Garh Bhawanipur R.p. Institute, Howrah

Chandra Gupta Ed.11

Roy,dwijendra Lal · 2010/05/4

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

8884
---426
seeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeee
eeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeo ตั้งออออ๑๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐๐
Ressertsteedteeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeeee,
349 เ
দ্বিজেন্দ্রলাল
TS-4-
doooo.900.00
ooOgadoDB.C.L.ocearcatoa...04.08
อออออออออออ
ออออออออออออออออ
ออออออออ

No text on this page.

চন্দ্রগুপ্ত
(নাটক)
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স,
২৩১১, কর্ণওয়ালিস্ট, কলিকাতা
অহায়ণ-১১

সব ২০
এস
শনিক
৪
সপ
CGC5W
একাদশ সংক্ষণ
প্রিন্টার নরেন্দ্রনাথ কোঙার
ভারতবর্ষ প্রিন্টিং ওয়াল
২০১১, কর্ণওয়ালিসট, কলিকাতা

ভূমিকা T চলপ্তের জীবনবৃত ইতিহাসে বিশেষ কিছু পাওয়া যায় না। পুরাণমতে তিনি মহাপরে শূদ্রাণী-পত্নীগর্ভজাত পুত্র ও নলের বৈমাত্রেয় ভাই। তিনি বাহুবলে নন্দকে সিংহাসনচ্যুত করিয়া মগধের রাজা হন এবং মন্ত্রী চাণক্যের সাহায্যে ভারতে একচ্ছত্র আধিপত্য স্থাপন করেন। সেলুকসের সহিত তাহার যুদ্ধ এবং সেলুকসের কন্যার সহিত তাঁহার বিবাহ -এ দুই ব্যাপারে উল্লেখমাত্র পুরাণে নাই। গ্রীক-ইতিহাস পাঠে আমরা এ বৃত্তান্ত অবগত হই। উভয় বৃত্তান্ত একত্র পাঠ করিলে বােঝা যায় যে, চন্দ্রগুপ্ত তাঁহার বৈমাত্রেয় ভাই নন কর্তৃক নির্বাসিত হইয়াছিলেন ; সেকেন্দার সাহার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হইয়াছিল; তিনি পার্বত্য সেনার সাহায্যে নন্দকে পরাজয় করিয়া মগধের সিংহাসনে বসেন; চাণক্যের সাহায্যে আসমুদ্র ভারত অধিকার করেন। এবং সে তার সাম্রাজ্য আক্রমণ করিলে তিনি সেলুলকে পরাস্ত করিয়া তাঁহার কার পাণিগ্রহণ করেন। এই বৃত্তান্ত লইয়া বর্তমান নাটকখানি রচিত হইয়াছে। ইতিহাস হইতে বিশেষ কোন সাহায্য পাই নাই। অনন্যোপায় হইয়া কল্পনার উপরেই সমধিক নির্ভর করিয়াছি। হিরাকালীন নাটক—এই আমার প্রথম। এতদিন মুসলমান- কাল সম্বন্ধেই নাটক লিখিতেছিলাম কেন, পাঠক বােধ হয় বুঝিতে পারিতেছেন। মুসলমান ইতিহাসকারগণ নিজের পরাজয়গুলি গােপন করিলেও নাটক লিখিবার যথেষ্ট উপকর রাখিয়া গিয়ান। হি ইতিহাসকারগণ আপনাদের বিজয়কাহিনী পর্যন্ত গােপন করিয়াছেন। তাহারা বর্ণভেদ লইয়াই ব্যস্ত। সেইজন্য বর্ণভেদকেই বর্তমান নাটকের ভিত্তি-স্বরূপ করা হইয়াছে। হিন্দুনাটককার ও ইতিহাসকারগণ প্রধানতঃ ব্রাহ্মণ চাণক্যের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাইবার জন্য ব্যস্ত। চাণক্যের শ্লোক এখনও ছাত্রদিগের পাঠ। ইংরেজ ইতিহাসকারগণ, চাণক্যকে ভারতের ম্যাকিয়াভেলি বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। তাহাদের মতে চাণক্য বিদ্যা, বুদ্ধিমান ও কুট ছিলেন। আমিও সেই মত গ্রহণ করিয়াছি। সেকেলাব সাহার ভবিষ্যদ্বাণী (যে চন্দ্রগুপ্ত সম্রাট হইবেন) যেরূপ সফল হইয়াছিল, চাণক্যের ভবিষ্যদ্বাণী (যে মৌৰ্য্য রাজত্বকাল ক্ষণস্থায়ী হইবে) তপ ফলবতী হইয়াছিল। বস্তুতঃ চক্রগুপ্তের পৌত্র অশােকের মৃত্যুর কিছু পরেই মৌৰ্যরাজত্বের অবসান হয়। যে বৌদ্ধধর্ম চন্দ্রগুপ্তের সময়ে সামান্য সম্প্রদায়ে আবদ্ধ ছিল, সেই ধৰ্ম অশােকের সময়ে সমস্ত ভারতবর্ষে ব্যাপ্ত হয়। আমি এই নাটক প্রণয়নে অনেক বন্ধুর কাছে সাহায্য পাইয়াছি। সেই জন্য তাঁহাদের নিকট ঋণী। ঐদ্বিজেন্দ্রলাল রায়

০
উৎসর্গ পত্র
কবিবর
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
মহাশয়ের
উদ্দেশে
,
এই
নাটকখানি
সেই
৭...
হইল।

কুশীলবগণ
পুরুষ
গুপ্ত
এ
০ ০
বাচাল
গণক
কাতায়ন
মগধের রাজা।
নন্দের বৈমাত্রেয় ভাই পরে ভারতসম্রাট।
নলের লক।
জনৈক ৰাহ্মণ পরে চন্দ্রগুপ্তের মন্ত্রী।
নলেন গ্রী।
মলয়াধিপতি।
জনৈক এক সৈন্সধ্যক্ষ।
চকে
আতিগােন
बी
সেকসের কন্যা পরে ভারতসম্রাজ।
চকের
চত্রগুপ্তের মাতা।
ভন্নী।
র

চন্দ্রগুপ্ত প্রথম অক প্রথম দৃশ্য ন—সিন্ধু-নাতট, দূরে গ্রীক জাহাজ-শ্রেণী। কাল-সন্ধ্যা। নদতটে শিবির-সম্মুখে সেকেন্দার ও সেলুকস অস্তগামী সূর্যের দিকে চাহিয়া ছিলেন। হেলেন সেলুকসের হস্ত ধরিয়া তাহার পার্শ্বেদণ্ডায়মান। রশ্মি তাঁহার মুখের উপর আসিয়া পড়িয়াছিল। সেকেন্দার। সত্য সেলুকস! কি বিচিত্র এই দেশ! দিনে প্রচণ্ড ৰ্য্য এর গাঢ় নীল আকাশ পুড়িয়ে দিয়ে যায়; আর রাত্রিকালে শুৰ চমা এসে তাকে মি জ্যোৎ স্নান করিয়ে দেয়। তামসী রাত্রে অগণ্য উজ্জল জ্যোতিপুঞ্জে যখন এ আকাশ ঝলমল কবে, আমি বিহি আতঙ্কে চেয়ে থাকি। প্রাবৃটে ধন-ক মেণি গুরু-গম্ভীর-গর্জনে প্রকাও দৈত্যসৈন্যের মত এর আকাশ ছেয়ে আসে; আমি নির্বাক হয়ে দাড়িয়ে দেখি। এর অভ্রভেদী ধবল-তুষার-মৌলি নীল হিমাদ্রি স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এর বিশাল নদ নদী ফেনিল উচ্ছাসে উদাম বেগে ছুটেছে। এর মরুভূমি বিরাট বেচারের মত তপ্ত বালুণি নিয়ে খেলা কচ্ছে। .

এম এ চও প্রথম দৃ সেলু। সত্য সম্রাট। সেরে। কোথাও দেখি, তালীন গতরে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে, কোথাও বিমাট বউ মেহছায়ায় চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েই কোথাও মামত্ত মাত এমপর্বতসম মন্থর গমনে চলেRে; কোথাও মহাভুজ অলস হিংসার মত বজ রেখা পড়ে আছে। কোথাও বা মহা কুরঙ্গম মুখ বিয়ের মত নিন বনমধ্যে শু-প্রেক্ষণে চেয়ে আছে। আর সবার উপরে এক সৌম্য, গৌর, দীর্থ- গতি জাতি এই দেশ শাসন কচ্ছে। তাদের মুখে শিশুর সারল্য, দেহে বর শক্তি, চক্ষে সূর্যের দীপ্তি, বক্ষে বাত্যার সাহস। এ শৌ গরম করে আনন্দ আছে। পুকে বন্দী করে আনি যখন—সে কি बाबांना সেল। কি সম্রাট। সেকেন্দার। আমি জিজ্ঞাসা কলাম, আমার কাছে বিরূপ আচরণ প্রত্যাশা কর?-সে নির্ভীক নিঃশকারে উত্তর দিল “রাজাব প্রতি মজার আচরণ। চমকিত হলাম। ভাবলাম-এ একটা জাতি বটে! আমি তৎক্ষণাৎ তাকে তার রাজ্য প্রত্যর্পণ কলাম। সেলুল। সট, মহাহুতৰ। সেকেলার। যাৰ! তার পর তার সঙ্গে অপ ব্যবহার স? মহা দিলেই একটা উলাল আসে। আর, আমি এখানে নীয় স্থান কর্তে আসি নাই। আমি এসেছি সৌখীন দিখিয়ে। এগা কৰি রেখে যেতে চাই। সেল। অৰেএ দিঘি অসম্পূর্ণ রেখে যাচ্ছেন কেন সম্রাট। ২j

চ
अपचर
সেকেণায়। সে দিগ্বিজয় সম্পূর্ণ কর্তে হলে নূতন গ্রীক লৈ
চাই।—কি আ সেনাপতি। দূর মাসিডন থেকে , জনপদ
দৃণসম পদতলে দলিত করে চলে এসেছি। বর মত এসে মহাজ
চৈ ধূমরাশির মত উড়িয়ে দিয়েছি। অর্ধেক এসিৱা মাসিডনের
বিজয়বাহিনীর বীরপদতরে কপিত হয়েছে। নিয়তির মত দুবাৰ,
হত্যার মত কাল, দুর্ভিক্ষের মত নিষ্ঠুর আমি অর্ধেক এশিয়ার করে
উপর দিয়ে আমার কধিরাক্ত বিজয়-শকট অবাধে গলিয়ে গিয়েছি। ক্লি
বাধা পেলাম এম—সেই শততীরে।
একে ধরিয়া আলােনসের প্রবেশ
সেকেন্দার। কি সংবাদ আকিগােন? এ কে ?
আটিগােন। গুপ্তচর।
সেলু। সে কি।
সেকেলার। চর!
আন্টিগেন। আমি দেখলাম যে এক শিবিরের পাশে বসে
নির্জনে তফ তালপত্রে কি লিখছিল। আমি দেখতে চাইতাম।
পত্রখানি দেখাল! পড়তে পালাম না তাই সম্রাটের কাছে নিয়ে
এসেছি।
সেকেন্দার। কি লিখছিলে যুবক। সত্য বল।
চন্দ্রগুপ্ত। সত্য বল!-মাজাধি! ভারতবশী মিথ্যা
বতে এখনও শিখে নাই।
সেকেন্দার একবার সেলুকসের প্রতি চাহিলেন, পরে ওকে
কবিলেন-উত্তম। বল কি লিমিলে
{

চন্ত
চন্দ্রগুপ্ত। আমি সম্রাটের বাহিনী-চালনা, . বহ রচনা-প্রণালী,
সামরিক নিয়ম, এই সব মাসাবধি কাল ধরে শিখছিলাম।
সেকেন্দার। কার কাছে?
চঞ্চও। এই সেনাপতির কাছে।
সেকেন্দার। সত্য সেকস।
সেস।
সত্য।
সেকেন্দার। [ চন্দ্রগুপ্তকে। তার পর ।
চন্দ্রগুপ্ত। তার পর গ্রীক সৈন্ত কাল এ স্থান পরিত্যাগ করে বাৰে
শুনে, আমি যা শিখেছি তা এই পত্রে লিখে নিচ্ছিলাম।
সেকেন্দার। কি অভিপ্রায়ে ?
চন্দ্রগুপ্ত। সেকেন্দার সাহার সঙ্গে যুদ্ধ কর্ণার জ নহে।
সেকেন্দার। তবে
চন্দ্রগুপ্ত। তবে শুনুন সম্রাট। আমি মগধের রাজপুত্র চন্দ্রগুপ্ত।
আমার পিতার নাম মহাপদ্ম । আমার বৈমাত্র ভাই নদ সিংহাসন
অধিকার করে আমায় নির্বাসিত করেছে। আমি তারই প্রতিশােধ
নিতে বেরিয়েছি।
সেকেন্দাব। তার পর।
চন্দ্রগুপ্ত। তার পর শুনলাম মাসিডন ভূপতির অদ্ভুত বিজয়-
বার্তা। অর্ধেক এসিয়া পদতলে দলিত করে, নদ নদী গিরি দুর্বার
বিক্রমে অতিক্রম করে, শুলাম তিনি ভারতবর্ষে এসে আৰ্যকুলরবি
পুরুকে পরাজিত করেছেন। হে সম্রাট। আমার ইচ্ছা হ’ল যে দেখে
আলি—কি সে পরাম, যার জটি দেখে, সমত এসিয়া তার পদতলে
৫]

এথম স চত্রগুপ্ত এম লুটিয়ে পড়ে। কোথায় সে শক্তি লুকায়িত আছে, আৰ্যের মহাবীৰ্য্যও যার সংঘাতে বিচলিত হয়েছে। তাই এখানে এসে সেনাপতির কাছে শিক্ষা কহিলাম। আমার ই শুদ্ধ আমার হৃত রাজ্য পুনৰুতার করা। এই মাত্র। সেকেন্দার সেকসের পানে চাহিলেন। সেকস। আমি এরূপ বুঝি নাই। যুবকের চেহারা, কথাবার্তা আমার মিষ্ট লাগত। আমি সরলভাবে গ্রীক সামরিক প্রথা সম্বন্ধে যুবকের সঙ্গে আলােচনা কর্তাম। বুঝি নাই যে এ বিশ্বাস- ঘাতক। আটিগােন। কে বিশ্বাসঘাতক? সেলুকস। এই যুবক। আটিগােন। এই যুবক, না তুমি? সেলুক। আটিগােন। আমার বয়স না মানন, পদবী মেনে চ'লাে। আটিগােন। জানি, তুমি গ্রীকসেনাপতি, তা সত্বেও তুমি বিশ্বাসঘাতক। সেলুকস। আটিগােন। [ তরবারি বাহির করিলেন ] আটিগােন ক্ষিপ্রতর হতে তরবারি বাহির করিয়া সেলুসের শির লক্ষ্য করিয়া তরবারি কেপণ করিলেন। ততােধিক ক্ষিতে চন্দ্রগুপ্ত নিজ তরবারি বাহির করিয়া সে আহত নিবারণ করিলেন। আটিগােন তাঁহাকে ছাড়িয়া চনগুপ্তকে আক্রমণ করিলেন। [:

চও সেকেন্দায়। নিরাও। সেই যুর্তেই আগােনসের তরবারি চলথের তরবারির আবাতে ভূপতিত হইল। সেকেন্দার। আটিগােনস। আটগােন লজ্জায় শির অবনত করিলেন। সেকেন্দার। আটিগােন। তােমার এই ঔদ্ধত্যের জন্য তােমায় আমার সাম্রাজ্য থেকে নির্বাসিত কাম। একজন সামান্য সৈন্য- এতদূর পর্ধা!—আমি—এতক্ষণ বিষয়ে অবাক হয়ে চেয়েছিলাম। তােমার এতদুর স্পর্ধা হতে পারে, তা আমার খেও অগােছর ছিল।—যাও, এই মুহূর্তেই তােমায় নির্বাসিত কলাম। কাটিগেনসের প্রস্থান। সেকেন্দার। আর সেস! তােমার অপরাধ তত নয়। কিন্তু ভবিষ্যতে মন্ত্রণ রেখাে, যে গ্রীক সম্রাটের সম্মুখে চক্ষু রক্তবর্ণ করা এক সেনাপতির শােভা পায় না—আর যুবক। চন্দ্রগুপ্ত। সম্রাট। সেকেন্দার। তােমায় যদি বন্দী করি? গুপ্ত। কি অপরাধে সম্রাট। সেকেন্দার। আমার শিবিরে তুমি শক্তর গুপ্তচর হয়ে প্রবেশ করেহে, এই অপরাধে। এপ। এই অপাথে।ভেবেছিলাম যে সেকেন্দার সায় বী দেছি যে তিনি ভীরু। এক গৃহন নিরাশ্রয় হিন্দু রাজপুত্র

540
विरोध
চহিসাবে তার কাছে উপস্থিত তাতেই তিনি অন্ত। সেকোর সাহা
এত কাপ, তা ভাবি নাই।
সেকের। সেলুকস। বন্দী কর।
চন্দ্রগুপ্ত। সম্রাট । আমায় বন্ধ না করে বল কর্তে পানে না।
{ তরবারি বাহির করিলেন।
সেকেন্দার। [ সােল্লালে] চমৎকার।যাও ৰীয়। তােমার কী
ক না। আমি পরীক্ষা কর্জিলাম মাত্র। নিয়ে তুমি তােমার কাজে
ফিরে যাও। আর আমি এক ভবিষণ করি, মনে রেখাে। তুমি
হৃতরাজ্য উদ্ধার কৰে। তুমি হয় দিখিজয়ী হবে।যাও বী!
মুক্ত তুমি।
দ্বিতীয়
तृष्ण
স্থান-ক্ষনপ্রান্ত। কাল-প্রত্যুষ।
চাণক্য একাকী সেইখানে দাড়াইয়া ছিলেন।
চাণক্য। ঐ জলার উপরে একটা ধোঁয়ার কুতলী উঠছে।
হাড়ের দুর্গন্ধে বাতাসের যেন নিজেই নিশ্বাস আটকে আছে।
যেয়ে কুকুরের বিকট ‘ঘেউ ঘেউ শব্দ পরিত্যক্ত প্রান্তরের কত ভ
কছে ।—প্রভাতের সর্বানে যা। পূ, পড়ছে! মরি
বীভৎসতা। তুমি এত সুন্দরী! তাই আমি গ্রাম পরিত্যাগ করে নিত্য
প্রত্যুষে তােমার কবিতায় আন কর্তে ধেয়ে আসি, তুমি আমায় অনেক
[।
!

वध बह
চন্দ্রগুপ্ত
শিখিয়েছে প্রেয়সী আমার! তুমি আমাকে শিখিয়েছো-সংসাবকে
ঋণা কর্তে, ক্ষমতাকে তুচ্ছ কর্তে, ঈশ্বরের অত্যাচারের বিপক্ষে সােজা
রে বুক ফুলিয়ে দাড়াতে।-হে সুন্দরী! আমায় সংসার হতে আরও
দূরে টেনে নিয়ে যাও-যতদূর পারাে। নরকে হয় তাও ভালাে
সংসার থেকে যতদূরে হয়।
[ দুইজন ব্যক্তি গল্প করিতে করিতে আসিতেছিল ]
ব্যক্তি। নূতন মন্ত্রী হলেন তবে কাত্যায়ন?
২ ব্যক্তি। কাত্যায়ন কি রকম! শাকতাল।
১ ব্যক্তি। তারই নাম কাত্যায়ন। শাতাল কখন নাম হয় ?
শাক আর ভাল—দুটোই খাদ্য। আমি কিন্তু বৃছি-
২ ব্যক্তি। কি।
১ ব্যক্তি। মহারাজ তাকে কারাগার থেকে
শেষে মুক্ত
করে দিলেন এই যথেষ্ট আশ্চৰ্য্য, তার উপর আবার তাকে
কলেন মী। তাব সাত সাতটা পুত্রকে হত্যা করে'-
চরম।
২ ব্যক্তি। রাজার খেয়াল।
দূরে চাণক্য। বিশ্বাস নৈব কর্তব্যঃ খ্রীষু রাজকুলেষু চ।
১ ব্যক্তি। ও কে ?
২ ব্যক্তি। চাণক্য ব্রাহ্মণ।
১ ব্যক্তি। মানুষ।
২ ব্যক্তি। ওয়ে পাই; কিন্তু বিশ্বাস হয় না।
১ ব্যক্তি। চল এখান থেকে-অযাত্রা।
৮]

প্রথম ও
চত্র
২ ব্যক্তি। চল। ওকে দেখলে আমার ভয় করে।
[ উভয়ে দ্রুত চলিয়া গেল।
চাণক্য। নীচের আজ শর্থাব্রাহ্মণকে দেখে একটা গুরু প্রণামও
কর্তে তার হাত উঠে না। অথচ একদিন ছিল।-।-যাও।
আমার ছায়া মাড়িও না।আমার নিশ্বাসে বিষ আছে। আমি দুর্ভিক্ষ।
আমি মড়ক।
দূরে কাত্যায়নের প্রবেশ
চাণক্য। এ। আমায় নিঃসহায় দরিদ্র ব্রাহ্মণ পেয়ে এই নীচ
কুণাঙ্কুর পর্যন্ত মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। রােসাে, আমি এ কুশ
নির্মূল কৰ্ব্ব-[ কুশ উপড়াইতে উপড়াইতে বাতাসে উড়াইয়া দিতে
লাগিলেন ]-এই নাও, এই নাও, এই নাও-কেমন। আর ৰাহ্মণের
নগ্ন পদে বিধূবে?
কাত্যায়ন। [ অগ্রসর হইয়া ] নমস্কার।
চাণক্য। কে তুমি।
কাত্যায়ন। আমি মহারাজ নলের মন্ত্রী কাত্যায়ন।
চাণক্য। মহারাজ নন্দের মন্ত্রী! সরে দাড়াও।
কাত্যায়ন। কেন? আমি কি অপরাধ করেছি।
চাণক্য। না, তুমি অপরাধ কৰ্বে কেন! তুমি কোন অপরাধ কর
নাই। রাজা কোন অপরাধ করে নাই। ঈশ্বর কোন অপরাধ করেন
নাই। যত অপরাধ—আমার। মহারাজ আমার দােত্তর বাজেয়াপ্ত
কলেন-সে আমার অপরাধ। ঈশ্বর আমার গৃহ শুরু করে আমার
গৃহলক্ষীকে কেড়ে সবলে ছিনিয়ে নিলেন—আমার অপরাধ। এ
[১

এম চNপ্ত আমার কন্যা অপহরণ কল-সেও আমার অপরাধ! আমার নীল দক্সি পেয়ে এই কুশারও আজ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। [ কুশারের এতি চাহিয়া ] কেমন—আর বি ‘বে পারে? বেঁধ্যে ! কাত্যায়ন। চাণক্য। আমি আজ তােমার কাছে এসেছি। চাণক্য। কেন মন্ত্রী মহাশয়। আমার ত আর কিছুই নাই। ঐ কুঁড়েখানি আছে- কুঁড়েঘর। দাও, পুড়িয়ে দিয়ে যাও-ওঃ, ব্রাহ্মণের সে প্রতাপ যদি আজ থাকতাে। কাত্যায়ন। নাই কেন ব্রাহ্মণ? পাণিনি বলেন- চাণক্য। [ আপন মনে। তার নিজের দোষ। জাতির সমস্ত বিঙ্গ, যশ, ক্ষমতা আত্মসাৎ করে নিজে বাড়বে। শরীরকে অনশনে রেখে, মন্তি বড় হবে? তা কি সয় ? সয় না। তাই এই পতন। -না, শরী? আজ তুমি বল ত । তা কি সয় ? এত অধঃপতন নৈলে হবে কেন? কাতান। এ আবার কি। কার সঙ্গে কথা কইছে। চাণক্য। ও কি অধঃপতন। একেবারে পর্বতের শিখৰ হ'তে গভীর গরে। আজ ব্রাহ্মণ তাই মূষিকের মত গৃহের এক অন্ধকার গর্ত থেকে অন্য অন্ধকার গর্তে সেঁধােবার জন্য মাথা নীচু করে চলেছে, আয়ের পরিত্যক্ত চারিটি তণ্ডুলকণা খুটে বেড়াচ্ছে। লজ্জাও নাই। একদিন যার তিন গাছি তা দেখে দেবরাজ ইয়াৰত থেকে নেমে আসতেন, একদিন যার পদাঘাতচিহ্ন স্বয়ং নারায়ণ সগর্বে বক্ষে ধারণ কর্তেন—আজ সে উপৰীতসাৰ ৰাহ্মণ মুষ্টিভিকার জন্য লালায়িত। ও, কিঅধঃপতন! ১০]

ম খ
চ
पिजीब
কাত্যায়ন। আবার উঠতে পারে।
চাণক্য। অব। তার সে ক্ষমতা গিয়েছে বার নি
প্রেয়সী ?
কাত্যায়ন। কেন? এখনও মন্ত্রী হতে ব্রাহ্মণ, পৌরােহিত্য কর্তে
ব্রাহ্মণ, বিদূষক হতে ব্রাহ্মণ, বিধান দিতে ব্রাহ্মণ। এই গৌরবর্ণ জাতি
এখনও স্বর্ণসূত্রের মত সমস্ত সমাজকে গেথে রেখেছে।
চাণক্য। কিন্তু রাত্রি সন্নিকট। ঐ দেখ [ দূরে দেখাইলেন ]
কেন চাণক্য। এই ব্রাহ্মণই নিজের প্রভু খুইয়েছে,
আবার এই ব্রাহ্মণই তাকে উর কৰে। আমি আজ সেই উদে
তােমার কাছে এসেছি ব্রাহ্মণ ।
চাণক্য। কি রকম?
কাত্যায়ন। তোমায় মহারাজের মাতামহের শ্রদ্ধে পৌরােহিত্য
কৰ্তে হবে।
চাণক্য। [ সহ ] মন্ত্রী মহাশয়। আমি দীন দরিদ্র অসহায় ব্রণ
বটে। কোন দিন খেতে পাই; কোন দিন পাই না—সত্য; তথাপি
মহারাজের পৌরােহিত্য কর্ব না। মরে গেলেও না। আমি ক্ষত্রিয়ের
দাসত্ব কৰ্ব না ।
কাত্যায়ন। শান ব্রাহ্মণ
চাণক্য। না—এ কি অত্যাচার! আমি নিজের কুঁড়ে ঘরে বসে
দিতে পাবে না?
কাত্যায়ন। পুরুষদের শন শােভা পায় না।
চাণক্য। তা পায় না বটে।[ কিঞ্চিৎ ভাবিয়া ] কি কি ক্ষী
[১

এম
চিতীয় দৃশ্য
মহাশয়। উপর্যুপরি ভাগ্য-বিপর্যয়ে আমার কিছু কর্তে পারে নি।
কিন্তু কার অপহরণে আমার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে।
কাত্যায়ন। [ অর্থ গত ] আবার এত কোমল প্রকৃতি।
চাণক্য। মন্ত্রী মহাশয়! আমি কাৰ্যান্তর থেকে রাত্রিকালে যিবে
এসে যখন দেখলাম যে আমার ভৃত্য ভূমিতলে অজ্ঞান, আর আমার
কন্যার শয্যা শূন্য, তখন আমার ধমনীতে উষ্ণ রক্তস্রোত বইল ; চক্ষে
অন্ধকার দেখলাম, মাটি থেকে একটা তপ্ত বাষ্প আকাশে উঠতে
লাগল। তার পর উন্মবৎ রাস্তা দিয়ে ‘মা’ ‘মা’ বলে চীৎকাৰ
কর্তে কর্তে ছুটলাম। পার্শ্ববর্তী বনের মধ্যে পাখীরা কলরব কবে
উঠলাে। নদীর ধারে গিয়ে ওপারে ডাকতে লাগলাম। সেই অন্ধকারে
দুপারের মধ্যে কেবল কৃষ্ণা নদী গর্জন করে চলে গেল। আমি
মূৰ্জিত হয়ে পড়ে গেলাম।
কাত্যায়ন। তুমি বিচক্ষণ ব্যক্তি—তুমি এত অধীর হচ্ছ।
চাণক্য। অধীর। ইচ্ছা করে যে কঁদি, চীৎকার করে দি-
আমার অশ্রুজলে পৃথিৰী ডুবিয়ে ভেঙ্গে চুরে ভাসিয়ে দিই। কিন্তু অক্ষর
উৎস শুকিয়ে গিয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হয় যে, ভিতরে অশ্রু জমাট
হয়ে গিয়েছে। অবিচারে, অত্যাচারে, ঈশ্বরকেও খেয়ে ছেয়ে ফেলেছে
দেতে পাই না।
কাত্যায়ন। আবার পাৰে। মেঘ কেটে যাবে। একাকী বসে
নিকল অনুশােচনা না করে নূতন উদ্যমে বুক বাঁধাে ; কর্ণস্রোতে গা
ঢেলে দাও। এ কাব্যময় সংসারে বসে থাকা চলে না।
চাণক্য।
ও চলে না বটে।
১২)

প্রথম এ চ पिबध কাত্যায়ন। মুখে দুঃখে মানুষের জীবন। আলােকে অন্ধকারে কালের বিকাশ। ৩ কি তুমিই দুঃখ পাচ্ছ ব্রাহ্মণ। আমার কি দুঃখ জানাে? এই রাজারই আভায় অন্ধকার কারাগৃহে আমার সাত সাতটা পুত্রকে চক্ষুর সম্মুখে অনাহারে মরে যেতে দেখেছি। চাণক্য। সে কি। তবু তুমি তার মন্ত্রী! কাত্যায়ন। হ চাণক্য-প্রতিশােধ নেবার জন্য আমিই বেঁচে বৈলাম-অনাহারে ম’লাম না! প্রতিশােধ নেবার জন্য মন্ত্রিত্ব নিয়েছি। —চাণক্য, তুমি আমার সহায় হও। চাণক্য। ব্রাহ্মণের উপরে যত অত্যাচার।—তুমি এত তীব্র দৃষ্টি নিক্ষেপ কৰ্ছ কেন সুন্দরী? কি আজ কর ? কাত্যায়ন। সেই ব্রাহ্মণের লুপ্ত তেজ—এসস আমরা পুনরুদ্ধার করি। আমি রাজার মন্ত্রী আছি, তুমি হও রাজার পুরােহিত। আজ আমরা দুই ব্রাহ্মণ মিলিত হই। আমাদের প্রতি অন্যায়ের প্রতিশােধ নেই। যতদিন ভারত, ততদিন ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণ।—এসােত ভাই। চাণক্য। ( যেন কাণ পাতিয়া কি শুনিলেন ] উত্তম।আমি পৌরােহিত্য স্বীকার কলাম--যখন তােমার আজ।মন্ত্রী মহাশয়। গনি সব যাবে। এই অবিশ্বাসী বৌদ্ধযুগ ধরে ফেলেছে, ব্রাহ্মণের শাঠ, জোচ্চুরি, ধাপ্পাবাজী—ধবে’ ফেলেছে। গলা টিপে ধরেছে। ঐ বন্যা আসছে। যাবে—ব্রাহ্মণের প্রভূত্ব যেতে বসেছে-যাবে। রক্ষা কর্তে পাৰ্ব না। তবু প্রলয়ের পূর্বে এই কলির ব্রাহ্মণ এবার বাদশ সূর্যের মত আকাশ পুড়িয়ে দিয়ে চলে যাবে।—চল যাচ্ছি। [ উভয়ের নিজা। [ ১৩

চর
তৃতীয় দৃ
लौच न्य
স্থান -মহারাজ নলের এমােদাগান। কালরাত্রি
মহারাজ ন, পারিষদগণ ও নর্তকীগণ
নর্তকীদের নৃত্য গীত।
তুমি যে হে প্রাণের বঁধু আমরা তােমায় ভালবাসি।
তােমার প্রেমে মাতােয়ারা তাই তােমার কাছে দুই আমি ,
তুমি শুধু দিয়ে হাসি, আমরা দিব অশি
তুমি শুধু চেয়ে দেখ, বঁধু, আমরা কেমন ভালবাসি।
পাখি মালা তদলে, দিৰ তৰ পতলে,
তুমি হেসে ধর্ব গলে আমরা দেখবাে তােমার মধুর হাসি,
তুমি কভু দয়া করে বাজিও তােমার মােহন ৰাণী,
ওরে তােমাৰ ৰাণীর ধ্বনি, বধু। আমরা বড় ভালবাসি।
তুমি মােদের হােয়ো প্রভু, আমরা তােমার হব দাসী ,
তুমি যে হে এজের বধু আর আমরা যে গো এৰাসী।
ভালােবাসা নাহিক বাসো, নই তার অভিলাষী-
আমরা শুধু ভালােবাসি ভালোবাসি ভালােবাসি।
চাণক্যের প্রবেশ
চাণক্য। মহারাজ।
১ম পরিষদ। এ আবার কে।
১৬

চ
प्रोब पूछ
২য় পারিষদ। তুমি কোন্ গগন থেকে নেমে এলে চাদ !
৩য় পারিষদ। নাচতে জানো?
না। কে তুমি?
চাণক্য। আমি ব্রাহ্মণ।
১ম পারিষদ। যাও, এখানে কিছু হবে না।
২য় পারিষদ। ী, গাে, ব্রাহ্মণ—এদের আমরা কি বলিনে ;
সরে পড়-
৩য় পারিষদ। নিরীহ জাতি।
নন্দ। তুমি এখানে এ সময়ে কিসের ?
চাণক্য। মহারাজ। আমি তােমার মাতামহের জেরপৌরােহিত্য
কর্তে এসেছিলাম-যেচে আসিনি
নন্দ। তােমাকেই বা কে যেচে আতে গিয়েছিল ঠাকুর।
চাণক্য। তােমার মন্ত্রী।
নন। মন্ত্রী ডেকে এনেছে, তার কাছে যাও।
চাণক্য। তােমার মালিক আমার অপমান করেছে-
১ম পারিষদ। তা ত কবেই
২য় পারিষদ। খালক মাত্রেই অপমান করে থাকে।
অ পারিষদ। খালকের সাত খুন মাফ। ধােনর না বাবা!
চাণক্য। [ সপদদাপে] চুপ করের দল!
পারিষদবর্গ ভীত হইয়া স্ত রহিল
নন। অপমান করেছে তাই হয়েছে কি না।-মগধের
মহারাজের তালিক।
[১৫

এম এ
চত্র
अडीच व
বাচালের প্রবেশ
বাচাল। আমায় তুমি সহজ লােক ঠাওরাও? আমি মহারাজের
গল; মহারাজের বাপ আমার বাপের বেহাই; মহারাজ আমার
ভগ্নীপতি ; মহারাজের ছেলে আমার ভাগিনেয়!—তুমি আমায় সহজ
শােক ঠাওরাও ঠাকুর।
নন্দ। যাও এখান থেকে, এখানে আমরা ৰাহ্মণের অনুযােগ শুন্তে
আসিনি।
চাণক্য। না, তা শুনবে কেন!ব্রাহ্মণ আজ আর সে ব্রাহ্মণ
নাই। তাই এক্ষণে ক্ষত্রিয় অনায়াসে তার সম্পত্তি লুণ্ঠন করে
নির্ভয়ে তার উপরে চোখ রাঙায় । সে তেজ যদি ব্রাহ্মণের থাকতাে, ত
তাকে তােমার সম্মুখে নােরক্তিম দেখে তুমি ঐখানে সিংহাসন
ও মাতার নীচে বসে যেতে। কিন্তু সে প্রতাপ একেবারে লুপ্ত হয়
নাই জেনাে।
বাচাল। দেখি ব্রাহ্মণের তাপটা একবার—আর তুমি মহারাজের
লকে প্ৰতাপটা কি রকম দেখ।
চাণক্য। দেখবে—মহারাজ। তুমিও দেখবে—যদি এর প্রতি-
বিধান না কর!
নন্দ। কি। তুমি ঐখানে দাড়িয়ে আমার উপর চোখ রাঙাবে,
ভিক্ষুক! বেরােও এখান থেকে।
চাণক্য। কলির ব্রাহ্মণ। কাণ পেতে শােন। ক্ষত্রিয় ব্রাহ্মণকে
বছে—বেরিয়ে যাও এখান থেকে
থেকে” তথাপি ঝড় উঠছে না,
অখিষ্টি হচ্ছে না, পৃথিবী কেঁপে উঠছে না! সব স্থির!—কি আশ্চৰ্য্য।
১)

এম এ
চও
व पण
নল। গলায় হাত দিয়ে বের করে দাও ।
চাণক্য। ভগবতী বরে! যি হও?-এ। জড়ের মত
খাড়া হয়ে আর দাঁড়িয়ে দেয় কি। জগতের বিপরে আখৰ্য্যের
আরে ভিক্ষা মেগে বেড়াতে তােমার লজ্জা হচ্ছে না। পারো তাে ওঠা।
কপিলের তেজে ফুলিঙ্গবৃষ্টি করে, নীচের দর্প তম করে দাও। আর
তা যদি না পারাে, তা হ'লে—ওরে ক্ষুদ্র, ওরে বৃণিত, ওয়ে পদদলিত,
ওরে মহত্বের কাল, আর আলােকে মুখ দেখিও না। রসাতলে
যাও।
নন্দ। আমরা কি এখানে এক উন্মাদেব প্রলাপ শুন্তে এসেছি।
বাচাল ! একে বার করে দাও।
বাচাল। [ চাণক্যের শিখা ধরিয়া টানিয়া ] বেরিয়ে যা ভিকুক।
চাণক্য। কি।—হাঁ যাচ্ছি—যাচ্ছি। তবে যাবার আগে বলে
যাই। মহাবাজ নন্দ। তবে একবার এই কলিযুগেই এই বিবর্ণ
থবংসাবশেষ ব্রাহ্মণের প্রতাপ দেখবে! এই নন্দবংশ ধবংস না করি ত
আমি চণকের সন্তান নই। তােমার রক্তে রঞ্জিত হন্তে এই শিখা
ৰা বাে, এই প্রতিজ্ঞা করে গেলাম, মনে থাকে যেন মহারাজ!
আর ভবিষ্যণী করে যাই—একদিন এই ভিক্ষুকের পদতলে
তােমায় জানু পেতে প্রাণভিক্ষা চাইতে হবে। আমি সে ভিক্ষা
দিৰ না। সেইদিন দেবে আর-এই ব্রাহ্মণের তপস্যার শক্তি,
ৰাহ্মণের প্রতিভার প্রভাব, ব্রাহ্মণের প্রতিকার বল, ব্রাহ্মণের
অভিশাপের
বাপের
কুফ বিক্রম,
বিজম, জাহ্মণের দুর
এতাপ।
[ এখুনি।
{

