Bally Sadharan Granthagar
Satya Pirer Katha
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
সভ্যশীল
রামেশ্বর ভট্টাচাৰ্য্য
বিরচিত
"
এনগেন্দ্রনাথ গুপ্ত
সম্পাদিত
THE
JE ADVA
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে
প্রকাশিত
No text on this page.
CALCUTTA KOHINORIT
THE ADVANCE
সত্যপীলের কক্ষ,
রামেশ্বর ভট্টাচার্য্য
বিরচিত
শ্রীনগেন্দ্রনাথ গুপ্ত
সম্পাদিত
YOF
VERSITE
EMENT DE
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে
প্রকাশিত
১৩৩৬
PRINTED BY BIUPENDRALAI. BANERJEE
AT THE OALOOTTA UNIVERSITY PRESE, SENATE HOUSE, CALOUTTA.
Reg. No. 503B-March, 1930-
রামেশ্বর ভট্টাচার্য্য
সত্যনারায়ণের কথা ও শিবায়ন-কাব্য রচয়িতা রামেশ্বর
ভট্টাচাৰ্য্য নিতান্ত প্রাচীন কবি নহেন, কিন্তু যে কালে তিনি
বৰ্তমান ছিলেন সে সময়ে ইতিহাস অথবা জীবনী রচনা করিবার
প্রথা ছিল না। অতএব ঠিক কোন সময়ে রামেশ্বর জীবিত
ছিলেন অথবা তাহার পরমায়ু কত দিন ছিল তাহা নির্ণয় করিবার
কোনও উপায় নাই। তাঁহার বংশ-পরিচয়, নিবাসস্থান প্রভৃতি
কতক তঁাহার রচনাতেই পাওয়া যায় এবং তাহা হইতে তিনি
কতকাল পূর্বে বৰ্তমান ছিলেন কতক অনুমান করিতে পারা
সত্যনারায়ণের কথায় তাহার নিবাসস্থানের উল্লেখ আছে-
সাকিম বরদাবাটী যদুপুর গ্রাম।
আর এক স্থানে পিতার ও ভ্রাতার নাম লিখিয়াছেন
রচিল লক্ষমণাত্মজ দ্বিজ রামেশ্বর।
সনাতনে শুদ্ধমতি শম্ভ-সহােদর।
অক্ষয়চন্দ্র সরকারের সম্পাদিত প্রাচীন কাব্য-সংগ্রহে রামেশ্বরী
দত্যনারায়ণ অর্থাৎ শ্রীরামেশ্বর ভট্টাচাৰ্য বিরচিত সত্যনারায়ণের
পালা’ মুদ্রিত হইয়াছিল। যে সকল হস্তলিখিত পুথি হইতে
পাঠ স্থির করিয়া গ্রন্থ মুদ্রিত হয় তাহার প্রধান আদর্শ-পুস্তক
সন: ১১৬২ সালে লিখিত। “বঙ্গবাসী” যন্ত্রালয় হইতে ১৩১০
সালে যে শিবায়ন গ্রন্থ মুদ্রিত হয় তাহাতে তিনখানি হস্তলিখিত
J০
পুস্তকের উল্লেখ আছে, একখানি শকাব্দ ১৬৭১ সন ১১৫৭,
দ্বিতীয়খানি ১১৬১ সাল, আর একখানি ১১৮৩ সালের লেখা।
সুতরাং রামেশ্বরের কাল দুই শত বৎসরের আরও অধিক পূর্বে
তাহাতে কোন সংশয় নাই।
শিবায়ন গ্রন্থে গ্রন্থকারের বংশ-পরিচয় ব্যতীত কিছু
ঐতিহাসিক প্রমাণও পাওয়া যায়। রামেশ্বর লিখিয়াছেন তিনি
যশােমন্ত সিংহ কর্তৃক অনুগৃহীত হইয়াছিলেন। এই যশোমন্ত
সিংহ মেদিনীপুরের করণ গড়ের জমিদার রাজা।
ভাষা ও বাঙ্গালা সাহিত্য নামক গ্রন্থে পণ্ডিত রামগতি ন্যায়রত্ন
লিখিয়াছেন নবাব সূজাউদ্দীনের সময়ে যশােবন্ত সিংহ ঢাকার
নায়েব-নবাব সরফরাজ
খার প্রতিনিধি গালিব আলির সহিত
দেওয়ান হইয়া ঢাকায় গিয়াছিলেন । ইহা ১৬৫৬, অর্থাৎ ১৭৩৪
খৃষ্টাব্দের ঘটনা। দেওয়ান হইবার পূর্বেও যশােবন্ত সিংহ
মুর্শীকুলী খাঁর অধীনে কৰ্ম্ম করিতেন ও সেই সময়েই প্রতিপত্তি
ও খ্যাতি লাভ করিয়াছিলেন ।
দুই শত বৎসর অথবা তাহার কিছু পূর্বে রামেশ্বর ভট্টা,
তাহার প্রসিদ্ধ গ্রন্থদ্বয় রচনা করিয়াছিলেন, এ কথা কতক
নিঃসংশয়ে বলা যাইতে পারে।
===
রামেশ্বরী সত্যনারায়ণ বাংলা ভাষায় প্রাচীন কাব্যে কয়েকটি ভিন্ন ভাষার প্রাদুর্ভাব দেখিতে পাওয়া যায়। চণ্ডীদাসকে আদি কবি ধরিলে তাহার ভাষা অতি নিৰ্ম্মল, প্রাঞ্জল, বিশুদ্ধ বাংলা হইলেও তাহাতে অনেক মৈথিল ও হিন্দী শব্দ পাওয়া যায় । দুইজন মিথিলাবাসী কবির রচনা—কবিশেখর বিদ্যাপতি ঠাকুর ও কবিরাজ গােবিন্দ- দাস ঝা—বাংলা সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত হইয়া গিয়াছে এবং ইহাদের অনুকরণে অনেক বাঙালী কবি এক প্রকার মিশ্র মৈথিল ও বাংলা ভাষায় কবিতা রচনা করিয়াছেন। ইহারই নাম ব্রজ- বুলি। এই হইল প্রাচীন বাংলা কাব্যের এক স্তর। তাহার পর আর এক স্তরে প্রচুর হিন্দী, উর্দ, ও ফার্সী শব্দের প্রয়ােগ দেখা যায়। মুকুন্দরাম চক্রবর্ত্তী, ভারতচন্দ্র রায়, রামেশ্বর -মৰ্য তাহাদের রচনায় এমন অনেক শব্দ ব্যবহার করিয়াছেন। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তও স্থানে স্থানে করিয়াছেন। মৈথিল ও বিহারের চলিত হিন্দী শব্দের অর্থ করা কঠিন। আছে তাহার ব্যাকরণ, না আছে কোনও মুদ্রিত পুস্তক। এ ভাষা মুখে মুখে শিখিতে হয়। যাহারা সে ভাষা না জানিয়া আন্দাজে অর্থ করিয়াছেন, তাঁহাদের পদে পদে ভুল হইবারই কথা। তাহার উপর লিপিকরের অসংখ্য প্রমাদ আছে। কিন্তু উর্দ, ও ফার্সী শব্দ সম্বন্ধে সে কথা বলা যায় না। ব্যাকরণ, উৎকৃষ্ট গ্রন্থ সবই আছে। এখন যেমন আমরা সকলেই
•
ইংরেজিনবীশ, ইংরেজি বুকনি ছাড়া নিছক বাংলা আমাদের
মুখেই আসে না, নবাবী আমলে সেই রকম উর্দ, ফার্সী জবান
আকছার লােকের মুখে লাগিয়া থাকিত। বালকের টোলে
সংস্কৃত পড়িত, মস্তবে মিঞা সাহেবের কাছে উর্দ
পড়িত। দরবারী ভাষা ছিল উর্দ, উর্দতে অনেক দলিলপত্র
লেখা হইত, কাজীর বিচার হইত উর্দতে। ফার্সী না জানিলে
নবাবী সেরেস্তায় কাহারও চাকরী হইত না।
বাংলা ভাষার সহিত উর্দ মিলাইয়া কবিতা রচনা করিতে
সকলের অপেক্ষা মুন্সিয়ানা দেখাইয়াছিলেন রামেশ্বর ভট্টাচাৰ্য্য।
তাঁহার বিরচিত শিবায়ন ও সত্যনারায়ণ অথবা সত্যপীরের কথা
সর্বত্র প্রচলিত। এত অধিক প্রচলন বাংলা ভাষায় কিংবা
দেশে অন্য কোনও পুস্তকের নাই। প্রতি বৎসর লক্ষ লক্ষ
পঞ্জিকায় এই ক্ষুদ্রকায় পুস্তকখানি ছাপা হয়। বিস্ময়ের কথা
এই যে, সাহিত্য হিসাবে এই মহামুল্য পুস্তকের কিছু সমাদর
দেখিতে পাওয়া যায় না। বহু বৎসর পূর্বে অক্ষয়চন্দ্র সরকার
তাহার সম্পাদিত প্রাচীন কাব্য-সংগ্রহে এই গ্রন্থ প্রফ।
করেন। তাহাতে টীকাও
তাহাতে টীকাও ছিল, কিন্তু অনেক ফার্সী শব্দের
অর্থ ভুল। তাহার পর আর কেহ কিছু করেন নাই। এই
গ্রন্থের কোনও বিশুদ্ধ সংস্করণ নাই, উর্দ, ও ফার্সী শব্দাবলীর
যথাযথ অর্থ করিবার কোনও প্রয়াস হয় নাই। অথচ রামেশ্বরের
এই , গ্রন্থ অবলম্বন করিয়া
সর্বত্র সত্যপীরের কথা হয় ।
সত্যপীরের সিমি দিবার প্রথাও আমাদের দেশে সর্বত্র দেখিতে
পাওয়া যায়। প্রাচীন সাহিত্য রক্ষা করিতে হইলে এই সকল
গ্রন্থের পাঠ নির্ণয় করিয়া অজ্ঞাত অথবা বিস্মৃত ভাষার
শব্দসমূহের প্রকৃত অর্থ জানিয়া সটীক সংস্করণ প্রকাশ করিতে এক মাদ্ৰাজ অঞ্চল ছাড়া, ভারতের সর্বত্র সত্যনারায়ণের পূজা ও সত্যনারায়ণের কথা হয়। সত্যনারায়ণ ব্রতের বিবরণ স্কন্দপুরাণে রেখণ্ডে কথিত আছে। নারদ ঋষি মর্ত্যলােকে নানা প্রকার দুঃখ দেখিয়া বিষ্ণুলোকে গিয়া দেবদেব নারায়ণকে এই দুঃখ-প্রশমনের উপায় জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে, শ্রীভগবান্ বলেন, কলিযুগে সত্যনারায়ণের পূজা ও ব্ৰত ব্যতীত দুঃখ- মােচনের অন্য উপায় নাই। এই কথার প্রমাণস্বরূপ নারায়ণ নারদকে কয়েকটি আখ্যায়িকা শুনাইলেন। যেখানে সত্য- নারায়ণের কথা হয় সেখানে স্কন্দপুরাণের এই কয়েকটি অধ্যায় পাঠ করিয়া ব্যাখ্যা করা হয়। বাংলা দেশে সত্যনারায়ণের পুথি কয়েকজন লিখিয়াছিলেন, তাহার মধ্যে রামেশ্বর ভট্টাচার্যের রচনাই প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত। তিনি ও লেখকেরা স্কন্দপুরাণের বর্ণনাই অনুসরণ ফসছেন। একজন দরিদ্র ব্রাহ্মণ কাঠুরিয়া ও এক বণিকের আখ্যায়িকা মূল সংস্কৃতে যেমন আছে, বাংলা পুথিতেও প্রায় সেই রকম আছে। কেবল একটি বিশেষ প্রভেদ লক্ষিত হয়। স্কন্দপুরাণে দরিদ্র দুঃখী ব্রাহ্মণের প্রতি কৃপাপরবশ হইয়া ভগবান্ বৃদ্ধ ব্রাহ্মণরূপে তাহাকে দেখা দেন। বাংলা পুথিতে ভগবান্ মুসলমান ফকিরের বেশে ব্রাহ্মণের নয়নগোচর হইলেন। পরিশেষে চতুর্ভুজ মূর্তি ধারণ করিয়া ব্রাহ্মণের সংশয় ভঞ্জন করিলেন বটে, কিন্তু ব্রাহ্মণের দারিদ্র্য মােচন করিয়া তাহাকে পূজার পদ্ধতিতে নমঃ সত্যপীরায়’ বলিয়া ভােগ দিতে আদেশ অন্য করিয়া গেলেন। পুরাণের সত্যনারায়ণ বাংলা পুথিতে সত্যপীর হইলেন। সত্যপীরের কথা বঙ্গদেশের বাহিরে কেহ জানে না, অপর সকল প্রদেশে স্কন্দপুরাণােক্ত দেবতারই পূজা ও কথা হয়। যে কালে রামেশ্বর ও অন্যান্য কবিগণ তাহাদের কাব্য রচনা করেন, সে সময় সত্যপীরের পূজা আমাদের দেশে প্রচলিত হইয়াছিল। কোন সময়ে কিরূপে এই পূজার সূচনা হয়, সে বিষয়ে আমি সন্ধান করি নাই, তবে ইহার মূলে যে ধৰ্ম্ম- সমন্বয়ের উচ্চ আদর্শ আছে, তাহা সহজেই অনুভব করিতে পারা যায়। কোরানের শিক্ষা সঙ্কীর্ণ নয়, প্রাচীন ইহুদীয় মহাজনদিগের মহত্ত্ব সর্বত্রই স্বীকৃত হইয়াছে, কিন্তু ইসলাম ধর্ম প্রচারের সময় ধৰ্ম্মসাম্য রক্ষিত হইত না। সূফী কবি ও ভাবুকেরা কোনরূপ ভেদাভেদ মানিতেন না, কিন্তু সাধারণতঃ উদারতার অপেক্ষা উগ্রতাই অধিক লক্ষিত হইত। এই যে মুসলমান কলন্দরের রূপে বিষ্ণুর আবির্ভাবের কল্পনা, ব্রহ্মের বিরাট ব্যাপকতা, সর্বভূতে সমদর্শিতা, সকল ধৰ্ম্মে সত্যের অনুসন্ধিৎসা, ইহা সেই প্রাচীন মহৎ উদার আর্যজাতির চিন্তাপরম্পরার প্রণালী। ধৰ্ম্মবিরােধের তুল্য অপর বিরােধ নাই, সকল বিরােধের শান্তি হইয়াছিল এই পুণ্যভূমিতে। যীশুখৃষ্ট বলিয়াছিলেন, আমি আর আমার পিতা (ঈশ্বর) এক; এই অপরাধে রােমান শাসনকর্তার বিচারে ইহুদীয়েরা তাহাকে নিররূপে হত্যা করে। সূফীশ্রেষ্ঠ মন্সর বলিতেন, অন্ অল হক, আমি সত্য, অর্থাৎ ঈশ্বর; এই কারণে পারস্যদেশে তাহাকে খণ্ড খণ্ড করিয়া কাটিয়া তাঁহার দেহ ভস্মসাৎ করা হয়। কিন্তু প্রাচীন আৰ্যভারতে এরূপ অবিচার হইত না। উপনিষদে আর্য ঋষি বলিয়াছেন, যােহসাবসসা পুরুষঃ সােহহমশ্মি ; উপনিষৎ বেদের উপাঙ্গ। বুদ্ধদেব বেদ ও জাতিভেদ মানিতেন ; তিনি বিষ্ণুর অবতাররূপে প্রতিষ্ঠালাভ করিয়াছেন। যদি যীশুখৃষ্ট ও মহম্মদ ভারতে জন্মগ্রহণ করিতেন, তাহা হইলে নিঃসংশয় ভঁহারা অবতার বলিয়া গণ্য হইতেন। আর্যসন্তান ব্রাহ্মণ রামেশ্বর ভট্টাচাৰ্য যে মুসলমান ফকিরের আকৃতিতে বিষ্ণুমুর্তি দেখিতে পাইবেন, ইহাতে বিচিত্র কিছুই নাই। রামেশ্বর উচ্চশ্রেণীর কবি নহেন। বৈষ্ণব যুগে যে অমৃত ধারা উৎসারিত হইয়াছিল, তাহার রচনায় তাহা পাওয়া যায় না। নিসর্গের সৌন্দৰ্য-বর্ণনায় অথবা মানবচরিত্রের তত্ত্ব-বিশ্লেষণে তাহার গুণপনা প্রকাশ পায় না। সত্যনারায়ণের কথায় তিনি পৌরাণিক ইতিবৃত্ত অনুসরণ করিয়াছেন। স্কন্দপুরাণকার-কৃত সত্যনারায়ণ অথবা সত্যদেবের চিত্র তেমন দেবতুল্য হয় নাই, তার চরিত্রে সাধারণ মানবের দুর্বলতা অর্পিত হইয়াছে। সত্যপীরের চিত্রে রামেশ্বর আর একটু রং ফলাইয়াছেন। সত্যপীর যেমন নিঃস্ব ব্রাহ্মণকে বিত্তশালী করিলেন, সেইরূপ বণিক সিন্নি মানিয়া দিতে ভুলিয়া গিয়াছিল বলিয়া তাহাকে মিথ্যা চোর অপবাদে কারাগারে নিক্ষেপ করাইলেন, আবার তাহাকে মুক্ত করিবার সময় রাত্রিতে অকারণে রাজাকে ভয় দেখাইলেন। বণিক সদানন্দ ও তাহার জামাতা দেশে ফিরিলে সদানন্দের কন্যা আহলাদে অভুক্ত সিন্নি ফেলিয়া ছুটিয়া আসিয়াছিল—এই অপরাধে তাহার স্বামীর মৃত্যু হইল, পরে অনেক কঁাদাকাটার পর পীর মৃতকে পুনর্জীবিত করিলেন।
॥
এই সকল ঘটনায় দেবতার মহত্ত্ব নাই, মানুষের লঘু চরিত্রের
পরিচয় আছে। এই সকল ত্রুটি থাকিলেও এই গ্রন্থ লুপ্ত
হইবে না, কারণ ইহা পূজা-পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত হইয়া গিয়াছে;
যেখানে সত্যনারায়ণের কথা হয় সেখানেই এই গ্রন্থের কাহিনী
শুনিতে পাওয়া যায়, ঘরে ঘরে পাজিতে এই কাব্য রক্ষিত
আছে, বৎসরের পর বৎসর নূতন পঞ্জিকায় মুদ্রিত হয়।
বিশেষ কোন গুণ না থাকিলে কোন গ্রন্থের এতকাল
ধরিয়া এত লােকের কাছে সমাদর হয় না। রামেশ্বরের
কাব্যের গুণ তাহার ভাষায়। এই কবি অসামান্য ভাষা ও
শব্দকুশলী। সংস্কৃত ত জানিতেনই, তাহার উপর ফার্সী ও
উর্দ, ভাষায় অসীম ক্ষমতা। এই ভাষা তিনি ফকিরবেশী
সত্যপীরের মুখে দিয়াছেন। কথােপকথনে পাল্টাপাল্টি বাংলা
ও উর্দ, ভাষায় সওয়াল জবাব পড়িয়া চমৎকৃত হইতে হয়।
আগাগােড়া ভাষা চোস্ত, জমাট, ধারালো, ফেনাইবার ফাঁপাইবার
চেষ্টা কোথাও নাই। বড় কবি না হইলেও বড় কথা, স্মরণীয়..
