Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Phool Kali
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
ফুল কলি
ছােটদের কবিতা
শনিবারণচন্দ্র চক্রবর্তী
প্রণীত
প্রকাশক--
ডাক্তার-হেমচন্দ্র চক্রবর্তী
কামাল কাচিনা, নবাবগঞ্জ
রংপুর।
১৩৯
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
মূল্য। চারি আনা মাত্র।
ঢাকা বীণা প্রেসে—শশিভূষণ ভট্টাচাৰ্য্য দ্বারা মুদ্রিত।
উৎসর্গ
নিনি দিয়াছেন প্রেরণা আমায়,
বিনি দিয়াছেন শিক্ষা,
জীবন প্রভাতে যিনি দিয়াছেন
জ্ঞান ধরমের দীক্ষা ।
স্বরগ হইতে আজিও যাহার
আশীষ লভি অনুক্ষণ,
‘ফুলকলি’ তাঁর চরণে করি
পলক্ষে
নিবেদন
ছােটদের জন্য “ফুলকলি” প্রকাশিত হইল।
ইহার অধিকাংশ কবিতা অধুনালুপ্ত “তােষিনী”
“আমার দেশ” ও আধুনিক “মুকুল” প্রভৃতি
শিশুপাঠ্য মাসিক পত্রে প্রকাশিত হইয়াছিল ;
এতদ্ব্যতীত কতকগুলি অপ্রকাশিত নূতন কবিতাও
ইহাতে সন্নিবেশিত হইল।
ইহা দ্বারা
বালক
বালিকাদিগের কিঞ্চিৎ উপকার হইলেই পুস্তকখানার
উদ্দেশ্য সাধিত হইবে ।
“স্বভাব কবি গােবিন্দদাস” প্রণেতা আমার
পূজ্যপাদ, শ্রদ্ধেয়
শ্রদ্ধেয় অগ্রজ ডাক্তার শ্রীযুক্ত হেমচন্দ্র
চক্রবর্তী মহাশয় এই পুস্তকের নামকরণ এবং
কবিতাগুলি সংশােধন করিয়া দিয়া আমাকে উৎসাহিত
&
করিয়াছেন।
ঘুম, দার্জিলিং
নিবারণচন্দ্র চক্রবর্তী
১লা বৈশাখ, ১৩৩৯ সন
সূচীপত্র ~~~ বিষয় পৃষ্ঠা বিষয় পৃষ্ঠা ১। এস মা ১৪। বীরত্বের পুরস্কার ২৪ ২। সৌন্দর্য ২ ১৫। কাঞ্চন জংঘ ৩। সৃষ্টি ৪ ১৬। মনুষ্যত্ব ২৭ ৪। জ্যোৎস্না রাতে ১৭। দাদার স্মৃতি ৫। আসল মানুষ ১৮। অন্ধের দু:খ ৬। শরতে ১৯। স্বাধীনতার সুখ ১০ ১১ ৭। নববর্ষ ২০। ফাগুন দুয়ারে আজ ৩৫ ৮। সুখের স্বপন ১৪ ২১। দেশবন্ধু ৯। মহতের আকাঙ্ক্ষা ২২। সার আওতােস ৩৯ ১। জ্ঞান পিপাসা ৪০ ২৩। নদীর দান। ১১। ক্ষমা ১৮ ২৪। আমার দেশ 8२ ২৫। বসন্তাগমনে ১২। রাজাবাড়ীর মঠ ১৩। আগমনী २२ २७ पन ৪
শুদ্ধিপত্র
২৯ পৃষ্ঠা ৩য় স্ট্যাঞ্জা ২য় লাইন “আমার” স্থানে
“জামায়” হইবে।
পৃষ্ঠা ৫ম স্ট্যাঞ্জা ১ম লাইন “জনন স্থানে
“জনম হইবে।
ফুল কলি
( ১ )
আমরা ফুল কলি,
রাত্রে খাকি চোখটা বুজে,
ভোরে নয়ন মেলি।
ধীর সমীরণ ছুটে আসি,
লুটে মােদের সুবাস রাশি,
গন্ধ পেয়ে লুটুতে মধু,
উড়িয়া আসে গলি।
জরুণ আলোর স্পর্শে ফুটি,
আমরা ফুল কলি
( ২ )
আমরা ফুল কলি,
স্নিগ্ধ মধুর প্রভাত বায়ৈ,
হরষে উঠি দুলি'।
শিথিল হয়ে আমরা-যবে,
ভূমি তলে লুটাই সবে ;
সাজি ভরে পল্লীবালা,
লয়গাে মােদের তুলি।
মালা হয়ে গলায় হাসি
আমরা ফুল কলি।
;
( ৩ )
আমরা ফুল কলি,
বাতাস লুটে সুবাস মােদের,
মধু লুটে অলি ।
শিশির ধারায় স্নাত হয়ে,
আমরা সবে রইগাে চেয়ে ;
পল্লীবালা ছুটিয়ে আসে,
ভরে নিতে ডালি,
দেবের চরণ পরশ লভি
আমরা ফুল কলি।
এস মা
এস মা মােদের দেশে,
দাও মা বস্ত্র দাও মা অন্ন,
ঘুচাও মোদের দুঃখ দৈন্য,
শান্তি আশীষ দিয়ে মাগাে
ঘুচাও মােদের ক্লেশ ;
হৃদয়ে দাও অপার ভক্তি,
শরীরে দাও অসীম শক্তি,
কৃপাময়ী বাঁচাও মােদের
খাদ্য বিহীন দেশ।
ফুল কলি
সৃষ্টি
( ১ )