চ जोबन না। কে! হয়েছিল কি। বাচাল। হবে আর কি। অপােগও জানােয়ারা পুরুগিরি কর্তে এসেছিল। এ দিকে আমি পুরােহিত এনেছি। ওকে উঠতে আম, উঠবে না। তখন আমি গলায় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছি। আমার অপরাধের মধ্যে এই না। তুমি ৰাহ্মণকে গলা খাকা দিতে গেলে কেন? বাচাল। আমি মহারাজের খালক- ১ম পারিষদ। তার উপরে মহারাজ ওর ভাপতি- ২ মিদ। ওর বাপ মহারাজের ঘর। ৩র পারিষদ। বেশ করেছে- নল। আমােদটা মাটি করে দিলে।যাক । ১ম পারিষদ। মন্দ কি!একটা নতুন হ’ল। ২য় পারিষদ। গেয়ে গেল বেশ! ১ম পারিষদ। যা হােক এতে এত মজা কখনও দেখিনি। মেয়ের বিনেতে এ রকম নাচ গান হয় বটে। ২য় পারি। সেও একরকম আছি! ১ম পরিষদ। কি রকম। ২ পারিষদ। এ তিন রকম। যথা, বাপের তার নাম এ; মেয়ে তার নাম বিয়ে , টাকার এভ—তার নাম অ পারি। আর ভূতের বাপের তার নাম? পারি। যা পাচ্ছে।

. মূরকে সঙ্গে লইয়া কাত্যায়নের প্রবেশ এ আবার কে!ও!-তা এখানে কেন? কাত্যায়ন। মহারাজ যে আজ ক'লেন বিল- নন্দ। তাই বলে এখানে—এমােদোকানে। একটা ত তা আছে- মুরা। তােমার মুখে একথা শুনে তাঁত হলাম বৎস। না। ঐত হবার মত কোন কাজ কর তােমায় এখানে নিয়ে আসতে বলিনি। কিন্তু রাজকাৰ্য এখানে কেন মী! তুমি বড় অবিবেচক। কাত্যায়ন। আয় হয় ত আবার রেখে আসি। ২য় পারিষদ। ওহে মন্ত্রী মহাশয়, তুমি যে সেই রকম কর্ণে- ১ম পারিষদ। কি রকম। ২য় পাৰিষদ। একজন পাক্কী চড়ে গিয়ে দেখে যে টেকে পয়সা নেই। ভাড়া দিতে পারে না। শেষে বেহারাদের বন, আমার কাছে পয়সা নেই, কিন্তু তােমরা গরীব লােক, তােমাদের লােকসান কৰ কেন—আমাকে যেখান থেকে এনেছিলে সেখানেই রেখে এলাে- আমি না হয় হেঁটেই আসবে। এর পারিষদ। একজন সত্যই তাই করেছিল। কুরে কাটিয়ে দরে বলাে না বলে মজুরদের বলে-আ সে বাপু তােদের কুলে তাের বুজিয়ে দে। আমি অন্য মজুর দিয়ে আমার বুন্নো কাটিয়ে নেবো। কাত্যায়ন। বলুন মহাক, একে গিয়ে রেখে আসি। [

এম পি
চও
छौब मृश
নন। ন, যখন এনেছে-শোেন মা। তােমার পুত্র চন্দ্রগুপ্ত
জীবিত আছে।
সুরা। আছে? কোথায় সে? কোথায় সে।
না। তাই জানবার জন্য তােমায় ডেকেছি। সে কোথায় তুমি
জানাে?
মুরা। আমি জানি না বৎস।
নল। তুমি জাননা। বল সে কোথায় ? নহিলে,-নক্ষকে জানাে ?
মুর। জানি। নন্দকে জানি না। আমি তাকে কোলে করে
মানুষ করেছি; বুকে করে ঘুম পাড়িয়েছি।
না। সে গৌরব তুমি কর্তে পার।-এখন চন্দ্রগুপ্ত কোথায় ?
মূরা আমি জানি না।
নল। জানাে। বলনহিলে—
মুরা। আমার বধ কর্বে । কর—কিন্তু এখন নয়। আমি
মৰ্বাৰ আগে একবার চন্দ্রগুপ্তকে দেখতে চাই।-একবার
একবার
নল। না, তােমায় বধ কর্ব না। অত শীঘ্র শেষ কলে চলবে না।
তােমায় আজীবন কারারুদ্ধ করে রেখে দেবে। অনাহারের জালায়
তিলে তিলে দক্ষ কর্ব।
মূর। না, এত নিষ্ঠুরতুমি হবে না। আমি তােমার মা।
নন। হ, শত্রাণ মা বটে। পিতার দাসী হয়ে শা—যে
মহারাজের মা হতে চাও।
র। এ!
(শির নত করিলেন।
২]

প্রথম চপ্ত कृत पूज ২য় পারিষদ। একটা গল্প মনে পড়ল—এক- নন্দ। চুপ কর।-মহারাজের মা হতে চাও—সূত্রাণ মা। সূরা। না, আমি মহারাজের মা হতে চাই না। মহারাজ, তুমি চিরদিন মহারাজ হয়ে থাকে। আমার চন্দ্রগুপ্ত ভিক্ষুক হৌক। শুধু সে বেঁচে থাকুক। আমি শুধু তাকে একবার দেখতে চাই। একবার বুকে ধরে চেঁচিয়ে কাঁদতে চাই। আমি চন্দ্রগুপ্তের মা, এই আমার পৰম গৌরব। তার বাড়া গৌরব চাই না। আমি মহারাজের মা হতে চাই না। নন্দ। চন্দ্রগুপ্ত কোথায়—এখনও বল। তুমি জাননা। মূর। যদি জামও তবু বলতাম না। ভাবব কি মহারাজ নন, যে মা নিজের প্রাণরক্ষার জন্য তার ছেলেকে বাঘের মুখে ছেড়ে দেবে!-হারে মূঢ়। “মা” চিলিনে। নল। বলবে না। বটে। আমি শুনেছি-সে আমার বিপক্ষে বিদ্রোহের সূচনা কর্চে। সৈন্য সংগ্রহ কচ্ছে। মূর। ভগবা। এই কথা সত্য হোক। চন্দ্রগুপ্ত যেন তার মাতার অপমানের প্রতিশােধ নেয়। নন্দ। নিয়ে যাও কারাগারে বাচাল। এসাে বাধন। [ কে ধরিয়া গনিল ] পারিষদবর্গ হাসিল ; সঙ্গে সঙ্গে নও হাসিলেন। মুরা। এতদূর।-মহারাজ নন্দ! তােমার মাতার এই অপমান তুমি উপভােগ কৰ্ছ। তুমিও হাসছো?-না, আমি তােমার মা নই, আমি তােমায় অন্য দিই নাই। কোন রাক্ষসী তমায় যুক্ত [২১

তৃতীয় দৃশ্য
খাইয়ে মানুষ করেছে। নইলে ক্ষত্রিয় মহারাজ তুমি-না! আজ
যদি ক্ষত্রিয়ের এই আচরণ হয়, তবে আমি যেন জন্ম জন্ম শূদ্রাণী হয়েই
बबन कवि।
১ম পাৰিষ। বা, বল্‌ছে বেশ।
২য় পারিষদ। সুন্দব! বলতে দাও।
৩য় পরিষদ। কি মহারাজ, মাথা হেঁট কনে নে।
মূর। মহারাজ নন। আমি তােমার মাতা নই। কিন্তু আমি
নারী-দীন, দুর্বলা, নিঃসহায় নারী। নারীর নানা-দুর্বলের
প্রতি অত্যাচার ;-নামী সৈতে পারে, কিন্তু ধর্ম সয় না জেনাে।
বাচাল। এসাে, এখানে আমরা ধর্মের কাহিনী শুতে আসিনি,
[ এই বলিয়া বাচাল তাহার গলদেশ ধরিল ]
নল। এখনও বল চন্দ্রগুপ্ত কোথায়। নইলে
মুক্ত তরবারি হতে চন্দ্রগুপ্তের প্রবেশ
চক্রগুপ্ত। এই চন্দ্রগুপ্ত তােমার সম্মুখে। অধম। [ বাচালকে
পদাঘাতে ভূপাতিত করিয়া] মা, তােমার এই অপমান—চন্দ্রগুপ্ত
জীবিত থাকতে। মা আমার!
মূর। বৎস আমার। [ চন্দ্রগুপ্তের গলদেশ জড়াইলেন
চত্র। ভী! পাষণ্ড! কাপুরুষ! এর প্রতিফল পাবে।
-এস খা।
[সূরার সহিত স্থান।
২২।

চত্ত তুর্থ দৃশ্য স্থান-মলয়রাজ্যে চন্দ্রকেতুর প্রসাদ। কালসায়া চন্দ্রগুপ্ত ও চকে চকেতু। এ গৃহ আপনার গৃহ। আমি আপনার অনুগত বস্তু। মহারাজ আমায় বিশ্বাস করুন। মহারাজের জন্য আমার এই পার্বত্য সৈন্ত প্রাণ দিবে। চন্দ্রগুপ্ত। আমি এই অশিক্ষিত সৈন্ত গ্রীক-এখায় শিক্ষিত করে তুলব। এই পার্বত্য সাহস গলিয়ে বিজ্ঞানের কারখানায় পিটিয়ে এমন করে গড়ে তুলবাে যার কাছে-মগধ ত ছার—সমস্ত ভারতৰৰ মাখা হেঁট কর্বে। চন্দ্রকেতু। কিন্তু নন্দের মন্ত্রী, শুনেছি—অতি কূট, অতি বুভিমান। চন্দ্রগুপ্ত। জানি চকেতু! আমার পক্ষেও নলের পুরাতন মন্ত্রী কাত্যায়ন আছেন। আর আমি তাকে পাঠিয়েছি কৌশলী বিচক্ষণ গণকে ডেকে আনবার জয়। চকেতু। এই চাণক্য কে? চত্রগুপ্ত। শুনেছি তিনি একজন অতি বুজিমা একনিষ্ঠ বিচ। রা। নলের প্রতি তার ক্রোধ অনেক দিন থেকে বেরি; এখন বাতাস পেয়ে বলে উঠতিনি না কি বা নেন। চমকে। কি রকম-

-প্ত
চতুর্থ বৃ
চএখ। তিনি শুনেছি বাতাসের সঙ্গে কথা কন। অখির সনে
মণ করেন। তার কু দৃষ্টিতে তৃণ বলে উঠে ভন্ম হয়ে যায়। তিনি
একাকী থাকেন। তাঁর বন্ধু জগতে কেউ নাই।
চন্দ্রকে। এরূপ লােক কিন্তু ভয়ানক।
চন্দ্রগুপ্ত। এখন ভয়ানক লােকই চাই চন্দ্রকেতু।—তােমার উপর
নির্ভর করতে পারি ?
চন্দ্রকেতু। মহারাজ! আমি আপনাকে যখন একবার মগধের
গাষ্য মহারাজা বলে ডেকেছি, যখন একবার ভাই বলে আলিঙ্গন
করেছি, তখন মহারাজ, রাজভক্ত চন্দ্রকেতু চিরদিন আপনার জন্য প্রাণ
দিতে এত জানবেন।
চন্দ্রগুপ্ত। ভাই। [ আলিঙ্গন] তবে আর কোন চিন্তা নাই।
নেপথ্যে। গুপ্ত।
চলপ্ত। আসছি মা!—চল হকেতু, মাতার আশীর্বাদ গ্রহণ
করি।
[ উভয়ের প্রস্থান।
হামার একে
হয়। ইনি কি অবতীর্ণ দেবরাজ! এর দর্শন পূর্ণচন্দ্রের উদয়।
এর পর রণ। দাদাকে যখন ইনি আলিঙ্গন কলেন, মনে হল
যেন শরতের মেঘকে সুকিরণ এসে ৰিৱেহে। চলে গেলেনদেন
একটি মলদেস।
]

প্রথম পঞ্চ
চপ্ত
চতুর্থ
হায় গীত।
আয় রে বসন্ত ও তার কিরণমাখা পাখা তুলে।
নিয়ে আমি তাের নূতন গানে, নূতন পাতায়, নুতন ফুলে।
শুনি, পডে’ প্রেমকাদে, তা'র সব হা কাল,
আমি শুধু কুড়ােই হাসি মুখ নদীর উপকূলে।
জানি না ত প্রেম কি সে, চাহি না সে মৰিবে,
আমি শুধু বেড়িয়ে বেড়াই, নেচে গেয়ে প্রাণ খুলে।
নিয়ে আয় তাের কুমরাশি,
তারার কিরণ, চাদের হাসি ,
সলয়ের চেষ্ট নিয়ে আয়, উড়িয়ে দে এই এলােচুলে।
গায়িতে গায়িতে একান।
কথা কহিতে কহিতে চন্দ্রগুপ্ত ও মূরার প্রবেশ
চত্র। মা, আমি অত্যয়ের প্রতিশােধ নিতে বেরিয়েছি। আর
জালিয়েছি। তােমার অপমান তাতে আজ আহুতি দিল। যদি কখনাে
মেহের দৌর্বল্যে ভাই নন্দকে ক্ষমা কর্তে চেয়েছিলাম, আজ হতে সে
চিৰা মন থেকে নির্বাসিত কলাম। আমার মেহাকবি আজ তােমাৰ
জন্য অগ্নির লিঙ্গে পরিণত হোক।
মুরা। যখন নন্দ আমায় শূদ্রাণী মা বলে সম্বােধন কল, তখন
আমার মনে হ’ল বৎস! যে অগ্নির লেলিহান শিখার মধ্যে আমি
নড়িয়ে আছি। তার পর যখন তার আয় বাচাল আমার কেন
আকর্ষণ কল-কাদিয়া উঠিলেন ]
চপ্ত। মা ! যদি জয় সম্বন্ধে কোন সন্দেহ ছিল,আর তার
[৫

সী
চতুর্থ দৃশ্য
রেখামাত্র নাই। এপীড়িত সীতার অশ্রুজলে লঙ্কা
সীতার অজলে লা ভেসে গেণ,
ছিত দ্রৌপদীর ক্রোধে কুরুবংশ ভন্ম হয়ে গেল, অবলার উপর
অত্যাচারে একটা জাতি উছ যায়, নন্দবংশ ত ছার। আমি এ
বােগ্য প্রতিশোধ নেবে।
মূর। সেই আশায় জীবনধারণ করে গৈলাম। 1 প্রস্থান।
চন্দ্রগুপ্ত। শূদ্রাণী-শূদ্র মানুষ নহে? তার কি ক্ষত্ৰিষেরই মত
হস্তপদ নাই। মতি নাই? হৃদয় নাই ? এত ঘৃণা। . উত্তম।
দেখাবাে একবার শূদ্রের শক্তি। দেখাবাে যে সেও মানুষ ।--
সেকেন্দার সাহ! তােমার ভবিষ্যবাণী সফল করা আমার জীবনে বিগ
লক্ষ্য হৌক।
ত্যায়নের প্রবেশ
চত্রপ্তা কে?
কাতান। আমি কাত্যায়ন।
চন্দ্রগুপ্ত। কৈ। চাণক্য কৈ?
কাত্যায়ন। আসছেন। পূজা সা করে আসছেন।
চও। কি কম দেখলেন?
কাত্যায়ন। মথিত সমুদ্রের মত! জানি না গরল ওঠ কি অমৃত
ঠ। তার চেহারাটা এবার কিন্তু আমার বড় ভালাে লাগলাে না।
চন্ত। কেন।
কাত্যায়ন। আমি এ সংবাদ দেওয়া মাত্র তার গম্ভীর মুখখানি
সসা প্রত্যুষে মত দীপ্ত হয়ে উঠলো, আবার তৎক্ষণাৎ গােধুলির
মত মনি হয়ে গেল। এ খনি প্ৰণীপশিখার মত কেপেই

बधबा
চN
আবার স্থির হয়ে দাড়িয়ে রৈল। ওঠতে এক ব্যঙ্গহাত জেগে উঠে
ধীরে ধীরে নিবে গেল। শেষে এক অদ্ভুত মূর্তি—ওষ্ঠাধর সর, মুখ
পাংশু, ললাটে গভীর রেখা, কৃষ্ণাপা চক্ষু দুটি তীক্ষ স্থির দৃষ্টি দূর শূন্তে
চেয়ে রৈল।
চন্দ্রগুপ্ত। অদ্ভুত। [ পদচারণা করিতে করিতে] কখন আসবেন?
কাত্যায়ন। ঐ যে।
সপ্ত।
কাত্যায়ন। ঐ চাণক্য পণ্ডিত।
চন্দ্রগুপ্ত। ইনি ।
গণকের প্রবেশ
চন্দ্রগুপ্ত ও চাণক্য উভয়ে সম্মুখীন হইয়া দাঁড়াইয়া পৰম্পৰকে
নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। শেষে চন্দ্রগুপ্ত নতজানু হইয়া এম
করিলেন।
চাণক্য। তুমি চন্দ্রগুপ্ত।
চন্দ্রগুপ্ত। আপনার দাস।
চাণক্য। [ আপাদমস্তক চন্দ্রগুপ্তকে নিরীক্ষণ করিয়া তুমি
পার্কে।
চত্রগুপ্ত। যদি আপনার কৃপা থাকে।
চাণক্য। আমি কে? কেউ না। তুমি একাই পার্কে। আমি
কে? কীন ব্রাহ্মণ। অতি দীন।
চত্র। দীন ব্রাহ্মণ।
চাণক্য। এই ৰাণের মতন কে আর শাপে সব
[ ૨૧

এম চতুর্থ burde হওয়া দূরে থাকুক, প্রদীপটি পৰ্যন্ত জ্বলে না। তার উপবীত আজ ভিক্ষুকের চিহ্ন। তাকে ক্ষত্রিয় আজ পদাঘাত করে চলে যায়। চগুপ্ত ও রহিলেন। চাণক্য। মাঝে মাঝে সমুদ্রের মত তরল দুলে ধেয়ে আসি, কিন্তু তীরে বাধা পেয়ে গভীর হতাশ্বাসে ফিরে যাই। কোন শক্তি নাই। কোন শক্তিই । চন্দ্রগুপ্ত। সে কি! শুনেছি চাণক্য পণ্ডিত চাণক্য। বিচক্ষণ, বিদ্বান, কুট। না ?—ঠিক শুনেছিলে। কেবল একটা কথা শোেন নাই। শােন নাই যে, তার হৃদয় নাই। আমার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গিয়েছে।-এ বক্ষ সহসা চন্দ্রগুপ্তের হস্ত টানিয়া নিজের বক্ষের উপর রাখিয়া ] এই বক্ষে হাত দিয়ে দেখ। কি দেখছ? চন্দ্রগুপ্ত। ক্ষীণ রক্তস্রোত ৰৈছে। চাণক্য। কিসের জােত ? চত্রগুপ্ত। রক্তস্রোত। চাণক্য। মূখ! রক্ত নাই-এ দেহে রক্ত নাই। এ হিমানী- এবা। রক্ত যা ছিল, জমাট হয়ে গিয়েছে। চপ্ত। দেব। আমি সব শুনেছি। আমায় আজ বিউন। আমায় আজ আশীর্বাদ করুন। আমার ও বলুন- চন্দ্রগুপ্ত! তুমি অগ্রসর হও ! আর কিছু চাই না। আর সব আমি কর্য। চাণক্য। পারে? চন্ত । পার্ব। শুরুদেব! সেকেন্দার সাহার এই ভৰিষুণ

প্রথম পর
চখ
চতুর্থ দৃশ্য
যে আমি দিগ্বিজয়ী বীর হন। সেই আখাসবাণী নিদ্রায় ও জাগরণে
আমাণে এখনও বাজছে। আমি পার্ব। গু আপনি আমার
এই মহাযজ্ঞের পুরােহিত হোন। আপনি আমায় এই ব্রতে দীক্ষিত
চাণক্য। কি? তুমি কি আজ্ঞা কর্জ প্রাণেনি!
চন্দ্রগুপ্ত। এ কি আবার ।
চাণক্য। তােমার আজ! উত্তম।–[ চন্দ্রগুপ্তকে] তবে পা ছুঁয়ে
শপথ কর যে, এই ব্রাহ্মণের আদেশ তুমি সর্বথা পালন কৰ্বে।
চন্দ্রগুপ্ত। [ চাণক্যের চরণ স্পর্শ করিয়া শপথ কছি গুরুদেব।
আপনি আমায় দীক্ষা দিউন।
চাণক্য। হাঁ তুমি পার্কে। তােমার মুখ, তােমার সৃষ্টি, তােমার
ভজিমা সমস্বরে বলছে যে, তুমি পাৰ্বে। হাঁ, আমি তােমায় দীক্ষা দিব।
তােমায় মগধের সিংহাসনে বসাবাে। তােমায় ভারতের অধীশ্বর কর।
তবে ইন্ধন প্রস্তুত কর চন্দ্রগুপ্ত! আমি তাকে ব্ৰহ্মতেজে প্রকাশিত
কর্ব। সেই অগ্নি দাবানলের ন্যায় ব্যাপ্ত হবে। সমস্ত ভারতবর্ষ এলে
উঠবে।—চন্দ্রগুপ্ত।
চন্দ্রগুপ্ত। রুদেব!
চাণক্য। উর্জে চাও দেখি।–কি দেখছো?
চন্দ্রগুপ্ত। আকাশ।
চাণক্য। কি বর্ণ?
চন্দ্ৰপ্ত। পারব।
চাণক্য। কি বুঝছাে?

.
চন্ত। ঝড় উৰে
চাণক্য। ঠিক! ঝড় উৰে। আৰ সমুখ ভবিষ্যতের দিকে
চেয়ে দেখ দেখি। কিন্তু দেখতে পাচ্ছ না?
চও। না।
গণ। অন্ধ। সেখানে একটা ঝড় উঠবে।—এ কপিলের
অভিশাপ নয়, বিশ্বামিত্রের তপােৰল নয়, পরশুরামের শৌব্য নয়,
বামনের ছলনা নয়। এ ৰাহ্মণের বুদ্ধি আর শূদ্রের নিষ্ঠা, ব্রাহ্মণের
সাধনা আর শূন্ত্রের প্রতিহিংসা, ব্রাহ্মণের তেজ আর শূদ্রেয় শক্তি।
অমর্ত্য এক সঙ্গে। আর ভয় নাই চক্রপ্ত! ওঠা—আমি আমাৰ
দূর সম্মুখে কি দেখছি জানাে?
চন্দ্রগুপ্ত। কি দেব?
চাণক্য। এই প্ৰধুমিতা,
প্রধুমিতা, প্রজ্বলিত, প্রতিরক্তস্রোতস্বতী
ভৈরবী ভারতভূমির পরিবর্তে এক রালারা, পদােলা, সঙ্গীত-মুখ,
হাময়ী জননী। জলধি হতে জলধি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এক মহাসাম্রাজ্য।
সে সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ভূমি, আর তার পুরােহিত এই দীন দরিদ্র
শ চাণক্য।

দ্বিতীয় অঙ্ক
প্রথম স্থ
স্থান-হিটের প্রাসাদ। কালরাত্রি
।
সেলুস ও হেলেন।
সেলুক। হেলেন! বীর সেকেন্দার সাহার মৃত্যু হয়েছে।
হেলেন। সে কি। কি করে জানলেন?
সেলুকস। সূর্য অস্ত গেলে পৃথিবী জাতে পারে না?
হেলেন। তার পর।
সেলুস। তার পর আবার কি। তিনি আমায় এশিয়ার সাম্রাজ্যের
উত্তরাধিকারী করে গিয়েছেন।
হেলেন। এক মহতী আকাকার তাড়নায় অর্ধেক এশিয়া হয়
ক'ব পরে নিজের দেশেও মর্তে পেলেন না।
সেলু। হেলেন—সেকেন্দার সাহা বা সাধন কর্তে ব্যখাম
হ’ ছিলেন আমি তা সম্পূর্ণ কর্ব।
হেলেন। কি।
সেলু। ভারতবর্ষ জয়।
হেলেন। তাতে কি লাভ হবে।
[৩১

দ্বিতীয় অ
চগুপ্ত
बचपूध
সেলুক। কীর্তি।
হেলেন। না অকীর্তি।-আশ্চৰ্য্য পুরুষের উচ্চা! কিছুতেই পূর্ণ
হয় না। আচৰ্য্য পুরুষের জিঘাংসা। মানুষ যেন বন্ধ শিকার। ৰধ
কর্তেই হবে! তবু মানুষ মানুষের মাংস খায় না।খায় না কেন বাবা?
ভাল লাগে না ?
সেলুক। প্রথা নাই।
হেলেন। সৃষ্টি করুন না—নাম থেকে যাবে।-বাবা, আপনারা
পূজাতি এত রক্তপিপাষ ?—হৃদয়ের মধ্যে কি আর কোন প্রবৃত্তি
নাই।
সেলুকস। কি প্রবৃত্তি।
হেলেন। দুঃখীর দুঃখ দূর কর, রােগীর সেবা করা, ক্ষুধার্তকে
খেতে দেওয়া, অনকে স্থান দেওয়া—এ সব কি কিছুই নাই?—কেবল
স্বার্থের প্রসার, বেদনার বৃদ্ধি, অত্যাচার, অবিচার, পীড়ন।
সেলু। ডিমস্থিনি বলেছেন বিজিগীষা মানুষের একটা মহৎ
প্রবৃত্তি।
হেলেন। কোথাও তিনি এ কথা বলেন নি। নিয়ে আসছি
ডিমস্থিনিস প্রশ্বনােত ]
সেলুকস। না না, নিয়ে আসতে হবে না। তুমি ডিমস্থিনিস ও
পড়েছে।
হেলেন। পড়েছি।
সেকস। তুমি অত পড় কেন? পড়ে পড়ে তােমার মৌলিক
না ।
৩২]

দ্বিতীয় আৰু
Baroc
এখ
হেলেন। মৌলিকতা নষ্ট হয়ে পড়লে? আর না পড়লেই
মৌলিক হয়, তা হলে সবার চেয়ে মৌলিক হচ্ছে
গাধাটা।
সেলুস। কেন?
হেলেন। কারণ—সে কিছুই পড়েনি।
সেলুকস। তুমি আমায় অপমান কচ্ছ।
হেলেন। না বাবা।
সেলুকস। তুমি আমার সঙ্গে গাধার তুলনা কচ্ছ।
হেলেন। না বাবা, আমি করিনি।
সেলুকস। করছে।
হেলেন। আমার অন্যায় হয়েছে। ( করজোড়ে] ক্ষমা চাচ্ছি।
সেলুল। না আমি ক্ষমা কৰ্ব না, আমি নেগেছি। তুমি প্রায়ই
আমাকে অপমান কর।
হেলেন। বাবা- হাত ধরিলেন।
সেলুল। যাও! [ হাত ছাড়াইয়া লইলেন।
হেলেন। [ গদগদরে বাবা-[ নতজানু হইলেন
সেলুকস। ওকি! না না ওঠ-তোর কিছু অন্যায় হয় নি।
আমার অন্যায়। আমি জোধৰণে “যাও।” বলেছি। আমি তাের
উপর এত রূঢ় যে কখন হতে পারি—তা গৰিনি। ও-[স্ত
ধরিয়া উঠাইয়া] অামায় ক্ষমা ক হেলেন।
হেলেন। সে কি বাৰ! হার গলদেশ জাইয়া ধরিলেন ।
সেলু। (হেলেনকে বেষ্টন করিয়া] মাতৃহারা কল আমার।
৪

প্রথম দু
पिशव बह
হেলেন। কে বলে আমি মাতৃহারা। এই যে আমার মা! শুধু
প হলে কি এত আদায় কর্তে পার্কাম।
সেলুকস। কৈ তুমি আন্ধার কর।
হেলেন। আদার করি না? বাবা।
সেলুল। তুমি ত আমার কাছে কিছু চাও না—কেন চাও না
হেলেন?
হেলেন। না চাইতেই ত সব পেয়েছি। আমার কিসের অভাব
বাবা।
সেলুক। মহার্ঘ পৰিচ্ছদ—অমূল্য অলঙ্কার
হেলেন। আছে ত সবই।
সেলুল। তবে পর না কেন ?
হেলেন। প'লে আপনি সন্তুষ্ট হন? আচ্ছা, এখন থেকে পর্ব ।
সেলুক। হ প’লো!আমি দেখব।আমি এখন একবার
সৈাধ্যক্ষের শিবিরে যাবাে। তুমি ঘুমােওগে যাও।ধাত্রী!
হেলেন। যাচ্ছি বাবা। আমি আর এখন খুকিটি নই, যে সন্ধ্যা
না হতেই ধাত্রী এসে আমার ঘুম পাড়াবে।
সেলুকস। কিন্তু তুমি অত্যন্ত রাত্রি জেগে পড়। পড়ে পড়ে
তােমার রং মলিন হয়ে যাচ্ছে। অত পড়ে না।
হেলেন। সেহাস্টে] আচ্ছা বাবা–এখন থেকে একটু মৌলিক হব।
সেকস চলিয়া গেলেন। হেলেন ক্ষণেক পদচারণ করিয়া একখানি
পুস্তক লইয়া বসিয়া পাঠ করিতে লাগিলেন; পরে পুস্তক বাখিয়া
কহিলেন—সুৰ্য্য অস্ত যাচ্ছে। আজ সিনহতীরে সেদিনকাব
৩০]

बषय पेश
দ্বিতীয় অং
চত্রগুপ্ত
সেই গরিমাময় সুৰ্যাত মনে পড়ে। কোথায় সেই রবিরােল
ভারত, কোথায় এই কুটিকাবৃত আফগানিস্থান। [ পুনরায় পাঠ]-
সেই মগধের রাজপুত্র।-আমি সংস্কৃত শিখুবাে। শুনেছি সংস্কৃত ভাষা
ভাবুকতা, কবি, ভানের খনি। (পাঠ-কে। [ ফিরিয়া চাহিয়া ]
ও-আটগােন।
আটিগােনসের প্রবেশ
আটিগােন। হাঁ আমি হেলেন।
হেলেন | উঠিয়া ] পিতা গৃহে নাই।
আন্টিগােন। তা জানি।
হােলন। তবে তুমি এখানে—অকস্মাৎ?
আটিগােন। আমার আগমন কি তােমার কাছে এতই
অপ্রীতিকর ?
হেলেন। আমি তা ত বলি নাই।
আটিগােন। কি কপট জাতি! মনের কথা এখনও, এত দিনেও
জান্তে পালাম না। আমি তা ত বলি নাই—কি সুন্দর উত্তর।
‘বলি নাই বটে—কিন্তু আমার আগমন প্রতিকর কি অপ্রীতিকর তা
বলতে কোন বাধা আছে কি?
হেলেন। বলে লাভ কি ?
আন্টিগােন। লােকসানই বা কি?-বলে তােমার লাভ না
থাকতে পারে,শুনে আমার লাভ আছে।
হেলেন। কি লাভ?
আটিগােন। লাভ এই যে, ঐ উত্তরের উপর আমার ভবিষ্যৎ
[৩

ভিন্ন অঞ্চ
প্তি
প্রথম
নিতর কর্মে।শােন হেলেন, আমি এই শেষবার জিজ্ঞাসা কর্তে
এসেছি।
হেলেন। কি।
আটিগােন। আমি অজলে জা পেতে ভিক্ষা চেয়েছি
পাই নাই। ক্রোধ-কম্পিত ধরে দাবী করেছি—পাই নাই।
আজ সহজ, সরল, ৩ ভাষায়, একবার জিজ্ঞাসা কর্তে এসেছি
এর মধ্যে ক্রোধ নাই, কাকুতি নাই।তুমি আমায় বিবাহ কর্বে
কি না?
হেলেন। আমার পিতার স্কন্ধের উপর যে খজ তােলে তাকে
আমি বিবাহ কর্তে পারি না।
আতিগােন। সেই এক কথা—তার কারণ তুমিই না হেলেন?
তার পূর্বে তােমার কাছে আমি এ প্রস্তাব করি, তুমি বলেছিলে-
পিতার মতেই তােমার মত। পরে তােমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করি।
তিনি ব্যভরে বল্লেন যে, যার জন্মের ঠিক নাই, তার সঙ্গে সেলুকসের
কন্যার বিবাহ অসম্ভব।
হেলেন। তিনি সেনাপতি, আর তুমি একজন সামান্য
সৈধ্যক্ষ।
আলিগােন। তার জ নয় হেলেন। তিনি আমার জন্ম নিয়ে
ব্যঙ্গ করেছিলেন। সেই ৰজের জালায়, আমি ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর
খ তুলেছিলাম—আমায় ক্ষমা ক হেলেন।
হেলেন। যদি বা ক্ষমা কতে পারি, বিবাহ কর্তে পারি না।
আতিগােন। কেন?
৩}

দ্বিতীয় অঙ্ক
চন্ত
बव
হেলেন। রাজকতা কোন প্রজার কাছে কৈফিয়ৎ দিতে বাধ্য
আটিগােন। এত গর্ব।
হেলেন। না, আমি এ কথা প্রত্যাহার কছি। তার পরিবর্তে এই
কথা বলেই যথেষ্ট হবে বোধ হয় যে, কোন কুমারী বিবাহসষয়ে তার
মতামতের কোন কারণ ব্যক্ত কর্তে বাধ্য নয়।
আটিগােন। আমি কারণ চাহি না, আমি উত্তর চাই!—তুমি
আমায় বিবাহ কৰ্বে কি না?
হেলেন। এ কি। হঠাৎ এত কর?
আটিগােন। উত্তর চাই। বিবাহ কৰ্বে কি না?-বল।
[ হাত ধরিলেন।
হেলেন। আটিগােন। হাত ছাড় কাপুরুষ। গ্রীক তুমি!
আটিগােন। আমি প্রণয়ী।–সহজ সরল উত্তর দাও—বিবাহ
কর্বে কি না?
হেলেন। তােমাকে বিবাহ করার চেয়ে এক দুর্গন্ধ গলিত কু-
নােগকে বিবাহ কর্তে প্রস্তুত আছি। অধম। [ সজোরে হাত হইয়া
লইলেন ] চলে যাও এখান থেকে।
আটিগােন। উত্তম।-যাচ্ছি। [ তাহার পর চলি যাইতে
যাইতে পুনরায় ফিরিলেন] যাবার সময় এক কথা বলে যাই, হেলেন!
হেলেন। বল রাজকতা। আমার নাম ধরে ডাকবার তােমার
অধিকার নাই। একজন সামান্য সৈনি যাকে ইচ্ছা কর্তে কীটের
মত চরণে দলিত কর্তে পানি-করি না, কারণ সে
[৩৭

চও
প্রথম ধূ
অথম-সে এসিয়ার সম্রাট সেলুকসের কন্যার অঙ্গ স্পর্শ করে।
এতদুর স্পর্ধা।
আগােন। উত্তম। এর উত্তর আর একদিন দিব-দেখি
চাকা ঘােরে কি না।
এই বলিয়া আটিগােন চলিয়া যাইতেছিলেন, এমন সময়
দেখিলেন যে তাহার সম্মুখে সেলুকস দণ্ডায়মান।
সেকস। আবার নিতে সাক্ষাৎ!
হেলেন। [ কম্পিত ধরে ] পিতা!-আপনার কন্যার গায়ে
হস্তক্ষেপ করে এমন বর্বর কাপুরুষ গ্ৰীৰু আপনার সৈন্যাধ্যক্ষ।
সেলুক। সে কি ?সত্য কথা আটিগােন?
আচােস। সত্য কথা আমার অপরাধ হয়েছে।
সেল। হ—আতিগােন। সেকেন্দার সাহার আজায় তুমি
নির্বাসিত হয়েছিল। আমি তা সৰেও তােমাকে আমার সৈন্যাধ্যক্ষ
করেছিলাম। তার এই প্রতিদান সৈনিকগণ।
দুইজন সৈনিকের প্রবেশ
সেলুকস। বন্দী কর। [ সৈনিকগণ আতিগােনকে বন্দী করিল ]
সেল। ভােমার শাস্তি মৃত্যু নিয়ে যাও7 বধ্যভূমিতে। এই
আর্তে! সৈনিকগণ আলিগােনসকে লইয়া যাইতে উদ্যত হইল, হেলেন
সৈনিকগণকে কহিলেন-“ও, পরে সেলুকসকে কহিলেন “পিতা!
-এবার একে ছেড়ে দিন।
সে। না! এত স্পর্ধা!
হেলেন। পদচ্যুত করুন।
৩]

দ্বিতীয় অঙ্ক बर्षवध সেলুকস। সে শান্তি যথেষ্ট নয়। হেলেন। রাজ্য থেকে নির্বাসিত করুন। মৃত্যুদণ্ড দিবেন না। সেকস। না হেলেন—অসম্ভব। হেলেন। আটিগােন বীর! তিনি অপরাধ স্বীকার কচেন। এইবার—এই শেষবার তাকে ক্ষমা করুন। তাকে নির্বাসিত করুন। আন্টিগােন। আমি সেকসের ক্ষমার প্রার্থী নই।সেলুক ! আমার অপরাধ হয়েছে, স্বীকার কচ্ছি। অপরাধের দণ্ড দাও। আমি তোমার মর্জিনা চাই না। হেলেন। আমি গচ্ছি-বাবা। সেলুকস। না হেলেন— হেলেন। [ জানু পাতিয়া বসিয়া যুক্ত করে] বাবা! সেলুকস। আচ্ছা, এবার তােমায় মার্জনা কলাম, আলিগােনস- যাও। কিন্তু আমার সাম্রাজ্যে আর যদি কখন পদার্পণ করত, তােমার শাস্তি মৃত্যু।-মুক্ত কর। সৈনিকগণ তাহাকে মুক্ত করিল। আন্টিগােন ধীরে ধীরে চলিয়া গেলেন। হেলেন। জানি বাবা, আপনি মুক্ত করে দেবেন। সেলুকস। তাের যুক্ত করে কাছে যে সকল যুক্তিহার মানে হেলেন। আমার বুড়ো বয়সের মা হয়ে খুব হকুমটা চালিয়ে নিলি যা হাে। হেলেন। [ সহাতে ] এ বিষয়ে থেমিষ্টক্লিল কি বলেন বাবা! সেলুক। কিছু বলেন না। তুমি অত্যন্ত অবাধ্য যাও। [ এখান। [৩ बिडीव बर চও पिगै मृत হেলেন কৃত পদচারণ করিতে লাগিলেন। পরে বলিলেন- “পিতা! আপনার ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা—আপনার অগাধ মেহেব বিনিময়ে আর কি দিতে পারি।আপনার ঋজের উপর যে গ তােলে, তাকে আনার কা কখন বিবাহ কৰ্বে না। না, টিগেনসকেও নয়। দ্বিতীয় দৃশ্য বান-যুদ্ধক্ষেত্রে চাণক্যের শিবির। কাল-রাত্রি। সূরা ও চাণক্য। মুন্না। কাল যুদ্ধ। চাণক্য। কাল যুদ্ধ। মূর। এগুপ্ত আক্রমণ কৰ্বে ? চাণক্য। ই মূর। তা ত সমস্ত দিনে একশ’ একবার বলেছি। আবার সেই কথা এত রাত্রে জিজ্ঞাসা কর্তে এসেছে কেন? মুরা। স্থির হতে পাচ্ছি না গুরুদেব!=গুরুদেব, এ যুদ্ধে কাজ নাই! চাণক্য। [ সাশ্চর্বে ]মূরা ! মূর। চলও আমার পুত্র; আর সেও আমার পুত্র। এ আর নন-এৰু বৃতে দুটি ফুল। আমার হৃদয়-আকাশের

