Makardah Saraswat Library, Howrah

Manmoyee Boys School

Bhattacharya, Prasad · 2009/07/16

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

মানময়ী বয়ে, স্কুল ( নাটক।

No text on this page.

মানময়ী বয়েজ স্কুল
প্রসাদ ভট্টাচার্য্য
ডি, এম, লাইব্রেরী
৪২, কর্ণওয়ালিস স্কুট,
কলিকাতা

প্রকাশক :
এগােপালদা মজুমদার
ডি. এম. লাইব্রেরী
২. কর্ণওয়ালি ইট,
কলিকাতা
১১৭ ৬
( এই নাটকখানি লেখা হয়েছে জুলাই ১৯৩৫ সালে।
প্রন্টার, শ্রীগােবর্ধন মণ্ডল
আলেজান্দ্রা প্রিন্টিং ওয়াল
+ ৭,কলেজ স্ট্রীটকষিত •

মানময়ী বয়েজ স্কুল
-চরিত্র
দামােদর চৌধুরী
বলাহাটির জমিদার
জমিদার পত্নী
১পল
জমিদার কন্য
স্কুলের সেক্রেটারী
গার্লস্ স্কুলের শিক্ষক
•ীহারিক।
শিক্ষকের স্ত্রী
বেকার যুবক
ধীর
অশেষের বন্ধু
কানাই, হারু, খটমটু, বামী, তিলক,
রাজুর মা, ঝুলন প্রভৃতি

No text on this page.

উৎসর্গ
আমার দাদা
রবীন্দ্রনাথ মৈত্রের
পবিত্র স্মৃতি-তর্পণে,
প্রসাদ ভট্টাচাৰ্য্য
কোলকাতা
আগষ্ট,
১৯৩৫

সেই চাঞ্চল্যকর উপন্যাস দু'খানি
এই
লেখকেরি লেখা-
১। বাস্তবের দু'পৃষ্ঠা- ১০
২। যে ফুল না ফুটিতে’-১১

মানময়ী বয়েজ স্কুল
প্রথম অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
দামোদর চেরায় ডু -রুম; হতেন এক বসে গুচ্ছের কাগজ-পত্ৰ নাড়াচাড়া
করছিল ; সামনের 'বলে প্রমান কাগজ-পত্র, ফাইল, দৈনিক দু'চার
খান বাদ-পত্র ; সামনের খােলা একট জুনিলা দিয়ে বাগানের ও
বগান-বাটীর সম্পূর্ণ দৃশ্য পাওয়া যাচ্ছে।
;
৪াজে! ঐ যে কী একটা যথার্থ প্রবাদ আছে না—বারাে
বছর মাষ্টারী করলে যথার্থ কোর্টে আর সাক্ষী নেয়' না
এটা সত্যি—কিন্তু একটা লেজুড় দিতে ওরা ভুলেছে-
মেয়েদের ইস্কুলে সেক্রেটারিগিরি করলে যথার্থ তাকে তখন
আর ছারপােকা কামড়ায় না—সে নিজেই তখন যথার্থ
একটা ছারপােকার ডিপাে হয়ে যায়! না—আর
পারিনে—মাথাটা যেন কেমন কেমন করছে! একটা
( বিড়ি একটা ধরিয়ে নিলাে—একবার ধোয়া ছাড়লাে—

২
মনী বয়ে স্কুল
কিছু নাক দিয়ে, কিছু মুখ দিয়ে )--আঃ! কী জিনিস।
একটা যেন মৃতসঞ্জীবনী সুধা ! সেকালে—এই যে ? কী
খবর যথা-
( খটমট সিংএর প্রবেশ
খম। দিদিমণিকে খুজতে আছি ; তিনি আছেন?
রাজেন। কেন? যথার্থ তাকে এই সকালে—কে ডাকে ?
কৰ্ত্তা-মা?
খটটু। নাহি, মাষ্টার সাহেব তাকে ডাক্তা—আছে। তিনি
হাছেন ইখানে সিক্রিটারি বাবু ?
রাজেন। যথার্থ হাছেন! এই আমার টাকে আছেন ।
দেখগ এতক্ষণ যথার্থ পৌঁছে গেছেন শিব-মন্দিরে।
( খটমট প্রস্থানােগম)
আচ্ছা সিংজি--শােন একবার এদিকে এই নাও
বিড়ি খাও দিকি, আচ্ছা দেখাে,একটা কথা একটু
কেশে নিলো, দরজার দিকে একবার তাকিয়ে)
এই একটু উপকার করতে পারেগা, তােমাকে আমি
কর্তাবাবুকে বলে মাইনে দেড়া বাড়িয়ে দেগা—যথার্থ
একটু সামান্য উপকার—ঘােড়!
( খটমটের গোঁফের ফাক দিয়ে এক টুকরো হাসি
রাজেনের গায়ে ছিটকে পড়লো।)

প্রথম অঙ্গ SARAWA! LIERASI পারেগানা?—এখন এই টাকাটা লেও! এই যথার্থ আপাততঃকা বশি। ( সিং সেটাকে পাগড়ীর এক কোণে গুজে রাখলো ) খুটুম। কেয়া হুজুর! আপকা ওয়াস্তে রাজন। সে কী আমি জানতা নেই—তুমি আমাকে যথার্থ কতো ভালবাতা হ্যায়', তা দ্যাখাে দরজার দিকে তাকিয়ে) এই একটু এবাড়ীর দিদিমণিকে চোখে চোখে রাখেগা—অর্থাৎ মাষ্টারের সঙ্গে কী অভিসন্ধি লেকে ঘুরত' হ্যায়—কোন কিছু সন্দেহজনক কাজ করতা হ্যায় কি না ? -বুঝতে পারা হামকে, যথার্থ বলবার অর্থ-আর- খটমট! তােবা, তােবা! বাচ্চা মাই হামার দেবী হাছে-হাসি উসব পারিবে না- রাজেন। দেবী হাছে ! তােমার চোদ্দ পুরুষের দেবী হাছে, একেবারে সতীর দ্বিতীয় সস্তা সংস্করণ আছে। নাঃ-মেয়ে-- জাতকে নিয়ে আর যথার্থ পারা গেল না, পুরুষ দেখলেই যেন ক্ষেপে যায়—আর ঐ মাষ্টার ব্যাটা যথার্থ যৈন রাস্তার কুকুর—ভেবেছিলাম যথার্থ বাঁচালে-না-হদিস পাওয়া—যথার্থকে? তিলক! যথার্থ একটু শোন এদিকে—বিশেষ কাজ ( তিলকের প্রবেশ) তিলক। কী বাবু। Est:.1015,

৪
মামী বয়েজ স্কুল
রাজেন। দেখো—দৌড়ে যাও দেখি মাষ্টারের বাড়ী--বুঝলে
যথার্থ ! গিয়ে দিদিমণিকে—এই বাড়ীর দিদিমণিকে-
একবার চট করে ডেকে দাও দেখি—বল কৰ্ত্তাবাবু, এক্ষুনি
একবার ডাকছেন-এক্ষুনি—এক্ষুনি! বুঝলে!-দৌড়ে
যাও—এই একটা বিড়ি নাও-খেও।
তিলক। আচ্ছা বাবু।
( প্রস্থান)
রাজেন। একটা সামলাতেই প্রাণ যথার্থ ওষ্ঠাগত-আবার দুটো।
এবারই কৈ ভাজা হতে হবে, ইচ্ছে হয় দিই ছেড়ে-ছুড়ে
সব, যাই টলে সদরে, যথার্থ চোখের ওপর না দেখলে
কিন্তু প্রাণটার মধ্যে যেন কেমন টন্ টন্ করে ওঠে—কেষ্ট
ছাড়া কী—যথার্থ! কৰ্ত্তার বাহাত্তরেতে ধরেছে যথার্থ
এই পঞ্চান্ন বছর বয়সেই! আবার আর একটা ইস্কুল।
অততগুলাে ছেলে নিয়ে কাণ্ড—এতে একটার সঙ্গে তবুও
যুঝেছিলাম, কিন্তু এতােগুলো! তার আজকালকার
ছেলে-পেট থেকে পড়েই যথার্থ মেয়ে দেখে জিব দিয়ে
জল পড়ে,-যথার্থ কুশিক্ষা,-আধুনিক
( নেপথ্যে) বাবা, আমায় ডাকছিলে—কেন বাবা–আমি
যে মেশাের সঙ্গে-
=
( চপলার প্রবেশ )
রাজেন। ই-মেশাে! যথার্থ রক্তচোষা মশা !
চপলা (ঘরে ঢুকে) রাজুদা-বাবা কৈ-আমাকে ডাকছিলেন ?

| - - Estd:-1913. .. .:. প্রথম অক্ষ আমার ক্যারম্ খেলাটা মাটী হলো-তাড়াতাড়িতে queenটা মেশে। }ocket করলো—কোথায় বাবা- রাজুদা? ওপরে? যাই- রাজেন। চপল—তুমি এসেছ চপল ?- চপলা। আবার অমনি করে চেয়ে আছেন—আমার সত্যি হাসি পায়—যেন পাগল, যাই বাবাকে খুজে দেখি- রাজেন। চপলশােন শােন যথার্থ যেও না–কর্তাবাবু, এই এক্ষুনি পায়খানায় গেলেন-তােমাকে একটু বসতে বলে গেছেন- চপলা। পায়খনায়—তবেই হয়েছে-কাগজ নিয়ে গিয়েছেন নাকি--তবেত বাড়া-ঝাড়া একঘণ্টা—ওদিকে মেশে। queenটা রাজেন। তােমার মেশো যথার্থ অন্যের ({ueen-এর ওপর বড় চোখ দেয়-আমার queenটাও- চপলা। হেরেছিলেন—ত ? মেশােয়কে কেউ হারাতে পারে —যে টিপ—ঠিক লাগে- রাজেন। ঠিক বলেছ—ভীষণ টিপ, ঠিক লেগে যায়—ঐ তো ভয়! তা তুমি যথার্থ বসো না ! [ চপল একটা সােফায় বসলো-মনে নিজের চেয়ারটা টেনে নিয়ে পাশে বসলো একটু ঘেঁসে। হাওয়ায় চপলার খোলা চুল থেকে কয়েকটা চুল উড়ে এসে রাজেনের গায়ে পড়লো—রাজেন চট্ করে দু’গাছা চুল তুলে নিয়ে একটা চুমু খেলাে—নিমেষে, নিঃশব্দে।

মান্দায়ী বয়েজ স্কুল { চপলা। ( হেসে ফেলে) ওকী করেন! আপনি হাসালেন- হাসালেন রাজুদা, পাগল হলেন নাকি রাজেন। পাগল ! যথার্থ তুমিই আমায় পাগল করবে। তােমার চুলগুলাে শুকছিলাম—কী তেল মাখো-চপল চুল তাে নয়, যেন একঝড় কালো মল্লিকা চপলা। আচ্ছা রাজুদা, বাবা নাকি আর একটা ইস্কুল খুছে- ছেলেদের, বেশ হবে কিন্তু তাহলে, না? দেখবাে কোন্ ইস্কুল বেশী রাজেন। (স্বগত) ছেলের নামে জিবে জল আসে--কেন আমি কী-~! কী মেয়ে রে বাবা! গেঁয়ে যােগি— চপলা। কী, চুপ করে চেয়ে রইলেন যে—আচ্ছা আমার মুখে কী আছে যে অমন কোরে—গ্রহণ লেগেছে ? রাজেন গ্রহণ ? যথার্থ তাই! তােমার মেশাের ছায়া পড়ে- আচ্ছা চপল—তুমি আমাদের বাড়ী আর যাও না কেন? -মা নারকেলের নাড়ু করে—(পকেট হাতড়িয়ে) এই তোমার জন্য নিয়ে এসেছি, খাও না চপল—আচ্ছা তুমি হা করে আমি টপ করে- চপলা। (হেসে উঠে) ওমা, কোথায় যাবো ! পকেটে নাড়ু ঠেসে এসেছেন? দেখুন কী বিশ্রী দাগ—ছিঃ ছিঃ, আপনি কী রাজুদা ? রাজেন। তা——না—তা খাবে না? খাও না একটা। আমি না খেয়ে যথার্থ তােমার জন্যে NARE SA Estd:-1219. প্রথম অsh ০ চপলা। না আমি নাডু খাইনে-বাঃ কী সুন্দর ফুলগুলাে! ( একটা এলো খােপা জড়িয়ে ভেস থেকে একটা ফুল তাতে গুঁজে দিলে)—আমি যাই–বাবা আলে বলবেন বুঝলেন? রাজেন। ( নিস্তব্ধ হয়ে চেয়ে-বিহ্বল চোখ) (স্বগত) দিন দিন চপল যথার্থ আগুনের ডালি হচ্ছেন বুকটার মধ্যে যথার্থ প্রকাশ্যে ) যাবে ? তা—একটু কাছে এসাে না যথার্থ—( হাত বাড়িয়ে চপলার সড়ীর আঁচল ধরতে গেলো, চপলা লীলায়িত ভঙ্গিতে বেরিয়ে গেল) 5পলা। ( যেতে যেতে ) প্যেৎ-আপনি বড়– নেপথ্যে শােনা গেল ‘নমে হে নমো- যাবার সময় মাথার চুল পড়ে গেল ) জেন। ( তাড়াতাড়ি ফুলটা কুড়িয়ে নিয়ে) ফুলটা যেন তারই দেহের যথার্থ টুকরাে ( বুকে চেপে ধরলাে—চোখ দুটো বুজে )-আঃ-চপল-চপল—বুকটা যেন জুড়িয়ে গেল ব্যথা—বড় ব্যথা-যথার্থ- ( দামােদারের প্রবেশ ) দামােদর। এই যে রাজু (রাজুর চমক ভাঙ্গল-তাড়াতাড়ি বুক পকেটে লুকিয়ে) কী বিড় বিড় করছিলে—কিসের ব্যথা ?-- রাজেন। এই দেখুন না একটা হিসাব কেরাণী বেটা যথার্থ মাময়ী বয়েজ স্কুল ভুল করে বসেছে, তাছাড়া—যথার্থ আমার সেই অম্বলের ব্যথাটাও দামােদর। তাই নাকি? তা এক্ষুনি-ওরে ও তিলক, দু’চোলাস লেবুর সরবৎ দিয়ে বাতােসরবং খাও দেখি-ব্যথা চেঁ। চো করে নেবে যাবে 'খন-হ্যা, তারপর এদিকের-- ( ইতিমধ্যে তিলক সরবৎ দিয়ে গেল ) ( এক ঢােক খেয়ে) আ:-: হ্যা—কী যেন বলছিলাম- ও-: এদিকের খবর কী! মাষ্টারের বিজ্ঞাপন দিয়েছ? কোন্ কাগজে দিলে—কী দিলে দেখি—কাপি আছে ফাইলে? দেখি- ( দামােদর আর এক ডােক সরবৎ খেয়ে, চোখ বুজে একটা তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। রাজেন। যথার্থ সব ঠিক হয়ে গেছে—আনন্দবাজারে দিয়েছি যথার্থ largest circulation অর্থাৎ কিনা, বেকার মহলে চায়ের,টেবিলে ওই কাগজটারই সবচেয়ে বেশী যথার্থ হা দেখুন, একটু idle এঁচেছি—এই আমাদের মানস মাষ্টারকে boys' schoolএ দিন বদলি করে’-যথার্থ কে যার দলে থাক—দল ছাড়া হলে মাথাটা একটু বিগড়ে যায়—তা ছাড়া মেয়ের সব আস্তে আস্তে যুবতী হয়ে উঠছেন—একবার কানা-ঘুষা শুরু হলে ইস্কুল একেবারে একদিনে যথার্থ খালি-পাড়াগাঁ- প্রথম অঙ্ক p দামােদর। সে পরে ভেবে দেখা যাবে-তার এখনো সময় আছে। কৈ কী বিজ্ঞাপন দিলে দেখি--সেবারে তো তােমার বুদ্ধিতে এক লেজুড় দিয়ে—কী বিপদ! এবার রাজেন। আজ্ঞে-না না, ফাইলটা ভুলে এসেছি—তা নইলে, কাল সকালে আপনাকে। এবার একেবারে যথার্থ ভেড়ার পালের মতো—শুধু,একটুখানি দামােদর। আবার কিছু বাধিয়েছ নিশ্চয়ইনাঃ তুমিই ইস্কুলটাকে ডােবাবে রাজু—কী কীৰ্ত্তি করেছ শুনি? প্রথমেই বাধা -না তােমাকে দিয়ে চলবে না রাজু, রাজেন। যথার্থ চলবে। আমি না থাকলে এদ্দিনে সব তো লােপাট হয়ে যেতো! মাষ্টারের বিজ্ঞাপনের সঙ্গে একটু conclition অর্থাৎ লেজুড়—এই সামান্য—apply witli the photo of the wife. দামােদর। নাঃ তুমি, তুমিই ভােবাবে রাজু! জানুয়ারী এসে পড়লো, জেলার ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবকে দিন পর্যন্ত বলে এসেছি—আর তুমি তার মাঝে প্যাচ কষছে আমার মুখ ডােবাবে—ইস্কুলও। ফটো ফটো—আরে সবার কী আর স্ত্রীর ফটো থাকে, এই তাে গিন্নীর- রাজেন। আজ্ঞে—আধুনিক যুগ-যথার্থ স্ত্রী হবার আগে থেকেই ছেলেদের পকেটে একখানা ফটো—আর একখানা ছােড় চিরুনি যথার্থ সব সময়-এক টাকায় আটখানা-নানা ভঙ্গীতে—এটা আপনাদের যুগ দিয়ে ১০ মনময়ী বয়েজ স্কুল দামােদর। আচ্ছা তা না হয় বুঝলাম—কিন্তু ফটো দিয়ে তুমি কী করবেনা তােমাকে বােঝা দায়- রাজেন। আজ্ঞে ওটা একটা Safety—অর্থাৎ কিনা—একটু যথার্থ নিশ্চিন্ত থাকা যায়। (স্বগত) যথার্থ কচু হয়- সেবারও তো, এখনাে তা নিশ্চিন্ত হওয়া যায়নি—মাষ্টার এখনাে চপলার—আর হারু,-বাসার চাকর যথার্থ দামােদর। নিশ্চিন্ত ! আরে চিন্তার তােমার কী আছে—আরে তার স্ত্রী থাক—চাই না থাক, তাতে আমার কী? বরং tunmarried আনলে মন দিয়ে পড়াতো—আর এতাে মন পড়ে থাকবে তার বাড়ীতে—ফাকি দেবে, প্রত্যেক শনিবারে,-নাঃ তুমিই ভােবাবে রাজু, তােমার বাধা, রাজেন। আজ্ঞে unmarriel কেন—যথার্থ চিরকুমার আনুন না, কিন্তু ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেব খুলবেন কিনা—তাই। এবার একটা আইন হয়েছে- দামােদর। তােমার আইনের নিকুচি করেছিকৈ দেখি- রাজেন। •(স্বগত) নাঃ বুড়াে জ্বালালে দেখছি (প্রকাশ্যে ) আজ্ঞে সবে Assemblyতে পাশ হয়েছে এখনাে ছাপা হয়নি কাগজে যথার্থ দামােদর। তােমার মাথা যথার্থ—দেখি কী হয়। তা এখন যা —কেমন দালান হয়েছে নতুন ইস্কুলের—দেখেছ?—যেন একেবারে কোলকাতার- রাজেন। আজ্ঞে যথার্থ—কী সুন্দর বাড়ী—কিন্তু - #

প্রথম অঙ্ক
কে
দামােদর নাঃ তুমিই ভােবাবে রাজু, সবতাতেই কিন্তু কী
কিন্তু শুনি।
রাজেন। আজ্ঞে এটার দোতলার ওপর থেকে মেয়েদের ইস্কুলের
ভেতরটা সব একেবারে--দু’দিকেই বাড়ন্ত বয়স, পড়াশুনা
ছেড়ে দু’দিক হা করে-আজকাল আবার মাষ্টার মাষ্টারনী
বড়-কাগজে পড়ি-
দামোদর।
নাঃ এই কাগজই দেশটাকে ডােবাবে—আচ্ছা আস্তে
আস্তে না হয় মেয়েদেরটাও
দোতলা-
রাজেন। আজ্ঞে তা হলে যথার্থ—খুতহীন, কী যে হবে—আর
বেটা বদন সরকার তাে পাততাড়ি গুটোলে বলে—ওর
যথার্থ চক্ষু একেবারে ছানাবড়ার ইস্কুল o]en করলে
ও নিজে, আপনার করবে স্বয়ং জেলার—আর করবে না
ধার্থ-মানস মাষ্টার যে ইংরেজি-ঐ ওঁরা এসে পড়লেন
*
( মানস, নীহারিকা ও চপলার প্রবেশ )
দামােদর।
আরে নাতবৌ এসাে এসো-বসে সকলে, ওরে
তিলক, তিন কাপ চা-
মানস ও নীহারিকা। (একত্রে) না না, এই বেলায়
মানস। বরং তিন গেলাস সরবৎ দিয়ে যা তিলক।
দামােদর। হু হুওর মতাে জিনিস নেই, এই তাে একটু
আগে,-কী রাজু বুকের ব্যথা নেমেছেনা? নামতেই
হবে-

মানময়ী বয়েজ স্কুল
==
রাজেন। আজ্ঞে যথার্থ ! তবে এরা আসার পর থেকে আবার
যেন একটু টন্ টন্ করছে ( সতৃষ্ণ চোখে চপলার দিকে
চেয়ে )
চপল। আচ্ছা বাবা, তুমি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলে কেন?
আমার ক্যারাম খেলাটা-
রাজেন। ( স্বগত) আঁ-হাছিছাদুনি ছুঁড়ি-ডােবালে
দেখছি-
দামােদর। কৈনা তত মা-তােমাকে তাে---
( তিলকের প্রবেশ)
তিলক। ( সরবং পরিবেশন করে’ ) দিদিমণিকা-মা এক্ষুনি
ডাকছেন, কী কথা আছে-
পলা। যাই।
( প্রস্থান )
রাজেন। উঃ! ওরে তিলক সরবং দে—ব্যথাটা আবার
দামােদর। তারপর মাষ্টার, ইস্কুল বিল্ডিং কেমন হয়েছে-রাজু
বলছে তােমাদেরটাও দোতলা করে দিতে, তা না হলে
নাকি মেয়েদের দেখা যাবে—যুবতী মেয়েরা-হাঃ হাঃ,
ওরা আবার যুবতী—এই তাে চপল, ছেলেমানুষ—কী
বলো ?
• মানস। নিশ্চয়ই—ওতত একেবারে
রাজেন। (স্বগত) হু, একেবারে-তােমার মাথা, তাই তো
দিনরাত,

প্রথম অঙ্ক গমােদর। নিশ্চয়ই—আরে গিন্নীকে যখন নিয়ে এলাম তখন ওর বয়স সাত-একেবারে ছেলেমানুষ, প্রেমালাপ দূরে থাক, রাতে আমার গলাটা জড়িয়ে সে কী কান্না,সর্দি হলে নাক দিয়ে তখনো-হাঃ হাঃ, কখন যে তিনি যুবতী হলেন সে তাে পাত্তাই পেলাম না,তাই না এখন নাতবৌকে দেখে, গিন্নীকে তালাকৃ- ( মানময়ীর প্রবেশ) মানময়ী। আবার গিন্নীর কী চোদ্দপুরুষ উদ্ধার করা হচ্ছে শুনি দামােদর। আরে এসাে এসো—আচ্ছা গিন্নী তুমি কী কখনো যুবতী হয়েছিলে ? আমার তো মনে পড়ে না—এই নাতবৌএর মতো, এই ভরা গাল, ভরা শরীর-হাঃ হাঃ হাঃ- মানময়ী। কী যে বলাে ছেলেদের সামনে! তােমাকেই কী ছাই যুবক হতে দেখেছি-এই নাতীর মতো নীহারিকা ও মানস। (একত্রে) দাদামশায় এইবার জব্দ-আর বলবেন? দামােদর। আচ্ছা, আচ্ছা সে পরে হবে খন। এখন একটু পরামর্শ করি সকলে, এসে দেখি। শুনেছ মাষ্টার- মাষ্টারের জন্যে তাে বিজ্ঞাপন দিয়েছি—আরে তাতে রাজু আবার লেজুড় দিয়েছেনাঃ তুমি ডােবাবে রাজু,-কী লেজডটা বল না ছাই।

