Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Geetayan
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
গীতায়ন
প্রথম কম
বিজয়লাল মজুমদার সমাজপতি
No text on this page.
গীতান ঐবিজয় লাল মজুমদার সমাজপতি
প্রকাশক-যতীনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বি-
বাণী সাহিত্য-ভবন
৮৯ হ্যারিসন নােড়, কলিকাতা
ফান, ১৩৪৩
একটা পাঁচ আনা]
প্রিন্টার -ঐশশধর ভট্টাচার্য্য
মাসপয়লা প্রেস
•৩ মেছুয়ায় জট কলিকাতা
“গীতায়ন” ও “বােধন” শারদীয় পূজার—পূর্বে বাহির করিতে গিয়া তাড়াতাড়ি বশতঃ কিছু ভূল প্রমাদ রহিয়া গেল—গীতায়নের কবিতা- গুলির অধিকাংশইকিঞ্চিৎ বিবেচনা সহ সুর সংযােগ করিলে গান করা চলে। কনিষ্ঠ প্রতিম মান অখিলমােহন সেন বি, এ, সুহৃদবর-শ্ৰীযুক্ত ক্ষীরােদমােহন চক্রবর্তী এম, এ, “মাস-পয়সা” প্রেসের স্বত্বাধিকারী শ্ৰীযুক্ত ক্ষিতীশচন্দ্র ভট্টাচাৰ্য্য—ওঁ “চিতাের-গৌরব” “গুরু রামদাস” “কুরুক্ষেত্র” ও “রাজ্যশ্রী” প্রভৃতি বহু প্রসিদ্ধ গ্রন্থ প্রণেতা যশস্বী লেখক শ্রীযুক্ত বঙ্কিমচন্দ্র দাশ গুপ্ত মহাশয়গণ নানা দিক দিয়া এই গ্রন্থখানি প্রকাশে আমায় সাহায্য করিয়া বিশেষ বাধিত করিয়াছেন--তজ্জন্য তাহাদিগকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছি। আশা করি শ্রদ্ধেয় পাঠকপাঠিকাগণ নিজ নিজ গুণে দোষ, ক্ৰটী ও প্রমাদণ্ডলি মার্জনা করিবেন। বিনীত গ্রন্থকার।
যাদের সংস্পর্শে-
আমি এর প্রেরণা পেয়েছিলাম
তাদেরই হাতে-
সূচী পত্র পৃষ্ঠা ৪ বিষয় ১। দরশন শুধু মাগিয়াছি প্রভু! ২। যা কিছু আমার জীবনের মাঝে এস এস এস বঁধু! ৪। বড় বাঁধনে পড়েছি বাঁধা কে জাগে ঐ কে জাগেরে— যেন চিরদিনের আপন তুমি ৭। বেজেছিল মরমে সে ৮। তােমার রূপের আলাে, ৯। “তুমি” “আমি” দুটী কথা প্রাণ চঞ্চল প্রাণ চঞ্চল, ১১। আমার সকল দিনের সঙ্গী তুমি, ১২। পড়ে পড়ে তবু পড়ে না ধরা ১৩। আমি কি বলে তােমায় ডাকিব গাে ১৪। কোনখানে তুমি কোন দূরে ১৫। ঘাের ফেরা এদিক ওদিক ১৬। তােমারই আগমনে ১৭। জীবন সন্ধিক্ষণে- ১৮। আমি বড় দেনায় ডুবেছি, ১৯। আজ আমাদের বাসর ঘরের কথা ২০। তুমি কোন্ দেশের হে গুণি ! ২১। আমার কেমন কোরে–বর করা আর হয় ২২। এস বধু !-শান্তি-ধারা, ২৩। আয় বধু, আয় কন্তু ধারা ! ২৪ { সে সিত গীত গরিমাতে ২৫। জীবনের চির প্রতি ১২ ১৩ ১৭ ১৮ २२ ২ঃ २१ ২৮ ৩২ ৪০ ৪১ ৪২ ৪৩. ২৬। যখন আমি ছুটে আসি ২৭। চির পরিচিতের হাসি নিয়ে ২৮। দূর আকাশের প্রান্ত হতে ২৯। সকল লজ্জা সকল অভিমান ৩০। জাগ সখি জাগ ৩১। হে মাের প্রিয়া ৩২। এস পুরােহিত! ৩৩। এস বধূ এস প্রিয় ৩৪। আজি একি জাগরণ জাগে ৩৫। সুখের আশায় জনম ভরে ৩৬। তর মৃদুল ভঙ্গে ৩৭। চির পরিচিত হে আমার ৩৮। শত তাপের মলিন ছাপে ৩৯। শত বাধনের বন্দী ৪০। ওগাে স্বামি! তােমার কাজে ৪১। ত্বরিতে ডুবিয়ে যাবে—বেলা ৪২। এস মা, এস মা, ৪৩। জনম ভরিয়া তু হারে নিরখি ৪৪। বধু যদি হত নয়নের তারা-- সে মোরে বাসে ভাল- ৪৬। আজি জীবনে ৪৭। জীবনে যে রয়ে যাবে ৪৮। কে ঘুম পাড়াবি মােরে আয়, ৪৯। ঘুম ভাঙ্গল ! ঘুম ভাঙ্গল ৫০। আমার ভগ্ন-বীণার মলিন কুন্তলে ৫১। বাজাও তােমার শান্তির বীণা ৫২। বাজিয়া উঠিল কোন্ সুরে ৫৩। এখনও বসে আছি- ৫১। বার্থ কিচত করনি ৪৪ ৪৫ ৪৭ ৪৮ ৪৯ ৪৫। ৫৪ ৫৮ ৬৪ ' ৭১ ৭’ ৭৪ ৭৫ ৭৭ ৫৫। জীবনের আশা যত সুর হারিয়ে গেছে আমার ৫৭। নিত্য অভাব জাগায়ে জাগায়ে ৫৮। আমায় তােমার মাঝারে মিলাতে এখনও আমায় সাজিয়া গুজিয়া ৬০। ব্ৰজের-বাশরী উঠিয়াছে বাজি’ ৬১। রাধা বলে বাঁশী ঐ বাজে বুঝি ৬২। যখন হৃদয়ে মাের ৬৩। প্রাণটি যখন ভরে ওঠে ৬৪। বনে বনমালী ৬৫। বঞ্চিত করে, বাঁচা’লে মােরে ৬৬। আমার সকলই করিতে হয় ৬৭। কি দিলে হবে না হবে জয় মা ! জয় মা ! জয় মা ! ৬৯। এগিয়ে চল, এগিয়ে চল ৭০। আমার এ জীবন ভরি ৭১। পূজারী তাের পূজার যােগাড় ৭২। কি গান শুনাবি গেয়ে আজ ৭। সারা বুক জুড়ে ৭৪। জীবনের ভুল- ৭৫। বড় অবেলায়—আসিয়াছ আজ ৭৬। তুমি এলেনা সখা, ৭৭। আমার দিনের শেষের কাজের খতিয়ান ৭৮। আসিবে সে মহাপ্রয়াণের দিন ৮২ ৮৭ ৮৮ '৮৯ ৯৪ গ্রন্থকারের নূতন বই (কবিতা) “বােধন” (যন্ত্রস্থ) (উপন্যাস) “ভাইবােন”, “মা”, “মৱনারী”, “বিপ্লবী (নাটক) “সংসার” “বর্ণাশ্রম” (নীতি-সাহিত্য) “জীবনযাত্রা” “কণিকা” শীঘ্রই প্রকাশিত হইবে । লেখক- প্রকাশক ঐবিজয়লাল মজুমদার সমাজপতি বাণী সাহিত্য ভবন এভিনিউ ক্লাব, ২৮এ চিত্তরঞ্জন ৮৯ হ্যারিসন রােড, এভিনিউ, কলিকাতা কলিকাতা
গীতায়ন
ཅག Rབ་
( ১ )
দরশন শুধু
মাগিয়াছি প্রভু !
করিলে ধন্য পরশনে,
মেগেছি শুধু চরণের ধূলি
করিলে ধন্য আলিঙ্গনে।
হে প্রিয় আমার চির বাঞ্ছিত ।
হে বঁধু , আমার স্বামী
শরণের আশে
এসেছিনু পাশে
বরিয়া তুলেছ তুমি,
যা কিছু আমার রেখেছি আমি
সকলি তােমাকে ঘিরিয়া,
তুমি দয়া কোরে নিয়েছ তাদের
আপনার কোরে তুলিয়া ;
আমি কোরেছিনু সকলি তােমাফে দান
তুমি কোরেছ ধন্য গ্রহণে।
গীতায়ন
( ২ )
যা কিছু আমার জীবনের মাঝে
রয়েছে যেখানে শূন্য
তােমার আসন করিয়া রচনা
(আমি) কোরেছি সকলি পূর্ণ,
যা কিছু আমার পরাণের ব্যথা
জীবনের চাওয়া, মরমের কথা
যত দুঃখ, যত দৈন্য—
ভােমার স্মৃতির অমিয় পরশ
কোরেছে সকলই ধন্য।
তুমি কাছে আছ তুমি ভালবাস
আমারে হৃদয় ভরিয়া
এ স্মৃতি আমার চাহি গাে বহিতে
সারাটা জীবন ব্যাপিয়া,
যদি ভেঙ্গে যায় এ সুখ আগার,
যেন বহিনাক আর
এই দেহ ভার ;-
এই চিরপ্রিয় কামনা আমার
পুরিলে হইব ধন্য।
গীতায়ন
।
( ৩ )
এস এস এস বঁধু !
এস আমার বর !