विजेंद्र बह
চগুপ্ত
সূৰ্য-চন্দ্র। তাদের সংবাতে যে আকাশ চুর্ণ হয়ে যাবে।
গুরুদেব, কাজ নাই। চন্দ্রগুপ্ত আমার পথের ভিখারী চৌক। বিবালে
কাজ নাই।
চাণক্য। নাৰী! সম্মুখে কালের
কালের সংহারমুর্তি! দেখছ না
আকাশ কি স্থির।কখলে সে যেন এক ঝটিকার অপেক্ষা করে।
সব প্রস্তুত। এখন নারীর কাকুতি শােবার সময় নয়। শিবিরে
বাও।
মুরা। নারীর কাকুতি ! এতই অবজের নারী! গুরুদেব, আপনি
কি বুঝবেন এ বক্ষে কি ঝড বৈছে ,আমি কতখানি সহ কচ্ছি, তা
আপনি কি বুঝবেন গুরুদেব ?
চাণক্য। আর তুমি কি বুঝবে নারী-প্ত গৌরবের দীন মমি-
যার রুদ্ধ আবেগ কারাগারের লৌহদ্বারে মাথা খুড়ে, নিজেই রক্তাক্ত
হয়ে ভূলুষ্ঠিত হয়। তুমি কি বুঝবে নারী—এ প্রতিহিংসার জালা, এ
নদাদ-যাও, বিরক্ত কবে না। শিবিরে যাও।-এ যুদ্ধ অনিবার্য।
মুরা। কিন্তু গুরুদেব !
চাণক্য। [ কঠোর স্বরে] যাও।
[ সভয়ে মুরার স্থান।
চাণক্য একাকী পদচারণ করিতে লাগিলেন।
চাণক্য। শূকরের মুখ, উর্ণনাতের দক, শবদাহের ণ, এতে
আম্মাদ, আর গর্জতের চীৎকার—এসলে কড়ায় চড়িয়েছি। দেখি
কি বাড়ায়। নূতন রকম ব্যঞ্জন একটা কিছু তৈরি হবেই নি।
[১

দ্বিতীয় অফ
চগুপ্ত
--হে অদৃশ্য মহাশক্তি! কি মধুর পূতিগন্ধময় ভাগাড়ের মাঝখান
দিয়ে আমার হাতে ধরে নিয়ে চলেছ। বলিহারি। (বাহিরের দিকে
চাহিয়া] উঃ। বাহিরে শিশির-বিন্দুগুলাে অলছে দেখ, যেন এক একটা
ফুলিঙ্গ। আকাশ দাউ দাউ করে পুড়ে যাচ্ছ। আর আমি এই
অখির প্রদাহে গা ঢেলে দিয়েছি। পুড়ে যাচ্ছি না-শুদ্ধ ব্ৰহ্মতেজে বােধ
হয়। [হাস্য ] না, এই কলিযুগেতেও একবাব’ৰাহ্মণের প্রতাপ দেখাতে
বে।-না প্রেয়সী? ঐ দীর্ঘ দন্তে হেসে, ক ম নেড়ে বলছে “হ”।
-শুনেছি।-কি কৰ্য্য তুমি, হে সুন্দরি। তােমার প্রেমে শেষে পাগল
হয়ে যাই।কে। কাত্যায়ন ।
কাত্যায়নের প্রবেশ
কাত্যায়ন। হ আমি, চাণক্য।
চাণক্য। এত রাত্রে।
কাত্যায়ন। সংবাদ আছে।
চাণক্য। কি।
কাত্যায়ন। নলের বৃদ্ধ মন্ত্রী এসেছিলেন।
চাণক্য। [সাগ্রহে]এসেছিলেন না কি।তার পর।
কাত্যায়ন। তিনি সন্ধির কথা বনে।
চাণক্য। কি বলেন।
কাত্যায়ন। অনেক বাজে কথার পর, তিনি বলেন, এই ভাইয়ে
ইয়ে বিবাদ কেন! রাজ্য সমান ভাগ করে নিলেই ত হয়। নন
অবােধ হােট ভাই। যা করে ফেলেছে, বড় ভাইয়ের কাছে তার বি
মানা নাই?
।

!
তীয় অৰু
চd
চাণক্য।
[ সকৌতুহলে) বটে
বটে! বটে!চক্রগুপ্ত সেখানে
ছিল?
কাত্যায়ন। ছিল।
চাণক্য। বিচক্ষণ এই মন্ত্রী -চন্দ্রগুপ্ত কিছু বলেছিল?
কাত্যায়ন। না।
চাণক্য। তুমি কিছু বলেছিলে ?
কাত্যায়ন। আমি বলেছিলাম যে তােমার পরামর্শ নিয়ে তার
পরে বলে পাঠাবে।
চাণক্য। তাকে আমার কাছে নিয়ে এলে না কেন?
কাত্যায়ন। তিনি স্বীকৃত হলেন না।
চাণক্য। খাসা চাল চেলেছে। পরাজয় অনিবাৰ্য দেখে।
[ চিন্তা।
কাত্যায়ন। তুমি কি বল ?
চাণক্য। কিছু না।
মনসা চিৰিত কৰ্ম বচসা ন প্রকাশয়েৎ।
কাত্যায়ন। কিন্তু আমি তােমার মিত্র।
চাণক্য। পণ্ডিত চাণক্য বলেন—ন মিত্ৰেপতি বিসে।
তােমাকে এখনও বলবার সময় হয়নি।তবে সন্ধি হবে না।
কাত্যায়ন। কেন?
চাণক্য। তুমি এখন শিবিরে যাও। আমি একবার প্রেয়সীর সঙ্গে
পরামর্তে চাই।
কাত্যায়ন। প্রেয়সী কে।
[ ৩

বিজয় অর চন্ত তিীয় দৃ চাণক্য। জানি না। [হা] আমার একজন গণিকা আছে। কাত্যায়ন। তােমার গণি। চাণক্য উচ্চহা করিলেন। কাত্যায়ন মুখ বাদন করিয়া তাহার পানে চাহিয়া রহিলেন। চাণক্য। তুমি নলের এই মন্ত্রীকে জান। কাত্যায়ন। জানি বৈকি। শৈশবে তিনি আর আমি এক শাস্ত্র- পাঠ করেছিলাম। মনােবিজ্ঞানে তার অসীম মেধা ছিল। তিনি কেবল দিবারাত্র সাংখ্য পড়তেন। চাণক্য। আর তুমি বুৰি পাণিনি মুখস্থ কর্কে । কাত্যায়ন। কি! তুমি হাসছো যে! পাণিনি ব্যাকরণের এক একটি সূত্র এক একটি গুঢ়তত্ত্বকথা। এই ধর- চাণক্য। এই মাটি করেছে।—থামে। পাণিনি শুনব আমার অৰকাশ নাই। ব্যাকরণে হবে না। কাত্যায়ন। পাণিনিকে তুমি তুচ্ছ কচ্ছ। তুমি জান যে- চাণক্য। নন্দ তোমায় কারারুদ্ধ করেছিলেন কেন, তা আমি এখন কতক বুঝতে পাচ্ছি। কাত্যায়ন। কেন? চাণক্য। তােমার এই পাণিনির জালায়। তুমি বসে পাণিনি আড়াই, আওড়াচ্ছই। রাজ্যে মড়ক এলাে-পাণিনি। -পাণিনি। অতিবৃষ্টি হল—পাণিনি। অনাবৃষ্টি-পাণিনি। মহারাণীব সঙ্গে মহারাজের কলং—পাণিনি। আমি শুনেছি রাজা নন্দ শেষে তােমার পাণিনির জালায় অস্থির।

তীয় অফ চ- কাত্যায়ন। অস্থির কি রকম? চাণক্য। শুনেছি যে তােমার পাণিনির বাসায় রাজার শেষে শূল বেদনা ধল্প , মাখা ঘুর্তে শুরু ক; খয়ে ঢেকুর উঠতে লাগলাে। তিনি শেষে নিরুপায় হয়ে তােমায় কারারুদ্ধ কর্তে বাধ্য হলেন।পাণিনি ভুল করেছিলেন। কাত্যায়ন। কি ভুল? চাণক্য। অত বড় একখানা ব্যাকরণ লেখা, যা কোন ভদ্রলােকে মুখস্থ কর্তে পারে না। কাত্যায়ন। দুঃখের বিষয় তুমি কিছু জান না। পাণিনির সুত্রগুলি- চাণক্য। চমৎকার ! তুমি শিবিরে যাও। দেখ চন্দ্রকেতু কোথায় ? কাত্যায়ন। চন্দ্রগুপ্তের শিবিরে। চাণক্য। বেশ সােজা কথা। তােমার পাণিনির কোনহুত্রে এ কথা বাহির করে দিতে পার্ক। কাত্যায়ন। পাণিনি অমন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মাথা ঘােরন নি। চাণক্য। যাও। একবার চন্দ্রকেতুকে আমার শিবিরে পাঠিয়ে দাও। কাত্যায়ন। দিচ্ছি। কিন্তু পাণিনি চাণক্য। আবার পাণিনি! যুদ্ধক্ষেত্রে এসে দুপুর রাত্রে পাণিনি দায় সময় নয়। তাকে পাঠিয়ে দাও। বিশেষ দরকার। কাত্যায়ন। পাণিনির সূত্র কি [৫ দ্বিতীয় জয় চগুপ্ত দ্বিতীয় দৃষ্ট চাণক্য। নরকে যা পাণিনি ও তার পুত্র। বা- কাত্যায়ন। পাণিনি শুদ্ধ ব্যাকরণ লােকের এইই বিশ্বাস-মূখ জগৎ !—পাণিনির মধ্যে বেদান্তসার- চাণক্য। যাও কাত্যায়ন। মেপিও না। যাও বলছি। কাত্যায়ন। যাচ্ছি। [ যাইতে যাইতে ] কিন্তু তুমি পাণিনির অপমান ক।ে [ দুঃখিতভাবে প্রস্থান। ঢাণক্য। নেহাৎ গােবেচারি। কেবল প্রবৃত্তির উপর কাজ করে যায়। কিছু বােকে না।-প্রেয়সী। কি বল! নন্দের মন্ত্রী একটা চাল চেলেছে, না? পরাজয় অনিবাৰ্য দেখে—খাসা চাল। নৈলে আর কি চালবে। আমি লক্ষ্য করেছি—তুমিও জান দেখছি। ঠিক ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে।কিন্তু মন্ত্রী! চাণক্যের সঙ্গে পাবে না। তুমি আমায় কিঞ্চিৎ সতর্ক করে দিলে এই মাত্র। চকের প্রবেশ ও প্রণাম চাণক্য। জমােতােমায় একবার ডেকে পাঠিয়েছিলাম। চন্দ্রকেতু। আজ করুন। চাণক্য। কাল যুদ্ধ। যুদ্ধে আমাদের জয় নিশ্চিত, যদি তােমা প্রাণ তুচ্ছ করে যুদ্ধ কর। চন্দ্রকেতু। যদি প্রাণ তুচ্ছ করে’ যুদ্ধ করি—এ কথা আপনি বলছেন কেন গুরুদেব। আমার অবিশ্বাস করেন ? গণ। না। চকে। তবে। ' চাণক। চন্দ্রগুপ্তকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করি না। ৪)

দ্বিতীয় অৰু
চণ্ড
চন্দ্রকেতু। সে কি গুরুদেব ।
চাণক্য। আমি লক্ষ্য করেছি যে, উচ্চাশার চেয়ে বলবতী একটা
প্রবৃত্তি তার পিছনে উকি মাচ্ছে। আমি দেখেছি দেখতে দেখতে
তার দীপ্ত মুখখানি সহসা মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে যায় ; দুই এক পশলা
বৃষ্টিও হয়ে যায়। তার শৌৰ্য দুর্জয়, যদি এই প্রবৃত্তির সঙ্গে তার সত
না হয়।সাবধান।
চন্দ্রকেতু। কি আজ্ঞা করেন ?
চাণক্য। কাল যুদ্ধ। সে পর্যন্ত তুমি সর্বদা তার পার্শ্বে থেকে তাকে
ব্যাপৃত রাখবে। একাকী থাকতে দেবে না। আর যুদ্ধের সময়েও
তার পার্শ্ব ত্যাগ কোরো না।
চন্দ্রকেতু। যে আজ।
চাণক্য। আমি আর মূরা ঐ পৰ্বতের নীচে সেতুপার্থে তােমাদের
বিজয়বার্তার প্রতীক্ষা ।
চকেতু। যে আজ।
চাণক্য। যাও—[ চন্দ্রকেতু যাইতে উদ্যত ] আর দেখ
চন্দ্রকেতু ফিরিলেন
চাণক্য। চন্দ্রগুপ্ত ঘুমিয়েছে?
চন্দ্রকেতু। হাঁ গুরুদেব।
চাণক্য। একবার না জাগিও না। ঘুমােক। তৰে মুরাকে
না আজ রাত্রে কোন প্রয়ােজন নাই। কাল তুমি প্রত্যুষে উঠবে।
চন্দ্রগুপ্তকে ওঠাবে। মূরা জাগ্রত হবার পূর্বে যুদ্ধযাত্রা কর্বে তুমি আর
প্তি।
[০৭

पिन बह
-প্ত
छीन पर
চকেতু। যে আজ।
গণ্য। যাও।
[ চন্দ্রকেতু চলিয়া গেলেন।
চাণক্য। উদার যুবক! আবার না প্রেয়সী! হঠাৎ মুখ দিয়ে
বেরিয়ে গিয়েছিল।—নির্বোধ যুবক! পরের জন্য সর্বৰ পণ করে বসে
আছে। চন্দ্রগুপ্ত তােমার কে!র্থ ।
[ স্থান।
তৃতীয় দৃশ্য
স্থান—হিরাটের প্রাসাদ। কাল—প্রভাত।
আটগেনস্ ও বন্দী অবস্থায় সেলুল দায়মান
আটিগােন। সেলুকস। তুমি আজ আমার বন্দী।
সেলুক। জানি আটগেন।
আন্টিগেন। আজ তােমার সে দত্ত কোথায় সম্রাট।
সেলুকস। দন্ত কখন করি নাই। যুদ্ধে জয় পায় আছেই।
অনেক যুদ্ধে জয়ী হয়েছি। আজ তােমার হন্তে পরাজিত হয়েছি।
আবার যদি খু ইয়-
আটিগােন। আর যুদ্ধ হবে না সেকস। এই শেষ যুদ্ধ!
সেলুকস। শেষ যুদ্ধ।দুমি আমায় হত্যা কৰ্বে না?
0]

দ্বিতীয় অং
চও
তৃতীয় বৃ
আটিগােন। না, হত্যা কৰ না।
সেলুক। তবে কি কর্তে চাও!-আটিগােন! এ কি। তােমার
চক্ষে একটা হিংস্র কালা দেখছি। মুখ পাংশুবর্ণ হয়ে গিয়েছে। কয়ে
দন্তে ঘর্ষণ কচ্ছ। তুমি যেন মনে মনে একটা পৈশাচিক সঙ্কর আঁটছে,
আবার তারই ভীষণ আকার দেখে নিজেই শিউরে উঠছে।
আটিগােন। না, আমি তােমায় হত্যা কৱ না।
সেলুকস। বার বার সে কথা উচ্চারণ কচ্ছ কেন আটিগােন?
আটিগােন। আমরা মুসভ্য গ্রীকজাতি। যুদ্ধে পরস্পরের বক্ষে
ছুরি বসাই, হিংস্র ব্যাঘ্রের মত পরস্পরের টুটি কামড়ে ধরি। যুদ্ধের পর
শত্রুকে চিরাদ্ধ কারাগৃহে আজীবন ব করে রাখি, কিন্তু হত্যা করি না।
তােমায় সেই চিরাকার কারাগারে রেখে দেবে। হত্যা কর না।
ভয় নাই।
সেলুকস। না আটিগােন। বরং আমায় একেবারে হত্যা কর।
তিলে তিলে বধ কোর না।
আটিগােন। না, আমরা যে সত্য গ্রীক। তােমায় আজীবন বন্দী
করে রাখবে।
এমন কক্ষে বদ্ধ করে রাখবে, যেখানে সূর্যের
আলােক ভয়ে প্রবেশ করে না, বাতাস প্রত্যাহত হয়ে ফিরে আসে।
ত্যা কৰ্ব না।-সেলুক। আমি শৈশবে পিতৃহীন। দাক্ষিণ্যের গায়ে
ভিক্ষুক করে ঈর আমাকে নিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন। দারিত্রের
কঠোর বাধা ঠেলে নিজের শৌৰ্য্য ও দক্ষতায় সৈন্যাধ্যক্ষ হয়েছিলাম—সে
কি আমার লজ্জার কথা?
সেলুকস। আমি তা কখন বলি নাই।
[ ৪৯

ভয়
চত্ত
আতিগােন। না—তথাপি সংসারে এরূপ অবিচার যে আমার
পিতা কে আমি তার সংবাদ তাকে দিতে পারি নাই বলে সোমাকে
এক বলে করে দূরে দূরে রাখে। আমার পিতা কে তা আমি
জানি না; কিন্তু বােধ হয় তােমারই মত তার মানুষেরই চেহারা ছিল।
কাজ। আমার জন্মের জন্য আমি দায়ী নহি, আমার কাৰ্যের জন্য
আমি দায়ী। আমাকে কখন একটা নীচ কাজ কর্তে দেখেছ?
সে। না।
কাটিগেন। তৰে!-না, এখন আর তােমার প্রশংসার মূল্য
কি? এখন তােমাকে অধম টিয়াপাখীটির মত যা ৰলাৰৰ তাই বলে
-এই যে সেলুকসের কন্যা।
বলিৰে সহরী হেলেনের প্রবেশ
হেলেন। এই বােৰ!—বাবা। বাবা।–[ সেকসের বক্ষে গিয়া
মুখ লুকাইলেন ]
সেলুল। হেলেন। কল আমার।
[ তাহার গলদেশ জড়াইয়া ধরিলেন ।
আতিগােন। সাদর সভাষণ শেষ হয়েছে সম্রাট?-না হয়ে
কে শেষ করে নাও। আমি অপেক্ষা কচ্ছি। এত নিষ্ঠুর আমি
নই।—এই তােমাদের শেষ সাক্ষাৎ।
হেলেন। শেষ সাক্ষাৎ
আন্টিগেনস্। ই রাজকন্যা। তােমার পিতাকে দণ্ড দিয়েছি
আজীবন চিকারাগারে বাস।

-
হেলেন। যে আল বিচারকর্তা!
আন্টিগেন। ভােমার বিলবার আছে।
হেলেন। আমার কিছু না। বীরের প্রতি বীরের আচরণ
ৰীরের বিচাৰ্য। বশীর প্রতি জয়ীর ব্যবহার—ীর অভিরুচি।
আমার কি! অনধিকার চর্জা আমি করি না।
আটিগােন। এইমাত্র।-সেলুকস। তােমার কন্যা অতি পিতৃ-
ভক্ত দেখতে পাচ্ছি।
হেলেন। আটিগােন! তােমার রাজ্য সম্বন্ধে তুমি কথা কও।
পিতার প্রতি কার মেইকন্যার বিচা। তােমার নয়।
আটিগােন। এখনও গর্ব !
হেলেন। জানি আটগেন, তুমি আমায় এখানে কেন এনেছে।
কিন্তু এ বামনের চাদে হাত। পাবে না। তুমি এখন জয়ী; এটা
রাজ্যের অধিপতি। সেখানে তুমি যা ইচ্ছে তাই কর্তে পারে। কিন্তু
আনারও একটা রাজ্য আছে। সে রাজ্যের অধী আমি। নে
বাজে তােমার প্রবেশের অধিকার নাই।—বান পিতা, আপনি বীর।
যদি বীরের প্রতি বীরের এই বােগ্য ব্যবহার হয়, যান আপনি
অন্ধকার কারাগৃহে। আমিও যাই। আমাদের এই জয়ের মত
বিচ্ছেদ। পিতা! বিদায় দেন।এ কি বাবা। মাথা হেঁট করে
বৈলেন ৰে।
সেলুকস। হেলেন! না।তাই হােক।
হেলেন। পিতা! এ বিচ্ছেদে আমাদের উভয়ের দুধ সমান।
আপনিও চক্ষে যে অন্ধকার দেখবেন, আমিও চক্ষে সেই অন্ধকার
[৫১

দ্বিতীয় জয়
547
তৃতীয় অ
দেবে। আপনিও পুরুষের মত সহ করুন, আমিও নারীর মত সহ
কৰ। কিসের ভয়।—এই আতিগোন আমাদের উপর চোখ
রাঙাবে।
আন্টিগােনস। হেলেন! কেন আমার প্রতি বিরূপ হচ্ছ।
আমায় বিবাহ কর। আমি তােমার পিতার ক্রীতদাস হয়ে থাকবে।
তাকেই আবার এই সিংহাসনে বসাৰৰ । হেলেন। প্রসন্ন হও, এই
সিংহাসন ছেড়ে দিচ্ছি।
হেলেন। [ সবজিহাতে ] মুখ! প্রলােভন দেখিয়ে নারীর হৃদয়
জয় কর্তে চাও! নারীর ধর্মপ্রাত সুর্যের চেয়েও যা ভাস্বর,
মৃত্যুর চেয়েও যা অবল, মাতার দেহের চেয়েও যা পবিত্র,—সেই নারী-
ধর্ম-তােমার এই ধূলিমষ্টি দিয়ে ক্রয় কর্তে চাও। স্পর্ধা, বটে।
যাও, আমি তােমায় স্মৃণা করি।
আটিগােন। উত্তম।—সেলুক। আর আমার অপরাধ নাই।
হরী! দুইজনকে অন্ধকূপে নিক্ষেপ কর।—নিয়ে যাও।
প্রহরীয় সেনূসকে ও হেলেনকে ধরিল।
হেলেন। বিদায় দেন বাবা।
সেলু। হেলেন!-[ মন্তক অবনত করিয়া চকু মুছিলেন ।
হেলেন। এ কি বাবা! আপনার চক্ষে জল।
বীর আপনি।
আপনি এই দুঃখভারে নুয়ে পড়ছেন। তা হলে যে পারি না। আমি
শিশুকে অনাহারী, বৃদ্ধকে লাহিত, কখকে পরিত্যক্ত মৃতদেহকে
পদাহ, সৰ মর্মভেদী দৃশ্য দেখতে পারি, কিন্তু আপনার চক্ষে জল যে
দেখতে পারি না।-বাৰা। তবে তাই হােক। আপনার জন্য আমি
৫২

विगै बह
চপ্ত
प्रौन मा
ক।
কি না কর্তে পারি বাবা! বলে নিজেকে বলি দিব । কিন্তু কি কর্ণেন
বাবা। কি কর্ণেন! লজ্জায় মাটির ভিতর মাথা লুকোতে ইচ্ছা কচ্ছে,
জ্বলে যাচ্ছি।——যা।-আন্টিগােন!—আমি তােমায় বিবাহ
আমি তােমার ক্রীতদাসী। [জানু পাতিলেন] বাবাকে
ছেড়ে দাও।
সেলুকস। না হেলেন। তা হবে না। তার চেয়ে আমি নরকে
যেতে প্রত। ক্যামূল্যে মুক্তি ক্ৰৰ কৰ্ব না। গ্রীক আমি।
ক্ষণিক দৌর্বল্য।—চল কারাগারে প্রহরী। যেখানে ইচ্ছ, নিয়ে চল।
বিদায় দাও কঙ্গ। [ বাহু বেন করিয়া ] হেলেন! হেলেন।
প্রহরীয় তাহাদিগকে পৃথক করিল। তাহারা প্রহরী কর্তৃক
কিৎ
দূর
নীত হইলে আটিগান সিংহাসন হইতে লাফাইয়া পড়িলেন।
বলিলেন দাও!
প্রহরীর বন্দীয়সহ দাঁড়াইল।
আটিগােন। সেকস। মুক্ত তুমি।আমি জারজ হলেও, আমি
গ্রীক। মহৰ বুঝি।-এ শুদ্ধ সুন্দর নয়, স্বর্গীয়। ফিডিয়া এর চেয়ে
সুন্দর কিছু কখন কল্পনা কর্তে পারেন নাই। আমি কঠোর। কিন্তু এ
অপূর্ব দৃন্তে আমার চক্ষেও জল এসেছে।-মহিমময়।হেলেন।
আমি তােমার যােগ্য নই। সেলুকস। এ সিংহাসন তােমার।
[ এখন।

bar
চতুর্থ দৃ
চতুর্থ দৃশ্য
স্থানসুজন। কালসা।
নারী-শিবিরের সমুখে ছায়া ও তাহার সঙ্গিনীগণ।
ছায়া। এই যুদ্ধের ফলাফল জানার জন্য আমি অধীর হচ্ছি।
দূর থেকে কেবল যুদ্ধের কোলাহলই শুনছি, অথচ যু-পিপাসায় আমার
বুক ফেটে যাচ্ছে।
১ম সজিনী। কেন এত যুকৃষ্ণা রাজকুমারী।
ছায়া। আমি তাকে দেখাতে চাই, যে আমি তার অযোগ্য নই
মসলিনী। কার?
ছায়া। চন্দ্রগুপ্তের।
৩য় সমিনী। মরেছে।
ছায়া। কেন?
ফর সঙ্গিনী। চক্রকে ভালােবেসেছো?
ছায়া। ভালােবেসেছি কি না তা জানি না; তবে জাগ্রতে নিদ্রায়
তিনিই আমার ধ্যান।-আমি কাল রাত্রিতে কি স্বপ্ন দেখছিলাম
জাননা।
২ পলিনী। না।
যায়। এ দেখছিলাম যেন আমি মাগত আকাশে উঠে
বাহি; আর পদতলে কেবল মট মাত্র জিনিষ দেখতে পাচ্ছি পৃথিবী
৫৪।

চর
আর চন্দ্রগুপ্ত। পরে আরও উঠ যাচ্ছি—আর যাচ্ছি। পৃথিবী
ক্রমে ক্রমে ছোট হয়ে গেল, শেরে আর তাকে দেখা গেল না। কি
চন্দ্রগুপ্ত পূর্বের মত বলতে লাগলাে।
২সদিনী। বলেছি ত মরেছে-
ছায়া। কিসে
২য় সদিনী। এ রােগে !
ছায়া। কি রােগে।
২য় সহিণী। ভালােবাসায়।
ছায়া। তবে যে রােগে!
২য় সজিনী। ঐত রােগ।
ছায়া। তবে ঐ রােগেই যেন আমি মরি। তার চেয়ে মৃত্যু
আমি চাই না।
চকের প্রবেশ
যায়। কি দাদা। যুদ্ধের সংবাদ ।
চন্দ্রকেতু। আমার আহত হয়েছে। অ অ চাই।
( এলাে।
ছায়া। যুরে সংবাদ কি?
চকেতু। আমাদের পরাজয়।
হয়। পরাজয়। কোথায় দাদা।
চকেতু। বিপন্ন। আমি তার সাহায্যে যাচ্ছি।
যায়। আমিও যাবে। আমার মত করে বল।
চকেতু।
[এন।
উম।

पिठौन बह
চণ্ড
ছায়া। [সঙ্গিনীগণের প্রতি ] বা, তােমরা শিবির রক্ষা কর।
[ সঙ্গিনীগণের প্রস্থান।
ছায়া। ভগবা। যদি সুযােগ পেয়েছি, যেন কৃতকার্য হই,
এই বর দাও। তিনি বিপন্ন। আমি যেন তার প্রাণরক্ষা কর্তে
তাতে যদি প্রাণ দিতে হয়, তা হলে যেন হামুখে
প্রাণ দিতে পারি। তিনি যদি তার বিনিময়ে, একবার মুহূর্তের জন্য
ভালােবেসে একবার আমার পানে হেসে চান, তা হলেই আমার
পারি।
সার্থক মৃত্যু।
দুইটি অখ লইয়া চন্দ্রকেতুর প্রবেশ
চকেতু। ছায়া, অশ্ব এখত।
ছায়া। চল দাদা । [ জানু পাতিয়া ] মহেশ্বরী। যে শক্তিবলে তুমি
নৰ জয় করেছিলে—সেই শক্তির এক কণা দাও মা!—চল দাদা।
[ অখারূঢ় হইরা উভয়ের প্রস্থান।
পঞ্চম দৃশ্য
স্থান-সেতুপার্ষে অরণ্য। কাল-সন্ধ্যা।
চাণক্য একাকী।
চাণক্য। দুধিত লেলিহান কুকুরদের যুদ্ধক্ষেত্রে ছেড়ে দিয়েছি।
এখন তা বলে এই প্রবাহিত ভৈরবরক্তধারা পান করুক।
নিবিড় অনুণ্যে ব্যায়-তকের অভাব আজ তারাই পূর্ণ কর্জে। তফাৎ

দ্বিতীয় অ চলন্ত এই যে, ব্যাপক উল্পের জন্য অনন্যোপায় হয়ে মানুষের রক্ত শােষণ করে। আর মানুষ লােতে, অন্ধ-হিংসায়, পরস্পরের টুটি কামড়ে ধরে। বলিহারি ষ্টি।—ঐ সূর্য অস্ত যাচ্ছে। দিবার চিতাগ্নি তার চারিদিকে ধু ধু করে জ্বলে উঠেছে। কাল আবার ঐ সূৰ্য্য উঠবে। উক। একদিন আসবে, যে দিন ঐ সূৰ্য্য আর উঠবে না। ঐ জ্যোতি ক্রমে ক্রমে শীর্ণ, মলিন, মূসর হয়ে যাবে। তার পাংশুরঞ্জ- สค์ ধুম পৃথিবীর পশুর মুখের উপর এসে পড়বে। তার পর তাও পড়বে না। কৃষ্ণ সূৰ্য্য অনশূন্যে অদৃশ্য হয়ে যাবে। কি গরিমাময় দৃশ্য সেই !-কে? কাত্যায়নের প্রবেশ চাণক্য। কাত্যায়ন? কি সংবাদ। কাত্যায়ন। আমাদের যুদ্ধে পরাজয় হয়েছে। চাণক্য। পরাজয়! কাত্যায়ন। চন্দ্রগুপ্ত পলায়িত। তাই দেখে আমাদের সৈন্য ছাত্র- হয়েছে। চাণক্য। চন্দ্রগুপ্ত পলায়িত ।কোথায় ? কাত্যায়ন। পূর্বদিকে। চাণক্য। কোন্ দিকে তা জিজ্ঞাসা করি নি। কোথায় ? কাত্যায়ন। তা জানি না। চাণক্য। যা আশা করেছিলাম!—চকেতু কোথায় ? কাত্যায়ন। তা জানি না। তবে আমি তাকে দশ থেকে পড়ে যেতে দেখেছি। [৫৭০ विशेष बाद চর পম দৃ চাণক্য। তুমি এতক্ষণ কি কর্মিলে মূখ। কাত্যায়ন। আমি ঐ পর্বতশিখরে দাড়িয়ে যুদ্ধের গতি নিরীক্ষণ কহিলাম। চাণক্য। নিরীক্ষণ কছিলে।যখন জয় নিশ্চিত, মুগিতা-ও। কাত্যায়ন। ঐ যে! চন্দ্রগুপ্ত আসছে। চাণক্য। [ সাগ্রহে] কৈ? | করতালি দিয়া ] যে! এখনও আশা আছে। কাত্যায়ন! যাও, তুমি সৈন্যদের আবাস দাও। বল চন্দ্র- ও আসছে, পালায় নি,যাও, ণী যাও,-ডিক্তি কোরাে না। [ কাত্যায়নের প্রস্থান। চাণক্য। চিন্তা নাই। কেনৰ কন্টকম! মুরা। মুরার প্রবেশ মূর। কি গুরুদেব! চাণক্য। এইখানে দাড়াও।[ দাড় করাইয়া ]াতে জানাে নারী? সূরা। সে কি! চাণক্য। ঐ চন্দ্রগুপ্ত আসছে। তােমায় কাঁদতে হবে। মূরা। পুত্র! পুত্র! [অগ্রসর হন। চাণক্য। খবর্দার। এখন মেহ নয়—তিক ভৎর্সনা উষ্ণ জল, পুত্রের উপর তার অভিমান, অভিনয় কর্জে হবে।—এত? ধীরে ধীরে মুক্ত তরবারি হন্তে নতৰে চন্দ্রগুপ্তের প্রবেশ চাণক্য। এই যে চন্দ্রগুপ্ত।প্ত যুদ্ধে জয়লাভ করে এসেছে সূরা।তাকে তােমার বয়ে নাও। বীরপুত্র তােমার-উৎসব কর। চ। না করবে। আমি জয়লাভ করে অলি নি। ৫)

বিতর অ
badet
পখম
চাণক্য। সে কি।তবে।
চন্দ্রগুপ্ত। আমি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে এসেছি।
চাণক্য। সে কি! অসম্ভব! মুরার পুত্র যুদ্ধক্ষেত্রে লাভ করে
কিংবা প্রাণ দেয়, পলায় না।
মূর। পালিয়ে এসেছে।—স্থিচিত্তে এ কথা বলছো চল।
পালিয়ে এসেছে। মর্তে পারে নি ?—ভী।
চাণক্য। না, এ কণিক দৌর্বল্য যাও, যুদ্ধ কর চন্দ্রগুপ্ত।
চন্দ্রগুপ্ত। পার্ব না! [ তরবারি পদতলে রাখিলেন।
চাণক্য। কি পার্কে না?
চপ্ত। ভাইয়ের গায়ে অাঘাত কর্তে।
মুরা। কাপুরুষ!
চন্দ্রগুপ্ত। কাপুরুষ নই—ভাই।
গণক। যে ভাই তােমাকে নির্বাসিত করেছে।
চন্দ্রগুপ্ত। তবু সে ভাই।
মুরা। যে ভাই তােমার মাতাকে অপমান করেছে।—কি, নীৰ
রৈলে যে?
চাণক্য। যার রাজস্ব দৌরাত্মের নামান্তর মাত্র।
চন্দ্রগুপ্ত। গুরুদেব! জাবিরােধ কি আপনি আজ দেন।
চাণক্য। ধর্মযুতে। কুরুক্ষেত্রে গবান আর কি বলে-
ছিলেন?
চও। মানা কর্ষেন গুরুদেব। করে যুক্তি আমার
কে স্পর্শ করে না।

তিয় গ চণ্ড চাণক্য। (সপদাপে) এই পাপেই আৰ্যাবর্ত গেল। চন্দ্রগুপ্ত। গীতার মাহাত্ম্য তুমি কি বুঝবে?-শাস্ত্রচর্চা ব্রাহ্মণের অধিকার। চন্দ্ৰপ্ত। ব্রাহ্মণের অধিকার ব্রাহ্মণ ভােগ করুন। আমায় বিদায় দিন। চাণক্য। চন্দ্ৰপ্ত। তােমার এই দৌর্বল্য আমি মাঝে মাঝে লক্ষ্য করেছি। অন্য সময়ে এ দৌর্বল্যে যায় আসে না। ও নৈরাশ্যে অলস প্রহর যাপন কর, উষ্ণ অশ্রুজলে নৈশ উপাধান অভিষিক্ত কর,- যায় আসে না। সময় সময় ক্রন্দনও বিলাস। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দাড়িয়ে এ দৌর্বল্য সাংবাতিক। ভূমিকম্পের মত উঠে, সে নিমেষে শতাব্দীর রচনা ভূমিসাৎ করে। চন্দ্রগুপ্ত। মুহূর্তে জীবনের সাধনা নিল করে দিও না। জীর্ণ বস্তুসম এই আল হৃয় থেকে ঝেড়ে ফেলে দাও। বুয়ে অগ্রসর হও। ৭১১ v 3। { চপ্ত। মানা কনে দেব। মুরা। চন্দ্রগুপ্ত। সত্যই কি আমার পুত্র তুমি।!! যে নদ- চও। তাকে মানা কর মা । মূর। মানা। সর্বাঙ্গে দিবারাত্র শত বৃশ্চিকের দংশনের জালাকে শীতল কর্তে পারে এক–নজের রক্ত। চপ্ত। মা, শৈশবে কত তার সঙ্গে খেলা করেছি, তাকে কত খেলনা কিনে দিয়েছি। তােমার কাছে মিনি পেয়ে তার আধখানি ভেঙ্গে নন্দকে নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছি; পিতার তিরস্কার তার ছলছল চটি চুম্বন করে অশ্রু মুছিয়ে দিয়েছি। একদিন এক শতক অ চুটে যাচ্ছিল, ন সঙ্গুখে পড়েছিল, তার আসন্ন বিপদ দেখে আমি ৬]

দ্বিতীয় অল্প
তাকে বক্ষ দিয়ে ঘিরে গরে পদাৰাত নিজের পিঠ পেতে নিয়েছিলাম।
আজ যুদ্ধক্ষেত্রে আবার সেই কোমল তরুণ চল চল মুখখানি দেখলাম,
আর সেই সব কথা একসঙ্গে মনে পড়ে গেল। তার মাথার উপর
খড় উঠাতে আমার পিতৃরক্ত হৃৎপিণ্ডে লাফিয়ে উঠে পরের ধারে
সবলে আঘাত করে চেঁচিয়ে বলে উঠলাে “সাবধান চন্দ্রগুপ্ত।
ভাই।—মগধের সাম্রাজ্য কি ভাইয়ের চেয়ে বড়?
মুরা। নন্দ তােমার ভাই। কিন্তু আমার কে?
সপ্ত। নন্দ তােমার পুত্র।
মা। গর্ভে ধারণ না কলে কি
পুত্র হয় না ? নন্দের মাতার মৃত্যুর পর তার মাতৃরূপিণী হ'রে তুমি
তাকে মানুষ কর নি? স্তন্যপান করাও নি? বুকে করে ঘুম
পাড়াও নি?
মুরা। সেই জন্যই ত ক্ষমা কর্তে পারি না। সে সব কথা নন্দ
ভুলে যেতে পারে, আমি পারি না!—যখন অধম বাচাল আমার কেশ
আকর্ষণ কল্পে—আর নদ শূদ্রাণী মা বলে ব্যঙ্গ করে-তখন কি
বলব পুত্র-ওঃ!—তােমার কাছে মাতার অপমান কি কিছুই নয় ?
মা তােমার কেউ নয় ?
চাণক্য।
এক মাতৃগর্ভে জন্ম বলেই ভাইয়ের সঙ্গে সম্বন্ধ না ?
মায়ের চেয়ে ভাই বড়? জগতে এই প্রথম হ'ল যে, সন্তান মায়ের
অপমানের প্রতিশােধ নেয় না।-[ মুরাকে]দো অভাগিনী নারী।
তােমার পুত্র! মা চিনে না।-জানে না যে জগতে যত পবিত্র
জিনিৰ আছে, মায়ের কাছে কেউ নয়।
। তা জানি কৰে।
[ ৬১

