Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Jaggabhasma
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
যজ্ঞভন্ম।
ঐবিজয়চন্দ্র মজুমদার প্রণীত।
কলিকাতা
৩০৫ নং মদন মিত্রের লেন নব্যভারত-প্রেসে,
শ্রীভুতনাথ পালিত দ্বাদ্বা মুদ্রিত
ও প্রকাশিত।
১৩১১
ssassessmese :
গ্রন্থকার-প্রণীত।
১। ফুলশর (বিবিধ কবিতা) নূতন গ্রন্থ—
২০ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট, মজুমদার লাইব্রেরী হইতে
প্রকাশিত হইতেছে। মূল্য :
২। কথা ও বাথি। এই কবিতা গ্রন্থ সংস্কৃত
প্রেস ডিপজিটরীতে পাওয়া যায়। মূল্য ॥০
MAGGISIGICOLLISEIG DAGSORO ASTOASE
সূচীপত্র। বিষয় পৃষ্ঠা ১ २ যজ্ঞ'ভস্ম প্রার্থনা তীর্থমঙ্গল উদ্বোধন আরতি ব্ৰহ্মাবর্তে ••• ৬ ••• ৭ দণ্ডকারণ্যে বিশ্বামিত্র ১৪ ৫ + ৩ ২ ২৫ ২৭ সুজাতা অজবিলাপ অর্জুন ( সাধনা) অর্জুন ( প্রতিজ্ঞা ) দ্রৌপদী খণ্ডগিরি উদয়াদিত্য জ্বালামুখী & ••• * * * l . ৩৭। ৪০ • বিষয়। পৃষ্ঠা ৪৯ ঐ ০ ০ ০ ৫ । ৮ যুগপূজা ১। শৈশবযুগ প্রেতপূজা (উদ্বোধন) (পূজা) প্রাণীপূজা ( উদ্বোধন) ঐ ২। বাল্যযুগ ক। প্রকৃতি পূজা উদ্বোধন অগ্নি-পূজা সূর্য (পূজা) * * * ৫ ৭ ৬১ ঊষা ৬৪ . - বায়ু বরুণ আকাশ ••• ৭০ ৪ ০ ০ ৭১ ০ ০ ০ ৭৩ খ। বহুদেবতা পূজা উদ্বোধন পূজা ৩। কৈশাের যুগ নরহরি পূজা ( উদ্বোধন) (পূজা) অদ্বৈত পূজা ( উদ্বোধন) (পূজা) ৭৭ : : : : ৮১ বিষয়। পৃষ্ঠা। যুগপূজা ৪। যৌবনযুগ নৱপূজা (উদ্বোধন) 3 (পূজা) ৮৬ ৮৮ ৯২ ৯৮ ••• ১০২ ১০৩ অজ্ঞেয় শক্তিপূজা উদ্বোধন পূজা ৫। প্রবীণযুগ ব্ৰহ্ম-পূজা ( উদ্বোধন) (পূজা) পূজা প্রদীপ আবাহন সত্য জ্যোতি অমৃত স্বপ্রকাশ, রুদ্র অনন্ত জননী। কামনা প্রবাসে স্তোত্র প্রকৃতি প্রকৃতি ১৬ ৮ - ১০৭ • • • ১১১ ১১৫ + + + ১১৬ : ১১৮ ১২ ০ বিষয় পৃষ্ঠা আকাঙক্ষা প্রলয় ১২৮ আহ্বান কেন এজীবন মৃত্যু ও জীবন যাহােক বিধান উদ্দেশে দেব-স্বপ্ন A Question. (অনুবাদ) ০ ০ ০ ১৪২ ১৪৬ ১৪৯ ১৬৪ ১৬৭ ১৬৯ চন্দনা স্তুতি বিদায় মন্দিরের প্রতিমা কুসুমবতী প্রেম ও জীবন মুষ্টিভিক্ষা মােহিনী পূজা-দর্শন রমণী মিলন ৭২ ১৭৪ ••• ১৭৬ ১৭৭ ১৭৮ ০ ০ ০ ১৭৮ ১৮০
যজ্ঞভস্ম।
যজ্ঞভন্ম।
পবিত্র ভারত-বেদী-ব্যাপ্ত সমুজ্জ্বল
দেব-পূজ্য যজ্ঞ বহ্নি জগত-মঙ্গল,
নির্বাপিত আজি। তবু পুণ্যগন্ধ ভরা
আছে স্নিগ্ধ ভস্ম তার শােক-তাপহরা।
তুলিয়া কণিকা মাত্র বিভূতি-বিভব
চর্চিনু ললাট বক্ষ। নব অভিষব
লভিয়া ঘুচিল তাপ দুরিত প্রমাদ।
ঋষি-মন্ত্রপূত ভস্ম, দেব আশীর্বাদ।
প্রার্থনা।
অন্ধ করিও না আঁখি, এস আলো, প্রভাসি নয়ন।
করিও না স্বার্থ মগ্ন, এস প্রেম, হৃদয়-রতন।
এনােনা সংহার তুমি, এস জ্ঞান, মানস উজলি।
সরস করিয়া চিত্ত, এস ভক্তি, প্রবাহে উছলি।
বিশ্ব-পদে আমি মােরে নেহারিব বিশ্বের আলােকে ;
হেরিব অগণ্য বিশ্ব ব্ৰহ্মপদে শায়িত পুলকে।
এস তুমি হে পুরুষ, দেহ মাঝে বিক্রম বিস্তারি।
যৌবন-মাধুরী লয়ে বক্ষমাঝে ওস তুমি নারী।
অসংখ্য কৰ্ম্মের শিলা স্কন্ধে আমি করিব বহন ;
অচ্ছেদ্য মিলনে সবে মিলাইয়া গড়িব ভবন।
বিশ্বের সেবায় মােরে, বিশ্বদেব ! দেহগাে প্রেরণা ;
বজ্রসম দেহ পণ, পুষ্পসম কোমল করুণ।
তীর্থ-মঙ্গল।
No text on this page.
উদ্বোধন।
জাগাে জাগো ভারত মাতা।
চরণ তলে তব অভিনব উৎসব
করিব, রচিব নবগাথা।
অগণন জনগণ ধাত্রি।
অকথিত মহিমা অশেষ গরিম।
অনন্ত সম্পদ দাত্রি।
মঙ্গল যুত তব কীৰ্ত্তি ;
তব গুণ গৌরব
তব যশ সৌরভ
ব্যাপিল বিশাল পৃথ্বী। ১
শূরজননি সুরপূজ্যে !
নিহত সুকৃতি তব
দনুজ-দলিত নব রাজ্যে।
হত সুখ গৌরব
নব্য জগত ইতিহাসে
নগণ্য তুমি মা ! অগণ্য মহিমা
বিস্মৃত দেশ বিদেশে।
জাগাে জাগাে ভারত মাতা।
চরণ তলে তব
রােদন উৎসব
করিব রচিব নবগাথা। ২
আরতি।
( মালব গৌড় রাগ, রূপক তাল)
বিকশিত কমল-দলে
মানস সরমাঝে
রঞ্জিত সুরভিত আসন বাজে।
করি পবিত্র আসন চরণে,
ভারতি! আরতি লহ মা!
উজ্জ্বল মুকুট শিরে চিত্রিত শত বর্ণে;
বিরচিত ঋষিজন অর্জিত পুণ্যে
করি দীপিত অন্তর কিরণে,
ভারতি! আরতি লহ মা!
তাপস নিৰ্ম্মিত সিত, বসন বিশদ-অঙ্গে-
শান্তির পবনে দোলই রঙ্গে।
করি শমযুত চিত্ত বরণ্যে!
ভারতি! আরতি লহ মা!
নাটক কাব্য কলা ভূষণ ভৰ দেহে;
বিম্বিত আভা শুরনর গেহে।
খচি মানস মম রতনে,
ভারতি! আরতি লহমা।
বরদে! বরবৰ্ণিনি।
আগত সুত শরণে।
লহ লহ বিনতি ভকতি বরচরণে।
করি করুণা জীবন মরণে,
ভারতি! আরতি লহ মা।
ব্ৰহ্মাবর্তে।
আর্যের জীবনানন্দ দেবী স্রোতস্বতী।
শুভ্র ধারে ব্রহ্মাবৰ্ত্ত-পথ-প্রবাহিনী।
জ্ঞানময়ী বেদ-ধাত্রী! কহ সরস্বতি,
এ বিস্তীর্ণ মরুক্ষেত্রে কোথা একাকিনী
পুঞ্জীভূত বালুকার সুগভীর স্তরে
চির নিমজ্জিতা তুমি বিষন্ন অন্তরে ?
;
তােমার শ্যামল তীরে প্রথম প্রভাতে
বিহঙ্গ-কাকলি সহ ঋষি-কণ্ঠ-ধ্বনি
দেব-সম্মােহনী বাণী সৃজিল ভারতে ;
তুমিও গাইলে গাথা হে দেব-নন্দিনি,
ছন্দে ছন্দে মহানন্দে তরঙ্গে উচ্ছসি।
গীতি ভরা-সেহি ধারা কোথা গেল ভাসি?
তেজি সুরা রেবতীর প্রেম-দৃষ্টি মাখা),
সংক্ষুব্ধ অন্তরে মরি স্বজন-নিধনে,
বিরাগে তােমার নীরে প্রবেশিয়া একা,
সুনিৰ্ম্মল পূত স্নিগ্ধ তব বারি-পানে,
লভিল। অপর শান্তি দেব হলধর ;
কোথা সে পবিত্র বারি শুভ্র মনােহর ?
তীর্থ-মঙ্গল।
নিষ্ঠুর ঘােরীর সৈন্য আসিল যখন,
রােধিলে তাহার গতি খরস্রোত-ধারে।
তােমারি কৃপায় দেবি, বিজিত যবন
হইল তখনাে জানি। সহসা কোথারে
লুকাইলে তারপর, সৌভাগ্য-সঙ্গিনি,
উদিল ভারতে যবে আঁধার রজনী ?
জ্ঞান শান্তি স্বাধীনতা সৌভাগ্যদায়িনী !
মরুভূমি এভারত তব তিরােধানে।
ঢালগো আবার ঢাল মৃত-সঞ্জীবনী--
তােমার অমৃত ধারা, ভারত ভুবনে।
পুণ্য-নীরে মরুক্ষেত্র করিয়া মন্থন,
জাগাও ভারত-প্রাণে নবীন জীবন।
দণ্ডকারণ্যে।
;
কল্পনে, জাগও আজি সুখদুঃখময়
অতীত করুণ স্মৃতি; গাহিব বিজনে—
কাঁদিব একেলা হেথা জুড়াতে হৃদয়,
সীতার বিরহকথা স্মরি মনে মনে।
!
•
আজিও গাে গােদাবরী । কলধ্বনি তব
করিতেছে মুখরিত শূন্য জনস্থান
বিকাশিয়া মনােহর শােভা অভিনব
আজিও শােভিছে দূরে গিরি মাল্যবান।
দনুবন্ধ অধিষ্ঠিত, জনস্থানপারে
এই সে দণ্ডকারণ্য, চিত্র কুঞ্জবন ;
• দূরে দূরে সুবিস্তীর্ণ বনের দু’ধারে
শােভে গিরি শত শত, শােভে প্রস্রবণ।
কলম্বের কলকণ্ঠে কোথা করম্বিত
‘মনোহর পােসর নয়নরঞ্জন ;
কোথা বা কীচকন পেচকশব্দিত ;
নিজ স্তিমিত কোথা সুগভীর কুন।
তীর্থ-মঙ্গল।
এই সে দণ্ডকারণ্য শােভায় প্লাবিত,
সেই চারু জনস্থান, গিরি প্রস্রবণ ;
সেই মহারঙ্গভূমি—যথা অভিনীত
অমিত বিরহদুঃখ, সৌহার্দ্য, মিলন।
হে শ্ৰীকণ্ঠ ভবভূতি, দেখাও এ বনে
ফুটিল যে কুঞ্জতলে বাল্মীকি-ভারতী ;
যাপিলা সুদীর্ঘকাল বিরহরােদনে
যথায় ভারতলক্ষী দেবী সীতা সতী।
ছায়াময়ী জানকী গাে, কোন ছায়াতলে
জুড়াইতে তাপদগ্ধ জীবন তােমার ?
যেতে কি কালিন্দীতটে শ্যামবটমূলে
স্মরি পূর্ব সুখকথা বিরহে অপার ?
রচিতে কি শয্যা, দেবী, প্রস্রবণ শিরে
জি প্রস্রবণ তব দুঃখ-অশ্রুধারে ?
ভ্রমিতে কি বিরহিণী গােদাবরীতীরে?
কিম্বা সুখচিহুমাখা কুঞ্জের মাঝারে ?
ধ্বনিত কি কর্ণে নিত্য, কহ বিরহিণী,
“তব সহ রব আমি মধুগন্ধি বনে”
“নয়নে কৌমুদী তুমি, জীবনসঙ্গিনী” ?
বাড়িত কি বড় ব্যথা সে সুখস্বপনে।
১০
তীর্থ মঙ্গল।
লক্ষনী ছিলে গৃহে যার লক্ষীস্বরূপিণী,
নয়নে অমৃতবর্তি, দেহের চন্দন,
সুখে দুঃখে ছিলে যার আনন্দদায়িনী,
কি করিতে, তার ব্যথা করিয়া স্মরণ ?
স্বকরকলিত তব শল্লকী-পল্লবে
পুষ্ট, করি-করভক বংশজাত করী
বিচরে পর্বতে বনে যুগে যুথে সবে ;
কৃপাময়ী, কত দয়া গেছিলে বিতরি?
তােমার পালিত সেই ময়ূরসন্তান
আজিও নাচিছে হেথা কানন উজলি ;
গাহিছে বিহগ তব করুণার গান ;
তােমারি স্নেহের কথা কহে বনলী।
;
তােমারি রােপিত সেই কদম্ব এখন
করিয়াছে বনভূমি নীপগন্ধময়
সতীত্ব-সৌরভ তব যেন বা কানন
প্রসারিছে চারি ভিতে-কৃতজ্ঞহৃদয়।
আজিও কদলিকুঞ্জে হরিণের দল
তব-দত্ত তৃণলুব্ধ, নির্ভয়ে বিচরে ;
কাননে কাননে লেখা রয়েছে কেবল
তােমার স্নেহের লিপি অক্ষয় অক্ষরে ।,
তীর্থ-মঙ্গল।
স্নেহময়ী বনদেবী বাসন্তী হেথায়
স্মরিয়া তােমার দুঃখ কাদে একাকিনী
তমসা মুরলা আসি গােদাবরী-পায়
বরযে দুঃখের অশ্রু করি কলধ্বনি।
দুঃখান্তে মিলন তব করিয়া সূচিত
ব্রততীবেষ্টিত তরু বিকশিত ফুলে ;
বিহগ বিহগীসাথে গাহে মধু-গীত ;
মৃগ সহ ভ্রমে মৃগী গােদাবরীকূলে।
তােমারি মঙ্গলকল্পে বিরহিণী সতী ।
আজিও গাহিছে ওই সুমঙ্গলগীতি
অবনী, অমর সিন্ধু, দেবকুলপতি,
আদি কবি, পবশিষ্ঠ দেবী অরুন্ধতী
অর্ঘ্য ঢালে মধুচ্যুত, ফল পুষ্পদিল ;
বহে মন্দ বনানিল কমলমুভি;
প্রেমের আগ্রহে গায় বিহগ সকল।
সতীর মঙ্গলে আজি মাঙ্গলিক সবি।
জুড়াইতে জগতের বিরহের ব্যথা,
ভারতের পাপ তাপ করিতে মােচন,
অমৃতা অমৃতময়ী রামায়ণ-কথা
পত্রের মৰ্ম্মরে গাহে বনস্পতিগণ।
তীর্থ-মঙ্গল।
বাল্মীকির কাব্যকুঞ্জ প্রিয় জনস্থান!
ভারতীর রঙ্গক্ষেত্র চিরদিন তুমি;
তুমি পুণ্য অপােবন, শান্তির সােপান
ঋষির তপস্যাপূত পবিত্র ভূমি।
••
বিশ্বামিত্র।
তুচ্ছ করি ক্ষত্ৰবল, সম্পদ-গৌরব,
লভিবারে সযতনে ব্রাহ্মণ্য-বিভব,
সিলেন বিশ্বামিত্র উগ্র তপস্যায়
বিজনে পুষ্কর তীর্থে। বিস্বাদ কষায়
কটুক্তি ফল মূল পানীয় সেবন
করিয়া করেন অতি কঠোর সাধন।
টলিল কনকাসন স্বর্গে দেবতার,
হইল ইন্দ্রের প্রাণে আতঙ্ক সঞ্চার।
নিভৃতে দেবেন্দ্র ডাকি কহেন রম্ভারে ;
“হে রূপসী দেবদাসী, বিবিধ সম্ভারে
সাজাইয়া বরতনু, সাজিয়া মােহিনী,
নরললাকে একবার যাও সুহাসিনী,
যাও যথা মরুক্ষেত্রে পুষ্করের তীরে
তপােত বিশ্বামিত্র। হেরিলে তােমারে
তপস্যা রক্ষিতে পারে কে আছে এমন ?
রূপমুগ্ধ দেবগণ ত্রিদিবে যখন ?”
তীর্থ-মঙ্গল।
;
হাসিয়া নয়ন-বাণ নিক্ষেপি সুন্দরী
নমি দেবেন্দ্রের পায় কহিল ; “কিঙ্করী,
তপােভঙ্গ ব্ৰতে আছে নিয়ত নিযুতা,
কর তারে আশীর্বাদ।” “হও সিদ্ধিযুতা,”
কহিলেন দেবরাজ। অবতরি ধীরে
গেল রম্ভা নরলােকে পুষ্করের তীরে।
দেখিল সে বিশ্বামিত্রে মগ্ন মহাধ্যানে,
স্থাণু যেন অচঞ্চল অচল আসনে।
সযতনে অযতন সৃজিয়া সুন্দরী,
এলাইয়ে দিয়ে তার মােহন কবরী,
ভ্রস্ত করি বক্ষপুটে কৌষিক অঞ্চল,
দাড়াইল পুরােভাগে। তবুও চঞ্চল
নহে তপস্বীর ধ্যান। তখন সে বালা,
করিতে তপস্বী চিত্ত প্রেমেতে উতলা,
নব নব হাব ভাব কত না সৃজিল,
আপনি খুলিয়া নবী আপনি বাঁধিল।
স্থিরনেত্রে বিশ্বামিত্র নিরখিয়া তারে
কহিলা; “পাপিনী তুই এসেছিস্ মােরে
ভুলাতে কৃত্রিম প্রেমে অকরুণ প্রাণে?
প্রাণ সম অঙ্গ তাের গড়ি পাষাণে।
তীর্থ-মঙ্গল।
রহিবি পাষাণী হয়ে এই তীর্থ কূলে
জড়সমা জড়প্রাণে স্বর্গসুখ ভুলে।
পাষাণী হইয়া রম্ভা রহিল সে শাপে।
সে উগ্রতপস্যা হেরি ত্রিভুবন কাপে।
আপনি আসিয়া ব্রহ্মা দিয়া দরশন
কহিলেন “বিশ্বামিত্র সফল সাধন
হইল তােমার আজি। যাওগাে সংসারে
প্রখ্যাত রাজর্ষি আমি করিনু তােমারে।”
প্রণমি ব্ৰহ্মার পায় বিশ্বামিত্র কহে;
এসিদ্ধি লভিতে দেব মাের ব্রত নহে।”
স্বরগে গেলেন ব্রহ্মা; নীরবে আবার
বিশ্বামিত্র মহাধ্যানে ভুলিল সংসার।
আবার টলিল স্বর্গে ইন্দ্রের আসন।
ডাকি মেনকায় দেব কহেন তখন ;
“বিশ্বামিত্র তপােরত পুষ্করের তীরে ;
করি তার ধ্যান ভঙ্গ এস তুমি ফিরে।”
শিরে ধরি আজ্ঞা তার মেনকা সুন্দরী,
স্বর্গ হতে নরলােকে আসিয়া উতরি,
হেরিল ধরার শােভা নব মধুমাসে ;
হেরিল রাজর্ষি মূৰ্ত্তি পুষ্কর প্রদেশে।
১৬
তীর্থ-মঙ্গল।
“এমন অনিন্দ্য রূপ!” ভাবে সুরনারী-
“কেমনে করিব ছি ছি ছলনা চাতুরী ?
এইযে সুন্দর ধরা জানিনিত আগে।
হেথাকার সুখ দুঃখ বড় ভাল লাগে।
দুঃখশূন্য উপভােগ সুখ কোথা তায়?
তাপশূন্য দেহে তৃপ্তি কোথায় ছায়ায় ?
বিচিত্র চঞ্চল রূপে সজ্জিতা ধরণী ;
সুস্থির ত্রিদশ শোভা বিষ সম গণি।”
মানবীর আশা বুকে পূরিয়া মেনকা
পুষ্করে কলসা কক্ষে নিত্য যায় একা।
অনুরাগে ব্ৰীড়া ভরে হেরি তপস্বীরে
ফিরে ফিরে দেখে চেয়ে, ঘরে আসে ফিরে।
যুবতীর লাজ মাখা অনুরাগ দিঠি
কাটিল তপস্যা বন্ধ। ঋষিভূমে লুটি
ধ্যান করে প্রমদার সুন্দর বদন,
ভুলিয়া বিপুল সিদ্ধি ব্রাহ্মণত্ব ধন।
মেনকারে লয়ে ঋষি রহিলা কুটীরে ;
বসন্ত শরৎ কত এল ফিরে ফিরে।
তারপর একদিন পূর্ণ মধুমাসে
জনমিল কন্যারত্ন। চমকি তরাসে
মঙ্গল।
চাহিলেন ঋষিবর ; ভাবিলেন “হায়
কোথা মাের ব্রাহ্মণত্ব, তপস্যা কোথায় ?”
বিশ্বামিত্রে অনুতপ্ত হেরি বরনারী
সভয়ে কম্পিত হৃদে গেল সুরপুরী।
তপস্যায় বহুদিন আবার অতীত।
কিন্তুরে মায়ার স্বপ্নে হৃদয় ব্যথিত।
কভু ঋষি ব্রাহ্মণত্ব ঢহে দেবতায়,
কভু প্রাণ ভরে যায় প্রেমের চিন্তায়,
কভু বা কঁদিয়া কহে “ব্ৰহ্ম সনাতন
একবার দেখিব সে দুহিতা রতন।”
পাইলে পরের শিশু কোলে লয়ে ঋষি,
করিত আদর কত কুটীরেতে বলি।
ব্রাহ্মণত্ব ঋষিত্বের সংকল্প কঠোর
ভুলিনেন বিশ্বামিত্র এক মায়া ঘের?
আসিত পুষ্কর তীরে অনাথিনী যত,
তাদেরি সেবায় খাষি হইলেন রত।
আর বার ব্রহ্মা আসি দিয়ে দরশন,
কহিলেন; “বিশ্বামিত্র, সফল সাধন
হইল তােমার আজি, যাওগে। সংসারে ;
ব্রাহ্মণত্ব আজি আমি দিলাম তোমারে।”
১৮
তীর্থঙ্গল
‘নহি উপযুক্ত আমি দেব দয়াময়,
লভিবারে ব্রাহ্মণত্ব; আমার হৃদয়
স্নেহ-প্রম-বিজড়িত।” কহিলেন ঋষি।
কহিলেন ব্রহ্মা তারে সাদরে আশ্বাসি,
“স্নেহহীন নিম্মমতা ব্রাহ্মণত্ব নহে।
জানি যে সন্তাপে সদা তব চিত্ত দহে।
সে সন্তাপ নাহি যার সে নহে ব্রাহ্মণ
স্নেহময় লোকহিতে হও নিমগন।”
সুজাতা।
(বুদ্ধের প্রতি)
কে তুমি হেথা বিজনে বসি ?