১৪ মনিময়ী বয়েজ স্কুল রাজেন। আজ্ঞে, apply with the photo of the wife- দামােদর। শুনলে তো? আচ্ছা বলো তো এতে কী মাষ্টার মিলবে—গিন্নীর তত ফটো নেই—বলে বলতেন, তােমার থাকলেই হলাে—ঐ তো বুকে মিশে আছি- মানস! তা তো ঠিকই বলেন দিদিমা দাদামশাই মাষ্টার যথেষ্ট মিলবে। দামােদর। মিললেই বাঁচি। জানুয়ারী তো এসে পড়লাে-- তােমাফের বেলাতেও রাজুই দিলে এক লেজুড়—ফলে দেরী হলাে যথেষ্ট। আরে বাংলাদেশে কী গ্র্যাজুয়েট স্বামী-স্ত্রী পাওয়া যায়-কপালগুণে তােমরা ( নীহারিক ও মানস পরস্পর তাকিয়ে একটু হাসলো) নীহারিকা। না দাদামশাই—জুটবে--স্ত্রীর ফটো আর এমন দুর্লভ কী—বিয়ের আগে থেকেই রাজেন। যথার্থ বলুন দেখি—আমিও এই কথাই বলেছিলাম- দেখুন—আমি যাই—অফিস-রূমটা একটু দেখে শুনে আর তা ছাড়া শরীরটাও বিশেষ ( প্রস্থান) নীহারিক ও মানস। (একত্রে) আমরাও উঠি দাদামশাই- বেলা হয়েছে। দামােদার। নাতবৌ উঠেছে কী—অমনি কাছায় টা প্রথম অঙ্ক ( নীহারিকার চিবুকে হাত দিয়ে ) একটি শিশু-দেবতা এলে আর তােমার টানে কিছু হবে না নাতবৌ- নীহারিকা। প্যেৎ- ( প্রস্থান) দামােদর। চল আমরাও যাই—এ ঘরে কী আর থাকা যায়— আললা তো নিভে গেল- সকলের প্রস্থান) দ্বিতীয় দৃশ্য [ পার্কের সামনে, মির্জাপুর ট্র্যাটের ওপর, চারতলায় একটা মেসের ঘর। ঘরে দুটো সিট, দু'জনেই বন্ধু—অশেষ চক্রবর্তী, এম-এ পাশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্র। গরীব, এবার পাশ করে সম্প্রতি বেকার! চারটি টিউশনি করে চলে। অপরজন ধনী, কাটিহারে বাপ বড় চাকুরে—জমিদারীও আছে। ছেলে অতি আধুনিক-প্রেমিক, কোলকাতার নামজাদা মেয়েদের সঙ্গে পরিচিত, প্রায়ই একসঙ্গে সিনেমায় দেখা যায়। ঘরের দৃশ্য মামুলী—ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত জিনিস-পত্ৰ মেসের চির-প্রসিদ্ধ বর্ণনা ] অশেষ। (একা বসে একখানা বই পড়ছিল) নাঃ-রবিবারটা একেবারে মাঠে মারা গেল দেখছি—যাই একবার সিনেমা ঘুরে আসি—দ্যুত-পয়সা-পয়সা করেই জীবনটা যাবে দেখছি—যা ! এতাে নিরামিশ আর পারা যায় না—ঐ তাে সুধীরটা, দিব্যি আছে—মেয়ে নিয়ে ছিনিমিনি—যেন

মানময়ী বয়েজ স্কুল
পাশার হাড়-দু’হাতে চটকাচ্ছে-আর আমি—এক মা
ছাড়া বােধ হয় মেয়েমানুষের গা ছুঁইনি কখনেমার
গােলি! আজ যাব সিনেমা—যা একটা টাকাওরে-
কানাই—কা-নাই।
(নেপথ্যে—“যাই বাবু” )
বাই বাবু না বাবা—একটু তাড়াতাড়ি এসাে দিকি—
ছটা বাজে!
( কানাইএর প্রবেশ )
কানাই। কী বাবু?
অশেষ। ওরে দ্যাখৃ—এ তিনটে পয়সা নে—এই নীচেই দ্যা
রাস্তার ওপর মুড়ি বিক্রী করছে—দেখেছিস্? ঐ শােন
- নেপথ্যে—“গরম-মুড়ি-”) ঐ-এক পয়সার মুড়ি
নিবি-দু’পয়সার চা—ঐ উড়ের দোকান থেকে আনিস—
বলিস একটু বেশী দিতে-বরং এই বড় কাচের গেলাসটা
নিয়ে যা। বুঝলি—সব? যা যা বললাম ?
কানাই। আজ্ঞে হ্যা বুঝেছি।
( প্রস্থাননাম )
অশেষ। আর দ্যা—এই নে—এক পয়সার বিড়ি নিস—দুটো
চেয়ে নিস্-বুঝলি-বেটা নিজেদের বেলা—
কানাই। দিতে চায় না বাবু—বলে লাভ থাকে না
( প্রস্থান)
অশেষ। না, লাভ থাকে না—এম্-এ পাশ না করলে একটা
বিড়ির দোকানই—
=

প্রথম অঙ্ক
১৭
সুধীর। ( হঠাৎ ঘরে ঢুকে) বিড়ির দোকান দিবি নাকি ?
তা আর দেবে না? গায়ের রক্ত জল করে এম-এ ফাষ্ট
ক্লাশ পেলে—এখন—একটা a. A. & Co.-বিখ্যাত
মােহিনী বিড়ি ? কী বলিস্? তােরাই—দেশটাকে
ভুবালি !
অশেষ। যা যা লেকচার দিস্ না—বাপের পয়সা আছে কিনা?
দুনিয়াটাকে রঙ্গীন দেখছ ! হাতে ওটা কীরে? দেখি-
সুধীর। উহু:বিড়িওয়ালার কপালে জোটে একটা চীজ।
অশেষ। চীজ ছাড়া তাে তাের বােলই ফোটে না, কোথেকে
জোটালি ? (সুধীরের হাত থেকে প্যাকেটটা নিয়ে —} .
ও বাবাঃ সত্যি তাে! চীজই বটে! ? একটা চুমু খেয়ে)
সুধীর। (কেড়ে নিয়ে) দিলি তাে এঁটো করে রাস্তায় ছিম
বলে আমি এখনাে বউনি করিনি—আর তুই ব্যাটা
বিড়িওয়ালা
অশেষ। বিড়িওয়ালা কোলকাতার ঐ রকমই হাসে) ফোন
বান্ধবী বাবা! বেড়ে-এ ফটো তুলেছে তােহারে
গায়ে এটা ব্লাউ? বাছা দিয়ে যেন পাঞ্জাবীর একটা
পকেট—কিন্তু চেহারাখানা—হা! পয়সা খরচ করে
তৈরী।—কোথেকে বাগালি রে ?
সুধীর। তাের কাছে গুমাের করে লাভ নেই। একটা ফটোর
দোকান থেকে-show-caseএ ছিল, দিতে কি চায়—
।

১৮
মানময়ী বয়েজ স্কুল
নগদ দশ টাকা নিলে, কাউকে বলিসনি যেন। নতুন
বান্ধবী বলে চালাবাে–বাবা—এ মাল বার জুটেছে?
( চোখ বুজে, ঠোট দুটো ফাক করলে )
০
(কানাই মুড়ি ও চা নিয়ে প্রবেশ করলো )
কানাই। এই যে বাবু—বিড়ি বেশী দিলে না— চা ও বিডি
টেবিলে রেখে, মুড়ির ঠোঙ্গাটা তার হাতে দিলাে। আমি
একটা বিড়ি নিলুম বাবু
অশেষ। নে বেটা নেবেশী আনতে বললাম। ঠোঙ্গাই
নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলাে )
সুধীর। ওরে কানাই দাড়, দাঁড়া—আরো কিছু আনাই। পরে
একসঙ্গে খাওয়া যাবে—ওরে কানাই যাতাে-আরো
দু’কাপ চাউড়ের দোকান থেকে এনেছ কী মা
খেয়েছ—আর কিছু খাবার নিয়ে আয়। এই নে টাকাট
নিয়ে যা
( কানাইএর প্রস্থান)
অশেষ। আয় ততক্ষণ এগুলাে খাই—পরে ওগুলো খাওয়া
যাবে—( অর্ধেকটা মুড়ি ওর হাতে ঢেলে দিলে )—চাট
খাবি একটু
সুধীর। না—অতো উড়িষ্য'-প্রেম তুমিই দেখাও—আমার সইবে
।

প্রথম অঙ্ক
১৯
অশেষ । ( হঠাৎ কিসে চোখ পড়ায়) কীসের wanted বাবা।
( মুড়িগুলাে টেবিলে ঢেলে, ঠোঙ্গাটা পড়তে লাগলাে
উটিয়ে )
সুধীর। কীরে অতো মনােযােগ—legal intelligence ? পড়
না জোরে-
অশেষ। ঈস্! একটুর জন্যে মাইরি ফকে গেল। উঃ, মা
বলেছিলাে, মেয়ে দেখাও শেষ—কী ভূত চাপলে ঘাড়ে,
‘নেহি করেগা’, মা’র চোখের জলও পঙুলাে—তারই তে
অভিশাপ, সাধে কী শাস্ত্রে বলে—“গুরুবাক্য না শােনে
কাণে’ –পণ করলাম কোলকাতার মেয়ে না হলে—দুভুরি
নিকুচি করেছি কোলকাতার মেয়েকে—এই তো এখন
একটা থাকলে—নাঃ-“ন্ত্রী-ভাগ্যে”—মাইরি, শাস্ত্র মানতে
হয়—তােরও নেই যে সেটা দিয়ে আপাততঃ কাজ চালিয়ে
দিতাম
সুধীর। ওরে ছুঁচো—আমার বউ দিয়ে কাজ চালাবে?—কী,
অতত বক্তিমে কিসের—ব্যাপারটা পড় না—হটাৎ ঠোঙ্গ
দেখে প্রিয়ার স্মৃতি—“ঠোঙ্গাদূত”।
অশেষ। শুনবি! শাে="Wanted a graduate tutor fot"
Manmoyee Boys' School on Rs. 100/-; must be
married. Apply with the Photo of the wife..
None need apply without photo." mafan?
এখন কী করা যায় বলতাে?

মানময়ী বয়েজ স্কুল
সুধীর। করা যায় তোমার মাথা! কবেকার ঠোঙ্গা তার নেই
ঠিক—ঐ কাগজ লােকে পড়েছে—বিক্রী হয়েছে পুরােণ
কাগজের দোকানে—ঠোঙ্গা হয়েছে—মুড়িওয়ালা কিনেছে,
এখনাে ও চাকরী খালি আছে, না?—নে নে চা খা—ঐ
কানাই এসেছে-
( কানাইএর প্রবেশ)
ওরে কানাই—একটা কাজ করবি ? দুটো পয়সা
দেবে! দৌড়ে বা—এই ঠোঙ্গাটা নিয়ে, সেই মুড়িওয়ালাকে
জিজ্ঞাসা করে আয়—এটা কবেকার কাগজ,—আর
ঠোঙ্গাটা কে করেছে—যানা লক্ষ্মিী
কানাই। সে কী ঠিক আছে বাবু—কবেকার না কবেকার,-
অশেষ। তবুও তর্ক করবি-একবার যা-ই-না বাপু।
( কানাইএর প্রস্থান)
সুধীর।
তাের মাথা খারাপ হয়েছে -আচ্ছা ধর, ওটা আজকেরই
কাগজ-কিন্তু বউ কোথায় পাবি ? সেটা শুনি।
( ইতিমধ্যে অশেষ উপায় ভাবছিল)
অশেষ। ( হঠাৎ ) the idea! উঃ-খােদ যব দেতা—the
idea ! কী সুন্দর idea. মাইরি সুধীর ঠিক লেগে যাবে-
কী জানি কেন আমার প্রাণটার মধ্যে—এখন যদি তুই
দয়া করি—দ্যাথু মাইরি-
সুধীর। (একটা সিঙ্গাড়া মুখে পুরে ) কী ideaটা শুনি ! আরে,

প্রথম অঙ্ক
তুই খা—খেতে খেতে le: s(){ve করা যাবে ভাল ।
নে খা—( অশেষ অন্যমনস্ক হয়ে একট! ঙ্কা তুলে দিতে
কামড় )
অশে ; উহু হু গেছি। বাবাঃ! একেবারে tit? bral !
( সুধীর হেসে উঠলো, অশেষ তাড়াতাড়ি একটা রসগোল।
মুখে পুরে চুপ ) লঙ্কার কামড শুভ। শুভরে-বুঝলি ।
সুধীর। ই, এখুনি তােমার একটি বউ চ চ-অ-র করে”
গজিয়ে উঠবে, আর তুমি একেবারে Pointel!
যা যা, তাের ১ব তাতেই ঠাট্টা : এখন তুই liel
করলেই বাস--কেল্লা ফতে!
সুধীর কী ! helটার একবার আঁ শুনি? আমাকে মেরে
সেজে তােমার বউ হয়ে একখানা ফটো তুলে দিতে হবে
তো ?
-ত! কী হয়, ঐ চেহারায় মেয়ে-
তবে কী ?
অশেষ : বল দিবি ?
না শুনেই দান। কী বাবা, কী না জানি চেয়ে বসবে।
অবে।
না মাইরি, তোকে দিতেই হবে—চাকরী হলেই তাের
জিনিস তােকে
( কানাইএর প্রবেশ)
কীরে কী বল্লো, আঁা-
কানাই।
কালকের কাগজ বাবু, ও নিজেই
:
সুধীর।
সুধীর।

মানময়ী বয়েজ স্কুল '} অশেষ। হিপ হিপ- কানাই। কিছুতেই কী বলতে চায় বাবু,দুটো পয়সা কবুল করে অশেষ। নে নে, তুই দুটো, আর সে বেটা দুটো—যা এখন লা। ওরে ঠোঙ্গাটা দিয়ে বা-- ( ঠোঙ্গা দিয়ে কানাইএর প্রস্থান) সুধীর, বল্ না ভাই, তুই এখন আমার অধম-তারণ - দোহাই তাের, বল্-কথা দে । সুধীর। কী বিপদ! আচ্ছা, দিলাম কথা-বল তাের iclea- তাড়াতাড়ি, আমায় সিনেমায় যেতে হবে । অশেষ। দ্যা ভাই কী idea ! উঃ, হঁা মাথা বটে, সার আশুতােষের চেয়েও—সত্যি কী idea! সুধীর। ফের ফ্যাচফ্যাচ্ করছিস, চল্পম আমি অশেষ । না না, মাইরি-এই বলি। শােন, কিন্তু কী i(lea! না না, রাগিস না—এই শােন্, তাের ঐ ফটোটা-অমি মুখ ক৷ে হর্ণে ? এই বন্ধুত্ব ! কার না কার ফটো নিজের কারুর হলেও-বা, ওটা দে, আমি ওটাকে পাঠিয়ে দি— তুই আর আমি, তৃতীয় ব্যক্তি জানতে পারবে না, তারপর চাকরী পেয়ে তােকে না হয় ফেরৎ দেবাে। নির্ঘাৎ লাগবে -কী মুখে গ্রহণ লাগালি যে? আরে অজ্ঞাতকুলশীল, তার জন্যে এতাে ? বন্ধুর জীবিকা সুধীর। হ্যা, অজ্ঞাতকুলশীলকে তুমি বউ বলে চালাবে, তাতে দোষ নেই! আর আমি ফটো রেখেছি === প্রথম অঙ্ক ২৩ ০ তারে , বউ ? বউ ? চাকরীর জন্যে আপাতত চলিয়ে দিচ্ছি—অবার তারপর ওকে না হয় তাের বউ করে নি, আমি ফেরৎ দেবে। কে জানতে যাচ্ছে, সেই সূয্যিমামার দেশে—আমারই বউ! হাঃ হাঃ, কিন্তু কী ite বল দেখি ! দ্যাখ আমার ডান হাতটা চুলকোচ্ছে : তালতে চুমু খেয়ে । নির্ঘাৎ বুলেট, বল্ দিবি তো ? Bদর ! ভাই সবে আনলাম, এর মধ্যে হাতছাড়া? পাগল! আবার, say এক হপ্তা পরেই তাে “তােমাতে তা>িবে ফিরি”—-চাকরী পেয়েই পাঠিয়ে দেব, না হয় মি বাইরে যাচ্ছি একটু—আপততঃ তুই যা ইচ্ছে করে ণে ছবিতে—যা মন চায়। সুধীর। তার যদি চাকরী না পাস—তাের বউও গেল, আমার ছবিও শেষ । (Got forbi; তাহ'লে-ফেরৎ আনবাে- এ জিনিস কেউ পেলে কী আর শেষ! পাগল-উকিলের চিঠি দেবো যে আমার বউকে illegally detain #7365, abluctionএ পড়বে যে— law তে পড়লি না। সুধীর। ছবিতে হয়- আরে । হা-শুনবি lavvটা—To detain illegally either in person or in picture- বাবা—ব্রিটিশ রাজত্ব! সােজা সাত বছর!—দ্যাখ ভাই -

মানময়ী বয়েজ স্কুল
রাজি হ’—আবার--“তােমারে ফিরায়ে দেব তােমার
রাখাল-”
সুধীর। আচ্ছা! কিন্তু এই দ্যাখ একটা বাধা আছে—এই
911 impression frc3 6924-sample copy-Miss
Niharika (angnly-Electro studio, Calcutta -
এটাকে কী করবি? বিয়ের আগের ফটো বলে চালাবি ?
অশেষ। দূর । ওর ওপর কাগজ সেঁটে দিচ্ছি—Mrs. Aslies
(Chakravarty—আরে এতাে সহজং।
সুধীর। আচ্ছা—যা ইচ্ছে কর—কিন্তু—মাল মােদ্দা আমার ফেরৎ
চাই--আমি চলুম সিনেমায়
( ফটোতে একটা চুমু খেয়ে প্রস্থান)
অশেষ। থি চিয়ার্স ফর-নির্ঘাৎ লাগচে-কী জানি কেন
আমার মনে হচ্ছে ! চাকরীটা যদি হয়—যদি কেন, ষাট
ষাট,—হলে—গরমের ছুটীতে এসেই এক বিয়ে, মা’র
মুখে ফুটে উঠবে হাসি-হা কিন্তু নাম দেব.. নীহারিকা,
পয়মন্ত নাম দেবাে•••বাসর ঘরে তার দেবো--নতুন নাম !
কিন্তু কে বাবা সুন্দরী—-ছবিতে তােমাকে মিথ্যা স্ত্রীরূপে
পেয়েই আমার প্রাণটা জুড়িয়ে যাচ্ছে–আঃ-( ছবিটাকে
বুকে চেপে ধরে ) না—দেরী নয়। দরখাস্তটা টাইপ করে
রাখি—কাল সকালেই রেজিষ্টারী করে দিতে হবে। জয়
মা কালী-জয় বাবা খােদা—জয় বাবা যিশু-জয় পীর
বাবার—যে যেখানে জাগ্রত থাক, আমার করুণ ডাক

প্রথম অঙ্ক শােন বাবা—আমি সব মানি, লক্ষ্য তো একই—বিভিন্ন রাস্তা। সব মানি বাবা--সব মানি—Cosmopolitan ধৰ্ম্ম আমার বাবা তােমাদের এই ॥es]ective সন্তান- অধম সন্তানকে দুটো খেতে দাও বাবা- ( নেপথ্যে--‘অশেষবাবু ঘরে আছেন নাকি’ ) কে ? আসুন-আপাতত আছি। { ম্যানেজারের প্রবেশ । ম্যানেজার ! দেখুন—গােটাকতক টাকা দিন না—দু’মাসের বাকী— অশেষ । । মুখের কথা কেড়ে নিয়ে) আর মশাই দু’মাস--আরে দু'মাস না হয় আগাম নেবেন—দু’দিন সবুর করুন, চাকর পেয়েছি মশাই, চাকরী পেয়েছি। ম্যানেজার। দু-চাকরী ? কতবার তো শুনলাম, আচ্ছ। টাকাও তো পান, করেন কী ? অশেষ। করি কী ? ঐ সামনের পুকুরে ফেলি—আর শুনি তার টুপ শব্দটি, দেখি ছােট্ট ছােট্ট গােলাকার ঢেউগুলো—গুণ সেগুলো তীরে বসে—মদ খাই, বেশ্যাবাড়ী বাই--শুধু আপনাকেই দিই না—আরে মশাই স্ত্রীভাগ্যে-নির্ঘাৎ--- ম্যানেজার। বিয়ে করছেন বুঝি ? কোলকাতায়? শশাল শ্বশুর ? আচ্ছা, আচ্ছ। দু’দিন পরেই দেবেন—দরকার ছিল তাই, তা চালিয়ে নেবােখন- ( প্রস্থান)

মানময়ী বয়েজ স্কুল
অশেষ। স্ত্রীভাগ্যে—বাবা স্ত্রীভাগ্যে’--কেমন ছাড়লো ? কোন
দিন ব্যাটা এতো সহজে ছাড়ে ? সুরুউৎ-না—যাই
দরখাস্তটা টাইপ করতে হবে-
( ফটোতে একটা চুমু খেয়ে প্রস্থান)
তৃতীয় দৃশ্য
।
| মানস মারের শােবার ঘর। বেলা—সকাল সাড়ে সাতটা আটটা হবে ।
মানস একখানা ডেচেয়ারে বসে সেদিনকার কাগজ পড়ছিল -
আধুনিক ফ্যাসনে ঘরখানা সুসজ্জিত-রুচির
নিখুত পরিচয় ]
মানস। ওহে হারুও হারু-( নেপথ্যে—-“আজ্ঞে বাবু—যাই
বাবু-) যাই বাবু নয়, তাের দিদিমণিকে ডেকে দে-আর
চা দিবিনে?
(নেপথ্যে—“দিই বাবু”)
তাের দিদিমণিকে—
( নীহারিকার প্রবেশ )
নীহারিক। এই যে—দিদিমণিকেন? স্নানটা সেরে নিলাম
বড় ক্লান্তি বােধ করছিলাম একটু হাসলাে) তুমি যে
পলকে হারাও-মাঃ চা দেয়নি—নাঃ, এ ব্যাটাকে নিয়ে
আর—কোথেকে জুটিয়েছিলে ওটাকে—বলি ও হারুকী

প্রথম তাক্ষ
মংল তােমার বলো দেখি-একদিন আমি নেই–বাস্
সব বেঠিক— নেপথ্যে—এই যে মিসিবাব’---*) বেটা
ও ডাক আর ছাড়বে না-
ওর কী দোষ, তুমিই তো—এই, শােন এদিকে-দেখ
একটা মজা--- খপ করে তার আঁচল টেনে ধরলো।
হারিকা।
আ:--কী যে করে।–সময় নেই অসময় নেই, ঐ যে
{র আসছে~~~~
এ হার এসে চা ইত্যাদি রেখে দিলু )
দেখো—আমার চা ওই অর্গান টেবিলে দাও-একটা গান
করতে করতে খাব, কীগাে তােমার আপত্তি আছে?
মাস। আপত্তি ?—রামঃ বলো । সে বা জমবে—যা ব্যাটা তুই
হা করে কী শুনছিস্ বেটার সখ দেখাে--এই, ওই
সিটের টিনটা দিয়ে যা--
( হারু টিন দিয়ে প্রস্থান করলাে )
{ নীহারিকা গান ধরলেন--মানস খাওয়া ও কাগজ-পড়া ,
ঃ-ই চালাতে লাগলেন।
( নেপথ্যে—-“হুজুর” )
মাস। Come in !
{ খটমট সিং সেলাম করে দাড়াল )
খটমট। হুজুর চিঠি ! রেজেষ্টরি একঠো--
( দেখে) ই মেরা নেহি-সেক্রেটারি বাবুকো-

