Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Debraj
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
দেবরাজ।
জ্যোতিশ্চন্দ্র ভট্টাচাৰ্য্য ।
No text on this page.
Long live the King Emperor.
Long live the Queen Empress.
দেবরাজ
নাটক)
( কানেশন দরবার উপলক্ষে লিখিত।
পূর্ণিয়া করােনেশন উৎসৰে পূর্ণিয়া ওব্রায়েন ড্রামাটিকু
ইউনিয়ন কর্তৃক অভিনীত।)
“লীলাবসান,” “তপতী” প্রভৃতি প্রণেতা,
শ্রীজ্যোতিশ্চন্দ্র ভট্টাচাৰ্য,
এ-এ, বি-এল, এম-আর-এ-এস প্রণীত
কলিকাতা,
৫ কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, নব্যভারত-প্রেসে, শ্রীদেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী
কর্তৃক মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সন ১৩১৯ সাল
মূল্য। আনা।
No text on this page.
উৎসর্গ।
কাবামােদী মেহাভিষিক্ত জ্যেষ্ঠ শ্ৰীযুক্ত সতীশচন্দ্র ভট্টাচার্যের
করকমলে সােদর-প্রীতির চিহ্ন-স্বরূপ উপহার প্রদত্ত হইল।
করুণা-সিক্ত অনুজ
জ্যোতিশ্চন্দ্র।
পূর্ণিয়া,
১২ই ডিসেম্বর, ১৯১১
No text on this page.
নাট্যোলিখিত ব্যক্তিগণ।
স্ত্রী।
পুরুষ।
ইন্দ্র।
দুর্গা।
শচী।
বৃহস্পতি।
বৃত্র।
ঐন্দ্রিলা—বৃত্রের পত্নী।
নর্তকীদ্বয়।
রুদ্রপীড়।
মহাদেব।
অপ্সরীগণ
বীরভদ্র।
ইত্যাদি।
বরুণ।
দধিচি।
বয়স্য।
বিদ্যাধর।
অঙ্গর।
দেবগণ, প্রজাগণ ইত্যাদি।
No text on this page.
অবতারণা।
বৃহস্পতি।
দৃশ্য-উদ্যান।
বৃহস্পতি ও ইন্দ্র।
হে শচীন্দ্র
দেবের হৃদয়-রাজ্যে চির প্রেম
করেছ সিঞ্চন,
তােমা সম গুণবান ত্রিভুবনে
নাহিক ধীমান্
শৌর্যে বীর্যে দানেতে মণ্ডিত,
দয়ার অাধার প্রজাপ্রতি সুবিচার
ত্রিকাল ব্যাপিয়া
স্বর্গ মর্ত্য পাতালেতে
হেন পুণ্য প্রাণ প্রজার পালক
নাহিক সম্ভবে
স্বর্গের বিমল রাজ্য তত্ব হস্তে সুশোভিত
হে বরেণ্য।
মধাম ত্রিলােক-বিখ্যাত
নাহি কি এমন রাজা সেই মর্ত্যলােকে,
যার রাজ্যে প্রজা নাহি করয়ে বিষাদ
নাহি যেথা অবিচার
চিরশান্তি যেথা প্রচারিত।
ধ্যান চক্ষে করি নিরীক্ষণ
বৃহস্পতি।
বিরাজিত সমুদ্রের পারে সৰ্ব্ব গুণান্বিত মহারাজ ভারত-সম্রাট- রাজ্যে যার চির সূৰ্য্য চির দীপ্তিমান সর্ব জনে সম দয়া নাহি অবিচার প্রজার মঙ্গল তরে দিবা নিশি বিপুল কামনা পঞ্চম জর্জের নাম ধরাধামে ইন্দ্রের সমান হের মতিমান জ্যোতিৰ্ম্ময় মূর্তি তার রাজ্য অভিযেকে। ( পট পরিবর্তন ) ক্রোড় দৃশ্য। দিল্লী সম্রাট পঞ্চম জর্জ ও সম্রাজ্ঞী মেরী মূর্তি নিম্নে প্রজাগণ- হিন্দুগণ। মুসলমানগণ। রাজা চিরজীবী হউন রাণী চিরজীবী হউন তালে বকাউল মালিক তালে বকাউল মার্কা Long live the King Emperor. Long live the Queen Empress. ইংরেজগণ। -
No text on this page.
প্রথম অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
দৃশ্য রাজসভা।
ইন্দ্র, শচী ইত্যাদি।
( বৃহস্পতির প্রবেশ)
বৃহস্পতি।
দুঃখ তাপ পাপ হিংসা,
রােগ শােক দারুণ বিপা
জ্ঞান যন্ত্রে কর নিবারণ।
ব্যোমময় সচৈতন্য অযযানি অদ্ভুত
হে স্বয়ম্ভু
ত্রিভুবনে বিতর কল্যাণ।
হে নমস্য,
কল্যাণ কোথায় ?
আদি দেব শিবশঙ্কু সহায় যাহার
নারায়ণ কল্যাণ আলয় আশীৰ্বাদ অভিষিক্ত
অনাদি অযনি ব্রহ্মা প্রতিপাল্য সদা ;
গুরু মন্ত্রী পুরােহিত, হে ধীমান বৃহস্পতি যার
নাহি তার নাহি শান্তি হৃদয়ে ক্ষণিক।
কোথা অমঙ্গল ?
হে শচীন্দ্র সুরপতি দম্ভোলি যাহার
বৃহম্পতি।
শচী।
অব্যর্থ মহান অস্ত্র, ত্রিধা ভিন্ন মহাশক্তি
যার তরে চির নিয়ােজিত,
তার মুখে কাতর আক্ষেপ !
জাগ্রত কি দেববৃন্দ,
অবসন্ন কলঙ্কিত সুরশঘ এবে।
দুৰ্ব্বত্ত বৃত্রের তাপে
কম্পান্বিত ত্রিদিব পাতাল।
ভ্রষ্ট যূথ গােপাল সমান
ছিন্ন ভিন্ন বলহীন প্রবল অমর।
কিবা অভিশাপ !
হে বরে! ভয়ে কাপে অবলার প্রাণ।
বয়স্য। যুদ্ধ রণ অসুর ঘাতন
মন্ত্রী হলেন কলা-খেগাে থুরথুরে ব্রাহ্মণ।
রণ শব্দে পলায়ন
ফলাহারে দিব্য আয়ােজন ;
মন্ত্র ঝাড়ি ত্রিতাপ নাশন
দক্ষিণার বেলা কিন্তু তিন গুণ পণ।
মহাশয় বৃহস্পতি
জানেন কি
চন্দ্র গৃহে গুরু পত্নীর আজি নিমন্ত্রণ।
বৃহস্পতি। ধিক্ উচ্ছল ।
মদিরা আস্বাদে লুব্ধ
ঘৃণা-শূন্য তক্ষুব্ধ হৃদয়ে
দেবত্ব ঐশ্বৰ্য্য ছাড়ি
( ৩ )
বস্ত।
অন্ধকার নরকের পুর
করিয়াছ চিরফুল্ল ত্রিদিব নগর।
দেবতায় ভাগ্যহীন
করিয়াছে ক্রিয়াহীন বাচাল ব্রাহ্মণ ।
রাজ কাৰ্যে যেই দিন হ'তে
ব্রাহ্মণের মন্ত্রণার হ’ল অধিকার ,
যেই দিন হ'তে
জীবনে মরণে ব্রাহ্মণের হাতে
র’ল উদ্ধার ;
সেই দিন হ'তে এদীনের বিদ্যাবুদ্ধি বােতলে স্থাপন
ক্ষান্ত কর চপলতা !