এই ধরণীতে হয়নি বৃথাই,
কোন জিনিসের সৃষ্টি ;
আছে প্রয়ােজন সব জিনিসের,
যাহা করি মােরা দৃষ্টি।
( ২ )
মােরা ভালবাসি জ্যোৎস্নার আলাে,
আঁধার চাহিনা-মমাটে,
নিশাচর প্রাণে সেই যে আঁধার,
পুলক লাগায় বটে।
•
( ৩ )
বরষার খর ধারা বরিষণ,
করে আমাদের রুষ্ট
সেই খর ধারা পান করে হয়,
তৃষিত চাতক তুষ্ট।
( ৪ )
ফুল কলি
( ৪ )
এই ধরণীর যাহা কিছু দেয়,
আমাদের প্রাণে কষ্ট ;
তাহারও ভিতর রয়েছে গােন,
সুখের কারণ স্পষ্ট ।
( ৫ )
ঘৃণাভরে মােরা যাহা ফেলে দেই,
তাও লাগে কারাে কার্যে
হয়নি বৃথাই সৃজন কিছুর ;
বিশ্ব পিতার রাজ্যে।
( ৬ )
জীব জানােয়ার পশু পাখী যত
ঘৃণ্য মােদের কাছে।
বিশ্ব জগতে তাদেরও বাঁচার,
আছে প্রয়ােজন আছে।
( ৫ )
ফুল কলি
জ্যোৎ মান্নামে
আজ মধু মালতীর গন্ধে,
ভরিয়া গিয়াছে বন উপবন;
বহিছে শীতল মৃদু সমীরণ,
তটিনী ছুটিছে নাচিয়া নাচিয়া,
নবীন মােহন ছন্দে ;
নিশারাণী আজ হরষে আকুল,
হাহানার গন্ধে।
(২)
আকাশ নীলিমা ভরা,
গন্ধরাজের গন্ধ লুটিয়া,
মলয় বহিছে থাকিয়া থাকিয়া,
গাহে যেন গান কি বিমােহন;
পরাণ পাগল করা,
আজি জ্যোৎস্নায় গিয়াছে প্লাবিয়া,
শস্য শ্যামল ধরা।
( ৬ )
ফুল কলি
( ৩ )
শ্রান্ত ধরার প্রাণ ;
ঘুমে অচেতন আকাশ ভূবন,
নাহি কলরব স্তব্ধ বিজন,
শান্ত প্রকৃতি লভিছে বিরাম,
থেমেছে পাখীর গান,
ভেসে আসে শুধু সকরুণ সুরে,
ঝর্ণার কলতান।
( ৪ )
হাসাহানার গন্ধে,
দ বুঝি আজ ধরা দিতে চায়,
উকি মারে মাের খোলা জানালায়,
আমারো হৃদয় উঠিছে নাচিয়া
আজিকে মধুর : ছন্দে,
প্রকৃতির সনে আমারাে পরাণ
আকুল বকুল গন্ধে।
',
{ ৭ )
ফুল কলি
আসল মানুষ
মানুষ কারে কয় ?
নাক মুখ চোখ হাত পা হলেই
নয় সে মানুষ নয়,
ধরায় আছে অনেক মানুষ,
আসল তারা মানুষ নয়,
নরাকৃতি অনেক পশুই,
তাদের মাঝে গুপ্ত রয়।
মানুষ চেনা দায়,
রূপ দেখে বা বাক্য শুনে,
চেনাই নাহি যায় ।
(২)
হৃদয় যাদের নয়কো মরু
ভরা কেবল দয়া মেহ;
ছল চাতুরী প্রতারণা
স্পর্শে নাহি যাদের দেহ,
তারাই মহৎ প্রাণ,
মানুষ তাদের নাম।
( 8 )
মল কলি
( 3 )
সত্য যাদের মুখের আগে,
ভ্রমেও না মিথ্যা বলে ;
কথার যাদের মূল্য আছে,
সৎ পথেতে সদাই চলে
;
তারাই মহৎ জন,
তাঁরাই মানুষ হন।
( ৪ )
পরাণ দিয়ে পরকে যারা
বাঁচায় বিপদ দুঃখ হতে;
মরণ যারা বরণ করে
বিপদ দেখে বক্ষ পেতে,
মানুষ তারাই ভাই,
হিংসা যাদের নাই।
( ৪ )
ফুল কলি
( ৫ )
চিতে হলে আসল মানুষ,
দেখবে খুজে তাহার প্রাণ
আছে কিনা তাহার ভিতর,
মনুষ্যোচিত গুণগ্রাম।
মানুষ পেলে তারে
পূজবে হৃদয় ভরে ;
আর মানুষ পশু পেলে
তারে এভাবে অবহেলে
•
শরতে
পরশে কাহার মেঘরাশি আজ
লুকাল সুনীল গগন কোলে
কে দিল সহসা আকাশের গায় ;
এমনি গভীর নীলিমা ঢেলে !
আহবানে কার জাগিল ধরণী,
কাটিল মহা সুপ্তির ঘাের ;
শেফালী সৌরভ বহিয়া সমীর,
ঘােষিল শরৎ রজনী ভাের।
( ১৮০ )
।
ফুল কলি
সাড়া দিতে আজ আবানে কার,
রবি শশী তারা মেলিল আঁখি ;
কুসুমের কলি উঠিল ফুটিয়া ;
কুঞ্জ কাননে গাহিল পাখী।
উৎপল দল মেলিল নয়ন,
কার তরে আজ সরসী মাঝে
আকাশে বাতাসে আজিগাে কাহার,
আগমনী গান উঠিল বেজে?