২৮ মানময়ী বয়েজ স্কুল খটম। হুজুর—সিক্রিটারি বাবু সদরে গিয়েছেন-কৰ্ত্তাব আপনাকেই নিতে বললেন- ( গ্রহণান্তে -খটমটের প্রস্থান । মানস। (স্বগত। ঠিক দরখাস্ত ! কতই তাে আসছে-দেখি এর স্ত্রীর মূর্তি। রাজেনবাবুর মাথা খারাপ! যতো অদ্ভুত কীৰ্ত্তি “বজ্র আটুনি আমাদের বেলাতেও তাে! বেদম ফাকি দিয়েছি—সেই রকমই কেউ দেবে হয়তো-- খামখানা ছিড়লাে-নীহারিকা তন্ময় হয়ে গান করছে ) এই যে ফটো— ফটোখানা দেখে—হাত থেকে দরখাস্তখানা মাটিতে পড়ে গেল—-মুখের সামান্য দগ্ধ সিগ্রেটটা ফেলে দিলো—নীহারিকার দিকে একবার ফটোর দিকে একবার চেয়ে ) একী ? আচ্ছা ভেকী তো–ও বাবা একেবারে অথৈ জল ! সব ডুবলো দেখছি ? ( তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে ফটোখানা দেরাজে বন্ধ করে এসে পুনরায় বসে পড়লো) দেখি দরখাস্তখানা পড়ে! অশেষ চক্রবর্তী এ-এতে ফাষ্ট ক্লাশ ! ঠিক হয়েছে—এ না হয়েই যায় না —কিন্তু ব্রাহ্মণ তো হলােই বা ? Inter caste বিয়েও তোনা এই মেয়েজাতকে বােঝাই দা—স্বয়ং মহাকবি প্রথম অঙ্ক শেক্সপিয়ার মেয়েদের স্বরূপ বুঝতে পারেনি—আর আমি? Treachery thy name is woman! 49 6663 F2f5 চলে গেলেই ছিল ভাল—কী গ্রহরে বাবা— নীহারিকার দিকে তাকিয়ে কিন্তু একে ছাড়লাে কেন ? বিদ্যা—আরে দূর-এ জাতের কী কিছু বােঝবার যে ছেতায় বি-এ পাশ—উপরন্তু খৃশ্চা—একেবারে { গান বন্ধ হলাে ) নীহারিকা। কী গো অমন করে চেয়ে আছ যে ? কেমন লাগলো গান—কী--দরখাস্ত বুঝি—দেখি দেখি ! কই এর ফটো নেই ! ( দরখাস্ত পড়ে একটু চিন্তা করে’ ) লােকটার যেন নাম শুনেছি—কই এর স্ত্রীর ফটো দেয়নি মানস। না—জোটাতে পারেনি বােধ হয়। নীহারিকা। তা’লে একে appoint করে না, কী জানি কী লােক। নাম শুনেছি কোলকাতায়—খুব ভাল ছেলে মানস। চেনা-শােনা আছে ? নীহারিকা। উ-হু'। শুধু নাম শােনা! বােধ হয় mmarrical. দরকার নেই এনে-এতােগুলাে মেয়ে নিয়ে কারবার ( চপলার প্রবেশ) চপলা। মাসি, তােমাকে একবার মা ডাকছে—এক্ষুনি—মা’র কী ব্রত আছে—সধবা চাই- নীহারিকা। ও হােঃ! কাল আমাকে বলেছিলেন বটে—ওগাে মানময়ী বয়েজ স্কুল তুমিও চলাে না—দাদুর সঙ্গে গল্প করবে—চলো এনে দেবাে? মানস। নাঃ! আমার অনেক কাজ—তুমিই যাও। বাবু নেই, তার কাজটা আমাকেই সারতে হবে- নীহারিকা। তােমার সব তাতেই জেদ—চল চপল, হঁা দেখে! রান্নাহ'লে হারুকে পাঠিয়ে দিও, বুকলে ? একসঙ্গে খাবে-- ওরে হারু- হারু। ( নেপথ্যে ) 'আজ্ঞে নীহারিকা। বাবুকে চান করিয়ে আমাকে বড় বাড়ী থেকে ডেকে আনিস, বুঝলি ? চল চপল- ( দু’জনের প্রস্থান) মানস। উঃ! কী ছলনাময়ী। তাইতাে বলি-এক কথায় চাকরী—সামান্য চাকরীর খাতিরে একজন অচেনা লােকের স্ত্রী হতে রাজী। তখন বুঝিনি—ভাবলাম অভাবে-- আরে বাবা—অভাবে কী কেউ এমন কাজ—কই বলি দেখি কোন ভদ্রকন্যাকে ! আচ্ছা এ ভদ্রলােককে ছাড়লে কেন ? পুরােণ হয়ে গিয়েছিলো বােধ হয়-- তাইতাে বলি—প্রথমে কতত নাকে কঁদুনি—শেষেও বাবাঃ! একেবারে গুটিপােকা—এ বেচারা গরীব—আমারি অবস্থা! ছিল একখানা ফটো—দিয়েছে ঠুকে—জানে না তত যে দেবী এখানে আমার স্কন্ধে—উঃ, এখন দেখছি গেলেই ছিল ভাল—আর ছেড়েছে?

MATII FARY, Ed:-1:, প্রথম . ( দামােদরের প্রবেশ) দামােদর। কী মাষ্টার ! কী ছাড়বে ? নাতবৌ ? (স্বগত) এইরেঃ ! শুনলো নাকি, বুড়াে বড় আড়ি পাতে - প্রকাশ্য ) আসুন—আসুন—আজ্ঞে না—আপনার নাতবৌ ছাড়লে—ধাতও ছাড়বে--এই মাথাটা বড় ধরেছে -তাই- দামােদর। মাথা ধরেছে? দাড়াও। ওরে হারু- ( হারুর প্রবেশ ) আজ্ঞে- দামােদর। বাতে-কৰ্ত্তা-মাকে বলে মাথা ধরার ওষুধটা চেয়ে নিয়ে আয়—আর দ্যা—দু’পেয়ালা চা পাঠিয়ে--আর বড় শীত—কী বলাে মাষ্টার ? ( হারুর প্রস্থান) তারপর মাষ্টার—আজ কোন দরখাস্ত এসেছে ? আর তো সময়ও নেই– মানস। আজ্ঞে এসেছে। আমার মনে হয় এই লােকটি সবচেয়ে উপযুক্ত—অগাধ বিদ্যেUniversityর নাম করা ছাত্র কিন্তু wifeএর ফটো পাঠায়নি- Fমােদর। আরে চুলােয় যাক্ ফটো—তুমিই ডােবাবে রাজু, আমি wife চাইনে—চাই মাষ্টার। একেই তুমি তার করে দাও মাষ্টার—রাজু আসলেই বখের করবে- মানস। (স্বগত) এনে ফেলি, দেখি রগড়টা, না হয় ছেড়ে-ছুড়ে যাবো চলে, বিয়ে তাে হয়নি এখনাে—এই গরমের ছুটিতেই মানময়ী বয়েজ স্কুল হবার কথা—উঃ ভাগ্যিস্ ( প্রকাশ্যে ) হ্যা তাই দি, আপনার অনুমতি দামােদর। আরে অনুমতি, তুমি যা করবে, তুমিই তো সব, তার করে দাও—appointed. Come starp. তামনি গাড়ী ভাড়াটাও পাঠিয়ে দাও-যে দিন-কাল-হঁ। খুব নামী ছেলে ? মানস। 87165, Universityco first- দামােদর। বটে বটে, তবে তাে ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবকে বলতে হবে -তুমি ইংরিজিতে বলে দিও তাে মাষ্টার যেদিন তিনি ইস্কুল খুলবেন, বুঝিয়ে বলোবুঝলে ? বেটা বদন সরকার শুনুক একবার, আর ও বুঝবেই বা কী, কাকে বলে first আর কাকে বলে last। বেগুন বেচা দুটো পয়সার গরমে—হাঃ হাঃ—এসব বুঝবার রক্ত থাকা চাই- ( হারু চা দিয়ে গেল ) ঐ একটা পিল্ খেয়ে ফেলে দেখি, মাথা জল হয়ে যাবে একেবারে ধন্বন্তরী! এই পিল্ খাবার লােভে গিন্নীর প্রায়ই মাথা ধরে-অবিশ্যি প্রধান কারণ আমি যাতে মাথাটা টিপে দি~- মানময়ী। (প্রবেশ) খুব যে নাতীর কাছে স্ত্রী-ভক্ত সাজছ, বলি আমার কেরে? উনি আমার মাথা টিপবেন, তবেই হয়েছে। বামীকে একশ’ বার তােষামােদ করে তবে একটু তিল তেল মাথায় ঠাসিয়ে নি। !

প্রথম অঙ্ক
( পশ্চাতে নীহারিকার প্রবেশ)
দামােদর। মিথ্যে বলে না গিন্নী—সেই সেদিন? মনে আছে ?
সানময়ী। ছাই! দেখে এক বার নাতীকে, বউ অন্ত প্রাণ।
আজকালকার ছেলেরা বেশ, দুস্থ দরদ বােঝে—তবুও তো
এখনাে কোলে কিছু আসেনি-আর আমি, বিয়ের সময়
বয়স ছিল সাত—দশ বছর বয়সেই পেটে একটা এলো-
দামােদর। আরে এলাে কেন ? না আনলেই তো পারতে!
আমি কী-
আনময়ী। দ্যাখাে ছেলেমানুষ এর, এদের সামনে আর কী বলবে।
-না আসলে ঠাকুমা ফিরে বছরেই না তােমাকে আর
একটা বিয়ে দিতেন—এ যুগ বেশ বাবা, দু’জনে একটা
পরামর্শ করে—এ কী আমরা—যেন নির্জীব কল! কিন্তু
তাই বলে নাতবৌ তােমার কোল খালি এখন আর ভাল
দেখায় না—ওতে মেয়েদের শরীর ভাল থাকে না, কী
বললা নাতী ? বলে না গাে।
মানস। ( লজ্জিত হয়ে) আজ্ঞে আপনার নাতবৌকেই জিজ্ঞাসা
করুন—আজকালকার মেয়েরা মা হতে চায় না-
মানময়ী। ও-মা! সে কী গাে ? আঁ নাতবৌ ? (নীহারিকার
চিবুক তুলে ) কী মা, কী মত তােমার ?
নীহারিকা। না ঠাকুমা, ওর কথা শােনেন কেন? আমি এ
যুগের হলেও, সে মত নয়-

৩৪
মানময়ী বয়েজ স্কুল
মানময়ী।
মানস। (স্বগত) হু, তাই তাে একটাকে ছেড়ে—ক’ ছেলের ম.
তা কে জানে-
নীহারিকা। তবে কী জানেন, এই বাজারে নিজেদেরই পেট
চালান দায়-তার আবার
ও মা, তাই বলে—কী অলুক্ষণে কথা, আচ্ছা, নয় তে
আমাকে দিও মানুষ করতে-কী বলল গাে?
দামােদর। নিশ্চয়ই, আর তাছাড়া গিন্নীর এমন কী বা বয়স,
নিজেরও এখন হবার
মানময়ী। দ্যাখো, তােমাকে সামনে করে ছেলেদের সঙ্গে কথা
বলা দায়! সেদিন অমনি ফস্ করে মেয়েটার সামনে
দামােদর। কী করেছি! আচ্ছা তুমিই বলাে তাে নাতবৌ-
মানময়ী। ( কথা কেড়ে নিয়ে ) থাক্ থাক, আর দরকার নেই
এখন আমি চল্লাম, অনেক কাজ ফেলে এসেছি-বল্লাম
যাই নাতবৌকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসি-
( প্রস্থান)
দামােদর। আমিও উঠি নাতী-হ্যা, তারটা তুমি করে দাও
এক্ষুনি, আর অমনি ভাড়াটাও বুঝেচ? দেরী করো না,
অমন ছেলে, আবার কোথাও টেনে নেবে—ভাল জিনিস
পাতে পড়তে পায় না।
( প্রস্থান)
নীহারিকা। কী তুমি অমন মুখ গোঁজ করে বসে আছ যে-
যেন কন্যাদায়! কী হয়েছে কী? আমার বাপু অমন
মুখ ভাল লাগে না! কী—হয়েছে কী?

প্রথম অঙ্ক মানস। কিছুই না—ভালতো লাগে না, কিন্তু যা ভােগানটা ভুগিয়েছিলে, রাত নেই, দিন নেই—প্যান্-প্যান্! উঃ, আমার প্রাণটা নীহারিকা। সে কী আমি ইচ্ছে করে করেছি, দেথতে তো বুড়ােবুড়ী কী সুরু করেছিল, অতাে উড়ােতাড়া মানস। সে রকম তাে এখনাে করে, কই এখন তাে-- নীহারিকা। এখনকার কথা ছাড়, এখন সত্যিকার মিসেস্ মুখার্জি-পার্টনারশিপে! ( হাসি) উঃ, মনে পড়ে গেলে এখনও হাসি পায়, চাকরীর খাতিরে-কই গাে ?—দাগ। atía 91657 ay?-Good conducta Certificate কোথায়—আরে বাপু আধুনিক ছেলে একটা মেয়েকে এতাে কাছে পেয়ে Contractএর terrns রাখবে—আর আমার মতাে মেয়ে-রূপে, গুণে- মানস। (স্বগত) হু! যাও না ছেড়ে-বাঁচি বাবা! আমারিই দোষ, উনি যে গলায় ঝুলে পড়লেন, তাতে—উঃ, তখন মনে হতাে যেন আমি ওঁকে ছ্যাকা দিচ্ছি—Prince of walesএর উনি বাদত্তা। আরে বাবা-মেয়ে জাত- আজকালকার ছেলে—আর কিছু না শিখুক—ওজাত- টাকে ঠিক শিখেছে—ধরে আর ছাড়ো—ঠিক! প্রেম করো, বিয়ে করাে না! উঃ আমার idea it was heavenly !আর এ একেবারে গড্ডালিকা! নীহারিকা। কী—চুপ করে রইলে যে—কী ঘুম পাচ্ছে? তালে

মানময়ী বয়েজ স্কুল
ঘুমােও মানসের মাথা মৃদু মৃদু আঘাত করে ) “ছেলে
ঘুমলে'-
মানস। নানা ঘুম পাচ্ছে না—্যা দেখ, ভাবছি কিছুদিনের
ছুটি নেব—দেশে একটু জমিজমা ছিল, বারভূতে লুটে
খেল, একটু দেখে আসি—এই মাস খানেকের
নীহারিকা। বেশ ত, চলে দু’জনেই যাই। কোলকাতায় আমাদের
বিয়েটাও সেরে নেবো—দেড় বছর হলাে—আর বেশী
দিন থাকা ঠিক নয়! একটা license—কী বলে ?
কখন কী হয়-
মানস। (চমকে) কী আবার হবে ?
নীহারিকা। (লজ্জা) ধ্যেৎ, জানি না—ও—যেন থােকা।
মানস। তা আগে আমি ফিরে আসি, তারপর একবার
গিয়ে না হয়—(স্বগত) একবার তাে পাড়ি দি, কে ধরে
তারপর ! যদি পুনর্মিলন হয়, এ বেচারী—কেন বাবা।
মানে মানে সরে পড়ি, ভাগ্যে থাকলে চাকরী বহুৎ মিলবে
—আর বউ? বাংলাদেশে ঐ একটী জিনিসের এখনো
unemployment আসেনি
নীহারিকা। নানা—আর বার বার নয়! বুড়াে ছাড়ে কী
ছাড়ে! আর দ্যাখো, এখানে না হয় আর নাই
এলাম, কোলকাতা, কিংবা—খুব দূরে—যেমন ধরো-
নাগপুর—কী লাহাের—কী বম্বে—চেষ্টা করো না! বেশ
হবে—চেনা নেই—শােনা নেই! বাক্লাহাটি আর ভাল
–

MAKARDAH-100 HAH.
প্রথম অঙ্ক
লাগে না-গেঁয়ো—বুঝলে—চল এ চাকরী ছেড়ে দি—
রাজি হও তো আজিই ছাড়ি-
মাস। (স্বগত) হু বুঝেছি—ঠিক হয়েছে! অশেষ চক্রবর্তী
আসার আগেই, উঃ-stone-like womanই বটে!
ফার্ণাণ্ডিজের মিসেস্ হওয়াই উচিত ছিল, কলে থাকতে
(প্রকাশ্য ) আচ্ছা সে দেখা যাবে—এখন চলাে চান করি-
নীহারিকা। আমি তো কখন করেছি—যাই ঠাকুরকে দেখিয়ে
দি—তুমি চট করে এসে কিন্তু
( উভয়ের প্রস্থান)
RARY.
SARIA
Eatd:-1219,

দ্বিতীয় অঙ্ক প্রথম দৃশ্য [ দামােদর চৌধুরীর বাগান--খানকতক বেতের চেয়ার- তিনখানা ছােট্ট টেবিল ] ( দামােদর ও রাজেনের প্রবেশ) রাজেন। কাজটা কী যথার্থ ভাল করলেন! বিয়ে করেনি চারিদিকে মেয়েরা রয়েছেন—আইনে যথার্থ দামােদর। তুমি ডােবাবে রাজু ! কী ছেলে জানো? হীরের টুকরাে—বিয়ে করেনি? আরে নাই বা করলাে বিয়ে—না হয় দেখে শুনে এখানেই একটা মেয়ের তাে অভাব নেই -অমন ছেলে-লােকে পাবে কোথা! আমারই ইচ্ছে হচ্ছে জামাই করতে রাজেন। উঃ—-হুঃ- দামােদর কী হলো—আরে হলো কী? রাজেন। আজ্ঞে কিছু না-বুকের সেই যথার্থ বেদনাটাতা দেখুন ওই ইচ্ছেটি করবেন না, কোলকাতার যতো ভাল ছেলে সব যথার্থ চরিত্ৰীন, মদ আর বেশ্যা—দিনরাত চুর। –

দ্বিতীয় অঙ্ক
৩৯
আজ্ঞে রাতে যথার্থ চিৎপুর দিয়ে হাঁটুন, দু’ধার দিয়ে ঐ
সব হীরের টুকরো—আর ঐ সব বেহ্ম মেয়েরা দিনরাত
যথার্থ এই সব ছেলের পিছনে ফেউ—বিয়েও করবে না-
ছাড়বেও না—আর ছেলেরাও যথার্থ—যেন ভূভারতে
মেয়ে দেখেনি—ওরা যথার্থ ওপরে হীরে ভিতরে বিষ ।
তা নইলে এখনও কেন এই নতুন মাষ্টারটা বিয়ে
করেনি ? বােঝেন ত ? এদের কী মেয়ে জোটে না ?
যথার্থ
দামােদর ! আরে তােমার যথার্থ রাখ, ওসব পুথিগত—গল্পই
শােনা যায়। দ্যাখােনা এ ছেলে যা এসেছে-নামেও
যা-কাজেও তা-
রাজেন। (স্বগত) তা আগেই জানতাম—এই ভয়েই-কী জানি
কে এসে পড়ে—না, আবার পড়তে হলো—কিন্তু তা না
হয় পড়লাম, গ্র্যাজুয়েটও না হয় হলাম—কিন্তু তদ্দিন কী
চপলা অপেক্ষা করবে--? যথার্থ কচু করবে। সামনে
থেকেই শুম্ভ-নিশুম্ভ যুদ্ধ—তায় আর এক হীরের টুকরে—
—যার জন্যে প্রাটিস্ ছাড়লাম, সেও বুঝি—বুঝি কী
ঠিকই
দামােদর। কী রাজু-কী ভাবছ? নাঃ তুমিই ভােবাবে রাজু !
একেবারে ডােবাবে! যা—সে পরে দেখা যাবে, তুমি
বসাে! তাকে আনতে মটর পাঠিয়েছি—এই এলেন বলে।
মাষ্টার এলো না কেন এখলো—কৈ হয়—

৪০
মানময়ী বয়েজ স্কুল
( খটমট সিংএর প্রবেশ)
খটমটু। (সেলাম করে ) হুজুর !
দামােদর। মাষ্টার সাহেবকে সেলাম দেও--
খটমটু।
| জো হুকুম
( প্রস্থান)
দামােদর। আরে রাজু দ্যাখো কী—দু’ ইস্কুল দিয়ে এবার
বদনকে তাক লাগিয়ে দেবাে!-ছেলেদের
রাজেন। যথার্থ তা সে একটাতেই লেগেছে—আমারই মাথা
ঘুরে গেছে—আর বেগুন-বেচা বদন। এটা করবার কোন
দরকার যথার্থ ছিল না—আপনার শরীর
দামােদর। আরে তােমরা তাে আছ—তােমাদের ভরসাতেই
তাে—আর তা ছাড়া ছেলেদের লেখাপড়ার সুব্যবস্থা
বালাহাটিতে ছিলই না। আর একটা হাই ইস্কুল
জেলাতেই মাত্র একটা—ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেব তাইতাে সেদিন
বলেছিলেন—ইংরেজীটা অতাে বড়াে—ঠিক মনে নেই,
মাষ্টার জানে—অর্থাৎ কি—তুমি একটি প্রাতঃস্মরণীয়
লােক দামােদর—এই যে মাষ্টার—বলতো সেদিন
( মানসের প্রবেশ )
সেদিন ম্যাজিষ্ট্রেট কী বলেছিলেন ?
মানস।
You are David Hare of the District
দামােদর। শুনলে তাে রাজু, David Hare—কথাটা ছাই
মনেও থাকে না, হিনি ছিলেন বাংলার লাট সাহেব

দ্বিতীয় অঙ্ক ৪১ আরে বলবে না-সােজা তাে নয়-চল্লিশ হাজার টাকা খরচ করে, পচিশটা মাষ্টার এনে, তবে না সরকার মাসে তিনশ’ টাকা করে দেবে বলেছে--আরে ওর গুণেরই কদর করে—কী বলাে মাষ্টার ? রাজেন। আজ্ঞে সে তো যথার্থ—আমরাও হােমিওপ্যাথিকের মতাে ফোটা ফোটা রক্ত দিয়ে একে বাঁচিয়ে রাখবাে তবে, তবে কী জানেন, বেশী লেখাপড়া শিখে যথার্থ ছেলের উচ্ছন্নে যাচ্ছে—আমার মতে যথার্থ ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেই—ঐ মটর-এলাে বুঝি ( নেপথ্যে মটরের হর্ণ ) দামােদর। ঠিক হয়ে সব বসে—রাজু তুমি গিয়ে গেট থেকে নিয়ে এসো—আমিও যাবাে নাকি রাজেন। আজ্ঞে—আপনি যথার্থ প্রেসিডেন্ট-আপনারা বসুন, আমি গিয়ে—যথার্থ ( প্রস্থান) দামােদর। ঐ এলাে! ঐ নামলো ! দেখাে দেখাে মাষ্টার—কী সুন্দর চেহারা? যেন রাজপুত্তর, আর রাজু বলে কিনা- এরা হয় চরিত্রহীন, আরে এরা চরিত্রহীন হয় না—চরিত্র- হীন করায়—আমি মেয়ে হলে—কী বলাে মাষ্টার-ঐ আসছে- মানস। (স্বগত) —ঠিক হয়েছে-খৃস্টান ছুড়িটা রূপ দেখে--- তায় গুণ ! কিন্তু ছাড়লে কেন? ভেকি—ঘাের ভেকি