নর, কি ঋষি, দেবতা ?
অঙ্গ ছাপি পুণ্যপ্রভা চমকে!
বদন নব,
তপ্ত যেন সবিতা;
নিরখি নর-নয়ন সদা ঝলকে। ১
দীপ্ত তব
ক্লান্ত নহে কান্ত তনু
করি কঠোর সাধনা
;
নহ ত প্রভু তাপস তবে নহগাে!
সুপ্তি হারা নয়নে ধারা
উছলে সে যে করুণা !
ধেয়ানরত ঋষি ত তুমি নইগো !
দেবতা তুমি জগত ভূমে
এসেছ প্রভু এসেছ,
ফুটাতে প্রীতি কঠোর হৃদি-শিলাতে।
হরিতে পাপ বাসনা-তাপ
এসেছ প্রভু এসেছ,
মরণ নাশি অমৃত-রাশি বিলাতে।
তীর্থমঙ্গল।
জগত যবে শরণ লবে
চরণ তলে কাঁদিয়া,
পিপাসা ক্ষুধা মিটাবে সুধা ঢালিয়া।
বিশ্বপাতা,
অন্নদাতা!
পূজিব তবে কি দিয়া ?
লবে কি এহি অন্ন কৃপা করিয়া ?
২১
{
আজ বিলাপ।
(১)
দাগ গো সখি ইন্দুমুখি,
কেন গাে আঁখি মুদিলে ?
কহ কি ব্যথা লাগিল কোথা?
কেন গাে পড়ি ভূতলে ?
কুসুম-মালা
আঘাতে বালা,
মূরছে যদি চেতনা,
কঠোর ধরা
বাড়াবে আরো যাতনা।
উঠ গাে ত্বরা,
;
জানি গাে জানি
অঙ্গ খানি
কুসুম হতে সুকুমার ;
জানি গাে ক্ষিতি কঠিন অতি
ঝটিকা বাজে সমীরে তার
কোমল কচি
প্রেমেতে রচি
আসন মম অন্তরে,
রাখিব এস ; হৃদয়ে বােসস ;
উঠহ প্রিয়ে জাগরে !
তীর্থ-মঙ্গল। D (২) গৃহিণী মম সচিব মম লক্ষনী সুখ সম্পদে, সহায় মম সঙ্গী মম- ওগাে ও সখি নৰ্ম্মদে! ডাকিছে তোরে আদর করে সখীরা কত সাধিয়া : ডাকিছে সবে করুণ রবে পাখীরা হেথা কাদিয়া। কাঁদিছে অলি কুসুম-কলি বিষাদে পড়ে খসিয়া ; শােক-বিনতা কঁপিছে লতা, সমীর কাদে শ্বসিয়া। বেদনা ভরে রােদন করে প্রভাত দিবা যামিনী। উপেখি সবে তুমি কি রবে নীরবে তবু মানিনি? তটিনী পারে অন্ধকারে ক্রৌঞ্চ সম বুঝিরে ; এপারে আমি আমি, ওপারে তুমি, ডাকিয়া দেহে খুঁজিরে।
তীর্থ-মঙ্গল
;
আমার কথ{ পশে না তথা,
তােমায়াে কথা শুনি না
এ নিশা কবে
প্রভাত হবে,
জানিনা ও গাে জানিনা।
গরজি হারে অন্ধকারে
উৰ্ম্মি ছােটে অকূলে-
ওপারে তুমি,
এপারে আমি
ডাকিয়া কাঁদি আকুলে!
ভাসিয়া স্রোতে সিন্ধু পথে
তরিয়া আমি যাব কি ?
জীবন-পারে আবার তোরে
পাব কি আমি পাব কি ?
অর্জুন।
১। সাধনা।
(১)
ওহে দেব-দেব পূর্ণ করহ কামনা।
এহি নির্জন গিরি করে
আমি ভরিয়া এনেছি অন্তরে
ক্ষুদ্র আমার ক্ষুব্ধ হৃদয়-যাতনা ।
অতি
তুচ্ছ স্বার্থ লভিতে
প্রভো আসেনি পার্থ নিভৃতে ;
সম্পদ-সুখে নাহিক তাহার ভাবনা ।
নহি সন্ন্যাসী যতি আমিগে;
নহি যােগী তপস্বী স্বামীগো।
পরম মোক্ষ করিতে আসিনি যাচনা।
(২)
ওহে দেব-দেব শুনহ আমার বেদনা।
দেব-দেব
পারি না এ জ্বালা সহিতে-
প্রভে
নরাধম যারা মহীতে
পাপিষ্ঠ যারা কাপুরুষ, করে ছলনা,
ভারা
সম্পদ সুখ বিভবে
সদা
গৌরবে রবে এ ভবে,
২৫
গ
তীর্থ-মঙ্গল।
কলঙ্কে রবে তোমার এ ধর মলিনা।
সাংসার সুখ তেজিয়া,
এহি বিজনে কুটির রচিয়া
কহিতে এসেছি সহিনু দুঃখ যত না।
(৩)
ওহে দেব-দেব পূর্ণ করহ কামনা !
আমি
নাহি চাহি বর অন্য,
পাণ্ডব কুল ধন্য ;
সফল করহ কঠোর আমার সাধনা।
দেহ
ক্ষত্রিয়ােচিত বীৰ্য্য,
দেহ
চঞ্চল-চিতে ধৈৰ্য;
দীপ্ত করহ বৈরী বিনাশ বাসনা।
বীরের মন্ত্রে দীক্ষা,
দেহ ধৰ্ম্ম-যুদ্ধ শিক্ষা,
দুজ্জনবধে তৰ্জ্জুনে দেহ মন্ত্রণা।
অর্জুন। ২। প্রতিজ্ঞ। সপ্তরথী মিলিয়া যদি বধিল মম কুমারে- করিব হত যােদ্ধা শত নিঠুর তর সমরে। পশুর মত অশ্বরােচিত- কৰ্ম্মীগণে বধিব ; বাজারে ভেরী শঙ্খ তুরী, একাকী রণে যুঝিব। ১ ; আনহ অসি, কৌরবের সমরে পশি; দেহগগা ধনু গাণ্ডীব। গৌরবের ধূলিতে পদ মণ্ডিব। সিন্ধু যত সিরিত শঙ্খতুরী করিব কুরু-রুধিরে- পনগ ভেরী বাজারে আজি ধীরে। ২ t २१
তীর্থ-মঙ্গল।
সাক্ষী বহ
বধিব আজি
সূর্যগ্রহ,
না যেতে তুমি অন্তে-
সিন্ধু-রাজে
একেলা এহি হস্তে।
ত্রিদিবে ভবে
ভীষণ পণ-ঘােষণা।
শুনহ সবে
গণগ তুরী
শঙ্খ ভেরী
বাজারে রূণ-বাজনা। ৩
যদি গাে ভবে
তুচ্ছ প্রাণ
জীবিত রবে
পামর রথী নিশাতে,
করিব দান
আপনা শর আঘাতে।
পশিনু রণে,
রহগো রবি জাগিয়া ।
শঙ্খতুরী
সিন্ধু-রাজে ডাকিয়া। ৪
জীবন-পণে
বাজারে ভেরী
২৮
দ্রৌপদী ।
( দ্বৈত বনে )
ধৰ্ম্মরাজ যুধিষ্ঠির, সুধী-শিরােমণি,
ক্ষমাশীল তুমি নাথ বিখ্যাত জগতে ;
উদ্বেজিত চিত্তে আজি অবলা রমণী
আসিয়াছে শ্রীচরণে যাহা নিবেদিতে,
ক্ষমা করি অপরাধ শুন একবার।
গুরু নহি, শিষ্যা আমি চরণে তােমার ।
;
গ্রাসিল ভারত রাজ্য করিয়া ছলনা
নৃশংস পাপিষ্ঠ খল ধার্তরাষ্ট্রগণ ;
অনুচর ভ্রাতৃবর্গ সহিছে যাতনা ;
তুমি আছ উদাসীন, হে সুধীরঞ্জন,
দণ্ডদানে পরাঙ্খ, পথের ভিখারী।
একি নীতি সুধীবর, বুঝিতে না পারি ।
অক্ষম শাসিতে যারে, পদতলে যার
নিত্য বিদলিত তুমি, অরণ্য প্রবাসী
হয়েছে যাহার ভয়ে,–একি চমৎকার
তারে করিতেছ ক্ষমা ? শুনে পায় হাসি।
কাপুরুষ এ জগতে তবে কেহ কভু
দেখেছে কি ? কহ মােরে ক্ষমাশীল প্রভু।
তীর্থ-মঙ্গল।
দ্য যবে গৃহে আসি করয়ে লুণ্ঠন,
বিনাশে স্বজনগণে, কেহ কি তখন
ধ্যান করে ধৰ্ম্মরাজ ধৰ্ম্মানুশাসন?
শঠতার প্রতিদানে প্রতিজ্ঞা পালন
কর যদি, ধৰ্ম্ম তবে রহিল সতত
অধৰ্ম্ম প্রতিষ্ঠাতরে জগতে জাগ্রত।
;
এ দাসী তােমার পত্নী; অপমানে তার
জ্বলে না কি ক্রোধানল তােমার শিরায় ?
লজ্জায় মলিন মুখ হেরি সবাকার,
হেঁটমুখে বনবাস ? একি শােভা পায় ?
দর্পে পরশিল অঙ্গ যে তব পত্নীর,
তাহারে করিবে ক্ষমা, বীর যুধিষ্ঠির ?
;
;
জড় তুমি, জায়াজীবী শৈলুষ সমান
মৃত তুমি হারায়েছ ক্ষত্রিয়-জীবন
ভীত তুমি, দুর্যোধনে হেরি বলবান ;
স্তব্ধ তুমি, জ্ঞানহীন অনাৰ্য যেমন।
হেরি তব ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম ওহে ধৰ্ম্ম-রাজ,
পরিহাস করি হাসে মানব সমাজ।
T
তীর্থ-মঙ্গল
ছায়া সম, ভৃত্য সম, আছে কাছে কাছে
ভ্রাতৃতুষ্টয় তব; করেনা লংঘন
তােমার বচন তারা। তাই শত লাজে
আছে মাথা নুয়াইয়া। তােমার চরণ
সেবিতে সহিছে যারা এ ক্লেশ দুর্গতি
নাহি কি করুণা তব তাহাদের প্রতি ?
ভীমের ভীষণ গদা হইলে ঘূর্ণিত।
কাপে বিশ্ব চরাচর। বীর বৃকোদর
সবংশে নৃশংস শক্র করি বিদলিত
এখনি আসিতে পারে, যদি সুধীবর
একবার দেহ তুমি যুদ্ধে অনুমতি।
কৃপাকর কৃপাময়, হে পাণ্ডব-পতি।
পাণ্ডব-কলঙ্কে আজি ম্রিয়মান মুখে
অর্জুন কাটিছে রেখা হের ধরাতলে।
বিলুষ্ঠিত ধনুঃশর, অপমানে দুখে।
জাগে যদি সুপ্ত সিংহ, পারে অবহেলে
বিনাশিতে কুরু মৃগ।
করহ রাজন
ইঙ্গিতে জাগ্রত তারে এহি নিবেদন।
তীর্থ-মঙ্গল।
ব্যাকুল অন্তরে যবে নকুল আসিয়া
ম্লান মুখে মৃদুস্বরে জিজ্ঞাসে বিজনে—
কবে যাব যাজ্ঞসেনী এ বন তেজিয়া,
অঞ্চলে ঢাকিয়া মুখ বসিগো রােদনে।
দুহে কঁাদি এক সাথে। এ দুঃখ অপার
নিবারিতে পার সুধু আদেশে তােমার ।
সানিতে আসে মােরে সহদেব যবে,
রুদ্ধ কণ্ঠে লুকাইয়া মম বক্ষঃতলে
আপনি সে কাঁদে প্রিয়। এ দুঃখ আহবে
ক্ষত বক্ষে কঁাদি সবে । জানি বাহুবলে
পার তুমি উদ্ধারিতে সৌভাগ্য বিভব ;
পার তুমি প্রতিষ্ঠিতে পাণ্ডব-গৌরব।
যুদ্ধ বলি
ভারতের প্রজাকুল, ধৰ্ম্ম
হইবে সহায় তব। কুরুবৃদ্ধগণ
করিবেন আশীর্বাদ। দেব-বলে বলী
হইবে তােমরা সবে। ভারত ভুবন
হবে তব পদানত, লভিবে বিজয়।
যথা ধৰ্ম্ম তথা জয় হইবে নিশ্চয়।
খণ্ডগিরি ও উদয়গিরি।
h
(১)
এই সেই খণ্ডগিরি, উদয়-অচল,
নির্বাণ মুমুক্ষু বৌদ্ধ ভিক্ষুর বিহার।
প্রভাত-চেতনা লাগি
বিশ্ব উঠিয়াছে জাগি,
কিন্তু হেথা নাহি শুনি প্রাণী কোলাহল
নির্বাণ মন্ত্রে কি স্তব্ধ সবি হেথাকার ?
( ২ )
পর্বত প্রান্তরে বনে প্রভাত কিরণ
মৃদু সমীরণ সহ করে সন্তরণ ;
কোথাও তাকে না পাখী,
অতি ধীরে কাপে শাখী ;
অতি ধীরে একা সেথা করিছি ভ্রমণ ;
প্রভাত দেখিনি কভু নিঃশব্দ এমন।
যত দূর দেখি চেয়ে,
রয়েছে আলােকে নেয়ে
পর্বত প্রান্তর আর সেই এক বন ।
শান্ত আজি প্রাণ, হেরি নির্বাণ ভুবন।
তীর্থ-মঙ্গল।
( ৩ )
শাস্ত, শূন্য, মুক্তিস্তম্ভ গুহা বিরাজিত।
অক্ষয় পালি ভাষায়
মুক্তিমন্ত্র লেখা তায় ;
কোথা বা বৈরাগ্য মূৰ্ত্তি পুত্তলে খােদিত।
কিন্তু কোথা অন্তর্ধান
ভিক্ষুর পবিত্র প্রাণ?
পিশাঁচের হাতে কিরে মরিল দেবতা ?
আজিরে সজল নেত্রে
জিজ্ঞাসি এ যােগ ক্ষেত্রে
আছ কি তােমরা যােগী লুকাইয়া কোথা?
নির্বাণ মন্ত্রে কি হায়
পরাণো নিবিয়া যায় ?
কিছু নাহি শেষ তার, নিবেছে সকল ?
নির্বাপিত শুদ্ধ বুদ্ধ সন্ন্যাসীর দল ?
দেবপ্রিয় প্রিয়দর্শী জম্বুদ্বীপ পতি
হে অশােক, কোথা তব পুণ্য রাজধানী ?
অতীতের গাঢ়ধূমে
আবৃত ভারতভূমে
কোথা সে মহিমাময় করুণা-শকতি ?
সবজীবে দয়াময় দীপ্ত ধৰ্ম্ম-বাণী ?
৩৪
তীর্থ-মঙ্গল।
বিধিলিপি অপরূপ,
অশীতি সহস্র স্তুপ,
ভগ্ন স্তরের দেহে চিহ্নমাত্র সার।
দুরন্ত কালের গ্রাসকরাল, দুর্বার।
কোথা পর্যন্ত সীমা মহিষামণ্ডল ?
নগর পাটলিপুত্র ?
নাহি তার চিহ্ন মাত্র।
কোথা সে একাত-পত্র প্রভুতার বল ?
কারুণ্য বিস্তার করি
এ ভারত পরিহরি,
কোথা গেলে ? ফিরে আজি এস একবার।
পাইয়ে পবিত্র স্পর্শ
জাগুক ভারতবর্ষ ;
জাগে যার ঘরে ঘরে, সুধু হাহাকার।
আবার সে হিংসা দ্বেষ
আসিয়া পূরিছে দেশ;
শুক্ল কৃষ্ণে জাতিভেদ ঘটায় প্রমাদ।
বিস্মৃত করুণা ভক্তি,
জাগিছে পাশব-শক্তি,
দরিদ্রের অন্ন ধনী করে আত্মসাৎ।
তীর্থ-মঙ্গল।
.
ভারতের দুঃখ হেরি
আবার এস গাে ফিরি ;
দুঃখ-নিপীড়িত জনে দেহ গাে অভয়।
করহ জগৎ ধন্য,
শিখা ও গৌরব পূর্ণ
ভারতের ধর্ম নীতি রাজনীতি চয়।
নিত্য প্রেম ভরে আসি
স্বদেশ বিদেশবাসী
গাহিবে শান্তির জয় প্রেমধ্বজা তুলে ;
জুড়াবে তাপিত বক্ষ,
লভিবে নির্বাণ মােক্ষ ;
সবে হবে ভাই ভাই হিংসা দ্বেষ ভুলে।
উদয়াদিত্য।
(১)
প্রভাসি অতীত উদয়-অচল
উদয়াদিত্য উদিলরে ।
নবীন বঙ্গ করিয়া উজল
নব বিভাকর ভাতিল রে
করহ ফুল্ল কুসুম চয়ন
চরণে ঢালিব অর্ঘ্যরে।
শতেক যুগের দুরিত দমন
করিয়া লভিৰ স্বৰ্গরে।
আজি এ বঙ্গ ভুবনময়,
গাহরে উদয়াদিত্য জয়।
ঢালরে চরণে কুসুমচয়
ভক্তিনম্র অন্তরে।
শ্ৰীমতী সরলা দেবী কর্তৃক অনুষ্ঠিত উৎসৱে গীত।
তীর্থ-মঙ্গল।
(২)
বঙ্গের মুখ-গৌরব ছবি
হেরি পুলকিত চিত্ত ?
আজিরে উদয় অচলের রবি
উদিল উদয়াদিত্য।
ঝলিতেছে করে খরতরবার
প্রখর রৌদ্রদীপ্ত ;
নয়নে জ্বলিছে উজ্জ্বল তার
সংহার রবি দৃপ্ত।
অমিত বীৰ্য্য মহিমাময়
জয় হে উদয়াদিত্য জয়।
পরশি চরণ ; দেহ ভয়
শৌর্য-দীপ্ত হন্তরে।
(৩)
শ্রাবণ-গগনে জীমূত-মন্দ্র
যেমন গভীর বাজে,
মুথিয়া ভুবন শৈল-রন্ধে,
ঝটিকা যেমন বাজে,
তীর্থ-মঙ্গল।
তেমনি গভীর তেমনি ভীষণ
উঠুক বাজিয়া গীতি;
উঠুক কঁপিয়া কানন গহন,
উঠুক কঁপিয়া ক্ষিতি
আজিরে গগন ভুবনময়
গহরে উদয়াদিত্য জয় !
ভক্তি বীৰ্য শৌৰ্য্যচয়
পূর্ণ করিরে অন্তরে
.
জ্বালামুখী।
ভারতে বিরাজে সুধু তীর্থ জ্বালামুখী ;
দগ্ধ অন্য পুণ্যধাম পিশাচ-নিঃশ্বাসে ।
ব্রহ্মনাম শূন্য আজি এ ভূমি নিরখি
পদ-তলে দলে প্রেত ধরম-বিশ্বাসে।
দুরিত-হারিণী নাহি ভক্তি-স্রোতস্বতী,
নাহি শান্তি-তপােবন তপস্যায় পূত,
নির্বাপিত চিরতরে সাধনা-শাশ্বতী,
প্রাণের দেবতা আজি প্রেমাসন-চ্যুত।
;
আনন্দমন্দির ভগ্ন। ইস্টকের রাশি
বেষ্টিয়া রয়েছে ক্ষেত্র ধ্বংস সাক্ষী-রূপে ;
সেহি ধ্বংসপুরমাঝে বসি দেশবাসী
অতীত গৌরব স্মরি কঁাদে চুপে চুপে।
বিন্দুমাত্র তাপ যদি হৃদয় দহিয়া
বাহিরিতে চাহে কভু নিঃশ্বাসের সাথে,
রুদ্ধকণ্ঠ যদি কভু যাতনা বহিয়া
ফুটিয়া কহেরে কথা; প্রেত-পদাঘাতে
তীর্থ-মঙ্গল
চূর্ণ হয় বক্ষঃস্থল, বিলুপ্ত চেতনা।
নিঃশব্দে শ্মশানক্ষেত্রে ঘাের অন্ধকারে
বিরচে আপনা চিতা আপনি যাতনা।
জ্বলে তীর্থ জ্বালামুখী জ্বালি আপনারে ।
জাল তুমি জ্বালামুখী তীর্থ, ভারতের
বেদ বেদান্তের কথা, ধৰ্ম্ম, ভক্তি, প্রীতি,
বীরকীৰ্ত্তি, প্রেমগীতি, গাথা আনন্দের,
জ্বালাও অতীত সাক্ষী গৌরবের স্মৃতি।
No text on this page.
乘染外染染条然跟兔兔來张染染染染,
মুগ-পুজা
বা
ধৰ্ম্মভাব বিকাশ।
杂杂杂杂杂杂杂杂杂杂杂杂杂噪杂染染染
পিতরৌবন্দে।
অনু ক্রমণিকা ১। মানবসমাজ একদিনে সভ্যতা পদবীতে অধিরােহণ করে নাই। বীজ, এক দিনেই অঙ্কুরিত হইয়া ফুলফল শােভিত বৃক্ষে পরিণত হইতে পারে না। সকলই কালসাপেক্ষ। আমরা এ যুগে যে জ্ঞানের ফলভোগ করিতেছি, হয়ত প্রাথ- মিক মনুষ্য সমাজে তাহার বীজ মাত্র উপ্ত হইয়াছিল ; হয় ত বহু শতাব্দী পর্যন্ত সে বীজ কেবল অঙ্কুরিত হইয়াছিল; এবং পরে কালবশে পত্ৰ পুষ্প সমন্বিত বৃক্ষে পরিণত হইয়াছিল। এখনকার সভ্যজগতে ধৰ্ম্মবিশ্বাস যেরূপ আকার ধারণ করি- আছে, অথবা সুসংস্কৃত মানব-হৃদয়ে যেরূপ আকার ধারণ করিতে পারে, মানব-সমাজের প্রথমাবস্থায় তাহার লেশ মাত্রও ছিল তবে কিরূপভাবে ছিল, এ সম্বন্ধে মতভেদ আছে। এক পক্ষ, এই কথা সমর্থন করিতে চাহেন যে, মুসংস্কৃত রূপেই হউক, অথবা অসংস্কৃত রূপেই হউক, ধর্মভাব বা ঈশ্বর প্রত্যয়, সকলকলে এবং সকল স্থানেই, মনুষ্য হৃদয়ে বাস করিতেছে। অন্য পক্ষীয়েরা বলেন যে, সমাজের অতীব আদিম অবস্থায় ঈশ্বর-প্রত্যয় বিকশিত হইতে পারে না। ইহারা দৃষ্টান্ত স্বরূপ কোন কোন অসভ্য জাতির ঈশ্বর-প্রত্যয়-হীনতা প্রদর্শন করিয়া থাকেন। কিন্তু এই প্রকার যুক্তিতে একটি ছিদ্র থাকিয়া যায়। আমাদের সুসভ্য এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক সংস্কার লইয়া, আমরা, সহসা অসভ্যজাতির ভাব হৃদয়ঙ্গম করিয়া উঠিতে । ৪৫.
