Bally Sadharan Granthagar

Shastrasar-sangrah Vol. 2

Ghosh , Rajendranath Ed · 2010/02/20

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

দ্বিতীয় খণ্ড।
বেদান্ত প্রস্থান—প্রথমানুষ্ঠান।
শাসা-সংগ্রহ।
অর্থাৎ
মূল ৩৩৬ পৃঃ
টীকা ১-৮
মুল ৩০
অদ্বৈতসিদ্ধিঃ
সিদ্ধান্তলেশঃ
খণ্ডনখণ্ডখাদ্য
চিৎমুখী {
টীকা ১৮
অনুবাদক-মহামহােপাধ্যায় শ্রীযুক্ত প্রমথনাথ তর্ক ভূষণ।
মূল ৩৩-৫৬ পৃঃ
টীকা ১
অর্থাৎ প্রত্যক
মূল
তত্ত্ব প্রদীপিকা । টীকা ১
অনুবাদক-মহামহােপাধ্যায় শ্রীযুক্ত লক্ষ্মণ শাস্ত্রী।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শ্ৰীযুক্ত রাজেন্দ্রনাথ ঘোষ।
৪নং আপুলি লেন, বহু বাজার, কলিকাতা।
স্বত্বাধিকারী—জে, পি, ব্রাদার্স এণ্ড কোং।
৫নং রাম ঘোষের ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
প্রাপ্তিস্থান-সম্পাদকের নিকট, এবং
লােটা লাইব্রেরী, ২৮১ কর্ণওয়ালিস্ স্ট্রীট, কলিকাতা।
কাগ ১৮!

বিজ্ঞাপন। শাস্ত্ৰসারসংগ্রের দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হইল। এবার ইহাতে চারিখানি গ্রন্থেরই চারিটী প্রসিদ্ধ টীকা সংঘােজিত হইয়াছে। গ্রন্থ মধ্যে টাকা দিলে অনুবাদ ও তাৎপৰ্য্য মূল হইতে বহুদুরে অবস্থিত হয় এবং টীকা সাধারণের পক্ষে প্রয়ােজন হয় বলিয়া ইহা পৃথক ভাবে মুদ্রিত হইল এবং ইহাদের পত্রাঙ্কও পৃথক ভাবে প্রদত্ত হইল। মুলের পত্রাঙ্কও টীকা মধ্যে দৃষ্ট হইবে। গ্রন্থশেষে মূলগ্রন্থ যেমন পৃথক করিলে পৃথক পৃথক্ হইবে, তদ্রুপ টীকাগুলিও পৃথক্ পরিশিষ্ট গ্রন্থ হইতে পারিবে। আশাকরি বিদ্যোৎসাহী সহৃদয় ব্যক্তিগণ গ্রাহক হইয়া উৎসাহিত করিবেন। নিয়মাবলী। প্রত্যেক খণ্ডে উক্ত চারিখানি পুস্তক ৪৫ ফরম হিসাবে ১৬ ফরম পুস্তক থাকিবে এবং প্রতি ফরম এক আনা হিসাবে প্রত্যেক খণ্ডের মূল্য অগ্রিম গ্রাহকের পক্ষে ১২ টাকা হইবে। ২। মাসে মাসে প্রকাশিত করিবার জন্য চেষ্টা করা হইবে। ৩। প্রত্যেক খণ্ড ভিপিতে গ্রাহকবর্গের নিকট প্রেরিত হইবে। ৪। অগ্রিম গ্রাহকের পক্ষে ডাক মাশুল খরচা লাগিবে না। ৫। অগ্রিম গ্রাহক হইতে হইলে ১ টাকা জমা রাখিতে হইবে। গ্রন্থ শেষ হইলে উহা প্রত্যর্পণ করা হইবে। ৬। ঠিকানা পরিবর্তন বা গ্রাহক পক্ষের কোন কারণবশতঃ পুস্তক ফিরিয়া আসিলে জমার টাকা হইতে উক্ত ব্যয় নির্বাহ হইবে। অগ্রিম গ্রাহক না হইলে প্রত্যেক খণ্ড ১• হিসাবে মূল্য হইবে। প্রেরণব্যয় স্বতন্ত্র লাগিবে । ৮। পত্রাদি ব্যবহার ও মূল্য প্রভৃতি সম্পাদক ও প্রকাশক শ্ৰীযুক্ত রাজেন্দ্রনাথ ঘােষের নামে ৪নং আপুলি লেন, বহুবাজার কলিকাতায় পাঠাইতে হইবে । উত্তর প্রার্থিগণ রিপ্লাই কার্ডে পত্র লিখিবেন। ৯। গ্রন্থ সমাপ্তির পূর্বে গ্রন্থ লওয়া বন্ধ করিলে উক্ত জমা টাকা ফেরত পাইবেন না। খৰখাদ্য তিন ফরমা লক্ষ্মীপ্রিন্টিং ওয়ার্ক, শ্ৰীযুক্ত কৃষ্ণচন্দ্র ঘোষ দ্বারা, চিৎমুখী তিন ফরম, অদ্বৈতসিদ্ধি তিন ফরম, লঘুচন্দ্রিকা ও কভার দেবকীনন্দন প্রেসে শ্ৰীযুক্ত পুলিনবিহারী দাস দ্বারা, এবং সিন্তিলেশ কালিকা, প্রেসে শ্রীযুক্ত শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী দ্বারা, বিদ্যাসাগরী বিউটীপ্রেসে ঐ যুক্ত অশ্বিনীকুমার চৌধুরী বার', মাননয়নপ্রসাদিনী ও কৃষ্ণালঙ্কার গৌরাঙ্গ প্রেসে যুক্ত অধরচন্দ্র দাস যারা মুদ্রিত।

স। ও, ' কক্ষ, * * * - - - প্রথম পরিচ্ছে। এক্ষণে দ্বিতীয় বিশেষণটী কেন দেওয়া হইল, তাহা দেখয়াউকবলিকলিয়া প্রতীতিযােগ্য ইহাই হইল দ্বিতীয় বিশেষণ। বেদান্তমতে গগনকুসুম প্রভৃতি অলীক বস্তুতে তুচ্ছ-সত্তা অঙ্গীকার করা যায়। এই তুচ্ছ-সন্তাক্রান্ত বস্তুগুলি, বাস্তবিক, যে মিথ্যাবের নির্বচন করা হইতেছে, তাহার আশ্রয় বলিয়া অঙ্গীকৃত নহে, অর্থাৎ ইহার অলীক বা তুচ্ছ বলিয়াই ব্যবহৃত হয় মাত্র, কিন্তু ইহাদিগের প্রকৃত মিথ্যা নাই। কারণ, এখানে যে মিথ্যা-শব্দটী প্রযুক্ত হইয়াছে, তাহার দ্বারা ব্যবহারিক ও প্রােতিভাসিক বস্তুরই স্বরূপ নিরূপিত হইয়া থাকে। সুতরাং, অবচ্ছেদাবচ্ছেদে মিথ্যাত্বরূপ সাধ্যের সিদ্ধি যদি অনুমানের উদ্দেশ্য হয়—তাহা হইলে পক্ষের মধ্যে প্রবিষ্ট যে গগন-কুসুমাদি,তাহাতে সাধ্য না থাকা নিবন্ধন,অনুমিতিটী দোষগ্রস্ত হইতে পারে। অর্থাৎ, পক্ষের একদেশে যদি বাধ থাকে, তাহা হইলে অবচ্ছেদাবচ্ছেদে অভিপ্রেত সাধ্যসিদ্ধি হইল না বলিয়া প্রকৃত হেতুকে বাধিত হেতু বলা যাইতে পারে। এই প্রকার বাধের আশঙ্কা নিরাকরণ করিবার জন্য এই দ্বিতীয় বিশেষণটীর প্রয়ােগ করা হইয়াছে। আমরা অলীক গগন-কুসুমাদি বস্তু লইয়া কোন বিশেষ প্রয়ােজনানুরােধে ব্যবহার করিলেও কোনও কালে কোন জ্ঞানে উহার সৎ বলিয়া আমাদের নিকট প্রতীত হয় না। এই কারণে ‘সৎ বলিয়া প্রতীতিযােগ্য এই বিশেষণটী আছে বলিয়া, প্রকৃতস্থলে গগনকুসুম প্রভৃতি তুচ্ছগুলি পক্ষের মধ্যে প্রবিষ্ট হইতে পারিল না। সুতরাং, এই বিশেষণটী থাকা নিবন্ধন গগনকুসুম প্রভৃতিকে পক্ষের মধ্যে ধরিতে পারা গেল না; সুতরাং,উক্ত অনুমানের উক্ত পক্ষৈক- দেশে বাধরূপ দোষ হইতে পারিল না। তৃতীয় বিশেষণটী অর্থাৎ চিভিন্ন এই বিশেষণটী যদি না থাকিত, তাহা হইলে, পরে যে “হেতু” প্রদর্শিত হইবে, তাহা বাধিত হেতু বলিয়া প্রদর্শিত হইতে পারিত। বাধিত হেতু কাহাকে বলে তাহা পূৰ্বেই কথিত হইয়াছে। অর্থাৎ, পক্ষতাবচ্ছেদকাবচ্ছেদে (অর্থাৎ সকল পক্ষেই) যদি সাধ্যসিদ্ধি উদ্দেশ্য হয়, অথচ কোন একটী পক্ষে তাদৃশ সাধ্যসিদ্ধির সম্ভাবনা না থাকে, তাহা হইলে, ঐরূপ হেতু বাধিত বলিয়া কথিত হয়। প্রকৃতস্থলে যদি চিভিন্ন এই বিশেষণটী না থাকিত, তাহা হইলে চিৎ-স্বরূপ যে ব্ৰহ্ম, তাহাও পক্ষ বলিয়া পরিগণিত হইত, আর সেই ব্ৰহ্মরূপ পক্ষে মিথ্যাত্বরূপ সাধ্য থাকিতে পারে না বলিয়া, অবচ্ছেদাবচ্ছেদে মিথ্যাত্বরূপ যে সাধ্যের অনুমিতি, তাহা সিদ্ধ হইত না।

অমৈতগিন্ধি। এই কারণে চিৎ-স্বরূপ ব্ৰহ্ম-বস্তুকে যাহাতে পক্ষের মধ্যে ধরা না যায়, তাহারই জন্য, এই চিভিন্নরূপ বিশেষণটী প্রযুক্ত হইয়াছে। বলা বাহুল্য যে, অবচ্ছেদ- বচ্ছেদে বা সামানাধিকরণ্যে এই বিবিধ অনুমিতির যে-কোন অনুমিতি বাদীর উদ্দেশ্য হইতে পারে—এইরূপ সম্ভাবনায় গ্রন্থকার এই প্রকার বিপ্রতিপত্তিবাক্যের রচনা করিয়াছেন। সামানাধিকরণ্যে সাধ্যসিদ্ধি উদ্দেশ্য হইলে প্রতিভাসিক শুক্তিরূপে সিদ্ধসাধন-বারণের জন্য “ব্ৰহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রমার অবাধ্যত্ব বিশেষণটা দেওয়া হইয়াছে। পরন্তু, এই পক্ষে “সনে প্রতীত্যহত্ব” ও “চিন্নিত্ব’ এই বিশেষণ দুইটী দিবার আবশ্যকতা নাই। কারণ, সামানাধিকরণ্যে অনুমিতির প্রতি অবচ্ছোবচ্ছেদে বাধনিশ্চয়টী প্রতিবন্ধক হইয়া থাকে, কিন্তু সামানাধিকরণ্যে বাধনিশ্চয় প্রতিবন্ধক হয় না। অতএব, প্রকৃতস্থলে ব্ৰহ্ম এবং তুচ্ছ উভয় মিথ্যাত্বরূপ সাধ্য না থাকিলেও সামানাধিকরণ্যে অনুমিতির বাধা হইতে পারে না। এজন্য, সামানাধিকরণ্যে সাধ্যসিদ্ধির জন্য পক্ষে দুইটী বিশেষণের কোন প্রয়ােজন নাই। তখন কেবল “ব্ৰহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রমাবাধ্যত্ব’কেই পক্ষরূপে নির্দেশ করিতে হইবে। আর যদি অবচ্ছেদাবচ্ছেদে সাধ্যসিদ্ধি উদ্দেশ্য হয়, তাহা হইলে সামানাধিকরণ্যে সাধ্যনিশ্চয় অবচ্ছেদাবচ্ছেদে অনুমিতির প্রতি প্রতিবন্ধক হয় না বলিয়া শুক্তিরূপে অনুমানের পূর্বে মিথ্যাত্বরূপ সাধ্যের নিশ্চয় থাকিলেও সিদ্ধসাধন হইতে পারে না। এজন্য “ব্ৰহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রবাধ্যত্ব” বিশেষণের প্রয়ােজন হয় না। কিন্তু, ব্ৰহ্ম এবং তুচ্ছে মিথ্যাত্বরূপ সাধ্য থাকে না বলিয়া অবচ্ছেদাবচ্ছেদে অনুমিতিস্থলে সামানাধিকরণ্যে বাধনিশ্চয় প্রতিবন্ধক হয় ; এই হেতু ব্ৰহ্ম ও তুচ্ছে বাধনিশ্চয় প্রতিবন্ধক হয়, তজ্জন্য ব্ৰহ্ম ও ভুচ্ছে বাধ- নিশ্চয় দ্বারা অনুমিতির প্রতিবন্ধক হইয়া যাইবে। তাহারই নিবারণ করিবার জন্য “সনে প্রতীত্যহত্ব” এবং “চিন্নিত্ব” এই বিশেষণ দুইটী পক্ষে দেওয়া উচিত হয়, এই পক্ষে “ব্ৰহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রমাবাধ্যত্ব বিশেষণটী নিপ্রয়ােজন হয় বুঝিতে হইবে। ইহার পর গ্রন্থকার ইহাও দেখাইতেছেন যে, এই প্রকার গুরুতর ভাবে পক্ষের নির্দেশ না করিয়াও এক একটা ব্যাবহারিক বস্তুকে পক্ষরূপে নির্দেশ করিয়া মিথ্যাত্বরূপ সাধ্যের অনুমিতি করা যাইতে পারে। যেমন, আকাশ মিথ্যা কি না, পৃথিবী মিথ্যা কি না-ইত্যাদি, এক একটীর ব্যাবহারিক মিথ্যা নিরূপণ আর সমুদয়ের মিথ্যাত্ব সিদ্ধ করা হয়।

প্রথম পরিচ্ছে। “প্রত্যেকং বা বিপ্রতিপত্তি” ইত্যাদি গ্রন্থ দ্বারা এই ভাবেই বিপ্ৰতিপত্তি- বাক্যের স্বরূপ প্রদর্শিত হইয়াছে বুঝিতে হইবে। এক্ষণে এই প্রকার বিপ্রতিপত্তি বাক্য প্রয়ােগ করিলে এইরূপ আপত্তি হইতে পারে যে, ঘট-পট প্রভৃতির মধ্যে কোন একটা বস্তুকে যদি পক্ষ বলিয়া নির্দেশ করা যায়, তাহা হইলে সেই ঘট বা পটরূপ পক্ষ হইতে ভিন্ন যে ব্যাবহারিক বস্তু, অর্থাৎ বৃক্ষ পৰ্বত প্রভৃতি, তদন্তভাবে হেতুর সত্ব আছে, অথচ সাধ্য যে মিথ্যা, তাহা। সন্দিগ্ধ, অর্থাৎ, মিথ্যাত্ব তাহাদের উপর আছে কি না—এইরূপ সংশয় হইতে পারে। এই প্রকার সংশয় হইলে কিন্তু হেতুতে ব্যভিচারসন্দেহ হইতে পারে। এই ব্যভিচার-সংশয়ের নামই “সন্দিগ্ধানৈকান্তিকতা।” অনৈকান্ত শব্দের অর্থ ব্যভিচার। অনৈকান্ত যে হেতুতে থাকে, তাহাকে মূলে অনৈকান্তিক । সেই অনৈকান্তিক হেতুর যে ধর্ম বা স্বভাব, তাহার নাম অনৈকান্তিকতা। সেই অনৈকান্তিকতা যদি সন্দিগ্ধ হয়, তাহা হইলে তাহাকে সন্দিগ্ধানৈকান্তিকতা বলা যায়। অনেকান্ত বা ব্যভিচার শব্দের অর্থ কি-এক্ষণে তাহাই বুঝা যাউক। সাধ্য যেখানে থাকে না সেই খানে যদি হেতু থাকে, অর্থাৎ সেই খানে যে “হেতু” অবস্থান, তাহাকেই ন্যায়শাস্ত্রে ব্যভিচার বা অনৈকান্ত বলা যায় ; যেমন,যদি কেহ বহি হেতু দ্বারা ধুমরূপ সাধ্যের অনুমিতি করিতে চাহে, তাহা হইলে বহ্নিতে ব্যভিচার- দোষ হয়। যেহেতু সাধ্য যে ধুম, সেই ধুমের অভাব যে অমােগােলকে থাকে, সেই অয়ােগােলকে হেতু যে বছি, তাহা বিদ্যমান থাকে। এজন্য ঐ বহ্নিটী ধুমরূপ সাধ্যের ব্যভিচারমুক্ত হয়। যেখানে সাধ্যের অভাব নিশ্চিত ভাবে বিদ্যমান আছে, সেখানে হেতু থাকিলে ঐ হেতু নিশ্চিত অনৈকান্তিকতা বলা যাইতে পারে। কিন্তু, সাধ্যের যেখানে অভাব সন্দিগ্ধ,অর্থাৎ সাধ্যের অভাব আছে কি না—নিশ্চয় নাই, থাকিতেও পারে অথবা নাও পারে এইরূপ সন্দেহ হইয়া থাকে, সেই স্থলে যদি হেতু বিদ্যমান থাকে, তাহা হইলে এইরূপ হেতুকে সন্দিগ্ধানৈকান্তিক অথবা সন্দিগ্ধ-ব্যভিচারী বলা যায়। প্রকৃতস্থলে সাধ্য হইতেছে মিথ্যাত্ব, এবং হেতু হইতেছে দৃশ্যত্ব, পক্ষ হইল ঘট; সেই ঘট ব্যতিরিক্ত পটাদি বস্তুতে মিথ্যাত্ব আছে কি না—এই প্রকার সংশয় রহিয়াছে বলিয়া সেই পটাদিতে যদি হেতুর অর্থাৎ দৃশ্যত্বের অবস্থিতি বুঝিতে পারা যায়, তাহা হইলে দৃশ্যত্বরূপ যে হেতু, তাহা সন্ধিগ্ধানৈকান্তিক অর্থাৎ সখি-ব্যভিচারী হইয়া উঠিল। নৈয়ায়িকগণ বলিয়া অদ্বৈতসিজি। থাকেন, পক্ষে যদি সাধ্য সন্দেহ হয়, তাহা হইলে তাহা অনুমিতির প্রতি অনুকুল হইলেও পক্ষ ব্যতিরিক্ত স্থলে সাধ্যসন্দেহ হইলে এবং ঐরূপ স্থলে হেতুর সম্ভাব দেখিতে পাইলে, যে ব্যভিচার-সন্দেহ হইয়া থাকে, তাহা অনুমিতির প্রতিকূল, অর্থাৎ তাদৃশ ব্যভিচারসংশয়কালে অনুমিতি হইতে পারে না। প্রকৃতস্থলেও গ্রন্থকার এই প্রকার ব্যভিচার-সংশয়ের সম্ভাবনা দেখাইয়া অনুমিতি হওয়া অসম্ভব—এই প্রকার শঙ্কার অবতারণা করিয়াছেন। এই শঙ্কাকে নিরাকরণ করিবার জন্য তিনি যে যুক্তির অবতারণা করিয়াছেন তাহা এই ;- তিনি বলেন যে, ঘট-পট প্রভৃতি এক একটী বস্তুকে পক্ষ বলিয়া নির্দেশ করিলেও ঐ ঘট-পট প্রভৃতি হইতে ভিন্ন অন্য ভিন্ন অন্য যতপ্রকার ব্যাবহারিক বস্তু আছে, তাহারা পক্ষসম হইয়া থাকে ; পক্ষে সাধ্যসন্দেহ যে প্রকার অনুমিতির অনুকূল, পক্ষসম বস্তু সমূহে সাধ্যসন্দেহও সেইরূপ অনুমিতির অনুকূল হইবে না কেন? বিচার-ক্ষেত্রে লাঘবের অনুরােধে আমি পৃথক পৃথক ঐ সকল বস্তুর পক্ষরূপে নাম উল্লেখ করি নাই বলিয়া, ইহারা বাস্তবিক পক্ষে পক্ষ হইতে যে একেবারে বহিষ্কৃত হইবে, ইহা সম্ভব হইতে পারে না। আমি ঘটকে পক্ষ বলিয়া উল্লেখ করিয়াছি—পটকে করি নাই। কিন্তু, ইচ্ছা করিলে আমি পটকেও পক্ষ বলিয়া উল্লেখ করিতে পারিতাম, সে বিষয়ে বাধক কেহই নাই। এইরূপ স্থলে ঘটকে পক্ষ বলিয়া উল্লেখ করিয়াছি বলিয়া সেই অংশে সাধ্যের সন্দেহ যদি অনুমিতির অনুকূল হয়, তবে পটে সাধ্যসন্দেহ অনুমিতির অনুকুল হইবে না কেন? বাস্তবিক পটে কিংবা ঘটে কোন পার্থক্য নাই; কারণ, উভয়েরই ব্যাবহারিক সত্তা বিদ্যমান রহিয়াছে। সুতরাং, পটাদ্যংশে সন্দিগ্ধা- নৈকান্তিকস্বরূপ দোষ প্রদর্শন করিয়া যদি কেহ ঘটাংশের মিথ্যাত্ব-সাধক অনুমিতিকে বাধা দিতে চাহেন, তাহা হইলে সেই বাধা প্রামাণিক ব্যক্তির নিকট কখনই যুক্তিসিদ্ধ হইতে পারে না। এস্থলে গ্রন্থকার প্রাচীন মতানুসারে “সাধ্যাভাবের নিশ্চয় যেখানে থাকে সেই স্থলে হেতুর সন্দেহ যদি হয়, তাহা হইলে সন্দিগ্ধানৈকান্তিকত্ব দোষ হইবে” এইরূপ মতের উল্লেখ করিয়াছেন। কিন্তু, দীধিতিকার প্রভৃতি নবীন তার্কিকগণ বলেন-“সাধ্যা- ভাবের নিশ্চয় না থাকিলেও যদি সাধ্যের সন্দেহ মাত্র থাকে এবং হেতুর নিশ্চয়তা থাকে, অথচ যদি ব্যাগ্ৰিাহক দুবৃর্ক না থাকে, তাহা হইলে সেই হে প্রথম পরিচ্ছে। চলে। সন্দিগ্ধানৈকান্তিকত্ব রূপ দোষদুষ্ট হইতে পারে। অতএব, অতিরিক্ত-শক্তি-পদার্থ- বােধক যে অনুমান, যথা-বহ্নিঃ দাহানুকুলাহদ্বিষ্ঠাতীন্দ্রিয়-ধৰ্ম্ম-সমবায়ী, দাহজনকত্বাৎ ইত্যাদি, তাহা, ব্যাপ্তিগ্রাহক অনুকূল-তর্ক নাই বলিয়া অপ্রয়ােজক ইত্যাদি।” এই জন্য চিন্তামণির সাধারণ-গ্রন্থের দীধিতি দ্রষ্টব্য। আর তাহা হইলে প্রকৃতস্থলে আকাশকে পক্ষ করিয়া মিথ্যাত্ব-সাধন করিতে প্রবৃত্ত হইলে পক্ষ ভিন্ন ঘটাদিতে সাধ্যের সন্দেহ থাকে,অথচ দৃশ্যত্ব-হেতুরও নিশ্চয়তা ঘটাদিতে থাকে,আর তাহার ফলে সন্দিগ্ধানৈকান্তিকত্ব-দোষ কেন হইবে না—এইরূপ শঙ্কা হইতে পারে। কিন্তু, তাহার উত্তর এই যে, ব্যাপ্তিগ্রাহক অনুকূলতর্ক যদি না থাকে, তাহা হইলেই এইরূপ সন্দিগ্ধানৈকান্তিকত্ব হইতে পারে—নচেৎ নহে। প্রকৃতস্থলেও অগ্রে ইহার ব্যাপ্তিগ্রাহক অনুকূল তর্কের প্রদর্শন করা হইবে, অতএব ইহা দোষ বলিয়া গণ্য হইতে পারে না। যদি বল, এরূপ স্থলে পটাদি বস্তুকে পক্ষসম বলা হয় কেন, পক্ষ বলিলেই ত তাহার উত্তর এই যে, বিচারক্ষেত্রে প্রতিজ্ঞা-বাক্যের মধ্যে ধৰ্মীরূপে নির্দিষ্ট হয় নাই বলিয়াই পটাদি বস্তুকে পক্ষসম বলিয়া কীৰ্ত্তন করা হইয়াছে। বিচারারম্ভের পূর্বে প্রতিজ্ঞা-বাক্যে যাহা ধৰ্ম্মীরূপে প্রবিষ্ট হয় তাহাই পক্ষ, শাস্ত্রকার- গণ এই প্রকার পরিভাষা করিয়া থাকেন। ইহাই হইল পটাদির পক্ষসমতার প্রতি হেতু। বাস্তবপক্ষে প্রতিজ্ঞার বিষয় হইলেই যে “পক্ষ” হইবে, তাহা সর্বত্র বলা যায় না। কারণ, যখন কোন ব্যক্তি স্বার্থানুমানে প্রবৃত্ত হয়, তখন সে প্রতিজ্ঞা বাক্যের মধ্যে ধৰ্মীরূপে পক্ষ নির্দেশ করে না। যেহেতু, তাহার আদৌ কোন প্রকার প্রতিজ্ঞা-বাক্যের প্রয়ােগেরই আবশ্যকতা থাকে না, তাহার ব্যাপ্তিস্মরণ ও পরামর্শ দ্বারা কাৰ্য্য সিদ্ধ করিয়া থাকেন। সুতরাং, ইহা সিদ্ধ হইল যে, যেখানে সাধ্যের সন্দেহ হইতে পারে, প্রতিজ্ঞাবাক্যে তাহার উল্লেখ থাকুক বা নাই থাকুক, বাস্তবপক্ষে তাহাই পক্ষ হইয়া থাকে। সুতরাং, এস্থলে পটাদি পক্ষরূপে উল্লিখিত না হইলেও পক্ষের সহিত সমান-ধৰ্ম্মাক্রান্ত বলিয়া, উহাতে যদি সাধ্যের সন্দেহ থাকে, তাহা হইলে, ঐরূপ সাধ্যসন্দেহ প্রকৃত মিথ্যানুমিতির অনুকূলই হইয়া থাকে। এই প্রকার সন্দেহ নিবন্ধন সন্দিগ্ধানৈকান্তিক তা রূপ যে দোষ, তাহা হইতেই পারে না।

অবৈতসিন্ধি। প্রাচীনমতে বিএতিপত্তির আকার। এবং বিএতিপত্তে প্রাচাং প্রয়ােগাঃ ৩১ “বিমতং-মিথ্যা, দৃশ্যত্বাৎ জড়ত্বাৎ পরিচ্ছিন্নত্বাৎ, শুক্তিরূপবৎ ইতি।৩২ নাত্র অবয়বে আগ্রহ।৩৩ অনুবাদ- (এই প্রকারে বিপ্ৰতিপত্তি প্রদর্শনের পর) প্রাচীন বেদান্তবাদী, এই প্রকার ন্যায় প্রয়োগ করিয়া থাকেন, ৩১-“সন্ধিগ্ধ-বস্তু মিথ্যা।” (ইহা হইল তাহাদের প্রতিজ্ঞাবাক্য।) “যেহেতু ইহা দৃশ্য”—অথবা “যেহেতু ইহা জড়” অথবা “যেহেতু ইহা পরিচ্ছিন্ন”– এই তিনটী হইল তাহাদের মতে উক্ত প্রতিজ্ঞাবাক্যের হেতু বাক্য।) “যেমন শুক্তিরূপ্য* ( ইহা হইল দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ।) ৩২ এই স্থলে অবয়ব বিষয়ে আগ্রহ নাই। তাৎপৰ্য-নবমতে বিপ্রতিপত্তির আকার প্রদর্শন করিবার পর প্রাচীন গণ কি ভাবে বিপ্রতিপত্তি-বাক্যের আকার প্রদর্শন করেন, এক্ষণে মূলে তাহাই প্রদর্শিত হইতেছে। নব্যমতে যেরূপ, বিপ্রতিপত্তি-বাক্য প্রয়ােগ করিবার সময়, যে ধৰ্ম্ম-পুরস্কারে পক্ষটী অনুমানের বিষয় হয়, সেই ধৰ্ম্ম-বিশেষের উল্লেখ স্পষ্ট ভাবে বিপ্রতিপত্তি বাক্যের মধ্যে থাকে, প্রাচীন মতে সেরূপ নহে। প্রাচীনগণ বিপ্ৰতি- পত্তি-বাক্যের মধ্যে বিশেষরূপে পক্ষনির্দেশের আবশ্যকতা বােধ করেন না। তাহারা সর্বত্রই পক্ষকে বিমত” এই শব্দ দ্বারা নির্দেশ করিয়া থাকেন। “বিমত” শব্দের অর্থ বিখ্রতিপত্তির বিষয় অর্থাৎ সন্দিগ্ধ । এ সন্দেহ অবশ্য সাধ্যেরই সন্দেহ। তাহাদের বক্তব্য এই যে, পৃথক পৃথক ভাবে পক্ষের নির্দেশ না করিয়া সর্বত্র ইহা বলিলেই চলে যে, এই যে সন্দিগ্ধবস্তু অর্থাৎ যাহার উপর সাধ্যের সন্দেহ হইতে পারে বা হইয়াছে, সেই বস্তুটী তাদৃশ সাধ্যযুক্ত। এইরূপ প্রতিজ্ঞা করিলেই পরার্থানুমানস্থলে বিচারের আরম্ভ হইতে পারে। সুতরাং, মধ্যস্থ ব্যক্তি প্রত্যেক স্থলে বিভিন্ন ভাবে পক্ষনির্দেশ রূপ গৌরব স্বীকার করিবেন কেন? ইত্যাদি। এইরূপ প্রতিজ্ঞাবাক্যের পর যে হেতুবাক্য তিনটী প্রদর্শিত হইল তাহাতে যে উল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়, অর্থাৎ দৃশ্যত্ব, জড়ত্ব ও পরিচ্ছিন্নত্ব, সেই তিনটী হেতুর স্বরূপ কি, তাহা গ্রন্থকার অর্থেই বিশদভাবে প্রকাশ করিবেন সুতরাং, এস্থলে তাহাদের আলােচনা করা গেল না। তবে এস্থলে দ্রষ্টব্য এই যে, এই তিনটী হেতু মিলিত ভাবে হেতু নহে, পরন্তু, পৃথক ভাবে হেতু। অর্থাৎ ইহাদের মধ্যে তিনটী হেতুর প্রথম পরিচ্ছে। প্রত্যেকটীর দ্বারাই প্রপঞ্চের মিথ্যাত্বরূপ সাধ্যসিদ্ধ হইতে পারে। ইহার পরই গ্রন্থকার “যেমন শুক্তিরূপ্য” এই বাক্য দ্বারা উক্ত অনুমিতিতে উদাহরণ-প্রদর্শন করিয়াছেন। বলা বাহুল্য, এই উদাহরণ-বাক্যটা ঠিক নব্যনৈয়ায়িকগণ-সম্মত নহে। কারণ, তাহারা উদাহরণ-বাক্যের মধ্যে ‘হেতু’ এবং সাধ্যের সম্বন্ধ যে ব্যাপ্তি, তাহার প্রদর্শক বাক্য সন্নিবেশিত করিয়া থাকেন। যেমন, তাহাদের মতে “বছিন্ ধুমাৎ” অনুমিতিস্থলে উদাহরণটী হয় “যাে য ধূমবান্ স বহ্নিমান যথ মহানসম্” ইত্যাদি। ইহার পরই গ্রন্থকার দেখাইতেছেন যে, এই যে প্রতিজ্ঞা, হেতু ও উদাহরণরূপ তিনটী বাক্য প্রদর্শিত হইল, পরার্থানুমানস্থলে এইরূপ বাক্যত্রয়-যুক্ত ন্যায়” প্রয়ােগ করিলেই প্রকৃত উদ্দেশ্য সিদ্ধি হইতে পারে। ইহা অপেক্ষা অধিক অবয়ব- সম্পন্ন ন্যায়-প্রয়ােগের আবশ্যকতা নাই। ইহাই দেখাইবার জন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন যে, অবয়ব বিষয়ে আগ্রহ নাই। কিন্তু, এই কথাটা বুঝিতে হইলে ন্যায়” ও “অবয়ব” এই দুইটী কথার অর্থ বুঝিতে হইবে। প্রথম দেখা যাউক, “ন্যায়” শব্দের অর্থ কি? ইহার অর্থ—“যাদৃশ বাক্য সমষ্টির দ্বারা প্রকৃত পক্ষে সাধ্যের ব্যাপ্য “হেতুটী” বিদ্যমান আছে” এই প্রকার পরামর্শাত্মক জ্ঞান হইয়া সাধ্যের অনুমিতি হয়, তাদৃশ বাক্যকেই “ন্যায়” বলা যায়। যেমন, পৰ্বতে বহ্নি আছে—এইটী অনুমিতি করিতে হইলে প্রথমে বলা হয়-পৰ্বতটী বহ্নিমা, তৎপরে তাহার হেতু প্রদর্শন করা হয়, তৎপরে তাহার একটা উদাহরণ দিতে হয় এবং তৎপরে সেই উদাহরণ বাক্যের সাহায্যে এক্ষেত্রেও যে তােপ ঘটিয়াছে, তাহা দেখাইতে হয় এবং পরিশেষে বলিতে হয় যে, ‘সুতরাং পৰ্বতটী বহ্নিমান্। এই কথাগুলি যদি নব্য-নৈয়ায়িকের ভাষায় বলিতে হয়, তাহা হইলে বলিতে হইবে যে, পৰ্বতটী বহ্নিমান্ প্রতিজ্ঞ বাক্য যেহেতু ধুম আছে যেখানে যেখানে ধূম থাকে সেই স্থানেই বহ্নি থাকে যেমন রন্ধনগৃহ উদাহরণ ইহাও তদ্রুপ উপনয় সুতরাং, পৰ্বতটী বহ্নিমান নিগমন বাক্য। হেতু বাক্য ০ ০ ১০ অবৈতসিদ্ধি। এই পাচটী বাক্য সম্মিলিত হইয়া পরামর্শের উৎপাদন করে। পরামর্শ শব্দের অর্থ সাধ্যের ব্যাপ্য হেতুটী পক্ষে বিদ্যমান আছে—এইরূপ জ্ঞান। এখন এই পাচটীকেই উক্ত ন্যায়ের অবয়ব বলা হয়। অবশ্য, এ বিষয়ে সকল দার্শ- নিক একমত নহেন। বৌদ্ধ দার্শনিকগণ ‘পৰ্বতটী বহ্নিমান্ এইরূপ যাবৎ অনুমিতি করিবার কালে কেবল হেতু এবং উদাহরণ এই দুইটী মাত্র অবয়বের উল্লেখ করেন। মীমাংসক কিন্তু সেই স্থলে প্রতিজ্ঞা, হেতু, উদাহরণ অথবা উদাহরণ, উপনয় এবং নিগমন এইরূপ তিনটী ন্যায়বিয়ব প্রয়ােগ করিয়া থাকেন। বাৎস্যায়ন ভাষ্যে আবার দেখা যায়,উক্ত পাচটী অবয়ব ব্যতীত কোন মতে আরও পাচটী অবয়ব আছে। সেই পাচটী এই যথা—জিজ্ঞাসা, সংশয়, শক্য প্রাপ্তি, প্রয়ােজন এবং সংশয়-দাস। “বহ্নিমান ধুমাৎ” স্থলে জিজ্ঞাসাটী হইবে—পৰ্বতে বহ্নি আছে কি না এইরূপ জানিবার ইচ্ছা। ইহার যাহা কারণ তাহাই সংশয়। শক্য প্রাপ্তি অর্থ –প্রমাতার তত্ত্বজ্ঞান সাধন করিতে সমর্থ-প্রমাণের প্রাপ্তি। প্রয়ােজন অর্থ-তত্ত্বজ্ঞানলাভ। সংশয়বদাস অর্থ-সংশয়-নিবৃত্তি। যাহা হউক, এ বিষয়ে দার্শনিকগণের এরূপ মতভেদ থাকিলেও গ্রন্থকার এস্থলে বলিতেছেন যে, এই অবয়ব-প্ৰয়ােগ-বিষয়ে তাহার কোন মত-বিশেষের প্রতি পক্ষপাত নাই। যে কয়টী অবয়বের প্রয়ােগ করিলে পক্ষে হেতু আছে ও উহা সাধ্যের ব্যাপ্য বলিয়া বুঝিতে পারা যায়, তাহাই উদ্দেশ্যসিদ্ধির প্রতি যথেষ্ট। সুতরাং, দুইটী অবয়ব দ্বারা কিংবা তদধিক অবয়ব দ্বারা ন্যায় প্রয়ােগ করিতে হইবে—এরূপ কোন মতবিশেষের প্রতি বৈদান্তিকের বৈদান্তিকের আগ্রহ করিবার আবশ্যকতা নাই। এই ন্যায়-সাহায্যে বিচার-ক্ষেত্রে যখন বাদী-প্রতিবাদী নিজ-নিজ পক্ষ স্থাপন করিতে উদ্যত হন, তখন মধ্যস্থের প্রথম কর্তব্যবিপ্রতিপত্তিবাক্যের প্রয়ােগ করা। প্রকৃত বিচারে সেই বিপ্রতিপত্তিবাক্য যেরূপ, তাহা পূর্বে কথিত হইয়াছে, অর্থাৎ তাহা—ব্ৰহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রমার অবাধ্য সন্ বলিয়া প্রতীতির যােগ্য যে চিভিন্ন বস্তু, তাহা মিথ্যা কি না ? ইত্যাদি। যাহা হউক, মধ্যস্থ, এই ভাবে বিপ্রতিপত্তি-বাক্য নির্দেশ করিলে বাদী ও প্রতিবাদী যেরূপে নিজ নিজ পক্ষ গ্রহণ পুৰ্ব্বক যেরূপ ন্যায় প্রয়ােগ করিবেন, তাহা নব্যমতে এই প্রকার যথা- প্রথম পরিচ্ছেদ। ০ + ০ হেতু বাক্য ০ ০ ০ উপনয় বাক্য } ব্ৰহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রমার অবাধ্য ও সৎ বলিয়া প্রতীতির যোগ্য যে চিদ্ভিন্ন তাহ-মিথ্যা প্রতিজ্ঞা বাক্য যে হেতু উহা দৃশ্য বা জড় বা পরিচ্ছিন্ন যাহা এইরূপ দৃশ্য বা জড় বা পরিচ্ছিন্ন উদাহরণ বাক্য তাহাই মিথ্যা যেমন—শুক্তিরূপ্য ব্ৰহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রমার অবাধ্য ও সৎ বলিয়া প্রতীতির যােগ্য যে বিভিন্ন বস্তু, তাহাও এইরূপ সুতরাং ব্রহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রমার অবাধ্য ও সৎ বলিয়া নিগমন বাক্য প্রতীতির যােগ্য চিভিন্ন যে বস্তু, তাহা মিথ্যা ঐরূপ বিপ্রতিপত্তি-বাক্য প্রয়ােগের পর প্রাচীনমতে যেরূপ ন্যায় প্রয়ােগ করিতে হইবে, তাহা এই- বিমত বস্তু মিথ্যা প্রতিজ্ঞা বাক্য যে হেতু উহা দৃশ্য, বা জড় বা পরিচ্ছিন্ন যাহা এইরূপ দৃশ্য বা জড় বা পরিচ্ছিন্ন। উদাহরণ বাক্য তাহাই মিথ্যা যেমন শুক্তিরূপ বিমতটিও এইরূপ সুতরাং বিমত বস্তু মিথ্যা নিগমন বাক্য অর্থাৎ প্রাচীনগণ যেথানে বিমত শব্দ প্রয়োগ করিবেন, নবীনগণ সেইরূপস্থলে বিপ্রতিপত্তিবাক্যে যেমন শব্দের দ্বারা পক্ষের করা নির্দেশ হইয়াছে, ঠিক সেইরূপ শব্দ দ্বারা ন্যায়াবয়ব মধ্যেও পক্ষের নির্দেশ করিবেন। ইহাই হইল প্রাচীন ও নব্য ন্যায়মতের ন্যায়প্রয়ােগসম্বন্ধে পার্থক্য। ন্যায়াবয়ব ও বিপ্রতিপত্তিবাক্যের মধ্যে এইরূপই সম্বন্ধ বুঝিতে হইবে। ০ ০ ০ হেতু বাক্য উপনয় বাক্য કર অদ্বৈতলিদ্ধি। প্রাচীনমতে বিপ্ৰতিপত্তিবাক্যের সমর্থম। অত্র স্বনিয়ামকনিয়তয়া বিপ্ৰতিপত্তা লঘুভূতয়া পক্ষতাবচ্ছেদো ন বিরুদ্ধ। ৩৪ সময়বন্ধাদিন। ব্যবধানাং তস্য অনুমানকালাসত্ত্বেহপি উপলক্ষণতয়া পক্ষতাবচ্ছেদকম্।৩৫ যদ বা বিপ্ৰতিপত্তি-বিষয়ব- চ্ছেদকমেব পক্ষতাবচ্ছেদকম্ ।৩৬ প্রাচাং প্রয়ােগেম্বপি বিমতমিতি পদং বিপ্ৰতিপত্তিবিষয়বচ্ছেদকাবচ্ছিন্নভি প্রয়েণ ইতি অদোষঃ ৩৭ অনুবাদ—এই প্রাচীন মতে যাহা বিপ্রতিপত্তির নিয়ামক তাহার দ্বারা বিশেষিত যে বিপ্রতিপত্তি, সেই বিপ্ৰতিপত্তি দ্বারা পক্ষকে বিশেষিত করা হয় বলিয়া কোন প্রকার দোষ হইতে পারে না। কারণ, পক্ষাংশে বিশেষণীভূত যে এই বিপ্রতিপত্তি, অর্থাৎ কোন একটী বিপ্রতিপত্তি ব্যক্তি, তাহা লঘু হয়। ৩৪ (অর্থাৎ ব্ৰহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রমার অবাধ্যত্বাদিরূপ যে পক্ষবিশেষণ, অর্থাৎ পক্ষতাবচ্ছেদক, যাহা নব্যমতে প্রদর্শিত হইয়াছে, তাহা অপেক্ষা বিপ্রতিপত্তি তদ্ব্যক্তিত্বরূপে লঘু—ইহাই তাৎপৰ্য্য)। বিপ্রতিপত্তি সময়বন্ধাদির দ্বারা ব্যবহিত হয় বলিয়া তাহা অনুমান কালে থাকে না, কিন্তু তাহা হইলেও তাহা উপলক্ষণরূপে পক্ষতাবচ্ছেদক হইতে পারে।৩৫, অথবা বিপ্রতিপত্তিবাক্যজন্য যে সংশয়, তাহার বিষয়ভাবচ্ছেদক যে ধৰ্ম্ম,তাহাকেই পক্ষতাবচ্ছেদক বলা যাইতে পারে। ৩৬ প্রাচীনগণের প্রয়ােগেও বিমত শব্দের অর্থ এতাদৃশ বিপ্রতিপত্তিবাক্যের যে বিষয়তাবচ্ছেদক ধৰ্ম্ম, তদ্বিশিষ্ট বস্তুকেই বােধ করাইয়া থাকে। অতএব তাহাতে কোন দোষ হয় না। ৩৭ তাৎপৰ্য-এক্ষণে প্রাচীনগণ যেভাবে বিপ্রতিপত্তিবাক্য প্রয়ােগ করিয়া থাকেন, তাহারই সমর্থন করিবার জন্য যুক্তি প্রদর্শিত হইতেছে। তাহারা বিমত এই শব্দদ্বারা পক্ষ নির্দেশ করিয়া থাকেন। বিমত শব্দের অর্থ বিপ্রতিপত্তি- বাক্যজন্য সংশয়ের বিষয়। অর্থাৎ, মধ্যস্থ, বিপ্রতিপত্তিবাক্যের প্রয়োগ করিলে সভাস্থিত ব্যক্তিগণের মনে যেপ্রকার সংশয় উদিত হইয়া থাকে, সেই সংশয়ে যে ধর্মপুরস্কারে পক্ষের জ্ঞান হইয়া থাকে, সেই ধর্মবিশিষ্ট যে বস্তু, অর্থাৎ প্রকৃত পক্ষাবচ্ছেদকধৰ্ম্মযুক্ত যে পক্ষ, তাহাই হইল বিমত শব্দটীর তাৎপৰ্যার্থ। এক্ষণে জিজ্ঞাস্য এই যে, এই ভাবে পক্ষের নির্দেশ করিলে ইহাতে গৌরব দোষই ত হইবে? অতএব তদপেক্ষা নধ্যমতে উঞ্জ সংশয়ের বিষয়তাবচ্ছেদক প্রথম পরিচ্ছেদ। যে ধৰ্ম্ম, অর্থাৎ ব্রহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রমার অবাধ্যত্ব রূপ যে ধৰ্মটী, তাহা দ্বারাই পক্ষের নির্দেশ করায় লাঘবই হইবে। সুতরাং, এই প্রকার গৌরবদোষদুষ্ট প্রাচীনমতের আশ্রয়ের আর আবশ্যকতা কি ? ইহার উত্তরে প্রাচীনগণ বলিয়া থাকেন যে, বাস্তবিক পক্ষে এ প্রকার গৌরব হয় না। কারণ, আমরা বিশেষ বিশেষ অনুমিতিস্থলে বিশেষ বিশেষ বিপ্রতিপত্তিব্যক্তিকেই পক্ষের বিশেষণরূপে গ্রহণ করি। সুতরাং, একটা মাত্র ব্যক্তিকে পক্ষে পক্ষতাবচ্ছেদকরূপ গ্রহণ করা যায় বলিয়া উক্ত গৌরবের প্রসক্তি থাকে না। বিপ্রতিপত্তির নিয়ামক কি ? দেখা যাউক, ইহার কে নিয়ামক হয় ? প্রকৃত যে অনুমান হইবে, তাহার যে ধৰ্ম্মকে পক্ষতাবচ্ছেদকরূপে গ্রহণ করা যাইতে পারে, সেই ধর্মের সহিত পক্ষের যে সম্বন্ধ আছে, তাহা যে সংশয়ের সাহায্যে বুঝিয়া থাকি, তাহাই প্রকৃতপক্ষে বিপ্রতিপত্তির নিয়ামক হইয়া থাকে। অর্থাৎ বিপ্ৰতিপত্তিবাক্যের দ্বারা আমরা যে বস্তুকে ধৰ্গী বা পক্ষ স্বরূপে নির্দেশ করিয়া থাকি, তাহাতে সংশয় বা পক্ষতা থাকে, অর্থাৎ সংশয় বা পক্ষতারূপ ধৰ্ম্মের উহাই ধৰ্মী বা পক্ষ হইয়া থাকে। ফলে দাড়াইল যে, যেখানে বিপ্রতিপত্তি-বাক্য আছে, সেইস্থানেই সংশয় থাকিতে পারে। এজন্য বিপ্রতিপত্তির নিয়ামক বলিলে সংশয়কেই গ্রহণ করা যায়। সেই নিয়ামকরূপ সংশয়ের দ্বারা যাহা নিয়ত, অর্থাৎ নিত্য বিশেষিত, তাহাই অর্থাৎ সেই বিপ্রতিপত্তিটীই এস্থলে পক্ষের বিশেষণরূপে প্রযুক্ত হইয়াছে। বাস্তবপক্ষে সেই বিপ্রতিপত্তি মধ্যে বিশেষণরূপে উক্ত সংশয় প্রবিষ্ট থাকিলেও পক্ষতাবচ্ছেদকরূপে যখন বিপ্ৰতিপত্তির উল্লেখ করা হয়, তখন ঐ বিপ্রতিপত্তিকে সংশয় দ্বারা বিশেষিতরূপে গ্রহণ না করিয়া কেবল তদ্ব্যক্তিত্বরূপে গ্রহণপূর্বক তাহার দ্বারাই পক্ষের নির্দেশ করিলে প্রকৃত বিচারে কোনপ্রকার দোষ হয় না। সুতরাং, এস্থলে নব্য প্রদর্শিত উক্ত গৌরবরূপ দোষ থাকিল না। যদি বলা হয়, সংশয়ই কেবল পক্ষতা নহে, কারণ, সংশয় ব্যতিরেকেও অনুমিতি হয়, ইহা পূৰ্বে দৃষ্টান্তসহকারে প্রদর্শিত হইয়াছে, সুতরাং, সংশয়টী বিপ্রতিপত্তির সর্বত্র নিয়ামক কি করিয়া হইবে ? তাহা হইলে তাহার উত্তরে বলিতে হইবে যে, এই সংশয় শব্দের অর্থ সংশয়যােগ্যতা। অর্থাৎ বিপ্রতিপত্তি প্রয়ােগ করিলে সংশয় উৎপন্ন হইতে পারে! সংশয়ের উৎপত্তির প্রতি বি প্রতিপত্তি, ৪৪ অবৈতসিদ্ধি। বাক্যের মােগ্যতা আছে। সুতরাং, সংশয়টী এই ভাবে বিপ্ৰতিপত্তির নিয়ামক হইতে পারে। অর্থাৎ, উক্ত গৌরব দোষটী এই প্রাচীনমতে নাই বলিতে হইবে। হইবে। এস্থলে আর একটী শঙ্কা হইতে পারে যে, বিপ্রতিপত্তি যদি পক্ষতাবচ্ছেদক- রূপে গৃহীত হয়, তাহা হইলে আর একটী দোষ হইতে পারে, দোষটী এই যে- যৎকালে অনুমিতি হয়, তৎকালে অনুমিতির ধীরূপে পক্ষও জ্ঞাত হইয়া থাকে—ইহা স্বীকার করিতে হইবে। এখন সেই পক্ষ যদি বিপ্রতিপত্তি অর্থাৎ সংশয় দ্বারা বিশেষিত হয়, তাহা হইলে সেই বিপ্ৰতিপত্তিকে অনুমিতির সময়ও বুঝিতে কিন্তু বিচারস্থলে বিপ্ৰতিপত্তিবাক্য প্রয়ােগ করিবার পর সময়- বন্ধাদি করিতে হয়—এইরূপ নিয়ম থাকায় অনুমিতির পূর্বকালে ঐ বিতিপত্তি রূপ সংশয় থাকিতে পারে না, উহা নষ্ট হইয়া যায়। সুতরাং বিপ্রতিপত্তিকে কিরূপে পক্ষাবচ্ছেদক বলা যায়। অনুমিতিকালে যে ধৰ্ম্মটী পক্ষবিশেষণ রূপে প্রতীয়মান হয়, তাহাই ত পক্ষতাবচ্ছেদক, প্রকৃতস্থলে যেহেতু তাহা হয় না, সেই হেতু বিপ্ৰতিপত্তিকে পক্ষতাবচ্ছেদক বলা যায় না। কিন্তু, এ কথাও ঠিক নহে। কারণ, বিপ্রতিপত্তিটী তৎকালে পক্ষের বিশেষণ রূপে ভাসমান হইলেও উপলক্ষণ রূপে ভাসমান হইতে পারে। উপলক্ষণের অর্থ পূর্বেই বলা হইয়াছে। সুতরাং, এইরূপে বিপ্রতিপত্তি পক্ষতাবচ্ছেদক হইবে না কেন ? অথবা বিপ্রতিপত্তিকে অর্থাৎ সংশয়কে পক্ষতাবচ্ছেদক না বলিয়া সেই সংশয়ের বিশেষ্যবচ্ছেদক যে ধৰ্ম, তাহাকেই পক্ষতাবচ্ছেদক রূপে নির্দেশ করিলেও চলে। যেমন “বহ্নিমান ধূমাং” স্থলে পক্ষ হয় পৰ্বত, বিপ্রতিপত্তির আকার হর ‘পৰ্বতে বহিমা ন ব” সুতরাং এখানে সংশয়ের বিশেষ্য হইল পৰ্বত, এবং তাহার বিশেষ্যবচ্ছেদক ধৰ্ম্ম হইল পৰ্বতত্ব, এবং প্রকৃতস্থলে অর্থাৎ “ব্ৰহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রমায়া অবাধ্যত্বে সতি সত্ত্বেন প্রতীত্যহঁচিদ্ভিন্নং মিথ্যা, দৃশ্যত্বাৎ” এই অনুমিতিস্থলে পক্ষ হইল চিভিন্ন পৰ্য্যন্ত বাক্যার্থ, সংশয় হইল ঐরূপ চিদ্ভিন্নটী মিথ্যা কি না, সুতরাং ঐ সংশয়ের বিশেষ্য হইল ঐরূপ চিদ্ভিন্ন, এবং সেই বিশ্যেতাবচ্ছেদক ধৰ্ম্ম হইল ঐরূপ চিন্নিত্ব। আর তাহা হইলে সংশয়কে পক্ষাবচ্ছেদক বলায়, যে দোষ হইয়াছিল, তাহা আর প্রথম পরিচ্ছেদ। - এস্থলে হইবে না। অর্থাৎ অনুমিতিকালে যেস্থলে সংশয় থাকে না, সেস্থলে সংশয় পক্ষতাবচ্ছেদক হয় না কিন্তু, প্রাচীনগণ তাহাকেই পক্ষতাবচ্ছেদক বলিয়া 'বিমত শব্দের দ্বারা নির্দেশ করিয়াছিলেন বলিয়া তাহাদের মতে যে দোষ হইয়াছিল, এই পক্ষে সে দোষ আর হইল না। কারণ, এই যে সংশয়ের বিশেয্যতাবচ্ছেদক ইহা সর্বত্রই পক্ষতাবচ্ছেদক হইয়া থাকে, ইহাতে কাহারও বিরােধ নাই। অনুমিতিকালে পক্ষের এতাদৃশ ধৰ্ম প্রতীয়মান হইয়াই থাকে। সুতরাং, প্রাচীনগণ বিমত শব্দ দ্বারা যাহা বুঝাইয়াছেন, তাহার দ্বারা সংশয়বিশিষ্ট পক্ষ এপ্রকার না বুঝিয়া সংশয়ের বিশেষ্যবচ্ছেদক ধৰ্ম্মবিশিষ্ট পক্ষ বলিয়া বুঝিতে হইবে। অতএব এই ভাবে ব্যাখ্যা করিলে প্রাচীনতেও কোন দোষ থাকে না। তপ্রদীপ গ্রন্থের প্রতিবাদস্বরূপ মাধ্বসম্প্রদায়ের যে ন্যায়ামৃত গ্রস্থখানি, সেই গ্রন্থের খণ্ডনাভিপ্রায়ে এই গ্রন্থখানি রচিত হইয়াছে, এইবার দেখা যাউক, তাহাতে এই বিপ্রতিপত্তি সম্বন্ধে কি উক্ত হইয়াছে ? ব্যায়ামৃতমতে বিচারস্থলে বিপ্ৰতি- পত্তিবাক্য প্রয়ােগ অনাবশ্যক, কারণ তাহার উপযােগিতা নাই। যেহেতু, ইহা সংশয়জনক এবং সেই সংশয় অনুমিতির জনক বলিয়াও ইহার উপযােগিতা দৃষ্ট হয় না। ইহার কারণ, সংশয় না থাকিলেও অনুমিতি হইতে দেখা যায়। দেখ, এই বিপ্রতিপত্তিবাক্য দ্বারা বাদী ও প্রতিবাদী কাহারও সংশর হইবার সম্ভাবনা যেহেতু, তাহাদের নিজ নিজ পক্ষ বিষয়ে নিশ্চয়জ্ঞান পূৰ্ব্ব হইতেই বিদ্যমান থাকে। যদি বল, বাদী ও প্রতিবাদীর সংশয় না জন্মিলেও সভাস্থ ব্যক্তির সংশয় জন্মিবে, সুতরাং বিপ্রতিপত্তিবাক্য প্রয়ােজন, তাহাও ঠিক নহে। কারণ, সভাস্থব্যক্তিগণের সংশয়, বাদী ও প্রতিবাদীর অনুমিতির কারণ হয় না। বাস্তবিক ইহারই উত্তরে মধুসুদন বলিয়াছেন যে, সংশয়ের স্বরূপযােগ্যতা আছে, অর্থাৎ সকল স্থলে সংশয় না জন্মিলেও অনেকস্থলে জন্মিতে পারে, আর তজ্জন্ত অনুমিতিতে প্রবৃত্তিও হইতে পারে। আর বাদী ও প্রতিবাদী যে সর্বদাই নিজ নিজ পক্ষবিষয়ে নিশ্চয়সহকারে বিচার করে, তাহাও ঠিক নহে, অনেকস্থলে মনে মনে নিশ্চয় না থাকিলেও আত্মপ্রতিষ্ঠা রক্ষার জন্য নিশ্চয়ের ভানমাত্র করা হয়। সুতরাং, বিচারে বিপ্রতিপত্তিবাক্যের আবশ্যকতা আছে। অর্থাৎ, মধ্যস্থ, বিচারক্ষেত্রে বিপ্রতিপত্তি প্রদর্শন করিলে কোন অনাবশ্যক অনুষ্ঠান করা হয় না। নাই।

