Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Shri Baishnabopabas Brata Mimansa
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শ্রীবৈষবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা
টকয়া বঙ্গানুবাদেন চ সমেতা
শ্রীকৃষ্ণহরি গােস্বামি বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থেন
বিরচিতা
শ্রীনন্দ কুমার গােস্বামি তত্ত্বনিধি কাব্যতীর্থেন
পরিশােধিতা
ঐনিখিলানন্দ গােস্বামি কাব্য ব্যাকরণ তর্কতীর্থেন
প্রকাশিত
সূর্য-প্রেস
৩৩নং গৌরীবেড় লেন, কলিকাতা
শ্রীমধুসূদন নাথ দ্বারা মুদ্রিত
চৈত্র সন ১৩৩৫ সাল
No text on this page.
ভূমিকা এই গ্রন্থে শাস্ত্রানুসারে একাদশীর কর্তব্য লিখিত হইয়াছে। যাহারা শাস্ত্র মানেন না, তাহাদের সম্বন্ধেও- “শরীর মাদৌ খলু ধৰ্ম সাধনং।” এই ন্যায়ে শরীর রক্ষার জন্য, স্বাস্থ্য রক্ষার নিমিত্ত, একাদশীর কর্তব্যত্ব মুক্তি অনুসারে প্রদর্শিত হইতেছে- ন্দ্র কলার ক্রিয়ারূপ বা চন্দ্র কলার ক্রিয়াঘারা উপলক্ষিত কালই তিথি। অমাদি পৌঃ মাস্তান্তা যা এব শশিনঃ কলাঃ। তিথয় ঃ সমাখ্যাতাঃ যােড়শৈব বরাননে ।। অমাবস্যা অবধি পূর্নিমা পর্যন্ত চন্দ্রের যে সমস্ত কলা, তাহা তিথি নামে প্রসিদ্ধ । হে বনাননে। চন্দ্রের কলা যােলটা মাসে দুইটী পক্ষ হইতেছে, শুক্ল এবং কৃষ্ণ। চন্দ্র বৃদ্ধিকর শুরু, কৃষ্ণ শ্চন্দ্ৰ ক্ষয়াত্মক। শুক্ল পক্ষে চন্দ্র বৃদ্ধি হয়, কৃষ্ণপক্ষে চন্দ্র ক্ষয় হয়। চন্দ্রর ক্ষয় হয়। উভয় পক্ষেই তিথি পঞ্চদশটি। প্রতিপদ হইতে অমাবস্যা পর্যন্ত পনরটি তিথি কৃষ্ণপক্ষে হয়। আর প্রতিপদ হইতে পূগ্নিমা পৰ্যন্ত পনরটি তিথি শুক্লপক্ষে হয়। দশান্তাঃ কৃষ্ণপক্ষে তা পূগ্নিমান্তাশ্চ শুক্লকে। ইতি তিথিতত্ত্বং। শুক্লপক্ষে। ; প্রথম কলায় বা এক কলায় প্রতিপদ; দুই কলায় দ্বিতীয়া, তিন কলায় তৃতীয়া; চারি কলায় চতুথী ; পাঁচ কলায় পঞ্চমী ; ছয় কলায় ষষ্ঠী, সাত কলায় সপ্তমী, আট কলায় অষ্টমী ; নয় কলায় নবমী ; দশ কলায় দশমী , এগার কলায় একাদশী ; বার কলায় দ্বাদশী ; তে কলায় এয়ােদশী ; চৌদ্দ কলায় চতুর্দশী ; পনর কলায় পূন্নিমা। পূন্নিমা হইতে ক্রমে এক এক কলাহীন হইয়া কৃষ্ণপক্ষের প্রতি পদাদি হয়।
y •• • • ক কৃষ্ণপক্ষে। চৌদ্দকলায় প্রতিপদ ; তেরকলায় দ্বিতীয়, বার কলায় তৃতীয়া ; এগার কলায় চতুর্থী, দশ কলায় পঞ্চমী, নয় কলায় ষষ্ঠী, আট কলায় সপ্তমী সাত কলায় অষ্টমী ; ছয় কলায় নবমী ; পাঁচ কলায় দশমী ; চারি কলায় একাদশী ; তিন কলায় দ্বাদশী ; দুই কলায় ত্রয়ােদশী ; এক কলায় চতুর্দশী ; কলহীনে অর্থাৎ পনর কলা হীনে অমাবস্যা। অমাবস্যায় পনর কলাই থাকে না। তিথির, অমাবস্যার পর হইতে বৃদ্ধি, অমাবস্যায় ক্ষয়। অমা ক্ষয়ােদয় রহিতা নিত্য। যােড়শ রূপম oাখ ৮৯ ৫। তিথি অনুসারে সমুদ্র-জলের জোয়ার ভাটা হইয়া থাকে। দশমীতে জোয়ার ভাটার সমতা থাকিয়া একাদশী হইতে ক্রমে জোয়ার বৃদ্ধি হইতে থাকে, অমাবস্যা ও পূর্নিমায় অতিশয় বৃদ্ধি হয়, প্রতিপদাদিতে ক্রমে অল্প অল্প করিয়া জোয়ার কমিতে থাকে, দশমীতে সমতা প্রাপ্ত হয়। এই রুপ তিথি অনুসারে শারীরিক রসের অবস্থাও হয়। একাদশী হইতে শারীরিক রসের বৃদ্ধি হইতে থাকে, অমাবস্যাও পূর্ণিমায় অতিশয় বৃদ্ধি হয়, প্রতিপদ হইতে কমিতে কমিতে দশমীতে সমতা প্রাপ্ত হয়। একাদশী হইতে রসবৃদ্ধি হওয়ায় শারীরিক গ্লানি উপস্থিত হয়, অসুখ বােধ হয়, অমাবস্যাও পূর্মিমাতে ইহা বেশ অনুভব করা যায়। জোয়ারের মুখে একাদশীর উপবাসে শরীরের রস শুষ্ক হইয়া যায়, স্বাস্থ্য রক্ষা হয়, শরীর ভাল থাকে, অমাবস্যাও পূন্নিমায় রাত্রি ভক্ষণ নিষেধ। তাহার কারণ, রাত্রিতে ভােজন না করিলে শরীরের রস শুষ্ক হইয়া যায়, শরীরের ভার নষ্ট হয়, তাহাতে স্বাস্থ্য রক্ষা হয়, শরীর ভাল থাকে। কামশাস্ত্রে মুনিগণ বিধি নিষেধের যুক্তি প্রদর্শন করিয়াছিলেন। অস্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে সেই সমুদয় শাস্ত্র লােপ পাইয়াছে। ধর্মে বিশ্বাস না থাকায়, ধর্মের আচরণ না করায়, বিধি নিষেধ না মানায়, আৰ্যজাতি দুৰ্বল, সাহসহীন, রােগগ্রস্ত ও পরাধীনতার নিষ্পেষণে অন্ন বস্ত্রের অভাবে অকাল মৃত্যুতে দিন দিন নির্বংশ হইতেছে । এখন জিজ্ঞাস্য হইতে পারে,দশমী বিদ্ধ একাদশী ও অরুণােদয় বিদ্ধা একাদশীতে উপবাসের নিষেধ কেন ? তাহার কারণ,-দশমীতে রসের সাম্যাবস্থা থাকে ; রস একাদশী সংযােগে ততটা জোয়ার বা বদ্ধিত হয় না।
শ্রীবৈষ্ণবােপবাস ব্রত মীমাংসা ১
টকয়া বঙ্গানুবাদেন চ সমেতা
শ্রীকৃষ্ণহরি গােস্বামি বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থেন
বিরচিত।
শ্রীনন্দ কুমার গােদামি তত্ত্বনিধি কাব্যতীর্থেন
পরিশােধিতা
এবং
শ্রীশ্রবণা দ্বাদশী ব্রতমীমাংসা
টীকয়া বঙ্গানুবাদেন চ সমেতা
শ্রীনন্দ কুমার গােম্বামি তত্ত্বনিধি কাব্যতীর্থেন
প্রণীত
তেনৈব পরিশােধিতা
একত্র
নিখিলানন্দ গােস্বামি কাব্য ব্যাকরণ তর্কতীর্থেন
প্রকাশিত
মূল্য ২
টাকা।
কাপড়ে খাকান ২
পুস্তক প্রাপ্তি স্থানের ঠিকানা-
১। শ্ৰীশ্ৰীবাসচন্দ্র পালের নিকট,
৩০নং গৌরীবেড় লেন, কলিকাতা।
২। গুরুদাস লাইব্রেরী,
কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
৩। ঢাকা পুস্তকালয়।
শ্ৰীনিত্যানন্দ গােস্বামীর নিকট
ময়মনসিংহ, বাণীগ্রাম,
পােঃ আঃ মধ্যপাড়া।
ছাপা ভাল, কাগজ ভাল ।
মূল্য ২, টাকা।
কাপড়ে বান্ধান ২০ টাকা
ভিঃ পিঃ খরচ ॥
• তাহাতে উপবাস করিলে সাম্যাবস্থার হানি ঘটে, এই নিমিত্ত দশমী বিদ্ধায় উপবাস নিষিদ্ধ। রাত্রির শেষ চারি দণ্ড অরুণােদয় কাল, অরুণােদয় অতিদিষ্ট দিবা। অরুণােদয়ে দশমী প্রবেশ করিলে সাম্যাবস্থা অল্প মাত্র থাকে, তাহাতে উপবাস করিলে অল্প পরিমাণ শরীরের অহিত হইতে পারে ; এজন্য অরুণােদয় বিদ্ধা একাদশী নিষিদ্ধ। অতএব দ্বাদশী মিশ্রিত একাদশী কর্তব্য। সময় বিশেষে তিথি নক্ষত্রাদির সংযােগে সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে রস বৃদ্ধির তারতম্যা- নুসারে পূঃ। একাদশী ত্যাগপূর্বক দ্বাদশীতে উপবাসের বিধান করা হইয়াছে। ইহা সম্প্রদায় বিশেষে প্রচলিত। অনধ্যয়নাচ্চ বেদানা মাচারস্যচ বর্জনা। আলস্যা দপ্ন দোষাচ্চ মৃত্যু বিন্ জিঘাংসতি। মনুঃ । বেদাদি জ্ঞান শাস্ত্রের অনধ্যয়ন, নিজের আচার বর্জন, আলস্য, অন্নদোষ অর্থাৎ অভক্ষ্য ভক্ষণ ইত্যাদি কারণে মৃত্যু বিপ্ৰাদিকে হনন করিতে ইচ্ছা করে বা হনন করিয়া থাকে। এই চারিটি অকাল মৃত্যুর কারণ। শাস্ত্রের আলােচনা না থাকিলে হিতাহিত বােধ শক্তি নষ্ট হয়। নিজের আচার বর্জনে শরীর রােগ গ্রস্থ হয়, আলস্য অশেষ দোষের আকর। অম্নদোষে অর্থাৎ অভক্ষ্য ভক্ষণে রােগ জন্মে, দুৰ্বলতা জন্মে, কাৰ্য্যে উৎসাহ থাকে না, সাহস থাকে না, অকাল মৃত্যু হয়, তাহাতে বংশ লােপ হইয়া যায় । এইজন্য ধর্মের আচরণ কর্তব্য। শাস্ত্রীয় বিধি নিষেধের কারণ অনুসন্ধান জন্য আযুকেঁদেরও দুই চারি খানি গ্রন্থ পাঠ করিয়া দেখিয়াছি। কুমার টুলির বিজয়তু সেন কবিরাজও শিশিকান্ত সেন কবিরাজ আমার বন্ধু লােক ছিলেন, আমাকে শ্রদ্ধা ভক্তি কবিতেন ও ভাল বাসিতেন, বাভট মুদ্রিত হওয়ার সময় মধ্যে মধ্যে আমি প্রুফ শশাধন করিয়া দিয়াছি, তাহাতে বাভট কিছু দেখিয়াছি । আমি একবার এক বৎসর জ্বরে ভােগিতে ছিলাম, দেশে চিকিৎসায় ফল না হওয়ায় কলিকাতা বিজয় বাবুর নিকটে যাই, তিনি বৃহৎ লৌহ দ্বারা এক সপ্তাহে আমাকে আরােগ্য করিয়া বলেন, ছয়মাসে এই ঔষধ প্রস্তুত হয়, ইহাতে বহু ভাবনা, সপ্ত রাত্রি এক এক ভাবনায় রাখিতে হয়। দুই সপ্তাহ বটী দিয়া আমাকে বলেন, ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের নিকট হইতে অর্থ সজর হর- গ্রহণ করি না, কেবল আশীৰ্বাদ গ্রহণ করি। বিজয়বাবুর নিকট কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ আছি, বন্ধুদ্বয় এখন পরলােকে। ৪৫/৪৬ বৎসর যাবৎ আমার জ্বর হইতেছে না, বয়স ৭০ ৭১ হইয়াছে। বিজয়বাবুর নিকট হইতে মাধব নিদান, সুশ্রুত সংহিতা, চরক সংহিতা ও ভাব প্রকাশ লইয়া আদ্যন্তপাঠ করিয়া দেখিয়াছি, অন্যান্য পুথিত ও পাঠ করিয়াছি শাস্ত্রীয় বিধি নিষেধের কারণ অনুসন্ধান করিয়া দেখা গেল, ধর্মশাস্ত্রের নিষিদ্ধ বিষয়ে যে সব দোষ শ্রুতি আছে, আয়ুর্বেদে তাহা রােগের কারণ বলিয়া বঘ্নিত হইয়াছে। একাদশীতে অন্নাহার করিলে শরীরে ক্রমে গ্লানি অনুভূত হইবে, ভার বােধ হইবে, বেদনা বােধ হইবে, অমাবস্যায় ও পূর্ণিমায় তাহা বেশ অনুভূত হইবে। একাদশীর উপবাস করিলেও অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় রাত্রিতে ভােজন করিবে না। ভােজন করিলে শারীরিক অসুখ বৃদ্ধি পাইবে। আয়ুর্বেদে এইরূপ ভাবের উপদেশ আছে । এখন পুস্তকরচনার প্রবৃত্তির কথা বলিতেছি- ময়মন সিংহ উস্থি নিবাসী নবকিশাের তর্কাচাৰ্য মহাশয়ের নিকট আমি চষ্টয়ের যটকারক পাতেড়াসহ পঢ়িয়া সুসেন শৰ্মাকৃত কবিরাজ পঢ়িতে আরম্ভ করি, কবিরাজ কঠিন, বুঝিবার জন্য তাঁহারই নিকট ভাষা পরিচ্ছেদ মুক্তাবলী, শব্দশক্তি, কারক চক্র অধ্যয়ন করিয়া কবিরাজ বিচার গ্রন্থ বুঝিতে সক্ষম হই। ধাতু সূত্রের কবিরাজ, নমস্কার বাদ, তাহারই নিকট অধ্যয়ন করি। সেই সময় বৈষ্ণব স্মৃতির ব্যবস্থার ঠিক নাই বলিয়া নিন্দা শুনি। ঢাকা শাক্কাবাসী ত্রিলােচন তর্কালঙ্কার মহাশয় নিকট ধাতু প্রকরণ আখ্যাত অধ্যয়ন করি, আমাদের বংশের শ্ৰীযুত কিশােরীমােহন গােস্বামি বিদ্যানিধি কাব্যতীর্থ মহাশয়, শ্ৰীযুক্ত রামচন্দ্র গােস্বামী মহাশয় ও তাহার নিকট ব্যাকরণ অধ্যয়ন করেন, সেই সময়েও বৈষ্ণবস্মৃতির ব্যবস্থার নিন্দা শুনি, আমি উস্থি নিবাসী—রাজকান্ত ন্যায় রত্ন মহাশয়ের নিকট কৃৎ অধ্যয়ন করিয়া উস্থি নিবাসী গােলােকচন্দ্র তর্ক সিদ্ধান্ত মহাশয়ের নিকট কিছুদিন সাহিত্য পঢ়িয়া সেরপুর নিবাসী মহামহােপাধ্যায় চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার মহাশয় নিকট আমি আমাদের বংশের শ্ৰীযুক্ত রামচন্দ্র গােম্বামি মহাশয় ও শ্রীযুক্ত কিশােরীমােহন গােস্বামি বিদ্যানিধি কাব্য তীর্থ মহাশয়, আমরা সাহিত্য অলঙ্কার শাস্ত্র অধ্যয়ন করিয়া পরীক্ষা দিয়া উত্তীর্ণ হইয়া কাব্যতীর্থ উপাধি প্রাপ্ত হই। এই বৎসরই তীর্থ উপাধির সৃষ্টি হয়।
পরে আমিও খ্ৰীযুত কিশােরীমােহন গােস্বামী মহাশয় তর্কালঙ্কার মহাশয়ের নিকট বেদান্ত পরিভাষা, শাঙ্করভাষ্য, বেদান্ত সার, সাঙ্খ পাতঞ্জল প্রভৃতি দ্বাদশ উপনিষদের ও অনেক অংশ অধ্যয়ন করি, পরীক্ষা দেই নাই। তথা হইতে বিডন ষ্ট্রীট, ঢুলিপাড়া আসিয়া উপেন্দ্রমােহন গােস্বামী প্রভুপাদের নিকট আমিও শ্রীযুক্ত কিশােরীমােহন গােস্বামী মহাশয় শ্রীমদ্ভাগবত, গোবিন্দ ভাষ্য, মাধ্বভাষ্য ও শ্রীভাষ্য অধ্যয়ন করি। পরে দেশে আসিয়া আমাদের বংশের ব্যাকরণ ন্যায় স্মৃতি ও বৈষ্ণবশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত আনন্দমােহন গােস্বামি বিদ্যারত্ন মহাশয়ের নিকট আমি এবং বিদ্যারত্ন মহাশয়ের পুত্র কৃষ্ণহরি গােম্বামি বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ মহাশয়, বসন্দর্ভ, সৰ্ব্ব সম্বাদিনী, লঘু বৃহদ্ভাগবতামৃত এবং শ্রীমদ্ভাগবতের কঠিন অধ্যায়গুলি অধ্যয়ন করি। যে যে অংশে প্রকাশতত্ত্ব আছে বিচার করিয়া বুঝিয়া লই। চৈতন্যমত- বােধিনী পত্রিকায় কৃষ্ণহরি গােস্বামী মহাশয় প্রকাশতত্ত্ব এবং আমি প্ৰকাশও আবির্ভাব তত্ত্বের প্রবন্ধ লিখি। উক্ত বিদ্যারত্ন মহাশয়ের নিকট আমরা উভয়ে হরিভক্তি বিলাসােক্ত বৈষ্ণবােপবাস ব্রতের ব্যবস্থা সকল ও অন্যান্য ব্যবস্থা শিক্ষা করি। ব্যাকরণ ন্যায় স্মৃতি শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত মুকুন্দকিশাের গােম্বামি তর্কবাগীশ মহাশয়, বৃন্দাবনের নীলমণি গােস্বামী প্রভুপাদের নিকট শ্রীমদ্ভাগবত, ষট্সন্দৰ্ত্ত, সৰ্ব্ব সম্বাদিনী, লঘু, বৃহদ্ভাগবতামৃত, ভক্তিরসামৃত সিন্ধু, উজ্জ্বল নীলমণি ও গােপালচ, আনন্দ বৃন্দাবন চম্পূ, ললিত ও বিদগ্ধ মাধব, দানকেলি কৌমুদী প্রভৃতি বৈষ্ণব শাস্ত্র অধ্যয়ন করিয়া দেশে আসেন, আমি তঁাহার নিকট জ্যোতিষ, ষট সন্দর্ভ, সৰ্বসম্বাদিনী, ভক্তি রসামৃতসিন্ধু, উজ্জ্বল নীলমণি ও শ্রীমদ্ভাগবতের কয়েক স্কন্ধ অধ্যয়ন করি। আমি এবং কৃষ্ণহরি গােস্বামী মহাশয় মুকুন্দকিশাের গােস্বামি তর্কবাগীশ মহাশয়ের সঙ্গে বিচার করিয়া বৈষ্ণবােপবাস ব্রতের ব্যবস্থা সকল বুঝিয়া লইয়া নিঃসন্দেহ হই। বিদ্যারত্ন মহাশয়ের, আমাদের বংশের প্রাচীন পণ্ডিত কুঞ্জকিশাের গােস্বামি শিরােমণি মহাশয়ের ও তর্কবাগীশ মহাশয়ের ব্যবস্থা একইরূপ, মতভেদ ছিলনা। আমাদের বংশের পূজ্যপাদ পণ্ডিতগণের সঙ্গে আলােচনা করিয়া ব্যবস্থা ঠিক করিয়া ময়মন সিংহ মসুয়া নিবাসী রামগােপাল পুরের দ্বার পণ্ডিত মহেশ্বর সিদ্ধান্ত রত্নমহাশয়ের নিকট স্মৃতিশাস্ত্র অধ্যয়ন করি এবং অষ্ট মহাদ্বাদশী ও শ্রবণা দ্বাদশীর আলােচনা করি। আমার অধ্যাপক মহামহােপাধ্যায় চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার মহাশয়ের খ ০ সঙ্গে এবং ফরিদপুরবাসী প্রসন্নকুমার ঠাকুরের দ্বার পণ্ডিত মহামহােপাধ্যায় তারিণীচরণ শিরােমণি মহাশয়ের সঙ্গে, নবদ্বীপের পাকা টোলের স্মৃতিশাস্ত্রের প্রধান পণ্ডিত হরিশ্চন্দ্র তর্করত্ন মহাশয়ের সঙ্গে, শ্ৰৰণাদ্বাদশী ও অষ্ট মহাদ্বাদশীর আলােচনা করিয়াছি। আর শ্রীধাম বৃন্দাবনের নীলমণি গােস্বামী প্রভুপাদের সঙ্গে, কলিকাতার আমার অধ্যাপক উপেন্দ্রমােহন গােস্বামী প্রভুপাদের সঙ্গে, গােকুলচন্দ্র গােস্বামী প্রভুপাদের সঙ্গে, বর্ধমান মাড়ােবাসী রঘুনন্দন গােস্বামী প্রভুপাদের একজন ছাত্র সঙ্গেও অষ্ট মহাদ্বাদশী.এবং শ্রবণাদ্বাদশীর আলােচনা করি। সকলের ঐকমত্য নাই। সংস্কৃত রামায়ণ ও মহাভারত পুনঃপুনঃ পাঠ করিয়াছি, বিষ্ণুপুরাণ বিষ্ণুধৰ্মোত্তর প্রভৃতি পুরাণ কাশী, কলিকাতা ও বােম্বে যাহা ছাপা হইয়াছে, তাহা পাঠ করিয়াছি। মনু কুল্লভটুও মেধা তিথিসহ, পরাশর মাধবহ, যাজ্ঞবল্ক্য মিতাক্ষরাসহ পাঠ করিয়াছি, বঙ্গবাসীর প্রকাশিত উনবিংশ সংহিতা, তারানাথ বাচস্পতি মহাশয়ের মুদ্রিত অষ্টাবিংশতি সংহিতাও পাঠ করিয়াছি। শ্রবণ। দ্বাদশী ও অষ্ট মহাদ্বাদশী সম্বন্ধে যেখানে যাহা পাইয়াছি, তাহা সংগ্রহ করিয়াছি। রঘুনন্দন কৃতস্মৃতি, নিঃসিন্ধু, নিগ্ন মৃত, হেমাদ্রি কালনিগ্নয়, তিথিবিবেক, কাল বিবেক, রামচন্দ্র ভট্ট-কৃতকাল নির্ণয় প্রভৃতি স্মার্তগ্রন্থও দলপতি রাজকৃত নৃসিংহ প্ৰসাদ কাল নিম্ন সার ও নৃসিংহ পরিচর্যা প্রভৃতি বৈষ্ণবস্মৃতি সংগ্রহ করিয়া আমি এবং কৃষ্ণহরি গােস্বামী উভয়ে পাঠ করিয়াছি। বাণীগ্রামের পণ্ডিত বিদ্যারত্ন মহাশয়ও তর্কবাগীশ মহাশয়ের অভাবের বহুকাল পরে কৃষ্ণহরি গােস্বামী মহাশয় বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা রচনা করেন, আমিও শ্রবণাদ্বাদশী ব্ৰত মীমাংসা প্রণয়ন করি। নিঃ সিন্ধুতে অষ্ট মহাদ্বাদশীর উল্লেখ আছে। শ্রবণাদ্বাদশীর উল্লেখ আছে, তাহার মতে এই সব কাম্যব্রত, রঘুনন্দন তিথিতত্বে, শূলপাণি তিথি- বিবেক, শ্রবণাদ্বাদীকে কাম্যব্রত বলেন। শাশক্ত ভেদে উপবাস নির্ণয় করেন। হেমাদ্রি কাল নিয়ে অষ্ট মহাদ্বাদশীকে একাদশী বলিয়া বর্মন করিয়াছেন, অষ্ট মহাদ্বাদশীকে একাদশীতে গণ্য করিয়াছেন, অষ্ট মহাদ্বাদশী হইলে একাদশী উপােয্যা নহে। রামচন্দ্র ভট্ট কালনিগ্নয়ে অষ্ট মহাদ্বাদশী ও শ্রবণাদ্বাদশী ব্রত নিগ্ন করিয়াছেন। তিনি বিজয়া ও শ্রবণাদ্বশীকে এক করিয়া বন করিয়াছেন। দ্বাদশী ও শ্রবণার স্থিতিকালের নিয়ম বলেন নাই।
. তাঁহার মতে অষ্ট মহাদ্বাদশীর ব্যবস্থা। উন্মীলনী। পূন্ন। একাদশী বৰ্ধিত হইয়া দ্বাদশী দিনে নির্গত হইলে, দ্বাদশী ত্রয়োদশী দিনে কলা বা কলাৰ্ধকাল থাকিলে খণ্ডা উপােষ্যা। ত্রয়ােদশীতে দ্বাদশী পারণ মন্ত্র পাঠ করিয়া জল বিন্দু পান করিতে যে সময় লাগে, সেই পৰ্য্যন্ত দ্বাদশী না থাকিলে, অথবা দ্বাদশী সূর্যোদয় সমকালে নিবৃত্ত হইলে পূন্ন। উপােষ্যা, খণ্ডা নহে। বঙুলী এবং পক্ষবন্ধনী হইলে একাদশী এবং দ্বাদশী উভয়ই উপোষ্যা। অথ শ্রবণ দ্বাদশ্যা শুদির মহাদ্বাদশীনাঞ্চ নিগ্নয় । অত্র শ্রবণ দ্বাদশ্যাং অল্প শ্রবণ মােগে হপি শ্রবণা দ্বাদশী প্রযুক্ত মুপ বাসাদি ভবভেব। শ্রবণা দ্বাদশীও তদিতর মহাদ্বাদশী সকল নির্নয় করা যাইতেছে। শ্রবণা দ্বাদশীতে অল্প শ্রবণার যােগ হইলেও শ্রবণা দ্বাদশী প্রযুক্ত উপবাসাদি হইবেই। “দ্বাদশী শ্রবণা যুক্তা কৃৎস্না পুণ্য তমা তিথিঃ।” ইত্যাদি প্রমাণ দিয়াছেন। (মূল গ্রন্থে টীকা ও অনুবাদ আছে)। বিদ্ধাধিকার; দিনদ্বয়ে হপি শ্রবণা যােগে একাদশী যুতা গ্রাহা। পূৰ্বদিন একাদশীযুক্ত দ্বাদশীতে শ্রবণার যােগ, পরদিন দ্বাদশীর সহিত শ্রবণার যােগ অর্থাৎ শ্রবণযুক্ত দ্বাদশী পর দিনে নির্গত হইয়াছে, তখন একাদশীযুক্ত গ্রাহ্য। এই বিষয়ে প্রমাণ, নারদীয়ে “সংস্পৃষ্টেকাদশীং রাজন্ দ্বাদশীং যদি সংস্পৃশেৎ। শ্রবণং জ্যোতিষ ঞ্চৈব ব্ৰহ্ম হত্যাং ব্যপাে হতি।” হে রাজ! জ্যোতিষ্কের মধ্যে শ্রবণা যদি একাদশীকে স্পর্শ করিয়া দ্বাদশীকে স্পর্শ করে, তবে সে ব্রহ্মহত্যাজনিত পাপ নষ্ট করে।” বৈষ্ণব মতে ইহা প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খল। শুদ্ধাধিকার; দিনদ্বয়ে হপি শ্রবণা যােগ সচ উত্তর দিন এব উদয় কালীন শুদা উত্তরা গ্রাহা। পূৰ্বদিন একাদশীর সহিত দ্বাদশীর যােগ হয় নাই, শ্রবণার যােগ হইয়াছে। পরদিন উদয়কালে দ্বাদশীর সহিত এবার যােগ হইয়াছে, দ্বাদশী সূর্যোদয়ের সমকালে প্রবৃত্ত, তখন পরদিন গ্রাহ। এই বিষয়ে প্রমাণ, নারদীয়ে “উদয় ব্যাপিনী গ্রাহা শ্রবণ দ্বাদশী ব্রতে।” শাশক্ত ভেদে ব্যবস্থা করিয়া নারদীয় বচন আয়ের উল্লেখ করিয়াছেন। যদা দ্বাদশ্যাং শ্রবণং নাস্তি একাদশ্যামেব শ্রবণং তদা একাদশী ব্রং দ্বাদশী ব্ৰতন্তু, তন্ত্রেণ। যে সময় দ্বাদশীতে শ্রবণা না হইয়া কেবল একাদশীতে শ্রবণ হয় তখন একাদশী ব্রত এবং দ্বাদশীব্রত তন্ত্রে অর্থাৎ সংক্ষেপে এক উপবাসেই সিদ্ধ হয়। . ন নারদীয়ে এই বিষয়ে প্রমাণ, “যদি ন প্রাপ্যতে ঋক্ষং দ্বাদশাং বৈষ্ণবং ক্বচিৎ ।" ইত্যাদি। (মূল গ্রন্থে এই বচনের টাকাও অনুবাদ আছে ।) ইহার পর বুধযুক্ত শ্রবণা দ্বাদশীর প্রশংসা কবিয়াছেন, শ্রবণা দ্বাদশী যােগে বুধবারে ভবে দাদা। অত্যন্ত মহতী জ্ঞেয়া দ্বাদশী সা প্রকীর্তিতা। পরে শ্রবণা দ্বাদশীর উপসংহার করিয়াছেন। শ্রবণ দ্বাদশী নির্মীতা। নক্ষত্র প্রযুক্তের মহাদ্বাদশীয়ে সূর্যোদয় দারভ্য দ্বিতীয় সূর্যোদয় পৰ্য্যত্বং নক্ষত্ৰাণাং, অময় পৰ্য্যস্তত্বং দ্বাদশ্য। অপেক্ষিত। রাম চন্দ্র ভট্ট, বঙুলী, পক্ষবন্ধনী, শ্রবণা দ্বাদশী, জয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী মহাদ্বাদশীকে কাম্য বলেন, অষ্ট মহাদাদশী হইলে শক্ত ব্যক্তি একাদশীও দ্বাদশী, দুই উপবাস করিবেন। “কাম্যং নিত্যস্য বাধকং” এই ন্যায়ানুসারে অশক্ত ব্যক্তি দ্বাদশীতে উপবাস করিবেন। নৃসিংহ প্ৰসাদ কাল নিগ্ন সার প্রণেতা দল পতি রাজের মত প্রদশিত হইতেছে । দলপতি অষ্ট মহাদ্বাদশীকে নিত্য বলেন, গােদামিপাদ অষ্ট মহাদ্বাদশীর নিত্যতা বিষয়ে যে সব প্রমাণ দিয়াছেন, দলপতিও সেই সকল প্রমাণ উদ্ধৃত কৰিছেন। দলপতি একাদশী ত্যাগ করিয়া শষ্ট মহাদ্বাদশী উপবাসের ব্যবস্থা করিয়াছেন।
দলপতি মতে অষ্ট মহাদ্বাদশী নিয়ে, জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী নির্ণয়। এ কাল নির্ময়সারে অত্র চতষু দ্বাদশীযু সূর্যোদয়া দারভ্য নক্ষত্রাণি হ্রাসবৃদ্ধিভ্যাং নূ্যনত্ব সাম্যং আধিক্যং বা ভজন্তে ন প্রাকৃ। সূর্যোদয়াৎ প্রাকৃ প্রবৃত্তানি নক্ষত্রাণি সাম্যং অধিক্যং বা ভজন্তে। ত্রয়েষু পুষ্যা পুনৰ্ব্বস্থ রােহিণী দ্বাদশ্যা অস্তময় পর্যন্ত অভিমত। শ্রবণেতু সার্ধ খ্রিয়াম পর্যন্ত অভিমত। এই চারিটি-দ্বাদশীতে নক্ষত্র সকল সূৰ্যোদয় হইতে আরব্ধ হইয়া হ্রাস বৃদ্ধি ক্রমে নূ্যনত্ব, সমত্ব কিম্বা অধিকত্বকে ভজন করে। সূর্যোদয়ের পূর্ব হইত নহে, সমকাল হইতে। সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত নক্ষত্র সকল সামা কিম্বা আধিক্যকে ভােজন করে, তবেই ব্রত হইবে । এই নক্ষত্র সকলের নিয়ম বলিয়া দ্বাদশীর নিয়ম বলিতেছেন, পুষ্যা, পুনৰ্ব্বসু, রােহিণীতে দ্বাদশী অস্তময় পর্যন্ত থাকা আবশ্যক, আর শ্রবণাতে সার্ধ ত্রিযাম পর্যন্ত থাকা আবশ্যক। শ্রবণ দ্বাদশ্যান্তু বিশেষ। অল্প শ্রবণযুক্ত-দ্বাদশী মহাদ্বাদশীএব। নক্ষত্র প্রযুক্তা চতস্যু এবণাদ্বাদশী একা কদাচি দ্বা একাদশী অসৌ দ্বাদশী। তত্র প্রমাণং,-- নারদীয়ে- “যদি ন প্রাপ্যতে ঋক্ষং দ্বাদশাং বৈষ্ণবং কচিং। একাদশী তদোপােষ্যা পাপী শ্রবণান্বিত। ইতি। তত স্তা চাষ্টেী মহাদ্বাদশ্য। শ্রবণাদ্বাদশীতে যে কিছু বিশেষ তাহা বলা যাইতেছে, অল্প শ্রবণাযুক্ত দ্বাদশী মহাদ্বাদশীই বটে! নক্ষত্রপ্রযুক্ত এই চারিটি দ্বাদশী মধ্যে শ্রবণাদ্বাদশী একা কোন সময়ে বা একাদশীই এই শবণাদ্বাদশী। তাহার প্রমাণ, “যদি ন প্রাপ্যতে ঋক্ষ” মিত্যাদি। অতএব তাহারা অষ্ট মহাদ্বাদশী। গােস্বামিদ পারণে যাহা বলিয়াছেন, দলপতি হাই বলিয়াছেন। পারণে বৈলক্ষণ্য নাই, তাহা প্রদর্শিত হইল না। = = Ildo দলপতি রামচন্দ্র ভট্টাদির মত উদ্ধৃত করিয়াছেন, যদা শ্ৰবণৈকাদশ্যাং দ্বাদশী ব্রত প্রাপ্নোতি, তদা একাদশী ব্ৰতেন দ্বাদশীব্রতং সিদ্ধং তন্ত্রেণ। বদা একাদশী সম্পূর্ণ, তদা একাদশ্যাং পৃথগুপবাসঃ শ্রবণাদ্বাদশ্যাঞ্চ পৃথগুপবাসঃ। ইতি কাল নিম্নয়াদিকারাঃ কাম্যবাদিনাে রামচন্দ্র ভট্টাদয়ঃ। যে সময় শ্ৰবণৈকাদশীত দ্বাদশী ব্রত পাওয়া যায়, সেই সময় তন্দ্রানুসারে একাদশী ব্রত দ্বারা দ্বাদশীব্ৰত সিদ্ধ আছে। যে সময় একাদশী সম্পূর্ণ, সেই সময় একাদশীতে পৃথক উপবাস আর শ্রবণাদ্বাদশীতে পৃথকৃ উপবাস হয়। কাল নিগ্ন যাদি কার কাম্যবাদী রামচন্দ্র ভট্টাদিরা এইরূপ বলিয়াছেন। কৃষ্ণহরি গােম্বামি বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ মহাশয় লীলানুক্রম কারিকা বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা রচনা করিয়া আমাদিগের মমতা ত্যাগ করিয়া পরলােক গমন করিয়াছেন বিচারপূৰ্ব্বক বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা গ্রন্থের সংশােধন। “কৃষ্ণ হরি গােস্বামী মহাশয় পরলােক গমন করিলে পর আমাদের বংশের ব্যাকরণ কাব্যালঙ্কার বেদান্ত ও শ্রীমদ্ভাগবতের পণ্ডিত শ্ৰীযুক্ত কিশােরীমােহন গােস্বামি বিদ্যানিধি কাব্যতীর্থ মহাশয়কে লইয়া কতক সংশােধন করি। অনন্তর, আমাদের বংশের প্রাচীন পণ্ডিত গােবিন্দ কিশাের গোস্বামি ন্যায় পঞ্চানন মহাশয় যিনি অন্নদান করিয়া বহুকাল ৭০/৮০ জন ছাত্রের অধ্যাপনার কার্য করিয়াছেন; তাহার তৃতীয় পুত্র ব্যাকরণ ন্যায় বেদান্তও সাংস্থ্যের পণ্ডিত বনমালি গােম্বামি বেদান্তরত্ন সাঙ্খতীর্থ মহাশয়কে লইয়া অধিকাংশ সংশোধন করি; শ্রবণা দ্বাদশী ও শিবরাত্রির কিয়দংশ বাকী থাকে। কিছুদিন পর তিনিও অকালে আমাদের মমতা ত্যাগ করিয়া পরলােকে চলিয়া যান। তৎপর আমাদের বংশের ব্যাকরণ সাহিত্যা লঙ্কার, বাদাৰ্থ ও শ্রীমদ্ভাগবতের পণ্ডিত যুক্ত ৰামচন্দ্র গােস্বামি মহাশয়কে লইয়া বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসার শ্রবণা দ্বাদশীও শিবরাত্রি এবং আমার প্রণীত শ্রবণ দ্বাদশী ব্ৰত মীমাংসার সংশােধন করিয়াছি ১৩২৬ সন মাঘ মাসে অষ্ট মহাদ্বাদশী ও শ্রবণাদ্বাদশীর আলােচনার নিমিত্ত, নবদ্বীপে গমন করি, সেইখানে গিয়া দেখি খণ্ডবাসী বৈদ্য মহােদয়ের ;
llelo একটা স্বতন্ত্র গৌরমন্ত্র সভা আহ্বান করিয়াছেন। আমি সভার দ্বিতীয় দিনে নবদ্বীপে উপস্থিত হই। সেই পক্ষের একটা পােক বলিলেন, শ্ৰীযুক্ত অতুলকৃষ্ণ গােস্বামী প্রভুপাদ ও যুক্ত মুরলীমােহন গােস্বামী প্রভুপাদকে আহ্বান করা হইয়াছে, তাহার কেহই আসিলেন না। প্রতিপক্ষ পাওয়া গেল না, তখন আমি বলিলাম, আমাকে আহ্বান করিলে আমি প্রতিপক্ষ হইব। তাহার কতক্ষণ পরে আমি নিমন্ত্রণ পত্র প্রাপ্ত হই। আমাদের বংশের শ্ৰীযুক্ত গঙ্গাদাস গােস্বামী ও শ্রীযুক্ত কৃষ্ণপদ গােস্বামীকে লইয়া সভায় উপস্থিত হই। গিয়া দেখি শ্রীবৃন্দাবন ধামের শ্রীযুক্ত মধুসূদন গােস্বামী ও শ্ৰীযুক্ত দামােদর লাল গােস্বামী উপস্থিত আছেন, নবদ্বীপের একটা পণ্ডিতও উপস্থিত নাই ; কারণ জিজ্ঞাসা করিলে একজন খণ্ডবাসী বলিলেন, নবদ্বীপের পণ্ডিতেরা গৌরমানেন না, এইজন্য তাহাদিগকে নিমন্ত্রণ দেওয়া হয় নাই। আমি বলিলাম, শাস্ত্ৰদ্বারা যদি গৌর এবং গৌরমন্ত্র দেখাইতে পারা যায়, তবে তাহারা মামিতে বাধ্য। আমি দাঁড়াইয়া বলিলাম, তীর্থ দেবতাকে আহ্বান করা হইয়াছে, গ্রাম্য দেবতা আহুত হন নাই, অবজ্ঞাত হইয়াছেন। শাস্ত্রের ও ব্যবহারের নিয়ম, আগে গ্রাম্য দেবতার অর্চনা, পরে তীর্থ দেবতার অর্চনা করিতে হয়। নবদ্বীপ সরস্বতীর পীঠ স্থান, সেই নবদ্বীপের একটি পণ্ডিত ও নিমন্ত্রিত হইলে না, ইহা বড়ই দুঃখের বিষয়। ষড়দর্শনাচাৰ্য্য শ্ৰীযুক্ত দামােদর লাল গােস্বামীর সঙ্গে বিচার করিতে হইলে মধ্যস্থের আবশ্যক। শ্ৰীযুক্ত কামাখ্যানাথ তর্ক বাগীশ শ্ৰীযুক্ত আশুতােষ তর্কভূষণ, শ্ৰীযুক্ত হরিশ্চন্দ্র তর্করত্ন, শ্ৰীযুক্ত অজিতনাথ ন্যায়রত্ন মহাশয়দিগকে মধ্যস্থ মানলাম তাহাদিগকে নিমন্ত্রণ দেওয়া হউক, শ্ৰীযুক্ত দামােদর লাল গােস্বামীও বলিলেন, মধ্যস্থ ভিন্ন বিচার হইতে পারে না, অতএব এই পণ্ডিতদিগকে মধ্যস্থ করা হউক। খণ্ডবাসীগণ কিছুতেই নবদ্বীপের পণ্ডিতদিগকে নিমন্ত্রণ করিতে বাধ্য হইলেন না। দামােদর লাল গােস্বামীর সহিত আমার বিচার হইল না। তখন শ্ৰীযুক্ত মধুসূদন গোস্বামী উঠিয়া স্বতন্ত্র গৌর মন্দ্র সমর্থন করিতে লাগিলেন, আমি দোষিতে লাগিলাম। শাস্ত্রে পৃথক গৌর মন্ত্র নাই, থাকিতে ও পারে না, ইহা সমর্থন করিয়া কৃষ্ণমন্ত্রে যে, গৌরপুজা পূর্বেও হইয়াছে, ৬০ } এখনও হইতেছে, তাহা যুক্তি প্রমাণ দ্বারা প্রদর্শন করিলে পর মধুসূদন গগাস্বামী তাহা স্বীকার করিয়া বলিলেন, কৃষ্ণমন্ত্রে যে গৌরপূজা হইতে পারে, তাহা অস্বীকার করি না, কিন্তু স্বতন্ত্র গৌরমন্ত্রও আছে। আমি বলিলাম নাই। তখন কালনার শ্রীযুক্ত গােপেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় উঠিয়া বলিলেন, কৃষ্ণমন্ত্র যে গৌরপূজা হইতে পারে, তাহা বাদী পক্ষও স্বীকার করিয়াছেন, অতএব সকলেই কৃষ্ণমন্ত্রে গৌরপূজা করিতে থাকুন, যখন স্বতন্ত্র গৌরমন্ত্ৰ স্থির হয়, তখন গৌরমন্ত্রে করা যাবে। আমি বলিলাম, যখন স্বতন্ত্র গৌরমন্ত্র বিচার সভা বলিয়া আহ্বান করা হইয়াছে, তখন অস্বতন্ত্র গৌরমন্ত্র যে বাদীগণের স্বীকৃত, তাহা অনায়াসেই বােধ গম্য হয়। খণ্ডবাসীগণ তখন স্বতন্ত্র গৌর মন্ত্রের পতী প্রদর্শন করিলেন, আমি বলিলাম, পাতী দ্বারাই স্বতন্ত্র গৌরমন্ত্র যে নাই, তাহা প্রমাণিত হইয়াছে। যেখানে সন্দেহ, সেই খানেই পাঁতী, কৃষ্ণমন্ত্র, রামমন্ত্র, বামনমন্ত্র, নৃসিংহ মন্দ্র প্রভৃতিতে ত পাঁতী হয় না। এই বলিয়া পরে বাসায় চলিয়া আসিলাম, পরদিন স্বতন্ত্র গৌরমন্ত্র বিচার পুস্তক প্রণয়ন করিলাম। উভয়পক্ষে যে সকল যুক্তি প্রমাণ প্রদর্শিত হইয়াছে, তৎ সমুদয় তাহাতে লিপিবদ্ধ করিয়াছি। তাহাতে দুইটা পক্ষ দেওয়া হইয়াছে। প্রথম পক্ষ মধুসূদন গােস্বামী, দ্বিতীয় পক্ষ নন্দকুমার গােস্বামী। পুস্তকখানি মুদ্রিত হয় নাই। এ দিকে স্বতন্ত্র গৌরমন্ত্র বিচার সভাত শেষ হইয়া গেল ; পরে আমি হরিশ্চন্দ্র তর্করত্ন মহাশয়ের নিকট গিয়া, অষ্ট মহাদ্বাদশী ও শ্রবণ। দ্বাদশীর আলােচনা করিলাম। ১০৩৩ সালে মাঘ মাসে বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা ও শ্রবণা দ্বাদশী ব্রত মীমাংসা মুদ্রিত করিবার জন্য কলিকাতা আসি, এই যাত্রায় পুস্তক দুইখান " মুদ্রিত হইল না, তাহার কারণ, আমার দুইটা পুত্র কাতর ছিল, চতুর্থ টী জরে কাতর ছিল, ডাক্তারী চিকিৎসায় আরোগ্য হইয়া বিন্ধ্যা চলে গিয়া হওয়া পরিবর্তন করিয়া আসে। ষষ্ঠ পুত্ৰটী অপর রােগে কাতর, দেশের চিকিৎসায় ফল না হওয়ায় কলিকাতা লইয়া আসি। কবিয়াজ শ্ৰীযুক্ত মাধবতর্কতীর্থ, কবিরাজ শ্ৰীযুক্ত হারাণচন্দ্র চক্রবর্তী প্রভৃতি অনেক কবিরাজকেই দেখাইয়াছি, • সকলেই বাতজ অপশ্মর স্থির করিয়া ব্যবস্থা লিখিয়া দিলেন। পরে শ্রীযুক্ত শ্যামাদাস কবিরাজকে দেখাইলাম, তিনি দেখিয়া অবস্থা শুনিয়া অবতানক রােগ বলিলেন। অপআরে অবতানকের অনেক লক্ষণ আছে বটে। তিনিও ব্যবস্থা লিখিয়া দিলেন, আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, রােগ বাতজ কিনা ? ইহা শুনিয়া তিনি চটিয়া গেলেন, আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, কবিরাজী পড়িয়াছেন? আমি বলিলাম না। তখন শ্যামাদাস বাবু বলিলেন মুখের মত এইকথা জিজ্ঞাসা করিলেন কেন? তখন আমারও একটু স্ট্রোধের উদয় হইল, বলিলাম, আমি চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার মহাশয়ের ছাত্র, সাহিত্যলিঙ্কার দর্শন স্মৃতি পঢ়িয়াছি, তখন তিনি কতকজনকে দেখাইয়া বলিলেন, ইনি স্মৃতি তীর্থ, ইনি ন্যায়তীর্থ, ইনি তর্কতীর্থ, ইনি বেদান্ত তীর্থ ইনি সাঙ্খতীর্থ আমার ছাত্র। "আপনি কি বিচার করিবেন ? আমি বলিলাম অবশ্য বিচাব করিব, মূখ ত্বের পরিচয় দিব। শ্যামাদাস বাবু বলিলেন রাত্রি ৯টা দিবা ৩টা আমার সহিত আলাপের সময়। আমি তাহার কথানুসারে সেই দিনই রাত্রি ৯টায় তাহার বৈঠকখানায় উপস্থিত হইয়া সংবাদ দিলাম, তিনি খবর পাইয়া জানাইলেন, অত্যন্ত অসুখ হইয়াছে আসিতে পারিবেন না। আমি বলিলাম অন্য দিন আসিব। তারপর আমি ৩৪ দিন রাত্রি ৯ টাও দিবা ৩ টায় তাহার বৈঠকখানায় গিয়া তাহাকে খবর দিলাম। প্রতিদিনই তিনি আমাকে অসুখের কথা জানাইলেন। উপস্থিত হইলেন না। আমিও মূখ ত্বের পরিচয় দিতে পারিলাম না। অনন্তর, তাহার ন্যায় তীর্থ ও তর্কতীর্থ ছাত্রকে বলিলাম, আপনাদের সঙ্গেই কিছু আলাপ করি, তাহারা বলিলেন আমরা ন্যায় পঢ়ি নাই। সেই বারে আর পুস্তক মুদ্রিত হইল না। ১৩৩৫ সন পৌষ মাসে কলিকাতা আসিয়া গ্রন্থের মুদ্ৰণ কাৰ্য্য আরম্ভ করাইয়াছি, চৈত্র মাসে তাহা শেষ হইল। শ্রবণা দ্বাদশী ব্রত মীমাংসা ৮ পেজী আট ফৰ্মায় শেষ হইয়াছে। হা-বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসারই পরিশিষ্ট। বৈষ্ণবােপবাস ব্রত মীমাংসা ৮ পেজী ১৬ ফৰ্ম্মায় শেষ হইল। বর্ণগত যে কিছু ভুল রহিয়াছে, তাহার জন্য শুদ্ধি পত্র করিয়া দেওয়া গেল। বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসার বর্ণিত বিষয়। একাদশীর নিত্যতা, অধিকারী নিয়, অনুকল্প বা প্রতিনিধি, অর্থাৎ ব্ৰত প্রতিনিধি বা প্রথম শ্রেণীর অনুকল্প, ব্ৰতী প্রতিনিধি বা দ্বিতীয় শ্রেণীর অনুকল্প, একাদশীর সম্পূন্ন বিদ্ধা নির্ম, একাদশীর দ্বিতীয় প্রকার সম্পূন্নত্ব, } ৬০ হরিবাসর বিচার, হরিবাসর শব্দ একাদশীতে রূঢ়, মুহুর্ত নির্গ, দ্বিবিধ মুহুৰ্ত্ত-ভাগাসায়ী ও দণ্ডদ্বয়াত্মক, একাদশীর সম্পূর্নত্বে মুহুৰ্ত্ত বিচারও দণ্ডদ্বয়াত্মক মুহূর্তের গ্রহণ। অরুণােদয় নিগ্ন, অরুণােদয় বিদ্ধ। নিষেধ, উপবাস দিন নিয়, একাদশীর সার ব্যবস্থা, একাদশীর পারণ কাল। অষ্ট মহাদ্বাদশীর মহত্ত্বের কারণ নির্ণয়, অষ্ট মহাদ্বাদশীর নিত্যতা, নিত্যতা ও একাদশী ত্যাগ বিচার, উন্মীলনী, উন্মীলনীর সার ব্যবস্থা, বঙুলী, বঙুলীর সার ব্যবস্থা, পক্ষবর্ধনী, পক্ষ বর্ধনীর সার ব্যবস্থা। উন্মীলনী প্রভৃতির পারণ কাল। জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী, পাপনাশিনী ; জয়াদি ব্ৰত নিগ্নয়, জয়াদি ব্রত নির্ময় বিচার, জয়া প্রভৃতির সার ব্যবস্থা, জয়া প্রভৃতির পারণ কাল। নক্ষত্রের সম ন্যূনাধিকত। লক্ষণ। শ্রবণ দ্বাদশী লক্ষণ, ভাদ্রপদের ব্যাবৃত্তি, স্বাৰ্তমত নিরাস, শ্রবণাদ্বাদশী ব্রত নিগ্ন, সার ব্যবস্থা, স্মাৰ্ত্ত মত নিরাসে শ্রবণা দ্বাদশীর অতি দিষ্ট বিজয়াত্ব ও অষ্টত্ব স্থাপন, অতিদেশ লক্ষণ, দৃষ্টান্ত, শ্রবণাদ্বাদশী হইলে একাদশীর অনুপােষ্যত্ব বিচার, শ্ৰবণৈকাদশী, বিজয়ার সার্থকতা বিচার, প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খল, প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খলের পরদিন শ্রবণাদ্বাদশীর অনুপোষ্যত্ব, দ্বিতীয় বিষ্ণু শৃঙ্খল, পারণ কাল, দ্বিতীয় বিষ্ণু শৃঙ্খলের পরদিনে দ্বাদশী না যাওয়ার যুক্তি প্রদর্শন, প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খলের পারণ কাল, পারণ বিচাব । জন্মাষ্টমী ব্রতের নিত্যতা, জন্মাষ্টমী ব্রত নির্ণয়, তিথি ক্ষয়ে নবমীতে উপবাসের বিধান, সপ্তমী বিদ্ধা ত্যাগ, জন্মাষ্টমীর অরুণােদয় বিদ্ধ নিরাস, জন্মাষ্টমীর পারণকাল, জন্মাষ্টমীর সার ব্যবস্থা। রাম নবমীর নিত্যতা, রাম নবমীব্রত নির্নয় তিথি ক্ষয়ে বিদ্ধ। গ্রাহ্য, রাম নবমীর সার ব্যবস্থা। নৃসিংহ চতুর্দশীর নিত্যতা, এয়ােদশী বিদ্ধ নিষেধ, তিথিক্ষয়ে বিদ্ধ। গ্রাহ, সার ব্যবস্থা। শিবরাত্রি ব্রত কৰ্তব্যতা বিচার, শিবরাত্রি ব্রতের নিত্যতা, শিববিষ্ণুর অভিন্নতা, শিবরাত্রি ব্রত নিয়, ত্রয়ােদশী বিদ্ধা নিষেধ বিচার, শিবরাত্রিতে বৈষ্ণনতে পারণ ও স্মার্ত মতে পিরণ, সার ব্যবস্থা, তিথিক্ষয়ে বিদ্ধা গ্রাহ্য ; শ্রবণাদ্বাদশী ব্ৰত মীমাংসায় শ্রীহরিভক্তি বিলাসােক্ত শ্রবণাদ্বাদশীর লক্ষণ সহ শ্রবণাদ্বাদশী প্রকরণের সমস্ত কারিকা টাকাও ব্যাখ্যার সহিত সন্নিবিষ্ট করণ হইয়াছে, কঠিন স্থানেব টীকা করিয়াও দেওয়া হইয়াছে।
• শ্রবণাদ্বাদশী ব্রত নীমাংসায় বন্নিত বিষয়। বিজয়ার লক্ষণ, অষ্ট মহাদ্বাদশী, প্রকৃত বিজয়াও অতিদিষ্ট বিজয়, বিজয়ার সার্থকতাও দৃষ্টান্ত, শ্রবণযুক্ত বঞ্জলীও দৃষ্টান্ত, বিজয়ার ভেদ ও দৃষ্টান্ত, শ্রবণা- দ্বাদশী, ভাদ্রপদের ব্যাবৃত্তি, শ্রবণাদ্বাদশীর ভেদ ও দৃষ্টান্ত, বিষ্ণু শৃঙ্খল, শ্রবণা- দ্বাদশীও দৃষ্টান্ত, শ্রবণাদ্বাদশীর স্মাৰ্তমত নিরাস ও বিচার, গােস্বামিপাদের নিজ মত দৃষ্টান্ত সহ স্থাপন, অতি দেশের দৃষ্টান্ত ও লক্ষণ, শ্রবণাদ্বাদশীর অতি- দিষ্ট বিজয়াত্ব বলিয়া মহাদ্বাদশীতে অষ্টত্বস্থাপন, নবত্ব নিরাস, শ্রবণাদ্বাদশীর অস্বীকৃত মহাদ্বাদশীর মত অর্থাৎ শ্রবণাদ্বাদশী মহাদ্বাদশী নহে, এই মত খণ্ডন ও দৃষ্টান্ত, শ্ৰবণৈকাদশী, শ্রবণাদ্বাদশীর সদ্ভাবে শ্রবণা সােপহীন একাদশীর উপােষ্য, বিচার ও উপােষ্যত্ব নিরাস, গােবিন্দ দ্বাদশীর অতিদিষ্ট পাগ- নাশিনী মহাদ্বাদশীত্ব নিরাস, একাদশী ও দ্বাদশীতে শ্রবণযােগাভাবে ব্যবস্থা, প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খলও দৃষ্টান্ত, দ্বিতীয় বিষ্ণু শৃঙ্খল, প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খলের পারণ বিচার দ্বিবিধদোষ, স্মার্ত ও বৈষ্ণব মতে প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল উপবাসের ঐক্য, দ্বিতীয় বিষ্ণু শৃঙ্খলের পারণ, প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খলের পারণ বিচার ও সন্দেহ নিরাস। সার ব্যবস্থা। শেষভাগে গােবর্ধন পূজা মীমাংসাও রাসযাত্রা মীমাংসা দেওয়া হইয়াছে। এই পুস্তকদ্বয় মনোেযােগের সহিত পাঠ করিলে উপবাসে মতানৈক্য থাকিবে না, শক্তাশক্ত ভেদে দুই উপবাসও করিতে হইবে না। বৈষ্ণব মতে বিশেষতঃ গােম্বামী মতে দুই উপবাসের বিধান নাই। স্মাৰ্ত্তমতে বন্ধুলী, পক্ষবন্ধনী, জয়া, জয়ন্তী, পাপনাশিনী, শ্রবণাদ্বাদশী কামব্রত, তাহার বিজয়াকে শ্রবণাদ্বাদশীর অন্তক্ত করিয়াছেন। শক্তশিক্ত ভেদে উপবাসের ব্যবস্থা করিয়াছেন, বৈষ্ণবতে অষ্ট মহাদ্বাদশী নিত, শ্রবণাদ্বাদশীকে বিজয়ার অন্তর্বক্ত করিয়াছেন, একাদশী ত্যাগ করিয়া দ্বাদশীতে উপবাসের বিধান করিয়াছেন। অনুরােধ করিতেছি, পাঠকগণ মনােযােগের সহিত পুস্তকদ্বয় পাঠ করিবেন। ইতি। শানন্দ কুমার শর্মা। পুৰু দ্বয় আমার শিষ্য বাবাজীবন শ্ৰীমন্ শ্রীবাসচন্দ্র পাল দিগের বাড়ীতে থাকিয়া সংশােধন কার্য সম্পন্ন করিয়াছি। তাহারা এতৃপঞ্চক শ্রদ্ধাভক্তি যত্নও অাদরের সহিত আমাকে বাড়ীতে রাখিয়া সংশোধন কার্যের সহায়তা করিয়াছে।
গ্রন্থকারের পরিচয় নারায়ণ ভট্ট হইতে পীতাম্বর মিশ্র অধস্তন চতুর্দশ পুরুষ। পীতাম্বরের তিনপুত্র সাধু, বাগচী, রুদ্র বাগচী, লােকনাথ লাহিড়ী। বল্লালের পূজিত কুলীন। লােকনাথ পুং শ্রীনাথ, ভূতনাথ। ভূতনাথ, পুং দিগম্বর ওঝা, পুং বেদগ, পুং সনাতন, পুং চুত বা চুটওঝা, পুং হলী, বলী, বংশ বল্লভ আচাৰ্য, সােম দিবাকর, ত্রিবিক্রম, হলী জাতিভ্রষ্ট। বল্লভ আচার্যের সময় উদয়ন কৃত কুলীনগণের করণ, পরিবৰ্ত ও সমাজের সৃষ্টি ও শ্ৰোত্ৰিয়ে কন্যাদান নিষিদ্ধ হয়। বল্লভ পুং আকাই বা অর্ক ঢাকটোর, নাই বা দনুজারী চয়ড়া, ছয় ঘরিয়া। কেশব বা কেশাই নকৈড় । কেশব পুং খেখাই লাহিড়ী বা শ্ৰনারায়ণ। পুং অনন্ত বা আনাই, মাধব বা মাধাই, একর, শ্রীবৎস, সারঙ্গ, দামােদব, পক্ষে ঈশানওঝা, মাধব পুং মহামিশ্র, নরপতি, বারকড়ি, নিতাই, অরুণ । মহামিশ্র পুঃ বিদ্যাপতি, প্রগ ভট্র, সৰ্বানন্দ, গােসাঞি মিশ্র, রঘুপতি, মুকুন্দ । প্রগন্ত ভট্ট পুং রামচন্দ্র রামাচাৰ্য, শ্ৰীক হরি ভট্ট, রামাচাৰ্য্য পু সত্যভানু, জনার্দন, মধুসূদন বাচস্পতি মিশ্র তর্কবাগীশ। ইনি মিশ্র স্মৃতি এবং মম্বাদি সংহিতার টাকা করেন। মধু পুং বিজয়, অন্যপক্ষে ভবানন্দ ও সারঙ্গ লাহিড়ী । ভবানন বেতালের জমীদারের কন্যা বিবাহ করিয়া ভিটদিয়া গ্রাম যৌতুক পান, সেই পত্নার গৱেঁ ভবানন্দের তিন পুত্র জন্মে, ঐগ ভট্টাচাৰ্য, পদ্মগর্ব আচাৰ্য ও বেদগর্ত ভট্টাচাৰ্ষ্য। পদ্মগর্ব ব্ৰহ্মমুত্র ভাষ্য, দ্বাদশােপনিষদ্ভাষ্য, পৈঙ্গীরহস্য ব্রাহ্মণ্য, গীতাভাষ্য এবং ক্রমদীপিকার টাকা রচনা করেন, তাহাতে আত্ম পরিচয় দিয়াছেন। ভবানন্দ সুসঙ্গে এক বিবাহ করেন সেই পত্নীর পুত্র রামচন্দ্র লাহিড়ী। তাঁহার বংশধর নারায়ণ ডহর প্রভৃতির জমিদার গােষ্ঠ। ভবানন্দ নবদ্বীপে এক বিবাহ করেন, সেই পত্নীর পুত্র হিরণ্য গর্ভাচাৰ্য্য ও বৎসাচাৰ্য ; ভবানন্দ মধ্যদেশে এক বিবাহ করেন সেই পত্নীর পুত্র দ্বিজরাজ লাহিড়ী প্রভৃতি। ভবানন্দ বিক্রমপুরে দুই বিবাহ করেন, পুত্রের নাম অজ্ঞাত। ভবানন্দের প্রথম পত্নীর দ্বিতীয় পুত্র পদ্মগৱ আচাৰ্য নবদ্বীপ পাঠ্যাবস্থায় এক বিবাহ করেন, সেই পত্নীর গৰ্ভজাত পুত্র পুরুষােত্তম আচাৰ্য, সন্ন্যাস এমে নাম স্বরূপ দামােদর গােস্বামী। বাসস্থান নবদ্বীপ, চৈন্যদেবের প্রিয়পার্ষদ। ইহার বংশ নাই। পদ্মগৰ্ত্তের দ্বিতীয় পত্নীর পুত্র লক্ষ্মীনাথ লাহিড়ী, যদুনাথ, পক্ষে রঘুনাথ বাসস্থান ভিটাদিয়া। মহাপ্রভু শ্ৰহট্ট যাওয়ার সময় কতক দিন লক্ষ্মীনাথের গৃহে অবস্থিতি করেন, ইহাকে পুত্রবর প্রদান করেন, সেইবরে লক্ষ্মীনাথের প্রবীণ পণ্ডিত এক পুত্ৰজন্ম গ্রহণ করেন, তাহার নাম দিগ্বিজয়ী পণ্ডিত বৈষ্ণবাচায্য রূপ নারায়ণ সরস্বতী গােস্বামী। ইনি জীব গােস্বামীর সহিত বিচারে পরাজিত হইয়া মহাপ্রভুর মত গ্রহণ করেন, জ্যেষ্ঠতাত স্বরূপ দামােদর গােস্বামীর শিয়া হন। পরে মহাশয়ের শাখা ভূক্ত হন। বৃন্দাবন মানসিংহকে ধৰ্ম্মোপদেশ করেন। ইনি এগার সিন্দুরে পাটবাড়ী স্থাপন করেন, ইহার বংশধর গােস্বামীগণ বাণী গ্রামে বাস করিতেছেন, গ্রন্থকার গােস্বামীধয় এই বংশেই জন্ম গ্রহণ করেন। ; ।
শুদ্ধি পত্র অশুদ্ধ পৃষ্ট। क গ্রন্থোগাে গ্রহােত্তমাে ১ ৬ •• যাহার ১৮ যাহার ব্রহ্মবৈবর্ত্ত ১৬ ব্রহ্মবৈবর্ষে বঙ্কিতাঃ ১৪ ৩২ ৬ এই বচনেয় এই বচনের ৩) ১৪ সম্পূন্ন ত্ব দূর্ধ্বমেবহি ২৩ ১০ শ্রবণ। সম্পূন্নত্ব দূর্ধমেরি শ্রাবণ বুন্ধ্যা সমাকৃষ্ট পূমিমা বহিয়াছেন ৪ ••• ৪৭ বুদ্ধ্যা সমাস্য পূনিমা বলিয়াছেন অবস্থিত তিথে a rg ৫১ ৫২ ৫২ ১৬ তিবে ••• ২২ २० ১৮ “নক্ষ ( র” নক্ষত্রের চতুর্থ চতুর্থঃ নির্নয় নিময় বৈজ্ঞগণের বৈষ্ণবগণের আলােচিত হইয়াছে ৬৪ পৃষ্ঠা ১৮ পংক্তির টিপ্পনী ৩৮/৩৯ পৃষ্ঠায় ইত্যাদি ৩১ পংক্তি। শ্রাবণ। শ্রবণ ৩ ব্যক্তি শাবণা। শ্রবণ। ৭ = ৪ শ্রযণান্বিত। শ্রবণান্বিত। ৭। শাবণা শ্রবণ। অবশ্য কর্তব্য অবশ্যকর্তব্য শ্রাবণ শ্রবণ * * পৃষ্ঠা कि শ্রাবণ শ্রবণা এ এ এ শ্রাবণ শ্রবণ ২। শ্রাবণ e a L শ্রবণা বৈষ্ণবের বৈষ্ণবেয় ৬% . . । মত্ম বিবায়ক দ্বাদশীতে মাহাত্ম বিধায়ক দ্বাদশী ৪ ৭১ ২৭ শ্রাবণ শ্রবণ। এক ও পরাণ পারণ মহাত্মবতী মাহাত্ম্যবতী 3৭ s ৩ । এ শ্রবণে আষ্টমী শ্রাবণে অষ্টমী ৭৯ ১৮ শয্যা দশ্য r৮ २. ০ ০ ০ যাবদযু পূমিতে গুণাভিঙ্গ আবদায়ু পূন্নিমাতে গুণাভিজ্ঞ ••• ৯. ১; ৯ ২। ; প্রেত চ'ভুর্দশী আৰ্দ্ধ রাত্রের মাঘাষিত প্রেত চতুর্দশী অৰ্দ্ধ রাত্রের মাঘাসিত ২৮ শ্রবণ। দ্বাদশী ব্রত মীমাংসা । পূন চন্দ্র পূন্ন চন্দ্রস সূচীপত্র । পৃষ্ঠা ২-৪ । এই ৪- ৪। . ১৩-১৬ বিষয় ১। একাদশী ব্রতের নিত্যতা ২। অধিকারী নিগ্নয় ... অনুকল্প বা ব্ৰত প্রতিনিধি অনুকল্প বা ব্ৰতী প্রতিনিধি ৫। একাদশীর সম্পূন্ন ও বিদ্ধা নিয় ৬। হবিবাসব বিচার, হরিবাসর একাদশীতে রূঢ় ৭। একাদশীর সম্পূন্ন ত্ব বিষয়ে মুহূর্ত নিমর্ম, ভাগানুসারী মুহুর্ত ও দণ্ডদয়াত্মক মুহুর্ত ও মুহুর্ত বিচার ৮। অরুণােদয় নিরূপণ ৯। অরুণোদয় বিদ্ধ। নিষেধ ১০। উপবাস দিন নিগ্নয় ১১। একাদশীর সার ব্যবস্থা ১২। একাদশীর পারণ কাল ••• ১৩। অষ্ট মহা দ্বাদশী ও মহত্বের কারণ ১৪। অষ্ট মহা দ্বাদশীর নিত্যতা ••• ১৫। নিত্যত। ও একাদশী ত্যাগ বিচার ১৭-১৯ # ০ ২ ~~ # ১ এ এ . ২৬-৪০ ৪০ ৪১-৪২ * * * * * । ৪৪ ৪ অষ্ট মহা দ্বাদশী ১৬। উন্মীলনী ১৭। বঙ্গুলী ১৮। ত্রিশ ১৯। পক্ষবন্ধনী ২০। উন্মীলনী প্রভৃতির পারণ কাল জয়া, বিজয়, জয়ন্তী, পাপ নাশিনী ; ২২। জয়াদি ব্রত নির্নয় ২৩। জয়াদি ব্রত নিগ্নয় বিচার ২৪। জয়াদি ব্রত নির্ণয় ৪- •৪৫ ৪৫ ••• ৪৬ -৪৯ ৪৯- [ ২ ] পত্রাঙ্ক * ০ ০ ৭০-৭১ १२ ৭৩ বিষয় জয়া প্রভৃতির সার ব্যবস্থা জয়া প্রভৃতির পারণ কাল নক্ষত্রের সমানাধিকর লক্ষণ ২৮। শ্রবণা দ্বাদশী লক্ষণ ২৯। শ্রবণা দ্বাদশী ব্রত নির্নয় ও স্মাৰ্ত্ত মত নিরাস, বিচার, অতিদেশ লক্ষণ, শ্রবণ। দ্বাদশীব অতিদিষ্ট বিজয়া ৩০। শ্ৰবণৈকাদশী ৩১। শ্রবণা দ্বাদশী হইলে শ্রবণাহীন একাদশীর ত্যাগ বিচার ৩২। বিজয়ার সার্থকতা বিচার ৩৩। প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খল ও প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খলের পরদিনে শ্রবণ দ্বাদশীর অনুপােষ্যত্ব বিচার ৩৪। দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল ৩৫। শ্রবণ। দ্বাদশী ও দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ কাল ৩৬। শ্রবণ দ্বাদশী ও দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খলে দ্বাদশী ক্ষয়ে যুক্তি ৩৭। প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণকাল ৩৮। বিজয়ার বিশেষ কথা ৩৯। জন্মাষ্টমী ব্রতের নিত্যতা ৪০। জন্মাষ্টমী ব্রত নির্নয় ৪১। সপ্তমী বিদ্ধাত্যাগ ৪২। উভয় দিনের রােহিণী যুক্ত শুদ্ধাষ্টমীর উপপাষ্যত্ব নির্নয় ৪৩। জন্মাষ্টমীর পারণ কাল রাম নবমীর নিত্যতা, ব্রত নিগ্নয় ও পারণ ৪৫। নৃসিংহ চতুর্দশীর নিত্যতা, ব্রত নিগ্ন, বিদ্ধাত্যাগ পারণ, শিবরাত্রি ৪৬। কর্তব্যতা বিচার ৪৭। শিবরাত্রির নিত্যতা ৪৮। শিববিষ্ণু অভিন্নতা ৪৯। শিবরাত্রির কর্তব্য। ০। শিবরাত্রি ব্রত নিম্ন ও বিচার ••• ৫১। স্মৰ্ত্ত মতে শিবরাত্রির পারণ ৭৪-৭৬ ৭৭ ৭৭-৭৮ | | | • • • ৭৮-৭৯ ৮০-৮২ ৫ । t৩-৮৪ ৪৪। ৮৫-৮৭ ৮-১০ । ন ১০৩-১০৪ ৫ ৮ ০ ০ .