কথা আছে। বড় কবির এক প্রমাণ তাঁহাদের বাণী চলিত
নিত্য-ব্যবহৃত ভাষার সঙ্গে মিশিয়া যায়। কালিদাসের
অনেক উপমা অনেকে জানে। শেকসপীয়রের অনেক কথা
ইংরেজি ভাষায় সচরাচর ব্যবহৃত হয়, মিল্টনের রচনা হইতে
অনেক গভীর কথা উদ্ধৃত হয়, টেনিসনের অনেক কথা
ইংরেজি ভাষার সৌষ্ঠব সাধন করে। ধৰ্ম্ম এক, সম্প্রদায়
বিস্তর,ঈশ্বর এক, তাহার নাম নানা। রাম ও রহিম এক,
রামেশ্বর এই কথা কয়েকবার বড় মধুরভাবে লিখিয়াছেন।
কোরানের প্রত্যেক সুরা অথবা পরিচ্ছেদের পূর্বে এই কয়টি
lledo
কথা থাকে—বিসমিল্লাঃ অরহমান, অরহীম। রহমান ও
রহীম—এই দুইটি আরবী শব্দের অর্থ দয়াময়। দুটিই আল্লার
রামেশ্বর লিখিয়াছেন—
অতঃপর বলিব রহিম রাম রূপ।
নাম।
স্থানান্তরে-
রাম রহিম দোয় নাম ধরে এক নাথ।
আবার
মকায় রহিম আমি অযযাধ্যায় রাম।
উর্দ, কিংবা ফার্সী শব্দ বাংলা অক্ষরে বানান করা বড়
কঠিন, উচ্চারণ ত হইতেই পারে না, কারণ আরবী ও ফার্সীর
অনুরূপ অনেক অক্ষর বাংলায় নাই। ফার্সী ও উর্দু ভাষা
জানা থাকিলে তবেই সে-সকল শব্দ ঠিক উচ্চারণ করিতে
পারা যায়। অক্ষয়চন্দ্র সরকার কর্তৃক প্রকাশিত পুস্তকের
পাঠ অবলম্বন করিয়া আমি ফার্সী ও উর্দ, শব্দসমুহের অর্থ
করিয়াছি।
জয় জয় সত্যপীর
সনাতন দস্তগীর
দেব-দেব জগতের নাথ।
দস্তগীর অর্থে যিনি সকল বিষয়ে সহায়তা করেন, মহাপুরুষ ও
পীরের সম্বন্ধে ব্যবহৃত হয়।
কলিতে যবন দুষ্ট
হৈবী করিল নষ্ট
দেখি রহিম বেশ হৈল রাম।
হৈন্দবী শব্দের এখন আর প্রয়ােগ নাই,
এখন আর প্রয়ােগ নাই, অর্থ হিন্দুধর্ম,
হিন্দুয়ানী। আর একস্থানে হিন্দব শব্দ আছে, অর্থ হিন্দুজাতি।
যে ব্রাহ্মণের উপাখ্যান লইয়া কথা আরম্ভ হইল, তাহার নিবাস দিল্লীর দক্ষিণ দেশ মথুরেশপুর, নাম বিষ্ণুশর্মা। ব্রাহ্মণের অবস্থা ‘লঙ্ঘনে বঞ্চন কভু ভিক্ষায় ভক্ষণ। একদিন অভুক্ত অবস্থায় অপরাহুকালে বটবৃক্ষতলে বসিয়া ব্রাহ্মণ শােক করিতেছে, দেহত্যাগের কল্পনা করিতেছে, এমন সময় মাধব পীর সাজিয়া উপস্থিত হইলেন। মনােহর কৃষ্ণমূৰ্ত্তি, মাথায় পাগ, অঙ্গে বড়ি বড়ি কৌড়ি, গ্রন্থিত গুধড়ী, হাগ ছাল থলি খাল দণ্ড। গুধড়ী চলিত হিন্দী কথা, অর্থ কথা। বড় বড় কড়ি-গাঁথা কথা, হাতে ছাগচৰ্ম্মর থলি, থালা ও দণ্ড। ঘণ্টা র রনু, জিগীর ঘন ঘন, ঝন্ ঝন্ জিঞ্জির শব্দ। জিগীর শব্দের উচ্চারণ জিকর, অর্থ উল্লেখ, বলা। ফকির ঘন ঘন আল্লার নাম করিতেছেন! জিঞ্জির (জঞ্জীর), শব্দের অর্থ শিকল। ফকির ও ব্রাহ্মণে নিম্নরূপ কথাবার্তা হইল- কপটে করুণাময় বিজে কয় বাওয়া। মৈ ভুখা ফকীর হ লেগা মের দুওয়া ॥ তু বাওয়া বতাওর ধরম আত্মা দেখা তুঝে। মৈ ভুখা ফকীর ই খিলাও কুছ মুঝে। তমা দুনিয়া দেখা সহি ইমান ছুটা। কঁহা কোই খয়রাত্ন করে এক মুঠা ॥
w
বিজ বলে দেওয়ান ও কথা কও কাকে।
মনস্তাপে মরিতে বসেছি ঐ পাকে।
কলি হইল প্রবল মজিল ধর্মপথ।
দেওয়ান কহেন বাওয়া কহহ হকীকত।
নিজ দুখ কয়া জি করেন বােদন।
নারিনু খাওয়াতে আমি বড় অভাজন।
ধর মাের বসন অশন কর বেচে।
মৃত্যুকালে মাের ধর্ম মজাইলে মিছে।
বিশ্বনাথ বিশ্বাস বুঝিয়া বলে বচ্চা।
দুনিয়ামে ঐভি আদমি রহে সচ্চা ।
ভলা বাওয়া কাহে তেরা মৃত্যুকাল কাহে।
রাত দিন যৈস তৈসা দুখ মুখ হােয়ে।
জানা গয়া বাত রাওয়া জানা গয়া বাত।
কপা তাে লেও ভলা আও মেরা সাত ।
জও তাে সৎপীর মেরাজও তাে সৎপীর।
তেরা দুখ দূর
ফকীর।
ঐস। কুছ হনৰ বতায় দেও তােয়।
কিয়ে পিছে সিতাব খয়ের খুব হােয়।
সৎপীর পাঙমে একিদা করে দিল।
সাহেব করেগা তেরা নিয়ত হাসিল।
আপসে চলায় দেও সিরনিকে মন্দ।
কোই তেরা হুকুম করেগা নহি রদ।
জিঙ্কো তু যাে কহেগা সােহি হােগা সহি।
পীর বরাবর হােগা করাে যাকে এহি।
বিজ বলে কহিলেন দেওয়ান মহাশয়।
যবনের কাৰ্য সে ত ৰাণের নয়।
করে। তও হম্
ইষ্ট ছাড়ি অনিষ্ট ভজিব কেন অন্য ।
ডুবাইব পরকাল ইহকাল জন্য ।
দেওয়ান কহেন শুনে গেয়ান কি বাত।
রাম রহিম দোয় নাম ধরে এক নাথ।
অভেদ তুম্ কে কহ শাস্ত্রকি সার।
তুসে ভেদ ভলা নহি করো তাে একত্যার ।
সকল
ফকিরের কথা বিশুদ্ধ উর্দ, ভাষায়, ব্রাহ্মণের বাংলা। প্রথমে
শব্দ সকলের অর্থ করিয়া পরে উদ্ধত অংশের বাংলা অনুবাদ
করিব। বাওয়া অর্থে বাবা, বাছা। ফকিরকেও বাওয়া বলে।
দুওয়া, আশীর্বাদ।
বতাওর, দাতা। ভুখা, ক্ষুধিত। খিলাও,
খাওয়াও।
ইমান, ধৰ্ম্ম, নিষ্ঠা। দেওয়ান, মহৎ ব্যক্তি;
রাজমন্ত্রীকে দেওয়ান বলে; আমাদের দেশে যেমন বাবু
উপাধি, সিন্ধুদেশে সেই রকম দেওয়ান উপাধি, আবার
দেওয়ান হাফিজ বলিতে হাফিজের বিরচিত গ্রন্থ বুঝাইবে,
কিন্তু
প্রকার প্রয়ােগে এই শব্দ
সম্মানসূচক।
হকীক, বৃত্তান্ত, সত্য বিবরণ। জও, যদি। হুনর অর্থে
কৌশল, বাংলা ভাষাতেও ব্যবহৃত হয়। সিতাব, শীঘ্র।
খয়ের, মঙ্গল। পামে, চরণে। একিদা, মিলিত, নিবিষ্ট।
সাহেব, ঈশ্বর। নিয়ত, বাঞ্ছা। সিরনি, নৈবেদ্য, প্রসাদ, এই
শব্দ বাংলায় সিন্নি হইয়াছে। মদ্দ, প্রথা, পদ্ধতি। সহি, সত্য।
অতিয়ার শব্দ ‘একত্যার’ আকারে বাংলা ভাষায় প্রচলিত
হইয়াছে, অর্থ ক্ষমতা, স্বীকার।
ফকির আগাগােড়া ব্রাহ্মণকে “তুই বলিয়া সম্বােধন
করিয়াছিলেন, অনুবাদে ‘তুমি’ লিখিয়াছি।
w.
ফকিরের বেশধারী করুণাময় সত্যনারায়ণ কপট করিয়া
ব্রাহ্মণকে কহিলেন, বাবা, আমি উত্তম ফকির, আমার আশীর্বাদ
গ্রহণ কর। বাবা, তুমি দাতা, তােমাকে ধৰ্ম্মাত্মা দেখিতেছি,
আমি ক্ষুধিত ফকির, আমাকে কিছু আহার করাও। সমস্ত
জগৎ দেখিলাম, সকলেই ধৰ্ম্ম ত্যাগ করিয়াছে, কেহ কোথাও
একমুষ্টি ভিক্ষা দান করে না। ফকির ত এই কথা বলিলেন,
তাহার প্রত্যক্ষ প্রমাণ সেইদিন ব্রাহ্মণ ভিক্ষা চাহিতে গিয়া
নিজে পাইয়াছিলেন।
কেহ বলে ফিরে মাগ প্রসবেছে নারী।
কেহ বলে নিত্য কি তােমার ধার ধারি ।
কেহ গালি দেয় কেহ করে দূর দূর!