৪৬ অবৈতসিদ্ধি। মিথ্যাত্ব লক্ষণের পূৰ্ব্বপক্ষ। ননু, কিমিদং মিথ্যাত্বং সাধ্যতে ।৩৮ ন তাবৎ “মিথ্যাশব্দঃ অনি- চনীয়তাবচনঃ” ইতি পঞ্চপাদিকাবচনাৎ সদসদনধিকরণস্বরূপ অনির্বাচ্যত্বম্।৩৯ তদ্ধি কিম অসত্ত্ববিশিষ্টসাভাবঃ, উত সত্ত্বাত্যন্তা- ভাবাসত্ত্বাত্যন্তাভাবরূপং ধৰ্ম্মদ্বয়ম্ ॥৪০ আহােস্থিৎ সাত্যন্তাভাব্বত্বে সতি অসত্ত্বাত্যন্তাভাবরূপং বিশিষ্ট ৪১ ন আঃ ; সত্ত্বমাত্ৰাধারে জগতি অসত্ত্ববিশিষ্টসত্ত্বানভুপগমাৎ বিশিষ্টাভাবসাধনে সিদ্ধসাধনাৎ (৪২ ন দ্বিতীয়ঃ ; সন্ত্রাসব্ধয়ােঃ একাভাবে অপরসাবশ্যকনে ব্যাঘাৎ, নিৰ্দ্ধকব্রহ্মবৎসল্কাসরাহিত্যেহপি সপনে অমিথ্যাথােপপ্যা অর্থান্তরাচ্চ, শুক্তিরূপে অবাধ্যত্বরূপসত্নব্যতিরেকস্য সনে বাধ্যত্বরূপ- সত্ত্বস্ত ব্যতিরেকাসিদ্ধ্যা সাধ্যবৈকল্যাচ্চ।৪৩ অতএবন তৃতীয়ঃ; পূর্বব- ব্যাঘাৎ, অর্থান্তরাৎ সাধ্যবৈকল্যাচ্চ ইতি চেৎ ?৪৪ বলা বাহুল্য, তরঙ্গিণীকার ইহার প্রতিবাদ করিয়াছেন এবং লঘুচন্দ্রিকায় তাহার আবার প্রতিবাদ করা হইয়াছে। এই সকল বাদপ্রতিবাদ বাহুল্যভয়ে উল্লেখ করা হইল না। ফলতঃ, মধুসূদন এস্থলে নৈয়ায়িকের মতেরই সমর্থন করিয়াছেন এবং তাহা অমুক্তিযুক্ত বলিয়া বােধ যয় না। যাহা হউক, এ বিষয়টা যে অদ্বৈততত্ত্ব- বিচারে কোন অভীষ্টসাধন করে না, তাহা বলাই বাহুল্য। ব্যায়ামৃতের সকল কথার প্রতিবাদ করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন বলিয়া মধুসূদনও এই বিষয়ে নিজ মতামত প্রকাশ করিয়াছেন মাত্র। ইহাই হইল বিপ্রতিপত্তিবাক্যের বিচারােপযােগিতা। এইবার দেখা যাউক, পূর্বোক্ত মিথ্যাত্ব অনুমানে প্রতিবাদী কি কি আপত্তি উত্থাপিত করিতে পারেন। অনুবাদ-আচ্ছা, এই যে মিথ্যাত্ব সাধন করা হইতেছে, ইহা কি ? ৩৮ “মিথ্যা শব্দটী অনির্বচনীয়তার বোধক,” এইরূপ পঞ্চপাদিকা-বচনানুসারে সৎ ও অসতের অনধিকরণরূপ যে অনির্বাচ্যত্ব,তাহাই মিথ্যাত্ব,ইহাও ঠিক নহে ৩৯ যেহেতু, তাহা কি (১) অসত্ত্ববিশিষ্ট সত্ত্বের অভাব, অথবা (২) সত্বের অত্যন্তাভাব এবং অস- ত্বের অত্যন্তাভাবরূপ দুইটী ধৰ্ম্ম ?৪০ কিংবা (৩) সত্ত্বের অত্যন্তাভাববিশিষ্ট অসত্বা- ত্যন্তাভাবরূপ একটা বিশিষ্ট ধৰ্ম্ম ? ৪১ প্রথম কল্পটা ঠিক নহে। কারণ, সত্ত্বমাত্রের প্রথম পরিচ্ছেদ। আধার যে জগৎ, তাহাতে অসত্ত্ববিশিষ্ট যে সত্ত্ব, তাহা স্বীকৃত হয় না বলিয়া বিশিষ্ট অভাবের সাধন করিলে সিদ্ধসাধন দোষ হয় ৪২ দ্বিতীয় কল্পটীও ঠিক নহে। কারণ, সত্ত্ব এবং অসত্বের মধ্যে একের অভাব থাকিলে অপরের সত্ত্ব থাকিবেই এই কারণে ব্যাপাত দোষ উপস্থিত হয়। এবং নির্ধৰ্ম্মক ব্রহ্মের ন্যায় সত্ত্ব এবং অসত্ব উভয় ধর্মের অভাব থাকিলেও জগৎ সন্ধ্রপ হইতে পারে বলিয়া তাহার অমিথ্যাত্ব উপপন্ন হইতে পারে, আর তজ্জন্ত অর্থান্তররূপ দোষও ঘটে, এবং শুক্তিরূপ্যস্থলে অবাধ্যত্বরূপ যে সত্ত্ব, তাহা থাকে না বলিয়া বাধ্যত্বরূপ অসত্ত্বের অভাব অসিদ্ধ হয়, এই কারণে সেস্থলে সাধ্য-বৈকল্যরূপ দোষ ঘটিয়া থাকে ।৪৩ তৃতীয়টীও এইজন্য সঙ্গত হইবে না। কারণ, পূৰ্ব্বকল্পের ন্যায় এই কল্পেও ব্যাঘাত, অর্থান্তর ও সাধ্য-বৈকল্যরূপ তিনটী দোষই হইয়া থাকে। এই কথা যদি বল, তবে তাহার উত্তর এই যে, পরবর্তী প্রসঙ্গ দ্রষ্টব্য) ৪৪ তাৎপৰ্য-ইতিপূর্বে বিপ্রতিপত্তিবাক্যের বিচারোপযােগিতা প্রতিপাদিত হইয়াছে, এক্ষণে এই বিপ্ৰতিপত্তিবাক্যের প্রয়ােগ দ্বারা যে বিষয়টীর বিচার পূর্বে সূচনা করা হইয়াছে, সেই বিষয়টাই আলােচ্য, অর্থাৎ এখন দেখা যাউক, পুর্বোক্ত মিথ্যাত্বের স্বরূপনির্ণয় মানসে যে অনুমানের উল্লেখ করা হইয়াছে, তাহার বিরুদ্ধে প্রতিবাদিগণ কি আপত্তি উত্থাপন করিতে পারেন ? কিন্তু, এইটী বুঝিবার পূৰ্ব্বে আমাদের সেই অনুমানটী একবার স্মরণ করা আবশ্যক। অনুমানটী এই, ব্ৰহ্মপ্রমাতিরিক্ত প্রমার অবাধ্য হইয়া সত্য বলিয়া প্রতীতির যােগ্য -মিথ্যা • • • • প্রতিজ্ঞ। যে চিদ্ভিন্ন তাহা যেহেতু তাহা দৃশ্য, জড় এবং পরিচ্ছিন্ন, যেমন শুক্তিরূপ্য উদাহরণ। বলা বাহুল্য, এই অনুমানটী আনন্দবােধকৃত অনুমান। আনন্দবােধ ন্যায়- মকর নামক গ্রন্থে এই অনুমানটা প্রদর্শন করিয়াছেন। এখন পূৰ্ব্বপক্ষী অর্থাৎ শ্যায়ামৃতকার এই অনুমানের বিরুদ্ধে যে আপত্তি উত্থাপন করিয়াছেন, তাহা এই.. পূৰ্বপক্ষী বলিতেছেন, যে মিথ্যা শব্দের অর্থ অনির্বচনীয় ইহা শাঙ্কর ভাষ্যের প্রথম টাকাকার শঙ্করের প্রধান শিখ পদ্মপদ বলিয়াছেন, দেখা যায়। সুতরাং এ }" • ০ ০ ৪৮ অদ্বৈতসিদ্ধি। সম্বন্ধে অদ্বৈতবাদী পরে কোন আপত্তি উত্থাপন করিতে পারিবেন না, এবং অদ্বৈত মতে তাহারও যে কোন অজ্ঞতা নাই, তাহাও তিনি প্রদর্শন করিলেন। বস্তুত, এই মতই মধুসূদন পরে স্থাপন করিবেন। পূৰ্বপক্ষীর আপত্তি এই যে, মিথ্যা শব্দের অর্থ যদি অনির্বচনীয় হয়, তাহা হইলে অনির্বচনীয় শব্দের অর্থ এই যে, যাহার নির্বচন করা যায় না, অর্থাৎ অনির্বাচ্য। এখন দেখা যায়, আমরা বস্তু মাত্রকেই হয় “সৎ” না হয় “অসৎ” বলিয়া নির্ধচন করিয়া থাকি। সুতরাং, অনিৰ্বাচ্য বলিলে যাহা সৎ এবং অসৎ এই উভয়ই নহে,তাহাই বুঝায়। এখন এই কথাটী যদি দার্শনিকের ভাষায় পরিষ্কার করিয়া বলা হয়, তাহা হইলে ইহাকে এই তিন প্রকারে বলা যাইতে পারে। যথা :- অনির্বচনীয়ত্ব অর্থে কি–প্রথম অসত্ববিশিষ্ট যে সত্ত্ব তাহার অভাব, কিংবা দ্বিতীর-সত্ত্বের অত্যন্তাভাব ও অসত্বের অত্যন্তাভাব রূপ দুইটী ধৰ্ম্ম, অথবা, তৃতীর—সত্ত্বাভাববিশিষ্ট অসত্ত্বাভাব। ইহাদের মধ্যে প্রথম কল্পটীর অর্থ এই যে, যদি সত্ত্ব এবং অসত্ত্ব উভয়ই একত্র থাকে, তবে তাহাই অসত্ত্ববিশিষ্টসত্ত্ব পদবাচ্য হয়, অর্থাৎ যাহা সৎ ও হইতে পারে, অথচ অসৎও হইতে পারে, তাহাতে বাস্তবিক সত্ত্ব ও অসত্ত্ব দুই থাকে, সুতরাং, অসত্ত্ববিশিষ্ট সত্ত্বরূপ ধৰ্ম্মটী তাহাতেই সম্ভবপর হয়। কিন্তু, বাস্তবিক এ প্রকার কোন বস্তু প্রসিদ্ধ না থাকা নিবন্ধন অসত্ত্ববিশিষ্ট সত্ত্বরূপ যে ধৰ্ম্ম, তাহা গগনকুসুমবৎ অলীকই হইয়া পড়িতেছে। এইরূপ অলীক ধৰ্ম্মের যে অভাব,তাহাই অনির্বচনীয়ত্ব হইতেছে ; কিন্তু এইরূপ অলীক বস্তুর অভাব বাস্তবিক পক্ষে অসম্ভব। নৈয়ায়িকগণ এরূপ অভাব অঙ্গীকার করেন না। মাধ্বসম্প্রদায় কিন্তু তাহা অঙ্গীকার করেন, আর অজ্জন্ত মাধ্বসম্প্রদায়ভুক্ত ন্যায়ামৃতকার নিজমতে এই বিকল্পট উত্থাপিত করিয়া অনির্বচনীয় পদের অর্থ নিৰ্বচনে প্রয়াস পাইয়াছেন। এখন পূৰ্বপক্ষী এই প্রথম বিকল্পটীর নিরাসমানসে বলিতেছেন যে, অনির্বচনীয় পদের অর্থ অসত্ত্ববিশিষ্ট সত্বের অভাব হইতে পারে না। কারণ, প্রথমতঃ দেখা যায়, মাধ্বমতেই ইহাতে সিদ্ধসাধন দোষ উপস্থিত হয়। সিদ্ধসাধন দোষ অর্থ—যাহা এস্থলে সিদ্ধ আছে, তাহারই সাধনে প্রয়াস। কারণ, অসত্ত্ববিশিষ্ট সত্ত্বের অভাব বলিলে অর্থ হইল অলীকত্বের অভাব, মাধ্বমতে এরূপ অলীকত্বের অভাব স্বীকৃত হয়, আর তাহা স্বীকৃত হইলেও বেদান্তীর অভিমত জগতের যে মিথ্যাত্ব, তাহা সিদ্ধ প্রথম পরিচ্ছে। ১১ হয় না। কারণ, জগৎপ্রপঞ্চ বস্তুসৎ হইলেও যে অলীকত্বের অভাব তাহাতে থাকিবে তাহাতে আর বাধা কি? অর্থাৎ, মিথ্যা শব্দের অর্থ অলীকত্বের অভাব হইলে, এবং সেইরূপ মিথ্যাত্ব জগতে থাকিলে অর্থাৎ জগৎ এইরূপ মিথ্যা হইলে, জগৎ যে বাস্তবিক সদ বস্তু হইতে পারে, তাহাতে কোন সন্দেহ থাকিতে পারে না। আর এই রূপ মিথ্যাত্ব যদি বেদান্তী সিদ্ধ করিতে চাহেন, তাহা হইলে যাহা সিদ্ধ, অর্থাৎ যাহা আমরাও স্বীকার করি, তাহাই তিনি সাধন করিতেছেন, অর্থাৎ এরূপ বিচারে বেদান্তী প্রবৃত্ত হইলে সিদ্ধসাধন দোষই হয়। সুতরাং, মিথ্যা শব্দের এরূপ অর্থ সঙ্গত হইতে পারে না। এই দোষটী পূৰ্বপক্ষী মাধ্বমত অবলম্বনে প্রদর্শন করিলেন। তাহার পর, যদি নৈয়ায়িকের মতাবলম্বনেও ইহাকে সমর্থন করিবার চেষ্টা বেদাতী করেন, তাহা হইলে তাহাও সিদ্ধ হইতে পারে না। কারণ, নৈয়ায়িকের মতে অলীকত্বের অভাব স্বীকৃত হয় না; তাহারা অলীকপ্রতিযােগিক অভাব অঙ্গীকার করেন না। আর তাহা না করিলে অসত্ত্ববিশিষ্ট সত্ত্বের অভাবই প্রসিদ্ধ হইতে পারিল না, অর্থাৎ অনির্বচনীয় শব্দের এরূপ অর্থই সম্ভবপর হইতে পারে না। ইহাকে ন্যায়ের ভাষায় সাধ্যা প্রসিদ্ধি দোষ বলে, অর্থাৎ যাহা অপ্রসিদ্ধ, সুতরাং ; যাহা জ্ঞানের অবিষয়, তাহারই সাধন করিবার প্রয়াস হইতেছে। বলা বাহুল্য, এরূপ প্রয়াস কখনই সফল হইতে পারে না। তাহার পর, যদি এই অর্থটীকে অদ্বৈতবেদান্তমতেও সমর্থন করিবার চেষ্টা করা হয়, তাহাও হইতে পারে না; কারণ,ইহা সিদ্ধ করিতে যাইলে তাহারা যাহা সিদ্ধ করিতে ইচ্ছা করেন, তাহা সিদ্ধ না হইয়া তাহাদের যাহা অনভিমত, তাহাই সিদ্ধহইয়া যায়। দেথ, তাহারা জগতের যে মিথ্যাত্ব সিদ্ধ করিতে চাহেন, সেই মিথ্যাত্ব তাহাদের মতে অলীক বস্তুর ধর্ম নহে, পরন্তু তাহা অলীক ও পরমার্থ সদস্তু হইতে ভিন্ন যৎ- কিঞ্চিৎ বস্তুর ধৰ্ম্ম। এখন অসত্ত্ববিশিষ্ট সত্ত্বের অভাবকে মিথ্যাত্ব বলিলে জগতের অলীকরূপতার অভাব সিদ্ধ হয়, তাহার অভীষ্ট মিথ্যাত্ব সিদ্ধ হয় না। অর্থাৎ, এই প্রকার অলীকত্বের অভাব তাহাদের মতে ব্রহ্মেও যেমন থাকে, জগতেও তদ্রুপ থাকিতে পারিবে। আর ইহা যদি সিদ্ধ হইয়া যায়, তাহা হইলে বেদান্তমতে ব্ৰহ্মবিলক্ষণত্বরূপ যে জগতের মিথ্যাত্ব, তাহা সিদ্ধ হইতেছে না, প্রত্যুত ব্ৰহ্মসাধ্যই জগতের সিদ্ধ হইয়া যাইতেছে। অর্থাৎ জগতেও যেমন অলীক ধর্মের অভাব অদ্বৈতসিদ্ধি। আছে, ব্রহ্মেও তদ্রুপ অলীকধর্মের অভাব থাকিল। সুতরাং, জগৎ মিথ্যা ইহা সিদ্ধ হইতেছে না, অর্থাৎ যাহা অভিপ্রেত তাহা সিদ্ধ না হইয়া অনভিপ্রেত একটা সিদ্ধ হইয়া যাইতেছে। ইহাকে ন্যায়ের ভাষায় অর্থান্তর দোষ বলা যায়। সুতরাং, দেখা যাইতেছে যে, মিথ্যা শব্দের প্রথম প্রকার অর্থ করিলে কোন রূপেই বেদান্তীর যাহা অভিমত, তাহা সিদ্ধ হয় না, অর্থাৎ বেদান্তীকে বাধ্য হইয়া পক্ষটা ত্যাগ করিতেই হইল। ফলতঃ, ইহাই হইল প্রথম কল্পের উপর দোষ। এইবার দেখ, দ্বিতীয় কল্পটীও সঙ্গত হইবে না। দ্বিতীয় কল্পটী এই যে, সত্বের অত্যন্তাভাব এবং অসত্বের অত্যন্তাভাবরূপ ধৰ্ম্ময়ই অনির্বচনীয়ত্ব অর্থাৎ মিথ্যাত্ব। ইহার অর্থ-যে বস্তু সৎও নহে, এবং যে বস্তু অসৎও নহে, তাহাই অনির্বচনীয়। এখন দেখ, এ কল্পটীও সঙ্গত হইতে পারে না। কারণ, জগতে এমন কোন বস্তুই নাই, যাহা সৎও নহে, অসৎও নহে। দেখ, সৎ নহে বলিলে আমরা অসৎকে বুঝিয়া থাকি, এবং অসৎ নহে বলিলে আমরা সৎকেই বুঝিয়া থাকি। সৎ ও অসৎ উভয়ই নহে বলিলে আমরা কিছুই বুঝিতে পারি না। বাস্তবিক কোন বস্তুকেই এ প্রকার হইতে দেখা যায় না। সুতরাং ইহা অপ্রসিদ্ধ। বেদান্তী যদি এরূপই অনির্বচনীয় শব্দের অর্থ বলিতে চাহেন, তাহা হইলে তাহার পক্ষে বাধরূপ একটী দোষ উপস্থিত হইবে। সাধ্য যদি পক্ষে থাকিবার অযোগ্য হয়, অর্থাৎ সাধ্য যদি পক্ষে না থাকে, তবেই বাধদোষ হয়। এখন এখানে দেখ, এই বাধদোষটী কি করিয়া হয়? দেখ, সত্বের অভাব প্রসিদ্ধ আছে এবং অসত্বের অভাবও প্রসিদ্ধ আছে, কিন্তু জগতে এমন কোনও বস্তুই নাই, যাহাতে এই উভয় অভাবই প্রসিদ্ধ হয়। সুতরাং, জগৎকে পক্ষ করিয়া যদি এই ধর্মদ্বয়ের অভাবরূপ মিথ্যাত্বকে সিদ্ধ করিতে ইচ্ছা হয়, তাহা হইলে পক্ষে সাধ্য থাকে না বলিয়া বাধদোষই হইবে। অগত্যা এই দ্বিতীয় কাটীও সঙ্গত হইতে পারে না, আর তজ্জন্ত সন্ধের অভাব এবং অসত্বের অভাব ধৰ্ম্ময়বিশিষ্ট যাহা, তাহাকে অনীৰ্বচনীয় বা মিথ্যা বলা যাইতে পারে না। ঐরূপ দেখ, তৃতীয় কল্পটীও সম্ভবপর হয় না। কারণ, এই কল্পটী হইতেছে গাভাব বিশিষ্ট যে অসত্বাভাব, তাহাই অনির্বচনীয়ত্ব। ইহার অর্থ অসত্বের যে অভাব, তাহার সহিত একত্র বিদ্যমান যে সত্ত্বাভাব তাহা। এই কল্পটীর সহিত প্রথম ও দ্বিতীয় কল্পের প্রভেদ এই যে, প্রথম কল্পে অসত্ববিশিষ্ট যে সত্ব, সেই সত্বের অভাবকে মিথ্যা বলা হইয়াছিল, অর্থাৎ ইহাতে প্রথম পরিচ্ছে। সরে অভাবটী সত্বের বিশেষণ হইয়াছিল এবং তৎপরে সেইরূপ সত্বের অভাবকে মিথ্যাত্ব বলা হইয়াছিল। এই কল্পে বলা হইল—সত্বের যে অভাব, সেই অভাবটা অসত্বাভাবের বিশেষণ। ইহাতে সত্বের অভাবকে সত্বের বিশেষণ করা হয় নাই। দ্বিতীয় কল্পে, কেহই কাহারও বিশেষণ হয় নাই, কিন্তু সত্বের অভাব এবং অসত্বের অভাব—এই দুইটী অভাব মিলিত হইয়া সাধ্যরূপে নির্দিষ্ট হইয়াছিল। এখন দেখ, এই তৃতীয় কল্পনীও সঙ্গত হয় না। কারণ, এস্থলে সাধ্য যে সত্বাভাববিশিষ্ট অসত্ত্বাভাব তাহাও অপ্রসিদ্ধ বস্তু। এরূপ ধৰ্ম্ম কোন বস্তুরই দেখা যায় না। সুতরাং, ইহাতে সাধ্যাসিদ্ধি নামক দোষটী প্রথম কল্পেরই ন্যায় ঘটিয়া উঠিল। অতএব দেখা যাইতেছে, অনির্বচনীয় পদের যে তিনটী অর্থ কল্পনা করা হইয়াছে, তাহার একটীও সঙ্গত নহে। অর্থাৎ, মিথ্য। শব্দের যে অনির্বচনীয় অর্থ করা হইয়াছে, তাহাই অসঙ্গত। এস্থলে লক্ষ্য করিবার বিষয় এই যে, এই তিনটী কল্পেই যখন প্রায় সমান দোষই হইতেছে, তখন এইরূপ তিনটী কল্প কেন করা হইল ? এরূপ করিবার উদ্দেশ্য এই যে, অনির্বচনীয় শব্দের যে অর্থ, তাহা যদি দার্শনিকভাষায় বলা যায়, তাহা হইলে ঐ তিনরূপই হইতে পারে, তদতিরিক্ত আর কোনরূপ হইবার সম্ভাবনা নাই। বস্তুত, এই তিনটী প্রকারভেদ প্রদর্শনের জন্য এইরূপ করা হইয়াছে, নচেৎ বিভিন্ন কল্পে বিভিন্ন দোষ হয় বলিয়া উক্তপ্রকার ভেদ প্রদর্শন করা হয় নাই। তাহার পর, অনির্বচনীয় শব্দের অর্থ করিতে প্রবৃত্ত হইয়া পূৰ্বপক্ষী, সৎ ও অসৎ অবলম্বনেই কেন অর্থ করিতে প্রবৃত্ত হইলেন, তাহার কারণ যদি অন্বেষণ করা যায়, তাহা হইলে দেখা যায় যে, ইহার কারণ আচাৰ্য্য শঙ্করেরই একটা উক্তি। কারণ, তিনি অবিদ্যাকে বহুস্থলেই “সদভ্যাম্ অনির্বচনীয়” বলিয়াছেন। বস্তুতঃ, যাহা বচনীয় হয়, তাহা হয় সৎ, না হয় অসৎ হয়, অর্থাৎ যাহা বচনযােগ্য তাহা ইহাদের মধ্যে কোন-না-কোন একটী হইবে, অন্য প্রকার হইতে পারে না। এই জন্যই পূৰ্বপক্ষী মিথ্যা শব্দের অর্থ করিতে প্রবৃত্ত হইয়া তাহা অনির্বচনীয় অর্থাৎ সৎ ও অসৎ হইতে কিরূপ পৃথক্ পদার্থ, তাহারই নির্ণয়ে প্রবৃত্ত হইয়া অদ্বৈতবাদের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করিতেছেন। যাহা হউক, এইবার মধুসুদন সরস্বতী মহাশয় পূৰ্বপক্ষীর উক্ত আপত্তির বিরুদ্ধে যাহা বলিতেছেন, তাহা এই ;

অবৈতসিদ্ধি। ; উক্ত আপত্তি খন—প্রথম মিথ্যাত্ব নির্ধচন—প্রথমকল্প। মৈব, সাত্যাবাসব্রাত্যন্তাভাবরূপ-ধৰ্ম্ময়-বিবায়াং দোষা- আবাৎ।৪৫ ন চ ব্যাহতি, সা হি সন্ত্রাসযােঃ পরস্পরবিরহ- রূপতয়া বা, পরস্পর-বিরহ-ব্যাপকতয়া বা, পরস্পর-বিরহ-ব্যাপ্যতয়া বা ? ৪৬ নান, তদনঙ্গীকারাৎ ৪৭ তথাহি অত্র ত্রিকালাবাধ্যত্বরূপ- সৰ্বব্যতিরেকো ন অসম, কিং তু কচিদপি উপাধে সনে প্রতীয়- মানাধিকরণ, তদ্ব্যতিরেকশ্চ সাধনে বিবক্ষিতঃ। ৪৮ তথা চ ত্রিকালবাধ্যবিলক্ষণত্বে সতি কচিদপি উপাধে সনে প্রতীয়মান- রূপং সাধ্যং পর্যবসিতম।৪৯ এবং চ সতি ন শুক্তিরূপে সাধ্যবৈকল্য- মপি, বাধ্যত্বরূপাস-ব্যতিরেক সাধ্যপ্রবেশাং। ৫০ নাপি ব্যাঘাতঃ, পরস্পরবিরহরূপত্বাৎ ৫১ অতএব ন দ্বিতীয়ােহপি, সত্ত্বাববতি শুক্তিরূপে বিবক্ষিতাসত্ব- ব্যতিরেকস্য বিদ্যমানবেন ব্যভিচারাৎ। ৫২ নাপি তৃতীয়, তস্য ব্যাঘাতপ্ৰযােজকত্বাৎ, গােত্বাশ্বত্বয়ােঃ পর স্পরবিরহব্যাপ্যত্বেহপি তদভাবয়াের উষ্ট্ৰাদৌ একত্র সহােপলাৎ ৫৩ যুচ্চ নির্ধম্মক ব্ৰহ্মণঃ সত্ত্বরাহিত্যেহপি সজ্রপবৎ প্রপঞ্চস্য সপ- হেন অমিথ্যাত্বোপপত্তা অর্থান্তরম্ উক্তম, তৎ ন৫৪ একেনৈব সর্বানুগতেন সর্বত্র সৎপ্রতীত্যুপপত্তো ব্ৰহ্মবৎ প্রপঞ্চস্য প্রত্যেক সংস্বভাবতাকল্পনে মানাভাবাৎ, অনুগতব্যবহারাভাবপ্রসঙ্গাচ্চ ৫৫ অনুবাদ-না, এরূপ হইতে পারে না। সত্ত্বের অত্যন্তাভাব এবং অসত্বের অত্যন্তাভাবরূপ ধৰ্ময়কে যদি মিথ্যাত্ব বলা যায়, তাহা হইলে দোষ হয় না।৪৫ আর ব্যাঘাত দোষও হয় না। যেহেতু, ব্যাঘাত দোষটা কি (প্রথম) সত্ত্ব এবং অসত্বের পরম্পর অভাবরূপত্বপ্রযুক্ত হইবে, অথবা (দ্বিতীয়) পরস্পরের অভাবের ব্যাপকত্ব প্রযুক্ত হইবে, কিংবা (তৃতীয়) পরস্পরের অভাবের ব্যাপ্য বলিয়া হইবে। ৪৬ প্রথমটী হইতে পারে না। কারণ, তাহা অঙ্গীকার করাই হয় না। ৪৭ যেহেতু, এস্থলে যে প্রথম পরিচ্ছেদ। অভিপ্রেত অসত্ব, তাহা কালয়ে বাধিত না হওয়ারূপ যে সত্ত্ব, সেই সত্বের অভাব রূপ নহে, কিন্তু, কোনও ধৰ্ম্মতে সৎ বলিয়া প্রতীয়মানরূপ যে সত্ত্ব, তাহারই অনধিকরণস্বরূপ; সেই অসত্বের অভাবই এস্থলে সাধ্যরূপে বিবক্ষিত হইয়াছে। ৪৮ আর তাহা হইলে ত্রিকালাবাধ্যবিলক্ষণ হইয়া কোনও ধর্মীতে সৎ বলিয়া প্রতীয়- মানবই সাধ্যরূপে পর্যবসিত হইতেছে।৪৯ আর এইরূপ হইলে শুক্তিরূপ্যে সাধ্যের অভাবও হইল না। কারণ, বাধ্যত্বরূপ যে অসত্ত্ব, তাহার অভাবটী সাধ্যের মধ্যে প্রবিষ্টই হইতেছে না।৫০ আর ব্যাঘাতও হইল না। কারণ, (সত্ব এবং অসত্বের) পরস্পর অভাবরূপতাও নাই। ৫১ আর এই জন্যই দ্বিতীয় (অর্থাৎ পরস্পরের অভাবের ব্যাপকতারূপ) পক্ষীও সিদ্ধ হইতেছে না। কারণ, সত্বের অভাবযুক্ত যে শুক্তিরূপ্য, তাহাতে বিবক্ষিত যে অসত্ত্ব,তাহারও অভাব রহিয়াছে বলিয়া ব্যভিচার হইতেছে। ৫২ সেইরূপ তৃতীয় (অর্থাৎ পরম্পরাভাবের ব্যাপ্যতারূপ) পক্ষীও সিদ্ধ হইবে না। কারণ, তাহা ব্যাঘাতের প্রয়ােজকই হয় না। যেহেতু, গােত্ব এবং অশ্বত্ব পরস্পরের অভাবের ব্যাপ্য হইলেও সেই গােত্ব এবং অশ্বত্বের অভাব একই উষ্ট্রাদি ব্যক্তিতে একই সময়ে প্রতীত হইয়া থাকে।৫৩ আরও বলিয়াছিলে যে, নিধৰ্ম্মক ব্রহ্মের সত্ত্ব না থাকিলেও তাহা যেমনসপ হইয়া থাকে,সেইরূপ প্রপঞ্চেরও সপতা থাকিতে পারে, আর তজ্জন্য অমিথ্যাত্বের উপপত্তি হইতে পারে, সুতরাং অর্থান্তর হয়, তাহাও সঙ্গত নহে।৫৪ কারণ, এক সৰ্বানুগত সত্বের দ্বারা সর্বত্রই সৎ-প্রীতির উপপত্তি হইতে পারে বলিয়া ব্রহ্মের ন্যায় প্রপঞ্চের প্রত্যেক ব্যক্তিতে সৎস্বরূপতা কল্পনার কোন প্রমাণ নাই। (এরূপ কল্পনা করিলে) অনুগত ব্যবহারের অভাবও প্রসক্ত হইয়া উঠে ৫৫ তাৎপৰ্য-পূৰ্বে বলা হইয়াছে যে, মিথ্যাত্ব শব্দের অর্থ যদি অনির্বচনীয় হয়, তাহা হইলে তাহা তিনরূপ হইতে পারে, যথা—প্রথম, অসত্ত্ববিশিষ্ট সত্ত্বের অভাব ; দ্বিতীয়,সত্ত্ব এবং অসত্বের অভাবরূপ ধৰ্ম্মদ্বয়, এবং তৃতীয়, সত্বের অত্যন্তাভাব বিশিষ্ট অসত্বাত্যন্তাভাব, এবং ইহাদের মধ্যে কোনটাই প্রমাণসিদ্ধ হয় না। এক্ষণে মধুসূদন সরস্বতী মহাশয় বলিতেছেন যে, উক্ত তিনটীর মধ্যে দ্বিতীয় কল্পটী সঙ্গত হইতে পারে। এই উপলক্ষে তিনি এস্থলে যে যুক্তি প্রদর্শন করিয়াছেন, তাহাই বর্তমান প্রসঙ্গে আলোচিত হইতেছে। বিচারের নিয়ম হইতেছে যে, পূৰ্বপক্ষী কোন অভীষ্টমতে যে দোষ প্রদর্শন করিয়া ৫ অদ্বৈতসিদ্ধি। থাকেন, অগ্রে তাহারই খণ্ডন করিতে হয়, এবং পরে স্বপক্ষস্থাপনের অনুকুল যুক্তি প্রদর্শন করিতে হয়। এস্থলেও গ্রন্থকার সেই রীতির অনুসরণ করিয়া নিজ অভীষ্ট উক্ত দ্বিতীয় কল্পের উপর পুৰ্বপক্ষী যে দোষ উদ্ভাবন করিয়াছিলেন, তাহা প্রথমে নিরাকরণ করিতেছেন। সেই দোষটী এই যে, যে বস্তু সৎ হয়, তাহা কখন অসৎ হইতে পারে না, এবং যাহা অসৎ, তাহাও কখন সৎ হইতে পারে না, সুতরাং সত্ত্ব এবং অসত্ত্ব এই উভয় ধর্মের অভাবয় কোন স্থলেই বিদ্যমান থাকিতে পারে না, অথচ এই অভাবদ্বয়কেই মিথ্যাত্ব বলা হইতেছে। এখন এইরূপ মিথ্যাত্ব যখন কোন স্থলেই থাকে না, তখন তাহা মিথ্যাত্বসাধক অনুমিতির পক্ষ যে জগৎপ্রপঞ্চ, তাহাতে কি করিয়া থাকিতে পারে ? পক্ষে সাধ্য যদি না থাকে, তাহা হইলে এই অনুমিতির হেতুটী বাধ নামক দোষগ্রস্ত হয়। এক্ষণে ইহার উত্তর দিবার জন্য গ্রন্থকার পূর্বপক্ষীর আপত্তির প্রকৃত অভিপ্রায় নির্ণয়মানসে তিনটী বিকল্প করিয়া তাহার প্রদর্শিত উক্ত ব্যাঘাত বা বাধরূপ দোষের খণ্ডন করিতেছেন। প্রথমতঃ, গ্রন্থকার পূর্বপক্ষীকে বলিতেছেন যে, তুমি এই যে ব্যাঘাত দোষ প্রদর্শন করিতেছে, ইহার অভিপ্রায় কি ? তুমি কি বলিতে চাহ যে— (১) সত্ত্ব এবং অসত্ত্ব ইহারা পরস্পরের অভাবস্বরূপ,অর্থাৎ সত্ত্বের অভাবই অসত্ব, এবং অসত্বের অভাবই সত্ত্ব, সুতরাং আমার পক্ষে ব্যাঘাত দোষ হয় ; অথবা (২) তুমি কি বলিতে চাই যে, সত্ত্ব অসত্বাভাবের ব্যাপক, এবং অসত্ত্ব সত্বাভাবের ব্যাপক, সুতরাং ঐ দোষটী হয়, কিংবা (৩) তুমি কি বলিতে ইচ্ছা কর যে, সত্ব অসত্ত্বাভাবের ব্যাপ্য এবং অসত্ত্ব সত্ত্বাভাবের ব্যাপ্য, অতএব আমার পক্ষটী উক্ত ব্যাঘাতরূপ দোষদুষ্ট হয় ? আচ্ছা, দেখ, তােমার প্রদর্শিত ব্যাঘাত দেষের এই কয়টা প্রকার ভিন্ন আর কোন প্রকার হইতে পারে না। এখন ইহাদের মধ্যে প্রথমটী যদি তােমার অভিপ্রেত হয়, তাহা হইলে তাহার উত্তরে বলিব যে, উক্ত প্রথম কল্পটীর দ্বারা আমার মতে ব্যাঘাত দোষ হয় না। কারণ, আমি মিথ্যালক্ষণের মধ্যে সত্ত্ব এবং অসত্ব বলিয়া যে দুইটী শব্দ ব্যবহার করিয়াছি, তাহার অর্থ তুমি বুঝ নাই। অবশ্য, তুমি সত্ব শব্দের অর্থ যে, প্রথম পরিচ্ছেদঃ। ত্ৰিকালাবাধ্যত্বরূপ বলিয়া বুঝিয়াছ, তাহাতে তােমার মতের সহিত আমার মতের পার্থক্য নাই, অর্থাৎ তােমার ন্যায় আমিও বলি যে, যে বস্তু ভূত-ভবিষ্যৎ ও বর্তমানে বাধিত হয় না, তাহাই সৎ এবং তাহার ধর্মই সত্ত্ব। সুতরাং, এবিষয়ে আমরা একমত হইতে পারি। কিন্তু, আমার প্রযুক্ত অসত্ত্ব শব্দটীর অর্থ অন্যরূপ। আমি বলি, উক্ত ত্রিকালাবাধ্যত্বরূপ সত্ত্বের যে অভাব, তাহাই এই অসত্ত্ব শব্দের অর্থ নহে, কিন্তু যাহা কোন ধৰ্মীতে কোনকালে সৎ বলিয়া প্রতীত হইবার যােগ্য, তাহাই অসত্ত্ব শব্দের মধ্য প্রবিষ্ট সৎ শব্দের অর্থ, এবং এইরূপ সতের যে ধৰ্ম্ম, তাহার অভাবই অসত্ত্ব। তুমি কিন্তু ইহার যে অর্থ বুঝিলে, তাহা ত্রিকালাবাধ্যত্বরূপ যে সত্ত্ব, তাহারই অভাব। সুতরাং, এবিষয়ে আমরা একমত নহি। আর সেইজন্যই তােমার প্র. শিত দোষ এস্থলে আমার মতে আসিতে পারে না। আরও দেখ, তুমি বলিয়াছিলে যেখানে সত্ত্ব থাকে, সেখানে অসত্ত্ব থাকিতে পারে । সুতরাং, সাভাব এবং অসত্ত্বাভাবরূপ দুইটী অভাব একত্র থাকিতে পারে না। কিন্তু, যদি অসত্ত্ব শব্দের আমার অভীষ্ট অর্থ গ্রহণ কর, তাহা হইলে আমাদিগের প্রদর্শিত দৃষ্টান্ত যে শক্তিরূপ্য, তাহার উপর তাহা সম্ভব হইতে পারে। কারণ, শুক্তিরূপপ্য ত্রিকালাবাধ্যত্বরূপ যে সত্ত্ব, তহিার যেমন অভাব আছে, তদ্রুপ আমাদের অভীষ্ট অসত্বের অভাবও থাকিতে পারে। কারণ, শুক্তিরূপপ্য কোন ধর্মীতে সৎ বলিয়া প্রতীত হইবার অযােগ্যত্বরূপ যে অসত্ত্ব, তাহারও অভাব রহিয়াছে। যেহেতু, সম্মুখস্থিত ইদং পদার্থে অর্থাৎ শুক্তিখণ্ডে, কোন সময়ে রজত সজপে প্রতীত হইয়া থাকে—ইহা সৰ্ববাদিসম্মত। অতএব, উক্ত শুক্তিরূপে সৎ বলিয়া প্রতীত হইবার যােগ্যত্ব আছে, আর তজ্জন্য সৎ বলিয়া প্রতীত হইবার অযােগ্যত্বরূপ যে অসত্ত্বরূপ ধৰ্ম, তাহার অভাবও আছে। এই অযােগ্যত্বই ত অসত্ত্ব-ইহা আমি পুৰ্বে বলিয়াছি। সুতরাং, প্রথম কল্পে মপক্ষে যে দোষ উদ্ভাবিত হইয়াছিল, তাহা তােমার পক্ষে অজ্ঞান নামক নিগ্রহস্থান হইল। অর্থাৎ, আমি যাহা বলি নাই, তাহাই আমার কথা বলিয়া আমাকে দোষ দেওয়ায় আমার মতের অজ্ঞানই তােমার উপর আসিয়া পড়িতেছে। এই দোষই অজ্ঞানরূপ নিগ্রহস্থান নামে পরিচিত। নিগ্রহস্থান যাহার পক্ষে উদ্ভাবিত হয়, তাহারই পরাজয় হয়। সুতরাং, তােমার আপত্তি অকিঞ্চিৎকর। অর্থাৎ সত্বের অভাব এবং অসত্বের অভাবই মিথ্যাত্ব, এইরূপ তােমার উদ্ভাবিত আপত্তির দ্বিতীয় * অদ্বৈতসিদ্ধি। উপ সটী কল্পটীর অভিপ্রায়—যদি সত্ব এবং অসত্ত্ব ইহারা পরস্পরের অভাবস্বরূপ হয়, তাহা হইলে তুমি আমার কথা বুঝ নাই, আর তজ্জন্য তোমার প্রদর্শিত দোষ আমার উপর আসিতে পারে না। আর যদি বল, তােমার আপত্তির দ্বিতীয় কল্পনী অর্থাৎ সত্ত্বের অভাব এবং অসত্বের অভাবই মিথ্যাত্ব এবং ইহাতে যে ব্যাঘাত দোষ হয়, তাহার অভিপ্রায় সত্ত্বটা অসত্ত্বাভাবের ব্যাপক, এবং সত্ত্বটী সত্ত্বাভাবের ব্যাপক, তাহা হইলে বলিব—আমি যে প্রকার অসত্বের নির্বচন করিয়াছি, তাহা সত্ত্বাভাবের ব্যাপক হইল না। কারণ, শুক্তিরূপপ্য, সত্বের অভাব রহিয়াছে, কিন্তু আমাদের অভীষ্টলক্ষণাক্রান্ত যে অসত্ব, তাহা থাকিতেছে না। সুতরাং, ব্যভিচার হইতেছে, অর্থাৎ তােমরা যে বলিয়াছ সত্ত্বাভাবের ব্যাপক অসত্ব-তাহা হইতেছে না। কারণ, অসত্ব যদি সত্বাভাবের ব্যাপক হয়, তাহা হইলে বলিতে হইবে যে, যেখানে যেখানে সত্বের অভাব আছে, সেই সকল স্থলেই অসত্ত্ব থাকা আবশ্যক হয়। কিন্তু, শুক্তিরূপপ্য সত্ত্বাভাব বিদ্যমান থাকায় এবং সেখানে অসত্ত্ব না থাকার ব্যভিচারই হইল। অসত্ত্বাভাবের ব্যাপকও হয় না। কারণ, ইহার অর্থ-অসত্বের অভাবটা যেখানে যেখানে থাকিবে, সত্ত্বটা সেই সেইস্থানে থাকা আবশ্যক। কিন্তু, বাস্তবিক তাহা ঘটে না। কারণ, উক্ত শুক্তরূপ্যে অসত্বের অভাব রহিয়াছে, কিন্তু সেস্থলে ত্রিকালাবাধ্যত্বরূপ উভয়বাদিসম্মত যে সত্ত্ব, তাহা থাকিতেছে না। কারণ, শুক্তিতে যে রজত আরােপিত হয়, তাহাতে ত্রিকালাবাধ্যত্বরূপ যে সত্ত্ব আছে, তাহা কেহই স্বীকার করে না। আর শুক্তিরূপে যে অসত্বের অভাব রহিয়াছে, তাহার হেতু এই যে, উহা কোন ধর্মীতে কোন সময়ে সৎ বলিয়া প্রতীত হইবার যােগ্য হইয়া থাকে। সুতরাং, উহাতে সৎ বলিয়া প্রতীত হইবার অযােগ্যত্বরূপ আমাদের অভীষ্ট যে অসত্ত্ব, তাহা নাই। অতএব দেখ, যদি তােমার আপত্তির দ্বিতীয় কারণটীর অর্থ-সত্ত্বটী অসত্ত্বাভাবের ব্যাপক এবং অসত্বটী সত্ত্বাভাবের ব্যাপক—এইরূপ হয়, তাহা হইলে আমার মতের উপর উক্ত ব্যাঘাত দোষ আসিতে পারে না, প্রত্যুত তােমারই পক্ষ পূৰ্ব্ববৎ দুর্বল হইয়া যায়। আর যদি বল তোমার আপত্তির দ্বিতীয় কল্পটী অর্থাৎ সত্বের অভাব এবং অসবর অভাবই মিথ্যাত্ব বলিলে যে ব্যাঘাত দোষ হয়, তাহার অভিপ্রায় সত্বটী ব্ৰহ্মানন্দভিক্ষুবিরচিত। অদ্বৈভসিদ্ধিব্যাখ্যা লঘুচন্দ্রিকা। প্রথম পরিচ্ছেদঃ। নমাে নবঘনশ্যামকামকামিতদেহিনে। কমলাকামসৌদামকণকামুকগেহিনে। ১। শ্রীনারায়ণতীর্থানাং গুরূণাং চরণস্মৃতিঃ। ভূয়া মে সাধিকেষ্টানামনিষ্টানাঞ্চ বাধিকা॥২॥ অদ্বৈতসিদ্ধিব্যাখ্যানং ব্ৰহ্মানন্দেন ভিক্ষুণা। সংক্ষিপ্তচন্দ্ৰিকাৰ্থেন ক্ৰিয়তে লঘুচন্দ্রিকা। ৩। (১ পৃষ্ঠা) বিষ্ণুঃ ব্যাপকং জীবস্বরূপং মোক্ষং প্রাপ্ত ইব স্বয়ং বিজয়তে। কীদৃশে। বিষ্ণুমোক্ষং প্রাপ্ত ইব তাহ-অখণ্ডৰীগােচর ইতি। সংসৰ্গাবিষয়কমনােবৃত্তিবিশেষবিষয়ীভূত ইত্যর্থ। নমু, তাদৃশধীবিষয়ত্বে মােপ্রাপ্তিং প্রতি নােদ্দেশ্যতাবচ্ছেদকত্বসংভবঃ। উদ্দেশ্যতাবচ্ছেদককালাবচ্ছিন্নত্বস্ত বিধেয়গতত্বেন ব্যুৎপত্তিসিদ্ধস্য প্রকৃতে বাধাৎ। যদা হি তাদৃশধীবিষয়ীভুত আত্মা, তা তস্য ন মােক্ষ। তস্তাবিদ্যারূপবন্ধশূন্যাত্মরূপহৃৎ। তদুক্তং বাত্তিকে --অবিদ্যাস্তময় মােক্ষঃ স চ বন্ধ উদাহৃতঃ। ইতি। নিবৃত্তিরাত্মা মােহস্ত জ্ঞাতত্বেনােপলক্ষিতঃ। ইতি চ। অবিদ্যায় অন্তময় সংস্কারাদিকাৰ্য্যরূপেণাপ্যনবস্থান। সা স্কুলরূপা ২ অবৈতসিদ্ধিব্যাখ্যা লঘুচক্রিকা। সংস্কারাদিরূপা চ। তথা চ বিদেহকালীননাহস্তময় এব মুখখ্যা মােক্ষ। তধোপ- লক্ষিত আত্মপি বিদেহতাকালীন এব। জীবন্মুক্তিকালীনস্ত জ্ঞাতােপহিতত্বত্যাপি কদাচিৎ সংভবেন জ্ঞাতবেনোপলক্ষিতত্ব সর্বদা অসম্ভবাৎ তদুপলক্ষিতস্তৈব মােহ- নিবৃত্তি। জীবন্মুক্তো সংস্কারাদিরূপেণ মােহসত্ত্বাৎ। স্থূলাজ্ঞাননিবৃত্তেস্তত্বজ্ঞান বিশেষাদিমনঃপরিণামরূপতাসংভবেন জ্ঞাতাত্মরূপসংভবাচ্চ। ন চোক্তবিষয়ত্ব ক্ষণে এব তাদৃশাবিদ্যাস্তময়ঃ সংভবতি। চরমধীরূপবিদ্যাবতঃ ক্ষণস্তাবিদ্যাৎ প্রযুক্তদৃশ্যবিশিষ্টকালপূৰ্বাভাবনিয়মেন সিদ্ধস্তাবিদ্যাস্তময় বিদেহতাকালীন বিদ্যা- বতি ক্ষণে সংভবাভাবৎ। অত আহ—মিথ্যাবহৃবিধুননেন বিকঙ্গোজতি ইতি। ব্রহ্মাত্মৈক্যাজ্ঞানরূপবন্ধ তাদৃশাস্তময়েন দৃশ্যশূন্য ইত্যর্থ। অত্র বন্ধ মিথ্যাত্বোত্যা তদুচ্ছেদস্য জ্ঞানাধীনত্বজ্ঞাপনেন ন জ্ঞানােৎপত্তি- কালীনত্বশিতি জ্ঞাপিত। তথা চ বিধেয়ে উদ্দেশ্যবচ্ছেদককালাবচ্ছিন্নত্ববােধত্যোৎ- সর্গিকাৎ সৰ্গাদ্যকালীনঘণুকপক্ষকন্যতাসম্বন্ধেন কর্তৃসাধ্যকানুমিতৌ নিরবচ্ছিন্ন করি বিধেয়ে তাদৃশকালবিচ্ছিন্নত্ববাধবৎ প্রকৃতেহপি তস্য বাধিতত্বাৎ ন তত্ৰ তৰোধ। অত্র বন্ধবিধুননবিদ্যাতৎকাৰ্য্যশূন্যত্ব দৃশ্যশূন্যত্বং অনাদিসাধারণদৃশ্যশূন্যত্বমিতি তয়াে- ভেদ। বিধুননেনেতি তৃতীয়া জ্ঞাপকহতো। ন তু কারকহেতো। ন হবিদ্যায় অস্তয়াে নাম ব্যাবহারিকধ্বংসরূপাে বিদ্যাজজ্যোৎস্নৎসিদ্ধান্তে স্বীক্ৰিয়তে। দৃশ্যা- শুরধ্বংসস বা তজ্জন্তঃ। তথা সতি তস্য নিবর্তকাভাবেন ‘বিদ্বান্নামরূপাৰিমুক্ত’ ইত্যাদিতিবােধিত বিদুষি সৰ্ব্বদৃশ্যোচ্ছেদস্য বাধাপত্তেঃ। তত্ত্বজ্ঞানােৎপত্তিদ্বিতীয়- ক্ষণে হি তত্ত্বজ্ঞানাদিসৰ্বদৃশ্যনাশােৎপাদাৎ উক্তক্ষণদ্বিতীয়ক্ষণে উক্তনাশস্য নাশশাৎ- পত্ত্যসম্ভব। তত্ত্বজ্ঞানজন্য নাশস্তৈব তত্ত্বজ্ঞাননাশহেতুত্বে স্বীকৃত্যেক্তবাধাপত্তেস্তাদ বস্থ্যাৎ। তত্ত্বজ্ঞানজন্য দৃশ্যান্তরনাশস্য তত্ত্বজ্ঞানস্য চ যৌ নাশেী তয়াের্নাশকাভাবাৎ তমােঃ স্বনাশকত্বস্বীকারেংপুজাপত্তিদবস্থ্যাৎ অপ্রামাণিকানন্তনাশকল্পনে গৌর- বাচ্চ। তস্মাচ্চরমতত্ত্বজ্ঞানস্ত দৃশ্যায়কালপূৰ্ব্বত্বাভাবনিয়ম এব স্বীক্ৰিয়তে। ন তু নাশহেতু। যত্ত, বদ্ধপুরুষেঃ প্রতীতিকমময়াদিকং কল্পতে ন তস্য নাশহেতু। যদ্যপি জ্ঞাপকহেতুত্বমপি দৃশ্যান্তময়ং প্রত্যবিদ্যাস্তময়ত্বে নাস্তি জীবন্মুক্তে প্রতীতিকাবিদ্যাময়ে তথ্যভিচারিত্বাৎ ; জীবন্মুক্তে প্রতীতিক দৃশ্যান্তময় কল্পনে নিয়মাবাৎ, তথাপি দৃশ্যস্তময়কালীনত্বৰূপেণাবিদ্যাময় দৃশ্যান্তময়ং প্রত্যন্ত্যেবেতি ধ্যেয়ম্। অথবা মাস্তু প্রতীতিকং তাদৃশাবিদ্যাস্ত- প্রথম পরিচ্ছে। ময়াদিক। অবিদ্যোচ্ছেদোপলক্ষিতঃ পূৰ্ণানন্দরূপ আত্মা মােক্ষ। অবিদ্যে- ছেদশ্য তদীয়স্থূলসুরূপাশ্রয়কালপূৰ্বাভাবঃ সৰ্বদৃশ্যায়কালপূৰ্বভাবরূপেণ দৃশ্যোচ্ছেদেন ব্যাপ্য। মােক্ষ দৃশ্যোচ্ছেদোপলক্ষিতাত্মরূপকৈবল্যরূপাৎ। যা, নম্ন দৃষ্ঠোচ্ছেদস্তত্ত্বজ্ঞানােৎপত্তিক্ষণে ন সম্ভবতি। অনাদিদৃশ্যানাং জ্ঞানানুচ্ছেদ্যত্ব- দবিদ্যাৎকাৰ্য্যয়ােরেব তনুচ্ছেদ্যত্বাৎ, তাহ-মিথ্যাবন্ধেতি। মিথ্যাবন্ধ- বিধুননেন বিকল্লোঙ্খিত ইতি যােজন। তথা চ অবিদ্যোচ্ছেদেন দৃশ্যেচ্ছেদবা- নিত্যর্থলাভাৎ অবিদ্যোচ্ছেদস্য দৃশ্যোচ্ছেদব্যাপ্যতালাভেনাবিদ্যারূপবন্ধস্য মিথ্যাকােত্যা অবিদ্যাপ্রযুক্তদৃশ্যমাত্রস্ত মিথ্যাত্বলাভেনানাদিদৃশ্যানামপি জ্ঞানােচ্ছেদলাভাইক্তব্যাপ্য। তায়া সম্ভব। তথা চ সৰ্ব্বদৃশ্যোচ্ছেদোপলক্ষিতপরমানন্দরূপাত্মরূপকৈবল্যপ্রাপ্তি- শুত্বজ্ঞানােত্তরমেব ন তৎক্ষণ ইতি নােদেশ্যতাবচ্ছেদকধীবিষয়ত্বকালীনং বিধেয়ে মােক্ষলাভে বিবক্ষিত। উজ্জ্বিত ইতি নিষ্ঠাপ্রত্যয়েনোচ্ছেস্যাতীতকালে মােক্ষ প্রাপ্তেলাভাৎ অত্যন্তাভাবত্ববিশিষ্টরূপস্রোচ্ছেদস্যাপি দৃশ্যত্বাৎ তাদৃশে মােকালে তস্য অতীতত্বাদিতি ভাব। মােক্ষং কীদৃশং, ত্ৰাহ-পরমেত্যাদি। নিরতিশয়াপরিচ্ছিন্নসুখমাত্রস্বরূপমিত্যর্থ। ননু, মুক্ত প্রকাশকাভাবেন প্রকাশ ইত্যৰ্থকং বিজয়ত ইত্যযুক্ত। তাহ—স্বয়মিতি। প্রকাশকসম্বন্ধং বিনৈবে- ভ্যর্থঃ। নন্বেবং বিজয়ত ইত্যপপন্ন। ভস্যাপি প্রকাশসম্বন্ধাৰ্থকত্বাৎ। স্বয়মিত্যঙ্গ প্রকাশান্তরং বিনেত্যৰ্থকবেন বিজয়ত ইত্যস্ত স্বাত্মপ্রকাশসম্বন্ধাৰ্থকদেহপি বিষ্ণো- দৃশ্যত্বেন মিথ্যাত্বপত্তি। অথ বিজয়ত ইত্যস্যোৎকৰ্ষাগুরমেবার্থ। ন তু প্রকাশ তদা প্রকাশমানানন্দরূপত্বলাভেন মােস্য প্রয়ােজনলাভ ; তাহ- সত্যজ্ঞানসুখাত্মক ইতি। যথাত্মন আনন্দহেনানন্দরূপং মােক্ষ প্রাপ্ত ইবে্যুক্ত। অত এব আনন্দবাপ্তিবোধকতেরনাবৃতানক্যৈম, ন ত্বানন্দসম্বন্ধ। তথা প্রকাশরূপনে বিষ্ণোঃ প্রকাশত ইত্যানাবৃচিদভেদবােধ- কত্ব। ন তু প্রকাশসম্বন্ধাৰ্থকত্ব। তথা চ দৃশ্যত্বাভাবাৎ ন মিথ্যাত্বপত্তি। ন চ প্রকাশরূপতােক্তিৰ্থেতি বাচ্যম্। অপনােক্ষব্যবহারযােগ্যসুখস্তৈব পুরুষার্থ। উক্তযােগ্যত্বঞ্চ অনাবৃতচিপনে তাদৃশচিত্তাদানে বা। তজোক্তরূপানস্যাত্যা- ভাবেপ্যাদ্যমন্তীতি জ্ঞাপনার্থবেন তস্যাঃ সার্থক্যাৎ। ননু জ্ঞানস্যজ্ঞানতৎকাৰ্য- বিরােধিতায় শুক্তাদিজ্ঞানস্থলে দৃষ্টতয়া যুক্তভেংপ্যনাদিসাধারণদৃশ্যমাত্রবিরােধিত্ব- মদৃষ্টান্ন যুক্ত। তাহ-মায়েত্যাদি। মায়য়া কল্পিতং প্রযুক্ত। অতএব সন্ধঃ।

অবৈতসিদ্ধিব্যাখ্যা লঘুচক্রিকা। ‘প্রাণ প্রাণমুত চক্ষুষশ্চক্ষুঃ ইত্যাদিবাক্যে চাকাশশব্দিতাব্যাকৃতপ্রাণাদিসংবন্ধিত। ব্ৰহ্মণ উক্তত্বৎ পঞ্চজনশস্য গন্ধৰ্বাদিরূপস্য ব্রাহ্মণাদিরূপস্য বা ভাদ্যোক্তা ‘যস্ত ব্ৰহ্ম চ ক্ষত্ৰঞ্চ’ ইতি বাক্যে ব্ৰহ্মক্ষত্ৰপদয়ােরিব সৰ্ব্বদৃশ্যোপলক্ষণবেন প্রাণ- স্থেত্যাদেরপি সৰ্ব্বদৃশ্যোপলক্ষণবেন সৰ্ব্বদৃশ্যসংবন্ধিত্বেনৈব ব্ৰহ্মণঃ পূৰ্বমুক্তবাচ্চাদ্বৈত- সিদ্ধেঃ দ্বৈতমিথ্যাত্বপূৰ্বকত্ব। ন চ ননেত্যস্ত নঞপদনিষ্পন্নবেন ভেদার্থকতয়া স্বসমভিব্যাহৃতপদার্থব্রহ্মভেদবােধকতয়া তাদৃশভেদবিশিষ্ট কিঞ্চনেতি পদার্থাত্যন্তা- ভাবে দ্বৈতবদেশকালাবচ্ছিন্নত্বস্য ভানং ন ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ। উদ্দেশ্যতাবচ্ছেদক- তত্তদ্দেশকালাবচ্ছিন্নত্বয়াে তত্তদেশকালাদিবিশিষ্টোদ্দেশ্যস্থলে ভানাদিতি বাচ্যম্ । তাদৃশাভাবে তাদৃশবচ্ছিন্নব্রহ্মবৃত্তিত্ববােধেংপুদ্দেশ্যসিদ্ধে। ন হি তত্র তৎ কেনাপি স্বীক্ৰিয়তে। প্রলয়েহপি তাদৃশাভাবে তার্কিকাদিভিস্তদস্বীকারাৎ মিথ্যাত্ববাদিনৈব উৎস্বীকারৎ। বস্তুতন্তু, ব্ৰহ্মভেদো ন প্রতিযােগিতাবচ্ছেদকতয়া ভাতি। কিন্তু উপলক্ষণতয়া কিঞ্চনপদার্থে প্রকার। তথা চ তৎপদস্য সর্বনামতয়া প্ৰসিদ্ধার্থ- তয়া প্রত্যক্ষাদিমানসিদ্ধদ্রব্যত্বদিবিশিষ্টবোধকত্বেন প্রসিদ্ধার্থকত্বৎ প্রক্ৰান্তার্থক। ঘটাদিবিশিষ্টবৎ ব্রহ্মবােধনাৎ, দ্রব্যাদিবিশেষরূপেণৈব:মিথ্যাত্বলাভ। ঘটবদূদ্রব্য- বদিত্যেবমুদ্দেশ্যতাবচ্ছেদকভানেপি দ্রব্যং নাস্তীত্যাদিবিধেয়াংশে ঘটত্বাদিবিশিষ্ট উদ্দেশ্যাবচ্ছেদকবেন দ্রব্যত্বদিবিশিষ্টাবজ্ঞানস্য নাহার্যপত্তিরিতি ভাবঃ। বাদ তত্ত্ববুভুৎসনা সহ কথা। জল্পে বিজিগীষুণা সহ। বিতণ্ডা স্বপক্ষস্থাপনহীন। কথা পঞ্চাবয়বপরিকরােপেতবাক্যম্। (১৪, ১পৃষ্ঠা) সিষাধয়িষত্যাদি। সিষাধয়িষাভাবসামানাধিকরণ্যবিশিষ্ট সাধ্য- নিশ্চয়স্তাভাবরূপায়া ইত্যর্থ। সংশয়স্য সংশয়হেতুত্বস্বীকার। অতি প্রসঞ্জকত্ৰাৎ আহার্যপরামর্শীদেহেতুদ্বাপাদকৎ। পক্ষপ্রতি পক্ষপরিগ্রহেতি। পক্ষে ধৰ্ম্মিণি প্রতিনিয়তপক্ষপরিগ্রহেত্যর্থ। বাদিনো- ভাবাভাবাতরকোটেরেকধৰ্ম্মিণি প্রয়ােগেতি যাবৎ। তথাপি-অনু মিত্যনঙ্গত্বেংপতি। অনুমিতিং প্রতি তথাবিধমেব যদঙ্গতং তদভাবে- হপীত্যর্থ। প্রথমস্যাপিশব্দস্যৈবকারসমার্থকত্বাৎ যদ্যপীত্যস্য পূর্বং সাত্তথাপী- ত্যন্তদধ্যাহার্য। একেনৈব বা তথাপীত্যনেনাথদ্বয়বােধ। অথবা অঙ্গত্বপদস্য পূর্বশঙ্কিতামর্থঃ। বুদসনীম্নতা বিচারাধ্যাভাবপ্রতিযােগিতয়া।

প্রথম পরিচ্ছে। বিচারাঙ্গত্বং বিচারপ্রবৃত্যুপযুক্ত সংশয়াভাবরূপফলজ্ঞান বিশেষণজ্ঞান- বিধ কারণে জ্ঞানে বিষয়ত্ব। তথা চ বিপ্রতিপত্তিবাক্যাং সংশয়ে জাতে সন্দেহ্মত্যাকারকেণ সংশয় রূপবিশেষণজ্ঞানেন সংশভাবরূপফলজ্ঞানাধীনেচ্ছয় বিচারে প্রবৃত্তিরিত্যেবংরীত্যা বিচারে বিপ্রতিপত্তিবাক্যোপযােগ ইতি ভাব। (২১ পৃষ্ঠা) ননু, বাদিননাঃ স্বম্বকোটিনিশ্চয়কালে তৎসংশয়ােৎপাদানুপপত্তিরত আহ- দৃশেতি। বিচারাঙ্গেত্যর্থ। স্বরূপযোগ্যৎ কারণ। প্রাচীনমতে বিপ্ৰতিপত্তিবাক্যস্ত শাব্দধীরূপসংশয়ােৎপাদকত্বস্বীকারাৎ। প্রত্যক্ষস্তৈব সংশয়ত্বমিতি মতে তু, কারণীভুতকোটিয়ােপস্থিতিহেতুপদঘটিতত্বাদিত্যর্থ। তথা চ বাদিনােনিশ্চয়কালে সংশয়ানুৎপাবপি সংশয়কারণত্বদিরূপেণ জ্ঞাতা বিপ্রতিপত্তিঃ সংশয়ং স্মারয়তি। যয়ােঃ সম্বন্ধঃ পূৰ্ব্বং গৃহীতঃ তয়ােরেকজ্ঞান- পরস্মারকাৎ। তথাচ তদৈব তথা তা উপযােগ ইতি ভাবঃ। অভি মানিকনিশ্চয়ভিম্নমিতি। নিশ্চয়বানম্মতি জ্ঞাপয়ন্তৌ বিব- দেতে ইত্যৰ্থক। তথাচ বাদিনটর্নিশ্চয়কালে সভাপত্যাদিনাং সংশয়াভাবমুদ্দিশ্য বিচারে প্রবৃত্তিরিতি ভাবঃ। নমু, বিশেষণজ্ঞানস্য বিশিষ্টবুদ্ধিহেতুমতে নােক্তরীত্যা বি প্রতিপত্তিরূপযুজ্যত ইতি চেৎ ? সত্য। তথাপি স্বস্ত পরস্য বা সংশয়াভাববত্বে নিশ্চিতে তত্র সিদ্ধজ্ঞানাৎ, ন তদুদ্দেশেন প্রবৃত্তিরতঃ সংশয়াভাববনিশ্চয়বিরােধিনী সংশয়বস্বধীরপেক্ষ্যত এব। ননু বাদিনােরন্বেষাং চ সভাস্থানাং নিয়ে বাদিভ্যাং নিশ্চিতে সংশয়াভাবমুদ্দিশ্য ন বিচারে তয়াের প্রবৃত্তিঃ, কিং তু বিজয়াদিকমুদ্দিশ্য। তত্র চ বিপ্রতিপত্তিনোপযুজ্যতে আহ-তস্মাদিতি। স্বকৰ্ত্ত- ব্যতি। উক্তস্থলে তৎকালিকে সংশয়ভাবে নিশ্চিতেহপি নিশ্চয়জসংস্কারস্য কালান্তরে উচ্ছেদশম্ভুয়া সংশয়ােৎপত্তিসংবজ্ঞানেন তদাপি সংশয়বােহবৰ্ততা- মিতীচ্ছায়ঃ সংভবান্ন বিজয়াদিকমাত্ৰমুদ্দিশ্য প্রবৃত্তিঃ। কিঞ্চ যথা সময়বন্ধঃ এতন্মত- মবলষ্যৈব যুবাভ্যাং বিচারণীয়মিত্যাকারকে। মধ্যস্থেন ক্রিয়তে। অথ। বাদিনােৰ্ম্মতান্তর প্রবেশেহব্যবস্থাপত্তেঃ। যথা বা বাদিনৌ পরীক্ষ্যেতে, অন্যথা মূখস্ত বিচারে মধ্যস্থস্তৈব হাস্থাপত্তেঃ। তথা বিপ্রতিপত্তিরপি মধ্যস্থেন অন্যথা প্রাসঙ্গিকবিষয়মাদায় বাদিনােরেক জয়স্বীকারপত্তা প্রকৃতবিষয়ে তয়াে- জয়পরাজয়ব্যবস্থাপনরূপস্য মধ্যস্থকর্তব্যস্যানিৰ্বাহৎ । বিপ্রতিপত্তৌ কৃতীয়াং কাযৈব ।

অদ্বৈতসিদ্ধিব্যাখ্যা লঘুচন্দ্রিকা । তু সভাবৈণাত্তদ্বিষয়কোটী অপলপ্য প্রাসঙ্গিকবিষয়ান্তরং ন বাদিভ্যা- মবলম্ব বিজয়ঃ স্বীকতুং শক্যতে। তস্মাৎ সাৰ্ব্বকালিকসংশয়াভাবপ্রয়ােজকসংস্কার- দাস্ত উক্তব্যবস্থাপন চ স্বকৰ্তব্যস্ত নিৰ্বাহায় মধ্যস্থেন বিপ্ৰতিপত্তিঃ কাৰ্য্যৈ- বেতি ভাব। (২৩ পৃষ্ঠা) প্রতিপন্নেত্যাদি। স্বসম্বন্ধিত জ্ঞাতে সৰ্বত্ৰ ধৰ্ম্মিণি। ত্রৈ- কালিকস্য সৰ্ব্বদা বিদ্যমান। নিষেধস্য অত্যন্তাভাবস্য। প্রতি ঘােগি ন বা। যেন সম্বন্ধেন যজ্রপবিশিষ্টসম্বন্ধিতয়া যং জ্ঞাতং তৎসম্বন্ধতজ্রপাব- ছিন্নং তন্নিষ্ঠোক্তাভাবশ্য প্রতিযগিত্বং নিবেম্। অন্যথা সম্বন্ধান্তররূপান্তরাব- চ্ছিন্নমুক্তপ্রতিযগিত্বমাদায় সিদ্ধসাধ্যতাপত্তেঃ । স্বপদং রজতত্বাদিবিশিষ্টপরম্ । নব্যমতে স্বত্বস্যাননুগতত্ত্বাত্তত্তথ্যক্তিপরত্বে ব্যক্তিভেদেন মিথ্যাত্বস্য ভেদাপত্তেঃ। তথা চ রজততাদায়েন জ্ঞায়মানং যচ্ছুক্ত্যাদিকং তন্নিষ্ঠাভাবীয়ং যদ্রজতত্বতাদাত্ম- সম্বন্ধাবচ্ছিন্নপ্রতিযােগিত্বং তস্য প্রতীতিক ইব ব্যাবহারিকেহপি রজতে সত্বাত্ত সিদ্ধসাধনবারণায় সর্বত্র ইত্যুক্ত। কালিকাব্যাপবৃত্তিমদত্যন্তাভাবমাদায় অর্থান্তরপত্তেঃ ত্ৰৈকালিক ইত্যুক্ত। যদ্যপি অত্যন্তাভাবস্বৈ প্রতিযােগিতা ভেদসহিষ্ণুন তাদাত্মেনাবচ্ছিন্না, ন তু ভেদস্য ; তাদৃশতদাত্মস্য ভেদাবিরােধিত্বাৎ, ভেদাসহিষ্ণু চ তাদাত্ম্যং নাস্ত্যেব অত্যন্তাভেদে তাদাত্মাদিসম্বন্ধাসংভবাৎ। তথাপি প্রকৃতানুমানাত্তাদাত্মবচ্ছিন্নভেদপ্রতিযগিতাসিদ্ধিমাদায়ার্থান্তর ং। অতঃ অত্যন্তাভাব ইত্যুক্ত। সংসৰ্গাভাবে। বা নিবেশ্যঃ। তাদৃশাভাব- প্রতিযােগিতাবচ্ছেদকরজতত্বাদিমত্ত্ব সাধ্যত্বে সাধাপ্রসিদ্ধি। অতস্তদপহায় তাদৃশ- প্রতিযােগিত্বমেব সাধ্য কৃতম্। তাপি শুক্তিরূপ্যাদাবনুমানাৎ পূৰ্বমসিদ্ধিঃ। রজত- সম্বন্ধি প্রতীয়মানসৰ্বান্তৰ্গতব্যাবহারিকরজতদিনিষ্ঠাত্যন্তাভাবপ্রতিযােগিত্ব তাদৃশা- বচ্ছিন্ন তত্ৰাভাবাৎ। অতো ব্যাবহারিকপক্ষকবিশেষানুমানেষু রজত্বদিনা ঘটে। নাস্তীতি প্রতীতে ঘটাদিরেব দৃষ্টান্ত। ননু তাদৃশপ্রতিযােগিতায় ব্যধিকরণাবচ্ছেদকরজতত্ব- বত্ত্বং শুক্তিরূপ্যাদাপি প্রসিদ্ধ্যা তদেব সাধ্যং কুততা ন কৃতমিতি চেন্ন। তথা সতি ব্যাবহারিকরজতাদিরূপে পক্ষে তৎপ্রসিদ্ধ। সিদ্ধসাধনাপত্তেঃ। সমানাধিকরণবিচ্ছেদক- রজতস্যৈব সাদ্ধীকাৰ্য্যত্বে প্রসিদ্ধ্যাবশ্যকত্বাৎ। সামান্তানুমানে তু শুক্তিরূপ্যাদিকং মুলােক্ত দৃষ্টান্ত। স্বত্বানুগতস্য প্রচাং মতে স্বীকারেণ সুবিশিষ্টসম্বন্ধিতয়া প্রথম পরিচ্ছেদঃ। (অনুবাদ)-করিতে হয়, তাহা যে পর্যন্ত তণ্ডুলনিষ্পত্তি না হয়, সেই পৰ্যন্ত বারবার অনুষ্ঠিত হয়, সেইরূপ বেদান্তবাক্যশ্রবণ, যেহেতু ব্ৰহ্মদর্শনের জন্যই অনুষ্ঠিত হয়, সেই হেতু অর্থাৎ ইহা দৃষ্টাৰ্থ বলিয়া, দর্শপূর্ণমাস ষাগের অবঘাতের সাম্য ইহাতে আছে। এই জন্যই সূত্রে শ্রবণাদির আবৃত্তি বিষয়ে উপদেশ হইয়াছে। শ্রবণবিষয়ে বিধি যদি অপূৰ্ব্ব-বিধি হইত, তাহা হইলে, এই আরত্তির উপদেশ সৰ্বোষধির অবঘাতের ন্যায় কখনই সঙ্গত হইত না। অগ্নয়ন প্রসঙ্গে এইরূ প ত হইয়াছে যে, “সকলপ্রকার ওষধির দ্বারা উদূখলকে পূর্ণ করিয়া ঐ সকল ওষধি দ্রব্যের উপর অবঘাত করিবে। তাহার পর সেই উদূখলকে নিকটে রাখিবে। এইরূপ বাক্যে যে অব- ঘাতের বিধান দেখিতে পাওয়া যায়, তাহ। যেহেতু উদ্খলের সংস্কাররূপ অদৃষ্টার্থের জন্য বিহিত হইয়াছে, সেই হেতু উহার কোন দৃষ্টফল দেখিতে পাওয়া যায় না ; সুতরাং, ঐ অবঘাতের আবৃত্তিও করিতে হয় না। এই প্রকার সিদ্ধান্ত জৈমিনীর দর্শনে একাদশ অধ্যায়ে ব্যবস্থাপিত হইয়াছে। এই কারণে বলিতে হইবে যে, শ্রবণ-বিধি নিয়মবিধিই হইবে, অর্থাৎ উহ অপূৰ্ব্ব-বিধি হইতে পারে না। তাৎপৰ্য-বেদান্তশ্রবণে অপূৰ্ব্ব-বিধি হওয়া উচিত এই প্রকার মতকে স্থাপন করিবার জন্য প্রকটাৰ্থকার-মতানুসারিগণ আরও একটী শঙ্কা করিয়া থাকেন। সেই শঙ্কাটী এই প্রকার।—যেমন, অগ্নিচয়ন নামক যাগবিশেষে উলুখলের উপর সকল প্রকার ওষধিদ্রব্যকে স্থাপন করিয়া যে অবঘাতের বিধান করা হইয়াছে, তাহা একবার করিলেই, উহার ফল যে উলুখলসংস্কার, তাহা নিষ্পন্ন হইয়া যায়। সেইরূপ অধিকারী ব্যক্তি এক বাবুমাত্র বেদান্ত শ্রবণ করিলেই, তাহার পক্ষে আর বেদান্তবাক্য- শ্রবণের আবশ্যকতা থাকে না, সৰ্বোষধির অবঘাতের ন্যায় বেদান্তবাক্য শ্রবণও অদৃষ্টের উৎপাদক ; সুতরাং, উহার একবার অনুষ্ঠান হইলেই ঐ অদৃষ্ট উৎপন্ন হয় বলিয়া বারবার শ্রবণের আবশ্যকতা থাকে না। এই রূপ হইলে ইহাই সিদ্ধ হয় যে, অদৃষ্টের হেতু বলিয়া বেদান্তবাক্যশ্রবণে যে বিধি আছে, তাহা অপূৰ্ব্ব-বিধি হওয়া উচিত। তাহাই যদি হইল, তবে সর্বোষধির অবঘাতে যেমন অপূৰ্ব্ব-বিধিরই কল্পনা মীমাংসকগণ করিয়া থাকেন, সেই ভাবেই বেদান্তবাক্যশ্রবণেও অপূৰ্ব্ব-বিধিরই কল্পনা হওয়া উচিত ; সুতরাং, ইহাকে নিয়ম-বিধি বলা যুক্তিসঙ্গত নহে।

