Makardah Saraswat Library, Howrah
Kankabatir Ghat Ed. 2nd
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
কঙ্কাবতীর ঘাট
নাট্যভারতীতে অভিনীত :
শ্ৰীমহেন্দ্রনাথ গুপ্ত, এম-এ
শ্রীগুরু লাইব্রেরী
২০৪,কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা
প্রকাশক-শ্ৰষুখেন্দুবিকাশ মজুমদার
পাবলিশিং সিণ্ডিকেট
২৬, কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট, কলিকাতা
দ্বিতীয় সংস্করণ
মূল্য দেড়
টাকা
মুদ্রাকর-শ্রীননীগােপাল সিংহরাম
তারা প্রেস
১৪বি, শঙ্কর ঘােষ লেন, কলিকাতা,
নট-সূৰ্য্য
শ্রীঅহীন্দ্র চৌধুরী
করকমলেষু
-
প্রতিমুহ:
মহেন্দ্র গুপ্ত .
No text on this page.
আমার লেখা প্রথম সামাজিক নাটক—কঙ্কাবতীর ঘাট । সমাজ- সমস্যার বিচার এ নাটকে নেই ; পায়ের তলায় আদিমকালের পৃথিবীর মাটী...আর তার ওপরে সভ্যতার আলােতে ও অন্তরালে গড়ে-ওঠা কটী বাঙালী নরনারী... কঙ্কাবতীর ঘাট তাদেরই সুখ-দুঃখের কথা । ‘সামাজিক নাটক’ একে বলা চলে ব্যাপক সংজ্ঞায় । কিছুদিন আগে শ্ৰীযুত, নির্মলেন্দু লাহিড়ী ‘কঙ্কাবতীর ঘাট’ নাট্য ভারতীতে মঞ্চস্থ করবেন বলে স্থির করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ নাট্য- ভারতীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় আমিও পাণ্ডুলিপিখানি ফেরৎ নিয়ে এলুম। পরে নটসূয্য অহীন্দ্র চৌধুরী নাট্য ভারতীর নায়কত্ব গ্রহণ করে আমায় খবর পাঠান এবং কঙ্কাবতীর খাট ওখানে মঞ্চস্থ করবার জন্যে আগ্রহ প্রকাশ করেন। আমি পাণ্ডুলিপিখানি অহীবুর হাতে তুলে দিই। নাটকখানিকে সকল দিক দিয়ে সাফল্যমণ্ডিত করতে অহীবাবু যে কতত পরিশ্রম স্বীকার করেছেন তা কখনো ভুলতে পারব না। তার পরিশ্রমের সার্থকতাকে প্রতি অভিনয় রজনীর পরিপূর্ণ প্রেক্ষাগৃহ থেকে বিমুগ্ধ নাট্য-রসিকেরা অভিনন্দিত কচ্ছেন। শ্ৰীযুত, অহী চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর সহকর্মী আর দু’জন খ্যাতিমান নটের নামােল্লেখ প্রয়ােজন, তারা হলেন শ্ৰীযুত রতীন বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্ৰীযুত সন্তোষ সিংহ। কঙ্কাবতীর ঘটিকে প্রদীপের আলােকে রূপায়িত করতে তাদের যত্ন ও নিষ্ঠা বড় কম নয়। এদের সঙ্গে নাট্য-ভারতীর অার সব পূজারি ও রূপকারদের আমার সশ্রদ্ধ নমস্কার জানাচ্ছি। ইতি মহেন্দ্র গুপ্ত
ঘূর্ণায়মান নাটমঞ্চ (REVOLVING STAGE) ব্যবহার
করেও এই নাটক কি করে অভিনয় করা
চলে সে সম্বন্ধে নির্দেশ
“নাট্যভারতী”তে এ নাটক ঘূর্ণায়মান মঞ্চে অভিনীত
হয়েছিল ; সেখানে যেভাৰুে অভিনীত হয়েছিল নাটকের প্রথম
সংস্করণ আমি ঠিক সেই ভাবেই ছেপে দিয়েছিলুম। অভিনয়
করবার খুব ইচ্ছে থাকলেও ঘূর্ণায়মাণ মঞ্চ নেই বলে মফঃস্বলে
অনেক সৌখীন সম্প্রদায় “কঙ্কাবতীর ঘাট” অভিনয় করতে
পাচ্ছেন না আমার কাছে এই অভিযোগ করেছেন। তাদের
আমি কথা দিয়েছিলুম—নাটকের দ্বিতীয় সংস্করণ হলে এ বিষয়ে
নির্দেশ দেব। “কঙ্কাবতীর ঘাট” মূল নাটক অবিকৃত রেখে
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকায় বলে দিচ্ছি•••কি করে ঘূর্ণায়মান
মঞ্চ ব্যবহার না করে বইখানি তারা অভিনয় করবেন। বই-এর
দ্বিতীয় অঙ্কে কোনাে অসুবিধাই নাই...যা কিছু অসুবিধা
প্রথম অঙ্কের কয়েকটী দ্রুত বিবর্তনশীল খণ্ড দৃশ্য নিয়ে।
সেগুলির কথাই এবার বলছি।
প্রথম অঙ্ককে এইভাবে ভাগ করে নিঃ-
প্রথম দৃশ্য : বড় বাড়ীর বারান্দা : দৃশ্যটী শেষ হবে
১০ পৃষ্ঠায় লালমােহনের কথায় “আমি যাই.••একবার মিসেস
( • )
মুখাজ্জির সঙ্গে বােঝাপড়া করব—তাকে জানিয়ে দেব যে,
লালমােহন আঢ্যের লােহার পয়সা অত সস্তা নয়। কোথায়
গেলেন মিসেস্, মানে মিসেস মুখার্জি !...”
দ্বিতীয় দৃশ্য ঃ হলঘর : প্রবীর ও শিলা।
প্রথম দৃশ্যের
ঠিক পরবর্তী অংশ থেকে এই দৃশ্য আরম্ভ হবে এবং শেষ হবে,
২২ পৃষ্ঠায় লালমােহনের কথায়—“বেশতাে ! আমি আপনার
জন্যে এত বড় four seater গাড়ী কিনে আনব।” বলা বাহুল্য
যে মূল নাটকে এর ভেতর একবার দৃশ্য পরিবর্তিত হয়ে “হলঘর”
থেকে “বারান্দ।” এসেছিল (১৩ পৃষ্ঠায়); কিন্তু বারান্দার দৃশ্যের
কথা অনায়াসে ঐ “হলঘরেই চলতে পারে। ইচ্ছে হয়
বড়জোর হলঘরে একটা জানালা থাকতে পারে, শিলা—“কিন্তু
তােমার কাছে যা নিছক সত্যি, আমার কাছে তার চেয়ে
বড় অপমান আর কিছু হতে পারে না: এটুকুন তুমি কি বুঝতে
পার না?”•••এই বলে সেই জানালার কাছে গিয়ে জানালা খুলে
দিতে পারে ; বাইরের জ্যোৎস্না তখন ঘরে এসে পড়বে•••
পরবর্তী অংশের_Romantic atmosphere তৈরী করতে
অভিনেতারা, এতেই যথেষ্ট সাহায্য পাবেন। দৃশ্য শেষ হবে
একেবারে সেই ২২ পৃষ্ঠায়।
তৃতীয় দৃশ্য : বাড়ীর অন্য একটা কক্ষঃ শিলা ও মিস্টার
মুখার্জি। দ্বিতীয় দৃশ্য যেখানে শেষ হয়েছে (২২ পৃষ্ঠায় ) ঠিক
তার পরের অংশ থেকে দৃশ্য আরম্ভ ; দৃশ্য শেষ হবে ৩৯ পৃষ্ঠার
( ৩ )
মিসেস্ মুখার্জির কথায়—“কেন এসেছিস্ এখানে! চলে যা
চলে যা—চলে যা।” মাঝখানে কয়েকটা জায়গা একটু অদল
বদল করতে হবে যথা :-
মিঃ মুখার্জি। (দাড়াইয়া উঠিলেন) শিলা ! My 10/)r child !
It is really a mystery.. mystery. (?8 je!)
(মিঃ মুখার্জির প্রস্থান)
শিলা। বাবা
চলে গেলেন কেন ! |hat's the
mystery! কিসে রহস্য !
( লালমােহন ও মিসেস মুখার্জির প্রবেশ )
লাল। এই যে শিলা মানে মিস্ মুখাজি! চলুন না আমার two
seater গাড়ীতে হাওয়া খাইয়ে আনি... আর সেই সঙ্গে একজোড়া হীরের
অমন করে
(আবেগে প্রায় শিলার হাত ধরির! ফেলিতেছিল;
শিল কুদ্ধভাবে সরিয়া আসিল }
শিলা। আপনি বেরিয়ে যান বেরিয়ে যান এ বাড়ী থেকে
লাল। শিলা মানে মি—শুনুন--
শিলা। আমি আপনার কোনাে কথা শুনতে চাইনে। আপনি
যান্••চলে যা বলছি-
( মিসেস ইসারায় লালমােহনকে সরিয়া যাইতে বলিলেন। লালমোহন
চলিয়া গেলে তিনি শিলার কাছে গেলেন। মাথায় হাত রাখিলেন)
মিসেস্। শিলা! কি হয়েছে মা?
শিলা। আমি বুঝেছি মা, একটা হীন ষড়যন্ত্রের ভেতর তােমরা
আমায় ফেলেছ, আমি মলুম না কেন ! মাগো!” (২৪ পৃষ্ঠায় দেখুন) এর
('/০ )
পর থেকে যে ভাবে বই-এ সাজানাে আছে সেই ভাবেই চলবে। ৩২ পৃষ্ঠায়
আর একটু পরিবর্তন :-
লা। ভয় পাবেন না, আপনি শুধু দাড়িয়ে দেখুন আমি কি কাণ্ডটা
করি। একটা টেলিফোন করে নিয়েছি সেই এক টেলিফোনে
বাজীমাং-৩২ পৃঃ)
মিসেস। কোন বিপদ হবে না তো বাবা ? ন হ থাক্ এখন,
পরে যা হয়--
লাল। আপনি কিছু ভাববেন না। আমার লােকজন সব এসে
গেছে। ওদের গলার আওয়াজ শুনছেন না?
মিসেস্। তাইতো! কার এল ?
লাল ।
আমার লােক ! ওরা (৩৭ পূঃ দেখুন শিলাকে হঠাৎ আক্রমণ
করে চোখেমুখে কাপড় বেঁধে ট্যাকিাতে করে তুলে নিয়ে যাবে সােজা
কাশীপুর আমার বাগানবাড়ীর সামনে !” ইত্যাদি.-এর পর থেকে ঠিক
আছে, (৩৯ পৃষ্ঠায় ) মিসেসের কথা—“কেন এসেছিস এখানে? চলে
যা—চলে যা—চলে যা’–এনে দৃশ্য শেষ । মনে রাখবেন ৩২ পৃষ্ঠায়
শিলা ও প্রৰীরের যে খণ্ড দৃশ্য আরম্ভ হয়ে ৩৬ পৃষ্ঠায় শিলার
গানে শেষ হয়েছে সেই অংশটী এ দৃশ্যে থাকবে না। এই
অংশটী চলে যাবে পরবর্তী দৃশ্যে অর্থাৎ চতুর্থ দৃশ্যে। ৩৭ পৃষ্ঠায়
লালমােহনের কথা—“ওই শুনুন—গান হচ্ছে। শিলা ঐ বখাটে ছোড়াকে
কেমন দিব্যি গান গেয়ে শােনাচ্ছে! ওঃ, এও আমায় বরদাস্ত করতে
হবে! না; এখখুনি ওকে...” এই কয়টী কথা একেবারে বাদ
দিতে হবে।
• ( 9 ) চতুর্থ দৃশ্যঃ ছাদ : একপাশে অজস্র রজনীগন্ধা ; একধারে টবে একটী বুননা ফুলের গাছ। শিলা ও প্রবীর। দৃশ্য আরম্ভ (৩২ পৃষ্ঠায় ) অর্থাৎ শিলা ও প্রবীরের যে খণ্ড দৃশ্যটী আগের দৃশ্যতে বাদ দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে (৩৬ পৃষ্ঠায় ) শিলার গান শেষ হবার পর (৩৯ পৃষ্ঠা) মিঃ মুখার্জির প্রবেশ। মুখ। উম-উমা– শিলা। বাবা- মুখা। এই যে প্রবীর তুমি আছ ! বালুম ! ইত্যাদি। দৃশ্যটী শেষ হবে ৪১ পৃষ্ঠায় মুখার্জির কথায়—‘চলে গেল ! গিরিপুরী শ্মশান করে উমা আমার চলে গেল ! উমা! উমা!” এখানে চতুর্থ দৃশ্য শেষ । পঞ্চম দৃশ্যঃ চারমাস পরে। (৪১ পৃষ্ঠা দেখুন) একটী কক্ষ ; দেওয়ালে ছবি থাকিবে।•••( ৪২ পৃষ্ঠার ) মিসেস্•• “কোথায় যাচ্ছ ? কি কাজ পড়ল তােমার এখন...” এই বলে বেরিয়ে যাবেন। তারপরে ওই ঘরেই শিলা, প্রবীর ও বালক- ভৃত্য বিলাল প্যাকেট ইত্যাদি নিয়ে ঢুকবে। ( ৪৬ পৃষ্ঠায় ) শিলা—“উহু, আগে দেখতে দেব না। চোখ বােজ ; নইলে কিছুতে দেখতে দেবনা। শিগগির চোখ বােজ”—প্রবীর চোখ বুজলে শিলা ইসারা করল। ভৃত্য বিববুলাল প্রবীরের প্রস্তর- মুর্তিটী তখন সেই ঘরেই নিয়ে এল। তারপর শিলার কথা••• “এইবার দেখ...” ইত্যাদি। দৃশ্যটী শেষ হবে ৪৮ পৃষ্ঠার
( 1 )
বসেছিল ;
.
০
প্রবীর।
মিঃ মুখার্জির কথায়—“আচ্ছা, তাই হবে তাই হবে•••
হাঃ হাঃ হাঃ।” প্রবীরের প্রস্থান।
ষষ্ঠ দৃশ্য : হলঘর। লালমােহন
প্রবীরের
প্রবেশ। দৃশ্য আরম্ভ (৪৮ পৃষ্ঠায় ) লালমােহনের কথায়—
“এই যে ! নমস্কার ইত্যাদিতে। ৫২ পৃষ্ঠার নিম্নোক্ত
কথার পর দৃশ্য শেষ হবে ?
লাল। আ: ! ছাড়ুন মশায়। এভাবে আমি বলতে পারব না।
আমার জল-তেষ্টা পেয়েছে। দাড়ান, মেখে মুখে জল দিয়ে আসি।
কিন্তু প্রমাণ
লাল। সব প্রমাণ করে দেব মশাই, সব প্রমাণ করে দেব। চামেলীর
বাড়ী রামবাগানে ছিল, নন্দুয়া তার সাক্ষী ; সেই পুরানো বাড়ীটীও
বেঁচে আছে। তারাই প্রমাণ করবে—চামেলী মিঃ মুজির স্ত্রী নয়,
তার রক্ষিতা।
প্রবীর। আঃ, চলে যাও•••ও বলছি এখান থেকে ।
তােমায় আমি খুন করে ফেলব.. খুন করব।
এইখানে দৃশ্য শেষ! লক্ষ্য রাখবেন ৫১ পৃষ্ঠর কথার সঙ্গে আমি
পরবর্তী অন্য পৃষ্ঠার কথা যােজনা করে ঐ ৫২ পৃষ্ঠাতেই দৃশ্যটি শেষ
কচ্ছি ।
সপ্তম দৃশ্য ও পঞ্চম দৃশ্যে যে কক্ষ দেখান হয়েছিল,সেই
কক্ষ ; দেওয়ালে সেই ছবি থাকবে ; আর একপাশে থাকবে
প্রবীরের প্রতিমূর্তি। দৃশ্য আরম্ভ হবে ৫৩ পৃষ্ঠায় , মিসেস
মুখার্জি ও শিলা। গােড়ায় শিলার কথা—“এই তােমার নমস্কারী
(॥০ )
শাড়ী মা!”...ইত্যাদি। ৫৩ পৃষ্ঠায় শিলা—“বাবার অ্যালবাম
বইখানা কোথায় রাখলুম যেন—" বলে বেরিয়ে যাবে।
ইত্যবসরে গোবর্ধন চামেরিয়া সেই ঘরেই ঢুকে পড়বে। মিসেস্
মুখার্জির সঙ্গে সেখানে তার সব কথা হবে। ৫৭ পৃষ্ঠায়
যাই করােনা কেন—আসলে তো তােমরা সেই গিয়ে
রামবাগান” গাের্পনের এই অর্জ সমাপ্ত কথার পর শিলা
ফুলদানী নিয়ে সেই ঘরে ঢুকবে। তার হাত থেকে ফুলদানী
পড়ে যাবে। একমুহ সেদিকে তাকিয়ে ভয়ার্ত কণ্ঠে মিসেস
মুখার্জি গােবর্ধন চামেরিয়াকে বলবে—“তুমি শয়তান ! বেরিয়ে
যাও•••বেরিয়ে যাও এখান থেকে...“গােবর্দ্ধনকে একরকম জোর
করে সেই ঘর থেকে মিসেস মুখার্জি
বাইরে নিয়ে যাবেন।
শিলা টেবিলের ওপর মাথা রেখে বসেছিল—আৰ্তকণ্ঠে ডেকে
উঠল—“উঃ বাবা!”...মিঃ মুখার্জি তখন সেখানে আসবেন...
মুখার্জি। শিলাশিলা—
শিলা। শিলা নয়...শিলা নয়-
মুখ। শিলা-
শিলা।
না শিলা শুধু নাম, শিলা কারাে পরিচয় নয়। আমার
আমার বাবা কে ? আমার মায়ের পরিচয় কি? (৫৫ পৃষ্ঠা দেখুন)
দৃশ্য এইভাবে চলবে। বলা বাহুল্য ৫৬ পৃষ্ঠায় প্রবীর ও
লালমােহনের খণ্ডদৃশ্যটী এ দৃশ্য হতে বাদ যাবে। কারণ ও
কথাগুলি আগের দৃশ্যে বলা হয়েছে।•••পরবর্তী অন্য সব অংশ
(1/০ )
ঠিক থাকবে এবং এই ভাবেই ৬২ পৃষ্ঠায় সপ্তম দৃশ্য এবং সেই
সঙ্গে প্রথম অঙ্ক শেষ হবে মিঃ মুখার্জির কথায়—
“ঘুমােও মা,-ঘুমাে ও-ঘুমােও”।
আশা করি, এই নির্দেশগুলি মেনে চললে ঘূর্ণায়মান নাটমঞ্চ
( Revolving stage ) ব্যবহার না করেও যে কোন সৌখীন
সম্প্রদায়ের পক্ষে “কঙ্কাবতীর ঘাট” অভিনয় করা সহজসাধ্য
হবে। ইতি—
ষ্টার থিয়েটার
কলিকাতা,
মহেন্দ্র গুপ্ত
মার্চ,
১৯৪৪
নাট্যভারতীতে প্রথম অভিনয়—২৫শে সেপ্টেম্বর, ১৯৪১
সংগঠনকারীগণ
প্রযােজক—শ্রীরঘুনাথ মল্লিক
নাট্য নিয়ামক—শ্রীরতীন বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রীসন্তোষ সিংহ
সঙ্গীত পরিচালক—শ্রীউমাপতি শীল
দৃশ্য পরিকল্পনা--বােসে’ ষ্টুডিও
নৃত্য পরিকল্পনা—শ্ৰীমনি বৰ্ধন
প্রমটার—শ্ৰীকালীপদ বন্দ্যোপাধ্যার (১.) ও জ্যোকুমার মুখোপাধ্যায়
বাঁশী-শ্রীধীরেন বন্দ্যোপাধ্যায়
পিয়ানাে—শ্ৰীকালীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (২)
বেহালা-শ্রীকমল বন্দ্যোপাধ্যায়
আড়বাশীশ্ৰীযতীন মিত্র
হারমােনিয়াম—শ্রীঘন্টেশ্বর প্রামাণিক
জ্যায়লােফোন—শ্রীকার্তিকচন্দ্র ঘােষ (পটল )
ট্রামপেট-ঐজিতেন চক্রবর্তী
সঙ্গত—ঐবিশ্বনাথ কুণ্ডু
আবহসুর-শ্ৰীকালীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রীকমল বন্দ্যোপাধ্যায়
মঞ্চাধ্যক্ষ—শ্রীপূর্ণচন্দ্র দে
ঐ সহকারী-অমূল্যচন্দ্র নন্দী
আলােক নিয়ামক—শ্রীপ্রফুল্লচন্দ্র ঘােষ, শ্ৰীশঙ্কর ভট্টাচাৰ্য, দুলাল দাস,
শ্ৰীঅনন্ত দত্ত।
বেশপরিবেশক—শ্রীনৃপেন্দ্র রায়, শ্রীগােবিন্দ দাস, শ্ৰীযতীন দাস, শ্রীরাজকৃষ্ণ
মহাপাত্র।
সেখ বেচুমকাপ ম্যান।
দৃশ্য পরিবেশক-শ্ৰীহারাধন দাস, শ্রীকালীপদ সােম, শ্রীকার্তিকচন্দ্র,
কৰ্ম্মকার, শ্রীকেদার ধর, শ্রীদুলাল সিংহ, শ্রীবাঞ্ছারাম ঘােষ,
শ্রীসতীশ জানা, শ্রীনিমাই মিত্র, শ্রীছােটেলাল।
প্রচারক—ঐবিজয় মুখােপাধ্যায়।
শ্ৰপাঁচকড়ি দত্ত,
.
চরিত্র
মিষ্টার মুখার্জী-শ্ৰীঅহীন্দ্র চৌধুরী
প্রবীর-শীরতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
লালমােহন আঢ্য-শ্ৰীসন্তোষ সিংহ
নন্দুয়া-ঐবিজয় কার্তিক দাস
বংশী—শ্রীকুমার মিত্র
গােবর্ধন চামেরিয়া—শ্রীসন্তোষ দাস
সতীশ-শ্রাতারা ভট্টাচার্য্য
যদুপতি-শ্রীতুলসী চক্রবর্তী
কামাখ্যা—শ্রীজ্যোৎকুমার মুখােপাধ্যায়
বিধ্ব-শ্ৰীগিরিশচন্দ্র দে
দেওয়ান-যতীন দাস
টাকু–শ্ৰশান্তি গুপ্ত
খােকা- শান্তিলত।
মাল সিং—শ্রীবটকৃষ্ণ দাস
বয়গিরিশ ও গােপাল নন্দী
বাটলার --শ্রীহারাধন চৌধুরী
খরিদ্দারগণ-গিরীন, কমলেন্দু, গােপিনাথ, সত্য, শনি, মধুসূদন ।
শিলা—শ্ৰীমতী রাণীবাল।
চামেলীশ্ৰীমতী সুহাসিনী
মৃণাল—শ্ৰীমতী সাবিত্রী দেবী
লীণা-শ্ৰীমতী দুনিয়াবালা
ওহারু–মীমতি যুথিকা
জাপানী রমণীগণ-শ্ৰীমতী দুনিয়াবালা, স্নেহলতা, মহামায়া, বীণাপাণিL..
সত্যবালা, রেণুবালা, নির্মলা।
}
পরিচয়
পুরুষ
মিষ্টার মুখার্জি–প্রৌঢ় আর্টিষ্ট ;
( ঈষৎ বিকৃত মস্তিষ্ক )।
প্রবীর-অতসী গাঁয়ের তরুণ জমিদার পুত্র।
থােকা -শিলার পুত্র।
লালমােহন আঢ্য-লােহা লক্করের ব্যবসাদার ।
যদুপতি-মুষল মুগরের সম্পাদক।
সতীশ—ঐ সাব-এডিটার।
নন্দুয়া-জনৈক গুণ্ডার সর্দার ।
বংশী-ঐ পালিত পুত্র।
গােবর্ধন চামেরিয়ালমােহনের অংশীদার।
বিব্ব , কামাখ্যা, ডাক্তার, দেওয়ান, ড্রাইভার, টাকু,
খরিদ্দারগণ, হােটেল বয়গণ, গুণ্ডাগণ প্রভৃতি।
खी
চামেলী—মিষ্টার মুখার্জির স্ত্রী বলে পরিচিত।
শিলা-সুশিক্ষিত তরুণী, চামেলীর কন্যারূপে পরিচিত।
মৃণাল—প্রবীরের স্ত্রী।
লীণা-জনৈকা তরুণী।
ওহারু-মদের দোকানের মালিক।
জাপানী রমণীগণ।
।
কঙ্কাবতীর ঘাট প্রথম অঙ্ক প্রথম দৃশ্য ঈষৎ অন্ধকার রঙ্গমঞ্চ। একটা বড় বাড়ীর বারান্দা। একপাশ দিয়া দোতালায় উঠিবার চওড়া সিড়ি। সিড়ির পর দোতলার বারান্দা। বারান্দার ওপাশে দোতালার হলঘর। হলঘরে আলো জ্বলিতেছে। পিয়ানােতে বিলাতী গং বাজিতেছে । তরুণ তরুণীদের কলরব...মাঝে মাঝে প্রবল হাস্য। সবনিকা উঠিতে দেখা গেল, রঙ্গমঞ্চের এক কোণের দরজা দিয়া একজন লােক প্রবেশ করিল। অন্ধকারে সন্ত্রস্ত পায়ে খানিক অগ্রসর হইয়া আবার পিছাইয়া গেল ; পেণ্টনের পকেট হইতে টর্চ বাহির করিয়া বারান্দার চারিদিকে দেখিয়া লইল। দামী আসবাব নাড়িয়া দেখিল। পায়ের আওয়াজ। এককোণে কাইয়া সে আগন্তুকদের লক্ষ্য করিতে লাগিল। বারান্দায় দেখা দিলেন গুহামিনী মিসেস মুখার্জী ; বয়েস চল্লিশের কোঠায় ; পােষাক পরিচ্ছদে আধুনিকা তরু! হইবার হাস্যকর প্রচেষ্টা। কদাকার নন্দুয়া দাস ; বয়স পঞ্চাশোর্ধ ; পাকা বদমাসের মত চেহারা। মিসস, মুখার্জী প্রথমেই ঘরের দরজাটা বাহির হইতে বন্ধ করিয়া দিলেন । পরে চাপা গলায় নন্দুয়াকে বলিলে । মিসেস। এইবার যা দিলুম, ঐ নিয়ে যা নন্দুয়া। সানের মাসে বরং••• সঙ্গে তার
২
কঙ্কাবতীর ঘাট
নন্দু। হু-অন্ততঃ আর পচিশটী টাকা না দিলে আমার চলছে
—কত বড় ধনী লােক জুটিয়ে দিলুম ! আডিবাবু..টাকার যক!
মিসেস্। আঃ! এই নে আর দশ ••( আরও দশটাকা দিলেন )।
নন্দু। বাকী পণের নিতে কি বংশীকে পাঠাতে হবে ?
মিসেস্। বংশী-বংশী ! না••••••কেন? (সভয়ে এদিক ওদিক
চাহিয়া) তােকে বারণ করেছি কতবার যে বংশীর নাম তুই এ বাড়ীতে
নিবিনে!
নন্দু ।
নাম তাে নিবে না। কিন্তু টাকা না দিলে, শেষে বংশীকেই...
মিসে। এই নে••• যা-
আবার টাকা দিলেন।
কিন্তু খবরদার.. বংশীকে যেন
যেন এ বাড়ীর ঠিকানা দিনি
বংশী যেন এ বাড়ীর সন্ধান না পায় --
নন্দুয়াকে একপ্রকার ঠেলিয়া বাহির করিয়া দিয়া ফিরিতেই
সেই আগন্তুক অর্থাৎ মুখার্জীকে দেখিয়া সভয়ে-
চামেলী !
