Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Git-upakramanika Vol. 1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
গীত-উপক্রমণিকা শ্রীমণিলাল সেন শর্মা :
No text on this page.
গীত-উপক্রমণিকা
প্রথম খণ্ড
সুপ্রসিদ্ধ কীৰ্ত্তন-বিশারদ রায় এখগেন্দ্রনাথ মিত্র বাহাদুর
কর্তৃক লিখিত ভূমিকা সম্বলিত
শ্রীমণিলাল সেন শর্মা
প্রবাসী কার্যালয়
১২০-২, আপার সাকুলার রােড, কলিকাতা
মূল্য এক টাকা
কলিকাতা
১২০-২, আপার সাকুলার রােড, প্রবাসী প্রেস হইতে
শ্ৰমাণিকচন্দ্র দাস কর্তৃক মুদ্রিত প্রকাশিত
पति-
द
विनाय
No text on this page.
ভূমিকা শ্ৰীযুক্ত মণিলাল সেন শৰ্ম্মা আমাকে তাঁহার গ্রন্থের একটি ভূমিকা লিখিয়া দিবার জন্য অনুরােধ করিয়াছেন। তিনি যেরূপ ভাবে এই পুস্তকখানি লিখিয়াছেন তাহাতে তাহার ভূমিকা লেখা সহজ নহে। তিনি নিজে সঙ্গীতজ্ঞ। কিন্তু সঙ্গীতের ব্যবহারিক দিকটা লইয়াই তিনি সন্তুষ্ট থাকেন নাই। ইহার ঔপপত্তিক দিকও তিনি যথেষ্ট শ্রম সহকারে আলােচনা করিয়াছেন। সঙ্গীত আনন্দের প্রস্রবণ। কেহ গান গাহিয়া বা কোনও যন্ত্র বাজাইয়া আনন্দ দান করিতে পারেন ; কেহ তাহা শুনিয়া সুখী। সঙ্গীতের এই আনন্দ- সৃষ্টির দিক চিন্তা করিয়া আমরা ভুলিয়া যাই যে, ইহার সম্বন্ধে জানিবার, বুঝিবার বা আলােচনা করিবার কিছু আছে। বস্তুতঃ একটু প্রণিধান করিয়া দেখিলে বুঝিতে পারা যায় যে, আনন্দষ্টি সহজসাধ্য নহে। একটি ফুল দেখিলে বা শিশুর আধ আধ কথা শুনিলে হৃদয়ে সহজেই একটি আনন্দের স্পন্দন উখিত হয়। কিন্তু এই স্বভাবজাত আনন্দ চিরদিন মানবের হৃদয়ে তৃপ্তিদান করিতে পারে কি ? সেই জন্য নানাবিধ শিল্পকলার আবির্ভাব। আমরা আনন্দ খুজিতে গিয়া আমাদের বুদ্ধিবৃত্তির পরিচালনা করিতে বাধ্য হই। ইহারই ফলে নানা কারুকার্য বিচিত্র চিত্রাঙ্কন এবং সঙ্গীতের বহুবিধ রূপ জন্মলাভ করিয়াছে। মানুষের আবিষ্কার-প্ৰয়াস যেমন তাহাকে হিমালয়ের উচ্চ হইতে উচ্চতর শৃঙ্গে টানিতেছে, তেমনি তাহার সঙ্গীত ও শিল্প-সাধনা উচ্চ হইতে উচ্চতর অভিব্যক্তির দিকে প্রলুব্ধ করিতেছে। সর্বদেশেই সঙ্গীতের নৃতন সৌন্দৰ্য্য উদঘাটিত হইতেছে। পাশ্চাত্য দেশে যন্ত্রসঙ্গীত, কণ্ঠসঙ্গীত উভয়ই দ্রুতগতিতে উন্নতির দিকে অগ্রসর হইতেছে। বিগত দশ পনেরাে বৎসরের মধ্যে বালক-বালিকাদিগের বিদ্যালয়ে পৰ্য্যন্ত সঙ্গীতের এত প্রসার বাড়িয়াছে যে, তাহাতে বিস্মিত হইতে হয়। আমাদের দেশে সব জিনিষই কিছু ধীরে ধীরে হয়। এজগন্নাথদেবের বিরাট রথের মত আমাদের মনােরথও ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়। তবে সুখের বিষয় এই যে, সঙ্গীত সম্বন্ধে আমাদের দেশেও একটু সজাগ অনুসন্ধানের সাড়া পাওয়া যাইতেছে। এক্ষণে আমাদের সমাজে বীণাবাদিনী সরস্বতী দেবীর একটি শুভ্র অমল কমলাসন পড়িয়াছে। সঙ্গীতের সম্বন্ধে পূর্বে যে সঙ্কোচ বা সলজ্জ ভাব ছিল, তাহা ক্রমশঃ দূরীভূত হইয়া আসিতেছে। অনেক পরিবারে ছেলে- মেয়েদের রীতিমত গান শিখাইবার ব্যবস্থা হইয়াছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গীত পরীক্ষণীয় বিষয়-তালিকার মধ্যে স্থান লাভ করিয়াছে। যে-সকল বিদ্যালয় সঙ্গীত শিক্ষা দিবার ব্যবস্থা করিতে সমর্থ তাহাদের ছাত্রদিগের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্বাচিত হইয়াছে। অনেক সঙ্গীতজ্ঞ ব্যক্তি সেগুলির অধ্যাপনা সৌকৰ্যার্থ পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করিয়াছেন। ইহা হইতে বুঝা যায় যে, অতি অল্পদিনের মধ্যে শিক্ষিত সমাজে সঙ্গীত কতখানি আদর লাভ করিয়াছে। গত বৎসর শিক্ষাবিভাগের কর্তৃপক্ষ সঙ্গীতজ্ঞগণের এক বৈঠক আহ্বান করিয়াছিলেন। ঐ বৈঠকে উচ্চ ও মধ্যবিদ্যালয়-( secondary school) সমূহে সঙ্গীত শিক্ষার প্রবর্তন কল্পে কি ব্যবস্থা করা যায় তাহার সম্যক আলােচনা হইয়াছিল। যাহারা আহুত হইয়াছিলেন আমি তাহাদের মধ্যে অন্যতম ছিলাম। তাহাদের আলােচনার ফল লিপিবদ্ধ হইয়া পুস্তিকাকারে গভর্ণমেন্ট কর্তৃক প্রকাশিত হইয়াছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় গভর্ণমেন্টের অর্থাভাববশতঃ উহা কার্যে পরিণত হইতে পারে নাই। তাহা হইলেও শিক্ষা বিভাগ যে সঙ্গীতের প্রয়ােজনীয়তা বুঝিতে পারিয়াছেন এবং বালক-বালিকার জীবনে সঙ্গীত শিক্ষা যে কি পরিমাণে আনন্দোপধায়ক তাহা স্বীকার করিয়াছেন ইহাই একটি সুন্দর সংবাদ। এইরূপে চারিদিক হইতে যখন অনুকূল পবন প্রবাহিত তখন ‘গীত-উপক্রমণিকা’র মতাে একখানি সঙ্গীতগ্রন্থ যে বিশেষ সময়ােপযােগী তাহা বলা নিষ্প্রয়ােজন। গীত, উপক্রমণিকায় সহজ ভাষায় সঙ্গীত সম্বন্ধে সমস্ত জ্ঞাতব্য বিষয়ই বলা হইয়াছে। পূৰ্বেই বলিয়াছি, সঙ্গীত একটি শ্রেষ্ঠ কলাবিদ্যা; মানবপ্রতিভার অশেষ নিদর্শন ইহাতে আছে। সেই কারণ সুদূর অতীতের পাষাণে বক্ষ চিরিয়া ঝরণার ধারার মত মানবের নীরস হৃদয় ভেদ করিয়া সঙ্গীতের কলনাদিনী মন্দাকিনী প্রবাহিত হইয়াছিল, আর তার পরে মানব কত কুসুমকানন, বেতসকুঞ্জ, রসালবীথিকা তার তীরে তীরে সাজাইয়া শােভায় চূড়ান্ত বৈচিত্র্য সম্পাদন করিয়াছে। সঙ্গীতের এই শােভা বা কারুকাৰ্য্যই তাহার সম্পদ। গীত- উপক্রমণিকায় নানা দিক হইতে সঙ্গীতকলার মাধুৰ্য বা বৈচিত্র্য বুঝাইবার চেষ্টা করা হইয়াছে। হারমােনিয়ম ও তানপুরা সহযােগে সুরসাধন হইতে আরম্ভ করিয়া সঙ্গীতের ‘ভাব পৰ্য্যন্ত সমস্ত প্রয়ােজনীয় বিষয়েরই অবতারণা করা হইয়াছে। মাত্রা সম্বন্ধে ঠাট, গীতছন্দ তাল সম্বন্ধে অনেক জ্ঞাতব্য বিষয় ইহাতে সন্নিবেশিত হইয়াছে। তাহার
নির্দিষ্ট প্রণালী অনুসারে গীত অভ্যাস করিলে অনেকে সুফল লাভ করিতে পারিবেন,
ইহাই আমি বিশ্বাস করি। তিনি সঙ্গীতের একটুখানি ইতিহাসও এই ক্ষুদ্র পুস্তকে
সংঘােজিত করায় ইহার মূল্য প্রথম শিক্ষার্থীদের নিকট নিশ্চয়ই বর্ধিত হইয়াছে। আমার
মনে হয় ওস্তাদের সাহায্য ব্যতীতও এই পুস্তকের সাহায্যে সঙ্গীতে অভিজ্ঞতা লাভ করা
যাইবে। ইতি
১০নং উভর লেন
শ্ৰীখগেন্দ্রনাথ মিত্র
১৫ই আষাঢ়, ১৩৩৮
No text on this page.
সূচীপত্র Sথম খণ্ড পৃষ্ঠা প্রথম পরিচ্ছেদ সঙ্গীতশাস্ত্র তৈৰ্যত্রিক ঔপপত্তিকসিদ্ধ ও ক্রিয়াসিদ্ধ সপ্তশ্বপরিচয় সপ্তক উদারা, মুদারা ও তারা স্বর-অন্তর পূর্ণান্তর ও অর্থান্তর স্বরগ্রাম পূর্ণান্তর ও অৰ্ধান্তরের চিহ্ন বিকৃত সুর কড়ি-কোমল কড়ি কোমলের চিহ্ন আরােহণ ও অবরােহণ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ৭-১১ হারমােনিয়মে স্বর-পরিচয় : হারমােনিয়ম-পরিচয় কি কি কারণে হারমােনিয়ম নষ্ট হয় হারমােনিয়মে সুর-পরিচয় হারমােনিয়মে সহজে সুর চিনিয়া লইবার উপায় তৃতীয় পরিচ্ছেদ ১২-১৫ মাত্রা-প্রকরণ : মাত্রা কি ? মাত্রার গতি মাত্রাকাল নির্দিষ্ট নাই কেন ? মাত্রার চিহ্ন মাত্রার জ্ঞান জন্মাইবার সহজ উপায় lloyo ১৬-২০ চতুর্থ পরিচ্ছেদ কণ্ঠমার্জন : কমার্জন আবশ্যক কেন ? স্বর কর্কশ হয় কেন ? কি করিলে স্বর মধুর হয় ? কণ্ঠসাধনা কণ্ঠের অনিষ্টকর বিষয় কি কি ? গলায় বয়স ধরা কমার্জনা সম্বন্ধে ভ্রম ধারণা মুদ্রাদোষ ২০-২৮ পঞ্চম পরিচ্ছেদ স্বর ও মাত্রসাধন : স্বর-সাধনপ্রণালী প্রথম পাঠ দ্বিতীয় পাঠ তৃতীয় পাঠ চতুর্থ পাঠ কড়ি-কোমল সাধন) স্বরবিন্যাস রাগ-রাগিণী কি? ২৯ -৩২ ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ খরজ পরিবর্তন : খরজ কি ? খরজ পরিবর্তন কি ? খরজ পরিবর্তনকৌশল ? খরজ পরিবর্তনের তালিকা শুদ্ধ স্বরের খরজ পরিবর্তন বিকৃত অরের খরজ পরিবর্তন ৩৩ - ৩৮৮ সপ্তম পরিচ্ছেদ গীত-অলঙ্কার : অশ মীড় মীড়সাধন কম্পন গিটুকারী ভূষিকা মুরের বলসাধন প্রসূন অক্ষেপ ও বিক্ষেপ ধাঁট তান গমক উপজ ও কর্তব মূচ্ছনা অষ্টম পরিচ্ছেদ গীতছন্দ : ৪৬-৫২ ছন্দের রূপ সমপদী ও বিষমপদী ত্রিমাত্রিক ও চতুর্মাত্রিক ছন্দ নবম পরিচ্ছেদ তাল-প্রকরণ ঃ তাল কি ? চরণ ও আওয়াদা শ, ফাক, তালি ইত্যাদির চিহ্ন সঙ্গত ও তালের ঠেকা বােল বা বাণী ত্রিমাত্রিক ছন্দের অন্তর্গত তাল দার।
ভরতা খেমটা আড়-খেটা একতাল চৌতাল চতুর্মাত্রিক ছন্দের অন্তর্গত তাল কাফ। ईबी কাওয়ালী যৎ ঢিমা তেতালা পটতল আড়াঠেকা মধ্যমান বিষমপদী ছন্দের অন্তর্গত তাল তেওরা রূপক পোস্তা ঝাপতাল অরফাক্তা তেওট ধামার আড়া-চৌতাল তাল ও সুজ্ঞান জন্মাইবার সহজ উপায় দশম পরিচ্ছেদ প্রচলিত স্বরলিপির ব্যাখ্যা : গীতের চারি কলি বা তুক দণ্ডমাত্রিক স্বরলিপির পরিচয় আকারমাত্রিক স্বরলিপির পরিচয় বিসর্গমাত্রিক স্বরলিপির পদ্ধতি সারগম গীত-উপক্রমণিকা প্রথম পরিচ্ছেদ সপ্তম্বর সঙ্গীত সম্বন্ধে কিছু শিখিতে হইলে প্রথমেই সঙ্গীতশাস্ত্র কি তাহা সঙ্গীতশাস্ত্র জানিয়া রাখা উচিত। সঙ্গীত বলিতে গীত, বাদ্য ও নৃত্য এই তিনটিকে বুঝায়। “গীতং বাদ্যং নৰ্ত্তনঞ্চ ত্রয়ং সঙ্গীতমুচ্যতে।” অতএব যে শাস্ত্রে গীত, বাদ্য ও নৃত্য এই তিনটি বিষয় বিশদভাবে লেখা আছে তাহাই সঙ্গীতশাস্ত্র। ইহা হইতে বুঝা যাইতেছে যে, সঙ্গীতের তিনটি কাণ্ড। গীতকাণ্ড, তৌৰ্যত্রিক বাদ্যকাণ্ড ও নৃত্যকাণ্ড। এই তিনটি কাণ্ডকে এককথায় বুঝাইতে হইলে তাহাকে তৌৰ্যত্রিক বলে। সঙ্গীতের অপর নামই তৌৰ্যত্রিক। সঙ্গীতশাস্ত্র আলােচনা করিয়া যাহারা সঙ্গীতে জ্ঞান অর্জন করেন ঔপপত্তিক- তাহাদিগকে ঔপপত্তিকসিদ্ধ বলে। আর যিনি গান করিয়া, বাদন করিয়া ক্রিয়াসিদ্ধ বা নৃত্য করিয়া সঙ্গীতে দক্ষ হন তাঁহাকে ক্রিয়াসিদ্ধ বলে। ইংরেজীতে ঔপপত্তিকসিদ্ধকে theoretical ও ক্রিয়াসিদ্ধকে practical বলা হয়। বাংলা ভাষা শিখিতে হইলে প্রথমে যেমন অ, আ, ক, খ, বা ইংরেজী ভাষা শিখিতে হইলে A, B, C, D প্রভৃতি বর্ণগুলির সঙ্গে বিশেষভাবে পরিচয় পরিচিত হইতে হয়, সঙ্গীত শিক্ষা করিতে হইলেও তেমনি স, ঋ, গ, ম, প, ধ ও নি এই সাতটি সুরকে বিশেষভাবে আয়ত্ত করিতে হয়। লাল, নীল, পীত, সবুজ প্রভৃতি সাতটি রং লইয়াই যেমন চিত্রশিল্প, সেইরূপ সাতটি সুর লইয়াই আমাদের সঙ্গীত। এই সাতটি সুরের প্রকৃত নাম-ষড়জ, ঋষভ, সিদ্ধ ও সপ্তম্বর- ২ গীত-উপক্রমণিকা গান্ধার, মধ্যম, পঞ্চম, ধৈবত ও নিষাদ। ইহাদের আদ্যক্ষর লইয়াই স, ঋ, গ, ম, প, ফ, নি হইয়াছে। চলিত কথায় সা, রে, গা, মা, পা, ধা, নি বলা হয়। সুরগুলিকে লিখিতে স, র, গ, ম, প, ধ, ন এইরূপ লিখিব । এই সুরগুলি যথাক্রমে একটি হইতে অপরটি উচ্চ বা চড়া। যেমন :- ‘স’ সুর হইতে ‘র’ সুর চড়া; ‘র’ হইতে ‘গ’ চড়া; ‘গ’ হইতে ‘ম’ চড়া; ‘ম’ হইতে ‘প’ চড়া; ‘প’ হইতে ‘ধ’ চড়া; ‘ধ’ হইতে ‘ন’ চড়া। ‘নসুরের পরও উচ্চ সুর অনেক আছে। ন’ সুরের পর এমন একটা চড়া সুর পাওয়া যায় যাহা ‘স’ সুরের সঙ্গে অবিকল মিশিয়া যায়। অর্থাৎ দুইটি সুর এক সঙ্গে বাজিতে থাকিলে দুইটি সুর যে একসঙ্গে বাজিতেছে তাহা টের পাওয়া যায় না; মনে হয় যেন একই সুর বাজিতেছে। সুতরাং সেই সুরটির নাম চড়া ‘স। এই চড়া ‘স’ সুর হইতে চড়া ‘র’, চড়া ‘গ’ ‘ম’, ‘প’, ‘ধ’, ‘ন’ উচ্চসুর পাওয়া যায়। স’ সুর ও চড়া স’ সুর একসঙ্গে বাজিলে যেমন এক সুরে মিশিয়া যায় এবং ভিন্ন ভিন্ন দুইটি সুর যে একসঙ্গে বাজিতেছে এইরূপ মনে হয় না, ‘র’ ও চড়া ‘র’ সুর দুইটিও এক সঙ্গে বাজিলে এক সুরে মিশিয়া যায়। এইরূপ ‘গ’ ও চড়া ‘গ’, ‘ম’ ও চড়া ‘ম’, ‘প’ ও চড়া ‘প’, ‘ধ’ ও চড়া ‘ধ’, ‘ন’ ও চড়া ‘ন’ একত্র বাজিলে এক সুরে মিশিয়া যায়। ‘স’সুরের নিম্ন বা খাদ সুরও আছে। স’ সুরের পর এমন একটা সুর পাওয়া যায় যাহা ‘ন’ সুরের সঙ্গে এক সুরে মিশিয়া যায়। সুতরাং ইহার নাম খাদ ‘ন। খাদ ‘ন’ সুরের পর খাদ ‘ধ’, ‘প’, ‘ম’, ‘গ’, ‘র’ ও ‘স’ সুর যথাক্রমে পাওয়া যায়। ‘ন’ সুর ও খাদ ‘ন’ সুর যেমন এক সুরে মিশিয়া যায়, ধ’ ও খাদ ‘খ’, ‘প’ ও খাদ ‘প’, ‘ম’ ও খাদ ‘ম’, ‘গ’ ও খাদ ‘গ’, ‘র’ ও খাদ ‘র', এবং ‘স’ ও খাদ ‘স’ একত্র বাজিলে একসুরে অবিকল মিশিয়া যায়। স, র, গ, ম, প, ধ, ন এই সাতটি সুর এককথায় বুঝায় বলিয়া ভাহাকে সপ্তক বলে। সপ্তক গীত-উপক্রমণিকা ৩ ২ স ম প ধ সপ্তক অতি-খাদ সুর হইতে অতি-চড়া সুর মধ্যে এইরূপ অনেক সপ্তক পাওয়া যায়। তাহার মধ্যে তিনটি সপ্তক আমাদের গীতে ব্যবহৃত হয়। এই তিনটি সপ্তকের মধ্যে একটি খাদ-সপ্তক, একটি মধ্য-সপ্তক ও একটি চড়া-সপ্তক। খাদ-সপ্তকের নাম উদারা, মধ্য-সপ্তকের নাম মুদারা ও চড়া-সপ্তকের নাম উদারা, মুদারা ও তারা এই তিনটি সপ্তকের সুরগুলি লিখিতে উদারার সুরের নীচে বিন্দু (.) ও তারার সুরগুলির উপরে বিন্দু ব্যবহার করিব। কাজেই মুদারার সুরগুলির আর পৃথক চিহ্ন না দিলেও চলিবে। যেমন : স র গ ম প ধ ন স র গ ম প ধ ন স র র গ ম প ন মুদার তারা উদারা ‘স’ হইতে চড়া ‘স’ পৰ্যন্ত আটটি সুরকে এককথায় বুঝাইতে হইলে অষ্টক বলা হয়। ইংরেজী ভাষায় অষ্টককে অক্টেভ (octave) বলে। ১ ৩ ৪ পূৰ্বে বলিয়াছি যে, স, র, গ, ম প্রভৃতি সুর একটি হইতে আর একটি চড়া। কিন্তু কতটুকু চড়া বলা হয় নাই, এইবার তাহা বলিব। *প্রথম শিক্ষার্থীকে সহজে বুঝাইবার জন্য এখানে হারমােনিয়মের keyboard অনুযায়ী স্বর-অন্তর দেওয়া হইল। তিহিসাবে স্বর-অস্তর পরে অন্য পরিচ্ছেদে লেখা হইয়াছে।
