে যত অধিক সমন্বয়ে ব্ৰহ্মসত্বার উপলব্ধি হয়; যেমন বাত, পিত্ত, কফের দূরের অংশ দ্বারা প্রতিপক্ষের আঘাতের প্রতিকার করা যথাযােগ্য সমাবেশ ও সমন্বয়ে শরীর, মন, বুদ্ধি ও জ্ঞানের হইবে, প্রতিকারও তত অধিক ক্ষীণ হইবে; আবার ঐ সম্যক্ বিকাশ হয়; যেমন নীল, পীত, লােহিতের যথা ভার-কেন্দ্র হইতে মুষ্টির যত অধিক সন্নিকটবর্তী অংশ দ্বারা যােগ্য সমাবেশ ও সংমিশ্রণে উজ্জ্বল আলােক উদ্ভাসিত প্রতিকার করা হইবে, প্রতিপক্ষও অধিক হয়; যেমন উদার, মুদারা, তারার যথাযােগ্য সমাবেশ ও পুনরাক্রমণের ( বিশেষতঃ হস্তোপরি ) সুযােগ পাইবে। সমন্বয়ে স্বরলিপি সম্যক পরিস্ফুট হয় ; সেইরূপ “গুড় দিশ” দ্বিতীয়তঃ-প্রতিপক্ষের আঘাতের প্রতিরােধ-হেতু “জড় বেশ” ও “ত্রাসের” যথাযােগ্য সমাবেশ ও সমন্বয়ে নিজ অসি কিম্বা লাঠি সর্বদা শরীর হইতে অর্ধহস্ত সম্মুখে অসি-চালনা সম্পর্কে সম্যক উৎকর্ষ প্রতিভাত হইয়া থাকে। ধারণ করিতে হইবে। অর্থাৎ নাসিকাগ্র ও পুরােবর্তী গুড় দিশ”, “জড় বেশ” ও “ত্রাসের সংমিশ্রণে যে গতি পদের বৃদ্ধাঙ্গুলীর অগ্রভাগ সংলগ্ন করিলে যে সরল রেখা উৎপন্ন হয়, তাহার নাম “ত্ৰিত্ৰাস”। হইবে, তাহা হইতে অর্ধহস্ত সম্মুখে বক্ষস্থলের সমান্তরাল- আততায়ীর সহিত ক্রীড়াকালে আততায়ীকে কত ক্ষেত্রে অসি কিম্বা লাঠির মুষ্টি ধারণ করিতে হইবে, এবং অধিক আঘাত করা হইল তৎপ্রতি অধিক মনোেযােগ সমগ্র অসি কিম্বা লাঠি সর্বদা ঐ ক্ষেত্র অবলম্বনে বক্ষস্থলের অপেক্ষা, আততায়ীর সমস্ত আঘাতই প্রতিহত করিতে সমান্তরাল থাকিবে। পারা গেল কি না সেবিষয়েই সম্পূর্ণ মনােযােগ স্থির প্রতিপক্ষের আঘাত যেই দিক হইতে আসিতে রাখিয়া সুযোেগ অনুসারে আততায়ীকে আঘাতের চেষ্টা থাকিবে, প্রতিরােধ হেতু লাঠি কিম্বা অসি এরূপভাবে দেখাই শ্রেয়স্কর। আক্রমণ অপেক্ষা আত্মরক্ষাই অধিক ধরিতে হইবে যেন, যে স্থল লক্ষ্য করিয়া আঘাত প্রয়ােজনীয় ; কারণ আততায়ীকে সহস্র আঘাত করিয়াও আসিতেছে, অসি কিম্বা লাঠির মুষ্টির দিকের অর্ধাংশের যদি, তাহার একটি বিশেষ আঘাত প্রতিহত করিতে পারা মধ্যবিন্দু (অর্থাৎ মুষ্টি ব্যতিরেকে অসির ভারকেন্দ্র ), যায়, তবেই সর্বনাশ হইবে। তবে শিক্ষায় পূর্ণতা সেই দিকেতেই, সেই স্থান হইতে অর্ধহস্ত দূরে থাকে । প্রাপ্ত ব্যক্তিগণের পক্ষে অনেক সময় আত্মরক্ষা-হেতুই এবং মুষ্টি ও সমগ্র অসি কিম্বা লাঠি পূর্ব-কথিতভাবে আক্রমণের প্রয়ােজন হইয়া থাকে। তথাপিও শিক্ষালাভ, বক্ষের সমান্তরালক্ষেত্র অবলম্বন করিয়া থাকে। কালে আক্রমণের কৌশল অপেক্ষা আত্মরক্ষার কৌশলের কারণ, প্রতিপক্ষের আঘাত প্রতিরােধ করিবার নিমিত্ত প্রতিই সবিশেষ মনােযােগ ও দৃষ্টি রাখাই সঙ্গত। সমস্ত অসি কিম্বা লাঠি এইভাবে ধারণ করিলে ইচ্ছানুরূপে বিষয় ব্যাপার, ও সমস্ত কাৰ্য-কর্মেই আত্মরক্ষার হস্তকে সম্মুখেও চালনা করা যায়, এবং প্রয়ােজনমতে ক্ষমতা না থাকিলে, আপদ-বিপদ ও ভয়-বাধা- সঙ্কুচিত করিতেও পারা যায় । কিন্তু হস্ত সম্পূর্ণ বিস্তৃত বিম্ন-হেতু অচিরকাল মধ্যেই বিনাশ-প্রাপ্ত হইতে বিনাশ-প্রাপ্ত হইতে করিয়া অসি কিম্বা লাঠি ধরিতে গেলে হন্তের সমস্ত শক্তি কি অপরের নিগ্রহানুগ্রহভাজন হইয়া থাকিতে হইয়া থাকিতে পূৰ্বেই প্রযুক্ত হইয়া যায়, আর ইচ্ছানুরূপে হস্ত-প্রসারণ কিম্বা সাময়িক বল-প্ৰয়ােগ সম্ভবপর হয় না কেবলমাত্র হয়।
পারে; ( ৮ ) ভিতরের দিকে হস্তকে সঙ্কুচিত করিতে পারা যায়; কিন্তু কিম্বা লাঠি পতিত হইয়া ঐ নিম্ন-পথে গড়াইয়া যাইয়া এইরূপে সঙ্কুচিত করিতে গেলে, অধিকাংশ সময়েই প্রতি- শরীরের অন্যত্র যাইয়া লাগিতে পারে ;-কিন্তু এরূপ হইতে পক্ষের আঘাতের তীব্রতা-হেতু নিজ হস্তের অসি কিম্বা পারে না; কারণ, মুক্ত ও ভারী পদার্থই কোনও ক্রম-নিম্ন লাঠি নিজ শরীরেই পতিত হয় ; আবার একেবারে পথে লম্বভাবে পতিত লইলেও নিম্নাভিমুখেই চলিয়া যায় । শরীরের সহিত সংলগ্ন করিয়া ধরিলেও প্রতিপক্ষের আঘাত ক্রীড়াকালে অসি কিম্বা লাঠি হস্তের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংযত অতি সামান্য মাত্রই প্রতিহত হইবে । থাকে, কাজেই মুক্ত পদার্থের ন্যায় নিম্নাভিমুখে গড়াইয়া তৃতীয়তঃ-প্রতিপক্ষ কোনও স্থান লক্ষ্য করিয়া যাইতে পারে না; আবার লাঠি কিম্বা অসির আঘাত আঘাত করিতে আরম্ভ করিলে, সেই লক্ষ্যস্থান ও প্রতিপক্ষের যেরূপ দ্রুতগতিতে চলিয়া থাকে, তাহার তুলনায় লাঠি লাঠি কিম্বা অসির মধ্যে, যে কোনও রূপে নিজ লাঠি কিম্বা কিম্বা অসির ভার-হেতু বেগ এত ক্ষুদ্র, যে, তাহাতে অসির অসি ধারণ করিলে, প্রতিপক্ষের লাঠি কিম্বা অসির সঙ্গে গতি হেতু ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল অতিক্রম করিয়া এক প্রকার সংঘর্ষ হইবে বটে, কিন্তু ঠিকভাবে ধারণ না নিম্নভিমুখে অসির গড়াইয়া যাইবার সম্ভাবনাও একেবারেই করিলে, প্রতিপক্ষের আঘাত ঠিক লক্ষ্য স্থানে পতিত না থাকিতে পারে না। হইলেও ছুটিয়া যাইয়া অন্য কোনও স্থানে পতিত হইতে এই সমস্ত বিষয়গুলি প্রথম শিক্ষার্থীগণকে শিক্ষকগণের তাহাতে কিন্তু সম্পূর্ণ আত্মরক্ষা হইবে না। লাঠি ইত্যাদি সহযােগে ভাল করিয়া বুঝাইয়া দেওয়াই সুতরাং লাঠি কিম্বা অসি এরূপভাবে ধরিতে হইবে, যে সঙ্গত। প্রতিপক্ষের আঘাত কোনরূপেই নিজ শরীরের কোনও স্থানে পতিত হইতে না পারে। এইরূপ করিতে হইলে স্থিতি একটি বিষয়ে সবিশেষ দৃষ্টি রাখিতে হইবে । ( দাড়াইবার ভঙ্গী)। যেমন কোনও গােল। (ball) ঠিক লম্বভাবে উদ্ধা হইতে শিক্ষালাভ-কালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই সম্মুখ- ভূমিতে আহত হইলে প্রতিঘাত-হেতু ঠিক লম্বভাবেই যে ভাবে প্রমাণ এক লাঠির দূরত্বে, অর্থাৎ দুই হস্ত অষ্ট অঙ্গুলী পথে পড়িয়াছিল সে পথেই প্রত্যাবর্তন করিবে, কিন্তু একটু দূরে দাঁড়াইতে হইবে। একটি প্রমাণ লাঠি ভূমিতে বক্রভাবে ভূমিতে পতিত হইলে অনুরূপ বক্রভাবেই রাখিয়া ঐ লাঠির প্রান্তদ্বয়ে বিপরীতভাবে উভয়ের বিপরীত দিকে চলিয়া যাইবে, সেইরূপ প্রতিপক্ষের দক্ষিণ পদের অঙ্গুষ্ঠ সংলগ্ন করিয়া ঐ পদের বৃদ্ধাঙ্গুলীর আঘাত যে দিক লক্ষ্যে আসিতেছে, সেই দিকের সহিত দিকের পার্শ্বদেশ ঐ লাঠির সঙ্গে এক সরল রেখাতে নিজ লাঠি কিম্বা অসি ঠিক “সমকোণ” করিয়া ধরিলে, রাখিতে হইবে, তৎপর উভয়ের বাম পদ দক্ষিণ পদের প্রতিপক্ষের লাঠি কিম্বা অসি চ্যুত হইয়া কোন দিকেই সমান্তরালভাবে দক্ষিণ পদ হইতে, চারি অঙ্গুলী ছুটিয়া যাইতে পারিবে না,—নিজ হস্ত ও অসি কিম্বা লাঠি ব্যবধানে সরল-ভাবে পশ্চাৎদিকে লইয়া গিয়া দক্ষিণ বিশুদ্ধভাবে ধারণ করিয়া থাকিতে পারিলে, প্রতিপক্ষের জানু এরূপভাবে ভঙ্গ করিয়া দিতে হইবে, যেন, দক্ষিণ অসি কিম্বা লাঠি যে পথে আসিবে, প্রতিঘাত-হেতু হয় সে জঙ্ঘা ভূমির উপর ঠিক লম্বভাবে থাকে। তৎপর পথেই প্রত্যাবর্তন করিবে, নতুবা যে স্থানে পতিত হইবে উভয়ের বক্ষস্থল ঠিক সমান্তরালভাবে অগ্রসর করাইয়া সেই স্থানেই স্থির থাকিবে। দিতে হইবে, যেন, নিজ নিজ দক্ষিণ স্কন্ধ ও দক্ষিণ জানু ঐভাবে “সমকোণ করিয়া ধরিতে গেলে অনেক লম্বভাবে এক সরল রেখাতে থাকে। বামপদ পাদ্দিকে সময়েই নিজ লাঠি কিম্বা অসি নিম্ন-মুখ হইয়া থাকিবে, এরূপ-ভাবে স্থাপন করিতে হইবে, যেন, মস্তক, সমগ্র এমতাবস্থায় প্রশ্ন হইতে পারে যে, নিজ লাঠি কিম্বা অসির শরীর ও সমগ্র বাম উরু, জানু.ও জঙ্ এক সরল রেখাতে স্থিতি ক্রম-নিম্ন থাকহেতু তদুপরি প্রতিপক্ষের অসি থাকে এবং বাম জদ্যা ভূমির সঙ্গে এক সমকোণের •• ( ১ ) আনুমানিক দুইএর তৃতীয় অংশ কোণ করিয়া থাকে চালিত না হয় , পরিধেয় বসন (প্যান্ট, লেঙ্গুটী, ধুতি, তৎপর কটীতে ভর করিয়া বক্ষস্থল ও গ্রীবাদেশ দৃঢ় যাহাই হউক না কেন) যেন সুদৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে, করিয়া দাড়াইতে হইবে; সে অবস্থায় সে অবস্থায় বামপদসহ অথচ যেন অতি দৃঢ় না হয়; যেন অণ্ডকোষ ও মূত্রনালী শরীরটি সম্মুখের দিকে ধনুকের ন্যায় বাকৃতি হইবে, দৃঢ়ভাবে অবস্থিত থাকে, অথচ যেন কোনরূপ আবদ্ধতা এবং দক্ষিণ জানু সম্মুখের দিকে ঈষৎ অগসর কিম্বা বন্ধনের তীব্রতা অনুভূত না হয়। হইয়া পড়িবে, তখন দক্ষিণ পদের বৃদ্ধাঙ্গুলী দক্ষিণ নিম্নে “একাঙ্গ স্থিতির” একটী চিত্র দেওয়া গেল :- জানু ও নাসিকাগ্র লম্ব-ভাবে এক সরল রেখাতে থাকিবে। সে সময়ে নিজ পাদদ্বয়ের বৃদ্ধাঙ্গুলীর দিকের পার্শ্বের সমসুত্রে দুইটি সরল রেখা কল্পনা করিয়া বর্ধিত করিলে ঐ সরল রেখাদ্বয় অর্ধ সমকোণ-ব্যবধানে মিলিত হইবে। সেইহেতু বামপদের অগ্রভাগ ঈষৎ বামে যাইবে। চক্ষু সৰ্ব্বদা প্রতিপক্ষের চক্ষুর উপরে দৃঢ়ভাবে স্থাপিত করিয়া রাখিতে হইবে, তবেই উভয়ের সর্বপ্রকার কৰ্ম্ম, চেষ্টা ও ক্রিয়াকলাপ চক্ষুতে চক্ষুতে প্রতিফলিত হইয়া মন ও বুদ্ধিকে সতর্ক করিয়া দিবে। ক্রীড়া আরম্ভ করিবার পূর্বে বামহন্ত কণুই অবধি পশ্চাদ্দিকে কটীতে সংলগ্ন থাকিবে ; তাহাতে বামস্কন্ধ বক্রভাবে দক্ষিণ স্কন্ধ হইতে ঈষৎ মাত্র পশ্চাতে যাইবে; এই পদ্ধতিতে দাঁড়াইবার ভঙ্গীর নাম “একাঙ্গ স্থিতি।” দক্ষিণ কক্ষমুণ্ড (স্কন্ধমােড় ) হইতে ভূমিতে একটি লম্বরেখা কল্পনা করিলে, দক্ষিণ হস্তমুষ্টি তাহা হইতে অর্ধহস্ত সম্মুখে থাকিবে, এবং লাঠি কিম্বা অসি বক্ষস্থলের একাজের অভিযান স্থিতি সমান্তরাল ক্ষেত্র অবলম্বনে থাকিবে, ও অসির অগ্রবিন্দু এইভাবে দাঁড়াইতে প্রথমতঃ একটু কষ্ট বােধ হইবে বামকর্ণের সমসূত্রে বামদিকে অর্ধহস্ত দূরে ও সম্মুখে বটে, কিন্তু অভ্যাস দ্বারা এরূপ করিতে হইবে যেন, সমস্ত থাকিবে ; এইভাবে লাঠি কিম্বা অসি ধারণ করাকে দিন এভাবে দাঁড়াইয়া থাকিলে ও কষ্টানুভব না হয়। “ভদ্রকান্তি” বলে। এইভাবে লাঠি কিম্বা অসি ধারণ শরীরের নাম মহাশয়, করিলে সকল দিকেই সমান ভাবে চালনা করিবার সুবিধা যা সহাবে তাই সয়”। থাকে। “ভদ্ৰকান্তি” সহ “একাঙ্গের” ভঙ্গীতে দাড়াইবার নাম “একাঙ্গের অভিযান স্থিতি।” বিশেষ দ্রষ্টব্য :- বাম হস্তে অভ্যাস করিবার কালে বামপদ অগ্রে যেমন ঘর, বাড়ী, দালান প্রভৃতির ভিত্তি দৃঢ় না হইলে, থাকিবে, এবং উল্লিখিত বর্ণনা মধ্যে “বাম” শব্দ স্থলে তাহা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, সেইরূপ দাঁড়াইবার পদ্ধতি দৃঢ় ও “দক্ষিণ” এবং দক্ষিণ শব্দস্থলে “বাম” ধরিয়া লইলেই বিশুদ্ধ না হইলেও অধিক সময় প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিযােগিতা করা যায় না; সেইহেতু প্রথম হইতেই দাঁড়াইবার ক্রীড়াকালে কদাচ , যেন মুখদ্বারা শ্বাস প্রশ্বাস পদ্ধতির উপর বিশেষ দৃষ্টি রাখা নিতান্তই আবশ্যক। p হইবে।
; - ক বাম) ৪ রাবন্তিক ইম 34 I । in ' 4 এ M ( ১০ ) দাড়াইবার পদ্ধতি সাধারণতঃ পাঁচ প্রকার যথা : পশ্চাদ্দিকে লম্বভাবে সাধারণতঃ এক হস্ত চারি অঙ্গুলী এবং একাঙ্গ, ব্যঙ্গ, পাক্ষিক, রাবান্তিক, ও গােমুখ । পার্শ্বের দিকে এক হস্ত হইয়া থাকে ; “পাক্ষিক স্থিতিতে সম্পর্কে একটি চিত্র দেওয়া গেল :-- বামপদ অঙ্গুলীতে ভর করিয়া থাকে এবং প্রয়ােজন মতে ঐ পদ স্থান পরিবর্তনও করিয়া (যন্ত চাই দেড় হও দুই অঙ্গুলী মায় থাকে, সময় সময় পশ্চাদ্দিক দিয়া ৫| গােমুখ দক্ষিণ পদেরও দক্ষিণে চলিয়া যায়। উভয় হস্তে লাঠি কিম্বা অসিসহ ক্রীড়াকালে “পাক্ষি স্থিতি প্রশস্ত। “ রান্তিক স্থিতিতে” উভয় ६. अली পদের অঙ্গুষ্ঠদ্বয়ের দূরত্ব পশ্চাদ্দিকে লম্বভাবে অৰ্দ্ধহস্ত হইয়া থাকে, এবং পার্শ্বের দিকে এক হস্ত দশ অঙ্গুলী হইয়া থাকে। “রাবান্তিক” স্থিতিতে (বা সি পদদ্বয়ের স্থান নির্দেশ অবস্থানুসারে ৩। পাক্ষিক সম্মুখে কিম্বা পশ্চাতে উভয় দিকেই পরিবর্তিত হইতে পারে । ঘুরিয়া ফিরিয়া ক্রীড়ায় রত হইতে হইলে, “রাবান্তিক স্থিতি”ই প্রশস্ত। “গােমুখ স্থিতিতে উভয় পদের (বামপঞ্জি) অঙ্গুষ্ঠদ্বয় সংযােগ করিলে যে সরল ১| দ্ব্যাস: (বাম পা৯ি) রেখা হইবে, হইবে, তাহা বক্ষস্থলের সমান্তরাল হইবে, এবং অঙ্গুষ্ঠদ্বয়ের ‘স্থিতি”-চিত্র দূরত্ব দেড় হস্ত দুই অঙ্গুলী হইবে। একাজ, স্থিতিতে”দক্ষিণ পদের অঙ্গুষ্ঠ ও বামপদের বহু আততায়ীর মধ্যে পতিত হইলে এবং চতুর্দিকে পাষ্ণির (গােড়ালীর ) দুরত্ব পশ্চাদ্দিকে লম্বভাবে প্রায় অগ্রসর হইয়া আক্রমণ ও আত্মরক্ষা করিতে হইলে দুই হস্ত এবং পার্শ্বের দিকে লম্বভাবে চারি অঙ্গুলী “গােমুখ স্থিতি”ই প্রশস্ত। সর্বপ্রকার স্থিতিতেই পদদ্বয়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের দিকের এক কিম্বা অসি ও অপর হস্ত পার্শ্বের সমসুত্রে সরল রেখা কল্পনা করিয়া বর্ধিত করিলে নিষ্ক্রিয় থাকিলে “একাঙ্গ স্থিতি” প্রশস্ত। রেখায় অর্ধ সমকোণ ব্যবধানে মিলিত হইবে; এবং যে “জ, স্থিতিতে দক্ষিণ পদের অঙ্গুষ্ঠ ও বামপদের হস্তে লাঠি কিম্ব। অসি থাকিবে, সেই দিকের জানু সম্মুখের পারি (গােড়ালীর ) দূরত্ব পশ্চাদ্দিকে লম্বভাবে একহস্ত দিকে বক্রভাবে থাকিবে। বিশ অঙ্গুলী এবং পার্শ্বের দিকে লম্বভাবে অর্ধহস্ত হইবে। হস্ত, পদ, শরীর প্রভৃতির দৈর্ঘ্য সকল ব্যক্তির সমান এক হন্তে লাঠি কিম্বা অসি ও অপর হস্তে শৃঙ্গসহ অনুপাতে হয় না, তাই বিভিন্ন ব্যক্তির পক্ষে পূৰ্বোল্লিখিত ক্রীড়াকালে দ্ব্যঙ্গ, স্থিতি” প্রশস্ত। স্থিতিগুলির সম্পর্কে পদ প্রভৃতির দূরত্বেরও কিঞ্চিৎ পাক্ষিক স্থিতিতে উভয় পদের অঙ্গুঠদ্বয়ের দূরত্ব বিভিন্ন হইয়া থাকে। অ# ৪ ১। একা . কি সু । হইবে। হস্তে লাঠি ( ১১ ) ঢাল ও শৃঙ্গ প্রকাশ করা কাচ কল্যাণকর নহে। বিন, চর্ম, বেত্ৰ কিম্বা দারুময় ঢাল যতই দৃঢ় হউক না কেন, ঐকান্তিকতা ও সদ্গুরুতে ভক্তি না থাকিলে কদাচ বিদ্য', সুশিক্ষিত অসিধারীর অসির আঘাত কিছুতেই সহ্য বুদ্ধি, জ্ঞান ও সতর্কতা লাভ করিতে পারা যায় না। করিতে পারে না; আবার লৌহময় ঢালও অত্যন্ত গুরুভার লইয়া পড়ে বলিয়া তৎসহ অসি পরিচালনা অত্যন্ত দুরূহ হইয়া পড়ে ; লৌহময় ঢাল ধারণ করিলে অসিধারীর ক্ষিপ্ৰকারিতা বহুল পরিমাণে নষ্ট হইয়া যায় ; তাই দস্যগণ ও ঠগগণ প্রথমতঃ অরণ্য-মধ্যে সহজলব্ধ কৃষ্ণসার মৃগের ( antclope) মােড়ান শৃঙ্গ দুই টিকে বিপরীতভাবে সংলগ্ন করিয়া তাহা দ্বারাই ঢালের কাজ করিত, কিন্তু তাহাও অসির আঘাতে কাটিয়া যাইত ; কালক্রমে অসিধারিগণ ঐরূপ শৃঙ্গের সম্মুখে চারি অঙ্গুলী ব্যাসের একটি ক্ষুদ্রাকৃতি লৌহঢাল সংলগ্ন করিয়া লইত এবং অভ্যাসদ্বারা প্রতিপক্ষের সমস্ত আঘাতই ঐ ক্ষুদ্র ঢালদ্বারা ব্যর্থ করিতে সমর্থ হইত, অধিকন্তু শৃঙ্গ দুইটির তীক্ষ্ণ অগ্রভাগদ্বারা সময়ে সময়ে প্রতিপক্ষকে আঘাত করিতেও সমর্থ হইত। পরিশেষে কৃষ্ণসার মৃগের শৃঙ্গের অনুরূপে ইস্পাত-নির্মিত কৃত্রিম শৃঙ্গ প্রস্তুত করিয়াও অসিধারিগণ ঢালের পরিবর্তে ব্যবহার করিত। যে-পদ্ধতির লাঠিখেলা ও অসিশিক্ষা বর্ণনা করিতে যাইতেছি, তাহাতে ঢালের পরিবর্তে “শৃঙ্গই উল্লিখিত শৃঙ্গ হইবে। (কৃষ্ণসার শৃঙ্গ নির্মিত) (ইস্পাত নির্মিত) (কাষ্ঠ নির্মিত) পার্শ্বে কয়েক প্রকার শৃঙ্গের আকৃতি প্রদর্শিত হইল :- বিপদ নিত্য উপস্থিত হয় না বটে, কিন্তু মুখত প্রথম অভ্যাসকালে কাষ্ঠ নির্মিত শৃঙ্গই সুবিধাজনক কিম্বা অসতর্কতা নিবন্ধন বিপদ হঠাৎ উপস্থিত হইয়া হইয়া থাকে। একদিনেই সর্বনাশ করিয়া দিতে পারে। ২। সাহসে বুক বাঁধিতে না পারিলে কদাচ কোনও সাধারণ হিত-বাক্য গুরুতর কিম্বা শ্রেষ্ঠ কৰ্মই সম্পন্ন করিতে পারা যায় না। ১। যে কোন কৰ্ম্মেই প্রবৃত্ত হওয়া যাউক না কেন, সাহসে ভর করিয়া অনুশীলনসহকারে কর্মপথে অগ্রসর এবং শক্তি সামর্থ্য যতই প্রবল থাকুক না কেন, সামান্য হইলে কদাচ অপরিজ্ঞাত কৰ্ম্মপদ্ধতি সম্বন্ধে কোনরূপ নিৰ্বদ্ধিতা কিম্বা অসতর্কতা-হেতু সমস্তই পণ্ড হইয়া জ্ঞান কিম্বা বুদ্ধিই পরিস্ফুট হইয়া উঠিবে না। সুতরাং যাইবে; সুতরাং বুদ্ধির প্রাধান্য সর্বপ্রকারেই শ্রেষ্ঠ। বুদ্ধির পরবর্তী অবলম্বনীয় বিষয়ই সাহস ; অভ্যাসের যে কৰ্ম্মেই প্রবৃত্ত হইতে হইবে, তাহা সম্পন্ন করিবার দ্বারাই, অর্থাৎ জ্ঞানবিচার পরিচালনা সহকারে সাহসিক উপযােগী বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞান ও সতর্কতা অর্জন ও কর্মে লিপ্ত হইতে হইতেই সাহস বৃদ্ধি পাইতে অর্চনা না করিয়া, সেই কর্মে অগ্রসর হওয়ার দাম্ভিকতা থাকে। •• •• ( ১২ ) ৩। বুদ্ধি এবং সাহস বর্তমান থাকিলেও তৎপরবর্তী বাক্য প্রয়ােগ, ব্যায়াম-চর্চা, পরিশ্রম, কষ্ট সহিষ্ণুতা, প্রয়ােজনীয় বিষয় কৌশল। কোনও বিষয়ে কৌশলী কোনও বিষয়ে কৌশলী শীত বাত-গ্রীষ্ম-রৌদ্র-বৃষ্টি ও অনাহরাদির কঠোরতা হইতে হইলে অত্যন্ত ধৈর্যের সহিত বিনীতভাবে ভক্তি সহ্য করিবার অভ্যাস, স্বাস্থ্যরক্ষার নিয়ম পালন, মানসিক ও নিষ্ঠাসহকারে সেই বিষয়ে সর্বদা গুরুবাক্যে শ্রদ্ধান্বিত প্রফুল্লতা, তুষ্টি ইত্যাদি। ও মনােযােগী হইয়া গুরু-উপদেশ অনুযায়ী কর্মে রত শারীরিক বলের নাম “যুদ” (যােধ, যুদ্ধকারী) থাকিতে হয়। যাহাদের ভক্তি, শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠা নাই, অন্যান্য শক্তির প্রয়ােজন থাকিলে ও শারীরিক বল তাহারা কদাচ কোন বিষয়েই উন্নতি লাভ করিতে অথবা লােকবল না থাকিলে প্রকৃত যুদ্ধকারী হওয়া পারে না। অসম্ভব। “লােকবল” বহু শারীরিক বলের সমষ্টি মাত্র। ৪। বুদ্ধি, সাহস এবং কৌশলের পরবর্তী প্রয়ােজনীয় মানসিক বলের নাম “মুদ” (মুদ, মুদা = হর্ষ, প্রীতি ) বিষয় ক্ষিপ্ৰকারিতা। দীর্ঘসূত্রতা এবং আলস্য ও জড়তা যে পৰ্যন্ত আভ্যন্তরিক প্রকৃত আনন্দ (মুদা) বর্তমান দূর করাই ক্ষিপ্ৰকারিতা লাভের প্রধান উপায়। কোনও থাকে, সে পর্যন্ত মানসিক বল ও স্থির থাকে । একটি কৌশল শিখিয়া আর তাহার অভ্যাস বুদ্ধি বলের নাম “সুদ” (সুধী ; সু = উত্তম, শ্রেষ্ঠ ; আলােচনা না করিয়া নিজ মনে নিজকে কৌশলী জ্ঞান ধী= ধারণাসহ বিচার শক্তি ), করিলেই কোনও সুফল পাওয়া যায় না; কাৰ্যকালে ঐ ৬। এই পাঁচটি বিষয়ের উপর সমভাবে ধৈর্য্যের কৌশল প্রয়ােগ করিতেও পারা যায় না। শিক্ষিত প্রাধান্য, সাধারণতঃ যাহা “দম” (শম-দম) নামে কৌশলের বারম্বার আলােচনা ও অনুশীলনদ্বারা অভিহিত হইয়া থাকে। মানব ধৈৰ্য্যচ্যুত হইলে, অর্থাৎ ক্ষিপ্রকারী হইতে পারিলে, ক্রমে কৌশল প্রয়ােগ দম-হারা হইলে, তাহার বুদ্ধি প্রভৃতি সমস্ত সৎগুণই ব্যর্থ করিবার ক্ষমতা জন্মিয়া থাকে। মন, চক্ষু, হস্ত, পদ হইয়া যায়, এবং সে প্রমাদগ্রস্ত হইয়া হিতে বিপরীত ও শরীর সম্পর্কিত ক্ষিকারিতা পর্যায়ক্রমে শেষের করিয়া ফেলে। ধৈৰ্য্য, স্থৈর্য ও দম বৃদ্ধি করিবার দিক হইতে ক্রমান্বয়ে অপেক্ষাকৃত অধিকতর শ্রেষ্ঠ ও প্রধান উপায় মনের দৃঢ়তা, কর্তব্যপরায়ণতা ও অধ্য- প্রয়ােজনীয়। বসায়। চঞ্চলতা সর্বথা পরিবর্জনীয় । মন ও বুদ্ধির ক্ষিপ্ৰকারিতা, ওজস্বিতা ও তীক্ষ্ণতার যদিও বুব্ধি প্রভৃতির গুণের উপরে ধৈৰ্য, স্থ্যৈ ও নাম “ফুরং” ( স্ফুর্তি ); দৃষ্টিশক্তির ক্ষিপ্ৰকারিতা, ক্ষিপ্ৰকারিতা, দমেরই প্রাধান্য তথাপি বুদ্ধি প্রভৃতি গুণাবলী না থাকিলে প্রখরতা ও বিশুদ্ধতার নাম “তুড়ৎ” ( তড়িত্বৎ ); এবং শুধু ধৈৰ্য, স্থৈর্য্য ও দমের সাহায্যে কোন ফলই লাভ অঙ্গ-চেষ্টার ক্ষিপ্ৰকারিতা, উৎফুল্লতা ও লঘু গতির নাম হয় না। “ঝুড়ৎ'; (ঝটিত, ঝটপট)। যদিও বল এবং শক্তি অপেক্ষা ক্ষিপ্ৰকারিতা, কৌশল অসি ক্রীড়াকালে “ফুরৎ” সহযােগে আক্রমণ, আঘাত প্রভৃতিরই প্রাধান্য অধিক, তথাপিও কিঞ্চিৎ বল ও প্রয়ােগ ও প্রতিকার করিবে ; তুড়ং” সহযােগে প্রবৃত্ত শক্তি না থাকিলে, শুধু ক্ষিপ্ৰকারিতা কিম্বা কৌশলে হইবে ও লিপ্ত থাকিবে এবং “ঝুড়ৎ” সহযােগে কোনই ফল লাভ হয় না; এবং বল ও শক্তির অভাবে (ঝটপটে ) অঙ্গ-চেষ্টা করিবে। সময় সময় কৌশল ও যথাযােগ্য রূপে প্রয়ােগ করা যায় না ; ৫। বুদ্ধি, সাহস, কৌশল এবং ক্ষিপ্ৰকারিতা এমন কি, বল ও শক্তির অভাবে কোন কোন কৌশল থাকিলেও বল ও শক্তির বিশেষ প্রয়ােজন। বল ও শক্তি অভ্যাস করিয়া আয়ত্ত করাও অসম্ভব হইয়া পড়ে। লাভের প্রধান উপায় ব্রহ্মচর্য, সৎগ্রন্থপাঠ, সৎসংসর্গ, সেই হেতুই শিশুগণের অস্থি ও মাংস দৃঢ় না হওয়া পর্যন্ত সৎ বিষয়ের আলােচনা, দুষ্ট-সংসর্গ পরিত্যাগ, গুরুজনের কোনরূপ বৈজ্ঞানিক কৌশল অভ্যাস করা সঙ্গত নহে। • প্রতি ভক্তি, সত্যানুরক্তি, পরিমিত আহার, বিহার ও শিশুকাল জটিল ব্যায়াম-কৌশলেরর অভ্যাস আরম্ভ • = করিলে অনেক স্থলেই শিশুগণের অস্থি প্রভৃতি সম্যক- নিমিত্ত বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে সম্পূর্ণ ক্ষিপ্ৰকারিতা, প্রজ্ঞা রূপে পরিপুষ্ট হইতে পারে না; এবং অধিক বয়স হইলেও, ও দিব্যজ্ঞান (instinctive intuition) লাভের জন্যই তাহাদের খর্বাকৃতি কিম্বা পঙ্গু হইয়া থাকিবারই বুঝিতে হইবে। সম্ভাবনা অধিক। প্রথম-শিক্ষার্থীগণ যেন কদাচ এরূপ মনে না করেন, যদিও ক্ষিপ্ৰকারিতা অপেক্ষা কৌশলেরই প্রাধান্য যে, প্রকৃত আততায়ীর সঙ্গে প্রকৃত সংঘর্ষ-কালে প্রথম অধিক, তথাপিও ক্ষিপ্ৰকারিতার অভাবে অনেক সময়ে পাঠানুযায়ী নিয়ম ও ভঙ্গীগুলির অনুকরণ করিয়াই আঘাত- কৌশল ব্যর্থ হইয়া যায় । প্রতিঘাতাদি করিতে হইবে। ঐরূপ করিতে গেলে যদিও বল, কৌশল প্রভৃতি হইতে সাহসেরই প্রাধান্য নিতান্তই অপদস্থ হইতে হইবে। অধিক, তথাপিও বল, ক্ষিপ্রকারিতা, কৌশল প্রভৃতি আতায়ীর সঙ্গে সংঘর্ষ-কালে অর্জিত ও সঞ্চিত কোনরূপ গুণ না থাকিলে সাহস করিতে যাওয়া বৃথা দিব্যজ্ঞান-প্রভাবে মন, চক্ষু, হস্ত-পদ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রভৃতির ও বিপজ্জনক মাত্র। বিভিন্ন কর্ম-চেষ্টাগুলি ক্ষিপ্ৰকারিতা-সহ আপনা-আপনিই আবার বুদ্ধির প্রাধান্য সর্বাপেক্ষা অধিক হইলেও, যথাযােগ্য স্থানে ও যথাযােগ্য-রূপে প্রযুক্ত হইয়া অভীষ্ট সাহস, বল, কৌশল, ক্ষিপ্ৰকারিতা প্রভৃতি গুণ না থাকিলে ফল সাধন করিয়া থাকে। তবে সংঘর্ষ-কালে সাধারণত মানব হস্ত-পদ-বিহীন মস্তকের ন্যায় অকর্মণ্য এবং অপেক্ষাকৃত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিই জয়লাভ করিয়া থাকে। অধিকাংশ স্থলেই জগতের উৎপাত-স্বরূপ হইয়া থাকে। ক্ষিপ্ৰকারিতা-নিবন্ধন অধিকাংশ স্থলেই প্রয়ােগ-কর্তা এরূপ প্রবাদ আছে যে, “যুদ্ধের চাই তিনটি, যথা, নিজেই নিজ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমষ্টিভূত কৰ্ম্ম-চেষ্টাগুলির সময়, সুবিধা ও সহিষ্ণুতা”। তাই এই জীবন-যুদ্ধে অনুসরণ করিতে সমর্থ হয় না। কদাচ সময় হারাইতে নাই ; কোনও সুযােগ-সুবিধাই এতদনুরূপে দিব্যজ্ঞান-লাভের সাহায্য হেতুই বিভিন্ন নিম্ফলে ছাড়িয়া দিতে নাই ; কদাচ অধৈৰ্য্য হইতে নাই ; পাঠগুলি নির্দিষ্ট হইয়াছে। এবং সর্বদাই ভবিষ্যৎ কল্যাণ-লাভ-হেতু যত্নবান থাকিতে বহু পরীক্ষার ফলেই পাঠগুলির বিভিন্ন সমাবেশ ও হয় ; আবার অসময়ে কোন কর্মেই অগ্রসর হইতে নাই। সমন্বয় এরূপভাবে নির্দিষ্ট হইয়াছে, যেন শিক্ষার্থীগণ প্রকৃত সাধারণতঃ সপ্ত-সাদি-সম্পন্ন সুদক্ষ অসিধারীগণই নিয়ম-পদ্ধতির অনুসরণ করিয়া শিক্ষায় অগ্রসর হইতে অসি-যুদ্ধে অজেয় হইয়া থাকে ; সপ্তসাদি যথা- থাকিলে তাহাদের পূর্বোক্ত ক্ষিপ্ৰকারিতা ও দিব্যজ্ঞান- সময়, সুবিধা, সহিষ্ণুতা, সাহস, সতর্কতা, সৎসঙ্গ লাভের পথ যথেষ্ট সুগম হইয়া পড়ে। ধৈর্যের সহিত (সদুদ্ধি ), ও ঘূর্তি। প্রথম পাঠগুলি ধীরে-ধীরেই অভ্যাস করিতে হইবে দ্রুত-চালনা ক্রমে অভ্যাস করাই সঙ্গত। কখন কি পাঠারম্ভ ভাবে, কত পরিমাণে দ্রুত চালনার অভ্যাস আরম্ভ প্রথম পাঠগুলি কেবলমাত্র সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের করিতে হইবে, তাহা যথাস্থানেই নির্দিষ্ট হইবে; সে বিশেষতঃ মন, চক্ষু ও হস্ত-সন্ধিগুলির জড়ত্ব দুর করিয়া সম্বন্ধে উপযুক্ততা-অনুসারেই শিক্ষকগণ যথাসময়ে উপদেশ লঘুত্ব সাধনের নিমিত্ত ; এবং বিভিন্ন জাতীয় ও বিভিন্ন দিবেন। স্থানীয় আঘাতগুলির ক্ষেপণ (প্রয়ােগ-করণ ), প্রত্যাহরণ কিন্তু সর্বদাই সমস্ত আঘাতের প্রয়ােগ, কর্তন ও সংহরণ (ফিরাইয়া লওয়া), সংহরণ ও সম্বরণ (সংযত (প্রতিপক্ষের আঘাতের প্রতিকার ), দাড়াইবার ভঙ্গী করিয়া রাখিয়া দেওয়া সম্পর্কে পূর্ণ শিক্ষালাভ ও আয়ত্ত প্রভৃতি সৰ্ব্ব বিষয়েই সম্পূর্ণ বিশুদ্ধতা-সম্বন্ধে শিক্ষক ও করিবার নিমিত্ত ; এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপক্ষের সর্বপ্রকার শিক্ষার্থী উভয়কেই সবিশেষ মনােযােগী হইতে হইবে। আঘাতই কৰ্ত্তন করিবার (প্রতিহত কি নিষ্ফল করিবার) শিক্ষা-সম্পর্কে বিশুদ্ধতা ও নিষ্ঠা না থাকিলে (বিশেষতঃ ) ৩ ( ১৪ ) প্রাথমিক শিক্ষা-সম্পর্কে), শিক্ষার্থীগণ কদাচ উৎকর্ষ অভ্যাস করিতে হয়। মন ও চক্ষুর ক্ষিপ্ৰকারিতা-সাধনই লাভে সমর্থ হয় না। “বিষমঘতি” পর্যায়ের প্রধান লক্ষ্য। “বিষমঘাত পায়ে” পাঠ-পৰ্য্যায় মূলতঃ ছয় অঙ্গে বিভক্ত, যথা,—(১) আঘাত-সমাবেশের বিভিন্ন আঘাতগুলি শরীরের বিভিন্ন ঘাত, (২) সমঘাত (শ্যামঘাত), (৩) বিষমঘাত স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বণ্টন করিয়া মিলিত করিয়া দেওয়া ( মিট ), (৪) চতুম্মুখী, (৫) মিশ্রঘাত, ও (৬) হইয়াছে বলিয়া এই পর্যায়ের অপর এক নাম “মিলট”। নির্ঘাত ( ছুট )। “চতুম্মুখী”—“চতুম্মুখী”-পৰ্য্যায়ে ক্রীড়ারত উভয় ঘাত:—শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যক্তিকেই এক হস্তে লাঠি ও অপর হস্তে শৃঙ্গ লইয়া বিভিন্ন আঘাত ও তাহার প্রতিকার-সম্বন্ধে শিক্ষালাভ, সমানভাবে একসঙ্গে পরস্পর লাঠিদ্বারা আঘাত ও তৎসম্পর্কিত বিভিন্ন অঙ্গ-চালনা আয়ত্ত করাই “ঘাত”- শৃঙ্গ দ্বারা পরস্পরের আঘাতের প্রতিকার করিতে পৰ্যায়ের প্রধান লক্ষ্য। “ঘাত”-শিক্ষা-কালে ধীরে-ধীরে হয়। “চতুর্মুখী”-পৰ্য্যায় হইতেই শৃঙ্গ-চালনার প্রকৃত অভ্যাস করাই শ্রেয়স্কর। প্রথম প্রথম তাড়াতাড়ি অভ্যাস আরম্ভ হইয়া থাকে। দুই লাঠি, ও দুই শৃঙ্গ, করিতে গেলে আঘাত ও প্রতিকার-সম্পর্কে বিশুদ্ধতা এই চারিটি এক সঙ্গেই প্রযুক্ত হয় বলিয়া এই পর্যায়ের জন্মিতে পারে না। বিশুদ্ধতা-সম্পন্ন “ঘাত”-অভ্যাসে নাম নাম “চতুর্মুখী” । সম্পূর্ণ দক্ষতা না জন্মিলে উচ্চ অঙ্গের শিক্ষায় উৎকর্ষ লাভ “মিশ্রঘাত” —পূর্বোক্ত চতুৰ্বিধ পৰ্য্যায়ের বিভিন্ন অসম্ভব। অংশের বিভিন্নরূপ সংমিশ্রণেই মিশ্রঘাত-পৰ্য্যায়ের বিভিন্ন সমঘাত ( শ্যামঘাত):-“সমঘাত”-পৰ্য্যায়ে সমাবেশগুলির উদ্ভব হইয়াছে। “মিশ্রঘাতের অভ্যাস ক্রীড়ারত উভয় ব্যক্তিকেই সমানভাবে পর্যায়ক্রমে এক- হইতেই ক্রমে “নির্ঘাত’ খেলিবার অর্থাৎ আততায়ীসহ একটি আঘাতের প্রয়ােগ ও প্রতিকারের ( কর্তনের ) প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার যােগ্যতা জন্মিয়া থাকে। অভ্যাস করিতে হয়। “ঘাত”-শিক্ষা বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে নির্ঘাত :—“নির্ঘাত”-শিক্ষা-কালে আততায়ীকে • পরিসমাপ্ত হইলে ‘সমঘাত-পৰ্য্যায়েই দ্রুত ও অতি দ্রুত প্রতিহত প্রতিহত করিবার নিমিত্ত নির্দয়ভাবে নিশ্চিত ও চালনার অভ্যাসে কৃতিত্ব জন্মিয়া থাকে। অমােঘ আঘাত করিবার প্রবৃত্তি জন্মাইতে হয় বলিয়াই বিরুদ্ধ গতির দুই মেঘের সংস্পর্শে বিদ্যুতের এই পর্যায়ের নাম “নির্ঘাত।” “নির্ঘাতের অপর নাম উৎপত্তি হয় বলিয়া যে ধারণা আছে, সেইরূপ “সমঘাত” “ছুট”; কারণ, এই পর্যায়ে পূর্বোক্ত পৰ্য্যায়গুলির বিধি- ক্রীড়া-কালে দ্রুত চালনায় উভয় পক্ষীয় লাঠির ঘাত- নির্দিষ্ট ( বিধি অর্থে স্থির ) নিয়ম-শাসনগুলির তীব্রতা- প্রতিঘাতে বিদ্যুৎ-বৎ প্রত্যক্ষ অগ্নিস্ফুলিঙ্গের উৎপত্তি সম্পর্কে সবিশেষ মনােযােগী হওয়ার দরকার হয় না। হইয়া থাকে। সেই হেতুই “সমঘাতের” অপর এক “ছুট” অর্থে বন্ধনহীন, মুক্ত। নাম ‘শ্যামঘাত”। মেঘের এক নাম “শ্যাম”। ঘাত-অভ্যাসে হস্ত-চালনায় বিশুদ্ধতার সূত্রপাত শ্যামঘাত”-ক্রীড়াকালে লাঠির ঘাত-প্রতিঘাতে অগ্নি- হইতে থাকে। স্ফুলিঙ্গ নির্গত হইতে দেখিলেই বুঝিতে হইবে যে, শ্যামঘাত-অভ্যাসে চিত্তের একাগ্রতা সাধিত হয় ক্রীড়ারত উভয়েরই “শ্যামঘাত-পৰ্যায়ে কৃতিত্ব জন্মিয়াছে। এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষিপ্ৰকারিতা জন্মিয়া থাকে। হস্তচালনায় ক্ষিপ্ৰকারিতা-সাধনই “সমঘাত”-পৰ্য্যায়ের বিষমঘাত-অভ্যাসে বুদ্ধিবৃত্তির স্থিরতা, মনের প্রধান লক্ষ্য। ক্ষিপ্ৰকারিতা ও দৃষ্টিশক্তির বিশুদ্ধতা বৃদ্ধি পাইতে বিষমঘাত—“বিষমঘাত”-পৰ্যায়ে ক্রীড়ারত ব্যক্তি থাকে। দ্বয়কে নিয়ম-পদ্ধতি-অনুসারে অসমানভাবে পৰ্য্যায়ক্রমে চতুর্মুখী-অভ্যাসে বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে সমবেতভাবে বিভিন্ন আঘাতের প্রয়ােগে ও প্রতিকারের ( কর্তনের) উভয়-হস্ত-চালনায় দক্ষতা জন্মিয় থাকে । • ; ( ১৫ ) নির্ঘাত-অভ্যাসে সৰ্বরূপ আতঙ্ক দূর হয় এবং হন। কথিত আছে বীরশ্রেষ্ঠ অর্জুন গাে-হরণকারী কৌরব- সাহস বৃদ্ধি পাইতে থাকে। পক্ষীয়গণকে, ( রথারূঢ় হইলেও) এই পদ্ধতিতেই প্রতিহত পদ-চালনার বিভিন্ন পদ্ধতি-অনুসারে “নির্ঘাত মূলতঃ করিয়া পরিশেষে সন্মােহন-অস্ত্র প্রয়ােগ করিয়াছিলেন। তিন ভাগে বিভক্ত হয়, যথা :-১। হনুমন্তী ; ২। শঙ্খ সমস্ত পাঠগুলিই দক্ষিণ ও বাম উভয় হস্তেই সমান সুরী; ৩। শূরসেনী। পদ-চালনার প্রাকৃত নাম পাদ- ভাবে অভ্যাস করিতে হইবে। দক্ষিণ হস্তে লাঠি ধারণ তাড়ি (পায়তারা, পাইতারা)। করিয়া অভ্যাসকালে দক্ষিণ পদ সম্মুখে ও বাম পদ হনুমন্তীঃ-“হনুমন্তী”-পদ্ধতিতে অত্যধিক লম্ফ পশ্চাতে থাকিবে ; সেইরূপ বাম হস্তে লাঠি ধারণ করিয়া ঝম্ফ-সহকারে ঘুরিতে ফিরিতে হয় এবং ঘুরিয়া-ঘুরিয়া অভ্যাস-কালে বামপদ সম্মুখে ও দক্ষিণ পদ পশ্চাতে কখনও অগ্রে, কখনও পশ্চাতে ধাবিত হইয়া সুকৌশলে ও থাকিবে। উপযুক্ত অবসরে আততায়ীকে আঘাত করিতে ও আত বাম হস্তে অভ্যাসের প্রয়ােজন হল-চালনা- তায়ীর আঘাতকে প্রতিহত কিম্বা ব্যর্থ করিতে হয়। কালে যেরূপ একদিকে বলিবর্দ যােজনা করিয়া, অপর কথিত আছে যে, ঊরুভঙ্গ-কালে ভীম ও দুর্যোধন এই দিক শূন্য রাখিলে, কিম্বা তথায় সামান্য বৎসতরী পদ্ধতিতেই যুদ্ধ করিয়াছিলেন। যােজনা করিয়া দিলে, কৰ্ষণ সুবিধামত হয় না, অথবা শঙ্খাসুরী :——“শঙ্খসুরী”-পদ্ধতিতে তীব্রবেগে যেরূপ এক পদ কিম্বা এক হস্ত, কিম্বা কোনও অর্ধাঙ্গ শত্রুর ও শত্ৰু-আক্রমণের সম্মুখীন হইতে হয় ; শত্রুকে বদ্ধিত থাকিলে, অসামঞ্জস্যহেতু গমনাগমন কিম্বা আহত, প্রতিহত কিম্বা বশীভূত না করিয়া কদাচ ফিরিতে বিভিন্ন কর্মসম্পাদন প্রভৃতি প্রায় সকল বিষয়েই হয় না; কদাচ পৃষ্ঠ-প্রদর্শন করিতে নাই; এবং কৌশল নানারূপ ব্যাঘাত ঘটিয়া থাকে ; অথবা যেরূপ, ও ক্ষিপ্ৰকারিতা-সহকারে পৃষ্ঠদেশ ও পার্শ্বদেশদ্বয়ের সংরক্ষা সমাজের অর্ধভাগ,-রমণীগণ,—অবজ্ঞাত ও উপেক্ষিত সাধন করিতে-করিতেই অগ্রসর হইতে হয়। শঙ্খ-নামে থাকিলে সমগ্র জাতি অবনতি ও ধ্বংসের পথেই অগ্রসর কোনও বিখ্যাত অসুর এইভাবে যুদ্ধ করিত বলিয়াই এই হইতে থাকে,—তদ্রুপ বাম-অঙ্গ অপরিপুষ্ট এবং অক্ষম পদ্ধতির নাম ‘শঙ্খসুরী” হইয়াছে। থাকিলে ও কেবলমাত্র দক্ষিণ অঙ্গের শক্তিদ্বারা সর্বাবস্থায় শূরসেনীঃ-“শূরসেনী”-পদ্ধতিতে দ্রুতগতিই সৰ্ব্ব- আত্মরক্ষা সম্পর্কে সম্যক সুফল-প্রাপ্তি সম্ভব হইতে পারে প্রধান বিশেষত্ব। ভূমিতে পতিত হইলেও গতির না, এবং পদে-পদেই বিঘ্ন ও ধ্বংস-প্রাপ্তির সম্ভাবনা দ্রুততা-নিবন্ধন যােদ্ধা কখনও উত্তান ভাবে (চিৎ থাকিয়া যায়। হইয়া) পতিত হয় না। এই পদ্ধতিতে দ্রুতগতি- তবে উভয় হস্তে সমান অভ্যাস থাকিলেও অতি শ্রেষ্ঠ সহকারেই বহু আততায়ীকেও একাকী বেষ্টন করিয়া আততায়ী-সহ সংঘর্ষ-কালে বিশেষ ফল-লাভের সম্ভাবনা আঘাত করিতে হয়, অপেক্ষাকৃত হীনবল আততায়ি থাকে না বটে। গণ সর্বদাই গতির বেষ্টনের মধ্যে পতিত হইয়া বিহবল অভিবাদন হইয়া পড়ে, এবং কোনক্রমেই পাশ্ব কিম্বা পৃষ্ঠদেশ-আক্রমণের অবসর পায় না। প্রতিবারেই ক্রীড়ারম্ভকালে ও ক্রীড়া-সমাপ্তিকালে এই পদ্ধতিতেই সুকৌশলে অতিদ্রুতবেগে বিভিন্ন পরম্পর অভিবাদন করিয়া লইতে হইবে। শিক্ষালাভ- গতিতে ধাবিত হইয়া শত্ৰু-বহকে ছিন্ন ভিন্ন করিয়া ফেলা কালে যাহারা উভয়ে পরস্পর ক্রীড়া করিতে থাকে, সম্ভব হয়,তাহার ফলে শত্ৰু-পক্ষীয়গণ প্রমাদগ্রস্ত হইয়া তাহারা কেহই প্রকৃত আততায়ী নহেন; কিন্তু আঘাত ও স্বপক্ষীয়গণকেই প্রহার করিতে থাকে। কেবলমাত্র প্রতিঘাতাদি-সম্পর্কে শিক্ষালাভ-হেতু একে অন্যকে শূরশ্রেষ্ঠ সেনাপতিগণই এই পদ্ধতি অবলম্বন করিতে সমর্থ আততায়ী কল্পনা করিয়াই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আঘাত- আক্রমণ কারীর ১। ( ১৬ ) প্রতিঘাতাদি করিতে হয় ; তাই, যাহাতে নির্দিষ্ট নিয়ম- যে-যে ভঙ্গীতে লাঠি ধরিতে হইবে, বাম অঙ্গের তৎ-তৎ পদ্ধতির তীব্রতা অনুসরণ করিতে যাইয়া সাময়িক ভাবেও সদৃশ আঘাতগুলির প্রতিকার-কল্পে বাম হস্ত দ্বারা সেই- প্রকৃত আততায়ী-ভাব না জন্মাতে পারে, সেই হেতুই সেই অনুরূপ ভঙ্গীতেই লাঠি ধরিতে হইবে। আবার, অন্তরে সখ্য-ভাবের বীজ ও অঙ্কুর স্থায়ী রাখিবার নিমিত্ত বাম অঙ্গের বিভিন্ন আঘাতগুলির প্রতিকার-কল্পে দক্ষিণ ক্রীড়ারম্ভকালে ও ক্রীড়া-সমাপ্তি-কালে অভিবাদন-প্রথা হস্ত দ্বারা যে-মে ভঙ্গীতে লাঠি ধরিতে হইবে, দক্ষিণ অঙ্গের নির্দিষ্ট হইয়াছে। তৎ“তৎ সদৃশ আঘাতগুলির প্রতিকার-কল্পে বাম হস্তদ্বারা ক্রীড়াকারী উভয় ব্যক্তি পরস্পর সম্মুখীন হইয়া এক সেই সেই অনুরূপ ভঙ্গীতেই লাঠি ধরিতে হইবে। লাঠির (দুই হস্ত অষ্ট অঙ্গুলীর) ব্যবধানে একাঙ্গের অভি- একঘাত ( একের বাড়ি) যান স্থিতিতে, “ভদ্ৰকান্তি-সহ বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে শির দাড়াইবে; পরে যে-ভঙ্গীতে অসি কোষমধ্যে কটিতে শির = মস্তকের ঠিক মধ্যস্থিত সিথির দুই অঙ্গুলী বাম আবদ্ধ থাকে, লাঠিকে সেই ভাবে রাখিয়া দক্ষিণ মুষ্টির হইতে আরম্ভ করিয়া, বাম , বাম চক্ষু, নাসিকার অগ্র- নিম্নে বাম হস্তু দ্বারা মুষ্টিবদ্ধ করিয়া ধরিবে,তদবস্থায় ভাগ এবং দক্ষিণ পার্শ্ব ভেদ করিয়া অসি নির্গত করিয়া দক্ষিণ-মুষ্টি নাভির সম্মুখে এবং বামবাহু বাম পার্শ্বে লম্ব- লওয়ার জন্য আঘাত। ভাবে থাকিবে ; তৎপর বাম হস্তের মুষ্টির ভিতর দিয়া সমগ্র লাঠি টানিয়া তুলিয়া উভয়ে অপরের বাম কর্ণন্ধু [ যে আঘাত গুলির সঙ্গে এই চিহ্ন সংযুক্ত থাকিবে হইতে দক্ষিণ-কর্ণের নিম্ন মূল-অভিমুখে আঘাতের উপক্রম তাহ “ত্রাসে”প্রয়ােগ করিতে হইবে ; যে আঘাতগুলির করিয়াই, মধ্যস্থলে উভয়ে উভয়ের লাঠিকে নিজ নিজ সঙ্গে এই চিহ্ন সংযুক্ত থাকিবে, তাহা “জড়বেশে” লাঠি-দ্বারা পরস্পর প্রতিহত করিবে। তৎপর বামহস্ত- প্রয়োেগ করিতে হইবে; যে আঘাতগুলির সঙ্গে এই দ্বারা লাঠি ধরিয়া, লাঠিকে বক্ষের সমান্তরাল ভাবে রাখিয়া চিহ্ন সংযুক্ত থাকিবে তাহা “গুড় দিশে” প্রয়ােগ করিতে হইবে। যে আঘাতগুলির সঙ্গে কোন চিহ্নই থাকিবে না, ও অগ্র বিন্দু দক্ষিণ দিকে হেলাইয়া দিয়া, উভয়ে উভয়ের দক্ষিণ হস্ত স্পর্শ করিয়া দক্ষিণ হস্তদ্বারাই নিজ-নিজ ললাট তাহাও মূলতঃ “গুড় দিশেই প্রয়ােগ করিতে হইবে, ও মস্তক স্পর্শ করিয়া অভিবাদন করিবে। ইহার নাম তবে “জড় বেশ” এবং “ত্রাসের”ও সামান্য সংযােগ থাকিবে মাত্র ; অর্থাৎ তাহা “ত্রিত্রাসের” আভাসে “তামেচার অভিবাদন”। “চতুম্মুখী”-পৰ্যায়ের আরম্ভ হইতে “বাহেরার অভিবাদনের প্রথাই প্রচলিত রহিয়াছে। বর্ণনা :- বামহস্তে অভ্যাস-কালে বাম পদ অগ্রে রাখিয়া লাঠি বাম হইতে পৃষ্ঠের সমান্তরালভাবে পশ্চাৎ একাঙ্গের অভিযান স্থিতিতে দাড়াইতে হইবে, এবং দিক দিয়া ঘুরাইয়া আনিয়া,হস্ত-মুষ্টি দক্ষিণ স্কন্ধের উপরে অভিবাদনাদি সমস্ত ক্রিয়াই দক্ষিণ হস্তের অনুরূপে বাম আসিলে,লাঠির অগ্রবিন্দু ক্রমে উপরে তুলিয়া, হস্ত হস্তদ্বারাই করিতে হইবে। সম্পূর্ণ সরল করিয়া, স্থির লক্ষ্যে “শির” মারিয়া প্রতি- পক্ষের কটী-পার্শ্ব-অভিমুখে লাঠি “ত্রাসে” চালনা করিয়া,দক্ষিণ হস্ত বাম পার্শ্বে আসিলে পর,-ঐ পরবর্তী বর্ণনা সমস্তই দক্ষিণ হস্ত-সম্পর্কে দেওয়া ভাবেই ক্রমে লাঠিসহ হস্ত উদ্ধে তুলিয়া, প্রতিপক্ষের হইল; বাম হস্ত-সম্পর্কে বর্ণনা প্রায় তদনুরূপই ধরিয়া “শিরের আঘাতের প্রতিবােধ-হেতু প্রস্তুত হইতে লইতে হইবে, বিশেষ বিভিন্নতাগুলি ও সর্বপ্রকার বিশেষত্ব হইবে। যথাস্থানেই উক্ত হইবে। তবে, সাধারণতঃ দক্ষিণ অঙ্গের ( প্রতিপক্ষের আঘাত প্রতিরােধ করিবার বিভিন্ন বিভিন্ন আঘাতগুলির প্রতিকার-কল্পে দক্ষিণ হস্তদ্বারা নাম, যথা,-“প্রতিরােধ করা,” “রােখা”, “কৰ্ত্তন করা,” প্রযুক্ত হইবে।]