মুখা।
মিসেস্। তুমি—! My Gott! কখন এলে? কোথা থেকে
এলে-
মুখা। রােসােবলছি—
মিসেস্। একি চেহারা হয়েছে তােমার?
মিসেস্ হাত ধরিয়া চেয়ারে বসাইলেন।
মুখ। খুব বদলে গেছি..না? পাঁচ বছরে অনেক বদলে গেছি ?
মিসেস্। তােমায় এ বাড়ীর খোজ দিলে কে ?
কঙ্কাবতীর ঘাট মুখ। ( গায়ের আড়ামােড়া ভাঙ্গিতে ভাঙ্গিতে) বাড়ীর খোঁজ। —ভাল কথা•••কিছু খেতে দিতে পার ? দুদিন খাইনি কিছু::: টেবিলের উপর মাথা রাখিয়া ক্লান্ত ভাবে বসিলেন। মিসেস্। তুমি বসাে--আমি দেখছি কিছু আছে কিনা। মিসে পাশের পরে খাবার আনিতে গেলেন। মুখ ও একার পরে পকেটে হাত গলাইয়া সিগারেটের প্যাকেট ও দেশলাই বাহির করিলেন। গুলিয়া দখিলেন প্যাকেট শূন্য, বিরক্তি ও রাগে পকেটটাকে মাটিতে ছুড়িয়া ফেলিয়া পায়ে মাড়াইয়া দিলেন। 'রের এ কে ৭ ও কোণ খুজিয়া হঠাৎ অ্যাসট্রেতে একটা আধ খাওয়া চুরু; মিলি। তাহাই ধরাহয়। মহেনামে টানিয়া বেয় ছড়িবার পর মিসে খাবারের গলা লইয়া প্রবেশ করিলেন। মিসেস্। খাও- মুখ। ( খাইতে খাইতে এত ভাল জিনিষ রােজ খাও তােমরা ? মস্ত বড় মানুষ হয়েছ বুঝি ? অনেক টাকা আছে তােমাদের না ? মিসেস্। আজ বাড়ীতে পার্টি আছে, তাই এ সব আনিয়েছি--- মুখ।। পাটি। মিসেস্। লালমোহন আঢ্যি, লােহা লক্করের মস্ত ব্যবসা••মিলিয়াে- নিয়ার লােক-বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে এসেছেন। মুখ।। তা•••এ বাড়ীতে কেন ? মিসেস । তিনি যে তােমার মেয়ের বন্ধু- মুখা। ( হঠাৎ সচকিত হইয়া) আমার মেয়ের বন্ধু ! আমার মেয়ে ! কোথায় ? খাবার ফেলিয়া উঠিলেন।.
৪
কঙ্কাবতীর ঘাট
মিসেস্। ঐ হলঘরে।
মুখা। আমার মেয়ে এ বাড়ীতে ! আর আমি তাকে খুঁজতে কত
দেশ দেশান্তর•• ওই হলঘরে ? উমা
মিসেস্ তাহাকে ধরিলেন।
মিসেস্! (মুখার্জির মুখ চাপিয়া ধরিয়া) আঃ কি পাগলামি
কচ্ছু ! উমা নয়, শিলা-শিলা-
মুখ। শিলা !
মিসেস্ ! হাঁ, তােমার মেয়ে শিলা
মুখ। সে এখানে আর আমি তাকে খুঁজছি-
মিসেস্। খুজছ ত আজ বিশ বছর—যখন খেয়াল চাপে চলে যাও,
আবার কিছুদিন পরে ফিরে এসাে, ঠাণ্ডা হয়ে বাড়ীতে থাক ! কিন্তু
এবার এ পাচ বছর ধরে কোথায় ছিলে ?
মুখা। খুঁজছিলাম ! কলকাতা থেকে কাশী—সেখান থেকে দিল্লী,
পাঞ্জাব, রাওয়াল পিওি, কাশ্মীর—সারা ভারতবর্ষ এই পাঁচ বছর তন্ন তন্ন
করে খুজেছি—বিনা টিকিটে যাই, কখনাে নামিয়ে দেয়, কখনাে কয়েদ
রাখে। খালাস পাই, আবার চলি। জেল, হাসপাতাল, বাজার, গ্রাম, সব
দেখেছি। কোথাও সে নেই! ( ঘন ঘন চুরুট টানিতে লাগিলেন)
-তারপর ভাবলুম, এতদিনে যদি সে বাড়ীতে ফিরে থাকে! ছুটলাম
কলকাতার দিকে ; দেখি পুরাণাে বাড়ীতে অন্য ভাড়াটে! ঐ যে লােকটি
খানিক আগে এসেছিল••ও তােমাদের এই বালীগঞ্জের বাড়ীর ঠিকানা
দিলে।
মিসেস। ও ঠিকানা দিলে ! ওকে চেন তুমি ?
মন ঘাট মুখা। (মিসেসের মুখের দিকে কিছুক্ষণ চাহিয়) কি জানি, হয়তাে দেখেছি কখনাে•••অনেক আগে। না.. ভবিবার চেষ্টা করিলেন। ভুলে গেছি মিসেসের হাত ধরিয়া কাছে টানিয়া ; আচ্ছা, চামেলি, সে আসেনি এ বাড়ীতে ? মিসেস্ হাত বাড়িলেন। উমা! তবে সে গেল কোথায় ? উমা ! চেয়ারে হেলান দিয়া বসিলেন। মিসেস্। কি হবে মিছামিছি ভেবে ? ভগবান দিয়েছিলেন, তিনিই ফিরিয়ে নিয়েছেন। মুখা। No! No! It can't be•• ভগবান তাকে নিতে পারেন না••• টেবিল চাপড়াইয়া বলিলেন- I want some support•••একটা-একটা অবলম্বন আমার চাই- উঠিয়া দাড়াইলেন। মিসেস্। শিলা তাে আছে- মুখা। শিলা ! তােমার মেয়ে ? মিসেস্। হা-তােমার মেয়ে শিলা- মুখা। আমার মেয়ে। একটু চিন্তা করিয়া ৩ঃ চলাে- মিসেস্। কোথায় ? মুখা। শিলার কাছে- মিসেস্। এই বেশে ?
কঙ্কাবতীর ঘাট
মুখ।
তাতে কি হয়েছে ?
মিসেস্। (মিসেস, বাধা দিলেন ) নানা: আগে জামা কাপড়
পাল্টে নেবে।
মুখ।।
What nonsense !
মিসেসের হাত ঠেলিয়া দিয়া
আমার মেয়ের কাছে যাবাে•••মেয়েকে দেখব:••তার জন্যে
মিসেস। ঐ ওরা বুঝি আসছে ! শীগগির এসো, নইলে শিলা
তােমায় দেখে ভয় পাবে, আঁৎকে উঠবে।
মিসেস তাহাকে একপ্রকার জোর করিয়া লইয়া যাইতেছিলেন, আঁৎকে
উঠবে কথাটা শুনিয়া জোড়ে ফিরিতে ফিরিতে বলিলেন ;
মুখা। আঁৎকে উঠবে—
মিসেস্। সঙ্গে সোসাইটী গালর্সরা আছে, লালমােহন আছে; ওদের
সানে তােমায় কি বলে পরিচয় দেবে ?
মুখ। জামা কাপড় ময়লা বলে--বাপ বলতে লজ্জা হয় 'বেয়ারা
বলে পরিচয় দেবে !
মিসেস। ওরা এসে পড়ল !
( নেপথ্যে কলরব)
খাবারের থালা লুকাইলেন ; মুখার্জিকে লইয়া যাইবার চেষ্টা করিতেই
মুখ। আমি নড়ব না।
মিসেস। (খুব মিনতি করে) লক্ষ্মীটি--এসাে। এহতে পারে না-তােমার
মেয়ে আজ societyর একজন, সে এম্ এ পড়ছে—তার সামনে তােমায়
নতুন মানুষ সাজতে হবে—নতুন মুর্তি নিয়ে দাড়াতে হবে—এসােশিগগির।
টানিয়া লইয়া বাহিরের দরজা দিয়া প্রস্থান। শিলা—তার পাশে লালমােন
আঢ্য, পশ্চাতে তরুণ তরুণীর দল নামিয়া আসিল। শিলার
বয়স ২১২২, ছিপছিপে গড়ন, লালমােহনের আন্দাজ ৪০৪২
;
কঙ্কাবতীর ঘাট কামাখ্যা। সে তো নিশ্চয়, সে ত করতেই হবে! তা হলে আঢ্যি মশায়, পাটিটা লালমােহন। মিস্ মুখার্জী বলেন তাে কালই আমরা বােটানিক্যাল গার্ডেনে পিকনিক করতে যাই; কি বলেন মিস মানে শিলা- শিলা অত্যন্ত দুঃখিত। কাল আমার সময় হবে না- লালমােহন। –না–দুঃখিত হবেন না, আপনি দুঃখিত শুনলে আমার কেমন কান্না পায়। ওহে, বল না তােমরা ! কাল না হয় পরশু••• একদিন না নিয়ে গিয়ে ছাড়বাে না আপনাকে'' কামাখ্যা। বােটানিক্যাল না হয়-জু গার্ডেন লীণা। জু গার্ডেনে তুমি একাই যেয়ে কামাখ্যাবাবু! সেখানে তােমার অনেক বন্ধু বান্ধবী পাবে । সকলের প্রবল হাস্য। ' শিলাদেবী কি বলেন ? আপনি এত গম্ভীর যে ! লালমােহন। শিলাদেবী আপনাদের মত ছ্যাবলা মেয়ে নন্। এম. এ. ক্লাসের ছাত্রী। গম্ভীরতাই এম. এ. ক্লাসের ছাত্রীদের শােভা! কি বলেন, শিলা মানে মিস্ মুখার্জী ? শিলা। আপনাদের আজ কোথায় যাবার কথা ছিল—বলছিলেন না? কামাখ্যা। হা হা, মেট্রোয়-নতুন বই—ফুলস্ প্যারাডাইস- লীণা। ফুল প্যারাডাইস তো তােমার বাড়ীতে! মেট্রোতে••• Only for a kiss•••আপনি যাবেন না শিলাদেবী ? লালমােহন। নিশ্চয় যাবেন—আরে, ওঁর জন্যেই তাে এতগুলি টাকা খরচ করে তােমাদের সবাইকে নিয়ে যেতে রাজী হয়েছি। শিলা। কিন্তু আমি কি করে যাই?
কঙ্কাবতীর ঘাট লালমােহন। কেন? আমার নতুন ঝকঝকে two seater গাড়ী আপনার দরজায় দাঁড়িয়ে ! ঐ গাড়ীতে আমার পাশে বসে যাবেন••• শিলা মানে মিস্ শিলা। Two seater ! এরা যাবেন কি করে ? লালমােহন। ওদের ট্যাক্সি ভাড়া আমিই দিচ্ছি। কামাখ্যা। পৌনে ৯টা হ’ল যে ! ওদিকে Fools Paradise লীণা।' উহু! Only for a kiss ! লালমােহন। তা হলে আর দেরী নয়, চট্ করে তৈরী হয়ে নি শিলা মানে মিস্ শিলা। আজ কিন্তু আমার পুরুষগণ। চলুন, চলুন, আর কথা নয়- মেয়েরা। আপনাকে না পেলে মজাই হবে না- সকলের অনুরােধে কি ভাবিতে ভাবিতে শিলা দু-এক পা অগ্রসর হইল এমন সময় কাহিনীর তরুণ নায়ক প্রবীর ঝড়ের মত সেই গৃহে প্রবেশ করিল—বয়স তাহার অনুমান ২৫২৬। প্রবীর। শিলা—শিলা- শিলা। প্রবীর ! প্রবীর। এই যে শিলা তুমি এখানে! শােনন শিলা লালমােহন। দাড়ান মশাই...দাড়ান- এবীর। আপনারা এ বাড়ীতে লালমােহন। শিলাদেবী, আপনি তৈরী হয়ে নিগে—আমি ততক্ষণ এর সঙ্গে—দু’চারটে কথা বলি- কঙ্কাবতীর ঘাট প্রবীর। প্রবীর।. আমি তাে আপনাদের লাল।•••চিনবেন । আজ না হােক দু’দিন পরেই চিনবেন আমি এ বাড়ী কে? কি বলেন শিলা মানে মিস্ মুখার্জী-হাঃ হাঃ হাঃ- কামাখ্যা। (শিলাকে যা আপনি তৈরী হয়ে নিগে- কোথায় যাবে---? কামা। Fools' Paradise 9... লাল। থম্ কামিথ্যে ! মেট্রো সিনেমায় প্রবীর। মেট্রোয় ! কার সঙ্গে লাল। দরজায় নতুন ঝকঝকে tiv) seater দেখেছেন ? গাড়ীতে আমার সঙ্গে। প্রবীর। আপনার সঙ্গে! কেন ? কামা। কেন ! কারণ fools- লীণা। না, না, Only for a kiss. প্রবীর। Shut up! আপনারা যান-শিলা যাবে না-- লাল। আলবৎ যাবেন- প্রবীর। মানে ? লাল। মানে, ওঁর খুশী এবং লালমােহন আঢ্যের টাকার জোরে প্রবীর। হু। চলে এসাে শিলা লাল। চলে আসবে। আপনার কথায় ? প্রবীর। হ্যা, আমার কথায়- লাল। চোপরাও বেয়াদপ! জান তুমি•••আমি কে ? “জানাে••• এ বাড়ীতে আমার কি অধিকার ? জাননা তুমি আমার কত টাকা ব্যাঙ্কে মজুদ ?
কঙ্কাবতীর ঘাট
প্রবীর। আমার কিছু জানবার দরকার নেই। আপনারা শুধু জেনে
রাখুন•••শিলা আপনাদের সঙ্গে যাবে না, যেতে পারে না..ব্যস,
শিলার হাত ধরিয়া উপরে হলঘরের দিকে উঠিয়া গেল।
লাল। আপনি চলে যাচ্ছেন যে ?
শিলা মানে মিস মুখার্জী,
গুনছেন ?
হলঘরের দরজা বন্ধ হইয়া গেল।
লীণা। শিলা, শিলা, ভাই ! N() hoje!
কামা। তবে আর কি হবে ? উনি না যান আমরাই তা হলে
Fools' Paradiseg...
লীণা। উঁহু, Only for a kiss ! কি বলেন আঢ্যি মশাই
কামা। চলুন আঢ্যি মশাই।
লাল। (রাগিয়া ) যাও না, কে তােমাদের চোদ্দ পুরুষের মাথার
দিব্বি দিয়ে ধরে রেখেছে! টাকা পয়সা থাকে••• ছবি, দেখগে-
কামা। Fools' Paradise !
লীণা। Only for a kiss !
লালমােহন ব্যতীত সকলের প্রস্থান।
লাল। আমি যাই.••একবার মিসেস্ মুখার্জীর সঙ্গে বােঝ
পড়া করব; তাকে জানিয়ে দেব যে, লালমােহন আচ্যের লােহার
পয়সা অত সস্তা নয়। কোথায় গেলেন মিসেস , মানে মিসেস্
মুখার্জ।
দৃশ্য ঘুরিয়া গেল ; হলঘরে শিলা ও প্রবীর।
শিলা। লালমােহন আঢ্যি, লােহা লক্করের পয়সা তার সস্তা নয়। সেই
পয়সা সে জলের মত ঢেলে দিচ্ছে এই কদিন ধরে ! Party তে•••
* এ
কঙ্কাবতীর ঘাট
পিকনিকে ...সিনেমায়! কে জানে...হয়ত একদিন বিয়ে কর্তেই
চাইবে
প্রবীর। ক্ষতি কি ? বড় লােক !
শিলা। নিশ্চয়ই...সে বিষয়ে সন্দেহ কি ? মস্ত বড়লােক।
প্রবীর।
বড় লােক-বড় লােক। অথচ আজ মনে পড়ে সেই
ছ' মাস আগের কথা !
ইউনিভাসিটির বিডিং-রুমে রােজ দেখতুম
টাকার অভাবে বই কিনতে পাচ্ছ না বলে তুমি মোটা মােটা,
বই গুলাে একসারসাইজ-বুকে টুকে নিচ্ছ। একদিন বল্লম,—শিলাদেকী,
আমার সব বই ভুলে দু’সেট করে কেনা হয়েছে, একসেট তো কোন
কাজেই লাগছে না, আপনি যদি নে'তুমি অপমান বােধ কল্পে -
বই নিলে না !
শিলা। কিন্তু তুমিও তাে তার শােধ তুলেছ ! সব বইগুলো
পুরাণাে বইএর দোকানে জমা দিয়ে তাদেরি মারফতে আমার বাড়ীতে
পৌছে দিয়েছ।
প্রবীর। আমি! কখনো না।
তা নইলে দুশাে টাকার আনকোরা নতুন বই সাড়ে সতের
টাকায় বিক্রী করবে এত বড় বােকারাম কোনাে পুরােনাে বই ওয়ালা
নয় ! ওয়েলিংটন স্কোয়ারের মােড়ে যাকে বই বিক্রী করতে দিয়েছিলে
পরে এ কথা আমি তারই মুখে শুনেছি। বিনে পয়সায় দিলে ধরে
ফেলব, তাই সাড়ে সতের টাকা দাম নিয়েছে ।
প্রবীর। তা নইলে তুমি বই নিতে কখনাে ?
শিলা। একবার ভেবেছিলুম, তােমার বই তােমার কাছেই সাড়ে
সতের টাকার v. P. পােষ্টে ফেরৎ পাঠাই— আবার ভাবলুম•••থা-
শিলা।
ঘরে ঘাট প্রবীর। থাক কেন? ফেরৎ পাঠালেই পারতে! ওততা আর লালমােহন অঢ্যের উপহার নয় যে মাথা পেতে নিতে হবে। শিলা। হাঃ হাঃ হাঃ Funny thing! তুমি সালমােহনের উপর রাগ ক… প্রবীর ? . প্রবীর। কেন, কেন ঐ ইতর লােকটার এত আধিপত্য এখানে। বিষয় নিয়ে একটা জরুরি মামলা ছিল:••দেওয়ানের টেলিগ্রাম পেয়ে হঠাৎ দেশে যেতে হল ! আমি ছিলুম না এখানে..তাই! কেন ও এখানে আসবে? শিলা। আমায় শােনাচ্ছ কেন? আমি অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু মায়ের একান্ত জিদের জন্যেই-- প্রবীর। তােমার মায়ের জিদ। তােমার মা, তােমার মা ! My God !•••তা বলে তুমি এ জুলুম সহ্য করবে ! শিলা। Can't help! তিনি আমার মা! প্রবীর। দেখ শিলা, আজ তােমাকে ক’টি কথা বলব-don't take it otherwise. শিলা। বল- প্রবীর। দেখ, তােমার মাকে আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। তােমার সঙ্গে এই ছ'মাস আমার পরিচয় ; সেই সূত্রে এ বাড়ীতে আসি। এর মধ্যে এমন কতকগুলাে ব্যাপার ঘটেছে—যা আমি তােমাকে বলতে পারব না—শুলে তুমি আঘাত পাবে। শিলা। আঘাত পাব না, বল। প্রবীর। আঘাত নিশ্চয় পাবে, তােমার মায়েরও বারণ আছে তােমায় বলতে••তা ছাড়া•••it is too delicate !
'কঙ্কাবতীর ঘাট শিলা। প্রবীর ! প্রবীর। সবুজ রং দিয়ে বিধাতা পৃথিবীকে শ্যাম-স্নিগ্ধ করে রেখেছেন। গ্রীষ্মের রােদে এই সবুজ রঙের আস্তরণ যখন পুড়ে যায় : পৃথিবীর নগ্ন বিভৎসতা ধরা পড়ে। তুমি এই বাড়ীর সেই শ্যামলিমা। যে দিন বাড়ীতে এসে তােমার দেখা না পাই...সে দিন আঁৎকে উঠি এ. বাড়ীর রূপ দেখে•••আঁৎকে উঠি তােমার মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ! • শিলা। কি বলছ তুমি? তুমি ভুলে যাচ্ছ•••কার সম্বন্ধে কথা বলছ তুমি ! প্রবীর! জানি শিলা, কিন্তু আমি তাে কারুকে অপমান করবার জন্যে এ কথা বলিনি। যা নিছক সত্যি শিলা। কিন্তু তােমার কাছে যা নিছক সত্যি, আমার কাছে তার চেয়ে বড় অপমান আর কিছু হতে পারে না•••এ টুকুন তুমি কি বুঝতে পার না ? শিলা উঠয়া বারান্দায় চলিয়া গেল। দৃশ্য ঘুরিয়া গেল। একটু পরে প্রবীর তাহার পার্শ্বে গিয়া দাড়াইল। বারান্দায় প্রবীর। শিলা, আগেই বলেছিলুম, তুমি আঘাত পাবে•• শুধু সেই জন্যেই-- শিলা। তুমি জান না, আমার মা তােমাকে কি স্নেহের চক্ষে দেখেন। প্রবীর। তােমার মায়ের স্নেহ শিলা। এতদিন বলিনি তােমায় এ কথা । ছ'মাস আগে যে দিন তুমি এ বাড়ীতে প্রথম এসেছিলে, সেইদিন মা বললেন, শিলা, প্রবীর আমাদের সৌভাগ্যের অগ্রদূত। ও এল•••আর খবর পেলাম তাের ১৪ কঙ্কাবতীর ঘাট বাবা বােম্বের একটা বড় ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেকটার হয়েছেন।•••সে দিন থেকে আমরা দর্জিপাড়ার বাড়ী বলে বালীগঞ্জের এই বড় বাড়ীতে উঠে এলাম। সেদিন থেকে আমাদের পরিবারে•••আমার মায়ের চোখে••• সবার চেয়ে কাম্য অতিথি হলে তুমি! সেই তুমি আমার মাকে প্রবীর! শিলা, শিলা,—আমায় ক্ষমা করো। না বুঝে হয়তো ভুল করেছি•••সে ভুলের জন্যে তােমার কাছেও কি মার্জনা পাব না শিলা? শিলা চুপ করিয়া রহিল যার উপর দাবী আছে, জোর জুলম তাে তার উপরই চলে। শিলা। আমার উপর তোমার দাবী আছে নাকি ? প্রবীর। এর জবাব শিলাদেবীর নিজের মুখ থেকেই শুনতে চাই। শিলা। তা হলে শিলাদেবী বলছেন•••না, নেই। প্রবীর। কিন্তু চাদের আলােয় শিলাদেবীর চোখ দুটি স্পষ্ট বলছে••• -আছে। শিলা। চাদের আলাে তাে যৌবনের আলেয়া! ওকে বিশ্বাস করলে ঠক্বে। প্রবীর। চঁাদের আলাের অপরাধ ? শিলা। অপরাধ এই যে, ভাদ্রের ভরা গাঙে সাতার কাটতে এসে সবার আগে উনি রূপােলী মায়ার জাল বােনেন! অর্থাৎ খুব মিষ্টি করে মিথ্যে কথা বলাকেই কলাবিদ্যে হিসাবে অভ্যাস করে নেন। প্রতারণা, শাঠ্য প্রভৃতি সােল কলায় উনি তখন পূর্ণ হয়ে উঠেন। এবং অতঃপর প্রবীর। থামলেন কেন ? বলুন মহাশয়া,অতঃপর ? শিলা। অতঃপর সেই ষােল কলায় পূর্ণ চন্দ্র দেব হঠাৎ একটা শান্ত শিষ্ট মানুষের মুর্তিতে বালীগঞ্জের এক নির্জন বারান্দায় নেমে আসেন। .
কঙ্কাবতীর ঘাট :
প্রবীর ।
এবং বর্ষার সেই উচ্ছল নদীকে একটা নিতান্ত-মুখরা
বিংশশতকের তরুণীরূপে সামনে পেয়ে গান শােনাতে মিনতি করেন।
শিলা। উহু উনি মিনতি মানেন না।
প্রবীর। মিনতি না মানেন, তাকে জুলম সইতে হবে ।
হাত ধরিল ।
শিলা। বীর পুরুষ।
তােমার বাহাদুরি দেখে...ঐ দেখ, আকাশের
চাদ এমনি করে-হাঁ করেছে।
তাহার ই করিবার ভঙ্গীতে প্রবীর হাসিয়া উল। শিলা ও হাসিতে যোগ
দি... প্রবীরের কণ্ঠ-লগ্ন হইল।
প্রবার। কিন্তু ভাদের সেই ভরা নদী চাদকে তার বুকে পেয়ে তো
নীরব থাকে না? কাণায় কানায় ভরা নদীর সব উচ্ছাস জলতরঙ্গের
কলকণ্ঠে জেগে ওঠে। নদীর উচ্ছসিত গানে...বনস্পতির পাতায় জাগে
মৰ্ম্মর, পাখীর কণ্ঠে জাগে কাকলী ! কই সে কাকলী•••? কই সে গান ?
শিলার গান
মম ফারুণ অটবীতে-
যেন শুনি পদধ্বনি বাজে ।
মানে হয় রি ধ্বনিরিণি ঝিণি
জাগে হিয়া মাঝে।
আকাশেতে অবধা চাদ, অথবা বাঁকা তটিনী
আলাে ছায়া ঝিলিমিলি, নাচে মায়া নটিনা ;
তারি সনে মাের মন অনুপণ
দোলে ভীরু লাজে।
কঙ্কাবতীর ঘাট
( নুখার্জীর প্রবেশ)
tentent How devine !
সাড়া পাইয়া শিলা চমকিয়া উঠিল ! প্রবীর ঈষৎ অন্ধকারে
বিস্মিত ভাবে দাঁড়াইয়া রহিল।
শিলা।
কে ?
প্রবীর। কে তুমি ?
মুখ।
কে তুই?
প্রায় দৌড়াইয়া কাছে গিয়া
উম! না শিলা !
শিলা।
( শিলা চিনিতে পারিয়া) একি! বাবা! তুমি কখন
এলে বাবা ?
শিলা মুখার্জীকে জড়াইয়া ধরিল।
মুখা। উমা! কখন এলি মা?
শিলা। উমা নই। আমি যে তােমার শিলা।
মুখা।
'ওঃ ওঃ-
শিলাকে সরাইয়া দিলেন—আপন মনে বলিলেন ‘শিলা।
পরে--শিলার মুখ একদৃষ্টে দেখিতে দেখিতে...
But you are that devine Desdimona whome
the grace of heaven encircles !
দুই হাতে শিলার মুখ তুলিয়া ধরিয়া দেখিতে লাগিলেন।
শিলাকে ছাড়িয়া ফিরিতে ফিরিতে
উমা আমার শিলা হয়ে গেল! পাষাণ শিলা।
শিলা। বাবা, আমার কাছে বসবে এসো-
মুখা। (শিলার দিকে মুখ না ফিরাইয়া) কাছে থেকে ও তােকে
ধরে রাখতে পাচ্ছি কৈ শিলা? উমাকে কাছে রেখেছিলুম•••তাকে কেড়ে
কঙ্কাবতীর ঘাট ১৭ নিলে! আজ তােকে কাছে পেয়েছি—তাকেও কেড়ে নেবার জন্যে ওরা হাত বাড়িয়েছে। টেবিল ধরিয়া মাথা নীচু করিয়া দাড়াইলেন। শিলা। কারা হাত বাড়িয়েছে ? মুখা। ওই ইতস্ততঃ তাকাইলেন। এক পার্শ্বে প্রবীরকে দেখিয়া চীৎকার করিয়া উঠিলেন— who is that ! শিলা। আমার class mate প্রবীর- মুখা। প্রবীর! why in the dark? Come out boy! Come out! Have you got a light with you? প্রবীর। Light! মুখা। Yes...light! আমি সব সময় টর্চ ব্যবহার করি ; এ বাড়ীতে এসে বেটারি ফুরিয়ে গেছে, তােমার সঙ্গে টর্চ আছে ? প্রবীর। না- Then how could you dare to stand by the side : of a helpless girl ? You get out! প্রবীরের দিকে আগাইয়া গেলেন। শিলা। বাবা- মুখা। I say, get out! প্রবীর হতবুদ্ধির ন্যায় প্রস্থান করিতেছিল। মুখার্জীর ডাকে আবার ফিরিল- মুখা। No, wait ; তােমাকে সহজে ছাড়তে পারি না:•• Why do you come here? এ বাড়ীতে তুমি কেন আস?