৩৪ সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহঃ। ( তাৎপৰ্য)-প্রকটাৰ্থকার-মতানুসারিগণের এই প্রকার সিদ্ধান্ত যে, বেদান্ত সূত্র এবং ভায় বিরুদ্ধ, তাহাই বুঝাইবার জন্য, বিবরণাচাৰ্যমতানু- সারিগণ “অতএব” ইত্যাদি গ্রন্থের আরম্ভ করিতেছেন। প্রথমৃতঃ, তাহারা বলিতেছেন যে, শ্রবণ একবার করিলেই যে চলিবে, তাহা বেদান্তসূত্রের অভিমত নহে। কারণ, সূত্রকার “আবৃত্তিরসকৃদু- পদেশাৎ” ৪১১ এই সূত্রে শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসনরূপ তিনটা উপায়েবই আরত্তির উপদেশ দিয়াছেন। সূত্ৰটীর অর্থ—আবৃত্তি অর্থ বারবার অনুষ্ঠান। কাহার অনুষ্ঠান ?—অর্থাৎ শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসনের অনুষ্ঠান। অর্থাৎ শ্ৰবণ, মনন ও নিদিধ্যাসনের বারবার অনুষ্ঠান করিতে হইবে। কি কারণে এইরূপ করিতে হইবে, তাহার উত্তরে বলা হইয়াছে যে, “অসৎ উপদেশাৎ।” অর্থাৎ বারবার ব্রহ্মবিষয়ে শ্রবণ ও মননাদির উপদেশ যেহেতু শ্রুতিতে দেখিতে পাওয়া যায়, সেই হেতু উহাদিগের আবৃত্তি করিতে হইবে। ইহাই হইল উক্ত সূত্রের তাৎপৰ্য্য। আমরা উপনিষদে দেখিতে পাই যে, ভৃগুবল্লী নামক তৈত্তিরীয় উপ- নিষদের অংশবিশেষে ভৃগুর প্রতি তাঁহার পিতা বারংবার “তপসা ব্রহ্ম বিজিজ্ঞাসম্ব” ইত্যাদি বাক্য দ্বারা উপদেশ প্রদান করিয়াছেন, এবং ছান্দোগ্য উপনিষদেও দেখিতে পাওয়া যায় যে, ব্ৰহ্মতত্ত্ব অতি দুর্বোধ বলিয়া ঐ তত্ত্ববিষয়ে নিজের পুত্র শ্বেতকেতুকে তদীয় পিতা আরুণি বহুবার নানাভাবে উপদেশ প্রদান করিয়াছেন। এই জাতীয় উপদেশকে লক্ষ্য করিয়া সূত্রে বলা হইয়াছে যে, “অসদুপদেশাৎ” ইতি। এই সূত্রের তাৎপৰ্য বৰ্ণনপ্রসঙ্গে ভগবান্ ভাষ্যকারও যাহা বলিয়াছেন, তাহার দ্বারা বেদান্তবাক্যশ্রবণে যে নিয়ম-বিধি আছে, এবং তাহা যে অপূৰ্ব্ব-বিধি হইতে পারে না, তাহাও স্পষ্ট বুঝা যায়। যেহেতু ভাষ্যকার যাহা বলিয়াছেন তাহার সারমর্ম এই তিনি বলিয়াছেন যে, যে কাল পর্যন্ত ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকার না হয়, তাবৎ পৰ্যন্ত বারবার শবণাদি করিতে হইবে, ইহা যখন উপনিষদের উপ- দেশ হইতেই প্রতিপন্ন হইতেছে, তখন এই শ্রবণ, মনন এবং নিদি- ধ্যাসনের যে ফল, তাহা দৃষ্টই হইবে, কখনই অদৃষ্ট হইতে পারে না। শাস্ত্রে অদৃষ্টফলের জন্য যাহা বিহিত হইয়া থাকে, তাহার অনুষ্ঠান একবার মাত্রই করিতে হয় । কিন্তু, যাহা ফল দৃষ্ট, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রথম পরিচ্ছেদ। । ( তাৎপৰ্য)—সেই দৃষ্ট ফল উৎপন্ন না হইবে, তাবৎ পৰ্যন্ত প্রয়ােজন হইলে বারবার সেই উপায়ের অনুষ্ঠান করিতেই হইবে। শাস্ত্রে দুইরূপ অবঘাতের বিধি দৃষ্ট হইয়া থাকে। একটী দর্শপূর্ণ- মাস প্রকরণে, পুরােডাশের জন্য তণ্ডুল নিষ্পত্তি করিতে, ব্রীহি সমূহের অবঘাত বিধি, অপরটী অগ্নিয়ন প্রকরণে, উলুখলের সংস্কারের সংস্কারের জন্য তাহার উপর সৰ্ব্বোষধিদ্রব্য রাখিয়া তাহার অবঘাতের জন্য বিধি। পূর্বোক্ত অবঘাতের ফল দৃষ্ট অর্থাৎ তণ্ডুলনিষ্পত্তি। যাবৎ উক্ত তঙুলের নিষ্পত্তি না হয়, তাবৎ যতবার আবশ্যক হইবে, ততবার পূর্ধ্বোক্ত অবঘাত করিতেই হইবে। ইহাই হইল শাস্ত্র-সিদ্ধান্ত। আর দ্বিতীয় অবঘাত, যাহা অগ্নিচয়ন প্রকরণে বিহিত হইয়াছে, তাহার যেহেতু কোন দৃষ্ট ফলই দেখিতে পাওয়া যায় না, সেইজন্য তাহা অদৃষ্ট ফলের জন্যই বিহিত হইয়াছে—ইহা কল্পনা করিতে হয়, এবং উহা অদৃষ্টফনের কারণ বলিয়া, একবারমাত্রই উহার অনুষ্ঠান করিলে চলে। ইহা মীমাংসা দর্শনে ব্যবস্থাপিত হইয়াছে। এই অবঘাতের দৃষ্টান্ত দেখাইয়া শ্রবণ-বিধিকে কখনই অপূৰ্ব্ব-বিধি বলিয়া স্থাপিত করা যাইতে পারে না। কারণ, শ্রবণ-বিধি যদি অপূৰ্ব্ব-বিধি হইত, তাহা হইলে, উপনিষদে শ্বেত- কেতু এবং ভৃগুকে লক্ষ্য করিয়া বারবার শ্রবণের যে প্রসঙ্গ দেখিতে পাওয়া যায়, তাহা কখনই উপপন্ন হইতে পারে না, কিন্তু শ্রবণ-বিধিকে যদি নিয়ম- বিধি বলিয়া অঙ্গীকার করা যায়, তাহা হইলে উপনিষদে যে শ্রবণের আবৃত্তি বিষয়ে উপদেশ দেখিতে পাওয়া যায়, তাহা সুসঙ্গত হয়। এই কারণে ইহা নিয়ম-বিধিই বলিতে হইবে। ইহাকে অপূৰ্ব্ব-বিধি বলা যায় না। এই কারণেই ভাষ্যকার এইস্থলে দার্শপূর্ণমাসিক অবঘাতের নাম করিয়া এই অববাতের সহিত বেদান্তশ্রবণের সাজাত্য প্রদর্শন করিয়াছেন, এবং অগ্নিচয়নে যে সৗেষধির অবঘাত বিহিত হইয়াছে, তাহার সহিত বেদান্ত- শ্রবণের বৈষম্যই প্রদর্শিত হইয়াছে। শ্রবণবিধি যদি অপূৰ্ব্ববিধি হইত, তাহা হইলে, অগ্নিচরনের যে অবঘাত, তাহারই সহিত ইহার সাদৃশ্য থাকিত এবং দর্শপূর্ণমাসের যে অবঘাত, তাহার সহিত বৈষম্যই থাকিত। ইহার দ্বারা ইহাই সিদ্ধ হইতেছে—ভাষ্যকার বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধিরই অঙ্গীকার করিয়াছেন।

সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহঃ। তদভাবে হি যথা বস্তু কিঞ্চিৎ চক্ষুষা বীক্ষমাণঃ তত্র স্বাগৃহীতে সূক্ষেম বিশেষান্তরে কেনচিৎ কথিতে তদবগমায় তস্যৈব চক্ষুষ পুনরপি সপ্রণিধানং ব্যাপারে প্রবর্ততে, এবং মনসা “অহম্‌” ইতি গৃহমাণে জীবে বেদান্তৈঃ অধ্যয়নগৃহীতৈঃ উপদিষ্টং নির্বিশেষব্রহ্মচৈতন্যরূপ আকর্ণ তদবগমায় তত্র সাবধানং মনসঃ এব প্রণিধানে কদাচিৎ পুরুষঃ প্ৰবৰ্ত্তেতেতি বেদান্তশ্রবণে প্রবৃত্তিঃ পাক্ষিকী স্যাৎ। “অপ্রাপ্য মনসা সহ” ইতি শ্রুতিঃ “মনসৈনুদ্রষ্টব্যং দৃশ্যতে ত্বরীয়া বুদ্ধ্যা” ইত্যপি শ্রবণেন অনবহিতমনােবিষয়েতি শঙ্কাসম্ভবাৎ। অনুবাদ-বেদান্তশ্রবণে যদি নিয়মবিধি না থাকিত, তাহা হইলে, যেমন কোন বস্তু, নয়নেন্দ্রিয় দ্বারা দেখিবার সময়, সেই বস্তুগত অতি সূক্ষ্ম বিশে- ষান্তর কেহ বলিয়া দিলে প্রথমদর্শনে তাহা গৃহীত না হইলেও পরে তাহাকে ভাল করিয়া বুঝিবার জন্য সেই ব্যক্তিই পুনরায় নিজের চক্ষুকে প্রণিধানের সহিত ব্যাপৃত করিয়া থাকে, তদ্রুপ প্রকৃতস্থলেও অহং এই আকারে জীবভাবে পরমাত্মা মনের দ্বারা সাক্ষাৎকৃত হইলেও, অধ্যয়ন দ্বারা গৃহীত বেদান্তশাস্ত্র যে ভাবে উপদেশ করিয়া থাকে, সেই ভাবে অর্থাৎ নিৰ্বিশেষ ব্রহ্মচৈতন্যরূপে বুবিয়া তাহার সাক্ষাৎকার করিবার জন্য অবধানের সহিত ব্ৰহ্ম বস্তুতে নিজ মনকে প্রণিহিত করিতে কদাচিৎ পুরুষের প্রবৃত্তি হইতে পারে। এই কারণে বেদান্তস্রবণে যে প্রবৃত্তি, তাহা পাক্ষিক হইতে পারে। শ্রুতিতে আছে “মনের সহিত তাহাকে না পাইরা” ইত্যাদি, এবং অন্যত্র আছে “মনেরই দ্বারা ব্ৰহ্ম অনুদ্রষ্টব্য” অর্থাৎ প্রণিহিত বুদ্ধিদ্বারাই তাহাকে দেখিতে পাওয়া যায়।” ইত্যাদি। এই সকল শ্রুতিবাক্য দ্বারা কেবল মনের সাহায্যে আত্মা দৃষ্ট না হইলেও প্রণিহিত অর্থাৎ সমাহিত চিত্তের সাহায্যেই আত্মা দৃষ্ট হইয়া থাকেন—এইপ্রকার মতই ব্যবস্থাপিত হইয়াছে—এই- প্রকার শঙ্কা হইতে পারে বলিয়া বেদান্তশ্রবণে পাক্ষিক অপ্রাপ্তি হইতে পারে। (সুতরাং, নিয়মবিধির দ্বারাই সেই পাক্ষিক অপ্রাপ্তির পরিহার করিতে হইবে )। তাৎপৰ্যবিবরণমতানুসারিগণ বেদান্তবাক্যশ্রবণে নিয়মবিধি আছে, ইহা অঙ্গীকার করিবার পক্ষে আরও যুক্তি প্রদর্শন করিতেছেন। তাহাদের বক্তব্য এই যে, ব্ৰহ্ম সাক্ষাৎকারের পক্ষে বেদাগুবাক্যশ্রবণ ব্যতিরিক্ত অন্য প্রথম পরিচ্ছেদঃ । ৩৭ ( তাৎপৰ্য)—প্রমাণ নাই, ইহাই বুঝাইবার জন্য বেদান্তবাক্যে নিয়মবিধি অঙ্গীকার করা হইয়াছে । অপূৰ্ব্ববিধিবাদীর মতেও বেদান্তবাক্যশ্রবণ ব্যতিরিক্ত ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের জন্য কোন কারণ না থাকিলেও তাহার মতে, অদৃষ্টকারণ দ্বারা বেদান্তবাক্যশ্রবণ ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের কারণ হইয়া থাকে । কিন্তু, নিয়মবিধি- বাদিগণের মতে অর্থাৎ বিবরণানুসারিগণের মতে শাব্দাপরােক্ষবাদের নিয়মানু- সারে কোন প্রকার অদৃষ্টকে দ্বার না করিয়াও বেদান্তবাক্যশ্রবণ ব্ৰহ্মসাক্ষাৎ কারের কারণ হইয়া থাকে। ইহাই হইল উভয় মতের পার্থক্য। যদি কেহ এ প্রকার শঙ্কা করে যে, বেদ যখন বলিতেছে যে, সেই ব্ৰহ্মকে মনের দ্বারাই সাক্ষাৎকার করিতে হইবে, তখন, বেদান্তবাক্যশ্রবণ হউক বা নাই হউক, মনই ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের কারণ হইবে না কেন? যদি বল, বেদে এ কথাও বলা হইয়াছে যে, মনের সহিত বাগিন্দ্রিয় যাহা হইতে নিবৃত্ত হইয়া থাকে, ইত্যাদি বাক্যদ্বারা ইহা বুঝা যায় যে, ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারে মনঃ কারণ হইতে পারে না। তাহাও ঠিক নহে, কারণ, বেদ অন্যত্র আবার বলিয়াছে যে, মনের দ্বারাই ব্ৰহ্মকে বুঝিতে হইবে, তখন, বেদের এই বিরােধ পরিহারের জন্য বলিতে হইবে যে, অসমাহিত মনের দ্বারা তাহাকে বুঝা যায় , পরন্তু, সমাহিত মনদ্বারাই তাহাকে বুঝা যায়, ইত্যাদি। সুতরাং, মনঃই ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের কারণ বা প্রমাণ, বেদান্তবাক্যশ্রবণ কারণ বা প্রমাণ নহে। দেখ, যেমন আমরা চক্ষুঃ দ্বারা যখন কোন বস্তু বিলােকন করি,তখন সেই সময় সেই দ্রষ্টব্য বস্তুগত যত বিশেষ ধৰ্ম্ম আছে, তাহা ভাল করিয়া হয় ত দেখি না। কিন্তু, যদি কেহ তখন বলিয়া দেয় যে, “ঐ বস্তুতে দেখিবার যােগ্য আরও অনেক বিশেষ আছে, ভাল করিয়া প্রণিধান পূর্বক দেখ তাহা হইলে,আমরা সেই বস্তুতে সেই সব বিশেষ ধৰ্ম্ম দেখিতে পাই, আর তজ্জন্য সেই বিশেষ ধৰ্ম প্রত্যক্ষের প্রতি উক্ত ব্যক্তির উপদেশবাক্য আমরা কারণ বা প্রমাণ বলি না, কিন্তু, প্রণিহিত চক্ষুকেই কারণ বা প্রমাণ বলি। তদ্রুপ, আপাততঃ আমরা মনের দ্বারা জীবভাবে ব্রহ্মের সাক্ষাৎ করিতে সৰ্ব্বদা সমর্থ হইলেও ব্রহ্মের যে নিৰ্বিশেষ ভাব, তাহা সাক্ষাৎকার করিতে সমর্থ হই না। কিন্তু, বেদান্ত- বাক্য যখন বলিয়া দেয় যে, বাস্তবিক ব্ৰহ্ম নির্বিশেষস্বরূপ, তখন আমরাও ঐ প্রকার বাক্যশ্রবণে চিত্তকে প্রণিহিত করিতে প্রবৃত্ত হই এবং তাহার পর সেই প্রণিহিতচিত্তের সাহায্যে ব্রহ্মসাক্ষাৎকার হইতে পারে। সুতরাং, প্রণিহিতচিত্তকে ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের প্রতি কারণ বা প্রমাণ বলা উচিত, সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহঃ। অথবা—“জুষ্টং যদা পশত্যন্যমীশমস্য মহিমামিতি বীতশোক” ইত্যাদি-শ্রবণাৎ ভিন্নাত্মজ্ঞানাৎ মুক্তিরিতি ভ্রমসম্ভবেন মুক্তিসাধন- জ্ঞানায় ভিন্নত্মবিচাররূপে শাস্ত্রান্তরশ্রবণেপি পক্ষে প্রবৃত্তিঃ স্যাৎ ইতি অদ্বৈতাত্মপরবেদান্তশ্ৰবণনিয়মবিধিরয়মস্তু। ইহ আত্মশব্দশ্য “ইদং সর্বং যদয়মাত্মা” ইত্যাদি-প্রকরণ-পৰ্যালােচনয়া অদ্বিতীয়াত্মপরাৎ। ন হি বস্তুসৎসাধনান্তরপ্রাপ্তাবেব নিয়মবিধিরিতি কুলধৰ্ম্মঃ। যেন বেদান্তশ্রবণনিয়মাৰ্থবায় নিয়মাষ্টজন্য-স্বপ্রতিবন্ধক-কল্মনিবৃত্তিদ্বারা সানিশ্চয়রূপব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারস্য বেদান্তশ্ৰবণৈকসাধ্যত্বস্য অভ্যুপগ- ন্তব্যত্বেন তত্র বস্তুতঃ সাধনান্তরাভাবাৎ ন নিয়মবিধিযুজ্যতে ইতি শঙ্কেত। কিন্তু যত্র সাধনান্তরতয়া সম্ভাব্যমানস্য পক্ষে প্রাপ্ত্যা বিধিৎসিতসাধনান্তরস্য পাক্ষিক্যপ্রাপ্তির্নিবারয়ুিতুং ন শক্যতে নিয়মবিধিঃ। তাতেব অপ্রাপ্তাংশপরিপূরণস্য তৎফুলস্য সিদ্ধে। (তাৎপৰ্য)-বেদান্তবাক্যশ্রবণ ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের কারণ নহে। এখন এইরূপ বিশ্বাস যাহার হইবে, তাহার মতে বেদান্তবাক্যশ্রবণে পাক্ষিক অপ্রাপ্তি হইবে, আর সেইজন্য বিবরণমতানুসারিগণ বলেন যে, এইরূপ অপ্রাপ্তিপরিহার করিবার জন্যও বেদান্তবাক্যশ্রবণে নিয়মবিধি স্বীকার করা আবশ্যক। ইহাই হইল নিয়মধিধি স্থাপনের পক্ষে আর একটী অনুকূল যুক্তি। অনুবাদ—অথবা এইপ্রকার বলা যাইতে পারে—শ্রুতিতে একটী বাক্য আছে, যথা- ঋষিগণ-কর্তৃক সেবিত সেই ঈশ্বরকে অন্যভাবে যখন দেখিতে পাওয়া যায়, তখনই গতশােক হইয়া সেই পরমেশ্বরের স্বরূপ লাভ করিতে পারা যায়। এই বাক্যটীতে যে অন্য শব্দটী রহিয়াছে, তাহা দ্বারা জীব হইতে ব্রহ্মকে ভিন্ন বলিয়াই শ্রুতি বুঝাইতেছেন ; সুতরাং, ভিন্নাত্মজ্ঞানই মুক্তির কারণ, এই ভাবে যদি কারও ভ্রান্তি হয়, তখন সে, মুক্তির সাধন যে জ্ঞান, তাহা লাভ করিবার জন্য, জীব ও ব্রহ্মের ভেদপ্রদর্শনপর যে সকল দ্বৈত বিচারশাস্ত্র আছে, তাহারই শ্রবণে প্রবৃত্ত হইতে পারে। এই ভাবে বেদান্ত- শ্রবণে পাক্ষিক অপ্রাপ্তির সম্ভাবনা রহিয়াছ। সেই অপ্রাপ্তিপরিহারের জন্য জীব ও ব্রহ্মের অভেদবােধক বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধিই হউক। “এই যাহা কিছু তাহা সৰই আত্মা” ইত্যাদি প্রকার প্রকরণসমূহের পৰ্যালােচনা করিলে বুঝিতে পারা যায় যে, এই বেদান্তশাস্ত্রে যে আত্মশব্দ প্রযুক্ত হইয়াছে, প্রথম পরিচ্ছেদঃ। ৯ (অনুবাদ)-তাহা অদ্বিতীয় আত্মতত্ত্বকেই প্রতিপাদন করিয়া থাকে। (সুতরাং, ভিন্নাত্মজ্ঞান মুক্তির কারণ হইতে পারে না;) যাহা বাস্তবিক সাধনান্তর তাহার প্রাপ্তি থাকিলেই যে নিয়মবিধি হইবে (এরূপ নিয়ম) কুলধৰ্ম্ম হইতে পারে । (অর্থাৎ কুলধৰ্ম্ম যেমন অনুষ্মনীয়, ইহা সেইরূপ অনুল্লঙ্ঘনীয় নিয়ম হইতে পারে না)। বেদান্তশ্রবণে যে নিয়মবিধি আছে, তাহার সার্থকতার জন্য, নিয়মাদৃষ্টের দ্বারা ব্ৰহ্মজ্ঞানােৎপত্তির প্রতিবন্ধক স্বরূপ দুরদৃষ্ট বিশেষের নাশ দ্বারা সানিশ্চয়রূপ ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের প্রতি বেদান্তশ্রবণের কারণ আছে, ইহা বলিতে হইবে। এই প্রকার সিদ্ধান্ত, অঙ্গীকার করিতে হইবে বলিয়া, প্রকৃতস্থলে বাস্তবিক সাধনান্তর না থাকা নিবন্ধন, উক্ত কুলধৰ্ম্মের বলে ইহা নিয়মবিধি হইতেই পারে না-এই প্রকার শঙ্কা করা যাইতে পারে না। কারণ, প্রকৃত সাধনান্তর না থাকলেও যদি কোন একটী বস্তু আপাততঃ সাধনান্তর বলিয়া প্রতীত হয়, তাহা হইলেও সেই সম্ভাবিত সাধনান্তরের পাক্ষিক প্রাপ্তি হইয়া দাঁড়ায়। এই ভাবে প্রকৃত যাহা সাধন বলিয়া শাস্ত্রে বিধিৎসিত, তাহার পাক্ষিক অপ্রাপ্তিও সম্ভাবিত হইতে পারে। এইরূপ পাক্ষিক অপ্রাপ্তিকে পরিহার করিবার জন্যও নিয়মবিধি স্বীকার করা যায়, কারণ, অপ্রাপ্তাংশের পরিপূরণরূপ যে নিয়মবিধির ফল, তাহা এই ভাবেও সিদ্ধ হইয়া থাকে। সুতরাং, এইপ্রকার যুক্তির বলেও বেদান্তশ্রবণে নিয়ম- বিধি অঙ্গীকার করা যাইতে পারে। তাৎপৰ্য—বেদান্তবাক্যশ্রবণে যে নিয়ম-বিধি অাছে, তাহা সমর্থন করিবার জন্য আরও একটী নুতন যুক্তির অবতারণা করা হইতেছে। যুক্তিটী এই ;—শ্রুতিতে আছে “জুষ্টং যদা পশ্যত্যতমীশমস্য মহিমান- মিতি বীতশােকঃ” ইত্যাদি। ইহার অর্থ ঋষিগণসেবিত অন্য ঈশ্বরকে যখন দেখিতে পাওয়া যায়, তখন তাহারই মহিমাকে বুঝিয়া বীতশােক হইতে পারা যায়। এই শ্রুতিতে ঈশ্বরের বিশেষণ রূপে যে অন্য শব্দটী প্রযুক্ত হইয়াছে, তাহার দ্বারা জীব ও ব্রহ্মের ভেদই প্রতিপাদিত হইতেছে। এইপ্রকার ভ্রান্ত মত দ্বারা যদি কেহ পরিচালিত হয় এবং তদনুসারে বেদান্ত- শ্রবণ না করিয়া, যদি সে জীব ও ব্রহ্মের ভেদপ্রতিপাদক যে সকল দ্বৈতশাস্ত্র আছে, তাহারই অনুশীলনে প্রবৃত্ত হয়, তাহা হইলে তাহার পক্ষে, ব্ৰহ্ম- সাক্ষাৎকারের কারণ যে বেদান্তশ্রবণ, তাহার অপ্রাপ্তি হইতে পারে অর্থাৎ সে তখন বেদান্তবাক্যশ্রবণে প্রবৃত্ত না হইতেও পারে। এরূপ সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহঃ। ( তাৎপৰ্য)—স্থলে বেদান্তবাক্য শ্রবণের এইরূপ অপ্রাপ্তি নিবারণ করিবার জন্য, অর্থাৎ এইরূপ ভ্রান্ত অথচ মুমুক্ষু ব্যক্তিকে শাস্ত্রান্তর বিচার পরিহার পূৰ্ব্বক কেবলমাত্র বেদান্তশ্রবণেই মােক্ষকারণ ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকার হয়— ইহা বুঝাইবার জন্য শ্রোতব্য বাক্যে নিয়ম-বিধি কল্পনা করা যে আবশ্যক, তাহাও বলিতে পারা যায়। এক্ষণে ইহার উপর এ প্রকার আশঙ্কা হইতে পারে যে, প্রকৃতস্থলে যে ভাবে নিয়ম-বিধির কল্পনা করা হইল, তাহা সঙ্গত নহে। কারণ, দেখিতে পাওয়া যায় যে, যে স্থলে কোন একটী ফলের প্রতি দুইটী পৃথক পৃথক বাস্তব সাধন বিদ্যমান থাকে, অথচ একটী সাধন দ্বারা সেই কাৰ্য্য সম্পন্ন হইলে সাধনান্তরটী নিম্প্রয়ােজন বলিয়া উপেক্ষিত হইতে পারে, সেই স্থলেই সেই সাধনান্তরের সম্ভাবিত উপেক্ষাকে পরিহার করিবার নিয়ম-বিধির আবশ্যকতা যেমন, পূর্বোক্ত ব্রীহি দৃষ্টান্তে তুষবিমােক কাৰ্যটী নখবিলন এবং অবঘাত এই উভয় দ্বারাই সম্পন্ন হয়, এবং নখবিলন দ্বারা যদি তুষবিমােক হইয়া যায়, তাহা হইলে অবঘাতটী নিষ্প্রয়ােজন বলিয়া উপেক্ষিত হইতে পারে, এই কারণে অবঘাতের এইরূপ পাক্ষিক অপ্রাপ্তিপরিহারের জন্য উহাতে নিয়মবিধি অঙ্গীকার করিতে হয়, তদ্রুপ প্রকৃতস্থলেও যদি দ্বৈতশাস্তুশ্রবণ এবং অদ্বৈতশাস্ত্র- শ্রবণ—এতদুভয়ই মােক্ষসাধন-জ্ঞানের বাস্তব কারণ হইত, এবং ইহাদের এক- টীর দ্বারা জ্ঞানরূপ ফলােৎপাদন হইলে অন্যটীর পাক্ষিক অপ্রাপ্তি হইত, তবেই সেই অপ্রাপ্তিপরিহারের জন্য নিয়ম-বিধির আবশ্যকতা হইতে পারিত। কিন্তু, বাস্তবপক্ষে এস্থলে সেরূপ সম্ভাবনা নাই। কারণ, এস্থলে বেদান্ত- শাস্ত্রই মােক্ষসাধন-জ্ঞানের একমাত্র কারণ, দ্বৈতশাস্ত্রানুশীলন তাহার কারণ নহে। তাহাকে যে কারণ বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইয়াছে, তাহা ভ্রান্তি- বশতঃই হইয়াছে। অতএব, এরূপস্থলে নখবিলনের সহিত ইহার তুলনা সঙ্গত নহে। নখবিলনটী তুষবিমােক কার্যের বাস্তব কারণ, এবং পূর্বোক্ত ভ্রান্তিবশতঃ যে দ্বৈতশাস্ত্রশ্রবণ, তাহা মােক্ষজনক-জ্ঞানের বাস্তব কারণ নহে। সুতরাং, এস্থলে দ্বৈতশাস্ত্রশ্রবণের পাক্ষিক প্রাপ্তি আছে বলিয়া তন্মলক অদ্বৈতশাস্ত্রশ্রবণের যে পাক্ষিক অপ্রাপ্তি, তাহা কখনই যুক্তিসিদ্ধ হইতে পারে না। অতএব এই যুক্তিবলে অদ্বৈতবেদান্তশ্রবণে যে নিয়ম- বিধি কল্পনা করা হইয়াছে, তাহা সঙ্গত নহে। ইহাই হইল আশঙ্কা।

প্রথম পরিচ্ছেদ। ৪১ প্রকারান্তরে নিয়মবিধি সংস্থাপন। অথবা গুরুমুখাধীনাধ্যয়নাদিব নিপুণস্য স্বপ্ৰযত্নমাত্রসাধ্যাপি বেদান্তবিচারাৎ সম্ভবতি সত্তানিশ্চয়রূপং ব্ৰহ্মাপরােজ্ঞান, কিন্তু, গুরুমুখাধীনবেদান্তবাক্যশ্রবণনিয়মাদৃষ্ট অবিদ্যানিবৃত্তিং প্রতি কল্মষ- নিরাসেন উপযুজ্যতে ইতি তদভাবেন প্রতিবদ্ধ অবিদ্যাম্ অনিবৰ্ত্তয়ৎ পরােক্ষজ্ঞানকল্প অবতিষ্ঠতে। ন চ জ্ঞানােদয়ে অজ্ঞানানিবৃত্তানুপ- পত্তিঃ। প্রতিবন্ধকাভাবশ্য সর্বত্র অপেক্ষিতনে সত্যপি প্রত্যক্ষ- বিশেষদর্শনে উপাধিনা প্রতিবন্ধা প্রতিবিম্বভ্রমানিবৃত্তিবৎ তদনিবৃত্ত- পপত্তেঃ তদর্থং শ্রবণনিয়মঃ। এবং চ লিখিতপাঠাদিনাপি স্বাধ্যায়গ্রহণ- প্রসক্তৌ গুরুমুখাধীনাধ্যয়ননিয়মবিধিবৎ স্বপ্ৰযত্নমাত্রপূর্বকস্যাপি বেদান্তবিচারস্য সানিশ্চয়রূপব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারাৰ্থত্বেন পক্ষে প্রাপ্তেী গুরুমুখাধীনশ্রবণনিয়মবিধিঃ অয়মস্তু। ন চ তদ্বিজ্ঞানার্থং স গুরুমেব অভিগচ্ছেৎ” ইতি গুরূপসদনবিধিনা এব গুরুরহিতবিচারব্যাবৃত্তিসিদ্ধে বিফলো নিয়মবিধিরিতি শঙ্ক্যম্। গুরূপসদস্য শ্রবণাঙ্গতয়া শ্রবণ- বিধ্যভাবে তদ্বিধিরেব নাস্তি ইতি তেন তস্য বৈফল্যাসক্তে। অন্যথা অধ্যয়নাঙ্গভূতােপগমনবিধি এব লিখিতপাঠাদিব্যাবৃত্তিঃ ইতি অধ্যয়ন- নিয়মােহপি বিফলঃ স্যাৎ। ( তাৎপৰ্য)--এতদুত্তরে বলিতে হইবে যে, ইহা সঙ্গত নহে। কারণ, বাস্তব সাধনান্তরের প্রাপ্তিনিবন্ধন আর একটী সাধনের অপ্রাপ্তিসম্ভাবনা পরিহার করিবার জন্যই যে নিয়ম-বিধি অঙ্গীকার করিতে হইবে, এমন কোন নিয়ম স্বীকার করা যায় না। যেহেতু, নিয়ম-বিধির ফল হইল অপ্রাপ্তিপরিহার। তাহা অপ্রাপ্তির ভ্ৰমজন্যই হউক, অথবা যথার্থজ্ঞান- জন্যই হউক, তদ্বিষয়ে দৃষ্টি করিবার কোন আবশ্যকতা নাই। যাহ। প্রকৃত কারণ, তাহার অপ্রাপ্তি না হউক, এইজন্যই নিয়ম-বিধির আশ্রয় করা হয়। প্রকৃতস্থলে পূৰ্বোদাহৃত শ্রুতিবাক্যে ‘অন্য এই শব্দ দেখিয়া যদি কাহারও দ্বৈতশাস্ত্রানুশীলনও মােক্ষসাধন-জ্ঞানের কারণ, এইরূপভ্রান্তি হয়, তাহা হইলে, তাহার পক্ষে আপাততঃ বেদান্তবাক্য-শ্রবণের পাক্ষিক অপ্রাপ্তি অপরিহরণীয় হইয়া উঠিবে, এইরূপ স্থলে যদি নিয়মবিধির দ্বারা তাহাকে বেদান্তবাক্য-শ্রবণে প্রবৃত্ত না করিতে পারা যায়, তাহা হইলে তাহার পক্ষে বিশেষ অনর্থপাতের 82 সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহঃ। ( তাৎপৰ্য)-সম্ভাবনা হইয়া পড়ে। বাস্তবিক পুরুষের অনর্থ নিবৃত্তির জন্যই বিধিবাক্যের আবশ্যকতা, ইহা সকলেরই স্বীকার্য। সুতরাং, এরূপ স্থলেও নিয়মবিধির সার্থকতাই থাকিল। অনুবাদ-- অথবা গুরুমুখাধীন বেদান্তবিচারের ন্যায় নিপুণব্যক্তির নিজের প্রযত্নমাত্রসাধ্য বেদান্তবিচার দ্বারাও ব্রহ্মের সানিশ্চয়রূপ অপরােক্ষ জ্ঞান হওয়া সম্ভব। কিন্তু, গুরূপদেশসাহায্যে বেদান্তবাক্যশ্রবণে যে নিয়মবিধি রহি. য়াছে, সেই শ্রবণ হইতে উৎপন্ন অদৃষ্ট, অবিদ্যানিবৃত্তির প্রতি দুরদৃষ্টনিবৃত্তির দ্বারা অনুকূল হইয়া থাকে। এই কারণে গুরুমুখাধীন বেদান্তবিচার না হইলে ঐ জ্ঞান প্রতিরুদ্ধ হয় বলিয়া অবিদ্যার নিবৃত্তি করিতে সমর্থ হয় না, সুতরাং, তাহা পরোক্ষ জ্ঞানের ন্যায়ই থাকিয়া যায়। যদি বল, জ্ঞানের উদয় হইলে অজ্ঞানের নিবৃত্তি হয় না, ইহা ত অনুপপন্ন, তাহাও ঠিক নহে। কারণ, সকল কাৰ্যেই প্রতিবন্ধকের অভাব অপেক্ষিত হইয়া থাকে। প্রত্যক্ষরূপ বিশেষ দর্শন থাকিলেও উপাধি দ্বারা প্রতিরুদ্ধ হয় বলিয়া যেমন প্রতিবিম্ব- ভ্রমের নিবৃত্তি হয় না, সেইরূপ অজ্ঞানের অনিবৃত্তিও উপপন্ন হইয়া থাকে। তাহারই জন্য শ্রবণে নিয়মবিধি (অঙ্গীকার করিতে হইবে।) এই ভাবে হস্তলিখিত পুস্তক পাঠাদি দ্বারাও স্বাধ্যায়গ্রহণে প্রসক্তি হইলে যেমন গুরু- মুখাধীন বেদাধ্যয়নে নিয়মবিধি অঙ্গীকৃত হয়; সেইরূপ নিজের প্রযমাত্র- সাধ্য যে বেদান্তবিচার, তাহা সত্তানিশ্চয়রূপ ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারে হেতু হয় বলিয়া পক্ষে প্রাপ্ত হইয়া থাকে। এই কারণে গুরুমুখাধীন বেদান্তশ্রবণেও নিয়মবিধি হওয়া উচিত। যদি বল, সেই ব্ৰহ্মজ্ঞানের জন্য সেই ব্যক্তি গুরুর নিকটেই গমন করিবে’-এই প্রকার গুরুসমীপগমন-বিষয়ে যে বিধি দৃষ্ট হয়, তাহার বলেই গুরুরহিত যে বিচার, তাহার ব্যাবৃত্তি সিদ্ধ হইয়া যাইতেছে, এজন্য নিয়মবিধি অনাবশ্যক; কিন্তু এই প্রকার শঙ্কা করাও উচিত নহে। কারণ, গুরুর নিকটে গমন, যেহেতু শ্রবণেরই অঙ্গ, সেই হেতু যদি শ্রবণবিধি না থাকে, তাহা হইলে সেই গুরুর নিকটে গমনবিষয়ক যে বিধি, তাহাই হইতে পারে না। এই কারণে সেই গুরুর সমীপে গমনবিষয়ক বিধির দ্বারা শ্রবণবিধির যে বিফলতা, তাহার প্রসক্তি হইতে পারে না। এরূপ অঙ্গীকার না করিলে, বেদাধ্যয়নের অঙ্গভূত যে গুরুর নিকট গমনে বিধি আছে, তাহার দ্বারাই লিখিতবেদপাঠাদির ব্যাবৃত্তি হইতে পারে বলিয়া বেদাধ্যয়নেও যে নিয়ম- বিধি আছে, তাহাও বিফল হইতে পারে।

প্রথম পরিচ্ছেদঃ । ৪৩ তাৎপৰ্যপূর্বে এক প্রকারে নিয়ম-বিধির আবশ্যকতা প্রদর্শন করা হইয়াছে। এক্ষণে অন্যপ্রকারে আবার তাহার আবশ্যকতা প্রদর্শন করা হইতেছে। এই প্রসঙ্গে যাহা বলা হইল তাহার সার মর্ম এই যে, বেদান্তবাক্যশ্রবণে নিয়মবিধির আবশ্যকতা আছে। কারণ, গুরুমুখ হইতে যদি বেদান্তশ্রবণ না করা যায়, পরন্তু নিজবুদ্ধিপ্রভাবে লিখিতপুস্তকাদিপাঠের সাহায্যে ব্ৰহ্ম- বিষয়ক নিশ্চয়াত্মক অপরােক্ষ জ্ঞান লাভ করা যায়, তাহা হইলে ঐ জ্ঞান ব্ৰহ্মজ্ঞানের ফল যে অবিদ্যানিবৃত্তি তাহা করিতে পারে না। কারণ, অবিদ্যা- নিবৃত্তিরূপ কাৰ্য্যটী হইতে গেলে অপরােক্ষব্ৰহ্মতত্ত্বজ্ঞান যেমন কারণ হয়, তদ্রুপ জন্মান্তরসঞ্চিতদুরদৃষ্টের নিবৃত্তিও কারণ হয় ; যেহেতু, কাৰ্যমাত্রেরই প্রতি প্রতিবন্ধকের নিবৃত্তিও একটী কারণ হইয়া থাকে। ব্ৰহ্মজ্ঞানীর কখন সুখদুঃখ বা শােক-মােহাদি উপস্থিত হইতে পারে না, ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হইলে সাধকের ব্রহ্মের ন্যায় অজর অমর ও সদানন্দময় হইবারই কথা। কিন্তু বহু ব্ৰহ্ম- জ্ঞই স্বয়ং সুখদুঃখাদির হস্ত হইতে যখন মুক্ত নহেন দেখা যায়, তখন বলিতে হয় যে, ব্ৰহ্মজ্ঞান হইলেই অবিদ্যানিবৃত্তি হয় না, জন্মান্তরীয় দুরদৃষ্ট তাহার প্রতিবন্ধকতাচরণ করে ; তাহার যে ব্ৰহ্মজ্ঞান, তাহা অপরােক্ষ হইলেও পরােজ্ঞান সদৃশই থাকিয়া যায়। অর্থাৎ তাহা অবিদ্যানিবৃত্তি করিতে পারে , আর তজ্জন্য তাহার সুখদুঃখাদির হস্ত হইতে নিষ্কৃতি লাভও ঘটে না। যদি বল, অপরােক্ষ জ্ঞান হইলেও যে, তাহা অবিদ্যার নিবৰ্ত্তক হয় না, অর্থাৎ তাহা পরােক্ষ সদৃশই থাকিয়া যায়, তাহার প্রমাণ কি ? তাহার উত্তর এই যে, ব্যবহারক্ষেত্রেই ইহার দৃষ্টান্ত সচরাচর দেখা যায়। যেমন, দর্পণ যতক্ষণ সম্মুখে থাকে, ততক্ষণ মুখটী দর্পণমধ্যে দেখা যায়। এস্থলে ‘মুখটী দর্পণে প্রবিষ্ট নহে’ এইপ্রকার নিশ্চয়ত্মক অপরােক্ষ জ্ঞান থাকিলেও দর্পণমধ্যে যে মুখটী প্রবিষ্ট, তাহাও অনুভূত হইতে থাকে। সুতরাং, অপরােক্ষ নিশ্চয়ত্মক জ্ঞান থাকিলেই যে, ভ্রমের নিবৃত্তি হইয়া থাকে, তাহা নহে। এইজন্য এইপ্রকার অপরােক্ষ জ্ঞানকে পরােক্ষবৎ বলা হয়। সম্পূর্ণরূপে অপরােক্ষ হইলে এইরূপ দর্পণমধ্যে মুখের জ্ঞান আর হইতে পারে না। কিন্তু, যেহেতু অপরােক্ষ জ্ঞান সত্ত্বেও দর্পণে মুখভ্রান্তি হয়, সেই হেতু এই অপরােক্ষ সম্পূর্ণ অপরােক্ষ পদবাচ্য হইতে পারে না, পরন্তু ইহা অপরােবও পদবাচ্য হয়।

৪৪ সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহঃ। ( তাৎপৰ্য)—এখন ইহার যদি কারণ অন্বেষণ করা যায়, অর্থাৎ এই অপ- রােক্ষ জ্ঞান সম্পূর্ণ নহে কেন, তাহার কারণ যদি অন্বেষণ করা যায়, তাহা হইলে দেখা যায়, দর্পণরূপ প্রতিবন্ধকের সন্নিধানই ইহার কারণ। দর্পণ সান্নিধ্য বশতঃই ঐ অপরােক্ষ জ্ঞানটী অসম্পূর্ণ থাকে বলিতে হইবে। অতএব বলিতে হইবে যে, নিজবুদ্ধিপ্রভাবে ব্ৰহ্মবিষয়ক অপরােক্ষ জ্ঞান লাভ করিলেও যে অজ্ঞােচিত সুখদুঃখাদির নিবৃত্তি হয় না, তাহার কারণ,-অপরােক্ষ জ্ঞানের অসম্পূর্ণতার সাধক দুরদৃষ্টরূপ প্রতিবন্ধকসদ্ভাব। আর নিজবুদ্ধিপ্রভাবে লব্ধ ব্ৰহ্মজ্ঞান যে অপরােক্ষ নহে, তাহাও বলা যায় না, কারণ, এরূপ শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তি বহু দেখিতে পাওয়া যায় যে, তাঁহাদের নিকট হইতে অপরে জ্ঞান লাভ করিয়া ধন্য হইয়া গিয়াছেন, অথচ তাহাদের সুখদুঃখাদি বর্তমান রহিয়াছে। সুতরাং, বলিতেই হইবে—ব্রহ্মজ্ঞান বলে অজ্ঞাননিবৃত্তি করিতে হইলে,ঐ অজ্ঞাননিবৃত্তির প্রতিবন্ধকস্বরূপ জন্মান্তরীয় দুরদৃষ্টকে নিবৃত্ত করিতেই হইবে। আর সেই দুরদৃষ্ট-নিবৃত্তির উপায় গুরুমুখত বেদান্তবাক্যবিচার, আর এই জন্যই শ্রবণে নিয়মবিধি অঙ্গীকার করা হয়। ইহাই হইল বর্তমান মতান্তরের সার মৰ্ম্ম। অবশ্য, এস্থলে একটী শঙ্কা আসিয়া উপস্থিত হয় যে, গুরুর নিকট যাইয়া বেদান্তশ্রবণ করিতে হইবে—এইপ্রকার বিধি আছে বলিয়া পৃথক্ শ্রবণবিধি না থাকিলেও ত তাহা সিদ্ধ হইতে পারে। কারণ, উপনিষদে দেখা যায়, “তাহাকে জানিবার জন্য গুরুর নিকট উপস্থিত হইতে হইবে,” ইত্যাদি বচন রহিয়াছে। ঐ সকল বচন দ্বারা যদি গুরুর নিকটে যাইয়া বেদান্তশ্রবণ কৰ্ত্তব্য ইহা বুঝা যায়, তাহা হইলে আবার শ্রোতব্যবাক্যে যে পৃথক্ বিধি আছে, তাহা অঙ্গীকার করিবার আবশ্যকতা কি ? সুতরাং, শ্রবণে কোনরূপ নিয়মবিধি আছে, এইপ্রকার মতটী যুক্তিযুক্ত হইতেছে না। ইহার উত্তরে বক্তব্য এই যে, এ কথাটীও ঠিক নহে। কারণ, গুরুর নিকট যাইবার জন্য যে বিধিটী দেখিতে পাওয়া যায়, তাহা শ্রবণ-বিধিরই অঙ্গ, শ্রবণ- বিধিটী উহার অঙ্গ নহে। দেখ, একটী নিয়ম আছে যে, অঙ্গবিধির দ্বারা প্রধানের বিধি লঙ্ঘন করা যায় না, কারণ প্রধানে বিধি যদি না থাকে, তাহা হইলে অঙ্গে বিধির সম্ভাবনাই হয় না, সুতরাং অঙ্গবিধির দ্বারা প্রধানবিধির লঘন করা অসম্ভব। আরও দেখ, এই নিয়ম যদি অঙ্গীকার না করা যায়, তাহা হইলে সমগ্র মীমাংসাশাস্ত্র যে অধ্যয়ন-বিধির উপর নির্ভর করে, সেই অধ্যয়ন-বিধিই ব্যর্থ হইয়া যাইতে পারে। কারণ, সেখানেও আচার্যের নিকট প্রথম পরিচ্ছেদঃ। ১৫ অন্যপ্রকারে নিয়ম-বিধির আবশ্যকতা প্রদর্শন। অথবা অদ্বৈতাত্মপরভাষাপ্রবন্ধশ্রবণস্য পক্ষে প্রাপ্ত্যা বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধিরস্তু। ন চ ন ফ্লেচ্ছিতব্য” ইত্যাদি নিষেধাদেব তদপ্রাপ্তি। শাস্ত্ৰব্যুৎপত্তিমান্দ্যাৎ বেদান্তশ্রবণমশকমিতি পুরুষার্থনিষেধ উল্লঙ- ঘ্যাপি ভাষাপ্রবন্ধেন অদ্বৈতং জিজ্ঞাসমান তত্র প্রবৃত্তিসম্ভবেন নিয়মবিধেঃ অর্থবর্বোপপত্তেঃ। অপগম্যতে হি কধিকরণে ব্যুৎ- পাদিতং পুরুষার্থে অনৃতবদননিষেধে সত্যপি দর্শপূর্ণমাসমধ্যে কুত- শ্চিদ্ধেততাঃ অঙ্গীকৃতনিষেধােল্লঙঘনশ্য অবিকলাং ক্রসিদ্ধিং কাময়- মানস্য অমৃতবদনে প্রবৃত্তিঃ স্যাৎ ইতি পুনঃ ক্ৰত্বৰ্থত দর্শপূর্ণমাসপ্রকরণে “নামৃতং বদেৎ” ইতি নিষেধ ইতি ক্ৰত্বৰ্থতয়া নিষেধস্য অর্থবম্। (তাৎপৰ্য)-বেদাধ্যয়নের জন্য উপনীত হইবার পৃথক বিধি দেখিতে পাওয়া যায়। এই বিধিটী বাস্তবিক অঙ্গবিধি এবং অধ্যয়ন-বিধিটী যে প্রধানবিধি, হতে কোন সন্দেহই হইতে পারে না। অতএব, সেখানে যেমন আচাৰ্য- সমীপগমনবিধি দ্বারা অধ্যয়নবিধি ব্যর্থ হয় না, সেইরূপ এস্থলেও গুরুসমীপ- গমনবিধির দ্বারা বেদান্তশ্ৰবণবিধিটীও ব্যর্থ হইতে পারে না। সুতরাং, এতদ্বারা ইহাই সিদ্ধ হইল যে, অবিদ্যার নিবৃত্তির জন্য ব্ৰহ্মসাক্ষাৎ কার লাভ করিতে হইলে, নিয়মতঃ গুরুমুখাধীন বেদান্তবাক্য শ্রবণ করিতেই হইবে। স্বয়ং বুদ্ধিবলে বেদান্তবাক্য বিচার করিলে অভীষ্ট ফল লাভ হইবে না। উহা পরােক্ষজ্ঞানের মত অফলপ্রদ হইয়াই থাকিবে। অতএব বেদান্ত- বাক্যশ্রবণে যে নিয়ম-বিধি আছে, তাহা স্বীকারই করিতে হইবে। ইহাই হইল নিয়ম-বিধির সমর্থনার্থ আর একটী অনুকুল যুক্তি। অনুবাদ—অথবা অদ্বৈতাত্মবােধক ভাষাপ্রবন্ধশ্রবণেরও পাক্ষিকপ্রাপ্তি আছে বলিয়া বেদান্তশ্রবণে নিয়ম-বিধি হউক। যদি বল, “অপভ্রংশ শব্দের ব্যবহার করিবে না” এইপ্রকার নিষেধশাস্ত্ৰদ্বারাই সেই সকল ভাষাপ্রবন্ধ- শ্রবণের অপ্রাপ্তি রহিয়াছে, তাহাও ঠিক নহে। শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তির অল্পপ্রযুক্ত বেদান্তশ্ৰবণ আমার দ্বারা হইতে পারে না—এইপ্রকার বুদ্ধিতে ঐ পুরুষার্থ নিষেধশাস্ত্রকে উল্ল্যন করিয়া ভাষাপ্রবন্ধেরই সাহায্যে অদ্বৈততত্ত্ব যে ব্যক্তি জানিতে চাহে, তাহার পক্ষে সেই ভাষাপ্রবন্ধসমূহের শ্রবণে প্রবৃত্তি সম্ভবপর বলিয়া নিয়ম-বিধির, সার্থকতা উপপন্ন হইতে পারে। শাস্ত্রেও এই প্রকার ৪৬ সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহঃ । (অনুবাদ)—অভপগম আছে, যেহেতু 'কধিকরণে এইপ্রকার ব্যবস্থাপিত হইয়াছে যে, অমৃতবদনে যে নিষেধ, তাহা পুরুষাৰ্থ-নিষেধ হইলেও দর্শপূর্ণমাস- যাগমধ্যে কোন কারণ বশতঃ উক্ত নিষেধের উল্লম্ফন পূৰ্ব্বক যাগফলের সম্পূর্ণ সিদ্ধিকামনাকারীর অনৃতবদনেও প্রবৃত্তি হইতে পারে, এই কারণে যাগসিদ্ধির অঙ্গ বলিয়া দর্শপূর্ণমাসপ্রকরণেও “মিথ্যা কথা বলিবে না” এইরূপ নিষেধশাস্ত্র দেখিতে পাওয়া যায়, এবং যাগফলের সাধক বলিয়াই ঐরূপ নিষেধের সার্থকতাও আছে। তাৎপৰ্যপূৰ্ব্বে বলা হইয়াছে যে, বেদান্তশাস্ত্র স্বয়ং অধ্যয়ন করিয়াও যদি অপরােক্ষ ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হয়, তাহা হইলেও গুরুমুখে শ্রবণ না করা হইলে সেই অপরােক্ষ ব্রহ্মজ্ঞান পরােক্ষবৎই হইয়া থাকে, যথার্থ অপরােক্ষ ব্রহ্মজ্ঞানের ন্যায় তাহা অবিদ্যানিবৃত্তি করিতে পারে না, কারণ, গুরুমুখে শ্রবণ ঘটিলে যথার্থ অপরােজ্ঞানের প্রতিবন্ধক ভূত দুরিতধ্বংস হয় না, আর এইজন্যই বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধি আবশ্যক। এক্ষণে বলা হইতেছে যে, যাহারা সংস্কৃত ভাষায় ব্যুৎপন্ন নহেন, তাহারা যদি প্রাকৃত প্রভৃতি চলিত ভাষায় লিখিত গ্রন্থাদির অধ্যয়ন করিয়া অপরােক্ষ ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করিবার জন্য প্রবৃত্ত হন, তাহা হইলে তাহাতে অপরােক্ষ ব্রহ্মজ্ঞান লাভ ঘটিবে না, এজন্য বেদান্তশ্রবণই করিতে হইবে—ইহাই বুঝাইবার জন্য এস্থলে নিয়মবিধির আবশ্যকতা আছে। এক্ষণে ইহার উপর এইরূপ একটী আশঙ্কা হইতে পারে যে, “চ্ছেভাষণ করিবে না” অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষা ভিন্ন অন্য কোন ভাষা ব্যবহার করিবে না— এইরূপ যে বেদবিধি আছে, তাহাতেই ত প্রাকৃত প্রভৃতি চলিত ভাষায় লিখিত গ্রন্থাদি অধ্যয়ন করিয়া অপরােক্ষ ব্রহ্মজ্ঞান লাভের প্রবৃত্তি নিবারিত হইতেছে, সুতরাং পূর্বোক্ত যুক্তি প্রদর্শন করিয়া যে বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধির সার্থকতা প্রদর্শন করা হইল, তাহা সঙ্গত হইতেছে না। ইহার উত্তর এই যে, একথাও ঠিক নহে, এই আশঙ্কার ফলেও নিয়মবিধি মিয়ােজন হইতে পারে না। কারণ, এস্থলে ম্লেচ্ছভাষণ করিবে না ইত্যাকার যে নিষেধবিধি দৃষ্ট হয়, তাহার নাম পুরুষাৰ্থনিষেধ, অর্থাৎ এই নিষেধশাস্ত্র যদি কেহ উল্লম্বন করে, তাহা হইলে তাহার পাপমাত্ৰ হয়, ইহার ফলে কোন বৈধকার্যের হানি হয় না। কারণ, এই নিষেধ সকলের প্রতিই করা হইয়াছে। এখন যদি কেহ এই নিষেধলম্বনদ্বারা কিঞ্চিৎ পাপস্বীকার প্রথম পরিচ্ছেদ। ৪৭ (তাৎপৰ্য)—করিয়াওনিজবুদ্ধির দুর্বলতা উপলব্ধি করিয়া ভাষায় লিখিত গ্রন্থাদি অধ্যয়ন দ্বারা প্রকৃত ব্ৰহ্মজ্ঞান লাভে যত্নবান হয়, তাহা হইলে তাহা কিছু অসম্ভব ব্যাপার হয় না, লােকমধ্যে এরূপ ঘটিতেও পারে। এরূপ স্থলে এরূপ ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রিত করিবার জন্য, অর্থাৎ ভাষাপ্রবন্ধাদি না অধ্যয়ন করিয়া গুরুমুখাধীন বেদান্তশ্রবণের দ্বারায় ব্রহ্মজ্ঞান লাভে প্রবৃত্ত করাইবার জন্য নিয়মবিধি আবশ্যক হয়। অতএব নিয়মবিধির যে সার্থকতা আছে, তাহা দেখা যাইতেছে। বলা বাহুল্য, এইরূপে ভাষাপ্রবন্ধাদি অধ্যয়ন করিয়া যে ব্ৰহ্ম- জ্ঞান লাভ হয়, তাহা পূৰ্ব্ববৎই পরােক্ষজ্ঞানসদৃশ হয়, তাহার দ্বারা অবিদ্যা- নিবৃত্তি সম্যক্‌রূপে হয় না, সম্যকরূপে অবিদ্যানিবৃত্তি করিতে ইচ্ছা হইলে গুরুমুখে বেদান্তশ্ৰবণ আবশ্যক, আর তাহাই বুঝাইবার জন্য বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধি অঙ্গীকৃত হইয়া থাকে। তাহার পর দেখ, এইরূপ সিদ্ধান্ত মীমাংসাশাস্ত্রেও স্থলবিশেষে অঙ্গীকৃত হইয়া থাকে। কারণ, মীমাংসা মধ্যে দর্শপূর্ণমাসযাগে কিরূপ ব্যক্তির অধিকার আছে, তাহা নির্ণয় করিবার যে একটী বিচার আছে, তাহার নাম কধিকরণ। তাহাতে এইরূপ বিচার করা হইয়াছে যে, বেদের মধ্যে “মিথ্যা কথা বলিবে না” বলিয়া যখন একটী সামান্য নিষেধবিধি রহিয়াছে, তখন দর্শপূর্ণমাসযাগের প্রকরণে “মিথ্যা কথা বলিবে না” বলিয়া আর একটী যে নিষেধবিধি রহিয়াছে, তাহা নিরর্থক হয়, পূৰ্বপক্ষী এইপ্রকার আপত্তি উত্থাপন করিলে তাহার এইভাবে নিরাকরণ করা হইয়াছে যে, বেদের মধ্যে মিথ্যাভাষণ করিবে না বলিয়া যে সামান্যবিধি আছে, তাহার নাম পুরুষাৰ্থ- নিষেধবিধি। অর্থাৎ ঐ নিষেধবিধির যদি কেহ উল্লঙ্ঘন করে, তাহা হইলে তাহার পাপমাত্ৰ হয়, তাহাতে কোন বৈধকৰ্ম্মের হানি হয় না। কারণ, কোন ব্যক্তি যদি দর্শপূর্ণমাসযাগ করিতে প্রবৃত্ত হইয়া কোন বিশেষ কারণবশতঃ মিথ্যাকথা কহিতে বাধ্য হয়, এবং বিবেচনা করে যে, আমার এই মিথ্যাকথার জন্য যে পাপ হইবে, তাহা পরে প্রায়শ্চিত্ত করিয়া মােচন করা যাইবে, মিথ্যাকথন দ্বারা যাগের ত কোন হানি হইতেছে না—ইত্যাদি, তাহা হইলে তাহার ঐ যাগকাৰ্য সিদ্ধ হয় না, এজন্য তাহাকে যাগকালে ঐ প্রকার মিথ্যাভাষণ হইতে একেবারে নিবৃত্ত করিবার অভিপ্রায়ে ঐ যাগপ্রকরণে আর একটী মিথ্যাভাষণের নিষেধবিধি আবশ্যক হয়। ইহার উদ্দেশ্য এই যে, ঐ যাগকালে কোন কারণবশতঃ মিথ্যা কহিলে তাহার যে কেবল ৪৮ সিন্ধান্তলেশসংগ্রহ। “সহ- প্রকারান্তরে নিয়মবিধি স্থাপন। ৰদ্বা যথা “মন্ত্রৈরেব মন্ত্ৰাৰ্থস্মৃতিঃ সাধ্যা” (পূঃ মীঃ ২।১।৬) ইতি নিয়মঃ। তম্মুল-কল্প-সূত্ৰাত্মীয়-গ্রহণক-বাক্যাদীনা অপি পক্ষে প্রাপ্তেঃ, তথা বেদান্তমূলেতিহাসপুরাণপৌরুষেয়-প্রবন্ধানমপি পক্ষে প্রাপ্তিসম্ভবাৎ নিয়মােয়মস্তু। সর্বথা নিয়মবিধিরেবায়ম্ । কাৰ্য্যন্তরবিধিঃ” (ব্ৰঃসূঃ ৩। ৪। ১৪। ৪৭ ) ইত্যধিকরণভাষ্যে অপূর্ব- বিধিহােক্তিস্তু নিয়মবিধিত্বেহপি পাক্ষিকাপ্রাপ্তিসদ্ভাবৎ তদভিপ্রায়েতি তত্রৈব “পক্ষেণ” ইতি পাক্ষিকা প্রাপ্তিকথনপর-সূত্রপদযােজনেন স্পষ্টী- কৃতমিতি বিবরণানুসারিণঃ। (তাৎপৰ্য)-পাপ হইবে,তাহা নহে, পরন্তু তাহার যাগফলও সম্যক্‌ সিদ্ধ হইবে , ইত্যাদি। এখন দেখ, এই বিচারটীর প্রতি দৃষ্টি করিলে বুঝা যাইবে যে, পুরুষার্থনিষেধবিধিসত্ত্বেও স্থলবিশেষে বিশেষবিধি আবশ্যক হয়। আর তাহার অনুসরণ করিয়া ইহাই বলা হয় যে, ভাষায় লিখিত গ্রন্থাধ্যয়নে সামান্যতঃ নিষেধ থাকিলেও তাহাতে ব্ৰহ্মজ্ঞানের বাধা হইবে না ভাবিয়া তাহাতেই লােকের প্রবৃত্তির সম্ভাবনা আছে, এবং সেই সম্ভাবনাপ্রযুক্ত বেদান্তশ্রবণে পাক্ষিক অপ্রাপ্তি প্রসক্ত হইতে পারে, এরূপ স্থলে সেই পাক্ষিক অপ্রাপ্তি- নিরাকরণের জন্য অর্থাৎ তাহাকে বেদান্তশ্রবণেই বাধ্য করিবার অভিপ্রায়ে বিধির আবশ্যকতা থাকে। এইজন্য বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধি যে সার্থক, তাহা বলাই বাহুল্য। ইহাও বিবরণমতানুসারী কোন কোন আচার্যের মত। এইবার এই মতানুসারী অন্য আচার্যের মত প্রদর্শন করা যাইতেছে। অনুবাদ—অথবা যেমন বেদমূলক কল্পসূত্র এবং স্বীয় জ্ঞানমূলক সংস্কৃত বাক্যদ্বারা যজ্ঞপ্রকরণে মন্ত্ৰাৰ্থস্মরণের পাক্ষিক প্রাপ্তি আছে বলিয়া মন্ত্র পাঠ করিয়াই মন্ত্ৰাৰ্থ স্মরণ করিতে হইবে, এই প্রকার নিয়মবিধি দেখিতে পাওয়া যায়, সেইরূপ বেদান্তমূলক ইতিহাস পুরাণ প্রভৃতি পৌরুষেয় প্রবন্ধ সমূহেরও পাক্ষিক প্রাপ্তি থাকায়, বেদান্তবাক্যশ্রবণে নিয়মবিধি হউক। সর্বপ্রকারেই ইহা নিয়মবিধিই হইবে, “সহকাৰ্য্যন্তরবিধিঃ” এই শারীরক সূত্রের ভাষে ভাষ্যকার এই বিধিকে ৰে অপূৰ্ব্ববিধি বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন, তাহারও তাৎপৰ্য এই যে, নিয়মবিধিপক্ষেও পাক্ষিক অপ্রাপ্তির সম্ভবনা আছে। সুতরাং, অপ্রাপ্তিপরিহারস্থলেও অপ্রাপ্ত-প্রাপৰুত্বরূপ অপূৰ্ব বিধিত্ব প্রথম পরিচ্ছেদঃ। ৪৯ (অনুবাদ)—অংশতঃ থাকিয়া যায়, সেই ভাষেরই একস্থলে “পণে” এই সূত্রস্থ পদের পাক্ষিক-অপ্রাপ্তি-বােধকরূপে ভাষ্যকার যে ব্যাখ্যা করিয়াছেন, তাহার দ্বারাও এই বিধির নিয়মরূপতাই স্পীকৃত হইয়াছে। এইরূপভাবে বেদান্তবাক্যশ্রবণে যে নিয়ম-বিধিরূপতা আছে, বিবরণানুসারিগণ তাহা বলিয়া থাকেন। তাৎপৰ্য-ইতিপূর্বে বলা হইয়াছে যে,সংস্কৃতের ভাষায় লিখিত প্রবন্ধাদি দ্বারা ব্ৰহ্মজ্ঞান সম্পূর্ণ হয় না বলিয়া বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধি অঙ্গীকার করা আবশ্যক, কিন্তু পুরাণ অথবা সংস্কৃত ভাষায় লিখিত আধুনিক প্রবন্ধাদি দ্বারা যদি কেহ ব্ৰহ্মজ্ঞান লাভে যত্নবান হয়, তাহা হইলে, তাহার পক্ষে গুরুমুখাধীন বেদান্তশ্রবণের অপ্রাপ্তি হইতে পারে, আর তজ্জন্য বেদান্তবাক্যশ্রবণে নিয়ম- বিধির হানি হয়, এজন্য কেহ কেহ এই কল্পের অবতারণা করিয়া থাকেন। ইহাতে বলা হইতেছে যে, যদি কেহ পুরাণাদি অথবা আধুনিক সংস্কৃত ভাষায় লিখিত প্রবন্ধাদি পাঠ করিয়া ব্ৰহ্মজ্ঞান লাভে ইচ্ছুক হয়, তাহা হইলে, তাহার সেই ইচ্ছা ফলবতী হইবে না। তাহার ব্রহ্মজ্ঞান পূৰ্ব্বকল্পের ন্যায় অসম্পূর্ণ থাকিয়া যাইবে, অর্থাৎ তাহার দুরদৃষ্টরূপ প্রতিবন্ধকবশতঃ অবিদ্যা- নিবৃত্তি হইবে না। অতএব যাহাতে তাহার সেই দুরদৃষ্ট নষ্ট হয় এবং তৎপরে প্রকৃত ব্ৰহ্ম জ্ঞান হইয়া অবিদ্যানিবৃত্তি হয়, তজ্জন্য বেদান্তবাক্যশ্রবণই তাহার কর্তব্য। এই বেদান্তবাক্যশ্রবণ দ্বারা তাহার দুরদৃষ্ট নষ্ট হইবে এবং তৎপরে তাহার যথার্থ অপরােক্ষ ব্রহ্মজ্ঞান হইবে, আর তাহার ফলে তাহার অবিদ্যা- নিবৃত্তিও হইবে। যদি বল, বেদান্তের অর্থ ই ইতিহাস পুরাণাদিতে যখন সংস্কৃত ভাষায় বিস্তৃত করা হইয়াছে, তখন, তাহার দ্বারা অভীষ্ট ব্ৰহ্মজ্ঞান কেন হইবে না ? বেদান্তবাক্যের অর্থ উপলব্ধি করিয়াই ত বেদান্ত বিচার করিতে হইবে, অথবা গুরুমুখে যে বেদান্ত-শ্রবণ করিতে হইলে, তাহার অর্থও ত জানিতে হয়, সুতরাং পুরাণাদি গ্রন্থাধ্যয়নে কেন অভীষ্ট ব্ৰহ্মজ্ঞান হইবে না ? এতদুত্তরে বলা হয় যে, এরূপ সিদ্ধান্ত মীমাংসাশাস্ত্র মধ্যেই অনুমােদিত হইয়াছে। কারণ, তথায় দেখা যায় যে, যজ্ঞানুষ্ঠানকালে দেবতা এবং দ্রব্যের । স্মরণের জন্য ঐ দেবতা এবং দ্রব্যের প্রকাশক যে মন্ত্র, তাহারই পাঠ করিতে হয়, এস্থলে এইরূপ পূৰ্বপক্ষ দেখা যায় যে, দেবতা ও দ্রব্যস্মরণই যখন উদ্দেশ্য, তখন তাহার সিদ্ধির জন্য ঐ দেবতা ও দ্রব্যবােধক পৌরুষেয় সংস্কৃতবাক্য- ৫? • L সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহঃ । ( তাৎপৰ্য) প্রয়োগ করিলে কেন উহা সফল হইবে না? এতদুত্তরে জৈমিনি মুনি সিদ্ধান্ত করিয়াছেন যে, যাগকালে মন্ত্রপাঠ বিষয়েই যখন বিধি দৃষ্ট হইতেছে, তখন মন্ত্রপাঠই করিতে হইবে, অন্য বাক্যপ্রয়ােগ দ্বারা উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইবে না। কারণ, তাহা হইলে মন্ত্রপাঠের বিধিবাক্যই ব্যর্থ হয়। যেহেতু লৌকিকবাক্য দ্বারা দ্রব্য ও দেব স্মরণ হইতে পারে, আর তজ্জন্য মন্ত্র পাঠে পাক্ষিক অপ্রাপ্তি সম্ভবনা হয়। অতএব, এই অপ্রাপ্তিসম্ভাবনা দূর করিবার জন্য এইস্থলে যে বিধি-কল্পনা করা হয়, তাহাই নিয়ম-বিধি। এখন দেখ, এই বিচারের অনুসরণ করিলে বলিতে হইবে যে, পুরাণাদি গ্রন্থাধ্যয়ন দ্বারা অভীষ্ট ব্ৰহ্মজ্ঞানলাভে প্রবৃত্ত হইলে বেদান্তশ্রবণের পাক্ষিক অপ্রাপ্তি হয়, আর সেই অপ্রাপ্তিনিবারণ জন্য বেদান্তবাক্যশ্রবণে নিয়ম-বিধি অবশ্য অঙ্গীকার করিতে হইবে। কিন্তু, এখনও ইহাতে একটী আপত্তি উঠিতে পারে। সে আপত্তি এই যে, যদি বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধি কল্পনা করা যায়, তাহা হইলে “সহকাৰ্যন্তর- বিধিঃ” এই ব্রহ্মপুত্রের (৩৪। ৪|৪৭) ভাষ্যে আচাৰ্য-বাক্যের সহিত বিরােধ হয়। কারণ, তিনি তথায় বলিয়াছেন যে, শ্রবণে যে বিধি পরিদৃষ্ট হয়, তাহাতে অপূৰ্বরূপতা আছে, অর্থাৎ তাহা অপূৰ্ব্ববিধি। সুতরাং, এস্থলে নিয়ম-বিধি অঙ্গীকার করিলে আচাৰ্যবাক্যের সহিত বিরােধ অপরিহার্য। এতদুত্তরে নিয়মবিধিবাদিগণ বলেন যে, না, ইহাতে কোন দোষ হয় না। আচাৰ্য যে এস্থলে অপূৰ্বশব্দ প্রয়ােগ করিয়াছেন, তাহা নিয়মবিধির যে অংশে অপ্রাপ্ত প্রাপকতা আছে, সেই অংশেরই অপূৰ্বরূপ বুঝাইবার জন্য। তিনি যে অপূৰ্ব্বশব্দ প্রয়ােগ করিয়াছেন, তাহাতে তিনি অপূৰ্ব্ববিধিকে লক্ষ্য করেন নাই। দেখ, বিধি হইতে গেলেই তাহা অপ্রাপ্তপ্রাপক হইয়া থাকে। যাহা সিদ্ধ, যাহা প্রাপ্ত, তাহার প্রাপ্তির জন্য কোন স্থলেই বিধির আবশ্যকতা হয় না। অপূৰ্ব্ববিধির অর্থ যাহা সৰ্ব্বতভাবে অপ্রাপ্ত, তাহার প্রাপ্তিসাধক বিধি, এবং নিয়মবিধি অর্থ যাহা কিয়দংশে অপ্রাপ্ত হয়, তাহার প্রাপ্তিসাধক বিধি। ফলতঃ, উভয় স্থলেই যে অপ্রাপ্ত অংশ আছে, তাহার প্রাপ্তির জন্যই বিধি হইয়া থাকে। অতএব কেবল ভাষ্যকার অপূৰ্ব শব্দ প্রয়ােগ করিয়াছেন বলিয়া এই বেদান্তশ্রবণবিধি যে নিয়মবিধি হইতে পারে না, তাহা নহে। সুতরাং, এস্থলে নিয়মবিধি স্বীকার করিলেও ভাষ্যকারের বাক্যের সহিত বিরােধ হয় না। অর্থাৎ বেদান্তবাক্যশ্রবণে নিয়মবিধিই স্বীকার্য।