৪২
মানময়ী বয়েজ স্কুল
2
—হয়তাে তান্য কেউ বাগিয়েছে, জাতেরই দোষ-আচ্ছা
পুরুষকে বিয়ে করা চলে না?
(রাজেন ও অশেষের প্রবেশ)
রাজেন। ( দামােদরকে দেখিয়ে ) ইনি হচ্ছেন আমাদের মাননীয়
Gefactos 3771-founder Manmoyee (irls'
School, Zaminder, President Panchayat, David
Hare of the District and what not !
( উভয়ে নমস্কার )
আর ইনি—Mr. Manash Molian Mukherjee, lead
Master, Manmoyee Girls' Scoool, Graduate,
and husband of Mrs. Niharika Mukherjee,
Graduate.
( দু’জনে নমস্কার )
অশেষ। ওঃ, তা হলে তাে আমরা দু’জন friend. আমার স্ত্রীর
নামও নীহারিকা
রাজেন। যথার্থ? আপনি বিবাহিত ?—যথার্থ বিবাহিত ?
অশেষ। হ্যা, আমি
রাজেন। উঃ! বাঁচালেন, যথার্থ বাঁচালেন ! (স্বগত) কোন্
ঠিকানা—তবুও মন্দের ভালাে ! একটা safety vulbe !
মানস। (রাজেনকে দেখিয়ে) আর ইনি হচ্ছেন
রাজেন। রাজেন্দ্রনাথ arça1-Secretary, Manmoyee

দ্বিতীয় অঙ্ক ৪৩ Girls' School, Under-Graduate ! নমস্কার! না দেখুন আমি যাই, এর জিনিস-পত্রগুলাে— ( প্রস্থান ) অশেষ। (দামােদরকে ) দেখুন আপনার কৃপার জন্যে আপনাকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা দামােদর। নানা সেকী বলছেন, আপনার মতো সােনার-চঁদ ছেলে--কী বলাে নাতী- অশেষ! দেখুন আমাকে আপনি তুমিই বলবেন, বিশেষ ওঁকে যখন—আর আমি আপনার নাতিরই বয়সি ! দামােদর। তা বেশ, বেশ—তুমিই বলবো, লেখাপড়ার এই গুণ—আমার এ নাতীটিও প্রথম দিন এসেই—হবে না? পেটে কিছু থাকলেই এসব আসে!—গিন্নীকে ডাকাই- তার নতুন নাতীকে দেখে যান। ওরে—ওকে আছি, কৰ্ত্তা-মাকে একবার এখানে ডেকে দে- (নেপথ্যে—“আচ্ছা বাবু”) গিন্নীর এক নাতী ছিল, দুই হলো-তাই বলে মাষ্টার আদরে বখেরা পড়লাে না—এটা পরিমাণে বেড়ে গেল কিন্তু বেশীর ভাগটা নাতবৌ ( অশেষকে) তুমি নাতবৌটিকে নিয়ে এলে না কেন? দুটিতে বেশ জতো তা হ'লে—তিনিও কী গ্রাজুয়েট—? তালে না হয় আমার ইস্কুলেই অশেষ। আজ্ঞে না—সে এই কিছুদ পড়েছে, অনেকদূর—তবে

৪৪
মানময়ী
বয়েজ স্কুল
বাড়ীতে কিনা— স্বগত) আনতে বললেই বিপদে ফেলবে
দেখছি
মানস। (স্বগত) হু-আনবেন
কোত্থেকে? ডিভাের্স
রিপাের্টটা—
দামােদর। যা শীগগীরই এনে, না হয় মাঝে কিছুদিনের ছুটি
নিয়ে গিয়ে—নয়তাে আবার এখানে মন টিকবে কেন?
রাত্তিরে আবার আমার মতাে হাতড়াতে হাতড়াতে
বিছানায় বেরাল চেপে ধরবে, হাঃহাঃ-
অশেষ। আজ্ঞে না, মানে কী—কোলকাতার মেয়ে কিনা—
পাড়াগা—এই ভয়ে—ওদের একটা বিভীষিকা আছে-
দামােদর। পাড়াগ।—বালাহাটি পাড়াগা—ট্রামই নেই, নয়তো
একেবারে কোলকাতা। বিজলী আলাে, পাখা, কী নেই।
আনাে নাতবৌকে একবার দেখিয়ে দি
অশেষ। (স্বগত) কী বিপদ! নাঃ, টিক্‌তে দেবে না দেখছি
( প্রকাশ্যে ) আগে তো জানতাম না, আনবাে বৈকি-
নিশ্চয়ই আনবাে, একবার এলে-
মানস। (স্বগত) হু—এ বড় জবর ফাঁদে পড়েছেন বাছাধন
মানময়ী। (প্রবেশ করে’ ) কিগাে, সকাল সকাল—দিব্যি তো
নাতী দাদুতে—ওমাঃ-
দামােদর। আরে গিন্নী—এসো—এসােসােনার-চাদ ছেলে-
এও তােমার নাতী! হীরের টুকরাে-লজ্জার কিছু নেই।
মানময়ী। (এগিয়ে এসে অশেষের চিবুক স্পর্শ করলেন—অশেষ

দ্বিতীয় অঙ্ক ৪৫ প্রণাম করলাে) থা—থাক্‌-আহা হবে না সােনার-চাদ, কী চেহারা? ওগাে তােমার ভাগ্যই ভাল, দুই নাতীই সােনার-চঁাদ হলো— লামােদর। হবে না—এমন গিন্নী যার ? কী বলো—মাষ্টার আমার গিন্নী কী দেখতে খারাপ—তােমার গিন্নীর চেয়ে অনেক দেখতে ভালাে- মানস। নিশ্চয়ই—দিদিমাকে আমি আমার দ্বিতীয় পক্ষ- মানময়ী। দাড়াও নাতবৌকে বলে তােমার দ্বিতীয় পক্ষ করাচ্চি! ( অশেষকে) তােমার গিন্নীকে, আনলে না কেন, দুটিতে বেশও বেচারা একা একা!—হঁ্যা বাবা- থােকা-খুকু ক’টি— অশেষ। (স্বগত) এই সেরেছে! (প্রকাশ্যে ) সবে সেদিন বিয়ে হলাে—তবে–( মুখ নীচু করে ) মানময়ী। হবে বুঝি ! বেশ বেশ! আশীৰ্বাদ করি একটী থােকা হাে– মানসকে ) শুনলে তাে তােমাদের যতো কু-কীর্তি-ও আবার কী ফ্যাসান? এই বছরই নাতবৌ-র কোলে একটি খােকা চাই—বলে দিলাম—উঠন্ত বয়েস—কোল খালি ভাল দেখায় না—একটি হয়ে না হয় ! হবে- মানস। (স্বগত) উঃ ! লােকটা আমার বাবা! বেমালুম নির্জলা মিথ্যে বলে চলেছে—মানস মুখুজ্যের কানকাটা ছেলে। ( প্রকাশ্যে ) এই যে মিস্ চপলা এসাে—কী খবর?

৪৬
মানময়ী বয়েজ স্কুল
( চপলার প্রবেশ )
চপল। মেসো, আজ ক্যারমে—( অশেষের দিকে নজর পড়ার
থেমে গেল )।
মানস। চপলা,ইনি হচ্ছেন তােমাদের ইস্কুলের নতুন মাষ্টারমশাই
—আর ইনি হচ্ছেন মিস্ চপল চৌধুরী।
চপলা। নমস্কার। কিন্তু ইনি তো আমাদের ইস্কুলের নয়, ইনি
তাে বয়ে– ইস্কুলের
অশেষ। হঁা, আমি—তা আপনি কোন্ ক্লাশে পড়েন? এই
গার্লস্ স্কুলেই বুঝি
চপলা। হ্যা, আমি সেকেণ্ড ক্লাশে উঠেছি এবার ফাষ্ট হয়ে ।
অশেষ। তাই নাকি? বা, বাঃ! দাদামশাইয়ের কন্যা-ভাগ্যও
দামােদর । আরে ভাই, ওর জন্য দায়ী এই মাষ্টার—দিনরাত ওকে
পড়াচ্ছে—নাতবো গানও
অশেষ। গানও জানেন নাকি? বাঃ! তালে তাে- স্বগত)
উঃ, যেন আগুনের ডালি ! না আর উপায় নেই। এক
ফটোই যতো গােলমালের সৃষ্টি করলো ! তবুও—উপর
উপর যতােটা প্রকাশ্যে ) তা বিকেলে শুনাতে হবে
কিন্তু মিস্
চপলা। মাসীর শুনবেন না? তিনি ওস্তাদ
অশেষ। নিশ্চয়ই, তার কৃপা হলে—কী বলেন মিঃ মুখার্জী ?
মানস। নিশ্চয়ই। আজ বিকেলে আমার ওখানেই চাটা
!

দ্বিতীয় অঙ্ক ৪৭ kindly. সকলেই আমরা—দাদামশই, দিদিমা, মিস্ রাজেনবাবু—আসবেন তো ? দামােদর। বে—বেশ- মানময়ী। বেশ কাটবে বিকেলটা ( একত্রে) চপলা। • আমাকে আবার নেমন্তন্ন ? (রাজেনের প্রবেশ ) রাজেন। (স্বগত) নাঃ, জ্বালালে দেখছি—ঠিক জুঠেছে ! এ-জাত যথার্থ পুরুষের গন্ধ পায়। যথার্থ কতাে কাছে,দেখেছ ? কী হাঁ করে করে’ গল্প, এখনই যেন প্রকাশ্যে ) এই যে চপল, কৰ্ত্তা-মা তােমাকে এক্ষুনি—যথার্থ ( মানময়ীর দিকে চোখ পড়ায় )-(স্বগত) উঃ এক্ষুনি যথার্থ বেকুব ( প্রকাশ্যে ) হঁ্যা, দেখুন আপনার জিনিস-টিনিসগুলাে সব দিয়েছি ঠিক করে—যথার্থ একজন স্ত্রীলােক না থাকলে ঠিক গােছ-গাছ চপলা। আচ্ছা আমি গিয়ে ওবেলা সব গুছিয়ে দিয়ে আসবাে- ওসব পুরুষের, চাকরের কাজ নয়। রাজেন। (স্বগত) যথার্থ এ আবার খাল কেটে-কী বলতে কী হয়—(প্রকাশ্যে ) না, তােমাকে আর—আমি সব ঠিকঠাক —তােমাকে আর যেতে হবে না। আমি একাধারে যথার্থ পুরুষ ও মেয়ে—দুইই। (স্বগত) আবার এটাকেও—উঃ, এ-জাত ‘তিমন্ চাখা, যথার্থ প্রকাশ্যে ) তা এবার

৪৮
ননিময়ী বয়েজ স্কুল
আপনি উঠুন, বেলা হয়েছে, বেশীক্ষণ এখানে বসে থাকা
safe নয়, অর্থাৎ যথার্থ ‘ট্রেন জার্নি করে—একটা
ঘুম
দরকার।
দামােদর। এবার তালে তুমি ওঠো ভাই।
মানময়ী। চান করে এখানেই—এখানেই খাবে কিন্তু।
সাজেন। উনি আবার কষ্ট করে তার চেয়ে এবেলা ভাতটা
ওঁর বাসায়—মানে ট্রেন জার্নি কিনা—তারপর ওবেলা
থেকে যথার্থ সব সুব্যবস্থা—ঠাকুর, চাকর ready।
(স্বগত) কতো আর ঠ্যাকাবাে ।
মানময়ী। না না, তুমি চলেই এসো ভাই, আমি নিজে কাছে
বসে খাওয়াবাে।
রাজেন। (স্বগত) হু । যথার্থ মেয়েটার মাথা খাওয়াবেন
যেন জামাই! উঃ, আমাকে আর
মানস। তা’লে আমি যাই-আসবেন ওবেলা—মিঃ চক্রবর্তী,
রাজেনবাবু আসবেন নিশ্চয়ই—এই একটু চায়ের ব্যাপার
মিঃ চক্রবর্তীর অনারে—নমস্কার । ( প্রস্থান)
রাজেন। (স্বগত) যথার্থ যাত্রা শুরু হয়ে গেল—আর আমার
বাবারও সাধ্যি নেই-নাঃ এবারই ছেড়ে
দাদোদর। আচ্ছা চলি তাহলে-
(একত্রে )
মানময়ী। চট করে এসাে বাবা।
( উভয়ের প্রস্থান)
অশেষ। ত’লে যি, আসবেন আপনি?

দ্বিতীয় অঙ্ক চপল। দেখুন আমাকে আপনি ‘তুমিই বলবেন। আমার বড় লজ্জা করে-বয়সে তাছাড়া অশেষ। বেশ বেশ, thanks. রাজেন। হঁা, তা মিঃ চক্রবর্তী চলুন, আপনাকে দেখিয়ে শুনিয়ে অশেষ। Oi ! Excuse pplease ! চলুন। রাজেন। আপনি যথার্থ একটু এগুন, আমি একটু—এই- ( কাশি) এই মিস্ অশেষ। আচ্ছা, আচ্ছা।-আচ্ছা মিস্- ( প্রস্থান) রাজেন। চপল-বাঃ কী সুন্দর ! যথার্থ তােমাকে এখন যা দেখাচ্ছে চপল, যেন, যেন-নাঃ উপমা নেই, কী বলে? চিলা। ( হেসে ) কেন বলুন, এক ঝড় কালাে মল্লিকা–আচ্ছ। রাজুদা- রাজেন। আমায় ডাকছ চপল ? আমায়- চপলা। (খি খিল্ করে হেসে) হঁ্যা, কী হলো আপনার ? আচ্ছা রাজুদা, ফাষ্ট ক্লাশ এম্-এ কাকে বলে? বাবা বলছিলেন—কী সুন্দর চেহারা আমাদের নতুন রাজেন। (স্বগত) এই রে, সেরেছে। রূপ, রূপ! কেন বাবা। -নাঃ জাতেরই দোষ- চপলা। কই বললেন না? রাজেন। কী চপল ? ৪

মানময়ী বয়েজ, স্কুল
চপলা। দ্রুত।
( প্রস্থাননাস্থম)
রাজেন। ( তাড়াতাড়ি পথ আটকিয়ে ) না, না। যথার্থ যেও না
চপলা, এই বলছি, ফাষ্ট ক্লাশ? মানে—যথার্থ যারা
দিনরাত মদ খেয়ে যথার্থ খারাপ জায়গায়, এই বেশ্যা বাড়ী
পড়ে থাকে, এই তারাই—দ্যাখ না লােকে বলে ‘ফাষ্ট ক্লাশ
বদমায়ে’
চপলা। এ-এ, মানে ?
রাজেন। ( স্বত) তােমার মাথা! ( প্রকাশ্যে ) এম-এ, মানে,
( একটু ভেবে) মাষ্টার অব্‌ এডাল্টী ।
চপলা । মানে ?-আপনার কথাই বােঝা দায়।
রাজেন। যথার্থ আমিই একটা দায় হয়ে উঠেছি—মানে? হ্যা,
দাড়াও বলছি-যেয়ো না চ-প-ল। (কাতর কণ্ঠে) মানে,
এই—অসচ্চরিত্র। তুমি ঐ মাষ্টারের সঙ্গে যেন বেশী
মিশে না, বিশেষ একা একা—যথার্থ কর্তাবাবু ওটা পছন্দ
করেন না।
চপলা। (হেসে) দূর, বাবা ওকে আনালেন, কতাে সুখ্যাতি
আপনি মানে জানেন না রাজুদ-আমি যাই।
( প্রস্থান)
রাজেন। নাঃ যথার্থ ভরাডুবি। যাই দেখি-
( প্রস্থান )

দ্বিতীয় অঙ্ক
৫১
দ্বিতীয় দৃশ্য
[ মানসমােহনের ড্রইংরুম। সন্ধ্যা সাতটা, সাড়ে-সাতটা।
ড্রইংরুমটি আধুনিক রুচিতে শ্রী-সম্পন্ন ]
( অশেষ ও রাজেনের প্রবেশ )
রাজেন। এইটে হচ্ছে মিঃ মুখার্জীর বাড়ী। ইনি দিব্যি ছিমছাম
আর যথার্থ হবে না কেন? স্ত্রী-ভাগ্যে যথার্থ ইতি-
পুরাণেও বিরল।কই হে হারু—যথার্থ ও হারু-উ,
তােমার বাবুকে—এই যে মানসবাবু এসেই পড়েছেন।
মানস.। আসুন, আসুন মিঃ চক্রবর্তী-বসুন। ওরে হারু, তাের
দিদিমণিকে খবর দে-
( সকলে বসলেন )
অশেষ। বাঃ, আপনার কোয়ার্টারটি বেশ
রাজেন। এটা যে কৰ্ত্তাবাবুর বাগানবাড়ী ছিল। যথার্থ ঐ যে
ওঁরা সদলবলে (স্বগত) উঃ, দেখেছ চপলার সাজগােজ
আর আমার বাড়ীতে, কোমরে আঁচল জড়িয়ে, যেন
:-
(দামােদর ও চপলার প্রবেশ)
দামােদর। এসেছ ? হা, তা আমার একটু দেরী হয়েছেনা ?
এই বেটির জন্যেই হলাে, ওর সাজই হয় না—ওরে হারু,
একটু তামাক আনতে বল দেখি ।
মানস। দিদিমা কোথায়, দাদামশাই ? তাকে—

মানময়ী বয়েজ স্কুল দামােদর। ও-হা, তার মাথাটা বেজায় ধরেছে, বামী বােধ হয় মাথায় তেল ঠাছে, বােধ হয় আসতে পারবে না, নাতবৌ কই? নতুন মাষ্টারকে দেখাও, কি জিনিস আমি পেয়েছি ! মানস। হ্যা—আসছে, এক্ষুনি-এই দশ মিনিটেই রাজেন। (স্বগত) কী মানিয়েছে চপলাকে—আচ্ছা, আমার চেহারা কী যথার্থ মােক্তার মােক্তার? উঃ-কী বাড়ছে, যেন পুই-ডগা—নতুন মাষ্টার—যথার্থ দু’জনে চোখাচোখি, ঐ:—একটু হাসলাে বুঝি ?-না, গেল গেল—( প্রকাশ্য ) তা, তা-চপলা তুমি একটু ভেতরে যাও না, তােমার মাসী যথার্থ একা একা চপলা বারে-মাসী বােধ হয় কাপড় পরছেন, এখন আমার যাওয়াটা,—আচ্ছা মাষ্টারমশাই আপনি গান জানেন, না? গান্না একটা রাজেন। (স্বগত) কী ঢং-এ-যেন নাচবেন! যথার্থ বুকটার মধ্যে অশেষ। আমি? না-আমি ও বিষয়ে একদম্ নাচার- তমারই একটা হােক—যততক্ষণ মিসেস মুখার্জি না আসেন- চপলা। না—আমার গলাটা বিশেষ ভাল নেই—আমি বরং আপনার বাসায় গিয়েই শুনিয়ে আসবে। এই তাে আপনার বাসা-হরদম্ যাবাে-।

দ্বিতীয় অন্ধ
p
রাজেন। (স্বগত) তা আর যাবে না? যথার্থ অছিলা ঠিক
শিখেছ! জাতেরই দোষ—( প্রকাশ্যে ) ঐ বে—বাঃ,
মিসেসূকে কী সুন্দর—( হঠাৎ থেমে )—ইনি হচ্ছেন মিসেস
মুখাজ্জি, বি-এ, আর ইনি মিঃ চক্রবর্ত্তী, যথার্থ হীরের
টুকরো
(নীহারিকা অশেষকে নমস্কার করলো, অশেষও)
অশেষ । তুমি!!— তুমি ?—আপনি? ( স্তম্ভিত হয়ে }
আপনি এখানে? (স্বগত) সমস্ত পৃথিবীটা ঘুরছে,
এরা শেষে কী—একী-~? ( অশেষ অজ্ঞানের মতো
হয়ে পড়লো) না দেখুন, আমার শরীরটা বড় অস্থির
করছে, আমায় একটু শুইয়ে দিন-( অজ্ঞান)
দামােদর। কী হলাে—কী হলাে! আরে রাজু ধরে ধরে
-না, তুমি শিগ্‌গীর যাও—ডাক্তার ডেকে আনাে,
এখন এই শিবপদকেই ডাক-মটর পাঠিয়ে দাও সহর
থেকে-যাও, দাড়িয়ে থেকো না।-নাতী, ধরাে একে
শুয়িয়ে দাও, ঐ চৌকিটায়—( সকলে ধরাধরি করে
অশেষকে সেই ঘরে একখানা খাটে শুইয়ে দিলো)
(রাজেনের প্রস্থান)
মানস। (স্বগত) হু—ঠিক হয়েছে! দেখি কোথাকার জল
কোথায় যায়? ওঁরও মুখখানা এতােটুকু—( প্রকাশ্যে )
ওগাে, দেখো—তুমি এঁকে দেখাে—হ্যা, স্মেলিং সল্টটা
শোকাও—আচ্ছা হঠাৎ এরকম হবার?