যুগপূজা। পারি না। সুতরাং এই সিদ্ধান্ত, পরীক্ষিত হইবার সম্ভা- বনা। এরূপ স্থলে কোন একটা স্থির সিদ্ধান্ত, সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক। যাহা হউক, কাৰ্যতঃ উল্লিখিত মতদ্বয় অবি- রােধী। কারণ, এক পক্ষে যখন এ কথা স্বীকৃত হয় যে, প্রথমাবস্থায় ধর্মভাব অসংস্কৃত এবং অবিকশিত অবস্থায় থাকে, তখন মানব-হৃদয়ের ধর্মভাবের ইতিহাস লইতে গেলে, যে সময় হইতে ধর্মভাব কথঞ্চিৎ স্ফটভাব ধারণ করিয়াছিল, সেই সময় হইতেই গণনা আরম্ভ করিতে হয়, এবং তৎপূৰ্ব সাময়িক অবস্থা, দুর্বোধ্য বলিয়া পরিত্যাগ করিতে হয়। অন্য পক্ষে আবার, যখন একটা নির্দিষ্ট সময়ে ধৰ্ম্ম ভাবের উৎপত্তি অঙ্গীকৃত হয়, তখন উৎপত্তির পূর্বে, “উপ্তবীজ” কি প্রকারে অস্বীকৃত হইতে পারে ? “কিছুনা” হইতে কিছুর উৎপত্তি:কল্পনা, অসিদ্ধ। যে কোন পক্ষ হইতেই ধর্মভাব মনুষ্যের পক্ষে স্বাভাবিক বলিয়া প্রমাণিত হয়। ধর্মভাবের ক্রম বিকাশের প্রসঙ্গে আর একটি কথা স্মরণ রাখা ভাল। ধর্মভাব মনুষ্য- হৃদয়ের শ্রেষ্ঠতম ভাব, সুতরাং উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে যে এ ভাবেরও সমধিক উন্নতি সাধিত হইয়াছে, তাহা মানিয়া লইলে কাহারও ক্ষতি হইবার সম্ভাবনা দেখি না। ২। কোন এক বিশেষ অবস্থায়, মনুষ্যের মনে প্রথম ধৰ্ম্ম- ভাব বিকশিত বা কথঞ্চিৎ পরিস্ফুট হইয়া উঠিয়াছিল। কিন্তু সেই বিকাশের প্রণালী কিরূপ ; কিরূপে ধাপে ধাপে একটি ভাবের পর অন্য ভাব বর্ধিত হইয়াছিল, এ সম্বন্ধেও অনেক মতভেদ আছে। অত তর্কে প্রবেশ করিবার এ স্থান নহে। এই বিকাশ প্রণালীর যে মতটি আমার নিকট অধিক যুক্তিযুক্ত .৪ t যুগপূজা। বলিয়া প্রতীত হইয়াছে, আমি তাহারই চিত্র অঙ্কিত করিতে চেষ্টা পাইয়াছি। বলা বাহুল্য যে, আমি স্থূলতঃ ইংরাজ দার্শনিক হবট স্পেন্সারের পদানুসরণ করিয়াছি। ৩। বৰ্ব্বরের প্রেত পূজা হইতে কোমতের সমাজ পূজা পৰ্য্যন্ত,সৰ্ব্বত্র এই একটি ভাব বিশেষরূপে পরিলক্ষিত হয়,যে পূজা করিবার প্রবৃত্তি মানুষের মনে স্বাভাবিক। তবে জ্ঞান বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে,“পূজ”যে বিভিন্ন আকার ধারণ করিবেন,তাহার আর আশ্চৰ্য্য কি? বরং বিকাশ বুঝিতে গেলে এইরূপই বুঝিতে হয়। ৪। প্রকৃতি পূজা হইতে অদ্বৈত পূজা পর্যন্ত, যে সকল কথা লিখিত হইয়াছে, তাহাতে লােকের মনে এই ভ্রম জন্মিতে পারে যে, আমি ভারতবর্ষীয় ধর্মের ক্রমবিকাশই বিবৃত করিয়াছি। বাস্তবিক তাহা নহে। বিকাশের চিত্র অঙ্কিত করিতে গিয়া, যে যে স্থানে দেশীয় ছবি প্রাপ্ত হইতে পারিয়াছি, সেই সেই স্থানে তাহাই অবলম্বন করিয়াছি মাত্র। ভারতবর্ষের আর্যজাতির মধ্যে, প্রেতপূজা ও প্রাণীপূজা সম্পূর্ণ দৃষ্ট হয় না। কিন্তু কোন কোন শাস্ত্রে এবং অনেক ব্যবহারে তাহার চিহ্ন পাওয়া যায়। পূজার চিত্রে পাঠকগণ তাহার আভাষ পাইবেন। প্রেতাত্মা, প্রকৃতি শরীরস্থ হয় মনে করিয়া যে, প্রথমতঃ প্রকৃতি পূজার আরম্ভ হইয়াছিল, তাহারও পৰ্যন্ত নিদর্শন আছে ; এখনও তর্পণের মন্ত্রে পর্বতাদিকে তৃপ্ত করিবার ব্যবস্থা আছে। মানবের মন সর্বত্রই একরূপ ; সুতরাং সাধারণতঃ ধৰ্ম্মবিকাশ প্রণালীও এক সাধারণ নিয়মের অন্তর্গত। মধ্যবর্তী নরহরি পূজায়, ভারতবর্ষীয়দিগের অবতার পুজার সঙ্গে সঙ্গে খ্ৰীষ্টীয়ানদিগের খ্ৰীষ্টপূজাও উল্লিখিত হইয়াছে।
যুগপূজা।
খ্ৰীষ্ট প্রবর্তিত ধৰ্ম, একেশ্বরবাদ। কিন্তু যখন শিষ্যেরা তাহাকেই
উপাস্য করিয়া তুলিয়াছেন, তখন সেই অংশের হিসাবে, তাহা
দিগকেও অন্যান্য সমভাবাবলম্বীদিগের সহিত সংযুক্ত হইতে
হইয়াছে।
৬। নিকৃষ্ট শ্রেণীর অদ্বৈতবাদ এবং নাস্তিকতা অত্যন্ত
নিকট সম্বন্ধে সম্বদ্ধ। জগতও যাহা, ঈশ্বরও তাহা; এ কথা
মানিয়া লইলে, তর্কের হাতে ঈশ্বর টিকিতে পারেন না। তখন
জগৎকেই স্বীয় ক্ষমতায় স্থিত বলিয়া তর্কে দাঁড় করান যাইতে
পারে। এইজন্ট, ঐ প্রকারের অদ্বৈতবাদের পরেই কোমতের
নিরীশ্বরবাদ ও সমাজ পুজ। সন্নিবিষ্ট হইয়াছে। শ্রেষ্ঠ অদ্বৈতবাদ
উহা হইতে ভিন্ন।
অজ্ঞেয়তাবাদের পর হইতে যে আমি স্পেন্সরের সঙ্গ পরি-
ত্যাগ করিয়াছি, তাহা বলিবার প্রয়ােজন নাই।
১ম, সং, ২রা অগ্রহায়ণ, সংবৎ ১৯৪৮)
দ্বিতীয় সংস্করণ সং ১৯৬১
যুগপূজা।
শৈশব যুগ।
প্রেতপূজা।
( উদ্বোধন)
লুকান মানুষ আছে মানুষের মাঝে
সদা সচেতন ; *
বন্ধ থাকে দেহে শুধু, যবে মােরা কাজে
থাকি নিমগন।
ভূমি পরশিয়ে সঙ্গে চলে অনুক্ষণ,
মিলে আলোকে ; (১)
দেখি তারে নদ জলে করে সন্তরণ
বড়ই পুলকে। (২)
চেকে ফেলে মাঠ ঘাট গৃহ আর বন
যবে অন্ধকার,
* ছায়া প্রতিবিম্ব স্বপ্ন প্রভৃতি হইতে মানুষের ভিতরে আর এক মানুষ
আছে, এই ভাব জন্মে।
(১) ছায়া দর্শন। (২) প্রতিবিম্ব দর্শন।
যুগপূজা
নিদ্রায় কুটীরে আসি ই অচেতন,
দেখি চমৎকার !
লুকান মানুষ সে যে, করে পলায়ন (৩)
*
পাইয়ে সুযােগ,
ভ্রমি এমি একা একা প্রান্তর কানন
করে খাদ্য ভোগ।
বড় লােভী, বড় ধূৰ্ত্ত, বধে কত প্রাণী
সেই অন্ধকারে ;
এড়ায়ই শত্রুহাত ফিরে আসে জানি
আবার অগারে।
কভু বনে কভু ঘরে দিনের বেলায়
করে পলায়ন ; (৪)
ছাড়া হােলে তার সঙ্গ দেহ পড়ে যায়
হয়ে অচেতন।
অনেক ডাকিলে পর আসে অবশেষে
দেহে সংজ্ঞা হয়।
না জানি সে অবকাশে ভ্রমে কোন্ দেশে ;
মরিরে বিস্ময়।
এমন যে ধূৰ্ত্ত দুষ্ট, কেমনে তাহারে
বল দেখি ভাই,
ভুলাইয়ে বন্ধ রাখি দেহ কারাগারে,
সদা ভাবি তাই।
১
(৩) স্বপ্ন দর্শন। (৪) মুচ্ছাদি বর্ণন।
খুগপূজা।
যদি গো পালায়ে যায়, নাই আসে আর ?
কি হবে তখন?
তাই বলি সাবধানে তুষ্ট রেখো তার
করিয়ে যতন। (১)
(১) ঈশ্বর প্রত্যয় পরিস্ফুট হইবার পূর্বাহ্নে পরলোক এবং আত্মার
জ্ঞান এই রূপে বিকশিত হয়।
প্রেতপূজা।
(পূজা)
[ মৃত দলপতির যত্নরক্ষিত দেহ লইয়া ]
উঠ, জাগ, কথা কও, এই ধনুর্বাণ লও,
দলপতি, ঘুমাগােনা আর।
দেখ গো প্রান্তর-কোলে অগ্নির ব ল দোলে,
পুড়িয়া গিয়াছে অন্ধকার।
চেয়ে দেখ হল বেলা,
মাঠে পশু করে খেলা,
পলাইবে কিছু কাল পরে ;
নাড়িয়া নাড়িয়া ডানা,
সঙ্গে লয়ে কত ছনি।
উড়ে পাখী মাথার উপরে।
এই লও ধর তীর, কাট শূকরের শির,
মৃগগুলি করগাে সংহার ;
আগুনের তাত দিয়া ধীরে ধীরে চিবাইয়া
খেতে ভালবাগ মাংস যার।
তবু নিদ্রা নাহি যায় ? বুঝি ক্ষুধা পিপাসায়
শান্ত দেহে অছি অচেতন।
দলপতি, উঠ তবে, মাংস আনিয়াছি সবে,
দেখ কত করি অয়ােজন।
নিদ্রাবশে অচেতন
করিয়ে যে (১) ভূমে বন,
করিবারে পশুর নিধন,
* মূচ্ছার পর যেমন অনেক ডাকিলে চৈতন্য হয়; প্রথম মৃত্যু দর্শনে
মৃত্যুর পরে সেইরূপ হইবে আশা করে।
যুগপূজা। প্রভাতে ফিরিয়া অাসে পুনরায় দেহবাসে, পুনরায় দিতে জাগরণ ; সে কি দুল পথ হারা (১)? অথবা কে দিল কার। পৰ্বতের নিভৃত গুহায় ? নিত্য সে(১) অসিত ফিরে, পথ ভুলিয়াছে কি রে, যাওয়া আসা যার ব্যবসায় ? ধরি কে রাখিবে তায় ? সে তো শূন্য পথে ধায়, গৃহ-ভেদ করে চমৎকার। থাকে যবে দূর বনে ডাকিলেই সেই ক্ষণে ফিরে আসে তিলেকে আবার। এবার কি হল রাগ, কিছুতে না মানে বাগ ; হায় কোথা করিছ বিহার ? মৃগের মাংসের প্রায় দেহ যে পচিয়া যায়, ফিরে বুঝি আসিবে না আর । দেহ-বাস, ঘর বাড়ী, আত্মীয় স্বজন ছাড়ি, ভ্রম কিরে পর্বতে প্রান্তরে ? তা না হলে যবে তথা কথা কই, শুনি কথা কে যেন কহিছে প্রত্যুত্তরে ! মােরা বলি “দলপতি *এস এস শীঘ্রগতি” “পতি” “গতি” তুমি বল ফিরে ; আছ যদি এস তবে, আগ্রহে ডাকিছি সবে, কি সুখ সে হিমগিরি শিরে ? । [১] আত্মা ;-স্বপ্নে শরীর হইতে স্বতন্ত্র দ্বিতীয় আমি জ্ঞান অধিক পরিস্ফুট হয়।
যুগপূজা যথা তথা মাংস রাখি, সদা নাম ধরে ডাকি, কিছুতে না দেও দরশন ; যা বলিবে তা করিব, শত্ৰুশির কেটে দিব, শক্ত মাংস করাব ভোজন। স্বদলের কারো প্রতি ক্রোধ হইয়াছে যদি, বল, তারে করিয়ে সংহার সদ্য শাল পাতা পেতে, যত্নে এনে দিব খেতে তপ্ত তপ্ত রুধিরের ধার। হারনু তোমার বল, এখন যে শক্রদল নিত্য অসি ঘটায় প্রমাদ ; তােমার শাসন ভয়ে, ছিনু সবে এক হয়ে, এখন যে বাড়িছে বিবাদ ! দুর্বল হয়েছি সবে, না জানি গো কিবা হবে, শত্ৰুহাতে মরিব এবার ; কি করিলে বল পাই, নাই এলে, বল তাই সঙ্গে থাক, কর উপকার। বুঝেছি বুঝেছি সার, তুমি না আসিবে আর ; বেছে লব নব দলপতি ; তব ধনুর্বাণ দিয়ে, তর মাংস খাওয়াইয়ে, করি তারে বলবান অতি। দেহ তব হল ধ্বংস, লয়ে তারি কিয়দংশ, আজ্ঞা কর—অামরাও খাই তা হলে বাড়িবে বল, পরাজিব শত্রুদল, বাড়ে বেলা আজ্ঞা দেহ যাই। •
প্রাণীপূজা।
[ বা প্রেতাত্মার প্রাণীদেহ-সংক্ৰমণ কল্পনা ]
( উদ্বোধন )
শত্রু মিত্র সবে মরি,
নানাবিধ রূপ ধরি
চারি দিকে করে বিচরণ।
কেমনে করিয়ে লক্ষ্য,
বুঝিব কে শত্রুপক্ষ,
কাহারে বা করিব নিধন ?
দূর বনে ফিরে যারা
শত্ৰু বুঝি হবে তারা,
মিত্র কুল ফিরে কাছে কাছে ;
পোষ মানে গৃহে থাকে, অনিষ্ট করে না কাকে,
মিত্র তারা ভুল কিবা আছে।
তাই বা কেমনে হবে,
শুন,এক কথা তবে,
কহিলে যা মানিবে বিস্ময়!
আমাদের রাণী যিনি, বনে তিনি একাকিনী
ভ্রমিতেন সতত নির্ভয় ;
সিংহরাজ পেয়ে তারে,
লইয়া নিজ অগারে,
করেছিল আপনার রাণী।
তাই ত এ বলবান,
হৃষ্টপুষ্ট সুসন্তান,
জনমিল, শুনি এই বাণী।
সিংহ যদি শত্রু হয়,
তা হলে কি, শত্রুক্ষ
করিবার নিদান স্বরূপ,
.
যুগপূজা। রূপে গুণে চমৎকার, তেজোশালী সুকুমার, পাইতাম ভবিষ্যৎ ভূপ? সর্প আসি সবে দংশে, তাহারাও রাজবংশে, বন্ধুভাবে উপকার করে ; একদিন রোদে ফেলে রেখে দিয়ে শিশু ছেলে, রাণী নাকি গেছিলেন ঘরে ; দীর্ঘফণ। বিস্তারিয়া, সর্প তারে ছায়া দিয়া রেখেছিল পরম যতনে। হিংস্ৰজাতি যদি নিত্য, মোদের রাজার ভৃত্য, কেবা শত্রু, বুঝিব কেমনে? অরণ্যে আকাশে জলে, কত কত প্রাণী চলে, সংখ্য। তার নাহি পায় কেহ ; কিন্তু হেরি প্রাণীচয়, কে সামান্য কেবা নয়, জানা যায় দেখিলেই দেহ। লক্ষণেতে অনুমানি কোটি শুধুই প্রাণী, কোটির দেহে “মৃত”, অনায়াসে জানিবার সাধ্য আছে সবাকার ; (১) তা ছাড়া বুঝিনা আত্মপর”। ভেদ জ্ঞানে কাজ নাই, মিলে মিশে সবে ভাই, এস তুষি, সবারি আহারে ; সকলেই অনায়াসে, প্রবেশিয়ে লোক বাসে, পারেগগা অনিষ্ট সাধিবারে। (১) পরবর্তী পূজা” দেখ।
প্রাণীপূজা।
( পূজা )
(১)
দেখ রে ফুলের গায়, ফুল সম শোভা পায়,
কত প্রজাপতি।
চুয়েনা ধরােনা তায়,
মরিবে নখের ঘাম,
সুকুমার অতি ।
আহা রে কেমনে ভুলি, চঁদ চঁাদ ছেলে গুলি
গিয়াছিল মরে ;
সদাই ফুলের বনে,
বেড়াত অানন্দমনে,
রহিত না ঘরে ;
তারাই এসেছে ফিরে, উড়ে উড়ে ধীরে ধীরে ;
ছুয়ােনা উহায় ।
আয় তোরা আয় আয় ; বসে রে আমার গায়!
ওই উড়ে যায় !!
ধর রে ধর রে তবে, আর দেখা পাবে কবে ?
ভাল যা যাক।
ওই গেল মাঠ পারে ; আবার আসিতে পারে,
হেথ! বোসে থাক।
(২)
দেখ দেখ আরবার, দেখ কি চমৎকার,
গাছের শাখায়
যুগপূজা
কেমন চিত্রিত পাখা, গায়ে যেন তারা অকা,
আয় পাখী আয়।
বুঝিতে কি আছে বাকী ? আজি হয়েছিসপাখী,
তবু মায়া আছে ?
পালাইয়ে যাবে বনে, ধােয়ে আন্ এই ক্ষণে।
রাখি কাছে কাছে ।
যে ঘর ছাড়িয়ে গেলি, সে ঘরে কর রে কেলি।
ওই যে পালায় ।
যত্ন নিব দিনে রেতে, যা চাহিবে দিব খেতে।
আয় ফিরে আয়।
এত কোরে কঁাদাইয়ে
বড় দুঃখে ভাসাইয়ে
জননী আমার
মারিয়া গেছিলে চলে ;
ভুলিতে পারনি বলে
এসেছ আবার।
মুখে তা কেমনে কব,
না পাইয়ে দুগ্ধ তব
যে ক্লেশে গোয়াই ।
মা তোমার স্নেহ অতি হয়ে গাভী দুগ্ধবতী
আসিয়াছ তাই।
খাও নব তৃণ দল,
খাও সুশীতল জল,
থাক সুখে ঘরে ;
এবে এই নিবেদন,
আর যেন মা কখন,
যেয়ােনাকো মরে।
৫৮
যুগপূজা।
(৪)
ওই যে কর্কশ স্বরে, কাক ডাকে কাকা করে ;
পারিনি বুঝিতে ?
পূর্ব পুরুষেরা যারা শুষ্ক কষ্ঠে গেল মারা,
সংগ্রামে যুঝিতে,
তারাই এসেছে সবে,
দেখিতেছি, কলরবে
আহারের তরে।
নবান্ন ঢালিয়ে পাতে মাছ মাংস তার সাথে
দেও ভক্তি ভরে।
হেথায় বিড়াল ডাকে, থেতে কি দিয়াছ তাকে?
ওর (ও) ক্ষুধা বাড়ে;
কুকুর দাঁড়ায়ে আছে, ও যে থাকে সদা কাছে,
রেতে শক্র তাড়ে ;
ও তরে আরাে ঢাল, ও যে মাংস বাসে ভাল,
দে ও যাহা চায়।
অবিশিষ্ট আছে যাহা, দেরে ছড়াইয়া তাহা,
থাকূ যে যথায়।
২। বাল্যযুগ।
(ক) প্রকৃতি পূজা। (১)
( উদ্বোধন)
কেতুং কৃর্ণন্ন কেতবে পেশােয়া অপেশসে।
ওঁ সমুষছিরজায়থঃ ॥ ঋগ্বেদ, ১ম মণ্ডল, ৬ সুক্ত, ৩।
অম্বরে বিভাতিল প্রভাতের দীপ্তি ।
সংজ্ঞা উঠিল ফুটি টুটিলরে সুপ্তি।
বিহঙ্গ সঙ্গীত গাহে নব ছন্দে
বহিছে সরস্বতী অমিত আনন্দে।
সুধা-ধরা দেবতারা অনুরাগে যাচিছে
তুলি মাথা সােমলতা রসভরে নাচিছে।
নবীন প্রভাতে আজি সুরকুল বরণে,
ঋত্বিকগণ চল সত্বর চরণে।
[১] প্রকৃতি পূজায় অধিকাংশ স্থলেই ঋগ্বেদের ঋক বিশেষের
পদানুবাদ করা গিয়াছে।
১। অগ্নিপূজা। (পূজা) ( প্রয়ােজনীয় পদার্থ পূজা।) " “স্বচৰা নঃ স্বস্তয়ে” ঋগ্বেদ, ১ মণ্ডল, ১ সূক্ত, ৯ ঋকের শেষপাদ । হে অগ্নি তােমার ভয়ে, আমাদের এ আলয়ে হিংস্র শক্র করে না প্রবেশ ; পূর্বে প্রকাশিল ভাতি, নির্বিঘ্নে কাটিল রাতি, তব গুণ কে জানে বিশেষ । কে আছে তোমার সম, তুমি দেব সৰ্ব্বক্ষম ; প্রাণী, শত্রু, বন, যারে ধর- পােড়াইয়া কর ছাই হেন শক্তি দেখি নাই। সৰ্ব্বস্থলে তুমি বাস কর। অসহায় বনে পড়ি, কাষ্ঠ ঘরষণ করি ডাকিলেই দেও দরশন ; সৰ্ব্ব ব্যাপী হে আগুন, কে বর্ণিবে তব গুণ? ঘৃত কাষ্ঠ করগো গ্রহণ। ওহে দীপ্ত রূপ ধারী, মানবের উপকারী, পশুদের ভয়ের কারণ, কর তুমি শত্ৰু ক্ষয়, দে ও ধন রত্ন চয়, লই সবে তােমার শরণ । p
;
২। সুৰ্যপূজা।
(পূজা)
( সুন্দর ও প্রয়োজনীয় পদার্থ পূজা)
“য়ামি দেবং সবিতারমুতয়ে
ঋগ্বেদ, ১ মণ্ডল, ৩৫ সূক্ত, ১ ঋক্ ।
(১)
(মালিনীবৃত্ত)
নিখিল ভুবন পাতা দীপ্তিশালী যশস্বী,
বিপদ ভয় নিহন্তা, সুন্দর, স্বর্গবাসী ;
অনুদিন গুণ গানে চিন্তনে রাখি মােরে,
জগত শরণ ভানো, বঁধহে প্রেমভোরে।
(২)
(বসন্ততিলক )
ঊষা সতী রথ লয়ে নর দৃষ্টি পারে-
স্নিগ্ধাচল ত্যজি পুনঃ ডুবিলে বিমানে,
প্রাচীতটে বিকশিত স্থূল পদ্ম রূপে,
এসাে সদা রবি তুমি জুলদশ যানে।
-
মেঘে ডুবে ঝরি পড়ে তব রশ্মি-মালা,
দীপ্ত প্রভা পরশিয়ে কম যায় দূরে ;
সংজ্ঞা ফুটে নরগৃহে হরষে প্রভাতে,
গীতি স্বরে বিহগিনী বনরাজি পুরে।
যুগপূজা।
উর্ধে অধে সবদিকে এমি শুন্য লোকে,
প্রাণীগণে তুমি সুখে কিরণের ধারে,
অস্তাচলে উঠি গিয়া পুন বিশ্ব ছাড়ি,
ঘাও চলে দিনমণি স্বরগের পারে।
(পয়ার)
দীপ্ত রক্ত বণতব মরি কি সুন্দর,
জবা কুসুমের মত হেরি নিরন্তর।
তুমি জগতের চক্ষু, জগতের প্রাণ,
সাধ তুমি অবিরত ভক্তের কল্যাণ।
ভূলোকে দ্যুলোকে স্বর্গে তব জ্যোতি বাজে,
দেখে হয় চন্দ্র তারা ম্রিয়মাণ লাজে।
বরণীয় তব জ্যোতি হৃদে ধ্যানে ধরি,
বুদ্ধিবৃত্তি ভর্গদেব, যেন লাভ করি।
কর্মদাতা সহস্রাংশু, করি নমস্কার,
কৃপা করি লও এই অর্ঘ উপহার।
৩ ( উযাপূজা)
(সৌন্দৰ্যপূজা)
(পূজা)
*সহবামেন ন উষোবুচ্ছ দুহিতর্দিব।”
ঋখ, ১ মণ্ডল, ৪৮ সূক্ত, ১ ঋক্।
খসিল আঁধার, নিবিল রজনী,
ওই হাসে উষা সুন্দরী তরুণী,
লাবণ্য চমকে মােহিয়া দিক।
এলান কবরী; সুবণ কুন্তল
উড়িছে পড়িছে করি ঝলমল,
হেরি এ সুষমা নিণি মিখ।
রথে সুসজ্জিত কাঞ্চন আসন,
কি অপূৰ্ব্ব শােভা করেছে ধারণ,
তাহে ষােড়া ঘোড়া সুন্দর দুটি।
প্রসারি সুন্দর চম্পক অঙ্গুলী,
নাড়িছেন ধীরে চারু রশ্মি গুলি
ধীরে ধীরে রথ চলিছে ছুটি।
সুগন্ধি মধুর লও সােমরস,
সবাকার অাগে কর গো পরশ,
ওগাে স্বরগের অদুরে মেয়ে!
