Dipsikha Library, Howrah
Chinna-dal
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
DIP SHUKHA
LIORARY
KASTOSANGRAM
HOW RAH.
ছিন্ন-দল।
পাঞ্জা মুড়িবেন না।
LIBRARI
VIPSHIKAA
ESTD1048
Dist. HOWRAK.
(10)
“তুমি ভাই
ববির তাপে শুনাে ফুল
আমি যে গাে
ছেড়া ফুল।”—লুপ্তপত্র।
ঐসতীশচন্দ্র 'ঘােষ।
কবিতা-১৪০
DIPSIKHA LIBRARY
Acc. No. ..........Dt..5:1.
কুন্তলীন প্রেসে ;
৫ নং শিবনারায়ণ দাসের লেন হইতে
শ্রীপুর্ণচন্দ্র দাস কর্তৃক মুদ্রিত।
উৎসর্গ-পত্র।
সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত বাবু রামলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিন্নহৃদয়ে।
নটু
খুঁজে তাে পাই না আর
কার করে সমর্পণ
করিব ইহারে,
নাহি জানি বসুধার
কোন্ কক্ষে অন্বেষণ
করিব কাহারে!
জগতে কি গ্রন্থকার
দুই গ্রন্থ একজনে
উৎসর্গ করেছে ?
করুক-কি আমার
আসে যায় ?-এ সনে
সবাই চলেছে!
সে খা লন করি
সমণি তােমারি করে
এ গ্রন্থ আমার ;
তুমি করাে, করে ধরি
পুরাণ ধস্ততা তরে,
ইহারে স্টার।
২ পৌষ,
১৩১১ সাল।
সতীশ।
DIPSIKHA LIBRARY
Acc. No, ...33...Dt...জাত মুড়িবেন না।
ভিক্ষা।
দেৰি।
এক ভিক্ষা আছে বলে
লিখি বহুকাল পরে---
এক বিন্দু অশ্রুজল
বহু বর্ষ পরে ঝরে !
আজিও কি অবিশ্বাস
আশা করিয়া থাক?
আজিও কি হৃদি মন
শৃঙ্খলে বাঁধিয়া রাখ ?
কত দিন হ’ল আজ।
দ্বাদশ বৎসর পূর্ণ ;
দ্বাদশ বৎসরে মাের
সকলি হয়েছে চুর্ণ ।
গিরিশৃঙ্গ হতে উচ্চ
ছিল হৃদে অভিলাষ
নর্মদা-প্রপাত মত
মুহু মুহু কি উচ্ছাস !
কত ভক্তি, কত শক্তি,
কত আশা, কত ভাষা,
কি বিরক্তি, কি আশক্তি।
আর কেহ হি জানে
তুমি জান, আমি জানি,
কেন গেল সেই সব ?
নিজ দোষে ?-তাও মানি।
কার অপরাধ আর ?
কারে দিই অপরাধ?
সংসারেরে ?—জগতেরে
কেন মিছে বিসম্বাদ।
একদিন সংসারের
প্রতি ক্ষেত্রে হলাহল
হেরিয়া দিয়াছি গালি
অবিশ্রাম-জবিরল
সে মােহ গিয়াছে মাের ।
আজ ভিক্ষা ক্ষ কর,
পূর্বশ্বতি বক্ষে আর
ধর আর নাই ।
OTPSHIKHA LIBRAR মাৰিলাম অপাখী, মানিলাম দোৰ মম, সবি মানি, যদি চাহ- চির-উপাসক সম ; কিন্তু বল নাই---কিবা করিয়াছি ও চরণে তবু ক্ষমা চাহি,যদি ব্যথা দিয়া থাকি প্রাণে DIP SHIKHA LIBRARY KASTOSANGRAH. • HOY RAH. FSTp948 Dist. HOWRAH. ৯ EASYTOK LETON ANGKAWI
ছিম-দল।
সত্যাসত্য।
আমি কি উন্মাদ আর সেও কি আকুলা ?
ছি ছি, এ যৌবন শেষ—সাঙ্গ খেলা ধূলা-
সমাপ্ত প্রথম হর্ষ,
সমাপ্ত পুলক স্পর্শ,
প্রথম জীবন অঙ্গে প্রথম যৌবনে
সে নব জগত আর জাগে না নয়নে।
সমাপ্ত শৈশব নাট,
সেই পথ, সেই ঘাট,
আজিত নহেক পূর্ণ আর মােহমণে ,
তবে পুন কেন স্রোত বহে হৃদিনদে?
স্রোত ?-সুধু স্রোত নয়-
কি এক মত্ততাময়
উঠেছে মমতা-উৎস হৃদয়ে উথলি ,
কে বুঝিবে—কে শুনিবে—কারেই বা বলি?
জানি আমি সব ভ্রান্তি,
তপ্ত কাঞ্চনের কান্তি
৪
পিত্তলে ফুটিছে-কাচে হেরেছি হীরক।
তবু হেরি অনিমিক পড়ে না পলক।
ভাবি-কাচ কি হীরক
বুঝি বা হীরক।
হীরক ফি ?—জানি কোন্ মণিকার কাছে?
প্রভেদ হীরক কাচে কতটুকু আছে ?
মূল্য ?—সে তাে মাটি-আর
ক্রেতা যে যখন তার
বাসনার, কল্পনার, মত্ততার বলে
কপর্দকে কোটি মুদ্রা মুহুর্তেকে ফলে।
ভালবাসা ?—তাও তাই ;
ভাবাে আছে—ভাবাে নাই
তুমি দেখ প্রেম-চক্ষে সকলি সুন্দর।
বলল প্রেম ফুরায়েছে—নিমিষে সে পর।
করে ক্রোধ—বলাে ব্যথা
লেগেছে বা বুঝি কোথা ;
করে লােভ-বলাে তার প্রেম চপলতা ;-
ঈর্ষামদমাৎসর্য ?—সে মনের মতা !
ছিন্ন-দল।
এইত প্রেমের মায়া।
কল্পনার গাঢ় ছায়া
হয় দীপ্ত দিবাকর সম প্রভাময় ।
তাই ভাবি এ বয়সে কেন এ প্রণয় ?
আর সত্য কি প্রণয় ?
বুঝি সত্য নয়।
ছিল।
চিত্র।
উলঙ্গিনী হেরি ফিরালে নয়নে ?
অশান্তি আভাস ফুটিল বদনে ?
উলঙ্গিনী আঁকি কলঙ্ক কিনিতে
হইবে কি সত্য বিপুল মহীতে?
আমি মাধুরীর দাস বাব মাস,
সে দাসত্বে কভু 'ঘৃণা-লাজ-শ্বাস
পরশে হৃদে, নগ্ন-সত্য লয়ে
আছি আমি সদা উনমত হয়ে ।
উলঙ্গ প্রকৃতি, উলঙ্গ পৃথিবী,
উলঙ্গ জগৎ-কি আর দেখিবি ?
কেনহে উলঙ্গ জনমে, মরণে?
আবরণ সুধু নয়নে নয়নে !
সরমের ভাণে যে জন আকুল,
যে জন না ভাবে কোথা আদি মূল,
লােকের কথায় বাঁচে মরে সদা,
লােকমুখে ভােগ বিষাদ মত্ততা,
ছিন্ন-দল।
পরমুখে স্বাদ আহারে যাদের,
আবরণ করে—আবরণ ফের
খুলিতেও পারে, যদি বলে দশে
দশের অলিক বাচালতা বশে
দাসখত লিখে দিয়েছে তাহারা;-
তাদের তরে তাে রয়েছে পাহারা
ভূত-প্রেত-দানা-দৈত্য নামে ভীতি
সমাজ-সংসার-সুনীতি কুনীতি-
মুখের প্রলাপ উপজিত হাস,
মুখের শিক্ষায় মূঢ়ের বিশ্বাস !
থাক তাই নিয়ে, মরণ বচন
সমান তাদের—কি আছে আপন?
পদার্থ কি আছে ? সত্যের সন্নিধি
ধু অপলাপ!নিয়ম কি বিধি
যা বল তা বল-পরমুখপ্রেক্ষী
তারা ;—নিজ পথে সে সবে উপেক্ষী
চলি, যদি গালি দাও--
দিতে পার যত চাও !
৮
ছি-দল।
উন্মাদ।
১
মুখ চেয়ে কেন আব
আজো আমি আছি তার?
অতীতে অতীত-স্বপ্ন
গেছে তাে হইয়া মগ্ন !
ভগ্ন গৃহ, ভগ্ন দেহ,
ভগ্ন মন, মনােরথ,
অতীত সম্পর্কে কেহ
না আসে দেখাতে পৃথ।
বন্ধুর যে পথ মম
অন্ধকাব বিজড়িত--
তাই আছে—অন্ধ সম
প্রদি পদে চমকিত।
কোথা আছি কোথা যাই
কিছুরি স্থিরতা নাই
ছিম-দল।
অতীত মুছিয়া তাই
আবার নূতন করি
গঠিব এ বর্তমান
নব ধ্যান হৃদে ধরি।
২
•
অই বুঝি আসে ! চরণ নূপুর
মধুর নিক্কণে বাজে
হাসির প্রবাহমােহন মধুর
ভেসে ভেসে আসে কাছে।
কই এস এস ! আসিতে আসিতে
দাড়ালে আবার কেন ?
মত্ত হৃদিউৎস ছুটিতে ছুটিতে
রুদ্ধ হয়ে গেল যেন ।
:
এস–চরণের প্রত্যেক প্রপাতে
পড়ক হৃদয়ে আঁক
এসমূপুরের কণিত আঘাতে
শ্রুতি পূর্ণ হয়ে থাক !
ছিল। এস-নয়নের সে চাহনি নিয়ে উন্মাদ করেছ যাহে। এস—সে সঙ্কোচ বিলাইয়ে দিয়ে আশায় যে আসে তাহে। আমি তাে হৃদয় চাহি না তােমার- কি হবে হৃদয় নিয়ে ? দিয়েছি যে হৃদি প্রতিদান তার যেতে হবে না তাে দিয়ে । তবে কি সঙ্কোচ ?–দাড়াইলে কেন আসিতে আসিতে চলে ? নহে বলে যাও আর স্মৃতি যেন আসি না হৃদয় দলে। শেষ দেখা কিম্বা দেখাইয়া যাও সে হাসি-তরঙ্গ আজি চিরস্থায়ী করি এ স্বপনে দাও স্বপনের সাজে সাজি। ১১
ছিম-ল।
কোমল স্বপন সবি, কিছু তবু
যেন কঠিনতা আসে ;-
সে কঠিন বুঝি আসিবে না কভু
আজি যদি এস পাশে।
কই, এস এস ! চবণ নূপুর
নিক্কণে না বাজে কেন ?