মারিতে চলিল। কেহ হইয়া নিষ্ঠুর।
ফর্কির সকল কথা জানিতে চাহিলে ব্রাহ্মণ নিজের দুঃখের
কাহিনী বলিয়া বােদন করিতে লাগিল, অবশেষে কহিল,
ধর, মাের বসন, অশন কর বেচে। এই ছদ্মবেশী অন্তর্যামী
ফকির বাছিয়া বাছিয়া ব্রাহ্মণকে সম্ভাষণ করিয়াছিলেন।
দ্বারে দ্বারে লাঞ্ছিত, তাড়িত, ভিক্ষাবঞ্চিত হইয়া সারাদিন
অনশনে কাটাইয়া, সায়ংকালে ব্রাহ্মণ আত্মহত্যা করিবার মানস
করিতেছিল, কিন্তু কস্থা, পাগ, প্রবাল, কণ্ঠমালাধারী যবন
ভিক্ষুক সম্মুখে উপনীত হইয়া যাল্কা করিতেই এই কপর্দকশূন্য
মহাপ্রাণ ব্রাহ্মণ নিজের জীর্ণ অবস্ত্র দান করিল। এই দান
মহাদান; ইহা মুক্ত হস্তের দান নয়, মুক্ত প্রাণের দান। যে
রমণী বৃক্ষের অন্তরাল হইতে নিজের লজ্জাবস্ত্র বুদ্ধদেবের
উদ্দেশে দান করিয়াছিল তাহারও দান এইরূপ। ব্রাহ্মণের
;
মহত্বের পরিচয় পাইয়া ফকির বিস্ময়ানন্দে কহিলেন, পুত্র,
পৃথিবীতে এমন সত্যপ্রকৃতি মানুষও হয়।
হয়! কেন, বাবা,
তােমার মৃত্যুকাল উপস্থিত হইবে কেন? যেমন রাত্রিদিনের
পৰ্য্যায় দুঃখসুখও সেইরূপ, একের পর অপর আসে। ভাল,
তােমার কাপড় লও, আমার সঙ্গে এস। যদি আমার পীর
সত্য হন, যদি আমার পীর সত্যপীর, তােমার দুঃখ দূর করিতে
পারি তবেই আমি যথার্থ ফকির। তােমাকে এমন কিছু
কৌশল শিখাইয়া দিই যাহা করিলে পরে সত্বর তােমার
যথেষ্ট মঙ্গল হয়। সত্যপীরের চরণে হৃদয় নিবিষ্ট কর,
ভগবান্ তােমার বাঞ্ছা পূর্ণ করিবেন। তুমি নিজে সিন্নির
প্রথা চালাইয়া দাও, কেহ তােমার আদেশ লঙ্ঘন করিবে না।
তুমি যাহাকে যাহা কহিকে তাহাই সফল হইবে, তুমি গিয়া
আমার কথামত কাৰ্য্য কর, তাহা হইলে পীরের তুল্য হইবে।
ব্রাহ্মণ আবার আপত্তি করিলে ফকির তাহাকে বুঝাইয়া
বলিলেন, জ্ঞানের কথা শুন, একই প্রভু রাম ও রহিম দুই
নাম ধারণ করেন। আমি তােমাকে কহিতেছি শাস্ত্রের সার
অভেদ, তােমার পক্ষে ভেদজ্ঞান ভাল নয়, ইহাই স্বীকার কর।
তাহার পর ফকির ব্রাহ্মণবেশ ও তৎপরে চতুভুজ বিষ্ণুমূর্তি
ধারণ করিয়া, ব্রাহ্মণকে আশ্বস্ত করিয়া তাহাকে পঞ্চরত্ন দান
করিলেন। সত্যপীরের পূজার পদ্ধতি সমস্ত বুঝাইয়া দিলেন।
বলিলেন,-
পীরধাংশে মুজরা করিবে পুনর্বার।
সত্যপীর নারায়ণ যি অংশ প্রকার ।
মুজরা অর্থে হিসাব, ভাগের নির্ণয়। প্রসিদ্ধ হিন্দী দোহায় আছে,
রাম ঝরােখে ঠ ক সবকা মুজরা লে।
জিকি জইসি চাকরী উসকো ওয়াহি দে।
রাম গবাক্ষে বসিয়া সকলের হিসাব গ্রহণ করেন, যাহার
যেরূপ কৰ্ম্ম তাহাকে সেইরূপ দেন।
চতুর্ভুজ রূপ ধারণ করিয়া ফকির অন্তর্হিত হইলেন,
ওদিকে ব্রাহ্মণীর পিতৃবেশে অলঙ্কার, বস্ত্র, নানা সামগ্রী নিজের
মস্তকে বহন করিয়া তাহার কুটীরে দেখা দিলেন। যখন
ব্রাহ্মণ ঘরে ফিরিল সে সময় তাহার শশুরের রূপধারী সত্যপীর
নারায়ণ নাই, তাহার প্রদত্ত সামগ্রী-সকল রহিয়াছে। পত্নীর
মুখে সমস্ত কথা শুনিয়া ব্রাহ্মণ বলিল,
চক্রপাণি চিনিতে নারিলে চন্দ্রমুখী।
প্রভু এসেছিল সাধ্বি হৈয়া তাের পিতা।
তুমি ধন্যা পীরকন্যা কীৰ্ত্তি কল্পলতা।
বিস্তর আপত্তি, নানা বিজপের পর, বিষ্ণুশর্মা ও সত্যপীরের
অলৌকিক ক্ষমতা ও ক্রিয়া দেখিয়া,
বিশ্বস্ত হইয়া সকলে
সত্যপীর নারায়ণের পূজা দিতে আরম্ভ করিল।
বিষ্ণুশর্মার অট্টালিকার সম্মুখে লােকে লােকারণ্য হইল।
দুয়ারে দুন্দুভি বাজে ফুকুরে বিষাণ।
আকাশে আল্লাম উড়ে পীরের নিশান ॥
আল্লাম শব্দের অর্থ কি? ইহা ফার্সী আলম শব্দ, অর্থ
লােক, লােকসমূহ। পঙক্তির অর্থ—লােকে আকাশে পীরের
নিশান উড়াইল।
কাঠুরিয়ার কথা সংক্ষিপ্ত, পীরের সিমি মানার পর তাহার
গ
১০ দারিদ্যুমােচন হইল। স্কন্দপুরাণে আছে, কাষ্ঠকেতু কাষ্ঠ- বিক্রয়লব্ধ ধনে সত্যনারায়ণের ব্ৰত করিবে মানস করাতে সেইদিন তাহার কাষ্ঠ দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রীত হইল। একস্থানে রেলা’ শব্দ আছে। দেখি অতি রেল অনুমতি দিলা শেষে। রেলা উর্দ, কিংবা ফাসী শব্দ নয়, গ্রাম্য হিন্দী শব্দ, অর্থ ঠেলা, ভিড়। এই ত গেল লাভের দিক। অপর পক্ষে, সিন্নি মানিয়া দিতে ভুলিয়া গেলে কিরূপ শাস্তি হয় তাহার দৃষ্টান্ত সদানন্দ বেণে। এই বণিক সন্তান-কামনায় সত্যপীরের সিন্নি মানিয়াছিল। পীরের কৃপায় সদানন্দের কন্যা হইল, কথা বড় হইলে, তাহার বিবাহ হইল, কিন্তু যে কোন কারণেই হউক সদানন্দের মানত, রক্ষা হয় নাই, পীরের সিন্নি দিতে ভুলিয়া গিয়াছিল। অবশেষে সদানন্দ বণিক । ৫ দক্ষিণ সফরে, নৌকার ব্যাপারে, জামাতা সহিত গেল। ব্যাপার শব্দ বাণিজ্যার্থে হিন্দুস্থানের সর্বত্র ও বােম্বাই প্রদেশে ব্যবহৃত হয়, উচ্চারণ বেওপার। সফর অর্থে ভ্রমণ। সেখানে রাজার সহিত বেচাকেনা হইল, রাজার অতিথি হইয়া পরম সমাদরে শশুর জামাতা বাস করিতে লাগিল। সিমি না পাইয়া এতদিন সত্যপীর কিছুই করেন নাই, এখন তাঁহার হঠাৎ মনে পড়িল বণিককে শিক্ষা দিতে হইবে।
১% সাধু সুতা পাইল, আম পাসরিল, প্রমানে পাড়িব তারে। করিয়া মানন, যেন কোন জন, আর না এমন করে। সুর চোর পীর, পশি নৃপতির, কোষে করাইল চুরি। রা-ধন লয়ে, রাতারাতি বয়ে, পূরিল সাধুর তরী। রাজকোষের চোরাই মাল পর দিবস সদাগরের নৌকায় পাওয়া গেল, অমনি কোটাল শ্বশুর-জামাইকে বাঁধিয়া, মারিয়া, কারাগারে পূরিল। তাহারা কারাগারে অস্থিচর্মসার হইতে থাকুক এদিকে মথুরায় বিষ্ণুশুম্মার ব্রাহ্মণী পুত্রের কল্যাণ-হেতু সত্যপীরের সিন্নি দিয়া সকলকে খাইতে দিলেন। সেখানে সাধুয়ানী (সদানন্দের ভাৰ্য্যা) ও তাহার কন্যা উপস্থিত ছিলেন। বণিকানী কহিলেন, তাঁহার পতি ও জামাতা নির্বিঘ্নে ফিরিয়া আস্কিলে তিনিও সত্যপীরের সিম্নি দিবেন। ব্রাহ্মণীরে ইর্ষাদ রাখিয়া গেলা ধরে। সদয় হইল পীর সাধুর উদ্ধারে । ইর্ষাদ শব্দ ছাপা হয় ইসাদ ; ইসাদ অর্থশূন্য শব্দ, ইর্ষাদ অর্থে আদেশ, ইচ্ছ। সিন্নির নাম হইতেই পীর সাধুর উদ্ধারে যত্নবান হইলেন। হইয়া কি করিলেন? অন্ধরাত্রে রাজার স্বপ্নাবস্থায় প্রচণ্ড ফকির-মুর্তিতে রাজার বক্ষে বসিয়া বলিতে লাগিলেন- কাছে রে কুট্টন গির্দ মৌত লগা তেরা। ছোড় সদানন্দ নাম সেবককে মেরা ।
নহি ঠেীর মারুঙ্গা রখেগা কওন চচা।
ও লােগ ভি চোর ঔর তু লােক ভি সচ্চা।
তকির খাতির উৰে পীর এ কিয়া।
এও নহি তত তেরা মাত্তা উয়হ কাহাসে লিয়া।
জওতাে ওহি নেতা মাতা জওতো ওহি নেতা।
বিহানকে কেঁও রহেগা রাতহি চলা যাতা ॥
তেকা ওকা গুণাহ, নহি সবি গুণাহ মেরা।
ছােড় দে দে গরিবকে। চলা যায় ডেরা ।
ঔর এক হিসাব কি বাত কহে শুন।
যে মাতা লিয়া তো দেগা দশ গুণ।
যও তো বণিয়াকো তু লুট নহি লেতা।
বানাে বরিখমে বারাে গুণ হােত ।
সাহা মজকুরুকা দস্তুর কুছ বুঝে।
খােড়া দিলায় দিয়া এনা মাফ কিয়া তুঝে।
বিহানকো ছােড়ন কিজে কহে বের বের।
মেয়া বাত ন রখেগা মরেগা আখের।
কুট্টন গির্দ গালি, যে ব্যক্তি নিন্দিত লােক কর্তৃক বেষ্টিত।
মৌত, মৃত্যু। ঠেীর, ঠাই, স্থান। তসকির, অপরাধ। খাতির,
জন্য, কারণে। এও, এরূপে। মাত্তা, ধন, সম্পত্তি। তেকা,
উর্দ, কিংবা ফার্সী শব্দ নয়, প্রাদেশিক হিন্দী শব্দ, অর্থ তাের।
‘ওকা’ও ঐরূপ শব্দ, অর্থ উহার। সাহা, রাজা, বাদশাহ।
মজ কুর, দরিদ্র। এনা, হিন্দী, ইহাকে।
কেন রে হতভাগা, তাের কি মৃত্যু উপস্থিত ? সদানন্দ
নামক আমার সেবককে ছাড়িয়া দে, নহিলে এখানেই তােক
মারিয়া ফেলিব, কোন্ চাচা তােকে রক্ষা করিবে ? ওরা সব
চোর আর তােরা বড় সাধু, না ? অপরাধের কারণ পীর উহাকে এরূপ করিয়াছিল, এমন না হইলে তাের ধন ওরা কোথা হইতে লইল ? যদি ওই ব্যক্তি তাের ধন লইত, ওই যদি লইত তাহা হইলে রাতারাতিই চলিয়া যাইত, সকাল বেলা এখানে কেন থাকিবে ? ওরও দোষ নয়, তােরও দোষ নয়, দোষ নয়, সকলই আমার দোষ, গরিবকে ছাড়িয়া দে, বাড়ী চলিয়া যাক। আর একটা হিসাবের কথা শােন্, যত ধন লইয়াছিস্ তাহার দশ গুণ দিবি। তুই যদি বণিকের ধন লুটিয়া না লইতিস্ তাহা হইলে । বারাে বৎসরে বানাে গুণ বাড়িত। রাজা আর দরিদ্রের নিয়ম কিছু বুঝি ? উহাকে অল্পই দেওয়াইলাম, তােকে মার্জনা করিলাম। বারবার বলিতেছি সকাল বেলা উহাদের ছাড়িয়া দিবি, আমার কথা রক্ষা না করিলে শেষে মরিবি। প্রভাতে রাজা উঠিয়াই প্রাণের দায়ে বণিদ্বয়কে মুক্ত করিয়া দিয়া তাহাদিগকে আরও দশ নৌকা ধন দিলেন। এখানে, বিবেচনার কথা আছে। বিষ্ণুশর্মার প্রতি দেবতার দয়া দৈবতারই উপযুক্ত, কিন্তু সদানন্দ বণিকের প্রতি কিরূপ বিচার হইল ? সে সিন্নি মানিয়া দিতে ভুলিয়া গিয়াছিল, তাহাকে সে কথা স্মরণ করাইয়া দিলেই হইত। আর যদি তাহাকে শাস্তি দেওয়াই স্থির হইল, তাহা হইলে এত দীর্ঘকাল বিলম্ব হইল কেন ? তাহার পর রাজার কোষাগার হইতে ধন লইয়া বণিকের নৌকায় রাখিবার কি প্রয়ােজন ছিল? চোর- অপবাদে সদানন্দকে কারারুদ্ধ না করাইয়া তাহাকে কি আর কোন শাস্তি দেওয়া যাইত না ? সদানন্দই যেন অপরাধী, তাহার জামাতার কি দোষ? দ্বাদশ বৎসর তাহারা কারাগারে
sid.
কাটাইল, সত্যপীর তাহাদের মুক্তির কথা একবারও ভাবেন
নাই, আর যেই বণিক-পত্নী সিমি মানিলেন, অমনি পীর সদয়
হইয়া তাহার স্বামী ও জামাতার মুক্তির উপায় করিয়া দিলেন।
ইহা ত একপ্রকার উৎকোচের লােভ, এরূপ মিষ্টান্নপ্রিয়তায়
ত দেবতাকে মনে পড়ে না, বৃন্দাবনের বটুবালক মােদকলুব্ধ
মধুমঙ্গলকে মনে পড়ে। মধুমঙ্গল এমন গুণের যে টানাটানি
পড়িলে পৈতা বাঁধা দিত। আবার সম্পূর্ণ নিরপরাধ রাজাকে
স্বপ্নাবস্থায় গালিগালাজ দিয়া তাহাকে প্রাণের ভয় দেখানাে
কেন ? বণিক যে চোর নয়, যথার্থ চোর খােদ সত্যপীর, সে
কথা রাজা কেমন করিয়া জানিতেন? এ প্রকারে সিন্নি পদ্ধতি
প্রচার করিলে ভক্তি উড়িয়া যায়, থাকে শুধু ভয়। শীতলা ও
ওলাবিবির পূজা এবং সত্যপীরের পূজা একশ্রেণীভুক্ত হইয়া
পড়ে। আর বিচার ত দেবতার মতাে নয়, মগের, বৰ্গীর বিচার।
এত পীড়নে ও শান্তিতেও সদানন্দ বণিকের পরীক্ষা পূর্ণ
সে বেচারা ও তাহার জামাতা রাজ-দত্ত বিত্ত লইয়া
দেশে ফিরিতেছে, পথে এক ঘাটে ফকিরের সঙ্গে দেখা।
ফকির শরীর হয়ে,
সাধুর নিকটে গিয়ে,
জিজ্ঞাসেন ক্যা লে যাও বাওয়া।
আধা চিজ, দেও মুঝে,
পীরা দোহাই তুঝে,
করুঙ্গা বহুত, কুছ দেওয়া।
পীরের বচন শুনে,
পরিহাসে কয় বেণে,
কেত্তা দিন ভয়ােহো ফকির।
কমাঞি তো খুব দেখা, ওয়ফ কি নহি লেখা,
করামত, ক্যা কিও জাহির।
হইল না।
১০
এক কৌড়ি লে যা চলা, পীর কহে পায়া ভাল,
ক্যা চিজ, লেযাও কহহ মুঝে।
শুন্ র কে মাত্তা,
সাধু কহে লতা পাত্তা,
কেত্তা নাম বওঙ্গা তুঝে।
কহে সাধুর জামাই, খা লে যাতাহু মৈ,
তল্লাসমে তেরা কঙন কাম।
শুনি পীর মৌনে রয়,
তৎক্ষণে তজপ হয়,
দেহে যে যাহার নিল নাম।
দেখে সাধু হৈল সর্বনাশ।
নায়ে হৈতে নামে তড়ে, ফকিরের পায় পড়ে,
রক্ষ বক্ষ বলে দুই দাস।
স্কন্দপুরাণে কেবল সাধুতে ও সত্যনারায়ণ প্রভুতে কথাবার্তা
হইয়াছিল, জামাতার কথা রামেশ্বর যােগ করিয়াছেন।
ওকুফ
শব্দের অর্থ বুদ্ধি। এ কথাটা আমাদের অজানা মনে হয়,
কিন্তু
বুদ্ধি বাদ দিলে যে শব্দ হয়, অর্থাৎ বেওয়কুফ, আমাদের বিলক্ষণ
পরিচিত। এইরূপ করামত, বাংলায় কেরামৎ হইয়াছে। খাক
অর্থে ছাই। উর্দ, বাংলা মিশ্রিত ভাষার বাংলা তর্জমা এইরূপ
হইবে—সত্যপীর ফকিরের অবয়ব ধারণ করিয়া সাধুর নিকট
গিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, বাবা, কি লইয়া যাইতেছ ? তাের
পীরের দোহাই, অর্ধেক সামগ্রী আমাকে দাও, অনেক কিছু
আশীর্বাদ করিব। পীরের কথা শুনিয়া সদানন্দ পরিহাস করিয়া
কহিল, ফকির হইয়াছ কত দিন? তােমার রােজগার তাে
খুব দেখিতেছি, বুদ্ধির সীমা নাই, কেরামত, কি জাহির করিয়াছ?