তােমার আশায় বসে আছি
তােমায় নিয়ে কোরূব ঘর।
তােমায় যেন ভালবাসি
তােমায় নিয়ে কঁদি হাসি
তােমায় আমায় মিশে যেন
হই একান্তর।
র’বে তুমি আমায় প্রকাশ
ব’বে তােমার গন্ধ তােমার বাতাস,
রবেনাকো কিছুই আমার
ওগাে তােমার পর।
( ৪ )
বড় বাঁধনে পড়েছি বাঁধা আসিয়া,
কঠিন নিগড়ে পড়েছি বাঁধাগাে
পারিনা যে যেতে ছিড়িয়া।
ভাবি করি চিন্তা চিন্তামণি তরে
করি চিন্তা তারে একান্ত অন্তরে,
দেখি কে দাড়ায়ে হৃদয় কন্দরে
সারা হৃদি মাের জুড়িয়া।
৩
গীতায়ন
( ৫ )
কে জাগে ঐ কে জাগেরে-
হৃদয় কোণের অন্ধকারে
স্মরণ যাহার চিত্ত দোলায়
হৃদয় মনের অন্তরালে।
যেন কাহার স্পর্শ লাগি
ক্ষুধায় হৃদয় আছে জাগি,
কে তুমি গাে অনুরাগী
দোল দিতেছ এমন কোরে ?
কোন্ টানে এ পাষাণ কারা
ভাঙ্গলে তুমি এমন ধারা,
কোলে মােরে এমন কোরে
আপন হারাআপন ছাড়া ?
ভাসিয়ে নিলে ভাসিয়ে দিলে
যা কিছু মাের বানের ধারে।
থামাও তােমার এ আবাহন
হে বন্ধু, হে আমার আপন।
সকল ছাড়া-সকল হারা
আপন কি কেউ করে এমন?
আজ তােমার এ মনের পরশ
আমার মনে লাগল এমন
৪
গীতায়ন
সে তুলেছে সখা আমার
দেহ, মনে পাগল কোরে ।
যেন চিরদিনের আপন তুমি
চিরদিনের চেনা-
ছিল যেন কতই আলাপ
কতই দেখা শুনা-
তােমার একটীবারের পরশনে
জমাট বাঁধা প্রাণের কোণে
যত মলিনতা,
ঘুচে গেল মুছে গেল গাে ;
আমি আপন হারা শুনি-
ওগাে ! যখন কাছে যখন দূরে
তােমার সুরের ঝঙ্কারে-
বাজে আমার ছিন্ন বীণা।
গীতায়ন
( ৭ )
বেজেছিল মরমে সে সুরের ধ্বনি
এসেছিল দ্বারে আমার-সাধনার রাণী ;
এখনও সে শয্যা পাতা-
রয়েছে সে মালা গাঁথা
বরণের বরডালা আসনখানি,
বিনিময়ের অদল, বদল,
মিলনের উলুধ্বনি
কখন সে সুর যেগগা গিয়েছে থেমে
মিলে গেছে রেশ তার দূর স্বপনে,
রয়েছে স্মৃতির রেখা,
আজও স্মরণে
জাগে তাই সেই রূপ
সে সুরধ্বনি।
গীতায়ন
( ৮ )
তােমার রূপের আলাে,
জ্বালাে মাের প্রাণে জ্বালাে,
তােমার স্নেহের ধারা,
প্রাণ ভরে প্রাণে ঢালাে।
তােমার ঈপিত যত
হােক সে মনােমত
তােমার প্রাণের চাওয়া-
যেন তবু ভুলি নাকো;-
যেন শুধু ভালবাসি
তুমি যাহা বাস ভাল।
আমার প্রাণের চাওয়া-
জগতের সুখে দুঃখে,-
অভিমানে তাই কভু
ব্যথা যদি দিই বুকে
ক্ষমা কোরাে দয়া করে,
আমার সে মােহনীকে
ভাঙ্গিয়া জানায়ে দিও
যাহা তুমি দাও মােরে-
দাও শুধু বাসি ভাল।
গীতায়ন
( ৯ )
“তুমি” “আমি” দুটী কথা
মিলায়ে একটী কোরে,
এস আজ দিই সখা
জীবনের ধারা ভরে।
তোমার হৃদয় মাঝে
আমার হৃদয়টীরে--
হারায়ে মিলায়ে দাও
তােমার পরশে ভরে-
আমার পাগল বুকে
তােমার বাহুতে ঘিরে,
আমার প্রাণের চাওয়া
তোমার ভাষায় ভরে।
আমার প্রাণের দুঃখ
তােমার পরশে যাবে,
আমার বুকের মাঝে
তুমি প্রাণ হয়ে রবে,
আমার জীবন স্রোত
তােমার ধারায় মিলে,
হাওয়ার গানের মত
গেয়ে গেয়ে যাবে চলে,
৮
গীতায়ন
তােমার জীবন স্রোতে
হারান আমার ধারা-
তােমার সুরের সনে
যাবে থেমে চিরতরে ।
( ১০ )
প্রাণ চঞ্চল
প্রাণ চঞ্চল, প্রাণ চঞ্চল,
মন চল, মন চল, মন চল,
চলগাে বরণ কোরে আনি-
হৃদয় দেবতারে।
আনি ঘুরে ঘুরে
আনি ঢুরে ঢুরে-
আনি ধরে,
আনি ব’রে তারে-
হৃদয় মন্দিরে।
নয়ত সবই গেল যে গেল
হো’য়েরে বিফল
৯
গীতায়ন
( ১১ )
আমার সকল দিনের সঙ্গী তুমি,
সকল পথের সাথী ;
যখন দিনটী কাটে দুঃখে
যখন সুখে থাকি,
শত কাজে ক্লান্তিভরা-
তুমিই তখন শ্রান্তিহরা
ফিরি যখন ব্যর্থ শ্রমের ব্যথা ভরা বুকে,
আমার সকল আবেগ হয় গাে শান্ত
যখন তােমায় দেখি।
যত কঠোর, যত নিঠুর,
যত তিক্ত, যত বন্ধুর
স্মরণে তােমার হয় গাে মধুর সবই,
আমার অবসাদের আভাষ টুকুও
থাকেনা আর প্রাণে,
তােমার আবেগ ভরা পরশটুকু
যখন আমার সকল অঙ্গে মাখি ।
গীতায়ন ( ১২ ) পড়ে পড়ে তবু পড়ে না ধরা কোনখানে কোন দূরে পড়িছে সাড়া কি যেন সে সুর- হৃদি ভরপুর আবেশে অবশ তনু আপন হারা। আকুল আবেগ ওগাে উঠিছে ছেপে, ব্যাকুল পরাণ শুধু উঠিছে কেঁপে, বাঁধত মানেনা আর বহিল ধারা, ছুটিল উধাও মন পাগল পারা। কোনখানে বসে আছে। কোন সে দূরে ভেসে ভেসে মিশে যাব মহাসাগরে, সেইখানে হ’ব হারা আপন ধারা, সেইখানে সে যে ওগাে পড়িবে ধরা। ১১
গীতায়ন
( ৩ )
আমি কি বলে তােমায় ডাকিব গাে
ওগাে! ওগাে ! ওগাে !
কোন সুরে কোন ভানে
কোন ভাষা কোন নামে
এলায়ে, মিলায়ে, বিলায়ে দিতে প্রাণে
পারিব গােরা পারিবগাে! পারিবগাে !
তুমি কি বিশ্ব জোড়া
জনম আমার করিতে ধন্য
দিয়াছ দুয়ারে ধরা ?
সকল নামের অতীত তােমার রূপ
সকলই তােমাতে হারা
তাই কিগাে ? তাই কিগাে? তাই কিগাে ?
১২
গীতায়ন ( ১৪ ) কোনখানে তুমি কোন দূরে ডাকিব তোমায় কোন সুরে ? অপূর্ণ যে গাে সকল সুরের মুচ্ছ না, অপূর্ণ যে গাে সকল ভাষার তর্জমা, আমার সকল চিন্তা সকল ভাবের ধারা যখন হয় গাে তােমাতে হারা- ওগাে কাঙ্ক্ষিত । আকাঙক্ষাটুকু জাগিয়া থাকে অন্তরে শুধু তােমার তরে, শুধু তােমার তরে। তখন সকল হারান সুর ভাষার সকল শব্দ মুট- প্রাণের পরশ থাকেনাকো আর যন্তরে কিবা মন্তরে।
গীতায়ন
( ১৫ )
ঘােরা ফেরা এদিক ওদিক
কেন চাওয়া আশে পাশে
কি যেন কি হয়নি পাওয়া
কি যেন কি হারিয়ে গেছে।
কি ছিল ধন যাওয়ার মতন,
কি ছিল গাে চাওয়ারই ধন?
ওগাে নিঃস্ব এ প্রাণ রিক্ত এ মন
ক্ষুব্ধ মরম ব্যথার শ্বাসে।
অসীম ছেয়ে গুরু গুরু
কিসের এ ডাক হ’ল সুরু-
বুকের মাঝে দুরু দুরু-
করে ব্যাকুল নিশ্বাসে।
ঈশানে ঐ বাজে বিষাণ
অনন্তে ঐ মিলন গান
হারান ধন চাওয়ার সে জন
কখন দেবে ধরা এসে ?
