Maju Public Library, Howrah

Jotindrajibancharitam Ed.3

Bandhopadhyay,ambikacharan Ed. · 2010/04/5

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

HAJU PERLIS LIBIA
A, B
Es, 1902
"
যতীন্দ্রজীবনচরিতম্
মিথিলাধিপসংস্থাপিতকাশীপাঠশালাপ্রধানাধ্যাপকেন
পণ্ডিতবর শিবকুমারশৰ্মণা সংগৃহীত।
আগড়পাড়ানিবাসিনা
শ্ৰীযুক্ত অম্বিকাচরণবন্দ্যোপাধ্যায়েন
বঙ্গানুবাদেন সহ প্রকাশিত।
তৃতীয় সংস্করণ।
কলিকাতারাজধাশ্যাম্
সংস্কৃতন্ত্রে মুদ্রিত।
খৃষ্টা ১৮৯৯।

“ধনাঢ্যা বা বিধনাঢ্যা বা সকলত্রো বা বিকলতােবা।
সংসারেংস্মিন্ যােজিতচিত্তঃ শােচতি শােচতি শােচত্যেব ।
ভােগরলতা বা যােগরলতা বা সঙ্গতত বা সঙ্গবিহীন।
পরমে ব্ৰহ্মণি যােজিতচিন্তা নন্দতি নন্দতি নন্দতত্যব ।”

ভূমিকা। এই “যতীন্দ্র-জীবন-চরিত” মহাত্মা ভাস্কুরানন্দ স্বামীর জীবন-চরিত। ইহাতে জীবন-চরিত সম্বন্ধে অধিক থাকুক আর নাই থাকুক, পূর্বে স্বামীজীর কোথায় নিবাস ছিল, তাহার নাম কি ছিল, অল্প বয়সেই তিনি কিরূপ বিদ্বান্ হইয়াছিলেন এবং কোন্ কোন্ তীর্থ পরিভ্রমণ করিয়াছেন, ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হইয়াছে ইহাতে সংক্ষেপে ষড়দর্শনের মতও লিখিত হইয়াছে। মােজঃফরপুর নগরান্তৰ্গত নানপুরের জমীদার শ্রীযুক্ত বাবু মহাদেবপ্রসাদজী, মহামহােপাধ্যায় শ্রীযুক্ত শিবকুমার শাস্ত্রী মহা- শয়ের দ্বারা এই পুস্তক সংস্কৃত ও হিন্দী ভাষায় অনুবাদ করাইয়া প্রকাশ করেন। এক্ষণে, তাহার সম্মতিক্রমে, আগড়পাড়ানিবাসী, সজ্জনগণানুরাগী শ্ৰীযুক্ত বাবু অম্বিকাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়, নিজ ব্যয়ে, বঙ্গাক্ষরে ও বঙ্গ ভাষায়, এই গ্রন্থ খানি মুদ্রাঙ্কণ করাইয়া প্রকাশ করিলেন। তজ্জন্য তিনি সাধারণের নিকট ধন্যবাদের পাত্র। পরিশেষে ইহা বক্তব্য যে, এই গ্রন্থখানি পাঠ করিয়া যদি কেহ সন্তোষ লাভ করেন, তাহা হইলেই আমার শ্রম সফল হইল, জ্ঞান করিব। এই কলিকালের খরতর স্রোতে প্রবহমান মানব-মণ্ডলীকে উদ্ধার করিবার জন্য বােধ হয় ভগবান্ কারুণ্যপরতন্ত্র হইয়া, তীক্ষ বিবেকসম্পন্ন পুরুষ মহাত্মা ভাস্করানন্দ স্বামীকে সৃজন করিয়াছেন। যখন মনুষ্যগণ হা অর্থ ! হা অর্থ! করিয়া ধৰ্ম্মপথে জলাঞ্জলি দিয়া পাপপঙ্কে লিপ্ত হইতে কিঞ্চিত্রও কুষ্ঠিত হইতেছে না, সেই সময়ে অর্থের অনর্থকত্ব সম্পাদন পুরঃসর জগতের নশ্বরত্ব প্রতিপাদন করিতে করিতে মহাত্মা ভাস্করানন্দ স্বামীর আভির্ভাব কি অপূর্ব । একদিকে মহামােহের ঘাের তমসাচ্ছন্ন ব্যক্তিগণের উদ্বিগ্নতা, অপরদিকে প্রভাতকালীন সূর্যের ন্যায় মুৰ্ত্তিমান বিবেক দর্শকবৃন্দের চিত্তে শান্তি ও আনন্দ বিকাশ করিতেছেন। আহা! কি মনােহর দৃশ্য। ইত্যলম্। কাশীধাম। } শ্রীসুরেশ্বরনারায়ণদেবশর্মণঃ। সংবৎ ১৯৪৯।

তৃতীয় সংস্করণের বিজ্ঞাপন। এলাহাবাদ নিবাসী মােজঃফরপুরের জমীদার শ্রীযুক্ত লালা রায় মহাদেবপ্রসাদ চৌধুরী যতীন্দ্রজীবনচরিত হিন্দি-অনুবাদ সহিত দেবনাগর অক্ষরে মুদ্রিত করিয়া প্রকাশিত করেন। বঙ্গদেশে জনসাধারণে মদীয় গুরুদেব শ্রীমদ্ভাস্করানন্দ স্বামীজীর ‘অদ্ভুত ব্যাপার যাহাতে অবগত হইতে পারে এই অভিপ্রায়ে অামি উক্ত লালাজীর অনুমতি ক্রমে বারাণসী নিবাসী পণ্ডিত প্রবর প্রাড়বিবাক শিরােমণি শ্ৰীযুক্ত সুরেশ্বর নারায়ণ দেব শৰ্ম্মা কর্তৃক উক্ত পুস্তক বঙ্গভাষায় অনুবাদ করাইয়া এক হাজার খণ্ড বঙ্গাক্ষরে মুদ্রিত করাইয়া সন ১২৯৯ সালে এক হাজার খণ্ড প্রকাশিত করি। ভক্তি সহকারে গুরু গ্রন্থ বিতরণ করিলাম অল্পদিনেই সমুদয় পুস্তক নিঃশেষিত হইল। শ্রীভাস্করানন্দ চরিত অবগত হইবার পিপাসা বর্ধিত হওয়াতে আত্মীয় বন্ধুগণ আমাকে উক্ত গ্রন্থ পুনমুদ্ৰণ করিবার জন্য অনুরােধ ও আদেশ করিতে লাগিলেন আমি তাহাদিগের নির্বন্ধাতিশয়ের বশীভূত হইয়া বিনা সংস্করণে সন ১৩০১ সালে দুই হাজার খও যতীন্দ্রজীবন- চরিত দ্বিতীয় বার মুদ্রিত ও প্রকাশিত করি, ঐ সমুদয় পুস্তক গুলিও বহুদিন হইল নিঃশেষিত হইয়াছে। বারাণসীধামে উপস্থিত হইয়া সদাশয় বঙ্গবাসিগণ মদীয় গুরুদেবের চরণ দর্শন করিয়া যখন ভক্তিরসে আপ্লুত হন তখন | 'সহজতঃই তাহার স্বামিজীর জীবন বৃত্তান্ত অবগত হইবার জন্য উৎসুক হইয়া থাকেন স্বামিজী তাঁহাদিগের অভিলাষ পূরণ করিবার অভিপ্রায়ে এক এক খানি যতীন্দ্রজীবন, চরিত পুস্তক তাঁহাদিগকে প্রদান করিয়া উহা পাঠ করিতে অনুমতি করেন। যতীন্দ্রজীবনচরিত পুস্তক গুলি নিঃশেষিত হওয়াতে জিজ্ঞাসু ব্যক্তিগণেরর আকাঙক্ষা নিরীকরণে গুরুদেবের কিঞ্চিৎ অসুবিধা হইতেছে ইহা আমি অবগত হইয়া এবং বঙ্গবাসিগণ শ্রীভাস্কর। নন্দে, বিষয় যতই অবগত হইতেছেন আগ্রহাতিশয় পূর্বক ততই তাহার বিষয় জানিতে উৎসুক হইতেছেন এইরূপ অনুভব করিয়া যতীন্দ্র-জীবন-চরিত পুনর্বার মুদ্রিত ও প্রকাশিত করিতে প্রবৃত্ত হইলাম। যতীন্দ্র-জীবন-চরিতের তৃতীয় সংস্করণে মৎকৃত শ্রীভাস্কুরানন্দা- স্টক শীর্ষক একটী স্তোত্র সন্নিবেশিত হইয়াছে। স্বামিজীর শিষ্য মদীয় মাতুলপুত্র শ্রীমান কৃষ্ণধন মুখােপাধ্যায় এই পুস্তকের মূল ও অনুবাদের সংস্করণে বিশেষ যত্ন করিয়াছেন। পাঠকগণ এই পুস্তক পাঠে যদি কোন রূপ উপকার প্রাপ্ত হয়েন তাহা হইলেই শ্রম ও ব্যয় সার্থক বিবেচনা করিব উপসংহারে নিবেদন এই, যে যতীন্দ্র-জীবন-চরিত পুনর্মুদ্ৰণ করিবার বাসনা আছে যদি কোন ভক্ত, গুরুদেব শ্রীভাস্করানন্দ স্বামীসম্বন্ধে কোন নূতন বিষয় সন্নিবেশিত করিতে ইচ্ছা করেন অথবা মুদ্রিত পুস্তকের কোন

lo
অংশ পরিবর্তিত করা উচিত বিবেচনা করেন তাহা হইলে অনুগ্রহ
পূর্বক আমাকে পত্র দ্বারা জ্ঞাত করাইবেন।
শ্ৰীযুক্ত বাবু গােপালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয় ইংরাজী
ভাষায় “যতীন্দ্ৰচরিত” রচনা করিয়াছেন। বিনা মূল্যে বিতরণ
করিবার অভিপ্রায়ে আমি তাঁহার নিকট হইতে তৎকৃত পুস্তক
গুলি খরিদ করিয়া লইয়াছি ভক্তজনে আমার নিকট আবেদন
করিলেই পাইতে পারিবেন ইতি।
ভক্তজন দাসানুদাস
শ্ৰীঅম্বিকাচরণ দেবশর্মা।
নং ১৬ নিয়ােগীপুকুর ইষ্ট লেন।
তালতলারবাজার কলিকাতা।

No text on this page.

No text on this page.

1772 7779
THE INDIAN ART SCHOOL,
FINANTOLAN

No text on this page.

No text on this page.

KAJU PUDL!X LIORA
E5TD. 102
----
-----
7, # ১
অথ
যতীন্দ্র জীবন চরিতম্
গণেশায় নমঃ।
যত্তদ্বহ্মপুরান্তরালদহাভ্যন্তর্নিবিষ্টন্নভাে-
যস্মিমােতমিদং নভঃপ্রভৃতি যদ্ভুমা শ্রুতে শূয়তে।
অন্তর্নাড়ি নিযম্য মারুতগতিং যদ্যোগিভিধায়তে
তেজস্তম্বিয়ােস্তনােতু জগতামুলেমানথুম্ ॥ ১।
অত্যার্থ।
যে তেজঃ, শরীরের অন্তর্গত হৃদয়কমলের মধ্যে আকাশ
স্বরূপে অবস্থিতি করিতেছেন, এবং যাহাতে ভূতাকাশ বায়ু আদি
লীন হইয়া আছে, বেদে যাহাকে ব্যাপক স্বরূপ বলিয়া থাকে,
এবং যােগিগণ সুষুম্না নাড়ীতে প্রাণবায়ু রােধ করিয়া যাহাকে
ধ্যান করিয়া থাকেন, সেই পার্বতী ও শঙ্করের তেজঃ জগতে
অনন্ত আনন্দ প্রদান করুন। ১ |
ব্ৰহ্মপুর-জীবদেহ।
। দহর-হৃৎপন্ন।

২ যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। লব্ধা জন্ম জগৎসভাজিতকুলে ধৃত্ব ফ্রমেণাশ্রমাং- স্ত্রীম্মায়াময়মাকলয্য ভুবনং তুৰ্য্যাশ্রমে যঃ স্থিতঃ। আবালস্থবিরঞ্চ যত্ৰ জগতত ব্ৰহ্মাত্মতাধীঢ়া ব্যাপ্তং কাঙক্ষতি নুনমদ্য নিতুরাং চেতস্তিরশ্চামপি ॥২॥ যস্যেন্দ্রাদিসমস্তদেবপদবীসৌখ্যং ঘৃণাধায়কং মিথ্যাস্নেহময়ান্ধকারপটলীবিধ্বংসভানুশ্চ যঃ। যস্যালােকনমাত্ৰমেব বিপুলামুমূল্য পাপাবলীং প্রত্যক্তত্ত্ববিশুদ্ধবােধবিষয়ে শ্রদ্ধাবতাং কল্পতে ॥ ৩॥ * প্রত্যক্— প্রতি-অচ্‌-কিপ) প্রত্য-ব্ৰহ্ম সৰ্বানুগতং ব্ৰহ্ম অহম্ অম্মি ইতি বােধ। অর্থ। জগতপূজিত ব্রাহ্মণকুলে জন্মিয়া, যথাক্রমে ব্রহ্মচর্য্য, গার্হস্থ্য ও বানপ্রস্থ এই আশ্রম ত্রয়ের কর্তব্যানুপালন করতঃ ভুবনের মায়াময়ত্ব উপলব্ধি করিয়া, যিনি এক্ষণে তুর্যাশ্রম অর্থাৎ সন্ন্যাস অবলম্বন করিয়াছেন, এবং যাহাকে দেখিলে বালক হইতে বৃদ্ধ পৰ্যন্ত সকলেরই অন্তরে, ইনি মূর্তিমান ব্ৰহ্ম এইরূপ বােধ হয়, এবং সম্প্রতি কেবল মনুষ কেন পশুপক্ষীদিগের অন্তরেও যাহার দর্শনে ঐরূপ ভাবের আবির্ভাব হইতে দেখা যাইতেছে । ২। (ক) ইন্দ্রাদি সমস্ত দেবপদবীর সুখেও যাঁহার ঘৃণা হয়, অনিত্য- সংসার-স্নেহরূপ অন্ধকার সমূহ নাশ করিতে যিনি সূৰ্য্যসদৃশ, (ক) পাঁচটী শ্লোকে কুলক অর্থাৎ ৬ষ্ঠ শ্লোকে বাক্যসমাপ্তি হইয়াছে।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। পুণ্যা যস্য কুটুম্বিনী মতিরিয়ং ধ্যানং পরম্ভোজনং ভােগশ্যাপি তদেব যস্য বিদিতং যৎপট্টবস্ত্রং দিশঃ। ভূপালাবলিভাললগ্নমুকুটপােল্লমার্দিষ যন্নীরাজনমস্তি রাগরহিতং সাম্রাজ্যমাপ্তোহ যঃ । ৪। কামক্রোধবিমােহিতাঃ সুতধনস্ত্রীচিন্তনালােপাঃ স্বপ্নেহপীশ্বরনামগন্ধরহিতা ব্যগ্রাঃ পরগ্রাসিনঃ। যৎসান্নিধ্যমুপেতমাত্ৰমনুজাঃ সৌখ্যেন সংবিভ্রতে বিশ্বেশানপদারবিন্দযুগলধ্যানস্পৃহাবম্মনঃ ॥ ৫। অর্থঃ। যাহার দর্শনে, শ্রদ্ধাবান্ ব্যক্তিগণের পাপাবলী বিনষ্ট হয় ও হৃদয়ে পরমাত্মার ব্যাপকভাব অনুভব করা যায় ॥ ৩॥ পুণ্যময়ী বুদ্ধিই যাঁহার স্ত্রীস্বরূপিণী হইয়াছে, এবং জগদীশ্বরের ধ্যানই যাহার ভােজন আদি সমস্ত ভােগস্বরূপ, দশ দিই যাহার পরিধেয়, পট্টবস্ত্র এবং রাজাগণের ললাটস্থিত মুকুটের রতুকান্তি দ্বারা যাহার নীরাজন (অর্থাৎ আরতি) হইয়া থাকে, এইরূপে যিনি নিঃসঙ্গভাবে সাম্রাজ্য করিতেছেন । ৪। (ক) কামক্রোধবিমােহিত, স্ত্রী পুত্র ও অর্থচিন্তায় নিমগ্ন, পরস্বাপ- হরণে লােলুপ সর্বদাই উদ্ভান্তচিত্ত হইয়া স্বপ্নেও যাহারা ঈশ্বরের নাম গন্ধ করে না, এরূপ প্রকৃতির মনুষগণের ও অন্তঃকরণ (ক) এই শ্লোকে কবি উৎপ্রেক্ষালঙ্কারে বলিতেছেন যে সম্রাটের যে সকল ঐশ্বৰ্য্য থাকা উচিত তাহার সকলই স্বামিজীর বর্তমান আছে। (সম্যক রাজতে ইতি সম্রাট, তথা চ “শাস্তি যাজ্ঞয়াৱাজ্ঞঃ স সম্রাট”।

৪ যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। লীলামাত্ৰবিনির্মিতামিতনবব্রহ্মাণ্ডমালােল্পস- লোকেশানমরাললাস্যবিধয়ে যম্মানসং মানসম্। তষ্যেদং চরিতং জনােপকৃতয়ে শ্রীভাস্করানন্দবিদ- যােগীন্দ্রস্য নিরূপ্যতে তিমিতং যচ্চাপি সদৃশ্যতে ॥৬॥ ইদং ভুবনমঙ্গলন্দুরিতনাশনায়াপ্যলং নৃণাং নিখিলসম্পদামপি নিধানভূতং পরম্। তং স্মৃতমথামৃতং হৃদি সমাদরাদ্ভাবিতং চরিত্ৰমখিলক্ষাবিদিতম সন্তুষ্টয়ে ॥৭॥ কুলক। অর্থঃ। যাহার সন্নিধানে সহজতঃই বিশ্বেশ্বরের চরণারবিন্দযুগল ধ্যান করিবার জন্য অভিমুখ হয় ॥ ৫॥ অনন্ত নব নব ব্রহ্মাণ্ডমালা যাহার লীলামাত্রে উৎপন্ন হইতেছে সেই সৰ্বলােক-মহেশ্বর যে যতীন্দ্রের মানসে, মানস সরােবরে হংসের ন্যায় নিরন্তর বিরাজিত, সেই যােগীন্দ্র মহাত্মা ভাস্করা- ননের চরিত্র জনসাধারণের হিতকামনায় আমরা যথাক্রত ও যথাদৃষ্ট প্রকাশ করিতেছি। ৬ ॥ এই ভুবনমঙ্গল ভাস্করচরিত শ্রবণ অথবা স্মরণ করিলে অশেষ দুষ্কৃত দূরীভূত হয়, নিখিল সম্পত্তির অধিপতির পক্ষে ইহা সর্বোৎকৃষ্ট গুপ্তনিধি, এবং ভক্তিসহকারে যিনি এই ভাস্করচরিত বিচারপূর্বক হৃদয়ে অনুশীলন করিবেন তাহার পক্ষে ইহা অমৃত- বিশেষ; অর্থাৎ ইহলােকে নির্মল আনন্দ ও অন্তে মােক্ষপ্রাপ্তিও যতীন্দ্র জীবন-চরিতম্। বিরক্ষিষথ চেৎ সুখং মনসিজাদিতঃ স্তেনতঃ সুদুর্গমভবাটবীমপি তরীতুমিচ্ছা যদি। অবশ্যমিদমস্ত্রবন্নিবিড়বৰ্ম্মবচ্চাসকৃ- দৃঢ়ীকৃতমুপস্কৃতং মনসি সজ্জনা নহত ॥৮॥ মন্ত্রগ্রামাশ্রয়াণাং সবিধিকৃতমখৈন্তোষ্যমানামরাণাং বিদ্যাসৎকীর্তিকান্ত্যা ধবলিতজগতাং ধর্ষিতেন্দুপ্রভাণাম্। বাসস্থানং মুনীনাং স্মৃতিযু নিগদিতাচারবিশ্রামভূমিঃ দেশাে যঃ শ্লাঘনীয়াে জগতি বিজয়তে কান্যকুজাভিধানঃ ॥৯॥ অস্বার্থঃ। হইবে এবষ্কৃত এই ভাস্করচরিত সমগ্র পৃথিবীতে প্রকাশিত হইয়া সকল লােকের আনন্দ বর্ধন করুক। ৭ ॥ হৃদগত কামক্রোধাদি মনুষের প্রকৃত সুখ অপহরণ করে, হে সদাশয় মহােদয়গণ যদি এই কামাদি শক্রর হস্ত হইতে আপনা- দিগের প্রকৃত সুখ, রক্ষা করিবার ইচ্ছা থাকে, যদি সুদুর্গম সংসারকানন অতিক্রম করিবার বাসনা থাকে তাহা হইলে নিজ নিজ হৃদয়ে এই ভাস্করচরিত আদরপূর্বক ধারণ করুন, কারণ দস্তনিরাকরণে ইহা অস্ত্রতুল্য, এবং আত্মরক্ষণে ইহা ঘনসন্নিবিষ্ট সুদৃঢ় বৰ্ম্ম যাঁহারা ঋক্‌ যজুঃ সাম অথর্ব এই বেদচতুষ্টয়ের আধারভূত, এবং যাহারা বিধিপূৰ্ব্বক যজ্ঞানুষ্ঠান দ্বারা অমরগণের সন্তোষ- বিধান করেন, যাহাদিগের বিদ্যাও সৎকীর্তির প্রভায় সমগ্র জগৎ ধবলিত ও চন্দ্র হীনপ্রভ হয়, ঈদৃশ মুনিদিগের আবাসভূমি, সদৃশ। ৮।

৬ যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। তস্মিন্ কানহপুখ্যপত্তনমহীভূষাভবদ্ভোগবত্- মৈথেলালপুরেতি শব্দিতপুরং বিদ্যাচণং রাজতি। মিশ্ৰস্তত্ব ধরায়রা হিমকরস্যাপ্তঃ কুলে সম্ভবং মিশ্ৰীলাল ইতীরিতাে জলধিজ্বা-নাথাঙ্পিদ্মপ্রিয়ঃ ॥ ১০। তস্মাদজায়ত সুধীৰ্মতিরামনামা জন্মান্তরীয়সুহৃদং বিরতিদ্ধানঃ। যঃ সাম্প্রতপসহস্ৰকিরীটরত্ন- ছায়াসমীড়িতপদেহস্তি দিগম্বরােহপি, ১১। অর্থঃ। এবং শাস্ত্রোক্ত আচার সকল যথায় সুচারুরূপ প্রতিপালিত হয় সেই শ্লাঘনীয় কান্যকুজ নামে দেশ, জগতে বিখ্যাত আছে। ৯। উক্ত কান্যকুজ দেশে কাহপুর নামক জেলায় পৃথিবীর ভূষণ স্বরূপ, বিদ্যা চর্চার জন্য বিখ্যাত, মৈথেলালপুর (ক) নামে সু- প্রসিদ্ধ গ্রাম আছে। ঐ গ্রামে হিমকমিশ্রের বংশে(খ) নারায়ণ- চরণকমলপ্রিয় মিশ্ৰীলাল নামক ব্রাহ্মণ জন্মগ্রহণ করেন । ১০। অতুল প্রতিভা সম্পন্ন মতিরাম মিশ্রীলালের পুত্র হইয়া জন্মিলেন (গ) পূর্বজন্মের প্রিয়সুহৃতের ন্যায় বিষয়বৈরাগ্য দূরে অবস্থিত। (ক) নানাসাহেবের আবাসস্থান বিষ্ঠুরগ্রাম হইতে প্রায় তিন ক্রোশ (খ) ইহরা শাণ্ডিগােত্রজ। (st) "Matiram was born at Maithilalpur on seventh day of the full moon in the month of Aswin in Sambat 1890, corresponding to 1833 of the Christian era."