( ১৭ ) “কাট না”, “প্রতিহত করা,” “ফিরান,” “প্রতিকার করিয়া বাম স্তন-চুচুকের দুই অঙ্গুলী নিম্নে বাম বক্ষ-পাশ্ব- করা”, “ব্যর্থ-করা প্রভৃতি বিভিন্ন সময়ে ব্যবহৃত পৰ্য্যন্ত ছেদন-করা-হেতু আঘাত। হইয়া থাকে; এবং মারা” ও “প্রয়ােগ করা” একই “মােড়া”—প্রতিরােধ-কালে লাঠি ঠিকভাবে ধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়।) করিলে হস্ত-মুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী দক্ষিণে ও চারি অঙ্গুলী নিম্নে “শির”-প্রতিরােধ-হেতু লাঠি ঠিকভাবে ধারণ এবং কিঞ্চিদধিক অর্থ হস্ত সম্মুখে থাকিবে ; লাঠির অগ্র করিলে, হস্ত-মুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী নিজ মস্তকের দক্ষিণ পার্শ্ব বিন্দু, বাম স্কন্ধ-মােড় হইতে অন্ধ হস্ত সম্মুখে লম্বরেখার হইতে প্রায় অর্ধ হস্ত উদ্ধে ও অগ্ধ হন্ত সম্মুখে থাকিবে সমসূত্রে উর্দ্ধে থাকিবে। লাঠি বক্ষ-ক্ষেত্রের সমান্তরাল এবং লাঠির অগ্রবিন্দু নিম্নমুখ-ভাবে বাম স্কন্ধ-মােড় থাকিবে। হইতে কিঞ্চিদধিক অর্থ হস্ত বামে ও সম্মুখে থাকিবে । লাঠি বক্ষ ক্ষেত্রের সমান্তরাল থাকিবে। নিম্নে চিত্ৰদ্বারা “শির”-প্রতিকারের পদ্ধতি প্রদর্শিত হইল ; শরীরােপরি অঙ্কিত রেখা-নির্দেশে আঘাতের গতি কল্পনা করিয়া লইতে হইবে। মােড়া বিশেষ দ্রষ্টব্য প্রতিরােধ-কালে সর্বদাই নিজ লাঠি- শির দ্বারা প্রতিপক্ষের লাঠিকে, তাহার গতির বিপরীত দিক- বিশেষ দ্রষ্টব্য : সাধারণতঃ সৰ্ব্বদাই দৃষ্টি রাখিতে অভিমুখে সামান্য বেগে আঘাত করিয়া দূর করিয়া দিতে হইবে যে, প্রতিপক্ষের শরীরােপরি আঘাত পতিত হওয়ার হইবে। কালে সমগ্র বাহু যেন সম্পূর্ণ সরল থাকে এবং বাহু ও অন্তর= দক্ষিণ কর্ণ-মূলের দুই অঙ্গুলী নিম্ন হইতে লাঠি যেন যথাসম্ভব প্রায় এক সরল রেখাতে থাকে। আরম্ভ করিয়া মস্তক ও গল-দেশের ঠিক সন্ধিস্থল ভেদ দ্বিঘাত (দুই এর বাড়ি)। করিয়া বাম কর্ণ-মূলের দুই অঙ্গুলী নিম্ন পৰ্য্যন্ত-ছিন্ন-করিয়া- ১। শির, মােড়া। দেওয়া-হেতু আঘাত। অন্তর, কুচ। “অন্তব”=প্রতিবােধ-কালে লাঠি ঠিক, লম্বভাবে উৰ্দ্ধ- মােড়া = দক্ষিণ কক্ষ-মুণ্ড (স্কন্ধ-মােড়) হইতে আরম্ভ মুখ হইয়া থাকিবে, হস্ত-মুষ্টির মুখ হইয়া থাকিবে, হস্ত-মুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী দক্ষিণ স্কন্ধের প্রায় চারি অঙ্গুলী নিম্নে, চারি দধিক অর্থ হস্ত সম্মুখে থাকিবে। ( ১৮ ) দক্ষিণে এবং কিঞ্চি- প্রায় ভূমির সমান্তরালভাবে চালনা করিয়া স্থির লক্ষ্যে ‘জড়বেশে” “অন্তর” মারিয়া, প্রতিপক্ষের লাঠিতে নিজ ন ১) লাঠি প্রতিহত হইলে, বিপরীত গতিতে মাথার উপর দিয়া বামাবৰ্তে লাঠি ঘুরাইয়া আনিয়া দক্ষিণ জানু ঈষৎ অবনত কুচ= গুফের ( পাদ-সন্ধির ) বাম পার্শ্বের ঘুণ্টিকাটি করিয়া, (“স্থিতির” ভঙ্গী প্রায় ঠিক রাখিয়াই ), সমগ্র ( গুটিকাবৎ উন্নত অংশটি) ব্যাপিয়া চারি অঙ্গুলী স্থান শরীর সম্মুখে সামান্য অগ্রসর করাইয়া “চ” মারিয়া মধ্যে, ঈষৎ নিম্নাভিমুখে বক্রভাবে ঐ গুলফ ( পাদ-সন্ধি) “ত্রাসে”চালনা করিয়া আনিয়া বামদিক দিয়া লাঠি তুলিয়া বিচ্ছন্ন-করা-হেতু আঘাত। প্রতিপক্ষের “অন্তরে” আঘাত প্রতিরােধ করিবার নিমিত্ত বর্ণনা :- প্রস্তুত হইতে হইবে। ১। “শিরের প্রয়ােগ পূর্ণ করিয়া, লাঠি ত্রাসে “অন্তর” প্রতিরােধ করিয়া লাঠির অগ্রবিন্দু দক্ষিণ চালনা করিয়া, দক্ষিণ হস্ত নিজ বাম পার্শ্বে আসিলে পর, দিকে হেলাইয়া দিয়া লাঠিকে নিম্নমুখ-ভাবে “গুড়দিশে” ক্রমে কফোণি ( কনুই) ভঙ্গ করিয়া লাঠি উপরে তুলিয়া চালনা করিতে করিতে হস্ত-মুষ্টি নাভির সম্মুখে আসিলে হস্ত-মুষ্টি বাম স্কন্ধ-দেশের উপরে আসিলে পর,হস্ত সবল পর, লাঠি ভূমির উপরে দক্ষিণ পদের বৃদ্ধাঙ্গুলী হইতে করিয়া লাঠি ফিরাইয়া স্থির লক্ষ্যে “মােড় মারিয়া অর্থ হস্ত সম্মুখে ও প্রায় অর্ধ হস্ত বামে আসিবে ; প্রতি- “ব্রাসে” চালনা করিয়া ক্রমে কফোণি (কনুই) ভঙ্গ পক্ষের লাঠির গতির অনুযায়ী নিজ লাঠিকে এরূপভাবে করিয়া লাঠি পশ্চাৎ দিক্ দিয়া সামান্য “গুড়দিশে” চালনা করিতে হইবে যে, লাঠি যেন চালিত অবস্থাতেই ঘুরাইয়া মাথার উপরে আনিয়া প্রতিপক্ষের “শিরের” পূর্বোক্ত বর্ণিত স্থানে প্রতিপক্ষের “কূচের” আঘাত আঘাতের প্রতিবােধ-হেতু প্রস্তুত হইতে হইবে। প্রতিরােধ করিয়া, তাহার লাঠিকে আঘাত করিয়া দূর ২। হস্ত-মুষ্টি বাম স্কন্ধ-দেশের উপরে আনিয়া লাঠিকে করিয়া দিয়া অব্যাহত গতিতেই বাম পার্শ্ব ( ১৯ ) দিয়া ক্ৰমে উৰ্দ্ধমুখ হইয়া বক্ষদেশে সমান্তরালভাবে ঘুরিয়া আইসে ; পরে হস্তমুষ্টি বাম স্কন্ধের উপরে আনিয়া পুনরায় “অন্তর” মারিবার জন্য প্রস্তুত হইতে স্কন্ধ মােড়ের প্রায় চারি অঙ্গুলী উর্দ্ধে ও কিঞ্চিদধিক অর্ধ- হস্ত সম্মুখে থাকিবে ; এবং লাঠির অগ্রবিন্দু বামস্কন্ধ হইবে। বিশেষ দ্রষ্টব্য : দক্ষিণ পদ অগ্রে স্থাপিত অবস্থায় একাজস্থিতি কল্পনা করিয়াই সমস্ত আঘাতগুলি কল্পিত হইয়াছে। কিন্তু বাম হস্তে ক্রীড়াকালে বামপদ অগ্রে থাকিবে, সুতরাং “কুচ” প্রভৃতি আঘাতের স্থানগুলি যথাস্থানে থাকিবে না; তাই ঐ সমস্ত আঘাতগুলির বামহস্তে প্রয়ােগ ও প্রতিকার কালে প্রকৃত বাম পদকেই দক্ষিণ পদ কল্পনা করিয়া, তদনুরূপেই পদ-সম্পর্কিত সমস্ত আঘাতের কল্পনা ও ধারণা করিয়া লইতে হইবে । ত্রিঘাত (তিনের বাড়ি) ১। তামেচা, শির। শির। শির, স ৪। শির, ৭। কটা, বাহেরা, বাহেরা, তামেচা, তামেচা, বাহেরা। তামেচা, শির, বাহেরা। তামেচা বাহেরা, তামেচা। শির, বাহেরা, মােড়ের কিঞ্চিদধিক অর্ধহস্ত সম্মুখ হইতে লম্বরেখার তামেচা। 'তামেচা, শির। সমসূত্রে ঊদ্ধে থাকিবে। কটী—দক্ষিণ কটী পাশ্ব হইতে আরম্ভ করিয়া, ঠিক 'তামেচা=বাম কর্ণন্ধ হইতে আরম্ভ করিয়া সরল-ভাবে বাম কটী পাশ্ব পৰ্যন্ত ছেদন করা-হেতু নাসিকার অগ্রভাগ ভেদ করিয়া দক্ষিণ কর্ণমূল পর্যন্ত আঘাত। ছেদন করিবার নিমিত্ত আঘাত। “কটীর” প্রতিরােধ-কালে হস্তমুষ্টি দক্ষিণ বক্ষ-পাশ্ব “তামেচা”—প্রতিবােধ-কালে হস্তমুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী বাম হইতে প্রায় অর্ধহস্ত দক্ষিণে ও প্রায় অষ্টাদশ অঙ্গুলী স্কন্ধ মােড়ের প্রায় চারি অঙ্গুলী উদ্ধে ও কিঞ্চিদধিক সম্মুখে থাকিবে ; লাঠি ভূমির উপরে লম্বরেখার সমসূত্রে অর্ধহস্ত সম্মুখে থাকিবে, এবং লাঠির অগ্রবিন্দু দক্ষিণস্কন্ধ থাকিবে। মােড়ের কিঞ্চিদধিক অর্ধহস্ত সম্মুখ হইতে লম্বরেখার বর্ণনা :- সমসূত্রে উদ্ধে থাকিবে। ১ম। লাঠির অগ্রবিন্দু নিম্নমুখ করিয়া বামপার্শ্ব বাহেরা-দক্ষিণ কর্ণন্ধু, হইতে আরম্ভ করিয়া হইতে লাঠি পৃষ্ঠের সমান্তরালভাবে পশ্চাৎ দিক দিয়া নাসিকার অগ্রভাগ ভেদ করিয়া, বাম কর্ণমূল পর্যন্ত ঘুরাইয়া লাঠির অগ্রবিন্দু ক্ৰমে উপরে তুলিয়া হস্ত সরল ছেদন করিবার নিমিত্ত আঘাত। করিয়া “তামেচা” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে “ব্রাসে” চালনা “বাহেরা”—প্রতিরােধকালে হস্তমুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী দক্ষিণ করিয়া, পরে “জড়বেশের ক্রিয়ায় হস্তমুষ্টি বাম কর্ণের ( ২০ ) ঈষৎ উপরে গেলে,—“বাহেরায় আঘাত করিয়া স্থির “তামেচার” আঘাতের প্রতিরােধ-হেতু প্রস্তুত হইতে লক্ষ্যে “ত্রাসে” চালনা করিয়া দক্ষিণ পাশে লাঠি ঈষৎ হইবে। ২য়। হস্তমুষ্টি বাম কর্ণের ঈষৎ উদ্ধে ও বামে তুলিয়া ‘বাহেরা” মারিয়া লাঠি স্থির লক্ষ্যে “ত্রাসে” চালনা করিলে পর,হস্তমুষ্টি দক্ষিণ কর্ণের ঈষৎ উদ্ধেও দক্ষিণে আসিলে,-“তামেচা” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে ব্রাসে চালনা করিয়া লাঠি নিম্নমুখ-ভাবে পশ্চাৎ দিক্ দিয়া ঘুরাইয়া তুলিয়া হস্তমুষ্টি মস্তকের দক্ষিণ পাশ্বের উদ্ধে আসিলে ‘শির” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে “ত্রাসে” চালনা করিয়া হস্ত- মুষ্টি বাম কটী পাশ্বের সমসূত্রে আসিলে পর,লাঠির অগ্রবিন্দু উপরে তুলিয়া প্রতিপক্ষের “বাহেরার” আঘাতের প্রতিকার-হেতু প্রস্তুত হইতে হইবে। ৩য়। “শির” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে অসি ব্রাসে চালনা করিয়া লাঠির অগ্রবিন্দু নিম্নমুখ-ভাবে রাখিয়া, বাম পাশ্ব ও পশ্চাৎ দিক দিয়া ঘুরাইয়া আনিয়া ক্রমে লাঠির অগ্রবিন্দু উপরে তুলিয়া হস্তমুষ্টি দক্ষিণ কর্ণের ঈষৎ উদ্ধেও দক্ষিণে আসিলে “তামেচা” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে লাঠি “ত্রাসে” চালনা করিয়া “জড়বেশের ক্রিয়ার হস্তমুষ্টি বাম কর্ণের ঈষৎ উদ্ধে ও বামে আসিলে পর, “বাহেরা” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে লাঠি “ত্রাসে” চালনা বাহেরা করিয়া দক্ষিণ পার্শ্বে হস্ত ও লাঠি নিম্ন-মুখ-ভাবে এক গুড় দিশে ঘুরাইয়া হস্ত একটু উচু করিয়া “শির” মারিয়া সরল রেখায় হইলে পর,ক্রমে পশ্চাৎ দিক দিয়া ঘুরাইয়া স্থির লক্ষ্যে “ত্রাসে” চালনা করিয়া আনিয়া প্রতিপক্ষের আনিয়া প্রতিপক্ষের “শিরের আঘাতের প্রতিকার-হেতু প্রস্তুত হইতে হইবে। ৪র্থ। “তামেচা” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে “আসে” চালনা করিয়া লাঠি নিম্নমুখ-ভাবে বাম পার্শ্ব ও পশ্চাৎ দিক্ দিরা ঘুরাইয়া আনিয়া-হস্তমুষ্টি মস্তকের দক্ষিণ পার্শ্বের উদ্ধে’ আসিলে পর,—“শির” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে লাঠি “ত্রাসে” চালনা করিয়া,হস্তমুষ্টি বাম কটী পার্শ্বে আসিলে,—“জড়বেশের ক্রিয়ায় বাম পার্শ্ব দিয়া লাঠির অগ্রবিন্দু ক্রমে উপরে তুলিয়া,হস্তমুষ্টি বাম কর্ণের ঈষৎ উর্ধে ও বামে আসিলে পর,-“বাহেরা” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে “ত্রাসে” চালনা করিয়া পশ্চাৎ দিক দিয়া লাঠি ঘুরাইয়া উপরে তুলিয়া প্রতিপক্ষের “তামেচার” আঘাতের প্রতিকার-হেতু প্রস্তুত হইতে হইবে।
শির। শির। শির। ( ২১ ) ৫ম। “বাহেরা” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে লাঠি “ত্রাসে” ৩। তামেচা কটী, চির, চালনা করিয়া “শির” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে লাঠি ‘ত্রাসে” ৪। শির, তামেচা, বাহেরা, চালনা করিয়া “তামেচা” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে লাঠি ৫। তামেচা, পালট, ভাণ্ডার, “ত্রাসে” চালনা করিয়া, বাম পার্শ্বে লাঠির অগ্রবিন্দু ৬। গ্রীবাণ, হাতকাটি, কটী, ক্রমে উপরে তুলিয়া, প্রতিপক্ষের “বাহেরার” আঘাতের হাতকাটি—প্রতিপক্ষের-হস্তের কফোণি (কনুই) প্রতিকার-হেতু প্রস্তুত হইতে হইবে। ও মণিবন্ধের মধ্য দেশে, তাহার দক্ষিণ পার্শ্ব হইতে ঈষৎ ৬৮। “শির” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে লাঠি “ত্রাসে চালনা নিম্নমুখে অসি হেলাইয়া বক্রভাবে ঐ হস্তাংশ বিচ্ছিন্ন করিয়া “বাহেরা” মারিয়া লাঠি স্থির লক্ষ্যে “ত্রাসে” করিয়া দেওয়া হেতু আঘাত। চালনা করিয়া “তামেচা” মারিয়া স্থির লক্ষ্যে লাঠি “হাতকাটির প্রতিকার হেতু মণিবন্ধ দক্ষিণাবর্তে “ব্রাসে” চালনা করিয়া ক্রমে হস্ত-মুষ্টি উপরে তুলিয়া রাইয়া, বদ্ধমুষ্টি ঈষৎ শিথিল করিয়া, হস্ততলের দিক প্রতিপক্ষের “শিরের আঘাতের প্রতিকার-হেতু প্রস্তুত উদ্ধ মুখ করিয়া হস্তমুষ্টি ঈষৎ নামাইতে নামাইতে লাঠি হইতে হইবে। ৭ম। “তামেচা” মারিয়া,—নিজ লাঠি প্রতিপক্ষের নিম্নমুখ ভাবে “গুড় দিশে ঘুরাইয়া হস্তপ্রকোষ্ঠের (মণিবন্ধ হইতে কফোনি (কনুই) পর্যন্ত বাহুভাগের) সম্মুখে লাঠিতে প্রতিহত হইলে,—বিপরীত গতিতে লাঠি মাথার আনিয়া ও হস্ততল সম্মুখের দিকে করিয়া, এবং হস্তমুষ্টি উপর দিয়া “গুড় দিশে ঘুরাইয়া, “কটী” মারিয়া, বক্ষ ও গ্রীবার সম্মুখে আনিয়া প্রতিপক্ষের লাঠিকে ঈষৎ প্রতিপক্ষের লাঠিতে লাঠি প্রতিহত হইলে, হস্তমুষ্টি বেগে আঘাত করিয়া উদ্ধ’দিকাভিমুখে দূর করিয়া দক্ষিণাবর্তে ঘুরাইয়া, হস্ততলের ঠিক উদ্ধ মুখ হইলে, দিতে হইবে। লাঠিকে নিম্নমুখ ভাবে “গুড় দিশে” ঘুরাইয়া আনিয়া হাতকাটির প্রতিরােধকালে অধিকাংশ সময়েই লাঠি হস্তমুষ্টি উর্ধে তুলিয়া “শির” মারিয়া, স্থির লক্ষ্যে লাঠি “ত্রাসে” চালনা করিয়া আনিয়া প্রতিপক্ষের “তামেচার” প্রধানতঃ মধ্যমা, তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দ্বারাই ধৃত থাকে। আঘাতের প্রতিরােধ-হেতু প্রস্তুত হইতে হইবে। “ত্রিঘাতের”’সপ্তম ঘাত হইতে আরম্ভ করিয়া পঞ্চদশ ঘাত-পৰ্য্যন্ত সমস্ত আঘাতের প্রয়ােগই প্রধানতঃ “গুড় দিশে” করিতে হইবে; স্বাভাবিক গতিতে কোন কোন স্থলে আপনা হইতেই “জড়বেশ” কিম্বা “ত্রাসের ক্রিয়া হইয়া পড়িবে; তবে “চির”, “হুল”, “আনী”, “অংসহুল”, “পঞ্জর” প্রভৃতি যে সমস্ত আঘাতে অসির •অগ্রবিন্দু প্রতিপক্ষের শরীর-মধ্যে প্রবিষ্ট করাইয়া দিতে হয়, সেগুলির ঠিক পূর্বে যে কোন আঘাতই থাকুক না হাতকাটি কেন, তাহার প্রয়ােগ করিয়া সাধারণতঃ অসি “ব্রাসে” চালনা করিয়া আনিতে হয়। শুধু লাঠি-সহ ক্রীড়াকালে বামহস্ত দ্বারা “হাতকাটির” প্রয়ােগ করিতে হইলে, প্রতিপক্ষের বাম হস্তেই অনুরূপ চতুর্ঘাত (চারের বাড়ি) আঘাত করিতে হইবে। ১। শির, হাতকাটি, তামেচা, চির-অসিপৃষ্ঠের অগ্রভাগ দ্বারা প্রতিপক্ষের পায়ু- ২। তামেচা বাহেরা, চির, মূল হইতে বক্ষ পৰ্যন্ত বিদীর্ণ করা-হেতু আঘাত। কটী। ৪ ( ২২ ) অসি মেরুদণ্ডের পাশ ঘেসিয়া যাইবে ; দক্ষিণ হস্ত সম্মুখে থাকিবে; লাঠি ভূমির উপরে লম্বরেখার সমসূত্রে দ্বারা চির” প্রয়ােগ করিলে, অসির অগ্রভাগ দক্ষিণ থাকিবে। পৃষ্ঠের দিকে এবং অসির মধ্যভাগ বাম উদরের দিকে থাকিবে। “চিরের প্রতিকার-হেতু নিজ লাঠি উদ্ধ হইতে বেগে চালনা করিয়া ক্রমে বক্ষ ও ভূমির সমান্তরাল- ভাবে নিম্নাভিমুখে নামাইতে নামাইতে, প্রতিপক্ষের লাঠিকে আঘাত করিয়া নিম্নের দিকে দুর করিয়া দিতে হইবে। ভাঙার চির পালট= গুলফদেশ বিচ্ছিন্ন করা-হেতু পাদ-গুলফের দক্ষিণ পাশের ঘুণ্টিকার (গুটিকাবৎ উচ্চ অংশের) মধ্যভাগ হইতে চারি অঙ্গুলী উদ্ধ পর্যন্ত অংশ-মধ্যে আঘাত। “পালটের” প্রতিরােধ-হেতু লাঠির অগ্রবিন্দু পদ- পল্লবের দক্ষিণ পাশ্ব হইতে প্রায় অর্ধহস্ত দক্ষিণে এবং হইতে অর্ধহস্ত সম্মুখে থাকিবে। লাঠি নিম্ন চির—অপর পাশ্ব হইতে [ প্রতিরােধকারীর লাঠি বাম দিকের ব্যক্তির হস্তের অন্তরালে রহিয়াছে।] ভাণ্ডার—বাম কটীপাশ্ব হইতে আরম্ভ করিয়া, ঠিক সরলভাবে দক্ষিণ কটীপাশ্ব পৰ্য্যন্ত ছিন্ন করা-হেতু আঘাত। “ভাণ্ডার”—প্রতিরােধ-হেতু হস্ত-মুষ্টি বাম পাশ্বের প্রায় অর্ধহস্ত বামে ও প্রায় অষ্টাদশ অঙ্গুলী পালট ( ২৩ ) মুখ হইয়া ভূমির উপরে লম্বভাবে থাকিবে। মণিবন্ধ নিজ লাঠি কিম্বা অসি প্রতিপক্ষের লাঠি কিম্বা প্রায় কটীদেশের সমপরিমাণ উর্দ্ধে থাকিবে। অসিতে প্রতিহত হইলে, তৎপর অপর কোনও আঘাত গ্রীবাণ-বাম স্কন্ধ ও গ্রীবার সন্ধি মূল হইতে “গুড়দিশে” প্রয়ােগ করিবার নিমিত্ত সাধারণতঃ প্রতি- আরম্ভ করিয়া দক্ষিণ কটীপাশ্ব পৰ্যন্ত ছিন্ন করা-হেতু পক্ষের লাঠির যে পাশ্বে নিজ লাঠি থাকিবে সেই আঘাত। পাশ্বেতেই নিজ লাঠিকে চক্রাকারে ঘুরাইতে আরম্ভ “গ্রীবাণ”—প্রতিবােধ-হেতু হস্তমুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী করিতে হইবে; নিজ লাঠির অগ্রবিন্দু প্রতিপক্ষের মধ্যের প্রায় অর্ধহস্ত সম্মুখে থাকিবে, এবং লাঠির লাঠির এক পাশ্ব অতিক্রম করিয়া অপর পাশ্বে যাইবে অগ্র-বিন্দু বামক-মুণ্ড (স্কন্ধ মােড় ) হইতে প্রায় না। অষ্টাদশ অঙ্গুলী বামে ও কিঞ্চিদধিক অর্ধহস্ত সম্মুখে ২য়, ৩য়। যথা নিয়মে “তামেচা” ও “বাহেরা” থাকিবে ; লাঠি বক্ষক্ষেত্রের সমান্তরাল থাকিবে। কিম্বা “কটীর” আঘাত প্রয়ােগ করিয়া লাঠি “ত্রাসে” চালনা করিয়া, অগ্রবিন্দু নিম্নাভিমুখে রাখিয়া হস্তমুষ্টি দক্ষিণ পার্শ্বে পশ্চাৎ দিকে লইয়া, মণিবন্ধ বক্র করিয়া, মুষ্টির কনিষ্ঠাঙ্গুলীর দিকের পার্শ্ব সম্মুখ হইতে ঈষৎ উদ্ধে তুলিয়া, হস্ত অগ্রসর করিতে করিতে “গুড় দিশের ক্রিয়ায় অসি পৃষ্ঠের অগ্রভাগ দ্বারা “চির” প্রয়োেগ করিতে হইবে; এবং প্রতিপক্ষের আঘাতে লাঠি প্রতিহত হইলে হস্তমুষ্টি দক্ষিণাবর্তে ঘুরাইয়া লাঠি নিম্নমুখ-ভাবে দক্ষিণ পার্শ্ব হইতে “গুড় দিশে” ঘুরাইয়া, হস্তমুষ্টি ও লাঠি উপরে তুলিয়া, যথা নিয়মে “শিরের” আঘাত প্রয়ােগ করিয়া, যথা নিয়মে প্রতিপক্ষের “তামেচার” আঘাতের প্রতিবােধ-হেতু প্রস্তুত হইতে হইবে। “চির প্রয়ােগ হেতু কফোনি ( কনুই দেশ) পশ্চাৎ দিকে প্রায় স্কন্ধদেশের সমসূত্রে উর্দ্ধে উঠিবে। ৫ম। যথা নিয়মে “মেচার” প্রতিরােধ করিয়া বাম পার্শ্বের দিকে লাঠির অগ্রবিন্দু নিম্নমুখ করিতে গ্রীবাণ করিতে, “গুড়দিশে” লাঠি চালনা করিয়া, চালিত অবস্থায়ই লাঠি দ্বারা যথা স্থানে প্রতিপক্ষের “পালটের” বর্ণনা: সাধারণতঃ সমস্ত আঘাতই “গুড় দিশে” প্রয়ােগ আঘাতকে আঘাত করিয়া দূর করিয়া দিয়া, নিম্নমুখ করিতে হইবে, কেবল শেষের আঘাতগুলি, এবং “চিরের” ভাবেই লাঠিকে বিপরীত গতিতে চালনা করিয়া আনিয়া ঠিক পূর্বের আঘাত প্রয়ােগ করিয়া, অসি “ত্রাসে” যথা নিয়মে “ভাণ্ডারের প্রতিরােধ-হেতু প্রস্তুত হইতে চালনা করিয়া নিতে হইবে। হইবে। “ভাণ্ডারের প্রতিরােধ করিয়া যথানিয়মে “গুড় দিশে” প্রয়ােগ-হেতু মণিবন্ধ মণিবন্ধ এরূপ-ভাবে “শিরের” প্রতিরােধ করিতে হইবে। ঘুরাইয়া অসি চালনা করিতে হইবে, যেন পূর্ব হইতেই ৬ষ্ঠ । “গ্রীবাণের প্রতিরােধ করিয়া যথানিয়মে চক্রাকারে ঘুরিয়া আসিয়া অসি নিজ গতিতেই নির্দিষ্ট “হাত কাটির” প্রতিকার করিয়া লাঠি নিম্নমুখ ভাবেই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট আঘাত সম্পন্ন করিয়া যাইতে পারে। রাখিয়া হস্তমুষ্টি বামাবর্তে ঘুরাইয়া হস্ত পৃষ্ঠ ক্রমে উদ্ধ ; ১। ( ২৪ ) সম্মুখ ও বাম দিকাভিমুখে করিয়া, যথানিয়মে “কটীর” “যাণ্ডের প্রতিবােধ-হেতু হস্তমুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী দক্ষিণ প্রতিকার করিতে হইবে; পরে যথা নিয়মে শিরের মস্তক পার্শ্ব হইতে প্রায় অষ্ট অঙ্গুলী দক্ষিণে ও অর্ধহস্ত প্রতিকার করিতে হইবে । সম্মুখে থাকিবে, এবং অগ্রবিন্দু ঈষৎ উৰ্দ্ধমুখ হইয়া, বাম স্কন্ধমােড় হইতে প্রায় একহস্ত বামে ষােড়শ অঙ্গুলী পঞ্চঘাত (পাঁচের বাড়ি) সম্মুখস্থ লম্বরেখার সমসূত্ৰে থাকিবে। তামেচা, কটী, ভাণ্ডার, পালট, যাণ্ড্য। ২। তামেচা, কটী, ভাণ্ডার, পালট, শির। কড়ক-গুলফের ( পাদসন্ধির) বাম পার্শ্বের ঘুণ্টিকার উদ্ধা সীমানা হইতে আরম্ভ করিয়া উপরের দিকে চারি ৩। তামেচা, কটী, শির, কড়ক, বাহেরা। অঙ্গুলী পৰ্যন্ত স্থান মধ্যে, বক্রভাবে পাদসন্ধি বিচ্ছিন্ন ৪। শির’ কড়ক, পালট, হুল, ভাণ্ডার। ৫। বাহেরা, ভাণ্ডার, কটী, যাণ্ড্য, তামেচা। করা-হেতু ),—আঘাত। ৬। তামেচা, পালট, হুল, শির, গ্রীবাণ । পদাঙ্গুষ্ঠের অর্ধহস্ত সম্মুখে ও বামে ভূমি সংলগ্ন ৭। তামেচা, কটী, হুল, শির, গ্রীবাণ । করিয়া লাঠিকে ভূমির উপরে লম্ব-ভাবে রাখিয়া “কড়কের” প্রতিকার করিতে হইবে। যাণ্ড—মস্তকের ঠিক মধ্যস্থিত সি থির দুই অঙ্গুলী দক্ষিণ হইতে আরম্ভ করিয়া বক্রভাবে মধ্য দিয়া নাসিকার ও মেরুদণ্ডের বাম পার্শ্ব ঘেরিয়া পায়ু মূল পর্যন্ত ছেদন করা-হেতু আঘাত। অসির অগ্রভাগে দক্ষিণ পৃষ্ঠদেশ ছেদিত হইবে, এবং অসির মধ্যভাগে বাম বক্ষ ও বাম উদর ছেদিত এই আঘাতের দ্বারা সরলভাবে উপবিষ্ট অশ্বারােহী-সহ অশ্ব ছেদিত হওয়া সম্ভবপর হইতে পারে। হইবে । কড়ক —নাভিকে কেন্দ্র করিয়া চারি অঙ্গুলী ব্যাসের বৃত্তের মধ্যে অসিকে ভূমির সমান্তরালভাবে শরীর মধ্যে প্রবিষ্ট করা-হেতু আঘাত। “হুলের প্রতিকার-হেতু লাঠিকে বক্ষক্ষেত্রে সমান্তরালভাবে চালনা করিয়া অগ্রবিন্দু বাম পার্শ্বের দিক দিয়া উপরে তুলিয়া বেগে আঘাত করিয়া প্রতি- পক্ষের লাঠিকে নিজ দক্ষিণ পার্শ্বের দিকে দূর করিয়া দিতে হইবে । সে সময়ে প্রয়ােজন হইলে “স্থিতির যাঙ ( ২৫ ) অন্যান্য ভঙ্গী ঠিক রাখিয়া সম্মুখের জানু একটু সরল ২। তামেচা, বাহেরা, ভাণ্ডার, কটী, চির, হুল, করা যাইতে পারে । শিরদক্ষিণ । ৩। তামেচা, বাহেরা, ভাণ্ডার, কটী, চির, হুল, যাণ্ড্য। ৪। তামেচা, বাহের, ভাণ্ডার, কটী, চির, হুল, যাণ্ড্যউত্তর। ৫। তামেচা, পালট, ভাণ্ডার, কটী, হুল, শির, গ্রীবাণ। “শির”, “শিরদক্ষিণ”, “যাণ্ড্য” ও “যাণ্ড্যউত্তর” এই চারিটি আঘাতের বিভিন্নতা সম্পর্কে মনোেযােগ আকৰ্ষণ- হেতুই সপ্তঘাতের প্রথম চারিটি পাঠ নির্দিষ্ট হইয়াছে। শির দক্ষিণ-মস্তকের ঠিক মধ্যস্থিত সিথির দুই অঙ্গুলী দক্ষিণ হইতে আরম্ভ করিয়া, দক্ষিণ জ্ব, দক্ষিণ চক্ষু (হল) প্রারম্ভকালে ও নাসিকার অগ্রভাগ ভেদ করিয়া বাম কটী-পার্শ্ব পৰ্যন্ত ছিন্ন করা-হেতু আঘাত। “শির-দক্ষিণ’—প্রতিরােধ-কালে হ-মুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী দক্ষিণ মস্তক-পার্শ্ব হইতে প্রায় অষ্ট অঙ্গুলী দক্ষিণে ও অর্ধ- হস্ত সম্মুখে থাকিবে ; লাঠি বক্ষক্ষেত্রের সমান্তরালভাবে থাকিবে, এবং অগ্রবিন্দু ঈষৎ উৰ্দ্ধমুখ হইয়া বাম কক্ষমুণ্ড (স্কন্ধ মােড়) হইতে কিঞ্চিদধিক অগ্ধ হস্ত বামে যােড়শ- অঙ্গুলী সম্মুখস্থ লম্বরেখার সমসুত্রে উর্দ্ধে থাকিবে। হল (শেষভাগে) ৩য়, ৪র্থ। এস্থলে তৃতীয় ও চতুর্থ পাঠ-মধ্যে “কড়কের প্রয়ােগ করিয়া “ত্রাস” কিম্বা “গুড় দিশ” উভয় প্রাকারেই লাঠির চালনা হইতে পারে। ষড়ঘাত ( ছয়ের বাড়ি ) ১। তামেচা, পালট, ভাণ্ডার, কটী, কড়ক, বাহেরা। ২। শির, বাহেরা, তামেচা, কটী, চির, যাণ্ড্য। ৩। তামেচা, চির, শির, হুল, বাহেরা, ভাণ্ডার। ৪। তামেচা, পালট, ভাণ্ডার, কটী, শির, গ্রীবাণ । তামেচা, কটী, ভাণ্ডার, শির, কড়ক, বাহেরা। ৬। তামেচা, শির, চির, হুল, যাণ্ড্য, কটী। ৭। বাহেরা, হুল, চির, গ্রীবাণ, ভাণ্ডার, কড়ক। সপ্তঘাত (সাতের বাড়ি) ১। তামেচা, বাহেরা, ভাণ্ডার, কটী, চির, হুল, শির। শির দক্ষিণ যাণ্ড্য-উত্তর ঃ—মস্তকের ঠিক মধ্যস্থিত সিথির দুই ৪। বাহেরা, অন্তর, মােড়া, কটী, পালট, হুল, চির, অঙ্গুলী বাম হইতে আরম্ভ করিয়া বক্রভাবে মধ্য দিয়া যাণ্ড্য। নাসিকার ও মেরুদণ্ডের দক্ষিণ পার্শ্ব ঘেষিয়া পায়ুমূল পর্যন্ত ৫। বাহেরা, ভাণ্ডার, পালট, শির, সাম, মােড়া, ছেদন করা-হেতু আঘাত। কটী, তামেচা। অসির অগ্রভাগে বাম পৃষ্ঠ দেশ ছেদিত হইবে, এবং সাক (সাকম উত্তর --অসির অগ্রভাগ দ্বারা বাম অসির মধ্যভাগে দক্ষিণ বক্ষ ও দক্ষিণ উদর ছেদিত হইবে। জানুর চারি জানুর চারি অঙ্গুলী উর্ধে, এবং অসির মধ্যভাগ দ্বারা “যাণ্ড্য-উত্তর”-প্রতিরােধ-কালে দক্ষিণ হস্তের বৃদ্ধা- দক্ষিণ জানুর প্রায় দ্বাদশ অঙ্গুলী উর্ধে,—একসঙ্গে পদদ্বয় জুলী মস্তকের দক্ষিণ পাশ্ব হইতে প্রায় অর্ধ হস্ত ঊর্ধে (সকৃথি যুগল) ছিন্ন করা-হেতু আঘাত। ও অগ্ধ হস্ত সম্মুখে থাকিবে, এবং লাঠির অগ্রবিন্দু ঈষৎ “সাক’-প্রতিরােধ-কালে হস্তমুষ্টি বাম কটী পাশ্ব নিম্নমুখ হইয়া বাম কক্ষমুণ্ড (স্কন্ধ মােড়) হইতে অন্ধ হইতে প্রায় অষ্টাদশ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে এবং লাঠির হস্ত বামে ও সম্মুখে থাকিবে। লাঠি বক্ষক্ষেত্রের সমান্তরাল অগ্রবিন্দু দক্ষিণ পদের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ হইতে প্রায় অর্ধ হস্ত থাকিবে। দক্ষিণে ও সম্মুখে থাকিবে। 17, সক (সাম উত্তর) যাণ্ড্য-উত্তর অষ্টঘাত (আটের বাড়ি) ১। শির, কড়ক, বাহেরা, ভাণ্ডার, কটী, চির, হুল, যাণ্ড্য। ২। শির, মােড়া, কড়ক, পালট, চির, হুল, ভাণ্ডার, যাণ্ড্য। ৩। শিৱ, বাহেরা, পালট, ভাণ্ডার, কটী, চির দুল, যাণ্ড্য। বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে “অষ্টঘাতের অভ্যাস সম্পন্ন করিয়া ক্রমে অল্পে অল্পে দ্রুত চালনা অভ্যাস করিতে হইবে। এবং পর্যায়ক্রমে এক ব্যক্তি দক্ষিণ হস্তে ও অপর ব্যক্তি বাম হস্তে লাঠি ধারণ করিয়া ও মাঝে-মাঝে পরস্পর বিভিন্ন পাঠের অভ্যাস করিতে হইবে। নবঘাত (ন’য়ের বাড়ি) ১। তামেচা, কটী, চির, হুল, বাহেরা, কড়ক, পালট, ভাণ্ডার, ত্রিহর। ২। তামেচা, কটী, চির, শির, হুল, বাহেরা, কড়ক, পালট, ভাণ্ডার।
( ২৭ ) ৩। তামেচা, পালট, গ্রীবাণ, কটী, ভুজ, মােড়া, প্রায় অর্ধ হস্ত সম্মুখে থাকিবে, লাঠির অগ্রবিন্দু নিম্নমুখ কড়ক, যাণ্ড্য, ভাণ্ডার। ইয়া বামদিকে ঈষৎ হেলিয়া থাকিবে। ৪। শির, তামেচা, গ্রীবাণ, মােড়া-উত্তর, মনু, ভাণ্ডার, সাকম, কড়ক, যাণ্ড্য। ৫। হীনায়ন, ভাণ্ডার, আসর, মন, ত্রিহর, সাক, পালট, তামেচা, যাণ্ড্য। ত্রিহর, (ত্রিহরদক্ষিণ কর্ণের প্রায় তিন অঙ্গুলী উদ্ধা হইতে আরম্ভ করিয়া বাম কর্ণমূলের দুই অঙ্গুলী নিম্ন পর্যন্ত ছিন্ন করা-হেতু আঘাত। “ত্রিহর”—প্রতিরােধ-কালে মণিবন্ধ দক্ষিণ কক্ষমুণ্ড (স্কন্ধমােড়) হইতে প্রায় যােড়শ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে, এবং লাঠির অগ্রবিন্দু বাম কক্ষ মুণ্ড হইতে প্রায় অষ্ট অঙ্গুলী বামে যােড়শ অঙ্গুলী সম্মুখস্থ লম্বরেখার সমসূত্রে উদ্ধে থাকিবে। ভুজ মােড়া-উত্তর—বাম কক্ষমুণ্ড (স্কন্ধমােড়) হইতে আরম্ভ করিয়া দক্ষিণ স্তন-চুচুকের দুই অঙ্গুলী নিম্নে ও বামে দক্ষিণ বক্ষ পাশ্ব পৰ্য্যন্ত ছিন্ন করা-হেতু আঘাত। “মােড়া-উত্তর”—প্রতিরােধ-কালে হস্ত-মুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী বাম ক্রুর অর্থ হস্ত সম্মুখে থাকিবে, এবং লাঠির অগ্রবিন্দু বাম কুক্ষি হইতে প্রায় দেড় হস্ত বামে ও সম্মুখে থাকিবে। ত্রিহর ( ত্রিহরা) —বামস্কন্ধ ও কফোনির (কনুইর ) মাঝামাঝি বামবাহুর মধ্যভাগ ছিন্ন করা-হেতু আঘাত। “ভূজ”—প্রতিরোেধ কালে হস্তমুষ্ঠির বৃদ্ধাঙ্গুলী বাম কক্ষমুণ্ড (স্কন্ধমােড়) হইতে প্রায় চারি অঙ্গুলীবামে ও মােড়া-উত্তর ( ২৮ ) মন—বাম বক্ষ-পাশ হইতে আরম্ভ করিয়া দক্ষিণ “হীনায়ন”—প্রতিবােধ-কালে হস্তমুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী গলপাশ্বের মূল পৰ্যন্ত ছিন্ন করা-হেতু আঘাত। দক্ষিণ কক্ষমুণ্ড (স্কন্ধমােড় ) হইতে প্রায় সােড়শ অঙ্গুলী “মন”—প্রতিরোেধ-হেতু,-লাঠি চালনায় হস্তমুষ্টি বাম সম্মুখে এবং লাঠির অগ্রবিন্দু বাম কক্ষমুণ্ড হইতে কিঞ্চি- বক্ষপার্শ্বের বামে এবং লাঠির অগ্রবিন্দু দক্ষিণজানুর দক্ষিণে দধিক অর্ধ-হস্ত বাম ও সম্মুখ হইতে লম্বরেখার সমসূত্রে গেলে পর,লাঠির অগ্রবিন্দু ঈষৎ উদ্ধে তুলিয়া, প্রতি- উর্দ্ধে থাকিবে। পক্ষের আঘাতকে বামে ও নিম্নে আঘাত করিয়া দূর করিয়া ‘আস’-জানুর দক্ষিণ পার্শ্বের অর্ধ হস্ত উৰ্দ্ধ হইতে দিতে হইবে। আরম্ভ করিয়া ঈষৎ নিম্নমুখে বক্রভাবে উরুদেশ ছিন্ন কমা-হেতু আঘাত। “আসর”—প্রতিবােধ-হেতু হস্তমুষ্টি দক্ষিণ কটীপার্শ্ব হইতে ঈষৎ নিম্নে ও প্রায় অষ্টাদশ অঙ্গুলী সম্মুখে অর্ধহস্ত দক্ষিণে থাকিবে ; লাঠির অগ্রবিন্দু নিম্নমুখ হইয়া ঈষৎ দক্ষিণে হেলিয়া থাকিবে। মােন হীনায়ন—দক্ষিণ গলপার্শ্বের মূল হইতে আরম্ভ করিয়া বাম কটী-পার্শ্ব পৰ্যন্ত ছিন্ন করা-হেতু আঘাত। till আসর “নবঘাতের চতুর্থ পাঠে “মেচা” ও “যাণ্ডের আঘাতের প্রতিকার আঘাত করিয়াই করিতে হইবে। দশঘাত (দশের বাড়ি) ১। তামেচা, মােড়া, কড়ক, পালট, চির, বাহের, হুল, ভাণ্ডার, কটা, যাণ্ড্য। ২। তামেচা, চাপনি, মােড়া, উত্তর, গুলফাধ, সাকম উত্তর, কড়ক, ত্রিহর, কটী, ভাণ্ডার হীনায়ন। ৩। শির, হুল, পালট, মােড়া উত্তর, চির, ত্রিহর মােড়া দক্ষিণ, চাকি, দক্ষিণ আনী, যাণ্ড্য। হীমায়ন ( ২৯ ) ৪। গুলফাধ, জঙ্, চাপনি, আসর, কটী, মােড়া, চারি অঙ্গুলি নিম্ন পৰ্য্যন্ত স্থান-মধ্যে ঈষৎ উর্ধর্দিকাভিমুখে অন্তর, বাহেরা হিরা, যাণ্ড্য। সন্ধিস্থানটি বিচ্ছিন্ন করা-হেতু আঘাত। চাপনি—দক্ষিণ পার্শ্ব হইতে ঈষং বক্রভাবে নিম্ন ‘গুলফাঃ”—প্রতিবােধ-কালে লাঠির অগ্রবিন্দু, মুখে জানুসন্ধি ছিন্ন করা-হেতু আঘাত। দক্ষিণপদের বৃদ্ধাঙ্গুলীর অর্ধহস্ত দক্ষিণে ও সম্মুখে ভূমিস্পর্শ “চাপনি”—প্রতিবােধ-হেতু হস্তমুষ্টি দক্ষিণ কাপার্শ্ব করিবে এবং লাঠি ভূমির উপরে লম্বভাবে থাকিবে। হইতে প্রায় ছয় অঙ্গুলী নিম্নে ও প্রায় অষ্টাদশ অঙ্গুলী চাকি-বামকর্ণের প্রায় তিন অঙ্গুলী উৰ্দ্ধ হইতে সম্মুখে এবং অর্ধহস্ত দক্ষিণে থাকিবে ; লাঠির অগ্রবিন্দু আরম্ভ করিয়া দক্ষিণ কর্ণমুলের দুই অঙ্গুলী নিম্ন পর্যন্ত ছিন্ন নিম্নমুখ হইয়া ঈষং দক্ষিণে হেলিয়া থাকিৰে। অসির করা হেতু আঘাত। পার্শ্ব-দ্বারা প্রতিপক্ষের আঘাত প্রতিহত করিতে হইবে। “চাকি”—প্রতিরােধকালে হস্তমুষ্টি বাম কর্ণের ঈষৎ বামে ও কিঞ্চিদধিক অর্ধহস্ত সম্মুখে থাকিবে এবং লাঠির অগ্রবিন্দু দক্ষিণ কক্ষমুণ্ডের (স্কন্ধমােড়ের) কিঞ্চিদধিক অৰ্দ্ধহস্ত দক্ষিণ হইতে কিঞ্চিদধিক অর্ধহস্ত সম্মুখস্থ লম্ব- রেখার সমসূত্রে উদ্ধে থাকিবে। চাপনি গুলাধঃ-গুলফের (পাদসন্ধির ) দক্ষিণ পার্শ্বের ঘুণ্টিকার (গুটিকাবৎ উচ্চ অংশের) ঠিক মধ্যভাগ হইতে চাকি প্রকারান্তর হস্তমুষ্টি মস্তকের দক্ষিণ পার্শ্বের অর্ধহস্ত সম্মুখে ও অর্ধহস্ত উর্দ্ধে থাকিবে , এবং লাঠির অগ্রবিন্দু বাম কক্ষমুণ্ড (স্কন্ধমােড়) হইতে প্রায় দেড় হস্ত বাম ও অষ্টাদশ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে। দক্ষিণ আনী-দক্ষিণ স্তন , চুচুককে কেন্দ্র ধরিয়া চারি অঙ্গুলী ব্যাসের বৃত্তের ম; যানীর অগ্রবিন্দু বিদ্ধ করিয়া