১৪
গীতায়ন
ম
( ১৬ )
তােমারই আগমনে
বাঁশরী বেজেছে প্রাণে
সুরের লহরী দে’ছে
হৃদি ভরিয়া-
আমি যে আপন ঘিরে
আপনাকে তুলি গড়ে
আমি যে সকলি ছেড়ে
থাকি বাঁচিয়া,
আমার এ বাঁচা গড়া
হয়না তােমারে ছাড়া
আজ সকলি পড়েছে ধরা
তুমি আসিয়া।
কত সুরে কত রাগ
কত রাগে রাগিণী,
সাধিয়াছি কত যে গাে
কভু প্রাণে বাজেনি,
আজ সকলি দিয়েছে সাড়া
তুমি আসিয়া।
গীতায়ন
( ১৭ )
জীবন সন্ধিক্ষণে
সন্ধিপূজার শান্তিজল
ঢেলাে প্রভু! প্রাণে ঢেলাে-
সন্ধ্যারতির বাঘরােল
যখন যাবে থেমে।
সবাই যখন আপন কাজে
আপন ভাবে ব্যস্ত রবে,
তুমি তখন নিয়াে তুলে কোলে,
নিয়াে বুকে টেনে।
অনন্তের ঐ কালাে মরণ
আসবে নেমে আসবে যখন
অসীমের ঐ সুনীল বরণ ছে’য়ে,
আমি তখন তােমার পানে চেয়ে,
তােমার পরশ অঙ্গে মাখি
তােমার বুকে মাথা রাখি
যেন ওগাে বদ্ধ থাকি
তােমার আলিঙ্গনে।
গীতায়ন ( ১৮ ) । । আমি বড় দেনায় ডুবেছি, দে আসলে হিসাব কোরে- বুঝে দেখেছি। হবে নাত কি হবে আর নাইক উপায় খরচ দেদার- তােমার খাতক হ’ব এবার তাই আজ এসেছি। সুদ হলেত আর চলেনা- এবার বিনা সুদের দেনা- তােমার কাছে নেব বলে ছুটে এসেছি। যাহা কিছু আছে আমার দেনায় বাঁধা সবই ত তার, নূতন কোরে বাঁধা দেবার নাই কিছু বাকি। এবার মুক্তি চাই এ ঋণের দায়ে পারিনা আর বােঝা বয়ে রবাে বাঁধা তােমার কাছে তাই আজ এসেছি। ১৭
গীতায়ন
( ১৯ )
আজ আমাদের বাসর ঘরের কথা
সত্য মােরা বলব সবার মাঝে,
আজ আমরা বলব সে সব কথা
যা এত দিনও হয়নি বলা লাজে।
দিন যামিনীর গােধূল প্রাতে,
সান্ধ্যরাগের অন্তরাতে,
যে রূপ রাজে যে সুর বাজে,
যাত্রা মােদের সেই রাগেতে
যে দিন হ’ল সুরু,
লাগল কি যে বাজল কি যে
অস্তরবির রাগ রঙ্গেতে
শৈবলিনীর আঁচল ঘেরা
বুকের দুরু দুরু।
কোন্ মদিরার কি নেশাতে,
পাগল পাগল সেদিন রাতের
মােদের জীবন গাঁথা
মােরা কথার হারে গাঁথি
শেষ কোরেছি ব্ৰতের কথার মত,
তারা ফলল নাতাে
১৮
গীতায়ন
মিল না তাে আজও,
সঁজের ঘােরেই নিভল সাজের বাতি।
নিঝুম রাতের আঁধার পথে
চছি এবার হাতে হাতে-
মাঝে মাঝের আলাের ধারা
চমক লাগায় আঁখির পাতে,
একতারাতে সুর বেজে যায় মিলে
মনের কোণে ব্যথাই শুধু বাজে।
১৯
গীতায়ন
( ২০ )
শ্রদ্ধেয় রবীন্দ্রনাথের “ওগাে গুণি” গানটি
কোথাও শুনেছিলুম, গানটীর সুর, ছন্দ ও ভাষা
যে ভাবে আমার প্রাণ স্পর্শ কোরেছিল তাই নিয়ে
কবিবরকেই লক্ষ্য কোরে এই গানটী পরে লিখে-
ছিলাম বােলে মনে পড়ে !
তুমি কোন্ দেশের হে গুণি ।
পাগল আমি তােমার এ গান শুনি,
শুনিনিত, এমন গান আর গাওয়া
সুরের টানে উজান ব’হে হাওয়া
ভুবন ছাওয়া তােমার সুরের ধ্বনি।
যেথা নাইকো দুঃখ নাইকো ব্যথা
নাই কো মৃত্যু জরা,
সুর যে তােমার সেই রাগেতে ভরা ;
ওগাে কোন দেশ হতে
পেলে এ সুর
এমন সুরের বাণী ।
২
গীতায়ন
( ২১ )
আমার কেমন কোরে-
ঘর করা আর হয় ?
যখন নাই কো তুমি
নাই কো সাড়া-
নাই কো তােমার চরণ তাড়া
মনটা আমার উদাস উদাস রয়।
আমি যে ঠেকেছি বড়
বুঝি ঠেকেনা কেউ এমন তর,
এবার আমার উপায় কর
নইলে ত আর নয়।
কেমনে আর যাই গাে কাজে
মন ধরেনা লােকের মাঝে,
তােমার কথায় তােমার কাজে
মনটা শুধু রয়।
২১
গীতায়ন
০
( ২২ )
এস বধু !-শান্তি-ধারা,
এস আমার হৃদয় মাঝে,
মুখর আমার চিত্ত বীণা
মােহন তােমার ছন্দরাগে।
মন পিয়াসী, বধু তােমার
মদির অধর পরশনে
মিটাও পিয়াস, শাস্তি ঢাললা
সরস তােমার হৃদয় দানে।
ঘেরাে আমায় ঘিরে ধর
মুগ্ধ কোরে, মাতাল কোরে
পাগল এ প্রাণ বন্দী কর,
হর এ প্রাণ চিত্তহর
আত্মভােলা প্রাণের টানে
আত্মহারা অনুরাগে
গীতায়ন
( ২৩ )
আয় বধু, আয় ফ ধারা !
হৃদয় আমার ঘাের সাহারা
তাের বিরহে,
ঝলসে মরম লু’এর দহন
দারুণ জ্বালায় চিত্ত দহে।
রিক্ত মরু হৃদয় আমার
ঢেলে দে তাের স্নিগ্ধ ধারা,
ঢেলে দে এ বুক ভােরে তাের
শ্রাবণ ধারার মধুর ধারা,
কর সরস ও প্রাণ পরশে
এ শুল্ক নিরস জীবনটাকে।
বুক ভরেছে মরুর মাটী
তুই ভরে দে মরুদ্যানে,
দে ভরে এ পােড়ার বুকে
জীবনশীতল হাওয়ার বানে ;-
প্রাণের সুরের যে গানটী মাের
সাধার মুখেই গেছে থেমে
প্রাণ ভরে তুই গেয়ে শুনা
আজ আমারে সে গানটীকে।
গীতায়ন ( ২৪ ) সে সিত গীত গরিমাতে কি রাগেতে গাহিয়া গেল সে সুর রাগিনী হাসিয়া খেলিয়া উদামে উজানে নাচিয়া নাচিয়া বহিয়া গেল। উচ্ছ্বাস-ভরা মূচ্ছনাগুলি প্রাণের দুয়ারে করে কিলিবিলি, অন্তর মাঝে আকুলি, বিকুলি, রুদ্ধ দুয়ার- থাকে কি বল ? ২৪
গীতায়ন
( ২৫ )
জীবনের চির প্রতি
জনমের প্রিয় স্মৃতি
তােমাতেই আঁকিয়া যে
রাখিয়াছি প্রিয়তম ।
মরমের হাহাকার
ব্যাকুল এ বেদনার
কখন পশিবে আর কাণে,
কতদিনে দেবে ধরা নিরমম ?
কত তারা ভেসেছিল
সকলি যেতেছে ডুবি,
যত দীপ জ্বেলেছিনু
একে একে গেল নিভি,
অজানা আশার বাণী
অসাড়ে নিতেছে টানি
দূর দূর আরাে বহুদূরে,
বিপুল বেদনা ভার
বিষম এ ব্যর্থতার
ব্যাকুল মরমে শুধু জাগে,
বিফলে কি ব’য়ে তবে
যাবে প্রভু এ জীবন )
গীতায়ন ( ২৬ ) যখন আমি ছুটে আসি তোমার গানের সুরে, সরে যাও দূরে—আরাে দূরে, সারা দিনটী বসে থাকি তােমার প্রতিক্ষাতে একটিবারও দাওনা ধরা সাক্ষাতে। দিনের শেষে যখন ঘরে ফিরি হেরি সারা পথে তােমার চরণ রেখা ; অসাক্ষাতে কখন এসেছিলে অলক্ষ্যেতে চলে গেছ ঘুরি, এনি কোরে লুকোচুরি খেবে কিগগা জনম ভরি— দেবে নাকি বারের তরেও দেখা, দিনের পরে দিনটী যাবে রাতের পরে রাত- কেটে কিগাে একা? যত আমি এগিয়ে যাব কাছে তুমি যাবে সরে ? ।
গীতায়ন
( ২৭ )
চির পরিচিতের হাসি নিয়ে
বড় আপন জনার মত,
কে তুমি দাড়ালে আসি
হে অপরিচিত ?
