Belgaria Sudha Smriti Pathagar
Sri Sri Nam Rasayan
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
নাম রসায়ন
নিন
বিচালিত
বেলগাড়ী
সুখ স্মৃওিাইয়াে
গ্রার
প্রবােধচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
No text on this page.
No text on this page.
পূজ্যপাদ দেব শ্রীযুক্ত দাশরথি তিy
শ্ৰীশ্রীনাম সায়ন
গ্রন্থকার
প্রবােধচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
মূল্য ॥ * মা
@দেবেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
নামা, ডুমুৱদহ।
আঙিন :-
@শিবচন্দ্র বিদ্যাবিনােদ, ৬নং নূরমহম্মদ লেন,
প্রকাশক এবং
অন্যান্য প্রধান পায়।
হরিচরণ সিংহ কর্তৃক
এলবিয়ন প্রেস,
১০৪ই, ধর্মতলা ,হইতে মুসিত।
সূচীপত্র
প্রথম প্রবাহ
विलि
১
মঙ্গলাচরণ
२०
০ ০ ০
২৮
•••
২৯
প্রার্থনা
উৎসগ
সীতারাম তত্ত্ব
রাম শব্দের ব্যুৎপত্তি
রাম নাম মাহাত্ম্য
৩৫
০ ০ ০
৩২
৩৪
০
তিীয় প্রবাহ
প্রেমের দেবতা
বল রাম রাম রাম
০০০
আমি আছি ওরে
৫৭
নাম রসায়ন
মিলন
প্রথম প্রবাহ
ঐশ্রীগুরবে
নমঃ। •
শ্রীরামাশ্রম
১১৬৪৩
@@নাম রসায়ন
বিজ্ঞপ্তি
চৈতন্যং শাশ্বতং শান্তং ব্যোমাতীতং নিরঞ্জন ।
বিন্দুনাদ কলাতীতং তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।
ভব ভয় হরমেকং ভানু কোটি প্রকাশ
করত শর চাপঃ কাল মেঘাবভাসম্ ।
কনক রুচির বম্বং রত্নবং কুগুলা
কমল বিশদ নেত্রং সানুজং রাম মীড়ে।
হে গুরো, হে কমল লােচন রাম, তােমার চরণে কোটি কোটি
প্রণাম করি। তুমি প্রসন্ন হও।
সীতারাম, কেবল শাস্ত্রেই যে কলিযুগ অতি দারুণ একথা
বশ করা যায় তাহা নহে। সাধুগণ কলির ভীষণ তাণ্ড নর্তন
নিত্যই প্রত্যক্ষ করিতেছেন। না আছে বর্ণাশ্রম ধর্ম, না আছে
সদাচার শুদ্ধ, আহার, পিতামাতা দেব : দ্বিজে ভক্তি নাই,
সাধুসেবা অতিথিসেবা, দেশ হইতে চলিয়া গিয়াছে। ব্রাহ্মণগণ
২
শ্ৰীশ্ৰনাম রসায়ন
সন্ধ্যোপাসনা বজ্জিত শিগােদর পরায়ণ ও অর্থলিপ্স, হইয়া
চতুর্দিকে পরিভ্রমণ করিতেছেন। রমণীগণও পতি সেবা গুরুজন
সেবার কথা বিস্মৃত হইয়াছেন। আছে শুধু ভােগ আর ভােগ !
ইহ লােক ভিন্ন আর কিছু আছে ইহা বিশ্বাস করিবার লােক
ক্রমে দুলভ হইয়া আসিতেছেন।
যাহারা যথেচ্ছাচারী তাহাদের কথা স্বতন্ত্র, কিন্তু যাহারা
শাস্ত্র পথে চলিতে চাহেন তাহাদের অধুনা আত্মরক্ষা করা কত
কঠিন তাহা ভুক্ত ভােগী মাত্রেই জ্ঞাত আছেন।
কোন দিকে
চাহিবার উপায় নাই, সর্বদা রাম রাম করিয়া কোন রকমে
আপনাকে রক্ষা করিবার চেষ্টা করাই কর্তব্য।
শ্রীভগবানের শরণাপন্ন অর্থাৎ প্রপত্তি মার্গ অবলম্বন করা
ব্যতীত আর উপায় কিছু দেখা যায় না। ঠাকুর আমার
শরণাগত বৎসল, একবারও যে প্ৰপন্ন হইয়া আমি তােমার
বলিয়া শরণ গ্রহণ করে সে ব্যক্তি যেরূপই হউক না
আমার ঠাকুর তাহাকে অভয় দেন।
সৰুদেব প্রপন্নায় বাশ্মীতি চ যাচতে।
অভয়ং সর্বভূতেভ্যো দদামেতাবৎ ব্রতং মম।
মূল রামায়ণে ও অধ্যাত্ম রামায়ণের শ্রীরামচন্দ্র কথিত এই
অভয় বাণীটি বৈষ্ণবাচাৰ্য ভগবদ্ রামানন্দ স্বামী তাহার
শ্রীবৈষ্ণব মতাজ ভাস্করে চরম মন্ত্র বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন।
এই চরম মন্ত্র যে ভক্ত নিয়ত জপ করিতে অভ্যাস করিয়াছেন
তিনি নির্ভয় হইয়া গিয়াছেন, প্রাণের দেবতা প্রাণের মাঝে অহরহ
মাভৈঃ মাভৈঃ বলিয়া আশ্বাস দিতেছেন। একান্ত ভাবে শরণ
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন
গ্রহণ করিলে তাহার কৃপা অবশ্যই পাওয়া যায় ।
আহা চাতকী
বৃত্তি বড় মধুর!
সরঃ সমুদ্রে নদ্যাদি সন্ত্যজ্য চাতকে যথা।
তৃষিতত মিয়তে বাপি যাচতে বৈপয়ােধর।
এবমেব প্রষনে সাধনানি পরিত্যজৎ।
স্বেষ্ট দেবৌ সদা যাচ্যে গতিন্তৌ মেভবেদিতি।
সরােবর সমুদ্র নদী প্রভৃতি ত্যাগ করতঃ তৃষিত চাতক যেমন
তৃষ্ণায় মরিয়া যাইলেও মেঘের নিকটই জল প্রার্থনা করে,
সেইরূপ প্ৰষত্ন সহকারে সমস্ত সাধন ত্যাগ করিয়া ইষ্ট দেব ও গুরু
দেবের কাছেই তাহারাই আমার গতি হউন ইহাই সর্বদা প্রার্থনীয়
আমি আর কাহারও কাছে যাইব না, কোন সাধন করিবনা
তােমার মুখ পানেই সৰ্ব্বদা চাহিয়া থাকিব ইহাই প্ৰপন্ন ভক্তের
কথা। তুমি
বাতৈবিধুনয় বিভীষয় ভীমনাদৈঃ
সঞ্চয় মথবা করকাভিঘাতৈঃ ।
ত্ব বারি বিন্দু পরিপালিতস্য
। গতির্ভবতি বারিদ চাতকস্য।
প্রবল বাত্যায় অতিশয় আলােড়িত কর, ভয়ঙ্কর গর্জন করত
ভীতি প্রদর্শন কর, অথবা করা (শিলাখণ্ড আঘাতের দ্বারা
সম্যক্ চূর্ণ বিচূর্ণ কর, তথাপি হে বারিদ তােমার বারিবিন্দু পরি
পালিত চাতকের ত অন্যা গতি নাই !
ভক্ত বলেন হে আমার প্রিয়তম! তুমি রােগ শশাকের প্রবল
বাতাসে আমাকে অতিশয় কম্পিত কর, সংসারের ভীম কোলাহলে
৪ শ্রীশ্রীনাম রসায়ন . আমাকে ভয় দেখাও অথবা লয় বিক্ষেপ রূপ করকাঘাতে আমায় চূর্ণ বিচূর্ণ কর, তথাপি হে আমার দেবতা! হে আমার প্রাণের প্রাণ নবদূর্বাদল শ্যাম সুন্দর ! তােমার কৃপা বিন্দু পরিপালিত এ চাতকের অন্যাগতি ত নাই, হে হরে, তুমি কৃপা কর আমি তােমার শরণাগত! এরূপ একান্ত ভাবে শরণাগত হইতে পারিলে মানুষ চির দিনের মত নির্ভয় হইয়া যায় । প্ৰপন্ন ভক্তের সাক্ষণ বায়ুপুরাণে উক্ত হইয়াছে আনুকুল্য সঙ্কল্প প্রতিকুল্যস্য বর্জনম । রক্ষিষ্যতীতি বিশ্বাসস গােপ্তত্বে বরণং তথা । নিঃক্ষেপণমকার্পণ্যং ষড় বিধাঃশরণাগতিঃ । আনুকুল্যের সঙ্কল্প অর্থাৎ যাহাতে ইষ্ট দেবতায় রুচি বদ্ধিত হয়, ভক্ত সঙ্গ, লীলা শ্রবণ, কীর্তন, সৰ্ব্বদা নাম গ্রহণ, তুলসীসেবা, বিগ্ৰহসেবা, সাধুসেবা, একাদশী, জন্মাষ্টমী, রামনবমী, শিবরাত্রি প্রভৃতি হরি তােষণ ব্রত, লীলা চিন্তা, ভক্তোচিত বেশ ভূষা ধারণ, নিয়ম পূৰ্ব্বক নাম জপাদি এই সকলের সঙ্কল্পের নাম আনুকুল্যের সঙ্কল্প, ইহার দ্বারাই বিষয়ানুরাগ ক্ষীণ হইয়া যায়। প্রতিকুল্যের বর্জন। বিষয়ীর ও রমণীর সঙ্গ বর্জন, রজঃ ও তমােগুণ বর্ধক দ্রব্যাদি ভােজন ত্যাগ, চতুষষ্ঠী সেবাপরাধ অকরণ, নাম ও সেবাদিতে বিঘ্ন প্রদাতাগণের সান্নিধ্য ত্যাগ। “বিশ্বাস” হইল, আমায় তুমি নিশ্চয় রক্ষা করিবে , রক্ষা করা তােমার স্বভাব এইরূপ ইষ্টদেবতায় ও তাহার নামে বিশ্বাস। প্রতিদিন প্রতিকাৰ্য কি বৈদিক সন্ধ্যাদিতে কি লৌকিক সকল কৰ্ম্মে ভগবানকে রক্ষয়িতৃরূপে বরণ করার নাম “বরণ” ।
এনাম রসায়ন
৫
“নিঃক্ষেপণ”
শ্রীভগবানের
পদে
সম্পূর্ণরূপে স্বাত্মভারে
নিক্ষেপ।
“অকার্পণ্য” অন্য কাহারও নিকট দৈন্য ভাব জ্ঞাপন না করা।
আমি যখন তােমার শরণাগত তখন আমার যে কোন দুঃখ
একমাত্র তােমাকেই জানাইব আর কাহারও কাছে
জানাইব না। এই প্রপন্ন ভক্ত হওয়া তত সহজ নয়! কলির
ভীষণ তরঙ্গে এভাব রক্ষা করা অতি কঠিন, ইহা খুব সত্য
তথাপি মুহুর্মুহু কলি রােগের একমাত্র মহৌষধ নাম রসায়ন
সেবন করিতে পারিলে অবশ্যই ঠাকুরের কৃপা লাভ করা যায় ।
তখন রােগে শােকে সুখে দুঃখে অভাবে স্বাচ্ছল্যে সকল সময়ই প্রপন্ন
হইয়া থাকা যায় । আমার শঙ্কর বলিয়াছেনঃ-
অহং ভবন্নাম গৃণ কৃতার্থে
বসামি কাত্যাং সহিতােবাধ্য।
মুমূর্ষমানস্য বিমুক্তয়েই
দিশামি মন্ত্রং তব রাম নাম।
তােমার নাম গ্রহণে আমি কৃতার্থ হইয়া ভবানীর সহিত কাশীতে
বাস করি এবং মুমুযুর্গণের বিমুক্তির জন্য তােমার নাম নাম
মন্ত্র তাদের কর্ণে দান করি।
যখন এই নাম গ্রহণ করতঃ স্বয়ং ভগবান্ মহাদেব কৃতার্থ
হইয়াছেন, তখন যে কেহ এই নাম জপ করিবেন তিনিই কৃতার্থ
হইবেন। এই কলিযুগে সর্বদা নাম কীর্তন লীলাচিন্তা ইহাই ত
লঘুপায় !
শ্রীগুরুদেব, যে নাম বলিয়া দিয়াছেন সেই নামই অবলম্বন
৬ শ্ৰীশ্ৰনাম রসায়ন করিতে হইবে। উচ্চৈঃস্বরে ইষ্ট দেবতার নাম কীর্তন করিলে তাহাতে মন অনেকটা শান্ত হইবে তারপর নিয়মিত সংখ্যা রাখিয়া ইষ্ট মন্ত্র জপ করা কর্তব্য। এইরূপ ভাবে প্রতিদিনের সাধনায় লয় বিক্ষেপ দূর করিয়া ইষ্টমন্ত্র জপ ও লীলা চিন্তায় তাহার কৃপা শীঘ্রই অনুভূত হয়, এই কথা মহাপুরুষগণ বলিয়াছেন। শ্রুতি বলেন দেবতা একটী, “একমেবাদ্বিতীয়’! তবে তাহার নাম ও রূপ বহু! যেটী যাহার প্রকৃতির অনুগত গুরুদেব তাহা নির্দেশ করিয়া মন্ত্র দিবেন, শিষ্য সেই মন্ত্র প্রাণপণে সাধন করিলে অবশ্যই ইষ্ট সাক্ষাৎকার লাভ করিতে পারিবেন। আমার ইষ্টই যখন নানা রূপে বিরাজ করিতেছেন তখন দেবান্তরের বিদ্বেষ করিলে আমার ইষ্টেরই বিদ্বেষ করা হইবে এইটা মনে রাখা প্রয়ােজন। গুরুদেব যে ইষ্ট দেবতার মন্ত্র দান করিয়াছেন তাহাকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন পূৰ্ব্বক অন্য দেবতা তঁাহারই মূৰ্ত্তন্তর ইহা স্থির জানিয়া সর্বত্র ইষ্ট দেবতাকেই দেখিতে হইবে। শুনা যায় বিখ্যাত ভগবান্ দাস বাবাজী মহাশয় একদিন দুর্গা প্রতিমা দেখিয়া বলিয়াছিলেন “তাইতাে তােমায় চেনবার উপায় নাই, বাঁশী লুকিয়েছে সে কাল রং আর নাই, দুহাতের স্থানে দশ হাত করেছে, তিনটী নয়ন হয়েছে, পুরুষদেহ ত্যাগ করে রমণী হয়েছে সবই ছেড়েছে, কিন্তু ত্রিভঙ্গ ঠামটা তাে ছাড়তে পারনি! এইখানে ধরা পড়ে গেছে। আহা এই তাে প্রকৃত ভক্তের কথা ! ২ কোলাহল যে স্থানে, ভক্তিরাণী তার ক্রিসীমানায় গমন করেন না। আপনার } শ্রীশ্রীনাম রসায়ন ৭ ভাব দৃঢ় কবুবার জন্য নিজ ইষ্ট দেবতার নাম রূপ গুণলীলা লইয়া অবস্থান কর, দেবতান্তরের বিদ্বেষ করিও না এই কথাই প্রকৃত ভক্তগণ বলেন। এক চৈতন্যের নানা নামের কারণ সম্বন্ধে মgযােগ সংহিতা বলেন জীব পাঞ্চ ভৌতিক দেহ ধারী। যার শরীরে যে তত্ত্বের আধিক্য আছে তাহার সেই তত্বাধিপতি দেবতার মন্ত্র গ্রহণ করিবার অধিকার। “আকাশস্যাধিপপা বিষ্ণুরগ্নেশ্চাপি মহেশ্বরী। বায়ােরগ্নিঃ ক্ষিতেরশো জীবন গণাধিপঃ। বিষ্ণু আকাশ তত্ত্বের অধিপতি, এইরূপ মহেশ্বরী অগ্নিতত্ত্বের, বায়ুতত্ত্বের সূৰ্য, ক্ষিতিতত্ত্বের মহাদেব এবং জল তত্বের গণপতি অধিপতি। যােগনিফাত গুরুগণ শিষ্যের প্রকৃতি নির্ণয় করিয়া ইষ্ট নির্বাচন পূৰ্ব্বক দীক্ষা দানানন্তর সাধন পথে চালিত করিবেন। শিষ্য ও যথাবিধি মন্ত্র যােগ সাধনার দ্বারা মহাভাব লাভ করত ইষ্টের কৃপায় ভাবাভাব শূন্য হইয়া যান। এই অবস্থাপন্ন ভজিকে গীতায় ভগবান্ স্থিতপ্রজ্ঞ, ভগবদ্ভক্ত, গুণাতীত বলিয়াছেন, মহাভারত ইহার ব্রাহ্মণ আখ্যা দিয়াছেন, সূত সংহিতা অতি বর্ণাশ্রমী ও যােগবাশিষ্ঠ মহামায়ণে বশিষ্ঠ দেব জীবন্মুক্ত বলিয়াছেন। সাধক মাত্রেরই লক্ষ্য এই অবস্থা লাভ। লয়যােগী মহালয়রূপ সিদ্ধি লাভের পর এবং হঠযােগী মহাবােধ রূপ সিদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া রাজযােগ অভ্যাস করেন। জ্ঞানী বা যােগী ভক্ত রাজ যােগ অলবান করেন কিন্তু শুদ্ধ
৮
শ্ৰীশ্ৰনাম রসায়ন
ভক্ত ভগবচরণে সব অর্পণ করিয়া নিশ্চিত হন মিলন পর্যন্ত
চান, তারপর মিশ্রণ টুকু ঠাকুরই করিয়া লয়েন।
মন্ত্রযােগ। নিত্য যােড়শ অঙ্গে সুশােভিত ভক্তি, শুদ্ধি, আসন,
পঞ্চাঙ্গ সেবন, আচার, ধারণা, দিব্যদেশে সেবন, প্রাণক্রিয়া, মুদ্রা,
তর্পণ হন বলি যােগ জপ ধ্যান সমাধি।
পরে সেবন
“গীতা সহ নামানি স্তবঃ কবচমেচ ।
হৃদয়ক্ষেতি পঞ্চৈতে পঞ্চাঙ্গং প্রাচ্যতে বুধৈঃ ॥
স্বােপাসনানুসারেন গীতায়াঃ পঠনা ধ্রুবম্ ।
স্তোত্রস্ত কবচাপি হৃদয়স্থচ পাঠত।
যােগসিদ্ধি মবাপ্নোতি যােগী বিগত কষঃ।
মন্ত্রযােগ সংহিতা
ইষ্ট দেবের গীতা সহ নাম স্তব কবচ হৃদয় নিত্য অধ্যয়ন
করিতে হয়, ইহার দ্বারা মন্ত্রযােগী যােগসিদ্ধি অর্থাৎ মহাভাব
প্রাপ্ত হন।
যােড়শ অঙ্গের মধ্যে ভক্তি, শুদ্ধি, আসন ইত্যাদি সকলগুলির
অনুষ্ঠান করা আবশ্যক।
যে ভক্ত আপনাকে যেরূপ শান্ত্ৰিত করিবেন তিনি সেইরূপ
ফল লাভে সমর্থ হইবেন।
শ্ৰীশ্ৰনাম রসায়ন
এসময় আপনাকে শান্ত্রিত করা সহজ নয়, শান্ত্ৰিত থাকিবার
শক্তিলাভের জন্য সদা সর্বদা নাম কীর্তন করিতে হইবে। নামই
সমস্ত বাধা দূর করত দিন দিন ইষ্টের নিকটবর্তী করিয়া
দিবে দিবেই। এ সম্বন্ধে কোন সংশয় নাই, নববিধাভক্তির
একটা অঙ্গ দৃঢ় ভাবে অবলম্বন করিয়া থাকিলে অপর গুলি আপন।
আপনি হইয়া যাইবে ।
ভগবদ্ভজন ব্যতীত শ্রেয়ঃলাভের আর অন্য পথ নাই।
মহাপুরুষ বলেন “অন্য নাম যদি ভাল লাগে তবে আপনার
ইষ্টকে সেই নামে সেইরূপে সময়ে সময়ে দেখ ক্ষতি নাই।"
এই রাম নাম শাক্তশৈব বৈষ্ণব প্রভৃতি সকলেই জপ করিতে
পারেন যে নাম উমা মহেশ্বর অবিরাম জপ করেন সে নাম শৈব
শাক্তর সত্বর ভাব দৃঢ় করিয়া দিবে ইহাতে আর সংশয় কি ?