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্ । ৭ গর্ভাষ্টমং বৎসরমাশ্রিত জাতং ব্ৰতাদেশবিধানমস্য। অধ্যেতুমার চ তৎপরস্তাৎ দাক্ষীসুতব্যাকরণম্পূরস্তাৎ ॥১২। উদ্বাহাে বিধিবদ্বভূব বিদুষস্তস্যাস্য সংবৎসরে প্রাপ্তে দ্বাদশকেহথ সপ্তদশকে বর্ষে মুনেঃ পাণিনেঃ। শাস্ত্রম্বার্তিকশেষভাষ্যসহিতং সম্যক্ সমাপ্যাখিলং বিদ্যাকীর্তিং সদঃ গণিতত জাত মহােদাৱধীঃ ॥১৩ | অস্যাৰ্থঃ। সহজতই ইহার অনুগত হইল। অধুনা ইনি দিগম্বর বটে কিন্তু সহস্র সহস্র রাজরাজেশ্বরের শিরােমুকুটের রত্নকান্তিদ্বারা ইহার চরণকমল বিরাজিত হইয়া থাকে ।১১। এই মহাত্মার গর্ভাষ্টমে (অর্থাৎ গর্ভ হইতে অষ্টমবর্ষে) বিধিবৎ তাদেশ (উপনয়ন) হয়। তদনন্তর ইনি পাণিনীয় ব্যাকরণ অধ্যয়ন করিতে আরম্ভ করেন। ১২। দ্বাদশবর্ষ বয়ঃক্রম সময়ে এই মহাত্মা দারপরিগ্রহ করেন এবং সপ্তদশবর্ষ বয়সে ইনি কাত্যায়নের বাৰ্তিক এবং শেষপ্রণীত মহাভাষ (যাহাকে ফণিভাষ্য বলে ) ও সমগ্র পাণিনীয় ব্যাকরণ সম্যক্‌রূপে সমাপ্ত করিয়া, উদারবুদ্ধি যশস্বী পণ্ডিত- মণ্ডলীর মধ্যে গণনীয় হইয়াছিলেন । ১৩।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। অষ্টাদশে চা বভূব সূমুর্বর্ষে দ্বিতীয়াশ্রমধারণস্য। ফলং বিলােক্যায়মিমন্তদানীং গৃহাদ্বিনির্গমনা বভূব ॥১৪৷ বৈরাগ্যে হি সতি প্রবােধমহিতে পুত্রোবাসবা- স্তে তে নৈব বিমােহয়ন্তি কৃতিনং সচ্চিৎপ্রমােদাত্মক। সাবিত্রাংশুমিলগ্নবারুণরুচিব্যাসঙ্গজাগ্ৰজ্জগৎ- তামিস্রস্ত মহাত্যহাে বিলসিন্যারুন্ধতে বা কিমু। ১৫। প্রতিদিনমুপচীয়মানশােভা- সুতধনযৌবনজানেকভাব । নরকপতনহেতুমেব সৰ্বং সমকলয়ৎ স সমিদ্ধবােধরূপঃ ॥ ১৬ | অর্থঃ । অষ্টাদশ বর্ষ বয়সে ইহার পুত্র হয়, এবং গৃহস্থ আশ্রম ধারণের ফল পুত্রমুখ অবলােকন করা হইল বলিয়া সেই সময় হইতেই গৃহ পরিত্যাগ করিবার জন্য উৎসুক হইলেন। ১৪। জ্ঞানসহকারে বৈরাগ্যোদয় হইলে পুত্রোবাদি জন্য উৎসব, (পুত্রের জন্ম, পুত্রের বিবাহ, পৌত্ৰমুখাবলােকন ইত্যাদি সাংসারিক উৎসব,) সচ্চিদানন্দ স্বরূপ বিদ্বান্ পুরুষকে মােহিত করিতে পারে । সূৰ্যাংশুমিলিত নূতন অরুণকিরণ যখন জগৎকে মণ্ডিত করে তখন, যত কেন নিবিড় হউক না, অন্ধকার কি তাহাকে আবরণ করিয়া রাখিতে পারে ?। ১৫। তাহার নবকুমার, ধন ও যৌবনশােভা দিন দিন উপচিত ও যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। জগতি ভবতি বৃত্তিঃ কীদৃশী বার্ধকেইপি জ্বলিততরুণভাবেপ্যস্ত কী বভূব। অবহিতমনসেদং ভাবতে চেদুধানাং স্ফুরতি প্রথমজন্মােদ্ভূতপুণ্যং নিদানম্ ॥ ১৭ ॥ ইহ কলয়তি কোন কামিনীনাং কুটিলকটাক্ষনিপাতমাপ্য সৌখ্যম্। হৃদয়মনুববন্ধ কস্য নাে বা সুতমুখবীক্ষণমস্ত কাকলী বা ১৮ ॥ বিসতি কিল তাবদেব লােকে ধনবনিতাদিবিরাগবদ্ধচর্চা। অস্বার্থঃ। পরিপুষ্ট হইতে লাগিল, সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ে নূতন নূতন ভাবের আবির্ভাব হইতে লাগিল, কিন্তু প্রদীপ্ত চৈতন্যস্বরূপ মতিরাম এ সমুদয়কে নরকপতনের কারণ বলিয়া বােধ করিতে লাগিলেন । ১৬। ইহ সংসারে বৃদ্ধাবস্থায়ও লােকের মনােভার কিরূপ থাকে, এবং প্রথম-যৌবনাবস্থায় মতিরামের মনােভাব ঐরূপ কেন হইয়াছিল, এই বিষয়ে একাগ্রচিত্তে চিন্তা করিলে, পণ্ডিতদিগের অন্তরে, ইহাই প্রতীতি হয় যে পূর্বজন্মার্জিত পুণ্যই ইহার একমাত্র কারণ ॥ ১৭। এই সংসারে এমন কে আছে, যে কামিনীগণের কুটিল যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম। বিসতি নহি যাবদঙ্গনানাং হঠদবিতেতরভাবনাে বিলাসঃ ॥ ১৯ অপি ভবতু বিশেষশাস্ত্রদৃষ্টি- রুপনিষদঃ পরিশীলিতাশ্চ সন্তু। পরিষদি কথনায় সর্বমেত- দ্বিষয়বিরতিপদস্তু দূরসংস্থম্ ॥ ২০। ধনমপি মনসােপকর্ষণ কুরুতেইদস্তু ন ন প্রসিধ্যতি। অপি কনককৃতে ত্যজেদসূন ইতি লােকে কিমু নাে নিভালিত ২১। অার্থ। কটাক্ষ নিক্ষেপ প্রাপ্ত হইয়া সুখানুভব না করে, পুত্রের মুখদর্শন ও তাহার মধুরাস্ফুট বাক্য শ্রবণ করিয়া কাহারই বা হৃদয়ে স্নেহের সঞ্চার না হয়। ১৮। স্ত্রী পুত্র সকলই মিথ্যা ইত্যাদি বৈরাগ্য ভাবের কথা অনেকেই বলিয়া থাকেন বটে, কিন্তু বিলাসিনীদিগের হাব- ভাবযুক্ত মুখনেত্রাদির ভঙ্গী, নয়নগােচর হইবামাত্রই তাহাদের ঐ বৈরাগ্যভাব একেবারেই বিলুপ্ত হইয়া পড়ে। ১৯। শাস্ত্রজ্ঞান অথবা উপনিষদ অনুশীলন এ সকলই কেবল লােক সমাজে প্রতিপত্তিলাভের কারণ হয়, প্রকৃত বিষয় বৈরাগ্য কিন্তু এ সকল হইতে বহুদূরে অবস্থিত। ২০। (অন্য ঐশ্বর্যের কথা দূরে থাক) কেবল ধনের মায়াতেই যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্ । ইতি সুবিদিতমন্তি সম্মতীনাং পবৃমিদমস্য তু যৌবনেহপি পন্য । অভবতিতরামনন্যলভভ্যা ধনযুবতীসুতমান বিরাগঃ ॥ ২২ প্রথমজনুষি নিত্যকৰ্ম্মজাতং সময়বিশেষনিবন্ধনঞ্চ যদ্যৎ। অবিহিতপরিবর্জনঞ্চ শশ্ব- দ্বিহিতমভূদতিযত্নতােহস্য পুংসঃ । ২৩। কৃতবায়মন্যজন্ম চিরমীশানপদান্নুজাচ্চন। অর্থঃ। মানুষের মন অপকৃষ্ট হইয়া পড়ে, আর এ কথাও অপ্রসিদ্ধ নয় যে অনেক সময় লােকে অর্থনাশ-দুঃখে নিজের প্রাণ পর্যন্ত পরিত্যাগ করে । ২১। এ সকল বিষয় পণ্ডিতদিগের অজ্ঞাত নাই কিন্তু দেখুন, এই মহাত্মার (মতিরামের) যৌবনাবস্থায়ই ধন, যুবতী, পুত্র ও মানা- ভিমান, এই সকল বিষয়ে একেবারে কেমন অসাধারণ বৈরাগ্য জন্মিয়াছিল । ২২। ইনি যে, পূর্বজন্মে শাস্ত্রনিষিদ্ধ কাৰ্য সকল পরিত্যাগ করত, নিত্যকৰ্ম্ম অর্থাৎ প্রতিদিন কর্তব্য সন্ধ্যাবন্দনাদি ও নৈমিত্তিক কৰ্ম্ম (অর্থাৎ ঘটনা বিশেষে শাস্ত্রে যাহা কর্তব্য বলিয়া নির্দিষ্ট

১২
যতীন্দ্র জীবন-চরিত।
কথমৈকপদেইন্যথা ভবে
বিষয়েঘামিষধীকৃত ঘৃণা ॥ ২৪।
চিরকালমুপাসনাং বিনা
জগদীশস্য পদারবিন্দয়ােঃ।
ঘটতে চ ন জাত্বধিক্ষিতি-
ক্ষিতিভৃগুলমণ্ডিতাঙ্খিতা ॥ ২৫।
ইহ চেদবদৎ পতঞ্জলি-
দৃঢ়বৈরাগ্যফলান্তমূপি।
অর্থঃ।
হইয়াছে, যেমন গ্রহণের সময় স্নান দানাদি করিতে হয়, পুত্র
জন্মিলে আদয়িক শ্রাদ্ধ করিতে হয় ইত্যাদি) কৰ্ম্ম সকল অতি যত্ন
পূর্বক অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই ॥২৩৷
ইনি পূর্বজন্মে দীর্ঘকাল মহাদেবের চরণকমল অর্জন
করিয়াছিলেন নতুব। স্বভাবতই অভক্ষ্য আমিষের প্রতি লােকের
যেরূপ ঘৃণা হয় সমস্ত ইন্দ্রিয়ভােগ্য বিষয়ে হঁহার সেইরূপ ঘৃণা
কেন জন্মিবে? ২৪।
আর এই মর্ত্যভূমিতে রাজমগুল যাঁহার চরণসেবা করেন
তিনি যে বহুকাল জগদীশ্বর-পাদপদ্ম-উপাসনা করিয়াছেন তাহাতে
আর বিচিত্র কি ? (ক) ॥ ২৫।
(ক) এস্থলে ইহা বলা আবশ্যক যে কেবল ভারতবর্ষের রাজগণ নয়,
ইউরােপ, আমেরিকা হইতেও রাজারা আসিয়া ইহার চরণে যথেষ্ট ভক্তি
ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করিয়া থাকেন।

। যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্ । বিবদামি ন তেন যৎ স্বয়ং পরমূং কারণমীশমাহ সঃ ॥ ২৬ ॥ বহবাে ভুবি সন্তি ভাবুকা বহবঃ পণ্ডিতমণ্ডলীবরাঃ। সদসৎপ্রবিবেকধীগুলাে বিদুষােহস্যৈব তু দৃপথঙ্গতঃ ॥ ২৭। স রহাে নিবসন্ দিবানিশং মনসেং পরিতাে ব্যভাবয়ৎ। অস্থার্থ। যদিও এবিষয়ে যােগশাস্ত্ৰাচাৰ্য ভগবান পতঞ্জলি (ক) বলিয়া- ছেন যে, দৃঢ়রূপ বৈরাগ্যসিদ্ধ হইলেই পার্থিব ঐশ্বৰ্য্য প্রাপ্তিরূপ ফল স্বতঃই হইয়া থাকে তথাপি তিনি ঈশ্বরকে পরম কারণ বলিয়া (খ) স্বীকার করিয়াছেন অতএব সে বিষয়ে আর কিছুই বলিবার নাই যেহেতু দৃঢ় বৈরাগ্যও ঈশ্বরের অনুগ্রহে হইয়া থাকে । ২৬। এই জগতে ভাবুক অর্থাৎ চিন্তাশীল পুরুষ অনেক আছেন, এবং অনেক মহামহােপাধ্যায় পণ্ডিতও আছেন, কিন্তু সদসদিবে- চিকা বুদ্ধির (গ) ফল কেবল এই মহাত্মাতেই দৃষ্ট হইতেছে। ২৭। (ক), অস্তেয় প্রতিষ্ঠায়াং সৰ্ব্বরঙ্গোপস্থানম্ । (খ) ক্লেশকর্মবিপাকাশয়ৈপরামৃষ্ট পুরুষবিশেষঃ ঈশ্বরঃ। (গ) সদসদ্বিবেচিকা বুদ্ধি অর্থাৎ নিত্য ও অনিত্যবস্তু বিভেদকরণক্ষমা বুদ্ধি, অর্থাৎ ব্রহ্ম নিত্য ও জগৎ অনিত্য, ইত্যাকার বস্তুবিবেচিকা বুদ্ধি ।

১৪
যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
নিরধারয়দাশু তত্ত্বততা
জগদজ্ঞানবিলাসসম্ভব। ২৮।
যদি নিত্যমিদম্ভবেজ্জগৎ
পুরতাে ভূতিনিৱােধভৃৎ কথম্ ।
ক্ষিতিরপুভয়ীযুতৈব কি-
ম ভবেৎ সাবয়বত্বহেতুতঃ ॥ ২৯।
অর্থ।
ইনি দিবানিশি নিভৃত স্থানে অবস্থিতি পূর্বক একাগ্রচিত্তে
বিচার করিয়া সম্যকরূপে নিশ্চয় করিলেন যে, এই জগৎ
অজ্ঞানের প্রাদুর্ভাব হইতেই উৎপন্ন হইয়াছে। যখন আমরা
কোন ঐন্দ্রজালিক ক্রিয়া দেখিতে থাকি তখন হৃদয়ে আমাদের
বিলক্ষণ বােধ থাকে যে যাহা আমরা দেখিতেছি তাহা ঐন্দ্রজালি-
কের কৌশল ভিন্ন আর কিছুই নয়, সেইরূপ বিচার পরিশুদ্ধ
মতিরামের হৃদয়ে এইরূপ প্রতীতি হইয়াছিল যে, জগৎ বলিয়া
কিছুই নাই, তবে যাহা দেখা যাইতেছে তাহা ভ্রমমাত্র। ২৮।
যেরূপে স্বামীজির এই জগতে অনাস্থা জন্মায় ২৯ শ্লোক হইতে ৭২
শ্লোক পর্যন্ত, সেই বিষয়ে নানা প্রকার বিচারের কথা বলা হইয়াছে।
যাহারা শাস্ত্রীয় বিচার পাঠ করিতে অনিচ্ছুক তাহারা ২৮ শ্লোকের পর
৬০ শ্লোক অথবা ৭৩ শ্লোক দেখিতে পারেন।
জগৎ যদি নিত্য হয়, তাহা হইলে তাহার উৎপত্তি ও নাশ
কেন প্রত্যক্ষ হয় (ক)। যদি বল ঘটপটাদি ক্ষুদ্র পদার্থের উৎপত্তি
(ক) উৎপত্তি ও নাশবিহীন পদার্থকে নিত্য কহা যায়, যাহার উৎপত্তি
ও বিনাশ দেখা যায় তাহা অনিত্য।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্ । অথ জাতমিদং বিভাব্যতে সত উৎপত্তিমবৈষি বাসতঃ । উভয়স্থ ন চাস্তি সম্ভব- শ্চিতি বা খজি বাপি বাধতঃ ॥ ৩০। কথমস্তি চ কারণার্থনা যদি ভূতেঃ পুরতােহপি সদ্ভবেৎ। অর্থঃ। ও বিনাশ দৃষ্টিগােচর হয় বটে, কিন্তু পৃথিব্যাদি মহাভূতের উৎপত্তি বা ধ্বংস দেখা যায় না—পৃথিব্যাদির যখন অবয়ব আছে এবং অবয়বী মাত্রেরই যখন উৎপত্তি ও বিনাশ আছে তখন পৃথিব্যাদি । মহাভূতেরও উৎপত্তি ও বিনাশ কেন না থাকিবে ? অতএব জগৎ অনিত্য। ২৯। (জগৎ নিত্য নয় বটে, কিন্তু ইহার উৎপত্তি আমরা অনুভব করিতেছি অর্থাৎ জগৎ-বিষয়ক বােধ আমরা নিবারণ করিতে পারিনা):এখন প্রশ্ন এই যে, অনুভূয়মান জগতের উৎপত্তি, সৎ ও অসৎ এ দুইয়ের কোনটী হইতে প্রবর্তিত বলিয়া তােমার বোধ হয়। (নিত্যবস্তু) চিৎ, এবং (অনিত্য বস্তু ) আকাশকুসুম এ দুইয়ের কোনটীরই উৎপত্তি হয় না কারণ তাহা যুক্তিবিরুদ্ধ (ক) । ৩০ | উৎপত্তি বিষয়ে নিম্নলিখিত মতভেদ প্রচলিত আছে সাঙ্খের মত এই যে, সমস্ত কাৰ্য্যই আপন আপন কারণে লীন হইয়া থাকে এবং ব্যাপার বিশেষ দ্বারা প্রকাশ পায় ; যেমন তিল হইতে তৈল হয়। তৈল যে যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। নহি ভালবিশালদ্বগঘরঃ স্বললাটে নয়নং বিধিৎসতি। ৩১। অথ চেৎ সদপি প্রকাশিতং করণৈঃ কর্তুমিহেহতে জনঃ। নিয়মাৎসতি জন্ম তেহস্তি তৎ কথমাবিৰ্ভবনং ন সদ্ভবেৎ। ৩২। অর্থঃ। সৎকাৰ্য বাদে ইহাও প্ৰষ্টব্য আছে যে, যদি কাৰ্য্যোৎপত্তির পূর্বেও সৎ থাকে, তাহা হইলে কাৰ্যার্থী লােক কারণের ইচ্ছা কেন করে ? কেননা যে বস্তু প্রথমাবধিই আছে, তাহার উৎপত্তির জন্য কেহই যত্ন করে না, যেমন ভালস্থলে বিশাল- নেত্রযুক্ত শিব, স্বীয় ললাটে নেত্রবিধানের কখনই ইচ্ছা করেন না ॥ ৩ | যদি বলা যায়, সৎ বস্তু কারণে লীন হইয়া থাকিলেও, লােকে তাহাকে প্রকাশ করিবার জন্য চেষ্টা পায়। (যেমন দধিতে ঘৃত কোন নূতন পদার্থ উৎপন্ন হয় তাহা নহে তিলে বিদ্যমান ছিল, ব্যাপার বিশেষ অর্থাৎ পীড্যমান হইয়া তৈল প্রকাশ পাইল। ন্যায়শাস্ত্রের মত এই যে, তিল হইতে তৈল নূতন পদার্থ উৎপন্ন হইল, অর্থাৎ প্রথমে কাৰ্য্য থাকে না, কারণ ব্যাপারানন্তর উৎপন্ন হয়। এস্থলে অর্থাৎ ৩০ শ্লোকে বলা হইতেছে যে এই উভয়ের কোনটাই সম্ভব নহে। কেননা যে বস্তু চিরন্তনই সৎ, অর্থাৎ সদাকাল সমভাবে অবস্থিত তাহার উৎপত্তি যুক্তিবিরুদ্ধ, এবং যে বস্তু সর্বদাই অসৎ, যেমন আকাশকুসুম, তাহা হইতেও উৎপত্তি হওয়া সম্ভব নয়। ৩• |

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
১৭
অসতােহপি তথা বিচারণে
ন চ সুস্থা ভবিতা জনিক্রিয়া।
বদ দণ্ডমৃদাদিতঃ কুততা
ঘট উৎপছত এব নন পটঃ ৩৩।
যদি শক্তিবিশেষ ইষতে
সচ কাৰ্যেণ বিশিষতে ন বা ।
অধঃ।
থাকিলেও তাহা নিষ্কাশন জন্য মন্থনাদি ব্যাপারের আবশ্যক হয়)
ইহাতেও দোষ হয়-
এই যে সৎ বস্তুর প্রকাশ বা জন্মের কথা বলিতেছেন
তাহা (ব্যাপারান্তরসাপেক্ষ হওয়াতে) নিয়মাধীন (ক) বলিয়া
স্বীকার করা হইতেছে এখন জিজ্ঞাস্য এই যে যাহা সৎ তাহার
জাবির্ভাবই বা কেন না সৎ হয়। ৩২।
সৎ হইতে জগৎউৎপত্তি হয় না ইহা দেখাইয়া এক্ষণে অসৎ হইতেও
জগৎ উৎপত্তি হইতে পারে না তাহা দেখান হইতেছে।
সেইরূপ, বিচার করিয়া দেখিলে, অসৎ হইতেও জগদ্যুৎপত্তি
সিদ্ধ হয় না। যদি অসৎ হইতে জগদ্যুৎপত্তি স্বীকার করা যায়,
তাহা হইলে দণ্ড ও মৃত্তিকাদিরূপ কারণে, যখন ঘটও নাই পটও
নাই, তখন দণ্ড ও মৃত্তিকাদি দ্বারা ঘটই উৎপন্ন হয়, পটই বা
কেন হয় না। মৃত্তিকাতে ঘট ছিল না, কারণ সকলই অসৎ ৩৩ |
(ক) নিয়মাধীন হইলে সৎ বস্তুর চিন্তন সত্তার অভাব ঘটিল।