কখন হৃদয় দুয়ার খুলে
লুকিয়ে ছিলে প্রাণের তলে
(আজ) আচম্বিতে দেখা দিয়ে
করলে চমৎকৃত।
ঐ রূপের আলাে রূপে রূপে
হৃদয় মনে ছিল ব্যেপে
আজ সকল ছেপে সে আলােকে
করলে আলােকিত।
হয়নি জানা হয়নি শুনা
তবুও তুমি বড়ই চেনা
তােমারি সুর থেকে থেকে
একতারাতে বেজেছে।
२१
গীতায়ন
( ২৮ )
দূর আকাশের প্রান্ত হতে
দূর বাতাসের টানে,
কোন অতীতের পুরাণ স্মৃতি
আল ব’য়ে প্রাণে।
নীলিমার ঐ প্রান্ত ছাওয়া
সিন্ধুপাড়ের এ গান গাওয়া
বড়ই করুণ বড়ই তরুণ সুর এ,
কোন্ গুণী সে গাইছে এ গান
হারান সুরে পড়লরে টান্
টান পড়েছে প্রাণের
গােপন তারে।
ওগাে গুণি ! আকুল আমি
তােমার এ গান শুনি
তােমার গানের সুরে,
হারান সুর উঠল বেজে
প্রাণের গােপন তারে-
কোন অজানা বেদনাতে,
হৃদয় আমার উঠল মেতে
গীতায়ন
কি যে গােপন বারতা সে,
শুনল তােমার গানে
ছুটেছে সে সকল ছাড়া
আজ তােমারি পানে।
( ২৯ )
সকল লজ্জা সকল অভিমান
দিয়া বিসর্জন,
আসিয়াছি আজ
দাও প্রভু প্রাণ ভরি—
দাও আলিঙ্গন।
যত কিছু ছিল পাছে টান
একে একে ফেলিয়াছি চুরি
যা কিছু বাঁধন ছিল মাঝে
সকলিই ফেলিয়াছি ছিড়ি।
তােমার আমার মাঝে আর
যা কিছু রহিবে আছে
সকলি তােমার,
নিঃশেষে করিনু আজি
সবই নিবেদন।
২৯
গীতায়ন
( ৩০ )
‘জাগ সখি জাগ—
আজ আকাশে বাতাসে প্রিয়া
তব অনুরাগ
ধরণীর ধূলি মাখা
বসন্তের মাতামাতি,
যে প্রাণ যেখানে চাহে
আপনারে দিতে বাঁধি,
এমন মধুর নিশি
এমন উঁদিনী রাতি-
তুমি সখি কি পাষাণী ।
কি প্রাণে ঘুমিয়ে থাক ?
এস সখি হৃদি দোলে
চিত্তের দোলাখানি
স্বপনের মায়াপুরী
নয়নে দিতেছে টানি,
সখি! তােমারি হৃদয়লাগি
সারা প্রাণ আছে জাগি,
খােল সখি খােল আঁখি
একবার চেয়ে দেখ ।
৩০
গীতায়ন
জাগ সখি জাগ হাস
অজানার হাসিটী,
খােল প্রিয়ে স্বপ্নভার
মধুপ্রিয় আঁখিটী,
হৃদয়ে হৃদয় বাঁধি
বাহুতে বাহুতে ঘঁদি
এস গাই সেই গান
বাজাইয়া বাঁশীটী,
অচিনের স্বপ্নপুরে
নিত্য যার উঠে তান
যে পরশে নেচে উঠে
হিমভার স্তব্ধ প্রাণ
জীবনের দুঃখ ব্যথা
মান আর অভিমান,
অবসান করি প্রিয়া
আজ শুধু জেগে থাক ।
৩১
গীতায়ন ( ৩১ ) [ ১ ] হে মাের প্রিয়া মম কবিতা-কুঞ্জে কেলিরস মাতল কাব্য-ফুল গন্ধ উতল প্রিয় মিলন ব্যাকুল তৃষিত হিয়া, হে মাের প্রিয়া । [ ২ ] মম নন্দন হৃদে পারিজাত লাে, মম মরু মরম- সিঞ্চনি বাদল প্রিয়া মন্থর, প্রিয়া দুস্তর দুরন্ত প্রিয়া হিয়া, মম সুপ্ত যৌবন জাগল প্রিয়া দরশনে প্রিয়া পরশনে বাঁশরী বাজল প্রিয়া আবাহন মম সাধনে,
গীতায়ন
মম জনম সফল
প্রিয়ে হৃদয় দিয়া,
প্রিয়া জীবন
প্রিয়া যৌবন
মম সাধন প্রিয়া হিয়া
প্রিয়া আকিঞ্চন
প্রিয়া মম মনন
প্রিয়া জ্ব কুঞ্চনে
মম হৃদি গুঞ্জন
প্রিয়া রাগ রঞ্জিত
অধর চুম্বন
প্রিয়া হৃদি মিলন
হৃদয় দিয়া,
প্রিয়া বাহু বন্ধন
মম জীবন মরণ,
গীতায়ন
প্রিয়া লাজ লাঞ্ছিত
কমল আনন
মম হৃদয় সরসিতে
প্রস্ফুটিয়া,
প্রিয়া হাসি কাঞ্চন
সিঞ্চন মম হৃদয় দিয়া।
( ৪ )
প্রিয়া লাের নয়ন
মন বিষধর দংশন
প্রিয়া অভিমান মম সাধন
হৃদয় অর্থ দিয়া,
প্রিয়া হরষিতে
মম চিত্ত সরসিত,
প্রিয়া কটা বেষ্টনী
মম হৃদি বন্ধনী
মানি জীবন সফল
প্রিয়া চরণ হৃদয়ে নিয়া,
মম দেহ মন সাধন,
ভজন,
মম জীবন মরণ প্রিয়া।
৩৪
গীতায়ন
( ৩২ )
এস পুরােহিত!
মম জীবন যাগ সাধনে
এস হােতা !
কর আবাহন, কর আবাহন,
কর আবাহন,
মম মঙ্গল, মম সুন্দর
মম ইস্পিত প্রিয় দেবতা,
তব জলদ-গভীর-কণ্ঠে
সুর-আবাহন-পৃত মন্ত্রে,
উদাত্ত সুরে
আবাহন তারে—
কর তারে কর প্রীত।
গাহ নিলাজ কণ্ঠে
জীবন-ছন্দে
মম বন্দনা-গীতি,
ঢাল অবিকারে
অফুরনি ধারে মম সুরভি-মরম-প্রীতি,
৩৫
গীতায়ন
কর সিঞ্চিত
চির-সঞ্চিত স্নেহধারে,
কর আবাহন, কর আবাহন
কর আবাহন, কর তারে।
মুক্ত কণ্ঠে শুনাও তাহারে
মম আবাহনী বাণীর মাঝারে
মম ধমনীর প্রতি ধারে ধারে হারা
মম নতি অভিনন্দন বাণী
মম হৃদি প্রতি স্পন্দনে হানী
যেমনে হারাল ধারা,
শুনাও তাহারে ললিত ছন্দে
অনিবেদিতের এ সাধনা-মন্ত্রে,
তার আবাহনে
হৃদয়ে মরমে
শত নিবেদনে গীতা,
শত রূপে রাগে
তার অনুরাগে
দেহ মনে অভিনিতা।
গীতায়ন ( ৩৩ ) = এস বধূ এস প্রিয় সখাহে আমার তােমার চরণ তলে বসিয়া ফুলের হার গাঁথিয়া তােমার গলে পরাইব বার বার, আমার মনের রূপে সাজাইয়া রূপে রূপে পূজিব তােমায় প্রিয় দেবতা আমার আমার হৃদয় দলে শত বর্ণে ঢেউ তুলে আছে যত মন মদ গন্ধ-ফুল ভার- হে সুন্দর ! তা’রা হবে মাের প্রিয় পূজা উপচার ।
গীতায়ন
( ৩৪ )
আজি একি জাগরণ জাগে
আজি একি শিহরণ লাগে
মম হৃদয়ে, মরমে, পরাণে !
আজি মম মন বিহঙ্গ
ছুটে যেতে চায়
উড়ে যেতে চায়
খুঁজে নিতে কার সঙ্গ
আজি একি নব রূপ
কি নব জীবন জীবনে।
কোন নন্দনে ফুটিলরে ফুল
কোন পারিজাত গন্ধে !
ভুলিলরে মন
হলারে পাগল
কার অনুরাগ ছন্দে ।
আজি কার আবাহন
করিবরে আমি
এ নবরূপের জীবনে ?
দানিব আমার হৃদয় অর্থ
ওগাে আজি কার চরণে?
গীতায়ন
সুখের আশায় জনম ভরে
বইতে হ’ল কতই যে
অজানা দুঃখের বােঝা,
দুঃখ বরণ কোরে নিলে
অনেক দুঃখই যেত মিলে,
হােত অনেক পথই সােজা
সুখ ও দুঃখের হিসাব নিকাশ
হােলই শুধু জনম ভরে
হিসাব হাে’ল যতই কিছু
মিল নাত আসলটীরে,
মিলল যাত ব্যাথাই শুধু
অপচয়ের গাঁথায় ভরা
আসে যে সে নিতেই আসে--
চায় যে’তে ত ফকিই দিয়ে,
হিসাব যা হয় নামেই হিসাব
গােজা মিলের মিল মিলায়ে,
বিলায়ে দিতে কেউ এসেছে
মিলায়ে নিতে এগিয়ে গেছে
এমন যাওয়া আসা-
গীতায়ন
আছে শুধু “আশার” ঘরে
‘ফলের’ ঘরটী শুন্য পড়ে,
খতিয়ানের পাতায় পাতায়
যতই হাে’ল খোজা।
( ৩৬ )
তরঙ্গ মৃদুল ভঙ্গে
কোথা টেনে নিয়ে যায়,
মরণ আসিছে ধেয়ে
জীবনের খেয়া বেয়ে
ওরে নেয়ে ! ত্বরা কোরে
বে’য়ে আয় !
যত জন-যারা পাছে পড়েছিল
পাল তুলে সবে
পাড়ি দিয়ে গেল,
তুই না তুলিলি পাল
না ধরিলি হাল
কাটাইলি কাল অবহেলায় !