বিশ্বমাতার আগমনী গান,
গাহিতে শরৎ এসেছে আজ ;
হরষে মাতিয়া উঠিছে ধরণী,
ধরিয়াছে আজ মােহন সাজ।
আগমনে মা’র উঠিছে নাচিয়া,
ঐহীনা নীরব পল্লীরাণী ;
দীন অভাগা সন্তান ভার,
পূজিবে মায়ের চরণ খানি।
( ১১ )
ফুল কলি
নব বন
(১)
ওই যে নবীন বর্ষ আজি
আছে মােদের দ্বারে ;
নব বরষের আগমনী,
বাজছে বীণার তারে।
কানন ভরা ফুলের হাসি,
দখিণ বাতাস বাজায় বাঁশি ;
উৎসবের আজ পড়ছে সাড়া,
নিখিল ভূবন জুড়ে।
বর্ষ আজি নবীন বাণী
এনেছে মােদের তরে।
(২)
আসিছে আজি বর্ষ নবীন,
বিদায় পুরাতন,
নবীনকে আজ করতে বরণ
বিপুল আয়ােজন।
( ১২ )
ফুল কলি
বেণুর তানে পাখীর গানে,
হরষ জাগায় প্রাণে প্রাণে,
বনে বনে ফুলের খেলা,
ঝিঝির গুঞ্জরণ।
আজ নূতনের পরশ পেয়ে
মুগ্ধ সবার মন।
;
যাও পুরাতন চাই না তােমায়
বিদায় নমস্কার
নূতন অতি আছে দ্বারে,
করব বরণ তার ।
এবার হতে নূতন জীবন,
নূতন ভাবে করব যাপন,
সময় মােটেই ফাঁকি দিতে
পারবে নাকো আর
এবার মােরা করব সাধন,
সকল কৰ্ম্মভার।
( ১৩ )
ফুল কলি
মুখের স্বপন
গভীর নিশিথে কত মনােরম,
হেরিগাে অলীক সুখের স্বপন ;
গাড়ীতে জাহাজে আরােহণ করি
দেশ মহাদেশ করি পৰ্যটন।
বিদেশ হইতে পল্লী ভবনে,
যাইগো চলিয়া হরষিত মনে,
আত্মীয় স্বজন করি দরশন,
আনন্দ সাগরে ডুবে যায় মন।
কত স্থানে যাই চিনিতে না পারি,
হেরি মনোেহর নগর নগরী,
কত অট্টালিকা বহু লােকজন,
তড়াগ তটিনী কুসুম কানন,
সুবিশাল শৈল অকুল সাগর
নিঝরিণী আর বন ভয়ঙ্কর।
সুরম্য প্রাসাদে করিয়া গমন,
সম্পদ সম্ভার করি দরশন
পুলকে পরাণ নাচিয়া উঠে,
ধন রত্ন সব লইগাে লুটে।
( ১৪ )
৩।
ফুল কলি
অসীম আনন্দে মগন হইয়া,
ধন নিয়ে গৃহে আসিগাে ফিরিয়া !
সহসা জাগিয়া চমকি উঠি,
কিছু নাই দেখি সকলি ফঁাকি।
মহতের আকাঙ্খা
(১)
আমরা ঘুচাব দীনের দুঃখ,
আমরা দরিদ্রে করিব দান ;
ক্ষুধাতুরে দিব অন্ন আমরা,
তৃষিতে করিব সলিল দান।
(২)
বিপন্নে উদ্ধার করিব আমরা,
তেয়াগি নিজের ধন ও প্রাণ
আমরা পরিব যশের মুকুট,
আমরা রাখিব দেশের মান।
;
( ১৫ )
ফুল কলি
পরের সেবায় নিয়ােজিব দেহ,
পরহিতে প্রাণ করিব পণ;
মমাদের দেশের সেবায় আমরা
জীবন করিব বিসজ্জন।
( ৪ )
স্বদেশের তরে সমর-ক্ষেত্রে,
বীরের মতন ত্যজিব দেহ ;
স্বদেশবাসী ও স্বদেশের প্রতি,
ঢালিব প্রাণের করুণা স্নেহ
রােগাতুর জনে সেবিব আমরা,
পাচ্ছে আশ্রয় করিব দান
সকলে সমান করিব যতন,
যতদিন দেহে রহিবে প্রাণ।
( ১৬ )
ফুল কলি
জ্ঞান পিপাসা
(১)
মনেতে বাসনা মাের রহিব ডুবিয়া,
গ্রন্থাগার মাঝে।
জ্ঞানের উজল আলাে যেন চিরদিন,
হৃদয়ে বিরাজে।
(২)
অসীম ব্রহ্মাণ্ড মাঝে কি আছে কোথায়,
দেখিব খুঁজিয়া ;
জ্ঞান রত্নাগার মাঝে কি লুকান আছে,
সব আলােড়িয়া।
;
(৩)
জ্ঞানালােক নাহি জ্বলে হৃদয়ে যাহার,
বৃথা সে জীবন ;
আমার খুঁজিতে সাধ পাতি পাঁতি করি
সমগ্র ভূবন।
( ১৭ )
ফুল কলি
( 4 )
জানিতে বাসনা মাের গ্রন্থাগার খুজি,
বিশ্বের খবর,
জ্বালাতে আঁধার নাশি তীব্র জ্ঞানালােক,
হৃদে নিরন্তর।
ক্ষমা
(১)
যীশুকে যখন পাপীরা সকল,
ক্রুশেতে স্থাপন করিল ধরে ;
কর যােড়ে যীশু তাদের মঙ্গল
পরমেশ পদে মিনতি করে।
ত
( ২ )
‘ক্ষমা কর পিতঃ পাপী যে ইহারা,
জানেনা কি পাপ করেছে আজ ;
“করিও উদ্ধার পাপ পথে যারা,