১৮,
যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম।
প্রথমে ত্বসতা কথা
চরমে তেন কথং ব্যবস্থিতিঃ ৩৪।
ইতি চিন্তিতমেব সূরিভিঃ
প্রথমাচাৰ্যবরৈরনেকধা।
ন কথঞ্চন যুক্তিসিদ্ধতা
জগদ্যুৎপত্তিগতা-বতিষ্ঠতে ৩৫।
কণভক্ষমতং যদীক্ষ্যতে
ন বিচারং সহতে তদপি।
অার্থ।
যদি শক্তি বিশেষের অস্তিত্ব স্বীকার করিয়া বলা যায়, যে
মৃত্তিকাদি কারণে ঘট উৎপাদন করিবার শক্তি আছে কিন্তু পট
উৎপাদন করিবার শক্তি নাই এই জন্য পট উৎপন্ন হয় না,
তাহা হইলে, উক্ত শক্তি ও কাৰ্য্য (অর্থাৎ ঘটপটাদি) এ উভয়ের
পরস্পর কোন সম্বন্ধ আছে কিনা তাহাও বিচাৰ্য। প্রথমত যদি
স্বীকার করা যায় যে পরস্পর সম্বন্ধ আছে, তাহা হইলে অসৎ
যাহার সত্তা নাই অর্থাৎ কাৰ্য, তাহার সহিত সৎ, অর্থাৎ শক্তি-
বিশেষের সম্বন্ধ স্বীকৃত হইতেছে অসতের সহিত সতের সম্বন্ধ
সেই বা কিরূপ? (চরমে) শেষােক্ত পক্ষ অর্থাৎ শক্তি ও কাৰ্য্য
ইহাদের পরস্পর সম্বন্ধ যদি স্বীকার না করা যায় তাহা হইলে
পরস্পর সম্বন্ধ-বিহীন কাৰ্য্য ও কারণ এতদুভয়ের সত্তারই বা
কিরূপ উপলব্ধি হইবে। ৩৪।
প্রাচীন আচাৰ্যগণ এ বিষয়ে অনেক বিচার ও অনুশীলন

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
পরমাণুময়ং হি কারণ
জগতত বক্তি ন চাস্য সম্ভবঃ ॥ ৩৬। *
রহিতােবয়বৈঃ স ইষতে
সতি যােগে চ তয়ােঃ শিবেচ্ছায়া।
দ্ব্যর্ণকমতাে জগদ্ভবে-
দিতি কাণাদমতং ব্যবস্থিতম্ ॥ ৩৭।
পরমত্ৰ বিচাৰ্য্যতামিদং
পরমাণাবণুকান্তর যৎ।
.
* তৎ কণভক্ষমতং বিচার অণু স্বল্পমপি ন সহতে হি যতঃ অয়ম্
ঋষি: পরমাণুং জগতঃ কারণং বক্তি অস্য চ পরমাণে সম্ভবনা নাস্তি।
অত্যাধ।
করিয়াছেন কিন্তু জগদুৎপত্তি বিষয়ে অর্থাৎ সৎ ও অসৎ ইহার
কোনটী হইতে জগৎ প্রবর্তিত সে বিষয়ে কোন যুক্তিসিদ্ধ
মীমাংসা হয় নাই। ৩৫।
অতঃপর ভিন্ন ভিন্ন শাস্ত্রের মত পৃথক্‌ রূপে বিচার করিয়া দেখান হইতেছে।
নিমে ৪২ শ্লোক পৰ্যন্ত বৈশেষিক-দর্শন-মতের প্রতিবাদ করা হইয়াছে।
বৈশেষিক দর্শন প্রণেতা কণাদঋষি পরমাণুকেই জগতের
কারণ বলিয়া স্বীকার করিয়াছেন কিন্তু বিচারে ইহা অভ্রান্ত
বলিয়া বােধ হয় না পরমাণুর (অর্থাৎ অবয়ববিহীন পরমাণুর )
সম্ভব হয় না ॥ ৩৬ |
পরমাণুর অবয়ব নাই কিন্তু ঈশ্বরচ্ছায় পরমাণু যখন দুইটী
একত্র হয় তখন অণুর উৎপত্তি হয়, দুইটী অণু একত্র হইলে ঘণু

২০ যতীন্দ্রজীবন-চরিতম্। মিলিতং সকলাশয়েহস্তি কিং তদুতৈকাংশগতং সমিষতে ৩৮ ॥ যদি পূৰ্বমুদীরিতম্মত কিমু লীনং ন পরম্পরন্তয়ােঃ। অণুতাং ন বিমাে»্যতে জগ- মনসেং নিপুণং নিরীক্ষ্যতাম। ৩৯। অথ চেদপরম্মতং বলেঃ ক গত সংশবিহীনতা তে।। ৪ * পরমাণৌ অণুকান্তর যৎ মিলিতং (মিলনং) তৎ কিম্ সকলাশয়ে অন্তি উত একাংশগতং সমিয়তে। t তে (ত) অন্য পরিমাণে সা (পূর্বমঙ্গীকৃত) অংশবিহীনতা ক গতা। অর্থ। হয়, এইরূপে পরমাণু সকলের পরস্পর সংযােগে পৃথিবী আদি সমস্ত জগৎ ক্রমে ক্রমে উৎপন্ন হইয়া থাকে, ইহাই মহর্ষি কণাদের মত। ৩৭। কিন্তু এ স্থলে বিচার করিয়া দেখা উচিত যে, এক পরমাণুর অন্য পরমাণুর সহিত যে সংযােগ হয়, তাহা কি সর্বাংশে হয়, অথবা একাংশে হয় ? ৩। (ক) প্রথমােক্ত মত অর্থাৎ পরমাণুর সর্বাংশগত সংযােগ যদি (ক) পরমাণু নিরৰয়ৰ, অৰয়ৰ শূন্যের পরস্পর সংযােগ কিরূপে সম্ভব হয় ইহাই বিচার করিবার অভিপ্রায়ে উক্ত প্রশ্ন করা হইয়াছে।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিত।
২১
ইয়মেব চ দোষভাবনা-
বয়বেপ্যণুতা কৃতা-ব্ৰজেৎ | ৪০।
যদি সােহপ্যপরাংশযুভবে-
দনবস্থা বিপুলা তদা-গতা।
বিনিবারয়িতা কথম্ভবা
সমতাং মেরু-কনীনিকাংশয়ােঃ ॥ ৪১।
ইতি নাবসরে গিরামিহ
প্ৰভবেৎ কিল্কভিমানমাত্ৰতঃ।
অর্থঃ।
স্বীকার করা যায় তাহা হইলে, পরস্পর সংযুক্ত উভয় পরমাণুরই
বা কেননা লয় হইবে — কারণ উভয় পরমাণুরই অবয়ব
নাই, সুতরাং সংযােগ দ্বারা অবয়ব-পুষ্টিরও সম্ভব নাই )—যদি
পরমাণু পরমাণুতে লীন হইয়াই রহিল তাহা হইলে বিশেষ বিবে-
চনা করিয়া দেখিলে বােধ হইবে যে পরমাণু সংযােগে সমুৎপন্ন
জগৎ পরমাণু ব্যতীত অন্য কিছু হইতে পারে না। ৩৯।
যদি শেষােক্ত মত অর্থাৎ পরমাণুদ্বয়ের কিঞ্চিদংশে সংযােগ
হয়, এরূপ স্বীকার করেন, তাহা হইলে পরমাণুর নিরবয়বত্ব
কোথায় রহিল ? (৩৭ শ্লোক দেখুন)। পরমাণুর অবয়বের
অণুত্ব স্বীকার করিলে, সেই দোষই থাকিয়া যায় ॥ ৪০ |
যদি পরমাণুর অবয়ব অন্য কোন বিশেষ” পদার্থের সহিত

২২ যতীন্দ্র-জীবনচরিত। * বিবদিষত এর চেস্যথা- রুচি ভাষ বশা নিজা হি বাক্। ৪২। 1 চরণামতেহপি তাদৃশং ন নিবৃত্ত বচনীয়তাস্তি সা। স হি বস্তুবিচারণে কৃতে কচিদেবান্তি কণাদতােহথা। ৪৩। * বিবদিষতে এব চেৎ যথারুচি ভাষ। * চরণাক্ষে গৌতমঃ। অস্যর্থ। যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করা যায়, তাহা হইলে অনবস্থা (ক) দোষ ঘটিল। (আর পরমাণুর সাবয়বত্ব স্বীকার না করিলে) বাহ- জগতের সুমেরু পর্বত, ও চক্ষুকনীনিকার অন্তর্গত সুমেরু পর্বত এতদুভয় যে সমান নয় তাহাই বা কিরূপে প্রতিপন্ন হইবে ॥৪১। অতঃপর এ বিষয়ে (৮ শ্লোক দেখুন) অন্য কোন কথা বলিবার অবসর নাই তবে যদি অভিমান বশতঃ নিজ মত সমর্থ- নের জন্য তর্ক করিতে উদ্যত হয়েন তবে আপনার অভিরুচি মত আপনি বলিতে পারেন, নিজের কথা নিজের বশীভূত বটে। ৪২। ভগবান্ গৌতমের মতেও পূর্বোক্ত দোষের নিবৃত্তি হয় না (ক) যে তর্কে উপপাদ্য ও উপপাদকের বিরাম নাই তাহাকে অনবস্থা দোষ বলে। অর্থাৎ যদি “বিশেষ” বন্তর সহযােগে পরমাণুর অবয়বের বৈষম্য স্বীকার করা যায় তাহা হইলে সেই বিশেষ বস্তু ও পরমাণু এতদুভয়ের সংযােগ সম্বন্ধেও পূর্ববৎ আশঙ্কা উত্থাপন হইবে এইরূপে এ বিষয়ের শেষ মীমাংসা কোন রূপেই সম্ভব হইতে পারে না।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। কলয়া গণিতানবুবুধৎ স পদার্থান্ কণভুক্ চ সপ্ত তাম্। * পদদৃক্ তু কথাঙ্গসংগ্রহং কুরুতেই লঘুত্বলালসঃ ॥ ৪৪ ৷ অথ কাপিলমপ্যবেক্ষতে মতমত্ৰান্তি সতঃ কৃতিস্তু যা। পুরতাে মথিতৈব সাত্বিহা- পরমপ্যন্তি বিবক্ষিতং বিদা। ৪৫। পদদৃক চরণাঃ) গৌতমঃ। অর্থঃ । কণাদ ঋষির মত ও গৌতমের মত প্রায়ই এক, তবে পদার্থ- বিচারে কোন কোন স্থলে সামান্য প্রভেদ আছে। ৪৩। মহর্ষি গৌতম যােড়শ পদার্থ স্বীকার করিয়াছেন, এবং কণাদ ঋষি (সৈই ফোড়শ পদার্থকেই) সপ্ত পদার্থ বলিয়া মানিয়াছেন। বিচারে সুচারুরূপে তত্ত্ব-নিরূপণ করিবার অভিপ্রায়ে অব্যবস্থাদি দোষ পরিহরণার্থ গৌতম ঋষি, বাদ জল্প ও বিতণ্ডা এই তিনটি কথার অঙ্গ পৃথক পৃথক্ দেখাইয়াছেন। কণাদ ঋষি সংক্ষেপে বর্ণন করিবার মানসে গৌতম ঋষির স্বীকৃত সমস্ত পদার্থগুলিই সপ্ত পদার্থের মধ্যে সন্নিবিষ্ট করিয়াছেন। ৪৪। অতঃপর মহর্ষি কপিলের (সাথ্যদর্শনের) মত সমালােচনা কর। হইতেছে। সৎকাৰ্যবাদের অর্থাৎ সৎ হইতে জগতের উৎপত্তি এই

28
যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
জগতঃ কিল কারণং পরং
প্রকৃতিঃ সত্বরজস্তমােময়ী।
অনপেক্ষ্য চিতােন্তরাশয়ং
মতমেতৎ কৃপিলস্য সম্মতং। ৪৬ ॥
বিদুষা স্বধিয়া নিরীক্ষ্যং
জড়মাত্ৰং মতিমহীপবৎ।
কমলােত্তবাচ্চ পিলয়ে-
দ্বিধীতাপখিলাঃ প্রজা ইমাঃ ৪৭।
অর্থঃ।
মতের যে সিদ্ধান্ত, তাহা পূর্বেই (৩১ শ্লোক দেখুন) খণ্ডিত
হইয়াছে, কিন্তু এ বিষয়ে পণ্ডিতগণের আরও বক্তব্য আছে৷৷ ৪৫।
মহর্ষি কপিলের অভিমত মত (ক) এই যে, চৈতন্য অথবা
চিৎশক্তির অপেক্ষা না করিয়া (অর্থাৎ স্বতন্ত্র হইয়া) সত্ত্বরজস্তমাে-
গুণাত্মিকা প্রকৃতিই জগতের প্রধান কারণ। ৪৬।
প্রকৃতি জড় (খ) সেই জড় প্রকৃতি, কমলযােনি ব্রহ্মার ন্যায়
জগৎ সৃজন করিতে সমর্থ ও ধীশক্তি সম্পন্ন মহীপতির স্থায়
জগৎ পালন করিতে যে সমর্থ হইবে এই সকল বিষয়
পণ্ডিতগণ স্বয়ং বিবেচনা করিবেন। ৪৭ ॥
(ক) প্রকৃতেহাংশুতোংহঙ্কারাদগণ বােড়শক। তম্মাদপি
ঘােড়শকাৎ পঞ্চভ্যঃ পঞ্চভূতানি। সাতক্ষকৌমুদী।
(খ) পুরুষ দর্শনার্থং কৈবল্যার্থং তথা প্রধান পঙ্গবদুভয়ােরপি
সংযােগন্ততঃ সর্গঃ । সাতত্বকৌমুদী।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
যদবােচদং পয়ােজনি
* জড়তােহপ্যন্তি শিশােজিয়ে।
কথমাস্তিকতা সহেত তৎ
পরমেশলা হি ততােহববুষ্যতে। ৪৮
অনয়ৈব দিশা স যােগবিৎ
৭ প্রকৃতেরায়ণাৎ পৃথকৃতঃ।
পরমেশ্বরদর্শনক্রিয়া-
কথাৎ কিন্তু সমাদৃতােহপ্যভূৎ ৪৯।
৫
* অয়ং (কপিল) শিশদাবৎস বিবৃজয়ে জড়ত অপি পয়ােজনি-
দুগ্নোৎপত্তিরস্তি ইতি ঘন্ অবােচৎ।
+ স যােগবিৎ (পতঞ্জলি) অনয়ৈব দিশা (একাণে) প্রকৃতেরায়-
ণাৎ পৃথক কৃতঃ পরমেশ্বর ইতি শেষঃ। জগৎ সৃষ্টিবিষয়ে ন হি পরমেশ্বর
প্রকৃতেরায় ইতি ভাব।
অর্থ।
জড় স্বাধীনভাবে কাৰ্য্য করিতে পারে ইহার পােষতায় সাধ্যমতা-
বলবীরা প্রমাণ দেখান যে-
শিশুর পােষণ ও বন্ধন জন্য, ভুক্তদ্রব্য (জড়) মাতৃশরীরে
দুগ্ধে পরিণত হয় কিন্তু অন্য সময় হয় না। (ক)
আস্তিকমাত্রেরই একথা অসহ প্রত্যুত এইরূপ ঘটনা হইতেই
আন্তিকের মনে ভগবদন্তিকে স্থির-সংস্কার জন্মিয়া থাকে । ৪৮
যােগাচাৰ্য্য পতঞ্জলি এই ভাবেই পরমেশর ও প্রকৃতি
(T) "The materialists maintain that the soul of man is not a
speritual substance distinct from matter but that it is the result
of a particular organisation of matter in the body
৪

২৬
যতীন্দ্রজীবনচরিত।
ইতি সূক্ষানিরীক্ষণে কৃতে
নহি কপি জগগিরূপণা.।
মনসে হরণক্ষমা ভবে-
জপি যত্নো বহুধা বিধীয়তাম্ ॥ ৫০ |
শ্রুতিবাক্যবিচারণায় য
রচিতং জৈমিনিনা তু দর্শনং।
বচসঃ পরতাবধারণে
* ক্ষমতে তমতু সৃষ্টিধীজনৌ ৫১
* বচসঃ (বেদোকে) পরতাবধারণে (অভিধেয়প্রতিপাদনে)
ক্ষমতে, প্রভবতি, সৃষ্টিশীজনৌ তু ন ক্ষমতে।
এতদুভয়ের আশ্রয়াশ্রয়িত্বভাব নাই দেখাইয়াছেন (ক) কিন্তু
সমাধি নিরূপণ প্রণালী অর্থাৎ যে সকল ক্রিয়া দ্বারা পরমেশ্বর
দর্শন যটে, বিবৃত করিয়াছেন বলিয়াই তাঁহার (পতঞ্জলির)
অধিকতর সমাদর হইয়াছে ৪৯।
এইরূপে বিশেষ বিবেচনা করিয়া দেখিলে, যিনি যতই
চেষ্টা করুন না কেন, কোন শাস্ত্রকারেরই জগমিরূপণ (অর্থাৎ
সৃষ্টি বিবরণ) হৃদয়গ্রাহী হয় না ॥ ৫০।
বেদবাক্য বিচার করিবার নিমিত্ত ভগবান্ জৈমিনি যে
(ক) ক্লেশকর্মবিপাকাশনৈরপরামৃষ্ট পুৰিশেষঃ ঈশ্বর। পাতঞ্জল
১ নং ২৪ মােক। অর্থাৎ ক্লেশ, কর্ম, বিপাক (কর্মফল) এবং
আণ, যাহাকে অধীন করে না তিনিই ঈশ্বৰ।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। ২৭ অবদচ্চ যদেষ ন ক্রিয়া- ব্যতিরিক্তার্ধকতা তেরিতি। ফলবৎপ্রতিপাদনাদিতঃ শ্রুতিমূৰ্দ্ধবরৈরখণ্ডি তৎ। ৫২। ইতি বেদবচাংস্যনেকধা কথয়ন্ত্যত্র সদেকবস্তুতাম্। পশুদৃষ্টিবদেব কল্পিতা স্বপম্মিমিহ ভেদভাবনা ॥ ৫৩। অর্থ। মীমাংসাদর্শন রচনা করিয়াছেন, তাহা হইতে বেদবাক্যের তাৎ- পৰ্য্য পরিজ্ঞাত হওয়া যায়, কিন্তু মীমাংসাদর্শন হইতে সৃষ্টি সম্বন্ধে কোন বিষয় অবগত হওয়া যায় না ॥ ৫১। “আয়স্ট ক্রিয়ার্থাদানৰ্ধক্যমতদানাম” এই সূত্রে জৈমিনি লিখিয়াছেন যে, কর্মকাণ্ড ভিন্ন বেদের আর কোনও অভিপ্রায় নাই, সে বিষয় তিতত্ত্বজ্ঞ পণ্ডিতগণ উত্তমরূপে খণ্ডন করিয়াছেন। ৫২। : বেদে এক চিরন্তন বস্তুর বিষয়ই অনেক প্রকারে বলা হইয়াছে বৈদোক্তিতে ভেদবুদ্ধি করা (অর্থাৎ ইহা কর্মকাণ্ডের জন্যই বলা হইয়াছে সৰস্তুপ্রতিপাদনার্থে বলা হয় নাই ইত্যাদি বুদ্ধি হওয়া ) কেবল স্বার্থপর পশুদৃষ্টি হইতেই প্রবর্তিত হইয়া ২৮ জীবরিতম। ইতি যুক্তিবলেনসিখ্যতি জগতঃ সক্ষভা বিলা। রজতালি হি দোষযােগ কিমু নালীকমবেকিং বহু! ৫৪। সকলং গতি কল্পিত ঞ্চিদধিষ্ঠানৰবাপ্য শাশ্বত। চিদবােধত এব কেৰল- ঞ্চিত আপৌ কুনকিঞ্চনাপ্যঃ ॥ ৫৫। প্রথমভ্ৰমজাত্র সংস্কৃতি- চরমভ্রান্তিসহায়তামিতা। এই সকল যুক্তিদ্বারা পণ্ডিতগণ জগৎকে স্বপ্নসদৃশ অলীক বলিয়া অবগত হয়ে, দৃষ্টিদোষ বশতঃ ভক্তি ও বন্দু আদি পদার্থে রজত ও সাদির ভ্রান্তি হইয়া থাকে। ৫৪ চৈতন্যময় নিত্য ৰৱকে এই পরিদৃশ্যমান জগৎ কল্পিত হইয়াছে, নিত্য চৈতন্যের অনুভব না হওয়াতেই এই জগৎকে অগৎ বলিয়া ৰােখ, , চৈত্বময়ের অনুভব, অথবা তত্ত্বজ্ঞান হইলে এই জগতের বােখ থাকে না, যেমন বন্ধুতে, সৰ্পেৰ ভ্ৰম জুন হইলে কার থাকে না, ক্রপ সত্তর (অর্থাৎ অধিষ্ঠান রূপের) জ্ঞান হইলে, অসন্তু (জগৎ) আর দৃষ্ট হয়

যতীন্দ্রজীবনচরিতম।
২৯
প্রথমেহপি তােহপি পূৰ্বজা-
স্কৃতিসমুপাগতা তথা ॥ ৫৬ | *
সময়স্য ন কোহপি বিদ্যতে
প্রথমাে বাপথবাস্তিমােহবধিঃ
ক ভবােহস্তি পুরাবলােকিতঃ
সুসমাধানমিতে ভবেৎ। ৫৭।
ইদমাস্তিক-মা-ভাষিতে
শরণং নেতরদস্তি দৃশ্যতাম।
।
* সহ–অন্চ কিস, তস্যভাবঃ সম্।
অর্থঃ।
এরূপ আশঙ্কা হইতে পারে যে, পূৰ্বদৃষ্ট পদার্থেরই ভ্রান্তি হইয়া থাকে,
যাহা কখনও দেখা যায় না, এরূপ পদার্থের পদার্থান্তরে ভ্রান্তি কিরূপে
সম্ভব। ইহার সিদ্ধান্ত এই যে,
প্রথম এক এম হইতে অন্যান্য ভ্রম উৎপন্ন হয়, এই প্রথম
ভ্রমের এবং ইহার ও পূর্ববর্তী ভ্রমের কারণ অন্য এক ভ্রম
হইয়াছিল। এক ভ্ৰম অন্য ভ্রমের অত্যন্ত সহায়, অর্থাৎ ভ্রম হইতে
ভ্ৰমান্তর অনবরত অতর্কিতভাবে প্রবর্তিত হইতেছে ৫৬
প্রথম ভ্রমের উৎপত্তি কিরূপে হইল ইহার উত্তর-যেমন
কালের কোনও অবধি নাইকখন যে আরম্ভ হইয়াছে, এবং কখন
যে অন্ত (শেষ) হইবে, তাহা নিরূপণ করা অসাধ্য তপ, এমন
কোন ভ্রম নাই, যাহাকে প্রথম ভ্রম বলিয়া স্থির করা যাইতে
পারে, ইহাই এ বিষয়ের সিদ্ধান্ত। ৫৭।