৪ গীত-উপক্রমণিকা ‘স’ হইতে ‘র’ চড়া, ‘র’ হইতে ‘গ’ চড়া, ‘গ’ হইতে ‘ম’ চড়া এইরূপ সুরের চড়াকে স্বর-অন্তর বলা হয়। ‘স’ হইতে ‘র’ সুরের অন্তর যতটুকু, ‘র’ হইতে ‘গ’ সুরের অন্তরও ততটুকু। কিন্তু ‘গ’ হইতে ‘ম’ সুরের অন্তর ততটুকু নয়। ‘স’ হইতে ‘র’ সুরের অন্তর যত, ‘গ’ হইতে ‘ম’-এর অন্তর তার অর্ধেক। আবার ‘ম’ হইতে ‘প সুরের অন্তর, ‘প’ হইতে ‘ধ’ সুরের অন্তর, ‘ধ’ হইতে ‘ন’ সুরের অন্তর, ‘র’ হইতে ‘র' সুরের অন্তরের সমান। কিন্তু ‘ন’ হইতে চড়া ‘স’ সুরের অন্তর ‘গ’ হইতে ‘ম’ সুরের অন্তরের সমান এবং ‘স’ হইতে ‘র’ সুরের অন্তরের অর্ধেক। যদি ‘স’ হইতে ‘র’ অন্তরকে ১ ধরা যায় তবে ‘র’ হইতে ‘গ’ সুরের অন্তরও ১ হইবে। কিন্তু ‘গ’ হইতে ‘ম’ সুরের অন্তর ২ হইবে। আবার ‘ম’ হইতে ‘প’, ‘প’ হইতে ‘ধ’ ও ধ হইতে ‘ন’ রের অন্তর পরস্পর ‘স’ হইতে ‘র’ সুরের অন্তরের সমান, অতএব ১ অন্তর হইবে। ‘ন’ হইতে ‘স’ সুরের অন্তর ‘গ’ হইতে ‘ম’ সুরের অন্তরের সমান, কাজেই অন্তর-সংখ্যা ২ হইবে। : ইহাতে দেখা যাইতেছে যে, আমরা দুই প্রকার অন্তর পাইতেছি; একটি এক-অন্তরবিশিষ্ট ও অন্যটি অর্ধ-অন্তরবিশিষ্ট। এই এক-অন্তরবিশিষ্টকে পূর্ণান্তর ও অর্ধ-অন্তরবিশিষ্টকে অৰ্ধান্তর বলা হয়। । ; পূর্ণান্তর ও অর্থান্তর ‘স’ হইতে ‘র’ ) ‘ম’ ‘প’ ১) পূর্ণান্তর ন’ ‘প’ ‘ধ’ ‘গ’ হইতে ‘ম’ । ন’ অৰ্ধান্তর ১চড়া স’ ঘরগ্রাম এইরূপ অন্তরবিশিষ্ট সজ্জিত অষ্টককে স্বরগ্রাম বলা হয় গীত-উপক্রমণিকা পূর্ণান্তরের বিয়ােগ চিহ্ন ( করিব। যেমন :- ) ও অৰ্ধান্তরের যােগ চিহ্ন (+) ব্যবহার পূর্ণান্তর ও অৰ্ধান্তরের চিহ্ন স -- - গ + ম - 의 ६ ন + আমরা স্বরগ্রামে দুইটি অৰ্ধান্তর সুর পাইতেছি। আর সবগুলিই বিকৃত সুর পূর্ণান্তর। পূর্ণান্তর সুরগুলি দুই ভাগে বিভক্ত করিয়া অৰ্ধান্তরবিশিষ্ট কয়েকটি সুর পাওয়া যায়। যেমন ‘স’ হইতে ‘র’ পূর্ণান্তর। ‘স’ হইতে অৰ্ধান্তর উচ্চ ও ‘র’ হইতে অৰ্ধান্তর নিম্ন আর একটি সুর পাইতে পারি। কারণ আমাদের স্বরগ্রামেও অৰ্ধান্তর সুর আছে দেখিয়াছি। অতএব পূর্ণান্তরকে অৰ্ধান্তর করিলেও কয়েকট। সুর পাইব। ‘র’ হইতে ‘স’ সুরের মধ্যে একটা সুর পাইব। কারণ তাহা পূর্ণান্তর। কিন্তু ‘গ’ হইতে ‘ম’ সুরের মধ্যে আর সুর আমরা পাইতে পারি না। যেহেতু তাহা স্বভাবতই অৰ্ধান্তর।। ‘ম’ হইতে ‘প’-এর মধ্যে, ‘প’ হইতে ‘ধ’-এর মধ্যে, ‘ধ’ হইতে ‘ন’-এর মধ্যে এক-একটা সুর পাইব, ইহারা পূর্ণান্তর। আবার ‘ন হইতে স’-এর মধ্যে আর সুর পাইব না। কারণ ইহা অৰ্ধান্তর। যাহা হউক এইরূপ সুর আমরা পাঁচটি পাইতেছি। ইহাদিগকে বিকৃত সুর বলে। বিকৃত সুর সর্বদাই সঙ্গীতে ব্যবহৃত হয়। এক-এক সপ্তকে বা অষ্টকে পাঁচটি বিকৃত সুর আছে। সাতটি শুদ্ধ সুর ও পাঁচটি বিকৃত সুর, মােট বারটি সুর এক-এক সপ্তকে আমরা পাই। চিত্রে তাহা দেখাইতেছি। অষ্টম ১ "[!'' প ধ ন গীত-উপক্রমণিকা যে পাঁচটি বিকৃত সুর পাওয়া গেল, শুদ্ধ সুরগুলির মত তাহাদেরও কড়িকামল এক-একটা নাম আছে, নামগুলির কথাই এখন বলিতেছি। ‘স’ হইতে উচ্চ ও ‘র' হইতে নিম্ন যে সুর পাওয়া গেল তাহাকে ‘স’ সুরের কড়ি ও ‘র’ সুরের কোমল বলা হয়। তবে ‘স’ কড়ি নাম ব্যবহার করা হয় , ‘র’ কোমল বলা হয়। সেইরূপ ‘র’ হইতে ‘গ’ সুরের মধ্যবর্তী যে সুর তাহার নাম ‘র’ কড়ি বা ‘গ’ কোমল। এখানেও ‘র’ কড়ি নাম সঙ্গীতে ব্যবহৃত হয় না। ‘গ’ কোমলই বলা হইয়া থাকে। ‘ম’ হইতে ‘প’ সুরের মধ্যবর্তী সুরের নাম ‘ম’ কড়ি বা ‘প’ কোমল। এখানে আবার ‘ম’ কড়িই বলা হয়। ‘প’ কোমল নাম ব্যবহৃত হয় না। ‘প’ হইতে ‘ধ’ সুরের মধ্যবর্তী সুরকে ‘ধ’ কোমলই বলা হয়। প’ কড়ি বলা হয় না। ‘ধ’ হইতে ‘ন’ সুরের মধ্যবর্তী সুরের নাম ‘ধ’ কড়ি বা ‘ন’ কোমল। ধ’ কড়ি নাম সঙ্গীতে ব্যবহৃত হয় না। ‘ন’ কোমল সুরই বলা হয়। অতএব পাঁচটি বিকৃত সুরের নাম যথাক্রমে কোমল ‘র’, কোমল ‘গ’, কড়ি ‘ম’, কোমল ‘ধ’, ও কোমল ‘ন। * কোমল সুরের চিহ্ন ওকার (1), আর কড়ি সুরের চিহ্ন ঈকার (ী) যথা : রাে = কোমল র গগা = কোমল গ মী= কড়ি ম খাে= কোমল ধ নাে= কোমল ন ১ ১ ১ म গাে গ। মী প মােন म * এই পুস্তকে সুপ্রসিদ্ধ সঙ্গীতজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট শ্ৰীযুক্ত রজনীকান্ত রায় দস্তিদার মহাশয় প্রবর্তিত বিসর্গ মাত্রিক স্বরলিপি পদ্ধতি অবলম্বন করা হইয়াছে।
গীত-উপক্রমণিকা ৭ কোন খাদ সুর হইতে ক্রমে উচ্চ সুরে গীত বা বাদন করিয়া যাওয়ার নাম আরােহণ আরােহণ ও কোন উচ্চ সুর হইতে ক্রমে নিম্ন সুরে গীত বা বাদন করিয়া অবরােহণ যাওয়ার নাম অবরােহণ। যথা :- আরােহণ- স-র-গ + ম-গ-ধ-ন+ স অবরােহণ- স+ন-ধ-প-ম+গ-র-স দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হারমােনিয়মে স্বর-পরিচয় হারমােনিয়ম প্রথম শিক্ষার্থীকে অতি সত্বর সাধারণ স্বর-পরিচয় করাইয়া দেয়। এস্রাজ, বেহালা, সারেঙ্গী, প্রভৃতি ধনুযন্ত্রগুলিতে (ছড় দিয়া যে-সব যন্ত্র বাজাইতে হয় তাহাদিগকে ধনুযন্ত্র বলে) প্রকৃত স্বরজ্ঞান অতি সত্বর হয়। এই জন্য ধনুযন্ত্রের সাহায্যে স্বরলিপি শিক্ষা করাই উত্তম। কিন্তু যাহারা নিজে নিজে অর্থাৎ কোন শিক্ষকের সাহায্য ব্যতীত গীত শিক্ষা করিতে চান তাহাদের পক্ষে হারমোনিয়ম সুবিধাজনক। কারণ, ধনুযন্ত্রের পর্দা বা তারগুলি সুশৃঙ্খল করিবার জন্য সূক্ষ্ম স্বরজ্ঞান আছে এমন একজন শিক্ষকের প্রয়ােজন হয়। কারণ হঠাৎ একটা তার ছিড়িয়া গেলেই গােলমাল হইয়া যায়। কিন্তু হারমােনিয়মে সে ভয় নাই। পর্দা টিপিয়া বেলাে. (bellow) করিলেই সুর বাহির হয়। এইজন্য প্রথম শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক সুরজ্ঞান জন্মাইবার জন্য হারমােনিয়মের সাহায্য লইবার পরামর্শ দিতেছি। সঙ্গীত শিক্ষকগণ যেন ধনুযন্ত্রের সাহায্যে স্বর শিক্ষা দেন। যাই হউক, হারমােনিয়ম ব্যবহার করিবার পূর্বে ইহার ব্যবহার-কৌশল জানিয়া রাখা উচিত। তাহা না হইলে যন্ত্রটি সহজেই নষ্ট হইবার সম্ভাবনা বেশী। এই জন্য হারমােনিয়ম সম্বন্ধে কয়েকটি কথা এখানে বলিতেছি।
গীত-উপক্রমণিকা হারমােনিয়ম- পরিচয় হারমােনিয়মের যে কালাে ও সাদা পর্দা বা চাবী থাকে তাহাদিগকে এক- কথায় বুঝাইতে ইংরেজীতে কী-বাের্ড (keyboard ) বলা হয়। এই চাবীগুলি টিপিলে প্রত্যেকটি হইতে ভিন্ন ভিন্ন সুর বাহির হয়। চাবীগুলির একপ্রান্ত বাঁকা স্প্রীং (spring) দ্বারা চাপা থাকে। তাহাতে চাবী টিপিয়া ছাড়িয়া দিলেই তাহা পূর্বের স্থানে বসিয়া যায়। চাবীগুলির নীচে একটি কাঠ থাকে। সেই কাঠটিতে প্রত্যেকটি চাবীর নীচে ছিদ্র থাকে। ছিদ্রগুলি উত্তমরূপে বন্ধ রাখিবার জন্য চাবীগুলির নীচে এক এক টুকরা চামড়া লাগান থাকে ও উপরের স্প্রীংগুলি চাবী টিপিয়া তাহা বন্ধ করিয়া রাখে। সেই ছিদ্রগুলিতে এক-একটি পিতলের পাত সংযুক্ত থাকে, তাহাদের নাম রীড, (reed)। এই রীডগুলি বাতাস লাগিয়া কঁপিলেই আওয়াজ হয়। চাবীর উপর যে সরু লম্বা কাঠখানি থাকে তাহাকে বুকের কাঠ' বলে। হারমােনিয়মের পাশের দিকে যে কয়েকটি ছিপির মত জিনিষ থাকে, তাহাদিগকে ষ্টপার (stopper) বলে। যন্ত্রটি বাজাইতে হইলে প্রথমেই যে-কোন একটি ষ্টপার টানিয়া লইতে হইবে। এক-একটি পার হইতে এক-এক প্রকার আওয়াজ হয়। যেমন, কোনটি হইতে জোর আওয়াজ, কোনটি হইতে মৃদু আওয়াজ বাহির হয়, ডানদিকের শেষ উপারটি হইতে কম্পনযুক্ত আওয়াজ বাহির হয়। ইহাকে মিলাে (tremolo) বলা হয়। হারমােনিয়মের উপর প্রত্যেকটি ষ্টপারের নীচে এক-একটি ছিদ্র থাকে। ষ্টপার টানিলেই ছিদ্র খুলিয়া যায় ও চাপিলেই ছিদ্র বন্ধ হইয়া যায়। হারমােনিয়মের পিছন দিকে একটি ‘যতা থাকে। তাহাকে হারমােনিয়মের পিছন দিকে সংলগ্ন করিয়া বন্ধ করিয়া রাখা হয়। ইহার নাম বেলাে ( bellow )। বেলাে দ্বারা বাতাস করিতে হয়। কারণ বাতাসের সাহায্য ব্যতীত হারমােনিয়ম বাজিতে পারে না। এই জন্য বারে বারে বেলে চাপিতে হয়। বেলাের নীচে একটি স্প্রীং থাকে। তাই সব সময়েই বেলােকে পিছনের দিকে ঠেলিয়া দেয়। তখন ইহার ভিতর বাতাস গীত-উপক্রমণিকা ৯ যায়। হারমােনিয়মের নীচে বা বেলাের পিছনে কতকগুলি ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রগুলির মধ্য দিয়াই বেলের ভিতরে বাতাস যায়। বেলাে চাপিলেই ইহার ভিতরের বাতাস অন্য কোন দিকে বাহির হইতে না পারিয়া উপর দিকে আসে ও ষ্টপার খােলা থাকিলে ইহার ভিতরের ছিদ্র দিয়া রীডের নিকট পৌঁছায়। তখন চাবি টিপিলেই চাবির নীচের ছিদ্র খুলিয়া যায় ও তথায় সংলগ্ন রীডের ভিতর দিয়া বাতাস জোরে বাহির হয়। তখন বাতাসের জোরে রীড, কঁাপিয়া আওয়াজ হয়। হারমােনিয়মের উপরে যে কাঠটি বসান থাকে তাহাকে ‘টপ’ ( top) বলা হয়। আওয়াজ কম-বেশী করিবার জন্য ইহা ব্যবহার করা হয়। ইহা উপরে বসান থাকিলে মৃদু ও গােল সুমিষ্ট আওয়াজ বাহির হয় ও তাহা নামাইয়া লইলে জোর আওয়াজ হয়। ষ্টপার না খুলিয়া বেলাে করিলেই যন্ত্রটি নষ্ট হইবে। কারণ বেলাে করিলে কি কি যে বাতাস ভিতরে যাইবে তাহা বাহির হইবার জন্য সর্বদা চেষ্টা করিবে। কিন্তু কারণে ষ্টপারের নীচে যে ছিদ্র থাকে তাহাই বাতাস বাহির হইবার একমাত্র পথ। হারমােনিয়ম তাহা যদি বন্ধ থাকে তবে বাতাসের জোরে ভিতরের প্রেস-ম্প্রীং (press spring) ভাঙিয়া যায় ও রিজরভর ( reservoir) ফাটিয়া যায়। বেলো করিয়া যদি চাবি টেপা না যায় তাহা হইলেও উপরােক্ত জিনিষ দুইটি নষ্ট হইতে পারে। কারণ বেলাে করিলেই বাতাস ভিতরে যাইবে ও তাহা ষ্টপারের মধ্য দিয়া উপরে আসিবে। কিন্তু বাহির হইতে না পারিয়া সৰ্ব্বদা ঠেলিতে থাকিবে। ইহাতে যন্ত্রটির প্যালেট (palette ) নামক পদার্থটি ফাটিয়া যাইতে পারে । অতএব হারমােনিয়ম বাজাইবার পূর্বে ষ্টপার খুলিয়া লইতে হইবে ও বেলাে করিলেই চাবি টিপিতে হইবে। এই দুইটি কথা সব সময়ে মনে রাখিতে হইবে । ‘টপ’-এর নীচে ও চাবিগুলির উপরে যে অয়েল ক্লথের টুকরা গীত-উপক্রমণিকা থাকে, উহা তুলিয়া হারমােনিয়ম বাজান উচিত নয়। ইহা তুলিয়া লইলে কর্কশ আওয়াজ,বাহির হয়। আর সর্বদা তুলিয়া রাখিলে সহজেই ভিতরে ধূলাবালি ঢুকিবে ও তাহাতে যন্ত্রের আওয়াজ ধরিয়া যাইবে। তখন কোন কোন চাবি হইতে ‘ঝিন ঝিন আওয়াজ বাহির হইবে। হারমােনিয়মের আওয়াজ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাহা বন্ধ করিয়া তুলিয়া রাখা উচিত নয়। তাহাতে ভিতরে যে উদ্বৃত্ত বাতাসটুকু থাকে, তার জোরে ভিতরের আটা-সংযুক্ত পদার্থগুলি সত্বর পৃথক হইয়া পড়ে। আওয়াজ যতক্ষণ না শেষ হইয়া মিলাইয়া যাইবে, ততক্ষণ পর্যন্ত চাবি টিপিয়া রাখিতে হইবে ও আওয়াজ নিঃশেষ হইলে পরে ষ্টপার বন্ধ রাখিতে হইবে। সৰ্ব্বদা বাজাইলেই হারমােনিয়ম ভাল থাকে। একসঙ্গে অনেক দিন আবদ্ধ থাকিলে ইহার ভিতরে পােকা ঢুকিয়া ভিতরের নরম চামড়াগুলি কাটিয়া দেয়। যন্ত্রটি সর্বদা ঝাড়িয়া মুছিয়া বাক্সে বন্ধ করিয়া রাখা উচিত। যদি হারমােনিয়মের বেলাে করিয়া চাবি না টিপিতেই ‘ঝিন ঝিন’ আওয়াজ বাহির হয়, তবে ‘বুকের কাঠ খুলিয়া যে চাবি হইতে আওয়াজ রাহির হইবে সেই চাবিটি তুলিয়া লইতে হইবে। চাবির নীচে যে চামড়া থাকে তাহা ভাল আছে কি-না বা তাহাতে কোন কিছু পড়িয়া ছিদ্রটি বন্ধ হইবার পক্ষে বাধা দিতেছে কি-না দেখিতে হইবে ও পরে পুনরায় তাহা যথাস্থানে রাখিয়া:ঐ চাবির উপরের স্প্রীং একটু চাপিয়া দিতে হইবে। প্রথম পরিচ্ছেদে সাতটি শুদ্ধ সুর ও পাঁচটি বিকৃত সুর সম্বন্ধে বিশদ হারমােনিয়মে আলােচনা করা হইয়াছে। সুর-পরিচয় ম यौ প থাে ধ ননা म এইভাবে আমাদের সুরগুলি তিন সপ্তকে সজ্জিত। হারমােনিয়মে শুদ্ধ সুরগুলি সাদা চাবিতে ও বিকৃত সুরগুলি কালাে চাবিতে থাকে।