ভাব হইল ইষ্টের সহিত সম্বন্ধ স্থাপন। যতদিন পর্যন্ত সম্বন্ধ
পাতান না যায় ততদিন যেন দুর দূর পর পর বলিয়া মনে হয়।
পিতামাতা ভ্রাতা প্রভু সখা পুত্র পতি ইত্যাদি যে কোন
একটা নিজের ভাবানুগত সম্বন্ধ ইষ্টের সহিত স্থাপন করত
বাহিরে ভিতরে ইষ্টের পূজা, সেবা, লীলাচিন্তা, ইষ্টের সহিত কথা
কওয়া, বিহার ইত্যাদি করিতে করিতে প্রিয়তম আর দূরে
থাকিতে পারেন না দর্শন দান করেন।
ভিগতে হৃদয় গ্রন্থি ছিদ্যন্তে সর্বসংশয়া।
ক্ষীয়ন্তে চাষ কৰ্ম্মানিতম্মিদৃষ্টে পরাবরে।
সেই পরমাত্মার দর্শনে হৃদয় গ্রন্থি ভেদ হয়, সর্বসংশয় ছিন্ন
হয়, কর্ম সকল ক্ষয় হইয়া যায় ।
শ্ৰীশ্ৰনাম রসায়ন অনন্ত শাস্ত্রং বহু বেদিতব্য। শাস্ত্র অনন্ত, জানিবার বিষয়ও বহু, কালও সংক্ষেপ, বিপ্নও প্রচুর। এই অতল্প অবসরে বহু শাস্ত্র আলােচনা করিতে না যাইয়া গুরুদত্ত ইষ্টমন্ত্রটা যাহাতে সিদ্ধ হয় এই চেষ্টা করাই শ্রেয়ঙ্কামী ভগবদ্ভক মাত্রেরই সমীচীন। বর্ণাশ্রম ধৰ্ম্মানুষ্ঠান বাদ দিলে চলিবে না, ব্রাহ্মণ নিত্য যথাকালে সন্ধ্যা, অন্য সময় ইষ্ট সম্বন্ধীয় লীলাগ্রন্থ পাঠ, নাম জপ, লীলা ধ্যান, যখন যেটা ভাল লাগিবে তাহাই করিবেন। ইহার সহিত পুরশ্চারণের অনুষ্ঠানে মন্ত্র সত্বর সিদ্ধ হয়। সিদ্ধি মন্ত্র হইলে ইষ্ট সাক্ষাৎকার হইবে। মন্ত্র সিদ্ধির অর্থ মহাভাব লাভ। তারপর আর ভাবিতে হইবে না ঠাকুরই সব ভার গ্রহণ করিবেন। আজকাল কৰ্ম্ম শূন্য জ্ঞানের আলােচনা অত্যন্ত অধিক হইয়াছে। আহার শুদ্ধি, সদাচাদি কিছু নাই। সগুণ মন্ত্র জপের দ্বারা সবিকল্প সমাধি লাভের পূর্বে নিগুণ উপাসনা করিতে যাইয়া অনেকেই ব্যর্থ মনােরথ হইয়া সাধন ভজন ত্যাগ করতঃ নাস্তিক হইয়া যান। শান্তি ও পথে নাই, কম ধরিয়া উপাসনা ব্যতীত শাখী শান্তি লাভ হইতে পারে না। আমার গোঁসাইজী বলিয়াছেন নাম সগুণ ও নিগুণ ব্রহ্ম অপেক্ষা বড়, নাম দ্বারা বিবিধ ব্ৰহ্মই বশীভূত হয়েন। হিয় নিগুণ নয়নহি সগুণ রসনা রাম সুনাম। মনত পুরট সম্পূট লসত তুলসী ললিত ললাম। হৃদয়ে নিগুণ নয়নে সগুণ মূত্তি বিরাজ মান আছে। এ দুয়ের মধ্যে বসনায় নাম উচ্চারণে মনে হইতেহে বর্ণ- সিকে ঢাকা দিয়া সুন্দর আভরণ রাখা হইয়াছে।
শ্রীনাম রসায়ন
১১
গুরুদত্ত ইষ্টই আমার সর্বস্ব, তাহাকে অবলম্বন করিয়া
থাকিতে হইবে। আমার মহাবীর বলিয়াছেন
ক্রীনাথে জানকী নাথে অভেদ পরমাত্মনি।
তথাপি মম সর্বস্ব রামঃ কমল লােচনঃ ।
লক্ষ্মীপতি জানকী-পতিতে পরমাত্মায় অভেদ জানি; তথাপি
কমল লােচন রাম আমার সর্বস্ব। এইই যথার্থ ইষ্টনিষ্ঠা।
কোন কোন কৃষ্ণ ভক্তকে বলিতে শুনা যায় রামােপাসনা
এতদেশীয় নহে, ইহার দ্বারা শেয়ােলাভ হইতে পারে না ।
গােপীভাবে গােবিন্দের সেবা ভিন্ন আর দ্বিতীয় পথ নাই ।
রাম ও গােবিন্দ কেহই ত এদেশের নহেন তবে একটা গ্রাহ
অপরটা ত্যজ্য হন কি প্রকারে ?
তাঁহাদের ইষ্ট নিষ্ঠা প্রশংসাৰ্হ হইলেও বেদ শান্তাৰমাননা
আছে। কৃষ্ণোপনিষদে দেখা যায় ।
হরিঃ ওঁ শ্ৰীমহাবিষ্ণুং সচ্চিদানন্দ লক্ষণঃ
রামচন্দ্রং দৃষ্ট। সর্বাঙ্গ সুন্দরং মুনয়
বন বাসিনাে বিস্মিতা বভূবু তং হােচু
শোহবদ্য অবতারা বৈ গণ্যন্তে আলিঙ্গামাে
ভবন্ত মিতি। ভবান্তরে কৃষ্ণাবতারে যুয়ং
গােপিকা ভূত্ব মামালিঙ্গথ।
ভাবার্থঃ
মহাবিষ্ণু সচ্চিদানন্দ লক্ষণ সৰ্বাঙ্গ সুন্দর রামচন্দ্রকে দর্শন
করত দণ্ডকারণ্যবাসী মুনিগণ বিস্মিত হইয়া আলিঙ্গন প্রার্থনা
১২
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন
করেন ; রামচন্দ্র বলেন কৃষ্ণাবতারে তােরা গােপিকা হইয়া
আমায় আলিঙ্গন করিও।
শ্রুতি কি যিনি রাম তিনি কৃষ্ণ একথা বলিলেন না ?
শ্রীমদ্ভাগবতে আছে
এতে চাংশ কলাঃ পুস কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ম্ ।
ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে দেখা যায়
সৰ্বে চাংশ কলাঃ পুংস কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ম্।
পরিপূর্ণ তমাে রামাে ব্রহ্মশাপাৎ স্ববিস্তৃত।
পরিপূর্ণ তমাে যিনি তাহার অপেক্ষা আরও বড় যিনি তাঁহার
আখ্যাটা কি ? এই আত্ম বিস্মরণ লীলা মূল রামায়ণে দেখা যায়
কিন্তু অধ্যাত্ম রামায়ণে বা আনন্দ রামায়ণে আত্ম বিস্মরণের
চিহ্ন মাত্র দেখিতে পাওয়া যায় না। ভগবদ্ গুণ কীৰ্ত্তনে প্রেম
লাভ হয় কিন্তু আমারটী বড় তােমারটা কিছু নয় এরূপ ভাবে
ভক্তের মনে ব্যথা দিলে প্রেম লাভের বিলম্ব ঘটিবে না কি ?
আনন্দ রামায়ণে রামভক্তের কথাটি বড় মধুর।
ন নন জুনােঃ পৃথগস্তি রামমা
ন রামতােহনন্যা বদেব।
তথাপ্যমােধ্যা পুর পাল বলে
লক্ষণে ধাবতি মে মণীষা ।
নন্দ নন্দন হইতে রাম পৃথক নহেন, রাম হইতে বসুদেব তনয়
কৃষ্ণচন্দ্র অন্য নহেন তথাপি আমার মন অযােধ্যা পুরপালক
দশরথের সলহ্মণ বালকের প্রতি ধাবিত হইতেছে।
রাম এবার কৃষ্ণঃ স ক এবার রাঘবঃ।
উভমােনান্তরং বিএ কৌতুকা ময়েরিতম্ ।
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন
১৩
মানয়ন্ত্যন্তরং যােনা তয়ােঃ শ্রীরামকৃষ্ণয়াের।
পরম্পরং স নিয়ে পতিষ্যতি ন সংশয়ঃ ।
আনন্দ রামায়।
রামই কৃষ্ণ কৃষ্ণই রাম! হে বিপ্র উভয়ের
নাই আমি কৌতুক করিবার জন্য রাম কৃষ্ণের ভেদের কথা
বলিয়াছিলাম। যে মানব শ্রীরামকৃষ্ণের ভেদ কল্পনা করে সে
নরকে পতিত হয়। বৈষ্ণবগণের জপ্য তারক ব্ৰহ্ম নাম
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
ইহাতে যেমন চারিবার কৃষ্ণ নাম আছে তেমনি রাম নামও
চারিবার আছে আমার প্রেমের ঠাকুর বলিতেন।
রাম রাঘব রাম রাঘব রাম রাঘব পাহিমাং।
কৃষ্ণ কেশব কৃষ্ণ কেশব কৃষ্ণ কেশব রক্ষমা।
তাহার পরিকর মুরারি গুপ্ত রাম ভক্ত ছিলেন তথাপি এ রাম
কৃষ্ণের কেমন ভেদ কল্পনা করেন বুঝি না।
যাহারা বলেন মধুর ভাব শ্রেষ্ঠ তাহা ভিন্ন উপায় নাই
তাহাদের মধুর ভাবের প্রতি জয়যুক্ত হউক। পূতনা কংস
শিশুপাল প্রভৃতির যদি গতি লাগে তাহা হইলে নন্দ যশােমাতা
শ্রীদাম সুদাম অৰ্জ্জুন প্রভৃতির গতি লাগিবে না ইহা কখনও
হইতে পারে না। যিনি জন্মান্তরীয় সংস্কার বশে যে ভাব লাভ
করিয়াছেন তিনি সেই ভাব অবলম্বন করিয়া নির্ভয়ে অবস্থান
করুন, অবশ্যই প্রিয়তমের কৃপা লাভ করিবেন।
মধুর ভাব
১৪ নাম রসায়ন পাইলাম না বলিয়া হতাশ হইবার প্রয়ােজন নাই। আমার ঠাকুর গীতায় বলিয়াছেন “যে যথা মাংপ্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম” পূজ্যপাদ ভার্গব শিবরাম কিঙ্কর যােগ ত্রয়ানন্দ প্রাক্ত সংক্ষিপ্ত রাধা রাধা তত্ত্বে অগস্ত্য সংহিতার এই ভাবের বিবরণ দেখা যায়। “যে ভক্ত শ্রীমান রঘুপতিকে সর্বপরাৎপর সাক্ষাৎ ব্রহ্ম জানিয়া ভজনা করেন তিনিই শান্ত রসের আশ্রয় । ভগবান শ্রীরামচন্দ্র করুণা সিন্ধু এবং তিনি সর্বদা তাঁহার ভক্তগণের সংরক্ষণে রত এই প্রকার জানিয়া যিনি এই শ্রেষ্ঠ সম্বন্ধে তাহাকে ভজনা করেন তিনি দাস্ত রসের আশ্রয় । যিনি রঘুনন্দনকে মিত্র ও প্রেম পাত্র জ্ঞানে পরম মেহ সহকারে তঁাহার সহিত নিত্য রমণ করেন, তিনি সখ্যরসের আশ্রয়, (অর্জুন প্রভৃতি ভগবানের সখ্য ভাবের ভক্ত ) বালস্বরূপ পরম সৌন্দৰ্যযুক্ত কোমলাঙ্গ পরমানন্দ দায়ক রূপে ভগবান রামচন্দ্রকে স্বীয় বাহ সঞ্চারী প্রাণ জ্ঞানে যিনি ভজনা করেন তিনিই বাৎসল্য রসের আশ্রয় । মাধুৰ্য্যময় মনােহর শ্রীরামচন্দ্রকে আপনার পতি জানিয়া যিনি সর্বদা তাঁহার ভজনা করেন তিনিই শৃঙ্গার রসের আশ্রয় । ‘পূর্বে যে পাঁচ প্রকার ভাবের কথা বলা হইয়াছে ইহাদের মধ্যে কোন একটা ভাবে ভগবানের সহিত সম্বন্ধ পাইলেই তাহাকে পাওয়া যাইবে"। এই সকল স্থলে রঘুপতি রামচন্দ্র রঘুনন্দন প্রভৃতি নাম বস্তুতঃ সাম্প্রদায়িক ভাবে উক্ত হয় নাই! ভগবানের যে নাম বা যেরূপ শ্রীশ্রীনাম রসায়ন যাহার ইষ্ট তিনিই তঁাহার রাম”! যাহার যিনি ইষ্ট এবং যেভাবে ভজনা করেন তাহাই তাহার সর্বোত্তম ! যদি দেবতাগণের শ্রেষ্ঠত্ব নিকৃষ্টত্ব না থাকে তাহা হইলে পুরাণে ইহার উল্লেখ দেখা যায় কেন? এ প্রশ্ন স্বাভাবিক তদুত্তরে সনাতন ধর্মের প্রাণ বঙ্গবাসীর মহাস্তম্ভ স্বরূপ পূজনীয় পণ্ডিত প্রবর পঞ্চানন তর্করত্ন মহাশয় তাহার সম্পাদিত দেবীভাগবৎ গ্রন্থের ভুমিকায় যাহা লিখিয়াছেন তাহাই বিবৃত করিতেছি। ; “পুরাণে দেব নিন্দা বা দেবতা বিশেষের মহিমার নুনতা এবং আধিক্য বর্ণনা দেখিয়া যিনি অন্তরে দুঃখিত বা আনন্দিত হন তিনি দেবত বিশেষের ভক্ত হইলেও পুরাণের মৰ্ম্মজ্ঞ নহেন। দেব নিন্দায় বা দেবতা বিশেষের মহিমার অপকর্ষ বর্ণনায় পুরাণের তাৎপৰ্য নহে, উপাস্যের প্রতি উপাসকের অবিচলিত ভক্তি একাগ্র নিষ্ঠা স্থাপনই পুরাণের প্রকৃত উদ্দেশ্য ; তাহাই চিত্তশুদ্ধির একমাত্র উপায়। এই কথাগুলির প্রতি শ্রদ্ধা রাখিয়া পুরাণ পাঠ করিলে, পাঠকের সাম্প্রদায়িকতা নিবন্ধন রাগবেষের বশবর্তী হইতে হয় না।” এতদ্বারা বলা হইল উপাস্যের প্রতি উপাসকের অবিচলিত ভক্তি একাগ্র নিষ্ঠা স্থাপনই পুরাণের প্রকৃত উদ্দেশ্য ; অন্য দেবতার বিদ্বেষ অথবা দেবতান্তরের কুৎসা করিবার প্রসােজক পুরাণ ; নহেন। প্রণিধান পূর্বক বেদ পুরাণাদি শাস্ত্র পাঠ করিলে বেশ বুঝিতে পারা যায় সকল শাৱেই একজনের কথা বলিতেছেন। যে শাস্ত্রে যাহার প্রাধান্য বর্ণনা করা হইয়াছে সেই শান্তেই সেই দেবতাই
১৬
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন
বলিতেছেন ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর আমরা অভিন্ন। প্রথমে রুদ্র
সম্বন্ধে দেখাইতেছি-