থাকে যেন সুখে জগৎ মাঝ।”
( ১৮ }
ফুল কলি
;
(৩)
“পাপীদের পাপ করিতে যােচন,
আসিয়াছি আমি অবনী’পরে,”
“মরিতে এসেছি ডরিনা মরণ,
ত্যজিব জীবন পাপীর তরে।”
( ৪ )
“প্রিয় শিষ্যগণ আমার বচন,
মন দিয়ে ভাই শােনরে সবে,”
“এক গণ্ডে কেহ করিলে আঘাত
অন্য গণ্ড পেতে দিও নীরবে।”
( ৫ )
“লাথি যদি কেহ দেয়ও কখন,
প্রতিদানে তারে দিওনা লাথি,
‘ভাই বলে তারে করাে সম্বােধন,
হইও সদয় তাহার প্রতি।”
(৬)
‘ক্ষমাই নরের প্রধান ভূষণ,
ক্ষমাই সকল ধরম সার,
ক্ষমাণ কেহ ভুলােনা কখন,
ক্ষমা সম ধৰ্ম্ম নাইকো আর।”
;
( ১৯ )
ফুল কলি
রাজাবাড়ীৰ মই
(১)
চাঁদ কেদারের অতীত যুগের পুণ্য প্রাচীন স্মৃতি,
ডুবল আজি সর্বনাশা কীর্তিনাশার জলে ;
রাজাবাড়ীর বিশাল মঠ ইতিহাসে খ্যাতি,
গ্রাস করিল পদ্মানদী আজকে কুতূহলে।
(২)
চঁদ কেদারের সকল কীৰ্ত্তি লুপ্ত হল আজ,
ইতিহাসে রইল শুধু নামটা তাদের লেখা ;
সকল স্মৃতি রইল ডুবে অতল জলের মাঝ,
কীর্তিনাশার বুক জুড়িয়া রইল কেবল আঁকা।
(৩)
বিক্রমপুরের রত্ন সে যে চারশ বছর ধরে,
গাইতেছিল অতীত যুগের প্রাচীন কীর্তি-গাঁথা ;
হায় সে রতন কীর্তিনাশা আজকে নিল হরে,
বঙ্গবাসীর প্রাণের ভিতর দিয়ে দারুণ ব্যথা।
( ২০ )
ফুল কলি
( 8 )
বিশাল দেহে উচ্চশিরে চারশ বছর ধরে,
বীরের মত দাড়িয়ে ছিলে অটল অবিচল ;
ঝঞ্চা বিপদ দুঃখ কত আসছে তােমার শিরে,
কিছুতে না পারছে তােমায় করতে হীনবল।
( ৫ )
সর্বনাশা কীর্তিনাশা আজকে অকস্মাৎ,
এক নিমেষে বীর তােমাকে করল পরাজিত,
সইতে এবার পারলে না আর প্রবল স্রোতের ঘা,
কীর্তিনাশার অতল জলে হইলে নিমজ্জিত।
-
১৩৩০ সনের ২২শে ভাদ্র ৮ই সেপ্টেম্বর ১৯২৩ তারিখে
ৰাজাবাড়ীর মঠ পদ্মাগর্ভে বিনষ্ট হয়।
২১ )
ফুল কলি
আগমনী
(১)
শেফালীর সাজি হাতে লয়ে ওই
এল গাে শরৎ রাণী ;
নবীন অতিথি দ্বারে যেন আজ ;
শুনাতে নবীন বাণী।
( ২ )
প্রকৃতি আজিগগা পরিয়াছে যেন
মোহন মধুর বেশ ;
কার পরশনে উঠিল জাগিয়া
সােনার বাঙ্গলা দেশ।
(৩)
প্রকৃতি তাহার শােভার ভাণ্ডার,
ধরায় দিয়াছে খুলি ;
উজল করিয়া দশ দিশি অজি
ফুটিছে কুসুম কলি।
( ২২ )
ফুল কলি
( ৪ )
জগজ্জননী আসিবেন আজি
বাঙ্গলার ঘরে ঘরে ;
অভাগা সন্তান আমাদের তরে
আশীষ লইয়া করে।
জননী মােদের দশ বাহ তুলি
আশীষ করেন দান;
আগমনে তাঁর প্রকৃতি রাণীর
নাচিয়া উঠিছে প্রাণ।
(৬)
বরষিছে রবি উজল কিরণ,
বিহগ গাহিছে গান ;
শরৎ এসেছে জননীরে আজ
করিবারে আহবান।
( ২৩ )
ফুল কলি
বীৰৱে পুৰস্কাৰ
আলেকজেণ্ডার ভারতবর্ষ করল যখন আক্রমণ,
রাজারা সব তাহার পদে করল আত্ম সমর্পণ।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য তখন অনেক
ছিল এই দেশে,
রাজ্য শাসন করত তারা আপন আপন স্বদেশে।
তাহার সনে করতে লড়াই কেউ হল না সাহসী,
তাহার ভয়ে ছাড়ল সবে আপন হাতের ঢাল অসি।
তাদের মাঝে পুরু নামে ছিল একজন ক্ষুদ্র রাজ,
দেশের হীন দশা দেখে তাহার প্রাণে হাল বাজ।
জানত পুরু স্বাধীনতা প্রাণের চেয়ে মূল্যবান,
রাখতে দেশের স্বাধীনতা করতে রাজি পরাণ দান।
একাই পুরু অল্প তাহার সৈন্য লয়ে কয়েকজন,
আলেকজেণ্ডার বীরের সনে করল সমর আয়ােজন।
আলেকজের ভাবল মনে স্পর্ধা ইহার বড়ই বেশী,
সবাই আমার পদানত একাই পুরু ধরবে অসি !