বৈষ্ণবােপবাসব্রতমীমাংসা
প্রথম অধ্যায়
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য পদাজভাজা
মবশ্য কর্তব্য-বিধী বিধাতু।
বিরাজতে ভক্তি বিলাসনাম
গ্রন্থােত্তমাে গৌরগণাবলম্ব ।
গােপাল ভট্টেন পুরা প্রণীত
সনাতননা যং পুন রাততান।
দিগদর্শণীং নাম বিধায় টীকাং
প্রকাশমাসচ দুর্গমার্থান্ ।
স সংস্কৃতজ্ঞৈ রববােধনীয়ে
নবৈ পরে মিতি নােহভিলাষঃ।
দেশীয়ভাষা বিদুষাং সমাজে
প্রভাব মাবিন্ধুরুং কথঞ্চিৎ ।
ব্ৰতাহ নির্দেশ বিধা বিদানী
মাচাৰ্য বৰ্যা অপি নৈকচৰ্যাঃ।
স্বয়ম্ভ সন্তঃ প্রতিযন্তু তত্ত্বা
ন্যাত্ম প্রতিষ্ঠা দ্রিয়তে হি শিষ্টৈঃ ॥
ব্ৰতানি যেনৈব পথ চরন্ত
প্রাপৃশ্যন্তি সন্তো ভগবৎ প্রসাদম্।
তথা মমায়ং বিহিতঃ প্রয়াসস
নম্পৰ্ধয়া নাপিচ পক্ষপাতাৎ।
२
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা
[ ১ম অধ্যায়
যথার্থ তত্ত্বাধিগমায় যােইয়ং
অনুষ্ঠিতঃ সম্প্রতি পিষ্টপেষঃ।
নূনং ফলং দাস্ততি ঘৃষ্ট এব
গন্ধোহি সৌগন্ধভরং তননাতি।
কাব্যতীর্থোপনামাচ বিদ্যাবিনােদসংযুতঃ।
শ্ৰীকৃষ্ণ হরি শৰ্ম্ম গােস্বামী শাস্ত্র সুচিন্তক।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসাং
কুরুতে
দ্বিজঃ।
ময়মন সিংহ মধ্যস্থ বাণীগ্রাম সুসংস্থিতিঃ ॥
শ্রীএকাদশী
নির্মমে স্বশীরাও, তিথি মেকাদশীং বিভুঃ।
ভগবান্ নিজ শরীর হইতে একাদশী তিথি সৃজন করিয়াছিলেন
একাদশীতের নিত্যতা
একাদশীব্ৰত বৈষ্ণব মাত্রেরই অবশ্য কর্তব্য। গােস্বামিপাদ এই ব্রতের
যে যে প্রকারে নিত্যতা কীৰ্ত্তন করিয়াছেন, তাহা প্রদর্শিত হইতেছে,
তচ্চ কৃষ্ণ প্রীণনা দ্বিধি প্রাপ্তত্বতস্তথা।
ভােজনস্য নিষেধাচ্চা করণে প্রত্যবায়ত। ১২ বি, ৪
প্রথমতঃ-“একাদশীব্রত-শ্রীভগবানের প্রীতিকর” এইরূপ শ্রবণ মাত্রেই
ঐকান্তিক বৈষ্ণবগণের ব্ৰতানুষ্ঠান বিষয়ে ভক্তির সহিত প্রবৃত্তি হয় বলিয়া
শ্রীভগবৎ প্রীতিকর—একাদশী ব্রতের পরম নিত্যতা সাধিত হইয়াছে।
যেহেতু ভগবানের সন্তোযকর বলিয়া ঐকান্তিক ভক্তগণ অবশ্যই একাদশী
ব্রতানুষ্ঠানে তৎপর হইবেন।
১ম অধ্যায়]
একাদশীতের নিত্যতা
কৃষ্ণপ্রীণনত্বং
তথাহি মৎস্য ভবিষ্যপুরাণয়েঃ
“একাদশ্যাং নিরাহারে যাে ভুঙক্তে দ্বাদশী দিনে।
শুক্লে বা যদি বা কৃষ্ণে তদুতং বৈষ্ণবং মহৎ।
বৈষ্ণবং বিষ্ণুপ্রিয়তম মিত্যৰ্থ ইতি দিগর্শনী। ১২ বি, ৫
অর্থ। শুক্লা এবং কৃষ্ণা একাদশীতে নিরাহার থাকিয়া দ্বাদশী দিনে
ভােজন করিবে। এই ব্রত বিষ্ণুর অতিশয় প্রিয়তম। এই ব্রতে ভগবানের
অতিশয় প্রীতি জন্মে।
একাদশী ব্রতং নাম সর্বকাম ফলপ্রদ।
কৰ্তব্যং সর্বদা বিপ্র বিষ্ণু-প্রীণন কারণং | ১২ বি, ৭
অর্থ। সৰ্ব্বকাম ফলপ্রদ একাদশী নাম ব্ৰত ব্রাহ্মণগণের সর্বদাই কৰ্ত্তব্য।
ইহা বিষ্ণুর প্রীতির কারণ।
আর যাহারা ভগবৎ প্রীতি উদ্দেশ্যে ভজন না করিয়া কেবল শাস্ত্রীয় বিধি
নিষেধের অনুবর্তী হইয়াই ভজনােন্মুখ হইয়াছেন, তাহাদের প্রবৃত্তি আকর্ষণ
জন্য বলা হইয়াছে,
বিধিপ্রাপ্তত্বং
“একাদশা মুপবসে কদাচি দতিক্রমেৎ।” ১২ বি, ৮
অর্থ। একাদশী দিনে উপবাস করিবে, কদাচ উহা লঙ্ঘন করিবেনা।
এই বিধি ৰাক্য দ্বারা এবং
ভােজন নিষেধঃ ।
একাদশ্যাং নভুঞ্জীত কদাচিদপি মানবঃ। ১২। বি, ১০
মানব কখনও একাদশী দিনে ভােজন করিবে না।
এইরূপ ভােজন নিষেধক প্রমাণ দ্বারা অন্বয় ব্যতিরেকে দুই প্রকারেই
উক্ত ব্রতের নিত্যতা প্রমাণিত করিয়াছেন।
আর যাহারা ভগবৎ প্রীতিলাভের আকাঙ্ক্ষা রাখেন না, অথচ বিধি কিম্বা
নিষেধের অনুবর্তিতায় ও ভগবদ্ভজনে উন্মুখ নহেন। কেবল বিষয় বাসনায়ই
বিজড়িত, তাহাদিগকেওঁ মহাপাপ হইতে আত্মরক্ষার জন্য বলিয়াছেন,
৪
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা
[ ১ম অধ্যায়
অকরণে প্রত্যয়ঃ।
শ্রীনারদীয়ে
“যানি কানিচ পাপানি ব্ৰহ্মহত্যা সমানি চ।
অন্ন মাশ্ৰিত্য তিষ্ঠন্তি সংপ্রাপ্তে হরিবাসরে।
তানি পাপাত্মবাপ্নোতি ভুঞ্জানাে হরিবাসরে। ১২ বি, ১২
অর্থ। হরি বাসর (একাদশী) প্রাপ্ত হইলে ব্ৰহ্মহত্যা সদৃশ যত পাপ,
তৎসমুদয় অন্নে অবস্থিতি করে। যে একাদশী দিনে ভােজন করে, সে সেই
সমস্ত পাপ প্রাপ্ত হয়।
বিষ্ণু ধৰ্ম্মোত্তরে
একাদশ্যাং হিভুঞ্জানাে ভুঙক্তে গােমাংস মেবহি। ১২ বি, ১৫
অর্থ। যিনি একাদশী দিনে ভোজন করেন, তিনি গােমাংসই ভক্ষণ
করেন।
এইরূপে অকরণে প্রত্যবায়ােৎপত্তি প্রদর্শন করিয়া নিত্যতা অবধারিত
করিয়াছেন। কি ভক্তি-নিষ্ঠ, কি ভজনােন্মুখ, কি তটস্থ, সকলের পক্ষেই
একাদশী ব্রত অবশ্য কর্তব্য।
অধিকারী নিয়।
বৃহন্নারদীয় পুরাণে
ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বিশাং শূদ্ৰাণা ঞ্চৈব যােষিতাম্।
মুক্ষদং কুৰ্ব্বতাং ভক্ত্যা বিষ্ণোঃ প্রিয়তমং দ্বিজাঃ। ১২ বি, ৬
হে ব্ৰাহ্মণগণ! ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র এবং সমস্ত জাতীয় স্ত্রীবর্গ
ভক্তিপূর্বক বিষ্ণুর প্রিয়তম একাদশী ব্রত করিলে ঐ ব্ৰত তাহাদিগকে মুক্তি
প্রদান করেন।”
এই বচনে স্ত্রী পুরুষ সকলেরই এই ব্রতে অধিকার দেখা যাইতেছে।
কাত্যায়ন স্মৃতৌ-
বিধবা যা ভবে স্নারী ভুঞ্জীতৈকাদশী দিনে।
তস্যাঃ সুকৃতং নদে জণহত্যা দিনে দিনে ১২ বি', ১৯
১ম অধ্যায়]
অধিকারী নির্ময়
যে বিধবা রমণী একাদশী দিবসে ভােজন করে, তাহার সমস্ত পুণ্য ক্ষয়
প্রাপ্ত হয় এবং সে প্রতিদিন দ্রুণহত্যা পাপে লিপ্ত হইতে থাকে।
এই বচন দ্বারা বিধবা স্ত্রীগণের একাদশী ব্রতে পূর্ণাধিকার প্রতিপন্ন হইতেছে।
পাছােত্তর খণ্ডে
শিব পার্বতী সংবাদে।
বর্গানামামিণাঞ্চ স্ত্রীণাঞ্চবরবর্নিনি!
একাদশ্য পবাস স্তু কৰ্ত্তব্যো নাত্ৰ সংশয়ঃ ॥ ১২ বি, ৩০
অর্থ। শিব পার্বতীকে বলিতেছেন,-হে বরবর্নিনি! ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়,
বৈশ্য ও শূদ্র (বণ) ব্রহ্মচারী, গৃহস্থ, বাণপ্রস্থ ও যতি ( আশ্রমী) এবং
স্ত্রীগণের একাদশীর উপবাস কৰ্ত্তব্য, ইহাতে সংশয় নাই।
নারদীয়ে
কুৰ্য্যা রাে বা নারী বা পক্ষাে রুভয়াে রপি। ১২,
কুৰ্যা নুরাে বা নারী বা ইত্যনেন চতুৰ্ব্বানাং আমিং
অন্ত্যজানাং যােষিতাঞ্চ অধিকারাে দর্শিতঃ।
ইতি দিগদর্শনী। ১২ বি। ৩০
অর্থ ! নর এবং নারী সকলই উভয় পক্ষের একাদশীতে উপবাস করিবে।
ইত্যাদি বচন দ্বারা চত্তৰ্বর্ণ, চত্তরাশ্রমী, অন্ত্যজ এবং স্ত্রীগণের অধিকার
প্রদর্শিত হইল।
বি ৩২
বিষ্ণু ধৰ্মোত্তরে
সপুত্ৰ সভাৰ্য্যশ্চ স্বজনৈ ভক্তিসংযুতঃ।
একাদশ্যা মুপবসেৎ পক্ষয়ে ভয়ে রপি ॥ ১২ বি, ১৯
ভক্তিমান্ ব্যক্তি পুত্র, ভাৰ্যা ও আত্মীয়গণের সহিত উভর পক্ষের
একাদশীতেই উপবাস করিবেন।
এই বচন দ্বারা সধবা স্ত্রীগণের ও উক্ত ব্রতে অধিকার উল্লিখিত হইয়াছে।
তবে যে মনু বলিয়াছেন,-
“নাস্তি স্ত্রীণাং পৃথগ যজ্ঞে নব্রতং নাপুপােষণং।
ইতি দিগদর্শনী। ১২ বি, ৩০
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ১ম অধ্যায় । অর্থ। স্ত্রীলােকের পৃথক্ কোন যজ্ঞ নাই, ব্ৰত নাই, উপবাস নাই আর বিষ্ণু বলিয়াছেন, পত্যৌ জীবতি যা নারী উপবাস ব্রত ঋরেৎ। আযূঃ সা হরতে ভর্তু, নরক ঞ্চৈব গচ্ছতি ॥ ইতি-দিগদর্শনী। ১২ বি, ৩০ অর্থ। যে নারী পতি জীবিত থাকিতে উপবাস ব্রত আচরণ করে, সে ইহলােকে থাকিয়া পতির আয়ুঃ হরণ করে ও পরলােকে নরক-গামিনী হয়। এই সকল বাক্য যাহারা স্বামীর অনভিপ্রায়ে উপবাস করেন, তাহাদের সম্বন্ধেই বুঝিতে হইবে। এই জন্যই শঙ্খ ও লিখিত বলিয়াছেন, “কামং ভর্তরজ্ঞয়া ব্রতােপবাসাদীনারভে, দিতি দিগদর্শনী। ১২ বি, ৩০ স্বামীর আদেশ কমে যথেচ্ছরূপে ব্রত ও উপবাসাদি আরম্ভ করিবে।” অথবা এই সকল বিধি ও নিষেধবাক্য বৈষ্ণবাতিরিক্ত স্ত্রীগণের বিষয়েই অভিহিত হইয়াছে বলিয়া বুঝিতে হইবে—এবং এই মত শুক্লা ও কৃষ্ণা একাদশীর তারতম্য ও অবৈষ্ণব বিষয়ক। অষ্টবর্ষাধিকে মর্ত্তো হপূর্ণাশীতি বৎসরঃ। যাে ভুঙক্তে মামকে রাষ্ট্রে বিষ্ণো রহনি পাপকৃৎ। স মে বধ্যশ্চ নিৰ্ব্বাস্যো দেশতঃ কালত মে। এতস্মাৎ কারণ বিপ্র একাদশা মুপােষণম্। কুৰ্য্যা নুরাে বা নারী বা পক্ষয়ে রুভয়াে রপি। ১২ বি—৩২। শ্ৰীমন্ মহারাজ রুক্সাঙ্গদ পটহ বাদন পূর্বক তাহার রাজ্যে ঘােষণা করিয়া- ছিলেন যে—যাহার বয়স অষ্টম বর্ষ অতিক্রম হইয়াছে এবং অশীতিতম বৎসর অতীত হয় নাই, এমন মনুষ্য মাত্রেই যদি আমার রাজ্যে থাকিয়া শ্রীহরিবাসরে অর্থাৎ বিহিত একাদশী দিনে ভােজন করে, তবে সেই পাপাচারী আমার বধযােগ্য, কিন্তু যাঁহাদের পক্ষে বধাই দোযে ও মৃত্যুদণ্ড অবৈধ, তাহারা চিরকালের জন্য আমার অধিকৃত সমস্ত দেশ হইতে নির্বাসিত হইবে। হে ব্রাহ্মণ! এই হেতু কি স্ত্রী কি পুরুষ সকলেই অর্থাৎ যাহাদের বয়স আট বৎসয়ের অধিক ও আশী বৎসরের মধ্যে এই মত মনুষ্য মাত্রেরই শুরু ও কৃষ্ণপক্ষের উভয় একাদশীতেই উপবাস করিতে হইবে ১ম অধ্যায় ] অধিকারী নির্নয় ৭ তত্ত্ব সাগরে যথা শুকা তথা কৃষ্ণা যথা কৃষ্ণা তথেতরা। তুল্যে তে মনুতে যস্তু স বৈ বৈষ্ণব উচ্যতে ॥” ১২ বি, ২২ শুক্লা একাদশী যেমন মাননীয়া কৃষ্ণা একাদশী ও তেমনই আদরণীয়া, কৃষ্ণা ও যা শুক্লা ও তা, এইরূপে উভয় পক্ষীয় একাদশীকেই যিনি তুল্য জ্ঞান করেন, তিনিই বৈষ্ণব। বৈষ্ণবের সামান্য লক্ষণে এইরূপ উল্লেখ থাকায় পুত্ৰ ভাৰ্য্যা সমন্বিত গৃহস্থ বৈষ্ণবের ও শুক্লা কৃষ্ণা ভেদ কর্তব্য নহে, আর “স পুত্ৰশ্চ স ভাৰ্য্যশ্চ স্বজনৈ ভক্তিসংযুত একাদশ্য মুপবসেৎ পক্ষয়ে ভয়াে রপি ॥ ইত্যাদি প্রমাণানুসারে বিষ্ণুপরায়ণ। সধবা স্ত্রীগণের এবং পুত্রবান গৃহস্থবর্গের ও শুক্লা কৃষ্ণা ভেদজ্ঞান কর্তব্য নহে। কাল মাধবীয়ে ভবিষ্যোত্তর- একাদশীযু কৃষ্ণা রবি সংক্রমণে তথা । চন্দ্ৰ সুৰ্যোপরাগে চ ন কুৰ্য্যাৎ পুত্রবান গৃহী। পুত্রবান্ গৃহস্থ ব্যক্তি সমস্ত কৃষ্ণা একাদশী, সংক্রান্তি এবং চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্য গ্রহণে উপবাস ব্রত করিবে না । কাল মাধবীয়ে ভবিষ্যোত্তর- একাদশাং ন ভুঞ্জীত পক্ষয়ে রুভয়ো রপি। ব্রহ্মচারী চ নারী চ শুক্লা মেব সদা গৃহী। ব্রহ্মচারী পুরুষ ও ব্রহ্মচৰ্য্যাবলম্বিনী বিধবা রমণী শুক্ল ও কৃষ্ণ উভয় পক্ষের একাদশীতে ভােজন করিবে না, আর গৃহস্থ ব্যক্তি সর্বদা শুক্লা একাদশীতেই ভােজন করিবে না । উল্লিখিত বচন দ্বয়ে পুত্রবান গৃহস্থের পক্ষে কৃষ্ণা একাদশীতে উপবাস নিষেধ করিয়া যে কেবল শুক্লা একাদশীতেই উপবাসের বিধান করা হইয়াছে। তাহা বৈষ্ণবাতিরিক্ত ব্যক্তির সম্বন্ধে বুঝিতে হইবে—অথবা ঐ সকল নিষেধক বচন সকামােপবাস বিষয়ক বলিয়াই অবধারণ করিবে। - পৃষ্ঠায় অনুবাদ দ্রষ্টব্য।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ১ম অধ্যায় অনুকম্প বা প্রতিনিধি যাহারা রােগগ্রস্ত কিম্বা রােগমুক্ত হইয়াও দুর্বলতা প্রযুক্ত উপবাসে অসমর্থ অথবা উপবাস ক্লেশে যাহাদের শারীরিক বিশেষ অনিষ্ট সম্ভাবনা, এইমত ক্ষীণ বীৰ্যব্যক্তির পক্ষে প্রতিনিধি দ্বারা দুই রকম গৌণ উপায়ে ব্ৰত রক্ষার বিধান রহিয়াছে। উপবাসে অসমর্থ ব্যক্তি উপবাসের প্রতিনিধি স্বরূপ পঞ্চগব্যাদি . যথাযােগ্য ভক্ষ্য আহার করিরাও ব্ৰত সম্পাদন করিতে পারেন, ইহাই ব্রতের প্রতিনিধি কিম্ব প্রথম রকমের গৌণ উপায়। আর উক্তবিধ উপায়ে ও যাহারা ব্ৰত রক্ষায় অক্ষম অর্থাৎ যাহারা হবিষ্যান্ন পৰ্য্যন্ত ভক্ষণ করিয়াও একাদশী ব্রতের মর্যাদা রক্ষা করিতে শক্তিহীন ; তেমন মুমুধু ব্যক্তি প্রতিনিধি দ্বারা যথাবিধি উপবাস ব্ৰতানুষ্ঠান করাইয়া ব্ৰতভঙ্গ জনিত মহাপাপ হইতে আত্মরক্ষা করিতে পারেন; ইহাই ব্ৰতীর প্রতিনিধি কিম্বা দ্বিতীয় রকমের গৌণ উপায়। ব্রতের প্রতিনিধি অপেক্ষা ব্ৰতীর প্রতিনিধি অপ্রশস্ত। (ব্ৰত প্রতিনিধি কিম্বা প্রথম শ্রেণীর অনুকল্প ) মার্কণ্ডেয় পুরাণে এক ভক্তেন ননে বাল-বৃদ্ধাতুর ক্ষিপেৎ। পয়ে মূল ফলৈ বাপি ন নিৰ্দাদশিকোভবেৎ। * ১২ বি ৩৬ বালক অর্থাৎ যাহাদের বয়স ষােড়শবর্ষ পূর্ণ হয় নাই, বৃদ্ধ অর্থাৎ যাহার সত্তর বৎসরের অধিক বয়স্ক ও আতুর অর্থাৎ যাহারা রােগাদি দ্বারা নিতান্ত * নিৰ্দাদশিক ইত্যত্র হ্রস্বত্ব মাম্ ছন্দোমুরােধা। নিৰ্দাদশিক একাদশী ব্রতরহিত ইতি দিগদর্শনী দৃশ্য।। ৩৬ + আযােড়শাদ ভবেদ বাল তরুণ স্তত উচ্যতে। বৃদ্ধঃ স্যাৎ সপ্ততে রূৰ্দ্ধং বর্ষীয়ান্ নবতে পরম্। ভরতধৃত স্মৃতি। বস্তু ত্রিবিধং বাল্যং মধ্যমং বার্ধকথা। উন যােড়শবস্তু নরাে বালাে নিগদ্যতে। মধ্যে যােড়শ সপ্তহত্যা মধ্যমঃ কথিতো বুধৈঃ। ততন্তু সপ্ততে রূৰ্দ্ধং ক্ষীণ ধাতু রসাদিক। কাস স্বাদিভিঃ ক্লিষ্টো বৃদ্ধে। ভবতি মানব (সুতঃ ) উপরি উক্ত স্থলে বালক শব্দে যাহাদের বয়স আট বৎসরের অধিক তাহারাই লক্ষীভূত, যেহেতু তৎপূর্বে তাহাদের একাদশীতে অনধিকারই কথিত হইয়াছে। # ১ম অধ্যায়] অনুকল্প বা প্রতিনিধি ১ c ক্ষীণবল তাহারাও একভক্ত কিম্বা নক্তব্ৰত অথবা দুগ্ধ, মূল ও ফল ভক্ষণ করিয়া একাদশী দিন যাপন করিবে, কিন্তু তথাপি ব্ৰত পরিত্যাগ করিবে না। এই বচনে এক ভক্ত, নক্তব্ৰত ও দুগ্ধ মূল ফলাহার রূপ ত্রিবিধ অনুকল্প নির্দিষ্ট হইয়াছে, বলা বাহুল্য যে, একভক্ত অপেক্ষা নত উৎকৃষ্ট ও এতদুভয় অপেক্ষা দুগ্ধাদি ভক্ষণ উৎকৃষ্টতর। বৌধায়ন স্মৃতৌ- উপবাসেত্বশানা মশীতে রূৰ্ধ জীবিনা। একভক্তাদিকং কাৰ্য্য মাহ বৌধায়নাে মুনিঃ। ১২ বি, ৩৬ ব্যাধিভিঃ পরিভূতানাং পিতাধিক শরীরিণাম্। ত্রিংশত্বাধিকানাঞ্চ নক্তাদি পরিকল্পন। ১২ বি, ৩৭ যাহারা অশীতির উৰ্দ্ধ বয়স্ক অথবা উপবাসে অসমর্থ, তাহাদের একভক্ত বা নক্তব্ৰতাদি কর্তব্য, বৌধায়ন মুনি এইপ্রকার বলিয়াছেন। যাহারা ব্যাধি গ্ৰন্ত, যাহাদের শরীর পিত্তপ্রধান অথবা পঞ্চাশদ্বষ বয়সের পরেও ত্রিংশদ্বষ ( অর্থাৎ অশীতিবর্ষ) অতিক্রম হইয়াছে, তাহার উত্তরােত্তর প্রশস্ত একভক্ত কিম্বা নক্তব্ৰত প্রভৃতি অনুকল্প করিবে। স্কন্দ পুরাণে- দিনাৰ্দ্ধ সময়ে হতীতে ভুজ্যতে নিয়মেন যৎ। একভক্ত মিতি প্রােক্তং কৰ্ত্তব্যং তৎ প্রযত্নত। ততে রাত্রিং নয়ে ব্রাঞ্চ ব্রহ্মচারী জিতেন্দ্রিয়ঃ । ভগবন্তং স্মরন ভক্ত্যা ভূমিশায়ী সুখং স্বপন। ১৩ বি, ৭ উপবাস দিনে দিনাৰ্দ্ধ সময় অর্থাৎ দিবা দ্বিতীয় প্রহর অতীত হইলে সংযম দিনােক্ত নিয়মানুসারে হবিষ্যান্ন ভক্ষণ করার নাম “একভক্ত। একভক্ত ব্ৰতে ব্রহ্মচর্য অবলম্বন পূর্বক জিতেন্দ্রিয়তার সহিত ভগবানকে স্মরণ করিতে করিতে ভূমি শয্যায় শয়ন করিয়া রাত্রি যাপন করিবে। নক্তব্ৰত হেমাদ্রি পরিশেষ খণ্ডে কাল নিয়ে ভবিষ্য পুরাণ "নক্ষত্র দর্শনে নং প্রাগ যামা ভ্যন্তরাশন।” নক্ষত্র উদয়ের পর রাত্রির প্রথম প্রহরের মধ্যে হবিষ্যান্ন ভােজনের নাম ১০ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [১ম অধ্যায় নক্ত, কিন্তু এইরূপ নক্ত কেবল গৃহস্থ গণেরই কর্তব্য; যতি গণের পক্ষে দিবসীয় অষ্টম যামাৰ্দ্ধই নক্ততে ভােজন কাল। তত্রৈব দেবল বচন নক্ষত্র দর্শনা মুক্তং গৃহস্থ বুধৈঃ স্মৃতম্ । যতে দিনাষ্টমে ভাগে তন্য রাত্রে নিষিদ্ধ্যতে। গৃহস্থগণের পক্ষে নক্ষত্র দর্শনের পরবর্তীকাল ও যতিগণের পক্ষে দিবসের অষ্টম ভাগ অর্থাৎ সাড়ে তিন প্রহরের পর সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত পণ্ডিতগণ কর্তৃক ‘নক্ত' বলিয়া স্বীকৃত হইয়াছে। যতিগণের রাত্রিতে ভােজন নিষিদ্ধ। নক্ত ভােজী ব্যক্তি হবিষ্যান্ন-ভােজন, স্নান, সতবাক্য, আহারের লঘুতা, হােম ও ভূমি শয্যায় শয়ন, এই ছয়টা কাৰ্য অবশ্য প্রতিপালন করিবেন। এই বিষয়ে জীমূত বাহন প্রণীত কাল বিবেক প্রমাণিত ভবিষ্য পুরাণের উক্তি প্রদর্শিত হইতেছে-- হবিষ্য-ভােজনং স্নানং সত্য মাহার-লাঘবম্। অগ্নিকাৰ্য মধ:শয্যাং নক্তভােজী যড়াচরেৎ। - নক্ত যােগে হবিষ্যান্নাদি বায়ু পুরাণে- নং হবিষ্যান্ন মনােদন ফলং তিলাঃ ক্ষীর মথাম্বুচাজ্যম্ । যৎ পঞ্চগব্যং যদিবাথ বায়ু প্রশস্ত মত্রোত্তর মুত্তরঞ্চ ॥ ১২ বি, ৩৯ * এবং নক্তব্ৰত গুরুতেন প্রাগুক্ত বায়ু পুরাণ বচনে নমিতি হবিষ্যান্নাদি ভােজনস্য কাল পরং নতু নক্ত ব্ৰতপরং, তথাত্বে উত্তরােত্তর গুরু ব্রতোপদেশ প্রস্তাবে তদনতরং কেবলং হবিষ্যায়ােপদেশানুপপত্তেঃ ইত্যেকাদশীত্বে রঘুনন্দনঃ। রঘুনন্দন কৃত ব্যাখ্যার অর্থ এই প্রকার নব্রতের গুরুত্ব হেতু পূর্বোক্ত বায়ু পুরাণ বচনে ‘নক্তং হবিষ্যান্নং” এই স্থলে “মুক্ত” পদ হবিষ্যান্নাদি ভােজনের কাল পর নক্ত ব্ৰত পর নহে। তাহার কারণ, ব্ৰতপর স্বীকার করিলে উত্তর উত্তর গুরু ব্ৰতের উপদেশ প্রস্তাবে “প্রশস্ত মত্রোত্তর মুত্তরঞ্চ” এই স্থলে তদনন্তর অর্থাৎ সকলের পর হবিষ্যায় উপদেশের অনুপপত্তি হয় অর্থাৎ অসঙ্গতি হয়। অতএব ব্ৰত পর নহে, কাল পর।
১ম অধ্যায় ]
অকল্প বা প্রতিনিধি
১১
রাত্রি যােগে হবিষ্যান্ন অথবা রাত্রিযােগে অন্নাতিরিক্ত খাদ্য + অথবা
রাত্রি কালে ফল, তিল, দুগ্ধ, জল, ঘৃত কিম্বা মিশ্রিত পঞ্চগব্য অথবা কেবল
বায়ু ভক্ষণ করিবে। উল্লিখিত বস্তু সমূহের মধ্যে পূৰ্ব্ব পূৰ্ব অপেক্ষা পর
পরটি উৎকৃষ্ট কল্প অর্থাৎ একাদশী ব্রতে সর্ববিধ পান ভােজন ত্যাগ প্রথম কল্প,
তাহাতে অসমর্থ ব্যক্তিরা পঞ্চগব্য ভক্ষণ করিতে পারেন, ইহা কষ্টকর হইলে
কেবল ঘৃত সেবন করা যাইতে পারে, তাহা ক্লেশসাধ্য হইলে শুধু জল পান
করিতে পারেন, ইহা অসহনীয় হইলে দুব্ধ পান, তাহাতেও অশক্ত হইলে
তিল ভক্ষণ, ইহাতেও অসামর্থ্যে ফলাহার, তদশক্তিতে অন্নাতিরিক্ত খাদ্য,
প্রথম বায়ু ( নিরাহার) পরে পঞ্চগব্য, পরে ঘূত, পরে জল, পরে দুগ্ধ,
পরে তিল, পরে ফল, পরে অনােদন অর্থাৎ অন্নভিন্ন সমস্ত, সকলের পর
হবিষ্যান্ন । এই প্রস্তাবে পূর্ব পূৰ্ব অপ্রশস্ত, পর পর প্রশস্ত।
* অন্নন্তু ধান্য সস্তৃতং গিরিজে যদি জায়তে।
ধান্ধানি বিবিধানীহ জগত্যাংশৃণু যত্ন।
শ্যাম মাস মহরাশ্চ ধান্য কোদ্রব সর্যপাঃ।
মুষ্টকো রাজমাষাশ্চ তুমুরাে জুমর স্তথা।
যব গােধূম মুদগাশ্চ তিল কঙ্গু কুলখকাঃ।
গবেধুকাশ্য নীবারা আকাশ্চ কলায়কাঃ ।
মাগুকো বকো রঙ্গঃ কীচকো বড়কথা।
তিলকা চণকাদ্যাশ্চ ধান্যানি কথিতানি বৈ ।
এড়কান্য সমুদ্ভূতং অনুং ভবতি শােভনে।
অন্নত্যাগে ব্ৰতে ভক্ষ্য মেতদেব বিবর্জয়েৎ ॥
ইতি শব্দ কল্পদ্রুম প্রমাণিত পাঘােতর খণ্ড।
এই স্থলে তিল ও অন্ন মধ্যে গণিত হইয়াছে। কিন্তু “ফলং তিলাঃ ক্ষীর মথা
চাজ্য।” ইত্যাদি বচনে উত্তরােত্তর প্রশস্ত অনুকল্প পরিগণনায় ফল হইতেও
তিলের উৎকর্ষ-কীৰ্তিত হওয়ায় তিল ভক্ষণে অল্প ভক্ষণ জনিত দোষ ঘটিবে না।
১২ বৈষ্ণববাপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ১ম অধ্যায় উহাতেও অপারগ হইলে হবিষ্যান্ন পৰ্যন্ত ভক্ষণরূপ অনুকল্প করিলে ও ব্ৰতরক্ষা হইতে পারে, কিন্তু এই সকল অনুকল্প রাত্রি যােগেই বিহিত। রাত্রিতে হবিষ্যায় করিয়া ও যিনি ব্রত রক্ষায় অক্ষম, তিনিই পূর্বোক্ত এক ভক্ত অর্থাৎ দিবা দুই প্রহরের পর নিয়ম পূৰ্ব্বক হবিষ্যান্ত করিবেন। কিন্তু এ স্থলে ইহা অবশ্য বক্তব্য যে,দিনাৰ্দ্ধের পর হবিষ্যায়ের (একভক্তের) বাচনিক বিধানের ন্যায় দিব যােগে ফল মূলাদি ভক্ষণের বাচনিক বিধান না থাকিলেও হবিষ্যান্ন বিধানের দ্বারাই ফলমুলাদি ভক্ষণ ও বিহিত হইয়াছে, ইহা কৈমুতিক ন্যায়-সিদ্ধ। অতএব অপেক্ষাকৃত সমর্থ বক্তি একভক্ত না করিয়া দিবা যােগে জল পানাদি উৎকৃষ্টতর অনুকল্প করিবেন ; যে হেতু জল, মূল, ফল, দুগ্ধ, ঘৃত ও ঔষধ সেবনে ব্ৰত নষ্ট হয় না, পরন্তু ব্রাহ্মণের প্রার্থনা বা গুরুদেবের আদেশ ক্রমে তদতিরিক্ত ইক্ষুরস, দধি ও নবনীত প্রভৃতি সামগ্রীও (অর্থাৎ যাহা যাহা অমধ্যে পরিগণিত হয় নাই) উপবাস দিনে ভক্ষণ করা যাইতে পারে, তাহাতে ব্ৰত বিঘাত হয় না। এই বিষয়ে প্রমাণ যথা অষ্টৈতান্তব্ৰতানি আপাে মূলং ফলং পয়ঃ। . হবিব্রাহ্মণ-কাম্যাচ গুরােবচন মৌষধ ॥ ১২, বি ৪০ জল, মূল, ফল, দুগ্ধ, ঘৃত, ব্রাহ্মণের কামনা, গুরুবাক্য ও ঔষধ এই আটটি ব্ৰত বিঘাতক নহে। ব্ৰতীর প্রতিনিধি যাহারা রােগাদি জনিত দুর্বলতায় হবিষ্যান্ন পৰ্যন্ত অনুকল্পের ( উপবাস প্রতিনিধির) অনুষ্ঠানেও শক্তিহীন তাদৃশ্য ব্রতকারীর জন্য প্রতিনিধির দ্বারা ব্ৰতসম্পাদনের বিধান রহিয়াছে। বারাহে অসামর্থ্যে শরীরস্য ব্রতে বা সমুপস্থিতে। কায়ে কর্মপত্নী ঞ্চ পুত্ৰং বা বিনয়াম্বিতমু। ভগিনীং ভ্রাতরং বাপি ব্ৰত মস্য নলুপ্যতে । ১২ বি, ৩৫ নােগাদি দ্বারা শরীরের একান্ত দুর্বলতা অবস্থায় একাদশী প্রভৃতি অবশ্য কর্তব্য উপবাস ব্ৰত উপস্থিত হইলে ধর্মপত্নী, বিনীতপুত্র, ভগিনী কিম্বা ভ্রাত ইহাদের কেহকে অনুমতি দিয়া উপবাস ব্রত করাইবে, তবেই অসমর্থ ব্যক্তি উপবাস ব্রত বিলুপ্ত হয় না। কাত্যায়ন – পিতৃ মাতৃ পতি ভ্রাতৃ গুৱেৰ্থেতু বিশেষতঃ। উপবাস প্রকুৰ্বাণঃ পুণ্যং শতগুণং লভেৎ। ১২ বি, ৩৫
২য় অধ্যায়] একাদশীর সম্পন্ন ও বিদ্ধা নির্ণয়
যাহারা পিতা, মাতা, পতি, ভ্রাতা কিম্বা গুরুর উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রকারে
উপবাস করে, তাহারা স্বার্থ উপবাস হইতে ও শতগুণ পুণ্যলাভ করিয়া
থাকে।
এই বচন অনুসারে শিষ্য ও গুরুর প্রতিনিধি হইতে পারেন।
এখন সম্পূর্ণ বিদ্ধা ভেদে একাদশী নির্ণয় করা যাইতেছে।
ইতি স্বরূপ দামােদর গােস্বামি-ভ্রাতৃ বংশােব কৃষ্ণ হরি গােস্বামি
বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ বিরচিতায়াং বৈষ্ণেবােপবাস ব্ৰত মীমাংসায়াং
একাদশী নিত্বত্যাদি নিয়ে নাম প্রথম অধ্যায়ঃ । •
দ্বিতীয় অধ্যায়।
একাদশীর সম্পূর্ণ ও বিদ্ধা নির্ময়
সম্পূর্ণ ও বিদ্ধা ভেদে অপরাপর তিথির ন্যায় একাদশী ও দুই প্রকার ;
বিদ্ধা ও আবার পূৰ্ববিদ্ধা ও পরবিদ্ধ। ভেদে দুই রকম, তন্মধ্যে পূৰ্ববিদ্ধাই
পরিত্যাজ্য।
পৈঠানসি বলিয়াছেন :-
নাগবিদ্ধাচ যা যষ্ঠী শিব বিদ্ধাচ সপ্তমী।
দশম্যৈকাদশী বিদ্ধা তত্র নােপবসে দুধ। ১২ বি, ৭৪
পণ্ডিত ব্যক্তি পঞ্চমী বিদ্ধা ষষ্ঠীতে, যষ্ঠ বিদ্ধা সপ্তমীতে ও দশমী বিদ্ধ।
একাদশীতে উপবাস করিবে না।
শারদা পুয়াণে কথিত আছে -
একাদশী তথা ষষ্ঠী পৌঃ মাসী চত্তৰ্দশী।
তৃতীয়াচ চতুর্থী চ অমাবস্যাষ্টমী তথা।
উপােষ্যাঃ পর সংযুক্তা নােপােষাঃ পূৰ্ব্বসংযুতাঃ ॥ ১২ বি, ৭৪
একাদশী, ষষ্ঠী, পৌঃ মাসী, চতুর্দশী, তৃতীয়, চতুর্থ, অমাবস্যা ও অষ্টমী
এই সকল তিথি পরবিদ্ধা হইলে উপবাসের যােগ্য, কিন্তু পূৰ্ববিদ্ধা হইলে
উপবাসের অযােগ্য।
১৪ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ২য় অধ্যায় সকল তির্থিই সূর্যের উদয় কাল হইতে আরদ্ধ হইয়া ষষ্ঠী দণ্ড কাল স্থায়ী হইলেই শুদ্ধা বা সম্পূর্ণ হয়। রামচন্দ্র ভট্ট কৃত কালনির্ণয় ধৃত এবং দলপতি কৃত নৃসিংহ প্রসাদ কালনির্ণয় সার ধৃত নারদীয় বচন দ্বয় যথা- আদিত্যোদয় বেলায়। আরভ্য যষ্টি নাড়িকা। যা তিথিঃ সা হি শুদ্ধা স্যাৎ সাৰ্বতিথ্যো হয়ং বিধি। আদিত্যোদয় বেলায় প্রাঙ, মুহুর্ত দ্বয়ান্বিতা। একাদশীতু সম্পূন্ন। বিদ্ধান্য পরিকীর্তিতা। অর্থ । সূর্যের উদয় কাল হইতে আরম্ভ করিয়া যে তিথি যষ্টি নাড়িকা অর্থাৎ ষষ্টি দণ্ড ব্যাপিনী হয় (অপর সুৰ্য্যোদয়কে স্পর্শকরে) তাহাই শুদ্ধ। বা সম্পূর্ণ, এই বিধি সৰ্ব্বতিথি বিষয়ক । একাদশী সূর্যোদয়ের পূর্ব দুই মুহূর্ত যুক্ত ষষ্টিদণ্ড অর্থাৎ সূর্যোদয়ের চারি দণ্ড পূর্ব সময় হইতে আরব্ধ হইয়া সুৰ্যোদয় হইতে ষষ্টিদণ্ড ব্যাপিনী হয় অর্থাৎ অপর সূর্যোদয়কে স্পর্শকরে, তবে সম্পন্ন হয়। পূৰ্ববচনে যষ্টি নাড়িকার উল্লেখ আছে ( আরভ্য ষষ্টি নাড়িকা) পরবচনে ( আদিত্যোদয় বেলায়াঃ প্রাঙ মূহূৰ্ত দুয়ান্বিতা) যষ্টি নাড়িকার উল্লেখ নাই। পূৰ্ব্ব বচন হইতে পরবচনে ষষ্টি নাড়িকার অনুবৃত্তি করা হইয়াছে। কাল মাধব ধৃত গরুড়ে আদিত্যোদয় বেলায় আরভ্য ষষ্টি নাড়িকা। সীমৈকা দশী নাম ত্যাজ্যা ধৰ্ম্মফলেভিঃ ॥ ১২ বি, ১২৫ অর্থ। সূৰ্যোদয় হইতে আরম্ভ করিয়া একাদশী ষষ্টি নাড়িকা হইলে তাহাকে সঙ্কীঃ বলে। ধৰ্ম্মফল বাঞ্ছাকারীরা তাহা ত্যাগ করিবেন। স্কন্ধ পুরাণে প্রতিপৎ প্রভৃতয়ঃ সৰ্বা উদয়া দুদয়াবেঃ। সম্পূর্ণ। ইতি বিখ্যাত হরি বাসর বর্জিতাঃ ॥ ১২ বি, ১২০ হরিবাসরং একদশী ইতি দিদর্শনী। ১২ বি, ১২০ এক মাত্র একাদশী ভিন্ন প্রতিপৎ প্রভৃতি অপরাপর সমুদয় তিথিই সূর্যের উদয় কাল হইতে আরব্ধ হইয়া যদি অপর সূর্যোদয় পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে তাহাকে সম্পূর্ণ বলে। তাহার অন্যথা হইলে বিদ্ধা হইবে। যে হেতু যে তিথির যাহা নির্দিষ্ট কাল, ঐ কালে তিথ্যন্তরের প্রবেশের নামই বেধ ।
২য় অধ্যায় ] একাদশীর সম্পূর্ণ ও বিদ্ধা নিগ্নয় তিথি সম্পূন্ন না হইলেই বিদ্ধ হইবে। একাদশীর ভিন্নরূপ সম্পূর্ণতা প্রদর্শিত হইতেছে, --- যথা ভবিষ্য পুরাণে আদিত্যোদয় বেলায় প্রায়ুহূৰ্ত্ত দ্বয়ান্বিত। একাদশী তু সম্পন্ন। বিদ্ধান্য্যা পরিকীর্তিতা। ১২বি, ১২২ সূৰ্য্য উদিত হওয়ার পূর্ব দুই মুহূৰ্ত্ত অর্থাৎ চারি দণ্ড যদি একাদশী থাকে, এবং অপর সূর্যোদয়কে স্পর্শ করে, তবে ঐ একাদশীকে সম্পূন্ন। বলা যায় অর্থাৎ সূর্যোদয়ের চাহিদণ্ড পূর্বে প্রবৃত্ত হইয়া অপর সূর্যোদয়কে স্পর্শ করিলে সম্পূন্ন হয়। তদ্ভিন্ন অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পূর্ব দুইমুহূর্তে দশমীর স্পর্শ হইলেই দশমীবিদ্ধ হইবে। দিদর্শনীকার এইরূপে একাদশীর সম্পূর্নত্ব নির্ধারণ করিয়াছেন। “সম্পূন্ন । অরুণােদয় মারভ্য পরদিনে সূর্যোদয়ং যাবৎ ব্যাপ্তা ইত্যেষ্যা ” ১২বি, ১৪৯ অরুণােদয় হইতে আরম্ভ করিয়া পর দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত ব্যাপ্ত হইলে সম্পুন্ন হইবে । গরুড়ে শিবরহস্যেচ উদয়াৎ প্রাগষদা বিপ্র মুহূর্তদ্বয় সংযুতা। সম্পূন্নৈ কাদশী নাম তত্রৈবােপবসে গৃহী। ১২ বি, ১২১ অর্থ—সূর্যোদয়ের পূর্ব দুই মুহূৰ্তযুক্ত একাদশী দ্বিতীয় সুৰ্যোদয়কে স্পর্শ করিলে সম্পূর্ন হয়। গৃহী তাহাতেই উপবাস করিবে। সূর্যোদয়ের পূর্ব দুই মুহূর্ত অর্থাৎ চারিদণ্ড অরুণােদর কাল অরুণােদয়ে দশমীর স্পর্শ হইলেই একাদশী বিদ্ধা হইবে পূন্ন হইবে না। একাদশীর অন্যপ্রকার সম্পূর্ণতা ব্ৰহ্মবৈবর্তে অরুণােদয় বেলায়াং যা স্তোকাপি তিথি ভবেৎ। পূর্মৈবেত্যব গন্তব্যা প্রভূত নােয়দংবিনা। ১২ বি, ১২৭ তিথিরেফাদশী। অরুণােদয়ং বিনা ন প্রভূতান সম্পূর্ণ। একমরুপােদয়- মারভ্যান্যা রুপােদয়ং যাব্যাপিন্যের সতী সম্পূন্ন স্যাদিত্যর্থ। ইতি দির্শনী ১২ বি, ১২৭ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ২য় অধ্যায় অর্থ। অরুণােদয় বেলাতে একাদশী অল্প থাকিলেও পূন্নাই হয়, অরুণােদয় ভিন্ন সম্পূন্ন হয় না অর্থাৎ এক অরুণােদয় হইতে আরম্ভ করিয়া অন্য অৰুণোদয় পর্যন্ত ব্যাপিনী হইলেই সম্পন্ন হয়। এইরূপ সম্পূন্নাতেই বঙ্গুলীর স্বার্থকতা। কেহ কেহ একাদশী প্রকরণে নারদীয়ে তানি পাপাত্মবাপ্নোতি ভুঞ্জানাে হরিবাসরে। ১২ বি, ১২ এই বচনস্থ ‘হরিবাসর’ একাদশী। নৃসিংহচর্দশী প্রকরণে বৃহন্নারসিংহে বিজ্ঞায় মদ্দিনং যন্তু লয়েৎ সতু পাপভা। ১৩ বি, ৩৩৮ এই বচনস্থিত ‘মদ্দিন’ নৃসিংহচত্তৰ্দশী। শ্রবণা দ্বাদশী প্রকরণে, ব্রহ্মবৈবর্ত । মাসি ভাদ্র পদে শুক্ল পক্ষে যদি হরে দিনে এই বচন স্থিত ‘হরিদিন শ্রবণ দ্বাদশী। জন্মাষ্টমী প্রকরণে বিষ্ণুরহস্যে— পাতিতং নরকে ঘােরে ভুতা কৃষ্ণবাসরে। এই বচন গত ‘কৃষ্ণবাসর’ জন্মাষ্টমী । হরি বাসর, মদ্দিন, কৃষ্ণবাসর ও হরি দিনের যৌগিক অর্থ ধরি। প্রতিপৎপ্রভৃতয়ঃ সৰ্বা উদয়াদুদয়া দ্রবে। সম্পূঃ। ইতি বিখ্যাতা হরি বাসর বর্জিতাঃ । এই বচনের “হরি বাসর” পদে একাদশী, নৃসিংহচর্দশী, জন্মাষ্টমী ও শ্ৰৰণা বাদশীর গ্রহণ করেন। তাহা অযুক্ত, তাহার এককারণ- *আদিত্যোদয় বেলায় আরভ্যষষ্টি নাড়িকা। যা তিথিঃ সাহি শুদ্ধ। স্যাৎ সাৰ্বতিথ্যো হয়ং বিধিঃ । আদিতত্যাদয় বেলায়া প্রাজুহূর্ত দ্বয়ান্বিতা। একাদশীতু সম্পূন্ন বিদ্ধান্যা পরিকীর্তিতা।” এই নারদীয় বচনদ্বয়ের সহিত *প্রতিপৎ প্রভৃতয়ঃ সৰ্ব্বা উদয়াদুদয়াবেঃ। সম্পূন্ন। ইতি বিখ্যাতা হরি বাসর বর্জিতা।”
২য় অধ্যায় ] মুহূর্তনির্ণয় এই স্কাল বচনের এক বাক্যতা করিলে এইস্থলে “হরিবাসর” পদে যে একাদশী তাহা পরিষ্কার রূপে বুঝা যায়। হরি বাসর শব্দ একাদশীতে রূঢ়। হরিবাসর শব্দ যােগরূঢ় বলিয়া কলবিবেক, নিয়ামৃত, নিগ্নয় সিন্ধু, হরিভক্তিবিলাস, তিথিবিবেক, হােমাত্রিকাল নির্নয় পরিশেষ খণ্ড, তিথিতত্ত্ব, একাদশীতত্ত্ব প্রভৃতিতে নিবন্ধকারগণ হরিবাসর শব্দের একাদশী অর্থ করিয়াছেন। রূঢ়, যৌগিক, যােগরূঢ়, পণ্ডিতগণের ব্যবহারেই হয়। দ্বিতীয় কারণ, *আদিত্যোদয় বেলায় আরভ্যষষ্টি নাড়িকা” ইত্যাদি সামান্য বচন দ্বারা একাদশীর ও সম্পূর্ণত্ব পাওয়া গিয়াছে। “আদিতত্যাদয় বেলায়াঃ প্রাঙ্গুহূৰ্ত্ত দ্বয়ান্বিতা” ইত্যাদি বিশেষ বচন দ্বারা অরুণােয়কাল হইতে অপর দুৰ্যোদয় পর্যন্ত একাদশীর ভিন্নরূপে সম্পূর্ণত্ব বিধান করায় একাদশী ভিন্ন সমস্ত তিথিই ষষ্টি দণ্ডব্যাপিনী হইলে সম্পূর্ন হইবে। কেবল একাদশীই হইবে না। এতদ্বারা নৃসিংহ চতুর্দশী, জন্মাষ্টমী ও শ্রবণাদ্বাদশীকে ব্যাবৃত্তি করা হইল। নৃসিংহ চতুর্দশী, জন্মাষ্টমী, শ্রবণাদ্বাদশী, যােগরূঢ় হরিবাসর শব্দবাচ্য নহে। মুহূর্তনির্ণয় সূর্যোদয়ের অব্যবহিত পূৰ্ব দুই মুহূর্তকে অরুণােদয় কাল বলিয়া ধরা হইয়াছে, এই কারণেই এই স্থলে দওয়াত্মক মুহূর্তের গ্রহণ সঙ্গত মনে করিয়া “আদিতত্যাদয় বেলায় প্রাঙ মুহূর্ত-দুয়ান্বিতা” * এই বচনেয় মুহূর্ত দ্বয় শব্দের চারিদও পরিমিত কাল ব্যাখ্যা করা হইয়াছে। শাস্ত্রকারগণ দুই প্রকার মুহূর্তের উল্লেখ করিয়াছেন; দিবা বা রাত্ৰিমাননয় পঞ্চদশ ভাগের একভাগ এক প্রকার,-আর দণ্ডদ্বয় পরিমিত কাল অন্য প্রকার মুহূর্ত। এই বিষয়ে প্রমাণ যথা :- অপঞ্চদশাংশে রাত্রেশ্চৈব মুহূর্ত ইতি সংজ্ঞা। ইতি কাল বিবেক ধৃত বরাহমিহির। দিন মানের পঞ্চদশাংশ অথচ রাত্ৰিমানের পঞ্চদশাংশ, মুহূর্ত নামে অভিহিত।” বলাবাহুল্য এইপ্রকার মুহূর্তের দিবা রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি অনুসারে হ্রাস বৃদ্ধি হইয়া থাকে। দ্বিতীয় প্রকার মুহূর্ত যথা- ১৫ পৃষ্ঠায় অনুবাদ আছে।
Sbo বৈষ্ণবােপাস ব্ৰত মীমাংসা [ ২য় অধ্যায় নির্ণয়ামৃত ধৃত মহাভারতে। কর্ষেণাভ্যধিকৈঃ ষড় ভিঃ পলৈস্তাস্যভাজ। ত্রিংশদঙ্গুলিবিস্তার মুচ্ছিতং চতুরঙ্গুলম্ । স্বর্ণমাষেণ কৃত্বাতু চতুরঙ্গুল কণ্ঠিকাম্। মধ্যভাগে তয় বিদ্ধং সা নাম ঘটিকা স্মৃত। তঙ্কুেণাভসা পাত্ৰং যাবৎ কালেন পূৰ্যতে। স কালো নাড়িকা তস্যাঃ ষষ্টিভাগাে বিনাড়িকা । নাড়ীদ্বয়ং মুহুর্ত স্তু ইত্যাদি। ইহার অর্থ ছয় পল * এককর্ষ অর্থাৎ উনিশ ভােলা পরিমিত তাম্রখণ্ড দ্বারা বিস্তায়ে ত্রিশ অঙ্গলি ও উচ্চতায় চারি অঙ্গুলি পরিমাণ একটি পাত্ৰ নিৰ্মাণ করিবে। এক মাষ অর্থাৎ পাঁচরত্তি পরিমাণ স্বর্ণখণ্ড দ্বারা চারি অঙ্গুলি দীর্ঘ একটা শলাকা প্রস্তুত করিবে। এই স্বর্ণময় শলাকা অনায়াসে যাইতে আসিতে পারে, এমত ভাবে ঐ তাম্র পাত্রের মধ্যভাগে একটা ছিদ্র করিবে। ইহার নাম ঘটিকা যন্ত্র। এই যন্ত্র জলপূর্ণ পাত্রের উপরে রাখিয়া দিলে যন্ত্রস্থ বন্ধু পথে জল প্রবেশ করিতে করিতে যে পরিমাণ সময়ে উক্ত যন্ত্র জলে পরিপূর্ণ হয় ঐ পরিমাণ সময়ের নাম নাড়িকা, তাহার ষাইট ভাগের এক ভাগের নাম বিনাড়িকা ; উক্ত দুই নাড়ীতে এক মুহূর্ত। রঘুনন্দন ভট্টাচাৰ্য্য আত্নিক তত্বে উল্লেখ করিয়াছেন-“নাড়ী যষ্ট্যা দিবানিশ” যাইট নাড়ীতে এক অহােরাত্র অর্থাৎ অহােরাত্রের যাইটভাগের একভাগ এক নাড়ী। আবার একাদশীতত্বে বলিয়াছেন “মুহূর্তো ঘটিকাদ্বয়ং” যথা ব্ৰহ্ম সিদ্ধান্তে, ঘটী ষষ্ট্য দিবা নিশম্ । ইহার অর্থ দুই ঘটিকায় এক মূহূৰ্ত্ত, ঘটিক। শব্দ দণ্ড বাচক ; যে হেতু ব্ৰহ্মসিদ্ধান্ত গ্রন্থে বলা হইয়াছে, “ষষ্টি ঘটিকায় এক অহােরাত্র” অর্থাৎ অহােরাত্রের যাইট ভাগের এক ভাগের নাম ঘটিকা। ; পলন্তু লৌকিকৈমানৈঃ সাষ্টরক্তি দ্বিমাষকং । তােলকত্রিতয়ং জ্ঞেয়ং জ্যোতিজ্ঞৈঃ স্মৃতিসম্মতম। ইতি তিথ্যাদিত।
২য় অধ্যায় ] মুহূর্তনিয় ১৯ এইক্ষণে ইহাই বুঝা যাইতেছে যে ঘটিকা ও নাড়িকা এই উভয়ই একার্থ বােধক শব্দ ; দিবা-রাত্রের সমষ্টি পরিমানের যাইট ভাগের এক ভাগের নাম নাড়িকা বা ঘটিকা। এইরূপ দুই নাড়ীতে বা দুই ঘটিকায় এক মুহূর্ত হয়। আদি শাব্দিক শ্ৰীমান অমর সিংহ * বলিয়াছেন— অষ্টাদশ নিমেষান্তু কাষ্ঠা খ্রিংশত্ত তাঃ কলাঃ। তাস্তু ত্রিংশৎ ক্ষণ স্তেতু মুহূর্তো দ্বাদশ স্ক্রিয়া। তেতু ত্রিংশদহােরা। ইহার অর্থ। আঠার নিমেষে এক কাষ্ঠা, ত্ৰিশ কাষ্ঠায় এক কলা, ত্ৰিশ কলায় একক্ষণ, দ্বাদশ ক্ষণে এক মুহূৰ্ত্ত, ত্রিশ মূহুর্তে এক অহােরা,দুই নাড়ীতে বা দুই ঘটীতে বা অহােরাত্রের ত্রিশ ভাগের এক ভাগে যে মূহূৰ্ত্ত উল্লিখিত হইল, ইহাই হ্রাসবৃদ্ধি পরিহীন দ্বিতীয় প্রকার মুহূর্ত। সম্পূর্ণ ত্ব নিরূপণ প্রসঙ্গে সুৰ্যোদয়ের দুই মুহূর্ত পূৰ্ব্ব হইতে বর্তমান একাদশীর সম্পূর্ণ তা নির্ধারিত হইয়াছে। ঐ মুহূৰ্ত্ত অহােরাত্রের ত্রিশভাগের এক ভাগ অর্থাৎ দণ্ডদ্বয়াত্মক, কাজেই দিব কিম্বা রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি অনুসারে উহার (ঐ মুহূর্তের) হাস বৃদ্ধি নাই। পক্ষান্তরে যদি এই মুহূৰ্ত্ত শব্দে রাত্রির পঞ্চদশ অংশই লইতে হয়, তবে ভাবিয়া দেখুন রাত্রি মানের হ্রাস বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অংশরূপী মুহূর্তেরও তারতম্য অপরিহার্য। রাত্রি মানের অল্পতার সময়ে মুহুৰ্তমান ১৪৬ পলের কমও হইতে পারে, আবার বৃদ্ধির সময়ে ২১২ পলের বেশী ও হইতে পারে। তবে দেখা যাইতেছে—ছােট রাত্রিতে দশমীর স্থিতিকাল ৫৬২৮ পলের বেশী হইলেও দশমী বিদ্ধা হইবে , আবার বড় রাত্রিতে দশমীর স্থিতিকাল ৫৫৪০ পলের কম হইলেও দশমী বিদ্ধ হইতে পারে। কিন্তু এইরূপ যে হইতে পারে না, উহা অরুণােদয় নির্ময় প্রসঙ্গে অভিব্যক্ত হইতেছে। * ইন্দ্র শ্চন্দ্ৰঃ কাশ কৃৎস্না পিশলী শাকটায়ন। পাণিন্যমর জৈনো জয়ন্তষ্টাদি শাব্দিকাঃ কবিকল্পদ্রুমঃ। * আদিত্যোদয় বেলায়াঃ প্রাঙ, মুহুর্ত দ্বরান্বিতা। একাদশীতু সম্পূর্ণ। বিদ্বান্যা পরিকীর্তিতা।” ১৫ পৃষ্ঠায় অনুবাদ আছে - २० বৈষ্ণবপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ২য় অধ্যায় অরুণােদয় নিয় কান্দে উদয়াং প্রাকৃ ত + ঘটিকা অরুণােদয়। ১২ বি, ১৩৫ কালমাধবে, দ্বিতীয়াদি প্রকরণে নারদ উদয়াৎ প্রাকৃ চত স্তু নাড়িকা অরুণােদয়ঃ । সূৰ্য্য উদিত হওয়ার অব্যবহিত পূৰ্ব চারি দণ্ড অরুণােদয় কাল। ব্রহ্মবৈবর্ত- ত্রিযামাং রজনীং প্ৰাহু স্ত্যাদ্যন্ত চতুষ্টয়ম্। নাড়ীনাং তে উভে সন্ধ্যে দিবসাদ্যন্তসংক্তিতে। ১২ বি, ১৩৬ “রাত্রির প্রথম চারিদণ্ড ও শেষ চারি দণ্ড এইরূপে একম পরিত্যাগ করিয়া প্রাচীনের রাত্রিকে ত্রিযামা বলিয়াছেন। অর্থাৎ রাএির প্রথম চারিদণ্ড ও শেষ চারিদণ্ড এইরূপে আটদণ্ড ত্যাগ করিলে যাহা অবশিষ্ট থাকে, তাহার প্রত্যেক তৃতীয়াংশে এক যাম । এইরূপ তিন যামে রাত্রি, তাহাই’ ত্রিযামা, বুঝিতে হইবে। অথচ রাত্রির শেষ চারিদণ্ডকে দিবসীয় প্রথম সন্ধ্যা আর রাত্রির প্রথম চারি দণ্ডকে দিবসীয় শেষ সন্ধ্যা বলিয়াছেন।” এই অরুণােদয়কালে দশমীর প্রবেশ হইলেই একাদশী দশমী বিদ্ধ হয়, একাদশীতে অরুণােদয় বিদ্ধা অবশ্য পরিত্যাজ্য। অরুণােদয় বিদ্ধা নিষেধ। কৌৎস :- অরুণােদয় বেলায়াং বিদ্ধা কাচিদুপােষিতা। তস্যাঃ পুত্ৰশতং নষ্টং তস্মাত্তাং পরিবর্জয়েৎ ॥ ১২ বি, ১৩৭ “কাচিৎ একা” ইতি দিগদর্শনী। ১৩৭ অরুণােদয় কালে দশমী বিদ্ধা একটা উপবাস করিলেও তাহার শতপুত্র নষ্ট হয়, অতএব উহা অর্থাৎ অরুণােদয় বিদ্ধা একাদশী পরিত্যাগ করিবে। ভবিষ্য পুরাণে- অরুণােদয় কালে তু দশমী যদি দৃশ্যতে। পাপমূলং তদা জ্ঞেয়ং একদশ্য পবাসিনা। ১২ বি, ১৪০ অরুণোদয়কালে যদি দশমী দর্শন হয়, তবে ঐ বিদ্ধা একাদশী উপবাসকারী দিগের পাপের মূল হয়।
২য় অধ্যায় ] অরুণােদয় বিন্ধা নিষেধ ২১ ভবিষ্যে- অরুণোদয়েতু দশমী গন্ধ মাত্ৰং ভবেদ যদি। দ্রষ্টব্যঃ তৎ প্রযত্নেন বর্জনীয়ং নরাধিপ। ১২ বি, ১২৯ অর্থ। হেনরাধিপ অরুণােদয়ে যদি দশমীর গন্ধ মাত্র অর্থাৎ অত্যল্প ও দেখা যায়, তবে যত্নপূৰ্ব্বক তাহা বর্জন করিবে। গরুড়ে দশমীশেষ সংযুক্তো যদি স্যা দরুণােদয়ঃ । বৈষ্ণবেন ন কৰ্ত্তব্যং তদ্দিনৈকাদশীব্রতং । ১২ বি, ১৩০ অর্থ। অরুণােদয়ে যদি দশমীর অল্প সংযােগও হয়, তবে বৈষ্ণবগণ সেই দিনে একাদশী ব্রত করিবে না। “বৈষ্ণবেন” এই উপাদান থাকায় অবৈষ্ণবেরা অরুণােদয় বিদ্ধা উপবাস করিতে পারে, কেবল সুৰ্যোদয় বিদ্ধা করিতে পারে না। একাদশী অরুণােদয় বিদ্ধা হইলে তাহাতে অষ্টম দ্বাদশীর লক্ষণ গেলেও অষ্টমহাদ্বাদশী হইবে না। অরুণােদয় বিদ্ধা হেতু এই একাদশী ত্যাগ করিয়া দ্বাদশীতে উপবাস করিবে। তাহার দৃষ্টান্ত দেখান যাইতেছে, অরুণােদয় বিদ্ধ। একাদশী ষষ্টি দণ্ডব্যাপিনী হইয়া পরদিনে নির্গত হইলে উন্মীলনী হইবে না। এইরূপ অমাবস্যাও পূন্নি মা যষ্টি দণ্ড হইলেও পক্ষবন্ধনী হইবে না। এইরূপ অৰুণােদয় বিদ্ধা একাদশী বৃদ্ধি না হইয়া দ্বাদশী বৃদ্ধি হইলেও বজুলী হইবে না। এইরূপ অরুণােদয় বিদ্ধ। একাদশী হইলে নক্ষত্রঘটিত জয়া বিজয়া জয়ন্তীও পাপনাশিনী হইবে না। যে তিথির যাহা নির্দিষ্ট কাল ঐ সময় ব্যাপিয়া ঐ তিথি স্থায়ী হইলেই সম্পূর্ণ হয়, তদ্ভিন্নই বিদ্ধা ।* এক তিথির নির্দিষ্টকালে তিথ্যন্তরের প্রবেশের নাম বেধ। যাহার সম্বন্ধে বেধ হয়, তাহাকে বিদ্ধা বলে। অরুণােদয়কালে দশমীর প্রবেশ হইলে একাদশী দশমী-বিদ্ধ হয়। সম্পূর্ণ লক্ষণে বলা হইয়াছে, সূর্যোদয়ের অব্যবহিত পূৰ্ববর্ত্তী দুই মুহূৰ্ত্ত হইতে অপর সূর্যোদয় পর্যন্ত ব্যাপিনী একাদশী সম্পূর্ণ, তদপেক্ষা নূন হইলেই বিদ্ধ হয়। ১৪ পৃষ্ঠায় সম্পূন্ন লক্ষণ দেখুন।
