Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Ila

Guha,kamakhyashankar · 2010/02/7

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

의
গ্রীকামাখ্যাশঙ্কর গুহ
প্রণীত
মূল্য-১ টাকা

No text on this page.

ইলা
আমার বীণাতে আমি
গেয়েছিনু যেন সুরের ফুলে,
তােমার বীণাটি তুমি মাঝখানে তার
নিয়েছ তুলে !
সব কথা তার শিখি নাই আহা
ঘন বনতলে কি বেদনা আহা!
সকল পাশরি আমার রাগিণী
গিয়েছি ভুলি।
শ্রীকামাখ্যাশঙ্কর গুহ
Sophen

৯০নং লােয়ার সারকুলার রােভস্থিত
মেট্রোপলিটান প্রিন্টিং এণ্ড পাবলিশিং হাউস, লিমিটেড হইতে
শ্রীপুলিনবিহারী সরকার কর্তৃক মুদ্রিত।

সুকবি সতীশ রায়ের
শ্মরণে
উৎসর্গীকৃত।
।

No text on this page.

"UTTA. MAYAN"
3
LANTINISCETAR, BADALA
حوالے
7 จ 29 3
tunen ena vensy
นง ( 13 4 )
d
4s 1 xx?) :
esam a se man ser
6 37 348 2
24 24 1 4
38 al heel he be she
MS&
Slee! 226

No text on this page.

নিবেদন
আমার বীণা বাজাইতে বাজাইতে আর একজনের, যিনি
সৃষ্টিকর্তা, যিনি জগৎ কবি, তাহার বীণা শুনিয়া অনেক সময়
থামিয়া গেছি। জানি না বিশ্ব আমার কবির বীণায় ও
চিত্রকরের তুলিকায় কোন্ রঙে ধরা পড়িয়াছে ? আমার দাদা
শ্ৰীযুক্ত প্রফুল্লশঙ্কর গুহ মহাশয় অর্থসাহায্য না করিলে এই বই
ছাপান হইত না। এইজন্য তার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।
শ্ৰীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কামিনী রায়, শ্রীযুক্ত করুণানিধান
বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভৃতি অনেকে আমার কবিতা পড়িয়া সুখী
হইয়াছেন।
গুরুদেব শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলঙ্গে একদিন
অনেকক্ষণ আমার কবিতা পড়িয়া অনেক আলােচনা করিয়া-
ছিলেন। সেদিন তাহার অমূল্য সময়ের কিছু পরিমাণ আমার
দ্বারা নষ্ট হইয়াছিল।
কবি Rudyard Kiplingও অনুবাদ পড়িয়া সুখী
হইয়াছিলেন।
১০ই পৌষ।
বিনীত
শ্রীকামাখ্যাশঙ্কর গুহ
গৌহাটী।

No text on this page.

ভূমিকা
স্নেহাস্পদ বন্ধু শ্রীমান কামাখ্যাশঙ্কর গুহকে বহুদিন থেকেই
জানি। কাব্য-সাহিত্য ও ললিতকলার প্রতি এর বরাবরই
একটা স্বাভাবিক অনুরাগ দেখেছি। পাহাড়ের বুকে ও অরণ্যের
কোলে ইনি মানুষ। এর স্বপ্ন ও কল্পনা যে অভিনব বর্ণ ও ছন্দে
ধরা দেয়, তার সঙ্গে সাধারণের অন্তরঙ্গ পরিচয় নেই, কারণ,
তা ঠিক খাপছাড়া না হলেও একটা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়েই দেখা
দেয়, যেটা একান্তভাবে এই গুহ কবিরই বিশেষত্ব ।
কামাখ্যাশঙ্কর একজন সহজাত কবি ও কলাবি। কলম
ও তুলি তার সমান তালেই চলে। তাঁর অঙ্কিত চিত্রশিল্প
য়ুরােপীয় বিশেষজ্ঞের দ্বারা সমাদৃত হয়েছে। আশা করি, তার
এই প্রথম কাব্যগ্রন্থ “ইলা”ও দেশের রসপিপাসুদের চিত্তকে
দোলা দেবে।
‘ইলা’ কাব্যখানি কয়েকটি খণ্ড কবিতার সমাবেশে গড়ে
উঠেছে বটে, কিন্তু কবি-হৃদয়ের মূল সুরটি তার মধ্যে কোথাও
দিশাহারা হয়ে পড়ে নি। প্রেম ও প্রকৃতির প্রতি কবির যে
গভীর প্রীতির পরিচয় এতে প্রকাশ পেয়েছে, তারই মধ্যে ধরা
পড়েছে কবিচিত্তের গােপন রহস্য!
কাব্যকলার টেনিকের দিক দিয়ে ইহার মধ্যে ত্রুটি খুব
অল্পই চোখে পড়ে; বরং এই গদ্য-কবিতার স্বেচ্ছাচার ও

Mo0
উচ্ছঙ্খলতার যুগে তরুণ কবি তার মানস-লােকে প্রতিফলিত
ধ্যানের চিত্রগুলিকে নানা বিচিত্র ছন্দ, মিল ও যতির সংযত কঠিন
বন্ধনের মধ্যে রূপায়িত করে তুলে আপনার শক্তিরই পরিচয়
দিয়েছেন।
সাধন পথের প্রথমত্রী ইনি, বাণীর চরণে অর্ঘ্য দেবার
জন্য আজ যে নব-মুকুলিত কমল সংগ্রহ করে এসেছেন তা
উত্তরকালের সিদ্ধি ও ভাবীযুগের যশােভাতিতে
হয়ত রচয়িতার কবি-খ্যাতিকে দিগন্ত-বিস্তৃত করে তুলতে পারবে
, কিন্তু নববধূর ব্রীড়ানত রাঙা সরম-শােভার স্নিগ্ধ শ্ৰী ও মধুর
সুষমায় আত্মীয়-পরিজন এবং সহৃদয় প্রতিবেশীদের পরিতৃপ্ত
করতে পারবে।
সমুজ্জ্বল ! ইলা
দীপান্বিতা
শ্রীনরেন্দ্র দেব
১৩৪৫

সূচীপত্র পৃষ্ঠা ০০৮ ১ * ০ ০ ••• ১১ ৩ . . * ১৪ ••• ।। বিষয় ইলা সাবিত্রী মঙুলতা বাণী লিপিকা মণি রাজার ছেলে ছবিরাণী শিলা বারুণী ভবিরহস্য রাজবালা প্রিয়া চিত্রা বিজয়-সঙ্গিনী কবির গীতি রমা পূজারিণী পাহাড়িয়া ২২ ২৪ . * | ০ ০ ৫০ ২৯ ৩৮ ৫০ ৪০ ০ ০ ০ ৫০ ৪৪ ••• ০ ০ ৪৭ দেউল রহস্য ••• ৫০ ঘাটে ইলা মেজবৌদির প্রতি ৫০০ ৫৬ ১৬ ৫৭ ০৩। গােষ্ঠকামি সেজ বৌদির প্রতি

No text on this page.