১৮ কঙ্কাবতীর ঘাট প্রবীর। আমি শিলার class mate- মুখা। আরও দশ বিশ ডজন ছেলে শিলার class mate আছে ; তারা এ বাড়ীতে আসে ? প্রবীর। না- মুখা। 067? Why are you an exception my boy? Have you fallen in love with Shila! তুমি শিলাকে ভালবাস? প্রবীর। আপনি-আপনি কি বলছেন? you love this girl? মুখ। Do শিলাকে টানিয়া লইয়া প্রবীর। Yes! মুখা। Why do you love her? কেন একে ভালবাস? কিছু পরে একে বিয়ে কর্তে পার ? প্রবীর। Yes- মুখা। তুমি এর জন্যে সব ত্যাগ কর্তে পার ? প্রবীর। Certainly I can ! I prize Shila above the whole world, শিলার জন্য আমি সব পারি। মুখা। (শিলাকে ছাড়িয়া প্রবীরের দিকে আগাইতে গাইতে) My boy! Don't be carried away too far by your emotion and sentiment ! তােমায় একটা দিন ভাবতে দিলুম, বেশ ভাল করে ভেবে চিন্তে যদি বুঝতে পার if you are thoroughly convinced..যা বল্লে এ তােমার অন্তরের নির্দেশ•••া হলে শিলাকে
কঙ্কাবতীর ঘাট
'১৯
নয়ে যেও। আর যদি তা না হয়—এ বাড়ীতে দ্বিতীয়বার এসাে না।
553 961 Shila is dead or She is doomed.
শিলা ইঙ্গিতে প্রবীরকে বলিল, আমি মুখার্জীকে বাহিরে নিয়ে যাচ্ছি,
মুখার্জীকে নিয়া শিলার প্রস্থান। প্রবীর গোজ হইয়া ফিরিয়া
যাইতেই মিসেস্ মুখার্জীর প্রবেশ।
প্রবীর।
মিসেস। একি! প্রবীর! কখন এলে বাবা ? চলে যাচ্ছ !
তােমার শরীরটা কি ভাল নেই বাবা?
বেশ ভালই ত আছি।
মিসেস। তবে অমন করে বসেছিলে কেন? শিলা কোথায় ?
প্রবীর। ঐ ঘরে...তার বাবার সঙ্গে কথা কইছে।
মিসেস। তার সঙ্গে তােমার আলাপ হয়েছে নাকি ?
প্রবীর। বিশেষ কিছু নয়, তবে পরিচয় হয়েছে।
মিসেস। একটা জরুরি ব্যাপারে আটকে পড়েছিলুম•••না সেরেও
তাে আসতে পারি না; তাই
প্রবীর। কিছু না—আচ্ছা, এবার তা হলে আমি আসি-
মিসেস। শিলার সঙ্গে একবার দেখা করে যাবে না? শিলা
প্রবীর। না থাক, সে এখন ব্যস্ত।
মিসেস। না ব্যস্ত কিসের ? তুমি এলে তার কি অন্য কাজ কর্ম
কিছু মনে থাকে ? বােসো।
প্রবীর বসিল।
হ্যা, ভালকথা—ভুলেই গিয়েছিলাম ! কাল বাড়ী ভাড়ার দিন•••
মনে আছে তাে বাবা?
২০ কঙ্কাবতীর ঘাট প্রবীর। হ্যা, এই নিন- টাকা দিল। মিসেস। সংসার খরচ যা দিয়েছিল, সে ও তাে প্রায় ফুরিয়ে এল। প্রবীর। কালকেই পাঠিয়ে দেব। মিসেস,। হ্যা, তাই দিয়াে। তােমায় কি আর বলবাে বাবা! যে ভাবে টেনে আসছ—এ দুঃখীদের সকল বােঝ- প্রবীর। থাক, থাক্ ! ওসব কথা থাক্•••শিলা শুনতে পাবে। মিসেস। না, সে তার বাপের কাছে। জানাে বাবা, মেয়ে আমার জানে•••তার বাবা বােম্বের এক ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেকটার হয়ে এসেছেন। প্রবীর। কিন্তু তিনি যদি শিলাকে সব কথা বলে দেন ? মিসেস,। ওঃ! তাও তাে বটে! ভেবেছিলুম ওকে বারণ করে দেব...শিলাকে বলতে। ওঁকে বলতে ভুল হয়ে গেল। যাই, ওকে তে সাবধান করে দিতে হবে । যাইতে যাইতে ফিরিয়া। কাল তা হলে এসো বাবা! দেখ , আর একটা কথা এমন সময় লালমােহন আসিয়া প্রবীরকে দেখিয়া চমকাইয়া দাঁড়াইল। লালমােহন। মিসেস্! একটা কথা ছিল— মিসেস। একটু দাড়ান বাবা- প্রবীর। থাক, এখন আমি যাই- মিসেস। না-, একটু বসাে। লাল। আমার কিন্তু আবার
কঙ্কাবতীর ঘাট
মিসেস। একটা মিনিট! একটু অপেক্ষা করুন বাবা! প্রবীর,
তুমি বাইরের ঘরে একটু অপেক্ষা কর
লাল। কিন্তু আমার কাথাটা
মিসেস। এখুনি শুনেছি বাবা। লালমােহন সম্বন্ধে তােমায়
কতকগুলি কথা বলব— শিলার ভবিষ্যংটাও ত দেখতে হবে !
প্রবীর যাইতেছিল।
নিশ্চয় তােমার কোন কষ্ট হবে না?
প্রবীর।
৮
লাল। ও কে বলুন তাে মিসেস
মিসেস। ও শিলার class inate প্রবীর, জমীদার ।
লাল। জমিদার ! ফু-কত টাকা আছে ওর ?
মিসেস। তা মস্ত বড় জমীদার—অনেক টাকা
লাল। তাই অত খাতির ওর এখানে-
মিসেস। না—না, শুধু তাই কেন! প্রবীর বড় ভাল ছেলে, আর
-চ্ছেও অনেক
লাল। প্রবীর! প্রবীর! প্রবীর! ওর সাধ্য কি আমার উপর টেকা
দিয়ে যায়। আমিও দেবব থােবাে অনেক ; পরশু দিয়েছি পাঁচশাে
টাকা.••এই নিন ফের পাঁচশাে টাকা আরও দরকার হয়, কাল দেব।
মিসেস। আর সেই নেকলেশ?
লাল। নেকলেশ! কালই সকালে কিনে আনবে।
মিসেস। বেশ, বেশ, তুমি কিছু ভেবােনা বাবা, এদিককার সব
আমি ঠিক করে দেব।
২২
কঙ্কাবতীর ঘাট
লাল। আচ্ছা
যাইতে যাইতে ফিরিয়া
আর দেখুন মিসেস, ও যে রকম জোড়জাড় করল--দেখলুম
শিলার উপর•••প্রায় একরকম হুকুম ; আর শিলাও চুপ করে সব সয়ে
গেল..তাতে মনে হয় যে শিলা ওকেই ভালবাসে
মিসেস। ও কিছু নয়—প্রবীর ওকে বেড়াতে টেড়াতে নিয়ে যায়,
অনেক present দেয়।
লাল। আমিও তাে রাজী আছি, তা সে যেতে চায় না আমার সঙ্গে!
আর present ? নেকলেশ নিয়ে আসছি এখুনি
মিসেস। জিনিষটা ভাল হয় যেন
লাল। নিশ্চয়ই ! আমার তেমন পছন্দ নয় ! একজোড়া হীরের
দুল আনবাে কি ?
মিসেস। দুল ! তা আনবেন, অবিশ্যি যদি ভাল হয়—
লাল। আপনি লজ্জা দেবেন না মা,—মানে মিসেস্-
মিসেস। কিন্তু বাবা, শিলা যেন ঘুনাক্ষরে এ সব জানতে না পারে !
জানবেই ত সব, দরকার কি এক্ষুনি জেনে ?
লাল। ঠিক, দরকার কি এখুনি জেনে ?
মিসেস্। আর বাবা, বলছিলুম কি, Two seater গাড়ীতে আর
চলে না।
লাল। বেশ তাে! আমি আপনার জন্যে এতবড় four seater
গাড়ী কিনে আনব?
মিসেস্ ও লালমােহন কথা কহিতে লাগিল ।
মঞ্চ ঘুরিয়া গেল।
কঙ্কাবতীর ঘাট ২ হলঘর শিলা মিষ্টার মুখার্জীর পাশে বসিয়া চুল আঁচড়াইতে ও মাথায় হাত বুলাইতেছিল। শিলা। বাবা, তােমাকে বুঝি খুব খাটতে হয়? একখানি চিঠি দেবার ফুরসুৎও পাওনি? মুখা। (আরাম করিয়া চেয়ারের back rest-এ মাথা রাখিয়া' টেবিলে পা তুলিয়া চক্ষু বুজিয়া বসিয়াছিলেন) মুখা। চিঠি ? কোথায় তােরা কোথায় আমি...কেউ জানি না শিলা। কেন? আমি তােমার ব্যাঙ্কের ঠিকানায় চারখানা চিঠি দিয়েছি: পাওনি ? মুখ। ব্যাঙ্কের ঠিকানা। মাথা তুলিলেন। ? এত কাকুতি করে লিখলুম তবু এক লাইন জবাব দিলে ! শেষে রাগ করে আমি চিঠি দেওয়া বন্ধ করলুম। মুখা। ব্যাঙ্কের ঠিকানা অবাক হইয়া চাহিলেন। শিলা। কেন? মার মুখে শুনেছি, বােম্বের মুখার্জী জেঠাভাই ব্যাঙ্কিং করপােরেশনের সিনিয়র পার্টনার এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টার তাে তুমিই। মুখা। জেঠাভাই ব্যাঙ্কিং করপােরেশন। সিনিয়র পার্টনার ! ই ইট এ টেল ফ্রম দি অ্যারেবিয়ান নাইটস- বলিতে বলিতে সােজা হইয়া চেয়ারে উঠিয়া বসিলেন।
২৪
কঙ্কাবতীর ঘাট
মুখা।
শিলা। তবে মাসে মাসে এত টাকা পাঠাতে কি করে ?
মুখা। টাকা পাঠাতুম••আমি !
শিলা। পাঠাওনি !
What fiction !
Are
you
dreaming !
শিলা। বাবা! তবে এ সংসারের এত বিলাস সম্ভার, এর এতবড়
গুরুভার কে বহন কচ্ছে! কার অর্থে আমি পুষ্ট! কার দয়ার দান
নিত্য আমাকে নিতে হচ্ছে! মা-মা-
ঝড়ের মত বাহিরে ছুটিয়া গেল।
মুখা। (দাড়াইয়া উঠিলেন ) শিলা ! My poor child! It is
really a mystery-a mystery.-
দৃশ্য ঘুরিতে লাগিল।
বারান্দা
শিলা। বেরিয়ে যান—বেরিয়ে যান এ বাড়ী থেকে
লাল। শিলা মানে মিস্ শুনুন
মিসেস্। শিলা—শিলা—
মঞ্চ যখন ঘুরিয়া স্থির হইল দেখা গেল শিলা টেবিলের কাছে দাড়াইয়া কাঁদিতেছে—
বাহিরে যাইবার দরজার কাছে লালমােহন বিরক ভাবে দাঁড়াইয়া-মিসেস
তাহাকে নিম্ন স্বরে কি বুঝাইতেছেন।
শিলা। আমি বুঝেছি, একটা হীন ষড়যন্ত্রের ভেতর তােমরা আমায়
ফেলেছ! আমি মলুম না কেন! মাগাে !
মিসেস শিলার কাছে আসিলেন ; আঢ্যি চলিয়া গেল।
মিসেস। শিলা! শিলা !
কঙ্কাবতীর ঘাট
২৫
৮
শিলা। এ আমি সহ্য করতে পারবাে না...কিছুতেই না।
বলিতে বলিতে উঠিয়া দাঁড়াইল।
আমি এ বাড়ী থেকে চলে যাব
মিসেস্ তাহাকে ধরিলেন
মিসেস। শিলা, শিলা, কথা শােন, আমি যা কচ্ছি, তাের ভালর
জন্যে, •••মা আমার, বোঝ? তাের নিজের কিসে ভাল হয়, তাও তুই
দেখবিনি ?
শিলা। নিজের কিসে ভাল হয়, সেটুকু বুঝবার বয়স আমার হয়েছে
মা,—নিজের ভাল মন্দ বুঝি বলেই, আজ জোর করে বছি••এ আমি
সহ কৰ্ব না ।
মিসেস্। তুই আমার মুখ চাইবিনে ! তাের আধপাগলা বুড়াে
বাপের কিসে মঙ্গল হয়.••সেও তুই দেখবিনি বল!
শিলা।
মিসেস,। তােকে এত টাকা খরচ করে এত লেখাপড়া শিখালুম
তার কি এই ফল ? এম-এ ক্লাস পর্যন্ত রাশী রাশী বই পড়লি, তাের সে
সব বই—মা বাপের অবাধ্য হতে হবে, তােকে এই শিক্ষা দিয়েছে
হতভাগী ?
শিলা।
কেন শিখিয়েছিলে লেখাপড়া? না যদি শিখতুম••• তাহলে
বােধহয় ভাল মন্দ বিচারের ক্ষমতা আমায় হত না—যা বলতে তােমর
অন্ধের মত নির্বিচারে তাই সারা জীবন ভরে করে যেতুম !•••আমি
এখান থেকে মুক্তি চাই। তােমাদের এ সংসার হতে চিরদিনের মত
পালিয়ে যেতে চাই...আমায় মুক্তি দাও মা,-দুটি পায়ে পড়ি...তােমা
আমায় ছুটী দাও
২৮ কঙ্কাবতীর ঘাট the trumpet call of her magnificent deity of love! প্রেমের বাণী—কথাটার মানে বােঝ? মিসেস। কি বলছ তুমি ? মেয়ে যে রাগ করে চলে গেল? মুখ। অতীত যুগে একটা গােয়ালার ছেলে নদীর ধারে গাছতলায় বসে বঁশী বাজাত, আর ছুটে যেত গৃহকাজ ফেলে যত ব্রজবালা– মিসেস,।' মানে ? মুখ। মানে তােমার মেয়ের প্রেম হয়েছে- মিসেস । হ্যা, ঠিক কচ্ছি ওর প্রেম ! আঃ সর মেয়ে যে চলে গেল! মুখা। সে গেছে তার ঠিক জায়গায়। তুমি কোথায় যাবে? মিসেস। ঠিক জায়গায় মানে—কোথায় ? মুখ। প্রবীরের কাছে। মিসেস্ ! ঐ প্রবীর ওর মাথা খাচ্ছে—আজ থেকে ওকে ঢুকতে দেবনা। এ বাড়ীতে ওর ঠাই নেই। মুখা। Exactly so my darling! এ বাড়ীতে ওর ঠাই নেই। অর্থ, প্রতিপত্তি, বালীগঞ্জের পাঁচতলা বাড়ী, সমস্ত ভুলে গিয়ে শুধু ভালবাসার জন্যেই যারা ভালবাসতে জানে তাদের এ বাড়ীতে ঠাই নেই। ওদের আমরা farewell দেব:••কি বল? মালা পরিয়ে শাঁক বাজিয়ে- মিসেস্। দেখ, যখন তখন তােমার ও পাগলামি আমার ভাল লাগে না.•• আমি স্পষ্ট কথা বলছি, প্রবীরের সঙ্গে আমি আর শিলাকে মিশতে দেব না। প্রবীর এ বাড়ীতে আসতে পাবে না—এ বাড়ীতে আসবে শুধু লালমােহন। মুখা। লালমােহন! মানে লালু! সে কে ? মিসেস। লােহাওলা—বড় লােক-
কঙ্কাবতীর ঘাট
মুখা। লােহাওলা-
লােহাওলা—! ওঃ!
ওঃ! বড় মজবুদ লােক ত !
লালমােহনের ব্যস্ত হইয়া প্রবেশ।
লাল। মিসেস্-
মিসেস্! শিলা চলে গেল?
লাল। , যায়নি।
মিসেস্। তাকে ধরে রেখেছ ?
লাল। আমি ধরতে পারিনি
মিসে। তবে ?
লাল। ধরেছে ঐ ছােকরা-
মিসেস। প্রবীর ?
লাল। হা-আমি ধরতুম, কিন্তু আমার আগেই
মিসেস্। কোথায় তারা?
লাল। নীচে। আমাকে দেখিয়ে কি বলব মিসেস্••আমার
সামনে ঐ ছােকরা খপ করে মিসের হাত ধরে ঘরে ঢুকে গেল !
মুখা। তুমি কি করলে?
লাল। আমি দাড়িয়ে রইলুম।
মুখা। তাহলে সেই গয়লার ছেলেটা, যে বাঁশী বাজায়.••সে নীচে
বসেছিল।
লাল। গয়লার ছেলে ? ঐ ছােকরাটা কি তবে গয়লা ? তবে যে
মিসেস্ বলেন--জমীদার! ছিঃ ছিঃ-
মিসেস্। নানা শােন কেন ?
মুখা। শােন—এদিকে এসো।
লালমােহন কাছে আসিল ;
=
৩০ কঙ্কাবতীর ঘাট সিগারেট আছে ? * লালমােহন সিগারেট দিল ; তােমার সঙ্গে একটা জরুরি কথা আছে, অত্যন্ত জরুরি লাল। বলুন। মুখা। হালকা ভাবে নিয়াে না, খুব মনোেযােগর সঙ্গে শুনবে কারণ বিষয়টা অত্যন্ত গুরুতর। লাল। 'বলুন, আমি সমস্ত মন প্রাণ ঢেলে শুনছি-বলুন কি কথা? " মুখা। সে কথাটা হচ্ছে এই যে, তুমি একটী আস্ত Idiot- লাল। তার মানে ? মুখ। সহজ কথার মানে বুঝতে কষ্ট হয় বলেই তুমি মস্ত Idiot. লাল। মানে ? মুখার্জী লালমোহনের মুখে ধোঁয়া ছাড়িয়া প্রস্থান করিল। মিসেস। আঃ কি কর? ভদ্রলােককে এমন করে বিব্রত লাল। আমি চলুম- মিসেস্। কিছু মনে কৰ্ব্বেন না আঢ্যি মশাই! উনি হচ্ছেন শিলার বাবা- লাল। মিষ্টার ? Father ? মিসেস,। হ্যা, আধ-পাগলা লােক ; কোথায় চলে গিয়েছিলেন, কোন খোঁজই ছিল না। আজ আবার এলেন পাঁচ বছর পর। তাইত বছি•••কি কষ্টের ভেতর দিয়েই না ঐ মেয়েটীকে মানুষ করেছি:••সেই মেয়ে আমার পর হয়ে যাচ্ছে! কি হবে বাবা? লাল। তাইত! কি করি মিসেস ? আপন করবার কোন উপায়ই দেখছি না। যতক্ষণ ঐ ছোঁড়াটা কঙ্কাবতীর ঘাট মিসেস্। ঐ প্রবীরকে তাড়াতে হবে। লাল। সে আমি এখুনি পারি; সে প্যাচ আমার জানা আছে, বুদ্ধিতে আপনার এই ছেলের কাছে আর ঐ হোঁতকা ছোঁড়াটার পারতে হয়না! এক ঢিলে দুই পাখী মারবাে মা- মিসেস । সে কি রকম ? লাল। শিলা মানে মিস্ মুখার্জীকে সরাসর একেবারে কাশীপুরের বাগানে নিয়ে তুলব—মুখে কাপড় বেঁধে। মিসেস আঁৎকে উঠিলেন। সে আপনি কিছু ভাববেন না। ছোঁড়াটা ওর পাত্তাই পাবে না প্রবীরের প্রবেশ। প্রবীরকে দেখিয়াই দুজন চুপ করিয়া গেল। প্রবীর মিসেসের কাছে অগাইয়া আসিয়া বলিল- প্রবীর। . দেখুন, শিলা অন্যায় করেছে। আপনার সঙ্গে তার ব্যবহার অত্যন্ত অন্যায় হয়েছে, সে অনুতপ্ত•••সে লজ্জায় আপনার কাছে আসতে পারছে না। শিলা- শিলার প্রবেশ। প্রবীর তাহার হাত ধরিয়া মিসেসের সামনে টানিয়া আনিল ; পরে বলিল- প্রবীর। ক্ষমা চাও শিলা। শিলা ইতঃস্তত করিল, পরে মার কাছে গিয়া শিলা। আমায় ক্ষমা কর মা, আমি অন্যায় করেছি- কঙ্কাবতীর ঘাট মিসেস মুখ ঘুরাইয়া লইলেন; উত্তর দিলেন না। শিলা প্রবীরের দিকে চাহিল, আস্তে আস্তে প্রবীরের কাছে আসিল—প্ৰধীর তাহাকে লইয়া হলঘরের দরজার দিকে চলিয়া গেল। লাল। যত নষ্টের দেখলেন! মিসেস্। দেখলাম। লাল। মুল মিসেস্। জানি । লাল। কিছু ভাববেন না। এখখুনি সব সায়েস্তা করে দিচ্ছি••• চলিয়া যাইতে উদ্যত ; মিসেস। কোথায় যাচ্ছেন ? লালমােহন ফিরিয়া আসিয়া মিসেসের কানে কানে কি যেন বলিল ; পরে প্রকাশ্যে. •• লাল। পনেরাে মিনিট, পনেরাে মিনিটের মধ্যে সব সাফ- মিসেস। { ভয় পাইয়া) কিন্তু । লাল। ভয় পাবেন না, আপনি শুধু দাড়িয়ে দেখুন আমি কি কাণ্ডটা করি। একটা টেলিফোনের ওয়াস্তা টেলিফোনের ওয়াস্তা শুধু একটা টেলিফোন প্রস্থান। মিসেস। (যাইতে যাইতে ) কোন বিপদ হবে না তাে বাবা,-না হয় থাক এখন, পরে যা হয়- অনুসরণ। দৃশ্য ঘুরিয়া গেল। হলঘরে শিলা ও প্রবীর। প্রবীর। শিলা—শিলা- '।
কঙ্কাবতীর ঘাট শিলা। আমি আর পারছি না প্রবীর, আমায় এখান থেকে যেতেই হবে যেখানে হাে••এই নরককুণ্ডে আমি আর থাকতে পাচ্ছি না। প্রবীর। ভয় কি.••আমি তােমায় নিয়ে যাবে। শিলা। তুমি ? প্রবীর। অনুমতি দাও, তোমায় নিয়ে যাই আমার ঘরে..ঘরের লক্ষ্মী করে- শিলা। প্রবীর! প্রবীর । তােমাকে ছাড়া আমার চলতে পারে না, তােমাকে আমি চলার পথে সঙ্গীরূপে চাই। শিলা। প্রবীর, এ যে আমি ভাবতে পারি না! তুমি আমায় নিয়ে যাবে তােমার ঘরে বধুরূপে ? এত সুখ, এত আনন্দ, এ যে আমি কল্পনাও করতে পারিনা! ওগগা বলল, তুমি পারবে এখান থেকে আমায় মুক্ত করে নিয়ে যেতে ? প্রবীর। নিশ্চয়। ভালবাসার পথ ফুল বিছানাে নন••তা আমার জানা আছে। বাধা আমি মানিনা—আমি চাই:••এই চাওয়াই আমার অধিকার। শিলা। কিন্তু বিপদ আপদ তুচ্ছ করে পাক থেকে যাকে তুলে আনবে, সেও যে পঙ্কিল হবে না, তারও গায়ে যে পঙ্ক চিহ্ন লাগবে না•• তাই বা কি করে জাননা? রাতের আঁধারে যাকে বাইরে নিয়ে এলে, দিনের আলােয় চোখ মেলে চেয়ে হয়তো তাকে দূরে ছুঁড়ে ফেলতে হবে! প্রবীর। না কিছুতেই না। আমি জানি, পাক তুলব বলে আমি পাকের ভেতর হাত ডােবাইনি, পাকের ভেতর থেকে আমি তুলে আনছি অম্লান পঙ্কজ। মিছামিছি কথার জাল বুনে লাভ নেই শিলা। আমার ৩৪ কঙ্কাবতীর ঘাট শিলা। শুধু ঐ এক কথা, আমি তােমায় চাই তােমার অনুমতি পেলে.••তােমার বাবাকে বলে আজই- আজই কি ? প্রবীর। বলেছি তাে, আমি প্রস্তুত। শিলা। প্রবীর, my chivalrous knight ! প্রবীরের মুখের দিকে অবনত দৃষ্টিতে চাহিয়া রহিল। প্রবীর! প্রবীর! তুমি যেন এসেছ রূপকথার রাজপুত্রের মত দৈত্যপুরী থেকে আমাকে উদ্ধার করতে। তােমায় কি দিয়ে বরণ করি ! এখানে যখন কিছু নেই..তখন-তখন- প্রবীর।•••তখন রয়েছে ঐ অজস্র রজনীগন্ধা- ছাদে দেখাইয়া দিল। শিলা। রজনীগন্ধা-রজনীগন্ধা-নিশীথ চাদের বধু ঐ রজনীগন্ধা । গান চলাে রজনী গন্ধার বনে অতি নিভৃতে নিরজনে। প্রিয়তমে লয়ে পাশে, মধু মাধবিকা হাসে- মৃদু সৌরভ ভাসে, উতল দখিন সমীরণে। গানের শেষদিকে দৃশ্য ঘুরিল। উভয়ে ছাদে আসিল। ছাদে চাদের আলােয় ভেজা অজস্র রজনীগন্ধা ; একধারে টবে একটী বুনাে ফুলের গাছ। শিলা। উহু, রজনীগন্ধা নয়— বুনন গাছের কাছে গিয়ে দেখেছ ?
কঙ্কাবতীর ঘাট
৮
প্রবীর! কি ফুল?
শিলা। নাম জানি না-শিলং থেকে আমার এক বান্ধবী এই বুনো
গাছের চারা এনেছিল—এতে শুধু একবার ফুল ধরে••আর ধরে না। ফুল
দিয়েই গাছ মরে যায়। এর নাম দিয়েছি আমি বনমল্লিকা।
ফুল তুলিল ;
প্রবীর।
তুললে !
আমার বনমল্লিকা বৃন্তের এই প্রথম ফুল, এই এর শেষ ফুল।
এই ফুলটী তােমায় দিলুম।
বােতামে পরাইয়া দিল
শিলা ।
প্রবীর। আর তােমায় আজকের দিনে কি দেব শিলা ?
শিলা। তােমার মন যা চায়
প্রবীর। তােমার জন্যে রয়েছে সতী কঙ্কাবতীর এই কণ্ঠমালা। নেবে?
শিলা। সতী কঙ্কাবতীর কমালা !