যং পরং ব্রহ্ম স একো যঃ এক
স রুদ্রে। যাে রুদ্র স ঈশানাে য ঈশানঃ
স ভগবান্ মহেশ্বরঃ । অথব্ব শির উপনিষদ
যা উমা সা স্বয়ং বিষ্ণু যে বিষ্ণুঃ সহি চন্দ্রমা।
'যে নমস্যন্তি গােবিন তে নমস্যন্তি শঙ্করম্।
যেহচঁয়ন্তি হরিংভক্ত্যা তেহয়ন্তি বৃষধ্বজম্।
যে দ্বিষন্তি, বিরুপাক্ষং তে দ্বিষস্তি জনম্ ।
যে রুদ্রং নাভিজানন্তি তে ন জানন্তি কেশবম্ ।
রুদ্ৰহৃদয়ােপনিষৎ
যিনি পরম ব্রহ্ম তিনি এক, যিনি এক তিনি রুদ্র, যিনি রুদ্র তিনি
ঈশান, যিনি ঈশান তিনি ভগবান্ মহেশ্বর।
রুদ্ৰ সৰ্ব্বদেবাত্মক, সমস্ত দেবতা শিবাত্মক, রুদ্রের দক্ষিণ
পার্শ্ব অগ্নি, বাম পার্শ্বে উমা বিষ্ণু সােম।
যিনি উমা তিনি স্বয়ং বিষ্ণু যিনি বিষ্ণু তিনি চন্দ্রমা যিনি
গােবিন্দকে প্রণাম করেন তিনি শঙ্করকে প্রণাম করেন। যিনি
হরিকে ভক্তি সহকারে পূজা করেন, তিনি বৃষধ্বজকেই পূজা
করিয়া থাকেন, যিনি বিরুপাক্ষ মহাদেবকে দ্বেষ করেন তিনি
হরিকেই দ্বেষ করেন। যিনি রুদ্রকে জানেন না তিনি কেশবকে
জানেন না।
শিবগীতায়-
সৰ্ব্ব ধর্ম পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।
অহং ত্বং সর্ব পাপােভ্যো মােক্ষয়িষ্যামি মাশুচঃ। ১৯৪৩
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন
;
শিব পুরাণ কাশীখণ্ড প্রভৃতিতে অশেষ ভাবে শিবমাহাত্ম্য বণিত
হইয়াছে কিন্তু সেই কাশীখণ্ডে দেখা যায়-
যথাহং ত্বং তথা বিষ্ণু যথাস্তু, তথা হুমা।
উমা যথা তথা গঙ্গা চতুঃ রূপংন ভিতে।
বিষ্ণু ৰুদ্ৰান্তরঞ্চৈব গৌৰ্যোরন্তরং তথা।
গঙ্গা গৌৰ্য্যন্তরঞ্চৈব যাে ব্রুতে মূঢ়ধীসঃ ।
শিব বলিতেছেন হে পাৰ্বতী আমি যেমন তুমিও সেই প্রকার।
বিষ্ণু যেমন তুমি উমাও তদ্রুপ ; উমা যেমন গঙ্গাও তেমন ! এই
চারিটী রূপের ভেদ নাই। যে ব্যক্তি বিষ্ণু রুদ্র শ্রীগৌরী,
ও গঙ্গা গৌরী পৃথক্ বলে সে মূঢ়বুদ্ধি।
গােপাল পূৰ্ব তাপিনীতে কথিত হইয়াছে
‘মুনয়াে হবৈ ব্রাহ্মণমুচু। ক; পরমাে
কুতে মৃত্যু
বিড়ভতি। ক বিজ্ঞানে নাখিলং বিজ্ঞাতং ভবতি কেনেদং বিশ্ব
সংসরতীতি। তদু হােবাচ ব্রাহ্মণঃ ; কৃষ্ণো বৈপরম দৈবতম্ ।
গগাবিন্দান্মত্যুবিভেতি গােপীজন বল্লভ জ্ঞানেনৈত বিজ্ঞাত
স্বাহেদং বিশ্বং সংসরতি।”
ভাবার্থ:--
মুনিগণ ব্রাহ্মণকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন কে পরম দেবতা।
কাহা হইতে মৃত্যু ভীত হয়? কাহাকে জানিলে অখিল বিশেষ ভাবে
জানা যায় ? কঁাহার দ্বারা এই বিশ্ব সম্যক প্রবত্তিত হইতেছে ?
ব্রাহ্মণ বলিয়াছিলেন কৃষ্ণই পরম দেবতা, গােবিন্দ হইতে মৃত্যুভীত
১৮ শ্রীশ্রীনাম রসায়ন হয়, গােপীজন বল্লভকে জ্ঞাত হইলে এই সমস্ত জানা যায় স্বাহা দ্বারা ইহা সংসৃত হইতেছে। শ্রীমদ্ভগবদ গীতায় অষ্টাদশােহধ্যায়ে শ্রীভগবান বলিয়াছেন। সৰ্ব্বধৰ্ম্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ। অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মােক্ষয়িষ্যামি মাশুচঃ । শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীগােবিন্দের লীলা বিশেষ ভাবে বর্ণিত ও সর্বত্র তাহারই প্রাধান্য ঘােষিত হইয়াছে। সেই শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীভগবান বলিতেছেন- অহং ব্রহ্মাচ শৰ্ব্বশ্চ জগতঃ কারণং পরম্। আত্মেশ্বর উপদ্রষ্টা স্বয়ংদৃগবিশেষণঃ ॥ ৫০ আত্ম মায়াং সমাবি সােহহং গুণময়ীংবিজ । সৃজন রক্ষন্ হন্ বিশ্বং দপ্ৰসংজ্ঞা ক্রিয়ােচিতাম্ ॥ ৫১ তস্মিন্ ব্ৰহ্মণ্যদ্বিতীয়ে কেবলে পরমাত্মনি। ব্ৰহ্মরুদ্ৰৌ চ ভূতানি ভেদেনাহেনু পশ্যতি ॥ ৫২ ৪। অধ্যায় আমি ব্ৰহ্মা ও শিব আত্মেশ্বর উপদ্রষ্টা স্বয়ং দৃগ, অবিশেষণ, জগতের পরম কারণ স্বরূপ! সেই আমি গুণময়ী আত্মমায়া আশ্রয়ে বিশ্ব সৃজন পালন নাশ কাৰ্যে তত্তৎ ক্রিয়ােচিত অর্থাৎ সৃজন কর্মে ব্রহ্মা, পালন ও সংহার কাৰ্যে বিষ্ণু এবং রুদ্র, সংজ্ঞা
ঐশ্রীনাম রসায়ন
১৯
ধারণ করি। সেই কেবল অদ্বিতীয় পরমাত্মা ব্রহ্মে ব্রহ্মা রুদ্রও
ভূত সকলকে অজ্ঞ ব্যক্তিই পৃথক ভাবে দর্শন করে।
দেব্যুপনিষৎ
হরি ওঁ সৰ্বে বৈ দেব দেবী মুপতস্তু
কাসি ত্বং মহা দেবি। সাব্ৰবীদহ ব্ৰহ্ম স্বরূপিণী ।
মত্তঃ প্রকৃতি পুরুষাত্মকং জগচ্ছন্যং চাশূন্যংচ।
অই মানলা নানাঃ। বিজ্ঞানাবিজ্ঞানে অহম
ইত্যাদি ।
ভাবার্থঃ-
সমস্ত দেবতাগণ দেবীর নিকট উপস্থিত হইয়া জিজ্ঞাসা
করিলেন হে মহাদেবী! আপনি কে? তিনি বলিয়াছিলেন আমি
ব্রহ্ম স্বরূপিণী ! আমা হইতে প্রকৃতি পুরুষাত্মক জগৎ, শূন্য
অশূন্য ও আমা হইতে । আমি আনন্দ। অনানন্দা আমি বিজ্ঞান
আমি অবিজ্ঞান।
শ্রীভগবতী গীতায়
মনুষ্যাণাং সহষুে কশ্চিদষততিসিদ্ধয়ে ।
তেমপি সহস্রেষু কোহপি মাংবেত্তি তত্ত্বতঃ ॥ ৩
রূপং মে নিলং সূক্ষ্মং বাচাতীত সুনির্মলং।
নিগুণং পরমংজ্যোতি সর্বব্যাপপ্যক কারণং।
নির্বিকল্পং নিরালম্বং সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ।
ধ্যেয়ং মুমুভি স্তাত দেহবন্ধ বিমুক্তয়ে ॥৪
২। নাম রসায়ন হে তাত! সহস্র মনুষ্যের মধ্যে কোন ব্যক্তি সিদ্ধি লাভেচ্ছায় যত্ন করে। সেই সহস্র ব্যক্তির মধ্যে কোন ব্যক্তি স্বরূপত আমাকে জানিতে পারে ! আমার নিষ্কল সূক্ষ্ম সুনির্মল বাক্যাতীত নিগুণ পরম জ্যোতি সৰ্বব্যাপী একমাত্র কারণ বিকল্প শুন্য আধারহীন নিত্যজ্ঞান আনন্দ বিগ্রহরূপ দেহ বন্ধ বিমুক্তির জন্য অর্থাৎ দেহাত্ম বােধ নাশের জন্য মুমুক্ষুগণের ধ্যাতব্য। দেবী ভাগবতে তৃতীয় ঋদ্ধে ৩০ অধ্যায়ে কথিত হইয়াছে। ত্রিভুবনে যাহা কিছু সদ অসৎ বস্তু আছে সেই সকলের যিনি শক্তি রূপিণী তাহার উৎপত্তি কোথা হইতে হইবে ? যখন ব্রহ্ম। বিষ্ণু রুদ্র দিবাকর ইন্দ্রাদি দেবতাসকল ধরা ধরাধর কিছুই ছিল না, সেই সৃষ্টির আদিতে এই নিগুণ পরমা প্রকৃতি পরম পুরুষের সহিত সংযুক্ত হইয়া বিহার করিতেন! তাহার পর ইনি সগুণারূপে ভুবন লয় সৃষ্টি করেন ; ব্রহ্মাদি দেবগণকে সৃষ্টি করিয়া তাহাদের শক্তিদান করেন, ইহাকে বিদিত হইলে জগণ জন্ম সংসার বন্ধন হইতে মুক্ত হয়। ইনি পরমা বিদ্য। বেদান্থা বেদকারিণী। ইত্যাদি। দেবী ভাগবতে নবম স্কন্ধে দেখা যায় নিত্যেচ্ছাময় শ্রীকৃষ্ণের সজনে ইচ্ছাবশত সেই ঈশ্বরী মূল প্রকৃতি সহসা আবির্ভূত হইলেন এবং তাহার আজ্ঞানুসারে অথবা ভক্তের অনুরােধে সৃষ্টি কার্যে পঞ্চভাগে বিভক্ত হইলেন। ব্রহ্মাদি দেবগণ মুনিগণ ও মনুগণ ইহারা সেই ভক্তানুগ্রহকারিণী গণেশ জননী শিবরূপিণী শিব- পত্নী নারায়ণী, পূর্ণ ব্ৰহ্ম স্বরূপিণী বিষ্ণুমায়া ব্রহ্মারূপা সনাতনী, সকলের অধিষ্ঠাত্রী দেবী দুর্গাকে নিরন্তর পূজা করেন। ১২-১৫। প্রথম অধ্যায় শ্রীশ্রীনাম রসায়ন “সূৰ্য্যাদ বৈ খঘিমানি ভূতানি জায়ন্তে। সূৰ্য্যাদ যজ্ঞ পর্জন্যোৎন্নমাত্মা নমস্ত আদিত্য। মেব প্রত্যক্ষং কৰ্ম্ম কৰ্ত্তাসি । হমেব প্রত্যক্ষং বহ্মাসি, ত্বমেব প্রত্যক্ষং বিষ্ণুরসি মেব প্রত্যক্ষ রুদ্ৰোহসি” ইত্যাদি। সূৰ্যোপনিষং গণপত্যুপনিষদ্ বলিয়াছেন— “মানন্দময় স্বং ব্রহ্মময়। ত্বং সচ্চিদানন্দা দ্বিতীয়ােহসি ত্বং প্রত্যক্ষং ব্রহ্মাসি । ত্বজ্ঞানময়ে। বিজ্ঞানময়ােহসি। সর্লং জগদিদং ততো জায়তে। সৰ্ব্বং জগদিদং বস্তিষ্ঠতি। সং জগদিদং ত্বয়ি লয় মেষ্যতি । সৰ্ব্ব জগদিদং ত্বয়ি প্রত্যেতি ত্বং ব্রহ্মা ত্বং বিষ্ণু স্বং রুদ্র কৃমি স্বমগ্নি স্বং বায়ু স্বং সূৰ্য স্ব চন্দ্রমা ত্বং ব্রহ্ম ভূভুব স্বরােম্” ইত্যাদি । নির্বাণ তন্ত্র- মহারুদ্রঃ স এবাত্মা মহাবিষ্ণুঃ স এবহি । মহা ব্রহ্মা স এবাঝা নাম মাত্র বিভেদকঃ ॥ এক মূর্তি প্রিনামানি ব্ৰহ্ম বিষ্ণু মহেশ্বরা। নানা ভাবে মনােষস্য তস্য মােক্ষোনবিদ্যতে ॥ কেচি বদন্তি স ব্রহ্মা কেচি বিষ্ণু প্রকথ্যতে। কেচি রুদ্রো মহাপূৰ্ব একোদেৰৰ নিরঞ্জনঃ। রুদ্র যামল উত্তরখণ্ড একমূর্তিয়াে দেবা ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরা। মম বিগ্রহ সংক্রপ্তা সত্যবতি হন্তি চ।
২২
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন
এই সকল শ্রুতি পুরাণাদি শাস্ত্র কি এক জনেরই কথা
বলিতেছেন না? তথাপি বিদ্বান্ শিব ভক্তের বিষ্ণুর পরমেশ্বরত্ব
প্রমাণে পুরস্কার ঘােষণা করার কথা শ্রবণ করা যায়।
বিষ্ণু ভিন্ন মুক্তি দাত্রীত্ব কাহারও নাই, একথা কোন কোন
পণ্ডিত বৈষ্ণবও বলেন শিব শক্তির নিন্দা করিতে ও কুষ্ঠিত
হন না। ইহার কারণ কিছু বুঝিতে পারি না। যাঁহাদের
শাস্ত্র দেখিবার যােগাযােগ হয় না সেই ভক্তগণের প্রতি নিবেদন
গুরুদত্ত ইষ্ট মন্ত্র দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করিয়া থাকুন কাহারও
কথা শুনিবার প্রয়ােজন নাই আপনার ইষ্ট মন্ত্রই আপনাকে
মহাভাব আনিয়া দিবেন।
উঠিতে বসতে খাইতে শুইতে সর্বদা রাম রাম করিলে যে
তঁাহার কৃপা লাভ করা যায়, এ সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নাই।
ভগবৎ কৃপা প্রার্থী ইহা পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারেন।
যিনি রাম রাম করিবেন তিনি রাম হইয়া যাইবেন, যিনি শিব
শিব অথবা কৃষ্ণ কৃষ্ণ কিম্বা দুর্গা দুর্গা যাহা জপ করিবেন তিনি
তাহাই হইয়া যাইবেন। এ শাস্ত্র বাণী অভ্রান্ত সত্য।
বিদ্যাপতি ঠাকুর আমার শ্রীমতীর কথা বলিয়াছেন।
অনুখন, মাধব,
মাধব সােঙরিতে
সুন্দরী ভেলি মাধাই।
ও নিজ ভাব
স্বভাবহি বিছুরল
আপন গুণ লুবধাই ।
মাধব! অপরূপ তােহারি সুনেহ।
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন
২৩
আপন বিরহে
আপন তনু জর জর
জীব ইতি ভেল সন্দেহ!