पिन पर চন্ত পঞ্চম চাণক্য। না জানাে না! নহিলে মায়ের অপমানের প্রতিশােধ নিতে সকান চিধা করেমা—যার সঙ্গে একদিন এক অঙ্গ ছিলে এক প্রাণ, এক মন, এক নিস, এক আযেমন ঃ একদিন বির বােগনিদ্রায় অভিভূত ছিল, তার পর পৃথক হয়ে এলে--অগ্নির কুলিদের মত, সঙ্গীতের মূর্ধনার মত, চিরন্তন প্রহেলিকার প্রশ্নের মত, মাযে তার দেহের রক্ত নিংড়ে, নিভৃতে, বক্ষের কটাহে চড়িয়ে মেহের উত্তাপে জ্বাল দিয়ে সুধা তৈরি করে তােমায় পান করিয়েছিল, যে তােমার অধরে হাত দিয়েছিল, রসনায় ভাষা দিয়েছিল, ললাটে আশীষ- চুন দিয়ে সংসারে পাঠিয়েছিল , মারােগে, শােকে, দৈন্তে, দুর্দিনে তােমার মুখ যে নিজের বক পেতে নিতে পারে, তােমার স্নান মুখখানি উএল দেখবার জন্য যে প্রাণ দিতে পারে, যার স্বচ্ছ মেহমন্দাকিনী এই ত তপ্ত মরুভূমিতে শতধারায় উচ্ছসিত হয়ে যাচ্ছে ; মাযার অপার অত্র করুণা মানবজীবনে এত সুর্যের মত কিরণ দেয়—বিতরণে কার্পণ্য করে না, বিচার করে না, প্রতিদান চায় না, উন্মুক্ত, উদার কম্পিত আগ্রহে দুহাতে আপনাকে বিলাতে চায় ;—এ সেই মা। চ-ও। দেব। রক্ষা করুন, আমার প্রাধে উত্তেজিত কনে না। মূর। চগুপ্ত। এতদিনে বুঝলাম যে, আমি তােমার কেউ নই। নক ক্ষত্রিয়, তুমি ক্ষত্রিয়-কুমার। নই তােমার ভাই। আমি শূদ্রাণী। আমি তােমায় গর্ভে ধারণ করেছিলাম মাত্র। আমি কে? আমি ত তােমার মা নই। চও। পুত্রের উপর তুমি এত নিষ্ঠুর হতে পাৰো মা। তুমি ৬২]

बिछोड पर
চর
ম
আমার মা নও? তুমি ও আমার মা নও, তুমি আমার , তুমি
আমার সাধনা, তুমি আমার ঈশ্বরী। ভােমার আজ আমার কাছে
দৈববাণ।
মূর। তাই যদি সত্য হয়, তবে বুকে অগ্রসর হও।—কি। তথাপি
নীরব!—চন্দ্রগুপ্ত! [ ভগ্নস্বরে) আমি তােমার মা, তােমার অপমানিত
প্রপীড়িত পদাত মা। এই আমার আজ।এখন তােমার যেরূপ
অভিরুচি।
চন্দ্রগুপ্ত। তােমার ইচ্ছাই আমার ইচ্ছ। আর যিধা নাই।
তােমার আজ্ঞাই এই প্রসঙ্গুল ফুটিল জগতে আমায় পথ দেখিয়ে নিয়ে
যা। আমি যেন তােমাকেই আমার জীবনের ধ্রুবতারা করে পায়ে
হৃক্ষেপ না করে সংসারসমূত্রে তরী বেয়ে চলে যাই।মা আশীর্বাদ
কর। এই মুহূর্তে আমি যুদ্ধে যাচ্ছি।
সূরা। এই ত আমার পুত্র।
চাণক্য। এই ত আমার শিষ। এই ক্ষণিক অবসাদ ভােমার
প্রাণ থেকে ঝেড়ে ফেলে দাও। একবার বলে-
দূর নেপথ্যে। এই দিকে। এই দিকে।
চাণক্য। ঐ’র আছে এখানেই আসছে। একবার ওঠো
বৎস! মেনিন্মুক্ত সূর্যের মত দ্বিগুণ তেজে এলে ওঠে।
দূৰ্য্যধ্বনি! তােমাৰ সৈন্যেরাও আসছে। ভয় নাই। একা চও
শত নলের সমান। কারও সাধ্য নাই যে আমার শিষ্যকে পরা
করে।দূরে
চন্দ্রকে সসৈন্যে তােমার সাহায্যে আছে।
নিকটতর নেপথ্যে। এই জলের ভিতরে।
' [৩৩

তীয় আৰু
চন্ত
চন্ত
চাণক্য। চণ্ড! দৃঢ় হও!—এলাে মূরা ইয়াের।
সূরা। আমার পদধূলি নাও বৎস। [ পদধূলি দান )
[ উভয়ের প্রস্থান; বিপরীত দিক হইতে সৈ-চতুষ্টয়ের সহিত
মূক্ত তরবারি হস্তে নন্দের প্রবেশ
নল। এই যে এখানে কাপুরুষ। [ আক্রমণ করিলেন ]
চন্দ্রগুপ্ত। আপনাকে রক্ষা কর নল [ তরবারি উঠাইলেন ]
এ কি। হাত কাঁপে কেন।
যুদ্ধ হইতে লাগিল। দুইজন সৈনিক ভূশায়ী হইল। পরিশেষে
চত্রগুপ্তের তরবারির আঘাতে নলের তরবারি করচ্যুত হইল।
তাহার পর স্বীয় তরবারি দিয়া নলের শিরচ্ছেদ করিতে উদ্যত হইলে,
নদ হস্ত দিয়া নিবারণ করিতে গিয়া কহিলেন-“আমায় বধ কোনাে
।” চন্দ্রগুপ্ত তৎক্ষণাৎ তাহার তরবারি দূরে নিক্ষেপ করিয়া নন্দকে
জড়াইয়া ধরিয়া কহিলেন আমার বক্ষে এস,ছােট ভাইটা আমার”।
ইত্যবসরে অবশিষ্ট সৈনিকায় তাঁহাকে আক্রমণ করিতে উদ্যত হইলে,
সেই মুহূর্তে প্রথমে চন্দ্রকেতু ও মায়া, তৎপাতে অন্যান্য সৈনিক
আসিয়া উহাদের প্রতি ভর নিক্ষেপ করিতে উদ্যত হইলেন। ঠিক
এই সময়ে চাণক্যকে সেতুর উপর দেখা গেল। তিনি কহিলেন -
কোরো না, বন্দী কর।”
৬৪]

তৃতীয় অঙ্ক
প্রথম পৃষ্ঠ
স্থান—সমুতীর। কালস্যা।
সৈনিকগণ গাহিতেছিল—দূরে আটিগােনা নীরবে দণ্ডায়মান।
গীত।
ধন সন গগন গরজে, বরিষে কারা ,
সমে অনী আৰৰে, নয়ন, লুণ্ড চত্ৰতাৰ ,
দীপ্ত করি সে তিমি গে কার আননি
আমার কান্না সে বে গাে-মার হৃদয়রাণী।
জ্যোৎলাসিত নীল আকাশে যখন বিহগ গা,
বি সমীরে হিরি ধরণ মুগ্ধ নয়নে চাই,
তখন গরণে বা কাহার—দুল মধুর বাণী
আমার কুররাণ সে যে গাে আমার হৃদয়মাণ।
আধারে আলোকে, কাননে কুয়ে, নিখিল ভুৰ মাৰে,
তাহারই হাসিট ভাসে, হৃদয়ে, তাহারই মুরলী বাজে ,
উল করিয়া আছে দূরে সেই আমার কুটীরখানি
আমার কুটীরণ সে যে গাে আমার হায়ণ।
বহুদিন পরে হই আবার আপন কুটীৰাশী,
দেখিব বিরহবিধুর ধরে মিলনমধুর হাসি,
শুৰিৰ ৰিনীৰ কঠে শিশবপুর বাণী
আমার কুররাণ সে যে সে আমার হয়ঞ্জ।
গায়িতে গামিতে এখন।

ब তৃতীয় অল্প bordet আন্টিগােন। এরা গৃহে ফিরে যাচ্ছে।—কি আনন। বহুদিন পরে প্রিয়জনের মুখ দেখবে। আনল হবে না। আর আমি। দেশে কেউ নাই, যা’র মুখ আমার উদয়ে উল হবে। এক বৃদ্ধা মাতা- শৈশবে পালন করেছিলেন বটে, কিন্তু তার পর আমাকে পশুর মত হাটে বিক্রয় করেন। জগতে আমার ভালবাসার পাত্র কেউ নাই, আমায় কেউ ভালবাসে না।—আমি দেশে চলেছি তবে কিসের জন্য? উইকে যেমন একটা মালা আশ্বাসে উর্কে উড়িয়ে নিয়ে যায়, তেমনি—একটা তীব্ৰব্য ক্ষিপ্তবেগে আমায় চুটিয়ে নিয়ে চলেছে। এক ম্যাধি—অথচ সে আমার নিজের সৃষ্ট নয়, তার জন্য আমি দায়ী নই। অথচ সংসারের এমনই বিচার না তাই বা অপরাধ কি।স্বয়ং ঈশ্বরের এই বিচার। সন্তান তার পিতার পাপ, দৈন্ত, ৰাধির ভাগী হয় না। অথচ যাক! ভাব না। ক্ষিপ্ত হয়ে যাবে।-মেধ করে আছে, বাতাস উঠেছে। সমুদ্র গর্জন কর্শে। বাও উচ্ছসিত নীল সিন্ধু। কােলিয়া যাও। মানবের ক্ষুদ্র দম্ভ উপেক্ষা করে, কালের অকুটি তুচ্ছ করে, অনন্ত আকাশের সঙ্গে অ মিশিয়ে দিয়ে, সৃষ্টির অনাদি সঙ্গীত গায়িতে গায়িতে মৃদুমন্দ আন্দোলনে পৃথিবীর প্রান্ত হতে প্রান্তে ধাবিত হও। স্বাধীন উন্মুক্ত উদার তুমি, কার মহা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যুগে যুগে এক—একই ভাবে চলেছ। (উপরে উন্মুক্ত নীল আকাশ নিয়ে তুমি তার স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি। চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ নক্ষত্রমণ্ডলকে তুমি তােমার অগাধ হৃদয়ে প্রতিবিম্বিত কর। উত্তর সঙ্গে উত্তাল তরলে তােমার নবী ক্রিয়া কর-কু গত মত্র বনির উত্তর দাও। রাত্রিকালে ফেনায়িত পিজল t

তৃতীয় অঙ্ক
দপ্ত
पिशवना
ফণায় বিদ্যুৎকে উপহাস কর। ঝর অবসানে আবার নির্মাণের
মত তুমি নীল, স্থির, মৌন, উদার, গম্ভীর। হে ভীম! হে কান্ড! হে
অবাধ অগাধ সমুদ্র! তােমার উদ্দাম প্রমত্ত অন্ধ বিক্রমে, যাও বীর।
চিরদিন সমভাবে কল্লোলিয়া যাও।
দ্বিতীয়দৃশ্য
স্থান-কারাগার। কালরাত্রি।
ন ও বাচাল একটি কক্ষ হইতে কক্ষান্তরে বাহির হইয়া
আসিলেন। নল চিকাময়।
নল। এ কক্ষও অন্ধকার।
বাচাল। হৌক্‌ অন্ধকার। আমার হাত থেকে ত বেঁচেছি।
নদ। এই কক্ষে কাত্যায়নকে বন্দী করে রেখেছিলাম।
বাচাল। হ মহারাজ।
নন। কি ভয়ানক!
বাচাল। আর এই ঘরে তার সাত ছেলেকে না খেতে দিয়ে হত্যা
করেছিলেন, মহারাজ।
না। অনুতাপ হচ্ছে।
বাচাল। হচ্ছে নাকি মহারাজ? তবে আর কোন ভয় নেই।
নন্দ। ভয় নেইই বাবলি কেমন করে!-তৰে চন্দ্ৰপ্ত আমার বধ
কৰ্বে না। যদি করে, ত সে ৪ শীর্ণ কুটিকুটিল এতিহিংসাপরায়ণ
[৩

চলন্ত
না। সেদিন ৰাহ্মণ আমার পানে চাইলনে সে নখহত শিকারের
প্রতি শার্পলের লােলুপ চাহনি।
বাচাল। তা ভয় কিসের?
নন। তােমার কি ভয় কর্মে না, বাচাল ?
বাচাল। কিছু না। মহারাজকে হজম বধ কৰে। তার বাড়া
আর ত কিছু কৱে পাৰ্বে না। তাতে আর আমার ভয় কি? আমার
ও বিধবা হবে, এই যা।
নন। ও! তুমি ভাবছাে আমায় তার বধ কর্বে, আর তােমায়
হস দেবে।
বাচাল। মহারাজ ঠিক অনুমান করেছেন।
নল। তা মনে করে না।
বাচাল। এ
নল। তুমি চন্দ্রগুপ্তের মাতার কেশকর্ষণ করেছিলে।
বাচাল। এ্যা—করেছিলাম না কি?
নন্দ। তুমি চাণক্য পণ্ডিতের শিখা ধরে টেনেছিলে।
বাচাল। কৈ-না।
নল। তার উপর তুমি আমার শ্যালক।
বাচাল। তাই না কি।
নল। আমায় যদি ছাড়ে, তােমায় ছাড়ছে না।
বাচাল। এ্যা—[ করােড়ে মহারাজ।
নল। আমার কাছে হাত জোড় কাকি-
বাচাল। অভ্যাস। কিন্তু আমি কিছু জানি না। একশিত ]
৬]

।
छीन बह
চNথ
ভিডীয় তৃণ্য
নন্দ। ভয় কি। ৰংকৰে নয়।
বাচাল। বৈ ত নয় কিম!
নন্দ। তুমি ত এখনই বলা
বাচাল। মহারাজ। এ কথা যে আমি বলেছি তা মরণ হচ্ছে না।
নন্দ। তা জানি। অরণশক্তি তােমার বেশ আয়। এখনই
ব।
বাচাল। কৈ।-বলেও থাকি, আমার সে কি মনে
ছিল না।
নন্দ। তােমায় বধ কর্ধেই।
বাচাল। [ করুষােড়ে] না-
নন্দ। নিশ্চয়ই কৰে ।
বাচাল। বিধবা হবে।
নন্দ। তুমি মরে গেলে আবার বিধবা হবে কে? তােমার ত ৷
নাই ।
বাচাল। হায় রে । এ সময় একটা শ্ৰীও নেই যে বিধবা হয়।
নন্দ। তােমার জন্য কাঁদবার কেউ নাই।
বাচাল। কিন্তু স্ত্রী থাক্ত ত কাদত-সেটা মনে রাখবেন,
মহারাজ।
নল।
এ আসন্ন বিপদেও তােমার ভাড়ামিতে আমার হলি
পাচ্ছে।
বাচাল। সে কথা মনে রাখবেন, মহারাজ। হলি পায়ে মনে
রাখবেন।
[৯

দ্বিতীয় দৃশ্য
তৃতীয়
চণ্ড
নন। মহারাণীকে যুদ্ধের আগে তুমি মন্ত্রীর আশ্রয়ে রেখে
এসেছিলে ত?
বাচাল। তা ঠিক রেখে এসেছিলাম, মারাজ।
নল। ও কি ?-বাচাল।
বাচাল। [ কাঁপিতে কাঁপিতে ] এলাে বুঝি! দরজা খােলে যে!
অহরিয় সহ কাত্যায়নের প্রবেশ
কাত্যায়ন। এই যে মহারাজ!
নন্দ। বিশ্বাসঘাতক মন্ত্রী।
কাত্যায়ন। আমি বিশ্বাসঘাতক।
নন্দ। আশৈশব আমার পিতার অন্ত্রে পুষ্ট হয়ে
কাত্যায়ন। তিনি তােমারও পিতা, চন্দ্রগুপ্তেরও পিতা। তােমার
পিতার বিরুদ্ধে আমি কোন কাজ করি নাই, মহারাজ। আমি তার এক
পুত্রের বিয়ে অপর পুত্রের পক্ষ নিয়েছি।
নন্দ। হ, তাঁর দাসীপুত্রের পক্ষ নিয়েছে। লজ্জা করে না,
ব্রাহ্মণ—যে তুমি আর চাণক্য-দুই ৰা, আৰ্য, বিজ হয়েষড়যন্ত্র
করে অনাৰ্য পার্বত্য সেনার সাহায্য নিয়ে ক্ষত্রিয়কে সিংহাসনচ্যুত
করে পিতার দাসীপুত্রকে সিংহাসনে বসিয়েছে। এক পূজারজ
-আজ মগধের সিংহাসনে। অহহ, কি দুর্দৈব। এই তােমার
কীর্তি।-কি! মুখ নীচু করে রৈলে যে বিশ্বাসঘাতক।
কাত্যায়ন। আমি বিশ্বাসঘাতক চিরদিন ছিলাম না, নন্দ! তুমি
আমায় বিশ্বাসঘাতক করে তুলেছ। তুমি আমার সপ্ত পুত্রকে, নিরীহ
বেচারিদের কারাগারে নিক্ষেপ করে বধ করেছ। আমি আমার এই
•]

তৃতীয় অ চ বৃদ্ধ ক্ষীণদৃষ্টির সম্মুখে তাদের এই কক্ষে, এই অন্ধকারে একে একে অনাহারে শুকিয়ে কুঁকড়ে মরে যেতে দেখেছি। প্রতি পুত্র তার মুষ্টিমেয় খাদ্যের শীর্ণশে, মরে যাবার আগে, আমায় দিয়ে গেল। মার আগে তােমায় অভিশাপ দিয়ে গেল, আর আমায় বলে গেল, “বাবা প্রতিহিংসা নিও। তুমি কি বুঝবে না-সন্তানের জন্য বৃ পিতার ব্যথা, যখন ধনায়মান অন্ধকারে সংসার লুপ্ত হয়ে আসে, তখন ইহজগতের ভবিষ্যৎ-একা এই পুত্রই কেবল তার চকে দেদীপ্যমান থাকে। পিতার কীর্তি অকীৰ্ত্তি, সম্পৎ দারিদ্র্য, পুণ্য পাপ, ইহজগতের যা কিছু-সব সে এই পুত্রকেই দিয়ে যায়। আমার এ হেন সাত সাত পুত্রকে তুমি কেড়ে নিয়েছ। আমার ভবিষ্যৎ একটা শূন্য নৈরাতে, হাহাকারে পরিণত করেছে।—তবু তারা তােমাই সঙ্গে খেলা । তােমার কোন অনিষ্ট করে নি। নন্দ। ( ঈষৎ চিন্তা করিয়া ] ব্রাহ্মণ । অন্যায় করেছি। ঘােতর অন্যায় করেছি। আমি এত পাবও ছিলাম না। সঙ্গদোষ আমায় পাশ করেছে। কাত্যায়ন। মহারাজ। কেমন করে তুমি এত নিষ্ঠুর হলে। তােমাকে যে এতটুকু বেলা থেকে আমি দেখছি। তােমাকে যে কত কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। এত নিষ্ঠু তুমি হলে কেমন করে। নল। আমায় ক্ষমা কর, ব্রাহ্মণ। কাত্যায়ন। যাও নন্দ! তােমায় ক্ষমা কলাম! কিন্তু আমি সংসার ত্যাগ কৰ। সন্ন্যাসী হব। [১ प्रौन वह চক্রগুপ্ত [ তিীয় দৃ বাচাল। উত্তম প্রভাব। এ সংসারে অনেক দাম।-এর মধ্যে না থাকাই ভালাে। তবে আমরা মুক্ত ? কাত্যায়ন। তােমাদের মুক্তি দিবার অধিকার আমার নাই। তবে মন্ত্রী গণ্যকে অবােধ ক। নন। সেই শীর্ণ ব্রাহ্মণ চাণক্য আজ মন্ত্রী। কাত্যায়ন। শুধু মন্ত্রী নহেন। তিনি মহারাজ চক্রগুপ্তের গুরুদেব। না। সূত্র গুপ্ত মহারাজ। ভিক্ষুক চাণক্য মন্ত্রী। আর সেনাপতি। কাত্যায়ন। মলয়জ চকেতু- নল। উত্তম।ব্রাহ্মণ। তােমার প্রতি অত্যাচার করেছি। তােমার কাছে মানা চাইতে আমার বিধাই। লজ্জা নাই। কিন্তু এই ক্ষুদ্র চন্দ্রগুপ্ত আর শুদ্ৰাণী মূরাকে আঁর স্মৃণা করি। যদি মুক্তি পাই- কাত্যায়ন। আমি তােমার মুক্তির জন্য অনুরােধ কর্ব। বাচাল। আজ্ঞে, মন্ত্রী মহাশয়। আমার জন্য একটু রােধ করেন। কাত্যায়ন। ভূমি রং এসে কল, বাচাল। মন্ত্রী চাণক্য তােমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। বাঁচাল। ও বাবা ! কাত্যায়ন। সেই জন্যই আয়ি এসেছি। না। চাণকে তার কি প্রয়ােজন। কাত্যায়ন। জানি।-এসে, বাচাল। 1 - তৃতীয় এক চপ্ত তৃতীয় দৃ বাচাল। আ[ে সরােদন স্বরে] মহারাজ- নল। আমি আর কি কৰ্ধ। আমিও আজ তােমার মতই কী। বাও বাচাল। আজ্ঞেতাকে ভাবতেই যে আমার হৃদকম্প হচ্ছে। তার কাছে যাব কেমন করে? কাত্যায়ন। এস, বাচাল। কোন ভয় নাই বাচাল। ভরসাও নাই। কাত্যায়ন। এসাে। বাচাল। চলুন। [ কাত্যায়নের সহিত বাচালের প্রস্থান। নন্দ। এই দাসীপুত্র আজ মগধের সিংহাসনে।যদি মুক্তি পাই- [কারে গমন। তৃতীয় দৃশ্য স্থানচাণক্যের কুটীয়াভ্যকর। কালরাত্রি। চাণক্য একাকী। চাণক্য। ফিরে যাবাে। কোথায়? নিশ্চিত জালিয়ে নি নৈরাখে?—না, সে পচা গরম অসহ। তার চেয়ে এ ভালাে। এতে প্রতিহিংসার তীৰ জালা আছে, উত্তেজনার কটু উন্মাদনা আছে। [ ৩

চপ্ত
তৃতীয় দৃ
পতনের নিশ্চিত লক্ষ্য আছে। হয় , নয় নরক। বিধাতা স্বর্গ থেকে
আমায় অষ্ট করেছেন যদি-নরকে যাব। ঈশ্বর! তােমার স্বপক্ষে
আমাৰ নিলে না, তােমার বিপক্ষে বুক ফুলিয়ে বাড়াব। কি কৰে
কর।-না, ফিরে যাবাে না। কিন্তু-তথাপি তােমার অক্ষয় সৌন্দৰ্য্য
আমায় বিদ্ধ কর্মে।—পিশাচী! তােমার পাপের বর্মে অামায়
আচ্ছাদিত কর। দেখি, ও কি কর্তে পারে। হে অদৃশ্য মহাশক্তি।
আমি তােমার কাছে আত্মবিক্রয় করেছি। আমি তােমার প্রেমিক,
আমি তােমার জীতদাস। আমি তােমার অধরের বিষ পান করে
অমর হব। তােমার বিষাক্ত আলিঙ্গন বকে করে নরকে যাবে।
আমায় ছেড়োনা প্রেয়সী।—আমায় হাত ধরে নিয়ে চল—আর ও
দূরে—আরও দূরে।
বাচালের সহিত কাত্যায়নের প্রবেশ
চাণক্য। কে? কাত্যায়ন। ও কে?
কাত্যায়ন। নলের খালক বাচাল ।
চাণক্য। ও!
বাচাল ভক্তিভরে প্রণাম করিলেন।
চাণক্য। এখন যে ভারি ভক্তি। একদিন আমার শিখা ধরে
টেনেছিলে।মনে আছে?
“বাচাল। কৈ? না। [ পশ্চাৎ দিকে চাহিলেন ]
চাণক্য। ও! মরণ নাই। মরণ করিয়ে দিচ্ছি। নােস।
আগে-নর পরিবার কোথায় ?
বাচাল। আমি ত জানি না।
৭৪]

তৃতীয় অ
চপ্ত
छीन व
চাণক্য। [ সপদদাপে ] তুমি জাননা।
বাচাল। [ প্রায় সরে সতে] আজ্ঞে, জানি।
চাণক্য। কোথায়
[ বাচাল পশ্চাৎ দিকে চাহিলেন ]
চাণক্য। পিছন দিকে চাইছ কি-নন্দব পরিবার কোথায় ?
তােমার ভী?—আর তাঁর পুত্রগণ ?
বাচাল। মলয় পর্বতে।
চাণক্য। [ সপদপে ] মিথ্যা কথা।
বাচাল। [ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে মিথ্যা কথা।
চাণক্য। কোথায়? সত্য বল। পুরস্কার দিব। কোথায় নজর
পরিবার ?
বাচাল। পিত্রালয়ে।
চাণক্য। কাত্যায়ন! সেখানে সৈন্য পাঠাও। এটাকে কারাগারে
বন্ধ করে রাখাে। নদের পরিবারকে পাওয়া গেলে একে ছেড়ে দেবাে।
আর যদি না পাওয়া যায়, এর প্রাণদণ্ড হবে।-যাও।
কাত্যায়ন। এস, বাচলি।
বাল। প্রাণ-দ-ও হবে।
চাণকা। হাঁ, বাচাল।
বাচাল। আমার ভগ্নী সেখানে ত নাই।
চাণক্য। বাচাল ! গােখরো সাপ নিয়ে খেলছে, মনে রেখ।
বাচাল। দোহাই ধর্ম।

তৃতীয় বৃ
डोत्र पर
চন্ত
চাণক্য। সত্য বল। এই শেষবার-নলের পরিবার কোথায় ?
বাচাল। মীর আশ্রয়ে।
চাণক্য। [ক্ষণেক ভাবিলেন; পরে ধীরে ধীরে কহিলেন এ
সম্ভবতঃ সত্য! আচ্ছা দেখি-প্রহরি।
প্রহরীর প্রবেশ
চাণক্য। যাও, একে বী করে রাখে। সংবাদ সত্য হলে
ছেড়ে দিব। আর সংবাদ যদি মিথ্যা হয় তশত্যু।—নিয়ে যাও।
বাচাল। আমার বড় জলতৃষ্ণা পেয়েছে। একটু জল দিন।
চাণক্য। এহনী রে নিয়ে গিয়ে একে জল দাও।
[ প্রহরীর সহিত বাচালের প্রস্থান।
চাণক্য। সংসারে কিছুই ফেলা যায় না। আবর্জনাও সার হয়।
পুৱীযের দুর্গও পারিজাতের সৌরভে পরিণত হয়। তবে জানা নাই।
কি ভাবছে, কাত্যায়ন?
কাত্যায়ন। ভাবছিলাম, মানুষ এত নীচ হতে পারে। অত্যাচার
পীড়ন, হত্যা সৰ সওয়া যায়। কিন্তু এই কৃতগ্নতা—অসহ।
চাণক্য। মানুষের এই কৃতগ্নতায়ই চাণক্যের রাজনীতির জন্ম,
আমি মানুষের এই কদৰ্য প্রবৃত্তিগুলিকে কাজে লাগাই। বকে শক্ত
করা, ভাইকে দিয়ে ভায়ের গলায় ছুরি বসানাে, হিংসাকে লেলিয়ে
দেওয়া, লিঙ্গকে খাদ্য দেওয়া,-এর নাম চাণক্যের রাজনীতি। যখন
চুরি পানাচ্ছ তখন মুখে হাসতে হবে, যখন পানীয়ে বিষ মেশাচ্ছ তখন
আলাপে মােহিত কর্তে হবে। এর নামই চাণক্যের রাজনীতি।
শঠ শাঠ্যং সমাচরেৎ।
৭৬]

তৃতীয় অঙ্ক
চত্রপ্ত
তৃতীয় দৃ
কাত্যায়ন। চাণক্য ! আমি প্রতিহিংসায় অ—তবু এ রাজনীতি
ঠিক পরিপাক কর্তে পাচ্ছিনা।
চাণক্য। পাৰে। তােমায় আমি পুরো বিশ্বাসঘাতক করে
ছেড়ে দেবাে। পাঠ্য কলাবিদ্যহিসাবে অভ্যাস করেছি। তােমা
শিক্ষা দিব।
কাত্যায়ন। কিন্তু এ অধ্যায়। পাণিনির সুত্রে আছে, নির্বাণােবাতে
—অর্থাৎ কি না-
চাণক্য। আবার পাণিনি!—বলকে বলে রায় ?
কাত্যায়ন। সমাজ।
চাণক্য। মানি না।
কাত্যায়ন। বিবেক।
চাণক্য। বিবেক—একটা কুসংস্কার।
কাত্যায়ন। ঈশ্বর।
চাণক্য। কার নাই।
কাত্যায়ন। চাণক্য। তুমি একেবারে পর্বতশৃঙ্গের কিনারায়
দাড়িয়েছ।—পড়বে।
চাণক্য। পড়ি বদি, একটা একাণ্ড উল্কাপাত হবে। জগৎ চেয়ে
দেখবে।যাও এখন! আমি ঘুমােবনা! এত রেখাে।
কাত্যায়ন। কি ?
চাণক্য। ৰূপকাঠ, খঙ্গ-বলির জন্য চিন্তা নাই।
কাত্যায়ন। কিন্তু আমি বলছিলামনকে মুক্তি দিলে
হয় না?
[

চ-ও
छोड बक
চতুর্থ
চাণক্য। তাও হয়। তবে তা হবে না। বাও। সৰ প্ৰতত থাকে
যেন। ঐ দেখ আমার প্রেয়সী হাসছে। যাও।
[কাত্যায়ন সবিস্ময়ে প্রস্থান করিলেন।
চাণক্য। হে অমৃত মহাশক্তি। খাসা নিয়ে চলেছ।
যাচ্ছি। কি মধুর তােমার ঐ কুটিল দৃষ্টি, বক্র হাসি, তিগতি,
দুর্গন্ধ নিশ্বস, পঙ্কিল শর্শ। এই ছেড়ে ফিরে যেতে চাচ্ছিলাম? কি
কুৎসিত তুমি, প্রেয়সী! আমি যত দেখছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি।-একটা
দাবানল উঠে জগতের সমস্ত সৌন্দৰ্য্যকে লেহন কচ্ছে। বনের
বা তার ম্রিয়মাণ নিম্প-প্রয় শিকারকে লােলুপ-বিধারিত নেত্রে
চেয়ে দেখছে।-ও কি ভীষণ। কি সুন্দর।
চতুর্থ দৃশ্য
স্থান-হিটের প্রাসাদমঞ্চ। কালরাত্রি।
সেলুকস উত্তেজিতভাবে কমধ্যে পাচারণ করিতেছিলেন,
হেলেন দাড়াইয়াছিলেন।
সেলুক। এবার সেকেন্দার সাহার দিখিয় সম্পূর্ণ কর্ব। চন্দ্রগুপ্ত,
এক বৎসরে তুমি ভারতে গ্রীক-উপনিবেশ নিৰ্বল করেছে। এবার
আর খে দেবো।
হেলেন। বাবা। আপনি ভারত জয় কর্নার জন্য যাচ্ছেন কেন?
একে এসিয়া আপনার সাম্রাজ্য। পৃথিবীময় আপনার যশ। সিং
৭৮।

তৃতীয় অঙ্ক baru চতুর্থ বৃ পর পারে চন্দ্রগুপ্ত কাজ কর্মে। তা আপনার এত ১ কেন ? সেলুকস। সে রাজত্ব কৰ্বে কেন? সে ত আর ঘী নয়। হেলেন। মানুষ । সেকস। আমার কাছে জগতে দুই জাতি আছে—এক যারা গ্রীক-সভ্য; আর এক যারা গ্রীক নয়—বর্বর। হেলেন। বাবা। গ্রীক চিরদিন বিশ্বজয়ী ছিল না; চিরদিন বিশ্বজয়ী থাকবে না। তার সূর্য অস্ত গিয়াছে। এখন যা দেখছি দে সেই অতীত মহিমার শেষ ম্রিয়মাণ জ্যোতি।আপনি পর হবেন। সেলুকস। পরান্ত হবে—বিজয়ী সেকস।।। হেলেন। আপনি বন্দী হবেন। সেলু। বন্দী হব কেন?দুমি ত আমার ভারি শুভানুধ্যায়ী দেখছি। হেলেন। আপনি অন্যায় কচ্ছেন। সেকস। যুদ্ধের বিষয়ে আমি তােমার সঙ্গে তর্ক কর্তে চাইনা এনেফেনিস বলেন- হেলেন। এরিষ্টফেনিস কি বলেন? সেলুকস। (সন্দিগ্ধভাবে) যে স্ত্রীজাতির তর্ক করা উচিত নয়। হেলেন। কোথায় বলেছেন? আমি নিয়ে আসছি এরিষ্টফেনিল। { এনােয়ত। সেকস। না, এরিষ্টকেনিস নয়, থেমিউজিল। [ ৭৯

তৃতীয় অফ
চক্র
চতুর্থ দৃ
হেলেন। থেমিউক্লিল ত রাজনীতিক। তিনি এ বিষয়ে কি
ৰ'লবেন।
সেলুকস। তবে সফোক্লিস।
হেলেন। নিয়ে আসছি সফোক্লিস। দেখিয়ে দিন ত, বাবা, তিনি
কোথায় এ কথা বলেছেন।
( প্রস্থান।
সেলুকস। মাটি করেছে। সত্য কথা বলতে কি, এরিষ্টকেনিস ও
সফোক্লিসে আমার সমানই বুৎপত্তি। মতটা আমারই, তবে দুই
একটা বড় নামের সঙ্গে যুড়ে দিলে কথাটার মাহাত্ম্য বেড়ে যায়।
মেয়েটা যে সব পড়েছে। আবার বলে সংস্কৃত পড়ব। ঐ আসছে।
পালাই।
[ প্রস্থান।
চারি পাঁচখানি গ্রন্থ লইয়া হেলেনের প্রবেশ
হেলেন। কৈ বাৰ।ঐ যে—পালালে-ছাড়ছি না। দেখিয়ে
দিতে হবে। ছাড়ছি না।
পুস্তকখানি রাখিয়া এস্থান ও সেলুকসের হত ধরিয়া পুনঃ প্রবেশ
হেলেন। বসুন। সফোক্লিস্ কোথায় এ কথা বলেছেন, দেখিয়ে
দিতে হবে।
সেস। এ কি জবরদস্তি!—আমি দেখিয়ে দেবে না। কি
কর্ষে।
হেনেন। তবে বনে কেন ?
সেলুকস। বেশ করেছি। তুমি ভারি অবাধ্য মেয়ে। তুমি
আমায় সেই কর না।
•]

তৃতীয় অঙ্ক
চগুপ্ত
চতুর্থ মৃ
হেলেন। আমি আপনাকে মেই করিনে বাবা! এ কথা বলতে
পার্লেন!—আপনার এক বিন্দু চক্ষের জল মুছিয়ে দিতে যে আমি আমার
সর্বস্ব দিতে পারি।
সেলুকস। না আমি অন্যায় বলেছি হেলেন। আমায় ক্ষমা কর।
হেলেন। না বাবা, অপরাধ আমার। আমি আপনাকে কিছু স্নেহ
করি না। আমায় ক্ষমা করুন।
সেলুকস। না মা আমার অপরাধ। তুমি আমায় খুব স্নেহ কর।
হেলেন। [সহাতে ] কিন্তু সফোক্লিস্ এ বিষয়ে কিছু বলেন নি ?
সেলুল। না ।
হেলেন। আচ্ছা তবে আর কোন তর্ক নাই। আচ্ছা বাবা, সেকেন্দার
সাহা সম্বন্ধে এক গল্প শুনেছি—সে কি ঠিক?
সেলুকস। কি ?
হেলেন। তিনি যখন ভারত জয় কর্তে গিয়েছিলেন, তখন এক
ব্রাহ্মণের সঙ্গে এঁর সাক্ষাৎ হয়। সে ব্রাহ্মণ তাকে জিজ্ঞাসা কর্ণ,
“আচ্ছা, সেকেন্দার সাহ! ভারত জয় করে তার পরে আপনি কি জয়
কনে? সেকেন্দার সাহা বলেন, “চীন জয় কর্ব। তার পর?
“আফ্রিকা। তার পরে?” “ইয়ুনােপ। তার পরে?”—সেকেনার
সাহা আর কিছু ভেবে না পেয়ে বল্লেন, তার পরে একটা প্রকাণ্ড ভােজ
দেব। ব্রাহ্মণ বন্ধ,-ভােজটা এখনই দেন না কেন?”
সেলুকস। সে ব্রাহ্মণ বড় ঔদারিক।
হেলেন। না বাবা, সে ৰাহ্মণ পরম দার্শনিক। মানুষের উচ্চার
দার্শনিক আলােজিনিস বিপরীত দিকে গিয়াছিলেন।
[৯
অশু নাই।

इौत्र बक
চন্ত
চতুর্থ মৃত
জীবনের প্রয়ােজন যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ত করে এনেছিলেন। তিনি এক
জলপাত্রে বাস করে ছিলেন তা ত জানেন।
সেন্স। মূখ দার্শনিক।
হেলেন। মূর্ণ। সেইজন্য কি বীরবর সেকেন্দার সাহা তার সঙ্গে
সাক্ষাৎ কর্তে গিয়েছিলেন। তিনি দার্শনিককে জিজ্ঞাসা কর্লেন, “আমি
ভুবনবিজয়ী সেকেন্দার সাহা। তুমি যা চাও তাই দিতে পারি
কি চাও?
সেলুকস। তিনি অবশ্য একটা জমীদারী চেয়েছিলেন?
হেলেন না। তিনি বলেন, “আমার ঈশ্বরের রৌদ্র ছেড়ে দাড়াও
—আর কিছু চাই না।”
সেলুকস। সেকেন্দাৰ নিশ্চয় ভাবলেন—এ এক উন্মাদ।
হেলেন। ন) বাবা । সেকেন্দার সাহা বলেন যে, আমি যদি
সেকেন্দার সাহা না হতাম ত এই ডায়ােজিনিস হতে চাইতাম।
সেল্স। “যদি সেকেন্দার না হতাম”—চতুর এই সেকেন্দার সাহা।
[াসিতে হাসিতে প্রস্থান।
হেলেন। হারে মানুষ। পরের মুখ দেখতে পার না? দূরে
দাড়িয়ে পরস্পরের উপর চোখ রাজাচ্ছ আর গর্দাচ্ছ। ইচ্ছা যে দৌড়ে
গিয়ে পরস্পরের টুটি কামড়ে ধর , পাচ্ছ না শুধু ভয়ে। প্রত্যেকেরই
ই যে এই সসাগরা ধরিত্রীকে গ্রাস করে। মা বজরা ! এমন
রাক্ষসকে জন্ম দিযেছিলে। ঈশ্বর তােমার জন্য সৃষ্টি ফিরিয়ে নাও।
আয় কম।
]