৫৪ মানময়ী বয়েজ স্কুল নীহারিকা। তাই তাে আমিও ভেবে পাচ্ছি না—হয়তাে হার্টের অসুখ আছে—চপল—তুমি মাথায় জলপটিটার ওপর একটু একটু জল দাও দেখি—আমি পায়ের দিকটায় বসি ( অশেষের রীতিমত সেবা চলতে লাগলাে, সে তন্দ্রাচ্ছন্নের মতাে পড়ে’-) অশেষ। (মােহের আবেগে) সুধীর—এ রা তাের বান্ধবীকে detain 1915illegally detained in Person ! হ্যা দেখফটোটা তােকে ( ডাক্তারসহ রাজেনের প্রবেশ) দামােদর। { ব্যস্ত হয়ে) ওহে শিবপদ—দেখতে কী হলো— ভাল ছেলে, কথাবার্তা বলছে—হঠাৎ নাতবৌকে দেখেই অজ্ঞানকী সব স্বাস্থ্য। ( ডাক্তার অশেষকে পরীক্ষা করতে লাগলেন ) রাজেন। (স্বগত) না—জালালে দেখছি-চপল যথার্থ কতত কাছে বসেছে, মাষ্টারটা আবার একখানা হাত বুকের ওপর, যথার্থ-থিয়েটারি ঢং-কোলকাতার ছেলে—আরে অসুখ-বিসুখ সব বুজরুকি—কাকতালে কাছে পেয়ে কিছু বাগিয়ে নেবার মতলব-নভেলে অমন- অশেষ। উঃ—একটু জল—চপল—আমি মিথ্যাবাদী- ( চপলা তাড়াতাড়ি জল দিয়ে, আঁচল দিয়ে মুখটা মুছিয়ে নিলো) দ্বিতীয় অঞ্চ রাজেন। ( স্বগত) কী আদর! নাযথার্থ ! আমি সেবার চুলকানিতে অতাে দিন-আঁচল দূরে থাক্‌-বলে-“কী নােংরা’ ? যথার্থ ওসব দামােদর। রাজু মােটর পাঠিয়েছ? রাজেন। ও—যাঃ—যথার্থ ভুলে গেছি, মানে—এদের এক ফেলে—বেশীক্ষণ বাইরে থাকতে সাহস হলাে না দামােদর। নাঃ-তুমিই ভােবাবে রাজু-ইস্কুলটাকে রাজেন। আজ্ঞে ইস্কুল তাে যথার্থনা যাই- ( প্রস্থান) দামােদর। কী ডাক্তার-কী দেখলে ?--বলি ব্যারামটা কী? হঠাৎ এমন- ডাক্তার। ভয়ের কিছুই নেই—একটু পরেই জ্ঞান হবে, তখন একটু গরম দুধ দেবেন—আর রাত্তিরে একজন কাছে থাকবেন—বেশীজন থাকবেন না। ঘুমের ব্যাঘাত হয় না যেন—ওষুধ পাঠিয়ে দিচ্ছি ( প্রস্থান) দামােদর। ( উদ্দেশ্যে ) একটু তাড়াতাড়ি পাঠিও—আর তালে রাজেনকেও বারণ করে দাও সহরে গাড়ী পাঠাতে। আজ কেমন থাকে দেখে—কাল সকালে বরং! নাতবৌ- আমরা বরং যাই—মিছে এখানে ঝামেলা করে তাে লাভ নেই—ওর এখন পুরাে বিশ্রাম দরকার—চপলা বরং থা—রাতে নাতবৌ একা একা—হঁ্যা, দেখ নার্সিং যেন খুব ভাল—এই যে রাজু –

মাময়ী
বয়েজ স্কুল
( রাজেনের প্রবেশ)
রাজু তুমিও এখানে থাক—ঐ বাইরের ঘরটায় শুয়ে-
যদি দরকার-টরকার—আর চপল আর নাতবৌ রাতে
ওকে নার্সিং করবে—ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওষুধ—দুধ—দেখা-
শুনা!
রাজেন। (স্বগত) নাঃ-রাতে অন্ধকার ঘরে চপলকে এক
একা যথার্থ ওই-কোলকাতার ছোঁড়াটার সঙ্গে ?-নাঃ-
( প্রকাশ্যে ) দেখুন—এই যথার্থ চপলার থাকার কোন
এই আমিই তাে রইলুম—দেখা-শুনা যথার্থ সবচপলকে
নিয়ে যাকর্তা-মা আবার একা একা
দামােদর। —না-ও থাক্‌-নাতবৌকে একা অত রাত
চপলা। হ্যা বাবা—আমি থাকি, সমস্ত রাত আমি ওঁকে
দেখবো
রাজেন। (স্বগত) যথার্থ তা আর দেখবে না—এই তাে সুযােগ
'—ভেতরে রস বেশ যথার্থ ভরে উঠেছে—
দামােদর। তাই থাক মা—হা, দেখ নাতী, রাজু—দু’জনকেই
বলে যাচ্ছি, দরকার হলেই আমাকে ডাকবে—তা সে যত
রাতই হাে-
মানস ও রাজেন। নিশ্চয়ই—নিশ্চয়ই
( দামােদরের প্রস্থান)
মানস। (স্বগত) এইবার একবার দেখি জাল ফেলে—কী

দ্বিতীয় অঙ্ক • ৫৭ ওঠে! কত জল! জবরদস্ত মেয়েমানুষ—আরে বাবা তাইতাে বলি ফার্ণাণ্ডিজের মতাে brute লােক—তার— তার কাছে টাকা বাগিয়েছিল—ও রাস্কেলটার কাছে হাত পালে কী করে--আই ওয়ান্ডার!—আরেকী করে? এরা সব পারে! ও মুখেরই গুণ- নীহারিকা। (একটা কাপ অশেষের মুখের কাছে ধরে ) নিন্- এটুকু খেয়ে ফেলুন দেখি—চ করো, তা’লে শরীরে একটু জোর পাবেন—এটুকু ? ওভালটিন্। হা—এই তাে—লক্ষ্মী ছেলে !—ডিগ্রি নিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাণ দিয়েছেন—আচ্ছা দেখুন, আপনি তখন সুধীর- সুধীর করছিলেন—তাকে একবার খবর দেবে—অবিশ্যি আর ভয় নেই। অশেষ। না—না! অমন কাজও করবেন না, সে কী আছে-- ? মানস। (স্বগত) সুধীর? সবৎস নাকি ইনি? বিচিত্র নেই- বৎসা হওয়া আজকাল সস্তা কতোটা গায়ের ব্লাউজু- সময়ে অসময়ে কাজ দেয়—(প্রকাশ্যে ) ( অশেমের বিছানায় বসে) আচ্ছা মিঃ চক্রবর্তী, হঠাৎ এরকম আপনার? হার্ট ট্রা আছে নাকি ? অশেষ। না দেখুন—যােল বছর অবধি ঠাকুমা’র দুধ খেয়েছি তখন ফাষ্ট ক্লাসে পড়ি—ইস্কুল যাচ্ছি—চুক চুক করে’ খেয়ে গেলুম— নীহারিকা ও চপলা একটু হেসে লজ্জিত। হ'লে)—ভালাে ছেলে !—তাই, অশ্বান্ বা স্যানাটোজেনের

৫৮
মনময়ী বয়েজ স্কুল
সে advertised শক্তি আর পেলাম না। হলাম পুরাে-
দস্তুর বাঙ্গালী
রাজেন। যথার্থ আমিও অনেক দিন অবধি—ঐ কী বলে—
মা’র ঐ ইয়ে খেয়েছি—আজকাল—এই চপলও যথার্থ
অনেক দিন হঁ্যা, তারপর
অশেষ। ঠাকুমা’র দুধ বােঝেন ত ? সেই এইটিন্থ সেন্চুরির
দুধ—পেলাম সেই সব আইডিয়াজু-কুসংস্কার, পৈতের
বহর, বংশের অশ্রুতপূৰ্ব্ব, অভূতপূৰ্ব্ব গাঁজাখােরী কীর্তি
যেন একটা বাদশাহ বংশ ছিল—সব চেয়ে dagerous যেটা
পেলাম—সেটা
ভূতের ভয়—সেটি তিনি তার ঝুলিটি উজাড়
করে—দুধের সঙ্গে দিলেন—( সকলেই হেসে উঠলাে) কী
সব বিভিন্ন ideas ; তাদের আকার, তাদের গল্প-এম্-এ
পাশ করেও অতো পাইনি
মানস ও নীহারিকা। এখনাে আছে নাকি—এই বয়সে?
( চপলা একটু মানসের গা ঘেঁসে বসলাে)
রাজেন। ঐ ভয়টি আমার নেই—বিশ্বাস করিনে--আর যথার্থ
নিজেরাই এক একটি—(স্বগত) নাঃ দেখেছ—চুড়ি যেন
যথার্থ মারিটার কতাে—কতাে-
মানস। কী, চপলার ভয় করছে নাকি?—ভয় কী ? এতােগুলাে
ব্রাহ্মণ থাকতে? হ্যা, আচ্ছা আজও কী সেই জন্যেই
অশেষ। ঠিক তাই! ঐ যে সুধীরের নাম শুনলেন না? ও
বেটাই আমাকে খেলো—যতো নষ্টের মূল ! সেবার গেছি

দ্বিতীয় অঙ্ক •
কানপুরে এক আত্মীয়ের বাসায়—একদিন পায়খানায় বসে
—হঠাৎ সামনে সুধীর এসে দাড়ালাে। স্থান-কাল ভুলে
গিয়েছিলাম, কারণ, পায়খানায় বসে একটা problem
solve করছিলাম—এটা আমার চিরদিনের অভ্যাস—হয়ও
জলের মতাে-
রাতেন। ওঃ, আপনার সঙ্গে সব মিলছে দেখছি, যথার্থ ঐ
ডিক্রিটি বাদ—আমি ঐ ওখানে বসে সব ভেবেনি—বাইরে
সময় কই ? নিজের যথার্থ জিনিস সাম্লাতে সাম্লাতেই
-সব যেন শকুনি। হঁা তারপর
অশেষ। ভাবলাম হয় তাে হবে—অমন ও করতে, সব চেয়ে
intimate কিনা, মেসের বাথরুমে পাঁচিল টপকিয়ে অনেক
সময় বেকায়দা সময়ে এসে পড়েছে-“যাঃ, তাের স্থান
অস্থান নেই— বলতেই দেখি নেই,তারপর বুঝতেই
পারছেন ?
ঠাকুমা’র দুধ কাজ করলাে। তার পরদিন
শুনি সে নেই।
নীহারিকা। তা আজকে আমার মধ্যে সুধীরের মূর্তি দেখলেন
নাকি ? ও বাবা, তা’লে তাে ওঝা ডাকতে হয়—(হাসি)
অশেষ। না—না, ব্যাপার কী জানেন মিসেস্-আচ্ছা আমি যে
আমার স্ত্রীর ফটোটা পাঠিয়েছিলাম, সেটা আছে ?
মানস। ফটো
?
নীহারিকা। কই ন} (একত্রে)
রাজেন। পাঠিয়েছিলেন? যথার্থ বাঁচিয়েছেন?

৬০ মানময়ী বয়েজ স্কুল অশেষ! পানি-রেজিষ্ট্রারি করে- মানস। না, পাইনি তাে! তা’লে misclelivery হয়েছে—আরে মশাই পাড়াগাঁয়ের পিওন—ওঁর চিঠি দিয়ে আসে প্রায়ই নীহারুদ্দিনকে, সে শেষে ফেরৎ ছায়। আহা, দেখুন তো জানি কার হাতে পড়েছে রাজেন। ঠিক তাই, আহা দেখুন তাে? যে নারী-নির্যাতনের ধূম পড়েছে—ভদ্রমহিলার হয় তাে--যথার্থ কোন্ গুণ্ডার হাতে পড়েছেন তার ঠিক কী ? অশেষ। সত্যিই পাননি? মানস। নাঃ, আপনার দরখাস্ত একটা লম্বা খামে পেলাম,-কই কোন ফটো তো—নাঃ, সব অপস আমার হাতে-ক বলেন রাজুবাবু ? যাক্ এ আর কর্তাকে জানিয়ে কাজ নেই—আবার একটা বেগুনের দরের মতো হৈ-চৈ করবেন- রাজেন। যথার্থ বউ থাকলে ফটো আবার হবে। অশেষ। •(স্বগত) উঃ খােদ, বাচালে! এই দুর্দিনে চাকরীটা আঃ! ( প্রকাশ্যে ) হ্যা, দেখুন আমার স্ত্রীর নামও নীহারিকা, আর দেখতে হুবহু—এই মিসেস্excuse me please, একেবারে to each line !—মানে আপনি মিঃ মুখার্জী, দু’জনকে একসঙ্গে দাড় করিয়ে দিলে ধরতে পারবেন না, বেছে নিতে পারবেন না,হয়তাে আমারটিকে নিয়ে—( সকলের হাসি ) তাই হঠাৎ আপনাকে দেখে,

দ্বিতীয় অঙ্ক
সুধীরের case মনে পড়লো। তার শরীর ভাল দেখে
আসিনি—মানে in family way কিনা
নীহারিকা। তা’লে তো আজই একটা খবর নিতে হয়,-আচ্ছা
সকাল হােক একটা টেলিগ্রাম করে দেওয়া যাবে।-আচ্ছা
আপনি এখন একটু ঘুমােন দেখি, ভয় নেই, আমরা এই
পাশের ঘরেই আছি, দরকার হলেই ডাকবেন—বুঝলেন,
কোন দ্বিধা করবেন না? আর রাজেনবাবু এই মেঝেতেই
শুচ্ছেন। ভয়ের কিছু নেই—ঘুমােন।
রাজেন। (স্বগত) যাক
(স্বগত) যাক্ বাঁচালেন! চপলা থাকলেই—উঃ,
অন্ধকার ঘর, ভাবতে পারিনে, তবুও আমি থাকবাে-বেশী
বাড়াবাড়ি করতে পারবে না, যথার্থ
( নীহারিকাদের প্রস্থান—রাজেন মেঝেতেই
একটা বিছানা পেতে শুয়ে পড়লো )
[ সেই ঘরই—শুদ্ধ গভীর রাত; এক-চাপ নিবিড় অন্ধকারে ঘরটি
আরো স্তব্ধ। বারান্দার একটি সবুজ ক্ষীণ আলােতে ঘরের অন্ধকার দূর
হয়নি, তবে বিভীষিকা ভেঙ্গেছে-মানুষে মানুষে পার্থক্য বােঝা যায়। তীক্ষ্ণ
শীত ; চৌকীর ওপর অশেষ অঘোরে ঘুমিয়ে আছে, নীচে মেঝেতে শুয়ে
রাজেন—ঘুমােয়নি, কারণ মাঝে মাঝে নড়ছিল। মানসের ঘরে যাবার
দরজায় একটা ভারী পর্দা ফেলা। ফাক দিয়ে মাঝে মাঝে এক এক টুকরো
স্তিমিত আলাে ছিটকে আসছে।]
রাজেন। নাঃ, যথার্থ ঘুমােবার কী যাে আছে,“এদিকে ঘুমে
চোখ ভেঙ্গে আসছে-কাহাতক আর জেগে থাকা যায়-
•

৬২
মানময়ী বয়েজ স্কুল
চোখের দু’পাতা এক জায়গায় করেছি কী যথার্থ হয় তো
এসে জুটবে চপলা, হয় তো ঐ পাশের ঘরে জেগেই আছে,
চুপচাপ এসে—কিন্তু আমি এখানে জলজ্যান্ত মানুষটা যথার্থ
রয়েছি, তা সত্বেও ? কোন ঠিকানা-অন্ধকারে দু’জনে
যথার্থ কিছু একটা করলেও, কী যথার্থ আমি কিছু বলতে
পিরবাে? সােজা নাকের ওপর—না, একটু উঠে দেখি—
( একটা চাদর জড়িয়ে উঠলো—অশেষ ঘুমিয়ে আছে
কিনা দেখল—পর্দা দিয়ে উকি মেরে মানসের ঘরটাও
দেখে মিলে) যাক, অশেষ-মাষ্টার ঘুমিয়েছে—আর ঐ ঘরে
ওরা। (পর্দার ফাকে দেখে) ঐযে যথার্থ চপলা শুয়ে
উঃ, কী সুন্দর দেখাচ্ছে, যেন—যেন একটা সাদা নরম
কোল-বালিস—যথার্থ মাষ্টারনী জড়িয়ে আছে তাকে
আমি যদি এই সময়ে মাষ্টারনী হতাম—উঃ, যথার্থ আমি
আর ভাবতে পারছি না—নাঃ একটু কাছে গিয়ে দেখে
আসি। (পর্দাটা সরিয়ে দিলো, চপলার খাটের কাছে
গিয়ে একদৃষ্টিতে তার দিকে চেয়ে রইল) ফিস্ ফি
করে ) এই যে চপল—আমার চপলা, চপলা যথার্থ আমার,
সে চপলা আর নেই, যথার্থ সেই ছােট্ট মেয়েটি আমার
গলা জড়িয়ে ধরে যথার্থ বলেছে ‘রাজুদা, ঐ আমটা পেড়ে
দাওনা আম পাড়তে গিয়ে কস্ পড়ে, চোখের কোণে
আমার সে কী ঘা—যথার্থ এক মাস ঘি গরম দিতে
হয়েছিল—আর এখন যথার্থ একটি আস্ত যুবতী! কেমন

দ্বিতীয় অঙ্ক গােল গােল হাত-পা-মুখখানা কেমন—( হঠাৎ চপল। পাশ ফিরে শােয়াতে রাজেন চকে উঠলাে) না যাই, আবার কেউ জেগে গেলে মুস্কিল বাধবে। (বেরিয়ে এসে পর্দাটা সরিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়লাে) নাঃ, যথার্থ আর ভয় নেই—সব ঘুমিয়ে আছে। এই ফাকে একটু ঘুমিয়ে নি। ( রাজেন প্রকৃতই ঘুমিয়ে পড়লো। অশেষ। ( ঘুমের ঘােরে ) আঃ-মাগাে! সুধীর, মাইরি তাের plan- ( চপলা দ্রুতপদে সন্তর্পণে এঘরে এলাে—পর্দাটা সরিয়ে ) চপলা। (মাথার কাছে বসে,মাথায় হাত বুলাতে বুলােতে ) কী মাষ্টারমশাই কী—কাকে ডাকছেন? অশেষ। ( হঠাৎ জেগে) কে ? মিসেস্ মুখার্জী ? চপলা। না, আমি চপলা। আর একবার ওষুধ খাবার সময় হয়েছে যে—দেবাে? অশেষ। দাও—তুমি কী সমস্ত রাত জেগে আছ নাকি ? মিছিমিছি-- চপলা। (ওষুধ ঢেলে দিয়ে ) না—না, আমি এক্ষুনি এলাম- আপনার কথা শুনে। এখন কেমন বােধ করছেন মাষ্টারমশাই? কিছু খাবেন ? এক কাপ ওভালটিন তৈরী করে দেবাে? অশেষ। না না, এতাে রাতে ! ওঁরা কোথায় চপলা ? হ্যা, দেখাে একটু মাথায় হাতটা বুলিয়ে দেবে-বড় ঝিম্ ঝিম্ করছে।

৬৪
মানময়ী বয়েজ স্কুল
( চপলা মাথার কাছে বসে চুলের মধ্যে আঙ্গুলের খেলা
করতে লাগলাে। আঃ, বাঁচলুম, মাথাটা বড় কেমন করছিল
চপলা। (স্বগত) একেই বলে দৈব-দুব্বিপাক ! প্ল্যান্
আঁটতে গিয়ে চপলাকে পেয়েও পেলাম না—যাক্,
চাকরীটা টিকলে ‘ধরি মাছ না ছুই পানি’ পলিসি ফলে
করা যাবে। সুধীরকে একবার আনা যাবে—এমন জিনিস
অথচ সহরের ঘাের-পাচ নেই। ( প্রকাশ্যে ) আচ্ছা চপল,
তুমি কী ছেলেবেলায় খুব দুষ্টু ছিলে ?
চপল। কেন? বারে—খুব তাে প্রশংসাপত্র দিলেন ?
অশেষ। না—না, তােমার নাম চপলা কিনা তাই, আর মেয়ে
অর্থাৎ চঞ্চলা হওয়াই ভাল—আমি খুব ভালবাসি
রাজেন। (হঠাৎ জেগে শেষের শব্দ দুটোই শুনতে পেলো।
( স্বগত) যথার্থ ধরেছি! রাতদুপুরে ‘ভালবাসি’? ঠিক
চপল! (প্রকাশ্যে ) কী মিষ্টার চক্রবর্তী-ভুল বকছেন
নাকি? যথার্থ ( উঠে। ওকে? যথার্থ পাশে বসে?
মিসেস্ মুখার্জী যথার্থ ?
চপলা। না রাজুদা, আমি! ওর মাথাটায় একটু হাত বুলিয়ে
দিচ্ছি! বড় নাকি অস্থির করছিল!এখন আরাম
লাগছে মাষ্টারমশাই?—একটু
রাজেন। যথার্থ—লাগছে! তুমি যথার্থ খুব ভাল মাথা মেসেজ
করতে পার(স্বগত) যথার্থ কখন উঠে এসেছে?
—পাহারা দিয়ে কী হবে? ‘সিংকিং সিংকিং যথার্থ

দ্বিতীয় অঙ্ক
ড্রিংকিং ওয়াটার— আমার পালা শেষ হয়েছে—যথার্থ
মােক্তারিই খেলাে—এর চেয়ে যদি বাী রেখে কবিও
হতাম প্রকাশ্য ) তা চপল—তুমি যথার্থ আর রাত
জেগে না—আবার তােমার শেষে-হ্যা, আর দেখো অতো
কাছে যথার্থ বসাে না—ওতে ওঁর বিদ্রিং ডিফিকাটি হয়,
তা তুমি বরং শুতে যাও—আমি যথার্থ সব সেরে দিচ্ছি-
অশেষ। হাতুমি শুতে যাও চপলা! আমি এখন বেশ আছি।
(চপলার প্রস্থান)
আপনিও শুয়ে পড়ুন রাজেনবাবু-আমি এখন ঘুমবাে
আর কোন ট্রা নেই
রাজেন। আচ্ছা—তা দেখুন, দরকার হলে আমাকেই ডাকবেন
যথার্থ আর কাউকে ডাকবেন না—অর্থাৎ আমি কাছেই
আছি, আর অলওয়েজ জেগে—আমি কী ঘুমিয়েছি
ভাবছেন? সব দেখেছি—চপলা এলাে যথার্থ তারপর
হ্যা, ঘুমিয়ে পড়ুন। (স্বগত) নাঃ—আর ঘুম নয়! যথার্থ
জেগে পাহারা দেবে—আর কতই বা দেবােটা
দু’দিকেই, যথার্থ ইস্কুল—ইস্কুল! আমার বাপের পিণ্ডি!
যথার্থ বা মরলেও এতো দুঃখ হয়নি—ইসিওর ছিল !
পঞ্চভূতের জীবনও যাবেই—দুঃখু নেই, টাকা পেলাম
কিছু কড়কড়ে—পিতৃশােক ভুলিয়ে দিলে—কিন্তু চপল।
গেলে? আচ্ছা যথার্থ-এই—এই ভালবাসার ইয়ে
ইনসিও হয় না? উঃ-হলে পই পই করে কোম্পানি

মানময়ী বয়েজ স্কুল
বড় হােয়ে যেতাে—কোলকাতায় অঢেল! অঢেল ! আমি
হতাম যথার্থ পলিসি নম্বর ‘ওয়ান্! নাঃ—ঘুমে যথার্থ
চোখে ভেঙ্গে আসছে—কিন্তু ঘুমলেই! দি আইডিয়া
যথার্থ কী মাথা! ঐ দরজাটা বন্ধ করে যথার্থ ছিটকিনি
বন্ধ করে দি-উঃ আগে যদি করতাম—মাঝের ঐ যথার্থ
love sceneটা হতো না—একেই বলে ভবিতব্য—নয়তে!
রাজেন বাড়রীর ভুল !
(রাজেন উঠে গিয়ে দরজার হুকটা বন্ধ করে
এসে, শুয়ে পড়লাে )
তৃতীয় দৃশ্য
[ মানসের শােবার ঘর। সময় অপরাহ্ন, গােধূলির তীব্ৰচ্ছটা তখনে'
দিনের রেশ রেখেছে—তবে তার উগ্রতা নেই। হারু তার
সে-ঘরের বৈকালিক কাজগুলো সেরে রাখছিল ;
হাতে কাজ-মুখে তার গান ]
( গান—অদ্ভুত সুর—বিস্কৃত ভাষা)
চেয়ো না-সুনয়না-আর চেয়ো না-
ও নয়ন পানে-(বলি হায়রে-এ-)
(ও) চোখে তার সুরুমা আঁকা—চাউনি বাঁকা
-
চলে নীল সড়ী-নিঙ্গাড়ি নিঙ্গাড়ি-
পরাণ সহিত মাের-( আ-হাঃ)

দ্বিতীয় অঙ্ক । ( নীহারিকার প্রবেশ ) নীহারিকা। এই হারুও কী গান? আজ্ঞে দিদিমণি-এই গজল-নজরুলী গজল’- নীহারিকা। সে জানি কিন্তু ও গান শিখলে কোথায়—শুনি? হারু। আজ্ঞে—কেন? ভাল? তাওতাে আমার গলা নেই- কিন্তু কোলকাতায় এই চারটের সময় যখন মেয়েদের ইস্কুলের বাস্ যেতো—তখন এই সাইকেলের দোকান থেকে ছেলেরা যা গাইত—সে কী চাউনি যেন মিছরির ছুরি! নীহারিকা। চুপ—বেয়াদপূ! কোথেকে তােমাকে বাবু যােগাড় করেছিলেন শুনি? হারু। আজ্ঞে রাস্তা থেকে- নীহারিকা। কিন্তু এটা রাস্তা নয় জেনােভদ্রলােকের বাসা এরকম করলে, তােমার চাকরী থাকবে না— হারু। (স্বগত) কিন্তু যাবার আগে একহাত চেলে যাবে—এ শৰ্মা সব ব্যবসা করেছে—( প্রকাশ্যে ) না—দিদিমণিও গান আর গাইবো না। আমি জানতাম না আপনি পেছনেতা’—‘ভজ মন মেরী মাতার নন্দনে-ভজ নীহারিকা। না—জালালে দেখছি—কী বেয়াদপ। ওহে বাবু মেরী মাতা-তােমার কী একটুও শিক্ষা নেই?