গীত-উপক্রমণিকা
নীচে হারমােনিয়মের কী-বাের্ডের চিত্ৰ দিয়া উদারা, মুদারা ও তারার
সুদ্ধ ও বিকৃত সুরগুলির পরিচয় যথাস্থানে লিখিয়া দিতেছি। চিত্র
দেখিলেই সুরগুলির সম্যক পরিচয় হইবে ।
রোগে
की हो तो भी वो
लाडली
স ৮ না
--স্তদার
মুদা-
•••তা
‘গ’ ও ‘ম’ এবং ‘ন’ ও চড়া স’ অৰ্ধান্তর বলিয়া মাঝখানে আর কোন হারমােনিয়মে
বিকৃত সুর নাই। এইজন্য দুইটি সাদা চাবির মাঝখানে কোনও কালাে চাবি সহজে সুর
চিনিয়া
নাই। দুইটি সাদা চাবি একত্র দেখিলেই বুঝিতে হইবে যে, এই দুইটি সুর হয়
‘ন’ ও ‘স’, নয় ‘গ ও ‘ম’। আবার ‘স’ সুরের ডানদিকে দুইটি কালাে চাবি লইবার উপায়
পাশাপাশি আছে। এই কথা দুইটি মনে রাখিলেই আর স’ সুর বাহির
করিতে দেরী হইবে না। স’ সুর বাহির হইলে অন্যান্য সুর সহজেই বাহির
হইয়া পড়িবে।
- ' * শ তৃতীয় পরিচ্ছেদ মাত্রা-প্রকরণ মাত্রা কি ? বাল্যকালে প্রথমেই আমরা হয় শিশু-শিক্ষা, নয় বাল্য-শিক্ষা দেখিয়া বর্ণমালা শিক্ষা করি ও প্রায় তাহার সঙ্গে সঙ্গেই ১, ২, ৩, ৪ ইত্যাদি অঙ্কগুলি শিখিবার দরকার হয় এবং আমরা ধারাপাত কিনিয়া সই। গীত শিক্ষা কালেও সেইরূপ করিতে হয়। সঙ্গীতেরও বর্ণমালার দিক ও অঙ্কের দিক আছে। সাতটি সুরকেই সঙ্গীতের বর্ণমালা বলা যায়। আর মাত্রা-প্রকরণকে সঙ্গীতের অঙ্কের দিক বলা যায়। সুরের বিষয় পূর্ব পরিচ্ছেদে বলা হইয়াছে। এখন মাত্রা সম্বন্ধে কিছু আভাস দিতেছি। গীত বা বাদন করিতে যেটুকু সময়ের দরকার হয় এবং সেই সময়টুকুকে মাপিবার জন্য যে পরিমাণ সময় ‘আদর্শ করিয়া লওয়া হয়, এই আদর্শ পরিমাণ সময়কে মাত্রা বলে। প্রকারান্তরে বলিতে গেলে সময়ের সূক্ষ্ম খণ্ডকে মাত্রা বলে। কথাটা একটু পরিষ্কার করিয়া বুঝাইতেছি। একটা স্থান মাপিতে হইলে আমরা কি করি? যদি এই বইটার দৈর্ঘ্য মাপিতে হয় তবে আমরা (scale) লইব ও মাপিয়া দেখিব কত ইঞ্চি হইল। এখানে স্থান মাপিবার জন্য ইঞ্চিই হইল ‘আদর্শ পরিমাণ। সেইরূপ মাত্রাই সময় মাপিবার আদর্শ পরিমাণ। ঘড়ির উল্লেখ এখানে করা যায়। কারণ, ঘড়ি সর্বদা সময়কে সূক্ষ্ম সমান সমান অংশে ভাগ করিয়া দিতেছে। ঘড়িতে সেকেণ্ডই সময়ের সূক্ষ্মতম খণ্ড। এই সেকেণ্ডকে আমরা মাত্রা বলিতে পারি। ‘স’ সুর এক মাত্রা, ‘র’ সুর দুই মাত্রা বলিলে এই বুঝিতে হইবে যে, ‘স’ সুর যত সময় ধ্বনিত হইবে ‘র’ সুর তার দ্বিগুণ সময় ধ্বনিত হইবে। স’ সুর মাত্রার গতি গীত-উপক্রমণিকা যদি এক সেকেণ্ড ধ্বনিত হয় তবে ‘র’ সুর দুই সেকেণ্ড ধ্বনিত হইবে। স’ সুর যদি অর্ধ সেকেণ্ড ধ্বনিত হয় তবে ‘র’ সুর এক সেকেণ্ড ধ্বনিত হইবে। ‘স’ সুর যদি দুই সেকেণ্ড ধ্বনিত হয়, তবে ‘র’ সুর চার সেকেণ্ড ধ্বনিত হইবে। ইহা হইতে দেখা যাইতেছে মাত্র তিন প্রকারের হয়। অর্ধ সেকেণ্ডকেও এক মাত্রা ধরা যায়, এক সেকেণ্ডকেও এক মাত্রা ধরা যায়, আবার দুই সেকেণ্ডকেও এক মাত্রা ধরা যায়। আমরা বিদ্যালয়ে ১, ২, ৩, ৪ ইত্যাদি অঙ্কগুলি ধীরে ধীরে বলিয়া থাকি, খুব দ্রুত বলিয়া, আবার মাঝারিভাবে বলিয়াও শিক্ষা করি। এইরূপ মাত্রা ও দ্রুত, মধ্য ও বিলম্বিতভাবে চলিয়া থাকে। তাহাকে মাত্রার গতি বলা হয়। যেমন :—দ্রুতগতি, মধ্যগতি ও বিলম্বিতগতি। সাধারণতঃ মধ্যগতিতে গান গাহিতে হয়। চলিত কথায় বিলম্বিতকে চিমা, মধ্যকে মধ্যম ও দ্রুতকে জলদ বলা হয়। কতটুকু সময়কে মাত্রা ধরা হইবে তাহা নির্দিষ্ট করিয়া রাখা হয় নাই। যে গায়ক, সে যে পরিমাণ সময়কে আদর্শ করিয়া লয় তাহাই মাত্রা হয়। মাত্রায় ওজন, নিরূপণ করা গায়কের কাজ। এখানে একটি উদাহরণ দিয়া কথাটা বুঝাইবার পক্ষে সহজ করিয়া দিতেছি। রাম ও শ্যামকে একটা মাত্রাকাল নির্দিষ্ট ঘরের দৈর্ঘ্য কত হাত মাপিয়া দেখিবার জন্য বলা হইলে রাম আসিয়া বলিল চৌদ্দ হাত, আর শ্যাম আসিয়া বলিল যােল হাত। একই ঘরের দৈর্ঘ্য সম্বন্ধে দুইজন দুই প্রকার বলাতে কাহাকেও দোষ দেওয়া চলে না। কারণ দুই জনের হাত এক সমান নহে। রাম তাহার নিজের হাতকে ‘আদর্শ করিয়া মাপিয়াছে। শ্যামও তাহার নিজের হাতকে ‘আদর্শ করিয়া মাপিয়াছে। গায়ক বা বাদকের মনের গতি যখন যেরূপ থাকে, মাত্রার গতিও সেইরূপই হয়। হয়। যদু হয় ত এক সেকেণ্ডকে এক মাত্রা ধরিয়া গান করিতেছে। আবার সেইস্থানেই মধু দুই সেকেণ্ডকে এক মাত্রা ধরিয়া গান করিতেছে। প্রথম শিক্ষার্থীর মনে এই কথা উঠিবে যে, স্থান মাপিবার জন্য ইঞ্চি নাম দিয়া যেমন একটু পরিমাণ স্থান নির্দিষ্ট করিয়া নাই কেন?
১৪ গীত-উপক্রমণিকা লওয়া হইয়াছে, সময় মাপিবার জন্যও সেইভাবে একটু সময়কে নির্দিষ্ট করিয়া লওয়া হউক না যাহাকে মাত্রা বলা যাইবে ? ইহার উত্তরে এই কথা বলিলেই যথেষ্ট যে, ঘড়ি যেমন দিন-রাত সময়কে সূক্ষ্ম সমান অংশে ভাগ করিয়া দিতেছে, তাহা যন্ত্র ছাড়া মানুষের দ্বারা সম্ভবপর নয়। কারণ মানুষের মনের গতি সব সময়ে সমান থাকে না। আর যদি সব সময়ে এক ওজনের মাত্রা দিয়া গান করা হয় তবে তাহা বড় একঘেয়ে হইয়া পড়ে ও সঙ্গীতের মাধুৰ্য্য হানি করে। সেই জন্যই মাত্রার ওজন ঠিক করিবার ভার গায়ক বাদকের উপর দেওয়া হইয়াছে। তবে ইহা মনে রাখিতে হইবে যে, যে পরিমাণ কালকে আদর্শ করিয়া লওয়া হইবে তাহা গীত বা বাদ্যের প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত সমান রাখিতে হইবে । মাত্রার চিহ্ন মাত্রার চিহ্ন বিসর্গ (ঃ)। সঃ লেখা থাকিলে ‘স’সুর এক মাত্রা বুঝিতে হইবে। সঃ রঃ লেখা থাকিলে ‘স’ সুর এক মাত্রা ও ‘র’ সুর একমাত্ৰা কাল ধ্বনিত হইবে। সঃ এই লেখা থাকিলে ‘স’ সুর দুই মাত্রা বুঝিতে হইবে। যতই মাত্ৰাসংখ্যা বৃদ্ধি হইবে ততই বিসর্গ চিহ্ন সরল দ্বারা যােগ করিয়া মাত্ৰাসংখ্যা লিপিবদ্ধ করা রেখা হইবে । দুই বা ততােধিক সুর একমাত্রা কাল মধ্যে উচ্চারিত হইলে স্বরাক্ষর যুক্ত হইয়া শেষ অক্ষরে বিসর্গ বসে। যথা—সরঃ। এইরূপ লেখা থাকিলে ‘স’ ও ‘র’ দুই সুরে মিলিয়া একমাত্ৰা বুঝিতে হইবে। এখানে ‘স’ অর্ধমাত্রা ও ‘র’ অর্ধমাত্রা উভয়ে মিলিয়া একমাত্রা। সরগঃ লেখা থাকিলে ‘স’ ‘র’ ও ‘গ’ এই তিন সুর একমাত্ৰা কাল মধ্যে ধ্বনিত হইবে বুঝিতে হইবে। সরগমঃ লেখা থাকিলে ‘স’, ‘র’, ‘গ’ ও ‘ম’ এই চার সুর মিলিয়া এক মাত্রা এবং প্রত্যেকটি সুর সিকিমাত্ৰা বুঝিতে হইবে। প্রথম শিক্ষার্থীর পক্ষে মাত্রার জ্ঞান অতি সত্বর জন্মাইবার সহজ উপায় C গীত-উপক্রমণিকা একটি কম মূল্যের পেণ্ডুলাম যুক্ত ঘড়ির (wall-clock) টক্ টক্ শব্দের মাত্রার জ্ঞান সঙ্গে সঙ্গে পায়ে টোকা দিয়া অভ্যাস করা। অনেকে ‘সমকাল পর পর জন্মাইবার সহজ উপায় টোকা দিয়া মাত্ৰাসাধন করিবার কথা বলেন। কিন্তু তাহাতে এই অসুবিধা হয় যে, যাহারা শিক্ষক ব্যতিরেকে গীত শিক্ষা করিতে ইচ্ছুক তাহারা বুঝিতেই পারে না তাহাদের টোকা বা তালি সমকাল পর পর পড়িতেছে কি-না। ঘড়ির পেণ্ডুলাম ডান দিকে আসিয়া যে টক্ টক্ শব্দ করিবে সেই শব্দের একসঙ্গে মাটিতে পা দিয়া তালি দিতে হইবে। পেণ্ডুলাম যখন ডান দিক হইতে বাম দিকে যাইতে থাকিবে পায়ের অগ্রভাগও সঙ্গে সঙ্গে উপর দিকে আবার যখন বামদিক হইতে ইহা ডান দিকে যাইবে সঙ্গে সঙ্গে পাও নীচের দিকে যাইবে এবং সেদিকে পেণ্ডুলামের শব্দ হইবার একসঙ্গে পায়ের তালি পড়িবে। তালির সঙ্গে সঙ্গে ১, ২, ৩, , ইত্যাদি অঙ্কগুলি গুণিলে ভাল হয় । এই তালিগুলি মাত্রা হইবে। অর্থাৎ ডানদিকে পেণ্ডুলামে যে শব্দ হইবে তাহাই একমাত্র ধরিতে হইবে। পায়ের গোড়ালী সব সময় মাটিতে থাকিবে। থাকিবে। পায়ের অগ্রভাগ মাত্র তালি দিবার জন্য তুলিতে হইবে। এইরূপ কিছুদিন তালি দিয়া অভ্যাস করিয়া পরে পেণ্ডুলামের প্রতি শব্দে তালি দিয়া অভ্যাস করিতে হইবে। কয়েকদিন এইরূপ ভাবে অভ্যাস করিলে অতি সত্বর মাত্রার ওজনের জ্ঞান জন্মিবে। উঠিবে। * পাশ্চাত্য দেশ হইতে মেট্রোনাম নামে এক প্রকার যন্ত্র আবিষ্কার হইয়াছে। তাহাও ঘড়ির পেণ্ডুলামের মত টক টক্ শব্দ করিয়া সময়কে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করিয়া থাকে। কিন্তু ইহার মূল্য ঘড়ির চেয়ে বেশী । ঘড়ি থাকিলে সময় নিরূপণও করা যায়; আবার মাত্ৰাসাধনের পক্ষেও সুবিধা হয়, এই জন্যই ঘড়ির সাহায্য লইবার কথা বলা হইয়াছে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ কণ্ঠমার্জন কণ্ঠ সুমধুর কর্কশ কণ্ঠ কি ভাবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সুমধুর করা যায় সেই সম্বন্ধে এখানে কয়েকটি কথা বলিতেছি। কারণ সুকণ্ঠ না হইলে গান গাওয়াই বৃথা, কণ্ঠমার্জন আবশ্যক বলিতে হইবে। আমাদের দেশে কি ভাবে সাধনা করিলে কেন ? হয় তাহা অনেকেই জানেন না। সঙ্গীতের মােহিনী শক্তি সম্বন্ধে কিম্বদন্তী আছে যে, ‘হিংস্র জন্তুরা পর্যন্ত হিংসাদ্বেষ ভুলিয়া কাছে আসিয়া গান শােনন। কিন্তু কর্কশ কণ্ঠের গান শুনিয়া পশুপক্ষী বশ হয় না নিশ্চয়। যে স্বর শুনিয়া মােহিত হইবে তাহা সুমধুর হওয়া দরকার। অাবার অনেকে কণ্ঠস্বর ভাল নয় বলিয়া গান গাওয়াও ত্যাগ করেন। কাজেই কি করিয়া কণ্ঠসাধনা করিলে কণ্ঠস্বর মধুর হয় তাহা জানিয়া কণ্ঠ যাহাতে সুমিষ্ট হয় তাহার দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখা উচিত। মুখের ভাব যখন যেরূপ থাকে কণ্ঠের আওয়াজও সঙ্গে সঙ্গে সেইরূপ স্বর কর্কশ পরিবর্তিত হয়। মানুষ রাগান্বিত হইলে প্রথমে মুখের দিকে চাহিলেই তাহা হয় কেন? বুঝিতে পারা যায়। সেই সময় যে-কোন কথা বলিলেই তাহাতে রাগের ভাব প্রকাশ পায় এবং কথাগুলি কর্কশ হয়, মধুর হয় না। সুতরাং দেখা যাইতেছে যে, মুখের ভাব যে সময় যেরূপ থাকিবে কণ্ঠের আওয়াজও সেইরূপ হইবে। মুখ গােলাকৃতি করিলে শােকসূচক আওয়াজ বাহির হয়। দাতে দাতে মিশাইয়া গান করিলে বা কথা বলিলে ছন্ছন্ আওয়াজ হয়। খুব বড় হাঁ করিয়া গান করিলে কঠোর আওয়াজ বাহির হয়। মুখের ভাব এরূপ করিয়া রাখিতে হইবে যাতে কোনরূপ দোষ প্রকাশ কি করিলে পায়। সর্বদা হাসি হাসি ভাবে গান করিতে হয়। ঠোট দুইটি, দাতের স্বর মধুর উপর সমানভাবে থাকিবে যেন দাত বাহির হইয়া না পড়ে। মুখের হাঁ হয় ?
গীত-উপক্রমণিকা যেন এক বৃদ্ধাঙুলীর বেশী ফঁাক না হয়। জিহ্বার প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখিতে হয়। জিহ্বা যত বাহিরের দিকে আসিবে ততই কর্কশ আওয়াজ হইবে এবং জিহ্বা যতই ভিতরের দিকে থাকিবে ততই মধুর আওয়াজ বাহির হইবে। শ্বাসনালী স্বর বাহির হইবার একমাত্র পথ। জিহ্বা ভিতরের দিকে কতক চাপিয়া শ্বাসনালীর মুখ খুলিয়া দিলেই গােল সুমিষ্ট আওয়াজ বাহির হইবে। জিহবা সমতল ভাবে থাকিবে, যেন স্বর বাহির হইবার পথ রুদ্ধ হইয়া না যায়। মেরুদণ্ড সােজা করিয়া বসিতে হয় ও মাথা পিছন দিকে কিঞ্চিৎ হেলাইয়া কণ্ঠসাধনা করিতে হয়। তাহাতে শ্বাসনালীতে কোনরূপ চাপ পড়িতে পারে । সর্বদা লক্ষ্য রাখিতে হইবে, স্বর বাহির হইবার পথ খােলা আছে কি-না ও সুমধুর আওয়াজ বাহির হইতেছে কি-না। প্রথম প্রথম পাঁচ-ছয় মিনিট সাধনা করিতে হইবে। এইরূপ অভ্যাস করা যেন একাদিক্রমে না হয়। মধ্যে মধ্যে বিশ্রাম লইয়া অভ্যাস করিতে হয়। দিনে এইরূপ চার-পাঁচ বার সাধনা করিয়া ক্রমে দুই-এক মিনিট করিয়া বাড়াইয়া পনর মিনিট পর্য্যন্ত প্রথম অবস্থায় সাধনা করা উচিত। পরে আরও যতই অনেক বিষয় শিক্ষা হইতে থাকিবে ততই ক্রমে সাধনকাল বাড়াইতে হইবে। তখন দিনে এক ঘণ্টা করিয়া তিনবার সকালে বিকালে ও রাত্রিতে সাধনা করা উচিত। যদি গান গাহিতে গাহিতে গলায় একটু বেদনা হইতেছে বুঝিতে পারা যায় বা গলায় আলস্য আসে বা গলার স্বর কঁপিতে থাকে তৎক্ষণাৎ বিশ্রাম লইতে হইবে। একজন যন্ত্রশিক্ষার্থীর পক্ষে প্রথম অবস্থায়ও তিন- চার ঘণ্টা বাজাইলে অনিষ্ট হয় না; কিন্তু গীতশিক্ষার্থীর শ্বাসনালীর কঠোর সাধন সহ্য হয় না। অপরিমিত সাধনা করিলে হিতে বিপরীত হয়। খাইবার পরক্ষণেই সাধনা করা ও গান করা উচিত নহে। অসুস্থ অবস্থায় কণ্ঠসাধনা কণ্ঠের অনিষ্টকর বিষয় কি কি ?