প্রথম পরিচ্ছেদঃ । ৫১ অন্যপ্রকারে নিয়ম-বিধি সমর্থন। কৃতশ্রবণস্য প্রথমং শব্দাৎ, নিৰ্বিচিকিৎসং পরােহ্মজ্ঞানমেব উৎপছতে। শব্দ পরােহ্মজ্ঞানজননস্বাভাব্যেন ক্লপ্তসামর্থ্যানতি- লম্বনা। পশ্চাৎ তু কৃতমনননিদিধ্যাসনস্ত সহকারিবিশেষ- সম্পন্নাৎ তত এব অপরােক্ষজ্ঞানং জায়তে। তত্ত্বাংশগােচরজ্ঞান- জনসমর্থ অপি ইন্দ্রিয়স্য তৎসমর্থসংস্কারসাহিত্যাৎ প্রত্যভিজ্ঞান- জনকত্ববৎ স্বতঃ অপরােহ্মজ্ঞানজনসমর্থস্যাপি শব্দশ্য বিধুরপরি- তাবিত-কামিনীসাক্ষাৎকারস্থলে তৎসমর্থনে ক্লপ্তভাবনাপ্ৰচয়সাহিত্যাৎ অপরােহ্মজ্ঞানজনকত্বং যুক্ত। ততশ্চ শব্দস্য স্বতঃ স্ববিষয়ে পরোক্ষ জ্ঞানজনকত্বস্ত ভাবনাপ্ৰচয়সহকৃতজ্ঞানকরণত্বাবচ্ছেদেন বিধুরান্তঃ- করণবৎ অপরোক্ষনজনকত্বস্য চ প্রাপ্তং পূর্ববৎ নিয়মবিধিরিতি তদেকদেশিনঃ। ( তাৎপৰ্য)—তাহার পর দেখ, ঐ সূত্রে যে “পক্ষেণ” শব্দটী রহিয়াছে তাহার ব্যাখ্যাকালে ভাষ্যকার যাহা বলিয়াছেন, তাহাতে বেদান্তবাক্য- শ্রবণে পাক্ষিক অপ্রাপ্তির সম্ভাবনাই সূচিত হইয়াছে। একেবারে অপূৰ্ব্ববিধি অঙ্গীকার করিলে এই “পক্ষেণ” শব্দের ব্যাখ্যাকালে ভাষ্যকারকে অন্য পথ অবলম্বন করিতে হইত। কিন্তু তাহা না করিয়া যখন তিনি “পক্ষেণ” শব্দের যথাত অর্থ অবলম্বনেই ব্যাখ্যা করিয়াছেন, তখন বেদান্তশ্রবণে যে নিয়ম- বিধিরূপ আছে, তাহা ভাষ্যকারেরই অভিপ্রেত বলিয়া বােধ হয়। এই মতটীও বিবরণমতানুসারী পণ্ডিতবৃন্দের মত। বিবরণকার-শ্রীমৎ প্রকা- শাত্ম স্বামী। ইনি শঙ্করশিষ্য পদ্মপাদাচার্যের পঞ্চপাদিকা নামে ভাষ্য- টীকার উপর “বিবরণ” নামক টীকা রচনা করিয়াছেন। ইহার মতানুযায়ী যে সম্প্রদায়, তাহাই বিবরণমতানুসারী সম্প্রদায় নামে কথিত হয়। এইবার এই বিবরণ-মতানুসারী সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্য একটী শাখার মত উল্লেখ করা হইতেছে ;- অনুবাদ—যিনি বেদান্তশ্রবণ করেন, তাহার প্রথমে বেদান্তবাক্যরূপ শব্দ হইতে নিশ্চয়ত্মক পররাজ্ঞানই উৎপন্ন হয়। কারণ, পরােক্ষ জ্ঞানােৎ- পাদনই হইল শব্দের স্বভাব ; আর তজ্জন্য তাহার যে সৰ্ব্বসম্মত সামর্থ্য, তাহার সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহঃ। (অনুবাদ)-উল্লজন হয় না। পরে কিন্তু, সেই ব্যক্তি যদি মনন ও নিদি- ধ্যান করে, তাহা হইলে সেই মনন ও নিদিধ্যাসনরূপ সহকারী বিশেষের সহ- কৃত যে বেদান্তবাক্য, তাহা হইতেই তাহার অপরােক্ষ জ্ঞানও জন্মে। ইন্দ্রিয় তাংশগােচর-জ্ঞানের উৎপাদনে অসমর্থ হইলেও তাহাতে সমূৰ্থ সংস্কারের সহিত মিলিত হইলে ঐ ইন্দ্রিয় প্রত্যক্ষাত্মক প্রত্যভিজ্ঞনামক যে জ্ঞান, তাহার উৎপাদনে যেমন সমর্থ হইয়া থাকে, তদ্রপ এখানেও হইবে। আরও শব্দ নিজে অপরােহ্মজ্ঞানজননে অসমর্থ হইলেও বিরহী ব্যক্তির পরিচিন্তিত কামিনী সাক্ষাৎকারস্থলে যেমন উহার সেই অপরােহ্মজ্ঞানজননবিষয়ে সামর্থ্য দেখিতে পাওয়া যায়, তদ্রুপ ভাবনাসমুহের সাহচর্য বশতঃ প্রকৃতস্থলেও শব্দের ঐ প্রকার অপরােজ্ঞানজনকতা যুক্তই হইয়া থাকে। আর তাহার ফলে ইহাই সিদ্ধ হইতেছে যে, শব্দ, স্ববিষয়ে নিজে পরােজ্ঞানের জনক হইলেও ভাবনা- সমূহসহকৃত জ্ঞানকরণমাত্রেই বিরহী ব্যক্তির অন্তঃকরণের ন্যায় অপরােক্ষ- জ্ঞানের জনকতা প্রাপ্ত হয়, এজন্য পূর্ববৎ বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধি হইবে, ইহা বিবরণানুসারিগণের মধে কোন কোন আচাৰ্য বলিয়া থাকেন। তাৎপৰ্য-ইতিপূর্বে নিয়ম-বিধির পক্ষপাতী যে সকল আচার্য্যের মত কথিত হইয়াছে, তাহাতে যে একটী শঙ্ক। উদয় হইতে পারে, এই মতদ্বারা তাহারই নিরাকরণ করিয়া পূৰ্ব আচাৰ্য্যগণেরই মতের সমর্থন করা হইতেছে। ইহাই বর্তমান মতের বিশেষত্ব। পূৰ্বাচাৰ্যগণের মধ্যে পরস্পরের যে মতভেদ, তাহার মধ্যে কোনটীকে অবলম্বন করা এই মতবাদিগণের অভিপ্রায় নহে। সেই শঙ্কাটী এই-দেখ, যে বস্তুর পাক্ষিক প্রাপ্তি আছে, তাহারই পাক্ষিক অপ্রাপ্তির নিরাকরণজন্য নিয়মবিধি স্বীকৃত হয়, এখন কিন্তু, বেদান্তবাক্যশ্রবণে যে এইপ্রকার পাক্ষিক প্রাপ্তি আছে, অর্থাৎ বেদান্তবাক্যশ্রবণে যে প্রকৃত ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকার হয়, তাহা কিরূপে সম্ভব হইতে পারে ? আর যদি তাহাই হইল, তাহা হইলে, তাহার পাক্ষিক অপ্রাপ্তিও সম্ভবপর হয় না। কারণ, পাক্ষিকপ্রাপ্তিস্থলেই পাক্ষিক অপ্রাপ্তি সম্ভব হয়, আর সেই পাক্ষিক অপ্রাপ্তি- পরিহার করিবার জন্ঠই নিয়মবিধি স্বীকৃত হয়। এখানে যখন সৰ্ব্বততভাবে অপ্রাপ্তিই থাকিল, তখন আর সেই নিয়মবিধির সম্ভাবনা কোথায় ? দেখ, শব্দ হইতে যে জ্ঞান হয়, তাহা পরােক্ষ জ্ঞানই হয়, ইহা সৰ্ববাদিসম্মত সিদ্ধান্ত, সুতরাং, বেদান্তবাক্যশ্রবণ হইতে যে ব্রহ্মসাক্ষাৎকার হইবে, তাহা কি করিয়া সম্ভব হয়-বেদান্ত-বাক্য-শ্রবণ হইতে ব্ৰহ্মবিষয়ক পরোক্ষ জ্ঞানই হইবার কথা।

প্রথম পরিচ্ছেদঃ। ( তাৎপৰ্য)—অতএব, বেদান্তবাক্যশ্রবণে ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকার হইতে পারে না, আর তজ্জন্য তাহার পাক্ষিক প্রাপ্তিও সম্ভবপর নহে। এই আশঙ্কাটীও ঠিক নহে। কারণ, আমরা দেখিতে পাই যে, শব্দ হইতে জ্ঞান হয়। তাহা যদি আবার তীব্রভাবনাবিশেষসহকৃত হয়, তাহা হইলে সেই শব্দ দ্বারা সময় সময় অপরােক্ষ জ্ঞানও উৎপন্ন হয়—ইহা সৰ্বলােকসিদ্ধ। যেমন, বিরহী ব্যক্তি যখন অনবরত কামিনীচিন্তায় আকুল থাকে, তখন সেই কামিনী বিষয়ক কোন শব্দ, তাহার পক্ষে সেই কামিনীবিষয়ক অপরােক্ষ জ্ঞানেরই জনক হইয়া থাকে, অর্থাৎ সে তখন সেই শব্দসাহায্যেই সেই কামিনীকেই সন্দর্শন করিয়া থাকে। এতদ্বারা সিদ্ধ হইতেছে যে, যে জ্ঞানকরণ দ্বারা যে বস্তুবিষয়ক অপরােক্ষ জ্ঞান স্বভাবতঃই হয় না, সেই জ্ঞানকরণ যদি তীব্র ভাবনাবিশেষ সহিত মিলিত হয়, তাহা হইলে তাহা সেই বস্তুবিষয়ে অপরােক্ষ জ্ঞানজনক হইয়া থাকে। যেমন আমাদের যে চক্ষুরিন্দ্রিয় অতীত বস্তুবিষয়ক প্রত্যক্ষ জন্মাইতে অসমর্থ হয়, সেই চক্ষুরিন্দ্রিয় যদি ভাবনাবিশেষের সহিত মিলিত হয়, তাহা হইলে তাহাও সেই অতীত বস্তুবিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান জন্মাইয়া দেয়। মনে কর; বহু পূৰ্বে একজন, দেবদত্তকে দেখিয়াছিল, এখন সে যদি সহসা তাহাকে দেখিতে পায়, তখন তাহার “সেই এই দেবদত্তকে আমি প্রত্যক্ষ করিতেছি” এই প্রকার প্রত্যভিজ্ঞানামক জ্ঞান হয়। এই প্রত্যভিজ্ঞ যে অপরােক্ষ জ্ঞান, তাহা সৰ্ববাদিসম্মত। এই স্থলে “এই” বলিতে আমরা সেই দেবদত্তের বর্তমান দেহকে লক্ষ্য করি, এবং“সেই” পদে তাহার সেই বহু পূৰ্ব্বের দেহকে লক্ষ্য করি, কিন্তু বহুপূর্বের সেই দেহ এখন বাস্তবিক নাই, কারণ, সকলই পরিবর্তনশীল। এতকাল কখনই সেই দেহ থাকিতে পারে না। এস্থলে “সেই” পদবাচ্য অতীতদেহের যে প্রত্যক্ষাত্মক জ্ঞান হইতেছে, তাহা ভাবনাসহকৃত চক্ষুরিন্দ্রিয়ই সম্পন্ন করিয়া দিতেছে। সেই অতীত দেহ আজ দর্শনযােগ্য না হইলেও অর্থাৎ চক্ষুরিন্দ্রিয়ের তাহা দেখিবার সামর্থ্য বর্তমান সময় না থাকিলেও ভাবনাসহকৃত হয় বলিয়া চক্ষুরিন্দ্রিয় তাহাকে দেখিয়া থাকে। এতদ্দারা ইহাই সিদ্ধ হইল যে, যে জ্ঞানকরণ যে বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান উৎপাদন করিতে অসমর্থ, ভাবনাসহকৃত হইলে তাহা সেই বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান উৎপাদন করিতে পারে। এই নিয়মানুসারে বলিতে পারা যায় যে, বেদান্তবাক্যশ্রবণ স্বতঃই ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের কারণ না হইলেও, অর্থাৎ তাহা ব্রহ্মবিষয়ক পরােক্ষ- জ্ঞানের জনক হইলেও, মনন ও নিদিধ্যাসনসহকৃত হইলে তাহা ব্ৰহ্মসাক্ষাৎ ৫৪ সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহঃ । প্রকারান্তরে নিয়মবিধি সমর্থন। বেদান্তশ্রবণেন ন ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারঃ কিন্তু মনসৈব। “মনসৈবানু- দ্রষ্টব্য” ইতি তেঃ। “শাস্ত্রাচার্যোপদেশশমদমাদিসংস্কৃতং মন আত্মদর্শনে করণ” ইতি গীতাভাষ্যবচনাচ্চ। শ্রবণং তু নির্বি- চিকিৎস-পরােক্ষনার্থমিতি তাদর্থেন এব নিয়মবিধিরিতি কেচিৎ। ( তাৎপৰ্য)কারের কারণ হইতে পারে। আর তাহার ফলে বেদান্ত- শ্রবণের ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকার-হেতু পাক্ষিক প্রাপ্ত হইয়া থাকে। অতএব উক্ত আশঙ্কা অসঙ্গতই হইতেছে। এইটুকুই এই মতের বিশেষত্ব। এখন যদি কেহ পুরাণাদি দ্বারা বা ভাষাপ্রবন্ধ প্রভৃতি দ্বারা ব্ৰহ্মসাক্ষাৎ কার লাভে যত্নবান হয়, তাহা হইলে, তাহার পক্ষে বেদান্তবাক্যশ্রবণে যে অপ্রাপ্তি হইতে পারে, তাহারই পরিহার করিবার জন্য পূৰ্বাচাৰ্য্যগণ পূর্বোক্ত- ভাবে নিয়মবিধি স্বীকার করিয়া থাকেন। এইবার অন্যমতে আবার সেই নিয়মবিধির সমর্থন করা যাইতেছে। অনুবাদ-বেদান্তশ্রবণের দ্বারা ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকার হয় না, কিন্তু মনঃদ্বারাই তাহা হয়। কারণ, “মনঃদ্বারাই অনুদৰ্শন করিবে” এইরূপ শ্রুতিতে আছে। তাহার পর গীতাতেও আছে যে শাস্ত্রাচার্য্যের উপদেশ এবং শম ও দমাদির দ্বারা সংস্কৃত মনঃই আত্মদর্শনের কারণ হয়। শ্রবণ কিন্তু নিশ্চয়ত্মক পরােক্ষ- জ্ঞানকেই উৎপাদন করিয়া থাকে, এবং সেই পরােক্ষজ্ঞানজন্য নিয়মবিধিই বিহিত-ইহাও কেহ কেহ বলেন। তাৎপৰ্য-এই প্রসঙ্গে বলা হইল যে, বেদান্তশ্ৰবণ ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের কারণ নহে, পরন্তু মনঃই তাহার কারণ। পূৰ্ব্বে বলা হইয়াছিল যে, বেদান্ত- শ্রবণই ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের কারণ, এস্থলে কিন্তু তাহা স্বীকার করা হয় না। অর্থাৎ এই মতবাদিগণ শাব্দাপােক্ষবাদী নহেন, শব্দ হইতে যে অপরােক্ষ জ্ঞান হয়, তাহা এই সম্প্রদায় স্বীকার করেন না। যাহাহউক এই মতবাদি- গণের এরূপ মতভেদের কারণ, প্রথমতঃ শ্রুতিবাক্য,যথা—“মনসৈবামুদ্রষ্টব্য” অর্থাৎ মন দ্বারাই তাঁহাকে দেখিতে হইবে” ইত্যাদি। এবং তৎপরে ভাষ্য- কারের গীতাভাষেও একটী বচন আছে, যথা—“শাস্ত্রাচার্যোপদেশমদমাদি- সংস্কৃতং মন আত্মদর্শনে করণ” অর্থাৎ শাস্ত্রাচার্যের উপদেশ, শমও দমাদির যারা সংস্কৃত মনই অাত্মদর্শনে অসাধারণ কারণ, ইত্যাদি। অতএব, বেদান্তশ্রবণ প্রথম পরিচ্ছেদ। মতান্তরে নিয়ম-বিধির আবশ্যকতা। অপরােহ্মজ্ঞানার্থনৈৰ শ্রবণে নিয়মবিধিঃ। “দ্রষ্টব্যঃ” ইতি ফুলকীৰ্ত্তনাৎ। তাদর্থং চ তস্য করণভূতমনঃসহকারিতয়ৈব, ন সাক্ষাৎ। শব্দাৎ অপবজ্ঞানানঙ্গীকরণাৎ। ন চ তস্য তেন রূপেণ তাদর্ঘ্যং ন প্রাপ্ত ইতি অপূর্ববিধিত্বপ্রসঙ্গঃ। শ্রাবণেযু ষড়জাদিষু সমারােপিতপরস্পরাবিবেকনিবৃত্ত্যর্থং গান্ধর্বশাস্ত্রশ্রবণসহ- কৃতশ্রোত্রেণ পরস্পরাসঙ্কীর্ণতদ্যাথার্থ্যাপরােক্ষদর্শনেন প্রকাশমানে বস্তুন্যায়পিতাবিবেকনিবৃত্ত্যর্থশাস্ত্ৰসদ্ভাবে তচ্ছু বণং তৎসাক্ষাৎকারজন- কেন্দ্রিয়সহকারিভাবেন উপযুজ্যতে ইত্যস্য ক্রপ্তাৎ ইত্যপরে। ( তাৎপৰ্য)—দ্বারা ব্রহ্মের পরােক্ষ জ্ঞানই হয়—ইহাই আচাৰ্য্য উপদেশ করিয়াছেন—বলিতে হইবে। যদি বল যে, বেদান্তশ্রবণ দ্বারা পরােক্ষ জ্ঞান হয়, তাহা হইলে, ভাষায় লিখিত বা সংস্কৃত ভাষায় লিখিত পৌরুষেয় প্রবন্ধ- পাঠেও ত তাহা হইতে পারে, সুতরাং, তজ্জন্য বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধির আবশ্যক তা আবার কেন ? তাহা হইলে তাহার উত্তর এই যে, উক্ত উভয়রূপ ভাষায় লিখিত প্রবন্ধাদির পাঠে যে ব্রহ্মের পরােক্ষ জ্ঞান হয়, তাহা নিৰ্ব্বি- চিকিৎস অর্থাৎ নিশ্চয়ত্মক জ্ঞান নহে, তাহাতে নিশ্চয়ত্মক পরােক্ষ জ্ঞানের প্রতিবন্ধক দুরদৃষ্ট ধ্বংস হয় না, সুতরাং নিশ্চয়ত্মক জ্ঞানই হয় না, কিন্তু গুরু- মুখাধীন বেদান্তশ্রবণে তাহা হয়, আর তজ্জন্য বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধি আব- শক। এইবার এই সম্বন্ধে আর একটী মতান্তরের উল্লেখ করা হইতেছে :- অনুবাদ-বেদান্তশ্রবণে যে নিয়মবিধি, তাহা অপরােক্ষ জ্ঞানের নিমিত্তই। কারণ, “দ্রষ্টব্যঃ” এইপ্রকারই শ্রবণফলের কীর্তন করা হইয়াছে। আর সেই বেদান্তস্রবণের যে অপরােজ্ঞানকাণতা, তাহাও সেই অপরােহ্ন জ্ঞানের কারণভূত যে মনঃ, তাহার সহকারিত্বরূপে হইয়া থাকে। কারণ, শব্দ দ্বারা যে অপরােক্ষ জ্ঞান হইতে পারে, তাহা অঙ্গীকার করা যায় না। আর বেদান্তবাক্যশ্রবণে অন্তঃকরণের সহকারিত্বরূপে যে অপরােজ্ঞানহেতুতা, তাহা অন্য কোন প্রমাণ দ্বারা অবগত হওয়া যায় না, এই কারণে শ্রবণে অপূৰ্ব্ববিধিত্বেরই প্রসঙ্গ হয়, এ প্রকার শঙ্কা করা উচিত নহে। কারণ, ষড়জ প্রভৃতি স্বর, শ্রবণেন্দ্রিয় দ্বারা প্রত্যক্ষ হইবার যােগ্য হইলেও, তাহাদিগের উপর আরােপিত যে পরম্পরাবিবেক, তাহা নিবৃত্তির জন্য গান্ধর্বশাস্ত্রের সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহঃ। (অনুবাদ)-শ্রবণ বিহিত আছে, এবং সেই গান্ধৰ্ব্বশাস্ত্রশ্রবণের সহকৃত শ্রবণেন্দ্রিয় দ্বারা পরস্পর অসঙ্কীর্ণভাবে সেই ষড়জ প্রভৃতি স্বরের যথার্থ স্বরূপের প্রত্যক্ষ জ্ঞান হয় বলিয়া প্রকাশমান বস্তুতে আরােপিত অবিবেক- নিবৃত্তির জন্য কোন শাস্ত্ৰ থাকিলে, সেই শাস্ত্রের শ্রবণ ঐ বস্তুর সাক্ষাৎকারের হেতু যে ইন্দ্রিয়, তাহার সহকারীরূপেই উপযােগী হইয়া থাকে। সুতরাং, ইহা লােকসিদ্ধই আছে, এইরূপও কেহ কেহ বলেন। তাৎপৰ্য—এই মতে বলা হইতেছে যে, বেদান্তশ্রবণে যে অপরােক্ষ জ্ঞান হয় না, তাহা নহে, তাহাদ্বারা অপরােক্ষ জ্ঞানও হয়। ইহা না স্বীকার করিলে শ্রুতির সহিতই বিরােধ হয়। কারণ, দেখ, শ্রুতিতে আছে—“আত্মা বাইরে দ্রষ্টব্যঃ শ্রোতব্য” ইত্যাদি। ইহার অর্থ—আত্মাকে দেখিতে হইবে, কিন্তু কি প্রকারে সেই আত্মদর্শন হয়, তাহাই নির্দেশ করিবার জন্য শ্রুতি তৎপরেই বলিয়াছেন যে “শ্রোতব্যঃ মন্তব্যঃ নিদিধ্যাসিতব্যঃ” ইত্যাদি। সুতরাং, দর্শনের কারণ যে শ্রবণ, তাহা শ্রুতিতেই স্পষ্টভাবে কথিত হইতেছে। “কেবল মনঃ দ্বারাই অত্ম- দর্শন করিবে” এই শ্রুতির বলে যে পূৰ্ব্বমতে প্রকারান্তরে শ্রবণকে পরােক্ষ জ্ঞানেরই কারণ বলিয়া নির্দেশ করা হইয়াছে, তাহা এই দর্শনের কারণ শ্রোতব্য-শ্ৰতি দ্বারা বাধিত হইতেছে। অতএব, বেদান্ত শ্রবণ যে ব্ৰহ্ম সাক্ষাৎ- কারের কারণ, তাহা অঙ্গীকার করিতেই হইবে। আর তাহাই যদি হইল, তাহা হইলে ব্রহ্মের অপরােক্ষজ্ঞানার্থই বেদান্তশ্রবণে নিয়মবিধি স্বীকার করিতে হইবে। যদি বল, শব্দ দ্বারা অপরােক্ষ জ্ঞান হয়ই না, সুতরাং বেদান্তবাক্যশ্রবণ ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের কারণ, ইহা শ্রুতিতে থাকিলেও কি প্রকারে অঙ্গীকৃত হইবে? তাহার উত্তর এই যে, শ্রুতি বেদান্তবাক্যশ্রবণকে যে ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের কারণ বলিয়া নির্দেশ করিয়াছে, তাহা তাহাকে সাক্ষাৎ কারণ বলিয়া নির্দেশ করে নাই, কিন্তু ইহাই বলিয়াছে যে, ব্রহ্মসাক্ষাৎকারের যে সাক্ষাৎ কারণ মনঃ, তাহারই সহকারীরূপে বেদান্তবাক্যশ্রবণ কারণ হইয়া থাকে। অর্থাৎ বেদান্তবাক্যশ্রবণ ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের সাক্ষাৎকারণ নহে, পরন্তু পরম্পরায় কারণ হইয়া থাকে। বেদান্তশ্রবণ দ্বারা মনঃ সংস্কৃত হয়, এবং তৎপরে সেই সংস্কৃত মনঃই ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারের জন্য ব্যাপৃত হইলে তবে ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকার হয়। এখন যদি বল, এইরূপে বেদান্তবাক্যশ্রবণসংস্কৃত মনঃ দ্বারা যে ব্ৰহ্মসাক্ষাৎ- কার হয়, তাহা যখন অন্য প্রমাণ দ্বারা জানিতে পারা যায় না, তখন বেদান্ত- পরমহংসপরিব্রাজকাৰ্য্য শ্ৰীশ্ৰীঅচ্যুতকৃষ্ণানন্দতীর্থকৃত সিদ্ধান্তলেশসংগ্রহব্যাখ্যা কৃষ্ণালঙ্কারঃ প্রথম পরিচ্ছেদঃ । বেদবেদ্যমুকান্ত কুমারাভ্যামলংকৃতম্ । নন্দীশপ্রমুথৈ সেব্যং প্রণমামীঃসিদ্ধয়ে ॥ ১। শঙ্করং শঙ্করাচাৰ্যং ব্যাসং নারায়ণাত্মকম্। সরস্বতীং চ ব্ৰহ্মাণং প্রণমামি পুনঃপুনঃ ॥ ২॥ গােবিন্দেতি সমাক্র্য রক্ষাং প্রাপ ভয়াতুরঃ। যং গজঃ করুণামূৰ্ত্তিং তং গােবিন্দং ভজেহহম্ ॥ ৩॥ আপন্না যং সমাশ্ৰিত্য রক্ষাং প্রাপ সুদুল ভাম্। কৃষ্ণ কৃষ্ণস্য মহিষী তং কৃষ্ণং সংশয়েহহম্। ৪। প্রকাশিতব্ৰহ্মতত্ত্বং প্রকৃষ্টগুণশালিনম্ । প্রণবস্যোপদেষ্টারং প্রণমামনিশং গুরুম্ ॥ ৫। যাে মে বিশ্বেশ্বরক্ষেত্ৰং বিশ্বেশ্বরসমাে গুরু। সমধ্যাস্তে স্বয়ংজ্যোতিৰ্বাণীসংজ্ঞে ভজামি তম্ ॥ ৬। যস্থ শিষ্যপ্রশিষ্যাদ্যৈঃ ব্যাপ্তেয়ং সাম্প্রতং মহী। সর্বজ্ঞস্য গুয়ােস্তস্য চরণৌ সংশয়ে সদা । ৭। গুয়ােরপি গরীয়ান্ মে যঃ কলাভিলস্কৃতঃ। অদ্বৈতানন্দবাণ্যাখ্যস্তং বন্দে শৰ্ম্মবারিধি ॥ ৮। ওতপ্রােতমিদং সৰ্ব্বং যস্মিন্ সচ্চিৎখাত্মকে। পৰ্যবস্যন্তি বেদান্তা যত্র চাহং তদক্ষরম্। ৯ । শ্রীকৃষ্ণচরণদ্বন্দ্বং প্রণিপত্য নিবন্ধন। ব্যাকুৰ্বে শাস্ত্ৰসিদ্ধান্তলেশসংগ্রহসংজ্ঞিত। ১০।

২ কৃষ্ণালঙ্কার। সংজ্ঞ আচাৰ্য্যচরণদ্বন্দ্বস্মৃতিলেখকরূপিণম্। মাং কৃত্বা কুরুতে ব্যাখ্যাং নাহমত্র প্রভুর্যতঃ ॥ ১১। কুমারাভ্যাং বিশ্বেরসুব্রহ্মণ্যাভ্যাম্। শঙ্করং শঙ্কর শিবস্য অবতাররূপং শঙ্করাচাৰ্যং.ভগবৎপাদম্। তথা চ শিবপুরাণবচনু- ‘ব্যাকুৰ্বন্ ব্যাসসূত্রর্থিং তেরর্থং যথােচিবান্। তোয্যঃ স এবাৰ্থঃ শঙ্করঃ সবিতাননঃ। ইত্যাদি। *** ব্যাসং সূত্রকৃতং বাদরায়ণম্। নারায়ণাত্মকং নারায়ণস্য অবতাররূপ, তথা চ বচন- দ্বাপরে দ্বাপরে বিষ্ণুবাসরূপী মহামুনিঃ ইতি। ‘ন হন্যঃ পুণ্ডরীকাক্ষান্ মহাভারতকৃদ্ভবে’ ইত্যাদি চ। ব্ৰহ্মাণং সরস্বতীভতারং হিরণ্যগর্ভম্। আপন্না সভায়াং বস্ত্রাপহারনিমিত্তামাপদং প্রাপ্তা। রক্ষাং বস্ত্রকোটিলাভনিমিত্তাম্। কৃষ্ণা দ্রৌপদী। কৃষ্ণস্য অর্জুন। প্রকাশিত শিষ্যশতেভ্য উপদিষ্টং ব্ৰহ্মতত্ত্ব যেন গুরুণা, স তথােক্তঃ তম্। স্বয়ংজ্যোতিবাণী- স্বয়ংপ্রকাশসরস্বতীসংজ্ঞঃ। গরীয়ান্ গুরু। ইদং সৰ্ব্বং যস্মিন সচ্চিৎসুপাত্মকে অক্ষরে ব্ৰহ্মণ্যোতপ্রােতমধ্যস্তং বেদান্তাশ্চ যত্রাক্ষরে বিষয়ে পৰ্যবস্যন্তি তাৎপর্যেণ বােধহেতবাে ভবন্তি, তদহমিতি সম্বন্ধ। অক্ষরে সর্বস্ত ওতপ্রােতত্বোক্ত্যা ব্ৰহ্মণঃ সৰ্বাধিষ্ঠানরূপং তটস্থলক্ষণমুক্তম্। সচ্চিৎসুখাত্মক ইত্যনেন সত্যজ্ঞানানন্দস্বরূপাত্মক স্বরূপলক্ষণমুক্ত। তত্র বেদান্তানাং পৰ্যবসানােক্ত্যা উক্তরূপে ব্ৰহ্মণাক্ষরে বেদান্তা এব প্রমাণমিত্যুক্ত। নাহমত্র প্রভুর্যত’ ইত্যত্র অত্র ব্যাখ্যানে প্রভুঃ সমর্থ ইত্যর্থ। (১ পৃষ্ঠা ) চিকীর্ষিতস্য গ্রন্থ নির্বিঘ্নপরিসমাপ্তি প্ৰচয়গমনয়ােঃ সিদ্ধয়ে ভগবৎপাদীয়ভাষ্য- শুতিমুখেন ভাষ্য প্রতিপাদ্যব্ৰহ্মতত্ত্বানুসন্ধানলক্ষণং মঙ্গলাচরণং কররাতি অধিগতভিদেতি। দৃষ্টান্তমুখেন শ্রীমূর্তিচরণারবিন্দগঙ্গয়াের অনুসন্ধানলক্ষণ- মপি মঙ্গলং করােতিশৌরীতি। শৌরীপদোদগতা সরিৎ মহীভেদান্ সম্প্রাপ্য যথা সহস্ৰধা অধিগতাভদা, তথা ভগবৎপাদশ্ৰীমন্মুখায়ুজনিৰ্গতা ব্ৰহ্মাদ্বয়ৈপরায়ণ জননহরণী সূক্তি। পূৰ্বাচাৰ্যান্ ব্যাখ্যাতু ব্যাখ্যেয়নে উপেত্য অর্থতঃ সহস্ৰধাধি- গতভিৰা সতী জয়তীতি সম্বন্ধ। অত্র সূক্তি: সহস্ৰধা অধিগতভিদেতি সূক্তি- ১-১১।

প্রথম পরিচ্ছেদঃ। বিশেষণেন স্বগ্রন্থে প্রদর্শয়িষ্যমাণসিদ্ধান্তভভদানাং সর্বেষাং ভগবৎপাশ্ৰীমন্মুখাম্বুজ- নির্গত সুক্তিরেব মূলমিতি সূচিত। অধিগতভিদা প্রাপ্তভেদা সরিৎ গঙ্গা, মহী- ভেদান্ ভূপ্রদেশান্, শৌরেঃ শ্রীমহাবিষ্ণোঃ, পদোদগতা পাদানুজনিৰ্গতা, জয়তি সর্বোৎকর্ষেণ বৰ্তত ইতি স্তুতিঃ। ভগবৎপাদস্য শ্ৰীমন্মুখমেবায়ুজং কমলং তম্মানিৰ্গতা। মুখে অম্বুজত্বরােপে কান্তিমত্বাদিরূপং শ্রীমত্ত্বং নিমিত্তমিতি সূচনার্থং এমদিতি বিশেষণম্। জননহরণী জননং সংসারঃ তৎ স্বজন্তব্ৰহ্মজ্ঞানদ্বারা হরতীতি জননহরণী সূক্তিঃ গ্ৰন্থতােহথতশ্চ নিরবদ্যং ভাষ্যম। ব্ৰহ্মাদ্বয়ৈক- পরায়ণ ব্ৰহ্ম চ তদদ্বয়ং চ ব্ৰহ্মাদ্বয়ং, ব্ৰহ্মাদ্বয়ং চ তদেকং চ ব্ৰহ্মায়ৈকং, ব্ৰহ্মা- দ্বয়ৈকং পরায়ণং পরমতাৎপৰ্যবিষয়য় যস্যাঃ সূক্তে, সা ব্ৰহ্মাদ্বয়ৈপরায়ণা। অনেন বিশেষণেন দ্বিতীয়প্রপঞ্চশূন্যমেকরূপং সত্যজ্ঞানানন্দলক্ষণং ব্ৰহ্ম সূক্তিপদ- সংগৃহীতস্য ভাষ্যাত্মকশাস্ত্রস্ত বিষয় ইত্যুক্তং ভবতি। জননহরণীতি বিশেষণেন শাস্ত্র মুক্তি প্রয়ােজনমিত্যুক্ত। অর্থাৎ মুক্তিকামঃ শাস্ত্র অধিকারী। মুক্তে- রধিকারিণশ্চ প্রাপ্যপ্রাপ্ত ভাবলক্ষণঃ সম্বন্ধশ্চ সূচিত। এবং ত্যর্থাভ্যাং শ্লোকেন ভায্যাত্মকবেদান্তশাস্ত্রস্ত বিষয়াদিকং কথয়তা গ্রন্থকারেণ স্বকীয়গ্রন্থ বেদান্তশাস্তু- প্রকরণহৃৎস্যাপি তদেব বিষয়াদীতি সূচিতং ভবতি। ১। (২ পৃষ্ঠা) ইদানীং চিকীর্ষিতং প্রতিজানীতে—প্রাচীনৈরিতি। প্রাচীনৈরাচার্ঘ্যৈঃ আত্মৈক্যসিদ্ধৌ পরম্ অত্যন্তং সন্নহদ্ভিঃ তাৎপৰ্য্যবদ্ভিঃ আত্মক্যসিদ্ধপায়তয়া ব্যবহারসিদ্ধবিষয়ে ভ্রান্তিমাত্ৰসিদ্ধপদার্থেযু জীবেশ্বরজগপেষু অনাদরাৎ সরণয়ঃ প্রকারাঃ নানাবিধাঃ পরস্পরবিরুদ্ধা দর্শিতাঃ। অনাদরাদিত্যনেন পরস্পরবিরুদ্ধেযু জীবৈকত্বনানাত্বতৎপ্রতিবিম্বত্বাদিরূপপ্রকারেষু অভিনিবেশবতাম্ আচাৰ্যাণাং ভেদ- বাদিনাম্ ইব অনাপ্তত্বং স্যাদিতি শঙ্কা নিকৃতা ভবতি। বিবক্ষিতবস্তুপ্রতিপক্তৃপায়- তয়া বিরুদ্ধনানাপ্রকারপ্রদর্শনম্ আচাৰ্যাণাং ন দোষায় ভবতি। কিং ত্বলঙ্কারায়ৈব ভবতি। প্রতিপক্কুণাং প্রজ্ঞাবৈচিত্র্যেণ কস্যচিৎ প্রতিপন্তু কেনচিৎ প্রকারেণ মুক্তিসাধনব্ৰহ্মাত্মৈক্যজ্ঞানলাভৎ। তদুক্তং সুরেশ্বরাচাৰ্য্যৈঃ- ‘যয়া যয়া ভবেৎ পুংসাং ব্যুৎপত্তিঃ প্রত্যগাত্মনি। সা সৈব প্রক্রিয়েহ স্থাৎ সাধ্বী সা চানবস্থিত। ইতি। ব্যুৎপত্তিঃ বােধ। প্রত্যক্ চাসাবাত্মা চ প্রত্যগাত্মা সবান্তরশ্চিদাত্মা, ৪ কৃষ্ণালঙ্কারঃ। সিদ্ধান্তভেদান্ তস্মিন্ বিষয়ে। প্রক্রিয়া প্রকারঃ। ইহ বেদান্তশাস্ত্রে। সাধ্বী নিরবদ্যা গুণ- ভূতা। সা চানবস্থিত নানাবিধা। পরিমলে দীক্ষিতৈরপি এতদুক্তম, -অকল্পিত- বস্তু প্রতিপক্তৃপায়তয়া কল্পমানেষু পদার্থে বিরােধে ন দোষাবহঃ। যথা তাত্ত্বিকারুন্ধতী প্রতিপক্তৃপায়তয়া নানাপুরুষেঃ কল্পমানা তৎপ্রাচ্যোদীচ্যাদিনক্ষত্র- রূপাসু স্থূলারুন্ধতীষু বিরােধাে ন দোষাবহঃ ইতি। তন্মূলা প্রাচীনপ্রদর্শিত নানাবিধসরণিমূলান্। ইহ স্বগ্রন্থে। ধিয়ঃ শুদ্ধ্যৈ স্ববুদ্ধিপরিষ্কারায়। বস্তুতস্তু লােকানুগ্রহ এব প্রয়ােজনমিতি বােধ্যম, ! তাতচরণানাং পিতৃচরণানাং ব্যাখ্যা- রূপৈঃ বচোভিঃ খ্যাপিতা জ্ঞাপিতা। অনেন স্বস্ত ব্ৰহ্মবিদ্যামাচাৰ্যাদেব লাং দর্শয়তি স্বগ্রন্থস্যোপাদেয়ত্বসিদ্ধয়ে। সংগ্রহেণ সঙ্কলয়ামীত্যুক্তমেব বিবৃন্ ‘ননু, প্রাচীনগ্রন্থসিদ্ধান্তানামেব স্বগ্রন্থে সংগ্রহ ইত্যুক্তম যুক্ত। প্রাচীনগ্রন্থেযু অবিদ্যমানস্যাপি যুক্তিভিঃ উপপাদনশ্য স্বকীয়সংগ্রহগ্রন্থে তত্র তত্ৰোপলম্ভা ইতি শঙ্কাং নিরাকররাতি-তেম্বিতি । (৩ পৃষ্ঠা ) স্বগ্রন্থে প্রথমং শ্রবণবিধিঃ বিচাৰ্য্যত ইত্যাহ-তত্র তাবদিতি। শ্রবণবিধৌ অধিকারিণং নির্দিশতি--অধীতেতি। বেদান্তৈঃ জনিপাতপ্রতিপত্তিবিষয়ে ব্ৰহ্মাভিন্নাত্মনি সম্যগদার্টেননাদিত উৎপন্ন জিজ্ঞাসা নির্ণয়রূপজ্ঞানেচ্ছা যত্যের্থ। অধীতবেদস্থাপি শিক্ষাকল্পব্যাকরণাদীনাং বেদাঙ্গানামধ্যয়নাভাবে সতি ব্যুৎপত্তেরভাবাৎ জিজ্ঞাসাহেতুভূতাপাত প্রতিপত্তিরপি ন সম্ভবেদিত্যভিপ্রেত্যাধীতসাঙ্গস্বাধ্যায়স্ত্যেত্যু- ক্তম, ন চ নির্দোষবেদান্তজায়া: ব্ৰহ্মাত্মপ্রতিপত্তেঃ কথমাপিতত্বমিতি বাচ্যম। ‘নাহং ব্ৰহ্ম’ ইতিপ্রত্যঙ্গবিরােধাদিশঙ্কয়া প্ৰমারূপায়ামপি ব্ৰহ্মাত্মপ্রতিপত্তাবপ্রামাণ্য- শঙ্কাম্পদত্বরূপ আপাতত্বস্ত সম্ভবাদিতি ভাব। বেদান্তশ্রবণে শ্ৰেতব্য ইতি বিধিঃ প্রতীয়মানঃ ইতি সম্বন্ধ। তজ জ্ঞানায়েতি। অপ্রামাণ্যশঙ্কানাস্পদব্রহ্মাত্ম- জ্ঞানায়েত্যর্থ। খলু-শব্দেন অপূৰ্ববিধিত্বাদিপ্রকারত্ৰয়স্য পূৰ্ব্বতন্ত্রে প্রসিদ্ধিঃ সূচ্যতে। কালয়েহপীতি। কথমপি দৃষ্টাৰ্থত্বেনদৃষ্টাৰ্থত্বেন বা কেনাপি প্রকারেণ কালয়েহপি কদাপি বিধিং বিনা প্রাপ্তিরহিত প্রেক্ষণাদেঃ প্রাপ্তিফলকো বিধিঃ আদ্যঃ অপূৰ্ববিধিরিত্যর্থ। ব্রীহিনীতি দ্বিতীয়াত্যা ব্রীহীণাং সংস্কাৰ্যত্বাবগমাৎ প্রােক্ষণস্য সংস্কার কর্মমুক্তমিতি মন্তব্যম। কত্বমুক্তমিতি মন্তব্যম। বিনিয়োেগমিতি। বিধায়ক- শব্দমিত্যর্থঃ।

প্রথম পরিচ্ছেদঃ । ৫ (৫ পৃষ্ঠা)- পুরােডাশেতি। দর্শপূর্ণমাসয়ােরাগ্নেয়াদিগানামুৎপতৌ পুরােডাশ- দ্রব্যং বিহিতম। ব্রীহয়স্তৎপন্নে যাগে ষাগানুবাদেন বিহিতাঃ। তথা চ ব্রীহীণা- মুৎপশিষ্টানামুৎপত্তিশিষ্টপুরােডশাবরুদ্ধে যাগে সাক্ষাৎসাধনত্বাযােগাৎ পুরােশ- প্রকৃতিদ্রব্যত্বেন যাগসাধনত্বং পৰ্যবস্থতি। পুরােডাশপ্রকৃতিত্বং চ ব্রীহীণাং তণ্ডুল- নিষ্পত্তিদ্বারকম। তণ্ডুলনিষ্পত্তিশ্চ স্বকারণক্ষিপতি। তণ্ডুলনিম্পত্তৌ চ কারণ অন্বয়ব্যতিরেকাভ্যামবহননং নিশ্চিতমিতি বিধিং বিনা বিধিৎসিতাবহননপ্রাপ্তি- বস্তীত্যর্থ। ননু অবহনন লােকতঃ প্রাপ্তৌ তস্য লােকত এব নিত্যপ্রাপ্তিরপি স্থাদিত্যত আহ—কিংত্বিত্যাদিনা। আক্ষেপাদিতি। তণ্ডুলনিষ্পত্ত্যাক্ষেপা- দিত্যৰ্থঃ। কিং তু অবহননাপ্রাপ্তাংশসদ্ভাবৎ তদংশপরিপূরণফল ইতি সম্বন্ধ। (৭ পৃষ্ঠা) দয়ােরিতি। দ্বয়ােঃ শেষিণােরেক শেষশ্য নিত্যপ্রাপ্তৌ শেষ্যন্তরস্য নিবৃত্তি- ফলকঃ একস্মিন্ শেষিণি দ্বয় শেষয়ঃ নিত্যপ্রাপ্তৌ শেষান্তরস্ত নিবৃত্তিফলকে। বা বিধিস্তৃতীয় ইতি যােজনা। ন তদিতি। প্রাপ্তত্বৎ ন তৎপ্রাপ্ত্যর্থঃ, নিত্য প্রাপ্তত্বাৎ 'ন তদপ্রাপ্তাংশপরিপূরণার্থে বেত্যৰ্থঃ। অতিদেশাদেবেতি। প্রকৃতিবদ্বিকৃতি কর্তব্যা’ ইত্যেবংরূপাদিত্যর্থ। ন তত্র বিধিরিতি। ‘আজ্যভাগৌ যজতি ইতি বিধিরাজ্যভাগয়ােঃ প্রাপ্ত্যর্থে ন ভবতি। বিধিং বিন প্রাপ্যত্বাৎ। তয়ােরপ্রাপ্তাংশপরিপূরণার্থো বা ন ভবতি। নিত্যপ্রাপ্তত্বৎ। কিং তু তন্নিবৃত্ত্যর্থ ইতি' যােজনা। ননু, ‘আজ্যভাগৌ যজতি ইতি বিধেরিতরাঙ্গকলাপ- পরিসংখ্যায়কত্বং ন সিদ্ধান্তঃ ইত্যত আহ–গৃহমেধীয়াধিকরণেতি । (১০ পৃষ্ঠা) নিয়মবিধাবপীতি। পরিসংখ্যাবিধৌ ইব নিয়মবিধৌ অপি ইত্যর্থঃ। তদবরুদ্ধত্বদিতি। অবহননেনৈবাবরুদ্ধত্বাৎ তণ্ডুলনিস্প্যাক্ষেপ শান্তাদি- ত্যর্থ। ফলত ইতি। নিয়মবিধে পক্ষপ্ৰাপ্তাবননাদিক্রিয়াদিবিধায়কত্বাৎ। পরিসংখ্যাবিধেশ্চ নিত্যপ্রাপ্তক্রিয়াদিবিধায়কত্বান্নিয়মপরিসংখ্যাবিপধ্যাঃ স্বরূপতো বিবেকলাভেহপি ফলত ভেদো ন যুক্ত ইত্যর্থ। নিয়ম নিয়মবিধিফলধােপগমে হেতুদ্বয়মাহ—প্রাথম্যাদিত্যাদি। প্রত্যাসন্নত্বাদিতি। বিধিং প্রতি প্রত্যাসন্নত্বাদিত্যর্থ। বিধেয়ক্রিয়াগতত্বং প্রত্যাসন্নত্বে হেতুঃ। ইতরনিবৃত্ত্যপেয়া ;

। কৃষ্ণালঙ্কারঃ। প্রথমােপস্থিতত্বরূপে প্রথমে হেতুমাই—বিধিত ইত্যাদিনা অশক্যতয়েত্য- নে। ইতরনিবৃত্তেঃ নিয়মবিধিফলত্বানুপগমে হেতুদ্বয়মাহতদনুনিষ্প- দিন্যা ইত্যাদি। অপ্রাপ্তাংশপরিপূরণােপস্থিত্যনন্তরমুপস্থিতায়া ইত্যর্থ। অনেন বিলম্বিতােপস্থিতিকত্বমেকো হেতুরুক্ত ইতি মন্তব্যম। দ্বিতীয়হেতৌ বিপ্র- কৃষ্টত্বে হেতুমাহ-অবিধেয়েতি। ব্যাবৃত্তিনাম অননুষ্ঠেয়তা অনঙ্গতা বা। সা চ অবিধেয়নখবিদলনাদিগত্যের্থঃ । (১৫ পৃষ্ঠা) ইদানীং প্রকৃতং শ্রবণবিধিবিচারমারভতে—এবমিতি। অপ্রাপ্তত্বদিতি। ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারং প্রতি বেদান্তশ্রবণস্য সাধনতয়া মানান্তরাদনধিগতত্বেন অপ্রাপ্তাৰ্থক- ত্বাদিত্যর্থ। ননু, মানান্তরাদনধিগতত্বমসিদ্ধ। অন্বয়ব্যতিরেকাভ্যাং তদবগতি- সম্ভবাৎ। তথাহি-বেদান্তশ্রবণে সতি ব্রহ্মসাক্ষাৎকারঃ দৃশ্যতে। অসতি চ তস্মিন্ ন দৃশ্যত ইতি তত্ৰাহন হাতি। তদনুৎপভেরিতি। সাক্ষাৎকারানুৎপত্তে- রিত্যর্থ। বামদেবস্যেতি । তথা চ শ্রুতিঃ-গর্ভ এবৈতচ্ছয়ানাে বামদেব এবং পূর্বোক্তপ্রকারেণ এতব্ৰহ্মজ্ঞানজন্মনা স্বকীয়াং শক্তি- মুবাচ্যের্থ। ননু, গান্ধৰ্ব্বশাস্ত্রশ্রবণে যড় জাদিম্বরসাক্ষাৎকারঃ, তদভাবে তদভাব ইতি দৃষ্ট। তত্র শ্রোতব্যার্থবিশেষস্বরসাক্ষাৎকার প্রতি গান্ধৰ্ব্বশাস্ত্ৰবিচারাত্মক শ্রবণবিশেষ কারণত্বগ্রহকালে লাঘবাৎ শ্রোতব্যার্থসাক্ষাৎকারবচ্ছিন্নং প্রতি শ্রবণমাত্র কারণত্বং গৃহতে। তথা চ ব্রহ্মসাক্ষাৎকারবেদান্তশ্রবণয়ােবিশিষ্য কাৰ্যকারণভাবগ্রহণভাবেহপি ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারস্যাপি শ্রোতব্যার্থসাক্ষাৎকারত্ব বেদান্তশ্রবণস্যাপি শ্রবণাক্তসামান্তরূপেণ বেদান্তশ্রবণস্য ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারহেতুত্বং- প্রাপ্তমেবেতি নাপূর্ববিধিরিতি, নেত্যাহন বা শ্রবণমাত্রমিতি। ধৰ্ম্মশ্রবণস্থলে অদৃষ্টরূপস্য, অলৗকিকশ্রেয়ঃসাধনতাবিশিষ্টযাগাদিরূপস্য বা ধৰ্ম্মস্য সাক্ষাৎকারযােগ্য- তয়া সাক্ষাৎকারাদর্শনেন উক্তসামান্যকাৰ্যকারণভাবস্থ ব্যভিচারাৎ ন লাঘবাবতার ইতি। তত্র গান্ধৰ্ব্বশাস্ত্রশ্রবণস্যান্নয়াদিনা স্বরসাক্ষাৎকাৰহেতুত্বগ্রহেহপি বেদান্তশ্রবণ ন ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকাৰহেতুত্বপ্রাপ্তিরিত্যাহ-গান্ধৰ্ব্বাদীতি। কৰ্ম্মেতি। অত্র আদিপদেন হিরণ্যগর্ভাদিদেবতাপ্রতিপাদকবাক্যজাতং গৃহতে। ধৰ্ম্মাদীত্যাদিপদেন হিরণ্যগর্ভাদিদেবতা গৃহ্যতে। তম্মাদিতি। প্রাপ্ত্যবাদিত্যর্থ। অত্রার্থে সম্মতিমাহ ভাষ্যেহপীতি । এবমুবাচ’ ইতি।