মত্ত হৃদিউৎস মােহন মধুব
রুদ্ধ হয়ে গেল যেন।
বেঁধেছি হৃদয়—ছলিয়া লইতে
পারিবে কি পুন প্রাণ?
হয়েছে কাতর দুদিনেব তরে
ভুলাইব হাসি মাখিয়া অধবে;
ক্ষতি কি আমার?
যদিই তাহার
হইল দুদিন হাসিতে খেলিতে
কিছু দুঃখ অবসান ।
আমি ত পাষাণ ছলিয়া লইতে
পারিবে কি সে এ প্রাণ?
-
১২
ছিল। দূরে দূরে রহি মমতা দেখাব- মনে তাে নাহিক-মুখেই শুনাব ; সে তাে জানে মাের ছিন্ন সব ডোের, সেধে আসিবে কি তবু ভুলাইতে ? ছিছি! ছার অনুমান! তবু যদি হয় তার হাসিতে খেলিতে কিছু দুঃখ অবসান ।
উন্মনা। আজ কেন তার নয়নে সরম সহসা আমার ব্যথিল মরম? নিত্য খেলা ধূলা, নিত্য এক ঠাঁই- কই কভু তার এ তাে দেখি নাই ? সহসা অঞ্চলে আবরি বদন ফিরাইল মুখ, সজল নয়ন সলাজে করিয়া নত ;- লুকাইতে চায় কান না যায় যেন হৃদে আছে যত। এ যেনূতন ভাবের নূতন বিকাশ তার ;- আমি—দুদিন দেখিনি, তাই কি নূতন আবেগের অধিকার। দেখা যাবে কিবা হয়েছে ও হৃদে- যদিই কন্টক থাকে কোন বিঁধে দুদিনে বুঝিব, দুদিনে তুলিব- ছি-দল। আছি ত দুজনে একত্রে সতত দুয়ে এক হয়ে নিত্য, অবিবত, অবারিত, অনিবার। দেখি,-এ কোন্ ভাবের নূতন বিকাশ তার। এ কি প্রণয়ের প্রথম বিকাশ আজি অই ক্ষুদ্র বুকে ? ছিল-আনত নয়ন, এবে দীর্ঘশ্বাস- কথা তাে সরে না মুখে। আসিছে আপনি, ডাকিলে আসে না কাছে গেলে তার ক্ষণেক বসে না, চুইলে গুটায়, একাকী রহিলে কাঁদিয়া লুটায়, ভিজায়ে অঞ্চল কেন? এই ধদি প্রেম চাহি না প্রণয় ! এত লুকোচুরি এত ব্যথাময় । ও ভালবেসেছে ও ভালবাসুক, কেঁদেছে ও যদি আপনি কাঁদুক- আমি নাহি ফাদি যেন! নয়ন সলিলে
ছিল।
যেচে কেন ব্যথা
ধরিব হৃদয়ে ?
বালিকা বুঝে না-- কার প্রাণ লয়ে
চাহে খেলিবারে! আমি তাে পাষাণ,
কেন দিব পরে আমার পরাণ
সমুদ্রে ভাসাতে হেন ?
সারাদিন তপনের প্রখর কিরণে জ্বলি
ধরেছে অঙ্গার বর্ণ সন্ধ্যায় প্রকৃতি ;
এখনি নিবিড় কালাে তমসা মাঝারে ঢলি
পড়িবে বসুধা তার সন্ততি সংহতি।
এখনাে কি লুকোচুরি ? এখনাে কি আবরণ ?
এখনাে কি মুখ তুলে চাহিবে না ক্ষণ?
দেখিতে তাে নাহি পাবে কেহ তার দুনয়ন
ভরেছে প্রণয়ে—কিম্বা হেরিছে স্বপন।
দেখি যাই কাছে তার, নয়নে নয়নে যদি
মিলিলে মনের ভাব পারি ভেদিবারে
নীরব ভাষায় যদি, হৃদি হতে হৃদি মথি,
প্রাণের উত্তর আসে দ্বিধা-পারাবারে।
অনিশ্চয় মাঝে পড়ি উলটি পালটি করা
এ বড় যন্ত্রণা প্রাণে—দেখি দেয় কি না ধরা।
১৬
ছিল।
৪
-
তবু যে লুকায় ! তবু আলাে-অন্ধকার।
কেন এত সাধ লুকায়ে দেখিতে তার?
দূর গবাক্ষর অন্তরাল হতে
প্রতীক্ষায় যেন চেয়ে ছিল পথে ;-
আমারি তরে কি?
দেখি, দেখি, দেখি-
আসিলাম যেই
চলে গেল সেই
চমকি খঞ্জন মত !
কিম্বা অন্য কার
প্রতীক্ষায় তার
এমনি করিয়া দিন কেটে যায় ?
অপরে হেরিলে তখনি লুকায়?
আমি কি অপর?
নিত্য নিরন্তর
এই কি তাহার ব্রত ?
সে দিননা দেখেছি এমনি করিয়া
গবাক্ষের পাশে ছিল সে বসিয়া
এত সাধ মুখ লুকায়ে দেখিতে কার ?
••
ছিল। যত লতিকা ললিত আছে প্রকৃতি তােমার কাছে, বল সবে অই গবাক্ষের পাশে আসিতে। শরত বসতে যত তাহার মনের মত ফুটে ফুল, সবে বল হােথা এসে ফুটিতে তার মুখ পানে রহিবে চাহিয়া, বিষন্ন হলে সে ভুলাবে হাসিয়া, আমারাে তরে সে ভুলিয়া ফেলিয়া দিবে,—একটি দুইটি ফুল ; আপনার কাণে পরিবে তুলিয়া নয় বিনিময় করি দুল। আমি দূর হতে চেয়ে রব- নয়নে নয়নে কথা কব! প্রেম নীরে ভাসা নয়নের ভাষা আশা অভিলাষে অতুল অতি। ১৮
ছিন্ন-দল।
হের-নয়নে নয়নে প্রেম করে প্রজাপতি।
তারা কয় না ফুটে,
শুধু, আসিয়া ছুটে
ভ্রান্ত চথে চায় মুকুল প্রতি
বড় বালিকা সে আজো আছে।
ভয় হয় তাই কবে
কিসে কি বিরূপ হবে-
নিরর্থক অনর্থ সে ঘটায় পাছে।
কেহ বুঝিবে না সরলতা তার
কে জানে সে এত মতা আধার ?
মণ্ডুক আলয় নিখিল সংসার।
আপনার যারা তারাও সবে
দেখে দেখিবে না,
বুঝে বুঝিবে না,
পলকে প্রলয় হবে।
শৈশবে দারুণ ব্যথা সে পাইলে,
কলঙ্ক অঙ্গুলি সে তনু চুইলে
১১
ছিল। ঝটিকার মুখে ও তৃণের মত- সাগরের বুকে বুদ্ধদের মত, কোথায় যাবে। নিখিল সংসার নিবিড় আঁধার হইবে, আল খুঁজে না পাবে। আপনার যার কটু কবে তারা, আমি ত পর ! অবসন্ন হেরি দূর হতে তারে করি হা হুতাশ-ইহারে উহারে দুবার বলিব, হুতাশে ভ্ৰমি, সুধু-কাঁদিবে অন্তর ।
ছিল।
স্নেহ-ভক্তি-প্রেম।
হক মেহ, হক ভক্তি, অথবা প্রণয়
সবি এক---বাঁধাবাঁধি হৃদয়ে হৃদয়।
ব্যথায় ব্যথিত হয়ে
যবে অন্ধকারে, ভয়ে,
আলম্ব খুঁজিয়া ভ্ৰমি, চাহিয়া আশ্রয়-
সেই ক্ষীণ হৃদে সুধু হৃদয়ই আশয়।
মমতা মানব বক্ষে,
দেবতা মানস চক্ষে,
প্রণয় প্রাণের প্রাণে—উভয়ে উভয় ;-
হৃদয়ে উদ্ভব হয়ে হৃদয়েই লয় ।
লয় ?-না না! হৃদয়ের
সার রক্ত এণয়ের
কোথা লয় ?—কোথা অন্ত?--মহা বিষয়
ছেয়ে আছে, জেগে আছে, শুধুই প্রণয়।
ছিম-দল।
অনন্ত সাগর মথি
যে অমিয় সুরপতি
লভে ছিল, সে সুধার সার হয়ে রয়
বিশ্বমাঝে বাঁধাবাঁধি হৃদয়ে হৃদয়
মেহ বল, ভক্তি বল—অথবা প্রণয়।
২২
ছিন্ন-জল।
আশ্রমপথে।
কত পথ ?কতদূর গিয়াছে চলিয়া
দুই তরুশ্রেণী মাঝে ।
ধীরে ধীরে বিষাদের পাষাণ ঠেলিয়া
চলিয়াছি পাছে পাছে।
এ পথের সীমা যদি রহে,
প্রাণের আশ্রম দূর নহে ।
প্রশান্ত প্রভাত, অতি নীরব, স্তম্ভিত,
ও কি বিষাদ-পরশে ?
নীরবে দুলিয়া ধীরে হইছে পতিত
জীর্ণ পত্ৰ কালবশে ;-
কোথায় সে কাল লুকাইয়া ?
শান্তি কি সইবে মুছাইয়া?
প্রশান্ত তপন প্রভা শিশির মালায়
উর্ণনাভ জাল পরে ;-
শ্রান্ত কি সে ঊর্ণনাভ?—অথবা লুটায়
একান্তে নিরাশা ভরে।
জানে আশ্রম কোথা তার ?
মিলিবে কি আশ্ৰম আমার
তৃষিত।
প্রতি পত্রে, প্রতি ছত্রে ভালবাসা তার।
সে কি হবে না আমার।
আমি—ফুটিয়া বলিতে যে পারি না ভালবাসি
তাই—নিঠুর হইয়াছি, হয়েছি অবিশ্বাসী।
-
অযুত উপহাসি
বুঝয়ে বলি তারে
ভুলিয়া যাই যাহা
যাই
চলিয়া গেল তাই ;-
এমন কথা নাই।
বলিব মনে করি,
বাহিতে গিয়ে তরী।
সাগরে ডুবে
কে বলে প্রেমকথা
হৃদয় হতে হৃদে
কে বলে ভরা বুক
বাধন ভেঙ্গে-চুরে
তড়িৎ-স্রোত প্রায়
নিত বয়ে যায় ?