মেঘের মত নিবিড় বনে
থাকত ঝর্ণা ধারা সনে
গুঞ্জরিত আপন মনে ইলা।
বকুল বনে আকাশছায়া,
পাখীর মত মায়ার কায়া।
বসিত কি পথিক জায়।
শিলা ?
বনের মাঝে হরিণ চরে,
আলাের রেখা শৃঙ্গে পরে,
সেইখানে কি হাস্য করে
পুরী ? ash
দুপুর বেলা গ্রামের পথে
আলাপ করে নিজের মতে,
পুকুর হতে ভরিয়া লয়
গাড়ি!
গ্রামের বধু, গ্রামের বালা,
পুষ্প রাখে সােনার থালা
চিকুর তাদের চিকন কালা
রাতি।

ইল।
তারা কেহই নাহি জানে,
কোথায় ইলা ফুলের ঘ্রাণে
জ্বালায় যবে বিজননে *
বাতি।
ঝর্ণা ঝরে ফেনিল মতি, স
ইলার দুঃখ গভীর অতি।
পাহাড় যেন বসিয়া যতি
একা,
মেঘের মনে আকাশমাঝে
কত কালের বাক্য রাজে
তখন দিবে নিজের কাজে
দেখা।
নীল মণিতে শােভনা বালা,
গিরির শিরে শিশির ঢল।
তাহার গাঢ় বুকের জ্বালা
কঁাদে।
গহন বনে বটের তলে
দুপুর বেলা মায়ার বলে,
বনের যত বিহগ চলে
বাঁধে।
২

ইলা
সেইখানেতে বিজন পুরে,
কাল নাগিনী ঘুমায় দূরে
জড়িয়ে থাকে বনের সুরে
আঁখি।
কোন অতল জলের বুকে
মাণিক নিয়ে হরষ সুখে
নামিয়া যাবে রঙিন মুখে
ডাকি।
ডাকে মেঘের ছায়ার মত,
অবাক্‌-করা ভাষায় শত,
বনের মত কথায় কত
বধূ।
আঁখির নীল গভীর স্নেহ,
বনের পশু পায় কি কেহ ?
চঁপার মত গড়ন দেহ
মধু।
বিজন বনে ভাববে বসে
থাকবে ডুবে মনের রসে
ফুলের দল পড়বে খসে
ধীরে ।

ইলা
গাঢ় প্রেমের নয়ন মেলি,
থাকবে চেয়ে ঈষৎ হেলি,
করবে সেথায় জলকেলি
ফিরে।
ফুলের মত কোমল আহা,
শরীর তাহার দিনে যাহা
আলাের মতন নীরে যাহা
সুখে।
রাতে কেবল থাকবে না,
জড়িয়ে রবে ঘুমের খনি মা
স্বপ্নে দিবে অলক ধন
বুকে।
৪

সাবিত্রী দেবী
আলােক মূরতি আঁধারে বসিয়া
হাসিলে কিসের হাসি?
বিপুল বিশাল ভূমার ছন্দে
বাজালে তােমার বাঁশী।
মেঘ-মল্লার রাগিণী ঝরিয়া
পড়িছে নিখিল গগন ভরিয়া, (অসীম আকাশ)
অনাদি কালের
পুলক ধরিয়া
চির উচ্ছ্বাস-রাশি।
ওগাে সাবিত্রী দেবি,
বন্দনা করে সরস্বতী
তব পদযুগ সেবি!
চির আলােকের জয়ের পত্র
লেখা কি ললাটে তব ?
অনাদি কালের সৃজন-কাহিনী
আনন্দ-গান নব!

হলা
কোন গগনের সন্ধ্যাকুমারী
আলােক-মালার নিত্য পূজারী
গানে গানে দেয় ভুবন উজাড়ি
চম্পক-ফুলমালা !
কোথায় জ্বালালো তাহার নিত্য
পূজার প্রদীপ বালা ?
ওগাে সাবিত্রী দেবি ।
চির সে নূতন ভুবনখানিরে
কোথায় রহিল সেবি।
জাগে জয়শ্রী চির নির্ভর
আনন্দ-গান অতি সুন্দর ।
সকল স্বর্গ সুনীল নিথর
রঞ্জিত তব সুরে।
বিপুল বিশাল আলােক-কাহিনী
দীপ্ত অসীমে ঘুরে,
দিকে দিকে শত সবিতার শিখা
কালের কপালে দিল প্রদোষিকা ।
মেলিছে কি পাখা নীল সুদুরিকা
সকল আকাশ জুড়ে ?

সাবিত্রী দেবী
অনাদি কালের তারার আলােতে
কে লিখেছে তার চিঠি ?
কোন পুরাতন প্রেমের কাহিনী
কোন পুরাতন দিঠি ?
ওগাে সাবিত্রী দেবি।
লক্ষ তারকা হাসিয়া উঠিছে
তােমারি চরণ সেবি
লেখা আছে তায় বাদল রঙসা, ৬
সুনীল গিরির মিলন পিয়াসা,
বন বেণী জলে আকুল তিয়াসা
সূজন গল্প নব !
তিমির বরণ রাত্রি-মাঝারে
স্পন্দিত হয় সব !
ওগাে সাবিত্রী দেবি,
অনাদি কালের বেদনার মালা
আলােক উঠিছে সেবি।
চম্পক-দাম কেশে তব হাসে,
শ্বেত মণিমালা সিথি ভালবাসে,
অজর অমর রহে তব পাশে
রুদ্র ললাট-শিখা,
৭

ইলা
শতেক ছন্দে শতেক হাস্য
নিত্য বিরহ লিখা।
অগ্নি-বীণায় হসিতা ধরেছ
কোন পূজারতি সাধনা ?
বিরাট বিশ্ব ছন্দখানিরে
চির সুন্দরী বাঁধনা !
গানের পূর্ণ কমল ফুটে কি ?
চির অমৃত হর্ষ লুটে কি ?
নিখিল ব্যাপ্ত রাগিণী ছুটে কি
পূর্ণ মাধুরী কঁদনা ?
? ”
যেখানে নিখিল হারায়ে গিয়েছে
অসীম ছন্দগুলি, ১টি,
সেথায় কি তব সেতার বেঁধেছ
ভুবন ভরেছ শুনি?
?
রাত্রি আঁধারে ভুবন কোথায়
আলােক ফুলের পানে সে তাকায়।
জল বারুণীরা স্পন্দন পায়
নির্জন গিরি মুনি।