প্রথম পরিচ্ছেদঃ। ৭ ভাষ্যেহপ্যপূৰ্ববিধিরেঙ্গীকৃত ইতি সম্বন্ধ। অমর্থঃ বৃহদারণ্যকে শুয়তে “তস্মাৎ ব্রাহ্মণ: পাণ্ডিত্যং নির্বিদ্য বাল্যেন তিষ্ঠাসেৎ বাল্যং চ পাণ্ডিত্যং চ নিৰ্বিদ্যাথ মুনি?” ইতি। যক্ষ্মদতিক্রান্ত ব্রাহ্মণাঃ শ্রবণাদিসাধনৈরাত্মানং বিদিত্ব। জীমুক্তিব্যঞ্জকং সকলবিক্ষেপরহিতং পরমহংসাশ্ৰমং প্রাপ্তাঃ, তদিদানীন্তনােহপি ব্রাহ্মণপা ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারার্থী পাণ্ডিত্যং নির্বিদ্য বাল্যেন স্থাতুমিচ্ছেৎ। বিচার- প্রয়ােজকাপাতরূপা বুদ্ধিঃ অবিদ্যানিবৃত্ত্যাদিকার্যক্ষমত্বাৎ পণ্ড সাহস সঞ্জাতেতি পণ্ডিতঃ, তস্য কৃত্যং পাণ্ডিত্যং শ্রবণ মিত্যর্থঃ। বাল্যং নাম বালস্য শিশােঃ কৃত্যং দম্ভদৰ্পাদিরাহিত্য, ন তু বালে প্রসিদ্ধং যথেষ্টচেষ্টারূপ, তস্য বহির্মুখত্বা- পাদকত্বেন বিদ্যাবিরােধিত্বাৎ। দম্ভাদিরাহিত্যরূপভাবশুদ্ধিবাচকেন বাল্যপদেন ভাবশুদ্ধিসাধ্যং মননং লক্ষ্যতে, শ্রবণানন্তরভাবিত্বাৎ তস্য। বাল্যং চ পাণ্ডিত্যং চ নির্বিদ্য নিশ্চয়েন লব্ধ। তদুভয়ং সম্যগনুষ্ঠায়েতি যাবৎ। অথ অনন্তরং মুনিঃ স্যাৎ মননশীলে ভবেদিতি বিধিঃ। ধ্যানমত্র মননম্। ধ্যাননিষ্ঠে ব্যাসাদৌ মুনিশব্দপ্রয়ােগ- দর্শনাৎ, ধ্যানং বিনা বিচারমাত্ৰবিশ্রান্তে তদপ্রয়ােগাচ্চ। তথা চ অপূৰ্ব্বত্বা যথা শ্রবণে বিধিঃ, এবং মৌনস্য বিদ্যাসহকারিণঃ বিদ্যোৎপত্তেী সাধনস্য বিধিরেবাশ্রয়ি- অপূৰ্ব্বদেবেতি ভাষ্যার্থঃ। সূত্ৰাৰ্থস্তু তদ্বতঃ শ্রবণমননজনিততত্ত্বনির্ণয়- রূপবিদ্যাবতঃ তত্ত্বসাক্ষাৎকারার্থিনঃ সন্ন্যাসিনঃ পাণ্ডিত্যবাল্যাপেক্ষয় তৃতীয়ং মৌনম, ‘অথ মুনিরিতি বাক্যেন বিধীয়তে। ননু, পাণ্ডিত্যবাল্যাভ্যাং নির্ণীততত্ত্বঃ তত্ত্ব- সাক্ষাৎকারার্থী ধ্যানে স্বয়মেব প্ৰবৰ্ততে রত্নতত্ত্বসাক্ষাৎকারার্থীব রত্নতত্ত্বগােচরপ্রত্যয়- সন্ততে। ন চ তত্ত্বসাক্ষাৎকারার্থিনৎসাধনশ্রবণাদাবপি স্বয়মেব প্রবৃত্তিঃ স্যাদিতি তত্রাপি বিধিবৈয়ৰ্থশঙ্কা তুল্যেতি বাচ্যম্। বিধিং বিনা বেদান্তশ্রবণে প্রবৃত্ত্যসম্ভবস্য সাধিতত্বাৎ। তথা চ মৌনবিধিঃ ব্যর্থ ইত্যাহ—পক্ষেণেতি। মৌনস্য সহকাৰ্যন্তরস্য বিধিরঙ্গীকৰ্তব্যঃ, পক্ষেণাপ্রাপ্তিমত্ত্বাৎ। সাক্ষাৎকাৱাৰ্থং ধ্যানে স্বয়মেব প্রবৃত্তস্যাপি বিষয়দর্শনপ্রাবল্যাৎ ধ্যানস্য কদাচিদপ্রাপ্তিঃ সম্ভবতি। তথা চ মৌনবিধে অপূৰ্ববিধিত্বাভাবেহপি নিয়মবিধিত্বং সিদ্ধ্যত্যেব। সতি চ নিয়মবিধৌ তদতিক্রমে নিয়মাদৃষ্টাভেন সাক্ষাৎকারানুদয়ভীত্যা স্বভাবপ্রাপ্তমপি বিষয়দর্শনং যত্নেন নিবাৰ্য্য ধ্যান এব প্ৰবৰ্তত ইতি পক্ষেণেতি সুভাগাভিপ্রায়। ননু, ব্ৰহ্মবিদ্যাপ্রধানে প্রকরণে কথং ধ্যানাদিবিধিঃ। বাক্যভেদপ্রসঙ্গাদিতি, নেত্যাহ-বিধাদিবদিতি। অঙ্গবিধিবদিত্যর্থ। যথা প্রধান বিধিপরে কৃষ্ণালঙ্কার। প্রকরণে অবান্তরবাক্যভেদেন প্রষাজাদ্যঙ্গবিধি, তথা ব্রহ্মবিদ্যাজধ্যানাদি- বিধিরিত্যর্থঃ। উক্তরীত্যা মৌনবিধেনিয়মবিধিত্বে স্থিত্বে ভাষ্যগতাপূৰ্ব্বত্ববচনং মৌনবিধ্যংশে পাক্ষিকা প্রাপ্ত্যভিপ্রায়ং দ্রষ্টব্য। যথাসূত্ৰং পক্ষে প্রাপ্ত্যবাদিতত্যব বক্তব্যে ভাষ্যে অপূৰ্ব্বত্বাদিতি বচনং শ্রবণবিধিরপূৰ্ববিধিরেবেতি জ্ঞাপনার্থ। অপ্রাপ্তিমাত্রে চ দৃষ্টান্তদাষ্টান্তিকভাবে বিবক্ষিত ইতি প্রকটাৰ্থকারদীনামাশয়ঃ । ( ২৩ পৃষ্ঠা ) অপূৰ্ব্ববিধিত্বপক্ষং দূষয়তি-বেদান্তশ্রবণস্যেতি । বিচারবিশিষ্টবেদান্ত- রূপস্য শ্রবণ ব্ৰহ্মসাক্ষাৎকারহেতুত্বং বিধিং বিনাপি প্রাপ্তমিত্যর্থ। ননু, বাক্য কথং সাক্ষাৎকারহেতুত্ব। ইন্দ্রিয়জন্যজ্ঞানস্তৈব সাক্ষাৎকারত্বৎ। অত আহ–অপরােক্ষবস্কৃিতি। অপরােক্ষবস্তুবিষয়কত্বং জ্ঞানস্যাপনােক্ষত্ব, ন ত্বিন্দ্ৰিয়জত্ব। বাপরােক্ষ্যং চ বস্তুব্যবহারানুকূলচৈতন্যাভিন্নত্ব মিতি শাব্দা- পরােক্ষবাদে বক্ষ্যতে। তথা চ নিত্যাপরােক্ষত্বেন শ্ৰতিসিদ্ধব্ৰহ্মরূপবস্তুবিষয়কত্বাৎ বেদান্তনুজান সাক্ষাৎকারত্বসিন্ধিরিত্যর্থ। ননু অস্মিন্ শাস্ত্রে শাদাপরােক্ষবাদস্য কা সঙ্গতিরত আহতদর্থমেব হীতি। বেদান্তানাং ব্রহ্মাপরােক্ষপ্রমিতিজনকত্ব- সিদ্ধার্থমেব তদ্বাদসঙ্গতিঃ, নান্যার্থমিত্যেৎ প্রসিদ্ধমিত্যর্থঃ। ননু অপরােক্ষবস্তুবিষয়কং প্রমাণং স্ববিষয়ে সাক্ষাৎকারহেতুরিতি শাদাপরােক্ষবাদে প্রসাধনেন বেদান্তানামপি স্ববিষয়ে নিত্যাপরােক্ষে ব্ৰহ্মণি অপরােক্ষজ্ঞানসামান্যহেতুত্বমেব প্রাপ্ত, ন তু সত্তা- নিশ্চয়রূপতৎসাক্ষাৎকারহেতুত্ব। চ্চ বিচারবিশিষ্টবেদান্তরূপশ্রবণস্তৈব যুক্ত। অন্যথা বিচারাৎ প্রগপি সত্তানিশ্চয়প্রসঙ্গাৎ। ন চ বাক্যজন্য সাক্ষাৎকারমাত্রাদেব অবিদ্যানিবৃত্তিলক্ষণফলসম্ভবাৎ সানিশ্চয়রূপত্বং সাক্ষাৎকারস্য নান্বেষণীয়মিতি বাচ্যম্। তত্র তত্র ব্রহ্মোপদেশ প্রদেশে যাবৎ সংশয়নিবৃত্তি পুনঃ পুনঃ প্রশ্নপ্রতি- বচনলিঙ্গেন ‘বেদান্তবিজ্ঞানসুনিশ্চির্থা ইত্যাদি ত্যা শ্রুহব্ৰহ্মণােহপি যথাপূৰ্বং সংসারানুবৃত্তনুমিতাবিদ্যানিবৃত্ত্যভাবরূপলিঙ্গেন শ্রবণমননধ্যানশমদমভক্তি- বৈরাগ্যাদীনাং জ্ঞানপরিপাকহেতুনাং বিধিদর্শনলিঙ্গেন চ সত্তা নিশ্চয়রূপব্ৰহ্মসাক্ষাৎ- কারস্যৈবাবিদ্যানিবৃত্ত্যর্থমিষ্যমাণত্বাৎ। তথা চ বেদান্তশ্ৰবণস্যোক্তরূপসাক্ষাৎকার হেতুত্বপ্রাপ্তমেবেতি শঙ্কতেন চ তাবতেতি। বেদান্তানামিতি শেষ। অপরােক্ষবস্তুবিষয়ক প্রমাণং বিষয়ে সাক্ষাৎকারহেতুরিতি প্রসাধনমাত্রেণেত্যর্থ। অপরােক্ষবস্তুবিষয়ক প্রমাণমপরােক্ষজ্ঞানহেতুরিতি স্থিতে বিচাররা বিচাৰ্যনিৰ্ণয়হেতু- চ প্রথম পরিচ্ছেদ। (তাৎপৰ্য) অর্থ এই যে, প্রমাণাদির সত্যাসত্য সম্বন্ধে উদাসীন থাকিয়া যে কথা আরব্ধ হইয়াছে, তাহাতে সেই ব্যাঘাতাদি দোষের প্রতিই হইতে পারে না। কারণ, সে বিষয়ে বাদী ও প্রতিবাদী উভয়েই উদাসীন হইয়াই প্রবৃত্ত হইয়া- ছেন। সুতরাং, ঈদৃশ কথাতে যদি এই দোষের আরােপ বাদী করেন, তাহা হইলে তাহা সমুচিতই হইয়াছে বলিয়া গ্রন্থকার বাদীকে উপহাস করিতেছেন। যদি বাদী ইহার উপর এরূপ শঙ্কা করেন যে, উদাসীন থাকি খণ্ডন- কারের কথাতে প্রবৃত্তি হইতে পারে না; কারণ, খণ্ডনকার কর্তৃক প্রমা- ণাদির সত্তা অস্বীকৃত হওয়ায় তিনি তাহার অসত্তা স্বীকার করিয়াছেন, প্রমাণাদির অসত্তা স্বীকার খণ্ডনকারের অভিপ্রেত। তাহা হইলে সেই আশঙ্কা- বারণ জন্য গ্রন্থকার খণ্ডনকার বলিতেছেন যে, আমি (বাদী) এই কথাতে দোষ-প্রদর্শন করিয়াছিলাম—এইরূপ নিজাভিপ্রায়-সম্বন্ধে যিনি অজ্ঞ, তিনি আমার (খণ্ডনবাদীর অভিপ্রায় কি করিয়া জানিতে পারেন ? প্রমাণাদির সত্তা যেরূপ আমি অঙ্গীকার করি না, সেইরূপ অসত্তাও আমি অঙ্গীকার করি না; সুতরাং, বাদী কি করিয়া জানিলেন যে, আমি সত্তা স্বীকার করি না এবং সেই জন্য অসত্যতা স্বীকার করি, ইত্যাদি। সুতরাং, বাদী কর্তৃক আমার এরূপ অভিপ্রায় কল্পনা করা বাদীর পক্ষে দুরাশা মাত্র হইবে। কিন্তু, শঙ্কর মিশ্র এই উপসংহার বাক্যের অন্যরূপ অথ করেন। অর্থাৎ তিনি বলেন যে, ইহার অর্থ-কথারম্ভে বাদী ও প্রতিবাদীর পক্ষে প্রমাণাদি- পদাথের সত্যতা স্বীকার করা অনাবশ্যক এবং উভয়ের অনমিত দোষের উদ্ভাবনী অকৰ্তব্য—ইহা যে পূর্বে বলা হইয়াছে, এস্থলে গ্রন্থকার তাহারই পুনরুক্তি করিতেছেন মাত্র। এস্থলে “উচিতমেব তথা সতি স্যাৎ” এই বাক্যে “যদ্যুভয়াভাপগতং স্যাৎ এই বাক্যটী উহ করিয়া লইতে হইবে। আর তাহা হইলে তাহার অথ ঐ রূপেই পৰ্যবসন্ন হইল। ইহার পর “যােইয়ং” ইত্যাদি গ্রন্থদ্বারা বাদীর অজ্ঞতা প্রকাশ করিয়া তাঁহাকে উপহাসও করা হইল। ইহার হেতু এই যে, তিনি পূৰ্বে বলিয়াছেন প্রমাণাদি-পদার্থের সত্তা স্বীকার করিয়া যে কথারম্ভ হয়, তাহাতে ব্যাঘাত দোষ হয়, এবং এখন বলিতেছেন যে, প্রমাণাদি-পদাথের সভা স্বীকার না করিলে কথার আরম্ভই হইতে পারে না। ইহা এস্থলে তাহার স্বাভিপ্রায়াজ্ঞতা, অতএব তিনি উপহাসেরই পাত্র।

খণ্ডন-ও-খাদ্য। ৫ আপােন্তর। শিষ্যের প্রতি উক্ত কথার অনধিকাদর্শন। অথ বাদীকৃত্য দুৰ্বৈতকিং তস্মিন্ উপাধে বাধােহভিধীয়তে ইত্যেব নেষ্যতে, শিষ্যাদয়স্তু তস্য কথানধিকারং জ্ঞাপ্যন্তে, অতএব ভাষ্যকারঃ “স প্রয়ােজনযুক্তো যদি প্রতিপদ্যতে” ইত্যাহ স্ম; ন তু প্রতিপদ্যসে ইতি ১২ (তাৎপৰ্য) আর যিনি নিজ অভিপ্রায় অবগত নহেন, তিনি যে পরের অভিপ্রায় অনবগত হইবেন, তাহাতে আর বিচিত্রতা কি? এস্থলে খণ্ডনকারের অভিপ্রায় এই যে, তাহার মতে কথার পূর্বে প্রমাণাদিপদার্থের সত্যতা স্বীকার করা অনাবশ্যক; কিন্তু বাদী বুঝিলেন যে, খণ্ডনকার প্রমাণাদি-পদার্থই মানেন , আর সেই জন্য বাদী উক্ত ব্যাঘাত-দোষের উদ্ভাবন করিয়াছেন। সুতরাং, তিনি উপহাসেরই পাত্র হইতেছেন। ১৩ অনুবাদ-এক্ষণে বাদী শঙ্কা করিতেছেন যে, দুর্বৈতকিকে বাদীরূপে লক্ষ্য করিয়া তাহার সহিত যে স্থলে বিচার আরম্ভ হইয়াছে, সেই স্থলে এই পূর্বোক্ত ব্যাঘাতরূপ দোষ প্রদর্শিত হইতেছে, ইহা আমি স্বীকার করি না; কিন্তু, শিষদিগকে এইরূপ উপদেশ করা হইতেছে যে, যে বৈণ্ডিক প্রমাণাদি-পদাথের সত্যতা স্বীকার করে না, তাহার কথাতে অধিকার নাই। এই জন্য ন্যায়ভাষকার মহর্ষি বাৎস্যায়ন বলিয়া- ছেন যে, “বৈতণ্ডিককে কথাতে প্রবৃত্ত হইবার প্রয়ােজন জিজ্ঞাসা করিলে সে যদি তাহা অঙ্গীকার করে, [ তাহা হইলে সে বৈতওিক হইতে পারে না। আর সে যদি প্রয়ােজন অস্বীকার করে,তাহা হইলে সে উন্মত্তবৎ উপেক্ষনীয়]। এই স্থলে “প্রতিপদ্যতে” অথাৎ যদি অঙ্গীকার করে—এইরূপ প্রথম পুরুষের প্রয়ােগ তিনি করিয়াছেন। ইহার দ্বারা জানা যায় যে, বৈতণ্ডিকের সহিত যে কথা আরব্ধ হইয়াছে, তাহাকে লক্ষ্য করিয়া ইহা বলা হয় নাই। অর্থাৎ বৈতণ্ডিকের কথাতে অধিকার কথিত হয় নাই। যদি তাহার সহিতই বিবাদ হইত, তাহা হইলে “প্রতিপদ্যসে” অথাৎ তুমি যদি সেই প্রয়ােজন স্বীকার কর, এইরূপ মধ্যমপুরুষের প্রয়ােগ তিনি করিতেন।১৪ তাৎপৰ্য্য-ইতি পূৰ্ব্বে বলা হইয়াছে যে, প্রমাণাদি-পদার্থ সত্তা না প্রথম পরিচ্ছেদ। (তাৎপৰ্য) মানিয়া যদি কথাতে বৈতওিক প্রবৃত্ত হয়, তাহা হইলে ব্যবহার- সিদ্ধি এবং সাধনবাধন প্রভৃতি ব্যবস্থা কিছুই হইতে পারে না। কারণ, ইহারা প্রমাণাদিপদার্থের সত্তাধীন। এইরূপ বাদীর শঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার বৈতণ্ডিক উত্তর দিয়াছিলেন যে “আমি প্রমাণাদিপদাথ স্বীকার করি, কিন্তু তাহাদের সত্যতা স্বীকার করি না, তথাপি আমার কথাতে অধিকার থাকিতে পারে, যদি পদাথ স্বীকার করিলেও সত্যতার স্বীকার করি না বলিয়া আমার কথাতে অধিকার না থাকে, এবং সাধন-বাধনাদির ব্যবস্থা থাকে না, তাহা হইলে তুমি যে আমার উপর এই দোষ দিতেছে, তাহাও সম্ভব হয় না। কারণ, তুমি এবং আমি প্রমাণাদি-পদার্থের সত্যতা স্বীকার করিয়া যদি কথার আরম্ভ করিয়া থাকি, তাহা হইলে তুমি তাহাতে এই ব্যাঘাত-দোষের উদ্ভাবন করিতে পার না, আর যদি আমরা উভয়ে প্রমাণাদি-পদার্থের অসত্যতা স্বীকার করিয়া কথা আরম্ভ করিয়া থাকি, তাহা হইলে তাহাতে আমার উপর যে দোষ দেওয়া হইবে, তাহা তােমারও উপর হইতে পারে, আর যদি তুমি উক্ত সত্যতা স্বীকার কর এবং আমি অসত্যতা স্বীকার করি, এই রূপ ক্ষেত্রে যদি তুমি আমার কথার উপর ব্যাঘাত দোষ দাও, তাহা হইলেও আমার কথাতে অধিকার থাকিতে পারে ; কারণ, এতদূর পর্যন্ত যখন আমার কথাতে অধিকার থাকিয়াছে, অথাৎ এখন পর্যন্ত যখন আমার ব্যাঘাত হয় নাই, তখন এই কথার মত অন্য কথাতে কেন আমার অধিকার থাকিবে না ? তথাপি যদি আমার কথাতে অধিকার নাই থাকে, তাহা হইলে তুমি কাহার কথাতে ব্যাঘাত দোষ উত্তা- বন করিবে ? যাহার উপর ব্যাঘাত দোষ উদ্ভাবন করিবে, তাহার সঙ্গে কথা ত হওয়াই চাই। সুতরাং, বৈণ্ডিকেরও কথায় অধিকার আছে বলিতে হইবে।” ইত্যাদি। এখন বৈকি গ্রন্থকারের অভিমতের উপর বাদী পুনরায় শঙ্কা করিয়া বলিতেছেন—যদি আমি তােমার সহিত বিবাদে প্রবৃত্ত হইয়া তােমার কথার উপর ব্যাঘাত দোষ উদ্ভাবন করি, তাহা হইলে তুমি (অর্থাৎ আমি বৈতণ্ডিক) উপরি উক্ত দোষারােপ করিতে পার। কিন্তু আমি (অর্থাৎ বাদী) শিষ্যশিক্ষাকালে শিষকে এইরূপ উপদেশ করি, তােমাকে (বৈতকিকে। একথা বলি নাই। সুতরাং, তােমার প্রদর্শিত দোষ আমার ওন-ও-খাম। পূর্বোক্ত আপত্তির উত্তর। মৈবম্। শিষ্যাদী প্রতি অপি চার্বাকাদেঃ দোযােয়ম্ ইত্যেব অভিধাতব্য। কথং চ তথা স্যাৎ। তস্য কথাপ্রবেশনাপ্রবেশনয়ােত তদ্বাধহমাৎ। কথায়াম্ এব হি নিগ্রহঃ। ১৫ (তাৎপৰ্য) কথাতে হইতে পারে না। ইহার প্রমাণস্বরূপে দেখ, আমি মহর্ষি বাৎস্যায়নের কথাও উদ্ধৃত করিতে পারি। কারণ, তিনি বলিয়াছেন যে “যদি বৈতণ্ডিকের বিজয়াদি উদ্দেশ্য থাকে, তাহা হইলে তাহার প্রমাণাদিপদার্থের সত্যতাও স্বীকার করা চাই; যদি সে উদ্দেশ্যশূন্য হইয়া কথায় প্রবৃত্ত হয়, তাহা হইলে তাহাকে উন্মত্ত বলিতে পারা যায়” ইত্যাদি। এস্থলে দেখ, বৈতণ্ডিককে বাদীরূপে লক্ষ্য করিয়া বাৎস্যায়ন যদি ঐ কথা বলিতেন, তাহা হইলে “প্রতিপদ্যতে” এই প্রথমপুরুষ প্রয়ােগ না করিয়া “প্রতিপদ্যসে” এই মধ্যম-পুরুষ প্রয়ােগ করিতেন। সুতরাং, দেখা যাইতেছে যে, বাৎস্যায়নের মতে এরূপ দুষ্ট বৈণ্ডিকের সহিত কথা হইতেই পারে না, পরন্তু, শিষ্যশিক্ষা- কালে অথবা বাৎস্যায়ন ও গৌতমের অভিমত লক্ষণাক্রান্ত বৈতণ্ডিকের সহিত সম্ভব হইতে পারে। এই রূপ বৈতকি প্রমাণাদি পদার্থের সত্তা স্বীকার করে সে তােমার মত দুর্বৈতঙিক নহে। তাহাদের মতে ইহার লক্ষণ হইতেছে যে, যে বিবাদকালে নিজ পক্ষস্থাপনানুমান করে না মাত্র, সেই বৈকি। আর যাহার কোনও মত নাই, কেবল পরপক্ষের খগুনমাত্র যাহার উদ্দেশ্য, যে ব্যক্তি প্রমাণাদিপদার্থের সত্তা প্রভৃতি কিছু মানে না সেইরূপ বৈতঙ্কিকে দুৰ্বৈতকি বলা যায়। অতএব, খণ্ডনকারের ন্যায় দুর্বৈতণ্ডিকের সহিত কোন বিচারই সম্ভব হইতে পারে না। আর ইহাই যদি হয়, তাহা হইলে খণ্ডনকারের উপর আমি যে ব্যাঘাত দোষ দিয়াছিলাম, এবং তাহা শুনিয়া খণ্ডনকার পুনরায় সেই দোষ যে আমার উপর আবােপ করিয়াছিলেন, গৌতমের মতানুসারেই তাহার আর সম্ভাবনা থাকিল না। অতএব খণ্ডনকারের কথায়’ অধিকার নাই—ইহাই এস্থলে পূর্বপক্ষী প্রতিপন্ন করিলেন। এইবার এতদুত্তরে খগুনকার যাহা বলিতেছেন, তাহা এই ;-১৪ অনুবাদ—না, তাহা হইতে পারে না। শিষ্যাদিকেও বলিতে হইলে প্রথম পরিচ্ছেদঃ। (অনুবাদ) “চার্বাকাদির এই দোষ হইয়া থাকে,” ইহা বলিতে হইবে, এখন বল দেখি, ইহা কি করিয়া সম্ভব হয় ? সেই চার্বাকাদির কথাতে প্রবেশাধিকার যদি থাকে, অথবা না থাকে উভয়পক্ষেই তাহা হইলে তাহার বাধা করিতে পারা যায় না। যেহেতু, কথাতেই ত নিগ্রহ অর্থাৎ পরাজয় হইয়া থাকে। ১৫ •• '। তাৎপৰ্য-এইবার খণ্ডনকার পূর্বোক্ত নৈয়ায়িকের অর্থাৎ সদ্বাদীর আপত্তিটী খণ্ডন করিতেছেন। এস্থলে খণ্ডনকার বলিতেছেন যে, সদ্বাদী যে বলিতেছেন যে, তিনি কথাতে বৈতকিকে লক্ষ্য করিয়া এই ব্যাঘাত দোষের উপন্যাস করেন নাই, যাহাতে তাহার উপরও সেই দোষের সম্ভাবনা হইবে, কিন্তু, তিনি তাহার শিষ্যগণকে এইরূপ উপদেশ করিয়া থাকেন যে, চার্বাকাদি বৈতণ্ডিকের কথাতে প্রবেশাধিকার নাই ; যেহেতু, প্রমাণাদিপদার্থকে সত্য না মানিয়া সেই বৈতঙিক কথাতে প্রবেশ করিলে ব্যাঘাত দোষ হইবে; ইত্যাদি। অর্থাৎ, শিষ্যগণকে এইরূপ উপদেশ করা হয় যে, “তােমরা বৈতণ্ডি- কের কথাতে এতাদৃশ দোষ হয় ইহা অবধারণ কর” ইত্যাদি। ইহা কিন্তু সঙ্গত নহে। আচ্ছা, বল দেখি, চার্বাকাদির কথাতে অধিকার নাই—ইহা শিষ্য- গণকে তুমি যে বুঝাও, তাহা কি করিয়া বুঝাও ? দেখ, তাহা ত সম্ভবই হয় । কারণ, “চার্বাকাদির কথাতে অধিকার নাই; যেহেতু, ব্যাঘাত দোষ হয়—এইরূপ দোষের বিষষই তুমি শিষ্যকে বুঝাও ; তাহা হইলে বল দেখি, চার্বাকাদির কথাতে প্রবেশ হইলে এই দোষ হয়—ইহাই কি তুমি উপদেশ কর, অথবা কথা হইতে অন্যস্থলে এই দোষ প্রদর্শন করিতে হয়—ইহাই তুমি উপদেশ কর? যাহাই বল না কেন, সৰ্বত্ৰ অনুপপত্তি ঘটিবে। কারণ, চাৰ্ব্বকাদির কথাতে প্রবেশ হইলেই ত তাহার অতত্ত্বজ্ঞানের চিহ্নভূত নিগ্রহ প্রদর্শন করিতে হইবে। কারণ, কথাতে প্রবেশ না হইলে ত তাহাদের নিগ্রহ প্রদর্শন করিতে পারা যায় না। আর যদি কথা হইতে অন্যত্র এই দোষ প্রদর্শন জন্য শিষ্যগণকে উপদেশ করা হয়, তাহা হইলে এই উপদেশই ব্যর্থ হইবে। সুতরাং, তােমার কথা ঠিক নহে। তাহার পর, এইরূপ দোষ প্রদর্শন দ্বারা চার্বাকাদির কোন প্রকার ক্ষতি হয় না। এজন্য কথাতে তাহার প্রবেশ হইলেই দোষ দেখাইতে হইবে। আর খগুন-খণ্ড-খাম। নাপি দ্বিতীয়, তথা হিন্দুস্তাদপি এবং, যদি কথকপ্ৰবৰ্ত্তনীয়-বাগ, ব্যবহার প্রতি প্রমাণাদীনাং হেতুতা, তৎসত্ত্বানভপগমে নিবৰ্তেত। ন তু এবং সম্ভবতি । তথা সতি তৎসত্ত্বানভুপগণাং বাঘ্যবহারস্বরূপ- মেব ন নিষ্পতে, হেত্বনুপপতেঃ। উক্তশ্চায় অর্থঃ যদ মাধ্য- মিকাদি-বাস্থ্যবহারাণাং স্বরূপাপলাপােন শকতে ইতি। ১৬ তাৎপৰ্য) তাহা হইলে তাহাদের কথাতে অধিকার নাই—একথা বলা তােমার অসঙ্গত হয়। ইহার কারণ, এই দোষ প্রদর্শন করিবার জন্য ত তাহার সঙ্গে কথা হইয়াছিল, তদ্রুপ অন্য কথাও তাহার সঙ্গে কেন হইবে না? অতএব বলিতে হইবে যে, শিষ্যগণকে উপদেশ করিবার কালে চার্বাকাদির কথাতে অধিকার নাই—ইত্যাদি যাহা তুমি বলিয়াছ, তাহা ঠিক নহে। অর্থাৎ, তাহা হইলে তােমার কথাতেই ব্যাঘাত দোষ হইবে। কারণ, তুমি শিষ্যকে বলিলে যে, তাহারা চার্বাকাদির সহিত কথা বলিবে, অথচ বলিলে যে, চার্বাকাদির কথায় অধিকার নাই। অতএব তােমার কথা অসঙ্গত। শঙ্কর মিশ্র এই বিষয়ের সার মর্ম যাহা বলিয়াছেন, তাহার অভিপ্রায় এই যে, খণ্ডনকারের উপর বাদী যে ব্যাঘাত দোষের উদ্ভাবন করিয়াছেন, অর্থাৎ প্রমাণাদি-পদার্থের সত্তা না মানিলে ব্যবহাররূপ ধৰ্মী সিদ্ধ হইবে না, অথবা প্রয়ােজনও সিদ্ধি হইবে না, সকল ব্যবস্থায়ই প্রমাণাদি-পদার্থাধীন বলিয়া তাহাদের সত্তা না মানিয়া তাহাদের প্রয়ােজন সাধন করিতে যাইলে ব্যাঘাত দোষ হইবে, ইত্যাদি ; তাহার উত্তরে খণ্ডনকার বলিতেছেন যে, আমার মতে কোন প্রকারে কোন পক্ষের ব্যবস্থাপন কিংবা খণ্ডনের জন্য কোন পদার্থের সত্তা স্বীকারের আবশ্যকতা নাই, প্রয়ােজনাদির জ্ঞান মাত্র আবশ্যক; আর তাহা খণ্ডনকারেরও আছে। অতএব তাহার কথাতে অনধি- কার কেন হইবে ? নিগ্রহ অর্থ স্বকীয় অহঙ্কারের খণ্ডন না হইয়া বাদীর অহঙ্কারের খণ্ডন করা; অথবা কথার প্রবৃত্তির কারণীভূত সম্যক্ জ্ঞানের যে অভাব, তাহারই নাম নিগ্রহ। এইরূপ নিগ্রহ, কথা ভিন্ন অন্যত্র হইতে পারে না। অতএব নিগ্রহ করিতে যাইলেই বৈতণ্ডিকের কথাতে প্রবেশাধি- কার আছে—ইহা অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। ১৫ অনুবাদ-দ্বিতীয় কল্পও হইতে পারে না। কারণ, যদি বাণী ও প্রথম পরিচ্ছেদঃ। (অনুবাদ) প্রতিবাদীর দ্বারা প্রবর্তনীয় বাগব্যবহারের প্রতি প্রমাণাদি- পদার্থের কারণত্বটী প্রমাণাদিপদার্থের সত্যতা না মানিলে নিবৃত্ত হই, তাহা হইলে এরূপও হইতে পারিত। কিন্তু, ইহা সম্ভবপর নহে। কারণ, যদি তাহাই হয়, তাহা হইলে প্রমাণাদিপদার্থের সত্তা যাঁহারা মানেন না, সেই চাৰ্ব্বকাদির বাগব্যবহারের স্বরূপই নিষ্পন্ন হইবে না। কারণ, তাহার মতে বাগব্যবহারের কারণীভূত প্রমাণাদিপদার্থের সত্তা নাই। আর ইহা পূর্বেই কথিত হইয়াছে যে, মাধ্যমিকাদির বাগব্যবহারের স্বরূপনিষ্পত্তিই হয় না, অর্থাৎ এইরূপ বাগব্যবহারের স্বরূপাপলাপ করা যায় না। ১৬ ত পর্য-গ্রন্থারম্ভে প্রথমেই গ্রন্থকার যে চারিটী বিকল্প করিয়া ছিলেন (৭০ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য। তাহার মধ্যে প্রথম বিকল্পের কথা এতদূরে শেষ হইল, এইবার দ্বিতীয় বিকল্পের খণ্ডন করিতে আরম্ভ করা হইতেছে। সেই দ্বিতীয় বিকল্পটী এই যে–প্রমাণাদি-পদার্থের সত্তা স্বীকার, বাদী ও প্রতিবাদীর প্রবর্তিত বাগব্যবহারের কারণ বলিয়া স্বীকৃত হয় কি না- ইত্যাদি। এখন দেখ, ইহার অর্থ হইতেছে যে, বাদিগণ যে এইরূপ নিয়ম স্বীকার করিয়া থাকেন যে, বাদী ও প্রতিবাদী উভয়কেই বিচারে প্রবৃত্ত হইতে হইলে প্রমাণাদি-পদার্থের সত্যতা স্বীকার করিয়াই প্রবৃত্ত হইতে হইবে—এইরূপ নিয়ম স্বীকারের কারণ কি? খণ্ডনকার জিজ্ঞাসা করিতেছেন যে, ইহা কি প্রমাণাদি-পদার্থের সত্তা স্বীকারটী বাগব্যবহারের কারণ বলিয়া এই নিয়ম স্বীকার করা হয় ? অর্থাৎ, কারণ যদি না থাকে তাহা হইলে কাৰ্য্য থাকে না—এই ন্যায়ানুসারে প্রমাণাদি-পদার্থের সত্তাস্বীকার রূপ কারণ না থাকিলে কাৰ্য যে বাগব্যবহার, তাহার অভাব হইয়া যাইবে, অতএব বিচারে প্রবৃত্ত হইতে হইলে তৎকারণীভূত প্রমাণাদি-পদার্থ-সত্তা স্বীকার করিতেই হইবে—এই জন্য কি ঐ নিয়ম স্বীকার করিতে হইবে ? ইত্যাদি। ইহাই হইল এই দ্বিতীয় কল্পের অভিপ্রায়। এক কথায় প্রমাণাদি- পদার্থের সত্তা স্বীকারটী কাৰ্যকারণ-ভাবরূপ সম্বন্ধ সাহায্যে স্বীকৃত হয় কি না—তাহাই এস্থলে আলােচ্য। এখন এই দ্বিতীয় বিকল্পের খগুনাভিপ্রায়ে খণ্ডনকার বলিতেছেন যে, ইহা ৩ খণ্ডন-খণ্ড-খাদ্যম। (তাৎপৰ্য) সঙ্গত নহে। কারণ, কাৰ্য্যকারণভাবটা কিরূপে জানা যায়-ইহা প্রথমে দেখা আবশ্যক। দেখ, লােকমধ্যে দণ্ড যে ঘটের কারণ, তাহা কি করিয়া জানা যায় ? দণ্ড থাকিলে ঘটের উৎপত্তি হয়, এবং দণ্ড না থাকিলে ঘটের উৎপত্তি হয় না—এইরূপ অন্বয়-ব্যতিরেক জ্ঞান দ্বারা দণ্ডনী ঘটের যে কারণ, তাহা স্থির হয়। কেবল অন্বয় অথবা কেবল ব্যতিরেক থাকিলে কাৰ্য্য কারণভাব সিদ্ধ হয় না। ইহাই যদি হইল, তাহা হইলে প্রকৃত স্থলে দেখা যাউক-প্রমাণাদিপদার্থের সত্তা স্বীকার ও বাগব্যবহারের মধ্যে অন্বয় ও ব্যতিরেক এতদুভয়ই আছে কি না? বস্তুতঃ দেখা যায়, ইহাদের মধ্যে অন্বয় আছে, কিন্তু ব্যতিরেক নাই। কারণ, প্রমাণাদি-পদার্থের সত্যতা যাঁহারা স্বীকার করেন, তাঁহাদের বাগ- ব্যবহারের সঙ্গে প্রমাণাদিপদার্থের সত্যতা স্বীকারের সম্ভাব থাকে, কিন্তু যাহারা মাধ্যমিকাদি, যাঁহারা প্রমাণাদি-পদার্থের সত্যতা স্বীকার করেন না, তাহাদের মতে কারণীভূত প্রমাণাদি-পদার্থের সত্যতা স্বীকার নাই, কিন্তু তাহার সহিত বাগব্যবহাররূপ কাৰ্য্যের অভাব নাই। অবশ্য যদি, অভাব হইত, তাহা হইলে অন্বয়-ব্যতিরেক উভয়ই অাছে বলিয়া প্রমাণাদি-পদার্থের সত্যতা স্বীকারকে বাগ ব্যবহারের কারণ বলিতে পারা যাইত। কিন্তু, তাহা দেখা যায় না। কারণ, মাধ্যমিকাদির বাগব্যবহার বিস্তর দেখাই যায়। সত্যতা স্বীকার না করাতেই যদি তাহাদের নাগ ব্যবহারের নিষ্পত্তি না হয়, ইহাই যদি তুমি বল, তাহা হইলে এরূপ স্থলে যে দোষের কথা পূর্বে বলা হইয়াছে, তাহা স্মরণ করিতে হইবে; অর্থাৎ তাহা হইলে মাধ্যমিক- মতও তুমি বুঝ না; যেহেতু, তােমার মতে তাহার বাগব্যবহার হয় না। সুতরাং, তাহার খণ্ডনে তােমার প্রবৃত্তিও সম্ভব নহে। অতএব, যেহেতু, মাধ্যমিকাদিরও বাগব্যবহার পরিদৃষ্ট হইতেছে, সেই হেতু প্রমাণাদি-পদার্থের সত্যতাস্বীকার, তাহার কারণ—একথা তুমি বলিতে পার না। অবশ্য এই কথা তুমি বলিতে পার যে, প্রমাণাদিপদার্থ বাগব্যবহারের কারণ। ইহাতে আমারও তাহাহইলে কোন আপত্তি থাকিবে না। প্রমাণাদি-পদার্থের সত্যতা না মানিলে যদি তাহাদের স্বরূপই অসিদ্ধ হইয়া যাইত, তাহাহইলে সেই প্রমাণাদি-পদার্থের বা ব্যবহার রূপ কারণত্বও সিদ্ধ হইত না। যাহা প্রথম পরিচ্ছেদঃ। ৪১ দ্বিতীয় বিকল্পের উপর পুনরায় আশংকা ও উত্তর। কু অথ মন্ডসে “কথকবাগব্যবহারং প্রতি হেত্বাৎ প্রমাণাদীনাং সত্ত্বং সত্ত্বাৎ চ অভুপগমঃ, যৎ সৎ তদভপগম্যতে ইতি স্থিতেরিতি।” মৈবম্। কয়াহপি নিয়মস্থিত্যা প্রবৃত্তায়াং কথায়াং কথকবাগব্য- বহারং প্রতি হেত্বাৎ প্রমাণাদীনাং সত্ত্বং সত্ত্বাৎ চ অ্যুপগমে ভবত। প্রসাধ্য। কথাতঃ পূর্বং তত্ত্বাবধারণং বা পরপরাজয়ং বা অভিলষদভ্যাং কথকাভ্যাং যাবত। বিনা তদভিলষিতং ন পৰ্যবস্ততি, বদ অনুরােদ্ধব্য। তৎ চ ব্যবহারনিয়মসময়বন্ধদেব দ্ব্যাভ্যাম্ অপি ভ্যাং সম্ভাব্যত ইতি ব্যবহারনিয়মসময়মেব বনীতঃ।:৭ কিন্তু, (তাৎপৰ্য)নাই, তাহা কি করিয়া কারণ হইতে পারে ? অলীক শশশৃঙ্গাদি যেরূপ ঘটপটের কারণ হয় না, এস্থলেও তদ্রপ হইয়া উঠিবে। আমাদের মতে এরূপ দোষ ঘটিবে না। কারণ, আমাদের মতে প্রমাণাদি- পদার্থ মিথ্যা হইলেও তাহাদের-স্বরূপ স্বীকৃত হয়। অতএব, তাহা কারণ হইতেপারে। অর্থাৎ আমাদের মতে যে কারণত। তাহা, অলীক পদার্থের হইল না, কেবল ব্যবহাৰ্য্য পদার্থমাত্রেরই হইল। পদার্থের সত্যতা স্বীকার করিলে তাহার কারণতাতে কোন বাধা দেখা যায় না।১৬ অনুবাদ—যদি তােমার এরূপ অভিপ্রায় থাকে, যেহেতু প্রমাণাদি- পদার্থটী বাদিপ্রতিবাদিকর্তৃক বাগব্যবহারের প্রতি কারণ, সেই হেতু তাহাদের সত্যত্ব আছে, আর যেহেতু সত্যত্ব আছে, সেইহেতু সেই সত্যত্বের স্বীকারও করিতে হইবে। কারণ, যে সকল বস্তু সত্য হইয়া থাকে, সেই সকল বস্তুর সত্তা স্বীকৃত হইয়া থাকে—এই ব্যাপ্তি উভয়বাদিসিদ্ধ। (সুতরাং, প্রমাণাদি-পদার্থের সত্যতা স্বীকার করা আবশ্যক। ইহা বলিতে পার না। কারণ, কোন প্রকার (বক্ষ্যমাণ) সময়বন্ধাদি অবলম্বন করিয়া প্রবর্তিত কথাতেই বাদি ও প্রতিবাদী কর্তৃক বাধ্যবহারের প্রতি প্রমাণাদি-পদার্থ কারণ হইয়াছে বলিয়া প্রমাণাদি- পদার্থের সত্যত্বের সাধন করিতে হইবে, এবং সত্যত্ব আছে বলিয়া * ৪২ খণ্ডন-খণ্ড-খাদ্য। তাহার স্বীকারও আবশ্যক -ইহাও সাধন করিতে হইবে। অতএব সেই কথার পূর্বে বাদী ও প্রতিবাদী উভয়ের যাহা বিনা অভীপ্সিত তত্ত্বনির্ণয় অথবা পরপরাজয়রূপ প্রয়ােজনসিদ্ধি হয় না, তারৎ মাত্রেরই স্বীকার করা আবশ্যক। বাদী এবং প্রতিবাদীর সেই উদ্দেশ্যসিদ্ধি বিচারের নিয়মপ্রণালী এবং সময়বন্ধু দ্বারাই হইয়া থাকে। এজন্য বাদী ও প্রতিবাদী ব্যবহার- নিয়ম ও সময়বন্ধকেই অঙ্গীকার করিয়া থাকেন। ( আর এইজন্য প্রমাণাদি পদার্থের সত্যতা স্বীকারের আবশ্যকতা নাই।) ১৭ তাৎপৰ্য-প্রমাণাদি পদার্থ বাগব্যবহারের প্রতি কারণ, অতএব তাহাদের সত্যতা স্বীকাৰ্য-এইরূপ দ্বিতীয় কল্পের খণ্ডন পূৰ্বে করা হইয়াছে। এক্ষণে পূৰ্ব্বপক্ষী যদি শঙ্কা করেন করেন যে, যদি খণ্ডনকার প্রমাণাদি পদার্থকে বাগব্যবহারের কারণ বলিয়া স্বীকার করেন, তাহা হইলে সেই প্রমাণাদি পদার্থের সত্যতা স্বীকারকেও কারণ বলিয়া স্বীকার করিতে হইবে। কারণ, কারণত্বের লক্ষণ এই যে, কার্যের অব্যবহিত পূৰ্ব্বক্ষণে যাহা নিয়ত রূপে অবস্থান করে তাহাই কারণ। যেমন, ঘটের প্রতি দণ্ডচক্রাদির অবস্থান। এখন প্রমাণাদি পদার্থ কথকের বাগ- ব্যবহারের প্রতি যদি কারণ হয়, তাহা হইলে তাহার পূর্বক্ষণে প্রমাণাদি পদার্থের সত্তাই স্বীকার করিতে হইবে। কারণ ‘নিয়ত অবস্থান’ শব্দের অর্থই সত্তা। এই সত্তা না থাকিলে অর্থাৎ প্রমাণাদি পদার্থের পূর্বক্ষণ- বৃত্তিত্বরূপসত্তা না থাকিলে কি করিয়া তাহা বাগব্যবহারের প্রতি কারণ হইবে ? সুতরাং, প্রমাণাদি পদার্থকে বাগব্যবহারের প্রতি কারণ বলায় তাহার সত্তাও স্বীকৃত হইতেছে। আর যদি বল, কারণত্ব সিদ্ধ হইলেও সত্তার স্বীকার কেন করিতে হইবে, তাহার উত্তর এই যে, লােকমধ্যে এইরূপ নিয়ম দেখা যায় যে, যে বস্তু যে কালে সত্যরূপে জানা যায়, তাহা সেই কালে স্বীকৃত হইয়া থাকে, নচেৎ নহে। যেমন, এই কালে ঘট আছে, এইরূপ ঘটের সত্তাজ্ঞান থাকিলেই সেই ঘটের সত্তা সেই ক্ষণে স্বীকৃত হইয়া থাকে, ইত্যাদি। তদ্রুপ এস্থলেও বুঝিতে হইবে যে, প্রমাণাদি পদার্থ বাগব্যবহারের কারণ হয় বলিয়া তাহা বাগব্যবহার রূপ কার্যের পূর্বক্ষণে আছে, আর ইহা জ্ঞাত হইলেই তাহার ১৩ প্রথম পরিচ্ছেদঃ। সত্তার স্বীকার অবশ্যই করিতে হইবে। কারণ, ব্যাপ্য হেতুটী যেখানে থাকিবে, সেই খানেই ব্যাপক সাধ্যের সত্তা স্বীকৃত হইয়া থাকে। যেমন, ধূম ও বহি ইত্যাদি। সুতরাং, প্রমাণাদি পদার্থের কারণত স্বীকার করিলেই তাহার সত্তা আছে এবং তাহার সত্তা থাকায় সেই সত্তা অবশ্য স্বীকার্য। অতএব সত্তাস্বীকার যদি না করা হয়, তাহা হইলে বাগব্যবহাররূপ কাৰ্যই হইবে না। এজন্য প্রমাণাদি পদার্থের সত্তাও স্বীকার করিতে হইবে। ইহাই হইল এই দ্বিতীয় বিকল্পের মধ্যে আর একটী আশঙ্কা। এক্ষণে এতদুত্তরে খণ্ডনকার বলিতেছেন যে, তাহা হইতে পারে না। কারণ, কারণত্ব হইলেই সত্তা মানিতে হইবে-এইরূপ নিয়ম নাই। ইহা অগ্রে বলিব, এস্থলে ইহা স্বীকার করিয়াই বলিতেছি যে, বাদীকে এস্থলে এইরূপ অনুমানপরম্পরা স্বীকার করিতে হইবে, যথা- প্রমাণাদিপদার্থ সপ, যেহেতু তাহা কারণ, যেখানে যেখানে কারণত্ব থাকে সেই স্থলে সত্ত্ব থাকে, যেমন ব্রহ্ম। এই অনুমান দ্বারা সত্ত্বসাধন করিয়া তাহার পর আর একটী যে অনুমান করিতে হইবে, তাহা এই প্রমাণাদিপদার্থসত্তা অভপগন্তব্য, যেহেতু তাহাদের সত্তা আছে, যেখানে যেখানে সত্তা আছে, সেই পদার্থ অভ্যুপগন্তব্য, যেমন ব্রহ্ম। এই অনুমান দ্বারা প্রমাণাদিপদার্থের সত্তাপগম সাধন করিতে হইবে। কিন্তু, এই অনুমানদ্বয়ের উপন্যাস কথাভিন্ন অন্যত্র হইতে পারে না। কথাতেই এই অনুমানদ্বয়ের প্রয়ােগ করিতে হইবে। কারণ, কথা ভিন্ন অন্যত্র বাদীর নিগ্রহ হয় না। আর তাহা হইলে এই কথা যেরূপ প্রমাণাদিপদার্থের সত্যতাভপগম ভিন্ন হইয়া থাকে, তদ্রুপ অন্য কথাও কেন হইবে না। কারণ, কথার যে কারণ প্রমাণাদিপদার্থের সত্তাপগম, তাহা ত আর বলা যায় না, কারণ, ইহাই ত এখন সাধন করিতে হইতেছে। অতএব বলিতে হইবে যে, প্রমাণাদিপদার্থের সত্তাপগম কথাপ্রবৃত্তির প্রতি কারণ নহে।

৪৪ খন-খণ্ড-খাম। যদি বল, যে কথাতে এই অনুমান করা যাইতেছে, সে কথাও প্রমাণা- দ্যপগম পূৰ্ব্বকই হইয়াছে, তাহা হইলে সেই কথাতে এই প্রমাণাদি পদার্থের সত্যত্বসাধনপ্রয়াস করা কেন? উহা ত প্রমাণাদি পদার্থের সত্যত্বভাপগম পূৰ্ব্বকই হইয়াছে, অতএব ইহাতে সিদ্ধসাধন দোষ হইতেছে। আর যদি সেই কথাতে প্রমাণাদ্যভপগমের কারণত্ব সাধন করিয়া সেই কথার প্রবৃত্তি হইয়াছে বল, তাহা হইলে অন্যোন্যায় দোষ হইবে। অর্থাৎ, কথা প্রবৃত্ত হইলে প্রমাণাদ্যভপগমের কারণত্ব সিদ্ধ হইবে এবং কারণত্ব সিদ্ধ হইলে প্রমাণাদ্যভপগমের হেতু সিদ্ধ হয়। অতএব এই অন্যান্যাশ্রয় দোষবার জন্য বলিতে হইবে যে, যে কথাতে এই অনুমান দ্বারা প্রমাণা- ভপগমের সাধন করা যাইতেছে, সেই কথা প্রমাণাদ্যভ্যুপগমমূলক নহে, কিন্তু, সেই কথা অগ্রে বক্ষ্যমাণ যে সময়বন্ধের প্রকার, তাহাকেই অবলম্বন করিয়া প্রবৃত্ত হইয়াছে। আর তাহা হইলে সৰ্বত্ৰ কথাতে সেই সময়বন্ধাদি দ্বারাই কাৰ্যসিদ্ধি হইয়া যাইবে, প্রমাণাদির সত্যতা স্বীকারের প্রয়ােজন হইবে না। যদি বল, সন্তাভপগম কথাপ্রবৃত্তির অঙ্গ নহে, কিন্তু সময়বন্ধই তাহার অঙ্গ, তাহা হইলে তাহাই বা কেন মানিতে যাইব? সময়বন্ধও অঙ্গ না হউক। এতদুত্তরে বলিব যে, বাদী কিংবা প্রতিবাদীর বিচারে যে প্রবৃত্তি হয়, তাহা তত্ত্ব-নির্ণয় কিংবা পরের পরাজয় রূপ ফলসিদ্ধির জন্যই হইয়া থাকে। সুতরাং, এই ফলসিদ্ধি তাহাদের, যাহা না মানিলে চলে না, তাহাই মাত্র মানিতে হইবে, অতিরিক্ত মানিবার আবশ্যকতা নাই। দেখ, এই তত্ত্বনির্ণয় এবং পরপরাজয় সময়বন্ধ না হইলে সিদ্ধ হয় না, এই জন্য সময়বন্ধ কথার অঙ্গ ইহা স্বীকার করিতে হইবে। ইহার তাৎপৰ্য এই যে, যাহা বিনা যাহার উপপত্তি হয় না, তাহারই দ্বারা তাহার আক্ষেপ হয়। যেমন, দেবদত্ত দিবা-ভােজন করে না, অথচ স্থূলকায়, এস্থলে যেমন তাহার রাত্ৰিভােজন অবশ্যম্ভাবী, তদ্রুপ প্রমাণাদি পদার্থের সত্যত্ব স্বীকার না করিলে যদি তত্ত্বনির্ণয় অথবা বিজয়রূপ ফলের অনুপপত্তি হইত, তাহা হইলে সেই ফলানুপপত্তি দ্বারা উপপাদক প্রমাণাদিপদার্থের সত্যতাস্বীকার আক্ষেপ করা যাইত। কিন্তু, পূৰ্বেই ইহা প্রদর্শন করা হইয়াছে যে, প্রথম পরিচ্ছেদ। ৪৫ সময়বত্বের স্বরূপ প্রদর্শন। স চ প্রমাণেন তর্কেণ চ ব্যবহৰ্ত্তব্যং বাদিন। প্রতিদিনইপি কথাঙ্গ-তত্ত্বজ্ঞান-বিপৰ্যয়-লিঙ্গ-প্রতিজ্ঞাহান্যান্যতম-নিগ্রহস্থানং দর্শনীয়। তব্যুৎপাদনে প্রথমস্ত ভঙ্গো ব্যবহৰ্ত্তব্য। অন্যথা তু দ্বিতীয়স্যৈব। তাদৃশেরৌ চ জেতৃতয়া ব্যবহুৰ্তব্যে। প্রামাণিক পক্ষঃ ত্ত্বিকতয়া ব্যবহৰ্ত্তব্যঃ—ইত্যাদিরূপঃ ১৮ (তাৎপৰ্য-প্রমাণাদি পদার্থের সত্যত্ব স্বীকার না করিলেও এই উদ্দেশ্যসিদ্ধির কোন ব্যাঘাত ঘটে না, অতএব এই ফলানুপপত্তি দ্বারা প্রমাণাদি পদার্থের সত্যত্বস্বীকারের আক্ষেপ হইতে পারে না। পরন্তু, ব্যবহারনিয়মরূপ সময়বন্ধ মানিলে এই ফলসিদ্ধি হয় না। এই জন্য এই ফলসিদ্ধির অনুরােধে কেবল- মাত্র সময়বন্ধকেই কথার অঙ্গ রূপে আক্ষেপপূৰ্ব্বক স্বীকার করিতে হইবে। অতএব লােকমধ্যেও বাদী ও প্রতিবাদী এই পূর্বোক্ত সময়বন্ধকেই স্বীকার করিয়া বাগব্যবহারে প্রবৃত্ত হইয়া থাকেন। ১৭ অনু শ —সেই সময়বন্ধ এইরূপ, যথা—বাদীকে প্রমাণ এবং তর্কের অবলম্বনে কথা বলিতে হইবে, প্রতিবাদী তাহার উপর কথার অঙ্গভূত যে তত্ত্বজ্ঞান, তাহার অভাবের লিঙ্গভূত প্রতিজ্ঞাহান্যাদিরূপ একবিংশতি নিগ্রহ- স্থানের মধ্যে কোন একটা নিগ্রহস্থানের উপন্যাস করিবে। সেই নিগ্রহস্থানের ব্যবস্থাপন হইলেই বাদীর পরাজয় বলিয়া স্বীকার করিতে হইবে। আর যদি প্রতিবাদী সেই উদ্ভাবিত নিগ্রহের ব্যবস্থাপন করিতে না পারে, তাহা হইলে নিরনুযােজ্যানুযােগরূপ নিগ্রহস্থান দ্বারা সেই প্রতিবাদীর পরাজয়ই বলিয়া হইয়াছে স্বীকার করিতে হইবে। আর এইরূপ নিগ্রহস্থানের অবিষয় যে বাদী অথবা প্রতিবাদী হয়, তাহারাই জেতা বা বিজয়ী বলিয়া স্বীকৃত হইবে, এবং প্রামাণিক যে পক্ষ, তাহাকে তাত্ত্বিক বলিয়া ব্যবহার করিতে হইবে। ইহাই হইল সময়বন্ধের স্বরূপ। তাৎপৰ্য-কথামধ্যে প্রমাণাদি পদার্থের সত্যতাস্বীকারের প্রয়াে- জনীয়তা নাই, কিন্তু, সময়বন্ধাদি স্বীকারের প্রয়ােজনীয়তা আছে, ইহা পূর্বে বলা হইয়াছে। এক্ষণে সময়বন্ধ কি পদার্থ, তাহাই বলা হইতেছে।

৪৬ খণ্ডন-খণ্ড-খাদ্য। সময়বন্ধ অর্থ-বাগব্যবহারের যে নিয়ম, সেই নিয়মের যে নির্দেশ, তাহাই সময়বন্ধ। সেই নিয়ম বলিতে প্রথমতঃ বুঝিতে হইবে যে, বাদী অর্থাৎ কোন বস্তু সাধনের জন্য প্রথমে যিনি কথা আরম্ভ করিয়াছেন তিনি, প্রমাণ এবং তর্ক দ্বারা নিজপক্ষ স্থাপন করিবেন, তাঁহাকে প্রমাণ এবং তর্ক দ্বারা বাগব্যবহার করিতে হইবে। ইহাই হইল একটী নিয়ম। কিন্তু ইহা “বাদ” নামক কথা- কালে অভিপ্রেত। যেহেতু, জল্পাদিতে ছল, জাতি ও নিগ্রহস্থানের প্রয়ােগ হইতে পারে। ছল প্রভৃতি বাদ-কথার মধ্যে থাকে না। অথবা বাদ ভিন্ন জল্প ও বিতণ্ডাকথার মধ্যেও প্রমাণ ও তর্ক দ্বারা বাগ ব্যবহার সিদ্ধ হইয়া থাকে। কিন্তু সেই কথাতে প্রায়ই অপরের পরাজয়ের জন্যই বাদী প্রবৃত্ত হইয়া থাকে, এজন্য কখন কখন প্রতিবাদী সদুত্তর প্রদান করিলেও সেই উত্তরের উপর যথার্থ দোষারােপ করিতে না পারিয়া তিনি ছল ও জাতির প্রয়ােগ করিয়া থাকেন। ইহার উদ্দেশ্য এই যে একান্ত পরাজয় অপেক্ষা সন্ধিগ্ধ জয়ও প্রশস্ত। কারণ, হয়ত প্রতিবাদী এইরূপ ছল ও জাতির শ্রবণে বিচলিত হইতে পারেন, এবং তাহার ফলে নিগৃহীতও হইতে পারেন। এস্থলে গ্রন্থকার দুইটী চকার শব্দের প্রয়ােগ করিয়াছেন, তাহার মধ্যে একটির উদ্দেশ্য এই যে, জল্লাদিতে প্রমাণাদির সহিত ছল ও জাতির সমুচ্চয়-বােধন। অপরটীর উদ্দেশ্য বাদ-কথাতে প্রমাণ ও তর্ক ভিন্ন অন্যবিধ উপায় যে নিষিদ্ধ তাহারই ইঙ্গিত। ইহাই হইল বাদীর পক্ষে নিয়ম। এইরূপ প্রতিবাদীর পক্ষে যে নিয়ম প্রতিপালন করিতে হইবে, তাহা এইবাদী নিজের পক্ষ প্রমাণ ও তর্ক দ্বারা স্থাপন করিলে তিনি প্রথমে কথার অঙ্গভূত যে তত্ত্বজ্ঞান, তাহার যে বিপৰ্যয়, অর্থাৎ ভ্রান্তি অথবা সংশয়, তাহার বােধক যে প্রতিজ্ঞাহান্তাদিরূপ নিগ্রহস্থান তাহাদের মধ্যে কোনটীর উদ্ভাবন করিবেন। অর্থাৎ বাদ-কথাতে বাদীর উপর হেত্বাভাস, নিরনুযােজ্যানুযােগরূপ নিগ্রহস্থান প্রদর্শন করিতে হইবে, অন্য নিগ্রহস্থান উদ্ভাবনীয় নহে, এবং জল্প ও বিতণ্ডাতে যে-কোন একটী নিগ্রহস্থান এবং হেত্বাভাস উদ্ভাবন করিবেন। ইহাতে নিগ্রহস্থান-উদ্ভাবন-সংক্রান্ত কোন নিয়ম নাই। তবে এস্থলেও সম্ভব হইলে যে হেত্বাভাস উদ্ভাবন করা উচিত, তাহা বলাই বাহুল্য।

প্রথম পরিচ্ছেদ। ৪৭ এই ছল তিন প্রকার যথা, বা ছল, সামান্য ছল, এবং উপচার ছল। বা ছলের লক্ষণ এই যে-একাৰ্থ-তাৎপৰ্যে প্রযুক্ত নানার্থক শব্দে বাদীর অনভিপ্রেত অর্থান্তরের কল্পনা করিয়া যে দোষ প্রদর্শন, তাহাই বাছল । যেমন, যদি কেহ বলে ‘ইনি নেপাল হইতে আসিয়াছেন, যেহেতু ইহার গাত্রে নবকম্বল আছে। এখানে বক্তা “নুন” অভিপ্রায়ে নব শব্দের প্রয়ােগ করিয়াছেন, কিন্তু শ্রোতা সেই নব শব্দের নবত্ব সংখ্যারূপ অর্থান্তর কল্পনা করিয়া বলিল যে, ‘ইহার নিকট নয়খানি কম্বল কোথায়, একটী মাত্র কম্বলই ত রহিয়াছে, ইত্যাদি। এস্থলে নব শব্দের এই প্রকার অর্থান্তর অবলম্বন করিয়া বাদীর হেতুতে যে দোষ প্রদর্শন করা হইল, তাহা বা ছল। সামান্য ছল অর্থ সম্ভাবিত অর্থ অভিপ্রায়ে বাদীর কথিত অর্থের যে অতি সামান্য অর্থাৎ অতি প্ৰসক্ত ধৰ্ম্ম, তাহার দ্বারা বাদীর অর্থের অসম্ভব কল্পনা করা। যেমন যদি কেহ বলে যে, “ইনি ব্রাহ্মণ, সুতরাং বিদ্যা এবং সদাচারসম্পন্ন। এস্থলে অপরে যদি বলে যে, ব্রাহ্মণত্ব হেতু দ্বারা বিদ্যাসদাচারসম্পত্তির সাধন করা যাইতে পারে না, কারণ, ব্রাত্য ব্রাহ্মণের ব্রাহ্মণত্ব আছে, কিন্তু বিদ্যা ও সদাচার নাই, ব্রাত্য ব্রাহ্মণও তাহা হইলে বিদ্যা ও সদাচারসম্পন্ন হউক। এইরূপে কেহ অপরের কথার দোষ প্রদর্শন করিলে তাহাকে সামান্য চুল বলা হয়। বস্তুতঃ, বক্তা এস্থলে ব্রাহ্মণত্বকে হেতু ভাবিয়া তাহাকে বিদ্যা ও সদাচার সম্পন্ন বলে নাই; সে কেবল উক্ত ব্যক্তির প্রশংসার জন্য উহা বলিয়াছে। উপচার ছল অর্থ শক্তি কিংবা লক্ষণার মধ্যে কোন একটী বৃত্তি দ্বারা সম্বদ্ধ শব্দে অন্য বৃত্তি দ্বারা তাহার অর্থান্তর কল্পনা করিয়া দোষ প্রদর্শন। যেমন, মঞ্চ শব্দের লক্ষণা দ্বারা যদি কেহ বলে যে, “মঞ্চাঃ লােশন্তি”, অর্থাৎ, মঞ্চ বােদন করিতেছে, এবং সেই কথা শুনিয়া তাহার শক্যার্থ কল্পনা করিয়া কেহ বলে যে, ‘মঞ্চ অর্থাৎ মাচান আবার কি কাঁদিতে পারে ? তাহা হইলে যে দোষ প্রদর্শিত হয় তাহাই উপচার ছল। এস্থলে বক্তা মঞ্চ-শব্দের লক্ষ্যার্থ মঞ্চস্থ পুরুষকে লক্ষ্য করিয়াছে, কিন্তু আপত্তিকারী তাহার শক্যার্থ মঞ্চকে গ্রহণ করিল। ইহাই হইল ত্রিবিধ ছল। ইহা অসদুত্তর বলিয়া বুঝিতে হইবে, ইহাকে হেত্বাভাসমাত্র দোষদুষ্ট সদুত্তর বলিয়া বুঝা উচিত নহে। ছল ও জাতিকে অসদুত্তর বলা হয়।

৮ খণ্ডন-খণ্ড-খাদ্য। এই জাতিও চতুবিংশতি প্রকার। ইহার লক্ষণ-ব্যাপ্তিনিরপেক্ষ হইয়া কেবল সাধৰ্মবৈধৰ্ম দ্বারা যে দুষণ, অর্থাৎ দূষণসমর্থ যে উত্তর, অথবা স্বব্যাঘাতক-যে উত্তর, তাহাই জাতি। প্রথম—১ সাধ্য সা, ২ বৈধৰ্ম সমা, ৩ উৎকর্ষ সমা, ৪ অপকর্ষ সমা, ৫ বৰ্ণ সমা, ৬. অবর্ণ সমা, ৭ বিকল্প সমা, ৮ সাধ্য সমা, ৯ প্রাপ্তি সমা, ১০ অপ্রাপ্তি সমা, ১১ প্রসঙ্গ সমা, ১২ প্রতিদৃষ্টান্ত সমা, ১৩ অনুৎপত্তি সমা, ১৪ সংশয় সমা, ১৫ প্রকরণ সমা, ১৬ হেতু সমা, ১৭ অর্থাপত্তি সমা, ১৮ অবিশেষ সমা, ১৯ উপপত্তি সমা, ২১ উপলব্ধি সমা, ২১ অনুপলব্ধি সমা, ২২ অনিত্য সমা, ২৩ নিত্য সমা, ২৪ কাৰ্য সমা। ইহাদের বিস্তৃত বিবরণ ন্যায়দর্শন অথবা তার্কিকরক্ষা প্রভৃতি গ্রন্থমধ্যে দ্রষ্টব্য। এখন নিগ্রহস্থান অর্থ কি, তাহা এইবার দেখা যাউক। ইহার অর্থ মিগ্রহস্য খলীকার স্থান অর্থাৎ যে চেষ্টার দ্বারা বাদী বা প্রতিবাদীর অশক্তি সূচিত হয়। ইহা হয়—বিপ্রতিপত্তি—না হয় অপ্রতিপত্তি। বিপ্রতিপত্তি অর্থ বিরুদ্ধ জ্ঞান, এবং অপ্রতিপত্তি অর্থ অজ্ঞান। যদিও এই দুইটী প্রতিবাদীর আত্মধৰ্ম্ম বলিয়া উদ্ভাবনার যােগ্য নহে, তথাপি ইহার তাৎপৰ্য এই যে, ইহারা যাহার দ্বারা সূচিত হয়, তাহারই নাম নিগ্রহস্থান। অর্থাৎ বাদী বা প্রতিবাদীর কোন বিষয়ে বিপরীত জ্ঞান হইয়াছে, ইহা যদি কোনরূপ বুঝিতে পারা যায়, তাহাহইলে সেই বাদী কিংবা প্রতিবাদী পরাজিত হয়। তদ্রুপ যাহা বক্তব্য, তাহা যদি বাদী কিংবা প্রতিবাদী না উল্লেখ করে, অথবা বাদী ও প্রতিবাদীর প্রদত্ত দূষণের উদ্ধার না করে, তাহা হইলে বিচাৰ্য বিষয়ে তাহার যে অজ্ঞান আছে, তাহা বুঝা যায়, আর তাহার তখন পরাজয় হয়। এই নিগ্রহস্থান দ্বাবিংশতিপ্রকার যথা, ১। প্রতিজ্ঞাহানি, ২। প্রতিজ্ঞান্তর, ৩। প্রতিজ্ঞাবিবােধ, ৪। প্রতিজ্ঞাসন্যাস, ৫। হেত্বন্তর, ৬। অর্থান্তর, ৭। নিরর্থক, ৮। অবিজ্ঞতার্থ, ৯। অপার্থক, ১০। অপ্রাপ্তকাল, ১১। নন, ১২। অধিক, ১৩। পুনরুক্ত, ১৪। অননুভাষণ, ১৫। অজ্ঞান, ১৬। অপ্রতিভা, ১৭। বিক্ষেপ, ১৮। মতানুজ্ঞা, ১৯। পৰ্যনুযােজ্যো- পেক্ষণ, ২০। নিরযােজ্যানুযােগ, ২১। অপসিদ্ধান্ত, ২২। হেত্বাভাস। ইহাদের মধ্যে অননুভাষণ, অজ্ঞান, অপ্রতিভা বিক্ষেপ, মতানুজ্ঞা, ও পৰ্য্যায়- প্রথম পরিচ্ছেদ। ৪৯ যােজ্যোপেক্ষণ, এই কয়টী অপ্রতিপত্তি নামক নিগ্রহস্থান মধ্যে দেখিতে পাওয়া যায়, অবশিষ্টগুলি বিপ্রতিপত্তির সূচক হইয়া থাকে। হেত্বাভাসের কথা পূৰ্বে কথিত হইয়াছে। ইহা “বিপ্রতিরপ্রতিপত্তি নিগ্রহস্থান” ১২১৯ গৌতম সূত্রমধ্যে কথিত হইয়াছে। কেহ কেহ কিন্তু বলেন যে, নিগ্রহস্থান অর্থ—উদ্দেশ্যানুগুণ যে সম্যক জ্ঞান, তাহার অভাবের যে লিঙ্গ, তাহা। কিন্তু, মূলােক্ত বিপৰ্যয় শব্দে কথার অঙ্গভূত যে তত্ত্বজ্ঞান, তাহার বিপর্যয় অর্থে অজ্ঞান এবং অযথার্থজ্ঞান এতদুভয়কেই যদি গ্রহণ করা যায়, তাহা হইলে মূলােক্ত প্রতিজ্ঞাহান্যাদি এই আদি শব্দদ্বারা প্রতিবাদীকে সকল নিগ্রহস্থানেরই গ্রহণ করিতে হইবে। যদি বিপৰ্যয় শব্দে কেবল বিপরীত জ্ঞানমাত্রকেই বুঝায়, তাহা হইলে পূর্বোক্ত অপ্রতিপত্তি, অর্থাৎ অজ্ঞানসূচক নিগ্রহস্থান ভিন্ন অবশিষ্টগুলি আদি শব্দদ্বারা গ্রহণ করিতে হইবে। ইহার দ্বারা ইহাও বুঝিতে পারা যায় যে, প্রতিবাদীকে অন্য নিগ্রহস্থান অপেক্ষা বিপরীতজ্ঞানসূচক নিগ্রহস্থানেরই উদ্ভাবন প্রথমে করিতে হইবে। ইহাই হইল প্রতিবাদীর পক্ষে নিয়ম। আর যদি উদ্ভাবিত নিগ্রহের ব্যবস্থাপন হয়, অর্থাৎ সেই বাদী ও প্রতিবাদী যদি সেই নিগ্রহের পাত্র বা বিষয় হয়, তাহা হইলে তাহার পরাজয় হইয়াছে বলিয়া স্বীকার করিতে হইবে। ইহাও সময়বন্ধের মধ্যে একটা নিয়ম। আর যদি বাদী বা প্রতিবাদী, উদ্ভাবিত নিগ্রহের ব্যবস্থাপন করিতে না পারে, তাহা হইলে নিরযােজ্যানুযােগরূপ (অর্থাৎ দূষণের অবিষয় যে বাদী বা প্রতিবাদী তাহার উপর দোষারােপ করা এইরূপ) নিগ্রহস্থান দ্বারা সেই বাদী বা প্রতিবাদীরই পরাজয় হইয়া যাইবে। ইহার দ্বারা পরাজয়হেতু দুইটা সিদ্ধ হইল। প্রথম নিগ্রহের ব্যবস্থাপন, অর্থাৎ যাহার উপর নিগ্রহস্থানের উদ্ভাবন করা হইয়াছে, তাহার উপর উহাকে স্থির রাখা। দ্বিতীয়-নিগ্রহ উদ্ভাবন করিলে তাহাকে সমর্থন করিবার অশক্তি। এই দ্বিবিধ পরাজয়হেতু যাহার থাকিবে না, সেই পক্ষই জয় হইয়া থাকে। ইহা স্বীকার করাও সময়বন্ধের অঙ্গ। ইহাই হইল বাদী ও প্রতিবাদী উভয়ের জল্প ও বিতণ্ডা-কথাতে জয়পরাজয় ব্যবস্থার কারণীভূত সময়বন্ধ। বাদকথাতে অন্য যেরূপ সময়বন্ধের প্রয়ােজন হয়, হা এই-প্রমাণসিদ্ধ যে পক্ষ হইবে, তাহাকে তাত্তি ক বলিয়া ব্যবহার খণ্ডন-খণ্ড-খাদ্য। করিতে হইবে । ইহাতে সকল নিগ্রহস্থানের উদ্ভাবনা করিতে হয় না। ইহাতে কোন কোন নিগ্রহ উদ্ভাবনীয় হইয়া থাকে। যথা—হেত্বাভাস, নুন, অধিক এবং অপসিদ্ধান্ত, ইত্যাদি। এস্থলে “ইত্যাদিরূপ” এই পদের তাৎপৰ্য্য বিদ্যাসাগরী টীকাতে যেরূপ কথিত হইয়াছে, তাহা লক্ষ্য করিবার যােগ্য। ইহার তাৎপর্য এই যে, নিগ্রহস্থানের চারিটী প্রকারভেদ আছে, প্রথম উচ্যমানগ্রাহ, দ্বিতীয় অনুক্তগ্রাহ, তৃতীয় উক্তগ্রাহ, এবং চতুর্থ হেত্বাভাস। প্রথমটীর অন্তর্গত ৬, ৭, ১০, দ্বিতীয়টীর অন্তর্গত ১৪, ১৫, ১৬ ; তৃতীয়টীর অন্তর্গত ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৮, ৯, ১১, ১২, ১১, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১ এবং চতুর্থটা হেত্বাভাস। এই হেত্বাভাস তৃতীয়ান্তৰ্গত হইলেও অর্থদোষত্বনিবন্ধন তাহার প্রাধান্য থাকায় তাহার পৃথক উল্লেখ করা হইল। এখন বাদী নিজের পক্ষস্থাপনজন্য হেতুর প্রয়ােগ করিয়া সংক্ষেপে অথবা বিস্তারে হেত্বাভাস গুলি নিবারণ করিয়া, বিরত হইলে প্রতিবাদী প্রথমতঃ উচ্যমানগ্রাহ নিগ্রহ, তৎপরে অনুক্তগ্রাহ্ন নিগ্রহ, এবং তৎপরে উক্তগ্রাহ নিগ্রহপ্রদর্শনে চেষ্টা করিবেন। তাহা যদি লন্ধ না হয়, তখন বাদীর বচনার্থকে সম্যকরূপে অবগত হইয়া তাহার অনুবাদ করিবেন, কারণ তাহাতে বাদীর মতসংক্রান্ত নিজ অজ্ঞানরূপ নিগ্রহটীর নিরাস হইয়া যাইবে। তাহার পর, যথাসম্ভব হেত্বাভাসদ্বারা প্রতিবাদী, বাদীর মতকে দূষিত করিয়ানিজপক্ষ-স্থাপনানুমানের প্রয়ােগ করিবেন। কেবল পরপক্ষের দূষণ করিয়া নিজপ স্থাপন না করিতে পারিলে প্রতিবাদী বিজয়ী হইতে পারিবেন না। এইরূপে প্রতিবাদী নিজপস্থাপন করিলে বাদীর কর্তব্য এই যে, তিনি অনুক্তগ্রাহ, উচ্যমানগ্রাহ্য এবং উক্তগ্রাহ নামক নিগ্রহস্থানগুলি যথাক্রমে উদ্ভাবনের চেষ্টা করিবেন। যদি তাহা না পাওয়া যায়, তাহা হইলে বাদী, প্রতিবাদীর বক্তব্য সম্যকরূপে অনুবাদ করিয়া নিজ অজ্ঞানরূপ নিগ্রহস্থানটীকে নিবারণ করিয়া নিজ দোষ পরিহার পূৰ্ব্বক প্রতিবাদীর স্থাপনাংশকে হেত্বাভাস দ্বারা দূষিত করিবেন। ইহা না করিয়া স্বপক্ষ রক্ষা করিলেও তিনি বিজয়ী হইবেন না; অবশ্য তিনি যে, প্রশংসনীয় হইবেন তাহাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু নিগ্রহ প্রদর্শন করিতে পারিলে আর বিচার চলিবে না।