তৃতীয় অৰু
চত
পঞ্চম
স্থানকেতুর গৃহােন। কালস।
নদীতীরে ছায়া একাকিনী বেড়াইয়া বেড়াইতেছিলেন ও
গাহিতেছিলেন।
আর কেন মিছে , মিছে ভালবাসা, মিছে কেন তার ভাৰৰ ।
সে ৰে, সাগরের মণি, আকাশের চা—আমি ত তাহারে পাৰ না।
আজি, তবু তাৰে গৰি, সতত শিহৰি নে আমি হতভাগিনী,
কেন, এ প্রাণের মাঝে, নিশিদিন বাজে, সেই এক মধুরাগিণ।
শুনি,উঠে সেই গান, নীরব মহান, যায় সে আকাশ ছাপিয়া ,
দেখি, শুনি সেই ধ্বনি, শিহরে ধী, তাৱাকুল উঠে কাঁপিয়া
আমি, চেয়ে থাকিস্থির নীরব গভীর নিম্মল নীল নিখে ,
কে—হি এ মহীতে, সসীম হইতে চাহি সে অসীষে মিশিতে।
আমি শরি না ত হায়, ধূলায় গড়ায় তপ্ত অবাৰি গাে ,
তবে, কেন হেন যেচে, দুখ লই বেছে, কেন না ভুলিতে পারি গো
-না না, তবু সেই দুখ জাগিয়া থাকুক আমরণ মম অরণে,
আমি, লভেছি সদি এ বি জীবন, লভি সরস মরণে।
চগুরে প্রবেশ
চল। ছায়া?
ছায়া। কে ? মহারাজ।
চন্ত। তােমার দাদা কোথায় ?
ছায়া। জানিনা। দেখিগে।
চল। পড়ও।
[ এহানা।
{bo

शव बह
চগুপ্ত
ছায়া ফিরিয়া দাড়াইলেন ও চন্দ্রগুপ্তের প্রতি স্থিরনেত্রে চাহিয়া
রহিলেন।
চন্দ্রগুপ্ত। যুদ্ধের পরে তােমার সহিত সাক্ষাৎ হয় নাই।
[ছায় নীরব রহিলেন ]
চন্দ্রগুপ্ত। ছায়া, তুমি আমার প্রাণরক্ষা করেছে।
[ ছায়া নীরব রহিলেন ]
চন্দ্রগুপ্ত। তার জন্য আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর্নার সুযােগ পাই
নি। ছায়া আমি তােমার কাছে কৃতজ্ঞ।
ছায়া। [ অর্ধোচাৰিত স্বরে] এই মাত্র !
চন্দ্রগুপ্ত। প্রত্যুপকারস্বরূপ আমি তােমাকে
ছায়। কিছু প্রয়ােজন নাই মহারাজ! আমরা হীন পার্বত্য
জাতি।—উপকার বিক্রয় করি না, মহৎ প্রবৃত্তির ব্যবসা করি না।
মহারাজের জীবন রক্ষা কর্তে পেরেছি—এই সৌভাগ্যই আমার যথেষ্ট
পুরস্কার। তার অধিক কিছু প্রত্যাশা করি না।
চন্দ্রগুপ্ত। এই কিশাের হৃদয়ে এতখানি মহত্ব ! কিংবা
ছায়া। মহারাজ। আমরা বাল্যকাল হতে মৃগয়া কর্তে শিখি,
যুদ্ধ কর্তে শিখি, প্রতারণা কর্তে শিখি না। সভ্য র্থক ভাষায় কথা
কহিতে শিখি না। আমি যা বলেছি তার ঐ একই অর্থ। তার মধ্যে
“কিংবা নাই।
চন্দ্রগুপ্ত। ছায়া। তুমি একটি প্রহেলিকা।
হয়। মহারাজ। আমি কোন প্রত্যুপকার চাই না।
[ এতে
]

তৃতীয় অল্প
চত্রপ্ত
पक्षमा
চন্দ্রগুপ্ত। মাও ছায়া। আমি একটা কথা জিজ্ঞাসা করি।
উপকার করে তার পরে তুমি উপতের প্রতি এত উদাসীন কেন?
আমি লক্ষ্য করেছি ছায়া, যে তুমি চন্দ্রকেতুর সঙ্গে যখন কথা কইছ,
তখন আমি এলেই তুমি তৎক্ষণাৎ চলে যাও।—এত উদাসীন।
ছায়া। [ অস্ফুটস্বরে] উদাসীন। [ ক্ষণেক শির অবনত করিয়া
পরে সহসা কহিলেন] মহারাজ! আপনি কখন পৰ্বতশিখরে দিয়ে
সূর্যোদয় দেখেছেন ?-দিগন্তৰিতত বনানীর উপর দিয়ে বিকশিত
রশ্মির ঢেউ খেলে যায় যখন-দেখেছেন কি?
চত্রও। য়া।
ছায়া। আমাদের জীবন সেই রকম একটা উজ্জল ঘনমি
লতা-আবেগে কাঁপছে। অধিত্যকাবাসী নীচে গড়িয়ে তার কি
দেখতে পায় মহারাজ।
চন্দ্রগুপ্ত। আমরা হয়ত তাই তােমাদের সম্যক বুঝি না। তবু মনে
হয় যে তােমাদের ঘনশ্যাম আবরণের নীচে হৃদয় আছে।
ছায়া। মহারাজের সৌজন্য যে কৃষ্ণ দেহ’ না বলে ঘনশ্যাম
আবরণ বলেছেন। কিন্তু মহারাজ, লক্ষ্য করেছেন কি যে, যে যতই
কৃষ্ণবর্ণ হয়, ততই সে সলিলসভাৰসমৃদ্ধ হয়, তার বক্ষে ততই তীব্র
তড়িৎ খেলে? আমাদের হৃদয় আছে, এইটুকুই কি আপনার মনে হয়?
যদি জাতেন যে সে হৃদয় কতখানি, তাতে কি তৰঙ্গ খেলছে!
চন্দ্রগুপ্ত। এও কি সম্ভব। ছায়া, তুমি কি আমাকে ভালােবাসাে?
এও সম্ভব।
ছায়া। কেন সম্ভব নয় মহারাজ! ঈশ্বর আপনাদের দেহের উপর
[

তৃতীয় অং
চMথ
পঞ্চম }
দুপোঁচ বেশী রং মাখিয়েছেন, তাই আর অহারে মাটিতে পা পড়ে
না। আমি আপনাকে ভালবাসি কি না জিজ্ঞাসা কর্মেন? না
মহারাজ। আমি আপনাকে ঘৃণা করি। বিবেচনা করেন যে, আমি
ভিক্ষুকের মত আপনার প্রেম যা কর্জি। আপনি অনুকম্পারে
আমায় প্রেমমুষ্টি ভিক্ষা দেবেন, আর আমি তাই হাত পেতে নেব ।
এত বড় স্পর্ধা!-মহারাজ, আমি হীন বর্বর কৃষ্ণবর্ণ পার্বত্য রমণী।
আর আপনি মগধের দেবত মহারাজ। তথাপি আমি আপনাকে
ঋণা করি।
[ কত স্থান।
চন্দ্রগুপ্ত। অদ্ভুত। প্রাণরক্ষা করে পরে রূণা! নারীচৰিত্ৰ অপূর্ব
প্রহেলিকা। বহুদিন পূর্বে মনে পড়ে-সিন্ধুনদতীরে-সেকেন্দার
সাহার সমক্ষে সেলুকসের কন্যার সেই কৃতজ্ঞ সজল দৃষ্টি। সেও কি
ভালবাসা। না শুদ্ধ কৃতজ্ঞতা? সেই গ্রীক বালিকা-কি অপূর্ব
সুন্দরী ! মহাসমুদ্রের নীল জলরাশিব উপর অবতীর্ণ উষার জায়—
রাশি রাশি রক্তজবার মধ্যে বিকশিত স্থলপদ্মের ন্যায় ।-না, সে কথা
আজ আর ভাবি কেন! সে একটা মধুর স্বপ্ন।
চন্দ্রকেতুর প্রবেশ
চন্দ্রগুপ্ত। এই যে চকে-
চন্দ্রকেতু। বন্ধু! ব্রাহ্মণের আজ আজ রাত্রেই ভুতপূৰ্ব মহারাজ
নলের বলি হবে।
চন্দ্রগুপ্ত। [সবিষয়ে ] সে কি।-বলি হবে-ৰাহ্মণের না।
আমি কে? মগধের মহারাজ না? এত এম এত আয়ােজন কি
তত ৰাহ্মণের এফের হােমাগ্নিতে ঘৃত ঢাকার জন্য।-চকে

তৃতীয় অঙ্ক
প্তি
পঞ্চম
চমকেতু। বন্ধুবর ।
চন্দ্রগুপ্ত। এ প্রাণদণ্ড হবে না। আমি মার্জনা লিখে দিচ্ছি।
নিয়ে যাও! বলে এ মহারাজ চন্দ্রগুপ্তের আজমিনতি নয়। যাও
প্রত হও।
[ চন্দ্রকেতুর প্রস্থান।
চন্দ্রগুপ্ত। ব্রাহ্মণের স্পদ্ধ৷ যে আমাকে কোন সংবাদ না দিয়ে
আমার অনুমতি না নিয়ে—আশ্চৰ্য্য। আমি যেন সাম্রাজ্যের কেহই নই,
ঢাকের হস্তের যন্ত্র মাত্র।
ছায়ার পুনঃপ্রবেশ
ছায়া। মহারাজ ক্ষমা করুন।
চলুপ্ত। কিসের জন্য ছায়া?
ছায়া। রুক্ষ হয়েছি। অপরাধ হয়েছে। মার্জনা করুন।
মার্জনা না করেন, দণ্ড দিউন।
চন্দ্রগুপ্ত। কেন? তােমার কোন অপরাধ হয় নাই। তুমি যদি
আমাকে ঘৃণা কর, তা বলতে দোষ কি?
ছায়া। স্বণা করি ! যিনি আমার জাগ্রতে ব্যান, নিদ্রায় স্বপ্ন,
যিনি আমার ইহলােকের সম্পৎ, পরলােকের স্বর্গ, যার দর্শন তীর্থ,
অদর্শন অভিশাপ ;—তাকে স্বণা কৰ্ক !—মিথ্যা কথা বলেছি। তথাপি
ইচ্ছা হয়—যে যদি ঘৃণা কর্তে পাত্তম।
চন্দ্রগুপ্ত। কেন ছায়া! আমি তােমার কি করেছি?
ছায়া। কি করেছেন। কি করেন নি।আপনি আমার
আহারে ক্ষুধা, শয়নে নি, সর্বসময়ে-শান্তি কেড়ে নিয়েছেন।
[

তৃতীয় অল্প
চপ্ত
যষ্ঠ দৃশ্য
আপনি আমার চক্ষে জগৎ লুপ্ত করে দিয়েছেন ; আপনার চিন্তায়
আমার অস্তিত্ব লীন হয়ে যায়—আমি স্বর্গে আছি কি নরকে আছি
বুঝতে পারি না। আবার জিজ্ঞাসা কচ্ছেন আপনি আমার কি
করেছেন। নির। [ ক্রন্দন ]
চত্রগুপ্ত। ছায়া। [ সস্নেহে তাহার হাত ধরিলেন ]
ছায়া। না আমায় স্পর্শ কৰ্ব্বেন না, স্পর্শ কৰ্ব্বেন না। ও স্পর্শে
আমার অঙ্গে তড়িৎপ্রবাহ বহে যায়, আমার মস্তিষ্ক পাষাণে পতিত
কাস্টপাত্রের মত ঝন্ ঝন্ করে ওঠে!-না, আমি এ উন্মাদন
দমন কর্ব ।
[ দ্রুত প্রস্থান।
চত্রগুপ্ত। কি আশ্চৰ্য। আমি এতদিন যাকে ভগ্নীর মত সেহ
করে এসেছি- আশ্চৰ্য্য।
শষ্ঠ দৃশ্য
চাণক্য ও তার দেহরক্ষিগণ।
সম্মুখে বলী অবস্থায় নক। পার্শ্বে শাণিত খড়গ। অদূরে ৰূপকারী।
চাণক্য। ভূতপূর্ব মহারাজ নন! দেখছে রে ব্রাহ্মণের প্রতাপ
যায় নাই? ঈশ্বর মূৰ্থ নহেন—তাই বাহর উপর মন্তি। আর্য ঋষিগণ
মূর্ষ ছিলেন না—তাই ক্ষত্রিয়ের উপর ব্রাহ্মণ। কারাে সাধ্য নাই তাকে
1

T
তৃতীয় অঙ্ক
চপ্ত
बई पृथ
নামায়! ভারত যত দিন ভারত তত দিন এই ব্রাহ্মণ এ সমাজ শাসন
কৰ্বে। তার পর একসঙ্গে চুরমার!
নন্দ। আমাকে কি তােমার দম্ভ শােনার জন্য এখানে আনা
হয়েছে ?
চাণক্য। ঠিক নয়। ঐ খজ দেখছে? ঐ ৰূপকাষ্ঠ দেখছো ?
এখনও কি বুঝতে বাকি আছে যে তােমাকে কি জন্য এখানে
আনা হয়েছে। সে দিন আমার প্রতিজ্ঞা মনে আছে—যে তােমার
রক্তে বক্সিত হস্তে এ শিখা বাধবাে? এখনও বাধি নাই—এই
দেখ ।এখনও কি বুঝতে বাকি আছে যে, কি জন্য তােমাকে এখানে
আনা হয়েছে ?
নন্দ। আমায় বধ কর্বে ?
চাণক্য। অবিকল।
নন। নিরস্ত্র বন্দীর হত্যাএই কি সনাতন ধর্ম ?
চাণক্য। সনাতন ধর্মের মর্ম কি ব্রাহ্মণকে আজ ক্ষত্রিয়ের কাছে
শিখতে হবে?-শােন, এ হত্যা নয়, এ তােমার মৃত্যুদণ্ড। আর সে
দও দিচ্ছি—আমি ব্রাহ্মণ।
নল। কি অপরাধে ?
চাণক্য। ব্ৰহ্ম হত্যার অপরাধে। ব্রাহ্মণের সম্পত্তি লুঠন করার
অপরাধে। ব্রাহ্মণকে অপমান করার অপরাধে। তুমি একে
বলছে হত্যা, আমি বলছি—এ বিচার। এ বিচার কর্নার অধিকার
আমার আছে। আমি ব্রাহ্মণ-নন। প্রত হও। রক্ষিগণ হাড়
কাঠ কেন।
[৮৯

তৃতীয় অঙ্ক
চত্রপ্ত
पर्छ
নল। চাণক্য। আমি কাত্যায়নের প্রতি তােমার প্রতি অৰি-
চার করেছি। আমায় ক্ষমা কর।
চাণক্য। [ উচ্চহা করিয়া ] ঠিক অক্ষরে অক্ষরে মিলেছে।
আমি সে দিন বলেছিলাম না নন্দ ?-যে একদিন এই ভিক্ষুকের
পদতলে বসে তােমায় ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে হবে, আমি সে ভিক্ষা
দিব না ?
নন্দ। আমি প্রাণভিক্ষা চাই নি, ব্রাহ্মণ ! ক্ষত্রিয় আমি।
ব্রাহ্মণের প্রভু মানি না, শূদ্রকে ঘৃণা করি, আমার পিতার গণিকা-
পুত্রকে স্বণা করি। কিন্তু মৃত্যুভয় করি না। তােমার বক্তবর্ণ চকুকে
আমি তুচ্ছজ্ঞান করি, কিন্তু নিজের অন্যায় বুঝি। আমি এত পাষণ্ড
নই যে, প্রজার সম্পত্তি লুঠ করি—নরহত্যা করি। সঙ্গদোষ আমাকে
পাষণ্ড করে তুলেছে। ক্ষমা কর। কাত্যায়ন
কাত্যায়ন। [ কম্পিতস্বরে ] নন্দ! মহারাজ । আমি ক্ষমা
করেছি।
চাণক্য। খবর্দার কাত্যায়ন—ক্ষা নাই। পৃথিবীতে কেউ
কাউকে ক্ষমা করে না, কর্তে পারে না। হৃদয়ের যে যন্ত্রণা ভিতরে
উগ বগ করে ফুটছে সে কি তােমার দুফোটা সখের চোখের জলে ঠাণ্ডা
হয়? তা হয় না। সব ক্ষমা মৌখিক। যেমন অনুতাপ মৌখিক,
তেমনি ক্ষমাও মৌখিক। আমি কখন দেখলাম না যে, শান্তি সম্মুখে
দেখে কারাে অনুতাপ এলাে। আমি কখন দেখলাম না যে, কোন
মানায় মন ঠিক আগেকার মত জুড়ে গেল! তা হয় না।
কাত্যায়ন। কিন্তু-নল বালক।
৯]

তৃতীয় অফ
চন্ত
बड़े पर
চাণক্য। যে বালক, তার বালকের গায় থাকা উচিত। বালকও
যদি না জেনে আগুনে হাত দেয়, হাত পেড়ে। অগ্নি নিজের কাজ
কর্তে দিধা করে না।
কাত্যায়ন। তথাপি–পাণিনি-
চাণক্য। [ সপদাপে ] আবার পাণিনি। কাত্যায়ন। তুমি এসময়ে
সদি পাণিনির নাম কর, আমি তােমায় হত্যা কব!
কাত্যায়ন। নন্দ বালক
চাণক্য। তাই দেখছি। খজ নাও কাত্যায়ন! তােমায়ই একে
অন্য বধ কর্তে হবে।
কাত্যায়ন। আমি।
চাণক্য। হাঁ তুমি! পুত্রহত্যার প্রতিশােধ নাও। মনে কর
কাত্যায়ন। তােমার সপ্তপুত্রের শীর্ণায়মান পাণ্ডুর মূর্তি তাদের সেই
মন্নের জন্য ক্ষীণ হাহাকার, তাদেব নিভায়মান দৃষ্টি—তার পর সব
হিম, কঠিন,অসাড়,-তাহাদের নিস্পন্দ নির্নিমেষ চক্ষু দুইটার উপর মৃত্যুব
করাল মুদ্রাঙ্কন। মনে কর—সেই মৃত্যু তুমি সম্মুখে দেখছে। তুমি
তাদের পিতা--তাই দেখছে, মনে কর–কাত্যায়ন। স্বহস্তে তার
প্রতিশােধ নাও।
[ কাত্যায়ন খজ লইলেন ]
চাণক্য। আর বিয়ের প্রয়োজন কি।-বক্ষিগণ। ঘডিকাঠে
*ল।
( রক্ষিগণ নন্দকে গড়িকাঠে ফেলিল]
চাণক্য। তবে ভূতপূর্ব মহারাজ!-কাত্যায়ন।

कौन बह
চর
बर्छ पृथ
[ কাত্যায়ন খঙ্গ লইয়া ৰূপকাষ্ঠের নিকট আসিলেন ]
চাণক্য। দূতপূৰ্ব মহারাজ নন্দ! এ ৰাহ্মণের কাজ নয়। কিন্তু
কি কৰ্ম্ম, আজ তার প্রয়ােজন হয়েছে। আজ ব্রাহ্মণের সে তপস্যা
নাই। ইচ্ছা হয় যে আজ দ্বিতীয় পরশুরামের মত ভারতকে নিৰিয়
করি ; কপিলের মত এক কুদ্ধ দৃষ্টিতে নন্দবংশ ভস্ম করে দেই। কিন্তু
কলিযুগে আর তা হয় না। তাই খঞ্জের সাহায্য নিতে হয়েছে।
তবু এই পাপ কলিযুগে ও ভারত একবার ব্রাহ্মণের প্রতাপ দেখুক।
[ কাত্যায়নকে বধ কর।-হ।—আরমৰ্বার আগে শুনে যাও নন্দ।
ভূতপূর্ব মহারাজ।—তােমার বংশে বাতি দিতে কেউ নাই ।-নন্দবংশ
নির্মল করেছি।
[ নন্দ আর্তনাদ করিলেন ]
চাণক্য। এখন বধ কর।
বেগে চন্দ্রকেতুর প্রবেশ
চন্দ্রকেতু। সাবধান! খঙ্গ নামাও ৰাহ্মণ !
চাণক্য। কেন চন্দ্রকেতু?
চন্দ্রকেতু। রাজ-আজ্ঞ। কাত্যায়ন খজ নামাইলেন ]
চাণক্য। এর অর্থ কি, চন্দ্রকেতু।
চন্দ্রকেতু। এই মহাবাজ চন্দ্রগুপ্তের মার্জনা-পত্র। মহারাজ নন্দকে
মুক্ত করে দিয়েছেন।
চাণক্য। মহারাজ চন্দ্রগুপ্তের আজ্ঞা বুঝেছি। কিন্তু এ আজ্ঞা
আমার জয় নয়।বধ কর।
১২]

তৃতীয় অঙ্ক
চণ্ড
बर्ड एक
চন্দ্রকেতু। কিন্তু গুরুদেব। এ রাজ-মালা।
চাণক্য। এ ব্ৰহ্মণের আজ।বধ কর কাত্যায়ন।
চকেতু। তবে মহারাজ স্বয়ং আনুন। তার পূর্বে আমি বধ
কর্তে দিব না। রাজ-আজ আমি পালন কর্ব। আমার কর্তব্য আমি
কব্বরক্ষিগণ সরে দাও।
চাণক্য। কখন না খাড়া থাক।
চন্দ্রকেতু। বীরবল।
সৈন্যাধ্যক্ষ বীরবল ও পঞ্চসৈনিকের প্রবেশ
চন্দ্রকেতু। সৈনিকগণ ! মহারাজের আগমন পৰ্যন্ত বন্দীকে রক্ষা
কর। বীরবল-মহারাজকে সংবাদ দাও।
| বীরবলের প্রস্থান।
চাণক্য। কাত্যায়ন! খঙ্গ নিয়ে সঙের মত খাড়া হয়ে চেয়ে কি
দেখছে? যেন মৃন্মুর্তি।—খা আমায় দাও। [ অগ্রসর হইলেন।
চন্দ্রকেতু।[ সম্মুখে গিয়া নতজানু হইয়া তরবারি দিয়া পথ রােধ
করিয়া ] আমি ব্রাহ্মণের সম্মুখে নতজানু হচ্ছি। কিন্তু রাজা
পালন কর্ব।
চাণক্য। বধ কর কাত্যায়ন।
কাত্যায়ন খজ না উঠাইতেই চন্দ্রকেতু রাজা তাঁহাকে দেখাইয়া
কহিলেন-“রাজ-আজ। কাত্যায়ন খড়ম নামাইলেন।
চাণক্য। কোন চিন্তা নাই কাত্যায়ন! যে ব্রাহ্মণ চক্রগুপ্তকে
সিংহাসনে বসাতে পারে, সে তাকে সিংহাসন থেকে নামাতেও পারে-
বন্ধ কর।

यौन बड़ চন্ত কাত্যায়ন ও উঠাইতে যাইলে চন্দ্রকেতু কহিলেন—“সাবধান। এর জন্য যদি ব্ৰহ্মহত্যা হয়, ত’ দ্বিধা কৰ না। মন্দির হইতে মুরার প্রবেশ মূর। আর যদি নারীহত্যা হয়? [ এই বলিয়া কাত্যায়ন ও চন্দ্রকেতুর মধ্যে আসিয়া দাড়াইলেন। চকেতু। [ স্তম্ভিত হইয়া ] মা আপনি? মুরা। হাঁ আমি। আমার আধ কর। চকেতু। আপনি নন্দকে ক্ষমা করুন মা। মুরা। [ সব্যহাতে ] ক্ষম। ক্ষমা নাই। আমি ক্ষমা কতে পারি না, জানি না। আমি যে শূদ্রাণী। ক্ষমা ব্রাহ্মণের ধর্ম- শূদ্রের নয়। চন্দ্রকেতু। ক্ষমা মানুষের ধম্মএকা ৰাহ্মণেরই নয়। করার যে অপার সুখ, তাতে কি একা ব্রাহ্মণেরই অধিকার। এই ক্ষ" স্বর্গ থেকে ভাগীরথীর পবিত্র বারির মত সসারে নেমে এসেছে । সকলেরই সেই পুণ্যতরঙ্গে রান করে পবিত্র হবার অধিকার আছে। ঈশ্বরের ক্ষমা আকাশ থেকে শত ধারায় মর্তে নেমে আছে না? রােগে এই ক্ষমা স্বাস্থ্যরূপিণী হয়ে এসে আমাদের রক্ষা করে; শােকে এই ক্ষমা বিস্মৃতি নিয়ে আসে , দারিদ্রকে এই ক্ষমাই সহিষ্ণুতা দিয়ে ঘিরে থাকে। মাতা শৈশৰে সভানের শত অপরাধ যদি ক্ষমা না করে, তাহলে কি সৱান বাচে মা?-ক্ষমা কর, আমি জয় পেতে ভিক্ষা চাচ্ছি। [ জানু পাতিলেন ] মূর। তুমিই কি এক ভিক্ষা চাইছ চকেতু। আমার প্রাণ এই ৯৪ ]

তৃতীয় অ
চগুপ্ত
য
পরের র ভেঙ্গে বেরিয়ে এসে আমার পায়ে ধরে ভিক্ষা চলে
।-নন্দের এই বন্দী অবস্থা দেখছি, তার এই স্নান অধােমুখ দেখছি,
আর অক্ষর উৎস উথলে উঠে এই দৃষ্টিপথ রােধ কছে না। নন্দ।
শূদ্রাণীর দুর্থ কি ক্ষত্রিয়াণীর দুগ্ধের চেয়ে কম মধুর। সূত্রাণীর লেহ কি
ক্ষত্রিয়াণীর মেহের চেয়ে কম শুভ্র? না, আমি ক্ষমা কব না। আমি
যে শূদ্রাণী-গণিকা-বধ কর।
চন্দ্রকেতু। কিন্তু মা—এ রাজা।
মুরা। এ রাজমাতার আজ্ঞ। আমি দাসী-গণিকা হলে ও
মহারাজ চক্রগুপ্তের জননী।-আমার আজা।-বধ কর ।
চন্দ্রকেতু। এইখানে আমার পরাজয়! সৰ্ব্বদেশের ও সর্বকালের
নারীর কাছে আমি পরাজিত। [ মুরার পদতলে তরবারি রাখিলেন।
নারীর কেশাগ্র স্পর্শ করি হেন সাধ্য আমার নাই।
চাণক্য। বধ কর কাত্যায়ন।
[ কাত্যায়নের খজ পড়িল। নন্দের দেহ হইতে মন্তক বিচ্ছিন্ন হইল।
চাণক্য। হাঃ হাঃ! প্রতিহিংসা পূর্ণ হল।
[ নদের রক্তে হস্ত রঞ্জিত করিয়া শিখা বাক্ষি এস্থান।
কাত্যায়ন। নন্দের ছিন্ন মুত উঠাইয়া ] সপ্তানের হত্যার এই
প্রতিশােধ ।
মূরা। কি কর্লে। বধ কর্নে।-এ কি কলাম! তাকে রক্ষা কর্তে
এসে- হস্ত দিয়া মুখ ঢাকিলেন।
চত্রগুপ্তের প্রবেশ
চন্দ্রগুপ্ত। [ নলের হিমুও দেখিয়া সভয়ে পিছাইয়া] এ কি।
ta

पर्छ म
তৃতীয় অফ
চৰ
মূর। এরা নন্দকে বধ করেছে!—ঐ মুখে আমার স্তন্ত দিয়েছি।
ঐ দেহখানিকে আমি বক্ষে ধরে জড়িয়ে শুয়ে থাকতাম।ওঃ! কি
করেছি। কি করেছি। বৎস চন্দ্রগুপ্ত ! [ মুখ ফিরাইলেন ]
চগুপ্ত। কে বধ করেছে।
কাত্যায়ন। আমি।
চন্দ্রগুপ্ত। কার আজ্ঞায় ?
মুরা। আমার আজ্ঞায়। ব্রাহ্মণ ! আমি নারী-মুখ, দুর্বল,
জ্ঞানহীনা নারী!—কিন্তু তুমি কি কর্লে ব্রাহ্মণ ! কতবার তুমি ঐ
মুখখানি চুম্বন করেছে। আর, এখন কি পৈশাচিক উল্লাসে ঐ ছিন্ন
মুণ্ড হাতে করে দাড়িয়ে আছ।
[ কাত্যায়নের হস্ত হইতে মুও পড়িয়া গেল ]
চন্দ্রগুপ্ত। ৰাহ্মণ ! তুমি রাজাজ্ঞা অবহেলা করেছো?
কাত্যায়ন। করেছি।
চন্দ্রগুপ্ত। ব্রাহ্মণ অবধ্য। তােমাকে আমি রাজ্য থেকে নির্বাসিত
কলাম।
কাত্যায়ন। মহারাজ।
চন্দ্রগুপ্ত। শুন্তে চাই না। আমি এখন থেকে দেখাচ্ছি যে আমার
আজ ভিক্ষুকের কাকুতি নয়। এই তােমার শান্তি।—যাও।
[কাত্যায়ন নীরবে প্রস্থান করিলেন।
চও। চন্দ্রকেতু।
চন্দ্রকেতু। মহারাজ! যদি জগতের লেটি বীর রাজাকার
বিপক্ষে শাণিত মুক্ত তরবারি নিয়ে পড়ত, চন্দ্রকেতু রাজা
১৬]

तोत्रम
চ
পালনে প্রাণ দিত। কিন্তু নারীর কাছে আমি নির চেয়েও
চত্রও। আরম।
মূর। আমার অপরাধের শাস্তি দাও বল!
চলপ্ত। (নতজানু হইয়া কয়বােড়ে তােমার অপরাধ মা।
মায়ের অপরাধ সন্তানের কাছে।-তুমি যাই কর, তুমি আমার কাছে
চিরদিনই মা-জননী জন্মভূমি বর্গাদপি গরীয়সী।” (এক হন্ত
নিহত নলের দিকে প্রসারিত করিলেন, অপর হত দিয়া চর আবৃত
কবিলেন।

চতুর্থ অঙ্ক প্রথম দু স্থান-চাণক্যের কুটীর-কক্ষ। কাল-গােধূলি। চাণক্য একাকী। চাণক্য। প্রতিহিংসা পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু সে একটা ক্ষণিক উন্মাদনা। আবার সেই অবসাদ। বাহিরের বান্ত থেমে গিয়েছে। আবার হৃদয়ের সেই হাহাকার শুনতে পাচ্ছি। অগাধ মেরাশি— রাখি এমন পাত্র নাই। হৃদয় কম্পিত আগ্রহে কাকে যেন বক্ষে চেপে ধর্তে চায়। কিন্তু সে ব্যর্থ আলিঙ্গন বক্ষে চেপে ধরে—নিজেরই উনিশ্বাস।-রাসি ! করেছি কি?-এ শুধু অরণ্যে রােদন- কপালে করাঘাত। ( ধীরে ধীরে পাচারণ করিতে লাগিলেন। প্রথম চিনের প্রবেশ চাণক্য। কি সংবাদ । চর। কাত্যায়ন শক্রশিবিরে, এ সংবাদ ঠিক। চাণক্য। আর কিছু চর। গ্রীক সিনদ পার হয়েছে। ১৮]

চতুর্থ অল্প
eget
এখম কৃ
চাণক্য। সৈন্য কত!
চর। চার লক্ষ।
চাণক্য। যাও।
[ গুপ্তচর চলিয়া গেল ]
চাণক্য। কাত্যায়ন।—চিরদিন একরকমে গেল! তুমি রাজ্য
থেকে নির্বাসিত হয়ে স্থির কর্ণে, যে এখন থেকে অধ্যাপনা কৰে।
কিন্তু সেলুকস তােমায় যেই ভজিয়েছে, অমনি সেই দিকে চলেছ ।
তার উপরে আমার মন্ত্রিত্বে তােমার ঈর্ষা হয়েছে।-মূখ।
দ্বিতীয় গুপ্তচরের প্রবেশ
চাণক্য। সংবাদ ।
চর। বিদ্ৰোহীরা দলবদ্ধ হয়েছে। তাদের
সতেছিল
তৃরীধ্বনি।
চাণক্য। আর কিছু
চর। মহারাজের শয়নকক্ষে ২৫ জন ধাতক সুড়ঙ্গ কেটে অপেক্ষা
কচ্ছে।
চাণক্য। তা পূৰ্বেই শুনেছি।তাদের দলপতি ?
চর। বাচাল।
গণক। যাও।
[ গুপ্তচরের এহান।
চাণক্য। মুর্থ বাচাল।বীরবল।
সৈধ্যক্ষ বীরবলের প্রবেশ
বীরবল। কি না ?
[৯৯

চতুর্থ
চন্ত
প্রথম দৃe
চাণক্য। চন্দ্রগুপ্তের শয়নকক্ষে সুড়ঙ্গ কেটে ২৫ জন যাত
অবস্থিতি কচ্ছে। তুমি সৈন্স নিয়ে গিয়ে তাদের বধ কর।
বীরবল। যে আজ।
চাণক্য। এই শর্তে।
বীরবল।
যে সাল।
[ প্রস্থান।
চাণক্য। চমৎকার এই ব্যবসা—সংবাদের চৌর্যবৃত্তি।
চাণক্যের সৃষ্টি। রামচন্দ্র গুপ্তচর রাখতেন বটে। কিন্তু সে নিজের
কুৎসা শােনবার জন্য। আমি গুপ্তচর রাখি—কুৎসার কণ্ঠ রােধ কর্তে।
চন্দ্রকেতুর প্রবেশ
চন্দ্রকেতু। আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন গুরুদেব।
চাণক্য। ই চমকেতু!—চন্দ্রগুপ্ত আজ রাত্রিকালে দাক্ষিণাত্য
জয় করে ফিরে আসছেন জানেন?
চন্দ্রকেতু। জানি। তিনি নগরীতে উৎসবের আয়ােজন কর্তে
আমায় আজ্ঞা দিয়েছেন।
চাণক্য। আয়োজন করেছে।
চন্দ্রকেতু। করেছি। নগরী আলােকিত হবে, গৃহে গৃহে শঙ্খধ্বনি
হবে, পথে জয়বাথ হবে, আর
চাণক্য। কিছু হবে না।-ব্যর্থ আয়ােজন।-কি! একদৃষ্টে চেয়ে
রয়েছে যে।—যাও, উৎসব বন্ধ কর।
চন্দ্রকে। সে কি গুরুদেব।
চাণক্য। যাও।
[ চন্দ্রকেতু ইতস্তত ভাবে প্রস্থান করিলেন।
১••]

চতুর্থ অঙ্ক
ও
बष पूध
চাণক্য। কি একটা মহা পৰিত্ৰ উজ্জল রাজ্য ছেড়ে কোথায়
চলেছি।-এখনও তার আলোেকমতি শিখর দেখতে পাচ্ছি। সব
অন্ধকার হয়ে যাবার পূর্বে ফিরি না কেন?-পিশাচী! ছেড়ে দে,
ফিরে যাই। না না কোথায় ফিরে যাবাে। কে হাত ধরে নিয়ে যাবে।
মিথ্যা, প্রবঞ্চনা, চৌর্য, হত্যা—এও ত একটা রাজ্য।-মন্দ কি। বে
আছি। চমৎকার।–[ দীর্ঘ নিশ্বস] রাত্রি কত দেখি।
চাণক্য গবাক্ষর খুলিয়া দিলেন। অমনি পূর্ণচন্দ্রের জোৎ
আসিয়া কক্ষ প্লাবিত করিল। চাণক্য সভয়ে পিছাইয়া আসিয়া
কহিলেন, এ আবার কি। এ এতক্ষণ কোথায় ছিল। এত রাশি
রাশি সৌন্দৰ্য—উপরে, নীচে, নিকটে, দূরে, দিদিগন্তে ছড়িয়ে
রয়েছে। এ ত বহুদিন দেখি নাই।কি সুন্দর জ্যোৎ! আকাশে
লঘু, শুভ্র মেঘখণ্ডগুলি ভেসে যাচ্ছে। আর তার নিয়ে জ্যোৎস্না
ভাগীরথী কলস্বরে গান গেয়ে চলেছে।কি সুন্দর! পতিতপাবনী মা
সুরধুনি। ভগীরথ কি পুণ্যবলে তােমাকে স্বর্গের মন্দাকিনীকে-মর্তে
টেনে এনেছিল মা! এ মরুদয়ে সেই ভক্তির উচ্ছাস একবার উঠিয়ে
দে না মা আমি একবার “মা মা বলে তাদের তালে তালে নৃত্য
করি।-এ কি। চাণক্য। তুমি অধীর।-না। আমি দেখবে না।
এই বলিয়া চাণক্য গবাক্ষ কুদ্ধ করিলেন।
এমন সময়ে নেপথ্যে বালি
জয় হোক বাৰ,
চারিটি ভিক্ষা পাই
চাণক্য সহসা লক্ষ উিঠিয়া কহিলেন, “ও কোকার স্বর।
ভিতরে এসাে
৮.১ :
hty

চতুর্থ অ
চত্ত
প্রথম
ভিক্ষুক ও ভিক্ষুকলার প্রবেশ
চাণক্য দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, “ওঃ! ভিক্ষুক।
ভিকুক। চারিটি ভিক্ষা পাৰ বাবা।
চাণক্য বালিকার পানে চাহিয়া ভিক্ষুককে কহিলেন, “ভিকুক, এত
রাত্রে ভিক্ষা কর্তে বেরিয়েছ যে?
ভিক্ষুক। এই মাত্র নগরে এসে পেীছিলাম বাৰ! সারাদিন কিছু
খাইনি বাবা-
বালিকা। সারাদিন কিছু খাইনি বাবা।
চাণক্য। এ কি! সহ প্রাণ কেঁদে ওঠে কেন! এক ভিক্ষুক
বালিকা—এ কি দৌর্বল্য!*-বালিকাকে কহিলেন—এ দিকে
এসােত মা!”
[ বালিকা তৎক্ষণাৎ চাণক্যের সম্মুখে গিয়া দাড়াইল ]
চাণক্য বালিকার মস্তকে হাত বুলাইতে বুলাতে ভিক্ষুককে জিজ্ঞাসা
কৰিলেন—“ভিক্ষুক এ তােমার কন্যা।
ভিক্ষুক। ই বাবা।
চাণক্য দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিলেন; পরে বালিকাকে জিজ্ঞাসা করিলেন,
বালিকা, তােমার নাম কি?
বালিকা। মাধু-
চাণক্য। তােমার বাড়ী কোথায় ?
বালিকা। অনেক দূরে। না বাবা—আমাদের বাড়ী নেই। কখন
অতিথিশালায় কি, কখন গাছতলায় থাকি।
চাণক্য। গাইতে পারাে।
১২।

চও जयपूर ভিক্ষুক। পারে বৈকি। গ ত মাধু। চাণক্য। আগে কিছু খাৰু। একটু বিশ্রাম কর।- ভিক্ষুক। তাতে কিছু নেই বাবা! এই আমাদের ব্যবসা! গতম! উভয়ে গান ধরিল। ঘন তমসাবৃত আর ধরণ- গচ্ছি, চলিছে তাণ- গভীর রাত্রি, গাহিছে যাত্রী, ভেদি সে শঙ্কা উঠিছে শৰE ওঠমা ওঠমা দেখ মা চাহি এই ত এইছি আর চিন্তা নাহি জননীহা का मौन ওঠ, মা ও, মা এৰীপটি ধর। ললি বনানী পর্বতরাজি, তাের কাছে এই আমি এইছি তাজি কোথায় জন। গভীর রজনী, গর্ভেশনি, বহিছে বড়! “একি।কুর যে মুক্তার! নির্বাণ দীপ—গৃহ আকার- কোথায় অনী! কোথায় জননী! বু ৰে, গু যে ঘ। मसविना बाविनाप, বিরণে পড়িয়া কান চরণখাতে বানিপাতে মুদিয়া পড়িল সে বশীপ। [১০ .