সামাল এখনও
সামলে দে পাড়ি,
৪০
গীতায়ন
সামনে আঁধার
পাছে মেঘ ভারি
ওরে ! যদি যাবি কিনারায়,
পাল তুলে দিয়ে
হাল সামলিয়ে
ত্বরা কো’রে বে’য়ে আয়
( ৩৭ )
চির পরিচিত হে আমার
আমার স্বপ্নের বাঁশী কল্পনা,
ছড়ান সুষমা,
জড়ান ফুলের আর্ঘ্য,
হারাণ সুরের তার,
ওগাে আমার
চিরজনমের সাথি।
আসিবে কি সে
মহামিলনের রাতি ?
যেদিন আমাকে বিলায়ে
তােমার মাঝারে
তােমাকে মিলায়ে
করিব আমার ?
৪১
গীতায়ন ( ৩৮ ) শত তাপের মলিন ছাপে লজ্জা করুণ আনন ঢাকি, হেলায় ফেলা ধনটি আমার এবার আবার তােমায় ডাকি- শত দাগে মলিন বদন বড় লাজের প্রাণের ভূষণ, লা, সরম তেয়াগিয়া আজ- পথের পাশে বসিয়াছি। পরকে ধরে বিকিয়ে দিয়ে এ জীবনের অমূল্য ধন, সব খােয়ায়ে বুঝিয়াছি আজ নাই কেহ আর তােমার মতন, আজ নিস্ব, বড় রিক্ত আমি বসে আছি তােমার লাগি, যদি পাই হে তােমায় প্রভু এবার হৃদয় মাঝে ধরে রাখি। 82
গীতায়ন
( ৩৯ )
শত বাঁধনের বন্দী যে আমি
কেমনে যাইব ভুলিয়া !
শত বেদনার গ্রন্থী আমার
কেমনে যাইব খুলিয়া !
শত সংগ্রামে ক্ষত ভরা দেহ
এখনও চলেছি বহিয়া
চিহ্ন তাহার মিলাতে মিটাতে
কি দিয়া ফেলিব মুছিয়া !
এত মুছিবার নয়
খুলিবার নয়
ভুলিবার নয় এই টান,
প্রাণে প্রাণে গড়া-
প্রাণে প্রাণে ধরা
এযে প্রাণ ভরা শুধু
প্রাণের দান,
এ প্রাণের বাঁধন
ছিড়িবে যখন
যদি তখনই যায়গাে মুছিয়া,
যদি তখনই যায় গাে ঘুচিয়া ॥
৪৩
গীতায়ন
( ৪০ )
ওগাে স্বামি! তােমার কাজে
ঘুরে বেড়াই আমি,
থেকো তুমি আশে পাশে
থেকো ওগাে ! হৃদয় মাঝে
থাকি যখন তোমার কাজে
ওগাে অন্তৰ্য্যামি !
বিপ্ন যদি শত মুখে
আসে প্রভু আসেই ছুটে,
আঘাতে তার লুটেই যদি পড়ি
তােমারই দান এ দেহ প্রাণ
যেন তোমার কাজেই
হয় অবসান,
যেন প্রভু তােমার কাজেই মরি।
এস তখন এস কাছে
বাে’স এসে বুকের পাশে
যখন কালাে আঁধার
আঁখির পাশে
৪৪
গীতায়ন
ঘিরে আসে নামি,
তখন আঁখির পরে
রাখি আঁখি
প্রাণের পরশ প্রাণে মাখি
যেন এ হৃদয়ের স্পন্দন
যায় থামি।
( ১ )
ত্বরিতে ডুবিয়ে যাবে বেলা,
নিমিষে ফুরিয়ে যাবে খেলা,
সরল উছসিত হসিত মধুর বাণী
কে এসে ভাসায়ে নিল
তরল তরঙ্গে টানি,
এখন খেলিব কিগাে
কামনার ছিনি মিনি-
বিষম খেলা ।
কিযে ভাষা, কিযে বুলি
নয়ন করিছে বিলি—
পরাণের ভাষাগুলি
ভাবের ভেলা
গীতায়ন
অজানা তড়াগ ব’য়ে
মরমে পশিছে গিয়ে,
মােহন মদিরা তাহে ঢল,-
এ রাগও শুকিয়ে যাবে
এরূপও মিলায়ে যাবে
দিনের শেষে
শীর্ণ স্মৃতির রেখা,
জীর্ণ দেহটি নিয়ে,
কার আশা পথ চেয়ে
থাকিব বসে
এসে আঁধার পাশে
ওগাে সাঁঝের বেলা।
-
৪৬
গীতায়ন
( ৪২ )
এস মা, এস মা, এস মা-
অভয়া
এস মা আদ্যা শক্তি,
শক্তি তুমি মা, ভক্তি তুমি মা
তুমি মা কৰ্ম্ম মুক্তি।
তনয়ার রূপে মুর্তা
তুমি মা
বিদ্যা জগত লক্ষী।
তনয়ে মূর্তা বীরত্ব
তুমি
মুর্তা সর্বসিদ্ধি।
অশিব নাশিনী
শিব রূপিনী,
জ্ঞান কৰ্ম্ম তুমি মা,
দশ ভূজে দশ প্রহরণ ধরি
দশ দিকে দশ দ্বার রুদ্ধ করি,
সংহার অরষড়রিপু-অরি,
ঘুচাও যা পাপ, ঘুচাও যা
মুছায়ে দাও মা কালিমা ।
৪৭
গীতায়ন
( ৪৩ )
জনম ভরিয়া তুহারে নিরখি
নয়নে মিটেনি আশা,
জীবন ভরিয়া হৃদয়ে ধরিয়া
পরাণে মিটেনি পিয়াসা।
সখি ! এমনই মধুর তব দরশন
এমনই মধুর পরশন,
আমি তুহারি হৃদয়ে
হৃদয় ধরিয়া তুহারি মনে
বাঁধিলো মন।
হৃদয়ে হৃদয়ে পরাণ মিলিবে
মনে মনে হবে কথা-
পিয়াসার আর রবে না বালাই
মরণের ভয় ব্যথা।
আয় সখি আয় ।
মােদের এ বাঁধনে
আর বিরহ হবে না
জনমে জনমে,
সখি ! দূরের বেদনা
আর ত রবে না
মন আর ত হবে না নিরাশা,
৪.
গীতায়ন
সখি ! তুমি ভালবাস
আমি ভালবাসি
মােদের এ জীবন মরণ ভালবাসা।
( ৪৪ )
বধূ যদি হত নয়নের তারা-
চির দরশন লাগি
হৃদি না ফিরিত
কঁদিয়া কাঁদিয়া
আঁখি না কাটিত জাগি।
বধুর লাগিয়া
ভাবিয়া ভাবিয়া
হয়েছি আপনা হারা,
ওগাে ! বধুর
বিরহে
দহিয়া দহিয়া
হয়ে যাই সারা সারা।
ওগাে বন্ধু আমার !
হৃদয় কাঁপন
পরান নিছন
মনের মানস বধু,
৪
গ
গীতায়ন
বধূর পরশ
আমার জীবন
বধূ মাের মধু মধু।
ওগাে বধুর কথা-
আর কি কব !
(আমার বন্ধুর কথা
আর কি কব !
আমার পরাণ বধূর কথা
আর কি কব!
আমার এমন বন্ধুর কথা
আর কি কব !)
কেমনে বুঝব
বধূ মাের কিযে কত !
কি আছে ভুবনে
বধূর তুলনে
দেখাতে বধূর মত?
আমার বন্ধু কিযে কত,
সেযে বুঝাবার নাত
আমি বাঁচি
বধূ
লাগি-
গীতায়ন ( আমার) বধূয়া ঘুমালে বাতাসি আঁচলে বসিয়া শিয়রে জাগি বধূ গেলে দূরে পরাণ ফুকারে আমার বধূর লাগি আমি আর কি ক’ব ! ওগাে বধূ মাের সব জীবন বৈভব- আমি বাঁচি বধূ লাগি।
গীতায়ন
( ৪৫ )
সে মােরে বাসে ভাল
আমি ত পারিনা বলিতে
বেস না ভাল
এ প্রণয়ের আবাহন
এই প্রেমিকের নিবেদন
হেলা কি কোরে করি বল ।
যে জাগাল মাের চিত্ত
করিল হৃদয় তীর্থ—
অপমান তায়
করা কি যায় বল ?
আমি জানিনা সে কোনজন
করিল এ প্রেম নিবেদন,
আমি জানি শুধু
“জীবন এনেছে
জীবনের কাছে
পরাণের নিমন্ত্রণ”,
আমিত বুঝিনা ভাই
এতে দোষ কোথা কিযে তাই,
দেহ নয় পারি বাঁধিতে
মনে কি বাঁধি বল ?
৫২
গীতায়ন
( ৬ )
আজি জীবনে
জীবনের মাঝে
বন্ধু আমার।
যা কিছু আছে
বন্ধন আমার,
তব কারণে।
তব দরশন
তব পরশন
তােমারই মিলন লাগি,
নিমেষ বিহীন কত না রজনী
বঁধু গােয় কেটেছে জাগি,
আজি এ মিলন মাঝে
বঁধু ! যে বাঁশরী বাজে,
সেই সুর মাঝে ডুবি--
আমি জনম জনম
.
বরিব মরণ
বঁধু গাে ! তােমারই লাগি
যদি মরণেরও ক্ষণে
হয় গাে মিলন তব সনে।
গীতায়ন
( ৪৭ )
জীবনে যে রয়ে যাবে
সাজি ভরা ঝরা ফুল,
গন্ধ হারায়ে যাবে
আজ যে করে আকুল,
যে নদী ভরিয়া বাণে
ভেসে গেল দুই কুল
সেও যে হারায়ে যাবে
এ রাগিণী কুল কুল।
কুড়ায়ে আনিতে ফুল
সে যদি শুকায়ে যায়-
গন্ধ হারান ফুলে
কি পূজা করিবি ঠায় ?