সৈন্য লয়ে চললাে পুরু দেশের তরে করতে রণ,
পঞ্চনদে আলেকজেণ্ডার পাইল তাহার দরশন।
( ২৪ )
ফুল কলি
উভয় সেনা মিললাে এসে যখন ঝিলাম নদীর তীরে,
আরম্ভিল তুমুল সমর বীর পুরু আর সেকেন্দরে।
যুদ্ধ করে ক্লান্ত হয়ে পুরুর হল সেনাক্ষয়,
আলেকজেণ্ডার হইল জয়ী পুরুর হল পরাজয়।
বন্দী করে বীর পুরুকে আনল যখন শিবির মাঝে,
আলেকজেণ্ডার বল তারে, “তুষ্ট আমি তোমার কাজে।”
“রাজা তুমি ছিলে বটে এখন আমার বন্দী তুমি,
জান তুমি তােমার দেশের মালিক এখন একাই আমি ?”
“কি আচরণ চাও হে পেতে বল এখন আমার কাছে,
বন্দী তুমি স্মরণ রেখে বল আর কি বলার আছে ?”
“রাজা আমি চাই আচরণ তােমার কাছে রাজোচিত,”
বন্দী পুরু বল জোরে বুক ফুলায়ে বীরের মত।
অবাক হল আলেকজেণ্ডার পুরুর মুখে বাক্য শুনে,
তুষ্ট হল তাহার কথায়—বীরের সম্মান বীরেই জানে।
এই দেশেতে তােমার মত বীর নৃপতি নাইকো আর,
আমার মনে করলে সমর কি দিব তার পুরস্কার।
আমায় দেখে তােমার দেশের সবাই করল নতশির
রণ করিতে আমার সনে একাই তুমি আসলে বীর !
। ২৫)
ফুল কলি
দেশহিতৈষী রাজা তুমি সাহস তােমার আছে বেশ,
বন্দী নহ, মুক্ত তুমি, লও ফিরে লও তােমার দেশ।”
“সেনাপতি! মুক্ত কর শৃঙ্খলিত হস্ত এর,
বন্দী নয় এ দেশহিতৈষী বীর নৃপতি এই দেশের।”
ঝন ঝন ঝন ঝন খসিল শৃঙ্খল পড়িল ভূমে,
আলেকজেণ্ডার নমিল তাহরে বসায়ে তাহারে সিংহাসনে
কাঞ্চন জংঘা
অদ্রি তুমি অভ্রভেদী শৃঙ্গ 'তােমার তুষারময়,
শ্রেষ্ঠ বিশাল মহান বলে করলে তুমি জগজ্জয়।
জমাট বাঁধা শুভ্র তুষার শীর্ষে তব মুকুট শােভা,
নীল আকাশের পটে অতুল চিত্র যেন মনােলােভা।
সন্ধ্যা ঊষার স্পর্শে তােমার দীপ্তি উঠে উজ্জ্বলি,
কে যেন দেয় তােমার পদে কনক কুসুম অঞ্জলি।
তােমার বুকে যুগ যুগান্ত তুহিন হিমের আবাসস্থল,
ঘুমায় সুখে ক্লান্ত হয়ে, পুঞ্জীভূত মেঘের দল।
সৌধ শিখর তুল্য তব মর্মরিত শৃঙ্গরাশি,
অরুণ আভায় উদ্ভাসিয়া, ছড়ায় যেন কনক হাঁসি।
( ২৬)
চল কল
জয় করিতে শিখর তােমার বিশ্ববাসী শ্রেষ্ঠ বীর,
তুষার ঢাকা পায়ে তােমার উৎসৃজিল আপন শির।
তােমায় দেখে মুগ্ধ হিয়া দৃশ্য তব চমৎকার
শিল্পী কে সে গড়ল তোমায়, তাঁহার পায়ে নমস্কার
মনুষ্যত্ব
কুটীরবাসী দীন যাহারা, মানুষ নামের যােগ্য তারা,
থাক তাদের টাকা, আছে জীবন ভরা জয়,
নাই তাহাদের টাকার চিন্তা চোর ডাকাতের ভয়।
টাকায় মানুষ হয় না বড়, টাকার চেয়ে অধিকতর ;
মূল্যবান তার স্বভাব যদি দেবতুল্য হয়।
টাকায় আনে বিলাসিতা স্বভাব আনে জয়।
জীর্ণ পাতার কুটীর মাঝে দীন ভিখারী যদিও রাজে,
‘মানুষ’ হলে সেই দেবতা সেইত দেবালয়,
তাহার চরণ পরশ পেলে জীবন সফল হয়।
* দার্জিলিং হইতে কাঞ্চনজংঘার দৃশ্য
( ২৭)
ফুল কলি
অট্টালিকার শীর্ষ দেশে, বাস করে যে রাজার বেশে,
ধন দৌলতের নাই সীমানা নাইক টাকার ক্ষয়,
মানুষ নামের যােগ্য না যে চরিত্রহীন হয়।
মূক্ত যাদের হৃদয় তল, ধৰ্ম্মজ্ঞানে সমুজ্জ্বল,
সেইত মানুষ জাত বিচারে যদিও হীন হয়,
তাহার পায়ে নত হলেও মানের হানী নয়।
অন্ধকারে মগ্ন যারা, টাকার গর্বে আত্মহারা,
ধৰ্ম্মনীতির সঙ্গে যাদের নাইক পরিচয়,
ছল চাতুরী প্রতারণাই জীবন ব্ৰত হয়।
মানুষ বলে কেউ তাদেরে, স্থান নাহি দেয় জগৎ ভরে,
পশুর চেয়ে অধম বলে গণ্য রা হয়,
স্বভাব আনে মনুষ্যত্ব, স্বভাব আনে জয়।
জাত বিচারে শ্রেষ্ঠ হলে, মানুষ তাদের নাহি বলে,
হৌক না রাজা, হৌক না ধনী টাকায় অতিশয়,
মানুষ হলে তাহার পায়ে জগৎ নত রয়।
( ২৮ )
ফুল কলি
দাদা-তি
(১)
মা বলেছেন দাদা গেছে দূর বিদেশে একা,
আসবে নিয়ে আমার তরে খেলনা পুতুল ছবি ;
সেই যে গেছে সেই অবধি পেলাম না তার দেখা,
পথের পানে চেয়ে আমি তাহার কথাই ভাবি।
বছর পরে যাচ্ছে বছর মাসের পরে মাস,
বর্ষা, শরৎ গ্রীষ্ম, শিশির যাচ্ছে বয়ে ধীরে,
“দেখতে দাদায় মাগাে আমার বড়ই অভিলাষ"
বললে আমি মায়ের চোখে অশ্রুবারি ঝরে।
(৩)
বলেছিলাম মাকে আবার বছর কয়েক পরে,
“কেন মাগাে মিছামিছি দিচ্ছ আমার কঁকি ?”