২২ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ২য় অধ্যায় ‘আদিত্যোদয় বেলায়াঃ প্রাঙ, মুহূৰ্ত্ত দ্বয়ান্বিতা। একাদশীতু সম্পূন্ন, বিদ্ধান্যা পরিকীর্তিত।” ১২২ এই বচনের মুহূর্ত শব্দের দুই দণ্ড অর্থ ধরিয়া লইলেই পূর্বাপর সামঞ্জস্য রক্ষা পায়, অথচ কোন তত্ত্বের অবসর থাকে না এবং উদয়ের পূর্ববর্তী দুই মুহূৰ্ত্ত অথচ অরুণােদয় কাল অভিন্নরূপে হৃদয়ঙ্গম হয়। অর্থান্তর কল্পনা করিয়া প্রৌঢ়বাদিতা অবলম্বন করিলেই একবাক্যতা-হানি ও ব্যবস্থাভেদ দোষ উপস্থিত হয়, একদিক্ রক্ষা করিতে যাইলে অপর দিক্ উন্মক্ত হইয়া যায় । বাস্তবিক শাস্ত্রকারগণ এক বাক্যতার সম্ভাবনা থাকিলে বাক্যভেদ কল্পনা ইচ্ছা করেন না। সম্ভবত্যেক বাক্যত্বে বাক্যতােদো নযুজ্যতে। উপবাস দিন নিগ্নয় । পদােত্তর খণ্ডে - অরুণােদয় বেলায়াং দশমী মিশ্রিত ভবেৎ। তাং ত্যক্তা দ্বাদশীং শুদ্ধা মুপােষ্যে দবিচারয়ন্ ॥ ১২ বি ১২৯ যদি একাদশী অরুণােদয়কালে দশমীর সহিত মিশ্রিত হয় অথাৎ অৰুণােদয় বিদ্ধ হয়,তাহা হইলে ঐ একাদশী পরিত্যাগ করিয়া শুদ্ধ। অর্থাৎ একাদশী স্পর্শ শূন্যা কেবল দ্বাদশীতেও উপবাস করিবে, এই বিষয় আর কোনও বিচার করিবে । দ্বাদশীযুক্ত একাদশীই অত্যধিক আদরণীয়। দ্বাদশী মিশ্রিত গ্রাহ সৰ্ব্বত্ৰৈকাদশী তিথিঃ। ১২ বি, ২৫০ বিদ্ধ। ভিন্ন আর সকল সময়েই দ্বাদশী মিশ্রিত একাদশী তিথিই গ্রাহ্য অর্থাৎ উপবাস যোেগ্য। এই বচনে দ্বাদশীযুক্ত একাদশীর প্রশস্ত্য কীৰ্ত্তিত হইয়াছে, কিন্তু উহার অলাভেই কেবল দ্বাদশীতেও ( অর্থাৎ একাদশী স্পর্শ বিহীন) উপবাসকরিতে হইবে, এই অভিপ্রায়েই (অরুণােদয় বেলায়াং ইত্যাদি ১২৯ অঙ্কের) প্রথমােক্ত বচন উক্ত হইয়াছে বুঝিতে হইবে। একাদশীর সার ব্যবস্থা। সূৰ্য্য উদিত হওয়ার অব্যবহিত পুৰ্ব্ব চারি দণ্ড অর্থাৎ ছাপান্ন দণ্ডের পরক্ষণ হইতে চারিদণ্ড পর্যন্ত যে সময় তাহাকে অরুণোদয়কাল বলে। ঐ কালে দশমী সংযােগ হইলেই দশমী বিদ্ধ হয়। দশমী বিদ্ধ হইলে একাদশী ২য় অধ্যায় ] একাদশীর পারণ কাল দিন উপবাস না হইয়া দ্বাদশী দিনে উপবাস কইবে। দশমীর মানাঙ্ক ৫৬ ছাপান্ন দণ্ডের অধিক হইলেই দ্বাদশী দিনে উপবাস করিতে হইবে। একাদশীর পারণ কাল। একাদশী ব্রতের পারণ দিনে দ্বাদশীর লাভ হইলে অবশ্যই দ্বাদশীতে পারণ করিবে, দ্বাদশী কেবল অল্পমাত্র এমন কি কলাৰ্ধকাল মাত্ৰ থাকিলেও পারণ করিতে হইবে। পারণ দিনে দ্বাদশী অল্প পরিমাণ থাকিলে নিত্যকর্ম অরুণােদয়কালে সমাহিত করিয়া দ্বাদশী মধ্যে পারণ কর্তব্য, তাহা হইতেও অল্পতর থাকিলে উপবাস দিনে অর্ধরাত্রের পর হইতেই পর দিনের মধ্যাহুকাল পর্যন্ত কর্তব্য জপাৰ্জনাদি নিত্যকৃত্য সুসম্পন্ন করিয়া দ্বাদশী মধ্যে পারণ করিবে। কৌম্মে একাদশী মুপােয্যৈব দ্বাদশ্যাং পারণং স্মৃতং। এয়ােদাং নতৎকাৰ্যং দ্বাদশ দ্বাদশী ক্ষয়াৎ ১৩ বি, ১৯ একাদশীর উপবাস করিয়াই দ্বাদশীতে পারণ করিবে। ত্রয়ােদশীতে পারণ করিবে না। এয়ােদশীতে পারণ করিলে দ্বাদশ দ্বাদশী জনিত পুণ্য নষ্ট হয়। স্বল্পায়া মথ ভূপাল দ্বাদা মরুণােদয়ে। রানার্সনক্রিয়াঃ কাৰ্য্যা দান হােমাদি সংযুত ১৩ বি। ১০০ হে ভূপাল ! পারণ দিনে দ্বাদশী অল্পমাত্ৰ থাকিলে স্নান অচ্চন দান হােম প্রভৃতি সমুদয় কাৰ্যই উপবাস দিনে অরুণােদয়ে সমাধা করিয়া দ্বাদশীতে পারণ করিবে। স্কান্ধে কলাৰ্দ্ধাং দ্বাদশীং দৃষ্ট। নিশিথাদৃদ্ধ মেবহি আমধ্যাহ্ন ক্রিয়া সৰ্ব্বাঃ কৰ্তব্যঃ শশাসনাৎ। ১৩ বি। ১০১ পরদিনে দ্বাদশী অত্যল্প হইলে অর্থাৎ কলার্ধ মাত্ৰ থাকিলে উপবাস দিনে অৰ্ধ রাত্রের পর হইতেই পরদিনের অর্থাৎ পারণ দিনের মধ্যাহ্নকাল পর্যন্ত * একাদশী ব্রতের পারণ দিনে দ্বাদশী প্রায়ই অল্পাধিক পরিমাণে থাকিবে ২৪ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ২য় অধ্যায় এইরূপ শম্ভুর কর্তব্য সমুদয় জপাৰ্জনাদি নিত্যক্রিয়া সম্পন্ন করিবে। অনুশাসন আছে বলিয়া পরদিনে দ্বাদশী মধ্যে পারণ করিবে। আর পারণ দিনে দ্বাদশী যদি ৪৫ পঞ্চবারিংশৎ দণ্ডের অধিক সময় স্থায়ী হয়, তাহা হইলে দ্বাদশীর প্রথম পাদ অর্থাৎ প্রথম পঞ্চদশ দণ্ড ত্যাগ করিয়া + তাহার পর ভােজন করিবে, কিন্তু দ্বাদশীর প্রথম পাদে পারণ করিবে না। যথা—বিষ্ণুধৰ্ম্মোত্তরে— দ্বাদশ্যাঃ প্রথম পাদো হরিবাসর সংজ্ঞকঃ। তমতিক্রম্য কুব্বীত পিরণং বিষ্ণুতপঃ। ১৩ বি, ১০৪। দ্বাদশীর প্রথম পাদের নাম হরিবাসর, বিষ্ণুপরায়ণ ব্যক্তি হরিবাসরকাল অতিক্রম করিয়া পারণ করিবে। পারণ দিনে দ্বাদশীর সদ্ভাবে দ্বাদশীতেই পারণ কর্তব্য, কিন্তু যদি পিরণাহে দ্বাদশীর একবারেই সম্ভাবনা না হয়, তবে ত্রয়ােদশীতেও পারণ করিতে হইবে। যথা—কালমাধবীয়ে দ্বিতীয়াদি প্রকরণে যদাকলয়াপি দ্বাদশী নাস্তি, তদা ব্রয়ােদশ্যামপি পিরণং কুৰ্যাৎ। তদুক্তং নারদীয়ে— এয়ােদাত্ত শুদ্ধায়াং পারণং পৃথিবীফসম্। শত যজ্ঞাধিকং বাপি নরঃ প্রাপগাত্যসংশয়। ইতি # # সমর্পণ মন্ত্র অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য ব্ৰতেনানেন কেশব। প্রসীদ সুমুখ নাথ জ্ঞানদৃষ্টি প্রাদাভব। ১৩ বি, ৯২ একাদশাং নিরাহার ব্ৰতেনানেনকেশব। প্রসীদ সুমুখ নাথ মুক্তিদৃষ্টি প্রদোভব। ইতি পারণ মন্ত্র এই পারণ মন্ত্র পাঠ করিয়া জল পান করিতে যে সময় লাগে, সেই অল্প মাত্র কালেরই এইস্থলে গ্রহণ। * উপবাস দিনও পিরণদিনের দ্বাদশী মানের সমষ্টিকে চারিভাগ করিলে যে সময় হয় তন্মধ্যে পূর্ব দিনের ভাগ বাদে যাহা অবশিষ্ট থাকে, কেবল সেই কালটুকু পরিত্যাগ করিয়াই পারণ করিবে। সাধারণতঃ যষ্ঠি দণ্ডই তিথির নিয়মিত কাল বলিয়া তাহার এক চতুর্থাংশ ধরিয়া প্রথম পাদ ১৫ দণ্ড বলিয়া উল্লিখিত হইল, কিন্তু সময় সময় উহার হ্রাস বৃদ্ধি হইবে। st এই বচনের বিষয় মহাদ্বাদশীতেই সম্ভবপর, একাদশীতে প্রায়ই পিরণাহে • দ্বাদশী থাকিবে।
৩য় অধ্যায় ] অষ্টমহা দ্বাদশী যখন কলা কলার্ধ বা তদপেক্ষ। অল্পমাত্রও দ্বাদশী পারণ দিনে না থাকে, তখন ত্রয়ােদশীতেও পারণ কৰ্তব্য ; এই বিষয়ে নারদীয় পুরাণে উক্ত হইয়াছে যে, বিশুদ্ধ ব্ৰয়ােদশীতে পারণে পৃথিবী দান জনিত ফল অথবা শতযজ্ঞানুষ্ঠানের ফল স্বরূপ স্বর্গরাজ্যাধিপত্য হইতেও অধিকতর ফল পাইয়া থাকে, ইহাতে সন্দেহ নাই। এখন অষ্ট মহাদ্বাদশী নির্মীত হইতেছে-- * ইতি স্বরূপ দামােদর গােম্বামি ভ্রাতৃবংশােব শ্রীকৃষ্ণ হরি গােস্বামি বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ বিরচিতায়াং বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসায়াং সম্পূন্নাবিদ্ধৈকাদশীনিগ্নয়াে নাম দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ | তৃতীয় অধ্যায়। অষ্ট মহাদ্বাদশী। পূৰ্বে বলা হইয়াছে বহু দোষের কারণ বলিয়া বিদ্ধা একাদশীতে উপবাস করিবে না, এইক্ষণ আবার শুদ্ধা একাদশীও যে কখন কখন পরিত্যাজ্য হয়, তাহা প্রদর্শিত হইতেছে। উন্মীলনী, বজুলী, ত্রিস্পশা, পক্ষবন্ধনী, জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী; এই আটটি মহাদ্বাদশী। তন্মধ্যে প্রথমােক্ত চারিটি কেবল তিথিযােগে হইয়া থাকে, আর শেষােক্ত চারিটি তিথি ও নক্ষত্রের যােগ বিশেষে সঘটিত হয়। শুদ্ধা একাদশী ত্যাগ করিয়াই মহাদ্বাদশীতে উপবাস করিতে হয়, কিন্তু ত্রিশা মহাদ্বাদশীতে উপবাসের ব্যত্যয় ঘটে না; কেবল কৃষ্ণা…নাদি বিশেষত্বই ত্রিস্পশা দ্বাদশীর মহত্বের কারণ। এই বিষয়ে গােস্বামি পাদের নিজের উক্তিই প্রকৃষ্ট প্রমাণ। তত্র তত্র বিশেষ যাে হ কৃষ্ণার্চনাদিকঃ। লেখ্যঃ সােহগ্রে বিশেষেণ তত্তমুখ্য নিরূপণে ১২ বি, ১৬২ নম্ন ত কেন নক্ষত্রেণ কতমা স্যাৎ কেন বা পূজাদি বিশেষেণ তাসাঃ মহত্ত্বং তত্র লিখতি ততেতি। ইতি দিদর্শনী। ১৬২ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৩য় অধ্যায় “কোন্ নক্ষত্র যােগে কোন্ দ্বাদশী মহতী হইবে, আর কিরূপ পূজাদি বিশেষ কারণেই বা ঐ উন্মীলনী প্রভৃতি দ্বাদশীর মহত্ত্ব ? এই আভাসে গ্রন্থকার “তত্রতত্র” ইত্যাদি কারিকা লিখিতেছেন। সেই সেই দ্বাদশীতে (উন্মীলন্যাদিতে) একাদশী হইতে ভিন্নরূপ কৃষ্ণার্চনাদি যে যে বিশেষ কৰ্তব্য আছে, তাহা উল্লিখিত মহাদ্বাদশীর মুখ্য নিরূপণ প্রস্তাবে অসাধারণ রূপে অগ্রে লিখিত হইবে। শ্ৰীগােম্বামি পাদের কারিকা ও তদ্ব্যাখ্যা অনুসারে ইহাই প্রতিপন্ন হইতেছে যে, কৃষ্ণাৰ্চ্চনাদি বিশেষই দ্বাদশীর মহত্ত্বের কারণ ; অতএব ব্ৰিস্পশায় উপবাসের ব্যতিক্রম না থাকিলে ও পূজাদিবিশেষের কর্তব্যতা স্বৰূপ মহত্ত্ব নিবন্ধন “মহতী—-দ্বাদশী” বলিয়া মহাদ্বাদশী মধ্যে পরিগণিত হইয়াছে। অষ্ট মহা দ্বাদশীর নিত্যতা। উল্লিখিত-আটটি মহাদ্বাদশীই বৈষ্ণবগণের অবশ্য কর্তব্য, এই বিষয় প্রমাণ, যথা- ব্রহ্মবৈবর্ভে। দ্বাদশ্যোষ্টেী সমাখ্যাতা যাঃ পুরাণে বিচক্ষণঃ। তাসা মেকাপি চ হ হন্তি পুণ্যং পুরাকৃতম্ ॥ ১৩ বি, ১১৩ পুরাণে বিচক্ষণ ব্যক্তিরা যে আটটি মহাদ্বাদশীর প্রস্তাব করিয়াছেন, তাহার মধ্যে একটি অতিক্রান্ত ( অর্থাৎ উপবাসাদি দ্বারা অনুষ্ঠিত না হইলে ) পূৰ্ব্বকৃত পুণ্য বিনষ্ট করে। মার্কণ্ডেয় পুরাণে পদ্মপুরাণে চ ভগবদুক্তো- ন করিষ্যন্তি যে লােকে দ্বাদশোহষ্টেী মমায়া। তেষাং যমপুরে বাসাে যাব দাহুত সংপ্লবম্ ॥ ১৩ বি, ১১৪ এই সংসারে যাহারা আটটি দ্বাদশীতে উপবাস না করিবে, আমার আজ্ঞা অনুসারে তাহাদের মহাপ্রলয় কাল পর্যন্ত যম পুরীতে বাস করিতে হইবে, ইহা ভগবান্ বলিয়াছেন।” (নিত্য ও একাদশী ত্যাগ বিচার ) ইত্যাদি প্রমাণ দ্বারা আটটি মহাদ্বাদশীরই নিত্যতা দেখা যাইতেছে, কিন্তু উন্মীলনী প্রভৃতি মহাদ্বাদশীতে যেমন একাদশী পরিত্যাগের বিধান দেখান হইয়াছে, তেমন জায়া প্রভৃতি নক্ষত্র প্রযুক্ত চারিটি মহাদ্বাদশীতে ৩য় অধ্যায় ] নিত্যতা ও একাদশী ত্যাগ বিচার ২৭ একাদশীত্যাগের প্রমাণ সংগৃহীত হয় নাই—মনে করিয়া কেহ কেহ জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপ নাশিনী হইলে একাদশ ও দ্বাদশী উভয় দিনে উপবাস করিয়া থাকেন। কিন্তু, এই মত সুসঙ্গত নহে। এই মতের অসারত্ব প্রতি পাদনের জন্য কেহ কেহ, “একত্র দৃষ্টঃ শাস্ত্ৰাৰ্থঃ অন্যত্ৰাপি পরি কল্পতে বাধকাভাবাৎ।” অর্থাৎ বাধক না থাকিলে একত্র দৃষ্ট শাস্ত্ৰাথ অন্যত্র ও কল্পনা করাযায়। এই ন্যায়ানুসারে-“বিহায়ৈকাদশীং তত্র দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ।” ইত্যাদি বচন জ্ঞাপিত উন্মীলন্যাদি বিষয়ক একাদশী ত্যাগবিধি জয়াদিতেও কল্পনা করিয়া থাকেন। এই যুক্তি সমীচীন নহে, কারণ, বাধকের অভাবেই একত্র দৃষ্ট শাস্ত্ৰাৰ্থ অন্যত্র কল্পিত হইয়া থাকে। বর্তমান বিষয়ে একাদশীর নিত্যত্বই ঈদৃশ কল্পনার বিশেষ প্রতিবন্ধক। “উন্মীলনী বঙুলীচ ত্রিস্পশা পক্ষবন্ধনী। জয়াচবিজয়া চৈব জয়ন্তী পাপ নাশিনী ।” ইত্যাদি ব্ৰহ্মবৈবর্ত বচনে উন্মীলাদি অষ্ট মহাদ্বাদশী একযােগে নির্দিষ্ট হওয়ায় উন্মীলাদি চতুষ্টয়ের সাহচর্য বশতঃ জয়াদি চতুষ্টয়েও উন্মীলাদিবৎ একাদশী ত্যাগের বিধি বুঝিতে হইবে। সূক্ষ্মদৃষ্টিতে অষ্ট মহাদ্বাদশীর নিত্যত্ব প্রসঙ্গ পৰ্যালােচনা করিলে স্পষ্টতঃ প্রতীয়মান হয়, উন্মীলন্যাদির ন্যায় জয়াদিতেও একাদশী ত্যাগের বিধি সাহচৰ্য্য মূলে কল্পিত হইতে পারে। এবংবিধ বিষয়ে সাহচৰ্য্য অবলম্বন আমার স্বকপােল কল্পিত নহে। শ্রীপাদ সনাতন গােস্বামীর প্রদর্শিত পথ অবলম্বন করিয়াই আমরা উক্ত বিষয়ে সাহচর্য পক্ষ অবলম্বন করিয়াছি। পাঠকগণের অবগতির নিমিত্ত এই সম্বন্ধে সনাতন গােস্বামীর মত নিম্নে প্রদর্শিত হইল। অষ্ট মহাদ্বাদশীর নিত্যত্ব প্রসঙ্গে স্কন্দপুরাণে ব্রহ্মনারদ সংবাদে উক্ত হইয়াছে। উন্মীলনী পরিত্যক্তা বঙুলী পক্ষবন্ধনী। নরকে বসতে তাব যাবদি তুর্দশ। ত্রিস্পশা বিষ্ণুদয়িতা যেন কুৰ্বস্তি ভূতলে। তাব যমপুরে বাস যাব মদ্যঃ সসাগরাঃ ॥ ১৩ বি, ১১৫।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা ৩য় অধ্যায় অর্থ। উলীলনী ‘বঙ্গুলী ও পক্ষবন্ধনীতে উপবাস পরিত্যাগ করিলে চতুর্দশ ইন্দ্ৰ পৰ্যন্ত নরকে বাস হয়। বিষ্ণুপ্রিয়া ত্রিস্পশাতে যে উপবাস করে, সে পৃথিবীতে যে পর্যন্ত নদীও সাগর বর্তমান থাকে, সেইকাল পর্যন্ত যমপুরে বাস করে। উল্লিখিত বচন সমূহে কেবল উন্মীলাদি চতুষ্টয়েরই নিত্যত্ব প্রদর্শিত হইয়াছে, জয়াদি চতুষ্টয়ের নহে। জয়াদি চতুষ্টয়ের নিত্যত্ব প্রতিপাদনের জন্য সনাতন গােস্বামিপাদ দিগর্শনীতে লিখিয়াছেন, “স্কান্দোকোন্মীলাদীনাং সাহচৰ্য্যাৎ জয়াদীনামপি চতণাং নিত্যত্বংসিদ্ধমেব। ১৩ বি, ১১৫, অর্থ। স্কন্দ পুরাণােক্ত উন্মীলাদি চতুষ্টয়ের সহিত সাহচর্য বশতঃ জয়াদি চতুষ্টয়েরও নিত্যত্ব সিদ্ধই হইল। সনাতন গােস্বামিপাদ যেমন উন্মীলাদি চতুষ্টয়ের সাহচর্যে জয়াদি চতুষ্টয়ের নিত্যত্ব প্রদর্শন করিয়াছেন, তদ্রুপ এইস্থলেও উন্মীলন্যাদি চতুষ্টয়ের সাহচৰ্য্যবশতঃ জয়াদি চতুষ্টয়েও একাদশী ত্যাগ বুঝিতে হইবে। এই সিদ্ধান্তে কোন কোন প্রবল প্রতিপক্ষ নিম্নলিখিত আপত্তি উত্থাপন করেন, তাহা এই,-“গােস্বামিপাদগণ ব্রহ্মবৈবর্ত, মার্কণ্ডেয় এবং পদ্মপুরাণে অষ্টমহাদ্বাদশীর নিত্যতা অবলােকন করিয়া তৎ পুরাণের সহিত স্কন্ধ- পুরাণের বিরােধ পরিহারের জন্য এই প্রকার সাহচর্য কল্পনা করিয়াছেন, কিন্তু একাদশী ত্যাগ বিষয়ে এতাদৃশ সাহচর্য কল্পনার কিঞ্চিৎ মাত্রও অবকাশ নাই। উন্মীলাদি চতুষ্টয়ের উদ্দেশও লক্ষণ নির্দেশের অব্যবহিত পরেই উক্ত হইয়াছে, “বিহায়ৈকাদশীং তত্র দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ এই বচন দ্বারা কেবলমাত্র উন্মীলাদি চতুষ্টয়েই একাদশী ত্যাগের বিধি কথিত হইয়াছে, জয়াদি চতুষ্টয়ে নহে। পুরাণান্তরেও জয়াদি চতুষ্টয়ে একাদশী- ত্যাগ মূলক কোন প্রকার বচন দৃষ্ট হয় না। এমত অবস্থায় কি প্রকারে সাহচৰ্য সুসঙ্গত হইতে পারে। এই প্রকার আপত্তির উত্তরে বলা যাইতে পারে, এইস্থলেও সাহচৰ্য্য কল্পনার সম্যক অবকাশ রহিয়াছে। যদিও পুরাণান্তরে জয়াদি চতুষ্টয়ে ৩য় অধ্যায়)। নিত্যতা ও একাদশী ত্যাগ বিচার ২৯ একাদশী ত্যাগ বিষয়ক কোন প্রকার বিশেষ বচন দৃষ্ট হয় না, তথাপি বিষ্ণু ধৰ্মোত্তরে বর্মিত “পারণাস্তং তং জ্ঞেয়ং ব্ৰতান্তে দ্বিজ ভোজনং। অসমাপ্তে ব্রতে পূৰ্বে নৈব কুৰ্য্যা দুতান্তরং । ১৫ বি, ২৫৮ দিগর্শনী। এই উপবাস দ্বয় নিষেধক সামান্য বচন অবলম্বনে সাহচর্য করিলে শাস্ত্র মৰ্যদা সম্যকরূপেই প্রতিপালিত হয়। গােদামিপাদেরা যেমন নিত্যতা বিষয়ে ব্রহ্মবৈবর্তাদি পুরাণের সহিত স্কন্দ পুরাণের সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য সাহচর্য কল্পনা করিয়াছেন, সেইরূপ এই স্থলেও উপবাস দ্বয় নিষেধক বিষ্ণু ধৰ্মোত্তরীয় বচনের সহিত কেবলমাত্র উন্মীলাদি চতুষ্টয়ে একাদশী ত্যাগ বিষয়ক “বিহায়ৈকাদশীং তত্র দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ।” ইত্যাদি ব্রহ্মবৈবর্ত্তীয় বচনের বিরােধ পরিহারের জন্য সাহচর্য কল্পনা শাস্ত্রার্থদশী পণ্ডিতগণের অবশ্য কর্তব্য। স্কন্দপুরাণে উন্মীলাদির ন্যায় জয়াদির নিত্যত্ব প্রদর্শিত হয় নাই কেন ? এইরূপ আপত্তিও অকিঞ্চিৎকর, যেহেতু স্কন্দ পুরাণে অষ্ট মহাদ্বাদশীর মধ্যে প্রধানত নিবন্ধন উন্মীলাদি চতুষ্টয়েরই নিত্যত্ব উল্লিখিত হইয়াছে, বাস্তব- পক্ষে অপ্রধান অয়াদি চতুষ্টয়েরও নিত্যত্ব বুঝিতে হইবে। * এই সম্বন্ধে সনাতন গােস্বামি পাদ লিখিয়াছেন, “তা অষ্টসু মধ্যে উন্মীলাদীনা মেব চতণাং প্রাধান্যাভিপ্রায়েণ তত্র তাসা মেব নিত্যত্বং যুক্তমিতি দিগিতি দিদর্শনী।” ১৩ বি, ১১৫ অর্থ। সেই অষ্ট মহাদ্বাদশীর মধ্যে উন্মীলাদি চতুষ্টয়েরই প্রাধান্যাভি- প্রায়ে স্কন্দ পুরাণে সেই উন্মীলাদিরই নিত্যত্ব প্রদর্শিত হইয়াছে। ইহা দ্বারা অপ্রধান জয়াদির নিত্যত্বও উপলব্ধ হইতেছে। অষ্ট মহাদ্বাদশীর নিত্যতা নিশ্চিতত্ব সত্ত্বেও যেমন স্কন্দ পুরাণে জয়াদি চতুষ্টয় উল্লিখিত না হইয়া প্রাধান্য নিবন্ধন উন্মীলাদি চতুষ্টয়ের নিতত্ব কীৰ্তিত হইয়াছে, সেই প্রকার অষ্ট মহাদ্বাদশীতে একাদশী ত্যাগের কর্তব্য সত্বেও জয়াদি চতুষ্টয়ে একাদশী ত্যাগ উল্লিখিত না হইয়া ব্ৰহ্মবৈবর্তে প্রাধান্য - তিথি ঘটিত কৰ্ম্মপ্রধান, নক্ষত্রঘটিত কৰ্ম্ম গপ্রধান বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৩য় অধ্যায় নিবন্ধন একাদশী ত্যাগ বিষয়ে উন্মীলন্যাদি চতুষ্টয়ই বিশেষভাবে বগ্নিত হইয়াছে। বাস্তবিক “প্রধানেহি ব্যপদেশ। ভবন্তি।” এই ন্যায়ানুসারে একাদশী ত্যাগবিধি মাহাত্ম প্রধান উন্মীলাদি চতুষ্টয়ে ব্যপদিষ্ট হইলেও অপ্রধান জয়াদি চতুষ্টয়েও একাদশী ত্যাগের ব্যপদেশ শাস্ত্রানুমােদিত। প্রধানে যে ব্যপদেশ হইয়া থাকে, এই বিষয়ে শাস্ত্রিকও লৌকিক দৃষ্টান্তের অসম্ভাব নাই। পাঠকগণের অবগতির নিমিত্ত দুই একটা দৃষ্টান্ত প্রদর্শিত হইতেছে, “পুমা ভবান্ধিং ন তরেৎ স আত্মহা” শ্ৰীভাগবত ১০ম এই স্থলে প্রাধান্যাভিপ্রায়ে “পুমা” শব্দের প্রয়ােগ হইলেও অপ্রধান “স্ত্রী”ও “পুমা” এই পদের লক্ষ্য। সুতরাং • “স্ত্রী ভবান্ধিং নতরেৎ সা আত্মম্নী” এইরূপও হইবে। রাজা গচ্ছতি” বলিলে রাজপুরুষা গচ্ছন্তি” ইহা উপলব্ধ হয়। প্রধান রাজার গমনে অপ্রধান রাজপুরুষের গমনও পাওয়া যায়; সেইরূপ এইস্থলেও বুঝিতে হইবে। বিশেষ অনুসন্ধিৎসুতার সহিত পৰ্যালােচনা করিলে - বিহায়ৈকাদশীং তত্র দ্বাদশীং সমুপােষয়েং” এই বাক্যটি যে অষ্ট মহাদ্বাদশীর সম্বন্ধেই অভিহিত হইয়াছে, তাহা অনায়াসেই বােধগম্য হয়। ব্রহ্মবৈবর্তে শ্রীসুতশৌনক সংবাদে উক্ত হইয়াছে- উন্মীলনী বজুলীচ ত্রিস্পশা পক্ষবন্ধনী। জয়াচ বিজয়া চৈব জয়ন্তী পাপনাশিনী । ১০৬ দ্বাদশখাহষ্টো মহাপুণ্যাঃ সৰ্ব্বপাপহরা দ্বিজ ! তিথি যােগেন জায়ন্তে চত শ্চাপরা স্তথা। নক্ষত্রযােগাচ্চ বলাৎ পাপং প্রশময়ন্তি তাঃ ॥ একাদশীতু সম্পূর্ণ। বর্ধতে পুনরেব সা। দ্বাদশীচ ন বৰ্দ্ধেত কথিতােম্মীলনীতি সা ।
৩১ ৩য় অধ্যায় ] নিত্যতা ও একাদশী ত্যাগবিচার দ্বাদশেব বিবৰ্দ্ধেতন চৈবৈকাদশী যদ।। বজুলীতু ভৃগু শ্রেষ্ঠ। কথিত পাপনাশিনী । ১০৭ অরুণােদয়ে আদ্য স্যা দ্বাদশী সকলং দিন। অন্তে এয়ােদশী প্রাত স্ত্রিশ সা হরেঃ প্রিয়া। ১০৮ কুহুরাকে যদা বৃদ্ধিং প্রযাতে পক্ষবন্ধনী। বিহায়ৈকাদশীং তত্র দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ। পুষ্যা শ্রবণ পুষ্যান্য রােহিণী সংযুতা তাঃ। উপােষি সমফল দ্বাদশ্যোষ্টেী পৃথক পৃথক ॥ ১৩ বি, ১০৯ অরুণােদয়ে সূর্যোদয়ে। আদ্যা একাদশী। সৈব অরুণােদয়ং বাপ্য ইতি দিদর্শনী। ১০৮। পুষ্যাদ্যং পুনৰ্ব্বসুনক্ষত্র। সম ফলা ইতি। সৰ্বসাং নিত্যদিতি দিদর্শনী। ১০। “পুষ্যা-শ্রবণ-পুয্যাদ্য-রােহিণী-সংযুতা স্তু তা।” ইত্যত্র ‘তু’ শব্দঃ পূৰ্বব্যাবৰ্ত্তক সমুচ্চয়াৰ্থে বৰ্ত্ততে অতঃপূৰ্বেণান্বয়ঃ। তা ইতি পদস্য পরেণান্বয়। বিহায়েতি। তত্রতা অষ্টসু দ্বাদশীষু একাদশীং বিহার ত্যক্ত। উন্মীলনীং বঙুনীং ত্রিস্পশাং পক্ষবন্ধনীঞ্চ দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ। তথা পুষ্যা শ্রবণ পুষ্যাদ্য রােহিনী সংযুতাঃ দ্বাদশী স্তু অপি সমুপােষয়েদিতি পূৰ্বেণান্বয়ঃ। তা: অষ্টেী দ্বাদশ্যঃ পৃথক পৃথক উপােষিতা। সত্যঃ সমফলা ভবন্তি। তাইত্যস্যপরেশান্বয়ঃ। ইতি ব্যাখ্যা। অর্থ। সুত শৌনককে বলিতেছেন,হে দ্বিজ ! উন্মীলনী, বজুলী, ত্রিস্পশা, পক্ষ বর্জনী, জয়া, বিজয়, জয়ন্তী এবং পাপ নাশিনী ; এই অষ্ট- দ্বাদশী মহাপুণ্যা এবং সর্বপাপহরা। তন্মধ্যে চারিটি তিথি যােগে অপর চারিটি নক্ষত্র যােগে হইয়া থাকে। সেই অষ্ট দ্বাদশী বল পূৰ্ব্বক সর্বপাপ বিনষ্ট করে। লক্ষণ বলা যাইতেছে— সম্পূন্ন একাদশী বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া দ্বাদশী দিনে নির্গত হইলে দ্বাদশী বৃদ্ধি প্রাপ্ত না হইলে তাহা উন্মীলনী নামে কথিত হয়। সম্পূঃ একাদশী বৃদ্ধি প্রাপ্ত না হইয়া দ্বাদশীই বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইলে তাহা ৩২ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৩য় অধ্যায় বজুলী নামে অভিহিত হয়। হে ভৃগুশ্রেষ্ঠ । এই বঙ্গুলী পাপ সকল নষ্ট করে। সূর্যোদয়ে একাদশী সমস্ত দিন দ্বাদশ শেষ রাত্রে বা অরুণােদয়ে ত্রয়ােদশী হইলে অর্থাৎ দ্বাদশীতিথিক্ষয়ে ত্রিস্পশা হয়। সেই ত্ৰিস্পশা হরির অতি প্রিয়তমা। অমাবস্যা ও পূর্ণিমা বৃদ্ধি পাইলে তাহাকে পক্ষ বর্ধনী বলে। সেই অষ্ট মহাদ্বাদশীতে অর্থাৎ অষ্ট মহাদ্বাদশী হইলে একাদশী ত্যাগ করিয়া উঃীলনী, বঙুলী, প্রিম্পৃশাও পক্ষবন্ধনী দ্বাদশীতে উপবাস করিবে। আর পুষ্যা শ্রাবণা পুনৰ্ব্বস্থ রােহিণী সংযুতা দ্বাদশী হইলেও একাদশী ত্যাগ করিয়া দ্বাদশীতে উপবাস করিবে। সেই অষ্ট দ্বাদশী সমফলা পৃথক পৃথক্ উপােষিত হইবে। উপবােদ্ধত বচন সমূহে প্রথমতঃ উন্মীলনী প্রভৃতি অষ্ট মহাদ্বাদশীর নাম উল্লেখ করিয়া বলা হইয়াছে দ্বাদশোহষ্টেী মহাপুণ্যাঃ সর্বপাপহরাদ্বিজ !” এবং শেষেও বলা হইয়াছে, উপােষিতাঃ সমফলা দ্বাদশাহষ্টৌ পৃথক পৃথক।” সুতরাং “বিহায়ৈকাদশীং তত্র দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ ॥ এই বাক্য যে অষ্ট মহাদ্বাদশীতেই অন্বিত হইতেছে, তাহাতে সন্দেহ করিবার কারণ নাই। “পুষ্যা শ্রবণ পুষ্যান্য রােহিণী সংযুতা স্তু তাঃ।” এই স্থলে “তু” শব্দের অর্থ পূৰ্বব্যাবৰ্ত্তক সমুচ্চয়। “তু শব্দ পূৰ্বকে ব্যাবৃত্তি করিতেছে, পুষ্যেত্যাদির পরের সহিত অন্বয় হইতে বাধা দিতেছে। ইহার অম্বয় অর্থাৎ সম্বন্ধ পূর্বের সহিতই হইবে। “বিহায়ৈকাদশীং তত্র দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ।” তত্র তা অষ্টমহাদ্বাদশীযু একাদশীং বিহয় ত্যক্ত। উন্মীলনীং বঞ্জলীং ত্রিশাং পঞ্চবর্জনীং দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ। তথা পুষ্যা শ্রবণ পুষ্যাদ্য রােহিণী সংযুতা দ্বাদশী স্তু অপি সমুপােষয়েৎ। ‘তু শব্দ বাধক হওয়ায় এইরূপ পূর্বের সহিত অন্বয় হইল। “তু” শব্দ বাধক হওয়ায় ‘সংযুতা স্তু তা” এইস্থলে “তাঃ” পদের পরের সহিত অন্বয়। পূর্বের সহিত নহে।
৩য় অধ্যায় ] নিত্যতা ও একাদশী ত্যাগ-বিচার “উপােষিতাঃ সমফলা দ্বাদশ্যোষ্টেী পৃথক পৃথক। “তাঃ” পদের ইহার সহিত অন্বয় হইল। তাঃ অষ্টে দ্বাদশ্যঃ পৃথক পৃথক উপােষিতাঃ সত্যঃ সমফলা ভবন্তি। “সমফলাঃ” এই পদ দ্বারাও সৰ্ববিষয়ে অর্থাৎ নিত্যতা এবং একাদশত্যাগ, এই উভয় বিষয়েই ‘সমফল বুঝিতে হইবে। নিত্যতা বিষয়ে সমফল, একাদশী ত্যাগ বিষয়ে অসম ফল বা ভিন্ন ফল, এই প্রকার অন্যায্য অর্থ কল্পনা করিয়া “অর্ধজরতীয়” ন্যায়ের আশ্রয় গ্রহণ করা কদাচ সমীচীন নহে। ব্রহ্মবৈবর্ত্তীয় বচন সমূহ আলোচনা দ্বারা অষ্ট মহাদ্বাদশীতে যে, একাদশী ত্যাগ, ইহা পরিষ্কার রূপেই বুঝা যাইতেছে। ইহা গােস্বামী পাদের অভিপ্রায়। অষ্ট মহাদ্বাদশীতে একাদশী ত্যাগ- বিষয়ে গােস্বামী পাদের সন্দেহ ছিল না। নিত্যতা বিষয়ে কেহ সন্দেহ করিতে পারে বলিয়া গােস্বামি পাদ দিদর্শনীতে লিখিয়াছেন,-“সমাফলা ইতি-সৰ্বাং নিত্যৎ।” সমস্তের নিত্যতা আছে অর্থাৎ অষ্টমহাদ্বাদশী নিত্য, নিত্য হইলেই একাদশী ত্যাগ করিয়া দ্বাদশীতে উপবাস করা যায় । দুই উপবাস করা যায় না, কারণ, “পারণান্তং তং জ্ঞেয়ং” ইত্যাদি বিষ্ণু ধৰ্ম্মোত্তরীয় বচন দ্বারা দুই উপবাস নিষিদ্ধ হইয়াছে। যাহারা “তৎ” শব্দের অব্যবহিত পূৰ্ববস্তু পরামশিত্বরূপ শক্তি কল্পনা করিয়া। “বিহায়ৈকাদশীং তত্র দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ।” এইস্থলে “তত্র” এই পদ দ্বারা উন্মীলাদি চতুষ্টয়ের গ্রহণ করিয়া থাকেন, তাহার সমধিক ভ্রান্ত, তাহাদের ভ্রান্তি অপনােদনের জন্য বলা যাইতেছে,- “তৎ” শব্দের অব্যবহিত পূৰ্ববাচিত্ব নিয়ম অব্যভিচারী নহে। স্থল বিশেষে “তৎ” শব্দ দ্বারা বিপ্রকৃষ্ট বা গৌণ বিষয়েরও পরামর্শ হইতে পারে ; ইহা শব্দ তত্বাভিজ্ঞ পণ্ডিতগণের অবিদিত নহে। বস্তুতঃ, বুদ্ধপ লক্ষিত বিষয় বাচকতারূপেই “তৎ” শব্দের শক্তি, ইহা সৰ্ববাদী সম্মত। ; * অর্থ যুবতি অর্থ বৃদ্ধা, অর্ধজারতী ন্যায় বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৩য় অধ্যায় = ষড়দর্শনাচাৰ্য সর্বতন্দ্র স্বতন্ত্র সুপ্রসিদ্ধ বাচস্পতি মিশ্র সাস্থ্য কারিকার “দুঃখত্ৰয়াভিঘাতাজ, জিজ্ঞাসা তদপঘাতকে হেতে।” ইত্যাদি কারিকার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তত্ত্ব কৌমুদীতে তদপঘাতকে হেতৌ” এই পদান্তৰ্গত-“তৎ” শব্দ দ্বারা অব্যহিত পূৰ্বোল্লিখিত ‘অভিঘাত ও জিজ্ঞাসা’ পদের পরামর্শ না করিয়া ব্যবহিত ‘দুঃখত্ৰয়’ পদের পরামর্শ করিয়াছেন। এতৎ প্রসঙ্গে তত্ত্ব- কৌমুদীতে লিখিত হইয়াছে, “তস্য দুঃখত্ৰয়স্য অপঘাতক স্তদপ ঘাতক। উপসর্জনস্যাপি বুন্ধ্যা সমাকৃষ্ট তদা (তৎশব্দেন) পরামর্শ। এইস্থলে “বুদ্ধি দ্বারা সমাকৃষ্ট গৌণীভূতের ও তৎশব্দ দ্বারা পরামর্শ হইল।” ব্যাকরণ শাস্ত্ৰক্ত- “দশৈতে রাজ মাতঙ্গা স্তস্যৈবামী তুরঙ্গমাঃ।” ইত্যাদি প্রয়ােগেও “তৎ” শব্দ দ্বারা অব্যবহিত পূৰ্ব্ববর্তী মাতঙ্গ শব্দ পরামৃষ্ট না হইয়া ব্যবহিত বা গুণীভূত রাজ শব্দই পরামৃষ্ট হইয়াছে। সেইরূপ- বিহায়ৈকাদশীং তত্র দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ।” এইস্থলেও “তৎ শব্দ দ্বারা অষ্ট মহাদ্বাদশীই পরামৃষ্ট হইতেছে। “তত্র তা অষ্ট মহাদ্বাদশীযু” অর্থ বুঝিতে হইবে। এইস্থলে বুদ্ধির বিষয়ী অষ্ট মহাদ্বাদশী। সুতরাং “তত্র” তৎ” শব্দেও অষ্ট মহাদ্বাদশীকেই সম্বন্ধ করিয়াছে। “তৎ শব্দের” “বুদ্ধপ লক্ষিত বিষয় বাচকতা রূপ” অর্থ স্বীকার না করিয়া কেবল মাত্র অব্যবহিত পূৰ্ব বস্তু পরামর্শত্বরূপ অর্থ স্বীকার করিলে এইস্থলেও তৎ” শব্দ দ্বারা অব্যবহিত পূৰ্বোল্লিখিত পক্ষবন্ধনীই পরামৃষ্ট হইতে পারে। কিঞ্চিৎ ব্যবহিত উন্মীলনী, বঙুলী ও ত্রিস্পস পরামৃষ্ট হইতে পারে না। তবেই বলিতে হইবে, “বুদ্ধপলক্ষিত বিষয় বাচকত্বেই তৎশকের শক্তি। যদি “তৎ” শব্দে উন্মীলাদি চতুষ্টয়কে পরামর্শ করিতে পারে, তবে জয়াদি চতুষ্টয়কেও পরামর্শ করিতে পারিবে। বিশেষত “পুয়া শ্রবণ পুষাঙ্গ রােহিণী সংযুতা স্তু তাঃ।” এইস্থলে “তু” শব্দের পূর্বব্যাবৰ্ত্তক সমুচ্চয়অর্থ গ্রহণ করিলে কোন প্রকার • ৩য় অধ্যায় ] নিত্যতা ও একাদশী ত্যাগ-বিচার ৩৫ বিরােধই থাকে না। এই প্রকরণ পৰ্যালােচনা করিলে পূৰ্বব্যাবর্তক সমুচ্চয়ার্থক “তু” শব্দের গ্রহণই সমধিক সুসঙ্গত। সমুচ্চয়ার্থক “তু” শব্দের গ্রহণ করিলে “পুষ। শ্রবণ পুষ্যাঙ্গ রােহিণী সংযুতা স্তু তাঃ।” অর্থ। “বিহায়ৈকাদশীং তত্র দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ।” এই বচনস্থিত “সমুপােষয়েৎ” এই ক্রিয়ার কৰ্মত্বৰূপে অম্বিত হয়। সুতরাং অর্থ হইতেছে, ‘ন কেবলং তত্র তা অষ্টসু দ্বাদশীষু একাদশীং বিহায় উন্মীলনীং বঙ্গুলী ত্রিস্পশাং পক্ষবন্ধনী দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ অপিতু একাদশী বিহার পুষ্যা শ্রবণ পুষাঙ্গ রােহিণী সংযুতা দ্বাদশী স্তু দ্বাদশী রপি সমুপােষয়েৎ ; ইতি বাক্যার্থ। কেবল যে সেই অষ্ট মহাদ্বাদশীতে একদশী ত্যাগ করিয়া উন্মিলনী, বজুলী, ত্ৰিশৃশা ও পক্ষবন্ধনী দ্বাদশীতেই উপবাস করিবে, 'এ মত নহে, কিন্তু একাদশী ত্যাগ করিয়া পুষ্যা শ্রবণা পুনৰ্ব্ব ও রােহিণী সংযুক্ত দ্বাদশী সমুদয়ে ও উপবাস করিবে। এই বাক্যার্থ । “পুষ্যা শ্রবণ পুষ্যান্য রােহিণী সংযুতা স্তু তাঃ।” এই পূর্ব বাক্যের সহিত “উপােষিতাঃ সমফল। দ্বাদশ্যে। হষ্টৌ পৃথক পৃথক।” এই পর বাক্যের অন্বয় করিলে নিম্নলিখিত রূপ ব্যাখ্যা করিতে হয়। পুষ্যা শ্রবণ পুষ্যান্য রােহিণী সংযুতা স্তু দ্বাদশ শত, তা অষ্টৌ দ্বাদশ পৃথক পৃথক উপােষিতঃ সত্যঃ সমফলা ভবন্তি । চত: অষ্টে কথং ইতি বিবােধ অর্থসঙ্গতি। অর্থ। পুষ্যা শ্রবণা পুনর্ধ ও রােহিণী যুক্তা চারিটি দ্বাদশী, সেই আটটি দ্বাদশী উপােষিতা হইলে সমফল হয়। চারিটি সেই আটটি কিরূপে হয় ? এই বিরােধ ও অর্থের অসঙ্গতি। “তু” শব্দের পদ পূরণ ভিন্ন অন্য অর্থ হয় না। উপােষিতাঃ সমফলা দ্বাদশ্যো হষ্টো পৃথক পৃথক।” এই বাক্যে “অষ্টেী” পদের উপাদান থাকায় “পুষ্যা শ্রবণ পুষ্যাদ্য” ইত্যাদি পূর্ব বাক্যের সহিত “উপাযিতাঃ সমফল” ইত্যাদি পরবাক্যের বিরােধও অর্থের সঙ্গতি হইতেছে।
বৈষ্ণববাপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৩য় অধ্যায় কাজে কাজেই “পুষ্যা শ্রবণ পুষ্যাদ্য” ইত্যাদি বাক্যের সহিত “উপােষিতাঃ সমফলা” ইত্যাদি বাক্যের অন্বয় হইতেই পারে না। অতএব “পুষ্যা প্রবণ পুষ্যাদ্য ইত্যাদি বাক্যকে “বিহায়ৈকাদশীং তত্র” ইত্যাদি বাক্যের “সমুপােষয়েৎ” এই ক্রিয়ার কৰ্ম্মরূপে অন্বয় করিতে হইবেই হইবে। আমার প্রতিপাদ্য বিষয়ের দাঢ় সম্পাদনৰ্থ অন্য বিধ যুক্তির অবতারণা করিতেছি। বিষ্ণু ধৰ্ম্মোত্তরে পারণান্ত ব্ৰতঃ জ্ঞেয়ং ব্রান্তে দ্বিজ ভােজন। অসমাপ্তে ব্ৰতে পূৰ্বে নৈব কুৰ্য্যা দুতান্তরম্ । ১৫শ বিলাস দিগদর্শনী ২৫৮। *পারণাই ব্রতের অন্ত জানিবে অর্থাৎ পারণা পর্যন্ত করা হইলেই ব্রত সমাপ্ত হয়, ব্রতের অন্ত অর্থাৎ পারণা যে দিনে ঐ ব্ৰতা দিনে (পারণাহে) ব্রাহ্মণ ভােজন করাইতে হয়। পূৰ্বার ব্রত সমাপ্ত না হইলে অন্য ব্রত করিবেই না।” এই বিষ্ণু ধৰ্মোত্তরের বচন দ্বারা বুঝা যাইতেছে, পারণা না করা পর্যন্ত ব্ৰত-সমাপ্তি হয় না, ব্রতের সমাপ্তি না হইলে অর্থাৎ আরব্ধ ব্রতের পারণা পৰ্যন্ত করা না হইলে অন্য ব্রত গ্রহণ করিতে নাই। একাদশ ও দ্বাদশী উভয় ব্রতের উপযুপরি কর্তব্য হইলেই প্রথমারব্ধ একাদশী ব্রতের পারণ করিলে দ্বাদশী ব্ৰত অনাদৃত হয়, আর পারণ না করিলে একাদশীর অবমাননা হয়, উভয়তঃই দোষ সম্ভাবনা অপরিহার্য। এমন কথাও বলা যায় না যে “উভয় ব্রতেরই অবশ্য কর্তব্য নিবন্ধন উপস্থিত স্থলে পিরণাভাব জনিত দোষ ঘটিবে ”। পারণার নির্দিষ্টকাল অতিক্রম করিলে মহা অনর্থ উৎপত্তি হয় অথচ পারণের অনুরােধে অবৈধ সময়েও আহ্নিক কৃত্য সমাহিত করিতে হয়, ইহা পূৰ্বেই প্রদর্শিত হইয়াছে। * পারণার অনুরােধে ভক্তশ্রেষ্ঠ মহারাজ অম্বরীষ, সাক্ষাৎ রুদ্রমূৰ্ত্তি মহাতপাঃ দুর্বাসার অনাদর করিয়াও সম্মানিত হইয়াছিলেন, তাহা শ্রীমদ্ভাগবতে বিশেষরূপে বর্নিত আছে। বিশেষতঃ বৈষ্ণবগণের উপযুপরি যে দুই উপবাস করিতে নাই, তাহা শ্রীরাম নবমী প্রসঙ্গে অভিব্যক্ত আছে ; সর্বত্র বিদ্ধাব্রত বর্জনীয় হইলেও পরদিনে পারণার সম্ভাবনা না * একাদশীর পারণ কাল ২৩ পৃষ্ঠায় দেখুন।
৩য় অধ্যায় ) নিত্যতা ও একাদশী ত্যাগ-বিচার থাকিলে অর্থাৎ একাদশী বিশুদ্ধ হইলে বিদ্ধা নবমীতেও উপবাস করিবে, কিন্তু নবমীর ও একাদশীর উপবাস উপযুপরি করিবে না। দিগদর্শনীকার ঐ স্বলে বলিয়াছেন “অন্যথা উপবাস দ্বয় প্রসঙ্গাৎ” ১৪ বি, ৯১ অর্থাৎ এই অবস্থায় বিদ্ধা-নবমীতে উপবাস না করিলে এক যােগে দুই উপবাসের প্রসঙ্গ হয়। গ্রন্থকারের উক্তবিধ অভিপ্রায় নানাস্থানে অভিব্যক্ত দেখিয়া অথচ একাদশীর সাধারণ বিধান সত্ত্বেও জয়াদি মহা দ্বাদশীর পুনর্বিধান করিতে দেখিয়া একাদশী ত্যাগ করিয়াই দ্বাদশীর উপবাস বিধেয় বলিয়া প্রতীতমান দ্বিতীয়তঃ শ্রীহরি ভক্তি বিলাসে শুদ্ধা একাদশী ত্যাগ প্রসঙ্গেই অষ্ট- মহাদ্বাদশীর উল্লেখ করা হইয়াছে। + সম্পূর্ণ একাদশী বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া দ্বাদশী দিনে নির্গত হইলে স্মাৰ্তমতেও দুই উপবাস হয় না। একাদশীতত্ত্বে পূঃপ্যেকাদশী ত্যাজ্য বর্ধতে দ্বিতয়ং যদি। দ্বাদশ্যাং পারণা লাভে পূবে পরি গৃহতে। প্রচেতাঃ অর্থ। অরুণােদয় হইতে অপরসূৰ্যোদয় ব্যাপিনী একাদশী পৃঃ, অৰুণােদয় বিদ্ধ। একাদশী ষষ্টিদণ্ড ব্যাপিনী অর্থাৎ অপর সূৰ্যোদয়কে স্পর্শ করিলে অপূর্ন হয়। পূঃ। এবং অপূঃ। একদশী বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া অর্থাৎ অহােরাত্র ব্যাপিনী হইয়া দ্বাদশী দিনে নির্গত হইলে আর দ্বাদশী ত্রয়ােদশী দিনে নির্গত হইলে সেই দ্বাদশীতে পারণের সম্ভাবনা না হইলে পূন্ন একাদশীতেই উপবাস হইবে। খণ্ডা একাদশী দিনে দ্বাদশীতে পারণ হইবে। আর দ্বাদশীতে পারণের সম্ভাবনা হইলে পূঃ ত্যাগ করিয়া খণ্ড একাদশীতেই উপবাস হইবে। যদি বল খণ্ডা একাদশীতে উপবাস হয় কিরূপে? তাহাতেই বলা যাইতেছে- ষষ্টিদণ্ডাত্মিকায় তিথে নিষ্ক্রমণে পরে। অকর্মণ্যং তিথিমলং বিদ্যা দেকাদশীং বিনা। অর্থ। যষ্টি দণ্ডাত্মিকা তিথি পরদিনে নির্গত হইলে তাহা তিথিল’ নামে অভিহিত। একাদশী ভিন্ন সেই তিথিল অকৰ্ম্মণ্য। সেই সেই তিথির কাৰ্য্য তিথিমলে হয় না। একাদশীর উপবাস তিথিমলেও হয়।
৩৮ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৩য় অধ্যায় । অথ শুদ্ধাবিশেষ পরিত্যাগঃ বৈষ্ণবাচাৰ্য প্রবর শ্রীকৃষ্ণদেব চাৰ্য্য নৃসিংহ পরিচৰ্য্যা গ্রন্থে শুদ্ধা একাদশীর পরিত্যাজন উদ্দেশ্যেই মহাদ্বাদশীর প্রস্তাবনা করিয়াছেন যথা :- অধুনা শুদ্ধা মপপ্যকাদশীং কাঞ্চিং পরিত্যজ্য দ্বাদশ্যা মেবােপবসেদিতি, তদপবাদেনাষ্টেী মহাদ্বাদশ্যঃ প্ৰস্ত যন্তে। (তৃতীয় পটল আরম্ভ বাক্য) ‘প্রথমতঃ বিদ্ধা একাদশী পরিত্যাগ পুরঃসর শুদ্ধ। একাদশীর কর্তব্যতা প্রদর্শিত হইয়াছে, অধুনা কোনও শুদ্ধ। একাদশীও পরিত্যাগ করিয়া দ্বাদশীতেই উপবাস করিতে হইবে, এই অপবাদ অর্থাৎ বিশেষ বিধান উদ্দেশ্যে অষ্টমহাদ্বাদশীর প্রস্তাব করা হইতেছে” নৃসিংহ পরিচর্যার এতাদৃশ উক্তি অনুসারে অষ্ট মহাদ্বাদশী যে, একাদশীরই পরিণতি বিশেষ অর্থাৎ বৈধ একাদশী, ইহাই উপলব্ধ হইতেছে। অপর হেমাদ্রিকৃত পরিশেষ খণ্ডে কাল নিয়ে একাদশী নিগ্নয় প্রকরণেই একাদশীর ভেদ-বিশেষরূপে উন্মীলনী প্রভৃতি আটটি মহাদ্বাদশী আলােচিত হইয়াছে। তাহা এই- অথােন্মীলন্যাদ্যষ্ট-ভেদ নিরূপণ ব্রহ্মবৈবর্তে একাদশীব্রতং সৰ্বৰতানাং প্রবরং স্মৃতম্। || বিশেষ স্তত্ব বিজ্ঞেয়াে দ্বাদশীষু বিজোত্তম। ভবস্ত্যষ্টেী পরিখ্যাত স্তাঃ শৃণুষ যথােদিতাঃ । উন্মীলনী বঙুলীচ ত্রিস্পশা পক্ষবন্ধনী। জয়া চ বিজয়া চৈব জয়ন্তী পাপনাশিনী দ্বাদশ্যো হষ্টো মহাপুণ্যাঃ সৰ্ব্বপাপহরা দ্বিজ ! তিথি যােগেন জায়স্তে চত শ্চাপরা স্তথা। নক্ষত্র যােগাৎ প্রবলং পাপং প্রশময়স্তি তাঃ। হেমাদ্রি লিখিয়াছেন,- “একাদশী ব্রতের উল্লেখ অনন্তর, উন্মীলনী প্রভৃতি উহারই (একাদশীরই ) অষ্টবিধ ভেদ নিরূপিত হইতেছে, এই বিষয়ে ব্রহ্ম- রৈবর্তে কথিত আছে যে, ৩য় অধ্যায়] নিত্যতা ও একাদশী ত্যাগ-বিচার ৩৯ “একাদশী ব্রত সকল ব্রতের মধ্যে উত্তম। * * * হে ব্রাহ্মণােত্তম ! ঐ একাদশী ব্রতে দ্বাদশী তিথিতে যেরূপ বিশেষ অর্থাৎ প্রশস্ততা আছে, তাহা আমার নিকট বিস্তারিত জানিতে পারিবে। মাহাত্মবতী আটটি দ্বাদশী প্রসিদ্ধ আছে, তাই আমি যথাবৎ কীৰ্ত্তন করিতেছি, অবধান পূর্বক শ্রবণ কর। উন্মীলনী, বঙ্গুলী, ত্রিস্মৃণা, পক্ষবন্ধনী, জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী ; এই আটটি দ্বাদশী মহাপুণ্য উৎপাদন করে এবং যাবতীয় পাপ নিবর্তন করে। এর মধ্যে চারিটি তিথিযােগেই সঘটিত হয়, অপর চারিটি নক্ষত্রের সহযােগে মহাপাপ প্রশমন করে।” সর্ব শাস্ত্রদশী জগন্মন্যি হেমাদ্রি, এইরূপে ব্ৰহ্ম বৈবর্তের প্রমাণ উল্লেখ পূৰ্ব্বক অষ্টমহাদ্বাদশীকে একাদশীর অন্তৰ্ভুক্তরূপে প্রমাণিত করিয়া পরে আবার যে প্রকারে একাদশী প্রকরণের উপসংহার করিয়াছেন, তাহাও নিয়ে উদ্ধৃত হইল। এব মুন্মীলন্যাদ্যষ্টৈকাদশীমহাত্মং বিস্তরেণ নিরূপপ্যাপসংহৃতম্। এবং সমস্ত বরধৰ্ম্মণাশ্রিতং বৈ, চৈকাদশীব্রতমিদং কিল হেতু যুক্ত। শাস্ত্রান্বিতং হরিনত স্তু হরিপ্ৰিয়ং যঃ, শুদ্ধং পুনঃ পুকুরুতে লভতে স মুক্তি। ইব্যুন্মীলাদষ্ট নিরূপণ যঃ হরিনতঃ হরিভক্ত এবং একাদশী দ্বাদশী বৃদ্ধাদিরূপং হেতু যুক্ত হরিপ্রিয়ং শাস্ত্রান্বিতং শাস্ত্রসম্মতং সমস্ত রব ধর্মগুণাশ্রিতং সমস্ত শ্রেষ্ঠ-ধৰ্ম্মাণাং সমস্ত শ্রেষ্ঠ-গুণনাঞ্চ আশ্রয়ং শুদ্ধং ইদং অষ্ট মহা দ্বাদশীরূপং একাদশী ব্রতং পুনঃ বারংবারং কুরুতে স মুক্তি লভতে। ইতি। নিরন্ধকার হেমাদ্রি অষ্টমহাদ্বাদশী নামক একাদশী ব্রত নির্ণয়ের উপসংহার কালেও লিখিয়াছেন যে, “এইরূপে উন্মীলনী প্রভৃতি আটটি একাদশীর মাহাত্ম্য বিস্তররূপে নিরূপণ করিয়া উপসংহার করা হইয়াছে। একাদশী বা দ্বাদশী বৃদ্ধি প্রভৃতি উপবাসের উপযুক্ত হেতু সমন্বিত শাস্ত্রসম্মত এই অষ্টমহাদ্বাদশী নামক একাদশী ব্রত, সমুদয় উৎকৃষ্ট ধর্মের ও যাবতীয় প্রশস্তগুণের আশ্রয়। যে হরিভক্ত এই শুিদ্ধ-ব্রতের প্রকৃষ্টরূপে বারবার অনুষ্ঠান করেন, তিনি মুক্তিলাভ করিয়া থাকেন।”
৪০
বৈষ্ণবােপাস ব্ৰত মীমাংসা
[ ৩য় অধ্যায়
“এইরূপে উন্মীলনী প্রভৃতি আটটি ব্রত নিরূপিত হইল।”
গ্রন্থকার এইরূপে একাদশী ব্রত নিঃয়ের উপসংহার করিয়াছেন।
বাস্তবিক শিষ্টাচার ও শাস্ত্র বাক্যের দ্বারা অষ্ট মহাদ্বাদশী একাদশীরই
অবস্থান্তর অথবা পরিণামরূপে প্রতিপাদিত বলিয়া দেখা যাইতেছে, এমত
অবস্থায় দুই উপবাস বা দুইৰত কল্পনা কিরূপে সুধী হৃদয় আকর্ষণ করিবে?