অর্ঘ্য দিবি কিরে—
শূন্য হাত তুলে ?
কি গান শুনাবি গেয়ে
এ রাগিণী থেমে গেলে?
সাজিতেই যদি যায়
কেটে তাের এ লগন
কাদিলে কি সুধরাৰে
জীবনের এই ভুল?
গীতায়ন ( ৪৮ ) কে ঘুম পাড়াবি মােরে আয়, জাগে হৃদি, জাগে মন জাগে দেহ, জাগরণ মাতাল কোরেছে প্রাণে হায় ! চাহে সেত ছুটে যায়- জীবনের পর-পার- ঘুরে ফিরে আসে দেখে কি আছে অতীতে তার, দেখি যত ভেঙ্গে গড়ে কেন এত হয় মরে কেন এত দুঃখ ব্যথা ঘিরেছে সংসার। কে আছে ধরিয়া হল । কোথা? কিসে পরকাল? কাহার খেয়ালে কাল হেন বয়ে যায়। কোন সে খেয়ালী ? বসে আছে সে কোথায়?
গীতায়ন ( ৪৯ ) ঘুম ভাঙ্গল ! ঘুম ভাঙ্গল ! জাগল জীবন জাগল ভুবন যেমন মাের দেহ মন জাগল। গােপন যাহার স্পর্শধীরে ঘুম ভাঙ্গাল, জাগালরে, যার পরশে জীবন আমার তরুণ সুরে মাতল, নাচল উভ === পরাণ আমার- গৌর নাচন নাচল সেই ঘুম ভাঙ্গার দেবতা কই? তারে না মিল ।
গীতায়ন ( ৫৩ ) আমার ভগ্ন-বীণার মলিন কুন্তলে-- কে দিলরে আজকে এমন সােনার রং উলে’! কখনও যে সুর সাধিনি কে বাজা’ল সেই রাগিনী কে সাজাল এমন ভারে- মণিময় হেম কুণ্ডলে ! কেদিল এ বিপুল বিভায়! পরাণ ভরে রূপের শােভায়, কার পরশের সুরের রেশে সে আজ ভাসাল গগন মণ্ডলে। অস্তাচলের আভা অরুণ পড়তে বুকে কে সে তরুণ এনে দিল এমন তর- তরুণ মুরের কল্লোলে।-
গীতায়ন
ব্যাপ্তি যাহার ভুবন ছেয়ে
চলেছে আজ জগত বেয়ে
ঘিরে’ছে যা’র আলাের রেখায়
হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলে,
উজলি মাের পরাণ মন
মরমে তা’র লেগেছে রং
কোন্ অতিথির এ আগমন
হ’লরে আজ ভূমণ্ডলে ?
( ৫১ )
বাজাও তােমার শান্তির বীণা
মুগ্ধ করহে মােরে,
যা কিছু কাছের ফেলিয়া পিছনে,
ছুটে চলে যাব
তােমারই পিছনে ;
বিমুগ্ধ কোরে
নাও টেনে মােরে
তােমারই মােহন সুরে।
গীতায়ন
অর্চনা মোের
হয়ে গেছে শেষ,
পরিয়া এসেছি
নববধূ বেশ,
আজি বরিয়া তােমারে
করিব আমার
জীবনের চাওয়া-
কামনার শেষ ;
আজি বন্দি তােমারে
হে জীবন নিধি
আমাতে রাখিব ঘিরে।
( ৫২ )
বাজিয়া উঠিল কোন্ সুরে
আমার চিরন্তনের বাঁশী
এ কোন সুরে আজি
উঠিল বাজি
বাজিয়া উঠিল কোন সুরে !
অজানার ধন
জানিনা কখন
গীতায়ন
টান পড়ে গেছে
কোন তারে,
আজি হারান সুরের
বেহাগের রাগ
দীপকের রাগে ঝঙ্কারে !
যদি জ্বলে উঠে
প্রবল অনল
করে সম্বল মাের
দহিয়া শেষ,
আসিবে কিগাে
দয়িত আমার
ধরি বরষ-বাদল
মেঘেরই বেশ ?
করিবে সিক্ত চিত্ত আমার
গভীর-ঘন বরষনে,
ভরিয়া-নব সম্ভারে ?
আমি জীর্ণে দহিয়া
পাইব কি নব-সুন্দরে।
গীতায়ন
( ৫৩ )
এখনও বসে আছি-
তােমারই প্রতীক্ষাতে,
দীর্ঘ রজনী জাগি
আজিও প্রভাতে।
এখনও কাটেনি ঘাের
এখনও ডােবেনি তারা,
জোছনার আলিঙ্গনে
কুমুদ আপনা হারা,
এখনও মােদেনি আঁখি
কান্ত বিরহেতে।
এখনও কুলাচলে
বিহগী কলতানে,
মধুর আলাপনে
তুষিছে প্রিয়তমে,
নিশার আবেশ কাটি
উঠেনি জাগি,
এখনও বাহুডাের
টুটেনি সরমেতে।
বন্ধুরা
গীতায়ন
এত মিলনের টান
এত প্রণয়ের স্মৃতি,
আমি কি গাহিব বসি
শুধু বিরহের গীতি,
এখনও আনাগােনা
আস কি আসিবেনা
হবেনা জানি আমি
ব্যর্থ এ সাধনা,
আজও না আস যদি
হবেই আসিতে।
( ৫৪ )
ব্যর্থ কিছুত করনি আমার
সার্থক সবই কোরেছত
ছিল যা আমার ত্যক্ত অসাড়
সকলই তুলিয়া নিয়ামত।
পঙ্কিল বলে শঙ্কিত মনে
রেখেছিনু যারে
অতীব গােপনে
গীতায়ন
তুমি পরম আদরে
পরম যতনে
তাহারেও তুলে নিয়েছত।
যত যত মাের সঞ্চিত ব্যথা
হে বঁধু ! আমার পরম দেবতা
(তুমি) আপনার ভাবে-
মিলায়ে তাদের
আপনার কোরে নিয়েছত।
(আমি) যা কিছু হারায়ে
ছিলাম রিক্ত
যা কিছু আমাতে ছিলনা ব্যক্ত
তুমি সকলই ভরিয়া দিয়াছত,
জানি নিঃস্ব আমারে
চির আপনার কোরে
বুকে তুলে তবু নিয়েছত।
গীতায়ন
( ৫৫ )
জীবনের আশা যত
আশাতেই মিলা’লত;
জানিবার ছিল যত
হলনা জানা,
হইতে সুপ্রভাত
ঘনিয়া আসিছে রাত--
বিদায়ের তাড়া যেন
যেতেছে শুনা
চাহিয়া পাইনি যায়-
ক্ষোভত ছিলনা তায়—
জানিতে চেয়েছি যত
যাইলে জানা।
যত কথা প্রাণে জাগে
যত ব্যথা প্রাণে বাজে
হয়েছে সবার মাঝে
বড় অজানা।
৬৪
গীতায়ন সুর হারিয়ে গেছে আমার হারিয়ে গেছে সুর, উছল আমার গানের সুরে-- হৃদয় যাহার উঠত দুলে দুলে দুলে সুরের তালে যে কত ভরপুর- হৃদয় আমার, পরাণ আমার, আমার মনের রূপ, আর নাই সে কাছে, আসবেনা সে চলে গেছে দুর। প্রাণ বিরহী,—চায় উড়ে যায় বঁধু আমার আছে যেথায় হায় বিহগি! বুঝলি না হায়- জীবন কত দুর ! এ অপমান সইবে না’য়— ক্ষমিবেনা প্রান দেবতায়- দারুন জ্বালায়-কঠিন ব্যথায় এ গরব হবেই চুর।
গীতায়ন
( ৫৭ )
নিত্য অভাব জাগা’য়ে জাগা’য়ে
টানিতেছ মােরে তােমার দিকে,
সে টানে টলিনা
চাহিতে ভুলি না,
“ঘুচাও অভাব দাওগাে সুখে।”
সুখি হ’ব বলে’ যবে যেটি চাই
যবে দাও দেখি, সুখ তাতে নাই
( এযে ) চিন্তায় সুখ, পেলেই বালাই
চাই নিত্য তাই নুতন রুপে।
যত ভাবে চাই যত সুখিহ’তে
দুখ বেড়ে উঠে আরাে সে ভাবেতে,
অভাবের ব্যথা কিছুত কমে না
সুখ এসে আরাে বড় করে দুঃখে !
বুঝিয়াও মন বুঝিতে চাহেনা,
অভাবের ভাব কখনও ঘুচেনা,
মিটিবেনা কভু দুঃখের বেদনা
যত দিন আমি খুজিব সুখে।
গীতায়ন
(তব) শান্তির বাঁশী বাজে অবিরাম
বলে অবিরত, “থাম ওরে থাম”—
(আমার) সুখ খােজা তবু হয় না বিরাম,
(আমি) সুখের লাগিয়া মরিহে দুঃখে ।
( ৫৮ )
আমায় তােমার মাঝারে মিলাতে
তােমার হৃদয়ে হৃদয় বিলাতে
যখন পরান চায়
চাই ফিরে ফিরে
যাই ঘুড়ে ঘুড়ে
যাই আর ঘুড়ে আসি-
কাছে যেতে যেন পার্টি থেমে যায়
ফিরে চাই ফিরে’ হাসি।
জড়িত নয়নে অশ্রু জুঠেনা হায় !
হৃদয় উৎস হারিয়ে ফেলেছি-
গুমরান বেদনায়,
দুরে দুরে থাকি
করি ডাকাডাকি
.