ভােরহি সহচরি
কাতর দিঠি হেরি
ছল ছল লােচন পানি।
অনুখন রাধা
রাধা রট তঁহি
আধ আধ কহুবাণী ।
ঐমতী অনুক্ষণ মাধব মাধব জপ করিতে করিতে আপনাকে
ভুলিয়া যাইলেন। আপনার ভাব স্বভাব আর কিছু মনে নাই ;
মাধব হইয়া গিয়া রাধার বিরহে ছলছল নয়নে আধ আধ গদ গদ
স্বরে রাধা রাধা ঘােষণা করিতে লাগিলেন।
মরি মরি কি ভালবাসা ! এমন ভাবে অনুক্ষণ স্মরণ করিলে
মাধব কি দূরে থাকিতে পারেন ?
পরিশেষে নিবেদন, শুনিয়াছি ভক্তের কৃপা হইলে শ্রীভগবানকে
লাভ করা যায়! শ্রীভগবান, ভক্তকে অত্যন্ত ভাল বাসেন
নাম গুণ কীৰ্ত্তনেও মানুষ কৃতার্থ হয়। আত্মশুদ্ধির
জন্য এই নাম রসায়নখানি ১৩৩১ সালে লিপিবদ্ধ করিয়াছিলাম ।
প্রথম ও দ্বিতীয় মাত্রা উৎসব মাসিক পত্রে প্রকাশিত হইয়াছিল।
মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডাক্তার তারক সুর মহাশয়
এখানি মুদ্রিত করিবার ইচ্ছা করিয়াছিলেন কিন্তু ঠাকুরটীর
ইচ্ছা না হওয়ায় তাহা হয় নাই। এই নাম রসায়নে যে সব
ভক্তগণের নাম এবং কাহারও কাহারও যথা জ্ঞান গুণ বর্ণনা
করিয়া আমি ধন্য হইয়াছি, তাহাদের মধ্যে উপস্থিত অনেক
ভক্ত নিত্য লােকে প্রস্থান করিয়াছেন। আমি তঁাহাদের
চরণে প্রণাম করি।
শ্ৰীশ্ৰনাম রসায়ন
গুণ বর্ণনা করিতে যাইয়া ভক্তগণের অমল চরিত্র জিহ্বার
দোষে যদি বিকৃত করিয়া থাকি, ভক্তগণ আমায় ক্ষমা করিবেন
কারণ মাদৃশ ব্যক্তির দোষটা খুবই স্বাভাবিক।
ভক্ত, অভক্ত সরল, শঠ, সকলের চরণে প্রণাম করিয়া
প্রার্থনা করিতেছি আপনারা আমায় আশীর্বাদ করুন যেন
আমি ঐকান্তিকী রাম ভক্তি লাভ করিতে পারি । আর আমার
সীতারামই স্থাবর জঙ্গম সমস্ত রূপ ধারণ করিয়া আছেন,
আমার সীতারাম ভিন্ন আর কিছু নাই ইহা যেন ক্ষণকালের
জন্য বিস্মৃত না হই।
শ্রীরামাশ্রম, ডুমুরদহ
২৩শে আশ্বিন ১৩৪৩
কৃষ্ণানবমী।
নিবেদক
গ্রীসীতারাম দাস
প্রবােধ--
ঐশ্রীগুরবে নমঃ।
মঙ্গলাচরণং
শ্রীমৎ পরং ব্রহ্ম গুরুংবদামি
শ্রীমৎ পরং ব্রহ্ম গুরুং ভজামি ।
শ্রীমৎ পরং ব্রহ্ম গুরুং রামি
শ্রীমৎ পরং ব্রহ্ম গুরুং নমামি ।
অধােন উদ্ধং ন শিব ন শক্তিঃ
পুমান, ন নারী ন চ লিঙ্গ মূর্তি।
ব্রহ্মা ন বিষ্ণু নচদেবরুদ্ৰো
তস্মৈ নমাে ব্রহ্ম নিরঞ্জনায় ।
যং শৈবাঃ সমুপাসতে শিব ইতি ব্রহ্মেতি বেদান্তিননা
বৌদ্ধা বুদ্ধ ইতি প্রমাণ পটবঃ কৰ্ত্তেতিনৈয়ায়িকা।
অহত্যিথ জৈন শাসন রতা কৰ্ম্মেতি মীমাংসকাঃ
সােহয়ং বব বিদধাতু বাঞ্ছিত ফলং ত্রৈলােক্যনাথাে হরিঃ।
কন্তু রিকা চন্দন লেপনায়ৈ
সশান ভঙ্গবিলেপনায়।
সৎ কুণ্ডলায়ৈ ফণি কুণ্ডলায়
নমঃ শিবায়ৈ চ নমঃ শিবায়।
শ্ৰীশ্ৰনাম রসায়ন
নীলাম্বুজ শ্যামল কোমলাঙ্গং
সীতা সমারােপিত বাগম্ ।
পাণে মহাশায়ক চারু চাপং
নমামি রামং রঘুবংশ নাথ।
নব জলধর বিদ্যুদ্দোতবর্ণে প্রসঙ্গে
বদন নয়ন পদ্মৌচারুচন্দ্রাবতংসৌ।
অলক তিলক ভালো কেশ বেশ প্রফুল্ল
ভজ ভজতু মনােরে রাধিকা কৃষ্ণচন্দ্রে।
কূজন্তং রাম রামেতি
মধুরং মধুরাক্ষরং।
আৰু কবিতা শাখাং বলে বাল্মীকি কোকিলম্ ।
ব্যাসং বশিষ্ঠ নপ্তারং শক্তে: পৌত্রমকল্মষম্ ।
পরাশরাত্মজং বলে শুকতাতংতপোনিধিম,।
যঃ স্বানুভাব মখিল শ্রুতিসারমেক।
মধ্যাত্মদীপ মতি তিতীর্ষং তমােন্ধ ।
সংসারিণাং করুণয়াহ পুরাণ গুহ্য
তৎব্যাসঃ মুপমি গুরুং মুনীনা।
শ্রুতি স্মৃতি পুরানমালয়ং করুণালয়ম, ।
নমামি ভগবৎ পাদং শঙ্কর লােক শঙ্করম।
নমামি রামানুজ পাদ পঙ্কজ,
বদামি রামানুজ নাম নির্মলম।
স্মরামি রামানুজ দিব্য বিগ্ৰহম,
করােমি রামানুজ দাস দাস্যম, ॥
ঐশ্রীনাম রসায়ন
২৭.
আজানুলম্বিতভুজৌ কনকাবদাতে
সঙ্কীৰ্ত্তনৈক পিরৌ কমলায়তাক্ষে।
বিশ্বম্ভরৌ দ্বিজবরৌ যুগধর্ম পালো
বনে জগৎ পিয়করো করুণাবতারে।
রামং রামানুজং সীতাং ভরতং ভরতানুজম,
সুগ্রীবং বায়ু সুনুঞ্চ প্রণমামি পুনঃ পুনঃ ॥
যত্র ষত্র রঘুনাথ কীর্তনং
তত্র তত্র শিরসা কৃতাঞ্জলিম।
বাষ্প বারি পরিপূর্ণ লােচনম,
মারুতিং নমত রাক্ষসান্তকম, ॥
নারায়ণং নমস্কৃত্য নরঞ্চৈব নরােত্তমম।
দেবীং সরস্বতীং ব্যাং ততােজয়মুদীরয়েৎ ॥
প্রার্থনা
জগৎপতে শ্ৰীশ জগন্নিবাস
প্রভাে জগৎ কারণ রামচন্দ্র।
নমাে নমঃ কারুণিকায় তে সদা
পাহাজ যুগে তবভক্তির মে।
মনাে মিলিন্দ স্তব পাদ পঙ্কতে
রমাক্ষিতে সংরমতাং ভবেভৰে।
যশঃ শ্ৰতেতে মম কর্ণযুগ্মম,
হুদি ভক্ত সঃ সততং মমাত্ত ।
মাে সমদন ন দীন হিত
তুম সমান রঘুবীর।
অশ বিচারি রঘুবংশমণি
হরহু বিষম ভবভীর।
কামী হিনারী পিয়ারী জিমি
লােভি কে প্রিয় দাম।
তিমি রঘুনাথ নিরন্তর
প্রিয় লাগহু মােহি রাম ।
যাচে য়ি ভক্তি মননিঠাং
যাচে ভব ভক্তগণৈঃ সুসঙ্গম্ ।
যাচে বৎ পাদ সমােজ বাজে
চিত্ত বিরেফো নিতঃ সদান্ত।
No text on this page.
পূজ্যপাদ শ্ৰীযুক্ত রামদয়াল মজুমদার
উৎসর্গ
পরম পূজনীয়
যুক্ত রাম দয়াল মজুমদার মহাশয়
শ্রীচরণ কমলেষু
দয়াময় ঠাকুর! এ নাম রসায়ন আপনার
দেওয়া অমৃত আপনি গ্রহণ
করত প্রীত হউন।
সেবক
শ্রীসীতারাম দাস
রামপ্রম, ডুমুরদ।
২৩শে আশ্বিন ১৩৪৩।
কৃষ্ণানবমী
প্রবোধ
সীতারামতত্ত্ব
রাম: সাক্ষাৎ পরং জ্যোতি পরং ধাম পরং পুমান্ ।
আকৃতে পরমােভেদো ন সীতারাময়াের্যতঃ ।
জানকী প্রকৃতিঃ সৃষ্টিরাদিভূতা সনাতনী।
তপঃসিদ্ধি স্বর্গসিদ্ধি ভূতি ভূতিমতাং সতী।
অদ্ভুত রামায়ণ
রাম এব পর ব্রহ্ম রাম এব পরাৎপরম।
রাম এব পরং তত্ত্বং রাম রকম।
শ্রীরামরহস্যোপনিষৎ
নতৎ পুরাণম ন হি ষত্র রামমা
যাং ন রামাে নহি সংহিতাসা ।
স নেতিহাসসা নহি যত্র রামঃ
কাব্যং ন তৎস্যান্নহি যত্র রামঃ।
শাস্ত্ৰং নতৎস্যায়হি যত্র রাম
তীর্থং ন ত যত্ৰ নরামচন্দ্র।
যাগঃ স আগে নহি যত্র রামঃ ।
যােগঃ স মােগাে নহি যত্র রাম।
রাম রামমতি রামেতি রমে রামে মনােরমে।
সহ নাম তন্তু ল্যং রাম নাম বরাননে।
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন রামঃ সীতা জানকী রামভদ্রা, ন ভেদো বৈ হেয়ােরন্তিকশ্চিৎ। সতত বুদ্ধাতত্ত্বমেত বিবৃদ্ধা, পারং যাতাঃসংস্কৃতে মৃত্যুবৎ ॥ ২৪ রামােংচিন্ত্যো নিত্য চিৎসৰ্বসাক্ষী সৰ্বান্তঃস্থ সৰ্ব্বলৌকৈক কর্তা। ভর্তা হৰ্তান মুক্তি বিভুব। সীতাষােগাচ্চিত্যতে যােগিভিঃ সঃ ২৫ অপাণি পাদো জবননা গ্রহীতা পত্যচক্ষুঃ স শৃণােত্যকর্ণ । স বেক্তি বিশ্বং নহি তস্য বেত্তা তমারগ্র্যং পুরুষং পুরাণম, ॥ ২৬ তয়ােঃ পরং জন্ম উদাহরিষ্যে যয়াের্যথা কারণ দেহ ধারিণাের। অরূপিণাে রূপ বিধাৰণং পুনঃ নৃণামহােহনুগ্রহ এব কেবলম, ॥ ২৭ অদ্ভূত রামায়ণ।
@@ীগুরবে নমঃ।
শ্রীরাম শব্দের ব্যুৎপত্তি।
রমু ক্রীড়াদিযু ইতি রম ধাতে। রাম শব্দ সিধতি ।
রম ধাতু ক্রীড়র্থক তাহা হইতে রাম শব্দ সিদ্ধ হয় ।
রমন্তে লােকা অত্র ইতি রামঃ।
লােক সকল ইহাতে রমণ করে এই জন্য ইনি রাম।
রময়তিলােকা ইতি রাঃ।
লােক সকলকে রমণ করান এইজন্য ইনি রাম ।
রমন্তে যােগিনােহর ইতি রাম: ।
যােগীগণ ইহাতে রমণ করেন বলিয়া ইনি রাম।
রময়তি মােদয়তি সৰ্বান, ইতি রামঃ।
সকলকে আনন্দিত করাইয়া থাকেন বলিয়া ইনি রাম।
রময়তি জন্মাদি দাতৃত্বে দেয়তি ভুতানি ইতি রাম।
ভুত সকলকে জন্ম স্থিতি নাশ দাতৃত্বের দ্বারা ক্রীড়া করান
বলিয়া রাম।
রা শলো বিশ্ববচনাে মশ্চাগীশ্বর বাচক।
বিশ্বনামীখনােযােহি তেন রাম প্রকীত্তিতঃ।
শ্রীনাম রসায়ন
রা শব্দের অর্থ বিশ্ব, মকার ঈশ্বর বাচক যিনি বিশ্বের
ইশ্বর তিনি রাম বলিয়া কীৰ্ত্তিত হয়েন।
রাচেতি লক্ষ্মীবচনাে মশ্চাপীশ্বর বাচক।
লীপতিং গতিং রামং প্রবদন্তি মনাষিণঃ ।
রা লক্ষ্মী বাচক, মকার ঈশ্বর বাচক এইজন্য মনীষিগণ
রামকে লক্ষ্মীপতি গতি বলেন ।
ও চিন্ময়েহস্মিন্ মহাবিষ্ণৌ জাতে দশরথেহরো।
রঘােঃকুলেংখিলংরাতি রাজতে যাে মহীস্থিত ।
স রাম ইতি লােকেষু বিদ্বদ্ভিঃ প্ৰকটীকৃত।
–শ্রীরাম পূৰ্ব্বতাপিনী।
এই চিন্ময় মহাবিষ্ণু হরি দশরথ হইতে উৎপন্ন হইয়া রঘুকুলে
অখিল দান করেন। যিনি পৃথিবীতে থাকিয়া শােভা পান
বিদ্বানগণ তিনি রাম ইহা জগতে প্রচার করিয়াছেন।
রাক্ষসা যেন মরণং যান্তি থােদ্রেকতােহথবা ।
রাম নাম ভুবিখ্যাত মভিরামেণ বা পুনঃ।
-শ্রীরাম পূৰ্ব্বতাপিনী ।
রাক্ষসগণ যাহার দ্বারা অথবা যাহার আবির্ভাবে মৃত্যু প্রাপ্ত
হইয়াছিল, যিনি রাম নামে পৃথিবীতে খ্যাত হইয়াছেন, অথবা
অভিরাম (রমণীয়) হেতু রাম নামে কথিত হয়েন।
যস্মিন্ মন্তে মুনয় বিজ্ঞান বিপ্লবে ।
তং গুরুহ রামেতি রমণাত্ৰাম ইত্যপি ।
অধ্যাত্ম রামায়ণ।
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন
অজ্ঞান বিপ্লবে মুনিগণ যাহাতে বিদ্যার রা রমণ করেন,
তাহাকে গুরু বশিষ্ঠদেব রাম বলিয়াছিলেন।
রমণ হেতুও রাম।
রমন্তে যােগিনােহনন্তে নিত্যাননে চিদাত্মনি।
ইতি রামপদেনাসৌ পরংব্ৰহ্মাভিধীয়তে।
শ্রীরাম পূৰ্বপিনী।
অনন্ত নিত্যানন্দময় চিদাত্মায় যােগিগণ রমণ
করেন
এইজন্য রাম পদের দ্বারা রাম পরব্রহ্ম বলিয়া অভিহিত হয়েন।
ধৰ্ম্মমার্গং চরিত্রেণ জ্ঞান মার্গং চ নামতঃ
তথা ধ্যানেন বৈরাগ্য মৈশ্বৰ্যং স্বস্ত পূজনাৎ ।
তথা রাত্যস্ত রামাখ্যাডুবি স্যাদথ তত্ত্বতঃ।
রামপূর্বপিনী ।
র-নারায়ণ; অনিগুণং ম মহালাদাভিদায়িণী ।
রবিজ্ঞান : অজ্ঞান ; ম-পরমাভক্তি
র-চিৎ-জ্ঞান ; অসৎ ; ম-আনন্দ
র—অগ্নিবীজ; অ—ভনুবীজ ম চন্দ্র বীজ
মহারামায়ণ
ঐশ্রীগুরবে নমঃ।
রাম নাম মাহাত্ম।
সীতারাম
রাম এব পরং ব্রহ্ম রাম এব পরাৎপরম ।
রাম এব পরং তত্ত্বং শ্রীরাম ব্রহ্ম তারকম ।
--শ্রীরাম রহস্যোপনিষৎ
রামই পরম ব্রহ্ম, রামই পরাৎপর, রামই পরম তত্ত্ব, শ্রীরামই
তারকব্রহ্ম ।
সীতারাম
যথৈব বটবীজঃ প্রাকৃত মহাক্রমঃ।
তথৈব রামবীজস্থং জগদেতচ্চরাচরম।
—রাম পুৰ্ব্বতপিপনিষৎ ।
যেরূপ প্রাকৃত,মহান বটবৃক্ষ বটবীজে অবস্থান করে, সেইরূপ
এই চরাচর জগৎ রামবীজে অবস্থিত আছে।
সীতারাম
জপতঃ সৰ্ব্ববেদাংশ্চ সৰ্ব্বমন্ত্রাংশ্চ পার্বতি।
তস্মাৎ কোটি গুণং পুণ্যং রাম নামৈব লভ্যতে।
ঐশ্রীনাম রসায়ন
প্রাণ প্রয়াণ সময়ে রাম নাম সৎস্মরেৎ। .