নমস্ত জগতে মুনি
তাঁর নামে উচ্ছ,ঙ্খল বাণী
হীনবুদ্ধি পরিচয় তব।
প্রগতা বাচালতা মহতের অযােগ্য স্বভাব।
জ্ঞানীর মন্ত্রণা নহে নিষ্ফল কদাপি।
প্রণত পদারবিন্দে, হে আরাধ্য,
দেবগুরু সর্বক্ষম জ্ঞানের আধার
কিবা বিধি হেন অবস্থায় !
দারুণ সমস্যা দেব!
মহাবলী বৃত্রাসুর
ভবানীর কৃপা বিলােকনে
বলীয়ান সহস্র বারণ সম।
স্বরীশ্বর। মম এই অভিপ্রায়
বৃহস্পতি।
( 8 )
স্বরীশ্বরী সহ!
বিশ্বমাতা বিশ্বগতি বিশ্ববিনাশিনী
চণ্ডিকার পাদপদ্মে লওগাে সহায়
শিবশক্তি বর লভি
অনায়াসে বিনাশিবে প্রবল দানবে।
২য় গর্ভাঙ্ক।
বিদ্যাধরের গৃহ।
বিদ্যাধর ও অপ্সর।
বিদ্যাধর। যুদ্ধই হােক আর বিগ্রহই হোক আমি একটু না টেনে
থাকতে পারব না, আমার ভাল কাপড়টাও চাই, পােষা-
কটাও চাই, একটু একটু পােষ্টাইও চাই, অশ্বিনী কুমার
মশায়দের বলতে হবে যাতে একটু নেশা হয়, সেইরূপ
ব্যবস্থা করেন।
অল্পর। আর অশ্বিনীকুমার মােয়দের দফা রফা। মহারাজ ইন্দ্রের
রাজত্বে নেশাটা ভাঙ্গটাও ইচ্ছামত করতে পারার
যাে নাই। শুনতে পেলাম তা নিয়েও নাকি ভারি
কড়াকড়ি। এর কোন মতলব বােঝা যায় না। আচ্ছা
যদি একটু মালটা আসটা গােপনে বিক্রি হ’ল, রাত
বিরাতে একটু বেএখতার না হয় হওয়া গেল, তাতে
মহারাজের ক্ষতিটা কি ?
বিদ্যাধর। আরে মহারাজের দোষ কি ? সেই বেটা ভণ্ড বৃহস্পতি
( ৫ )
জুটেছে, তারই এসকল কারখানা! শুনতে পেলাম
তার কথায় নাকি মহারাজ ওঠেন আর বসেন।
(বয়স্যের প্রবেশ।)
গত।
কে আমায় মাতাল বলে আমি কোথায় পাব সুরা,
সে যে ভাণ্ডারীর প্রেমের কণা মদ্য রসে ভরা।
(লম্ফ দিয়া বিদ্যাধর ও অষ্পরের উত্থান
ও তিন জনে গলাগলি ধরিয়া।
সে যে সকল বিভাব, নাইক অভাব
পাগল স্বভাব পােরা
আমি বিনা মদে বদ্ধ মাতাল মদ দেনা মা তারা।
বিদ্যাধর। {বয়স্তের গলা ধরিয়া) গীত।
পিয়ারি মেরা ক্যা হুয়া
মেরা শির ওলট গিয়া পায়ের গুম হুয়া
এক বুদ পানি
মেরি দিল জানি
যায়ছা পিয়া ক্যামজা পায়।
গীত।
আও মেরা কালাচাদ আও মের ডেইয়া
হামত রসমে ডুব গিয়া।
মেরা নেহি হেস হাবা,
হাম একদম বদ হবা
পিয়া মেরা কাহা গিয়া কোন চোরায়।
( ৬ )
অঙ্গর।
গীত।
বঁধু তােমায় পেলাম আজি মন্দাকিনী কূলে
সাজের বেলায়, প্রাণের জ্বালায়, দিলাম কালী কুলে
গলায় দেব প্রেমের সাপ
বদ্ধ সদা বাপ বাপ
কঁাধে করে নাচব তােমায় জলে বিলে।
বঙ্গ।
গীত।
ভাবনা কি ধনি ?
পাড়ি জমিয়ে দিব এখনি।
মাঝিগিরি কর্ম করি ধনি লাে-
আমার মন ভারি বিনােদিনি।
দাড় টানি ব’ঠ টানি আর আস্তে আস্তে গুণ টানি
তুমি সব কাজের শিরােমণি।
৩য় গর্ভাঙ্ক।
কৈলাস-পৰ্বত।
ই।
(করযােড়ে )
নিদ্রিতা কি জগন্ময়ি!
মহার্ণবে যবে মা অজ্ঞান
বিশ্বপ্রাণ, নিৰ্বাত এ চরাচর।
মহামায়া রূপে
( ৭ )
হে অশ্বিকে
জীবশক্তি করিলে সৃজন।
মহা জ্যোতিৰ্ম্ময়
মহা ধান্ত ভেদি
তেজীয়ান মহা সূৰ্য্য সুপ্রকাশ।
ধরিত্রীর বক্ষে
ফুল প্রসূন সুন্দর
কল্লোলিনী তরঙ্গিণী
উচ্চ বক্ষ মহান্ পৰ্বত।
জগদ্ধাত্রি
মহা তেজে ব্ৰহ্মাণ্ড সৃজন,
বসাইলে বিশ্বরাণি।
এ দাসেরে ত্রিদিবের সিংহাসনে।
একি মা পাষাণি !
উৎক্ষিপ্ত তরঙ্গ মাঝে বিলুপ্ত তনয়,
হেমাঙ্গিনি। কোথা লুকাইলে?
কৈলাসের কমনীয় শােভা
ভুলাল কি ভুবনমােহিনী তােরে
অথবা
করালি,
বিসর্জিয়া সেই
জগদ্ধাত্রী জগন্মা রূপ
উদ্ব, মা পীনস্তনী
সহস্র মণ্ডিত ভুজা
( 8 )
ঘােরা মূর্তি ধরি
ব্রাসিছ দাসেরে।
লক্ষ মূৰ্ত্তি ধরা মহাবিদ্যা মহারাত্রি।
মহামােহরূপা
মহাঘোরা দিগম্বরি
আদেশ অধীনে
কোন্ রূপে অৰ্ত্তি প্রাণে
কারুণ্য প্রসাদ
নিস্তারিণি তারা করিবে অর্পণ ?