প্রবীর।
আমাদের অতসী গায়ের সতী-লক্ষ্মী ছিলেন কঙ্কাবতী।
মুমুষু স্বামীকে যমের হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে তিনি দেবী প্রতিমার
মত গঙ্গার জলে মিশে গিয়েছিলেন। আজও সেই সতী কঙ্কাবতীর ঘাটে
দশ বিশ গাঁয়ের এয়াের প্রণাম করতে আসেন।
শিলা। আশ্চৰ্য্য কাহিনী
প্রবীর। একদিন সতী কঙ্কাবতীর সব কথা তােমায় বলব শিলা।
আজ আমাদের জীবনের এই পরম লটীকে অক্ষয় করে রাখতে চাই,
সতী কঙ্কাবতীর এই কণ্ঠমালাটি তােমায় পরিয়ে দিয়ে।
শিলার প্রণাম।
এই মালা অক্ষয় কবচের মত আমার মা একদিন আমায় পরিয়ে
কঙ্কাবতীর ঘাট দিয়েছিলেন ; এই অক্ষয় কবচে বেঁধে রাখলুম আমার জীবন- সঙ্গিনীকে। মাল্যদান; আমার গৃহে রয়েছে সতী কঙ্কাবতীর হাতের বালা। সি দুর কৌটায় রয়েছে সেই সতী সীমন্তিনীর সিথির সিদুর। মায়ের সব ছিল, তার পুত্রবধুকে সেই বালা আর সিদুর দিয়ে বরণ কৰ্বেন। মা নেই ; আমার গৃহে যখন যাবে তুমি—সেই কাকণ আমি তােমায় পরিয়ে দেব শিলা। শিলা। প্রবীর প্রবীর। বাইরের অনুষ্ঠান নেই, প্গীর মন্ত্র পাঠ নেই—তােমার ফুল •• আমার মাল-আজ এই আমাদের বিবাহ শিলা ! শিলা। হা,–আকাশে শুক্লাদশমীর চাদ পৌরহিত্য করল... আমাদের দুটী হৃদয় প্রেমের মন্ত্র উচ্চারণ করল-এই আমাদের বিবাহ প্রবীর! গান ওগাে সুন্দর প্রিয়তম জীবন দেবতা মম, আমি হব অনুগামী তব পিছে ছায়া সম। মোর বাঁশী বাজে যবে তুমি হয় তার সুর- মাের পুষ্পিত উপবনে হয়াে গন্ধ মধুর
কঙ্কাবতীর ঘাট
পরস্পর বাহুবন্ধনে আবদ্ধ হইল—শিলা গান ধরিতে দৃপ্ত ঘুরিতে আরম্ভ করিল। পাশের
ঘরে লালমোহন, গুরি দল ও মিসে মুখার্জীকে দেখা গেল। তাদের কথা
কাটাকাটি-নেপথ্যে শিলার পূর্বোক্ত সঙ্গীত সুস্পষ্ট ভাসিয়া আসিতে লাগিল।
p
লালমােহন। এরা শিলাকে হঠাৎ আক্রমণ করে চোখে মুখে কাপড়
বেঁধে ট্যাক্সিতে তুলে নিয়ে যাবে-সোজা কাশীপুর আমার বাগান বাড়ীর
সামনে। আমি তার আগেই অমর ঝকঝকে Two seater গাড়ীতে
চেপে কাশীপুর গিয়ে থাকব-অর জঁহাতক ওদের ট্যাক্সি সেখানে
পৌছুবে.••অমনি আমার লােকজন নিয়ে শিলাকে উদ্ধার করে সােজ।
বাগানবাড়ীতে তুলব।
মিসেস্। এইসব গুণ্ডার। আমার শিলাকে আক্রমণ করবে! আপনি
বলছেন কি আঢ্যিবাবু!
লাল। আপনি ঘাবড়াবেন না মিসেস। অনেক নাটক নভেলে
পড়েছি-রমণী উদ্ধারকারী বীর পুরুষকে ভজনা করে থাকে। এ ক্ষেত্রে
আমিই স্বয়ং হব, সেই উদ্ধার কর্তা বীরপুরুষ ! ওহে, তােমরা চল না হে!
বলি, নন্দুয়াটা গেল কোথায় ?
মিসেস্। নন্দুয়াও এসেছে !
লাল। হা-এসব কাজে কি ওর জোড়া আছে কলকাতায় ? ও
নন্দুয়া, কোথায় গেলি? ওই শুনুন-গান হচ্ছে ! শিলা ঐ বখাটে
ছােড়াকে কেমন দিব্যি গান গেয়ে শােনাচ্ছে! ওঃ, এও আমায় বরদাস্ত
করতে হবে! না, এখ খুনি ওকে.••এই নন্দুয়া-
নন্দুয়ার প্রবেশ।
নন্দুয়া। কি আঢ্যিবাবু! চিল্লাচ্ছ কেন?
লাল। তুই এত দেরী কর্লি-
--
কঙ্কাবতীর ঘাট নন্দু। আরে, ঘাবড়াচ্ছ কেন? চল না আঢ্যিবাবু, আমি এক মিনিটে কাজ সাবাড় করে দিচ্ছি, চল- মিসেস্। না-না, শিলা আমার কথা শোনেনি সত্য; কিন্তু আপনি একবার তাকে নিজে অনুরােধ করে দেখুন বাবা, এ সব ঝামেলার আগে নিজে একবার চেষ্টা নন্দু। আঃ, কি বকছ চমেলী বিবি! নিজে জান না, ও চেষ্টা ফেষ্টায় কিছু হয় না; বুনো পাখীকে জোর করে ধরে বুলি বােলাতে হয়। অমন আমি ঢের দেখেছি!••চল আঢ্যিবাবু। মিসেস। নন্দুয়া! তুই ঐ মেয়েটার উপর জুলুম করবি? নন্দু। আরে, ভাবছ কেন? আমি আছি, কিছু হবে না, আমি ওকে মানুষ করিনি ? ফুলের মত তুলে নিয়ে যাব, গায়ে আঁচড়টি লাগবে না। লাল। চল,•••া, সদরে ট্যাক্সি রেখেছ ? নন্দু। সে আর তােমায় বলতে হবে না—ট্যাক্সি দু’খানা তৈরী, বাড়ীও ঘিরে ফেলেছি। এই কেষ্টা, তুই বাঁয়ের ফটকে যা। হারান, মনুকে নিয়ে তুই থাক্ ওই বারান্দার কোনটাতে। কোন রকমে শিকার পালায় তো সব শালাদের মাথা নেব: হঁ্যা। ( মুখার্জীর প্রবেশ) মুখা। তোমরা কারা? ওঃ, এখানে এ সব কি কৰ্ছ বাবা হারাম ? লাল। আপনি মুখা। আমি খুঁজছি—উমাকে। নন্দুয়াকে দেখিয়া ও•••তুমি-তুমি- কঙ্কাবতীর ঘাট ৩৯ নন্দুয়াকে একদৃষ্টে দেখিলেন—পরে চারিদিকে চাহিয়া সকলকে দেখিলেন- বলিতে বলিতে চলিয়া গেলেন-ওঃ ওঃ। লাশ। যাক্, সরেছেন; ওকে মানে Father-কে দেখলে কেমন যেন ভয় লাগে। নন্দু। আরে,ভয় কি, মুখুজ্যি পাগলা আছে। লাল। আমি যাই, কাশীপুরের বাগানে একটা টেলিফোন করে দিয়ে আসি। প্রস্থান। । বংশীর প্রবেশ। নন্দু। এই যে, এসেছিস বেটা! আয়.••আয়•••আমি রইলুম সিড়িতে তুই থাকবি এই বারান্দায়•••বুঝলি বংশী । প্রযুনি। বংশীর নাম শুনিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্টার ন্যায় মিসেস চমকিয়া উঠিলেন। তাহার কাছে ছুটিয়া আসিলেন। মিসেস। বংশী ! তুই বংশী ! বংশীর মুখের কাছে মুখ আনিল বংশী। আজ্ঞে, হা-হা-। মিসেসের আনন্দোৎফুল্ল মুখ সহসা ভয়ে শাদা হইয়া গেল। সভয়ে পিছাইয়া গেলেন। মিসেস্। কেন এসেছিস এখানে! চলে যা—চলে যা—চলে যা দৃশ্য ঘুরিয়া গেল। পূর্বোক্ত ছাদে প্রবীর ও শিলা। মুখার্জীর প্রবেশ। মুখ। উম-উম- শিলা। বাবা- ৪• কঙ্কাবতীর ঘাট মুখা। এই যে প্রবীর, তুমি আছ ! বাঁচলুম! যাও, শিগগির শিলাকে নিয়ে-হ্যা ভাল কথা-ওঃ তুমি ভালবাস ওকে তাই নয় ? পাশে দাড়িয়েছিলে:..ঠিক যেন আমার হর পাৰ্ব্বতী- শিলা। বাবা, আমাদের তুমি আণীৰ্বাদ কর•• আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে- মুখ। আঁ! বিয়ে হয়ে গেছে! আমার হর পাৰ্বতীকে সামনে রেখে আজ নিজে আমি আশীর্বাদ করব!•••ভাবতে পারি না-ওঃ আমার মাথা ঘুরছে, আমার মাথায় রক্ত উঠছে,•••উমাউমা–পালা— পালা-শিগগির শিলা। আশীৰ্বাদ কর বাবা,-আশীর্বাদ কর- মুখা। ওরে, দুঃখকে তােরা ভয় করিসনে। এর চেয়ে বড় আশীৰ্বাদ আমি জানিনা-পালা-পালা- নেপথ্যে কোলাহল। প্রবীর। কেন ? কি হয়েছে ! মুখা। ওরা গুণ্ডা দিয়ে বাড়ী ঘিরে ফেলেছে। আমার মাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে- প্রবীর। সে কি ! পুলিশকে মুখ। না, ওই এসে পড়ল, পালাও তােমরা•••পালাও- শিলা প্রবীর অগ্রসর হইতেছিল—মুখার্জী সেদিককার দরজা বন্ধ করিয়া টর্চ দিয়া অন্য দরজা দেখাইলেন- মুখা। No! No! This way-Back up Babies! This way.com
কঙ্কাবতীর ঘাট
৪১
মুখ ।
শিলা প্রবীর বাহির হইয়া গেল ; পশ্চাতে দরজায় করাঘাত ও বহু কষ্ঠের কোলাহল,
মুখার্জী প্রাণপণে দরজা পিঠ দিয়া ঢাপিয়া ধরিয়া উভ্রান্তভাবে বলিতে লাগিলেন :
চলে গেল -গিরিপুরী শ্মশান ক'রে উম। আমার চলে গেল।
উমা! উমা !•••
গর মাসপরে
মিসেস মুখার্জীর বাড়ীর সেই হলঘর।
(মিসেস্ বসিয়া আছেন, বালক ভূত বিব্বর ফুল লইয়া প্রবেশ)
মিসেস্। এত ফুল কোথেকে আলি-
বিধ্ব। সা’ব পাঠিয়ে দিলে
মিসেস্। কেন?
বিব্ব। বলে দিদিমণি কত দিন পরে আসছে, ঘর সাজাতে
হবে।
মিসেস্। আর সাজাতে হবে না, রেখে দিয়ে চলে যাযত সব
জঞ্জাল!
মুখার্জীর প্রবেশ।
ফুল দিয়ে নাকি ঘর সাজাতে বলেছ ?
মুখ।
বলব না—আজ চার মাস পরে আমার শিলা প্রবীর-আমার
-হর পাৰ্বতী ফিরে আসছে, গিরিপুরীর পাথরে পাথরে আজ ফুল ফুটে
ওঠে না কেন? উমা আসছে—আমার উমা! দেখ, সে যখন এখানে-
এই বাড়ীতে তার রাঙা পা দুখানি ছুঁইয়ে যাবে তখন এখানে ফুল
ফুটবে না—
মিসেস্। ফুটবে বৈকি! পায়ের ছোয়ায় ফুল ফুটবে না!—হতভাগী।
কত দুঃখ কষ্ট সইছে কে জানে?
৪২
কঙ্কাবতীর ঘাট
মুখা। না, না, দুঃখ পাবে কেন! ওরা সুখে আছে। হাকি
বললে শিলা তােমায় টেলিফোনে ?
মিসেস্। বললে•••মা, কলকাল ছেড়ে আজ আমি প্রথম যাচ্ছি
আমার শ্বশুরের ভিটেয়, দেশে। যাবার আগে তােমাদের দুজনকে
প্রণাম জানিয়ে যাব।ভারি অনুগ্রহ।
মুখা। আমরা—আমরা কি আশীৰ্বাদ করব চামেলী ?
জামাইকে কি বলে আশীর্বাদ করব ?
চামেলী। তুমিই জানাে !
মুখা। আমি বলব, তােমাদের লক্ষ্মীর সংসারে কখনাে যেন
বিষাদের ছায়া না পড়ে,••যেন একটী অনাগত শিশুর কল-কাকলীতে
তােদের সংসার মুখরিত হয়ে ওঠে ! আর বাব...কত কি কথা বলতে
চাই ওদের.••অথচ সময় কালে কিছুই গুছিয়ে বলতে পারব না হয়ত!
নীচে'হর্ণের আওয়াজ।
ওই—ওই বুঝি ওরা এল ! এস, আমরা ওদের অভ্যর্থনা করি-
হঠাৎ ফিরিয়া ;
ঐ যাঃ, তােমার সঙ্গে কথায় কথায় বেলা বয়ে যায় ; এদিকে
আমার কাজ বাকী আছে যে-কাজ বাকী আছে।
এখন।
চামেলী। কোথায় যাচ্ছ, কি কাজ পড়ল তােমার এখন ?•••
বার
শিলা। চলতে বিব্ব লাল, ও গুলাে ঘরে রেখে এসে
শিলার হাত হইতে দু’টা প্যাকেট পড়িয়া গেল ।
শিলা কুড়াইতে গেল•••প্রবীর বাধা দিল ।
কঙ্কাবতীর ঘাট
৪৩
শিলা।
প্রবীর। থা—খুব হয়েছে কর্মবীর।
প্যাকেট তুলিয়া লইল।
। ওই যা। মায়ের নমস্কারী শাড়ীখানা দোকানে ফেলে
এসেছ ত ?
প্রবীর। না গাে না, ফেলে আসিনি—আমি নিয়ে এসেছি
শিলা। তবু ভাল, তােমার যে ভুলাে মন. আমি ভাবলুম দোকানে
ফেলে এসেছ বুঝি !
দৃশ্য ঘুরিয়া গেল। হলঘর। একরাশ জিনিষ পত্র লইয়া
প্রবীর, শিলা ও বিব্বর প্রবেশ।
শিলা। রাখ বিব্ব, জিনিষগুলাে এইখানেই রাখ।
চামেলীর প্রবেশ।
চামেলী। শিলা !
শিলা। মা ! মাগাে
প্রণাম।
দেখ মা, তােমার জন্যে এই শাড়ী-
চামেলী। দেখবখন...পাগলী মেয়ে, বােস্। একটু জিরাে•••আমি আছি
•••বােসাে বাবা, এখুনি তােমাদের চায়ের জলটা চাপিয়ে দিয়ে আসছি।
প্রস্থান।
প্রবীর। (দেওয়ালে ছবি দেখিয়া) বাঃ••চমৎকার।
শিলা। কি। ও তো আমি আর বাবা!
প্রবীর। তুমি আর তােমার বাবা!
শিলা। হ্যা, বাবার অনেক আগের চেহারা; বাবার কোলে শুয়ে
রয়েছি আমি। মনে পড়ে, বাবার মুখে কতদিন শুনেছি, ছেলে বেলায়
৪৪ কঙ্কাবতীর ঘাট বাবার কাছে না শুলে আমার নাকি ঘুম হােতো না; তিনি আমায় কোলে নিয়ে ঘুমো ঘুমাে’ বলে গায়ে মাথায় হাত বুলাতেন•••তবে আমি ঘুমুতুম। এই তো সেই ছবি। এই চার মাস আমরা এখানে ছিলুম না, বাবা এই ছবি একেছেন। প্রবীর। তােমার বাবা একেছেন ? শিলা। জানো না, আমার বাবা যে মস্ত বড় শিল্পী-Art Exhibition-এ বাবা এককালে কত প্রাইজ পেয়েছেন। আজকাল অকেন না.•• +' প্রবীর। কেন আঁকেন না ? শিলা। ডাক্তারের বারণ, চোখের অসুখ আছে কিনা! বাবার জন্যে মাঝে মাঝে এমন ভন্ন হয়.••সে আর তােমার কি বলব! ডাক্তারে কি বলেছে জানাে? প্রবীর। কি? শিলা। বাবা হঠাৎ অন্ধ হয়ে যেতে পারেন- প্রবীর। তাই নাকি ? শিলা। অনেক কাল আগে টাইফয়েড হয়•••সেই থেকে Brain, চোখ দুই-ই affected হয়। হঠাৎ কোন shock পেলে-দৃষ্টিশক্তি চিরদিনের মত নষ্ট হয়ে যেতে পারে, একেবারে পাগলও হয়ে যেতে পারেন। যদি—যদি কখনো তেমন কিছু ঘটে... প্রবীর। যাতে তেমন কিছু না ঘটে আমাদের তাই করতে হবে শিলা। ওঁকে আমরা দুটীতে মিলে বাইরের সমস্ত সাত থেকে আড়াল করে রাখব। শিলা। পারবে?
কঙ্কাবতীর ঘাট ৪৫ প্রবীর। নিশ্চয় পারবে ; দুটী নর নারীর সুস্থ সবল ভালবাসা দিয়ে.•• আমি বিশ্বাস করি, তােমার আমার ভালবাসা তােমার বাবাকে বাঁচিয়ে রাখবার পক্ষে যথেষ্ট। শিলা। দেখ, দেশে গিয়ে বাবাকেও আমি খুব শীগগির আমাদের কাছে নিয়ে যাবে। ওকে দুরে রাখতে আমার মােটেই ভরসা হয় না। প্রবীর। বেশ তাে! আজ রাত্রের গাড়ীতেই আমাদের সঙ্গে শিলা। না, আজ কি করে বাবার যাওয়া হবে! আমরা ওখানে গিয়ে একটু গােছ গাছ করে নেব ; নিজের হাতে আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের আশা আকাঙ্ক্ষার নীড়টী রচনা করব•••তারপর বাবাকে চিঠি দেব। প্রবীর। শিলা, তােমার কথা শুনে মনে আমার কত যে আনন্দ দিনের ছবি একে একে জেগে উঠছে ! আমার সংসারে কল্যাণী বধুরূপে যখন তুমি বিরাজ করবে..অসীম মমতা দিয়ে তােমার কোলের ছােট্ট সন্তানটিকে শিলা। যাও- কেন শিলা ! এতে তাে লজ্জার কিছু নেই ! নারীকে মহিমময়ী করে তােলে তার মাতৃত্ব ! তােমার বুকে যে সন্তান আসছে... শিলা। আমি যাই-- প্রবীর। দরজা পর্যন্ত যাইয়া হঠাৎ বাঃ, কি চমৎকার ! ওগাে এসাে, দেখবে এসো, বাবা কি কাণ্ড করেছেন। প্রবীর। কি! কাছে আগাইয়া যাইতে শিলা দরজা চাপিয়া দাঁড়াইল।
৪৬
কঙ্কাবতীর ঘাট,
শিলা। উহু, আগে দেখতে দেব না। চোখ বােজ, নইলে কিচত
দেখতে দেব না। শিগগির চোখ বােজ
প্রবীর চোখ বুজিল শিলা তাহার চোখে রুমাল
চাপিতে লাগিল। দৃশ্য ঘুরিয়া গেল।
ছাদ। সেখানে ফুলে সাজান প্রবীরের প্রস্তর মুর্তি। শিলা তাহাকে মূর্তির
সামনে লইয়া গিয়া চোখের রুমাল খুলিয়া দিল।
শিলা। এইবার দেখ
প্রবীর। আশ্চর্য!
শিলা।
বাবা তৈরী করেছেন তােমার এই মুর্তি-
মুখার্জীর প্রবেশ।
মুখ। উমাউমা–
শিলা। বাবা-
দাড়া মা, আগে তােদের আশীর্বাদ করে নেই, এই যে এনেছি
ধান দুৰ্ব্বো-
শিলা। ধান দুৰ্ব্বো-
মুখা। হঁা, সে বেঁচে থাকলে—ধান দুৰ্ব্বো দিয়ে তােদের বরণ
করত! সে সতী লক্ষ্মী আজ স্বর্গে, তার অভাবে তাই আজ আমি
শিলা। কার কথা বলছ বাবা!
মুখা। না, কেউ নয়। এ আনন্দের দিনে চোখে জল আসে কেন।
চোখে জল আসতে নেই— কেবল হাসি, কেবল আনন্দ! হাঃ হাঃ
হাঃ—আজ আমরা বড় সুখী.. না মা?
শিলা। হ্যা বাবা-
মুখা। কিন্তু কই, এই নতুন প্রভাতটীকে অভ্যর্থনা করলি নে মা!
মুখ।
-
কঙ্কাবতীর ঘাট
৪৭
পুরােনাে দিন ঝরা পাতার মত উড়ে গেছে জীবনের ঘাটে নতুন দিন
নতুন বছর•••নতুন যুগ এসেছে ! এ দিনে তােরা উৎসব কর—জীবনের
কল্যাণ লক্ষ্মীকে গান গেয়ে বরণ কর মা!
শিলার গান
.
কুহেলিণ্ঠন খানি—
ফেলে দাও অঞ্চল টানি-
দেখি লাে চলা মুখখানি।
আজ গগনের
দূর
সীমানায়
অতীত দিনের রঙ মুছে যায়
তারই পট-ছায় কে এসে দাড়ায়-
কণ্ঠিত অধরে নাহি বাণী।
বাদল ফুলদল পরিমল গন্ধ
এনেছ অঞ্চলে ভরিয়া,
মঞ্জীর ঝঙ্কারে তালু ছন্দ
পড়িছে বনতলে ঝরিয়া-
ওগাে স্বপ্ন-পশারি। কল্পরা।
মু। উমা, মা আমার
শিলা। বাবা-
মুখা। কতকাল তােদের দেখিনি! হা মা, এ বুড়াে ছেলের কথা
মনে পড়ত না একবারও ?
শিলা। তা কি পড়ত না বাবা!
মুথা। তবে আসিনি কেন মা!
৪ কঙ্কাবতীর ঘাট প্রবীর। দেখুন, আমি অনেকবার বলেছি—আর কেন, এইবার চল, বাবার সঙ্গে দেখা করিগে। কিন্তু ওই আসতে চাইত না। মুখা। আসতে চাইত না! অসূবে কেন? উম শিলা হয়ে গেল যে•••পাষাণ শিলা । প্রবীয়। সেদিনও ওকে বলেছি- শিলা। তুমি বড় যা তা বলতে শুরু করেছ! আমার বাবার সঙ্গে আমার কথা হচ্ছে—তার ভেতর তুমি কথা কইবে কেন? যাও বলছি এখান থেকে। প্রবীর। আমি যাবাে•••তুমি যেতে বলছো! শিলা। হঁা, বছি যাও-- মুখা। আহা থাক্ নামিছে ঝগড়া ঝাটি- শিলা। না বাবা, ও ভারি নিন্দুক ; এমন সব যা তা বলে..দাড়িয়ে দাড়িয়ে শুনছ কি! যা ও••এখান থেকে প্রবীর। আচ্ছা, যাচ্ছি। কিন্তু দেখুন, এক তরফা শুনে রায় দেবেন যেন! এর পর ওকে এখান থেকে সরিয়ে দিয়ে...আমার যা বক্তব্য • তাও সব শুনতে হবে। মুখা। আচ্ছা, তাই হবে•••তাই হবে..হাঃ হাঃ হাঃ এবীরের প্রস্থান ; দৃশ্য ঘুরিল। হলঘর হলঘরে আসিয়া প্রবীর দেখিল লালমােহন বসিয়া আছে। তাচ্ছিল্যের সঙ্গে টেবিলে রক্ষিত জিনিষ পত্ৰ নাড়া চাড়া করিতেছে। লাল। এই যে ! নমস্কার-
কঙ্কাবতীর ঘাট
৪১
প্রবীর। তুমি আবার এ বাড়ীতে! সেদিনকার সেই গুণ্ডামীর
পর পুলিশ ডাকিয়ে ধরিয়ে দিইনি•••এই যথেষ্ট ! কোন মুখে আবার
এখানে এসেছ?
লাল। (সহাস্যে) আমি তো প্রায়ই এসে থাকি এখানে। বরং
শুনেছিলাম, সেই যে চার মাস আগে শিলাদেবীকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন
•••সেই থেকে আপনারাই নাকি এ বাড়ীতে আর আসেন না। সত্যি
নাকি ?
প্রবীর। হ্যা, আমরা কিছুক্ষণ আগে এসেছি।
লাল। শিলাদেবী তা হলে বর্তমানে আপনার বাগানবাড়ীতেই
থাকেন?
প্রবীর। বাগান বাড়ী নয়, কলকাতায় আমাদের ভাড়া বাড়ী।
লাল। ওঃ •••তা বেশ। কত টাকা দিচ্ছেন আজকাল জানতে পারি?
প্রবীর। কিসের টাকা ?
লাল। শিলাদেবীকে এবং চামেলীদেবীকে ?
প্রবীর । তাতে তােমার প্রয়ােজন ?
লাল। আছে বৈকি ? আপনার দৌড়টা জানতে পারলে আমিও
হয় একবার চেষ্টা করে দেখতুম—
প্রবীর। কি চেষ্টা করবে ?
লাল। মানে•••বছিলাম...শিলাদেবীর তাে কোন এগ্রিমেন্ট নেই
আপনার সঙ্গে! আমরা আর দুচারজন যদি-
প্রবীর। ফের যদি ইতরের মত ইঙ্গিত কর—এক খুঁসীতে দাত
কটা ভেঙে দেব! যাও•••ভাল চাওতাে•••বেরােও এখান থেকে
মঞ্চ ঘুরিতে লাগিল।
কঙ্কাবতীর ঘাট লাল। আহা, চটছেন কেন? কথাই শুনুন না! প্রবীর। তােমার মত ইতরের কাছে আমি কোনাে কথা শুনতে চাইনা। যাও, বেরােও- লাল। আচ্ছা, তা হলে শিলাদেবীর সঙ্গে একবার দেখা করে যাচ্ছি। বারান্দা প্রবীর। শিলার দেখা তুমি পাবে না। লাল। তবে যে বললেন, শিলাদেবী এই বাড়ীতেই এসেছেন। প্রবীর। সে তােমার সঙ্গে দেখা করবে না। লাল। ওঃ, এই কথা! বেশ তাে, দেখা করেন•••না করেন•••তার মুখ থেকেই শুনব’খন••• প্রবীর। না, সে হবে না, আমার কথাই তার কথা। লাল। তাঁর মত তত অন্য রকমও হতে পারে- প্রবীর। না, হতে পারে না লাল। বটে! কারণ? প্রবীর। কারণ শিলা আমার স্ত্রী- লাল। স্ত্রী! আপনি তাকে বিয়ে করেছেন নাকি? প্রবীর। হ্যা! লাল। ওহহাঃ হােঃ হাের ! শিলাকে বিয়ে করেছেন!হােঃ হােত হােত প্রবীর। ওকি! অমন করে হাসছ যে? লাল। হাসছি! আপনার কাণ্ড দেখে না হেসে থাকা যায় ? শিলাকে বিয়ে-হেঃ হেঃ হেঃ- প্রবীর। আবার!
কঙ্কাবতীর ঘাট
1
লাল। না, আর হাসব না!•••দেখুন, শুনেছি আপনি সম্রান্ত ঘরের
ছেলে। বিদ্বান, বুদ্ধিমান, তা ছাড়া দেশেও নাকি ভাল বিষয় আশয়
আছে! বিয়েই যদি করেন, তাহলে আপনার মত সুপাত্রের জন্যে দেশে
কি ভদ্রঘরের সুন্দরী মেয়ের অভাব হত নাকি ? কেন এসবের মধ্যে
এলেন বলুন তাে?
প্রবীর। তােমার কথার অর্থ কি ? কি বলতে চাও তুমি?
লাল। বলতে যা চাই সে কি আপনি জানেন না ? এতদিন এ
বাড়ীতে যাতায়াত কিছুই শােনেন নি ?
প্রবীর । না। কি বলবে তুমি বল
লাল। চামেলী মুখার্জী কে? কি ত’র অতীত ইতিহাস
জানেন ?
প্রবীর। না-
লাল। না জেনেই হুট করে শিলাকে বিয়ে করে বসলেন ?
প্রবীর। হ্যা, করেছি, তাতে কি হয়েছে ?
লাল। না...কি আর হবে! তবে লােকে বলবে যে, প্রবীর চৌধুরী
ভদ্র লােকের ছেলে হয়ে বিয়ে করল একটী-
প্রবীর। একটী?