লুকান নাহি রহে,
বচন-শ্রোতে বহে।
ছিন্ন-দল।
শঙ্কিত সদা আমি,
হেরিয়া ফিরে যাই,
সে তােপ্রদোষে মৃদু মৃদু
প্রাণের দ্বারে মাের
তৃষিত, তবু বারি
পিইতে নাহি পারি।
মলয় বাত হেন,
আঘাত করে যেন!
ভুল।
--
ভেবেছিনু যত সকলি ভুল!
জোনাকি হেরিয়া,
রহিনু চাহিয়া,
করিনু তাহায় বিজলি ভুল !
ফুল বলে কাছে
গিয়ে হেরি,—গাছে
শুকান পাতায়
আলাে পড়ে আছে!
কাণা মাছি উড়ে
চারি দিক যুড়ে,
দুর হতে হ’ল তাহে অলি ভুল।
২৭
ছিন্নদল।
নিদাঘ পবনে
তক শিরে বনে,
ভালে ডালে লেগে
প্রতিধ্বনি জেগে,
দূর হতে আসে
কাণে কাণে ভাসে
ঘটায়ে বিহগ কাকলি ভুল!
ভেবেছিনু যত সকলি ভুল।
২
পুন।
পুন এত কাল পরে
আসিলে স্মরণে কেন ?
আসিলে !—আঁধার ঘরে
জলিল দেউটি যেন।
উষা আকাশের গায়
দিয়াছে যে সবে দেখা,
ধূসর নীরদ,—তায়
পড়েনি আবির-রেখা।
একটি পাপিয়া গাহে
পল্লব আঁধারে রহি ;-
কাতরে ডাকিছে হে
ও প্রণয় ভাষা কহি ?
২১
Vill.. KANTON LAGKAI
ছিন্ন-দল।
তুমিও কি প্রণয়ের
শুকতারা হয়ে এলে ? :
অথবা ছলিছ ফের ?
মুহূর্তে যাইবে ফেলে ।
iii.
(PSHIKH
EST0-1948,
Dist. HOWRAH.
ছিন্ন-দল।
DIPSIKHA LIBRARY
Acc No. .3.4...01.5:10:43
s
যাই।
যাই
!—ডেকেছে আবার।
মুহূৰ্ত্তেক টুটিয়াছে চরণ-শৃঙ্খল,
মুহূর্তৃেক শশাণিতের তরল গরল
স্তম্ভিত প্রবাহ পুন ;-
আবার ;—আবার শুন
ডাকিছে কাতরে মােরে অনন্তের দ্বারে
নিরাশার আবাহনে ডাকিছে আমারে।
যাই!
নিবিড় নীরদ-দ্বার উন্মুক্ত কবিয়া
অই সৌদামিনী বেশে ব্যাকুলা হইয়া
দিগন্ত হইতে ছুটি
দিগন্তে পড়িছে লুটি,
অনন্তের উপকূলে অই তরী তার
এখনো রয়েছে করি প্রতীক্ষা আমার!
-
ছিন্ন-দল।
মুহূর্তে পরে আর
দেখা তাে পাব না তার,
তারে দেখিবার সাধ না মিটে নিবিবে ,
অনন্তের অন্ধকারে এখনি ডুবিবে ।
শূন্যে মিশে শূন্য হতে
নিয়ত শ্রবণ-পথে
সুধু অই হলাহল শ্রবণে ফুটিবে ।
ভবিষ্যৎ নিরাশাব গরলে লুটিবে।
যাই ।
মুহূর্তৃেক—ক্ষণমাত্র,—নিমিষ ব্যাপিয়া
ও প্রভা সম্পাত কবি যাও দাড়াইয়া ।
ছিন্ন-দল।
ফুলকি জ্যোৎস্না।
যবে এলাে বেশে,
মৃদু মধু হেসে,
ভেসে ভেসে নিশি ঘুমায়ে যায়,
চাদ তারা ধরি
এলো চুলে পরি
প্রকৃতির অঙ্কে চালিয়া কায়,
মধুর মধুর মধুর যখন
বহে মৃদু মৃদু মৃদুল পবন,
ধীর গতি হয়ে
জড়ের হৃদয়ে
ঢালিয়া চেতনা
সাধের জ্যোৎস্না,
কালের তরঙ্গে পুলকে ধায়,
বড় সাধ মনে
সেই জ্যোৎঙ্গা সনে
ভাসে প্রাণ, সেই তরঙ্গে ধাই,
ছিম-দল।
সেই জ্যোত্মা তলে
দলে দলে দলে
আতি পাতি খুলে
দিই প্রাণ ফেলে,
চাদের আলােকে ডুবিয়া যাই ।
কোথা বেল ফুল, কোথা যুথি যাতি,
কোথায় গােলাপ, মল্লিকা, মালতি ?
লতায় লতায়
কি ফুল কোথায়,
কি মাধুরী তায়,
দেখাও আমায়,
কোথা সে সুন্দরী অপরাজিতা ?
কোথা কোন ফুল ?
মাধবি মুকুল
আন—আন তুলি ছিড়িয়া লতা।
কি করে সুষমা,
গন্ধের গরিমা,
রূপের বিলাস,
গরবের হাস?
দুই দিন পরে রহিবে কোথা
ছিয়-দল।
তাই বলি তুলে
আন সব ফুলে
জ্যোৎস্না হৃদয়ে উৎসর্গ দাও ;
হাতে ফুল লই
বল, শান্তিময়ি
পূজিব চরণ, এ ফুল নাও।
বল, যেই আলো রয়েছ ছড়ায়ে
ঢাল, দেবি তাহা আমার হৃদয়ে
ভূত-দুঃখ হ’তে দুরাশা অবধি
ডুবিয়া—প্লাবিয়া ভাসায়ে এ হৃদি
যাক—দেবি দাও ঢালিয়া আলাে।
হাতে ফুল লই—
• কোথা, শান্তিময়ি
লহ উপহার এ ফুল,বলল।
চারু তারা ধরি
খুলে চুলে পরি
প্রকৃতি হৃদয়ে ঢালিয়া কায়
যবে এলাে কেশে
নিশি মধু হেসে
যায়,কত ফুলে ভাসায়ে যায়।
ছিন্ন-দল।
আবার পুরানাে।
আজো তাই! ভুলি নাই ;ভুলেছ কি ?-ভুলিবে কি?
ভুলিব কি ?—জানি না তাে! পারিব কি ?—আরাে দেখি
দ্বাদশ বৎসর আজ, তবু আজো সে যন্ত্রণা
বিন্দুমাত্র নহে লঘু !-বিস্মৃতির আরাধনা
কতই করেছি !–কই? কি যােগ সাধিতে হবে-
কত দিনে, কি আচাবে, বিস্মৃতি মিলিৰে কবে ?
মিলিবে কি?—ভবিষ্যতে ?জীবনাতে-পরলােকে?
কোথা পরলােক ? বৃথা সে কামনা! রােগে, শশাকে,
মনুষ্যত্ব-পশুত্বের অনুক্ষণ আলােড়নে
ভুলিতে নারিনু যদি ভুলে যাব কি মরণে?
ছিন্ন-বল।
শৈশব গিয়াছে কেটে, যৌবন পাইছে লয়-
এ তীব্র যাতনা তবে সুধু তাে কল্পনা নয়।
তুমি কি ভুলেছ ? দেবি! সত্য বল একবার,
তুমিই কি ভুলিয়াছ?-কভু কি এ বসুধার
কোন চিত্রে, কোন গানে, কোন স্থানে, কোন মতে,
অতীতের কোন কথা আসে না স্মরণ পথে ?
কোন কথা?—কোন নয়, সেই কথা যার তরে
ভগ্নহৃদে জগতের ক্লেদসরে প্রাণ ভরে
ডুবিয়াছি, ক্লেদ পুটে বিহার করেছি নিত্যঃ-
আসে না স্মরণে ?-তুমি সত্য আছ স্থিরচিত্ত ?
কে বলিবে ? তুমি সেই “অবিশ্বাস অবিশ্বাস”
বলিয়া কাতর কণ্ঠে, ত্যজি সেই দীর্ঘশ্বাস,
কহিয়াছ—“করিও না জিজ্ঞাসা এ জন্মে আর।”
তুমি কি বলিবে ?—তুমি বলিবে হৃদয় যার
আছে, তার আছে স্মৃতি, আছে জ্বালা, অশ্রুজল !
বলিবে—এ বিশ্বে আছে মধু মাঝে হলাহল ?
ছিন্ন-দল। বলিবে—তােমার হৃদি যাক—থাক—আসে যায় কতটুকু এ সংসারে ?—জলের বুদ্বুদ প্রায় একটি অভাগা যদি চূর্ণ হৃদে ভেসে ভেসে ডুবে যায়—তাতে বা কি ?—আমি তাে কাটাই হেসে !” বলিবে—“নিতান্ত তুমি মূঢ় তাই আজো কাদ- প্রকৃতির মহাপটে চাহিয়া হৃদয় বাঁধ।” শুনাইবে মহান কল্লোল বারেক পুন, বলিয়া—“ও-ওতাে কাদে, শুন—স্থির হয়ে শুন। কাঁদে জল, কাঁদে স্থল, কঁাদে ব্যোম, কাদে বিশ্ব ?” বলিবে—“শিখ না কেন দেখে এই মহা দৃশ্য ?” বলিবে—এ বিশ্বব্যাপ্ত লােদনের মধ্যস্থলে যে জন ভুলিয়া জ্বালা, সুধুই হাসিয়া চলে— সেই তাে মহৎ!” আর বলিবে—“আমিও এই সংসারে কেঁদেছি কত—আজ তাে সে ব্যথা নেই।” তােমার থাকিবে কেন? কবিত্ব, কল্পনা, মায়া, ভাষা মুখে ভালবাসা নভঃস্থিত মেঘ ছায়া !