পুরন্দর, গৌরীরাণি ।
তােমার যে চরণ আশ্রিত,
কৈটভ অরি হৃদয় বাসিনি।
কুটী করাল দৃষ্টি
কর সম্বরণ,
কনক উত্তম কান্তি
দশভূজে শশিমৌলি সুপ্রতিষ্ঠে
দাসের হৃদয়-পটে করাও স্থাপন।
শক্তি দেমা শক্তিরূপা
ভীত এ সন্তানে
মহাশক্তি কর পরিত্রাণ ।
( উর্ধে দুর্গার আবির্ভাব)
দুর্গ। কেন ইন্দ্র পূজায় ব্যাপৃত
কৰ্ম্মফল অখণ্ড্য ত্রিদিবে।
( ১ )
সৃষ্টির প্রারম্ভ হ'তে সত্য ধ্রুব বাণী
শক্তির বিকাশ কৰ্ম্মের সংসার
উদ্যমবিহীন প্রাণী কিম্বা দেব অথবা মানব
নাহি লভে সফলতা কদাচ কচিৎ
কর্মক্ষেত্রে হে বাসব হও আগুয়ান,
কৃতকার্য নিজায়ত্ব, বৃথা ধ্যান
পূজা বলিদান।
। প্রবঞ্চনা মা শিবানি
কৰ্ম্ম কাৰ্য সফলতা তার
তােমার বিমল বাঞ্ছা।
সুকৃতি পুরুষ, তােমার মা বিশ্বারাধব্য,
অক্ষুন্ন অনন্ত শুভ ভরা।
কৈবল্য দায়িনি।
নহে স্বার্থ-প্রণোদিত
নাহি চাই আপনার সুখ
রাজ্য তরে প্রজাতরে, ত্রিভুবনে বিস্তারিতে।
ভীতিশূন্য শান্তির বারতা
আশ্রয়-ভিখারী তােমার কমল পদে।
হে ভবানি শান্তিময়ি তারা।
যবে ব্যস্ত সৃষ্ট জীব
অত্যাচারে দুষ্ট দানবের,
করালিনি নানা মূর্তি ধরি
বিনাশিলে কাল দৈত্যে
দিলে ঢালি শান্তি বারি
( ২০ )
শান্তিময়ি ভবারাধ্যা তারা।
চাই অসাধ্য কিছু ইচ্ছাময়ি তারা।
চাহি শুধু শুনিবারে
কি উপায়ে হইবে নিহত
দৈত্যকুলপতি বৃত্র।
দুর্গা। (অবতরণ )
শিবের আশ্রিত দৈত্য
কেমনে হে পুরন্দর বধের উপায়
বিবরণ করি আমি তােমার সদনে
শিব শক্তি বিনা
অসম্ভব দৈত্যের বিনাশ ।
ইন্দ্র। শিবাজাধ্যে
কি প্রপঞ্চে ভুলাইতে চাহ এ দাসেরে।
সৃষ্টি স্থিতি বিনাশিনি আদ্যাশক্তি রূপা
শিবপ্রসবিনী তুমি শিব-সীমন্তিনী
তােমার চরণ লােভে ভােলা মহেশ্বর
পদপ্রান্তে নিপতিত।
উলঙ্গ কপালী নর শিরহার গলে
বিকট বদনা শ্যামা দৈত্য বিনাশিনি
তুষ্টা ভব জগন্ময় !
স্বর্গ পুরী তােমারই রক্ষিত।
(শিবের প্রবেশ )
শিব।
কি কারণে বরাননে ধ্যান ভাঙ্গি ডাকিলে হেথায়,
চাই বিশ্বের কাৰ্য্য
( ১১ )
নাহি চাই ভেদ দণ্ড রাজনীতি রাজার সম্পদ।
ঐকান্তিকে একমনে প্রবল শ্মশানে
নির্জন তমিস্রা পূর্ণ মৃতদেহমাঝে
নরের ঘৃণিত স্থান দেবের আবাস।
দাও ধ্যানে ধরিবারে
বিশ্বের অদিম তত্ত্ব ওঁকার সাধনা
নিরাকার ব্যোমরূপ ব্রহ্মাণ্ড বিস্তৃত
পরম বিপুল শান্তি
ক্ষম প্রিয়ে বিশ্বের সংবাদ।
হে শূলি !
দেব কুল বিপদ জড়িত,
দেবশ্রেষ্ঠ সুরেশ্বর
জগৎ মঙ্গল হেতু নিজে আজ সাহায্য-ভিখারী।
তােমার প্রভাবে দুষ্ট বৃত্র দৈত্যেশ্বর
অশান্তি আনিল হায় শান্তিময় ধামে
তােমার আশ্রিত দেব
বিরূপাক্ষ কর যেবা অভিপ্রায় তব
দুর্গা।
জপ তপ ধ্যান ও ধারণা
পরমেশ
পরের মঙ্গল কাৰ্য্য সর্বতত্ত্বসার
এ বিধি হে বামদেব
নিবেদন অত্যুক্তির প্রায়।
হৈমবতি !
সত্যই কি দৈত্যরাজ তমগুণে অন্ধমতিহীন।
শিব।
( ১২ )
শিব।
বিনাশ তাহার ভবিতব্যপটে সুচিত্রিত
নহে বাসব
বৃত্রের নিধন ব্ৰহ্ম দিবা অবসানে।
(বীরভদ্রের প্রতি।)
বীরভদ্র কেন জটা বিকম্পিত
বিপদে পড়িয়া কেহ করিছে স্মরণ !
বীরভদ্র। হে উমেশ! শচী আজি করিছে স্মরণ
দৈত্যের বিনাশ তরে সাহায্য বিখারী,
হা ধিক্ দানব !
আমার প্রদত্ত বলে এত গরীয়া
বর ব্যর্থ হে পাষণ্ড
কে রক্ষিবে তােরে।
বিশ্বনাশ এখনি করিব
(শূল উত্তোলন)
বীরভদ্র। সংহর সংহর ক্রোধ দেবশূলপাণি
হুঙ্কারেতে বিশ্বনাশ
প্রলয় বিষাণে
থর থর কাঁপিছে ভুবন।
কোন ছার বৃত্রাসুর
তার তরে ত্রিশােক বিনাশ।
সম্বর সম্বর শূল
চরাচর বিশ্বনাশ প্রায়।
দধি চীর অস্থি বজ্রে
বৃত্রাসুর হইবে নিপাত।
৪র্থ গর্ভাঙ্ক।
স্বর্গপুরী।
দৃশ্য-মন্ত্রণা-গৃহ।
বৃহস্পতি।
বৃহস্পতি। বিশ্ব পূজ্য দেবকুল
এবে তাহে মাদকের লীলা।
নাহি শৌৰ্য্য সে সমাধি
মন্দাকিনী বারি সম পূত সে স্বভাব।
দেবের দেবত্বহীন
অসুরের তেজ আবির্ভাব।
হে ত্র্যম্বক কি খেলা তোমার।
(ইন্দ্রের প্রবেশ)
কৃতকাৰ্য্য তব আশীর্বাদে
গণেশজননী গৌরী সৰ্বার্থসাধিক
তনয়ের বিপদে কাতর ;
স্বয়ম্ভু কৃপায় অবিলম্বে বৃত্রপাত।
বৃহস্পতি। কি বিধান বধের তাহার ?