সাবিত্রী দেবী
চির সুন্দরে হেরেছ কি তব
পূজা-মন্দির-তলে ?
সুপ্ত লহরী অসীম বিশ্ব
ব্যথার মাঝারে জ্বলে !
ওগাে সাবিত্রী দেবি ।
অনাদি আলােকে ভালো কি বেসেছি
তােমারি চরণ সেবি ?
পুরুষ কঠিন
ছন্দে ভরিয়া
জাগিলে আকাশ কোলে,
বিরাট বিপুল বিশ্ব অঙ্কে
কেমনে সৃষ্টি দোলে ?
জাগে তমালিকা আঁধারের শিখা
আলাের বিজয় সুরে।
সুপ্তি হারায়ে রজনীর বুকে
কাহার বারতা ঘুরে ?
বন্ধন-হারা আরতি তােমার,
মুক্তি অনল ধ্যান সাধনার
নিখিল প্রপাত রূপ কামনার
কোথায় পড়িছে ঝরি ?
৯

ইলা
লীলা গুরু সেই শিবের নৃত্য
বিরাট ধ্বংস স্মরি।
জাগে যেন মনে কাল ভৈরব
অসীম আভাস চির গৌরব,
সকল ছন্দে গাহে ঐরব
সকল সৃষ্ট বুকে
মুক্ত বেণীরে আলােকে বাঁধিয়া
হৃদয় আসনে কি নিলে সাধিয়া
সােনার ছন্দে কখন কঁাদিয়া
কখন হাসিয়া সুখে।

মঙুলতা
সেই আমাদের গ্রামে
ঘন বনের ছায়ার নীচে।
বাস করিত একটি মেয়ে
সকাল সন্ধ্যা আলােক ছেয়ে
পড়তাে তাহার পিছে।
গ্রামের মেয়ে মঞ্জুলতা
কালাে তাহার চাওয়া !
ফাগুন দিনে উতল হােয়ে
বইলে পড়ে হাওয়া
শিউলি কুসুম দেয় না শয্যাতুলি
পাগলা ঝরা নদীর মত
বুলি।
তাহার সরল মনের মাঝে,
তারার সুরে রাত্রি বাজে
গােপন গভীর পুরে!
যায় গাে নিয়ে লােকে লােকে
ইলার থেকে দূরে ॥
১১

ইল।
আমাদের এ বাড়ীর পাশে
কাজলা দীঘীর ধারে।
সকাল সন্ধ্যা বিশ্ব লােকে মনখানি কে
কাড়ে ?
সেই মেয়েটি তরুণ লােকের অরুণ লােকের পান্থ।
গভীর কথা গােপন লােকের জানতো !
“উলটা ধারা” নদীর তীরে
সকাল সন্ধ্যা ভুলি !
তুলতে কিসে
কুন্দ ফুলে ?
বাঁধা তাহার সকল চুলে
কোমল পরাণ উঠতে সুখে দুলি!
১২

বাণী
সকল রাগিণী গাহিয়া কি বাণী
থেমেছে তঁাহার সুরে ?
অতীত কালের আলাের কাহিনী।
তার মনে কি গাে ঘুরে ?
আঁধারে আঁধারে অন্ধ পাখা
বিশ্ব ভুবন স্তম্ভিত আঁকা,
সকল রাগিণী গাহিয়া কি বাণী
থেমেছে তাহার সুরে ?
তারকা কাহার জপমালা দূরে ?
মানসমােহিনী চিত্ত সে জুড়ে !
আজি কি বাণীর আঁখির আগেতে
নূতন ভুবন ঘুরে ?
লীলা-চঞ্চল দেবতার দল
নিত্য মধুর আলােকের ছল।
সকল রাগিণী গাহিয়া কি বাণী
থেমেছে তাহার সুরে ?
যে গান ছিল না আজি কিসে জাগে ?
চির নন্দন সৌরভ লাগে।
অতীত কালের মিলন পিয়াসা
তার মনে কি গাে ঘুরে ?

লিপিকা
মর্ত্যে যেদিন ঘর বাঁধিনু না জানি
কোন শৈশবে।
পেয়েছি তব লিপিকা!
শ্যামল মাটির মুগ্ধ বুকে
[ আপনাহারা হনু সুখে }
গাহিল জগৎ প্রেমের কথা, গাহিল কথা ভৈরবে
স্নেহের আঁচল দিল কি হব
দীপিকা?
তােমার চিঠি পড়িনু আমি তারায় তারায়
ঘন বাদল গানে।
ঝর্ণা রাণী কি বলে কোন্ গুহার তলে
পরাণ তাহা জানে!
কাজল মেঘের আলস আঁখি
কোন কাননে নিল ডাকি
পেয়েছি তব লিপিকা!
রঙিন প্রাণের সােনার কথা লিখিয়া দিলে
ভােরের বেলা তুলিয়া তব ইষিকা
১৪

লিপিকা
নীলাম্বরীর আঁচল ছায়ায়
পরাণ আমার গেল ভুলে !
ছয় ধাতুর সে বাঁধন হারা
ছন্দ দোলায় গেল দুলে !
ধরিলে কি গাে বনের ছায়ায় ভূর্জপাতায়
লেখি ?
আলাে ছায়ার মনের মাঝে কি কথা রয়
সে কি ?
জাগিল মনে শ্যামল ঘন, বনের ছায়ায় নদী
কোন অলকার কথা বলে, বলাকা যায় যদি !
কালো আঁখির স্নিগ্ধ দিঠি
দিল কি সেই তোমার চিঠি ?
কোথায় তারা কঁাকন পড়ে নীবিবন্ধে বাঁধি
চীর জীবন গেনু যেন তাহার তরে কঁদি!
শ্যামল ধরায় যেদিন এ কোন্ অলকার
বিধানে !
লিখিলে বনফুলে,
ঝিল্লি শাখায়-বাঁশের ঝাড়ে
হায় গাে পরাণখান কাড়ে !
আশীষ তব জাগিয়া রল আমার ঘুমের সেখানে।

ইলা
এসেছি তব পুরদ্বারে পাইয়া তব চিঠি ।
সেথায় কি গাে আছে কি তব রতনঝলা দিঠি ?
সিংহদ্বারের কাছে থাকি
আমায় কে গাে নিল ডাকি ?
শঙ্খ চক্র আঁকা তব সােনার আঙ্গিনাতে।
কোন রাগিণী গাইল তব পুরদাসীগণ ?
সকল কালের অমর গীতে হৃদয় যেন মাতে।
তরণী শত ভরিয়া দিলে কাহারে কি ধন ?
সিংহাসনের তলে তব
ধরি তব লিপিকা।
হিরণপুরে মণির শিরে জ্বলিছে শত দীপিকা!