৩০
যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
জগতােহস্তি বিচিত্ৰতা পুরা
কৃতকর্মভ্য ইতীরয়্যমী। ৫৮..
পরিহৃত্য হৃদেহতিচাপলং
চিরকালং সুবিনে কৃতে।
বিমলাশয়যুখিভাবয়ে-
মৃগতৃষ্ণাবদিমাং ভবাৰ্থনা। ৫৯।
পরমেশ্বরশক্তিতােহপি বা
কথমপ্যেতদবস্তু বস্তু বা।
প্রতিভাতি তথাপি নােচিত।
বিদুষাম, নিতান্তলীনতা ॥ ৬০ |
অর্থঃ।
আস্তিকদিগের বাক্যই ইহার প্রমাণ এ বিষয়ে অন্য প্রমাণ
নাই। দেখুন জগতের এই বিচিত্রতা, একমাত্র পূর্বকৃত কৰ্ম্ম হইতে,
প্রবর্তিত, অর্থাৎ অবস্থার ভূয়াে ভূয়াে পরিবর্তনেই এই বিচিত্র
জগৎ সৃজন হইয়াছে আস্তিক মাত্রেরই এইরূপ বিশ্বাস ॥ ৫৮।
হৃদয়ের চাঞ্চল্য পরিত্যাগ পূর্বক দীর্ঘকাল বিচার করিয়া
অন্তঃকরণ নিৰ্ম্মল হইলে, সাংসারিক পদার্থের লালসা মৃগতৃষ্ণার
ন্যায় অলীক থলিয়া স্বতঃই বােধ হইতে থাকে। ৫৯ ।
এই জগৎ সত্যই হউক বা অনিতাই হউক পরমেশ্বরের শক্তি
প্রভাবে ইহার অনুভূতি হইতেছে বটে কিন্তু তথাপি বিবেচক
পণ্ডিতগণের পক্ষে ইহাতে (এ জগতে) অত্যন্ত আসক্ত হইয়া
থাকা উচিত নহে। ৬০।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
অনিশ বহুযত্নসাধনৈঃ
পরিতঃ পান্তি কলেবরং জনাঃ।
তদপি স্ববশে ন তিষ্ঠতি
কিমিবাষ্যৎ স্বমনােহনুবৰ্তম্॥ ৬১।
পরিপশ্যত এব শৈশবং
যুবতাপ্যস্তমুপৈতি দেহিনাম।
সততােম্মিষিতৈর্মনােরথৈ-
নতু জানন্তি জরাং সমাগতাম। ৬২।
নিখিল অপি তে মনােরথা
হৃদি কোলাহলমেব কুৰ্ব্বতে।
১
যখন
অর্থঃ।
মনুষ্যগণ নিরন্তর নানা প্রকার উপায় অবলম্বন করত
নিজ শরীরকে যত্ন পূর্বক রক্ষা করিয়া থাকেন, কিন্তু সেই নিজের
শরীরই যখন আপনার বশে থাকে না, তখন অন্য কোন বস্তু
কি কখন নিজের মনােমত হইতে পারে ?। তাৎপৰ্য এই যে,
এত উপায়ে রক্ষিত শরীর নিজের বশে থাকিবার সম্ভাবনা নাই,
তখন অন্য বস্তু যে চিত্রানুরূপ হইবে এরূপ আশা দুরাশা
মাত্র ৬১ ॥
বাল্যাৰহা ও যৌনাহা দেখিতে দেখিতে অলক্ষিত ভাবে
অতীত হইয়া যায়, এবং অনবরত উৎপদ্যমান মনোরথ সমুহ দ্বারা
মানুষ এতই মােহিত, যে বৃদ্ধাবস্থা উপস্থিত হইলেও তাহাদের
চৈতন্য হয় না। ৬২।

৩২
যতী-জীবন-চরিত।
বিষয়েস্তু নিজেঃ সমাগমং
ন লভতেইশতেহপাহে গতে। ৬৩।
নয়নােপরােয়া
অপি চৰ্মাৰ্বতমাংসপিণ্ডকান।
অবলােক্য বিমােহিত-শয়া
জহতীহাখিলভদ্রমাত্মনঃ॥ ৬৪।
লাপি দৈবাষিয়ােপভােগং
চিরাম্মনঃকোটরসম্প্রবিষ্ট।
তৃষ্ণাপিশাচীপরিভুতচিন্তা
সন্তোষমহেপি ন বিভ্রতেইমী। ৬৫।
অর্থঃ।
তখন সেই সকল মানােরখ মানসিক অশ্বচ্ছন্দের কারণ হয়,
শতবর্ষেও মনােরখের বিষয় পরিপূর্ণ হয় না, মনের বাসনা মনেই
রহিয়া যায়। ৬৩।
নয়ন, উরু, কন, এ সকল চৰ্মাবৃত মাংসপিণ্ড মাত্র, কিন্তু
ইহার দর্শনে মানুষ বিমােহিত হইয়া আত্মার মঙ্গলকর ব্যাপারে
একেবারেই জলাঞ্জলি দিয়া থাকে। ৬৪।
দৈবাৎ শুমৃষ্ট বশতঃ বদি তখন কাহারও হৃদয়ান্তর্গত
অভিলৰিত ভােগসুখ-প্রাপ্তি ঘটিয়া উঠে তাহা হইলেও ভােগতৃষ্ণা
দিন দিন বৃদ্ধি হইয়া পিশাচী মূর্তি ধারণ করে, এবং তােগৰে
পবিতৃপ্ত এই মনুষ্য সকলের অনুকরণে আসন্ন কালে কিছুমাত্র

যতীন্দ্র-জীবন-চরিত।
৩৩
গীতং পুরা সাধু যযাতিনাত্র
ন জাতু কামাে বিষয়ানুষঙ্গা।
শমং ব্রজেৎ প্রত্যুত যাতি বৃদ্ধিং
হবিঃ প্রপদ্যে হবির্ভুগিদ্ধঃ ॥ ৬৬।
জরাসমুদ্যৎকফঘুঘুররা
দারিদ্র্যদাবানলদগ্ধবাঞ্ছিঃ।
বিমর্দিতাশ্চাপি নৃপারিতস্করেঃ
# স্মরন্তি নারীকিলকিঞ্চিতান্যহাে॥ ৬৭।
নায়কসমীপে স্ত্রী সৰ্বাভিলাষদিতন্মিয়াভয়কুধাং।
সঙ্করীকরণং যৎ হুচ্যতে কিলকিঞ্চিতং ।
অর্থ।
সন্তোষ থাকে না, অভীষ্ট বস্তু সকল অবশ্যই পরিত্যাগ করিতে
হইবে এই চিন্তায় তাহাদের অন্তর অত্যন্ত ব্যথিত হইয়া
থাকে। ৬৫।
পূর্বকালে মহারাজ যযাতি এই বিষয়ে অতি সুন্দরই
বলিয়াছিলেন যে উপভােগ (ক) দ্বারা বিষয় কামনার শাস্তি হয়
, বরং প্রজ্বলিত অগ্নিতে হব্য প্রদানের ন্যায় উত্তরােত্তর বৃদ্ধি
পায় ॥ ৬৬#
বৃদ্ধাবস্থাসলত কষোদগমে স্বর বিকৃত হইয়াছে, দারিদ্র্যরূপ
(ক) ন জাদু কামঃ কামানাপভােগেন শামতি।
হবিষ কৃষ্ণবর্ষের ভূয় এভিবৰ্ধতে।
মহাভারতে বতিবাক্যম।
৫

৩৪. তী-জীব-চরিত। , * আসিমীবলয়াধিপত্যং লােকয়ােন্নাসি-তবে বা। যা বিধাতু সকলাপি সৃষ্টি- নৈক পুংসেহপি বিতৃপ্তয়ে অ্যাঃ ৬৮। অনন্তকোটার্জনুযাং সহ- ক্লেশালীৰ্য্যাকুলিতা ব্যতীত্য। কঞ্চিদান্ত মনুষজন্ম- শ্ৰমাৎ পুনঃ সংস্কৃতিমর্জয়ন্তি ॥ ৬৯। দিনে দিনে কালফণী প্রকোপ কুর্ব সমাগচ্ছতি সমিধান। অনলে সকল সাধই দগ্ধ হইয়াছে, রাজা শক্ত ও তস্করাদি কর্তৃক যৎপরােনান্তি উৎপীড়িত হইতেছে, কিন্তু হায়! তথাপি লােকে রমণী-বিলাস স্মরণ করিতে বিরত নহে অর্থাৎ নারীস পরিত্যাগ করা তাঁহাদিগের পক্ষে অসাধ্য হইয়া উঠিয়াছে। ৬৭ । সমুদ্র পর্যন্ত সমস্ত পৃথিবীর আধিপত্য,ত্রিভুবনের সমস্ত কামিনী, অথবা বিধাতার সমুদয় সৃষ্টবস্তু পাইয়াও যখন একজন পুরুষেরও মনােরখ পূর্ণ হয় না তখন তৃষ্ণার আর বিরাম কোথায়? ৬৮ অশেষ ক্লেশ-সঙ্কুল কোটি কোটি জন্ম অতিক্রম করতঃ কোন প্রকারে জন্ম প্রাপ্ত হইয়া (যন্ত্রণা হইতে উদ্ধারের চেষ্টা না করিয়া) মানবগণ বৃথা পরিশ্রম দ্বারা পুনশ্চ জন্ম- পরম্পরাই উপার্জন করতেছেন ৬৯# ।।।

যতীন্দ্রজীবন-চরিতম্। নিপীত-মােহা-সব-জাত-মাদো ন ভীতিমায়াতি কদাপি কোহপি। ৭০। প্রতিপ্ৰভাতং পবিতপুত্র- কলত্রচিন্তাব্যথিতান্তরালাঃ। আস্বাপকালং পরিতাে ভ্রমন্তো- হমােঘং বয়ঃ সংক্ষপয়ন্ত্যশেষ। ৭১ প্রায়ঃ প্রয়াণাৰসরাববােধঃ সুদুঃশকঃ সংবৃতচেতনানাম্। কথগিদাপ্যাপি-তমীশ্বরং ন স্মরন্তি কিন্তু স্মরকাকিতানি ॥ ৭২। তা। যতই দিন যাইতেছে কালরূপী ভীষণ সর্প ততই সন্নিহিত হইতেছে, লােকে মােহ-মদিরা পানে বিমােহিত, সুতরাং সে দিকে তাহাদের কোন লক্ষ্য নাই, এবং তজ্জন্য তাহারা ভীতও হয় না । ৭০ । হায়! মনুষগণ প্রতি দিন প্রাতঃকাল হইতে শয়নকাল পৰ্যন্ত পশু, বিত্ত, পুত্র ও কলত্র প্রভৃতির চিন্তায় ব্যথিতান্তঃকরণে ইতস্ততঃ ভ্রমণ করতঃ, সমস্তু জীবন বৃথা ব্যয় করিতেছে ॥ ৭১। লােকর চিত্ত এতই কলুষিত যে অন্তকালের জ্ঞান অর্থাৎ কখন মৃত্যু হইবে এ জ্ঞান প্রায় কাহারও হয় না। স্বপ্নবিশেষে ৰা মােগবিশেষে যদি কেহ, মরণ শকিট হইয়াছে ইহা বুঝিতে ৩৬ যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। তম্মা ভবতু মা দ্বিজদেহলভাে- দ্যোগঃ ৰূতােহস্যজনুষীতি বিহায় সৰ্বম্। গেহাদিকং সপদি দুঃখদবালার্জিঃ শাস্তিপ্রদেশচরণামুজমায়েয়ম্। ৭৩। ইথং বিচিন্ত্য পরমাত্মনিষাবৃতিঃ সঙ্কল্পকল্পনমশেষমগােহ দূর। হেলাং দধাৰখিলকৰ্মৰপাকভেদ- শ্রেণীনিবন্ধসুতবিকলবর্গে ॥ ৭৪। অর্থ। পারেন, তাহা হইলেও ঈশ্বর স্মরণ করেন না; কামের আকাঙিক্ষত (ক) বিষয়ই স্মরণ করিতে থাকেন। ৭২। এইরূপ বিচার করিয়া মতিরাম মনে করিলেন যে পূর্বজন্মজ্জিত পুণ্য, যদ্বারা ইহ জন্মে আমি ব্রাহ্মণ শরীর লাভ করিয়াছি, ব্যর্থ হওয়া উচিত নয়, অতএব গৃহাদি সমস্ত বস্তু ত্যাগ করিয়া, অবিলম্বে দুঃখ-দাবাগ্নির জ্বালা শান্তকরণক্ষম ঈশ্বরের চরণকমল আয় করাই আমার উচিত। ৭৩। অতঃপর তিনি, পরমাত্মতত্বে মনােনিবেশ করতঃ সাংসাৰ্বনী, ব্যাপারে সঙ্কম পরিত্যাগ করিয়া, নানাবিধ পুণ্য ও পা'বরও (ক) চণ্ডশনধাধবলরাতে গিরেফাবলী ঝামােন্মুখরা বিলাসবিপিনােপাকা বসন্তোৎসব। মাখনােয়া দিব পৰাঃ কানিলা লারমুখা গামসুদ্ধলে নাৰ্যাঃ জিয়াং জিতাঃ । প্রবােধচদেয় নাটক। আঃ ও শ্লোঃ ১৩। ।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। ৩৭ বিহায় তস্মিন্ সময়েইখিলং ত- বিনির্গতঃ প্রত্যগুপেতচেতাঃ। যদৃচ্ছয়ৈবােজ্জয়িনীং জগাম পুরীং মহাকালমহেশ্বর। ৭৫। কঞ্চিৎ কালং হৃৎসরােজান্তরস্থং ধ্যায়ীশং শান্তচিত্তঃ স তত্র। গ্রন্থাংস্তাংস্তান যােগবীথীপ্রকাশান সাধ্বভ্যাৎ প্রাপ্তবাোেচিতীকান্ ॥৭৬। ; * প্রাপ্ত বােধ যৈন্তে প্রাপ্তবােধান্তেষাং (বিষয়বিরক্তানাম্) ঔচি- তীকাঃ (পাঠোপযােগিনঃ হিতা ইত্যৰ্থঃ) যে গ্রন্থাস্তা। উচিত+ষ্ণীক। অর্থঃ। কর্মের শ্রেণীবদ্ধ পরিণাম-ফলস্বরূপ সুত, বিত্ত, কলত্র প্রভৃতি পার্থিব বস্তুতে অনাস্থা করিতে লাগিলেন; অর্থাৎ ধন পুত্র স্ত্রী প্রভৃতির মমতা পরিত্যাগ করিতে লাগিলেন ॥ ৭৪। পরব্রহ্মানুরাগী মতিরাম অতঃপর গৃহ পরিত্যাগ পূর্বক যদৃচ্ছাক্রমে মহাকালেশ্বর শিবের পুরী উজ্জয়িনী নগরীতে উপ- স্থিত হইলেন। ৭৫। তিনি তথায় কিছুকাল শান্তমনে হৃদয়কমােন্তরস্থিত জগ- দীশ্বরের ধ্যান করিতে লাগিলেন, এবং বৈরাগ্যোদয় হইলে যে সকল গ্রন্থ উপযােগী হইয়া থাকে (ক) সেই সকল যােগ- (ক) অর্থাৎ তৎকালীন তাহার অবস্থার অরূপ যােগমা প্রকাশ পুস্তক সকলের মর্মোদ্ভেদ করিয়াছিলেন।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। অনন্তরং দ্বারবতীমগচ্ছ যা গােপবেশস্য হরের্বভুব। বৈকুণ্ঠগােলােকযুগাধিরাজৎ- স্তম্ভোল্লসদেগাপুররাজধানী। ৭৭। তীর্থোচিতং তত্র বিধায় কাৰ্য- জাতং পুনর্জরমালবাদী। দেশানট তওদুপেতপুণ্য- ক্ষেত্ৰং যথাশামশিয়ৎ সঃ ॥ ৭৮। ৰেদান্তাভ্যাসমাতম্ব তীর্থযাত্ৰাং ধথা। মূর্তঃ সমুচ্চয় ই বভৌ স জ্ঞানকৰ্ম্মণণাঃ। ৭৯। অর্থঃ। মার্গ-প্রকাশক গ্রন্থসমূহ বিশেষরূপে অভ্যাস করিতে লাগি- লেন ॥ ৭৬ ॥ অনন্তর তিনি গােপবেশধারী কৃষ্ণের রাজধানী, দারাবতী নগরী—যথায় পুরস্থিত স্তন্ত সকল, বৈকুণ্ঠ ও গােলােকপুরের দ্বারে অবস্থিত স্তন্যের ন্যায় উদ্ভাসমান হইয়া বিরাজিত রহিয়াছে, সেই ধারাবতী নগরীতে প্রস্থান করিলেন। ৭৭ তথায় তীর্থোচিত কাৰ্যকলাপ সমাধা করিয়া, গুর্জর (গুজরাট) ও মালব (মালবা) দেখে বিচরণ কালে পথে যে সমস্ত পুণ্যক্ষেত্র প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, সে সমুদয়েরও বিধিমত সৎকার করিয়াছিলেন। ৭৮। ৰৰদান্ত অভ্যাসে তৎপর হইয়াও, বিধিমত তীর্থসেবা করাতে যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। অধায়মাগাৎ পুনরেব পুণ্যাং পুরীং মহাকালসমাশ্রিতাং তাম্। বিচারনির্ভূততমােরজস্ক- স্বৰ্য্যাশ্ৰমং ধারমিতুং তদৈচ্ছৎ ৮০। বভূব পূৰ্ব্বং নিয়মতাচ্য- তাে গৃহস্থাশ্রমমপ্যধাষীৎ। তীর্থয়াজ্জাতবনস্থকৃত্যো- হজানাৎ সকালং হনুরূপমস্ত ॥ ৮১। অর্থ। মহাত্মা মতিরামকে দেখিয়া বােধ হইতে লাগিল যেন জ্ঞান ও কর্ম উভয়ে মিলিত হইয়া এক মুর্তি ধারণ করিয়াছে। ৭৯। (ক) তীর্থ পৰ্যটন করিতে করিতে স্বামীজী অতঃপর মহা- কালেশ্বরের উজ্জয়িনী নগরীতে ফিরিয়া আসিলেন, এবং অনবরত বিচার দ্বারা তাহার আন্তরিক তমঃ ও রজোগুণ নির্ধত হইয়াছে এইরূপ অনুভব হওয়াতে, সন্যাস গ্রহণের ইচ্ছা করিলেন। ৮০। প্রথমতঃ (অষ্টমবর্ষ বয়সে উপনয়নের পর) বেদাধ্যয়নকালে নিয়মত্ৰত অর্থাৎ ব্রহ্মচর্য আচরণ করিয়াছিলেন, পরে গৃহস্থাশ্রম (ক) মীমাংসকেরা বলেন বিধিমত কিয়ানুষ্ঠান দ্বারা মুক্তি প্রাপ্তি হয়, বৈদান্তিকেরা বলেন জ্ঞান ব্যতৃীত মুক্তি হয় না তবে কৰ্ম ক্লানের সাধন মাত্র—ইহাদিগের ঘাের বিবাদ সহ করিতে না পারিয়াই যেন জ্ঞান ও কর্ম উভয়ে পরামর্শ করিয়া উপদেশ দিবার অভিপ্রায়ে মহাত্মা মতিরামের মূর্তি ধারণ করিয়া পৃথিবীতে অবতীর্ণ হইয়াছেন ইহাই শ্লোকের অভিপ্রায়।

৪০ যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। সপ্তবিংশতিবৰ্ষমাত্রবয়স্ক এষ বিদগ্রণী- রাত্মচিন্তনরাগযুখিষয়াগিতাস্তবিরাগবান। ধূতবারুণবৈধনিকেতসৌখ্যকুবাসনাে স্যাসমেব সমায় কলমেষ এব হি জম্মনঃ ॥ ৮২॥ নবযৌবনং বলবপুঃ কমনীয়রুগুণিগণ্যতা- তরুণী রতিপ্রতিমা সুতঃ শশিনঃ সদৃক কিমিয়ং কৃতিঃ। • এষ সন্ত্রাস এব জন্মন ঘিদেহধারণ ফল। অর্থ। } ধারণ করেন, তৎপরে তীর্থ পৰ্যটন দ্বারা বানপ্রস্থ আশ্রমের কাৰ্যও করা হইল; অতঃপর তিনি ভাবিলেন যে, সন্যাস ধারণ করিবার তাহার উপযুক্ত সময় হইয়াছে। ৮১। (ক) এই সময় তাহার বয়ঃক্রম সপ্তবিংশতি বৰ্ষমাত্র হইয়াছিল, তিনি পণ্ডিত ও বিদ্বানদিগের অগ্রগণ্য হইয়াছিলেন, পরমাত্ম চিন্তনেই তাহার অনুরাগ, অন্য বিষয় বাসনায় তাহার একান্ত বিরাগ জন্মিয়াছিল, এমন কি ইলেক, বরুণলােকও ব্রহ্ম লােকের দুখবাসনাকেও তিনি কুৰাসনা বােধে পরিত্যাগ করিয়াছিলেন, এই অবস্থায় তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করিলেন। দ্বি- জন্ম এইক্ষপেই সফল হয় বটে। ৮২ (ক) পাস চতুর্থাৎ, ব্ৰহ্মচ, গার্য ও বানপ্রন্থের সেবা না করিয়া চতুর্থ আশ্রম সেবা করা অযৌক্তিক, সেই জন্তু এই শ্লোকে মহাপুরুষ মতিরাম কিরূপে সামনের কাৰ্য করিয়াছিলেন, তাহাই বিবৃত হইয়াছে।

যতীন্দ্রজীবন-চরিতম্। ৪১ ইতি তস্য কোহপি নিবারণক্ষমতামিতাে ন বপুর- স্তমসাে হি বিদ্ধি বলং কিয়দ রবিতেজসঃ পুরতে ভবেৎ ॥৮৩ রবিমণ্ডলং নিজভভদভীচলনং বিভক্তি তদা ম নাে হবিরস্তমেত্য শচীপতিশ্চ ন শােচতি স্ম পরাশা। অভয়প্রদানবিলাসিনা জগদীশতাং গমিতাত্মনা- প্যমুনা ভয়ং কথমুত্তবেম হি পুণ্যমস্তি ততঃ পরম্ ॥৮৪৷ অর্থ। নব যৌবন বলিষ্ঠ শরীর, সুন্দর কান্তি, বিদ্বান ও পণ্ডিত- গণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠতা, রতিসমানা পত্নী, চন্দ্রপ্রতিম পুত্র এ সকল বর্তমান থাকিতে, আপনি এ কি করিতেছেন? এইরূপ তর্ক করিয়া কেহই তাঁহাকে সন্ন্যাস-আশ্রম-গ্রহণ-সঙ্কল্প হইতে নিবারণ করিতে পারিল না। অন্ধকারের কি এমন শক্তি যে, রবিতেজের সম্মুখীন হইতে পারে ? মায়া অন্ধকারস্বরূপ, পত্বগুণের উদ্রেকে, সূর্যোদয়ে অন্ধকারের ন্যায়, স্ত্রীপুত্রাদি ভােগ্য বিষয়ে মায়া স্বতই বিলীন হইয়া যায় ৮৩৭ ব্রাহ্মণ সন্ন্যাস-গ্ৰহণ করিলে সূৰ্য্য কম্পিত হয়েন ইন্দ্রও ব্যথিত হইয়া থাকেন। সন্ন্যাসী এত বড় তেজস্বী হইতে পারেন যে, সূৰ্য্যমগুল ভেদ করা তাহার অসাধ্য নহে এই কারণে সূৰ্য্যর ভয় (ক)। কৰ্ম্ম কাণ্ড পরিত্যাগ করিয়া ব্রাহ্মণে সন্ন্যাস গ্রহণ (ক) বিমৌ পুরুষৌ লােকে সূৰ্যমগুলতেদিনৌ । পরিব্রাট যােগযুক্ত রণে চাভিমুখে হত । পরাশরসংহিতায়াম্।