৬
মাময়ী বয়েজ স্কুল
হারু। এ তাে--আজ্ঞে আপনারই গান--
নীহারিকা। হােক, মনিবের সামনে কোন গানই করতে নেই--
বুঝলে?—এখন যাও—মনে থাকে যেন কথাটা--এখন
যাও এ ঘর থেকে, আমার একটু কাজ আছে।
(হারুর প্রস্থান)
আর এই লােকটা খাটতে খাটতেই যাবে, দু’দণ্ড
বসবার যাে নেই-ইস্কুল, ইস্কুল ! খেয়েই দৌড়িয়েছে
বুড়াের বাসায়—যেন দু’দিনেই বুড়ো হয়ে গেছে—আমার
সঙ্গে দুটো প্রাণ খুলে কথা ক’বারও ফুরসৎ নেই—কাজের
ভারে কেমন যেন নীরস—বললাম ছুটি নিতে, তা বলে
একা যাবে। আরে বাপু একা যে যাবে—এদিকে তাে
নিজের কাছার ঠিক নেই। এই যে চপলা-
[ চপলা ঘরে ঢুকলো-অসামান্য বেশ, হাতে একটা সােয়েটার ফেলা
মাথার এলো খোপায় একটা মস্ত বড় বিলতি ফুল গোজা ]
চপলা। আচ্ছা মাসী—আমায় একটা গান শিখিয়ে দেবে ?
তুমি জানাে? নিশ্চয়ই জানো-কোলকাতার মেয়ে
অশেষদা বললে-
নীহারিকা। ভূমিকা ছাড়াে—কী গান বলাে দেখি?
চপলা। ( সুর করে ) অলপ বয়সে পীরিতি করিয়া-
নীহারিকা। থাক্‌-থাক্‌-বুঝেচি! ও গান তােমায় কে বলে-
অশেষদা বুঝি ?

দ্বিতীয় অঙ্ক • চপল। হ্যা, গানও করলেন—কী সুন্দর গলা-- নীহারিকা। তবে না তিনি গান জানেন না—দেখ, তুমি ছেলে- মানুষ ও গান তােমার জন্যে নয়—বিয়ের আগে ও গান করে না। চপলা। তবে যে রামী করতে—তার তাে নীহারিকা। তর্ক করে না চপল—গল্পও বলেছেন নাকি তিনি? আচ্ছা আমি বলে দেবাে’খন! হ্যা চপল, তােমার মেসো তােমাদের বাসায় ? চপল। জানিনে তো—আমি সেই নটায় খেয়ে অশেষদা’র ওখানে গিয়েছি আর এই আসছি। হয়তো হবে! আচ্ছা আমি যাই—ম হয়তাে আবার ব্যস্ত হবে— নীহারিকা। তােমার মেসসাকে তাড়াতাড়ি আসতে বলো তাে গিয়ে চপলা। আচ্ছা ( প্রস্থান পিছনের দরজা দিয়ে ) নীহারিকা। মেয়েটা বড়ো পুরুষ-ঘঁাসা। সেবার দিনকতক ওঁর কাছে—আবার এই মাষ্টারকে ধরেছে। বয়সের দোষ-এ বয়সে মেয়েমানুষ যেন বাড়ন্ত লতা-একটা আশ্রয় না পেলে লুটিয়ে পড়ে। আর তা ছাড়া ঐ মাষ্টার হ্যা, দেখলেই প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করে। যেমন রূপ- । তেমনি গুণ! ফাষ্ট ক্লাসের দাম চপল কী বােঝে? ও আর একটাতেই ডুবেছে। হ্যা, ছেলে বটে! আমি যদি আজ ৭০ মানময়ী বয়েজ স্কুল বাধা না পড়তাম-- ? উঃ--সেই রাস্তায় যদি এর সঙ্গে দেখা হতাে--ওঁর পার্টনারশিপে যদি—যাক, কিন্তু মানসবাবুও লােক ভাল। আমাকে ভদ্রলােক সত্যি প্রাণে ভালবাসে। যা হােল্ক চপলাকে অতাে মিসতে দেওয়া ঠিক না—কেন ওটুকু বয়সেই? আর ও ভদ্রলােকই বা কেমন ? এতাে রূপ—এতো গুণ, শেষে একটা পেঁয়াে মেয়েকে-না জানে লেখাপড়া--না কিছু আধুনিক ! আমি এসে ওকে হাত- কাটা ব্লাউজ ধরালাম। বড় অকাল পৰু মেয়েটা ! ( রাজেনের প্রবেশ ) রাজেন। দেখুন, আপনাকে একটা কথা যথার্থ বলতে এসেছি। এই আমার একটু ব্যক্তিগত-না যথার্থ ব্যক্তিগতই বা কী ছাই—ও এমনিও পাবে না—ওনিও ! বিড়ালের ভাগ্যে যথার্থ সিকে আজকালনাঃ! দেখুন বলবো? এ উপকারটুকু যথার্থ আপনিই করতে পারেন—আর- একবার যথার্থ আপনিই করেছিলেন। নীহারিকা। বলুন না—এতে আর দ্বিধার কী আছে। রাজেন। না—বলেই ফেলি। দ্বিধা-না—তার কিছুই নেই। তবে কী জানেন-হয়তাে মনে করতে পারেন আমি নিজের স্বার্থের জন্যই—কিন্তু হা—এটা ঠিক জানবেন রাজেন বাড়ী যথার্থ ইচ্ছে কর্লে অনেক সুন্দরী মেয়ে পেতে পারে—তবে যথার্থ ব্যাপারটা কী জানেন—ছােটবেলা

দ্বিতীয় অঙ্ক
৭১
থেকে—আর এততদিনে একটা মুগীর ওপরও যথার্থ মমতা
হয়—তা নইলে কোলকাতার এক মেয়ে—চুচড়াের সেই
মেয়ে—কী রূপ? বাপের যথার্থ মস্ত চামড়ার ব্যবসা-
ভাবলাম যথার্থ চামড়া বিক্ৰী কৰ্ত্তে কৰ্ত্তে হয়তাে চামার
হয়ে গেছে—যথার্থ হয়তাে মেয়ের গায়ের গন্ধটাও—যথার্থ
শু কৃতে দিলো না-হা-হা করে যেন গিতে এলো—
নীহারিকা। (হেসে) আপনি শুকতে গিয়েছিলেন নাকি?
রাজেন। আজ্ঞে যথার্থ বােঝেন ত ? এক বিছানায়--এই যদি
আপনার গা দিয়ে চামড়ার, কী সুটকী মাছের গন্ধ
বেরােয়—রাতে মাষ্টারমশাই যথার্থ কী আর টিকতে
পারবেন? আমি তাই বলেছিলাম—কিছু চাইনে—মেয়ে
আমি শুকে নেবব—কিন্তু যাক—যথার্থ এবার
আসল কথা ! এই চপলাকে একটু বারণ করে দেবেন
যেন ঐ নতুন মাষ্টারটার সঙ্গে বেশী না মেশে—আমার
কী যথার্থ-এই কৰ্ত্তা-মাই বলেছিলেন যে আপনাকে
বলে দিতে—যথার্থ আপনাকে এই একটু যথার্থ ভয় করে
কিনা—অবিশ্যি উনি লােক খুব ভালাের বিষয়ে
আমার কিছুই যথার্থ বলবার নেই—সােনার ছেলে—তবে
কী জানেন যথার্থ চপলার এই বয়েসটা-বড়ো ভয়ের।
যথার্থ যুবতী হয়েছে—এখন যথার্থ শরীরের সব জায়গায়
একটা লিপিস্যা—যাবে না কেন? কিন্তু যথার্থ
সময় নেই—আর অততক্ষণ—সেদিন ঐ নীচের ঘরটায়

१२
মানময়ী বয়েজ স্কুল
যথার্থ দাড়িয়ে পাহারা দিতে দিতে-পাটা টন্ টন্ করতে
লাগলাে। যথার্থ এক প্যাকেট বিড়ি ফুরিয়ে গেল—তবু
কাকস্য—? রাত করে! আপনিই বলুন। আমার
কী? যথার্থ কর্তা-মা বললেন তাই আপনাকে
নীহারিকা। আচ্ছা—আমি মানা করে দেববা-ছেলেমানুষ
বােঝ না।
রাজেন। ছেলেমানুষ! যথার্থ সাড়ী ধরলেই মেয়ে যুবতী হলো?
ও কী সাড়ী ধরেছে আজ।—যথার্থ আমিও মােক্তারি পাশ
করলাম আর চপলাও যুবতী হলো-না দেখুন আমি
যাই—বলবেন ওকে একটু বুঝিয়ে—আর না হয় ঐ
মাষ্টারকেও একটু এই যথার্থ ইঙ্গিত দিয়ে দেবেন—
পাড়াগ।বুঝলেন তাে? লােকে একবার গে ধরলে-
আচ্ছা আমি যাই! আবার একটু ইস্কুলে যেতে হবে-
(প্রস্থান)
নীহারিকা। করুক না ওরা যা ইচ্ছে—তাতে আমার কী!
রাজেনবাবুর অবশ্য একটু মাথা-ব্যথা আছে। আরে
ও-মেয়ে কী আর রাজেন মােক্তারকে চায় ?
এখন রূপের স্বাদ পেয়েছে। বয়েসেরই গুণ। কিন্তু সে
ভদ্রলােকই বা কেমন? প্রেম করবার আর লােক
পেলেন না। কোলকাতার ছেলে শেষে একটা পেঁয়াে-
হারু–ও হারু-

দ্বিতীয় অঙ্ক
( হারুর প্রবেশ )
হারু। আস্তে-
নীহারিকা। দ্যাখ—গিয়ে ঐ নতুন মাষ্টারমশাইকে ডেকে আন
দেখি, বললা—দিদিমণি চা খেতে ডাকচেন—আর ঠাকুরকে
দু’কাপ চা দিতে বললো-
(হারুর প্রস্থান )
বাই ততােক্ষণ কাপড়টা ছেড়ে আসি। চুলটাও একবার
জড়িয়ে নিতে হবে। ঝুলন্ও ঝুলন্
(ঝুলনের প্রবেশ )
দ্যাখ, বাথরুমে জল রেখেছ ? নাকি রােজ বলতে হবে।
ঝুলন্। নেহি হুজুর-বহুক্ষণ রাখিয়ে হেসেছি—সাবুন্তলা-
সবকুছ।
নীহারিকা। বেশ করেছ-মালীকে বলে একটা ভাল তােড়।
আর কিছু খুচরো ফুল এনে এই টেবিলে রাখ—বুঝলে?
ঝুলন্। হুজুর
( নীহারিকার প্রস্থান)
আরে—এই যে বামী! এসো এসাে—বলি, কি খবর
আছে ? আমাকে কী একেবারে ভুলিয়ে গেলে কেমন
কাপড় দিয়েছি—পছন্দ হয়েছে তাে—আরে তােকে যা
মানাবে
বামী। মক্ মিসে—উনি এলেন এখন প্রেম কৰ্ত্তেকে কোথায়
শুনবে যে রে—? বলি তাের মাইজী কই ? আমাকে
খবর দিলে কেন ?

৭৪
মানময়ী বয়েজ স্কুল
ঝুলন্। মাইজী—? এখন নেই, আয় দুটো কথা কয়ে লি ।
হাজ যাবে সন্ধ্যের সময়—কী বলিস্
বামী। খােট্টা বেটার সখ দেখো—নারে মুখপােড়া না, আজ
একটু কাজ আছে—তাের মাইজী কইরে?
ঝুলন্। মাইজী বাথরুমে গিয়েছে। এই দুটো টাকা লে—বলি
যাবো ত ?
বামী। ( টাকা আঁচলে বেঁধে ) তা যা-! কিন্তু তাের মাইজীর
সঙ্গে আর কে গিয়েছে? ফিরবে কখন ?
ঝুলন্। (হেসে) বলতে মানা হাছেদেরী হবে ফিরতে—হামি
যাই—আবার মালীকে বলে ফুল আনতে হবে।
( যাবার সময় বামীর গাল টিপে প্রস্থান)
বামী। আ ম ! ওমা, এই তাে দিদিমণি? বেটা কী মিথ্যে বলে।
( নীহারিকার প্রবেশ )
কী জন্যে ডেকেছিলে দিদিমণি ?
নীহারিকা। ওঃ! হা দেখাে, মাথাটায় বড় আঠা হয়েছে, কাল
এসে একটু ঘষে দিয়ে যেও তাে—একা একা পারিনে-ঐ
উনি আসছেন, আচ্ছা এখন তুমি যাও। (বামীর প্রস্থান)
এই যে আসুন মিঃ চক্রবর্ত্তী-নমস্কার ।
(আশেষের প্রবেশ )
'অশেষ। নমস্কার। হঠাৎ অসময়ে আবার আহ্বান’? মিষ্টার
কই ?

দ্বিতীয় অঙ্ক
নীহারিকা! মিষ্টার না থাকলে আসতে কী আপনার মর্যালিটিতে
বাধে নাকি ?
অশেষ। মর্যালিটি? আধুনিক ছেলেদের মর্যালিটি ? সােনার
পাথর বাটি—ও শব্দটির এখনাে আমি origin পেলাম না।
নীহারিকা। origin সনাতনী বাবাদের ঈর্ষা। যাক্, বসুন ।
ওরে হারু, চা দে । দেখুন, আপনি আমাকে সােজা নাম
ধরেই ডাকবেন—আর ‘তুমি। আপনার স্ত্রীর নামও
যখন-তখন তো
যে হুকুম । কিন্তু logical conclusion করলে খুব
লজ্জা পেতেন—যাক! কিন্তু আমাকেও ‘তুমি বলতে
হবে-নয় তাে-
( হারু চা ইত্যাদি রেখে গেল )
নীহারিকা। সেটা পারবাে না বােধ হয়—বিশেষ ওঁর সামনে,
আচ্ছা চেষ্টা করবো। আচ্ছা আপনি সুকল্যাণীকে চেনেন?
অশেষ। কোন্ সুকল্যাণী ? যিনি সংস্কৃতে ফাষ্ট হলেন?
নীহারিকা। হঁহঁ্যা, আমার বিশেষ বন্ধু। ওর যা একটা
চ্যাপ্টার আছে—চমৎকার! চলুন বাগানে চা খেতে খেতে
বলবে—থিলিং-
অশেষ। এই শীতে বাগানে ?
নীহারিকা। শীত বলেই তাে? জড়তার মূল্য আছে। জম্‌বে
ভাল, চলুন। হারু চা-টা আমাদের বাগানে দিয়ে যা।
( দু’জনের প্রস্থান-পশ্চাতে হারু চা নিয়ে গেল )

৭৬
মানময়ী বয়েজ স্কুল
( দুটি বিভিন্ন দরজা দিয়ে একই সময়ে মানস
ও হারুর ঘরে পুনঃ প্রবেশ )
মানস। এই যে হারু, তাের দিদিমণি কোথায় রে?
হারু। আজ্ঞে বাগানে
মানস। এই শীতে—না, আবার ভােগাবে দেখছি। আচ্ছা
আলালাে দেখছি।
হারু। বলচেন জমবে ভাল । নতুন মাষ্টার আর তিনি চা
খাচ্ছেন।
মানস। ও, আচ্ছা তুই যা, আমাকে এই পাশের ঘরে চা দিয়ে যা
-হ্যা, আর দ্যা--তাের দিদিমণিকে জানা না যে আমি
এসেছি—খবরদার!
হারু। আচ্ছা বাবু
( প্রস্থান)
মানস। হু, আবার দাবার চাল। বাবা পুরােণ ঘিয়ের দাম
আছে—পুরােণ ঘা সারাতে অব্যর্থ। এইবার কলি
ছাড়বো—ছুটি নিয়ে—একেবারে ছুটি। কোলকাতায়
গিয়ে চট্‌পট্ একটা হিন্দুর মেয়েকে বিয়ে করে—ব্যস্!
আর গ্র্যাজুয়েট নয়। উঃ, আইডিয়া যে এমন মারাত্মক
দাঁড়াবে কে জানে! একেই বলে খাল কেটে-না দেখি,
ব্যাপারটি কোথায় দাঁড়িয়েছে। ঐ ঘরে চুপ করে বসে
থাকি, এ ঘরে আসলে কিছু সংগ্রহ করা যাবে। যাবার

দ্বিতীয় অঙ্ক ৭৭ আগে একবার-নাঃ দরকার কী? ফাস করলে আমারও বনাম—আর তাছাড়া কাপুরুষতা! ও-ই তো real স্বামী, আমি তো commercial । (হারুর প্রবেশ চা নিয়ে ) ঐ ঘরে দে—আর আলাে জ্বালিসনে, অন্ধকারেই খাবাে- মাথাটা ধরেছে আলাে সইবে না—চল। ( উভয়ের প্রস্থান) (হারুর পুনঃ প্রবেশ চা দিয়ে ) হারু। এ আবার আর এক পালা। দ্যাখা যাক, আমি মােদা ঝােলের লাউ, অম্বলের কদু—কিন্তু মাষ্টারনীকে একবার দেখাতে হবে—আমাকে বড় জ্বালায় ! নিত্যি নতুন! গভীর জলের মাছ—দ্যাখা যা! ভজ মন নন্দ ঘােষের নন্দনে (তান ভাজতে ভাজতে প্রস্থান) অশেষ ও নীহারিকার প্রবেশ) নীহারিকা। কেমন লাগলাে? অশেষ। চমৎকার ! শীতের জড়তা ভাঙ্গল তােমার কৃপায়। ওর lifeটা কী থিলিং, এতােদিন পরে নিজের হারান জিনিসকে বুকে তুলে নিলােমাঝেরটা ভুলে যাও, তা হলে জবে ভাল- নীহারিকা। হ্যা, প্রেম তার প্রথম বস্তুকে হারায় না—পরের গুলাে স্কুটো, ওটা একটা সাময়িক অভাবের পূর্ণতা—চরিতার্থতা।

৭৮
মানময়ী বয়েজ স্কুল
( পাশের ঘরে কী যেন ঝন্ঝন্ করে ভেঙ্গে উঠলাে)
ও কী! বেড়ালে বােধ হয় কিছু ভাঙ্গলো, দেখি—তুমি
একটু বসো- পর্দা সরিয়ে পাশের ঘরে প্রবেশ)
( নেপথ্যে )-কে ?
( আলাের সুইচ টিপে) ওমা—তুমি ? এই অন্ধকার ঘরে ।
পেয়ালা ভেঙ্গেছে ? তা ভাঙ্গুক, হারু কুড়িয়ে নেবে’খন ।
তুমি এসাে, মিঃ চক্রবর্ত্তী ওঘরে
তার হাত ধরে নীহারিকার প্রবেশ)
এই যে বিড়ালটি চুরি করে দুধ খেতে গিয়ে ধরা পড়েছেন
-বস।
অশেষ। হলাে, নমস্কার। অন্ধকারে ছিলেন যে—
মানস। হ্যা, বড় মাথাটা ধরেছে-
নীহারিকা। ধরবে না—দিন নেই, রাত নেই—ইস্কুল, ইস্কুল :
মিঃ চক্রবর্তী বসুন-আর এক কাপ চা খান—ওরে হারু,
তিন কাপ চা-
( সকলে বসলো )
মানস। (স্বগত) হু, আমার সামনে ‘আপনি আর পেছনে
‘তুমি’, পুরােণ ধরে বুকে তুলে নেওয়া—প্রেমের প্রথম
অধ্যায়কে আরাধনা। আমারটা তাে সাময়িক অভাবের
পূর্ণতা। বাবা, খুব কাজ চালিয়ে নিয়েছ? (প্রকাশ্যে ) হঁ্যা,
খাটুনিটা খুব বেশী পড়েছে—কিছুদিন ছুটি নেবাে ভাবছি।

দ্বিতীয় অঙ্ক ৭৯ নীহারিকা। আমি রােজ বলছি, একটু চেঞ্জ দরকার—আমি সঙ্গে যাবে বলে তাে নিচ্ছ না? আচ্ছা আমি যাবো না, হয় তুমিই দিনকতক ঘুরে এসাে—পতির পূণ্যে সতীর পুণ্য’—খরচ বাঁচুক— হারু চা দিয়ে গেলাে ) মানস। (স্বগত) তা তাে থাকবেইজমবে ভাল। একেবারে গড়ের মাঠ। বালাহাটির টিকিট আর কাটছিনে— একেবারে ডুব! ( প্রকাশ্যে ) না না, তা না, তবে এই বুড়ো-বুড়ী ছাড়ে না—সেবার দেখলে তাে দু-দুটো ইস্কুলের ম্যানেজমেন্ট—দেখি এটা খুলুক- অশেষ। (একটা সিগারেট নিজে ধরালাে—আর একটা মানসকে ধরিয়ে দিলাে) আচ্ছা, আজ গুড়-নাইট করিকাল আবার দেখা হবে। নীহারিকা। চলুন আপনাকে সি ড়িটা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসি, তুমি আর মাথা ধরা নিয়ে এসােনা—অসুখ-বিসুখ না করে বরং ওঘরে গিয়ে বসাে, আমি আসছি। ( নীহারিকা ও অশেষের প্রস্থান) মানস। হু। বিদায়টা হওয়া চাই তাে-রাতের বিদায়! আর ক'টা দিন কাটিয়ে দি চোখ-কান বুজে। আরে আমার তো গচ্ছিত ধন, যেন মর্ডগেজ নিয়েছিলাম—যাই ওঘরে। ( প্রস্থান)

তৃতীয় অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
{ দু’মাস পরের কথা। পূর্ণ উৎসাহে ও উদ্যমে দুই স্কুলই চলেছে।
অশেষের ড্রইংরুম, অন্ধকার ছিল ঘরটি—শোবার ঘরের
আলাের খানিকটা ভারী পর্দার ফাক দিয়ে এসে
ঘরটাকে একটু যেন পরিচিত করছিল।
তবে মানুষের মুখ চেনা যায় না ]
( রাজেনের প্রবেশ)
রাজেন। নাঃ সন্ধ্যেবেলা যথার্থ কোথায় একটু বেড়াবে, তা না
ওৎ পেতে বসে থাকো। জীবনটা যথার্থ জর্জরিত—আমি
যেন বদ্ধ গলির গাঁটকাটা ! ঠিক আসতে দেখেছি—ঠিক
ঢুকেছে ঐ ঘরটায়-ঐ যে কথা! কৰ্ত্তাবাবু বলে চপলা
ছেলেমানুষ, মেয়েমানুষ তাে! ওরা যথার্থ এ বিষয়ে
ন’ বছরেই সাবালক হয়। একা মাষ্টার-যুবক, এই
নিরালা সন্ধ্যেবেলা, সব জ্ঞান টনে—আর আমি শালা,
এই অন্ধকারে পাহারা দিচ্ছি, যেন যথার্থ চোর। না আর
ছেড়ে দেবে, ও আর পাওয়া যাবে—দুত্তোর, মেয়ে যথার্থ
}