দেওয়া-হেতু আঘাত। “দক্ষিণ-আনী”—প্রয়ােগ-কালে হস্তপৃষ্ঠ নিজ বাম- দিকাভিমুখে, হস্ততলের দিক দক্ষিণদিকাভিমুখে, কফোনি গুলফাধঃ ( ৩০ ) ( কনুই) নিম্নাভিমুখে এবং অসির ধারের দিক “জ”—প্রতিরােধ-কালে হস্তমুষ্টি দক্ষিণ কটী পার্শ্ব দিকাভিমুখে থাকিবে। হইতে ঈষৎ নিম্নে ও প্রায় অষ্টাদশ অঙ্গুলী সম্মুখে এবং অৰ্ধ হস্ত দক্ষিণে থাকিবে ; লাঠির অগ্রবিন্দু নিম্নমুখ হইয়া ঈষৎ দক্ষিণে হেলিয়া থাকিবে। অসির পার্শ্বদ্বারা প্রতি পক্ষের আঘাত প্রতিহত করিতে হইবে। •• 2 চাকি ( প্রকারান্তর) “দক্ষিণ-আনীর”—প্রতিকার-হেতু লাঠির অগ্রবিন্দু নিজ বাম দিক দিয়া উপরে তুলিয়া বেগে আঘাত করিয়া প্রতিপক্ষের লাঠিকে নিজ দক্ষিণ দিকে দুর করিয়া দিতে হইবে (হুল-প্রতিকারের অনুরূপে ) একাদশ ঘাত (এগারর বাড়ি)। ১। শির, হুল, গ্রীবাণ, আনী, পালট, ভাণ্ডার, চির, মােড়া, মন, আসর, তামেচা। ২। তামেচা, পালট, মােড়া উত্তর, কটী, দ্বিগড়, ত্রিহর, ভাণ্ডার, হাতকাটি, চাকি, দক্ষিন আনী, যাণ্ড্য। ৩। তামেচা, কটী, ভাণ্ডার, আসর, মন, দ্বিগড়, কড়ক, মােড়া, ত্রিহর, আনী, বাহেরা। ৪। কড়ক, পিণ্ডি, দ্বিগড়, সাকম, ভাণ্ডার, মন, ভুজ, মােড়াউত্তর, মােড়াউত্তর, গ্রীবাণ, অন্তর বাম, যাণ্ড্য দক্ষিণ আনী জঙঘ-দক্ষিণ পার্শ্ব হইতে জানু ও গুলফের ঠিক মধ্যদেশে জঘাতে ছিন্নকরা-হেতু আঘাত। আনী = বাম স্তন চুচুককে কেন্দ্র ধরিয়া চারি অঙ্গুলী ব্যাসের বৃত্তের মধ্যে অসির অগ্রবিন্দু বিদ্ধ করিয়া দেওয়া- হেতু আঘাত। “আনীর” আঘাত প্রয়ােগ-কালে অসির ধারের দিক্ উর্ধদিকে থাকিবে। “আনীর”—প্রতিকার-হেতু লাঠির অগ্রবিন্দু উর্ধে ( ৩১ ) তুলিয়া বৈগে আঘাত করিয়া প্রতিপক্ষের লাঠিকে নিজ “পিণ্ডি—প্রতিরােধ-হেতু হস্তমুষ্টি নিজ নাভি হইতে দক্ষিণ দিকাভিমুখে দুর করিয়া দিতে হইবে। প্রায় অষ্টাদশ অঙ্গুলী সম্মুখে ও প্রায় অষ্ট অঙ্গুলী নিম্নে আনী। প্রকারান্তর :—অথবা,নিজ লাঠি নিম্নমুখ-ভাবে রাখিয়া অগ্রবিন্দু ঈষৎ নিজ দক্ষিণ দিকে হেলাইয়া নিম্নের দিক দ্বিগড় হইতে আঘাত করিয়া প্রতিপক্ষের লাঠিকে উর্দ্ধে ও নিজ থাকিবে, লাঠির অগ্রবিন্দু নিম্নমুখ হইয়া ঈষৎ বামে হেলিয়া বাম দিকাভিমুখে দূর করিয়া দিতে হইবে। থাকিবে। আনী (প্রকারান্তর) দ্বিগড়= জানুর বাম পার্শ্ব হইতে ঈষৎ নিমাভিমুখে বক্ৰভাবে জানু-সন্ধি বিচ্ছিন্ন করা-হেতু আঘাত। “দ্বিগড়’-প্রতিরােধ কালে হস্তমুষ্টি নিজ নাভির প্রায় অষ্টাদশ অঙ্গুলী সম্মুখে ও ঈষৎ নিম্নে থাকিবে পিণ্ডি লাঠির অগ্রবিন্দু বাম পদের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের সম্মুখে থাকিবে। সমগ্ৰ লাঠি বক্ষক্ষেত্রের সমান্তরাল থাকিবে। অন্তরবাম (অন্তর উত্তর) =বাম কর্ণমূলের দুই পিণ্ডি = জানু ও গুলফের মধ্যদেশে বাম পার্শ্ব হইতে অঙ্গুলী নিম্ন হইতে আরম্ভ করিয়া মস্তক ও গলদেশের ঈষৎ নিম্নাভিমুখে বক্রভাবে জঙ্ঘা বিচ্ছিন্ন করা-হেতু সন্ধিস্থল ভেদ করিয়া দক্ষিণ কর্ণমূলের দুই অঙ্গুলী নিম্ন আঘাত। পৰ্যন্ত ছেদন করা-হেতু আঘাত। ঠিক ( ৩২ ) “অন্তর-বাম”—প্রতিরােধ-হেতু হস্তমুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী দেশ হইতে আরম্ভ করিয়া উৰ্ধ দিকে স্কন্ধ-দেশ ছেদন বাম কমুণ্ডের (স্কন্ধমােড়ের) ঈষৎ বামে ও নিম্নে এবং করিয়া, বাম বাহুকে শরীর হইতে বিচ্ছিন্ন করা-হেতু প্রায় সােড়শ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে। লাঠি উৰ্দ্ধমুখ আঘাত। হইয়া ভুমির উপরে লম্বরেখার সমসুত্রে থাকিবে। “কক্ষ-উত্তর”—প্রতিরােধ-হেতু উৰ্দ্ধ হইতে প্রতি- অন্তরবাম (অন্তর উত্তর) পক্ষের লাঠিকে সজোরে আঘাত করিয়া নিম্নের দিকে দূর দ্বাদশ ঘাত (বার’র বাড়ি)। করিয়া দিতে হইবে। ১। তামেচা, কড়ক, ত্রিহর, পালট, শির, ভাণ্ডার, কটীঘাত, যাণ্ড্য উত্তর, হুল, বাহেরা, গ্রীবান। ২। বাহেরা, কক্ষ উত্তর, দে, কড়ক, পৃষ্ঠদক্ষিণ, ভাণ্ডারঘাত, অঙ্ক, ঘাটিকা দক্ষিণ, ভুজ, পালট, পৃষ্ঠউত্তর, অঙ্ক উত্তর। কটীঘাত = দক্ষিণ কীপার্শ্ব হইতে আরম্ভ করিয়া বক্ৰভাবে পায়ুমুল পৰ্যন্ত ছেদন করা-হেতু আঘাত। “কটীঘাত-প্রতিরােধ-হেতু হস্তমুষ্টি দক্ষিণ বক্ষ দে = দক্ষিণ বক্ষ-পার্শ্ব হইতে আরম্ভ করিয়া বক্র- পার্শ্বের ষােড়শ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে; লাঠির অগ্রবিন্দু ভাবে উদ্ধৃ দিকে বাম স্কন্ধ ও গলদেশের সন্ধিস্থল পর্যন্ত নিম্নমুখ হইয়া দক্ষিণ দিকে হেলিয়া থাকিবে ; লাঠির ছেদন করা হেতু আঘাত। সমসূত্রে একটি বর্ধিত রেখা কল্পনা করিলে তাহা ভূমির “দে”—প্রতিরােধ-কালে হস্তমুষ্টি দক্ষিণ বক্ষ পার্শ্বের সঙ্গে প্রায় অর্ধ-সমকোণে মিলিত হইবে; সমগ্র লাঠি প্রায় অর্ধহস্ত দক্ষিণে এবৎ ষােড়শ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে ; বক্ষক্ষেত্রের সমান্তরাল থাকিবে। লাঠির অগ্রবিন্দু নিম্নমুখ হইয়া বাম পার্শ্বে হেলিয়া থাকিবে ; কক্ষ উত্তর =বামকক্ষ, অর্থাৎ বাম-বাহু-মুলের নিম্ন লাঠির সমসুত্রে একটি বর্ধিত রেখা কল্পনা করিলে উহা ( ৩৩ ) ভূমির সঙ্গে প্রায় অর্ধ সমকোণে মিলিত হইবে; সমগ্র কল্পনা করিলে উহা ভূমির সঙ্গে প্রায় ২/৩ অংশ সমকোণে লাঠি বক্ষক্ষেত্রের সমান্তরাল থাকিবে। মিলিত হয়। সমগ্র লাঠি বক্ষক্ষেত্রের সমান্তরালভাবে থাকিবে। ; ভাণ্ডার-আঘাত পৃষ্ঠ-দক্ষিণ = পশ্চাদবর্তী পদ শূন্যে তুলিয়া, শরীর সম্মুখে অগ্রসর করাইয়া দক্ষিণ পৃষ্ঠ ব্যাপিয়া আঘাত। ( অঙ্ক দক্ষিণ) = দক্ষিণ উরুদেশ ও শরীরের “পৃষ্ঠ-দক্ষিণ”—প্রতিরােধ-হেতু হস্তমুষ্টি দক্ষিণ কক্ষ- সন্ধিস্থলকে দক্ষিণ পার্শ্ব হইতে বক্রভাবে নিম্নমুখে ছেদন মুণ্ড (স্কন্ধমােড়), হইতে প্রায় চারি অঙ্গুলী দক্ষিণে করিয়া সমগ্র দক্ষিণ পদ (দক্ষিণ সকৃথি) শরীর হইতে চতুর্দশ অঙ্গুলী সম্মুখে অৰ্দ্ধহস্ত উর্দ্ধে থাকিবে, এবং লাঠিকে বিচ্ছিন্ন করা হেতু আঘাত। ভূমির ও বক্ষের সমান্তরালভাবে ধারণ করিয়া প্রতিপক্ষের “অঙ্ক”—প্রতিরােধ কালে হস্তমুষ্টি দক্ষিণ উদর-পার্শ্বের লাঠিকে উর্ধদিকে দূর করিয়া দিতে হইবে। প্রায় অষ্টাদশ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে; লাঠির অগ্রবিন্দু নিম্নদুখ হইয়া দক্ষিণ পার্শ্বে হেলিয়া থাকিবে, যেন লাঠির পৃষ্ঠ-দক্ষিণ ভাণ্ডার-ঘাত= বাম কটীপার্শ্ব হইতে আরম্ভ করিয়া বক্ত-ভাবে পায়ু-মূল পৰ্যন্ত ছেদন করা হেতু আঘাত। “ভাণ্ডার-ঘাত”—প্রতিরােধ-হেতু হস্তমুষ্টি বামকক্ষ- মুণ্ডের (স্কন্ধ-মােড়ের) বামে ও প্রায় চতুর্দশ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে ; লাঠির অগ্রবিন্দু নিম্নমুখ হইয়া বামপার্শ্বে হেলিয়া থাকিবে, যেন লাঠির সমসূত্রে একটি বর্ধিত রেখা ;
( ৩৪ ) সমসূত্রে একটি বর্ধিত রেখা কল্পনা করিলে উহা ভূমির “পৃষ্ঠ-উত্তর”—প্রতিরােধ হেতু হস্তমুষ্টি নাসিকাগ্রের সঙ্গে প্রায় ৩/৪ অংশ সমকোণ মিলিত হয়। সমগ্র লাঠি ..অৰ্দ্ধহস্ত সম্মুখে রাখিয়া লাঠিকে ভূমির সমান্তরাল ভাবে বক্ষক্ষেত্রের সমান্তরাল ভাবে থাকিবে। ধারণ করিয়া নিম্ন হইতে আঘাত করিয়া প্রতিপক্ষের ঘাটিকা দক্ষিণ = অসি পৃষ্ঠের অগ্রভাগ দ্বারা গল- লাঠিকে উর্ধদিকে দূর করিয়া দিতে হইবে। পৃষ্ঠের দক্ষিণ পার্শ্ব হইতে সরল ভাবে সমগ্র গলদেশ ছেদন অঙ্ক-উত্তর বাম উরুদেশ ও শরীরের সন্ধিস্থলকে করা হেতু আঘাত। বাম পার্শ্ব হইতে বক্রভাবে নিম্নমুখে ছেদন করিয়া, সমগ্র “ঘাটিকা-দক্ষিণ”—প্রতিরােধ হেতু হস্তমুষ্টি দক্ষিণ কক্ষ বাম পদ (বাম সকৃথি) শরীর হইতে বিচ্ছিন্ন করা হেতু মুণ্ড (স্কন্ধ-মােড় ) হইতে কিঞ্চিদধিক চারি অঙ্গুলী দক্ষিণে আঘাত। ও নিম্নে, এবং প্রায় সােড়শ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে ; “অঙ্ক-উত্তর”—প্রতিরােধ-হেতু হস্তমুষ্টি বামবক্ষ- লাঠি উৰ্দ্ধমুখ হইয়া ভূমির উপরে লম্বরেখার সমসূত্রে পার্শ্ব হইতে প্রায় চারি অঙ্গুলী বামে ও প্রায় চতুর্দশ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে ; যেন লাঠির সমসূত্রে একটি দক্ষিণ হস্তে “ঘটিকা-দক্ষিণের প্রয়ােগ কালে বামপদ বর্ধিত রেখা কল্পনা করিলে উহা ভূমির সঙ্গে প্রায় দক্ষিণ পদের পশ্চাতে লইয়া অঙ্গুলীতে ভর করিয়া স্থাপন ৩৪ অংশ সমকোণ মিলিত হয়। সমগ্র লাঠি বক্ষক্ষেত্রের করিলেই আঘাত প্রয়ােগ সমধিক সুসম্পন্ন হইবে । সমান্তরালভাবে থাকিবে। থাকিবে। ঘটিকা-দক্ষিণ অঙ্ক-উত্তর পৃষ্ঠ উত্তর = পশ্চাদবর্তী পদ শূন্যে তুলিয়া শরীর সম্মুখে অগ্রসর করাইয়া বাম পৃষ্ঠ ব্যাপিয়া আঘাত। এয়ােদশ ঘাত ( তেরর বাড়ি) ১। • তামেচা, মন, ভ্রুকুটি-দক্ষিণ, কক্ষ দক্ষিণ, ঘটিকা- উত্তর, যবেগা-দক্ষিণ, যবেগা-উত্তর, আসর, দ্বিগড়, ভর্জা, কুটি-উত্তর, পঞ্জর-উত্তর, পঞ্জর-দক্ষিণ । কুটি-দক্ষিণ = অভ্যন্তরের দিকে দক্ষিন চক্ষু কৰ্ত্তন করা হেতু দক্ষিণ → ও মধ্য লক্ষ্য করিয়া আঘাত। “কুটি-দক্ষিণ’—প্রতিবােধ-হেতু হস্তমুষ্টি বক্ষমধ্য হইতে প্রায় যােড়শ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে, এবং লাঠির . পৃষ্ঠ-(উত্তর) ( ৩৫ ) অগ্রবিন্দু উৰ্দ্ধমুখ হইয়া যৎসামান্য বামে হেলিয়া প্রায় ষােড়শ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে। লাঠি থাকিবে। হইয়া ভূমির উপরে লম্ব রেখার সমসূত্ৰে থাকিবে। উদ্ধ মুখ কুটি-উত্তর ঘাটিকা-উত্তর কক্ষ-দক্ষিণ = দক্ষিণ কক্ষ, অর্থাৎ দক্ষিণ বাহুমূলের বাম হস্তে ঘাটিকা উত্তরের প্রয়ােগকালে দক্ষিণ পদ নিম্নদেশ, হইতে আরম্ভ করিয়া উৰ্দ্ধ দিকে স্কন্ধ-দেশ ছেদন বাম পদের পশ্চাতে লইয়া অঙ্গুলীতে ভর করিয়া স্থাপন করিয়া দক্ষিণ বাহুকে শরীর হইতে বিচ্ছিন্ন করা করিতে হইবে। হেতু যবেগ-দক্ষিণ= দক্ষিণ গল পার্শ্বের মধ্যদেশ হইতে আঘাত। “কক্ষ-দক্ষিণ”-প্রতিরােধ-হেতু লাঠি উদ্ধ হইতে বেগে আরম্ভ করিয়া সরলভাবে বাম গল-পার্শ্বের মধ্যদেশ পর্যন্ত চালনা করিয়া প্রতিপক্ষের লাঠিকে আঘাত করিয়া নিয়ে সমগ্র গ্রীবা ছেদন করা হেতু আঘাত। দক্ষিণ পার্শ্বের দিকে দূর করিয়া দিতে হইবে। “যবেগা-দক্ষিণ”-প্রতিরােধ হেতু হস্তমুষ্টি দক্ষিণ কক্ষ- মুণ্ড (স্কন্ধ-মােড় ) হইতে ঈষৎ দক্ষিণ ও নিম্নে এবং প্রায় যােড়শ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে। লাঠি উদ্ধ মুখ হইয়া ভূমির উপরে লরেখার সমসূত্ৰে থাকিবে। কক্ষদক্ষিণ ঘাটিকা-উত্তর অসিপৃষ্ঠের অগ্রভাগ দ্বারা গল- পৃষ্ঠের বাম পার্শ্ব হইতে সরলভাবে সমগ্র গলদেশ ছেদন করা হেতু আঘাত। “ঘাটিকা উত্তরের প্রতিরােধ হেতু হস্তমুষ্টি, বাম কক্ষমুণ্ড (স্কন্ধ মােড়) হইতে ঈষৎ বামে ও নিম্নে এবং যবেগা-দক্ষিণ ( ৩৬ ) যবেগ-উত্তর বাম গল-পার্শ্বের মধ্যদেশ হইতে অগ্রবিন্দু উদ্ধ মুখ হইয়া যৎসামান্য দক্ষিণে হেলিয়া আরম্ভ করিয়া সরলভাবে দক্ষিণ গল-পার্শ্বের মধ্যদেশ পর্যন্ত থাকিবে। সমগ্র গ্রীবা ছেদন করা হেতু আঘাত। “যবেগা উত্তর”-প্রতিবােধ হেতু হস্তমুষ্টি বাম কক্ষমুণ্ড (স্কন্ধ-মােড়) হইতে ঈষৎ বামে ও নিম্নে এবং প্রায় যােড়শ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে। লাঠি উদ্ধ মুখ হইয়া ভূমির উপরে লম্বরেখার সমসুত্ৰে থাকিবে। ভর্জা যবেগ-উত্তর কুটি-উত্তর • দক্ষিণ কক্ষমুণ্ড (স্কন্ধ-মােড় ) ও কফোণির ( কনুইর) মধ্যদেশে নিম্নমুখে বক্রভাবে আঘাত করিয়া দক্ষিণ বাহু ছেদন করা হেতু আঘাত। “ভজ্জা”-প্রতিরােধ হেতু হস্তমুষ্টির বৃদ্ধাঙ্গুলী দক্ষিণ কক্ষমুণ্ড ( স্কন্ধ-মােড়) হইতে প্রায় দশ অঙ্গুলী দক্ষিণে ও প্রায় অর্ধহস্ত নিম্নে এবং প্রায় চতুর্দশ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে। কুটি-উত্তর অভ্যন্তরের দিকে বাম চক্ষু কর্তন করা হেতু বাম ঐ ও মধ্য লক্ষ্য করিয়া আঘাত। “জকুটি উত্তরের প্রতিরােধ হেতু হস্তমুষ্টি বক্ষমধ্য হইতে প্রায় সােড়শ অঙ্গুলী সম্মুখে থাকিবে, এবং লাঠির পঞ্জর-উত্তর= বাম স্কন্ধদেশের সম্মুখস্থ অস্থির নিম্ন হইতে অসির অগ্রবিন্দু বক্ষমধ্যে প্রবেশ করাইবার নিমিত্ত আঘাত। আঘাত প্রয়ােগ-কালে অসি- মুখ ( অসির ধারের দিক) উদ্ধ দিকে থাকিবে। “পঞ্জর উত্তরের প্রতিকার হেতু লাঠির অগ্রবিন্দু উর্দ্ধে তুলিয়া, প্রতিপক্ষের লাঠিকে সজোরে আঘাত করিয়া নিজ দক্ষিণ পার্শ্বের দিকে দূর করিয়া দিতে হইবে।
( ৩৭ ) প্রকারান্তর :—অথবা, নিজ লাঠিকে নিম্নমুখভাবে রাখিয়া, অগ্রবিন্দু নিজ দক্ষিণ পার্শ্বের দিকে ঈষৎ হেলাইয়া, পঞ্জর দক্ষিণ পঞ্জর-উত্তর নিম্নের দিক হইতে আঘাত করিয়া প্রতিপক্ষের লাঠিকে উদ্ধে ও নিজ বামপার্শ্বের দিকে দূর করিয়া দিতে হইবে। কূর্চাধঃ = পদ-গুলফের বাম পার্শ্বের ঘুণ্টিকার (গুটিকা বৎ উচ্চ অংশের) নিম হইতে পাদ-সন্ধিকে বক্রভাবে উদ্ধ’দিকাভিমুখে বিচ্ছিন্ন করা হেতু আঘাত। “কূৰ্চ্চাধঃ-প্রতিরােধ-হেতু পুনরাবর্তী পদের বৃদ্ধা- জুলীর অর্ধহস্ত বামে ও সম্মুখে লাঠির অগ্রবিন্দু ভূমিতে দৃঢ়রূপে সংলগ্ন করিয়া ধরিতে হইবে। অথবা, “কুচ”-প্রতিকারের ন্যায় আঘাত করিয়া প্রতি পক্ষের লাঠিকে দুর করিয়া দিতে হইবে। পঞ্জর উত্তর (প্রকারান্তর) পঞ্জর-দক্ষিণ = দক্ষিণ স্কন্ধ-দেশের সম্মুখস্থ অস্থির এক অঙ্গুলী, নিম হইতে অসির অগ্রবিন্দু বক্ষমধ্যে প্রবেশ করাইবার, নিমিত্ত আঘাত। অসিমুখ ( অসির ধারের দিক ) উর্ধদিকে থাকিবে ; এবং শরীর সামান্য বামাবর্তে ঘুরাইয়া আঘাতের প্রয়ােগ করিতে হইবে। “পঞ্জর দক্ষিণের প্রতিকার হেতু লাঠির অগ্রবিন্দু নিজ বামপার্শ্বের দিক দিয়া উদ্ধে তুলিয়া প্রতিপক্ষের লাঠিকে সজোরে আঘাত করিয়া নিজ দক্ষিণ পার্শ্বের দিকে দুর করিয়া দিতে হইবে। চতুর্দশ ঘাত (চৌদ্দর বাড়ি) ১। গ্রীবাণ, বাহেরা, চাকি, হাতকাটি, শির, মন, কটি, আসর, সাকম-উত্তর, কূৰ্চ্চাধ, প্রপাদ, যাণ্ড্য, গুলফাধঃ, অংসহুল-উত্তর। কৃচ্চাধঃ প্রপাদ = দক্ষিণ পার্শ্ব হইতে পদ-পল্লবের মধ্যভাগ বিচ্ছিন্ন করা হেতু আঘাত। “প্রপাদ”-প্রতিরােধ হেতু পুরােবর্তী পদের বৃদ্ধাঙ্গুলীর অৰ্দ্ধহস্ত সম্মুখে ও কিঞ্চিদধিক অর্ধহস্ত দক্ষিণে লাঠির অগ্রবিন্দু ভূমিতে দৃঢ়রূপে সংলগ্ন করিয়া ধরিতে হইবে ।
( ৩৮ ) অথবা, “কৃচ’-প্রতিকারের ন্যায় আঘাত করিয়া প্রতি- নিম্নের দিক হইতে আঘাত করিয়া প্রতিপক্ষের লাঠিকে দূর করিয়া দিতে হইবে। উর্দ্ধে ও নিজ বাম পার্শ্বের দিকে দূর করিয়া দিতে হইবে। পক্ষের লাঠিকে অংসহুল-উত্তর (প্রকারান্তর) প্রপদ শৃঙ্গসহ ক্রীড়াকালে যে কোনও "স্থিতিতে দাঁড়াইয়া, লাঠি কটির সমান্তরাল, এবং শৃঙ্গ বক্ষের সমান্তরাল, করিয়া ধরিতে হইবে। ইহাই সেই সেই “স্থিতির” “ভদ্রকান্তি”। পঞ্চদশ ঘাতের অভ্যাস-কালে অভিবাদনের আঘাত করিয়া অপর হস্তে লাঠি ও শৃঙ্গ একত্রে ধরিয়া, হস্ত স্পর্শ ও অংসহুল-উত্তর – বাম স্কন্ধদেশের সম্মুখস্থ অস্থির অভিবাদনাদি সম্পন্ন করিয়া, পরে পূৰ্ব্ব হস্ত দ্বারা লাঠি এক অঙ্গুলী ঊদ্ধ হইতে অসির অগ্রবিন্দু বক্ষমধ্যে প্রবেশ, ধরিয়া ক্রীড়ারম্ভ করিতে হইবে । করাইবার নিমিত্ত আঘাত। পঞ্চদশ ঘাত (পনর’র বাড়ি) “অংসহুল” প্রয়ােগ-কালে অসিমুখ ( অসির ধারের ( শৃঙ্গ সহিতে ) দিক ) উদ্ধ’ দিকে থাকিবে। স্থিতি “অংসহুল উত্তরের প্রতিকার-হেতু লাঠির অগ্রবিন্দু উর্দ্ধে তুলিয়া প্রতিপক্ষের লাঠিকে সজোরে আঘাত করিয়া নিজ দক্ষিণদিকাভিমুখে দূর করিয়া দিতে হইবে । ১। এিহরা+, হাতকাটি +, শৃঙ্গ বাহী, চতুষ্কা, মণিবন্ধ পুর !, মণিবন্ধ পৃষ্ঠা, কণ্ঠা উত্তর+, হীনায়ন, শির+, ঠোক , ভুজ+, ভর্জা , তামেচা , বাহেরা , যাণ্ড্য+। শৃঙ্গবাহী বাম হস্তের মণিবন্ধ হইতে কফোণি ( কনুই) অবধি বাহু ভাগ মধ্যে আঘাত। দ্ব্যঙ্গ তংসল-উত্তর প্রকারান্তর –অথবা, নিজ লাঠিকে নিম্নমুখভাবে রাখিয়া অগ্রবিন্দু নিজ দক্ষিণ পার্শ্বের দিকে ঈষৎ হেলাইয়া, ( ৩৯ ) চতুফা = করপল্লবের সঙ্গে বৃদ্ধাঙ্গুলী ব্যতিরেকে অপর কণ্ঠা = হস্ত কিঞ্চিং সঙ্কুচিত রাখিয়া, নিজ দক্ষিণ দিক চারিটি অঙ্গুলীর সন্ধিগুলি একত্রে ছেদন করা হেতু হইতে অসি সরেগে চালনা করিয়া, অসির অগ্রভাগ দ্বারা, আঘাত। কণ্ঠনালী ছিন্ন করা হেতু আঘাত। চতুষ্কা মণিবন্ধ পুরঃ = করতলের দিক হইতে মণিবন্ধ ছিন্ন করা হেতু আঘাত। ঠো—যে হস্তে অসি ধৃত থাকিবে, সেই হস্তের লিী ছেদন করা হেতু আঘাত। মণিবদ্ধ পুরঃ ঠোক মণিবন্ধ পৃষ্ঠ =কর পৃষ্ঠের দিক হইতে মণিবন্ধ ছিন্ন কর' হেতু আঘাত। বর্ণনা যে আঘাত গুলির সঙ্গে “+” চিহু রহিয়াছে তাহা কেবল শৃঙ্গ দ্বারা প্রতিরােধ করিতে হইবে, যে আঘাত গুলির সঙ্গে “+” চিঃ রহিয়াছে তাহা শৃঙ্গ ও লাঠি উভয় একত্র করিয়া প্রতিরােধ করিতে হইবে । শৃঙ্গ দ্বারা প্রতিরােধ-কালে, সাধারণতঃ শৃঙ্গকে প্রতি- পক্ষের আঘাতের গতির দিকের সঙ্গে সমকোণ করিয়া ধরিতে হইবে। শৃঙ্গ ও লাঠি একত্র করিয়া প্রতিরােধ-কালে সাধারণত প্রায় সর্বদাই লাঠি শৃঙ্গের সম্মুখে থাকিবে। . মণিবন্ধ পৃষ্ঠ ; ( ৪০*) শৃঙ্গ দ্বারা প্রতিপক্ষের আঘাত প্রতিরোধ হেতু নিয়ম পঞ্চম ও ষষ্ঠ ক্ৰম-মধ্যে কখনও কখনও লাঠির গতি পদ্ধতি ও সতর্কতা-সম্বন্ধে—“চতুম্মুখী” পায়ের দ্বিতীয় সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে চালনা করিতে হয় বটে, কিন্তু সে পরিচ্ছেদ দ্রষ্টব্য। অবস্থাতেও যেন গতির নিরবচ্ছিন্নতা ভঙ্গ না হয়, কিম্বা সাধারণতঃ যে সমস্ত আঘাতগুলির প্রতিােধ শৃঙ্গ ও বেগেরও বিভিন্নতা না হয়। লাঠি উভয় একত্র করিয়া করিতে হইবে, তাহা প্রথমে শৃঙ্গ প্রায় সমস্ত আঘাতই “গুড়দিশে” প্রয়ােগ করিয়া দ্বারা প্রতিরােধ করিয়া পরে লাঠি এরূপ ভাবে শৃঙ্গের “ত্রাসে” চালনা করিয়া আনিতে হইবে, সঙ্গে ‘জড়বে- সঙ্গে সংযােজিত করিতে হইবে, যেন বৃদ্ধাঙ্গুলীর দিকের শেরও সামান্য ক্রিয়া হইবে মাত্র ‘গুড়দিশের ক্রিয়াই শৃঙ্গের শীষ, এবং লাঠির অগ্রভাগ, এই উভয়ের অভ্য সৰ্ব্বাপেক্ষা অধিক, “ত্রাসের ক্রিয়া মধ্যম। স্তরে প্রতিপক্ষের লাঠি আবদ্ধ হইয়া পড়ে। প্রতিকার-কল্পে সর্বদাই আঘাত করিয়া প্রতিপক্ষের সমঘাত (শ্যামঘাত)। আঘাত প্রতিহত করিয়া দিতে হইবে; এবং অপ্রতিহত “শ্যামঘাত”-অভ্যাস-কালে পূৰ্ব্বাপেক্ষা ঈষৎ ভারী ও সমগতিতেই লাঠি চালনা করিয়া প্রতিপক্ষকে নির্দিষ্ট লাঠি ব্যবহার করাই সঙ্গত; তাহাতে আঘাতের তীব্রতা রূপে আঘাত করিতে হইবে। “কড়ক”, “প্রবাদ, সাধনে শক্তি জন্মিয়া থাকে। ‘গুফাধ’ “কূৰ্চ্চাধঃ” প্রভৃতি নিম্নের দিকের আঘাত গুলির “শ্যামঘাত”-অভ্যাসেই দ্রুত ও অতিদ্রুত চালনায় প্রতিকারও লাঠির অগ্রবিন্দু ভূমিতে সংলগ্ন না করিয়া দক্ষতা জন্মিয়া থাকে। অমসৃণ ঈষৎ ভারী লাঠি ( সাধারণ প্রত্যাঘাত করিয়াই করিতে হইবে। তৎকালে মুষ্টির ঈষৎ স্কুল শুষ্ক বংশদণ্ড) সহ দক্ষতার সহিত অতিদ্রুত অঙ্গুলীর দিক (করতলের দিক ) সম্মুখে থাকিবে। শ্যামঘাত-ক্রীড়ায় রত থাকিতে পারিলে প্রত্যক্ষ অগ্নি- সহজ গতির অনুসরণ সহযােগে এবং সহজ পথেই স্ফুলিঙ্গ উৎপন্ন হইয়া থাকে। শ্যামঘাতের সমস্ত প্রয়ােগ ও প্রতিকার সম্পন্ন করিতে শ্যামঘাত অভ্যাস কালে উভয়কে পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি হইবে। সেই হেতুই পঞ্চম ও ষষ্ঠ ক্ৰম অভ্যাস-কালে আঘাতেরই প্রয়ােগ ও প্রতিকার করিয়া যাইতে করিয়া যাইতে অধিকাংশ আঘাতই “ত্রাসে” চালনা করিয়া আনিতে }} হইবে । হইবে না। ! প্রত্যেকটি ক্রমই কয়েক বার বাম হস্তে অভ্যাস করিয়া প্রথম ক্রম পরে দক্ষিণ হস্তে সমসংখ্যক বার অভ্যাস করিতে হইবে; এবং পরে,—যিনি প্রথম আঘাত প্রয়ােগ করিয়া আরম্ভ স্থিতি একাঙ্গ করিয়াছিলেন,-তাহর প্রতিপক্ষকে প্রতিপক্ষকে প্রথম আঘাত ১। গ্রীবাণ । প্রয়ােগ করিয়া আরম্ভ করিতে হইবে,—ও উভয় হন্তেই ২। গ্রীবাণ, হাতকাটি। পূৰ্বানুরূপ সমসংখ্যক বার অভ্যাস করিতে হইবে। ৩। গ্রীবাণ হাতকাটি, ভাণ্ডার। শ্যামঘাত অভ্যাস কালে আঘাত ও প্রতিকার সহযোগে ৪। গ্রীবাণ, বাহেরা, হাতকাটি, ভাণ্ডার। উভয়কেই লাঠির গতি সৰ্ব্বদাই নিরবছিন্ন সমবেগ-সম্পন্ন ৫। গ্রীবাণ, সাম, বাহেরা, হাতকাটি, ভাণ্ডার। রাখিতে চেষ্টা করিতে হইবে; তবে প্রত্যেকটি পাঠই ৬। গ্রীবাণ, প্রপাদ, সাক, বহেরা, হাতকাটি, প্রথমতঃ মৃদুগতিতে আরম্ভ করিয়া ক্রমে গতির বেগ ভাণ্ডার। দ্রুত হইতে দ্রুততর করিতে হইবে। ৭। গ্রীবাণ, ভুজ, প্রপাদ, সাম, বাহেরা, হাতকাটি, কোথায় ও কোনরূপ ভ্ৰম-বাধা-আদি হইয়া পড়িলে, ভাণ্ডার। পুনরায় মগতিতে আরম্ভ করিয়া ক্ৰমে দ্রুত চালনায় রত ৮। গ্রীবাণ, মন, ভুজ, প্রপদ, সাকম, বাহেরা, হইতে হইবে। হাতকাটি, ভাণ্ডার। } ( ৪১ ) ৯। গ্রীবাণ, আসর, মন, ভুজ, প্রপাদ, সাম, বাহেরা, হাতকাটি, ভাণ্ডার। ১০। গ্রীবাণ, তামেচা, আসর, মন, ভুজ, প্রপাদ, সাম, বাহেরা, হাতকাটি, ভাণ্ডার। ১১। গ্রীবাণ, পালট, তামেচা, আসর, মন, ভুজ, প্রবাদ, সাম, বাহেরা, হাতকাটি, ভাণ্ডার। দ্বিতীয় ক্রম স্থিতি একাঙ্গ ১। হীনায়ন। ২। হীনায়ন, হাতকাটি। অর্ধপাদ ৩। হীনায়ন, হাতকাটি, কটী । ৪। হীনায়ন, তামেচা, হাতকাটি, কটী । তৃতীয় ক্রম ৫। হীনায়ণ, সাকম দক্ষিণ, তামেচা, হাতকাটি, কটী। স্থিতি—একাঙ্গ ৬। হীনায়ন, অর্ধপাদ, সাম দক্ষিণ, তামেচা, ১। গ্রীবাণ। হাতকাটি, কটী। ২। গ্রীবাণ, তামেচা। ৭। হীনায়ন, ভর্জা, অর্জপাদ, সাকম দক্ষিণ, তামেচা, ৩। গ্রীবাণ, তামেচা, পালট। হাতকাটি, কটী। ৪। গ্রীবাণ, আসর, তামেচা, পালট। ৮। হীনায়ন, দে, ভর্জা, অর্ধপাদ, সাকম দক্ষিণ, ৫। গ্রীবাণ, মন, আসর, তামেচা, পালট। তামেচা, হাতকাটি, কটী। ৬। গ্রীবাণ, ভুজ, মন, আসর, তামেচা, পালট। ৯। হীনায়ন, আসর উত্তর, দে, ভর্জা, অর্ধপাদ, ৭। গ্রীবাণ, প্রপাদ, ভুজ, মন, আসর, তামেচা, পালট। সাকম দক্ষিণ, তামেচা, হাতকাটি, কটী। ৮। গ্রীবাণ, সাকম, প্রপাদ, ভুজ, মন, আসর, ১০। হীনায়ন, বাহের, আসর উত্তর, দে, ভর্জা, তামেচা, পালট। অর্ধপাদ, সাকম: দক্ষিণ, তামেচা হাতকাটি ,কটী। ৯। গ্রীবাণ, বহেরা, সাকম, প্রপাদ; ভুজ, মন, ১১। হীনায়ন, কড়ক, বাহের, আসর উত্তর, দে, আসর, তামেচা, পালট । ভর্জা, অর্জপাদ, সাকম-দক্ষিণ, তামেচা, হাতকাটি, কটী। ১০। গ্রীবাণ, ভাণ্ডার, বাহেরা, সাকম, প্রপাদ, ভুজ, অৰ্জােদ-বাম পার্শ্ব হইতে পদ-পল্লবের মধ্যদেশ মন, অসির, তামেচা, পালট । ছেদন করা হেতু আঘাত। ১১। গ্রীবাণ, হাতকাটি, ভাণ্ডা:, বাহেরা, সাম, কম দক্ষিণ-দক্ষিণ পার্শ্ব হইতে “সাকমের” প্রপাদ, ভুজ, মন, আসর, তামেচা, পালট। ( সাকম উত্তরের) ন্যায় প্রয়ােগ । চতুর্থ কম আসর উত্তর-বাম পার্শ্ব হইতে “আসরের” ( আসর স্থিতি—একাঙ্গ দক্ষিণের ) ন্যায় প্রয়ােগ । ১। হীনায়ন। ।
( ৪২ ) যষ্ঠ কম শির। ২। হীনায়ন, বাহেরা। ৩। হীনায়ন, বাহেরা, কড়ক। স্থিতিদ্ব্যঙ্গ ৪। হীনায়ন, আসর উত্তর, বাহেরা, কড়ক। ১। তামেচা। ৫। হীনায়ন, দে, আসর উত্তর, বাহেরা, কড়ক। ২। তামেচ, বাহেরা। ৬। হীনায়ন, ভর্জা, দে, আসর উত্তর, বাহেরা, ৩। তামেচা, বাহেরা, শির। কড়ক। ৫। মেচা অঙ্ক, উত্তর, বাহেরা, শির। ৭। হীনায়ন, অগ্ধপাদ, ভর্জা, দে, আসর উত্তর, ৫। তামেচা, মােড়া উত্তর, অঙ্ক উত্তর, বাহেরা, বাহেরা, কড়ক। ৮। হীনায়ন, সাম দক্ষিণ, অর্ধপাদ, ভর্জা, দে, আসর উত্তর, বাহেরা, কড়ক। ৬। তামেচা, সাম দক্ষিণ, মােড়া উত্তর, অঙ্ক উত্তর, ৯। হীনায়ক, তামেচা, সাকম দক্ষিণ, অর্ধপাদ, বাহেরা, শির। ভজ্জা, দে, আসর উত্তর, বাহেরা, কড়ক। ৭। তামেচা, চির, সাকম দক্ষিণ, মােড়া উত্তর, অঙ্ক ১০। হীনায়ন, কটী, তামেচা, সাকম দক্ষিণ, অর্ধপাদ, উত্তর, বাহের, শির। ভর্জা, দে, আসর উত্তর, বাহেরা, কড়ক। ৮। তামেচা, যাণ্ড্য, চির, সাকম, দক্ষিণ, মােড়া উত্তর, অঙ্ক উত্তর, বাহেরা, শির। ১১। হীনায়ন, হাতকাটি, কটী, তামেচা, সাকম দক্ষিণ, অর্ধপাদ, ভর্জা, দে, আসর উত্তর, বাহেরা কড়ক। ৯। তামেচা, হুল, যাণ্ড্য, চির, সাকম দক্ষিণ, মােড়া উত্তর, অঙ্ক উত্তর, বাহেরা, শির। ১০। তামেচা, কড়ক, হুল, যাণ্ড্য, চির, “সাম দক্ষিণ, মােড়া উত্তর, অঙ্ক উত্তর, বাহেরা, শির। ১১। তামেচা, দক্ষিণ আনী, কড়ক, হুল, যাণ্ড্য, ১। বাহেরা । চির, সাকম দক্ষিণ, মােড়া উত্তর, অঙ্ক উত্তর, বাহেরা, ২। বাহেরা, তামেচা। শির। ৩। বাহেরা,তমেচা, যাণ্ড্য। ৪। বাহেরা, অঙ্ক, তামেচা, যাণ্ড্য। সপ্তম ক্রম-(শৃঙ্গ সহ ) ৫। বাহেরা, মােড়া, অঙ্ক, তামেচা, যাণ্ড্য। স্থিতিদ্ব্যঙ্গ ৬। বাহেরা, সাম, মােড়া, অঙ্ক, তামেচা, যাণ্ড্য। ১। হীনায়ন। ৭। বাহেরা, হুল, সাকম, মােড়া, অঙ্ক, তামেচা, ২। হীনায়ন, দে। যাণ্ড্য। ৮। বাহেরা, শির, হুল, সাম, মােড়া, অঙ্ক ,তামেচা, ৩। হীনায়ন, দে, কটী । ৪। হীনায়ন, দে, কটী, আসর। যাণ্ড্য। ৯। বাহেরা, চির, শির, হুল, সাকম, মােড়া, অঙ্ক, ৫। হীনায়ন, দে, কটী, আসর; সাকম উত্তর। তামেচা, যাণ্ড্য। অষ্টম ক্রম-(শৃঙ্গ সহ ) ১০। বাহেরা, পালট, চির,শির, হুল, সাম, মােড়া, স্থিতিদ্ব্যঙ্গ অঙ্ক, তামেচা, যাণ্ড্য। ১১।. বহেরা, আনী, পালট, চির, শির, হুল,' সাম, ১। গ্রীবাণ। মােড়, অঙ্ক, তামেচা, যাণ্ড্য। ২। গ্রীবাণ, মন। পঞ্চম কুম স্থিতিদ্ব্যঙ্গ (৪৩) ৩। গ্রীবাণ, মন, ভাণ্ডার। এবং প্রথম ব্যক্তি উত্তরের ( প্রত্যাক্রমণের ) আঘাতগুলির প্রয়ােগ করিরে। ৪। গ্রীবাণ, মন, ভাণ্ডার, আসর উত্তর। ৫। গ্রীবাণ, মন, ভাণ্ডার, আসর উত্তর, সাকম প্রথমে বাম হস্তে ক্রীড়া সম্পন্ন করিয়া পরে সম- দক্ষিণ। সংখ্যক বার দক্ষিণ হস্তে ক্রীড়া করিতে হইবে। নবম ক্রম— শৃঙ্গ সহ ) প্রথম ক্রম স্থিতিদ্ব্যঙ্গ স্থিতি--একাঙ্গ ২। ১। শির। ২। শির, কড়ক। •। কটী, শির, কড়ক। ৪। ত্রিহর, কটী, শির, কড়ক। ৫। ত্রিহর, শির দক্ষিণ, কটী, শির, কড়ক। ৬। ত্রিহর, অঙ্ক, শির দক্ষিণ, কটী, শির, কড়ক । ৭। ত্রিহর, ভর্জা, অঙ্ক, শির দক্ষিণ, কটী, শির, ( আক্রমণ ) (প্রত্যক্রমণ ) ১। গ্রীবাণ ১। পালট ২। বাহেরা কড়ক তামেচা ৩। ভাণ্ডার ৪। গ্রীবাণ (প্রত্যারম্ভে গ্রীবাণ) আক্রমণ-প্রথম আঘাত-প্ৰয়ােগ দশম ক্রম— শৃঙ্গ সহ ) স্থিতিদ্ব্যঙ্গ প্রত্যামক্রণ প্রতিপক্ষের প্রথম আঘাতের প্রতি- কার করিয়া তাহাকে আক্রমণ-হেতু অপর আঘাতের প্রয়ােগ। প্রত্যারম্ভ—আঘাত-প্রয়ােগ ও প্রতিকারাদি-সম্পর্কে প্রথম হইতে দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তির, ও প্রথম ব্যক্তি দ্বিতীয় ব্যক্তির অনুরূপে ক্রীড়ারত হওয়ার সঙ্কেত-হেতু “প্রত্যারম্ভ” শব্দ ব্যবহৃত হয়। ১। যাণ্ড্য। ২। যাণ্ড্য, পালট । ৩। ভাণ্ডাব, যাণ্ড্য, পালট । ৪। চাকি; ভাণ্ডার, যাণ্ড্য, পালট ৫। চাকি, শির, ভাণ্ডার, যাণ্ড্য, পালট। ৬। চাকি, অঙ্ক উত্তর, শির, ভাণ্ডার, পালট । ৭। চাকি, ভুজ, অঙ্ক উত্তর, শির, ভাণ্ডার, যাণ্ড্য, দ্বিতীয় ক্রম স্থিতি একাঙ্গ ( প্রত্যক্রমণ ) পালট। ( আক্রমণ ) ১। হীনায়ন ১। ২। কামেচা ২। পালট ৩| বাহেরা ৪। হীনায়ন ৩। ভাণ্ডার ( প্রত্যারম্ভে হীনায়ন) তৃতীয় ক্রম বিষম ঘাত বিষমঘাত পর্যায়ে বামে লিখিত আঘাতগুলি পৰ্যায়ক্রমে ক্রীড়ারত এক ব্যক্তি .( আক্রমণ হেতু ) প্রয়ােগ করিবে,-তদুত্তরে (প্রত্যাক্রমণে ) প্রত্যেকটি আঘাতের প্রতিকার করিয়াই প্রতিপক্ষ সেই আঘাতটির দক্ষিণে লিখিত লিখিত আঘাতটি প্রয়ােগ করিবে; এবং এইরূপে ক্রীড়ারত থাকিয়া প্রথম ব্যক্তির শেষ আঘাতটির প্রয়ােগ হইয়া গেলে পরে দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রথম হইতে ( আক্রমণের আঘাত প্রয়ােগ) আরম্ভ করিবে, স্থিতি একাঙ্গ ( আক্রমণ ) ( প্রত্যক্রমণ ) ১। মােড়া ১। তামেচা ২। শির ২। শির ৪। কটী ৪। ( ৪৪ ) ৩। ভাণ্ডার করিলে, অসি-পৃষ্ঠের অগ্রভাগ দ্বারা প্রতিপক্ষের দক্ষিণ শির পার্শ্ব হইতে পদতলের মধ্যদেশে পদ পল্লব ছিন্ন করা হেতু ৫। মােড়া উত্তর আঘাত। ৬। শির “পালট,” “গুলাধ” প্রভৃতির প্রতিকারের অনুরূপে ( প্রত্যারম্ভে তামেচা)। “পদতলের প্রতিকার করিতে হইবে। চতুর্থ ক্রম স্থিতি দ্ব্যঙ্গ ( প্রত্যাক্রমণ ) মােড় উত্তর ৭। শির ( আক্রমণ) ১। বাহেরা ১। ২। যাণ্ড্য ২। যাণ্ড্য ৩। তামেচ। ৩। কটী ৪। ভাণ্ডার ৪। যাণ্ড্য মােড়া উত্তর পাতল ৬। পালট যাণ্ড্য যষ্ঠ ক্রম ৭। যাণ্ড্য ৭। প্রত্যারম্ভে বাহেরা। স্থিতি পাক্ষিক পঞ্চম ক্রম ( আক্রমণ ) ( প্রত্যক্রমণ ) স্থিতি পাক্ষিক ১। বাহেরা ১। কড়ক ২। ভুজ ২। যাণ্ড্য ৩। তামেচা ৩। কটী ৪। মােড়া ৫। ভর্জা ৬। ত্রিহর ৭। হীনায়ন ৮। পালট ৪। যাণ্ড্য মােড়া উত্তর ৬। তামেচা ৭। শির ৫। ভুজ ( আক্রমণ ) (প্রত্যাক্ৰমণ) ১। তামেচা। ১। পালট ২। ভর্জা ২। শির ৩। ভাণ্ডার ৩। বাহেরা ৪। মােড়া ৪। শির ৫। মােড়া উত্তর ৬। চাকি ৬। বাহেরা ৭। গ্রীবাণ ৭। যাণ্ড্য ৮। কড়ক ৮। মােড়া ৯। পালট ৯। গ্রীবাণ ১০। ঘাটিকা দক্ষিণ ১০। কক্ষ উত্তর ১১। পাতল ১১। চাকি ১২। সাকম উত্তর ১২। শির ১৩। শির ( প্রত্যারম্ভে তামো) পাদত-প্রতিপক্ষ পুরােবৰ্ত্তী পদের পাফিতে (গােড়ালীতে) ভর করিয়া পদাঙ্গুলীর দিক উন্নীত ৯। কড়ক ১০ | ঘাটিক উত্তর ৮। মােড়া ৯। গ্রীবাণ ১০। কক্ষ দক্ষিণ ১১। ত্রিহর ১২। যাণ্ড্য ( প্রত্যারম্ভে বাহেরা) ১১। অধস্তন ১২। সাকম দক্ষিণ ১৩। যাণ্ড্য অটস্তন—প্রতিপক্ষ পুনরাবর্তী পদপাষ্ণিতে ('গােড়া- লীতে) ভর করিয়া পদপল্লব উন্নীত করিলে অসিপৃষ্ঠের অগ্রভাগ দ্বারা প্রতিপক্ষের বামপার্শ্ব হইতে পদতলের মধ্যদেশে পদপল্লব ছিন্ন করা আঘাত, গহবর অধস্তল • ( ৪৫ ) “কুচ”, “কূৰ্চ্চাধঃ” প্রভৃতির প্রতিকারের অনুরূপে দক্ষিণ ও বাম উভয় হস্তেই, এবং মণ্ডলের দক্ষিণ “অধস্তলের” প্রতিকার করিতে হইবে। ও বাম উভয় আবর্তেই এইরূপে অভ্যাস করিতে হইবে। পরে মণ্ডলের পরিধিতে চারি জন কিম্বা পাঁচ জনের অধিক খাকিবে না, এবং কেন্দ্রস্থিত ব্যক্তি অতি দ্রুত চালনায় পর্যায়ক্রমে সকলের আঘাতেরই প্রতিকার করিয়। সঙ্গে সঙ্গে তাহাদিগকে আঘাত করিতে থাকিবে । ( এক সঙ্গে চারি জনের অধিক এক ব্যক্তিকে সফলতার সহিতে আঘাত করিতে পারে না।) এইরূপে পৰ্য্যায়ক্রমে বিভিন্ন ব্যক্তি কেন্দ্রে থাকিয়া দক্ষতা অর্জন করিবে। পরিশেষে কেন্দ্রস্থিত ব্যক্তি সুযােগমতে মণ্ডলের বহু লােকের মধ্যে পতিত হইয়া আত্মরক্ষার প্রয়ােজন কাহাকেও অভিভুত করিয়া মণ্ডল হইতে নির্গত হইবে হইলে “গহর” পর্যায়ে দক্ষতা লাভের প্রয়ােজন হইয়া এবং যে হন্তে লাঠি থাকিবে, সেই আবর্তে অতি থাকে। দ্রুতবেগে ঘুরিয়া মণ্ডলস্থিত ব্যক্তিগণকে গতিসহ বেষ্টন প্রথমে কতিপয় শিক্ষার্থী এক লাঠির দূরত্বে মণ্ডলাকারে করিয়া উপযুপরি আঘাত প্রয়ােগে তাহাদিগকে বিহবল দাঁড়াইবে ; পরে পূর্বের অভ্যস্ত কোনও একটি “ঘাত করিবার চেষ্টায় অভ্যাস করিতে থাকিবে। ধারার, কিম্বা ‘‘শ্যামঘাত” অথবা “বিষমঘাত”এর যে কোনও “ক্রমের প্রথম আঘাতটি কোনও এক জনে তাহার পার্শ্বস্থ ব্যক্তিকে আঘাত করিবে,-এই দ্বিতীয় ব্যক্তি ঐ আঘাতটির প্রতিরােধ করিয়া তৎপরবর্তী “চতুর্মুখী” অভ্যাস কালে প্রথম বাম হস্তে লাঠি ও আঘাতটি তাহার অপর পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে মারিবে ; দক্ষিণ হস্তে শৃঙ্গ ধারণ করিয়া ক্রীড়া করিতে হইবে, পরে এইরূপে ক্রমান্বয়ে ঘুরিয়া আসিয়া ক্রীড়া চলিতে থাকিবে। সমসংখ্যক বার দক্ষিণ হস্তে লাঠি ও বাম হস্তে শৃঙ্গ ধারণ “ঘাত” প্রভৃতির যে ধারাটি” মনােনীত করিবে, করিয়া ক্রীড়া করিতে হইবে। তাহা মধ্যে আঘাতের সংখ্যা, এবং যে কতিপয় ব্যক্তি উভয়কেই একত্রে প্রত্যেকটি আঘাত সমানভাবে লাঠি দাঁড়াইবে, তাহাদের সংখ্যা,—এই দুই সংখ্যার মধ্যে দ্বারা প্রয়ােগ ও শৃঙ্গ দ্বারা তাহার প্রতিকার করিতে যেন কোন সাধারণ গুণনীয়ক না থাকে ; তাহা হইলেই হইবে। প্রথম আঘাতটি ঘুরিয়া ফিরিয়া প্রত্যেকের উপরেই ( “চতুর্মুখী” পৰ্য্যায় হইতে ‘বাহেরার” অভিবাদনের পড়িতে থাকিবে। প্রথা প্রচলিত রহিয়াছে।) পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন মণ্ডলের পরস্পর অসম্বদ্ধ ও অপ্রতিহত অথচ অনুকূল গতিতে দাঁড়াইবে, এবং কেন্দ্রস্থিত ব্যক্তিকে মণ্ডলের কেহ উভয় হস্তের চালনা অভ্যাসই “চতুর্মুখী” পৰ্য্যায়ের প্রধান আঘাত করিলে, কেন্দ্রস্থ ব্যক্তি উহার প্রতিকার করিয়া লক্ষ্য। চতুর্মুখী-অভ্যাসে হস্তদ্বয়ের সমবেত গতির প্রথম ব্যক্তির পার্শ্বস্থ ব্যক্তিকে পৰ্যায়ানুযায়ী পরবর্তী সামঞ্জস্য রক্ষায় দক্ষতা জন্মিয়া থাকে । আঘাত করিয়া আবার তৃতীয় ব্যক্তির পৰ্যায়ানুযায়ী আঘাতের গতি যে ক্ষেত্ৰ-অবলম্বনে আসিবে, আঘাতের প্রতিকার করিবে ; এইরূপে ঘুরিয়া ঘুরিয়া প্রতিকার কল্পে ঠিক সেই ক্ষেত্রের সমকোণ ভাবেই শৃঙ্গ ক্রীড়া চলিতে থাকিবে । ধারণ করিতে হইবে, এবং প্রতিপক্ষের লাঠির গতির চতুমুখী অপর ( ৪৬ ) বিপরীত দিকাভিমুখেই ঐ লাঠিকে ঈষৎ বেগে অপসারিত “পালট” প্রভৃতি নিম্নের দিকের আঘাত-প্ৰয়ােগ- করিতে দিতে হইবে। কালে বামপদ ঈষৎ সম্মুখে আসিবে, পরে যথাস্থানে শৃঙ্গসহ ক্রীড়া-কালে অসিও শৃঙ্গের গতির অনুকূলে যাইবে, এবং ঐ সঙ্গে-সঙ্গেই পরবর্তী আঘাত প্রয়ােগ শরীর দক্ষিণে, বামে ও অধদিকে হেলাইতে দোলাইতে করিতে হইবে। হইবে; তাহাতেই কমে যাবতীয় প্রয়ােজনীয় অঙ্গ-ভঙ্গীর দ্বিতীয় ধারা ( চতুর্মুখী) লঘুতা জন্মিয়া, অসি ও শৃঙ্গ-চালনায় ক্ষিপ্ৰকারিতা-সাধনে হীনায়ন, যাণ্ড্য, ভর্জা, মন, অধস্তল, ত্রিহর, শির সাহায্য হইবে । কটী, চাকি, পালট, কড়ক, ভুজ। সাধারণতঃ যে হস্তে শৃঙ্গ থাকিবে, সেই পার্শ্বের সমস্ত তৃতীয় ধারা (চতুর্মুখী ) আঘাতেরই, এবং অপর পার্শ্বের যে সমস্ত আঘাত ভূমির সমান্তরাল ভাবে আসিবে, কিম্বা বক্রভাবে নিম্ন হইতে বাহেরা, মােড়া উত্তর, ভাণ্ডার, শির, তামেচা, ভর্জা, উর্ধদিকে প্রযুক্ত হইবে, শৃঙ্গ দ্বারা তাহাদের প্রতিকার-কল্পে যাণ্ড্য, ভুজ, মােড়া, চাকি, ত্রিহর, গ্রীবাণ। বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ উৰ্দ্ধমুখ রাখিয়াই শৃঙ্গ ধরিতে হইবে। চতুর্থ ধারা (চতুর্মুখী ) আঘাতগুলি-সম্বন্ধে যখন যেরূপ সুবিধা সেইরূপেই শৃঙ্গ তামেচা, মােড়া কটী, যাণ্ড্য, বাহেরা, ভুজ, শির, ভর্জা, ধরিতে হইবে। কিন্তু অসি-ধৃত-হস্ত পার্শ্বের উর্দ্ধতন মােড়া-উত্তর, ত্রিহর, চাকি, হীনায়ন। আঘাতগুলির প্রতিকার-কল্পে, এবং যে স্থলে শৃঙ্গবাহী পঞ্চমধারা (চতুমুখী ) হস্ত অপর হস্তের উপর দিয়া অতিক্রম করিয়া যাইবে, বাহেরা, প্রদ, দে, মােড়া উত্তর, হীনায়ন, ভাণ্ডার, তথায়ও শৃঙ্গবাহী-হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ নিম্নের দিকে থাকিবে। কটি, শির, পালট, তামেচা, মােড়া, পাদতল, চাপ নি, “চতুর্মুখী” অভ্যাস-কালে সৰ্ব্বদাই দ্ব্যঙ্গের স্থিতিতে চাকি, যাণ্ড্য, কড়ক, গ্রীবাণ, মন, ত্রিহর, ভুজ, আসর, দাড়াইতে হইবে। সাম উত্তর, হাতকাটি, অন্তর, দ্বিগড়। প্রথম ধারা (চতুর্মুখী) বর্ণনাঃ—পঞ্চম ও ষষ্ঠ “ধারার” সমস্ত আঘাতই গ্রীবাণ, শির, ভুজ, দে, পাদতল, চাকি, যাণ্ড্য, ভাণ্ডার, “গুড় দিশে” প্রয়ােগ করিতে হইবে; “পাদতল” ত্রিহর, কড়ক, পালট, ভর্জা। “অধস্তল” প্রভৃতিও এস্থলে ত্রাসে চালনা করিয়া আনিতে বর্ণনা:-“ভুজ” মারিয়া লাঠিকে প্রতিপক্ষের শৃঙ্গের হইবে না। সহিত ঘেষিয়া তাহার মাথার উপর দিয়া আনিয়া “দে” পঞ্চম “ধারায়” “হাতকাটি মারিয়া লাঠি প্রতিপক্ষের মারিতে হইবে। মাথার উপর দিয়া আনিয়া নিজ দক্ষিণ দিক হইতে নিজ “পাদতল” মারিয়া ত্রাসে চালনা করিয়া লাঠি পশ্চাৎ মাথার উপর দিয়া আনিয়া “অন্তর” মারিতে হইবে । দিক্ দিয়া ঘুরাইয়া আনিয়া “চাকি” মারিতে হইবে। “যাণ্ড্য” মারিবার কালে শৃঙ্গ বাম পার্শ্ব হইতে ষষ্ঠধারা (চতুর্মুখী) ঘুরাইয়া মাথার উপর দিয়া আনিয়া প্রতিপক্ষের আঘাতের তামেচা, অর্ধপাদ, মন, মােড়া, গ্রীবাণ, কটী, ভাণ্ডার, প্রতিকার-হেতু নিজ লাঠির সঙ্গে সংলগ্ন হইয়া পড়িবে, যাণ্ড্য, কড়ক, বহেরা, মােড়া উত্তর, অধস্তল, দ্বিগড়, ত্রিহর, সুতরাং যাণ্ডের প্রয়ােগ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই প্রতি- শির, পালট, হীনায়ন, দে, চাকি, ভর্জা, সাম দক্ষিণ, পক্ষের লাঠি নিজ শৃঙ্গ ও লাঠির মধ্যে পতিত হইবে; আসর উত্তর,শৃঙ্গবাহী, অন্তর উত্তর, চাপনি তাই যাণ্ডের আঘাত অসম্পূর্ণ ই থাকিয়া যাইবে; কিন্তু মিশ্রঘাত কদাচ ইচ্ছাপূর্বক নিজ লাঠি ও নিজ শৃঙ্গ একত্রিত “মিশ্রঘাত” অভ্যাস-কালে সর্বদাই “হাতকাটি” করিয়া আঘাত প্রয়ােগে উদ্যত হইতে নাই। সুরক্ষিত রাখিতে হয় ; সেই হেতু সাধারণতঃ প্রায় সর্বদাই ;