তােমারি সন্তোষে তৃপ্ত দেবগণ,
৬৪
যুগপূজা।
মধু মাখা তব ওচারু বদন
আননে সবাই দেখেরে চেয়ে
তুমি সােমরস পরশিলে সতি,
গৃহে গৃহে অগ্নি জ্বলে শীঘ্রগতি,
বনে বনে করে বিহগ গান।
পুলকেতে ভাসে মােদের হৃদয়,
তব তৃপ্তি সুখে সবে তৃপ্তি হয়,
ধর তবে ধর, করগো পান।
০
৪ ( বায়ুপূজা )
( প্রয়ােজনীয় এবং ভীতি-উৎপাদক )
(পূজা)
"নি বো যামায় মানুষে দব্র উগ্ৰায় মন্তবে। জিহীত পর্বতে। গিরি”
ঋগ্বেদ, ১ মণ্ডল, ৩৭ মুক্ত, ৭ ঋক।
(মন্দাক্রান্তা)
স্বর্গে শূন্তে বিজন বিপিনে প্রান্তরে শৈল দেশে
লােকাবাসে সজন নগরে জীবনিশ্বাস মূলে
বায়ু, ক্রীড়া কর তুমি সদা জীবনীশক্তি রূপে।
সৰ্বব্যাপী, তব গুণ কথা বণিতে নাহি পারি।
চিত্রে আঁকা যুগ যুথি রথে, আয়ুধে ভূষি অঙ্গ,
যুদ্ধে যাত্রা কর তুমি বলী, বাজিয়ে রঙ্গমল্লী (১)।
তীব্রাঘাতে তব দৃঢ় কশা, শকিলে কঁপি ত্রাসে ;
কে আছে এ ভুবন নিয়ে শত্রু তোমার বায়ু?
স্পর্শে কঁপে গিরি তরু নদী, মেঘ ছােটে বিমানে,
স্তব্ধ প্রাণে নর তব পদে অর্ঘ্য চালে তরাসে;
রক্ষাকর্তা, করি তুমি কৃপা, রক্ষহে ভক্তবর্গে ;
ভ্ৰষ্টাচারী খল অরি সবে সাধ সংহার গর্বে ।
(১) রঙ্গমলীবাশী।
যুগপূজা।
পূজা স্তোত্রে পুলকিত হয়ে, হে বলী কামরূপী,
এসো,ভূমে গ্রহি নবতনু স্নিগ্ধ মূর্তি প্রকাশি।
সন্ধ্যা প্রাতে সকল সময়ে এক চিত্তে সযত্নে,
প্রতি মাখা তব গুণকথা, গাব মােরা সহর্ষে।
৫। বরুণপূজা।
( ভীতি-উৎপাদক, উপকারী এবং সুন্দর)
(পূজা)
“মা নো বধায় হত্নবে জিহীলানস্য মীরধঃ। মা হৃণান মন্যবে”।
ঋগ্বেদ, ১ মণ্ডল, ২৫ সূক্ত, ২ ঋক ?
(১)
(তােট ক )
গগনে গুরু-গর্জন কেন কর ?
অতি ভৈরব মূরতি কেন ধর?
তব ঘূর্ণিত রক্তিম চক্ষু দিয়া
অনলের কণা পড়িছে খসিয়া।
মরি ভীষণ এ ছবি দেখি তব,
উদিছে হৃদয়ে মম ভীতি নব।
ত্যজি শূন্য, বিহঙ্গম, নীড় মুখে
চলিছে সকলে, বড় ত্রাস বুকে।
যদি বা চরণে অপরাধ কভু
করিয়াছি কিন্তু ক্ষম আজি বিভু।
দিব ভক্তি ভরে নব হব কত,
ক্ষমি পা সুক্ষ নরে সতত।
যুগপূজা।
(২)
(পয়ার)
সম্বর এ রুদ্রমূর্তি ; করগাে প্রকাশ
দয়াঘন রূপ তব, ভরিয়ে আকাশ।
বর্ষ শুধু স্নেহধারা, নমি তব পায়,
শস্য শালী হােক ধরা তোমার কৃপায়
কদম্ব কেশর লয়ে হরষিত মনে
শশাভায় পূরিয়া পৃথী, ফুটুক কাননে
ছড়ায়ে চিত্রিত পাখা, ময়ূর আসিয়া
গাবে তব গুণ গাথা, নাচিয়া নাচিয়া।
নিত্য নিত্য নব স্তুতি করিয়া রচন,
আমরাও গুণ তব করিব কীৰ্ত্তন।
৬। আকাশ।
(পদার্থ নিরপেক্ষ ভাবের অঙ্কুরােদগম)
(পূজা)
পরি স্নিগ্ধ নীল বেশ, হে মহান্ হে অশেষ,
হে আকাশ কতদূর রয়েছ ব্যাপিয়া
ওই যেন আছ তুমি,
অদূরে লুটায়ে ভূমি,
ধরিবারে যাই ছুটে, পালাও সনিয়া।
যেদিকে যেখানে যাই, তােমারে দেখিতে পাই,
ভেবে যেন কূল নাই একি চমৎকার।
তােমার প্রশান্ত কোলে রবি শশী সবে দোলে,
যেন সব শিশু ছেলে তাহারা তোমার ;
ধরিয়ে তােমার হাত,
ভ্রমে রবি ভ্রমে চাঁদ,
বুকে চড়ি করে খেলা মেঘ শত শত।
উদ্দেশ পাইবে বলে,
পাখীগুলি ছুটে চলে,
পরাস্ত উড়িয়া উদ্ধে হয় অবিরত।
পুণ্যবান নর যারা, তব স্পর্শ লভে তারা,
মেঘের স্কন্ধেতে চাপি যায় তব পার।
হরি মম পাপ রাশি, কর তব স্বর্গ বাসী,
ভক্তিভরে বার বার করি নমস্কার।
৭০
২। বাল্যযুগ।
(খ) বহু দেবতাপূজা।
( উদ্বোধন)
কিসে হবে শক্রক্ষয়,
কেমনে লভিব জয়,
ভােগ-মুখে কাটাব জীবন ;
পদে পদে দেবতার
রোষ চিহ্ন অনিবার
চারি ভিতে করি যে দর্শন।
ঊদ্ধে ইন্দ্র ইরম্মদ,
কঁপাইয়ে জনপদ
কড় কড়ে বিদরে আকাশ ;
ঝলকে অনল তায়, বুঝি সৃষ্টি লয় পায়,
বড়ই বাড়িছে প্রাণে ত্রাস।
উপছি পাতাল বাস,
ভুজঙ্গের বিশ্বাস,
জর জর করিল ভুবন ;
মনসার কোপে হয় বুঝি বিশ্ব পুড়ে যায়,
বুঝি হবে নিশ্চয় মরণ।
আদিত্যাদি নবগ্রহ
দশদিকপাল সহ
ধূম্র নেত্রে করিছে কুটি।
অরণ্যে পাহাড়ে নানা, ভূত প্রেত দৈত্য দানা
পিশাচাদি করে ছুটাছুটি।
নিত্য অমানিশা রেতে ঘেরে ফেরে শূন্য পথে,
উলঙ্গিনী তমিস্রা রূপিনী,
.
যুগপূজা
শোণিত লালসা ভরে জিহ্বা লক্ক্ করে,
সঙ্গে ফেরে শতেক ডাকিনী।
চিবুকে রুধির ধার,
গলে নরমুণ্ড হার,
কটি তটে নর-কর-মালা;
একি বেশ ভয়ঙ্কর,
কঁপে অঙ্গ থরথর,
অট্টহাসে কাণে লাগে তালা।
ভূত সঙ্গে পতি তার, সঙ্গে থাকে অনিবার,
শিরে ফণী ফোস ফোস করে ;
সে যে রূপ মহাকাল, বােম্ বোম্ বাজে গাল,
মহাশব্দে সংহারের স্বরে।
কেমনে করিব তৃপ্ত, রুধির তৃষায় ক্ষিপ্ত
দেব দৈত্য পিশাচের দল ?
কেমনে তাদেরি বলে, বিনাশিব শক্রদলে,
শান্তিপূর্ণ হবে ধরাতল ?
কামিনী কাঞ্চন পাব, ভোগ সুখ লয়ে রব,
এই বর মাগি মনে মনে ;
অনুষ্ঠিল যজ্ঞ যাগ,
বলী দিয়ে শত ছাগ,
এস পূজা করিব যতনে।
(খ) বহু দেবতা পূজা।
(পূজা)
(১)
“দেহি পুত্রং প্রজাং দেহি ধনং দেহি সুপূজিতে
দেহি মানং সুখং দেহি সর্বান্ কামাংশ্চ দেহিমে”
( হ্রস্ব দীর্ঘ উচ্চারণ করিয়া পড়িতে হইবে।
জয় জয় কালী
করাল বদনা
জয় জয় ধূর্জটি জায়া!
ক্রোধ সমুজ্জ্বল
রক্তিম নমুনা
দেহ দেহ পদ ছায়া।
যায় রসাতল,
পদভরে ধরণী ;
সম্বর সামর নৃত্য,
করি করুণা তুমি
হে হর-ঘরণী
রক্ষহ, নর তব ভৃত্য।
লহ মদ ধারা. মাংস সুবাসিত
প্রীতি সতত তব যাহে,
লহ নর-শােণিত
তপ্ত মুলোহিত ;
আশ্রিত তব বর চাহে।
হে নগ-নন্দিনি চণ্ড বিনাশিনি,
অরি শির ভূষিত অঙ্গে ;
উলঙ্গ বেশে
বিমুক্ত কেশে
নাহ সমর তরঙ্গে।
B
যুগপূজা।
শত্রুর রক্তে
রক্ষহ ভক্তে
কর অভিসিঞ্চিত পৃথ্বী,
প্রশময় অাপদ ;
লভি’ সুখ সম্পদ
ঘােষিব তব গুণ কীর্তি।
পুত্র, প্রজাঙ্গন,
২৯ী কাঞ্চন,
গৌরব, লভি মহামায়া।
জয় জয় কালী
করাল বদনা,
জয় জয় ধূর্জটি জায়া।
(খ) বহু দেবতা-পূজা।
{ পূজা }
(২)
“গচ্ছ গুচ্ছ গৃহং গচ্ছ স্বস্থানে পরমেশ্বরি”
এসো এসাে পরিজন সবে মিলে অ রচন
করি আজি দেবতা-চরণ ;
পঞ্চ শস্য হাতে নিয়ে
নর দুৰ্ব্বাদল দিয়ে
পুর বধূ করলো বরণ।
সুগন্ধি সুন্দর স্বত শই পুষ্প মনোমত,
অঞ্জলি অঞ্জলি বিশ্বদল,
অতসী, অপরাজিত। যাহে দেবী সদা প্রীত।
রক্ত জবা রকত উৎপল।
সাজাওরে নৈবেদ্য, বাজাওরে জয়বাদ,
কুলাঙ্গনা দেও হুলুধ্বনি;
মুগপূজা।
গাও সবে জয় জয়,
দিবেন রে বরাভয়
কৃপা করি দনুজ দলনী।
জয় দেবী বিশ্ব-অদ্যা
জয় জয় পরারাধ্য।
জয় জয় শুম্ভ নিসূদনী,
জয় ভক্ত সুখদাত্রী, জয় জয় জগদ্ধাত্রী
জয় অম্বে অম্বুজ বদনী ।
আরাে যত দেব চয়, তাহাদেরে জয় জয় ;
জয় জয় আকাশ পাতাল ;
জয় সৰ্ব্ব সুর পুর,
গণেশাদি পঞ্চমুর
ইন্দ্ৰ আদি দশদিক-পাল,
সবাই অঞ্জলি লহ ;- আদিত্যাদি নবগ্রহ,
তােমাদেরো চরণে প্রণতি।
যাও নিজ পুরে সবে, ডাকিলেই এস ভবে,
কৃপা দৃষ্টি রেখে মাের প্রতি।
-
৩। কৈশাের যুগ।
ক। নরহরি-পূজা।
ধর্মস্য তত্ত্বং নিহিতং গুহায়াং মহাজনে যেন গত সপন্থা।
( উদ্বোধন)
ঈশ্বর জগত পতি অন্ত কোথা তার ।
দেব উপদেব গণ
ঘেরি তার সিংহাসন
গায় সুমধুর স্তুতি গীতি অনিবার।
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, গেব্রিয়ল,
এব্রাহিম, সেন্টপল,
পিটারাদি শত শত দেব, দেব দূত;
রামচন্দ্র, কৃষ্ণ, জুমা (১)
বুদ্ধদেব, ঈশা ভূমা,
এইরূপ আরো কত ঈশ্বরের সূত;
সাজাইয়া দরবার,
বসি তার চারি ধার,
গোচর করেন নর-ভাগ্য, নর-ব্যথা ;
বসি মহা সিংহাসনে,
শুনিছেন একমনে,
দেব, দেব সুত মুখে সে সব বারতা।
০
.
(১)Tzuma- প্রাচীন আমেরিকাবাসীদিগের মধ্যবর্তী নরহরি।
যুগপূজা।
কেমনে তঁাহার কাছে,
হীন নর ভিক্ষা যাচে?
পশেন পশেনা সেথা পাপীর ক্রন্দন।
এই পাপপূর্ণ ভবে,
মুক্তি যদি চাই তবে,
পূজা কর কায়মনে ঈশ্বর নন্দন।
প্রক্ষালিয়া পাপ-ধূলি,
প্রেম হস্তে স্বর্গে তুলি
আপনি লবেন তিনি পিতার গোচর।
মুক্তি যদি চাহ নর,
পুত্র পূজ নিরন্তর
পুত্র-কৃপা হলে তুমি লভিবে ঈশ্বর।
ক।
নরহরি-পূজা।
(পূজা)
আধি ব্যাধি পাপে ভরা ছিল এই বসুন্ধরা
কিরূপে পাইবে মুক্তি জানিত না নর।
আপন কল্পনা বলে,
গড়িত দেবতা দলে ;
জানিত না কিবা মোক্ষ, কোথা বা ঈশ্বর।
যাতনার হাহাকারে,
অবিরত নেত্ৰাসারে,
পূরেছিল, ভেসেছিল, সমগ্র জগৎ;
তুমি প্রভু কৃপা করি
নর কুলে অবতরি,
শিখালে দেখালে লোকে সহ্য ধৰ্ম্মপথ ।
৭৭
যুগপূজা { তুমি দিবে মুক্তি দান, আশ্বস্ত হইল প্রাণ ; নিকটে আসিল স্বর্গরাজ্য এই বার ; নরভাগ্য, নরব্যথা, নরের পুণ্যের কথা, করিবে গোচর প্রভু তােমার পিতার। প্রক্ষালি পাপীর পাপ, ঘুচাইয়ে মনস্তাপ, তুমি দিবে দেখাইয়ে ঈশ্বর-আনন; হে প্রভু ঈশ্বর-পুত্র, ধরি তব প্রেম-সূত্র- পাপী মােরা, যাব দেব-দেবের সদন। অন্ন জল যাহা চাব, চাহিলেই তাহা পাব ; আঘাত করিলে দ্বারে মিলিবে সকল ; ভবিষ্যৎ চিন্তা যত, আজি হােতে হল হত ; ছিড়িল চিন্তার গ্রন্থি, পাপের শৃঙ্খল । চাহিয়ে তােমার মুখ, : কৰ্ত্তব্য-পালনে সুখ কত যে বাড়িল প্রভু, বর্ণিব কে মনে ; দূর হল পাপ ভয় ; তব রক্তে পাপক্ষয় হইল, আর না ভরি দুরন্ত শমনে। পিতার দক্ষিণে বসি, রবে তুমি প্রেমশশি, বেছে লবে চিনে লবে ভক্ত দল ; অহা এই সুসংবাদে, অনলে পরাণ কাদে ; প্রণমি তোমার পদে জগত-বৎসল। ৭৮
৩। কৈশোর যুগ।
অদ্বৈত-পূজা।
( উদ্বোধন)
“তত্ত্বমসি”
পদ্মপত্রে জল সম,
জীবন যৌবন মম,
সকলি চঞ্চল হেরি এ মর-ধরায় ;
যারে বলি আপনার,
দারা পুত্র পরিবার,
একাকী ফেলিয়া তারা নিমেষে পালায়।
ঢালিতেছি নিতি নিতি,
ভালবাসা স্নেহ প্রীতি,
শেষে দেখি ঢালি ছায়া, ছায়ারি কায়ায়।
আশা বা উৎসাহ যত,
সবি যেন স্বপ্নমত ;
বেষ্টিত অনন্ত লােক অসীম মায়ায়।
অখিল জগৎ-মায়া,
সুধু দৃষ্টি-ভ্রান্তি, ছায়া ;
কেগো তবে সত্য এই অসত্যের মাঝে ?
অথবা—এ স্বপ্নবৎ
সুচঞ্চল এ জগৎ,
কাহার আশ্রয় ধরি কেমনে বিরাজে ?
৮৯
যুগপূজা
জগৎ হইতে ভিন্ন,
জগৎ কারণ অন্য,
কেমনে বুঝিব? অনবস্থা দোষ ঘটে। (১)
যিনি বীজ তিনি বৃক্ষ,
যিনি মায় তিনি মােক্ষ,
যাঁহতে উদ্ভূত ঘট, তিনি ঘটে ঘটে ।
অণুতে অণুতে যিনি,
প্রতি পরমাণু তিনি ;
তিনিই পরম জ্যোতি, তিনি অন্ধকার ।
তিনি পুণ্য, তিনি পাপ,
তিনি সুখ তিনি তাপ,
তিনি তুমি, তুমি তিনি, এই কপ! সার।
ছাড় যত পরিজন,
বাসনার বন্ধন,
পরহ কৌপীন, দৃঢ় স্থির কর চিত
দেখিবে সকল ভূত
তোমাতেই অনুস্থত,
তুমি ব্ৰহ্ম, ব্ৰহ্মরূপে ধরা প্রকাশিত।
(১) অবস্থা দোষ-কিছুর কারণ বলিলে আবার কারণের কারণ
খুজিতে হয়। সুতরাং কিছুক্ষণ পরে হারি মানিয়া ফিরিতে হয়। সুতরাং
যদি ফিরিতেই হইল, তবে এক পদ অগ্রসর হওয়া না হওয়া এক কথা,
এই যুক্তি।
৮০
খ। অদ্বৈত-পূজা।
(পূজা)
“শিববাহং শিবোহং”
(১)
এক (ই) সূৰ্য্য, সজলে, ভিন্ন লোকে ভিন্ন স্থলে,
বহুতর প্রতিবিম্ব দেখে যথা তার,
তেমতি একই আত্মা, এক(ই) বিশ্বে এক (ই) সত্তা,
মােহ বশে ভিন্ন ঘটে ভাবে ভিন্নাকার ।
ভেদ-জ্ঞান সব ফাঁকি, আমারে আমিই ডাকি ;
আমি কামী, আমি পুনঃ কাম্য অতুলন;
প্রকৃতি পুরুষ আমি, আমি জীব, আমি স্বামী,
আধার আধেয় আমি, ব্রহ্মসনাতন।
(২)
;
আমি জ্ঞানী, আমি জ্ঞেয়, অনুমান, অনুমেয়,
আমি সার-তত্ত্ব, অহহ, আমিই জিজ্ঞাসু।
আমিই আমার তরে,
ভবে লীলা খেলা করে।
আমি পিপাসার বারি, আমিই পিপাসু।
আমিই অনন্ত, সান্ত,
আমি বুদ্ধ, আমি ভ্রান্ত,
আমিই নূতন হই, আমি পুরাতন ;
বৃথা এই কাল কল্প ;-
আমিই আমার কল্প,
আমি স্বামী, আমি তল্প, ব্ৰহ্ম সনাতন।
যুগপূজা
(৩)
মিছা কেন করি খেদ, পাপ পুণ্যে নাহি ভেদ ;
নাহি সুখ, নাহি দুঃখ, সকলি কল্পনা।
সৰ্ব্ব কৰ্ম্ম শিবময়,
সৰ্ব্বাপে শিবােদয় ;
রোগ শােক সকলি যে অসার জল্পনা।
জান জীব, “আমি” বার্তা; আমি সদা শুদ্ধ আত্মা,
সতত অপাপবিদ্ধ পরম রতন ;
নাহি ক্লেশ, নাহি রােগ, নাহি পাপ, নাহি শােক
প্রণমি আমারে আমি ব্ৰহ্মসনাতন।
(৪)
আমি সত্য, জ্ঞান আমি অনন্ত অসীম আমি,
আমিই অানন্দরূপে আছি সৰ্ব্ব ঘটে
আমিই অমৃত জীব,
আমি শান্ত, আমি শিব,
আমিই একাকী বিশ্বে অদ্বিতীয় বটে।
আমারি প্রকাশ হয়,
আমাতে অামার লয়,
আমিই প্রলয় বিশে, আমিই জীবন।
আমি দিক, আমি দেশ,
আমি আদি আমি শেষ,
আমিই পরমারাধ্য ব্রহ্মসনাতন ।
২
'
. ৪। যৌবন যুগ।
ক। নর-পূজা।
( বা সমাজ-পূজা)
"By the great conception of Humanity, the concert
tion of God will be entirely superseded"-
Auguste Comte,
---
(১)
কে বলে জগৎ স্রষ্টা অরূপ ঈশ্বর ?