দ্বিতীয় দৃ
চতুর্থ অফ
চণ্ড
চাণক্য। [আপন মনে] সে দিনও এমন জ্যোৎনাম লি।
সহসা চমা মেঘে ঢেকে গেল। আর্জবায়ুর উচ্ছ্বাসে দীপ নিভে গেল।
স্নেহময়ী কন্যা আমার ! সে চিন্তাও স্বর্গ। একি। চাণক্য তােমার চক্ষে
জল ! ভিক্ষুক। এই স্বর্ণমুষ্টিভিক্ষা গ্রহণ কর। [ ভিক্ষাদান] মানা
যাও। শী যাও যাও বলছি।
[ ভিক্ষুক ও ভিক্ষুকলা নির্বাক বিস্ময়ে চলিয়া গেল।
দ্বিতীয় দৃশ্য
স্থান-পাটলিপুত্রের প্রাসাদ। কালরাত্রি।
মূরা ও চন্দ্রকেতু।
মূর। চন্দ্রকেতু! আজ চপ্ত দাক্ষিণাত্য জয় করে মগধে
ফিরে আছে। নগরে উৎসব নাই কেন?
চকেতু। মন্ত্রী চাণক্যের নিষেধ।
মূর। সে কি! শুরুদেব তাঁর প্রিয় শিষের বিজয়ে উৎসব কর্তে
নিষেধ করে দিয়েছেন। এ কিরূপ বিচার।
চকেতু। মা-মছিবর যখন নিষেধ করেছেন, তখন নিশ্চয়ই তার
বিশেষ কোন কারণ।
রা। এর কারণ চলগুপ্তের বিজয়গোৱৰে ৰাহ্মণের ঈর্ষা।
১••]

पिन पृ
চতুর্থ অঙ্ক
চক্রও
চকেতু।
সে ৰিজয়গৌরবের কে সূচনা করে দিয়েছিল মা।
ব্রাহ্মণের প্রতি অবিচার কৰ্বেন না।
মুর। ঐ ৰান্থখনি। বৎস ফিরে আসছে। আমি যাই, প্রাসাদশিখরে
দাড়িয়ে প্রবেশসমারােহ দেখিগে’ যাই।
[ কত প্রস্থান।
চন্দ্রকেতু। আজ বহুদিন পরে বন্ধুর জয়দীপ্ত মুখখানি দেখতে পাবে।
আজ আমার কি আনন্দ। চন্দ্রগুপ্ত। তুমি কি পূর্বজন্মে আমার
ভাই ছিলে?
[ নেপথ্যে কোলাহল ও যন্ত্রসঙ্গীত ]
ক্রমে জয় মহারাজ চন্দ্রগুপ্তের জয়” বনি ঘন ঘন নিনাদিত হইতে
লাগিল। শব্দ ক্রমে নিকটবর্তী হইতে লাগিল। পরে পতাকাধারী ও
সৈনিকগণসহ চন্দ্রগুপ্ত প্রবেশ করিলেন।
চন্দ্রকেতু। এসাে বন্ধু! [ আলিঙ্গন করিতে উদ্যত |
চন্দ্রগুপ্ত। [ক্ষভাবে ] চকেতু! আমার আদেশ পেয়েছিলে?
চন্দ্রকেতু। কি আদেশ প্রিয়বর।
চক্রগুপ্ত। যে, আমার আগমন উপলক্ষে নগরী আলােকিত
হবে।–এ আদেশ পেয়েছিলে ?
চন্দ্রকেতু। পেয়েছিলাম।
চg। সে আদেশ পালিত হয় নাই কেন?
চকেতু। মন্ত্রীর নিষেধ ছিল।
চন্দ্রগুপ্ত। তা পূর্বেই অনুমান করেছিলাম—চন্দ্রকেতু! মগধের
মহারাজ, মি, না চাণক্য ?
কেছু। মােন বন্ধু।
[১৫

চতুর্থ টও চলপ্ত। উত্তর দাও। মগধের মহারাজ মি, না আমার মন্ত্রী। চকেতু। মগধের মহারাজ চন্দ্রগুপ্ত। চ-প্ত। তবে চছে। প্রিয়বর- চপ্ত। তে চাই না। মন্ত্রীকে ডাক। চন্দ্রকেতু। শােন বন্ধ। বিশেষ চগুপ্ত। শুতে চাই না। আমি এই মুহূর্তেই তার কৈফিয়ৎ চাই। চমকেতু। তিনি বলেন- চগুপ্ত। তিনি যা বলবেন, নিজে এসে বলবেন। আজ এই মুহূর্তে স্থির হয়ে যাবে মগধের মহারাজ চাণক্য না চণ্ড! চন্দ্রকেতু। অধীর হােয়য় না। শােন- চন্দ্রগুপ্ত। চন্দ্রকেতু! তুমিও আমার অবাধ্য !-যাও। [ চকেতু ধীরে প্রস্থান করিলেন। চন্দ্রগুপ্ত। এক্ষণের জন্তু আমার ধৈর্য্যের শিখর ছাড়িয়ে উঠেছে। একবার—না আগে-স্পর্ধা।আশ্চৰ্য। এবার আমি-না-আগে কৈফিয়ৎ শুনব। অবিচার কর্ব না। [ পরিক্রমণ ] চাণক্যের ও চন্দ্রকেতুর প্রবেশ চাণক্য। মহারাজের জয় হোক। চন্দ্রগুপ্ত। [ত প্রণাম করিয়া] মমির! আমি আজ আমার নগরে এৰেণ উপলকে নগরী আলােকিত কর্তার দিয়েছিলাম। সে আজ পালিত হয় নি কেন? ১৬]

চতুর্থ অল্প
চd
চাণক্য। আমি নিষেধ করেছিলাম।
চ/প্ত। [ কিয়ৎকাল শুক্ক থাকিয়া ] এর কারণ জাতে পারি কি?
চাণক্য। প্রয়ােজন নাই।
চত্রগুপ্ত। প্রয়ােজন নাই।
চাণক্য। আমি যা করেছি, উচিত বিবেচনা করেই করেছি।
চন্দ্রগুপ্ত। তবু আমি কারণ জান্তে চাই।
চাণক্য। কারণ ব্যক্ত কৰ্বার সময় হয়নি। যখন হবে, বিবৃত কর্ব।
চত্ব। মহি! মগধের মহারাজ আমি।
[ চাণক্য সন্মিত মুখে চাহিয়া রহিলেন ]
চন্দ্রগুপ্ত। মন্ত্রি। আমি এ ঔদ্ধত্য সহ কৰ না। এর বিচার
ক।
চাণক্য। চন্দ্রগুপ্ত। তুমি উত্তেজিত হয়েছে।-প্রকৃতিস্থ হও।
[ প্রস্থানােত ]
চর। ম!ি
[ চাণক্য ফিরিলেন ]
চাণক্য। বৎস।
চন্দ্রগুপ্ত। আমি জাতে চাই যে, এ রাজ্যের রাজা আমি, না
চাণক।
চাণক্য। মহারাজE
চও।
গুপ্ত। কৈ। তা ত দেখছি না। দেখছি যে—নিজের সাম্রাজ্যে
আমি বলী, নিজের গৃহে আমি কৃত্য। মন্ত্রী চাণক্য পাটলিপুত্রে
নিশ্চিন্ত হয়ে বসে রাজভােগ খাবেন, আর মহারাজ চও তাই
[ ৭

विछोड पध চতুর্থ অ চ দেশ দেশার থেকে আহরণ করে এনে দেবে। ভারতবর্ষ মন্ত্রী চাণক্যের গুণগান গাইবে, আর সে গতের উপাদান যােগাবে—মহারাজ চগুপ্ত। মহারাজ চন্দ্রগুপ্ত মন্ত্রী চাণক্যের আদেশ অবনতশিরে বহন কৰে, আর চাণক্য চগুপ্তের আজ্ঞায় পদাঘাত কৰ্বেন। এই যদি আমাদের মধ্যে সম্বন্ধ হয়, তবে সে বন্ধন যত শীষ ছিন্ন হয় ততই ভালাে। চাণক্য। মহারাজের অভিরুচি। চাণক্য যেচে এ মন্ত্রিপদ গ্রহণ করে নাই। এই মুহূর্তে আমি অবসর গ্রহণ কর্জি। চন্দ্রগুপ্ত। তার পূর্বে আমি কৈফিয়ৎ চাই। চাণক্য। আমি কৈফিয়ৎ দিব না। চন্দ্রগুপ্ত। এতদুর সৈনিকগণ। বন্দী কর। [ সৈনিকগণ স্থিরভাবে দণ্ডায়মান রলি] চপ্ত। সৈনিকগণ । [ সৈনিকগণ অগ্রসর হইলে চাণক্য অতি প্রশান্তভাবে হন্তের সঙ্কেত যারা তাহাদিগকে নিবারণ করিলেন চাণক্য। সূত্রের এতদূর স্পর্ধা এখনও হয় নাই।মহারাজ। এই আমি মন্ত্রীত্ব ত্যাগ কলাম | মন্ত্রীর প্রহরণ রাখিলেন ] মহারাজ! চাণক্য নিশ্চিন্ত বিলাসে রাজধানীতে বসে নাই। সে এইখানে বসে একটা প্রকাণ্ড সাম্রাজ্য চালাচ্ছে। আর চাণক্যের রাজ- ভােগ। সে আহার করে—দুই মুষ্টি আতপ ততুল, শয়ন করে—অজিন শয্যায়। সে রাজ্যের চিতায় তৃতীয় প্রহর রাত্রে উনঝিকে কুচাৰ- প্রাঙ্গণে পাদ-চারণ করে। আমি চাম-তােমার মা তুমি শাসন ১৮।

पिछीन पछ
চতুর্থ অল্প
চও
কর। [ প্রস্থানােত, সহসা ফিরিয়া, যাবার আগে বলে যাই
কেন আজ উৎসৰ নিবারণ করেছিলাম। দূতপূৰ্ব্ব মহারাজ নন্দের মন্ত্রী
বিদ্রোহ-মন্ত্রণাকে উত্তাপ দিয়ে একাণ্ড ঘষত্রে ফুটিয়ে তুলেছেন।
আজ রাত্রে উৎসৰকালে তার দল লােৰু নগরী আক্রমণ কৰে
মনস্থ করেছে। তারা তােমার শয়নককে সুড়ঙ্গ কেটে তােমাকে
হত্যা কৰ্বার জন্য সেখানে অপেক্ষা কর্শে। আমি সৈনিক পাঠিয়েছি
তাদের বধ কর্তে। [ প্রস্থানােত ; পুনরায় ফিরিয়া ] হাঁ, আরও
এক কথা—বিজয়ী সেকস সিন্ধু নদ পার হয়েছে। শক্ত চারিদিকে
সশস্ত্র ; এখন উৎসবের সময় নয়। এই জন্য আমি আপাতত
উৎসব স্থগিত রেখেছিলাম।
[ নােত
চন্দ্রকেতু। [ তাঁহার পদতলে পড়িয়া] মার্জনা করুন, গুরুদেব ।
চাণক্য। কৈফিয়ৎ দেওয়ার পর চাণক্য আর মী করে না।
[প্রস্থান।
চন্দ্রকেতু। মন্ত্রীকে অনুনয় করে ফেরাও বন্ধুবর।
চন্দ্রগুপ্ত। কেন। যেখানে চাণক্য নাই সেখানে কি রাজ্য চলে
না! এত অহঙ্কার।-মন্দ কি! আজ আমি মুক্ত। আজ আমি
সত্যই মহারাজ।
উপদেশ শােন বন্ধু। তাকে হাতে পায়ে ধরে
চমকেতু। উপদেশ
চলপ্ত। তােমার উপদেশ চাই নাই চন্দ্রকেতু! তোমার
অনুরােধে এবার চাণক্যকে ক্ষমা করেছিলাম।-মহাম করে
[১০৯

চতুর্থ
buget
ভিীর কৃ
ছিলাম। পা ব্রাহ্মণের ! আমি মহারাজ! আমার কোন মত
নাই! ভাইকে ক্ষমা কর্নার ক্ষমতাও নাই। আমি যেন রাজ্যের
কেহ নই - মহারাজের ভূমি অভিনয় করে যাচ্ছি।
ব্যঙ্গ অভিনয়ের চেয়ে সরল দাও ভালাে।
চন্দ্রকেতু। কিন্তু গুরুদেব যা কর্মেন, তােমারই মঙ্গলের জন্য।
চন্দ্রগুপ্ত। সেই জন্যই কি ৰাহ্মণ আমার ভাই নন্দকে হত্যা
করেছিলেন। তিনি আর কাত্যায়ন আমার অভাগা ভাইকে হত্যা
করে পৈশাচিক উল্লাসে তার মৃত দেহের উপরে তাণ্ডব নৃত্য
করেছেন। আমি দেখি নাই ?
চন্দ্রকেতু। কিন্তু তুমি ত তার কাছে এই সিংহাসনের জন্য ঋণী?
চন্দ্রগুপ্ত। ঋণী !—যা অপ্রিয় বাক্য ব’লতে তুমি বেশ পটু ত
জানি।
চন্দ্রকেতু। অপ্রিয় সত্য বলবার অধিকার এক বন্ধুরই আছে।
চত্রও। সে ব হয় সমানে সমানে।
চন্দ্রকেতু কিয়ৎকাল নীরব রহিলেন ; পরে কহিলেন, “আমার
ঔদ্ধত্য মার্জনা কর্ধেন মহারাজ। ভবিষ্যতে আর আমি মহারাজের
সহিত বকে স্পর্ধা কঝ না। আজ আমি তাকে বিদায় গ্রহণ করি।
তবে বাবার পূর্বে এক কথা বলে যাই। মহারাজ সম্পদে
আমার বা উপেক্ষা করেন করুন। কিন্তু বিপদে যেন আমি সে
এধিকার থেকে বঞ্চিত না হই। যদি আমার সাহায্যের মহারাজের
কখন কোন প্রয়ােজন হয়, এই প্রত্যাখ্যানজনিত লজ্জায় যেন তা
চাইতে দ্বিধা না করেন। আমার জীবনে যদি মহারাজের কোন
১১]

চতুর্থ
চণ্ড
যৎসামা লাভ হয় , সে জীবন আমি চিরদিন হাতমুখে মহারাজের
স্ত ঢেলে দিতে প্রস্তুত।
চন্দ্রগুপ্ত কিয়ৎকাল নীরব রহিলেন। পাঁচ জন সশর সৈনিক প্রবেশ
করিল। এক জনের হন্তে ছিন্ন মুণ্ড। সে মুণ্ডটা চন্দ্রগুপ্তকে দেখাইয়া
কহিল-“মহারাজ! এই দলপতি মুণ্ড।
চন্দ্রগুপ্ত। কোন্ দলপতির।
সৈনিক। পচিশজন ঘাতক মহারাজের শােবার ঘরে এল কেটে
অস্ত্র নিয়ে লুকিয়ে ছিল। মন্ত্রী মহাশয় তাদের বধ কর্নার জন্য আমাদের
সেখানে পাঠান। আমরা সেই পচিশজনকেই বধ করেছি। এ সেই
দলপতির মু।
চন্দ্রগুপ্ত। [মুও দেখিয়া ] এত রাজশ্যালক বাচাল।-আচ্ছা
ও।
[ সৈনিকগণ চলিয়া গেল।
চক্ষুপ্ত। তাই ত!
একজন সৈন্সধ্যক্ষের প্রবেশ
সৈন্যাধ্যক্ষ। মহারাজের জয় হউক।
চন্দ্রগুপ্ত। কি সংবাদ ।
সৈন্যাধ্যক্ষ। বিদ্রোহীর নগর আক্রমণ কর্তে এসেছিল। আমাদের
তর্ক ও সশস্ত্র দেখে ফিরে গিয়েছে।
চত্রগুপ্ত। কে তােমাদের সতর্ক থাকতে বলেছিল।
মৈধ্যক্ষ। যী-মহার।
[ চলথ একদৃঠে শুতে চাহিয়া রহিলেন]
[১১

চতুর্থ অল্প চ- তৃতীয় দৃশ্য সৈন্যাধ্যক্ষ ধীরে ধীরে নিজাত হইল। চন্দ্রগুপ্ত পূর্ববৎ চাহিয়া রছিলেন। डौ। न्य স্থান-সেকসের শিবির। কালরাত্রি। সেলুকস ও কাত্যায়ন। সেকস। কিন্তু ছয় লক্ষ সৈন্থ। কাত্যায়ন। চাণক্য মন্ত্রীত্ব পরিত্যাগ করায় তারা এখন বিল। আমি সংবাদ নিয়েছি সম্রাট! আপনি আমায় বিশ্বাস করুন। আক্রমণের উপযুক্ত সময়। সেল। কিন্তু আমার সৈন্যসংখ্যা কম। কাত্যায়ন। কোন ভয়ের কারণ নাই। ভূতপূর্ব মহাৱা নন্দের পক্ষে নগরের অনেক সম্রান্ত ব্যক্তি আছেন। তারা নিশ্চিত সদলবলে একসেনার সঙ্গে বােগ দিবেন। সেলুক। নিশ্চয়তা কি? কাত্যায়ন। আমি জানি এ নিশ্চিত। চকেতুর সৈঙ্গ রাজ্যে ফিরে গিয়েছে। তারাও সম্ভবতঃ গ্ৰীক সৈন্যের সঙ্গে বােগ দিবে। এতক্ষণ যে দিচ্ছে না কেন তাই ভাবছি। হেলেনের প্রবেশ হেলেন। সকলেই তােমার মত বিশ্বাসঘাতক নয়, ব্রাহ্মণ। ১২]

চতুর্থ অল্প
চও
সেলুক। তুমি এ সময়ে এখানে কেন হেলেন।
হেলেন। আমি পাকক্ষে পাঠ কছিলাম। মাঝে মাঝে এই
ব্রাহ্মণের নিম্নস্বর শুন্তে পাচ্ছিলাম। আমার কৌতুহল হল। বই বন্ধ
করে খানিক শুলাম। তার পর আর অন্তরালে থাকতে পালাম না।
ব্রাহ্মণ ! তুমি বিশ্বাসঘাতক।
কাত্যায়ন। আমি ।
হেলেন। একশত বার।
একশত বার। যে রাজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, একটা
জাতির উচ্ছেদসঙ্কল্প করে, যে আজন্মসিদ্ধ মেহ, রাজভক্তি বিসন দিয়ে
আততায়ীর সঙ্গে সন্ধি করে-যে শাবির ক্ষেত্রের উপর দিয়ে রক্তের ঢেউ
বহা’তে চায়, সে শুধু সেই জাতির শত্রু নয়, সে সমস্ত মানবজাতির
শ, সে নিয়ম ও শৃঙ্খলার শত্রু, সে ধর্মের শত্রু। ৰাহ্মণ! পিতার
স্তিমিত জিগীষাকে তুমি আবার বাতাস দিয়ে প্রবলিত করে তুলছে।
দুইটি প্রকাণ্ড সভ্যজাতির মধ্যে পরিখা খনন কচ্ছ। তােমার নরুকেও
স্থান হবে না।
কাত্যায়ন। কিন্তু পাণিনি-
হেলেন। পাণিনি ত ব্যাকরণ।
কাত্যায়ন। তার মধ্যে বেদান্তসার।
হেলেন। তুমি মুখ!—দূর হও।
[কাত্যায়ন চলিয়া গেলেন।
হেলেন। পিতা। এই ৰাহ্মণের কাছে আমি সংস্কৃত অধ্যয়ন
কচ্ছিলাম। স্বপ্নেও ভাবি নাই যে, সে এত বড় দুরাত্মা। যদি তা জাম
ভ হলে সেই মুহূর্তে তাকে দূর করে দিতাম।
[১১৩

চতুর্থ অ
চত
তৃতীয়
সেস। হেলেন!
হেলেন। বাবা।
সেলুক। তােমার মাতা গ্রীক ছিলেন না হেলট ছিলেন?
হেলেন। আমার মা দেবী ছিলেন।
সেলুস।
তবে তার কন্যা তুমি—গ্রীসের গৌরব খর্ব কর্তে
চাও!
হেলেন। গ্রীসের গৌরব জগতে বিশৃঙ্খলা অত্যাচার নিয়ে আসায়
নয় বাবা। গ্রীসের গৌরব-সক্রেটিস ও ডিমস্থিনিসে, প্লেটো ও
আনিউটলে, হােমার ও ইয়ুরিপিডিসে। গ্রীসের গৌরব ফিডিয়াস ও
লাইকগাসে, সাফো ও পেরিক্লিসে, হিরােডােটাস ও ইঙ্কাইলিসে। গ্রীসের
গৌরব-অসভ্য ইয়ুরােপখণ্ডে সূর্যের মত কিরণ দেওয়ায়—যেন ভারত
আর্যযুগে এসিয়ায় আলাে দিয়ে এসেছে। গ্রীস ও ভারত-সন্ধ্যার সূৰ্য্য
ও পূর্ণচন্দ্রের মত প্রাচ্য ও প্রতীচ্য আকাশ বিভাগ করে নিয়েছে।
তাদের সাতে যে প্রলয় হবে।যুদ্ধ ত হত্যার ব্যবসা।
সেলুকস। মিণ্টাইডি, লিয়নিডাস তবে এই হত্যার ব্যবসা কর্তেন।
হেলেন। তারা এ ব্যবসা নিয়েছিলেন আক্রান্ত দেশকে বাঁচাতে,
দেশে অগ্নিদাহ মড়ক লুঠন নিবারণ কৰ্ত্তে, শান্তির শুভ্র বৈজয়ন্তী ৰক্ষা
কর্তেকেড়ে নিতে নয়।
সেলুকস। আমি সে কথা বিশ্বাস করি না।
হেলেন। বাবা! যুদ্ধ যদি আত্মরক্ষার্ধে অনিবার্য হয়-যুদ্ধ করুন।
কি কনে, উপায় নাই। কিন্তু যুদ্ধ কৰ্বেন-শান্তি রক্ষা কর্তে, শান্তি
ভদ কর্তে নয়। একটা জাতি সুখে শান্তির জোড়ে নিদ্রা যাচ্ছে, আপৰি
১৪]

प्रीत्र मा চতুর্থ চণ্ড চানে সেই নিত্রা ভঙ্গ কর্তে। নিশ্চিন্ত হৃদয়ে জাতক জাগিয়ে একটা মহা সভ্যতার কণ্ঠরােধ কর্তে। এ কি উচিত হচ্ছে বাবা? সেলুকস। আমি তার বক্তৃতা শুয়ে চাই না। ছেলে বেলায় মায়ের বক্তৃতা শুনেছি, বুড়াে বয়সে কি কন্যার বক্তৃতা শুয়ে হবে? আরিষ্টটল বলেন- হেলেন—আঃ-একদিকে আরিষ্টটলের অকথিত উক্তি, আর একদিকে পাণিনির আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা প্রালাতন! মাঝে মাঝে আমার আত্মহত্যা কর্তে ইচ্ছা হয়। সেলুস। কেন হেলেন? হেলেন। বাবা! এই মহা বিশ্বপরিবারকে বিদ্বেষ অহঙ্কার যেরূপ পৃথক করেছে, নদী পৰ্বত সমুদ্র সেরূপ ভিন্ন করে নাই। সেলুকস। যাও, ও কথা আমি শুন্তে চাই না—ধাত্রী। ধাত্রীর প্রবেশ সেলুকস। কন্যার কাছে থাকো। শুতে যাও হেলেন।[ প্রস্থান। হেলেন। [ ক্ষণেক উর্ধদিকে চাহিয়া । হিংসা সহৰ কণা বিস্তার করে ধেয়ে আসছে। আর সংসার দৃষ্টিমুবৎ তার পানে চেয়ে আছে।কোন উপায় নাই। চল ধাত্রী। ( নিকা। [১১৫

চতুর্থ
.
চতুর্থ
চতুর্থ দৃশ্য
স্থান-গ্রীস, গ্রামে একটি নির্জন কুটীর-কক।
কল—প্রভাত।
আটিগােন ও তাহার মাতা কথা কহিতে কহিতে বাহির হইয়া
আসিলেন।
আটিগােন। না, আমি তােমার হাতে জলগ্ৰহণ কৰ্ব না। আমি
অজান্তে এসেছি আমার পিতা কে?
মাতা। আমি ত তােমার মা।মেহের কি কোন ঋণ নাই?
আটিগােন। মেহের ঋণ![স-ব্যঙ্গহান্তে ] উত্তম। আমাকে
খণিত ভিক্ষুক করে জগতে এনে, পরে এক মুষ্টি অল্পের জন্য পশুর মত
হাটে বিক্রয় করে তার পর স্নেহের দাবী কর! লজ্জা করে না।
মাতা। আমার অন্যায় হয়েছিল। কিন্তু তার কি মানা নাই?
তুই কি বুঝবি বৎস, কুধার সে কি জ্বালা, যার তাড়নায় উন্মাদ হয়ে
এমন কাজ করেছিলাম। তার পর-কত দীর্ঘ দিবস, কত সুপ্তিহীন
রজনী উষ্ণ অশ্রুজলে অভিষিক্ত করেছি। ঐ মুখখানি অমণ করেছি,
আর চক্ষে জগৎ লুপ্ত হয়ে গিয়েছে। সেই জীত অনুমুষ্টি মুখে তুলেছি
আর তা আমার উষ্ণ নিশ্বাসের তাপে ভন্ম হয়ে গিয়েছে। ক্ষুধার কি
কাল তা তুই কি বুঝবি! তুই কি বুঝবি !
আটিগােন। আর তুমি কি বুঝবে এই অনুগ্ম ঘনব্যথা,
এই মানসিক ব্যাধির মর্মপীড়া, যা ব্যয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উবেগে আমি

চNপ্ত
চদু অৰু
চতুর্থ মৃ
পৃথিবীময় ঘুরে বেড়িয়েছি। সিংহের গর্জন, ব্যাক্সের ব্যাদান, অগ্নির
জিহ্বা, করকার প্রপাত, শক্রর খড় তুচ্ছ করে ছুটেছি আর
তাড়নায় অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে তােমার কাছে এসেছি। আমি
নিজের শৌর্যে সৈন্যাধ্যক্ষ হয়েছি কিন্তু তুমি যে কলঙ্কের ছাপ আমার
ললাটে দেগে দিয়েছিলে, সে কালিমা গেল না।-বল নারী! আমার
পিতা কে?
মাতা। বলছি। বিশ্রান্ত হও।
আটিগােন। কোন প্রয়ােজন নাই। আমার পিতা কে?
মাতা। [ অর্থগত ] সেই মুখখানি! কতবার স্বপ্নে এই মুখখানি
দেখেছি। কতবার তাকে বলে রেখে কম্পিত মেহে বারবার চুন
করেছি। কতবার
আটিগােন। আমার পিতা কে?
মাতা। তােমার পিতা কে জাবার জন্যই তােমার আগ্রহ—আমি
কি তােমার কেউ নই।
আন্টিগােন। না কেউ নও। সে বন্ধন নিজহন্তে ছিন্ন করেছে।
সংসারে সর্বাপেক্ষা পৈশাচিক কাজ করেছে!-মা হয়ে সন
বিক্রয় করেছে।
মাতা। তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।-যদি ক্ষমা না করি, একবার
আমার মা বলে ডাক-একবার একবার
আতিগােন। নারী জনন তনবার জন্য এখানে আসিনি।
বল নারী, আমার পিতা কে?
মাত। আমি তাের কেউ নই।
[১

চতুর্থ
চd
চতুর্থ দৃশ্য
আটিগােন। কেউ নও।
মাতা। তবু আমি তােকে গর্ভে ধরেছিলাম, স্তন্যপান করিয়েছিলাম,
বুকে করে ঘুম পাড়িয়েছিলাম।
আটিগােন। অনুগ্রহ! গলা টিপে সন্তানকে বধ কর নি-
অসীম করুণা! কেন বধ কর নি ? বিক্রয় করার চেয়ে যে তাও
ছিল ভালাে।
মাত। বৎস!
আটগােন। আমার পিতা কে?-বল শীঘ্র। নইলে—আমি
উদ-আমার পিতা? পিতা কে?
মাতা। উত্তম। তবে শােন। আমি তােমার কাছে তােমার
পিতার নাম এতদিন বলি নাই, কারণ তােমার পিতার নিষেধ ছিল।
ৰখন আমাদের বিবাহ হয়-
আটিগােন। বিবাহ হয়।
মাতা। তখন আমার বয়স পর বৎসর। তিনি যা বুঝিয়েছিলেন,
তাই বুঝেছিলাম।—আমাদেব বিবাহ গােপনে হয়েছিল।
আটিগােন। বিবাহ হয়েছিল।
মা। তারপরে তিনি এক অভিজাত বংশের সন্ত্রান্ত ব্যক্তির
ক বিবাহ করে আমায় পরিত্যাগ করেন—হা রে কঠিন
আটিগােন। বিবাহ হয়েছিল।হেলেন! তােমার পাবার
আশা ভৰে একান্ত দুরাশা নয়।সেলুকস!—কি চমকালে যে?
মাত। কার নাম কচ্ছ।
১১]

!
চতুর্থ অঙ্ক
চগুপ্ত
চতুর্থ
আটিগােন। কেন! সেলুকস।
মাতা। সে নাম তুমি জানলে কেমন করে। আমি ত এখনও
বলি নাই
আন্টিগােন। আমি জানলাম কেমন করে! আমি যে তারই
অধীনে সৈন্যাধ্যক্ষ ছিলাম।
মাতা। [ সাগ্রহে ] তার অধীনে? তবু চিন্তে পারে। নি।
আটিগােন। [ সাশ্চর্য্যে ] চিন্তে পারি নি।
মাতা। তিনিও চিন্তে পারেন নি! হা রে কঠিন পুরুষ! সন্তান
চেন না । আমি ত লক্ষ ছেলের মধ্যে নিজের ছেলেটিকে বেছে নিতে
পারি—সে যত বড়ই হৌক, তাকে যতদিনই না দেখি—
আন্টিগােন। কি বলছ নারী ?—উন্মাদিনীর মত কি বকে
যাচ্ছ?
মাতা। না না, আমি উন্মাদিনী নই। যদিও এখনও যে উন্মাদ
হ'য়ে যাই নাই কেন, জানি না। তিনি সম্রাট-আর আমি তার
ধৰ্ম্মপত্নী, তার মহিষীপথের ভিখারিণী—পেটের জ্বালায় যার সন
বিক্রয় কর্তে হয় [ ক্রন্দন )
আটিগােন। [ অৰ্জ বগত ] সে কি। তবে কি-
মাতা। বৎস, এই সেলুকসই তােমার পিতা।
আটিগােন দেওয়াল ধরিয়া দাঁড়াইলেন। পরে সহসা তাহার
মাতার পদতলে পড়িয়া কহিলেন “মা আমায় ক্ষমা কর। আমি তােমার
উপর রূঢ় হয়েছি।—অভাগিনি পরিত্যক্তা মা আমার।
মাতা। না, সে তার কাছে। আমি অভাগিনী পরিত্যক্তা-
[১১

চ-প্ত
চতুর্থ দৃশ্য
তাঁর কাছে। তাের কাছে আমি শুধুম! আর একবার মা বলে
ডাক। সব যন্ত্রণা—সব—সব ভুলে যাই ভুলে গিয়ে গু সেই ডাক
তনি।
–
আন্টিগােন। তুমি রাজমহিষী, তােমার এই দশা মা।
মাতা। শুধু মা। শুধু মা। আর কিছু না। আর কিছু না।
মা বলে ডাক-মা বলে ডাক।
আটিগােন। মা আমার
মাতা। আর একবার—আর একবার।
আন্টিগেন। একি! তােমার পা টলছে। তুমি সােজা হয়ে
গড়াতে পাচ্ছ না—চল মা তােমায় শুইয়ে রেখে তােমার পদসেবা
করি। মা ।
মাতা। বৎস আমার। আর একবার ডাক।
আটিগােন। মা ।
মাতা। এই স্বর্গ।-আমার মাথা ঘুচ্ছে!-বৎস!-আতিগােন
কোথা তুই! [হস্ত প্রসারিত করিলেন ]
আটিগােন। এই যে মা-এই যে-
আটিগােন তাহার পতনােখ মাতাকে ধরিলেন। তাহার মাতা
তাহার গুদ্ধে ভর দিয়া নিজাত হইলেন।
১৯]

চতুর্থ অ চ পঞ্চম পঞ্চম দৃশ্য স্থান-চত্রগুপ্তের প্রাসাদ। কাল রাত্রি। চন্দ্রগুপ্ত একাকী। প্রজা, চল। শেষে আমারই আমারই সৈন্ত—বিপক্ষের সঙ্গে যােগ দিয়েছে।-বাহিরে শত্রু, ঘরে শক্র। আর রক্ষা নাই। এ প্রকৃতির প্রতিশােধ। হিতৈষীকে শত্রুভান করে রাজ্য থেকে নির্বাসিত করেছি। (এ নির্বাসন বৈ আর কি।) বড় অভিমানে বন্ধুবর আমায় ছেড়ে চলে গিয়েছে। সেই দিনের তার অভিমানে ছল-ছল চকু দুটা মনে পড়ে। তার অর্থ—এত অকৃতজ্ঞ তুমি চন্দ্রগুপ্ত। তােমায় আশ্রয় দিয়েছিলাম, সৈন্য দিয়ে- ছিলাম, তোমার জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিলাম, তােমার জীবন রক্ষা করেছি, মগধের সিংহাসনে বসিয়েছি। তার এই পুরস্কার। চন্দ্রকেতু! যদি এখন তােমার দেখা পেতাম, পা জড়িয়ে ক্ষমা চাই- তামাম সাম্রাজ্য যাক, জীবন যাক—তুমি ক্ষমা কর, গুনে যাই।” বা সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যাক্। আমি যুদ্ধ কৱ না। আমি নিজের উপর প্রতিশােধ নেবাে। মগধ সাম্রাজ্য মেঘের প্রাসাদের মত শূন্যে মিলিয়ে যাক। আমি ক্ষুব্ধ নই। [ একজন সৈনিকের প্রবেশ ] চল। কি সংবাদ সৈনিক। সৈনিক। মহারাজ। দুর্গের দক্ষিণ প্রকার জন্ম হয়ে গিয়েছে। চও। উত্তম! বাঙাকি। চেয়ে রয়েছে যেখাও।

T . চতুর্থ অৰু চঃ সৈনিক। শত্রুসৈন্য দুর্গে প্রবেশ কচ্ছে। চত্রগুপ্ত। করুক—যাও। [ সৈনিকের প্রস্থান। চন্দ্রগুপ্ত। আমি যুদ্ধ কর্ব না। আমি নিজের উপর প্রতিশােধ নেবাে। আমি আত্মহত্যা । অপর সৈনিকের প্রবেশ সৈনিক। মহারাজ চন্দ্রগুপ্ত। কে তুমি? চলে যাও। সৈনিক। শত্রু চন্দ্র গুপ্ত। শক্ত কে? শক্র কেউ নয়। তারা পরম মিত্র। আসতে দাও।যাও। [ সৈনিকের প্রস্থান। চন্দ্রগুপ্ত। শত্রু কে, মিত্র কে চিনি না। বাহিরে শত্রু, ঘরে শক্র। প্রকাণ্ড নদীর মাঝখানে ঝড় উঠেছে। এ তরীর কর্ণধার নাই। সে এই তরঙ্গে ইতস্ততঃ উৎক্ষিপ্ত বিক্ষিপ্ত হয়ে দোল খাচ্ছে। দে দোল দে দোল! ডােবে আর দেরি নাই। কেমন মজা! চাণক্য নাই যে মন্ত্রণা দেবে, চন্দ্রকেতু নাই যে প্রাণ দেবে। দে দোল দে দোল। তৃতীয় সৈনিকের প্রবেশ চন্দ্রগুপ্ত। আবার! সৈনিক। মহারাজ। চন্দ্রগুপ্ত। কে মহারাজ ? মহারাজ এখানে কেউ এখানে কেউ নাই। [ কঠোরবরে] যাও। [ সৈনিকের প্রস্থান। বাহিরে নিনাদ। চন্দ্ৰপ্ত। ও কি শব্দ। এত রাত্রে দুৱীনি! এ কি। ১২২] চতুর্থ অৰু 4798 পঞ্চম এ যে ঘুরে কোলাহল! যুদ্ধ! কার সঙ্গে কার যুদ্ধ। আবার রণতুরীর শব্দ।চন্দ্রগুপ্ত ! তুমি জীবিত না মৃত ? এই তুর্য্যধ্বনি শুনেও তুমি নির্জীবভাবে গৃহ বসে’! ঐ তােমার সৈন্য যুদ্ধ কর্মে প্রাণ দিচ্ছে, আর তুমি গৃহকক্ষে বসে। ওঠো বীর। এই অগাধ নৈরাশ্যের উপর দিয়ে একবার বিদ্যুৎ খেলিয়ে দিয়ে চলে যাও দেখি। এই প্রভঞ্জনের হারের উপর তােমার ভীম বজ্রনাদ গর্জে উঠুক—তার পর সব প্রণয়কল্লোলে মিশে যাক—জয় মগধের জয়! মুরার প্রবেশ মুরা। চন্দ্রগুপ্ত।—এ কি। চন্দ্রগুপ্ত। মা! বিদায় দাও। আমি যাচ্ছি। মুরা। কোথায়। চন্দ্রগুপ্ত। যুদ্ধে। যুদ্ধে মৰ্ব—পিঞ্জরাব ব্যাঘ্রের মত আমার খুঁচিয়ে মাৰ্তে দেব না। যুদ্ধক্ষেত্রে নক্ষত্রখচিত মুক্ত নীল আকাশের তলে আমার সৈন্যের মধ্যে দাড়িয়ে যুদ্ধ কর্তে কৰ্তে মৰ্ব। মুরা। মর্বে কেন বৎস! শত্রু এসেছে যুদ্ধ কর। বীর তুমি মর্বে কেন! চন্দ্রগুপ্ত। তদ্ভিন্ন উপায় নাই। বাহিরে শত্রু, ঘরে শত্রু। কে শব্দ, কে মিত্র চিনি না। শত্রুসৈন্য এক সমুদ্র- মুরা। তথাপি চন্দ্রগুপ্ত। এর মধ্যে তথাপি নাই। আমি মর্তেই চাই। যুদ্ধের কোলাহল।—সৈনিক। [১২৩