১৮ গীত-উপক্রমণিকা বা উপবাসজনিত দুর্বলতায় সাধনা করা ভাল নয়। অতিরিক্ত ভােজন, অনেক রাত্রি পর্যন্ত অনিদ্রা, অতিরিক্ত টক্ বা অত্যধিক মিষ্টান্ন খাওয়া ভাল নহে। সর্বদা বরফ জল খাইলে স্বর বসিয়া যায়। যে-কোনরূপ মাদক দ্রব্য খাওয়া কণ্ঠের পক্ষে বিশেষ অনিষ্টকর। অতিরিক্ত খাদ সুর বা অতিরিক্ত চড়া সুর সাধনা করিতে থাকা উচিত নহে বা বলপূৰ্ব্বক চড়া বা খাদ সুর বাহির করিবার চেষ্টা করা ভাল নহে। যে সুরগুলি অনায়াসে বাহির হয় সেই সুরগুলি সৰ্ব্বদা সাধন করিলে কয়েক দিন পরে চড়া বা খাদের দিকে আর একটা সুর অনায়াসে বাহির হয়। এইরূপ ভাবে সাধনা করিতে করিতে ক্রমে তিন সপ্তকের প্রায় সবগুলি স্বরই কণ্ঠে আয়ত্ত করা যায়। মুদারার স্বরগুলি উত্তমরূপে আয়ত্ত হইলে উদারার দিকে বা তারার দিকের সুরগুলি সাধনা করা কর্তব্য। উচ্চ স্বরে কথা বলা, চীৎকার করা, অস্বাভাবিক ভাবে কোন আওয়াজ বাহির করিবার চেষ্টা করা, উচ্চ হাস্য দেওয়া কণ্ঠের পক্ষে হানিকর। খুব জোরে গান করা যেমন কণ্ঠের পক্ষে অনিষ্টকর, ক্ষুদ্র আওয়াজে গান করাও তেমনই অনিষ্টকর। সর্দি বা কাশি হইলে সাধনা না করাই ভাল। মুখ অবনত করিয়া গান করা ভাল নহে, ইহাতে শ্বাসনালীর উপর চাপ পড়িয়া থাকে ও স্বর বাহির করা কষ্টকর হয়। কোন আবদ্ধ ঘরে সাধনা করা উচিত নহে। তথায় সুমধুর স্বর বাহির করা কষ্টকর হয়। মুক্ত বাতাসে বসিয়া সাধনা করা উচিত। কোনরূপ যন্ত্রের সাহায্য না লইয়া স্বরসাধনা করাই ভাল। বালক বালিকাদের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গলা ভারী হইয়া আসিতে খাকে। এইরূপ গলা ভারী হওয়াকে বয়স ধরা বলে। প্রত্যেকেরই কিশাের বয়সে স্বর পরিবর্তন হইয়া থাকে ও গলার স্বর গম্ভীর ভাব ধারণ করে। বয়স ধরার সঙ্গে সঙ্গে গান করিতে বেশ কষ্ট হয়। ইহা দুই বৎসর পৰ্যন্ত স্থায়ী থাকে। কাহারও আবার বেশী সময়ও থাকে। যতদিন পর্যন্ত গলায় বয়স! ধরা গীত-উপক্রমণিকা কণ্ঠমার্জন সম্বন্ধে ভ্রম ধারণা স্বর গম্ভীর ভাব ধারণ করিয়া একটা স্থানে স্থায়ী হইয়া না দাঁড়ায় ততদিন পৰ্যন্ত সাধনা একেবারে বন্ধ করিয়া দিতে হইবে। তাহা না হইলে মধুর স্বরে গান গাওয়া চিরদিনের মত বন্ধ করিতে হয়। কারণ তখন গান করিতে কষ্ট হয় ও বলপূর্বক গান করিতে করিতে গলার স্বর এত কর্কশ হইয়া পড়ে যে, শেষে ঘষিয়া মাজিয়াও কণ্ঠস্বর আর তত সুমধুর করিতে পারা যায় না। বয়স ধরার সময় উচ্চস্বরে কথা বলা চীৎকার করা বা উচ্চহাস্য করাও অনিষ্টকর। অনেকে সুমধুর কণ্ঠ করিবার জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে লবঙ্গ, দারুচিনি, গােলমরিচ, এলাচি, গরম মােহনভােগ ও ঘি ইত্যাদি খাইয়া থাকেন। তাহাতে উপকার কিছুই হয় না বরং অপকার হইয়া থাকে। তবে সর্দি বা কাশি থাকিলে দুই-একটা লবঙ্গ খাওয়া দরকার হয়। অনেকে ভরা শীতে আকণ্ঠ জলে নামিয়া স্বরসাধনা করিয়া থাকেন। তাঁহাদের বিশ্বাস কম্পন ও গিটকারী সহজে গলায় আয়ত্ত করিবার ইহাই উত্তম ব্যবস্থা। কিন্তু ইহা যে কত অনিষ্টকর তাহা ভাবিয়া দেখেন না। অনেকেই গ্রীষ্মে আকণ্ঠ জলে নামিয়া স্বরসাধনা করেন, তাহাতে নাকি গলার স্বর মধুর হয়। কিন্তু ইহার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কি জানি না। তবে পৌষ-মাঘ মাসে আকণ্ঠ জলে নামিয়া সাধনা করিলে কফ রােগ হইবারই সম্ভাবনা বেশী । কণ্ঠসাধনের সময় থুথু ফেলা বা কাশি দেওয়ার অভ্যাস করা কর্তব্য নহে। ইহা পরে একটা বদ্ অভ্যাস হইয়া পড়ে। গান গাহিবার সময়ও কাশি উঠিয়া পড়ে ও সঙ্গীতের সৌন্দর্যের বিঘ্ন উৎপন্ন করে। গান গাহিবার সময় মুখ বিকৃতি, মাথা নাড়া, জ্ব-চক্ষুর বিশ্রী ভঙ্গী করা, হাত নাড়া ইত্যাদি মুদ্রাদোষ অত্যন্ত অতৃপ্তিকর। এইসব মুদ্রাদোষ একবার হইয়া পড়িলে আর ছাড়াইতে পারা যায় না। কাজেই প্রথম হইতেই সাবধান হইতে হয়। একটা বড় আয়নার সামনে বসিয়া সাধনা করা উচিত, তাহাতে নিজের প্রতিমূর্তি দেখিয়া মুদ্রাদোষ সম্বন্ধে বিশেষ সতর্ক হওয়া যায়। মুদ্রাদোষ গীত-উপক্রমণিকা নাকি সুরে গান গাওয়াও একপ্রকার মুদ্রাদোষ। এদিকেও বিশেষ দৃষ্টি রাখিতে হইবে। নাকি সুরে গান করিলে গানের মিষ্টতা নষ্ট হয়। গাহিবার সময় হেচকি দিয়া শ্বাস লইবার অভ্যাস করা ভাল নহে। তাহাতে সঙ্গীতের মাধুৰ্য্য নষ্ট হয়। সারেঙ্গী, এস্রাজ, বেহালা যন্ত্রের সঙ্গে কণ্ঠ মিলাইয়া গান গাহিলে স্বর মধুর হয় কিন্তু তাহাতেও নানা অসুবিধা আছে। স্বরজ্ঞান কতক জন্মিলে পর কোনরূপ যন্ত্রের সাহায্য ব্যতীত গীত অভ্যাস করাই উত্তম। গলার স্বর মধুর রাখিবার বড় জিনিষ স্বাস্থ্য ও মনের প্রফুল্লতা। স্বাস্থ্য নিৰ্ম্মল রাখিতে পারিলেও উপরি উক্ত মতে ধৈৰ্য্য ধরিয়া কণ্ঠমার্জনা করিতে পারিলে কণ্ঠস্বর মধুর হইবে । পঞ্চম পরিচ্ছেদ স্বর ও মাত্ৰাসাধন সাতটি সুর যখন মাত্রার সাহায্যে গীত বা বাদিত হয় তখন তাহাকে ‘স্বর-সাধনপ্রণালী বলে। সুর ও মাত্রা এক সঙ্গে সাধন করিবার জন্য নীচে কতকগুলি স্বর-সাধনপ্রণালী দিতেছি। প্রথম শিক্ষার্থীর ধৈর্য্য ধরিয়া স্বর-সাধনপ্রণালী অভ্যাস করা একান্ত প্রয়ােজন। তাহাতে মাত্রার সূক্ষ্ম জ্ঞান হয়, সুরপরিচয় অতি সত্বর জন্মে ও কণ্ঠের জড়তা নষ্ট হয়। মাত্ৰসাধন করিবার জন্য প্রথম প্রথম ঘড়ির সাহায্য নেওয়া ভাল ও প্রাথমিক সুর-সাধন পক্ষে বক্স হারমােনিয়ম সুবিধাজনক, তাহা পূর্ব পরিচ্ছেদে বলা হইয়াছে। সঙ্গীতাচাৰ্য কৃষ্ণধন বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়, সর্বপ্রথম তঁাহার কৃত “গীতসূত্ৰসার” পুস্তকে কণ্ঠমার্জনা সম্বন্ধে লিখিয়া গিয়াছেন। ইহার পূর্বে আর কেহ এই বিষয় আলােচনা করেন নাই।
গীত-উপক্রমণিকা সুরগুলিকে স, র, গ, ম, প, ধ, ন, লিখিলেও সা, রে, গা, মা, পা, ধা, নি বলিয়াই উচ্চারণ করিতে হইবে। স্বর-সাধন করিবার সময় পূর্ব পরিচ্ছেদে কণ্ঠমার্জনা প্রসঙ্গে যাহা লেখা হইয়াছে তাহা সর্বদা মনে রাখিতে হইবে। প্রথম পাঠ (ক) সঃ রঃ গঃ পঃ নঃ সঃ। ০ নঃ ধঃ পঃ মঃ রঃ সঃ | এখানে প্রতি সুর এক মাত্রা। কাজেই ঘড়ির টক্ টক্ শব্দ অনুযায়ী পায়ে তালি দিয়া প্রতি তালির সঙ্গে সঙ্গে হারমােনিয়মের এক-একটি সুর বাজাইতে হইবে ও তাহার সঙ্গে কণ্ঠ মিলাইয়া সুর উচ্চারণ করিতে হইবে। নীচের দুইটি স্বর-সাধনও এইরূপভাবে সাধিতে হইবে। ( খ ) সঃ রঃ রঃ, গঃ গঃ মঃ মঃ, পঃ পঃ ধঃ ধঃ, নঃ নঃ সঃ সঃ সঃ নঃ নঃ, পঃ পঃ, গঃ গঃ, সঃ ॥ ( গ ) সঃ সঃ সঃ, রঃ গঃ গঃ গঃ, মঃ মঃ, পঃ পঃ, ধঃ ধঃ, নঃ ০ নঃ সঃ সঃ সঃ | নঃ নঃ নঃ, ধঃ ধ, পঃ পঃ পঃ, মঃ মঃ, গঃ গঃ, রঃ, সঃ সঃ ॥
২২ গীত-উপক্রমণিকা (ঘ ) রঃ-৫, গঃ ১০ মঃ-৫, পঃ- নঃ- ০ সঃ- - | o'o নঃ-৪, . পঃ-৪, মঃ- ‘স’ সুর হইবে। গঃ-৫, এখানে প্রতি স্বর দুই মাত্রা। প্রথম টোকার সঙ্গে হারমােনিয়মের টিপিয়া ও কণ্ঠে ‘সা’ বলিয়া পরবর্তী টোকার সেই সুরেই ‘আ’ বলিতে এর পরের টোকার সঙ্গে ‘র’ সুর টিপিয়া সঙ্গে সঙ্গে ‘রে’ বলিতে হইবে ও পরবর্তী টোকায় ‘এ’ বলিতে হইবে। এইরূপ গঃ মঃ পঃ বঃ স্থানে যথাক্রমে গা, মা, পা, ধা বলিতে হইবে ও মধ্যবর্তী মাত্ৰাস্থানে ‘আ’ বলিতে হইবে। নঃ স্থানে টোকার সঙ্গে ‘ন’ সুর টিপিয়া ‘নি’ উচ্চারণ করিতে হইবে ও পরবর্তী টোকায় ‘ই’ বলিতে হইবে। এইরূপে এক-একটি সুরের পরে মাত্রা স্থানে আ, এ, ই বলিয়া সাধিতে হইবে। পরবর্তী স্বর-সাধনপ্রণালীটিও এইরূপ ভাবে সাধিতে হইবে। সঃ-:-:, গঃ——ঃ, মঃ-:--ঃ, পঃ——ঃ, ৪, নঃ-৪, স:-:-:, নঃ——, মঃ ০ গঃ- ও, -, সঃ দ্বিতীয় পাঠ ( ক ) গমঃ পধঃ নস সনঃ ধপঃ মগঃ রসঃ ॥ এখানে দুইটি সুর একমাত্ৰা কাল ধ্বনিত হইবে। পায়ের টোকা পড়িবামাত্র ‘স’ সুর টিপিয়া ‘সা' উচ্চারণ করিতে হইবে ও পায়ের অগ্রভাগ উপরের দিকে তুলিবার সঙ্গে সঙ্গে ‘র’সুর টিপিয়া ‘রে’ উচ্চারণ করিতে হইবে। আবার উপর হইতে পা নীচে মাটিতে পড়িবামাত্র ‘গ’ সুর টিপিয়া ‘গ’ গীত-উপক্রমণিকা উচ্চারণ করিতে হইবে। এইরূপ ভাবে সাধন করিবার জন্য নীচে আরও কয়েকটি সুরপ্রণালী দিতেছি। (খ) সসঃ ররঃ, গগঃ মমঃ, পপঃ ননঃ সসঃ | (১) সসঃ নন, ধধঃ পপ, মমঃ গগঃ, সসঃ ॥ (গ) সরঃ রগঃ গম: মপঃ পধঃ ধনঃ নসঃ । সনঃ मनः নধঃ ধপঃ পমঃ গরঃ রসঃ ॥ (ঘ) সরঃ গঃ, রগঃ মঃ, গমঃ পঃ, মপঃ ধঃ, পধঃ নং, ধনঃ সঃ 2 প, সনঃ •ধঃ, নধঃ ধপঃ মঃ, পমঃ গঃ, মগঃ রং, গরঃ সঃ । এখানে ‘স’ সুরের উপর এক টোকা ও ‘গ’ সুরের উপর এক টোকা পড়িবে । (ঙ) সরঃ গমঃ, রগঃ মপঃ, গমঃ পধঃ, মপঃ ধন, পধঃ নসঃ | সনঃ ধপঃ, নধঃ পম, ধপঃ মগঃ, পমঃ গর, মগঃ রসঃ । (চ) গমঃ প, রগঃ মপঃ ধঃ, গমঃ পধঃ মপঃ ধনঃ স | সন: ধপঃ মঃ, পমঃ গঃ, রং, পমঃ গর সঃ।
২৪ গীত-উপক্রমণিকা (ছ) সরঃ গমঃ পধঃ, রগঃ মপঃ ধনঃ, গমঃ পধঃ নসঃ | সনঃ ধপঃ মগঃ, নধঃ পমঃ গর, ধপ: মগঃ রসঃ ॥ (জ) ০ সরঃ গমঃ পধঃ রগঃ মপঃ ধনঃ সঃ সনঃ ধপঃ মগঃ নধঃ পমঃ গরঃ সঃ তৃতীয় পাঠ ( ক ) সরঃ সরঃ গঃ, রগঃ রগঃ গমঃ গমঃ প, মপঃ মপঃ পধঃ পধঃ নঃ, ধনঃ ধনঃ সঃ। সনঃ সনঃ নধঃ সধঃ পঃ, ধপঃ ধপঃ মঃ, পমঃ পমঃ গঃ, নগঃ মগঃ গর: গরঃ সঃ ॥ ( খ ) সঃ, সরঃ গরঃ স, সরঃ গমঃ গর: সঃ, গম পমঃ স, গমঃ পধঃ সং, পধঃ নধঃ পম: গরঃ ৫ ০ স, গমঃ পধঃ নসঃ সনঃ ধপঃ মগঃ রস:
গীত-উপক্রমণিকা (গ) স পন ধনঃ স, ধপঃ সঃ, ধন: স, সন সনঃ ০ ০ সনঃ মপ: মগঃ ধপঃ ধপঃ মপঃ ধনঃ স, ০ মপঃ স, ধনঃ স, মগঃ ধনঃ ধপঃ সনঃ নস: । মগঃ ধপঃ রসঃ গমঃ সনঃ সরঃ পধঃ (ঘ ) স ধ, গঃ পঃ স, গঃ, প, সঃ নঃ, র ৩ পঃ মঃ ধঃ গঃ, গঃ মঃ, র, প, সঃ নঃ ৩ (ঙ) গ: ধ, নং, প স: | সঃ শঃ, সঃ ॥ গঃ, প: जः মঃ, নঃ (চ) গঃ নঃ, ম: সঃ। পঃ সঃ ॥ সঃ গঃ, নঃ (ছ) সগঃ সর সমঃ সরঃ সগ: স, সরঃ স, সপঃ সমঃ সগ: সধঃ সপঃ স, সমঃ সগ: সরঃ সম: সর: সগ: স, সধঃ সপ: সনঃ সরঃ সগঃ সরঃ সঃ। ममः সনঃ সধঃ সপঃ গীত-উপক্রমণিক। চতুর্থ পাঠ কড়ি-কোমল সাধন ॥ ( ক ) স; গ: মঃ নো: ন কোমল সঃ নােঃ ধ: পঃ মঃ রঃ সঃ (খ) ০ স: গো: ম: পঃ নাে: গ ও ন কোমল নো: প: মঃ গো: (গ) ১ স: র: গাে: ধাে: নােঃ গ,ধ ও ন কোমল স: নাে: ধো: প: গোঃ সঃ (ঘ ) স রেঃ গঃ মঃ পঃ ধোঃ নঃ সঃ ০ র ও ধ কোমল ধােঃ পঃ ম: গঃ রাে: (ঙ) সঃ রােঃ পঃ ধাে: নােঃ সঃ র, ধ, ন কোমল নো: ধােঃ পঃ রােঃ কড়ি-কোমল স্বরগুলি ওকার ও ঈকার দিয়াই উচ্চারণ করিতে হইবে।
গীত-উপক্রমণিকা (চ) সঃ রােঃ গো, প ধোঃ নােঃ র, গ, ধ, ন কোমল সঃ নাে: ধোঃ পঃ গো: রাে: সং (ছ) গঃ মীঃ পঃ নঃ স: ৪ • ৪ রঃ নঃ ০ কড়ি ম 승문 পঃ মৗঃ (জ) b রো: গঃ মীঃ পঃ ধো: কড়ি ম, র ও ধ কোমল v সঃ নঃ ধোঃ পঃ মী: রে: স: (ঝ) সঃ রােঃ গােঃ মীঃ পঃ ধােঃ নঃ সঃ কড়ি ম, র, গ, ধ সঃ নঃ ধোঃ পঃ মীঃ গােঃ রােঃ সঃ কোমল (ঞ) সঃ রােঃ গােঃ মীঃ পঃ ধােঃ নোঃ সঃ কড়ি ম, র, গ, স নােঃ খােঃ পঃ মীঃ গােঃ রােঃ সঃ ধ, ন কোমল প্রথমে এখানে চারিটি পাঠে ত্রিশটি স্বর-সাধনপ্রণালী দেওয়া গেল। মাত্রার বিলম্বিত মধ্য ও দ্রুত গতিতে অভ্যাস করিতে হইবে। হারমোনিয়ম ও ঘড়ির সাহায্যে এক-একটি স্বর-প্রণালী কয়েকদিন পর্যন্ত সাধন করিয়া পরে হারমােনিয়ম ও ঘড়ি ছাড়া শুধু গলায় বই দেখিয়া হাতে ২৮ গীত-উপক্রমণিকা মাত্রা দিয়া সাধিতে হইবে। যন্ত্র ছাড়া খালি গলায় সুরগুলি সঠিক ভাবে বাহির হইলে বুঝিতে হইবে কিছু স্বরজ্ঞান জন্মিয়াছে। স্বর প্রণালী যতই অভ্যাস করা যাইবে সূক্ষ্ম সুর ও মাত্রাজ্ঞান ততই বাড়িবে। সঠিক ভাবে স্বরলিপি দেখিয়া গীত শিক্ষা করিতে হইলে স্বর ও মাত্রার সূক্ষ্ম জ্ঞান থাকা অতি আবশ্যক। শুদ্ধ সুর ও পাঁচটি বিকৃত সুর ও মােট বারটি সুরকে নানাভাবে উলট পালট করিয়া সজ্জিত করিবার নাম স্বরবিন্যাস। যথা--- প: প: মীঃ গঃ মীঃ পঃ গঃ- রঃ নঃ রঃ—ঃ গঃ- রঃ সঃ----, স্বরবিন্যাস : পঃ মীঃ ধঃ পঃ সঃ সঃ নং- সঃ গঃ মী:— ধঃ পঃ মী:— রঃ নং সঃ - কি ? এখানে ছয়টি শুদ্ধ ও বিকৃত সুরের মধ্যে মী (কড়ি মধ্যম) মাত্র লইয়া অর্থাৎ সর—গ—মী+প-ধন+স এই কয়টি লইয়া স্বর বিন্যাস করা হইয়াছে। রাগ-রাগিণী এইভাবে বারটি সুরের যে-কোন কয়েকটি সুর লইয়া অনেক স্বরবিন্যাস রচনা করিতে পারি। এইসব স্বরবিন্যাসকে হিন্দুসঙ্গীতে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করিয়া ভিন্ন ভিন্ন নাম দেওয়া হইয়াছে। তাহাদিগকে এক- কথায় রাগ-রাগিণী বলা হয়। উপরে যে স্বরবিন্যাসটি দেওয়া হইয়াছে ইহার নাম ‘ইম। ইম একটি রাগিণী। স—র-গ—মী+প-ধন এই কয়টির সুর লইয়া উপরে যে ভাবে বিন্যাস করা হইয়াছে সেইভাবে গীত বা বাদিত হইলেই তাহাকে ‘ইমন বলা হইবে। এইরূপ ভিন্ন ভিন্ন সুর দ্বারা সজ্জিত স্বরবিন্যাসকে চিনিয়া লইবার জন্য এক-একটা নাম দেওয়া হইয়াছে। রাগ-রাগিণী আর কিছুই না—কেবল এক-এক প্রকার স্বরবিন্যাস। রাগ-রাগিণীকে এক কথায় বুঝাইতে রাগ বলা হয়।