লাল। বেথার মেয়েকে
প্রবীর। (জামার গলা ধরিয়া) ইতর•••শয়তান, তােমার মুখ আমি
ভেঙে দেব! তােমাকে আমি খুন করব।
লাল। (ছাড়াইয়া) আঃ, গেলুম যে! নিজে কেলেঙ্কারী করতে
পারেন আর আমরা সত্যি কথা বলেই দোষ হয়।
প্রবীর। আবার...আবার বলছ ঐ কথা।
।
কঙ্কাবতীর ঘাট লাল। হ্যা, আবারই বছি ! একশবার বলব...আমার এ প্রমাণ আছে। প্রবীর। কি প্রমাণ আছে বল ; নইলে তােমায় খুন করে ফেলব। বল- লাল। শুনুন, বলছি। আমার ইয়ার বন্ধুদের কাছে শুনেছিলাম, যাদের জন্মে দোষ আছে:••তেমন কোন কোন মেয়েকে তথা কথিত বাপ মা ভাল শিকার জোটাবার আশায় ভদ্র ঘরের মেয়ে বলে চালাতে চেষ্টা করে এবং আর পাঁচজন সত্যিকারের ভদ্র মেয়ের সঙ্গে লেখাপড়াও শিখিয়ে থাকে। সেই কথা শুনে আমি অনেক তরুণ তরুণীর মজলিসে যাতায়াত সুর করি। নন্দুয়া বলে কোন দালালের চেষ্টায় চামেলী মুখার্জীর সঙ্গে ঐ রকম কোন মজলিসে আমার আলাপ হয়। আর তারই চেষ্টায়.••মানে Throughতে এ বাড়ীতে আমি প্রথম আসি... প্রবীর। আঃ! তােমার আসল বক্তব্য কি...তাই বল। লাল। বলছি, একদিন মশায়, আমার কারবারের অর্ধেক অংশীদার গগাবর্ধন চামেরিয়া কথায় কথায় কি বলে জানেন ? প্রবীর। কি ? লাল। সেও আমার সঙ্গে এসেছে, বিশ্বাস না হয়...তার মুখেই-- প্রবীর। কি বলবে—আমি তােমার মুখেই শুনতে চাই। লাল। দেখুন, এ সব তাড়া হুডাের কাজ নয় ; ঠাণ্ডা মাথায় শুনতে হয়। গােপন কথা...নিরিবিলি বলতে হয়- প্রবীর। তােমার শয়তানি রাখ, বল! লাল। আঃ! ছাড়ুন মশায়, এভাবে আমি বলতে পারব না। উঃ! আমার জল তেষ্টা পেয়েছে। দাড়ান, মুখে চোখে জল দিয়ে আসি। -
কঙ্কাবতীর ঘাট
' ৫৩
প্রবীর। কিন্তু প্রমাণ
লাল। বলছি মশায়, থামুন না—পালাচ্ছি নাকি?
প্রবীর। হঁ্যা, যদি প্রমাণ দিতে না পারবে:•এ বাড়ী থেকে জ্যান্ত
ফিরতে পারবেনা।
লালমােহনের সঙ্গে প্রবীরের প্রস্থান।
দৃশ্য ঘুরিয়া পূর্বোক্ত হলঘর।—শিলা ও মিসেস মুখার্জী।
শিলা। এই তােমার নমস্কারী শাড়ী মা! তুমি কালপেড়ে শাড়ী
পছন্দ কর; কিন্তু নমস্কারী শাড়ী লালপাড় দিতে হয়। তাই এখানা
লাল পাড়••এই তােমার আর একখানা কালপাড়
মিসেস। বাঃ, চমৎকার জিনিষ হয়েছে,
শিলা। আর তােমার জন্য মােরাদাবাদী ফুলদানি এনেছি মা।
দেখাচ্ছি-
মিসেস্। মাগাে! কত জিনিষ এনেছে আমার পাগলী মেয়ে !
এই বলিয়া পিছনে যাইয়া একটা ছোট জামা তুলিয়া
এগুলাে কিরে—এসব ছােট্ট জামা?
শিলা লজ্জিত হইল ; মিসে কাছে যাইয়া শিলাকে চুম্বন করিলেন।
শিলা। ( লজ্জিত হইয়া) বাবার অ্যালবাম বইখানা কোথায়
রাখলুম যেন
খুজিতে লাগিলেন। এমন সময় দরজায় একটা পাগড়ীওয়ালা লােককে দেখা
গেল। মিসেস চমকিয়া উঠিলেন। সেই পাগড়ীওয়ালাকে সরিয়া যাইতে
ইঙ্গিত করিলেন। পাগড়ীওয়ালা সরিয়া গেল—মিসেস শিলার
অলক্ষ্যে চলিয়া গেলেন। শিলা ফুলদানি লইয়া মা বলিয়া
ডাকিল। মুখ তুলিয়া দেখিল কেহ নাই। মঞ্চ ঘুরিল।
৫৪ কঙ্কাবতীর ঘাট বারান্দা মিসেস মুখার্জী ও বিপুলকায় গােবর্ধন চামেরিয়া। চামেলী। তুমি এখানে কেন এলে? তােমায় এ বাড়ীতে কে নিয়ে এল। গােবর্দন। কেন, লালমণিবাবু নিয়ে এল চামেলী। লালমণি ? গগাবর্ধন। হা এক কারবারে পার্টনার-হামি আউর লালমণি বাবু। দেখিয়ে চামেলীবিবি, তােমার লেড়কীকে লালমণিবাবুর হাতে দাও-সুখে থাকবে- চামেলী। আমার মেয়ে রাজী নয়-সে প্রবীরকে ভালবাসে গগাবর্ধন। ভালবাসে! ভালবাসার ব্যামােতে কি হয় নিজে জান ? পঁচিশ সাল আগের কথা ভাবব, আমি তােমায় কত টাকা..কত জড়ােয়া গয়না দিলাম—আর তুমি আটিষ্ট মুখার্জীকে ভালবাসে হামাকে সরিয়ে দিলে । চামেলী। তুমি চুপ কর গােবর্ধনবাবু! আমার অতীত জীবনের কথা তুলে না ! গােবর্ধন। কেন তুলবাে না। আরে, ভদ্দর পাড়ায় এসে ভদ্দর ইস্ত্রীলােক সাজ.••আর লেড়কীকে ইস্কুলে কলেজে পড়াও—যাই করােনা কেন—আসলে তত তােমর সেই গিয়ে রামবাগান- শিলার প্রবেশ ; তাদের আলােচনার শেষ অংশ শিলার কানে যাইতে শিলার হাতের ফুলদানি পড়িয়া গেল। ঘুরিয়া গেল।
কঙ্কাবতীর ঘাট হলঘর মঞ্চ যখন বারান্দা থেকে হলের দিকে ঘুরিতে লাগিল, দেখা গেল—শিলা টলিতে টলিতে ছাদের দরজার দিকে চলিয়াছে, মিঃ মুখার্জি দরজা খুলিয়া বাহিরে দাড়াইলেন। শিলার অবস্থা দেখিয়া ডাকিলেন, শিলা- শিলা। বাবা ! মুখ। শিলা— মুখার্জি শিলাকে কাছে গিয়া ধরিলেন। শিলা। শিলা নয়- মুখা। শিলা।-- মঞ্চ এক মুহূর্ত থামিল না—ঘুরিয়া চলিল। শিলা ও মুখার্জি দরজায় দাঁড়াইয়া কথা কহিতে লাগিলেন, যখন ছাদের পূর্ব দৃশ্য উদ্ভাসিত হইল, তখন তাহারা আগাইয়া আসিলেন—মঞ্চ ঘুরিয়া চলিল। শিলা। না, শিলা শুধু নাম, শিলা কারো পরিচয় নয়। আমার আমার বাবা কে ? আমার মায়ের পরিচয় কি? মুখা। Why! I am your father...and your mother- শিলা। কে আমার মাকে আমার মা ? স্পষ্ট সহজ কথায় বল, আমার মায়ের সঙ্গে তােমার সম্পর্ক কি? আমি তােমায় চুপ করে থাকতে দেব না...বল তুমি—তােমর স্বামী স্ত্রী নও? তােমরা বিবাহিত নও ? মুখা। না- শিলা। তবে আমার জন্ম শুধু লালসায় ! আমি তােমাদের উচ্ছল স্বৈরাচারের বিষফল । !
কঙ্কাবতীর ঘাট মুখা। শিল! My poor child ! মঞ্চ ঘুরিতে লাগিল। বারান্দা মঞ্চ ঘুরিতেছিল। উত্তেজিত হইয়া প্রবীর প্রবেশ করিল। প্রবীর। তােমার কথা আমি বিশ্বাস করি না, আর আমায় বিরক্ত করতে এসো না...যাও-নইলে, খুন করে ফেলব! লাল। রাগ কৰ্ব্বেন না—কথাগুলাে খাঁটি সত্যি, বিশ্বাস করুন আর নাই করুন। মঞ্চ ঘুরিতেছিল, ঘূরিতে লাগিল চামেলীর বাড়ী রামবাগান ছিল, তা প্রমাণ করতে পারি, নন্দুয়া তার সাক্ষী। আর সেই পুরােণাে বাড়উলী আজও বেঁচে আছে! সকলেই জানে চামেলী মুখার্জীর স্ত্রী নয়, তার রক্ষিতা। প্রবীর টেবিলে মাথা রাখিল পূর্বোক্ত হল শিলা। আমায় যেতে দাও। কেন, কেন তােমরা আমায় এমন পাপের পথ ধরে পৃথিবীতে টেনে আনলে ? কি অধিকার ছিল তােমাদের কলঙ্কের টাকা পরিয়ে আমায় পৃথিবীতে আনবার ? কাদিয়া ফেলিল। মুখ। শিল - হাত ধরিলেন। শিলা। হাত ছাড়•••আমায় যেতে দাও- মুখা। No, No, you must not•••কোথায় যাবি পাগলি মেয়ে ? শিলা। আমার স্বামীর কাছে তাকে আমার জন্ম ইতিহাস বতে--
কঙ্কাবতীর ঘাট
৫৭
মুখা। বলবি তাকে ?
শিলা। আমায় বলতে হবে আদ্যোপান্ত সব বলতে হবে।
মুখ।। No, you can't•••অতীতের সব পাপ আঁধায়ে ঘুমিয়ে
আছে, আঁধারেই থাক্তাকে জাগিয়ে তুলিস্ নে—
শিলা। আমায় বলতে হবে।
মুখা। কেন বলতে হবে ?
শিলা। কেন? কেন স্বামীকে আমার জীবনের কথা বসে
তুমি বুঝবে না, কারণ তুমি কারো স্বামী নও•••আমায় যিনি গর্ভে ধরেছেন
তিনিও বুঝবেন না, কারণ তিনি তােমার বিবাহিতা স্ত্রী নন্। জীবনে
যত পাপ, যত অপরাধ সঞ্চিত থাক্তার একটা কথাও যে তাকে লুকানাে
চলে না, তােমাদের মেয়ে হয়েও এ কথা বুঝেছি আমি; কারণ আমি
তার স্বৈরাচারের সঙ্গিনী নই, আমি তার বিবাহিতা স্ত্রী।
প্রবীরের প্রবেশ, মুখার্জীর প্রবীরকে দেখিয়া সভয়ে প্রস্থান।
প্রবীর। ভাবতে পারলুম এ কথা। হাঃ হাঃ হাঃ+An I going
mad ? হাঃ হাঃ হাঃ-
শিলা। ও কি !
প্রবীর। শিলা, কি মজা হয়েছে জানাে ? হাঃ হাঃ হাঃ-
শিলা। কি হয়েছে
প্রবীর। বলছি—বলছি-
অমন পাগলের মত হাসছ কেন?
প্রবীর। ( অপ্রস্তুত হইয়া) ওঃ। Bui...but it is a day of
joy! আমরা আজ জীবনের স্বপ্ন-কুঞ্জ রচনা করতে যাচ্ছি••আনন্দ তাই
উপছে পড়ছে! Let us enjoy, let us sing, let us do something:
শিলা।
কঙ্কাবতীর ঘাট শিলা। কি হয়েছে তােমার বলতো? বল ? প্রবীর। কি ? শিলা। কি বলছিলে- প্রবীর। বলছিলুম ! ওঃ! হাঃ হাঃ That's a funny thing! Come dear, let us sing. এস, আমরা একটা গান গাই শিলা। কৈ, বললে না ত ? প্রবীর। ঐ scoundrel লালমােহন আঢ্য•••ও বলে— শিলা। কি ? প্রবীর ঘুরিয়া বসিল। শিলার দুই হাত হাতের মধ্যে লইয়া প্রবীর। তুমি রাগ করােনা, লক্ষ্মীটি, শুনে নিজেকে এতটুকু অপমানিত বােধ করে না- শিলা। করব না-বল। প্রবীর। দেখ, বাইরে ভদ্রতার মুখােস থাকলেও মনে মনে মানুষ যে কতখানি নীচ পণ্ড হতে পারে তারই পরিচয় দিল ওই লালমােহন। শিলা। কি, কি পরিচয় দিল? প্রবীর। ওই জানােয়ারটা বলে কি শুনেছ? ও বলে তােমার••• মানে•••মানে•••Please-কিছু মনে করােনা—আমি বিশ্বাস করিনি... তবে প্রথমটা একটু shocked হয়েছিলাম। Excuse me—আশ্চৰ্য্য•• তাইত ভাবছিলাম, আমি এ কথা মনে কর্তে পাল্লুম কি করে! তুমি রাগ কৰ্বে না নিশ্চয় শিলা। না, তুমি বল- প্রবীর। ও বলে—তােমার বাবা মায়ের নাকি কোনকালে বিয়ে হয়নি। তুমি নাকি তাদের—এ কি! মুখ ফ্যাকাসে হ’ল কেন! তুমি কঙ্কাবতীর ঘাট কাপছ কেন? Don't get nervous dearie-he is a brute! Come, let us sing! One, two, three... শিলা। (একটু বাদে) শােনাে- প্রবীর। উহুyou must sing- শিলা। (তাহার হাত চাপিয়া ধরিয়া) শােন তুমি লালমােহন মিছে বলেনি.••তার কথা সত্যি প্রবীর। কি সত্যি? শিলা। আমার মা বাবার কথা সে যা বলেছে- প্রবীর। কি বলেছে জান তুমি ? শিলা। হা জানি, কি বলেছে শুনিনি কিন্তু এইটুকু জানি, সে সত্যি কথা বলেছে। আমার বাবা মায়ের প্রকৃত সম্পর্ককে অতিরঞ্জিত কিম্বা বিকৃত করে বলা চলে না! প্রবীর। তবে—তবে তুমিও এ সব জানাে ! শিলা। হ্যা জেনেও আমায় এতকাল এ কথা লুকিয়েছ প্রবীর । কেন ? . শিলা। না, আগে জানলে কখনাে তােমায় এ পাপ-পঙ্কে আমি টেনে আনতুম না। প্রবীর। আনতে না! এইবারে বুঝতে পেরেছি, কেন তুমি Societyতে মিশেছিলে বুঝতে পেরেছি, কেন তুমি Refined attitude নিয়েছিলে! বুঝতে পেরেছি—আমি পেরেছি—আমি বুঝতে বুঝতে পেরেছি-তােমার University Carreer-এর মূলে ছিল কি উদ্দেশ্য ! শিলা। কি ?
কঙ্কাবতীর ঘাট
প্রবীর। University তােমার Education-এর Platform নয়,
সে হ’ল তােমার শিকার ধরার Platform.
শিলা। আমি তাে শিকার ধরতে যাইনি, আমি যে তােমার
বিবাহিতা স্ত্রী!
প্রবীর। You shut up! বিবাহিতা স্ত্রী! বিবাহ তােমার সঙ্গে
আমার হয়নি, হতে পারে না।
শিলা। কি বলছ তুমি? আমাদের বিবাহ অস্বীকার করবে।
প্রবীর। হঁ্যা করব। প্রতারণাকে ভিত্তি করে বিবাহ হয়েছিল ;
বালুর স্থূপ ধ্বসে গেছে—প্রাসাদ ধূলােয় মিশিয়ে গেছে! You are
no more my wife. তুমি আমার কেউ নও•••আমার স্ত্রী মরে গেছে•••
প্রস্থানােত।
শিলা। দাড়াও। আমায় তুমি ত্যাগ করে যাচ্ছ•••আমাদের
বিবাহকে তুমি অস্বীকার করছ, কিন্তু মনে আছে•••আমার গর্ভে সন্তান!
প্রবীর। সন্তান—(দুই হাতে মুখ ঢাকিল )
শিলা। আমাদের ভালবাসার কথা তুলব না ! ভালবাসার দোহাই
দিয়ে তােমায় ধরে রাখতে চাইব না। কিন্তু তুমি আমায় ত্যাগ করে
গেলে...কি পরিচয় নিয়ে সে সমাজের সামনে দাড়াবে ? সেই ফুলের
মত নিস্পাপ শিশু•••জগতে কোন অপরাধ সে কল্লে না, কোন প্রাণে তার
কপালে এত বড় অভিশাপের চিহ্ন এঁকে দেবে বলত ?
প্রবীর । I am helpless, quite helpless, ota sty7698
পাপের প্রায়শ্চিত্ত তাকে করতে হবে। সন্তান হলে কোনো Refuge
পাঠিয়ে দিও।
শিলা , Refugeএ পাঠাব না কিছুতেই না?
ধর ঘাট প্রবীর। বেশ, তবে নিজে পালন কোরাে ; টাকার দরকার হয়, খবর দিও। শিলা। ধন্যবাদ ! তােমার দয়ার দুয়ারে হাত পাবার আগে ভগবান যেন সেই সন্তানকে হত্যা করবার সাহস আমায় দান করেন। আমি যেন তাকে মেরে ফেলতে পারি । প্রবীর। তােমার পক্ষে তা খুবই স্বাভাবিক। শিলা। স্বাভাবিক প্রবীর। নিশ্চয়। শিলা। তুমি কি বলছ! মা হয়ে আমি আমার সন্তানকে হত্যা করতে পারবাে ! প্রবীর। কেন পারবে না ! What's motherhood to you? মাতৃত্ব-তােমাদের আবার মাতৃত্ব। the offspring of a scoundrel and a vile woman. দরজা খুলিয়া বাহির হইতে মুখার্জী আসিয়া তাহাকে ধরিলেন। মুখা। প্রবীর! কোথায় যাচ্ছ তুমি! প্রবীর-প্রবীর- প্রবীর। আঃ হাত ছাড়ুন। মুখা। না, আমি তােমায় যেতে দেবনা, কিছুতেই না—কিছুতেই না। প্রবীর। না, আপনারা আমায় ধরে রাখতে পারবেন না মিঃ মুখার্জীর হাত ছাড়াইয়া ঝড়ের মত বাহির হইয়া গেল ; মুখার্জী মাটিতে পড়িয়া গেলেন, শিলা আসিয়া তাহাকে ধরিল। শিলা। বাবা--বাবা- মুখ। উমা! শিলা। আমি শিলা- You are venomous কঙ্কাবতীর ঘাট মুখা। ও শিলা-পাষাণ শিলা কথা কইছে ? শিলা। বাবা- মুখা। (অন্ধকারে প্রবীরের প্রতিমূর্তির দিকে চাহিয়া ) But you my boy! Why you hide yourself in darkness ? France এসেছে•••তাকে তুমি নাও- শিলা। কার সঙ্গে কথা কইছ বাবা! সে যে চলে গেছে মুখা। No! He is there! (মুত্তি দেখাইলেন) শিশা। ও যে তােমার তৈরী পাষাণ মুক্তি মুখা। Still the stone must speak ! মাংসের মানুষ পাষাণ হতে পারে, কিন্তু শিল্পীর কল্পনার সৃষ্টি কখনাে পাষাণ হতে পারে না। You Probir! You my boy, you must say that you will not hate my girl. বল যে তুমি আমার মাকে ঘৃণা কর না। You must not throw this innocent flower on the dust. Probir ! Probir ! মুৰ্ত্তিকে ঝাকুনি দিয়া বারবার কাকুতি মিনতি করিতে লাগিলেন। শিলা। বাবা-বাবা তুমি কি পাগল হয়ে গেলে! পাষাণ কথা কমনা•••এখাে•••চলে এসাে- মুখা। No, No.•••He must speak! You must ! Youmust.••• ঝাকুনিতে মুর্তিটি পড়িয়া গিয়া চূর্ণ বিচূর্ণ হইয়া গেল, শিলা আর্তনাদ করিয়া উঠিল। ভাঙ্গা প্রতিমুর্তির একটী টু মুখার্জির হাতে তুলিয়া দিয়া তাহার কোলের উপর ফু পাইয়া কাদিতে লাগিল। শিলা। বাবা- মুখা। ঘুমোও মা, ঘুমােও—ঘুমােও = দ্বিতীয় অঙ্ক প্রথম দৃশ্য জাপানী চোলাই মদের দোকান রেকর্ড বাজছে। খদ্দেররা মদ খাচ্ছে। বংশী তাদের এটেও কচ্ছে। ওহার সেতুর উপরে দাড়িয়ে আছে•••নেপথ্যে কলরব। রেকর্ড থামিবার পর জনৈক খদ্দের। Boy- বংশী। Here sir ! খদ্দের। Cigarette- বংশী। Bringing sir. সিগারেট আনিতে উদ্যত। ওহারু। বংশী । তুমি কেনাে ? জনৈক বয়কে এই, সাহাবকো Cigarette দাও। শােন বংশী বংশী সেতুর নিকট গেল ইলােক কাজ কোরে কিনা টুমি কেবল টাহা ডেখিবে। You are head-waiter•••নিজে হাতে জিনিষ আনিবে না। বংশী। 0.k. নেপথ্যে কলরব। মনুয়া খদ্দের লইয়া আসিল। ওহার নামিয়া আসিয়া রেকর্ড বদলাইয়া দিয়া বাণীকে এক মাতাল খদ্দেরের কাছে যাইয়া তাহার পকেট কাটিতে ইঙ্গিত করিল। বংশী পকেট কাটিয়া ওহারুর কাছে আগাইয়া আসিল। ব্যাগ খুলিয়া দেখিল সব অচল টাকা।
৬৪ কঙ্কাবতীর ঘাট বংশী। মাত্র এক টাকা সাড়ে সাত আনা-One Rupee half , seven annas! তাও অচল! ওহারু ব্যাগটী ফেরত দিতে ইঙ্গিত করিল। বংশী ব্যাগটী লইয়া পূর্বোক্ত খদ্দেরের পাশে টাক ওয়ালা খদ্দেরের পকেটে রাখিল। একটু বাদে ব্যাগের খোজ পড়িল এবং টাক ওয়ালার পকেট হইতে তাহা বাহির হইতেই তুমুল কোলাহল, খদ্দের। My bag! pick pocket ! Police-Police! বংশী। (ওহারুকে) চোলাই মদের কারখানায় পুলিশ ডাকবে ? হাঙ্গামা হবে যে ? ওহারু। No! No! Kick him out ! বংশী। তাই ভাল। বেরােও-father টাকু, বেরােও- সকলে। Get out, get out. টাককে বাহির করিয়া দিয়া বংশী দরজারপাশে দাড়াইয়া রহিল- নন্দুয়া ও লালমোহনের প্রবেশ। নন্দুয়া। বসুন আঢ্যিবাবু, একটু ঠাণ্ডা হয়ে নিন। বয়। বয়ের প্রবেশ, মদ্য দান ও আদ্যির পান। আর কিছু ফরমাজ করুন। লাল। কি ফরমাজ করব? তুই একটা নেহাৎ ভেলুলেস। নন্দুয়া। কেন আঢ্যি মশাই, কত ত জুটিয়ে দিলুম ! লাল। তা দিয়েছিস। কিন্তু নন্দুয়া, এক জায়গায় বড় দাগা পেয়েছি আমার এই লােহা লক্করের পয়সা সব বৃথাই গেল। নন্দুয়া। (হাসিয়া) সেকথা আজও ভুলতে পারনি আঢ্যিবাবু? লাল। হাসছিস্ কিরে? আজ পর্যন্ত আঢ্যিবাবু যেখানে লােহার" পয়সা ছড়িয়েছে সেখানে সােনা ফলিয়েছে, ফেল করলুম কেবল ঐ
কঙ্কাবতীর ঘাট
শিলার কাছে! বুকে খোঁচার মত লাগছে নন্দুয়া, যে আমি ফেল করলুম ;
যে always মেয়ে মানুষ champion.
নন্দুয়া। তা দুঃখ করে কি করবে-
লাল। কি করব তাই ভাবছি! কি করব:••সাত সাতটা বছর
হয়ে গেল.••তবু ভুলতে পাচ্ছিনা...মরমে মরে আছি! চামেলীবিবি
পর্যন্ত নাকি ওর ঠিকানা জানেনা! যদি পেতুম একবার, যত টাকা
লাগে•••একবার শেষ চেষ্টা
নন্দু। আঢ্যি মশাই
লাল। পারবি নন্দুয়া ? তুই তাকে খুঁজে বার করতে পারবি ?
নন্দু। ছেড়ে দাও না আঢিমশাই। টাকা যখন আছে নতুন মেয়ের
ভাবনা কি? চাও তাে অন্য দশ বিশ ডজন এনে দেব।
ছেড়ে দাও—অনেক ভাল ভাল জিনিষ আনিয়ে দিচ্ছি।
লাল। ভাল জিনিষ•••মানে better goods ? কিন্তু সে যে আমায়
বড় দাগা দিয়ে গেল
কাঁদিয়া ফেলিল
নন্দু। আঃ কি কচ্ছ আঢ্যি মশাই। এসাে, প্রাইভেট ঘরে এসাে,
পাঁচজনে হাসবে যে ! এ বয়! বাবুকে প্রাইভেট ঘরে লিয়ে যাও
বয়সহ লালমােহনের প্রস্থান। ইতিমধ্যে ওহারু ও বংশী
প্রবেশ করিয়া কথা কহিতেছিল।
নন্দু। হারে বংশী—
ওহারু চমকিয়া প্রস্থান।
বংশী।
Yes, father!
বংশী কাছে আসিল।
কঙ্কাবতীর ঘাট
?
বংশী ।
নন্দু।
নন্দু। তাের ব্যাপারখানা কি
what ব্যাপার ?
নন্দু। আখের ভাল হবে বলে গুণ্ডার দল থেকে ছাড়িয়ে এনে
তােকে ওহারু বিবির দোকানে চাকুরী করিয়ে দিলুম••এখানে এসেও
স্বভাব ছাড়লিনে? পকেট মারছিস ••• আর ঐ মাগীটার সঙ্গে জুটছিস ?
বংশী । Salary 25 Rupees, পােয় নাগাট কাটলে madam
বখরা দেয়।
নন্দু। তাের এত টাকার দরকার কিসের ? চামেলীর কাছ থেকে
তাে টাকা পাচ্ছি।
বংশী। উঁহু, she not giving•••দেয়না এখন।
দেয় না!
বংশী । না তােমার শেখান মত যখনি গিয়ে বলতুম, আমি সব কথা
জানি, ফাস করে দেব, অমনি টাকা দিত। কিন্তু একদিন আমায় একা
ঘরের ভেতর আটকে-দরজা বন্ধ করে জিজ্ঞাসা করল, বল তুই কি
জানিস! আর বলতে পারিনা। সেই থেকে টাকা দেওয়া full stop••
নন্দু। হু!
বংশী। হ্যা বাবা, ব্যাপারটা কি বল দিকিনি! আসল কথাটা
জানতে পারলে আবার অনেক টাকা বার কর্তে পার্তুম, বলনা বাবা?
নন্দু। শুবি—শুবি-দাড়া। হারে, মেয়েটা এখন কোথায় রে?