চতুর্থ
চও
পঞ্চম
সৈনিকের প্রবেশ ও অভিবাদন
চন্দ্রগুপ্ত। এক্ষণেই যুদ্ধে যাব। পারক্ষীদের আজ্ঞা দাও। ৪
পুনঃ পুনঃ রণতূরীর শব্দ!-যাও।
[ সৈনিকের প্রস্থান। নেপথ্যে জয় মহারাজ চন্দ্রগুপ্তের জয়
চত্রগুপ্ত। ওকি। মহারাজ চক্রগুপ্তের জয়। আমি কি স্বপ্ন
দেখছি।-না এ শক্রর ব্যঙ্গজয়ধ্বনি! মহারাজ চক্রগুপ্তের জয়-চাণক্য
আর চকেতুর সঙ্গে নির্বাসিত হয়েছে। ঐ আবার আরােও
কাছে। আরােও কাছে! একি একি কাণের কাছে!!-যে
পরিচিত স্বর!—এরা কারা। [ পিছাইলেন ]
রক্তাক্ত দেহে চকেতু, ছায়া ও চাণক্যের প্রবেশ
চগুপ্ত। স্বপ্ন। স্বপ্ন।
চকেতু। এইছি বন্ধু-গুরুদেবকে পায়ে ধরে নিয়ে এসেছি।
আর কোন ভয় নেই।
‘গুরুদেব রক্ষা করুন” বলিয়া মূরা চাণক্যের পদতলে পড়িলেন।
গয়া মুরাকে উঠাইলেন।
চাণক্য। ওঠো মুরা! চাণক্য সব পারে ; কেবল মরা মানুষ
ফিরিয়ে আস্তে পারে না—কোন ভয় নাই চপ্ত। ওঠো। এই
দুর্তে যুদ্ধে অগ্রসর হও। গ্রীকের সাধ্য চাণক্যের সৃষ্টি ব্যর্থ করে ।
চকেতু। বন্ধু! একদৃষ্টে চেরে রয়েছে কেন?—এস এই
বিপদে একবার কাঁধে কাঁধ দিয়ে, দৃঢ়পদে দাড়াই। এই যুগ্ন বক্ষের
উপর যদি পৰ্বত ভেঙ্গে পড়ে, সে পৰ্বতও চুপ হয়ে যাবে।
চপ্ত। চকেতু!-বন্ধু!—ভাই।সবলে আলিঙ্গন করিলেন]
১০]

চতুর্থ অৰু
চও
बर्छ र
1
শ্ৰষ্ঠ দৃশ্য
স্থান-মগধে চকেতুর গৃহ। কাল-রাত্রি।
হায় ও সবিনীগণ।
ছায়া। নাচো, গাও। আমিও আজ তােমাদের সঙ্গে যােগ
দিব। মহারাজ চগুপ্ত গ্রীকদের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন।
কি আনন্দ।
১ম সখী। সখি। তুমি তার যে জয়গান গাও, তিনি কি তা
শুতে পান?
ছায়া। আমার গানে আমার আনন্দ, তার কি। যখন বসন্ত
আসে, তখন লক্ষ্য করেছে কি সখি যে, মাতহিলােলে প্রকৃতি
পত্রপুষ্পে আপনিই শিহরিত হয়ে উঠেকেউ দেখে কি না দেখে,
তার কিছু যায় আসে না, কুঞ্জে কোকিল আপনিই গেয়ে ওঠে
কেউ শােনে কি না শােনে তাতে তার কিছু যায় আসে ল। তারা
নিজের মুখে নিজে পূর্ণ।
২য় সখী। তুমি তাকে যে ভালবাসাে, তার প্রতিদান চাও
না?
ছায়া। আমার প্রেম আমার সম্পত্তি। আমার প্রেম নিজেই
পূর্ণ। সেই প্রেমে আমি মগ্ন আছি। তাকে দেখার অবকাশ
পাই না।
[১২৫

চতুর্থ অ
চু-প্ত
बई पध
আশ্চৰ্য্য !
ও সখ্য।
তিনি তােমায় ভালবাসেন না !
অথচ তুমি তার জীবন রক্ষা করেছো-নিজের
জীবন তুচ্ছ
ছায়া। সখি, যদি আমার সহ জীবন থাকত, তাও আমি
অনায়াসে তার চৰণে ঢেলে দিতাম।—দুঃখ এই যে, তাকে দেবার মত
আমার কিছু নাই।
সখি। কি নাই?
ছায়া। আমার রূপ নাই।
৩য় সখী। কে বলে তােমার রূপ নাই।
ছায়া। যদি আমার রূপ থাকত, তিনি আমায় একবার চেয়েও
দেখতেন। আমার ইচ্ছা হয় যে, বিয়ে যত সৌন্দৰ্য্য আছে—সব
আমাকে আশ্রয় করুক, আর আমি সেই সৌন্দৰ্য্য রাশি গােমুখীর
ধারার মত অাধারে তার পায়ে ঢেলে দিই। কিন্তু আমার কিছু
নাই।
ম সখী। তােমার অমূল্য হদয় আছে।
ছা। পুরুষ তা চায় না, পুরুষ চায় নারীর রূপ।
২ সখী। নির্বোধ পুরুষ।
ছায়া দীর্ঘশ্বাস ফেলিলেন। পরে কহিলেন—না তােমরা আমায়
কাদাবে।-না। আজ মহােৎসব। উৎসব কর, উৎসব কর-যতক্ষণ
তােমাদের জাগরণম্লান মুখের উপর প্রভাতকুৰ্য্যের নকশি এসে
পড়ে, যতক্ষণ বিহঙ্গমের কলরব তােমাদের ক্ষীণায়মান কনির
সঙ্গে মিশে না যায়।গাও।”
১২৬]

চতুর্থ অল্প
চত্রপ্ত
बर्छ र
নৃত্যগীত।
আজি গাঙ মহাগীত মহা অৰিলে,
বাজে মৃত্ব গভীর ছলে,
পাল তুলে দাও, ভেসে যাক শুধু সাগরে জীন তরুণী।
উলি’ উছলি উঠুক নৃত্য ,
করুক সন্ধি জীবন মৃত্যু,
অর্গ নামিয়া আৰু মর্তে, স্বর্গে উক ধরণী।
চঞ্চল চলাচল
উইক লা অঙ্গে অঙ্গে,
ফুটুক হাস্য সরস অধরে , মুটুক ভাতি নমনে,
উঠিয়া গতিমধুমত্র
লুটিয়া নিউৰু সূৰ্য্য চন্দ্র ,
অসহ পুলকে উই শিহরি' বরণ অবরণী।
দূরে মূল প্রবেশ
মূর। ছায়া! ছায়া।-উৎসবে মত্ত।—অভাগিনী এখনও জানে
, যে যুদ্ধে তার ভাই চকেতুর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু যখন জাবে-
, সে দুঃসংবাদ আমি দেই কেন? জগতে দুঃসংবাদ বহন করে এনে
দেবার জন্য লােকের অভাব নাই। ( অগ্রসর হইয়া ] ছায়া।
ছায়া। [ চমকিয়া ] কে?-মা !
মূর। ছায়া! সংবাদ আছে।
ছায়া। কি মা?
[১২৭

rest
চতুর্থ
बई पूछ
মুর। মায়া, এতদিনে আমার জীবনের সাধ পূর্ণ হয়েছে।
[হায়াকে বুকে টানিয়া লইয়া] মা! তুমি আমার ভাবী পুত্রবধূ
ভারতের ভাবী সম্রার্থী।
ছায়া । রাজমাতা! ছায়া চন্দ্রগুপ্তের পত্নী আর ভারতের সম্রাজ্ঞী
সমানই তুচ্ছ জ্ঞান করে। চন্দ্রগুপ্ত ভারতের সম্রাট -ছায়াও রাজকন্যা।
উপহাসের প্রয়ােজন নাই।
মুরা। সে কি ছায়া ! আমি তােমার সঙ্গে উপহাস কখন করেছি?
এ সত্য কথা মা।
ছায়া। [ অর্ধ গত ] সত্য কথা। সত্য কথা!—এ যে আমার
ধারণার অতীত। এ
এ নিষ্ঠুর সৌভাগ্য,-এ যে, এত—আকস্মিক।
এত তীব্র—এ যে—এ যে—অসহ! মা! মা-[ মুরার বক্ষে পড়িয়া
ক্রন্দন]
ও কি। কাদছে কেন মা?
ছায়া। না মা কাঁদবাে না-দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করা-একি!
আকাশ আরও নীল, আরও গাঢ়, আরও উজ্জ্বল বােধ হচ্ছে। পৃথিবী
মলার সৌরভে ভরে গেছে। বাতাস বীণার ঝঙ্কারে ছেয়ে গেছে।
একি!—আমি স্বর্গে না মর্তে। আমি কুম শয্যায় শুয়ে আছি।
মহিলালে ভেসে যাচ্ছি!-কোথায় আমি ?—কোথায় তুমি
প্রিয়তম। কোথায় তুমি প্রাণাধিক! এই যে, এই যে আমার চন্দ্রগুপ্ত
[ সহসা জানু পাতিয়া ] প্রাণের। জীবন সর্ব! দেবতা আমার ক্ষমা
কর। অনেক রূঢ় কথা বলেছি। অভাগিনী পিতৃমাতৃহীন বালিকা
আমি। তদোষ আমার ক্ষমা কর। [ উর্ষে মুক্তিপাণি উঠাইয়া]
১১]
রা।
••

চতুর্থ অঙ্ক
চন্ত
बर्छ म
না
উঃ চাহিয়া
এই কর যেন
হিলেন।
চণিতের প্রবেশ
চাণক্য। মুরা—এ কি! এ সব কি?
রা। বিজয়ােৎসব।
চাণক্য। ওঃ! [ কিয়ৎকাল একদৃষ্টিতে ছায়ার প্রতি চাহিয়া
সদীর্থ নিশ্বাসে] যাক।–সূরা, আমি সব্ধি করেছি। এখনও সৰূিপত্র
বাক্ষর হয় নাই।
মূর। কি সন্ধি গুরুদেব!
চাণক্য। মহারাজ চন্দ্রগুপ্ত সেলুসকে ৫০• হস্তী দিবেন; বিনি-
ময়ে সেলুকস হিন্দুকুশের দক্ষিণে ও পূৰ্বে সমন্ত বিজিত রাজ্য চন্দ্রগুপ্তকে
অর্পণ কর্ষেন। আর সরিক্ষার জামিন স্বরূপ চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে
সেলুকসের কন্যার বিবাহ হবে।
মূর। সে কি! না গুরুদেব, আমি সম্রাটের কথা চাই না।
[ছায়াকে বক্ষে টানিয়া লইয়া এই আমার পুত্রবধু।
চাণক্য। এই চাণক্যের মন্ত্রণা।
মুরা। কিন্তু এই বেচাবী।
চাণক্য। রাজ্যের কল্যাণে যারা নিশ্চয় তুচ্ছ ব্যর্থ বলি দিতে
পারে।
[ প্রান।
মূর। ছায়া!-এ কি!—মুখ ছাইয়ের মত পাং, নিত চকে
[ ১২৯

দুর্থ অ
bordet
बर्छ र
হির দৃতি বিভক্ত ওঠে অব্যক্ত বেদনা; নিশ্চল পাষাণ প্রতিমার মত
দাড়িয়ে আছে।—অভাগিনী মা আমার।
[ এহন।
ছায়া। তুচ্ছ!তুচ্ছ!——মি কি জানবে ব্রাহ্মণ ! না পুরুষের
কাছে নারীর সুখ দুঃখ, নারীর জীবনই তুচ্ছ।
কর্ণে ? এ যে এক সঙ্গে প্রেম ও মৃত্যু, আশা ও নৈরাশ্য, স্বর্গ ও
নক। পৃথিবী ঘুচ্ছে। আকাশে এক একটা নক্ষত্র সূর্যের
মত বলে উঠে নিভে যাচ্ছে। একটা যােগা মৃদঙ্গের তালে
জেগে উঠ দীর্থনে মিশিয়ে যাচ্ছে। ঐ। ঐ। [উর্কে চাহিয়
রছিলেন।
১৩]

পঞ্চম অৰু
প্রথম দৃশ্য
স্থান-নদের পূর্বকথিত প্রমােদোগান। কালরাত্রি।
সেকস ও হেলেন।
সেলুকস। বর্বর চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে গ্রীক সম্রাট সেলুকসের কন্যা
বিবাহ। আমি এই হেয় সন্ধি দিয়ে মুক্তি ক্ৰয় কৰ না। কখন না।
হেলেন। বাবা ! আর দর্প শােভা পায় না। অপমানের চুড়ান্ত
হয়েছে। এখনও শির উচু করে আছেন! লজ্জা নাই।
সেলুকস। কিসের লজ্জা?—আক্রমণ করেছিলাম, বিফল হয়েছি।
হেলেন। কে আক্রমণ কর্তে বলেছিল? কি অপরাধ করেছিলেন
এই চন্দ্ৰপ্ত। তিনি একের সঙ্গে বিবাদ খুঁজে নেন নাই। তিনি
নির্বিরােধে সির পরপারে রাজ কছিলেন।-আপনার সইলো না।
আমি নিষেধ করেছিলাম। উত্তম হয়েছে।
সেলুক। তুমি বিজাতির বিজয়ে উল্লসিত হয়েছ বােধ হয়?
হেলেন। কেন হব না। গ্রীক হেরেছে, কিন্তু ধর্ম জয়ী হয়েছে।
বাবা! যে একটা প্রতিষ্ঠিত রাজ্যের ভিত কর্তে যায়—সে বাহিরের
১৩]

পঞ্চম অঞ্চ DOT প্রথম শত্রু হোক বা সেই রাজ্যের প্রজা হৌক—সে মহাপাতকী। শত শত মাতাকে পুত্রহী, বালিকাকে পিতৃহীনা, সতীকে পতিহীনা করা—দেশে একটা আতঙ্ক জাগিয়ে ভােলা একটা বিজয়-গৌরবের উদ্দেশ্যে, একটা উদাম প্রবৃত্তির তাড়নায়, শুদ্ধ একটা খেয়ালের জন্য এর চেয়ে মহাপাপ আহে। সেলুকস। তবে আমি সেই পাপী। হেলেন। তার ফলগে কনে। সেলুস। যুদ্ধে জয় পরাজয় আছেই। এবার পরাজিত হয়েছি। আবার—যদি মুক্তি পাই- হেলেন। বিজয়া বর্বরের দয়ার উপর নির্ভর করে। কোথায় গেল সে প্রতিজ্ঞহয় জয়, না হয় মৃত্যু? লা করে না ? ওঃ! কি অধঃপতন! সেলু। হেলেন। তােমার মুখে এই কথা! এই আমার দুর্গতির চরম সীমা। আর কি হতে পারে।-যখন নিজের কাৰে মাতৃহীনা বালিকাকে আমি বলে করে ঘুম পাড়িয়ে নিজের হাতে খাইয়ে মানুষ করেছি—এই বিজয়-যাত্রায় সব ছেড়ে এসেছি, আজ তাকে ছেড়ে আসতে পারিনি—আজ সে কাওনা, ভাগ্য-বিপৰ্যয় বটে। [ কপিত স্বরে) এ পরাজয়-শ্য অামার বক্ষে তত বাজেনি কন্যা, যত [ অধােমুখ হইলেন ] হেলেন। না বাবা। অন্যায় করেছি, মার্জনা করুন। সেলুকস। না হেলেন। অধ্যায় আমার। আমায় ক্ষমা কর। হেলেন। না বাবা, অন্যায় আমার। কিন্তু বড় অভিমানে, বড় ১৩)

পম প
5478
बषय पूज
জ্বালায় জ্বলে এ কথা বলেছি। এ পুত্রের প্রতি মাতার ক্রোধ।
এ তিক্ত হলাহল অনন্ত সুধাসমুদ্র মন্থন করে উঠেছে। না বাবা!
আপনি মুক্ত হোন—মুক্ত হয়ে গ্রীকের এই অপমানের প্রতিশােধ নেন।
আমি আপনাকে মুক্ত কৰ্ক। আমি চন্দ্রগুপ্তকে বিবাহ কৰ্ব্ব।
সেলুক। না কন্যা-আমার মুক্তির জন্য সে মূল্য দিব না।
চরে প্রবেশ
চন্দ্রগুপ্ত। তার প্রয়ােজন নাই বীরবর। গ্রীক সম্রাট। আপনি
মুক্ত।-ইচ্ছা হয় আবার মগধ আক্রমণ কৰ্বেন-চন্দ্রগুপ্ত তার
জন্য প্রস্তুত থাকবে।-যান বীরবর। যান রাজকন্য। আপনার
মুক্ত।-রক্ষী।
সেলুকস। সে কি ।
চন্দ্রগুপ্ত। সম্রাট। এই হিন্দুজাতি বর্বর নয়। তারাও পুরুষ
প্রতি সেকেন্দার সাহার সৌজন্যের উত্তর দিতে জানে। দেশে চলে
যান বীরবর। আপনি মুক্ত। রক্ষী।
রক্ষিগণের প্রবেশ
চন্দ্রগুপ্ত।
তবে আসি সম্রাট। ( প্রস্থানেষ্ঠত ]
সেলুকস। [ সার্যে ] ভারত-সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত। তুমি মহৎ! তুমি
একদিন আমার প্রাণরক্ষা করেছিলে! আমি তা ভুলি নাই। আজ
তুমি বিনা সর্তে আমাদের মুক্ত করে দিলে ! এও আমি ভুলবাে না।
শরতসম্রাট! আমি প্রস্তাবিত সন্ধির সমস্ত সর্তে সম্মত অছি। যে
সাম্ৰাজ্যখণ্ড ছেড়ে দিলাম, তা পারি ত বাহুবলে আবার জয় ।
কিন্তু তােমায় কা দিতে পারি না। কারণ তুমি হিন্দু।
[ ১৩
এরা মুক্ত!

Bar
প্রথম পৃ
হেলেন। হিন্দুও মানুষ।
সেলুকস। হেলেন। [এই বলিয়া সেকস সবিস্ময়ে হেলেনেব
প্রতি চাহিয়া রহিলেন। হেলেন শির অবনত করিলেন ]
চন্দ্রগুপ্ত। বুঝেছি রাজকন্যা! আমার মহং সমান—মাথা
পেতে নিচ্ছি। (সেলুকসকে। কিন্তু বীৱবর! আমি এ ভিক্ষা গ্রহণ
কর্তে অক্ষম। আমি মুক্তক েস্বীকার করি যে, আমি আপনার কন্যার
প্রমুখ। আর সে আজ প্রথম দিন নয়। যে দিন আমার
কৈশাের ও যৌবনের সন্ধিস্থলে, সিন্ধুনদতটে, নিদাঘের সমুজ্জল
স্যালোকে, ঐ শান্ত মুখচ্ছবি দেখেছিলাম, সেই দিন থেকে ঐ মুখ
আমার সমস্ত ধ্যান অধিকার করে আছে, আমার কল্পনাকে তারস্বরে
বেঁধে দিয়েছে। আমার সে যৌবনের স্বপ্ন যে কখন সফল হবে,
আমার মানসী প্রতিমা মূর্তিমতী হ'য়ে যে কখন আমার সম্মুখে এসে
দাড়াবে, সে দুরাশা আমি কখন করি নাই। আর সে গৌরব, সে
উৎসব, সে স্বর্গ, আমার মুষ্টিগত হয়েও আমার কঠিন স্পর্শে সরে
গেল।-না—সম্রাট, আমার বন্ধুবর চন্দ্রকেতু মৃত্যুকালে তাঁর ভগ্নী
মামাকে আমার করে সমর্পণ করে গিয়েছেন। এ তাঁর অমি
কালের অবােধ। আমি নিরুপায় । ভারতের ভাবী সম্রাজী
মলমরাজ-দুহিতা ছায়া।
সহসা ছায়ার প্রবে।
সম্রাটের অনুকম্পা। কিন্তু ছায়া এই অনুগ্রহ-দত্ত
গানের ভিখারিণ নয়। ভারতসম্রাটের বােগ্য মহিষী—এই গ্রী
সম্রাটের কন্যা হেলেন। [হেলেনকে] “বড় সুগগিনী তুমি বােন,
১৩

পঞ্চম চএত্ত बर्षय যে মহারাজ চত্রগুপ্ত তােমার অনুরাগী। আমি মনে আমাৰ হৃদয়ের নিধি, আমাৰ সৰ্বৰতােমায় যান কলাম-নাও বােন। [ এই বলিয়া ছায়া অসংযত পদক্ষেপে হেলেনের কাছে গিয়া তাঁহার করধারণ করিয়া স্থিরমূর্তি চন্দ্রগুপ্তের করে যােজিত করিয়া কহিলেন- এ অমূল্য রত্ন ভােমার বক্ষে ধারণ কর! এই আমার সর্বাপেক্ষা গৌরবময় মুহূর্ত। কিন্তু যদি জান্তে বাে, কি মূল্য দিয়ে সে গৌরব জয় কর্লাম। [ চক্ষে বন্ধ দিয়া দ্রুত প্রদান। চন্দ্রগুপ্ত।–[ স্বপ্লেখিতবৎ অবগত ]-না-না—এ হতে পারে -ও হতে পারে না। চন্দ্রকেতু।-না—কখন না।-সম্রাট। আপনারা মুক্ত। চন্দ্রগুপ্ত চিন্তিতভাবে নিক্রান্ত হইলেন। চন্দ্রগুপ্ত চলিয়া গেলে সেলুকস হেলেনকে কিলেন। হেলেন। এ সব কি ? হেলেন। কিছু বুঝতে পাচ্ছি না। সেলুক। তুমি চন্দ্রগুপ্তকে বিবাহ কৰে । হেলেন। হাঁ পিতা।—অনুমতি দিন। সেলুকস। অনুমতি দিব। এ যে স্বপ্নেও ভাবিনি। [ চিৰিতভাবে নিজা। হেলেন। আপনি কি বুঝবেন বাবা, যে আমি এ বিবাহ কৰে চাই কেন? এত তর্ক, কাকুতি, অনুনয় যা সাধন কর্তে পারে নাই, এই বিবাহে তাই সাধন কৰ্ব।—ভালােবাসতে পার্ব না? এই [১৩৫

চলপ্ত
विडीव
শৌ—এই করুণা চ-এ মহৎ হৃদয়-পার্ব না। আটিগােনস।
ক্ষমা কর। ঈশ্বর। হৃদয়ে বল দাও!
[ প্রস্থান।
ৱিতীয় দৃশ্য
স্থান-চাণক্যের বাটী। কালত।
চাণক্য একাকী।
চাণক্য। একটা সমুদ্র-তরঙ্গহীন, শব্দহীন, অন্তহীন।
যতদূর
দেখা যাচ্ছে, মৃত্যুর মত স্থির। [ ধীরে ধীরে পাচারণ করিতে
লাগিলেন; পরে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া কহিলেন ]-ক্ষমতা মেহের
অভাব পূর্ণ কর্তে পারে না। হৃদয়ের সঞ্চিত আকাকা, গৈরিক
মিলাবের মত উঠে, ভন্ন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। মেহের উৎস হৃদয়ের
অনুস্তম স্তর থেকে উঠে মস্তিষ্কের তীব্রলাস্পর্শে বাপ হয়ে উড়ে
ৰায়। [ পরে স্থিরনেত্রে দূরে আলােকিত প্রান্তরের দিকে চাহিয়া
কহিলেন এই সুন্দর এভাত,
এভাত, ঐ গাঢ় নীলিমা,-এক দিন
ছিল-কে।
[ প্রহরিবেষ্টিত কাত্যায়নের প্রবেশ
চাণক্য। এই যে এসেছে? এসাে বন্ধু।
কাতায়ন। বঙ্গের প্রয়ােজন কি চাণক্য। আমি তােমার বী।
আয় করেছি।-শান্তি দাও।
১৩]

চও
দ্বিতীয় পৃ
চাণক্য। বন উন্মােচন করে দাও প্রহরী।
[ প্রহরী বন উন্মােচন করিয়া দিল।
চাণক্য। এখন আর তুমি আমার বন্দী নও। আর আমাদের মধ্যে
প্রভেদ নাই।
কাত্যায়ন। প্রভেদ নাইই বটে। আমার চারিদিকে সশস্ত্র
প্রহরী।
চাণক্য। তােমরা বাহিরে যাও।
[ প্রহরিগণ চলিয়া গেল।
চাণক্য। আর আমাদের মধ্যে এভেদ নাই বন্ধু।
কাত্যায়ন। প্রভেদ নাই।—তােমার এক ইঙ্গিতে এই মুহূর্তই
আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত হতে পারে। আমি বন্দী আর তুমি
একটা বিশাল সাম্রাজ্যের সর্বময় কর্তা।
চাণক্য। এই ছাের নাও। আমার বক্ষে আমূল বসিয়ে দাও।
তােমার মন্ত্রীদের পথ পরিষ্কার কর।
ছাের দিলেন।
কাত্যায়ন। তােমার অভিপ্রায় কি চাণক্য ?
চাণক্য। আমি সাম্রাজ্যের জঙ্গল পরিষ্কার করে দিয়েছি।
এক ঊষর প্রান্তরকে উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত করেছি।—তুমি যা পারাে
নাই। এই বিশাল সাম্রাজ্যে একটা ব্ৰন্ত শান্তি বিরাজ কচ্ছে বাহিরে
শত্রুগণ অত। রাজপথপার্শ্বে সম্পত্তি রেখে পথিক নির্ভয়ে নিদ্রা যেতে
পারে। কিন্তু এই বিরাট শান্তি পর্বতের মত স্থির, নিষ্পণ। না,
আমি পারি নাই। তুমি
তুমি হয় ত পার্কে মন্ত্রীত্ব চাও, ছেড়ে
দিদি।
[১৩

চ
पिशव पर
কাত্যায়ন তুমি কুট।
তুমি কুট। তােমার
তােমার অভিসন্ধি বােঝ আমার
অসাধ্য।
চাণক্য। আমি এই পৈতা ধুয়ে বলছি-আমি এই মুহূর্তে মন্ত্রীত্ব
পরিত্যাগ কচ্ছি তুমি যদি চাও।-তুমি মুর্থ, কিন্তু তােমার হৃদয় আছে।
তুমি পার্কে, আমি পারি নাই।
কাত্যায়ন। সে কি! ব্রাহ্মণের প্রভুত্বকে ক্ষমতার শিখরে উঠিয়ে
চাণক্য। সব ভ্রম! হৃদয়কে উপবাসী রেখে শাসন করা চলে না।
আমি বুঝেছি যে আমার কঠোর শাসনে যে ক্ষমতা স্বপ্নের প্রাসাদের মত
অত্র ভেদ করে উঠছে, তা স্বপ্নের প্রাসাদের স্থায় আকাশে লীন হয়ে
যাবে। এ বাড়ী নয়, এ ইটের পাঁজা। এ বৃক্ষ নয়, এ শুদ্ধ কাঠের
গু। ব্রাহ্মণের নিকীব ক্ষমতাকে পুনরায় মন্ত্রবলে গড়ে তুলতে পারি,
কিন্তু ব্রাহ্মণের ব্রাহ্মণত্ব ফিরিয়ে আনতে পারি না। শূদ্রকে চোখ রাঙ্গিয়ে
শাসাতে পারি, কিন্তু তার হৃদয়ে আবার ভক্তির স্রোত বইতে পারি
।-রাসি, আমায় কোথায় নিয়ে এসেছিস? আমি কি করেছি।
কি করেছি।
কাত্যায়ন। কি করেছে ?
চাণক্য। ঐ বৌদ্ধ ধর্মের বন্যা আছে।আমি দূর ভবিষ্যতে কি
দেখছি জানাে?
কাত্যায়ন। কি।
চাণক্য। এই পুনরায় বিখও সাম্রাজ্যের উপর প্রেতের ভৈরব
নৃত্য। তার পর এক মহাশক্তি এসে এই গলিত শবের উপরে তার
বাদও দুলিয়ে সেই বিখও মাংসপিণ্ডলিকে এক করে নূতন
১)

विजीब
ipl,
শক্তিতে সীবিত কৰ্বে ; তার পাসনে ব্রাহ্মণ ও শব্দকে চষে
সমভূমি কৰ্বে।-না এ মন্ত্রীত্ব
কাত্যায়ন। কি দামে বিকোচ্ছে?
চাণক্য। তােমার বন্ধু চাই, এইমাত্র।
কাত্যায়ন। উত্তম অভিনয়।
চাণক্য। অভিনয় নয়, বিশ্বাস কর বন্ধু । আজ আমি বড়
দীন। চাণক্য কুট, কৌশলী, বিচক্ষণ। চাণক্য ভারতে জীবিত জাতির
সমবায়ে এক মহা সঙ্গীত রচনা করেছে। আকাশে যদি ঈর থাকেন,
তা হলে তিনি চাণক্যের এই মহা সৃষ্টি মুগ্ধ দৃষ্টিতে নিরীক্ষণ করূছেন।
সব করেছি। কিন্তু তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা কর্তে পার্লাম না। পার্ব
কোথায় থেকে! বাহিরে এই অদ্ভুত মনীষা দেখছে, কিন্তু আমার
হৃদয় চিরে দেখ বন্ধু! এ এক শুষ্ক মরুভূমি
এ এক শুষ্ক মরুভূমি—এক কণা করুণা নাই,
মেহ নাই, বিশ্বাস নাই, শসি নাই, খােসা নিয়ে কি কৰ্ব? ভেঙ্গে টেনে
ছুঁড়ে ফেলে দেই। বক্ষে করাঘাত ]।
কাত্যায়ন। আশ্চর্য! তুমি অধীর চাণক্য ! এই দুর্গম তেজ, এই
অটল প্রতি, এই তীস্থ বুদ্ধি
চাণক্য। বুদ্ধি, বুদ্ধি, বুদ্ধি। শুয়ে শুয়ে অধীর হয়ে গেছি।
পথে, ঘাটে, প্রান্তরে বিশ্বশুর ঐ এক কথা-চাণক্যের কি বুদ্ধি।
সমস্ত জগৎ নির্নিমেষ বিষয়ে আমার পানে চেয়ে দেখছে—যেন
লােকে বিভীষিকা দেখে, ধুমকেতু দেখে! যে বুদ্ধিকে এতদিন আমি
দৈববাণীর মত অনুসরণ করে এসেছি—সে বর নয়, সে অভিশাপ
এখন সে ফিরে দাড়িয়েছে, তার মুখ দেখতে পেয়েছি। সে সজীব
[৩৯

পঞ্চম অৰু চন্ত মূর্তি নয়, সে কঙ্কাল। সে এতদিন আমার চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।-এখন তাড়া করেছে—ভয়ঙ্কর! [ শিহরিয়া উঠিলেন ] কাত্যায়ন। তুমি ক্ষিপ্ত হয়েছ চাণক্য। চাণক্য। [ক্ষণেক নীরব থাকিয়া] এই সুন্দর প্রত! ধরণী বিবাহের কন্যার মত সেজেছে। তার মুখের উপর সূর্যের স্বর্ণরখি ঈশ্বরের আশীর্বাদের মত এসে পড়েছে। আর সৃষ্টিছাড়া আমি আর ভিক্ষুকের মত দাড়িয়ে তাই দেখছি। কাত্যায়ন। চাণক্য। চাণক্য ! চাণক্য। এই সুন্দর হাময় জগৎ—আর আমি তার কেউ নই। একা আমি এই অসীম সৌন্দৰ্যরাজ্য থেকে নির্বাসিত ! বিশ্বে অমৃতের সমুদ্রের ঢেউ বহে যাচ্ছে—আর পঙ্গু আমি তাপিত তৃষিত হৃদয়ে তীরে ছটফট কচ্ছি—তপােয়নের প্রান্তে শূকরের মত পৰ্ব্বলপয়ে পড়ে আছি। কাত্যায়ন। আশ্চর্য্য! এরূপ কখন দেখি নাই। চাণক্য। তবু একদিন ছিল— [ দুরে সঙ্গীত] চাণক্য। তবু একদিন ছিল, যেদিন সংসার আমার কাছে উৎসব- মন্দির বলে বােধ হত, পৃথিবীর উপর দিয়ে সৌন্দৰ্য্য উচ্ছ্বসিত হয়ে যেত, আকাশ ইন্দ্রধনুবর্ণে বৃঞ্জিত বােধ হত। তার পর [ সঙ্গীত নিকটবর্তী হইল । চাণক্য। [উৎকর্ণ হইয়া শুনিয়া] সেই রাকাত্যায়ন। বন্ধু। ডেকে পান। কাত্যায়ন। কাকে? ১৫]

চপ্ত
पिणेब ध
চাণক্য। ঐ ভিক্ষুক আর ভিক্ষুকলাকে।
কাত্যায়ন। সে কি। তুমি কি
চাণক্য। [ সাংনয়ে যাও ভাই [ কাত্যায়নের প্রস্থান।
চাণক্য। কেন এমন হয়। এই বালিকার স্বর শুনে কেন এমন হয়।
[ ঘর্ম মুছিলেন।
গাহিতে গাহিতে ভিক্ষুক ও ভিক্ষুকবালার প্রবেশ
সঙ্গে কাত্যায়ন।
ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে কি সঙ্গীত ভেসে আসে।
কে ডাকে মধুর তানে কাতর প্রাণে আয় চলে আয়,
ওরে আয় চলে আয় আমি পাশে।
বলে “আয়রে ছুটে আয়রে না,
হেথা নাইক মৃত্যু, নাইক না,
হেথায় বাতাস আঁতিগন্ধভরা চির-নিগ্ধ মধুমাসে,
হেথায় চির শ্যামল বসুন্ধরা, চিরজ্যোৎন্সা নীলাকাশে।
কেন ভূতের বােঝ বহিস পিছে,
ভূতের বেগার খেটে মৰিস মিছে,
দেখ ঐ সুধাসিন্ধু উছলিছে পূর্ণ ইন্দু পাশে।
ভূতের বােয়া ফেলে, ঘরের ছেলে, আয় চলে আয় আমার পাশে।
কেন কারাগৃহে ছিল বন্ধ
ওরে ওরে খড়, ওর !
ওরে, সেই সে পরল, যে আমারে ভালবাসে।
কেন ঘরের ছেলে, পরের কাছে, পড়ে আহিল পরল।
[১৪১

চও
নিতীয় '
কাত্যায়ন। এমন দার্শনিক ভিক্ষুক ত পূর্বে কখন দেখি নাই।
তৎপুরুষ সমানাধিকরণপদ কর্মধারয়—অর্থাৎ কিনা—সেই এক
পুরণ কৃতির সহিত সমগুণান্বিত হইলে—অর্থাৎ জীবভাবে জন্ম গ্রহণ
করিলে, কর্ম ধারণ করায়—আর কাজেই কৰ্ম্মফল ভােগ করে—উঃ ।
ভিকুক, তুমি পাণিনি পড়েছে নিশ্চয়।
ভিক্ষুক। আজ্ঞে না।
কাত্যায়ন। কিন্তু তােমার গানের প্রতি ছত্রে পাণিনি। এ সব গান
শিখলে কার কাছে?
ভিক্ষুক। এ ব্রাহ্মণের কাছে বাবা।
কাত্যায়ন। হতেই হবে।
চাণক্য। (বালিকাকে] এই দিকে এস ত না।
[ বালিকা দৌড়িয়া চাণক্যের কাছে আসিল ]
চাণক্য। [ তাহার মস্তকে হাত বুলাইতে বুলাইতে একেবারে
সেই মুখ! সেই চক্ষু দুটি। একেবারে—অথচ—ভিক্ষুক! একটা কথা
জিজ্ঞাসা করি।-এ তােমার কন্যা। সত্য বল।
ভিক্ষুক। আমারই বৈ কি। আর কার ?
গণ্য। সত্য বল। তােমায় প্রচুর অর্থ দিব। সত্য বল।
ভিকুক। না বাবা, এ আমার মেয়ে নয়। পথে এ মাণিক কুড়িয়ে
পেয়েছি। তবে সেই অবধি তাকে নিজের মেয়ের মতই মা
করেছি বাবা।
চাণক্য। [আ]তবে তােমার মেয়ে নয়।
ভিকুক। না বাবা। কুড়িয়ে পেয়েছি।
১২]

প
খ
দ্বিতীয়
গণক্য। কোথায় পেলে?
ভিক্ষুক। ভগবান্ দিয়েছেন।-নইলে এই অন্ধ বুড়োকে কে হত
ধরে নিয়ে বেড়াত। কি পুণ্যে মাকে পেয়েছি জানি না। ডাকাতি
কয়ে’ খেতাম, এখন সেই পাপে চক্ষু দুটি হারিয়েছি।
চাণক্য। [ সমধিক আগ্রহে দশ ছিলো-ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছ?
ভিক্ষুক। দিইছি বৈ কি বাবা। কার ঘাড়ের উপর দশটা মাথা
আছে বাবা, যে চন্দ্রগুপ্তের রাজ্যে ডাকাতি করে?
গণকা। মেয়ে কোথায় পেলে?
ভিকুক। অবতীপুরে বাবা!
চাণক্য। [ উত্তেজিত ভাবে ] অবতীপুরে। কোন জায়গায়।
ভিক্ষুক। পথে।
চাণক্য। না, এক ব্রাহ্মণের ঘর থেকে চুরি করে এনেছিলে? সত্য
বল-কোন ভয় নাই—চুরি করেছিলে?
ভিকুক। না, বাবা!
চাণক্য। হত্যা ক।-সত্য বল! ডাকাতি করে এনেছিলে
ভিক্ষুক। খ, বাবা!
চাণক্য। নদীর ধারে বাড়ী।
ভিক্ষুক। আজ্ঞে ।
চাণক্য। বক্ষ চাপিয়া ধরিয়া হৃদয় উমেশ হয়াে না।-তখন এর
ব?
ভিক্ষুক। তিন কি চারি বৎসর বাবা।
চাণক্য। এর নাম কি বলেছিল।
[১৪

পঞ্চম গরু
पिणैव ध
চও
ভিকুক। আতিরি।
চাণক্য। আত্রেয়ী! শুনছে কাত্যায়ন। বলেছে আয়েত্রী।
এর বাপের নাম ?
ভিকুক। চাণক্য।
চাণক্য। [ লাফাইয়া উঠিয়া উচ্চৈঃস্বরে ] দস্য।-না তােমায়
মার্বো না। তােমাব কেশাগ্র স্পর্শ কর্ব না। কোন ভয় নাই
কাত্যায়নশা, রক্ষী।
ৰক্ষিগণের প্রবেশ
চাণক্য। না, যাও।-ভিক্ষুক। আমিই সেই ব্রাহ্মণ। এ কন্যা
আমার।
[রক্ষিগণের প্রস্থান।
ভিক্ষুক। আমার মেয়েটি কেড়ে নিও না বাবা। এই আমার
অন্ধের নড়ি।খেতে পাবে না।
চাণক্য। তােমায় এক রাজ্যখণ্ড দিব। দশ! তুমি আমায় পথের
ভিখারী করেছে। তুমি আমায় সম্রাট করেছে। তুমি আমার নরকে
নিক্ষেপ করে আবার স্বর্গে উঠিয়েছ। আমি তােমায় বধ করে
তােমার মূর্তি গড়িয়ে পূজা কৰ্ব। না, না—এ কি!—এ আনল না
দুঃখ? এ যে—এ যেনা, একটা কিছু কর্তে হবে; যাতে বুঝতে পারি
যে আমি বেঁচে আছি। [ হাস্য।
কাত্যায়ন। চাণক্য। চাণক্য।
চাণক্য। কাত্যায়ন। নাড়া দেখতে জানো? দেখ ত [হাত বাড়াই
লেন] আমি বেঁচে আছি কি না? দেখ ত এ ইহকাল না পরকাল?
১০০]