৪২
যতীন্দ্ৰীষন-চরিত।
পূর্বাশেখ সহৈৰ পূৰ্ব্ব
সত্যজ্য মাতিয়ে নানাম।.
নামাগমেপি ব না।
ভানামসরস্বতীতি।
করাতে আহুতি দাতৃগণের সংখ্যা হ্রাস হইবে এই জন্য ইন্দ্রের
আশঙ্কা (ক)। কিন্তু মহাত্মা মতিরাম যখন সন্ন্যাস গ্রহণ করেন,
তখন সূর্য ও ইন্দ্রের কোন ভয়ের কারণ ছিল না, অনবরত
ঈশ্বরানুধ্যানে তিনি স্বয়ং ঈশ্বরত্ব প্রাপ্ত হইয়াছেন, সর্বত্র অভয়
প্রদান করিতেই তাঁহার আনন্দ, অতএব তাহা হইতে কাহারও
ভয়ের আশঙ্কা হইতে পারে না। অতঃপর পুণ্যতর আর কি
হইতে পারে ? ৮৪।
যে সকল সন্ন্যাসীর আত্মা লিঙ্গশরীরে যুক্ত থাকে, ব্যাপকতাব
প্রাপ্ত হয় নাই, কেবল উপাসনাৰ যোগাভ্যাসৰলে মূল শরীর হইতে পৃথক
ভাগ হইয়া থাকে, তাঁহারাই এলভোগি করিয়া থাকেন-যাহ
দের আত্মা অতিীয় সর্বব্যাপী পাপ হইয়াছে,সূলগুলশমূদয়
ৰজাই লয় বাঁহার সাথেই সূর্যমণ্ডল হবি, হেতা ইত্যাদি বর্তমান,
সেই দিন হইতে কারও কোন আশঙ্কার কারণ হইতে পারে না।
সাধারণের সময় পূর্বামের সহিত পূর্বনাম, অর্থাৎ
() অথবং দােজপেয় পরিণম্।
আলো হতেন হবি উৎসংলগতে দিবি।
গেঞ্জী গো সঙই গৃহগেনি।
অথৈব জ্ঞান বিগ্রো সেনাং ইলো ভবেৎ ॥
শিবগতায়াম্ ।

যতী-জীবনচরিত।
৪৩
••
যতিয়মস্মিন্ সংসুখেন তনুকালৰকৃত রেবায়াঃ।.
পরিসরগে.সুনে বিদিতশিনিজাম্মদাত্মঃ ॥ ৮৬।
নিরবধিমহিমন বকাশক্তি তো গীতম্।
তত্রাগাদ্বিদ্বান্ গ ঘতিঃ অরণীয়সচ্চরিতঃ # ৮৭।
নিবাসমত্র কঞ্চিদের সংবিধায় সােহব্ৰজৎ
ফতেপুখ্যপত্তনান্তরালগামনীপুর।
পরাত্মচিন্তনান্তরায়তামবেক্ষ্য জাহ্নবী-
তটে চ দণ্ডসংজ্ঞকং স্বলক্ষণং তদা জহো। ৮৮
অর্থ।
পিতৃকৃত মতিরামনামও ত্যাগ করিলেন; যদিও স্বামী তুরিয়া-
বস্থা (ক) (সন্ন্যাস) প্রাপ্ত হওয়ায়, বাণী ও মনের অগম্য হইয়া-
ছিলেন, তথাপি (তাহার ভক্তনের স্মরণ করিবার জন্য )
শ্রীভাস্করানন্দ সরস্বতী, এই নাম ধারণ করিলেন ॥ ৮৫
শিব এবং স্বীয় আত্মার অভেদজ্ঞান অনুভব করত এই বতি,
কিছুকাল রেবা নদীর সমীপৰতী উজ্জয়িনী নগরীতে সুখে বাস
করিয়াছিলেন। ৬।
বেদে যে স্থানের মহিমা অনন্ত লিরা বর্ণিত হইয়াছে সেই
কাশীধামে, বতিপতি অতঃপর আলিয়া উপস্থিত হয়েন। তাহার
পুণ্যময় চরিত্র স্মরণেও লােকের মল #৮৭।
স্বামীজী কাশপুরীতে অল্পকাল বাস করিয়া, জেলা ফতে
(ক) তুরীয়াবস্থা-পদে চতুর্থ অবস্থা বুঝায়, চতুর্থ অবস্থা সঙ্গ্যাস হইতে
পারে, এবং জাৎ স্বল্প সুষুপ্তির পর যে তুরীয় অবস্থা, তাহাও বুঝাইতে
পারে।

৪৪ মূর্ষা যস্য নিরূপ্যতে শ্রুতিগশৈর্দের্নিহিরাং দৃশে সূৰ্য্যামসো চ খং নিগদিতং নাভিঃ পদে ভূরিয়ম। তন্যেশস্য পরং মধ্যে হাজি গধৎ সপাং দেহিনাং তস্মাৎ কানহপুৰং স্বতন্ত্ৰগতিকঃ সপ্রাপ্তবান যুক্তধীঃ ৮৯ তত্র কান্যকুজবংশসম্ভব মহীয়রা রামচয়নামকঃ সমাগমং গতােহমুনা। সেবতেহস্য যােহনিশং তদাদি পাদপঙ্কজ- স্ত্যক্তদেবতারং মহীভূতাং কথৈব কা ॥ ৯০। রামচরন্ ইতি তৎপিত্রোক্ষরিতাহুকরণ-মেদিতি সাধু। পুরের অন্তর্গত অসনীপুর গ্রামে গমন করেন, তথায় গঙ্গাতটে সন্ন্যাস-আশ্রমের চিহ্ন দণ্ড পর্যন্তও পরিত্যাগ করিলেন, কেন না, তিনি দেখিয়াছিলেন যে, লাবধান পূর্বক উহা ধারণ করিতে হইলে, আত্মচিতনের ব্যাঘাত জন্মে ॥ ৮৮। বৰদসমূহ, স্বর্গাকে যে দেবতার মস্তক, অগ্নিকে যাহার মুখ, সূৰ্য্য ও চন্দ্রকে খাঁহার আকাশকে যাহার নাভি, এবং পৃথিবীকে যাঁহার চরণ বলিয়া নিরূপিত করিয়াছেসেই পরমেশ্বরের জগৎ-পাবন পরমােকষ্ট-তে হৃদয়ে ধারণ করত, অনচেতা মহাত্মা যতিপতি যথাক্রমে অসনীপুর হইতে কানপুর নগরীতে আগমন করিলেন । কানপুর নগরীতে কাকুঞ্জ বংশের রামচরণ নামক এক ব্রাহ্মণ স্বামীজীর শরণাপন্ন হয়েন, ইনি তদবধি আজি পৰ্য্যন্ত, বতীলীবনচরিতম। s গয়াদত্তনামা স লব্ধপ্রতিষ্ঠা- হস্যপদাজে জাতভক্তিশ্চ তত্র। সতাভ্যাং সহৈৰ প্ৰয়াতঃ জন্ম- স্থলীং তাং বিললাকৈব ভুয়াে নিবৃতঃ ৯১। কৌপীনং স চ কেবলং যতিপতির্বিদ্দ্যাটে ধ্যায়ঞ্জ্যোতিরখণ্ডমাদ্যমনষং তৎ সূৰ্য্যকোটিপ্ৰভম্। দূরত্যক্তসমস্তচাটুকটুকো বর্ষাতপাদিঘপি ছায়ামপ্যমুপায় সুবিচরন কালং ব্যনৈষীচ্চির ॥৯২। অস্যর্থ। দেবতান্তরের উপাসনা পরিত্যাগ করিয়া, স্বামীজীর চরণকমল সেবা করিতেছেন ইহার এতদূর ভাগ্যোদয় যে রাজাদিগের সহিত ইহার তুলনাই হয় না। ৯০ । গদত্ত নামে এক জন লব্ধপ্রতিষ্ঠ (ক্ষত্রিয়) শ্ৰভাস্করানন্দ স্বামীজীর পদাঙ্গুজের ভক্ত হইল, স্বামীজী এই দুই সেবক সঙ্গে লইয়া, কানপুর হইতে স্বীয় জন্মস্থলী (ক) দেখিবার জন্য গমন করেন, এবং জন্মস্থলী দর্শন করিয়াই কানপুরে প্রত্যাগমন সেই অতিপতি কৌপীনমাত্র ধারণ করিয়া, কোটিসূৰ্যপ্রকাশ- স্বরূপ, নির্মল, সর্বব্যাপক, সকলের আদিভূত, তেজোময় মুর্তির ধ্যান করতঃ, প্রিয় ও অপ্রিয়ভাষণ পরিত্যাগ পূর্বক, (ক) মৈথেলাল পুর ১০ শ্লোক দেখুন।

ষষ্ঠী- গীমিত। এবং সতীর্ধানি মহীতলা গনি সর্বাৰি গবিন্দ। অশেষসঙ্কলবিহীন ক্ষেত্ৰং হরিদারমশ্রিততভূৎ ৯৩ তত্র পাটলিপুত্ৰাস্তাঘােপুৰনিৰাসৰা। অনন্তরাখনামাসীচ্ছাকদ্বীপ দ্বিজঃ অবিং ৯৪। তদধীতাংশু প্রস্থানত্ৰিতীময়। নিগৃহৰি সাত্মানং জানিনে বহুচেষ্টিতৈঃ ৯৫। অর্থ। (অর্থাৎ মৌনাবলম্বন করিয়া) বর্ষা গ্রীষ্মদি ঋতুতেও ছায়ার আশ্রয় পৰ্যন্ত পরিত্যাগ করিয়া, গঙ্গাতটে বিচরণ করতঃ দীর্ঘকাল অতিবাহিত করিলেন। ৯২ এই প্রকারে, ইনি বর্ষাতপাদির ক্লেশ সহ করতঃ সমস্ত তীর্থ পৰ্যটন করিয়াছিলেন অবশেষে, সঙ্কল্প-বিকল্প রহিত স্বামীজী হরিদ্বারক্ষেত্র আশ্রয় করিয়াছিলেন। ১৩ ঐ স্থানে পাটলিপুত্র (পাট) জেলার অন্তর্গত রাঘােপুৰ- এমনিবাসী বিদ্বান শাৰীপ আপ অনন্তরাম নামক এক পণ্ডিত ছিলেন ৯৪। তাঁহার নিকট হইতে প্রত্রিী অর্থাৎ শারীরকন্যা, গীতা, উপনিষায় অধ্যয়ন করিলেন। যদিও স্বামীজী সর্বজ্ঞ ছিলেন, তথাপি অধ্যয়ন কৰিৰার কারণ এই যে, যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। এবং যাতাঃ প্রশমনিরত সংবৎসরান্ত চত্বারিংশৎ পুনরপি তথা জাৰীতীরমার্গ। ধ্যায়ন্ধ্যায়ং সততমখিলাধীশতত্বং ন যােগী মুত্তং ব্ৰহ্ম স্মরহরপুরীং প্রাপ্ত প্রাপ্ত্যনীহঃ ॥ ৯৬ ॥ সন্ন্যাসাৎ পরতন্ত্রয়ােদশমাঃ স প্রাজ্ঞৰৰ্যোহনিশং সর্বাণ্যেব তপাংসি দুষ্কততমান্যাসেবতাতিমঃ। আনন্দোপবনেধিকাশি বিদিতান্দুৰ্গালয়াৎ প্রাক্ স্থিতে প্রাপ্তাশেষ বিজ্ঞকামিতপদঃ কৌপীনমপ্যত্যজৎ ॥ ৯৭। অর্থঃ। জানিগণ বহুবিধ উপায় দ্বারা সর্বদা স্বীয়রূপ প্ৰচ্ছাদন করিয়া রাখেন “জানমপি হি মেধাবী জড়বশ্লোক আচরেৎ” ॥ ৯৫। এই প্রকারে গঙ্গাতটে বিচরণ করিতে করিতে শান্তিমার্গ- নিরত স্বামীজীর চত্বারিংশৎ (৪০) বর্ষ বয়ঃক্রম অতীত হইল। অতঃপর বাসনহিত সেই যােগীপুরুষ, জগদীশ্বত সতত ধ্যান করিতে করিতে, মূর্তিমান ব্ৰহ্মস্বরূপে কাশীপুরীতে উপনীত হইলেন ॥ ৯৬। প্রাবর যতিপতি সন্ন্যাস ধারণ করিয়া ত্রয়ােদশ বর্ষ অলৌকিক সহিষ্ণুতা সহকারে অত্যন্ত দুষ্কর তপঃ আচরণ করিলেন, এবং সুবিজ্ঞদিগের বাঞ্ছিত পদ (ক) প্রাপ্ত হইয়া, কাশীর প্রসিদ্ধ দুর্গামন্দিরের পূর্বভাগস্থিত আনন্দোপবনে (ক) অর্থাৎ পরক্ষপ লাভরূপ পরমহংস পদ।

৪
যতীন্দ্রজীবন-চরিত।
চত্বারিংশতম বর্ষে জনুষঃ যতীশ্বরঃ।
কাশিকামাগতত ভূয়স্ততাত্ৰৈৰ ৰওঁতে। ৯৮।
আনন্দস্য বনং গিরীশনগরী গীতা পুৱাৰিতমৈ
রানন্দোপন তৎ প্রবিদিতং তস্যাং যথার্থায়।
মাত্রাং যস্য সমাশ্রয়ন্তি সকলনস্তদানন্দ
সানন্দং কুরুতে স তত্র বসতিং তারানন্দবিৎ ॥৯৯৷
তস্য স্তবম্পরমপুরুষতাং গত
যৎ প্রাণিনাে বিদধতে কিছু তত্র চিত্র।
জা।
অর্থাৎ আনন্দবাগ, নামক উদ্যানে কৌপীন পৰ্য্যন্তও পরিত্যাগ
করিলেন। ৯৭।
এই যতীশ্বর, চত্বারিংশত্তম বর্ষ বয়ঃক্রমকালে, দ্বিতীর
কাশীতে আসিলেন, এবং তদবধি অদ্যাপিও এই স্থানেই অবস্থান
করিতেছেন। ৯৮।
পুরাক্তিম অর্থাৎ ব্যাসাদি মহর্ষিগণ কাশীপুরীকে আনন্দন
বলিয়াছেন, সেই কাশীধামের অন্তর্গত নামানুরূপ আনন্দবাগ
নামে বিখ্যাত উদ্যান আছে। যে আনন্দের লেশমাত্ৰে জগৎ
সংসারে আনন্দ উপলব্ধি হয়, সেই আনন্দ-স্বরূপে নিমগ্নচেতা
পরম জ্ঞানী এলাকানন্দ স্বামী সম্প্রতি উক্ত আনন্দবাগ নামক
উদ্যানে পরমানলে বাস করিতেছেন ৯৯।

বতী-জীবন-চরিত।
আনন্দবেগপুলকায়িতমরীকা-
শুং ভূরুহা অপি শকুন্ততঃ স্তবন্তি। ১০।
তম্মি কেবলময়ং বিপিনাক্তরালে
ধ্যানাবধানহৃদয়েক্ষিদীপ্তিরস্তি।
তছান্তিসংযসমাক্রমশাভত্তিা
আত্তি কিন্তু খুনয়ন্তরবােহপি তত্র।১•১।
হংসাবলীধবলধাম মনােভিরাম
কামং নতত্র কুরুতে নবমল্লিকানা।
সূনং ন চিত্রমিত্র বিরয়ন্তে
নূনং জনা যদি কারিপােরতােদ। ১০২।
पा।
লােকে যে পরমেশ্বর স্বরূপ এও স্বামীজীর স্তুতি করিবে,
তাহাতে বিচিত্রতা কি? বৃ সকলও আনন্দবেগে মরুপ
নােমাঞ্চ ধারণ করিয়া, পক্ষীদিগের মধুর নব-দ্বারা ইহার স্তুতি
করিয়া থাকে। ১••
এই আনন্দবাগে স্বামী নিলেই যে কেবল একাগ্রচিত্তে
পরমেশনের ধ্যান করিতেছে, এরূপ নহে। অত্র সকল
তাঁহার (স্বামীজীর) শম, দ্বিগুণ প্রভাবে শান্তচিত্ত মুক্তি
গণের ন্যায় প্রকাশ পাইতেছে।১১।
এই উদ্যানে হংশাবল-বাকাতি মনােহর তৰৰ সকল
বিজিত আছে, এৰ নৰ মল্লিকার মনােহর কু ও কিলিত
ইতেছে কিন্তু তথায় কাগকের মনে যে, কাতারে রয়

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম। বিকসকুসুমং সু-বচ্ছকুন প্রচলওরুকং প্রবলৎকৃতম। বিলসম্মুনিসংধমনােবিভবং বনমেনমসেবত চিত্রকথম্ ॥ ১০৩। # কুসুমে কুমমে শকুনে শকুনে ক্ষিতিজে ক্ষিতিজে মনুজে মনুজে। অবধূততমমাংশরজোংশচয়ং রজ এব বিরাজতি তস্য পদঃ ১০৪ অগুণােহপি গুণী ন ধনী ক্ষিতিপাল- সহস্রনিষেতিপাদরজঃ। ; } চিত্রকথম্ সুন্দরবেন প্রসিদ্ধং তন। অত্যার্থ। , তাহা আশ্চর্যের বিষয় নহে; কেননা, কামরিপু শিবের অভেদ স্বরূপ,স্বামীজী ঐ স্থানে বিরাজমান রহিয়াছেন। ১০২ নানাবিধ পুষ্প বিকসিত হইয়া, পক্ষী সকল সুমধুর ধ্বনি করিয়া, বৃক্ষ সকল বিকম্পিত হইয়া, পুণ্য বর্ধিত হইয়া, এবং মুনিজনের অন্তরের ধন ভগবাৰ উল্লসিত হইয়া, এই অদ্ভুত বন স্বামীজীর সেবা করিতেছে। ১০৩। এই বনের প্রতি পুষ্পে, প্রতি পক্ষীতে, প্রতি বৃক্ষে, এবং প্রতি মনুষ্যে, রজঃ ও তমােণ বিদূরিত হইয়া, স্বামীজীর পদরজঃ বিরাজ করিতেছে। (অর্থাৎ এই বনে প্রত্যেক বস্তুতে সাত্ত্বিক ভাবের বিকাশ অনুভূত হইয়া থাকে। ১০৪

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
অপটোইপি সমদিগন্তপটোহতি-
বিচিত্ৰচরিত্রবিভূতিরয়ম্ ॥ ১০৫।
বৃতশাস্ত্ৰগতিঃ পরমার্থমতিঃ
* পদকঞ্জ-নমদ্বধাধিপতিঃ।
স্মিততােষিতসৰ্বমনুষ্যততি-
যতিরাত্মনি রজ্যতি পুণ্যকৃতিঃ ॥ ১০৬।
কুস্থমেষু মহেষু বৃতে বিজনে
কলহংসজয়-বনিতাগমনে।
মৃদৃশীতসুগন্ধিচলৎপবনে
নহি কোহপি প্রমাদ্যতি তত্র বনে। ১০৭।
কঞ্জং পদ্মং। পদকঞ্জে চরণারবিন্দে নমস্তো বসুধাধিপতয়াে যস্য তথাভূতঃ।
অস্থার্থ।
স্বামীজীর আর এক আশ্চৰ্য্যময় চরিত্র ও ঐশ্বৰ্য্য এই যে,
যদিও তিনি গুণাতীত, তথাপিও গুণবান। ধন কিছুই নাই, অথচ
সহস্র ভূপালবৃন্দ তাহার পদসেবা করিতেছেন। বস্তুরহিত হইয়াও
দশ দিকই তঁাহার বস্ত্র স্বরূপ হইয়াছে। ১০৫।
যাহার সকল অনুষ্ঠানই শাস্ত্রবিধি বিহিত, পরমার্থতত্ত্বে যাহার
বুদ্ধি অচলা, নরপতিগণ চরণসেবা করিলেও যিনি ইতর সাধারণ
সমস্ত লােককে সমভাবে,
স্মিত হসিত দ্বারা পরিতৃপ্ত করিয়া
থাকেন, সেই পুণ্যচরিত যতিপতি আপনি আপনার চিন্তায়
অনবরত বিভাের হইয়া থাকেন। ১০৬।
যে বন, কামদেবের কুসুম শরে পরিব্যাপ্ত, রাজহংস-বিনি-

যতীন্দ্রজীবনচরিত। কলিকালকরালমুখাতিবিভীত মুমুক্ষুরক্ষণদক্ষদয়। সচ পুত্ৰকলত্ৰখৈযিজনার্থ- কৃতে ননু কল্পতল্পােদয় ! ১০৮ শিব এব জগতিয়ীজনক করুণেক্ষণদত্তসুরেন্দ্রপদঃ। পদসেবি-সরােজভবা-দিসুরাে নিজভূতিবিভূষিতনৈজপুরঃ ॥ ১০৯। তিগতি কামিনীদিগের আগমনে সুশােভিত, মৃদুশীতল ও সুগন্ধি সমীরণে আমােদিত, বিজন অর্থাৎ বহুজন সমাগম শূন্য সেই আনন্দবাগে উদ্দীপক বস্তু সকল বিদ্যমান থাকিলেও স্বামিজীর অদ্ভুত প্রভাব বশতঃ কেহই বিচলিত ভাবাপন্ন হয়েন না ॥১৭। কলিকালের অতি ভীষণ মুখব্যাদানে ম্রিয়মান মুমুক্ষুদিগের রক্ষার জন্য স্বামিজী সততই দয়াবান্, অথচ স্ত্রী পুত্ৰাদি লইয়া সংসার সুখে সুখী হইতে বাঁহাদিগের অভিলাষ তাঁহাদিগের পক্ষে কল্পতরু স্বরূপে বিরাজিত রহিয়াছেন ॥ ১০৮। যাহার কৃপাকটাক্ষে ইন্দ্রের ইতাত্বগৌরব, পদ্মযােন (ব্ৰহ্মা) আদি দেবগণ যাঁহার চরণ সেবা করেন, সেই জগৎ ত্রিয়ের মহেরই স্বামিজী স্বরূপে (নিজপুরী) কাশীধামকে সুশােভিত করিতেছেন।১০৯।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। অণিমাদিসিদ্ধিচয়া নিখিল নদু যস্য দৃগঞ্চিতপক্ষাভবাঃ। স রমেশ-দৃগর্চিতপাদযুগগা গিরিশঃ স্মৃতিমেতি তদীক্ষণতঃ ॥ ১১০। তমারান্ধুং গচ্ছৎ ক্ষিতিপতিশিরঃসঙ্গবিলসৎ- কিরীটপােতােদম্মণিকিরণচিত্র শুরুচয়ঃ। অভূদ যদ ভূপানামনুগতরমা ভূষণরুচি- ন তচ্চিত্ৰং যােগেহনুচরতি যতঃ সিদ্ধিনিবহঃ১১১৷ e অর্থঃ। (ক) স্বামিজীকে দর্শন করিলে, বােধ হয় যেন ইনিই সেই মহেশ্বর যাঁহার নেত্র-পক্ষম-সঞ্চালনে অণিমাদি সকল সিদ্ধিই লাভ হইয়া থাকে, ইনিই সেই মহেশ্বর যাহার চরণ যুগলে, একদিন লক্ষীপতি বিষ্ণু নিজনে-কমল অৰ্পণ করিয়া, পূজা কৰিয়াছিলেন। ১১০ | স্বামিজীর আরাধনার্থ আগত, রাজগণের শিয়ােমুকুট প্রােথিত উল মণি কিরণে বিভূষিত হইয়া, এই উদ্যানস্থিত বৃক্ষগণ যে রাজানুগত লক্ষীশ্রী ধারণ করিয়া থাকে তাহা কিছু (ক) কোন সময়ে সহস্র কমলদ্বার শিবপূজা করিতে প্রবৃত্ত হইয়া বিষ্ণু দেখিকেন যে তাহার একটী কমলের অভাব হইতেছে আবশ্যকীয় কমলের আহরণ করিবার অবসর নাই, কারণ তাহা হইলে আর পূজার ব্যাঘাত হইবে, এই অবস্থায় পদ্মপলাশলােচন নিজের একটা চক্ষু দ্বারা পদ্ম সহষের সংখ্যা পূরণ করিয়াছিলেন।