৬৭
গীতায়ন
===
মুকের ভাষার মত,
বুকের বেদনা
মুখেত ফুটেনা হায়।
যায় রিক্ত করিয়া
বিলাইতে প্রান প্রানে,
চিত্তের দোর
করিতে মুক্ত
অবিরত কর হানে,
মরম খুলিয়া
দুটী কথা হয় ?
বলিবার মত
শকতি পাই না তায় !
এখনও আমায় সাজিয়া গুজিয়।
হয় যে বাহির হইতে হয়---
যদি হয় বা লগ্ন, অসংলগ্ন--
রয় যে পরানে রয় সে ভয়।
কি যেন গােপন, কিছু অশােভন
পরিচয়ে কিছু অচেনা-নুতন
গীতায়ন
মরনের মত সে যেন সতত
পরানে আমার জাগায় ভয়,
মরম ব্যথায় মরি’ছে গুমরি’
কতদিনে এই যবনিকা ছাড়ি
অনাবিল চিতে তােমাকে বরিতে
পাইব সাহস দিবে অভয়।
ঢাকাঢাকি আর সাজান গুছান
চুপ! চুপ! আর ছলিয়ে ভূলান
কত দিনে দুর হ'বেহে ঠাকুর।
দু’র হবে—দুর, দু’রের ভয়,
সবলে ঠেলিয়া শঙ্কিত ব্যথা
চরনের তলে পাতির্দিব মাথা---
হৃদয়ে ধরিয়া পরানে বাঁধিয়।
নিঃশেষে মােরে করিব লয়-
নির্ভয়ে তােমা করিব জয় ।
গীতায়ন
( ৬০ )
ব্ৰজের-বাশরী উঠিয়াছে বাজি
হৃদয়-যমুনা কুলে
উছলিয়া জল বহিছে উজান
উতাল তরঙ্গ তুলে।
তাের কি মরমে পশেনিল সই
রাধা রাধা বলে বাঁশী
বাজা ঐ
ও আকুল বিতানে
পশেনি কি কানে ?
তুই কি শ্যামেরে
গেলিলাে ভূলে !
ওঠেনিকি কান্দি
তাের পােড়া প্রাণ?
এখনও পাষনি ।
ভাঙ্গিলনা মান
আর কি মানিনি
হবেনা সে গান
আর কি ঝুলন
হবেনালাে দোলা
জীবন কদম্ব মুলে ?
৭০
গীতায়ন
( ৬১ )
রাধা বলে বাশী
ঐ বাজে বুঝি
সখি! শ্যাম এলকিরে ফিরে
শুনি’ রাই-পাগলিনী
তার বনমালী
আর কি থাকিতে পারে!
তােরা আর
পাষাণ তারে বলিস না সই,
সেই নবনী-কোমল
প্রেমের পাগল
কথার আঘাত সইতে নারে,
তােরা কটু কথা আর
বলিস না তায়-
আর ব্যথাদিয়া তায়--
জ্বালাস নারে।
সে বড় ব্যথা পেয়ে
ফিরে গেছে সখি--
–
তােরা তার তারে-
৭১
গীতায়ন কাদাস নারে তােরা দেশলা তারে আনি’ সে যে বড় অভিমানী অভিমানে শেষে যাবে ফিরে। যখন হৃদয়ে মাের স্পর্শ তােমার লাগে- পরাণ করে সৌরভেতে ময়, সকল অঙ্গ- সঙ্গ তােমার মাগে সকল চিন্তা- তােমায় ঘিরে রয়। যা কিছু পাই কুড়িয়ে নিতে সকলই চাই তােমায় দিতে, তােমায় দিয়েই আমার পাওয়া হয়, দেখলে তােমায়,
গীতায়ন
।
সুখি তুমি-
কত সুখিই
হইযে আমি
চিত্ত আমার
পরম তৃপ্ত হয়।
যত কালের সঞ্চিত এ
যা কিছু মাের
রয়ে গেছে,
রাখার আমার ;
নাই কিছু তার
আজ তােমাকে
পেয়ে কাছে
নাইক চাওয়ার
কিছুই এমন
যা’ শুধুই আমার হয়,
যা তােমায় দেওয়া
হয়নি-আমার
এমন কিছুই নয়।
গীতায়ন
( "৩৩ )
প্রানটী যখন
ভাে’রে উঠে
তােমার অনুরাগে-
আমায় যে নিঃসঙ্গ বড়
লাগে তখন লাগে ।
ফেলে তখন শত কাজে
ভূলে তখন যত লাজে
প্রানটী আমার
তােমার খােজ
চায় যে ছুটে যায়,
(আমি) ছুটতে যেয়ে
উপড়ে পরি—
বাঁধন যে পায় পায়।
তখন মর্মে যেন
কাটা ফুটে
বিপুল ব্যর্থ রাগে,
৭৪
গীতায়ন
যত আমার বসন, ভূষণ
তারা তখন সাপের মতন
(আমার) সকল অঙ্গে রাগে,
রুদ্র রােষে ঘুড়ে ঘুড়ে
দংশে মােরে—ঘিড়ে ঘিড়ে,
আমার সকল অঙ্গরাগে।
( ৬৪ )
বনে বনমালী
গােষ্ঠে রাখালি
ব্ৰজের বধুর কালা,
রাই-কমলিনী
বলে “নিলমনী—
চতুর-চিকন-কালা”।
যত ব্রজবালা
পরান উতলা
শ্যামপ্রেম অনুরাগে,
লম্পট শ্যাম
অবলা মজায়”
কঠিন মনের রাগে।
৭৫
গীতায়ন
যত ব্রজবাসী
মনেপ্রানে খুসি
বলে “কানু ননীচোর”
শ্যামের পিরিতি
এমনই মধুর
ব্রজপুরী হল ভাের।
এইত প্রানের
পরশ ভুবনে
প্রানে প্রান ভরে চায়,
এইত পরশ
‘মাগিয়া কত না
জীবন কাটিয়া যায়--
আড় চোখে সবে
চাহে ব্ৰজ পানে
মুখে বলেছি! ছি! ছি!
গােপনে শুধায়-
পথীক দেখিলে
“ব্ৰজেতে চলেছকি”?
পরানে ডিঙ্গিয়ে
জীবনে সাধিবে
সে গান হয় কি সাধ ?
গীতায়ন
তা হলে কখনও
মজিত কি ব্রজ,
কুল তেয়াগিত রাধা ?
প্রানের শিকলে
প্রানে না বাঁধিলে
ভুলা’য়ে চলেকি চলা ?
হেথা বাঁধ বেড়া,
হােথা ভেঙ্গে যাবে
মিছে কেটে যাবে বেলা ।
বঞ্চিত করে, বাচা’লে মােরে
বঞ্চিত করে, বাচালে
যে ভূল আমার
ভাঙ্গত নাকো
ডেকে, তাই
ভাঙ্গিলে।
যা কিছু আমার
হলে চলে না
ডেকে,
গীতায়ন চলিবো বলে ছুটে মরি— দুর করে দাও দুরে আরাে, তারে তবু মাের চলে ভেবে মরি যা’রে ধরে চাই করি মােরে চল সেই এসে আরাে,- করে হে আচল যতটুকু পাই- তাই মাের চাই- ঠেকায়ে আমারে শিখালে। আশা বয়ে আনে যাতনার বােঝা, টেনে, করি বেকা যত কিছু সােজা, ব্যথা দিয়ে তাই বুঝলে। ৭৮ গীতায়ন ( ৬৬ ) আমার সকলই করিতে হয় আমার সকলই সহিতে হয়। পরাণে আমার যখন চাহে না হৃদয়ে আমার যখন সহে না তখনও করিতে হয়- তখনও সহিতে হয়। যবে সারাটী মরম— ভাঙ্গিয়া আসে-শ্রাবণ বরষা নামিয়া, হৃদয় বাঁধিয়া নয়ন মুছিয়া- তখনও হাসিতে হয়। মন চাহেনাক- তা বলে কি করি- করিতেই হবে বাচি আর মরি ভাঙ্গিতে গড়িয়া ৭৯
গীতায়ম
গড়িতে ভাঙ্গিয়া
(তাই) কতনা সহিতে হয়
কি করিতে যাই
ভূলে
যাই মনে,
আসিতেছ তুমি
ভাবি মনে মনে,
লুকায়ে লুকায়ে-
দেখিতে গােপনে
অমনি ছুটতে হয় ।
করমের বাঁধা।
উপায় ত নাই--
দেখাত হবেনা
যদি মরে যাই
গঞ্জনা স’য়ে-
লাঞ্ছনা বয়ে
তাই ত বাচিতে হয়
৮
গীতায়ন
( ৬৭ )
কি দিলে হবে মা হবে ?
কি দিনে হবে মা
তাের আরাধনা,
কত কালে হবে
সফল সাধনা,
জীবন ভরা এ
ব্যর্থ বেদনা
ওমা!
অবসান হবে কবে ?
তুই নামে হলি
বিশ্ব-জননী,
সন্তান কভু,
পেটে ধরিলিনি,
মৰ্ম্মে বেদনা
তাই ত বাজে না
তাই ত কাঁদে না
পরাণ কখনই,
দয়া কোরে’ তাের
মা হওয়া মা !
সাধিলে ভজিলে তবে
চ
গীতায়ন
( ৬৮ )
জয় মা ! জয় মা ! জয় মা !
জয় মা জননি।
জয় ভবরাণি !
সন্তান প্রেমে
চির-পাগলিনী
সন্তানে হারা
আপনার ধারা-
চির-মঙ্গল-কামী
মা !
চির-মঙ্গল-ময়ী
মা !