যা, এক কড়া কড়ি লইয়া চলিয়া যা! ফকির বলিল, ভাল,
পাইলাম; কি জিনিষ লইয়া যাইতেছ আমাকে বল, কত ধন ?
১lle
শুনিয়া বণি কহে, লতাপাতা, তােকে কত নাম বলিব ? সাধুর
জামাই বলে, আমি ছাই লইয়া যাইতেছি, তাের সে খোঁজে কি
কাজ? শুনিয়া সাধু মৌন রহিল, বণিক দুইজন যে রকম
বলিয়াছিল তৎক্ষণাৎ সেইরূপ হইল, অর্থাৎ কয়েকখানা নৌকা
লতাপাতায় ভরিয়া গেল, বাকি নৌকাগুলা ভস্মপূর্ণ। সদানন্দ
দেখে সর্বনাশ হইল, তাড়াতাড়ি নৌকা হইতে নামিয়া ফকিরের
পায় পড়ে, দুইজন দাসের মত বলে, রক্ষা কর, রক্ষা কর ।
বিস্তর কাকুতি মিনতির পর ফকির-পীর তাহাদের ধৃষ্টতা
মার্জনা করিলেন, নৌকায় যেমন ধন ছিল আবার সেইরূপ
হইল। বণিকের গ্রামে উপনীত হইয়া নৌকা যখন ঘাটে
লাগিল, তখন সে সংবাদ নৌকা হইতে ঘােষিত হইল।
নায় ছিল বাস্থভাণ্ড তায় দিল কাঠি।
কামানে পলিতা দিয়া কঁপাইল মাটি।
যুদ্ধের জাহাজেই
শুধু
কামান থাকে না,
বণিকের নৌকাতেও
কামান থাকিত।
সাধু আইল দেশে ঘেষে যত নরনারী।
সদানন্দ দ্রুত দূত পাঠাইল পুরী ॥
সদানন্দের কন্যা চন্দ্রকলা ঘরে বসিয়া পীরের সিন্নি খাইতে-
ছিল, সাধুর আগমন-সংবাদ শুনিয়া সিন্নি ফেলিয়াই ঘাটে ছুটিল।
বাপ সিন্নি মানিয়া দিতে ভুলিয়া গিয়াছিল, কন্যা উচ্ছিষ্ট সিন্নি
পাতে ফেলিয়া গেল। বাপকে বহুকাল শাস্তি ভােগ করিতে
হইয়াছিল, কন্যার শাস্তি হইতেও বিলম্ব হইল না।
প্রসাদ ফেলেছে পীরের আছে পূর্ণ কোপ।
দর্পচূর্ণ বালা-অহঙ্কার কৈল লােপ ।
১০
সন্ত দিল প্রতিফল দেখে গিয়া সতী।
বাপ বন্ধু কাঁদে ঘাটে ডুবে মৈল পতি।
কাদাকাটি করিয়া কন্যা জলে ঝাঁপ দিয়া মরিতে যায়
এমন সময় পীর বৃদ্ধ বিপ্রবেশে দেখা দিলেন, বলিলেন, আমি
জ্যোতিষী, গণনা করিয়া দেখিয়াছি সাধুর জামাতা মরে নাই,
কন্যার অপরাধে এইরূপ ঘটিয়াছে। কন্যা রূপে গুণে ধন্য
হইলেও
বয়ােধৰ্ম্মে বুদ্ধি নহে ভাল।
পীরের সিরিনি এটে, করে ফেলে এল ছুটে,
সেই অপরাধে এত হৈল।
কন্যা আবার ঘরে গিয়া পাতের সিন্নি তুলিয়া খায়, তখন
তাহার পতি পুনৰ্জ্জীবিত হইয়া উঠে। স্কন্দপুরাণেও ঘটনা
এইরূপ, তবে সিন্নির পরিবর্তে সত্যদেবের প্রসাদের উল্লেখ
আছে।
এই সকল ইন্দ্রজালের মত অলৌকিক ঘটনা-সমষ্টির সমাবেশ
সত্যনারায়ণের মহিমা ও প্রতাপ ঘােষণা করিবার জন্য, কিন্তু
সত্যনারায়ণ যে কেমন করিয়া সত্যপীর হইলেন তাহা জানি না।
গ্রন্থশেষে আছে-
গ্রন্থ সাঙ্গ হইল বিরচিল মিজ রাম।
সবে হরিধ্বনি কর মজুরী সেলাম।
মজুরা অর্থে অনেক।
রামেশ্বর একটি প্রথার উল্লেখ করিয়াছেন, এখন তাহা
লুপ্ত হইয়াছে। স্কন্দপুরাণে ইহার কোন উল্লেখ নাই। সদানন্দ
ঘ
১০
ও তাহার জামাতা গৃহে ফিরিলে পর স্ত্রীলােকেরা নৌকা বরণ
করিতে গেল।
মায়ে ঝিয়ে চকলা, ডিঙ্গা মঙ্গলিতে গেলা,
আগে পাছে শত সীমন্তিনী।
সুখের নাহিক ওর, শঙ্খ বন্ট। ঘন ঘাের,
হুলহুলি জয় জয় ধ্বনি।
এই নৌকা-মঙ্গলের স্ত্রী-আচার-পদ্ধতি এখন আর নাই।
কোথা হইতে থাকিবে ? সেকালে লােকে জানিত লক্ষমীর
বাহন নৌকা, পেঁচা নয়। যে বাণিজ্যে লক্ষী বাস করেন
তাহার গতিবিধি ছিল জলপথে নৌকাষানে, বােঝাই-করা
নৌকা আনাগােনা করিত। সদানন্দ দশ নৌকা-ভরা রাজার
ধন লইয়া দেশে ফিরিয়াছিল। স্ত্রীলােকেরা শাঁখ বাজাইয়া,
নৌকা বরণ করিয়া সে ধন ঘরে তুলিয়াছিল। এখন সে
বাণিজ্য নাই, সে পালভরা, মালভরা নৌকা নাই, গৃহলক্ষমীরাও
আর তরণী-বিহারিণী লক্ষীর মঙ্গলাচরণ করেন না।
এনগেন্দ্রনাথ গুপ্ত
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা বন্দনা গুরুং গণপতিং গৌরীং গঙ্গেশং গরুড়ধ্বজম। নত্ব শ্রুত্ব সুচরিতং প্ৰাহ রামেশ্বরঃ সুধীঃ ॥ সত্য সত্য সত্যপীর সর্বসিদ্ধি দাতা। বাঞ্ছা বড় বাড়িল বর্ণিতে ব্রতকথা । রসাল রসিক-প্রিয় রমাইব রাগে । বৃন্দারক-বৃন্দকে । বন্দনা করি আগে। গুরুগণ গণেশে হইয়া প্রণিপাত। বন্দো • বহ্নি বিপ্র বিধি বিষ্ণু বিশ্বনাথ। ত্ৰিসাবিত্রী • সিন্ধুপুত্রী * সরস্বতী শিবা। ত্রিসন্ধ্যা নক্ষত্র চন্দ্র সূৰ্য্য রাত্রি দিব। রসাল......রাগে-রসিকতাপ্রিয়, রসযুক্ত ব্যক্তিদিগকে প্রথমে আনন্দিত করিব। রমাইব—প্রসন্ন করিব। রাগে-গানে। বুদারক- বৃকে-দেবতাগণকে। বন্দোবনা করি। ত্ৰিসাবিত্রী—ত্রিসন্ধ্যায় (প্রাতে, মধ্যাহ্নে ও সন্ধ্যাকালে) সাবিত্রী অথবা গায়ত্রী উচ্চারণ তারা যে সন্ধ্যাকাৰ্য হয়, সেই ত্ৰিকালিকী সাবিত্রীকে বন্দনা করি। সিপুত্র-যমুনা।
২
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
কামাখ্যারে করি নতি ধৰ্ম্মরাজ-যুতা।
সসৰ্প মনসা বন্দো মহেশের সুতা।
অষ্ট সিদ্ধি নব গ্রহ দশ দিকপাল।
বন্দো বর্ণ পঞ্চাশৎ । পরম রসাল ।
প্রণমিব পরাৎপর-পদাজ-যুগলে।
কূৰ্ম্মানন্ত অবনী অম্বুধি অষ্টাচলে।
ত্রিলােক-তারিণী বলো তুলসী সুন্দরী।
গােলােক-সহিত বন্দো চতুর্দশ পুরী ।
গঙ্গা আদি তীর্থ ক্ষেত্রে হয় দণ্ডবৎ।
কামরূপ আদি বন্দো পীঠ পঞ্চাশৎ |
সায়ুধ বাহন আর রণ পরিবার।
দশ মহাবিদ্যা বন্দো দশ অবতার ।
গােকুলে গােবিন্দ বন্দো গােবর্দ্ধনধারী ।
প্রণমিব
প্রভুর প্রেয়সী যত নারী।
বলরাম আদি দেব ব্রজবালক সকল।
বৃন্দাবন আদি বন্দো বিহারের স্থল।
কলি-নন্দিনী • বন্দো কদম্ব-কানন।
বলে। বংশীবট-তট পরম কারণ।
অষ্ট সখী অষ্ট কুঞ্জ অষ্ট কুঞ্জ সার ।
অষ্ট মনােরম ঘটে ঘটিত যাহার।
ব্রজেন্দ্র-নন্দন বন্দো বংশীবর-ধারী।
তাঁহার দুর্লভ বলো ব্রজেন্দ্রকুমারী।
* বর্ণ পঞ্চাশৎক হইতে পঞ্চাশৎ বর্ণ।
• কলি-নলিনীকালিন্দী, যমুনা।
পুরীপােক।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
পরম সাদরে বদো তাঁর পঞ্চ রস।
তথাপি মাধুৰ্য্য বন্দো গােপিকার বশ।
সখ্য ভাবে ঐশ্বৰ্য্য মাধুৰ্য শেষ চারি।
দাস্য সখ্য বাৎসল্য মাধুৰ্য্য মনােহারী।
বাৎসল্য ভাবেতে ভজে ব্রজেন্দ্র-গগাপিনী ।
সুবলাদি সখ্যে শান্তে সনকাদি মুনি ।
রাধিকা রসের সার সব পূর্ণ ভাব।
প্রেম-হেম দানে কৃষ্ণ যারে হৈলা লাভ ।।
প্রণমিব অষ্ট রাগ রসিকের রাগে।
রাগাত্মিক ভক্তিকে বন্দনা করি আগে।
অর্চনাদি নয় ভক্তি বন্দো সাবধানে।
মােহান্তে যােগেন্দ্র যাতে করয়ে ধেয়ানে।
বন্দিব জননী-পদ পরম কারণ।
যাহার প্রসাদে দেখি এ সব সৃজন।
জনক জননী মধ্যে আগে বলো মা ।
এ তিন ভুবন মধ্যে সার যার পা।
বন্দিৰ জনক-পদ জনমের দাতা।
চতুর্বর্গ সিদ্ধ যার সেবায় সর্বথা।
জগতের সার মাতা-পিতার চরণ।
যে নাহি ভজে তার নিস্ফল জীবন।
ব্ৰজেন্দ্র-গােপিনী—যশােদা।
{ রাধিকাতে সকল ভাব পূর্ণ প্রকাশিত হইয়াছে, তিনি প্রেমরূপ
স্বর্ণ দান করিয়া কৃষ্ণ লাভ করিয়াছিলেন।
সত্যনারায়ণের ব্রত কথা
কহে রামেশ্বর বাক্য না করিহ হেলা।
ভবাঘুধি মধ্যে মাতা-পিতা-পদ ভেলা।
অতঃপর নবদ্বীপে বন্দিব নিমাই।
অধম জনার বন্ধু হি বিনে নাই।
অদ্বৈত গোঁসাই বন্দিব সাবধানে।
প্রকাশিল যিহ হরিনাম দয়াবানে।
বলে বীরভদ্র বীর নিত্যানন্দ নাম।
প্রেম-হেম দানে যিহ পূর্ণ কৈলকাম ॥
বন্দো রূপ সনাতন রায় রামানন্দ।
সারেঙ্গ গোসাঞী বন্দো পরম সানন্দ।
সার্বভৌম বন্দো সর্ব শাস্ত্রে বিশারদ।
প্রভুর সহিত যার হৈল বাবদ ১ ॥
ষড়ভুজ দেখায় প্রভু দিলা দরশন।
তবে সে বিস্ময় হৈলা সার্বভৌম মন।
অতঃপর বন্দিব প্রভুর তিন লীলা।
আদ্য অন্ত্য মধ্য এই তিন বিরচিলা ।
ডাকিনী যােগিনী বন্দো আমি তার ভাই।
স্বর ভঙ্গ কর যদি পীরের দোহাই।
যষ্টি মহাকাল আদি ক্ষেত্রপাল যত।
উপদেব বৃন্দকে বন্দনা শত শত।
বাবদ—বচসা, তর্ক।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
বলো বেদ বেদান্ত বেদাঙ্গ বিদ্যাগণ।
যত ব্ৰহ্ম-ঋষি দেবঋষির চরণ।
অতঃপর বন্দি রহিম রামরূপ।
ত্রিদশের চতুর্দশ ভুবনের ভূপ।
পরে সত্যপীর বন্দো বলে দ্বিজ রাম।
সাকিম বরদা বাটী যদুপুর গ্রাম।
সত্যপীরবন্দনা
জয় জয় সত্যপীর
সনাতন দস্তগীর ।
দেব-দেব জগতের নাথ।
কে জানে তােমার তত্ত্ব তুমি রজঃ তমঃ সত্ত্ব
তােমার চরণে প্রণিপাত।
সর্ব ভূতে সময়
চারু চরাচরচয়
চন্দ্রচূড়-চিন্ত চিন্তামণি।
পূৰ্বে হয়ে দশমুর্তি করিলে অকথ্য কীৰ্ত্তি
সত্যপীর হইলে ইদানী।
ছয় দরশনে কয়
এক ব্ৰহ্ম দুই নয়
জন্য জন্য ভিন্ন ভিন্ন নাম।
কলিতে যবন দুষ্ট হৈন্দবী । করিল নষ্ট,
দেখি রহিম বেশ হৈল রাম।
দগীর(ফার্সী শব্দ) সকল বিষয়ে সাহায্যকারী, পীর।
হৈলবী-হিন্দু ধর্ম।
৬ সত্যনারায়ণের ব্রতকথা । দুষ্ট দেখি দূরে পরিহার। ব্রাহ্মণে বলিয়া ভেদ ঘুচালে লােকের খেদ রক্ষা কৈলে সৃষ্টি আপনার। এক দিলে • অল্পধনে যে তােমারে সিন্নি মানে হাসিল করহ তার কাম • আমি অতি মূঢ়মতি কি জানি স্তুতি নতি নিজ গুণে উর গুণধাম। দরিদ্র দ্বিজের কাছে পূর্বকালে সত্য আছে আত্মবাক্য পালিবে আপনি। নায়কেরে হৈয়া তুষ্টি সিন্নিতে করহ দৃষ্টি শুন আপনার ব্রত-বাণী । দুঃখ-বিনাশিনী তথা তােমার মঙ্গল কথা যে গায় গাওয়ায় যেবা শুনে। তুমি রক্ষা কর তারে মহামারে মহা ঘােরে মহাবনে রণে রিপুস্থানে। দৃঢ় ভক্তি হৈলে আর পাতক না থাকে তার মনােরথ সিদ্ধ হাতে হাতে। কহে দ্বিজ রামেশ্বর শুদ্ধ ভাবে শুন নর হরি বল পীরের পীরিতে । ১ দিল- ফার্সী শব্দ) মন। কাম-কামনা, কাজ। হাসি—সফল, সার্থক। পরিপীড়ি, স্থান।
গ্রন্থারম্ভ
সব লােক শুন শুন সব লােক শুন।
সত্যপীরে স্পর সিন্নি দেহ পুনঃ পুনঃ ।
প্রবল প্রতাপ প্রভু পাপ-তাপহারী।
যেরূপে জাহির পীর নিবেদন করি।
দিল্লীর দক্ষিণ দেশ মথুরেশ পুর।
তাহে এক বিপ্র ছিল বড়ই বিদুর ।
খেতে চারি চালু নাঞি চালে নাঞি খড়।
তিহ ৩ প্রভু পীরপুত্র তার পায় গড়।
আপনি অত্যন্ত যতি সতী সিমন্তিনী।
দামােদরে দৃঢ় ভক্তি দিবসরজনী।
লঙ্ঘনে বঞ্চন কভু ভিক্ষায় ভক্ষণ
কৃষ্ণ-ভক্ত সুদামার সকলি লক্ষণ।
আপনি অতিথি-প্রিয় ততােধিক প্রিয়া।
আত্ম-উপবাস অন্ন অন্য জনে দিয়া ।
জঠরের জ্বলনে যখন জীউ যায়।
তখন মগন মন মুকুন্দের পায়।
১ বিদুরদরিদ্র। । চারি চালু—ারিটি চাউল।
তি হ—তিনি।
কভু উপবাসে দিন যাপন করিতে হয়, কতু ভিক্ষারে ক্ষুধা
নিবৃত্তি হয়।
ও জী—জীবন।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
কত কালে কৃষ্ণ পাব ভাবে দিবা-রাতি।
বান্ধিল প্রেমের পাশে অখিলের পতি।
তবে প্রভু মায়া কৈল ব্রাহ্মণের সঙ্গ।