প্রথম পরিচ্ছেদঃ। সময়বন্ধপূর্বককথায়ামপি পূৰ্ব্বদাপত্তিখণ্ডণম্। অতএব ব্যবহারনিয়ম-সময়বন্ধে হেতুবক্তব্য, তথাচ সােহপি হেতু কথায়াং প্রবৃত্তায়াম্ অভিধাতুং যুক্ত” ইতি প্রমাণসত্ত্বাভগম- হেত্বভিনব প্রত্যবস্থানম্ অনবকাশ। দ্বাভ্যাম অপি বাদিভ্যাং বিচারপ্রবৃত্ত্যা অভিলষমাণতত্ত্ব ব্যবস্থাজয়মূলনে ব্যবহারনিয়মস্য স্বেচ্ছয়া এব পরিগৃহীতত্বাৎ । ন চ এবং প্রমাণানুপস্বেচ্ছামাত্রপরিগৃহীতমূলত্বাৎ মূলপরিশুদ্ধি- সম্ভবেন সবিচারবিচাৰ্য্যতৎফলবিপ্লবাপত্তিঃ স্যাৎ। অবিদ্যমানাদি-* পারম্পৰ্য্যায়াতস্য লােকব্যুৎপত্তিগৃহীতসংবাদস্য চ তস্য অন্যথাভাবাসম্ভ। ব্যতালক্ষণস্বতঃ সিদ্ধিপরিশুদ্ধকাৎ। ন চ প্রমাণাদীনাং সত্তাহপি ইথম্ এব তাভ্যাম্ অঙ্গীকৰ্জুম্ উচিত। তাদৃশব্যবহারনিয়মমাত্রেণৈব কথাপ্রবৃত্তপপত্তেঃ। প্রমাণাদিসত্তা অভুপেত্যাপি তথাব্যবহারনিয়মব্যতিরেকেকথাপ্রবৃত্তি বিনা তত্ত্বনির্ণয়স্য জয়স্ত বা অভিলষিতস্য কথকয়াের অপৰ্য্যবসাৎ। ১৯ (তাৎপৰ্য) -গ্রন্থকার এই সময় বন্ধের নিয়মের স্বরূপ প্রদর্শন দ্বারা ইহাই প্রতিপাদন করিলেন যে, এইরূপ ব্যবহারই বিচারস্থলে করিতে হইবে, অন্যরূপ ব্যবহার করিলে চলিবে না। অন্যরূপ ব্যবহার করিলে তাহার পরাজয়ই হইবে - এইরূপ ব্যবহারই করিতে হইবে। আর যদি ব্যবহারই বিচারের ফল হইল, তাহা হইলে তাহার জন্য প্রমাণাদিপদার্থ প্রভৃতি কোন পদার্থেরই সত্যতা স্বীকার করিবার আবশ্যকতা নাই। ইত্যাদি। ১৮ অনুবাদ।-এইজন্য ব্যবহার নিয়ম যে সময়বন্ধ, তাহার হেতু কি তাহা বক্তব্য। আর সেই হেতুও কথার আরম্ভ হইলেই নির্দেশ করিতে এই প্রকারে প্রমাণের সত্তা স্বীকারের হেতুকথনকালে যেরূপ দোষ হইয়াছিল, এস্থলেও তদ্রুপ দোষ হইবে—এরূপ হইবে—এরূপ আশংকা করা পাঠান্তর “অবিদ্যাবিদ্যমানাদি।”

৫২ খগুম-খণ্ড-খাদ্য। যায় না। কারণ, বাদী এবং প্রতিবাদী উভয়েই বিচারে প্রবৃত্ত হইয়া অভীষ্ট যে তত্ত্বনির্ণয় অথবা বিজয়রূপ ফল, তাহার হেতুরূপে ব্যবহার- নিয়মকে নিজ ইচ্ছানুসারেই পরিগ্রহণ করিয়াছেন। আর এইরূপে প্রমাণকে অবলম্বন না করিয়া কেবল স্বেচ্ছা দ্বারায় পরিগৃহীত যে নিয়মবন্ধ, সেই নিয়মবন্ধমূলক বিচার হইতেছে বলিয়া মূলের দোষপ্রযুক্ত সকল বিচারের বিচাৰ্য বিষয়ের এবং তাহার ফলেরও যে অব্যবস্থা হইয়া যাইবে এরূপও আশংকা করা যায় না। অবিদ্যাপরিকল্পিত অনাদিপরম্পরায় আগত এবং বৃদ্ধব্যবহারদ্বারা যাহার প্রামাণ্য গৃহীত হইয়াছে সেই ব্যবহারনিয়মটা অন্যথাভাবের অসম্ভাব্যাতারূপ যে স্বতঃসিদ্ধি, তাহার দ্বারা পরিশুদ্ধ হইয়া থাকে। আর প্রমাণাদির সত্তও এইরূপে বাদী ও প্রতিবাদীর স্বীকার করা উচিত, তাহাও বলা যায় না। যেহেতু, পূর্বোক্ত ব্যবহারনিয়মমাত্ৰদ্বারাই কথার প্রবৃত্তি হইতে পারে—ইহা উপপন্ন হয়। প্রমাণাদির সত্তাস্বীকার করিলেও পূর্বোক্ত ব্যবহারের নিয়ম যদি না থাকে, তাহা হইলে কথাতে প্রবৃত্তি হইতে পারে না, আর বাদী ও প্রতিবাদীর অভিলষিত তত্ত্বনির্ণয় অথবা জয়পরাজয়রূপ ফল লাভ হয় না। ১৯ তাৎপর্য-ইতিপূৰ্ব্বে বলা হইয়াছে যে, কথাপ্রবৃত্তিতে প্রমাণাদির সত্তাস্বীকারের কোন আবশ্যকতা নাই, কিন্তু সময়বন্ধ থাকিলেই কথার প্রবৃত্তি হইতে পারে। সেই সময়বন্ধের যে কি স্বরূপ, তাহাও পূৰ্ব্বে বলা হইয়াছে, এক্ষণে ইহার উপর পূর্বপক্ষী আপত্তি করিতেছেন। সেই আপত্তি এই,-যেরূপ, প্রমাণাদি-পদার্থের সত্তাস্বীকার কথা- প্রবৃত্তিতে কারণ, ইহা সেই কথাতেই সাধন করিতে হইবে, কিন্তু সেই কথা, প্রমাণাদির সত্তাস্বীকার ভিন্ন হয় না, যদি ইহাতেও প্রমাণাদিপদার্থের সাস্বীকারকে কারণ বল, তাহা হইলে যেমন অন্যোন্যাশয় দোষ হয়, অর্থাৎ প্রমাণাদির সতস্বীকার ভিন্ন কথাসিদ্ধি অসম্ভব, এবং কথা ভিন্ন প্রমাণাদির সত্তাস্বীকার যে কথার কারণ—ইহার সিদ্ধিও অসম্ভব, অতএব অন্যোন্যায় দোষ হয়, এজন্য প্রমাণাদির সত্তাস্বীকার ভিন্নও কথা সম্ভব, আর তজ্জন্য প্রমাণাদির সত্তাধীকারের আবশ্যকতা নাই, কিন্তু সময়বন্ধ মাত্রেরই আবশ্যকতা আছে, ইত্যাদি, তুমি যাহা পূৰ্ব্বে বলিয়াছিলে, তাহা প্রথম পরিচ্ছেদঃ। বলিলেও অন্যোন্যাশয় দোষ হয়। কারণ, নিয়মবন্ধও হেতুসাধ্য। অর্থাৎ নিয়মবন্ধ যে কথার কারণ, তাহাও কোন হেতুপ্রদর্শনপূর্বক সিদ্ধ করিতে হইবে। কারণ, যদি কেহ নিয়মবন্ধকে কথাপ্রবৃত্তির কারণ বলিয়া না স্বীকার করে, তাহা হইলে তাহার খণ্ডনের জন্য তােমাকে তাহার হেতু প্রদর্শন করিতে হইবে। অতএব, নিয়মবন্ধের হেতুপ্রদর্শন করা আবশ্যক। আর সেই হেতুপ্রদর্শনও কোন কথাতেই করিতে হইবে, সুতরাং কথাও ত নিয়মবন্ধের অধীন হইয়া পড়িতেছে। অতএব, অন্যোন্যাশয় দোষই হইল। অর্থাৎ নিয়মবন্ধ ভিন্ন কথার প্রবৃত্তি হয় না, এবং কথা ভিন্ন নিয়মবন্ধও হয় না ; অতএব নিয়মবন্ধ ভিন্ন একটা কথা আছে-এরূপ স্বীকার করিতে হইবে। আর ইহাই যদি তুমি স্বীকার করিলে, তাহা হইলে সকল কথাতেই যে সময়বন্ধ কারণ : একথা তােমার অসঙ্গত হইল। ইহাই হইল আপত্তি। এতদুত্তরে খণ্ডনকার বলিতেছেন যে, ব্যবহারনিয়ম কথার কারণ— ইহা সিদ্ধ করিবার জন্য হেতুপ্রদর্শনের আবশ্যকতা নাই। কারণ, সময়বন্ধ কথার কারণ, ইহা বাদী এবং প্রতিবাদী স্বয়ংই ইচ্ছাপূর্বক মানিয়া লইয়া থাকেন। যেহেতু, বিচারে প্রবৃত্ত হইবার উদ্দেশ্য তত্ত্ব-নির্ণয় ও জয়লাভ। ইহা সময়বন্ধ না মানিলে অসম্ভব। অতএব ফলকামী ব্যক্তি ইহা স্বয়ংই স্বীকার করিবেন। দেখ, প্রমাণাদির সত্তাস্বীকারকে কথাপ্রবৃত্তির হেতু বলিয়া স্বীকার করিবার জন্য যেমন হেতুয়ােগের আবশ্যকতা থাকে, তদ্রুপ যদি নিয়মবন্ধেরও কথাহেতুত্ব স্বীকার করিবার জন্য হেতুয়ােগের আবশ্যকতা থাকিত, তাহা হইলে তােমার প্রদর্শিত যুক্তি সঙ্গত হইত। কিন্তু, যেহেতু তাহা হয় না, কেবল বাদী ও প্রতিবাদী ফলসিদ্ধির জন্য স্বেচ্ছায় সময়বন্ধ মানিয়া লয়—সেই হেতু উহাতে উক্ত অন্যান্যাশ্রয়দোষ হইতে পারে । আর তজ্জন্য সকল কথাতে নিয়মবন্ধ যে কারণ, তাহাও সিদ্ধ হইল। যদি বাদী ইহার উপর এরূপ আক্ষেপ করেন, যে নিয়মবন্ধ কথার কারণ —এই বিষয়ে যদি কোন প্রমাণ না থাকে, ইহা যদি কেবল অপ্রামাণিকই হয়, তাহা হইলে এই নিয়মবন্ধকে অবলম্বন করিয়া কথাতে প্রবৃত্ত হইলে নিজ ইচ্ছা মাত্রই নিয়মবন্ধের কারণ হয়, আর তাহার ফলে মূলভুত নিয়মবন্ধে অপ্রামাণিকত্বরূপ দোষ সংঘটিত হয়। আর সেই, নিয়ম- ৫৪ খণ্ডন-খণ্ড-খাদ্য। বন্ধমূলক বিচার, } বিচার, বিচাৰ্য এবং তাহার যে ফল, তাহাদের বিপ্লব উপস্থিত হয় ; অর্থাৎ সাধন ও দূষণে প্রয়ােগের কোন ব্যবস্থা থাকে না বলিয়া বিচারবিপ্লব হয়, এবং বাদী ও প্রতিবাদী অথবা পক্ষ ও বিপক্ষের অব্যবস্থা হয় বলিয়া বিচার্য্যের বিপ্লব হয়, এবং তত্ত্ব-নির্ণয় অথবা জয়পরাজয়ের অব্যবস্থা হয় বলিয়া ফলের বিপ্লব হয়। এস্থলে বিচারবিপ্লব ও বিচাৰ্যবিপ্লব অর্থ অন্যরূপও হয়। অর্থাৎ বিচারবিপ্লব হইলে প্রমানের উৎপত্তি হয় । সুতরাং, বিচারবিপ্লব অর্থ প্রমার অজনকত্ব বুঝিতে হইবে। বিচাৰ্য- বিপ্লব অর্থ যাহার বিচার করা হইতেছে, তাহার যথার্থ জ্ঞান না হওয়া, অর্থাৎ ভ্রান্তির বিষয় হওয়া। ইত্যাদি। এস্থলে বিদ্যাসাগরী বলিতেছেন যে, ফলবিপ্লবটী বাদকথাতে তত্ত্বনিশ্চয়ের অসিদ্ধি বুঝায়, এবং জল্প ও বিতণ্ডাতে ইহার অর্থ জয়ের অভাব বুঝিতে হইবে। যাহা হউক, ইহাই হইল নিয়মবন্ধের বিরুদ্ধে একটী শঙ্কা। এতদুত্তরে খণ্ডনকার বলিতেছেন যে, এই নিয়মবন্ধের প্রামাণিকত্ব না থাকিলে, অর্থাৎ কেবল ইচ্ছামাত্র পরিগৃহীত বলিয়া ইহাকে স্বীকার করিলে যে, উক্ত ত্রিবিধ বিপ্লব ঘটিবে, তাহা নহে। কারণ, নিয়মবন্ধে কোনরূপ অন্যথাত্বের শঙ্কাই হয় না। অর্থাৎ এই নিয়মবন্ধ দুষ্ট, অতএব তন্মুলক যে কথা- প্রভৃতি, তাহারা সকলই দুষ্ট বলিয়া গণ্য হইবে—এরূপ শঙ্কা তাহাতে হইতে পারে না; কারণ, বৃদ্ধব্যবহার দ্বারা এই নিয়মবন্ধ কখনও বিপরীত ফলকে উৎপাদন করে না, কিন্তু অভিলষিত ফলই উৎপাদন উৎপাদন করে-এইরূপ সকলেই স্বীকার করেন। আর ইহা যখন সকলেই স্বীকার করেন, তখন সেই নিয়মবন্ধের অন্যথাভাবাশংকা কেন হইবে ? আর তাহাই যদি হয়, তাহা হইলে তৎপ্রযুক্ত ফলাদির উক্ত বিপ্লব কেন হইবে ? এখন ইহার উপর যদি কেহ বলে যে, বৃদ্ধব্যবহার দেখিয়া যদি নিয়মবন্ধ নির্দোষ হয়, তাহা হইলে সেই বৃদ্ধব্যবহারের মূল কি --তাহা ত জিজ্ঞাসা করা বাইতে পারে ? যদি প্রমাণকেই তাহার মূল বলা যায়, তাহা হইলে প্রমণকেই নিয়মবন্ধের মূল বলিয়া কেন স্বীকার কর না, আর যদি ব্যবহারান্তরকেই তাহার মূল বল, তাহা হইলে আবার তাহার মূল কি জিজ্ঞাসা করিলে আবার অন্য ব্যবহারকে মূল বলিতে হইবে—এইরূপে প্রথম পরিচ্ছেদ। ? অনবস্থা দোষ উপস্থিত হয়। অতএব প্রমাণকেই মূল বলা ভাল ? আর প্রমাণকেই যদি মূল বলা হয়, তাহা হইলে পূর্বোক্ত দোষই পুনরাগমন করিবে। সুতরাং, সেই নিয়মবন্ধ যদি প্রামাণিক না হয়, তাহা হইলে তাহা নির্দোষ বলিয়া গণ্য হইতে পারে না। এতদুত্তরে খণ্ডনকার বলেন যে, এরূপ অবস্থা ঘটিলে ক্ষতি কি অনবস্থা ঘটিলে অনাদি ব্যবহারকেই তাহার মূল বলিব, প্রামাণিক বলিতে যাইব কেন ? অনাদিকাল হইতে এই বৃদ্ধব্যবহারপরম্পরার দ্বারা নিয়মবন্ধটী স্বীকৃত হয়, এবং তাহাতে অন্য কোন ফল উৎপাদন করে না, অতএব তাহাতে কোন দোষই হইতে পারে না। বস্তুতঃ, যেস্থলে দৃষ্টপরম্পরা- মূলক অনবস্থা হয়, সেই স্থলে অবস্থা দোষাবহ নহে, পরন্তু যেস্থলে তাহা অদৃষ্টপরম্পরামুলক হয়, সেই স্থলেই তাহা দোষাবহ হয় মাত্র। এখানে ব্যবহারের মূল ব্যবহার, তাহার মূল আবার ব্যবহার,ইহা পরিদৃষ্ট হয় ; সুতরাং, এস্থলে অনবস্থা দোষাবহ হয় না। এ বিষয়ের বিস্তৃত বিচার পরে, “প্রাকুলােপাবিনিগম্যত্ব” শ্লোকে পরিদৃষ্ট হইবে, এস্থলে আর বিস্তার করা হইল না। সুতরাং দেখা গেল, নিয়মবন্ধের ইচ্ছামূলকত্ব স্বীকার করিলে কোন দোষ হয় না। অর্থাৎ নিয়মবন্ধই ক থা প্রবৃত্তির কারণ বলিতে হইবে। -এখন দেখ, এইরূপ নিয়মবন্ধ মানিলে যে প্রমাণাদিপদার্থের ন্যায় তাহার সত্তা স্বীকার করিতে হইবে, তাহা নহে। কারণ, এই সময়বন্ধটীও অবিদ্যা- মূলক হইয়াও কাৰ্য্যকারী হয়। কাৰ্যকারিতার জন্য তাহার সত্তাস্বীকার করিতে হইবে, ইহার কোন হেতু নাই। যেহেতু, অসত্য হইলেও তাহার দ্বারা কাৰ্য্য উৎপন্ন হইতে পরিদৃষ্ট হয়। যেমন স্বপ্নাদি অসত্য হইলেও তাহার দ্বারা ভাবী শুভাশুভ ফলের সূচনা হয়, রজ্জুতে সর্প দেখিয়া ভয়কম্পাদি হয়, ইত্যাদি। সুতরাং, ইহার কাৰ্য্য আছে বলিয়া ইহাকে সত্য বলিবার আবশ্যকতা নাই। বস্তুতঃ, ইহাই বুঝাইবার জন্য গ্রন্থকার নিয়মবন্ধে “অবিদ্য- বিদ্যমানত্ব” এই বিশেষণটা প্রয়ােগ করিয়াছেন। যদি বল, এরূপ অবিদ্যাকল্পিত 'অপ্রামাণিক নিয়মবন্ধের কথাকারণত্ব আমি তাহা হইলে স্বীকার করিতে বাধ্য নহি। ইহাও তুমি বলিতে পার না। - খণ্ডন-খণ্ড-খাদ্যম। কারণ, যাহা অনাদিপরম্পরায় আগত, তাহার ব্যবহার কি করিয়া অস্বীকার করিবে? তুমি যখন ব্যবহারের মধ্যে আছ, তখন তােমায় বাধ্য হইয়া ইহা স্বীকার করিতে হইবে। আর ইহারই জন্য গ্রন্থকার “অনাদিপারম্পৰ্য্যায়াতস্য” এই বিশেষণটী প্রয়ােগ করিয়াছেন। তাহার পর সেই, নিয়মবন্ধে অপ্রামাণ্যশঙ্কাপ্রযুক্ত ফলবিপ্লবের যে শঙ্কা হইয়াছিল, তাহাও আর এখন হইবে না। কারণ, বৃদ্ধব্যবহারপরম্পরার দ্বারা তাহা গৃহীত হয় বলিয়া তাহাতে প্রামাণ্যই গৃহীত হয়। বস্তুতঃ, এইজন্য গ্রন্থকার “গৃহীতসংবাদ”-এই বিশেষণটি প্রয়ােগ করিয়াছেন। যদি বল, সময়বন্ধ ত জ্ঞান নহে যে, তাহার স্বতঃসিদ্ধশুদ্ধতা স্বীকাৰ্য্য হইবে, এবং তাহার প্রমাণমূলকত্ব আবশ্যক হইবে না; তাহা হইলে তাহার উত্তরে বলিতে হইবে যে “সময়বন্ধ কৰ্তব্য নহে” এইরূপ সম্ভাবনাই—যখন হয় না, তখন তাহার স্বতঃসিদ্ধত্ব কেন থাকিবে না। আমরা ইহাকেই স্বতঃসিদ্ধি বলি। অর্থাৎ যাহার বিপরীত সম্ভাবনা থাকে না, তাহাকেও আমরা স্বতঃসিদ্ধ বলি। অবশ্য ইহার কারণ কিন্তু যদি জিজ্ঞাসা কর, তাহা হইলে বলিব যে পূর্বোক্ত ব্যবহারগরম্পরাই ইহার কারণ। আর যদি বল, ফলের জন্য নিয়মবন্ধ আবশ্যক বলিয়া বাদী ও প্রতিবাদী তাহাকে কথার অঙ্গরূপে যেমন স্বীকার করে, সেইরূপ প্রমাণাদি-পদার্থের সত্তাও কেন স্বীকাৰ্য্য নহে, উভয়ের সাধক যুক্তি একই প্রকার হইতেছে, কোন বিশেষই দেখা যায় না। তাহা হইলে তদুত্তরে বলিব যে, বাদী ও প্রতিবাদী উভয়কেই যে প্রমাণাদি-পদার্থের সত্তা স্বীকার করিতে হইবে, তাহার কারণ কি? ব্যবহারসিদ্ধ নিয়মবন্ধুমাত্র দ্বারাই যদি কথাপ্রবৃত্তি না হইত, তাহা হইলে প্রমাণাদি-পদার্থের সত্যতা স্বীকাৰ্য্য হইত। কিন্তু তাহা ত দেখা যায় না, অর্থাৎ নিয়মবন্ধ স্বীকার করিলেই বাদী ও প্রতিবাদী উভয়ের মধ্যে কথা চলিতে পারে, এবং তাহার ফলও সিদ্ধ হয়। আরও দেখ, প্রমাণাদির সত্তাস্বীকার করিলেও যদি নিয়মবন্ধ স্বীকার না করা হয়, তাহা হইলেও ত কথার প্রবৃত্তি হয় না, এবং কথকাভিলষিত তত্বনির্ণয় বা জয় কিছুই সিদ্ধ হয় না। সুতরাং, কথার জন্য নিয়মবন্ধ অবশ্য স্বীকাৰ্য্য, তাহা বৃদ্ধব্যবহারে সিদ্ধ হউক, আর যাহাই হউক, তাহার সত্যতা বা

গণেশায় নমঃ।
শ্ৰীশ্ৰীআনন্দপূর্ণ যতি বিরচিত
খণ্ডনখণ্ড-খাদ্য টীকা
বিদ্যাসাগরী।
প্রথম পরিচ্ছেদ।
যাে বিশােহকারচ্যঃ সকলবিষয়ভুক্ প্রীতিতকাৰণাভ্যাম্
বদ্ধ সংস্কারমাত্ৰপ্রবিরচিততস্তৈজসত্যুেবাচ্য।
প্রাজো জ্ঞানৈকবদ্ধঃ সুরনরসলানন্দভুঙ,মাক্ষরেণ
বাচ্যাথো যস্তুরীয়াে বিকলিতসকলঃ সােহহমেবাস্মি ভূমা ।।
যঃ পৌলস্ত্যমখগহরণাদুৎকৃত্য শৈলং বলাৎ
কৈলাসং কলহংসধৌতমমলং লােকাধিপালপ্রভু।
লঙ্কালগ্নমুখং বিলােক্য চলিতং দেবীং চ কোলাহলাৎ
প্রাহাহহ বেত্যয়ং বিজয়তে নিন্যে স পাতালক। ২।
কারুণ্যসৎকৰ্বরপত্ররাজিতং রামাত্মভৃঙ্গীমুখচুম্বনােল্লসৎ।
ভূলােকসৎকেসর কর্ণিকালয়ং শ্রীরামরাজীবমহং ভজে ভজে ॥৩
মৃদুলমূলভাবস্মেরসংপূর্ণব। নলিনদলনিভশ্রীলােচনা লােকলােকা।
ললিতললিতপাদক্ষেপণাৎক্ষেপলীলা মম বচসি নিধৰাং সন্নিধিং বর্ণমালা
ভাে ভাে ভাবােগ্রপূর্ণ বিচলিতলসমেত্ৰপত্ৰপ্ৰশােভ
শ্রীমদ্বারবিন্দপ্রতিবিশনকরাগ্রোরত্নেঘকুম্ভ,
কারুণ্যাখ্যপ্রবৃষ্টা কুরু কুরু সুদৃঢ়ং গাঢ়বিয়াভিতাপ
প্ৰধ্বংসং ভাবমুগ্ধপ্রবিরচিতমিদং কৃত্যজিং প্ররােহেৎ |
অবােধপাবিলবােধনীরে যদীয়বাচঃ কতকায়মানা।
বন্দে মুনী মুনিবৃন্দব্যান্ মদগুরু খেতগিরীন্ বরিষ্ঠা।
';

২ বিদ্যাসাগরী। বলে সংবুদ্ধতত্বং মুনিনিকরকরারাধিতশ্রীপদাজং বিদ্যালস্ম্যাশিতাঙ্গ বিয়তি কৃতগতিং স্বাত্মদৃষ্টপ্রপঞ্চম। বেদান্তোদঘােষজন্ম প্রকটনসুভগং শেষভােগান্তদেহ- মানন্দারণ্যমীশং কৃতভজনজগপালনােদ্যোগশীলম্ ॥৭॥ কথাখ্যভূমিপ্রচলৎপ্রচণ্ডবাদীভকুপ্রবিভেদতােম। রসাবসিক্তং বুধমণ্ডনং যং তৎ খণ্ডনং ব্যাকরণি নীত্যা ॥৮|| (প্রথম পৃষ্ঠা) গ্রন্থারম্ভে শিষ্টাচারপরম্পরাপ্রাপ্তকর্তব্যভাবং পরদেবতাস্তুতিনমস্কারলক্ষণ মঙ্গলং বিধাতুমধিকারিয়ােজনসংবন্ধাভিধেয়প্রতিপাদনায় চাহ-অবি- কঙ্গেতি। অস্য চ নিয়ােগতঃ ফলবৎকাৰ্যান্তরারম্ভসংযােগাৎ সাক্ষা দৃষ্টফলত্বাচ্চ ফলবৎ সংনিধাবফলং তদমিতি কাৰ্যান্তরশেষত্বে চাবধৃতে সতি আরম্ভ সমাপ্তিপৰ্যন্তহৃদপেক্ষিতাহবিগ্নপরিসমাপ্তিঃ প্রয়ােজন, অপেক্ষিত- বিধেরনপেক্ষিতবিধানং দুর্বলমিতি ফলান্তরকল্পনায় দুৰ্বলত্বাৎ। অতাে যথা সাম্প্রদায়িকমনধ্যয়নধ্যয়নাদি স্বাধ্যায়াবিদ্যার্থমেবমিদমপি। তদয়মর্থ। তমীশ্বরং বলে ইতি সম্বন্ধ। নঃ ঈশ্বর দৃশ্যত্বে ঘটাদিসাম্যাৎ শাস্ত্রবিষয়ত্বে নমস্কারাবিষয়ত্ব। অদৃশ্যত্বে শশঙ্গবদসত্ত্বাদেব। স্বপ্ৰকাশত্বে সদাপ্রকাশিতত্বাদ অবিদিতত্বা- ভাবাচ্ছাস্ত্রাগােরত্ব। তবেদ্যৈবেষ্টদেবতা। অতে ন যুক্তযুৎপ্রণামঃ, ইত্যত আহ, অবিকল্পেতি। অবিকল্পশনে নির্বিকল্পকং স্বরূপজ্ঞানং বিবক্ষিত। তদ্বিষয়ত্বং চ তৎ প্রযুক্ত ব্যবহারত্বাৎ। ন চ স্বয়ম্প্ৰকাশত্বেহপি সদাবিদিতত্ব, অবিদ্যাবৃতত্বেনাবিদিতমিব ভবতি যতঃ । ন চ স্বরূপজ্ঞানস্য অবিদ্যানিবৰ্তকত্ব। প্রমাণজ্ঞানস্য এব অবিদ্যানিবৰ্ত্তকাৎ। শাস্ত্রপ্রামাণ্যং চ আরােপিতনিবৰ্ত্তকত্বেন। আহ চ “সিদ্ধং তু নিবর্তকত্বাদিতি। ননু ঈশ্বর আত্মৈবেতি তে মতম্। স চ প্রত্যক্ষোইনুভবাশয়তয়া অপরােক্ষ। কিমিদমুচ্যতে স্বপ্রকাশ ইত্যত আহ—একইতি। ইদমাকৃত। ন তাবৎ মানসপ্রত্যক্ষঃ। বিমতং ভিন্নায়বিষয়ৎ, জ্ঞানত্বাৎ, জ্ঞানান্তরবৎ। আত্মা নাস্মদাদিমানসপ্রত্যক্ষঃ, জ্ঞানাসমবায়িকারণায়াৎ, মনােবৎ, পরসিদ্ধ সাধ্যালিনির্দেশাদনবদ্য। বিপক্ষে স্বাবৃত্তিৰিবােধপ্রসঙ্গে বাধ। কিং চ প্রথম পরিচ্ছেদ। জ্ঞানং বিমতং ন স্বায়বিষয়ং, গুণবাৎ, যাে গুণে নাসৌ স্বায়বিষয়গা, যথা অগ্নেরোষ্ণপ্রকাশাদি। তদুক্তং তত্ত্ববিদ্ভিঃ- “যস্যৈব যাে গুণে ন স তগুণং চ সমানজাতীয়মসমানজাতীয়ং বা বিষয়ীকুৰ্যাদ যথা অগ্নেরৌষ্ণং সবিতৃরূপং চেতি।” যদুপি ন্যায়মুক্তাবল্যামুদিত “অগ্নিগুণস্যাপি ভাস্বরূপাপৰপৰ্য্যায় প্রকাশ প্রায় প্রকাশকত্বং সাধ্যবিকলতেতি” তদসৎ। আশ্রয়প্রকাশত্বং হি তত্র প্রক শজনকত্বং তদশততমমানিবকত্বং বা স্যা। নাঃ। ভাস্বররূপেণ স্বায়দ্রব্যে রূপান্তরারম্ভানঙ্গীকারাৎ যুগপদবান্তরজাতীয়বিশেষগুণদ্বয়সমবায়াযােগাচ্চ। নাপি দ্বিতীয়। তত্র তমঃ প্রাপ্ত্যভাবাৎ। যদি হি কদাচিৎ প্রকাশাভাবে নাগ্ন্যাদি দৃশ্যেত, তমশ্চ উপলভ্যেত, তন্নিবৃত্তিস্তহি ঘটাদিবৎস্বপ্ৰকাশসাধ্যা স্যাৎ। অতত ব্যতিরোভাবাৎ তমােনিবৰ্তকত্বম্। আশ্রয়দ্রব্যাধ্যক্ষেণ প্রকাশতগুণতেন অন্যথাসিদ্ধং সন্নিধিরহেতুরিত্যলং তদদূষণগবেষণেন । ন চাত্মান্তর প্রত্যক্ষ আত্মান্তরস্তাত্মান্তরং প্রতি তদনঙ্গীকারাৎ আত্মান্তরা- বাচ্চ। নাপ্যনুভবাশ্ৰয়তয়া অপরােক্ষ। জড়ত্বে ঘটাদিবদনুভবাশ্ৰয়ত্বাযােগাৎ, অজড়ত্বে ততাে ভেদাভাবাৎ। আত্মা ন সংবিদায়তয়া অপরােক্ষ বস্তত্ব ঘটব। কেবলন্বয়িতয়ােপাধেরনাশঙ্কত্বাৎ সাধ্যাভাবাবিনাভাবাে স উপাধি- স্যেত্যন্বয় ইতি । সাধ্যাভাবব্যাপ্তত্বমুপাধ্যভাবস্য বদ অন্বয়ব্যতিরেকিণ এব ধর্মস্যোপাধিত্বাঙ্গীকারাৎ। অন্যথা পক্ষেরতােপাধিনা কেবলান্বয়িন এব বিলোপাদিতি। ননু জগদাকারপরিণামিব্ৰহ্মণঃ কথমেকত্বমুপাদানত্বাচ্চ মৃদাদিবৎ পরিণামিত্ব জীবৈশাংশাংশিত্বেন ভিন্নভিন্নত্বাদিত্যত আহস্থারিতি। ন তাবদেক- দেশপরিণামম, নিরংশত্বাৎ। ন চ সামন্ত্যেন, স্থিতিকালে ব্ৰহ্মাভাব-প্রসঙ্গাৎ। ন চ জীবানাং তদংশত্ব, জীবাৰম্ভত্বপ্রসঙ্গাৎ ব্ৰহ্মণ ইতি। স্থাণুঃ অবিকারীত্যর্থ। নম্বেকমবিকারি বস্তুতত্ত্বং চেৎ কথং কর্মকাণ্ডস্য প্রত্যক্ষদে ভেদালনস্য প্রামাণ্যমিত্যত আহ—পুরুষ ইতি। কাৰ্য্যকারণসম্বন্ধাত্তবতি চৈবং রূপ। তদাশ্ৰিত্য কর্মকাণ্ডপ্রবৃত্তিরধ্যস্ততৈবিষয়তয়া, প্রত্যক্ষাদিপ্রামাণ্য চ ব্যাবহারিকমিত্যর্থ।

। বিদ্যাসাগরী। অত্র চ বেদান্ত এব প্রমাণমিত্যাহ—ত ইতি। নন্বিতরেতরাধ্যাসা- ভপগমাৎ তত্ত্বজ্ঞানস্য চ অধ্যস্তমাত্ৰনিবৰ্ত্তকা বৈতনিষেধে শূন্যশেষ ইত্যত আহ—অস্তীতি। অজ্ঞানবিষয়তয়া অধিষ্ঠানত্বজ্ঞানসামান্যকারেণ আধারত্ব যতােহধিষ্ঠানাকায়ে বাধাবধিতয়া পরিশিষত ইত্যর্থ। শূন্যমেবাধিষ্ঠানবাধাবধি- তয়াইন্তু কিং সতেতিতত্ৰাহ ইতি। শূন্যস্যাধিষ্ঠানাবধিত্বং প্রসিদ্ধিবিরুদ্ধ। সাচ প্রসিদ্ধিদবিদ্ধমাবােপিতং ভাতি তদধিষ্ঠান। ন চ শূন্যাদুবিদ্ধমানােপিতং ভাতীতি যচ্ছজেনােচ্যতে ইতি ব্যাখ্যেয়ম্। ননু নিয়ােজ্যত্বমপি স্বৰ্গকামাে যজেততত্যাদৌ তমেবেত্যত আহ—তিষিতি। সাধ্যসাধনসম্বন্ধ- বিধৌ তাক্যতাৎপৰ্যাৎ তৎপরতি প্রমিতত্বাদ অকর্তৃত্বদেশুদেব বাস্তবমিতি তাৎপৰ্যলিঙ্গমভ্যাসাদিতিস্বিতি বহুবচনেন দ্রষ্টব্যম্। এবং স্বরূপং লক্ষয়িত্ব। তটস্থং লক্ষতি ঈশ্বরমিতি। মায়ােপাধিতয়া জগজ্জন্মদিকৰ্ত্তারং নিয়ন্তারং চ মায়িনং তু মহেশ্বরমিতি তেরিত্যর্থ। তত্র তাৎপৰ্যগগাচরত্বসিদ্ধয়ে পরমানন্দরূপতাং সুচয়তি-উময়াগিত মিতি। অধিগত আলিঙ্গিত, অর্ধনারীশ্বত্বাৎ। প্রিয়াপরিকথনেন পরমানন্দচন উচিতমেব। এবং ভূতেশাসত্বে প্রমাণাভাবাদেব তৎপ্রণামমা গগনকুসুমন্তবকশেখ- রায়তে ইত্যত আহ–অনুমম্লাপীতি। উময়া কেবলং পরমধি- গতং ন ভবতি অনুময়াহপি অনুমানেনাপ্যধিগতং বিনিশ্চিতমিত্যৰ্থঃ। অনু- মানং চেদম্। ইয়ং পৃথিবী সকর্তৃকাকর্তৃক বৃত্তিত্ববহিতানেকাকর্তৃকবৃত্তিত্বর- হিতানেকতন্নিষ্ঠাধিকরণম্, মেয়ত্বাৎ, ঘটবৎ। পৃথিবুদকে প্রযত্নবতা ঘতে গুরুত্বে সত্যপাতিত্বাৎ, করতলস্তামলকবদিত্যাদি। দ্বিতীয়। নমস্কারার্থ, প্রাতিপদিকং গ্রন্থাৰ্থপ্ৰদৰ্শনায়। শ্রুত ইতি। বেদান্তগােচরে ব্রহ্মব তং প্রকরণস্যাপি বিষয় ইতি নির্দিষ্ট। একমুময়াধি- গতমিতি জৈনিবৃত্তি পরমানন্দ প্রয়ােজন। বিষয়প্রয়ােজনকথনেনার্থাৎ সম্বন্ধেহধিকারী চ নির্দিষ্ট এব| (৪র্থ পৃষ্ঠা) সকলসৌভাগ্যকরী দেবতা গৌরী তত কৃতিযুবতিসৌভাগ্যসিদ্ধয়ে তাং প্রণমতি-মানেতি। হে ভবানি ভবপত্নি, অহং তে অচ্ছি সরো- প্রথম পরিচ্ছেদঃ । জয় নগ্ৰী ভবানি প্রবীভবানীঃ। তদপি ভক্তিশ্রদ্ধাতিশয়েন করণেনেত্যাহ ঘনমিতি। তন্ত্রেণ নৈরন্তৰ্য্যমতিশয়শ্চোচ্যতে। প্রয়ােজনমনুদ্দিশ্য ন মন্দো- হপি প্রবৰ্তত ইতি ন্যায়াৎ প্রবৃত্ততিয়া প্রয়ােজনমাইদুরিতং ভেত্ত মিতি। পুণ্যেন পাপমপমুদততি তেঃ। অন্যত এব তৎ স্যাদিত্যত আহ- ভবানিশচিতমিতি। ভবঃ সংসারঃ তস্মিনিশমূপচিত। নান্যে নিরবেশেষং ভেতুং শক্যমিত্যর্থ। বিশিষ্টি-সঙ্কুচিতষয়ারিতি। জগন্মাতুরপি নিমিত্তযােগে ভবতি পাদসঙ্কোচ ইত্যাহ-তদিন্দোরিতি। দিলোর্ভাসেব শঙ্করমৌলিসমাকলিতশশাঙ্ককিরণসম্পর্কেণেবেত্যর্থ। তৎ সম্পর্ককারণমাহ-গিরীশে মানাপলােদনবিনােদনতে সতীতি। মান আবিষ্কারঃ স চান্যবনিতাসঙ্গজনিতঃ। বনিতাকুলতিলক ভূতামামুৎসঙ্গে দধার উত্তমাঙ্গে চ গঙ্গামিতি তস্যাপনােদন নিরাকরণং তদেব বিনােদ ক্রীড়া তেন গিরীশে গিরেরীশাে গিরীশঃ শঙ্করঃ তম্মিয়তে প্রণতে সতীত্যর্থ। সরােজোপমিতয়ােঃ শশাঙ্ককিরণসম্পর্কসঙ্কোচঃ সমুচিত ইত্যাহ-উচিতমিতি। যথােচিতমিতি। যথােচিতং ভবতি তথা সৰু চিতয়ােরিতি ক্রিয়াবিশেষণমেতৎ । যদ্বা ব্রহ্মবিদ্যাপরিপন্থিকল্মষবিনিবৃত্তয়ে সৰ্ববিদ্যাধিষ্ঠাত্রীং পরাং শক্তি প্রণমতি। হে ভবানি মহামায়ে। অন্বয়ঃ পূৰ্ব্ববৎ। মানেনাপমুদ্যত ইতি মানা পনােদনং যদজ্ঞানং তস্য বিশিষ্টতয়া নােদনং বিনােদঃ তদর্থং নতে দাসভাবমুপ- গতে সতি তস্মিন্ গিরীশে গিরাং বাচামীশাে গিরীশশা জীব। “বাকৃপতি : চক্ষুষ্পতিরিতি” “তে। তষ্ণেন্দুঃ সত্ত্বগুণঃ প্রকাশাত্মকত্বাৎ তস্য তদিদোর্ভাস। সত্ত্বগুণজনিতজ্ঞানেন পরিভাবনাত্মকেন সঙ্কুচিতয়ােঃ পরিচ্ছিন্নতয়া স্বীকৃতয়াের ভানুগ্রহহেতুয়া স্বীকৃতয়ােরিতি যাবৎ। অন্যথা পরিচ্ছিন্নশক্তেরাবরণ ভাবাদিত্যর্থ। অবধূততাৎপৰ্যাং ত্রয়ন্তসন্দাহদেব প্রয়ােজনবাপ্তেঃ ২। (৫ম পৃষ্ঠা) কিং ত্বং প্রয়াসেনে তাশঙ্ক্য কুতর্কতিমিরনিরাসােহবান্তর প্রয়ােজনমস্তীত্যাহ শব্দেতি। রে রে ধীরা লােকে দিগ্বিজয়কৌতুকমাতধ্বম্। দিন্দু বিজয়ােহসচ্ছাাভ্যাসনিরুঢ়াহংকারা প্রতিবাদিনঃ পরিজিত্য তদুপরি বর্তন তৎকৌতুকমাতধ্বং আশ্চৰ্য্যং বিস্তারয়ত। অশ্য চ বিজয়স্য বিশিষ্টত্বাধিশিষ্ট .

বিদ্যাসাগরী। সাধনং দৰ্শয়তি—শব্দেতি। শব্দ অর্থ শব্দার্থে তয়ােঃ নির্বাচন নিরুক্তিরনন্যথাসিদ্ধমিতি। অন্যথা অনে প্রকারেণ ন সিদ্ধমুৎপন্নং জ্ঞাতং বা তদনন্যথাসিদ্ধমুচ্যত ইত্যাদি শব্দনিরুক্তি বাধে দৃঢ়াহদৃঢ়ো বেত্যাদিঃ অর্থনিরুক্তিযুৎখণ্ডনয়া। অথৰ্ব্বগৰ্বান্ খৰ্বোহল্পঃ, অখৰ্বোহনল্পঃ গর্বে। যেষাং তে অখঝগৰ্বান্তা, সর্বত্র বাদজল্পবিতণ্ডা শব্দে অর্থে লক্ষ্যে লক্ষণে চ নির্বচনভাবং নির্গতং বচনং যেভ্যস্তে নির্ধচনাস্তদ্ভাবাে মুকত্বং তত্র নয়ন্তঃ পয়ন্ত ইত্যর্থ। যথােক্তং খণ্ডনমুক্তাহপি পঠিত্বাহপি অর্থজ্ঞানাধিক্যোৎ- প্রেক্ষাহীনা অপীত্যর্থ: বক্ষ্যমাণমপি সিদ্ধবৎ কৃত্বা কথিতমুক্তমিতি। যা নামরূপপ্রপঞ্চস্য সত্যত্বাৎ প্রথমশ্লোকোবিষয়প্রয়ােজনদৌলভ্য- মাশাহ-শব্দেতি। শব্দার্থয়ােনির্বচনে নিরুচ্যেতে ইতি নির্বচনে সদ- সত্বে খ্যাতোসাধাচ্চ ন সদিতি তৎখণ্ডনয়া সর্বত্র দেবাদিযােনিভেদে গর্বা অভিমানা অহংকারা ব্যক্তিবহুত্বৎ। অখর্ধাশ্চ তে গর্বাশ্চেতি অখর্ব- গৰ্বাঃ তান্নিবচনভাবমনিৰ্বচনীয়ত্বং নয়ন্তঃ অধ্যাসরূপতামাপায়ন্ত ইতি যাব। দিশত আচার্ঘৈরিতি দি ব্ৰহ্ম তদ্বিজয়ত ইতি দিগ্বিজয়াে বিদ্যাদিন্তস্য কৌতুক কোলাহল আতনুধ্বম্। কিং কৃত্বেত্যত আহ-খােক্তমিতি। যথােক্তং প্রথমশ্লোকোবিশেষণ প্রযুক্ত অপিশাদ্বক্ষ্যমাণবিশেষণং চ ব্রহ্ম তদু। মনঃপূৰ্বরূপাদাচোধ্যাত্বেতি যাবৎ। তদুক্তং কুসুমাঞ্জলো। “ন্যায়চর্চেয়মীশস্য মননব্যপদেশভা। উপাসনৈব ক্ৰিয়তে শ্রবণানন্তরাগতা” ইতি। ‘আগমেনানুমানেন ধ্যানাভ্যাসবশেন চ। ত্রিধা প্রকল্পয়ন্ প্রজ্ঞা বিনতে যােগমুত্তমম্ ইতি স্মৃতে। কীরঃ শুক ইত্যর্থ। নং নিৰ্ব্বচনখণ্ডনং কথায়ামুতান্যত্র। নান্যত্র। কথাতােহন্যত্র বাদিনাে নিগ্রহাবিষয়ত্বৎ। নাপি কথায়াম্ তদঙ্গপ্রমাণাদিসত্ত্বাভপগমে অপসিদ্ধা- স্তাৎ, অনভূপগমে অনিচনবাদিনঃ কথানধিকারাদিত্যাক্ষিপতি । অথেতি। অথশব্দ আরম্ভাৰ্থঃ। অধিকৃতং খণ্ডনং বেদিতব্যমিত্যর্থ। কথায়ামিতি। নানাপ্রবক্তৃকো ৰিচারগােচরাে বচনসন্দর্ভঃ কথা। সা ত্রিবিধা, বাদজল্পবিতণ্ডাভেদাৎ। তস্যাং বাদিনাের বাদি প্রতিবাদিনাে ।

প্রথম পরিচ্ছেদ। ৭ ইত্যর্থ। কীদৃশং নিয়মং সদ্বাদিনাে মন্ত ইত্যত আহ-প্রমাণেতি। প্রমাণ-প্রমেয়-সংশয়--প্রয়ােজন-দৃষ্টান্ত--সিদ্ধান্তাবয়বতর্ক-নির্ণয়-বাদ-জল্প-বিতণ্ডা- হেত্বাভাস-ছল-জাতি-নিগ্রহস্থানানি যােড়শ পদার্থঃ প্রমাণাদয় উচ্যন্তে। প্রামাণাকিত্বেনাপগত সিদ্ধান্ত। স চতুৰ্বিধঃ, সৰ্ব্বতন্ত্র-প্রতিতাধিকরণ- ভূপগমভেদাং। সৰ্ব্বতন্ত্রাবিরুদ্ধঃ সর্বতন্ত্ৰসিদ্ধান্তঃ। যথা প্রমেয়ং প্রমাণা- ধীনমিতি। একশাস্ত্র এব সিদ্ধঃ প্রতিতন্ত্ৰসিদ্ধান্ত। যথেদং নৈয়ায়িকানামিদ বৈশেষিকাণমিতি। যস্য হেতােঃ পক্ষস্য ৰা সিদ্ধাবন্যস্যামুক্তস্যপি সিদ্ধি সােহধিকরণসিদ্ধান্ত। যথেন্দ্রিয়ব্যতিরিতো জ্ঞাতা দর্শনস্পর্শনাভ্যামেকাৰ্থ- গ্ৰহণাদিতি হেতােঃ সিদ্ধাবনুষঙ্গিণাের্থ ইন্দ্রিয়নানাত্বং নিয়ত বিষয়াণীন্দ্রিয়াণী- ত্যাদয়ঃ। বিবাদাধ্যাসিতং বুদ্ধিমংপূৰ্ব্বকমিতি পক্ষ সিদ্ধাবনুষঙ্গিণােহথাঃ সৰ্বজ্ঞাদয়ঃ সিদ্ধন্তীতি অনুমেয়ানুষসিদ্ধিরধিকরণসিদ্ধান্ত ইত্যুদয়না। শাস্ত্রে সাক্ষাদমুক্ত সামর্থ্যাদভপগতিরভুপগমসিদ্ধান্ত। যথা মনস ইন্দ্ৰিয়ত্ব। কথং পুনজ্ঞায়তে তদমুক্তমপ্যভপগতং শাস্ত্ৰকারেণেতি। ইন্দ্রিয়ার্থসন্নিকর্যে- ত্যাদিপ্রত্যক্ষলক্ষণাভিধানাৎ। অনিন্দ্রিয়ত্বে হি মনসস্তল্লক্ষণং সৰ্বলােক- প্রসিদ্ধমপি মুখাদি প্রত্যক্ষং ন ব্যায়াদিতি। তত্র প্রমাণাদীনাং সর্বতন্ত্র- সিদ্ধান্তৎ তৎসত্ত্বমপেয়মিতি ভাবঃ। (৭ম পৃষ্ঠা) সত্তাপগমস্ত কথাত্বে মানাভাবাৎ মানান্তাকার এব প্রয়ােজক অতােহসঘাদিনােহপি কথাধিকারঃ কি মুতানিৰ্ব্বচনবাদিন ইত্যভিপ্রেত্য সিদ্ধান্তয়তিতদিতি। সত্তাভপগমস্ত কথানঙ্গত্বং প্রতিজ্ঞাতমুপ- পাদয়তি—তহীতি। নিমিত্তকারণহেতুষু সৰ্বাং প্রায়দর্শনমিতি কাত্যায়নস্মরণাৎ কস্য হেতােঃ কস্মাদ্ধেতােরিতি উত্তানেব বিকল্পান্ বিশদয়তি কিমিত্যাদি। তদভুপসমসাহিত্যনিয়ত সেতি। প্রমাণাদীনাং সত্তাভপগমেন সাহিত্যনিয়তিরবিনাভাবঃ তাবিনা- ভূতস্থেতি যাবৎ। অশ্যাৎ। সভান ভূপগমে ইতি শেষ। যথা রূপং স্পর্শমবিনাভাবমাত্রবলেন গময়তি তথা ব্যবহারঃ প্রমাণাদিসভাপগমমবিনা- ভাবেন গময়তীতি প্রথমবিকল্পার্থঃ ॥১ যথা জ্ঞানং কাৰ্য্যতয়া কারণং কল্পয়তি তথা ব্যবহানােহপি প্রমাণাপগমমিতি দ্বিতীয়ার্থ। যদ্যপি কাৰ্য্যমবিনাভাবেন - বিদ্যাসাগরী। গমকং তথাপি স্বভাবানুপলব্ধিকাৰ্যলিঙ্গকমনুমানং ত্রিবিধমিতি পরাভপগমাৎ পৃথগুপন্যাসঃ। ২ লােকশনে লােকব্যবহার উচ্যতে। তৎসিদ্ধত্বং প্রাণি- নিকায়েন ব্যবহ্রিয়মাণত্ব। লােকাবগতসামর্থঃ শব্দে বেদেহপি বােধক ই ত্যাদৌ লােকশব্দ ব্যবহারে প্রয়ােগদর্শনাদিতি তৃতীয়াৰ্থঃ ।। প্রমাণাদি- সামন্যুপগম্য ব্যবহরতাে বাদফলস্য তত্ত্বনির্ণয়স্য জল্লাদিফলস্য বিজয় চোপপত্তাবৃন্মত্তাদেরপি স্যদিতি তদনভুপগমস্য ফলাতি প্রসঙ্গহেতুৎ সত্তা- অ্যাপগম ইতি চতুর্থার্থ। ৪। (১১ পষ্ঠা) তত্র কিং ব্যবহারমাত্রস্যাবিনাভাব কিংবা বিশিষ্টস্যেতি প্রথমবিকল্পং দ্বিধা বিকল্পাদ্যং দূষয়তি—নতাবদিতি। বিমতাে বাগব্যবহারঃ প্রমাণাদিসাঙ্গীকারপুরঃসরঃ বাগব্যবহারত্বাৎ সম্প্রতিপন্নবদিত্যত্র নির্বি- শেষেণবাগব্যবহার হেতুত্বে চার্বাকাদিব্যবহারে ব্যভিচার। তস্যাপি পক্ষীকরণে তত্রৈব ভাগে বাধ ইত্যর্থ। ননু চার্বাকস্য প্রত্যক্ষস্য প্রামাণ্যাৎ মাধ্যমিকস্য সৰ্বশূন্যতয়া ব্যবহারস্যাভাবাৎ কুতো বাধব্যভিচারে” ইত্যত আহতস্যেতি। যদ্যপি চার্বাক প্রত্যক্ষমেকং স্বীকুরুতে তপাপ্যঃ- মানাদিভিঃ ব্যবহরষেব তৎসত্তাং ন মনুতে। মাধ্যমিকস্যাপি সাংবৃতত ব্যবহারইস্ত্যন্যথাপ্রসক্তভাবাৎ তংপ্রতিষেধাসংবাদিতি ভাব। এবং সাহিত্য- নিয়মমপাস্যোপহসতি—স ইতি। প্রসিদ্ধবাস্তংভনমন্ত্রে প্রযুজ্যমানে বাণী ন নির্গচ্ছতি। প্রযুজ্যমানে এব পুন রস্মিন্বগনিঃসরণমিতি অপুৰ্ব্বত্ব। রহসি ব্যক্তব্যতয়া মন্ত্রত্বম্। ব্যভিচারমেব দ্ৰয়িতু ব্যতিরেকমুখেনােদাহরতি নূন- মিতি। যস্য প্রমাণানভুপগমস্য প্রভাবাৎ সামর্থ্যাৎ সুরগুরু বৃহস্পতিনে- ত্যর্থ। উদাহরণান্তরব্যাজেন ত্ৰয়োহ খণ্ডনবাদিনে৷ মুখ্যা ইতি দর্শয়তি তথা গতেনেতি। তথাগতে। বুদ্ধ। মধ্যমাগমশ্চ শূন্যাগম ইত্যর্থ। শিষ্টং স্পষ্ট। (১৫ পৃষ্ঠা) “ব্যবহারমাত্রস্য সাহিত্যনিয়তিং ন জমঃ কিং তৰ্হি বিশিষ্টব্যবহারস্যেতি” প্রথমবিকল্পশ্য দ্বিতীয় বিকল্পং শঙ্কতে-প্রমাণেতি। কথকবাগ- ব্যবহার প্রমাণাদিসত্তাম্বীকারপুরঃসর, সাধনধনয়ােরতরক্ষমব্যবহারত্বাৎ, ভট্টাদিসংপ্রতিপব্যবহারব। বিপক্ষে চার্বাকাদিব্যবহারবৎ সাধনাদিক্ষমতা প্রঃ পরিচ্ছে । দেখ স্বপ্রকাশের সপ্তম লক্ষণটী হইল-“জ্ঞানবিষয়ত্বে সতি অপবােক্ষ।” ইহার অর্থ হইল যাহা জ্ঞানের অবিষয় অথচ অপরােক্ষ তাহাই প্রকাশ। অপরােক্ষ অর্থ-প্রত্যক্ষ। এস্থলে প্রত্যক্ষ অর্থ-সংশয় এবং বিপৰ্যাসের অবিষয়। সাধারণতঃ, কোন কিছুকে প্রত্যক্ষ বলিলে প্রত্যক্ষজ্ঞানের বিষয়কেই বুঝায়। এস্থলে তাহা নহে। যেহেতু তাহাকে লক্ষণমধ্যে জ্ঞানের অবিষয় বলা হইয়াছে। যাহাকে জ্ঞানের অবিষয় বলা হয় তাহাকেই যদি পুনরায় অপরােক্ষ শব্দের অর্থ যে প্রত্যক্ষ, সেই প্রত্যক্ষের বিষয় বলা হয়, তাহা হইলে বদােেব্যাঘ্যাতদোষ হইবে । এজন্য এস্থলে অপরােক্ষ শব্দের অর্থ যে প্রত্যক্ষ, তাহার অর্থ-সংশয় ও বিপৰ্য্যা- সের অবিষয়। অর্থাৎ প্রত্যক্ষ হইলে যেমন সংশয়াদি নিবৃত্ত হয় তক্রপ এস্থলে অপনােক্ষ পদবাচ্য যে জ্ঞান, তাহাতে সংশয়াদিরই অভাব আছে বুঝিতে হইবে। যেমন, ইন্দ্রিয়া ঘটাদির প্রত্যক্ষজ্ঞান যতক্ষণ না হয়, তাবৎকাল তদ্বিষয়ক সুংশয়াদি থাকিতে পারে, কিন্তু ঘটবিষয়ক প্রত্যক্ষাত্মক জ্ঞান উদিত হইলেই সেই ঘটের সংশয় কিংবা বিপৰ্য্যাস নিবৃত্ত হয়, তক্রপ জ্ঞানবিষয়ক সংশয় কিংবা বিপৰ্যাস নিবৃত্তির জন্য জ্ঞানবিষয়ক জ্ঞানের জ্ঞানবিষয়ক জ্ঞানের আবশ্যকতা নাই—জ্ঞান উৎপন্ন হইলেই তাহার স্বভাববশতঃই তদ্বিষয় সংশয় কিংবা বিপৰ্যাস থাকে না—এই মাত্র এস্থলে বলা হইল। অতএব প্রত্যক্ষজ্ঞানের ফলভূত যে সংশয়-বিপৰ্যাস-নিরাস, তাহাই এস্থলে অপরােক্ষ শব্দের অভিপ্রেত। এখন দেখ, ইহার সহিত প্রথম ছয়ট লক্ষণের প্রভেদ কি ? অর্থাৎ, এতদ্বারা প্রথম ছয়টী লক্ষণের পূর্বোক্ত সকল দোষই কিরূপে নিবারিত হইল। দেখ লক্ষণগুলি হইতেছে :- ১। স্বাসো প্রকাশশ্চেতি স্বপ্রকাশঃ।। স্বসত্তায়াং একাশব্যতিরেকরিহিত প্রকাশ। ২। দ্য স্বয়মের প্রকাশঃ প্রকাশ । ৫। ব্যবহারহেতুকাণত্ব স্বত্রকাশ। । সজাতীয়প্রকাশাপ্রকাশ্যহং অপ্রকাশ। • অনাবিষয়ত্ব প্রকাশ। ৭। জ্ঞানাবিষয়ছে সতি আপনােক স্বাণত্ব। সুতরাং, প্রথম লক্ষণে আপতিত বেদান্তীর অভিমত যে জ্ঞানের পরকাশ্য, তাহা এ লক্ষণে ঘটিল না। কারণ, যাহা জ্ঞানের অবিষয় হয়, তাহা পর- প্রকাশ্য কি করিয়া হইতে পারে ? পরকাশ হইতে গেলে জ্ঞানের বিষয়ই হইতে হইবে। সুতরাং, প্রথমলক্ষণােক্ত দোষটী ইহাতে আসিল না।