সুধু পরমাণু রাশি
ইথার সাগরে ভাসি
স্বীয় শক্তি-যোগ-বলে চলে নিরন্তর।
প্রত্যক্ষ অতীত অার
জানিবার সাধ্য কার?
ঈশ্বর, কেবল নর-মস্তিষ্ক-বিকার।
ঈশ্বর সৃজিল নর,-
এ নহে সম্ভবপর ;
মানব করেছে সৃষ্টি স্রষ্টা আপনার।
তুমি হে আস্তিক ভাই
ঈশ্বর তাে দেখ নাই,
থাকিলেও জানিবার সাধ্য কিছু নাই ।
যুগপূজা।
তবে মিছে চক্ষু বুজে,
আঁধারে আঁধার খুজে,
বৃথা নষ্ট করি কাল কিবা ফল ছাই ?
ঈশ্বর আছেন বলে
মানিলাম তর্কচ্ছলে
কিন্তু বল সে চিন্তায় কি লাভ অামার ?
অমােঘ, অলংঘ, স্থির,
নিয়মাদি প্রকৃতির ;
ব্যতিক্রমে দুঃখ, প্রতিপালনে নিস্তার ।
সকলি নিয়মে বাধ্য,
ঈশ্বরেরো নাহি সাধ্য
করিবেন ভঙ্গ তায়, স্তোত্রে বা পূজায়।
কৰ্ত্তব্য-পালন করি,
সুখে লও কাল হরি ;
মিছা কেন যাবে দিন মিছা কল্পনায় ?
ছাড় অতীন্দ্রিয় তত্ত্ব,
কর্তব্য পালনে মত্ত
হও সবে, কর ধ্যান নর উপকার ;
সমাজ আরাধ্য ভবে,
তারি পূজা কর সবে;
মানব সমষ্টি কর ঈশ্বর তােমার।
তােমার আপত্তি যাহা
বুঝিছি বুঝেছি তাহা ;
s
• যুগপূজা। তুমি বল-“কিরূপেতে কর্তব্যের পথে চলিবে সংযত করি উদ্ধত বাসনা অরি, কিরূপে লভিবে সিদ্ধি এ কঠোর ব্রতে।” সত্য ; ভাল মন্দ যাহা সকলেই জানি তাহা ; তবুও স্থলিছে পদ প্রতি পদে পদে ; কৰ্ত্তব্য সাধনে চিত হয় নাকো নিয়ােজিত মানি-এ অন্তর মগ্ন সদা ভোগ মদে। মানি—উৎসাহিতে প্রাণ, ফুটাতে কর্তব্য জ্ঞান, শুষ্ক ায়পথে হেথা করিতে ভ্রমণ, আত্মহারা ধ্যান চাই, উদ্দীপন মন্ত্র চাই- চাহি কিছু, যারে প্রাণ বলিবে “শরণ” মানি সেই কথা সার,- ( ইতিহাস সাক্ষি তার) ধ্যান ভিন্ন, কর্মে নাহি হয় অনুরাগ ; ভাবে প্রেমে যদি চিত না হয় অনুপ্রাণিত, ঘােচেনা জড়তা, ভােগে জন্মেনা বিরাগ। সালেমেন, এলফ্রদ (১) হিন্ডিব্ৰাণ্ড (২) মহম্মদ, (১) Alfred. (২) Hildebrand+কোমৎ শিষ্য Harrison•এই সকল দৃষ্টান্ত উল্লেখ ৪ '৮৫
যুগপূজা।
কফুস, ঈশা, মূষা, নানক, কবীর,-
আদি যত মহাচেতা,
নবযুগ প্রতিষ্ঠাতা,
কোরেছেন রত্নময় সমাজ শরীর
-মনি, তাহাদের মনে,
প্রতিজ্ঞা, প্রেমের সনে
হয়েছিল সুগ্রথিত ; পেয়েছিল তারা
ঈশ্বর বিশ্বাস বলে
উদ্দীপনা, হৃদি তলে ;
বহছিল তাই লোকে উৎসাহের ধারা।
কিন্তু কি করিব ভাই,
জগতে ঈশ্বর নাই ।
হইলেও হিতকারী কে ভজে কর ?
প্রাণে উদ্দীপনা হেতু,
উতরিতে কৰ্ম্ম-সেতু,
ঈশরূপে করি এস মানব জানা।
ক। নরপূজা।
প্রত্যক্ষ রূপিণী হে মানবদেবি,
ভক্তিভরে মােরা তােমারেই সেবি।
তুমিই আরাধ্যা জগত জনার,
বার বার মাের করি নমস্কার ।
৫ করিয়া স্বীকার করিয়া:ছন যে, কেবল কর্তব্য বুঝলেই কর্তব্য কায্য কর।
যায় না। কোন বিশেষভাবে উন্মত্ততা চাই।
!
যুগপূজা।
তুমি অবনীতে সৰ্ব্ব গুণযুত,
( এ নহে কল্পনা মানস প্রসূত )
ভক্তি-কৃতজ্ঞতা-স্নেহ-দয়াময়ি,
তব কৃপাবলে সদা বেঁচে রই।
তােমাতে অনন্ত জ্ঞানের প্রকাশ,
তােমারি মহিমা ঘোষিছে আকাশ (১),
তােমারি কৃপায় লভিছে ধরণী
নিত্য নিত্য নব উন্নতির মণি।
তুমি সুখহেতু, জগতশরণ,
ভক্তিভরে সেবি তোমারি চরণ।
(>) "Heavens declare the glory of Newton'' --Comte.
৪। যৌবনযুগ।
( খ ) অজ্ঞেয় শক্তিপূজা।
( উদ্বোধন)
সাত্ত অনন্তের সাথে
বাঁধা যেন হাতে হাতে ;
চিন্তা যেন দুটি দিয়ে মিশ্রিত রচনা।
কার সাধ্য করে দূর সে মহা ভাবনা ?
চিস্তারে চাপিয়া রেখে,
হাত দিয়ে চক্ষু ঢেকে,
কল্পনারে গলাটিপে মেরে ধীরে ধীরে,
যে বলে অনন্ত পানে চাহিব না ফিরে,
দুরন্ত অনও তার
ছাড়ে নাকো, অনিবার
পরিমিত চিন্তা মূলে হয় উৎসারিত,
অন্ধীভুত দৃষ্টিতার করি প্রভাসিত।
ছি, ছি, সেকি ভ্রান্তদৃষ্টি,
যে ভাবে, সসীম সৃষ্টি
আপনি উদ্ভুত কিম্বা কৰ্ত্তা আপনার ;
নাস্তিক্য অদ্বৈতবাদ উভয় (ই) অসার।
৮
যুগপূজা।
(২)
কি অদ্ভুত এই সৃষ্টি।
যেদিকেই করি দৃষ্টি,
দেখি সসীমের মূলে অসীম প্রকাশ ;
সকলি রহস্যময় সময় আকাশ!
যত ডুব দিয়ে যাই,
তত যেন তলা নাই ;
নিবে যায় চন্দ্র তারা গ্রহপুঞ্জ যত ;
শুধু হেরি শক্তি এক বেষ্টিয়া জগত।
শক্তির অনন্ত সিন্ধু।
কত বিশ্ব বিন্দু বিন্দু,
খেলিছে ভাসিছে স্রোতে, জ্বলিছে, নিবিছে,
প্রকাশিছে কায়া, কিম্বা গরভে ডুবিছে।
সেই শক্তি কি প্রভূত,
যাহতে হল প্রসূত,
এই জড় চরাচর, চৈতন্য, জীবিত ?
অজ্ঞেয়, অজ্ঞাত, ভূম, ধারণা অতীত।
;
আছে শক্তি জানি তাই,
আর কিছু বুঝি নাই ;
জানি, সে কারণ আদি; নাহিক উপায়,
সসীম জ্ঞানেতে কভু বুঝিব তাহায়।
একি মহা বাতুলতা ?-
জ্ঞান, প্রেম, পবিত্রতা,
৯
যুণপূজা।
প্রভৃতি মানব-ধর্ম, আরোপি তাহারে,
সকলি উদ্ভুত লীন যার পারাবারে!
অতি ক্ষুদ্র কীট যারা,
কেন মিছে ভাবে তারা,
তাহাদের(ই) গুণে হন ঈশ্বর ঈশ্বর ?
ঈশ্বর মহান্ অতি, নহে শ্রেষ্ঠ নর।
করযোড়ে বল ভাই,
কেহ কিছু বুঝি নাই ;
বুঝিতেও কোনমতে সাধ্য নাহি কার,
সুধু বল সবিস্ময়ে, অনন্ত অপরি।
খ। অজ্ঞেয়শক্তিপূজা।
(পূজা)
কে গো তুমি আদি শক্তি অনাদি কারণ।
জানি নাই, জানিতেও পাবনা কথন।
কিন্তু গো তোমার কথা ভাবিলে অন্তরে,
কি আনন্দ-রপ মম হৃদয়ে উৎসরে।
আকাশ পৰ্বত সিন্ধু বন উপবন,
কুসুমের চারু শোভা বিহগ-কূজন ;
কিম্বা পবিত্ৰতাপূর্ণ নিত্য সুধাময়,
সারল্য প্রেমেতে মাখা যুবতি-হৃদয় ;
কাহারো ধ্যানেতে এত সুখ নাহি পাই ;
অপূৰ্ব আনন্দ নীরে এ যে ডুবে যাই।
যুগপুজা।
বিস্ময়-স্ফারিত নেত্রে চাহি তব পানে
ভাবি, একি ? কি স্বরূপ ? বুঝিনা সন্ধানে।
বিমুগ্ধ গদগদ কণ্ঠে বলি অনিবার,
হে অজ্ঞেয়, হে অজ্ঞাত, অনন্ত অপার।
০
৯১
৫া প্রবীণ যুগ ।
ব্ৰহ্মপূজা।
১। উদ্বোধন।
কেন ডাকি রে ?
অনন্ত, অজ্ঞাত যিনি জেনেছি সংসারে ;
আমােঘ, অলংঘ্য, স্থির
নিয়মেতে প্রকৃতির,
করেন শাসন যিনি, কেন ডাকি তারে ?
যিনি এ জগতীত,
তারে কি করিবে প্রীত,
বৃথা আরাধনা কিম্বা পূজা উপচারে ?
আছে শক্তি, প্রাণপণে,
সুখী হব উপার্জনে ;
বৃথা কেন কালক্ষেপ ? কেন ডাকি তঁারে ?
কেন ডাকি রে ?
শুনিবে কি সত্য তবে কেন ডাকি রে ?
দেখ ওই চারু দৃশ্য,
অগণ্য অনন্ত বিশ্ব,
দেখ এই রম্য ধরা-দেখ গো আমারে ;
দেখ এই ক্ষুদ্র কেশ
এরি তত্ত্ব কি অশেষ !
৯২
;
যুগপূজা।
ক্ষুদ্র ওই বালুকণা নারি বুঝিবারে।
নিগূঢ় রহস্য মন্ত্রে
• গাথা দেখি বিশ্ব-যন্ত্রে,
বিস্ময়ে ডুবিয়া যাই; তাই ডাকি তারে।
কেন ডাকি তারে ?
শুনিবে কি এ পরাণ কেন ডাকে তারে ?
বল দেখি, কেন কবি,
নিরখি জগত-ছবি,
ডুবে যাও সংজ্ঞা-হারাজুলিয়া সংসারে ?
পুষ্প পত্ৰ সুশােভিত,
কলকণ্ঠ কম্বিত,
কাননে কি ছার শােভা ? কি শোভা আহারে,
হের কবি, হােয়ে মুগ্ধ,
ফেনিল তরঙ্গ-ক্ষুব্ধ
দূরন্তর প্রসারিত নীল পারাবারে ?
জগতের উৰ্দ্ধ তটে,
নীল গগনের পটে,
কি শোভা জ্যোতিষ্কপুঞ্জে—অালােকে আঁধারে ?
প্রবৃটের জলধরে,
সৌদামিনী খেলা করে,
কি ছার সৌন্দর্য্য তাহে? কিম্বা বর্ষাধারে ?
যুবতীর ফুল্ল দেহে,
কিম্বা তার প্রেমে, মেহে,
কি সৌন্দর্য্য কি মাধুৰ্য হের বারে বারে ?
৯৩
যুগপূজা
কি শোভা শিশুর মুখে ?
কি তৃপ্তি বন্ধুত্ব সুখে ?
কি পাও করিয়ে ভক্তি পিতারে মাতার ?
কি দেখ এ বিশ্ব খুজে ?
কি তৃপ্তি জগত পূজে?
জগদন্তরাল পানে যে জন নেহারে,
সে যে হেরে কত শোভা,
মােহময় মনােলােভা,
কি যে দেখে অপরূপ কে বর্ণিতে পারে ?
য। হতে জগৎ সৃষ্টি,
তার পানে করি দৃষ্টি,
আপনি উছলে ভক্তি হৃদি পারাবারে।
সে চিন্তনে, সে পূজনে,
কি যে তৃপ্তি হয় মনে,
জানকি ? বুঝিবে তবে কেন ডাকি তারে।
কেন ডাকি তারে ?
স্বীয় উপার্জন পথে,
কঠোর কর্তব্য ব্রতে,
নিয়ত বাসনা-ৰাধ কে লঙ্ঘিতে পারে ?
ভাল মন্দ বুঝি চিতে,
তবুও যে অলক্ষিতে,
শৃঙ্খলিত হই মােরা ভােগ-কারাগারে।
পরাণের ধূলা ঝেড়ে,
* সাধ যায়—পাখা নেড়ে,
,
৯৪ ।
যুগপূজা।
পদেদলি নীচাসক্তি, উদ্ধে উড়িবারে।
আছে শক্তি, আছে বুদ্ধি,
তবু নাই চিত্ত শুদ্ধি ;
প্রভূত যন্ত্রণা এ যে, নরক আকারে।
জান কি গো সে সন্ধান,
এ নরকে পেতে ত্রাণ,
সঞ্চারিতে দীপ্ত বহ্নি মলিন অঙ্গারে
আছে কি নিগুঢ় তথ্য--
আছে কি অশেষ সত্য ?
জান কি ? বুঝিবে তবে কেন ডাকি তারে।
সলিল-প্রবেশ মাত্রে,
যত ধূলি থাকে গাত্রে
আপনি ধুইয়া যায় যথা জলধারে ;-
পরিজন প্রেমে পশি,
স্বার্থ ব্যথা পড়ে খলি;
বিকাশে মোহন দৃশ্য কঠোর সংসারে ;-
জগৎ সৌন্দৰ্য্যধ্যানে,
যেমন কবির প্রাণে
নবরূপঙ্গুৰি আসি আপনি বিস্তারে ;
নিবে যায় ব্যথাময়
রক্তশােষী চিন্তায় ;
নতৃপ্তি, নবরস, হৃদয়ে উৎসারে ;-
তেমনি গো জগন্ময়ে
তিলমাত্র এ হৃদয়ে
যুগপুজা
ভাবিলে হই যে সিক্ত, কি রসের ধারে ;
কি য়ে সে বিদ্যুত ছােটে ;
কি যে শোভা চক্ষে ফোটে
নিগূঢ় অব্যক্ত তত্ত্ব, কে বুঝাতে পারে ?
দুৰ্বত্ত বাসনা যত,
মাথা করে অবনত ;
মণ কর্তব্যপথ হয় একেবারে।
শােক তাপ ডুবে যায়,
শান্তি, শুদ্ধি, প্রাণ ছায় ;
নব ভাব থেলা করে, তাই ডাকি তারে।
কেন ডাকি তারে ?
নিত্য, স্থির সুখতরে,
পরাণ কামনা করে ;
কিন্তু কিসে পূরে আশ, বলনা আমায় ?
পদ্মপত্রে জলসম,
জীবন যৌবন মম,
সকলি চঞ্চল যে গো এ মর ধরায় ?
যারে বলি আপনার
দারা পুত্র পরিবার,
একাকী ফেলিয়া তারা নিমেষে পালায়।
ঢালিতেছি নিতি নিতি
ভালবাসা, স্নেহ প্রীতি ;
শেষে দেখি ঢালি ছায়া, ছায়ার কায়ায়।
যুগপূজা।
বাহারে সুন্দর বলি,
সবি তারা যায় চলি ;
মিছাই সুখের লাগি করি হায় হায় !
জান কি গো এ সন্ধান
যতদিন আছে প্রাণ,
এই জগন্ময় শােভা কভু না লুকায়?
নিত্য ফোটে নব গীতি,
নিত্য পাই নব প্রীতি,
নিত্য আনন্দের উৎস পাব আর কারে ?
অতৃপ্তি অরুচি নাই,
যত পাই তত চাই ;
সম্ভোগেতে ক্লান্তি নাই, তাই ডাকি তারে।
সুখ (ই) যদি লক্ষ্য ভাই
তবে তারে ডেকে যাই ;
আছে কি এ হেন সুখ, আর এ সংসারে ?
নিত্য সুখদাতা যিনি,
জগতে উদ্দেশ্য তিনি।
পরম চরম লক্ষ্য বলি ডাকি তারে।
১৭
ব
১
ব্ৰহ্মপূজা।
4,
( ২। পূজা)
কি চাহিব দয়াময় চরণে তোমার ?
জ্ঞান প্রেম ইচ্ছা দিয়ে
দিলে মােরে সাজাইয়ে,
দিয়াছ বিপুল ধরা রত্নের ভাণ্ডার
অভাব তো কিছু নাই
যা চাহি সকলি পাই,
কি যেন তবুও প্রাণ চাহে অনিবার।
কল্পনার রঙ্গস্থল
আছে ব্যোম মহীতল,
আছে সৃষ্টি চরাচর কিবা চাহি আর ?
প্রেমে স্নেহে অনুক্ষণ
ঘিরে অাছে পরিজন।
তবু যে প্রেমের ক্ষুধা মেটেনা আমার ?
জ্ঞান পিপাসায় মত্ত
হয়ে ভাধি সৃষ্টিতত্ত্ব,
জুড় চৈতন্যের তথ্য করি আবিষ্কার ;
তবুকি সত্যের লাগি
জ্ঞান যেন থাকে জাগি ;
কি পাইলে বল তৃপ্তি হবে রসনার ?
সাজায়ে রাজার মত
কৱিলে ভিখারী এত
জা।
রােপিয়া প্রাণের মুলে প্রার্থনা অপার।
• জগতের চারি ভিতে আর কিছু নাই ;
যা কিছু করেছ দান
তাহে তৃপ্ত নহে প্রাণ ;
তবে এ ভিক্ষার ঝুলি কি দিয়ে পূরাই ?
অনন্ত জ্ঞানের খনি,
অনন্ত প্রেমের মণি,
অনন্ত কল্পনাভূমি, আছে কি ঈশ্বর ?
থাকে যদি দেও তাই,
নিত্য ভিক্ষা মেগে খাই,
রাজত্ব করিয়া সুখ পায় না অন্তর।
ভিখারী করেছ যারে
সে রবে তােমারি দ্বারে,
নিত্য দরশন তরে করিবে প্রার্থনা ;
তোমারে না পেলে তার
তৃপ্তি নাহি হবে আর,
বুঝেছে বুঝেছে সার-পূরাও কামনা।
শিশুর খেলনা মত
দিয়াছ মা এ জগত ;
কে কবে হয়েছে তৃপ্ত সুধু খেলা কোরে ?
ওহে তুমি তৃপ্তি হেতু,
ওহে তুমি মুক্তি সেতু,
দাও দাও একবার অাপনার ধোনে।
০
যুগপূজা।
দুঃখ যেন নিত্য আসে,
শােক যেন নিত্য গ্রাসে,
নিত্য যেন সুখ-আশে পড়ে ভস্ম ছাই,
যদি তাহে প্রাণায়াম,
অবিরাম অবিশ্রাম
নয়নে নয়নে তব দরশন পাই।
সকল তত্ত্বের তত্ত্ব,
সত্যের পরম সত্য,
জ্ঞানের চরম জ্ঞান, দেশ কালাতীত ;
ওহে চিত্ত বিনােদন,
অমৃত আনন্দ ঘন,
সুধু দরশন দানে কর মােরে প্রীত।
হে শান্ত জগত ধাতা,
হে শিব মঙ্গল দাতা,
থাক তুমি প্রকাশিত জীবনে মরণে ;
ওহে তুমি চিরশুদ্ধ,
হে দেব অপাপবিদ্ধ,
সুধু করি এই ভিক্ষা তােমার চরণে।
তুমিই তােমার তরে
পিপাসু করিলে নরে,
তুমিই প্রার্থনা দিলে তাই আমি ডাকি ।
তুমি তবে স্বপ্রকাশ,
প্রাণমুলে কর বাস,
তোমারি চিন্তনে সদা নিয়ােজিত থাকি।
FRASEST Eeneses
COM
পুজা
CESSESGRESSUKE
প্রদীপ।
ক্ষীণ প্রদীপের আলো জ্বালি অন্ধকারে
একেলা বসিয়া আছি প্রতীক্ষায় যার
সে কেন আসেনা, বর্ষ আসে বারে বারে ?
সুধু জাগরণে কাল কাটে যে আমার।
পবন-কম্পিত শিখা ক্ষুদ্র হস্তে ঢাকি
চেয়ে আছি পথপানে আকুল নয়নে।
এস হে বাঞ্ছিত এস! প্রেম ভরে ডাকি
নিত্য আমি ; তুমি কি তা শােননা শ্রবণে ?
ওগাে দীপ্তি! ওগো মাের জীবন-সম্বল।
এসগাে হৃদয় করি আলােকে উজ্জ্বল।
:
আবাহন।
হৃদয়ে আমার এস একবার
সখাহে, বিজনে বসাব।
গােপন বারতা
মৰ্ম্মের কথা
সরম তেজিয়া শুনাব।
নিত্য যাহারা সহচর,
বান্ধব যারা প্রিয়তর,
একটি বর্ণ
তাদের কর্ণে
প্রবেশিলে লাজে মরিব।
আঁধার নিশিতে তাই হে
একেলা তােমারে চাই হে
চরণ ধরিয়া
কাদিয়া সাধিয়া--
প্রার্থনা কত করিব।
যবে থাক দূরে ইঙ্গিত কোরে
সঙ্গীতে গাহি যাতনা ;
সে দুখ বেদনে আকূল নােদনে
তুমি কি কখনাে কঁদনা ?
তুমি যদি পতি জগতের,
তুমি যদি সখা হৃদয়ের,
তেজি এ বক্ষ কেন অলক্ষ্যে
রবে দূরে দূরে বলতা?
১০৩
নিত্য রহগাে সহচর,
বান্ধব হতে প্রিয়তর,
আমার হৃদয়ে
নিভৃত নিলয়ে,
অন্তর-পুর-দেবতা!