কদাচিৎ ভজনে ভক্তির নাঞি১ ভঙ্গ।
নানা রূপে বিড়ম্বিয়া : হরিলেন হরি।
ভক্ত বটে কলিতে কিরূপে কৃপা করি ।
ভিক্ষা ভাঙ্গি ভক্তি বুঝি ভ্রমি সাথে সাথে ।
পীর হৈয়া পশ্চাৎ প্রত্যক্ষ হবে পথে।
ব্রাহ্মণ ভিক্ষাতে যায় তাতে হৈল মায়া।
যত দাতা জীবে হরি হরিলেন দয়া।
ঘরে ঘরে ফিরে দ্বিজ ডাকে কলম্বনে।
কেহ ঘরে নাঞি কেহ থাকিয়া না শুনে।
কেহ বলে ফিরে মাগ প্রসবেছে ৪ নারী।
কেহ বলে নিত্য কি তােমার ধার ধারি ।
কেহ গালি দেয় কেহ করে দূর দূর
মারিতে চলিল। কেহ হইয়া নিষ্ঠুর।
প্রতি গৃহে ভ্রমি ভিক্ষা না পেয়ে নগরে।
দাতা কৃষ্ণ কোথা বলি ডাকে উচ্চৈঃস্বরে।
বাটী বাটে গিয়া মাঠে অপরাহু কালে।
বিষাদে বসিল বিপ্র বটবৃক্ষতলে।
—িনাই। ২ বিড়ম্বিয়া-হলনা করিয়া।
• মাগ—চাহ, ভিক্ষা কর ।
প্রসবেছে—প্রসব হইয়াছে। ঘরে সন্তান জন্মিয়াছে এই জন্য
শুভ অশোকের কারণে ভিক্ষা দিতে নাই।
:
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
৫
কে করিবে আশ্বাস নিঃশ্বাস ঘন ছাড়ে।
ছল ছল চক্ষে জল টস টস পড়ে।
ধৈরজ না ধরে দ্বিজ ধৈরজ না ধরে।
বাড়িল বিবেক • বড় ব্রাহ্মণীর তরে।
বুভুক্ষিতা বনিতা বাটীতে বাট চায়।
কেন প্রভু হেন কৈলে দীনবন্ধু হয় ।
সত্ত্বগুণে সবার পালনকর্তা তুমি।
অবনীতে অপাল্য অধম মাত্র আমি।
মাগিলে না পাই মুষ্টি রিক্ত হস্তে যাই।
পূৰ্ব্বকৃত পাপে এত পরিতাপ পাই ।
এ পাপ শরীর আর না রাখিব আমি।
পরলােকে প্রভু পরিত্রাণ কর তুমি।
আপনাতে আরােপিয়া অধমত ভ্রম ।
তিতিক্ষায় কৈল তনু ত্যাগ উপক্রম।
দাস দুঃখ দেখি দামােদরে হৈল দয়া।
সর্বদা সাক্ষাৎ হব দিব পদছায়া।
ফকীর ফিকিরে ঊরে নবঘনশ্যাম।
হুকুম মাফিক হদ্দ বিরচিল রাম।
বিবেক-শােক।
২ ভ্রমপূর্বক নিজের প্রতি অধমতা আরােপ করিয়া।
সাক্ষাৎ হব—তাহার সাক্ষাতে প্রকাশিত হইব।
রাম (রামেশ্বর) আদেশ অনুযায়ী (হুকুম মাফিক) উৎকৃষ্ট
(হ) রচনা করিল।
১০
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
ভগবানের পীর-বেশ
দ্বিজবরে দিতে বর,
কলি হেতু সত্বর,
মাধব হইল পীর ।
জগত বিরাজে,
অদ্ভুত কৃষ্ণ-শরীর।
ফকীর সাজে,
যুত্ব বয়েস,
সুবেশ মহেশ,
বিধুমুখে মধুরিম হাসি।
মস্তক উপর,
পাগ । মনােহর,
নানাভরণ-বিলাসী ।
বড়ি • বড়ি কৌড়ি, , গ্রন্থিত গুধড়ী,
ছাগ ছাল থলি থাল দণ্ড।
প্রবাল তাড়ি ফল,
মুকুতা ঝল মল,
মালা মণ্ডিত গণ্ড ॥ ৭
০
১ পীর-মুসলমানদের মধ্যে ঈশ্বরের ভক্ত ‘ধু পুরুষ।
। পাগ—পাগড়ী।
বড়ি-বড়।
• কৌড়ি-কড়ি।
গুড়ী-কস্থা।
কথায় বড় বড় কড়ি গাঁথা, হাগ-চর্মের থলি, থালা
দণ্ড হতে।
প্রবাল ও তাড়ি ফুলের মালা গলায় মুক্তার মত ঝলমল
করিতেছে।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
ঘন্টা র রন্,
জিগীর
১ ঘন ঘন,
ঝন্ ঝন্ জিঞ্জির । শব্দ।
রামেশ্বর বলে,
বসিয়া বটতলে,
ব্রাহ্মণে লাগিল স্তব্ধ।
ব্রাহ্মণের সহিত সত্যপীরের কথা
কপটে করুণাময় দ্বিজে কয় বাওয়া। ৩
মৈ ভুখা ফকীর হু লেগা মেরা দুওয়া :
তু বাওয়া বখ, তাওর ধরম আত্মা দেখা তুঝে।
মৈ ভুখা ফকীর হু খিলাও কুছ মুঝে।
তমা দুনিয়া দেখা সবহি ইমান ছুটা।
কঁহা কোই খয়রাত্ ন করে এক মুঠা ॥
দ্বিজ বলে দেওয়ান ও কথা কও কাকে।
মনস্তাপে মরিতে বসেছি ওই পাকে।
.
জিগীর—জিকর, উচ্চারণ, উল্লেখ ।
২ জিঞ্জির-জঞ্জীর, শিকল। হাতে ঘণ্টা বাজিতেছে, মুখে ঘন
ঘন আল্লার নাম বলিতেছেন, শিকলের ঝন্ ঝন্ করিয়া শব্দ হইতেছে।
বাওয়া–বাবা। করুণাময় বিষ্ণু পীরের আকার ধারণ করিয়া
কপট করিয়া ব্রাহ্মণকে কহিতেছেন।
আমি ক্ষুধিত ফকীর, আমার আশীর্বাদ গ্রহণ কর।
তুই বাবা দাতা (বখ, তাওর) ধৰ্ম্মাত্মা দেখিতেছি, আমি
ক্ষুধিত ফকীর, আমাকে কিছু খাওয়াও।
সমস্ত জগত দেখিলাম সকলেই ধর্মভ্রষ্ট (ইমান ছুটা), কোথাও
কেহ এক মুষ্টি দান করে না। দেওয়ান-সম্রান্ত ব্যক্তি, মহাজন।
৭
১২
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
কলি হৈল প্রবল মজিল ধৰ্ম্মপথ।
দেওয়ান কহেন বাওয়া কহহ হকীক ।
নিজ দুঃখ কয়া দ্বিজ করেন রােদন।
নারিনু খাওয়াতে আমি বড় অভাজন।
ধর মাের বসন অশন কর বেচে ।
মৃত্যুকালে মাের ধর্ম মজাইলে মিছে।
বিশ্বনাথ বিশ্বাস বুঝিয়া বলে বচ্চা ৩।
দুনিয়ামে ঐসাভি আদমি রহে সচ্চা ।
ভলা বাওয়া কাহে তেরা মৃত্যুকাল কাহে।
রাত দিন যৈসা তৈসা দুখ সুখ হােয়ে ৫
জানা গয়া বাত বাওয়া জানা গয়া বাত।
কপড়া তত লেও ভলা আও মেরা সাত ।
জও তো সৎপীর মেরা ও তাে সৎপীর।
তেরা দুখ দূর করে তও হন্ ফকীর ।
॥
০
১ হকীকত,সত্য বৃত্তান্ত।
ও আমার বন্ধু বিক্রয় করিয়া সেই মূল্যে আহার সংগ্রহ কর।
বক্তা-পুত্র, বাছা।
পৃথিবীতে এমন সত্যনিষ্ঠ লােকও হয় ?
ভাল, বাবা, তােমার মৃত্যুকাল উপস্থিত হইবে কেন, রাত্রি
দিনের মত দুঃখ-সুখের পায়।
জানা গিয়াছে কথা, বাবা, জানা গিয়াছে কথা। ভাল, তুমি
বস্ত্র লইয়া আমার সঙ্গে আইস।
* যদি আমার পীর সত্য হন, যদি আমার পীর সত্য হন, তাের
দুঃখ দূর করিতে পারি তবেই আমি ফকীর।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
ঐসা কুছ হুনৰ বতায় দেও তােয়।
কিয়ে পিছে সিতাব খয়ের খুব হােয় ।
সৎপীর পাঙমে একিদা করে দিল।
সাহেব করেগা তেরা নিয়ত হাসিল ।
আপসে চলায় দেও সিরনিকে মদ্দ।
কোই তেরা হুকুম করূগে নহি র ।
জিস্কো তু যাে কহেগা সােহি হােগ সহি।
পীর বরাবর হােগা করে। যাকে এহি ।
দ্বিজ বলে কহিলেন দেওয়ান মহাশয়।
যবনের কাৰ্য সে ত ব্রাহ্মণের নয় ॥
ইষ্ট ছাড়ি অনিষ্ট ভজিব কেন অন্য ।
ডুবাইব পরকাল ইহকাল জন্য ।
দেওয়ান কহেন শুনাে গেয়ান কি বাত।
রাম রহিম দোয় নাম ধরে এক নাথ * ।
তােকে এমন কিছু কৌশল শিখাইয়া দিই (যা) করিলে
পরে শীঘ্র (সিতাব) যথেষ্ট (খুব) মঙ্গল হয়।
২ সত্যপীরের চরণে চিত্ত নিবিষ্ট কর ঈশ্বর, (সাহেব) তাের
মনােবাঞ্ছা পূর্ণ করিবেন।
তুই আপনি সিন্নির প্রথা ( মন্দ) চালাইয়া দে, তাের হুকুম
কেহ রদ করিবে না।
যাহাকে যা বলিৰি তাহাই সত্য হইবে, তুই পীরতুল্য হইবি,
গিয়া এইরূপ ক।
ফকীর কহেন, জ্ঞানের কথা শােন, একই নাথ রাম ও রহিম
দুই নাম ধরেন।
১৪
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
অভেদ তুম কো কহা শাস্ত্রকি সার।
তুমে ভেদ ভলা নহি করাে তাে একত্যার ।
এত শুনি মনে মনে বিস্ময় ব্রাহ্মণ।
আপাদ মস্তক তার করে নিরীক্ষণ ।
চকিতে চকিতে মূৰ্ত্তি ধরেন অশেষ।
দেখিতে দেখিতে হৈল ব্রাহ্মণের বেশ ।
নিদান জানিল প্রভু ভকত-বৎসল।
ধরণী লােটায়ে ধরে চরণকমল।
পুলকে পূর্ণিত তনু সকরুণে কয়।
ছাড় মায়া কর দয়া দেহ পরিচয়।
হাসিতে'হাসিতে হরি দ্বিজে কন তবে।
নিদান আমার নাম পরিচয় লবে।
বিধি বড় ভাই মাের মহেশ অনুজ।
শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী চতুভুজ।
কংশ-কেশি-মথনে কেশব মাের নাম।
মক্কায় রহিম আমি অযোধ্যায় রাম ।
পরাপর চরাচর আমি সে যাবন্ত।
সুরপুরে শত্রু আমি পাতালে অনন্ত ।
ফকীর হইয়া আসি তােমার কারণ।
কলিতে সম্প্রতি আমি সত্যনারায়ণ ।
দ্বিজ কহে যত কহ শুনি বিপরীত।
পীরের সিমিতে বা বিষ্ণুর কেন প্রীত।
তােমারে কহিতেছি অভেদই শাস্ত্রের সার, তােমার পক্ষে ভেদ
ভাল নয়, তুমি ইহাই স্বীকার কর।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
১৫
জিহহ প্রভু পরমাত্মা তিহাে কেন পীর ।
তুমি বা ফকীর কেন ব্রাহ্মণ-শরীর।
প্রভু কহে ভাল জিজ্ঞাসিলে শুন বলি।
পরীক্ষিত-পতনে প্রবল হৈল কলি।
একদিন সেই পরীক্ষিত ক্ষিতিনাথ।
মৃগয়াতে কলিক্রিয়া দেখিল সাক্ষাৎ
তরাসে গােরূপ ধৰ্ম্ম কলি হৈয়া নর।
নির্ঘাত প্রহার করে গরুর উপর।
তিন পা ভেঙ্গেছে আছে এক পায় উবু ।
সেই পায় নির্ঘাত প্রহার করে তবু।
দেখি কোপে কঁাপে রাজা না জানি বিশেষ।
গরু মেরে পাপিষ্ঠ পতিত কৈল দেশ ।
খড়গ ধরি কাটিতে ধাইল মহাবল।
দেখিয়া বিস্ময় কলি হাসে খল খল।
শুন রে অবােধ আমি বধ্য নহি তাের।
ইহাতে ঈশ্বরদত্ত অধিকার মাের ।
গরু নহে ধৰ্ম্ম এই কলিকাল আমি।
বধিব ইহারে বল কি করিবে তুমি ।
রাজা বলে কি বল তােমার নাম কলি।
অল্প দিনে এখনি এতেক ঠাকুরালি ।
ভাল হৈল অনায়াসে পাইমু তাের দেখা।
দুজ্জন-তজ্জন * আমি সজ্জনের সখা।
১ উবুউচ্চ।
২ ঠাকুরালি—চতুরতা, খলতা।
১৬
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
।
যার দত্ত অধিকারে ধর্ম হিংস তুমি।
সেই কৃষ্ণচন্দ্রের কিঙ্কর হই আমি।
সদা ভাগবত-কথা সভাতে আমার।
মাের অধিকারে অধিকার কি তােমার।
আমি শুকমুখে শুনেছি সকল বিবরণ।
কলি-ব্যাধি প্রতি কৃষ্ণ-রস রসায়ন।
এত শুনি কলি করিলেন হেঁট মাথা।
কহ তবে আমার ভােগের স্থল কোথা ।
বাছিয়া নৃপতি চারি স্থল দিল তারে।
সুরা সূনা সুবর্ণবণিক স্বর্ণকারে
ধৰ্ম্মেরে নিস্তার করি রাজা গেলা ঘর।
সেই হৈতে ধৰ্ম্ম ছাড়া এই চারি নর।
এখন দমন-কৰ্ত্তা পরীক্ষিত নাই।
ধৰ্ম্মনাশে কলির বিস্তর হৈল ঠাঞি ।
কত কালে কলি করিবেন একাকার।
যবনাদি জাতিভেদ না থাকিবে আর ॥
আজি কত অনীত ২ হইল উপস্থিত।
ব্ৰহ্ম বৈশ্য ক্ষত্র শূদ্ৰ ধৰ্ম্মবর্জিত।
বিধবা করিল জ্বণ-হত্যা অনিবার।
নিরামিষ্য ছাড়ি মৎস্য কর্কটি • আহার ।
কহিতে কলির কথা কাপে কলেবর।
অগম্যেতে গমন করিল কত নর ॥
• সুরা-মুড়ি। সুনা-কলাই, জল্লাদ।
২ অনীত-নীতিবিরুদ্ধ, অহিত। * ককটি-কাভা।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
যে জন সধন • তার পূজা সর্ব ঠাঞি।
নিহের অনাদর অন্ন জুটে নাই।
পাপে পরিপূর্ণ পৃথ্বী হরিলেন শস্য।
প্রজার উপর হল রাজার দুদৃশ্য ।
দেখিছ সকল জান ব্রাহ্মণতনয়।
সংক্ষেপে করিনু কলি মাহাত্মনির্ণয়।
আর সিদ্ধি শুদ্ধি বুদ্ধি স্ফুর্তি নাই পাপে।
প্রভু কহে পীরত্ব পেলাম এই তাপে ।
নামভেদ তাহাতে নৈবেদ্যমাত্র ভেদ।
পীর বলি না জানিবে না ছাড়িবে বেদ ।
প্রকারে পাপিষ্ঠ নরে করিতে নিস্তার।
আইনু তােমার আগে ৩ কর অঙ্গীকার।
তুমি ভক্ত দৈবে মুক্ত অনুরক্ত মােরে।
প্রকাশিয়া পথ পরিত্রাণ কর নরে ।
শ্রুতি-স্মৃতি-পুরাণ-আগম-শাস্ত্রমত।
ভক্তি মুক্তি লভিতে অনেক আছে পথ।
সে পথে যাইতে যার বল-বুদ্ধি খাট।
তারে লয়ে কালক্রমে লঘু পথে বট ।
তুমি সিমি দেহ আগে যাহ নিজালয়।
পৃথিবীতে পূজার প্রচার হবে হয়।