সভিত্তা মণ্ডলং ভাননাঃ পরংধামাভিগচ্ছতি ॥
হে পাৰ্বতি, সৰ্ব্ববেদ সৰ্বমন্ত্র জপ হইতে কোটিগুণ পুণ্যম
নামের দ্বারাই লাভ করা যায়। প্রাণ প্রয়াণ সময়ে যে ব্যক্তি
একবার রাম নাম স্মরণ করে, সে সূৰ্য্যমণ্ডল ভেদ করত পরম
ধামে গমন করিয়া থাকে।
সীতারাম
জ্ঞানাং পরমং জ্ঞানং ধ্যানানাং পরমােলয়ঃ ।
বােগানাং পরমাে যােগাে রামনামানুকীৰ্ত্তনম, ।
-শাতাতপ স্মৃতি।
জ্ঞান সমূহের মধ্যে পরম জ্ঞান, ধ্যানের মধ্যে পরম লয়,
যােগের মধ্যে পরম যােগ রাম নাম কীর্তন।
সীতারাম
বেদানাং সার সিদ্ধান্তং সর্ব সৌখ্যৈক কারণ।
রাম নাম পরং ব্রহ্ম সর্বেষাং প্রেমদায়ক।
মার্কণ্ডেয় পুরাণ।
বেদসকলের সার সিদ্ধান্ত, সমস্ত সুখের একমাত্র কারণ,
সকলের প্রেম দায়ক পরম ব্রহ্ম রাম নাম।
সীতারাম
সৰ্বে হবতারাঃ শ্রীরাম নাম শক্তি সমুঃবাঃ।
সত্যংৰদামি দেবেশি নাম মাহাত্মমতম্ |
পুরাণ।
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন
৩৭
সমস্ত অবতার শ্রীরাম নাম শক্তি হইতে উৎপন্ন, হে দেবেশি
অদ্ভুত নাম মাহাত্ম আমি সত্য বলিতেছি।
সীতারাম
ধোয়ং জ্ঞেয়ং পরং সেব্যং রাম নামাক্ষরংমুনে।
সর্ব সিদ্ধান্ত সারংহি সৌখ্য সৌভাগ্য কারণম্ ।
মৎস্যপুরাণ ।
হে মুনে রাম নামাক্ষর ধ্যাত, জ্ঞেয়, উত্তম সেবনীয় ইহা
সৌখ্য সৌভাগ্যের কারণ ও সর্ব সিদ্ধান্তের সার।
সীতারাম
রাম নাম প্রভা দিব্যা বেদ বেদান্ত পারগাঃ।
যেং স্বান্তে সদাভান্তি তে পূজা ভুবনয়ে।
ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ।
রাম নামের অলৌকিকী প্রভা বেদ বেদান্তের পার গামিনী,
যাঁহাদের হৃদয়ে সর্বদা দীপ্তি পায়, তাহারা ত্রিভুবনের
পুজণীয়।
সীতারাম
স্মরণাৎকীর্তনাচ্চৈব শ্রবণাল্লেখনাদপি।
দর্শনাঙ্কারনাদেব রামনামাখিলেষ্টদম্।
—বৃহন্নারদীয় পুরাণ।
অরণ, কীর্তন, শবণ, লিখন, দর্শন, ধারণ করিলেও রাম নাম
অখিল ইষ্ট দান করিয়া থাকেন।
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন
সীতারাম
সর্বদা সৰ্ব্ব কালেষু যে চ কুৰ্ব্বন্তি পাতকম ।
রাম নাম জপংকৃত্বা যান্তি ধাম সনাতন।
নান্দি পুরাণ।
সর্বত্র সর্বকালে যাহারা পাপ করে, তাহারা রাম নাম
জপ করত সনাতন পরমধামে গমন করে।
সীতারাম
শ্রীরামেতি মনুষ্যা যঃ সমুচ্চরতি সর্বদা।
জীবন্মুক্তো ভবেৎসােহি সাক্ষাৎ রামাত্মক: সুধী।
আঙ্গিরস পুরাণ।
যে মানব সৰ্ব্বদা ঐরাম এই নাম উচ্চারণ করেন, সেই
সাক্ষাৎ রাম স্বরূপ বিদ্বান জীবন্মুক্ত হয়েন।
সীতারাম
কুৰ্ব্ব বা কারয়ন বাপি রাম নাম জপথ।।
নী কুল সহস্রানি পরং ধামাভিগচ্ছতি ॥
আদি পুরাণ।
রাম নাম জপ করিলে অথবা করাইলে সহস্র কুল লইয়া
পরম ধামে গমন করে।
সীতারাম স্বরূপ
সীতারামৌ তন্ময়াবত্ৰ পূজৌ-
জাতান্যাভ্যাং ভুনানি বিসপ্ত।
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন ৩৯ স্থিতানি চ প্ৰহিত্যান্যেতেষু তাে রামাে মানবাে মায়াধা। শ্রীরামপূৰ্বপিপনিষৎ । ভাবার্থ- জগতে পরমব্রহ্মময় সীতারাম পূজনীয় ! চতুর্দশ ভুবন সীতারাম হইতে উৎপন্ন হইয়াছে, অবস্থান করিতেছে, সীতারামেই প্ৰলীন হইবে ! পরমাত্মা স্বরূপ রাম আত্ম মায়ার দ্বারা মানব মূৰ্ত্তি পরিগ্রহ করিয়াছেন। ভগবান ব্রা যে চাপি তে রাম পবিত্র নাম । গৃণন্তি মত্তা লয়কাল এব । অজ্ঞানতাে বাপি ভজলােকাং স্তানেব যােগৈরপি চাধিগম্যম। অধ্যাত্ম রামায়ণ । হে রাম যে সকল মানব লয় কালে অজ্ঞানেও তােমার পবিত্র নাম গ্রহণ করে, তাহারও যােগারা প্রাপনীয় সেই লােকসকল ভজনা করুক। ভগবান বাল্মীকি রাম তন্নম মহিমা বর্ণতে কেন বা কথম্ । যৎপ্রভাবাদাইঃ রাম ব্ৰহ্মর্ষিত্ব মৰাপ্তবান । ১। হে রাম যে নাম প্রভাবে আমি ব্ৰহ্মর্ষিত্ব প্রাপ্ত হইয়াছি। ২। তােমার সেই রাম নাম মহিমা কোন ব্যক্তি কি প্রকারে বর্ণনা করিবে অর্থাৎ কেহই বর্ণনা করিতে পারে না। অধ্যায় রামায়ণ।
শ্রীগুরবে নমঃ
ভগবান্ বশিদে
শ্রীরামেনৈব মুক্ত প্রহসন মুনিরব্রবীৎ।
তৎ পাদ সলিলং ধূ ধন্যোহভূদ গিরিজাপতি।
ব্ৰহ্মাপি মৎপিতা তেহি পাদতীর্থ হতাশুভঃ।
ইদানীং ভাষসে যৎ ত্বং লােকানামুপদেশকৃৎ।
জানামি ত্বাং পরাত্মানং লহ্ম্যা সঞ্জাতমীশ্বর।
দেব কাৰ্যার্থ সিদ্ধার্থ গুহ নােদঘাটয়াম্যহম্।
যথাং মায়য়া সৰ্ব্বং কৰােষি রঘুনন্দন।
তথৈবা বিধাস্যেহহং শিয়ঙ্কং গুরুরপ্যহম্।
গুরুগুরূণাং তং দেব পিণাং ত্বং পিতামহঃ।
অন্তর্যামী জগদ্ধাত্রা বাহকন্তমগােচর।
শুদ্ধ সত্বময়ং দেহং ধূ স্বাধীন সম্ভব।
মনুষ্য ইবলােকেহস্মিন্ ভাসি ত্বং যােগমায় ।
পৌরহিত্যমহং জানে বিগহং দুষ্য জীবনম্ ।
ইাকূণাং কুলে রাম: পরমাত্মা জনিষতে।
ইতি আতং ময়া পূৰ্ব্বং ব্ৰহ্মণা কথিতং পুরা।
ততােহইমাশয় রাম তব সম্বন্ধ কায়া।
অকার্য গহিতমপি তৰাচাৰ্যত্ব সিদ্ধয়ে।
ততাে মনােরথ মেহন্ত ফলিত রঘুনন্দন
বৃদধীন মহামায়া সৰ্ব্ব লােকৈক মােহিনী
মাং যথা মােহছেল্লৈব তথা কুরু রঘুবহ।
গুরু নিষ্কৃতি কাম যদি দেহেতদেবমে।
অধ্যাত্ম রামায়ণ।
ভগবান্ বিশ্বামিত্র
হে নিখিল জনগণ তােমরা ভগবান রাম চন্দ্রকে প্রণাম
কর। তাহা হইলে তােমরা সর্বোৎকর্ষ লাভ করিবে। আমি
আশা করি কেহ কেহ শ্রীরামের ন্যায় জীবন্মুক্ত হইয়া চির সুখী
হইবে। জ্ঞান যেমন মুক্তির কারণ কৰ্ম্মও সেইরূপ মুক্তির
কারণ ইহা শ্রীভগবান রামচন্দ্র নিজে জ্ঞান ও কর্ম পালন করিয়া
লােককে শিক্ষা দিয়াছেন। যাঁহারা ইহার দর্শন নাম স্মরণ
গুণ শ্রবণ এবং ইহার চরিত্রের অনুকরণ করিবে এবং ইহাকে
ভক্তি করিবে, ইনি সেই সমস্ত লােক যেরূপ অবস্থায় থাকুক
না কেন তাহাদিগকে মুক্তিপ্রদান করিবেন। মহাত্মা রামচন্দ্র
ত্রিলােকবাসীর অশেষ কল্যাণ সাধন করিতেছেন।
যােগবাশিষ্ঠ মহামায়ণ শেষ অধ্যায়
শ্রীশ্রীগুরবে নমঃ
গাম
শ্রীরাম পার্বতী সংবাদ
সগুণে সাকার দেহ নিগুণে চৈতন্য।
সগুণে নিগুণে রস ভােতা তুমি ধন্য।
বিলােকে যতেক আছে পুরুষ কি নারী
স্থাবর জঙ্গম স্কুল সূক্ষ্ম আদি করি ।
সত্তি হয়ে রস ভুঞ্জ গােবিন্দাই।
অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ডে এক রাম বই নাই।
তেঁই প্রাণ নাথ তব কিছু জানি তত্ত্ব।
পঞ্চমুখে রাম নাম পাইয়া উন্মত্ত ।
জ্যেষ্ঠপুত্র গণপতি ভজে তব নাম।
কার্তিক সাত্বিক সদা জপে রাম রাম ।
এই রাম নাম মােরে শিক্ষা দিল পতি।
রাম জপি বৈষ্ণবী বলায় এ পার্বতী।
নন্দি মহাকাল মগ্ন শুনি রাম রাম।
বৃষভ করয়ে নৃত্য মত্ত অবিশ্রাম।
নুরু সিঙ্গাতে সদা রাম রাম বলে।
ইলুর ময়ূর সিংহে নাচে কুতুহলে
=
ঐশ্রীনাম রসায়ন
৪৩
মহেশের পরিবার যেখানে যে আছে।
কেবল তােমার নাম ভরস করেছে।
সীতাপতি পার্বতীরে প্রণাম করিল।
শঙ্করী রামের পদে প্রণত হইল।
কৃত্তিবাস
শিব
দেখ দেখ সংসার অসংখ্য জীবময়।
তার মধ্যে হিতে রত কেহ কেহ হয়।
তার কোটী মধ্যে একজন ধর্মপর।
তার কোটী মধ্যেতে মুমুক্ষু এক নর।
তার কোটি মধ্যে একজন হয় মুক্ত।
তার কোটি মধ্যে এক রাম ভক্তি যুক্ত।
হেন রাম ভক্ত যদি হয় কোন জন।
তার গুণে কতলােক পায় বিমােচন।
অতএব সদত বাসনা মাের মনে।
ভক সকল লোেক শ্রীরাম চরণে।
মনুষ্য গগাহত্যা আদি যত পাপ করে।
একবার রাম নামে সর্ব পাপ তরে।
মহাপাপী হয়ে যদি রাম নাম লয় ।
সংসার সমুদ্রে তার মুক্তি লাভ হয়।
মরা মরা বলিতে আইল রাম নাম।
পাইল সকল পাপে দশ পরিত্রাণ।
ঐশ্রীনাম রসায়ন
৪৫
তুলারাশি যেমন অগ্নিতে ভস্ম হয়।
একবার রাম নামে সৰ্ব্ব পাপ ক্ষয় ॥
মৃত্যুকালে রাম নাম করিবে যে জন।
সশরীরে করিবে সে বৈকুণ্ঠে গমন।
চারি বেদ সহস্র নামে যে ফল হয়।
রাম নামে তার কোটিগুণ ফলােদয় ।
রাম নাম লইতে যে করে অভিলাষ।
সৰ্ব পাপে মুক্ত সে বৈকুণ্ঠে করে বাস।
তুলসী দাস গােস্বামী
রাম নাম মণিদীপ ধর জীহ দেহরী বার।
তুলসী ভিতর বাহরাে যে চাহত উজিয়ার।
সকল কামনা হীন যে রাম ভক্তি রস লীন।
নাম প্রেম পীযুষ হৃদ তিনু হু কিয়ে মন মীন।
রাম নামকে কল্পতরু কলি কল্যাণনিবাস।
জো সুমিরত ভয়ে ভাগ্য সে তুলসী তুলসী দাস।
রাম নাম নর কেশরী কণক কশিপু কলিকাল ।
জাপক জন প্রহলাদ জিমি পালহিদল সুরসাল।
বহ কলিকাল মলায়তন মন করি দেখি বিচার।
শ্রীরঘু নায়ক নাম ত্যজি নহি কছু আন অধার।
বারি মথে বৰু হােইঘৃত সিকতাতে বরূতেল।
বিনু হরিভজন ন ভব তরে যহ সিদ্ধান্ত অপেল।
মশকহি করহি বিৰিঞ্চি প্রভু অজহি মশকতেহীন।
জশ বিচাৰি ত্যজ সংশয় রামহি ভজহি প্ৰবীন।
চিত্রকূট সবদিন বসত প্রভু সিয় লক্ষ্মী লখন সমেত ।
রাম নাম জপ জাপকহি তুলসী অভিমত দেত ।
পয় অহাৰ ফল খাই জপু রাম নাম ষট মাস।
সকল সুমঙ্গল সিদ্ধি সব করতল তুলসীদাস।
সগুণ ধ্যান রুচি সরস নহি নিগুণ মনতে দুরি।
তুলসী সুমিরহু রামকো নাম সজীবন মুরি।
ভার্গব শিবরাম কিঙ্কর যােগয়ানন্দ রাম নামের মাহাত্ম সৰ্ব্বশাস্ত্রে বণিত হইয়াছে, যাহারা বলেন, নাম মাহাত্মে বিশ্বাস অল্প বুদ্ধির কাৰ্য ; ইহা অবৈদিক, আমার বিশ্বাস তঁাহারা দুর্ভাগ্য! তাহারা বেদ নাম মাত্র শুনিয়াছেন, বেদের রূপ তাঁহাদের নয়নে পতিত হয় নাই। ঋ বেদে নাম মাহাত্ম বর্ণিত আছে, বহু শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে উক্ত হইয়াছে, যিনি ভক্তি সহকারে রাম নাম কীৰ্ত্তন করেন, তাহার সাঙ্গ সরহ বেদ পাঠত হইয়া থাকে, তাহার সকল যজ্ঞ অনুষ্ঠিত ইর, (সাঙ্গাসরহস্যাপঠিত-বেদরাশয়ঃ । কৃতাশ্চ সকলা যজ্ঞা যেন রামেতি কীর্তিত) লৌকিক ও বৈদিক সকল শব্দই কালে কালে শ্রীরাম নাম হইতে সমুদ্ভূত হয়, শ্রীরাম নামে বিলীন হইয়া থাকে “লৌকিকা বৈদিকাঃ সর্বে শাঃ শ্রীরাম নামত। সমুদ্ভবন্তি লীয়ন্তে কালে কালে নসংশয়ঃ” লােমশ সংহিতা বা পদ্ম পুরাণ) নামের স্মরণ মাত্রে নামী (যাহার নাম স্মৃত হইতেছে তিনি) সম্মুখতা প্রাপ্ত হন; অতএব যাঁহারা শ্রীরামচন্দ্রের দর্শর্নার্থী তাহাদের শ্রীরাম নাম কীর্তন সর্বদা কর্তব্য। পরাৎপর তত্ব, ইহা সাকার নিরাকার উভয়েরই কারণ যিনি সচ্চিদানন্দময় পরমাত্মা শ্রীরামচন্দ্রকে সাকার বা নিরাকার যেভাবে দেখিতে ইচ্ছা করেন, রাম নাম স্মরণ মাত্র তিনি তাহাকে তদ্ভাবেই দেখিয়া থাকেন, ভগবান তদ্ভাবেই তাহার ভক্তকে দেখা দেন (“ নাম স্মরণ মানে নামী সন্মুখতাং লভেৎ। শ্রীরাম নাম ৪ শ্রীনাম রসায়ন তন্ত্রীরাম নাম্নশ্চ কীর্তনং সৰ্ব্বদোচিত”) অএব তুমি সর্বদা রাম নাম জপ করিবে, নিরন্তর রাম নাম জপ করিলে তােমার সৰ্বাভীষ্ট সিদ্ধ হইবে, তােমার জীবন সার্থক হইবে। পূজ্যপাদ গোঁসাইজীও বলিয়াছেন—নিগুণ ও সগুণ অকথনীয় (অনির্বাচ্য) অনাদি অগাধ অনুপম ব্রহ্মার এই দুই স্বরূপ। আমার মতে নিপুণ ও সগুণ এই দ্বিবিধ ব্ৰহ্ম হইতে নাম বড়। কারণ নাম বলে নিগুণ ও সগুণ বিবিধ ব্ৰহ্মই বশীভূত হইয়া থাকেন, নাম দ্বারা বিবিধ ব্ৰহ্মকেই জানা যায় (আগুণ সগুণ দোউ ব্রহ্ম স্বরূপ। অকথ অনাদি অগাধ অনূপ্যামেরে মত বড় নাম দুহুতে কিয়ে জে যুগ নিজবশ নিজ বুতে”) শ্রীরামচ ভক্তদিগের জন্য মনুষ্য দেহ ধারণ পূর্বক অনেক দুঃখ সহিয়া সাধুদিগকে সুখী করিয়াছেন, পরন্তু ভক্ত প্রেমের সহিত রাম নাম জপ মাত্র অনায়াসে আনন্দ মঙ্গল স্বরূপ হইয়া যান অতএব নিগুণ হইতে রাম নামের প্রভাব অধিকতর (“রামভহিত অনুধারী সহি সংকট কিয়ে সাধু সুখারী। নাম প্রেম জপত অনায়াসা ! ভক্ত-হােহিমূদ-মঙ্গল-রামা”) । রামচ অহলাকে উদ্ধার করিয়াছেন, রামনাম দ্বারা কোটি দুষ্ট জনের কুমতি শধিত হইয়াছে (“ রাম এক তপসতিয়তারী, নাম কোটি-খল কুমতি সুধারী)। অতএব রাম নাম ৰা তুমি সব পাইবে, এই বিশ্বাসকে হৃদয়ে অচল আসন দিবে। রামই আমার একমাত্র শরণ চিত্তে নিরন্তর এইরূপ চিন্তা করিবে। (চিয়েচ্চেতলী নিত্যং রাম শরণং মম) রামাৰতাৰ কথা-