৩ . প্রত্যক্ত-প্রদীপিকা। এইরূপ দ্বিতীয় লক্ষণে আপতিত বেদান্তীর অভিমত বৌদ্ধসম্মত যে জ্ঞানের স্বয়ংপ্রকাশ্যত্ব তাহাও এ লক্ষণে নাই। কারণ, যাহা জ্ঞানের অবিষয় হয় তাহা নিজের বিষয় কি করিয়া হইবে ? কারণ, সে নিজে জ্ঞানই হইতেছে। অতএব, ইহাতে এই দোষটাও আসিল না। ভােপ তৃতীয় লক্ষণে আপতিত যে প্রদীপ ও ধটাদিতে স্বপ্ৰকাশ লক্ষণের অতি- ব্যাপ্তি, তাহাও এস্থলে নাই। কারণ, প্রদীপ-ঘটাদিতে জ্ঞানবিষয়ত্ব নাই। প্রদীপ ও ঘটাদি জ্ঞানের বিষয়ই হইয়া থাকে। সুতরাং, এ লক্ষণে জ্ঞানবিষয়ত্ব পদটী থাকায় ঐ দোষ হইল না। সেই রূপ চতুর্থ লক্ষণে আপতিত সুখাদিতে স্বপ্ৰকাশ লক্ষণের যে অতিব্যাপ্তি, তাহাও এ লক্ষণে হয় না। কারণ, সুখাদি, জ্ঞানের অবিষয় হয় না, সুখাদি জ্ঞানের বিষয়ই হয়। লক্ষণমধ্যে জ্ঞানবিষয়ত্ব পদটী এই দোষ নিবারণ করিল। এইরূপ আবার পঞ্চম লক্ষণে আপতিত দোষ-পাঁচটীও [ ৩২ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য ] এ লক্ষণকে স্পর্শ করিতে পারিবে না। কারণ, প্রথম, প্রদীপাদিতে অতিব্যাপ্তি হইবে না, যেহেতু তাহা জ্ঞানের অবিষয় নহে; দ্বিতীয় অনুব্যবসায়ে যে অতিব্যাপ্তি অর্থাৎ তাহার পরপ্রকাগুত্ব মানিলেও যে লক্ষণের সম্ভাবনা,তাহাও হইবে না; কারণ, লক্ষণমধ্যে জ্ঞানবিষয়ত্ব বলায় পরপ্রকাশ্য সম্ভব হয় না। তৃতীয়—প্রকারান্তরে যে প্রদীপে অতিব্যাপ্তি তাহাও এ লক্ষণে হইবে না। কারণ, পঞ্চম লক্ষণোক্ত জ্ঞানব্যবহারহেতুপ্রকাশরূপপদটী থাকিলেই ঐ দোষ হয়, এক্ষণে এ লক্ষণে তাহা না থাকায়, পরন্তু জ্ঞানবিষয়ত্বমাত্র থাকায়, সে দোষের সম্ভাবনাই থাকিল না। আর এই জন্য মুক্তি ও প্রলয়দশা-সম্পর্কিত উক্ত চতুর্থ ও পঞ্চম দোষও হইতে পারে না; কারণ ব্যবহারহেতুটী এ লক্ষণে না থাকায় উপলক্ষণ বা বিশেষণ অথবা স্বরূপ বলিয়া পঞ্চম লক্ষণে যে সকল দোষ ঘটিয়াছিল, তাহার কোনটাও আর এস্থলে হইল না। সেইরূপ আবার ষষ্ঠ লক্ষণে আপতিত যে লক্ষণের অসম্ভাবনা দোষ, তাহাও এ লক্ষণে আর হইবে না। কারণ, অনুমান ও আগমজন্য জ্ঞান-বিষয়ত্ব না থাকিলে যে লক্ষণ অসম্ভব হয় পূর্বে বলা হইয়াছিল, তাহা এস্থলে হইল না। যেহেতু, তাহা জ্ঞানের বিষয় না হইলেও তাহাতে অপরােক্ষত্ব থাকে, অর্থাৎ স্বভাবতঃ সংশয়-বিপৰ্যাসাদির অভাব থাকায় তাহা এক প্রকার অপরােক্ষ-পদবাচ্য হয়। এই প্রকার অপরােক্ষত্ব তাহার অস্বীকার করিবার উপায় নাই। এজন্য তাহার প্রথম পরিচ্ছেদঃ ৩ লক্ষণ অসম্ভব নহে। যদি বল, তাহার সংশয়-বিপৰ্য্যাসাদির অভাবরূপ অপরােক্ষত্বটা জ্ঞানের বিষয় না হইলে সম্ভব হয় না, অতএব তাহা জ্ঞানের বিষয়ই প্রকারান্তরে হইল, তাহা হইলে বলিতে হইবে যে, না, তাহা নহে। যেমন, অজ্ঞানটী বেদান্তমতে ভাব-পদার্থ ও কেবল সাক্ষীর বেদ, অথচ তাহাতে অভাবরূপত্ব নিরাসের জন্য অনুমানাদি প্রমাণের উপন্যাস করা হয়, আর এইরূপ প্রমাণের উপন্যাস করা হইলেও যেমন তাহা প্রমাণের বিষয় হয় না, ইত্যাদি-বেদান্তী বলেন, তপ এস্থলেও জ্ঞানটী প্রমাণাদিজত জ্ঞানের বিষয় না হইলেও তাহার পর প্রকাশ্যদি- নিবারণের জন্য তাহা প্রকারান্তরে প্রমাণাদির বিষয় হইতে পারে। পারে। সুতরাং, জ্ঞানটা অনুমান, আগম ও প্রমাণাদিজ জ্ঞানের অবিষয় হইয়াও প্রকারান্তরে সেই সকল প্রমাণের বিষয় হইতে পারে—ইহা স্বীকার করিতে হইবে। যাহা হউক, ইহাই হইল প্রথমাদি ছয়টি কল্পের সহিত সপ্তমকল্পের প্রভেদ,অর্থাৎ প্রথমাদি ছয়টী কল্পের যে দোষ, তাহা এই সপ্তমকল্পে যে হয় না, তাহাই এতদ্বারা প্রদর্শিত হইল। এইবার দেখা যাউক, নৈয়ায়িকের বিচারে এই লক্ষণটাও কেন বেদান্তীর অভিমত লক্ষণ হইতে পারে না। নৈয়ায়িক বলিবেন-দেখ, বেদান্তী বলেন যে, অজ্ঞান যে জ্ঞানের বিষয় নহে, তাহা নহে। কারণ, তাঁহাদের মতে জ্ঞানের বিষয়ত্ব দুইপ্রকার বলিয়া স্বীকৃত হয়। প্রথম-বৃত্তির ব্যাপ্তি অর্থাৎ বৃত্তিজ্ঞানের বিষয়, এবং দ্বিতীয়—ফলব্যাপ্তি অর্থাৎ বৃত্তি প্রতিবিম্বিত চৈতন্যের বিষয়। যেমন, ঘটাদির জ্ঞানস্থলে ঘটাঘ্যাকার অন্তঃকরণবৃত্তিদ্বারা প্রথমে ঘটাদি-নিষ্ঠ অজ্ঞানরূপ আবরণ নিবৃত্তি হয়, তৎপরে সেই অন্তঃকরণবৃত্তিতে প্রতিবিম্বিত যে চৈতন্য, সেই চৈতন্যদ্বারা সেই ঘটে যখন প্রকাশ হয় তখনই ঘটের ব্যবহার হয়, সুতরাং এই ঘটাদির জ্ঞানস্থলে বৃত্তিব্যাপ্তি এবং ফল- ব্যাপ্তি এতদুভয়েরই আবশ্যকতা থাকে, সেইরূপ আত্মরূপ জ্ঞানস্থলে আত্মার বৃত্তিবিষয়ত্ব কেবল আবরণ-নিবারণজন্য থাকে, আম্বরূপ-প্রকাশের জন্য ঐ বৃত্তি, অথবা উক্ত বৃত্তিপ্রতিবিম্বিত চৈতন্যের আবশ্যকতা থাকে না। যেহেতু, আত্ম নিজেই প্রকাশরূপ পদার্থ। তাহার পর অজ্ঞানের জ্ঞানস্থলে অজ্ঞানবিষয়ক আবরণ না থাকায় তাহার নিবৃত্তির জন্য বৃত্তিবিষয়তার আবশ্যকতা নাই, কিন্তু তাহার অভাব- রূপতাদি-সংশয়নিরাসের জন্য তাহার অনুমানাদি-প্রমাণজ-বৃত্তিবিষয় থাকে, ৩. প্রত্যক্তত্ব-প্রীপিকা। এবং তাহার প্রকাশের জন্য বৃত্তি কিংবা বৃত্তিপ্রতিবিম্বিত চৈতন্যের আবশ্যকতা নাই ; যেহেতু তাহা সর্বদাই সাক্ষীর দ্বারা প্রকাশিত রহিয়াছে । অতএব, ইহাই যদি বেদান্তীর অভিমত হইল, তাহা হইলে জ্ঞানবিষয়ত্বটী অজ্ঞানের কি করিয়া সম্ভব হইবে। কারণ, অজ্ঞানের বৃত্তিবিষয়ত্ব যে আছে, তাহা উপরে প্রদর্শিত হইয়াছে। আর অজ্ঞানের এই প্রকারে বৃত্তিবিষয় থাকায় তাহাকে প্রমাণের অবিষয় বলিয়া পরক্ষণে সেই প্রমাণের আবার প্রকারান্তরে বিষয় বলাও সঙ্গত হইল । অতএব,উপরে যে অজ্ঞানের দৃষ্টান্ত দিয়া জ্ঞানকে প্রমাণাদিজন্য জ্ঞানের অবিষয় স্বীকার করিয়া পুনরায় প্রকারান্তরে তাহাকে আবার প্রমাণাদিজন্য জ্ঞানের বিষয় বলা হইয়াছে, তাহা সঙ্গত হইবে না। সুতরাং, ষষ্ঠ কল্পের ন্যায় এ লক্ষণেরও অভাবনা-দোষ সংঘটিত হইল-বলিতে হইবে। আর যদি বল—এ লক্ষণে জ্ঞানবিষয়ত্বপদে আন-কৰ্ম্মত্বের অভাবই বুঝিতে হইবে, অর্থাৎ জ্ঞান যে জ্ঞানের বিষয় নহে, তাহা, ঘট যে প্রকারে জ্ঞানের কৰ্ম্মরূপ বিষয় হয়, সেই প্রকারে জ্ঞানের বিষয় নহে, পরন্তু সামান্যতঃ জ্ঞানের বিষয়ই হয়, ইত্যাদি—তাহা হইলে বলিতে পারা যায় যে,প্রভাকরমতে জানায় যে আত্মা, সেই আত্মাতে তাহা হইলে অতিব্যাপ্তি হইবে,অথচ প্রাভাকর মতে আত্মার যে,জ্ঞানায়, তাহা বেদান্তীর অভিমত নহে। যদি বল প্রভাকর মতে জ্ঞানাশয়কে আত্মা বলায় এই লক্ষণটা কিরূপে সেই আত্মাতে প্রযুক্ত হয়। তাহা হইলে বলিব যে, তাহাদের মতে আত্মা জ্ঞানের কৰ্ম্ম নহে। কারণ, কৰ্ম্মত্বের লক্ষণ এই যে,পর-সমবেত-জন্য- ফলশালি। ইহা, দেখ,আত্মাতে সম্ভব নহে। যেহেতু,জ্ঞানটী ক্রিয়া,ইহা পর-সমবেত নহে, পরন্তু ইহা আত্ম-সমবেতই হয়। সুতরাং, প্রভাকরমতের আত্মাতে এই লক্ষণটা যাইল ; অতএব বলিতে হইবে যে, জ্ঞানবিষয়ত্ব- পদে জ্ঞানকৰ্ম্মাভাব বুলিলেও উক্ত দোষ নিবারিত হয় না। অতএব, দেখা গেল- এই সপ্তম লক্ষণটাও বেদান্তসম্মত প্রকাশলক্ষণ হইতে পারিল না। অর্থাৎ “জ্ঞানায় আত্মা” বলিলেও এতাদৃশ স্বপ্ৰকাশত্ব লক্ষণের সমন্বয় যদিও হয়, তাহা হইলে বেদান্তীর অনভিমতই সিদ্ধ হইয়া যাইবে, অভিমত সিদ্ধ হইবে না। ৮। এইবার দেখা যাউক-অষ্টমকল্পে স্বপ্রকাশ-লক্ষণটীর অর্থ কি, এবং তাহাতে প্রমাদি সাতটী লক্ষণের দোষ কিরূপে নিবারিত হয়, এবং তাহাও আবার নৈয়ায়িকের চক্ষ বেন বেদান্তসম্মত লক্ষণ হইতে পারে না।

প্রথম পরিচ্ছে। দেখ, স্বপ্রকাশের অষ্টম লক্ষণটী হইল—“ব্যবহারবিষয়ত্বে সতি জ্ঞানবিষয়ত্বই প্রকাশ। ইহার অর্থ—যাহা ব্যবহারের বিষয় হইয়া জ্ঞানের অবিষয় হয়, তাহাই স্বপ্রকাশ। এস্থলে ব্যবহার-শব্দের অর্থ-তদ্বিষয়ক শব্দপ্রয়ােগ। যেমন, জ্ঞানকে যখন শব্দ-সাহায্যে এইজ্ঞান” এইরূপ বলা যায়, তখন জ্ঞানের যে ব্যবহার হয়, তাহাই এস্থলে ব্যবহার-শব্দের অর্থ বুঝিতে হইবে। এইরূপ দেখা যাউক, এই অষ্টম লক্ষণের সহিত প্রমাদি সাত লক্ষণের প্রভেদ কি,অর্থাৎ প্রথমদি সাত লক্ষণে আপতিত দোষগুলি এতদ্বারা কিরূপে নিবারিত হয়। দেখ লক্ষণগুলি হইতেছে, ১। চাসো প্রকাশকেতি প্রকাশ। ৫। ব্যবহারহেতুপ্রকাশং প্রকাশ। ২। এই বয়মের প্রকাশ প্রকা। । নাবিষয়ত্বং অপ্রকাশ। ৩। স্বজাতীয়প্রকাশাপ্রকাশ্যত্বং অপ্রকাশ। ৭। জ্ঞানবিষয়কে সতি অপনােক্ষত্বং প্রকাশ। ৪। স্বসত্তায়াং প্রকাশব্যতিরেকরিহিত ৮। ব্যবহারবিষয়ছে সতি নাবিষয়ক প্রকাশ। প্রকাশ। এখন দেখ, এই লক্ষণে স্বপ্রকশি পদের অর্থ-ব্যবহারের বিষয় হইয়া জ্ঞানের অবিষয়—এইরূপ বলায় প্রথম লক্ষণে আপতিত পর-প্রকাশ্যত্ব দোষটী ইহাতে থাকিল । কারণ, যাহা পর-প্রকাশ্য তাহা ব্যবহার-বিষয় হইলেও জ্ঞানের অবিষয় হয় না। সুতরাং, এ লক্ষণে ঐ দোষটী আসিল না । সেইরূপ দ্বিতীয় লক্ষণের স্বয়ংপ্রকাশ্যত্ব দোষটী এ লক্ষণে হইবে না। কারণ, যাহ স্বয়ংপ্রকাশ্য হয়, তাহা জ্ঞানের বিষয় হয়। এ লক্ষণে যাহা জ্ঞানের অবিষয়, তাহাকে স্বপ্ৰকাশ বলায় উক্ত স্বয়ংপ্রকাশ্যত্বের নিরাস করা হইল। তপ তৃতীয় লক্ষণের যে প্রদীপ ও ঘটাদিতে অভিব্যাপ্তিরূপ দোষয়, তাহারাও আর এখন এ লক্ষণে থাকিল না। কারণ, প্রদীপ ও ঘটাদি ব্যবহারের বিষয় হইলেও জ্ঞানের অবিষয় হইবে না। ঐরূপ চতুর্থ লক্ষণের যে সুখাদিতে অতিব্যাপ্তি, তাহাও আর এখন এই লক্ষণে হইবে না; কারণ, সুখাদি ব্যবহারবিষয় হইলেও জ্ঞানের অবিষয় হয় না। সেইরূপ পঞ্চম লক্ষণে যে পাঁচটী দোষ হইয়াছিল (৩২পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য) তাহাদের মধ্যে প্রথম তিনটীতে অর্থাৎ প্রদীপ,অনুব্যবসায় ও পুনরায় প্রদীপে যে অতিব্যাপ্তি) তাহাতে জ্ঞানবিষয়ত্ব না থাকায় এ লক্ষণের ঐ দোষ আসিল না। শেষ দুইটী দোষ, যথা- প্রত্যক্ত-প্রীপিকা। (১) উপলক্ষণ কিংবা বিশেষণাত্মক বিকল্পনিবন্ধন মুক্তি প্রলয়-শাতে অব্যাপ্তি, এবং (২) স্বরূপাত্মক বিকল্পে লক্ষ্যলক্ষণের অভভদনিবন্ধন লক্ষণসিভি-দোষ প্রভৃতি, তাহাও এ লক্ষণে আর হইল না ; কারণ,পঞ্চম লক্ষণের ব্যবহারহেতুত্ব পদটী এ লক্ষণে নাই। যষ্ঠ লক্ষণের অসম্ভব দোষটীও এ লক্ষণে থাকিল না। কারণ, জ্ঞানকে বেদান্তী, জ্ঞানের অবিষয় বলিলেও তাহার ব্যবহার স্বীকার করেন। যেহেতু, জ্ঞানটী স্বয়ং প্রকাশ, তাহার ব্যবহারের জন্য জ্ঞানবিষয়ত্বের আবশ্যকতা নাই। অর্থাৎ,তাহা জ্ঞানের অবিষয় হইলেও ব্যবহারের বিষয় হইতে পারে। আর পুর্বে যে বলা হইয়াছিল (৩২পৃষ্ঠা) ‘যে জ্ঞান নিজের বিষয় নহে,এবং অন্য জ্ঞানের বিষয় নহে তাহা কি করিয়া সাবান হইতে পারে এজন্য তাহার সত্তাস্বীকার করিতে হইলে তাহাকে প্রমাণ-জন্য-জ্ঞানবিষয় বলিতেই হইবে’ ইত্যাদি, তাহাও আর এই পক্ষে ঘটিল না। কারণ, ব্যবহারবিষয়ত্বে সতি—এই অংশটুকু এই লক্ষণে প্রবিষ্ট হওয়ায় বলা হইল যে, জড়-বস্তুর ব্যবহারের জ সেই বস্তু হইতে পৃথক্ যে জ্ঞান তাহার আবশ্যকতা থাকে, কিন্তু প্রদীপ- ব্যবহারের জন্য প্রদীপান্তরের যেরূপ আবশ্যকতা থাকে না, তদ্রুপ জ্ঞানের ব্যবহারের জন্য জ্ঞানান্তরের আবশ্যকতা নাই। অর্থাৎ, যাহা প্রকাশ, তাহার ইহাই বিশেষত্ব যে,তাহা জ্ঞানের বিষয় হইবে না,অথচ ব্যবহারের বিষয় হইবে। অতএব,স্বপ্ৰকাশ- সাধন যে প্রমাণাদির উপন্যাস,তাহার এরূপ অভিপ্রায় নহে যে,জ্ঞান আগম কিংবা অনুমানের দ্বারা উৎপন্ন জ্ঞানের বিষয় হইবে, অর্থাৎ “জ্ঞানটী স্বয়ংপ্রকাশ” এইরূপ একটী জ্ঞানের বিষয় হইবে, কিন্তু “জ্ঞান স্বয়ংপ্রকাশ” এইরূপ শব্দপ্রয়ােগরূপ ব্যব হারের জন্য সেই সকল প্রমাণের উপন্যাস করা হইয়া থাকে। অতএব, জ্ঞানকে জ্ঞানের বিষয় না বলিলে আমার তদ্বিষয়ক বিচারে প্রবৃত্তি হইতে পারে না—ইত্যাদি কথা কেহ বলিতে পারে না। অতএব ষষ্ঠকল্পে যে লক্ষণাসিদ্ধি দোষ প্রদর্শিত হইয়াছিল, তাহা এই অষ্টমকল্পে থাকিল না। তাহাতে ব্যবহারবিষয়ত্ব থাকায় জ্ঞানা- বিষয়ত্ব বলিলেও কোন দোষ হইল না। অর্থাৎ, তাহার লক্ষণের সম্ভাবনা থাকিতে কোন বাধা হইল না বুঝা গেল। ঐরূপ দেখ, এই সপ্তম কল্পে আপতিত দোষী এই অষ্টমকল্পে আসিল না । কারণ, জ্ঞানটী বৃত্তিজ্ঞানের বিষয় হয় না, ইহা বলিলে তাহার সত্তাসিদ্ধ হইবে না, এবং প্রমাণাদির উপন্যাস হইবে না, ইত্যাদি যে সব দোষ, তাহারা আর এক্ষেত্রে আসিবে না। প্রমাণাদির উপন্যাসটী ব্যবহারের জন্য হইবে এবং তাহা বৃত্তিজ্ঞানের প্রথম পরিচ্ছেদ। } বিষয় নহে বলিলেও স্বয়ংপ্রকাশনিবন্ধন তাহার সত্তা সম্ভবই হইবে। অতএব, জ্ঞানবিষয়ত্ব অসম্ভব বলিয়া যে সব দোষ হইতেছিল তাহা আর এখন হইল না। অর্থাৎ তাহা জ্ঞানের অবিষয় থাকিল অথচ ব্যবহারবিষয়ও হইল। তাহার পর প্রাভাকর মতে সপ্তম লক্ষণে আত্মাতে যে অতিব্যাপ্তি দোষটী হইতেছিল, দেখ এই অষ্টম লক্ষণে তাহাও আর হইবে না। কারণ, জ্ঞানবিষয়ত্ব-শব্দে এ লক্ষণে জ্ঞান- কৰ্মত্বকে লক্ষ্য করা হয় না। যদি জ্ঞানকর্মাভাবই জ্ঞানবিষয়ত্ব হইত, তাহা হইলে সে দোষ থাকিত। বস্তুগত্যা জ্ঞানবিষয়ত্ব-পদে জ্ঞানকর্মাভাব অর্থ নহে। উহার অর্থ–সামান্যতঃ জ্ঞানের অবিষয়ত্ব। প্রাভাকরমতে জ্ঞানের অবিষয়ত্ব আত্মাতে নাই, সুতরাং প্রাভাকরমতানুসারে এই লক্ষণে আর আত্মাতে অতিব্যাপ্তি হইতে পারে না। ইহাই হইল অষ্টম লক্ষণের সহিত প্রথমাদি সাতটী লক্ষণের প্রভেদ। এইবার দেখ, এই অষ্টম লক্ষণটাও বেদান্তীর অভিমত লক্ষণ কেন হয় না। দেখ, বেদান্তী বলিলেন যাহা ব্যবহারের বিষয়, অথচ জ্ঞানের আবিষয়, তাহাই স্বপ্ৰকাশ। কিন্তু, ইহা যদি স্বীকার করা যায়, তাহা হইলে প্রকারান্তরে বেদান্ত- সিদ্ধান্তেরই বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। কারণ, দেখ, বেদান্তী বলেন—জ্ঞান যেরূপ জ্ঞানের বিষয় নহে, সেইরূপ সে ব্যবহারের বিষয় হইতে পারে না। যেহেতু, ব্যবহার অর্থ-শব্দপ্রয়ােগ প্রভৃতি। তাহার বিষয় ত শব্দ। জ্ঞান সেই শব্দজন্য জ্ঞানের যদি বিষয় না হয়, তাহা হইলে তাহা শব্দের বিষয় কি করিয়া হইতে পারে। অতএব যাহাকে জ্ঞানের অবিষয় বলা হইবে, তাহা ব্যবহারের বিষয় কখনই হইতে পারে না। সুতরাং, অষ্টম কল্পে যে “ব্যবহারবিষয়ত্বে সতি জ্ঞানাবিষয়ত্ব প্রকাশ” এইরূপ স্বপ্রকাশের লক্ষণ করা হইল—তাহা ঠিক নহে। আরও দেখ, যদি তুমি আগ্রহ সহকারেই কেবল বলিতে চাহ যে, জ্ঞান, শব্দ- জন্য জ্ঞানের বিষয় না হইয়াও এইটী জ্ঞান” এইরূপ শব্দপ্রয়ােগরূপ ব্যবহারের বিষয় হউক। তাহা হইলে এই অষ্টম লক্ষণে আর অসম্ভব-দোষ হইবে না-ইত্যাদি। তাহা হইলে তাহার উত্তরে বলিতে পারা যায় যে, অখ্যাতিবাদী প্রভাকরের মতে মজ্ঞানস্থলে জ্ঞানদ্বয় স্বীকার করা হয়, তৃতীয় একটা বিশিষ্ট-জ্ঞানরূপ মজ্ঞান স্বীকার করা হয় না,এজ ৩ক্তি এবং রজতের যে সম্বন্ধ,সেই সম্বন্ধটীতে জ্ঞানবিষয়ত্ব থাকে না, অথচ ব্যবহারবিষয়ত্ব থাকে, সুতরাং সেই ‘সম্বন্ধে এই অষ্টম লক্ষণটীর অতিব্যাপ্তি হইবে। অতএব বলিতে হইবেজ্ঞান, শব্দজন্য জ্ঞানের বিষয় না হইয়াও . প্রত্যতত্ত্ব-প্রদীপিকা। “এইটী জ্ঞান” এইরূপ শব্দ প্রয়ােগরূপ ব্যবহারের বিষয় হইতে পারে না। বস্তুত প্রভাকরমতে ভ্ৰমস্থলে ইদং পদার্থ ও রজতের যে সম্বন্ধ, সেই সম্বন্ধে ভ্রম- জ্ঞানবিষয়ত্ব না থাকিলেও শব্দপ্রয়ােগরূপব্যবহার-জন্য জ্ঞানের বিষয়ত্ব নাই—এরূপ নহে, তাহা হইলে ব্যবহারবিষয় বলিলেই শব্দজন্য-জ্ঞানের বিষয় জ্ঞান হইবে—ইহা স্বীকার করিতে হইবে এবং পুর্বোক্ত অসম্ভব দোষই থাকিয়া যাইবে । আরও, মুক্তি ও প্রলয়শাতেও আত্মাতে অব্যাপ্তিরূপ একটা দোষ হইবে। কারণ, তৎকালে আত্মাতে কোন ব্যবহার থাকে না। অতএব সেই আত্মাতে জ্ঞানবিষয়ত্ব থাকিলেও ব্যবহারবিষয়ত্ব না থাকায় অব্যাপ্তি ঘনিবাৰ্য্য হইবে। সুতরাং এরূপেও উক্ত আগ্রহসূচক প্রস্তাবটী সমর্থিত হইতে পারিল না। অর্থাৎ দেখা গেল, নানা দিক্ দিয়াই এই অষ্টম লক্ষণের দোষ হইতে লাগিল। সুতরাং ইহাও বেদান্তীর অভিমত স্বপ্রকাশের লক্ষণ হইল না। ৯। এইবার দেখা যাউক, স্বপ্ৰকাশ পদার্থের নবম লক্ষণটা কি, তাহার দ্বারা প্রথমাদি আটটী লক্ষণের দোষগুলিই বা কি করিয়া নিবারিত হয়,এবং তাহাও আবার নৈয়ায়িকের চক্ষে কেন বেদান্তসম্মত নির্দোষ লক্ষণ হয় না। দেখ, নবম লক্ষণটী হইল—“স্বপ্ৰতিবদ্ধ-ব্যবহারে সজাতীয়-পরানপেক্ষত্ব। ইহার অর্থ—নিজ-প্রযুক্ত যে ব্যবহার, সেই ব্যবহারে, নিজের সজাতীয় অন্যকে যাহা অপেক্ষা করে না—তাহাই প্রকাশ পদার্থ। যেমন, জ্ঞানটী নিজ প্রযুক্ত যে ব্যবহার, অর্থাৎ “ইহা জ্ঞান” ইত্যাকার শব্দপ্রয়ােগরূপ যে ব্যবহার, অথবা অন্যবিধ যে কোন ব্যবহার, সেই সকল ব্যবহারসিদ্ধ করিবার জন্য নিজজাতীয় অর্থাৎ জ্ঞান- জাতীয় অপর কাহারও অপেক্ষা করে না। এখন দেখ—ইহার দ্বারা প্রমাদি আটটী লক্ষণের দোষগুলি কি করিয়া নিবারিত হয় ? দেখ লক্ষণগুলি হইল ; ১। বাসে প্রকাশকেতি প্রকাশ। । অব্যবহারহেতুপ্রকাশং অপ্রকাশ, ৪। কষ্য বয়মে প্রকাশ প্রকাশ। ৫। নাবিষয়ত্বং প্রকাশ। ৩। সতীয়প্রকাশাপ্রকাশ্যত্বং প্রকাশত্ব। জ্ঞানবিষয়ত্বে সতি অপনােক্ষত্বং অপ্রকাশ। । সয়ং একাশব্যতিরেকরিহিতত্ব ৮। ব্যবহারবিষয়ত্বে সতি জ্ঞানবিষয়ত্বং অপ্রকাশ। প্রকা। ১। বহিবব্যবহারে জাতীয়পরানপেক্ষ বাণ।

প্রথম পরিচ্ছেদঃ। ৪১ সুতরাং, প্রথম লক্ষণে আপতিত নৈয়ায়িক-সম্মত জ্ঞানের পরপ্রকাশ্যত্ব দোষটী এই লক্ষণে আর আসিল না। কারণ, যাহা পরপ্রকাশ্য হয়, তাহা স্বপ্রযুক্ত ব্যবহারে অন্যকে অপেক্ষা করিবেই করিবে। তাহার স্বজাতীয় অন্যের অপেক্ষত্ব থাকিবে না। ঐরূপ দেখ, দ্বিতীয় লক্ষণে আপতিত জ্ঞানের স্বয়ংপ্রকাশ্যত্ব দোষটীও এই নবম লক্ষণে আসিতে পারে না। কারণ, জ্ঞানটী স্বপ্রযুক্ত ব্যবহারে জ্ঞানজাতীয় অন্য জ্ঞানকে অপেক্ষা করে না—ইহাই এই লক্ষণে বলা হইয়াছে। অতএব জ্ঞান, জ্ঞানকে যে প্রকাশ করে, তাহাই এতদ্বারা বুঝাইল না। অর্থাৎ জ্ঞানের স্বপ্রকাশ্যত্ব সিদ্ধ হইল না। সেইরূপ দেখ, তৃতীয় লক্ষণে আপতিত প্ৰদীপাদিতে অতিব্যাপ্তি দোষটীও এ লক্ষণে হইতে পারে না। কারণ, যদ্যপি প্রদীপ, স্বব্যবহারে স্বজাতীয় যে প্রদীপান্তর, তাহার অপেক্ষা করে না, তথাপি তাহার সজাতীয় যেমন প্রদীপ হয়, তদ্রুপ চক্ষুরাদিও হইবে। যেহেতু, চক্ষুদিতেও প্রদীপবৃত্তি প্রকাশদ্বাদি- রূপ কোন-না-কোন ধৰ্ম্ম থাকেই। অতএব চক্ষুরাদিও প্রদীপের স্বজাতীয় হইবে। সুতরাং, তদনপেক্ষত্ব প্ৰদীপাদিতে নাই বলিয়া অতিব্যাপ্তি হইল না। সেইরূপ ঘটাদিতেও অতিব্যাপ্তি হইল না। কারণ, ঘটাদির সজাতীয় কোন না-কোন ধৰ্ম্ম দ্বারা সজাতীয় জ্ঞানাদিই হয়। আর, তদনপেক্ষত্ব ঘটাদি- ব্যবহারে নাই, পরন্তু অপেক্ষত্বই থাকে। অতএব, ঘটাদিতে তৃতীয় লক্ষণের যে অতিব্যাপ্তি হইতেছিল, তাহা আর এখানে হইল না। তদ্রুপ আবার চতুর্থ লক্ষণে আপতিত সুখাদিতে যে অতিব্যাপ্তি দোষ, তাহাও আর এই নবম লক্ষণে প্রবেশ করিতে পারিবে না। কারণ, সুখাদি-ব্যবহারে সুখের সজাতীয় যে জ্ঞানাদি তাহার অপেক্ষত্বই থাকে, অনপেক্ষ থাকে না। সুতরাং, এ দোষ এই নবম লক্ষণে হইল না। সেইরূপ, পঞ্চম লক্ষণে আপতিত দোষ পাঁচটীও এ লক্ষণে হইবে না। কারণ, পঞ্চম লক্ষণের উক্ত দোষ পাঁচটীর হেতু “স্বব্যবহারহেতু শব্দটী”; তাহা এ লক্ষণে নাই। ইহার বিস্তৃত বিবরণ পূর্ব প্রসঙ্গে দ্রষ্টব্য। ঐরূপ, ষষ্ঠ লক্ষণে আপভিত লক্ষণাসম্ভব দোষীও এই নবম লক্ষণে হইবে না। কারণ, এই লক্ষণে কারণ, এই লক্ষণে জ্ঞানবিষয়ত্ব পদটীই নাই। জ্ঞানবিষয়ত্ব ।

৪২ প্রত্যক্ত-প্রদীপিকা। পদটীর জন্যই ষষ্ঠ লক্ষণে লক্ষণাসম্ভব দোষ হইয়াছিল। সুতরাং, এ লক্ষণে ষষ্ঠ লক্ষণের দোষটাও থাকিল না। সেইরূপ, সপ্তম লক্ষণে আপতিত লক্ষণাসম্ভব দোষীও আর এই নবম লক্ষণে নাই। কারণ, সপ্তম লক্ষণেও জ্ঞানবিষয়ত্ব পদটী ব্যবহৃত হইয়াছিল, এবং সেই জন্যই জ্ঞানাবিষয়ত্ব পদে জ্ঞানকর্মাভাব অবলম্বন করিয়া যে প্রভাকর মতের সাদৃশ্য সম্ভাবনা হইয়াছিল, তাহাও আর এখন হইল না। তদ্রুপ, অষ্টম কল্পের লক্ষণাসম্ভব, মুক্তিদশাতে আত্মায় অব্যাপ্তি এবং প্রভাকর মতানুসরণ করিয়া ভ্ৰমস্থলে শুক্তি-রজতের সম্বন্ধে অতিব্যাপ্তি রূপ যে দোষ তিনটী, তাহাও আর এ লক্ষণে হইবে না। কারণ, প্রথমতঃ জ্ঞানবিষয়ত্ব পদটীই এ লক্ষণে নাই, এবং দ্বিতীয়তঃ স্বব্যবহারে সজাতীয় অন্যের যে অনপেক্ষ, তাহা জ্ঞানে থাকেই। সুতরাং, উক্ত দোষ তিনটীও এ লক্ষণে আসিল না, এবং শুক্তিরজতাদির সম্বন্ধে সজাতীয় পর যে জ্ঞান, তাহার অনপেক্ষত্ব থাকে না, পরন্তু অপেক্ষত্বই থাকে, সুতরাং, অতিব্যাপ্তি থাকিল না। অতএব প্রথমাদি আটটী লক্ষণের কোন দোষই এই নবম লক্ষণে প্রবেশ করিতে পারিল না। এইরূপ দেখা যাউক, এই লক্ষণটীও কেন নৈয়ায়িকের চক্ষে বেদান্ত-সম্মত লক্ষণ হয় না। দেখ, ইহাতে পূর্বোক্ত তৃতীয় লক্ষণে আপতিত প্ৰদীপাদিতে অতিব্যাপ্তি দোষটী প্রকৃতপক্ষে নিবারিত হয় না। কারণ, এই লক্ষণে সাজাত্য যদি যে-কোন-রূপ ধৰ্ম্ম অবলম্বনে নিবেশ করা হয় ; তাহা হইলে এই লক্ষণের অসম্ভবই হইয়া যাইবে। যেহেতু, জ্ঞান ব্যবহারেও জ্ঞানের অপেক্ষা থাকিলেও অদৃষ্ট এবং শরীরাদির অপেক্ষা ত থাকেই। সুতরাং, সেই অদৃষ্টাদিও সত্তারূপ ধৰ্ম্ম দ্বারা জ্ঞানের সজাতীয় হইয়া থাকে। অতএব, জ্ঞানের সজাতীয় অদৃষ্টাদিও হইল। আর তাহাতে তদনপেক্ষত্ব নাই বলিয়া লক্ষণের অসম্ভাবনাই হইয়া উঠিল। অতএব, সাজাত্যটা এখানে ব্যাপ্যধৰ্ম্ম-পুরস্কারেই বলিতে হইবে। অর্থাৎ প্রদীপের সজাতীয় যে প্রদীপ হয়, তাহা প্রদীপত্বরূপ ধৰ্ম্ম দ্বারাই হয়। প্রদীপত্বটী সত্তাদির তুলনায় ব্যাপ্য ধৰ্ম্মই হয়। যেহেতু, প্রদীপত্ব কেবল প্রদীপে থাকে, এবং সত্তাটী, প্রদীপ এবং প্রদীপ ভিন্ন সৰ্ব্বত্রই থাকে। আর যদি ঐ সাজাত্য ব্যাপ্য-ধৰ্ম্ম-পুরস্কারে গ্রহণ করা হয়, তখন প্রদীপব্যবহারে প্রদীপরূপে প্রদীপের সজাতীয় যে প্রদীপান্তর, তাহার অপেক্ষা না থাকায় ; প্রথম পরিচ্ছে। এই লক্ষণটী প্রদীপেও প্রযুক্ত হইল। সুতরাং, প্রদীপে অতিব্যাপ্তি রূপ যে তৃতীয় লক্ষণে আপতিত দোষ, তাহা এই নবম লক্ষণে দুরপনেয়ই রহিল। অর্থাৎ, নৈয়ায়িকের চক্ষে এই নবম লক্ষণটিও বেদান্তীর অভিমত নির্দোষ লক্ষণ হইল না। ১০। এইবার দেখা যাউক, স্বপ্ৰকাশ পদার্থের দশম লক্ষণটা কি, তাহাতে প্রথমাদি নয়টী লক্ষণের কোন দোষই কিরূপে প্রবেশ লাভ করে না, এবং তাহাও আবার নৈয়ায়িকের বিচারে কেন বেদান্তীর অভিমত স্বপ্রকাশের লক্ষণ হয় না। দেখ দশম লক্ষণটী হইতেছে “অবেদ্যত্বে সতি অপরােক্ষব্যবহার-বিষয়ত্ব। ইহার অর্থ—যাহা অববদ্য অর্থাৎ জ্ঞানের অবিষয় অথচ অপরােক্ষব্যবহারের বিষয় তাহাই স্বপ্রকাশ। অর্থাৎ, জ্ঞানে জ্ঞানবিষয়ত্ব নাই ; পরন্তু “ইহা অপরােক্ষ এইরূপ শব্দপ্রয়ােগরূপ ব্যবহারের বিষয় হইয়া থাকে বলিয়া জ্ঞানটীকে স্বপ্ৰকাশ বলা হয়। জ্ঞান ভিন্ন অন্য কোন বস্তুই এইরূপ পদার্থ হয় না, যাহা জ্ঞানের বিষয় হয় না, অথচ অপরােক্ষরূপে ব্যবহৃত হইয়া থাকে। জড় বস্তু মাত্রেই যখন অপরোক্ষরূপে ব্যবহৃত হইয়া থাকে, তখন তাহাতে জ্ঞানবিষয়তার আবশ্যকতা থাকে। যেমন, চক্ষুদির দ্বারা ঘটটী প্রত্যক্ষজ্ঞানের বিষয় হইলে তাহার পর ঘটটী অপরোক্ষ এইরূপ ব্যবহার হইয়া থাকে। কিন্তু, জ্ঞান যদি না থাকে, তাহা হইলে ঘটটী অপরােক্ষ এরূপ কথা কেহই বলে না। সুতরাং, জ্ঞান ভিন্ন বস্তু মাত্রেই এই লক্ষণ যাইতে পারিবে না। এইবার দেখা যাউক, প্রথমাদি নয়টি লক্ষণে আপতিত দোষরাশি এই দশম লক্ষণে কেন থাকে না। দেখ, প্রথমাদি নয়টী লক্ষণ এই ;- ১। স্বাসৌ প্রকাশ্চেতি প্রকাশ। ৬। জ্ঞানবিষয়ত্বং অপ্রকাশ। ২। স্বস্য স্বয়মে প্রকাশ: অপ্রকাশঃ। । জ্ঞানবিষয়য়ত্বে সতি অপরোক্ষ প্রকাশ। ৩। সজাতীয়প্রকাশাপ্রকাশ্য ৮। ব্যবহারবিষয়ত্বে সতি জ্ঞানবিষয়ঃ আকাশত্বম। প্রকাণত্বম। ৪। স্বসভায়াং প্রকাশব্যতিরেক ৯। সুতিবদ্ধব্যবহারে সজাতীয়পরাপেক্ষত্ব বিহিতত্বং স্বপ্রকাশ। স্বপ্রকাশ। ৫। স্বব্যহারুহেতুপ্রকাশ ১। অবেদ্যত্বে সতি অপনােক্ষব্যবহারবিষয়ঃ প্রকাশত্ব। অপ্রকাশ। সুতরাং দেখ, প্রথম লক্ষণে আপতিত জ্ঞানের পরপ্রকাশ্যত্বটী আর এই লক্ষণে নাই। কারণ, যাহা পরপ্রকাশ্য হয়, তাহা আর অবেদ্য হইতে পারে ss প্রত্যক্ত-প্রদীপিকা। । যাহা পর প্রকাশ্য হয়, তাহা বেদ্যই হইয়া থাকে। সুতরাং, এ দোষটী এ লক্ষণে আসিল না। ঐরূপ, দ্বিতীয় লক্ষণে আপতিত স্বয়ংপ্রকাশ্যত্ব দোষটীও ইহাতে আসিবে না। কারণ, এ লক্ষণের “অববন্ধ্যত্ব” পদটী, তাহা বারণ করিয়া দিবে। তদ্রুপ তৃতীয় লক্ষণের প্রদীপ ও ঘটাদিতে অতিব্যাপ্তি দোষীও ইহাতে নাই। কারণ, তাহারা কেহই অবেদ্য হয় না। সেইরূপ, চতুর্থ লক্ষণের সুখাদিতে অতিব্যাপ্তিও ইহাতে নাই। কারণ, তাহারা অবেদ্য হইতে পারে না। ঐরূপ পঞ্চম লক্ষণের প্রদীপাদি ও অনুব্যবসায়াদিতে অতিব্যাপ্তি প্রভৃতি দোষ পাঁচটীও ইহাতে আসিবে না। কারণ, তাহারা কেহই অবেদ্য নহে। তদ্রুপ ষষ্ঠ লক্ষণের লক্ষণাসম্ভব দোষটাও আর এখন নাই। কারণ, জ্ঞানে জ্ঞানের অববদ্যত্ব থাকিলেও অপরােক্ষব্যবহারের জন্য স্বয়ংপ্রকাশত্ব-সাধক অনুমান এবং আগমাদির প্রমাণের উপন্যাস সম্ভব হইতে পারিবে এবং বিচারের প্রবৃত্তি প্রভৃতিও হইতে পারিবে। সেইরূপ সপ্তম লক্ষণের অসম্ভব দোষটীও ইহাতে হইবে না। কারণ, জ্ঞানবিষয়ত্ব তাহাতে থাকিলেও প্রমাণাদি-প্রয়ােগের কোন প্রতিবন্ধক নাই, তাহ পূৰ্বে বলা হইয়াছে, এবং জ্ঞানবিষয়ত্বভাব মাত্রই অবেদ্য শব্দের অর্থ বলায় জ্ঞানকৰ্ম্মাভাবরূপ অর্থ আসিতে পারিল না। এজন্য গুরুমতানুসারে আত্মাতে সস্তাবিত অতিব্যাপ্তিও হইবে না। কারণ, প্রভাকরমতসিদ্ধ আত্মাতে বেদান্তীর অভিমত জ্ঞানবিষয়ত্ব নাই। ঐরূপ অষ্টম লক্ষণের লক্ষণাসম্ভব প্রভৃতি তিনটী দোষও আর ইহাতে হইবে । কারণ, জ্ঞান জ্ঞানের অবিষয় বলিলে যে কোন দোষ হয় না, তাহা পূর্বে বলা হইয়াছে। আর শুক্তি-রজতের সম্বন্ধে যে অতিব্যাপ্তির আশঙ্কা, তাহাও আর এখন হইবে না। কারণ, এই লক্ষণকারের অভিপ্রায় এই যে, জ্ঞানের বিষয় না হইয়া ব্যবহারের বিষয় জ্ঞান ভিন্ন কোন বস্তুই হইতে পারে না । অতএব, প্রভাকরকেও ভ্ৰমস্থলে জ্ঞানদ্বয়ের অতিরিক্ত তৃতীয় একটী বিশিষ্টজ্ঞান কেবল অপরােক্ষব্যবহার বশতঃই অগত্যা স্বীকার করিতে স্বীকার করিতে হইবে। হইবে। আর তাহা হইলে গুক্তি রজতের সম্বন্ধে জ্ঞানবিষয়ত্বই থাকিবে, অর্থাৎ ভ্রমজ্ঞান একটা প্রথম পরিচ্ছে। ৪৫ স্বীকার না করিয়া কোন রকমেই প্রবৃত্তি প্রভৃতির উপপত্তি তিনি করিতে পারেন ; আর সেইজন্য তাঁহাকে ভ্রমাত্মক তৃতীয় একটী বিশিষ্টজ্ঞান স্বীকার করিতেই হইবে। অতএব, জ্ঞানবিষয়ত্ব শুক্তি-রজতাদির ‘সম্বন্ধে’ থাকিল না, আর তাহার ফলে তাহাতে অতিব্যাপ্তির সম্ভাবনাও থাকিল না। সেইরূপ দেখ, নবম লক্ষণে আপতিত প্ৰদীপাদিতে অতিব্যাপ্তিও সুতরাং এই লক্ষণে হইতে পারে না। কারণ, অপরােক্ষ-ব্যবহার-বিষয়ত্ব থাকিলেও জ্ঞান- বিষয়ত্ব কোন প্রকারেই প্ৰদীপাদিতে নাই। আর সাজাত্য-ঘটিত লক্ষণটী হইল না বলিয়া, ব্যাপ্য-ধৰ্ম্ম-পুরস্কারে সাজাত্য-নিবেশ করা হইবে কি না। ইত্যাকার-বিকল্প-প্রভৃতি-প্রযুক্ত যে লক্ষণাসম্ভবরূপ দোষ নবম কল্পে হইতেছিল, তাহাও আর এখন হইল না। সুতরাং, এতদ্বারা দেখা যাইতেছে যে, এই দশম লক্ষণে প্রথমাদি নয়টি লক্ষণের কোন দোষই স্থান পাইল না। এইবার দেখা যাউক, নৈয়ায়িকের চক্ষে এই দশম লক্ষণটীও কোন বেদান্তীর অভিমত নির্দোষ স্বপ্রকাশ-লক্ষণ হইতে পারে না। দেখ, যদিও জ্ঞান, জ্ঞানের অবিষয় হয় বলিয়া তদ্বিষয়ে অনুমানাদি-প্রমাণ- প্রয়ােগের অনুপপত্তি হইবে না, কারণ, অনুমানাদি-প্রমাণের প্রয়ােজন কেবল ব্যবহারনিৰ্বাহ-ইহাও বলা যাইতে পারে, তথাপি এই লক্ষণে অপরােক্ষ-ব্যবহার শব্দের অর্থ “ইহা অপরােক্ষ” ইত্যাকার যে শব্দ-প্রয়ােগ, সেই শব্দ-প্রয়ােগ- জন্য জ্ঞানের বিষয় যদি জ্ঞান না হয়, তাহাহইলে ঐরূপ শব্দ-প্রয়ােগ করাই বৃথা হয়। সর্বত্র শব্দ প্রয়ােগের প্রয়ােজন এই যে, তারা জ্ঞান জন্মিবে। যদি সেই জ্ঞানই শব্দ-প্রয়ােগে না জন্মিন্স, তাহা হইলে নিরর্থক শব্দ-প্রয়ােগ কেন লােকে করিতে যাইবে। অতএব বলিতে হইবে যে “ইহা অপরােক্ষ” এইরূপ শব্দপ্রয়ােগের বিষয় জ্ঞান হওয়ায় তাহা জ্ঞানের অবিষয়, অর্থাৎ অবেদ্য পদবাচ্য হইতে পারিল না। সুতরাং, পূৰ্বে অবেদ্য বলিয়া তাহাকে অপবােক্ষ-ব্যবহার বিষয় বলিলে “আমার মাতা বন্ধ্যা” এইরূপ শব্দের মত ব্যাঘাত দোষ হইবে। অতএব এই লক্ষণটীও ঠিক নহে। আরও দেখ, যদি বেদান্তী বলেন যে, জ্ঞানের ইহাই বিশেষত্ব যে, তাহা জ্ঞানের বিষয় হইবে না, অথচ শব্দ প্রয়ােগের বিষয় হইবে, তাহা হইলে বলিতে ৪৬ প্রত্যক্ত-প্রীপিকা। পারা যায় যে, সুষুপ্তি, প্রলয় ও মােক্ষদশাতে জ্ঞানস্বরূপ অত্মাতে যে অব্যাপ্তি, তাহা তুমি কি করিয়া নিবারণ করিবে। কারণ, সে সময় ত কোন ব্যবহারই থাকে না, তখন তাহাতে ব্যবহারবিষয়ত্বরূপ ধৰ্ম্মটী কি করিয়া সম্ভব হইবে? অতএব বলিতে হইবে এই কারণবশতঃও এই দশম লক্ষণটীও বেদান্ত মতে স্বপ্ৰকাশ- পদার্থের নির্দোষ লক্ষণ হইতে পারিল না। ১১। এইবার আমাদের দেখিতে হইবে স্বপ্রকাশের একাদশ লক্ষণী কি, তাহাতে প্রথমাদি দশটী লক্ষণের দোষ কি করিয়া নিবারিত হয়, এবং তাহাও আবার কেন বেদান্তসম্মত প্রকাশের নির্দোষ লক্ষণ হয় না। দেখ, একাদশ লক্ষাটী হইতেছে—“তদ্যােগ্যত্ব” অর্থাৎ “অবেদ্যত্বে সতি অপরােক্ষ-ব্যবহার-বিষয়-যােগ্যত্ব।” ইহার অর্থ—যাহা জ্ঞানের অবিষয় হইয়া অপনােক্ষ-ব্যবহারের বিষয়ের যােগ্য হয়, তাহাই স্বপ্রকাশ অর্থাৎ পূর্বোক্ত দশম লক্ষণের যাহা অর্থ, ইহারও অর্থ তাহাই, কেবল যােগ্যত্ব অংশটুকু অধিক। অর্থাৎ, পূর্বে ছিল জ্ঞানের অবিষয় অথচ অপরােক্ষব্যবহারের বিষয়ই স্বপ্রকাশ ; এখন হইল জ্ঞানের অবিষয় অথচ অপরােক্ষব্যবহারের বিষয় হইবার যােগ্যতা যাহাতে আছে, তাহাই স্বপ্রকাশ। এখন পূর্ব প্রথানুসারে আমাদিগের দেখিতে হইবে ইহাতে প্রথমাদি দশটী লক্ষণের দোষ কিরূপে নিবারিত হয়। কিন্তু, একাৰ্যটী আর এখন বিস্তৃত ভাবে আলােচনা করিবার আবশ্যকতা নাই। কারণ, ইহাতে দশম লক্ষণে কেবল “যােগ্যত্ব মাত্র অংশটুকু নিবেশ করা হইয়াছে। সুতরাং, দশম লক্ষণে যে দোষী রহিয়াছে, এস্থলে মাত্র তাহারই নিবারণ করিলে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইবে। অতএব, এখন দেখা যাউক, দশম লক্ষণের সে দোষটী কি, এবং তাহার নিরাসই বা এই লক্ষণদ্বারা কিরূপে হইতে পারে। দেখ, দশম লক্ষণের দোষটী ছিল যে, সুষুপ্তি, প্রলয় এবং মােক্ষদশাতে জ্ঞানস্বরূপ যে আত্মা, তাহা অবেদ্য অর্থাৎ জ্ঞানের অবিষয় লইলেও ব্যবহারের বিষয় হয় না। কারণ, সেই সময় সর্ববিধ ব্যবহারের নিষেধ শ্রুত হইয়া থাকে, এজন্য দশম লক্ষণে অব্যাপ্তি হইয়াছিল। এখন কিন্তু, উহাতে যােগ্যত্ব নিবেশ করায় বুঝাইল যে, সুষুপ্তি, প্রলয় এবং মােক্ষদশাতে জ্ঞানস্বরূপ যে আত্মা, তাহা প্রথম পরিচ্ছেদ। ১৭ ; অবেদ্য, অর্থাৎ জ্ঞানের অবিষয় হইলেও এবং ব্যবহারের বিষয় না হইলেও তাহাতে, ব্যবহারের বিষয় হইবার যােগ্যতা আছে। আর তজ্জন্য তৎকালেও আত্মাতে ব্যবহারবিষয়যােগ্যত্বরূপ এই একাদশ লক্ষণী প্রযুক্ত হইতে পারিল। যেমন, যে দণ্ড হইতে ঘট উৎপন্ন হইয়াছে, সেই দণ্ডে যটকারণত সাক্ষাৎ ভাবেই আছে ; পরন্তু, তাহা অরণ্যস্থ ঘটের উৎপত্তি না করিলেও তাহাতে ঘটোৎপাদনের যােগ্যতা থাকে। অতএব, ঘট-জনন-যােগ্যতা দণ্ডে যেরূপ, আছে, সেই সুষুপ্তি-প্রলয়াদি দশাতে ব্যবহারবিষয়তা না থাকিলেও জাগ্ৰতাদি দশাতে ব্যবহার-সম্পাদন-যােগ্যতা যে তাহাতে আছে, তাহা সিদ্ধ হইল এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে এই স্বপ্রকাশ লক্ষণের অব্যাপ্তি-দোষটী নিবারিত হইল। অতএব, দেখা যাইতেছে এই একাদশ স্বপ্ৰকাশ লক্ষণটীও আপাততঃ স্বপ্রকাশের নির্দোষ লক্ষণ হইল। কিন্তু নৈয়ায়িকের চক্ষে এ লক্ষণটীও বেদান্তীর অভিমত স্বপ্রকাশের নির্দোষ লক্ষণ হইতে পারে না। কারণ, পূর্বোক্ত দশ লক্ষণে যাহা কিছু দোষ হইতেছিল, তাহা এই লক্ষণে হইলেও কেবল একটী দোষ এই হয় যে, ব্যবহার-বিষয়যােগ্যত্বটী কি জ্ঞানের ধর্ম, অথবা জ্ঞানের স্বরূপ হইবে ? যদি বল, তাহা জ্ঞানের ধৰ্ম্ম, তাহা হইলে অদ্বৈতবাদীর সিদ্ধান্তবিরােধ ঘটে। কারণ, অদ্বৈতবাদীর মতে স্বপ্রকাশ পদার্থের কোন ধর্ম নাই। যেহেতু, তাহা অদ্বিতীয়। ধৰ্ম্ম থাকিলে ধৰ্ম্ম-ধৰ্ম্মার ভেদবশতঃ অদ্বৈতহানি হয়। আর যদি তাহাকে স্বরূপ বলা হয়, তাহা হইলে জ্ঞানস্বরূপ আত্মা, ব্যবহার দ্বারা নিরূপিত হইতেছে বলিয়া আত্মাও সংযােগাদি সম্বন্ধের ন্যায় স্বসম্বন্ধিক হইয়া যাইবে, অর্থাৎ যেমন সংযােগদি সম্বন্ধের নিরূপণ সম্বন্ধি-স্থানীয় অপর দ্রব্যের সাহায্যে ঘটে, সম্বন্ধীর জ্ঞান ভিন্ন যেমন তাহার নিরূপণ হয় না, কারণ, সম্বন্ধ বলিলেও “কাহার সম্বন্ধ এইরূপ আকাংক্ষা থাকে, তদ্রুপ ব্যবহার-বিষয়ত্ব-যােগ্যত্বকে আত্মার স্বরূপ বলিলে আত্মার যখন জ্ঞান করিতে হইবে, তখন তৎস্বরূপান্তৰ্গত ব্যবহারাদির নিরূপণভিন্ন হইতে পারিবে না। কিন্তু, বেদান্তী কিংবা অপরেরও মতে আত্মার এইরূপ স্বসম্বন্ধিকত্ব অভিষ্ট নহে । সকলেরই আত্মা একটী স্বতন্ত্র পদার্থ। জ্ঞান-ইচ্ছা-কৃতি অথবা সংযােগদি সম্বন্ধ প্রভৃতি পদার্থেরই ঐরূপ স্বসম্বন্ধিকত্ব স্বীকৃত হয় । সুতরাং, এইরূপ স্বসম্বন্ধিকত্বে কেহ ইষ্টাপত্তি করিতে পারিবে না।

৪ প্রত্যতত্ত্ব-প্রদীপিকা। অতএব ব্যবহার-বিষয়ত্যােগ্যত্বকে আত্মস্বরূপ বলিলেও নিস্তার নাই, ইহাতে অদ্বৈতহানি অনিবার্য। তাহার পর, আরও একটী দোষ আছে। দেখ, লক্ষ্য ও লক্ষণের অভেদ হইলে তাহাকে লক্ষণই বলা যাইতে পারে না। লােকে দেখা যায়, যে যাহার লক্ষণ, সে তাহা হইতে পৃথক্ হয়। যেমন, গন্ধব পৃথিবীর লক্ষণ বলিলে গন্ধবস্তুটী পৃথিবী হইতে ভিন্ন বলিয়াই প্রতীত হয়। সুতরাং, ব্যবহারবিষয়ত্বযােগ্যত্ব যদি আত্ম- স্বরূপ হয়, অত্মা হইতে ভিন্ন না হয়, তাহা হইলে তাহাকে আত্মার লক্ষণই বলা যাইতে পারে না। কারণ, তাহা হইলে নিজেই নিজের লক্ষণ হইয়া দাঁড়াইল, তদ্বারা কোন স্বাভিমত-সিদ্ধি অথবা পরবােধানয়ন কিছুই হইতে পারে । যিনি জ্ঞানকে স্বয়ংপ্রকাশক বলেন এবং যিনি তাহাকে পরপ্রকাশ্য বলেন, সকল মতেই জ্ঞানের স্বরূপ অঙ্গীকৃত হয় বলিয়া জ্ঞানের লক্ষণ নির্ণয় হইল না। অর্থাৎ, একাদশ লক্ষণটা লক্ষণাসম্ভব-দোষে দুষিত হইল। ইহাই হইল স্বপ্রকাশের একাদশটা লক্ষণ এবং লক্ষণ এবং তাহার নিরাপ! টীকা মধ্যে যে ভাবে পরস্পরের পার্থক্য প্রভৃতি প্রদর্শিত হইয়াছে, তাহাতে সকল কথা স্পষ্ট ভাবে বুঝা যায় না। কারণ, অনেকস্থলে দেখা যায়, পরের লক্ষণটী পূৰ্ব্ব লক্ষণের দোষে দুষিতই হইতেছে, অথচ তাহা হইলে পরবর্তী লক্ষণরচনায় প্রয়ো জনই থাকে না। এজন্য, আমরা মূলগ্রন্থের অভিপ্রায় অনুসারে এই উপসংহার মধ্যে স্থলে স্থলে অন্তপথ অবলম্বন করিয়া লক্ষণগুলির সার্থকতা প্রদর্শন পূর্বক সৰ্ব্বথা নির্দোষ করিবার চেষ্টা করিয়াছি। এইবার গ্রন্থকার দেখাইবেন যে, স্বপ্রকাশের যেমন লক্ষণ অসম্ভব, তদ্রুপ তাহার প্রমাণও অসম্ভব, এবং তৎপরে তিনি স্বয়ং ইহার লক্ষণ এবং প্রমাণ প্রভৃতি সম্পূর্ণ অভিনব পন্থায় নিরূপণ করিবেন। অতএব, এখন দেখা যাউক, ইহার প্রমাণাভাব সম্বন্ধে গ্রন্থকার কি বলিতেছেন।