১
সধন-ধনবান্।
দুদৃশ্য-ক্রোধভৃষ্টি।
আগে-সমুখে।
লঘু পথে টহীন দেবতাদের আরাধনায় প্রবৃত্ত ও
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
আজি হৈতে আর ভিক্ষা না মাগি তুমি।
হের ধর পঞ্চ রত্ন দিয়া যাই আমি।
প্রভু দিল রত্ন দ্বিজ যত্ন কৰি লয়।
বহু স্তুতি-নতি করি করপুটে কয় ।
কোথা দিব, কিবা সিমি, কার আবাহন।
কিবা ঋদ্ধি, হয় সিদ্ধি, মহিমা কেমন।
সবিশেষ উপদেশ বিশ্বনাথ বলে।
বান্ধিৰে বিচিত্র বেদী মনােহর স্থলে।
গােময়েতে সুন্দর সংস্কার করে স্থান।
আলিপনা দিবে ধ্বজা পতাকা নিশান।
বেদীতে পাতিবে পীঠ তাতে দিব্য বাস।
তাতে ছুরি কাটারী বা খড়গ চন্দ্রহাস।
তার চারি তরফে •
সুচারু চারি তীর।
তার মধ্যগত হব আমি সত্যপীর।
পঞ্চ দেব পঞ্চ পূজা পঞ্চ উপচারে।
বিষ্ণু-বিধি-ধ্যান আদি জ্ঞান অনুসারে।
উদ মুখে • বসিবে বেষ্টিত বন্ধুগণে।
সিন্নির সামগ্রী বলি শুন সাবধানে।
পঠপিড়ি।
চতহাস-অবিশেষ।
তরফ-পাশে।
উৰু মুখে-আচমন করিয়া অথবা পূর্বমুখ হইয়া।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
১৯
দুগ্ধ গুড় আটা আর রম্ভা পান গুয়া।
সস্তব বৈভৰ ব সব সওয়া সওয়া ।
আদি উপচারে সম ভাগ এক যােগে।
‘নমঃ সত্যপীরায়’ বলিয়া দিবে ভােগে ।
কাচা এই মত, মতান্তর বলি পাকা।
আনা মাস আদি করি কড়ি কিংবা টাকা।
সওয়া সংখ্যা মূল্য যদি সমিষ্টান্ন নয়।
সমর্পিলে সত্যনাথে সৰ্ব্ব সিদ্ধ হয়।
যুগলে যে যার ইচ্ছা করি এক মত।
ব্ৰত কথা কবে সবে হবে দগুবত।
পীরত্বাংশে মুজরা করিবে পুনর্বার।
সত্যপীর নারায়ণ দ্বি অংশ প্রকার।
সত্যপীর নামের তাৎপৰ্য শুন আগে।
মিথ্যার বিনাশহেতু সত্যপুর ভাগে।
নারায়ণ নামে সিমি না হয় সম্ভব।
পীর হলে প্রাণ গেলে না পূজে হিন্দব ।
অতএব সত্যপীর নারায়ণ নাম।
হুকুম মাফিক হদ্দ বিরচিল রাম।
১
যেরূপ বৈভব তাহাতে যেমন সম্ভব হয়। সওয়া সও-সকল
সামগ্রী সওয়া হিসাবে, যেমন সওয়া সের, সওয়া পােয়া।
মুজরা—হিসাব।
হিন্দব—হিন্দুগণ।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
ব্রত মাহাত্ম ও ঈশ্বরের স্বরূপ প্রকাশ
শুন সিন্মিদানের মহিমা অতঃপর।
পূজিলে পীরের পদ নিরাপদ নয় ।
থাকে দুর্গতি তার না থাকে দুর্গতি।
শক্রতে শমন সম ধনে ধনপতি ।
স্বচ্ছন্দে পীরের বরে করে নানা ভােগ।
চক্রপাণি চরণে চিত্তের রহে যােগ।
স্থানে । যদি মানে সিন্নি হয়ে শুদ্ধভাব।
সিদ্ধ এক মাস মধ্যে মনােভীষ্টলাভ।
সঙ্কটে পড়িয়া যদি স্মরে সত্যপীর।
ত্রিভুবনে নির্ভয় সে অবায় শরীর।
নিরবধি বলে যদি সত্যনারায়ণ।
ডরে কলি তারে, হস্তী সিংহকে যেমন ।
ৰতকথাবণে মাহাত্ম কথ্য নয়।
এত শুনি কহে দ্বিজ হইয়া বিস্ময়।
ঘুচিল সংশয়-গ্রন্থি সিমি দিব আমি।
যদি বিষ্ণু বট চতুর্ভুজ হও তুমি।
ভক্তের ভাষণে চতুর্ভুজ হৈলা হরি।
গরুড়স্থ শখ-চক্র-গদা-পদ্মধারী।
মহাতেজোময় মুর্তি দেখি দ্বিজবর।
আনন্দসাগরে যেন ভুবিল প্রস্তর ॥
শক্রর পক্ষে শমন ও ধনে কুবেরহুল্য।
খানে—সত্যপীরের স্থানে।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা :
পুলকে প্রেমের সিন্ধু উথলিয়া উঠে।
অবাক অমনি দ্বিজ রহে করপুটে।
কত কষ্টে কহিল, চরণে দেহ স্থান।
স্বীকার করিয়া হরি হৈল অন্তর্ধান ।
হাহাকার করি দ্বিজ পড়ে ভূমিতলে।
অধমে বঞ্চিত করি প্রভু কোথা গেলে
কৃষ্ণ কৃষ্ণ করি কৈল বিস্তর রােদন।
হইল আকাশ-বাণী, যাহ নিকেতন।
উদ্দেশে অষ্টাঙ্গ দ্বিজ চলে নিজ ধাম।
হুকুম মাফিক হদ্দ বিরচিল রাম ।
ব্রাহ্মণীর প্রতি ভগবানের কৃপা
ওথা ? বিষ্ণু গেল বিষ্ণুশর্মার মন্দিরে।
ব্রাহ্মণীর বাপ হয়ে যােঝ লয়ে শিরে।
কন্যা ছলে কহিলা কি কর বিষ্ণুপ্রিয়া।
অভুক্ত জামাত পথে রধিবাড় গিয়া ॥
হের ধর তােমার মায়ের আয়ােজন।
বঞ্জ অলঙ্কার পর আইস বাছাধন ॥
ভিক্ষুকে পড়িয়া দুঃখ পাইলে প্রচুর।
আমি কি করিব বাছা বিধাতা নিষ্ঠুর।
এখানে।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
যে যােক সে হােক দুঃখ গেল অতঃপর।
অন্য লক্ষেশরী হয়্যা মুখে কর ঘর।
বাপ বুদ্ধে’ ব্রাহ্মণী বারায় প্রণিপাত।
সাবিত্রী সমান হও বলে বিশ্বনাথ।
রুদন্মুখী হৈয়া রাম দিল জল স্থল।
জিজ্ঞাসিল কহ বাপা ঘরের মঙ্গল।
প্রভু কহে সত্যপীর-প্রসাদে আনন্দ।
লক্ষী সরস্বতী ঘরে সকলি স্বচ্ছন্দ।
সত্যপীর নামে এক দয়ার ঠাকুর।
তারে সিমি দিতে তি’হ • দুঃখ কৈলা দূর।
বাপে ঝিয়ে বিস্তর দিবস দেখা নাই।
লােক-মুখে শুনি ভিক্ষা মাগেন জামাই ।
অতএব আইলাম দিতে নানা ধন।
পথে জামাতার সহ হইল মিলন।
দুঃখ-নাশ উপদেশ কহিয়াছি তারে।
তিহ কি কিনিতে গেল পাঠাইয়া মােরে ।
পাকের সকল দ্রব্য আনিয়াছি আমি।
বস্তু অলঙ্কার পরে রান্ধ গিয়া তুমি ।
আমি দেখি জামাতা আসেন কতদূরে।
এত বলি গেল হরি বৈকুণ্ঠ নগরে।
বুদ্ধে-বুদ্ধিতে, মনে করি।
বারায়-বাহির হইয়া ।
তি—তিনি।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
২৩
ব্রাহ্মণী সাদরে পরে বঞ্জ আভরণ।
কুলুপী : দুবাই শঙ্খ শ্রীরাম লক্ষণ।
রতি জিনি রূপে ধনি আলো কৈলা ঘর
রান্ধিল সত্বর দ্বিজ ভণে রামেশ্বর।
সত্যপীরের পূজা প্রতিষ্ঠা
হেনকালে
কুতূহলে
ক্ষিপ্ত বিবর।
সিন্নির সামগ্রী লৈয়া প্রবেশিলা ঘর ।
দেখি পতি ঘটে • সতী উঠে যােড় হাতে।
কহে এতক্ষণ কোথা ছিলে প্রাণনাথে ।
সলঙ্কারা সীমন্তিনী দেখিয়া বিস্ময়।
জিজ্ঞাসিতে জায়া জনকের কথা কয়।
বনিতা বচনে বিপ্র বারিপূর্ণ আঁখি।
চক্রপাণি চিনিতে নারিলে চন্দ্রমুখী।
প্রভু এসেছিল সাধ্বি হৈয়া তাের পিতা।
তুমি ধন্যা পীর কন্যা কীর্তি কল্পলতা ।
প্রেয়সীকে প্রশংসিয়া কহিলেন কথা।
কেশবের সে সব এ সব সব কথা।
১
কুলুপী-খিল অটা।
। দুই হাতের দুই বাই শঙ্খ, শখের নাম শ্রীরাম লক্ষণ।
ঘটে-এই শব্দের সম্বন্ধে কিছু সংশয় আছে। মুক্তি অর্থ
হইতে পারে।
সত্যনারায়ণের কথা
পতি কহে সতী মােহে শুনি বিবরণ।
মহােল্লাসে করিল পূজার আয়ােজন।
পার্শ্ববর্তিগণে সতী নিমন্ত্রিয়া আনে।
বিষ্ণুশৰ্ম্মা বৈসে বিশ্বনাথ আরাধনে।
প্রভু-পদ-পঙ্কজ পূজিয়া তপােধন।
বন্দনা করিয়া শেষে ব্রতকথা কন ।
যেমন প্রকারে দয়া করিল ঠাকুর।
আ অন্ত সেই সব কহিল প্রচুর।
কম বলিয়া ঘট কৈল বিসর্জন।
আপনি করিলা সিমি বাটিতে পত্তন ॥
বিভাগে দিতে আগে আজ্ঞা মাগে এসে।
ব্রাহ্মণ সকল সে বিকল হৈল হেসে।
কেহ বলে গলে সূত্র ফেল পুশ্রমিঞা "।
শির মুড়াইয়া মুখে দাড়ি রাখ গিয়া।
সার্বভৌম বলে বিষ্ণুশর্মার মাতুল।
ওরে কুলাঙ্গার কেন হইলি বাতুল।
বিষ্ণুশর্মা বলে সবে বলিবে বিস্তর।
ভাল যদি চাহ সিমি খাও অতঃপর ।
হরির হুকুম কার বাপে করে রদ।
এইরূপে বিস্তর বাড়িল বাবদ।
সােহেমু হইল।
কেহ বলে, ওহে মুসলমানের পুত্র, উপবীত ফেলিয়া দাও।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
•
নিদান • বলিল সবে তবে সিমি খাই।
যে কহ সে কারণ প্রত্যয় যদি পাই।
তাের হরি তােরে বলি পীর হৈলা মাঠে।
মােরা দেখি কেরামত । তবে জানি বটে।
প্রভু যার সখা তার ঋদ্ধ সিদ্ধ বলে।
তু • যদি তেমন তৃণ নাহি কেন চালে ।
অন্ন বস্ত্র বিবতি ভিক্ষায় ভক্ষণ।
কৃপার কি চিহ্ন এ ত ক্ষেপার লক্ষণ।
কেরামত দেখা যদি সখা পৈগম্বর ।
দেখি কুঁড়া যাকু পুড়া হকু দিব্য ঘর ।
এত শুনি গৃহে বিপ্র বসিলেন যােগে।
পতিতা সতী শোভা পাইল বামভাগে ।
বহ্নি বীজ ৬ জপে দ্বিজ ডাকে সত্যপীর।
দহ দহ দহ কুঁড়া দেহ সুমন্দির ।
ত্ৰিদহ ত্ৰিদহ যদি আসে ওষ্ঠপুটে।
পীরের প্রতাপে অগ্নি চাল ফুটা উঠে।
দক্ষিণান্ত প্রবল পবন হৈল সখা ।
পাবক ব্যাপক বিশ্বদাহকের লেখা ।
নিদান—শেষে।
কেরামত-অলৌকিক ব্যাপার।
পৈগম্বর—ঈশ্বরপ্রেরিত পুরুষ, যেন মুহম্মদ।
দেখি কেমন কুঁড়ে ঘর পুড়িয়া দিব্য ঘর হয়।
বহ্নি বীজ-অগির মূল মন্ত্র।
বিদহ—দহ দহদহ তিনবার উচ্চারণ।
প্রবল দক্ষিণ পবন মিত্র ভাবে দক্ষিণা রূপে সহায় হইল।
৪
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
চক্ষুর নিমিষে অগ্নি হৈল ঘরময়।
প্রভু আসি দাস দাসী কোলে করি রয় ।
কৃষ্ণ যার সখা তার কি করে পাবক।
আহলাদে রহিল হেন প্রহলাদ সেবক।
সর্বস্ব জ্বলিয়া ভস্ম হইলা যখন।
প্রকাশিল প্রতাপে প্রসাদ বিলক্ষণ
হেনকালে যােগ বলে প্রকাশিল পীর।
দিব্য অট্টালিকা ঘর বেষ্টিত প্রাচীর ।
বারি । হৈল বিষ্ণুশৰ্ম্মা বাঘে আসেয়ার ।
দেখিয়া সকল লােকে লাগে চমৎকার।
ডরে কাকুৰ্ব্বাদ করে বলে তুমি পীর।
মহীতলে মিছ মায়া মনুষ্য শরীর।
জাহির হইল এবে জানিল সবাই।
ক্ষম অপরাধ প্রভু দেহ সিমি খাই।
এমতি প্রণতি স্তুতি করিল বিস্তর।
সবিস্ময়ে সিন্নি খেয়ে সবে গেলা ঘর।
রন্ধন ভােজন কৈল ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী।
কহে রামেশ্বর সবে কর হরিধ্বনি ।
বিলক্ষণ—বৃহৎ।
বারি-বাহির
মাসােয়ার-আরােহণ করিয়া ।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
२१
পূজা প্রচার
আচমন মুখ শুদ্ধি করি দুই জনে ।
রাত্রিকালে
কুতুহলে
রহিলশয়নে।
প্রভাতে উঠিয়া স্মরে সত্যনারায়ণ।
প্রিয়া করে পুষ্পদি পূজার আয়ােজন।
পীর বিনা দুহাকার অন্য নাহি মনে।
সিন্নি দিয়া নিত্য পূজে লয়ে বন্ধুজনে।
প্রেমে বন্দী হয়ে পীর রহিলেন ঘরে।
ঘুচাইয়া বিপদ সম্পদ দিল তারে।
এ মতে জাহির পীর পূজা দ্বিজাগারে।
কাছে কত নরনারী আছে যােড় করে।
দুয়ারে দুন্দুভি বাজে ফুকুরে বিষাণ ।
আকাশে আল্লাম। উড়ে পীরের নিশান।
দিনে দিনে সিন্নি দানে পূর্ণ হৈল কাম।
দাস দাসী হাতী ঘােড়া ধনে যােড়া ধাম।
দেশে দেশে প্রতাপ জাহির হৈল বাড়া।
দশ বিশ হাজার হুজুরে রহে খাড়া ।
ভিড়ে কেহ দেখে কেহ দেখিতে না পায়।
তবে উচ্চ মঞ্চ বান্ধি বসাইল তায়।
ফুকুরে বিষাণ–শৃঙ্গনাদ হইল।
আল্লাম--আলম, (ফার্সী শব্দ ) লােক সমূহ। লােকে আকাশে
পীরের নিশান উড়াইল।
দশ বিশ হাজার লােক সসম্ভ্রমে ব্রাহ্মণের সম্মুখে দাঁড়াইয়া থাকে।
২৮
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
বামভাগে বনিতা বিরাজে অনুক্ষণ।
দরশনে লব্ধ-মনােরথ কত জন।
কার কোন কথা দ্বিজে অগােচর নয় ।
বাসিদ্ধ যারে যে বলেন সিদ্ধ হয়।
মীর ওমরাও জমিদার ভৃত্যবৎ ।
হাজার লাখের সিমি হুজুরে খয়রা ।
দেখি অতি রেল • অনুমতি দিল। শেষে।