( ৪৭ ) শৃঙ্গ দক্ষিণ হন্তের মণিবন্ধের সম্মুখে রাখিতে চেষ্টা প্রথম ক্রম (মিত্রঘাত ) করিতে হয়; এবং প্রায় সর্বদাই নিজ শৃঙ্গ প্রতিপক্ষের স্থিতিদ্বাদ, লাঠির অগ্রগতির প্রতিবােধ-কল্পে তৎসম্মুখাভিমুখে ঘুরা ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্রমণ ) ইতে ফিরাইতে হয়। ১। গ্রীবাণ + ১। গ্রীবাণ + “মিশ্রঘাত সম্পর্কিত পাঠক্রম-মধ্যে যে আঘাত ২। হাতকাটি ২। হাতকাটি গুলির সঙ্গে “+” চিহ্ন যােজিত থাকিবে, তাহাদের প্রতি ৩। কটী, শির+ ৩। কটী, শির+ রাধ শৃঙ্গ দ্বারা করিতে হইবে ; যে আঘাতগুলির সঙ্গে ( প্রত্যারম্ভ ) } “+” চিহ্ন যােজিত থাকিবে, তাহাদের প্রতিরােধ শৃঙ্গ দ্বিতীয় ক্রম (মিশ্রঘাত ) ও লাঠি উভয় একত্রিত করিয়া করিতে হইবে। যে স্থিতিদ্ব্যঙ্গ, আঘাত গুলির সঙ্গে কোন চিহ্নই যােজিত থাকিবে ( আক্রমণ ) ( প্রত্যক্রমণ ); না তাহাদের প্রতিরােধ শুধু লাঠি দ্বারাই করিতে ১। গ্রীবাণ + ১। গ্রীবাণ + হইবে। ২। হাত কাটি ২। হাত কাটি “মিশ্রঘাত” অভ্যাস-কালে পূর্ব পূৰ্ব পাঠের ৩। চাপ নি, ভুজ, শির + ৩। চাপ নি, ভুজ, শির+ অভিজ্ঞতা অবলম্বন করিয়া, যাহাতে ও যে পথে লাঠি ( প্রত্যারম্ভ ) চালনা করিলে সহজ ও সরল গতিতে প্রকৃত লক্ষ্যে ও বর্ণনা :—এ স্থলে “শিরেব” প্রতিকার লাঠি দ্বারা প্রকৃত পদ্ধতিতে নির্দিষ্টরূপে প্রত্যেকটি আঘাতই কিম্বা শৃঙ্গ দ্বারা উভয় প্রকারেই হইতে পারে। প্রযুক্ত হইতে পারে, সে বিষয়ে সর্বদাই সবিশেষ দৃষ্টি তৃতীয়.কম (মিশ্রঘাত) রাখিতে হইবে। সেই হেতুই কোন কোন আঘাত স্থিতিদ্ব্যঙ্গ প্রতিপক্ষের লাঠি কিম্বা শৃঙ্গ দ্বারা প্রতিহত হইলে নিজ ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্রমণ ) লাঠির বেগ প্রত্যাবর্তন করিয়া বিপরীত গতিতে লাঠির ১। গ্রীবাণ+ ১। গ্রীবাণ+ চালনা করিতে হয়, আবার কখনও বা আঘাত করিয়া ২। কটী প্রতিপক্ষের লাঠি কিম্বা শৃঙ্গ বিদূরিত বিদূরিত করিয়া ৩। হীনায়ন+ ৩। হীনায়ন+ “ত্রাসে” সম্মুখ গতিতে নিজ লাঠির চালনা করিতে ৪। ভাণ্ডার+, মােড়া, ৪। ভাণ্ডার+,মােড়া, হয় ; কখনও বা ভিন্ন পথেও লাঠির চালনা করিতে যাণ্ড্য+ যাণ্ড্য+ ( প্রত্যারম্ভ) শিক্ষাভ্যাসকালে প্রত্যেকটি “ক্রমই প্রথমে দক্ষিণ চতুর্থ ক্রম (মিশ্রঘাত ) হস্তে লাঠি ও বাম হস্তে শৃঙ্গ ধারণ করিয়া অভ্যাস করিতে স্থিতিদ্ব্যঙ্গ হইবে; পরে বাম হস্তে লাঠি ও দক্ষিণ হস্তে শৃঙ্গ ধারণ ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্ৰমণ ) করিয়া সমসংখ্যক বার অভ্যাস করিতে হইবে। তৎপরে ১। গ্রীবাণ+ ১। গ্রীবাণ+ পৰ্যায়ক্রমে এক ব্যক্তি দক্ষিণ হস্তে লাঠি ও বাম হস্তে ২। হাত কাটি ২। হাত কাটি লাঠি ও দক্ষিণ হস্তে শৃঙ্গ ধারণ করিয়া প্রত্যেকটি ‘ক্রম” অন্তর + অন্তর অভ্যাস করিবে। প্রত্যেকটি “ক্রম”ই পর্যায়ক্রমে সম- ৪। কটী, মােড়া উত্তর ৪। কটী, মােড়া উত্তর+ সংখ্যক বার দক্ষিণ ও বাম হস্তে লাঠি ধারণ করিয়া ৫। শৃঙ্গবাহী ॥ ৫। শৃঙ্গবাহী ॥ অভ্যাস করিতে হইবে। ৬। চাকি + ৬। চাকি ৭ ( প্রত্যারম্ভ) ২। কটী ৩।
( ৪৮ ) পঞ্চ৮ ক্রম ( মিশ্রঘাত ) সপ্তম ক্রম (মিশ্রঘাত ) স্থিতিদ্ব্যঙ্গ স্থিতিদ্ব্যঙ্গ ( আক্রমণ) ( প্রত্যাক্ৰমণ) ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্ৰমণ ) ১। গ্রীবাণ + ১। গ্রীবাণ+ ১। হীনায়ন+ ১। হীনায়ন+ ভাণ্ডার+ (চতুর্মুখী ) ২। ভুজ+ ২। ভুজ+ বাহেরা+ (চতুমুখী ) ৩। আসর ৩। আসর ৪। দ্বিগর ৪। শির+ ৪। উত্তর আনী ( হ্রাস) ( প্রত্যারম্ভ ) ( প্রত্যারম্ভ) বর্ণনা ঃ—“উত্তর আনীর” প্রতিকার-কল্পে নিজ বর্ণনাঃ-“শিরের” প্রয়ােগ-নিমিত্ত লাঠি স্বকীয় লাঠি নিম্নমুখ করিয়া প্রতিপক্ষের লাঠির নিম্নের দিক হইতে বামদিক হইতে ঘুরাইয়া আনিতে হইবে। আঘাত করিতে হইবে; কিন্তু বাম হস্তে উত্তর আনীর প্রতিকার-কল্পে বাম হস্ত-মুষ্টি দক্ষিণ স্কন্ধ-মােড় পৰ্য্যন্ত নীত ষষ্ঠক্রম (মিশ্রঘাত ) হইলে, তা হইতে উপক্রম করিয়া লাঠির অগ্রবিন্দু স্থিতি—দ্যঙ্গ উৰ্দ্ধমুখ ভাবে চালিত করিয়া প্রতিপক্ষের লাঠিকে সজোরে ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্রমণ ) আঘাত করিয়া নিম্নে ও তাহার দক্ষিণ দিকে দূর করিয়া ১। গ্রীবাণ+ ১। গ্রীবাণ+ দিতে হইবে। ২। বাহেরা , তামেচা ২। বাহের ও তামেচা অষ্টম ক্রুম (মিশ্রঘাত) ৩। 'চাপ নি ৩। যাণ্ড্য+ স্থিতিদ্ব্যঙ্গ ৪। আসর, ৪। মােড়া উত্তর +, কটী (আক্রমণ) (প্রত্যাক্ৰমণ) ৫। হাত কাটি ( প্রত্যারম্ভ) ১। ত্রিহর+ ১। ত্রিহর+ বর্ণনা:—হাত কাটির প্রয়ােগ-হেতু লাঠির অগ্রবিন্দু পশ্চাদ্দিক হইতে উপরে তুলিয়া মাথার উপর দিয়া ঘুরাইয়া ২। ভর্জা, । ভর্জা ,মােড়া উত্তর ৮, স্বকীয় বাম দিক হইতে আঘাত করিতে হইবে। মােড়া উত্তর, বাহেরা) বাহেরা : “বাহেরার” প্রতিকার প্রকৃত পক্ষে লাঠির দ্বারাই ৩। সাকম উত্তর ৩। ঘাটিকা দক্ষিণ , করিতে হইবে, কিন্তু উভয় লাঠির সংঘর্ষ-মুহূর্তে শৃঙ্গ ও কটী, মণিবন্ধ পৃষ্ঠ লাঠির সঙ্গে সংলগ্ন করিতে হইবে ; যেন প্রতিপক্ষের ৪। ভুজ + (প্রত্যারম্ভ) ( আঘাত প্রয়ােগকারীর ) লাঠি নিজ লাঠি ও শৃঙ্গের সন্ধি বর্ণনা:-এ স্থলে “মণিবন্ধ পৃষ্ঠ”: অসি-পৃষ্ঠের অগ্র- বন্ধনীর অভ্যন্তরে পতিত হয় ; প্রতিকারীর শৃঙ্গ তাহার ভাগ দ্বারাও প্রয়ােগ করা যাইতে পারে; এবং “ভজ্জা লাঠির পশ্চাতে থাকিবে। মােড়া উত্তর, বাহেরা ও “ঘাটিকা দক্ষিণের প্রতিরােধ “তামেচার প্রতিকার প্রকৃত পক্ষে শৃঙ্গ দ্বারাই প্রকৃত পক্ষে লাঠির দ্বারাই করিতে হইবে, কিন্তু উভয় করিতে হইবে, কিন্তু লাঠিও ক্রমে নিম্ন হইতে উপরে লাঠির সংঘর্ষকালে, সংঘর্ষ স্থলে শৃঙ্গকেও সংযুক্ত রাখিতে তুলিয়া প্রতিপক্ষের ( আঘাত কারীর ) লাঠিকে নিজ শৃঙ্গ হইবে। ও লাঠির সন্ধির বন্ধনী মধ্যে আবদ্ধ করিতে হইবে; বাম হন্তে ক্রীড়া-কালে “বাহের” ও ঘাটিকা দক্ষিণের তৎকালে উভয় হস্তের গতি ঈষৎ উৰ্দ্ধমুখীন হইবে; প্রতি প্রতিরােধ শৃঙ্গ দ্বারাই করিতে হইবে, তবে তৎকালে কারকারীর শৃঙ্গ তাহার লাঠির পশ্চাতে থাকিবে। লাঠি ও শৃঙ্গসহ সংযুক্ত থাকিবে। ;
( ৪৯ ) ৩। মােড়া উত্তর, অঙ্ক, দক্ষিণ মােড়, কটী+ ৩। মােড়। উত্তর, অঙ্ক, দক্ষিণ (প্রত্যারম্ভ) নবম ক্রম (মিশ্রঘাত ) স্থিতিদ্ব্যঙ্গ ( আক্রমণ ) ( প্রত্যক্রমণ ) ১। মনিবন্ধ পুর: + ১। শৃঙ্গবাহী ॥ ২। উল্টামােড়া ॥ ২। চাকি + ৩। শির + ( প্রত্যারম্ভ) বর্ণনাঃ-এস্থলে লাঠি ও শৃঙ্গ উভয় দ্বারা প্রতি- কারের, পর, শৃঙ্গ দ্বারা প্রতিপক্ষের লাঠি প্রতিরােধ করিয়া রাখিয়া নিজ লাঠি যথাযােগ্যভাবে চালনা করিয়া “গুড় দিশে” ঘুরাইয়া পরবর্তী আঘাতের প্রয়ােগ করিতে ১। আনী হইবে। দ্বাদশ ক্রম (মিশ্রঘাত) স্থিতিদ্ব, (আক্রমণ) (প্রত্যক্রমণ) ১। (বাস) চাকি+ ২। হাতকাটি অধঃ । ২। হল ৩। (ত্ৰিত্ৰাস) ভুজ+ ৩। ভুজ+ ৪। পালট (আলীঢ়)+ ৪। (আলীঢ়) শির+ ৫। (স্থিতি) ঘাটিকা দক্ষিণ ৫ (প্রত্যারম্ভ)। বর্ণনা :—এস্থলে “আনী” ও “হুল” উভয়ের প্রতিকারই নিম্নদিক হইতে লাঠি নিম্নমুখে চালনা করিয়া আঘাত করিয়া, করিতে হইবে। হাতকাটি অধঃ= কনিষ্ঠাঙ্গুলীর দিক হইতে মণিবন্ধ ছিন্ন করা হেতু আঘাত। দক্ষিণ হস্তে লাঠি ধারণ করিয়া ক্রীড়াকালে “মণি- বন্ধ পুর”র প্রতিকার-কল্পে লাঠির অগ্রবিন্দু উৰ্দ্ধমুখ ভাবে এবং “শৃঙ্গবাহীর প্রতিকার-কল্পে নিম্নমুখ ভাবে থাকিবে। বাম হস্তে লাঠি ধারণ করিয়া ক্রীড়া-কালে তদ্বিপরীত কাৰ্য্য করিতে হইবে । মন + দশম ক্রম (মিশ্রঘাত ) স্থিতিদ্ব্যঙ্গ ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্রমণ ) ১। হীনায়ন + ১। হীনায়ন+ মন + ৩। চাকি+,চাপনি ১। চাকি+, চাপ নি, শৃঙ্গবাহী # শৃহবাহী ৪। গ্রীবাণ + ৪। গ্রীবাণ + ৫। হুল (ন্যাস) ( প্রত্যারম্ভ) বর্ণনা:-এস্থলে “হুলের প্রতিকার-কল্পে নিজ লাঠি নিম্নমুখভাবে রাখিয়া প্রতিপক্ষের লাঠির নিম্নের দিক হইতে আঘাত করিতে হইবে। মণিবন্ধ অধঃ একাদশ ক্রম (মিশ্রঘাত) স্থিতিদ্ব্যঙ্গ, (আক্রমণ) (প্রত্যক্রমণ) ১। গ্রীবাণ+ ১। গ্রীবাণ+ ২। শৃঙ্গবাহী ২। শৃঙ্গবাহী এস্থলে “হাতকাটি অধঃ”র প্রতিকার প্রকৃত প্রস্তাবে শৃঙ্গ দ্বিারাই করিতে হইবে; কিন্তু প্রতিকারের সঙ্গে- সঙ্গেই পরবর্তীই।“হুল” প্রয়ােগের উদ্যোগ হেতু লাঠি চালনা-কালে অল্পমাত্র নিজ শৃঙ্গসহ নিজ লাঠির সংস্পর্শ ঘটিবে। আলী= বাম জানু, জঘা ও পাদ পাদ্দিকে ভূমিতে বিন্যস্ত, দক্ষিণ পাদ সম্মুখের ভূমিতে স্থাপিত, জঙ্ঘা ভূমির উপরে প্রায় লম্বভাবে, এবং জানু-সদ্ধি ভঙ্গ করিয়া ( ৫০) সমগ্র উরুদেশ ভূমির সমান্তরালভাবে, ও শরীর ভূমির এস্থলে “কণ্ঠার” প্রতিকার কল্পে শরীর ঈষৎ পশ্চাতে উপর প্রায় লম্বভাবে ঈষৎ সম্মুখে ঝুকিয়া থাকিবে। অপসারিত করিয়া “অবনমন” করিতে হইবে। প্রত্যাক্রমণকারীর অবনমন” সহযােগে “কণ্ঠার” আঘাত হইতে অব্যাহতি পাইয়া তদবস্থায়ই “কড়কের” প্রতিকার করিয়াই “তামেচার” প্রয়ােগ করিবে, এবং পুনঃ “অবনমন” সহ আক্রমণকারীর “তামেচার” আঘাত হইতে অব্যাহতি পাইবে, (তৎকালে আক্রমণকারাও কিঞ্চিৎ অবনত হইবে বটে)—সেই হেতুই আক্রমণকারীর মস্তক অপেক্ষা প্রত্যাক্রমণকারীর মস্তক অধিক নিম্নে থাকিবে ; তদবস্থায়ই উভয়ে “চাপ নির” প্রয়ােগ ও আলী (পলিট) প্রতিকার করিলে পরও, প্রত্যাক্রমণকারীর মস্তক অপেক্ষা- এয়ােদশ ক্রম (মিশ্রঘাত) কৃত অধিক নিম্নে থাকিবে ; তাহাতেই আক্রমণকারীর স্থিতি-রাবান্তিক পক্ষে “শির প্রয়ােগের সুবিধা ঘটিবে। (আক্রমণ) প্রত্যক্রমণ ১। (অবনমন) গলআনী+ ১। (তুরন্ত) হাতকাটি+ চতুর্দশক্রম (মিশ্রঘাত) ২। (তুরন্ত) কণ্ঠ। ২। (অবনমন) কড়ক স্থিতিদ্ব্যঙ্গ ৩। (উভয়ে) তামেচা (উভয়ে অবনমন) (আক্রমণ) প্রত্যক্রমণ ৪। (উভয়ে) চাপনি+ ১। গ্রীবাণ+ ১। গ্রীবাণ+ ৫। শির (প্রত্যারম্ভ) ২। হাতকাটি ২। হাতকাটি ৩। মন+ ৩। মন+ অবনমন প্রতিপক্ষের আঘাত হইতে অব্যাহতি পাওয়া হেতু শরীর অপসারিত করা (সাধারণত বসিয়া ৫। পালট পড়িবার উপক্রম করা)। ৬। প্রােদ ৬। প্রপদ তুরন্ত তন্মুহুর্তে। ৭। হীনায়ন+ ৭। হীনায়ন+ গল-আনী=কণ্ঠনালী ও মস্তকের সন্ধিস্থলের সম্মুখ ৮। ঘটিকা দক্ষিণ ৮। (অবনমন) বিন্দু হইতে বক্রভাবে উর্ধমুখে মস্তক মধ্যে অসির অগ্র- ৯। শির (প্রত্যার) বিন্দু প্রবেশ করাইবার নিমিত্ত আঘাত। ঘাটিকা দক্ষিণ প্রয়ােগ-হেতু অসি ভূমির সমান্তরাল ভাবে নিজ বাম পার্শ্বের পশ্চাতে লইয়া হস্তমুষ্টি ঘুরাইয়া, অসি-পৃষ্ঠের অগ্রভাগ দ্বারা যথাস্থানে আঘাত করিতে (চতুম্মুখী) বর্ণনাঃ- , ৪। কটী ৪। কটী ৫। পালট 1 বর্ণনাঃ- হইবে। পঞ্চদশক্রম (মিশ্রঘাত) স্থিতি-রাবান্তিক (আক্রমণ) (প্রত্যাক্ৰমণ) ১। কটী+ ১। যবেগা দক্ষিণ + গল-আনী নেহুল দক্ষিণ ১। ( ৫১ ) ২। চাপনি ২। শৃঙ্গবাহী অষ্টাদশ ক্রম— মিশ্রঘাত ) ৩। (উৰ্দ্ধত্ৰাস ), (অবনমন) স্থিতি—পাক্ষিক হীনায়ন। (আক্রমণ) (প্রত্যাক্ৰমণ) ৪। (অবনমন) শির (প্রত্যার) ১। চাপনি (ধাধা) অন্তর দক্ষিণ বর্ণনা:-নেত্রইল দক্ষিণ-দক্ষিণ চক্ষু মধ্যে (তুরন্ত) অন্তর দক্ষিণ “হুল” অথবা “আনীর ন্যায় প্রয়ােগ। ইহার প্রতি ২। যবেগা উত্তর (ধাঁধা) ২। (অবনমন) কার কল্পে লাঠি নিম্নমুখ হইতে ক্রমে উৰ্দ্ধমুখ করিয়া, ২। যবেগা উত্তর (ধাঁধা) ২। ( অবনমন) নিম্নের দিক হইতে আঘাত করিয়া প্রতিপক্ষের লাঠিকে ৩। আসর। ৩। (তুরন্ত) দে ঈষৎ উর্দ্ধে ও তাহার বামে দূর করিয়া দিতে হইবে। ৪। (সঙ্গে) ( লাঠি ৪। {(সশৃঙ্গে প্রতিকার ) অভ্যন্তরে ) (লাঠি বহির্দিকে) গ্রীবাণ ( প্রত্যারম্ভে)। বর্ণনা :- ধাঁধা= কোনও নির্দিষ্ট স্থানে আঘাত করিবার ভাণ করিয়া, অন্যত্র আঘাত করা কিম্বা করিবার উদ্যোগ মণিবন্ধ পুরঃ ও, ২ করা। নেহুল দক্ষিণ যােভশ ক্রম ( মিশ্রঘাত ) স্থিতিদ্ব্যঙ্গ ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্রমণ ) ১। আনী ১। হাতকাটি+ ২। শৃঙ্গবাহী ২। শৃঙ্গবাহী বাহের কড়ক ৩। শির+ কটী, দ্বিগড় ৩। চাকি+ হীনায়ন। ৪। শির+ (প্রত্যারম্ভ) সঙ্গে = আঘাতের প্রয়ােগ কিম্বা প্রতিকারের সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিপক্ষের লাঠিকে হস্তচ্যুত করিবার চেষ্টা হেতু লাঠি ও শৃঙ্গ একত্রিত করিয়া হস্ত চালনার সঙ্কেত বুঝাইতে “সশৃঙ্গে” শব্দ ব্যবহৃত হয়। উনবিংশ ক্রম (মিশ্রঘাত ) স্থিতি-পাক্ষিক ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্ৰমণ) ১। শৃঙ্গবাহী+ ১। তামেচা+ ২। ঘটিকা উত্তর+, ২। (আচক্ৰবা, অসিপৃষ্ঠে), ব্ৰিহর (ত্রাস)+, হনুমূল দক্ষিণ+, শির (ধাঁধা) (আচক্রবা) উদর+, ( সহ) চতুষ্কা । (সহ) (আচক্ৰবা, অসিপৃষ্ঠে) মােড়া উত্তর ৩। চক্রিকা উত্তর ৩। সাকম উত্তর ( দ্বিসম্ভব ) + ( দ্বিসম্ভব ) ৫। শির+ ( প্রত্যারম্ভ ) বর্ণনা:-আচক্ৰবাহন্ত সঙ্কুচিত করিয়া অসির অগ্রভাগ দ্বারা আঁচড় অর্থাৎ “ব্রাসে ক্ষুদ্র আঘাত। সপ্তদশ ক্রম- মিশ্রঘাত ) ( আক্রমণ ) ( প্রত্যক্রমণ ) ১। ভর্জা ১। (তুরস্ত) অঙ্ক, দক্ষিণ ২। হাতকাটি শৃঙ্গবাহী+ ২। (তুরন্ত) কূৰ্চ্চাধঃ চতুষ্কাণ চাপনি ৩। (তুরন্ত) মন, (তুরস্ত, ত্ৰাস) (তুরন্ত) ঘটিকা উত্তর (তুরন্ত) চাকি+ ৪। (তুরন্ত) শির। (প্রত্যারম্ভ) '{ ( ৫২ ) উদর-বুকবিন্দু হইতে (বক্ষাস্থির নিম্ন পার্শ্বের দ্বিসম্ভব = লাঠি ও শৃঙ্গ একত্রিত করিয়া প্রতিপক্ষের মধ্যবিন্দু হইতে) আরম্ভ করিয়া নাভি পর্যন্ত সমগ্র উদর কোনও আঘাত প্রতিহত করিয়া ঐরূপে একত্রিত বিদারণ করা হেতু আঘাত। অবস্থাতেই প্রতিপক্ষকে আঘাত করিবার সঙ্কেত হেতু শব্দ ব্যবহৃত হয়। উদর হনুমুল দক্ষিণ = দক্ষিণ কর্ণ পৃষ্ঠের নিম্ন হইতে হনুদ্বয়ের (চোয়ালের) অস্থি-সংযােগস্থলকে ছিন্ন করা হেতু আঘাত। বিংশক্রম ( মিশ্রঘাত ) স্থিতি—রাবান্তিক ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্রমণ ) ১। হাতকাটি উর্দ্ধ । ১। ভর্জা+, (অসিকে নিম্নমুখে ঘাটিকা উত্তর নিজ দক্ষিণদিকে ঈষৎ (পশ্চাদ্বর্তী পদ পুনরাবর্তী ঝুলাইয়া, বামদিক হইতে পদের পশ্চাতে লইয়া তুলিয়া,ঘুরাইয়া অসিপৃষ্ঠের অসিপৃষ্ঠের অগ্রভাগ দ্বারা অগ্রভাগ দ্বারা আঘাত আঘাত করিতে করিতে হইবে)। হইবে)। ২। কণ্ঠা (ধাঁধা) ২। ( অবনমন) তামেচা+, পালট+ মােড়া উত্তর+,চাপনি ( আলীঢ় ) ( হ্রাস ), মণিবন্ধ পুরঃ ( ধাঁধা) পঞ্জর + ৩। (গুরু বন্ধন ) ৪। ( অনুমােক্ষণ ) ( প্রত্যারম্ভ ) বর্ণনা :- মণিবন্ধ উগ্ধ বৃদ্ধাঙ্গুলীর দিক হইতে মণিবন্ধ ছিন্ন করা হেতু আঘাত। হনুমূল দক্ষিণ চক্রিকা উত্তর = বাম মস্তক পার্শ্বের অস্থি যে স্থলে নিম্নের দিকে বক্র হইতে আরম্ভ করিয়াছে, তথা হইতে দক্ষিণ কর্ণমূলের দুই অঙ্গুলী নিম্ন পৰ্যন্ত ছেদন করা হেতু আঘাত। মণিবন্ধ উদ্ধ(পূর্ব ) বন্ধন= নিজ শৃঙ্গ ও অসিদ্বারা প্রতিপক্ষের অসিকে দৃঢ়রূপে আবদ্ধ করিয়া ধরা বুঝাইতে “গুরুবন্ধন” শব্দ ব্যবহৃত হয়। চক্রিকা উত্তর অনুমােক্ষণ = নিজ শৃঙ্গ দ্বারা প্রতিপক্ষেয় অসি ও ২। (তুরন্ত) ত্রিহর+, ২। ঘাটিকা উত্তর + শৃঙ্গকে বলপ্রয়ােগ সহ অপসৃত করিতে করিতে নিজ (প্রতিপক্ষের “পালট” পার্শ্ব ( পশ্চাৎস্থিত পদ অসিকে “গুরুবন্ধন” হইতে মুক্ত করিয়া আনয়ন বুঝাইতে হইতে অসিকে নিজ পুরােবত্তী পদের পশ্চাৎ শিরােপরি তুলিয়া “শির” । ‘অনুমােণ” শব্দ ব্যবহৃত হয়। লইয়া অসিপৃষ্ঠ দ্বারা মারিবার ভাণ করিয়া পুন- একবিংশতি ক্রম (মিশ্রঘাত) রায় বামাবৰ্তে নিজ শিরো- আঘাত করিতে হইবে) স্থিতি-গােমুখ পরি ঘুরাইয়া) ( আচক্ৰব। অসিপৃষ্ঠে ) ঠোক # ( আক্রমণ ) ( প্রত্যক্রমণ ) ১। বাহের+, কুচ (ত্রাস), ১। নেত্রহুল উত্তর # ( আচক্ৰবা, অসিপৃষ্ঠে অধর+, ( ভদ্রকান্তি ) ২। (গুরুবন্ধন) ২। (( অনুমোক্ষণ), পালট, চির (ত্রাস) যবেগা দক্ষিণ (ত্রাস)+ ৩। (আচক্রব, অসিপৃষ্ঠে) ( প্রত্যারম্ভ )। চাকি+ // নেত্রইল উত্তর বর্ণনা :- অধর = প্রতিপক্ষের দক্ষিণ দিক হইতে তাহার অধরােষ্ঠ ছিন্ন করা হেতু আঘাত। ৩। শৃঙ্গবাহী ও ৪। চাকি + ৩। শৃঙ্গহী ৪। ( অসি নিজ শিরােপরি বামবর্তে ঘুরাইয়া) হীনায়ন ৫। (গুরুবন্ধন) ( প্রত্যারম্ভ ) ৫। গলবিন্দু # ৬|• (অনুমােক্ষণ) বর্ণনা :- অধর দক্ষিণ নেত্রহুল উত্তর = বাম চক্ষু মধ্যে “হুল” অথবা “আনীর ন্যায় প্রয়ােগ । দ্বাবিংশ ক্রম (মিশ্রঘাত ) স্থিতি—একাঙ্গ পাক্ষি। ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্ৰমণ ) ১। (জড় বেশ) ভর্জা ১। সাকম উত্তর (ধাঁধা) ভর্জা+ একাঙ্গ পাক্ষিক = একাঙ্গের স্থিতিতে দাড়াইয়া পশ্চাৎবর্তী পদের অঙ্গুলীতে ভর করিয়া দাড়াইবার সঙ্কেত বুঝাইতে “একাঙ্গ পাক্ষিক” ব্যবহৃত হয়। ( প্রথম আরম্ভ কালে জড়বেশে” “ভজ্জার প্রয়ােগের অসির গতি ঘুরাইয়া পুনরায় “ভর্জার প্রয়ােগই করিতে হইবে।) গলবিন্দু= গলদেশ ও বক্ষস্থলের সন্ধিমূলের সম্মুখ বিন্দুতে অসির অগ্রবিন্দু প্রবেশ করাইবার নিমিত্ত আঘাত। ৮ ( ৫৪ ) গলবিন্দু অংশইল দক্ষিণ এয়ােবিংশ কম (মিশ্রঘাত ) স্থিতি—রাবান্তিক হইতে বাম কর্ণমূলের দুই অঙ্গুলী নিম্ন পৰ্য্যন্ত ছেদন করা হেতু আঘাত। আক্রমণ প্রত্যাক্রমণ কাটি)+, ১। অংসহুল দক্ষিণ , চক্রিকা দক্ষিণ, হাতকাটি +, শৃঙ্গবাহী (ধাঁধা হাত নেত্রহুল উত্তর গ্রীবাণ ঃ শৃঙ্গবাহী # (লাঠি শৃঙ্গের সম্মুখে) ২। সকম . ২। পৃষ্ঠদক্ষিণ+(পশ্চাদ্বর্তী পদ শূণ্যে' ৩। (প্রতিপক্ষের “কটী” পার্শ্ব, ৩। (তামেচা + হইতে নিম্নমুখে অসি ক্রমে তুলিয়া) গ্রীবান ( ধাঁধা ), ভাণ্ডার+ ৪। জকুটি দক্ষিণ (অবনমন) (আলী) ৪। বাহেরা প্রত্যারম্ভ ) (তুরস্ত ) ( আলীঢ় ) বাহেরা+ বর্ণনা :- অংসহুল দক্ষিণ-দক্ষিণ স্কন্ধদেশের সম্মুখস্থ অস্থির এক অঙ্গুলী উদ্ধে অসির অগ্রবিন্দু প্রবেশ করাইবার নিমিত্ত আঘাত। চক্রিকা দক্ষিণ-দক্ষিণ মস্তক পার্শ্বের অস্থি যে স্থলে নিম্নের দিকে বক্র হইতে আরম্ভ করিয়াছে, তথা চক্রিকা দক্ষিণ চতুর্বিংশ ক্রম (মিশ্রঘাত) স্থিতি—একাঙ্গ পাক্ষিক আক্রমণ প্রত্যক্রমণ ১। হাতকাটি+ ১। বাহেরা+ দে+ ২। পৃষ্ঠ উত্তরঞ্চ (পশ্চাদ্বর্তী পদ শূণ্যে) ৩। ঘাটিকা দক্ষিণ+,) ৩।. শৃঙ্গবাহী ( বাধা ) চাকি (বাস)+, হল হনুমূল উত্তর + ৪। ভুজ (ধাঁধা ) ( অবনমন) (আচক্রবা) অধর উত্তর নেত্রহল দক্ষিণ ৪।
( ৫৫ ): } {মো (ধা) বাহেরা (ধাধা ) তামেচা (ধাঁধা) প্রথম ক্রম স্থিতি-উত্তর গােমুখ ঘাটিকা উত্তর+, চির উত্তর ( প্রত্যারম্ভ) ( আক্রমণ ( প্রত্যক্রমণ ) বর্ণনা: ১। ভর্জা (বা, দ) ১। শির (বা, দ ) হনুমুল উত্তর বাম কর্ণ পৃষ্ঠের নিম্ন হইতে হনুদ্বয়ের ২। কটী (বা, দ) ২। ত্রিহর (বা, দ) (চোয়ালের) অস্থিসংযােগ স্থানকে ছিন্ন করা হেতু ৩। অঙ্ক (বা, দ) ৩। শির (বা, দ) আঘাত। ৪। কটী (ব, দ) ৪। শির (বা, দ) ৫। কড়ক (বা, দ ) ( প্রত্যারম্ভ ) বর্ণনা :- উত্তর গােমুখ – বাম পদ সম্মুখে ও দক্ষিণ পদ পশ্চাতে করিয়া গােমুখের অনুরূপ স্থিতি। (অন্যান্য “উত্তর স্থিতি” গুলি সম্বন্ধেও এইরূপ নিয়ম)। দ্বিতীয় ক্রম স্থিতি—গােমুখ ( আক্রমণ ) (প্রত্যাক্ৰমণ ) অধর উত্তর প্রতিপক্ষের বাম দিক হইতে তাহার ১। ভর্জা (দ, বা)। ১। শির (দ, বা) অধরােষ্ঠ ছিন্ন করা হেতু আঘাত। ২। কটি (দ, বা) ২। ত্রিহর (দ, বা) অঙ্ক (দ, বা ) ৩। শির (দ, বা) ৪। কটি (দ, বা) ৪। শির (দ, বা) ৫। কড়ক (দ, বা) ( প্রত্যারম্ভ ) অধর উত্তর উভয় হস্তে লাঠি কিম্বা অসি নিম্ন লিখিত ক্রমগুলির মধ্যে বন্ধনীর অন্তর্গত “দ” অক্ষরে দক্ষিণ হস্ত ও “বা” অক্ষরে বাম হস্ত বুঝিতে হইবে। যে আঘাতটি সম্পর্কিত বন্ধনী মধ্যে “দ” প্রথমে তাহার প্রয়ােগ দক্ষিণ হস্তে করিতে হইবে ; যে আঘাতটি সম্পর্কিত বন্ধনী মধ্যে “ব” প্রথমে তাহার প্রয়ােগ বাম হন্তে করিতে হইবে; ; যে স্থলে “দ” শেষে তথায় প্রতিকার দক্ষিণ হস্তে করিতে হইবে, এবং যে স্থলে ‘বা” শেষে তথায় প্রতিকার বাম হস্তে করিতে হইবে। তৃতীয় ক্রম স্থিতি-উত্তর গােমুখ ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্রমণ ) ১। ভুজ ( বা, দ) ১। যাণ্ড্য (বা, দ ৷ ২। ভাণ্ডার (বা, দ) ২। চাকি ( বা, দ ) ৩। অঙ্ক উত্তর (বা, দ) ৩। যাণ্ড্য ( বা, দ ) ৪। ভাণ্ডার (বা, দ) ৪। ষাণ্ড্য ( বা, দ ) ৫। পালট ( বা, দ) প্রত্যারম্ভ ) চতুর্থ ক্রম স্থিতি-গােমুখ ( আক্রমণ) ১। ভুজ (দ, বা) ২। ভাণ্ডার (দ, বা) ( প্রত্যাক্রমণ ) ১। যাণ্ড্য (দ, বা) ২। চাকি (দ, বা) ( ৫৬ ) ২। ত্রিহর (দ, বা) ২। যবেগা দক্ষিণ (বা, বা) ( প্রত্যাক্রমণ ) ৩। অঙ্ক উত্তর (দ, বা) ৩। যাণ্ড্য (দ, বা) ৪। ভাণ্ডার (দ, বা ) ৪। যাণ্ড্য (দ, বা) ৫। পালট (দ, বা) ( প্রত্যারম্ভ ) পঞ্চম ক্রম স্থিতি-উত্তর রাবান্তিক ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্রমণ ) ১। পালট ( বা, বা) ১। যাণ্ড্য (দ, দ ) ২। গ্রীবাণ (বা, বা) ( প্রত্যারম্ভ ) যক্রম স্থিতি-রাবান্তিক একাদশ ক্রম স্থিতি—উত্তর পাক্ষিক ( আক্রমণ ) ( প্রত্যক্রমণ ) ১। হীনায়ন (বা, বা ) ১। আসর উত্তর (দ, বা) ২। চাকি (বা, দ ) ২। যবেগ। উত্তর (দ, দ) দ্বাদশ ক্রম স্থিতি—পাক্ষিক ১। হীনায়ন (দ, দ) ১। আসর উত্তর (বা, দ) ২। চাকি (দ, বা) ২। যবেগা উত্তর (বা, বা) ( প্রত্যারম্ভ ) ( আক্রমণ ) ১। পালট (দ, দ) ২। গ্রীবাণ (দ, দ) ( প্রত্যাক্রমণ ) ১। যাণ্ড্য ( বা, বা ) ( প্রত্যারম্ভ ) সপ্তম ক্রম স্থিতি—উত্তর রাবান্তক ত্রয়ােদশ ক্রম স্থিতি—উত্তর রাবান্তিক ( আক্রমণ ) ১। কড়ক (বা, বা ) ২। হীনয়ন (বা, বা) ( প্রত্যক্রমণ ) ১। শির (দ, দ) ( প্রত্যারম্ভ ) ২। ৩। গ্রীবাণ অষ্টম ক্রম - ( আক্রমণ ) ( প্রত্যক্রমণ ) ১। মণিবন্ধ পুরঃ (বা, দ) ১। শৃঙ্গবাহী ( বা, দ ) ২। মােড়া উত্তর (বা, দ) চাকি ( বা, দ) ৩। শির ( বা, দ ) ( বা, দ) ৪। মােড়া উত্তর (বা, দ) ৪। শৃঙ্গবাহী ( বা, দ) আনী ( বা, বা) ৫। মােড়া দক্ষিণ (বাবা) ৫। আনী (বা, বা) কটা ( বা, দ) ৬। চাকি (দ, দ) ৬। মণিবন্ধ অধঃ (বাদ) ৭। হুল (দ, বা) ভুজ ( চতুর্মুখী ) (দ, বা) ৯। পালট (দ, বা) ১০। শির (চতুর্মুখী ) (দ, বা) ১১। হাতকাটি (বা, বা ) ১১। হাতকাটি (দ, বা) ভাণ্ডার ( চতুর্মুখী )(দ, বা) বাহের (চতুর্মুখী ) (বা, দ) ১৪। দ্বিগড় (বা, বা) ১৪। দ্বিগড় (দ, বা) ১৫। শির (দ, দ) ( প্রত্যারম্ভ ) স্থিতি—রাবান্তিক ( আক্রমণ ) ( প্রত্যারম্ভ ) ১। কড়ক (দ, দ ) ১। শির (বা, বা) ২। হীনায়ন (দ, দ) ( প্রত্যারম্ভ) নবম ক্রম স্থিতি—উত্তর পাক্ষিক ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্রমণ ) ১। গ্রীবাণ (বা, বা) ১। আসর (দ, বা) ২। ত্রিহর (বা, দ) ২। যবেগা দক্ষিণ (দ, দ) ( প্রত্যারম্ভ ) দশম কুম স্থিতি-পাক্ষি ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্রমণ ) ১। গ্রীবাণ (দ, দ) ১। আসর (বা, দ) ৮।
( ৫৭ ) ৮। চতুর্দশ ক্রম স্থিতি—রাবান্তিক ( আক্রমণ ) ( প্রত্যক্রমণ ) | মনিবন্ধ পুরঃ (দ,) ১। শৃঙ্গবাহী (দ,) ২। মােড়া উত্তর (দবা) ২। চাকি (দ,) ৩। শির (দ,বা) ৩। গ্রীবাণ (দ,বা) ৪। শৃঙ্গবাহী (দ,বা) ।।(মােড়াউত্তর (দ,ব) আনী (দ,) ৫। মােড়া দক্ষিণ (দ,) আনী ( দ,দ) কটী (দ,বা) ৬। চাকি (বাবা) ৬। মনিবন্ধ অধঃ (দ,বা) ৭। হুল (বাদ) ভুজ ( চতুর্মুখী ) (বা, দ) ৯। পালট ( বা, দ) ১০। শির ( চতুর্মুখী ) ( বা, দ) ১১। হাতকাটি (বাদ) ১১। হাতকাটি (বাদ) ১২। ভাণ্ডার ( চতুম্মুখী ) (বা, দ) ১৩। বাহেরা ( চতুর্মুখী ) (দ, বা) ১৪। দ্বিগড় (দ, দ) ১৪। দ্বিগড় (বা, দ ) ১৫। শির (বা, বা ) ( প্রত্যারম্ভ) পঞ্চদশ কম স্থিতি—উত্তর পাক্ষিক ও আক্রমণ ) ( প্রত্যক্রমণ ) ১। শৃঙ্গবাহী (বাদ) ১। হাতকাটি (বাবা) ২। মােড়া (দ,বা) ২। ত্রিহর (বাদ) ৩। যাণ্ড্য (দ,বা) ৩। হীনায়ন (বাবা) ৪। হাতকাটি (দ,বা) ৪। (মােড়া দক্ষিণ (দ,) দক্ষিণ আনী (দ,বা) মােড়া উত্তর (দ, বা) ৫। দক্ষিণ আনী (দ, বা) যাণ্ড্য (চতুর্মুখী (দ,) ১১। শৃঙ্গবাহী (বাদ) ১১। শৃঙ্গবাহী (বা, দ) ১২। কটী ( চতুর্মুখী ) ( বা, দ) তামেচা চতুর্মুখী ) (দ, বা) ১৪। চাপনি (বা, বা) ১৪। চাপনি (দ, বা) ১৫। ষাণ্ড্য (বা, দ) ( প্রত্যারম্ভ ) হাতকাটি (বাবা) যােশ ক্রম স্থিতি - পাক্ষিক ( আক্রমণ ) ( প্রত্যাক্রমণ ) ১। শৃঙ্গবাহী (দ, বা) ১। হাতকাটি (দ, দ) ২। মােড়া দক্ষিণ (বা, দ) ২। ত্রিহর (দ, বা) ৩। যাণ্ড্য (বা, দ) ৩। হীনায়ন (দ, দ) ৪। হাতকাটি (বা, দ) 'মােড়া দক্ষিণ (বাদ) (দক্ষিণ আনী (বা, দ) ৫। মােড়া উত্তর (বা, দ) ৫। দক্ষিণ আনী (বাদ) ভাণ্ডার (দ, দ) ৬। ত্রিহর (বা, দ) ৬। শৃঙ্গাবাহী (দ, বা) ৭। চির (দ, বা) ভর্জা ( চতুর্মুখী ) (দ, বা) ৯। কড়ক (দ, বা) যাণ্ড্য (চতুর্মুখী ) (বা, দ) ১১। শৃঙ্গবাহী (দ, বা) ১০। শৃঙ্গবাহী (দ, বা) কটী ( চতুর্মুখী (দ, বা) তামেচা (চতুম্মু খী (বা, দ) ১৪। চাপনি (দ, দ) চাপনি (বা, দ). যাণ্ড্য (দ, বা) ( প্রত্যারম্ভ ) হাতকাটি (দ, দ ) নিঘাত “মিশ্রঘাতের” অষ্টম শেষ হইলেই ক্রমে সঙ্গে সঙ্গে *নিঘাতের অভ্যাস ও আরম্ভ করিতে পারা যায়। “নির্ঘাত” অভ্যাস-কালে প্রথমে দক্ষিণ হস্তে শৃঙ্গ ও বাম হস্তে লাঠি ধারণ করিয়া ক্রীড়া করিতে হইবে , পরে ৮। ১০ । ১২। ১৩। ভাণ্ডার (বা, বা) ৬। ত্রিহর ( দ, বা) । শৃঙ্গবাহী (বা, দ) ৭। চির (বা, দ) ভর্জা ( চতুর্মুখী) (বা, দ) ৯। কড়ক (বা, দ) ৮।
( ৫৮ ) পূৰ্বানুরূপ সমপ্রচেষ্টা সহ সম-ক্লান্তি অবধি বাম হস্তে শৃঙ্গ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিলে ও প্রতিপক্ষের অসি-বেগের ও দক্ষিণ হস্তে লাঠি ধারণ করিয়া ক্রীড়া করিতে হইবে। প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া তন্মুহুর্তেই অসি-বেগের দ্বারা ত্রুটী তৎপর পর্যায়ক্রমে এক ব্যক্তি দক্ষিণ হস্তে লাঠি ও অপর সংশােধন করিয়া লইতে হয়, এবং এ বিষয়ে সর্বদাই সতর্ক হস্তে শৃঙ্গ এবং অপর ব্যাক্তি বাম হস্তে লাঠি ও দক্ষিণ হস্তে থাকিতে হয়। শৃঙ্গ ধারণ করিয়া পূর্বানুরূপ সমক্লান্তি অবধি ক্রীড়া উভয় হন্তের ব্যবধান সাধারণতঃ দেড় হস্ত ও এক করিবে। পরে পর্যায়ক্রমে শুধু এক এক হস্তে লাঠি হন্তের মধ্যে রাখিতে পারিলেই শ্রেষ্ঠ ফল পাওয়া যায়। ধারণ করিয়া (অপর হস্ত নিস্ক্রিয় রাখিয়া ) “নির্ঘাত” ৫। হস্তদ্বয়ের কফোনি (কনুই) কদাচ যেন একে অভ্যাস করিবে। ক্রমে এক ব্যক্তি কেবল একহন্তে লাঠি অন্যকে অতিক্রম করিয়া বিপরীত দিকে চলিয়া না যায়। ও অপর ব্যক্তি এক হস্তে লাঠি ও অপর হস্তে শৃঙ্গ, অথবা হস্তদ্বয়ের ব্যবধানের মধ্যদেশে কদাচ যেন উভয় হস্তে লাঠি ধারণ করিয়া “নির্ঘাত” অভ্যাস করিবে। প্রতিপক্ষের অসি কিম্বা শৃঙ্গ প্রবেশ করিবার অবসর না পূৰ্ব পূর্ব পাঠগুলির শিক্ষাভ্যাসের বিশুদ্ধতার উপরেই পায়। নির্ঘাত সম্পর্কে যােগ্যতা ও দক্ষতা, এবং অসি-বিদ্যা কদাচ যেন এক হস্ত কটীর নিম্নে ও অপর হস্ত সম্পর্কে শ্রেষ্ট উৎকর্ষ প্রায় সম্পূর্ণরূপেই নির্ভর করিয়া মস্তকের উপরে, অথবা এক হস্ত শরীরের দক্ষিণ পার্শ্বে ও থাকে। অপর হস্ত শরীরের বাম পার্শ্বে প্রতিহত কিম্বা অবরুদ্ধ পূৰ্ব পূর্ব পাঠের বিশুদ্ধতা, চিত্তের একাগ্রতা, বুদ্ধির হইয়া না থাকে। স্থিরতা, চক্ষুর প্রখরতা, মন এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ক্ষিপ্র ৮। সর্বদাই উভয় হন্তের গতির সামঞ্জস্য রক্ষা কারিতা প্রভৃতির সমন্বয়েই “নির্ঘাত সম্পর্কে শ্রেষ্ঠত্ব করিয়া অসি ও শৃঙ্গ চালনা করিতে হয় ; নতুবা স্বকীয় জন্মিয়া থাকে। আত্মরক্ষা হেতু নিশ্চিত কৌশল আঘাতেই স্ব হস্ত ও শরীর আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অবলম্বন করিয়া প্রারম্ভেই ক্ষিপ্ৰকারিতা সহ কতিপয় কিম্বা হস্তদ্বয়ের গতি প্রতিহত হইয়া পড়িতে পারে; সেই বিশুদ্ধ আঘাত প্ৰয়ােগ করিতে পারিলেই সাধারণতঃ হেতুই বিচার করিয়া কখনও শৃঙ্গ অসির সম্মুখে কখনও জয়লাভ নিশ্চিত হইয়া থাকে। বা অসির পশ্চাতে ঘুরাইতে ফিরাইতে হয়। সাধারণত “নির্ঘাত” সম্পর্কে কোনও বিধি নির্দিষ্ট পাঠের কোন হস্তই নিস্ক্রিয় রাখিতে নাই। স্থিরতা নাই, এবং অধিকাংশ স্থলেই বিভিন্ন শিক্ষার্থীর ৯। প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত হীনবল হইলেও, নিমিত্ত বিভিন্নরূপ উপদেশেরই প্রয়োজন হইয়া থাকে। তাচ্ছিল্য সহকারে কোনরূপ সতর্কতার লাঘব করিতে তাই সদ্গুরুর উপদেশানুযায়ী পদ্ধতির অনুসরণ করিয়া নাই। অনুশীলন, অধ্যবসায় ও নিদিধ্যাসন সহযােগে ক্রমাগত ১০। কদাচ স্বকীয় যােগ্যতা অতিক্রম করিয়া অভ্যাস দ্বারাই “নির্ঘাতে” দক্ষতা জন্মিয়া থাকে। আস্ফালন ও স্পর্ধা দেখাইতে নাই। তবে অভ্যাস কালে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি সম্বন্ধে ১১। শৃঙ্গ দ্বারা প্রতিপক্ষের অসিকে প্রতিহত না সর্বদাই সতর্ক থাকিতে হইবে। করিয়া কদাচ “চির,” “হুল,” “আনী” প্রভৃতির প্রয়ােগ ১। হস্তদ্বয় সর্বদাই সুরক্ষিত রাখতে হয়। করিতে নাই। অনবধানতা বশতঃ “চির,” “হুল” ২। শরীর ও গতির ভঙ্গী সৰ্ব্বদাই সুদৃঢ় ও বিশুদ্ধ প্রভৃতির প্রয়ােগ করিতে গেলে নিজ হস্তই ছিন্ন হওয়ার রাখিতে হয়। সম্ভাবনা অধিক থাকে। ৩। কদাচ অন্যমনস্ক হইতে নাই। ১২। অসিবেগের ক্রমধারা অনুযায়ী সহজ গতির ৪। হস্তদ্বয় পরস্পরে কদাচ যেন অতি সন্নিকটে কিম্বা অনুসরণ সহযােগে এবং সহজ পথেই প্রতিপক্ষের অরক্ষিত অতি ব্যবধানে না হইয়া পড়ে।-দ্রুত চালনা কালে এই স্থানসমূহে আক্রমণ হেতু আঘাত প্রয়ােগ করিতে হয়।