ফল কথা অষ্ট মহাদ্বাদশী হইলে একাদশী ত্যাগ করিয়া দ্বাদশীতে উপবাস
করিতে হইবে।
এখন অষ্ট মহাদ্বাদশী বলা যাইতেছে।
* ইতি শ্ৰীস্বরূপ দামােদর গােম্বামি-ভ্রাতৃ বংশােদ্ভব শ্রীকৃষ্ণ হরি গােস্বামি
বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ বিরচিয়াং শ্রীবৈষ্ণবােপৰাস ব্ৰত মীমাংসায়াং অষ্ট
মহাদ্বাদশী নিত্যতৈকাদশী ত্যাগ নিয়ে নাম তৃতীয় অধ্যায়ঃ ॥
চতুর্থ অধ্যায়।
অষ্টমহাদ্বাদশী-নিঞ্জয়
উন্মীলনী
একাদশী তু সম্পূঃ বর্ধতে পুনরেব সা।
দ্বাদশী চ ন বৰ্দ্ধেত কথিতােন্মীলনীতি সা। ১৩ বি, ১০৭
যদি একাদশী অরুণোদয় বিদ্ধা না হইয়া পরদিনে নির্গত হয় অথচ দ্বাদশী
বৃদ্ধি না হয়, তাহা হইলে ঐ দ্বাদশীকে উন্মীলনী মহাদ্বাদশী বলে।
একাদশী কলা যুক্ত।
উপােষ্যা দ্বাদশী নরৈঃ।
এয়ােদা স্তু যাে ভুঙেক্ত তস্য বিষ্ণুঃ প্রসীদতি।
(বোধয়ন) ১৩ বি, ১৫২
কলামাত্র একাদশী যুক্ত দ্বাদশীতেও উপবাস করিতে হইবে। এইরূপ
দ্বাদশীতে উপবাস করিয়া যিনি এয়ােদশী দিন (পাৰণা) আহার করেন, ভগবান
তাহার প্রতি প্রসন্ন হন।
৪র্থ অধ্যায় ] অষ্ট মহা দ্বাদশী নির্ময় ৪১ উন্মীলনী হইলে বলী হইবে না, বলী, ত্রিস্পশা, উন্মীলনীর ব্যাবৃত্তি স্থল। উন্মীলনীতে জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপ নাশিনী হইতে পারে, তাহা হইলেও ইহা উন্মীলনী ব্ৰতেই পরিগণিত হইবে, কেবল ত্রিশা উন্মীলনী ব্রতে পরিগণিত হইবে না। ত্রিস্পশা ও উন্মীলনীতে বিশেষ প্রভেদ না থাকিলেও সামান্যতঃ প্রভেদ কল্পনা করা যায়। দ্বাদশী ত্রয়ােদশী দিনে প্রবেশ করিলে উন্মীলনী ব্ৰত আর দ্বাদশী ক্ষয়ে ত্রিশ ব্রত হইবে। উন্মীলনীতে পিরণ দ্বাদশীতে হইবে। ত্রিস্পশার পারণ ত্রয়ােদশীতে হইবে। এই অংশেও ত্ৰিশাতেও ব্যাবৃত্তি থাকে। উন্মীলনীর সার ব্যবস্থা- যদি পূৰ্বদিন দশণীর মানাঙ্গ ৫৬ ছাপান্ন দণ্ডের অধিক না থাকে অথবা ৫৬ দণ্ডের পরক্ষণে দশমীর অস্তিত্ব না থাকে আর তং পরদিন একাদশীর মানাঙ্ক ৬০ যাইট হইয়া (সম্পূর্ণ হইয়া) পরদিনে (দ্বাদশী দিনে) বৃদ্ধি পায়, তবে উহাকে উন্মীলনী বলে, এই অবস্থায় পরদিন অর্থাৎ যে দিন দ্বাদশীর সহিত একাদশীর যােগ হয় ঐ দিনে উপবাস হইবে। দ্বাদবে বিবর্ষেত ন চৈ বৈকাদশী যদা। বঙুলী তু ভৃগুশ্রেষ্ঠ ! কথিত। পাপনাশিনী । ১৩ বি, ১০৭ হে ভৃগু শ্রেষ্ঠ ! যদি একাদশী বৃদ্ধিপ্রাপ্ত না হইয়া বাদশী বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়, তবে তাহাকে বলী বলে, ঐ বজুলী পাপ নাশ করিয়া থাকে। স্কান্দে একাদশী ভবেৎ পূঃ। পরতে দ্বাদশী যদা। তদা হেকাদশীং ত্যক্ত। দ্বাদশ্যাং সমুপােষয়েৎ ॥ ১২ বি, ১৫৩ যদি একাদশী পূ। অর্থাৎ দশমী বেধ বিহীনা হয়, আর দ্বাদশী পরদিনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, তবে একাদশী ত্যাগ করিয়া দ্বাদশীতেই উপবাস করিবে। সূর্যোদয়ের পূর্ব চাৰিদণ্ড অপােদয় কাল, অরুণােদয়ে দশমীর ঈষৎ স্পর্শ ও না থাকিলে অর্থাৎ ৫৬ ছাপায় দণ্ডের অধিক দশমী না হইলে, সেই অরুণােদয়কালে অথবা অরুণােদয়ের পূর্বে একাদশী আরব্ধ হইয়া কাহােরা ব্যাপিনী হইলেই সম্পূর্ন হয়।
৪২. বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৪র্থ অধ্যায় । সেই পুন্ন একাদশীর মল দ্বাদশী দিনে নির্গত হইলেই দশী বৃদ্ধি প্রাপ্ত অর্থাৎ যষ্টি দণ্ডত্মিকা হইতে পারে না। বৃদ্ধি প্রাপ্ত তিথির মল পরদিনে যাইতে দেখা যায়, কদাচিৎ নাও যাইতে পারে। প্রায় মল পরদিনে গিয়া থাকে। তবে একাদশী পূন্ন হইয়া দ্বাদশী পূন্ন হয় কিরূপে? আর পূন্ন না হইলে বঙুলীতে শুদ্ধ। একাদশীর ত্যাগই বা কিরূপে সম্ভব পর হয় ? তাহার উত্তর,যষ্টি দণ্ডাত্মিকা একাদশীর মল পরদিনে না গেলে শুদ্ধা- ত্যাগ হইতে পারে, আর যদি পরদিনে মল যাইবার সম্ভাবনাই থাকে, তাহা হইলে একাদশীর দ্বিতীয় প্রকার সম্পূন্নত্বে শুদ্ধা ত্যাগ হইতে পারে। এখন দ্বিতীয় প্রকার সম্পূন্নত্ব প্রদর্শিত হইতেছে, ব্রহ্মবৈবর্তে অৰুণােদয় বেলায়াং যা স্তোকাপি তিথির্ভবেৎ। পূন্নেবেত্যবগন্তব্যা প্রভুত নােদয়ং বিনা।” তিথি রেকাদশী। অরুণােদয়ং বিনা ন প্রভূত ন সম্পূন্ন1, এক মরুপােদয় মারভ্যান্তারুণােদয়ং যাব দ্ব্যাপিনেব স্যাদিত্যর্থ। ইতি দিদর্শনী। ১২ বি, ১২৭। অর্থ। অরুণােদয় বেলাতে একাদশী অল্প থাকিলেও সম্পূর্ণ হয়, অরুণােদয় বিনা সম্পূর্ণ হয় না। অর্থাৎ এক অরণােদয় হইতে আরম্ভ হইয়া অন্য অরুণােদয় পর্যন্ত ব্যাপিয়া থাকিলেই সম্পূন্ন হয়। বঙুলী বিষয়েই এই সম্পূর্ণত্বের ফল। বজুলী হইলে উন্মীলনী ও ত্রিস্পশা হইতে পারে না। বঞ্জলীর ব্যাবৃত্তি স্থল উন্মীলনী ও ত্রিস্পশা। বঙুলীতে জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী হইতে পারে । তাহা হইলেও বঙ্গুলী ব্রতই হইবে; অন্থ ব্রত হইবে না। বঙ্গুলীর সারব্যবস্থা যদি দ্বাদশী এক অহােরাত্র ব্যাপিয়া ( অর্থাৎ দ্বাদশীর মানায়ে ৬০ ষাইট থাকিয়া বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়, অর্থাৎ পরদিনে মল যায়, তবে তাহাকে বজুলী বলে। “বজুলীতে শুদ্ধ। একাদশী ত্যাগ করিয়া শুদ্ধা দ্বাদশীতেই উপবাস করিবে। ফল কথা দ্বাদশী অহােরাত্র ব্যাপিনী হইলেই বজুলী হয়।
. ৪র্থ অধ্যায় | অষ্ট মহা দ্বাদশী নিগ্নয় ত্রিস্পশা- একাদশী দ্বাদশীচ রাত্রি শেষে আমােদশী। ত্রিশা নাম সা থােক। ব্ৰহ্মহত্যাং ব্যাপাহতি । ১২ বি, ১৫৬ প্রথমতঃ একাদশী পরে দ্বাদশী ও রাত্রি শেষে ত্রয়ােদশী হইলে তাহার নাম ত্রিস্পশা। ত্রিশা ব্ৰহ্মহত্যা জনিত পাপ বিনষ্ট করে। একাদশী দ্বাদশীচ রাত্রি শেষে এয়ােদশী। তত্র তুশতং পুণ্যং ওয়ােদা স্তু পারণ। ১২ বি ১৫৬ প্রথম একাদশী পরে দ্বাদশ শেষ রাত্রে ব্রয়ােদশী হইলে তাহাতে উপবাস করিয়া ত্রয়ােদশীতে পারণ করিলে একশত যজ্ঞের পুণ্য লাভ হয়। এই মহাদ্বাদশীতে উপবাসের ব্যত্যয় নাই, যে যে কারণে এই দ্বাদশীর মহত্ত্ব তাহা পূর্বেই বিবৃত হইয়াছে। (১) দ্বাদশীক্ষয়েই ত্রিস্পশা হইয়া থাকে, তাহা মাহাত্ম বিশেষে ও পারণ বৈলক্ষণ্যে উন্মীলনী হইতে পৃথক। ত্রিশার ব্যাবৃত্তি স্থল ব্যঞ্জলী, উন্মীলনী, ও পক্ষ বর্ধনী। ত্ৰিণা হইলেও জয়া, বিজয়া, জয়ন্তীও পাপনাশিনী হইতে পারে, তাহা হইলেও ত্রিশ ব্রতই হইবে। ত্রিস্পশায় ত্রয়ােদশীতে পারণ, উন্মীলনী হইলে দ্বাদশীতে পারণ, এই অংশেও উন্মিলীতে ত্রিশার ব্যাবৃত্তি থাকে, তিথি ক্ষয় হয় বলিয়া উন্মীলনী, বঙুলী ও পক্ষ বন্ধনী হয় না। পক্ষ বর্ধনী। কুহুরাকে যদা বৃদ্ধিং প্রযাতে পক্ষবন্ধনী। বিহায়ৈকাদশীং তত্র দ্বাদশ্যাং সমুপােষয়েৎ। ১৩ বি, ১০৯ যদি অমাবস্যা বা পুর্নিমা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়, তবে তং পূর্ববর্তী দ্বাদশীকে পক্ষ বর্ধনী বলে। পক্ষ বর্ধনী হইলে একাদশী, ত্যাগ করিয়া ঐ দ্বাদশীতে উপবাস করিবে। তিথিঃ সশল্যা পরিবর্জনীয়া, ধৰ্মার্থ কামৈস্তু বুধৈ মষ্যৈ। বিহীনল্যাপি বিবর্জনীয়া, যদ্যগ্রতা বৃদ্ধি মুপৈতি পক্ষ। ১২ বি, ১৫৮ ধৰ্মাৰ্থকামৈ বুধৈ মস্যৈঃ সশল্যা অৰুণােদয় বেধযুক্ত। তিথি কোদশী (১) ২৬ পৃষ্ঠা দেখুন ।
৪৪ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৪র্থ অধ্যায় পরিবর্জনীয়, নৰেলং সশল্যা বিহীন শল্যাপি অরুণােদয় বেধ রহিতাপি একাদশী বিবর্জনীয়া যদি অগ্ৰতঃ পক্ষ, অমাবস্যা পূগ্নিমাচ বৃদ্ধিং ষষ্টি ঘটিকা ভূত্ব পরদিনে নির্গমণং উপৈতি গ্নোতি। অর্থ। ধর্মরূপ অর্থাভিলাষী পণ্ডিতেরা সশল্যা অর্থাৎ বেধযুক্ত। ( বিদ্ধা) একাদশী তিথি সৰ্বততভাবে পরিত্যাগ করিবেন, অর্থাৎ বিদ্ধা একাদশীতে কদাচিৎ উপবাস করিবেন না। আর যদি পক্ষান্ত অথাৎ পূর্ণিমা বা অমাবস্যা বর্ধিত হয়, তৰে শল্যহীন। অর্থাৎ সম্পূন্ন। একাদশীও পরিত্যাগ করিবেন। উপবাস বাদশীতে হইবে। পক্ষবন্ধনীর সার ব্যবস্থা। অমাবস্যাও পূর্নিমা মানাঙ্কে ৬০ ষাইট হইয়া মল পরদিনে গেলে অথবা না গেলেও শুদ্ধ। একাদশী ত্যাগ করিয়া দ্বাদশীতে উপবাস করিতে হইবে। পক্ষ বর্ধনীতে জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী হইতে পারে, তাহা হইলেও পক্ষবন্ধনী ব্রতই হইবে। যে হেতু নক্ষত্ৰঘটিত কৰ্ম্ম হইতে তিথি ঘটিত কর্মের প্রাধান্য। পক্ষবন্ধনীতে কদাচিৎ উন্মলনী, কদাচিৎ বঙুলীও হইতে পারে, ত্রিশ হইতে পারে না। ত্রিস্পশা পক্ষবন্ধনীর ব্যাবৃত্তি স্থল। পক্ষবন্ধনী হইলে বৃদ্ধিক্রমে যদি কদাচিৎ উন্মীলনীবা বলী হয়, তবে পক্ষবন্ধনী ব্রতের পূজাদি হইবে। পূৰ্ব্ব কৰ্ম্ম হইতে পর কর্মের বলবত্তা, কেহ বলেন উভয়ের পূজাদি হইবে, তাহা সুষ্ট, মনে করি না। বাস্তবিক দ্বাদশী কিম্বা একাদশী বৃদ্ধি হইলে অল্প সময় মধ্যে পূর্নিমা ৰা অমাবস্যার বৃদ্ধি সম্ভবপর নহে। উন্মীলনী প্রভৃতির পারণ কাল। পারণাহনি সংপ্রাপ্তে দ্বাদশীং যে ব্যতিক্রমে। এয়ােদশ্যা ন্তু ভুঙ্গানঃ শত জন্মনি নারকী। ১৩ বি, ৯৯ পারণ দিনে যে ব্যক্তি দ্বাদশী অতিক্রম করিয়া এয়ােদশীতে ভােজন করে, এমােদশীতে ভােজনশীল সেই ব্যক্তি শতজন্ম পৰ্যন্ত নারকী হয়। পারণ দিনে দ্বাদশী লাভ হইল দ্বাদশীতে পারণ। শেষরাত্ৰে সন্ধ্যা পূজাদি সমাপন করিয়াও যদি পারণ যােগ্য দ্বাদশী না থাকে, তবে ত্রয়ােদশীতে পারণ করিবে।
৪৫
৪র্থ অধ্যায়] অষ্ট মহা দ্বাদশী নির্নয়
বৌধায়নঃ।
একাদশী কলাযুক্ত উপােষ্য। দ্বাদশী নরৈঃ।
এয়ােদা স্তু যাে ভুঙক্তে তস্য বিষ্ণু প্ৰসীদতি। ১২, ১৫২
যে মানব একাদশী-কলাযুক্ত দ্বাদশীতে উপবাস করিয়া ত্রয়ােদশীতে
পারণ করে, তাহার প্রতি বিষ্ণু প্রসন্ন হন।
বলা বাহুল্য ত্রিস্পশাতে দ্বাদশী ক্ষয় হয় বলিয়া তাহার পারণ ৰয়ােদশীতেই
হইবে।
জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী।
জয়া-
দ্বাদশ্যা ন্তু সিতে পক্ষে ঋক্ষং যদি পুনৰ্ব্বসু।
নাম্না সা তু জয়া খ্যাত। তিথীন মুত্তমা তিথিঃ। ১৫৬।
শুক্ল পক্ষের দ্বাদশীতে পুনৰ্ব্বস নক্ষত্রের যােগ হইলে “জয়া” নামে মহাদ্বাদশী
হয়, এই তিথি সকল তিথির মধ্যে উত্তম।
বিজয়া
যদাতু শুক্ল দ্বাদস্তাং নক্ষত্ৰং শ্রবণং ভবেৎ।
বিজয়া সা তিথিঃ প্ৰােক্তা তিথীনা মুত্তমা তিথি। ১৩ বি, ১৫৬
শুক্লপক্ষের দ্বাদশীতে শ্রবণা নক্ষত্রের যােগ হইলে ঐ দ্বাদশী “বিজয়া” নামে
কথিত হয়, বিজয়া মহাদ্বাদশী সকল তিথি মধ্যে উত্তম।
জয়ন্তী
যদাতু ও দ্বাদশ্যাং প্রাজাপত্যং প্রজায়তে।
জয়ন্তী নাম সা প্ৰােক্তা সর্বপাপহরা তিথিঃ ॥ ১৩ বি, ১৬১
শুক্লপক্ষের দ্বাদশীতে যদি রােহিণী নক্ষত্রের যােগ হয়, তবে তাহার নাম
জয়ন্তী মহাদ্বাদশী, এই তিথি সমুদয় পাপ অপহরণ করে।
পাপনাশিনী
যদাতু শুরু বাদাং পুষ্যা ভবতি কহিচিৎ।
তদা সা তু মহাপুণ্যা কথিত পাপনাশিনী । ১৩ বি, ১৭৪
কখনও যদি শুক্লপক্ষের দ্বাদশীতে পুষ্যানক্ষত্রের যােগ হয় তাহা হইলে ঐ
তিথি মহাপুণ্যা বলিয়া পাপনাশিনী মহাদ্বাদশী নামে কথিত হয়।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৪র্থ অধ্যায় কেবল উল্লিখিত তিথি ও নক্ষত্রের যােগ মাত্রেই “মহাদ্বাদশী” হয় না, যেরূপ যােগ বিশেষে ব্রত যােগ্য হয়, তাহা নিরূপিত হইতেছে। জয়াদি ব্রত নিয় কারিকা ভাকেদিয় মারভ্য প্রবৃত্তাধিকানি চেৎ। সামান্যুনানি বা সন্তু ততাে হমীযাং ব্রতৌচিতী। কিম্বা সূর্যোদয়াৎ পূর্বং প্রবৃত্তান্তধিকানি চেৎ। সমানি বা তদাপেষা ব্ৰতাচরণ যােগ্যতা। ১৩ বি, ১১৫ যদি সূর্যোদয়ের সমকালে প্রবৃত্ত পুনৰ্ব্বসু, শ্রবণ, রােহিনী ও পুষ্যা এই চারি নক্ষত্র সম্পূন্ন হইয়া অধিক অর্থাৎ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, অথবা সম অর্থাৎ সম্পূর্ণ হয়, কিম্ব উন অর্থাৎ সম্পুন্নবস্থা হইতে কম হয়, তাহা হইলে ঐ চারি নক্ষত্র যােগে মহাদ্বাদশী ব্রত হইবে। আর যদি ঐ নক্ষত্র চতুষ্টয় সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত হইয়া অধিক অর্থাৎ সম্পূন্নাবস্থা হইতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় অথবা সম অর্থাৎ সম্পূন্ন হয়, তবে ও এই ব্রত আচরণ মােগ্য হয়। কম হইলে হইবে না। জয়াদি ব্রত নিগ্নয় বিচার- তিথি ও নক্ষত্র যােগে জয়া প্রভৃতি ব্ৰত বিধেয় বলিয়া কেহ কেহ ( সম নৃন ও অধিক শব্দের প্রয়ােগ দর্শনে) সমতা ন্যূনতা ও অধিকতর প্রতি তদ্দিনস্থ তিথিনকে অপেক্ষিত মনে কবিয়া সুদুল্লভ মহাদ্বাদশী ব্রতের যথার্থত আচরণে বঞ্চিত হইতেছেন। বাস্তবিক উল্লিখিত স্থলে নক্ষত্রের সমতা ন্যূনতা ও অধিকতা যে অন্য নিরপেক্ষ, তাহা সৰ্ববাদিসম্মত ; অভিনিবেশ সহকারে আলােচ্যমান গ্রন্থ ও অপরাপর প্রামাণিক নিবন্ধকারের উক্তি প্রত্যক্ষ করিলে মনস্বীমাত্রেই নিঃসন্দেহ হইবেন বিবেচনায় একে একে তাহা প্রদর্শিত হইতেছে। ১। শরণায্যতিরিক্তেযু নক্ষত্রে খলু ত্ৰিযু। সূৰ্যাস্তমন পৰ্য্যন্তং কাৰ্যং দ্বাদশ্যপেক্ষণম্ ॥ ১৩ বি, ১১৫ শ্রবণা ভিন্ন অপর তিন নক্ষত্র যােগে মহাদ্বাদশী ব্রতে পূৰ্যাস্তকাল পর্যন্ত দ্বাদশী স্থিতির আবশ্যক, অর্থাৎ মহাদশী ব্রতে সূৰ্যাস্তকাল পর্যন্তই দ্বাদশী অপেক্ষণীয়, সূর্যাস্তের পরস্থিত দ্বাদশী জয়াদি ব্রতের অনুকূল বা প্রতিকূল নহে। সমানানি বাবঃ ইতি পাঠঃ। (অর্থ একরূপ) - ৪র্থ অধ্যায় ] অষ্ট মহা দ্বাদশী নিগ্নয় ৪৭ জয়াদি ব্রত নিগ্নয় বিচার পাঠক মনে করুন কোন দিন ২৮.৩, আটাইশ দণ্ড ত্রিশ পল দিবামান ; ঐ দিন শুক্লা দ্বাদশীর স্থিতিকাল ও ঐ ২৮৩, পলই হইল, আবার নক্ষত্রও (পুষ্যাদি) সূর্যোদয়ের সমকাল হইতে প্রবৃত্ত, তাহার মান ৫৮৪৫ পল। সুতরাং সূর্যোদয়ের সমান সময় প্রবৃত্ত নক্ষত্র সম, উন কিম্বা অবিক যাহাই কেন হউক না, মহাদ্বাদশী ব্রত হইবে” এই অনুশাসনের অনুবর্তী পণ্ডিতেরা তিথি হইতে নক্ষত্র মান অধিক হইয়াছে বলিয়া দ্বাদশীতের বিধান করিবেন। আমরাও নক্ষত্র স্বীয় সম্পূন্নাবস্থা হইতে উন হইয়াছে বলিয়া দ্বাদশীব্ৰত স্বীকার করিব। কিন্তু প্রতিপক্ষের নিকট বক্তব্য এই, সূৰ্যাস্ত সময়ে পরিসমাপ্ত দ্বাদশীর মান বড় দিনেও ৩৪ দণ্ড হইবে না। অতএব সূর্যোদয় হইতে আরব্ধ নক্ষত্র ঐ ৩৪ দণ্ডের নূন পরিমিত দ্বাদশীমানের সমান বা উন হইতে পারে , কারণ তিথি নক্ষত্রাদির পরিমাণ ক্ষয়াবস্থাতেও পঞ্চাশৎ দণ্ডের কম হওয়া অসম্ভব। সুতরাং অস্তমনকাল মাত্র স্থায়ী দ্বাদশীমান নক্ষত্র মানের অপেক্ষণীয় হইলে (সমান্নানি বা সন্তু) “সমই হউক বা উন ই হউক” হরিভক্তি বিলাসের এই উক্তি একান্ত অনুপপন্ন হয়। দ্বাদশমান পঞ্চাশ দণ্ডের অধিক হইলে তদপেক্ষা সূর্যোদয়ে প্রবৃত্ত নক্ষত্র সমান বা উন হইতে পারে, প্রতিপক্ষগণের এইরূপ বলিবার সুযােগ ও সুদূর পরাহত। কারণ, জয়াদি ব্রতত্রয়ে সূৰ্যাস্তকাল পর্যন্তই দ্বাদশীর অপেক্ষা করিতে হইবে” এইরূপ বলিয়া গােস্বামিপদ অমন পরস্থিত দ্বাদশীর অপেক্ষা নিজেই প্রত্যাখ্যান করিতেছেন। গােম্বামিপাদ যে ব্রতে রাত্রিগত দ্বাদশীকে অপেক্ষণীয় বলিয়াছেন ঐ ব্ৰতেই রাত্রিগত দ্বাদশীর অপেক্ষা নক্ষত্রমানের সমতা ও উনতা কল্পনা অতীব হাস্যম্পদ। ২। প্রাচীন মহর্ষিগণ সূর্যের এক উদয় হইতে অপর উদয়কাল পর্যন্ত স্থায়ী তিথি নক্ষত্রাদিকে সম বা পূন্ন বলিয়াছেন, আর যাহা সমতা বা পূন্নতা প্রাপ্ত হয় নাই তাহাকে নন বা ক্ষীণ বলিয়াছেন, আর যে সকল তিথ্যাদি সমতা বা পূঃ তা অতিক্রম করিয়া বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়াছে ঐ সকলকে বৰ্দ্ধিত বা অধিক বলিয়াছেন। শ্রীমদ গােস্বামি পাদাদি প্রাচীন নিবন্ধকারগণ কর্তৃক সম্মানিত নিম্ন মৃত গ্রন্থে একাদশী নিগ্নয় প্রসঙ্গে মহানুভব অল্পাট নাথ আচাৰ্য্য একাদশী তিথিকে শুদ্ধা বিদ্ধা প্রভেদে অষ্টাদশ ভাগে বিভক্ত করিয়া “শুদ্ধ সমা” দ্বাদশীসম।” ইত্যাদি নামে উল্লেখপূর্বক বলিয়াছেন, ৪৮ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৪থ অধ্যায় জয়াদি ব্ৰত নিগ্নয় বিচার অথ সর্বেদেব ভেদে একাদশী দ্বাদশ্যে সমত্বং নাম যষ্টিঘটিকাত্মত্ব, ততত ননত্বে ন্যুনত্ব, আধিক্যে অধিকত্বঞ্চ জ্ঞেয়ম্ । “একাদশী দ্বাদশীর যে অষ্টাদশ প্রকার ভেদ নিরূপিত হইয়াছে, তাহার সকল প্রকার ভেদ মধ্যেই সমস্থলে যষ্টিঘটিকাত্মকতা, ন্যূনতা স্থলে তদপেক্ষা অল্পতা ও অধিকতাস্থলে পূৰ্বোল্লিখিত সমতা হইতে আধিক্যই বুঝিতে হইবে।” শ্ৰীমন্মহােপাধ্যায় মাধবাচাৰ্য কালমাধবীয় গ্রন্থে স্কান্দবচনের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে নিয়ামৃত কারের মত আরও পরিস্ফুরিত করিয়াছেন, যথা- শুদ্ধা যদা সমা হীন সমা ক্ষীণাধিকোত্তর। একাদশী মুপবসে = শুদ্ধাং বৈষ্ণবীমপি। (স্কালে) দশমীবেধরহিত। শুদ্ধৈকাদশী যদ। পরে রুদয়াদুদ্ধং নাস্তি কিম্ভূদয়সম * ততত নূনা বা দ্বয়ে। রপি পক্ষয়াে দ্বাদশী পরে কদয়ে সমা, ননা, অধিক। বা ভবতি তত্র সর্বত্র শুদ্ধৈকাদশী উপােয্য।। নত্ববিদ্ধাং বৈষ্ণবীং দ্বাদশী মুপবসেদিত্যর্থ। (১) যখন দশমী বেধ শূন্য বিশুদ্ধ একাদশী সমা অর্থাৎ পরদিনের সূর্যোদয়ের উর্কে না থাকে কিন্তু উদয়ের সমান হয় অথবা হীনা অর্থাৎ উদয়কাল হইতে নন হয়, আর উভয় পক্ষেরই দ্বাদশী যদি পরদিন সময় অর্থাৎ উদয়ের সমান হয়, না অর্থাৎ উদয় হইতে কম হয় আর অধিক। অর্থাৎ উদয় হইতে বেশী হয়, তাহা হইলে সকল সময়েই শুদ্ধ। একাদশীতেই উপবাস করিবে কিন্তু অবিদ্ধা অর্থাৎ একাদশী স্পর্শ শূন্য দ্বাদশীতে উপবাস করিবে না। শহরিভক্তি বিলাসকার গােস্বামিদ ও এই রীতিরই অনুসরণ করিয়াছেন, যথা বঙ্গুলী মহাদ্বাদশী লক্ষণে “দ্বাদবে বিবর্জিত ন চৈ বৈকাদশী যদ।” “যদি একাদশী বৃদ্ধিপ্রাপ্ত না হইয়া দ্বাদশী বৃদ্ধিপ্রাপ্ত অর্থাৎ স্বীয় সম্পূন্নাবস্থা অহােরাত্ৰাবচ্ছিন্ন যষ্টিদণ্ড পরিমিত কাল হইতে অধিক হয়” ইত্যাদি বহুস্থলে কিন্তু,দয়ে সমাপ্তা ইতি পুস্তকান্তরে পাঠ। (১) এই ৰচনী অবৈষ্ণব বিষয়ক বলিয়া গােস্বামিপাদ মীমাংসা করিয়াছেন। ১২শ বিলাসে ১৫৫ অঙ্কের দিগদর্শনী দেখুন।
৪র্থ অধ্যায়] অষ্ট মহা দ্বাদশী নির্ময় ৪৯ : জয়াদি ব্রত নির্নয় এই রিষয়ের উদাহরণ রহিয়াছে। তিথি বিষয়ে আচাৰ্যগণের. এইরূপ স্পষ্টোক্তি সত্ত্বেও ঐ ঐ শব্দ (সমন-অধিক) নক্ষত্র বিষয়ে কেন যে ভিন্নার্থে পরিগৃহীত হইবে তাহার কারণ দেখা যায় না, বরঞ্চ “একত্র দৃষ্ট শাস্বার্থঃ অন্যত্ৰাপি প্রকল্পতে বাধকাভাবাং” এই ন্যায়ানুসারে আমাদের অবলম্বিত অর্থই সমথিত হইতেছে। পরন্তু আলােচ্যমান জয়াদিতের ও বক্ষ্যমাণ জন্মাষ্টমী ব্রতের পারণ প্রসঙ্গে গােস্বামিপাদের উক্তি পর্যালােচনা করিলেই নক্ষত্রের সমতা, ন্যূনতা ও অধিকতা যে তিথির সমতা, উনতা ও অধিকতর অনুরূপে অঙ্গীকৃত হইয়াছে ইহা প্রকাশ পাইবে। ৩। নৃসিংহ পরিচৰ্য্যা গ্রন্থকার শ্রীকৃষ্ণদেবাচাৰ্ষ্য জয়া প্রভৃতি মহা- দ্বাদশীর নিরূপণ প্রসঙ্গে একটী প্রাচীন সংগ্রহের উল্লেখ করিয়াছেন, হরিভক্তি বিলাসকার নৃসিংহ পরিচৰ্য্যা প্রমাণিত সংগ্রহ ও তৎকৃত ব্যাখ্যা প্রভৃতি অবলম্বনেই যে জয়াদি মহাদ্বাদশীর নিরূপণ করিয়াছেন, তাহা তিনি নিজেই উল্লেখ করিয়াছেন। পাঠক! আসুন, এই বিষয়ে আদর্শ গ্রন্থকার কি বলিয়াছেন, তাহা একবার দেখাইয়া লই। তাহা এই- আদিত্যেন জয়া চ্যুতেন বিজয়া পুষ্যেণ পাপাপহা, রােহিণ্যা চ জয়ন্তিকাপি চতধ ক্ষং দিনাদের্ভবেৎ। পুঃ চৌমথাধিকঞ্চ, হরিভাধিকেতু ভান্তৰ্ভুজি, ক্ষাধিক্যসময়ে। ঔ দিনতঃ প্রাগভেচ পশ্চাদ্ভুতম্। অমর্থ, ইত্যাদি উপক্রমে নৃসিংহ পরিচৰ্য্যা প্রণেতার প্রকৃত ব্যাখ্যা যথা:-এতা নক্ষত্র প্রযুক্তা চতষু দ্বাদশীদিনে সূর্যোদয়া দারভ্য নক্ষত্রেণ ভবিতব্যং ন প্রাকৃ, হ্রাসবৃদ্ধি পৰ্যালােচনয়া নক্ষত্র নুনত্ব সাম্যাধিক্যে সৎস্বপি; রােহিণী শ্রবণে চেৎ যষ্টিঘটিকে ভূত্ব পারণ দিনে বন্ধেতে তদা নক্ষত্র মধ্যএব পারণম্। যদা নক্ষত্রবৃদ্ধে সুৰ্যোদয়াৎ প্রাকু প্রবৃত্তানি নক্ষত্রাণি সাম্যৎ * দ্বাদশী চতুফন্য মহতােহসে বিনির্ণয়ঃ । নৃসিংহ পরিচৰ্য্যাদি গ্রন্থদৃষ্টা নিরূপিত। ১৩ বিলাস ১১৬। # নৃসিংহ পরিচৰ্যা তৃতীয় পটল তৃতীয় শ্লোক।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৪র্থ অধ্যায় } জয়াদি ব্রত নির্নয় আধিক্যং বা ভজন্তে তদা হইসূর্যোদয় দুপৰ্যেবৰা নক্ষত্ৰেণ ভবিতব্যর্মিতি ন নিয়মঃ। শ্রবণাতিরিক্তেষু ত্ৰিযু নক্ষত্রে দ্বাদশ্য অস্ত সময় পর্যন্ত। ভবিব্যৈব। শ্রবণেতু অস্তাৎ প্রাগপি সার্জমাদুপরি দ্বাদশীসমাপ্তেী তদহরেবােপবাস।” “নক্ষত্র প্রযুক্ত জয়া প্রভৃতি চারিটি মহাদ্বাদশীতেই দ্বাদশী দিনে ক্ষয়বৃদ্ধি- ক্রমে নক্ষত্রের নূ্যনতা, সমতা কিম্বা অধিকতা হইলেও সূর্যোদয়ের সময় হইতে নক্ষত্রের প্রবৃত্তি আবশ্যক কিন্তু এমত অবস্থায় সূর্যোদয়ের পূর্বে নক্ষত্রের প্রবৃত্তি হইলে ত হইবে না। রােহিণী ও শ্রবণা, উপবাস দিনে যষ্টিদণ্ড পরিমিত হইয়া পারণ দিনে যদি বৰ্ধিত হয়, তাহা হইলে নক্ষত্র মধ্যেই পারণ করিবে। আর যদি নক্ষত্রের বৃদ্ধিদশায় সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত নক্ষত্র সকল সমতা অথবা অধিক প্রাপ্ত হয়, তাহা হইলে নক্ষত্র সকল ( আসূৰ্যোদয়াৎ ) অপর সূর্যোদয় পর্যন্ত অথবা (উপৰ্য্যেব বা) অপর সূর্যোদয়ের পরেও থাকিবে, কিন্তু কতক্ষণ থাকিবে, তাহার কোন নিয়ম নাই। শ্ৰবণ ভিন্ন রােহিনী পুনৰ্ব্বসু ও পুয়া এই তিন নক্ষত্রে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দ্বাদশী থাকিলে সেই দ্বাদশীতে ব্ৰত হইবে, কিন্তু শ্রবণা নক্ষত্রে সূর্যাস্তের পূর্বেও অর্থাৎ প্রাতঃ কালাবধি দেড় প্রহরের পর দ্বাদশী সমাপ্ত হইলেও সেই দিনেই উপবাস হইবে। (১) ; (১) জয়, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপ নাশিনী এই মহাদ্বাদশী 'চতুষ্টয়ে নৃসিংহ পরিচৰ্যাকার কৃষ্ণ দেবাচাৰ্য যাহা লিখিয়াছেন, নৃসিংহ প্ৰসাদ কাল নির্নয় সার প্রণেতা দলপতি অবিকল তাহাই অনুকরণ করিয়াছেন; কেবল বিজয়া মহাদ্বাদশীতে একটু পার্থক্য দেখাইয়াছেন; যথা- “শ্রবণেতু সার্ধ ত্রিযাম পর্যন্তত দ্বাদশ্যা অভিমতা ।” শ্রবণাতে সার্ধ ত্রিযাম দ্বাদশী থাকা আবশ্যক। এইটুকু প্রভেদ আর সমস্ত সমান। একরূপ বর্ননা বলিয়া আর তাহা উদ্ধৃত হইল না। গােস্বামিদ এই স্থলে দ্বাদশীর কাল নিগ্নয় করিয়া কিছু বলেন নাই কেবল বলিয়াছেন,-“সুর্যাস্তের পূর্বে ও দ্বাদশী সমাপ্ত হইলে বিজয়া হইবে।” নৃসিংহ, পরিচৰ্যাকার বিজয়াতে “দ্বাদশী দেড় প্রহর থাকা আবশ্যক। বলিয়াছেন।
৪র্থ অধ্যায় ] অষ্ট মহা দ্বাদশী নিয় জয়াদি ব্রত নির্নয় ৪। কাল নির্নয় প্রণেত। রামচন্দ্র ভট্ট মহাদ্বাদশী ব্রতে নক্ষত্র ও দ্বাদশীর স্থিতিকাল অতি পরিষ্কার বাক্যে নির্দেশ কয়িয়াছেন, যথা:- (২) শ্র ণ দ্বাদশী নির্মীতা। নক্ষত্র প্রযুক্তের মহাদ্বাদশীয়ে সূর্যোদয়- দার্য দ্বিতীয় সুৰ্যোদয় পৰ্য্যন্তত্বং নক্ষত্রাণাং, অস্তমন পৰ্য্যস্তত্বং দ্বাদশা অপেক্ষিত। “পূৰ্বেই শ্রবণা দ্বাদশী নির্মীত হইয়াছে। তদ্ভিন্ন অপর তিনটি ( জয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী) মাদ্বাদশীতে নক্ষত্র সকলেব সূর্যোদয় হইতে দ্বিতীয় সূর্যোদয় পর্যন্ত ও দ্বাদশীর সূয্যাস্তকাল পয্যন্ত অবস্থিতি আবশ্যক।” উল্লিখিত ভিন্ন ভিন্ন মতাবলম্বী গ্রন্থকারগণের একবাক্যতা ও মহর্ষিবাক্যের পূর্বাপর সামঞ্জস্যের প্রতি লক্ষ্য কবিলে বােধ হয় চিন্তাশীল ব্যক্তিমাত্রেই সমতা নতা ও অধিকতার ব্যাখ্যান্তর কল্পনা পবিত্যাগ করিবেন। সম্প্রতি জয়া প্রভৃতি মহাদ্বাদশীতে দ্বাদশীর স্থিতিকাল নিরূপিত হইতেছে, যথা :- শ্রবণা ব্যতিরিক্তে নক্ষত্রে খলুত্ৰিযু। ৰ্যামন পৰ্যন্তং কাৰ্য্য দ্বাদশ্যপেক্ষণম্। বণে ত্বশুমনতঃ প্রাগ দ্বাদস্তাং সমাপ্ততায় গতায়মপি তত্রৈব ব্রতম্যোচিভবেং ১৩ বি, ১১৫ শ্রবণা ভিন্ন অপর তিন নক্ষত্র যােগেই (রােহিনী, পুনর্বস্তু ও পুষ্যা) সুর্যাস্তকাল পর্যন্ত দ্বাদশ থাকা আবশ্যক, সুর্যোস্তের পর আর দ্বাদশীর অপেক্ষা নাই, কিন্তু শ্রবণা নক্ষত্র যােগে সুয্যাস্তের পূর্বে দ্বাদশীর সমাপ্তি হইলেও তাহাতেই ব্রত কর্তব্য। পূর্বাহ্নে বৈ দেবানা মিতিশ্রুতিঃ। পূৰ্বাহ্নঃ প্রহরং সার্ধ মিতি গােভিল। দেবকার্যে পূর্বাহ্ন কাল, পূর্বাহ্ন দেড় প্রহর। বিজয়া বাদশীতে শ্ৰকৃষ্ণ পূজা বিহিত হইয়াছে বলিয়া দেড় প্রহর দ্বাদশী থাকা আবশ্যক ইহা আমরা মনে করি। বাণী গ্রামের প্রাচীন পণ্ডিত আনন্দ মােহন গােস্বামী বিদ্যারত্ন মহাশয় ব্যাকরণ বাদাৰ্থ ন্যায় ও বৈষ্ণব শাস্ত্রে বড় পণ্ডিত ছিলেন, তিনিও বিজয়া মহাদ্বাদশীতে দ্বাদশী দেড় প্রহর থাকা আবশ্যক” বলিয়াছেন। তিনি গ্রন্থ কারের পিতা। তিনি যে সকল যুক্তি প্রদর্শন করিয়াছিলেন, তাহা মনে নাই। (২) রামচন্দ্র ভট্ট, “দ্বাদশী আর শ্রবণারযােগ মাত্রেই শ্রবণা দ্বাদশী হয়” বহিয়াছেন, দ্বাদশী স্থিতির কথা বলেন নাই।
৫২ বৈষ্ণবােপাস ব্ৰত মীমাংসা ধি ও অধ্যায় জয়া প্রভৃতির সার ব্যবস্থা কেহ কেহ বলেন শ্রবণা যুক্ত দ্বাদশীর সূৰ্যাস্তকাল পর্যন্ত অপেক্ষা থাকিলেও তন্ততঃ ঐ দিন দেড় প্রহর বেলা পর্যন্ত থাকা চাই, কেহ বলেন সাড়ে তিন প্রহর থাকা চাই। নৃসিংহ পরিচৰ্য্যায় ও কাল নিয়ে ইহার স্পষ্টোল্লেখ আছে, তাহা পূর্বেই প্রদর্শিত হইয়াছে। * কিন্তু নৃসিংহ পরিচৰ্য্যা প্রমাণিত সংগ্রহ শ্লোকে তদনুকুল উক্তি বা ঈঙ্গিত দেখা যায় না। এই জন্যই বােধ হয় গ্রন্থকার গােম্বামিপাদ এই বিষয়ে কৃষ্ণদেবাচার্যের অনুসরণ করেন নাই। জয়া প্রভৃতির সার ব্যবস্থা। যদি শুরু পক্ষের দ্বাদশী দিনে রােহিণী, পুনৰ্ব্ব কিম্বা পুষ্যা নক্ষত্র সূর্যোদয়ের সমান সময় হইতে আরব্ধ হয়, অথচ দ্বাদশী প্রাতঃকাল হইতে সূৰ্যাস্তকাল প্রাপ্ত হয়, তবে নিশ্চয়ই মহাদ্বাদশী ব্রত হইবে। আর যদি উক্ত নক্ষত্র সকল সূর্যোদয়ের পূর্ব হইতে আরব্ধ হইয়া অপর সুৰ্যোদয় পর্যন্ত স্থায়ী হয় অথবা পরদিনে নিষ্ক্রান্ত হয় এবং দ্বাদশী প্রাতঃকাল হইতে সূৰ্যাস্তকাল পর্যন্ত অবস্থত হয়, তবেও অবশ্য মহাদ্বাদশী ব্রত হইবে, কিন্তু সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত নক্ষত্র অপর সূর্যোদয় পর্যন্ত স্থায়ী না হইলে মহাদ্বাদশী হইবে না। ঐরূপ শ্রবণা নক্ষত্র যদি সূর্যোদয় হইতে আরব্ধ হয় অথচ বাদশী সূর্যোদয়ের * ৪৯৫০৫১ পৃষ্ঠায় দেখুন। # হিবা বৈষ্ণব মন্তসত্ব মিতরেক্ষে ভদ্রা তিথে শুত্ৰাৰ্বাগপি তৎপ্রখণ্ডন ইহৈবাহি ব্ৰতং পারণম্। অন্তম্মিধিক। তিথির্য দি ভতত ভান্তে হ্যবৃদ্ধো তিনে রন্তঃ পিরণকং ভবে দিতি মহাষ্টদ্বাদশী নিগ্নয় । (নৃসিংহ পরিচর্যা ৩য় পটল ৪র্থ শ্লোক ) শ্রবণা ত্যাগ করিয়া অন্য তিন নক্ষত্রে দ্বাদশীর সূৰ্যাস্ত পর্যন্ত বর্তমান। আবশ্যক, শ্রাবণা নক্ষত্রে তৎপূর্বে দ্বাদশীর সমাপ্তিতেও ঐ দিনে ব্রত করিয়া তৎপরদিনে পারণ করিবে। নক্ষত্র অপেক্ষা তিথির বৃদ্ধি হইলে নক্ষত্রের অন্তে তিথি মধ্যে পারণ কর্তব্য, আর তিথি অপেক্ষা নক্ষত্রের বৃদ্ধি হইলে তিথির অন্তরে অর্থাৎ তিথি মধ্যেই পারণ বিধেয়। এইরূপে পূৰ্বাচাৰ্য্যগণ অষ্টমহাদ্বাদশীর নিন্ন করিয়াছেন।
৪র্থ অধ্যায় ] অষ্ট মহা দ্বাদশী নিয়। জয়া প্রভৃতির পাৰণ কাল পূর্বেই নিবৃত্তও হয়, তথাপি নিশ্চয় বিজয় মহাদ্বাদশী হইবে; আর যদি শ্রবণ নক্ষত্র সূর্যোদয়ের পূর্ব হইতে আরব্ধ হইয়া অপর সূর্যোদয় পর্যন্ত স্থায়ী হয় বা তাপেক্ষা অধিক হয় এবং শুক্লা দ্বাদশী দেড় প্রহর বা অধিক থাকে, তাহা হইলেও অবশ্য বিজয়া মহাদ্বাদশী হইবে । কিন্তু সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত শ্রবণা অপর সুৰ্যোদয়ের কম হইলে বিজয়া মহাদ্বাদশী হইবে না। উল্লিখিত নিয়মের ব্যতিক্রমে জয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী মহাদ্বাদশী কখনই হইবে না। বিজয়া মহাদ্বাদশী বিশুদ্ধ ভাদ্রমাসে অন্য প্রকারেও হইতে পারে, কিন্তু মল ভাত্রে পূর্বোক্ত নিয়মের ব্যতিক্রম হইলে বিজয়া মহাদ্বাদশী হইবে না। জয়া প্রভৃতির পারণ কাল। বৃদ্ধো ভতিথ্যে রধিকা তিথি শ্চেৎ পিরণ শুতঃ। ভান্তে, শ্যা চ্চে তিথি নূনা তিথি মধ্যে তু পারণম্ । দ্বাদস্তনবৃত্তৌ তু বৃদ্ধে ব্ৰহ্মচ্যুতক্ষয়াের। তন্মধ্যে পারণং, বৃদ্ধৌ শেয়াে শুদতিক্রমে। ১৩ বি ১১৬ জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও পাপনাশিনী মহাদ্বাদশী ব্রতে দ্বাদশী এবং পুনর্বস্তু, শ্রবণা, রােহিণী কিম্বা পুষ্যা নক্ষত্রের বৃদ্ধি হইলে অর্থাৎ পারণ দিনে তিথি নক্ষত্র উভয়ের নির্গম হইলে ঐ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত তিথি নক্ষত্রের মধ্যে যদি তিথি অধিক হয় তবে নক্ষত্রান্তে দ্বাদশী মধ্যে পারণ করিবে, আর ঐ বৃদ্ধি প্রাপ্ত তিথি নক্ষত্র মধ্যে যদি তিথি নক্ষত্র অপেক্ষায় ন্যূন হয় তবে ও তিথি মধ্যেই পারণ করিবে। দ্বাদশীর বৃদ্ধি না হইয়া যদি কেবল রােহিণী বা শ্রবণ নক্ষত্রের বৃদ্ধি হয় অর্থাৎ পারণ দিনে নির্গম হয় তবে রােহিণী বা শ্রবণা নক্ষত্র মধ্যেই পারণ করিবে এবং এইরূপ দ্বাদশী বৃদ্ধি না হইয়া কেবল পুষ্যা বা পুনৰ্ব্ব নক্ষত্রের বৃদ্ধি হইলে অর্থাৎ পারণ দিনে নির্গম হইলে পুষ্যা বা পুনর্বসুর অতে পারণ করিবে। নক্ষত্রের সমন্নাধিক লক্ষণ। ( সম্পূর্ণতা বা সমত জ্ঞান, বৃদ্ধি ও ন্যূনতা জ্ঞানের কারণ ) এই পারণ নিগ্নয় প্রসঙ্গে গােস্বামিপাদ যে, তিথি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নক্ষত্র বৃদ্ধির উল্লেখ করিলেন এই বৃদ্ধি অন্য কাহারও অপেক্ষায় বৃদ্ধি নহে, কিন্তু ঐ * এবাদশী প্রকরণে দেখুন।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [৪র্থ অধ্যায় নক্ষত্রের সমানাধিক লক্ষণ বৃদ্ধি শব্দে তিথি ও নক্ষত্র প্রত্যেকের স্ব স্ব সাম্যাবস্থা হইতে আধিক্যকেই বুঝাইতেছে। বস্তুর নির্দিষ্ট সীমাবিশিষ্ট অবস্থা জ্ঞান, তদীয় হ্রাস বৃদ্ধি জ্ঞানের জনক। যে বস্তুর সম বা পূর্ণ অবস্থা অনির্দিষ্ট অথবা অজ্ঞাত, তাহার বৃদ্ধি জ্ঞান হইতে পারে না; কাজেই তিথি ও নক্ষত্রের সমতা বা পূর্নতা না জানিলে তীয় বৃদ্ধি ও বােধগম্য হইবে না। একাদশী ভিন্ন অপর সকল তিথিরই এক সুৰ্যোদয় হইতে অপর সূর্যোদয় পর্যন্ত অহােরাত্রাবচ্ছিন্ন ষষ্টি দণ্ড পরিমিত কাল ব্যাপ্তিতে সমতা বা সম্পূর্ণতা প্রমাণিত হইয়াছে, এই সম্পূর্ণতা অতিক্রম করিয়া পরদিনে নির্গম হইলেই তিথির বৃদ্ধি হয়। নক্ষত্রের পূন্ন তা ও তিথির অনুরূপেই অঙ্গীকৃত হইয়াছে বলিয়া অনুমিত হয়। যেহেতু, ‘বৃদ্ধে ভতিথথ্যা রধিকা তিথি শ্চেং পারণং ততঃ ভান্তে” (জয়াদি ব্রতে তিথিও নক্ষত্র উভয়ের বৃদ্ধিতে তিথি অধিক হইলে নক্ষত্রান্তে পারণ) গােস্বামি পাদের এই উক্তি দ্বারা পিরণ দিন গত নক্ষত্রাংশই বৃদ্ধি শব্দে লক্ষিত হইতেছে, কাজেই জয়াদি মহাদ্বাদশী দিনস্থ নক্ষত্র পারণ দিনের অব্যবহিত পূর্বক্ষণ অর্থাৎ সূর্যোদয় পর্যন্ত ও বৃদ্ধিগামী হয় না বলিয়া উহাই তাহার (নক্ষত্রের) সম্পূর্ণ বা সম অবস্থা বলিয়া প্রতিপন্ন হইতেছে, যেহেতু সম অবস্থা অতিক্রম করিলেই বৃদ্ধি বা আধিক্য হয়। মহাদ্বাদশীতে যে অন্ততঃ সূৰ্যোদয় হইতে নক্ষত্রের প্রবৃত্তি আবশ্যক। তাহা পূর্বেই স্বীকৃত হইয়াছে, অতএব সূর্যোদয় হইতে প্রবৃত্ত হইয়া অপর সূর্যোদয় পর্যন্ত স্থায়ী নক্ষ ের পূর্নতা অবিসম্বাদিত। পূর্বে মহাদ্বাদশী নিগ্নয় প্রস্তাবে নক্ষত্রের যে ন্যূনত, সমতা বা পূঃ তাও অধিকতার কথা উল্লিখিত হইয়াছে, তিথির অনুরূপেই তাহার তাৎপৰ্য গ্রহণ করিতে হইবে। ( অর্থাৎ ন্যূনতা অহােরাত্ৰাবচ্ছিন্ন ষষ্টিদণ্ড-পরিমিত কালৈক দেশব্যপ্তি, পূঃ তা বা সমতা অহােরাত্রাবচ্ছিন্ন যষ্টি দণ্ড পরিমিত কালব্যাপ্তি এবং অধিকত। অহােরাত্রাবচ্ছিন্ন ষষ্টিদণ্ড পরিমিত কাল তৎপরবর্তী কিয়ৎকাল ব্যাপ্তি।) এইরূপ ব্যাখ্যা-অবলম্বন করিলে দ্বাদশীর সূৰ্যাস্তকাল মাত্র অথবা তদল্প কালমাত্র ( অবশ্য শ্রবণযােগে) স্থায়িত্বে ও সুৰ্যোদয়ার নক্ষত্রের নূ্যনতা, সমতা এবং অধিকতার অন্যতমের অসদ্ভাব হয় না, কিন্তু ব্যাখ্যান্তর কল্পনায় ঈদৃশ অবস্থায় ন্যূনতা এবং সমভার সম্ভাবনা থাকে না বলিয়া ব্যাপক ব্যবস্থা সঙ্কুচিত হইয়া পড়ে। বিশেষ প্রমাণ বচনের সাহায্য ব্যতিরেকে আচাৰ্য বাক্যের বিষয় সঙ্কীঃ করিতে চেষ্টা করা সুসঙ্গত নহে। এখন প্রবণ। দ্বাদশী ব্রত বলা যাইতেছে।
৫ম অধ্যায়]
শ্রবণ দ্বদেশী
ইতি শ্রীরূপ দামােদর গােম্বামি ভ্রাতৃবংশােম্ভব শ্রীকৃষ্ণহরি গােস্বামি
বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ বিচিতায়াং শ্রীবৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসায়াং অষ্ট
মহাদ্বাদশী নিম্নমােনম চতুর্থ অধ্যায়ঃ |
পঞ্চম অধ্যায়।
শ্রবণ দ্বাদশী।
•
পঞ্চদশ বিলাসে
ভাস্য শুক্ল দ্বাদশ্যাং যুক্তরাং শ্রবণেনহি।
উপােষ্য সঙ্গমে স্নাত্বা দেবং বামন ময়েঃ ২৪৪
ভাদ্রমাসের শুক্লাদ্বাদশী শ্রবণযুক্ত হইলে তাহাতে উপবাস করিয়া নদী
সঙ্গমে স্নান অনন্তর বামন দেবের অর্চনা করিবে।
==
মার্কণ্ডেয় পুরাণে
শ্রবণক্ষ সমাযুক্তা দ্বাদশী যদি লভ্যতে।
উপােয্যা দ্বাদশী তত্র ব্রয়ােদশ্যা ন্তু পারণম্ ॥ ২৫১
যদি কখনও শ্রবণানক্ষত্র যুক্ত দ্বাদশী তিথি উপস্থিত হয়, তবে দ্বাদশীতে
উপবাস করিবে এবং ত্রয়ােদশীতেই পারণ করিবে।
এয়ােদশীতেই পারণার নিশ্চয় বিধান করাতে এই ব্রতে পারণাহে দ্বাদশী
নির্গমের সম্ভাবনা নাই ;- ইহার কারণ পারণ নিগ্নয় প্রসঙ্গে আলােচিত
হইৰে। উক্ত বচনে দ্বাদশী শুক্লা কি কৃষ্ণা ইহার কিছুই প্রকাশ নাই বলিয়া
স্কান্দও যম বচন প্রদর্শিত হইতেছে
স্কান্দে
মাসি ভাদ্রপদে শুক্লা দ্বাদশী শ্ৰৰণান্বিতা।
মহতী দ্বাদশী জেয়া উপবাসে মহাফলা।.২৪৫