গীত-উপক্রমণিকা ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ খরজ পরিবর্তন যে সাতটি সুর লইয়া সঙ্গীত-শাস্ত্র গঠিত, তাহার আদি স্বর ষড়জ, ইহা খরজ কি ? পূৰ্বেই বলিয়াছি। হিন্দুস্থানে মুগ্ধণ্য ‘ষ’কে অনেকটা ‘খ’-এর মত উচ্চারণ করে। ষড়জ, ঋষভ ও নিষাদ যথাক্রমে খরজ, ঋখভ ও নিখাদ এইরূপ উচ্চারিত হয়। হিন্দুস্থানেই সঙ্গীতের জাগরণ হইয়াছিল, এখনও তথাকার সঙ্গীতজ্ঞগণের প্রাধান্য সকলেই স্বীকার করেন। আবার সমগ্র ভারতীয় সঙ্গীতজ্ঞের সঙ্গে যােগসূত্র রাখিতে হইলে হিন্দী ছাড়া উপায় নাই। কারণ গােয়ালিয়রের লােক বাংলা বুঝিবে না। হিন্দী বলিলে তাহারাও বুঝিবে, আমরাও বুঝিব। এই সব কারণে তাহাদের চলিত ভাষাই আমরা গ্রহণ করিতেছি। যাই হউক, ষড়জকেই চলিত ভাষায় খরজ বলা হয়। সাতটি সুরের মধ্যে ‘স’সুরই প্রধান সুর। কারণ ইহা হইতেই অন্যান্য ছয় সুরের উৎপত্তি হইয়াছে। ষট্ জায়ন্তে যস্মাৎ ইতি ষড়জঃ, অর্থাৎ ছয়টি সুর যথা হইতে উৎপন্ন হইয়াছে তাহাই ষড়জ। স’ সুর ঠিক না করিলে ‘র’ বা ‘গ’ ইত্যাদি সুরগুলি কি করিয়া পাইব ? অতএব ‘স’ সুর মূল সুর। খরজ পরি- ষড়জকে পরিবর্তন করার নাম খরজ পরিবর্তন। যেমন কোন যন্ত্রের বৰ্ত্তন কি? ষড়জকে বাদ দিয়া ঋখবকে বা গান্ধারকে, অন্য যে-কোন সুরকে খরজবৎ ধরিয়া বাদন করাকে খরজ পরিবর্তন করা বলা হয়। হারমােনিয়মের যে স্বাভাবিক ‘স’ সুর আছে তাহাকে ‘স’ সুর না ধরিয়া ‘গ’ বা ‘ম’ সুর বা অন্য যে-কোন সুরকে খরজ ধরিয়া কখনও বাজাইতে হয়। এখানে প্রথম শিক্ষার্থীর মনে এই কথা উঠিবে যে, হারমােনিয়মের ‘স’ সুর ত ‘স’ সুরই আছে বা ‘র’ সুর ও ‘র’ সুরই আছে, তবে ‘র’ সুর কি করিয়া ‘স’ হইবে ? একটু লক্ষ্য করিলেই দেখিতে পাওয়া যায়, মানুষের গলার সুর একপ্রকার এক-এক জনের গলায় ভারী মােটা আওয়াজ। আবার এক-এক , নয়।
গীত-উপক্রমণিকা জনের গলায় সরু চড়া আওয়াজ। প্রত্যেকেই যখন স্বাভাবিক ভাবে কথা বলে তাহাদের গলায় অল্পস্বল্প বিভিন্নতা দেখা যায়। রামের গলা মােটা ভারী হওয়াতে সে হারমােনিয়মের স্বাভাবিক ‘স’কে সুর করিয়া বেশ সুন্দর গাহিতে পারে। শ্যামের গলা শ্যামের গলা কিছু চড়া। হারমােনিয়মের সাধারণ স’ সুরে গলা মিলাইতেই তাহার কষ্ট হয়। তখন শ্যামের এমন একটা সুরকে খরজ ধরিয়া লইতে হইবে যাহা হইতে সে চড়ার দিকে ও খাদের দিকে অনায়াসে গাহিতে পারে। আবার এইরূপ একটি গায়কের সঙ্গে যদি হারমােনিয়ম বাজাইতে হয়, যাহার খরজ গান্ধার ( ‘গ’ সুর ), তখন প্রথমেই ‘গ’ সুরকে খরজ ধরিয়া স্বাভাবিক গ্রাম প্রস্তুত করিয়া দেখিয়া লইতে হইবে কোন্ কোন্ বিকৃত সুর লাগিতেছে। এইরূপ, খরজ পরিবর্তনের দরকার সব সময়েই হইতে পারে, কাজেই পরিবর্তন-কৌশল শিখিয়া রাখিতে হয়। প্রথম পরিচ্ছেদে পূর্ণান্তর ও অৰ্ধান্তর সম্বন্ধে বলা হইয়াছে। স্বাভাবিক গ্রামের অন্তর-বিভাগটি মনে রাখিলেই খরজ পরিবর্তন করা কঠিন বােধ হইবে খরজ পৰি- বৰ্ত্তন- কৌশল ১ ১ | ১ । + ন + म •• ইহাই স্বরগ্রাম। স হইতে র, র হইতে গ পূর্ণান্তর ; গ হইতে ম অৰ্ধান্তর ; ম হইতে প, প হইতে ধ, ধ হইতে ন পূর্ণান্তর; ন হইতে স অৰ্ধান্তর। উপরের এই কয়েকটি কথা মনে রাখিলেই খরজ পরিবর্তন করিতে কিছুমাত্র কষ্ট বােধ হয় না। এখন, ‘র’ সুরকে খরজ ধরিয়া স্বাভাবিক গ্রাম প্রস্তুত করিতে হইলে কিরূপ হইবে দেখা যাক্। প্রথমতঃ ‘র’ সুর হইবে ‘স'। তারপর ‘গ’ সুর হইবে ‘র। কারণ স হইতে র পূর্ণান্তর। কিন্তু ‘ম’ সুর গ হইবে না। কাজেই হারমােনিয়মের ‘ম’ সুর টিপিলে ভুল হইবে। কারণ গ গীত-উপক্রমণিকা হইতে ম অৰ্ধান্তর। কড়ি মধ্যম হইবে গ। গ হইতে ম অৰ্ধান্তর ; অতএব প হইবে ম , কারণ মী হইতে প অৰ্ধান্তর। ধ হইবে প; ন হইবে ধ ; কোমল র হইবে ন; কারণ ধ হইতে ন পূর্ণান্তর ; স টিপিলে অৰ্ধান্তর হইয়া পড়ে। তারপর র হইবে এ গ্রামের চড়া স; কারণ রাে হইতে র অৰ্ধান্তর। সুতরাং র খরজে ৪-র = স ; গ = র; মী= গ ; প= ম; ধ = প; ন = ধ ; : ০ e - ন; র = স। সাতটি শুদ্ধ ও পাঁচটি বিকৃত স্বরের যে-কোন স্বরকে খরজবৎ ধরিবার আবশ্যক হইতে পারে। সেইজন্য শুদ্ধ ও বিকৃত স্বরের খরজ পরিবর্তনতালিকা এখানে দিতেছি। তাহাতে প্রথম শিক্ষর্থীর বিশেষ সুবিধা হইবে। খরজ পরি- বৰ্ত্তনের তালিকা শুদ্ধ স্বরের খরজ পরিবর্তন म গ ম প ধ ন স র ======== র-খরজ র গ। गौ প ন রে A গ-খরজ গ মী ধ ন গে। ০ মখরজ ম প ধ নো স A ০ গ ০ প-খরজ প म মী A প • ন # ০ গ মী। ধো AO নখরজ বে। গে। • * গ ননা ন ৩২ গীত-উপক্রমণিকা র—খরজে—রাে, মী গ-খরজে -রো, গো, ধে, মী ম খরজেনাে পখরজে—মী ধ—খরজে-রো, গে, ধো, মী ন -খরজে -রাে, গো, ধাে, নাে, মী ২টি বিকৃত সুর লাগে । ৪টি বিকৃত সুর লাগে; ১টি বিকৃত সুর লাগে । ১টি বিকৃত সুর লাগে ; ৪টি বিকৃত সুর লাগে । ৫টি বিকৃত সুর লাগে; বিকৃত স্বরের খরজ পরিবর্তন সরজ म গ ধ ন ग রো-খরজ রাে গে। ম মী ধো নে। ग রাে গো- খরজ গাে ম ধো স নাে গে। মী- খরজ মী ধো ন রো গাে ম মী ধে নাে স ধাে-খরজ রো গাে প। ধাে স নন। A ০ • ক লােখরজ ম গে। নাে রো-খরজে-~ম, স ২টি শুদ্ধ সুর লাগে ৪টি শুদ্ধ সুর লাগে ২টি শুদ্ধ সুর লাগে গাে-খরজেস, র, ম, প মী-খরজে-ম, ন ধাে-খরজে-স, ম, প নাে-খরজেস, র, ম, প, ধ ৩টি শুদ্ধ সুর লাগে ৫টি শুদ্ধ সুর লাগে সপ্তম পরিচ্ছেদ গীত-অলঙ্কার মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে কতকগুলি অলঙ্কার ব্যবহার করিবার রীতি সৰ্ব্বদেশে অল্পবিস্তর প্রচলিত আছে। আমাদের সঙ্গীতেও তেমনি কতকগুলি অলঙ্কার ব্যবহার করিবার রীতি আছে। অলঙ্কার যেমন স্ত্রীলোকের অঙ্গসৌষ্ঠব বাড়াইয়া দেয়, গীত-অলঙ্কারও সেইরূপ গীতবাদ্যকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। অলঙ্কার ব্যবহার না করিলে গীতবাদ্য শ্রুতিমধুর হইতেই পারে না। সেইজন্য প্রত্যেক সঙ্গীতশিক্ষার্থীর গীত-অলঙ্কার-সাধন অবশ্য প্রয়োজনীয়। এখানে অলঙ্কারগুলির বিশদ ব্যাখ্যা ও অলঙ্কার-সাধনপ্রণালী দিতেছি। কোন একটি অক্ষরকে অবলম্বন করিয়া দুই বা ততােধিক সুর গীত বা বাদন করার নাম আশ । আশ কথাটি আশা শব্দের অপভ্রংশ । আশের চিহ্ন স্বরাক্ষরের নীচে শূন্য 0 থাকে, যথা—সঃ মঃ আশ রঃ 0 0 0 মা এখানে স সুরে ‘মা’ বলিয়া অন্য সুরগুলি ‘আ’ বলিয়া উচ্চারণ করিতে হইবে। সঃ গঃ পঃ ধঃ নঃ সঃ আ 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 ০ 0 0 0 উ 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 0 | 0 0 0 0 0 আ, অ, ই, উ, এ, ও, এই ছয়টি স্বরবর্ণ দিয়া আশ উচ্চারিত হয়। একমাত্র গীত-উপক্রমণিকা নীড় আশ কেন, প্রত্যেকটি অলঙ্কারই এই ছয়টি স্বরবর্ণ দিয়া উচ্চারণ করিতে হয়। গানের যে কথা হইতে আশ আরম্ভ হইবে, সেই কথায় এই ছয়টি স্বরবর্ণের যে-কোন একটি থাকিবেই। সেখানেও স্বরবর্ণগুলি সুরের সঙ্গে সঙ্গে আ, আ বা এ, এ বা ই, ই উচ্চারিত হইবে এবং তাহাই আশ হইবে। স্বর ও মাত্ৰাসাধনের জন্য যে সকল প্রণালী দেওয়া হইয়াছে তাহা অশ- সাধনের পক্ষে যথেষ্ট। সেই পরিচ্ছেদের প্রত্যেকটি স্বর প্রণালীকে আশরূপে সাধিতে হইবে । একটি সুর হইতে অন্য এক, দুই বা ততােধিক সুরের মধ্যবর্তী অন্তরকে ধ্বনিত করিয়া গড়াইয়া যাওয়ার নাম মীড়। সেতার, বীণা, প্রভৃতি তারযন্ত্রের পর্দার উপর ঘর্ষণ, অর্থাৎ মর্দন করিয়া মীড় উৎপাদন করা হয়। মর্দন শব্দ হইতেই মীড় শব্দের উৎপত্তি। তারযন্ত্রের তারে আঘাত করিয়া ঐ তারসংলগ্ন কানে পাক দিলে ‘গেও করিয়া যে আওয়াজ হয় তাহাই মীড়। আশ উচ্চারিত হইলে সুরগুলি পৃথক পৃথক ধ্বনিত হয়। কিন্তু মীড়ে সুরগুলির উপর দিয়া গড়াইয়া যায় বলিয়া সুরগুলির পৃথক পৃথক শব্দ হয় না। মীড়ের চিহ্ন ; সুরের নীচে বক্র রেখা। যেমন : মঃ। মীড়সাধন সঃ গর, রঃ মগঃ, গঃ পম, মঃ ধপ, নধঃ ০ সঃ নঃ ধঃ নঃ রগঃ, সন, রস, ধন, পধঃ, মপঃ, প গম, গঃ সর, সঃ। মীড় সাধিবার জন্য কেবল মাত্র উপরের সুরপ্রণালীই দেওয়া হইল না, ইহা সাধিবার জন্য যে পঞ্চম পরিচ্ছেদের মধ্যে তৃতীয় পাঠের ঘ, ঙ, চ পাঠ মীড় সাধিবার উপযুক্ত তাহাও সাধিতে হইবে।
গীত-উপক্রমণিকা একই সুর বার বার দ্রুত উচ্চারণ করিলে কম্পন হয়। যথা :- সসসস, রররর ইত্যাদি। আ••• আ••• হারমোনিয়মের টি, মলে ষ্টপার খুলিয়া কম্পনসাধন করিতে হইবে। ইহাতে সত্বর কণ্ঠের কম্পন আয়ত্ত হইবে। পঞ্চম পরিচ্ছেদের সবগুলি স্বর- প্রণালীই কম্পনযােগে সাধন করা যাইবে। কতকগুলি সুর ‘আশ’ সহকারে দ্রুতগতিতে উচ্চারণ করাকে গিটুকারী গিটকারী বলে। গিট্কারী দুই প্রকার, সগম গিট্কারী ও সাদা গিট্কারী। কণ্ঠে গিট্কারী বিশুদ্ধভাবে বাহির করিতে হইলে প্রথমে পঞ্চম পরিচ্ছেদের স্বরসাধনগুলির আশসাধন উত্তমরূপে আয়ত্ত করিতে হইবে এবং পরে আশ খুব দ্রুত সাধন করিবার চেষ্টা করিতে হইবে। গিট শব্দ গাঁট শব্দেরই অপভ্রংশ। একটা ঘন গাঁটযুক্ত বাঁশকে হাতের মুঠায় লইয়া বাঁশটিকে এক দিক হইতে অন্যদিকে দ্রুত চালনা করিলে বাঁশের গাঁটগুলি হাতে লাগিয়া যেরূপ প্রতীয়মান হয়, সুরগুলিও খুব দ্রুত উচ্চারিত হইলে ঐরূপ মনে হয় বলিয়া ইহার নাম গিট্কারী হইয়াছে। গিট্কারীর চিহ্ন সুরের নীচে সকল রেখা, যথা—স র গ ম পঃ কোন সুরের পূৰ্ব্ববর্তী বা পরবর্তী এক, দুই বা ততােধিক সুর ভূষিকা যদি নিমেষকালমাত্র স্থায়ী হয় এবং সেই সব সুরের ধ্বনিত কাল ঠিক করিতে পারা না যায় তবে ঐ অল্পকাল স্থায়ী সুরকে ভূষিকা বলে। ভূষিকা ক্ষুদ্রাক্ষরে যথা- মগঃ ইত্যাদি। গীতের বা গতের কোন কোন স্থানে জোর বা কোন কোন স্থানে মৃদু করিলে তাহা বড়ই শ্রুতিমধুর হয় এবং এইরূপ করিলে সুয়ে বৈচিত্র্য আসে। কিন্তু তাহা না হইলে গীত বা বাদ্য বড়ই একঘেয়ে হইয়া পড়ে। এখানে বলসাধনপ্রণালী দিতেছি। লিখিত হয়। গঃ সুরের বলসাধন গীত-উপক্রমণিকা যে সুর সমবলের চিহ্ন এইরূপ :- দুইটি সরল রেখা। সুর যেখান হইতে স্ফীত হয় সেখানে সুরের মাথায় < এইরূপ কোণ চিহ্ন এবং যেখান হইতে সুর মৃদু হয় সেখানে > এইরূপ কোণ চিহ্ন দেওয়া হইবে। প্রবল, সেই সুরের উপরে ‘মৃ’ লেখা থাকিবে। ‘বব’ লেখা থাকিলে অতীব প্রবল, ‘মৃমৃ’ থাকিলে অতীব মৃদু বুঝিতে হইবে। প্রথম সা, রে, গা, মা, প্রভৃতি সুরগুলির আরােহণ অবরােহণ প্রবল, মধ্যবল ও মৃদু করিয়া অভ্যাস করিতে হইবে। (ক) ও ম धू পঃ- 4 A সঃ ০ ০ রঃ-:-: ০ ০ গঃ——: মঃ- ৪০ = ০ ০ ০০ ০০ ০ ০ | ০ ০ ০ ০ 1 সঃ--- ০ ০ নঃ- ০ ০ ধঃ- পঃ- ০০ 4 মৃ স্ব মঃ--- A এ ০০ গঃ- রঃ (খ) সরঃ গঃ, রগঃ মঃ-৪, গমঃ পঃ-৪, মপঃ ধ:--ঃ, পধঃ নং-৫, মৃ মৃ ধনঃ সঃ-। সনঃ ধঃ-, নধঃ পঃ, ধপঃ মঃ-৪, ব পমঃ গঃঃ, মগঃ রঃঃ, বৰ গরঃ সঃ ( গ ) সঃঃ - === মঃ- পঃ— সংসঃ সঙ্গীতাচাৰ্য কৃষ্ণধন বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় য়ুরােপীয় সঙ্গীতের অনুকরণে প্রথম সুরের বলসাধন প্রকাশ করিয়া গিয়াছেন।
গীত-উপক্রমণিকা সঃ- ধঃ পঃ -ঃ মঃ গঃ রঃ- . প্রন আক্ষেপ বিক্ষেপ বাট এই সাধনপ্রণালীটি প্রথমে অতি মৃদু হইতে ক্রমে স্ফীত করিয়া সসুরে অতি প্রবল করিতে হইবে। আবার স সুর হইতে ক্রমে ক্রমে স্বর অতি মৃদু করিতে হইবে। কোন সুর সবলে উচ্চারণ করাকে প্রশ্বন (accent) বলে। গীত বা বাদ্যে স্থানে স্থানে প্রম্বন দিতে পারিলে গীত বা বাদ্যের মাধুৰ্য বৃদ্ধি হয়। কোন সুর হইতে তিন চার বা ততােধিক চড়া সুরে একেবারে লাফাইয়া পড়ার নাম আক্ষেপ ও কোন কোন সুর হইতে তিন চার বা ততােধিক খাদ সুরে একেবারে লাফাইয়া নামিবার নাম বিক্ষেপ। ইহাও গীত বা বাদ্যের উপযুক্ত স্থানে ব্যবহার করিতে পারিলে সুরে বৈচিত্র্য হয়। গানের স্বরবিন্যাসকে ছাড়িয়া সেই রাগের পরিচায়ক অন্যান্য সুর দ্বারা গানের কথাগুলিকে তালের প্রতি মাত্রায় উচ্চারণ করার নাম বাঁট। ইহা বণ্টন শব্দের রূপান্তর। গানের স্বরবিন্যাস ছাড়িয়া রাগের অন্য সুর লইয়া আরােহণ অবরােহণে আশ, মীড়, গিট্কারী প্রভৃতি অলঙ্কার ব্যবহার করিয়াও সুরের নানাভাবে উলটপালট করিয়া সুরবিস্তার করাকে তান বলে। তিন সুরের কম তান হয় না। তিন সুরের উপর যত ইচ্ছা সুর ব্যবহার করা যায়। তান অসংখ্য। কারণ সুরগুলিকে নানা ভঙ্গীতে উলপালটু করিলে অনেক হইয়া পড়ে। আশ, মীড়, গিট্কারী, প্রম্বন প্রভৃতি অলঙ্কারগুলির গাম্ভীৰ্যপূর্ণ রচনার নাম গমক। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তানকে উপজ বলে। আর গীতবাদ্যে নানা প্রকার স্বরকৌশল দেখাইবার নাম কর্তব। তান গমক উপর