৫৪ যতীন্দ্রজীবন-চরিত। এবং তত্র নিবাসমস্য দধতাে যাতাঃ সমা বিংশতিঃ প্রাপ্তঃ ষষ্টিতম দীর্ঘতপসঃ সংবৎসরােজন্মভঃ। দৃষ্টা দর্শনকাচ্চিবিশ্বজনসম্মর্দকোলাহলং বিক্ষেপং রহসি স্থিতিংস বিধে লোকাগতিঞ্চারুণ ॥১১২৷ কীৰ্ত্তিমালিকয়াতিৰিনােদিত- নাবিলাসবতীকঃ প্রভু-নারায়ণসিংহমহােদয়কাশীধরণিনরেশঃ । অর্থঃ । বিচিত্র নহে কারণ সকল সিদ্ধিই যােগের বশীভূত অর্থাৎ অণিমাদি সিদ্ধি যােগী পুরুষকে স্বতই সেবা করিয়া থাকে ॥ ১১১ (ক) বিংশতি বৎসর অতীত হইল স্বামিজী এই ভাবে কাশীধামে বাস করিতেছেন। দীর্ঘতপাঃ স্বামিজীর বয়ঃক্রম এখন (অর্থাৎ এই শ্লোক রচনা সময়ে) যষ্টিতম বৎসর হইয়াছে। দর্শনাকাঙ্ক্ষী লােক সমূহের অত্যন্ত জনতা ও কোলাহলে তাহার কাৰ্য্যের বিপ্ন হওয়াতে তিনি নির্জনে বাস করিতেছেন এবং তাঁহার নিকট জনসাধারণের যাতায়াত বন্ধ করিয়াছেন। ১১২ । (ক) এই শ্লোক প্রায় ৬। ৭ বৎসর হইল বিরচিত হইয়াছে অতএব স্বামিজীর বয়স এখন ৬৬ হইতে ৬৮ বৎসরের মধ্যে হইছে। এস্থলে ইহাও বলা আবশ্যক যে আপাততঃ স্বামিজীকে দর্শন করিবার জন্য সকলেরই সৰারিত ব্যার উক্ত শ্লোকে বর্ণিত অবস্থার এখন পরিবর্তন হইয়াছে।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
৫৫
নিজধামি স্মরণার্থমনুষ্য মনােরমকামদমূর্ডিং
রক্ষতি সাদরমেবমুপৈতি ন কোহত্ৰ মনােরথপূৰ্তিম্ ॥১১৩
বড়হরনগরাধীশা'রাজ্ঞী সা বেদশরণকুঁঅরিঃ।
শিবমন্দিরযুতভবনেংতিষ্টিপদস্যাস্তৃতা মূর্তি। ১১৪।
এতস্য মুর্তি-মবনীপবরােহপ্যমৈী-
রাজো বিলাসবিপিনে ভবনং বিধায়।
শ্ৰীলালমাধবনৃসিংহনিরস্তশত্রু-
বস্থাপয়ৎ সবিধি সম্যগপ্পুজচ্চ ৪ ১১৫ ।
।
অস্বার্থ।
যাহার কীর্তিরূপ হংসীগণের সহিত স্বর্গীয়া রমণীগণ ক্রীড়া
করিয়া থাকে, সেই কাশীনরেশ প্রভু নারায়ণ সিংহ বাহাদুর,
উক্ত স্বামীজীর মূর্তি স্মরণ করিবার জন্য আপন গৃহে মনােহর
কামদমূর্তি রাখিয়াছেন। এরূপ অনুষ্ঠান দ্বারা কাহার না অভীষ্ট
সিদ্ধি হইয়া থাকে ? ॥ ১১৩।
বেদশরণকুঁঅরিনাম্নী বড়হরনগরের রাণীও শিবমন্দিরযুক্ত
ভবনে ইহার সুন্দর মূর্তি স্থাপন করিয়া বিধিপূর্বক পূজা
করাইতেছেন। ১১৪ ॥ (ক)।
শবিজয়ী শ্ৰীলালমাধব সিংহ অমৈঠিরাজ কিলাস উদ্যানে
মন্দির নির্মাণ করাইয়া স্বামীজীর মূর্তি স্থাপিত করিয়াছেন, এবং
বিধিবৎ'পূজাও করাইতেছেন। ১১৫।
(ক) কাশীধামে দুর্গাবাটীর কিঞ্চিদুত্তরে এই মনােহর মন্দির আছে,
ভথায় শ্বেত মৰ্ম্মর প্রস্তরে গঠিত স্বামিজীর প্রতিমূর্তি পূজা হইয়া থাকে।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। নাগােধভূপরিবৃঢ়ঃ স বদান্যবীর, শ্ৰীযাদবেন্দ্রনৃপতিঃ কৰিকৈরবেন্দু। তৎস্বামিনাং চরণবারিজ-সক্তচিত্ত- স্তমুৰ্ত্তিমাত্মগৃহদৈবতব্যধত্ত। ১১৬। শূনরা বিজ্ঞঃ কুলীনঃ প্রভুরপি ধরণের্যশ্চ চলাপুরস্য প্রত্যং কাশিকায়াং বিতরতি সসি প্রাজ্ঞবৰ্য্যে ধনং যঃ। যাে বা শ্লাঘ্যৈগুণোঘৈরতিজয়তি জগনােহনঃ সােহপি সিংহ- শুৎপাদম্ভোজযুগ্মস্মৃতিখনিভৃতােদঞ্চিতাঙ্গং বিভৰ্ত্তি ॥১১৭ এবমস্য বহবাে নরনাথঃ পূজনায় ভবনােপবনাদো। শাস্ত্রদৃষ্টবিধিনা প্রতিমাং স্বে স্থাপয়স্তি বহুমানভৃতঃ স্ম৷১১৮ অর্থ। কবিরূপ কুমুদকুল প্রকাশে ইন্দু সদৃশ, বদান্যাগ্রগণ্য সুবিখ্যাত মহারাজ নাগােধাধিপতি শ্ৰীযাদবেন্দ্র সিংহ স্বামীর চরণারবিন্দে আসক্তসিত্ত হইয়া, স্বগৃহে তাঁহার মুর্তি সংস্থাপিত করাইয়া গৃহদেবতার ন্যায় নিত্য পূজা করিয়া থাকেন ॥ ১১৬ । বীর, বিজ্ঞ, কুলীন চাপুরের রাজা, (যিনি প্রতি বৎসর কাশীতে সজা করিয়া পণ্ডিতগণকে ধন বিতরণ করিয়া থাকেন), এবং সর্বত্রই ঘাঁহার গুণশ্লাঘা শ্রবণ করা যায়, সেই জগমােহন সিংহের স্বামিজী-চরণে এতদূর ভক্তি ৰে স্বামিজীর স্মৃতিমাত্রে তাহার অঙ্গ পুলকে রােমাঞ্চিত হইয়া উঠে। ১১৭ এই প্রকারে পূজা করিবার অভিপ্রায়ে রাজগণ স্ব স্ব গৃহ

যতীন্দ্রজীবন-চরিত।
বারাণস্যাং ব্ৰহ্মনালান্তরাল
স্থায়ী মা শীতলাদিপ্রসাদঃ ।
তারুণ্যাপ্ত-শুনুজোহপ্যকস্মাৎ
প্রাসাদগােহব্যর্থতঃ কাপ্যপণ্ড। ১১৯।
মূচ্ছাং প্রাপ ত্যক্ততজ্জীবনাশা
সৰ্ব্বেহ ভূন্ মেহিবর্গাঃ সমন্তাৎ।
তস্মিন্ কালে তৎপিতা স্বামিসেবী
তূর্ণং গত্বা তং সমাচষ্ট সৰ্বম্ ॥ ১২০।
ত্বা তেন ব্যাহৃতং স্বামিবৰ্যাঃ
সাশীঃ প্রাদু পানির্ণেজনং স্বং।
পিত্রানীতস্যাস্য পাদোদক
পানাদ্বালাে নষ্টসৰ্বব্যথােহভূৎ। ১২১ ॥
অত্যার্থ।
ও উপবনাদিতে শাস্ত্রানুযায়ী বিধি অনুসারে অতি যত্নসহকারে
ইহার প্রতিমূর্তি স্থাপন করিয়াছেন। ১১৮।
কাশীতে ব্রহ্মনাল মহল্লা নিবাসী শ্ৰীমন্ শীতলাপ্রসাদের
প্রাপ্তবয়স্ক পুত্র অকস্মাৎ প্রাসাদের অতি উচ্চস্থান হইতে
পতিত হইয়া মুচ্ছিত
হইয়া পড়ে, আত্মীয়েরা সকলেই
তাহার জীবন নিরাশ হইয়াছিলেন। লাল শীতলাপ্রসাদ
স্বামীজীর সেবক, তিনি অবিলম্বে 'স্বামিজীর নিকট উপস্থিত
হইয়া সমস্ত বৃত্তান্ত নিবেদন করিলেন। ১১৯ ১২০ ।
লালা শীতলাপ্রসাদের কথা শ্রবণ করিয়া, স্বামীজী আশীর্বাদ

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
সপুত্ৰশীতলাপ্রসাদপ্রাডুবিবাকজীবনং
দদৌ যতিঃ স্বতেজসান্ত্যতােহধিকং দ্ভুিত।
বহুন্যমূদৃশানি দুফরাণি মানবা ভুবি।
যতেৰ্ম্মহাদ্ভূতানি সিদ্ধিদানি'বর্ণয়ন্ত্যহাে॥ ১২২।
তাশ্চাত্য পবিত্রচারুচরিতঃ কাপ্তাং শিবত্বং গতঃ
পত্নী তস্য তপােময়ী ভগবতী জ্যোতিস্তদীয়ং শ্রিতা।
মাতা চাষ্য হিমালয়ে বদরিকাক্ষেত্রে তপােরূপিণী
ধ্যায়ন্তী পরমেশ্বরং মধুরিপুং বৈকুণ্ঠলােকং গতা॥ ১২৩।
অর্থঃ।
পূর্বক স্বীয় পাদোদক প্রদান করিলেন, এবং শীতলাপ্রসাদ
পাদোদক আনিয়া পান করাইলে, বালকের সমস্ত ব্যথা দূর
ও চৈতন্যলাভ হইল। ১২১।
স্বামীজী আপন তেজঃপ্রভাবে সপুত্র শীতলাপ্রসাদের
জীবনদান করিলেন, ইহা অপেক্ষা আশ্চর্যের বিষয় আর কি
হইতে পারে ? স্বামীজীর চরিত্রসম্বন্ধে এইরূপ অনেক দুষ্কর ও
সিদ্ধিপ্রদ অদ্ভুত ঘটনার বিবরণ শুনিতে পাওয়া যায়। ১২২।
স্বামীজীর পিতা অতি পবিত্ৰচরিত ও সুন্দর প্রকৃতির
লােক ছিলেন তিনি কাশীধামে শিবত্ব প্রাপ্ত হন। তপােময়ী
ভগবতী স্বামিজীর পত্নী (কাশীধামে) দেহত্যাগ করত ইহারই
জ্যোতিতে লয় পাইয়াছেন। তপেপারুপিণী স্বামিজীর মাতা,
হিমালয়ে বদরিকাশ্রমে মধুরিপুর ধ্যান করিতে করিতে
বৈকুলোকে গমন করিয়াছেন ॥ ১২৩।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। ৫৯ বিভ্ৰতীর্থগণেশ্বরে নিবসতিং কায়স্থবংশোদ্ভবাে- মােজঃফরপুরপত্তনাঙ্কবিলসগ্রামাবলীশালিনঃ। স্বামী নাহ্নপুরষ্ঠ রায়পদযুগ্রুদ্ৰপ্ৰসাদাভিপ্ল- স্তীৰ্থানামটনেন শুদ্ধহৃদয়াে মুক্তোহবিমুক্তেহভবৎ ॥১২৪৷ * তদাত্মজঃ সদ্গুণশীলশালী শ্ৰীমান্ মহাদেবপ্রসাদনামা। অপারসংসারমিমং তরীতুং বন্ধয়ৎ পুণ্যচরিত্ৰমেতৎ ॥১২৫ পূর্ণা চান্দ্রীকলা বা দিশি দিশি লহরী ক্ষীরসিন্ধুখিতা বা কুন্দালীমালিকা বা শিবনিলয়গিরেঃ কান্তিরেবােগ বা। হংসীনাং সংহতিৰ্বেত্যবনিতলবুধৈস্তকতে যস্য কীর্তিঃ সােহয়ং লক্ষনীশ্বরাখ্যো জগতি বিজয়তে নায়কস্তীরভুক্তেঃ ১২৬ অবিমুক্তে কাশীক্ষেত্রে, শিৰেন কদা-প্যপরিতক্তত্বদ অবিমুক্ত কাশীক্ষেত্র। অশ্যার্থঃ। কায়স্থবংশজ, প্রয়াগনিবাসী, মােজঃফরপুরের অন্তর্গত, পরগণে নানপুরের ভূস্বামী, চৌধুরী রুদ্রপ্রসাদ রায় বাহাদুর, তীর্থপৰ্যটন দ্বারা বিশুদ্ধচিত্ত হইয়া, অবিমুক্ত ক্ষেত্র কাশীধামে মুক্তিলাভ করেন। তাঁহার পুত্র সৎগুণ ও সৎস্বভাবশালী শ্ৰীমান্ মহাদেব প্রসাদজী, অপার সংসার হইতে উত্তীর্ণ হইবার মানসে এই পুণ্যচরিত্র রচনা করাইয়াছেন। ১২৪ ১২৫ পৃথিবীতলস্থিত পণ্ডিতগণ যাহার কীৰ্ত্তি সম্বন্ধে তর্ক করিয়া থাকেন যে, ইহা কি পূর্ণচন্দ্রের কলা, অথবা, ক্ষীরসাগরােথিত তরঙ্গাবলি, কিংবা কুন্দপুষ্পের পঙক্তি, কিংবা প্রস্ফুটিত মল্লিকা- ৬০ যতী-জীবন-চরিতম্। রাজতৎপাণিমন্দারচ্ছায়াসৎসঙ্গশীতলঃ। সাম্বশতভাঃ পদান্তোজমকরন্দমধুব্রতঃ ১২৭ চরিতমিদমুদারং সচ্চিদানন্দমূর্তে যমিন ইতি পবিত্ৰং মানসে সংবিচিত্য। অকৃতশিবকুমারস্তমিবন্ধং স্বপিত্রো- শ্চরণকমলপুণ্যধ্যানলব্ধাবলম্বঃ ॥ ১২৮। ইতি পরমহংসপরিব্রাজকাচাৰ্য ঐ ১০৮ ভাস্করানন্দস্বামি- জীবনচরিতং পণ্ডিতবরশিবকুমারশান্ত্রি-বিরচিতং সমাপ্ত। অর্থঃ। রাশি, অথবা কৈলাস পর্বতের উদগত কান্তি, কিংবা হংসীগণের সংহতি ; সেই মিথিলাধিপতি মহারাজ লক্ষীশ্বর সিংহ বাহাদুর জগতে বিজয় প্রাপ্ত হইতেছেন। ১২৬। মিথিলাধিপতির সুন্দর হস্তরূপ পারিজাতচ্ছায়ার সৎসঙ্গ দ্বারা সুশীতলান্তঃকরণ এবং মাতা ভগবতীর সহিত বৰ্ত্তমান শ্ৰীমন্মহেশ্বর চরণ-সয়ােজ-মকরল-মধুব্রত, পণ্ডিতপ্রবর ঐশিবকুমার মিত্র, আপন পিতা মাতার পবিত্র চরণ-কমল ধ্যান করিয়া, সচ্চিদানন্দ- স্বরূপ পরিব্রাজক পুরুষের এই পবিত্র ও উদার চরিত্র রচনা করিয়াছেন। ১২৭ ১২৮ ইতি শ্রীপরমহংসপরিব্রাজকাচাৰ্য্য ১০৮ ভাস্করানন্দ স্বামীজীর জীবন-চরিতসংহে সমাপ্ত ॥

ভাস্করানন্দাষ্টকম্। ঃ পাতু যাে দেবমাং বরদং বরেণ্যং সংচিন্ত্য ভােগে বিষয়ে বিরক্ত। তং ভাস্করানন্দগুরুং মদীয়ং চেতােবিশুদ্ধ্যৈ প্রণমামি ভক্ত্যা ॥ কাশ্যাং প্রসাদেন বিরাজমান- মানন্দকন্দং ভবরােগ-বৈদ্যং । দিশ্বাসসং বাল-সুব-যুক্তং তং ভাস্করানন্দমহং নমামি ॥ ২॥ শ্ৰীঅম্বিকাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় কৃত শ্ৰীভাস্করানন্দাষ্টকের বঙ্গানুবাদ। শ্রীগুরুভাস্করানন্দ পদে বার বার। ধুলি ধূসরিত অঙ্গে করি নমস্কার। যাঁহার অন্তর সদা বিষয়ে বিরত। পরম-বরেণ্য-পদ- দ-চিন্তায় নিরত। যাহার স্মরণে লােকে চিত্তশুদ্ধি পায়। নমস্কার করি আমি সে গুরুর পায়। ভবৰােগ শান্ত হয় যাঁহার দয়ায়। বারাণসীধামে যাঁর মুর্তি শােভা পায় ।

বতী-জীবন-চরিতম্।
যাে যুক্তি দৃষ্টা বিষয়েষু দোষা
পশ্য সমন্তেযু হিতং বিচি।
ময়েহভবৎ যাে পরমেকতত্ত্বে
তং ভাস্করানন্দমহং নমামি। ৩।
আন্তে প্রসিদ্ধো জগতীতলে কঃ ?
যস্যাত্ৰ মূৰ্ত্তিঃ সুমহাদরেণ।
ভক্তৈ প্রতিষ্ঠাপ্যত অচঁতে বৈ
তং ভাস্করানন্দমহং নমামি। ৪।
সরল-বালকতাব দিগম্বর বেশ।
আনন্দের উৎস যিনি গুরু বিশেষ।
শ্রীভাস্করান নামে ভক্তজনে জানে।
ভূয়াে ভূয়াে নমস্কার তাহার চরণে।
ভােগ বিষয়ে দোষ বিচার দৃষ্টিতে।
দেখি, সর্বজন হিত শুভ বাসনাতে।
ঈশ্বরপরমতকে সদা মগ্ন যিনি।
শিরােপরি ধরি তার চরণ দুখানি।
এজগতে সুপ্রসিদ্ধ যতীশ্বর কই।
যাঁহার সুন্দরমুৰ্ত্তি নিৰ্মাইয়া ওই।
‘ভক্তিভাবে ভক্তজনে করিতেছে পূজা।
শ্রীভাস্করানন্দনাম যতি কুল রাজা।

বতী-জীবন-চরিতম্।
৬৩
যদর্শনে কল্মষনাশমমতি
দেবাঃ প্রসন্নঃ সকলা ভবেয়ুঃ
কালােখতীব্রা নহি যত্র তাপা-
শুং ভাস্করানন্দমহং নমামি । ৫।
দেবং গণেশং হরিমীশ্বরঞ্চ
ব্ৰহ্মাণমিং গুরুমিষ্টদেবং।
জানামি নান্যং ব্যতিরিক্তমম্মাৎ
তং ভাস্করানন্দমহং নমামি। ৬।
লােক গুরু মম গুরু তার পদতলে।
দণ্ডবৎ ভূমে পড়ি নমি কুতূহলে।
যাহার দর্শনমাত্রে কলুষ নির্মূল।
সুপ্রসন্ন হয় যত দেবতার কুল।
কালভয় নাহি রয় ভাস্কৃরে দেখিলে।
সেই সে আমার গুরু নমি পদতলে ।
হে গুরাে ! তােমা ভিন্ন অন্যদেব নাহি আমি জানি।
বিনাশে তােমাকেই বিরাজ গণি।
তুমি ব্ৰহ্মা তুমি হরি ঈশ্বর আমার।
গুরুদেব ইষ্টদেব তুমি মুলাধার।
শ্রীভাস্করানাম আনন্দের ধাম।
ভূয়াে ভূয়াে ঐ পদে আমার প্রণাম

বী-জীবন-চরিত।
সৰ্বো মমান্তঃকরণেশ্বরং
ব্ৰহ্মাত্মবােধে সুমহান্ সহায়।
মাং পাহি সংসারভয়াদনাখং .
প্রভাস্করানন্দ গুরােনমামি। ৭।
ঈষৎ কটাক্ষাৎ সকলাধনাশং
প্রাগ্নেতি নূনং কৃপয়াচ যস্য।
একত্ববােপধা হি তৃণে চ রত্নে
তং ভাস্করানন্দমহং নমামি। ৮ |
ইতি শ্ৰীঅম্বিকাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় কৃতং
শ্রীমদ্ভাস্করানন্দাষ্টকং সমাপ্তম্।
আমার হৃদয়ে তুমি রাজা সৰ্বেশ্বর।
ব্ৰহ্মাত্ম অভেদ জ্ঞানে তুমি পরিকর।
ত্রাণকর দয়াময় এ অনাথ জনে।
নমস্কার বার বার তােমার চরণে ॥
করুণা কটাক্ষে বঁার পাপ নাহি রয়।
তৃণে রত্বে সমবােধ নিৰ্ম্মল হৃদয়।
যাহার করুণাগুণে, ভক্তজনে পায়।
শ্রীভাস্করান গুরু ভক্তের সহায়।
আমি তর ভক্তদাস অম্বিকাচরণ।
সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করি ঐ চরণ।