১৪
“অসতেমা সৎগময়”
(১)
জীবনে সুধুই দুঃখ হে,
সুধুই বিষাদ যাতনা ;
সংসারে নাহি সুখ হে,
সকলি অসার কল্পনা।
তুমি দুঃখ বিপদ ত্রাতা গাে,
সংসারে তুমি সত্য।
বিষাদে হরষ দাতা গাে
তুমি সনাতন নিত্য।
(২)
জীবন তােমারি করুণা হে-
সংসার তব লীলা গাে
জীবন ছলনা নহে নহে,
সংসার নহে খেলা গাে।
ভাতে তব প্রেম ভুবনে,
তুমি মঙ্গল প্রেম মূরতি ;
জাগে তব প্রেম জীবনে,
প্রেমে করি তব আরতি।
;
জ্যোতি।
( তমসো মা জ্যোতির্গময়"
;
নয়নে তােমার জ্যোতি, ওহে জ্যোতির্ময়,
ভাতিয়া প্রকাশে নেত্রে বিচিত্র সংসার ;
উজলিয়া দৃশ্য তব বিশ্বে দয়াময়,
নয়ন-অঞ্জন সম শোভে অন্ধকার।
ভাসাইয়া দুঃখ শােক গলদশ্রুধারে,
মেঘমুক্ত চিদাকাশে এসহে তপন
দীপ্তি অভিষেক লভি ফোটে শােভা ভরে
সুরভিত নব প্রেম, পদ্মের মতন।
ওহে জ্যোতি জগত-জীবন,
ওহে দীপ্তি হৃদয়-রঞ্জন,
ইহলোকপরলােক করি প্রভাসিত,
নয়ন প্রভায় তুমি রহ প্রকাশিত।
অমৃত।
“মৃত্যোমামৃতংগময়”
(১)
আদেশে তব পবন বহে
জীবন বহে শরীরে,
দুঃখ তাপ হৃদয় দহে
মৃত্যু দেহে সঞ্চরে।
অগ্নি ফোটে সূর্যকরে
নিদাঘে মরু ক্ষেত্রে
করুণাধারা ঝরিয়া পড়ে
সজল মেঘ-নেত্রে।
(২)
জানিনা কেন প্রেমেরে ঘিরে
বিরহ রহে নিত্য,
জানিনা কেন জীবন-তীরে
জাগিয়া রহে মৃত্যু ;
জানিনা কেন সুখের ধরা
বদ্ধ দুখ-পাশেরে।
১।
পূজা।
জানি গো সুধু করুণা ধারা
কাদিলে ছুটে অাসের।
(৩)
জীবন ভরা রােদন দিয়া
মরণ যবে গড়িব,
করুণা আশে চরণে গিয়া
লুটায়ে যবে পড়িব,
তখন তুমি জানি গাে জানি
পুছাবে অাঁখি অাদরে,
অমৃত মৃত-সঞ্জীবনী
ঢালিয়া দিবে অধরে।
১০
স্বপ্রকাশ।
“আবিবীম এধি”
তােমারি কর-পরশ লাগি--
জাগিনু নব জাগরণে,
প্রভাতে তাই মেলিয়া আঁখি
দেখিতে চাহি তােমা ধনে
সুপ্তি মাঝে শ্রবণে আসি
পশিল ধ্বনি অভিনব,
ঝটিতি প্রভু উঠি বসি,
চিনিয়া তব করব।
আজি গাে মােরে করুণা করি
দিয়াছ যদি জাগরণ,
শুনাও বাণী শ্রবণ ভরি,
পরশে দেহ দরশন।
প্রকাশ তব মুরতি, মম
পরশ-পূত হৃদিতলে,
রবির নব কিরণ সম
অরুণ-পূত ফুল দলে।
রুদ্র।
"রুদ্র যত্তে দক্ষিণং মুখং তেন মাং পাহি নিত্য
ধূসর তাম
জলদধূম্র
গগনে বিজুলি ঝলিছে;
ঘাের তজ্জনে
বজ্ৰ শ্ৰবণ রােধিছে।
গুরু গর্জনে
গিরির শৃঙ্গ
সম তরঙ্গ
আলােড়ি সিন্ধু উঠিছে ;
নাশিতে বিশ্বে
প্রলয় ঝটিকা বহিছে।
ভীষণ দৃশ্যে
দুখ অর্জিত
তৃণ সজ্জিত
;
কুটীর গিয়াছে উড়িয়া ;
ঝটিকা পূর্ণ
প্রান্তরে আছি পড়িয়া ।
অসীম শূন্য
অনাথ ক্ষুদ্র
এদীন, রুদ্র।
আশ্রয় করে প্রার্থনা ;
প্রকাশি অরূপ
দেহ গাে অভয় সান্ত্বনা।
দক্ষিণ মুখ
১০
অনন্ত।
অসীমায় তুমি অশেষ হে,
মহিমায় তুমি মহেশ হে,
বুদ্ধি মনের অতীত।
তবুও বাসনা করিয়ে সাধনা
ধরিব হৃদয়ে সতত।
চির প্রদীপ্ত অবিচল
কোথায় আলােক সুবিমল ?
ক্ষণিক প্রভায় ক্ষণদা সাজায়
জলদের তনু; তবু তায়
লভিবার তরে গরজন ভরে
অসীমে জলদ ছুটে ধায়। (১)
অগম্য অপার অরূপ হে,
অজানা তােমার স্বরূপ হে,
অজ্ঞাত তুমি প্রভুগাে !
কূল নাহি পাই ভুলে তবু যাই,
লভিবারে চাই তবুও।
তুমি অনন্ত পারাবার,
দেশে কালে নাহি তীরতার।
পূজা
ঊর্মি খেলায় বালুকা বেলায়
সিক্ত করি সে দেহ খানি;
বেলা কহেঃ “মাের এহিত সাগর,
অকূল সাগর নাহি জানি।”
জননী।
করেছিনু কত পূজা আয়ােজন,
রচেছিনু কত মন্ত্র ।
পড়েছিনু কত ভক্তি গ্রন্থ
পুরাণ শাস্ত্র তন্ত্র ;
বাছিয়া বাছিয়া ফুল্ল কোমল
বচন-কুসুম তুলিয়া,
সযতনে হায় ছন্দ সূতায়
রেখেছিনু মালা গাঁথিয়া ।
•
লগ্ন অপেখি ছিনু যে বসিয়া,
গেল কত দিবা রজনী
উপেখি আমার পূজা উপচার
লুকায়ে আসিলে জননী ।
হেরিয়া তােমার স্নেহের মূরতি
পাশরিনু পূজা গাথা ;
পড়িল না মনে নমিতে চরণে,
বক্ষে রাখিনু মাথা।
'১১৩
জানাব বলিয়া রেখেছিনু ভেবে
দুখ-নিবেদন কত না!
ভুলিনু সে কথা ; তবু গেল ব্যথা?
তোমার করুণ। এত না !
চাহনা কি পূজা মিনতি প্রণতি?
চাহ কি গাে সুধু ডাকিব?
চাহ কি জননী দিবস রজনী
বক্ষে মাথাটি রাখিব ?
কামনা।
হৃদয় তােমারে চায়; কেন চায় প্রভু ?
কিবা লাভ লভি ও চরণ ?
তােমারে লভিলে, পদ, ধন, মান কভু
বাড়িয়াছে, শুনিনি এমন।
সন্ন্যাসী তাপস সাধু ঋষি বনচারী,
তারা গাহে মহিমা তােমার ;
পাইলে তােমারে যদি হইব ভিখারী,
কেন তবে চাহি অনিবার ?
তােমারে পাইলে সুখ কিম্বা দুঃখ হবে,
কভু তাহা ভাবিনা ঈশ্বর।
হেরি তােমারে সখা কঁদি হাহা রবে,
ছট ফট করি নিরন্তর।
প্রাণ সাধে তাই সাধি তােমার চরণ,
তুমি জান কি হইবে ফল
শ্রীচরণে যাহা পাই, মৃত্যু বা জীবন,
তাই মাের পরম মঙ্গল।
প্রবাসে। - (১) জনম হতে প্রবাসী আমি ; বিদেশএযে অচেনা । পরের আশানরের ভাষা- বুঝিনা। দুঃখ শোেক উছলি যায়, আমার পানে কেহ না চায়। আমারে কেহ এভব-গগহে ; যাটে না। (২) একাকী সদা সজন ধামে বসিয়া থাকি বিজনে ; আপনি কাঁদি আপনা হৃদি- বেদনে। কে তুমি কহ অচেনা পুরে তুষিতে চিত আসিছ ওরে ! প্ৰদানি আশা বিদেশ বাস- ভবনে ? ১৯১৬
পূজা।
(৩)
এ নহে তবে প্রবাস ভূমি,
তুমি যে আছ জননী
পূরিয়া গেহ
বিথারি স্নেহ
আপনি।
;
তােমার পদে বিশ্ব বাঁধা
আপনা পর নয়ন-ধাধা।
প্রবাস নহে
স্বদেশ এহি
অবনী।
স্তোত্র। অকথিত ভুবনে হ্রস্ব দীর্ঘভেদে উচ্চারণ করিতে হইবে। আদি অনন্ত অনাদি অন্ত অপার অগম্য পরিভূ! অসীম গগনে অখণ্ড অচ্যুত অধিভূ! পূর্ণ পরাৎপর পুণ্য-বিভাকর পরম মনােহর সৌম্য! প্রেম পরায়ণ তুমি নারায়ণ পরম পুরাতন ব্রহ্ম ! দুঃখ বিঘাতক মােক্ষ বিধায়ক লক্ষ্য সুদর্শক ধাত! ভবভয় বিল- দুর্বল-সম্বল, সৰ্ব্ব সুমঙ্গল দাতা। সত্য সনাতন তাপ বিনাশন বিগ্ন বিমােচন করহে। নিত্য মনােহর চিত্ত-কলুষ-ভর হরহে ! হে হর সুন্দর ১১৮
প্রকৃতি
“মরণং প্রকৃতিঃ শরীরিণাং”
"No, no ! the energy of life may be
Kept on after the grave, but not begun."
প্রকৃতি।
তােমার উদার হৃদয় প্রকৃতি।
সকলেরি তরে মুক্ত ;
তুমি কর দান অকপট প্রাণ
যে তােমারে চাহে ভক্ত।
ছলনা জানে না করুণা তোমার,
সবাই লভিছে তৃপ্তি।
তোমার বক্ষে
ক্লান্ত চক্ষে
শান্তের লভে সুপ্তি।
(২)
নয়ন সলিল পুছিতে পুছিতে
সিক্ত যাহার বস্তু,
বাহি সারা বেলা কৰ্ম্মের ভেলা
অসাড় যাহার হস্ত,
চুম্বিয়া তুমি নয়নে তাহার
ফুটাও হরষ-দীপ্তি ;
হাতখানি দেহে বুলাইয়া স্নেহে
দাও নব নব শক্তি।
(৩)
মানবের তুমি প্রেমময়ী সখী
চিরযৌবনাপ্রকৃতি।
আনিয়া মরণ
কর আবরণ
জীর্ণ তনুর বিকৃতি।
উদয়ে অস্তে, স্বাস্থ্যে জরায়,
তোমার মতন সঙ্গীকে ?
মহিমা তোমার নিখিল অপার
গাহিছে বিজয় সঙ্গীতে।
আকাঙ্গা।
(১)
নিত্য ঝা ঝটিকা বৃষ্টি ;
আকাশ আবৃত জলদে।
ক্ষুব্ধ হৃদয়, অন্ধ দৃষ্টি,
মানব ভাগ্যে জগতে।
কুহেলি-বিলীন আলােক মলিন
তরাসে পারে না ফুটিতে।
পড়ি মূরছিয়া দীপ্তি খুঁজিয়া
পাতা ঢাকা আঁখি দুটিতে।
(২)
সুধীর শান্ত মুক্ত গগনে
শুভ্র তুষার মণ্ডিত
উন্নত গিরিশৃঙ্গ বিজনে
সৌর কিরণ রঞ্জিত।
হােথায় ভবন
পারি নাকি আমি গড়িতে?
জগতের তীর
সীমার প্রাচীর
পারি নাকি আমি ছাড়িতে।
তেজিয়া ভুবন
-
১৬
প্রকৃতি
(৩)
হেথায় বিষাদ, হেথায় শ্রান্তি,
স্থেথায় ভ্রান্তি মানসে।
ও পার প্রান্তে স্নিগ্ধ শান্তি,
বিমল অলোক আকাশে।
তনুর ক্লান্তি,
আঁখির ভ্রান্তি
নির্বাণ কোথা লভিবে ?
আলােকে আঁধারে এ পারে ও পারে
সেতু বাঁধি মােরে কে দিবে?
প্রলয়।
(আরম্ভ)
পাঞ্চজন্য শঙ্খনাদ উঠিল ত্রিদিবে।
কপিল অমরাপুরী
কাপে বিশ্ব থরহরি ;
আসিছে প্রলয়, সৃষ্টি নিমেষে নিভিবে।
ভূলােকে দ্যুলােকে স্বর্গে
নর, যক্ষ, দেববর্গে
সকলে করিছে ধ্যান মহান্ প্রলয়।
ওই শোন চারি ভিতে
বিষাদ-করুণ গীতে,
গাইছে প্রলয় গীতি শুরনরচয় ।
(যক্ষ)
হে জগৎ! ক্ষণস্থায়ী, চঞ্চল, অসার
তােমার বিভব রাশি।
কারে আমি ভালবাসি ?
কার প্রেমে জুড়াইব হৃদয় আমার
তুমি যদি হে মৃন্ময় সুধু মৃত্তিকার ?
(দেবতা)
ওই রবি তেজোময়,
চন্দ্রমা তারকাচয়,
१२०
প্রকৃতি। নহে কি ইন্ধন সবে প্রলয়ের যাগে ? এ আকাশ কোথা রবে ? কোথা রবে চারু নভে সুশােভিত নীলকান্তি-অঞ্জনের রাগে ? জলদে বৈদুৰ্য আভা, কিম্বা দীপ্ত ক্ষণপ্রভা, অশনি গর্জন গুরু রহিবে কোথায় ? সপ্তবর্ণ ভরা তনু কোথা রবে ইন্দ্রধনু ? কোথা রবে বারিধারা তৃষিত ধরায় ? (গন্ধৰ্ব) শ্যাম বন উপবন, গিরিশৃঙ্গ অগণন, কোথায় রহিবে তব কহ বসুমতি ? কুসুম কুন্তলে! কহ- তুমি কি কুসুম সহ- প্রচণ্ড প্রলয় যজ্ঞে পড়িবে আহুতি ? (কিন্নর) চিত্র তুলিকায় আঁকা অশেষ চিত্রিত পাখা ছড়ায়ে আনন্দে পাখী করিছে কূজন ; ।' ১২৪
প্রকৃতি।
ফুল্ল ফুলে সদা গতি
ফুল সম প্রজাপতি ;
কোথা রবে জুড়াইতে শ্রবণ নয়ন?
(অপরা)
পদ্মময় কলেবর
কোথা রবে সরোবর ?
কূলপ্লাবী স্রোতস্বিনী ছুটিবে না আর?
আঘাতি’ সাগর-বেলা দুরন্ত উৰ্ম্মির খেলা
ফুরাবে কি ? শুকাবে কি সাগর অপার ?
(মান)
সৃষ্টির রহস্য মন্ত্র করিতে সন্ধান,
জানিতে জীবন কথা, জখম মরণ প্রথা,
প্রকৃতির ধ্যানে মগ্ন ছিল এ পরাণ ;
হইতে ধ্যান শেষ {ফরে দারণ ক্লেশ)
ধ্যান সহ প্রাণ মাের করিব প্রয়াণ ?
আশা ভালবাসা মম
জলে জলবম্ব সম
হৃদয়ে উঠিয়া লীন হইবে হৃদয়ে ?
আজীবন ব্যাপী ক্লেশ ভস্মে অধু হবে শেষ ?
টুটিবে সুখের স্বপ্ন প্রলয় বিজয়ে?
কে তুমি পুরুষ শাস্ত জগদাদি জগদান্ত
অঙ্গুলি সংকেতে যার আসিছে প্রলয় ?
এ রহস্য আবরণ
কর দেব উন্মােচন
নিৰ্ব্বাণ পূর্বাহ্নে ছিন্ন করিগাে সংশয়।
১২৫
০
প্রকৃতি।
(সকলে)
ওই শোন ওই শোন
আবার গরজে ঘন
প্রলয়ের মহাশঙ্খ ত্রিভুবন ময়।
উম্মুলি সৃষ্টির ভিত্তি বহিবে প্রলয়।
সুধু তিলেকের তরে
চারু সৃষ্টি শোভা ধরে,
তিলেকের তরে সুধু গৃহ পরিবার;
তিলেকে ফুরায় সুখ দুঃখ হাহাকার।
ক্লেশ দুঃখ ভরা প্রাণে
প্রণয় মাধুরি আনে;
কে বলে অনন্তে তার আছে পরিমাণ ?
ধরি দোহে হাতে হাতে
প্রাণ প্রেম এক সাথে
সংজ্ঞাহীন আলিঙ্গনে লভিবে নির্বাণ।
যদি এ সংসার হায়
ক্ষণেকে ফুরায়ে যায়
কেন তবে হিংসা দ্বেষ, কেন এ সংগ্রাম ।
যত টুকু আছে হিয়া
প্রেমে দাও বিলাইয়া ;
ক্ষণিক লভহ সবে আনন্দ আরাম।
;
প্রকৃতি।
মান অভিমান ভুলি
প্রেমে কর কোলাকুলি,
নয়নে অধরে বুকে মাখি সম্ভাষণ।
এস প্রিয় এস কাছে,
প্রাণ আজি প্রাণ যাচে,
লভি গো প্রেমের জন্মে প্রেমের মরণ।
শোন গাে আকাশ মাঝে
প্রলয়ের শঙ্খ বাজে
ভূলােকে দ্যুলােকে স্বর্গে করিয়া প্রচার
দীপ্তির সমাধি-শিরে চির অন্ধকার।
আহ্বান।
১
আমি মায়াময়ী মহামায়া জগত জননী।
সংসারের খেলা ফেলে
কোলে আয় শিশু ছেলে,
আমি মাতা আমি শিশু তাের ; ওরে যাদুমণি।
আয়রে অঞ্চলে ঢাকি
আয় তাের বুকে থাকি,
আমি ক্ষুধা আমি সুধা তাের, সুপ্তি জাগরণ।
আমি তাের সুখ হাসি
আমি তাের অশ্রু রাশি,
আমি খেলা, আমিই খেলনা, আমি ভাই বােন্ (১)
সখা সখী, বন্ধু আমি,
আমি পত্নী, আমি স্বামী,
চুম্বনে কম্পন-সুখ আমি, প্রেমে আলিঙ্গন।
আমি দীপ্তি, আমি আশা,
আমি তাের ভালবাসা,
বিরহের দীর্ঘশ্বাস আমি, যাতনা, বেদন। (২)
১২৮
আমিরে নয়নে ভ্রান্তি,
আমি শােক, আমি ক্লান্তি,
জামিরে স্বরগ-আশা, নরক ভীষণ।
আমি শূন্য, আমি কায়া,
আমি তাপ, আমি ছায়া,
আমি শৈশব, যৌবন, জরা, জীবন মরণ। (৩)
(২)
চেয়ে দেখ কি মােহনরূপে আমি সেজেছি
অরুণ-রঞ্জিত জলে,
বিকশিত ফুল দলে,
নবজলধর-ধারে আজি আমি এসেছি।
হের স্বচ্ছ নীলাকাশে
আমার মূরতি ভাসে,
উছলি সরিৎ জলে নাচিতেছি ছুটিয়া ;
দেখ মাের কত শােভা
গিরি শিরে মনলােভা-
তুষার ধবল কান্তি লয়ে আছি ফুটিয়া।
এস গাে মানবগণ
কর মােরে আলিঙ্গন,
এত রূপ কোথা পাবে ? ভালবাস আমারে।
ভালবাস, দেও প্রাণ;
দেও যা করেছি দান ;
;
6
প্রকৃতি।
;
ফিরে দাও যে জীবন দিয়াছিনু তােমারে ;
দাও ফুল (প্রফুল্লতা),
শ্যামল জীবন-লতা,
সপ আসি কৰ্ম্মফল আজি মাের চরণে ;
পাপ, তাপ, পুণ্য, শান্তি,
দেও গাে উৎসাহ ক্লান্তি,
জীবন ফিরায়ে দাও আলিঙ্গিয়া মরণে।
কেন এ জীবন।
(১)
প্রকৃতি! জীবন-তত্ত্ব সুধালে তােমারে
নিত্য শুনি নানা বাণী ও গাে সুচঞ্চল।
“লােকস্থিতি, আত্মস্থিতি, শান্তি, সুখ, বিশ্ব প্রীতি,
সে ত গাে তরঙ্গ মাত্র জীবন সাগরে।
কেবা পায় সিন্ধু-তত্ত্ব গণি উৰ্ম্মিমালা ?
(২)
কারে বা অরণ্য বলি কারে বলি গেহ ?
কারে বা জীবন বলি কারে বা মরণ?
করে বলি ভালবাসা, কারে বলি স্নেহ ?
কারে বলি মুক্তি ওগাে কারে বা বন্ধন ?
নহেত এ বিশ্ব সুধু মানব ভবন;
অদৃশ্য কীটাণু যারা
পেয়েছে জীবন তার ;
বৃথা কি স্থিতির কথা কহ অনুক্ষণ?
গড়িতে প্রাসাদ আমি
বিনাশি বে বন-ভূমি ;
কঁদে কুকী কঁাদে ভীল,কঁদে জুলু, সেহ #
কারে বা অরণ্য বলি কারে বলি গেহ ?
Saho জাতি।
প্রকৃতি।
(8)
নরের কামনা সিদ্ধি-
ক্ষুধা শান্তি আয়ু বৃদ্ধি,
যন্ত্রণায় কিন্তু ওই কঁদে জীবগণ ;
কারে বা জীবন বলি কারে বা মরণ?
(৫)
লভিবারে ধন ধান্য,
মূষিকে আবাস শুন্য
করি হােথা হল-মুখে কাদে কবি কেহ। *
মানবের অধিকার? ধিক্ তাহে শতবার।
কারে বলি ভালবাসা কারে বলি স্নেহ ?
আছি মােরা হৃষ্ট মনে
উন্নতির সিংহাসনে,
তবু কেন অমিতাভ করিছে ক্রন্দন ?
কারে বলি মুক্তি আমি কারে বা বন্ধন?
(৭)
হের ওই কুরুক্ষেত্রে যুধিষ্ঠির সাশ্রু নেত্রে
কহিছে সাম্রাজ্যে তার নাহি প্রয়ােজন।
এই কি বিশ্বের শান্তি দুষ্টের দমন ?
প্রকৃতি! পারি না তাই বুঝিতে কখন
কেন এ সংসারে আসা, কেন প্রতি ভালবাসা?
কেন বা মুক্তির নামে দারুণ বন্ধন?
# Burns
প্রতি
শােধিতে কাহার ঋণ
পরিশ্রমে কাটে দিন?
আত্মােন্নতি ? পরসেবা ? পারিনা বুঝিতে।
সাধিতে একের হিত,
আঘাতি অন্যের চিত;
উন্নতির নামে, সদা হতেছে যুঝিতে;
সে যুদ্ধের অবসান
হতে ; না পেতে প্রাণ
কল্যাণ,চরম লক্ষ্য ; আসেরে মরণ।
কে বুঝাবে, কে বলিবে,কেন এ জীবন?