ছিন্ন-ল। বালিকা আছিলে ? কই—ভাষায় তাে বালিকার পাই নাই পরিচয় ? যৌবনের পিপাসার স্রোত যেন অবরােধ ভাঙ্গিয়া ছুটিয়াছিল প্রতি পত্রে, প্রতি ছত্রে !–কেহ কি শিখায়ে দিল? শিশুরে শিখায় যথা ক্রীড়াছলে শত কথা জননী জনক কিম্বা পরিজন ?-কি যথা শিক্ষিত শুকের মুখে ফুটে শত আকিঞ্চন, আলাপন, ধর্মতত্ত্ব, কৰ্ম্মফল—অনুক্ষণ, অনর্গল—অর্থহীন সােহাগের শত শব্দ- তাই কি শুনায়েছিলে করিয়া আমারে স্তব্ধ ? হতে পারে!—কিন্তু যদি তাই হয় জেনাে তুমি, যে জন, অজ্ঞানে জ্ঞানে, শুধু তার ক্রীড়াভূমি . করে অপরের হৃদি ডুবায় অতল জলে তার কলুষের সীমা নাহিক ধরণিতলে। আমি তাে ডুবেছি !আমি দ্বাদশ বৎসর ধরে কাদিয়াছি, সহিয়াছি, হৃদয়ের স্তরে স্তরে
ছিল।
;
চিতা জ্বালি দহিয়াছি ;-অস্তিত্ব অঙ্গার তায়
হইয়াছে আজি হের। অতীত, জলধি প্রায়,
তরঙ্গ তুলিয়া অই আসিছে সমুখে মাের ,
হের ছিন্ন হইয়াছে তরণীবন্ধন ভােব ।
আঁধারে
ডুবেছে
বিশ্ব-বসিয়া আঁধারে এই
দেখি এ হৃদয়ে এবে কিবা আছে, কিবা নেই ।
একটি একটি করি কত তারা খসিয়াছে,
তপে শুপে চারিধারে কত ফুল ঝরিয়াছে,
কত সখা এসেছিল, কত সখা ত্যজিয়াছে,
কত আশা হৃদে ছিল, কটি তার রহিয়াছে,
কতই বলেছ তুমি, কত চন্দ্র হাতে দিলে ।
আর, আজ কি হয়েছ ?--মনে আছে কিবা ছিলে
কি ছিলাম ?-হৃদিপটে ব্ৰহ্মাণ্ড জিগীষু '
মাশা,
উন্মাদ উদ্যম নব, উন্মত্ত আকুল ভাষা,
ভবিষ্যৎ ছায়া ধরি নুতন জগৎ সৃষ্টি,
ক্ষিতি, ব্যোম তেজ ধরি বিশ্ব-পরপারে দৃষ্টি।
৪
ছিয়-দল।
সে দিনের বর্তমান আশাময় জ্ঞানময়,
অতীত মহত্ববীজ, ক্রমে অঙ্কুরিত হয়-
ভাবিতাম ক্রমে ধরা হইবে অমরালয়,
তুমি দেবী আমি দেব-জগৎ প্রণয়ময় –
প্রণয়ে ছুটিবে বায়ু বসন্ত জাগিবে প্রেমে,
প্রণয়ে হইবে সিন্ধু, অনন্ত মাতিবে প্রেমে,
প্রণয়ে ফুটিবে ফুল, প্রেমে মুঞ্জরিবে তরু,
গরল অমৃত হবে, নিকুঞ্জ হইবে মরু ;-
প্রাণের বসন্ত সেই—নিদাঘ-সারথি সম!
অার করিল আসি নিদাঘ হৃদয় মম!
জানি নাই কেবা তুমি, কিবা তুমি, কোথা তুমি-
ছিলাম আপন মােহে, ছিল বিশ্ব কৰ্ম্মভূমি,
পথ বেয়ে চলে যেতে পথিকে আহ্বান করি
কে ডাকিল?—চাহিলামচাহিবারে করে ধরি
কে বলি দুটি কথা?বলিল, ‘তােমার হৃদি
আমারি হৃদয় সম, একই উপাদানে বিধি
৪১
চির-দল।
গঠিয়াছে, তবে কেন রহিব স্বতন্ত্র দেহে ?
এস মিশে যাই।'—আমি ডুবিলাম মহা মােহ
বসন্তের মােহ !তুমি মুগ্ধ হয়েছিলে তায়,
আমিও উদ্ভ্রান্ত হৃদে হৃদয় ঢালিনু পায়।
বসন্তের মােহ নিয়ে জীবন-বেলায দেহে
ভ্ৰমিলাম কয় দিন ;—সেই বসন্তের মােতে
শ্রবণে বাজিল বীণা পুলকে উন্মাদ করি,
নয়নে নবীন ছবি ফুটিল মাধবি ধরি
হাসিলাম, গাহিলাম, কহিলাম কত কথা,
ভুলিলাম অতীতেব সুখ দুঃখ শান্তি ব্যথা,
কিন্তু তবু বলি নাই ভালবাসি মুখ ফুটে,
তুমিই বলিতে আসি—“ভালবাস”—ছুটে ছুটে !
কত অভিমান করি বলিতে,-“বল না কেন
ভালবাস?—একবার তুমি কি পাষাণ হেন?”
অবশেষে বলিলাম—অত্যন্ত সঙ্কোচ করি,
বলিলাম ভালবাসি,বলিতে হৃদয় ভরি
২
ছিন্ন-দল।
উথলিল প্রেমসিন্ধু-শিরায় পুলক স্রোত
ছুটিল—ফুটিল মুখ না মানিয়া অবরােধ !
জাগ্রত নয়নে স্বপ্ন, অলিকে প্রকৃত জ্ঞান।
মুহূর্তে ফুরাল কিন্তু—নীরব হইল তান।
মুহূর্তে ফুরাল আশা, ভাষা বহুকাল তবু
কভু স্মৃতিপথে মানে—দূরে নিয়ে যায় কভু।
ক্রমশঃ ভাষারাে গতি নিরাশায় অবরােধ,
ক্রমশঃ উন্মুক্ত আঁখি, অলিকে অলিক বােধ,
ক্রমশঃ তােমার যারা আমার হইল পর,
অন্তরাল-অন্ধকার দূর দূরস্তর স্তর।
বহুদিন পরে পুন আবেগে উন্মত্ত হয়ে
দূর হতে ডাকিলাম ভিক্ষুকের বেশ লয়ে,
সুতির ভাষায় গাথি মিনতি-সহস্র পায়
ঢালিলাম পূজা-বলি-কুটি করিয়া তায়
চরণে ঠেলিলে, আর বলিলে—“পশুর সনে
পশু হয়ে ভ্রমিতেছ পাপ-পঙ্কে মুগ্ধ মনে
ছিন্ন-দল। দূব হও! স্বর্গে আমি, তুমি নরকের কূপে এস না সমুখে আর—কোন মতে, কোনরূপে- কি জানি কালিমা যদি পরশে আমার অঙ্গে! শুনিলাম, হাসিলাম নিরাশা-কুটি-ভঙ্গে। নিরাশায় হেসেছ কি কভু জন্মে ?--যন্ত্রণায়, কেঁদে কেঁদে যবে অশ্রু নয়নে শুকায়ে যায় ? দীপ্ত হুতাশন ছুটে প্রত্যেক ধমনি বহি, মস্তিষ্ক মাঝারে ফুটে বহ্নি জ্বালা রহি রহি, প্রঞ্জন আলােড়নে হৃদয় মথিত হয়, জ্বলন্ত অঙ্গার আঁথি, মুখে ভাষা নাহি রয়, বধির শ্রবণ, শ্লথ, স্পর্শহীন অঙ্গচয়, ওষ্ঠাধরে ফুটি হাসি ক্ষণতরে পায় লয় ? কিম্বা সে বিকট হাসি উন্মাদের, প্রলাপপ- হেসেছ কি ও জীবনে ?—হেসে থাক হাস ফের। আমার এ নিরাশার প্রতিধবনি হবে তায়! বুঝেছ কি-বুঝিবে কি-হেসেছি কি বেদনায় ? ৪৪ ছিয়-দল। জানি আমি সহিয়াছ নানা বাধি, নানা শাক- আমিও তাে সহিয়াছি--সহে আরাে কত লােক ;- কিন্তু তাহে এ যাতনা নারিবে বুঝিতে কভু, এক যায়, এক হয়—আশা তাহে রহে তবু। হাস কঁদ, যাই কর--মনে আন, ডেকে আন- ভুলে যাও, চলে যাও, জান, আর নাই জান, অথবা জেনেও বল জানি না, বুঝি না তথ্য- জানাও জগতে তুমি অসত্যে করিয়া সত্য যা ছিলাম আছি তাই, নির্ভীক অন্তরে আজো সম্মুখে দাঁড়ায়ে আছি। তুমি কই—কোথা আছ ? ছিলাম মােহের মাঝে, মুছিলে আঁধার তুমি। বেষ্টিত সাগর-উৰ্ম্মি বিঘৎ প্রমাণ ভূমি দেখিলাম একদিন স্বপ্নরাজ্য শুধু সে কি ? দেখিয়াছি, কিন্তু তবু কিছুই বুঝিনি দেখি ; দেখিন্নাই, ডুবে ডুবে, অর্ধমৃত, সেই ঠাই হইলাম উপনীত—চেয়ে দেখি কিছু নাই। ৪৫
ছিম-দল।
সত্য হােক, স্বপ্ন হােক, অতীতে গিয়াছে মিশি,
দিক্ হতে দিক অন্তে পুন সে আঁধাৰ নিশি।
যে সিন্ধু সে সিন্ধু বক্ষে ! তুঙ্গ সৌধ-চুড় হতে
উম্মি শিবে উম্মিমালা সুনীল জলধি পথে।
চিত্র-মনােহব বড় ? সুবর্ণ গগন কোলে
উৰ্ম্মি পবে নেচে নেচে অস্তমান রবি দোলে।
কিন্তু যে সাগব মাঝে সবণে কবি ভব
চলেছে ভাসিয়া, তার বিন্দুমাত্র অবসব
নাহি যে মাধুৰি হেবি মুগ্ধ হয়ে বহে ক্ষণ ,
বুঝেছ কি-বুঝিবে কি কেন এই সম্ভবণ ?
কেন আমি সিন্ধু বক্ষে ? শ্মশানে রহিলে—তাও
ছিল ভাল,—ছিল স্থান।আর কি করিতে চাও?
দূব হক। দু’দিনের, দু’দণ্ডের, দুটো কথা,
দু’দণ্ডের পবিচয়ে জীবন বিজীত ব্যথা।
বলেছিলে-“বল খুলে হৃদয়ে কি আছে”—তাই,
অবশেষে খুলি হৃদি তােমারে দেখাতে চাই ,
ছিল।
.