) ৫। মাত্র। ( ৫৯ ) ( proceed through the shortest cuts ) fara হস্ত আক্রমণ পূর্বক অভান্তরের দিকে অগ্রসর হইতে আক্রমণে ও আঘাতে সুফল না হইয়া কুফলই অধিক পারিলেই আশু শ্রেষ্ঠ ফল পাওয়া যায়। ২০। প্রতিপক্ষের আক্রমণে অস্থির হওয়ার উপক্রম ১৩। যাহাতে অল্প সময় মধ্যে অধিক আঘাতের হইলেই চক্ষু আক্রমণ দ্বারা তাহাকে বিহবল করিতে হয়, প্রয়ােগ মাত্রার আধিক্য সম্ভবপর হইতে পারে, তদনু সময়ে সময়ে শৃঙ্গ দ্বারা শরীর রক্ষা করিয়া “হাতকাটি” রূপেই হস্ত চালনা দ্বারা অসিবেগ সুরক্ষিত রাখিতে হয়। “হুল” “আনী” প্রভৃতির প্রয়ােগ সহযােগে, কিম্বা (maximum strokes in minimum time). “অভিযানস্থিতির” ভঙ্গী সহ, প্রতিপক্ষের বক্ষের উপর ১৪। নিরবচ্ছিন্ন সমবেগ সম্পন্ন দ্রুতগতি (swift ঝাপাইয়া পড়িতে পারিলেও সুফল পাওয়া যায় । uniform and continuous motion) হইতেই শ্রেষ্ঠ অসিধারিগণ সাধারণতঃ বিনােদ” ও আঘাতের গুরুত্ব ও তীব্রতা উৎপন্ন হইয়া থাকে। গুরু ‘যুযুৎসুর” প্রয়ােগেই নিষ্কৃতি পাইয়া থাকেন। আঘাতই কাৰ্য্যকারী; লঘু আঘাতে সময় ও শক্তি ক্ষয় ২১। হস্ত, গ্রীবা, মস্তক, হৃদয়, বস্তি ও মর্মস্থল সকল লক্ষ্য করিয়াই প্রধানতঃ আঘাতের চেষ্টা দেখিতে হয়। ১৫। আক্রমণ প্রারম্ভে “কুটী” (চক্ষু) কিম্বা ঐ সমস্ত স্থলে নিশ্চিত রূপে গুরু আঘাত করিতে “হাতকাটি” ( প্রধানতঃ হাতকাটি ) আক্রমণের উপক্রম, পারিলেই প্রতিপক্ষ সম্পূর্ণরূপে প্রতিহত হইবে। কিম্বা ভাণ করিয়া, পরে প্রকৃত আক্রমণ আরম্ভ করিতে ২২। প্রতিপক্ষের আঘাত অতিক্রম করিয়া কোনও হয় ; অথবা প্রতিপক্ষের অসির কিম্বা অসি ও শৃঙ্গের মর্মস্থলে তাহাকে নিশ্চিন্ত গুৰু আঘাত করিতে পারিলেই কোনরূপ বাধা জন্মাইয়া আরম্ভ করিতে হয়। সাধারণতঃ নিঃশঙ্ক হওয়া যায়। হস্তে প্রতিপক্ষ অসি ধারণ করিবে, বিশুদ্ধতা সম্পন্ন আক্রমণই আত্মরক্ষার প্রধান উপায় । আক্রমণ সহযােগে তৎ পার্শ্বে পতিত হইতে পারিলেই প্রতিপক্ষ আক্রমণের অবসর না পাইলে আর শঙ্কা যথেষ্ট সুবিধা হয়। তাই, সাধারণতঃ দক্ষিণ হস্তেই কোথায় ? অসি ধৃত থাকে বলিয়া অধিকাংশ বর্ণনা মধ্যেই দক্ষিণ ২৩। কদাচ পশ্চাৎপদ হইতে নাই। প্রতিপক্ষ পার্শ্ব আক্রমণের প্রশংসা দেখিতে পাওয়া যায়। পশ্চাৎপদ হওয়ার উপক্রম করিলেই, শরীর সুরক্ষিত ১৭। সর্বদাই প্রতিপক্ষের “দুৰ্বলতা” ও “ছি” রাখিয়া আক্রমণ সহযােগে তীব্রগতিতে তাহার উপর বুঝিয়া আঘাতের চেষ্টা দেখিতে হয় , সেই হেতুই ঝাপাইয়া পড়িতে হয়। সুযােগ মতে “ধার” প্রয়ােগ করিতে হয়, এবং একান্তই পশ্চাৎদ্দিকে যাওয়ার প্রয়ােজন হইলে, সর্বপ্রকার শিষ্টতা ও উদারত। ভুলিয়া যাইতে হয় ; নতুবা “অভিযান স্থিতির” ভঙ্গী সহই লক্ষ সহযােগে কিঞ্চিৎ নিজেকেই প্রতিহত হইতে হয়। পশ্চাতে যাইয়াই সাধারণতঃ “হুল” “আনী” প্রভৃতির [ সর্বপ্রকার অনবধানতা, এবং সতর্কতার ব্যভিচারই প্রয়ােগ সহ, আক্রমণে প্রবৃত্ত হইয়া তুরন্তে অগ্রসর হইতে “ছি” বুঝিতে হইবে, সাধারণতঃ যে কোনরূপ অপারগতার নামই দুর্বলতা ]। ২৪। দীর্ঘাকৃতি ব্যক্তির সঙ্গে খর্বাকৃতি ব্যক্তির দ্রুত চালনায় আঘাতের পর আঘাত প্রয়ােগ প্রতিযােগিতা হইলে, সময়ে সময়ে খৰ্ব্বকৃতি ব্যক্তির এক দ্বারা প্রতিপক্ষে প্রমাদ গ্রস্ত করিতে পারিলেই তাহার লক্ষে শূন্যে উঠিয়া, “অভিযান স্থিতির” ভঙ্গী ঠিক রাখিয়া ছিদ্র ও দুর্বলতা প্রকট হইয়া পড়ে। ও প্রতিপক্ষের অসি ও শৃঙ্গকে প্রতিহত করিতে স্থির ১৯। কৌশল-ক্রমে প্রতিপক্ষের দক্ষিণ ও বাম লক্ষ্য রাখিয়া, তীব্র গতিতে তাহার অতি সন্নিকটে হস্তকে তাহার দক্ষিণ ও বাম পার্শ্বে অপসারিত করাইয়া, ঝাঁপাইয়া পড়িতে হয়। ১৮।
( ৬০ ) ২৫। প্রতিপক্ষ লক্ষ সহযােগে অগ্রসর হওয়ার স্থান আছে, যাহাতে সামান্য আঘাত করিতে পারিলেই উপক্ৰম করিলে “হুলের” প্রয়ােগ করিতে হয় ; অথবা, অপেক্ষাকৃত আশু ও অধিক ফল পাওয়া যায়, সেই হেতুই তৎকালে শরীর অবনত করিয়া “অবনমন” সহযােগে মর্মস্থল সম্পর্কেও সাধারণ জ্ঞান থাকা নিতান্তই অগ্রসর হইতে হইতে অগ্রবিন্দু পাদ্দিকে করিয়া অসি আবশ্যক। মস্তকের উপরে ধারণ করিয়া, অসিমুখ (ধারের অংশ ) মৰ্ম্মস্থলগুলি সম্পূর্ণ জ্ঞাত থাকিলেই প্রকৃত সংঘর্বকালে দ্বারা “চির” প্রয়ােগ করিতে পারিলে, কিম্বা প্রতিপক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বীর উপযুক্ত “ছিদ্র” সন্ধান সম্বন্ধে এবং আত্মছিদ্র পায়ে আঘাত করিতে পারিলেও সুফল পাওয়া পারিলেও সুফল পাওয়া সংগােপন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে যথেষ্ট সাহায্য হইয়া থাকে । যায়। তাই নিম্নে সুতানুমােদিত কতিপয় মৰ্ম্মস্থলের উল্লেখ ২৬। চক্ষু আক্রান্ত হইলেই প্রতিকারের সঙ্গে সঙ্গে করা গেল। “অবনমন” সহযােগে তীব্রগতিতে আক্রমণ সহ শত্রুর মাংস, শিরা, স্নায়ু, অস্থি ও সন্ধিদিগের বিশেষ উপরে প্রবল বেগে ধাবিত হওয়ার চেষ্টা দেখিতে হয়। বিশেষ সন্নিপাত ও সংযােগস্থল মারাত্মকত্ব হেতু “মৰ্ম্ম” ২৭। দক্ষিণ হস্তের “হুল’, “আনী” প্রভৃতির নামে অভিহিত হয়। ঐ সকল স্থানে স্বভাবতই বিশেষ আক্রমণের প্রতিকার কল্পে সাধারণতঃ “অবনমন ভাবে চেতনা ও প্রাণ সমূহ নিবদ্ধ থাকে, সেই হেতুই সহযােগে নিজ বাম পার্শ্বে শরীর অপসারিত করাইয়া মৰ্ম্মসমূহ আত হইলে বিভিন্নরূপে প্রাণসঙ্কট উপস্থিত প্রতিপক্ষের দক্ষিণ পার্শ্ব আক্রমণ করিতে হয়, অথবা “হাতকাটির” প্রয়ােগ করিতে হয় । যে শক্তিদ্বারা দেহাভ্যন্তরস্থিত সমস্ত কার্য নির্বাহ বাম হস্ত সম্বন্ধেও তদনুরূপ,—কেবল, পূর্ব বর্ণনা হয়, এবং যাহা দ্বারা দেহােৎপাদক সামগ্রী সমূহ বিভাগ মধ্যে “বাম” হস্তে দক্ষিণ ও দক্ষিণ” স্থলে “বাম” পূৰ্ব্বক ভিন্ন ভিন্ন আকারে যথা যােগ্য স্থানে উপনীত হয়, ধরিয়া লইলেই হইবে। তাহাই “বায়ু”। মৰ্ম্মে, অভিহত হইলে এই শক্তির ২৮। সুযােগানুসারে শৃঙ্গ দ্বারা ও মর্মস্থল সমুহে বিপর্যয় ঘটিয়া থাকে। তাই মৰ্ম্মে ক্ষত হইলে বায়ু আঘাত করিতে হয়। প্রবৃদ্ধ হওয়াতে মৰ্ম্মবিদ্ধ ব্যক্তির সর্বশরীর বেদনাভিভূত বৃদ্ধাঙ্গুলীর দিকের শৃঙ্গের বিন্দু দ্বারা “হুল”, “আনী” হইয়া প্রলয় প্রাপ্ত হয়, অর্থাৎ শরীর যন্ত্রসকল বিকল হইয়া প্রভৃতির অনুরূপে আঘাত করিতে হয়, এবং কনিষ্ঠাঙ্গুলীর যায়, এবং তাহার সংজ্ঞাও বিনষ্ট হয়। দিকের বিন্দু দ্বারা “ছুরীর” ( বঁাকের) অনুরূপ আঘাতের শরীরের সাধারণতঃ একশত সাতটি মৰ্ম্ম আছে ; প্রয়ােগ করিতে হয় । তন্মধ্যে হস্ত পদাশ্ৰিত মৰ্ম্ম অপেক্ষা স্কন্ধাশ্ৰিত মৰ্ম্ম সকল বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ—প্রকৃত সংঘর্ষকালে পূৰ্বোল্লিখিত গুরুতর, কারণ, হস্ত পদাশ্ৰিত মৰ্ম্ম স্কন্ধাশিত মৰ্ম্মেরই নিয়ম প্রণালী ও সতর্কতা গুলির বিচার করিবার অবসর আশ্রিত; আবার স্কন্ধাশ্ৰিত মৰ্ম্মাপেক্ষা হৃদয়, বস্তি ও পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু শিক্ষাভ্যাস কালে ঐ সমস্ত সতর্কতা শিয়ােগত মৰ্ম্ম সমূহ প্রধান ; কারণ ইহারাই শরীরের প্রভৃতি আয়ত্ত করিয়া রাখিতে, পারিলে প্রকৃত সংঘর্ষ মূল। কালে পূর্ব শিক্ষা, অভ্যাস ও সংস্কারের সমষ্টিভূত প্রভাব মর্মসকল সাধারণতঃ পাঁচ প্রকার ভেদে বিভক্ত, আপনা হইতেই প্রতিভাত হইয়া কাৰ্যসিদ্ধি সম্বন্ধে যথা : সাহায্য করিয়া থাকে। তবে ' জয়লাভ সাধারণতঃ শ্রেষ্ঠ ১। সদ্যপ্রাণহর ; যাহারা বিদ্ধ হইলে' সদ্য ব্যক্তিরই আত্তয়াধীন। (সপ্ত রাত্রি মধ্যে ) প্রাণনাশ হয়। মৰ্ম্মস্থল ২। কালান্তর-প্রাণহর ; যাহারা আহত হইলে শরীরের মধ্যে “মৰ্ম্মস্থল” নামক এমন কতকগুলি এক পক্ষ বা এক মাস মধ্যে প্রাণ-নাশ হয়। ০ ; (৬১) ৩। বৈকল্যকর ; যাহারা আহত হইলে অঙ্গের [ রস, রক্ত, মাংস, মেদঃ, অস্থি, মজ্জা এবং শুক্র, এই বিকলতা সম্পাদন করে। সাতটী স্বয়ং অবস্থিত থাকিয়া মনুষ্যগণের দেহকে ধারণ ৪। রুজাকর; যাহারা আহত হইলে তীব্র করে ;-এই কারণেই, এই কয়টির নাম ধাতু; বায়ু, পিত্ত যাতনা উদ্ভূত হয়, কফ এই তিনটিকেও পণ্ডিতগণ ধাতু বলিয়াছেন,যে ৫। বিশৈল্যষ্ম; যাহা হইতে শাস্ত্র দ্বারা, কিম্বা হেতু ইহারাও শরীরকে ধারণ করে। মৰ্মে অভিহত বল পূৰ্ব্বক শৈল্য উদ্ধত হইলেই প্রাণ বিনষ্ট হয়। হইলে ধাতু সকলের দেহ-ধারণ-শক্তি অবস্থা বিশেষে বিশৈল্য ও বৈকল্যকর মর্মসকল অতিশয় আহত বিভিন্ন মাত্রায় লােপ পাইতে থাকে।] হইলেও কদাচিত মৃত্যু ঘটিয়া থাকে। বৈকল্যকর মর্ম অভিহত হইলে সুচিকিৎসকের সাধারণতঃ-সদ্যপ্রাণহর মর্ম সকলের মধ্যে বিদ্ধ না নৈপুণ্যে শরীর ক্রিয়াযুক্ত থাকিলেও বিকলতা প্রাপ্তির হইয়া সমীপে বিদ্ধ হইলে কালান্তরে মৃত্যু ঘটিয়া থাকে । সম্ভাবনা থাকে। আবার, কালান্তর-প্রাণ-হর মর্ম সকল মধ্যে বিদ্ধ না হইয়া রুজাকর মর্ম সকল অভিহত হইলে বিবিধ বেদনা সমীপে বিদ্ধ হইলে বৈকল্য সম্পাদন করে ; রুজাকর মর্ম উপস্থিত হয়, কিন্তু কুবৈদ্য চিকিৎসা করিলে অঙ্গের সকল মধ্যে বিদ্ধ না হইয়া সমীপে বিদ্ধ হইলে অতীব্র বৈকল্যও হইতে পারে। ( অল্প ).বেদনা উৎপাদন করে ; বিশল্যম্ন মৰ্ম্ম সকল মধ্যে সদ্য প্রাণ-ইর-মন্ম—সমুহ বিদ্ধ না হইয়া সমীপে বিদ্ধ হইলে কালান্তরে ক্লেশ ও ১৪। শৃঙ্গাটক মৰ্ম্ম চারিটি :- যে সকল শিরা, শ্রাবণ দর্শন ও আস্বাদন নির্বাহ করে, রুজা উৎপাদন করে। মৰ্ম্মে অভিহত না হইয়া, কোষ্ঠ, শিরকপাল, প্রভৃতি তাহাদের এক এক শ্রেণীর মুখ-সকল মস্তক মধ্যে চারি সংভিন্ন ও জর্জরিত হইলেও, এবং শরীরের নানাস্থান স্থানে সংযুক্ত আছে ; সেই সকল সংযােগ-স্থান “শৃঙ্গাটক” শল্যাহত হইলেও প্রাণ বিনষ্ট হয় না; এমন কি, সমগ্র নামে অভিহিত হয় ; উহাদের কোন একটি ছিন্ন হইলে সদ্যোমৃত্যু হয়। হস্ত, পদ, কর, চরণ নিঃশেষে ছিন্ন হইলেও, (রক্তবাহিনী “উত্তর” ও “দক্ষিণ” উভয় প্রকারের “শির”, “যাণ্ড্য”, শিরা সকল সঙ্কুচিত হওয়া নিবন্ধন, রক্ত নির্গমন পথ বহুল “চক্রিকা” প্রভৃতি এই সমস্ত মৰ্ম্ম ভেদ করিয়া যায়। পরিমাণে অবরুদ্ধ হওয়াতে অল্পই রক্ত নির্গত হয় বলিয়া) “শৃঙ্গাটক” মৰ্ম্মগুলি সম্পূর্ণ মস্তকের অভ্যন্তরে ছিন্নখ বৃক্ষের ন্যায় মানব, একেবারে মরিয়া যায় না। অবস্থিত ; কিন্তু এরূপ ঘটিতে পারে যে, মস্তকের উপরি কিন্তু ঐ সমস্ত অবয়বাশ্রিত “ক্ষিপ্ৰ”, “তলহৃদয়” প্রভৃতি যে কোনও স্থানে যে কোনও আঘাত সংক্রামিত হইয়া, মৰ্ম্ম আহত হইলে, প্রভূত রক্ত নির্গত হইতে থাকে বলিয়া - উপরিস্থিত চৰ্ম্ম কিম্বা অস্থি অভগ্ন অবস্থায় থাকিলেও, রক্ত ক্ষয় হেতু বায়ু কুপিত হওয়াতে অত্যন্ত পীড়া উৎপাদন অভ্যন্তরস্থ মৰ্ম্মগুলি ছিন্ন করিয়া ফেলিবে। “ত্রিহর” ও করে এবং শাহত ছিন্নমূল বৃক্ষের ন্যায় মানব প্রাণ “চাকির” আঘাতেও এরূপ ঘটিতে পারে। তাই মস্তক হারাইয়া থাকে। অতি সুদক্ষ চিকিৎসকগণই কেবল কোন রক্ষা হেতু সুশিক্ষা সৰ্বরূপেই বিধেয় ও কল্যাণকর। কোন স্থলে ঐরূপ অবস্থায় সুফল দেখাইতে পারেন। “মস্তিষ্ক চিত্রে” ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ সংখ্যার দ্বারা সদ্যপ্রাণহর মর্ম অভিহত হইলে রূপরসাদি ইন্দ্রিয় চারিটি “শৃঙ্গাটক” মৰ্ম্মের স্থান প্রদর্শিত হইয়াছে। বিষয়ে জ্ঞাননাশ, মন ও বুদ্ধির বিপৰ্যয় এবং নানাপ্রকার ৫। অধিপতি মৰ্ম্ম একটি :- তীব্র বেদনা উপস্থিত হয়। মস্তকের অভ্যন্তরে শিরা সকলের সন্ধিস্থলে—যাহার কালান্তর-প্রাণহর মৰ্ম্ম অভিহত হইলে নিশ্চয়ই মানব উপরিভাগে বাহলক্ষণ নােমাবর্ত,তথায় অর্ধ-অঙ্গুলী গণের ধাতুক্ষয় হয়, এবং ধাতুক্ষয় হেতু নানারূপ বেদনা পরিমিত “অধিপতি” নামক একটি সন্ধি-মৰ্ম আছে ; ইহা উপস্থিত হইয়া মানবের প্রাণনাশ হয়। আহত হইলে সদ্যোমৃত্যু হয়।
“শির”, “যাণ্ড্য” প্রভৃতি এই মৰ্ম্ম ভেদ করিয়া যায় 2017° ৬, ৭। শ ম দুইটি :- ললাটের উভয় পার্শ্বে, কর্ণ ও ললাটের মধ্যে জাপুচ্ছ- দ্বয়ের প্রান্তের উপরি সার্ধ এক অঙ্গুলী প্রমাণ “শঙ্খ” নামক দুইটি অস্থি মৰ্ম্ম অবস্থিত, উহারা বিদ্ধ হইলে সদ্যোমৃত্যু হয়। “হির” দক্ষিণ “শঙ্খ”, এবং চাকি বাম “শঙ্খ” ভেদ করিয়া যায়। কঙ্কালের, সম্মুখ চিত্রে ৬ষ্ঠ সংখ্যা দ্বারা একটি ‘শঙ্খ” মৰ্ম্মের স্থান প্রদর্শিত হইয়াছে ; এতদনুরূপে অপর পার্শ্বে (৭ম সংখ্যায়) অপর একটি “শঙ্খ” মৰ্ম্মের স্থান বুঝিয়া লইতে হইবে। ৮-১৫। কণ্ঠশিরা মৰ্ম্ম বা শিমাতৃকা আটটি :- গ্রীবার এক এক পার্শ্বে চতুরঙ্গুল পরিমিতি চারি চারিটি “কণ্ঠশিরা” বা “শিমাতৃকা” নামক আটটি শিরা- মৰ্ম্ম আছে। উহারা বিদ্ধ হইলে সদ্যোমৃত্যু হয়। “যবেগা দক্ষিণের প্রয়ােগে দক্ষিণ দিকস্থ এবং “যবেগ-উত্তরের প্রয়ােগে বাম-দিকস্থ এই সকল মর্ম ছিন্ন হইয়া যায়। “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে*৮, ৯, ১০, ও ১১ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ পার্শ্বস্থ চারিটি কণ্ঠ শিরার স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে। অঙ্কিত স্কুল শিরা দুইটির (নীলা ও মন্যার) পশ্চাতে এই শিরাগুলি অব- হিত। এতদনুরূপে গ্রীবার অপর । গর্শ্বে ও ১২ হইতে ১৫ সংখ্যা পর্যন্ত অপর চারিটি “শিরা মাতৃকার” স্থান বুঝিয়া লইতে হইবে। t মস্তিষ্ক চিত্র মস্তকাস্থি চিত্রে ৫ম সংখ্যা দ্বারা “অধিপতি” মৰ্ম্মের স্থান প্রদর্শিত হইয়াছে। ১৬। হৃদয় মর্থ একটী : বক্ষের অভ্যন্তরে স্তনদ্বয়ের মধ্যস্থল, হৃদয় নামে অভিহিত। উহার অধােভাগে ( বাম বক্ষের অভ্যন্তরে) আমাশয়ের দ্বার ইহা সত্ত্ব, রজ ও তমােগুণের অধিষ্ঠান; তথায় কমলমুকুলাকার অধােমুখে এবং চতুরঙ্গুল-পরিমিত (অঙ্গুষ্ঠ-প্রমাণ) “হৃদয়” নামক শিরা-মৰ্ম অবস্থিত। ঐ স্থানের স্পন্দন বাহিকতও অনুভূত হয়। ইহা একাছি চিত্র ১৪ (৬৩) ‘মেচ্ছা,” “মন, আনী, “কল্প উত্তর” “উগ্রা উত্তর, এবং অবস্থা বিশেষে “অংসহুল উত্তরের প্রয়ােগেও “হৃদয়মৰ্ম” অভিহত হইয়া থাকে। “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ১৬ সংখ্যা দ্বারা হৃদয় মৰ্ম্মের” স্থান প্রদর্শিত হইয়াছে। ১৭। নাভিম একটী :- পঞ্চাশয় ও আমাশয়ের মধ্যেশ্চতুরঙ্গুল পরিমিত শিরা- প্ৰভব “নাভি-মৰ্ম” অবস্থিত। ইহা বিদ্ধ হইলে সদ্যোমৃত্যু = GARROT ৪৯ •৭ ৭১. ৪০ ৫২ ১৭: “চির,” “হুল,” “উদর,” “যাণ্ড্য” “যাণ্ড্য উত্তর প্রভৃতির প্রয়ােগে “নাভি-মৰ্ম্ম” ছিন্ন কিম্বা বিদ্ধ হয়। “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ১৭ সংখ্যা দ্বারা “নাভি- মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে। ১৮। বস্তিময় একটা কটি-পার্শ্ব-দ্বয় হইতে, নাভি ও পৃষ্ঠ হইতে, বক্ষণ (কুস্কি) দ্বয় হইতে এবং গুহ ও শিশ্ন হইতে সম দুরত্বে মূত্রাশয় অবস্থিত ; উহার অপােদেশে একটি মুখ আছে, তথায়। অল্প-মাংস-শােণিত-বিশিষ্ট চতুরঙ্গুল-পরিমিত “বস্তি” নামক স্নায়ু মৰ্ম্ম অবস্থিত। ইহা বিদ্ধ হইলে সদ্যোমৃত্যু হয় ; কিন্তু উভয় দিক ভেদ না হইলে অশ্মরী বােগহেতু ক্ষতে মৃত্যু হয় না; একদিকে ক্ষত হইলে তাহা দ্বার। মূত্রসার হইয়া থাকে এবং যত্ন পূৰ্ব্বক সুচিকিৎ- সিত হইলে ক্ষত বদ্ধ হইয়া যায়। “কটিঘাত,“ভাণ্ডার ঘাত,” “যাণ্ড্য,” “যাণ্ড্য উত্তর,” “চির” প্রভৃতির প্রয়ােগে “বস্তি” মৰ্ম্ম ছিন্ন হইয়া থাকে। “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ১৮ সংখ্যা দ্বারা “বস্তি” মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে। ১৯। পায়ু মৰ্ম্ম একটি :- স্থূলান্ত্রের (উদৱস্থিত প্রধান নাড়ীর) শেষ ভাগে নিবদ্ধ, বায়ু ও পুরীষের নিঃসারক, চতুরঙ্গুল-পরিমিত “পায়ু” নামক মাংস-মৰ্ম্ম অবস্থিত ; ইহা বিদ্ধ হইলে সদ্যো- মৃত্যু হয়। [ “চির,” “কটিঘাত,” “ভাণ্ডার-ঘাত,” “যাণ্ড্য, “যাণ্ড্য-উত্তর” প্রভৃতির প্রয়ােগে “পায়ু’ৰ্ম্ম ছিন্ন হইয়া যায়।] 7 কাল (সম্মুখ চিত্র। বিদ্ধ হইলে অতি অল্পকাল মধ্যেই (অৰ্দ্ধদণ্ডকাল মধ্যেই ) মৃত্যু ঘটিয়া থাকে।
( ৬৪ ) “কঙ্কালের পৃষ্ঠ চিত্রে” ১৯ সংখ্যা দ্বারা “পায়ু-মন্মের কালান্তর-প্রাণহর-মৰ্ম্ম-সমুহ স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে। ২০-২৪। সীমান্ত-মন্ত্র পাঁচটি - মস্তকাস্থির যে পাঁচটি সন্ধি আছে, তাহা “সীমন্ত-মৰ্ম” নামে অভিহিত। উহারা প্রত্যেকটি চারি অঙ্গুলী পরিমিত। উহাদের কোনও একটি অভিহত হইলে উন্মাদ, ভয় বা চিত্তনাশ হইয়া কালান্তরে মৃত্যু ঘটিয়া থাকে। “শির,” “চক্রিকা,” “শির দক্ষিণ,” “যাণ্ড্যউত্তর,” “চক্রিকা দক্ষিণ” প্রভৃতির প্রয়ােগে এই ৩৪ সমস্ত মৰ্ম্ম পৃথক পৃথক আহত হয়। “মস্তকাস্থি চিত্রে” ২০ সংখ্যা দ্বারা “মধ্য” ও এক পার্শ্বের “পুরঃ” ও “” “সীমন্তের” স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; প্রদর্শিত পাশ্ব-সীমন্ত দ্বয়ের অনুরূপে অপর পার্শ্বে ও অপর দুইটি “সীমন্তের” স্থান বুঝিয়া লইতে t-dnএসব ৭৬ “যাণ্ড্য, ৪০: হইবে । ৭৭ ৬৭ ২৫-২৬। অপলাপ মৰ্ম্ম দুইটি :- অংসকূট দুয়ের (স্কন্ধ-সীমান্তের উচ্চ অংশ-দ্বয়ের!) নিম্নে এবং পাশ্বদ্বয়ের উপরিভাগে অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত “অপলাপ” নামক এক একটি শিরা মৰ্ম্ম অবস্থিত। উহারা অভিহত হইলে রক্ত পূয-ভাব প্রাপ্ত হইয়া কালান্তরে মৃত্যু ঘটাইয়া থাকে। “মােড়ার” প্রয়ােগে দঙ্গিণ “অপলাপ” ও “মােড়া- উত্তরের প্রয়ােগে বাম “অপলাপ” অভিহত থাকে। “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ২৫ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ “অপলাপের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে বাম পার্শ্বেও২৬ সংখ্যা কল্পনা করিয়া বাম ‘অপলাপের” স্থান বুঝিয়া লইতে হইবে। ৬৪ =ে ২৭-২৮। অপস্তম্ভ ম দুইটি :- বক্ষের উভয় পার্শ্বে অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত রাতবহা “অপস্তম্ভ” নামক দুইটি শিরা-মৰ্ম্ম অবস্থিত। উহারা অভিহিত হইলে কোষ্ঠ, বায়ুপূর্ণ হইয়া শ্বাস কাসে কালান্তরে প্রাণ হরণ করে। ৮, ৯। “উগ্ৰাদক্ষিণ”ও “কম্পদক্ষিণের প্রয়ােগে দক্ষিণ, এবং কঙ্কাল পৃষ্ঠ চিত্র - ( ৬৫ ) “উগ্রাউত্তর” ও “কল্পউত্তরের প্রয়ােগে বাম “অপস্তম্ভ” অবস্থিত। ইহারা বিদ্ধ হইলে অধিক রক্তস্রাব হেতু বিদ্ধ হইয়া থাকে। রক্তক্ষয় জনিত উপদ্রব সমুহ উপস্থিত হইয়া কালান্তরে “কঙ্কালের পৃষ্ঠ-চিত্রে” ২৮ সংখ্যা সংযুক্ত রেখার মৃত্যু ঘটাইয়া থাকে। ১৪, ১৫। মধ্য পথে, পৃষ্ঠাস্থির অভ্যন্তরে, বাম “অপস্তম্ভ” মর্শের “অংসহুল উত্তর”, “পৃষ্ঠ-উত্তর” “শির দক্ষিণ স্থান বুঝিয়া লইতে হইবে। এতদনুরূপে দক্ষিণ পার্শ্বেও প্রভৃতির প্রয়ােগে বাম “বৃহতী”, এবং “অংসল দক্ষিণ, ২৭ সংখ্যা কল্পনা করিয়া অপর “অপস্তম্ভ” মৰ্ম্মের “পৃষ্ঠ দক্ষিণ” “শির” প্রভৃতির প্রয়ােগে দক্ষিণ “বৃহতী” স্থান বুঝিয়া লইতে হইবে। মৰ্ম্ম অভিহত হইয়া থাকে। ২৯, ৩০। স্তন রােহিত মৰ্ম্ম দুইটি :- কঙ্কালের পৃষ্ঠ চিত্রে” ৩৪ সংখ্যা সংযুক্ত রেখার উপরে প্রত্যেক স্তন-চুচুকের দুই অঙ্গুলি উর্ধে অর্ধাঙ্গুল (শেষ সীমার ঈষৎ বামে), বাম “বৃহতী” মৰ্ম্মের স্থান পরিমিত “শুনরােহিত” নামক এক একটি মাংস-মৰ্ম্ম বুঝিতে হইবে। তদনুরূপে অপর পার্শ্বে ৩৩ সংখ্যা কল্পনা অবস্থিত। উহারা অভিহত হইলে কোষ্ঠ রক্ত-পূৰ্ণ করিয়া দক্ষিণ “বৃহতী” মৰ্ম্মের স্থানও বুঝিয়া লইতে হইয়া, কাশ ও শ্বাসে কালান্তরে মৃত্যু ঘটাইয়া থাকে। হইবে । ১০, ১১ | ৩৫, ৩৬। পার্শ্বসন্ধিম দুইটি :- “মােড়া”ও উগ্রা দক্ষিণের প্রয়ােগে দক্ষিণ, এবং জঘনদ্বয় ও পার্শ্বদ্বয়ের মধ্যে প্রতিবদ্ধ এবং জঘন-পার্শ্ব- “মােড়া উত্তর” ও “উগ্রা উত্তরের প্রয়ােগে বাম স্তন দ্বয়ের মধ্যে তির্য্যগ-ভাবে উৰ্দ্ধদিকে জঘনকে আশ্রয় করিয়া রােহিত” মৰ্ম্ম ছিন্ন কিম্বা বিদ্ধ হইয়া থাকে। অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত “পার্শ্বসন্ধী” নামক দুইটি শিরা মৰ্ম্ম “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ২৯ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ “স্তন অবস্থিত। ইহারা বিদ্ধ হইলে কোষ্ঠ রক্তপূর্ণ হওয়াতে বােহিতের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে কালান্তরে মৃত্যু ঘটিয়া থাকে। ঘটিয়া থাকে। ১৬, ১৭। ৩০ সংখ্যা কল্পনা করিয়া অপর পার্শ্বে বাম “স্তন রােহিতের “কটিঘাতের প্রয়ােগে দক্ষিণ পার্শ্বসন্ধি” এবং স্থানও বুঝিয়া লইতে হইবে। “ভাণ্ডার ঘাতের” প্রয়ােগ বাম “পার্শ্বসন্ধি অভিহত ৩১, ৩২। স্তনমূল মন্ম দুইটি :- হইতে পারে। প্রত্যেক স্তনের নিম্নে দুই অঙ্গুলী পরিমিত “স্তনমূল” “কঙ্কালের পৃষ্ঠ-চিত্রে” ৩৫ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ পার্শ্ব- নামক এক একটি শিরা-মৰ্ম্ম অবস্থিত। উহারা অভিহত সন্ধির” স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে ৩৬ হইলে কোষ্ঠ কফে পূর্ণ হইয়া কাস ও শ্বাসে কালান্তরে সংখ্যা কল্পনা করিয়া অপর পার্শ্বে বাম “পার্শ্বসন্ধির” স্থানও মৃত্যু ঘটাইয়া থাকে। ১২, ১৩। বুঝিয়া লইতে হইবে। “মােড়া”, “মন”, ও “কল্প উত্তরের প্রয়ােগে বাম ৩৭, ৩৮। কটীক-তরুণ ম দুইটি। “স্তনমূল”, এবং “মােড়া উত্তর”, “দে” ও “কল্প দক্ষিণের ত্ৰিকৃ-সন্ধি-স্থানের (পৃষ্ঠ বংশের নিম্নাংশের) উভয় প্রয়ােগে দক্ষিণ-“স্তনমূল” ছিন্ন কিম্বা বিদ্ধ হইয়া যায়। পার্শ্বে শ্রোণীকাণ্ডদ্বয়ের অর্ধাঙ্গুল পরিমিত “কটীক-তরুণ” “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ৩২ সংখ্যা দ্বারা বাম স্তন নামক দুইটি কালান্তর-প্রাণ-হর অস্থি-মৰ্ম্ম অবস্থিত। মূলের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে ৩১ সংখ্যা ইহারা অভিহত হইলে রােগী পাণ্ডু, বিবর্ণ ও হীনরূপ হইয়া কল্পনা, করিয়া দক্ষিণ পার্শ্বের “স্তনমূলের” স্থানও বুঝিয়া কালান্তরে প্রাণ হারাইয়া থাকে। ১৮, ১৯। লইতে হইবে। অবস্থা বিশেষে “কটিঘাত”, “ভাণ্ডারঘাত” যাণ্ড্য” ৩৩, ৩৪ 1 বৃহতী মৰ্ম্ম দুইটি “যাণ্ড্য উত্তর” প্রভৃতির প্রয়ােগে এই মৰ্ম্ম দুইটি অভিহত “শুনমুলের” সহিত সমসূত্রে-স্থিত পৃষ্ঠ-দণ্ডের উভয় হইতে পারে। পার্শ্বে অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত “বৃহতী নামক দুইটি শিরামর্শ কঙ্কালের পৃষ্ঠ-চিত্রে ৩৮ সংখ্যা দ্বারা বাম ‘কটীক 2 :
( ৬৬ ) তরুণের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; তদনুরূপে অপর পার্শ্বে ৩৭ সংখ্যা কল্পনা করিয়া দক্ষিণ “কটীক তরুণের স্থানও বুঝিয়া লইতে হইবে। ৫৩ ৩৯, ৪০। নিতম্ব মন্ম দুইটি :- শ্রোণীকাণ্ডের উপরি উভয় পার্শ্ব মধ্যে প্রতিবদ্ধ ৪১ মলাশয়াচ্ছাদক অৰ্দ্ধাঙ্গুল-পরিমিত “নিতম্ব” নামক দুইটি অস্থিমৰ্ম্ম অবস্থিত। উহারা বিদ্ধ হইলে অধঃ শরীরে শুষ্কতা ও দৌর্বল্য হওয়াতে কালান্তরে মৃত্যু ঘটিয়া থাকে। ৪৫ * * * ২, ২১ ৷৷ ১৫১ “কটিঘাতের” প্রয়ােগে দক্ষিণ “নিতম্ব” মৰ্ম্ম এবং “ভাণ্ডার-ঘাতের” প্রয়ােগে বাম “নিতম্ব” মৰ্ম্ম ছিন্ন হইতে পারে। “কালের পৃষ্ঠ-চিত্রে” ৪০ সংখ্যা—সংযুক্ত রেখার শেষ প্রান্তের ঈষৎ বামে বাম “নিতম্ব” মৰ্ম্মের স্থান বুঝিতে হইবে; তদনুরূপে অপর পার্শ্বে ৩৯ সংখ্যা কল্পনা করিয়া দক্ষিণ “নিতম্ব” মৰ্ম্মের স্থানও বুঝিয়া লইতে হইবে। U) - হস্ত-চিত্র 7 ২২-২৫ ॥ --- ৪১-৪৪। ক্ষিপ্রম চারিটি :- বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী এই উভয়ের মূলদেশের নিম্নভাগের মধ্যস্থলে অর্ধ-অঙ্গুলী পরিমিত “ক্ষিপ্র” নামক শিরা-মৰ্ম্ম অবস্থিত। এইরূপ অপর হস্তে একটি এবং পদদ্বয়ে দুইটি “ক্ষিপ্ৰমৰ্ম্ম আছে। ইহারা বিদ্ধ হইলে কালান্তরে প্রাণ বিয়ােগ হইয়া থাকে। “ক্ষিপ্ৰমৰ্ম্ম অভিহত হইলে কদাচিৎ সদ্যোমৃত্যুও ঘটিয়া থাকে। “কোঠের” প্রয়ােগে হস্তের “ক্ষিপ্ৰ মৰ্ম্ম অভিহত হইতে পারে। “হস্তচিত্রে” ৪১. সংখ্যা দ্বারা এক হস্তের “ক্ষিপ্ৰ” মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে এতদনুরূপে ৪২ সংখ্যা কল্পনা করিয়া অপর হস্তের “ক্ষিপ্ৰ মৰ্ম্মের স্থানও বুঝিয়া লইতে হইবে। “পদচিত্রে” ৪৩ সংখ্যা সংযুক্ত রেখার মধ্যভাগে এক পদের“ক্ষিপ্ৰমৰ্ম্মের স্থান বুঝিতে হইবে; তদনুরূপে ৪৪ সংখ্যা কল্পনা করিয়া অপর পদের “ক্ষিপ্ৰ মৰ্ম্মের স্থানও বুঝিয়া লইতে হইবে। ৪৭ ৪৩ পাদ-চিত্র ১৪। ( ৬৭ ) ৪৫–৪৮। তলমর্শ চারিটি :- বৈকল্যকর মর্ম সমুহ মধ্যমাঙ্গুলীর সমসূত্রপাতে হন্ততলের মধ্যস্থলে অর্ধাঙ্গুল ৫৩-৫৬। কুৰ্চমৰ্ম্ম চারিটি :- পরিমিত “তল” (তলহৃদয়) নামক মাংসমৰ্ম্ম অবস্থিত। উভয় পদের “ক্ষিপ্ৰ” মৰ্ম্মের তিন অঙ্গুলী উর্ধে, পাদ এইরূপ অপর হস্তে একটি এবং দুই পাদে দুইটি “তলমর্ম” তলের দিকে এবং পাদোপরি দিকে, উভয় ভাগেই চতুরঙ্গুল আছে। ইহারা অভিহত হইলে যাতনা সহ কালান্তরে পরিমিত পরিমিত “…” নামক এক একটি বৈকল্যকর স্নায়ুমৰ্ম্ম মৃত্যু ঘটিয়া থাকে। অবস্থিত। এইরূপ উভয় হস্তের ক্ষিপ্ৰমৰ্ম্মের দুই অঙ্গুলী “চতুষ্কার” প্রয়োগে হস্তস্থিত এবং “প্রপাদ”, “অৰ্দ্ধ- উর্জে এক একটি “কু…” মৰ্ম্ম অবস্থিত। ইহারা অভিহত পদ”, “অধস্তল”, “পদতল” প্রভৃতির প্রয়ােগে পাদস্থিত হইলে পাদ অথবা হস্ত ঘুরিয়া যায় এবং কাপিতে থাকে। “তলমর্ম” ছিন্ন হইয়া থাকে। ‘হস্তচিত্রে” ৪৫ সংখ্যা দ্বারা এক হস্তের এবং “পাদ “চ”, “কুচ্চাধঃ” প্রভৃতির প্রয়ােগে পদস্থিত এবং চিত্রে” ৪৭ সংখ্যা দ্বারা একপদের “তলমৰ্ম্মের” শুনি “মণিবন্ধের প্রয়ােগে হস্তস্থিত “কুচ্চমৰ্ম্ম” অভিহত হইতে নির্দেশ করা হইয়াছে। এতদনুরূপে ৪৬ সংখ্যা কল্পনা পারে। করিয়া অপর হস্তের, এবং ৪৮ সংখ্যা কল্পনা করিয়া হস্তচিত্রে” ৫৩ সংখ্যা দ্বারা এক হস্তের এবং “পাদ- অপর পদের “তলমৰ্ম্মের” স্থানও বুঝিয়া হইতে হইবে। চিত্রে” ৫৫ সংখ্যা দ্বারা এক পাদের “কূর্চ মৰ্ম্মের” স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে। এত দরূপে ৫৪ সংখ্যা কল্পনা ৪৯-৫২। ইন্দ্রবও মর্থ চারিটি :- করিয়া অপর হস্তের এবং ৫৫ সংখ্যা কল্পনা করিয়া অপর প্রকোষ্ঠের ( মণিবন্ধ ও কফোণির (কনুইর) মধ্যস্থ পাদের “কূর্চ মৰ্ম্মের স্থানও বুঝিয়া লইতে হইবে। বাহু ভাগের ] মধ্যদেশে করতলের দিকে উভয় হস্তে এক একটি করিয়া অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত “ইন্দ্রবন্তি” নামক ৫৭ ৫৮। জানুমৰ্ম্ম দুইটি :- মাংসমর্ম অবস্থিত। এইরূপ পারি (পদের পশ্চাকিস্থ উভয় জঘ ও উরুর সন্ধিস্থলে তিন অঙ্গুলী পরিমিত সর্বনিম্ন অংশের) দিকে ত্রয়ােদশ অঙ্গুলীর মধ্যে অবস্থিত “জানু” নামক এক একটি বৈকল্যকর সন্ধিমৰ্ম্ম অবস্থিত। জঘামধ্যে দুই অঙ্গুলী পরিমিত এক একটি করিয়া, উভয় ইহারা অভিহত হইলে খঞ্জত হয়। পদে দুইটি “ইন্দ্র বস্তি” মৰ্ম্ম আছে। ইহারা অভিহত “দ্বিগড়” এবং “চাপ নির” প্রয়ােগে “জানু মৰ্ম্ম” হইলে শোণিতক্ষয় হইয়া কালান্তরে মৃত্যু ঘটিয়া থাকে। অভিহত হয়। “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ৫৮ সংখ্যা দ্বারা এক পদের “হাতকাটি” ও “শৃঙ্গবাহীর” প্রয়ােগে পরস্পর পৃথক “জানু মৰ্ম্মের” স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে পৃথক দক্ষিণ ও বাম হস্তের এবং “চাপ নি”, “দ্বিগড়, ৫৭ সংখ্যা কল্পনা করিয়া অপর পদের “জানু মৰ্ম্মের “জঘা” ও “পিণ্ডির” প্রয়ােগে পদের “ইন্দ্ৰবস্তি” মৰ্ম্ম স্থানও বুঝিয়া লইতে হইবে। অভিহত হইতে পারে। ৫৯, ৬০। কুপমৰ্ম্ম দুইটি :- “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ৪৯ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ হস্তের উভয় প্রকোষ্ঠ এবং প্রগণ্ডের সন্ধিস্থলে, অর্থাৎ এবং কঙ্কালের পৃষ্ঠ চিত্রে” ৫২ সংখ্যা দ্বারা বাম পদের কফোণিদ্বয়ে (কনুইয়ে), একাল-পরিমিত “কূৰ্পর” নামে “ইবস্তি” মমর স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে এক একটি বৈকল্যকর সন্ধিৰ্ম অবস্থিত। ইহার ৫০ সংখ্যা কল্পনা করিয়া বাম হন্তের এবং ৫১ সংখ্যা কল্পনা অভিহত হইলে সঙ্কুচিত বাহু-মধ্য (কুণি, মুলো) হইয়া করিয়া দক্ষিণ পদের “ইন্দ্ৰবস্তি” মর্যের হন বুঝিয়া লইতে থাকে। ৭, ৮ | অবস্থা বিশেষে “হাতকাটি” ও “ভর্জার প্রয়ােগে } হইবে।
৬১-~~৬৪ ১৭-২০ | ৭ দক্ষিণ, এবং “শৃঙ্গবাহী” ও “ভুজের” প্রয়ােগে বাম “ভুজের” প্রয়ােগে বাম হস্তের “উৰ্ব্বী” মৰ্ম্ম, অভিহত হইতে “কৃর্পর মর্ম” অভিহত হইতে পারে। পারে। “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ৬০ সংখ্যা দ্বারা বাম হস্তের “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ৬৫ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ হস্তের “কূৰ্পর” মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে এবং ৬৭ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ পদের “উব্বী মৰ্ম্মের” স্থান ৫৯ সংখ্যা কল্পনা করিয়া দক্ষিণ হস্তের কূৰ্পর মৰ্ম্মের স্থানও নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে ৬৬ সংখ্যা কল্পনা বুঝিয়া লইতে হইবে। করিয়া বাম হস্তের এবং ৬৮ সংখ্যা কল্পনা করিয়া বাম আনিম চারিটি :- পদের “উব্বী মৰ্ম্মের” স্থান বুঝিয়া লইতে হইবে। জানুর তিন অঙ্গুলী উর্ধে, উপরিভাগে ও নিম্ন ভাগে ৬৯-৭২। লােহিতাক্ষ মৰ্ম্ম চারিটি :- অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত “আনি” নামক বৈকল্যকর স্নায়ুমৰ্ম্ম উব্বী মৰ্ম্মের” উর্জে ও বক্ষণ-সন্ধির (কুস্কির ) অবস্থিত। নিম্নে উরুমূলে একাল-পরিমিত ; “লােহিতাক্ষ এইরূপ উভয় বাহুতে ও কফোণির উর্দ্ধে এক একটি নামক দুইটি শিরা মৰ্ম্ম আছে। এইরূপ হস্তদ্বয়ের করিয়া “আনি” মৰ্ম্ম আছে। ইহার অভিহত হইলে মূলভাগে, ও কক্ষপুট সন্ধির নিম্নে দুইটি “লােহি- তাক্ষ” মৰ্ম্ম আছে। ইহারা অভিহত হইলে রক্ত- শশাথের অতিবৃদ্ধি এবং সথির (সমগ্র পদের ), অথবা ক্ষয়দ্বারা পক্ষাঘাত এবং উরুদেশের অথবা বাহুর অবসন্নতা হন্তের স্তব্ধতা হয়। হয়। অবস্থা বিশেষে ‘সাকম”, “দ্বিগড়”, “চাপ নি” অবস্থা বিশেষে “অঙ্কের” প্রয়ােগে দক্ষিণ উরুসন্ধির প্রভৃতির প্রয়ােগে পদের, এবং অবস্থা বিশেষে “ভজ্জা” এবং “অঙ্ক উত্তরের প্রয়ােগে বাম উরু সন্ধির,আবার, কিম্বা “ভুজের” প্রয়ােগে হস্তের “আনিমৰ্ম্ম অভিহত কক্ষ দক্ষিণের প্রয়ােগে দক্ষিণ কক্ষ-সন্ধির এবং “কক্ষ- হয়। উত্তরের প্রয়ােগে বাম কক্ষ সন্ধির “লােহিতাক্ষ” মৰ্ম্ম “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ৬২ সংখ্যা দ্বারা বাম হন্তের, অভিহত হইতে পারে। এবং “কঙ্কালের পৃষ্ঠ চিত্রে” ৬৪ সংখ্যা দ্বারা বাম পদের “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ৬৯ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ হস্তের “আনি মৰ্ম্মের” স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে এবং ৭১ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ পদের “লােহিতাক্ষ” মৰ্ম্মের ৬১ সংখ্যা কল্পনা করিয়া দক্ষিণ হস্তের এবং ৬৩ সংখ্যা স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে ৭০ সংখ্যা কল্পনা কল্পনা করিয়া দক্ষিণ পদের “আনি মৰ্ম্মের স্থান বুঝিয়া করিয়া বাম হস্তের এবং ৭২ সংখ্যা কল্পনা করিয়া বাম পদের লইতে হইবে। “লােহিতাক্ষ” মৰ্ম্মের স্থান বুঝিয়া লইতে হইবে। ৬৫-৬৮। উর্বী মন্ম চারিটি :-- ৭৩, ৭৪। বিটপ মৰ্ম্ম দুইটি উরুদ্বয়ের মধ্যে দুইটি এবং প্রগণ্ড [ কফোণি ( কনুই) উভয় বক্ষণ (কুস্কি) ও বৃষণের (অণ্ডকোষের) মধ্যে অবধি কক্ষপুট (বগল ) পৰ্যন্ত বহুভাগ ] দ্বয়ের মধ্যে এক অঙ্গুলী পরিমিত “বিটপ” নামক এক একটি বৈকল্যকর দুইটি,এই চারিটি, (প্রত্যেকটি একাল-পরিমিত), স্নায়ুমৰ্ম্ম অবস্থিত। ইহারা অভিহত হইলে ক্লীবতা অথবা “উর্বী” নামক বৈকল্যকর শিরা-মৰ্ম্ম অবস্থিত। ইহারা অল্প-শুক্রতা হইয়া থাকে। ২১, ২২। অভিহত হইলে সকৃথি ( সমগ্র পদ), অথবা বাহু শুষ্ক হইতে “অঙ্ক”, “কটিঘাত” প্রভৃতির প্রয়ােগে দক্ষিণ, এবং থাকে। “অঙ্ক উত্তর”, “ভাণ্ডারঘাত” প্রভৃতির প্রয়ােগে' বাম “আসর” ও “সাম দক্ষিণের প্রয়ােগে দক্ষিণ পদের “বিটপ” মৰ্ম্ম অভিহত হইতে পারে। এবং “আসর উত্তর” ও “সাম উত্তরের প্রয়ােগে বাম “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ৭৩ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ পদের,আবার “ভজ্জার” প্রয়ােগে দক্ষিণ হস্তের এবং “বিটপ” মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে । - ১৩-১৬।