বংশী। সে তােত ওখানে থাকেনা--তার খোজ কেউ রাখে না।
তবে হ্যা—ভাল কথা, দিন দশ পনেরাে আগে সীতারাম ঘােষের স্ট্রীটে
একটা ভাঙ্গা বাড়ীতে সেই মেয়েটাকে ঢুকতে দেখেছি মনে হয়-
নন্দু। দেখেছিস ! চামেলীকে বলেছিস নাকি
কঙ্কাবতীর ঘাট
৬৭
বংশী। না, আমি একা জানি
(নেপথ্যে বেণ। বংশী Yes Sir বলিয়া প্রস্থান করিতে করিতে ফিরিয়া)
একটা মালদার খদ্দের জোটাতে পারনা বাবা! সব বেটার
পকেটে কেবল অচল সিকি দুয়ানি। Not moving!
ওগুলাের পকেট কেটেও সুখ পাইনে। Yes sir
(প্রস্থান। নন্দুয়া প্রস্থানােত, মিসেস্ মুখার্জীর প্রবেশ--চোখে Sunglass.
নন্দু। আরে! চামেণীবিবি! তুমি এখানে?
চামেলী। সাধ করে আসিনি—এসেছি তাের খোঁজে
নন্দু। বসে-বসাে—কি খাবে ?
মিসেস্। থাক, তাের খাতির করতে হবেনা। এমনি বেইমান তুই
একবারও দেখিসনে, আছি না গেছি! খোঁজ নিয়েছিস, দু’বেলা খেতে
পাচ্ছি কিনা ?
নন্দু। তােমার তাে অনেক পয়সা
মিসে। সব ফুরিয়ে এসেছে। ভাব দিকিনি কতদিন বসে খাচ্ছি-
নন্দু। মুখুজ্জে কি বলে?
মিসেস্। সে ত পাগল হয়ে গেছে । কখন কখন আসে, চাকর
বাকর যার কাছ থেকে পায় cigarette চেয়ে নিয়ে চলে যায়। শিলার
কথা জিজ্ঞাসা করলে বলে, মরে গেছে-
নন্দু। মরে গেছে।'
মিসেস। মিছে কথা ! ও আমায় শিলার খবর লুকোতে চায়,
শিলাকে ও আর কিছুতে আমার কাছে আসতে দেবেনা! শিলাও হয়তাে
আর আমার কাছে আসতে চায়না ; নইলে এই সাত বছর একবার দেখাটি
পর্যন্ত করলে না!
কঙ্কাবতীর ঘাট
ক
নন্দু। যাক্•••যে গেছে যা না।
মিসেস্। কিন্তু বলতে পারিস, আমার দিন চলবে কি করে? একটা
লােক আমায় দেখবার নেই, তুই বুঝবি নে, এ কত বড় অশান্তি। একটা
অবলম্বন নেই! তাই এসেছি তাের কাছে-
নন্দু। তার আমি আর কি করব ?
মিসেস্। বংশীকে আমায় দে নন্দুয়া
নন্দু। আরে! কি বলছ বিবি।
মিসেস্। আমি মিথ্যে বলিনি
নন্দু। তা নাও না। ও তাে আর তােমার ফেলবার নয় ? কিন্তু
ওকে রাখতে পারবে কি ?
মিসেস্। বলেই দ্যাখ না--
নন্দু। হরে...বংশী...
বংশী। Yes father
বংশীর প্রবেশ।
সেলাম মেম সাব--
নন্দ। শােন্, তাের সাথে কথা আছে-
তিনজনের প্রস্থান ;
গাহিতে গাহিতে জাপানী বালিকাগণের প্রবেশ, ওহরু কুর্নিশ করিয়া
চেয়ারে বসিল ; নাচের শেষে তারা চলিয়া গেল।
মুখার্জী ধীরে ধীরে প্রবেশ করিলেন।
মুখা। এটা কোথায় ? এটা মদের দোকান ত ? ভাল মদ আছে ?
ওহারু। টুমি কি ভাল মদ খাবে ?
মুখা। হা-হা, ছেড়া জামা কাপড় দেখে ভয় পেয়ােনা ! টাকা
আছে, এই দেখ..নগদ দশ টাকা! খুব ভাল মদ দাও
কঙ্কাবতীর ঘাট ওহারু। উধার চলিয়ে সাব-বহুত আচ্ছা মদ দিবে। মুখ্য। তাড়াতাড়ি দাও, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে- ওহারু। চলিয়ে ... মুখ । কতকাল ভাল মদ খাইনি! চলাে—চলাে- ওহারুসহ প্রস্থান। বংশীর সুট পরিয়া প্রবেশ । বংশী । মাদাম-মাদাম- ওহারুর পুনঃ প্রবেশ। ওহারু। বংশী- বংশী । Not more বংশী । Now বাঁশরী মুখার্জী ! চামেলী আমায় son করেছে••• Belly Son নয়••• Domestic Son! অনেক টাকা পাব—খুব বড় মানুষ হবো! এই দ্যাখ—এই দ্যাখ! বাটলার, ভাল হুইস্কি দাও ওহারু। Is it! Oh dear, oh dear! হামি আর টুমি এক সাথ থাকিবে। বংশী! উহু, এক সাথে থাকা হবে না। মাদার আমায় আজই নিয়ে যাবে যে- ওহারু। What! তুমি আমাকে ছাড়িয়ে যাবে! বংশী। কি করব ওহারু•••what I do? Domestic মা শুনছে ! নইলে তােমায় কি ছাড়তে পারি ? তুমি যে আমার প্রেমের দেবী? Oh my heart's she-god! ওহারু। What! You call me she-goat ! বংশী। Not she goat•••goddess•••she goddess•••come "We dance' ! tra-la tra-la tra-la- কঙ্কাবতীর ঘাট চামেলির প্রবেশ। ছোড় মাদাম•••মাদার কলিং- সরিয়া গেল। মুখার্জী ও বয়ের প্রবেশ। বয়। সাব- মুখা। 'না, আর খাব না—সারা হপ্তা খেটে দশ টাকা রােজগার করেছি, মাত্র পাঁচটী টাকা রইল। এতে পথ চলবে! থাক, মদ চাইনে, আমি যাই- চামেলী। একি! তুমি এখানে ? মুখা। থাক, পাঁচটী টাকা.. ওরা খেয়ে বাঁচবে। চামেলী ! কারা খেয়ে বাঁচবে ? মুখা। আমার উমা চামেলী। শিলা! কোথায় সে ? মুখ। শিলা ! তুমি কে? চামেলী। আমি চামেলী! বল, শিলা কোথায় ? মুখা। রােগের যন্ত্রণায় কাতড়াচ্ছে। মাকে আমার ওষুধটুকুন দিতে পারি না—তার জন্যে ঐ দুধের ছেলে থােকা•••কি করে জানাে ? রাস্তায় রাস্তায় পান বিক্রি করে বেড়ায় চামেলী। কে খােকা ? মুখা। আমার উমার থােকা.••আমার উমার কোলের সােনার চাদ থােকা...পথের লােককে হ্যারিসন রােডের মােড়ে কলেজ স্ট্রীটে মােড়ে লােকের হাতে পায়ে ধরে বলে-“বাবু, পান নেবেন? নিন্ না: নইলে খেতে পাব না?” আমার উমার কাছে যাই, খােকার কাছে যাই- কঙ্কাবতীর ঘাট ' ৭১ চামেলী। তারা কোথায় ? ওগাে, বলল তারা কোথায় ? মুখা।, তারা ভুগছে—রােগে ভুগছে।না মরে গেছে, তারা মরে গেছে- মিসেস্। না, মরেনি। তুমি বল তাদের ঠিকানা হাত ধরিলেন। মুখা। (হাত ছিনাইয়া) আঁ-হঁ্যা, হঁা, মরেছে! মাথায় আগুন জ্বলছে, আমি মদ খাবাে•••মদ ঢেলে আগুণ নিবিয়ে দেব—ছাড়ােন বয়-বয়- প্রস্থান। চামেলী। ই-বলবে না ওদের ঠিকানা! বাঁশরী--- সাহেবী পােষাক পরা বংশীর প্রবেশ। 7ati Yes mother! Son present. চামেলী। শশান্তাের সেই গুণ্ডার দলকে একবার খবর দিতে পারিস ? বংশী। ইএখুনি। চামেলী। হা-ওদের নিয়ে আয়- নয়ার প্রবেশ এখনাে বংশী । গুণ্ডার দল দিয়ে কি হবে চামেলী বিবি ? মিসেস। না, কিছু না- নন্দু। আমায় লুকোবার চেষ্টা কর না—ভাল হবে না। ও সব মতলব ছাড়ো! চামেলী। কি মতলব- নন্দু। শিলাকে ছিনিয়ে আবার মতলব করেছ? লছি, ৭২ : কঙ্কাবতীর ঘাট চামেলী। তা যদি করে থাকি-বেশ করেছি। ওরা যখন আমার কাছে ধরা দেবে না, আমি জোর করে ওদের ধরবাে- নন্দ। জোর করে ! চামেলী। হ্যা, জোর করে। শিলাকে না পাই, তার ছেলেকে আমি নিয়ে আসব- নন্দ। বুঝেছি, এরই জন্যে তুমি বংশীকে চাও! তােমার হয়ে ও “গুণ্ডামি করবে। না, তা হবে না। চামেলী। করি তাে ক—তাতে তাের কি নন্দুয়া ! আয় বংশী ! নন্দু। দাড়া। ও যাবে না। দেখি বংশী, তাের ঘাড়ে কতখানি রক্ত, আমার হুকুম এড়িয়ে তুই চামেলী বিবির সঙ্গে যা! চ'লে আয়, আয় বলছি- বংশী। বাবা- চামেলী। বাঁশরী বংশী। মাদার call•••যাবাে father? নন্দ। না, তুই আমার সঙ্গে আয়- চামেলী। কিন্তু ভাল হ’ল না নন্দয়া, বংশীকে টেনে নিয়ে তুই আমায় বাধা দিতে পারবিনে, কিছুতে পারবি নে- প্রস্থান। নন্দ। আচ্ছা, আমিও দেখে নেব! হারে বংশী, সীতারাম ঘােষের নীটে সেই বাড়ীটা তুই জানিস তাে? বংশী। তা আবছা আবছা মনে আছে বৈকি। নন্দ। খুঁজে নিতে পারবি তাে? বংশী। তা বােধ হয় পিরবাে- কঙ্কাবতীর ঘাট ৭ নন্দ, | ব্যস্। চলে আয় তা হলে আমার সঙ্গে দেখি চামেলী বিবি কত বড় খেলােয়াড় মেয়ে মানুষ ! উভয়ের প্রস্থান। মুখার্জী ও ওহারুর প্রবেশ। মুখ। , আর খাব না, আর খাব না...টাকা তাে নেই- ওহারু। সে কি সাব ? মুখা। মাত্র দু’টো টাকা আছে-- ওহারু। উমে এক পেগ, আচ্ছা হুইস্কি দিবে। মুখ। -না এ টাকায় তার ওষুধ হবে, পথ্য হবে! খােকা হয় তাে পান বিক্রী করতে গেছে! না, না, দু’ টাকা আছে•••থােক। পান বেচতে হবে না।•••ঐ টুকুন দুধের ছেলে, রাস্তায় রাস্তায় হেঁকে বেড়ায় পান নেবেন বাবু! পানি নেবেন? প্রস্থান। দ্বিতীয় দৃশ্য কলেজ স্ট্রীট ও হ্যারিসন রোডের মোড়। মুষল মুন্সর অফিস-পত্রিকা সম্পাদক যদুপতি বটব্যাল ও তরুণ কবি সতীশ বসু। যদু। নেপথ্যে–পান নেবেন বাবু•••পান নেবেন? ও সব কবিতা টবিতা চলবে না মশাই, ভাল গল্প খুিন- সতীশ। একটী ছেপেই দেখুন না স্যার,আপনার কাগজ কি পরিমাণ কাটবে- যদু। কাগজ কাটবে বটে; কিন্তু সে খদ্দেরে নয়•••পােকায়! বুঝেছেন? সতী আপনি বুঝছেন না—এ কবিতা সে ধরণের বাজে কবিতা ৭৪ কঙ্কাবতীর ঘাট সতীশ। নয় বলেন তত কবিতাটা একবার সুর তাল সমন্বয়ে আপনাকে শুনিয়ে দিই- যদু। আপনি মশাই কাটালের আটা দেখছি ! আচ্ছা, চপg 4 সে শুনিয়ে দিন ঢাকুরিয়ার লেকে যেতে দেখেছিলুম তায়- দয়ারামের সাড়ী পর লাল লপেটা পায়। (সুরে) ঈষৎ রাঙা রুজের আভা ঝুরছে দুগাল বেয়ে। একটু খানি হাসির লহর (গেল ) আমার মাথা খেয়ে সেই দুষ্ট, চপল মেয়ে। সতী। যদু। (টেবিলে মুষ্টাঘাত করিয়া) থামুন মশাই, থামুন- আরও আছে যে? যদু। মাথা গে খাওয়া হয়ে গেল, তারপর আবার কি খাবে? সতীশ। আজ্ঞে, তারপর খাবে- জানালায় থােকা। পান নেবেন বাবু ? পান? তারপর পান। যই। জানালায় থােক। নেবেন বাবু? পান নেবেন? যদু। এই ভাগ-ছােড়া-ভাগ বলছি- খােক জানালা হইতেরিয়া গেল।
কঙ্কাবতীর ঘাট ৭৫ সতীশ। দেখুন, এ কবিতা ছাপালে যদু। • এ সব কবিতা মুষল মুদগরে ছাপা হয় না-ও কবিতার জন্যে মুষল মুদারের ব্যবস্থা দিয়ে থাকি ! কোথা থেকে এ সব লেখা আমদানী করেন মশাই ? সতীশ। আজ্ঞে স্যার-এ একেবারে খাঁটি বৈষ্ণব কবিতার অনুকরণে রচিত। যদু। আঁ-বলেন কি! বৈষ্ণব কবিতা... সতীশ। আজ্ঞে হ্যা••• জীবনের ছােট্ট একটী বেদনাময় অভিজ্ঞতার সঙ্গে বৈষ্ণব কবিতা মিশিয়ে যদু। অভিজ্ঞতা নিশ্চয়••• লাল লপেটা পর্যন্ত। সতীশ। আশ্চৰ্য্য। কি করে বুঝলেন স্যার? যদু। দুষ্ট মেয়ের লাল লপেটার অভিজ্ঞতা না থাকলে, বেদনাময় কথাটি দেবেন কেন ? সে যাক, কিন্তু বৈষ্ণব কবিতার অনুসরণে কোনটুকু? সতীশ। আজ্ঞে ঐ যে ঈষৎ রাঙা রুজের আভা ঝুরছে দুগাল বেয়ে মানে—ঢল ঢল কাচা অঙ্গের লাবণি অবনি বহিয়া যায়। যদু। ই- সতীশ। আর•••একটুখানি হাসির লহর (গেল ) আমার মাথা খেয়ে। নেবেন্দ দাসের...ঈষৎ হাসির তরঙ্গ হিল্লোলে-মদন মুরছা পায়।
কঙ্কাবতীর ঘাট যদু। চমৎকার! বৈষ্ণব সহিত্যের দ্বিতীয় মল্লীনাথ আপনি। সতীশ। তা হলে কবিতাটা রেখে যাই ? যদু। টেবিলে নয়—ঐ ওখানে ওয়েষ্ট পেপার বাক্স দেখাইল। সতীশ। মানে ! যদু। মানে—মুষল মুগর- থােকার প্রবেশ । খােকা। দু’খিলি পান নিন না বাবু যদু। এই ভেঁপাে ছােকরা, আবার জ্বালাতন করতে এসেছি। থােকা। পান না নিলে যে আমরা খেতে পাবনা বাবু। যদু। খেতে পাবে না। মুষল মুদগর আফিস এই সব ওঁচা কবিতা আর পানওয়ালার জন্যে ! বেরােও বছি বেরাে•••তবু দাড়িয়ে। তবেরে পাজী ছােকরা- থােকার ছুটিয়া প্রস্থান। আচ্ছা জ্বালাতনে পড়েছি এদের মিয়ে নেপথ্যে মােটরের হর্ণ, আৰ্তনাদ ও বহু কণ্ঠে “গেল গেল” চাপা পড়ল । -- ১। গাড়ী ধরাে•••গাড়ী ধরাে ১। গাড়ীর নম্বরটা নাও হে- ১। ওহে, বেঁচে গেছে—ওহে, বেঁচে গেছে- ১। চল••চল—এই মুষল মুদগর আফিসে নিয়ে চল।—ইত্যাদি থােকাকে ধরিয়া একজন ড্রাইভার ও দুইজন পথিক প্রবেশ করিয়া তাহাকে একধারে শােয়াইয়া দিল।
কঙ্কাবতীর ঘাট ৭৭ • প্রবীর ও মৃণালের প্রবেশ প্রবীর। মাল সিং! মাল সিং। জি প্রবীর। জলদি যাও-বরফ- ড্রাইভারের প্রস্থান। সতীশ। কে! প্রবীর না? প্রবীর। এই যে.••সতীশ ! সতীশ। কি হ’ল ? প্রবীর। আর বল কেন ভাই, এই ছেলেটী পান বিক্ৰী কচ্ছিল রাস্তা ক্র করতে গিয়ে হঠাৎ আমার গাড়ীর সামনে—তবু expert ড্রাইভার...খুব সামলে গেছে, চোট লাগেনি। যদু। চোট একটু লাগাই ভাল ছিল ! মা বাপের যেমন আক্কেল ! ঐটুকু দুধের ছেলেকে পান বিক্রী করতে কেউ পাঠায় কখন ? মৃণাল। হয়তাে মা বাপ নেই ! আর থাকলেও সখ করে নিশ্চয়ই পাঠায়নি—না খেতে পেয়েই সতীশ। তা:..তা বটে...(প্রবীরকে ) ইনি! প্রবীর। আমার স্ত্রী মৃণাল—আমার বি, এ, ক্লাসের বন্ধু সতীশ ! উভয়ের নমস্কার বিনিময়। সতীশ। Butchey-Four times B. A. plucked. Now 1964 মুদগরের Sub Editor...আর ইনি যদুপতি-Sir•••Editor. ড্রাইভারের প্রবেশ প্রবীর। এই যে বরফ এনেছে ! স্মৃণাল। আর দরকার হবে না হয়তাে, চোখ চাইছে !
৭৮
কঙ্কাবতীর ঘাট
খােকা।
মা•••মাগো-
দুই হাতে মা মনে কয়িয়া মৃণালের গলা জড়াইয়া ধরিয়া
সহসা অপরিচিতা দেখিয়া হাত সরাইয়া নিল।
।
A
মৃণাল। হাত সরিয়ে নিলে কেন বাবা? এসাে, আমার কোলে
এলাে--
খােকা। । আমার মা কোথায়, আমি কোথায় ?
'প্রবীর। পান বিক্রী করতে গিয়ে তুমি রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলে
খােকা। ওঃ! আমার পান-আমার পান।
প্রবীর। সেগুলাে কুড়িয়ে আর কি হবে, নষ্ট হয়ে গেছে !
খােকা। তবু কুড়িয়ে আনি...হয়তাে বিক্রী হবে।
মৃণাল। ছিঃ, এখন উঠোনা! তােমার শরীর কাঁপছে।
থােক। কিন্তু মার জন্যে যে সাবু কিনতে হবে, ঘরে একটা পয়সা
নেই যে! কি হবে তবে?
মৃণাল। তার জন্যে ভাবনা কি ? আমাদের সঙ্গে এসো, আমরা
কিনে দিচ্ছি--
থােকা। দেবেন! সত্যি!
মৃণাল। হ্যা, সব কিনে দেব আমাদের গাড়ীতে এসাে-
মৃণাল, ড্রাইভার ও খােকার প্রস্থান।
প্রবীর। আচ্ছা, চলি ভাই!
সতীশ। তােমার স্ত্রীর কিন্তু ভাই, দয়ার শরীর! কি নাম বললে ওঁর
প্রবীর। মৃণাল
সতীশ। মৃণাল ! তবে যে শুনেছিলাম, তুমি এম এ, ক্লাসের কৈ
শিলা দেবীকে নাকি বিয়ে
কঙ্কাবতীর ঘাট ৭১ প্রবীর। হয়েছিল—সে নেই- সতীশ। নেই- প্রবীর। সাত বছর আগে মারা গেছে ছুটিয়া প্রস্থান। সতীশ। ও, তা—তা শিলা-শিলা—মৃণাল-মৃণাল ! শিলা গেছে •••এসেছে মৃণাল ! কারাে স্থান পূরণ থাকে না! Sir, এবার আমি ভাল কবিতা লিখব! শিলা•••মৃণাল, বড় চমৎকার নাম—দিন তাে একটু কাগজ...শিলা গেছে...মৃণাল এসেছে—শিলা—মৃণাল তৃতীয় দৃশ্য শিলার গৃহ। অপ্রশস্ত পুরানাে ঘর, দেওয়ালে বহুকাল চূণকাম হয় নাই ; রুগ্ন লােকের পাজরের মত আধখাওয়া ইট গুলি বাহির হইয়া আছে। এক পার্শ্বে একখানি ছোট তক্তপোষে রুগ্ন শিলা শায়িত, শিয়রের কাছে ভাঙা চেয়ারে দু একটা ঔষধের শিশি। বাহিরে পায়ের আওয়াজ শুনিয়া উঠিয়া বসিল ; হারিকেনের আলো উসকাইয়া দিল। শিলা। থােকা এলি কি ! খােকা-খােকা- থােকা ও পশ্চাতে মৃণালের প্রবেশ। খােকা। মা মণি-মা মণি- শিলা। এত রাত করতে হয় পাগল ছেলে। আবার বুঝি তারিণীর মাকে দিয়ে লুকিয়ে পান সাজাতে গিয়েছিলি। আমি এদিকে ভেবে হঠাৎ মৃণালের দিকে চোখ পড়িল । সৃপনি !
৯.
কঙ্কাবতীর ঘাট
,
খােকা। মা মণি-ইনি আমাকে মােটর গাড়ী করে বাড়ী নিয়ে
এসেছেন।
শিলা। আপনি
মৃণাল। আমি মৃণাল --তােমার খোকা আমায় মা বলে ডেকেছে
তুমি আমাকে মৃণাল বলেই ডেকো ভাই !
শিলা। বােসস ভাই, এই চেয়ারটাতে ।
মৃণাল। থাক্, ব্যস্ত হয়ােনা! আমি তােমার পাশেই বছি-
বিছানায় বসিয়া ;
আমি-আমাদের এক ভয়ানক অপরাধের জন্যে তােমার কাছে
ক্ষমা চাইতে এলুম! খােকা আজ কলেজ স্ট্রীটেয় মােড়ে রাস্তা
ক্রস করতে গিয়ে আমাদের গাড়ীর সামনে পা পিছলে পড়ে
যায়-
শিলা আর্তনাদ করিয়া উঠিয়া সভয়ে থােকাকে বুকে জড়াইয়া
তাহার গায়ে মাথায় হাত বুলাইতে লাগিল।
শিলা। দেখি—দেখি—কোথায় লাগল ।
খােকা। ধ্যে কোথাও লাগেনি! উন্টে বরং মজাসে নতুন মটর
গাড়ী চাপলুম, লজেঞ্জ, চকলেট কত কি খেলুম! জানাে মা মণি,—উনি
তােমার জন্যে বেদানা, আঙ্গুর, আপেল নিয়ে এসেছেন।
শিলা। ছি ছি, এসব কেন ভাই—
মৃণাল। তােমার অসুখ !
শিলা। না, না, অসুখ আমার সেরে গেছে, কাল পরশুই কাজে
বেরুবাে হয়ত! তােমাদের একি অত্যাচার!
মৃণাল। একে অত্যাচার বলাে না ভাই! মূৰ্ছা ভেঙে উঠে খােক।
কঙ্কাবতীর ঘাট
শিলা।
যখন মা বলে আমার গলা জড়িয়ে ধরেছিল, সে মুহূর্তে আমি যে বস্তু
পেয়েছি, দুটো আঙ্গুর বেদান। তো তুচ্ছ আমার যা কিছু আছে, সব
নিঃশেষে বিলিয়ে দিলেও তার জোড়া হবে না : খোকা র মুখ চেয়ে যা
দিয়েছি সে তুমি ফিরিয়ে দিতে পারবে না-
শিলা। তােমার স্বামী কি করেন ভাই ?
মৃণাল। বিশে কিছু নয়, দেশে বিঃ সম্পত্তি আছে। সেখানে
থেকে তাই দেখাশুনা করেন। পূজোর ছুটিতে কোলকাতা এসেছি
আমরা ; আবার দু'একদিনের মধ্যেই চলে যাব ।
ক বছর তােমাদের বিয়ে হয়েছে ?
মৃণাল। সাত বছর -
শিলা। ছেলে মেয়ে ?
মৃণাল। ( মৃদু হাসিয়া খােকাকে কোলে লই।) মেয়ে নেই ; ছেলে••
ছেলে আর এই একটী ! কেমন পােকন, সবে আমার সঙ্গে ?
থােক। হু, আর ম মণি?
মৃণাল । মা মণি ও নাবে ।
থােক। তা হলে বেশ মজা হবে! ম মণিকে আর পড়াতে যেতে
হবে না, মা মণির অসুখ হলে আমাকে ও রাস্তায় পান বিক্রী করতে
হবে না; রাতদিন মোটরে চেপে ভোঁ ভোঁ ভে..মাই, বাবুজীকে
বলে আসি, ••কেমন ?
শিলা। কে বাজী ?
মৃণাল। উনি ! নীচে দাড়িয়ে আছেন !