খুলি হৃদয় যেই—দেখিলে হৃদয় যেই
সম্পূর্ণ বিজীত বলি চরণে ঠেলিলে সেই।
যাক সে দিনের কথা—আমি কভু ভুলিব না-
সে স্বপ্ন হৃদয় হতে মুছিবারে পারিব না।
তুমি ভুল ক্ষতি নাই—পার যদি ভুলে থাক—
নতুবা হৃদয় মাঝে মােপনে লুকায়ে রাখ।
৪৭
ছিল।
প্রদোষে।
প্রভাতেব হাসি প্রদোষে যে বাসি হয়।
প্রভাতের ফুল
ফুটিলে আকুল
দিগন্ত প্রভাতময় ;
প্রদোষে ঝরিয়া
রহিলে পড়িয়া
পবনাে একটু বিষাদের ভরে সে বুকে নাহিক বয়।
বাসি ফুল শুধু ঝরিয়া পড়িয়া রয়।
শুধু ফুল কেন সবি তাই ;
বাসি হয়ে হাসি ফুরাইলে আর দেখিতে কেহ তাে নাই !
হেসে কাছে যাও—সবাই তােমার,
সব হৃদি যেন প্রেমের আগার,
মুখে মুখে প্রেমগান;
১৮
বিষাদ পরশে মলিন হইলে, নয়ন আসার কপােল লাগিলে, যার কাছে যাও, যার পানে চাও, সবে পরিহার করে ভাঙ্গা প্রাণ! তাই- প্রাণের প্রদোষে বিজনে বসিয়া রই, বেদনা বুঝিবে এমন মানুষ কই ? ৪১ ছিল। ATASHIKA ; LIBRA Esb1948. Dist. HOWRAH. ii. k।। মদিরা। যা কিছু মধুব গবলে ডুবিবে, যা আছে উজল মালন হইবে, বাধা আছে কোথা—বাঁধন টুটিবে, অচল হইবে অকূল পাথাব, নগৰী শ্মশান, আলোেক আঁধাব, খসিবে-তাবকা, নিবিবে তপন, একটি প্রাণীরাে না ববে জীবন- শূন্য শূন্য শুধু ভাসিবে, মহা নিশা তাহে ছুটিবে।
ছিন্ন-ল।
আজ পূর্ণ যাহা হবে শূন্য সেই
এই ত নিয়তি? আছে লেখা এই।
এই পরিণাম বই কিছু নেই !
তবে কেন জ্বালা ?—কেন অবিশ্রাম ?
কোথা কিবা আছেকিবা নাম, ধাম ?
কিসের বিষাদ- কিসের নিরাশা ?
শােক-দুঃখময় বিলাপের ভাষা,
নিয়তি-ঝটিকা আঘাতে
কাল গিরি স্রোত প্রপাতে।
ঘুচিবে যন্ত্রণা লহ সখা তুলি
পূর্ণ পানপাত্র,মুহূর্তেকে ভুলি
ক্ষুদ্র এ সংসার, হেমদ্বার খুলি,
ছুটিবে অনন্তে বিদ্যুতের বেগে,
আঁধার ভাঙ্গিবে পদনখ লেগে !
নহে—যে
—ফেলে দাও!—যাও অধঃপাতে
কীট হতে ক্ষুদ্র কীটাণুর সাথে
নিত্য পরমুখ চাহিয়া
কে বা কি বলিবে বলিয়া ।
ছিল।
আয় তােরা আয় মদির আধার
পূর্ণ করি ঢাল সুরা আরবার,
অমিয় নির্যাস, সােমরস সার
দ্রব হেম পরে মুকুতার পাতি
উঠুক নাচিয়া, ছড়াইয়া ভাতি,
কিসের বিষাদ-কিসের নিরাশ,
শােক দুঃখময় বিলাপের ভাষা ?
রবে সংসার মাঝারে
বিভেদ আলােক আঁধারে !
তবে ও স্ফটিক মদির আধার
পূর্ণ করি ঢাল সুধা আর বার !
সুরা নহে এভােসােম রস সার।
দ্রব হেম পরে মুকুতার থরে
সিন্ধু ফেন সম উছলিয়া পড়ে
কুদ্ধ রবির যেন বা ঝলকে।
লহকর পান 'প্রাণের পুলকে,
আঁধার আলােক মাঝারে
রবে বিভেদ সংসারে।
ছিন্ন
দিন হবে নিশা, শূন্য পূর্ণ হবে,
বাঁধা আছে যে চির বাঁধা রবে,
জীবন সঞ্চার পুন হবে শবে,
গরল হইবে ভােগ-মধু ময়,
অনলে বহিবে অনীল মলয়,
মৰ্ম্মর কোমল জিনিয়া নবনি,
মধুময় হবে বিপুল অবনি ।
জননী বসুধা পুলকে
মাতিয়া জিনিবে দ্যুলােকে।
কে আছিস নাহি পিইবি মাতিয়া,
ব্যাধি জালা চিন্তা বারেক ভুলিয়া,
সখা বলি হর্ষে গলায় ধরিয়া ?
সে নহে আমার—সে তত সখা নয় ।
বাধা কোথা তার হৃদয়ে হৃদয় ?
হীন সরিসৃপ স্বপনে কখন
বুঝে কি মধুর মধু সে কেমন ?
কষ্ঠে হলাহল ধরে যে !
সেহগদংশন করে যে !
ছিল।
বদনে তাহার হাসি যে ছলনা,
স্বার্থ-স্বার্থ সুধু পলকে গণনা,
সন্দিগ্ধ হৃদয়ে আশা বিবসনা,
মুখ নাহি ফুটে-পরের চরণে
পড়ে আছে অই যুগান্তশয়নে !
আপনার তার কে আছে, কে হবে ?
মুখে আত্ম যারা কয় দিন রবে ?
দুদিনে যে সব ভাসিবে।
মহানিশা শূন্যে ছুটিবে !
৫৪
ছিম-দল।
সরমা।
( ১ )
বিন্ধ্যাচলমলে বাল মহানদ,-
প্রভাতে প্রদোষে সতত যেখানে
করে আলিঙ্গন শ্যামল মৰ্ম্মরে
লহর, পুলক-অস্থির পরাণে।
শ্যামল তমাল মূলে বনমৃগ
শ্যাম দুৰ্ব্বা মাঝে ঘুমায় চাতক;
উপল আবরি গিরিশির হতে
লুটায় শ্যামল শৈবাল অলক।
একটি তাপস, একটি বালিকা,
দূর সংসারের চির কোলাহল
ত্যজি সে ৰিজনে নিকুঞ্জ রচিয়া
রহিত,—দুজনে পুলকে বিল।
পুলকে বিহ্বল গাহিত তাপস
প্রভাতে প্রদোষে “বিভু” “বিভু” নাম,
গভীর সুস্বরে উঠিত মাতিয়া
পশু পাখী তরু লতা বনধাম।
প্রভাত তপন হইত ফলিত
উজল নয়নে পলিত জটায়,
বাল মহানদ কল্লোলে ছুটিত
অকূল উদ্দেশে সুদূরে কোথায় !
-
সুদূরে কোথায় হত প্রতিধনী-
কোন্ শৈলশিরে বিজন করে,
উল্লাসে দ্বিগন্ত হইত বিকল
“বিভু বিভু” নাম গভীর সুস্বরে !
পলিত জটায় প্রভাত পন
ত্রিদিব পূজায় করিত ভূষিত,
কুসুম পরাগ উড়িয়া উড়িয়া
বিভূতির সনে আনন্দে মিশিত।
বালিকা তনয়া খেলিত পারশে,
বন মৃগ গলে পরাইয়া মালা
মহানদ বুকে দিত ভাসাইয়া
প্রস্ফুট কুসুমে সাজাইয়া ডালা।
বালিকা তনয়া উপল শয়নে
ঢালি তনু কভু রহিত চাহিয়া
দেব ভাব ময় তাপস বদনে,
বিভু বিভু গানে বিহ্বল হইয়া।
আসিত পবন অলক লইয়া
খেলিত সােহগে ললাটে কপােল,
হইত অস্থির বাকল দুইয়া,
পড়িত ঝরিয়' ফুলদল কোলে।
কত দিন গেল এমনি বহিয়া সেবনে,
বিভুবিভু নাম প্রভাতে প্রদোষে বদনে,
শয়নে স্বপনে শ্রবণে।
ছিন্ন-দল।
( ২ )
উজল প্রভাতে মহানদ নীরে,
মরাল দম্পতি ভেসে যায় ধীরে,
ভেসে যায় ফুল অকুল উদ্দেশে
ধরিছে সাঁতারি কানন বালা।
যৌবন প্রভাতে শৈশবের বুকে
ফুটে নবরাগ,—ফুটে চারুমুখে
প্রথম উচ্ছাস গিরিজা সমুখে
যেন বা বসন্ত ধরেছে ডালা।
উষার ললাটে সিন্দুরের ঘটা,
যেন শশী-কোলে দামিনীর ছটা-
আপনি হাসিছে, হাসি চমকিছে,
হৃদয় পুলক-মাধুরী ধাম।
না জানে এখনাে সরম কেমন,
আপন আবেশে আপনি মগন,
কুতূহলে ভাসে নিবিড় নয়ন,
তবু ও তাহার সরমা নাম!
ছিল।
তরঙ্গের নিচে নগনা রমণী
রমণী তাে নয়, যেন বা রজনী
শেষে শশী আসি ডুবেছে আপনি,
আপনা লুকায়ে সে দেহ-বাসে
তরঙ্গ চুমিছে উরস মৃদুলে,
চুমিছে অধর কভু কভু ভুলে,
কেলি কুতূহলে দূরে নিয়ে ফুলে
ফেলে, যেই দেখে নিকটে আসে।
ছি ছি! সরে যাও কে তুমি লুকায়ে
বন বিটপির আড়ালে দাড়ায়ে,
অনিমিক আঁখি—কে তুমি, কি দেখি
কি ভাবি কি হেতু দাঁড়ায়ে রহ?
তাপস তনয়া সরম জানে না,
বৃদ্ধ পিতা বই নয়নে আনে না,
বিভু নাম বিনা শ্রবণে শুনে না,
তুমি যে যুবক-তাপস নহ।
DIP SHUKHA
LIBRARY
KASTASANGRAH'
ছিল।
ও দেহে তােমার যৌবন উছলে
স্তিমিত নয়ন, যেন কুতূহলে;
কি জানি কি আছে অই বক্ষতলে!