{:}, ক C ৯, এমন যতীন্দ্রগুরুস্তোত্রম্। শ্রীগণেশায় নমঃ। দশশতদলপদ্মে পূর্ণচন্দ্ৰপ্ৰভং মুদিতবদননেত্ৰং গন্ধপুষ্পম্বরাচ্যম্। অভয়বরকরাজং হংসগং কে স্মরামি গুরুমমরশরীরং ভাস্করানন্দমীশম্ ॥১॥ সাক্ষাদ্ধরাকারযুতং সশান্তিং সদ্যোগসিংহাসনরাজমান। মােক্ষার্থসিদ্ধ্যর্থহং স্বমূর্ধ্ব। শ্রীভাস্করানন্দগুরুং নমামি ॥ ২॥ অজাখ। ধ্যান শক্তির আধারভূত মস্তিষ্কের অভ্যন্তরস্থিত সহস্রদল পদ্ম, তম্মধ্যে হংসাসনে অবস্থিত, পূর্ণচন্দ্রের ন্যায় স্নিগ্ধ শীতল কান্তিবিশিষ্ট প্রফুল্লবদন, প্রসন্ন নেত্র, গন্ধ পুষ্প ও সুন্দর বন্ত্রে পরিশােভিত করকমলে বরাভয়মুদ্রা বিশিষ্ট দেব-শল্পীর গুরু-দেব শ্রীভাস্করান প্রভুকে আমি স্মরণ করি। ১। সাক্ষাৎ শিবরূপ, শান্তিময়, যােগসিংহাসনে বিরাজিত শ্রীগুরু ভাস্করানন্দ প্রভুকে আমি মোক্ষলাভ প্রার্থনায় অবনত মন্তকে প্রণাম করি। ২।

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
সদানন্দদেহং পরানন্দকন্দং
যতিদ্ভাস্করানন্দমীশং প্রসন্ন।
ভবেন্যস্ত সান্নিধ্যমাত্রেণ জন্তু-
শ্চিদানন্দরূপপ গুরুং তং নমামি ॥ ৩।
চরাচর্যাপ্তমপীহ যেন
অখণ্ডবিভমহর্নিশং তম্।
সন্দর্শিতং তৎপদমত্র যেন
শ্রীভাস্করানন্দগুরুং নমামি ॥ ৪। #
অবােধরূপাত্তমসােহন্ধভাবং
গতস্য বােধাঞ্জনসৎপৃষত্যা।
* জগতি যেন (বাত্মনসােরতীতেন,) চরাচরম্ ব্যাপ্তমপি, অত্র
(জগৎপ্রপঞ্চে) অখণ্ডবিম্ অখণ্ডমণ্ডলাকারং (ব্যাপকত্বা অদ্বিতীয়
স্বরূপং), অব্যক্তং পদং, যেন (গুরুণা) সন্দর্শিতং তং গুরুম্ অহং নমামি।
অার্থ।
যাঁহার দেহ সদানন্দময় যিনি পরমানন্দের মূল বা আকর
স্বরূপ যাহার সন্নিধিমাত্রে জীব চিদানন্দময়ত্ব প্রাপ্ত হইয়া
থাকে, সেই প্রসাত্মা যতীশ্বর ভাস্করানন্দ গুরুদেবকে আমি
প্রণাম করি । ৩।
স্থাবর জঙ্গম সমুদয় পদার্থে যিনি চির বিরাজিত সেই ব্রহ্মের
অখণ্ডমণ্ডলাকার স্বরূপ, অর্থাৎ তাঁহার সর্বব্যাপকত্ব ও সর্বময়ত্ব
ভাব যিনি দেখাইয়াছেন সেই ভাস্করানন্দ গুরুকে দিবানিশি
আমি নমস্কার করি। ৪

যতীন্দ্রগুরুস্তোত্র। ৬ উন্মীলনং চক্ষুরুপৈতি যেন তং ভাস্করানন্দগুরুমমামি ॥ ৫॥ গুরুব্বিধাতা গুরুরেব বিষ্ণু- গুরুশ্চ সাক্ষান্মকরধ্বজারিঃ। গুরুস্তথৈতৎ সকলং জগদ য- স্তং ভাস্করানন্দগুরুমামি। ৬ | বিদ্যাপ্রচারার্থমনেকরূপিণে গুরুস্বরূপায় শিবায় সন্তত। গুরাে হি তুভ্যং ভগবন্নমঃ প্রভাে শ্রীভাস্করানন্দ দিগম্বরায় তে॥৭॥ অর্থ। ঘাের অজ্ঞানান্ধকারে অন্ধীভূত ব্যক্তির চক্ষু, যিনি জ্ঞানরূপ অঞ্জনশলাকা দ্বারা উন্মীলিত করেন, সেই ভাস্করানন্দ গুরুদেবকে আমি প্রণাম করি । ৫। বিধা গুরু, বিষ্ণু গুরু, সাক্ষাৎ মহাদেব, এবং সমস্ত জগতে যিনি বর্তমান আছেন, তিনিও গুরু, তদনুরূপেশ্রীভাস্করানন্দ আমার গুরু, আমি তাহার চরণে প্রণাম করি । ৬। হে ভগব, হে প্রভো, বিদ্যাপ্রচারের জন্য আপনি অনেক রূপ ধারণ করিয়া থাকেন, গুরু স্বরূপ, শিম্বরূপ দিগম্বর, ভাস্করালস্বরূপ আপনাকে আমি প্রণাম করি। ৭ ॥

যতী-জীবনচরিতম। নমােন্তু নব্যাতয়ে নবায় চ পরার্থরূপায় চ চিদঘনায় তে। সমস্তজাভান্ধবিভেদভানবে শ্রীভাস্করানন্দগুরুস্বরূপিণে॥ ৮ স্বভক্ততন্ত্রায় স্বতন্ত্ররূপিণে সদা দয়াকশরীরধারিণে। ভব্যাত্মনাং ভব্যস্বরূপিণে তথা শ্রীভাস্করানন্দপরাত্মনে নমঃ ॥৯॥ সদা জ্ঞানিনাং জ্ঞানরূপাে হি যশ্চ প্রকাশস্বরূপন্ত ভাস্বতাং বৈ। অর্থঃ। যিনি নূতন রূপ ও নূতন বস্তুর কারণ, যিনি পরার্থ (মােগ) রূপ ও চিৎস্বরূপ যিনি সমস্ত অজ্ঞানরূপ অন্ধকার ধ্বংস করণে সূৰ্য্য নারায়ণস্বরূপ সেই ভাস্করান গুরু-স্বরূপকে আমার নমস্কার । ৮। (ক) যিনি ভক্তবৎসল, যিনি স্বেচ্ছানুযায়ী কার্যক্ষম, যাহার শরীর দয়াময় এবং যিনি মঙ্গলার্থীর পক্ষে মঙ্গলময় সেই শ্রীভাস্করানন্দ পরমাত্মাকে নমস্কার । ৯। (ক) স্বতন্ত্ররূপী অর্থাৎ স্বাধীন হইয়া, কাৰ্য করিতে সক্ষম হইলেও যিনি নিজভক্তগলের পরত, অর্থাৎ ভক্তের মঙ্গলের জন্য সকল কষ্টই সখ করেন।

যতীন্দ্রগুরুস্তোত্রম্।
বিমৰ্শাত্মনাং যাে বিমর্শস্বরূপাে
গুরু তং যতিং ভাস্করানন্দমীড়ে। ১০।
পুরস্তাত্তথা পার্শ্বয়ােঃ পৃষ্ঠদেশং
তথােৰ্দ্ধাধ এবং সদা তং নমামি ।
স সচ্চিৎস্বরূপঃ শিবং সন্দধাতু
গুরুর্ভাস্করানন্দরূপঃ প্রসন্নঃ ॥১১।
অখণ্ডবােধরূপায় আনন্দবনচারিণে।
নমঃ পরমহংসায় ভাস্করানন্দমূৰ্তয়ে । ১২।
অপারসংসারমিমং তরীতুং সপ্রার্থয়ে বদ্ধকরঃ সদাহ।
শ্রীভাস্করানন্দযতীন্দ্ৰমত্র গুরুং মহাদেবপ্রসাদদাসঃ ॥১৩।
অর্থঃ।
যিনি জ্ঞানীদিগের জ্ঞান স্বরূপ, তেজোময় পদার্থদিগের
তেজস্বরূপ, বিবেকীদিগের বিবেক স্বরূপ, সেই গুরু যতিপতি
ভাস্করানন্দকে আমি স্তব করি। ১০।
সেই গুরুদেবের অগ্রে, পশ্চাতে পৃষ্ঠে, ঊর্জে, অধােভাগে
সকল দিকেই আমি প্রণাম করি, সচ্চিৎ-স্বরূপ ভাস্করান গুরু,
প্রসন্ন হইয়া আমার মঙ্গল করুন ॥ ১১।
মূর্তিমান ব্যাপকভাব, আনন্দ-বনবিহারী, পরমহংস শ্রীভাস্করা-
নন্দমুৰ্ত্তিকে প্রণাম করি। ১২।
আমি মহাদেব প্রসাদ দাস, বদ্ধাঞ্জলি হইয়া, যতীন্দ্র
শ্রীভাস্করানন্দ গুরুদেব সমীপে সতত প্রার্থনা করি যে যেন তাহার
কৃপায় এই অপার সংসার উত্তীর্ণ হইতে পারি। ১৩।

৭০ যতীন্দ্র-জীবন-চরিত। প্ৰসাদার্থং যত্নাত্তৰ সুতিরিয়ং যদ্যপি কৃতা বিচারেই ব্যর্থ পৃথুরপি বিভাতীশ মম তু। গুণাে যস্মিন্ যাদৃথয়তি জনশ্চেত্তদধিকং প্রসাদঃ স্যাৎ তম্মিন্নিহ তু নহি তস্যাস্তবসরঃ ॥১৪। অতত যচ্চাঞ্চল্যাব গুণগণানাং হি বিভব- মধুদ্ধৈতদ্‌যত্নাৎ কৃতমিহ ময়া তৎকরণতঃ। সুবধ্যাহং পাণী কৃতনতশিরাঃ প্রার্থয় ইতি যতীশ ক্ষন্তব্যং বিতর ময়ি দৃষ্টিং সকরুণাম্ ॥১৫। ; অস্বার্থ। গুরুদেব আপনাকে সুপ্রসন্ন করিবার জন্য বহুযত্নে এই স্তব করিলাম বটে, কিন্তু এক্ষণে বিচার করিয়া দেখিতেছি যে এই বিস্তারিত স্তবও ব্যর্থ হইয়াছে কারণ ইহা আপনার সম্পূর্ণ অনুপযােগী; যখন কেহ কাহারও স্তব করে তখন গুণাধিক্য বর্ণনা করিয়াই স্তবকারীর তৃপ্তি হইয়া থাকে কিন্তু 'ভবৰ্দিষয়ে গুণাধিক্য বর্ণন করিবার অবসর নাই আপনার ক্ষমতা ও গুণ অসীম সুতরাং তাহার আধিক্য দূরে থাকুক স্বরূপ বর্ণন করাও অসাধ্য। ১৪। অতএব “কৃতাঞ্জলিপুটে অবনতশিরে প্রার্থনা করিতেছি যে, গুরুদেব যতিপতে ভবদীয় গুণসমূহের প্রভাব অবগত না হইয়াও অনুগ্ৰহ প্রাপ্তি কামনায় এই স্তখ করিয়া যে চাঞ্চল্য প্রকাশ করিলাম তজ্জন্য আমার অপরাধ ক্ষমা করিয়া, আমার প্রতি করুণা সৃষ্টি করুন। ১৫।

যতীন্দ্রগুরুস্তোত্র।
৭১
সদা স্বে পদাজে মম কুরু রতিং পাবনতমে
প্রসাদস্তে যস্মাত্তদুপদিশ মাং ত্বং করুণয়া।
ন জানেইং কিঞ্চিচ্চরণরজসস্তে সমধিকং
প্রসীদ ত্বং তস্মাচ্ছরণদ ন চাচ্চ শরণম্ ॥ ১৬।
ইতি শ্ৰীচৌধুরীমহাদেবপ্রসাদকৃতং যতীন্দ্রগুরুস্তোত্রং সমাপ্তম্।
অর্থঃ।
আপনার পবিত্র চরণকমলে আমার চিত্তকে আসক্ত করুন,
আমার যেরূপ আচরণে আপনি প্রসন্ন, হয়েন, আমাকে সেই
রূপ আচরণ করিতে শিক্ষা দিউন,, হে শরণদ, আপনার
চরণরজঃ অপেক্ষা অধিকতর আমি কিছুই জানি না, এবং
আপনি ভিন্ন আমার আর অন্য আশ্রয় নাই, প্রভাে, আমার
প্রতি প্রসন্ন হউন। ১৬ ॥
ইতি চৌধুরী মহাদেব প্রসাদ কৃত যতীন্দ্র-গুরুস্তোত্র সমাপ্ত।

যতীন্দ্ৰস্তোত্রম্ । শ্রীগণেশায় নমঃ। জ্ঞাত্বা বেদার্থসংঘং মুনিবরচিতং প্রাপ্তবােধঃ স বিজ্ঞাে মত্ব চালীকমেতৎ সকলমিহ জগদ্যোগমার্গৈলগ্নঃ। ধ্যায়ন্তং দেবমাদ্যং ভবভয়হরণং ভাস্করানন্দবিদ্যাে দুর্গায়াঃ পূর্বভাগে বিলতি বিপিনে কাশিকায়াং যতীন্দ্রঃ॥১॥ তত্ত্বা স্ত্রীপুত্রবং সকলগুণযুতং মােহরূপং বিশালং পুণ্যক্ষেত্ৰাণশেষাণ্যখিলভুবি গন্যাপ্তকামাে দদর্শ। স্মৃত্ব যাে দেবদেবং নিগমফলময়ং ভাস্করানন্দযােগী কাশ্যামানন্দকুঞ্জে নিবসতি বিপিনে সােয়মানন্দকন্দঃ ॥২॥ অন্যার্থ। শ্রীভাস্করানন্দ স্বামী, মুনিবর ব্যাসাদিমচিত বেদার্থসমূহ অবগত হইয়া তত্ত্বজ্ঞান প্রাপ্ত হয়েন। তিনি এই জগতের অলীকত্ব উপলব্ধি করিয়া, কেবল একমাত্র যােগমার্গ অবলম্বন করতঃ ভবভয়হারী আদিদেবের ধ্যানে আসক্তচিত্ত হইয়া, কাশীস্থিত দুর্গামন্দিরের পূর্বভাগে (আনন্দবাগ নামক) উদ্যানে বিরাজ করিতেছেন।১। যিনি সর্বগুণসম্পন্ন স্ত্রী পুত্রদিগকে, বিশাল মােহ-বন্ধন বােধে পরিত্যাগ করিয়া, পৃথিৰীস্থ সমস্ত পুণ্যক্ষেত্র স্বেচ্ছাক্রমে দর্শন করিয়াছেন, সেই আনন্দের আকর যােগী ভাস্করানন্দ, যতীন্দ্রস্তোত্রম্। ৭৩ নিজ্জিতেন্দ্রিয়বৈরিপক্ষনিবহং যস্য প্রসাদাৎ সদা মােহধ্বান্তবিদুরশুভ্রমনসঃ সন্তঃ সুখং শেরতে। যং দৃষ্টা কৃতকৃত্যমত্র মনুজাঃ স্বাঝানমেবানিশং মন্যন্তে স দিগম্বরে বিজয়তে শ্রীভাস্করানন্দবিৎ ॥ ৩॥ মায়ামাত্ৰবিনির্মিতং হি ভুবনং মত্বা স বিজ্ঞেশ্বরাে ধৃত্ব তৎপরমং পদং হৃদি মুদা তুৰ্য্যাশ্রমে সংস্থিতঃ । যশ্চেন্দ্রাদিসমস্তদেবপদবীং তুচ্ছাং সদা মতে সােহয়ং সংবিধাতু বাঞ্ছিতফলং ভাস্করানন্দবিৎ। ৪। অস্বার্থঃ। নিগম-প্রতিপাদ্য পরব্রহ্ম স্মরণ করতঃ, সিদ্ধকাম হইয়া কাশীধামে আনন্দবনে বাস করিতেছেন। ২। যাঁহার প্রসাদে সাধুগণ বৈরিপক্ষ ইন্দ্রিয় সমূহকে জয় করিয়া আন্তরিক মােহন্ধকার বিদূরিত হওয়াতে বিশুদ্ধান্তঃকরণে সুখে কালযাপন করিতেছেন, যাহার দর্শন লাভে লােমাত্রেই আপনাদিগকে কৃতকৃত্য মনে করেন, সেই দিগম্বর যতিপতি শ্রীভাস্করানন্দ স্বামির জয় হউক। ৩ | যে প্রাজ্ঞবর জগতের মায়াময়ত্ব অবধারণ করিয়া, পরম সন্তোষে জগদীশ্বরের মঙ্গলপদ হৃদয়ে ধ্যান করতঃ সন্যাস আশ্রম অবলম্বন করিয়াছেন, যিমি ইন্দ্রাদি সমস্ত দেবপদবী তুচ্ছ বলিয়া মনে করেন, সেই শ্রীভাস্করানন্দ স্বামীজী আমাকে বাঞ্ছিত ফল বিতরণ করুন। ৪। ১০

৭৪
যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্।
ক্ষিপ্রং সিদ্ধিমবাগুবন্তি নিখিলাং যৎসংস্কৃতেঃ সজ্জনা
যং সৰ্বে প্ৰণমন্তি ভূপতিবরাঃ স্বাভীষ্টসিদ্ধ্যৈ মুদা।
বিজ্ঞাঃ পুণ্যতমং চরিত্ৰমনিশং গায়ন্তি যস্যাখিলাঃ
সােহয়ং সংবিধাতু বাঞ্ছিতফলং ভাস্করানন্দবিৎ ॥৫
সুভুক্তিমুক্তিদায়কং যতীন্দ্ৰমত্র ভাস্করা-
দিনন্দনামকং শিবস্বরূপমাশুকামদম্।
নরেন্দ্রসেব্যসৎপদং বরপ্রসূনমালকং
গুরুং ভজাম্যহং সদা স্বভক্তবৃন্দপালক। ৬।
স্বভাসয়া বিভাসয় স্বভক্তহৃৎরােরুহং
সুদুর্লভঞ্চ তদ্বিভােঃ পরং পদং প্রদর্শয়।
অস্থা।
যাঁহার স্মরণে সজ্জনগণ সমস্ত সিদ্ধিই অনায়াসে প্রাপ্ত
হয়েন, মহারাজগণ অভীষ্ট সিদ্ধির জন্য বঁহাকে ভক্তিভাবে
প্রণাম করেন, এবং পণ্ডিতগণ সানন্দচিত্তে যাঁহার পুণ্যতম
চরিত্র দিবানিশি গান করিয়া থাকেন, সেই ভাস্করানন্দ
স্বামীজী আমাকে বাঞ্ছিত ফল বিতরণ করুন। ৫।
যাহার প্রসাদে ইহকালে সুখ ও পরকালে মুক্তি প্রাপ্ত
হওয়া যায়, নরপতিগণ যাঁহার চত্মণসেবা করেন, ভক্তবৃন্দপালক,
সর্বকামপ্রদ, শিবস্বরূপ, পুষ্পমালা পরিশােভিত সেই যতিপতি
তারানন্দ গুরুদেবকে আমি অর্চনা করি ॥ ৬

যতীন্দ্রস্তোত্রম্ । সদা বিনােদকাননে চরমত্র ভাস্করা- দিনদনামকং পরং গুরুং নমামি সন্তত। ৭। হে দীনবন্ধো ভগবন্ ভবসাগরেহস্মিন্ মগ্নং সুমােহতমসাবৃতচেতসং মাম্। নাে চেৎ সমুদ্ধরসি বৈ স্বকৃপাকটাক্ষৈ- দ্দাসােহহমত্র বদ কং শরণং ব্ৰজামি । ৮। ইতি শ্রমিথিলামহীসুরেণ জ্যোতির্বিদ শ্ৰসােনেলালশৰ্ম্মণা বিচিতং যতীন্দ্রস্তোত্রং সম্পূর্ণ। অথার্থ। যিনি স্বকীয় প্রভা দ্বারা স্বীয় ভক্তগণের হৃদয়কমল প্রকাশ করতঃ সুদুর্লভ পরব্রহ্মের পরমপদ দর্শন করাইতেছেন, সেই আনন্দ-বন বিচরণকারী পরম গুরু ভাস্করনন্দ স্বামীকে সর্বদা আমি প্রণাম করি। ৭। হে দীননাথ, হে ভগব, মােহন্ধকারাবৃতচিত্ত আমি এই ভবসাগরে মগ্ন হইতেছি, যদি আপনি কৃপাকটাক্ষপাতে উদ্ধার করেন, তাহা হইলে আমি আপনার দাস হইয়া আর কাহার শরণাপন্ন হইব? ॥৮॥ ইতি শ্রমিথিলামহীশুর জ্যোতির্বিদ সােনেলাল শৰ্ম্মা কৃত যতীন্দ্রস্তোত্র সমাপ্ত।

ভাস্করানন্দাষ্টকম্।
ভুজঙ্গপ্রয়াতচ্ছন্দঃ।
শ্রীগণেশায় নমঃ।
ত্রয়ীসিদ্ধসৎকৰ্ম্মপূতাঘসম্বং
সদা সংযমাভ্যাসবশ্যন্দ্ৰিয়ং প্রাক।
ততঃ শ্রোতযুক্ত্যা ভবেসংবিরক্তং
ভজে ভাস্করানন্দমীড্যং মুনীশ।১।
মহাবাক্যতঃ সারমাকৃষ্য ভাবং
ভবচ্ছেদবীজং সুখস্যৈকধাম।
স্থিতং নির্বিকল্পং সদা শান্তমূর্ডিং
ভজে ভাস্করানন্দমীড্যং মুনীশ। ২।
অত্যার্থ।
বেদোক্ত সৎকৰ্ম্মানুষ্ঠান দ্বারা যাহার পাপাবলী বিধৌত
হইয়াছে, এবং সদা সংযমভ্যাস দ্বারা যাহার ইন্দ্রিয়গণ বশীভূত
হইয়াছে, যিনি শ্রৌত অর্থাৎ বেদোক্ত যুক্তি অনুসারে সংসারে
বিরক্ত হইয়াছেন, সেই স্তুতিকরগণযােগ্য ভাস্করানন্দ মুনীশ্বরকে
আমি ভজনা করি।১।
মহাবাক্যাবলী অর্থাৎ “তত্ত্বমসি” ইত্যাদি বাক্য হইতে
ঘিনি মােপ্রাপ্তির অনুকূল অর্থ প্রকাশ করিয়াছেন, যিনি সুখের