-
এই যে মস্তিষ্ক মম,
স্নায়ুচক্র, রক্ত ক্রম,
আশাময় জীবনের এই কি পরিধি ?
কৰ্ত্তব্যের উপাসনা,-
সেকি সুধু বিড়ম্বনা ?
শেষ মাত্র স্মৃতি-শূন্য মৃত্যু বারিধি ?
জীবন দলিয়া পায়
সংসার ঘুরিয়া ধায় ;
কে করিল এ নির্মম চক্রের নির্মাণ ?
প্রকৃতি
হে প্রকৃতি, হে ঈশ্বর,
ভাঙিলে মাটীর ঘর,
লভিবে কি গৃহবাসী নিষ্ঠুর নির্বাণ
জানিনা কেন এ ভবে জীবন বিকাশ লভে,
কেন এ চৈতন্যময় প্রেমের সৃজন।
সকলি কি মােহ মায়া বৃথা কল্পনার ছায়া ?
ভাতিল জ্ঞানের নেত্রে এহিকি দর্শন?
কুসুম পড়িলে ঝরি
(১২)
নিষ্ঠুর প্রকৃতি বলে, “এই শেষ মহীতলে,
“জীবন ফুরালে বহে কেবল মরণ।
‘‘আকাঙক্ষার কামনার
সেই শেষ দুণিবার,
“জগতের পরিণাম মরণ ভীষণ।
“সুগন্ধ বিস্তার করি
“রহিবে যে ফল তার সেই পরকাল ;
“এ দেহের শেষ হলে রবে স্মৃতি ধরাতলে
“গতিরূপে (দোষ গুণে ), বংশে চিরকাল।
“জীবাণুর বংশধর
বিকশিত যত নর
“যত রূপ যত গুণে রয়েছে ভূষিত,
“তিল তিল পরিমাণে হয়েছে তাহার প্রাণে
“সে উন্নতি বিশ্ব-গতি হতে সংক্রামিত।
.
১৪
প্রকৃতি।
•
“অক্ষয় সমাজস্তরে লেখা থাকে স্বর্ণাক্ষরে
“পূর্ব পুরুষের গুণ মহিমা উজ্জ্বল;
“উক্তি সঞ্চারি ভবে অস্থি মজ্জা ভস্ম হবে,
জীব বংশে জীব রবে, এই শেষ ফল।”
(১৩)
শুনেছি অনেক বার, শুনিতে না চাই আর
প্রত্যক্ষ বিনাশী এই প্রত্যক্ষ-পুরাণ;
উন্নতির বাড়ে বুক,
সমাজের হয় সুখ,
কিন্তু কোথা ডুবে যায় প্রত্যক্ষ পরাণ?
অর্ধ প্রাণ আত্মগত,
অর্ধ পরসেবা রত;
আত্ম ছাড়া নাহি পর নিশ্চয় সন্ধান।
জীবন ফুরালে ভবে পর-সেবা একা রবে ?
অাত্ম আকাঙক্ষার হবে বিনাশ বিধান ?
সকলেরি পরিণতি অক্ষয় অমর গতি ;
কেবল একের ভাগ্যে ছিল কি মরণ ?
মরণ রহস্য কথা কহ মােরে নচিকেতা ;
কহ শুনি মন্ত্রদ্রষ্টা ওগো ঋষিগণ,
কেন এ সংসারে আসা, কেন প্রীতি ভালবাসা ?
কেন এ চৈতন্যময় আকাঙ্ক্ষা আত্মার ?
প্রকৃতিরে সেধে মরি; অরণ্যে রােদন করি।
তােমরা বল গাে মােরে কি হবে আমার ?
মৃত্যু ও জীবন।
(১)
নবজাত ক্ষুদ্র শিশু কতই ঘুমায়।
অল্প মাত্র থাকে তার যেন জাগরণ;
ধীরে ধীরে নিদ্রা টোটে,
ধীরে জাগরণ ফোটে ;
ধীরে ধীরে অন্ধকার নিশান্তে পালায়
জগতে আলােক ভাতে, প্রকাশে তপন ।
৩
(২)
এজগতে এ বিধান,
মৃত্যু মরে বাঁচে প্রাণ ;
জড় হােতে জন্ম লয় সজীব চেতন।
আঁধারে আলােক ছােটে, জড় দেহে প্রাণ ফোটে,
পরাণে চৈতন্য জাগে দ্রষ্টা বিচক্ষণ।
অর্ধ-জড়-কীট-দেহে,
যে শক্তি লুকায়ে রহে,
মানবের জ্ঞানে ধৰ্ম্মে তাহারি বিকাশ ;.
১৩৬
প্রকৃতি।
=
এতথ্য বুঝিবে কেবা,
স্বার্থে থাকে পরসেবা,
'হিংসা দ্বেষ অভিশাপে কারুণ্য প্রকাশ ।
হিংস্র মূঢ় পরঘাতী, ভীষণ যে পশুজাতি-
ফুটিল তাদের বংশে মানবের প্রাণ।
ফোটে বুদ্ধ দয়াময়, ফোটে সক্রেটিস্ চয়,
ফোটে শত শত খ্ৰীষ্ট, সমাজকল্যাণ।
এই যে চরণ তলে,
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কীট চলে,
ছুইলে নখের কোণে প্রাণে মারা যায় ;
উহাদেরি বংশধর
তেজ-দন্তশালী নয়
স্রষ্টার সৃষ্টির তত্ত্ব বুঝে ওঠা দায়।
তপ্ত বাষ্পে বারি সৃষ্টি,
( অগ্নি করে শৈত্য বৃষ্টি )
দেশপ্লাবী জল হােতে বিকশয়ে স্থল ;
ব্ৰহ্মাণ্ড সৃষ্টির রথে,
চোলেছে উন্নতি-পথে,
মহান্ উদ্দেশ্য মূলে অনন্ত মঙ্গল।
;
জগতে অনন্ত গতি-
নাহি নাশ অবনতি,
প্রকৃতি
তিলে তিলে দিনে দিনে নবীন বিকাশ।
কেবলি উন্নতি বৃষ্টি,
ধ্বংস অর্থ নবসৃষ্টি ;
বিশুদ্ধ কুসুম দলে ফলের প্রকাশ।
দুঃখ ক্লেশ আদি যত,
সুখে হয় পরিণত ;
ভ্রান্তি বশে ভাবি যারে কঠোর যাতন,
সেতাে এই অবনীতে
উন্নতির জন্ম দিতে
ক্ষণস্থায়ী উপকারী প্রসব বেদনা।
তরঙ্গে তুফানে ঝড়ে,
সমুদ্র গর্জন করে,
দাপটে মেদিনী পিণ্ড চূর্ণিবারে চায়।
কিন্তু তার, কতক্ষণ
থাকে সেই আস্ফালন ?
বাড়ে স্থল, জাগে প্রাণ, সাগর শুকায়।
স্থল, দেয় বাহু নাড়া,
ভূ, কম্পে, পেয়ে সে সাড়;
সিন্ধু গর্ভ হতে ওঠে দেশ জনপদ ;
আহবে পরাস্ত মানি,
সিন্ধু তারে দেয় আনি,
মাণিক্য মুকুতা আদি আপন সম্পদ।
১৩৮
প্রকৃতি।
(৪)
তরঙ্গ দলিয় পায়,
নরপােত বেগে ধায়,
দেশ হােতে দেশান্তরে নির্ভীক অন্তরে;
মানব শক্তির কাছে
সবে হার মানিয়াছে;
প্রােথিত মানব ধ্বজা সমুদ্র উপরে।
জড় হতে জন্ম যার,
আজি জড় রাজ্যে তার,
ক্ষমতা প্রভূত হেরি উপজে বিস্ময়।
অপার অগম্য তত্ত্ব,
বুঝিতে অক্ষম চিত্ত,
বুঝিনাত জানিনাত কিসে যে কি হয় !
নিত্য আছে মৃত্যু শিরে, কঠোরতা আছে ঘিরে
তবুও কোমল প্রাণ ক্ষুদ্র প্রজাপতি
ফুল্ল রবি করে নেয়ে, ফুল ফুলে মধু খেয়ে,
আনন্দে কাননে সদা করিতেছে গতি
করে নর অনুক্ষণ,
মৃত্যু মাঝে বিচরণ,
তবু মরণের অন্তে রহে মহাস্থিতি।
স্থিতিরূপে কালস্রোত
বহিতেছে অবিরত,
ঢালিয়ে আনন্দ শান্তি, এই মহানীতি।
প্রকৃতি।
(৫)
;
সসীম মানব তার
একি দিব্য অধিকার।
অনন্ত স্নেহ মমতা আশা সীমাহীন
এ জগতে কই আর
পরিতৃপ্তি আছে তার ?
হেথা কি মানব প্রাণ জড়ের অধীন?
যে করিল জড় নাশ
সে হবে জড়ের দাস ?
উন্নতি, মঙ্গল-নীতি, বিফল হেথায় ?
যে বলে, সে ভ্রান্ত অতি,
বােঝে না সৃষ্টির গতি,
উন্নতির আগে পিছে উন্নতি খেলায়।
উন্নত মানব প্রাণ,
জড়ে হবে অবসান ?
অতুল সুন্দর আত্মা হবে না মলিন।
সে সৌন্দৰ্য্য পাবে দীপ্তি,
পিপাসায় হবে তৃপ্তি ;
জীবনের পরে আছে জীবন নবীন।
প্রাণের অসীম আশা,
চিন্তার অশেষ ভাষা,
ভ্রমিবে অনন্ত লােকে আনন্দ বিহল,
;
প্রকৃতি।
ব্ৰহ্মাণ্ড সৃষ্টির রথে,
চোলেছে উন্নতি পথে,
মহান্ উদ্দেশ্য মূলে অনন্ত মঙ্গল।
১৪১
যা হাে বিধান।
(১)
যে জগতে জীব গােষ্টি কোটি পরিমিত,
জগৎ যেখানে অনু, সৃষ্টি তুলনায় ;
সে বিশ্বে, হে নারায়ণ,
আমার কি প্রয়ােজন ?
দাড়ায়ে সৃষ্টির কূলে হৃদয় স্তম্ভিত ;
আমি কারে চাই প্রভু কে আমারে চায় ?
কাহার সেবার তরে
হৃদে অনুরাগ ঝরে ?
এত প্রীতি ভালবাসা কাহার আশায় ?
আমি কারে চাই হরি কে আমারে চায় ?
(২)
কিবা মােহ মেখে বুকে,
বেঁচে থাকি কিবা সুখে,
কেন হাসি কেন কাদি বুঝিতে না পাই।
জীবনের মহােৎসবে
কোথা হােতে এলে সবে ?
আমি তাে কাহারে প্রভু, ডেকে আনি নাই !
কে সাজায় এ সংসার?
কে সাজায় পরিবার ?
રક્કર
প্রকৃতি
,
কি ছার সুখের আশে বল সদা ধাই,
কে হাসি কেন কাঁদি বুঝিতে না পাই।
(৩)
জীবনের এ আহবে
শেষ ফল কি হবে ?
শেষ মৃত্যু;-তারপর কি রবে আমার ?
দীক্ষিত কৰ্ত্তব্য পথে
শিক্ষিত জীবন ব্রতে
এ মাের হৃদয়, প্রভু, কিবা হবে তার ?
ফুরাবে কি কান্না হাসি ?
নিবিবে আলােক রাশি ?
যাবে সুখ, যাবে দুঃখ, অলােক, আঁধার ?
শেষ মৃত্যু;-তারপর, কি রবে আমার ?
(৪)
স্বপ্ন যদি সুখভােগ,
স্বপ্ন যদি পরলােক,
স্বপ্ন যদি, স্বপ্ন রাজ্য করিছে বিস্তার,
কেন তবে ভুলে থাকি ?
কেন বা জীবন রাখি ?
কেননা আপনি করি আপনা সংহার ?
হাসি বিসজ্জিব হেসে !
সেহ প্রীতি যাবে ভেসে ; .
প্রকৃতি
যাবে ডুবে হৃদয়ের কামনা আমার,
স্বপ্ন যদি, স্বপ্ন রাজ্য করিছে বিস্তার।
হােক স্বপ্ন থােক মায়া,
হােক ভ্রান্তি, হােক ছায়া,
তবুও বাঁচিতে চিত্তে অপার বাসনা।
চক্ষু জলে গণ্ড ভাসে,
বক্ষ কাপে দুঃখে ত্রাসে,
তবুও ঘােচে না যেরে প্রাণ-উপাসনা।
কৰ্ম্ম অন্তে অনুতাপ,
পদক্ষেপে বাড়ে পাপ,
প্রতারিত আশার সে লােলুপ রসনা।
তবুও বাঁচিতে চিত্তে অপার বাসনা।
(৬)
ইচ্ছা তব ইচ্ছাময়,
ক্ষুদ্র কীট (ও) বেচে রয়।
হোক তব ইচ্ছা পূর্ণ; আমিও বাঁচিব।
কিন্তু প্রভু কিবা লক্ষ্যে
রােয়েছি ধরণী বক্ষে ?
একবার সেই কথা কহগগা শুনিব।
১৪৪
প্রকৃতি।
নতুবা জীবন ব্রতে,
গুরু কৰ্ত্তব্যের পথে
আঁধারে হারায়ে পথ কেমনে চলিব ?
(৭)
দুঃখ শোক যত হােক,
নাই থাক্ পরলােক,
যা হােক তা হােক বিধি তােমার বিধান ;
তাই মাথা পেতে লই,
দুঃখেই বাঁচিয়া রই,
নাই বুঝি কি লক্ষ্যের করি যে সন্ধান
তােমারি জগত রাজ্যে
থাকি প্রভু তব কাৰ্যে ;
হােক দুঃখ, হােক ক্লেশ, বিনাশ নিবাণ ।
গ্ল হােক তা হোক বিধি তোমার বিধান।
•
উদ্দেশে
(১)
জলবি সম এ মর জীবন
জানিতাম, সখা, জানিতাম।
মমাদের নিবাস অমর ভবন
তােমারি মুখে তা শুনিতাম
তবুও আজিত প্রিয় সহচর,
পারিনা চিত্ত ভুলাতে ;
তবুও হৃদয় বিরহে কাতর
বসিয়া পান্থ শালাতে।
ওগাে ও অজানা পথের পথিক,
ভবপথ আর হের কি ?
ওগো অমরার প্রেমের প্রেমিক,
ভবের প্রণয় স্মর কি ?
অবিচল প্রীতি অটুট সৌখ্যে
ছিল তব প্রাণ পূর্ণ;
পরহিত ব্রত পালিয়া বক্ষে
অর্জিলে কত পুণ্য।
প্রকৃতি।
তােমার মতন কে ছিল সুধীর,
সুশীল শিষ্ট বিনীত ?
তােমার মতন কে সহিল বীর,
নিঠুর পীড়ন নিয়ত ?
অশ্রুসিক্ত বেদনা অপার
ব্ৰহ্মচরণে ঝরিত;
তপ্তচিত্ত সতত তােমার
নিভৃতে শান্তি লভিত।
(৩)
স্বজনগঞ্জনা-বিষের জ্বালায়
জ্বলিতে দিবস রজনী ;
বক্ষ পাতিয়া লইতে হেলায়
শত্রুর শত অশনি।
চিরপ্রিয় তব বান্ধব কত
তেজিল হে প্রিয়, তোমারে ;
অঙ্গ ভরিয়া লভিলে গগ ক্ষত
নিশিত শরের প্রহারে।
কলঙ্কপাশ বহিলে মাথায়,
সহিলে অশেষ যন্ত্রণা ;
শান্তিময়ের চরণ ছায়ায়
লভ আজি সখা সান্ত্বনা।
;
* ১৪৭
প্রতি। (৪) জগত-পূজ্য যে নর-রতন, কাটার মুকুট পরিয়া শূল-আরােহণে তেজিলা জীবন, সে লবে তোমারে বরিয়া। নর-দেব যেগগা দেবতা-পূজিত নির্বাণ লভি শুদ্ধ, নাশিলা ভবের দুঃখ দুরিত, সে করিবে চিত স্নিগ্ধ। ত্রিলােক-পূজিত ঋষির চরণ- পরশে ঘুচিবে ক্লান্তি ; ব্ৰহ্ম কৃপায় মরিবে মরণ, লভিবে অমৃত শান্তি।
দেবস্বপ্ন।
শরতের সায়াহ্বে একদা
বসে আছি মহানদী তটে,
তাস্তমিত রবি-করমালা
ঝলকিছে গগনের পটে।
বিম্বিত কমলা বর্ণে মাখা
মহানদী স্বর্ণ নদী প্রায় ;
কূলে আঁটা শ্যাম শৈলগুলি
অতি দূরে দূরে শােভা পায়।
ঊর্ধে অধে যেন দুটি নদী
তরল আলােক-জলময়,
মাঝে তার শ্যাম শৈল-রাজি-
তট প্রায় যেন মনে হয়।
দেখিতে দেখিতে সেই শােভা
নিদ্রাভরে পড়িনু ঢলিয়া ;
মনে হল দীপ্তস্রোতে ভেসে
কোথা যেন যেতেছি চলিয়া।
পার হয়ে প্রান্তর ভূধর,
পার হয়ে স্বর্গ স্বর্ণ নদী,
-
১৪৯
প্রকৃতি
পার হয়ে স্বর্ণরাজ্য শত,
পার হয়ে স্বর্ণ মহােদধি,
উতরিনু আলোক রঞ্জিত
ভূমি শূন্য মহাদেশ-কূলে ;
দাঁড়াইনু বিস্ময়ে আকুল
মেঘস্তর স্থাপি পাদমূলে।
সে রাজ্যের তিলমাত্র শােভা
ধরাধামে দেখি নাই কভু।
সঙ্গীত গাহেনা কেহ সেথা
সুসঙ্গীতে পূর্ণ দেশ তবু।
নাহি গিরি নাহি তরুলতা
নাহি পাখী নাহি সমীরণ,
শুধু এক তরল আলােকে
ভাসিতেছে সে দিব্য ভুবন।
দাহ শূন্য দীপ্ত আলো রাশি,
অতি স্নিগ্ধ, ধাঁধে না নয়ন,
তারি মাঝে নিত্য ফুটে উঠে
নব নব শােভা অগণন ।
দাঁড়াইয়া আছি মেঘস্তরে,
ধৌত দেহ সে পুণ্য আলােকে ;
নব নব ভাব আসি কত
প্রাণমুলে খেলিছে পুলকে।
।
প্রকৃতি।
হেনকালে আলোক সাগরে
মৃদু মৃদু উঠিল কম্পন,
খুল এক জ্যোতির্ময় মেঘ
পুরােভাগে দিল দরশন।
অমনি মধুর-তর গীতি
বিমােহিল শ্রবণ যুগল ;
অমনি এ স্বার্থপর প্রাণ
বিশ্বপ্রেমে হইল পাগল।
ভাঙ্গি সেই স্কুল জ্যোতি রাশি,
কোলে লয়ে শিশু মনােহর,
শিশু এক বালিকা আসিয়া
দাঁড়াইল ধরি মাের কর।
চিনিয়া সে দেব দেবী ছবি
কাদিয়া ধরিনু দগ্ধ বুকে ;
ব্যাকুল পরাণে প্রাণ ভরে
চুমিলাম দুটি মুখ সুখে।
কহিলাম “আমার মতন
অার জন কাঁদে যে ধরায়,
আমা হতে বেশি যার স্নেহ,
প্রাণ যার গড়া মমতায়,
সে যদি আমার মত আজি
এমনি পারিত বুকে নিতে।
১৫১
প্রকৃতি
ঋদ্ধ কণ্ঠ হইল অমনি
কথাগুলি কহিতে কহিতে।।
কহিল বালিকা স্নেহভরে,
“এ নগরে দুঃখ শােক নাই।
এস মােরা দেখাব নগরী ;
এই পথে চল সবে যাই।”
অঙ্গুলি সঙ্কেতে আমি তার
কিছু দূর হয়ে অগ্রসর,
অন্য এক জ্যোতিৰ্ম্ময় মেঘ
হেরিলাম অতি মনােহর।
দাড়ালেন সম্মুখে আসিয়া
ভাঙ্গিয়া জ্যোতির মেঘস্তর,
শিরে রাজ মুকুট পরিয়া
দেবরূপী পুরুষ প্রবর।
ভক্তিভরে পদতলে পড়ি
যাচিলাম পুণ্য আশীর্বাদ ;
হাত ধরি তুলিয়া আমারে
কহিলেন “আজি কি আহলাদ।
“আঁধারে ভারত ছিল ভরা
ব্ৰহ্ম নাম ছিল লুপ্ত প্রায়,
“নগরে নগরে আজি তথা
. নর নারী ব্ৰহ্ম গান গায়।
১৫২'
প্রকৃতি।
“ঋষির তপস্যা ক্ষেত্রে আসি
খ্ৰীষ্টশিষ্য কত ইজরাজ,
শিখাইত নর-পূজা বিধি,
স্থাপি সেথা খ্ৰীষ্টান সমাজ।
“বরং প্রতিমা পূজা ভাল,
নর-পূজা মহা পাপময়;
“সেই পাপ হেরি তিরােহিত
প্রাণ ভরি গাই ব্ৰহ্মজয়।
“ভারতের অশেষ দুর্গতি
নেহারিয়া ব্যথিত অন্তরে,
“গিয়াছিনু করিতে জ্ঞাপন
সেই কথা ইংরাজ নগরে।
“সাধ ছিল, সেথা হতে ফিরে
স্বদেশের সেবিব চরণ।
“কিন্তু ইচ্ছা বিশ্বনিয়ন্তার,
সেই দেশে হইল মরণ।
“যে কাজে একেলা ছিনু আমি,
সেই কাৰ্য্য করিতে সাধন,
—প্রসন্ন ভারত ভাগ্য বটে-
জনমিল বীর কত জন।”
“হে রাজন্ কোথা তারা সবে ?
একবার হেরিব নয়নে।
d
প্রকৃতি।
“এ দেশে কি এসেছেন কে ?
কিম্বা সবে আছেন জীবনে
শুনি কথা কহিল বালিকা
আবার ধরিয়া মাের কর,
জীবন মরণ কথা আমি
কহিতেছি হও অগ্রসর
“ইহ পরে প্রভেদ কোথায় ?
আজি কালি এক সূত্রে বাধা ;
“একি রাজ্যে সবে করি বাস
জন্ম মৃত্যু নয়নের ধাঁধা।
বিশেষ ব্রহ্মের নামে যারা
সমর্পণ করে মন প্রাণ,
**একি জ্যোতি রাজ্যে তারা সবে
করে বাস নাহি ব্যবধান।
“ওই হের জ্যোতি লােকে তারে,
যাঁরে মনে করগাে জীবিত।”
হেরিলাম দেবেন্দ্র মূরতি
ধ্যানে মগ্ন ; হইনু বিস্মিত।
তার পরে আলােক নগরে
ঘূরে সবে করিনু ভ্রমণ ;
বালিকা দেখাল এক যােগী,
ব্রহ্মানন্দে আনন্দে মগন।
বহুদিন পূর্বে হেরেছি,
চিনিলাম কে সে যােগীবর ;
সেই হাসি প্রসন্ন অধরে
এবে বটে অধিক সুন্দর ;
সেই সুগৌরাঙ্গ তনু খানি
জ্যোতি ভরে অধিক উজ্জ্বল,
মধু কণ্ঠে সেই “মা” “মা” ধ্বনি
শুনি কর্ণ হইল শীতল।
রসিলাম ভার পদ তলে ;
পরশিয়া সে চারু চরণ;
কহিলাম আজি একবার
তত্ত্বকথা করাও শ্রবণ ।
সুধা-স্রোত সুকণ্ঠে ঝরিল,
কহিলেন, “কি শুনিবে আর ?