দয়াল ঠাকুর
ভক্তি মার্গে যাহা সকলে করিতে পারিবে তাহা নাম করা।
স্বরূপটি শুনিয়া লইয়া রাম রাম কর। ব্যবহারিক জগতে যাহা
দেখ যাহা শুন রাম রাম করিতে করিতে শুন, যাহা খাও রাম
রাম করিতে করিতে খাও ইত্যাদি পারিবে এদিকে পুরুষাকার
করিতে ইহাতেই নিজত্ব থাকিবেনা। কেমন করিয়া জান।
রাম রাম জপিতে জপিতে রামের রূপ হৃদয়ে আসিবে রামের
গুণ চিন্তা স্বাধ্যায়ে আসিবে। বাহিরে কিছু ভাল লাগিলেই
রাম রাম করিয়া রামের রূপ ভাবিয়া রামের লীলা স্মরিয়া ও
রামের স্বরূপে আসিয়া তােমার স্বরূপই রামের ভাবিয়া নিজের
হৃদয়ে ডুবিতে পারিবে । এই সাধনা কর দেখিবে শ্রুতি
ত্যক্তেন ভুজীথা” সাধনা চলিতেছে। রাম রাম করিতে করিতে
মন হইতে অন্য সমস্ত বাহির করিতে পারিলে জগঞ্জপ মায়া
যবনিকার অন্তরালে যে রাম আছেন তাহাতে দৃষ্টি পড়িবে।
তখন রামের হইয়া রামরূপে ডুবিতে পারিবে।
উৎসব ১৩৩৪ ধৈশখ।
আর কি চিন্তা করিবে নাম কর নাম, কর নামকেই বিশ্রাম
জানিয়া নাম কর, যতক্ষণ নিদ্রা না আইসে নাম কর। আহারের
সময় নাম কর, গানের সময় নাম কর, গমনাগমনের সময় নাম
কর, এক মুহূর্তও নাম হাড়িয়া থাকিও না। তিন বেলা সন্ধ্যা
পূজা কর বাধ্যায় কর, বাকি সময় নাম কর মনকে হৃদয়ে ধরিয়া
শ্রীনাম রসায়ন
নাম কর, সপ্ত আবরণ চিন্তা করিয়া নাম কর ! আর সময় নষ্ট
করিও না। খােস গল্প আর কত করিবে ? কাহারও সহিত
কথা কহিতে হয় কিসে সর্বদা নাম করা যায় তাহার কথাই কও ।
শাস্ত্র পড় নাম করিতে করিতে নামকে শুনাইতে শুনাইতে ধ্যান
কর! যিনি তােমার মধ্যে থাকিয়া, তােমার সব তাব' দেখিতেছেন
সেই মরূপী গুরুরূপী ইষ্টরূপী আত্মাই তুমি, তাই হইয়া নাম
করা শ্রবণ কর, দেখিবে নাম আপনি হইতেছে! সেই পরিপূর্ণ
চলন রহিত “চিৎ” আপনার নিবিড় আনন্দে “বা” তুলিয়া খেলা
করিতেছেন! তুমি সেই চিতে ডুবিয়া যাও, সব হইয়া যাইবে !
আর সময় নাই, সৰ্ব্বদা বলিয়া নাম করিতে পারিবে ত
সকলেই পারে, দৃঢ় সঙ্কল্প জাগাও, তােমার আমার মত মুখের
জন্য নাম করাই সহজ পথ ।
রাম রামেতি যে নিত্যং জপন্তি মনুজাভুবি।
তেষাং মৃত্যুভয়াদিনি নভবন্তি কদাচন।
উৎসব ১৩৩২ পৌষ
৫৬ সৰ
বেড়া দিয়ে নাম কর
সব সহ করিয়া রাম রাম করা ছাড়া
জীবের মঙ্গল কিছুতেই নাই'
ঐগুরবে নমঃ।
প্রেমের দেবতা।
আমি দেখেছিরে তায়।
গৌর বরণ সন্ন্যাসী এক এসেছে হেথায়।
আমি দেখেছিরে তায়।
ও যার হরি বলতে নয়ন ঝুরে
আপনি কেঁদে কাঁদায় পরে--
রূপে ভুবন আলাে করে
ধুলি মাখা গায়।
বলে কোথায় খাম রায় ॥
হেরিয়া গগনে ঘেরা নব জলধর,
মেঘেরে চাহিয়া বলে এ মুরলীধর,
দেখা যদি নাহি দিলে কেন বা বাজালে বাণী,
তুমি কি জান না নাথ আমি চরণের দাসী!
বলিতে বলিতে কাঁদে ধূলিতে মুরহা যায়।
বল কোথায় খাম রায়
আমি দেখেছিরে তায়।
বল রাম রাম রাম
দিও না বিরাম জপ অবিরাম রাম রাম রাম।
ভবের ব্যারাম হইবে আরাম জপ রাম রাম রাম ।
নাম রসায়ন
বল দাশরথি রাম সীতাপতি রাম
রঘুপতি রাম রাম।
প্রতি ধমণীতে হউক ধ্বনিত রাম রাম রাম।
প্রতি রক্ত বিন্দু জপুক সঘনে রাম রাম রাম।
প্রতি অস্থি মজ্জায় অঙ্কিত হােক রাম রাম রাম।
প্রতি লােম কুপ হ’তে উঠুক রাগিনী রাম রাম রাম।
নয়ন দেখরে রাম কর্ণ শুনরে রাম।
জিবা জপরে রাম বাক্য বলরে রাম।
হের অনলে অনিলে অবনী সলিলে রাম।
নীল গগনে চত্ৰ কিরণে রাম শীতাংশুতপনে রাম ।
বিশ্ব ব্যাপিয়া বিপুল সঙ্গীত রাম রাম রাম
ডুবেছে বিশ্ব রাম সাগরে সীতারাম
সীতারাম সীতারাম।
গ্রীগুরবে নমঃ।
আমি আছি ওরে।
বল বল পুনঃ বল সে মধুর বাণী।
আমি আছি তাের ওরে আমি আছি তাের।
হৃদয় বীণার তারে উঠুক সে ধ্বনি।
আমারে হারায়ে আমি হয়ে থাকি তাের ।
অনন্ত বাসনা মাঝে স্বরূপ ভুলিয়ে।
করে যাবে হাহাকার ক্লান্ত প্রান্ত মাের।
শুনি যেন সেই কালে রােমাঞ্চিত হয়ে।
আমি অছি তাের ওরে আমি আছি তাের।
লয় বিক্ষেপের রণে অতি শান্ত করে
হলােনা বলিয়া আমি কাতর অন্তরে।
উঠে পড়ি সেই কালে বােলােগাে হাসিয়ে ।
আমি আছি রে রে আমি আছি রে ।
মি
যশঃ অর্ধ ভােগ আশে উন্মাদের প্রায়।
আপনা পাশরি যবে ছুটে যাই দূরে।
৫৪
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন।
সেই কালে কাণে কাণে বললাগগা আমায়।
আমি আছি তাের ওরে আমি আছি ওরে।
অর্থাভাব কশাঘাতে রক্তাক্ত হৃদয়ে।
কাঁদি যদি কভু ওগাে ভুলিয়া তােহারে।
হাসি হাসি মুখে সখ বলিও আসি ।
আমি তাের তুই মাের আমি আছি ওরে।
দরিদ্র বলিয়া যৰে আত্মীয় স্বজন।
প্রার্থনা ভয়েতে তারা চাহিবেনা ফিরে।
বললা তুমি হৃষিকেশ হৃদয়ের ধন।
আমি তাের তুই মাের আমি আছি ওর।
खा
অযােগ্য অক্ষম বলি গুরুজন যবে।
পশুতুল্য পশুবুদ্ধি কবে অনাদরে।
হে মাের মরম মনি তবেতাে বলিবে।
তাের আমি তাের আমি আমি আছি ওরে।
মি
সাধু বলি লােকে ধবে সম্মান করিবে।
অথবা অসাধু বলি নিন্দিবে আমারে।
হৃদয় সর্বস্ব হরি মােরে তাে কহিবে।
তাের আমি তােত আমি আমি আছি ওরে।
ঐশ্রীনাম রসায়ন
রূপের অনলে কভু পতঙ্গের মত।
যাই যদি পড়িতে গাে পূৰ্ব্ব কৰ্ম্ম ফেরে।
সেই কালে বােলাে নাথ হয়ে উপনীত।
তুই মাের আমি তাের আমি আছি ওরে ॥
মি
কঠিন পীড়ায় আমি হইয়া পীড়িত।
শয্যায় পড়িয়া যবে কাঁদিব কাতরে।
তখন বলিও দেব হয়ে উপস্থিত।
তুই মাের আমি তাের আমি আছি ওরে।
পিঞ্জরের মায়া ভুলে প্রাণ পাখী যবে ।
পলাইবে উবাসে ত্যজিয়া পিঞ্জরে।
বােলা বােললা তারে বােলল শুনিয়া সে যাবে
আমি তুই তুই আমি আমি আছি ওরে।
মানৰ মানৰে থা করেগাে দর্শন।
চিরসাধ সেইরূপ দেখিৰ তােমারে।
পুলিনা আশা মাের করাও প্রবণ।
সৰে আমি সৰ আমি আমি আছি ওরে ।
কাম রসায়ন।
স্বরূপ হাৱান জীৰ শােন একবার।
হতেছে ধ্বনিত ওই দিগদিগন্তরে।
ভয় নাই হয় নাই ভয় নাই আর।
সবে অামি সৰ আমি আমি আছি ওরে ।
গ্রীগুরবে নমঃ।
শ্রীশ্রীনাম সায়ন।
দুঃখ দৈন্য অনুপান সহ অনুক্ষণ সেবনীয়।
প্রথম মা
নাম রসায়ন
সেবন করিতে
বাসনা জেগেছে মনে।
রাম রাম রাম
বল অনিবার
অয়ি সরস রসনে।
শয়নে স্বপনে
বল রাম রাম
জাগরণে নাম গাও।
শােকে সুখে দুঃখে
পাপ তাপ রােগে
রাম নামে ডুবে যাও।
ভােজনে গমনে
আলােকে আধারে
বল ধামাখা নাম।
প্রাণ পূর্ণ হবে যাবেরে পিপাসা
পাইবি আনন্দ ধাম।
স্বরূপ হারান
জীবরে আমার
কেঁদনা কেঁদনা আর।
তাের) সকল যাতনা
হবে অবসান
নিলে নাম সুধাসার ॥
৫৮ এনাম রসায়ন। নেরে নেরে নাম সর্ব পা হারা ত্রিতাপ যাবেরে দুরে । জাগিবি আনন্দে আনন্দে ঘুমাৰি থাকিবি আনন্দ পুরে । আনন্দ হইতে হেথায় দিয়ে তাহারে হারায়ে ফেলে। এত হাহাকার এতরে বাতলা ॥ কেবল স্বরূপ ভুলে। করুণ সাগর আর কি আছে ভয়। বল গুরু গুরু গাও রাম নাম দাওরে নামের জয়। বলেছেন গুরু নাম নিলে ওরে সকল কনা যাবে। হউক নিৰ্বান অথবা জনম আমার কোলেতে রবে সম্মুখে এগুরু এয় জয় গুরু জয় জয় নাম জয় কর সাধু সঙ্গ। পাষানে ফুটেছে কমল কুসুম হরি হরি বড় র ॥
তিীয় মাত্রা সংত্র বাসনা মলিন হৃদয়ে একিরে আসন কার। কে বিছায়ে গেল কখন বা আলি বলি হারি যাই তার। ত্রিকালজ্ঞ সেই ভৃগুমুনি মুখে আশার বাণী শুনিয়া। হৃদয় মাঝারে উৎসাহ পুলকে উঠেছে জীব জাগিয়া সর্বত্র বিজয় বলেছেন তিনি আর কি মরণে ভয়। জয় জয় । নয় জয় নাম। সাধু সঙ্গ জয় জয় । স্বরূপ হারান জীবরে আমার বসে বসে নাম কর। বেড়ায়ে বেড়ায়ে দাড়ায়ে অথবা যেমনেতে তুমি পার। নাম রে বা উঠ নাম লয়ে ভয়ে ভয়ে বল নাম। নামেতে ঘুমাও জাগরে নামেতে দিবানিশি জপ নাম। কণ্টকিত দেহ নেএলে তাের দোরে মােরে বার।
৬০ শ্রীশ্রীনাম রসায়ন। আসিবে বৈকুণ্ঠ নামি সেথায় যেথা হয় নাম তার । তথায় শ্রীহরি সগণ সহিতে করেন বসতি নিত্য। (যেথা) আপন হারায়ে প্রেমা পুলকে নাম করে তার ভৃত্য। বৃষভ বাহনে সেই পঞ্চানন রাম রাম বলি মুখে। বাজায়ে ডমরু আসেন সেথায় রাখিতে ভক্তেরে মুখে। হংসে আরােহিয়া ব্রহ্মা পিতামহ দেবগণে লয়ে সঙ্গে। আসেন সেথায় গাহিবারে নাম আলাে করি পুরী রঙ্গে। বীণা যন্ত্র করে দেবর্ষি নারদ করি হরিগুণ গান । সে পুণ্য ভবন করি নিনাদিত হন আসি অধিষ্ঠান। আসেরে প্রহলাদ আসেন উদ্ধব দেবর্ষি ব্রহ্মর্ষি গণ। আসে এব আসেন বাল্মিকী ব্যালক সনাতন।
শ্রী শ্রীনাম রসায়ন ৬১ আসেন হুনুমান পবন নন্দন যতেক গোপ রমণী আসেন যশােদা বসুদেব নন্দ দেবকী আর রােহিণী। যে যেথা আছেন। ভক্ত শিরােমণি শুনিতে গাহিতে নাম। আসিয়া সেথায় ভক্তের সহিতে রাম নাম অবিরাম। স্বরূপ হারান জীবরে আমার দেখরে কত সহায় তাের। তথাপি কেনরে থাকিবি ভুলিয়া নামেতে হবিনা তাের। বল বল নাম বৈখরীতে বল সল জপ মধ্যমায় । পশীতে তুই আপনা হারায়ে যারে ডুবিয়া পরায় । জয় জয় নাম জয় জয় সাধু সঙ্গ। পাষাণে ফটিল मन श्म হরি হরি বড় রঙ্গ।
তৃতীয় মাত্রা জয় দাশরথি জয় শিবরাম জয় হে রাম দয়াল। কপায় তােমার বােৰা কথা কয় পলাইয়া যায় কাল। পরে রসনা থেকনা নীরব রাম রাম নাম গাও। সফল জনম হইবে তােমার নাম গান করে নাও। (মন) ওই যে শিয়রে বসিয়া শমন আহ্বান করিছে তােরে । কি হবে প্রতিষ্ঠা কিহবে গৌরব ভােগ উজাদ মন রে । হৃদয় মাঝারে কাটি যজ্ঞ কুণ্ড আলরে অনল ঘাের। একে একে একে দেরে দে আহুতি ওই পঞ্চভূত তাের। ফিতি জল বায়ু অনল আকাশ হক পুড়ে ছারখার। ল দেহটার অভিমান ত্যজি সুম দেহ কর সার ।