গীত-উপক্রমণিকা
মূচ্ছন
কোন এক সুর হইতে ক্রমে তাহার অষ্টম সুর পর্যন্ত আরােহণ
ও তথা হইতে ক্রমে সেই সুরে অবরােহণ করাকে মূচ্ছ না বলে। মূচ্ছনা
সম্বন্ধে শাস্ত্রকারগণ এইরূপ লিখিয়াছেন, “ক্ৰমাৎ স্বরাণাং আয়ােহঞ্চাবরােহণম
মূচ্ছনেত্যুচ্যতে, গ্রাময়ে তাঃ সপ্ত সপ্ত চ। যথা-
স-র-গ+ম—প-ধন+স
न+म
স+ন-ধ-প-ম+গ-রস
র--গ + ম - প-ধন+ স-র
রস+ন—ধ-প-ম+গর
গ+ম--প-ধন+স-র-গ
-স——গ
০
গ-র-স+ন-ধ-প-ম+গ
ইত্যাদি।
সরগ+ম—প-ধন+স ইহা স্বাভাবিক গ্রাম। খরজ পরিবর্তনে
যেমন বিকৃত সুরের সাহায্যে এইরূপ অন্তরবিশিষ্ট অর্থাৎ গ হইতে ম ও ন
হইতে স অৰ্ধান্তর, বাকী সব পূর্ণান্তরবিশিষ্ট করিয়া লইতে হয়; মূচ্ছনায়
সেইরূপ স্বাভাবিক গ্রামের মত অন্তরবিশিষ্ট করিয়া লইতে হয় না।
হারমােনিয়মের সাদা চাবীতে ‘র’ সুর হইতে চড়ার দিকে পর পর কেবল
সাদা চাবীগুলি বাজিয়া চড়া র পর্যন্ত গিয়া বা গ হইতে কেবল সাদা
চাবীগুলি বাজাইয়া চড়াগ পর্যন্ত পর পর আরােহণ করা ও তথা হইতে সেই
সুরগুলি বাজাইয়া পর পর অববােহণ করার নাম মূচ্ছনা। ‘র’ সুর হইতে
আরম্ভ হইলে তাহার নাম ‘র’ মূচ্ছ না, গ হইতে আরম্ভ হইলে তাহার নাম ‘গ’
মূচ্ছন। এইরূপ ‘ম’ মূচ্ছনা, ‘প’ মূচ্ছ না ইত্যাদি।
অষ্টম পরিচ্ছেদ
গীতছন্দ
ছন্দ ছাড়া যেমন পদ্য লেখা চলিতে পারে না, তেমন ছন্দ ব্যতীত গীতও
হইতে পারে না।
কাব্য লিখিতে যেমন তাহার ছন্দ সম্বন্ধে কতক জ্ঞান
থাকা দরকার, গীত শিক্ষা করিতেও গীতের ছন্দ সম্বন্ধে কতক শিক্ষা করা
দরকার হয়। এখানে কাব্যছন্দের বিশেষত্ব ও গীতছন্দ কি এবং ইহার
সঙ্গে কাব্যছন্দের কি প্রভেদ সংক্ষেপে দেখাইতেছি।
কবিতার ছন্দ দুই প্রকার,-বর্ণ’ ও ‘জাতি। বর্ণ গণনা করিয়া যে
ছন্দ রচিত হয় তাহাকে ‘বর্ণবৃত্ত’, আর মাত্রার দ্বারা যে ছন্দ গঠিত হয় তাহাকে
‘জাতি’ বা ‘মাত্রাবৃত্ত’ বলা হয়। সাতটি পদ্যাংশ উদ্ধৃত করিয়া তাহা কতক
বুঝাইতেছি।
( ১ )
লেখা পড়া করে যে-ই
গাড়ী ঘােড় চড়ে সে-ই।
এই কবিতার এক-এক পংক্তিতে আটটি বর্ণ আছে। পড়িবার সময় প্রথম
ও পঞ্চম বর্ণের উপর প্রস্বন (accent) দিয়া বা প্রথম, তৃতীয় ও সপ্তম বর্ণের
উপর প্রন দিয়া পড়িতে হইবে। যেমন :
লেখা পড়া
করে যে-ই
গাড়ী ঘােড়া
(রেফ চিহ্ন (') যে বর্ণের মাথায় থাকিবে সেই বর্ণে প্রস্বন দিতে হইবে।
আবার,
লেখা পড়া
চড়ে সে-ই
যে-ই
গাড়ী
ঘােড়া
চড়ে
সে-ই
গীত-উপক্রমণিকা ( ২ ) ‘সুসময়ে অনেকেই বন্ধু বটে হয়। অসময়ে হায় হায় কেহ কিছু নয়।” এখানে এক-একটি পংক্তিতে চৌদ্দটি বর্ণ আছে। এই প্রকার ছন্দ দুই ভাবেই পড়া যায়। প্রথম অক্ষরে ও আটটি অক্ষরের পর নবম অক্ষরে প্রম্বন বা ঝোক দিয়া পড়িলে চলে। যেমন : সুসময়ে অনেকেই বন্ধু বটে হয় অসময়ে হায় হায় কেহ কিছু নয় আবার যদি মাত্রাহিসাবে পড়িতে হয় তবে এইরূপ হইবে। যথা: সুসময়ে অনেকেই বন্ধু বটে হয় অসময়ে হায় হায় কেহ কিছু ন•••য় প্রত্যেকটি বর্ণকে এক মাত্রা ধরিয়া পড়িলে প্রথম, পঞ্চম, নবম ও ত্রয়ােদশ বর্ণে প্রম্বন দিতে হইবে এবং শেষে ‘হয়’-এর পর দুই মাত্রাকাল রেশটুকু টানিয়া ‘অসময়ে’র ‘অ’তে প্রম্বন দিতে হইবে। ( ৩ ) “পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল। কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।” এই পদ্যটি চৌদ্দ বর্ণের হইলেও পংক্তিতে দুইটি মাত্রা দিয়া পড়িতে হইলে এইরূপ হইবে। যথা:- পাখী সব করে রব রাতি পােহা ইল || কাননে কু সুম, কলি সকলি, ফু টিল:
গীত-উপক্রমণিকা ৪ ( ৪ ) “নদীতীরে বৃন্দাবনে, সনাতন একমনে জপিছেন নাম। হেনকালে দীনবেশে, ব্রাহ্মণ চরণে এসে করিল প্রণাম।” এই পদ্যটি ৮৮৬ বর্ণবিন্যাসে রচিত। প্রথম পংক্তির প্রথম খণ্ডে আটটি বর্ণ। দ্বিতীয় খণ্ডেও আটটি বর্ণ এবং নীচের পংক্তিতে ছয়টি বর্ণ। মাত্রা অনুযায়ী পড়িতে হইলে চারি বর্ণ পর পর প্রম্বন দিতে হইবে ও শেষে ষষ্ঠ বর্ণের স্থানে দুই মাত্রাকাল রেশ টানিতে হইবে। যথা :- নদীতীরে | বৃন্দাবনে | সনাতন। একমনে । জপিছেন | নাম••• || হেনকালে। দীনবেশে | ব্রাহ্মণ, চ | রণে এসে। করিল, প্র | ণাম (৫) এইরূপ “ভূতের মতন চেহারা যেমন নির্বোধ অতি ঘাের। যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন “কেষ্টা বেটাই চোর।” এই ছন্দে কিন্তু আবার ৬৬৭ বর্ণবিন্যাস করা হইয়াছে। পড়িতে হইলে প্রথম, সপ্তম, এয়ােদশ ও অষ্টাদশ বর্ণের মাথায় প্রম্বন দিতে হইবে। যেমন- | চেহারা যেমন | নির্বোধ অতি | ঘাের... | যা কিছু হারায়। গিন্নী বলেন | কেষ্টা বেটাই | চোর••• ভূতের মতন
গীত-উপক্রমণিকা
( ৬ )
আবার
“বহে মাঘ মাস
শীতের বাতাস
স্বচ্ছ সলিলা বরুণা।
পুরী হতে দূরে গ্রামে নির্জনে
শিলাময় ঘাট চম্পকবনে
স্নানে চলেছেন শত সখি সনে
কাশীর মহিষী করুণা।”
এই ছন্দটির প্রথম হইতে প্রথম দাড়ি পর্যন্ত ৬৬৮ বর্ণবিন্যাস ও সেই দাড়ি
হইতে অর্থাৎ তৃতীয় পংক্তি হইতে আর এক দাড়ি পর্যন্ত ৬৬৬৬৬৬৮ সংখ্যা
বর্ণবিন্যাস করিয়া রচিত হইয়াছে। তাহা পড়িয়া লইতে হইলে নিম্নলিখিত
রূপ পড়িতে হইবে।
||
বহে মাঘ মাস। শীতের বাতাস।
স্বচ্ছ সলিলা
| বরুণা•••
পুরী হতে দূরে | গ্রামে নির্জনে ।
শিলাময় ঘাট | চম্পক বনে
স্নানে চলেছেন। শত সখীসনে।
কাশীর মহিষী | করুণা
কাব্যে বিহ্যােলা, মত্তা, পঙ্কটিকা, ভুজঙ্গপ্রপাত, মহতী, দাত্তকলা, তােটক,
প্রভৃতি বহু ছন্দ দেখিতে পাই। সেই সকল ছন্দ নির্দিষ্ট বর্ণসমষ্টি দ্বারা
রচনা করা হয়। নীচে একটি পদ্যাংশ উদ্ধত করিতেছি, তাহাতে বর্ণগণনায়
কোন মিল পাওয়া যায় না।
গীত-উপক্রমণিকা
৪৩
(৭)
“হে সম্রাট কবি,
এই তব হৃদয়ের ছবি,
এই তব নব মেঘদূত,
অপূৰ্ব্ব অদ্ভুত
ছন্দে গানে,
উঠিয়াছে অলক্ষ্যের পানে
সেথা তব বিরহিণী প্রিয়া
রয়েছে মিশিয়া
প্রভাতের অরুণ আভাসে,
ক্লান্ত সন্ধ্যা দিগন্তের করুণ নিশ্বাসে,
পূর্ণিমার দেহহীন চামেলীর লাবণ্য-বিলাসে,
ভাষার অতীত তীরে
কাঙাল নয়ন যেথা দ্বার হতে আসে ফিরে ফিরে।”
উপরােক্ত পদ্যাংশে ছন্দ বর্ণগণনার উপর নির্ভর করে না। এখানে একটি
পংক্তির সঙ্গে আর একটি পংক্তির বর্ণের মিল নাই। মাত্রাহিসাবে এই
ছন্দ রচিত হইয়াছে। পড়িতে হইলে নিম্নলিখিত ভাবে পড়িলেই মধুর হইবে।
হে সম্রাট। কবি:••
এই তব
| হৃদয়ের | ছবি...
| নব মেঘ | দূত•••
অপূৰ্ব্ব, অ| ভুত•••
ছন্দে | গানে•••
উঠিয়াছে | অলক্ষ্যের। পানে
এই তব
৪৪ গীত-উপক্রমণিকা সেথা তব | বিরহিণী | প্রিয়...। রয়েছে । মিশিয়া... | প্রভাতের। অরুণ, আ | ভাসে••• | ক্লান্ত-সন্ধ্যা | দিগন্তের | করুণ, নি | শ্বাসে... । পূর্ণিমার | দেহহীন | চামেলীর | লাবণ্য, বি | লাসে••• ভাষার, অ| তীত, তীরে। কাঙাল, ন| য়ন যেথা । দ্বার হ’তে |•••আসে | ফিরে, ফিরে | এইরূপ মাত্রা দিয়াই সঙ্গীতের ছন্দ গঠিত হয় । ছন্দের যেখানে স্বরের উপর প্রস্বন আছে, সেখানে তালি দেওয়া হয়। তাই গীতের ছন্দ। সঙ্গীতের ছন্দ প্রথমতঃ দুই ভাগে বিভক্ত। যথা—সমপদী ছন্দ সমপদী ছন্দ ও বিষমপদী ছন্দ। ও বিষম- পদী ছন্দ যে ছন্দে স্বরের প্রস্বনগুলি সমমাত্রা পর পর অবস্থিত তাহাকে সমপদী ছুন্দ বলে। আর যে ছন্দে স্বরের প্রস্বনগুলি সমমাত্রা পরে নহে, তাহাকে বিষমপদী ছন্দ বলে। সমপদী ছন্দ আবার দুই ভাগে বিভক্ত। যথা—ত্রিমাত্রিক ও চতুর্মাত্রিক। গীতছন্দ বা তাল সমপদী বিষমপদী ত্রিমাত্রিক ত্রিমাত্রিক চতুর্মাত্রিক যে স্থলে তিন মাত্রা পর পর স্বন, তাহা ত্রিমাত্রিক ও যে ছন্দে চারি মাত্রা পর পর প্রশ্বন তাহা চতুর্মাত্রিক। ত্রিমাত্রিক ছন্দ, যথা- চোখের সামনে | ধরিয়া | রাখিয়া | চতুর্মাত্রিক
গীত-উপক্রমণিকা
| ৪৫
চতুর্মাত্রিক ছন্দ যথা :
বার মাস। সাত বার | আসে যায় | বার বার
বিষমপদী ছন্দ, যথা :
বসিয়া | পাশাপাশি | করিছে | লাঠালাঠি
দীন | ভবনে
| নীল | কমল
এইরূপ তিন প্রকার ছন্দ আমাদের সঙ্গীতে ব্যবহৃত হয়। প্রত্যেক ছন্দের
অন্তর্গত অনেকগুলি তাল থাকে। পরের পরিচ্ছেদে তাহাদের সম্বন্ধে
কিছু আভাস দিতেছি।
তাল কি নবম পরিচ্ছেদ তাল-প্রকরণ গীতের ছন্দকেই তাল বলে। গীতের ছন্দ মাত্রার সমষ্টি দ্বারা রচিত হয় বলিয়া মাত্রার সমষ্টিকে তাল বলা হয়। কবিতা যেমন নানারূপ ছন্দ অনুসারে রচিত হয়, সেইরূপ গীতের বা গতের অরবিন্যাসও মাত্রার সাহায্যে নানা প্রকার ছন্দ অবলম্বনে রচিত হয়। ‘তুমি কেমন করে গান কর হে গুণি আমি অবাক হয়ে শুনি—কেবল শুনি। এই কবিতার মত সম সংখ্যক বর্ণসংযােগে ছত্রবন্দী হইয়া যেমন ছন্দ রচিত হয়, গীতছন্দও এইরূপ ভাবেই সম সংখ্যক মাত্রা অবলম্বনে পংক্তিবন্দী হইয়া রচিত হয়। কাব্যে তাহাকে চরণ বলে, গীতছন্দে তাহাকে আওয়াদা বলে। উপরােক্ত কবিতায় যেমন চৌদ্দটি বর্ণ লইয়া এক চরণ হইয়াছে, সেইরূপ গীতছন্দেও ছয় মাত্রায় আট মাত্রায় বা বার মাত্রায়, যােল মাত্রায় এক এক প্রকার ছন্দ গঠিত হয়। গীত বা বাদ্যের স্থানে স্থানে যে ঝোঁক দিতে হয় সেই সব শম, ফাক, তালি ঝোকে তালি দিবার ইচ্ছা হয়। কোন কোন স্থানে তালি দিতে ইত্যাদির হয় না। সেই স্থানের নাম কঁক। ফাকের চিহ্ন: সুরের মাথায় চিহ্ন শূন্য (০)। যে স্থানে সবচেয়ে বেশী ঝোক পড়ে, অর্থাৎ যাহা প্রধান ঝোঁক তাহাকে শম্ বলে। শমের চিহ্ন স্বরের মাথায় যােগ (+) চিহ্ন। আর অন্যান্য ঝোঁকগুলিতে স্বরের মাথায় ১, ২, ৩ প্রভৃতি অঙ্ক দিয়া তালি বুঝান হয়। ১ অঙ্ক দিয়া প্রথম তালি, ২ অঙ্ক দিয়া দ্বিতীয় তালি, ৩ অঙ্ক দিয়া তৃতীয় তালি বুঝান হয় এবং এইরূপ | ছেদচিহ্ন দিয়া পদ- বিভাগ করা হয়।
গীত-উপক্রমণিকা ৪৭ শম্ কোন্ স্বরে হইবে তাহার কোন নিশ্চয়তা নাই। সাধারণতঃ গীত আরম্ভেই ফঁাক ও দ্বিতীয় তালিতে শম্ ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় তালিতে শম্ হওয়ায় ২ অঙ্ক স্থানে (+) যােগ চিহ্ন বসে। যথা : + সঃ গােঃ সঃ | নােঃ ধােঃ নােঃ । সঃ—— মঃ--- || + মঃ = ১ সাত ও ঠেকা মঃ । ম— গােঃ | গােঃ মঃ ধােঃ। নােঃ সঃ সঃ | নােঃ সঃ নােঃ। খােঃ মঃ মঃ। গাে মঃ সঃ। মং—— | | অনেকগুলি তালের আবার প্রথমেই শম্ থাকে। সেখানে প্রথমে+ চিহ্ন দিতে হয় ও +২ ৩ এইরূপভাবে চিহ্ন দেওয়া হয়। ছন্দের এক আওয়াদা পূর্ণ হইলে দুইটি ছেদচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। গীতের সঙ্গে তাল রাখিবার জন্য বায়া-তবলা, পাখােয়াজ, প্রভৃতি তালযন্ত্র বাজান হয়। তাহাকে সঙ্গত করা বলে। গীতের সঙ্গে তালযন্ত্র চলে বলিয়াই ইহার নাম সঙ্গত হইয়াছে। গীতের এক এক আওয়াদা ঘুরিয়া ঘুরিয়া চলিতে থাকে। যদি এক আওয়াদাকে একটা গােলাকৃতি চক্র মনে করা যায় তবে সেই চক্রের এক আবর্তনে এক আওয়াদ। হইবে। আওয়াদায় ছন্দের রূপ বজায় রাখিবার জন্য তাহার প্রস্বনগুলি ঠিক রাখিয়া তালযন্ত্রে মিষ্টমধুর ধ্বনি বাজান হয়। তাহাকে ঠেকা বলে, ঠেকার ধ্বনিগুলির অনুকরণে ধা, ধিন্, তেরে কেটে, তা তিন প্রভৃতি যে-সব অবােধ্য শব্দ প্রস্তুত হইয়াছে তাহাকে বােল বা বাণী বলে। এখানে জানা উচিত যে, ছন্দের মাত্রাসমষ্টি যত তাহার গুণিতক (multiple) মাত্রাসমষ্টিবিশিষ্ট স্বরবিন্যাস হইবে। যেমন,-একতালা বার মাত্রার তাল। একতালা ছন্দে স্বরবিন্যাস রচনা করিতে হইলে ২৪, ৩৬, ৪৮, ৬০ ইত্যাদি ১২ দিয়া বিভাজ্য রাশি মাত্রাসমষ্টি হইতে হইবে। একতাল তালের মাত্রাসমষ্টি ৪০ কি ৫০ হইতে পারে না। সর্বদা মনে বোেল বা বাণী ১৮ হইবে। | মি যে হে/ গীত-উপক্রমণিকা রাখিতে হইবে যে, ছন্দের আওয়ার্দা সর্বদা পূর্ণমাত্রাবিশিষ্ট রাখিতে ত্রিমাত্রিক পূৰ্বে ত্রিমাত্রিক ও , চতুর্মাত্রিক ছন্দ সম্বন্ধে বলিয়াছি, মাত্রার সংখ্যাভেদে ও প্রম্বনের বিভিন্নতায় এক-এক প্রকার ছলে অনেক প্রকার অন্তর্গত তাল গঠিত হয়। ত্রিমাত্রিক ছন্দের অন্তর্গত ছয়টি তাল। যথা :--দারা, তাল ভরতঙ্গা, খো, আড়-খো, একতালা, চৌতাল। দাদরা ১। দারা ছয় মাত্রার তাল, দুই ভাগে বিভক্ত ( ৩ | ৩ ||) প্রথমেই শম্। + | ২ এইরূপে তালি পড়ে। ২। ভরতঙ্গা ও দাদূরার মাত্রাসমষ্টি এক। দুই ভাগেই বিভক্ত, কিন্তু বিলম্বিত গতিতে চলিয়া থাকে। দারা বিলম্বিত গতিতে চলিলে ভরতঙ্গার মত হইয়া পড়ে। ইহাকে অনেকে কাশ্মীরী খেটা বলিয়া অভিহিত করে। ৩। খেমটা তাল বারটি হ্রস্ব মাত্রার তাল। ৩ | ৩ | ৩ | ৩ || এইরূপ খেমটা চারি ভাগে বিভক্ত। | ১| + ৩ এইরূপ ভাবে তালের চিহ্ন বসে। খেমটা তালে ফাক দেওয়ার ইচ্ছা হয় না। ৪। খেমটা তাল আড় করিয়া গাহিবার নাম আড়-খেটা। তবে খেষ্টা আড়-খো হইতে আড় খেষ্টা তালের বিলম্বিত গতি। ইহাতে তিন মাত্রা একত্র হইয়াই