মণি
wণগো, তােমার কালাে দিঠিখানি
মেলেছিলে যবে হাসি,
নিৰ্ম্মল সেই গিরি বনছায়
নির্জনে ভালােবাসি ?
সেদিন আষাঢ় নেমেছিল বুকে
চেয়েছিলে মোের মনমাঝে সুখে
কোন আলােকের হাসি ছিল মুখে
প্রিয় উচ্ছ্বাস রাশি!
আজি ক্ষণে ক্ষণে মেলিয়া দিয়াছ
ভুবনের কোন কথা ?
অতীত অনাদি সকল কালের
জীবনের কোন ব্যথা?
উচ্চ তব নিবিড় কবরী
শারদী রাতিতে নিল কি আবরি ?
অবগুণ্ঠন খুলি কোজাগরি
চির উল্লাসরতা।
১৭

ইলা
সঘন বনের নিবিড় ছায়ায় ।
নীল অরণ্য তলে,
আজিকে তােমার অপার কাহিনী
অসীম সুখেতে চলে।
কঁপে বনানীর নির্জন শিলা।
ছন্দে মিলানাে ক্ষণছায়া ইলা
তব অপরূপ রূপে।
হেরেছি বিশ্ব বনের ছায়ায়
আকাশের নীচে চুপে।
১৮

রাজার ছেলে
রাজার ছেলে নাই বা হলেম
নাই বা গেনু রণে,
কালাে ঘােড়ায় বাদল রাতে
কোটাল ছেলের সনে!
আজকে আমার ঘরের মাঝে
মিলন মেলায় গাঁথি
সখীর সঙ্গে আমার দত্ন ৮
প্রমােদ হাসি পাতি।
পূবের কোণে শৈলমূলে
উষার চরণ রেখা
ভােরের অলস কমল পরে
বিশ্বে দিল দেখা ।
শরৎকালের শিশিরেতে ভরি তৃণগুলি
বনমাতা কাহায় পূজে
লয়ে কুসুমকলি ?

ইলা
রাজার ছেলে নাই বা হলেম
নাই বা গেনু রণে,
বাদল রাতে থাকব আমার
প্রিয়তমার সনে।
ঝঞ্চা পরে ছুটব না আর
পাহাড় পরে পরে
আপন প্রিয়ার চক্ষু জুড়ে
থাকব প্রেমের ভরে।
বিদেশ নাহি ভালােবাসি
নাহি বাসি পর,
আমার প্রিয়া যেথায় রহে
সেথায় আমার ঘর ।
বাজার ছেলে হলে পরে
আসতে কত রাণী।
মাণিক-হার দুলিয়ে তারা বলতে
সুধাবাণী ?
এক রজনী মনে হত
অনন্তকালখানি।
শ্রাবণ রাতির স্বপ্ন মাঝে
বলতে মধুর বাণী

রাজার ছেলে
তবু আমার ঘরে আছি
আপন গৰ্ব ভরে,
শিউলি ফুলের ধবল শােভা
হেরি বিশ্বপরে।
নাইক আমার সঙ্গিনী কেউ
অরুণ কনক লতা,
ঘুমের মাঝে জাগিয়ে তুলে
রাজকুমারীর কথা !
শ্রাবণ হারা বিশ্ব মাঝে
কঁদি ফিরে ফিরে,
রাজার ছেলের প্রেমের কথা
মৰ্ম্মখানি চিরে।

ছবি রাণী
আমাদের এ বাড়ীর কাছে ছিল
ছবি রাণী !
ঝর্ণাতলার স্রোতের মতন
ঝিল্লিভরা স্বপ্ন রতন
শুনাত তার মিষ্ট সুরে মধুর করা বাণী
পিয়াল গাছে দোয়েল ডাকে,
লক্ষ যুগের ইমারাতে সৃষ্টি তাহার
হাস্য রাখে
বনের কোলে ঝরে পতা,
সমীর গাহে মহা শাখা
চির কালের আদরের ধন সৃষ্টি কোথায় রাখে
প,
ছবি রাণী বড় হল মল্লিবনের নীচে
তন্দ্রা ভরা ছায়ার আখি যেমন রহে পিছে।
সকল কালের উপকথার মাধুরী ভরে ভরি,
ছবি রাণী সবার হৃদয় তেমি নিল হরি!
২২

ছবি রাণী
আমাদের এ বাড়ীর পাশে
স্বপ্ন লােকের কথা,
ভেসে আসে চাদনি রাতে অনাদি
সব ব্যথা।
ওপাড়ার সে কুন্দ কলি মরল বছর আগে
তাহার দুঃখ সকল কালের অন্তরেতে লাগে ।
ছবি রাণীর বিয়ে হল—হল তার মেয়ে।
আসততা মেয়ে চাপার কলি সকল স্মৃতি ছেয়ে
বাদল দিনে বিশাল আঁখি
থাকত তাহার মেলি,
ঝিলিক মারি মেঘের বুকে
বজ্ৰ যেত খেলি।
মনে হল বিশ্বে ছিল পূর্ণ ভালােবাসা !
সকল কালের বিরহেতে ভরছে তাহার ভাষা।

শিলা বারুণী .
শিলা বারুণী
বিজন বনে
বলে কি ক্ষণে ক্ষণে ?
গুঞ্জরণে আধেক চলে
শ্যামল তরুর নীচে টলে
দেখেছি তায় পূৰ্ব্ব মেঘে
দেখেছি তায় অস্ত রাগে।
কাহার ভালবাসার ধারা
নিয়ত সে চিত্তে মাগে ?
শিলা বারুণী দিঘলা নারী
নূপুর তাহার চিকন ভারি ।
শিলা বারুণী তালীবনে
ঝর্ণা-গাথা নিজে শােনে ?
ঝিকিমিকি চায় সকাল বেলা
কনক মেঘের আলাের সাথে
তাহার চির জীবন বেলা।
গােপন যত মনের কথা
তাহার বিজন বনে ছায় !
শ্যামল তরুর গানের তলে
চমকে উঠে পায় পায়।
২৪

ভবিরহস্য
পূবের কোণে যাও গাে যদি
পথের ঘন বাঁকে,
পাহাড় যেথা ভিড় করে রয়
উচ্চ থাকে থাকে !
সহরতলীর রঙিন পথে,
বসুদের ঘর সুদূর হতে
ঢাকা বারাণ্ডায় !
লাল টালি তার দূরের থেকে
স্পষ্ট দেখা যায়!
সেই খানেতে থাকে ভবি
দুপুর বেলা বসে।
ক্ষণে ক্ষণে ভুবন থেকে
ঘােমটা পড়ে খসে !
তাকায় মেঘ, তাকায় আলাে,
তারার ভােরা রাত্রি কালো (
সন্ধ্যা বেলা অকে ভালাে
কে যেন তার ছবি ?
মন্দ মধুর বিশ্ব গাথা
বাজায় সে কোন কৰি ?
২৫

ইলা
ঝর্ণাতলার থাকে থাকে,
কে যেন কার অধীর ডাকে ?
আকুল করে কল্পনাকে
বনের মূখর বেলা !
ফুলের বুকে জলের ছায়ে
কে করে তার খেলা ?
তারায় তারায় গান করা এই জগৎখানা চায়।
দিনে রাত্রে কতদূর সে যায় ।
বাক্যহারা ভবি ভাবে
সরল তাহার আঁখি
-জানা এই জগৎখানা
কোথায় নেয় রে ডাকি
?
অস্তাচলে আর বাঁধে ওই
বিহগমালা যায় গাে কই
রাতির হাস্যে জল থই থই
দিনের গােপন কথা,
তাহার মনে জড়িয়ে আসে
স্বপন কল্পলতা !