যুদ্ধে ধরে প্রচণ্ড ত্রিশূল
দেবনর ত্রাস দৈত্য
শিব বরে সদা বলীয়ান
;
বল ইন্দ্র
উমেশের কিবা অভিপ্রায়।
শিব আজ্ঞা
ই।
( ১৪ )
দধিচীর অস্থিলয়ে দৈত্যবধ-ব দুনিৰ্বার
তাহাতে বিনাশ অবশ্য সম্ভব তার।
বৃহস্পতি। সংসার নির্লিপ্ত মুনি
চিত্ত তার বিভুপদে
কেমনে তাহার, পুণ্য পূত-জীবদেহ
করিবে বিনাশ ইন্দ্র দেবকাৰ্য হেতু।
হায় ধিক্ স্বার্থ অন্বেষণ।
জীবনের সমগ্র বাসনা তেয়াগিয়া
বিভুপদে প্রাণ সমর্পিত
ব্রহ্মজ্ঞানী ব্ৰহ্মময় ব্রাহ্মণ তাপস,
সৰ্বপূজ্য তপস্বী দধিচী।
কেমনে বলিব তারে
“নিজ দেহ করহ নিপাত”।
ধিক মম রাজদণ্ড রাজ্যের বাসনা
চাহিহে দেবগুরু ত্রৈলােক্য আসন--
উপেক্ষিত অবিদিত জগতের কোণে
চিরকাল রহিব অজ্ঞাত
সেও শ্লাঘ্য !
লও রাজ্য দৈত্যেশ্বর
অলুক সমরানল! যাক শান্তি ত্রিদিব হইতে,
মঙ্গল বাদি ধ্বনি, নিশাব্যাপী তারকার মালা
চন্দ্রমার মােহিনী মহিমা
শান্তি স্রোত হ’ক শুষ্ক, পাপ রাজ্য হউক বিস্তৃত,
শচীসনে নিরজনে নিজ স্বর্গ করিব প্রস্তুত।
( ৫ )
বৃহস্পতি। সে কি নহে স্বার্থের সৃজন ?
সমগ্র জগৎ যদি কাদি ফেরে শান্তির কারণ,
কি করিবে হে শচীন্দ্র আপনার শান্তি অন্বেষণে
বিশ্ব সমুদ্রের বারি বিন্দু তুমি
যদি সমগ্র জলধি ঝটিকায় হয় বিক্ষোভিত
কিবা ইষ্ট, যদি থাকে কণা বারি স্থির।
মহত্ত্ব বিশ্বের মাঝে সেই সে বাসব
জগৎ মঙ্গল হেতু যদি কর বিপদের গাঢ় আলিঙ্গন,
বিস্মরিয়া আপনারে, আপনার জনে
কেবল জগৎ, অনাবিল বিশ্বের সাগরে
দাও ঝাঁপ, যদি আসে প্রবল ঝটিকা
উঠ, পড়, বীরের মতন
ডুব যদি, হে সুরেন্দ্র
শ্লাঘ্য এ জীবন।
অম্বুভয়ে থাক যদি নির্জলা প্রদেশে
কিবা সে বীরত্ব ধীর।
জগতের বিপদের মাঝে
আপনারে কর লয়
সেই ত রাজার ধর্ম
জ্ঞাননিধি !
কি বিশাল উদারতা হৃদয়ে তােমার
কিন্তু দেব ! নিজায়ত্ব নহেত বিধান
কেমনে বিনাশ করি ব্রাহ্মণের প্রাণ।
(দধিচীর প্রবেশ)
sky
রুধিচী। অসার সংসারে নরনারী পুত্তলিকা প্রায়
অবিরাম যাতায়াত
নারায়ণ করহ খণ্ডন!
পরের কার্যের তরে নিজ প্রাণ দিলে বিসর্জন
সেই সে পরমা মুক্তি।
হে শচীন্দ্র কেন ক্ষুন্ন মন
এই দেখ নিজ হস্তে এ মৰ্ম্মের কঠিন পঞ্জর
উৎসর্গি তােমার করে।
হ’ক বজ্র কঠোর কঠিন।
হােক ধ্বংস পাপ তাপ
মুছে যাক সংসার-কালিমা
এই বজ্রে সুরেশ্বর
বৃত্রের কঠোর অস্থি কর চূর্ণ
কর দীর্ণ প্রস্তর সমান।
জয় নারায়ণ।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
১ম গর্ভাঙ্ক।
বৃত্র-গৃহ।
বৃত্র ও ঐন্দ্রিলা।
অয়ি চন্দ্রাননে !
কেনলাে বিমলা আজি ফুল্ল সরােজিনি।
কৌমুদী নিশার মনােহরা মূরতি সুন্দর
দোদুল অলকদাম, বিচিত্র নয়ন
প্রেমের প্রখর দৃষ্টি বৃত্রাসুর হৃদয় কম্পিত,
পূর্ণ-প্রেমা ফুল্লাঙ্গিনী বিপুল উরসি
স্থল পঙ্গু সম কলকিত বিশ্ব হাময়ি
একটী প্রেমের বাণী একটা চুম্বন
অবসাদে গায় আলিঙ্গন
বৃত্র প্রাণে স্বপন দর্শন।
অয়িলাে মানিনি
কেন ওই কোমল লতিকা সম
যুগ্ম বাহু লয়ে
বক্ষের ভিতরে মােরে না কর পেষণ?
হে রাজেন্দ্র! অমরাবতীর নাথ,
ঐন্দ্রিলা ত দাসী যােগ্য তব
উর্বশী কৃত্তিকা রম্ভা
সুবসনা বিলােল ভাষণ
ঐন্দ্রিলা।
( ১৮ }
বৃত্র।
নৃত্যাকুলা বিম্বাধরা রূপসী নাগরী
তােমার চরণ ভােগ্যা ।
ঐন্দ্রিলারে প্রাণেশ্বর
আর ত লাগে না ভাল ।
অয়ি সৰ্ব্বনাশি।
বিন্দু বিন্দু রক্ত মাের দিন দিন শুষি
আমারে যে করেছিস একান্ত বিনাশ!
প্রাণের কোমল তন্ত্রী ছিন্ন করি
নিছ তার সােহিনী রাগিণী।
আমি ত তােমার পদে চিরক্রীত ক্রীতদাস প্রায়
প্রেম চক্ষে চাহলে কুটিলে।
ঐন্দ্রিলা। স্বর্গের দেবতা আজি দৈত্য রাজ্যেশ্বর
ভাগ্য বলে বাম পার্শ্বে মহিষীর প্রায়
বসিয়াছি। আনন্দের কোলাহল !