ঐশ্রীনাম রসায়ন দাওরে আহুতি তমাত্র পক শব্দ স্পর্শ রূপাদিরে। ইন্দ্রিয় নিয়ে কররে হরণ বলুক আগুণ জোরে। মন বুদ্ধি চিত্ত অহঙ্কারে আর রেখনারে অবশেষ। অবিদ্যার সহ ফেলি অগ্নিকুণ্ডে শহরে আপন বেশ। এইত সন্ন্যাস বুঝলি পাগল কি কাজ গৈরিক রাগে। এই অন্তর্যাগে জাগেরে সেজন জাগেনারে বহির্যাগে। বল বল রাম রসজ্ঞ অামার বড় রস পাবি তায়। নীর জীবন হইবে সরস ঘুচিবে সকল দায়। ওরে মুখ মন ভােগে সুখ নাই আছেরে কেবল দুঃখ। রাম নাম ত্যজি ভ্রমে যেন কভু করাে নারে তারে লক্ষ্য। দারিত্র্য পীড়নে অর্থের কামনা করে থাক তুমি মন। দেখ) পারি তাহার সে যে সাধনার ধন।
৬৪ শ্রীশ্রীনাম রসায়ন বড়ই মধুর বল দেখি ভাই কত দিন তুই ডেকেছিস তঁারে সুখে। ওরে দুঃখের ডাক সে যে আসে দুঃখ মুখে। অভাব যে তাের বড় আপনার কাহ ছাড়া নাহি রয়। থাকে কাছে কাছে বড় ভাল বাসে নাম কহিবারে যায়। বলেন দয়াল সে পথে যাবার দুঃখই সােপান হয়। দুঃখ সােপানে করি আরােহণ তবে তঁারে লােকে পায় । সম্মুখে সােপান আছে অবারিত উঠিলাম তাহে আমি । বল বল নাম ওরে ক্ষেপা মন। আসিবেন অন্তর্যামী ॥ অর্থের অভাবে কেঁদনারে ভাই (এই) পরম অর্থ লইয়ে। আসিছে প্রাণেশ যাবে সব এলা পড়িবি তুই ঘুমায়ে ॥ এ পথ ছাড়ায়ে ও পথে তােমায় কেবা লয়ে গিয়াছিল। সংসার পীড়ন রােগ ও অভাব নহে কিরে তবে ভান।
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন ৬৫ এস এস রােগ প্রনাম তােমায় দেখালে সুপথ মােরে! এরে অভাব থাক অনুক্ষণ ভাল বাসিব রে তােরে। অভাব গেমার থাক চিরকাল করেছেন আশীর্বাদ। দয়াল ঠাকুর করুণা করিয়ে তবু তাের সাধি বাদ। তুই যত মােরে জড়ায়ে ধরিস (আমি) ছাড়ায়ে পালাতে চাই। না তােরে আর ছেড়ে পালাবােনা আয়রে আয়রে ভাই। আয় আয় রােগ আয়রে অভাব আয়রে পীড়ন আয় । আয় মহাশােক আয় অপমান যা আছিল সব আয় । সবাই মিলিয়া করি গলাগলি, তুলিরে মধুর তান। জয় জয় নাম বয় ভগবান । জয় জয় নাম জয় জয় সাধু সঙ্গ। পাষাণে ফুটিল কমল কুসুম হরি হরি বড় রঙ্গ।
চতুর্থ মাত্রা।
ভক্তি নাই বলি
সংশয় নেরে
নাহি আসে তাের চিত্তে।
ডাকিতে ডাকিতে
আসিবে ভকতি
পাবি সে অমুল্য বিত্তে।
তরি অপেক্ষা
করেন কখন
প্রবল নামের শক্তি।
অনিবার নাম করিলে নিশ্চয়
ছুটিয়া আসিবে ভক্তি।
বাধা দিবে তাের
লয় ও বিক্ষেপে
হয়ােনা শঙ্কিত তায়।
উচ্চৈঃস্বরে তুমি
বলল রাম রাম
তাহাতেই তারা যায়।
বন দয়াল
গুণ গুণ রে
গাহিতে গাহিতে নাম।
আশন যেরিয়া
হাত গলি দিয়া
নেচে নেচে বলে রাম।
অথবা তখনি হাড়িয়া আমন
একপলে দাড়াইয়া ।
বুড়ি দুই কর
বােলৰে ঠারে কঁদিয়া ॥
শ্ৰীশ্ৰনাম রসায়ন। লয় ও বিক্ষেপ পলাইয়া যাবে তঁাহার নামের গুণে। হবেরে নিপল সদা গতি তাের আলােক্ত পাইবি ধ্যানে। তাই বলি মন সময় যে যায় অবিরাম নাম বল। হাসিতে হাসিতে মায়া মােহ সব পায়ে দলে তুমি চল। ভেবনা অতীত আর ভবিষ্যত, তাহে কোন ফল নাই। বর্তমান রক্ষা কর সাবধানে নামটা লইয়া ভাই। আছেরে দুস্কৃতি যাবে খাইয়ে বলিলে বদনে নাম। যাবে পাপ তাপ লতিবে শান্তি হবে পূর্ণ মনস্কাম। শিরায় শিরায় শােণিত শােতে মুটুক নামের ধ্বনি। অস্থিতে অস্থিতে হউক অঙ্কিত রাম নাম মহা বাণী । নির্ভরেতে তুমি হইয়া নির্ভয় সদা বল নাম ভাই। এৰে কলিযুগ হরি নাম বিনা অপর গতি যে নাই।
- নাম রসায়ন হবে না মরণ হবিরে অমর সকল ভাবনা যাবে। এর জগতে অমরত্ব ভি উত্তম আনল পথে বানন্দ তােরে হাড়িব না কভু মহিমানলে ডুবিবে। আন ও বিজ্ঞান হেলা লভিবি প্রেমানন্দ দেখা দিবে। পেয়ে নিত্যানন ডুবে যাবে মন অমলানন্দ কেশবে। হয়ে বিশ্বনন্দ পূর্ণানন মাঝে আপনা হারায়ে রবে। তাই বলি ভাই কর নাম সদা বাজাইয়া করতাল। নামের ধ্বনি শুনিয়া সভয়ে দুরে চলে যা কাল। ও ব্রজনাথ জয় হে গােপাল রাধা রমন জয়। জয় মা কালিকে কর সেরে নাম:জয়। জয় নাম জয় জয় সাধু । পাশে ফুটিল रामनयम হরি হরি বড় অঙ্গ।
পরম মাত্রা নিশ্চিন্ত হইয়া করিব সাধনা ভ্রমেতে ভেবনা মন। চিন্তা কভু তাের যাবেনা যাবেনা দেহে থাকিতে জীবন । (বল) জয় রঘুনাথ জয় হে শ্রীরাম জয় জয় সীতা কান্ত। ভজন সাধন জানিনা কো কিছু শরণাগত নিতান্ত। পথ পানে নাথ চাহিয়া কাতরে আছি গাে আমি বসিয়া । এস এস প্রভু এ হৃদয় মাঝে জীবন ধন্য কষিয়া ॥ পতিত পাবন পতিত বলিয়া হেলা কি করিবে মােরে। তুমি যদি দেব পায়ে ঠেলে যাও আশ্রয় করিব কারে ॥ হবে হবেনা ছাড়ি না কভু সবই আমার তুমি। তােমাই হইয়া এ তব মাঝারে থাকিলাম সখা আমি। ন না শুন এল বা না এস গাহিৰ তােমারই নাম।
৭. এনাম রসায়ন। থাক তুমি দূরে দেখি কত দিন আমারে হইয়ে বাম। নানান বাম তুমি ত কখন সতত সদ, কান্ত। অদ্যপি তােমায় চিনিতে পারিনি আমি যে বড়ই ভ্রান্ত । বনে বা ভবনে সজনে নির্জনে যখন যেখানে রব। তৰ নাম আমি দিবা বিভাবরী, মনের আননে গাব । জয় দাশরথি জয় হে দয়াল জয় জয় দীন বন্ধু। ও পার করি অধম কিঙ্করে এ ঘাের সার সিন্ধু। - নালিবনা আর কিছু আমি সকলি জানত প্রভু। যাহা ইচ্ছা হয় করে যাও তুমি নামটা নিওনা কছু। বড়ই কাঙ্গাল ছিলাম আমি গাে দয়া কোন নাম দিলে। অগ্নির পর পেলে। মধু হতে মধু সুধা মাখা নাম মিষ্ট হতে মিঃ।
৭১ নাম রসায়ন। যে করিবে পান আনলে ডুবিবে রহিবেনা কোন কষ্ট । কলির জীবের সঙ্কীর্তন বিণা অপর পথ ত নাই। রাম রাম হয় শ্রীরাম রাম জপনা রসনা ভাই। জীবের তরে @গৌরাঙ্গ দেব সকলি তুচ্ছ করিয়া । নিত্যাননে লয়ে সাজিয়া সন্ন্যাসী বেড়ালেন নাম দিয়া । করুণায় তার কত পাপী তাপী উদ্ধার হইয়া গেল। পেয়েছ সে নাম বিলম্ব করােনা রাম রাম সদা বল । সে অবৈত প্রভু বেদ ও বেদান্ত দর্শন শাস্ত্রে পড়িয়া । করিতেন নাম দিবা রাতি তিনি ভক্তি প্রেমেতে মাতিয়া। নাম অধিকারী একথা ভেরনা মনে। নামেই সবে আছেন ডুবিয়া যিনি গও সে সাধনে। উ নীট দান নাহি ভেদাভেদ সবাই নামে দায়। শুধু যে পাতকী নাম রসায়ন। কিবা যগী জ্ঞানী, অথবা তান্ত্রিক সবে করে নাম আশ । যবন হইয়া হরিদাস সাধু দেখাইল নাশের শক্তি। নিল শির পাতি এমনি নামের ভক্তি। বাইশ বাজারে আহার করিল বিষম বেত্রাঘাত। (তবু) হাড়ি না নাম গাহিল সনে জর জয় মণ নাথ। জয় হে কেশব জয় হৃষীকেশ জয় জয় রাধা কান্ত। জয় হে'গােপাল বাঁকা বংশীধারী আমি তােমারি নিতান্ত । * অপরাধ ইহাদের তুমি প্রর্থণা করি চরণে। আমি তােমারি তুমি গাে আমারি জীবনে আর মরণে। এমনি করিয়া সহিয়া পীড়ন করেছেন নাম । নাহিরে পীড়ন নাহিরে প্রহার তবে কেন নাম হারা উক্ত ঘুমায় রূপ সনাতন নরে পাখি।
নাম রসায়ন।
৭৩
জীব প্রভৃতি
মধুময় নাম
পিতেন নিরন্তর।
সে মহা প্লাবনে
ভেসেছিল গ্রাম
ডুবেহিল কত-দেশ।
গাহিলেন নাম
নাহিক তাহার শেষ।
জয় জয় নাম
জয় জয় সাধুসঙ্গ।
পাষাণে ফুটিল
কমল কুম
হরি হরি বড় রক্ত।
যন্ত মাত্রা।
পরাজিত হয়ে
ইন্দ্রিয় সংগ্রামে
কঁদিও না ওরে মন।
অবশ্য জিনিবে
ইন্দ্রিয় নিয়ে
নামে কর প্রাণ পণ ।
কামিনী কির
তুলসী পাস
কেবল নামের গুণে।
হইলেন মুক্ত
সার পাতে
রাম রাম নাম গানে
গাহিলেন নাম যামুনাচার্য
অদ্বৈত মত খণ্ডিয়া
বাসনা তাহার
করিলেন পূর্ণ
রামানুজ প্রাণ দিয়া ।
সেই পূর্ণাচার্য
রামানুজ গুরু
সদামও নাম ধ্যানে।
শূদ্ৰ কাঞ্চী পূর্ণ
সাধনের ধনে
বধি ভক্তি বাঁধনে।
স্বামী রামানুজ
প্রচারিলা নাম
ধরিয়া সাসী বেশ।
এখনও যাহার
নাম নিলে পরে
নত হয়ে পড়ে দেশ।
শ্রীনাম রসায়ন ৭৫ আচাৰ্য শঙ্কর গাহিলেন নাম জ্ঞানের ভিতর দিয়া । উঠিয়াছে কত স্তব অতিগান (তার) ভক্তি সাগর মথিয়া । ওই মাচাৰ্য্য নামেতে পাগল নামেতে ডুবিয়া বন। পুত্র কন্যা নাম রাখ তার নামে এই কথা তিনি কন। নামের বলেতে নিম্বকাচাৰ্য্য করেন তপনে বন্দী। এই বল্লভাচাৰ্য নামের সেবক হাড়ি ভােগের ফন্দী। নামের মহিমা প্রচারিল তুফা করতাল ধরি করে। করি নাম গান ভাসিল নয়ন নীরে। রামানন মুখে শুনি রাম রাম কবির লইল নাম। সার্থক নম হইল তাহার পুরিল মনাম। গাহি নানক আর বামদেব নামের মহিমা গান। বার দল সে বিমল সভিল নামেতে ত্রাণ । t বিঠো সম্মুখে ৭৬ ঐক্রম রসায়ন। গাহিলেন নাম ফেলু বি গ্রামে জয় দেৰ কবিবর। দেহি পদ পল্লবং লিখিলে যেথা আপনি মুরলী ধর। বিজ চণ্ডীদাস গাহিলেন নাম মধুর রসে ডুবিয়া। কবি বিদ্যাপতি নিরত মেতে তাহারি প্রেমেতে মজিয়া । ত্রৈলঙ্গ স্বামী থাকিতেশ নাম ধ্যানে। পাষাণ প্রতিমা সবল করিয়া দেখালেন উমা চরণে। সেই নাম ব্রহ্ম করিয়া স্থাপন ভগবান দাম ভক্ত। কুম্ভক করিয়া भश्वर बनि হরেকৃষ্ণ নাম হইয়া গেনে মুক্ত। কিছু দিন আগে রামৰে দক্ষিণেশ্বরে বসি। কৰি নাম গান মাতালেন দেশ জীবের নাশিয়া। কলে বিজয় কৃষ্ণ সে ল নাম পরে সি কামী। প্রচারিল নাম আচাৰ্য ফের সে ৰিকান দামী ।
শ্ৰীশ্ৰনাম রসায়ন ৭৭ কুমার বিজয় ভক্ত রামপ্রসাদ বিজ নীল কষ্ট বিখ্যাত জগতে নামে। সংসার সংগ্রামে লভিয়া বিজয় গেছেন অমর ধামে। পহারী বাবা সিল্ক বামা ক্ষেপা নামেতে হইল মুক্ত। ভাবনা কিছুই থাকে না তাঁদের যাহারা নামের ভক্ত। যােগী পানন প্রণবানন্দ স্বা আর কৃষ্ণানন্দ প্রচারিয়া নাম মরণে পরে গামী । জীবের যাতনা নাশিবার তরে নাম দিলা জগবন্ধু। উত্তমান গাহিলা সঘনে জয় জয় কৃপা সিন্ধু । করুণাময়ী নাম সুধা কৰি পান। গাহে লােন হরি হরানন্দ নীৰেৰে করিতে ব্রা। হল উন্মাদিনী জয় জয়, নাম কায় সাধুসঙ্গ। পাষাণের मन श्म হরি হরি বড় র.।
সম মাত্রা
গাও গাও সদা
সরস র
রাম রাম জয় 'রাম।
ডাকিলে হৰি
কোলে তুলে লয়ে
দেখান পন' ধাম ।
ওই যে শঙ্কর
ধরি নর-কায়
তারিতে পাতকী দলে।
আবরি নিজেরে
সংসারীর বেশে
নাম দেন কত ছলে।
পথের ধুলায়
পতিত তৃণেরে
করিয়া জীবন দান ।
ভাষা দিয়া তারে
নেন আপন গান ।
হের হের ওই
ত্রীরাম দয়াল
জীৰযুক্ত যােগীরাজ।
মাতিয়া উৎসবে
গাহিছেন নাম
ধরিয়া গৃহীর সাজ।
মধু মাখা খার
অভয় বাণীতে
জুড়ায় পিত হিয়া।
প্রাণ পেয়ে যত
সাধনে যা ডুবিয়া।
মুখর করিয়া
৭৯ শ্রীশ্রীনাম রসায়ন ত্যাগই যাহার জীবনের ব্রত ত্যাগই যাহার ধর্ম। ত্যাগই যাহার সকল সাধনা ত্যাগই যাহার মর্ম । ত্যাগই যাহার সকল সাধনা ত্যাগই যাঁহার মর্ম । সেই চির ব্রহ্মচারী জ্ঞানের সাগর নকুলেশ তল বাসী। পাতকী জীবেরে করুণা করিয়ে বিতরেন নাম হাসি। স্বাধ্যায় সিদ্ধ যােগৰয়ান ভক্ত শিবরাম ধীর। হিমকর মত কমনীয় যিনি সম সমুদ্র গম্ভীর। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দর্শনেতে যিনি ডুবিয়া আছেন নিত্য। বলিনে নাম দিতেছেন পথ যাহা সনাতন সত্য । নামের সাধক একেদার নাথ যােগেন্তু পণ্ডিতবর। করিছেন নাম প্রচার তাহাৱা আর ভক্ত দুখের। পাতী তারিতে যে ন করে গাে আপন সাধন দান ॥