কষ্ট পেয়ে বিদেশী এ দেশে কেন এসে।
সত্যপীর সাহেব আছেন সব ঠাঞি।
যথা যথা দেহ সিন্নি যাহ বাপ মাঞি ।
পূজার পদ্ধতি ভাষা রচে দিল তবে।
নকল লিখিয়া লোকে লয়ে গেল সবে ।
কত লােক আশ্রয় করিয়া সেই ছায়া।
বিরচিল বিস্তর যেমন যারে দয়া ।
দেশে দেশে সিন্নি দিল যার যথা ধাম।
বিপ্ন চুর্ণ গেল তুৰ্ণ হৈল পূর্ণ কাম।
';
মুসলমান উচ্চ কর্মচারী ও ধনী এবং হিন্দু জমিদার সকলেই
ভূতের ন্যায় আদাস হইল।
সস্ত্র ও লক্ষ মুদ্রার সিয়ি ব্রাহ্মণের সম্মুখে দান হইতে লাগিল।
রো-ভিড়।
বাপ মাঞি-বাপ মা, মেহসুচক সম্বােধন।
সত্যনারায়ণের কথা রামের ব্যতীত অপর কয়েক ব্যক্তি রচনা
করিয়াছিলেন।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
ভাগ্যহীন জন ছিল শুনিয়া বাখান।
সেবি সত্যপীর নিত্য হৈল বিত্তবান্।
কাষ্ঠ কেটে কষ্ট পাইত কাঠুরিয়াগণ ।
সত্যপীর প্রকারে তুষিল তার মন।
সংক্ষেপে সে সব সত্যপীরের বিক্রম।
শুন সবে সত্য সত্য সত্য মনােরম।
কাঠুরিয়ার বৃত্তান্ত ও পূজার উপদেশ
মথুরা নগর মধ্যে মনােহর পুরী।
তাতে তার বসতি তৎপর । তত্ত্বধারী ॥
দিবসে না মিলে অন্ন নিজ কৰ্ম্মফলে।
কাষ্ঠবৃত্তে কাল যায় জনম বিফলে।
কহে কৃষ্ণ কি কৈলে কি কৈলে কলিকালে
কি পাকে রেখেছ মে সবারে কষ্ট জালে।
সংসার-সাগর মধ্যে সবে সুখে আছে।
আমরা অবােধ মতি আছি পদ কাছে।
কৃপা কর করুণা-সাগর কলানিধি।
কি পাকে করেছ কষ্ট কপালে সে বিধি।
প্রকারের পীরের পদ পরম কারণ।
শুনিয়া আনন্দ হৈল সবাকার মন।
১
একাৰে-পূজার কোন প্রকারে।
তৎপরব্রহ্মপরায়ণ।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
কহে মাে সবার ১ যদি
দুঃখ
নিবারণ।
করে কৃপাসিন্ধু করি এ কাৰ্য্য সাধন।
এমন একান্ত চিত্ত হৈল সর্বজন।
ভাল সিন্নি দিল তূর্ণ হৈল পূর্ণ ধন ।
শুন নােক হেন দেবে না করিহ হেলা ।
লভরে আশ্রয় কলি কল্পতরু-তলা ॥
বিষ্ণুশৰ্ম্মা উপাখ্যান শুনিলে সকল।
উপস্থিত হৈলে পূজা কর স্থিত ফল |
সিন্নি দিয়া দেখ গিয়া দ্বিধা থাকে যার।
হাতে সাড়া পাবে বাড়া কি বলিব আর ।
কিন্তু যদি জেনে হয় নিজে অল্পমনা।
পূজ্য পূজকের কাৰ্য্য অগ্রে যায় জানা।
আর সবিশেষ উপদেশ বলি শুন।
বিস্মৃত না হয়য়া দিও যদি সিমি মান
সন্তান-কারণে সত্যপীয়ে সিন্নি মেনে ।
পাসরে পেয়েছে দুঃখ সদানন্দ বেণে।
তার কন্যা চন্দ্রকলা পীর-ব্রতদাসী।
ফেলেছিল প্রসাদ পেয়েছে দুঃখ রাশি।
সংক্ষেপে সে সব কথা কহে রামেশ্বর।
সদানন্দ হইতে ক্রমে শুন সব নর।
১
২
মাে সবার—আমাদের সকলকে।
পুঙ্গার কারণ উপস্থিত হইলে ফল নিশ্চিত (স্থিত) হইবে
হাতে (স) ফল পাইবে, ইহার অধিক কি বলিব ?
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
সাধু সদানন্দের বিবরণ
সদানন্দ শুভক্ষণে,
সত্যপীরে সিন্নি মেনে,
সন্তান-কারণে সাবধানে।
করুণাসাগর ধীর,
কন্যা বর দিল পীর,
কমললােচন সেই দিনে।
ঋতুকালে হইল সঙ্গ,
দিনে দিনে বাড়ে রঙ্গ,
মাসে মাসে গণনা করিল।
যবে হৈল দশমাস,
পূৰ্ণ হৈল গর্ভবাস,
প্রসবের কাল উপস্থিত । •
প্রসব হইল কন্যা,
রূপে গুণে এক ধন্যা,
রতি জিনি রূপের মাধুরী।
জিনি স্বর্গ বিদ্যাধরী, হইল যে সে সুন্দরী,
রূপে মােহি রূপ কৈল চুরি।
দশম বৎসর যবে
হৈল, সাধু মনে ভাবে,
কন্যার সম্বন্ধ করি কোথা।
ভাট কবিরত্ন আনি, কহে সাধু শিরােমণি,
যাহ লক্ষপতি আছে যথা।
শুনিয়া সাধুর কথা,
চলে মহারাজ তথা,
যথা সাধু লক্ষপতি আছে।
অবিলম্বে গিয়া তথা,
কহিল সকল কথা,
দাপ্তাইয়া লক্ষপতি কাছে।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
জ্যোতিষ আনিয়া তবে, শুভ মেল কৈল সবে,
শুভলগ্ন শুভক্ষণ দিন।
করি চলে মহারাজ, সাধিয়া আপন কায,
প্রীতি হৈল দুজনে অভিন।
পাত্র দেখি সদানন্দ, বাড়িল আনন্দ-কন্দ,
সেইক্ষণে কন্ঠ দিল দান।
কত দিন বাসে গেল, বাণিজ্যের কাল হৈল,
দিন কৈল জ্যোতিষ-বিধান।
নৌকার গঠন করি, তাহে নিল রত্ন পুরি,
আনন্দে চলিল সদানন্দ।
কহে বিজ রামেশ্বর,
একচিত্তে শুন নর,
পীরের মঙ্গল পরমানন্দ।
সাধু সদানন্দ বন্দী
সাধু শুভক্ষণে,
কন্যার কারণে,
সত্যপীরে সিন্নি মেনে।
চন্দ্রকলা সুতা,
পাত্রে হয়ে দাতা,
পীরে পাসরিল বেণে ।
কলমূল, আনন্দের মূল।
কন্যা চকলা পাত্রে প্রদত্ত হইলে বণিক পীরকে বিশ্বত হইল,
অর্থাৎ সিনি দিতে ভুলিয়া গেল।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা। তথি হৈল ভূষা, দক্ষিণ সফরে, নৌকার ব্যাপারে, জামাত সহিতে গেল। কলানিধি ভূপে, ভেটীয়া কৌতুকে, বিকি কিনি আরম্ভিলা। চামর চন্দন, আদি নানা ধন, বদলে রাজার সনে। ভূপে দিল বাসা, পীরের দুঃখ উঠে মনে । সাধু সুতা পাইল, আমা পাসরিল, প্রমাদে পাড়িব তারে। করিয়া মানন, যেন কোন জন, আর না এমন করে। সুর চোর পীর, পশি নৃপতির, কোষে করাইল চুরি। রাজ-ধন লয়ে, রাতারাতি বয়ে, পূরিল সাধুর তরী। কোটাল বিহানে, রাজার তজ্জনে, চোরের চেষ্টায় ফিরে। নায়ে নৃপমাল, দেখিয়া কোটাল, যুগল সাধুরে ধরে। ১ ব্যাপার-ব্যবসায়, প্রায় সকল দেশেই এই শব্দ এই অর্থে ব্যবহৃত হয়। অন্যত্র ব্যাপারকে বেওপার বলে। তখি হইল ভূষা—সেখানে সম্মানিত হইল।
৩
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
মারিয়া বিস্তর,
বান্ধিয়া সত্বর,
দিল নৃপতির পাশে।
অব্যয় সাধব,
রাজা নিল সব,
বন্দী হইল দৈব দোষে।
কত দিন গেল,
বন্ধনে রহিল,
অস্থি চৰ্ম্ম হইল সার।
কহে রামেশ্বর,
এ ভব-সাগর,
সত্যপীর করহ পার ।
সাধু সদানন্দের উদ্ধার
হেথা ঘরে ঝুরে সাধুয়ানী যুবতী ঝুরে ঝি।
সাধু গেল বিদেশে না জানি হইল কি ।
চন্দ্রকলা বলে মা মরিব বিষ খেয়ে।
অভাগিনী জীব আর কার মুখ চেয়ে।
স্বামী বিনে জীবন যৌবন হইল কাল ।
বিরহে বিদরে বুক স্মর শরজাল।
প্রত্যহ দুঃস্বপ্ন দেখি কত উঠে মনে।
চিরকাল গেল দু'হে মজিল পাটনে ॥
মায়ে ঝিয়ে গলাগলি কঁদে উভয়।
বিপ্ৰবাড়ী ক্ষিপ্র খড়ি গণাইতে যায়।
অব্যয় সাধবকৃপণ বণিয় ।
জীব-বাচিব।
বুয়ে-শােক করে।
পাটনে-বাণিজ্যে।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
তত্র দ্বিজপুত্র বার বৎসরের পরে।
বিদেশে বিদ্বান হয়ে এসেছেন ঘরে।
বালক-বিলম্বে বিরহিণী তার মা।
পীরে সিন্নি মেনে পুত্র পেয়ে দেন তা ।
হেন বেলা চন্দ্রকলা গেলা সেই খানে।
ব্রতকথা শুনি সিন্নি খাইল সবা সনে।
ব্রাহ্মণের বালকের বিবরণ পেয়ে।
সত্যপীরে সিন্নি মানে শুদ্ধচিত্ত হয়ে ।
কহে তাত সহ নাথ এনে দেন ঘরে।
সেই ক্ষণে সিন্নি আমি দিব সত্যপীরে।
ব্রাহ্মণীরে ইর্ষাদ ১ রাখিয়া গেলা ঘরে।
সদয় হইলা পীর সাধুর উদ্ধারে ।
অর্ধরাত্রে হয়ে প্রভু প্রচণ্ড ফকির।
স্বপনে বলেন বসে বুকে নৃপতির।
কাহে রে কুট্টন গির্দ । মৌত লগা তেরা।
ছােড় সদানন্দ নাম সেবককে। মেরা
নহি ঠেীর ৩ মারুঙ্গা রখেগা কওন চচা।
ও লােক ভি চোর ঔর তু লােকাভি সচ্চা |
১
ইর্ষাদ—অভিপ্রায়, আদেশ।
২ কুট্টন গির্দ-নিন্দিত ব্যক্তি কেন রে হতভাগা, তাের কি
মৃত্যু
নিকট।
ঠেীর—ঠাই, স্থান। নহিলে তােকে এখানেই মারিয়া রাখিব,
কোন্ চাচা রক্ষা করিবে ?
ওরা সব চোর, আর তােরা সব সাধু, না?
প
s
৩৬ সত্যনারায়ণের ব্রতকথা = তকির খাতির উঝে পীর এত্তা কিয়া। এও নহি তো তেরা মাত্তা উয়হ কঁহাসে লিয়া । জওতো ওহি তাে মাতা জওততা ওহি লেতা। বিহানকো কেঁও রহেগা রাতহি চলা যাতা তেকা ওকা গুণাহ নহি সবি গুণাহ, মেরা। ছোড় দে দো গরিবকো ছলা যায় ডেরা । ঔর এক হিসাব কি বাত কহে শুন। যো মাত্তা লিয়া তেকা দেগা দশ গুণ | যও তাে বণিয়াকো তু লুট নহি লেতা। বারো বরিখমে বারাে গুণ হােত । সাহা মকুবকা দস্তুর কুছ বুঝে। থােড় দিলায় দিয়া এনা মাফ কিয়া তুঝে । ১ অপরাধের জন্য পীর উহাকে এরূপ করিল, নহিলে তাের ধন ও কোথা হইতে লইল ? । যদি ওই ধন লইত, যদি ওই লইত, তাহা হইলে প্রাতেই চলিয়া যাইত, এখানে কেন থাকিবে ? তাের দোষ নয়, ওরও দোষ নয়, সব দোষ আমার। তুই গরিবকে ছাড়িয়া দে, উহারা ঘরে চলিয়া যাক। আর একটা হিসাবের কথা বলি, শশা, যত ধন লইয়াছিস তাহার দশ গুণ দিবি। • যদি তুই বণিকের সম্পত্তি লুটিয়া না লইতিস, তাহা হইলে বারাে বৎসরে বারো গুণ হইত। সাহ-ধনী। মজকুরুরি। ওনা—উহাকে। ধনী ও দরিদ্রের নিয়ম কিছু বুঝিস? উহাকে অল্পই দেওয়াইলাম, আর তােকে মার্জনা করিলাম।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
৩৭
১
=
বিহানকে। ছােড়ন কিজে কহে বের বের ।
মেরা বাত ন রখেগা মরেগা আখের
এত বলি অমঙ্গল দেখাইলা শেষে।
রক্তবৃষ্টি উল্কাপাত আগুনাদি দেশে।
নিদ্ৰাগতে জটে । ধরি বসাইল পীর ।
স্বস্থানে প্রস্থান কৈলা নৃপতি অস্থির।
ভয়ে ব্যর্থ হয়ে রাজা চৌদিকে নেহালে ।
রাম রাম গােবিন্দ গােবিন্দ ঘন বলে ।
প্রভাতে সােত্র পরিবার নরপতি।
পড়িয়া সাধুর পায় করে স্তুতি নতি।
রচিল লক্ষমণাত্মজ দ্বিজ রামেশ্বর।
সনাতনে শুদ্ধমতি শম্ভু-সহােদর।
সাধুকে সত্যপীরের ছলনা
খালাস করিয়া দুইজনে।
কলানিধি মহারাজা, করিল সাধুর পূজা,
ঘােড় দোলা-বসন ভূষণে।
সকাল বেলা উহাদের ছাড়িয়া দিবি, তােকে বার বার বলিতেছি,
আমার কথা না রাখিলে অবশেষে মরিবি
২ জট-কেশ।
৩
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
পীরের হুকুম মত,
দশ গুণ পরিমিত,
ধন দিল আর দশ তরী।
শশুর জামাতা রঙ্গে,
বিদায় রাজার সঙ্গে,
মহানন্দে কোলাকুলি করি।
নিজ লােকে সাধু শিরােমণি।
কুড়ি ডিঙ্গা পেয়ে সুখে, বেয়ে চলে ঘর-মুখে,
অবিচ্ছেদে দিবস রজনী ।
ওথা পীর ভাবেন অন্তরে।
মিছা মায়া কৈ এত, জানিল সাধুত,
ভালমতে জানাইব তারে।
ফকির শরীর হয়ে, সাধুর নিকটে গিয়ে,
জিজ্ঞাসেন ক্যা লে যাও বাওয়া।
আধা চিজ দেও মুঝে,
পীরকা দোহাই তুঝে,
করুঙ্গা বহুতু কুছ দোওয়া ॥
পীরের বচন শুনে,
পরিহাসে কয় বেণে,
কেত্তা দিন ভয়ােহহা ফকির।
কমাঞি তত খুব দেখা, ওয়কুফ কি নহি লেখা,
করাম ক্যা কিও জাহির ।।
১
জিজ্ঞাসা করিলেন, বাবা কি নিয়ে যাত? অর্ধেক সামগ্রী
আমাকে দাও, তােকে পীরের দোহাই, অনেক আশীর্বাদ করিব।
। পরের কথা শুনিয়া বণিক পরিহাস করিয়া কহিল, ফকির
হইয়াহ কত দিন? রােজগার তো খুব দেখিলাম, বুদ্ধির (ওয়কুফ)
সীমা নাই, কেরামত কি জাহির করিয়াছ?