কেবল নৃত্যের ঘটা, সঙ্গীতের তরতর ধ্বনি
তবু যেন হৃদয়ে অন্তঃস্থলে
কোন এক অস্ফুট বারতা বলে
দৈত্যরাণি ! “সাবধান শম্ভবাম।”
বৃত্র।
হায় লাে ঐন্দ্ৰিলে ।
বৃত্রের প্রবল দম্ভ বলবীৰ্য্য
নহে শুধু ভােলানাথ কৃপার অধীন ;
যবে কর্মশক্তি নাহি জানে নর
দৈবের শরণাপন্ন।
বুঝিয়াছি এবে’ একমাত্র স্বীয় বল
;
সৰ্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ব চরাচরে
পাগল অজ্ঞান শম্ভু
সঙ্গী তার বেতাল পিশাচ
আত্ম-ভােলা হীনবীৰ্য্য
তার কৃপাপ্রার্থী নহে
নন্দনের চিরানন্দ বৃত্র দৈত্যেশ্বর।
এই যে বিশাল হস্ত ত্রিশূল চালনে
মূহুর্তে নাশিতে পারে সমগ্র বিশ্বেরে।
যদি শম্ভু সমরে আগত।
তৃণবৎ পারি উড়াইতে।
ঐন্দ্রিলা। শিব ! শিব। ইষ্ট নিন্দা ! হে দৈত্যেন্দ্র।
অহঙ্কারে পতন নিশ্চয়।
কি দুৰ্ব্বদ্ধি হৃদয়ে তােমার
কর অনুতাপ
স্বয়ম্ভু মােদের দেব চির পূজ্য
চির সনাতন
কর তার পদে আত্ম সমর্পণ।
বৃত্র । অয়ি নারি চিরকাল ভীতি লয়ে
রহ তুমি আপন অন্তরে।
আমরা দৈত্যের পুত্র যুদ্ধ ব্যবসায়ী
রণক্ষেত্র আমাদের ক্রীড়ার আগার
নাহি ডরি মহাদেবে নাহি ডরি দেব শূলপাণি
ছাড়হ বিষাদ
এস আজ আনন্দের দিনে
( ২০ )
প্রেমের কোমল বীণা প্রেম আলাপনে
দুৰ্বল ভবিষ্য ভীতি করি নিবারণ।
কোথায় নর্তকী।
( নর্তকী দ্বয়ের প্রবেশ)
গীত।
কে তুমি রতন।
কমল কলিকা, প্রেমের মালিকা, হৃদয় নিধি
যে তুমি হৃদয় ধন।
কোন প্রিয় আশে
এসে ছিলে পাশে
স্বপন সখা যে তুমি তুমি যে স্বপন।
অতি থির বেশে
এসেছিলে দেশে
জীবন সপেছি সখে চিনিনা কেমন।
( গান করিতে করিতে নর্তকী দ্বয়ের প্রস্থান)
২য় গর্ভাঙ্ক।
দৃশ্য-উদ্যান।
রুদ্রপীড়।
রুদ্রপীড়। হে শম্ভু অনাথ নাথ
কতকাল স্বপনের শেষ ?
পূৰ্ব কৰ্ম্মফলে দৈত্য বংশে জন্মলভি
অনাচারে অবিচারে দিবা অবসান।
( ২ )
এইত সায়াহু কালে নদীতীরে
করযােড়ে ডাকি ভবার্ণব কাণ্ডারী স্বরূপ
দেব দেব মহাদের দীনের আশ্রয়,
শ্রান্ত দেহ ক্লান্ত প্রাণ
পারি সহিতে আর জীবন যাতনা
জ্বালাও জ্ঞানের বঘ্নি
জ্বালাও অামার স্বােপার্জিত কৰ্ম্মফল।
মহা ব্যোম ময়দেব তােমার চরণে
শিবত্ব প্রাপ্তির তরে প্রার্থিত বালক।
(বীরভদ্রের প্রবেশ)
বীরভদ্র। রুদ্রপীড়।
হের শঙ্কু কোপানল
পিতারে তোমার ভস্মসাৎ এখনি করিবে
দেব বরে বলীয়ান
রহে কৃপার দৃষ্টি
অত্যাচারী নরনাথ প্রতি।
রুদ্রপীড়। প্রণতি চরণে !
মহেশ আশ্রিত দেব
সাধক প্রধান
কিবা অপরাধে অপরাধী পিতা মাের।
বীরভদ্র। অত্যাচার প্রজার পীড়ণ
সতীনারী অপমান
স্বর্গময় পাপের বিস্তার
রক্ষা নাই রক্ষা নাই
( ২২ )
বৃত্র।
বৃত্রাসুর ব্যাপিত বিপ্লবে।
( বৃত্রাসুরের প্রবেশ)
কে তুমি সন্ন্যাসি !
দুগ্ধপােষ্য সন্তান আমার
কিবা প্রয়ােজনে সঙ্গোপনে
করিছ আলাপ !
সংসারে বিরক্ত যুবা
নাহি চাহে রাজকাৰ্য্য যুদ্ধ ও বিবাদ,
কার আজ্ঞা লয়ে রাজ গৃহে
ভণ্ড যােগী তব অাগমন !
বীরভদ্র। সমগ্র বিশ্বের রাজা অথচ সন্ন্যাসী
সৰ্ব্বক্ষম কিন্তু যেই ক্ষমতা রহিত,
সৰ্বগুণান্বিত দেব গুণের অতীত,
স্বর্গের ঐশ্বৰ্য্য ত্যাগি শ্মশানেতে
যাহার নিবাস
সেই দেব দেব মহাদেব
পদ প্রান্তি নিপতিত দাস মাত্র আমি।
বৃত্র। তুমি সেই ভণ্ড অনুচর!
কে আছ হেথায়
কর বন্দী পাপাত্মারে ।
রুদ্রপীড়। পিতঃ পিতঃ !
কিবা ভ্রান্তি তব
মােদের সম্পদ শৌর্য
সকলি যে বিশ্বনাথ কৃপার অধীন,
( ২৩ )
প্রচণ্ড প্রদীপ্ত তেজ
বাড়বাগ্নিসম, শিব-ক্রোধ
কৃতান্ত সমান।
একি ভ্রান্তি দৈত্যেশ্বর
তনয়ের প্রগল্ভতা করহ মার্জনা।
যাষ্টাঙ্গে প্রণাম কর শিবদূত বীরভদ্রে
তােমার মঙ্গল তরে
এ পুরীতে কৃপায় স্বাগত।
বৃত্র। হারে নরাধম
কি কুক্ষণে জন্মে ছিলে
চিরােজ্জ্বল দৈত্যকুলে অমানিশা আঁধার সমান।
শৌর্য-বীৰ্য-হীন নারীর স্বভাব
কোন্ দুরন্ত পাপের প্রকোপে
পুত্ররূপে আসিল হেথায়।
ক্ষান্ত কর জিহ্বা তব
রাজ ক্রোধ পুত্ৰ দোষ প্রতি
নাহি করে অবহেলা।
বীরভদ্র। কি সাধ্য তােমার
শিব
দূতে
তিলার্ধ রাখিতে।
বায়ুরূপী ব্যোমদেব ছায়া রূপে সৰ্ব্বত্র বিকাশ
মহাকাশে জ্যোতিরূপে ত্রিজগৎ করিছে রক্ষণ।
সৃষ্টি স্থিতি বিনাশন অন্ত আদি দেব শূলপানি
ত্রিশূল পরশে বীৰ্য্যতাের করিনু বিনাশ।
বৃত্রাসুর !