“আসবে নাগাে দাদা বুঝি গেছে মােদের ছেড়ে,
“আর পাব না তাহার দেখা সত্য বল নাকি?”
( ২৯)
ফুল কলি
( ৪ )
“বলছে মােরে খেলার মাঠে রায় বাবুদের হীরে,”
“দাদা নাকি মরে গেছে আসবে না সে আর
“সত্য কি মা মৃত্যু হলে কেউ আসে না ফিরে ?”
“সবায় ছেড়ে একলা থাকে দূর সাগরের পার ?”
( ৫ )
আমার কথায় মায়ের চোখে অশ্রু এলাে জোরে
বলল আমায় “যাওরে বাছা ভুলে দাদার কথা,
‘স্বর্গে গেছেন দাদা তােমার মােদের মায়া ছেড়ে,
স্মৃতিটি তার মনে জেগে দিচ্ছে দারুণ ব্যথা।
( ৬ )
“দাদা তােমার চলে গেছে চিরদিনের তরে,
“তোমায় আমায় বাসতে ভাল আসবে না সে আর
“সেই দেশেতে গেলে কেহ আর আসে না ফিরে,
স্বর্গ সে দেশ এদেশ হতে এমনি চমৎকার।
( 3 )
ফুল কলি
অন্ধের দুঃখ
(১)
আমি ধরণীর বুকে লভেছি জনম,
পথের ভিখারী অন্ধ ;
জগতের ওই মুক্ত দুয়ার,
মাের তরে চির বন্ধ।
(২)
চির তমসার সন্তান আমি,
আলােক দেখিনি চোখে,
উষা কভু তার সােনালী কিরণ,
ঢালেনি আমার মুখে।
(৩)
কত বরষার কত শরতের,
বসন্তের আহবান,
আঁধার ভেদিয়া পশিয়াছে কানে,
শুনিয়াছি শুধু গান।
( ৩১ )
ফুল কলি
;
( ৪ )
শুনেছি গগন নীলিমায় ঢাকা,
ধরণী শােভায় ভরা ;
কত অনুপম মােহন দৃশ্যে,
রচিত বসুন্ধরা।
( ৫ )
জনন অবধি হেরিনু আঁধার
দেখিনি আলাের মুখ
আজো দেখি নাই জনক জননী,
জনম ভূমির বুক।
( ৬ )
পথে পথে আমি ভিস্থ মেগে খাই,
লাঠিতে করিয়া ভর,
যে যেদিকে নেয় সেই দিকে যাই,
নির্ভয় অন্তর।
(৭)
দেখিনা যে কিছু চিনি না যে কিছু,
কারে বলে ডর ভয় ;
শত্রু মিত্র কে যে গাে আমার,
কোথা জয় পরাজয়।
,
( ২ )
ফুল কলি
(৮)
অভাগা করিয়া পাঠায়েছে বিধি,
বহিতে জীবন ভার ;
জানিনা কখন ঘুচিবে আমার,
এ চির অন্ধকার।
স্বাধীনতার সুখ
(১)
হতেম যদি স্বাধীন আমি বন বিহঙ্গের প্রায়,
আপন মনে যেতাম উড়ে যখন খুসি যেথা
শ্যামল বিজন শান্তিময়ী গভীর বনছায়,
একলা বসি গান গাহিতাম চাপি প্রাণের ব্যথ
ফুল কলি
(২)
স্বাধীন যদি হতেম আমি পদ্মা নদীর মত,
হর্ষে নাচি এমনি ভাবে যেতাম নিশি দিন ;
কল নাদে সিন্ধু পানে যেতাম অবিরত,
এমনি বিমল শান্তি সুখে রইনু সদা লীন।
(৩)
কিম্বা যদি হাওয়ার মত হতেম স্বাধীন আমি,
এমনি সুখে করতে পেতাম জগৎ পর্যাটন ;
আপন মনে যেতাম বহি সদাই দিবস যামি
দুঃখ আমায় পারত নাহি করতে পরশন।
( ৪ )
মেঘের মত স্বাধীনতা থাকত আমার যদি,
ভেসে ভেসে যেতাম ধীরে দূর গগনের কোলে ;
অসীম সুদূর আকাশ পথে ভ্রমি নিরবধি,
হর্ষ সুখে দিন যাপিতাম সকল দুঃখ ভুলে।
( ৩৪ )
ফুল কলি
ফাগুন দুমানে আজ
(১)
ফাগুন দুয়ারে আজ ;
আনিয়াছে সাথে মধুর মলয়,
সাজি ভরা ফুল সৌরভময়,
স্বভাবের রাণী পরিয়াছে কেন
আজি এতাে নব সাজ ?