পদ হয়। তবে সাধারণতঃ ইহার ফঁাক পদ বিভক্ত হইয়া যায়। ফঁাক পদের প্রথম দুই মাত্রা তৃতীয় তালির পরে যােগ হয়। যেমন— প্রাণের ব, ধূ ৫। একতালা বার মাত্রার তাল। আড়-খেটা বিলম্বিত গতিতে গাহিলে একতালার মত হইয়া পড়ে। এই তাল দ্রুত, মধ্য আর বিলম্বিত এই তিন একতালা গতিতে গীত হয়। সাধারণতঃ ইহার পদবিভাগ খেমটার মত ও ফঁাক হইতে গীত ১ ২ ১২৩ ১২৩ { গীত-উপক্রমণিকা + আরম্ভ হয়। কোন কোন সময়ে একতালা ৪ | ৪ | ৪ || এইরূপ তিন ভাগে বিভক্ত হয়, তখন তাহার ফঁাক থাকে না। প্রথমেই শম্ থাকে। ৬। চৌতাল তালের মাত্রাসমষ্টিও বার। ইহার প্রত্যেক পদ দুই মাত্রা হিসাবে ছয়টি পদে বিভক্ত। তন্মধ্যে চারিটি তালি দিতে হয় বলিয়া চৌতাল নাম হইয়াছে। ইহার পদ বিভাগ এইরূপ চৌতাল + ৪ চৌতালের পদবিভাগ দুই মাত্রা করিয়া হইলেও মাত্রাসমষ্টি বার বলিয়া ইহা ত্রিমাত্রিক ছন্দের অন্তর্গত হইয়াছে। কাহারবা, কাফা, ঠুংরী, কাওয়ালী, যৎ, ঢিমাতেতালা, পটল, চতুর্মাত্রিক আড়াঠেকা, মধ্যমান, এই কয়টি চতুর্মাত্রিক ছন্দের অন্তর্গত। অন্তর্গত তাল ১। কাহাবা আটটি হ্রস্ব মাত্রার তাল। দুই ভাগে বিভক্ত। প্রতি ঝোঁকই শ বলিয়া মনে হয় এবং প্রত্যেকটি মাত্রার উপর তালি দেওয়ার কাহারবা ইচ্ছা হয়। ২। কার্ফা আটটি হ্রস্ব মাত্রার তাল। পদবিভাগ কাহাবার মত। এই তাল নৃত্যেই বেশী ব্যবহৃত হয়। হিন্দুস্থানে এই তাল খুব প্রচলিত। কাফ। ইহার অপর নাম ছেপ কী। ৩। ঠুংরীও আটটি হ্রস্ব মাত্রার তাল। যে-সব ছন্দে চারি মাত্রার পর পর স্বাভাবিক ঝােক আছে তাহা ঠুংরীর অন্তর্গত। ঠুংরীর এক-এক পদে চার ঠুরী মাত্রা। ইহার ফঁাক্ নাই, প্রথমেই শম্। ৪। কাওয়ালী ষােলটি হ্রস্ব মাত্রার তাল। ইহাতে তিনটি তালি ও একটি কাওয়ালীর প্রত্যেক পদের প্রথম মাত্রায় ঝোক পড়ে, সাধারণত কাওয়ালী ফঁাক হইতে গীত উত্থাপন হয়। কাওয়ালীর দ্রুতগতি হইতে আর এক ফাক।
গীত-উপক্রমণিকা
তালের উৎপত্তি হয়। ইহার নাম আদ্ধা। ইহা আটটি হ্রস্ব মাত্রার তাল।
ইহাতেও তিন তালি এক ফঁাক।
যৎ তাল দুই প্রকার। শপদী ও বিষমপদী। শপদী যৎ
চতুর্মাত্রিক ছন্দের অন্তর্গত ও মাত্রাসমষ্টি আট।
মাত্রাসমষ্টি আট। ইহারও পদবিভাগ
কাওয়ালীর মত। সাধারণতঃ ইহা শম্ হইতে উত্থাপিত হয়। কাওয়ালীতে
প্রত্যেক পদের প্রথম মাত্রার উপর ঝোক পড়ে, কিন্তু যৎ এর দ্বিতীয় মাত্রার
উপর ঝোঁক পড়ে।
৬। ঢিমাতেতালা যােলটি দীর্ঘ মাত্রার ও বত্রিশটি হ্রস্ব মাত্রার তাল।
টিমা
কাওয়ালীর বিলম্বিত চলাকেই ঢিমাতেতালা বলে। ইহার পদবিভা
তেতালা
কাওয়ালীর ন্যায়। সাধারণতঃ প্রথম ফঁাক ও দ্বিতীয় তালে শম্।
৭। পটতাল ঢিমাতেতালার অর্ধেক। অর্থাৎ আটটি হ্রস্ব মাত্রার তাল।
দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথমেই শম্ ও দ্বিতীয় পদে ফঁাক। পট-তালের দুই
পটতল
ফেরে ঢিমা তেতালার এক ফের হয়।
৮। আড়াঠেকা যােল মাত্রার তাল। পদবিভাগ অনেকটা আড়-
আড়াঠেক
খেটার মত। অর্থাৎ ফঁক পদ দুই ভাগে বিভক্ত। যথা-
| 11 || كارو
কাওয়ালী আড় করিয়া গীত করিলেই আড়ঠেকা হয়। ইহাতে প্রথম ও
তৃতীয় পদের তৃতীয় মাত্রায় ঝোক পড়ে। উপরে মাত্রার মাথায় রে চিহ্ন
দিয়া তাহা বুঝান হইয়াছে।
৯। মধ্যমান যােলটি দীর্ঘ মাত্রার, অর্থাৎ বত্রিশটি সুষ মাত্রার তাল,
আড়াঠেকা ও মধ্যমান একই প্রকার। কাওয়ালী ও ঢিমাতেতালায় যে
প্রভেদ আড়াঠেকা ও মধ্যমানেও সেই প্রভেদ। মধ্যমানে ফাক পদের তীয়
মাত্রা হইতে গীত উত্থাপিত হয়। যেমন—
মধ্যমান
গীত-উপক্রমণিকা -- |৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷৷i1 “” | | রূপক এইরূপে মধ্যমান তাল বিভাগ করা হয়। ইহার প্রত্যেক চতুর্থ ও বিষমপদী সপ্তম মাত্রায় ঝোক পড়ে। অন্তর্গত তাল তেওরা, রূপক পােস্তা, ঝাপতাল, সুরফাক্তা, যৎ, তেওট, আড়াচৌতাল, ধামার প্রভৃতি বিষমপদী ছন্দের অন্তর্গত। ১। তেওরা সাতটি হ্রস্ব মাত্রার তাল। ৩ | ২ | ২ || এইরূপ তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথমেই শম্। ফাক্ নাই। + | ২ | ৩ || এইরূপে তালের চিহ্ন দেওয়া হয়। তেওরা ঢিমা করিলে রূপক হইয়া পড়ে। রূপকের প্রথমে ফাঁক ধরিয়া থাকে। o | ১ | ২ || এইরূপ ভাবে তাল দেওয়া হয়। এই ফাকই রূপকের শম্ বুঝিতে হইবে। ৩। পোস্তাও সাত মাত্রার তাল। ৩ | ৪ || এইরূপ দুই ভাগে বিভক্ত। পোস্তা প্রথমেই শম্। ফাক নাই। ৪। ঝাঁপতালও দশ মাত্রার তাল। ইহাতে তিন তালি ও এক ফঁাক। পদ ২ | ৩ | ২ | ৩ || এইরূপ ভাবে বিভক্ত এবং + | ২| o | ৩ || এইরূপ ঝাঁপতাল ভাবে তাল চিহ্ন বসে। সুরফাক্তাও দশ মাত্রার তাল। কিন্তু পদবিভাগ অন্য প্রকার। ২ | ২| ২| ২| ২ | এইরূপ মাত্রা বিন্যাসে দুই মাত্রা করিয়া এক-এক পদ সুরফাত্তা রচিত হয়। প্রথমেই শম্। তারপর ফাক। এর পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তাল এবং তারও পরে ফঁাক—অর্থাৎ,+o | ২ | ৩ | 0 || এইরূপে তাল চিহ্ন দেওয়া হয়। বিষমপদী যৎ পােস্তা তালের ন্যায়। পােস্তাতালের দুই ফেরে যৎ তালের এক ফের হয়। পােস্তা সাত মাত্রার তাল। যৎ চৌদ্দ মাত্রার তাল। পদবিভাগ ৩ | ৪ | ৩ | ৪ | ইহাতে তিনটি তালি ও একটি ফঁাক। প্রথমেই শম্। ৭। তেওট চৌদ্দমাত্রার তাল। ইহারও তিনটি তালি একটি ফঁাক।
গীত-উপক্রমণিকা তেওট যতের পদবিভাগ ৩ | ৪ | ৩ | ৪ | কিন্তু তেওটের পদবিভাগ ৪ | ৩ | ৪ | ৩ || ইহার অপর নাম ঝুমরা। ৮। ধামার ও চৌদ্দমাত্রার তাল। তেওরার দুই ফেরে ধামারের এক আওয়াদা হয়। পদবিভাগ এইরূপ : ধামার + २ 0 ০ ॥ || ॥l তাল সূর আড়া- ৯। আড়াচাতাল চৌদ্দটি হ্রস্ব মাত্রার তাল। ইহাতে চারিটি তালি ; চৌতাল কঁাক নাই। পদবিন্যাস এইরূপ ২| ৪ | ৪ | ৪ || প্রথমেই শম্। তালগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় এখানে দেওয়া হইল। প্রথমশিক্ষার্থীর পক্ষে ইহাই যথেষ্ট বলিয়া মনে হয়। তাল ও সুর ঠিক রাখিয়া গাহিতে ও জ্ঞান প্রথমে অসুবিধায় পড়িতে হয়। তখন ধৈৰ্য্য অবলম্বন করা কর্তব্য। এখানে জন্মাইবার সহজ উপায় একটি উপায় বলিতেছি। তাহাতে সত্বর সুর ও তাল জ্ঞান হইবে। বিদ্যালয়ে আমরা বর্ণপরিচয় শেষ করিয়াই যেমন দাড়ি, কমা, প্রভৃতি ঠিক করিয়া রিডিং (reading) পড়িয়া যাই, গীত শিক্ষাকালেও সেইরূপই করিতে হয়। স্বরসাধনপ্রণালীগুলি অভ্যাস করিয়া করিয়া যখন সুরগুলি কণ্ঠে ওজন অনুযায়ী বসিয়া যাইবে তখন এক হাতে মাত্রা ও অন্য হাতে তাল দিয়া স্বরলিপি পুস্তক দেখিয়া পড়িতে হইবে। এইরূপ সর্বদা অভ্যাস করিলে অতি সত্বর তাল পরিচয় হয় এবং আর মাত্রা দিবার প্রয়ােজন থাকে না। কেবল তাল দিলেই যথেষ্ট।
দশম পরিচ্ছেদ প্রচলিত স্বরলিপির ব্যাখ্যা হয়। বিকৃত সুর, মাত্রা, তাল ও অলঙ্কারগুলির চিহ্নাদির পরিচয় পূর্বেই কথাপ্রসঙ্গে দেওয়া হইয়াছে। বাকী চিহ্নগুলি এখানে দিতেছি। গীতের চারি কলি কবিতার যেমন চরণ বা কলি আছে সেইরূপ গৎ বা গানের স্বরবিন্যাস চারিভাগে বিভক্ত হইয়া গঠিত হয়। প্রথম কলির নাম অস্থায়ী, দ্বিতীয়টির নাম অন্তরা, তৃতীয়টি সঞ্চারী ও চতুর্থটির নাম আভােগ। আস্থায়ীকে সচরাচর ধূয়া বলা হয়। যে-কোন সুর হইতে আস্থায়ী আরম্ভ হইতে পারে। তবে সাধারণত মুদারা সপ্তকের সুর হইতেই আরম্ভ দ্বিতীয় কলি-অন্তরা সাধারণত মুদারার ‘ম’ বা ‘প’ সুর হইতে আরম্ভ হইয়া তারার ‘স’তে যায় ও তথা হইতে আরও কয়েকটি সুর পর্যন্ত আরােহণ করিয়া পুনরায় অববােহণক্রমে অস্থায়ীর সঙ্গে মিলিত হয়। তৃতীয় কলি-সঞ্চারী, প্রায়ই খাদে গীত বা বাদিত হয়। সাধারণত মুদারার প্রথম কয়েকটি সুর হইতে আরম্ভ হইয়া উদারার শেষ কয়েকটি সুরে অবরােহণ করে ও পুনরায় আরােহণক্রমে মুদারার ‘স’তে বা ইহার নিকটবর্তী সুরে আসিয়া থামে। চতুর্থ কলি-আভােগ, সাধারণত অন্তরার মতই চড়াতে গীত বা বাদিত হয়। গতের বা গীতের অন্তরার শেষে আস্থায়ীতে ফিরিতে হয়। কিন্তু সঞ্চারীর পর আর আস্থায়ীতে ফিরিতে হয় না। একেবারে আভােগ গান বা বাদন করিয়া আস্থায়ী ধরিতে হয়। কতকগুলি ক্ষুদ্রাকৃতি গানের কেবল আস্থায়ী ও অস্তরাই থাকে। সঞ্চারী ও আভােগ থাকে না। কলির শেষে ॥ এইরূপ চারিটি ছেদ চিহ্ন থাকে। ইহা আস্থায়ীতে ৫৪ গীত-উপক্রমণিকা হয়। ফিরিয়া যাইবার চিহ্ন। সঞ্চারীর পর আর আস্থায়ীতে যাইতে হয় না বলিয়া ইহার পর আর এইরূপ চিহ্ন দেওয়া হয় না। গীতের বা গতের মধ্যে কোন কোন স্থান সময় সময় দুইবার আবৃত্তি করিতে হয় সেই স্থানে { } এইরূপ দুইটি বন্ধনী দিয়া চিহ্নিত করা হয়। যেমন, সঃ রঃ গঃ মঃ { পঃ ধঃ নঃ সঃ } এখানে পঃ ধ: নঃ সঃ দুইবার গাহিতে বা বাজাইতে হইবে। আবার পুনরাবৃত্তির সময় কখনও কখনও কয়েকটি সুর বাদ দিয়া যাইতে তখন সেখানে () এইরূপ বন্ধনীচিহ্ন বসে। যেমন, { সঃ রঃ গঃ পঃ ধঃ (নধঃ পঃ) সঃ } এইখানে এইটুকু স্থান দুইবার গাহিতে হইবে, কিন্তু দ্বিতীয়বার গাহিবার সময় ‘ধ’সুর পর্যন্ত গাহিয়াই একেবারে ‘স’ সুরে যাইতে হইবে। পুনরাবৃত্তিকালে দ্বিতীয়বার গাহিবার সময় গানে বিচিত্রতা আনিবার জন্য কোন স্থানে স্বরপরিবর্তন করিয়া গীত বা বাদন করিতে হয়। যে যে সুর পরিবর্তিত হয় সেই সেই সুরের মাথার উপরে [] এইরূপ বন্ধনীচিহ্ন দিয়া লিখিত থাকে। যেমন ঃ- [ গাে-রসঃ রঃ ] রঃ——গেঃ- পঃ————:প—-:-: } এখানে দ্বিতীয়বার গীত বা বাদন করিবার সময় সঃ রঃ-: গােয় স্থানে গগঃ- রসঃ রঃ গীত বা বাদিত হইবে । আস্থায়ীর যে সুর পর্যন্ত গাহিয়া অন্তরা ও সঞ্চারী ॥ ধরিতে হইবে সেই সুরের উপর || এইরূপ চিহ্ন দেওয়া হয়, যেমন- মঃ পঃ পঃ পঃ | এখানে ‘প’ সুরে আসিয়া থামিতে হইবে। সাধারণত গান বা গতে আস্থায়ীর প্রথম শমের পূর্ব সুরটিতে থামিতে হয়। এই পৰ্য্যন্ত যে স্বরলিপির চিহ্ন ব্যবহার করা হইয়াছে তাহাকে বিসর্গমাত্রিক স্বরলিপি বলা হয়। বহু প্রাচীন, সঙ্গীতজ্ঞেরা একপ্রকার { সঃ মঃ মঃ গীত উপক্রমণিকা স্বরলিপি প্রথা ব্যবহার করিতেন। সেই প্রথা রাজা লক্ষ্মণসেনের সময় দণ্ডমাত্রিক পৰ্যন্ত প্রচলিত ছিল। পরে তাহা লোপ পাইয়া যায় এবং গুরুর নিকট মুখে স্বরলিপি পরিচয় মুখে গীত শিক্ষা চলিয়া আসিতে থাকে। মহারাজা সৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর মহাশয়ের সঙ্গীতশিক্ষক সঙ্গীতাচাৰ্য ক্ষেত্রমোহন গোস্বামী মহাশয় এক প্রকার স্বরলিপিপদ্ধতি প্রবর্তন করেন। ইহাকে দণ্ডমাত্রিক স্বরলিপি বলা হয়। তখন ভারতের আর কোথাও স্বরলিপি-প্রথা ছিল না। এইজন্য এই প্রথা সমস্ত ভারতে ছড়াইয়া পড়ে। এই প্রথা অনুসারেও অনেক পুস্তক প্রকাশিত হইয়াছে। ইহার চিহ্নাদির পরিচয় দিতেছি। সাতটি সুরকে আমরা স, র, গ, ম, প, ধ, ন, লিখিয়াছি। কিন্তু দণ্ডমাত্রিক স্বরলিপিতে শুদ্ধ সুরকে স, ঋ, গ, ম, প, ধ, নি লেখা হয়। আমরা কোমল ও কড়ির চিহ্ন ওকার ও ঈ-কার দিয়াছি। কিন্তু দণ্ডমাত্রিক সুরগুলির উপর ত্রিভুজ ও নিশান দিয়া কোমল ও কড়ি সুর বুঝান যেমন--- = কোমল র গ ১৮ ধ ন ১) IV কড়ি ম কাজেই শুদ্ধ ও বিকৃত সুরগুলি এইরূপ ভাবে লিখিত হয়। যথা- > ঋ গ গ প नि नि म
গৗত-উপক্রমণিকা
তারা সপ্তকের চিহ্ন বিসর্গমাত্রিকপদ্ধতির মত সুরের উপরে বিন্দু ও উদার
সপ্তকের চিহ্ন সুর গুলির নীচে বিন্দু।
আমরা পূর্বে সুরের পরে বিসর্গ দিয়া মাত্রার চিহ্ন দেখাইয়াছি। বিসর্গ
দিয়া মাত্রা দেখান হয় বলিয়া ইহার নাম বিসর্গমাত্রিকপদ্ধতি। আমরা
দেখাইয়াছি-
।
সঃ = স একমাত্রা
স—= স দুই মাত্রা
কিন্তু দণ্ডমাত্রিক স্বরলিপিতে সুরের উপরে দণ্ড দিয়া মাত্রা দেখান হয়
এইজন্য ইহার নাম দণ্ডমাত্রিক হইয়াছে। দণ্ডমাত্রিকে—
-
ज
--
স
একমাত্রা
স = স দুইমাত্রা
স = স তিন মাত্র।
স
স চারি মাত্রা
বিসর্গমাত্রিকে সরঃ = স, র, প্রত্যেকটি সুর অর্ধমাত্রা উভয়ে মিলিয়া একমাত্রা।
সরগমঃ = স, র, গ ও ম চারিটি সুর প্রত্যেকটি সিকি মাত্রা, চারিটি মিলিয়া
একমাত্রা, এইরূপ দেখান হইয়াছে বিসর্গমাত্রিকে, কিন্তু দণ্ডমাত্রিক পদ্ধতিতে
{
সঋ =স ও র দুই সুর মিলিয়া একমাত্রা
।
সঋগ = স, র, গ, তিনটি সুর মিলিয়া একমাত্রা
গীত-উপক্রমণিকা সঋগম = স, র, গ ও ম চারিটি সুর মিলিয়া একমাত্রা, আবার দণ্ডমাত্রিকে অর্ধমাত্রার ও সিকি মাত্রার পৃথক পৃথক চিহ্ন বসে, যেমন- স অর্ধমাত্রা X - স সিকিমাত্রা WX স = স বার আনা মাত্রা স দেড় মাত্রা বিসর্গমাত্রিক পদ্ধতিতে ভূমিকার চিহ্ন দেওয়া হয় এইরূপ :- ঃ কিন্তু দণ্ডমাত্রিকপদ্ধতিতে ঋ লিখা হয়। দণ্ডমাত্রিকপদ্ধতিতে আশের চিহ্ন সুরের নীচে সরল লেখা মীড়ের চিহ্ন সুরের নীচে দুইটি সরল রেখা গিটকারীর চিহ্ন এইরূপ- দণ্ডমাত্রিক তালবিভাগের পর ছেদ | চিহ্ন দেওয়া হয়। কিন্তু আওয়াদার পরে আর কোন বিশেষ চিহ্ন দেওয়া হয় না। || এইরূপ দুইটি ছেদচিহ্ন দিয়া আস্থায়ীতে ফিরিয়া আসিবার চিহ্ন দেখান হয়। আর বাকী চিহ্নগুলি বিসর্গমাত্রিক পদ্ধতির ন্যায়। এখানে স্বরলিপি কিস্তিবন্দী করিয়া দিতেছি। (১) স, ঋ, গ, ম, প, ধ, নি সাতটি শুদ্ধ সুর। (২) ঋ = কোমল র কোমল গ ৪ ২ ৪ কড়ি ম