ভবিরহ
-বোঝা তার সরল মনে
বিশ্ব ওঠে ফুটি,
ফুলকুমারীর সুবাসভরা
বায়ুর কোথা ছুটি ?
জ্যোস্না রাতি অধীর করে
কোন্ আনন্দে পরাণ ভরে ?
মেঘের মায়া থরে থরে
হিমানী রয় বনে !
কেমন কোরে কে কথা কয়
বুঝে কি তার মনে
শরতে নয়, বসন্তে নয়
বাদল-ভরা দিনে।
গুরু-গম্ভীর গাথায় যে গো
কোন্ রহস্য চিনে।
সুদূর জগৎ পিপল গাছে
কোথায় যেন ছন্দে নাচে ?
তাহার মনের কাছে কাছে
কাহার হাসি ঘুরে
অনাদি এই জগৎখানা
রয় কি কথা জুড়ে ?
২৭

ইলা
কত যেন যাওয়া আসা । ।
কোন্ তারাতে ছিল বাসা?
বলতে কি তার ফুটে ভাষা
অরুণ আলাে হেরি
সন্ধ্যা বেলা ফুলের বুকে
আর করেনা দেরি।
সন্ধ্যা রাতির মর্ম মাঝে কে যেন তার হাসে?
প্রাণের কথা বিশ্বে পরকাশে

রাজবালা
কবে কোন শুক্লারাতে
বসিতে ছায়ায় ? ৯০-
আপনার রক্তাম্বরখানি
নিয়েছিলে টানি
কারে রচির তরে রাজবালা? ২
গােপন মরম মাঝে।
জহ্ন-কন্যা জাহ্নবীর সম ?
কবে কোন সিপ্রাতীরে ?
নিভৃত আলসে !
আপনার অনুপম একান্ত পরশে
যৌবন-সরসে !
কোন যেন দূরতর
পথ স্বপ্ন পরে।
রাত্রি দিন যেথা
যায় ঝরে।
২৯

প্রিয়া
দূরে একদিন, গিয়েছিনু কোন স্থানে
পরিচয়হীন।
লােখ্র কুসুমের গন্ধে পথখানি ঢালা !
মণিস্তম্ভ দীপগুলি বাতায়নে জ্বালা।
কুরবক প্রস্ফুটিত গিরিপাদমূলে
কে যেন কুমারী এক রয়েছে কি ভুলে ?
গাঢ় পথশ্রমে,
ক্লান্তি মাের ঘুচাইনু গৃহে পশি ক্রমে !
হেম দণ্ড পরে স্বীয় শয্যাখানি ঢালা !
আরতির লাগি ধূপ জ্বালায়েছে বালা !
লীলাপদ্ম আঁকা কোন প্রাচীরের কোণে ?
দিনের কল্লোল-গীতি রাত্রি এসে শােনে।
তারে সুধালাম।
হে বালিকা পরদেশী কহ তব নাম ?
আঁখি দুটি মেলি বালা চাহে মাের পানে
কিসের পরশখানি পেনু মাের প্রাণে?

প্রিয়া
ভাষা হত মূক বলা কোন সুখভরা ?
পরিপূর্ণ মনে হল সৰ্ব্ব বসুন্ধরা !
কোন ভাষা গীতি,
নাহি জানে উঠে তার বুকে সেই প্রীতি!
কর্ণিকার ফুলগুলি কৰ্ণমূলে তার
পীবর উজ্জ্বল করি কনকের হার।
সকল প্রকৃতি যেন মন মাঝে পশি
ফাল্গুন ফুলের মত পড়িতেছে খসি।
কবে তার পরে,
গিয়েছিনু দূর দেশে দূর স্বপ্ন ভরে !
এলঙ্গ লতার হাসি নিত্য সেথা ভরা
তালীবন শ্যামবীথি মর্মরিত করা ;
রমণীর বিম্বাধরে চুম্বনের সাথে
ভাষার ইঙ্গিত যেন প্রেম স্বপ্ন পাতে।
সেথা সেই বালা।
দাড়ায় রয়েছে হস্তে পূজাপুস্পমালা।
শিখিতে বলেছে কথা মূক সে অধরে।
বসাইল ভালবেসে বহু সমাদরে
স্বর্ণ দণ্ড পরে ছিল শয্যাখানি স্বীয়
কহিল বারেক এসে বস হেথা প্রিয়।”

ইল
নদী গীতিময়
সােনার সে পুরীখানি পেল যেন লয়।
মণিদাম প্রথিত সে রতনের মাঝে
তার মাঝে তার ভাষা অপরূপপ বাজে।
নিশি দিন তৃপ্ত করি দিনগুলি স্বীয়
মনে হল সুখ বাধা অঙ্কে তার প্রিয়।

চিত্রা
যদি তােমার তরণী না বহে গাে মাের
বিজন নদীর কূলে?
বিজন সন্ধ্যা ভরিয়া ভরিয়া
কে লইবে মাের পরাণ হরিয়া ?
তব অঞ্চল আমার পুরীর
বাতায়নে নাহি দুলে ?
ভালো কি বেসেছ দিবসে নিশিথে
সুদূর গগন চাহি ?
অনাদি সময় তারায় তারায়
কি গান উঠিছ গাহি ?
তােমার অসীম আকাশখানিতে
আমার নগরী ভরা।
আমার মনের কামনা জড়ায়ে
তােমার হাস্য দিয়েছ ছড়ায়ে।
নীল নব ঘন উজ্জ্বল বাস
কোমল তনুতে পড়া !
তােমার আলয়ে পাঠায়ে দিয়েছি
আমার প্রেমের লিপিকা।

ইলা
কোন রূপসীর আঁচলে ঢাকিয়া
(* জ্বলিয়ে তােমার দীপিকা?
কুঞ্জ গােলাপ মধুর গন্ধে
নব ফাল্গুনদিনে
কত না বিরহ কত না বেদনা।
কত যুগান্ত স্মৃতির চেতনা !
কত দ্যুলােকের, পুলকের মালা
জাগাল আমার পী! ৪
সখি যৌবন মাের মদিরসিক্ত
তােমার বিরহ রাগিণী ।
দুলায়ে দুলায়ে আনিলে কোথায়
আমার দুঃখভাগিনী ?
জানি না এসিছি কি কাজে হেথায় ?
সােনার দিবস গেল যে ব্যাথায়।
আলােচ্যুতিময়:ব্যোমখানি ভরি
কত তারকার বরণ !
তব পরিচয় ভরণ।
চেয়েছিনু রাতে সুদূর আকাশ
•, নব আলােকের মেলা।
কত দ্যুলােকের, কত পুলকের
কত ভূলােকের খেলা।
৩৪