৮১ ০ ০ ০ তৃতীয় অঙ্ক অনেক জুটবে—ঐ, ঐ: পর্দার ফাক দিয়ে দেখা যাচ্ছে— দেখেছ, যথার্থ কতাে গা-ঘেঁষে বসেছে, যেন আঠালু যথার্থ, আর ঐ মাষ্টার ব্যাটা ওর দু’খানা হাত নিয়ে ওকী করছে যথার্থ—দু’খানা যেন••• •••ও বাবা:-ঐ যে আবার। ও- বাবাঃ! যথার্থ আর বেকার চেষ্টা! এ একেবারে শেষ অঙ্ক, চুড়ির পেটে এতো বিদ্যেও যথার্থ ছিল, তাই রােজ আসা হয়—যেন পায়খানা, না গেলেই যথার্থ চলে না। যাই, কালই সব দেবো ছেড়ে—কিন্তু যাবার আগে দেখিয়ে দেবাে রাজেন্দ্রনাথ বড়িরী— ( হারুর প্রবেশ ) হারু। কে ঘরে, অন্ধকারে বসে- রাজেন। কে হারু—এই আমি যথার্থ! তা তুমি একটু মাষ্টারমশাইকে যথার্থ খবর দেবে—আমি একটু দেখা করতে চাই—কে যেন আছেন, যেন আছেন, যথার্থ এটিকেটে বাধে- হারু। ও তো বড়-বাড়ীর দিদিমণি—টিকিটে আবার কী বাধে ? কোথাকার টিকিট সিক্রিটারীবাবু? পটলডাঙ্গার দিতে পারেন—পটুলিকে একবার -রাজেন। হু—যথার্থ পটলডাঙ্গারই—তা দেবব—তুমি একটু খবর দাও দেখি—দু’জনে একটু ভাগাভাগি যথার্থ আদা থােক তে— ৮২ মানময়ী বয়েজ স্কুল ( চপলার প্রবেশ-ওঘর থেকে) চপলা। কে হারু? কার সঙ্গে টিকিট কাটছো? ও মা- রাজুদা যে ! কী দরকার রাজুদা—? মাষ্টারমশাইকে? আহা, শশানেননি!—তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন—এক্ষুনি টেলিগ্রাম এলাে—এখন খুব মুড়ে আছেন—আপনি বরং কাল আসবেন—এখন যান- রাজেন। তা বরং যাচ্ছি। তােমার যথার্থ ইয়েতে আর বাধা দিতে চাইনে—আহ—স্ত্রী মারা গেলেন—বড় মুস্কিল হলাে যথার্থ—এতােদিন তবুও একটা যথার্থ কাছাটা ছিল—এবার-এবারই সব যাবে—আচ্ছা আমি যাচ্ছি- মুষড়ে আছেন—তা তুমিই তাে আছ! কালই ছুটি নি —অন্ততঃপক্ষে মাস খানেকের, কী আরাে বেশী—যথার্থ মন খারাপ হলে চাকরী ছেড়েও দিতে পারেন- ( দামােদর, মানময়ী, মানস ও নীহারিকার প্রবেশ) দামােদর। কে চাকরী ছাড়বে রাজু -মাষ্টার ? কেন? কই মাষ্টার—? চপলা ডাকতে এখানে অশেষের প্রবেশ-মর্মাহত যেন ) কী গাে সন্ন্যোসী হবে নাকি ?—চাকরী ছাড়বে কেন ? পুরুষের বৌ মারা যাবে না তো, কী মেয়েদের যাবে? ছিঃ দুঃখ করতে নেই। ( সকলে বসিলেন)

তৃতীয় অঙ্ক
রাজেন। আজ্ঞে না—উনি কেন ছাড়বেন? ঐ ছট্ট, ছাপরাশীট।
-না দেখুন আমি যাই—যথার্থ কাল আবার এক বার
সদরে যেতে হবে—মােক্তারীটা এবার সুরু করবে। যথার্থ--
আর কতদিন যথার্থ ভূতের বেগার
( প্রস্থান)
মানময়ী। তুমি ভাই অমন মনমরা হয়ে না—শরীর ভেঙ্গে
পড়বে যে! বউ গেলে শােক করতে নেই—পুরুষের
লজ্জা করে না? লােকের দু’বার তিনবার যাচ্ছে-ওটা
মদের নেশা—ছুটে গেলে আর মনে থাকে না—সতী-লক্ষী
সে—তা পেটেরটা আছে ত?
নীহারিকা। ডেলিভারী হােতে বুঝি? আহা-বেচারা
অশেষ। আজ্ঞে না—দুটোই গেছে! তা ভালােই-আবার
ওটাকে কে দেখতে দিদিমা—তিনকুলে কেউ নেই যার—।
দেখুন আমাকে দিন পনেরর ছুটি দিন কাল থেকে
একবার শ্বশুর-শাশুড়ীর সঙ্গে দেখা করে আসি—তাদের
আদুরে মেয়ে—সবে সেদিন
দামােদর। বেশ ত—যাবে বৈকি! তবে চট্ করে ফিরে এসো।
দুঃখ কী—নতুন বয়েস—আমাদের কালে গঙ্গার ঘাট
পৰ্যন্ত বিয়ের বয়েস থাকতে
মানস। (স্বগত) আমাকে যেন ভােজবাজী দেখাচ্ছে—উঃ কী
দারুণ ছেলে-কেমন কায়দাসে পালাচ্ছে ! সব যেন
আষাঢ়ে স্বপ্ন-জোড়ে যাচ্ছেন না তো? আমার মুখে

৮৪
মানময়ী বয়েজ স্কুল
থুথু না দেয়!! কোলকাতায় গিয়ে একবার এর পায়ের
ধূলাে
নিতে হবে-
( প্রকাশ্যে-নীহারিকাকে )
কোলকাতা যাবে তাে যাও না-সকলের সঙ্গে একবার
দেখা-শুনা করে, আবার এর সঙ্গেই না হয় ফিরে।
আমার যাওয়া হয় কি না হয়-
নীহারিকা। না—তার দরকার নেই, তুমি না গেলে যাবো না!
একেবারে গরমের ছুটিতেই যাবো
আনময়ী। শুনলে গাে—আর তুমি তাে খাজনা আদায় করতে
যেতে পাঁচ দিনের নাম করে’, কাটিয়ে আসতে এক মাস ।
আগেকার বউ ছিল একটা মেয়েমানুষ—সে যত্রতত্র
মিললেই হলো-
দামােদর। দ্যাখাে গিন্নী—মিছে বলো না—তােমায় ছেড়ে গিয়ে
সেখানে সারারাত বিছানা হাতড়িয়েছি—একবার তো,
পাশে ছিলেন নায়েবমশাই—তার মুখে ঘুমন্ত চোখে-
মানময়ী। থাক থাক—ও গল্প অনেকবার শুনেছি—মেয়ে রয়েছে
সামনে! বুড়ো হচ্ছ আর তােমার মুখ বাড়ছে—হঁা—দ্যাখ,
তােমার নতুন নাতীকে আজ আর এ বাসায় একা রেখে
—গ্রহশান্তি না হলে একা থাকতে নেই, আজ রাতে
আমাদের বাড়ীতে থেকে কাল সকালে কোলকাতা চলে
যাবে’খন!
দামােদর। ঠিক বলেছ গিন্নী—তাই করতে হবে। তবে চলে

৮৫ তৃতীয় অঙ্ক এখন ওঠা যাক—বাড়ীতে গিয়ে বসা যাবে—নাতীকে টাকা-পয়সা দিয়ে রাখি, কাল আবার সকালে তাড়াহুড়ো —কিছু বেশীই তুমি নিয়ে যাও নাতী-বিপদের সময়- বুঝলে না? কতো দরকারে লাগে—চলাে যাই- নাতবৌ তুমিও চলো—বাড়ী পরে যেয়ো। মানময়ী। দ্যাখ—হারুকে বলে যাই-এঘরে শুতে! বাড়ী খালি রাখতে নেই—দোষ আমাদের হিন্দু-শাস্ত্রে। ওরে ও হারু-হারু—দ্যাখ তাে মা চপল-ব্যাটা বােধ হয় কোথাও দাড়িয়ে দাড়িয়ে ঘুমচ্ছে- (চপলার প্রস্থান) তুমি মনমরা হয়ে না ভাই—সে ছিল সতী-লক্ষ্মী- সিথির সিদূর বজায় রেখে উদ্দেশে নমস্কার করে ) আমি অমন যেতে পারি। দামােদর। যাও না, আমি অমনি চট করে একটা ডাগর দেখে- মানময়ী। তা আর জানিনে—তােমাদের তাে ওটা মুৰ্গী পােষা- ডিমও খাবে—মাংসও খাবে—বিয়ে তাে পুরুষের মুদ্রা- ক দামােদর। অমি ঠোট ফুললো—দেখছ নাতবৌ এখনাে অভি- মানের জালা! ঐ যে হারু—এই হারু—তুই আজ এই ঘরে শাে-বুঝলি? বাড়ী আর যেতে হবে না। মাষ্টার- মশাই আসবে না—ব্যাটা বাড়ী খালি রেখেছ কী—চল সব—চপল তাের অশেষদাকে কথাবার্তা বলে একটু

মুনিময়ী বয়েজ স্কুল
ভুলিয়ে-ভালিয়ে রাখ—আহা, ও কী ভােলা যায়—বিয়ে
করে ললাকে পরীক্ষার পড়া ভােলে
( সকলের প্রস্থান)
(হারু তাদের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এসে
একখানা সােফায় বসে পড়লাে )
হারু। একেই বলে একদিনের রাজা—আজ রাত-ভর আমি
রাজা—ঠিক এই সময় যদি বামী আসতাে—তাকে করতাম
রাণী ! তা ভাগ্যে নেই যার—হ! এইবার একবার ভে।
করে গিয়ে পটুলিকে নিয়ে আসবে—দেখুক এসে!
বষ্টমী যে হবে,—ভয় দেখায়—তার সােয়ামী আর
কোলকাতার ভিকিরী নয়। এবার তাকে নিয়ে আসবাে-
সবাই সস্ত্রীক থাকে, আমি কী দোষ করেছি—এখন যাই
চট করে বামীকে ডেকে আনি—একটু মৌতাত হওয়া
যাবে। ঐ যে কার ছায়া—কে? বামী নাকি লাে?
আরে এসো এসো সুর করে’) তােমারি লাগিয়া পথ
পানে চেয়ে
( রাজেনের প্রবেশ)
রাজেন। কে ? যথার্থ হারু?—খাকা গান্? বাবুর
কোথায়?
হারু। কে ? যিকটিরি বাবু! আমি বলি—ছেঃ! তা
খবর! এই রাতে?

তৃতীয় অঙ্ক
৮৭
রাজেন। এই মাষ্টারের খোঁজে। তা যথার্থ আছেন? আর কে
কে আছেন ? বলতে পারে—এই একটা বিড়ি খাও
দেখি—
হারু। কেউ নেই—সব বড়-বাড়ী! মাষ্টারমশাই আজ রাতে
ওখানেই থাকবেন—বউ মরেছে কিনা—
রাজেন। ওখানেই ? এই সেরেছে ? যথার্থ চপলা আছে
। ও-বাড়ীতে—রাতে একা একা-বুড়াে সব ডােবালে।
বােঝে না তো, ভাবে ওদের কালই বুঝি আছে—আরে
এ যুগ যে যথার্থ সাবমেরিণের যুগ—সব ডুবে ডুবে—তা
মেয়েটাকে লেলিয়ে দিলে না ত? সােনার-চঁাদকে যথার্থ
টেনে রাখতে ? বউ সবে মরেছে—এ সময় কী যথার্থ
মেয়েমানুষ কাছে থাকা সেফ ?—সেই জন্যেই দশ দিন
কামাননা মানা—যথার্থ মেয়েমানুষ যাতে ভয়ে কাছে
আসে—তা হারু, একটা কাজ করতে পারবে?
তােমাকে মােটা টাকা দেবে
হারু। না বাবু—সেবার একবার আপনার জন্যিউঃ, এখনাে
পিঠে দাগ আছে—খটমটের সে কী পট-পট বে!
আপনি ভদ্দর লােক, এসব কী নজর বাবু?
রাজেন। যথার্থ নজরটা শুধু আমারই, তােমার নজরে পড়েছে
যথার্থ প্রথম থেকে আজ রাত পর্যন্ত এই টা-অফ-ওয়ার,
ভাব দেখি—-! আমার নজরের জন্যই সব—যথার্থ
সব সজোড়ে আছে, নয়তো কবে বে-জোড় হয়ে যেতে।

৮৮ মানময়ী বয়েজ স্কুল তা দ্যাখ, তােমাকে পাঁচ টাকা দেবো—যথার্থ একটু উপকার—( হারুর হাত ধরলাে ) হারু। আহা, হাত ছাড়ুন বাবু—অন্ধকারে কেউ দেখলে কী ভাববে—কেউ দেখে একজনকে ঠিক মেয়ে ঠাউরে নেবে— আপনার একটা বদনাম—আর এবার বড়বাবু ধরলে আর ছাড়বে না—চাকরীটী গেলে আবার কোলকাতায় গিয়ে অন্ধ হতে হবে—এবার পটুলিকে আনবো ভাবছি শুভকম্মে আর বাধা দেবেন না বাবু। রাজেন। যথার্থ চারিদিকে তােমাদের শুভকৰ্ম্ম ! আর আমারই যেন যথার্থ দুগ্রহ লেগেই আছে—নাঃ যাই দেখি একবার বড়-বাড়ী—যদি কিছু ব্যবস্থা করা যায়। এই রাতে, বউ- মর ছেলে দিয়ে সােমত্ত মেয়ে দিয়ে—কর্তার বাহাত্তরে পেয়েছে ( প্রস্থানােপ্তম ) হারু। বাবু—শুনবেন একটু। রাজেন। কী যথার্থ রাজি ? তা জানি—তুমি কী কম ভালবাস? খুব ওবিডিয়েন্ট—যথার্থ— হারু। না—বাবু তা নয়—এই যাবার পথে বামীকে একটু পাঠিয়ে দেবেন—বিশেষ কাজ, মাষ্টার-মশায়ের হুকুমতা আমি বাড়ী ছেড়ে যাই কী করে’—যদি দয়া করে- রাজেন। যথার্থ আমার সময় নেই—খাইনি এখনাে-বড়- বাড়ীতে কতক্ষণ যথার্থ থাকতে হয় কে জানে? তুমি খুজে আনাে। উঃ-বাইরে কী অন্ধকার—যথার্থ চপলার

MIAKARIM:1-1IUMRAH.
0
Etd:.109.
তৃতীয় অঙ্ক
জন্যে একদিন দেখছি সাপেই খাবে ! এতাে কষ্ট, তা-
উঃ—যেন ষ্টোন্ যথার্থ! না:রামকৃষ্ণ ঠিকই বলে-
ছিলেন,-কামিনী কাঞ্চন”—না, যথার্থ ওদিকে এতক্ষণে
হয়তো-
(প্রস্থান)
হারু। দু’দিকেই সমান ফুটছে! দেখি কী হয়। দুট্টোর
লেখাপড়া—মেয়েজাত লেখাপড়া শিখলেই—ধিঙ্গী। এই
তো পটুলি-হা ভয় দেখায় বটে যে বােষ্টমী হবে—কিন্তু
আমায় ছাড়া—এই তাে সেবার সেই দুখীটাকে—খ্যার
দিয়ে। যাই একবার বামীকে দেখে আলি-
( প্রস্থান )
দ্বিতীয় দৃশ্য
[ এক মাস পরের কথা; মানস মাষ্টারের ড্রয়িংরুম। হারু নিশ্চিন্ত মনে
মানসের সিগ্রেটের কৌটো থেকে একটা সিগ্রেট বের করে
সবে ধরিয়েছে-এমন সময়]
(মানস বেগে প্রবেশ করলো )
মানস। এই হারু—তাের-ওরে বেটা তুমি চুরি করে সিগ্রেট
খাচ্ছ(হারু তাড়াতাড়ি কোন উপায় না পেয়ে স্বল্প-দগ্ধ
সিগ্রেটটি পুনরায় কৌটোর মধ্যে রেখে দিল) ওরে বেটা
গর্দভ-ও কি করলি—সব পুড়ে ছাই হয়ে যাবে যেনে

৯
মানময়ী বয়েজ স্কুল
বেটা ওটা নিয়ে যা—বের কর শিগগীর—( হারু তাই
করলো) যা শিগগীর তাের দিদিমণিকে পাঠিয়ে দে-
জদি-আমি বসলুম এখানে—আর দু’কাপ চা। “হারি
আপ ম্যা”-বেটার সখ--তাই দু’দিনেই টিন খালি হয়।
( হারুর প্রস্থান)
উঃ খােদা খুব বাঁচিয়েছে—রামায়ণ লিখতে গিয়ে
ভূমিকাই ভুল—সীতার বনবাস দিয়েছিলাম আর কী—
কই রে তাের দিদিমণিকে পাঠা—শিল্পীর-হ্যালো-“মাই
Cargita—my star-dust-dear, darling
( নীহারিকার প্রবেশ)
নীহারিকা। কী ক্ষেপে গেলে নাকি—অত ইংরেজি-আদর
হঠাৎ? বিলিতি মদ খেয়েছ নাকি! চারিদিকে চাকর
ঠাকুর—ওরা ভাববে কী বলাে তো
মানস। যা ইচ্ছে ভাবুক--পর-স্ত্রী তাে নয়—ভাববে বাবু
বউ-পাগলা—
নীহারিকা। ভাববেই তো—বউকে আদর করবার জন্য সময় ও
স্থান আলাদা থাকে। রাস্তা-ঘাটে-
মানস। বটে! নিজের বউকে আদর করবাে লুকিয়ে—কেন
এ কী পরকীয়া প্রেম করছি—আধুনিক যুগ ! যাক্ বাজে
কথা, তুমি কী করছিলে ? হাতে ও কী লেগে ?
নীহারিকা। পরশু কোলকাতা যাবে—তাই দুখানা মাছের চপ

তৃতীয় অঙ্ক ৯১ করছিলাম নিজের হাতে। তাই কী হলো—হঠাৎ যেন ডাকাত পড়লো। মানস। চুলােয় যাক্ চপের মাছ—যাবাে না কোলকাতায়। নীহারিকা। কেন কী হলো? এই না ক’দিন ধরে মুখে বর্ষা নামিয়েছিলে! আমি যেন একটা পাপ-তাই-না গেলুম না। যাও বাপু তুমি একলাই যাও—সঙ্গে থাকলে ফুর্তির বাধা পড়তে পারে ! কিন্তু দেখাে, আবার যেন পার্টনারশিপে অন্য কোন চাকরী মানস। সেই জন্যেই তো যাবাে না—কোলকাতার বড় ছেলে-ধরা এসেছে, ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়ে—ইয়ং ম্যান্ দেখছে কী ব্য- নীহারিকা। দ্যাখ, ঠাট্টা ভাল লাগে না। যাই-ঠাকুর আবার ছাই করে রাখবে—( প্রস্থানেনাদ্যম) আঃ কী যে করাে-- অমন খপ করে কাপড় চেপে ধরে। কেন? একটা আবরণ নেই। কাল রাতে বললুম-এসো একটু গল্প করি। চলেই তাে যাবে—পনের দিন কী করে কাটবে তাই ভাবছি—তা তখন যেন কুম্ভকর্ণ হলে! সেই যে পাশ ফিরলে—আর দিন-দুপুরে প্রেম, ভাগিস্ বাড়ন্ত ছেলে নেই-তালে সে যা ডেপপা হতো- মানস। সত্যি যাবে না কোলকাতায়—তুমি হাত ধুয়ে এসে দিকি, সব বলছি—আর চপ, ঠাকুরকেই ভাজতে বলল আসছ তাে? নয়তাে গিয়ে ঠাকুরের সামনেই—বুঝেছ ? নীহারিকা। তা তুমি পারে! আচ্ছা আসছি। ( প্রস্থান)

৯২
মানময়ী বয়েজ স্কুল
মানস। উঃ, আর একটু হলে সব টুপ করে তলিয়ে যেতে
আবার হয়তাে সেই বেকার—সেই কোলকাতায় ফুটপাতে
ফুটপাতে, এখানে হাত পাতো, সেখানে হাত পাতত, নাে
ভেকেন্সি! এই যে সুখ, সাজানাে সংসার, টুপ করে যেতে
-ভাগ্যিস্! একেই বলে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা।
ভাগ্যিস ফটোটা আজ আবার পরীক্ষে করেছি—কাগজটা
তুলতেই সব জল্ হয়ে গেল। হ্যা, আলবৎ ছেলে এই
অশেষ চক্রবর্তী, যেমন পড়াশুনায়, তেমনি practical
lifeএ। চালাক বটে! আমার বাবা। আহ গরীব
বেচারা, আমি ওর দুঃখ বুঝি—একই পথের পথিক, যা
সব চাপা দি—আর এ বেচারীর ওপর বেকার সন্দেহ,
আরে তা কী হয়—যে পার্টনারশিপে আসতে চায় না, সে
বেমালুম কেঁদে বুকে লুটিয়ে পড়লাে—যতই গ্র্যাজুয়েট
হােক বাংলার মেয়েরা—ঐ কী বলে, “বুক ভরা মধু’—তাই
তাে বাংলা। বুকে ও-জিনিস আর কোন দেশে
( নীহারিকার প্রবেশ)
বসো—ঠিক আমার এই পাশে বসে দেখিনা না,
কোন কথা শুনবাে না। লক্ষ্মীটি-ওরে হারু চা দে-
ব্যাটার হুস দেখাে।
(নীহারিকা পাশে বসলাে। মানস এক হাত
দিয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরলাে )

তৃতীয় অঙ্ক
নীহারিকা। আঃ, কী করে, এক্ষুনি হারু আসবে-
মানস। হারু কেন, আমার মৃত বাবা আসলেও ছাড়ছিনে-উঃ,
আর না, আর তােমাকে ছাড়া নয়-
নীহারিকা। কী হলাে তােমার? সিদ্ধি খাওনি তাে? সত্যি
কোলকাতা যাবে না ?
মানস। না গাে না—সত্যি যাবো না। একেবারে গরমের ছুটিতে
যুগলে।
( হারু চা রেখে গেল, মানস পূৰ্ব্ববৎ )
কিন্তু এদিকে এক খবর, বুড়ো অশেষের সঙ্গে চপলার বিয়ে
ঠিক করেছে, অশেষও রাজি—এই তাে তার বাড়ী থেকে
আসছি।
নীহারিকা। বলাে কী! এখনাে দু’মাস হয়নি তার বউ গেল।
পুরুষমানুষ তো এই দামের, আজ আমি মরি—কালই তুমি
আর একটা পার্টনারশিপ যােগাড় করবে।
মানস। আর যদি আমি মরি ? কালই
চাকরীর
খাতিরে
নীহারিকা। (মুখ চেপে ) থাক থাক হয়েছে, মেয়েমানুষ অতত
কাঙ্গাল নয়, তারা বিধবা হয়—তােমরা হও ?—ওগাে
ছাড় ছাড়, ঐ দাদামশাইরা আসছেন
(দামােদর ও মানময়ীর প্রবেশ)
দামােদর। যাক, চক্ষু সার্থক হলাে। প্রাতে যুগল-মূর্তি—দেখলে
তো গিন্নী ? বুঝলে নাতি, আমারাে মাঝে মাঝে সাধ হয়
তুমি শুধু