- - ৩০ || ( ৬৯ ) ৭৪ সংখ্যা কল্পনা করিয়া বাম “বিটপ” মৰ্ম্মের স্থানও বুঝিয়া “মােড়া উত্তর” ও “পৃষ্ঠ উত্তরের প্রয়ােগে বাম “অংস লইতে হইবে। ফল-মৰ্ম” অভিহত হইয়া থাকে। ৭৫-৭৬। কক্ষধর মর্ম দুইটি “কঙ্কালের-পৃষ্ঠ-চিত্রে ৮০ সংখ্যা দ্বারা বাম পার্শ্বের উভয় কক্ষা (বগল) এবং বক্ষের মধ্যস্থলে এক অঙ্গুলী “অংসফলক”-মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; পরিমিত “কক্ষধর” নামক এক একটি বৈকল্যকর স্নায়ু এতদনুরূপে ৭৯ সংখ্যা কল্পনা করিয়া দক্ষিণ “অংসফলক- মৰ্ম্ম অবহিত। ইহারা অভিহত হইলে পক্ষাঘাত পক্ষাঘাত মৰ্ম্মের স্থানও বুঝিয়া লইতে হইবে। হইয়া থাকে। ২৩, ২৪। ৮১, ৮২। অংস মৰ্ম্ম দুইটি :- অবস্থা বিশেষে “মােড়া” ও “কক্ষদক্ষিণের প্রয়ােগে বাহুশীর্ষ ও গ্রীবার মধ্যে (স্কন্ধদ্বয়ে) অৰ্দ্ধাঙ্গুল-পরিমিত দক্ষিণ “কক্ষধর’, এবং “মােড়াউত্তর” ও “কক্ষউত্তরের” “অংস” নামক বৈকল্যকর দুইটি স্নায়ুমৰ্ম্ম অবস্থিত। প্রয়ােগে বাম “কক্ষ ধর” মৰ্ম্ম অভিহত হইতে পারে। উহারা বিদ্ধ হইলে বাহুস্তম্ভ অর্থাৎ বাহুদ্বয়ের ক্রিয়ালােপ “কঙ্কালের পৃষ্ঠ চিত্রে” ৭৬ সংখ্যা দ্বারা বাম “কক্ষধর” হয়। ২৯, মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে ৭৫ “অংসহুল দক্ষিণ” ও “হীনায়নের প্রয়ােগে দক্ষিণ, সংখ্যা কল্পনা করিয়া দক্ষিণ ‘কক্ষধর”-মৰ্ম্মের স্থানও এবং “অংসহুল উত্তর” ও গ্রীবাণের প্রয়ােগে বাম “অংস বুঝিয়া লইতে হইবে। মর্ম” অভিহত হইতে পারে। ৭৭, ৭৮। ককুর মর্ম দুইটি :- “কঙ্কালের পৃষ্ঠ চিত্রে ৮১ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ “অংস বাম ও দক্ষিণ পার্শ্বে, জঘনের বহির্ভাগে অর্থাৎ পৃষ্ঠ মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে ৮২ বংশের উভয় পার্শ্বে কটির পশ্চাৎ ভাগের নিম্নদেশে সংখ্যা কল্পনা করিয়া বাম “অসমৰ্ম্মের” স্থান বুঝিয়া লইতে অর্ধাঙ্গুল পরিমিত ঈষন্নিাকার (গর্ভাকৃতি) “ককুন্দর” হইবে। নামক বৈকল্যকর দুইটি সন্ধি-মৰ্ম্ম অবস্থিত। ইহারা ৮৩-৮৬। নীলা ময় দুইটি, ও মামৰ্ম্ম দুইটি :- অভিহত হইলে শরীরের অধােভাগে স্পর্শ শক্তি-হানি কণ্ঠনালীর উভয় পার্শ্বে দুই অঙ্গুলি পরিমিত চারিটি এবং কর্মচেষ্টা লােপ হইয়া থাকে। ২৫, ২৬। ধমনী আছে; তন্মধ্যে এক এক পার্শ্বে এক “নীলা” ও অবস্থাবিশেষ “অঙ্ক, দক্ষিণ” ও “কটিঘাতের” প্রয়ােগে এক এক “মা”; উহারা বৈকল্যকর শিরা মৰ্ম্ম। ইহারা দক্ষিণ, এবং “অঙ্ক, উত্তর” ও “ভাণ্ডার ঘাতের” প্রয়ােগে অভিহত হইলে মূকতা; স্বরবৈকৃতি এবং রসজ্ঞানের বাম“ককুর মর্ম” ছিন্ন হইতে পারে। অভাব জন্মিয়া থাকে। ৩১-৩৪। “কঙ্কালের পৃষ্ঠচিত্রে” ৭৭ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ “ককুন্দর “অন্তর”, “কণ্ঠ দক্ষিণ”, “যবেগা দক্ষিণ” প্রভৃতির মৰ্ম্মের” স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে; এতদনুরূপে ৭৮ প্রয়ােগে দক্ষিণ পার্শ্বস্থ এবং “অন্তর উত্তর”, “কণ্ঠ উত্তর, সংখ্যা কল্পনা করিয়া বাম “ককুন্দর মৰ্ম্মের স্থানও “যবেগা উত্তর” প্রভৃতির প্রয়ােগে বাম পার্শ্বস্থ “নীলামন্যা বুঝিয়া লইতে হইবে। মম্ম” অভিহত হইতে পারে। ৭৯-৮০। অংসফলক মৰ্ম্ম দুইটি :- “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে ৮৩ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ পৃষ্ঠের উপরিভাগে পৃষ্ঠবংশের উভয় দিকে “ত্রিক”, গলপার্শ্বে, এবং ৪৬ সংখ্যাদ্বারা বাম গলপার্শ্বে যে চারিটি সম্বন্ধ অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত “অংসফলক” নামক বৈকল্যকর ধমনী নির্দেশ করা হইয়াছে, তন্মধ্যে কৃষ্ণরেখায় অঙ্কিত দুইটি অস্থিমৰ্ম্ম অবস্থিত। (গ্রীবা এবং অংসদ্বয়ের ধমনী দুইটি “নীলা” এবং অপর দুইটি ধমনী “মা”; সংযােগস্থল অর্থে “ত্রিক”)। উহারা অভিহত হইলে “নীলা” নীল বর্ণের এবং “মা” লাল বর্ণের হইয়া থাকে। হস্তদ্বয় নিস্পন্দ অথবা শুষ্ক হইয়া থাকে। ২৭, ২৮। দক্ষিণ গলপার্শ্বে ৮৫ সংখ্যা এবং বাম গলপার্শ্বে ৮৬ সংখ্যা “মােড়া” ও “পৃষ্ঠ দক্ষিণের প্রয়ােগে দক্ষিণ এবং কল্পনা করিয়া লইতে হইবে।
৫৫ ৫৫ ৪৪। ( ৬০ ) ৮৭, ৮৮. ফল-মৰ্ম্ম দুইটি :- পরিমিত “অপাঙ্গ” নামক বৈকল্যকর দুইটি শিরামর্শ ঘ্রাণমার্গের উভয় পার্শ্বে, অভ্যন্তর বিবরদ্বারের সহিত অবস্থিত। ইহারা অভিহত হইলে অন্ধতা বা দৃষ্টিনাশ সম্বদ্ধ অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত “ফণ” নামক বৈকল্যকর দুইটি হইয়া থাকে। ৪১, ৪২ | শিরামৰ্ম্ম অবস্থিত। ইহারা অভিহত হইলে ঘ্রাণশক্তি “জকুটি দক্ষিণ” ও “ত্রিহরের প্রয়ােগে দক্ষিণ, এবং নষ্ট হইয়া থাকে। ৩৫, “কুটি উত্তর” ও “চাকির” প্রয়ােগ বাম অপাঙ্গ “উত্তর ও দক্ষিণ সংজক উভয় প্রকারেরই “কুটি”, মৰ্ম্ম অভিহত হইতে পারে । “চক্রিকা”, “যাণ্ড্য”, এবং “ত্রিহর”,“চাকি” প্রভৃতির “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ৯৪ সংখ্যা দ্বারা বাম “অপাঙ্গ প্রয়ােগে “ফণমৰ্ম” অভিহত হইতে পারে। মৰ্ম্মের” স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে ৯৩ “মস্তকাস্থি চিত্রে” ৮৮ সংখ্যা দ্বারা বাম “ফণ-মন্মের সংখ্যা কল্পনা করিয়া দক্ষিণ “অপাঙ্গ মৰ্ম্মের” স্থানও স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে; এতদনুরূপে ৮৭ সংখ্যা কল্পনা বুঝিয়া লইতে হইবে । করিয়া দক্ষিণ ফণ-মৰ্ম্মের স্থানও বুঝিয়া লইতে হইবে। ৮৯-৯০। বিধুর মর্ম দুইটিঃ- ৯৫, ৯৬। আবর্ত মৰ্ম্ম দুইটি :- কর্ণদ্বয়ের পশ্চাদ্দিকের নিম্নে অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত উভয় র উদ্ধদেশের নিম্নাংশে অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত ঈষন্নিম্নাকৃতি “বিধুর” নামক দুইটি বৈকল্যকর স্নায়ুমৰ্ম্ম “আবর্ত”-নামক বৈকল্যকর এক একটি সন্ধিমৰ্ম্ম অবস্থিত। অবস্থিত। উহারা বিদ্ধ হইলে বধিরতা হইয়া থাকে। ইহারা বিদ্ধ হইলে অন্ধতা বা দৃষ্টির ব্যাঘাত হইয়া থাকে। ৪৩, “তামেচার প্রয়ােগে বাম, এবং বাহেরার প্রয়ােগে দক্ষিণ “বিধুর”-মৰ্ম্ম অভিহত হইয়া থাকে। ৩৭, ৩৮ | “কুটি দক্ষিণ” এবং “কুটা উত্তরের প্রয়ােগে এই “মস্তকাস্থি চিত্রে ৯০ সংখ্যার দ্বারা বাম “বিধুর মর্ম দুইটি অভিহত হইয়া থাকে। মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে। এতদনুরূপে ৮৯ “মস্তিষ্ক-চিত্রে” এই দুইটি মৰ্ম্ম সম্পর্কিত শিরাসমূহের সংখ্যা কল্পনা করিয়া দক্ষিণ “বিধুর মৰ্ম্মের স্থানও মস্তকাভ্যন্তরস্থ সংযােগস্থল ৯৫ ও ১৬ সংখ্যা দ্বারা নির্দেশ বুঝিয়া লইতে হইবে। করা হইয়াছে। ৯১, ৯২। ককটিকা মৰ্ম্ম দুইটি :- রুজাকর ( কষ্টদায়ক ও পীড়াকর) মর্মসমূহ মস্তক এবং গ্রীবার দুইটি সন্ধিতে অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত ৯৭, ৯৮। গুলফ মৰ্ম্ম দুইটি “কাটিকা” নামক দুইটি বৈকল্যকর সন্ধিমৰ্ম্ম অবস্থিত। পদের ঘুণ্টিকাদ্বয়ে, (গুটিকাবৎ উন্নত অংশদ্বয়ে) পাদ উহারা অভিহত হইলে চলমূদ্ধতা (শিরঃ কম্পন) হইয়া ও জঘার সন্ধিস্থলে দুই অঙ্গুলী পরিমিত “গুল”-নামক থাকে। ৩৯, ৪০ | দুইটি পীড়াকর সন্ধিমৰ্ম্ম অবস্থিত। ইহারা অভিহত অবস্থাবিশেষে “ঘাটিকাদক্ষিণ” এবং “ঘটিকাউত্তরের হইলে অত্যন্ত যাতনা হইয়া থাকে এবং কখন কখন স্তব্ধ- প্রয়ােগে দক্ষিণ কিম্বা বাম “ককাটিকামৰ্ম” অভিহত পাতা, এমন কি খঞ্জতাও হইতে পারে। ১, ২। হইতে পারে। “কঙ্কালের পৃষ্ঠ চিত্রে” ৯২ সংখ্যা দ্বারা বাম “কাটিকা “পালট”, “কড়ক”, “চ”, “গুলাধঃ”, “কুচ্চাধঃ” মৰ্ম্মের” স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনুরূপে ৯১ প্রভৃতির প্রয়ােগে “গুলফ মৰ্ম” অভিহত হইয়া থাকে। সংখ্যা কল্পনা করিয়া দক্ষিণ “কাটিকা মৰ্ম্মের” স্থানও কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে ৯৭ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ “গুলফ- বুঝিয়া লইতে হইবে। মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে; এতদনুরূপে ৯৮ ৯৩, ৯৪। পাল ময় দুইটি :- সংখ্যা কল্পনা করিয়া বাম গুলফ মৰ্ম্মের স্থানও বুঝিয়া জ্ব পুচ্ছাস্তদ্বয়ের নিয়ে, চক্ষুর বহির্ভাগে, অর্ধাঙ্গুল- লইতে হইবে।
*:- { * ( ৭১ ) ৯, ১০০। মণিবন্ধ মৰ্শ দুইটি :- স্নায়ু-মৰ্ম্ম অবস্থিত। উহারা শল্যাভিহত হইলে, যতক্ষণ উভয় করপল্লব ও প্রকোষ্ঠের [ কফোনি (কনুই) হইতে শল্য উদ্ধত না হয় ততক্ষণ রােগী জীবিত থাকে; ক্ষত মণিবন্ধ পর্যন্ত বাহুভাগের ] সন্ধিস্থলে দুই অঙ্গুলী পরিমিত পাকিয়া শল্য পতিত হইলেও রােগী জীবিত থাকে । কিন্তু এক একটি পীড়াকর সন্ধিমৰ্ম্ম অবস্থিত। ইহারা অভিহত শস্ত্রাদি দ্বারা, কি বলপূর্বক শল্য উদ্ধৃত হইলে রােগীর হইলে অত্যন্ত যাতনা হয় এবং কখন কখন হস্তের স্তব্ধতাও মৃত্যু ঘটিয়া থাকে। ১, ২। হইতে পারে। ৩, ৪। *ত্রিহর” ও “চক্রিকা দক্ষিণের প্রয়ােগে দক্ষিণ, এবং “মণিবন্ধ অধঃ”, “মণিবন্ধ উৰ্দ্ধ”, “মণিবন্ধ পৃষ্ঠ”, ও “চাকি” ও “চক্রিকা উত্তরের প্রয়ােগে বাম “উৎক্ষেপ “মণিবন্ধ পুরঃ” প্রভৃতির প্রয়ােগে দক্ষিণ “মণিবন্ধ মৰ্ম্ম” মৰ্ম” অভিহত হইতে পারে। অভিহত হইয়া থাকে ; বাম হস্তেও অনুরূপ আঘাত “কঙ্কালের সম্মুখ-চিত্রে” ১০৫ সংখ্যা দ্বারা “উৎক্ষেপ- প্রয়ােগে বাম “মণিবন্ধ মৰ্ম” অভিহত হইতে পারে। মর্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে; এতদনুরূপে বা “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ১০০ সংখ্যা দ্বারা বাম “উৎক্ষেপ”-মন্মের স্থানও বুঝিয়া লইতে হইবে। “মণিবন্ধ” মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে। এতদনুরূপে ১০৭। দ্বাপনী মৰ্ম্ম একটি :- ৯৯ সংখ্যা কল্পনা করিয়া দক্ষিণ “মণিবন্ধু” মৰ্ম্মের স্থানও হৃদয়ের মধ্যে অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত “স্থাপনী”-নামক বুঝিয়া লইতে হইবে। একটি বিশল্য শিরা-মৰ্ম্ম অবস্থিত। উহা বিদ্ধ হইলে ১০১, ১০৪। কুৰ্চ-শিরা মৰ্ম্ম চারিটি :- পূর্বোক্ত “উৎক্ষেপ-মৰ্ম্ম-বিদ্ধের ন্যায় ফল হইয়া গুলফসন্ধির (পদসন্ধির) অধােভাগে উভয় পাশ্বে থাকে। ৩। প্রত্যেক পাদে এক এক অঙ্গুলী পরিমিত এক একটি “কুটি দক্ষিণ” “জকুটি .উত্তর”, “যাণ্ড-দক্ষিণ” ও “কূৰ্চ্চশিৰা মৰ্ম্ম অবস্থিত । ‘যাণ্ড্য উত্তরের প্রয়ােগে “স্থাপনী”-মৰ্ম্ম অভিহত হইয়া এতদনুরূপে মণিবন্ধের অধােভাগে উভয় পাশে প্রত্যেক হস্তেও এক একটি থাকে। “কুচঁশিরা মৰ্ম্ম আছে। ইহারা অভিহত হইলে শােথ “কঙ্কালের সম্মুখ চিত্রে” ১০৭ সংখ্যা দ্বারা “স্থাপনী”- ও যাতনা হইয়া থাকে। ৫-৮ | মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে। “প্রপাদ”, “অর্ধপাদ” প্রভৃতির প্রয়ােগে পাদের এবং মর্মস্থল সম্পর্কে যে সমস্ত সাঙ্কেতিক আঘাতের উল্লেখ “চতুফ” প্রভৃতির প্রয়ােগে হন্তের কূৰ্চ্চশিরা” মৰ্ম্ম করা হইল, তাহা সমস্তই অসির আঘাত বুঝিতে হইবে। অভিহত হইতে পারে। লাঠির আঘাতে “শৃঙ্গাটক” প্রভৃতি কতিপয় সংখ্যক “হস্তচিত্রে” ১০১ সংখ্যা দ্বারা ও “কঙ্কালের সম্মুখ ব্যতিরেকে কোন মৰ্ম্মস্থলই ছিন্ন হইতে পারে না; তবে চিত্রে” ১০২ সংখ্যা দ্বারা হস্তের “কুচঁশিরা” (মৰ্ম্মের, অবস্থা বিশেষে “অধিপতি”, “শঙ্খ”, “বিধুর”, “ফণ,” এবং “পদচিত্রে” ১০৩ সংখ্যা দ্বারা দক্ষিণ পাদের “হৃদয়” প্রভৃতি কতিপয় মৰ্ম্ম আংশিকভাবে অভিহত ‘কুচঁশিরা-মৰ্ম্মের স্থান নির্দেশ করা হইয়াছে ; এতদনু- হইতে পারে মাত্র। পদচালনা (পাতাড়ি) রূপে অপর হস্তের ও অপর পদের “কুচঁশিরা-মৰ্ম্মের” ‘গহ্বর” ও “নির্ঘাত শিক্ষার সঙ্গে-সঙ্গেই শিক্ষকগণ স্থানও বুঝিয়া লইতে হইবে। বিভিন্ন পদ্ধতির ‘পদচালনা” শিক্ষা দিবেন। লিখিত বিশল্যয় মর্মসমুহ ভাষা দ্বারা পদচালনার বর্ণনা অত্যন্ত জটিল হইয়া পড়ে ; ১০৫, ১০৬। উৎক্ষেপ মৰ্ম্ম দুইটি : প্রত্যক্ষ দৃষ্টান্তসহ উপদেশ-সাহায্যই পদচালনা শিক্ষা শঙ্খদ্বয়ের (ললাট পার্শ্ব অস্থিদ্বয়ের) উপরিভাগে কেশ- করিতে হয়। নিম্নে সামান্যমাত্র প্রাথমিক স্বাভাস লিখিত প্রান্তে অর্ধাঙ্গুল-পরিমিত “উৎক্ষেপ’-নামক দুইটি বিশল্য হইল। * :
হয় ; ( ৭২ ) “পদচালনা” প্রথম শিক্ষা-কালে প্রতিপক্ষের সঙ্গে নিজ পদচালনা দ্বারা প্রতিপক্ষের সন্নিহিত হইতে হইলে ব্যবধানকে ব্যাস ধরিয়া একটি বৃত্ত কল্পনা করিয়া লইয়া, পূর্ব-বর্ণিত বৃত্তের ব্যাস ক্রমশঃই হ্রস্ব করিবার চেষ্টা করিতে এই বৃত্তের পরিধি-ক্রমেই চলিতে হইবে। অর্থাৎ পদবিক্ষেপগুলি সাধারণ প্রণালী অপেক্ষা “পদচালনা”-কালে অর্থাৎ প্রতিপক্ষের, বাম পার্শ্বের প্রতিপক্ষের অধিক সন্নিকটবর্তী করিয়া ফেলিতে হয়। দক্ষিণে যাইতে হইলে, “হাতকাটির প্রতিকারের প্রতিপক্ষ হইতে দূরে সরিতে হইলে ইহার বিপরীত। ভঙ্গীতে লাঠি ঘুরাইয়া নিজ দক্ষিণ পার্শ্ব সুরক্ষিত রাখতে ক্ষিপ্ৰকারিতাসহ পদচালনা দ্বারা, প্রতিপক্ষ তাহার হইবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই দক্ষিণ পদ তুলিয়া বাম পদের তৎকালীন পদচালনার প্রক্রিয়াগুলি পূর্ণ করিবার পূর্বেই, সম্মুখ দিয়া আনিয়া, ও বাম পদ অতিক্রম করিয়া পূর্ণ তাহার পার্শ্বদেশে আসিয়া পতিত হইতে পারিলেই, * মাত্রায় পদ-বিক্ষেপ করিতে হইবে; তৎপর নিজ বাম- আক্রমণে যথেষ্ট সুযােগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঐরূপ দিকে পূর্ব বর্ণিত পরিধি-লক্ষ্যে পূর্ণ মাত্রায় পদবিক্ষেপ করিতে হইলে, যে পার্শ্বে পতিত হইতে হইবে, সেই করিয়া দক্ষিণ পদের বৃদ্ধাঙ্গুলী দক্ষিণ পাদ-পার্ষির পার্শ্বের পদচালনা-কালে, বর্ণনানুরূপ প্রথম পদবিক্ষেপটি (গােড়ালীর) স্থানে স্থাপিত করিয়া প্রতিপক্ষের মুখামুখী লম্ফ-সহযােগে সম্পন্ন করিতে হয়। প্রতিকার-কল্পে হইয়া বিশুদ্ধভাবে “অভিযান-স্থিতিতে” “ভদ্ৰকান্তি” প্রতিপক্ষকে কখনও বা লম্ফ-সহযােগে কখনও বা অবলম্বন করিয়া দাড়াইতে হইবে। “অবনমন’’-সহযােগে পাদবিক্ষেপ করিয়া আক্রমণকারীর দক্ষিণ পার্শ্বের পদচালনা-কালে, অর্থাৎ প্রতিপক্ষের সম্মুখভাবে মুখামুখী হওয়ার চেষ্টা দেখিতে হয়। বাম পার্শ্বের দিকে যাইতে হইলে, “মােড়া” উত্তরের আক্রমণকালীন, পদচালনা-কালে “নির্ঘাত”-পৰ্যায়ে প্রতিকারের ভঙ্গীতে লাঠি ঘুরাইয়া নিজ বাম পার্শ্ব বর্ণিত সতর্কতা অবলম্বন করিতে হয় বলিয়া পূৰ্ব্ব-বর্ণিত সুরক্ষিত রাখিতে হইবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই বাম পদ তুলিয়া পদচালনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোন-কোনও সময়ে কিঞ্চিৎ দক্ষিণ পদের সম্মুখ দিয়া আনিয়া ও দক্ষিণ পদ অতিক্রম বিভিন্নতা ঘটিয়া থাকে। করিয়া পূর্ণ মাত্রায় পদ-বিক্ষেপ করিতে হইবে; তৎপর পদচালনায় দক্ষতার বিভিন্নতা হেতুও অসিধারিগণের নিজ দক্ষিণ দিকে পূর্ববর্ণিত পরিধি-লক্ষ্যে পূর্ণ মাত্রায় উৎকর্য-সম্পর্কে যথেষ্ট তারতম্য ঘটিয়া থাকে। দক্ষিণ পদ বিক্ষেপ করিয়া উভয় পদের অঙ্গুলিতে ভর করিয়া কিঞ্চিৎ বামাবর্তে ঘুরিয়া, অথবা বাম পদের বিনােদ (বিনােঢ় ) বৃদ্ধাঙ্গুলি ঐ পদের পাষ্ণির স্থলে স্থাপন করিয়া প্রতিপক্ষের এক হস্ত কিম্বা এক হস্ত ছয় অঙ্গুলী-পরিমিত কিঞ্চিৎ মুখামুখী হইয়া ‘অভিযান-স্থিতিতে “ভদ্ৰকান্তি” স্কুল ও দৃঢ় যষ্টি-সহযােগে অসিধারী ব্যক্তির সম্মুখীন অবলম্বন করিয়া দাড়াইতে হইবে। হওয়ার এবং তাহার অসি কাড়িয়া লওয়ার কিম্বা তাহাকে এইরূপ গতি করিবার কালে সৰ্ব্ব সময়েই সতর্ক প্রতিহত করিবার বিভিন্ন কৌশলের নামই “বিনােদ” থাকিতে হইবে, যেন লাঠি কিম্বা অসি নিজ শরীর ও অথবা “বিনেট”। প্রতিপক্ষের মধ্যে থাকিয়া শরীর সুরক্ষিত রাখে । চক্ষু এই পদ্ধতির কৌশল-প্রয়ােগের ফলে আশাতীত সৰ্ব্বদাই প্রতিপক্ষের চক্ষুর উপরে স্থাপিত রাবিতে আকস্মিক সফলতা-দর্শনে গুণগ্রাহীদশকগণের এবং প্রয়ােগকারীরও যথেষ্ট চিত্ত-বিনোেদ হয় বলিয়াই ইহার বাম হস্তে শৃঙ্গ থাকিলে, শৃঙ্গ দ্বারা সর্বদা হস্তদ্বয় নাম “বিনােদ” ( অপভ্রংশে “বিনােট ) হইয়াছে। সুরক্ষিত রাখিবার কল্পনায়, অনুরূপ গতিতে শৃঙ্গ চালনা নিয়ে কতিপয়মাত্ৰ সহজসাধ্য কৌশল বর্ণিত হইল। করিতে হইবে, পদচালনা-কালে বর্ণনা অনুরূপ হস্ত ও শিক্ষার্থীগণ অনুশীলন ও নিদিধ্যাসন দ্বারা স্বকীয় যােগ্যতা পদের চালনায় সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রক্ষা করিতে হইবে। বৃদ্ধি করিয়া লইবেন। হইবে। " ( ৭৩ ) ফুরং, তুড়ৎ ও ঋড়ৎ অর্থাৎ মন, চক্ষু ও শরীর,-এই নিজেকে প্রস্তুত প্ৰস্কৃত হইতে হইবে। যথা দ্বিতীয় তিনটির সমবেত ক্ষিপ্ৰকারিতার প্রভাবেই “বিনােদের” চিত্রে। দক্ষতা-সম্পর্কে উৎকর্ষ জন্মিয়া থাকে। প্রত্যুৎপন্নমতিগণ যখন যেভাবে যেকর্মেই লিপ্ত থাকুন না কেন, সামান্য আভাস প্রাপ্তিমাত্রই তাহারা তৎকালােচিত সতর্কতা-অবলম্বনে সমর্থ হইয়া থাকেন। “বিনােদের” কৌশলগুলি জ্ঞাত থাকিলে প্রয়ােজন-কালে হন্তে উপযুক্ত যষ্টি না থাকিলেও নিকটবর্তী স্থানসমূহ হইতে অনুরূপ কোন পদার্থ সংগ্রহ করিয়া লওয়া একেবারে অসম্ভব হয় না; তথাপিও আত্মরক্ষা-হেতু সর্বদাই কোনও কিছু সঙ্গে রাখা নিতান্ত বিধেয়। “বিনােদ” প্রয়ােগের উপযােগী ক্ষুদ্র বৃষ্টি সঙ্গে রাখা বিশেষ অসুবিধাজনকও নহে। ঐরূপ যষ্টি সঙ্গে আছে, এমতাবস্থায় যদি কোনও ২য় (ক) বিনােদ অসিধারী কিম্বা লাঠিধারী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, তবে হাব-ভাব-ভঙ্গী অবলােকন করিয়া মুহূৰ্ত্ত-মধ্যেই মানসিক নিশ্চয়িত্বিক-শক্তি-প্রভাবে অসিধারী কিম্বা সঠিক ব্যক্তির অভিপ্রায় স্থির করিয়া সঙ্গে-সঙ্গেই সতর্কতা অবলম্বন করিতে হয়। যথা প্রথম চিত্রে :- ২য় (খ) বিনােদ ১ম বিনােদ প্রথম পাঠ “শির” হইতে “তামেচার” অভ্যন্তরে আক্রান্ত হইলে যদি বুঝিতে পারা যায় যে, অসিধারী কিম্বা সলাঠি পদচালনার প্রণালীর অনুরূপে ঈষৎ বামাবর্তে ঘুরিয়া সম্মুখে ব্যক্তি আক্রমণের উপক্রম করিতেছে, তবে সঙ্গে-সঙ্গেই ও বামে পূর্ণ মাত্রায় দক্ষিণ-পদ-বিক্ষেপসহ তুরন্তে অগ্রসর ( ৭৪ ) হইয়া আক্রমণকারীর “মণিবন্ধ অধঃ”তে যষ্টি দ্বারা সবেগে বিনােদ প্রয়ােগকারীর চু-প্রতিকার : প্রহার করিতে হইবে। যথা তৃতীয় চিত্রে :- প্রতিকার-হেতু বিনােদ-প্ৰয়ােগকারী ও তুরন্তে দক্ষিণা- বর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া সম্মুখে বাম পদ-বিক্ষেপ সম্পন্ন করিয়া, ( প্রয়ােজন হইলে লম্ফ-সহযােগে), অসিধারীর দক্ষিণ পার্শ্বে পতিত হইয়া, বাম হস্তে অধিধারীর দক্ষিণ স্কন্ধে সবলে আঘাত করিয়া যষ্টির পশ্চাৎ বিন্দু দ্বারা “শঙ্খ মন্মে” অথবা অন্য কোনও মর্মে আঘাতের উপক্ৰম করিবে। যথা পঞ্চম চিত্রে :- । ৩য় বিনােদ অসিধারীর প্রতিকার :- প্রতিকার-হেতু অসিধারীও সঙ্গে-সঙ্গেই তুরন্তে ঈষৎ দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া সম্মুখে পূর্ণমাত্রায় বাম পদ-বিক্ষেপ করিয়া বিনােদ-প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ পাৰ্থ আক্রমণ করিয়া লাঠি কিম্বা অসি ঘুরাইয়া মস্তক-পৃষ্ঠ আক্রমণের উদ্যোগ দেখিবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই বাম হস্ত দ্বারা বিনােদ-প্রয়ােগ- কারীর দক্ষিণ কফোণিতে (কনুইতে) সবেগে আঘাত করিবার উপক্রম করিবে। যথা চতুর্থ চিত্রে :- ৫ম বিনােদ অসিধারীর পুনঃপ্রতিকার ও নিষ্কৃতি:- অসিধারীও তুরন্তে “অবনমন”-সহযােগে দক্ষিণাবর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া, (প্রয়ােজন হইলে সামান্য লক্ষ-সহযােগ) বামপার্শ্বে পূর্ণমাত্রায় বাম-পদ-বিক্ষেপ সম্পন্ন করিয়া বিনােদ-প্রয়ােগকারীর সম্মুখীন হইবার উপক্রম করিবে। এমতাবস্থায় বিনােদ-প্রয়ােগকারীকেও ঈষৎ দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া অসিধারীর সম্মুখীন হইয়া প্রস্তুত হইতে হইবে, নতুবা তাহার কটী হইতে পাদ পর্যন্ত অরক্ষিত থাকিবে। যথা ষষ্ঠ চিত্রে :- বিশেষ দ্রষ্টব্য :- বিনােদ-সম্পর্কিত সমস্ত পাঠগুলি-সম্বন্ধেই ' স্মরণ রাখিতে হইবে যে, যে-কোনও প্রক্রিয়ার উপক্রমের সঙ্গে- সঙ্গেই প্রতিপক্ষকে ক্ষিপ্ৰকারিতা-সহ তুরন্তে তাহার প্রতিকার অবলম্বন করিতে হইবে। প্রক্রিয়ার বিশুদ্ধতা ৪র্থ বিনােল ( ৭৫ } থাকিলেও ক্ষিপ্ৰকারিতার তারতম্য-অনুসারেই সাধারণত সঙ্গে সঙ্গেই অসিধারীর “মণিবন্ধ অধঃ”তে সবেগে আঘাত জয়-পরাজয় ঘটিয়া থাকে। করিতে হইবে। যথা সপ্তম চিত্রে :- প্রতিকার হেতু ৭ম বিনােদ ; বিনােদ অসিধারীর প্রতিকার :- বর্ণনা-প্রসঙ্গে অসিধারী ও বিনােদপ্রয়ােগকারী উভয়কেই অসিধারী তুরন্তে ঈষৎ দক্ষিণাবর্তে সম-বলশালী, সম-কৌশলী ও সম-ক্ষিপ্রকারী ধরিয়া লওয়া ঘুরিয়া সঙ্গে-সঙ্গেই বাম হস্তদ্বারা বিনােদ প্রয়ােগকারীর হইয়াছে। প্রকৃত ঘটনাকালে বর্ণনারূপ আঘাত প্রয়াে- দক্ষিণ মণিবন্ধ কিম্বা কফোণি (কনুই) আক্রমণ করিবে গাদি অপেক্ষা ভিন্নরূপ আঘাত প্রয়ােগাদিও অবস্থা বিশেষে এবং লাঠি ঘুরাইয়া মস্তক পৃষ্ঠে আঘাত করিবার উপক্রম অধিক কার্যকারী অধিক ফলপ্ৰদায়ী হইতে করিবে। যথা অষ্টম চিত্রে :- পারে। বর্ণিত প্রক্রিয়াগুলি যাহার পর যেটি নির্দিষ্ট হইল, তাহা কেবল শিক্ষা ও অভ্যাসের সুবিধা হেতু মাত্র, কিন্তু প্রকৃত ঘটনা স্থলে কিম্বা আততায়ী-সংঘর্ষ-কালে ঐরূপ ক্রমিক ধারা কদাচ নির্দিষ্ট থাকিতে পারে না; তদবস্থায় যখনই যে প্রক্রিয়াটির সুযােগ ঘটিবে, তখনই তাহার প্রয়ােগ করিতে হইবে; প্রতিকার সম্বন্ধেও ' ঐরূপ। কোনও প্রক্রিয়ার প্রতিকার বিভিন্ন স্থলে ও বিভিন্ন কালে সুযােগ অনুসারে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার প্রতিকার হেতুও প্রযুক্ত হইতে পারে। দ্বিতীয় পাঠ ম (ক) বিনোেদ “মােড়া উত্তর” হইতে “ভাণ্ডার” অভ্যন্তরে আক্রান্ত বিনােদ প্রয়ােগকারীর প্রতি প্রতিকার :- বিনােদ-প্ৰয়ােগকারীও তুরন্তে দক্ষিণাবর্তে অর্ধেক হইলে সামান্য “অবনমন” সহযােগে ঈষৎ বামাবর্তে ঘুরিয়া ঘুরিয়া সঙ্গে সঙ্গেই বাম হন্তে অসিধারীর দক্ষিণ কফোণিতে দক্ষিণ পদ সম্মুখে ও বামে পূর্ণ মাত্রায় বিক্ষেপ করিয়া ( কনুইতে) সবলে আঘাত করিবে এবং যষ্টি আর
( ৭৬ )
মুক্ত করিয়া লাঠি কিম্বা অসি দ্বারা উপযুক্তরূপে আঘাত
করিবার উপক্রম করিবে। যথা দশম চিত্রে -
১ম বিনােদ
৮ম (খ) বিনােদ
‘কুটিতে” অথবা সুযােগানুরূপ যে কোনও মর্মে আঘাত
করিবে। যথা নবম চিত্রে-
বিনােদ-প্রয়ােগকারীর পুনঃ প্রতিকার ও নিষ্কৃতি :
বিনােদ-প্রয়ােগকারীও তুরন্তে বাম পদ ঈষৎ অগ্রসর
করিতে করিতে বাম হস্তদ্বারা অসিধারীর বাম হস্তে সবেগে
আঘাত করিয়া নিজ দক্ষিণ হস্ত মুক্ত করিয়া লইবে
এবং অসিধারীকে “তামেচায়” প্রহারের উদ্যোগ করিবে।
অসিধারীও বিনােদ-প্রয়ােগকারীকে “তামেচা” কিম্বা
“গ্রীবাণ” প্রভৃতিতে আঘাত করিবার উপক্রম করিবে।
তদবস্থায় পরস্পর পরস্পরের আঘাত স্ব স্ব অস্ত্র দ্বারা
প্রতিহত করিয়া উভয়েই নিষ্কৃতি পাইবে। যথা একাদশ
চিত্রে-
৯ম বিনােদ
অসিধারীর পূর্ববর্ণিত প্রতিকারের সঙ্গে-সঙ্গেই
বিনােদ-প্রয়ােগকারী বাম হস্ত দ্বারা অসিধারীর চক্ষু
আক্রমণ করিতে পারিলে আই তাহার সুফল পাওয়া
অধিক সম্ভাবনা থাকে। যথা অষ্টম্ (ক) চিত্রে :-
অসিধারীর পুনঃ প্রতিকার :-
অসিধাৱী ও তুরন্তে দক্ষিণাবর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া বাম
হস্তদ্বারা বিনােদ-প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ কফোনিতে
কনুইতে) সবেগে আঘাত করিবে, এবং নিজ দক্ষিণ হস্ত
১১শ বিলােস
তৃতীয় পাঠ ( + ) অসিধারীর প্রতিকার :- “ভাণ্ডার”, “অঙ্কউত্তর” প্রভৃতিতে আক্রান্ত হইলে অসিধারীও তুরন্তে ঈষং দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া বামপদ ঈষৎ বামাবর্তে ঘুরিয়া দক্ষিণ পদ পূর্ণমাত্রায় সম্মুখে সম্মুখে আনিয়া বামহস্ত দ্বারা বিনােদ-প্রয়ােগকারীর বাম বিক্ষেপ করিয়া যষ্টি নিম্নমুখ রাখিয়া সবেগে অসিধারীর মণিবন্ধে সবলে আঘাত করিবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই অসি দক্ষিণ “মণিবন্ধ অধঃ”তে আঘাত করিতে হইবে। যথা দ্বাদশ চিত্রে :- ঘুরাইয়া বিনােদ প্রয়ােগকারীর মস্তকে প্রহার করিবার উপক্ৰম করিবে। যথা চতুর্দশ চিত্রে -" . চতুর্থ পাঠ ১২শ বিনােদ প্রতিকারাদি ৮ম্ (ক) চিত্র সম্পর্কিত বর্ণনার অনুরূপ | ১৪শ বিনােদ নিষ্কৃতি - “চিরের” আক্রমণে বিনােদ-প্রয়ােগকারী তুরন্তে দক্ষিণ প্রতিকার-হেতু বিনােদ-প্রয়ােগকারী যষ্টির পশ্চাৎ- পদ পূর্ণমাত্রায় অগ্রসর করিয়া যষ্টি দ্বার। অসিধারীর দক্ষিণ বিন্দু দ্বারা অসিধারীর উদরে কিম্বা পার্শ্বে আঘাতের “মণিবন্ধ উৰ্দ্ধতে সবেগে আঘাত করিবে, এবং সঙ্গে- সঙ্গেই বামহন্ত দ্বারা অসিধারীর দক্ষিণ শঙ্খে ও দক্ষিণ উপক্ৰম করিবে; এবং নিষ্কৃতি-হেতু অসিধারীও ঈষৎ কর্ণে সবেগে আঘাত করিবে। যথা ত্রয়ােদশ চিত্রে : বামাবৰ্তে ঘুরিয়া সামান্য লম্ফ-সহযােগে দক্ষিণ পার্শ্বে সরিয়া আসিয়া বিনােদ-প্রয়ােগকারীর সম্মুখীন হইয়া পড়িবে । পঞ্চম পাঠ “হুলের আক্রমণে বিনােদ-প্ৰয়ােগকারী তুরন্তে ঈষৎ বামাবৰ্তে ঘুরিয়া সামান্য লক্ষ-সহযােগে অগ্রসর হইতে- হইতে দক্ষিণ পদ পূর্ণমাত্রায় সম্মুখে অগ্রসর করিয়া অসিধারীর মণিবন্ধে সবেগে আঘাত করিবে। যথা পঞ্চদশ চিত্রে :- অথবা, বিনােদ-প্রয়ােগকারী লক্ষ-সহযােগে দক্ষিণ- বর্তে আর্জেক ঘুরিয়া অসিধারীর দক্ষিণ পার্শ্বে পতিত হইবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই যষ্টি দ্বারা তাহার মণিবন্ধে সবেগে ১৩শ বিনােদ আঘাত করিবে; অবসর পাইলে তৎসঙ্গেই তুরন্তে ৫ম ১০ ( ৮ ) কিংবা ৯ম চিত্র সম্পর্কিত বর্ণনার অনুরূপ প্রক্রিয়ার উপক্ৰম করিবে। ১৬শ বিনােপ = ১৫শ বিনোদ বিনােদ-প্রয়ােগকারীর প্রতি-প্রতিকার : বিনােদ প্রয়ােগকারীও তুরন্তে দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া অসিধারীর দক্ষিণ পাশ্বে পতিত হইয়া বাম হস্ত দ্বারা তাহার কফোণিতে সবেগে আঘাত করিবে, এবং ঘষ্টির পশ্চাৎ বিন্দুদ্বারা বক্ষের যে কোনও মর্মে আঘাতের উপক্ৰম করিবে । যথা সপ্তদশ চিত্রে :- ১৫শ (খ) বিনােদ অসিধারীর প্রতিকার :- ১৭শ বিনােদ প্রতিকার-হেতু অসিধারীও তুরন্তে দক্ষিণাবর্তে অসিধারীর পুনঃপ্রতিকার :- অর্ধেক ঘুরিয়া সঙ্গে-সঙ্গেই অসি ঘুরাইয়া “শির” অসিধারীও তুরন্তে বামহন্তে বিনোদ-প্ৰয়ােগকারীর প্রভৃতিতে আক্রমণের উপক্রম করিবে, এবং বাম হস্ত দক্ষিণ মণিবন্ধে সবেগে আঘাত করিয়া সঙ্গে-সঙ্গেই দক্ষিণ- দ্বারা বিনােদ-প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ কফোণিতে ( কনুইতে) বৰ্ত্তে অর্ধেক ঘুরিয়া, নিজ বাম হস্ত দ্বারা বিনােদ-প্রয়ােগ- সবেগে আঘাত করিবে। যথা যােড়শ চিত্রে :-- কারীর দক্ষিণ মণিবন্ধে সবেগে আঘাত করিয়া, নিজ দক্ষিণ ( হস্ত মুক্ত করিয়া, বিনােদ-প্রয়ােগকারীর প্রতি “শির, “যাণ্ড্য” প্রভৃতি আঘাত প্রয়ােগের উপক্ৰম করিবে, এবং বাম হস্ত দ্বারা বিনােদ-প্রয়ােগকারীর বামহন্তকে প্রতিরােধ করিয়া রাখিবে। যথা অষ্টাদশ চিত্রে - * == ১৯শ (খ) বিনােদ নিষ্কৃতি :- ১৮শ বিনোদ অসিধারীও তুরন্তে বাম হস্ত অপসারিত করিয়া বিনােদ-প্রয়ােকারীর পুনঃপ্রতিকার :- বিনােদ-প্রয়ােগকারীর যষ্টির আঘাত হইতে নিষ্কৃতি লাভ বিনােদ-প্ৰয়ােগকারীও তুরন্তে ঈষৎ বামাবত্তে ঘুরিয়া করিয়া বাম হস্ত দ্বারা বিনােদ-প্রয়ােগকারীর বাম হস্তে সঙ্গে-সঙ্গেই অসিধারীর বাম হস্তের মণিবন্ধে যষ্টি দ্বারা সবেগে আঘাত করিয়া দক্ষিণ হস্ত মুক্ত করিয়া লইবে এবং সবেগে আঘাত করিয়া নিজ বাম হস্ত মুক্ত করিয়া লইবে, প্রতিপক্ষের মস্তকে প্রহারের উপক্রম করিবে ; বিনােদ- এবং বাম হস্ত দ্বারা অসিধারীর দক্ষিণ মণিবন্ধে সবেগে প্রয়ােগকারীও “তামেচায়” প্রহারের উপক্রম করিবে। আঘাত করিবে। যথা উনবিংশ চিত্রে :- যথা বিংশ চিত্রে :--- র B7 ১৯ এ ১৯শ (৩) বিনােদ ২০শ বিনোদ ( • ) তদবস্থায় অসিধারীঈষৎ বামাবর্তে ঘুরিয়া সামান্য লম্ফ- সহযােগে দক্ষিণপার্শ্বে সরিয়া বিনোদ-প্রয়ােগকারী সম্মুখীন হইয়া পড়িবে; নতুবা তাহার বামহন্ত অরক্ষিত থাকা-হেতু পুনরাক্রান্ত হইবে । ষষ্ঠ পাঠ “যা”, “বাহেরা”, “মোড়া” প্রভৃতিতে আক্রান্ত হইলে ঈষৎ বামাবর্তে ঘুরিয়া দক্ষিণ পদ পূর্ণমাত্রায় সম্মুখে বিক্ষেপ করিয়া যষ্টি দ্বারা আক্রমণকারীর দক্ষিণ মণিবন্ধে সবেগে আঘাত করিতে হইবে (অথবা, ঈষৎ “অবনমন”- সহযােগে দক্ষিণ কফোণিতে আঘাত করিতে হইবে)। যথা একবিংশ চিত্রে :- ২২শ বিনােদ প্রতি-প্রতিকার-কল্পে বিনােদ-প্ৰয়ােগকারীও তুরন্তে একাদশ চিত্র-সম্পর্কিত বর্ণনার অনুরূপ প্রক্রিয়া করিবে। সপ্তম পাঠ “মােড়।” হইতে “কটীর অভ্যন্তরে আক্রান্ত হইলে তুরন্তে ঈষৎ বামাবৰ্তে ঘুরিয়া দক্ষিণপদ পূর্ণমাত্রায় সম্মুখে বিক্ষেপ করিয়া যষ্টি নিম্নমুখ রাখিয়া তদ্বারা অসিধারীর দক্ষিণ মণিবন্ধে সবেগে আঘাত করিতে হইবে। যথা ত্রয়ােবিংশ চিত্রে :- ২১শ বিনােদ অসিধারীর প্রতিকার : প্রতিকার-কল্পে অসিধারী তুরন্তে, ( বিনােদ-প্রয়ােগ- কারীর প্রথম প্রচেষ্টার সঙ্গে-সঙ্গেই) অর্ধেক ঘুরিয়া পূর্ণ- মাত্রায় বামপদ সম্মুখে বিক্ষেপ করিয়া বিনােদ-প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ পার্শ্বে পতিত হইয়া বাম হস্তে বিনােদ প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ কফোণিতে (কনুইতে) সবেগে আঘাত করিবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই তাহার মস্তকে কিম্বা বাম পার্শ্বে অসিদ্বারা আঘাতের উপক্রম করিবে। যথা দ্বাবিংশ চিত্রে :- ২৩শ চিত্র অসিধারীর প্রতিকার :- প্রতিকার-কল্পে অসিধারীও তুরন্তে দক্ষিণাবর্তে ( ৬ ) অর্ধেক ঘুরিয়া বাম পদ পূর্ণমাত্রায় সম্মুখে বিক্ষেপ করিয়া বাম হস্তে বিনােদ-প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ কফোণিতে সবেগে আঘাত করিবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই অসি দ্বারা তাহার মস্তকে কিম্বা বাম পার্শ্বে আঘাতের উপক্রম করিবে। যথা চতুর্বিংশ চিত্রে - ২৫শ (ক) বিনােদ ২৪শ বিনােদ বিনােদ-প্রয়ােগকারীর প্রতি-প্রতিকার :- প্রতিকার-কল্পে বিনােদ-প্রয়ােগকারী তুরন্তে ঈষৎ দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া বাম হস্ত দ্বারা অসিধারীর দক্ষিণ কফোণিতে ( কনুইতে) সবেগে আঘাত করিবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই যষ্টি দ্বারা কিম্বা যষ্টির পশ্চাৎ বিন্দু দ্বারা অসিধারীর অণ্ডকোষে কিম্বা বস্তিতে অথবা উদরস্থিত যে কোনও মর্মে আঘাতের উপক্রম করিবে। অব্যাহতির সূচনা-হেতু অসিধারীও তুরন্তে দক্ষিণা বর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া দক্ষিণপদ সম্মুখে ও বামপদ পশ্চাতে বিক্ষেপ করিয়া বাম হস্ত দ্বারা বিনােদ-প্রয়ােগকারীর ২৫শ (খ) বিনােদ দক্ষিণ মণিবন্ধ আক্রমণের উপক্রম করিবে। যথা পঞ্চবিংশ কিম্বা কফোণিতে (কনুইতে) সবেগে আঘাত করিয়া (ক) চিত্রে - ( অবস্থাবিশেষে দক্ষিণাবর্তে কিম্বা বামবর্তে ঘুরিয়া অবস্থাবিশেষে পূৰ্ব্ব-বণিত প্রক্রিয়া নিম্নাঙ্কিত পঞ্চবিংশ বিনােদ-প্রয়ােগকারীর সম্মুখবর্তী হইয়া পড়িবে। (খ) চিত্রের অনুরূপও হইতে পারে। যথা :- নিষ্কৃতি :-- অষ্টম পাঠ নিষ্কৃতি-হেতু অসিধারী পূৰ্ব-বর্ণিত প্রক্রিয়ার উপক্রমের “কটী” হইতে “চাপ নি” অভ্যন্তরে আক্রান্ত হইলেও সঙ্গে-সঙ্গেই তুরন্তে বিনােদ-প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ মণিবন্ধে সপ্তম পাঠের বর্ণনানুরূপে অগ্রসর হইয়া অসিধারীর দক্ষিণ ( ২ ) = মণিবন্ধে যষ্টিদ্বারা সবেগে আঘাত করিতে হইবে। যথা ধারীর দক্ষিণ হস্ত সবলে প্রতিরােধ করিয়া যষ্টির পশ্চাৎ ষড়বিংশ চিত্রে :- বিন্দু দ্বারা অসিধারীর নিম্ন নুর তলদেশে ( চিবুকের পশ্চাতে, “জননে”) সবেগে আঘাত করিবে। যথা অষ্টবিংশ চিত্রে : *, ২৬শ বিনােদ অসিধারীর প্রতিকার :- প্রতিকার-কল্পে অসিধারীও তুরন্তে দক্ষিণ পদ পশ্চাতে আনিয়া ও সঙ্গে-সঙ্গেই ঈষৎ দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া বিনােদ- প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ বাহু আক্রমণ করিয়া নিজ দক্ষিণ বাহু মুক্ত করিয়া লইবে । যথা সপ্তবিংশ চিত্রে :- ২৮শ বিদে অসিধারীর পুনঃ প্রতিকার :- প্রতিকার হেতু বিনােদ প্রয়ােগকারীর পূর্ব বর্ণনানুরূপ প্রক্রিয়ার প্রারম্ভের সঙ্গে-সঙ্গেই অসিধারী তুরন্তে বাম হস্ত দ্বারা বিনােদ-প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ হস্ত-পৃষ্ঠে সবেগে আঘাত করিয়া, বামপদ পাদ্দিকে পূর্ণমাত্রায় বিক্ষেপ করিয়া অসিদ্বারা বিনােদ-প্রয়ােগকারীকে মস্তক প্রভৃতিতে আঘাত করিবার উপক্রম করিবে ; যা ঊনত্রিশ চিত্রে :- k ২৭শ বিনােদ বিনােদ-প্রয়ােগকারীর প্রতি-প্রতিকার - সম্ভবপর হইলে বিনােদ-প্রয়ােগকারীও তুরন্তে বাম হস্ত দ্বারা প্রথমে অসিধারীর দক্ষিণ কফোনিতে (কনুইতে) ও পরে বাম মণিবন্ধে সবলে আঘাত করিয়া নিজ দক্ষিণ হস্ত মুক্ত করিয়া লইবে এবং তুরন্তে বাম হস্ত দ্বারা অসি- ২৯শ বিনােদ নবম পাঠ “পঞ্জর”, নিষ্কৃতি :- দিকেই, বেতস লতার (বেত বৃক্ষের) ন্যায় হেলাইয়া নিষ্কৃতি-হেতু বিনােদ-প্রয়ােগকারী নিজ বামহস্ত দ্বারা যে অঙ্গ-চালনা, তাহারই নাম “বেতসী গতি”। অসিধানীর বাম হস্তে সবেগে আঘাত করিয়া নিজ দক্ষিণ জানু-বিজানু= কোন জানুই ভূমি স্পর্শ করিবে না, হস্ত মুক্ত করিয়া লইবে, এবং ঈষৎ দক্ষিণবর্তে ঘুরিয়া অথচ উভয় বক্ষ (কুস্কি) এবং উভয় জানুই বিভিন্ন প্রতিপক্ষের সম্মুখীন হইয়া পড়িবে । ভঙ্গীতে বক্ৰ থাকিবে,-তদবস্থায় অঙ্গ চালনার নামই ‘জা-বিজানু”। “বিনােদ”-প্ৰয়ােগ-হেতু, “আনী”, “অংসহুল” প্রভৃতির যষ্টির পশ্চাৎ বিন্দু হইতে চারি অঙ্গুলী পরিত্যাগ করিয়াই হস্ততল দ্বারা যষ্টি মুষ্টিবদ্ধ করিয়া আক্রমণে বিনােদ-প্রয়ােগকারী ঈষৎ অবনমন-সহ ধরিতে হয় । “দক্ষিণ বেতসী’তে “জানু-বিজানু” গতিসহ “বিনােদের কৌশল প্রয়ােগ করিতে হইলেই প্রতি- অগ্রসর হইয়া দক্ষিণ পদ সম্মুখে পূর্ণমাত্রায় বিক্ষেপ পক্ষের অতি সন্নিকটবর্তী হইয়া পড়িতে হয়। এত অল্প করিয়া তুরন্তে বাম হস্তদ্বারা অসিধারীর গলদেশ আক্রমণ দূরত্বে ক্ষুদ্র যষ্টির আঘাত যত কাৰ্য্যকারী হয়, অসি কিম্বা করিবে এবং সঙ্গে-সঙ্গেই যষ্টির পশ্চাৎ বিন্দুদ্বারা, অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ-লাঠির আঘাত তত কাৰ্য্যকারী হয় না ; “স্তনমূল”, “স্তনবােহিত” কিম্বা “হৃদয়-মর্মে আঘাত কারণ, তদবস্থায় অসি কিম্বা লাঠির চালনাতেও কিছু করিবে। যথা ত্রিংশ চিত্রে :- বাধা উৎপন্ন হয় এবং তাহাদের দোলন-কেন্দ্রও প্রতি- পক্ষের শরীরের বহির্দেশে আসিয়া পড়ে, সেই হেতুই অধিকাংশ স্থলেই অসি-কৌশল অপেক্ষা “বিনােদ”-কৌশল সমধিক কাৰ্য্যকারী হইয়া থাকে। শ্রেষ্ঠ অসিধারিগণ অসিদ্বারাই “বিনোদের”-কৌশল প্রয়ােগেও সুদক্ষ হইয়া থাকেন, এবং সংঘর্ষ-কালে কদাচ কোন বিষয়েই বিচলিত হন না। যুযুৎসু শুধু হস্তে প্রতিপক্ষের ও আততায়ীর সম্মুখীন হওয়ার, কিম্বা তাহারা অস্ত্র-শস্ত্র সম্পন্ন হইলে,-তাহাদের অস্ত্রশস্ত্র কাড়িয়া লওয়ার এবং তাহাদিগকে প্রতিহত করিবার বিভিন্ন কৌশলের সঙ্কেতক নামই “যুযুৎসু”। ৩শ বিনােদ এই পদ্ধতির কৌশল-শিক্ষার প্রথম ভাগে শিক্ষার্থীগণ প্রতিকার-হেতু অসিধারী তুরন্তে বামহন্ত দ্বারা তাহাদের আগ্রহাতিশয্য-হেতু সুযােগ পাইলেই বিনােদ-প্রয়ােগকারীর বাম মণিবন্ধে সবেগে আঘাত কৌতুহলচ্ছলে ও শিক্ষিত কৌশল প্রয়ােগ করিয়া কপট করিয়া নিজেকে মুক্ত করিয়া লইবে, এবং তুরন্তে দক্ষিণা- যুদ্ধ-কামনার ভাণ দেখাইয়া থাকে বলিয়াই ইহার নাম বর্তে ঘুরিয়া বিনােদ-প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ পার্শ্ব আক্রমণ “যুযুৎসু” হইয়াছে। “যুযুৎসু” অর্থ “যুদ্ধলি”। অসিসম্পর্কে “যুযুৎসুর” যে-যে কৌশল প্রয়ােজ্য নিষ্কৃতি-হেতু বিনােদ-প্রয়ােগকারী তুরন্তে দক্ষিণ- হইতে পারে, কেবলমাত্র তাহা হইতেই সহজসাধ্য পাঠ বর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া অসিধারীর সম্মুখীন হইয়া পড়িবে। নিম্নে বর্ণিত হইল। প্রত্যক্ষ গুরু-উপদেশ, মৌলিকত্ব ও বেতসী= দণ্ডায়মান অবস্থা হইতে ঈষৎ অবনত হইয়া উদ্ভাবনী-শক্তি-প্রভাবে শিক্ষার্থীগণ নিজ-নিজ উৎকর্ষ শরীর দক্ষিণে, বামে, সম্মুখে, কিম্বা পশ্চাতে,যে কোন সাধন করিয়া লইবেন। করিবে।