বিজয়- সঙ্গিনী
চলেছিনু অশ্ব চড়ি
উচ্চ পাহাড় ধরি !
নিধুর বায়ে বনের কুসুম
পড়তেছিল ঝরি।
সুমিতা মাের সঙ্গিনী সে,
ছিল রাণীর মতন বেশে;
বল্পা ধরি উচ্চ হেসে
পাহাড় ভরে গানে।
ঝঙ্কা বেগের বিপুল হাস্য
পশে ছিল প্রাণে।
ঝর্ণানটীগুলি ভেঙ্গে যায় উচ্চশিলা পরি।
প্রথম প্রেমে ভরি।
রৌদ্রবরণ অশ্বে ছিনু
বীরের মতন বেশে,
তীব্র আলো ঝাউ-এর ফাকে
পড়তে ছিল এসে।

ইলা
ধবল বরণ অশ্বাপরি,
ছিল আমার প্রাণেশ্বরী ;
উচ্চ পথের চক্র ধরি
ভয়বিহীন বালা।
নিরাল কি মতের মতন
আমার সকল আলা ?
ঝাউ-এর বনে জড়িয়ে আসে
রাঙা মেঘের মায়া।
পাহাড়গুলির খাতে খাতে
সাপের মত ছায়া !
রঙিন ডােরা বনের বুকে
ফুলকলিরা ঘুমায় সুখে ।
কনক আলো প্রিয়ার মুখে
সকল স্বপন ঝরা !
দূরে দূরে বনের গাছে
পাহাড় উচ্চ করা।
সকল শঙ্কা নিবিয়ে দিল গাঢ় মেঘের রূপে
দিন চলে যায় চুপে!
আমার
ার বধূর মর্ম জলি
উঠতে ছিল কথা!

বিজয়-সঙ্গিনী
বাদল হারা কিসের গানে
কে দিল তায় ব্যথা ?
চলার সকল ছন্দে ছন্দে
নারীর সেরূপ নিখিল বন্দে ।
ফুলের মালা কোমল স্কন্ধে,
রাতির বুকে তারা ।
শেষ স্বপনের সকল কথায়
সকল লাস্যহারা ।
ভুবনখানি জড়িয়ে আসে তুহীন্ জমাট রাতি।
ওই তাে জ্বলে বাতি।
নেশার মতন সকল দেহে
কি কথা মাের দুলে ?
গােপন পথের সঙ্গিনীর সে
প্রণয় ভরা ভুলে ?
নারীর সকল মহিমাতে
বিজয় গাথায় পরাণ মাতে।
হস্ত রাখি তাহার হাতে
এনু মােদের গ্রামে।
প্রমােদ ভরা মাঘের নিশি
অশ্রুভরা নামে।
ওই ওখানে কালাে শিলার পথখানিতে বাঁকা
ঘরখানি মাের আঁকা।
৩৭

কবির গীতি
গেয়েছিল কবি হিরণ কিরণ
সােনার সন্ধ্যা পিয়াসী ।
কোন বিরহীর বিরহ-ভাবনা
উঠিল কানন উদাসী ?
আলােক পুথির কথা কি লিখিতে
নামিয়া আসিল মরতে ?
শােনার বিশ্ব করুণ হাস্য
হাসির মধুর শরতে ।
দেবতা কি গেল আকাশ ভরিয়া
করুণা অশ্রুজলে গাে?
প্রবাল মাণিক উজলি উজলি
জ্বলিল সাগরজলে গাে ।
গাহিল বীণায় দেবীর কথা কি
অথবা বিরহবিধুরা?
গােপন প্রেমের সরল মাধুরী
করেছে যাহারে মধুরা !
৩৮

কবির গীতি
ধরণী হইতে সিন্ধু ফেণিল
ধ্বনিয়া উঠিল সঙ্গীতে
কত মনােরম, কত অপরূপ
কত সাধনার ভঙ্গিতে।
নারীর মতন ফুটিল কুসুম
জানা ভাষায় জাগি।
ভরিয়া উঠিল কিশাের হৃদয়
তাহারি শােভার লাগি ।
কৌতুক ছাড়ি হেরিল ভুবন
হেরিল তপন চাদে কি ?
অজানা মাধুরী মিশায়ে তাহারা
শিয়রের পানে ডাকে কি ?
পরাণ ভরিয়া জাগিল কি প্রেম
ধুপের ধূনার মত ?
ধরণী ছাড়িয়া স্বর্গ-শিখরে
জ্বলিয়া উঠেছে শত।
জেনে ছিল কি গাে সােনার আলােতে
অনাদি অসীম ভরি ?
কে রয়েছে তার মধুর হাস্যে
সকল সৃজন ধরি?

রমা
ঝর্ণাতলায় চাপার হাসি,
গন্ধভরা মল্লিকা,
শুকতারাটি ডুব দিল ওই
রূপ-সায়রের ঝল্লিকা!
পল্লীবালার কঁাকন বাজে দেবদারুগাছ তলে,
কেকা রবে ডাকল ময়ূর হৃদয়খানি ছলে।
আমার মনের স্বপ্নলােকে
জগৎ কবির ভাষা
অনাদি এক আলাের কুলে
মেলো ভালবাসা ।
তারি সঙ্গে সকল কবি
ধরল তাদের পূজার ছবি,
অমর তাদের গাথায় সবি
বন্দনারূপ লীলা !
শ্যামল হল, মধুর হল
নবীন হল ইলা।
৪০

রম
আলাের বুকে
ঘোমটা-খােলা পারুল রাণী,
মেঘলা দিনের অধীর বাণী।
রাত্র-জাগা কুন্দ ফুলের স্বপন-দোলা !
নদীর তটে বেণুবনের
শিউরে চলা !
জ্যোস্না রাতে অমর রমার প্রেমের মণি
আমার সকল সঙ্গীতেরে করল ধনী !
আঁধার আসে বটের তলে
সৃষ্টি চায়গাে চলতে সবি !
কোন্ সাগরের শয়ন তীরে
চলে গেছে আলােক রবি ?
অযুত তারা ফুটলাে সুখে
হাস্যমুখী
অমরীদের সকল কথা দিচ্ছে
উকি !
সকল রূপে, সকল গীতে
পূর্ণ হলো নিশিথিনী ।
গগনতলে বাজলাে সকল সুখের কথা
রিনি ঝিনি ।
৪১

ইলা
গর্বে সকল কালে ভরি,
ধন্য হয়ে রাখছে ধরি
সৃষ্টি তাহার প্রাণেশ্বরী
কোন্ সে রমা বিশ্বলােকে ?
সকল কালের বিরহভার কঁদছে শুধু
তঁাহার শােকে।
ঝিল্লি মণির বসন বুনে
আঁধার রাতির আঁচলখানি,
অতল রমার শয়ন তলে
ঝরছে শতেক পরশ টানি !
তারক-মালা প্রদীপসারি
তাঁহার সিংহাসনের তলে,
বনের কুসুম চরণ ঝরি
অযুত হাস্যে নিত্য ঝলে !
বিশ্ব তাহার পূজা করে
সারাদিনের শুভ্র গীতে,
সুনীল ব্যোমের অন্তরালে
তাঁহার অমর মনের ভিতে।
আজকে আমায় ডাকছে হাসি, ডাকছে প্রীতি
নিত্য কালের বন্দনা গীত ?
হাসছে আবার কুটির-দ্বারে শেফালিকা নিতি নিতি
উন্মনা হয় স্বর্ণ-বীণায় আমার চিত!
৪২