প্রথম পরিচ্ছেদ। ১৯ } সুপ্রকাশত্বে এয়াণাভাব। নাপি প্রমাণম্। অথ অনুভূতিঃ অনুভূতিব্যবহারহেতুপ্রকাশঃ ; অনুভূতিত্বাৎ; যন্নৈবং তম্নৈবং ; যথা, ঘটঃ—ইত্যনুমানং প্রমাণ। ন চ অপ্রসিদ্ধবিশেষণঃ পক্ষঃ। অনুভূতিব্যবহারস্য হেতুভূতঃ প্রকাশঃ পরোেমপি হি প্রসিদ্ধঃ তােহনুভূতেঃ তৎস্বরূপত্ব-প্রতিজ্ঞােপপদ্যতে। ন চ অনুব্যবসায়জ্ঞানে সাধ্যস্য সিদ্ধ ভাগে সিদ্ধসাধনতা। তৎ- স্বরূপস্য এব অসম্মতত্বেন তস্য ধৰ্ম্মিগতানঙ্গীকারাৎ-ইতি চেৎ। ৯ অনুবাদ—জ্ঞান প্রকাশ এই বিষয়ে কোন প্রমাণও নাই। (ন্যায়- দীপালীকারের মতানুযায়ী অনুমানটী প্রমাণ হইতে পারে ইহাই এক্ষণে পূৰ্বপক্ষী শঙ্কা করিতেছেন, যথা,) আচ্ছা, অনুভূতি পক্ষ, অনুভূতিব্যবহারহেতুপ্রকাশ-সাধ্য, অনুভূতিত্ব—হেতু, যে স্থলে উক্ত সাধ্য নাই সেই স্থলে হেতুও নাই, যথা, ঘট— উদাহরণ ; এইরূপ অনুমানটী ত প্রমাণ হইতে পারে। আর পক্ষে বিশেষণীভূত সাধ্য কুত্রাপি প্রসিদ্ধ নাই—এইরূপ শঙ্কাও হয় না; কারণ, অনুভূতিবিষয়ক ব্যবহারের কারণীভূত প্রকাশটী বাদীর মতেও প্রসিদ্ধ আছে, এই কারণে অনুভূতিটী অনুভূতি ব্যবহারের কারণীভূত প্রকাশরূপ—এই প্রতিজ্ঞাবাক্য উপপন্ন হইল । আর যদি এইরূপ শঙ্কা কর যে, অনুব্যবসায়জ্ঞানে সাধ্য সিদ্ধই আছে, অতএব পক্ষের একদেশে সিদ্ধসাধন হইল, তাহা হইলে বলিব, এই শঙ্কা সঙ্গত নহে। কারণ, অনুব্যবসায়ই আমি স্বীকার করি না, এবং তজ্জন্য তাহাকে পক্ষ কোটিতে প্রবিষ্ট বলিয়া স্বীকার করি না, ইত্যাদি। কিন্তু, এইরূপ পূৰ্বপক্ষ করাও উচিত নহে।৯ তাৎপৰ্য-এতদূর পর্যন্ত সিদ্ধান্তাভিমত প্রকাশ পদার্থের একাদশ প্রকার লক্ষণ পুৰ্ব্বপক্ষী খণ্ডন করিয়া দেখাইলেন যে, স্বপ্রকৃাশের লক্ষণ কিছুই হইতে পারে না। ইহার উপর যদি সিদ্ধান্তবাদী এরূপ বলেন যে, প্রণবলে প্রকাশ সিদ্ধি যদি হয়, তাহা হইলে তদনুরােধে স্বপ্রকাশের কোন-না-কোন একটা নির্দোষ লক্ষণও হইতে পারিবে। কারণ, লক্ষণটী প্রমাণান্তর দ্বারা সিদ্ধ পদার্থ সমূহের মধ্যেই লক্ষ্যকে পৃথক করিয়া দেয়, অথবা লক্ষ্যে কোনরূপ ব্যবহারসম্পাদন করাইয়া দেয়। ইহাই লক্ষণের প্রয়ােজন। পদার্থের সিদ্ধি প্রমাণ দ্বারাই হয়, এবং লক্ষণের কাৰ্য—তাহার ইতরব্যাবৃত্তি-প্রদর্শন এবং তাহার ব্যবহারসম্পাদন। . ৭ ; প্রত্যক্ত-প্রীপিকা। সুতরাং, প্রকৃতস্থলে প্রমাণদ্বারা প্রকাশ পদার্থের যদি সিদ্ধি হয়, তাহা হইলে পূর্বোক্ত লক্ষণমধ্যে কোন-না-কোন একটা লক্ষণ তাহার লক্ষণ হইতে পারে ; আর পূর্বোক্ত একাদশটী লক্ষণই যদি অনুপপন্ন হয়, তাহা হইলেও কোন ক্ষতি হইবে না; কারণ, তাহা হইলে অপর কোন নির্দোষ লক্ষণ চেষ্টা করিলে আবিষ্কার করা যাইতে পারিবে । এইরূপ মত খণ্ডনের জন্য পূৰ্বপক্ষী স্বপ্ৰকাশ পদার্থের প্রমাণও নাই—ইহা “নাপি” ইত্যাদি গ্রন্থ দ্বারা বলিতেছেন। এতদভিপ্রায়ে পূৰ্বপক্ষী ন্যায়রত্নদীপাবলীকারের অভিমত স্বপ্ৰকাশত্বসাধক অনুমান-প্রমাণটী তন্মতানুসারী নানা যুক্তি সহকারে উল্লেখ করিয়া এক্ষণে তাহার খণ্ডন করিতেছেন। এখন দেখা যাউক, ন্যায়রত্নদীপাবলীকারের মতানুযায়ী সেই অনুমানটা কি ? ন্যায়রত্নদীপাবলীকারের মতে স্বপ্ৰকাশত্বসাধক অনুমানটী এই যে, অনুভূতি-অনুভুতিবিষয়ক ব্যবহারের কারণীভূত প্রকাশরূপ । যেহেতু, তাহাতে অনুভূতিত্ব বিদ্যমান রহিয়াছে। যাহা অনুভূতিবিষয়ক ব্যবহারের কারণীভূত প্রকাশরূপ হয় না, তাহাতে অনুভূতিত্বও থাকে না, যথা—ঘট। সুতরাং, অনুভূতিটা অনুভূতিবিষয়ক ব্যবহারের কারণীভূত প্রকাশরূপ । এস্থলে অনুভুতিটী পক্ষ, “অনুভূতিবিষয়ক-ব্যবহারহেতু-প্রকাশত্ব” সাধ্য, অনু- ভূতিত্বটা হেতু। ব্যতিরেক দৃষ্টান্ত—ঘট। এখন এই অনুমানে সাধ্যমধ্যে অনুভূতি পদের গ্রহণ না করিলে অর্থাৎ কেবল ব্যবহারহেতুপ্রকাশত্ব” মাত্র সাধ্য করিলে সিদ্ধসাধন দোষ হইবে । কারণ, যাঁহারা জ্ঞানকে স্বপ্রকাশ বলিয়া স্বীকার করেন না, সেই নৈয়ায়িক প্রভৃতির মতেও জ্ঞান প্রকাশরূপ এবং যৎকিঞ্চিৎ ব্যবহারের কারণ, ইহা এই অনুমানের পূৰ্বেও সিদ্ধ থাকে। অতএব তাহাই যদি আমি সিদ্ধ করি, তাহা হইলে নূতন কিছুই সিদ্ধ হইল না, আর তজ্জন্য নৈয়ায়িকের অভিমত পর প্রকাশ্যত্ব নিরাস- পূৰ্ব্বক জ্ঞানের স্বাভিমত স্বপ্ৰকাশত্ব সিদ্ধ হয় না। অতএব, সাধ্যঘটক ব্যবহারে অনুভূতি এই বিশেষণটা প্রদত্ত হইল। যদ্যপি, জ্ঞান প্রকাশরূপ এবং ব্যবহারের কারণ-ইহা নৈয়ায়িকের মতে অঙ্গীকৃত আছে, তথাপি নিজেই নিজের ব্যবহারের কারণীভুত প্রকাশরূপ, ইহা তাহার মতে অঙ্গীকৃত নহে। কারণ, যেরূপ ঘট- প্রথম পরিচ্ছে। ব্যবহারে ঘট হইতে পৃথক্ জ্ঞানরূপ প্রকাশ কারণ হয়, সেইরূপ জ্ঞানের ব্যবহারে স্বভিন্ন অন্য প্রকাশটী কারণ—ইহাই তাহাদের অভিমত। কিন্তু, ইহা বেদান্তিগণের অভিমত নহে। নৈয়ায়িকের মতে বটের ব্যবহারে যেরূপ ঘটভিন্ন প্রকাশ কারণ হয়, সেইরূপ জ্ঞানবিষয়ক ব্যবহারে জ্ঞান হইতে ভিন্ন অন্য জ্ঞান কারণ হয় বুলিয়া অনু- ভূতির ব্যবহারে কারণীভূত প্রকাশরূপত্বকে অনুভূতিতে সিদ্ধ করিলেই নিজেই যে নিজের ব্যবহারের কারণ, ইহা সিদ্ধ হইয়া যায়। আর তারা নিজের ব্যবহারে অন্য কারণ, এই মতের নিরাস হইয়া যায়; অতএব সিদ্ধসাধন হয় না। অর্থাৎ, তাহা হইলে সাধ্যমধ্যে অনুভূতিপদের প্রয়ােজন আছে। এখন ন্যায়রত্নদীপাবলীকারের উক্ত অনুমানে যদি এরূপ শঙ্কা করা যায় যে, এই সাধ্যটী প্রসিদ্ধ নহে, আর সাধ্য প্রসিদ্ধ না হইলে সাধ্যা প্রসিদ্ধি নামক হেত্বাভাস দোষ হয়। সাধ্যটী যে প্রসিদ্ধ নহে, তাহার কারণ এই যে, জ্ঞানের স্বপ্রকাশ- বাদিগণ ভিন্ন, অন্য কেহও অনুভূতিবিষয়ক ব্যবহারের কারণীভুত প্রকাশরূপ কোন পদার্থই স্বীকার করেন না। সুতরাং, ইহা সৰ্ববাদিসম্মত নহে, আর তজ্জন্য ইহা অপ্রসিদ্ধই হইতেছে। এতদুত্তরে ন্যায়রত্নদীপাবলীকার বলেন যে, এই সাধ্য অপ্রসিদ্ধ নহে; কারণ, অনুভূতির ব্যবহার সকল মতেই অঙ্গীকৃত হয় এবং অনুভূতিবিষয়ক ব্যবহারের কারণীভুত প্রকাশও স্বীকৃত হয়। যেহেতু, ব্যবসায়াত্মক যে প্রথম জ্ঞান, তাহার ব্যবহারে কারণীভূত প্রকাশ যে অনুব্যবসায়াত্মক জ্ঞান, আহা নৈয়ায়িকও স্বীকার করিয়া থাকেন । অতএব অনুভূতিব্যবহারহেতুপ্রকাশ পদার্থটী যে অপ্রসিদ্ধ তাহা বলা যায় না। ইহাতে যদি আবার আপত্তি করা হয় যে, সাধ্য এইরূপে প্রসিদ্ধ আছে প্রদর্শিত হইলে ত আবার সিদ্ধসাধন দোষ হইবে। আরও দেখা যায়, বাদী ও প্রতিবাদী উভয়ই যদি এইরূপ সাধ্য প্রসিদ্ধি স্বীকার করেন, তাহা হইলে উভয়মতের পার্থক্যই বা কি রহিল ? ইহার উত্তরে বলা হয় যে, এ দোষ সঙ্গত নহে। কারণ, সাধ্যটী উভয়মতেই সামান্তরূপে প্রসিদ্ধ আছে—ইহা সত্য, কিন্তু কাহার মতে কিরূপে প্রসিদ্ধ, তাহা দেখিতে হইবে। নৈয়ায়িকমতে ব্যবসায়জ্ঞানের কারণীভূত প্রকাশকে অনুব্যবসায় বলা হয়, পরন্তু, স্বপ্রকাশবাণীর মতে ব্যবসায়াত্মকজ্ঞানকেই নিজেই নিজের ব্যবহারে প্রত্যক্তত্ব-প্রদীপিকা। কারণীভূত প্রকাশরূপ বলা হয়, অনুব্যবসায়াত্মক জ্ঞান ব্যবসায়াত্মক জ্ঞানের প্রকাশক নহে। অনুব্যবসায়ের ব্যবহারে করণীভূত যে প্রকাশ, তাহা সেই অনুব্যবসায়ই হইয়া থাকে, তাহার জন্য স্বপ্ৰকাশত্ববাদিমতে অন্য অনুব্যবসায়ের আবশ্যকতা হয় না। ইহাই উভয় মতের ভেদ। আর তাহা হইলে সাধ্যপ্রসিদ্ধ হইলেও সিদ্ধসাধন দোষটী হইবে না। কারণ, অনুভূতিব্যবহারের কারণীভূত প্রকাশ এইটুকু মাত্র সিদ্ধ হইলেও অনুভূতিব্যবহারহেতুপ্রকাশ যে জ্ঞানটী হয়, তদভিন্নত্ব সেই অনুভূতিতে আছে কি না তাহা সিদ্ধ হয় না। অর্থাৎ, অনুমিতির পক্ষরূপে যে অনুভূতিকে গ্রহণ করা হয়, তাহার ব্যবহারের কারণীভূত যে প্রকাশ, সেই প্রকাশের সহিত অভিন্ন সেই পক্ষস্থানীয় অনুভূতিটা হয় কি না—ইহা এখনও সিদ্ধ হয় নাই। কেবল সাধ্য মাত্র সিদ্ধ আছে, কিন্তু অনুভূতিটা অনুভূতিব্যবহারহেতু ওকাশাভিন্ন রূপে সিদ্ধ নাই। এইরূপে পূৰ্ব্বে সাধ্য প্রসিদ্ধ না থাকিলে কোন দোষ নাই। প্রত্যুত এইরূপ অপ্রসিদ্ধি থাকাই চাই। এইরূপ অপ্রসিদ্ধি না থাকিলে সিদ্ধসাধন দোষ বশতঃ অনুমিতিই হইবে না। বিশকলিত ভাবে অর্থাৎ পৃথক পৃথক ভাবে সাধ্যসিদ্ধি থাকিলে যদি সিদ্ধসাধন হয়, তাহা হইলেই অনুমান মাত্রেরই উচ্ছেদ হইয়া যাইবে! যেমন “পৰ্বতে বহ্নিমান্ ধুমাৎ” ইত্যাদি প্রসিদ্ধ অনুমিতিস্থলে বহ্নির প্রসিদ্ধি মহানসাদিতে পূৰ্বে থাকেই, অতএব এস্থলেও সিদ্ধসাধন হইয়া যাইবে। যদি বল, কেবল বহ্নির প্রসিদ্ধি থাকিলেও বহ্নিবিশিষ্ট পৰ্বতের প্রসিদ্ধি নাই, বিশকলিত ভাবে অর্থাৎ পৃথক পৃথক ভাবে উভয়েরই প্রসিদ্ধি আছে বটে, কিন্তু তাহাতে যেরূপ সিদ্ধসাধন অথবা সাধ্যা প্রসিদ্ধিও হয় না, এস্থলেও তদ্রুপ বুঝিতে হইবে। এখন যদি ইহার উপর এরূপ শঙ্কা করা যায় যে,পক্ষান্তৰ্গত অনুব্যবসায়রূপ জ্ঞানে এই অনুমিতির পূর্বেই ব্যবসায়াত্মক অনুভূতিবিষয়ক ব্যবহারকারীভূত প্রকাশত্বরূপ সিদ্ধিই আছে, সুতরাং পুনরায় সিদ্ধাধন দোষ হইল। তাহা হইলে তাহার উত্তর এই যে, অনুব্যবসায় নামে মে, একটী জ্ঞান আছে, তাহাই আমার মতে অর্থাৎ ন্যায়রত্নদীপাবলীকারের মতে স্বীকাৰ্য্য নহে। কারণ, যে ব্যক্তি জ্ঞানকে স্বপ্ৰকাশ বলে,তাহার মতে জ্ঞান যদি জ্ঞানান্তরের বিষয় হয়, তাহা হইলে বাতােব্যাঘাত দোষ হইয়া যাইবে। কারণ, স্বপ্রকাশ শব্দের অর্থই হইতেছে যে, নিজেই নিজের ব্যবহারমাত্রে কারণ, কিন্তু স্বয়ং অন্য জ্ঞানের বিষয় হয় না।

প্রথম পরিচ্ছে। বয়ংপ্রকাশসাধকানুনগুন। মৈ। অনুভূতিব্যবহারস্য হেতুভূতঃ প্রকাশাে যত্র সিদ্ধঃ তত্র হেতােৰ্বত্তৌ কেবলব্যতিরেকিত্ব-ব্যাকোপাৎ। অবৃত্তো সপক্ষাপ্রবেশিনঃ অসাধারণনৈকান্তিকাপাতাৎ। বৃত্তাবপি ভাগে সিদ্ধসাধনতায়াঃ দুম্পরিহরত্বাৎ। ১০ ( তাৎপৰ্য) বৌদ্ধগণ অবশ্য জ্ঞানকে নিজেই নিজের প্রকাশক বলেন, বেদান্তী বলেন না, তাঁহারা জ্ঞানকে নিজের ব্যবহারমাত্রের প্রতি কারণমাত্র বলেন, এবং অন্য জ্ঞানের অবিষয় অর্থাৎ অপ্রকাশ্য বলেন। অতএব, এভাশ স্বপ্ৰকাশবাদী যদি অনুব্যবসায় জ্ঞান স্বীকার করে, তাহা হইলে অর্থ হইল যে, তাঁহারা জ্ঞান- বিষয়ক জ্ঞান মানেন ; আর ইহা তখন বদতােব্যাঘাত দোষ ভিন্ন আর কিছুই হয় না। অতএব, স্বপ্ৰকাশত্ববাদী অনুব্যবসায় বলিয়া কোন জ্ঞানই স্বীকার করিতে পারেন না। আর তাহা হইলে সিদ্ধসাধন কোথা হইতে হইবে ? যদি বল, অনুব্যবসায় না মানিলে লােকমধ্যে আমি জ্ঞানবান্ ইত্যাদি যে ব্যবহার দৃষ্ট হয়, তাহা কি করিয়া সঙ্গত হয় ? তদুত্তরে বেদান্তী বলেন যে, এই অনুভবটী বৃত্তিজ্ঞানের অনুভবমাত্র। বৃত্তিজ্ঞানের স্বপ্ৰকাশতা নাই, অর্থাৎ “আমি ঘট-জ্ঞান- বান” এইরূপ অনুভবের গোঁচর যে “ঘটজ্ঞান” তাহা স্বপ্রকাশ, অর্থাৎ মুখ্যজ্ঞান নহে, কিন্তু, তাহা ঘটাকার অন্তঃকরণের একটী বৃত্তিরূপ পরিণাম-বিশেষ। অন্তঃকরণ যেহেতু জড়, তাহার পরিণামও সেইহেতু জড় । অতএব সর্বদা তাহা অন্য দ্বারা প্রকাশ্যই হয়। এই জন্য যে জ্ঞানকে চৈতন্য বলা হয়, তাহাই প্রকাশ মাত্র হয়। সে কাহারও বিষয় হয় না। চৈতন্য যদি জ্ঞানের বিষয় হয়, তাহা হইলে তাহার যে প্রকাশক, তাহার আবার অন্য প্রকাশকের অপেক্ষা হয়, এইরূপ অবস্থা দোষ আসে। অতএব চৈতন্যকেই স্বপ্রকাশ বলিয়া তাহাকে জ্ঞানের অবিষয় বলাই ভাল। ৯ ইহাই হইল ন্যায়রত্নদীপাবলীকারের স্বপক্ষস্থাপন ও পরমতন। এইবার পূৰ্বপক্ষী ইহা খণ্ডন করিবার অভিপ্রায়ে যাহা বলিতেছেন" তাহা এই ;- অনুবাদ—না, তাহা হইতে পারে না। জ্ঞানবিষয়ক ব্যবহারের কারণীভূত প্রকাশরূপ সাধ্য যেস্থলে প্রসিদ্ধ আছে, সেইস্থলে হেতু থাকিলে সেই হেতুর কেবল ব্যতিরেকিত্ব ভঙ্গ হইয়া যাইবে। আর হেতু সেইস্থলে না থাকিলে সপক্ষেও থাকে না ৫০ প্রত্যক্ত-প্রদীপিকা। বলিয়া অসাধারণ নামক অনৈকান্তিকরূপ হেত্বাভাস দোষ হইবে। আর হেতু সপক্ষে থাকিলেও পক্ষের একদেশে সাধ্যটী এই অনুমানের পূর্বে সিদ্ধ থাকে বলিয়া সিদ্ধসাধনরূপ দোষটী অনিবাৰ্য্য হইবে। ১০ তাৎপৰ্য—এইবার পূর্বপক্ষী “মেব” ইত্যাদি গ্ৰন্থর ন্যায়রত্নদীপাবলী- কার প্রদর্শিত জ্ঞানের স্বয়ংপ্রকাশত্বসাধক অনুমানের দোষ প্রদর্শন করিতে আরম্ভ করিলেন। এতদভিপ্রায়ে তিনি প্রথমে বলিতেছেন যে, পূর্বোক্ত অনুমানে সাধ্য যে অনুভূতিব্যবহারহেতুপ্রকাশ তাহার জ্ঞান পূৰ্বে আছে কিংবা নাই, বল দেখি? যদি বল, আছে, তাহা হইলে, যে স্থলে সেই সাধ্যের জ্ঞান আছে, সেই স্থলে হেতু যে অনুভূতিত্ব, তাহা থাকে কি না? যদি বল, সে স্থলে হেতু থাকে, তাহা হইলে, উক্ত অনুমিতিহেতু উক্ত কেবল ব্যতিরেকিত্ব ভঙ্গ হইয়া যাইবে। কারণ, যে স্থলে হেতু এবং সাধ্যের অন্বয়-ব্যাপ্তি জ্ঞানটী কোন দৃষ্টান্তে থাকে না, কিন্তু কেবল ব্যতিরেক-ব্যাপ্তিরই জ্ঞান হইয়া থাকে, সেই হেতুকে কেবলব্যতিরেকি হেতু বলে। প্রকৃতস্থলে অনুভূতিব্যবহারহেতুপ্রকাশস্বরূপ সাধ্যের যে স্থলে জ্ঞান হইয়াছে, সেই স্থলে অনুভূতিত্বৰূপ হেতু বিদ্যমান থাকে। অতএব অন্বয় ব্যাপ্তি থাকিল, আর তজ্জন্য উহার কেবলব্যতিরেকিত্ব সিদ্ধ হইল না। আর যদি বল যে, অনুমানের পূর্বে উক্ত সাধ্যের জ্ঞান আছে বটে, কিন্তু কোন্ দৃষ্টান্তস্থলে তাহার জ্ঞান আছে, তাই আমি বলিতে পারি না, অর্থাৎ অধিকরণকে অপেক্ষা না করিয়া সাধ্যের জ্ঞান আমার সামান্যভাবে আছে মাত্র ; যদি কোন অধিকরণ-বিশেষে উক্ত সাধ্যের জ্ঞান থাকিত, তাহা হইলে, তাহাতে হেতু বিদ্যমান থাকিলে কেবলব্যতিরেকিত্ব ভঙ্গ হইয়া যাইত ; কিন্তু যেহেতু তাহা এস্থলে নাই, সেই জন্য উক্ত অনুমানের কেবল-ব্যতিরেকিত্ব ভঙ্গ হইতে পারে না। তাহা হইলে বলিব যে, তাহা হইতে পারে না। কারণ, তুমি যে বলিতেছ যে, অধিকরণের জ্ঞান অপেক্ষা না করিয়া কেবল মাত্র সাধ্যের জ্ঞান আছে, ইহা সম্ভব নহে। কারণ, সাধ্যের জ্ঞান আছে, অথচ কোন স্থলে তাহা আছে, ইহা তােমার (বেদান্তীর) জানা নাই-ইহা সম্ভবপর হয় না। আরও, এই সাধ্যের জ্ঞান কাহার আছে, তাহা বল দেখি? যদি বল, তােমার (বেদান্তীর) ইহা আছে, তাহা হইলে, সে জ্ঞানটী সামান্তরূপে জ্ঞানপদবাব্য হইতে পারে না। কারণ, তােমার মতে জ্ঞানটী স্বপ্রকাশ বলিয়া তাহাতেই স্বব্যবহারের কারণীভূত প্রকাশত্ব • প্রথম পরিচ্ছে। রূপ সাধ্যের জ্ঞান আছে বলিয়া অধিকরণ-বিশিষ্টরূপে সাধ্য নির্ণীত হইয়াছে। অন্যথা, পরের জন্য সাধন করিতে কেহ প্রবৃত্ত হইতে পারে না। এই জন্যই এইরূপ প্রবাদ শুনা যায় যে, বাদী এবং প্রতিবাদী স্ব স্ব পক্ষের নিশ্চয়জ্ঞানপূৰ্ব্বকই বাদে প্রবৃত্ত হয়। এখন তাহা হইলে তােমার কেবল সাধ্যের জ্ঞানই আছে, ইহা বলা যায় না। যদি বল, তাহা আছে, তাহা হইলে বলিব, তাহা বিশেষরূপই আছে; অর্থাৎ অধিকরণ-বিশিষ্টরূপেই আছে ; নচেৎ বল—নাই। আছে ও নাই- আছে ও নাই—উভয়ই হইতে পারে না। যদি বল, আমার বিশিষ্ট জ্ঞান থাকিলেও বাদী নৈয়ায়িকমতে অধিকরণবিনিম্মুক্ত সাধ্যের জ্ঞান আছে, তাহা হইলে, তাহাও হইতে পারে না। কারণ, বাদী নৈয়ায়িকমতেও অনুভূতিব্যবহার-হেতুপ্রকাশত্বরূপ সাধ্যের জ্ঞান অনুব্যবসায়রূপ অধিকরণবিশেষে আছে বলিতে হইবে। সুতরাং, বাদী নৈয়ায়িকের অধিকরণ- বিশেষে সাধ্যের জ্ঞানই থাকিল, এবং প্রতিবাদী বেদান্তীরও তাহা থাকিল; আর তজ্জন্য কেবল সাধ্যজ্ঞানমত্র আছে, তােমার এ কথার কোন অর্থ হয় না। সুতরাং, বলিতে হইবে যে, সাধ্যের দৃষ্টান্ত বিশেষে জ্ঞান থাকায় এবং সেই স্থলে হেতুও থাকায় তােমার হেতুর পূর্বোক্ত কেবলব্যতিরেকিত্ব ভঙ্গ হইয়া গেল। এস্থলে লক্ষ্য করিতে হইবে যে, এই অনুমিতিতে কেবলব্যতিরেকিত্ব ভঙ্গ হইলে অনুমিতিই সিদ্ধ হবে না। অর্থাৎ, স্বপ্ৰকাশসাধক অনুমানই কিছু করিতে পারা যায় না। কারণ, স্বপ্রকাশ বেদান্তমতে জ্ঞান ভিন্ন অন্য কোন কিছুই হয় না। এই জ্ঞানের স্বপ্ৰকাশত্ব অনুমান করিতে যাইলে সমুদায় জ্ঞানই পক্ষ হইয়া দাঁড়াইল ; সুতরাং, নিশ্চিতসাধ্যবান্ কেহই থাকিল না। যত কিছু জ্ঞান আছে, সকলই পক্ষের অন্তর্ভুক্ত। অতএব এতাদৃশস্থলে কেবলব্যতিরেকী অনুমান ভিন্ন আর গত্যন্তর নাই। এই জন্যই ন্যায়রত্নদীপাবলীকার পূর্বে কেবল ব্যতিরেকী অনুমানের সাহায্যে জ্ঞানের স্বপ্ৰকাশত্ব অনুমান করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন। এখন নৈয়ায়িক যদি ঐ অনুমানের কেবল-ব্যতিরেকিত্ব খণ্ডন করিয়া দেন, তাহা হইলে বৈদান্তিকের জ্ঞানের স্বয়ংপ্রকাশসাধক অনুমান প্রমাণ আর থাকিল না। এজন্য নৈয়ায়িক,এস্থলে কেবল-ব্যতিরেকিত্ব ভঙ্গ করিবার জন্য প্রয়াস পাইয়াছেন। এখন যদি বল, এই কেবল-ব্যতিরেকিত্ব ভঙ্গ হইয়া যাইবে বলিয়া যে স্থলে । তদ্রুপ প্রত্যক্ত-প্রদীপিকা। সাধ্যের জ্ঞান আছে, সেই স্থলে হেতু নাই, সুতরাং, কেবল-ব্যতিরেকিত্ব ভঙ্গ হইবে না, ইত্যাদি, তাহা হইলে তােমার উক্ত স্বয়ংপ্রকাশসাধক অনুমানের হেতুতে অসাধরণ-অনৈকান্তিক দোষটী ঘটিবে। এই দোষের অর্থ—যে হেতু, সপক্ষ অর্থাৎ (সাধ্য-নিশ্চয় যেখানে আছে) এবং বিপক্ষ (অর্থাৎ সাধ্যাভাবের নিশ্চয় যেখানে আছে) এই উভয়স্থলেই না থাকিয়া কেবল পক্ষেই থাকে,তাহার নাম অসাধারণ অনৈকান্তিক দোষ। যেমন, “শব্দটী নিত্য, যেহেতু তাহাতে শব্দত্ব আছে—এইরূপ অনুমানে শব্দত্বহেতুটী সপক্ষ আকাশাদি এবং বিপক্ষ ঘটাদি উভয়েতে না থাকিয়া পক্ষ-শব্দ- মাত্রেই থাকে বলিয়া অসাধারণ-অনৈকান্তিক দোষ-দুষ্ট বলিয়া কথিত হয়। এস্থলেও দোষ হইবে। কারণ, অনুভূতি-ব্যবহারহেতুপ্রকাশরূপ সাধ্যের জ্ঞান যে স্থলে অনুব্যবসায় জ্ঞানে হইয়াছে, সেই সপক্ষ অনুব্যবসায়াদিতে অনুভূতিত্ব হেতুটী নাই, এবং এই সাধ্যের অভাব-নিশ্চয় যেখানে হইয়াছে, সেই বিপক্ষ ঘটাদিতেও উক্ত হেতু অনুভূতিত্ব নাই, কেবল পক্ষ যে অনুভূতি, তাহাতেই আছে। সুতরাং, এ ক্ষেত্রে কেবলব্যতিরেকিত্ব ভঙ্গ রূপ দোষ না হইলেও অসাধারণ-অনৈকান্তিক দোষটী হইল। নৈয়ায়িক বলিতেছেন যে, যদি বেদান্তী বলেন যে, কেবলব্যতিরেকী অনুমানে অনুমিতির পূর্বে সাধ্যপ্রসিদ্ধি না থাকিলেও কোন ক্ষতি নাই, ইত্যাদি, অহাও কিন্তু, ঠিক নহে। কারণ, তাহা হইলে পৃথিবী শশবিষাণদ্বারা অঙ্কিত, যেহেতু পৃথিবীত্ব হাতে বিদ্যমান রহিয়াছে” এইরূপ কেবলব্যতিরেকী অনুমানদ্বারা শশ- বিষাণাদিরও সিদ্ধ হইয়া যাইবে। সুতরাং, কেবলব্যতিরেকী অনুমানেও সাধ্য- প্রসিদ্ধি আবশ্যক। যদি বল, পুর্বোক্ত পৃথিবী-পক্ষক অনুমানের প্রমাণান্তরবাধ্যত্বপ্রযুক্ত দোষ আছে, সাধ্যের প্রসিদ্ধি নাই বলিয়া যে, সে অনুমানটী দুষ্ট তাহা নহে; তাহা হইলে বলিব, তাহাও বলা যায় না। কারণ, এরূপ কোন প্রমাণান্তর এ ক্ষেত্রে নাই, যাহার দ্বারা উক্ত সাধ্য শশবিষাণাদির অভাবসিদ্ধি হইবে। যদি শশবিষাণাদিকে প্রমাণান্তরের যােগ্য বল, তাহা হইলে, তাহার অভাবই হইতে পারে না; যেহেতু, তাহার প্রমাণ রহিয়াছে। আর যদি প্রমাণান্তরের যােগ্য নহে বল, তাহা হইলেও তাহার অভাবসিদ্ধ হইতে পারে না। কারণ, যাহার প্রমাণান্তরযােগ্যতা নাই তাহার অভাব কি, করিয়া সিদ্ধ হইতে পারে ? যাহার অভাব সিদ্ধ করা হইবে, তার সত্তা থাকা আবশ্যক। অলীক-প্রতিযােগিক অভাব নাই।

পরমহংসপরিব্রাজকাচাৰ্য্য
শ্রীমৎ প্রত্যস্বরূপ ভগবৎকৃত-
প্রত্যকৃত প্রদীপিকা-ব্যাখ্যা
মানসনয়ন-প্রসাদিনী।
প্রথম পরিচ্ছেদঃ।
যন্নিত্যং নিরবগ্রহস্বমহিমাহমেয়স্বভাবং মহা-
মায়াবেশবশাদ্ভবতবিয়দায়গ্নবুর্বীমুখৈঃ ।
ভাবৈস্তদনন্তবিভ্রমময়ৈবিধ্বস্তভেদোদ্ভব
নিধূতাবধিবােধমােদজলধিং বন্দে মহীয়াে মহঃ ॥ ১।
উদ্ৰিশুভ্রসরসীরুহসংনিষগ্নাং নির্গচ্ছদচ্ছরুচিনির্জিতচকান্তিম্।
হায়ােজ্জলাং লিপিতনুং স্কটিকাকুম্ভমুদ্রাক্ষপুস্তককরাং প্রণমামি বাণীম্ ॥ ২॥
অবিরলবিগলিতমদজলবিলুলিতমত্তালিমালমনুলম্বঃ।
সুবিপুলকপােলফলকো দলয়তু লােেদরাে দুরিতম্ ॥ ৩॥
যদ্বিদ্যাধবলৈভিৰ্ত্তি বিবুধৈঃ সৰ্বা দিবাপীন্দুমু-
ন্মীলকৈরবকোরকাকুলকুচিং বিশ্বভরেয়ং ভূতা।
ঘােরাজ্ঞানদুরন্তপঙ্কনিকরপ্রােৎসারিবিদ্যানদী-
মূলং নৌমি মুনীমন্বহমহং বিদ্যাগিরিং তং গুরু। ৪।
যৎপাদপাবনসরােজরজঃ পরাগৈরেতে বিনেয়নিবহা বিরজমাপু।
সত্যপ্ৰকাশপরিশুদ্ধনিজানুভাবং প্রত্যক্‌প্রকাশমভিনৌমি গুরুং যতীন্দ্রম্ ॥৫॥
উদ্যদ্বিদ্যাসুরসরিদিয়ং নিঃসৃতা যৎসাশাৎ
যৎপাদাজং সকলবিবুধােত্তংসলীলাং বিভত্তি।
হংসানাং যদ্বিমলবহুবাগজীবনং জীবনং তং
বন্দে বিদ্যাগুরুমবিরতং মানসং তীর্থমাম, ॥ ৬।
অবিনশ্বররুচিতত্ত্বপ্রদীপিকালােকনার্থিনা ক্ৰিয়তে।
অজ্ঞানতিমিরজত্রী মানসনয়নপ্রসাদিনী টীকা ॥৭॥

মানসনয়ন-প্রসাদিনী। দোষত্বমুজ্জলগুণা অপি যান্তি যে তৈরুন্নতেঃ কিমথবেহ তিরস্কৃতেঃ কিম্ । দোষােহপি যে গুণতামুপতি ভূয়াংস্তেভ্যো নমােস্তু সততং ভুবি সজ্জনেভ্যঃ ॥৮৷৷ (১ পৃষ্ঠা ) প্রারিতিস্য প্রকরণস্য নিরন্তরায়পরিসমাপ্তিপরিপন্থিদুরিতপরম্পরানিবারণায় শিশয্যাপশিষ্যদ্বারা প্রচয় প্রচারায় শিষ্টানুষ্ঠান প্রতিষ্ঠাপনেন শিষ্টপরিগ্রহায় চ প্রবর- গুণগণােপবর্ণনপূর্বকং পরমেশ্বরং পরিপূজয় আশীলক্ষণমঙ্গলমবিগীতশিষ্টাচারানু- মিতস্মৃতিপরিকল্পিতশ্রুতি প্রমাণকর্মচরিতং শিষ্যশিক্ষার্থং গ্রন্থতে। নিবন্ধতি- স্তম্ভাভ্যন্তরেতি। স হরিরজ্ঞানতৎকাৰ্য্যহা বঃ মুস্মন্ অব্যা রক্ষতাৎ। তস্যৈব হরেবিশেষণানি স্তম্ভাভ্যন্তরেত্যাদীনি। স্তম্ভস্যাভ্যন্তরং স্তম্ভাভ্যন্তরং তত্র গর্ভভাবঃ স্তম্ভাভ্যন্তরগর্ভ- ভাবঃ। গৰ্ভত্বং চেদমনভিব্যক্ততয়া বৃত্তিত্বং, নতু গৃহান্তরাবস্থিতদেবদৰ্তবৎ- প্রকটতয়া। সৰ্বান্তরবােহনেন বিবক্ষ্যতে। মুকুলপুটকুটীকোটরক্রোড়লীনা- মিতিবৎ। তেন ন পৌনরুক্তম, । তেন নিগদব্যাখ্যাতং নিগদমাত্রেণ ব্যাখ্যাত। উপায়ান্তরনিরপেক্ষতয়া স্পষ্টীকৃতমিতি যাবৎ। তদ্বৈভবং তস্য স্বরূপস্য তত্তাদৃগনু- পমমিতি বা বৈভবং বিভুত্বং যেন, যঙ্গেতি বা। অসৌ স্তম্ভাভ্যন্তরগর্ভভাবনিগদ- ব্যাখ্যাততদ্বৈভব। তদনেন সৰ্ব্বগতত্বমুক্তং ভবতি। সৰ্বগতমপি নৈয়ায়িকাদেরিব বস্তুতঃ পরিচ্ছিন্নং স্যাদিতি তন্নিবৃত্তয়ে সর্বাত্মতামাহ -যঃ পাঞ্চাননপঞ্চিজন্য- বপুষা ব্যাদিষ্টবিশ্বাত্মত ইতি। পঞ্চাননসংবন্ধি পাঞ্চাননং পঞ্চাননঃ সিংহঃ পঞ্চমু দিক্ষাননমস্ত বিপরিবর্তত ইতি ব্যুৎপত্তা বিস্তৃতাস্যাদ্বা ‘পচি বিস্তার’ ইত্যস্মাৎ পঞ্চশব্দব্যুৎপত্তিঃ, ‘সিংহে মৃগেন্দ্রঃ পঞ্চাস্য’ ইত্যমরসিংহােক্তেশ্চ। পঞ্চজন। মনুষ্যাঃ ‘সু পুমাংসঃ পঞ্চজনা’ ইতি তেনৈব উক্তত্বাৎ “দিংখ্যে সংজ্ঞায়া” ইতি সমাসাভিধানাচ্চ। তৎসংবন্ধি পাঞ্চজন্য। পাঞ্চাননং চ তৎ পাঞ্চজন্যং চেতি পাঞ্চাননপাঞ্চজং তাদৃশং বপুর পাঞ্চাননপাঞ্চজন্যবপুঃ নরসিংহাত্মকমিত্যর্থ। তেন বপুষা ব্যাদিষ্টা বিশেষেণােক্তা বিশ্বাত্মতা বিশ্বস্বরূপতা যেন, যশ্যেতি বা স তথােক্তঃ। ন চ সর্বাত্মকত্বকথনেনৈব সর্বগতত্বসিদ্ধেবৃথা পৃথকথনমিতি বাচ্যং, অতৎপরত্বাৎ যদেতদ্বাদিত্যাদিপ্রসিদ্ধ সর্বগততুং, সৰ্বাত্মকত্বং তন্ননং ময়া প্রকটিতমিত্যুৎপ্রেক্ষায় বিবক্ষিতত্বাৎ। তদেবং প্রথম পরিচ্ছেদঃ । সৰ্বগতত্বং সর্বাত্মকত্বং চ উক্ত। পরমকারুণিকস্য ভানুগ্রহীতৃতাম্ আহ- প্রহলাদেতি। প্রহ্লাদেনাভিহিতােহৰ্থঃ প্রহলাদাভিহিতার্থস্তম্মিংস্তৎক্ষণং সমসময়মেব মিলদঘট- মানং দৃষ্টং প্রত্যক্ষ প্রত্যক্ষবৎসাক্ষাৎকারসাধকত্বাৎ প্রমাণং যঃ স তথােক্তঃ। প্রমাণশস্য নিত্যনপুংসকত্বাৎ প্রতিপিপাদয়িষিততয়া তৎপুরুষসমাসতয়া স্বপ্রধান- ত্বাচ্চ সংগচ্ছত এব প্রমাণং হরিরিতি সামানাধিকরণ্য। সৰ্বাত্মকস্য পরমেশ্বরস্য স্তম্ভাদিসর্ববস্তুগতত্বং হি প্রহলাদেন প্রত্যজ্ঞায়ি। তত্র চাগমােহনুমানং বা যত্তেন বক্তব্য প্রমাণং তৎপরােক্ষমেবাহং তু সাক্ষাৎকারয়িষ্যামীত্যভিমানেন স্তম্ভো- দরানিরগাদিত্যর্থ। শরদিন্দুসুন্দরতনুঃ শরদিন্দুবৎ সুন্দর। ধবল তনুর্যস্য স তথােক্তঃ সিংহাদ্রেশ্চড়ামণিঃ সিংহাদ্রিচূড়ামণিঃ, সিংহগিলঙ্কার সিংহগিরিনিবাসীত্যর্থ য এবংবিধঃ স হরিরিত্যন্বয়ঃ। যদ্যপ্যত্র বৈভবস্যার্থাত্মকতয়া নিগদব্যাখ্যানং ন সম্ভবতি তস্য গ্রন্থধৰ্ম্মাৎ তথাপি সমাধিপ্রদর্শনার্থময়মন্যধমোহন্যত্র নিবেদিত। সমাধিনাম কাব্যবিশেষস্য প্রাণবিশেষঃ। কাব্যবিশেষস্য হি দশপ্রাণাঃ কবিভিঃ পরিগণিতা। যথাঃ- ‘শ্লেষঃ প্রসাদঃ সমতা মাধুৰ্যং সুকুমারতা। অর্থব্যক্তিরুদারত্বমােজঃ কান্তিসমাধয়। ইতি বৈদর্ভমার্গস্য প্রাণা দশ গুণাঃ স্মৃ’ ইতি। তথা—অধমতােহন্যত্র লােকসীমানুরােধিনা। সম্যগাধীয়তে যত্র স সমাধিঃ স্মৃতে যথা ॥ ‘কুমুদানি নিমীলন্তি কমলান্মিষন্তি চ’ ইত্যত্র হি নেত্রক্রিয়ারূপয়ােন মীল- নােন্মীলনয়াের কুমুদকমলয়ােরনেত্ৰয়ােঃ অধ্যারােপণং সমাধিস্তথেহাপি গ্রন্থধর্মস্যার্থে নিবেদনাৎ সমাধ্যলঙ্কারাে দর্শিতো ভবতি। পাঞ্চালীবৈদভীরত্যাশ্চ অঞ্জসৈব বৈষম্যাৎ। অস্য চ বেদান্তশাস্ত্র প্রকরণত্বাৎ তদ্বিষয়াদিভিস্তদ্বত্বমস্তীতি দর্শয়িতু লেশতস্তদপি সূচিতম। তথাহি, হরিরিত্যনেজ্ঞানতৎকাৰ্য্যহারিত্বদর্শনান্নিধূতে- পাধিব্যাধিপরিশুদ্ধং প্রত্যগ রূপং ব্রহ্ম প্রয়ােজনং সূচিতম,। ব্যাদিষ্টবিশ্বাত্মত ইত্য- নেনারােপিতমায়তয়াইজ্ঞাতং প্রত্যগ, ভূতং চ ব্ৰহ্ম বিষয়গা দর্শিতঃ। প্রহলাদশব্দেন তাদৃগধিকাৰ্যথশব্দসূচিতােহপি সূচিতঃ। অর্থাচ্চ শাস্ত্রফলয়ােহেতুহেতুমদ্ভাবরূপঃ শাস্তুতত্ত্বজ্ঞানয়ােস্তত্ত্বজ্ঞানফলয়ােশ্চ কাৰ্য্যকারণভাবরূপৌ তৎফলজ্ঞানতত্ত্বয়ােঞ্চ ৪ মানানয়ন প্রসাদিনী। বিষয়বিষয়িভাবরূপঃ শাস্ত্ৰতত্ত্বয়ােস্ট প্রতিপাদ্যপ্ৰতিপাদকবরূপ ইতি পঞ্চবিধঃ সংবন্ধো দর্শিত ইত্যনেনৈব প্রকরণারম্ভোহপি সমর্থিতঃ ॥১॥ (৩ পৃষ্ঠা) তদেবমাশীৰ্বাদেন পরদেবতা পূজিতা। গুরুপূজয়াপি ভবিতব্যং ‘যস্য দেবে পরা ভক্তিযথা দেবে তথা গুরো। তস্যৈতে কথিত হ্যথাঃ প্রকাশন্তে মহাত্মন। ইতি দেবতাভক্তিবদ গুরুভক্তেরপি বিদ্যাবগতাবন্তরঙ্গতাবগমাৎ তদর্থং নমস্কয়ােতি—জ্যোতির্যদিত্যাদি। সত্যানন্দেতি সত্যানন্দপদাভ্যাং প্রকা- শিতং, অথবা সত্যানন্দাত্মকং যৎপদং পদ্যতে ইতি পদং তেনােদিতং স্ফুরিতম। ইখংভাবে তৃতীয়। অনেন চ গুরুদেবতয়ােরৈক্যমুক্তম। বেদান্তববদ্যবস্তুস্বরূপ- প্রতিপাদকবেদান্তাপেক্ষিতন্যায়সূত্রণায় ব্যাসপদবীমবাপ। পুনস্তদর্থীবিষ্করণায় শঙ্করাচাৰ্য্যতাং তদ্ভাষ্যার্থবিবরণায় চ জ্ঞানােত্তমতামুপাগমদিতি ভাবঃ ॥২॥ যদ্যপি শারীরবিষয়াদি অস্যাপি পরমবিষয়াদিমত্ত্বং সিদ্ধতি তথাপ্যসাধা- রণান্তপণ্যপি বক্তব্যান্যে, অন্যথা পৃথগাম্ভবৈয়থাদিত্যসাধাৰণান্যাহ বিপ্রতিপত্তিব্ৰাতেতি। বিপ্রতিপতীনাং ব্রাত: সমূহস্তদেব ধ্বান্ত তস্য ধ্বংসে প্রগল্ভা দৃঢ়তরায়ােপেতা বাচাল বহুভাষিণী ‘আলজাটচৌ বহুভাষিণী’ ইতি পাণিনিস্মরণাৎ, ‘স্যাজ্জ্বল্পাকস্তু বাচালাে বাচাটো বহুগহবাগ’ ইত্যভিধানাচ্চ। অনেনাসংপূর্ণোক্তিঃ পরিহৃতা। প্রতীচে। জীবস্য তত্ত্বং পারমার্থিকং রূপং নিরতি- শয়ানন্দনিরস্তানর্থব্রাতং ব্ৰহ্ম তস্য প্রদীপিকেব প্রদীপিকা প্রকাশকত্বৎ। এতদুক্তং ভবতি—যদ্যপি শারীরকাদিতত্তগ্রন্থ প্রত্যক্তপ্রকাশনে করণভূতবেদান্তানাং বিপ্রতিপত্তিনিরসনরূপােপকরণতিকৰ্তব্যকৃত্যমপি কৃতং, তথাপি তত্তদভিনব- বিপ্রতিপত্তিাতনিবারণে তদেব অস্যাপি প্রয়ােজনং ভবতি। বিপ্রতিপত্তি- তিরােহিতং তু বিষয়। তৎকাম্যধিকারী। তথাবিধ সংবন্ধ ইত্যস্ত্যেবাসাধারণ অস্য বিষয়াদি। অতএব চ আরম্ভণীয়মিতি। কেচিদ্বিপ্রতিপত্তীত্যাদিনা:অবান্তর- প্রয়ােজনস্য নির্দেশ প্রত্যতত্ত্ব প্রদীপিকেতি প্রধানস্যৈবেতি বদন্তি। ৩। (৪ পৃষ্ঠা-) অনন্তরবৰ্ত্তিষ্যমাণবাদাৰ্থং নরসিংহনমস্কারচ্ছলেন দর্শয়তি-প্রমাণেতি। প্রমাণং তমস্যাদিবাক্যজনিত জীবহ্মৈক্যাকার চিৎপ্রতিবিম্বধারিণী বুদ্ধিবৃত্তি প্রথম পরিচ্ছেদ। এতেন প্রতিবিম্বিতং বা চৈতন্যম্। বাক্যাপেক্ষয় চ বহুত্ব। প্রমাণময়ৈঃ নখৈবিভিন্ন মহামােহাত্ময়ােহমরারিরসুররা যেন তস্মৈ। অথ কিমিতি তৎকৰ্ম্মকানুভজনকত্ব প্রমাণামিতি তাহ—স্বপ্রকাশেতি। স্ব প্রকাশ চিৎ সৈব আত্মা যস্য। অথবা স্বপ্ৰকাশশ্চিদ্রপশ্চাসাবাত্ম। চেতি বিগ্রহঃ। স্বপ্রকাশরূপেহ- তিশয়ানধায়কত্বেহপি মােহনিবৃত্তিলক্ষণাতিশয়াধায়কতয়া বেদান্তানাং স্বপ্রকাশে ব্ৰহ্মণি প্রামাণ্যং প্রমাণকৃত্যং চোপপাদিতং ভবতি। তদনেন সংবিদাত্মনাের স্বপ্ৰকাশত্বং প্রতিজ্ঞাতং তদেতদ্বয়মুত্তর যথাক্ৰমং সমথয়িষ্যতে ॥৪॥ (৫ পৃষ্ঠা) অথ কোহয়মিতি। অথশব্দোহয়মানন্তর্যাথে। বিষয়াদিসিদ্ধানন্তর- মিত্যথঃ। অধিকাৱাথে। বা। স্বপ্ৰকাশত্বস্য স্বয়মনঙ্গীকারাৎ অঙ্গীকৃতশব্দদ্বারা বিপ্রতিপত্ত্যধিকরণনির্দেশঃ কোহমিতি। কিংলক্ষণক ইত্যর্থ। স্বশ্চেতি। স্বত্বে সতি প্রকাশত্বমিত্যৰ্থঃ। ঘটাদাবতিব্যাপ্তিনিবৃত্ত প্রকাশগ্রহণম, স্বস্থেতি। বিষয়ত্বে সতি প্রকাশত্বং বা ইত্যৰ্থঃ। অথরিনিৰ্বত্ত্যৈ প্রথমং বিশেষণ। শব্দশাদাবনতিব্যাপ্তৈ প্রকাশগ্রহণম্। দ্বয়মিহােক্তং ভবতি স্বস্য স্বস্মিন্ প্রকাশত্ববিধানং, অর্থাৎ প্রকাশান্তরব্যাবৃত্তিশ্চেতি। ইদানীমুত্তরে বিশেষ শঙ্কতে—সজাতীয়েতি। অথরিতানিৰ্বত্ত্যৈ সজাতীয়গ্রহণম্। প্রদীপাদেরপি স্বপ্ৰকাশত্বং বাঞ্ছতত লক্ষণ। স্বসত্তায়ামিতি। যাবদস্য সত্তা তাবৎপ্রকাশেনাবিয়ােগঃ । বেদ্যত্বে হি নিলীনতায়। অপি সংভবৎ প্রকাশ- ব্যতিরেকোহনবস্থা বা স্যাদিত্যৰ্থঃ । স্বব্যবহারেতি। অবিজ্ঞাতে ব্যবহারা- যােগাদবশ্যং জ্ঞানেন স্বব্যবহারহেতুভূতেন ভবিতব্য। তদ্রূপত্বং চ তস্য স্বপ্ৰকাশত্বং বিবক্ষিতমিত্যৰ্থঃ। যদ্যপি ন পূর্বপূর্বপক্ষদোষপরিজিহীর্ষয়া সৰ্ব্ব- ত্রোত্তরােত্তরপক্ষপরিগ্রহস্তথাপি সম্ভাব্যমানত্বাদ্বিভিন্নদূষণজ্বাচ্চ বিনেয়মতিবিকাসায়ো- পন্যসন্তে। জ্ঞানবিষয়ত্বং শশবিষাণাদেরপ্যস্তি তচ্ছব্দজনিতবুদ্ধেবিকল্পমাত্ৰতয়ার্থ- সংস্পশাৎ, যথাহু পতঞ্জলয় ‘শব্দজ্ঞানানুপাতী বস্তুশূন্যে বিকল্প ইতীত্যপরিতােষাৎ পক্ষান্তরং শঙ্কতে—আনাবিষয়ত্বে সতীতি। ন চ তৃতীয়ষষ্ঠয়াে সংকর। তথাভূতস্যাপি প্রদীপ জ্ঞানবিষয়ত্বৎ। অথ ক্ৰয়াৎ কিমিদমপরােক্ষত্বং কিমপরােক্ষ- জ্ঞানবিষয়ত্বং কিম্বাহপরােক্ষজ্ঞানত্বম। নাথ। জ্ঞানবিষয়ত্বজ্ঞানবিষয়ত্বয়াের ব্যাঘাৎ। ন দ্বিতীয়। সর্বস্তৈব জ্ঞানস্য স্বপ্ৰকাশতাশ্রয়য়েণ ব্যর্থবিশেষণাপাতাৎ, ৬ মানসনয়ন-প্রসাদিনী। অনপরেক্ষিজ্ঞানাভাবাচ্চ। ভবতে যৎসাক্ষাদপরােক্ষাহ্মেতি তেঃ বৃত্তিরূপ জ্ঞানস্য চ জ্ঞানত্বং নেষ্যতে ভবতেততঃ পক্ষান্তৰং শঙ্কতে ব্যবহারেতি। অখ্যাতিবাদিনাং ব্যবহারবিষয়ত্বে সতি জ্ঞানাবিষয়ত্বং শুক্তিরজতাদিসংসর্গে অপ্যস্তীত্যতিব্যাপ্তিমালক্ষ্য পক্ষান্তরং কক্ষীকরনীতি—স্বপ্রতিবদ্ধেতি। অসম্ভব- নিবৃত্তে সজাতীয়গ্রহণম্। জ্ঞানবিষয়ত্বে স'ত অপরােক্ষত্বং পূর্বমুক্ত ইহ তু তদ্ব্যবহার- বিষয়ত্বমিতি ন সপ্তমদশমসংকরাবসরঃ। মুক্তিদশায়াং ব্যবহারানঙ্গীকরণা অব্যাপ্তিঃ স্যাদত উক্তং-তদ্যোগ্যত্বং বেতি। অথবা অর্থান্তরতানিবৃত্ত দ্বিতীয়ােখানং বিরােধপরিহারায় তৃতীয়ােখানং, ঘটাদাবতিব্যাপ্তিপরিহারায় চতুর্থ, সুখাদা- বতিব্যাপ্তিনিবৃত্তৈ পঞ্চম, প্রদীপেইতিব্যাপ্তিপরিহারায় ষষ্ঠ, সপ্তাষ্টমনমেষু চোক্তমেব। প্রদীপেহতিব্যাপ্তিনির্বত্ত্যৈ দশম, একাদশ্যেক্তমিতি সম্ভবত্যেব সৰ্বত্ৰ পূৰ্বপূৰ্বানুপপত্তিপরিহারায়ত্তরােত্তরােপন্যাসঃ। (৮ পৃষ্ঠা) বেদ্যস্যাপীতি। নহি তদস্বয়ম, (স্বম?)। নাপ্যপ্রকাশঃ জ্ঞানতাঙ্গীকারা- দিত্যৰ্থঃ। কর্মকর্তৃভাবেতি। যদ্যপীয় স্বস্তেতি ষষ্ঠী সম্বন্ধমাত্রেৎপি সম্ভবতি তথাপ্যবিবক্ষিতবিশেষে ব্যবহারাযােগদ্বিশেষস্য চ সন্নিহিত প্রকাশনক্রিয়ানুরােধেন কম্মণি ব্যবস্থাপনাৎ প্রসজ্যেতৈব কর্মকর্তৃভাব ইত্যর্থ। প্রতিপাদেরিতি। নহি তদালােকান্তরেণ প্রকাশ্যতে। যচ্চ জ্ঞানং প্রকাশকং তদ্বিজাতীয়মিত্যর্থঃ । ন চ প্রদীপশ্যাপি স্বপ্ৰকাশৰ্বাদ অনতিব্যাপ্তিরিতি শঙ্কনীয়ং ভৌতিক স্বপ্ৰকাশতাব্যাঘাতাদিতি। (৯ পৃষ্ঠা) ন বিশেষণবৈয়াদিতি। এবং হি বিশেষণস্য সার্থক্যং যদি কয়াপি জাত্য সাজাত্যহীনঃ কশ্চিৎপ্রকাশ: স্থাৎ ন চৈবমস্তি জাতিমতঃ সর্বত্যাপি অন্ততঃ সত্তয়া সাজাত্যাদিত্যৰ্থঃ। প্রকাশাব্যভিচারাৎ সাক্ষিণেশ্বরজ্ঞানেন বা মানসপ্রত্যক্ষেণ বেত্যর্থ। ঘটাদাবপি তুল্যমেতৎ। স্বব্যবহারে হেত্বাদিতি। ব্যবহারে হেতদ্বিষয়ােহভিজ্ঞাভিবদনং বা হানাদিবা কর্মকারক প্রদীপজন্য ইত্যর্থঃ । (১১ পৃষ্ঠা ) অথ জ্ঞানেতি। ব্যবহারেত্যত্র প্রস্তুতং জ্ঞানমেব স্বশকেনাভিধীয়তে ন বিষয়মাত্ৰ। তদ্ব্যবহারহেতুত্বং চ ন দীপাদেরস্তি, প্রদীপাদেজ্ঞানাপ্রকাশত্বাৎ।

প্রথম পরিচ্ছেদঃ । 4 অতত নাতিব্যাপ্তিরিতি ভাবঃ। অনুব্যবসায়েতীশ্বরজ্ঞানস্তাপুপলক্ষণ। অথানুব্যবসায়জ্ঞানমেব স্বপ্ৰকাশবাদে ন সম্প্রতিপন্নং, যাতিব্যাপ্তিরুচ্যেত সংপ্রতিপন্নত্বে বা তস্যাপি ব্যবসায়বদেব পক্ষতেতি তত্ৰাহ-প্রদীপজ্ঞানমিতি। বিশিষ্টবেদন বিশেষণালম্বনত্বনিয়মাৎ বিষয়জষ্যত্বাচ্চ তজ জ্ঞান প্রদীপজ্ঞানমিদমিত্যনুব্যবসায়স্যাভিজ্ঞারূপব্যবহার স্ববিষয়জ্ঞানবিশেষণীভূত- প্রদীপজন্যত্বমস্তীতি জ্ঞানব্যবহারহেতে প্রদীপেহতিব্যাপ্তি স্যাদেব্যের্থ। অভিবদনং বা ব্যবহারস্তস্যাপি পরম্পরয়া ব্যাবৰ্ত্তকপ্রদীপজত্বদ্ব্যবহারহেতুত্বমিতি। ব্যবহারহেভুত্বমিতি। ব্যবহারহেতুপ্রকাশত্বমিত্য ব্যবহারহেতুত্বং প্রকাশ বিশেষণমুপলক্ষণঃ বেত্যথঃ। উপলক্ষিতত্বমপুপলক্ষিতে নাম তস্য ধর্মঃ স্বরূপং বা। আছে তদপুপলক্ষণং বিশেষণং বা। নাদ্যঃ। অনবস্থা- পাতাৎ। দ্বিতীয়ং নিরস্য দ্বিতীয়দ্বিতীয়ং শঙ্কতে--স্বরূপমাত্রত্বে ত্বিতি। ন লক্ষণসিদ্ধিরিতি। লক্ষ্যস্বরূপমাত্রত্বত্ত জড়জ্ঞানবাদিভিরপি বন্মাত্রাঙ্গী- কারচ ইত্যর্থ? (১৩ পৃষ্ঠা ) জ্ঞানবিষয়ত্বে সতীত্যত্র যদিদং জ্ঞানবিষয়ত্বং প্রতিষিধ্যতে তৎ কিং বেদ্যত্ব; জ্ঞানকর্মত্বং বা। নাদ্যঃ। তন্নিষেধাসম্ভবস্য দর্শিতাদিত্যাহ- অবিষয়ত্বস্তেতি। দ্বিতীয়ং নিষেধতি-বিষয়ত্বেতি। প্রাভাকরাণাং মতে সংবিদাশ্রয়তরা সিদ্ধস্য আত্মনাে জ্ঞানাকৰ্ম্মত্বেপরােক্ষন্তীত্যঙ্গীকারাদতিব্যাপ্তি- রিত্যর্থঃ। ঈশ্বরবাদিনাং তজ জ্ঞানার্মতয়াহপরােক্ষে জগতি ভ্ৰমবিষয়সংসর্গে চ বেদান্তিনাং চ সাক্ষিবেদ্যসুখাদাবতিব্যাপ্তিরিত্যপি দ্রষ্টব্যম। (১৪ পৃষ্ঠা) প্রাচীনদোষানুষঙ্গাদিতি। ব্যবহারবিষয়ত্বস্ত মুক্তিদশায়ামসংভবাজ; জ্ঞানাবিষয়ত্বনিরাসাচ্চেত্যৰ্থঃ। অতিব্যাপ্তিং চাহ-শুক্তীতি। শুক্তিরূপ্যসংসর্গ জ্ঞানবিষয়ত্বং তেমনভিমতং তথা সত্যযথার্থ জ্ঞানাঙ্গীকারাপাতাদিতি ভাবঃ। সাজাত্যং কিমত্যন্তং যথাকথঞ্চন বা। আদ্যে প্রদীপে প্রসক্তিরুক্তা, দ্বিতীয়েহ- প্যনপেক্ষামাত্ৰং ঘটাদেরপ্যস্তি। অপেক্ষাবানধিকরণত্ববিবক্ষায়ামাহ--সত্তয়েতি। অদৃষ্টাদের সর্বোৎপত্তিমন্নিমিত্ততয়া সত্তাবত্তয়া চ তজ্জন্যব্যবহারস্য সজাতীয়পর- সাপেক্ষতয়া লক্ষণাসম্ভবাদিত্য পূর্বোক্তব্য বিশেষণত্বমপি দ্রষ্টব্যম। ।

৮ মানসনয়ন-প্রসাদিনী। অপরােক্ষেতি। অপরােহ্মজ্ঞানমপ্যপরােক্ষব্যবহারাে ভবতত্যবাভিজ্ঞারূপত্বাৎ তত ব্যাঘাত ইত্যথঃ। অভিবদনবিবক্ষায়াং তু তস্য বিষয়জ্ঞানপ্রযােজ্যদ্ব্যাঘাত। (৪৯ পৃষ্ঠা) ননু প্রমাণবলাৎ স্বপ্ৰকাশত্বে সিদ্ধে তদনুগুণং যৎকিঞ্চিল্লক্ষণমপি ভবিষ্যতি যতে লক্ষণমপি প্রমাণান্তরসিদ্ধন্তে হরেলভ্যা ব্যাবর্তকং ব্যবহারহেতুৰ্ব্বা ভবেদিত্যত আহনাপি প্রমাণমিতি। ন্যায়রত্নদীপাবলীকৃতমনুমানমুপন্যস্থতি-অথানুভূতিরিত্যাদি। প্রকাশত্বত যৎকিঞ্চিদ্ব্যবহারহেতুত্বস্ত চ পরৈরপ্যঙ্গীকারাৎ সিদ্ধসাধনতা স্যাদিত্যনুভূতিগ্ৰহণম্। ন চ অপ্রসিদ্ধবিশেষণতা। অনুভূতিব্যবহারস্যোভয়সিদ্ধতয়া তজেতুভূতপ্রকাশস্যাপি সম্মতত্বাৎ কেবলং ব্যতিরেকাব্যতিরেকয়াের্বিপ্রতিপত্তেঃ, তথাচানুভূতিব্যবহারহেতুত্বা- প্রসিদ্ধিরলঙ্কার এব। বহ্নিমত্ত্বাদীনামপি মহীধরাদিসম্বন্ধস্যানুমানগম্যত্বদিতরথা সিদ্ধসাধনতাপাতাদিতি। তদিদমাহন চাপ্ৰসিদ্ধবিশেষণঃ পক্ষ ইত্যাদি। ( ৫৩ পৃষ্ঠা) তদেতষয়তি-মৈবমিতি। অয়মভিসন্ধি-ন তাবদনুভূতিব্যবহারহেতুরবিবক্ষিত- সুলবিশেষ প্রকাশঃ সিদ্ধ্যতীতি শক্যাঙ্গীকারং, নহস্তি সম্ভবঃ, সংপ্রতিপন্নমুভয়াের কেতি ন জ্ঞায় ইতি কস্য চায়মবিবক্ষিতস্থলবিশেষঃ সিধ্যতীতি বিবেচনীয়। ন তাবৎ ত্বৎপক্ষে। তস্য সখিপতয়া নির্ণীতত্বাদপরথা পরং প্রতি প্রসাধনাযােগাৎ। যদাহ “নিশ্চিতে হি বাদং কুরুত” ইতি। নাপি পরস্য। তস্যাপনুব্যবসায়েন নির্ণীতত্বাৎ। অতএব নােভয়াের। তস্মাদবিবক্ষিতস্থলবিশেষঃ সিন্ধ্যতীত্যস্য ন কঞ্চনাৰ্থং পশ্যামঃ। ন চ কেবলব্যতিরেকিনি অপ্রসিদ্ধবিশেষণতা নাম ন দূষণমিতি মন্তব্যং, তথা সতি বসুধা শশবিষাণােল্লিখিতা বসুধাদিত্যাদিনা শশবিষাণাদেরপি সিদ্ধিপ্রসঙ্গাৎ। অথ তত্র প্রমাণান্তরবাধ্যতয়া দুষ্টতা ন অপ্রসিদ্ধবিশেষণতয়েতি তন্ন। বাধাসিদ্ধে। ন হি শশবিষাণাদীনামভাবাবেদকং প্রমাণমস্তি। তস্য প্রমাণান্তরযােগােযােগ্যতয়ােরভাবাসিদ্ধে। অথ নিয়মেন প্রমাণানুপলম্ভো বাধক ততােতিরিক্তা তহিঁ কা নাম অপ্রসিদ্ধবিশেষণতেতি ঘট্টকুটীপ্রভাতায়িত। অথ বিপক্ষে বাধকতাভাবৎ সকিং বিপক্ষে বাধকস্তৰ্কঃ প্রমাণানুজ্ঞাঘারােপযােগী স্বাতন্ত্রেণ বা। নান্তঃ। তর্ক প্রমাণানুজ্ঞাব্যাপারমন্তরেপােপযােগাভাবৎ। প্রথমে তু তর্কভাবাৎ প্রমাণাভাব এব সিদ্ধতি সৈব চাপ্ৰসিদ্ধবিশেষণতেতি সিদ্ধং নঃ নব্যন্যায়ের অন্তর্গত সিদ্ধান্ত-লক্ষণ (জাগদীশী) এবং প্রথম শিক্ষার্থীদিগের জন্য বিশেষ উপযােগী নূতন গ্রন্থ ন্যায়প্রবেশ। তন্ত্রশস্ত্র প্রকাশ মূল্য ১% তাভিধান যচক্রনিরূপণ প্রপঞ্চসার তন্ত্র মুল্য কুলচূড়ামণি তন্ত্র sillo ( যন্ত্রস্থ ) সটীক রাজতন্ত্র, কালীবিলাস তন্ত্র, কুলাণব মন্ত্রম ENGLISH TRANSLATIONS BY ARTHUR AVALON, I. Rs. 8 • Mahanirvana Tantram Hymns to the Goddess Tantratattva Vols. 1 & 2. EACH Rs-3 3 Rs. 8 4, Shatchakranirupanam with an Exhaustive Introduction and Notes and Coloured plates ( In the press) Others in preparation ০ ০ ০ লােটাস লাইব্রেরী হইতে প্রকাশিত গ্রন্থসমুহ। অনুবাদক ও সম্পাদক পণ্ডিত শ্রীযুক্ত দুর্গাচরণ সংখ্যবদন্তিতীর্থ। ঈশ, কেন, কঠ, ( একত্রে) মুল্য ২০ মুণ্ড মূল্য ১১ वर्ष ১/০ মাণ্ডুক্য (কারিকা সমেত) প্রশ্ন পy ছান্দোগ্য ৮|| ইহাতে মুল, অষয়, মূলানুবাদ শঙ্করভাষ্য ও ভাষ্যানুবাদ আছে, মাণ্ডুকে গৌড়পাদের কাৰিকা, ভাষ্য ও অনুবাদ এবং ছানোগো অনিগিরির টীকা অতিরিক্ত আছে। বৃহদারণ্যক ছালেগ্যবঃ টীকাদিসহ খণ্ডশঃ প্রকাশিত হইয়াছে। এতিখণ্ডের মুল্য ১১ ১। উপদেশসহস্রী। পণ্ডিত ও অক্ষয়কুমার শাস্ত্রী কর্তৃক অনুদিত ও সম্পাদিত। মূল, অয়, বাঙ্গা- প্রতিশব্দ, রামতীর্থ টীকা, বঙ্গানুবাদ ও তাৎপৰ্য্যসহ সুন্দর ডিমাই ৮ পেজী কাগলে ৫৭ স্থায় সম্প মুল্য ৪। ২। সৰ্ব্ববেদান্তসদ্ধান্তসারসংগ্রহ। মহামহােপাধ্যায় পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত প্রমথনাথ তর্কভূষণ-এবং পণ্ডিত যুক্ত অক্ষয়কুমার শান্ধী কর্তৃক অনুদিত ও সম্পাদিত। ইহা মুল, অন্বয়, বাঙ্গালা প্রতিশব্দ, বঙ্গানুবাদ এবং তাৎপর্য মণ্ডিত, ভাল ডিমাই ৮ পেজী কাগজে মুদ্রি হ, পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ মূল্য ২া। ৩। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। শাভাষ্য, অনলগিরি টাকা, মুল ও ভাষ্যানুবাদ সহ । অনুবাদক মহামহোয় পথ শ্ৰীযুক্ত প্রমথনাথ তর্কভূষণ। সুন্দর ডিমাই পেজী কাগজে মুদ্রিত, দুই খণ্ডে ১৫৯ সম্পূর্ণ মূল্য । ৪। বেদান্তদর্শন। ব্যাস সুত্র, শরভাষ্য, জামতী ও রত্ন প্রভা টীকা, সটীক অধিকরণমালা, সু-পদলে সূত্ৰাৰ্থ, ভাব্যস্থশব্দার্থ, ভাষ্যার্থ, ভাষ্যের সল তাৎপৰ্য, অামতীর অনুবাদ এবং তাৎপৰ্য, জ্ঞা ৩ টাকায় বিশদ তাৎপৰ্য এবং সটীক অধিকরণমালার অনুবাদ থাকিবে। ১৬ কমায় এক প প্রকাশিত হইয়াছে এবং খণ্ডশঃ প্রকাশিত হইতেছে। মূল্য গ্রাহকের পক্ষে ১ টাকা। ৫। নব্যধ্যায়--ব্যাপ্তিপঞ্চকম। অনুবক-যুত রাজেন্দ্র নাথ ঘোষ। সংশোধক-পতিপ্রবন্ধ প্রযুক্ত পাৰতীয় তর্কতীর্থ। মাথুরি ও দীধিতির অনুবাদ, মাধুরীর বিস্তৃত ব্যাখ্যা; জগদীশের তর্কাতের গল্প ৩ ৰ জ্ঞাতব্য বিষয়পূর্ণ বিস্তৃত ভূমিকা সহ। রয়াল পেজী, ••• পৃষ্ঠা, উত্তম বা মুল্য ৫ টাকা।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Shastrasar-sangrah Vol. 2

Author
Ghosh , Rajendranath Ed
Title
Shastrasar-sangrah Vol. 2
File name
Shastrasar-sangrah Vol. 2
Text
OCR done
Citation
1916
Published
2010/02/20
Publisher
Rajendranath Ghosh , Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
139
Library
Bally Sadharan Granthagar
Classification
Bengali Essay.
Keywords
Ghosh , Rajendranath
DLI number
511385
Barcode
4990010018536.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
wZaExVfGBXl
Download PDF

Shastrasar-sangrah Vol. 2