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৫ম অধ্যায় ভাদ্র মাসের শুক্লাদ্বাদশীতে শ্রবণনক্ষত্রের যােগ হইলে তাহার নাম মহাদ্বাদশী। ঐ দিনে উপবাস করিলে মহৎ ফল হয়।* যমশ্চ- যদাতু ও দ্বাদাং নক্ষত্ৰং শ্রবণং ভবেৎ। তদা সেতু মহাপুণ্যা দ্বাদশী বিজয়া স্মৃত। তত্র দানােপবাদ্য মক্ষয়ং পরিকীর্তিতম্ ॥ ২৫২ যখন শুক্লপক্ষের দ্বাদশীতে শ্রবণা নক্ষত্র হয়, তখন নিতান্ত পবিত্রতা সম্পাদিনী ঐ দ্বাদশী বিজয়ানামে কথিত হয়, ঐ দ্বাদশীতে দান ও উপবাস প্রভৃতি সদনুষ্ঠান সম্পাদিত হইলে তাহার ফল কখনও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। পূর্বে অষ্ট মহাদ্বাদশী নিগ্নয় প্রস্তাবে শ্রবণার সহিত শুক্লা দ্বাদশীর যােগ বিশেষে যে বিজয়া মহাদ্বাদশী নির্ধারিত হইয়াছে, তাহাতে দ্বাদশীর দেড় প্রহর বা অধিক স্থিতির কথা বলা হইয়াছে (১) অন্য কোন নিয়ম নির্দিষ্ট হয় নাই। * “মাসি ভাদ্রপদে শুক্লা” ইত্যাদি বচনে ‘ভাদ্রপদের’ উপাদান থাকায় মলভাদ্রে এবং আশ্বিন মাসে-চান্দ্রভাদ্রে শ্রবণাদ্বাদশী ব্রত অর্থাৎ অতিদিষ্ট বিজয়া হইবে না। একাদশীতেই উপবাস হইবে। কেহ কেহ ভাদ্র পদের ব্যাবৃত্তি স্থল ‘মলভাদ্র’ কহেন, তাহা সঙ্গত নহে, কারণ মলভাদ্র মল বলিয়া ত্যাজ্য, কর্মের অযােগ্য। ভাদ্রপদের ব্যাবৃত্তি স্থল আশ্বিনমাস-চান্দ্রভা। সৌরভাদ্রেই শ্রবণাদ্বাদশী অর্থাৎ অতিদিষ্ট বিজয়া হয়। মল ভাদ্রে এবং আশ্বিনমাসে-চন্দ্রভাদ্রে লাক্ষণিক বিজয়া এবং বিষ্ণুশৃঙ্খল হইতে পারে। লাক্ষণিক বিজয়া হইলে বিজয়াতে উপবাস আর বিষ্ণু শৃঙ্খল হইলে বিষ্ণু শৃঙ্খলে উপবাস হইবে । পূৰ্বদিন বিষ্ণু শৃঙ্খল পরদিন যথােক্ত লক্ষণ বিজয় হইলে বিজয়াতেই উপবাস হইবে শ্রাবণ মাস মল হইলে আশ্বিন মাসের প্রথমভাগে এবং ভাদ্রমাস মল হইলে আশ্বিন মাসের শেষভাগে শুক্লাদ্বাদশীর সহিত এবার যােগ হইতে পারে। ১৩৩৫ সন ই আশ্বিন মঙ্গলবার শুক্লাদ্বাদশীয় সহিত শ্রবণার যােগ হইয়াছে। (১) শ্রবণে অাৎ প্রাগপি সার্ধযামা দুপরি দ্বাদশী পরিসমাপ্তে দহরেখােপ বাস। শ্রবণায় অন্তের পূর্বে দেড়হর বা অধিক দ্বাদশী হইলে উপবাস হইবে দেড় প্রহরের কম হইলে হইবে না।
৫ম অধ্যায় ] শ্রবণ দ্বাদশী কেবল শ্রবণা সূর্যোদয়ের পূৰ্ব্বে প্রবৃত্ত হইলে অন্যূন আহােরা ব্যাপী হওয়া আবশ্যক এবং সূর্যোদয়ে আরব্ধ হইলে যে পরিমাণ স্থায়ী হয়, তাহাই ব্রতের অনুকুল বলিয়া কথিত হইয়াছে। কিন্তু সম্প্রতি মাসকৃত্য মধ্যে যে বিজয়া দ্বাদশীর উল্লেখ করা হইল, ইহাতে শ্রবণ ও দ্বাদশীর অত্যল্পকাল মিলনেও বিজয়। ব্ৰত হইবে। শ্রবণ দ্বাদশীং প্রকৃত্য নারদীয়ে তিথি নক্ষত্ৰয়াে যোগাে যদাচৈব নরাধিপ দ্বিকলাে যদি লভ্যেত স জ্ঞেয়াে হষ্টমিক। ২৫২ মাৎস্যে- দ্বাদশী শ্রবণযুক্ত। কৃৎস্য পুণ্যতমা তিথি। নতু সা তেন মুক্তা চ তাবতেব প্রশস্ততে। ২৫২ শ্রবণা দ্বাদশী প্রকরণে নারদীয় পুরাণে কথিত হইয়াছে যে, যদি দুইকলা ও তিথি ও নক্ষত্রের যােগলাভ হয়, তবে ঐ দুই কলাকেই অষ্টপ্রহর ব্যাপী বলিয়া জানিতে হইবে। দ্বাদশীর সহিত বণার কিঞ্চিমাত্র যােগ হইলেও সমস্ত দ্বাদশীই পবিত্রতা সম্পাদিনী হইয়া থাকে, যে অংশের সহিত শ্রবণার যােগ হয় অর্থাৎ যে সময়টুকু শ্রবণযুক্ত দ্বাদশী থাকে, কেবল সেই সময় পরিমিত দ্বাদশীই যে প্রশস্ত তাহা নহে, কিন্তু সমস্ত দ্বাদশীই অর্থাৎ সমস্ত দ্বাদশীর অহােরাত্রই পুণ্যতম। পূৰ্বে একাদশী ব্রতের অবশ্য কর্তব্য উপদিষ্ট হইয়াছে ; এইক্ষণে আবার শ্রবণা দ্বাদশী ব্রতের কর্তব্য অভিহিত হইতেছে। কেহ কেহ * এ স্কুলে দ্বিকমাত্র সংযােগে ও অষ্ট প্রহর ব্যাপিত্ব মনে করার উপদেশ করাতে, বিজয়া দ্বাদশীতে শ্রবণ ও দ্বাদশী উভয়েরই অষ্ট প্রহরব্যাপী স্থিতি আবশ্যক, ইহাই প্রতিপন্ন হয়; কিন্তু এই মহাদ্বাদশীতে দ্বাদশী স্থিতির কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নাই, বিশেষতঃ সূর্যাস্তের পূর্বে যে কোন সময়ে দ্বাদশীর নিঃশেষ হইলেও মহাদ্বাদশী ব্রতের হানি হইবে না (শ্রবণে স্তমনতঃ প্রাগ, দ্বাদস্তা ইত্যাদি) এইরূপ উল্লেখ করাতে কেবল শ্রবণা নক্ষত্রেরই অষ্টযামিক স্থিতি এই ব্রতে একান্ত অপেক্ষণীয়, ইহা কোন মতিমান ব্যক্তি অস্বীকার করবেন ?
৫৮
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা
[ ৫ম অধ্যায়
এই স্থলে শক্তের পক্ষে দুই দিন উপবাস ও অশক্তের পক্ষে পরদিনে উপবাস
ব্রত বিধান করিয়া থাকেন ;-
একাদষ্ঠা বিশুদ্ধত্ব দ্বাদশ্যান্তু পরে হইনি।
শ্রবণে সতি শক্ত ব্ৰতযুগ্মং বিধীয়তে। ২৫২
একাদশী বিশুদ্ধ। অর্থাৎ উপবাস যােগ্যা হইলে আর পরদিনে দ্বাদশী
শ্রবণা নক্ষত্রযুক্ত হইলে শক্ত ব্যক্তির পক্ষে দুইটা উপবাস বিধেয়। তবে যে
বিষ্ণু ধৰ্ম্মোত্তরে—
পারণাস্তং ব্রতং জ্ঞেয়ং ব্ৰতান্তে দ্বিজ ভােজন।
অসমাপ্তে ব্ৰতে পূর্বে নৈব কুৰ্য্যা দুতান্তরম্ ।
(১৫শ বিলাস দিগদর্শনী ২৫৮।)
“পারণাই ব্রতের অন্ত জানিবে অথাৎ পারণা পৰ্যন্ত করা হইলেই ব্রত
সমাপ্ত হয়, ব্রতের অন্ত অথাৎ পারণা যে দিনে ঐ ব্ৰতান্ত দিনে (পারণাহে)
ব্রাহ্মণ ভােজন করাইতে হয়। পূৰ্বার ব্রত সমাপ্ত না হইলে অন্য ব্রত
করিবেই না।
এই যে দুই উপবাস নিষেধক বচন রহিয়াছে তাহার এস্থলে কোনও
বাধকতা নাই।”
যথা ভবিষ্য পুরাণে-
একাদশী মুপােষ্যৈব দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ।
ন চাত্র বিধিলােপঃ স্যাদু ভয় দেবতা হরিঃ | ২৫২
একাদশীতে উপবাস করিয়াই দ্বাদশীতে উপবাস করিবে। ইহাতে
বিধিলােপ হয় না, যেহেতু এক শ্রীহরিই উভয় তিথির অধিষ্ঠাত্রী দেবতা।
সুতরাং সমর্থ ব্যক্তি দুই দিনেই উপবাস করিবেন।
অশক্ত স্তু ব্ৰতদ্বন্দ্বে ভুঙক্তে বৈকাদশী দিনে।
উপসং বুধঃ কুৰ্য্যা বণ দ্বাদশী দিনে। ২৫২
দুই উপবাসে অসমথ বিচক্ষণ ব্যক্তি, না হয় একাদশী দিনে ভােজন
করিবেন, শ্রবণ দ্বাদশী দিনে অবশ্যই উপবাস করিবেন।
এইরূপে শাশক্ত ভেদে ব্যবস্থাপক স্মার্ত মহাশয় কারিকা দ্বারা নিয়মত
৫ম অধ্যায় ] শ্রবণ দ্বাদশী অভিব্যক্ত করিয়া নারদীয় পুরাণের যে তিনটা বচন প্ৰমাণৰূপে গ্রহণ করিয়াছেন গ্রন্থকার তাহাও উদ্ধৃত করিয়াছেন, যথা- উপােষ্য দ্বাদশীং পুণ্যাং বিষ্ণুঋক্ষেণ সংযুতাম্। একাদশ্য বং পুণ্যং নরঃ পােত্যসংশয়ম্ । বাজপেয়ে যথা যজ্ঞে কম্মহীনে হপি দীক্ষিত। সর্বং ফল মবাপ্নোতি অম্লতাে হপ্যহুতাে হপি সন্। এব মেকাদশীং ত্যক্ত। দ্বাদশ্যাং সমুপােষণাৎ। পূৰ্ব বাসরজং পুণ্যং সৰ্ব্বং প্রাপ্লেত্যসংশয়ম্ ॥ ২৫২ মানব শ্রীবিষ্ণুদৈবত শ্রবণানক্ষত্রযুক্ত পবিত্রতাকারিণী দ্বাদশীতে উপবাস করিয়া একাদশী ব্রত অন্য পুণ্য প্রাপ্ত হইয়া থাকে, ইহাতে কোনও সংশয় নাই। যেমন বাজপেয় যজ্ঞে দীক্ষিত হইলে কর্মহীন ব্যক্তি ও অজ্ঞাত হউক, অহুত হউক, সমস্ত ফল লাভ করে। তদ্রুপ একাদশী পরিত্যাগ করিয়া শ্রবণ দ্বাদশীতে উপবাস করিলে একাদশীর উপবাস জনিত সমস্ত পুণ্য প্রাপ্ত হয়, ইহাতে সন্দেহ নাই। গ্রন্থকার শ্রীপাদ দুই দিনে উপবাসের বিধান করেন নাই, তাহার মতে শক্ত ও অশক্ত উভয়েই একদিনে উপবাস করিবে। তথাহি তৎকৃত কারিকা দ্বাদশ্যেকাদশী বা স্যা দুপােষ্যা শ্রবণান্বিতা। বিষ্ণু শৃঙ্খল যােগশ্চ তত্ত্বয়ং মিশ্রিতং যদি ২৫১ অস্য দিদর্শনী-শ্রবণ নক্ষত্রযুক্তা যদি দ্বাদশী স্যা হুদা শক্তৈ রশক্তৈ সর্বৈ রেব দ্বাদশ্যে বােপােষ্যা। যদি বৈকাদশী শ্রবণান্বিতাস্যাৎ দ্বাদশাং শ্রবণং নাস্তি, তদা সর্বৈ রেকাদশ্যে বােপােষ্যা। যদি চ তিথিয়াৎ *তয়ং দ্বাদশ্যেকাদশী শ্রবণ মিশ্রিত একস্মিয়ের দিনে অন্যোন্য মিলিতং স্যাৎ, * অহােরাত্র ব্যাপিনী তিথিকেই সম্পূন্নবলা হইয়াছে। সম্পূর্ণ। তিথি বয়ের পরস্পর মিলন একান্ত অসম্ভব। এক তিথির নির্দিষ্টকালে অপর তিথির উপস্থিতিকেই সংযােগ বা মিশ্রণ ইত্যাদি বলা যায়, কিন্তু উহা তিথি ক্ষয় ভিন্ন সম্ভবপর নহে। কাজেই একাদশী ও দ্বাদশী অম্ভতরের ক্ষয় ভিন্ন পরস্পর মিলিত হইতে পারে না।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৫ম অধ্যায় তা বিষ্ণুশৃঙ্খলে নাম যােগঃ, বিষ্ণু দৈবতাং ত্রয়াণা মেব তেষা মেকত্র শৃঙ্খলাব গ্রথিত। ততশ্চ সােপােষ্যঃ। যদি দ্বাদশী প্রবণা নক্ষত্রযুক্ত হয়, তবে শক্ত ও অশক্ত সকলেই দ্বাদশীতেই উপবাস করিবে। আর যদি কেবল একাদশীই শ্রবণামুক্ত হয়, দ্বাদশীতে শ্রবণা না থাকে, তবে শক্ত ও অশক্ত সকলেই একাদশীতে উপবাস করিবে। আর তিথি ক্ষয়হেতু দ্বাদশী, একাদশী ও শ্রবণা এক দিনে পরস্পর মিলিত হইলে তাহাকে বিষ্ণুশৃঙ্খল বলে। একাদশী দ্বাদশী ও বণা, এই তিনেরই অধিষ্ঠাত্রী দেবতা বিষ্ণু, বিষ্ণুদৈবত এই তিনের একত্র শৃঙ্খলার মত গ্ৰন্থন হয় বলিয়া ইহার নাম বিষ্ণুশৃঙ্খল, অতএব ইহাতেই উপবাস করিবে। “অথ শ্রবণদ্বাদশী ব্রত নির্যঃ” ইত্যাদি উপক্রমে প্রথমেই শক্তাক্ত সকলেই যে, শ্রবণাযুক্ত দ্বাদশী অথবা তদভাবে শ্রবণযুক্ত একাদশীতে উপবাস করিবেন, এইরূপে নিজমত প্রদর্শনপূর্বক পরে একাদস্তা বিশুদ্ধত্বে দ্বাদশ্যা ন্তু পরে হহনি। শ্রবণে সতি, শক্তস্য ব্ৰতযুগ্মং বিধীয়তে। ইত্যাদি-কারিকার উল্লেখ দ্বারায় শক্তের দুই উপবাস ও অশক্তের পরদিনে উপবাস, এইরূপ মতান্তর উপন্যাস করিয়াছেন। শ্রীহরি ভক্তিবিলাসের টীকায় স্বয়ংই এই স্থলে লিখিয়াছেন যে, *কেচিচ্চেদ মুপবাস দ্বয়ে প্রাপ্তে সতি অসমর্থ বিষয়ক মিতি ব্যবস্থাপয়ন্তি, তদমুক্ত, বৈষ্ণবানাং দ্বাদশ্যাং শ্রবণযােগে মহাদ্বাদশীত্বেন তত্রোপবাসাৎ। তথা নারদীয়াদি বচনেত্র শাশাদি বিশেষ পরিত্যাগেন নর ইতি সামান্য নির্দেশাচ্চ।২৫২ কেহ কেহ বিশুদ্ধ একাদশীও শ্রবণাদ্বাদশী যুগপৎ উপস্থিত হইলে শ্রবণ দ্বাদশীকে অসমর্থ বিষয়ক বলিয়া “অর্থাৎ অসমর্থের পক্ষে কেবল শ্রবণ দ্বাদশী তই কৰ্তব্য, সমর্থগণ একাদশী ও শ্রবণ দ্বাদশী “উভয়দিনই উপবাস করিবেন” এইরূপ ব্যবস্থা করিয়া থাকেন; কিন্তু এই দ্বাদশীতে এবার যােগ হইলে মহাদ্বাদশী (বিজয়া) হওয়ায় বৈষ্ণবগণের শুদ্ধা একাদশী পরিত্যাগ পূর্বক ঐ দিনে (দ্বাদশী দিনে) উপবাস কৰ্তব্য, এই কারণে এবং নারদীয় পুরাণাদি বচনেক শক্ত বা অশক্ত এইরূপ বিশেষভাবে নির্দেশ না করিয়া “না” উপােষ্য দ্বাদশীং পুণ্যাং বিষ্ণু ঋক্ষেণ সংযুতাম্। একাদওবং পুণ্যং নরঃ প্রাপ্নোত্যসংশয়। ৫৯ পৃষ্ঠায় অনুবাদ দ্রষ্টব্য।
শ্রবণ দ্বাদশী ৫ম অধ্যায় | এই সামান্যভাবে নির্দেশ করা হইয়াছে বলিয়া উল্লিখিত ব্যবস্থা সঙ্গত হয় না। (১) '। - ১ (১) বাজ পেয়ে তথা যজ্ঞে কর্মহীনাে হ পি দীক্ষিত। সর্বং ফল মবাপ্লেতি অতত হপ্যহুতে হপি সন্। এব মেকাদশীং তা দ্বাদশ্যাং সমুপােষণাৎ। পূর্ব বাসরজং পুণ্যং সৰ্ব্বং প্রাপ্নোত্যসংশয়ং | ইত্যাদি নারদীয় বচনে, “কর্মহীনােহপি” অতােহপি” “অহুতােহপি” এই ‘অপিশঝ সমুচ্চয়ার্থে প্রযুক্ত হইয়াছে। ন কেবলং কর্মহীনােহপি অপিতু সকৰ্ম্মাপি । ন কেবলং অম্লতােহপি অপিতৃমাতােহপি। ন কেবলং অহুতােহপি অপিতু হুতােহপি। এই অর্থ পাওয়া যাইতেছে। এখন অর্থ হইতেছে, বাজপেয় যজ্ঞে দীক্ষিত ব্যক্তি সকৰ্মাই হউক বা কৰ্ম্ম হীনই হউক, স্নাতই হউক বা অজ্ঞাতই হউক, হুতই হউক বা অহুতই হউক, যেমন সমস্ত কর্মফল প্রাপ্ত হয় । এই প্রকার একাদশী ত্যাগ করিয়া দ্বাদশীতে উপবাস করিলে একাদশীর উপবাস জনিত সমুদয় পুণ্যফল প্রাপ্ত হয়। বাজপেয়ে তথা যজ্ঞে ইত্যাদি বচন দ্বারা যে দৃষ্টান্ত দেওয়া হইয়াছে, সেই দৃষ্টান্তের “অপি” শব্দ দৃষ্টে। একাদশ্য বং পুণ্যং নরঃ প্রাপ্লেত্যসংশয়ং। ইত্যাদি স্থলে “নর” পদে শাশক্ত নর” কল্পনা করা যাইতে পারে, সুতরাং “শক্তাক্ত বিশেষ পরিত্যাগেন নর ইতি সামান্তনিৰ্দেশাচ্চ।” এই হেতু ব্যভিচারী হইতেছে। আপাততঃ ব্যভিচার দেখা যায় সত্য, বাস্তবিক ব্যভিচারী হইতেছে না। কারণ “যদুত্তরশ্রয়মাণ: অপিশব্দঃ স তদ্বিরুদ্ধার্থ মেব প্রতিপাদয়তি।” যাহার পর ‘অপিশব্দ’ শ্রত হওয়া যায়, সে তাহার বিরুদ্ধার্থ ই প্রতিপাদন করে, এইরূপ ন্যায় আছে। বাজ পেয়ে তথা যজ্ঞে কর্মহীনাে হপি দীক্ষিত সর্বং ফল মবাগােতি অতো হপ্যহুতাে হপি সন্।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৫ম অধ্যায় বস্তুতঃ এইরূপ স্থলে একাদশী দিনে উপবাস না করিয়া শ্রবণযুক্ত দ্বাদশী দিনে (বিজয়া) মহাদ্বাদশী হয় বলিয়া, ঐ দিনেই উপবাস বিধেয়। পূর্বে অষ্ট মহাদ্বাদশী প্রকরণে যে বিজয় মহাদ্বাদশী উল্লিখিত হইয়াছে, তাহাতে শ্রবণা নক্ষত্রের স্থিতি পরিমাণের নিয়ম অবধারিত আছে, ঐরূপ নির্দিষ্ট নিয়ম সত্ত্বেও “দ্বাদশীতে শ্ৰৰণা যােগে মহাদ্বাদশী হয় বলিয়া মহাদ্বাদশীতে বৈষ্ণব গণের উপবাস-কৰ্তব্যতা হেতুক শক্তাক্ত কল্পনা অযুক্ত” এই প্রকার ব্যভিচার দুষ্ট হেতু কি কারণে উপন্যস্ত হইল? ইহা অবশ্য জিজ্ঞাস্য হইতে পারে। পক্ষান্তরে যাহার মহাদ্বাদশীতে নক্ষত্রের সমমানাধিতায় তিথি মানকে অপেক্ষিত মনে করেন, তাহাদের মতেও বাদশী আর শ্রবণার যােগ মাত্রেই মহাদ্বাদশী হইতে পারে না। উভয় মতেই সনাতন গোস্বামি পাদোক্ত হেতুবাক্য অব্যভিচারী হইতেছে না। কিন্তু ইহা নিশ্চয় যে, যাহার এই স্থলে অপি দ্বারা, “কর্মহীনােহপি সকৰ্ম্মাপি, অতো হপি স্নাতো হপি, অহুতােহপি হুতােহপি।” এই বিরুদ্ধাথ’ প্রতিপাদিত হইল। এই দৃষ্টান্তের অপি শব্দ “নর প্রাপ্লেতি” এই “নরঃ” পদকে সম্বন্ধ করিতেছে না। সুতরাং শক্তাক্ত বিশেষ পরিত্যাগেন নর ইতি সামান্য নির্দেশাচ্চ।” এই হেতু ব্যভিচারী হইতেছে না। সর্বং ফুল মবাগােতি অতাে হপ্য হুতােহপি সন্। এই দৃষ্টান্ত পূৰ্ববাসরজং পুণ্যং সর্বং পােত্যসংশয়। ইহার সহিত। “ফলং প্রাপাতির দৃষ্টান্ত, পুণ্যং প্রাপাতির সঙ্গে। আরও একটা হেতু দেওয়া হইয়াছে। “বৈষ্ণবানাং দ্বাদশ্যাং এবণ যােগে মহাদ্বাদশীত্বেন তত্ৰোপবাসা” বৈষ্ণবের সম্বন্ধে দ্বাদশীতে শ্রবণার যােগ হইলে মহাদ্বাদশী হয় বলিয়া তাহাতেই উপবাস করিবে।” এই দুইটা হেতু দ্বারা শক্তশক্ত ব্যবস্থা নিরাস করা হইয়াছে। ৩ * ৪৬ পৃষ্ঠায় দেখুন। বৈষ্ণবানাং প্ৰাদাং শ্রবণযােগে মহাদ্বাদশীছেন তত্রোপবাসাৎ।
৫ম অধ্যায় ] . শ্রবণ দ্বাদশী প্রতি ভগবান্ শ্রীচৈতন্যদেব, নিজমুখে আদেশ করিয়াছিলেন, বৈজ্ঞবগণের আবশ্যক কৃত্য নিদ্ধারণ করিবার জন্য, সেই লােকাতীত মহাত্মার বাক্যে কখনও ব্যভিচার সম্ভাবনা নাই। তত্ত্বলি, পাঠক সহিষ্ণুতা অবলম্বনে প্রস্তুত বিষয়ের আদ্যন্ত অভিনিবেশ সহকারে আলােচনা করিলে কোন প্রকার অসঙ্গতিই দেখিতে পাইবেন না। প্রাচীন আচাৰ্য্যগণ প্রথমতঃ নানা দোষ সঙ্কুল মত সকল পূৰ্বপক্ষরূপে গ্রহণ করিয়া পরিশেষে স্বাভিপ্রেত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। এই রীতি ৬ অনুসারেই শ্রীপাদ গ্রন্থকার উপবাস দ্বয় বিধায়ক পক্ষ পূৰ্বে উপন্যাস করিয়া অসঙ্গত বােধে পুনরায় এইরূপ-- পান্তর অবলম্বন পূর্বক প্রকৃত সিদ্ধান্ত প্রকটিত করিয়াছেন। যথা তৎকৃত কারিকা অল্লো ইপি অনয়াে যোগাে ভবে তিথিভয়াে র্য দি। উপাদেয়ঃ স এব স্যা দিত্যত্রোপবসে দুধ। ২৫২ প্রস্তাবিত দ্বাদশী ও শ্রবণা নক্ষত্রের যদি অল্পমাত্রও যােগ হয়, তবে উহাই উপাদেয় অর্থাৎ মহাদ্বাদশীত্বে গ্রাহ; এইহেতু এই দিনেই মহাদ্বাদশী গুণাভিজ্ঞ ব্যক্তি উপবাস করিবেন। তথা শ্রবণাদ্বাদশীং প্রকৃত্য তত্রৈবােক্ত- তিথি নক্ষত্ৰয়ে র্যোগগা যদা চৈব নরাধিপ! কিলাে যদি লভ্যেত স জ্ঞেয়া হষ্টমিক ॥ ২৫২ (শ্রবণাদ্বাদশী প্রকরণে নারদীয় পুরাণে এই বচন কথিত হইয়াছে।) যদি তিথি ও নক্ষত্রের যােগ দুই কলা অর্থাৎ অতি অল্প সময়ও লাভ হয়, তবে ঐ দুই কলাকেই অষ্টযামিক অর্থাৎ অহােরা ব্যাপী বলিয়া জানিবে। কলায় কালব্যাপী দ্বাদশী ও শ্রবণার সংযােগ হইলে অষ্টপ্রহর ব্যাপী সংযােগ জ্ঞান করিবার জন্য নারদীয় পুরাণের বচন প্রদর্শনপূর্বক গােদামিপাদ আদেশ করিয়াছেন (অল্লোহপি অনমাের্যোগ ইত্যাদি কারিকা)। ইহার কারণ এই যে, এবােনক্ষত্ৰ অহােরাবচ্ছিন্ন অষ্ট প্রহর ব্যাপী হইলে, সূর্যোদয়ের পূর্বে, পরে অথবা সমান সময়ে প্রবৃত্ত হইলেও প্রাগুক্ত বিজয়া মহাদ্বাদশী লক্ষণের ব্যাপ্তি অথবা লক্ষ্য অতিক্রম পূৰ্ব পূৰ্বাতু যা ব্যাখ্যা পূর্বপক্ষতয়া মতা। সৰ্বালিমা তু বিজ্ঞেয়া স্বসিদ্ধান্ততয়া পুন।
৬৪ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৫ম অধ্যায় করিতে পারে না। প্রস্তাবিত ব্ৰতে পূৰ্বোল্লিখিত বিজয় মহাদ্বাদশী লক্ষণ সঙ্গমন উদ্দেশ্যেই নারদীয় পুরাণে দ্বিকল সংযোগেও অষ্টযামিক সংযােগের অতিদেশ * করা হইয়াছে। এই অতিদেশ বচন (সজ্ঞেয়াে হষ্টমিক) অনুসারে শ্রবণ ও দ্বাদশীর যােগমাত্রেই বিজয়া মহাদ্বাদশীর অবশ্যম্ভাব রহিয়াছে ; সুতরাং পূর্ব উপন্যস্ত (দ্বাদশ্যাং শ্রবণা যােগে মহাদ্বাদশীত্বেন ইত্যাদি) হেতু বাক্যে ব্যভিচার সম্ভাবনার অবসর নাই। সম্প্রতি ইহা বলা যাইতে পারে যে, যদি বৈষ্ণবগণের শক্ত ও অশক্ত, প্রত্যেকেরই এমত স্থলে একাদশী ত্যাগ করিয়া কেবল শ্রবণাযুক্ত দ্বাদশীতেই উপবাস কৰ্তব্য বলিয়া শ্ৰীগগাস্বামিপাদের অভিপ্রেত হয়, তবে ব্ৰতথয় বিধায়ক ভবিষ্য পুরাণ বচন + নিৰ্বিষয় হইয়া যায়। কিন্তু শক্তাক্ত ভেদে তাৎপৰ্য্য স্বীকার করিলেই ভবিষ্য বচন ও নারদীয় বচনের ঞ সার্থকতা উপলব্ধি হয়। ফলতঃ মহাদ্বাদশী ব্রতানুষ্টায়ী বৈষ্ণবগণ উক্ত ভবিষ্যবচনের লক্ষীভূত নহেন ; বৈষ্ণবেতর ও কাম্য ব্রত পরায়ণ ব্যক্তি মাত্রকে লক্ষ্য করিয়াই উক্ত বচন অভিহিত হইয়াছে। বৈষ্ণবগণের পক্ষে একাদশী ও মহাদ্বাদশী নিত্য কর্তব্য হইলেও মহাদ্বাদশীর উপস্থিতিতে একাদশী মহাদ্বাদশীর অন্তর্নিবিষ্ট হয় বলিয়া মহাদ্বাদশী ব্রতে একাদশীর পৃথক্ কৰ্তব্যতা থাকে না; এই বিষয় পূর্বেই আলােচিত হইয়াছে। অতএব একাদশী ও শ্রবণাদ্বাদশীর তােপস্থিতিতে বৈষ্ণবগণের একাদশী ত্যাগ পূৰ্ব্বক দ্বাদশীর উপবাস প্রমাণ সিদ্ধ ও শিষ্টজন সমর্থিত বলিয়া উপবাস দ্বয় প্রতিপাদক ভবিষ্য বচন (একাদশীমুপােষ্যৈব ইত্যাদি) বৈষ্ণব বিষয়ক নহে, ইহাই বুঝিতে হইবে। বৈষ্ণবেতর ব্যক্তির * অন্যধর্মস্যন্যারােপণ মতিদেশ। যথা ইণ বদিক! ইতি মুগ্ধবােধটীকায়াং দুর্গাদাসঃ । ভূধাতুবং। কলাপ। প্ৰকৃতাৎ কৰ্মৰ্ণোযস্মাৎ তৎ সমানেষু কৰ্ম্ম। ধৰ্ম্মো তিদিশ্যতে যেন সে হতিদেশ ইতিস্মৃতঃ। * একাদশী মুপােষ্যৈব দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ। ন চা বিধিলাপঃ শ্যা দুভয়ে দেবতা হরিঃ। ভবিষ্যবচন। st উপােষ্য দ্বাদশীং পুণ্যাং বিষ্ণুঋণে সংযুতাম্। একাদশ্যম্ভবং পুণ্যং নরঃ প্রাপ্নোত্যসংশয়। নারদীয় বচন ৩৮৩৯ পৃষ্ঠায় অষ্ট মহা দ্বাদশী ঐকরণ দেখুন।
৫ম অধ্যায় ] শ্রবণ দ্বাদশী পক্ষে মহাদ্বাদশীর নিত্যতা নাই, কিন্তু একাদশীর নিত্যতা ও কাম্যতা উভয়ই আছে। শ্রাবণ দ্বাদশী ব্রত বৈষ্ণবেতরের পক্ষে কাম্যব্রত, ইহার নিত্যতা নাই। এই কারণে বৈষ্ণবাতিরিক্ত সমর্থ ব্যক্তি নিত্যব্রত একাদশীর অনুষ্ঠান করিয়াই কাম্য এবণাদ্বাদশীর উপবাস করিবেন, এক শ্রীহরি উভয় দিনেই অধিষ্ঠাত্রী দেবতা বলিয়া বিধি লােপ হইবে না, এইরূপে ভবিষ্যপুরাণ বচনের তাৎপৰ্য্য অবধারণ করিতে হইবে। বিশেষতঃ দ্বাদশীতে শ্রাবণা যােগে একাদশীতে যে উপবাস করিতে নাই আর দ্বাদশীতে শ্রবণযােগাভাবেই যে, একাদশী উপােষণীয়া, ইহা নারদীয় পুরাণে অভিব্যক্ত আছে। তথাহি যদি ন প্রাপ্যতে ঋক্ষং দ্বাদশাং বৈষ্ণবং কচিৎ। একাদশী তদো পােয়া পাপী শ্রষণান্বিতা ২৫৩ কচিদিতি। রাত্ৰাদৌ কস্মিংশ্চিৎ সময়েপত্যার্থ। ২৫৩ ইতি দিদর্শনী। ২৫৩। যদি কোন সময়ে অর্থাৎ দিবা কিম্বা রাত্রিতে যে কোন সময়ে দ্বাদশীতে শ্রবণা নক্ষত্রের প্রাপ্তি না হয়। তখন শ্রবণা নক্ষত্রযুক্ত একাদশীতে উপবাস করিবে। * নারদীয় পুরাণােক্ত এই বচনে বণাযুক্ত দ্বাদশীর অভাবকালে শ্রবণান্বিত একাদশীর উপােষ্যত্বে বিধান দ্বারা ব্যতিরেক মুখে ইহাই বলা হয় নাই কি যে, দ্বাদশী শ্রবণা যুক্ত হইলে তৎপূৰ্ব দিন অর্থাৎ একাদশী দিনে উপবাসের * কেহ কেহ, “উত্তরাষাঢ়াযুক্ত দ্বাদশীতে দিবারাত্রি যে কোন সময়ে শ্রবণার যােগ হইলে যথােক্ত লক্ষণ বা প্রকৃত বিজয়া হইতে পারে না।” ইহাকে বিজয়া মহাদ্বাদশী স্বীকার করিলে নবত্ব ঘটে ও অষ্টত্বের হানি হয়” এইরূপ বলিয়া থাকেন। তাহার উত্তর,—দ্বিকালে যদি লভ্যেত স জ্ঞেয়াে হষ্টমিক। ইত্যাদি বচন দ্বারা কিলার অষ্ট যামিকত্ব স্বীকার করায় উত্তরাষাঢ়াযুক্ত দ্বাদশীতে শ্রাবণা যােগে যথােক্ত লক্ষণ বিজয়া বা প্রকৃত বিজয়ার অতিদেশ করা হইয়াছে। অতএব এবণা দ্বাদশী অতিদিষ্ট বিজয়া; সে প্রকৃত বিয়ার অন্তর্নিবিষ্ট। সুতরাং নবত্ব ঘটে না, অষ্টত্বের হানি হয় না। অষ্টমহা দ্বাদশী মধ্যেই পরিগণিত হয়। ইহা বিজয়ার ভেদ মাত্র। ;
বৈষ্ণবােপাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৫ম অধ্যায় আবশ্যকতা নাই। একাদশী ব্রত আবশ্যকর্তব্য বলিয়া এবণা যােগে বা তদভাবে ও সর্বদাই অনুষ্ঠেয়, তথাপি দ্বাদশীতে শ্রবণা যােগের অভাব হইলে তখন শ্রবণা যুক্ত একাদশী উপােষ্য” মুলে “তদা” এই শব্দের প্রয়ােগ করাতেই দ্বাদশীতে শ্রাবণযােগে একাদশী ব্রতের আবশ্যকতা স্পষ্টতঃ প্রতিষিদ্ধ হইয়াছে। এতদ্বারাও বৈষ্ণবগণের একদিন উপবাস সমর্থিত হইয়াছে। বিষ্ণু পুরাণে যাঃ কাশ্চি থিয়ঃ প্ৰােক্তাঃ পুণ্যা নক্ষত্রযােগত। তা স্বেব ত দুতং কুৰ্য্যাৎ শ্রবণ দ্বাদশীং বিনা। ২৫৪ যাঃ কাশ্চিদিতি। যেন কেন চি নক্ষত্র বিশেষ যােগেন যাঃ কাশি থিয়ঃ পুণ্যা প্ৰােক্তাঃ তাস্থ য দ্বিহিতং ব্রতং ত ভাবে কুৰ্য্যাৎ, ন তিথ্যন্তরে তত্তনক্ষত্র যুক্তে। যথা ফানী শুক্লাদ্বাদশী পুষক্ষেণ যুক্তা গােবিদ্বাদশী নাম তস্যা মুপবাস ব্ৰভং বিহিতং তস্যা মেব কুৰ্যা মুচপুষান্বিতায়া মেকাদশ্যাং। নিয়ম শ্রবণ দ্বাদশীং বিনা। শ্রবণ দ্বাদশীব্ৰত ন্তু শ্ৰবণৈকাদা মপি ভবতীত্যর্থ। ইতি দিদর্শনী। ২৫৪। যে কোন কোন নক্ষত্র বিশেষ যােগে যে কোন কোন তিথি পুণ্যা বলিয়া কথিত হইয়াছে, সেই সকল নক্ষত্র যুক্ত তিথিতে যে সকল ব্ৰত বিহিত হইয়াছে, তাহা সেই সেই নক্ষত্রযুক্ত তিথিতেই করিবে; সেই সেই নক্ষত্রযুক্ত অন্ত তিথিতে করিবে না। যেমন ফানী শুক্লা দ্বাদশী পুষ্যা নক্ষত্রযুক্ত হইলে গােবিন্দ দ্বাদশী নামে অভিহিত হয়, তাহাতে যে উপবাস ব্রত বিহিত হইয়াছে, তাহা তাহাতেই (গােবিন্দ দ্বাদশীতেই ) করিবে, পুষ্যান্বিত একাদশীতে করিবে না। এই নিয়ম শ্রবণা দ্বাদশী ভিন্ন, শ্রাবণাদ্বাদশী ব্রত শ্ৰবণৈকাদশীতেও হইবে। যদি দ্বাদশীতে দিবারাত্রি যে কোন সময়েই শ্রাবণার যােগ না হয়, একাদশীতেই এবার যােগ হয়, তবে একাদশীতেই শ্রবণা দ্বাদশী ব্রত হইবে। আর যদি দিবা রাত্রি যে কোন সময়ে দ্বাদশীতে শ্রাবণার যােগ হয়, একাদশীতে প্রবণা না হয়, তবে দ্বাদশীতেই শ্রবণাদশী ব্রত হইবে। এই নিমিত্ত শ্রবণাদ্বাদশী ব্রত বিকল্প, ৰত বিকল্প বলিয়া বৈষ্ণবেয় দুই উপবাস কৰ্তব্য নহে। দুই উপবাস করিলে বিকল্পত্বের হানি হয়। ;
৫ম অধ্যায়] শ্রবণা দ্বাদশী ৬৭ মৎস্য পুরাণে, উপােষ্যৈকাদশীং তত্র দ্বাদাং পূজয়ে দ্ধরিং। শ্রবণযুক্ত একাদশীতে উপবাস করিয়া দ্বাদশীতে হরির পূজা করিবে।” এইক্ষণ দেখা যাইতেছে,-ভাদ্র মাসের শুক্লাদ্বাদশীতে শ্রবণার যােগ মাত্রেই শ্রবণাদ্বাদশী বা অতিদিষ্ট বিজয়া মহাদ্বাদশী হয়, কিন্তু শ্রবণা ও শুক্লাদ্বাদশীর যথােক্ত লক্ষণ যােগ বিশেষেই প্রকৃত বিজয় মহাদ্বাদশী হইয়া থাকে। এতদুভয়েরই (প্রকৃত বিজয়া ও অতিদিষ্ট বিজয়ার) ভাদ্রমাস ব্যতীত সম্ভাবনা নাই। আলোচ্যমান শ্রবণা দ্বাদশী প্রকরণের রীতি অনুসারে শুকাদ্বাদশী ও শ্রবণার স্পর্শ মাত্রেই বিজয়া মহাদ্বাদশীর সম্ভাবনা থাকায় “ভান্যকে দিয়মারভ্য” ইত্যাদি নিয়মানুযায়ী যােগে বিজয়া মহাদ্বাদশীর উল্লেখ নিষ্প্রয়ােজন হইয়া উঠে অথচ প্রকৃত বিজয়া মহাদ্বাদশীর নিৰ্বিষয়তাপত্তি হয়। শ্রবণাদ্বাদশীর ইতরস্থলে অর্থাৎ কেবল মলভাদ্রে যথােক্ত লক্ষণ বিজয়া মহাদ্বাদশীর উপযােগ কল্পনার সুযােগ ও সুধুর পরাহত। যদিও শ্রবণা দ্বাদশী মাসকৃত্য, বামন দেবের প্রাদুর্ভাব হেতু বিশুদ্ধ মাসেই কর্তব্য, কিন্তু জয়া প্রভৃতির অন্যতম বিজয় মহাদ্বাদশী তিথিকৃত্য, ইহাতে মাস বিশেষের নিয়ামকতা নাই বলিয়া মল- ভাদ্রেও তাদৃশ যােগ হইলে বিজয়া মহাদ্বাদশী হইতে পারে, তথাপি কেবল মলভাদ্রেই তাহার বিষয় কল্পনা শ্ৰীমদ গােস্বামিপাদের অনভিপ্রেত। যথােক্ত লক্ষণ বিজয়া ব্ৰতের উপসংহারে গ্রন্থকার যাহা বলিয়াছেন, তাহাতেই তাদৃশ কল্পনাকারীর একদেশ দৰ্শিতা প্রতিপন্ন হয়। তথাহি গ্রন্থকৃতাং কারিকা ভাদ্রেমাসি বুধস্যাহি যদি স্য। দ্বিজয়াম। তদা সৰ্বব্ৰতেভ্যো হস্ত মহাত্ম মতিরিচ্যতে। (১৩শ বি, ১৬০ ) কাল বিশেষে চাস্য ব্রত ফল বিশেষং লিখতিভা ইতি, তদানীং বামনদেব প্রাদুর্ভাবৎ। ইতি দিগর্শনী ১৬০। “যদি ভাদ্র মাসে বুধবারে বিজয়া ব্ৰত হয়, তাহা হইলে অন্য সকল ব্ৰত অপেক্ষা এই ব্রতের মহাত্ম্য অতিরিক্ত অর্থাৎ অতিশয়িত হয়।” “গ্রন্থকার “ভাদ্রেমাসি” ইত্যাদি কারিকা দ্বারা সময় বিশেষে এই বিজয়। মহাদ্বাদশী ব্রতের ফল বিশেষ উল্লেখ করিয়াছেন, ভাদ্রমাসের বুধবারে বিজয়।
৬৮ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৫ম অধ্যায় যােগে বামনদেবের প্রাদুর্ভাব হইয়াছিল বলিয়াই সেই সময়ে ব্রতের উৎকর্ষ কীৰ্তিত হইয়াছে।” গােম্বামিপাদের কারিকাও তাৎপৰ্যার্থ প্রকাশক টীকা বাক্যের আলােচনা করিলে কি ইহাই প্রতীত হয় না যে, বিশুদ্ধ ভাদ্রেই প্রকৃত বিজয়া মহাদ্বাদশী সমধিক মাহাত্ম্য সম্পন্ন বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে। এতাদৃশ স্পষ্টোক্তি সত্ত্বেও কেবল মলভাদ্রে বিষয় কল্পনা যে কতদুর সঙ্গত, তাহা চৈতন্য সম্প্রদায়ী সুধীগণই বিবেচনা করিবেন। এইক্ষণ আমরা প্রস্তাবিত শ্রবণাদ্বাদশী ও পূর্ব নির্মীত বিজয়া মহাদ্বাদশীর স্বতন্ত্রতাও সার্থকতা কিরূপে সম্ভাবিত হইতে পারে, তাহারই আলােচনা করিব। শুক্লাদ্বাদশী ও শ্রবণা নক্ষত্রের যােগ মাত্রেই শ্রবণা দ্বাদশী হয়, প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল বা দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল, এই শ্রবণা দ্বাদশীরই উৎকৃষ্টতর অবস্থাভেদে নামান্তর মাত্র এবং বিষ্ণুশৃঙ্খলের অসম্ভাবনাতেই একাদশী স্পর্শ শূন্য বনাযুক্ত দ্বাদশী (অর্থাৎ অতিদিষ্ট বিজয়া) আদরণীয়। এই শ্রবণা দ্বাদশীর অবস্থাবিশেষ প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পরদিনে প্রকৃত বিজয়া মহাদ্বাদশীর সম্ভাবনা আছে, উক্তবিধ স্থলেই অতিদিষ্ট বিজয়া ও যথােক্ত লক্ষণ বিজয়া, উভয়েরই ভিন্ন ভিন্ন বিষয় পরিলক্ষিত হয় এবং তদ্বয়ের (বিষ্ণুশৃঙ্খল ও প্রকৃত বিজয়ার) উপর্যুপরি উপস্থিতিতে প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল নামক শ্রবণা দ্বাদশী ( অর্থাৎ অতিদিষ্ট বিজয়া) অতিক্রম করিয়া পরদিনে প্রকৃত বিজয়া মহাদ্বাদশীতেই উপবাস করা সুসঙ্গত। বিজয়া মহা- দ্বাদশী ও বিষ্ণুশৃঙ্খল, এই উভয়ের মধ্যে বিষ্ণুশৃঙ্খলের বিষয় বিস্তৃত, যে হেতু উহা বিজয়া মহাদ্বাদশীর অসম্ভাবনাতেও সঘটিত হইতে পারে। অতএব বিজয়া মহাদ্বাদশীর অনুপস্থিতিতেই বিষ্ণুশৃঙ্খল যােগ সম্মাননীয় । বিজয়া মহাদ্বাদশীর বিষয় সংকীর্ণ অথচ বিষ্ণুশৃঙ্খলের অসম্ভাবনাতে উহার সম্ভাবনা থাকিলেও তৎকালে স্বতন্ত্রতা বা সার্থকতা দেখা যায় না। যখন সূর্যোদয়ের পূর্বে দ্বাদশীর প্রবৃত্তি হয় ও সূর্যোদয়ের সময়ে শ্রবণা নক্ষত্র আরব্ধ হয় তখন, অথবা যদি শ্রবণানক্ষত্র সূর্যোদয়ের পূর্বে আরব্ধ হইয়া অহােরাত্ৰব্যাপী হয় বা বর্জিত হয় আর দ্বাদশীর সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্তি হয়, তখন বিষ্ণুশৃঙ্খলের সম্ভাবনা থাকে না সত্য, কিন্তু বিষ্ণুশৃঙ্খলের এইরূপ অসম্ভাবনাতেও বিজয়া মহাদ্বাদশীর সম্ভাবনা থাকিলেও স্বতন্ত্রতা বা সার্থকতা রক্ষিত হয় না, যে হেতু উল্লিখিত অবস্থায় পরদিনে দ্বাদশীর নির্গম না হইলে এবং এই ৫ম অধ্যায়] শ্রবণা দ্বাদশী “শ্রবণক্ষ সমাযুক্তা দ্বাদশী যদি লভ্যতে। উপােষ্যা দ্বাদশী তত্র ত্রয়ােদশ্যা পারণম্।” ইত্যাদি শ্রবণাদ্বাদশী ব্রত বিবায়ক বচন অনুসারেই ব্রত সিদ্ধ হইতে পারে। আর পারণ দিনে দ্বাদশী নিষ্ক্রান্ত হইলে “দ্বাদবে বিবর্ধিত নচৈবৈকাদশী যদা । বঙ্গুলীতু ভৃগুশ্রেষ্ঠ ! কথিত পাপনাশিনী” ইত্যাদি বচন অনুসারে বঙুলীতেই অন্তর্ভাব হয়। কাজেই বিষ্ণুশৃঙ্খলের বিষয় পরিহারে বিজয়া মহাদ্বাদশীর পৃথক সত্তার আবশ্যকতা দেখা যায় না। অতএব বিষ্ণুশৃঙ্খলের সম্ভাবনাতেই কেবল স্বপ্রধানভাবে যথােক্ত লক্ষণান্বিত জয়া মহাদ্বাদশীর উপস্থিতি হয় বলিয়া কেবল প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পরিত্যাজন উদ্দেশ্যেই যে, এই মহাদ্বাদশী উল্লিখিত হইয়াছে, ইহা চিন্তাশীল মাত্রেই স্বীকার করিবেন। ফলত যখনই স্বীয় স্বতন্ত্রতা রক্ষা করিয়া ( অর্থাৎ অতিদিষ্ট বিজয়া বা বঙুলীতে অন্তর্ভূত না হইয়া) প্রকৃত বিজয়া মহাদ্বাদশী হইবে, তখনই তাহার পূর্বদিনে প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল যােগ নিশ্চয়ই হইবে। যদি তাদৃশ লক্ষণান্বিত বিজয়ার উপস্থিতিতে ও বিষ্ণুশৃঙ্খলের সমাদর করিতে হয়, তাহা হইলে উক্ত বিজয়া মহাদ্বাদশীর পৃথক উক্তির বৈয়ৰ্থাপত্তি অনিবার্য। এই কারণে বিজয় মহাদ্বাদশীর উপস্থিতিতে প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল যােগ অনাদরণীয় এবং বিজয়ার অসম্ভাবনাতেই সম্মাননাই। পাঠক, এই ব্যবস্থা আমাদের স্বীয় তর্কনিষ্ঠা প্রসূত মনে করিয়া অবহেলা করিবেন না, পরম কারুণিক শ্রীমদ গােস্বামিদই এইরূপ দিশা দেখাইয়াছেন— “ভাদ্রে মাসি বুধস্যাত্নি যদিস্তা দ্বিজয়া ব্রত। তদা সৰ্বব্ৰতেভ্যো হস্ত মহাত্ম মতিরিচ্যতে।” এই কারিকা বলেই উক্তবিধ মীমাংসা সুধীগণের হৃদয় আকর্ষণ করিবে। বলা বাহুল্য, বিষ্ণুশৃঙ্খলের বিষয় পরিহারে শ্রবণ ও দ্বাদশী যােগে, হয় শ্রবণা- দ্বাদশী, না হয় বঙুলী মহাদ্বাদশী দ্বারাই অভীষ্ট সিদ্ধি হইতে পারিত, সুতরাং মহাদ্বাদশী প্রকরণে স্বতন্ত্রভাবে বিশুদ্ধ ভাদ্রে যথােক্ত লক্ষণ বিজয়া মহাদ্বাদশ যে প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের উপমর্দন উদ্দেশ্যেই নিরূপিত হইয়াছে ইহা অবশ্যই স্বীকার্য।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৫ম অধ্যায় প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল। মাংস্যে- দ্বাদশী শ্রবণস্পৃষ্টা স্পৃশে দেকাদশীযদা। স এষ বৈষ্ণবে। যােগে বিষ্ণুশৃঙ্খল সংজ্ঞতা। তস্মি মুপােয্য বিধিব নুরঃ সংক্ষীণকল্মষ। পােত্যনুত্তমাং সিদ্ধিং পুনরাবৃত্তি দুল্ল ভাম্ ॥ ২৫৫ যদি এক অহােরাত্রের মধ্যে শ্রবণানক্ষত্র যুক্ত দ্বাদশী একাদশীকে স্পর্শ করে, তবে উহা বিষ্ণুশৃঙ্খল নামে অনির্বচনীয় মাহাত্ম সম্পন্ন বিষ্ণুদৈবত যােগ হয়। মানব ঐ দিনে বিধিমত উপবাস করিলে পাপশূন্য হইয়া উৎকৃষ্ট সিদ্ধি লাভ করে। একাদশীপদেনা তদহােরাত্র উচ্যতে। অন্যথা দ্বাদশী স্পর্শ স্তস্যাং নিত্যং হি বিদ্যতে। ২৫৫ অর্থ। “দ্বাদশী শ্রবণ স্পৃষ্টা স্পশে দেকাদশীং যদা।” এইস্থলে একাদশী পদে একাদশীর অহােরাত্রের গ্রহণ। একাদশীর অহােরাত্র মধ্যে শ্রবণস্পৃষ্টা দ্বাদশী একাদশীকে স্পর্শ করিলে বিষ্ণুশৃঙ্খল হয়। অর্থাৎ প্রথম একাদশী পরে দ্বাদশী এই দ্বাদশীতে শ্রবণার যোগ। ইহা স্বীকার না করিলে একাদশীর সহিত দ্বাদশীর যােগ সর্বদাই থাকিবে। পূর্বে কারিকায় বলা হইয়াছে, “বিষ্ণুশৃঙ্খল যােগশ্চ তন্দ্ৰয়ং মিশ্রিতং যদি।” একদিনে একাদশী দ্বাদশী ও শ্রবণা এই তিনের পরস্পর মিশ্রণে বিষ্ণু- শৃঙ্খল যােগ হয়। অর্থাৎ শ্রবণ স্পৃষ্টা একাদশী দ্বাদশীকে স্পর্শ করিলে বিষ্ণু- শৃঙ্খল হয়। প্রথম শ্রবণা একাদশীকে স্পর্শ করিয়া পরে দ্বাদশীকেও স্পর্শ কবিয়াছে। ইহাও পরস্পর সংমিশ্রণ । প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খল যােগের—পরদিন দ্বাদশী এবং শ্রবণাবৃদ্ধি প্রাপ্ত হইলে উভয়দিনেই অতি দিষ্ট বিজয়া হয়, তখন দুই উপবাস কি এক উপবাস হইবে? এই প্রশ্নের উত্তর-শ্রবণযুক্ত দ্বাদশীতে যখন পারণার বিধান রহিয়াছে। তখন বিষ্ণু শৃঙ্খলের পর দিন এবণাদ্বাদশীতে উপবাস হইবেই না।
৫ম অধ্যায় ]
শ্রবণ দ্বাদশী
৭১
প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল
এই বিষয়ে স্মাৰ্তমতও প্রদর্শিত হইতেছে।
তিথি তত্বে, শ্রবণ দ্বাদশী নিয়ে
উভয়দিনে তল্লাভে তু একাদশীযুতা গ্রাহ।
যুগাৎ,
দ্বাদশীচ প্ৰকৰ্তব্য একাদশীযুত বিভো।
সদা কাৰ্যাচ বিদ্বদ্ভি বিষ্ণুভক্তৈশ্চ মানবৈঃ।
ইতি স্কান্দাচ্চ।
উভয় দিনে শ্রবণা লাভ হইলে একাদশীযুক্ত কর্তব্য, তাহার এক কারণ যুগ্ম,
এবং বিষ্ণুভক্ত পণ্ডিত মানবগণের সর্বদা একাদশীযুক্ত দ্বাদশীই কর্তব্য।
অন্য কারণ এই স্কান্দবচন।
তিথি তত্ত্বের টীকাকার কাশীরাম বাস্পতিবলেন, দ্বাদশীযুক্ত একাদশীতে
শ্রবণা হইলে এবং দ্বাদশী শ্রবণযুক্ত হইলে দুই উপবাস কৰ্তব্য নহে।
একাদশীও দ্বাদশী যুগ্ম তিথি, এই স্থলে দ্বাদশীযুক্ত একাদশী গ্রাহ্য।
তথাহি শূল পাণিত ভবিষ্যপুরাণে
উপবাস দিনে রাজন্ শ্রবণা সম্ভবে দ্যদি।
একাদশ্যা মুপ বসে দ্বাদশ্যান কদাচন।
একাদশী এবং দ্বাদশীতে শ্রবণা হইলে একাদশীতে উপবাস করিবে
দ্বাদশীতে কখনও করিবে না।
প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খলের পরদিনে যদি যথােক্ত লক্ষণ বিজয় অর্থাৎ প্রকৃত
বিজয়া হয়, অথবা বজুলী হয়, তবে বিষ্ণু শৃঙ্খলে উপবাস না হইয়া পরদিন
শ্রবণাদ্বাদশীতেই উপবাস হইবে। ত্রয়ােদশী দিনে দ্বাদশী পারণ যােগ্য কাল