কার আগমনী গাহিতে ফাগুন,
এসেছে দুয়ারে আজ !
(২)
কেন গো আকুল প্রাণ!
কে দিল নীলিমা লিয়া আকাশে,
পদধ্বনি কার বাজিল বাতাসে,
কোথা হতে এলাে অচেনা দেশের
অতিথি গাহিতে গান,
দোয়েল কোয়েল পাপিয়া কণ্ঠে
উঠিল মােহন ভান!
( ৩৫ )
ফুল কলি
( ৩ )
কেন এতাে নব সাজ।
বনে বনে কেন এতাে আয়ােজন,
এতাে শােভাময় কেন ফুলবন,
তরুলতা কেন নব বেশে আজ,
ধরিছে সবুজ সাজ !
কোথা হতে এলাে এত শােভা নিয়ে
ফাগুন দুয়ারে আজ ?
( ৪ )
আসিয়াছে ঋতুরাজ !
ফাগুন তাহারে করিতে বরণ,
করিয়াছে এতাে নব আয়ােজন,
প্রকৃতি তাহার আবাহন-গীতি,
গাহিছে হরষে আজ!
দ্বারে দ্বারে তাই কহিছে ফাগুন
ওগাে তােরা সাজ সাজ।
#
( ৩ )
ফুল কলি
দশ বন্ধু
( ১ )
কাঁদিছে বঙ্গ কঁদিছে ভারত,
কান্না উঠিছে ভূবন মাঝ,
বঙ্গমাতার হৃদয় রতন,
দেশবন্ধু তুমি নাহি গাে আজ।
(২)
দুর্জয়লিং শৈল শিখরে
মহাকাল দেব চরণ তলে ;
তুমি ভারতের দীপ্ত তপন,
ডুবে গেলে অজি অস্তাচলে।
( ৩ )
পরােপকার মহাব্রত লয়ে,
এসেছিলে দেব জগতে তুমি ;
তােমারি পবিত্র পরশ লভিয়া,
ধন্য হইল ভারত ভূমি।
( ৩৭ )
ফুল কলি
( ৪ )
দীন দরিদ্রের দুঃখেতে সতত,
গলিত তােমার কোমল প্রাণ,
পরহিত তরে স্বদেশ সেবায়,
কত না অর্থ করিলে দান।
( ৫ )
তেয়াগি
তাতুল
বিভব সম্পদ,
স্বদেশ সেবায় সপিলে প্রাণ,
আত্মত্যাগের সমুজল ছবি,
বিশ্ববাসীকে করিলে দান।
( ৬ )
স্বদেশবাসীকে ডুবায়ে আঁধারে,
তুমি গেলে আজ স্বরগ পুরে,
ভুলিওনা কভু অভাগা স্বদেশ,
ঢালিও আশীষ করুণা করে।
( ৭ )
তােমারি
পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশে
আমরা সকলে প্রণমি আজ,
তােমারি অমর কীত্তি কাহিনী
রহিবে জাগ্রত জগত মাঝ।
{
ফুল কাল
সাঃ আশুতােষ
অস্তে গেল বছরবি সার আশুতোষ আজ,
বঙ্গবাসী মগ্ন আজি শােক সাগরের মাঝ ।
প্রভায় যাহার উজল বঙ্গ উজল ভারত ভূমি,
হা ভগবান নিদয় হয়ে হরলে রে তুমি।
এমন কর্মী দেশহিতৈষী মিলবে নাকো আর,
আজকে তাহার তিরােধানে ভারত অন্ধকার।
সর্ব বিদ্যায় ছিলেন পণ্ডিত, জ্ঞানী বুদ্ধিমান,
আর কি হবে পূরণ কভু শূন্য তাঁহার স্থান ?