শিলা। তােমার স্বামী ! ছি-ছি-ছি এতক্ষণ বাইরে দাড়িয়ে ! যা
থােকা, শিগরি এখানে ডেকে নিয়ে আর ।
থােক। চলিয়া গেল।
২ কঙ্কাবতীর ঘাট একি অন্যায় কাজ ভাই! আমায় একটুও বলনি ! কি ভাবছেন বলত। মৃণাল। কিছু ভাববেন না। আমার স্বামীকে জানাে না ভাই, তিনি আর সবার চেয়ে আলাদা মানুষ ! পরিচয় হলেই দেখতে পাবে এমন লােক দুটি হয় না- শিলা। স্বামী সম্বন্ধে বাংলা দেশের সব মেয়েরই ওই এক ধারণা ভাই ! কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ, অনেক সময় কল্পনার রঙ বদলায়। মৃণাল। হতে পারে । তবু জোর করে বলছি—আমার যে ধারণা, তাতে এতটুকুও মিথ্যার ছায়া নেই। দয়ায় দাক্ষিণ্যে তিনি আকাশের দেবতা, মমতায় তিনি মাটির মানুষ। তার চোখের পানে অসঙ্কোচে তাকিয়ে দেখো ভাই-দেখবে সেখানে কি অসীম আত্মপ্রত্যয় দুনিয়ার মানুষের উপরে কি সীমাহীন সহানুভূতি। শিলা। তােমার কথা শুনে তােমার স্বামীকে দেখতে সত্যিই বড় কৌতুহল নেপথ্যে প্রবীর। মৃণাল•••মৃণাল শিলা। (চমকিয়া উঠিল) কে! কে ডাকল? মৃণাল। যাকে দেখতে চাইছিলে তিনি। থােকার সঙ্গে প্রবীর কাসিল ; শিলা প্রবীরকে দেখিয়া অৰ্তনাদ করিয়া উঠিল ; পর মুহূর্তে বিছানায় বসিয়া দুই হাতে মুখ খুঁজিয়া হঠাৎ ফুপাইয়া কাঁদিয়া উঠিল । মৃণাল। কি হল--কি হল তােমার ভাই ? # শিলা। আমায় ক্ষমা করাে—তােমার স্বামীকে না দেখে আমি অন্যায় ধারণা করেছিলাম ভাই। তােমার স্বামী দেবতা, তােমার স্বামীর দয়ার তুলনা নেই-মমতাৰ পরিসীমা নেই। আমি অন্যায় কথা বলেছি •• আমায় ক্ষমা কর-ক্ষমা কর- কঙ্কাবতীর ঘাট মৃণাল। ছিঃ ছিঃ, সেজন্য কাঁদছ কেন তুমি ! তুমি তাে কিছু বলনি ? একি! ওগাে, দেখতে faint হয়ে পড়ল নাকি ? থােক। মা মণি-মা মণি- মৃণাল। ওগাে, দেখনা-কি হল, অমন দাড়িয়ে রইলে কেন! দেখ লণ্ঠন আনিয়া মুখের কাছে ধরিল। পয়সা নেই, খেতে পায়না, শরীরের রক্ত তাই শুকিয়ে গেছে, মুখ কাগজের মত সাদা ! প্রবীর। হা-হা-খেতে পায়না-খেতে পায়না! (খােকাকে ) এই টাকা নাও•••মায়ের চিকিৎসা করিয়ে। মৃণালের হাত খপ, করিয়া ধরিয়া ; চলাে, আমরা যাই-- মৃণাল। এই অবস্থায় রেখে। প্রবীরহঁ্যা-জেগে ওঠবার আগে আমাদের পালাতে হবে। মৃণাল। একি, তুমি কাপছ কেন ? প্রবীর। এই রুগীর ঘরে আমার নিঃশ্বাস আটকে আসছে•••দৰ নিতে পাচ্ছিনা মােটে । মৃণাল । ঐ-ঐ—বুঝি জেগে উঠলাে- প্রবীর । চল—চল—এখানে নয়- উভয়ের প্রস্থান। শিলা। (জাগিয়া ) থােকা—খােকা খােকা। মা মণি শিলা। স্বপ্ন দেখছিলাম•••কে যেন এসেছিল থােকন। থােকা। স্বপ্ন কেন, সত্যিই ওঁরা এসেছিলেন- শিলা। -ত্যিই।
৮৪ কঙ্কাবতীর ঘাট খােকা। দেখ মা মণি, এই টাকা দিয়ে গেছেন। শিলা। টাকা! ও টাকা নয়, ও আগুণ—আগুণ •••ফিরিয়ে দিয়ে আয়- থােকা। কি বলব ? শিলা। বলবি, আমরা গরীব, তা বলে বড় লােকের দয়ায় দান আমরা নিইনা...যা, ছুটে যা••• খোকার প্রস্থান। দৃশ্য ঘুরিয়া গেল—বাড়ীর বাহির হইবার সিড়ি—প্রবীর ও মৃণাল । মৃণাল। অমন কচ্ছ কেন, হঠাৎ তুমি অমন কচ্ছ কেন? প্রবীর। বলতে পারি না! বদ্ধ•••Damp ঘর, রােগীর নিঃশ্বাস, সৰ মিলে কি রকম suffocation বােধ কচ্ছিলাম মৃণাল। চল, রেড রােড দিয়ে খানিকটা খােলা হাওয়ায় বেড়াই... ভাল লাগবে- প্রবীর। চল। হঁ্যা দেখ, খােকা•••ঐ খােকাটাকে আসবার সময় আমার একবার কোলে নেওয়া উচিৎ ছিল..না? তুমিও তাে নিলেনা! মৃণাল। তােমার অবস্থা দেখে যা ভয় পেয়ে গেলুম- প্রবীর। তা বলে ঐ টুকুন ছেলে •••একা বাড়ীতে রুগী নিয়ে ওকে একবার শুধু কোলে নিয়ে একটু আদর কোরবে...একটু সান্ত্বনার কথা বলবে.••এমন কেউ নেই। একবার যদি... নেপথ্যে থােকা—বাবুজি-বাবুজি-বাবুজি প্রবীর। থােকা ! খােকা! আয় আয়•••আমার বুকে আয় বুকে আয়- থােকার প্রবেশ। থােকা। না- প্রবীর। না কেন বাবা! একবার আমার কোলে আয়।
কঙ্কাবতীর ঘাট ৮৫ প্রবীর। খােকা। না ! আপনার টাকা নিন, তামরা গরীব...তা বলে বড় লােকের দয়ার দান আমরা নিই না। প্রবীর। ওঃ! আমার কোলে একবার আসবিনি— খােকা। (হাত ছাড়াইয়া) উহু, আমরা গরীব...তােমরা বড়লােক। গরীবের ছেলে বড় লােকের কোলে উঠতে পারে কিনা•••মাকে আগে জিজ্ঞেস করে আসি । প্রস্থান। এক নুই সেদিকে ঢাহিয়া প্রবীর পুনরায় ডাকিল। । খােকা মৃণাল। আসবে না ! ও আমাদের কোলে আসবে না! ডাকছু কেন ওকে ? প্রবীর। ডাকছিলাম কোলে নিতে নয় । গরীবের ছেলে সত্যিই বড় লােকের কোলে উঠতে পায় না...গরীবের ছেলের অধিকার, বড় লােকের চাবুক খাওয়া। আবার যদি কখনাে ওকে পাই.••চাবুক দিয়ে ওর পিঠ লাল করে দিই। হান্টার দিয়ে সারা দেহে ওর জন্মগত অধিকারের ছাপ এক দিই- মৃণাল। তুমি কি পাগল হলে নাকি! এসাে চলে সভয়ে প্রবীরকে টানিয়া লইয়া প্রস্থান। দৃশ্য ঘুরিয়া গেল—পূর্বোক্ত রােগীর কক্ষ। খোকা ও শিলা। থােক। বাবুজি আমায় কোলে নিতে চাইলেন, আমি বললুম- তামি গরীবের ছেলে, বড় মানুষের কোলে উঠতে পারি কিনা আমার মা মণিকে জিজ্ঞো করে আসি। হ্যা, মা পারি ওর কোলে উঠতে ? শিল: খােকা-খােক-
৬
কঙ্কাবতীর ঘাট
থােকা। বল মা মণি, পারি ?
শিলা। ওরে, আমার কোলের কাছে আজ তুই যেমন করে বসে
আছি--ঠিক এনি করে আর এক জনের কাছে বসে•••এমনি করে
দু’থানা ছােট্ট হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরার দাবী নিয়ে তুই
পৃথিবীতে এসেছিলি...
থােক। মা মণি !
শিলা। থােকন, আমার কোলে এসেছিস বলে বাবুজীর কোলে
উঠবার দাবী আজ আর তাের নেই। আর, আর ঐ বাবুজী যদি তােকে
কখনাে কোলে তুলে নেয়, তা হলে জানবি, সে মুহূর্তে তার মা মণিকে
অনেক দূরে সরে যেতে হবে। বি...যাধি গােকন, আমায় ফেলে ঐ
বাবুজীর কোলে উঠতে ?
খােকা। -
নামা মণি, আমি তােমায় ফেলে কোথাও যাব না।
শিলা। থােকন, খােকন। আমার থােকন সােনা••
থােকা। তুমি কাদছ মা মণি!
শিলা। না, ও ঘরে খাবার চাকা আছে, রাত হ’ল খেয়ে নাওগে-
থােক। আমার ক্ষিদে পায়নি মা ।
শিলা। যাও লক্ষ্মীটি, খেয়ে এসাে ; নইলে আমি রাগ করব ।
থােকা। আচ্ছা, যাচ্ছি না।
প্রস্থান।
মিঃ মুখার্জীর প্রবেশ।
মুখ। শিলা! দুর থেকে দেখলাম এ বাড়ীর দরজায় একখানা
মােটর গাড়ী ! কে এসেছিল ? ডাক্তার ?
শিলা। ‘্যা ।
ফলন ঘাট
!
মুখ।
মুখ। ডাক্তার দেখাচ্ছি তবে ? কিন্তু ডাক্তারের ফি
শিল! তাই জন্যেই তো ব্রেসলেট জোড়া বিক্রী করতে দিলুম।
বিক্রী করেছ বাবা?
মুখ। বিক্রী ! হা...আজ মাত্র দু'টাকা দিলে ।
শিলা। দু’টাকা
মুখ। বাকী টাক! অবিশ্যি দেবে...ধীরে ধীরে, বাজার বড় খারাপ
কিন! এখন ঐ দু’টাকা...
শিলা। বাবা, এ টাকা তুমি কোথায় পেলে?
মুখ! কেন•••বেসলেট বিক্রী করলুম !
শিল!! না, তুমি ব্রেসলেট বিক্রী করনি-
কে বলে ?
শিলা। আমি বলছি । খবর পেলাম, তুমি ক’দিন হ’ল কলেজ স্ট্রীটে
এক ফটোগ্রাফারের দোকানে কাজ কচ্ছ?
মুখ । দোষ কি? আমি তাে আটিষ্ট
শিলা। তিনটে বছর তােমাকে নিয়ে আমায় বমের সঙ্গে লড়াই
করতে হয়েছে। একেবারে বদ্ধ পাগল হয়ে গিয়েছিলে...অনেক ভাগ্যে
আবার তোমায় ফিরে পেয়েছি। চোখ বা brain এতটুকু affected
যাতে না হয় ডাক্তার হুসিয়ার করে দিয়ে গেছে । আর তুমি এই
অকর্মন্য শরীর নিয়ে
মুখা। ডাক্তারেরা অমন বলেই থাকে—সেটা ওদের ব্যবসা। তা
ইলে আমাকে বলে...পাগল ! ওরা বলে কি? প্রবীর যেদিন তােকে বিনা
দোষে ত্যাগ করে চলে গেল—সেই দিনই কি পাগল হলুম, কেমন না ?
শিলা। হা-
---
কঙ্কাবতীর ঘাট ,
!
মুখা। কিন্তু প্রবীর মােটেই চলে যায়নি। 1.0...the hero comes
back from my waist-coat pocket!
পকের ভিতর হাতে ছোট্ট পুতল বাহির করিলেন;
Yes, he wants to marry you! Will you still say
that I am a madman ?
শিলা।
| বাবা !
মুগা। যাচ্ছি, যাচ্ছি ! প্রবীর, ভেবােনা ও তােমাকে বিয়ে করবেই.••
করে ওর clay modlel তৈরী করব, তবু বিয়ে আমি দেবই..
শিলা। কোথায় যাচ্ছ তুমি বাবা?
মুখা। টাকা! টাকা! টাকার জন্যে হতভা ! তুই আমার চোখের
সামনে বিনে চিকিৎসায় মরবি নাকি ?
শিলা। আমি তো ভাল হয়ে গেছি। আজ আর নেই ।
মুখা। জ্বর না থাকলেই হ’ল ! পণ্য কিনতে হবেনা ?
শিলা। তবে ব্রেসলেট বিক্রী করলে না কেন ?
মুখা। হু-ব্রেসলেট বিক্রী করব! বাপ হয়ে মেয়েকে জন্মের
মধ্যে দিয়েছি ঐ একজোড়া ব্রেসলেট, তা আজ নিজের হাতে বেচে
ফেলব! বলাটা বড় সহজ, কেমন ?
শিলা। বাবা-
মুখা। আমি পাগল হতে পারি—লােকে বলে আমি পাগল, কিন্তু
পাগলামী আমায় ভােলাতে পারেনি যে আমি বাপ—A poor helpless.
father!
-
একটু যাইয়া ১
এক কাজ করবিশ
শিলা। কি ?
কঙ্কাবতীর ঘাট
মুখ । টাকা যখন চাই, তাের হাতের ঐ বালা জোড়া দে
শিলা। এই বালা না-না-
মুখ।
কেন ?
শিলা।
এ যে আমার শ্বাড়ীর আশীর্বাদ।
মুখ। তবে ঐ হারছড়া দে...
শিলা। এ যে তার দান ! আমাদের যে দিন প্রথম মিলন হয়,
তিনি যে এই হার আমায় পরিয়ে দিয়েছিলেন! বলেছিলেন•••আমাদের
বিবাহের সাক্ষী, সতী সিমন্তিনী কঙ্কাবতীর এই মাল। আর এই বালা !
মুখ। What! কি বলছিস্ তুই! কার বালা? কার হার?
শিলা। সতী কঙ্কাবতীর।
মুখ। কঙ্কাবতীর বালা! দেখি--দেখি--শিলা !
শিলা। বাবা !
মুখা।
প্রবীর এ কোথায় পেলে ?
শিলা। ওর মা ভাবী পুত্র বধুর জন্যে এই বালা তুলে রেখেছিলেন।
মুখ। প্রবীরের মা! তিনি কোথায় পেলেন !
শিলা। সতী সিমন্তিনী কঙ্কাবতীর সিঁদুর কৌটা, কঙ্কাবতীর লাল
সাড়ী, কঙ্কাবতীর হাতের বালা •••গাঁয়ের লােকে পরম আগ্রহে কুড়িয়ে
রাখে। যে দেশে কঙ্কাবতীর স্মৃতি জড়িয়ে আছে, আমার শাশুড়ী সেই
অতসী গাঁয়েরই বউ ছিলেন। কঙ্কাবতীর স্মৃতি চিহ্ন, গায়ের লােকে যখন
কুড়িয়ে নেয়—আমার শ্বাশুড়ী এই বালা, আর এই হার সংগ্রহ করেন।
মুখ। অতসী-গাঁ! কঙ্কাবতী ! কঙ্কাবতী ! অতসী-গাঁ ! Is it an
apparition. No, No, methinks a dicain...mere dream !
স্বপ্ন! স্বপ্ন।
কঙ্কাবতীর ঘাট ,
শিলা।
অমন কচ্ছ কেন বাবা?
মুখা। প্রবীর কে হবে? অতসী গায়ে তার কি ?
শিলা। তিনি অতসী গায়ের চৌধুরী বাড়ীর ছেলে।
মুখ। And so it came to happen যে-প্রবীরের মাতা আর
সব গ্রামবাসীদের সঙ্গে সতীর স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহ করে রাখবার উদ্দেশ্যে
লতী কঙ্কাবতীর হাতের বালাজোড়া আর হার সংগ্রহ করেন ! Am
I correct?
শিলা। হ্যা
মুখ। দেখি...আর একবার
শিলা একগাছি বালা খুলিয়া নুখার্জীর হাতে দিল ; হাত হইতে উহা পড়িয়া গেল ।
শিলা। কি হল ?
মুখা। Electricity! Shocked !
শিলা। catenta Electricity !
মুখ। There!
বালা দেখাইয়া ;
Take that back, take that...
শিলা বলা লইল।
শিলা। বাবা-
মুখা। কঙ্কাবতী কে জানিস ? জানিস্••কার হাতের বালা পরেছি।
শিলা। তাঁর পরিচয় ওর মুখে শুনেছি বাবা-
মুখা।
What does he know! কতটুকু সে জানে ?
শুনেছিস কঙ্কাবতীর কথা ?
শিলা। অতসী-গাঁয়ে গঙ্গারব ছিল তার বাড়ী। স্বামী তার এক
সময়ে নিরুদ্দেশ হন। বছর যায় ••দেশে আসেন না। সতী কঙ্কাবতী
কঙ্কাবতীর ঘাট , } মাগঙ্গার কূলে দাড়িয়ে কেঁদে বলেন, মা, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দাও, ফিরিয়ে দাও। মুখ। Hush! Who's there? শিসা। কোথায় ? মুখ।। No. go (on! আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দাও, তারপর ? শিলা। মা গঙ্গা সে ডাক শুনলেন। পরদিনই সতীর নিরুদ্দিষ্ট স্বামী গৃহে ফিরে এলেন- Teri Yes--go on-go on- শিলা। দেশে ফিরে সতী কঙ্কাবতীর স্বামীর খুব শক্ত অসুখ হল ; টাইফয়েড, ডাক্তার বদ্যি রােগীর জীবনের আশা ছেড়ে দিয়ে গেল । মুখা। তার চেয়ে বলনা কেন.••মরেই গেল শিলা। শেষরাত্রে রােগীর যখন নাভিশ্বাস উঠেছে, পাগলের মত সতী কঙ্কাবতী আবার গঙ্গার কুলে ছুটে গিয়ে মানত করে বললেন, ‘মাগাে, আমি তােমায় বলে স্বামীকে জোর করে দেশে আনিয়েছিলুম। আজ স্বামীর প্রাণান্ত রােগের জন্য আমিই দায়ী। জীবন যদি নিতেই হয় মা, আমার স্বামীর পরিবর্তে আমায় নাও সুরধনী! মুখা। গল্প হয়ে গেল ? কঙ্কাবতীর ডাক মা গঙ্গা শুনলেন ? শিলা। আশ্চর্য ব্যাপার! সতী কঙ্কাবতী গঙ্গার জলে দেহ-ত্যাগ, কল্লেন•••আর সঙ্গে সঙ্গে তার মুমুষু স্বামীও বেঁচে উঠলেন! জানাে বাবা, যে ঘাটে সতী কঙ্কাবতী দেহত্যাগ করেন, আজও সেই ঘাট নাকি সতী কঙ্কাবতীর ঘাট নামে পরিচিত...যত গাঁয়ের বৌ সেই ঘাটে সন্ধ্যা দীপ জ্বালাতে আসেন ! স্থির গঙ্গাজলে সেই রক্ত আলাের শিখা অরুন্ধতীর ললাটে আঁকা সিদুর রেখার মত অল্ জ করে।
কঙ্কাবতীর ঘাট
মুখ। সত্যি! কি করে জানলি?
শিলা। তিনি বলেছেন।
মুখ। কে ? প্রবীর ?
শিলা। হা-
মুখ। আর কি বলেছে ? কঙ্কাবতীর সেই হতভাগা স্বামীর কথা
কি বলেছে?
শিলা। সে তাে জানিনে বাবা!
মুখ। তােকে বলেনি ? ও সে জানেনা...কিন্তু আমি জানি।
শিলা। বাবা, তুমি কি করে—
মুখ। সে হতভাগা ছিল শিল্পী। কলকাতায় মডেল খুঁজতে খুঁজতে
এক সুন্দরী তরুণীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠত হয়। সেই তরুণীর ভালবাসার
নেশা তাকে এমন মাতাল করে তােলে যে-Cigarette, Cigarette...
শিলা। বাবা-
মুখা।
Oh! আচ্ছা, জল পাওয়া যায় ••• জল ?
-না থাকশােন, তরুণীর ভালবাসার মােহে সে বিশ্ব সংসার ভুলে
কলকাতায় তারই আশ্রয়ে পড়ে থাকে। তারপর হঠাৎ একদিন যেন
তার মনে হল, কোথা হতে কে তাকে আকর্ষণ কচ্ছে ! হ্যা, মন্ত্রমুগ্ধ সাপের
মত সে মাথা নুইয়ে সেই আকর্ষণী শক্তিকে প্রণাম করতে অতসী গায়ে
চলে এল ! তারপর টাইফয়েড, কঙ্কাবতীর আত্মত্যাগ, তার স্বামীর
রােগ মুক্তি।
শিলা। কিন্তু এ সব কথা তুমি কি করে
মুখ। Ah! Don't interest me! কঙ্কাবতী মল আর তার
স্বামী বুঝি পাগল হয়ে গেল ! কঙ্কাবতীর শিশু কন্যাকে বুকে নিয়ে তারু
কঙ্কাবতীর ঘাট
পাগলা স্বামী রাতের অন্ধকারে অতসী, গা ছেড়ে পালা: কোথায় ?
এখানে—এখানে নিশ্চয় নিশ্চয় এই কলকাতায়।
শিলা। তারপর ?
মুখ। কলকাতার সেই সুন্দরী মডেল, কঙ্কার মেয়েকে হাত বাড়িয়ে
ছিনিয়ে নিতে এল...
শিলা। বাবা, তুমি সতী কঙ্কাবতীর মেয়ের কথা বুল, মডেলের
কোলে সে অমনি তাকে তুলে দিলে ?
মুখ। ইদিল না আর কিছু ! মেয়ে বুকে নিয়ে সে ঘুমুল
হঠাৎ কাদিয়া;
কাল ঘুম ঘুমােল, কাল ঘুম ঘুমােলাে !
শিলা। কি হ’ল, কি হ’ল বাবা?
মুখা। সকাল বেলা দেখে মেয়ে নেই ! ডুকরে কেঁদে উঠতে.. মডেল
ঠিক তেমনি আর একটা মেয়েকে তার কোলে তুলে দিয়ে বলে,
‘কঙ্কাবতীর সে মেয়ে রাত্রে চুরী হয়ে গেছে এই মেয়েটিকে তার বদলে
শিলা। মডেল আর একটা মেয়ে কোথা থেকে আনলে ?
মুখ। কেন? সেই শিল্পী যখন দেশে যায়..তখন এই মডেলের
গর্ভে ছিল ! হ্যা, সে কঙ্কার মেয়েকে হারাল কিন্তু মডেলের মেয়েকে
বুকে পেল।
শিলার কাছে গিয়া ;
আশ্চর্য ব্যাপার! মেয়েটী ঠিক কার মেয়ের মত দেখতে...
অথচ কঙ্কার মেয়ে নয়-মডেলের মেয়ে ! কোথায় গেল তবে
উমা–কোথায় গেল তবে উমা !
শিলা। উমা।
১
৯৪ কঙ্কাবতীর ঘাট মুখ। উমা, কঙ্কার মেয়ে উমা! সারা ভারতবর্ষে সে নেই, কোথায় গেল সেই পলাতকা ? উম-উম- নেপথ্যে নয়র কণ্ঠস্বর শােনা গেল নন্দু। থােকা-খােকা- নয়া ও বংশীর প্রবেশ নন্দু। খােকা আছে মুখুজ্জে মশাই ! তােমাদের খােকা আছে ত? -মুখ। থােকা ! তুমি তুমিও চিতে পেরেছি, মনে পড়েছে, তুমিই উমাকে সেদিন চুরি করে নিয়ে গিয়েছিলেন! আজ আবার থােকাকে চুরী করতে এসেছ ! নন্দু। খােকাকে আমি চুরী করতে আসিনি—তাকে বাঁচাতে এসেছি মুখ। বাঁচাতে এসেছ... নন্দু। হঁা, চামেলী বিবি তাকে গুণ্ডা দিয়ে ধরে নিতে চায়, •• শিলা। সে কি ? নন্দু। নিজের কাণে সব কথা শুনেছি তাই ছুটে এসেছি, দেখতে তাকে ! খােকা কোথায় ? শিলা। খােকা-খােকা- থােকার প্রবেশ থােকা। মা মণি, ডাকছ ! শিলা। এই যে, খেয়েছ থােকন? থােকা। হঁ্যা, মা মণি! নন্দু। এদিকে এসে খোকা, এস না থােকন, ভয় কি ? খেলনা এনেছি তােমার জন্যে এই নাও
কঙ্কাবতীর ঘাট
৯
খােকা। আমার জন্যে ? নে মা মণি ?
শিলা। আচ্ছা:: নাও।
খেলনা হাতে দিয়া নয়। তাই কে বুকে টানিয়! ইল।
নন্দু। বা, সােনার টুকরা ছেলে ! খুব সাবধানে রেখাে, কখনও
কোথাও একা বেরুতে দিয়াে না। সব সময় এমনি করে আগলে রেখো
খোকা । ধ্যেৎ, আমি নামৰ-নামিয়ে দাও। এত বড়ছেলে বুঝি
কোলে চড়ে...আমি চড়ব মােটর গাড়ীতে--আঃ ছাড়ােনা
নয়র কোল হইতে নামিয়া গেল ।
} আচ্ছা, যাও, ঘুমােও গে--
খােকার স্থান।
মুখ। যা মা, থােকা একা গেল ! ওদের কথায় ভুলিনে, খােকাকে
দেখবার ছল করে ওকে চুরী করতে এসেছে ওরা! হ্যা, ওরা সব
পারে ! আমার উমাকে একদিন চুরী করেছিল ওরা!
নন্দু। উমাকে আমি চুরী করিনি মুখুজ্জে মশাই !
মুখ। করনি।
নন্দু। না, তবে আর খোজ আমি জানি...
মুখ।
কোথায় ? কোথায় উমা ?
নন্দু।
উমা! কিন্তু তার আগে দেতাে...একে চেন ?
বশীকে দেখাইল।
বংশী। আমায় চেনেন না? আমি বংশীবদন...Nov বাশরী
মুখার্জী এস্কোন্নার ।
মুখ । এ তােমার•••ছেলে• • না ?
নন্দু। আমার ছেলে ! বাইরের লােকে 'তাই জানে বটে ; কিন্তু
বাপ হয়ে তুমিও কি নিজের ছেলেকে চিনতে পাল্লে না !
কঙ্কাবতীর ঘাট
বংশী। ও বাবা, জামা জুতার মত আমায় বিলিয়ে দিচ্ছ যে! আমি
যাবে না:
নন্দু। আরে না যা, যা উল্লুক, বাইরে গিয়ে দাড়া।
বশীর প্রস্থান।
মুখা।
শিলা।
মুখা। No•••No! You lie gentleina ! মিছে কথা !
নন্দু। " মিছে নয়, চামেলীর ছেলে ও!
মুখা। চামেলীর গর্ভে আমার মাত্র একটী মেয়ে জন্মেছিল, Look
here! সে তােমার সামনে দাড়িয়ে এই শিলা !
নন্দু। না, চামেলী তােমায় ধাপ্পা দিয়েছে, তার পেটে হয়েছিল
তােমার ছেলে বংশী !
তবে শিলা কে ?
নন্দু। শিলা তাে চামেলীর মেয়ে নয় !
তবে..তবে আমি কে? কে আমার মা, কে আমার বাবা,
বল-বল।
নন্দু। সব বলতে পারব না। যেটুকু জানিবলছি ! ঐ মুখুজ্জে
মশাই কোথা থেকে একটী মেয়েকে কুড়িয়ে আনে। যে রাতে মুখুজ্জে
মেয়েটাকে নিয়ে আসে, তখন চামেলীর হয়েছে ওই ছেলে বংশী !
12111 Is it !
নন্দু। রূপের ব্যবসা করা চামেলী বিবির কারবার ; ছেলে তার
কাছে বােঝার সামিল। তাই রাতারাতি বাচ্চা বংশীকে আমার হাতে
তুলে দিয়ে ঘুমন্ত মুখুজ্জের বুক থেকে চামেলী সেই মেয়েটাকে সরিয়ে
নিলে ! মানে এই মেয়ে দিয়ে পরে তার রােজগার চলবে! ভাের বেলা
মুখুজ্জে যখন মেয়েটাকে উমা-উমাধলে খুঁজতে লাগল, তখন চামেলী
কঙ্কাবতীর ঘাট
;
তারই বুক থেকে চুৰী করা মেয়েটাকে আবার তার বুকে তুলে দিয়ে বলে,
এই আমার মেয়ে শিলা; তােমার মেয়ে উমা কাল রাত্রে চুরী হয়ে গেছে।
শিলা। সে কি বাবা?
নন্দু। মুখার্জীর মাথা খারাপ। তাই এ যে ধাপ্পাবাজী...বিশ্বাস
কৰ্তে পারেনি! সে যা হােক খােকাকে কিন্তু সাবধানে রেখো। আর
যদি তেমন কিছু হয়, আমায় খবর দিও ! মুখুজ্জে আমার আড্ডা জানে।
প্রস্থান।
শিলা। বাবা, এরা সব কি বলে ! তােমার কি কিছু মনে পড়ে না?
সত্যিই কি তােমার বুক থেকে কুড়ােনো মেয়ে চুরী গিয়েছিল ? মা কি
সেই ভোর বেলাতেই আমায় তোমার হাতে দিয়েছিল ?
মুখ। কাল রাত্রি ভোর হল কঁদতে কাঁদতে দু চোখ আমার
অন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। আলাের শিখার মত একটা ছােট্ট মেয়েকে আমার
সামনে ধরে চামেলী বলেছিল:••ভয় কি, কুড়ােনাে মেয়ে গেছে—এই
নাও আমার গর্ভজাত তােমার মেয়ে; কুড়ােনাে মেয়ে হারিয়ে গেছে
শিলা। বাবা–বাবা, আমি যে কিছু বুঝতে পাচ্ছি না•••আমি তা
হ'লে কে ? আমি শিলানা আমি তােমার কুড়ােনাে মেয়ে উমা
মুখ। ওরে, তুই উমা–চামেলী করেছিল তােকে পাষাণ শিলা-
শিলা। আমি উমা।
মুখা। কঙ্কাবতী দিয়েছিল আমার বুকে তুলে
শিলা। আমাকে ?