( ২৪ )
s
দেবতার কৃপা প্রার্থী
সমস্ত জীবন পুণ্যের সরল পথে করিবে ভ্রমণ।
ধ্বংস অগ্রে বুদ্ধির বিনাশ।
ঐ দেখ অনন্ত আকাশে
ধ ধক্ জ্বলিতেছে মহেশের রােষ
ঐ দেখ ত্রিনেত্রের রােষ বহ্নি
পুড়াইল তােমার আসন।
ওকি দৃশ্য ! বিধবা ঐন্দ্রিলা .
পাণ্ডু হস্তা রুক্ষ কেশা মলিন বসনা
কোথা তার রত্ন বলক!
ঐ দেখ রুদ্রপীড় সন্তান তােমার
শিব ক্রোধে ভস্মীভূত !
শ্মশান শ্মশান দারুণ শ্মশান
ভূত প্রেত পিশাচ নাচিছে।
তা ধেই তা ধেই রব
পাপের প্রবল শান্তি
মর পাপি অলি অনুক্ষণ।
( ত্রিশূল স্পর্শ ও অন্তর্ধান)
বৃত্র। হাে হাে! দারুণ বেদনা
ধ ধক্ বহি জ্বলে হৃদয়ে আমার,
অলি গেল হস্ত পদ কপাল কপােল
লােম কূপ সৰ্বাঙ্গ জ্বলিত;
কোথা কোথা মন্দাকিনী জল।
ওহহ ওহহা জলেতে জ্বলিছে শিখা
জল জ্বলে ধক্ ধক্ !
(২৫ )
ওকি ওকি বিবসনা রুধির দশনা
লােল জিহ্বা দিগম্বরী
কিবা নৃত্য!
ধ্বংস! ধ্বংস!
কোথায় সুমিত্র মন্ত্রী
কোথা রুদ্রপীড়।
কোথায় ঐন্দ্রিলা ?
আগুন-আগুন
নাহি কি এমন বারি এ বিশ্ব সাগরে
নিবে যায় দারুণ জ্বলন।
মহিষি! মহিষি !
( অজ্ঞান ও পতন )
ঐন্দ্রিলার প্রবেশ।
ঐন্দ্রিলা। প্রাণনাথ এ কি দশাতব !
কর অঙ্কে শয়ন আমার।
আমার অঙ্গুলিস্পর্শে কতদিন কতেক যাতনা
গিয়াছে গিয়াছে নাথ।
ঐন্দ্রিলার জীবিত ঈশ্বর
কেন গাে কাতর।
রুদ্রপীড় রুদ্রপীড়!
কি হ’ল আমার।
রুদ্রপীড়। মাগাে শিব ক্রোধে পিতা দ
নাহি শুনে উপদেশ বাণ ।
শম্ভু! শ্যু! পিতারে করহ কৃপা !
( ২৬ )
বৃত্র। কে চায় শম্ভুর কৃপা
ভূতনাথ বাহ্ জ্ঞান হীন।
এ পুরীতে শিবনাম করিলে বাদন
যমের মন্দিরে
অবশ্য মুহুৰ্ত্ত মাঝে করিবে গমন।
ঐন্দ্রিলা। প্রাণনাথ
পায়ে ধরি
একবার মহাদেবে কর গাে স্মরণ
সৰ্ব দোষ ক্ষমিবে তােমার।
বৃত্র। মায়ে পুত্রে শিব পদ করহ লেহন।
শিব শক্র মাের
ত্রিশুল আঘাতে শিব শব্দ করিব মােচন।
ওহে! ওহহ! দারুণ আগুন
নাহিক সুহৃদ।
(বেগে পলায়ন)
রুদ্রপীড়। মা! শিব স্তুতি বিনা নাহিক উদ্ধার ।
ঐন্দ্রিলা
( গীত )
জয় গরল ভােজন বিষান বাদন ত্রিপুর শাসন হে
জয় বিশ্ব নাশন বিশ্ব পালন ভক্ত রক্ষণ হে।
জয় গৌরি শােভন পন্নগ ভুষণ দেব সনাতন হে
জয় দেব দিগম্বর গঙ্গাজটাধর ত্রিভুবন পূজন হে।
জয় দেব মহাদেব সৰ্ব্বদেব দেব পতিত পাবন হে।
জয় বিপদ বারণ রক্ষজীবন বিপদ তারণ হে।
৩য় গর্ভাঙ্ক।
দৃশ্য-মন্ত্রণা গৃহ।
বৃহস্পতি, বয়স্য প্রভৃতি।
বৃহস্পতি। হে দেব সমাজ
আজি স্বনাম রক্ষণ তরে হও আগুয়ান,
দেবের আদর্শ ধরি মানব গঠন,
তােমরা যদ্যপি ধৰ্ম্ম যুদ্ধ তরে
নাহি হও স্বতন্ত্র দীপিত
রাজ্য রক্ষা সৃষ্টি রক্ষা অসম্ভব।
বয়স্য। হে ব্রাহ্মণ।
কিবা উপদেশ
শিব বরে বলীয়ান দাম্ভিক প্রধান বৃত্রাসুর
কে তাহারে করিবে বিনাশ ?
তার চেয়ে আমার বাক্যটি শােন
এস আস্তে আস্তে এক বাটি
মদ্য নহে স্বর্গ সুধা পান করা যাক।
বয়স্য ! বীৰ্য্যবান জ্ঞানবান
স্বর্গধামে চিরকাল সর্বত্র বিখ্যাত
হেন উক্তি তব মুখে!
ঐ দেখ কালাগ্নির ন্যায়
রণ শিক্ষা দীপ্ত ও জাগ্রত,
৪
( ২৮ )
প্রবল প্রতাপে দৈত্য সেনা
সাজিছে বাহিনী।
ঐ শুন বাদ্য-ধ্বনি
স্বর্গ মত্ত কাপাইয়া
হৃদয়ের অন্তস্থলে মৰ্ম্মে মর্মে
প্রদানিছে দারুণ আঘাত।
খঙ্গ অসি শূল হস্তে কোদণ্ড বিশাল
তােমার মাৰ্গন হের তুণীর ফলক
রথের ঘর্ঘর শব্দ
তুরঙ্গের বিকট বিশাল হ্রেষারব
হেথা তুমি দীপ্ত তেজা সৰ্ব্বখ্যাত
কি দুর্দৈব গুরুসনে করিতেছ বাচাল প্রলাপ !