রমা
মনে পড়ে ঘরের কোণে,
বাল্যকালের ভালােবাসা।
সঙ্গী যত পােডাের দল
পাড়ার মাঝে তাদের বাসা।
কাগজ-নৌকা, কুসুম পরাগ
বাল্য-সাথী মৃণালিনী !
অলক মণির পরশ পেয়ে
হাসছে তারা সকল জিনি।
জ্যৈষ্ঠ মাসে আমের তলে
কোলাহলের অন্তরালে।
অতল রমার চরণতলে
হৃদয় আমার প্রদীপ জ্বালি।
ঝরে যাওয়া ফুলের মতন
ঝরে গেছে সময় কলি।
অজানা এক ব্যথায় আমার
সকল জীবনখানা ছলি ।
আজকে আসে জীবন ভরি মহা মিলন গান
সকল বিশ্ব, সকল শ্রেষ্ঠ, সব মঙ্গল তান!
সকল কালের পূণ্য পূজা মহা মন্দিরতলে,
তারি লাগি হৃদয় আমার সবার সাথে চলে
৪৩

পূজারিণী
বহুদিন আগে নির্জন বনে
শ্বেত মন্দির তলে,
গিয়েছিনু কোন্ গিরির উপরে
কোন মন্ত্রের বলে ।
পারিজাত ফুল সােপানের তলে,
অমর আলােকে যেন ঝলমলে,
স্বপ্ন আসিয়া মনখানি ছলে
কত জনমের স্মৃতি।
সকল সােপান মূখরি উঠিছে
একটি প্রাচীন গীতি।
গিয়েছিনু যেন দেবতার লাগি
আরতি-লগন কালে,
নির্জন বন পাদপ শিয়রে
তার কা কি যেন জ্বালে ?
কত সে ভুবন ঘুরিয়া এসেছি
কত না জীবন ভাঙ্গি,
একটি অমর পারিজাত ফুল
তাহারে ধরেছে ভাঙ্গি।
৪৪

পূজারিণী
স্বর্ণ আলােকে নির্জন দেশ
ধরেছে ভুবন মােহিনীর বেশ ।
সকল গগন, সকল পুলক
আবরি রেখেছে নিখিল দ্যুলােক—
মনে হল মাের সকল জীবন
সার্থক হল আসি ;
মন্দার ফুল চরণের তলে
হাসিল পুণ্য হাসি !
দেবতারে মাের দেখিতে যাইব
উঠি সােপান ধরি ।
এমন সময়ে অজানা কিশােরী
নামিল বক্ষপরি ।
লীলা ছিল তার সকল চলাতে,
কোমল মাধুরী ছিল সে বলাতে,
অতীত ভুবন জীবন ছলাতে
পড়িল স্বর্গ ঝরি ?
দূর হতে দূরে আকাশের আলো
আরতি থালার মত!
দুর্গম দেশে রহিল কাহার
চির বন্দনারত ?

ই
জাগিল আমার চির ভালবাসা
সােপানের তলে পেয়েছিনু বাসা।
মৃত্যু-তােণ লঘিয়া আসা
কাহার চরণ তলে ?
অযুত কালের স্মৃতির মুকুটে
কিশােরী মৰ্ম ঝলে!
ধূপ-ছায়া উঠে মন্দির ঘেরি
বনের প্রান্ত-দেশে
অযুত চাহনি চালাকি ভরিয়া
রাত্রি হাসিল শেষে।
৪৬

পাহাড়িয়া
পাহাড়িয়া বনের নীচে
ঝর্ণাতলার তলে,
বাস করিত একটি মেয়ে
গােপন কৌতূহলে।
জানতাে মুখের দুখের কথা
ঝর্ণাতলার প্রাণের ব্যথা
নীল আকাশ যে ছলে!
চাপার মত ফুটতাে বনে
সরল হাওয়া খানি,
শ্যামল তৃণ নিত তারে বুকের পরে
টানি !
ঝর্ণাতলার মেয়ে দেখে
ভাবত নিজ মনে।
মেঘের ছায়া কেন নামে
দূরের শৈল ঘনে ?
নিবিড় বনে সুনীল মায়া
কেন ফেলে ঢাকি ?
আরেক দিনের কথা যেন
মনে থাকে বাকি।
১৭

ইলা
বনের বুকে ঝর্ণা চলে
অরুণ চুমা খেয়ে !
বুকের পরে কিসের ব্যথা
থাকে তাহার ছেয়ে ?
একলা পথে মনে পড়ে
ভালােবাসার গান।
নীল পাহাড়ে কোন বিরহী
করুণ করে প্রাণ ?
অবাকরা জগৎ তারে
বিভাের করে রাখে
কত কালের কত মায়া
তাহার বুকে থাকে।
ঝর্ণাতলার মেয়ে ভাবে
দেখে আপন মনে
অরুণ রূপ জড়িয়ে থাকে
গাঢ় মেঘের সনে।
বনের বুকে একা বসে
গনেক কথা জানে
শালের পাতা হটাৎ এসে
হাওয়া যেদিন টানে ।
৪৮

পাহাড়িয়া
নীল আকাশে রঙের ফাকে
আলােক যখন হাসে
ঝর্ণা মেয়ে বুঝে তখন কে তায়
ভালােবাসে?
অবাক্ কোরে রাখে তাকে
জগৎজোড়া মায়া !
কতকালের পুরানাে সে
মনে ফেলে ছায়া।
সুখের মাঝে দুখের কথা
অনেক উঠে বাজি।
ঝর্ণালতার গিরির খাতে
আলােক উঠে সাজি।
ঝর্ণাতলার মেয়ে জানে
জীবনের কি মানে ?
এসব কথা কোন দিন কি
বেজেছিল প্রাণে ?
মনে পড়ে বিজন দিনে
বিশ্বজোড়া ফাকি
বিভাের করে রাখে কানন
ছায়ায় থাকি থাকি ?
৪৯
৪

দেউল রহস্য
সেথায় রয়েছে অনাদি কালের
একটি আলােক ফুল!
বিধাতার সেই মন্দির দ্বারে
নাহিক তাহার ভুল !
চন্দন রাতে বেণী বাঁধে ফিরে
মহা তমসার সাগরের তীরে
হৃদয়-প্রান্তে শুধু এসে ঘিরে
নাহি তার সমতুল !
আধেক নগনা মগনা আধেক
কুমারী বালিকা হাসি,
উদয়-শৈলে কি গান গাহিছে--
আপনারে ভালােবাসি?
সেথায় রয়েছে অনাদি কালের
একটি আলােক ফুল
আকাশে উষার কাহিনীর সম
নাহি তার সমতুল !