৯৪ মানময়ী বয়েজ স্কুল অমনি গলা জড়িয়ে ধরি—তা গিন্নীর তখন—হয় হাতে ময়দা নয় মুখে মিশি—একেবারে কালীমূৰ্ত্ত। আর রাতে ওর কোমরে বাত। নাঃ বুড়াে হওয়াই পাপ, বউ তখন একটা অলঙ্কার মাত্র। মানময়ী। আর তুমি বুঝি এখনো যুবাই আছ, না? ইস্কুল-বন সরকার—এই তো সেদিন ওরে ব্যাটা বদন’ বলে আমার চুল ধরে ঘুমের ঘােরে এই টান—মাথাটা চন করে ধরে উঠলাে। মেয়ে পাশের ঘর থেকে ছুটে এলো—বদনের সঙ্গে রাত্তিরে বাপের প্রেমালাপ দেখতে। দামােদর। আচ্ছা—আচ্ছা, সে পরে হবে। তা নাতবৌ, শুনেছ অশেষের সঙ্গে চপলার- নীহারিকা। হ্যা, এই মাত্র শুনলাম। তা বেশ হবে, অমন ছেলে—তা হাতে তাে বেশী দিনও নেই, দিন বিশ-পঁচিশ হবে। কোলকাতায় লােক লোক পাঠান, জিনিস-পত্তর, গয়নাগাটি-- দামােদর। সেই সব ঠিক কন্ট্রেই তাে এলাম। কী কী দিতে হবে, তুমি আজকালকার মেয়ে, একটা হদিস্ দাও দেখি, রাজেন আর নাতিকে পরশু পাঠবে—আর রাজেনটারও একটা ঠিক করেছি—বড় অনুগত আমার, খুব খেটেছে দুই ইস্কুলের জন্যে—ঐ অরুর সঙ্গে। ওরে কে আছিস (নেপথ্যে—-“আজ্ঞে’) একবার রাজেনকে ডাক্ তাে ।

তৃতীয় অঙ্ক
মানময়ী। নিশ্চয়ই, আমাকে একবারে মা’র মতো দেখে, আর
ঐ চপলার জন্যে তাে অস্থির। দিন নেই রাত নেই পেছনে
পেছনে ঘুরছে—এই যে রাজু এসে পড়েছে।
(রাজেনের প্রবেশ)
Fামােদর। এই যে রাজু, তােমাকে ডাকতে পাঠাচ্ছিলাম
এসেছ, বসাে একটা পরামর্শ আছে।
রাজেন। (বগল থেকে ফাইল নামিয়ে ) আজ্ঞে যথার্থ মাষ্টার
মশাইয়ের সঙ্গে এই ফাইলের কাগজ-পত্তর সম্বন্ধে একটা
পরামর্শ ছিল—রেজিষ্ট্রারকে সেই চিঠিটার জবাব
দামােদর। আরে চুলােয় যাক্ তােমার জবাব—এখন এদিকে--
রাজেন। যথার্থ আবার কী হলো! বদন সরকার, না এই নতুন
মাষ্টার কোন গােলমাল যথার্থ—এই জন্যেই তো—তা বউট
মরবে কে জানে যথার্থ ! আর একটা বিয়ে করতে নােটিশ
দিন, আর বলুন সস্ত্রীক থাকতে, এই rule এ ইস্কুলের
তা নইলে যে রেটে চলছে যথার্থ বিপদ ঘনীভূত
দামােদর। তাই থাকবে, চপলার সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করেছি-
ইবিয়ে। সস্ত্রীকই থাকবে, তােমার আইন বজায় থাকলে;
তুমি পরশু নাতীকে নিয়ে কোলকাতায় যাও বাজার করতে
রাজেন। (ফাইল পড়ে গেল) যথার্থ যবনিকা। ঠিক জানতাম
তা যাবাে কোলকাতা। (স্বগত) কিন্তু যথার্থ বালাহাটি
আর নয়।

মানময়ী বয়েজ স্কুল
দামােদর। দ্যাখ রাজু, তােমাকে আমি ছেলের মতাে স্নেহ করি-
রাজেন। আজ্ঞে তার প্রমাণ পেলাম। যথার্থ ছেলে হতে
চাইনি। আইনতঃ—ছেলে হলে যথার্থ কাজে দিতাে।
দামােদর। আরে রাখাে তােমার আইন, আইনই ডােবাবে ।
তােমার বিয়েও ঠিক করেছি ঐ অরুর সঙ্গে। তােমার
মা’র মত আছে—তােমার কর্তা-মার ইচ্ছে, আমারও
রাজেন। যথার্থ কোন্ অৰু? যথার্থ সেই চোখ-কটা মেয়েটা
ওর চোখ দেখলে যথার্থ আমারও চোখ বুজতে ইচ্ছে করে ।
মনে হয় যেন এক্ষুনি যথার্থ ‘মাও করে উঠবেন দেখুন,
মেয়েজাতকে আর বিয়ে করবাে না-
দামােদর। তুমি থামাে। তবে কী পুরুষকে বিয়ে করবে?
বে-থা করে এখানেই থাক, মােক্তারী ছাড়—ঐ মােক্তারীই
তােমাকে ডুবাচ্ছে। পুরুষকে বিয়ে করতে আইন দিচ্ছে ?
অমত নয়, তাদের আমি কথা দিয়েছি—তােমার দুঃখ
আমি ঘুচিয়ে তবে চোখ বুজবো ।
রাজেন। দেখুন যথার্থ আপনিই আমার সব, অবাধ্য হবে না।
তবে ঐ মেয়েমানুষকে বিয়ে করতে-না দেখুন আমি যাই,
যথার্থ মাথাটা ঘুরছে, যেন যথার্থ নাগরদোলায় চড়েছি।
(ফাইল ফেলেই প্রস্থান)
দামােদর। চলো আমরা ও-ঘরে গিয়ে সব ফর্দ করে ফেলি। ওটা
এখনাে নাবালক আছে, নইলে পুরুষ বিয়ে করতে চায়।
( সকলের প্রস্থান)

AnimAh[.6 -1,1.::Alta Estag:-1s:9, তৃতীয় অঙ্ক তৃতীয় দৃশ্য [ রাজেনের শোবার ঘর-সময় সন্ধ্যা, ঘরটি স্বল্পালোকিত। রাজেন তার বিছানায় কোলের মধ্যে একটা বালিস গুজে বসে আছে ] (রাজেনের মা’র প্রবেশ) রাজুর মা। দ্যাখৃ ভর সন্ধ্যেবেলা অমন গালে মুখে হাত দিয়ে বসে থাকিস নেওঠ! একবার বড়-বাড়ী যা দেখি এই ফৰ্দটা দিয়ে আয়! নেওঠ-- রাজেন। আবার মা যথার্থ বড়-বাড়ী! আর যথার্থ কোন্ প্রাণে যাবে! গেলেই প্রাণটার মধ্যে হু হু করে ওঠে।—সেই ঘর —সেই দোর—সব ঠিক আছে—শুধু যথার্থনা মা, তুমি বললো না আমায়—আমি যথার্থ পারবাে না । রাজুর মা। দ্যাথু অমন করতে নেই–কর্তা তােকে এতাে করেন -এই তাের বিয়ের সব খরচ স্কন্ধে নিয়েছেন নগদটা আমাদের একেবারে লাভ- রাজেন। বিয়ে? যথার্থ বলাে কী তুমি? মেয়েজাতকে আর বিয়ে নয়—আমি যথার্থ চিরকুমার থাকবােযথার্থ দুনিয়াকে—ঐ চপলাকে দেখাবে যে—রাজেন বাড়ী পুরুষ—বিয়ে না করলেও যথার্থ সে সবার বুকের উপর দিয়ে—মা দেখােচলাে যথার্থ সদরে যাই, মােক্তারী করে যা পাবাে- ৭ মানময়ী বয়েজ স্কুল রাজুর মা। আচ্ছা সে তো পরেছিঃ বাবা, রাগ করে না। তােকে নিয়ে আমি বেঁচে আছি, আমার দুঃখু আর পুরুষ বিয়ে না করলে কী সৃষ্টি চলে রে পাগল—তুই এলি কোথেকে--? আচ্ছ—আমি না হয় গিয়ে ফর্দটা দিয়ে আসি—তুই উঠে একটু চা খা দেখি—ঝিকে বলে গেলাম- ( প্রস্থান) রাজেন। উঃ-যথার্থ ঠিক জানতাম—এই দাড়াবে! সেই বিষ্যদ্বারের বারবেলায় কৰ্ত্তা আর একটা ইস্কুলের কথা যথার্থ যেই পাড়লেন, তখনি বুঝলাম যথার্থ আমার সব গেল। এইবার যথার্থ হারালাম আমার চপলাকে—উঃ যথার্থ গ্র্যাজুয়েট না হয়ে—আমার মুখের গ্রাস—যথার্থ সেই ছােটকাল থেকে তাে তাে করে যথার্থ তা দিচ্ছি— ( চপলার প্রবেশ) চপলা। রাজুদা—ঘরে আছেন ? ওমা, এই সময়ে এমন করে বসে, যেন কন্যাদায়! রাজেন। কে চপলা-? মাকে খুজচ? চপলা। না রাজুদাকে—আছেন তিনি! (হাসি) রাজেন। উঃ—যথার্থ সেই হাসি-আহা!-না রাজুদা মরেছে। আজ কেন তাকে যথার্থ ?—মাষ্টার বুঝি বাড়ী নেই?

তৃতীয় অঙ্ক চপলা। (আলােটা একটু বেশী করে দিল—রাজেনের পাশে বসে তার হাতখানা তুলে নিয়ে) ছিঃ—রাজুদা—আমার ওপর আপনি রাগ করতে পারেন—মেয়েদের ইচ্ছেতে তাদের বিয়ে বাংলাদেশে হয় না—তাতে জানেন? আর অরু—? সে তাে আমিই—একসঙ্গে উঠেছি বসেছি কচুর শাক কাটা—ওলের ডালনা বাঁধা—আমরা হরিহর আত্মা—সে আপনাকে খুব ভালবাসে রাজেন। যথার্থ যেন কচুর শাক-না? তার ভালবাসা তো যথার্থ চাইনি—যার চেষ্টায়, সে যথার্থ গ্র্যাজুয়েটের মােহে পড়লাে—মেয়েজাত যথার্থ এতাে নামের কাঙ্গাল—আর পেছন পেছন এতােদিন, মােক্তারী-টোক্তারী ছেড়ে দিন- রাত ফাইল বগলে—সে কী যথার্থ ওই কচুর শাক অরুর জন্যে? তুমি যথার্থ ফিরেও তাকালে না—শেষে জুটিয়ে দিলে একটা যথার্থ ওলের ডাকে? যা কুটতে কষ্ট —খেয়ে যথার্থ বাপরে বাপ—from start to finish যথার্থ জ্বালাতে জ্বালাতে যাবে। নাঃ-মেয়েকে বিয়ে আর করবো না! ওদের ওপর ঘৃণা হয়ে গেছে—যথার্থ ওর চেয়ে পাথরও ভাল—আঘাত দিলে একটু কেঁপে ওঠে ! না চপল —তুমি যাও, তােমাকে দেখলে আবার যেন যথার্থ প্রাণটার মধ্যে কেমন চন্ চল্ করে ওঠে—এখন তুমি পরস্ত্রী—যথার্থ একেবারে out and out! চপলা। (রাজেনের হাতটা বুকে চেপে) ছিঃ রাজুদা, একী

১০০
মানময়ী বয়েজ স্কুল
আমার কম দুঃখ-কী করবাে-বাবার মত, বােঝেন ত ?
আপনায় আমি সেই কবে থেকে
রাজেন। কী যথার্থ ? কবে থেকে কী—? ভালবাসা ? যথার্থ
একবার বলাে যে তুমি আমায় ভালবাস—তাতেই খুসী ।
তারপর তুমি যার ইচ্ছে যথার্থ স্ত্রী হও—বল চপল!
(তার হাত দুখানা চেপে ধরলো )
চপলা। (রাজেনের বুকে মাথা রেখে) ওগাে—সে কি আজ
নতুন করে তােমায় বলতে হবে—এত দিনেও তুমি বুঝতে
পারােনি? তুমি যে আমার
রাজেন। ব্যস্—যথার্থ অল্ রাইট। আর বলাে না, লজ্জা
পাবে—আমি এইটুকুই চাই। যথার্থ রাজেন বাড়রী
বিয়ের কাঙ্গাল নয়—সে তােমার কাঙ্গাল । বললা—তুমি
আমার—বলো? যথার্থ বুকের মধ্যে কী ভাষা শুনতে
পাচ্ছ? ওটা পেনাল কোর্ড নয়, যথার্থ ওটা মানুষের
ওখানে মােক্তার, গ্র্যাজুয়েট কোন পার্থক্য নেই। মানুষ,
কুকুর—সব একাকার। ও ভাষা রাজেন বাড়রী
“মুটিয়ার ইন্ দি কোর্ট অ-” তার নয়—ওটা মানুষ
রাজেনের! ওটা যথার্থ ইস্কুলে পড়ার কাল থেকেই
মজুত-বলাে তুমি আমার—আমি ইয়া বুকের ছাতি
ফুলিয়ে চলি, চপল আমার বিয়ে যে ইচ্ছে করুক।
বলাে-

SARASWAT LILIARE
MAKARDAN-HOWRAH
তৃতীয় অঙ্ক
চপলা। হা গো হা-আমি তােমারি। সে কী আজ থেকে
সেই যখন তােমার কাঁধে উঠে আম পাড়তাম—আমি বড়
লজ্জা পাচ্ছি—জানিনে যাও!
রাজেন। আচ্ছা যথার্থ আর বলতে হবে না—লজ্জা আমিও
পাচ্ছি। এখন আমি অরুকে কেন, কচুর শাককেও
ওলের ডানাকেও
( দামােদরের প্রবেশ)
দামােদর। কী রাজু ! কচুর শাকওলের ডানা-ও-সব কী
হবে ? কাল যাচ্ছ তাে কোলকাতায় ? নাতীর ওখানে
চলাে ফর্দটা ঠিক করে নি।
রাজেন। ( উঠে) আজ্ঞে এই-চপলকে ক্ষেপাচ্ছিলাম-বে
তাের বিয়েতে ভােজ দেবে।কচুর শাক আর ওলের
ডানা দিয়ে প্রণাম করে’ ) তা দেখুন—যথার্থ আমি
মেয়েজাতকেই বিয়ে করবাে।
দামােদর। যাক্, বাঁচালে তুমি! চলাে এখন
( সকলের প্রস্থান)
যবনিকা
d:-1219,
১২ ৭১

No text on this page.

প্রসাদ ভট্টাচার্য্যর
দু'খানি চাঞ্চল্যকর উপন্যাস
দু'পৃষ্ঠা –
- বাস্তবের
বাস্তব জগতের নিখুঁত ও নগ্ন চিত্র। আপনার পারিপার্শ্বিক পৃথিবী
কতো চরিত্রহীন দেখুন। তার পরিচয় সমাধান আনে। বইখানি
প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে বাংলা-সাহিত্যে ও দেশে তুমুল
আলােচনা এনেছে।
বহুনিন্দিত ও উচ্চ প্রশংসিত।
- ‘ষে ফুল না ফুটিতে
সম্পূর্ণ নতুন ধরণের উপন্যাস ! চরিত্রহীন কালু ও লিলির অভিনব
পরিণতি। প্রসাদ ভট্টাচাৰ্য সাহিত্য-জগতে সম্পূর্ণ নতুন পৃথিবী
সৃষ্টি করেছেন। বইখানি বাংলা-সাহিত্যে বিক্ষুব্ধ চাঞ্চল্য এনেছে ।
!
কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক অমূল্যধন মুখােপাধ্যায়, এ-এ, পি. আর. এ
Advance, Forward, ভবিষ্যৎ, ইত্যাদি ইত্যাদি উচ্চ প্রশংসা করেছেন।

No text on this page.

—নাট্যনিকেতন
শুভ উদ্বোধন—বলিকাতা, ২রা নভেম্বর-১৯৩৫
পরিচালক-ব্যাকটা থিয়েটার্স
প্রযোজক-প্রবােধ কহ
সীত শিক্ষক
শ্রীরাধাচরণ ভট্টাচার্য
হারমোনিয়াম বাদক
রঙ্গমঞ্চাধ্যক্ষ-শ্ৰভূপেন দত্ত
আলােক-শিল্পী—সুধীর বস্তু ও শৈলেনবাবু
}
স্মারক-কালিবাবু ও মণিবাবু

-চরিত্র- মানস-ঐশিবকালী চট্টোপাধ্যায় পরে শ্রীভূমেন রায় দামােদর—শ্রীমণি ঘােষ রাজেন-জীবন গাঙ্গুলী অশেষ-শ্ৰীপ্রফুল্ল মুখােপাধ্যায় সুধীর-শ্রীহরিধন মুখােপাধ্যায় হারু—শ্ৰীঅমূল্য হালদার খটমট—পবিত্রবাবু কানাই-শ্ৰীনিরাপদ শীল ডাক্তার—শ্রীভুজঙ্গভূষণ দে নীহারিকা-শ্ৰীমতী নীহারবাল। মানময়ী শ্ৰীমতী চারুশীল চপলা-শ্ৰীমতী নিরুপমা রাজুর মা—শ্ৰীমতী হেমন্তকুমারী পুনশ্চ! পুনরায় পুনশ্যের অবতারণা করছি, পুনশ্চ বা ভূমিকা লেখা কোন বইএর প্রথমে আমার নীতি-বিরুদ্ধ, কিন্তু তবুও আমাকে প্রায় লিখতে হয়। ভূমিকা বা পুনশ্চ লেখার ইঙ্গিত, আমার মনে হয় যে, যেন লেখক প্রথমেই । শিক্ষক হয়ে দাড়িয়ে তার বক্তব্য বুঝিয়ে দিতে চান। সেটা পাঠকের পথ-ভ্রান্তির আশঙ্কা দিতে পারে। এই নাটক যখন লিখি তখন কোন বিশেষ রঙ্গালয়ের জন্য লিখিনি লিখেছিলাম লেখার জন্য–প্রকাশকের জন্য। কিন্তু পরে এই নাটকখানি নাট্যনিকেতনে অভিনীত হয়। এবং এই জন্য আমার শ্রেষ্ঠ কৃতজ্ঞতা নাট্য- নিকেতনের স্বত্ত্বাধিকারী শ্রদ্ধেয় প্রবােধচন্দ্র গুহের কাছে। নাটকখানি তার খুব ভাল লাগে এবং তারই ইচ্ছায় এর অভিনয় হয়। আমার আত্মীয়াধিক শীর্জিতেন্দ্রনাথ গাঙ্গুলী এই অনুষ্ঠানের হোতা ও পুরােহিত। তার সাহায্যেই এই নাটক আত্মপ্রকাশ করে নাট্যনিকেতনের পাদপ্রদীপের সম্মুখে। তাঁর ঋণ এই জীবনে শোধ করতে পারবো না। বন্ধুবর ঐশােহনলালের ঋণের কথা উল্লেখ করে ঋণ আরো বেশী করতে চাই না। যে সব অভিনেতা ও অভিনেত্রী আমার কল্পনার জীবকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তঁাদেরকে আমার আন্তরিক তাভিনন্দন জানাচ্ছি। এঁরা আমার ভাবকে ভাষা দিয়েছেন, ভাষাকে মূর্তি দিয়েছেন। এ আমার আশাতীত। প্রথম রাত্রেই যেদিন তারা আমার ভাষা নিয়ে জনতাকে অভিনন্দন করলেন, সেই মুহূর্তেই পাদপ্রদীপের নীচে বসে নীরবে আমার প্রীতিপূর্ণ নমস্কার জানিয়েছি, আমার অন্তর নিংড়ান অভিনন্দন। সুতরাং আমার এই নাটকের অসামান্য সাফল্যের জন্য দায়ী আমার ঐ উল্লিখিত বন্ধুরাই—আমি নই। সমগ্র বাংলার, ভারতের ও ব্রহ্মের বাঙ্গালীর কাছে আমার নাটক উচ্ছসিত প্রশংসা পেয়েছে—এই জন্য আমি আশাতীত আনন্দ পেয়েছি। লেখকের এইটুকুই পাথেয়। আমার সাহিত্য-জীবনের এই প্রথম নাটকের এই অসামান্য সাফল্যের যিনি উৎস, আজ তার কথা অশ্রুভারা- ক্রান্ত কণ্ঠে স্মরণ করছি।

ভারতব্যাপী অগণন উচ্ছ্বসিত প্রশংসাপত্রের মাত্র কয়েকটি প্রকাশিত করিলাম—সবগুলি শীঘ্রই দ্বিতীয় সংস্করণে প্রকাশিত হইবে । ইতি প্রকাশক। N: ১ গত শনিবার নাট্যনিকেতনে শ্রীযুক্ত প্রসাদ ভট্টাচার্য্যের মানময়ী বয়েজ স্কুলের উদ্বোধন হইয়াছে । মানময়ী গার্লস্ স্কুলের পরের ঘটনা অবলম্বনে নাটকখানি লিখিত হইয়াছে। অভিনয় খুব উপভােগ্য ও হাসির হইয়াছে। অবশ্য লেখকও কৃতিত্বের দাবী করিতে পারেন। -আনন্দবাজার শ্ৰীযুক্ত প্রসাদ ভট্টাচায্যের নূতন নাটক ‘মানময়ী বয়েজ স্কুল’ নাট্যনিকেতনে দেখান হইতেছে। গল্প এই প্রহসনে খুব সুন্দর ভাবে চিত্রিত করা হইয়াছে। আখ্যানভাগ বেশ ভাল এবং হাস্যরসপূর্ণ। —লেখকের শক্তি আছে। এই বয়েজ স্কুল দেখে লোকে হেসেছেন খুব প্রাণ খুলে। এবং সবচেযে আনন্দের বিষয় এই তিন অঙ্কের নাটিশর টি ওয়ার্ক ভাল হয়েছে। - সােণার বাংলা- নাট্যনিকেতনে ‘মানময়ী বয়েজ স্কুল খােলা হবে দেখে নাটকখানি দেখবার জন্য উদগ্রীব হয়েছিলাম । -একথা তামরা স্বীকার করবে। প্রসাদবাবুর লেখায় হাত আছে, গতি আছে। -খেয়ালী- স্বর্গীয় রবীন্দ্র মৈত্রের মানময়ী গার্লস্ স্কুলের প্রধান প্রধান সব চরিত্র এনে নতুন সিচুয়েশনে নতুন রস দিয়ে জমিয়ে তােলা বড় সহজ কাজ নয়। লেখক ( প্রসাদবাবু) এই শক্ত কাজেও সফল হয়েছেন। লােক হেসে গড়িয়ে পড়লেই এই সব নাটকে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়। ‘মানময়ী বয়েজ স্কুল’ এই দিক দিয়ে সফল হয়েছে। হাসির প্রচুর উপাদান সাম্নে ধরে দর্শকদের খুসী করেছে। যারা অভিনয় দেখতে গিয়ে কাঁদতে প্রস্তুত নন, তারা মানময়ী বয়েজ স্কুল দেখে নিশ্চিতই খুসী হয়ে ফিরবেন। ঘরে-বাইরে- প্রহসন উপভােগ্য। * 1: : নাট্যপ্রিয়গণের ইহা সুন্দর খােরাক। কুরুক্ষেত্র নাট্যকার প্রশংসা দাবী করেন। ১: : : সেটি হচ্ছে বিষয়বস্তুর বাঁধুনি। -বাতায়ন লোকে হেসেছেন—সত্যিকারের রসের আস্বাদনও পাওয়া গেছে। রাজুর ভূমিকায় জীবন গাঙ্গুলী চমৎকার অভিনয় করেছেন। নীহারবালা ভাল অভিনয় করেছেন ও গেয়েছেন শ্রুতিমধুর ভাবে। -স্বদেশ নাট্যনিকেতনে ‘মানময়া বয়েজ স্কুল’ অভিনীত হচ্ছে। অভিনয় উৎরে গেছে বেশ। ভালো অভিনয় করে দর্শকদের খুসী করেছেন। সুখবর সন্দেহ নেই। -নাচঘর-

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Manmoyee Boys School

Author
Bhattacharya, Prasad
Title
Manmoyee Boys School
File name
Manmoyee Boys School
Text
OCR done
Citation
1935
Published
2009/07/16
Publisher
Sri Gopal Das Majumdar, Calcutta
Language
Sanskrit
Pages
122
Library
Makardah Saraswat Library, Howrah
Classification
Drama. Plays.
Keywords
Drama
DLI number
551130
Barcode
4990010021108.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
vAIwL0Jhxru
Download PDF

Manmoyee Boys School