( ত্রিশূল হস্তে বীরভদ্রের প্রবেশ)
বীরভদ্র। হর! হর ! ব্যোম ব্যোম !
বিশ্বনাশ প্রলয় আগত
বাজিছে বিষাণ ডিমি ডিমি,
কম্পানিত ধরাতল
মুহূর্তেকে বুঝি সৃষ্টি যায় রসাতল
সাজিছে প্রবল শব্দে দৈত্য বৃত্রাসুর
অযূত দানব সহ,
গর্জে বাণ, প্রবল প্রতাপে দম্ভে
শূল হস্তে সমরে আগত
বিশ্ব বিনাশন ব্যোম মহাদেব ।
( মহাদেবের প্রবেশ)
( ২৯ )
মহাদেব। কে আছি স্বর্গের রাজ্যে নিশ্চেষ্ট বাচাল
কোন মুঢ় রাজকার্যে অপ্রস্তুত
বিসর্জিতে অাপন জীবন ।
নারায়ণ অাদেশে বরিত
সুরেশ্বর পুরন্দর স্বর্গের আসনে
হেন মূঢ় কোন দেবাধম
বিরত সমরে আজি
ত্রিশূল আবাতে
অমরত্ব তার করিব বিনাশ।
বরুণ। জয় মহাদেব!
সাজহে দেবেন্দ্ৰবৃন্দ,
মায়া ঘােরে মুগ্ধ মেরি
মােদের প্রাণের রাজা দেব সুরেশ্বর
প্রাণ দিব বিপদে তঁাহার।
কোথা চন্দ্র, পবন কুবের
ত্রিপুরারি শূল হস্তে রণে আগুয়ান
জয় জয় দেবতার জয়!
( দেবগণের বেগে প্রস্থান)
হে নাথ ত্রিপুরেশ্বর
দাস প্রতি অপার করুণা।
মহাদেব। যাও ইন্দ্র রণভূমে !
পাঠায়েছি কার্তিকেরে দেবসেনা সনে
কঠোর কপট দৈত্য
শূল তেজ তার
( ৩ )
বৃহস্পতি।
মম শূলে করিব বারণ।
ক্লান্ত রণে পাষণ্ডেরে
দম্ভোলি প্রক্ষেপে করিবে বিনাশ
(ইন্দ্রের প্রস্থান)
সর্বদেবময় দেব !
দাসে কর কৃপা বরিষণ।
নিবারিতে জগতের পাপ
হে শূলিন!
রণভূমে তব আবির্ভাব,
সম্বর সম্বর তেজ
যেন সৃষ্টি না হয় বিনাশ!
৪র্থ গর্ভাঙ্ক।
দৃশ্য-রণ-ভুমির একপার্শ্ব
রুদ্রপীড়।
রুদ্রপীড়। জীবনের সন্ধিস্থলে দুরন্ত সমর।
একদিকে -
শম শান্তি আত্মার সমগ্র লক্ষ্য
বিপুল বিকাশ ধ্যেয় ধ্যাত
ইষ্ট ব্যোমকেশ প্রণম্য দেবেশ
-
( ৩১ )
অজস্র করুণা-প্রীতি-চিরমুক্তি-
অনন্ত নির্বাণ।
অন্যদিকে
দেব ক্রোধ
অত্যাচার সহকারী ঘৃণিত জীবন।
নাহি স্বর্গ নাহি সুখ
নাহি পরিণাম
জ্যোৎস্না হীন দ্যুতি-হীন
গাঢ় নিশা দুর্জয় আঁধার।
একদিকে
পরমার্থসহস্র নয়নোজ্জ্বল,
চিরদিবা চির জ্যোতিঃ
চির সুপ্রকাশ।
অন্যদিকে
পিতৃ স্নেহ-বুকভরা ভালবাসা
সমগ্র জীবনব্যাপী
স্বার্থ-হীন উদ্যম করুণা ;
ধমনির রক্তে রক্তে
মর্মে মর্মে গঠিত শরীর ।
কোন পথ, জগন্নাথ, কোন পথ ?
পথহারা দিকহারা
সন্তানেরে দেখাও সুপথ ।
না চাই স্বর্গের সুখ
বৈজয়ন্ত শােভা
( ৩২ )
অপূৰ্ব্ব মাধুরী পূর্ণ
অনন্ত জীবন,
পিতার হৃদয়ে দিয়ে
ছুরিকা আঘাত।
তার চেয়ে
অনন্ত নরক অনন্ত যন্ত্রণা -
ইষ্ট-ত্যাগ দুষ্ট রীতি
ঘৃণিত জীবন
আমার প্রাণের স্বর্গ সুরম্য আরাম।
নিরাকারে মহাব্রহ্ম
পিতৃরূপে সাকার স্বরূপ
সেই পূজ্য মহাপুণ্য
চির ধ্যেয় চির মনােহর।
মহেশ্বর, করিও মার্জনা,
(বৃত্রের প্রবেশ)
কি হেতু চঞ্চল যুবা
রণ তুফানের আবেগে যদ্যপি
কাপে হৃদি, যাও চলি জননীর পাশে।
রুদ্রপীড়। পিতঃ,
বৃত্রাসুর নন্দনেরে নাহি বলহীন কাপুরুষ
করি অঙ্গীকার
বিনাশিব দেববৃন্দে-
নতুবা জনক
রণভূমি শয্যা ভূমি মাের !
(ইন্দ্রের প্রবেশ)
(ইন্দ্রের প্রতি)
ভীত কিহে দেবরাজ
তস্করের প্রায় ভীরু হীনমতি
এত দিন রয়েছ পালিয়ে
দানবের ভূবলে।
তৃণ তুল্য পুরন্দর
তার বধ করি বৃত্রাসুর না পাবে পৌরুষ
আমার শাণিত অস্ত্রে
আজি তব অবশ্য মরণ!
ধিক্ ধিক্ চপল বালক
কোথায় তােমার দৈত্যাধম পিতা।
বৃত্র। রে দম্ভী বাসব
কর তবে শূল সংবরণ।
( সকলের প্রস্থান)
( অপর দিক দিয়া
বৃহস্পতির প্রবেশ )
বৃহস্পতি। কোথা ইন্দ্র দেব সেনা
দারুণ দানব
শূল হস্তে অগ্নি সম!