সরমা সরলা সরিয়া যাও।
ও যে প্রণয়ের লােল দরশন !
প্রেম তত জানে না বালিকা এখন,
আপন হৃদয়ে আপনি মগন,
ছি ছি। ওরে ক্ষণ খেলিতে দাও।
(৩)
প্রভাতে প্রদোষে তপন কোমল
হইয়া প্রবেশে সেই তপােৰনে,
নিশার আঁধার নাশিয়া বিমল
কৌমুদি ঘুমায় পল্লব শয়নে।
যত বন মৃগ, যত বন পাখী,
যত ৰন তৃণ, যত বন ফুল,
যত বন লতা, যত বন শাখী
সরমা আদরে সকলে আকুল
বিভু চিন্তাময় তাপস বদনে
বিভু বিভু নাম ফুটে নিশি দিন।
যৌবন সম্পাতে সরমা নয়নে
ফুটে এ জগৎ-মাধুরী নবীন
;
নবীন মাধুরী পুরাণ প্রসূনে,
নবীন লহর মহানদ বুকে,
বিহঙ্গ কুজনে নব তান শুনে
নবীন যৌবন পরশজ সুখে ;
নিত্য মহানদ লহর গণিয়া
মরাল সংহতি যায় বালা ভেসে,
আপনার মনে মগন হইয়া
বিমনা, ব্যাকুলা, বিবসনা বেশে।
যৌবন পরশে কি জানি কেমনে
কোথা হতে আসে ঘাের ব্যাকুলতা,
ভেসে যেন যায় নিতুই পবনে
অজানা দেশের অজানা বারতা !
৬১
ছিল।
নিত্য যেন যায় কত দূরে চলি
কাল হতে আজ যােজন অন্তরে,
চকিত নয়নে ছুটে যে সকলি,
চকিত গমন যৌবন লহরে।
দিন দিন আসে, দিন দিন দিন যায়-
ক্রমশঃ যৌবন পড়িল ফুটিয়া,
মুঞ্জরণ মুখ মুকুলের প্রায়
ক্রমশঃ কুসুম শােভা বিথারিয়া।
আর মহানদ বুকে নাহি ভাসে
প্রস্ফুট কুসুমে গাঁথা চারুমালা,
পরিবর্তে তার নিত্য বালা আসে
ভাসাইতে নিজ মাধুরীর ডালা।
আর বন-মৃগ পায়না সে ফুল
পরিতে গলায় অতীতের মত,
কখনাে কেবল হইয়া আকূল
সরমা আসিয়া যায় চুমে শত ।
৬২
ছিন্ন-দল।
(৪)
সহসা অতিথি কোথা হতে এল
বিন্ধ্যাচল মূলে সেই তপােবনে ?
তাপস নিকুঞ্জে, বিজন বেষ্ঠিত,
সরমা অদূরে পল্লব শয়নে।
পড়েছে কি অই কুসুম-কোমল,
সুপ্ত জ্যোৎস্নামাখা সুললিত ছবি
অতিথি নয়নে, অনাবৃত হয়ে ?
নহে কেন ক্রোধে চাহিছে রবি ?
সহসা নিকুঞ্জে না বহে পবন,
গাহে বিহগ, ঝরে পড়ে ফুল,
রবির কিরণ হয় খরতর,
মহানদ ছুটে হইয়া আকূল,
মৃগশিশু মুখ হতে ঝরে পড়ে
অরধ চৰ্বিত শ্যাম-দুৰ্ব্বা-রাশি ;-
সমা অধরে ফুটিতে ফুটিতে
কাইল কেন সহসা হাসি ?
ছিল। নয়নে নয়নে মিলিতে সরলা সলাজে বক্কল টানিল উরসে ; তাপস, সমুখে অতিথি হেরিয়া, করিল আহ্বান তাহারে হবষে। সরমা উঠিয়া মন্থব গমনে ত্যজিল সে ঠাই বিজন উদ্দেশে , তাপস না হেরে, না বুঝে, না জানে, ফুলমাঝে কীট প্রবেশে এসে। সরমা বিজন আড়ালে দাঁড়ায়ে হেরিছে অতিথি রূপের কি ছটা! কৃষ্ণকেশদাম.উন্নত ললাট নয়নে গর্বিত কুটির ঘটা, সুগঠন বাহু, সুগঠন গ্রীবা, সুগঠন বক্ষ, কটি, উরু, পদ- যৌবনে সুঠাম--তপ্ত গৌর কান্তি, খেলে যেন দেহে মদি-নদ ৬৪
হেরিতে হেরিতে প্রেম শিখা হৃদে
জ্বলিয়া উঠিল ধিকি ধিকি করি।
জানিল তাহা সরমা সরলা,
আকুলতা বশে দাঁড়াল সরি।
সরিয়া দাঁড়াতে আবার অতিথি
নয়নে নয়ন পড়িল তাহার--
পলকে সবম। হৃদয় বিকারে
পরিল অনন্ত-বন্ধন হার।
(৫)
নীল জলধির বালুবেলা পবে
ফেণশির উৰ্ম্মি পড়িছে আছাড়ি।
সায়াহ্ন ;-নীরদ-নীল-শ্যাম-থরে
ছুটে সৌদামিনী তীব্র ডাক ছাড়ি।
সে ঘাের নির্ঘোষে দূর সিন্ধু বুকে
লক্ষে লক্ষে উঠে তবঙ্গ উত্তাল,
বহে প্রভঞ্জন তরঙ্গের মুখে
দীর্ঘ ফেণ তুলি ;-আকাশ পাতাল
ধরি মল্লবেশ করে আস্ফালন ;-
একি সুরানুর রণ পুনরায় ?
ছিল।
অথবা এ পুন সমুদ্র মন্থন।
অথবা আকুল সরমা ব্যথায় ?
সেই সিন্ধুকূলে দাড়ায়ে সরমা ;
উন্মাদিনী আজি—এলান কুন্তল--
উন্মাদিনী তবু অতি মনােরমা !
সে তাে তনু নয় যেন ফুল দল।
উড়িছে কুন্তল গগনে পবনে,
বঙ্কলের বাস গিয়াছে উড়িয়া,
কভু অট্টহাস প্রভঞ্জন সনে
মিশিছে, লুটিছে কখন কাঁদিয়া !
কখন অঞ্জলি করি বালু তুলি
মাখে দেহে, রাখে মাথার উপরে,
আপনি হাসিছে, কভু হাসি ভুলি
ডুবিছে ক্ষণেক বিষাদ সাগরে।
বলে—কোথা হতে আইল অতিথি ?
করিনু হৃদয় ঢালিয়া সৎকার ;
আজি তারে কেন ধুজি পথি পথি?
কে চুরি করিল সে নিধি আমার ?
সাগর তরঙ্গ গভীরে গর্জিল, আস্ফালি সৈকতে আছাড়ি উত্তর দিতে তার আসি, চরণ চুম্বিল, রেখা রাখি ভয়ে হইল অন্তর ! বলে—ঢালিলাম যৌবন চরণে, করিনু উৎসর্গ জীবন তাহারে বলে--বাঁধিলাম প্রণয় বন্ধনে করি বন্দী এই হৃদয় আগারে ; কারাগার ভাঙ্গি কেমনে পালাল- কোথায় পালাল—কোথা খুঁজে পাই ? কোথা জ্বলে সেই নয়নের আলো ? আশাৰ দেউটি আছে কি নাই ? হঙ্কারে ঝটিকা বিষাদ বহিয়া দিগন্তে ছুটিল ভাঙ্গিতে চুরিতে যার যত আশা,ফুৎকার করিয়া সব ঘরে দীপ ক্ষণে নিবাইতে। ৬৭
ছিন্ন-দল।
বলে-প্রভঞ্জন বল বল বল
কত দূরে যায় আমার অতিথি ?
পথ ভ্রমি তার শ্রম বুঝি হ’ল,
দিবে না কি স্বেদ মুছাইতে বিধি ?
•
তীব্ৰ শিখা জ্বলি ছুটিল দামিনী
উত্তরে তাহার, কুলিশ নাদিল
কাঁদিল সরমা ভয়ে, উন্মাদিনী,
লবণাস্তু কণা তাহারে ছাইল ।
আবরি নয়ন প্রাণের আঁধারে
হেরে সেই মুর্তি রয়েছে উজল ;
হাসিল হেরিয়া—পাইয়াছি তারে,
বলিয়া ছুটিল প্রণয়ে বিহ্বল ।
জানেনা স্পট শঠের ছলনে
ছলিয়া গিয়াছে তায়।
তাই উন্মাদিনী, উদ্ভান্ত নয়নে
আজি সিন্ধুকূলে ধায়।
পুনদর্শন।
জগত-জনম হতে ফুটে ফুল,
তবু সে নূতন আজো আছে কেন?
লতায় পাতায় শিশিরের দুল
প্রথম প্রভাত হতে পড়ে, যেন
তবু ভাের বেলা হলে আঁখি
মদির আবেশে তাহে রাখি।
যারে ভালবাসি বাসি চির দিন,
সে কি বাসি হয় ?—শুকায়, লুটায়
ধূলায় পড়িয়া, তবুও নবীন
প্রতি মুহু, যেন সাগর বেলায়
চিকণ বালুকা উজলিত
কৌমুদি-প্রপাতে, পুলকিত।
ছিল।
কত বর্ষ গেল। প্রতিদিনে তার
যুগান্তের খেলা, সহ পিপাসা,
অধীর বিশ্বতি, সংসারের ভার
এল গেল ;-তবু সেই ভালবাসা
নয়নে নয়ন না রাখিতে,
করিল প্লাবিত আজি চিতে।
মুহূকে দেখা যুগান্তের পরে,
স্বপনের ছবি নিদ্রার আঁধারে,
সে হাসি তাে নাই।—বিষয় অধরে ;
সে বালিকা নাই, যেন কেৰা তারে
আজি—করেছে অপরিচিত।
তবু-হৃদি মম বিমােহিত।
কে জানে তার কি পড়েছিল মনে
অতীতের কথা, বিস্মৃত প্রলাপ,
সেই আমি, আর সে আমার সনে
বাল্য অবরােধে, শৈশব সন্তাপ !
তাই কথা না ফুটিল মুখে !