থাকিলে দু'দশীতে পারণ হইবে, নচেৎ ত্রয়ােদশীতে পারণ হইবে।
বস্তুতঃ দ্বাদশী ও শ্রবণার অত্যল্প সংযােগেও অষ্টযামিক স্বীকৃত হইয়াছে।
—বলিয়া উল্পিতমৎস্য পুরাণ বচনের সহিত শ্ৰমদ গ্রন্থকারের অসামঞ্জস্যনাই
৭২ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৫ম অধ্যায় দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল । বিষ্ণুধৰ্মোত্তরে একাদশী দ্বাদশীচ বৈষ্ণব্য মপি ভবেৎ। তদ বিষ্ণু শৃঙ্খলং নাম বিষ্ণু সাযুজ্যক ভবেৎ। তস্মি রুপােষণা গচ্ছেচ্ছেত দ্বীপ পুরধ্রুবম্ । ২৫৫ দ্বাদশ্যা মুপবাসাে হত্ৰ এয়ােশ্যান্তু পারণম্। নিষিদ্ধ মপি কৰ্তব্য মিত্যাজ্ঞা পারমেশ্বরী। ২৫৬ যদি একদিনে একাদশী, দ্বাদশী ও শ্রবণা নক্ষত্র হয়, তাহার নাম বিষ্ণু শৃঙ্খল, এই যােগ উপবাস ব্ৰতাবলম্বী জনগণের বিষ্ণুসাযুজ্যপ্রদ হয়। ঐ দিনে উপবাস করিলে নিশ্চয়ই শ্বেতদ্বীপপুরে (বৈকুণ্ঠ) গমন করিবে। এই যােগে দ্বাদশীতে উপবাস ও ত্রয়ােদশীতে পারণ করিবে। মৎস্য পুরাণে এয়ােদশীতে পারণ নিষিদ্ধ “একাদশা মুপােযৈব দ্বাদশ্যাং পারণ স্মৃত। এয়ােদাং নতৎ কাৰ্যং দ্বাদশ দ্বাদশীক্ষয়াৎ। একাদশীতে উপবাস করিয়াই দ্বাদশীতে পারণ করিবে, প্রয়োদশীতে করিবে না, কারণ ত্রয়ােদশীতে পারণ করিলে দ্বাদশ দ্বাদশী ক্ষয়জনিত পাপ হয়। এই মৎস্য পুরাণাদি বচনানুসারে ব্রয়ােদশীতে পারণ নিষিদ্ধ হইলেও বণা দ্বাদশীতে এবং এই দ্বিতীয় বিশৃঙ্খলে । ত্রয়ােদশীতেই পারণ করিবে, পরমেশ্বরের ইহাই আজ্ঞা; যেহেতু দ্বাদশী বল্লভ ভগবানের দ্বাদশী ব্রত একান্ত প্রিয়। যােগগা হয় মধ্যে দ্বাদশ্যাঃ ক্ষয় এবেতি লভ্যতে। দ্বাদশা মুপবাসাচ্চ গােদাঞ্চ পাণাৎ। ১৫৭ (১) এই বিষ্ণুশৃঙ্খল প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল হইতে বিভিন্ন, দ্বাদশীয় হইলেই এই প্রকার যােগ হয়, অর্থাৎ যদি একদিনে একাদশী, ছদশী ও শ্রবণার যােগ হয় অথচ পরদিনে দ্বাদশীর নিক্রম না হয়, কিম্বা এক দিনে একাদশী, দ্বাদশী ও মার্কণ্ডেয় পুরাণে-- * এবণক্ষ সমাযুক্তা দ্বাদশী যদি লভ্যতে। উপােষ্যা দ্বাদশী তত্র এয়ােদ স্তু পারণং। (১) স্পৃিশায় এবার যােগ দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল।
৫ম অধ্যায় ] শ্রবণ দ্বাদশী ৭৩ শ্রবণাদ্বাদশী ও বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ কাল। ত্রয়ােদশী, আর ঐ একাদশী বা দ্বাদশীর সহিত এবার যােগ হয়, তবেই উহা দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল নামে সংজ্ঞিত হইবে। দ্বাদশীতে উপবাস ও কেবল এয়ােদশীতেই পারণের বিধান থাকাতেই গ্রন্থকার এইরূপ ব্যবস্থা করিয়াছেন। শ্রবণাদ্বাদশী ও দ্বিতীয় বিষ্ণু শৃঙ্খলের পারণ কাল। শ্রবণ দ্বাদশী ও দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল ব্রতে পারণ কাল নির্ধারণ করা হইতেছে। “অথ তত্র পিরণাকাল নির্ম, সচ ব্ৰত বিকল্পে দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খলে চ স্পষ্ট এব, কেবল শ্রবণ নির্ষেতু ন তদাদর, তিথি নক্ষত্র সংযােগ ইত্যাদি বক্ষ্যমাণভ্যঃ।” (২৬১) ব্ৰত বিকল্প—অর্থাৎ শ্রবণ দ্বাদশী এবং দ্বিতীয় বিষ্ণু শৃঙ্খলে ত্রয়ােদশী তিথিই পারণ কাল বলিয়া স্পষ্টত নির্দিষ্ট আছে। বক্ষ্যমাণ ২৬৩ অঙ্কে উদ্ধৃত “তিথি নক্ষত্র সংযােগে” ইত্যাদি বচনানুসারে পারণ দিনে কেবল শ্রবণার নিস্ফান্তিতে তাহার ( অর্থাৎ শ্রবণার) আদর নাই, শ্রবণার মধ্যেই পারণ করিবে। বাস্তবিক অবণা দ্বাদশীর পারণ দিনে দ্বাদশীর নিম কদাপি সম্ভবপর নয় বলিয়া শ্রবণানক্ষত্রের মধ্যে ও ত্রয়ােদশীতে পারণার বিধান করা হইয়াছে। এই ব্রত পারণা দিনে কেন দ্বাদশী থাকিবে না, তাহার যুক্তি প্রদর্শিত হইতেছে। শ্রবণা দ্বাদশীতে যদি দ্বাদশী সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত হয়, তাহা হইলে শ্রবণ। সূর্যোদয়ের সমান সময়ে কি পরে আরব্ধ হইবে, আর শ্রবণ সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত হইলে দ্বাদশী সূর্যোদয়ের সমকালে সমারব্ধ হইবে। দ্বাদশীও শ্রবণা, দুইই উদয়ের পূর্বে আরব্ধ হইলে ঐ দিন একাদশী সংযােগ অপরিহার্য বলিয়া একাদশী, দ্বাদশী ও শ্রবণা, এই ত্ৰিতয়ের যােগে প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল হইবে, কাজেই এই অবস্থায় শ্রবণ স্বাদশীর অবসর থাকে না। একাদশী দিনে স্বাদশী সংযােগ হইলে অর্থাৎ উদয়ের পূর্বে দ্বাদশী প্রবৃত্ত হইলে উদয়ের পর কিম্বা সমান সময়ে শ্রবণানক্ষত্রের সমারম্ভ হইবে। তবেই শ্ৰৰণাদশী হইতে পারে, তদন্যথায় অর্থাৎ উদয়ের পূর্বে শ্রবণা নক্ষত্র হইলে ঐদিন একাদশী বাদশী ও শ্রবণা, তিনের যােগ হয় বলিয়া প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলেই পরিণত হয়। আর যদি একাদশীর সহিত শ্রবণা সংযুক্ত হইয়া পদিনে .৭৪ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৫ম অধ্যায় প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণকাল। নির্গত হয়, তাহা হইলে সুৰ্যোদয়ের অব্যবহিত পূর্বক্ষণে একাদশীর নিবৃত্তি অথবা সূর্যোদয়ের সমান সময়ে দ্বাদশীর প্রবৃত্তি হইলেই শ্রবণাদ্বাদশীর সম্ভাবনা হয়। কিন্তু এইমত না হইয়া যদি শ্রবণযুক্ত একাদশী উদয়ের পূর্বে নিবৃত্ত হয়, তাহা হইলে ঐ অহােরাত্রে দ্বাদশী সংযােগে ( ত্ৰিতয় মিলনে) বিষ্ণুশৃঙ্খলই হইয়া যায়। তবে ইহাই অবধারিত হইল যে, শ্রবণ দ্বাদশীতে 'যে দিন দ্বাদশীর সহিত শ্রবণা সম্মিলিত হইবে, ঐ দিনের সূর্যোদয়ের পূর্বে অথবা সুৰ্যোদয়ের সমান সময়ে দ্বাদশীর প্রবৃত্তি আবশ্যক এবং দ্বাদশী সূৰ্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত হইলে শ্রবণা সূর্যোদয়ের পরে কিম্বা সমান সময়ে সমারব্ধ হইলেও হইতে পারে, কিন্তু উদয়ের পূর্বে হইলেই বিষ্ণুশৃঙ্খল হইবে। আর দ্বাদশী সুৰ্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত হইলে এবণ। সূর্যোদয়ের পূর্বে কিম্বা পরে যে সময়েই উপস্থিত হউক, দ্বাদশীর সহিত সংযােগ মাত্রেই শ্রবণা দ্বাদশী হইতে পারে, এ অবস্থায় ত্ৰিতয়যােগের ( একাদশী বাদশী ও শ্রবণার) সম্ভাবনা না থাকায় বিষ্ণুশৃঙ্খলের অবসর নাই। অতএব দেখা যাইতেছে এই ব্রতে (শ্রবণ-দ্বাদশী দিনে) দ্বাদশী উদয়ের সমান সময়ে অথবা তৎপুর্ববর্তী যে কোন সময়েই সমারব্ধ হইবে। যদি ঐ দ্বাদশী পারণ দিনে নিষ্ক্রান্ত হয়, তাহা হইলে অহােরা ব্যাপী দ্বাদশীর পরদিনে নির্গমণে বঙ্গুলী মহাদ্বাদশী হওয়ায় শ্রবণদ্বাদশীর তাহাতেই (বঙুলীতেই) অন্তর্ভাব হয়—আর পৃথক সত্তা থাকে না। সুতরং শ্রবণ দ্বাদশীতে পারণাহে দ্বাদশীর অনুবৃত্তি অসম্ভৰ বলিয়া গ্রন্থকার গােম্বামিপাদ এয়ােদশীতেই পারণার অবশ্যম্ভাব প্রতিপাদনার্থে “য়ােদান্তু পারণ” এইরূপে অবধারণাৰ্থক “তু” শব্দের প্রয়ােগ করিয়াছেন। । প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণকাল। অনুবৃত্তি দ্বয়াে রেব পিরণাহে ভবে যদি । তাধিক্যে লিথে বৃত্তে ভান্তে সত্যে পিরণ। ২৬১ ঋক্ষ সতি, চাধিক্যে তিথি মধ্যে হি পারণম্। বাদশী সঘনে দোষাে বহুশাে লিখিতে যত। ২৬২ পারণ দিনে দ্বাদশী ও শ্রবণ, উভয়েরই অনুবৃতি হইলে যদি বাদশী শ্রবণ। হইতে অধিক হয়, তবে এবার অতে পারণ করিবে, দ্বাদশী অপেক্ষা নক্ষত্রের ।
৫ম অধ্যায় ] এবণ খাদশী ৭৫। প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণকাল। আধিক্য হইলে দ্বাদশী মধ্যেই পারণ কর্তব্য, যেহেতু শাস্ত্রকারগণ দ্বাদশী লজ্জন করিলে দোষ হয় বলিয়। পুনঃ পুনঃ উল্লেখ করিয়াছেন, যথা :- নারদীয়ে তিথি নক্ষত্র সংযােগে উপবাসাে যদাভবেৎ। তাবদেব ন ভােবং যাবষ্মৈক সংক্ষয়। ২৬১ বিশেষেণ মহীপাল শ্রবণং বর্ধতে যদি। তিথিক্ষয়ে ভােবং দ্বাদশীং নৈব লঙ্ঘয়েৎ। ২৬৩ হে মহীপাল ! যে সময় তিথি নক্ষত্র যােগে উপবাস বিহিত হয়, সেই সময়ে পারণ দিনে যে পর্যন্ত তিথি বা নক্ষত্রের একের ক্ষয় না হয়, সেই পর্যন্ত ভোজন করিবে না। বিশেষতঃ শ্রবণা যােগে যদি তিথি অপেক্ষা শ্রবণা বর্ধিত হয়, তবে তিথিক্ষয় অর্থাৎ দ্বাদশীক্ষয় হইলে যে ভােজন করিতে হইবে এমত নহে, দ্বাদশী মধ্যেই ভােজন করিবে, কিন্তু দ্বাদশীকে অতিক্রম করিবেই না। যদি পারণ দিনে দ্বাদশীও শ্রবণা উভয়ই রাত্রি পর্যন্ত স্থায়িনী হয় আর দ্বাদশী অপেক্ষা শ্রবণ কম হয়, তবে আর রাত্রিতে শ্রবণার অন্তে পারণ করিতে হইবে না, এমত হলে দিনেই শ্রবণার মধ্যে পারণ কর্তব্য, কেন না “ন রাত্রে পারণ কুৰ্যাৎ* * “রাত্রিতে পারণ করিতে নাই” এইরূপ শাস্ত্র বাক্য অন্যত্র উল্লিখিত হইয়াছে, অতএব এই বিষ্ণুশৃঙ্খল বিষয়ে রাত্রিগত দ্বাদশীর অংশ বিচারের বিষয়ীভূত নহে। পারণার সময়াতিক্রমই “বর্ধতে” পদের অর্থ। সুতরাং রাত্রিগত দ্বাদশীতে নক্ষত্রান্তে পারণ করিলেও প্রকারান্তরে দ্বাদশীর অতিক্রমই করা হয়। এই জন্যই শাস্ত্রে বলা হইয়াছে তিথিক্ষয় অর্থাৎ দ্বাদশীর ক্ষয় হইলে ভােজন করিতে হইবে না, কিন্তু দ্বাদশীতেই ভােজন করিবে। আবার দৃঢ়তার জন্য “দ্বাদশীং নৈব লঘয়েৎ” দ্বাদশীকে লঘন করিবেই । এইরূপে পুনরূক্তি করিয়াও “নৈব” এই “এব” শব্দ দ্বারা করিবেই না, এইরূপ দৃঢ়তা নির্ধারণ করিয়াছেন। অতএব দ্বাদশীর অনাদর করিবে না তিথিয়েণ একাদশীতিথিয়েণ ভােক্তব্যং দ্বাদস্তা পারয়েদিত্যর্থ, অত্র হেতু দ্বাদশীমিত্যাদি। ইতি। তিথ্যাদিতত্বে রঘুনন্দন ভট্টাচাৰ্য “তিথি ক্ষয়েণ” এইরূপ তৃতীয়া পাঠ স্বীকারে ব্যাখ্যা করিয়াছেন। কিন্তু নির্মামৃত কার ও গােস্বামিপাদ দন্ত্য নকার নির্দেশ করিয়া তিথিয়ে” এইরূপ সপ্তমন্তু পাঠেরই সমর্থন করিয়াছেন। + ন রাত্রে পিরণং কুৰ্য্যা দূতেবৈরােহিণী ব্ৰতাৎ।
১৬ বৈষ্ণববাপবাস ব্ৰত মীমাংসা | ৫ম অধ্যায় প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পাণকাল। বরঞ্চ নক্ষত্রের অনাদর বাঞ্ছনীয়। অর্থাৎ সর্বপ্রকারে বাদশী মধ্যেই পারণা করিবে। ত্রয়ােদশীতেও যে পারণার বিধান রহিয়াছে, তাহা এই প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের বিষয়ে নহে, দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল ও শ্রবণাদ্বাদশীতেই তাহার আদর এবং অবশ্যম্ভাব। যে হেতু ঐ প্রসঙ্গেই “য়ােদান্তু পারণ” (ব্রয়ােদশীতেই পারণ) এইরূপ লিখিত আছে; কিন্তু “য়ােদশ্যামপি” (ত্রয়ােদশীতেও) এইরূপ না লিখাতেই সেই বাক্যার্থের কোনও বৈধ নাই। বরঞ্চ “ব্ৰয়ােদান্তু এইরূপে “তু” শব্দের নির্দেশ করাতে নিশ্চিততাই প্রদর্শিত হইয়াছে। ফলতঃ দ্বাদশীর ক্ষয় হইলেই শ্রবণাদ্বাদশীও দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল ব্রতের সম্ভাবনা হয়, ঐ ঐ যােগেই ত্রয়ােদশীতে পারণ করিতে হয়। কিন্তু পারণ দিনে দ্বাদশীর নির্গম হইলে শ্রবণা দ্বাদশী বা দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল না হইয়া বঙ্গুলী মহাদ্বাদশী বা প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল হইবে । প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলে দ্বাদশী ও শ্রবণ রাত্ৰি পৰ্যন্ত স্থায়ী হইলে দিনেই দ্বাদশীও শ্রাবণা মধ্যেই পারণ করিবে। = কাল মাধবীয়ে প্রতিপৎ প্রকরণে তিথ্যন্তে চৈব ভান্তে পিরণং যত্র চোদ্যতে। যামত্ৰয়ােৰ্দ্ধবভিন্যাং প্রাত রেবহি পিরণং । তিথির অন্তে এবং নক্ষত্রের অন্তে-যে স্থানে পারণের কথা কথিত হইয়াছে। সেই স্থলে তিথি এবং নক্ষত্র তিন যামের তথাৎ তৃতীয় প্রহরের উগ্ধ হইলে প্রাতঃকালেই পারণ করিবে। তথাহি গৌতমীয়েটমেব— যদৃক্ষং বা তিথি বাপি রাত্রিং ব্যাপ্য ব্যবস্থিত। দিবসে পিরণং কুৰ্য্যা দন্যথা পতনং ভবেৎ। ২৬৩ তিথি ও নক্ষত্র ঘটিত ব্ৰতে পারণ দিনে তিথি ও নক্ষত্র, উভয়ই রাত্রি পৰ্যন্ত বিশেষরূপে অবস্থিত হইলে অর্থাৎ যাহাতে প্রকৃত মহাদ্বাদশী লক্ষণের অনুপ্রবেশ না হয়, তেমনভাবে স্থিত হইলে তিথি ও নক্ষত্র মধ্যে দিবসে পারণ করিবে। এই অবস্থায় দিনে পরাণ না করিয়া নক্ষত্রের অল্পতা থাকিলে নক্ষত্রান্তে তিথি মধ্যে রাত্রিতে পারণ করিলে দ্বাদশী লঙ্ঘন এবং রাত্রি পারণ জনিত পাপে উপবাসকারীর অধঃপতন হয়।
৬ষ্ঠ অধ্যায়।
জন্মাষ্টমী
৭৭
বিজয়া
উপসংহারে ইহা বক্তব্য যে বিষ্ণুশৃঙ্খলের পরদিনে দ্বাদশী ও শ্রবণা বিজয়া
লক্ষণানুপ্রবেশে অবস্থিত হইলে বিষ্ণুশৃঙ্খল ত্যাগ করিয়া সমধিক মহাত্মাবতী
বিজয়াতেই তােপবাস করিবে।
প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পরদিনে দ্বাদশী দেড় প্রহর বা দেড় প্রহরেব অধিক
থাকিলে এবং শ্রবণা এয়ােদশী দিনে নির্গত হইলে যথােক্তলক্ষণ বিজয়া
মহাদ্বাদশী অর্থাৎ প্রকৃত বিজয়া হইবে। তখন প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল ত্যাগ করিয়াই
বিজয়া মহাদ্বাদশীতে উপবাস হইবে।
শ্ৰীযুক্ত নন্দকুমার গােম্বামি তত্ত্বনিধি কাব্যতীর্থ কৃত শ্রবণা দ্বাদশী
ব্রতােপবাস মীমাংসায় দৃষ্টান্ত সহ শ্রবণা দ্বাদশীর ভেদ সকল বর্নিত হইয়াছে
বলিয়া এখানে তাহা প্রদর্শিত হইল না।
এখন জন্মাষ্টমী ব্রত বর্মন করা যাইতেছে।
* ইতি শ্ৰীস্বরূপ দামােদর গােম্বামি ভ্রাতৃ বংশােব শ্রীকৃষ্ণহরি গােদামি
বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ বিরচিতায়াং বৈষ্ণব তােপবাস মীমাংসায়াং
প্রবণ। দ্বাদশী ব্রত নিম্নমাে নাম পঞ্চম অধ্যায়ঃ ।*
মই অধ্যায়।
জন্মাষ্টমী।
(পঞ্চদশ বিলাসে)
জন্মাষ্টমী ব্রত নিত্যতা।
স্কন্দ পুরাণে
যে ন কুন্তি জানঃ কৃষ্ণজন্মাষ্টমী ব্রত।
তে ভবন্তি মহাপ্রাজ্ঞ ব্যালা মহতি কাননে। ১৪৮
বর্ষে বর্ষেতু যা নারী কৃষ্ণজন্মাষ্টমী ব্রত।
ন করােতি মহাপ্রাজ্ঞ ব্যালী ভবতি কাননে ॥ ১৪৯
হে মহা প্রাজ্ঞ ! যে পুরুষ জানিয়াও শ্রীকৃষ্ণজন্মাষ্টমী ব্রতের অনুষ্ঠান না
করে, সে মহারণ্যে সর্প জন্ম প্রাপ্ত হয়।
৭৮ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৬ষ্ঠ অধ্যায় , । জন্মাষ্টমী ব্রত নির্নয় । হে মহাপ্রাজ্ঞ ! যে রমণী প্রতি বৎসর কৃষ্ণজন্মাষ্টমী ব্রত না করে, সে সর্পী হইয়া বনে জন্মগ্রহণ করে। রহস্যে— জন্মাষ্টমী দিনে প্রাপ্তে যেন ভুক্তং দ্বিজোত্তম। ত্রৈলােক্যসম্ভবং পাপং ভুক্তমেব ন সংশয়ঃ। ১৪৩ জন্মাষ্টমী দিন উপস্থিত হইলে যে ব্যক্তি ভােজন করে, হে দ্বিজোত্তম ! তাহার সেই অন্ন ত্রিলােকবর্তী সমুদয় পাপের আশ্রয়, ইহাতে সন্দেহ নাই। ইত্যাদি বচনে বিশেষরূপে জন্মাষ্টমী ব্রতের নিত্যতা কীৰ্তিত হইয়াছে। জন্মাষ্টমী ব্রত নিগ্নয় । কারিকা কৃষ্ণোপােষাষ্টমী ভাদ্রে রােহিণ্যাঢ্যা মহাফলা। নিশীথে হত্ৰাপি কিঞ্চেলৌ জ্ঞেপি নবমীযুতা। ১৬২ ভাদ্রমাসে কৃষ্ণাষ্টমীতে উপবাস করিতে হইবে সেই অষ্টমী রােহিণী যুক্ত হইলে মহাফলা হয়। অর্থাৎ কেবল অষ্টমীতে উপবাস অপেক্ষা রােহিনী যুক্ত অষ্টমীতে উপবাস ফলাতিশয় জনক হয়, অতএব রােহিণীযােগে ফল- বিশেষে তাৎপৰ্য বলিয়া “মহাফলা” বলা হইয়াছে। নিশীথ অর্থাৎ অন্ধরাত্রে রােহিণীযুক্তা অষ্টমী মহাফলা এবং সােমবার অথবা বুধবারে রােহিণীযুক্ত। অষ্টমী মহাফলা ও তাদৃশ অষ্টমী নবমীযুক্তা হইলে মহাফলা হয়। “ভাদ্রে কৃষ্ণাষ্টমপােষ্যা” ভাদ্রের কৃষ্ণাষ্টমীতে উপবাস করিতে হইবে, ইহাই বিধি হইবে। নক্ষত্র যােগাদি প্রশস্ততা বােধক। “রােহিনী নক্ষত্র যুক্ত ভাদ্র-কৃষ্ণাষ্টমীতে উপবাস করিতে হইবে।” পুনৰ্বার এইরূপ বিধি করা হইলে বাক্যভেদ দোষ উপস্থিত হয়। রােহিণী যােগে ফলাধিক্য বিষ্ণুরহস্যে অভিহিত হইয়াছ প্রাজাপত্যক্ষ সংযুক্তা কৃষ্ণা নভসি চাষ্টমী। মুহূর্ত মপি লডভ্যত সৈযােপােষ্যা মহাফলা। ১৬৩ মুখ্য চান্দ্র শ্রাবণে অর্থাৎ ভাদ্রে কৃষ্ণ পক্ষীয় অষ্টমী যদি মুহূর্তকাল ব্যাপিয়াও রােহিণীনক্ষত্রের সহিত সংযুক্ত হয়, তবে ঐ অষ্টমীই উপবাস যােগ্য। উপবাসকারীর মহাফল প্রদায়িনী হয়।
৬ষ্ঠ অধ্যায়]
জন্মাষ্টমী
জন্মাষ্টমী ব্রত নিঃ।
ভবিষ্য পুরাণ ও বিষ্ণুধৰ্ম্মে রােহিণীর নিশীথযােগে উৎকর্ষ উদ্যোষিত
হইয়াছে-
রােহিণ্যা মৰ্ধরাত্রে চ যদা কৃষ্ণাষ্টমী ভবেৎ।
তস্যা মভ্যর্ডনং শৌরে হন্তি পাপং ত্ৰিজন্মজ। ১৬৮
যদি রােহিণী নক্ষত্রের সহিত অর্ধরাত্রে কৃষ্ণপক্ষীয় অষ্টমী মিলিত হয়, তবে
ঐ অষ্টমীতে ভগবানের অর্চনা অর্থাৎ বিধিপূৰ্ব্বক জন্ম মহােৎসব সম্পাদিত
হইলে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জন্মগত যাবতীয় পাপ বিনষ্ট হয়।
জন্মাষ্টমী রােহিনী নক্ষত্র, বুধবার, সােমবার এবং নবমীযােগে ফলাতিশয়
দায়িনী হয় বলিয়া পদ্মপুরাণে উক্ত হইয়াছে
প্রেতযযানিং গতানান্তু প্রেতত্বং নাশিতং নরৈঃ।
ঃৈ কৃতা শ্রবণে মাসি অষ্টমী রােহিণী যু।
কিং পুনবুধবারেণ সােমেনাপি বিশেষতঃ।
কিং পুন নবমীযুক্তা কুলকোট্যাস্তু মুক্তিদা॥ ১৭০
যাহারা মুখ্যচান্দ্র শ্রাবণে অর্থাৎ ভাদ্রে রােহিণীযুক্ত অষ্টমীতে ব্রত
করিয়াছেন, তাহারা প্রেতযােনি প্রাপ্ত পূর্ধ্বতন পুরুষগণের ৫েতত্ব বিনাশ
করিয়াছেন। তাদৃশ আষ্টমী বুধবার বা সােমবার এবং নবমীযুক্ত হইলে
অতীত কুল কোটির মুক্তিপ্রদায়িনী হয়।
এই সকল বচন বলেই ভাদ্রকৃষ্ণা অষ্টমীরই উপােষ্যত্ব এবং রােহিণ্যাদি
যােগের ফলাতিশয়ােপধায়কতা হরিভক্তি বিলাসে মীমাংসিত হইয়াছে—
কারিকা
“রােহিণাদে বিমুক্তাপি সােপােষ্যা কেবলাতিথিঃ।
তত্তযােগ স্তু বৈশিষ্ট্যে ব্ৰতলােপাে হন্যথা ভবেৎ। ১৭১
রােহিণী, অর্ধরাত্রে রােহিণী, সােমবার বা বুধবার এবং নবমীযােগ রহিত
হইলেও কেবল অষ্টমীতে উপবাস করিবে। ফল বিশেষার্থই নক্ষত্রাদির
যােগ উল্লিখিত হইয়াছে, অন্যথা যে বৎসর সেই সকল নক্ষত্র ও বার প্রভৃতির
যােগ না হয়, সেই বৎসর প্রতিবৎসর কর্তব্য বলিয়া অভিহিত জন্মাষ্টমী ব্রতের
বিলােপ হইয়া যায়।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৬ষ্ঠ অধ্যায় বিদ্ধা ত্যাগ। রােহিণী নক্ষত্রের যােগ হইলেও সপ্তমী বিদ্ধা অষ্টমীতে উপবাস করিতে নাই-- যথা ব্ৰহ্মবৈবর্তে বর্জনীয়া প্ৰযনে সপ্তমী সংযুতাষ্টমী। স ঋক্ষাপি ন কর্তব্য সপ্তমী সংযুতাষ্টমী। ১৭৩ সপ্তমী যুক্ত অষ্টমীকে যত্নপূৰ্ব্বক ত্যাগ করিবে, এমন কি বােহিনীযুক্ত হইলেও সপ্তমী বিদ্ধা অষ্টমীতে ব্ৰত করিবে না। যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতো সম্পূন্ন চার্ধরাত্রে রােহিণী যদি লভ্যতে। কৰ্তব্যা প্রযত্নেন পূৰ্ব্ববিদ্ধাং বিবর্জয়েৎ। ১৭৮ যদি অৰ্দ্ধরাত্রে সম্পূর্ণ অর্থাৎ অবিদ্ধ। অষ্টমী ও রােহিণীর যােগ লাভ হয়, তবে যত্নপূৰ্ব্বক সেইদিনে উপবাস করিবে, কিন্তু পূৰ্ব বিদ্ধা হইলে তাদৃশ অষ্টমী ও পরিত্যাগ করিবে, যেহেতু পদ্মপুরাণ বলেন- অবিদ্ধায়াং স ঋক্ষায়াং জাতে দেবকি নন্দনঃ *। ১৭৫ সপ্তমী বেধ রহিত রােহিণীযুক্ত অষ্টমীতে দেবকী নন্দন জন্মগ্রহণ করিয়াছেন। অতএব পূৰ্ববিদ্ধাতে প্রায়ই নবমী যােগের সম্ভাবনা না থাকায় নবমী যােগের প্রসংসা করিয়াছেন। । পাদ্ম- সকলাপি ঋপি নবমী সংযুতাপিচ। জন্মাষ্টমী পূৰ্ব বিদ্ধা ন কৰ্তব্য কদাচন। ১৭৬ নবমী সংযুতাপীতি। অষ্টমীক্ষয়াভিপ্রায়েণ। ইতি দিগর্শনী। ১৭৬ কলাম্বিত হইলেও অর্থাৎ অল্প হইলেও রােহিণীযুক্ত হইলেও নবমীযুক্ত হইলেও পূৰ্ব বিদ্ধা অর্থাৎ সপ্তমী বিদ্ধা জন্মাষ্টমী কখনও কর্তব্য নহে। “নবমী সংযুতাপিচ” ইত্যাদি বাক্য অষ্টমীর ক্ষয় অভিপ্রায়েই বলা হইয়াছে। যদি উদয় সময়ে যৎকিঞ্চিৎ ও সপ্তমী থাকে, তাহার পর অষ্টমী ক্ষয় প্রাপ্ত হইয়া রাত্রি শেষে নবমীর সহিত যােগ হইলেও রােহিণীযুক্তা হইলেও তাদৃশ * হ্রত্ব মার্ষাৎ সােঢ়ব্যং।
৬ষ্ঠ অধ্যায়) জন্মাষ্টমী বিদ্ধা ত্যাগ সপ্তমী বিদ্ধা অষ্টমী পরিত্যাগ করিয়া কেবল নবমীতে উপবাস করিতে হইবে। পাদ্মে জন্মাষ্টমীং পূৰ্ববিদ্ধাং সঋক্ষাং সকলামপি। বিহায় নবমীং শুদ্ধা মুপােষ্য ব্ৰত মাচরেৎ। ১৭৬ সঋক্ষাং রােহিণী নক্ষত্র যুতাং সকলামপি অত্যল্পামপি পূৰ্ববিদ্ধাং সপ্তমী বিদ্ধাং জন্মাষ্টমীং বিহায় পরিত্যজ্য শুদ্ধাং অষ্টমীস্পর্শ শূন্যাং নবমীং উপােয্য ব্রত আচরেং। রােহিণী নক্ষত্র যুক্ত জন্মাষ্টমী অত্যল্পও সপ্তমী বিদ্ধা হইলে তাহা পরিত্যাগ করিয়া শুদ্ধ নবমীতে উপবাস করিয়া ব্ৰত আচরণ করিবে। সপ্তমী বিদ্ধ। অষ্টমী সৰ্বথা পরিত্যাজ্য। গােস্বামদি এই অভিপ্রায়ে পাদ্ম বচন উল্লেখ করিয়াছেন, যথা- পূৰ্ববিদ্ধা যথা না বজ্জিত শ্রবণান্বিতা। তথাষ্টমীং পূৰ্ববিদ্ধাং সঋক্ষাঞ্চ বিবর্জয়েৎ। ১৭৪ দশমী বিদ্ধা হইলে শ্রবণযুক্ত একাদশী যেমন বর্জনীয়, সেইরূপ রােহিণী যুক্ত অষ্টমীকে ও সপ্তমী বিদ্ধা হইলে বর্জন করিবে। টীকাচ দিদর্শনী। অত্ৰচ যথা শব্দবলাৎ কেচিদেবং মন্থন্তে। অরুণােদয়ে দশয্যা বিদ্ধা যথৈকাদশী বর্জিতা তথা অরুণােদয়ে সপ্তম্যা বিদ্ধা জন্মাষ্টমপি ত্যাজ্য। অতত রােহিণীং বিনাপি নবম্যে বােপােষ্যা। অতএবােক্তং স্কান্দে জন্মাষ্টমীং পূর্ব বিদ্ধাং সঋক্ষাং সকলামপি। বিহায় শুদ্ধাং নবমী মুপােষ্য ব্ৰতমাচরেৎ। ইত্যাদি অনেনাভিপ্রায়েণৈব পদ্মস্কান্দাদো,-নবমীসংযুতাপীতি। অষ্টমপবাসস্য প্রশস্ত্য মুক্তমিতি, চ্চ ন সুসঙ্গত, একাদশীতরাশেষ তিথীনাং রবুদয়তঃ প্রবৃত্তানা মেব সম্পূন্নত্বেনারুণােদয় বেধাসিদ্ধে। তচ্চ পূৰ্ব্বং সম্পূর্ণ। লক্ষণে লিখিত মেব। ইত্যেযা। ১৭৪ অর্থ। এই বচনে—“যথা” শব্দের প্রয়োেগ দেখিয়া কেহ কেহ মনে ৮২ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৬ষ্ঠ অধ্যায় বিদ্ধা ত্যাগ করেন,অরুণােদয়কালে দশমী কর্তৃক বিদ্ধা একাদশী যেমন বর্জনীয়, তেমন জন্মাষ্টমী ও অরুণােদয়কালে সপ্তমী কর্তৃক স্পৃষ্ট হইলে উপবাসের অযােগ্য। অতএব রােহিণী বিনাও নবমীই উপােষ্য এই নিমিত্তই স্কুলে বলা হইয়াছে, “অত্যল্পও সপ্তমী বিদ্ধা রােহিণী নক্ষত্র যুক্তা জন্মাষ্টমী পরিত্যাগ করিয়া শুদ্ধ নবমীতে উপবাস পূৰ্ব্বক ব্ৰত আচরণ করিবেন।” ইত্যাদি। এই অভিপ্রায়েই পাদ্ম স্কান্দাদিতে “নবমী সংযুতাপিচ” ইত্যাদি বচন দ্বারা অষ্টমীতে উপবাসেরই প্রশস্ততা উক্ত হইয়াছে। তাহা সুসঙ্গত নহে, কারণ, একাদশী ভিন্ন অন্য অন্য তিথি সকলের “সুৰ্যোদয় হইতে আরম্ভ হইয়া অপর সূর্যোদয়কে স্পর্শ করিলে” সম্পন্ন অঙ্গীকৃত হইয়াছে বলিয়া অৰুণােদয় বেধের অসিদ্ধি হয়। শান্ত্রে অরুণোদয় হইতে অপর সুৰ্যোদয় পর্যন্ত অষ্টমীর পূন্নতা নাই অতএব জন্মাষ্টমীর অরুণােদয় বেধ সিদ্ধ হইতেছে না তিথি সকলের সম্পূন্নতা পূৰ্বেই সম্পূর্ণ লক্ষণে লিখিত হইয়াছে। ১৭৪ পাদ্মে- কাৰ্য্যা বিদ্ধাপি সপ্তম্যা রােহিণী সহিতাষ্টমী। তৰোপবাসং কুব্বী তিথিভান্তে চ পিরণং । ১৭৮ সপ্তমী বিদ্ধা হইলেও রােহিণী যুক্ত অষ্টমী কর্তব্য, তাহাতে উপবাস করিয়া তিথ্যন্তে কিম্বা নক্ষত্রান্তে পারণ করিবে। বিষ্ণুধৰ্ম্মোতরে জয়ন্তী শিবরাত্ৰিশ্চ কাৰ্যে ভদ্রা জয়ান্বিতে। কৃত্বোপবাসং তিথ্যন্তে তদা কুচ্চি পিরণং ১৭৮ ভদ্রা এবং জয়াযুক্ত জয়ন্তী এবং শিবরাত্রি কর্তব্য অর্থাৎ সপ্তমী বিদ্ধ। জন্মাষ্টমী এবং এয়ােদশী বিদ্ধ শিবরাত্রি কর্তব্য, তাহাতে উপবাস করিয়া পরদিনে তিথির অন্তে পারণ করিবে। ইত্যাদি বচন সকল অবৈষ্ণব পর। বৈষ্ণবের বিদ্ধোপবাস করিতেই নাই। গ্রন্থকার গােস্বিপাদ শুদ্ধা অষ্টমীতে উপবাসের বিধান করিয়া তিথি বৃদ্ধি ক্রমে দুইদিনেই রােহিণীর সহিত শুদ্ধা অষ্টমীর সম্ভাবনা হইলে কোন দিনে উপবাস করিতে হইবে তাহা অবধারণ করার উদ্দেশ্যে বলিয়াছেন, ৬ষ্ঠ অধ্যায় ] জন্মাষ্টমী জন্মাষ্টমীর পারণ। শুদ্ধা চ রােহিণীযুক্তা পূৰ্বে হহনি পরচ। অষ্টমপােষ্যা পূর্বৈব তিথি ভান্তেচ পারণম্। ১৮০ যদি তিথি বৃদ্ধিমে সপ্তমী বেধ শূন্য অষ্টমীর সহিত রােহিণী সংযুক্ত হয়, তবে পূৰ্বদিনেই উপবাস করিবে; পরদিনে তিথিনক্ষত্রের অন্যতরের অন্তে পারণ করিবে। আমরা দুই কারণে উক্তবিব ব্যবস্থা সুসঙ্গত বলিয়া মনে করি। প্রথমতঃ পূৰ্বদিনে নিশীথ সংযােগ হইয়াছে বলিয়া যােগ বাহুল্য অবশ্যই সম্মাননীয়, বিশেষতঃ শুদ্ধাষ্টমী পরিত্যাজক কোনও বচন প্রমাণ দেখা যায় না। দ্বিতীয়ত দ্বিতীয় দিনে বৃদ্ধিগামী তিথি নক্ষত্রের অন্তে পারণার কর্তব্য বিধান করাতেই পূৰ্বদিনে উপবাস বিধি স্বতঃসিদ্ধ, উপবাস করিয়া তৎপরদিনে যে পারণ করিতে হয়, ইহা বলাই বাহুল্য। পারণা নিয়ে প্রসঙ্গ আলােচনা করিলেই তাহা অনায়াসে বােধগম্য হইবে। অতএব এইস্থলে অতি প্রসঙ্গ পরিত্যক্ত হইল। জন্মাষ্টমীর পারণ। ব্রহ্মবৈবর্তে অষ্টম্যা মথ রােহিণ্যাং ন কুৰ্য্যাৎ পিরণং কচিৎ। হাৎ পুরাকৃতং কৰ্ম্ম উপবাসার্জিং ফলং। ১৮৫ তিথিরষ্ট গুণ হস্তি নক্ষত্ৰঞ্চ চত্তগুৰ্ণং। তস্মাৎ প্রত্নতঃ কুৰ্য্যা তিথি ভান্তে পারণ। ১৮৬ অষ্টমীতে এবং রােহিণীতে কখনও পারণ করিবে না, করিলে পূৰ্ব্বকৃত উপবাসাজ্জিত কৰ্ম্মফল নষ্ট করে। তিথি অষ্ট গুণ এবং নক্ষত্র চত্তগুণ ফল নষ্ট করে, অতএব যত্নপূৰ্ব্বক তিথি এবং নক্ষত্রের অন্তে পারণ করিবে। বহ্নি পুরাণে- ভান্তে কুৰ্য। ত্রিথে বাপি শন্তং ভারত পিরণং। ১৪২ হে ভারত! তিথির অন্তে কিম্বা নক্ষত্রের অন্তে পারণ করিবে। সাং যােগিকেতু সংপ্রাপ্তে যত্রৈকে হপি বিযুজ্যতে। তত্রৈব পিরণং কুৰ্য্যা দিতি বেদ বিদো বিদুঃ। ১৮২ অষ্টমী ৬০ দণ্ড হইয়া মল পরদিনে গেলে পরদিনে উপবাস হইবে না। একাদশী ভি তিথি মল কৰ্ম্মের অযােগ্য।
৮৪ বৈষ্ণবােপাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৬ষ্ঠ অধ্যায় জন্মাষ্টমীর পারণ তিথি এবং নক্ষক্ষের সাংযৌগিক অর্থাৎ সমান থাকিলে তিথি নক্ষত্রের অন্তে পারণ। তিথি কম হইলে তিথির অন্তে নক্ষত্র মধ্যে পারণ। নক্ষত্র কম হইলে তিথির মধ্যে নক্ষত্রের অন্তে পারণ হইবে। পণ্ডিতগণ ইহা জ্ঞাত আছেন। যাজ্ঞবল্ক্যঃ। যাঃ কাশ্চি ত্তিথয়ঃ প্ৰােক্তাঃ পুণ্যানক্ষত্ৰসংযুতাঃ। ঋক্ষান্তে পিরণং কুৰ্য্যা দ্বিনা শ্রবণ রােহিণীং। ১৮৪ নক্ষত্র সংযােগে যে সকল তিথি পূণ্যা বলিয়া কথিত হইয়াছে। শ্রবণা এবং রােহিণী ভিন্ন সেই সকল নক্ষত্রের অন্তে পারণ করিবে। শ্রবণা এবং রােহিণীর মধ্যেই পারণ করিবে। সার ব্যবস্থা সপ্তমী বেধ শূন্যা জন্মাষ্টমীতে উপবাস করিবে। সপ্তমী বিদ্ধা হইলে রােহিণ্যাদি যােগেরও আদর নাই, এমত অবস্থায় নবমীযুক্ত অষ্টমীতে উপবাস কর্তব্য। যদি তিথি হ্রাস ক্রমে সপ্তমী বেধ দিনেই অষ্টমীর ক্ষয় হইয়া নবমীর উপস্থিতি হয়, তবে ঐ বিদ্ধা অষ্টমী পরিত্যাগ করিয়া শুদ্ধ নবমীতেই উপবাস করিবে, রােহিণ্যাদি যােগের অপেক্ষা করিবে না। যদি তিথি বৃদ্ধিক্রমে শুদ্ধা অষ্টমী পরদিনে নিষ্ক্রান্ত হয়, তবে পূর্বদিনে উপবাস ও পরদিনে অষ্টমীর অন্তে পারণ বিধেয়। এই ব্রতে রােহিণ্যাদি সংযােগ ফলাতিশয় সম্পাদক মাত্র ; কিন্তু উপবাস প্রয়ােজক নহে। অতএব বার নক্ষত্রাদি যােগে অথবা তভাবেও উল্লিখিত উপবাস ব্যবস্থার ব্যতিক্রম হইবে না। এখন রাম নবমী নিন্নীত হইতেছে। * ইতি শ্ৰীস্বরূপদামােদর গােস্বামি ভ্রাতৃ বংশােদ্ভব শ্রীকৃষ্ণহরি গােস্বামি বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ বিরচিতায়াং শ্রীবৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসায়াং জন্মাষ্টমী নিয়ে নাম ষষ্ঠ অধ্যায়ঃ । *
সপ্তম অধ্যায়
রামনবমী।
(চতুর্দশ বিলাসে)
শ্রীরাম নবমী ব্রত নিত্যতা।
অগস্ত্য সংহিতায় শ্রীরামনবমী ব্রতের অবশ্য কর্তব্যতা
অভিহিত হইয়াছে
চৈত্রে মাসি নবম্যান্তু শুক্লায়াংহি রঘূহঃ।
প্রাদুরাসীৎ পুরা ব্ৰহ্মন্ পরব্রহ্মব কেবলম্ ।
তস্মিন্ দিনেতু কর্তব্য মুপবাস ব্ৰতাদিকম। ৮৮
চৈত্র মাসে শুক্লা নবমী দিনে রঘুকুল তিলক রামচন্দ্র প্রাদুৰ্ত্ত ত
হইয়াছিলেন, ঐদিনেই উপবাস ও জন্মযাত্রা মহােৎসবাদি কর্তব্য।
প্রাপ্তে শ্রীরামনবমী দিনে মর্ত্তো বিমূঢ়ধী।
উপােষণং ন কুরুতে কুম্ভীপাকে পচ্যতে ॥ ৮৯
শ্রীরামনবমী দিন উপস্থিত হইলে যে মুঢ়বুদ্ধি মনুষ্য উপবাস না করে, সে
কুম্ভীপাক নরকে পচ্যমান হয়।
অগস্ত্য সংহিতায় উক্তবিধ বচনাদি দ্বারা এই ব্রতের অবশ্য কর্তব্য
উল্লিখিত হইয়াছে।
শ্রীরামনবমী ব্রত নিগ্নয় ।
নবমী চাষ্টমীবিদ্ধা ত্যাজ্যা বিষ্ণুপরায়ণ।
উপােষণং নবম্যাং বৈ দশম্যামেব পারণম্ ॥ ৯০
বিষ্ণু পরায়ণ জনগণ উপবাসাদি তে অষ্টমীবিদ্ধ। নবমী ত্যাগ করিবেন,
কিন্তু নবমীতে নিশ্চয়ই উপবাস করিতে হইবে, আর নিশ্চয়ই দশমীতে
পারণ করিবে।
উল্লিখিত ব্যাখ্যায়মান শ্লোকে “নবম্যাং বৈ” এইরূপে অবধারণার্থক
“বৈ” শব্দের প্রয়ােগ দ্বারা নবমীতেই উপবাসের অবশ্য কর্তব্য এবং
“দশম্যামেব” এইরূপে অবধারণার্থক ‘এব” শব্দের প্রয়োেগ দ্বারা দশমীতেই
পারণার অবশ্য কর্তব্যতা প্রতিপাদিত হইয়াছে। অতএব পরদিনে দশমী
৮৬ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [৭ম অধ্যায় রামনবমী ব্রত নিগ্নয় থাকিলে অষ্টমী বিদ্ধ। নবমী ত্যাগ করিয়া শুদ্ধা নবমীতে উপবাসাদি ব্ৰত আচরণ পূৰ্ব্বক পরদিন দশমীতে পারণ করিবে। কিন্তু যদি তিথি হ্রাস ক্রমে পরদিনে দশমী না থাকে, তবে দশমীতে পারণার অবশ্যকর্তব্যতা হেতু যে দিন দশমী থাকে তাহার ( অর্থাৎ দশমীর) পূর্বদিনে নবমী উদ্ধাই হউক অথবা অষ্টমী বিদ্ধাই হউক, তাহাতেই উপবাস করিতে হইবে, যে হেতু এই এতে দশমীতেই পারণ অবধারিত। এইজন্য গ্রন্থকার গােস্বামিপাদ বলিয়াছেন— দশম্যাং পরণায়াশ্চ নিশ্চয় ম্নবমীক্ষয়ে। বিষ্কাপি নবমীগ্রাহা বৈষ্ণবৈরপ্যসংশয়ম্ ॥ ৯১ অত্র টীকাচ দিদর্শণী— ননু বৈষ্ণবৈবিদ্ধা সৰ্বত্র বর্জেতি পূৰ্ব্বং নিশ্চিত। অত্রাপি তথৈবােক্ত “নবমী চাষ্টমী বিদ্ধা ত্যাজ্যেতি”। তত্র নবমীক্ষয়ে সতি তিথিহ্রাস ক্ৰমেণ একাদখা-শুদ্ধত্বে কিং কৰ্তব্যং তত্ৰাহ “উপােষণ”মিতি। ৯০ তদেবাভিব্যজ্য লিখতি “দশম্যা” মিতি। নিশ্চয়াৎ দশম্যামেৰ” ইত্যেবকারতঃ। অন্যথােপবাসদ্বয় প্রসঙ্গাদিতি দিক। ৯১। ইত্যেষা। বাস্তবিক বৈষ্ণবগণ সমস্ত উপবাস ব্রতে বিদ্ধা তিথি বৰ্জন করিবেন, ইহা পূর্বে নিম্নীত হইয়াছে, এই ব্রতে ও “অষ্টমী বিদ্ধ। নবমী পরিত্যাজ্যা” এইরূপে বিদ্ধ। ত্যাগ অভিহিত হইয়াছে। কিন্তু যদি কখনও নবমী অষ্টমী বিদ্ধ হয় অথচ দশমী একাদশীকে বেধ না করে অর্থাৎ একাদশী বিশুদ্ধ হয়, তাহা হইলে বিদ্ধ। নবমী ত্যাগ করিয়া পরদিনে উপবাস করিলে তৎপরদিন নিত্য কর্তব্য একাদশীতেও অবশ্য উপবাস করিতে হইবে, সুতরাং নবমী ব্রতের পারণ সিদ্ধ হয় না বলিয়া ব্ৰত সমাপ্তি হয় না; পূর্বব্রত পারণা পৰ্যন্ত অনুষ্টিত না হইলে ব্ৰতান্তর অনুষ্ঠান করা যায় না বলিয়া উপযুপরি দুইটি উপবাস অবৈধ, এমত অবস্থায় নবমী ব্রতের আদর করিতে গেলে একাদশী ব্রত বিলুপ্ত হয়, একাদশী ব্রত অনুষ্ঠান করিলে নবমী ব্ৰত অনাদৃত হয়, উক্তবিধ ব্রত সঙ্কটে কি উপায় অবলম্বন করিতে হইবে তাহার স্থিরীকরণ উদ্দেশ্যেই ১০ অঙ্ক চিতি “উপােষণং নবম্যাংবৈ দশম্যামেব পারণ” এই শ্লোকার্ধ উক্ত হইয়াছে, শ্রীপাদ গ্রন্থকার ৭ম অধ্যায় ] রাম নবমী ৮৭ রামনবমী ব্রত নিয়ে “দশম্যাং পারণায়াশ্চ নিশ্চয়ান্নবমীক্ষয়ে” ইত্যাদি ৯১ অঙ্ক চিহুিত কারিকা দ্বারা উক্তৃশ্লোকার্ধের (১০ অঙ্কস্থ ) তাৎপৰ্য্য পরিস্ফুটরূপে লিখিতেছেন। অগস্ত্য সংহিতায় “দশম্যামেব” এই এব কারের প্রয়ােগ দ্বারা অবশ্যই দশমীতেই পারণ করিতে হইবে, এইরূপে দশমীতে পারণার কর্তব্যতা দৃঢ়ীকৃত হইয়াছে। অতএব দশমীতে পারণার সম্ভাবনাতেই বিদ্ধা নবমী ত্যাগ করিবে, দশমীতে পাবনার অসম্ভাবনা হইলে বৈষ্ণবগণ ও নিঃসংশয় চিত্তে বিদ্ধা নবমীই উপােষ্যত্বে গ্রহণ করিবেন। এইস্থলে দিগদর্শনীকার ‘অনু থােপবাদ্বয় প্রসঙ্গাৎ” এই বলিয়া উপসংহার করিয়াছেন, বাস্তবিক যদি দশমীতে পিরণ অবধারিত না হইত তাহা হইলে দশমীর অনবস্থিতিতে শুদ্ধ। একাদশীতে পারণার অসম্ভাবনা হেতুক কদাচিৎ উপযুপরি উপবাস দ্বয়ের প্রসক্তি হয়, কিন্তু ক্রমাগত উপবাস দ্বয় অশাস্ত্রীয় ও শিষ্টজন বিগহিত বলিয়া দশমীতে উপবাস উপেক্ষিত হইয়াছে, অথবা উপবাসদ্বয়ের সম্ভাবনা হয় বলিয়াই সর্বত্র বিদ্ধ ব্রত বর্জনীয় হইলেও এমত স্থলে বিদ্ধা নবমীতেও উপবাস ব্রত শাস্ত্রানুমােদিত এবং গােস্বামিপাদ কর্তৃক সমর্থিত হইয়াছে। এস্থলে ইহা অবশ্য বক্তব্য যে দুই উপবাসের আশঙ্কায় বহু দোষাস্পদ বিদ্ধা ব্ৰত ও বিহিত হইল বলিয়া বিদ্ধ। ব্ৰত গ্রহণ অপেক্ষাও উপবাসদ্বয়ের দোযাবহতা অধিক, ইহা অবশ্যই অনুমেয়, অতএব কুত্রাপি উপযুপরি দুই উপবাস অনুষ্ঠান করিতে নাই, ইহা বৈষ্ণবগণের সর্বদাই মনে রাখা কর্তব্য। রামনবমীর সার ব্যবস্থা অষ্টমী: বিদ্ধা নবমী ত্যাগ করিয়া শুদ্ধা নবমীতে উপবাস করিবে। তিথি ক্ষয়ে এক দিনে যদি অষ্টমী নবমী ও দশমী হয়, তাহা হইলে তিথি ক্ষয়ে নবমীতে অর্থাৎ অষ্টমী বিদ্ধ। নবমীতে উপবাস, দশমীতে পরিণ হবে। এখন নৃসিংহ চত্তৰ্দশী বলা যাইতেছে। # ইতি শ্ৰীস্বপ দামােদর গােস্বামি ভ্রাতৃ বংশােব ঐকৃষ্ণহরি গােদামি বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ বিরচিতায়াং বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসায়াং শ্রীরাম নবমী নিয়াে নাম সপ্তম অধ্যায়ঃ । * অইম অধ্যায় নৃসিংহ চতুর্দশী। ( মাস বিশেষকৃত্য) (চতুর্দশ বিলাসে) নৃসিংহ চতুর্দশীর নিত্যতা বৃহন্নারসিংহে বর্ষে বর্ষেতু কৰ্ত্তব্যং মম সন্তুষ্টি কারণম্। মহাহমিদং শ্রেষ্ঠ মানবৈ ভবভীভিঃ। ১৩৭ ভগবান্ শ্রীনৃসিংহ দেব, ভক্তশ্রেষ্ঠ শ্ৰী প্ৰদ মহানুভবের প্রতি ব্ৰতবিধি কথা প্রসঙ্গে বলিতেছেন- সংসার ভীরু মানবের প্রতি বৎসরেই আমার (নৃসিংহের) সন্তোষকর অতীব গুহ এই শ্রেষ্ঠ ব্ৰত কৰ্তব্য। এই বচনে “বর্ষে বর্ষে কর্তব্য” এই বীপ। দ্বারা ব্ৰতের নিত্যতা সাধিত হইয়াছে। * এই ব্রত অনুষ্ঠান না করিলে প্রত্যবায় উৎপত্তি হয় বলিয়া প্রকারান্তরে নিত্যতা প্রতিপাদিত হইতেছে, তত্রৈব— বিজ্ঞায় মদ্দিনং যস্তু লজঘয়েৎ সতু পাপভাক্। এবং জ্ঞাত্ব প্ৰকৰ্তব্যং মদ্দিনে ব্রত মুত্তমম্ । অন্যথা নরকং যাতি যাবচ্চন্দ্র দিবাকরে । ১৩৮ যে ব্যক্তি জ্ঞাতসারে আমার আবিৰ্ভাব তিথি (বৈশাখী শুক্লা চতুর্দশী) উল্লঙ্ঘন করে, সে পাপ ভাগী হয়, ইহা জানিয়া আমার আবির্ভাব দিনে উত্তম রূপে উপবাস ব্রত আচরণ করিবে, তাহা না হইলে চন্দ্র ও সূর্যের অস্তিত্বকাল পৰ্যন্ত নরক যাতনা ভােগিতে হইবে। * নিত্যং সদা যাবদয়ু নকদাচি দতিক্রমেৎ। উপপত্যাতিক্রমে দোষতে রত্যাগ চোদনাৎ। ফলাতেৰীয়াচ তন্নিত্যং পরিকীর্তিত। ইতি প্রাখশ্চিত্ত তত্ব প্রমাণিত বচন।