পঞ্চম অঞ্চ
চন্ত
डोब पक्ष
এ স্বপ্ন,না সত্য? এ আলােকের উচ্ছাস, না অন্ধকারের বন্যা ? এ
সৃষ্টির সঙ্গীত, না প্রলয়-কল্লোল ?-দেখ তানহিলে—সম্ভব এতদিন
পরে আমারই কন্যা—ভারতের শাসনকর্তার কথা—তারই ধারে এসেছে
ভিক্ষা কর্ভে।কাত্যায়ন! কাত্যায়ন! ( ক্রন্দন ।
কাত্যায়ন। চাণক্য প্রকৃতিস্থ হও।
চাণক্য। না,এসবেনা। এ ছলনা ; প্রতারণা ; ষড়যন্ত্র। তােমার
ষড়যন্ত্র কাত্যায়ন।-না, এ যে সেই মুখ, সেই চকু দুটি। আত্রেয়ী—মা
আমার। এতদিন সন্তানকে ভুলে ছিলি!কোথায় ছিলি পাষাণী মা !
[ কন্যাকে জড়াইয়া ধরিলেন কাত্যায়ন। শােন, কুঞ্জবনে একটা
সামস্তোত্র উঠছে না? দেখ, ঐ নদী আনন্দে নােমাঞ্চিত হয়ে উঠছে।
আকাশ থেকে একটা স্নিগ্ধ সৌরভ-হিল্লোল ভেসে আসছে। আমার
শরীর অবসন্ন হয়ে আছে। আমায় কুটারে নিয়ে চল কাত্যায়ন।
[ সকলে নিক্রান্ত।
তৃতীয় দৃশ্য
স্থান-মলয়-প্রাসাদ। কাল-উল প্রভাত।
মলয়রাজকর্মচারী ও মগধরাজদূত।
কর্মচারী। আমাদের মলয় রাজ্য ভারত সাম্রাজ্যেরক্ত হয়েও
স্বাধীন! সম্রাট এর শাসনে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করেন না।
দূত। এই রাজকন্যাই কি এই রাজ্যের শাসনকর্তী।
[ ১৫৫

চর
তৃতীয় বৃ
T
কর্মচারী। হ, রাজকন্যা তার তার মৃত্যুর পর শাসনভার নিজের
যতে নিয়েছেন।
দূত। এই রাজী অনুঢ়া।
কর্মচারী। হাঁ।
দূত। বিবাহ কৰ্ব্বেন না?
কর্মচারী। তা জানি না। তিনি নিনে একাকিনী থাকেন।
রাজকাৰ্য্য সম্বন্ধে ভিন্ন কারও সঙ্গে কোন কথা কহেন না।
দূত। সম্রাটেরও ঐ দশা। অথচ সম্প্রতি তার বিবাহ !
কর্মচারী। আশ্চৰ্য্য বটে—ঐ রাজী আছেন।
উভয়ে সসম্রমে সরিয়া দাঁড়াইলেন। রাজ্ঞী ছায়া প্রবেশ করিলেন।
কাচারী অভিবাদন করিলেন। আগন্তুক কহিলেন, “রাজ্ঞীর জয়
হোক।
য়া। আপনি আমার সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন ?
দূত। [ঈষৎ মস্তক নত করিয়া হাঁ রাজী।
ছায়া। প্রয়ােজন ?
দূত। আমি মগধ থেকে নিমন্ত্রণ পত্রের বাহক হয়ে এসেছি।
[ পত্র-প্রদান]
ছায়া। [ কম্পিত হস্তে পত্ৰ খুলিতে খুলিতে] সংবাদ তত?
দূত। হাঁ রাজী
ছায় পত্র পড়িতে পড়িতে বিচলিত হইলেন। পত্রখানি দূরে
নিক্ষেপ করিয়া কহিলেন—ভারতসম্রাজ্ঞীর অনুরােধ !-কে সে
সম্রাজ্ঞী ? পরে তিনি আত্মসংবরণ করিয়া গাঢ় স্বরে কহিলেন
১৪]

পঞ্চম অ
চও
তৃতীয় বৃ
“না, আমি যাব। [ মন্ত্রীকে মন্ত্রী! রাজভাণ্ডারে যত মহার্ঘ রঙ্গ
আছে, তাই দিয়ে এক কহার গঙ্গাতে দাও। স্বর্ণকার ডাক।
কর্মচারী।
যে আজ।
ছায়া। আর পরশ প্রভাতে আমার মগধযাত্রার আয়ােজন কর ।
কর্মচারী। যে আজ।
ছায়া। একে বিশ্রামাগারে নিয়ে যাও।
[ কর্মচারী ও আগন্তুকের প্রস্থান।
সহসা পত্রখানি কুচাইয়া পুনঃ পুনঃ চুম্বন করিতে লাগিলেন ও
কহিলেন—“জীবনানন্দ আমার! সৰ্ব্ব আমার। তুমি আর আমার
নও—তুমি আজ তার! কেন এমন হ’ল!-না, আমি ত তাকে
স্বহস্তে গ্রীকাজকন্যার হাতে সঁপে দিয়েছি। তবে-সহ কর্তে পারি না
কেন! হৃদয় ভেঙ্গে যায় কেন! পৃথিবী শূন্য মনে হয় কেন।-চন্দ্রগুপ্ত।
চন্দ্রগুপ্ত !-না ছায়া! তুমি রাজী। দৃঢ় হও, নির্মমভাবে তােমার
প্রবৃত্তির কণ্ঠরােধ কর। লৌহ আবরণে এই তপ্ত বা রুদ্ধ কর।
কিসের দুঃখ?—এইটুকু পারি না।না, এ প্রেম দমন কর্ব। তাঁর
সুখেই সুখী হব। কিসের দুঃখ। তুমি সুখী হও প্রিয়তম! তাই
আমার জীবনের সাধনা হৌক। [ গায়িতে গায়িতে প্রস্থান।
সকল ব্যথার ব্যথী আমি হই, তুমি হও সব সুখেন ভগী।
তুমি হাস আপন মনে, আমি কাঁদি তােমার লাগি ।
সুখের স্বপন ঘুমে, ঘুমায়ে থাকগো তুমি,
আমি রৰ জৰােমখে, তােমার শিয়রে জাগি।
[ ১০৭

পম এ চক্রগুপ্ত চতুর্থ ধূ তৰ শতমনােরথে, তােমার কিরণপথে, বাড়াব না আমি আসি, তােমাৰ কলা মাগি। তুমি শুধু সুখে থাক-আমি কিছু চাহি নাক- শুধু দূরে, অনাদরে র'ৰ তব অনুরাগী। চতুর্থ দৃশ্য স্থান-সেলুকসের শিবির। কাল—প্রভাত। সেকস একাকী। দূরে সৈন্যগণ । সেলুকস। চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে হেলেনের বিবাহ। শেষে তাও হল। ঐ নগরে উচ্চ উৎসব-কোলাহল গ্রীসের লজ্জা বিধােষিত কচ্ছে।—কৈ। হেলেন এখনও ত এলাে না। সে উৎসবে মত্ত। আর কি তার বৃদ্ধ পিতাকে মনে আছে। সন্তান—ধু সম্মুখ দিকে চেয়ে দেখে, পিছন দিকে একবার ফিরেও চায় না। তার কাছে ভবিষ্যৎই সব, পিতা অতীত। পুত্রকে শিক্ষা দিয়ে আর কন্যার বিবাহ দিয়ে তার পরে পিতা আর কি খে জীবন ধারণ করে জানি না! সন্তানরা ত আর তাদের চায় -কি নিষ্ঠুর এই পিতার ভাগ্য। তার অগাধ মেহের কোন প্রতিদান নাই।—এই যে হেলেন। হেলেনের প্রবেশ সেলুকস। হেলেন। আমি এতক্ষণ ধবে তােমারই প্রতীক্ষা কচ্ছিলাম। ১৪৮]

।
পম অঞ্চ
চত্রপ্ত
চতুর্থ
হেলেন। আমি নিজেই এসেছি-আপনাকে রাজসভায় নিয়ে
যেতে।আন বাবা।
সেলু। না, আমি যাব না, তাই তােমায় ডেকে পাঠিয়ে-
ছিলাম।
হেলেন। আমি আপনাকে নিয়ে যাবে বলে এসেছি।
সেলুকস। না হেলেন। আমি যাবাে না।
হেলেন। কেন বাবা। আপনার কথার বিবাহােৎসবে আপনি
যাবেন না।
সেলুকস। না, মা ! আমি এখান থেকেই বিদায় নিচ্ছি।
হেলেন। বুঝেছি।—আচ্ছ—যাওয়া না যাওয়া আপনার ইচ্ছা।
আমি জোর করে ত আপনাকে নিয়ে যেতে পারি না। আপনি ত
আমার বন্দী নন।
সেলুকস। হেলেন। আমার উপর অভিমান কোরো না।
হেলেন। না বাবা! আপনার উপর আর আমার এমন কি দাবী
আছে যে, আমি আপনার উপর অভিমান ক। যার কাছে অভিমান
খাটতে তিনি-না, যাক—বা। তবে বিদায় দিউন।
সেলুকস। এত শী? মুহূর্তকাল বিলৰ সৈছে না। হারে মূঢ়
পিত। এত মেহের, এত যত্নের, এত আদরের কন্যা এক দিনে একেবারে
পর—তাের আর কেউ না। হেলেন। কথা আমার। আজ আমি
তাের আর কেউ নই। অথচ আমি তাের বাপ-আরআর-জন্মাবধি
আমিই তাের মা! [ চকু কিলেন।
হেলেন। না বাবা। আমায় ক্ষমা করুন, আমি অন্যায় বলেছি।
[১৪৯

চ-প্ত
চতুর্থ দৃশ্য
বাবা! বাবা! এ কি। আপনার চক্ষে জল। এ ত দেখতে পারি
। বাবা! আমায় মার্জনা করুন—এই শেষ বার। আর চাইব
। [ জাই পাতিলেন ]
সেলুকস। উঠ, মা! [ হস্ত ধরিয়া উঠাইলেন, পরে উর্ধদিকে
চাহিয়া কহিলেন] তাের কোন অপবাধ নাই। অপরাধ আমার। তুই
কি বুঝবি পিতার গভীর বেদনা। যখন কথা ফুটে নি, তখন থেকে
হাতে গড়ে তুলে সেই কন্যাকে চিরজন্মের মত বিদায় দেওয়ার যে কি
দুঃখ, তুই বুঝবি কি মা! পুত্রকন্যারা যে একবার পিতার দিকে চেয়ে ও
দেখে না, সে ত স্বাভাবিক। তাদের অপরাধ কি।পৃথিবীর নিয়মই
এই । অপরাধ আমাদের, যে এ কথা জেনেও আমাদের অগাধ মেহেব
এতিদান প্রত্যাশা করি, প্রত্যাশা করে হৃদয়ে বেদনা পাই। সব
অপরাধ এই পিতাদের।
হেলেন। সে কি বার বিদায়ের দুঃখ কি একা পিতার? এই
সময়ে পিতামাতাকে ছেড়ে যেতে কন্যার বুক কেটে যায় না! পিতাই
ভালােবাসতে জানে, কন্যা জানে না?
সেলুকস। [ চক্ষু মুছিয়া ] না মা, তােবাও ভালবাসিস।
হেলেন। না, আমরা কিছু ভালােবাসি না।
সেলুকস। না, বাসি—আমি মিথ্যা কথা বলেছি।
হেলেন। বাবা। নারীর জীবনই যে এক ভালােবাসার ইতিহাস।
প্রথমে পিতামাতা, পরে পতি, পরে পুত্রকন্যা—এই নিয়েই যে তার
ক্ষুদ্র সংসার। সেখানেই তার আশা, ভরসা, আনন্দ, সম্পৎ। পুরুষ
যখন নীড় ছেড়ে উন্ধে উঠে গগনের সুৰ্যোল নীলিমায় হবে বিচরণ
১৫]

পঞ্চম
চত্ত
চতুর্থ মৃ
করে, নারী নিভৃতে একাকিনী বসে’ সেই নীড় পক্ষ দিয়ে ঘিরে রা
করে।-গে-পুরুষের বিশ্রামের প্রমােদ, আলস্যের চিন্তা, অবসরের
চিত্তবিনােদ। কিন্তু এই স্নেহই যে নারীর সমস্ত মুহূর্ত, সমস্ত চি,
সমস্ত কাৰ্য, সমস্ত জীন। স্নেহে তার জন্ম, নিবাস, মৃত্যু। আর যদি
পরে স্বর্গ থাকে, ত এই মেহেই তার স্বর্গ। মেহ তার বিহার, শয়ন,
নিদ্রা, স্বপ্ন, আহার, নিশ্বাস। আমরা ভালােবাসি না।
সেলুস। মা মা ! আমি অত্যন্ত অন্যায় বলেছি।
হেলেন। বাবা, আপনার প্রতি স্নেহের জন্য আমি আন্টিগােনকে
বিবাহ করি নি জানেন? জানেন বাবা। যে আজ এই সমস্ত নগর
জুড়ে যে উৎসব দুন্দুভি বাজছে, সে আমার কর্ণে মরণের আর্তনাদ
নিনাদিত কৰ্ছে। সকলে হাসছে, কৌতুক কচ্ছে, উৎসবের আয়ােজন
কচ্ছে, আমার হয় ত হিংসা কচ্ছে, কিন্তু আমার মর্ম ভেদ করে এক
ক্রন্দন ঠেলে উঠছে, তার গলা টিপে ধরে রেখেছি, উঠতে দিচ্ছি না।
বাবা! জানেন কি, যে আপনাকে ছেড়ে যেতে [ বক্ষ চাপিয়া ধরিয়া ]
এই বক্ষে কি হচ্ছে। একটা প্রলয় বয়ে যাচ্ছে।
সেলুকস। সে কি! তুমি চন্দ্রগুপ্তকে ভালােবাসাে না।
হেলেন। এ কথাও বুঝিয়ে দিতে হবে।
সেকস। তবে তুমি এ বিবাহ কর্লে কেন?
হেলেন। বিবাহ !-না বাবা, এ বিবাহ নয়—এ মৃত্যু—আপনার
হেলেনের এ মৃত্যু। আমি বিবাহ করি নি, আপনাকে বলে দিয়েছি।
সেকস। কেন?
হেলেন। আমি মানবের মহা হিতে আত্মবলিদান দিয়েছি।
[১৫

চর সেলুকস ও চন্দ্রগুপ্তের বিদেহি নিজের শােণিতে নির্বাণ করেছি। দুই যুদ্ধমান জাতির মধ্যে পড়ে তাদের উদ্যত খঙ্গ নিজের বক্ষ পেতে নিয়েছি। সেলু। কেন তুমি এ কাজ কর্ণে হেলেন? এ বিবাহ আমার ৰক্ষে মৰ্ম্মশেল বিদ্ধ করেছে। কিন্তু একবার তােমার ইচ্ছার অন্তরায় হ’লেছিলাম, আর হতে চাই নি বলে, তােমার সুখের জন্য এ বিবাহে সম্মতি দিয়েছিলাম। তুমি এ বিবাহে সুখী জান্তে পালেও আমি কার আনলে নিজের দুঃখ ভুলে যেতাম। কিন্তু তুমি দুঃখ বরণ করে নিয়েছ যদি জাম- হেলেন। বাবা! দুঃখ হলে কি স্বেচ্ছায় তাকে বরণ করে নিতে পার্তাম। পরের হিতে কর্তব্যের জন্য আত্মবলিদান—সে যে পরম সুখ, সে যে উল্লাস, গৌরব। সেলুকস। এ তােমার গৌরব, কিন্তু গ্রীসের লজ্জা। হেলেন। লজ্জা! এত বড় বিবাহ জগতে আর কখন হয়েছে? এই বিবাহে একটা চিরন্তন বাত্যা থেমে গেল। এই বিবাহে দুই সুদূরবাসী আৰ্যজাতি আজ পরস্পরকে আলিঙ্গন কচ্ছে। এ বিবাহ হেলেন আর চন্দ্রগুথের নয়, এবিবাহ কর্মে ও মােক্ষে, চিন্তায় ও কল্পনায়, বিজ্ঞানে ও কবিত্বে। এই বিবাহে দুই সভ্যতার মধ্যে একটা মহা ব্যবধান ভেঙ্গে গেল, বিদ্বেষের বারিপ্রপাতের উপরে সেতুবন্ধ হয়ে গেল, দুই মহাদেশ এক হয়ে গেল। এত বড় বিবাহ জগতে পুর্বে আর কখন হয়েছে? সেকস। না হেলেন। কিন্তু ১৫২]

পঞ্চম সৰু
চত্ত
চতুর্থ দৃ
হেলেন। চেয়ে দেখুন পিতা-ঐ প্লেটো আর কপিল এক সঙ্গে
গান ধরে দিয়েছে। সােলান আর মনু গলা ধরাধরি করে দাঁড়িয়েছে।
হােমারের মৃদঙ্গের সঙ্গে বাল্মীকির বীণা বেজে উঠেছে। হিমােডােটল
ও ব্যাস, সক্রেটিস ও বুদ্ধ, একিলিস ও ভীম, প্যান্থিয়ন ও পুরাণ এক
হয়ে গেল! এ সহজ ব্যাপার বাবা! এই বিবাহে পূর্ব ও পশ্চিম,
সমুদ্র ও আকাশ, স্বর্গ ও মর্ত, ইহকাল ও পরকাল পরস্পরে লীন
হয়ে গেল। এরূপ বিবাহ জগতে এই একবার হ’ল—আর কখন হবে
কি না জানি না।
সেলুকস। ও কি! একদৃষ্টে কি দেখছছা হেলেন?
হেলেন। [ যেন প্রকৃতিস্থ হইয়া সহসা অক্ষুটম্বরে ] না বাবা!
বাবা বিদায় দিন। আশীর্বাদ করুন।
সেলুকস। সুখী হও বৎসে!
হেলেন। বিদায় দিন পিতা! [ পিতার ক্রোড়ে মুখ লুকাইলেন ]
সেলুক। হেলেন। মা আমার [ কাঁদিয়া ফেলিলেন কাঁদছিস?
হেলেন!
হেলেন। বাবা। ওঃ [আত্মসংবরণ করিয়া ] বাবা, কর্তব্য
আমায় ডাকছে। আর কারও ডাক শুনবার আমার অবসর নাই।
তবে আসি বাবা [ জানু পাতিয়া তাহার পদতল স্পর্শ করিয়া সেই
কর স্বীয় ললাটে স্থাপন করিয়া ] যত দিন জীবন ধারণ করি, এই
চরণস্পর্শের স্মৃতি আমায় সঞ্জীবিত করে রাখুক-জগদীশ ! তােমার
বলি গ্রহণ কর।
[ ক্ষত এখান।
[ ১৫৩

পম ,
চ-প্ত
চতূর্থ
সেলুল। হেলেন! [অগ্রসর হইয়া পুনরায় পিছাইয়া] না
দেবী!এ যে অপূর্ব । স্বর্গীয়! এত বড় বলি পূর্বে জগতে আর কেহ
দেয় নাই।যাই, দেশে ফিরে যাই। কোথায় ?—কৈ! এ যে ঘাের
অন্ধকার। পথ দেখতে পাই না। মা আমার ! আমায় অন্ধ করে
কোথায় চলে গেলি মা।
[ আটিগােনসের প্রবেশ ]
সেলুকস। কে ?
আটিগােন। আমি আন্টিগােন।
সেলুক। [ সাতিবিস্ময়ে ] আন্টিগােন।-তুমি এখানে। এ
সময়ে
আটিগােন। আশ্চর্য হচ্ছেন সম্রাট।
সেলুকস। ও-তুমি আমার পরাজয়ে ব্যঙ্গ কর্তে এসেছে?
আটিগােন। না সম্রাট।
সেলু। তবে?
আন্টিগােন। আমার পিতার সমাচার এনেছি।
সেলুকস। তার প্রয়ােজন নাই।
আটিগােনস। আছে। নইলে সেই সংবাদ জাবার জন্য গ্রীসে
উন্মত্তবৎ ছুটে যেতাম না, আবার সেই সংবাদ নিয়ে ভারতবর্ষে উন্মত্তবৎ
ছুটে আসতাম না। প্রয়ােজন আছে।
সেলুকস। কিন্তু হেলেন আজ মহারাজ এগুপ্তের মহিষী।
আটিগােন। যােগাতর ব্যক্তির সঙ্গে তার বিবাহ হতে পার্ক
। আমি স্বয়ং রাজসভায় বাড়ি রাজদম্পতীকে আবাদ কর্তে।
১৫]

এ কি বল? পঞ্চম অ চতুর্থ দৃশ্য সেলুকস। আন্টিগােনস। এ সম্পূর্ণ সত্য, সম্রাট! আমার উপর দিয়ে একটা প্রকাণ্ড জলােচ্ছাস চলে গিযেছে , আমার মাটী যা, তা ধুয়ে মুছে নিয়ে গিয়েছে ; যা রেখে গিয়েছে—ত। ভগ্ন শিলান্ত প; কিন্তু তার প্রত্যেক শিলাখণ্ড অভ্রের চেয়ে নির্মল, বাদপি কঠোব। দীর্ঘ তপস্যায় মাংস ঝরে খসে পড়ে গিয়েছে, আছে—কঙ্কাল, কিন্তু তব প্রত্যেক হাডখানি পবিত্র। আমার কলঙ্ক যা তা আগুনে পুড়ে গিয়েছে—আছে যা তা খাটি সােণা । সেলুস। এর অর্থ কি? আটিগােন। সকাম প্রেমকে নিম স্নেহে বিশুদ্ধ বা, মানুষকে দেবতা করা, সংসাবকে স্বর্গ করা মানুষের সাধ্য নয় ভেবেছিলাম। কিন্তু যেখানে সাধনা, সেখানে সিদ্ধি—এইটে আমি মর্মে মর্মে জেনেছি। তাই হেলেনকে আজ ভগ্নীৰ মত ভালােবাসতে পেরেছি। সেলুকস। কিছু বুঝতে পাচ্ছি না। আন্টিগােন। তা পাব্বেন কেমন করে? যিনি মুগ্ধ কৃষক কন্যাকে লুব্ধ করে, ধৰ্ম্মতঃ তাঁর পাণিগ্রহণ করে, তার পর তাকে আর তার পুত্রকে ভিক্ষুক করে জগতে ছেড়ে দিয়ে নিজে সম্রাট হয়ে বসেন,তিনি একথা বুঝতে পাৰ্বেন কেমন করে’!-সম্রাট। সে অভাগিনীর—আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। আপনার নির্মম পরিত্যাগ, আপনার ঘাতকের খঙ্গ যা কর্তে পারে নি, আমার মেহের উচ্ছাস তাই সাধন কল। মা আমার দেহের বন্যায় ভেসে [১৫৫

চণ্ড
চলে গেলেন। এ দীর্ঘ দুঃখের পর মায়ের এত সুখ সৈল না।
[ আটগেনসের স্বর *পিতে লাগিল সম্রাট
সেলুকস। চক্ষে ঝাপসা দেখছি। কে তুমি? কে তুমি?
আতিগােন। আমি ক্রীতদাস, ভিক্ষুক বলুন—কিন্তু আমি
জারজ নই। আমার পিতা আমার মাতাকে ধর্মমত বিবাহ
করেছিলেন।
সেলুকস। [ জড়িত স্বরে]-কে তােমার পিতা ?
আন্টিগােন। আমার পিতা-পরিচয় দিতে লজ্জায় আমার
উচ্চশির নুয়ে পড়ছে সম্রাট-[ কম্পিত স্বরে | আমার পিতা পত্নীত্যাগী
সেলুক।
[ কত স্থান।
সেলুকস বার ধরিয়া নতশিরে স্থিরভাবে দাড়াইয়া রহিলেন,
পরে ধীরে নিজা হইলেন।
পঞ্চম দৃশ্য
স্থান-মগধের প্রাসাদ। কালরাত্রি।
বিধ রঞ্জিত পতাকা উড়িতেছিল। দূরে অস্ফুট যন্ত্রসঙ্গীত
হইতেছিল।
সিংহাসনারূট চন্দ্রগুপ্ত ও হেলেন। পার্শ্বে অমাত্যবর্গ ও দেহরক্ষিগণ।
সম্মুখে চাণক্য, কাত্যায়ন ও আত্রেয়ী।
চাণক্য। মহারাজ চন্দ্রগুপ্ত! তুমি স্বীয় ৰাহৰলে হিসুকু হতে
১৫৬]

পখম |
চd
পঞ্চম ধূ
কুমারিকা পৰ্যন্ত এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করেছে, যা পূর্বে বােধ
হয় ভারতের কোন নরপতির কল্পনায়ও আসে নাই। তুমি বাহুবলে
গ্রীক-সম্রাটের বিরাট বাহিনীকে পরাজিত করেছে। তােমার নাম
ভারতের ইতিহাসে ধন্য হোক।
চন্দ্রগুপ্ত। গুরুদেবই সে কীর্তির সূচনা করে দিয়েছেন।
চাণক্য। বৎস! আমার কাজ শেষ হয়েছে। আমি এখন
বিদায় গ্রহণ করি।
চন্দ্রগুপ্ত। গুরুদেব। আমাকে কি অপরাধে ত্যাগ করে বানে?
চাণক্য। তােমার কোন অপরাধ নাই বৎস। আমি যা এতদিন
করেছি—তা অত হলেও ব্রাহ্মণের কাজ নয়! দর্প, উচ্চাশা,
প্রতিহিংসা-ব্রাহ্মণের উচিত প্রবৃত্তি নয়। ব্রাহ্মণের ধৰ্ম্ম-পমা,
তিতিক্ষা, ত্যাগ। তুমি যে সাম্রাজ্য বাহুবলে পেয়েছে, তাই তােমার
এই ঘােগ্য মীর সাহায্যে শাসন কর।
কাত্যায়ন। আর তুমি?
চাণক্য। আর আমি শাসন কর্তে চাই না। এখন আর মা
[ আত্রেয়ীকে ], তুই আমায় শাসন কর্! তুই এই ভ্রান্ত পুত্রের
হাত দুইখানি মেহবন্ধনে বেঁধে দে মা—যেমন যশােদা ননী-
চোরার হাত দুইখানি বেঁধে দিয়েছিল।-কাত্যায়ন! এ কি যাই
জানে?—এর মােহমন্ত্রবলে আজ পাষাণ ফেটে জল বেরিয়েছে, তা
তরু মুঞ্জরিত হয়েছে, মরুভূমির তপ্ত বক্ষে সুধাসমুদ্রের ঢেউ খেলে
যাচ্ছে। তবে আয় মা-আমার জীবনের গােধূলিলগ্নে পূর্ণ
জ্যোৎলােকের মত এসে আমার গাঢ় আকাশ ব্যাপ্তি করে সে।
[১৫৭

চন্ত
মা জগজলীর মত আমার এই জী মন্দিরে নেমে এসে আমার হাত ধরে
আলােকিত পরকালে নিয়ে চল মা !
[আত্রেয়ীর সহিত প্রস্থান।
চন্দ্রগুপ্ত। এত শুষ্ক আবরণের ভিতর এতখানি হৃদয় ছিল।
কাত্যায়ন। প্রকৃতি আজ প্রকৃতিস্থ হল। এতখানি বুদ্ধি—অথচ
হৃদয় নাই। এ অনিয়ম কি পৃথিবীতে বেশী দিন সয় ?
মুরার প্রবেশ
মুরা। মহারাজ চন্দ্রগুপ্তের জয় হৌক। চন্দ্রগুপ্ত ও হেলেন
সিংহাসন হইতে নামিয়া তাহাকে প্রণাম করিলেন ]
মূর। সেই শূদ্রাণী মা, সম্বােধনের আজ সমুচিত
উত্তর হল।
সেই শূদ্রাণীর পুত্র আজ ভুবনবিজয়ী ভারতসম্রাট
চন্দ্রগুপ্ত।
চন্দ্রগুপ্ত। আর সেই মাতার নামে এই রাজবংশের নাম হোক
“মৌৰ্য্যবংশ।
মূর। চিরজীবী হও বৎস! চিরজীবিনী হও বসে। এসাে
আমার গৃহলক্ষ্মী। এসস, আমার ঘর আলাে কর।
[ প্রস্থান।
চও। হেলেন। আজ একটি প্রিয়বরের অভাবে এই জবনি
একটা একাও রােদনের ন্যায় বােধ হচ্ছে।
হেলেন। কে সে মহারাজ।
চন্দ্রগুপ্ত। প্রিয়তম বন্ধু চন্দ্রকেতু। এই বিজয়ােৎসবে তার মুখ
১৫৮]

পঞ্চম স
চNপ্ত
সকলের চেয়ে উল হােত, আর সেই জ্যোতিতে আমার সভা
আলােকিত হােত।
হেলেন। বন্ধু মাত্র ! আমি কি তার অভাব পূর্ণ কর্তে পারি না।
চন্দ্রগুপ্ত। না হেলেন! যে সংসারে উপকারের প্রত্যুপকার ও
পাওয়া যায়ই না, উপকার স্বীকার পর্যন্ত কেউ কর্তে চায় না, সে
সংসারে যে নিজের সর্বস্ব বন্ধুর পায়ে ঢেলে দেয়, সে বন্ধু যে কি জিনিষ,
তাকে হারানাে যে কি দুঃখ, তা যে হারিয়েছে সেই জানে। এমন
বন্ধুর প্রতি আমি কৃষ্ণ হয়েছিলাম। সে আমার অবহেলা পদতলে
দলিত করে চলে গিয়েছে। কিন্তু আমাকে—চিরদিনের জন্য অপরাধী
করে রেখে গিয়েছে
আটিগােনসের প্রবেশ
আটিগােন। হেলেন!
হেলেন। (চমকিয়া) এ কি! আটিগােন! [ দুই হস্ত দিয়া
মুখ ঢাকিলেন ]
আটিগােন। হেলেন। ভগ্নি! আমি গ্রীস থেকে তােমার
বিবাহের যৌতুক এনেছি—এাতার গেহীৰ্বাদ। আর ভারতসম্রাট
চন্দ্রগুপ্ত! তােমার জন্য এনেছি—এই লৌহমুষ্টিবদ্ধ তরবারি ; তাকে
তােমার সাম্রাজ্যের কল্যাণে নিযুক্ত কর। [ এই বলিয়া আলিগােনস
তাঁহার তরবারি চন্দ্রগুপ্তের পদতলে রাখিলেন ]
চন্দ্রগুপ্ত। কে তুমি সৈনিক।
আটিগােন। চেন নাই!—কিন্তু আমি তােমায় ভুলি নাই
চন্দ্রগুপ্ত। যার আঘাতে আটিগােনসের তরবারি করচ্যুত হয়, তাকে
[১৫

চত্রও আটগােন ভােলে না।কিন্তু সে দৈব। তাতে তুমি আমাকে পিতৃহত্যার পাত থেকে রক্ষা করেছিলে। চন্দ্রগুপ্ত। সে কি! কে তােমার পিতা ? আটিগােন। গ্রীক-সম্রাট সেলুক। হেলেন। [ চমকিয়া ] কি, সেকস তােমার পিতা ? আটিগােন। হাঁ হেলেন। তুমি আমার প্রেম প্রত্যাখ্যান করেছিলে, ভালােই করেছিলে–সেও দৈব। কিন্তু ভাই বলে আমায় ভালােবাসতে পার্কে কি? হেলেন। সে কি।—আটিগােন। তুমি—ভাই! এ যে এক মহাবিপ্লব! এ যে—এক সঙ্গে ধ্বংস ও সৃষ্টি, মৃত্যু ও পুনর্জন্ম। আটিগােন! তুমি আমার ভাই। আটিগােন। হাঁ ভগ্নি! হেলেন। আটিগােন! তুমি এক পৰ্ব্বত-ভার বক্ষে থেকে নামিয়ে নিলে। আমি যেন এখন সহজে নিশ্বাস ফেলছি। আটিগােন—ভাই- আমায় ক্ষমা কর। ( সােচ্ছাসে) ক্ষমা কর ভাই— এই বলিয়া আটিগােনসের পদতলে পতিত হইলেন ] আটিগােন। ওঠো হেলেন! [ উঠাইয়া ] চন্দ্রগুপ্ত! তুমি আজ যে র পেলে, সযত্নে বক্ষে ধারণ কর। এ হেন রত্ন জগতে আর একটি নাই। এই যে রূপ—নিদাঘের নির্মে প্রভাত যার কাছে মন বােধ হয়, প্রাবৃটের নৈশ বিদ্যুৎ যার কাছে লজ্জা পায়—এই যে রূপ-তাও তার মহৎ অকরণের কাছে কিছুই নয়। হেলেন বাহিরে অস্পা, অন্তরে দেবী।

চ
ছায়ার বেশ
ছায়া। ভারতসম্রাট ও ভারতসম্রাজ্ঞীর জয় হোক।
চন্দ্রগুপ্ত। এই যে ছায়া! এসাে ছায়া! এই ম্রিয়মান উৎসব
তােমার মেয়ে সঞ্জীবিত কর।
ছায়া। সম্রাট, আমি ভারতসম্রাজ্ঞীকে আমার সামান্য যৌতুক
উপহার দিতে এসেছি। অনুমতি হয় ত আমি স্বহস্তে এই রায়
সম্রাজ্ঞীর গলায় পরিয়ে দিয়ে যাই।
চন্দ্রগুপ্ত। [ আশ্চর্য্যে]কোথায় যাবে ছায়া।
ছায়া। [ সন্নান হা]ে এ বিপুল ৰহ্মাতে সন্ন্যাসিনী ছায়া একটু
স্থান হবে না কি।
চলপ্ত। ছায়া। চকেতু আমায় পরিত্যাগ করে গিয়েছেন,
তুমিও আমায় পরিত্যাগ করে যেও না। তুমি আমার ভগ্নীশ্বরূপিণী
হও। তুমি আমার হৃদয়ের শূন্য স্থান পূর্ণ কর।
ছায়া “মহারাজ” বলিয়াই মন্তুক নত করিলেন। পরে মন্তক
উঠাইয়া কহিলেন—“তাই হোক, আমি এ অভিমান চুকি।
মহা অখিপরীক্ষা থেকে আমি পালাবে না। আমি আপনার ভগীর মত
আপনার পার্শ্বে থেকে রাজদম্পতির সুখে সুখী হব। তাই আমার ব্রত
হৌক, সাধনা হোক, জীবনের তপত হৌক। আশীর্বাদ করুন মহারাজ,
যেন আমার সে তপল সিদ্ধ হয়।”
[ মুখ ঢাকিলেন ]
হেলেন। [ গিয়া সয়েহে ছায়ার হাত ধরিয়া]ায়! ছায়া।
মুখ তােল ভগ্নি! কিসের দুঃখ তােমার! এসে বােন, আমরা দুই
[১৬১

পম : চর নদী একই সাগরে গিয়ে লীন হই। কিরণ ও বৃষ্টি মিলে মেরে গায়ে ইধন্থ রচনা করি। কিসের দুঃখ বে—এই আকাশে চত্ৰ সূৰ্য্য উঠে কি?—এসসা বাে- ছায়া। না হেলেন। আমি সহ কর্ব। যদি সহ কর্তেই না পার্ক, তৰে নারীজন্ম গ্রহণ করেছি কেন।-এসাে হেলেন, আমি তােমার গলার এ রাহার পরিয়ে দেই [ হাত ধরিয়া এ মুখ, এ সৌন্দৰ্য, এ মহৎ দয়,-হবে না।-তুমি আমার চন্দ্রগুপ্তকে সুখী কর্তে পর্বে। আর কেনও দুঃখ নাই।-এসাে হেলেন। এই বলিয়া ছায়া রবার হেলেনের গলদেশে পরাইয়া দিতে গেলে, হেলেন তার হাত দুইখানি ধরিয়া কহিলেন, “তুমি ভূল কর্ম ছায়া ! এ হা কাকে পরিয়ে দিতে হয় দেখিয়ে দেই এসাে। এই বলিয়া হেলেন ছায়ার হাত দিয়া মালাটি চপের গলদেশে পরাইয়া দিলেন। পরে ছায়ার বাহদুইখানি টানিয়া লইয়া নিজের গলদেশে জড়াইয়া কহিলেন, “তার চেয়ে এই মহামূল্য হার আমার গলায় পরিয়ে দাও। [ আলিঙ্গন করিয়া ] ছায়া! তুমি চক্রগুপ্তের ভগ্নী নও, তুমি আমার ভগ্নী। আটিগােন। আর চত্ৰপ্ত, তুমি ছাই রঙ-তুমি আমার ই। [ আলিঙ্গন ] যবনিকা . ১৬]

No text on this page.

L ৬ । গ্রহকালের অন্যান্য পুস্তক ১। দুর্গাদাস(মিনার্তায় অভিনীত) ২ তারাবাই (মিনার্ভা, ক্লাসিক ও ইউনিকে অভিনীত ) হজাহান (মিনার্ভায় অভিনীত মবার পতন সলিহিন (৪) বিরহ (নাটিকা (টারে অভিনীত) •প্রায়চি(এহসন)(ক্লাসিকে অভিনীত) পাষাণ(গতি নাটিকা) কফিখবর (এহসন) সােৱাৰ (নাট্য ) (বিনা অভিনীত ) ১ সীতা(নাট্যকা) (কবিতা) আলেখ্য (কবিতা) ১১ আমাকে (হাস্য কবিতা) সির গান একঘরে (বিলাতফের্তাদের একঘরে কনা বিষয়ে মতামত • চঞ্চও (মির্জায় অভিনীত ) পূনন্ম (এহসন)(মির্জায় অভিনীত ) পপারে (টারে অভিনীত) আনন্দ বিদায় (প্যারডি)(ঠানে অভিনীত) তীয় (নাটক) হশ(এস) বিৰেণ(কবিতা) কালিদাস ও ভবভূতি (সমালােচনা) भान • সিং বিজয় (মিনায় অভিনীত) बचनात বাগাপি Lessons in English ( in three parts ) (Pty) Crops of Bengal হাসির গানের স্বরলিপি দিলীপকুমার রায় fণ-গীতি (রলিপি-প্রথম খণ্ড) গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এও সল, ৩১, কর্ণওয়ালি t ৮ (২) ২৬

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Chandra Gupta Ed.11

Author
Roy,dwijendra Lal
Title
Natak
File name
Chandra Gupta Ed.11
Text
OCR done
Citation
1924
Published
2010/05/4
Publisher
Gurudas Chattopadhyay And Sons, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
182
Library
Garh Bhawanipur R.p. Institute, Howrah
Classification
Bengali Drama
Keywords
Plays
DLI number
514468
Barcode
4990010016744.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
tvZ0o9wIrRJ
Download PDF

Chandra Gupta Ed.11