৫৮
গীত-উপক্রমণিকা
A
২ =
ধ = কোমল ধ
নি =
= কোমল ন
(৩) তারা সপ্তকের সুরগুলির উপরে বিন্দু ও উদারা সপ্তকের সুরগুলির
নীচে বিন্দু। যথা :-
স খ গ ম প ধ নি স খ গ ম প ধ নি স ঋ গ ম প ধ নি
মুদ
তারা
উদারা
।
(৪) স =
স এক মাত্র।
স = স দুই মাত্রা
ll
স = স তিন মাত্র।
স = স চারি মাত্রা
স = স অর্ধ মাত্র।
x
স = স সিকিমাত্রা
সঋ = স ও র উভয়ে মিলিয়া একমাত্রা
সঋগ স, র ও গ তিন সুর মিলিয়া এক মাত্রা
(৫) আশের চিহ্ন সুরের নীচে একটি সরল রেখা
মীড়ের চিহ্ন সুরের নীচে দুইটি সরল রেখা
গিকারীর চিহ্ন সুরের নীচে এইরূপ
গীত-উপক্রমণিকা ভূমিকার চিহ্ন— সঋ (৬) তালের পদবিভাগের পর ছেদ। চিনু, আর দুইটি । ছেদ চিহু আস্থায়ীতে ফিরিয়া আসার চিহ্ন। শমের চিহ্ন+ ফাক = ০, ১, ২, ৩ ইত্যাদি অঙ্ক দিয়া তালি বুঝান হয়। দণ্ডমাত্রিক পদ্ধতি প্রবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গীতাচাৰ্য কৃষ্ণধন বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় ইংরেজী স্বরলিপির সাহায্যে ভারতীয় গীত-স্বরলিপি করেন। এই দেশে ইংরেজী স্বরলিপি অনুযায়ী পুস্তক মুদ্রিত করিতে অত্যন্ত খরচ পড়ে বলিয়া তাহার প্রচলন আর নাই। দণ্ডমাত্রিক পদ্ধতি হইতে আরও সরল এক প্রকার স্বরলিপিপদ্ধতি সঙ্গীতাচাৰ্য জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় প্রবর্তন করেন। তাহাই আকার- মাত্রিক স্বরলিপি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিই আজকাল বেশী প্রচলিত। আকারমাত্রিক স্বরলিপির সঙ্গে বিসর্গমাত্রিক স্বরলিপির মাত্রায় কয়েকটি চিহ্নের ব্যতিক্রম দেখা যায় । আকারমাত্রিক পদ্ধতিতে বিকৃত সুরগুলির চিহ্ন এইরূপ দেওয়া আছে :- ঋ = কোমল র জ্ঞ = কোমল গ হ্ম = কড়ি ম দ = কোমল ধ ণ = কোমল ন আকারমাত্রিক পদ্ধতিতে বারটি সুর নিম্নলিখিত ভাবে স্থাপিত। যথা :- মাত্রিক স্বরলিপির পরিচয় । গ ম আ প দ ধ ণ ন আকারমাত্রিক পদ্ধতিতে উদার চিহ্ন সুরের নীচে হসন্ত (,) ও তালের চিহ্ন সুরের উপরে রেফ ('), যথা :- স র গ ম প ধ ন্ স র গ ম প ধ ন ๆ ๆ ๆ ๆ ซ์ ๆ - উদারা মুদারা তারা গীত-উপক্রমণিকা বিসর্গমাত্রিকে সঃ = স এক মাত্রা আকারমাত্রিকে সা= স এক মাত্রা বিসর্গমাত্রিকে সঃ-- =স দুই মাত্রা আকারমাত্রিকে সা—=স দুই মাত্রা বিসর্গমাত্রিক পদ্ধতিতে যেখানে বিসর্গ বসে, আকারমাত্রিক পদ্ধতিতে সেখানে আকার বসে। মাত্রার চিহ্ন আকার ব্যবহৃত হয় বলিয়া ইহার নাম আকারমাত্রিক পদ্ধতি হইয়াছে। আকারমাত্রিকে সরা = স ও র উভয়ের মিলিয়া একমাত্রা সরগা = স, র, গ, তিন সুর মিলিয়া একমাত্র আবার আকারমাত্রিকে অর্ধমাত্রার পৃথক চিহ্নও আছে। চিহ্নও আছে। বিসর্গ দিয়া অর্ধমাত্রার চিহ্ন দেওয়া হয়। যেমন—সঃ রঃ =স ও র উভয়ে এক মাত্রা। তালের প্রতিপদে ছেদ I দেওয়া হয়। তালের এক আওয়াদা পূর্ণ হইলে I এইরূপ চিহ্ন দেওয়া হয়। আর আস্থায়ীতে ফিরিয়া আসিতে এইরূপ II যুগল চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। ঐ পদ্ধতিতে প্রত্যেক চরণের স্বরলিপি আরম্ভ হইবার পূর্বে এইরূপ II যুগল চিহ্ন বসে। আভােগের প্রথমে এরূপ চিহ্ন বসে না। আর আভােগের পরে IIII এইরূপ চারিটি চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। আকারমাত্রিক পদ্ধতিতে তালির চিহ্ন ১, ২, ৩, ৪ ইত্যাদি দেওয়া হয়। ফাক = ৫, আর যে তালির উপরে শম্ পড়িবে সেই সংখ্যার উপরে রেফ দিয়া শম বুঝান হয়। যেমন :--- ০ ১ ২৩। এখানে দ্বিতীয় তালে শম্ পড়িবে । আর বাকী অন্যান্য চিহ্নগুলি বিসর্গমাত্রিক পদ্ধতির ন্যায়। এখানে আকারমাত্রিক স্বরলিপি কিস্তিবন্দী করিয়া দিতেছি। (১) স, র, গ, ম, প, ধ, ন সাতটি শুদ্ধ সুর। (২) ঋ = কোমল র ও = কোমল গ হ্ম = কড়ি ম দ = কোমল ধ ৭ কোমল ন F গীত-উপক্রমণিকা (৩) স র গ ম প ধ ন স র গ ম প ধ ন স র গ ম প ধ ন উদার। মুদারা তারা (৪) সা = স এক মাত্রা সা- = স দুই মাত্রা সা-- =স তিন মাত্রা সঃ = স অন্ধ মাত্রা সাঃ = স দেড় মাত্রা সরা = স ও র উভয়ে মিলিয়া এক মাত্রা সরগা= স, র, গ তিন সুর মিলিয়া এক মাত্রা (৫) ভূষিকার চিহ্ন মীড়ের চিহু গিট্কারীর চিহ্ন সুরের নীচে সরল রেখা আশের চিহু সুরের মধ্যে মধ্যে ছােট ছােট হাইফেন। যথা :- সা-রা-গা-মা- (৬) তালের পদবিভাগের চিহ্ন ছেদ।, প্রতি আওয়াদার পরের চিনু , আস্থায়ীতে ফিরিবার চিহ্ন II প্রত্যেক কলি আরম্ভ হইবার পূর্বে II চিহ্ন দেওয়া হয় ও আভােগের শেষে IIII এইরূপ চারিটি চিহ্ন দেওয়া হয়। ফাঁক = 0; শম্ =১, ২ ইত্যাদি; ১, ২, ৩, ৪ ইত্যাদি তালি বুঝান হয় আকারমাত্রিক স্বরলিপি প্রবর্তিত হইবার সঙ্গে সঙ্গেই বিসর্গমাত্রিক বিসর্গমাত্রিক স্বরলিপি পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়। সুপ্রসিদ্ধ সঙ্গীতজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট স্বরলিপি পদ্ধতি রজনীকান্ত রায় দস্তিদার মহাশয় এই পদ্ধতির প্রবর্তন করেন। এখানে কিস্তিবন্দী করিয়া তাহা লিখিয়া দিতেছি। (১) স র গ ম প ধ ন সাতটি শুদ্ধ সুর। * * গীত-উপক্রমণিকা (২) রাে = কোমল র পাে= কোমল গ মী= কড়ি যাে = কোমল ধ নাে = কোমল ন (৩) স র গ ম প ধ ন স র গ ম প ধ ন স র গ ম প ধ ন ০ উদারা - মুদারা (৪) সঃ = স এক মাত্রা সঃ-:= স দুই মাত্রা সঃ-- = স তিন মাত্রা সরঃ = স ও র প্রত্যেকটি সুর অর্ধমাত্রা, উভয়ে মিলিয়া এক মাত্রা। সরগঃ = স, র, গ তিনটি সুর মিলিয়া একমাত্র সরগমঃ = স, র, গ ও ম চারিটি সুর মিলিয়া এক মাত্রা ও প্রত্যেকটি সুর সিকি মাত্রা। (৫) ভূষিকা ছােট অক্ষরে লেখা হয় = সরঃ আশের চিহ্ন সুরের নীচে একটি সরলরেখা গিটকারীর চিহ্ন সুরের নীচে দুইটি সরলরেখা মীড়ের চিহ্ন সুরের নীচে বক্ররেখা (৬) তালের পদবিভাগ ছেদ। চিহ্ন। প্রতি আওয়াদার পরে দুইটি ॥ ছেদ চিহ্ন। চারিটি ॥ ছেদ আস্থায়ীতে ফিরিবার চিহ্ন। শম = +; ফাঁক = 0; ১, ২, ৩, ৪ ইত্যাদি অঙ্ক দিয়া তালি বুঝান হয়। (৭) পুনরুক্তির চিহ্ন {}, পুনরুক্তিকালে কয়েকটি সুর বাদ দিয়া যাইবার চিহ্ন (); পুনরুক্তিকালে পরিবর্তিত সুর স্থাপনের চিহ্ন [ ] (৮) আস্থায়ীতে যে সুরে আসিয়া থামিতে হয়, সেই সুরের মকর যুগল। ছােদ বসে।
গীত-উপক্রমণিকা সারগম রাগরাগিণী সুরবিন্যাসকে তালে গীত বা বাদন করার নাম সারগম্। সারগমের সুরগুলিকে সা, রে, গা, মা প্রভৃতি দিয়াই উচ্চারণ করিতে হয়, সারগমকে সরগম বা সরিগমও বলা হয়। রাগরাগিণী সহজে কণ্ঠে চিনিয়া লইতে প্রথম শিক্ষার্থীর সায়গম শিক্ষা করা একটি প্রধান উপায়। ইহাতে কণ্ঠের জড়তাও নষ্ট হয় ; রাগরাগিণীর রূপও শিক্ষা হয় ; আবার তালের জ্ঞানও জন্মে। নীচে একটি সারগম তিনপ্রকার স্বরলিপি পদ্ধতি অনুসারেই গঠন করিয়া দিতেছি। প্রথম শিক্ষার্থীদর স্বরলিপি পদ্ধতিগুলি চিনিবার পক্ষে বিশেষ সুবিধা হইবে। দণ্ডমাত্রিক পদ্ধতি খাম্বাজ-কাওয়ালী আস্থায়ী = . স IA ন | ধ প 와 ম | গ ম । গ স। + = ক + - টি ১ । । l, = 1. স। ন , স म গ ম। প বতি থ ন ন র। স + 1. .। . • 1. . ম গ র স . TA র। স ন 2 = $ A - ন ন অন্তরা ১ + . স | স . . . = IA ন খ ন । স ন র। স ধ। . . . . . ম । ম | র 'A স পথ স। ন म র। স ন - গীত-উপক্রমণিকা - ধ | ন . म ন স ম প ধ। প গ + = • . ব গ ম । প • র। স ন ন + স ধ ম আকাৱমাত্রিক পদ্ধতি আস্থায়ী ১ il পা সা - ণা। পা - মা গা - - মা। গা রা সা - I ১ সা মা গা মা পা ধা না সা| না সা না রা। সা ধা - I স। গা গা গা মা গা রা সা। না সা না রা। সা পা ধা মা l I মা। - ধা না | সা না সা -| সা না সা রা | সা পা ধা - 1 ২ ১ ২ সা মা গা মা । রা । স - না সা না রা। সা পা ধা পা I ২ মা শা - ধা | না সা না সা| মা - পা ধা পা মা গা - 1 সা । গা মা | পা - না না | সা না সা র | স ণা ধা মা II II বিসপমাত্রিক পদ্ধতি আস্থায়ী প: স— নাের + মঃ 1 গঃ পঃ- মঃ গঃ রঃ স— “f র। সঃ শাে: ধ:- II সঃ মঃ গ + নঃ সঃ। ন স। ন স নঃ মঃ | পঃ ধ:
গীত-উপক্রমণিকা ০ সঃ গঃ গঃ + গঃ | মঃ গঃ রঃ স ন স নঃ রঃ | স’ রঃ সঃ নােঃ ধঃ মঃ II II ০ অন্তরা ০+ - ধঃ নঃ সঃ নঃ সঃ । সঃ ০ মঃ নঃ স রঃ । সঃ নােঃ ধ:-II a সঃ গঃ ০+ ০৩ সঃ নঃ রঃ | সঃ নােঃ মঃ | রঃ সঃ- | নঃ ধঃ পধঃ II ১ + মঃ ধ। নঃ সঃ নঃ সঃ । মা: পঃ ধঃ পঃ মঃ গঃ— II ১ + ০ সঃ- ঃ গঃ মঃ। পঃ- নঃ নঃ সঃ নঃ রঃ। সঃ নােঃ ধ ম II II এই পৰ্য্যন্ত পড়িয়া তদনুযায়ী অভ্যাস করিলে যে-কোন প্রকার স্বরলিপি দেখিয়া গীত বা গৎ শিক্ষা করা যাইবে। প্রথম খণ্ড সমাপ্ত
No text on this page.
‘গীত-উপক্রমণিকা’ সম্বন্ধে কতিপয় সঙ্গীতাচার্যের অভিমত “সঙ্গীতচন্দ্রিকা’, ‘তানমালা’, ‘সঙ্গীতলহরী’ প্রভৃতি শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতগ্রন্থ-প্রণেতা বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গায়ক সঙ্গীতনায়ক শ্ৰীযুক্ত গােপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় স্বর-সরস্বতী মহাশয় ২২৬৩১ ইং তারিখে জানাইয়াছেন— যুক্ত মণিলাল সেন শর্মা প্রণীত “গীত উপক্রমণিকা” সম্বন্ধে আমার মন্তব্য আজকাল যাঁহারা সঙ্গীত শিক্ষা ও চর্চা করেন তাহাদের মধ্যে অতি অল্প ব্যক্তিই সঙ্গীতের ঔপপত্তিক বিষয় অর্থাৎ তাহার উপক্রমণিকা আলোচনা করেন। উচ্চ সঙ্গীত অর্থাৎ ধ্রুপদ, খ্যাল, প্রভৃতি চর্চা করিতে হইলে সঙ্গীতশাস্ত্র রীতিমত অধ্যয়ন করা ও সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা প্রয়ােজন। কিন্তু এ সাধনার পথে অতি অল্প ব্যক্তিই অগ্রসর হন। শ্রীযুক্ত মণিলাল সেন যখন সঙ্গীতের ঔপপত্তিক বিষয় লিখিতে আরম্ভ করেন তখন আমি অতিশয় আনন্দিত হই। তাঁহার লিখিত ধারাবাহিক প্রবন্ধগুলি আমি ‘সঙ্গীতবিজ্ঞান প্রবেশিকা হইতে কিছু কিছু পড়িয়াছিলাম। উচ্চ সঙ্গীতবিষয়ক প্রচলিত নানাবিধ গ্রন্থগুলি অধ্যয়ন করিয়া তাহার উপপত্তিক বিষয়গুলি একত্র করিয়া পুস্তকাকারে প্রকাশ করিয়া তিনি সঙ্গীতরসজ্ঞ ও শিক্ষার্থিগণের একটি অব মােচন করিলেন। উচ্চ সঙ্গীতের প্রকৃত সাধনার নিমিত্তই সঙ্গীতশাস্ত্রের সৃষ্টি। নিকৃষ্ট রুচিসম্মত সাধারণ গানে ইহার এয়ােজনীয়তা নাই। এরূপ শাস্ত্রালােচনায় যাঁহারা ব্ৰতী হন্ তাহারাই সঙ্গীতের প্রকৃত সাধক। সঙ্গীতের উপক্রমণিকার ব্যাখ্যা এবং নানাবিধ জ্ঞাতব্য বিষয় লিখিয়া প্রকাশ করিয়া শ্ৰীযুক্ত মণিলাল সেন শর্মা মহাশয় সঙ্গীতজ্ঞ মাত্রেরই ধন্যবাদের পাত্র। ‘গীত-উপক্রমণিকার বহুল প্রচার হােৰু ইহাই আমার আন্তরিক ইচ্ছা। শুভাকালী (স্বাক্ষর) গােপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় অতিরিক্ত জিলা ম্যাজিষ্ট্রেট “সরল সঙ্গীতও হারমােনিয়ম শিক্ষক” প্রণেতা সুপ্রসিদ্ধ সঙ্গীতজ্ঞ শ্ৰীযুক্ত রজনীকান্ত রায় দস্তিদার মহাশয় ২৯৫২৯ ইং তারিখে জানাইয়াছেন— “গীত-উপক্রমণিকা” পাঠ করিয়াছি। গ্রন্থখানার ভাষা সহজ ও সরস এবং গ্রন্থের প্রতিপাদ্য বিষয়গুলি গ্রন্থকার বেশ সরলভাবে বুঝাইয়া দিয়াছেন। সেইজন্য এবং প্রচলিত সকল প্রকার স্বরলিপি পদ্ধতির বিশদ পরিচয় এই গ্রন্থে থাকায় প্রথম শিক্ষার্থীর বিশেষ সুবিধা হইবে বলিয়া মনে হয়। সঙ্গীত সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য অনেক তথ্য এই গ্রন্থে সন্নিবেশিত হইয়াছে। (স্বাক্ষর) শীরজনীকান্ত রায় দস্তিদার ২৯৫২ ইং প্রসিদ্ধ ধ্রুপদ গায়ক সঙ্গীতাচাৰ্য্য শ্ৰীযুক্ত অমরনাথ ভট্টাচাৰ্য, সঙ্গীতরত্ন (ভারত শ্ৰীধৰ্ম্ম মহামণ্ডল, কাশী) মহাশয় ১৩৩৩৬ বাং তারিখে জানাইয়াছেন— গীত-উপক্রমণিকা এইখানি আদ্যোপান্ত পাঠ করিয়া বড়ই আঁতি লাভ করিলাম। সাধারণ সঙ্গীত এই অপেক্ষা ইহার ভাষা সরল ও ভাব সহজবােধ। সঙ্গীত সম্বন্ধে সমস্ত জ্ঞাতব্য বিষয় ইহাতে বিশদরূপে বিবৃত ইয়াছে। এরূপ পুস্তক দুষ্প্রাপ্য। ইহা যে সঙ্গীত শিক্ষার্থীদের বিশেষ উপকারে আসিবে সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। ( স্বাক্ষর) অমরনাথ ভট্টাচাৰ্য ১৩১৩৩৬ বা
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.