৮ম অধ্যায়] জন্মাষ্টমী নৃসিংহ চতুর্দশী ব্রত নিত্যতা আগমে- হরে রবতারা ত্তাঃ যতুতঃ সমুপােষয়েৎ। মহাপুণ্যতমঞ্চ সায়ং বিষ্ণুং প্রপূজয়েৎ। বৃহন্নরসিংহে বৈশাখ শুক্ল পক্ষ চতুৰ্দশ্যাং সমাচরেৎ। মজ্জন্মসম্ভবং পুণ্যং ব্রতং পাপ প্রণাশনম্। ১৪৭ বৈষ্ণবৈ ন তু কর্তব্য স্মরবিদ্ধা চতুর্দশী। ১৪৮ প্রিয়া চত্তৰ্দশীভৌমে কর্তব্যা কিন্বিষা পহ। কাম বিদ্ধা ন কর্তব্য স্বাতী ভৌম যুত যদি। (১৪৮) বৈশাখী শুরু : চতুর্দশীতে ভগবান নৃসিংহদেব আবির্ভূত হইয়াছিলেন বলিয়া ঐ তিথিতে সম্যক প্রকারে অর্থাৎ নিয়ম পূর্বক উপবাস করিবে। মহাপুণ্যতমা ঐ চতুর্দশী তিথিতে সন্ধ্যাকালে যথাবিধি নৃসিংহদেবের অর্চনা করিবে। ভগবান্ নৃসিংহদেব বলিয়াছেন, বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে আমার আবির্ভাব হেতু যথাবিধি অনুষ্ঠান করিবে। এই ব্রত পাপরাশি সমূলে নিঃশেষিত করে বলিয়া নিতান্ত পবিত্রতাজনক। কিন্তু বৈষ্ণবগণ ত্রয়ােদশী বিদ্ধা চতুর্দশীতে উপবাস করিবেনই না। প্রিয়া নৃসিংহ চতুর্দশী মঙ্গলবারে করিলে পাপকে নষ্ট করে। সেই চতুর্দশী যদি স্বাতী নক্ষত্র যুক্ত মঙ্গলবারেও হয়, তথাপি এয়ােদশী বিদ্ধা করিবে না। পূর্নিমাযুক্ত চতুর্দশীই উপবাসে প্রশস্ততর। * তিথি বৃদ্ধি হইলে সম্পূর্ণ। তিথিতেই উপবাস করিবে। পূর্মিমাদিনে মল গেলেও তাহাতে উপবাস হইবে না; যেহেতুক একাদশী ভিন্ন তিথি মল অকর্মণ্য। তথাহি যষ্টি দণ্ডাত্মিকায়াশ্চ তিথে র্নিক্রমণে পরে। অকর্মণ্য তিথি মলং বিদ্যাদেকাদশীং বিনা। * একাদশী প্রকরণে সম্পূর্ন ও বিদ্ধা প্রসঙ্গ। ১৩১৪ পৃষ্ঠা দেখুন। ১২
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা
[ ৮ম অধ্যায়
নৃসিংহ চতুর্দশীর সার ব্যবস্থা
যষ্টি দণ্ডাত্মিকা তিথির মল পরদিনে নির্গত হইলে একাদশী ভিন্ন সেই
তিথি মল অকর্মণ্য। তিথির কর্ম তিথি মলে হয় না, একাদশী কাৰ্য তিথি
মলেও হয়।
চতুর্দশী ক্ষয় প্রাপ্ত হইলে এয়ােদশীয়ােগ অনিবার্য।
“বৈষ্ণবৈ নতু কৰ্তব্যা স্মরবিদ্ধা চতুর্দশী।”
এই বচনে “তু” শব্দের নিশ্চয় বােধকতা হেতু
•
“কামবিদ্ধা ন কর্তব্য। স্বাতী ভৌম যুত যদি।”
এই বচনে “যদি” শব্দের উপাদান থাকা হেতু, তিথিক্ষয়ে ত্রয়ােদশীযুক্ত
হইয়াছে বলিয়া উপবাসের বিষয় যাইতেছে না।
দশমী বিদ্ধা একাদশীর উপবাস বিশুদ্ধ দ্বাদশীতে এবং সপ্তমী বিদ্ধ।
অষ্টমীর উপবাস বিশুদ্ধ নবমীতে করার বিধান রহিয়াছে; কিন্তু বিদ্ধ।
নৃসিংহ চতুর্দশীর উপবাস পূন্নিমাতে করার বিধান নাই, এমত অবস্থায় তিথি
ক্ষয়ে বিদ্ধা ত্যাগ করিলে উপবাসের লােপাপত্তি হয়। অতএব তিথি ক্ষয়ে
বিদ্বোপবাস গ্রাহ্য। সদাচারও এইরূপ আছে।
সর্বত্র বিদ্ধাতিথি বর্জনীয় হইলেও যেমন রাম নবমীতে ব্ৰতসঙ্কটে বিদ্ধা
গ্রাহ্য, সেইরূপ এইস্থলেও বুঝিতে হইবে ।
নৃসিংহ চতুর্দশীর সার ব্যবস্থা।
বৈশাখের শুক্লাচত্তৰ্দশী এয়ােদশী বিদ্ধা না হইলে উপবাস হইবে।
চত্তৰ্দশীক্ষয়ে ত্রয়ােদশী বিদ্ধ হইলেও উপবাস হইবে।
এখন শিবরাত্রি নিন্নীত হইতেছে ।
* ইতি শ্ৰীস্বরূপ দামােদর গােস্বামি ভ্রাতৃ বংশােদ্ভব শ্রীকৃষ্ণ হরি
গােম্বামি বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ বিরচিয়াং বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসায়াং
নৃসিংহ চত্তৰ্দশী নিগ্নয়াে নাম অষ্টম অধ্যায়ঃ ।
* রামনবমী দ্রষ্টব্য
১
নবম অধ্যায়
শিবরাত্রি।
(চতুর্দশ বিলাসে)
কর্তব্য বিচার।
শিবরাত্রি ব্রতমিদং যদ্যপ্যাবশ্যকং নহি।
বৈষ্ণবানাং তথাপ্যত্র সদাচারা দিলিখতে। ৬৩
এই শিবরাত্রি ব্রত যদি আপাত দৃষ্টিতে বৈষ্ণবগণের আবশ্যক নহে, তথাপি
( মাসকৃত্য প্রসঙ্গে) সদাচার অবলম্বনে উক্তব্ৰত লিখিত হইতেছে।
পাদ গ্রন্থকার শিবরাত্রির উপক্রমেই এই কারিকাটী লিখিয়াছেন।
শিবরাত্রি ব্রত বৈষ্ণবগণের অবশ্য কর্তব্য না হইলে সৎশব্দবাচ্য বৈষ্ণবােত্তমগণ
তাহা করিবেন কেন? আর বৈষ্ণবােত্তমগণ যাহার অনুষ্ঠান না করেন, তাহাই
বা কিরূপে সদাচার বলিয়া অভিহিত হইতে পারে ? স্কুল দৃষ্টিতেই এই প্রকার
সন্দেহের উপস্থিতি হয়।
শ্রীবিষ্ণুমন্ত্রে দীক্ষিত হইবার পূর্বেই গুরুদেবের ভাবী শিষ্যকে একশত
চারিটি কর্তব্য ও বর্জনীয় নিয়ম সকল শ্রবণ করাইতে হয়, তাহা দ্বিতীয়
বিলাসে বিস্তারিত বিবৃত আছে, তন্মধ্যে
“ব্রাহ্মে মুহুৰ্ত্ত উত্থানং মহাবিষ্ণোঃ প্রবােধন”
ইত্যাদি উপক্রম করিয়া
“শয়নাদ্যপচার রামাদীনাঞ্চ চিন্তন”
এই পর্যন্ত ৫২ বায়ামটি কর্তব্যের বিধান রহিয়াছে। আর
“সন্ধ্যয়ােঃ শয়নং নৈব ন শৌচং মৃত্তিকাং বিনা”
ইত্যাদি উপক্ৰম করিয়া
প্রসাদগ্ৰহণং বিষ্ণো বর্জয়ে বৈষ্ণব সদ”
এই পর্যন্ত ৫২ 'বায়ান্নটী কাৰ্য্যের নিষেধ রহিয়াছে।
“অবৈষ্ণব তার স্তথা জপ্য মবৈষ্ণব”
বিষ্ণুসম্বন্ধবিহীন ব্ৰতানুষ্ঠান ও এই নিষিদ্ধ ৫২ বায়ান্নটী কার্যের মধ্যেই
গণিত হইয়াছে। শিষ্য উপরি উল্লিখিত ৫২টী বিধেয় ও ৫২টী পরিত্যাজ্য
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা ৯ম অধ্যায় শিবরাত্রি ব্রতের নিত্যতা বিষয় অঙ্গীকার করিলে গুরুদেব তাহাকেই বিষ্ণুমন্ত্রে দীক্ষিত করিবেন। সুতরাং প্রাগুক্ত নিয়মানুসারে বিষ্ণু সম্বন্ধ বিহীন ব্ৰতানুষ্ঠান বৈষ্ণবগণের বর্জনীয় বলিয়া যদিও শিবরাত্ৰিত আপাততঃ বৈষ্ণবগণের আবশ্যক নহে, তথাপি সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে শিব শ্রীভগবান্ হইতে অপৃথক বলিয়া উক্ত শিবরাত্রি ব্ৰত বিষ্ণু সম্বন্ধ বর্জিত নয় বলিয়া সদ্বৈষ্ণব কর্তৃক অনুষ্ঠিত হইয়া থাকে, এবং শাস্ত্র ও উহার অনুমােদন করেন। তাই বলিয়াই উহা সদাচার মধ্যে পরিগণিত হইয়াছে। অতএব শাস্ত্রীয় বিধিবাক্য ও সজ্জনের আচার অবলম্বনে উক্ত ব্ৰত বিধি লিখিত হইতেছে। শাস্ত্রবিহিত আচারই সদাচার,* শাস্ত্র বিরুদ্ধ আচার মহানুভব জনগণ কর্তৃক অনুষ্ঠিত হইলেও সদাচার অভিধা প্রাপ্ত হইতে পারে না। শিবরাত্রি ব্রতের নিত্যতা। শিবরাত্রি ব্রতানুষ্ঠান শাস্ত্রবিহিত আচার বলিয়া বৈষ্ণবগণের একান্ত কৰ্তব্য, এই ব্রত ফানের কৃষ্ণ পক্ষীয় চতুর্দশীতে সর্বপাপকর্ষক ভগবানের প্রীতির নিমিত্ত বৈষ্ণবগণেরও অনুষ্ঠেয় । এই সম্বন্ধে পদ্মপুরাণে ব্ৰতখণ্ডে কথিত আছে - - এই বিষয়ে সদাচার মাহাত্ম প্রসঙ্গে তৃতীয় বিলাসে এইরূপ উক্তি আছে :- “আচার এব নৃপপুঙ্গব সেব্য মাননা, ধৰ্মার্থ কাম ফলদো ভবিতেহ পুংসাম্। তৎ সদৈব বিধি বহিতেন রাজ, শাস্ত্রোদিতাে হমুদিনং পরিপালনীয়। এই লােকে আচার অনুষ্ঠিত হইলে ধর্ম, অর্থ ও কামরূপ ফলত্রয় প্ৰদ হয়। অতএব সর্বদাই আচার গুণাভিজ্ঞ ব্যক্তি অবহিত হইয়া অমুদিন শাস্ত্র- বিহিত আচার পরিপালন করিবেন। এই বিষয়ে দশমঙ্কন্ধে মুনীন্দ্র শুকদেবের উপদেশ দেখুন- ঈশ্বরাণাং বচঃ সত্যং তথৈবাচরিতং কচিৎ। তেষাং যৎস্বচোযুক্তং বুদ্ধিমাং স্তত্ত দাচরেৎ। অনুবাদ—ঈশ্বরের বাক্য সত্য, সেইরূপ রূচিৎ আচরণ সত্যরূপে গ্রাহ। ঈশ্বরের নিজ বাক্যযুক্ত যে আচরণ বুদ্ধিমান তাহা তাহা ই করিবেন। ঈশ্বরের আদেশ গ্রহণ কর্তব্য, অনুপদিষ্ট আচরণ গ্ৰহণ কৰ্তব্য নহে।
৯ম অধ্যায় ] শিবরাত্রি শিবরাত্রি ব্রতের নিত্যতা সৌরো বা বৈষ্ণবােবাপি দেবতার পূজক। ন পূজাফল মাগ্লোতি শিবরাত্রি বহির্মুখঃ ৬৪ সুৰ্যোপাসকই হউক, বিষ্ণুপরায়ণই হউক, কি দেবান্তর গণেশ দুর্গাদির পূজাপরায়ণই হউক, শিবরাত্রিতে বহির্মুখ হইলে কেহই পূজাফল পাইতে পারে না। পাদ গ্রন্থকার ইত্যাদি প্রমাণ দ্বারা এই ব্রতের নিত্যতা প্রদর্শন করিয়াছেন। অনন্যভক বৈষ্ণবগণের শিবরাত্রি ব্রতানুষ্ঠানে ঐকান্তিক অথবা অনন্যো- পাসকতার কোনই হানি হইবে না, এই বিষয়ে হরশীৰ্য পঞ্চরাত্রে বক্ষ্যমাণরূপ ভগবদুক্তি রহিয়াছে- যঃ শিবঃ সােহহ মেবেহ যােহহং স ভগবান্ শিবঃ। নাবয়াে রন্তরং কিঞ্চি দাকাশানিলয়ােরিব ॥ ৬৬ যেই শিব সেই আমিই, যেই আমি সেই ভগবান্ শিব, আমাদের উভয়ে কিছুই ভেদ নাই ; যেমন আকাশ ও আকাশ হইতে উদ্ভূত বায়ু তত্ত্বতঃ অভিন্ন সেইরূপ কাৰ্যও কারণের অভিন্নত প্রযুক্ত আমাদের পরস্পরে পার্থক্য নাই। উপসংহারে দিগ, দর্শনীকার এইমত সিদ্ধান্ত করিয়াছেন যে, “শ্রীবিষ্ণুরেকো দেবঃ শ্রীশিব শ্যান্যো দেব ইত্যেব মন্থত্বে ভাসমানে তন্নমস্কারা- দিকং বৈষ্ণবানা মযুক্তমেব কিন্তু যথা মৎস্যদয়াে লীলাবতারা স্তথা ঐশিবশ গুণাবতাররা হয় ইত্যভেদেন ন দোষাবহ অপি তু গুণএব ভগবদ্ভক্তি বিশেষ এব পৰ্য্যবসানাৎ । ইতি দিদর্শনী। ৬৭। “শ্রীবিষ্ণু এক দেব আর শিব অন্যদেব” যখন এই প্রকার ভেদ ভাসমান হয়, তখন অর্থাৎ ঈদৃশ ভেদজ্ঞান পুরঃসর বৈষ্ণবগণের শিবনমস্কারাদি কর্তব্য নহে, যেহেতু “নান্তং দেবং নমস্তুৰ্যা ন্যং দেবং নিরীক্ষয়েৎ।” দিদর্শনী।৬৬ ইত্যাদি ভগবদুক্ত বচনে নিষেধ শ্রুতি রহিয়াছে। সমস্ত দেব দেবীকেই স্বীয় ইষ্টদেবতার বিভূতিরূপ নিরীক্ষণ করিবে ও ভক্তি বিনম্র চিত্তে প্রণামাৰ্চনা করিবে। প্রহ্লাদ মহানুভব ও ধৰ্ম্মরাজ যুধিষ্ঠিরাদি আদর্শ মহাপুরুষগণ ভববিরিঞ্চি প্রভৃতি দেবগণকে ভগবৎকলা * বা ভগবদ বিভূতি ৯৪ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৯ম অধ্যায় কর্তব্য। শিবরাত্রি ব্রতের নিত্যতা জ্ঞানে প্রণামাৰ্চ্চনা করিয়া ভক্তির উত্তমতা প্রদর্শন করিয়াছেন। নামাপরাধ প্রকরণেও শিব এবং বিষ্ণুর ভেদ দর্শিগণ অবজ্ঞাত হইয়াছে। যথা- শিবস্য ঐবিষ্ণোৰ্য ইহ গুণ নামাদি সকলং। ধিয়া ভিন্নং পশ্যেৎ স লু হরিনামাহিতকরঃ ॥ দিদর্শনী। ৬৭ যে ব্যক্তি শ্রীবিষ্ণু হইতে শিবের গুণ, নাম ও চরিত্র প্রভৃতি বুদ্ধি দ্বারা ভিন্ন বলিয়া বিবেচনা করে, সেই হরিনামের অহিতকর অর্থাৎ নামাপরাধী। অতএব ঐবিষ্ণু হইতে অপৃথক ভাবে শ্ৰশিব প্রতিমাদির প্রণামাৰ্চ্চনা অবশ্য যেমন “মৎস্য কুৰ্ম্ম নৃসিংহাদি শ্রীভগবানের লীলাবতার, তেমনই শিবও ভগবানের গুণাবতার” এইরূপ অভিন্নজ্ঞানে শিব প্রণমাদি দোষাবহ হইতে পারে না, বরঞ্চ ভগবদ্ভক্তিতে পর্যবসিত হয় বলিয়া গুণ মধ্যে পরিগণনীয়। এই জন্যই শ্রীবৈষ্ণবগণের শিবরাত্রিতানুষ্ঠানের প্রতি গ্রন্থকার ত্রিবিধ কারণ প্রদর্শন করিয়াছেন। তথাহি কারিকা কাৰ্যং গুণাবতারত্বে নৈক্যা দ্রুদ্রস্য বৈষ্ণবৈঃ। বৈষ্ণবাতয়া • শ্রৈষ্ঠাং সদাচারাচ্চ তদুতম্॥ ৬৭ মহাদেব গুণাবতার বলিয়া শ্রীবিষ্ণু হইতে অভিন্ন, ভক্তি রসাতিশয়ের প্রবর্তনােদ্দেশ্যে ভক্তভাব অঙ্গীকার করাতে সমস্ত বৈষ্ণবের শীর্ষস্থানীয়, এই দুই কারণে এবং শাস্ত্রানুগত সজ্জন কর্তৃক অনুষ্ঠিত বলিয়া শিবব্রত বৈষ্ণবগণের অবশ্য কর্তব্য। * সৰ্ব্ববৈষ্ণব মুদ্ধন্যো বিষ্ণুভক্তি প্রবর্তক।৫। শ্রীসনাতন গােস্বামি প্রণীত বৃহদ্ভাগবতামৃতম্। তৎকৃত টীকাচ দিদর্শনী যদ্যপি ভগবদতারত্বেন সাক্ষাত্ ভগবান্ বিষ্ণুরেবায় তথাপি তদ্ভক্তি প্রবর্তকাবরাথােক্তি যুক্তৈবেতি মন্তব্য মিত্যেষা। যদিও ভগবানের অবতারত্ব হেতু সাক্ষাৎ ভগবান বিষ্ণুই এই শিব, তথাপি ভগবদ্ভক্তির প্রবর্তকাবকারত্ব হেতু “সৰ্ব্ব বৈষ্ণবের শীর্ষ স্থানীয় ও বিষ্ণুভক্তির প্রবর্তক, এই প্রকার উক্তি যুক্তই।
৯ম অধ্যায় ] শিবরাত্রি ৫৫ শিবরাত্রি ব্রতের নিত্যতা চতুর্থ স্কন্ধ দৃষ্ট্যাতু নৈকে কুৰ্বন্তি তদুতম্। তথাচ ভৃগুশাপ :- ভবব্ৰত ধরা যে চ যে চ তা সমনুব্রতাঃ। পাণ্ডিন স্তে ভবন্তু সচ্ছাস্ত্র পরিপন্থিন। ৬৭ কিন্তু চতুর্থ স্কন্ধ বর্মিত ভৃগু শাপাবলােকনে কেহ কেহ শিবরাত্রি ব্রত অনুষ্ঠান করেন না। দক্ষযজ্ঞ বিঘাতের সময় ভবানুচর ভূতপ্রেত বর্গ ভৃগুমুনির প্রতি অত্যাচার করিলে পর তিনি ক্রোধান্ধ হইয়া অভিসম্পাত করিয়াছিলেন যে, “যাহারা ভবত অনুষ্ঠান করে অথবা যাহারা ভবব্রতকারী ব্যক্তিগণের অনুগত তাহারা সাধূ শাস্ত্রের বিরােধী বলিয়া পাষণ্ডী হউক।” শ্ৰীভাগবতীয় কোন কোন টীকাকার উল্লিখিত অভিশাপ বাক্যের তামস ব্ৰতেই তাৎপৰ্য্য অবধারণ করিয়াছেন, কিন্তু সন্দৰ্ত্তকার শ্রীজীব গােস্বামিপাদ উহা অনুমােদন করেন নাই। কারণ, ভবব্রতই হউক, বিষ্ণুতই হউক বা দেবার ব্রতই হউক, যে সকল ব্ৰত শাস্ত্র বিগহিত তাহার অনুষ্ঠান করিলে সকলকেই পাষণ্ডী হইতে হয়। সুতরাং তামসাদি ব্রতে ভৃগুশাপের তাৎপৰ্য্য স্বীকার পর্যাপ্ত হইতে পারে না। ফলতঃ যাহারা শ্রীকৃষ্ণ হইতে পৃথক জ্ঞানে শাস্ত্রবিহিত শিবব্রত ও অবলম্বন করেন কিম্বা যাহারা ঐ ব্ৰতাবলম্বিগণের অনুবর্তী হন, তাহারাই উক্ত ভৃগুশাপের বিষয়ীভূত। ইহাই গ্রন্থকারের নিজমত বলিয়া অনুমিত হয়। কারণ, নৈকে কুৰ্ব্বস্তি তদ্বতং” “অন্যেরা তাহার ব্রত করেন না” গ্রন্থকার এইরূপ বলাতেই ইহা যে তাহার অনুমােদিত নয়, তাহা সুধী মাত্রেই স্বীকার করিবেন। বিশেষতঃ গ্রন্থকার গােম্বামিপাদ পঞ্চম বিলাসে পূজা পাত্র নির্ণয় প্রসঙ্গে দিগদর্শনীতে স্বয়ংই এই প্রকার দিশা দেখাইয়াছেন। তথাহি কারিকা কেচিচ্চ তাম্রপাষুে গবাদে যোগদোষতঃ। তাম্রাতিরিক্তমিছন্তি মধূপৰু স্য ভাজনম্ । ২১ (৫ম বিলাস) “তাম্রপাত্রে ঘৃত ভিন্ন দধি দুগ্ধ প্রভৃতি গব্য ও মধুর সহিত সংযোগে মদ্যতুল্য দোষ হয় বলিয়া মধুপকের জন্য তাম্রাতিরিক্ত অর্থাৎ কাংস্যাদি পাত্র কেহ ইচ্ছা করেন।”
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৯ম অধ্যায় শিবরাত্রি ব্রত নির্নয় এই কারিকার দিগদর্শনী টীকায় লিখিত রহিয়াছে “কেচিদিতি স্বমতং ব্যাবৰ্তয়তি।” “কেহ ইচ্ছা করেন” এইরূপ বলাতেই নিজের মতকে ব্যাবর্তন করা হইয়াছে। অর্থাৎ ইহা আমার ( গ্রন্থকারের) নিজ মত নয়। বাস্তবিক শ্ৰগােস্বামিপাদ প্রদর্শিত রীতি অনুসারে শিবরাত্রি ব্রতের অবশ্য কৰ্তব্যতা নির্ণীত হইল বলিয়া শ্রীচৈতন্য সম্প্রদায়ী মাননীয় বৈষ্ণবগণের বােধ হয় এই বিষয়ে আর কোন বিতর্কের অবসর নাই। অতএব অতিপ্রসঙ্গ পরিত্যাগপূর্বক সম্প্রতি শিবরাত্রি ব্রত নিরূপিত হইতেছে- শিবরাত্রি ব্রত নিগ্নয় । ॥ স্কান্দে মাঘমাস শেষ। যা প্রথমা ফাওনস্য চ। কৃষ্ণা চতুর্দশী সাতু শিবরাত্রি প্রকীত্তিত৬৮ মাঘ মাসের শেষে ফান মাসের প্রথমে যে কৃষ্ণপক্ষীয় চতুর্দশী, তাহাই শিবরাত্রি বলিয়া কীর্তিত। শিবরাত্রি ব্রতে ভূতং কামবিদ্ধং বিবর্জয়েৎ। ৭০ শিবরাত্রিতে ত্রয়ােদশী বিদ্ধ চতুর্দশীকে বিশেষ প্রকারে বর্জন করিবেক। এই জন্যই পরাশর ও বলিয়াছেন। মাঘাসিতং ভূতদিনংহি রাজ, মুপৈতি যােগং যদি পঞ্চদশ্যা। জয়াপ্রযুক্তৃাং নতুজাতু কুৰ্য্যা, চ্ছিবস্যরাত্রিং প্রিয়কৃচ্ছবস্য। ৭০। নতুজাতু কুৰ্য্যাদিতি, ‘তু’ শব্দ অবধারণে, জাতু কদাচিদপি। অর্থ। মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয় চত্তৰ্দশী যদি অমাবস্যার সহিত যােগ অর্থাৎ অমাবস্যা দিনে দ্বিমুহূর্ত ব্যাপিনী চর্দশী হয়, তবে শিবের প্রিয়কাৰ্য্যকারী ব্যক্তি সেই দিনেই শিবরাত্রি ব্রত করিবে। কিন্তু কদাচও জয়া অর্থাৎ ত্রয়ােদশীযুক্ত শিবরাত্রি ব্রত করিবেই না। যদি অমাবস্যা দিনে চত্তৰ্দশী দুই মুহুর্তের অর্থাৎ চারিদণ্ডের কম থাকে, তবে ত্রয়ােদশীযুক্ত চতুর্দশীতে ব্ৰত হইবে।
৯ম অধ্যায় ] শিবরাত্রি শিবরাত্রি ব্রত নিয় গােম্বামিপাদ, ‘‘দ্বিমুহূর্তো ভবে দেয়াগাে বেধে মৌৰ্তিকঃ মৃতঃ।” ৭ দ্বিমুহূৰ্তযােগের নাম পারিভাষিক যােগ। মুহুৰ্ত্ত যােগের নাম পারি- ভাষিক বেধ।” এই লােগাক্ষি ন্যায় অবলম্বন করিয়া “যােগ” শব্দের দ্বিমুহূৰ্ত্ত অর্থ গ্রহণ করিয়াছেন। ‘যােগ’ শব্দের সংযােগ অর্থ গ্রহণ করিলে “উপৈতি যােগং যদি” এইস্থলে ‘উপেতি” ও “যদি” পদের আনর্থক্যাপত্তি হয়। কারণ পঞ্চদশীর সহিত চতুর্দশীর সংযােগ অবশ্যম্ভাবী, তাহা হবেই হবে। এই নিমিত্তই “যােগ” শব্দের পারিভাষিক ‘দ্বিমুহূৰ্ত্ত” অর্থ গ্রহণ করা হইয়াছে। “পূৰ্ব বিদ্ধাতু কর্তব্যা শিবরাত্রি বলেদিন।” ইত্যাদি বচন দ্বারা পূৰ্ববিদ্ধার কর্তব্যতা হেতু “নতুজাতুকুৰ্যাৎ” এই এই নিষেধের সঙ্গতি এবং ‘মহতা মপি পাপানাং দৃষ্টা বৈনিঃ কৃতিঃ পুরা। ন দৃষ্টা কুৰ্ব্বতাং পুংসাং কুহুযুক্তাং তিথিং শিবাং॥” ইত্যাদি বচন দ্বারা অমাবস্যাযুক্ত চত্তৰ্দশী ব্রতের নিষিদ্ধত্বহেতু মামাসিতং ভূতদিনং হি রাজ’ ইত্যাদি বচন দ্বারা ব্যতিরেক মুখে শিবরাত্ৰিব্ৰত বিধির সঙ্গতি বৈষ্ণব বিষয়েই হইতেছে। কালমাধবে- মহতা মপি পাপানাং দৃষ্টা বৈনিঃ কৃতিঃ পুরা। ন দৃষ্টা কুৰ্বতাং পুংসাং কুহুযুক্তাং তিথিং শিবাং ॥ মহাপাপেরও নিস্কৃতি দেখা যায়, কিন্তু অমাবস্যাযুক্ত শিব চতুর্দশী ব্রতকারীর নিস্কৃতি দেখা যায় না।” এই প্রকার দর্শযােগের নিন্দাপ্রতিপাদক কালো বচন উদ্ধৃত হইয়াছে, কিন্তু আমাদের মতে ইহা পরদিনে চতুর্দশীর দ্বিমুহূর্তযােগের ইতর বিষয়ে – ৯৮ বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা [ ৯ম অধ্যায় শিবরাত্রি ব্রত নয়। বুঝিতে হইবে, অর্থাৎ পঞ্চদশী দিনে চতুর্দশী দ্বিমুহূর্তের ( চারিদণ্ডের) কম হইলেই এই বচনের বিষয়। তিথিতত্ত্বে দর্শযােগের প্রশস্ত্য কীর্তিত হইয়াছে, যথা—লিঙ্গপুরাণে- শিবা ঘােরা তথা প্রেতা সাবিত্রী চতুর্দশী। কুহুযুক্তৈব কর্তব্যা কুত্ব। মেবহি পিরণং । শিবচতুর্দশী অঘাের চতুদ্ধশী, প্রেতচতুর্দশী, সাবিত্রী চতুর্দশী ; এই সকল চতুশী অমাবস্যাযুক্ত হইলে উপবাস করিবে এবং অমাবস্যাতে পারণ করিবে। স্কান্দে কৃষ্ণাষ্টমী স্কলষষ্ঠী শিবরাত্রি-চত্তদশী । এতাঃ পূৰ্বযুতা গ্রাহ্যা তিম্ভে পিরণং ভবেৎ। (ক) পূৰ্ববিদ্ধাতু কর্তব্য। শিবরাত্রি বলে দিনং।,, (খ) “জয়ন্তী শিবরাত্রি কার্যে ভদ্ৰাজয়ান্বিতে।,, (গ) ইত্যাদি বচন সমূহে যে পূৰ্ববিদ্ধার কর্তব্যতা কীৰ্তিত হইয়াছে, তাহা মাঘমাসাতিরিক্ত শিবরাত্রি ব্রতবিষয়ক বলিয়া বুঝিতে হইবে । নৃসিংহ পরিচৰ্য্যা কারও “তন্মাঘমাসাতিরিক্ত শিবরাত্রি বিষয়ং ভবিষ্যতি ।” এই কথা উল্লেখ করিয়া দর্শ যােগেরই সমধিক আদর করিয়াছেন। নাগরখণ্ডে মাঘ ফাক্তনয়াে মধ্যে যা স্যা চ্ছিব চত্তৰ্দশী। অনজেন সমাযুক্ত কর্তব্য সর্বদা তিথিঃ ॥ ১৪ বি, দিগর্শনী। ৭০ (ক) কৃষ্ণাষ্টমী, স্কন্দষষ্ঠী, শিবরাত্রি-চতুর্দশী, এই সকল তিথি পূৰ্ববিদ্ধ। গ্রাহ্য। এই সকল তিথির পারণ তিথির অন্তে হইবে। (খ) শিবরাত্রি এবং বলির দিন (বলি প্রতিপদ ) পূৰ্ব বিদ্ধাই করিবে। (গ) জয়ন্তী ( জন্মাষ্টমী) এবং শিবরাত্রি ভদ্রা এবং জয়যুক্ত করিবে। সপ্তমী বিদ্ধা অষ্টমী এবং ব্রয়ােদশী বিদ্ধ শিবরাত্রি কর্তব্য।
৯ম অধ্যায় ] শিবরাত্রি শিবরাত্রি ব্রত নিয় ইতি বচনং ভবিষোত্তরােক্ত শিবরাত্রি ব্যতিরিক্ত শিব চতুর্দশী সংজ্ঞক ব্ৰত বিষয়ক কিম্বা পর দিনে অমাবস্যা যােগাভাব বিষয়ক সকাম বৈষ্ণব বিষয়কং বা জ্ঞেয়ং। ইতি ১৪ বি, দিদর্শনী। ৭৩ “মাঘ এবং ফানের মধ্যে যে শিব চতুর্দশী সে সর্বদাই এয়ােদশীযুক্ত হইলে কর্তব্য।” এই বচনটীকে শিবরাত্রি ব্ৰতাতিরিক্ত ভবিষ্যোত্তরীয় শিব চতুর্দশী সংজ্ঞক ব্রত বিষয়ে অথবা পরদিনে অমাবস্য। যােগাভাব বিষয়ে বা তিথিক্ষয়ে অথবা সকাম বৈষ্ণব বিষয়ে কল্পনা করিলে কোন প্রকার বিরােধেরই অবকাশ থাকে না। এই বিষয়েও আমরা নৃসিংহ পরিচর্যাকার কৃষ্ণদেবাচার্যের মতেরও অনুসরণ করিয়াছি। গােস্বামিপাদ সকাম বৈষ্ণব বিষয়েও এই বচনের সমন্বয় করিয়াছেন। ১৪ বি, ৭০ অঙ্ক, দিদর্শনী। কাল মাধবকার মাধবাচাৰ্য এবং চত্তৰ্বৰ্গ চিন্তামণিকার হেমাদ্রি প্রভৃতি পূৰ্বাচাৰ্য্যগণ জয়া যােগের বহুবচন উল্লেখ করিয়া “জয়া প্রযুক্তাং রানিং ন কুৰ্য্যাৎ।” এয়ােদশীযুক্ত রাত্রি করিবে না। এই প্রকারে “মাঘাসিতং ভূত দিনং হি রাজন” “শিবরাত্রি ব্রতেভূতং” ইত্যাদি বচনের সমন্বয় কবিয়াছেন; তাহাও আবার অর্ধারাত্ৰাৎ পুরস্তাচ্চ জয়া যােগাে যদা ভবেৎ পূৰ্ব বিদ্ধৈব কর্তব্যা শিবরাত্রিঃ শিবপ্রিয়ৈঃ” যদি অৰ্দ্ধ রাত্রের পূর্বে জয় অর্থাৎ এয়ােদশীর যােগ হয়, তবে শিবপ্রিয়গণ পূৰ্ববিদ্ধ ( ত্রয়ােদশী বিদ্ধা) শিব রাত্রিই করিবেন। ইত্যাদি বচন বলে অর্ধরাত্রের পরবর্তীকালে জয়া যােগের নিষেধ হইয়াছে। অৰ্দ্ধ রাত্রের পূর্বে জয়া যােগ হইলে পূৰ্ব বিদ্ধা কর্তব্য, আর অর্ধরাত্রের পরে জয়া যােগ হইলে পর বিদ্ধা কর্তব্য। অর্থাৎ পূর্বোক্ত আচাৰ্যগণের মতে “মাঘাসিতং ভূত দিনংহি রাজন” ইত্যাদি বচন আৰ্দ্ধরাত্রের পূর্বে জয়া যােগের অভাব বিষয়ে কথিত হইয়াছে। অর্ধ রাত্রের পূৰ্ব্বে জয়া যােগ হইলে ত্রয়ােদশীযুক্ত করিবে, অর্ধরাত্রের পরে জয়া যােগ হইলে অমাবস্যাযুক্ত করিবে।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা
(৯ম অধ্যায়
শিবরাত্রি ব্রত নিয়
এই মত সুসঙ্গত নহে; যেহেতু কেবল মাত্র রাত্রিতে জয়া যােগ অপেক্ষণীয়
হইলে “সদি, উপৈতি” ইত্যাদি প্রয়ােগ ব্যর্থ হয়। কারণ রাত্রিতে জয় যােগ
হইলে পঞ্চদশীর সহিত চতুর্দশীর যােগ অবশ্যম্ভাবী, হবেই হবে। সুতরাং
“জয়া প্রযুক্তাং রাত্রিং ন কুৰ্য্যাৎ”
এতাদৃশ সমম্বয় কদাচ সমীচীন নহে।
শিবরাত্রি" শব্দ যােগরূঢ়। মাঘ মাসের শেষ ফান মাসের প্রথম যে
চতুর্দশী তাহাই শিবরাত্রি।
মাঘমাস শেযা যা প্রথমা ফান।
কৃষ্ণাচর্দশী সাতু শিব রাত্রিঃ প্রকীর্তিত ৪
এই লক্ষণানুসারে ঈদৃশ চতুর্দশী তিথিই শিবরাত্রি পদবাচ্য। সুতরাং
“জয়া প্রযুক্তাং শিবরাত্রিং ন কুৰ্য্যাৎ”
এইস্থলে “রাত্রি শব্দ” কাল বাচক নহে, কর্মবাচক। শিবস্য রাত্রিং”
ইহার অর্থ “শিবরাত্রি ব্রত।
“শিবস্য রাত্রিং এই সমাস-বাক্য প্রকরণানুসারে করা হইয়াছে। ইহা
স্বীকার না করিলে “শিব” শব্দের বৈবৰ্থাপত্তি হয়।
অতএব কেবল জয়া প্রযুক্তা রাত্রি বলা যায় না, জয়া যুক্ত দিবাও নিষেধের
বিষয়ীভূত।
“দিবা” শব্দও কাল বাচক নহে, কর্মবাচক।
সুতরাং দিবারাত্র উভয়কেই “শিবরাত্রি” শব্দে বুঝাইতেছে।
এই বিষয়ের সুক্ষ্ম বিচার নৃসিংহ পরিচর্যায় বগ্নিত আছে। তাহা গ্রন্থ
গৌরব ভয়ে উদ্ধত হইল না।
নির্মামৃতকার অম্লাট নাথ আচাৰ্য মতে উভয় দিনে চতুর্দশী প্রদোষ
ব্যাপিনী হইলে পরদিনে ব্রত কর্তব্য বিষয়ে
“মাঘাসিতং ভূত দিনং হি বাজ” ইত্যাদি
এবং “শিবরাত্রি ব্রতে ভূতং কামবিদ্ধং বিবর্জয়েৎ” ইত্যাদি বচনের বিষয়।
তিনি উভয় দিনে প্রদোষ ব্যাপিনী বিষয়েই বচনংয়ের সমন্বয় করিয়াছেন।
৯ম অধ্যায়) শিবরাত্রি ১০১ = শিবরাত্রি ব্রত নিয় প্রাদোষ ব্যাপিনী গ্রাহা শিবরাত্রিঃ শিবপ্রিয়ৈঃ। ৬৯ প্রদোষ চতুন ড্যাত্মকো হভিজ্ঞ জনৈ মতঃ ॥৬৯৯ প্রদোষ ব্যাপিনী সাম্যে হপুপােষ্যৎ প্রথম দিন । নােপােষ্যা বৈষ্ণবৈ বিদ্ধা সাপীতিচ সতং মতং ৬৯ শিবপ্রিয়ৈরিত্যনেন বিদ্ধ। ব্ৰত বৈষ্ণবানা মকৰ্তব্যত্বং প্রতিপাদিত মিতিভাবঃ। ইতি দির্শনী। শিবভক্তগণের প্রদোষ ব্যাপিনী শিবরাত্রিই কর্তব্য। অভিজ্ঞেরা বলেন, সন্ধ্যা চারি দণ্ড রাত্রি প্রদোষ কাল । উভয় দিনে চতুর্দশী প্রদোষ ব্যাপিনী হইলে প্রথম দিনে উপবাস হইবে। সেই শিবরাত্রি প্রয়ােদশী বিদ্ধা হইলে বৈষ্ণবের উপােয়া নহে। ইহাই বৈষ্ণব পণ্ডিতগণের মত। “শিবপ্রিয়ৈঃ” এই বাক্য দ্বারা বৈষ্ণবের সম্বন্ধে বিদ্ধ। ব্রতের অকৰ্ত্তব্যত্ব প্রতিপাদিত হইয়াছে। টকাচ দিদর্শনী। অন্যেচ, “মাঘাসিত মিতিবচনং” “শিবরাত্রি ব্রতে ভূত” মিতি বচনঞ্চ পরদিনে প্রদোষব্যাপি-চতুৰ্দশ্যপবাস বিষয়ক মিতি ব্যবস্থাপয়ন্তি তচ্চাসঙ্গত, মাঘেতি, “উপৈতি যােগং যদি পঞ্চদশ্য।” ইত্যাদি বিশেষােক্ত্যা প্রদোষ ব্যাপিনীত্যাদি বিরোধপত্তেঃ । লিখিত ব্যবস্থা যুক্তেতিদি। ইতি দিদর্শনী। আর কেহ কেহ পরদিনে প্রদোষ ব্যাপিনী চতুর্দশীর উপবাস বিষয়ে “মাঘাষিত মিতি” “শিবরাত্রি ব্রতে ভূতমিতি” বচনদ্বয়ের সমর্থন করেন ; উভয় মতই অসঙ্গত কারণ, “মাঘাসিতং ভূত দিনং হি রাজ” ইত্যাদি বচনের “উপৈতিযােগ যদি পঞ্চদশ্যা” এই বিশেষ উক্তির সহিত “প্রদোষ ব্যাপিনী গ্রাহা শিবরাত্রিঃ শিবপ্রিয়ৈঃ।” ইত্যাদি বচনের বিরােধ হয়। •• প্রাদাষাে ইস্ত ময়া দুৰ্দ্ধংঘটীকাদ্বয় মিষতে। ইতি তিথিতত্ত্ব। প্রদোষে রজনীমুখ মিত্যম।
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা (৯ম অধ্যায় শিবরাত্রি ব্রত নির্নয় “উপতি যােগং” এইস্থলে যােগ শব্দের অর্থ “দ্বিমুহূৰ্ত্ত”. পঞ্চদশী দিনে যদি চতুর্দশী দ্বিমুহূর্ত ( চারিদণ্ড) পাওয়া যায়, তবে জয়াযুক্ত শিবরাত্রি কখনও করিবে না। এই বিশেষ উক্তি দ্বারা জয় যােগের নিষিদ্ধত্বে আর ‘‘শিবভক্ত গণের প্রদোষ ব্যাপিনী শিবরাত্রি গ্রহণীয়” এই বচন দ্বারা জয়া যােগের অবাধিতত্ব, যেহেতু জয়া যােগেও প্রদোষ ব্যাপিনী ব্রত হয় এই বিরােধ। মাঘাসিতমিত্যাদি, শিবরাত্রি ব্রতে ভূতমিত্যাদি, বচনদ্বয় সামর্থ্যে নােপােষ্যা বৈষ্ণবৈ বিদ্ধা সাপীতিচসতাং মং। বৈষ্ণবের বিদ্ধোপবাস করিবে না। এই লিখিত ব্যবস্থাই যুক্ত। যদি বৈষ্ণবেরা বিদ্ধোপবাস না করেন, তবে তিথি ক্ষয়ে ব্রতের লােপাপত্তি হয়, তখন কর্তব্য কি? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যাইতেছে । “ইখঞ্চ যদা চতুর্দশীক্ষয়ঃ স্যা ওঁহি বৈষ্ণবানা মপি বিদ্ধোপবাসঃ প্রসজ্যেতৈব। অন্যথা অমাবস্যাসংযােগ ব্যবস্থায় অত্র লােপ প্ৰসঙ্গাং।” ইতি দিদর্শনী। ৭০ যদি চত্তশী ক্ষয় হয়, তবে বৈষ্ণবেরও বিদ্দ্যোপবাসের প্রসক্তি হবেই। তিথিয়ে বিদ্ধা উপবাসই করিবে । বিদ্ধোপবাস স্বীকার না করিলে এইস্থলে “অমাবস্যা সংযুক্ত চত্তৰ্দশী কৰ্ত্তব্য” এই ব্যবস্থার লােপাপত্তি হয়, অতএব তিথি ক্ষয়ে বৈষ্ণবেরও বিদ্ধোপবাস কৰ্ত্তব্য। *প্রদোষ ব্যাপিনী গ্রাহ” এই ব্যবস্থা বৈষ্ণব সঙ্গত নহে। তাহা উপেক্ষণীয়। “অতঃ সাব্যবস্থা বৈষ্ণব সঙ্গতা নস্যা দিত্যুপেক্ষা। এতচ্চাগ্রে জন্মাষ্টমী ব্ৰত নিগ্ন স্নান্তে লেখ্য মেবেতি দিদর্শনী।” ৭০ জন্মাষ্টমী ব্রত নিগ্নয়ে- শিবরাত্রে বিদ্ধাত্যাগ বচনদ্বয়ঞ্চ পূৰ্বদিনে চত্তৰ্দশ্যাঃ প্রদোষাব্যাপ্তাদৌ ইতি। তথাচাগ্রে লেখ্য শ্রবণাদ্বাদশী ব্রত বিষয়িকা বৈষ্ণবেতর স্মাৰ্ত্তসম্মত সৰ্ব্ব। ব্যবস্থা নিরস্তেতি দিক। ইতি দিদর্শনী। ১৫ বি, ১৮০ “পূৰ্বদিনে চতুর্দশী প্রদোয ব্যাপিনী না হইলে শিবরাত্রি ব্রতে ভূতমিত্যাদি। মাঘাসিতমিত্যাদি, বিদ্ধা ত্যাগ বচন দ্বয়ের বিষয়।” অর্থাৎ প্রদোষ ব্যাপিনী হইলে এয়ােদশীযুক্ত, দোষ ব্যাপিনী না হইলে অমাবস্যাযুক্ত শিবরাত্রি করবে। এই ব্যবস্থাও উপেক্ষণীয়। সেইরূপ অগ্ৰেলেখ্য অর্থাৎ বক্ষ্যমাণ ৯ম অধ্যায় ] শিবরাত্রি স্মাৰ্তমতে পারণ নির্ণয় শ্রবণ দ্বাদশী ব্রতবিষয়ক বৈষ্ণবেতর স্মাৰ্ত্তসম্মত শাশক্ত ভেদে উপবাস প্রভৃতি সমস্ত ব্যবস্থা নিরাস করা হইয়াছে। ন কেবলং তত্তপদ্ধতি গ্রন্থ দৃষ্ট্য। লিখিত। কিন্তু সত। মাচরতশ্চেতি। মধ্যদেশীয়ানাং বৈষ্ণবানাং বিদ্ধা বর্জন নিয়মেন প্রায়ঃ পরদিনে ব্রতচারণা। ইতি দিদর্শনী। ১৫ বি ১৮০। কেবল যে বৈষ্ণবস্মৃতি গ্রন্থ দেখিয়া ব্যবস্থা লিখিত হইয়াছে, তাহা নহে, সদ্বৈষ্ণবগণের আচরণ দেখিয়া ও লিখিত হইয়াছে। মধ্যদেশীয় বৈষ্ণবগণের বিদ্ধা বর্জন নিয়মে প্রায় পরদিনই ব্ৰতাচরণ দেখা যায়। এই দিদর্শনীতে প্রায়” শব্দের প্রয়ােগ থাকায় তিথি ক্ষয়ে নৃসিংহ চত্তৰ্দশী রাম নবমী এবং শিবরাত্রি ব্রত সদাচারেও গ্রহণীয়। শ্রীবৈষ্ণব সম্মতৈবা গ্রন্থে ব্যবস্থা লিখ্যতে নতুবৈষ্ণতের স্মৃতিকার পণ্ডিতগণ কল্পিতেতিভাবঃ। ১৫ বি; দিদর্শনী। ১৮০ এই হরিভক্তিবিলাসে বৈষ্ণবর্গ সম্মত ব্যবস্থা লিখিত হইয়াছে, বৈষ্ণবেতর স্মৃতিকার পণ্ডিতগণের কল্পিত ব্যবস্থা লিখিত হয় নাই। শিবরাত্রির সার ব্যবস্থা তিথি বৃদ্ধি হইলে যষ্টি দণ্ডাত্মক দিবসে ব্ৰত হইবে। তিথিল অকর্মণ্য। তিথি বিদ্ধা হইলে রােদশীযুক্ত চতুর্দশী ত্যাগ করিয়া অমাবস্যাযুক্ত চত্তৰ্দশী গ্রহণ করিবে। অমাবস্যাদিনে চত্তৰ্দশী চারিদণ্ডের কম থাকিলে ত্রয়ােদশী বিদ্ধা চতুর্দশী গ্রাহ। চর্দশী ক্ষয় হইলে সেই দিনেই ব্রত হইবে । পারণ অমাবস্যায় হইবে । - স্মাৰ্তমতে পারণ নির্ণয়। স্কন্দ পুরাণে- জন্মাষ্টমী রােহিণী শিবরাত্রি স্তথৈবচ। পূৰ্ববিদ্ধৈব কর্তব্যা তিথি ভান্তেচ পিরণং । সা ত্বস্তময় পৰ্যন্তং ব্যাপিনী চেৎ পরে হহনি। দিবৈব পিরণং কুৰ্যাৎ পারণে নৈব দোষভাক। ৭৭ টীকাচ দিদর্শনী। অন্যথা অমাবস্যা রাত্রি ভােজন প্রাপ্তে রিতিভাব।
১০৪
বৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা
[ ৯ম অধ্যায়
স্মাৰ্তমতে পারণ নির্নয়
এব মুপবাস দ্বমঞ্চ নিরস্তং। অতএব বােক্তং,-
যামত্ৰয়াের্ধ গামিন্যাং প্রাতরেবহি পিরণমিতি দিক। ইত্যষা ৭০।
জন্মাষ্টমী রােহিনী ও শিব রাত্রি পূর্ব বিদ্ধাই কর্তব্য, তিথি ও নক্ষত্রান্তে
পারণ হইবে।
পূৰ্ব বিদ্ধায় উপবাস হইলে পরদিন চতুর্দশী অস্ত সময় পর্যন্ত থাকিলে
দিতেই পারণ করিবে। তাহাতে দোষভাগী হইবে না।
এই কথা স্বীকার না করিলে অমাবস্যা রাত্রিতে ভােজনের প্রাপ্তি হয়।
রােহিণী ব্ৰত ভিন্ন রাত্রিতে পারণ নিষিদ্ধ। অমাবস্যা রাত্রিতেও
ভােজন নিষেধ, এই অবস্থায় দুই উপবাসের প্রসক্তি হয় । এই দোষ।
“সাত্বস্ত ময় পর্যন্তং” ইত্যাদি বচন দ্বারা দিবাতেই পারণ বিহিত হওয়ায়
স্মার্ত মতেও এই প্রকার উপবাসদ্বয় নিরস্ত হইল।
গােম্বামিপাদ দুই উপবাসের ব্যবস্থাই করেন না।
অতএব, তিথি যাময়ের ঊর্ধ্বগামিনী হইলে প্রাতঃকালেই (পূৰ্ব্বাহ্নেই ।
পারণ করিবে।
* ইতি শ্ৰীস্বরূপ দামােদর গােস্বামি ভ্রাতৃবংশােদ্ভব শ্রীকৃষ্ণহরি গােস্বামি
বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ বিরচিতায়াং শ্রীবৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসায়া
এশিবরাত্রি ব্রত নিম্নমােনম নবম অধ্যায়।
শ্রীবৈষ্ণবােপবাস ব্ৰত মীমাংসা সমাপ্তা।
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা
টীকা বঙ্গানুবাদেন চ সহিতা।
শ্রীনন্দকুমার গােস্বামি তত্ত্বনিধিকাব্যতীর্থেন
প্রণীত
তেনৈব পরিশােধিতা চ।
ঐনিখিলানন্দ গােস্বামি কাব্যব্যাকরণতর্কতীর্থেন
প্রকাশিত।
প্রিন্টার শ্রীঅবিনাশচন্দ্র মণ্ডল, সিদ্ধেশ্বর প্রেস, ২২ নং সুকীয়াষ্ট্ৰীট
কলিকাতা।
No text on this page.
ভূমিকা। বহুকাল যাবৎ অষ্টমহাদ্বাদশী, শ্রবণাদ্বাদশী ও প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের উপবাস লইয়া গােযােগ চলিতেছে, কেহ দুই উপবাস, কেহ এক উপস, কেহ পূর্ব দিনে, কেহ পরদিনে উপবাসের ব্যবস্থা দিয়া থাকেন। ইহা দেখিয়া আমি এবং আমার জ্ঞাতি খুল্লতাত কৃষ্ণহরি গােস্বামি বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ মহাশয়, স্মৃতি, ব্যাকরণ, ন্যায় ও বৈষ্ণব শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত আনন্দমােহন গােম্বামি বিদ্যারত্ন মহাশয়ের নিকটে হরিভক্তিবিলাসের উপবাসাদি ব্যবস্থা সকল শিক্ষা করি। উক্ত বিদ্যারত্ন মহাশয় কৃষ্ণহরি গােস্বামীর পিতা। বিদ্যারত্ন মহাশয়ের অভাবের বহুকাল পরে, কৃষ্ণহরি গােম্বামি বিদ্যাবিনােদ কাব্যতীর্থ মহাশয় বৈষ্ণৰােপবাসব্রত মীমাংসা রচনা করেন। আমিও শ্ৰৰণাদ্বাদশীব্ৰত মীমাংসা প্রণয়ন করি এবং বহু স্মাৰ্ত্ত ও বৈষ্ণৰ পণ্ডিতগণের সহিত সমালােচনা করি। এই শ্ৰৰণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা, বৈষ্ণবােপবাসব্রতমীমাংসারই পরিশিষ্ট। ইহাতে হরিভক্তিবিলাসােক্ত শ্রবণাদ্বাদশী প্রকরণের সমস্ত কারিকা টীকা ও ব্যাখ্যার সহিত সন্নিবিষ্ট করা হইয়াছে। বিজয়া, শ্ৰবণৈকাদশী, শ্রবণাদ্বাদশী, প্রথম বিষ্ণু- শৃঙ্খল ও দ্বিতীয় বিষ্ণুশূল, বিচারপূর্বক ইহাতে মীমাংসিত হইয়াছে। বৈষ্ণব মতে শ্রবণাদ্বাদশী হইলে যে, একাদশী ত্যাগ, তাহাও প্রদর্শিত হইয়াছে। পাঠকগণ ইহা পাঠ করিলে শ্রম সার্থক জ্ঞান করিব, এবং উপবাসের গােল- যােগও ঘটিবে না বলিয়া আশা আছে। এই পুস্তকের শেষে গােবর্ধনপূজামীমাংসা এবং রাসষাত্ৰা মীমাংসা দেওয়া গেল। ইতি শ্রীনন্দকুমার শর্মা
No text on this page.
সূচীপত্র। পৃষ্ঠা ০ ০ ০ ৫০ ৩ ॥ ৫ ৪০০ PL ০ ০ ০ ০ ১৭-২১ २8 ৫০০ २8 বিজয়ার লক্ষণ অষ্টমহাদ্বাদশী প্রকৃত বিজয়া ও অতিদিষ্ট বিজয়া বিজয়ার সার্থকতা ও দৃষ্টান্ত শ্রবণাযুক্ত বঙ্গুলী ও দৃষ্টান্ত বিজয়ার ভেদ ও দৃষ্টান্ত শবণাদ্বাদশী ভাদ্রপদের ব্যাবৃত্তি শ্রবণাদ্বাদশীর ভেদ ও দৃষ্টান্ত বিষ্ণুশৃঙ্খল, শ্ৰৰণাদ্বাদশী ও দৃষ্টান্ত শৰণাদ্বাদশীর স্মাৰ্তমতনিরাস ও বিচার গােম্বামি পাদের নিজমত দৃষ্টান্তসহ অতিদেশের দৃষ্টান্ত ও লক্ষণ শ্রবণাদ্বাদশীর অতিদিষ্ট বিজয়া বলিয়া মহাদ্বাদশী স্থাপন শ্ৰৰণাদ্বাদশীর অস্বীকৃত মহাদ্বাদশীর মত অর্থাৎ শ্রবণাকাদশী মহাদ্বাদশী নহে, এই মত খণ্ডন ও দৃষ্টান্ত এৰণৈকাদশী, শ্রবণাদ্বাদশীর সদ্ভাবে শ্রবণযােগহীন একাদশীর উপপাদ্যবিচার ও উপপাদ্য নিরাশ গােবিন্দদ্বাদশীর অতিদিষ্ট পাপনাশিনী মহাদ্বাদশী নিবাস একাদশী ও দ্বাদশীতে শ্রবণাষােগাভাৰ ব্যবস্থা প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল ও দৃষ্টান্ত দ্বিতীয় বিশৃঙ্খল ও পারণ প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পিরণবিচার বিবিধ দোষ স্মৰ্ত্ত ও বৈষ্ণবমতে প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল উপবাসের ঐক্য দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ, বিচার ও সন্দেহ-নিয়াস সারব্যবস্থা গগাবর্দ্ধনপূজামীমাংসা রাসযাত্ৰামীমাংসা ৫০০ ২১-২৪ ৫০ ০২-০৩ ০০ ৪ ৫০০ ৪০-৪ s: ৫৫৭
No text on this page.