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
এক কৌড়ি লে যা চলা, পীর কহে পায় ভালা,
ক্যা চিজ লেযাও কহো মুঝে।
শুন্ রহু কেত্তা মাত্তা,
সাধু কহে লত্তা পত্তা,
কেত্তা নাম বওঙ্গা তুঝে ।
কহে সাধু জামাই,
খা লে যাতাহু মৈ,
তল্পাস মে তেরা কওন কাম।
শুনি পীর মৌনে রয়,
তৎক্ষণে তােপ হয়,
দেহে যে যাহার নিল নাম ।
দেখে সাধু হৈল সর্বনাশ ।
নায়ে হৈতে নামে তড়ে, ফকিরের পায়ে পড়ে,
রক্ষ বক্ষ বলে দুই দাস।
কান্দে সাধু হইয়া কাতর।
পীর বুদ্ধি সিদ্ধি করে,
দুজনে দুপায় ধরে,
স্তুতি নতি করিল বিস্তর ।
এক কড়ি লইয়া চলিয়া যা। পীর কহে, ভাল পাইলাম, কি
সামগ্রী লইয়া যাইতেছ আমাকে বল। কত ধন আছে শুনি? সাধু
বলে লতাপাতা, কত নাম তােকে বলিব ?
ও সাধুর জামাই কহে, আমি ছাই লইয়া যাইতেছি, সে খােজে
তাের কি কাজ?
এই কথা শুনিয়া পীর মৌন রহিল, (ওদিকে) সাধু ও তাহার
জামাতা যেরূপ বলিয়াছিল তৎক্ষণাৎ সেইরূপ হইল, অর্থাৎ কতক
নৌকায় লতাপাতা ও বাকি নৌকায় ছাই হইল।
তড়েত।
৫ ইনি পীর সিদ্ধান্ত করিয়া।
৪০
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
পীর বলে এতো নয়, তুমি সাধু মহাশয়,
কেন পড় ফকিরের পায়।
মৰ্যাদা হইবে নষ্ট, কেহ পাছে দেখে উঠ,
ছাড় পদ, চড় গিয়া নায় ।
কড়ার ভিখারী আমি, এই যে কহিনে তুমি,
তবে কেন কর পরিহাস।
দূর দাগাবাজ বেণে, কারে কি না দিলি মেনে,
তেঁই তাের হৈল সর্বনাশ ।
দৈবের আঘাত হােরে, কি করিতে বল মােরে,
আপনার ভাল নহে মন।
ভাগ্যে ছিল চন্দ্রকলা, সে সিন্নি মানিল বালা,
তেঞি তাের রহিল জীবন ।
সিন্নি মেনেছিলি পীরে,
দিলি নাই কোন্ অহঙ্কারে।
যা দোষ ক্ষমিনু তােকে, ভাল যদি সাধ থাকে,
সিন্নি দিয়া পূজ গিয়া পীরে।
শুনি সাধু মােহ যায়,
পূর্ব দ্রব্য দেখে নায়,
ফিরে দেখে নাহিক ফকির।
কহে দ্বিজ রামেশ্বর,
সজামাতা সদাগর,
সিমি মেনে আনন্দে অস্থির।
সে টাটি
বেটীর তরে,
কাহাকে কি মানত করিয়া দিস নাই, অর্থাৎ পীরের সিন্নি
মানিয়া দিস্ নাই ।
। টাটি—৪টি।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
সাধুর স্বদেশে আগমন
নায়ে চড়ি করে সাধু পীরে জয়ধ্বনি।
পবনে পবনতুল্য চালাল তরণী।
কুতূহলে জলে জলে চলে পীরসখা ।
এড়াইয়া নানা দেশ দেশে দিল দেখা।
নায় ছিল বাদ্যভাণ্ড তায় দিল কাঠি।
কামানে পলিতা দিয়া কাঁপাইল মাটি।
সাধু আইল দেশে ঘােষে ২ যত নরনারী।
সদানন্দ দ্রুত দূত পাঠাইল পুরী।
শুভ সমাচারে সাধ্বী ৩ দূতে দিল ঘােড়া।
দুয়ারে দুন্দুভি বাজে মহােৎসব যােড়।
হেন বেলা চন্দ্রকলা পরম সাদরে।
দ্রুত গিয়া সিন্নি দিয়া পূজা কৈল পীরে।
তরণী উখিতে যত তরুণীর ত্বরা।
খেতে ছিল সিন্নি ফেলে হৈল অগ্রসরা।
পতি প্রতি মতি ধায় পাছে ধায় মা ।
গায়ের গরবে ভূমে পড়ে নাহি পা।
প্রসাদ ফেলেছে পীরের আছে পূর্ণ কোপ।
দর্পচূর্ণ বালা-অহঙ্কার কৈল লােপ ।
নৌকায় বাজনা ছিল, কাঠি দিয়া বাজাইল, আর নৌকার
কামানে পলিতা দিয়া আওয়াজ করিল।
যাবে-ঘােষণা করে, প্রচার করে।
সাধ্বী—সদানন্দ বণিকের পত্নী।
৪২,
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
সদ্য দিল প্রতিফল দেখে গিয়া সতী ।
বাপ বন্ধু কান্দে ঘাটে ডুবে মৈল পতি।
হায় হায় কি হৈল কি হৈল লােকে বলে।
মায়ে ঝিয়ে মুচ্ছিত পড়িল ভূমিতলে ।
মুখে জল দিয়া কেহ করাইল চেতন ।
কহে রামেশ্বর কন্যা করহ রােদন।
চন্দ্রকলার প্রতি ছলনা ও সাধুর সর্বসিদ্ধি
ধরিয়া মায়ের গলা, কান্দে কন্যা চন্দ্রকলা,
স্বামিশােকে হইয়া কাতর।
ম্লান হৈল মুখশশী,
মনােহরা মুক্তকেশী,
সম্বরে অঙ্গের অম্বর ॥
হাহাকার করি মুখে, চাপড় মারয়ে বুকে,
সুকপালে কঙ্কণের ঘাত।
ধৈরজ ধরিতে নারে, কেন্দে কহে কলম্বরে,
কোথাকারে গেলে প্রাণনাথ ॥
একবার দরশন দেও।
না দেখিয়া তুয়া মুখ,
বিদরিয়া যায় বুক,
অভাগীরে সঙ্গে করি লেও।
দেশে আইলে চিরদিনে, বড় সাধ ছিল মনে,
আঁখি ভরি দেখিব তােমারে।
তাহাতে দারুণ বিধি, হরিল হাতের নিধি,
বড় শেল রহিল অন্তরে।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা ৪৩ মদন-মরণে যেন, রতির বিষাদ হেন, কান্দে কন্যা করিয়া বিলাপ। মায়ের বিদরে বুক, বাপে দশ গুণ দুখ, কালে সবে করি মনস্তাপ। বিষম সঙ্কটে পড়ি, অশ্রুমুখে কর যুড়ি, ভাবে সাধু পীরের চরণ। করিল বিস্তর স্তুতি, না হইল অবগতি, মরিতে চলিল তিন জন ॥ ঝাঁপ দিতে যায় জলে, পীর আসি হেন কালে, বৃদ্ধ বিপ্রবেশে তারে কয়। শুন সাধু বলি জ্যোতি, তােমার দুহিতাপতি, মরে নাই মাের মনে লয় । আমিহ জ্যোতিষে বড়, গণে পড়ে কহি দঢ়, এই কৰ্ম্মে পাকাইলাম দাড়ি। তােমার জামাতা বটে, ডুবিয়াছে এই ঘাটে, দেব দ্বারে দেখি কিছু দেড়ি | এই যে তােমার কন্যা, রূপে গুণে এক ধন্যা, বয়ােধৰ্ম্মে বুদ্ধি নহে ভাল। পীরের সিরিনি এটে, করে ফেলে এল ছুটে, সেই অপরাধে এত হৈল । ১ জ্যোতি--জ্যোতিষ। দেড়ি-অমঙ্গল। সিরিনি—ইহাই মৌলিক উর্দ শব্দ, ইহা হইতে সিন্নি হইয়াছে। এটে—এটো, উচ্ছিষ্ট।
৪৪
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
শুনি সাধু কন্যা পানে চায়।
চন্দ্রকলা বলে বটে, বাপে বিয়ে করপুটে,
কান্দি পড়ে ব্রাহ্মণের পায় ।
বিপ্র বলে যাও যাও, সেই সিন্নি
তুলে খাও,
পাবে পতি না কাল সুন্দরি।
শুনি ধনি ধেয়ে তথা, সিমি তুলে খায় ওথা,
ভাসে ডিঙ্গা পতি চলে পুরী।
দেখিয়া বিস্ময় লােক, ঘুচিল দারুণ শােক,
খুঁজে সাধু দ্বিজ নাহি কাছে।
বুঝি মায়া সদানন্দ, ভাবে পীর-পদদ্বন্দ্ব,
আনন্দে গদগদ হয়ে নাচে।
মায়ে ঝিয়ে চন্দ্রকলা, ডিঙ্গা মঙ্গলিতে ২ গেল,
আগে পাছে শত সীমন্তিনী।
সুখের নাহিক ওর, শঙ্খ ঘণ্টা ঘন ঘাের,
হুলহুলি জয় জয় ধ্বনি।
শশুর জামাতা রঙ্গে,
ইষ্ট মিত্র লয়ে সঙ্গে,
শুভক্ষণে প্রবেশিল ঘর।
নায়ে ছিল দ্রব্য যত, সাধুর ভাণ্ডারে দ্রুত,
বহে যত নায়ের নফর
পদ-পদযুগল।
মজলিতে-মঙ্গল আচরণ করিতে।
ওরসীমা।
নফর-ভৃত্য।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
৪৫
সাধু সওয়া সহস্রের, সিন্নি এনে দ্রুততর,
পূজা কৈল পীরের চরণ।
পূৰ্ণ হৈল মনােরথ, পীর প্রীতে সাধুত,
খয়রাত্ করিল নানা ধন।
লীলা দেখি লােক যত,
সাধু সঙ্গে অবিরত,
সবে পূজে পীরের কদম।
শক্র সম ধনে জনে, বাড়িলেক অল্প দিনে,
পরলােকে জিনিলেক যম ॥
এ কথা শ্রবণকালে, যেবা অন্য কথা তুলে,
আর যেবা করে উপহাস।
লাঞ্ছিত সে সর্ব ঠাই, তাহার নিস্তার নাই,
অকস্মাৎ হয় সর্বনাশ।
সিমি দিয়া শুদ্ধভাবে,
শুনিলে বাঞ্ছিত লভে,
পুত্র দারা অর্থ ঘােড় দোলা।
ভণে দ্বিজ রামেশ্বর,
শুদ্ধভাবে খুন নর,
প্রভু শুন অষ্টমঙ্গলা ।
কদম-চরণ, পদক্ষেপ।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
অথ অষ্টমঙ্গলা
কলিতে প্রথম তত্ত্ব ফকিরত্ব কায়া।
দ্বিতীয়ে দরিদ্র দ্বিজে দিলে পদছায়া।
তৃতীয়ে ত্রিবিধ লােকে করিলে নিস্তার।
চতুর্থে উৎকট কষ্ট নষ্ট করার ॥
কন্যা জন্য মাননে পঞ্চমে পরাৎপর।
সদানন্দ সাধুর শঙ্কটে দিলে বর ।
পাসরণে প্রতিফল বন্ধন বিদেশে।
যষ্ঠে তুষ্ট হৈয়া কষ্ট দূর কৈলা শেষে।
সপ্তমে সাধুর সনে পথে বিড়ম্বন।
অষ্টমে অবলা-অহঙ্কার বিমােচন।
এমতি অপার লীলা করিয়া ঠাকুর।
কত কত দরিদ্রের দুঃখ কৈলে দূর।
পুত্ৰার্থীরে পুত্র দিলে ধনার্থীরে ধন।
দাের্থী সদাই সেবে তােমার চরণ।
তুমি প্রভু দয়াসিন্ধু মহিমাসাগর।
কি বলিতে পারি প্রভু আমি তুচ্ছ নর।
আপনি রচিলে নাথ আপন কীৰ্ত্তন।
মােরে দোষ ক্ষমা দেহ চরণে শরণ ।
নায়কে কল্যাণ কর গায়কে সুস্বর।
আসর সহিতে সত্যপীর দেহ বর।
অবশ্য দক্ষিণা দিতে না হবে কাতর।
তবে দয়া করিবেন পীর পৈগম্বর ।
সত্যনারায়ণের ব্রতকথা
৪৭
দেবের দক্ষিণা দেখ ব্রাহ্মণের হয়।
ব্যাস বাল্মীকি মুনিগণ ইহা কয়।
পীঠ ভােগ পাঠক পূজকে যাহা দেন।
যতূকের সিরিনি তার চৌখাই । দক্ষিণা ॥
পুস্তক পড়িতে দিবে পণ্ডিতের ঠাই।
গবাগুলা গ্রন্থ যেন গােবরায় নাই ।।
ভব্য সভ্য হৈলে শ্রাব্য ছাপে নাঞি তাকে।
বুকে বসে বসন্ত কোকিল যেন ডাকে ।
গ্রন্থ সাঙ্গ হৈল বিরচিল দ্বিজ রাম।
সবে হরিধ্বনি কর মুজরা * সেলাম।
ইতি সত্যনারায়ণের পূজাগান সমাপ্ত।
১
২
চৌবাই-চতুর্থাংশ।
গবা-মূখ, গরুর তুল্য। গােবরায়—গােবর মাখাইয়া দেয়, নষ্ট
করে। মুখের যেন গ্রন্থ নষ্ট না করে।
ভব্য সভ্য লােক হইলে তাহার নিকট শ্রবণের উপযুক্ত (শ্রাব্য)
পাঠ গােপন থাকে (ছাপে) না, যেন বুকে বসিয়া কোকিল ডাকে।
মুজরা—অনেক। পূজাশেষে অনেক প্রণাম (সেলাম)।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.