হায় হায় কি উপায়
রক্ষ উমানাথ।
(বীরভদ্রের প্রবেশ)
বীরভদ্র। হের হের মহাশূল অকর্ষি প্রবলে
( ৩৪ )
ত্রিশূল অদৃশ্য হল ।
শিব শিব শিব।
বৃহস্পতি। হর হর হর।
শিবচর প্রাণ বিচঞ্চল
যাও অন্তরীক্ষে রণভূমে
বল বল যুদ্ধের বারতা
ওকি ওকি বরুণের প্রতি
তীব্র বেগে ধায় রুদ্রপীড়।
বীরভদ্র। হের হের মহাতেজা জলধি নিধান
ঘাের অস্ত্রে রুদ্রপীড় জর্জরিত।
( বেগে প্রস্থান)
বৃহস্পতি। ধৰ্ম্মরাজ্য লাগি
বিশ্বনাথ তব পদাশ্রিত
সমগ্র দেবত্ব যদি লুপ্ত হয় আজ
কোথায় রহিবে শান্তি
কোথা রবে প্রজার পালন ?
কি দুর্দৈব ! হৃৎকম্প মাের !
এ দুদ্দিন চিন্তার অতীত।
( এস্তে বীরভদ্রের পুনঃ প্রবেশ)
বীরভদ্র। দেবগুরু !
হেন রণ নাহি হেরি ভূলােক দ্যুলােকে
অস্ত্রের ঝঙ্কার বিশাল বাদন
দেব সেনাপতি কার্তিকেয় বাণে
জর্জরিত যতেক দানব,
( ৫৩ )
রুদ্রপীড় ভূতল শায়িত।
সমগ্র দানব হত
মহাদম্ভে যুঝিতেছে দৈত্য বৃত্রাসুর।
( বজ্রের শব্দ)
বৃহস্পতি। ওকি শব্দ!
ব্ৰহ্মাণ্ড বিদারি
ধরণীর কেন্দ্র ভেদ করি
ঝন ঝন বাজিল হুঙ্কারে
শিব দূত আশ্বস আমারে।
বীরভদ্র। ছিন্নমস্তা রাহসম এইবার
বৃত্রের পতন
দধিচীর অস্থি সৃষ্ট দুরন্ত দম্ভোলি
বৃত্রপ্রাণ করিল সংহার
জয় শূলপাণি !
তৃতীয় অঙ্ক।
১ম গর্ভাঙ্ক।
দৃশ্য-রাজপথ ।
দেবগণ।
জয় দেবরাজের জয়
বয়স্য ।
2
দেবগণ।
বিদ্যাধর।
জয় দেবরাণীর জয়
মজার উপর বা-বা মজা
ইরাজ মােদের রাজা
রাজার মঙ্গলে হয় প্রজার মঙ্গল
রাজার করুণামাত্র প্রজার সম্বল।
আয় তােরা কে দেখতে যাবি
আনন্দের বাজার বসাবি।
জয় জয় জয় রাজার জয়
ইন্দ্র রাজ্যের নাইক ভয়।
( সকলের প্রস্থান)
(আলােমলা হস্তে নৃত্য করিতে করিতে
অপ্সরীগণের প্রবেশ।)
অস্পর।
গীত।
কত দিন পরে, আজি স্বর্গপুরে
সুখের বাজনা বাজিলরে
কত রাত পরে, পুনঃ ঘরে ঘরে
দীপমালা আজি আলাে করে।
( ৩৭ )
প্রতি প্রাণে প্রাণে নয়নে নয়নে
সুখের প্রতিমা শােভা করে—
সুখেতে উছলি, পড়িতেছি ঢলি
ধরেনা সুখ মােদের হৃদয়ে রে ॥
জয় রাণী রাজন লভ দীর্ঘ জীবন
সুখের তরণী ভাসিল রে।
( প্রস্থান)
(ধ্বজ পতাকা হস্তে বাউল বেশে
অরগণের প্রবেশ।
গীত।
প্রজা তাকেই কয়।
যে রাজার তরে সব সপে দেয়
রাজার তরে জীবন দেয় ।
রাজার সুখে প্রজা সুখী
রাজার দুখে প্রজা দুখী
রাজার ভাগ্যে প্রজার কপাল
সমান ভাগী সবাই কয় ।
রাজা পিতা প্রজা ছেলে
রাজার শাসন স্নেহের মূলে
রাজার চরণ সার করিলে
সব ভাবনা দূরে যায়।
দেবের অংশে রাজার, সৃজন
দেব শ্রেষ্ঠ সৰ্ব্ব পূজন
( ৩৮ )
প্রাণটা
খুলে
সবাই মিলে
বল জয় জয় রাজার জয়
( সকলের প্রস্থান)
২য় গর্ভাঙ্ক।
দৃশ্য-রাজসভা।
ইন্দ্র শচী সিংহাসনে আসীন
পার্শ্বে দেবগণ ইত্যাদি।
অপ্সরীগণ
গীত।
রচিত খচিত ভূষিত
হৃদয় কণক মন্দিরে
সৃজিত পূজিত স্থাপিত
মধুর আদর নগরে।
চন্দ্রমা রজনী, ভুবন মােহিনী
জ্যোৎস্না আলােক মালা
অতসী চামেলি
কামিনী সেফালী
যাতি যুতি বেলা--
আকাশের চাদ, ভূতলে সােহাগ, পাতালে নিঝর বারি
হৃদয়ে থাক, হৃদয়ে হাস রয়েছ হৃদয় ভরি
কল্পিত তুমি গঠিত, তুমি স্নাত নয়ন নীরে
প্রিয় হে, প্রাণ হে, আশা হে, তুমি সকল সুখের পারে।
পতি। সুরগণ ধন্য তেজ পাপের বিনাশ হেতু প্রাণপণ করিলে সমর স্বর্গের আসনে শান্তিময় শচীপতি শচীসনে করিছে শােভন। এস মোরা সমস্বরে বলি জয় জয় দেবরাজ জয় জয় দেবরাণী। দেবগণ। জয় জয় দেবরাজ জয় জয় দেবরাণী। বরুণ। ( বৃহস্পতির প্রতি) ক্ষম দেব পূৰ্ব অপরাধ বিস্মৃতির ঘরে ছিনু মােহিত আমরা এবে লুপ্ত জ্ঞান পুনশ্চ প্রকাশ। বৃহস্পতি। যে শৌৰ্য্য দেখালে দেব তুমি রণ-ভূমে কীৰ্ত্তি তব ত্রিলােকে ব্যাপৃত- এবে মাের এই নিবেদন মহা হর্ষে দেবরাজ কল্যাণ কামনা দিবা নিশি হউক প্রচার কেবল আনন্দ ধ্বনি উৎসবের উচ্চ কোলাহল গৃহে গৃহে হউক নাদিত
( ৪০ )
প্রজার আনন্দ মূৰ্ত্তি
রাজার হৃদয়ে
সর্ব কষ্ট করে নিবারণ।
দেবগণ !
শুভদিনে লও আশীৰ্বাদ
হে রমেশ !
দাও বল দাও বুদ্ধি
কঠোর রাজার কাৰ্য্য করিতে সাধন,
বৃহস্পতি। প্রকৃতি মঙ্গল তরে
হে পার্থিব হও প্রবর্তিত
জ্ঞানীর মঙ্গল যুক্তি
চিরকাল কর অবধান।
যবনিকা পতন।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.