( 9 ) “ফুরৎ”, “তুড়ৎ”, “ঝুড়ৎ”, অর্থাৎ মন, চক্ষু ও শরীর, এবং তদবস্থায়ই, প্রতিপক্ষ কর্তৃক “হুল”-প্রয়ােগের এই তিনটির সমবেত ক্ষিপ্ৰকারিতা,-এবং “মুদ”, “সুদ” সঙ্গে-সঙ্গেই সতর্কতার সহিত অসির অগ্রবিন্দুর গতির ও “যুদ,—অর্থাৎ মন, বুদ্ধি ও অঙ্গ-চালনার বিশুদ্ধতা ও লক্ষ্য হইতে শরীর বাম পাশ্বে অপত রাখিয়া চক্ষুর স্থৈৰ্য্যের প্রভাবেই যুযুৎসু’র দক্ষতা-সম্পর্কে উৎকর্ষ জন্মিয়া থাকে। এবং “বিনো”-সম্পর্কে সাধারণভাবে যে-যে নিমিষে লক্ষ-প্রদানে “হুল”-প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ পাশ্বে বিষয়ের উল্লেখ করা হইয়াছে, “যুযুৎসু-সম্পর্কেও তাহা অতি সন্নিকটবর্তী হইয়া নিজ দক্ষিণ হস্ত দ্বারা তাহার প্রায় সৰ্বরূপেই প্রযোজ্য। মণিবন্ধ ধরিয়া ফেলিতে হইবে। ধরিবার কালে নিজ প্রথম পাঠ বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ সম্মুখে ও উর্ধদিকে থাকিবে। যথা দ্বিতীয় “হুল”-প্রয়ােগের উপক্রমের সঙ্গে-সঙ্গেই যুযুৎসু-প্ৰয়ােগ- কারী তুরন্তে দক্ষিণাবর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া বাম পদ সম্মুখে চিত্রে :- করিয়া,—অথবা তুরন্তে বামাবর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া সঙ্গে- সঙ্গেই দক্ষিণ পদ সম্মুখে ও ঈষৎ বামে অগ্রসর করাইয়া প্রতিপক্ষের দক্ষিণ পার্শ্বের দিকে লক্ষ প্রদানের উপক্রম করিবে। যথা প্রথম চিত্রে :- I ২য় যুযুৎসু (ক) , , ১ম যুযুৎসু (ক) ১ম যুযুৎসু (খ) ২য় যুযুৎসু (খ) E চিত্রে :- = ( ) পুনঃপুনঃ অভ্যাস দ্বারাই এই কৌশলটির, তথা বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে এই কৌশল তুরন্তে প্রয়ােগ করিতে অন্যান্য কৌশলেরও বিশুদ্ধতা সাধন করিয়া লইতে হয়। পারিলে “হুল” প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ হস্ত সম্পূর্ণ আড়ষ্ট তৎপর “যুযুৎসু-প্ৰয়ােগকারী তুরন্তে দক্ষিণাবর্তে হইয়া পড়িবে; এবং তদবস্থায় তাহার অসি কাড়িয়া লওয়া ঘুরিয়া “হুল”-প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ বাহুর সম্মুখ হইতে কিম্বা তাহাকে বন্দীভাবে চালনা করা সম্পূর্ণই সম্ভব তাহার শরীর ও বাহুর মধ্য দিয়া নিজ বাম হস্ত প্রবেশ হইবে। করাইয়া, নিজ বাম প্রকোষ্ঠের ( অগ্রবাহুর) বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের দক্ষিণাবর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া লক্ষ-প্রদানে প্রতিপক্ষের দক্ষিণ প্রথম চিত্র-সম্পর্কিত বর্ণনার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে দিকের অস্থি পার্শ্বোপরি “হুল” প্রয়ােগকারীর দক্ষিণ পাশ্বে পতিত হইয়া পরে ২য় ও ৩য় চিত্র-সম্পর্কিত কফোনি ( কনুই) স্থাপন করিয়া, দক্ষিণ হস্তদ্বারা তাহার প্রক্রিয়ার অনুসরণও সম্ভবপর হইতে পারে। মণিবন্ধ সবলে নিম্নের দিকে চাপিয়া ধরিবে। যথা তৃতীয় অসিধারীর প্রতিকার ও নিষ্কৃতি । প্রতিকার-কল্পে ‘যুযুৎসু”-প্রয়ােগকারীর প্রক্রিয়ার সঙ্গে- সঙ্গেই অসিধারী তুরন্তে দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া “হুলের” প্রয়ােগ সংহরণ করিয়া যুযুৎসু-প্ৰয়ােগকারীর পৃষ্ঠদেশ আক্রমণ করিবে,—কিম্বা যুযুৎসু-প্ৰয়ােগকারী তৎপূর্বেই বাহু ধরিয়া ফেলিলে, তুরন্তে বাম হস্ত দ্বারা নিম্নে বর্ণিত “ব্যাঘ্র থাবা”-প্রয়ােগে যুযুৎসু-প্রয়ােগকারীর চক্ষু আক্রমণ করিয়া নিজেকে মুক্ত করিয়া লইবে। দ্বিতীয় পাঠ ‘চিরের”-আক্রমণে যুযুৎসু-প্ৰয়ােগকারী তুরন্তে দক্ষিণ পদ সম্মুখের দিকে অগ্রসর করিয়া ঈষৎ লক্ষ-সহযােগে “চির”-প্রয়ােগকারীর অতি সন্নিকটবর্তী হইয়া বাম হস্ত দ্বারা অসিধারীর দক্ষিণ মণিবন্ধে সবেগে আঘাত করিয়া ৩য় যুযুৎসু (ক) ঐ হস্ত অবরােধ করিয়া রাখিবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই দক্ষিণ হস্ত দ্বারা “ব্যাঘ্র থাবার’-প্রয়ােগে তাহার চক্ষু আক্রমণ করিবে। যথা চতুর্থ চিত্রে :- । :::: ৪র্থ যুযুৎসু (ক) ৩য় যুযুৎসু (খ) ( ৬ ) তীব্ৰদৃষ্টিতে আক্রমণকারীর দৃষ্টি-প্রভাব বিহ্বল করিয়া দৃষ্টি-মধ্যদ্বারাই স্বকীয় মনের তেজসহ তাহার মন নিস্তেজ করিয়া দিতে হয়। তবে যাহার প্রভাব অধিক, তাহারই জয়লাভেরও সম্ভাবনা অধিক। তৃতীয় পাঠ “শির”, “তামেচা” প্রভৃতির আক্রমণে যুযুৎসু- প্রয়োগকারী ঈষৎ বামাবৰ্তে ঘুরিয়া তুরন্তে দক্ষিণ পদ অগ্রসর করিয়া অসিধারীর দক্ষিণ পদের দক্ষিণ পার্শ্বে স্থাপন করিবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই বাম হস্তে অসিধারীর মুষ্টির অগ্রভাগ ধরিয়া ফেলিবে, এবং তাহার কফোণি ( কনুই) ধরিবার উপক্রম করিবে। যথা পঞ্চম চিত্রে : ৪র্থ যুযুৎসু (খ) { ব্যাঘ্রথাবা-প্ৰয়ােগের প্রারম্ভে প্রথমতঃ মণিবন্ধ ভঙ্গভাবে ও অঙ্গুলীগুলির অগ্রবিন্দু নিম্নমুখে থাকিবে, এবং বাহু উত্তােলিত করিয়া প্রয়ােগের উপক্রমের সঙ্গে সঙ্গেই মণিবন্ধ হস্ত-পৃষ্ঠের দিকে বক্র হইতে থাকিবে, এবং সমগ্র কর-পল্লব ও অঙ্গুলীগুলি ক্রমে উৰ্দ্ধমুখ হইলে তীব্রগতিতে সমগ্ৰ হস্ত অগ্রসর করিয়া তর্জনী ও অনামিকাঘারা পরস্পরে আততায়ীর দক্ষিণ ও বাম চক্ষুতে গবেগে আঘাত করিতে হইবে ; সঙ্গে-সঙ্গেই মধ্যমা জমধ্যে, এবং হস্ততল নাসিকার অগ্রভাগে পতিত হইবে। বাম হস্ত দ্বারা “ব্যাস্র থাবা”-প্রয়ােগ-হেতু, পূর্ব বর্ণনা- ৫ম যুযু মধ্যে “বাম” স্থলে “দক্ষিণ” ও “দক্ষিণ” স্থলে “বাম” ধরিয়া লইলেই হইবে। তৎপর অপ্রতিহত গতিতে অঙ্গচালনা-সহ তুরন্তে ব্যাঘ্রথাবার প্রতিকার-কল্পে নিজ করতলদ্বারা দক্ষিণ হস্ত উন্ধে ও বাম হস্ত নিম্নের দিকে চালনা করিয়া প্রয়ােগকারীর “মণিবন্ধ পুর”তে সবেগে আঘাত করিয়া অসিধারীর হস্ত সম্পূর্ণ আড়ষ্ট করিয়া ফেলিবে। যথা সঙ্গে-সঙ্গেই ঈষৎ “অবনমন”-সহ অগ্রসর হইয়া পুন- ষষ্ঠ চিত্রে :- রাক্রমণের উপক্রম করিতে হইবে; অথবা, সম্পূর্ণ বামা- বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে এই কৌশল প্রয়ােগ করিতে পারিলে বর্তে ঘুরিয়া পুনরায় প্রতিপক্ষের সম্মুখীন হইয়া আক্রমণ- অসিধারীর হস্ত হইতে অসি স্থলিত হইয়া পড়িবে, এবং সহ অগ্রসর হইতে হইবে। সে নিজেও ভূমিতে পতিত হইবে। “ব্যাঘ্রথাবা” দ্বারা আক্রান্ত হইলে কদাচ চক্ষু মুদ্রিত প্রতিকার-কল্পে অসিধারী তুরন্তে দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া করিতে নাই, কিম্বা মুখ ফিরাইয়া সম্মুখ দৃষ্টি, সতর্কতা ও যুযুৎসু-প্ৰয়ােগকারীর দক্ষিণ পার্শ্বে পতিত হইরে, এবং চিত্ত-হৈৰ্য্যের ব্যাঘাত জন্মাইতে নাই। যতদূর সম্ভব সঙ্গে-সঙ্গেই অসি ঘুরাইয়া মস্তক-পৃষ্ঠ আক্রমণ করিবে।
( ৭ ) ৮৮ দক্ষিণ হস্তের চারিটি অঙ্গুলীর অগ্রভাগ দ্বারা সবলে চাপিয়া ধরিতে হইবে। যথা সপ্তম চিত্রে ৬ষ্ঠ যুযুৎসু (ক) ৭ম যুযুৎসু (ক) ৬ষ্ঠ যুযুৎসু ( খ ) যুযুৎসু-প্ৰয়ােগকারী অসিধারীর হস্ত ধরিয়া ফেলিলে অসিধারী তুরন্তে বাম হস্তে “ব্যাঘ্র থাবা” প্রয়ােগ করিয়া নিজেকে মুক্ত করিয়া লইবে। ৭ম যুযুৎসু (খ) চতুর্থ পাঠ তৎপর তুরন্তে দক্ষিণাবর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া বামপদ “ষাণ্ড্য,” “বাহের” প্রভৃতির আক্রমণে তুরন্তে বাম সম্মুখে ও বামে পূর্ণমাত্রায় বিক্ষেপ করিয়া অসিধারীর হস্তদ্বারা অসিধারীর মুষ্টি-পৃষ্ঠে সবলে চাপিয়া ধরিয়া সঙ্গে দক্ষিণ পার্শ্বে পতিত হইয়া বাম হস্ত বাম গতিতে এবং সঙ্গেই ঈষৎ বামাবৰ্তে ঘুরিয়া দক্ষিণ পদ পূর্ণমাত্রায় সম্মুখে দক্ষিণ হস্ত দক্ষিণ গতিতে সুকৌশলে সবলে চালনা বিক্ষেপ করিয়া অসিধারীর দক্ষিণ প্রগণ্ডস্থ [ স্কন্ধ হইতে করিলেই অসিধারীর হস্ত আড়ষ্ট হইয়া পড়িবে, এবং সে কফোণি (কনুই) পৰ্যন্ত বাহুভাগস্থ ] “উৰ্ব্বী-মৰ্মে ভূমিতে পতনােন্মুখ হইবে। তদবস্থায় উভয় হস্তে তাহার (17 দক্ষিণ মণিবন্ধ বামাবর্তে সবলে মুচড়াইয়া অসি কাড়িয়া লওয়া নিতান্তই সহজসাধ্য হইবে । প্রতিকার-কল্পে প্রক্রিয়ার প্রথমাবস্থাতেই বাম হস্ত দ্বারা যুযুৎসু-প্রয়ােগকারীর মণিবন্ধে সবেগে আঘাত করিয়া নিজ হস্ত মুক্ত করিয়া লইতে হইবে, এবং দক্ষিণাবর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া যুযুৎসু-প্ৰয়ােগকারীর দক্ষিণ পার্শ্বে পতিত হইয়া পুনরাক্রমণের উপক্রম করিতে হইবে। বিলম্ব হইয়া পড়িলে ব্যাঘ্র থাবার প্রয়ােগ দ্বারা নিজেকে মুক্ত করিয়া লইতে হইবে। . পঞ্চম পাঠ ৮ম যুযুৎসু (খ) “মােড়া,” “দে” প্রভৃতির আক্রমণে তুরন্তে ঈষৎ বামাবৰ্তে ঘুরিয়া উভয় হস্ত দ্বারা অসিধারীর মুষ্টি ধরিয়া তৎপর অসিধারীর অসি কাড়িয়া লওয়া নিতান্তই ফেলিতে হইবে, যেন উভয় হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুলী অসিধারীর সহজ হইবে। এই প্রক্রিয়ার ফলে অসিধারীর হস্ত সম্পূর্ণ হস্ত-পৃষ্ঠে পতিত হয় ; এবং বাম হস্ত অসিধারীর বৃদ্ধা- আড়ষ্ট হইয়া যাইবে, এবং সে নিজেও ভূমিতে পতনােন্মুখ স্কুষ্ঠের দিকে ও দক্ষিণ হস্ত তাহার কনিষ্ঠাঙ্গুলীর দিকে হইবে। থাকে ; তৎপর প্রথমতঃ অসিধারীর মুষ্টিকে তাহার কর- প্রতিকার-হেতু অসিধারী তুরন্তে বাম হস্ত দ্বারা তলের দিকে সবলে বক্র করিয়া তুরন্তে তাহার মণিবন্ধকে যুযুৎসু-প্রয়ােগকারীর মণিবন্ধে সবেগে আঘাত করিয়া সবলে বামাবৰ্তে মুচড়াইয়া দিতে হইবে। যথা অষ্টম তাহার চেষ্টা ব্যর্থ করিবে, (প্রয়ােজন হইলে ঈষৎ দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া পড়িবে), এবং লাঠি ঘুরাইয়া যুযুৎসু- প্রয়ােগকারীকে পুনরাক্রমণ করিবে। যথা নবম চিত্রে :- চিত্রে :- । == ৯ম যুযুৎসু বিলম্ব হইয়া পড়িলে অসিধারী তুরন্তে “ব্যাঘ্র থাবার” প্রয়ােগ করিবে। ম যুযুৎসু (ক) (৯ ) অসিধারীর প্রতিকার ব্যর্থ করিতে হইলে যুযুৎসু- প্রয়ােগকারীকে তুরন্তে বামাবর্তে ঘুরিয়া হস্ত-চালনাঘারা অসিধারীর হস্ত-প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদান করিয়া নিজেকে মুক্ত করিয়া পুনঃপ্রতিকার-সহ অসিধারীর সম্মুখীন হইতে হইবে। ষষ্ঠ পাঠ “বাহেরা,” “মােড়া” প্রভৃতি দ্বারা আক্রান্ত হইলে তুরন্তে দক্ষিণ পদ অগ্রসর করিয়া অসিধারীর অতি সন্নিকটবর্তী হইয়া দক্ষিণ করল তাহার নিম্ন হনুতলে এবং বাম করতল তাহার মস্তক-শীর্ষে স্থাপন করিয়া অতি ক্ষিপ্ৰকারিতাসহ 'হস্ত-চালনায় অসিধারীর মস্তক বামাবর্তে মুচড়াইয়া দিতে হইবে। এই প্রক্রিয়া-কালে যুযুৎসু- ১ম যুযুৎসু (খ) প্রয়ােগকারীর উভয় হস্তেরই অঙ্গুলীর অগ্রভাগ অসিধারীর বিভিন্ন অঙ্গচেষ্টা প্রায় সম্পূর্ণরূপেই অবরুদ্ধ হইয়া বাম দিক্ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট থাকিবে। যথা দশম পড়িবে। চিত্রে :- প্রতিকার হেতু অসিধারী তুরন্তে বাম হস্ত দ্বারা “ব্যাঘ্র থাবার প্রয়ােগ করিবে; অথবা, যুযুৎসু-প্ৰয়ােগ- কারীর “মণিবন্ধ পুরঃ”তে সবেগে আঘাত করিয়া ঈষৎ “অবনমন’সহ দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া তাহার “অণ্ডকোষ,” “বস্তি” অথবা অন্য কোনও মৰ্ম্মে অসি-মুষ্টি দ্বারা সবেগে আঘাত করিবে। প্রতি-প্রতিকার-হেতু যুযুৎসু-প্ৰয়ােগকারীকে সম্পূর্ণ বামাবৰ্তে ঘুরিয়া অসিধারীর সম্মুখীন হইতে হইবে। . সপ্তম পাঠ " “কটী,” “অঙ্ক দক্ষিণ” প্রভৃতির আক্রমণে তুরন্তে দক্ষিণপদ পূর্ণমাত্রায় অগ্রসর করিয়া ক্ষিপ্ৰকারিতাসহ ১ম যুযুৎসু (ক) দক্ষিণ হস্ত দ্বারা অসিধারীর “মণিবন্ধ পুর”তে ধরিতে এই প্রক্রিয়ার ফলে অসিধারীকে উত্তান ( চিৎ )- হইবে এবং দক্ষিণাবর্তে অর্ধেক ঘুরিবার উপক্রমসহ ভাবে ভূতলশায়ী করা সম্ভবপর হয়। বামপদ সম্মুখে আনিতে-আনিতে বাম হস্ত দ্বারা অসি- প্রক্রিয়ার প্রারসহ সমগ্র দক্ষিণ উরুদেশ অসিধারীর ধারীর কফোণি-পৃষ্ঠে বলে অঘাত করিতে হইবে; এবং উভয় উমধ্যে সম্যকরূপে প্রবেশ করাইয়া দিতে পারিলে, তৎসঙ্গেই হস্ত-চালনায় অসিধারীর মণিবন্ধ উদ্ধদিকে ও যথা ১০ম (ক) চিত্তে }, অসিধারীর তৎকালােচিত তাহার কফোণি নিম্নের দিকে সবলে চাপিয়া তাহাকে
বিহ্বল
করিয়া ফেলিতে
হইবে। যথা
একাদশ
অষ্টম পাঠ
চিত্রে :
“আসর দক্ষিণ,” “চাপ নি” প্রভৃতির আক্রমণে তুরন্তে
দক্ষিণ পদ অগ্রসর করিয়া, অসিধারীর অতিসন্নিকটবর্তী
হইয়া দক্ষিণ হস্তদ্বারা তাহার “মণিবন্ধ-পৃষ্ঠে” সবেগে
আঘাত করিতে হইবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই বাম হস্তদ্বারা
“ব্যাঘ্র থাবার প্রয়ােগ করিতে হইবে। যথা দ্বাদশ
চিত্রে :-
=
১১শ যুযুৎসু (ক)
t
১২শ যুযুৎসু (ক)
১১শ যুযুৎসু (খ)
তৎপর অষ্টম চিত্র-সম্পকিত বর্ণনানুরূপ প্রক্রিয়ায়
অসি কাড়িয়া লওয়া নিতান্তই সহুজ হইয়া পড়িবে ।
প্রতিকারাদি ষষ্ঠপাঠের অনুরূপ।
অথবা, ঈষৎ
বামাবৰ্ত্তে ঘূরিবার উপক্রমসহ তীব্র গতিতে অঙ্গ-চালনা-
দ্বারা দক্ষিণ হস্ত মুক্ত করিয়া ক্রমে উৰ্দ্ধ ও বাম দিক হইতে
অসি-চালনা করিয়া পুনরাক্রমণের উপক্ৰম করিতে হইবে।
১২শ যুযুৎসু (খ)
( ১১ ) প্রতিকার-হেতু অসিধারী তুরন্তে বাম হস্ত দ্বারা অসিধারীর দক্ষিণ মণিবন্ধ প্রতিরােধ করিয়া বিদ্যুদ্বেগে যুযুৎসু-প্ৰয়ােগকারীর বাম মণিবন্ধে সবেগে আঘাত করিয়া দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া অসিধারীর পশ্চাতে যাইয়া পশ্চাৎ লইবে এবং সঙ্গে-সঙ্গেই দক্ষিণাবর্তে ঘুরিবার উপক্রমসহ হইতে তাহার গলদেশ দক্ষিণ হস্ত দ্বারা জড়াইয়া ধরিয়া তীব্রবেগে নিজ দক্ষিণ হস্ত মুক্ত করিয়া অসি চালনা করিয়া প্রকোষ্ঠের (পুরােবাহুর) বৃদ্ধাঙ্গুলীর দিকের অস্থি-পার্শ্ব- পুনরাক্রমণের উপক্ৰম করিবে। দ্বারা তাহার কণ্ঠনালী সবলে চাপিয়া ধরিতে হইবে, এবং নবম পাঠ বাম হস্ত দ্বারা অসিধারীর বাম মণিবন্ধ কিম্বা বাম বাহু “মন,” “ভাণ্ডার” প্রভৃতির আক্রমণে তুরন্তে ঈষৎ সবলে আকর্ষণ করিয়া (টানিয়া লইয়া) তাহাকে দক্ষিণ বামাবর্তে ঘুরিয়া দক্ষিণ পদ পূর্ণমাত্রায় সম্মুখে ও বামে পার্শ্বে ভূতলশায়ী করিবার উপক্রম করিতে হইবে। যথা অগ্রসর করিয়া দক্ষিণ হস্ত দ্বারা অসিধারীর দক্ষিণ মণিবন্ধ চতুর্দশ চিত্রে :- ধরিতে হইবে; এবং বিদ্যুদ্বেগে দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া অসি- ধারীর পশ্চাতে যাইয়া ও সঙ্গে-সঙ্গে তাহার দক্ষিণ হস্ত তাহার পশ্চাতে লইয়া,—নিজ বাম হস্ত দ্বারা তাহার মণিবন্ধ এবং দক্ষিণ হস্ত দ্বারা কফোনি ( কনুই) ধরিয়া, তাহার প্রকোষ্ঠ (পুরােবাহু) সবলে উৰ্ধদিকে বিপ্রকর্ষণ করিতে (ঠেলিয়া দিতে হইবে। তুরন্তে এই কৌশল প্রয়ােগ করিতে পারিলে অসিধারী অধধামুখে ভূপতিত হইবে। যথা ত্রয়ােদশ চিত্রে :- ; ১৪শ যুযুৎসু (ক) । ১৩শ যুযুৎসু প্রতিকার-কল্পে অসিধারীকে তুরন্তে “অবনমনসহ দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া যুযুৎসু-প্রয়ােগকারীর সম্মুখীন হইতে হইবে । দশম পাঠ “সাম উত্তর,” “কড়ক” প্রভৃতির আক্রমণে তুরন্তে ঈষৎ বামাবর্তে ঘুরিয়া দক্ষিণ পদ পূর্ণ মাত্রায় সম্মুখে ও বামে বিক্ষেপ করিয়া এবং সঙ্গে-সঙ্গেই দক্ষিণ হস্ত দ্বারা ১৪শ যুযুৎসু (খ) অথবা, পূৰ্ব্ব-বর্ণিত প্রক্রিয়ানুরূপ পশ্চাতে যাইয়া বাম বাহুদ্বারা কণ্ঠনালী চাপিয়া ধরিয়া দক্ষিণ হস্ত দ্বারা অসি- ধারীর অসি-মুষ্টি বামাবর্তে মুচড়াইয়া, তাহার অসি কাড়িয়া লইতে হইবে। যথা পঞ্চদশ চিত্রে : ১৬শ যুযুৎসু (ক) ১৫শ যুযুৎসু প্রতিকার-কল্পে অসিধারীও যুযুৎসু-প্রয়ােগকারীর প্রক্রিয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই তুরস্তে ঈষৎ “অবনমন’সহ দক্ষিণা- বর্তে ঘুরিয়া অসি-চালনা সহ যুযুৎসু-প্রয়ােগকারীর সম্মুখীন হইয়া পুনরাক্রমণের উপক্ৰম করিবে । একাদশ পাঠ “আনী” প্রভৃতির আক্রমণে তুরন্তে দক্ষিণ পদ অগ্রসর করিয়া বিদ্যুদ্বেগে “অবনমন”সহ “জানু-বিজানু”তে বসিয়া পড়িয়া দক্ষিণ ও বাম হস্ত দ্বারা পরস্পরে অসিধারীর বাম ১৬শ যুযুৎসু (খ) ও দক্ষিণ পদের গুলফ-সন্ধির সম্মুখ পাশ্বে সবলে আঘাত করিতে হইবে, এবং সঙ্গে সঙ্গেই মস্তক দ্বারা নিম হইতে অসিধারীর দক্ষিণ জানু-সন্ধিতে সবেগে আঘাত করিতে অণ্ডকোষে ও বস্তি-মর্মে সবেগে আঘাত করিতে হইবে। হইবে। যথা সপ্তদশ চিত্রে :- যথা যােড়শ চিত্রে :- শেষােক্ত প্রক্রিয়া বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে সম্পন্ন করিতে অথবা, পূৰ্ব্ব-বর্ণিত প্রক্রিয়ানুরূপ বসিয়া পড়িয়া তুরন্তে পারিলে অসিধারী উত্তান-ভাবে ( চিৎ হইয়া) ভূপতিত বাম ও দক্ষিণ হস্তদ্বারা পরস্পরে অসিধারীর দক্ষিণ ও হইবে। বাম গুলফ-সন্ধিদ্বয়ের পশ্চাৎ-পার্শ্বে ধরিয়া সবলে সম্মুখে প্রতিকার-কল্পে অসিধারীকে সমক্ষিপ্ৰকারিতাসহ আকর্ষণ করিতে হইবে, এবং সঙ্গে-সঙ্গেই দক্ষিণ স্কন্ধদ্বারা তুরন্তে লম্ফ-সহযােগে দক্ষিণাবর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া সঙ্গে- ( ৯৩ ) ৫ ১৮ণ যুযুৎসু স্থলে “বাম” ও “বাম” স্থলে “দক্ষিণ” ধরিয়া লইলেই ১৭শ যুযুৎসু হইবে। যাহারা অসি-চালনায় সুদক্ষ,তাহাদের প্রতি “বিনােদ” সঙ্গেই অসি চালনাঘারা যুযুৎসু-প্ৰয়ােগকারীর দক্ষিণ পার্শ্ব কিম্বা “যুযুৎসু’র কৌশল প্রয়ােগ করা নিতান্ত সহজসাধ্য আক্রমণ করিতে হইবে। যথা অষ্টাদশ চিত্রে :- নয়; কিন্তু যাহারা অসি-কৌশলের সঙ্গে “বিনােদ” ও প্রতি-প্রতিকার-কল্পে যুযুৎসু-প্ৰয়ােগকারীকেও “যুযুৎসু’র কৌশলেও সুদক্ষ, তাহারা অসি-যুদ্ধ-কালে তুরস্তে দক্ষিণাবর্তে অর্ধেক ঘুরিয়া পূর্ণ বিক্রমে অসিধারীর সুযােগমতে “বিনােদ” ও “যুযুৎসুর” কৌশল-প্ৰয়ােগেও সম্মুখীন হইতে হইবে। সমর্থ হন বলিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণতঃ তাহাদেরই “বিনােদ” ও “যুযুৎসুর” সম্পর্কিত সমস্ত বর্ণনা-মধ্যেই উৎকর্ষ লক্ষিত হইয়া থাকে। তাই “পদচালনা,” “বিনােদ” দক্ষিণ হন্তের প্রাধান্য-কল্পনা করিয়া লওয়া হইয়াছে; এবং “যুযুৎসু”র দক্ষতা অর্জনসহযােগেই অসি-শিক্ষার বামহস্তের প্রাধান্য-কালে ঐ সমস্ত বর্ণনা-মধ্যে “দক্ষিণ পূর্ণতা সম্পন্ন হইয়া থাকে।
ক্ষত-প্রতিকার স্থলে প্রায়ই অসি-শিক্ষাকালে প্রায়ই সামান্য সামান্য আঘাত সহ ৩। দূর্বা ও চাউল একত্রে, কিম্বা শুধু দূর্বা পেষণ করিতে হয়; সময়ে-সময়ে রক্তপাতও হইয়া থাকে, এবং করিয়া ( অসুবিধা হইলে চৰ্ব্বন করিয়া) নির্গত রস মস্তকাস্থির উপরিস্থিত চৰ্ম্মও ছিন্ন হইয়া যায়। ঘটনা, ক্ষতােপরি প্রয়ােগ করিয়া অবশিষ্ট পিষ্ট কিম্বা চৰ্ব্বিত উপযুক্ত চিকিৎসকের সাহায্য-লাভ সম্ভবপর পদার্থসহ ক্ষতােপরি বস্তি-বন্ধন করিয়া দিলেও সত্বর ক্ষত হয় না বলিয়া ঐ সমন্তের প্রতিকার-হেতু কতিপয় সহজ আরােগ্য হয়। সাধ্য উপায়ও লিপিবদ্ধ হইল। ৪। হরিদ্রা পিষিয়া কিঞ্চিৎ চুণের সহিত মিলাইয়া ঈষৎ উষ্ণ করিয়া ক্ষতােপরি প্রয়ােগ করিয়া বস্তি-বন্ধন যথা :- করিয়া দিলেও উপকার দর্শে। ১। বেগুন-পাতা মর্দন করিয়া ঐ বিশুদ্ধ রস ক্ষত- অবশ্য রক্তবাহী কোন বিশেষ শিরা কিম্বা ধমণী ছিন্ন মধ্যে প্রবেশ করাইয়া অবশিষ্ট মর্দিত পদার্থগুলি ক্ষততাপরি হইলে কিম্বা কোন মৰ্ম্মস্থল আহত হইলে পূর্বোক্ত উপায়- প্রয়ােগ করিয়া বেগুন-পাতা দ্বারাই তাহা আবৃত করিয়া সকলে বিশেষ ফল পাওয়া সম্ভবপর হয় না। পরে বস্তি-বন্ধন (bandage) করিয়া দিতে হয়। ৫। চক্ষু আহত হইলে তাড়াতাড়ি উষ্ণ মােহনভােগ- আহত স্থান হইতে রক্ত নির্গত না হইয়া যদি ঐ সহ চক্ষুতে বস্তি-বন্ধন করিয়া দিতে হয়; কিম্বা উষ্ণ স্বেদ স্থান লাল বর্ণ কিম্বা কৃষ্ণাভ লাল বর্ণ ও বেদনাযুক্ত হয়, প্রয়ােগ করিতে হয়। তাহা হইলেও ঐরূপ বস্তি-বন্ধনে উপকার দশে। ৬। আঘাত-প্রাপ্তি-হেতু কোনও সন্ধিস্থল বেদনা- ২। মিষ্টি-কুড়ার পাতা ও লতা, গেন্দাফুলের পাতা, যুক্ত হইলে কিঞ্চিৎ লবন সংযুক্ত করিয়া সর্ষপ তৈল মর্দন বিশল্যকরণীর পাতা, কলার মােচা, কলার থােড় প্রভৃতির করিয়া দিতে হয়। রস এবং অবশিষ্ট মর্দিত পদার্থ পূর্বোক্তরূপে প্রয়ােগ ৭। আহত ব্যক্তিকে তাহার তৃপ্তি-অনুরূপ উষ্ণ করিলে অনেক স্থলে সুফল পাওয়া যায়। মােহনভােগ সেবন করাইতে হয়। সমাপ্ত নাম-নির্ঘণ্ট। ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক নাম ও শব্দ। প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম। মূল শব্দ। যে পৃষ্ঠায় শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়াদি। বর্ণিত। অংসহুল উত্তর । অংসহুল দক্ষিণ। ইমা। উন্টা ইয়মা। স্কন্ধদেশের এক নাম “অংস”। “অংস” মধ্যে অসির অগ্রবিন্দু প্রবেশ করাইয়া দিতে হয় বলিয়া এই আঘাতের নাম “অংসহুল”। ৫৪ অগ্র, অগ্রাংশ পােন্ত, (সম্মুখ)। আঙ্গ। বক্ষণ। এই আঘাতে অসি দ্বারা “বক্ষণ ( কুঁচকি) ছিন্ন হইয়া যায় বলিয়া ইহার নাম “বক্ষণের অপভ্রংশে “অঙ্ক,” হইয়াছে। উন্টা আঙ্গ। ইরাকি দর। ৩৪ ৪। অঙ্ক ; অঙ্ক, দক্ষিণ । ৫। অঙ্ক, উত্তর। ৬। অঙ্গুষ্ঠোপরি ৭। অধর ; অধর উত্তর ; উত্তরাধর। ৮। অধর দক্ষিণ ; দক্ষিণাধর। উন্টালব। এই আঘাতে অধর কর্তিত হয় বলিয়া এইরূপ নাম হইয়াছে। ৫৩ লব,। ৯। অধস্তল। উল্টাপাগ,। ৪৪, ৪৫ পদতলদেশে এই আঘাত প্রযুক্ত হয় বলিয়া, এবং আঘাতের বিভিন্নতা বুঝাইবার নিমিত্ত, বাম হইতে দক্ষিণ দিক অভিমুখে যে আঘাত প্রযুক্ত হয়, তাহার নাম“অধস্তল” এবং দক্ষিণ হইতে বাম দিক অভিমুখে যে আঘাত প্রযুক্ত হয় তাহার নাম “পাদতল” হইয়াছে। বন্ধনের পশ্চাং (অসি) মুক্ত করিয়া লওয়া অর্থে “অনুমােক্ষণ। ১০। অনুমোক্ষণ ওয়াবলেশ।
ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম। মূল শব্দ। শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়াদি। যে পৃষ্ঠায় বর্ণিত। নাম ও শব্দ। ১১। অন্তর ; অন্তর অন্তর দক্ষিণ ১২। অন্তর উত্তর ; অন্তর বাম। উট। অন্তর। “অন্তর” অর্থ “মধ্যবর্তী স্থান”; মস্তক ও গ্রীবার মধ্যবর্তী স্থানে এই আঘাত প্রযুক্ত হয় বলিয়া, এবং এই আঘাতের প্রয়ােগে গ্রীব হইতে মস্তক অন্তরিত অর্থাৎ পৃথক কৃত হয় বলিয়া, ইহার নাম “অন্তর”হইয়াছে। আক্রমণ হইতে অব্যাহতি লাভ হেতু নিম্নের দিকে উদ্ধাঙ্গের চালনা বুঝাইতে “অবনমন”। অবনমন। কাওয়াক, ( নিম্নের দিকে )। ১৪। অবশেষ। ১৫। অভিবাদন। জের। ১৬। অভিযান স্থিতি। সেলামী। ঠাট; ঠ'টু কিল্লাবন্দী ; ঠাট কেল্লাবন্দী ৪১ ১৭। অর্থপাদ। উল্টা পােসং পা ; উল্টা প্রপাদ। আক্রমণ হেতু গমনােম্মুখ (প্রস্তুত) হইয়া অবস্থান,—এইরূপ অভিপ্রায় হইতেই অভিযান স্থিতি” নাম হইয়াছে। পাদের (পদপল্লবের) প্রায় অর্ধাংশ এই আঘাতে ছিন্ন হয় বলিয়া, এবং আঘাতের বিভিন্নতা বুঝাইবার নিমিত্ত, বাম হইতে দক্ষিণ দিকের আঘাতের নাম “অপাদ” এবং দক্ষিণ হইতে বাম দিকের আঘাতের নাম “প্রপাদ” হইয়াছে। ১৪৫ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। মিলবাট অসম যাত ( বিষম ঘাত)। ১৯। অসি। তরাল ; তরােয়াল ; তলােয়ার। অসির বিভিন্ন বিভিন্ন নাম যথা :—অসি, বিশসন, খগ, তীক্ষ্ণবৰ্মা, দুরাশদ, শ্রীগর্ভ, বিজয়, ধৰ্ম্মপাল, ধৰ্মমাল, নিস্ত্রিংশ, চন্দ্রহাস, ঋষ্টি, কোয়েক, মণ্ডলা, করপাল, করবাল, তরবার, তরবারি, তরবাল, ইত্যাদি। সাধারণতঃ প্রথম প্রহার বুঝাইতে আক্রমণ” শব্দ ব্যবহৃত হয়। মার, ২০। আক্রমণ। মাইর।
২১। আচক্র বা । আঘাত করা, (প্রহার করা)। ২৩। আনী; (উত্তর আনী)। চড়কা বা, চরকা বা । মারা আনি ; ( অত্রি আনী)। নী)। অনি ; অনী ৩০,৩১ ২৪। আলীঢ়। নেসা ; ( বসিয়া অর্থে)। ২৫। আসর ; আসরু দক্ষিণ। আসর উত্তর ২৭। ইত্যাদি ২৮। উগ্রা ; আসর । আসুর ; ২৮ ওয়াদয়রা। যিগর আচক্র প্রায় যেন চক্র (চক্রগতির প্রয়ােগ) পৰ্য্যন্ত। বা =উপমা, অথবা সান্নিধ্য (সাদৃশ্য) প্রকাশার্থে। “অনী” অর্থ শূল, অথবা সূচী, শলাকা প্রভৃতির সূক্ষ্ম অগ্রভাগ। এই আঘাতে অসির অগ্রবিন্দু বাম বক্ষোমধ্যে প্রবেশ করাইয়া দিতে হয় ; সেই হেতুই ইহার “আনী” নাম হইয়াছে। দক্ষিণ জঙ্ সম্মুখে ভূমির উপরে লম্ব- রেখার সমসূত্রে এবং বাম জঘ পশ্চাতে ভূমিতে বিন্যস্ত করিয়া উপবেশন। *আসর” অর্থ রাক্ষস ; রাক্ষস” এবং “অসুর” গণ উরুদেশে অতি দক্ষতার সহিত আক্রমণ করিত, এইরূপ প্রবাদ হইতেই এই আঘাতের এইরূপ নামকরণ হইয়াছে। এই আঘাতেব ফল উগ্ররূপে অনুভূত হয়, এইরূপ কল্পনা হইতেই ইহার নাম “উগ্রা” হইয়াছে। স্তনচুচুক হইতে পারে দিকে দুই অঙ্গুলী দূরে ও দুই অঙ্গুলী উদ্ধে এই আঘাতের স্থান। “উত্তর” অর্থ পশ্চাদ্বত্তী ক্রিয়া কিম্বা বিষয় ; তাই সাধারণতঃ “দক্ষিণের প্রাধান্য কম্পিত হয় বলিয়া, “বাম” পশ্চাদ্বর্তী অর্থাৎ “উত্তর” বলিয়া গৃহীত হইয়াছে। পশ্চাদ্বৰ্ত্তী ক্রিয়া, প্রতিবাক্য কিম্বা প্রতি- কার অর্থে ও উত্তর” শব্দ ব্যবহৃত হয়। বাম পদ অগ্রে ও দক্ষিণ পদ পশ্চাতে স্থাপন করিয়া কোনও বিশেষ স্থিতির অনুরূপে দাড়াইলে উহাই দাখ্যক “উত্তর স্থিতি”। উগ্রা উত্তর। ২৯। উগ্রা দক্ষিণ উন্টা যিগর ৩০। উত্তর (বাম অর্থে); চপ। ৩০ (ক)। উত্তর জবাব। ৩১। উত্তর একাঙ্গ স্থিতি ৩২। উত্তর গােমুখ স্থিতি ৩৩। উত্তর দ্বঙ্গ স্থিতি ৩৪। উত্তর পাক্ষিক স্থিতি ৩৫। উত্তব রাবান্তিক স্থিতি ৩৬। উত্তর স্থিতি ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক মূল শব্দ। শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়াদি। যে পৃষ্ঠায় প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম । অত্র আনি ; নাম ও শব্দ। বর্ণিত। ৩৭। উত্তর আনী ; অণি ; আনী। অণী। আনি। সিকম্। অনী অর্থ শূল, অথবা সূচী, শলাকা প্রভৃতির সূক্ষ্ম অগ্রভাগ। ২৩ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। এই আঘাতের প্রয়ােগ উদরােপরি হয় বলিয়া ইহার নাম “উদর” হইয়াছে। ৩৮। উদর। ৩৯। উপরি ; বর ; উপরে। দর। হরদো। ৪০। উভয়ে (একত্রে) ৪১। উৰ্দ্ধ ত্রাস ৪২। উৰ্দ্ধবুক উল্টা সিকম্ । বুক ; বক্ষ। অসির অগ্রবিন্দু ঊদ্ধ মুখ করিয়া “ত্রাসে” আঘাত করিয়া ‘হুল” ‘আনী প্রভৃতির প্রতিকার হেতু যে প্রক্রিয়া, তাহার নাম “উদ্ধত্ৰাস”। বক্ষঃ-অস্থির নিম্নপার্শ্বের মধ্যবিন্দু যেস্থলে উদরের উদ্ধাংশসহ মিলিত হইয়াছে, তাহার নাম “বুক্ক”; “বুক্ক” অর্থাৎ উদর ও বক্ষের সংযােগস্থল হইতে উর্ধদিক অভিমুখে এই আঘাতের প্রয়ােগ হয় বলিয়া ইহার নাম “উর্দ্ধ বুক”। এস্থলে “এক” অর্থ “প্রথম” এবং “অঙ্গ” অর্থ “অবয়ব”, “আকৃতি” ; তাই বিভিন্ন “স্থিতির প্রথম “আকৃতি” বুঝাইতে “একাঙ্গ” নাম হইয়াছে। কক্ষপুট মধ্যে (বগলে) এই আঘাতের প্রয়ােগ হয় বলিয়া, ইহার নাম ‘কক্ষ” হইয়াছে ; আবার, “কক্ষই”, বক্ষপার্শ্ব এবং বাহুর মধ্যস্থ ভঙ্গ বলিয়া, “ভঙ্গ হইতে সংক্ষেপে “ভাগ” ও অপভ্রংশে ফাক” হইয়াছে। ৪৩। একাঙ্গ ৪৪। এবং (সহিতে) রাও। ৪৫। কক্ষ; কঁাখ ; ৩২ কক্ষ উত্তর। ফাক। ৪৬। কক্ষ দক্ষিণ । উন্টা ফাক ৪৭। ১৯ কটি কটী। কোমর ; কম।. ৪৮। কটি ঘাত; কটী ঘাত। কোমর কাট কমর কাট এই আঘাতে দক্ষিণ কটীপার্শ্ব হইতে আরম্ভ করিয়া সমগ্র কটীদেশ কৰ্তিত হয় বলিয়া ইহার নাম “কটী” হইয়াছে। পূৰ্ববর্ণিত (৪৭ সংখ্যা) আঘাত হইতে এই আঘাতের ভিন্নতা বুঝাইবার নিমিত্ত ইহার নাম “কটীঘাত হইয়াছে। দক্ষিণ কটী পার্শ্ব হইতে আরম্ভ অভিমুখে এই আঘাতের গতি। করিয়া পায়ুমূল জোড় গু। ৪৯। কড় ২৪ গুফের সন্নিকটে ভিন্ন ভিন্ন আঘাতের বিভিন্নতা বুঝাইবার নিমিত্ত এক এক আঘাতের এক এক নাম হইয়াছে। দক্ষিণ পদের গু ফের বামপার্শ্ব উভয় পদের মধ্যে অবস্থিত বলিয়া, এবং এই আঘাতের প্রয়ােগ সেই স্থানেই হয় বলিয়া, ইহার “ক্রোড়- গুল্ফ ও অপভ্রংশে কড়ক” হইয়াছে। ৫০। কণ্ঠ। উত্তর। উন্টা কণ্ঠা কণ্ঠ। ৫১। কণ্ঠা ; কণ্ঠা দক্ষিণ : কণ্ঠা কণ্ঠদেশের সম্মুখস্থ ঘুণ্টিকাতে (গুটিকাবৎ উচ্চ অংশে) এই আঘাতের প্রয়োেগ হয় বলিয়া ইহার নাম “কণ্ঠা” হইয়াছে। প্রতিপক্ষের কোন ‘আঘাত’ কিম্বা “কৌশল ব্যর্থ করা অর্থে অনেক সময় “কৰ্ত্তন’, “খণ্ডন” প্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হইয়া থাকে। ৫২। কৰ্ত্তন। কাটা, কাটুনা, খণ্ডন। কলপ। কল্প উত্তর। (হৃদ ৫৪। কল্প দক্ষিণ । উল্টা কলপ,। এ স্থলে “কল্প” অর্থ “প্রলয়”; এই আঘাতের প্রয়ােগে প্রাণ-স্পন্দনে স্পন্দনে) প্রলয় আনয়ন করে, এইরূপ কল্পনা হইতেই এই আঘাতের নাম “কল্প” হইয়াছে। স্তন চুচুক হইতে পার্শ্বের দিকে দুই অঙ্গুলি দূরে ও দুই অঙ্গুলি নিম্নে এই আঘাতের স্থান।
ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক মূল শব্দ। শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়দি। প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম। যে পৃষ্ঠায় নাম ও শখ। বর্ণিত। ৫৫। কৃচ। কুচ। কূর্চ। ৩৭ ৫৬। কূৰ্চ্চাধঃ। ধুনিয়া কড়ক। : এই আঘাতে গুস্থ “কূর্চ মর্ম” আহত হয় বলিয়া ইহার নাম “কূর্চ” হইতে অপভ্রংশে “চ” হইয়াছে। এই আঘাতে গুল্ফস্থ “কৃচ্চমৰ্ম্মের অধােভাগ আহত হয় বলিয়া ইহার নাম কূর্চাধ হইয়াছে। ( সন্নিকটস্থ বিভিন্ন আঘাতের বিভিন্নতা বুঝাইবার নিমিত্ত বিভিন্ন নাম দেওয়া হইয়াছে।) ৫৭। ক্ষিপ্রা (ঠো ) খণ্ডন। ( কৰ্ত্তন ) ৫৯। খেলা গল আনী। ৮৮ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। ৫২ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। . ৫০ খেই; খো। খেলা; ক্রীড়া। আনি দের (দর) গুলু (গলু)। “খে” ধাতু+অ (ভাবে অঙ)+আপ। মস্তক ও গলদেশের সন্ধিস্থলে, সম্মুখস্থ বিন্দু মধ্যে “আনীর ন্যায় এই আঘাতের প্রয়োেগ হয় বলিয়া ইহার নাম “গল-আনী” হইয়াছে। ৫৪ ৬১। গল বিন্দু। (জ মধ্য ) পহেলু। পূৰ্বের (৬০ সংখ্যা) আঘাত হইতে এই আঘাতের ভিন্নতা বুঝাইবার নিমিত্ত, এবং গলদেশের সম্মুখস্থ সর্ব নিম্ন বিন্দুমধ্যে এই আঘাতের প্রয়ােগ হয় বলিয়া, এই ভিন্ন নাম হইয়াছে। আবার, স্কন্ধদেশের অস্থিদ্বয়ের নাম “জ” ; ঐ অস্থিদ্বয়ের মধ্য- পথে এই আঘাতের প্রয়ােগ হয় বলিয়া ইহার অপর নাম “জমধ্য হইয়াছে। ৬২। গর; গগাহার। . পৰ্বতাদির সঙ্কীর্ণ গহ্বর মধ্যে পতিত হইলে যেরূপ বহুকষ্টে উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকে, বহু আততায়ী কর্তৃক বেষ্টিত হইলেও ৬৩। গুড়দিশ। গরদেশ। ; গিরাবন্দী; ৬৪। গুরুবন্ধন। গিরা করদা। ২৯ ৬৫। গুলাধঃ। ধুনিয়া পালট। গােমুখ। প্রায় তদনুরূপই সম্ভাবনা থাকে বলিয়া, সাদৃশ্য কল্পনায় এই পর্যায়ের নাম “গহ্বর হইয়াছে এস্থলে বেষ্টন অর্থে (“গু”=) “গুণ্ড” হইতে “গুড়”; এবং “দিক্” অর্থে “দিশ”। এই গতিতে অসি করমুষ্টির সৰ্বদিক বেষ্টন করিয়া চক্রাকারে ঘুরিয়া আইসে বলিয়া ইহার নাম “গুড়দিশ” হইয়াছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিপক্ষের অসিকে দৃঢ়- রূপে আবদ্ধ করিবার চেষ্টা হয় বলিয়া, ইহার এই নাম অবলম্বিত হইয়াছে। গুফের দক্ষিণ পার্শ্বের অধােভাগে এই আঘাতের প্রয়ােগ হয় বলিয়া ইহার নাম ‘গুফাধঃ” হইয়াছে। মুখব্যাদানাবস্থায় গাে-মুখের উর্ধ-নু ও অপােহনুর সঙ্গে,-এই “স্থিতি” কালে পাদ- দ্বয়ের অবস্থিতির কাল্পনিক সাদৃশ্য হেতু, এই “স্থিতির” নাম “গােমুখ” হইয়াছে। গ্রীবামুলের বামপার্শ্ব হইতে এই আঘা- তের প্রয়ােগারস্ত হয় বলিয়া, ইহার নাম “গ্রীবাবাম” হইতে অপভ্রংশে “গ্রীবাণ” হইয়াছে। গ্রীবার পশ্চাৎপার্শ্ব অর্থে “ঘাট” ঘাট+স্বার্থে ইক+স্ত্রীলিঙ্গে আপ = ঘাটিকা। প্রহার অর্থে “ঘাত”। এই আঘাতে মস্তকাংশ কর্তিত হইলে, ঐ কর্তিত বিভাগ স্থলের আকৃতি আংশিক চক্ৰাকৃতি হয় বলিয়া, ইহার নাম “চক্রিকা” হইয়াছে। চক্র+স্বার্থে ই+স্ত্রীলিঙ্গে আপ = চক্রিকা। একদিকের মস্তক পার্শ্ব হইতে অপর পার্শ্বের কর্ণমূল অভিমুখে এই আঘাতের গতি ৬৭| গ্রীবাণ। গ্রীবা-বাম। উন্টা হাকুম্ ; = ঘাত; আঘাত। ৬৮। ঘাটিকা উত্তর। ৬৯। ঘাটিকা ঘটিকা দক্ষিণ। ৭০। ঘাত। ৭১। ঘুরাইয়া। ৭২। চক্রিকা। চক্রিকা উত্তর। ৭৩। চক্রিকা দক্ষিণ। হালকুম চপ। হালকুম্। ঘাই ; ঘা। গবৃদিদা। সাকিকা। ৫৪ ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক নাম ও শব্দ। প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম। মূল শব্দ। শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়াদি। যে পৃষ্ঠায় বর্ণিত। ৭৪। চক্ষু। ৭৫। চতুর্মুখী। চসম্। চৌমুখী ৭৬। চতুষ্কা। ছাপকা। দুই লাঠি ও দুই শৃঙ্গ, এই চারিটি এক- সঙ্গেই প্রযুক্ত হয় বলিয়া, এই পর্যায়ের নাম “চতুর্মুখী” হইয়াছে। এই আঘাতে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ ব্যতিরেকে অপর চারিটি অঙ্গুলী আহত হয় বলিয়া ইহার নাম “চতুষ্কা হইয়াছে ! চতুর-কৈ ধাতু+ড প্রত্যয়। পুরাকালে অসিযােদ্ধাগণ, এবং অপরাপর অনেকেওবামকর্ণের ঊৰ্ধাংশে “চক্র” নামক একপ্রকার অঙ্গুরীয়ক ধারণ করিত; সেই চক্রের শীষ লক্ষ্য করিয়া এই আঘাতের প্রয়ােগ হইত বলিয়া, ইহার নাম “চক্র” হইতে অপভ্রংশে “চাকি” হইয়াছে। ৭৭। চাকি। চক্ৰশীর্ষ ২৯ চক্র। ৭৮। চাপনি। উপজানু। জানুর পার্শ্বদেশ হইতে এই আঘাতের প্রয়ােগ হয় বলিয়া ইহার নাম “উপজামু” হইয়াছে ; আবার জানু-পার্শ্বের ভঙ্গের সঙ্গে “চাপের” (ধনুকের) কাল্পনিক সাদৃশ্য হেতু, “চাপধারী” অর্থে “চাপি” হইতে অপভ্রংশে “চাপনি” নাম হইয়াছে। ৭৯। চীর ; চির ; চিড়। চির। চীর্ণ (ধাতু হইতে ); ছিন্ন (ছিদ ধাতু হইতে)। বিদারণ অর্থে “চ’ ধাতু হইতে “চী” হইয়াছে ; এবং ছিদ” ধাতু হইতে অপভ্রংশে “চির” হইয়াছে ; আবার, কাঠাদি বিদারণে “চিড়, চিড়” শব্দ হইতে বিদারণ অর্থে “চিড়” হইয়াছে। এই আঘাতের প্রয়ােগে অসি-পৃষ্ঠের অগ্রভাগ দ্বারা পায়ুমূল হইতে উর্ধদিক দেহকে বিদারণ করিতে হয়। ২২ ৮। চোট্। চুট ; চোটঃ । ৮১। ছিদ্র। ৮২। জমা। ৮৩। জড়াবেশ। জা। • ছেদন অর্থে “চুট” ধাতু হইতে (চুট+ ভাবে অল= চোটঃ ) অপভ্রংশে “চোট হইয়াছে। আবার প্ৰেণ (প্রবিষ্টকরণ) অর্থে নিজস্ত চুদ ধাতু (চোদি) হইতেও অপ- ভ্রংশে “চোট হইয়াছে। কোনরূপ দোষ কিম্বা টী বুঝাইতে “ছিদ্র” শব্দ ব্যবহৃত হইয়া থাকে। এই আঘাতের প্রয়ােগ জঘা দেশে হয় বলিয়াই ইহার নাম “জঙ্ঘা হইয়াছে। কফোণি (কনুই) হইতে যে সমস্ত আঘাতের উৎপত্তি হয়, তাহাদের ফলে অসি শরীর মধ্যে প্রবিষ্ট হইতে হইতে অতি শীঘ্রই অসির বেগ জড় (নিস্তেজ) হইয়া পড়ে বলিয়া ঐ সমস্ত আঘাত “জড়বেশ” নামে অভিহিত হইয়াছে। প্রবেশ অর্থে “বিশ” ধাতু। জড়—বিশ ধাতু+অ= জড়বেশ। ৬১ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। লােক-পীড়ক অর্থে 'জনার্দন” অধ্যােহনুর তলদেপে এই আখাতের প্রয়োেগ হয় ইহার অপর নাম “হনুতল”। জানুদ্বয়ের বিভিন্ন ভঙ্গী বুঝাইতে “জানু- বিজানু”। ঈষৎ অর্থে “কুক” শব্দ স্থানে “কব” হয় ; বক্রভাব অর্থে “বঙ্ক”। কব+বঙ্ক = কববঙ্ক অপভ্রংশে “কাওয়া”। সংঘাত ( শীঘ্র ) অর্থে “ঝট” ঝট (শীঘ্র) +ইত (যুক্তার্থে)-ঝটিত। এক সঙ্গে ও অপ্রতিহত গতিতে সমস্ত প্রত্যঙ্গের কর্মতৎপরতা বুঝাইতে এবং ক্রমিক অপভ্রংশে “ঝটং” ৮৪। জ মধ্য ; (গলবিন্দু)। ৮৫। জনার্দন ; (হনুতল )। জনকান। ৭৬। জানু বিজানু। কাওয়া, কর-বঞ্চ। ঋড়ৎ। জুরৎ। ঝটিতি ; (ঝটপট ) ঝটিত। অঙ্গ যে পৃষ্ঠায় ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক নাম ও শব্দ। প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম। মূল শব্দ। শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়াদি। বর্ণিত। ৮৮। ঠোক; (ক্ষিপ্র!)। ঠুক ( শব্দমূলক) হইতে “ঝুড়ৎ” হইয়াছে। অধিকন্তু, “ফুরৎ” ও “তুড়ৎ” সহযােগে নামােচ্চরণ করিতে উচ্চারণ-লাঘব হেতু ও “ঝুঁড়ং” শব্দ গৃহীত হইয়াছে। শুষ্ক ও কঠিন বস্তুতে সামান্য আঘাত লাগিয়া যে “ইক” শব্দ হয়, তাহা হইতেই “ঠোকৃ” নাম কল্পিত হইয়াছে। এই আঘাতের প্রয়ােগে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ সংলগ্ন অসিমুষ্টির উপরে আঘাতকারীর অসির আঘাত পতিত হওয়ায়, সামান্য “ক” শব্দ ক্ষত হয় বলিয়াই ইহার নাম “ঠোকু” হইয়াছে। আবার এই আঘাতে “ক্ষিপ্র-মৰ্ম”আহত হয় বলিয়াই ইহার এক নাম “ক্ষিপ্রা”ও হইয়াছে। অসি কিম্বা লাঠি প্রভৃতির 'আঘাতের প্রতিবােধ হেতু চর্ম, লৌহ কিম্বা কাঠাদি নির্মিত পটুবিশেষ। ললাটের অস্থির নাম ফলক” তাহার সঙ্গে কাল্পনিক সাদৃশ্য থাকা হেতু, “ফলক”ই চলিত ভাষায় “ঢাল” হইয়াছে; অথবা “ঢালু” (মনি) শব্দ হইতে “ঢাল” শব্দের উৎপত্তি হইয়াছে। কর্ণ (এ স্থলে বাম কর্ণ) ব্যাপিয়া গুরু- তর আঘাত প্রাপ্ত হইলে মানব হত-চৈতন্য- প্রায় হইয়া অন্ধকার দেখিতে থাকে,-শব্দের অপভ্রংশে “তামেচা” হইয়াছে। তামি= অন্ধকারময় নরক। ১১ ৮৯। ঢাল। ফলক। ৯০। তামো। ১৯ তুড়ৎ। তড়িত্বৎ। ০২। তুরন্ত। মান। তূর্ণ ( শীঘ্র ); তুর্ণি (= অতি ত্বরা) ত্রাস। তরাস। ৯৪। ত্ৰিত্রাস। তড়িত্বৎ = তড়িত সম্পর্কিত তড়িতযুক্ত। বিশুদ্ধ দৃষ্টি শক্তির ক্রিয়া তড়িত বেগে সম্পন্ন হয় বলিয়া, বিশুদ্ধ ও প্রখর দৃষ্টি বেগ বুঝাইতে “তড়িত্বৎ” শব্দ হইতে অপভ্রংশে “তুড়ৎ” নাম গৃহীত হইয়াছে। যে কাল আরম্ভ হইতে না হইতেই অতি ত্বরায় ( তুরস্) শেষ ( অন্ত) হইয়া যায়, অর্থাৎ নিমেষকাল মাত্র বুঝাইতে “তুরন্ত শব্দ ব্যবহৃত হইয়া থাকে। অসির যে সমস্ত গতি সবেগে স্কন্ধ দেশের সন্ধি হইতে আরব্ধ হয় তাহাদের “আকৃতি” দর্শনে সাধারণ লােকে ত্ৰাসাম্বিত হয় বলিয়া অসির ঐ সমস্ত গতির নাম “ত্রাস” হইয়াছে। “গুড়দিশ” ও “জড়বেশ” এর সহযােগে “ত্রাস” গতি ত্রিগুণিত হয় বলিয়া, “ত্রাস” “জড়বেশ” গুড়দিশের সংমিশ্রণে অসির যে গতি হয় তাহার নাম “ত্ৰিত্ৰাস” হইয়াছে। “ছুরী শিক্ষায়” ঘাত পর্যায়ের ঘােড়শ পাঠ মধ্যে এক যোগে তিনটি ধারার”-এ স্থলে তিনটি বিভিন্ন প্রকারের আঘাতের প্রয়োেগ হয় বলিয়া “ত্রিধারা” বিশেষণরূপে ব্যবহৃত হইয়াছে। “ধারা” অর্থ “পদ্ধতি, “প্রকার” ইত্যাদি। এই আঘাতে দক্ষিণ কর্ণাভ্যন্তর, দক্ষিণ চক্ষু এবং নাসিকা,—এই তিনটিকে হরণ করে ( ছেদন করিয়া ফেলে ) বলিয়া, ইহার নাম “ত্রিহর” হইয়াছে। 2 ৯৫। ত্রিধারা। তেহারা। ৯৬। ত্রিহর ; ত্রিহরা। २१ তেহর ; তেওয়র। . ৯৭। দক্ষিণ । রাং।
ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক নাম ও শব্দ। প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম । মূল শব্দ। শব্দগত অর্থ কিম্ব। অভিপ্রায়াদি। যে পৃষ্ঠায় বর্ণিত। ৩০ ৯৮। 'দক্ষিণ আনী। দক্ষিণ আনি। অনী দক্ষিণ । অনী অর্থে শূল, অথবা সূচী শলাকা প্রভৃতির সূক্ষ্ম অগ্রভাগ। অনী হইতে “আনী” হইয়াছে,-এবং এই আঘাতের প্রয়ােগ দক্ষিণ বক্ষে হয় বলিয়া, ইহার নাম “দক্ষিণ আনি” হইয়াছে। ৯৯। দক্ষিণ চক্ষু। চসম্ ; চসম রাং। এ রা। ১০০। দক্ষিণ দিকে। ১০১। দিক্ দিয়া। বতরফ। দেবঘাত। ৩৩ দিগড়। দ্বিগর্ত। ১৩। দ্বিগড়। ' (মৰ্ম্ম জানু) “মনুঘাতের” প্রয়ােগ বাম-বক্ষ-পান্থে হয় ; তাই এই আঘাতের প্রয়ােগ তদ্বিপরীত দক্ষিণ-বক্ষ-পার্শ্বে হয় বলিয়া ‘মনুঘাত” শব্দের তুলনায়, বিপরীত ভাব জ্ঞাপক “দেবাঘাত”শব্দ কল্পিত হইয়াছে। “দেবঘাত” শব্দই সংক্ষেপে “দে” হইয়াছে। এই অঘাতে জানু সন্ধির অভ্যন্তরস্থ অস্থি-সংযােগের দুইটি গর্তাকৃতি অস্থিমুখ ছিন্ন হয় বলিয়া, ইহার নাম “দ্বিগর্তের” অপ- ভ্রংশে “দ্বিগড়” হইয়াছে। আবার ইহাতে “জানুম” আহত হয় বলিয়া, ইহার অপর নাম “মৰ্ম্মজানু হইয়াছে। শৃঙ্গ এবং অসি এই উভয় একত্রে মিলিত করিয়া আঘাত প্রয়ােগের অভিপ্রায় জ্ঞাপন হেতু, ঐ সমস্ত আঘাতের বিশেষণরূপে “দ্বিসম্ভব” শব্দ ব্যবহৃত হয়। এ স্থলে “দ্বি” অর্থ “দ্বিতীয়”, এবং“অঙ্গ” অর্থ “অবয়ব” “আকৃতি”, তাই বিভিন্ন “স্থিতির দ্বিতীয় “আকৃতি” বুঝাইতে “দ্ব্যঙ্গ” নাম অবলম্বিত হইয়াছে। ১০৪। দ্বিসম্ভব। দোহরি (স্ত্রীলিঙ্গে); দোহরা (পুংলিঙ্গে)। দোয়া, ১০৬। ধাধা। নেশান দাদা দ্বিধা ; ' ধাধা! . নিশান ধাধা ; ধোকা ; দ্ব; অন্ধকার। ধাপ্পা ; ধর্থ ; এই প্রক্রিয়ায় দুই (কিম্বা বহু) অনিশ্চিত ও সন্দেহজনক ধারণা জন্মায় বলিয়া “দ্বিধা ও “দ্বন্দ্ব” শব্দের অপভ্রংশে ইহার ধাধা নাম হইয়াছে। আবার, এই প্রক্রিয়ায় সাময়িক ভাবে হতবুদ্ধিতা আনয়ন করে বলিয়া, রূপক ভাবে হতবুদ্ধি” অর্থে “অন্ধকার” শব্দের অপভ্রংশে “আঁধার” শব্দ হইতে ইহার নাম “ধাধা হইয়াছে। রস, রক্ত, মাংস, মেদ, অস্থি, মজ্জা এবং শুক্র এই সাতটি স্বয়ং অবস্থিত থাকিয়া মনুষ্যগণের দেহকে ধারণ করে, এ কারণেই এই কয়টির নাম ধাতু * বায়ু, পিত্ত, ও কফ এই তিনটিকেও পণ্ডিতগণ ধাতু বলিয়াছেন, যে হেতু ইহারাও শরীরকে ধারণ করে। অভিনিবেশ পূৰ্ব্বক একাগ্র চিত্তে কোন বিষয়ের চিন্তা ও নিরন্তর ধ্যান। ১০৭। ধাতু। ১৮। নিদিধ্যাসন। ধুনিয়া। ১৯। নিম্নে ; ( নীচের দিকে)। ১১০। নির্ঘাত। ছুট। ১৪,৫৭ নিঃশঙ্ক মনে, নির্দয় ও নিষ্ঠুর ভাবে এবং নিশ্চিত ও অমােঘ আঘাত প্রয়ােগ অর্থে নির্ঘাত”। চক্ষু মধ্যে “হুল” অথবা “আনী” বং ১১১। নেহুল উত্তর। আনি ব চসম } আঘাত নেত্রহুল দক্ষিণ। ৫১ এই আঘাতে অসি অস্থি-পঞ্জর ভেদ করিয়া যায়,—তাই ইহার নাম “পঞ্জর ১১৩। ১১৪। পঞ্জর উত্তর। পঞ্জর দক্ষিণ । পদ চালনা। চপ। আনি ব চসম্ ; রাস্ৎ। হঙুর। উন্টা হঞ্জুর। পাতাড়ি পায়তারা ; পায় তারি ; পাইরি ; পাইচারি৷ হইয়াছে। বিশিষ্ট নিয়ম পদ্ধতির অনুসরণ করিয়া পদবিক্ষেপ অর্থে “পদচালনা” নাম হইয়াছে। আবার, আঘাত ও পীড়ন অর্থে “ড়” ধাতু হইতে “তাড়ি” অর্থ বারম্বার আঘাত”;
ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক নাম ও শব্দ। প্রাদেশিক, বৈদেশিক কি বিকৃত নাম। মূল শব্দ। শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়াদি। যে পৃষ্ঠায় বর্ণিত। ১১৬। পাক্ষিক। পদচালনা কালে পদ ও পাদ দ্বারা ভূমিকে বারম্বার আঘাত ও পীড়ন (তাড়ন করিতে হয়,—এই ভাব হইতেই “পাতাড়ি” নাম অবলম্বিত হইয়াছে। আবার,—পাদবিক্ষেপের ধারা অর্থাৎ রীতি বুঝাইতে “পাদধারা” হইতে অপভ্রংশে “পায়তারা” নাম হইয়াছে। এই “স্থিতিতে” বামপদ বিক্ষেপ সহ অতি দ্রুত অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, এরূপ কল্পিত হইয়াছে—“যেন পক্ষীর ন্যায় উড়িয়া যাইবার জন্য হইয়া রহিয়াছে”—তাই। এই স্থিতির নাম “পাক্ষিক” (=পক্ষী সম্পর্কিত) হইয়াছে। পাখরী। ১১৭। পদ (পদ)। পরিদা ; পহিদা। ১১৮। পাঠ । ১১৯। পাতল। পাগ। ৪৪ “পঠ” ধাতু কর্মবাচ্যে “ঘ”, = পাঠ, যাহা নিয়ম পূৰ্ব্বক অভ্যাস করিতে হইবে পদতল দেশে এই আঘাতের প্রয়ােগ হয় বলিয়া, এবং বিভিন্ন আঘাতের বিভিন্নতা বুঝাইবার নিমিত্ত, দক্ষিণ হইতে বাম দিক অভিমুখে যে আঘাত প্রযুক্ত হয় তাহার নাম “পাতল” এবং বাম হইতে দক্ষিণ দিক অভিমুখে যে আঘাতের প্রয়ােগ হয়, তাহার নাম “অধস্তল” হইয়াছে। ১২০। পার্শ্ব। আজ্জের।
১২১। পালট ; ( বহিঃ গুল্ফ) ১২২। পিণ্ডি। পিণ্ডি, পিণ্ডী। ১২৩। পুরঃ। পােস্। পুর। এবং ১২৪। পৃষ্ঠ উত্তর। ১২৫। পৃষ্ঠ দক্ষিণ । “পুত” অর্থ “ল”। এই আঘাতের ফলে আহত ব্যক্তিকে এক পায়ে লাফাইয়া চলিতে হয়,–এরূপ কল্পনা হইতেই এই আঘাতের নাম “পুত” হইতে অপভ্রংশে “পালট” হইয়াছে। এই আঘাতে জামুর নিম্নস্থ পিণ্ডীকৃত মাংস-পেশী-ময় স্থান কর্তিত হয় বলিয়া ইহার নাম “পিণ্ডি” হইয়াছে। কিন্তু “মণিবন্ধ পুর” কোন কোন স্থলে বিকৃতরূপে “হাতকাটি পােশ, ‘মণিবন্ধপৃষ্ঠ’ হাত কঠি পোৎ নামে অভি- হিত হইয়া থাকে। এই আঘাত পৃষ্ঠোপরি পতিত হয় বলিয়া, ইহার এইরূপ নাম হইয়াছে। “কৌশলে বন্ধন” অর্থে “পৃচ,ধাতু হইতে উৎপন্ন “পর্চ” শব্দের অপভ্রংশে পেচ, “পেঁচ” প্রভৃতি শব্দ উৎপন্ন হইয়াছে ;- এবং পরস্পর খণ্ডন” অর্থে “কূট কৌশল” বুঝাইতে “পিশ’ ধাতু হইতে উৎপন্ন “পেশ” শব্দের অপভ্রংশে ও “পেচ শব্দ হইয়াছে। আবার “বন্ধন” অর্থে “কীল” ধাতু হইতে “কীলি” শব্দ হইয়াছে। “কৌশলে বন্ধন” এবং “কূট কৌশল”, এই উভয় অর্থেই “পেচ” শব্দ ব্যবহৃত হইয়া ৩৪ ১২৬। পেচ। কীলি। ১২৭। প্রকার ভেদ। ১২৮। প্রতিকার ; প্রতিরােধ। তরি; রকম। রােখা; ঠেকান; আটকান ; কৰ্ত্তন কাটুনা; কাটা; খণ্ডন। প্রতিপক্ষের আঘাত খণ্ডন অর্থে “রক্ষণ শব্দের অপভ্রংশে “রােখা” হইয়াছে। ;
ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক নাম ও শব্দ। প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম। যে পৃষ্ঠায় শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়দি। বর্ণিত। ১২৯। প্রত্যক্রমণ। জবাব ; উত্তর। ১৩০। প্রত্যারম্ভ। এয়াদা, বিপরীতারম্ভ। ১৩১। প্রােদ। পােপা। আক্রমণের উত্তরে যে আক্রমণ,-তাহাই প্রত্যক্রমণ। ভাষান্তরে “উত্তরের প্রতি শব্দই “জবাব”। ক্রীড়ারত ব্যক্তির মধ্যে একব্যক্তি, প্রথম আঘাত করিয়া কোন একটি “পাঠক্রম” আরম্ভ করিলে পর, “পাঠটি” শেষ হইলেই, অপর ব্যক্তি প্রথম আঘাত করিয়া সেই “পাঠক্রমটিরই পুনরায় বুঝাইতে “প্রত্যা- রম্ভ” শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে। পাদদেশের (পদপল্লবের ) অগ্রভাগ (প্রায় অর্ধাংশ) এই আঘাতে ছিন্ন হয় বলিয়া, এবং আঘাতের বিভিন্নতা বুঝাইবার নিমিত্ত, দক্ষিণ হইতে বাম দিকের আঘাতের নাম “প্রপাদ”, এবং বাম হইতে দক্ষিণ দিকের আঘাতের নাম “অর্জপাদ” হইয়াছে। নির্দিষ্ট প্রণালীতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত করণ অর্থে “প্রয়ােগ” শব্দ ব্যবহৃত হইয়া থাকে। ১৩২। প্রয়ােগ। মারা, মার। মারা। ১৩৩। প্রহার করা ; ( আঘাত করা)। ১৩৪। ফুরৎ। স্মৃৰ্ত্তি ; ধূরং। যাহাদের বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা এবং মনের ক্ষিপ্ৰকারিতা (দ্রুত মানসিক বিচার শক্তি) সতত বর্তমান থাকে, তাহাদের কদাচ কোন বিষয়ে বিচলিত হওয়ার কারণ না থাকা হেতুই, তাহাদের স্ফুর্তি ও সততই স্থির ভাবে বিদ্যমান থাকে ;-এইরূপ কল্পনা হইতেই মনের ক্ষিপ্ৰকারিতা বুঝাইতে “স্ফুরৎ” এর অপভ্রংশে “ফুরৎ” শব্দ বর্ণনা মধ্যে ব্যবহৃত হইয়াছে।
১৩৫। বসিয়া। নেসস্তা। ১৬৬। বহিঃগুলফ ; (পার্ট) ১৩৭। বস্তি উত্তর। ১৩৮। বস্তি দক্ষিণ। ১৩৯। বস্তি মধ্য। গুদ্দাচপ। গুদ্দা রাস্। গুদ্দা পেশ। শুরং ( শুরু+শত্) = শুক্তিযুক্ত, শােভামনি। ১২১ সখ্যা দ্রষ্টব্য। “বস্তিমৰ্ম্মে” এই আঘাতের প্রয়ােগ হয় বলিয়া, ইহার এইরূপ নাম হইয়াছে। আবার এই আঘাত “বস্তি” হইতে আরম্ভ করিয়া পায়ুমূল’ অভিমুখে প্রযুক্ত হয় বলিয়া, পায়ু” অর্থে “গুদ” শব্দের অপভ্রংশে ইহার নাম “গুর্দা” হইয়াছে। “বারণ” ( দমন ) অর্থে, নিজন্ত “বৃ” ধাতু ণি প্রত্যয়ে নিষ্পন্ন“বারি” শব্দের একবচনে “বারী” শব্দের শব্দের অপভ্রংশে “বাড়ি শব্দ হইয়াছে। ১৪০। বাড়ি। বারী। ৩০ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। চপ। ১৪১। বাম ; (উত্তর)। ১৪২। বায়ু। বধির। ১৪৩। বাহেরা। २. যে শক্তি দ্বারা দেহাভ্যন্তরস্থ সমস্ত কাৰ্য্য নিৰ্বাহ হয়, এবং যাহা দ্বারা দেহােৎপাদক সামগ্রী সমূহ বিভাগ পূৰ্ব্বক ভিন্ন ভিন্ন আকারে যথাযযাগ্য স্থানে উপনীত হয় তাহাই। “বায়ু”। কর্ণে (এ স্থলে দক্ষিণ কর্ণে) গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হইলে, অন্ততঃ সাময়িক ভাবে ও বধির হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলিয়া, এই আঘাতের নাম “বধির”শব্দ হইতে অপভ্রংশে “বাহেরা” হইয়াছে। এই পৰ্য্যায়ান্তৰ্গত কৌশল প্রয়ােগের ফলে, দর্শকগণের (তথা প্রয়ােগকারীরও) যথেষ্ট চিত্ত বিনােদন হয়,–এরূপ কল্পনা হইতেই “বিনােদ” নাম গৃহীত হইয়াছে ; অপভ্রংশে “বিনােট”। ৭২ ১৪৪। বিনােদ। বিননা। • ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক নাম ও শব্দ। যে পৃষ্ঠায় প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম। মূল শব্দ। শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রয়াদি। বর্ণিত। ১৪৫। বিষম ঘাত; ( অসম ঘাত)। মিল্ট। ১৪ ১৪। মধ্য। মাঝানি। বুক ; বক্ষ। এই পর্যায়ে অসম (বিষম ) ভাবে আঘাতের প্রয়ােগ ও প্রতিকার করিতে হয় বলিয়া, ইহায় নাম “বিষমঘাত” ও “অসম ঘাত হইয়াছে। আবার, এই পর্যায়ে আঘাত সমাবেশের বিভিন্ন আঘাতগুলি, ক্রীড়াকালে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত ভাবে বণ্টন করিয়া মিলিত হয় বলিয়া, ইহার অপর এক নাম “মিলবাট” হইয়াছে। বক্ষাস্থির নিম্ন পার্শ্বের মধ্য বিন্দু যথায় উদরের উর্দ্ধ পার্শ্বের সঙ্গে মিলিত হইয়াছে, তাহার নাম “বুক”। এএ আঘাতের প্রয়ােগ ঐস্থলে (বুক মধ্যে) হয় বলিয়া ইহার নাম “বুক মধ্য হইয়াছে। বেতসলতা বেতগাছ) যেরূপ মূলে স্থির থাকিয়া, উৰ্দ্ধাংশের বিভিন্ন গতি দ্বারা বায়ু- বেগের কোপ হইতে অব্যাহতি পায়, তদনুরূপে, পাদ-স্থিতি স্থির রাখিয়া শরীরের উৰ্দ্ধাংশের সঞ্চালন দ্বারা আক্রমণবেগ হইতে অব্যাহতি পাওয়ার ভাব হইতেই “বেতসী” নাম অবলম্বিত হইয়াছে। “স্থাপ” অর্থ “করতলাখাত”। এই আঘাতে করতলও নখাগ্রসমূহ সমভাবে প্রযুক্ত হয় বলিয়া, ব্যাঘ্রের করতলাঘাতের সঙ্গে সাদৃশ্য কল্পনা করিয়া, এই আঘাতের এই নাম (ব্যাঘ্রথাবা) অবলম্বিত হইয়াছে। “স্থাপ” শব্দের অপভ্রংশে “থাবা”। ১৪৭। বেতসী। কাওয়া; ( পার্শ্বের দিকে)। ১৪৮। ব্যাঘ্র থাবা। ব্যাঘ্র স্থাপ, ১৪৯। ভদ্ৰকান্তি। কেল্লাবন্দী। কিল্লাবন্দী। ১৫। ভর্জা। ভ্রষ্ট। ভাণ্ডার। এই কান্তিতে (পদ্ধতিতে, ভঙ্গীতে) অসি ধারণ করিলে, সৰ্ব্বদিকেই শুভ সম্ভাবনা থাকে, এরূপ কল্পনা হইতেই, এই পদ্ধতিতে অসি ধারণ করার নামভদ্ৰকান্তি” হইয়াছে। “ভদ্র” অর্থ “শুভ” “মঙ্গলজনক”; এবং “কান্তি” অর্থ আকৃতিগত শােভা”। দক্ষিণ বাহু বিনষ্ট হইলেই সাধারণতঃ লাঠি ও অসি সম্পর্কে ভ্রষ্ট (অধঃপতিত) হইতে হয়, এরূপ কল্পনা হইতেই এই আঘা- তের নাম “ভ্রষ্ট” হইতে অপভ্রংশে “ভজ্জা” হইয়াছে। আবার, বাম বাহুতে অনুরূপ আঘাতের নাম “ভুজ” হওয়াতে, ভিন্নতা বুঝাইবার নিমিত্তও এই আঘাতের নাম “ভজ্জা” করা হইয়াছে। “ভাণ্ড” অর্থ “পাত্র, আধার,-এ স্থলে “অসিকোষ”। যথায় “ভাণ্ড” রক্ষিত হয় তাহাই “ভাণ্ডার” ; তাই, অসিকোষ বাম- কটী পার্শ্বে রক্ষিত হয় বলিয়া,তথায় আঘাতের নামও “ভাণ্ডার” হইয়াছে। পূর্ব বর্ণিত (১৫১ সংখ্যা) আঘাত হবতে এই আঘাতের ভিন্নতা বুঝাইবার নিমিত্ত ইহার নাম “ভাণ্ডার ঘাত” হইয়াছে। এই আঘাত বাম কটী পার্শ্ব হইতে আরম্ভ করিয়া পায়ুমূল অভিমুখে প্রযুক্ত হয়, এবং পূৰ্ব্বের আঘাত (১৫১ সংখ্যা) বাম কটী পার্শ্ব হইতে আরম্ভ করিয়া দক্ষিণ কটীপার্শ্ব অভিমুখে প্রযুক্ত হয়। “ভুজ” অর্থ “বাহু”। বিভিন্নতা বুঝাইবার নিমিত্ত, দক্ষিণ বাহুতে আঘাতের নাম “ভজ্জা” এবং বাম বাহুতে আঘাতের নাম “ভুজ” হইয়াছে। २२ ভাণ্ডার ঘাত। ভাণ্ডার কাট। অ৩ র ১৫৩। ভুজ। ২৭ ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক মূল শব্দ। যে পৃষ্ঠায় শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়াদি। প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম। বর্ণিত। • নাম ও শব্দ। ১৫৪। কুটী উত্তর। ১৫৫। কুটী দক্ষিণ। ভিরকুট। “” এবং “মধ্য” ব্যাপিয়া এই আধা- তের প্রয়ােগ হয় বলিয়া ইহার এই নাম অবলম্বিত হইয়াছে। মণিৰন্ধের বিভিন্ন পার্শ্বের নাম অনুসারে তৎ তৎ স্থানীয় আঘাতের ভিন্ন ভিন্ন নাম হইয়াছে। ৪৯ হাতকাটি জের। হাতকাটি বালা। ১৫৬। মণিবন্ধ অধঃ। ১৫৭। মণিবন্ধ উৰ্দ্ধ ; ( মণিবন্ধ পূৰ্ব্ব )। ১৫৮। মণিবন্ধ পুরঃ। ১৫৯। মণিবন্ধ পৃষ্ঠ। মধ্যে। হাতকাটি পেশ। হাতকাটি পােস্। দর ; দের, বর। মনুঘাত। ১৬১। ২৮ মন। ১৬২। মৰ্ম্মজানু; ( দ্বিগড়)। ১৬৩। মৰ্ম্মস্থল। ৬০ মানবের প্রাণস্পন্দন বাম বক্ষাভ্যন্তরেই হয় বলিয়া, এবং অসির এই আঘাতে বাম বক্ষাভ্যন্তর কর্তিত হয় বলিয়া, ইহার “মনু- ঘাত” নাম কল্পিত হইয়াছে ; সমগ্র মানব- জাতি বুঝাইতেই “মনু” শব্দ। “মনুঘাই” সংক্ষেপে “ম” হইয়াছে। ১০৩ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। শরীরের যে সমস্ত স্থান সামান্য রূপে আহত হইলেও শরীরে গুরুতর গুরুতর যাতনা উৎপন্ন হয়, এমন কি মৃত্যু, কিম্বা অঙ্গ বৈকল্যও ঘটিতে পারে, তাহাই মারাত্মকত্ব হেতু “মৰ্ম্ম” নামে অভিহিত হয়। কোনও নির্দিষ্ট আঘাত প্রয়ােগ করা অর্থে “মারা” শব্দ ব্যবহৃত হইয়া থাকে। (“মৃ” ধাতু নিচ = মারিধাতুজ)। এই পৰ্য্যায় মধ্যে ঘাত, শ্যামঘাত, বিষম- ঘাত, চতুর্মু খী, প্রভৃতি বিভিন্ন পর্যায়ের সংমিশ্রণ আছে বলিয়াই ইহার নাম “মিশ্র- ঘাত হইয়াছে। ১৬৪। মারা। ১৬৫। মিশ্রঘাত। ১৪,৪৬ ১৬৯ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। ১৬৬। মুণ্ডা উত্তর ; ( মােড়া উত্তর)। ১৬৭। মুণ্ডা ; মুণ্ডা দক্ষিণ ; মােড়া ; মােড়া দক্ষিণ । ১৭০ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। • ১৭ ১৬৮। মুদ। “হ” ও “প্রীতি” অর্থে “মুদ” ও “মুদা”। প্রকৃতি মানসিক-শক্তি-সম্পন্ন ব্যক্তিগণের হর্য ও প্রীতির ভাব সৰ্ব্বদাই পরিলক্ষিত হয় বলিয়া, “মানসিক বলের” সাঙ্কেতিক নাম “মুদ” পরিকল্পিত হইয়াছে। স্কন্ধ-সন্ধির উর্ধাংশের নাম “কক্ষমুণ্ড”; এই আঘাতের প্রয়ােগ “কমুণ্ডে হয় বলিয়া, ইহার নাম “কক্ষমুণ্ড” হইতে সংক্ষেপে “মুণ্ড” ও “মুণ্ডা” এবং অপভ্রংশে “মুণ্ডা”হইতে “মােড়’ ও ‘মােড়া” হইয়াছে। উন্টামােড়া। ২৭ • ১৬৯। মােড়া উত্তর ( মুণ্ডা উত্তর )। ১৭। মােড়া ; মােড়া দক্ষিণ (মুণ্ডা ) (মুণ্ডা দক্ষিণ) ১৭১। যবেগা উত্তর। ৫৫, মােড়া। উন্টা যবেগা। যাবৎ গ্রীবা। “সমগ্র” অর্থে “যাবৎ”; সমগ্র গ্রীব- পার্শ্ব ( গ্রীবা ও স্কন্ধের সন্ধি হইতে উর্ধদিকে চারি অঙ্গুলী স্থান পর্যন্ত) এই আঘাতের স্থান বলিয়া, বলিয়া, ইহার নাম “যাব গ্রীবা” হইতে অপভ্রংশে সংক্ষেপে “যবেগ্না” হইয়াছে। ১৭২। যবেগা ; যবেগা দক্ষিণ । যবেগা ; ( জবেগা ) ১৭৩। যুদ। যােধ। “যুদ্ধকারী” অর্থে “যােধ”; অন্যান্য শক্তির প্রয়ােজন থাকিলেও থাকিলেও লােক বল-সমষ্টি-ভূত শারীরিক বল না থাকিলে প্রকৃত “যুদ্ধকারী” হওয়া অসম্ভব, এরূপ কল্পনা হইতেই শারীরিক বলও শক্তির সাঙ্কেতিক নাম “যােধ” হইতে অপভ্রংশে “যুদ” ধরিয়া লওয়া হইয়াছে।
ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম। যে পৃষ্ঠায় মূল শব্দ। শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়াদি। নাম ও শব্দ। বর্ণিত। [ ব্যক্তিগত ভাবেও শারীরিক একেবারে না থাকিলে মানব কোনরূপ জীবন-যুদ্ধেই প্রকৃত জয়লাভ করিতে পারেন, কিম্বা কৃতকাৰ্য্যও হইতে পারে না। তবে কোন কোন স্থলে ধনীগণ অর্থ সাহায্যে অপরের শক্তি ও শারীরিক বল ক্রয় করিয়া সাময়িক ভাবে কথঞ্চিৎ লাভবান হইতে পারেন বটে।] এই পদ্ধতির কৌশল শিক্ষার প্রথম ভাগে শিক্ষার্থিগণের আগ্রহাতিশয্য হেতু, সুযােগ পাইলেই কৌতূহল স্থলেও, শিক্ষিত কৌশল প্রয়ােগ করিয়া কপট যুদ্ধকামনার ভাব দেখাইবার প্রবৃত্তি হয় বলিয়া ইহার নাম, সনন্ত “যুধ” ধাতু হইতে যুযুৎসু” কল্পিত হইয়াছে। ১৭৪। যুযুৎস্ব। যুযু। ১৭৫। রাবান্তিক। রাউটী। ১০ ১৭৬। লাঠি। যষ্টি। গৎকা; লড়ি ; নরি ; লারি। এ স্থলে “রব” অর্থ “যুদ্ধ কোলাহল, এবং সান্নিধ্য অর্থে “অন্তিক”; যুদ্ধ কোলাহল মধ্যে এই “স্থিতি” প্রশস্ত বলিয়া, ইহার নাম “রাবান্তিক কল্পিত হইয়াছে। ‘যষ্টি” হইতে অপভ্রংশে “যটি” “যটি” হইকে “লটি” এবং “লটি” হইলে “লাঠি” হইয়াছে। লাঠি চৰ্ম্ম-মণ্ডিত হইলেই কোন কোন প্রদেশে তাহা “গৎকা” নামে অভিহিত হয়। এই আঘাতের প্রয়ােগ “শঙ্খমর্মে হয় বলিয়া ইহার নাম “শঙ্খ” হইয়াছে। ললাট- পার্শ্বস্থ অস্থির নাম শঙ্খ। ১৭৭। শঙ্খ উত্তর। ১৭৮। শঙ্খ দক্ষিণ।
১৭৯। শঙ্খমুরী। রহুমখানী। “শঙ্খ”নামক অসুর” সম্পর্কিত অর্থে “শঙ্খসুরী”। “শঙ্খ”নামক কোনও বিখ্যাত অসুর যে পদ্ধতিতে যুদ্ধ করিত, তাহারই নাম “শঙ্খমুরী”। শির। ১৮। শির শির উত্তর। ১৮১। শির দক্ষিণ। উল্টাশির ; এই আঘাত শিরােপরি পতিত হয় বলিয়া ইহার এইরূপ নাম হইয়াছে। শিরা। আলিম। ১৮২। শূরসেনী। শূরশ্রেষ্ঠ সেনাপতি সম্পর্কিত অর্থে “শূরসেনা”। কেবল মাত্র শূরশ্রেষ্ঠ সেনাপতি গণ যে পদ্ধতিতে যুদ্ধ করিতে সমর্থ হন, তাহার নাম “শূরসেনী”। ১৮৩। শৃঙ্গবাহী। শিফা দাও। ‘শৃঙ্গবহন করে যে, এই অর্থে ‘শৃঙ্গ- বাহী”। প্রধানতঃ, বাম হস্তের মণিবন্ধ হইতে কফোণি (কনুই) পর্যন্ত বাহুভাগ মধ্যে আঘাতের নাম “শৃঙ্গবাহী” হইয়াছে। ১৮৪। শেষ। আখের। ১; ৫। শ্যামঘাত)। ( সমঘাত)। ১৪,৪০ এই পর্যায়ে ক্রীড়ারত উভয় ব্যক্তিকেই প্রত্যেকটি আঘাতেরই প্রয়ােগ ও প্রতিকার সমান ভাবে পৰ্য্যায় ক্রমে করিয়া যাইতে হয় বলিয়া, ইহার নাম “সমঘাত” কল্পিত হইয়াছে ; আবার, বিপরীত গতিতে মেঘে মেঘের সংঘর্ষে যেরূপ বিদ্যুতের উৎপত্তি হয়, তদ্রুপ “শ্যামঘাত” পৰ্যায়ন্তৰ্গত পাঠের অভ্যাসকালে ও কখন কখন পরস্পরের লাঠির সংঘর্ষণ দ্রুত চালনায় বিদুৎ-বৎ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নির্গত হয় বলিয়া এই পর্যায়ের নাম “শ্যামঘাত” কল্পিত হইয়াছে। মেঘের এক নাম “শ্যাম”।
যে পৃষ্ঠায় ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক নাম ও শব্দ। প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা বিকৃত নাম । মূল শব্দ। শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়াদি। বর্ণিত। উন্টাসাণ্ড । २8 ১৮৬; যাণ্ড্য উত্তর। ১৮৭। যাণ্ড্য যাণ্ড্য দক্ষিণ । সাণ্ড। মস্তক লক্ষ্য করিয়া প্রায় লম্বভাবে আঘাত প্রয়ােগের উপক্রমকালে, ষণ্ড-বিক্রম সহ কাল্পনিক সাদৃশ্য থাকা হেতু, এই আঘাতের নাম “যাণ্ড্য” হইয়াছে। ১৯৪ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। ১৮৮। সকৃথি যুগল উত্তর ; সাকে। সাক উত্তর সাম্। ১৮৯। সকৃথি যুগল উত্তর ; ১৯৫ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। ১৪,৪০ উন্টাসাকে। সাক দক্ষিণ। ১৯। সপ্তসাদি। “স”—কার আদিতে আছে এরূপ নাম- যুক্ত সপ্ত বিষয়, যথা ;-১। সময়, ২। সুবিধা, ৩। সহিষ্ণুতা, ৪। माश्म, সতর্কতা, ৬। সৎসঙ্গ (সদ্ধি) ও ৭। ঘূর্তি। ১৮২ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। ১৯১। সমঘাত; ( শ্যামঘাত)। ১৯২া, সম্মুখ। ১৯৩। সহ (সহিতে) পেশ। মায়। কিন্তু “মণিবন্ধ পৃষ্ঠ” বুঝাইতে কোন কোন স্থলে বিকৃত ভাবে “হাতকাটি পেশ” বাক্য ব্যবহৃত হইয়া থাকে। সাকেন। ১৯৪। সাক; সাকম উত্তর ; (সকৃথি যুগল উত্তর)। সহ-অক (বক্রভাবে গমন করা) অম্। এই আঘাতের ফলে একপদ (উ) অন্য পদের সঙ্গে এক যােগে বক্রভাবে ছিন্ন হয় (অর্থাৎ গমন করে ), এইরূপ ভাব কল্পনা হইতেই “সাক” নাম অবলম্বিত হইয়াছে। আবার, এই আঘাতে এক সঙ্গেই দুইটি সকৃথিই (পদই ) ছিন্ন হয় বলিয়া, ইহার অপর নাম “সকৃথিযুগল” হইয়াছে। ৯৯৫। সাক দক্ষিণ ; (সকৃথি যুগল দক্ষিণ)। ৪১ তা এই সুধী। এ স্থলে বুদ্ধিবল অর্থে “সুধী” হইতে অপভ্রংশে “সুদ” নাম হইয়াছে। =শােভন, শ্রেষ্ঠ। ধী= = ধারণা, বিচার ও বােধ শক্তি। শুশ্রুষা = নূতন বিষয় শনিবার ও জানিবার আকাঙ্ক্ষা। inquisitiveness. ২। শ্রবণ = লােক পরম্পরায় বিভিন্ন বিষয় অবগত হওন। Various information from traditions and from all possible quarters. প্রাপ্তি। গ্রহণ = বিভিন্ন সূত্রে বিভিন্ন শিক্ষা Education from different sources and all possible ways. ৪। ধারণ = জ্ঞাত, শ্রুত ও শিক্ষিত বিষয় সকল মনােমধ্যে সঞ্চয় করিয়া, রক্ষা করণ। Mental and intellectual conceptions, and retention of those. প্রদর্শন। ৫। তর্ক = যুক্তি ment ; reasoning. Argu বিতর্ক = বাদানুবাদ ; সত্যসন্ধান হেতু বিভিন্ন বিরুদ্ধ যুক্তির সমন্বয় সাধন Counter-argument ; discussion with reasoning and counter-reasoning. ৭। অর্থবােধ = প্রকৃত অভিপ্রায় অবগত Teal Knowing real meaning and purport, ব্যবহৃত কিম্বা সাঙ্কেতিক প্রাদেশিক, বৈদেশিক কিম্বা যে পৃষ্ঠায় শব্দগত অর্থ কিম্বা অভিপ্রায়াদি। বর্ণিত। নাম ও শব্দ। ও ১১৬। সুদ ৮। তত্ত্বজ্ঞান বিষয় সকলের মূলে উৎপত্তি, কারণ ও রহত অবগত হওন। Knowing of the origin, growth, cause and the underlying principles of subjects. এই অষ্ট প্রকার বুদ্ধিগুণের নাম “ধী”- শক্তি। ১৯৭। স্থিতি। স্থিৎ ; ঠাট। ১৯৮। স্বকীয়স্থ। সিকতা। ক্রীড়াকালে অবস্থান পদ্ধতির সাঙ্কেতিক নাম “স্থিতি” হইতে সংক্ষেপে স্থিং” ও অপভ্রংশে “ঠাট” হইয়াছে। এ স্থলে কোনও নির্দিষ্ট আঘাতের নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থানে ঐ আঘাতটির স্বকীয়ত্ব কল্পনা করা হইয়াছে। তাই কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থানে ধাধার প্রয়ােগ করিয়া পুনরায় ঐ লক্ষ্য স্থানেই আঘাত প্রয়ােগের অভিপ্রায় বুঝাইতে “স্বকীয়স্থ” শব্দ ব্যবহৃত হইয়া থাকে। ৮৫ সংখ্যা দ্রষ্টব্য। এই পদ্ধতির পদচালনায়” হনুমানের ন্যায় অত্যধিক লম্ফ জম্ফ করিতে হয় বলিয়া, ইহার নাম “হনুমন্তী” কল্পিত হইয়াছে। কর্ণ পৃষ্ঠ হইতে উৰ্দ্ধ ও নিম্ন হনুর সন্ধি- স্থলে (মূল)এই আঘাতের প্রয়ােগ হয় বলিয়া ইহার এইরূপ নাম হইয়াছে। এই আঘাত “হ” (পুরােবাহু)কর্তিত হয় বলিয়া ইহার এইরূপ নাম হইয়াছে। “হস্তের” অপভ্রংশে হাত” এবং “কর্তনের অপভ্রংশে “কাটন” হইতে “কাটি” হইয়াছে। জনদান। ১৯৯। হনুতল। (জনার্দন ) ২০০। হনুমন্তী। ১০১। ইমুমূল ; রােক্সার। ইমুমূল উত্তর। ২২। ইমুমূল দক্ষিণ। ২০৩। হাতকাটি। উন্ট। বােসার। হন্ত কর্তন। ২১
২৪। হাতকোড়।
-
“কবর” হইতে অপভ্রংশে কোড়া।
“কবর” অর্থ “কেশপাশ। কেশপাশ বৎ
হস্তদ্বারা জড়াইয়া আচ্ছন্ন করা, এইরূপ
অভিপ্রায় বুঝাইতে “
হাকোড়া”
ব্যবহৃত হয়।
আবার কোট;” অর্থ “দুর্গ”; তাই,
“হস্ত দুর্গে আবদ্ধ করা” এইরূপ অভিপ্রায়
কল্পনা হেতু “হস্তকোট ;” শব্দের অপভ্রংশে
“হাত কোড়া” নাম হইয়াছে।
২৫। হীনায়।
হিমাএ।
দক্ষিণ গলপার্শ্বের মূলদেশ হইতে পায়ুমূল
কিম্বা বাম কটি পার্শ্ব অভিমুখে এই আঘাতের
গতি।
এই আঘাতের প্রয়ােগে আহত ব্যক্তিকে
হীনগতি প্রাপ্ত হইতে হয়, এইরূপ অভিপ্রায়
কল্পনা করিয়াই ইহার
“হীনায়ন
অবলম্বিত হইয়াছে।
নাম
২০৬। হল।
সন।
সূচী প্রভৃতির সূক্ষ্ম অগ্রভাগের নাম
'অল”; “অলের” অপভ্রংশে “হুল” নাম
হইয়াছে।
এই আঘাতে অসির অগ্রবিন্দু শরীর
মধ্যে (নাভিমূলে) প্রবেশ করাইয়া দিতে
ও ও মুসলমান রাজত্বের মধ্যভাগে দেশ বিদেশগত শিক্ষার্থিগণের শিক্ষার সুবিধা হেতু, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশ বিদেশের সাঙ্কেতিক শব্দ এবং বাক্য ব্যবহৃত হইত; এবং অবস্থা বিশেষে ঐ সমস্ত শিক্ষার্থিগণের মধ্য হইতেও কেহ কেহ শিক্ষক রূপে শিক্ষাপ্রদান কালে, পূৰ্ব্ব শিক্ষা ও সংস্কারের বশবর্তী প্রকৃত মূল শব্দের পরিবর্তে “রামাশী” (“গণের সাঙ্কেতিক গুপ্ত ভাষা) কিন্তু বিভিন্ন দেশ বিদেশের সাঙ্কেতিক ও বিকৃত নাম এবং শাদিও ব্যবহার করিত। কখনও কোন আগন্তুক অসিধারীর সঙ্গে অসি সম্পর্কে বাক্যালাপে যদি ঐ সমস্ত বিকৃত কিষা প্রাদেশিক ও বৈদেশিক শাদি ব্যবহৃত কয়, তবে ঐ সমস্তের অর্থবােধ হেতু কিঞ্চিৎ সাহায্য হইতে পারে, এইরূপ অনুমান করিয়াই, ঐ রূপ নাম, শব্দ ও বাক্য প্রভৃতি.কিছু কিছু যাহা সংগ্রহ করিতে পার গেল, তাহাও এই নির্ঘন্ট মধ্যে দেওয়া হইল; এবং “চুরি ও বাক শিক্ষা” মধ্যে ব্যবহৃত অতিরিক্ত সাঙ্কেতিক শব্দ ও নাম কয়টি ও, এই নির্ঘন্ট মধ্যে দেওয়া হইল। যে সমস্ত সাঙ্কেতিক নাম মূল শব্দের সঙ্গে অভিন্ন, তাহাদের সম্পর্কে মূল শব্দের “হরে আর ভিন্ন নাম দেওয়া হইল না। নিয়ােজন বােধে অনেক স্কুলে শব্দগত অভি যাদিও দেওয়া হইল না। আঘাত সম্পর্কিত সাঙ্কেতিক নামগুলি, বর্ণনামধ্যে,—বিশেষতঃ “বিনােদ” “যুযুৎসুর” বর্ণনা মধ্যে, কখন কখন আঘাতের স্থান ও লক্ষ্য বুঝাইতেও ব্যবহৃত হইয়াছে
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.