তাই মূক রহিল সে দুঃখে!
শ্যামাঙ্গিনী।
মদির নয়নে কোথা কিবা আকর্ষণ।
কই গৌরকান্তি আর বাধে প্রেমাস?
হাসিতে তাে নাহি টলে আর এই মন,
•রবে কি সােহাগ পরে চির অবিশ্বাস ?
কত না সুন্দরী আমি হেরিনু ধরায়,
কি অনুসরণে ফিরে নিত্য পায় পায় ।
কত বিলাসের বিৰে, আলােক আধারে,
করিয়া ভ্রমণ এবে লই বিদায়
ফেলি পদচিহ্ন-রাখি ক্ষীণ প্রতিধ্বনি,
ঘুরিয়া ঘুবিয়া কত হৃদয় বিকারে।
তবে কেন শ্যামাঙ্গিনী হেরিয়া ধমনি
ভরিয়া তড়িত আজ হৃদয়ে প্রসারে ?
এতদিন পরে তবে মিলিল কি ঠাই
যেথা পুন প্রণয়ের প্রতিদান পাই ?
ছিল।
দুজনে।
দুজনে মিলিয়া সুদূর বিজনে—
যেথা বীণাপাণী প্রভাত স্বপনে
ভাসি সপ্তম্বরা তন্ত্রী পরশনে
জীবন্ত স্বরূপ মধুর সঙ্গীত ঢালিছে ।
যাই সেই ঠাই আসিব শিখিয়া,
শত অনুনয়ে সাধিয়া সাধিয়া,
সেই সঙ্গীতের কি কণা লইয়া
বিহগ তটিনী জলধি মলয় গাইছে।
দুজনে দুইটি কুসুম হইয়া,
চরণের তলে পড়িয়া পড়িয়া
পূজিলে, ভারতী বারেক ভুলিয়া
বুগান্তে পলক তরে কি কখন চাবে না ?
.
ছিল
নহে—ইয়া শুইয়া চরণ শয়নে,
সুধুই শুনিয়া শুনিয়া শ্রবণে,
যত টুকু পারি শিখিব দুজনে ;
গলে গলে মিলি আমার সনে কি যাবে না?
তুমি যা শিখিবে আমার হইবে,
আমি যা শিখিব তােমারেই দিব,
'চল—দুজনে যাইয়া সাধিয়া শিখিয়া আসিব।
LIBRARY
DIP SHIKHA
KASTOSANGRAH
MOS MAH
৭৩
ছিল।
স্বপ্ন।
১।
নিৰিল বুঝি ও দীপ আবার আবার ভ্রাল।
কি হবে আলিয়া পুন ?-নিবে যায় সেও ভাল।
কি হবে জালিয়া যদি বেদনার-যন্ত্রণার
চিত্র পরে ঢালে রশ্মি ?-আমি ত্যক্ত বিধাতার।
দীপ ?-হৃদয়ের দীপ নিবন্ত হয়েছে যার
নিবে যাক দীপ তার বিশ্ব করি অন্ধকার।
তুলনায় হয় হৃদি আঁধার একটু হ্রাস
যদি তবু ;-বাস মম আঁধারে তত বার মাস!
আমরণ, চিরতমাে—চির অমাবস্যা নিশি;
ক্ষণেক তড়িৎ-তীত্রে বিকৃত করিয়া দিশি
কেন সে তমসা খুন করিবে নিবিড়-তর
করি অই ম্লান দীপ শিখায় একটু থর ?
৭৪
ছিল।
তমাে পারাবার বুকে নিরাশা হিল্লোলে দুটি
ফণীময় শৈলমূলে নিত্য পড়িতেছি লুটি।
সফেণ তরঙ্গসনে আছাড়ি সৈকতে পড়ি
যেমন লভিয়া সংজ্ঞা একটুকু নড়ি চড়ি,
অমনি সহস্র ফণা তুলিয়া সহ অহি
করে যে দংশন দেহে! কেমনে সৈকতে রহি ?
লক্ষ্যে পূন সিন্ধুক্ষ আশ্রয় করিতে যাই--
সে তরঙ্গ মাঝে কই ক্ষণ তত বিরা: নাই।
নিবেছে গগনতারা, অন্তগত শশধর,
নিবিড় নীরদরাজি ছাইয়াছে ও অম্বর,
আমারাে হৃদয় মাঝে নাহি চন্দ্র, নাহি তারা,
নাহি লক্ষ্য, নাহি আশাশূন্য প্রাণ দিশিহারা।
আমাকে নয়নজ্যোতি নিবু নিবু হইয়াছে,
আমারাে দেহের বল কমিতেছে, কমিয়াছে,
আমারাে জীবন নভাে তিমিরে ডুবিয়া যায়,
আমায়রা ভবিষ্য মার্গ অহিময় শৈল প্রায়।
৭
ছিন্ন-দল।
নিবিল যদি ও দীপ কি হবে আবার আলাে ?
কি হবে জালিয়া পুন ?-নিবে যায় সেই ভাল।
ক্ষান্ত হও !—নিবে যায় ক্ষীণ দীপ—যেতে দাও।
আছ যদি দাড়াইয়া ক্ষণেক দাড়ায়ে যাও।
শুন, স্থির হয়ে শুন ;-বড় ভালবাসিয়াছি
বলিয়াছি, প্রতিদান চাহিয়াছি, সাধিয়াছি,
চাহিয়াছি অতীতের সব ডাের ছিন্ন করি
ও পাষাণ হৃদিমূলে বাধিতে জীবন তরী
.
নহে মম আত্মদানে অক্ষালি পাষাণ অই
বিষাদ সাগরে ভাসা এ হৃদয়ে তুলে লই।
বলে লােকে হৃদি পরে পাষাণ স্থাপন করে
‘ডুবিয়া মরুক জলে গুরু পাষাণের ভরে।
ডুবে যাই যদি আমি সিন্ধু গর্ভে চিরতরে,
সেই ভাল! তবু রব অই হৃদি হৃদে ধরে।
সেই সুখ, সেই শান্তি—কিছু তত চাহিনা আর,
স্বরগের সুখ কিম্বা অন্য সুখ বসুধার।
ছিন্ন-দল।
স্বর্গ ? রসাতলে যাক ! কোথা স্বৰ্গ তুমি বিনা ?
স্বর্গ মর্ত্ত তুমি মম, নাহি জানি জান কি না।
বুঝাইতে গেলে তুমি চলে যাও,-বলে যাও
“ভাষায় কি ভালবাসা ?”—ভাষা অধঃপাতে দাও।
কি ভাষা কোথায় আছে যাহারে আশ্রয় করি
বলি খুলে কত প্রেম এ পূর্ণ হৃদয়ে ধরি ?
কি ভাষায় বেগ তার ধরিবে, বহিয়া ছুটে
গিরি প্রপাতের হেন পড়িবে ও পায় লুটে ?
কি ভাষায় যুগপৎ চন্দ্র সূৰ্য্য একঠাই
উদিবে আলােকি লক্ষ্য ?—বিশ্বে তাে সে ভাষা নাই।
কি ভাষায় বহ্নিমাঝে ফুটিবে কুসুমরাজি ?
সে ভাষা তাে নাহি ভবে, সৃজন নহিল আজি।
ভাষায় অর্ধেক মাত্র ফুটে হৃদয়ের কথা,
ভাষায় নিবিয়া যায় অর্ধেক মৰ্ম্মের ব্যথা ;-
তবুও এ ভাষা বই কি আছে দর্পণ আর
যাহে হৃদয়ের বিশ্ব ফলিত করিতে পার?
৭৭
ছিম-ল।
তাই এ ভাষায় ভাসি, তাই মানি এ সম্পদ
সম ভিক্ষু নৃপতির—যদিও ভগন পদ।
মুক্ত বাতায়ন পথে হের অন্ধকার অই,
ও আঁধার নাহি যেথা হেন অনুকণা কই ?
আলােক বিশ্বের ঋণ, ঋণমুক্তি অন্ধকার।
ক্ষুদ্র নয়নের মাঝে যেই মােহ পারাবার
আছে বাধা, আছে তাহে ইন্দ্রজাল লুকাইয়া,
কুহক কৌস্তুভ ছবি যায় সুধু দেখাইয়া ।
মস্তিষ্ক ?সে ইন্দ্রজাল দর্পণ স্বরূপ হয়ে
খেলে চিত্ত, বৃত্তি, ক্রিয়া, ধারণা, কল্পনা লয়ে।
যেতে দাও!—নিবিয়াছে ক্ষীণ দীপ ধীরে ধীরে।
চলে গেলে ?—চলে যাও,দেখা কি হবে না ফিরে ?
হয় তাতেই বা কি ? রবে চিত্র চির দিন
হৃদয়ের গূঢ় কক্ষে—সে আলাে না হবে ক্ষীণ,
সে আলােকে উদ্ভাসিত অন্তর জগৎ মম,
হ’ক না এ বাহবিশ্ব তমসা বৰ্ত্তল সম।
৭৮
ছিল।
२
সহসা ভাঙ্গিল স্বপ্ন ;-সে কি স্বপ্ন ? অথবা সে
প্রকৃতের প্রতিকৃতি—তথ্য ঋণাবৃত বাসে ?
একি স্বপ্ন ?যেই আলাে নিবিল, সে চলে গেল,
অমনি কুহক ঘাের কোথা হতে ছেয়ে এল ;-
মনে হ’ল শ্মশানের মধ্যস্থলে অস্থিরাশি
ঢালি রচিয়া শয্যা কে মােরে ডাকিছে আসি।
অদৃষ্ট বন্ধন যেন টানিয়া ফেলিল মােরে
শ্মশান শয়নে সেই—শুইলাম ভীতিঘােরে
;
ভাবিলাম এ জীবন শ্মশান আমার কাছে,
শ্মশান শয়ন বই কোথা আর ঠাই আছে ?
দেখিতে দেখিতেকিন্তু সে শ্মশানে কোটি ফুল
ফুটিয়া উঠিল স্বতঃ, গাহিল বিহঙ্গকুল,
আকাশে উদিল চঁাদ, ফুলে ফুলে জ্যোৎস্না লুটে,
বালমৃগ সনে খেলি মলয় বহিল ছুটে,
শশান শয়ন সেই হইল পুলকময়,
স যে ফুলদল সুধু, সে তাে সব অস্থি নয়।
৭৯
ছিল।
দেখিতে দেখিতে ফের কে অপ্সরা এল কাছে,
অচঞ্চল সৌদামিনী অঙ্গে অঙ্গে ফুটে আছে,
মুখে মৃদু হাসি রাশি মিশ্রিত গানের তানে, .