নাম রসায়ন। বক্ষেতে রিয়া গাহে উমধন কুল প্রসাদ রগেন তাহারে সেই সর্ব শক্তিমান্। গাহিছে হীরেন্দ্র গৌড়ীয় তুলেছে গান । গাহে জিতে ওই গাহিছে মহা নিৰ্ব্বাণ। সনাতন নাম। দাগাতে ভারতে পঞ্চানন তর্করত্ন । লক্ষণ শান্ত্রীর সহ একযােগে করিছেন কত যত্ন। আৰ্য্য নর পতি ও শশি শেখর রক্ষিতে নামের মান। প্রচারিতে পুনঃ বৈদিক ধর্ম গাহেন সঁপিয়া প্রাণ। ভক্ত শিরােমণি অতুল খগেন্দ্র মাতিয়া প্রেম পুলকে। ভক্তি মন্ত্র দিয়া পতিত জীবের লইয়া যান আলােকে। সাধন সমর আশ্রমেতে ওই হয় নাম অবিরাম। গাহে দুর্গাচরণ ওই সিদ্ধ বাবা খামাচরণ গুণধাম। ওই যে লাহােরে গৌড়ীয় ব্রাহ্মণ সাহান সানাম ধরি।
গ্রােম রসারন ৮১ নবদ্বীপ হতে ভগবান দাসেরে লইয়া সাথেতে বেড়ান নাম প্রচারি। সত্ত, সদগুরু রাধাস্বামী ওই করিয়া আলােক দান। সহায় হতে আরভিয়া কাৰ্য্য সে ধামে লইয়া যান। মহামগুলেতে জ্ঞানানন্দ স্বামী দেখান আলােক রাশি। প্রচারেন নাম দয়ানন্দ সনে এ ঘাের আঁধার নাশি। এখনও ওই যে উঠছে নামের ধ্বনি। ওই ত নামের আদিম নিবাস ওই নামের খনি। নর নারী সবে দিয়ে করতালি গাহিছে সতত নাম। মরি মরি মরি মনােরম দেশ মর্ত্যের বৈকুণ্ঠ ধাম। চরণ কির ত রামদাস গান নাম অবিরত। ঐ নিতাই গৌর রাধা শ্যাম রবে হয় ধরা মুখরিত। আমার গােরার বিরূপ জবর। পরম সেবক ৮২ শ্রীনাম রসায়ন। আর দীনেশ ললিতা আপনা ভুলিয়া গান নাম নিরন্তর। তারকব্রহ্ম নাম করেন চার প্রাণগােপাল সঘনে। কম্পিত করি সারাটী ধরণী স্পর্শিছে নাম গগনে। পাতাল বাবা করিছেন নাম সতত আপন মনে। ভক্ত বংশীধর ডাকিছেন সদা সেই সে বংশ-বদনে। তেতেরিয়ায় ওই রামের কির নাম মাঝারে ডুবিয়া। গাহিছেন নাম অবিরাম তিনি নামেতে প্রাণ সঁপিয়া । পরম গুরুর সে পুণ্য আশ্রমে নাম হয় দিবা স্বামী। জয় মহাবীর লক্ষী নারাণ হয় দামােদর দাস স্বামী। দেওঘরে ওই বালানন্দ স্বামী নাম পথ বিতরিয়া। সংসার পীড়িত পতিত জনেরে সহাতে ধান লইয়া।
ঐশ্রীনাম রসায়ন মণিপুরে ওই ভক্ত ব্রহ্মচারী লইয়া পাগল খ্যাতি। রামদাস আদি ভক্তগণ সহ করিছেন নাম নিতি । তপােবনে গায় মহিমান আপনা পাশরি বলে। ওই নিত্যানন্দ আর অনানন্দ গাহিছে তাহার সঙ্গে। জাখরা আশ্রমে গাহে ব্ৰহ্মানন্দ তাঁহার মহিমা গান। যে জন হরির লইবে আশ্রয় সে জন পাইবে ত্রাণ । ওই নাম যজ্ঞ করিছেন সদা দয়াময় দয়ানন্দ। নামেতে মাতিয়া ভকত সকলে লভিছে পরমানন্দ। নামের পাগল খেপা হরনাথ সঙ্গে লইয়া বরণী। দেশে দেশে ওই নামের প্রচার করেন দিবস যামিনী । প্রেমের সাধক নিগমানন্দ মাতিয়া নামেতে তার। কছু গান যােগ কভু প্রেম পথ নিত্য করেন প্রচার।
৮৪ শ্রীশ্রীনাম রসায়ন তিব্বতী বাবা দিতেছেন পথ রচিয়া আশ্রম পূণ্য। প্রসাদে তাহার রােগ দুরে যায় হয় গাে পাতকী ধন্য । নিরালম্ব স্বামী গাহিছেন নাম । সাজিয়া জ্ঞানীর সাজে। নির্জন কুটীরে করিছেন ধ্যান তাহার প্রেমেতে মজে ।। কাঞ্চন নগরে কমলানন্দ তুলেছে নামের তান। নামের প্রভাবে বিশুদ্ধানন্দ গ করেন দান। ভক্তির বাঁধনে নীলকান্ত মণি বাঁধিয়া নীলকান্ত। নাম লীলাগুণ প্রচারি জগতে নাশেন জীবের ধ্বান্ত। সুগায়ক যােগী মন্মথনাথ মগ্ন সদা নাম গানে। অতিক্রম করি (বার) কষ্ট পরশে গগনে । ওই ত্ৰিশত বৎসর সমাধি নিরত ব্ৰহ্মর্ষি গৌড়েযােগী। ত্রিবেণী আশ্রমে গাহিছেন নাম পতিত জীবের লাগি ।
শ্রীশ্রীনাম রসায়ন ওই যে মহা করিছেন নাম করুণাময় করিয়া চক্র রচনা। দশবর্ষ ধরি সাধন সমিতি করিছে নামের ঘােষণা কপিল আশ্রমে সাংখ্য শাবিৎ পরম পণ্ডিত জ্ঞানী। আছেন নিরত সদা মাম ধ্যানে পথিকেরে পথ দানি। ওই যে উদার আনন্দময় সন্ন্যাসী। মত্ত নাম গানে ভক্তগণে লয়ে উত্তম আশ্রমে বসি। কৰ্ম্ম গান ভক্তি ত্রিধারায় তিনি করাইয়া শিষ্যে স্নান। আনন্দ সানিয়া স্বামী এবানন্দ সে পথে লইয়া যান। আরও কত ভণ্ড আছেন ধরায় জানিনা তাদের নাম। সবার চরণে করিয়া প্রণাম লভিৰ পৰম ধাম । সবাই সে জন সকলেই তিনি সবই বিভূতি তার। গুরু পথে যেতে যেন পারি করি ভক্ত পদ সার ।
নাম রসায়ন
এত আলাে তাের
জ্বলিছে চৌদিকে
কিসের ভাবনা আর।
ডুবে যারে তুই
আলােক সাগরে
জপি নাম সুধাধার ।
আছে বৈরাগ্য কিবা ক্ষতি তায়
কর নাম অনিবার।
আসিয়া বৈরাগ্য ছুটিতে ছুটিতে
করে দিবে তাের পার ।
তব ওরে নেপা
বলিবি না নাম
নাচিবি নাম লয়ে।
পলে পলে তাের
চলে গেল আয়ুঃ
জীবন গেরে বয়ে ।
(বল) জয় জয় গুরু
জয় জয় নাম
জয় জয় সাধু সঙ্গ।
পাষাণে ফুটিল
কমল কুসুম
হরি হরি বড় রঙ্গ।
অষ্টম মাত্রা পড়িলে শুনিলে হবে না রে কিছু সাধন করাটা চাই বিনা সাধনেতে পাবি না শান্তি কোন যুগে ওরে ভাই । নহেরে কঠিন কলির সাধন অতীব সহজ সাধনা। রসনায় শুধু রাম রাম রাম করিতে হইবে রচনা ৷ যাইবি তরিয়া হাসিতে হাসিতে ভীম ভব পারাবার যুগ যুগারে কৰ্ম্ম ভূমি মাঝে আসিতে হবেনা আর। দিয়াছেন গুরু পেয়েছিস রুস কেন না বলিবি নাম। এই কথা বয়ে থাকিবি মাতিয়ে পাশরিয়ে প্রাণায়াম। এত সাগর মন্থন করিয়া উঠিয়াহে দুটী বর্ণ। বলিলে বাইবে পাতক সকল নিলে জুভাবে কর্ণ ।
broby শ্রীশ্রীনাম রসায়ন জপি সেই নাম দ্য বকর হইলেন মুনি শ্রেষ্ঠ। নামে অজামিল জগাই মাধাই তরিলা হইয়াও দুষ্ট। (কবে) প্রতি অঙ্গে অঙ্গে লিখিব গাে নাম খাসে খাসে নাম জপিব। प्राय बाघ पनि করিব কম রাম নাম নিয়ে ঘুমাব । দেখিব স্বপন রাম নাম মাখা রাম রাম বলি জাগিব প্রতি তারকায় হেরিয়া গাে নাম আপনা শরি কাঁদিব । গগন মাঝারে করিয়া যতন রাম নাম আমি আকিব। নদীর কিনারে একাকী বসিয়া সুধা মাখা নাম গাহিব। থাকিবে না কিছু অপর বলিয়া সকলে আপন করি। রাম রাম রাম মধুময় নাম একান্তে ৰুসিয়া অরিব। কভু বা নামেতে হাত তালি দিয়া নাচিব। নয়ন নে ভেসে যাবে কত অবাক হইয়া থাকিব। হইয়া পাগল শ্ৰীশ্ৰীনাম রসায়ন ৮৯ মান অপমান যাহা কিছু আছে রামের চরণে ঢালিব। আমার আমিত্ব হারায়ে ফেলিয়া তঁাহারি হইয়া যাইব। আসিবে প্রাণেশ হাসিতে হাসিতে চরণে জড়ায়ে ধরিব। তাহারে সােহগে হৃদয় মাঝারে সুদৃঢ় বাঁধনে বাধিব। কব কাণে কাণে অতি ধীরে ধীরে এই কি তােমার কাজ। পাঠায়ে সংসারে আমারে একাকী কোথা ছিলে রসরাজ। মনে কি পড়েনি এই অভাগার কথা। তােমার হৃদয়ে আমার বিরহ ব্যথা। (নাগাে) নানারূপে তুমি এসেছিলে নাথ পারিনি আমি চিনিতে। কত রূপে তুমি দিয়াছ গো ধরা পারিনি আমি ধরিতে । আর যেন ভুলে যেওনা ছাড়িয়া ওহে হৃদয়ের স্বামী। রাখ রাখ প্রভু রাখ রাখ নাথ ধরে রাখ মােরে তুমি। বাজেনিকি কভু ৯০ শ্রীশ্রীনাম রসায়ন । কও কথা কও নীরব থেকন। কতদিন পরে দেখা। আছে অপরাধ বহু বহু মম ক্ষমা কর প্রাণ সখা। তােমার হইয়া রহিনু আমি গাে একবার কথা কও। হইবে পূরণ মমর সকল বাসনা তুমি যদি সাড়া দাও । নামের সাধক কেনরে কাতর এই যে রয়েছি আমি। নামেতে আমাতে নাহি কোন ভেদ যেই নাম সেই নামী। করে দিব পার সংসার হইতে নাহি তাের কোন ভয়। রাখি সেই জনে বুকে করে আমি যেবা মাের নাম লয় । নিজে কর নাম কররে প্রচার আমিরে সহায় তাের। চির বন্দী রব কাটিব না কভু সাধের বাঁধন ভোের ॥ গুলিরে ক্ষেপা নামের মহিমা বল নাম অবিরাম।
শ্ৰীশ্ৰনাম রসায়ন ৯১ দুবাহু তুলিয়া রাম রাম বলি নেচে নেরে একবার। জয় দাশরথি জয় হে দয়াল জয় জয় প্রাণ কান্ত । আমি হে তােমার তুমি গাে আমার শান্ত কর মাের স্বান্ত । জয় রঘুনাথ জয় সীতাপতি জয় সৰ্ব্বদুঃখহারী- নব দূর্বাদল যিনি কলেবর জয় ধনুর্বাণ ধারী। লক্ষণ অগ্রজ ভরত পালক জয় শ্যামল সুন্দর। রাবণ ধ্বংসক দেবত বন্দিত জয় প্রেম পুরন্দর । সুগ্রীব সেবিত বালি বিনাশক জয় দশরথ পুত্র। হনুমচ্চিত ভক্ত উদ্ধারক ছেদক কৰ্ম্ম সূত্র। সীতা মনােহর (জয়) সাধক চিত্ত নিবাসী। ব্ৰহ্মাদি দেবতা পূজিত চরণ (জয়) দুরন্ত কৃতান্ত শাসী। বৈদেহী নয়ন রঞ্জন অঞ্জন (জয়) অবােধ্যা নায়ক রাম। কমনীয় দেহ শ্রীশ্রীনাম রসায়ন। সর্বগুণাকর কৌনপ শাসক (জয়) নাশক ভীষণ কাম। করিছে প্রণাম চরণ যুগলে তব। কিঙ্কর বলিয়ে রেখো নাথ মনে যাবৎ পৃথক রব। রসনা আমার অনিবার যেন করে তব নাম গান। নামান রসে আপনা পাসরি ডুবে থাক মাের প্রাণ। জয় জয় রাম জয় জয় নাম জয় জয় যুগ শ্রেষ্ঠ। জয় জয় সাধু জয় জয় নাম মিষ্ট । জয় দাশরথি জয় শিব রাম জয় হে রাম দয়াল। কৃপায় তােমার যােবা কথা কয় পলাইয়া যায় কাল । बन चन्नाथ জয় জয় সাধু সঙ্গ। পাষাণে ফুটিল কমল কুসুম হরি হরি বড় অঙ্গ।
মিলন
সে এক মিলন দেশ
সেথা শান্ত স্তব্ধ মুখরা প্রকৃতি
আছে দিবস নাহিক রাতি
নাহিক বিষাদ লেশ।
হর্ষ সেথায় পড়েছে ঘুমায়ে
এ গিয়াছে কোথা পলাইয়ে
আছে নিত্য আনন্দ বেশ।
সেই সে আনন্দ খনি ।
থাকিতে থাকিতে আপন স্বরূপে
সাধ হােললা তাঁর খেলি বিশ্বরূপে
ঝলকিল যেন মণি।
জ্যোতির্ময় সেই গােলক হইতে
জ্যোতির কণিকা ছুটে চারিভিতে
(হাসি) জাগিল প্ৰকৃতিৰাণী।
৯৪
নাম রসায়ন
এই প্রথমে মিলন পান।
মিলনে উৎপত্তি মিলনেতে স্থিতি
মিলনেই এর শেষ পরিণতি
মিলন বিশ্বের প্রাণ।
মিলন দেবতা ভােমার সকালে
এসেহি আজি গাে মিলনের আশে
করহে মিলন দান।
রামাপর্ণমা
শুদ্ধিপত্র পৃষ্ঠা f ১৬ ৮ ৮ দদাম্যেতাৰং স্বাত্মভারে অবস্থাপন্নভজিকে পুরশ্চারণের সিদ্ধি মনতৃ কেমন যশােমাতা অনুবীজ বৎপ্রভাবদাইং ১ দাগ দদামেতৎ স্বাত্মভাবের অবস্থাপন্নকে পুরচরণের সিদ্ধ মন কেন যশােমতী ভানুবীজ যংপ্রভাবাদহং ৪ ও ৫ ১৮ ২১ হবেনা, বাদাবে। ৪ ০ ৭ 8b f: ৪৮ ১ ৪৮ ২ দাগ সিদ্ধার্থ স্বরূপ অনূপ্যামেরে চিয়েচ্চেতসী মৃত্যুভয়াদিনি বল বল রাম রাম রাম “পৃথক গান” ১১ । ৫১ ১ সিদ্ধ্য রূপা অনূপা মেরে চিন্তয়েচ্চেতসা মৃত্যুভয়াদানি বলে প্রেমের দেবতা ও বল রাম রাম রাম ‘পৃথক গান ‘বাদ যাবে ১৬ ১৫ রাম ১১ আছি অছি হৃষিকেশ ৫৪ দুষীকে da পৃষ্ঠা লাইন বি রে ২২ নেজলে রাম ৮ ৩ বেঙ্গল গান বন ভাল আলােক ৬৪ ২৪ ৪ ১৭ ভান আলােক্ত শ্রোতে এবে যেতে বিণা এযে ৭১ এমেও বিনা ২২ ৭২ দেখাইল দেখাল १२ দ ৭২ নামের নামেতে १२ আহার তাহারে १२ . ৭২ ৭৭ ৭৭ ৩ ৭৭ ৭৭ প্রর্থনা প্রার্থনা সব সচল পত্তহারী পওহারী হইলা স্বামী মরণে মরণের পরে ত্যাগই যাহার, যাঁহার মর্ম ‘বাদ’ রচনা রটনা অবিরাম অনিবার গণ মণ কৰিহে করিহে ৭৭ e ৮৭ ৯ ৫ ৫ ? 9
No text on this page.
সবকাষ্যালয়, ১৬২ ৰ বাজারীট, কলকাতা।
No text on this page.