সারা জীবন গেছেন খেটে দেশের শিক্ষার তরে,
ববাসীর সেবায় জীবন গেছেন নিয়ােগ করে।
তাঁর কৃপাতেই জ্ঞানের মুকুল ফুট ঘরে ঘরে,
তার প্রভাবেই বাঙ্গলা আজি জ্ঞানের গরব করে ।
তিনিই দিলেন মাতৃভাষায় শ্রেষ্ঠ আসন দেশে,
মুচল ভাষার দৈন্য দুঃখ সাজল রাণীর বেশে,
হৃদয় ছিল মহৎ অতি দয়ার প্রস্রবন,
পরের দুঃখে কাঁদত হৃদয় গলত তাহার মন।
( ৩৯ )
ফুল কলি
অন্ন বস্ত্র দিয়ে তিনি আপন ছেলের মত,
পালন করে গেছেন সদা দীন দরিদ্র কত।
স্বর্গে গেছেন সার আশুতােষ থাকুন তথায় সুখে,
স্মৃতি তঁাহার রইল আঁকা বঙ্গবাসীর বুকে।
নদীৰ দান
( 1 )
পাহাড় হতে ঝরণা বারি
নামছে বয়ে মধুর গানে,
সেই ঝরণার তীরে বসি,
শুনি সে গান আকুল প্রাণে
( ২ )
নী সে যে জলের রেখা,
বৃহৎ হয়ে ক্রমে ক্রমে,
সৃষ্টি করে নদ নদীরে,
বিশাল হয়ে ধরায় ভ্রমে।
{ ৪০ )
ফুল কলি
( 3 )
কাজটী তাহার সদাই চলা
শুধুই কেবল দেশে দেশে,
অকাতরে দান করে জল,
যায় গাে নেচে হেসে হেসে।
( ৪ )
অবিরত দান করে যায়
সবার তরে বিল বারি,
ক্ষয় কখনাে হয় না তাহার,
ক্রমেই সে যে যায় গাে বাড়ি
(৫)
দানই তাহার জীবন ব্রত,
দানেই তাহার সকল সুখ,
সবটুকু তার পরকে দিতে
প্রাণের মাঝে পায়না দুঃখ।
( ৬ )
তার চেয়ে যে উদার দাতা
সুনীল সাগর অন্তহীন,
ছুটছে সদাই তাহার পানে,
তার চরণে হইতে লীন।
( ৪১ )
ফুল কলি
আমার দেশ
(১)
আমার দেশের তুল্য এমন
সােণার স্বদেশ নাইকো আর,
ধন্য মােরা জনম লভি
শ্যামল বুকে বাঙ্গলা মার ।
(২)
আমার দেশের শিরােভূষণ,
হিমালয়ের স্বর্ণ চূড় ;
বিশ্বমাঝে শ্রেষ্ঠ বলে,
করল সবার গর্ব দূর।
(৩)
আমার দেশের সুনীল আকাশ,
পাহাড় ঘেরা সবুজ বন,
আমার দেশের সাগর নদী,
মুগ্ধ করে সবার মন।
( ৪২ )
ফুল কলি
(৪)
আমার দেশের জলভরা মাঠ,
তরীর লহর মাঝির গান,
জানিনা আর কোথায় আছে,
দৃশ্য এমন প্রাণ ভুলান।
( ৫ )
আমার দেশের স্নিগ্ধ বাতাস,
আমার দেশের ফুলের হাসি,
কোথায় এমন কাহার পরাণ
আকুল করে বাজায় বাঁশি।
;
শােভায় ভরা স্বদেশ আমার,
শান্তি সুখের এমন দেশ,
বিশ্বমাঝে কোথায় আছে,
স্বভাব রাণীর এমন বেশ।
( ৭ )
আমার দেশের গৌরবেতে,
মুগ্ধ ছিল বসুন্ধরা,
জ্ঞানে মানে শ্রেষ্ঠ বলে,
বিশ্বে ছিল সবার সেরা।
( ৪৩ )
ফুল কলি
(৮)
জনম নিল আমার দেশেই,
শ্রীচৈতন্য, বুদ্ধ জ্ঞানী ;
অহিংসারি ধৰ্ম্মালােকে,
করল উজল বিশ্বখানি।
( ৯ )
দানের ধৰ্ম্ম শিক্ষা দিতে,
জনম নিল আমার দেশে,
কর্ণ, শিবি, দধিচী আর ;
হরিশ্চন্দ্র রাজার বেশে।
(১০)
গুরুর আজ্ঞায় শিষ্য হেথায়,
আঙ্গুল কেটে করল দান ;
আমার দেশেই জনম নিল,
এমনি কত মহৎ প্রাণ।
(১১)
আমার দেশেই ত্যাগ করিয়া,
রাজা রাজ্য, আপন ধন ;
দীনের বেশে যাপল জীবন,
আবাস হল গভীর বন।
( ৪৪ )
ফুল কাল
(১২)
আমার দেশেই নারী এমন,
স্বামীর চিতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ;
আত্মত্যাগের করুণ ছবি,
রাখল একে ধরার 'পরে ।
{ ৪৫ )
ফুল কলি
বসন্তাগমনে
:
(১)
ফাগুন আসিয়া দুয়ারে আজিগাে,
গেয়ে গেল কেন গান
অলিদল কেন ফুলবাগে আজ,
তুলিছে মধুর তান?
( ২ )
মুকুল কেন গগ বিলাইছে এত,
মধুর সুরভি আজ
বন উপবন ধরিয়াছে কেন,
এমনি সবুজ সাজ ?
(৩)
কোথা হতে আজ কেন এলাে এত,
অতিথি পাখীর দল,
কানন মায়ে কেন বা তুলিছে,
তারা এতাে কোলাহল।
;
( ৪৬ )
ফুল কলি
( 8 )
বনে বনে আজ ঝিল্লির ঝাঁক,
তুলিছে কেনগো তান ;
প্রকৃতি কাহার আগমনে আজ,
গাহে আবাহন গান !
( ৫ )
ঋতুরাজ আজি এসেছে ধরায়,
তাই এত আয়ােজন;
নব বেশে তাই সাজিছে প্রকৃতি,
নিয়ে নব অভিরণ।
( ৬ )
ঋতুরাজে আজ করিতে বরণ
প্রকৃতি হরষ ভরে,
সাজি ভরা ফুল সাজায়ে এনেছে,
সবুজ বসন পরে।
( ৪৭ )
ফুল কলি
এস
( ১ )
এস গলায় পরিয়া শেফালীর মালা
নুপুর পরিয়া চরণে
এস হানা হানার পরিমল বহি
সান্ধ্য মধুর পবনে।
( ২ )
এস গগনে ছড়ায়ে সুনীল আঁচল
উজলিয়া বন বনানী
এস অরুণ আভায় মুখরিত করি
শস্য শ্যামল ধরণী।
(২)
এস জ্যোৎস্না মথিত বন ফুল কলি,
ফুটায়ে শারদ কাননে,
এস শিশির ধারায় স্নিগ্ধ উষায়,
চঞ্চল তব চরণে।
(সমাপ্ত)
No text on this page.
No text on this page.