মুখা। হ্যা, তুই যে উমা। কঙ্কাবতীর মেয়ে উমা-
শিলা। বাবা, কি বলছ! আমি সতী কঙ্কাবতীর মেয়ে। আর
একবার বল বাবা, আর একবার বল ।
—
}
১৮ কঙ্কাবতীর ঘাট মুখা। হা-তুই উমা শিলা। আমি সতী কঙ্কাবতীর মেয়ে উমা! আর—আর তুমি ? en i It is the saddest conclusion of the glorious story my darling! দুশ্চরিত্রলম্পট—এই আটিষ্ট মুখার্জী—সেই সতী কঙ্কাবতীর স্বামী। অতসী গাঁয়ে প্রবীরের গৃহ প্রকোষ্ঠ। রুগ্ন প্রবীর শায়িত ; ডাক্তার ও প্রবীরের দেওয়ান। ডাক্তার ইনজেকশান দিয়া প্রবীরের অবস্থা লক্ষ্য করিতেছিলেন। একটুবাদে প্রবীর চোখ চাহিয়া ডাক্তারের দিকে উদভ্রান্ত চোখে চাহিল।••• ডাক্তার। তাকান। হাঁ, ভাল করে তাকান, আমায় চিতে পাচ্ছেন প্রবীরবাবু ? প্রবীর। খােকা- ডাক্তার। আমায় চিন্তে পাচ্ছেন না ! আমি ডাক্তার। প্রবীর। আঃ যাও যাও বছি, ডাক্তার আমায় মেরে ফেলতে এসেছ ? যাও•••বেরাে•••নইলে খুন করব- ডাক্তার। আচ্ছা, আমি যাচ্ছি দেওয়ানকে একটু দূরে লইয়া নিম্ন স্বরে যা বলেন—যতদূর-সম্ভব ওর কথা মেনে চলবেন, এতটুকু বিগড়ে না যায়: ঘুমের ওষুধ দিয়েছি, ও ঘরে রইলুম। প্রস্থান মৃণালের প্রবেশ। প্রবীর। কে যায় ? কে পটিপে পালিয়ে যায় ?
কঙ্কাবতীর ঘাট মৃণাল। ডাক্তারবাবুকে যেতে বললে যে ! প্রবীর। তাড়িয়ে দিইনি, আমি তাড়িয়ে দিইনি। মৃণাল । ( অস্বাভাবিক কণ্ঠে ভয় পাইয়া) না, দাওনি প্রবীর। যাচ্ছি আমি যাচ্ছি...দাড়াও- মৃণাল। কোথায় ? প্রবীর। খােক ডাকছে: বাবুজি, বাবুজি, বলে ডাকছে থােকা এলি ? খােকা-খােকা- মৃণাল। ওগো, চুপ করাে—সে আসবে ; আমি সরকার মশাইকে পাঠিয়েছি—সঙ্গে মালসিং গেছে, ষ্টেশনে লােক দিয়ে গাড়ী পাঠিয়েছি। এখুনি খােকা আসবে তােমার কাছে প্রবীর। মুখখানি কেমন শুকিয়ে গেছে! আহা, কিছু খেতে পায়নি সারাদিন ! একটু দুধ আনাে•••আমি নিজে খাইয়ে দিই - মৃণাল। দিও—সে এলে নিজেই খাইয়ে দিও। এখন ঘুমােও- চুপ করে একটুখানি ঘুমােও- প্রবীর। কিসের আওয়াজ । কারা এল ? মৃণাল। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে -- প্রবীর। হাঃ হাঃ হাঃ, ঝর ঝর করে রক্ত ঝরছে। আমি হান্টার দিয়ে ওকে মেরেছি...ওর কচি চামড়া কেটে গেছে, পিঠ বেয়ে রক্ত ঝরছে •••পিঠে মুখে সারা গায়ে রক্ত! আঃ, ডাক্তার কোথায় গেল ! ডাক্তার পালায় কেন? ও..গরীব বলে ওর চিকিৎসা করলে না! টাকা চাই, কিন•••দুবেলা দুমুঠো খেতেই পায় না ওরা•••ডাক্তার দেখাবে কেমন করে ! মৃণাল। আমি দেখাব—যত টাকা লাগে আমি দেব।
১০০
কঙ্কাবতীর ঘাট
প্রবীর। দেবে—সত্যি! টাকা দেবে ।
মৃণাল। হ্যা, দেব। তুমি ঘুমােও ঘুমুলেই আমি টাকা দেব।
প্রবীর। তুমি দেবী—তুমি দেবী
অস্ফুট কথা বলিতে বলিতে চোখ বুজিল।
দেওয়ানের প্রবেশ।
দেওয়ান। ঘুমিয়ে পড়েছেন বােধ হয়—
মৃণাল। অমন ঘুম ঘুমােন। আবার হঠাৎ জেগে থােক। থােকা
বলে চীৎকার করে ওঠেন।••ডাক্তারবাবু কি বলছেন দেওয়ানজী ?
দেওয়ান। ভয় পেয়ােনা মা-
মৃণাল। পাবােনা—আপনারা আমায় লুকোবেন না—সব রকমে
তৈরী হয়ে থাকতে দিন।
দেওয়ান।
অধোমুখে বসিল।
মৃণাল। খুবই খারাপ ? কোন আশাই নেই ?
দেওয়ান। আজকের রাতটা যদি কোনাে রকমে কেটে যায় তবেই
মৃণাল। হু-
উঠিয়া খাটের ধারে দাঁড়াইয়া রহিল।
দেওয়ান। মা, তুমি অমন কচ্ছ কেন মা। হঠাৎ কি হ’ল তােমার?
মৃণাল। না! ঐ ! সদরে গাড়ীর আওয়াজ না ! দেখুন তাে-
দেওয়ান দরজায় গিয়া দেখিয়া ;
দেওয়ান। হ্যা মা, ওঁরা এলেন। ওঁদের কি ভেতরে পাঠিয়ে দেবার
ব্যবস্থা করব মা?
মৃণাল। আপনি থাকুন, আমি যাচ্ছি নিজে
!
কঙ্কাবতীর ঘাট
১০১
।
একটু পরেই শিলা ও খােকাকে লইয়া মৃণালের প্রবেশ।
শিলা। কলকাতা থেকে ফিরে এসেই অসুখ ?
মৃণাল। হঁ্যা। আশ্চর্য ব্যাপার ! ডিলিরিয়ামের মধ্যে কেন জানিনা,
কেবল তােমার খােকাকে দেখতে চান। বড় সময়ে এসে পড়েছ ভাই।
তােমরা যে এত কষ্ট করে আমার জন্যে থােকা, তােমার মুখ শুকিয়ে
গেছে কেন বাবা? ক্ষিদে পেয়েছে ? কি আশ্চর্য্য ! জাননা, ডিলিরিয়ামের
মধ্যে একটু আগে উনিও বলছিলেন খােকার ক্ষিদে পেয়েছে, মুখ শুকিয়ে
গেছে! এসাে খােকা, আমি বাটি ভরে দুধ খাইয়ে দিচ্ছি তােমায়। বােসাে
ভাই, আসছি-
খোকাকে লইয়া মৃণালের প্রস্থান।
দেওয়ান। একি! আপনি কঁপছেন ।
চেয়ার আগাইয়া দিল।
শিলা। থাক—আমি বেশ আছি। দেখুন, আমার বাবা এসেছেন
অসুস্থ আধ-পাগল মানুষ••চোখে ভাল দেখতে পান না—কারুকে পাঠিয়ে
যদি-
দেওয়ান । আচ্ছা মা, আমি তার খোঁজে লােক পাঠাচ্ছি। একটু
বসুন তবে, আমি আসছি—বৌরাণীও এখুনি এসে পড়বেন ! একটু কষ্ট
করে একা-
শিলা। আপনি ব্যস্ত হবেন না; রােগীর ভার আমার।
দেওয়ানের প্রস্থান। শিলা এবার প্রবীরের পায়ের কাছে বসিল ; তাহার পায়ে
মাথা রাখিয়া বর ঝর করিয়া দিয়া ফেলিল.••প্রবীর জাগিয়া উঠিল ।
প্রবীর। কেকে ওখানে কো-
শিলা। চুপ কর—আমি শিলা—তােমার শিলা
কঙ্কাবতীর ঘাট
প্রবীর। শিলা । আমার শিলা—
তাহার হাত বড় আগ্রহে হাতের মধ্যে টানিয়া লইয়া সহসা দেয়ালে
তৈল চিত্রের দিকে চাহিয়া চমকিয়া উঠিল।
শিলা। কি দেখছ ?
প্রবীর। ছবি। ঐ আমার বাবা, ঐ আমার মা, কটমট করে
চাইছেন। বাবা! মা! কি বলছ ? যে ঘরে তােমাদের ছবি সে ঘরে
শিলার আসবার অধিকার নেই ? এ মন্দির অপবিত্র হবে ?
শিলা। না না। ওগাে, বিশ্বাস করাে, শিলাকে ঠাই দিলে এ মন্দিরের
এতটুকু অমৰ্য্যাদা হবে না। এখানে আমি নিষ্কলঙ্ক পূজারিণীর মত আসতে
পারি সে অধিকার আমার আছে, তাই জেনেই এসেছি এ ঘরে.••
প্রবীর। শিলাকে ভালবাসার অধিকার নেই, তবু তার ভালবাসা
আমায় আগুনের মত পুড়িয়ে খাক করে দেয়। আমি ভালবাসতে চাই না
•••তবু ভালবাসায় জ্বলে যাই,হা...শিলাকে গলা টিপে মেরে ভালবাসব...
শিলা। 'ওগাে, কি করছ -কি করছ—
প্রবীর উত্তেজনায় উঠিতে গিয়া পড়িয়া গেল। দেওয়ান,
মৃণাল প্রভৃতি ছুটিয়া আসিল।
মৃণাল। কি হল? কি হল ?
দেওয়ান। আপনারা ব্যস্ত হবেন না—আমি এখুনি ডাক্তারবাবুকে
ডাকছি। ডাক্তারবাবু-ডাক্তারবাবু, একবার এদিকে আসুন না।
ডাক্তার আসিয়া পরীক্ষা করিয়া মুখ বিকৃত করিল।
ডাক্তার। আপনারা এখন এ ঘরে থাকবেন না•••একটু বাইরে যান।
মৃণাল। না, আমি যাবাে না ডাক্তারবাবু, কি হল আপনি বলুন
শিগগির
কঙ্কাবতীর ঘাট শিলা। ডাক্তার থেকে কিছু ভ হবে না মা, শুধু আমার শেষ চেষ্টায় বাধা দেবেন... এসো মৃণাল, আমরাও আমাদের শেষ চেষ্টা করব। কি? এসাে শিগগির মৃণালকে নিয়া প্রস্থান। ডাক্তার। উনি ? দেওয়ান। কলকাতায় হঠাৎ পরিচয়•••বাবু বৌরাণীর সঙ্গে। ওর ছেলে খােকার কথাই ডিলিরিয়ামের মধ্যে বলেন। ডাক্তার। ওঃ- ইনজেকশনের যন্ত্রপাতি ঠিক করিতে লাগিলেন। দেওয়ান। কি বুঝলেন ডাক্তারবাবু? ডাক্তার। ইজেকশান আমি দিচ্ছি—তবে আপনাকে বলতে বাধা এ অবস্থায় লােগীর জ্ঞান ফিরে এলে সে এক নতুন record নেই। তৈরী হবে। দেওয়ান। ডাক্তারবাবু! কি হবে ডাক্তারবাবু ? অমন সতীলক্ষ্মী বৌ রাণীর কি দশা হবে? ডাক্তার। অধীর হবেন না—আপনি অধীর হবেন না:•• দৃশ্য ঘুরিয়া গেল। অন্য কক্ষে মৃণাল ও শিলা। শিলা। অধীর হয়ে না- বােন্, অধীর হয়ো না। আমি বলছি, তােমার স্বামী মরতে পারেন না—তাকে আমাদের বাঁচিয়ে তুলতে হবে। আমরা তাকে নিশ্চয় বাঁচিয়ে তুলব- মৃণাল। 'কি করে স্বামীকে বাঁচিয়ে তুলব! আমায় বুঝিয়ে দাও আমায় বলে দাও!
১০৪ কঙ্কাবতীর ঘাট শিলা। হ্যা বলছি—বলছি•••‘খােকা, থােকন,•••খোকা কোথায়। ভাই ? মৃণাল । তাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে এসেছি সে ঘুমুচ্ছে- শিলা। ঘুমুচ্ছে ! ঘুমুক--ঘুমুক..তাকে একটু দেখো মৃণাল। কিন্তু আমায় কি বলবে বলছিলে ? শিলা। হঁা, বছি। তার আগে•••আমায় দুটি কথার জবাব দাও তাে শিলা। মৃণাল। কি ! বল— তােমার স্বামী এর আগে বিয়ে করেছিলেন ? মৃণাল। হঁা- শিলা। তােমায় বলেছেন ? মৃণাল। হঁা শিলা। তার নাম জানাে? মৃণাল । শিলা— শিলা। শিলা—শিলা! শিলা এখন কোথায় ? মৃণাল। সে তাে সাত বছর আগে মারা গেছে- শিলা। মারা গেছে ! কে বলে ? মৃণাল। কেন? আমার স্বামী বলেছেন- শিলা। কিন্তু আমি যদি বলি, শিলা আজও বেঁচে আছে। মৃণাল। বেঁচে আছে ? উঠিয়া দাড়াইল। শিলা। ভয় নেই, শিলা সত্যই মরেছে। আর বেঁচেও যদি থাকত, এ কথা নিশ্চয় জেনাে, সে কখনাে তােমাদের সুখের সংসারে ব্যবধান
কঙ্কাবতীর ঘাট
১০৫
ঘটাবার জন্যে এ বাড়ীতে ঢুকত না। আমি তাকে খুব ভাল করে
জানতুম !
মৃণাল। ওঃ তুমি তাকে জানতে ! কিন্তু তুমি কে ভাই? সে দিন
কলকাতায় এত আকস্মিক ভাবে তােমার কাছ থেকে চলে আসতে হ’ল
যে তােমার নাম পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করতে পারিনি। তােমার নামটী কি
ভাই ?
শিলা।
আমার নাম উমা -শিলার বন্ধু ।
মৃণাল। উমা! তুমি শিলার বন্ধু ?
শিলা! হ্যা, বিশেষ বন্ধ, মরবার সময় শিলঐ খােকাকে আমার
হাতে তুলে দিয়েছিল, এত বন্ধুত্ব ছিল !
মৃণাল। ও তবে তােমার খোকা নয় !
শিলা।
-ও শিলার থােকা।
মৃণাল। শিলার খােকা ! উনি তাে কোনােদিন, একথা আমায়
বলেননি।
শিলা।
তাই কি সঙ্কোচ হচ্ছে খোকার ভার গ্রহণ করতে?
মৃণাল ।
সে আমার স্বামীর ঔরসজাত পুত্র...একথা না জেনেও
তাকে সেদিন বুকে তুলে নিয়েছিলাম ! আজ কি তােমার বিশ্বাস, সব
জেনেও আমি তাকে দূরে সরিয়ে রাখব? আর সব কথা ছেড়ে দিলুম,
কিন্তু ঐ খােকা যে আমায় মা বলে ডেকেছে! সন্তানহীনা আমি, ও
আমায় মাতৃত্বের আস্বাদ দিয়েছে: •••এ আমি কেমন করে ভুলব ভাই ?
থােকা আমার, তাকে আমি আমায় ছেড়ে আর কোথাও যেতে দেব না !
শিলা। যাক, থােকার আমি নিশ্চিন্ত ! এইবার তােমার
স্বামীকে বাঁচিয়ে তুলতে হবে-
প
১০৬
কঙ্কাবতীর ঘাট
মৃণাল। কি করে বাঁচিয়ে তুলব ভাই ?
শিলা। ওকে বাঁচাতে ঘর ছেড়ে বাইরে যেতে হবে,•••পারবে ?
মৃণাল। কোথায় যেতে হবে বল !
শিলা। যেতে হবে দুরে...অনেক দূরে...কিন্তু সে তাে তুমি পারবে
! তার চেয়ে, তুমি তােমার স্বামীর পা কোলে নিয়ে... এখানে বসে
মা গঙ্গাকে মানত করাে।
মৃণাল। মা গঙ্গার মানত !
শিলা। শােননি—মা গঙ্গার কাছে মানত করে এই গাঁয়েরই সতী
কঙ্কাবতী একদিন মৃত্যুজয়ী সাবিত্রীর মত স্বামীকে মৃত্যুর হাত থেকে
কেড়ে এনেছিলেন। এই অতসী গায়ে সতী কঙ্কাবতীর ঘাট রয়েছে।
মৃণাল। ওঃ সতী কঙ্কাবতী ? এতাে জানি ; শুনেছি, আমার
শ্বাশুড়ীর সিদুর কৌটোয় সতী কঙ্কাবতীর সিথের সিঁদুর চিহ্ন এখনাে
তােলা রয়েছে-
শিলা। সতী কঙ্কাবতীর সিপের সিদুর ! সে যে তপস্যার হােমাগ্নি-
শিখা! নিয়ে এসে বােন্, তাই নিয়ে এসাে !
মৃণাল সিদুরের কৌটা অনিয়া দিল, শিলা তাহা
মৃণালের কপালে পরাইয়া দিল।
শিলা। সতী কঙ্কাবতীর সীমন্তের সিদুর তােমার কপালে পরিয়ে
দিলুম, এই সিদুর অক্ষয় হােক !
মৃণাল শিলাকে সিদুর পরাইতে লাগিল।
দৃশ্য ঘুরিয়া গেল
প্রবীরের ঘর।দেওয়ান ও মখার্জীর প্রবেশ।
দেওয়ান। এই দেখুন•••বাবু অঘাের অচেতন হয়ে রয়েছেন!
কঙ্কাবতীর ঘাট
১০৭
মুখ। প্রবীর। একলা রয়েছে ! উমা কোথায়—
দেওয়ান। আপনার মেয়ে ? এইখানেই তাে ছিলেন, বােধ হয়
বৌরাণীর কাছে গেছেন !
ডেকে দোব কি ?
মুখ। হা-হা-ডাকো.••ডাকো, আমাদের যাবার সময় হয়ে
এলাে যে-
দেওয়ানের প্রস্থান।
প্রবীর ! My boy
প্রবীর।
কে ! কে! আপনি-আপনি এখানে।
মুখ। উমাকে খুঁজছি-
প্রবীর! উম! কে উমা!
মুখ। উমাউমা! আমার মেয়ে উমা !
প্রবীর। শিলা !
মুখা। না, শিলা নয়, উমা! পাষাণ শিলা হয়ে গিয়েছিল, আবার
সে মমতাময়ী উমা হয়ে ফিরে এসেছে ! হর পার্বতী মিলন হবে কিনা,
তাই এসেছে।
সে এখানে এসেছে। এসব কি বলছেন আপনি। এ
বাড়ীতে তার ঠাই নেই!
মুখ। ঠাই নেই! সতী কঙ্কাবতীর মেয়ে উমা! সে কি পাপের
সংসারে থাকতে পারে।
প্রবীর। সতী কঙ্কাবতীর মেয়ে উমা! আপনার মেয়ে উমা। এ
কথার অর্থ কি ? আমি কিছুই বুঝতে পাচ্ছি না-বলুন•••শিগগির
বলুন—তবে,কি শিলআমার শিলা উমা! সতী কঙ্কাবতীর মেয়ে
উমা! ওঃ আমি পাচ্ছি না যে ভাবতে পাচ্ছিনা-
শুইয়া পড়িল।
প্রবীর ।
১০৮
কঙ্কাবতীর ঘাট
মুখ।
ওঃ •••অসুখ হয়েছে বুঝি ! তা হবে না ! সতী কঙ্কাবতীর
স্বামীর ও হয়েছিল...ঐ উমার স্বামীর ও হয়েছে। উম-উম-কোথায়
গেলি উমা
প্রস্থান।
ধীরে ধীরে শিলার প্রবেশ। নববধর মত এক কপাল সিদুর ।
দৃষ্টি উদভাৱ ! শিল প্রবারকে প্রণাম করিল ।
শিলা।
"ওগো,-তােমার খােকা রইল—
নেপথ্যে এখার্জী...
উম-উমা-
শি। ডাক্ছ ! মা-
মাম—আমি যাচ্ছি—আমি যাচ্ছি
প্রস্থান।
প্রবীর। (উঠিয়া বসিয়া) কে যায়। কে যায় ।
মৃণালের প্রবেশ।
মৃণাল। কি হল, কি হল, ওগো অমন কচ্ছু কেন ?
প্রবীর। না, ভয় নেই, আমি সুস্থ বােধ কচ্ছি। হঁ্যা, বিশ্বাস কর
মৃণাল, আমি যেন সব বুঝতে পাচ্ছি ! জানো, ঘুমের ঘােরে অদ্ভুত স্বপ্ন
দেখলুম যেন কঙ্কাবতীর স্বামীর অসুখ হল, ভারী অসুখ! কঙ্কাবতী গঙ্গার
কূলে দাঁড়িয়ে এক কপাল সিদুর মেখে মা গঙ্গাকে পূজা দিতে এসেছে,
অমনি জলের ঢেউ না মকবাহিনী গঙ্গা এল:::বুঝতে পাল্লুম না! আকাশে
দেবতারা পুষ্পবৃষ্টি করলেন, ফুলে ফুলে নদী মঠ সব ছেয়ে গেল—কঙ্কাবতী
ঢেকে গেল জলের তলায় না ফুলের পাইড়র নীচে•••কেউ খুঁজে
পেলে না—আমি যেন খুঁজতে লাগলুম খুঁজে পেলুম দেখলুম,
সে কঙ্কাবতী নয় •••সে যেন উমার
কঙ্কাবতীর ঘাট ১০৯ খােকার প্রবেশ। প্রবীর। খােকা । মা, মা,আমার মা কোথায় ? ও কে ? ও কে ? মৃণাল । শিলার খােকা- প্রবীর। না, না, শিলার খােকা নয়, শিলার খােকা নয়—উমার খােকা পোকাকে নিল। মৃণাল। আঁ–কি বলছ উমার থােকা? তুমি কি উমাকে নাকি ? প্রবীর। হা...হা... চিনি, সতী কঙ্কাবতীর মেয়ে উমা—আমার থােকার মা উমা– মৃণাল। খােকার মা উমা? প্রবীর। তুমি বিশ্বাস কর। আমি দেখেছি, সে এসেছিল ! কপালে সিদুর, লালপেড়ে সাড়ী পরা, চলে গেল ! কোথায় গেল,উমা উম- মৃণাল। আঁা—তবে কি দিদি আমায় ফাকি দিয়ে চলে গেল ? প্রবীর। চলে গেল ! সৰ্ব্বনাশ ! সে কি তবে কঙ্কাবতীর ঘাটে গেল ? তাকে ফেরাও•••ফেরাও মৃণাল। তুমি বােসাে••আমি যাচ্ছি—আমি যাচ্ছি- প্রস্থান। থােকা। আমার মা কোথায় ? আমার মায়ের কাছে যাবাে••• মামা খােকা-কা-আমার বুকে আয় ; আমার বুকে """" প্রবীর। |
১১০
কঙ্কাবতীর ঘাট
থােক। না, না, আমার মায়ের কাছে যাবাে, আমার মা-
আমার মা-
দৃশ্য ঘুরিয়া গেল।
পঞ্চম দৃশ্য
কাবতীর ঘাট। অন্ধকার রাত; গাঁয়ের এয়ােদের জালানাে
সন্ধ্যা-দীপগুলি ঘাটে স্তিমিত আলো দিতেছে ।
সােপানের ওপর এক মিঃ মুখার্জী...
মুখ। উমাউমা–এলি মা! উমা!
শিলার প্রবেশ।
শিলা। বাবা! তুমি একা..এই অন্ধকারে !
মুখা। অন্ধকার কোথায় ? কঙ্কাবতী আলাে জ্বেলেছে—ঐ যে
ঐখানে!
শিলা।
তােমার চোখের দৃষ্টি অমন কেন বাবা !
মুখা। জলের দিকে চেয়ে চেয়ে চোখ জলে ভরে এল—আর কিছু
দেখতে পাচ্ছিনা••• Ah Light! Heavenly Light !
শিলা। বাবা !
বাবা! আজকের দিনটিতে তুমি আমায় চোখে দেখবে
না !
মুখা। কি দেখবাে রে হতভাগী ! তুই আমার চোখের সামনে দিয়ে
চলে যাবি, সে আমি কেমন করে দেখবাে কঙ্কাবতী, দেবী:••তাই সে
আমার চোখের আলাে সরিয়ে নিয়ে ঐ জলেস্থধ্যে লুকিয়ে রেখেছে।
শিলা। না দেখ•••শুধু আমায় তুলি শীর্বাদ করে বাবা,
:
-
কঙ্কাবতীর ঘাট ১১ মুখা। আশীৰ্বাদ ! কঙ্কাবতীর মেয়ে কঙ্কাবতীর কোলে যাচ্ছিস, তাের ভয় কি ? তুই যে মায়ের মেয়ে ! কঙ্কাবতী তার স্বামীকে বাঁচাতে ঐখানে নেমে গেল...তাের স্বামীকে বাঁচাতে তােকেও ঐখানে যেতে হবে। আমি জানি! যা মা,—যা•••কিন্তু আমার কোল খালি হয়ে গেল !••• কাদিয়া ফেলিলেন। শিলা। মা গঙ্গা, তােমার বুকে আমার সতীলক্ষ্মী মাকে ঠাঁই দিয়েছ আমার স্বামীর মৃত্যু মাথায় করে আমি পালিয়ে এসেছি মা, আমায় তুমি কোলে ঠাই দাও ! মাগো—আমায় ঠাই দাও- নীচে নামিতে লাগিল। মুখ । নেমে যাচ্ছ মা? যাও—আস্তে আস্তে সিড়ি দিয়ে নীচে নেমে যাও•• পৃথ দেখতে পাচ্ছ তো মা ?•••তােমার মা এক দিন ঐ ঘাটের জলে নেমে যমরাজকে জয় করেছিল—ঐ তো সে! রাঙ। চেলী পরেছে, মাথায় টুকটুকে রাঙা সিদুরের রেখা জ জ কচ্ছে—শিওরে ঘি এর দীপ জ্বলছে...ঐ যে...ঐ যে...অতল জলের নীচে হাতীর দাতের পালঙ্কে শুয়ে কঙ্কাবতী কেমন নিশ্চিলে ঘুমুচ্ছে! যাও, নেমে যাও, মার কাছে যাও উমা, মায়ের কোলে ঘাও!...কিন্তু আমার কোল খালি হয়ে গেল । ছুটিয়া মৃণালের প্রবেশ। মৃণাল। উম-উম-উম কই বাবা? মুখা। কঙ্কাবতী তার মেয়েকে কোলে নিল ! কিন্তু আমার কোল খালি হয়ে গেল। যাও, উমা, • মৃণাল । সর্বনাশ । ..উম। উমা জলে নেমে যাচ্ছে। বাবা ! মুখা। তার মায়ের কোলে যাচ্ছে। .
কঙ্কাবতীর ঘাট মৃণাল। বাবা! কি হবে বাবা। মুখার্জীর কোলে লুটাইয়া কাঁদিতে লাগিল। মুখ । কে তুই! কে মা আমার কোলে ! উমা মায়ের কোলে গেল...কিন্তু আমার কোল ত খালি হল না। এই যে কোল জুড়ে আমার মা শুয়ে ! ঘুমােও মা,ঘুমাে ও-ঘুমােও- মৃণালের মাথায় হাত বুলাইতে লাগিলেন। যবনিকা
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.