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। ৭৭ । ভবাব্দৌ নিমগ্নানবিজ্ঞান্ ভয়ার্তা সমুণ্ডুকামাে য আস্তেহবিমুক্তে। নিরাশং কৃপালুং তমাশাবসানং ভজে ভাস্করানন্দমীড্যং মুনীশম্ ॥ ৩॥ কলৌ লােকশিক্ষাবতারস্বরূপং সুবুদ্ধাত্মতত্ত্বং তদেকাগ্রচিং। সমানারিমিত্রং হতভাবং ভজে ভাস্করানন্দমীড্যং মুনীশ। ৪। উদেতীচ্ছয়া যস্য গূঢ়াত্মভাবাে নৃণাং মানসেংজ্ঞানরুদ্ধাত্মনাত্ত। অর্থঃ। আলয়, যিনি নির্বিকল্পচিত্তে শান্তভাবে বিরাজিত,সেই ভাস্করানন্দ মুনীশ্বরকে আমি প্রণাম করি ॥ ২॥ যিনি সংসার-সাগরে নিমগ্ন, ভয়ার্ত অজ্ঞানীদিগকে উদ্ধার করিবার জন্য অবিমুক্ত কাশীক্ষেত্রে অবস্থান করিতেছেন, বাসনা- বিহীন, কৃপালু, দিগম্বর, স্তুতিযােগ, সেই ভাষ্করানন্দ মুনীশ্বরকে আমি ভজনা করি। ৩। যিনি কলিকালের লােদিগের শিক্ষার জন্য অবতার স্বরূপ, এবং যিনি আত্মতত্ত্বজ্ঞান লাভ করিয়াছেন, যাঁহার চিত্ত একাগ্র হইয়াছে, শত্রু ও মিত্র যাহার নিকট সমান, যিনি শীত গ্রীস্মাদি ঋতুর প্রভাব নষ্ট করিয়াছেন, সেই স্তুতিযােগ্য ভাস্করানন্দ মুনীশ্বরকে আমি ভজনা করি ॥ ৪ | ৭৮ যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। ব্যরংসীদবিদ্যাপ্রভাবাে যতস্তং ভজে ভাস্করানন্দমীড্যং মুনীশম্।। ভবােদ্ভুতভােগং সুরেশস্ত লােকং ত্রিবঞ্চ তুচ্ছং সদা মতে যঃ। পিবন্তং রসং ব্রহ্মচিপমং ভজে ভাস্করানন্দমীড্যং মুনীশম্ ॥৬॥ যথা দামি সপো যথা স্বপ্নবােধ মরৌ বারি যদ্বদ যথা চেন্দ্রজাল। তথা ভ্রান্তিভূতম্ভবং প্রেক্ষমাণং ভজে ভাস্করানন্দমীড্যং মুনীশম্ ॥৭॥ অর্থঃ। যাহার ইচ্ছায়, অথবা অনুগ্রহে, অজ্ঞানাচ্ছাদিত ব্যক্তিদিগের অন্তরে আত্মজ্ঞানের উদয় হয়, যাহার দয়ায় অবিদ্যা বিনাশ প্রাপ্ত হয়, সেই স্তুতিযোগ্য ভাস্করানন্দ মুনীশ্বরকে আমি ভজনা করি ॥৫॥ যিনি সংসারােৎপন্ন ভােগ, ও স্বর্গলােক, এবং ত্রিবর্গ (অর্থাৎ য় অর্থ, কাম) এ সকলকে সর্বদা তুচ্ছ বিবেচনা করেন, এবং যিনি অনুত্তম ব্রহ্মচিপ রস পান করিতেছেন, সেই স্তুতিযােগ্য ভাস্করানন্দ মুনীশ্বরকে আমি ভজনা করি। ৬। রঞ্জুতে সর্পবােধ, যেরূপ ভ্রম, স্বপ্নাবস্থায় অনুভূত বস্তু যেরূপ মিথ্যা, মরুভূমিতে উদকজ্ঞান যেরূপ অলীক, ইন্দ্রজাল ক্রিয়া- প্রদর্শিত বস্তু সকল যেমন অসত্য, এই সংসারকে যিনি সেইরূপ যতীন্দ্র-জীবন-চরিত। ৭৯ জগন্নশ্বরং ভােগআধের্নিদানং ছিদেকা সতীত্যেব নিত্যং বিচিন্ত্যম্। ইতীবেহ বিজ্ঞাপয়ন্তং স্বকৃত্যা ভজে ভাস্করানন্দমীড়ং মুনীশম্ ॥ ৮। নমঃ পরমহংসায় ভাস্করানন্দমূৰ্তয়ে। ভক্তাভীষ্টপ্রদায়া সাক্ষাচ্চৈতন্যরূপিণে ॥৯॥ ইতি শ্রীগঙ্গাচরণবেদান্তবাগীশেন বিরচিত ভাস্করানন্দষ্টিকং সম্পূর্ণ। অত্যার্থ। ভ্রান্তিময় বলিয়া উপলব্ধি করেন, সেই স্তুতিযােগ্য মুনীশ্বর ভাস্করানন্দ স্বামীকে আমি ভজনা করি। ৭। “জগৎ নশ্বর, ভােগ মনঃকষ্টের নিদান স্বরূপ, একমাত্র চিদা- ত্মক জ্ঞানই অবিনশ্বর” মনুষ্যের সতত এইরূপ চিন্তা করাই শ্রেয়স্কর স্বীয় পৰ্য্য দ্বারা যিনি এই মহৎ শিক্ষা দিতেছেন, সেই স্তুতিযােগ্য ভাস্করানন্দ মুনীশ্বরকে আমি ভজনা করি । ৮। ভক্তগণের অভীষ্টপ্রদ ও সাক্ষাৎ চৈতন্য স্বরূপ, পরমহংস শ্রীভাস্করানন্দ মুর্ভিকে আমি নমস্কার করি। ৯। ইতি শ্রীগঙ্গাচরণ বেদান্তবাগীশ কৃত ভাস্করানন্দাষ্টক সমাপ্ত।

বৃন্দাবনষ্টকম্। গণেশায় নমঃ। কাশীনিবাসং যশসা প্রকাশং সৰ্বাঘনাশং শরণাগতানা। ব্ৰহ্মস্বরূপং পরমাবধূতং তং ভাস্করানন্দগুরুমমামি। ১। যদ্দর্শনং যৎস্মরণং যদর্চা চেতত বিশুদ্ধং কুরুতে জনানাম্‌। ভবাপবঞ্চ ততাে বিধত্তে তং ভাস্করানন্দগুরুন্নমামি ॥ ২॥ অত্যার্থ। যিনি কাশীতে বাস করিতেছেন, ও যশােদ্বারা প্রকাশমান রহিয়াছেন, এবং যিনি শরণাগত ব্যক্তিদিগের সমস্ত পাপ বিনাশ করেন, এবস্তৃত পরম অবধূত, হ্মস্বরূপ, ভাস্করানন্দ গুরুকে আমি প্রণাম করি।১। যাহার দর্শন, স্মরণ ও পূজন দ্বারা মনুষগণের চিত্ত বিশুদ্ধ হইয়া থাকে, এবং তদনন্তর ইহ সংসার হইতে মােক্ষ-বিধান করে, সেই ভাস্করন গুরুকে আমি প্রণাম করি। ২।

বৃন্দাবনগুৰ্বষ্টকম্ । চেতাে যদীয়ং বিষয়েম্বসং নন্দিবং ব্রহ্মমুখাবমগম। নিৰ্বাতদীপাéিরিবাপকম্পং তং ভাস্করানন্দগুরুমামি। ৩। চেতশ্চরী তৃপ্তিকরী সদা- মক্ষোভকত্রী সুহৃদাং দয়ার্জা। মূৰ্তির্যদীয়া বুধবন্দনীয়া তং ভাস্করানন্দগুরুন্নমামি । ৪। যৎপাদপদ্মদ্বয়দর্শনায় নিত্যং চতুৰ্বৰ্গফলপ্রদায়। দূরাদুপান্তি নৃপা দ্বিজেন্দ্রা- স্তং ভাস্করানন্দগুরুন্নমামি ॥৫॥ অর্থঃ। যাহার চিত্ত, বিষয়ে অনাসক্ত দিবানিশি ব্ৰহ্মানন্দে মগ্ন, এবং নির্বত-স্থান-স্থিত দীপ-শিখার ন্যায় স্থিরভাবে প্রদীপ্ত সেই ভাস্করানন্দ গুরুকে আমি প্রণাম করি ॥৩॥ যাহার নয়নতৃপ্তিকরী মুর্তি, সজ্জনগণের অন্তঃকরণে বিরাজিত, এবং পণ্ডিতমণ্ডলীর বন্দনীয়, যে দয়াদ্রমূৰ্ত্তি সুহ্যদ্বর্গের সকল মনােকষ্ট দূর করে সেই আননময় ভাস্করানন্দ গুরুমূৰ্ত্তিকে আমি প্রণাম করি । ৪। যাহার, ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম, মােক্ষ, চতুবৰ্গফলপ্রদ, চরণকমল- ১১

বতীলীন-চরিত।
দিগম্বরং দিকপতিবশ্যমান
সানন্দমানন্দবনৈসিংহ।
কৃতারিষডুবৰ্গজয়ং শুভাশয়ং
তং ভাস্করানন্দগুরুতােহস্যহম্। ৬ ॥
ষড়দর্শনজ্ঞাননিনমানসং
তৎসচো নিত্যবিমর্শতৎপর।
নৈগুণ্যনিৰ্ধতমনােমলং পরং
তং ভাস্করানন্দগুরুতােহস্যহম্। ৭ ॥
যস্তত্বমস্যাদিবিচারদক্ষ
স্বচ্ছান্তরাত্মা শ্রুতিমার্গগামী।
অস্যা।
যুগল দর্শনার্থ বহুদূর হইতে রাজগণ ও পণ্ডিতগণ নিত্য
আসিয়া থাকেন, সেই ভাস্করান গুরুদেবচরণে আমি প্রণাম
করি। ৫।
যিনি দিগম্বর, যিনি দিপতিগণের বন্দনীয়, যিনি আনন্দময়
আনন্দবনের অধিরাজ, এবং যিনি ষড়রিপু জয় করিয়াছেন যিনি
শুভাশয়, সেই ভাস্করান গুরুকে আমি প্রণাম করি । ৬।
যাহার চিত্ত ষড়দর্শন-প্রতিপাদ্য জ্ঞানের আক, এবং অনুক্ষণ
শাস্ত্ৰবাক্য বিচারে তৎপর, কিনি নৈপুণ্য দ্বারা মনন-মালি
প্রক্ষালন করিয়াছেন, সেই আকরান গুরুকে আমি প্রণাম

বৃন্দাবনগুৱষ্টক। সমং সুবর্ণং সিকতা চ যস্য তং ভাস্করানন্দগুরুন্নমামি ॥৮॥ মহেশানুচরঃ সনাট্যো বৃন্দাবনঃ সদ্গুরুলবিদ্যঃ। গুৰ্বষ্টকন্তেন কৃতং প্রসত্যৈ শ্রমগুরূণাং করুণাকরাণা। ৯। ইতি শ্ৰীবৃন্দাবনশৰ্ম্মবিরচিতং গুৰ্বষ্টকং সম্পূর্ণ। অস্যা। যিনি “তত্ত্বমসি” ইত্যাদি বাক্যের অর্থাবধারণে দক্ষ, যাহার, বিমল অন্তরাত্মা শাস্ত্র নির্দিষ্ট পথে বিচরণ করে সুবর্ণ ও বালুকা যাহার চক্ষে সমান, সেই ভাস্করানন্দ গুরুদেবকে আমি প্রণাম করি ॥৮॥ দেবদেব মহাদেবের ভক্ত সনাঢ্যকুলােৎপন্ন, বৃন্দাবন নামক ব্রাহ্মণ, সদ্গুরুর নিকট বিদ্যালাভ করিয়া, করুণাকর গুরুর আনুকুল্য প্রার্থনায় এই গুৰ্বষ্টক রচনা করিলেন ॥৯॥ ইতি বৃন্দাবন শৰ্ম্মা কত গুৰ্বষ্টক সমাপ্ত।

যতীন্দ্ৰস্তোত্রম্ । শ্ৰীঃ পাতু। অথাদ্যং বিভুং বিরাজং গণেশং শিবানন্দদং শঙ্করং সৰ্বভাজং। প্রণম্যহমানকলস্বরূপং প্রকুৰ্বে স্তবং তং যতেৰ্বিশ্বব্য। ১। পিতৃমাতৃগুরুং পরিপূজ্য গুণৈ- যতিমার্গমলং সুখদং সুখদৈঃ। অদধাৎ পরিভাব্য সুখং বিষয়ং কুলানমলং পরিহায় গৃহম্ ॥ ২॥ শরীরান্তকালে দ্বয়ােস্তত্র গত্বা- দদাঘ্ৰহ্মচৈতন্যপূর্ণং মনােজ। অদ্যার্থ। আদি বিভু বিরাজ গণেশকে এবং সর্বশক্তিমান্ আনন্দক- স্বরূপ পরমানন্দপ্রদ ঈশ্বরকে প্রণাম করিয়া, বিশ্বব্য যতিপতির স্তব প্রণয়ন করিতেছি ।১। যিনি সদাচরণ দ্বারা পিতা, মাতা, ও গুরুকে সন্তুষ্ট করিয়া, প্রকৃত সুখের বিষয় অনুসন্ধান করিতে প্রবৃত্ত হইয়া কুল, মান, যতীন্দ্রস্তোত্রম্ । তদা জ্ঞানমানন্দকন্দং স্বপিত্রোঃ সদা তং যতিং ভাস্করানন্দমীড়ে। ৩। যদা কস্য ভাগ্যোদয়েন প্রতি স্বপভ্যাং গৃহে তদৃগুহং তীর্থরূপ। ভবত্যম্বরাদ্যম্বরং ভেদশূন্যং যতিং সর্বদা ভাস্করানন্দমীড়ে ॥ ৪। আনন্দকানননিবাসমজন্মনিষ্ঠং বাতপ্রবৃত্তিমচলং ভবভাবশূন্য। ভাগ্যোদয়ং বিতনুতে সততং জনানাং ব্ৰহ্মাণ্ডতীর্থহৃদয়ং শিবদং তমীড়ে ॥ ৫॥ অস্যর্থ। ও গৃহ পরিত্যাগ পূর্বক, সুখদ সন্যাসমার্গ অবলম্বন করিয়াছেন, যিনি পিতা মাতার শরীরান্তকালে স্বেচ্ছাক্রমে তাহাদিগের সম্মুখে উপস্থিত হইয়া তাহাদিগকে ব্ৰহ্ম চৈতন্য পূর্ণ আনন্দ স্বরূপ জ্ঞান প্রদান করিয়াছিলেন, সেই ভাস্করানন্দ যতিপতিকে আমি আরাধনা করি। ২। ৩। স্বামিজী কোন ভাগ্যবানের গৃহে পদার্পণ করিলে তাহার গৃহ তীর্থস্বরূপ হয় ; দিগম্বর, সর্বত্র সমদর্শী, সেই ভাস্করানন্দ স্বামীকে আমি আরাধনা করি। ৪ আনন্দকাননবাসী, অজন্মা অর্থাৎ পরব্রহ্মে সংনিবিষ্টচিত্ত, সমাধিস্থ, স্থিরধী, সংসারভাব-শূন্য যতিপতি, যিনি সর্বদা লােকের * ৮৬ যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম্। কৃতত যেন যজ্ঞস্তপােদানতীর্থে ভবত্যাবুদ্ধিৰ্ব্বিশালা বুধেন। তয়া সচ্চিদানন্দসঙ্গ সঙ্গং তদা তেন মােক্ষং যতীন্দ্রং তমীড়ে। ৬ | বিভুং বিশ্বনাথং সদোদারকীর্কিং শিবং ভােগদং রােগকালং বিশাল। প্রসন্নেয়িং ধৰ্ম্মমুলং বরেণ্যং সদা ধ্যানগং ভাস্করানন্দমীড়ে।৭। একং কৃত্বা প্রকৃতিপুরুষৌ হৃদ্যলং সংবিধায় স্বচ্ছং মা তমপি বিমলং ব্ৰহ্মরূপং নিনায়। অস্যা। সৌভাগ্য-বন্ধন করিতেছেন, যাঁহার হৃদয় ব্রহ্মাণ্ডের তীর্থস্বরূপ, সেই কল্যাণপ্রদ স্বামীজীকে আমি আরাধনা করি ॥৫॥ যজ্ঞ, তপ, দান ও তীর্থ সেবা করিলে বিবেচক পুরুষের বুদ্ধি অচিরে নির্মলা হয়, তিনি সেই বুদ্ধি সহকারে সচিদ্দানন্দ- স্বরূপ স্বামীজীর সঙ্গলাভ করেন, তাহাতেই তাহার মােক্ষ প্রাপ্তি হয়; এবস্তুত ষতিপতিকে আমি স্তব করি। ৬। যিনি বিভু, বিশ্বনাথ, সদা উদার কীর্তিযুক্ত, শিবস্বরূপ, ভােগ প্রদ, রােগের বিশাল কালস্বরূপ, যাঁহার মুক্তি সর্বদাই প্রফুল্ল, যিনি সর্বধর্মের মূল, সর্ব শ্রেষ্ঠ এবং সাধ্যানাবস্থিত, সেই ভাস্করানন্দ স্বামীকে আমি স্তুতি করি। ৭ ॥

যতীন্দ্ৰস্তোত্র। । ৮৭ মানং ত্যা জগতি সকলং নির্বিকল্পঞ্চ ধৃত্বা ধ্যানং নিত্যং চলতি সরিতঃ কূলমূলাঙ্গকেন ॥ ৮৷ সদা নির্বিকল্পং নিরীহং যতীন্দ্রং নিরাধারারং প্রকাশস্বরূপ। প্রসন্নং সদা ব্ৰহ্মলীনং কুলীনং প্রসিদ্ধং সদা ভাস্করানন্দমীড়ে ॥৯॥ দিনেশানলো দেহশীতং যথা সতাং সঙ্গমােহজ্ঞানতাপং তথা। বােধরূপং হরত্যচলং, সামদং তং যতিং ভাস্করানন্দমীড়ে কৃশম্ ॥ ১০। অস্যার্থ। যিনি প্রকৃতি ও পুরুষের একতা হৃদয়ে উপলব্ধি করিয়া সুবিমল ব্ৰহ্মরূপ কল্পনা করতঃ ইহ জগতের সম্মানত্যাগ পূর্বক নির্বিকল্প ধ্যানাবস্থিত হইয়া গঙ্গাতটে নগ্নবেশে বিচরণ করিতেন ও যিনি সদা নির্বিকল্প, নিরীহ, নিরাধারই যাঁহার আশ্রয়, অর্থাৎ ভগবানই যাহার একমাত্র অবলম্বন, প্রকাশ-স্বরূপ, ব্ৰহ্মলীন, প্রসন্নচিত্ত, সেই সুপ্রসিদ্ধ, ভাস্করান যতীন্দ্রকে আমি স্তুতি করি। ৮। ৯। সূৰ্য্য ও অনল যেমন দেহের শীত নিবারণ করিয়া থাকে, সজ্জনসঙ্গম সেইরূপ অজ্ঞানতাপ হরণ করিয়া থাকে অতএৰ

যতীন্দ্র-জীবন-চরিতম।
মনসাে ব্ৰহ্মণশ্চৈব কশ্চিদ্ভেদো ন দৃশ্যতে।
সবিকল্পং মনঃ প্রাক্তং নির্বিকল্পং তদুচ্যতে ॥১১।
এবস্তুতং মনাে যস্য যতীন্দ্রং তমহং ভজে।
গততৃষ্ণং ভবাতীতমানবনচারিণম্। ১২।
মহাদেবঃ শুক্লো বদতি ভবতাপানলকৃশান্
জনা কাশীবাসং ঝটিতি সুখসিন্ধুং সুকৃতিনঃ।
জনা জ্ঞানায়ৈবং ভজত ভবপােতং সুকৃতিনং
যতীন্দ্ৰং সানন্দং পরমমমলং তং খবসন। ১৩।
অ্যার্থঃ।
বােধস্বরূপ, নিত্যানন্দপ্রদ কৃশ সেই ভাস্করানন্দ যতিপতিকে
আমি স্তুতি করি । ১০।
মন ও ব্রহ্মে কোন ভেদ দৃষ্ট হয় না। সবিকল্পকে মন বলা
যায়, এবং নির্বিকল্পকে ব্ৰহ্ম বলা যায়। ১১।
যাঁহার মন নির্বিকল্প হইয়াছে, সেই তৃষ্ণারহিত ভবাতীত
আনন্দবনচারী যতীকে আমি ভজনা করি । ১২।
ভবতাপানলে অভিতপ্ত ব্যক্তিদিগের প্রতি মহাদেব শুকুল
নামক ব্যক্তি বলিতেছেন যে, হে সুকৃতিমান্ ব্যক্তিগণ! যদি
আপনাদের জ্ঞান প্রাপ্তির অভিলাষ থাকে, তাহা হইলে পরম
অমল, সুখসাগররূপ কাশীনিবাসী, আনন্দযুক্ত, ভবসাগরের
নৌকাস্বরূপ, দিগম্বর যতীন্দ্র ভাস্করানন্দের শরণাপন্ন হউন ॥১৩

যতীন্দ্ৰস্তোত্রম্ ।
৯
ইদং স্তোত্রং পঠেম্নিত্যং যাে যতেঃ প্রযতােহ নিশম্।
সৰ্বান কমানবাগােতি ভাস্করানন্দরূপিণঃ ॥১৪।
ইতি শ্রীমহাদেবশুক্লবিরচিত যতীন্দ্রস্তোত্রং সমাপ্তম্।
অস্বার্থ।
যিনি ভাস্করান যতীন্দ্রের এই স্তোত্র একাগ্রচিত্তে প্রতিদিন
পাঠ করেন, তাহার সকল কামনা পূর্ণ হয়। ১৪।
ইতি মহাদেবশুক্লবিরচিত যতীন্দ্রস্তোত্র সমাপ্ত।

AJU PUEDE LIBRARY প্রার্থনায়াং শ্লোকত্রয়ম্। ও মদনরিপাের্নং বলে। স্বামিন্নমস্তে নতলােকবন্ধো কারুণ্যসিন্ধো পতিতং ভবান্ধেী। মামুদ্ধরাত্মীয়কটাক্ষদৃষ্ট্যা ঋজ্বাতিকারুণ্যসুধাভিষ্ট্যা॥১॥ দুৰ্বারসংসারদবাগ্নিতপ্তং দোধূয়মানং দুরদৃষ্টপাতেঃ। ভীতং প্রপম্নং পরিপাহি মৃত্যোঃ শরণ্যমন্যং যদহং ন জানে ॥ ২॥ অত্যাধ। ন, হে প্ৰণত-লােকদিগের বন্ধু, হে করুণাসিন্ধু আপনাকে নমস্কার ; আমি ভবসাগরে পতিত হইয়াছি; কারুণ্য- সুধাবর্ষী আপনার কৃপাকটাক্ষ দ্বা আমাকে উদ্ধার করুন। ১। আমি দুর্বার সংসাররূপ দােগ্নি দ্বারা অভিতপ্ত, দুরদৃষ্ট- রূপ বাত্যাভিঘাতে হতবুদ্ধি ও ভীত হইয়া আপনার শরণাপন্ন হইয়াছি, আপনি করুণাদানে আমাকে মৃত্যু হইতে রক্ষা করুন; প্রভাে আপনি অন্য কোন অাশ্রয় মাই॥২॥ ; •ESTD. 1902 21, Ha wa

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Jotindrajibancharitam Ed.3

Author
Bandhopadhyay,ambikacharan Ed.
Title
Jotindrajibancharitam Ed.3
File name
Jotindrajibancharitam Ed.3
Text
OCR done
Citation
1899
Published
2010/04/5
Publisher
Ambikacharan Bandhopadhyay,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
108
Library
Maju Public Library, Howrah
Classification
Biography
Keywords
Bandhopadhyay,Ambikacharan
DLI number
511130
Barcode
4990010018306.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
uByjwP5JaWc
Download PDF

Jotindrajibancharitam Ed.3