দেউল রহস্য
সাগর, যেথায় তাসীম আকাশে
নির্জন বনে মেশে।
শত তারকার মরণ-লিপিকা
খুলেছে রাত্রি এসে,
সেথা কোন্ দেব-মন্দির মাঝে
অপরূপা কোন কুমারী সে সাজে?
চরণে নূপুর গুমরিয়া বাজে
ঘন পাষাণের কোলে,
সােণার থালাতে জাগিয়া রয়েছে
আলােক ফুল সে দোলে !
সে কি দূর ওই আকাশের আলাে
আলােক পাখির গান?
অনাদি কালের আবরণ তলে ঢাকিয়া রেখেছে
প্রাণ!
যুগ হতে যুগে নিয়ে যায় মােরে
কেন দূর প্রেমে ডাকি
স্তব্ধ কালের ইঙ্গিতে কঁপে হিরণ বরণ
রাখি !
সাগর যেথায় অসীম আকাশে
নির্জন তীরে মেশে।

ইলা
মুদিত আলাের শতদলখানি
মেলিল সে ভালােবেসে।
সিন্ধু-বেলার নির্জন তীরে
জীবন পাখিরা গেলে
বক্ষের মণি করিয়া নেবে।
অবগুণ্ঠন ফেলে !
আজি কে আমার সকল স্মৃতিরে
ধরেছে সােণার থালে।
অপরূপ কোন রূপসী সেথায়
স্বর্ণ প্রদীপ জ্বালে ।

ঘাটে
সেই শিলাতলে পাষাণ সােপানে
চেয়েছিনু আমি তার মুখ পানে
আকাশ-বাহিনী বলাকারা জানে
কত দিন হল গত ।
নিত্য জীবন চলে গেল কোথা
সাগর-স্রোতের মত ?
নূপুর-জড়িত কোমল চরণে
চাপার মতন কনক পরনে .
মাধুরী তাহার রয়েছে স্বরনে ।
কত বরষের পরে।
এখনন তাহার সুখ-স্মৃতিরাশি
ফুলের মতন ঝরে।
যে কথা তখন হয়নিক বলা
যে হাসির সুখে মন মাের ছল।
সে কথা তাহার কাণে
প্রভাত পবন বলে দিতে পারে
নিত্য সােপানে গানে

ইলা
চম্পক দল আনমিয়া তার
পড়েছিল বুক’পরে ।
কেঁপেছিল বালা সরসে ভরমে
কতই সুখের ভরে।
কুটিল কুগুল বেণী তার পিঠে
পড়েছিল ফণিসম,
হরিল আকাশ হরিল হৃদয়
হরিল ভুবন মম
বেলা চলে গেল সােনার মর্মে
বিরহ-রাগিণী বাজিল কুৰ্ম্মে +
যবনিকা পড়ে নিখিল কৰ্ম্মে
কঠোর মরণসম !
দূরে দূরে তারা উঠিল জাগিয়া
কাহার সােনার বাতি,
বিশ্ব-ভুবনে সুদূর বারতা
জানাল ভরিয়া রাতি।
অকাল মরণ অসীম বেদন কঁাপিল
তাহার বুকে,
প্রণয় হাস্য উছলিয়া যেন নামিল
তাহার মুখে !

ঘাটে
;
কনকঞ্চল বাঁধি কটিতটে ;
আঁকড়িয়া ধরি পিতলের ঘটে
চলার ছন্দ মঞ্জীরে রটে
চলে গেলে দূর পথে।
অপার জগতে অসীম, বেদনে
হেরেছিনু নানা মতে।

देना
নাই ধরণীর সােনার পাত্রে
অমর আলােক পানীয়
শত তারকার লিপিকাখানিতে
জীবন রহস্য আনিও
মেজ-বােদির প্রতি
ছিলে তুমি একদিন জীবনের হাসি
নির্জনে নিখিলের যাহা ভালােবাসি
তার মাঝে ছিল তব অনুরাগ, গীতি
আরতির থালা ছিল—প্রেমভরা প্রীতি।
রাত ছিল মণিমালা আলােকের গীতি
নিৰ্ম্মল ভুবনে সে ঢেলেছিল প্রীতি।

গােষ্ঠকামি
রাত নয়, দিন নয়, গােষ্ঠে তুমি গিয়েছিলে সখি
ঝরণার নীলাধারা উঠেছিল বকি।
আকাশের তলে তুমি কি গান গাহিলে ?
দেবদারু বনে তুমি যখন চাহিলে !
আকাশের তলে ছিল কালাে মাের আঁখি,
ঘন বন-তলে ছিল নীলছায়া পাখী ।
দূর দেশে ছিল মাের কাজলীর গাথা।
ঘন বন তলে ছিল সব সুখ পাতা!
ওই ছিল
দূর বনে ঘন হাসি খানি,
ছিল যেন নীলাকাশে প্রাণহরা বাণী
মনে হল মাের হাসি দূর বন জুড়ি--
আকাশের লাল মেঘে গিয়েছিল উড়ি।
মনে হল, অনুরাগ আলােকরা বন !
মনে হল, নিখিলের ছিল যার ধন।

সেজ-বৌদির প্রতি
আলো, তারা ভরা এই নিখিলের মাঝে
ফিরেছিলে হাসি মুখে নিত্য দিন কাজে।
গগাধূলীর শুভ লগ্নে দীপখানি জ্বালি
নিষঃ নিরালা বিশ্বে দিলে হাসি ঢালি
দূর তারকার দেশে গেছে কি ইঙ্গিতে ?
অপরূপ লাবণ্যের মাধুরী সঙ্গীতে,
ফুটেছিল হৃদি মাঝে আলাের কমল
রমণীয় অসীম শােভায়
আজি রাতি আসে আর দিন অস্ত যায়
তােমার না-দেখা তার সব শােভা গায়। ১
কোথা তব জীবনের ধারা গেল বয়ে ?
দূর কোন দেশে কোন তারকার কোলে ?
যেথায় নিখিল বিশ্ব চির হাস্যে দোলে
অনত অমর কথা তার!
হারারার
কিছু নাই যেখানে যা ছিল !
তােমার প্রাণের প্রেম মুক্তি কিগাে দিল
নির্জন বনের ছায়ে
৫৮

সেজ-বৌদির প্রতি
নদী কল গানে ?
যতটুকু হাসি সুখ ছিল তব প্রাণে ;
সব আজি বিরহের
অপরাহু বেলা
ম্লান হয়ে গেছে কিগাে
কোথা কর খেলা
অমরীর
ভবনের দ্বারে
মিলনের সুখ-লেখা হাসি অশ্রুধারে
সেথায় তােমার চির
রূপখানি আনি
শুনাবে কি তব স্নিগ্ধ অমরীর
বাণী ?

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Ila

Author
Guha,kamakhyashankar
Title
Ila
File name
Ila
Text
OCR done
Citation
1938
Published
2010/02/7
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
79
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Fiction
Keywords
Priya
DLI number
512699
Barcode
4990010019749.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
tgq2ICEyOG9
Download PDF

Ila