জেগেছে সন্তান
জেগেছে নন্দিনী,
জেনেছে তারা মা
তুই গাে বন্দিনী,
শুনেছে তারা মা
অশরীরী বাণী,
ছুটেছে তাই সবে
আশীষ কর মা,
আশীষ কর মা।
२
গীতায়ন
করুণ কণ্ঠে
“স্বস্তি বচন”
শুনায়েছ মাত,-
“অমৃত জীবন”
“মরণ অমৃত”
বজ কণ্ঠে
এইবার বর্মা।
মােরা মরণের কোলে
বরিব বিজয়ে
তবু সইব না
পরাজয় মা।
( ৬৯ )
এগিয়ে চল, এগিয়ে চল্
কাজ যে তােদের
এগিয়ে চলা,
থামা’র তােদের
নাই যে সময়
সে যে অনেক কিছু
হারিয়ে ফেলা।
গীতায়ন
কেন আবার—চললি ধীরে
কেনই বা চাস
পাছে ফিরে,
সকল হারার
দল যে তােরা
তােদের আবার
ভাবনা কিরে—
কিসের সুখ আর
কিসের দুঃখ,
কিসের আদর
অবহেলা !
ওরে পাগল !
ওরে ভােলা!
কাজ ফেলে কি
করবি খেলা ?
নয় কো যারা
ব্যথার ব্যথী,
এমন যে সব
খেলার সাথী,
তাদের কে
থামবি যদি,
৮৪.
গীতায়ন
তবে কি আর
হয়রে চলা !
ব্যথায় যারা
জ্বলে পুড়ে
পাহাড় তুলে
নিল ঘাড়ে,
তাদের সে ভার
গছতে হবে
(তােরা) থামিস না আর
থামিস নারে,
তােদের থামায়
থেমে যাবে
মানবতার
মহান চলা।
কাছের এসব
ক্ষুদ্র কাজে
এগিয়ে চল
ফেলে’ই পাছে,
পাছের যারা
থাকবে তার।
৮৫
গীতায়ন
গুছিয়ে যাবে
পাছে পাছে,
পুরােভাগের রথী তােরা
তােদের মহান
যুধীর খেলা।
উড়িয়ে নিশান
বাজিইয়ে বিষান
জয় মা বলে
চল্ গেয়ে’ গান,
আকুল করে’
পাগল করে’
স্থবির , বধির,
কঠিন পাষাণ ;
তোদের ডাকের
বজহাকে-
যা খুলে যাক
এক দমকে
রুদ্ধ সে দ্বার,
যা ধমকে
আজও ভয়ে
যায় নি খােলা ।
গীতায়ন
( ৭০ )
আমার এ জীবন ভরি
তােমারে চাহিনি কভু,
তুমি যে রয়েছ কাছে
তােমারে দেখিনি তবু।
ঘুরিয়াছি হেতা সেথা
খুজিয়াছি কত কি,
এত কাছে আছ তুমি
সেত কভু ভাবিনি।
জীবনের স্বপ্নে গাথা
কল্পনার মালাখানি,
কাহাকে পরাব বলে,
কত না ঘুরেছি আমি,
ভাবি নাই কোনাে দিন
চিনি নাই তুমি স্বামী,
প্রিয়তম বাহু ডােরে
রাখিছ সতত ঘিরি।
এবে দিবা অবসান,
ভগ্ন যে গাে কণ্ঠ আজ,
কি গেয়ে শুনাব তােমা ?
কি আছে যে দিব আজ?
৮৭
গীতায়ন প্রাণময় আবাহনে প্রণয়ের এ-প্রতিদান প্রাণ খুলি, প্রাণ ভরি আজ শুধু দিব প্রতু। (৭১) পুজারী তাের পূজার জোগাড় হ’ল কি না হ’ল এবার আকাশ ছে’ল নিবিড় আঁধার কোথায় জবা বিশ্বদল— মহামায়ার মায়ার বসন পরে আছিস করে যতন কোথায় রে সে প্রেমের বসন মনের দ্বারও রুদ্ধ রােল- এই কিরে তাের পূজার জোগাড় হােল না তাের পূজা এবার, রুদ্ধ মনের ঘরের পাশে লগ্ন প্রাণের আরােল- বুঝি রে ঐ থেমে গেল। ৮
গীতায়ন
)
( ৭২
কি গান শুনাবি গেয়ে আজ ?
অস্তরাগের সেই পূরবী
জনম ভরেই তুই কি গাবি!
মিলন টানে ধর বেহাগী
গা বেহাগী আজ।
অরুণ উষার তরুণ রাগে
আজ তারে তুই শুনা গেয়ে
প্রাণ ভরে তাের, প্রাণের কথা,
ওরে! কিসের ভয় আর কিসের লাজ।
সারা বুক জুড়ে
জ্বলিছে অনল
মরম পুড়িয়া গেল গাে-
হৃদয় দহিয়া গেল গাে,
আপনার মনে ধরিলাম গান
সুর ছিলনাত বাধা,-
জানিনাত ছিল পরাণের সুর
দীপকের রাগে সাধা,
গীতায়ন
সে মরণ পাগল, নাচিয়া নাচিয়া
আগুন জ্বালিয়া-দিল গাে।
থেমে গেছে’ সুর,
পুড়ে গেছে তার,
আর যে হয় না
গান গাওয়া আর
কে গে’য়ে শুনাবে
মেঘমল্লার
কে নিভাবে এই জ্বালা গাে ।
৯০
গীতায়ন
( ৭৪ )
জীবনের
ভুল
এ বড় কঠিন
কখনও ভুলনা, ভুলনা।
সুখ খুজে’ ভুলে,
দুঃখ বড় করে’
কখনও তুলনা, তুলনা।
আপাত মধুর
যাহা দু’দিনের
যাহা নিমেষের,
যাহা ক্ষণিকের
তা’র তরে যদি
ঢাল এ জীবন,
শুধুই বাড়িবে
যাতনা।
।
৯১
গীতায়ন মন টানে দেহে শুধুই বাহিরে, বলে “ক ভােগ- কর প্রাণ ভােরে প্রাণ বলে “মিছে- ভরিবে না বুক—” এ মহা দুঃখ, এ ছলনা। কতটুকু তুই কতই সহিবি ? কি আছে এমন বিশ্বে ধরিবি ধরা পড়ে পড়ে শুধুই হারাবি চাওয়ার কিছুই পাবি না। আজ যে ব্যথায় যেতে চাস দূরে বড় হয়ে এসে সেই র’বে ঘিরে’- শত রূপ ধরে’, পলে পলে তােরে সে দিবে মরণ যাতনা। ?
গীতায়ন ( ৭৫ ) বড় অবেলায়—আসিয়াছ আজ- কি গে’য়ে শুনাব গান! হারিয়ে ফেলেছি সে সুর রাগিণী সে রাগ উছল প্রাণ। সারা এ মরমে, সারা এ জীবনে সেধেছি ডেকেছি কতবার সাড়া ত দিলে না, শুনিলে না সখা দেখাত দিলেন একবার ! ভগ্ন আজি যে কণ্ঠ, মরম ভগ্ন এদেই প্রাণ, আজি কি দিয়া পূজিব ? কি অর্ঘ্য দিব ? কি দিয়া রাখিব মান ?
গীতায়ন
( ৭৬ )
তুমি এলেনা সখা,
তুমিত দিলেনা দেখা,
কি খেলা খেলিব একা
চলিনু ফিরে,
হাঁটিয়া হয়েছি শ্রান্ত
ডাকিয়া ভেঙ্গে ছে কণ্ঠ
বড় যে হয়েছি ক্লান্ত
খুজি তােমারে।
মনে হয় আজও তবু
হয়ত আসিবে কভু
হয়ত খুঁজিবে কভু
চাহিবে মােরে,-
কোথায় রহিব আমি-
পাবে না খুঁজিয়া তুমি-
হয়ত সেদিন আমি
জীবন পারে-
কোথায় মিলায়ে যাব
কোন সুদূরে—ঘন আঁধারে
-
গীতায়ন
( ৭৭ )
আমার দিনের শেষের কাজের খতিয়ান
রাতের হিসাব, নিত্য দিনের প্রাতে
হে মহাজন! হয় কি তােমার খাতে।
খােল দেখি বারেক খতিয়ান
হ’ল কিনা হ’ল আমার ঋণের অবসান,
পড়ল কিনা ওয়াশীলন
শালিয়ানা তাতে।
প্রাণের হিসাব মিটিয়ে এলাম যেথা,
রইল কি ঋণ তােমার খাতে
আজও আমার সেথা ?
চুকিয়ে পাওয়া, চুকিয়ে যাওয়া
হ’লনা যে ঋণে-
কেমন করে ওয়াশীলান—
করবে সে সব তাকে?
গীতায়ন
.
(৭৮)
আসিবে সে মহাপ্রয়াণের দিন
যেদিন আরত থাকা হবে না,
আসিবে সে চির বিদায়ের ক্ষণ
যখন আর দেখা হবে না।
হয়ত সেদিন সে বিদায় কালে
হবে নাক—যাওয়া, হবে না বলে,
পরাণের চাওয়া, মরমের ভাষা
হয়ত কণ্ঠে র’বে না।
তাই বলে যাই যাহা বলিবার
বিদায় বিদায় হে বন্ধু আমার
ব্যথা যা দিয়াছি ভুলি বার বার
ক্ষমিতে সে ভুলে ভুল না,
জীবনের সুখ হিসাব যা তার
হিসাব করিয়া মিলান যে ভার,
দেখাত হবে না এজগতে আর
আরত কথা হবে না।
হে ধরণীবাসি-বড় আপনার
যবে হবে সুরু এ যাত্রা আমার
কোন অজানার পথীকে তােমর
তখনও ভুলনা ভুলনা।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.