নয়নে শ্রবণে পশি পুলকে প্লাবিল প্রাণে।
চুইল কুসুম স্পর্শে অঙ্গরা আমার দেহ,
সে শ্মশান শয্যা হল তখনি মহেন্দ্র গেহ ;
শিহরিল তনু মম, শােণিতে বিলাসময়
কি লহর লীলা উঠি ভাসাইল এ হৃদয়।
কে অপ্সরা ?—চেয়ে দেখি আরাধ্যা আমার বেই
অপ্সরারূপিণী এযে প্রেমময়ী দেবী সেই !
৬
দেখিলাম, রহিলাম ডুবিয়া মদির মােহে
কুসুম শয়ন পরে বুকে বুকে বাধা দোঁহে ;.
সে গাহিল প্রেম গান, সােহগে অলস হয়ে
বিভাের অবস অঙ্গে রহিলাম বুকে লয়ে।
কতক্ষণ! কতক্ষণ? মুহূর্তে যুগান্তু যেন
হ’ল জ্ঞান, নাহি জানি কতক্ষণ ছিনু হেন।
ক্রমশঃ কি হল ?—ঠিক মনে নাই কি হইল,
অঙ্গরারূপিণী সেই হাসি হাসি কি কহিল
;
এ কি স্বর্গ ? কি আনন। এতদিন পরে তবে
হইল মিলন দেহে? আর কি চাহি ভৰে।
ধরিলাম বক্ষস্থলে উন্মাদ হইয়া তায়,
আবার হাসিল বামা, সােহাগে শিহরে কায় ।
চুম্বিল অধরমম, কিন্তু সে চুম্বনে যেন
ফুটিল বিষের শিখা!-শত অহিদন্ত হেন
করিল দংশন সেই কোমল চুম্বন স্পর্শ;
মুহূর্বে ফুরায়ে গেল সব সুখ, সব হর্ষ।
যে শশান সে শশানে অস্থিশয্যা পুনরায়!
নাহি সে অঙ্গরা আর-সে সুধু কঙ্কালকায় ।
আঁধার বিজন সেই, দিগন্ত আঁধাময়,
সহস্র নিয়ে ক্রিমি ক্ষিতি আবরিয়া রয়,
যেথা ছিল তরুজি সেথা এৰে শত তে,
যেথা ছিল ফুলদল সেথা অস্থি সমবেত,
১
ছিল।
বিহঙ্গ গাহিতেছিল হল গৃধে পরিণত,
মৃগশিশু ছিল যেথা এবে শিবা সমাগত,
আঁধার গগনপটে, নিবিড় নীরদ পরে
গরজি ছুটিল বজ শিখা জ্বালি স্তরে স্তরে,
পিশাচ পিশাচী নাচে, হাসে অট্ট অট্ট হাস,
শব বসা মাখে দেহে পরি শবঅন্ত্রবাস !
কি ভীষণ! ভয়ে আমি চিত্রার্পিত মত রহি
ভাবিলাম পলাইব—কিন্তু আমি আমি নহি।
চাহিলাম দেহ পানে-পেশি চৰ্ম্ম হরে নৈছে,
ধবল কঙ্কাল সুধু গ্রন্থি দিয়া রেখে গেছে,
সংজ্ঞাময় কঙ্কালের স্তুপমাত্র দেহ মােয়,
গলিয়া পড়িছে তাও ছিডি ছিড়ি গ্রন্থি ডাের ।
দেখিতে দেখিতে হল নয়নের গতিরােধ।
এ কি মরণ?—তবু আছে জ্ঞান, আছে বােধ ;
অথবা উন্মাদ আমি ?—কি শব্দ হইল অই ?
এ যে পরিচিত কণ্ঠ—এ যে সেই !—কোথা—কই ?
৮২
ছিন্ন-দল।
কি বলিলে ? সত্য তুমি পার্শ্বে মম পুনরায় ?
প্রসারি কঙ্কাল-বাহু পুন পরশিতে তায়
খসিয়া পড়িল অস্থি! ভেঙ্গে গেল স্বপ্নঘাের।
এতে সেই কক্ষ মম; রয়েছে সমুখে মাের
সেই নির্বাপিত দীপ, সেই ছিন্ন ফুলহার,
সেই মুক্ত বাতায়ন ;-সংসারের কারাগার
মাঝে আমি রহিয়াছি, বসি সেই কাঠাসনে,
পার্শ্বে পড়ে আছে মাের গ্রন্থরাশি অযতনে ।
গেছে দেবী—চলে গেছে ;-আঁধার প্রকোষ্ঠ মাঝে
অনুভব হয় তার চিত্রটুকু রহিয়াছে
•
ভত্তিলগ্ন ; উঠিলাম, কাছে আসি হেরিলাম
ধারে সে ক্ষুদ্র চিত্র ভিত্তি হতে খুলিলাম,
ভাবিলাম নির্বাপিত দীপ জ্বালি পুনরায়
দেখিব সে মুখ তার ,-আঁধারেও দেখা যায়
কিছু কিছু—তবে কেন ? সহসা অলিন্দ হতে
পশিল শ্রবণপথে,
৩
ছিল।
রাখিলাম পুন চিত্র-নিলাম বলে যায়
“বৃথা চেষ্টা, বৃথা আশা! বৃথা তুমি মুটু প্রায়
“পূজিতেছ মােরে, প্রেম করিতেছ অন্বেষণ !
“এ সুধু মরুর মাঝে বারি আশে বিচরণ।
“এ জগতে তুমি আমি চিব দিন ভিন্ন রব,
নব বিশ্ব রচিবারে পার যদি তবে হব
“আবার তােমার আমি এ বিশ্বে পূর্ণ না হবে
বাসনা তােমার, আমি চলিলাম আজি তবে।
নৰ বিৰ? কে রচিবে? কোন্ বিধাতার বলে
কে আছে মানব বলী কি করিয়া, কি কৌশলে
কোন্ উপাদানে পারে রচিতে নূতন করি
এ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড?—কি প্রেমবীজ হৃদে ধরি
সকলি সম্ভব ভবে-মানব দেবত্ব পায়,
মানৰ ব্ৰত্ব পায় প্রেম যদি রহে তায়।
৮৪
অনুনয়।
আমি
তােনারে চেয়েছি,
তােনারে খুজেছি,
তােমারে ধরেছি শেষে,
তােমার নেশায়
বিভাের হয়েছি-
ঘুরেছি পাগল বেশে।
তােমার আশায়
আছি পথ চেয়ে,
তুমি এলে ধেয়ে,
কহিতে কথা,
ছিন্ন-দল।
জানাতে ব্যথা,
উপেক্ষায় গেছ হেসে।
পাষাণ হইয়া
বসে আছ তুমি,
কেঁদেছি চরণে,
ভিজাইয়া ভূমি ;
নয়ন নড়েনি,
পলক পড়েনি,
ফিরে গেছি মােহে ভেসে।
বহু দূর হতে এসেছি দেখিতে,
কথা রাখ, হেসে চাও।
করে থাকি যদি কোন অপরাধ,
ভুলে যাও সেই সব বিসম্বাদ,
ক্ষণ স্থির হতে দাও।
যদি---
-ই ভালবাসি
ফিরে কেন আসি ?
মুখের কথায়
বলা যে না যায়,
ছিন্ন-দল। হৃদি মাঝে খুজে নাও। দেখিবে সেথায় প্রেমের লতায় প্রেম-ফুলে প্রেম বায়ু বয়ে যায়। যদি সেথা প্রেম পাও, বল- ক্ষণেক হাসিবে, ক্ষণেক খোলবে, অতীত ভুলিবে, আবার গাহিবে যেই প্রেম গান গাও অামি . এসেছি ঢালিয়া দিতে প্রাণ ; নাহি যদি লও তবু যাব হৃদি তােমারে করিয়া দান, নায়ে যাইব এই বিশ্ব মথি তােমার প্রণয় গান। ম স্বপনের মত চকিত নয়নে চাও, গরবের ভরে আরক্ত বদনে যাও, DIP SHUKLE KASTOSANGRAH HOV RAH
ছিল।
একটুকু স্থান যুগল চরণে
দাও;
তােমারি কারণে ভ্রমি পথি পাখি
তুমি করিও না অপমান।
আমি যে তৃষিত
পথিক অতিথ,
শান্ত ক্লান্ত বড় প্রাণ।
হিজলা,
চাদ।
আধখানি চাঁদ যৰে বৃক্ষপত্রে ঢাকি মুখ
ধিকি ধিকি জ্বলে
কতই সৌন্দৰ্য্য তার
নীরবে গড়ায়ে যায়
কে জানে কে বলে ?
বড় ভালবাসি আমি দেখিতে ও ছবি খানি
বসি নিরজনে।
দেখিলে কে জানে কেন
সেই ছবি খানি যেন
ধীরে আসে মনে।
সেই দিন, সেই স্থান, সেই প্রাণে সেই গান
আম হৃদয়!
সেই মৃদু মৃদু হেসে,
আরি বন কেশে,
লুকাল কোথায়।
ছিন্ন-দল।
ঊষার আঁধার সেই, সায়াহ্ন আঁধার হতে
শীতল, কোমল—
সেই ঘুম ভাঙ্গা মুখ,
অরধ আবৃত বুক,
চাহনি বিমল।
শৈশব যৌবন মাঝে যেন স্থির হয়ে আছে
অাবেশ শয়নে ;
হৃদয় মুকুর খানি
শৈশব খুলল আনি
যৌবন নয়নে।
যেন ভবিষ্যৎ-পটে যে মত্ত। আছে আঁক।
তার পূব্বাভাস
কি এক কুই বশে
সেই অঙ্গে ধীরে পশে
হইছে বিকাশ।
পল্লবে আবৃত অই শশাঙ্কের অঙ্কে যেন
তার ছবি খানি
সত্নে কে রাখিয়া গেছে-
স্মৃতি-সুধা ঢেলে দেছে
কোথা হতে আনি।
ছিন্ন-দল।
বড় ভালবাসি আমি দেখিতে ও ছবি খানি
বসি নিরজনে।
দেখিলে কে জানে কেন
সেই ছবি খানি যেন
ধীরে আসে মনে।
৯১
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.