“হেথা নাই ভেদ কোলাহল,
প্রেমে বাঁধা সবি হৈথাকার।
“কূট তর্ক কিছু হেথা নাই,
তত্ত্ব-যুদ্ধ শুধুই ভরম ;
“ব্ৰহ্মভক্তি সর্ব ধৰ্ম্ম সার,
এই নববিধান চরম।
হেনকালে হেরিনু অদূরে
আরো দুই মূর্তি মনােহর,
১৫৫
প্রকৃতি।
জ্ঞানেতে শঙ্কর দুইজন,
দুজনাই দয়ার সাগর।
একজন ডাকিলেন মােরে
পরিচিত মধুর বচনে ;
ছুটে গিয়ে প্রণমি অমনি
সুধাই ‘ছিনু কি স্মরণে?
তপস্যা বিশীর্ণ তার তনু
হেরিলাম জ্ঞানপুষ্ট অতি ;
আছে মাত্র কালীকৃষ্ণ নাম,
দেহ ভরি সুধু খেলে জ্যোতি
আর জন পারশে তাহার ;
পরদুঃখে এখনাে বিহাল ;
বিধবার দুঃখ-অশ্রু-হারে
সুশােভিত চরণ যুগল।
পরশিয়া সে দেব চরণ,
গুণ মাের পূরিল উল্লাসে;
অনিমিক রহিনু চাহিয়া,
শিশু দুটি স্থাপি বক্ষ পাশে।
হেরিতে হেরিতে মেঘস্তরে
খেলাইল চারু ইন্দ্রধনু;
দেখিলাম বিস্মিত নয়নে,
ব্রসিয়া আছেন রামতনু।
১৫
প্রকৃতি।
জীবনে মরণে নাহি ভেদ,
ভাবিতেছি হইয়া স্তম্ভিত,
অমনি ভাঙ্গিল নিদ্রা মম!
কোথা দেশ আলােক রঞ্জিত ? =
* কবিতাটি প্রায় ১২ বৎসর পূর্বে লিথিত; তখন রামতনু
লাহিড়ী মহাশয় ইহলােকে।
টু
A Question To Fausta
(Matthew Arnold)
।
হর্ষ আসে, ফের চলে যায়, আশা খেলে জোয়ার ভাটায়
তরঙ্গ সমান ;
মানবের ধীরশক্তি শিথিলিত হয় কালবশে;
প্রেম আনে এ জীবনে কিঞ্চিৎ মাধুরি,
দু একটি বিষাদের হাসি ; অবশেষে
মৃত্যুর মাঝারে হয় একি শয্যা’পরি
উভয়ে শয়ান।
স্বপ্ন আসে, ফের উড়ে যায়, বন্ধু যারা হাসিয়া পালায়
যেন ফুল-কলি।
স্পর্ধার জীবন যাত্রা দীর্ঘব্যাপী অন্ত্যেষ্টির ক্রিয়া।
মানব সাজায় চিত দুঃখে কঁাদি যেরে
মৃত আশাদের তরে ; সকলে মিলিয়া
ভীতি-নিপীড়িত চিতে সন্দিগ্ধ অন্তরে
গণে দিনগুলি।
দিনগুলি গণি মােরা সবে ! আমাদের স্বপ্নগুলি ভবে
অলীক অসার--
দেখিব জীবিত কিতা, হেথা হ’তে করিলে প্রয়াণ ?
অতি ক্ষীণ অনুভূত হর্ষ আমাদের
গেছে চলি যতগুলি হসিত বয়ান,
জনমি মরিল যত আশা হৃদয়ের,
পাব কি আবার ?
।
প্রীতি
No text on this page.
চন্দনা।
কালো মেঘে আকাশ ঢেকে বর্ষা এল আষাঢ়ে
নূতন জলে হেসে খেলে জাগল কত আশারে ।
মুসলধারে বৃষ্টিধারা মটা দিল ভিজিয়ে ;
বহু দিনের শুষ্ক স্মৃতি উঠল আজি গজিয়ে।
ফুটুল বনে ফুটল মনে কত ফুলের কলিকা
বাল্যকথা ফুটুল যথা, শুভ্র নব মল্লিকা।
ছড়িয়ে পাতা তুলে মাথা, উঠল জেগে কল্পনা।
প্রাণের তটে এল ছুটে ক্ষুদ্র নদী চন্দনা।
৩
ছােট ছােট পল্লীগুলি তীরে তীরে দুধারে
ছায়া ফেলে কালো জলে কি যে শোভা বিথরে ।
স্বচ্ছনীরে ওর তীরে, কত বছর আগেরে ।
খেলেছিনু কত খেলা;--আজো মনে জাগেরে।
উছলে যেত কূলে কূলে কত হর্ষ ব্যথা গো।
সে দিন বোলে মনে পড়ে বহু দিনের কথা গো।
ভেসে গেছে হর্ষটুকু, পড়ে আছে বেদনা।
যাচ্চে বয়ে আঁকা বাঁকা ক্ষুদ্র নদী চন্দনা।
প্রতি।
(৩)
বন্যাজলে জোছনা রেতে উঠত মেতে ধরণী
মেঘের মত ভেসে যেত পাল খাটিয়ে তরণী।
কূলের জলে দুলে দুলে ভাত কত বিধুরে।
বাজত কত প্রেমের বীণা প্রাণের মাঝে মধুরে।
ছুটত কত সুখের ঢেউ ; আজি কোথা চিহ্ন তার ?
কোথা তন্ত্রী কোথা বীণা ? পড়ে আছে ছিন্ন তার।
বর্ষা জলে বুকের তলে উঠছে ফুলে ভাবনা।
বন্যা জলে ছুটে চলে ক্ষুদ্র নদী চন্দনা।
(৪)
গাঙের ঘাটে তীরের মাঠে আজি গীতি গাহে কে ?
কাদের বাছা ওরা সবে কলরবে নাহেরে ?
আমার সখা সাথী যারা কোথা তারা মরিরে ।
নূতন জলে আজি দুলে ভাসে কাদের তরীরে ?
আজো ধরা হাসি ভরা ! কে হাসে ঐ কূলে গাে?
কেহ কিরে, আর মােরে মনে করে ভুলে গো?
কেগো স্রোতে আহলাদেতে অঙ্গ ঢালে অঙ্গনা ?
বহে যারে প্রেম ধারে ক্ষুদ্র নদী চন্দনা।
কালাে মেঘে আকাশ ঢেকে বর্ষা এল আষাঢ়ে।
মনের সুখে নদীর বুকে আজি তরী ভাসারে।
তরঙ্গেতে বঙ্গভরে নাছবি কেগাে ছুটে আয় !
প্রীতি।
নদীর জলে কলকলে বন্যা আজি বহে যায়।
হেসে খেলে আয়রে শিশু আনন্দের মূরতি ;
কসী বুকে ভাস সুখে ফুল্ল যত যুবতী।
যারে ছুটে প্রাণের তরী, পাল তুলেছে কল্পনা।
যারে বােয়ে, বহে যথা ক্ষুদ্র নদী চন্দনা।
;
আনন্দে নব প্রতিভা কিরণে যশের কমল ফুটিলরে ?
পবিত্র তাহার সুরভি লভিয়া পবন ভুবনে ছুটিলরে ।
নিত্য নিত্য নব পরিমল উছলি পড়িছে পর্ণে;
ভাতে সরােবরে সেহি শতদল কতনা মােহন বর্ণে।
রঞ্জিত সেহি আসনে আপনি ভারতী বসিলা হাসিয়া
তীরে তীরে কত ভক্ত সেবক দাড়াল হরষে আসিয়া।
তুলি চারু করে মধুর তন্ত্রী বাংকারে গীতি ভারতী ;
মিলিয়া ভক্ত—সে গীতি মুগ্ধ—করিছে তঁাহার আরতি
হেরিয়া দেবীর কনক মূরতি সুষ-কমল আসনে,
দেখিয়া অঙ্গ শােভিত সুচারু তাযুত কবিতা
ভূষণে,
বিবিধ মধুর সঙ্গীত শুনি তৃপ্ত করিয়া কর্ণ,
সরস নবীন ভাব-তরঙ্গে অন্তর হয় পূর্ণ।
রহগো এমনি দেবী বীণাপাণি যুগ যুগান্ত ভরিয়া ;
লেখ্য তােমার, হৃদয় মানস রাখুক উজল করিয়া ।
১৬৪ ॥
.
.
বিদায়।
(গডওয়ার্ড অঙ্কিত চিত্র দৃষ্টে)
(১)
জন্মভূমির সেবিতে চরণ
পশিব সমর-ক্ষেত্রে ;
প্রেমময়ি, তুমি তুলিয়া বদন
চাহগগা হসিত নেত্রে।
প্রমদে, আমার কর পরশিয়া
সঞ্চার ভুজে শক্তি ;
উছলিত কর সুধা বরষিয়া
হৃদয়ে স্বদেশ ভক্তি।
নাচাও সমর সিন্ধু, রূপসি,
বদন-ই-কিরণে ;
নাচাও শােণিত-প্রবাহ, প্রেয়সি,
নব উৎসাহ বচনে
জাগাও অন্তরে বীরত্ব গৌরব,
কপােল দুখানি উজলি';
জাগাও বিশ্বাস নিঃশ্বাসে তব,
চুম্বনে ঢাল বিজুলি।
প্রীতি।
(৩)
ভাকিছেন ওই মােদের জননী
বীর-সন্তান-ধাত্রী;
উৎসাহ ভরে চলিছে অমনি
শতেক সমর যাত্রী।
সহিবে কি তুমি, পিছু পড়ি রবে
প্রিয়জন প্রিয়-কন্মে ?
সাজাও আমারে সাধের পরবে
ভূষিয়া অস্ত্ৰে বৰ্ম্মে।
মন্দিরের প্রতিমা।
তীর্থধামে
অতি সুঠাম
দেউল বিরাজে।
খােদিত কত পুত্তলিকা,
কত মােহন চিত্র আঁকা।
মানিকে মােড়া
সোণার চূড়া
ভাতিছে সুসাজে।
যাত্রী আসে
দেবী দরশে
লভিতে মুকতি ;
বিস্ময়েতে বিভল প্রায়,
দেউল হেরি ভুলিয়া যায়
প্রবেশি মাঝে
করিতে পূজা
দেবীর মুরতি।
(২)
মানি গাে মানি হয়েছি আমি
রূপের পিয়াসী।
বাহ পূজা করিতে তাই
তােমার কথা ভুলিয়া যাই;
নহে কি সর, সে দোষ তৰ
রূপের রূপসী ?
১৬৭
প্রীতি
মহে কি দেবী
এ মায়া সবি
তােমারি যােজনা ?
তােমারি লাগি তীর্থে আসি,
পরাণে লাগে মােহের ফাঁসি।
কেন বা হবে
মুক্তি যাচনা ?
বিফল তবে
কুসুমবতী।
( রবিবৰ্ম্মা কর্তৃক অঙ্কিত ঐতিহাসিক চিত্র দেখিয়া )
(১)
অগণ্য সৈন্যের জয়-নিনাদের তালে
বাজিল মঙ্গল শঙ্খ তুঙ্গভদ্রা তীরে ;
সাজিল তােরণ আলম্বিত ফুলমালে,
শােভিল পতাকারাজি সৌধ শিরে শিরে।
সমরে অরাতিবর্গে পরাজি উল্লাসে
বিজয়-নগর-পতি প্রবেশেন পুরী;
জয়ােৎফুল্ল মুখ ভার হেরিবার আশে
সারি দিয়া দাড়াইল কত নরনারী।
প্রীতি-
বিস্ফারিত চক্ষে গবাক্ষের পথে
চাহিলেন রাজরাণী। রাজ-সহােদর
কুমারী কুসুমতী অনুচরী সাথে
মুক্ত বাতায়ন দেশে আসিলেন ত্বরা।
সমুদিল জয়ধ্বনি; অনুচরচগণ
রাজপদ অনুসরি প্রবেশিল পুরী
সঙ্গে লয়ে শৃঙ্খলিত বন্দী একজন।
উৎসব-সঙ্গীতে পূর্ণ হইল নগরী।
গ
হেরিল কুসুমবতী যুবক বন্দীরে ;
হইল করুণাসিক্ত হৃদয়, নয়ন।
তুলিয়া আনন বন্দী চাহিল গম্ভীরে ;
হেরিল করুণাময়ী দেবীর বদন।
“মালবের রাজপুত্র বন্দী এ সমরে,
কহে সখী অনুচরী। নিঃশব্দে তাহার
মুখপানে চাহি বালা বিষন্ন অন্তরে
ফিরিয়া আপন কক্ষে রােধিল দুয়ার।
(২)
প্রাসাদের কক্ষান্তরে বসি হম্মাতলে
কহে বন্দী সম্ভাষিয়ে কুসুমবতীরে,
“কোমল কুসুম ডােরে বেঁধেছ অবলে ;
চিরবন্দী আমি তব প্রেমের মন্দিরে।
“লভিবারে স্বাধীনতা চাহেনা পরাণ ;
কিন্তু প্রিয়ে প্রাণসাধে বিবিধ বিধানে
তােমারে তুষিতে নারি ; সভয়ে বয়ান
নেহারি নয়ন মম তৃপ্তি নাহি মানে।”
“রাজ পুত্র ! এ প্রাসাদ কারাগার তব।
নিভৃত সুড়ঙ্গ পথে লইয়া তােমায়
যাব তেজি এহি পুরী; যথা যাবে, যাব ।
১৭।
প্রীতি।
রবে দাসী চিরদিন তােমার সেবায়।”
প্রফুল্ল নয়নে বন্দী ফুল্ল যুবতীর
হেরিল বদন-ইন্দু। প্লাবিয়া গগন
সুধাংশু চন্দ্রিকা ঢালে ; জলধি অধীর
চাহেরে বিমান পথে করিতে গমন।
(৩)
চেটি-মুখে শুনিরাজা কলঙ্ক-কাহিনী।
নগ্ন খর-তরবার লয়ে দৃঢ় করে
আসিল বন্দীর কক্ষে ; বধিতে তখনি
নরাধম মালবের রাজ কুলাঙ্গারে।
হেরিয়া রাজার মূর্তি সদর্পে—অদূরে
নির্ভয়ে দাঁড়াল বন্দী। চকিতে কুমারী
উদ্যত প্রহার রােধ করি বামকরে,
উত্তোলিল তীক্ষ ছুরী। স্তম্ভিত সে পুরী।
“নিরস্ত্র বীরের দেহ স্পর্শ কর যদি,
কহে দর্পে বীরবালা, “বক্ষ চিরি তব
করিব এখনি সৃষ্টি শােণিতের নদী।।”
আতঙ্কে সে রাজপুরী হইল নীরব।
১৭১
প্রেম ও জীবন ।
( *প্রবাসী’তে ওয়াটসঅঙ্কিত চিত্র দেখিয়া )
•
আমি অবলা!
চলিতে চরণ টলে অবিরত
ঊর্ধে সখাহে দীর্ঘ এপথ
শিলা কঙ্করাকীর্ণ।
ক্ষীণ তনু শ্ৰম-খিন্ন।
তবু যে ঊর্ধে সােণার বরণে
রঞ্জিত দেশ হেরিয়া নয়নে
করিতে গমন ও সুখ ভবনে
চিত উতলা।
আমি রমণী !
নারীর সজ্জা লজ্জা-বসন
তেজিয়া আজিগগা লয়েছি শরণ;
ঢাকগাে প্রেমের পক্ষে।
মাথা রাখি তব বক্ষে,
তব আঁখি পানে চাহিয়া চাহিয়া,
মৰ্ম্মের কথা কহিয়া—গাহিয়া,
তেজি অবনী।
১৭২
প্রীতি।
ওহে সুন্দর!
মােহিয়া পরাণী বাজাও বাঁশরি ।
চকিত হরিণী শঙ্কা পাশরি
নাচিয়া ছুটিবে সঙ্গে।
ক্ষীণ দুর্বল অঙ্গে
উছলিবে বল পুলক-প্রবাহে ;
আশা উৎসাহে পূরিব সখাহে
মম অন্তর।
ওহে দেবতা।
দেহ মন সাথে যাতনা বেদন
শ্রীপদ প্রান্তে করি নিবেদন
করিব বিদায় যতনা
আপনার তরে ভাবনা।
আশা-রঞ্জিত নবীন ভবনে
প্রেম-সিঞ্চিত নবীন জীবনে
দেহ নবতা।
মুষ্টি-ভিক্ষণ।
(১)
মুষ্টি ভিক্ষা চাই রাণী-মা, মুষ্টি ভিক্ষা চাই।
হাজার রাজা উজীর ধােরে
দয়া এনে ভিক্ষা কোরে
রচেছ যে গরীব খানা, সেথা নাহি যাই ।
কোথা সেথা করুণ আঁখি ?
মা বলিয়ে কারে ডাকি ?
মাইনে-করা দাতা সেথা বিষম বালাই।
মুষ্টিভিক্ষা চাই রাণী-মা মুষ্টি ভিক্ষা চাই।
ওমা তােমার পুণ্যদৃষ্টি
অন্ন দুটি করে মিষ্টি।
রাঙা হাতে অন্নপূর্ণা, দানা দেহ খাই।
চেলের সাথে ঢল সুধা,
আধপেটাতে মেটে ক্ষুধা ।
দয়া মাখা অন্ন খেয়ে ধন্য হােয়ে যাই।
মিষ্টি-ভিক্ষা চাই রাণী-মা, মুষ্টি ভিক্ষা চাই।
৭ :
১৭৪
প্রীতি
(৩)
হাড় জিজি গায়ে ধূলো
ঐযে আমার ছেলে গুলো,
তােমার যত সােণার চাদ, ওদেরে দেখাই ;
বড় খুসী হয়গো দেখে,
কত গল্প করে জেকে।
তােমার সুখে মাগাে মােরা দুঃখ ভুলে যাই।
দৃষ্টি ভিক্ষা চাই রাণী-মা, মুষ্টি ভিক্ষা চাই।
(৪)
তােমর গৃহ-কানন খানি
চক্ষু জুড়ায় দেখলে রাণী ।
প্রাণের টানে নিত্য আমি ছুটে আসি তাই।
বাসি রাঙা ফুলে নানা
পূর্ণ আছে কাঙাল খানা।
টাটকা ভােলা দয়া-তরুর কুসুম হেথা পাই।
তুষ্টি ভিক্ষা চাই রাণী-মা, মুষ্টিভিক্ষা চাই।
(৫)
দুখের উপর দুঃখ নানা ;
গােড়ােনা তায় দয়াখানা।
১৭৫
প্রীতি।
ঘুরে ঘুরে তােমার দোরে বড় সুখ পাই
সােণার ঘরে লক্ষমী মাগাে,
ধন-পুত্র নিয়ে থাকো !
ভিক্ষা নিতে এসে দুটি চক্ষে দেখে যাই।
ইষ্ট ভিক্ষা চাইমা তােমার, মুষ্টিভিক্ষা চাই
মােহিনী।
কেন গো গাহ? আমি তো গান
শুনিতে চাহিনি।
করুণ ওই গীতিতে
তরুণ হয় স্মৃতিতে
অতীত সুখ সহিত দুখ-কাহিনী।
কণ্ঠ-গড়া ননিতে
স্পন্দিত সে ধ্বনিতে;
অাখির কোণে নাচে সঘনে চাহুনি।
উরসে তুলি লহরী
বরষি রস মাধুরি,
মথি অধর বহেরে স্বর-বাহিনী।
বিভল হয়ে চকিতে,
অতল কোন্ অতীতে
ডুবিয়া মরি, উঠিতে নারি, মােহিনি।
কেন গাে গাহ ? আমিতো গান
শুনিতে চাহিনি।
•১৭৭
পূজা-দর্শন।
;
বন্দিতে আসি তােমার চরণ, ফুল চন্দন লইয়া ;
তােমারি অঙ্গ তোমারে বলে,-আমি যাই পূজা দেখিয়া
মােহের মন্ত্র পড়ে দুনয়ন, রূপসি, তােমার মন্দিরে।
সঙ্গীত বাজে মঙ্গল রবে কঙ্কনে আর মঞ্জীরে ;
নাচে চঞ্চল বক্ষ সে তালে অঞ্চল খানি দুলায়ে ।
গন্ধে মাতাল কুন্তল করে আরতি চামর দুলায়ে ।
নিত্য নূতন বর্ণের ফুল অধরে কপােলে ঝরিছে ;
বেষ্টন করি রত্ন-আসন লাবণ্য সদা ঘুরিছে।
মুগ্ধ ভক্ত অন্তর মম দর্শন করে আরতি ;
তাহে কি পুণ্য সঞ্চিত নহে, লভিতে সুকৃতি মুকতি ?
১৭৮
রমণী ।
অঙ্গে তরল কঁাচাসােণা, চোখে মাণিক জ্বলে,
দুধেমাজা হীরার ঝলক্ কোমল কণ্ঠ-তলে।
পরি সােণা মাণিক হীরা, দেখায় যেন রাণী—
সবার চেয়ে সেরা তারি উজ দেহখানি।
অধরে সিদূরে মেঘ, ভােরের অরুণ গালে,
নােখে ফুটি নবরবি ভাতে করজালে।
মুখে ঝলে পূর্ণ ইন্দু, চোখে সাঁঝের তারা;
আলো করে দীপ্তিময়ী আঁধার মাখা ধরা।
হাসিতে বসন্ত তার, নিদাঘ তারি মান,
দৃষ্টি ঢালে বৃষ্টি, যাহে স্নিগ্ধ তপ্ত প্রাণ ;
গরবেতে শরৎ ফোটে, হেমন্তটি গীতে,
বিষাদে তার অবশ দেহে বিশ্ব কাপে শীতে।
সম্ভাষণে নিঝর ধারা বহে কলকলে,
আদরে তার মন্দাকিনী কূল ছাপিয়ে চলে
;
প্রেমেতে তার অপার সিন্ধু,—স্বয়ং নারায়ণ
অমৃতের উৎস-তলে করেন, শয়ন।
চাও কি তুমি সােণা মাণিক, চাও কি মধুর আলো ?
চাও কি তুমি ষড় ঋতুর যে টুখানি ভালাে?
চাও কি তুমি মুক্তি নর, নারায়ণে লভি ?
লভহ রমণী-প্রেম পাবে তুমি সবি।
১৭৯
মিলন ।
;
বরষের আজি ঋতু বসন্ত,
দিবসের শুভ সুপ্রভাত
তরুরা তরুণ, কুসুমবন্ত ;
ঢালিছে অরুণ আলাে প্রপাত ।
মুকুলিত আজি দেহে যৌবন,
প্রাণে প্রাণে প্রেম-কৌমুদী
মিলনের নব সুখ বন্ধন
অন্তর চাহে নিরবধি।
বসন্তের সাথে বাঁধিতে যৌবন,
আলােসহ প্রেম, মিলনে ;-
হার গাঁথি প্রজাপতি নারায়ণ
উদিলেন নিজে ভুবনে।
চির যৌবন চির বসন্ত
সুখের মিলনে মিলিল ;
;
প্রেমের সঙ্গে আলাে প্রশান্ত
প্রাণে প্রাণে আজি ফুটিল ।
=
;
১৮