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা।
যঃ কলৌ রাধিকাকান্ত্যা পীত শ্চৈতন্যবিগ্রহঃ।
প্রণম্য সচ্চিদানন্দং তং রাধাব্ৰজমােহনম্ ।
কুলদৈবত মস্মাকং বাণীগ্রামনিবাসিনা।
শ্রবণাদ্বাদশীব্ৰত মীমাংসা ক্রিয়তে ময়া।
শ্রীল নন্দকুমারেণ কাব্যতীর্থেন শৰ্ম্মণা।
তত্ত্বনিধিপ্ৰযুক্তেন গােস্বামিবংশজেন বৈ ।
স্মাৰ্ত্ত বৈষ্ণব বিদ্বদ্ভি বিচাৰ্যাত্ৰ পুনঃ পুনঃ ।
ব্যাখ্যায়তে চতুর্বিধং শ্রবণাদ্বাদশীব্ৰতম্।
বিজয়া
শ্রবণাদ্বাদশীর উদ্দেশ করিয়া প্রথমতঃ বিজয়া মহাদ্বাদশীর বন করা
যাইতেছে।
হরিভক্তিবিলাসে ত্রয়ােদশবিলাসে
ব্ৰহ্মপুরাণে বশিষ্ঠ-মান্ধাতৃসংবাদে
বিজয়ার লক্ষণ
যা তু শুক্লদ্বাদাং নক্ষত্রং শ্রবণং ভবেৎ।
বিজয়া সা তিথিঃ প্ৰোক্তা তিথীনা মুত্তমা তিথিঃ ॥ ১৫৬
শুক্লাদ্বাদশীতে যদি শ্রবণা নক্ষত্রের যােগ হয়, তাহা হইলে তাহাকে বিজয়া-
দ্বাদশী বলে। সেই তিথি সমস্ত তিথির মধ্যে উত্তম।
অষ্টমহাদ্বাদশী।
শুক্লাদ্বাদশীতে পুনৰ্ব্বসুযোগে জয়া, শ্রবণাযােগে বিজয়, রােহিণীযােগে জয়ন্তী,
পুয়াযােগে পাপনাশিনী হয়।
২
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা।
অষ্ট মহাদ্বাদশী।
এই চারিটী নক্ষত্রযুক্ত দ্বাদশীতে নক্ষত্র কি ভাবে কত সময় থাকা আবশ্যক,
এখন তাহাই বলা যাইতেছে।
ভাকে দিয় মারভ্য প্রবৃত্তাধিকানি চেৎ।
সমানানি বাহব্যস্ততােহমীষাং ব্রতৌচিতী ।
কিম্বা সূর্যোদয়াৎ পূৰ্ব্বং প্রবৃত্তান্তধিকানি চেৎ।
সমানি বা তদাপ্যেষাং ব্ৰতাচরণযােগ্যতা ॥ ১১৫
পুনৰ্ব্ব, শ্ৰৰণা, পূষা, ও রােহিণী এই চারিটা নক্ষত্র সূর্যোদয়ের সমকালে
আরব্ধ হইয়া অপর সূর্যোদয়ের অধিক, সমান, অথবা উন অর্থাৎ কম হয়, তাহা
হইলে এই সকল ব্রতের ঔচিত্য আছে, অর্থাৎ ব্রত হইবে।
কিম্বা এই সকল নক্ষত্র যদি সূর্যোদয়ের পূৰ্ব্বে প্রবৃত্ত হইয়া অপর সূর্যোদয়ের
সমান বা অধিক হয়, তাহা হইলেও ব্ৰতাচরণের যােগ্যতা আছে, অর্থাৎ ব্রত
হইবে। অপর সুৰ্যোদয়ের কম হইলে হইবে না।
এই সকল নক্ষত্রযুক্ত ব্রতে দ্বাদশী কি ভাবে কতক্ষণ থাকা আবশ্যক, এখন
তাহাই বলা যাইতেছে।
শ্রবণা ব্যতিরিক্তেযু নক্ষত্রেযু খলু ত্ৰিযু।
সূৰ্যাস্তমন পৰ্য্যন্তং কাৰ্যং দ্বাদশপেক্ষণ।
শ্রবণে ত্বত্তমনতঃ প্রাগদ্বাদা সমাপ্ততাং।
গতায় মপি তত্রৈব ব্রতঙ্গোচিততা ভবেৎ।
শ্রবণা ভিন্ন তিন নক্ষত্রে (পুনৰ্ব্বসু, পুষ্যা ও রােহিণীতে) দ্বাদশীর সূৰ্যাস্তমন
কাল পর্যন্ত অপেক্ষা অর্থাৎ সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকা আবশ্যক।
সূর্যাস্তের পর দ্বাদশী থাকুক বা না থাকুক, তাহার কোন অপেক্ষা নাই।
শ্রবণা নক্ষত্রে সূর্যাস্তের পূর্বে দ্বাদশীর পরিসমাপ্তি হইলেও ব্রতের ঔচিত্য
আছে। অর্থাৎ দ্বাদশী দেড় প্রহর বা তাহা হইতে অধিক হইলেও ব্রত হইবে,
দেড় প্রহরের কম হইলে হইবে না ।
* শ্রবণে অন্তৎ প্রাপি সার্ক যামাদুপরি দ্বাদশী সমাপ্তে তহরেবােপবাসঃ।
হাত নৃসিংহ পরিচয্যা।
বিজয়ার সার্থকতা। প্রকৃত বিজয়া ও অতি দিষ্ট বিজয়া। ‘ভাকেদিয়মারভ্য ইত্যাদি লক্ষণবিহিত বিজয়া মহাদ্বাদশীকে লাক্ষণিক বিজয়া, যথােক্ত লক্ষণ বিজয়া ও প্রকৃত বিজয়া বলা হয়। আর শ্রবণা দ্বাদশীকে অতিদিষ্ট বিজয়া বলা হয়। বিজয়ার সার্থকতা। এখন প্রশ্ন হইতেছে,—বিজয়ার সার্থকতা কোথায় ? ১। “দ্বাদশী শ্রবণস্পৃষ্টা শৃশেদেকাদশীং যদা।* ১৪ বি, ২৫৫ ইত্যাদি বচনানুসারে পূর্বদিন বিষ্ণুশৃঙ্খল হইয়া পরদিন শ্রবণ ও দ্বাদশী বর্ধিত হইয়া দিবা কিম্বা রাত্রিতে নিবৃত্ত হইলে বিজয়ার লক্ষণ যায় না। বিষ্ণু শৃঙ্খলে উপবাস শ্রবণাদ্বাদশীতে পারণ হইবে। ২। “শ্রবণক্ষ সমাযুক্তা দ্বাদশী যদি লভ্যতে।” ১৫ বি, ২৫১ ইত্যাদি বচনানুসারে দিবা রাত্রিতে যে কোন সময়ে দ্বাদশীতে শ্রবণ প্রবেশ করিলে শ্রবণাদ্বাদশী হইবে। শ্রবণাদ্বাদশী বলিয়া দ্বাদশীতে উপবাস সিদ্ধ আছে। এইস্থলেও বিজয়ার লক্ষণ প্রবেশ করে না। ৩। পূৰ্বদিন বিষ্ণু শৃঙ্খল হইয়া পরদিন শ্রবণ ও দ্বাদশী উভয়ের অপর সূর্যোদয়ের সমান বা অধিক হইলে “দ্বাদবে বিবর্ধিত নচৈবৈকাদশী যদা।” ১৩ বি, ১০৭ ইত্যাদি বচনানুসারে পরদিন বঙ্গুলী হইবে, বঙুনী দ্বারাই দ্বাদশীতে উপবাস সিদ্ধ আছে। এইস্থলে বিজয় বঙ্গুলীর অন্তৰ্ত্তক্ত। বিজয়ার পৃথক্ সার্থকতা নাই। যদি বল মল ভাদ্রে বিজয়ার স্বার্থকতা থাকিবে। কেবল মল ভাদ্রে থাকা অযুক্ত, কারণ মলভাদ্র মল জগই পরিত্যাজ্য। বিজয়ার স্বার্থকতা বিশুদ্ধ ভাদ্রে অর্থাৎ সৌর ভাদ্রে থাকা চাই। গােস্বামী পাদ বিশুদ্ধ ভাদ্রে বিজয়ার উপদেশ দিয়াছেন, যথা,- ভাদ্রে মাসি বুধম্মাহি যদি স্যাজিয়া ব্ৰতং। তদা সৰ্ব্ব ব্রতেভভ্যাহ মাহাত্ম্য মতিরিচ্যতে । ১৩ বি, ১৬০ কাল বিশেষে চাস্য ফল বিশেষং লিখতি ভাদ্র ইতি। তদানীং বামনদেব প্রাদুর্ভাবৎ। ইতি দিদর্শনী। ১৬০ c) শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংস।। বিজয়ার সার্থকতা। ভাদ্রমাসে বুধবারে যদি বিজয়া ব্ৰত হয়, তাহা হইলে এই ব্রতের মাহাত্ম্য অতিরিক্ত অর্থাৎ অধিক হয়। গােম্বামিপাদ এই কারিকা দ্বারা সময় বিশেষে এই বিজয়া ব্রতের ফলবিশেষ উল্লেখ করিয়াছেন; কারণ সেই সময় বামনদেব প্রাদুত হইয়াছিলেন। বামনদেবের প্রাদুর্ভাব বশতঃই এই বিজয়া ব্রতের উৎকর্ষ কীৰ্ত্তিত ইত্যাদি বাক্য দ্বারা স্পষ্টই বুঝা যাইতেছে, বিশুদ্ধ ভাদ্রেই বিজয়া ব্ৰত হয়। পূৰ্বদিন বিষ্ণু শৃঙ্খল পরদিন দ্বাদশী বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া সূর্যাস্তের পূর্বে নিবৃত্ত হইয়াছে। আর শ্রবণা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া অপর সূর্যোদয়ের সমান বা অধিক হইয়াছে, এইস্থলে বিজয় ব্রত হইবে। বিজয়ার এইস্থলেই স্বাধীনভাবে স্বার্থকতা। বিজয়া ব্ৰত বিষ্ণু শৃঙ্খলের বিঘাতক। প্রকৃত বিজয়াব্রতের পূর্বদিনে বিষ্ণুশৃঙ্খল অবশ্য থাকিবে। বিজয়া ব্রত হইলে বিষ্ণু শৃঙ্খল পরিত্যাগ করিয়া বিজয়াব্রত করিতে হইবে। নচেৎ বিজয়ার বৈৰ্থাপত্তি হয়। বিষ্ণু শৃঙ্খল পরিত্যাজন উদ্দেশ্যেই যে গােস্বামিপাদ “ভাদ্রেমাসি বুধস্যাছি” ইত্যাদি উক্তির প্রয়ােগ করিয়াছেন, তাহাতে সন্দেহ নাই ও থাকিতে পারে না। দৃষ্টান্ত। २७ ২৩ ভাদ্র একাদশী একাদশী দ্বাদশী ও শ্রবণাযােগে ১৭১ পল প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খল হইল। উত্তরাষাঢ়া ২৪ ভাদ্র ৫৭১• পল বিজয়া মহাদ্বাদশী হইল, ২৩ ভাদ্র ২৪ ভাদ্র উপবাস না হইয়া ২৪ ভাদ্র উপবাস শুক্লাদ্বাদশী ১৮|• পল হইবে। শ্রবণ। ২৫ ভাদ্র শ্রবণ ২২ পল অথবা নাই
৫
লক্ষণ ও দৃষ্টান্ত।
বিশুদ্ধ ভাদ্রে, মল ভাদ্রে, সৌর আশ্বিনে-চা ভাদ্রে, বিজয়ার সার্থকতা আছে।
মলভাদ্রে, সৌর আশ্বিনে-চান্দ্রভাদ্রে, শ্রবণাকাদশী অর্থাৎ অতিদিষ্ট বিজয়ার বিষয়
নাই।
লক্ষণ ও দৃষ্টান্ত।
শ্রবণযুক্ত বঙ্গুলী
১। সম্পূর্ন একাদশী বর্জিত না হইলে শুক্লাদ্বাদশী সূর্যোদয়ের সমানকালে
প্রবৃত্ত হইয়া অপর সূর্যোদয়কে স্পর্শ করিলে বা অপর সূর্যোদয়ের অধিক হইলে
আর শ্রবণ সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত হইয়া অপর সূর্যোদয়ের সমান বা
অধিক অথবা কম হইলে বঙুনীই হইবে, বিজয় হইবে না। ইহা শ্রবণযুক্ত
বঙ্গুলী। এক সমানে দুই তিথি বা দুই নক্ষত্র বর্ধিত হইতে বড় দেখা যায়
, তথাপি ধরিয়া লইলাম,
দৃষ্টান্ত
১১ ভাদ্র
একাদশী-
৬০ দণ্ড মল পর দিনে যায় নাই।
উত্তরাষাঢ়া-
• দণ্ড মল পর দিনে যায় নাই।
১২ ভাদ্র
সূর্যোদয়ে প্রবৃত্ত
শুক্কাদ্বাদশী
৬০ দণ্ড
সূর্যোদয়ে প্রবৃত্ত
শ্রবণ।
৬০
১২ ভাদ্র বিজয়া হইল না, শ্রবণযুক্ত বলঞ্জী হইল, বিজয়ার গুলীতে
অন্তর্ব্যাব।
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা
শ্রবণাযুক্ত বঙ্গুলী
২। শুক্লাদ্বাদশী সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত হইয়া অপর সূর্যোদয়ের সমান বা
অধিক হইলে, আর শ্রৰণা সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত হইয়া অপর সূর্যোদয়ের
সমান বা অধিক হইলেও বঙ্গুলীই হইবে, বিজয়া হইবে না। বিজয়ার বজুলীতে
অন্তৰ্টাৰ, ইহা শ্রবণযুক্ত ৰঙুলী। ইহার পূর্ব দিনে বিষ্ণু শৃঙ্খল হয়। বিষ্ণু
শৃখলে উপবাস না হইয়া বঙ্গুলীতে উপবাস হইবে।
১৩ ভাদ্র
একাদশী
৫৮২ পল
১৩ ভাদ্র
একাদশী, দ্বাদশী ও শ্ৰৰণার যােগে
বিষ্ণু শৃঙ্খল হইল।
১৪ ভাদ্র
শ্রবণযুক্ত বঙ্গুলী হইল।
উত্তরাষাঢ়া
৫৪ পল
১৪ ভাদ্র
শুক্লা দ্বাদশী
শ্রবণ
১৫ ভাদ্র
দ্বাদশী
১৫৮ পল
এবণ।
১৫৬ পল
বিজয়ার ভেদ।
১। শুক্লা দ্বাদশী সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত হইয়া সেই রাত্রিতে
ত্রয়ােদশীর সহিত মিলিত হইলে আর শ্রবণ। সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত
হইয়া সম, নুনি বা অধিক হইলে বিজয়া হইবে।
বিজয়ার ভেদ। ৭ দৃষ্টান্ত ৯ ভাদ্র একাদশী • দণ্ড মল পর দিনে নির্গত হয় নাই। উত্তরাষাঢ়া মল পর দিনে নির্গত হয় নাই। ১২ ভাদ্র একাদশী ৬০ দণ্ড মল পরদিনে যায় নাই। উত্তরাষাঢ়া ৬০ দণ্ড মল পর দিনে প্রবেশ করে নাই। ১৩ ভাদ্র শুক্লা দ্বাদশী সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত ৫৮১ পল শ্রবণ সূর্যোদয়ের সমান সময়ে ১০ ভাদ্র শুক্লাঘদশী সূর্যোদয়ের সমান সময়ে ৫১২ পল শ্রবণ। সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত ৬ দণ্ড ১১ ভাদ্র ৫৭৫৮ পল, বিজয়া হইল। দণ্ড হইলে বা পরদিনে শ্রবণ ২১ দণ্ড গেলেও বিজয়া হইবে। শৰণা ১২ পল ১০ ভাদ্র বিজয়া হইল ১০ ভাদ্র রাত্রিতে দ্বাদশীর সহিত এয়ােদশীর ষােগ হইয়াছে। ১৫ ভাদ্র বিজয়। মহাদ্বাদশী হইল। একাদশীতে উপবাস না হইয়া বিজয়াতে উপবাস হইবে। ২। শুক্লা দ্বাদশী সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত হইয়া সেই রাত্রিতে ত্রয়ােদশীর সহিত মিলিত হইলে, আর শ্রবণ সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত হইয়া অপর সূর্যোদয়ের সমান বা অধিক হইলে বিজয়া হইবে, কম হইলে হইবে না।
৮ শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা। বিজয়ার ভেদ দৃষ্টান্ত ১৫ ভাদ্র একাদশ ১৮ ভাদ্র একাদশী ৬০ দণ্ড মল পর দিনে নির্গত হয় নাই। মল পরদিনে নির্গত হয় নাই। উত্তরাষাঢ়া উত্তরাষাঢ়া ৫৭৮ পল ৫৭১, পল ১৬ ভাদ্র শুক্লাদশী সূর্যোদয়ের সমান সময়ে ১৯ ভাদ্র শুক্লাদ্বাদশী সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত ৫৭৫• পল শ্রবণ- ৬০ দণ্ড মল পরদিনে প্রবেশ করে নাই; বিজয়া হইল। ৫৭২ পল এবণ সূর্যোদয়ের পুর্বে প্রবৃত্ত ৬• দণ্ড অথবা পরদিন ২১ দণ্ড বৃদ্ধি হইলেও বিজয়া হইবে। ১৭ ভাদ্র শ্রবণ ১৬ ভাদ্র দ্বাদশীর সহিত ২১ পল ত্রয়ােদশীর রাত্রিতে যােগ হইয়াছে। ১৬ ভাদ্র বিজয়া হইল। একাদশীতে উপবাস না হইয়া বিজয়াতে উপবাস হইবে। ৩। শুক্লাদ্বাদশী সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত হইয়া দেড় প্রহর বা অধিক হইলে, আর শ্ৰৰণা সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত হইয়া সম নুন বা অধিক হইলে ৰিজয়া হইবে। দ্বাদশী দেড় প্রহরের কম হইলে বিজয়া হইবে না।
বিজয়ার ভেদ দৃষ্টান্ত ১৯ ভাদ্র একাদশী ২২ ভাদ্র একাদশী ১৫।২ পল ১৪৪ পল উত্তরাষাঢ়া উত্তরাষাঢ়া ৬০ দণ্ড ৬০ দণ্ড পরদিনে মল যায় নাই মল পরদিনে যায় নাই। ২• ভাদ্র শুক্লাদ্বাদশী ২৩ ভাদ্র শুক্লাদ্বাদশী ১২৫৮ পল ১৩৪ পল শ্রবণ। শ্রবণ। সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত ৫৯ দণ্ড বা পরদিন ২১ সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত ৫৮৫৬ পল দণ্ড গেলেও বিজয়া ২৩ভাদ্র বিজয়া হইল। হইবে। ২১ ভাদ্র শ্রবণ। ১২ পল ২০ ভাদ্র বিজয়া হইল। একাদশীতে উপবাস না হইয়া বিজয়াতে হইবে। ৪। শুক্লাদ্বাদশী সূর্যোদয়ের পুৰ্ব্বে প্রবৃত্ত হইয়া দেড়প্রহর বা অধিক থাকিলে আর শ্রবণা সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবৃত্ত হইয়া অপর সূর্যোদয়ের সমান বা অধিক হইলে বিজয়া হইবে। কম হইলে হইবে না। দ্বাদশীও দেড় প্রহরের কম হইলে বিজয়া হইবে না। ২ ১০ শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা। বিজয়ার ভেদ দৃষ্টান্ত ১৮ ভাজ একাদশী ২১ ভাদ্র একাদশী ১৬। ২ পল ১৩। ৫৮ পল উত্তরাষাঢ়া উত্তরাষাঢ়া ৫৮। ৪ পল ৫৭।১• পল ৯ ভাদ্র ২২ ভাদ্র শুকাদ্বাদশী শুক্লাদ্বাদশী ১৩৫৮ পল ১২২ পল শ্রবণা শ্রবণ। ৬০ দণ্ড ষাইট দণ্ড হইলে বা অধিক হইলেও বিজয়া ৬০ দণ্ড মল পয়দিনে নির্গত হয় নাই। বিজয়া হইল। হইবে। ২• ভাদ্র শ্রবণ ১। পল ১৮ ভাদ্র একাদশী দ্বাদশীও শ্রবণার যোগে বিষ্ণুশৃঙ্খল হইল। ১৯ ভাদ্র বিজয় মহাদ্বাদশী হইল। বিজয়া মহাদ্বাদশী হইলে পূৰ্বদিন বিষ্ণুশৃঙ্খল থাকিবে, বিষ্ণুশৃঙ্খলে উপবাস না হইয়া বিজয়ায় উপবাস হইবে। শ্রবণাদ্বাদশী ত্রয়ােদশ বিলাসের অন্তে- অহেপি দ্বাদশীভেদা বহবঃ সন্তি বিক্ষতা। অগ্রভােগ লেখনীয় স্তে তত্তল্মস প্রসঙ্গতঃ ॥ ১৭৯ অষ্ট মহাদ্বাদশীর কথা লিখিত হইল। অপর বহু প্রকার দ্বাদশীর ভেদ পূরাণে প্রসিদ্ধ আছ, তাহা সেই সেই মাস প্রসঙ্গে আগে লিখিত হইবে।
শ্রবণাদ্বাদশী
১১
পক্ষকৃত্যে যে বিজয়া মহাদ্বাদশীর কথা বলা হইয়াছে, মাস কৃত্যে তাহারই
ভেদ প্রদর্শিত হইয়াছে মাত্র।
তথাহি গ্রন্থ কৃতাংকারিকা
ভাদ্রে মাসি বুধাছি যদি দ্বিজয়া ব্রতং।
তদা সর্ব ব্ৰতেভ্যো হস্য মাহাত্ম মতিরিচ্যতে । ১৩ ৰি, ১৬০
কালবিশেষে চাস্য ফল বিশেষং লিখিত ভাদ্রে ইতি। তদানীং বামনদেব
প্রাদুর্ভাবৎ। ইতি দিগদর্শনী। ১৬০
ভাদ্র মাসে বুধবারে যদি বিজয়া ব্ৰত হয়, তাহা হইলে এই ব্রতের মাহাত্ম্য
অতিরিক্ত অর্থাৎ অধিক হয়।
গােস্বামি পাদ এই কারিকাদ্বারা সময় বিশেষে এই বিজয় ব্রতের
ফল বিশেষ উল্লেখ করিয়াছেন। কারণ সেই সময় বামনদেব প্রাদু ত হইয়া-
ছিলেন। বামনদেবের প্রাদুর্ভাব বশতঃই এই বিজয় ব্রতের উৎকর্ষ সাধিত
হইয়াছে।
ইত্যাদি বাক্য দ্বারা স্পষ্টই বুঝা যাইতেছে, পক্ষ কৃত্যের বিজয়া মহা-
দ্বাদশী আর মাস কৃত্যের শ্রবণাদ্বাদশী একই পদার্থ।
প্রকারভেদে ইহাই যথোক্ত লক্ষণ বিজয়া মহাদ্বাদশীর ভেদ ।
প্রদর্শিত হইতেছে।
শ্রবণাদ্বাদশী চারি প্রকার,-শ্রবণাদ্বাদশী, শ্ৰবণৈকাদশী, প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খল,
দ্বিতীয় বিষ্ণু শৃঙ্খল। এই সকল দ্বাদশী অতিদিষ্ট বিজয়া।
পঞ্চদশ বিলাসে।
মার্কণ্ডেয়ঃ ।
শ্রবণক্ষ সমাযুক্ত দ্বাদশী যদি লভ্যতে।
উপােস্যা দ্বাদশী তত্র এয়ােদা স্তু পিরণং ২৫৬
যদি শ্রবণা নক্ষত্রযুক্ত দ্বাদশী লাভ হয়, তবে বাদশীতে উপবাস, ত্রয়ােদশীতে
পারণ করিবে।
এয়ােদশীতে পারণের বিধান থাকায় শৰণাদ্বাদশীতে দ্বাদশীর ক্ষয়ই লক্ষিত
হইতেছে।
এখন তাহাই
১২
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা।
শ্রবণাদ্বাদশী
যমন্ট
যদাতু শুক্লদ্বাদাং নক্ষত্রং শ্রবণং ভবেৎ।
তদা সৌভু মহাপুণ্যা দ্বাদশী বিজয়া স্মৃতা। ২৫১
যখন শুক্লাদ্বাদশীতে শ্রবণানক্ষত্র হয়, তখন এই দ্বাদশী মহাপুণ্যদায়িনী হয়।
তাহাকে বিজয়া দ্বাদশী বলে।
স্কান্দে
মাসি ভাদ্রপদে শুক্লা দ্বাদশী শ্রবণান্বিতা।
মহতী দ্বাদশী জ্ঞেয়া উপবাসে মহাকলা ॥ ২৪৫
ভাদ্র মাসের শুক্লা দ্বাদশী শ্রবণযুক্ত হইলে মহাদ্বাদশী নামে অভিহিত হয়।
উপবাসে মহৎ ফল লাভ হইয়া থাকে।
শ্রবণাদ্বাদশীর বাচনিক বিজয়ত্ব ও মহাদ্বাদশীত্ব লাভ হইতেছে।
ব্রহ্মবৈবর্তে পিতাপুত্ৰ সংবাদে
মাসি ভাদ্রপদে শুক্লপক্ষে যদি হরেদিনে।
বুধবণ সংযােগ প্রাপ্যতে তত্র পূজিত ।
প্রচ্ছতি শুভান্ কামা বামনন মনসি স্থিতা।
বিজয়া নাম সা প্ৰােক্তা তিথিঃ প্রীতিকরী হরেঃ। ২৪
ভাদ্রমাসে শুক্লপক্ষে হরিদিন অর্থাৎ দ্বাদশীতে বুধ এবং শ্রবণার সংযােগ পাইলে
তাহাতে যদি বামন পূজিত হন, তবে মনঃ কল্পিত শুভকামনা সকল প্রদান
করেন, এই তিথি হরির অতিশয় প্রীতিকরী। এই তিথি বিজয়া নামে অভি
হিত।
উভয় বচনের ভাদ্র পদে সৌর ভাদ্র বুঝিতে হইবে।
মাসিভাদ্রপদে শুক্লাদ্বাদশী শ্রবণান্বিতা।
ইত্যাদি বচনে,
মাসি ভাদ্র পদে শুক্লপক্ষে যদি হরে দিনে।
ইত্যাদি বচনে
শ্রবণাদ্বাদশী। “ত্র পদের উপাদান থাকায় সৌর আশ্বিন মাসে-চান্দ্রভাদ্রে এবং মলভাদ্রে শ্রবণাদ্বাদশী ব্রত অর্থাৎ অতিদিষ্ট বিজয়া হইবে না। একাদশীতেই উপবাস হইবে। সৌরভাদ্রেই শ্রবণা দ্বাদশী অর্থাৎ অতিদিষ্ট বিজয়ী হয়। কেহ কেহ ভাদ্রপদের ব্যাবৃত্তি স্থল মলভাদ্র কহেন, তাহা ঠিক নহে, কারণ মলভাদ্র মল বলিয়া ত্যাজ্য, কর্মের অযােগ্য সৌর আশ্বিন-চান্দ্রভাদ্র ভাদ্রপদের ব্যাবৃত্তি স্থল। মল ভাদ্রে এবং আশ্বিনমাসে চান্দ্রভাদ্রে লাক্ষণিক বিজয়া এবং বিষ্ণু শৃঙ্খল হইতে পারে। লাক্ষণিক বিজয়া হইলে একাদশী ত্যাগ করিয়া বিজয়া মহাদ্বাদশীতে উপবাস হইবে, আর লাক্ষণিক বিজয়া না হইয়া কেবল বিষ্ণু শৃঙ্খল হইলে বিষ্ণু শৃঙ্খলেই উপবাস হইবে। বিজয়ার পূর্বদিন বিষ্ণু শৃঙ্খল থাকিবে। শ্রাবণমাস মল হইলে, আশ্বিন মাসের প্রথমভাগে শুক্লাদ্বাদশীর সহিত শ্রবণার যােগ হইতে পারে। আর ভাদ্র মাস মল হইলে আশ্বিনমাসের শেষভাগে শুক্লা দ্বাদশীর সহিত শ্রবণার যোগ হইতে পারে। সন ১৩৩৫ সালের ৯ই আশ্বিন মঙ্গলবার শুক্লা দ্বাদশীর সহিত শ্রবণার যােগ হইয়াছে। সৌরভাদ্রের পূর্মিমতে ভাদ্রপদ নক্ষত্রের যােগে চান্দ্রভাদ্র আরম্ভ হয়। তাহার পূর্ব শুক্লাদ্বাদশীতে শ্রবণার যোগ হইলেই শ্রবণাদ্বাদশী হয়। ভাদ্র- মাস ভিন্ন শুক্লাদ্বাদশীতে শ্রবণার যােগ সম্ভব না। শৰণাদ্বাদশী চারিরূপে হইতে পারে। শেষােক্তটী বিষ্ণু শৃঙ্খণে যুক্ত। ১। সূর্যোদয়ের সমানকালে দ্বাদশী প্রবৃত্ত হইয়া সেই রাত্রিতে ত্রয়ােদশীর সহিত মিলিত হইলে, পরে শ্রবণা একাদশী দিনে প্রবৃত্ত হইয়া দ্বাদশী দিনে দ্বাদশীর সহিত মিলিত হইয়া দিবা কিম্বা রাত্রিতে নিবৃত্ত হইলে শ্রবণাদ্ব।শী হইবে। এই এক প্রকার।
১৪ শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা। শ্রবণাদ্বাদশী দৃষ্টান্ত २४पय একাদশী ২২নে ভাজ একাদশী ৩০ দণ্ড পরদিনে মল নির্গত হয় নাই। উত্তরাষাঢ় পরদিনে মল নির্গত হয় নাই। উত্তরাষাঢ়া ২৫াগল ২৩শে ভাদ্র ওনাদাশী সূর্যোদয়ের সমকালে প্রবৃত্ত ১৫শে ভাদ্র শুকাদ্বাদশী সূর্যোদয়ের সমকালে প্রবৃত্ত ৫৮৪ পল ৫৯২ পল এবণ। ২৫৫২ পল এবণ দিবাতে নিবৃত্ত হইয়াছে, ২৩ ভাদ্র এৰা- দ্বাদশী হইল। রাত্রিতে দ্বাদশীর সহিত ত্রয়ােদশীর যােগ হইয়াছে। ৫৬৪ পল শ্রবণা রাত্রিতে নিবৃত্ত হইয়াছে। ২৫ভাদ্র কণা কাদশী হইল। রাত্রিতে দ্বাদশীর সহিত ত্রয়ােদশীর যােগ হইয়াছে। ২। দ্বাদশী দিনে দ্বাদশী দেড় প্রহরের কম থাকিলে, শ্রবণ সূর্যোদয়ের সমান সময়ে প্রবৃত্ত হইয়া সম, নান বা অধিক হইলে এবণা দ্বাদশা হইবে। লাক্ষণিক বিজয়। হইবে না। এই অপর প্রকার।
এবােধাদশী দুষ্টান্ত। ১৯ ভাজ ২১ ভাদ্র একাদশী ১|১০ পল একাদশী ১১. পল উত্তরাষাঢ়া মল পর দিনে প্রবেশ উত্তরাষাঢ়া '৬০ দণ্ড মল পর দিনে যায় নাই করে নাই। ২২ ভাদ্র २.य শুক্লাদ্বাদশী ১১| পল ১৫. পল শ্রবণা শ্রবণ সূর্যোদয়ের সম কালে প্রবৃত্ত সূর্যোদয়ের সমকালে প্রবৃত্ত ৫৯৫৬ পল २२ लाख ২১ ভাদ্র শ্রবণা দ্বাদশী হইল, লাক্ষণিক শ্রবণা বিজয়া দ্বাদশী হই না। ভাদ্রের শুক্লাদ্বাদশী ৪৮১০ ২১ পল ২ ভাদ্র এৰণা বাদশা হইল বা ১১১৫৯ পল হইলে এৰণা লাক্ষণিক বিজয়া দ্বাদশী হইল সূর্যোদয়ের সম কালে প্রবৃত্ত । হইয়া ৫৯,৬০ অথবা ৬ দণ্ড হইয়া পর দিনে ২১ দণ্ড নির্গত হইলেও শ্রবণাদ্বাদশী হইবে। প্রকৃত বিজয়। হইবে না। একাদশী দিনে দ্বাদশী উত্তরাষাঢ়ার সহিত মিলিত হইয়া পর দিনে (দ্বাদশী দিনে) নির্গত হইলে এবং ঐ দিনে দ্বাদশী এমােদশীর সহিত মিলিত হইলে শ্রবণা নক্ষত্র দিতেই হউক কিম্বা রাত্রিতেই হউক, যে কোন সময়ে দ্বাদশীকে স্পর্শ করিলে শ্রবণা দ্বাদশী হইবে, অর্থাৎ উত্তরাষাঢ়া যুক্ত দ্বাদশীতে যে কোন সময়ে এবাের যােগ হইলেই শ্রবণ দ্বাদশী হয়। এই অন্য প্রকার শ্রবণা দ্বাদশী এইরূপ প্রায় হইয়া থাকে।
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা শ্রবণাদ্বাদশী কচিদিতি। রাাদৌ কস্মিংশ্চিৎ সময়েহপীত্যর্থ। ইতি দিগদর্শনী। ১৫৩ দিদর্শনীর এই লেখা দ্বারা স্পষ্টই বুঝা যাইতেছে, উত্তরাষাঢ়া যুক দ্বাদশীতে যে কোন সময়ে শ্রবণার যােগ হইলেই শ্রবণ দ্বাদশী হইবে । দৃষ্টান্ত। ১৭ ভাদ্র ১৯ ভাদ্র শুক্লাদ্বাদশী শুক্লাদ্বাদশী ২৫২ পল ৪৫|১৭ পল উত্তরাষাঢ়া উত্তরাষাঢ়া ১৫|১৮ পল ৩৬|১২ পল দ্বাদশীর সহিত দিবাতে শ্রবণার রাত্রিতে দ্বাদশীর সহিত শ্রবণার যোগ। শ্রবণা দ্বাদশী হইল। যােগ। শ্রবণ দ্বাদশী হইল। এই অন্য রূপ- ৪। বিষ্ণু শৃঙ্খল ও শ্রবণ দ্বাদশী। শুক্লাদ্বাদশী দিনে দ্বাদশী দেড় প্রহরের কম থাকিলে আর শ্রবণা সূর্যোদয়ের পূৰ্বে প্রবৃত্ত হইয়া অপর সূর্যোদয়ের কম হইলে পূৰ্ব দিন বিষ্ণু শৃঙ্খল ও পর দিন শ্রবণা দ্বাদশী হইবে। বিষ্ণু শৃঙ্খলে উপবাস, শ্রবণাদ্বাদশীতে পারণ হইবে। দৃষ্টান্ত। ২৬ ভাদ্র ২৬ ভাদ্র বিষ্ণু শৃঙ্খল। ২৭ ভাদ্র একাদশী শ্রবণা দ্বাদশী; এই স্থলে বিষ্ণু শৃঙ্খলের ১। পল প্রাধান্ত। বিষ্ণু শৃঙ্খলে উপবাস, শ্রবণ। উত্তরাষাঢ়। দ্বাদশীতে পারণ হইবে। २१ দ্বাদশী ১১৫ পল শ্রবণ। ৫৬ • পল
শ্রবণাদ্বাদশী।
১৭
?
শ্রবণা দ্বাদশী হইলে দুই উপবাস কি? এক উপবাস ? এই অভিপ্রায়
অবলম্বনে স্মাৰ্তমত নিরাস করা যাইতেছে, স্মাৰ্তমতে একাদশী নিত্য এবং শ্রবণা
দ্বাদশী কাম্য বলিয়া শক্তাশক্ত ভেদ করা হইয়াছে। যথা,
একাদশ্য। বিশুদ্ধত্ব দ্বাদা ন্তু পরে হহনি।
শ্রবণে সতি শক্ত ব্ৰতযুগ্মং বিধীয়তে। ২৫২
কিঞ্চ।
অসমাপ্তে ব্রতে পূৰ্ব্বে নৈৰ কুৰ্য্যাদ ব্ৰতান্তরং।
ইত্যাদি বচনস্তাত্র বাধকত্বং ন বিদ্যতে। ২৫২
তথাহি ভবিষ্য পুরাণে
একাদশী মুপােয্যব দ্বাদশীং সমুপােষয়েৎ।
ন চাত্র বিধি-লােপঃ শ্যা দুভয়ে দেবতা হরিঃ। ইতি ॥ ২৫২
পুৰ্বদিনে বিশুদ্ধ একাদশী হইয়া পরদিনে শ্রবণা দ্বাদশী হইলে, শক্ত ব্যক্তি দুই
উপবাস করিবে। এখন প্রশ্ন হইতেছে,
পারণান্তং তং জ্ঞেয়ং তাতে দ্বিজভােজনং।
অসমাপ্তে ব্রতে পূৰ্বে নৈব কুৰ্য্যা দূতান্তরং | ২৫২
ইতি বিষ্ণু ধর্মোত্তরং।
“পারণার শেষ পর্যন্ত ব্রত, ব্ৰতান্তে ব্রাহ্মণ ভােজন। পূৰ্ব্বব্রত সমাপ্ত না
হইলে অণ্ঠ ব্রত করিবেই না।”
ইত্যাদি বচনের এইস্থলে বাধকতা নাই। কারণ ভবিষষ্যাত্তরে বলা হইয়াছে,
"একাদশীর উপবাস করিয়াই দ্বাদশীর উপবাস করিবে। ইহাতে বিধিলােপ
হইবে না; যেহেতু একাদশী ও দ্বাদশী উভয়ের দেবতাই হরি।
অশক্ত স্তু ব্ৰতদ্বন্দ্বে ভুক্তে বৈকাদশী দিনে।
উপবাসং বুধঃ কুৰ্য্যা হ্বণ দ্বাদশী দিনে।
তথাচ নারদীয়ে।
উপােষ্য দ্বাদশং পুণ্যাং বিষ্ণুঋক্ষেণ সংযুতাং।
একাদ্যদ্ভব পুণ্যং নর পাগােত্য সংশয়ং।
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা । শ্রবণাদ্বাদশী। বাজপেয়ে তথা যজ্ঞে কর্মহীনােহপি দীক্ষিতঃ। সৰ্ব্বং ফল মবাপ্নোতি অমাতােহপ্যহুতােহপি সন্। এব মেকাদশীং ত্যক্তা দ্বাদস্তাং সমুপােষণাৎ। পূৰ্ববাসরজং পুণ্যং সৰ্ব্বং প্রাণােত্য সংশয়ং। ইতি। ২৫২ দুই উপবাস উপস্থিত হইলে বিজ্ঞ অশক্ত ব্যক্তি একাদশী দিনে ভােজন করিবে, আর শ্রৰণা দ্বাণী দিনে উপৰাস করিবে। নারদীয়ে ইহার প্রমাণ রহিয়াছে, যথা- শ্রবণা নক্ষত্রযুক্ত পুণ্যময়ী দ্বাদশীতে উপবাস করিলে মানব একাদশীর উপবাস জনিত পুণ্য লাভ করে, ইহাতে সংশয় নাই। যেমন বাজপেয় যজ্ঞে কর্মহীন ব্যক্তিও দীক্ষিত হইলে অােতই হউক, আহুতই হউক, সমস্ত ফল প্রাপ্ত হয়, এই প্রকার একাদশী ত্যাগ করিয়া দ্বাদশীতে উপবাস করিলে একাদশীর উপবাস জনিত সমস্ত পুণ্য লাভ করে, ইহাতে সংশয় নাই। == গােদামিপাদ এই স্বাৰ্তমতে দোষ দেখাইতেছেন, “টীকাচ দিদর্শনী। কেচিচ্চেদ মুপবাসদ্বয়ে প্রাপ্তে সতসমর্থ বিষয়ক মিতি ব্যবস্থাপয়ন্তি। তদযুক্তং, বৈষ্ণবানাং দ্বাদশ্যাং শ্রবণযােগে মহাদ্বাদশীতেন তত্ৰোপসাৎ, তথা নারদীয় বচনেত্র শাশক্ত বিশেষ পরিত্যাগেন নর ইতি সামান্য নির্দেশাচ্চ। ইত্যেষা। ২৫২ কেহ কেহ দুই উপবাসের (একাদশী ও শ্রবণা দ্বাদশীর) প্রাপ্তিতে এই প্রবণা- দ্বাদশী অসমর্থ বিষয়ক, এইরূপ ব্যবস্থা করেন, তাহার প্রমাণ জন্য তিনটী নারদীয় বচনের (উপোষ্যেত্যাদি) নির্দেশ করিয়াছেন। এই অসমর্থবিষয়ক ব্যবস্থা অযুক্ত, তাহার এক কারণ, বৈষ্ণবের সম্বন্ধে দ্বাদশীতে শ্ৰৰণার যােগ হইলে মহাদ্বাদশী হয় বলিয়া তাহাতে (শ্রবণা দ্বাদশীতে) উপবাস হয়। অন্য কারণ, নারদীয় বচন সকলে শক্ত ও অশক্ত নর’ এইরূপ বিশেষ উল্লেখ নাই, অথচ “নর প্রশ্নোত্য সংশয়ং” এইস্থলে “র” এইরূপ সামান্য নির্দেশ রহিয়াছে। যদি বল- শাশক্ত বিশেষ পরিত্যাগেন নর ইতি সামান্য নির্দেশাচ্চ।”
শ্রবণাদ্বাদশী। . এই হেতু, অব্যভিচারী হইতেছে না, শাশক্ত বিশেষ পরিত্যাগ হয় নাই, স্বয়েতে বৃত্তি থাকিয়া স্বয়ের ইতরেও বৃত্তি রহিয়াছে । অর্থাৎ শক্তেও বৃত্তি আছে অশক্তেও বৃত্তি আছে। তাহা প্রদর্শিত হইতেছে, বাজপেয়ে তথা যজ্ঞে, কর্মহীনােহপি দীক্ষিত। সৰ্ব্বং ফল মবাপ্নোতি অমাতােহপ্যহুতােহপি সন্। এব মেকাদশীং ত্যক্তা দ্বাদশ্যাং সমুপােষণাৎ। পূৰ্ববাসরজং পুণ্যং সৰ্ব্বং প্রগােত্যসংশয়ং। ইত্যাদি নারদীয় বচনে- “কর্মহীনােহপি”, “অতােহপি “অহুতােহপি” এই অপি শ সমুচ্চয়ার্থে প্রযুক্ত হইয়াছে। ন কেবলং কর্মহীনােহপি অপিতু সকৰ্ম্মাপি। ন কেবলং অম্লতােহপি অপিতু তােহপি। নকেৰলং অহুতােহপি অপিতু তােহপি। এই অর্থ পাওয়া যাইতেছে। এখন অর্থ হইতেছে,-বাজপেয় যজ্ঞে দীক্ষিত ব্যক্তি সকৰ্মাই হউক বা কৰ্ম্ম- হীনই হউক, স্নাতই হউক বা অম্লতই হউক, হুতই হউক বা অহুতই হউক, যেমন সমস্ত কর্মফল লাভ করে। এইপ্রকার একাদশী ত্যাগ করিয়া দ্বাদশীতে উপবাস করিলে একাদশীর উপ- বাসজনিত সমুদয় পুণ্যফল প্রাপ্ত হয়। “ৰজপেয়ে তথাযজ্ঞে” ইত্যাদি বচন দ্বারা যে দৃষ্টান্ত দেওয়া হইয়াছে, সেই দৃষ্টান্তের “অপি” শষ দৃষ্টে- একাদশুদ্ভবং পুণ্যং নরঃ প্রাপ্নোত্য সংশং। ইত্যাদিস্থলে “নর” পদে শক্তাক্তনর কল্পনা করা যায়, সুতরাং “শাশক্ত বিশেষ পরিত্যাগেন নর ইতি সামান্থনির্দেশাচ্চ। এই হেতু ব্যভিচারী হইতেছে। আপাততঃ ব্যভিচার দেখা যায় সত্য, বস্তু- গত্যা ব্যভিচারী হইতেছে না। কারণ, যদুত্তর শায়মাণঃ অপিশষ সতদ্বিরুদ্ধার্থ মেব প্রতিপাদায়তি। * আবৃত্তিত্বে সতি তের ব্যক্তিত্বং ব্যভিচারিং।
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা।
শ্রবণাদ্বাদশী।
যাহার পর অপি শব্দ শ্রুত হওয়া যায়, সে তাহার বিরুদ্ধার্থই প্রতিপাদন
করে। এইরূপ স্থায় আছে।
বাজপেয়ে তথষজ্ঞে কর্মহীনােহপি দীক্ষিত।
সৰ্ব্বং ফল মবাপ্লেতি অতত হপ্যহুতােহপি সন্।
এইস্থলে “অপি” শব্দ দ্বারা “কর্মহীনােহপি, সকপি, অস্নাতােহপি, স্নাতো-
ইপি, অনুতােহপি হুতােহপি” এই বিরুদ্ধার্থ প্রতিপাদিত হইল। এই দৃষ্টান্তের
অপি শৰ “নর প্রাপ্লেতি* এই “নরঃ* পদকে সম্বন্ধ করিতেছে না। সুতরাং
“শা শাক্ত বিশেষ পরিত্যাগেন নর ইতি সামান্থনির্দেশাচ।” এই হেতু
ব্যভিচারী হইতেছে না।
স্বয়ে বৃত্তি থাকিয়া স্বয়ের ইতরে বৃত্তি না থাকিলে অব্যভিচারী হয়। শক্ত।
শক্ত বিশেষ পরিত্যাগে বৃত্তি আছে, শক্ত বা অশক্ত বিশেষে বৃত্তি নাই অব্যভিচারী
হইল।
“সৰ্ব্বং ফল মবাপ্পেতি অকাতাে হপ্যহুতােহপি সন্।”
এই দৃষ্টান্ত
“পূর্ববাসরজং পুণ্যং সৰ্ব্বং প্রাণােত্যসংশয়ং।”
ইহার সহিত।
“ফলং প্রাগ্নেতির” দৃষ্টান্ত, “পুণ্যং প্রাগ্নেতির” সঙ্গে।
“বৈষ্ণবানাং দ্বাদশ্যাং শ্রবণযােগে মহাদ্বাদশীত্বেন তত্রোপবাসাৎ।”
তথা নারদীয় বচনেত্র শাশক্ত বিশেষ পরিত্যাগেন নর ইতি সামান্য
নির্দেশাচ্চ।
এই দুইটা হেতু দ্বারাই শক্ত শক্ত ব্যবস্থা নিরাস করা হইয়াছে।
আর পারণ বিচারে
‘পিরণাহেতু দ্বাদশ্যা” ইত্যাদি, ২৫৭ অঞ্চত,
“ন চাত্র বিধিলোপঃ জাদিত্যাদি, ২৫৮ অঞ্চত,
* বৃত্তিত্বে সতি তেরাবৃত্তিবমব্যভিচারিত্ব
শ্রবণাদ্বাদশী।
৫১
দ্বাদশ্যামপবাসােহ” ইত্যাদি, ২৫৯ অধৃত,
“বিষ্ণু শৃঙ্খলকেপিস্যা”দিত্যাদি, ২৬ অঙ্কধত,
কারিকাগুলির সহিত আপাতত
কেচিচেঁদ মুপবাস দ্বয়ে প্রাপ্তে” ইত্যাদি, ২৫২ অধৃত,
দিগশনীব বিবােধ দেখা যায় বটে, কিন্তু বস্তুগত্যা বিবােধ যে হয় না, তাহা
পারণ বিচার কারিকাগুলির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে প্রদর্শিত হইবে।
এখন জিজ্ঞাস্য এই-শ্রবণাদ্বাদশী যথােক্ত লক্ষণ অর্থাৎ ভান্যদেয়মাবভ্য”
ইত্যাদি লক্ষণ বিহিত বিজ মহাদ্বাদশী হইতেছে না, সেই লক্ষণের বিষয় তাহাতে
যাইতেছে না, এবং তাহার নিত্যতাও নাই,তবে শ্রবণা দশী প্রকরণে,
বৈষবানা, দ্বাদগাং শব ষােগে মহাদ্বাদশীতেন তত্রোপবাস:ৎ।
এই হেতুর সঙ্গতি হয় কিরূপে? যেহেতু শ্রবণাদ্বাদশী মহাদশী হইতে
পারিতেছে না *। ইত্যাদি আক্ষ নিবারণাৰ্থ গােম্বামিপদ নিজম স্থাপন
করিতেছেন। যথা-
অল্লোহপি অনযো যোগে ভবে ভিভিয়াে যদি।
উপাদেয়ঃ স এব স্কাদিত্যত্রোপবসে দুধ। ২৫২
যদি তিথিও নক্ষত্র অর্থাৎ দ্বাদশী ও শ্রবণাব যােগ অল্পও হয়, তবে সেই
উপাদেয় অর্থাৎ উপবাসযােগ্য, ইহাতেই উপবাস করিবে।
এব শব্দের অনুযােগ ব্যবচ্ছেদকতাহেতু ‘এব’ শব্দ এইস্থল একাদশীর ব্যাবৰ্ত্তক
হইল।
এই ব্যবস্থার প্রমাণ, যথা-
তথা শ্রবণাদ্বাদশীং প্রকৃত্য তত্রৈবােক্তং
তিথিনক্ষয় র্যোগো যদা চৈব নবাধিপ!।
দ্বিকলাে যদি লভ্যেত সজ্ঞেযযা হষ্টমিকঃ ॥ ২৫২
শ্রবণা দ্বাদশী প্রস্তাবে নারদীয়ে উক্ত হইয়াছে,“হে নবাধিপ! যে কোন
সময়ে তিথি নক্ষত্রের অর্থাৎ দ্বাদশীও শ্রবণার দ্বিকলযােগ ও যদি লাভ হয়, তবে
তাহাকে অষ্টমিক যোগ বলিয়াই জানিবে।
*
২৩।২৪ পৃষ্ঠা দেখুন।
২২ শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা। শ্রবণাদ্বাদশী দুই কলাই অষ্টম। বিষ্ণুধৰ্মোত্তরে, মা তিথি শুদহােরাত্র মিত্যননন খণ্ডতিথে রহােরাত্রত্ব কীৰ্ত্তন মহােৱাত্র সাধ্যো- পৰাসাদি কৰ্ম্মাহর্থং। ইতি তিথিতত্ত্ব। “সেই খণ্ডতিথিই সেই অহােরাত্র” ইত্যাদি বিষ্ণুধৰ্মোত্তরীয় ৰচন দ্বারা অহাে- রাত্র সাধ্য উপবাসাদিকৰ্ম্ম-যােগ্যতার জন্য খণ্ডতিথির অহােৱাত্রত্ব কীৰ্ত্তন। খণ্ড- তিথিই অহােরাত্র ব্যাপিনী তিথি। দৃষ্টান্ত। যেমন একদিন একাদশী দুইদণ্ড আছে, সেই দুই দণ্ড কালই যে, উপবাস যোগ্য তাহা নহে, সমস্ত অহােরাত্রই উপবাস যােগ্য। এখন প্রশ্ন হইতেছে, ছিকল যােগই পুণ্যতম ? না সমস্ত অষ্ট যামিকই পুণ্যতম ? এই আভাস অবলম্বনে বলা যাইতেছে,-- তথৈব মাৎস্যে দ্বাদশী শ্রবণযুক্ত কৃৎস্য, পুণ্যতম। তিথি। নতু সা তেন যুক্ত তাবত্যের প্রশস্যতে ॥ ২৫২ শ্রবণযুক্ত কৃৎস্না সৰ্ব্বা দ্বাদশীতিথিঃ দ্বাদশ্যহােরাং পুণ্যতম। তেন এৰণেন যুক্তা তাবতী এব দ্বাদশী ন তু প্রশস্ততে ন প্রশস্ত যাবতী শ্রবণাকা ইত্যর্থ। এবাযুক্ত সমস্ত দ্বাদশী তিথি অর্থাৎ সমস্ত দ্বাদশীর অহােরাত্রই পুণ্যতম। যে পৰ্য্যন্ত শ্রবণযুক্ত দ্বাদশী থাকে, সেই পৰ্যন্তই যে, প্রশস্ত অর্থাৎ পুণতম তাহা নহে।
শ্রবণাদ্বাদশী ২৩ দৃষ্টান্ত ১৬ ভাদ্র শুক্লাদ্বাদশী ২৫৪ পল ৰণাযুক্ত এই সতর ও আট পল দ্বাদশীই যে, পুণ্যতম তাহা নহে, সমস্ত দ্বাদশীর অহােরাত্রই পুণ্যতম। শ্রবণাক্ত এই পয়ত্রিশ দণ্ড ৰার পল দ্বাদশীই যে পুণ্যতম, তাহা নহে। সমস্ত দ্বাদশীর আহােরাই পুণ্যতম। এবণ ১৭৮ পল ২৭ ভাদ্র ক্লাশী ৩৫১ পল উত্তরাষাঢ়া যঃ পল শ্রবণ ৬৬ পল “দশী শ্রবণযুক্তা” ইত্যাদি মাৎস্য বচন দ্বারা এই পাওয়া যাইতেছে যে, দ্বাদশীও শ্ৰৰণার দ্বিকার যােগই যে পুণ্যতম তাহা নহে, সমস্ত অষ্টমই পুণ্যতম। বিকলার যােগে অহােরাত্র পুণ্যতম ইহা লাভ হইল। *তিথি নক্ষত্রময় যোগ’ ইত্যাদি বচনটি ব্ৰত নিৰ্গায়ক, শ্রবণা দ্বাদশীব্রত নিয়ে লিখিত হইয়াছে, ইহা মাহাত্মে বঞ্চিত হয় নাই, মাহাত্ম্য সূচকও নহে। দ্বিক অল্প কালের উপলক্ষণ, তাহা গােস্বামিপদ প্রদর্শন করিতেছেন। “তিথি নক্ষত্ৰয়াের্যোগ” ইত্যাদ্যং যন্তু দর্শিতং। তেনাল্পকাল সংযােগে প্যষ্ট যামিকত্যেতে ॥ ২৫ ‘তিথি ও নক্ষত্রের যােগ’ ইত্যাদি নারদীয় ৰচন যাহা প্রদর্শিত হইল, তারা অল্পকাল সংযােগেও অষ্টযামিকতা অর্থাৎ অহােরাত্রত্ব স্বীকৃত হইল। বিকলার অষ্টযামিকতা স্বীকার দ্বারা তিথি নক্ষত্ৰয়াে যোগঃ” ইত্যাদি বিশেষ ৰচন বলে উত্তরাষাঢ়া যুক্ত খাদশীতে দিবা রাত্রির যে কোন সময়ে শ্রবণার যােগ হইলে যথে,ক্ত লক্ষণ বিজয়া মহাৰাদশীর অতিদেশ করা হয়। শ্রবণা বাশী অতিদিষ্ট বিজয়া মহাদ্বাদশী।
২৪ শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংস। শ্রবণাদ্বাদশী। রােকের ধৰ্ম্ম অঙ্গে :আৱেপিত হইলেই অতিদেশ হয়। ইনব দিকোহপি ইনের ধর্ম ইকে. আরােপিত হইল। ভূ ধাতু ভূশব্দে ধাতুর ধর্ম: অতিদিষ্ট হইল। অতি দেশের লক্ষণ প্রকৃতাৎ কৰ্ম্মণণা যা ক্ত সমানেষু কৰ্ম্ম। ধৰ্ম্মো তিদিশ্যতে যেন সে হতিদেশ ইতি স্মৃতঃ। যে প্রকৃত কর্মের ধর্ম তৎসদৃশ অল্প কর্মে অতিদিষ্ট অর্থাৎ আরােপিত হয়, তাহাই অতিদেশ। যথোক্ত লক্ষণ বিজয়া মহাদ্বাদশীর ধৰ্ম্ম তৎসদৃশ শ্রবণ। দ্বাদশীতে অতিদিষ্ট অর্থাৎ আরােপিত হইল। “ভান্থদেয় মারভ্য” ইত্যাদি লক্ষণের লাক্ষণিক ধৰ্ম্ম ও বিজয়া-মহাদ্বাদশীর . নিত্যষ অতিদিষ্ট হইল। শ্রবণা দ্বাদশী বিজয়া মহাদ্বাদশী হওয়ায় বৈষ্ণবানাং দ্বাদাং শ্রবণ যােগে মহাদ্বাদশীষেন তত্রোপবাসাৎ।” এই হেতুরও সঙ্গতি হইল। সুতরাং বৈষ্ণবের শ্রবণ দ্বাদশীতেই উপবাস হইবে, একাদশীতে হইবে না। অন্যমত খণ্ডন করা যাইতেছে, “কেচিচ্চেদ নুপবাসদ্বয়ে প্রাপ্তে সত্য সমর্থবিষয়ক মিতি ব্যবস্থাপয়ন্তি। তদযুক্ত, বৈষ্ণবানাং দ্বাদা; শ্রবণ যােগে মহাদ্বাদশীত্বেন তত্রোপবাসাৎ। কেচিচ্চেদমিতি। ইদং শ্রবণাদাশীব্রতং। তদযুক্তমিতি। তৎ অসমৰ্থ-বিষয়ক ব্যবস্থাপন। কেহ কেহ “দাগাং শ্রবণযােগে মহাদ্বাদশীত্বেন তত্ৰোপকাসা । এইস্থলে “মহাদ্বাদশীত্বেন” এই পদ দেখিয়া এই মহাদ্বাদশীকে, পক্ষকৃত্যের অষ্ট মহাদ্বাদশী-প্রকরণীয় লাক্ষণিক অর্থাৎ “ভান্থদেয়মারভ্য” ইত্যাদি কাক্ষণ - । ।
শ্রবণাদ্বাদশী বিহিত বিজয়া মহাৰাদশী মনে করিয়া ব্যবস্থা করিয়া থাকেন ;-ক্ষণিক বিজয়। মহাদ্বাদশী হইলেই উপবাস হইবে, উত্তরাষাঢ়াযুক্ত দ্বাদশীতে শ্রবণার যােগ হইলে উপবাস হইবে না। কারণ, শ্রবণা দ্বাদশী মহাদ্বাদশী নহে, মহাদ্বাদশী স্বীকার করিলে নবজ ঘটে, অষ্টত্বের হানি হয়। এইরূপ ব্যবস্থা করা সঙ্গত নহে’ কারণ এই মহাদ্বাদশী পক্ষকৃত্যের অষ্ট মহা- দ্বাদশী প্রকরণীয় নহে, মাসকৃত্যের শ্রবণা দ্বাদশী প্রকরণীয়। “ইদং শব্দে শ্রবণা- দ্বাদশীব্রতকে পরামর্শ করিতেছে। তদযুক্তং এই স্থলের “তৎ” শৰে অসমর্থ বিষয়ক ব্যবস্থাকে উপস্থিত করিতেছে। “মহাদ্বাদশীতেন এই মহাদ্বাদশী শব্দে শ্রবণা দ্বাদশীকেই সম্বন্ধ করিতেছে। পক্ষকৃত্যের অষ্ট মহাদ্বাদশী প্রকরণীয় লাক্ষণিক বিজয়া মহাদ্বাকশীকে সম্বন্ধ করি- তেছে না। তবে জিজ্ঞাস্য হইতে পারে, শ্রবণা দ্বাদশী মহাদ্বাদশী হয় কিরূপে? তাহার উত্তর, প্রকৃত বিজয় বা যথােক্ত লক্ষণ বিজয়ার অতি দেশ করিয়াই শ্ৰণা- দ্বাদশীকে মহাদ্বাদশী বলা হয়। অতি দেশ বলেই মাসকৃত্যের শ্রবণ দ্বাদশী, বিজয়। মহাদ্বাদশী হয়। বিজয়া মহাদ্বাদশী হইলেই নবত্ব ঘটে না, অষ্টত্বেরই অন্তৰ্ভুক্ত হয়। * ইহা লাক্ষণিক বিজরা মহাদ্বাদশীর প্রকারভেদ মাত্র। এখন জিজ্ঞাস্য হইতে পারে,—দ্বাদশীও শ্রবণার অল্প যােগেই যখন অতিদিষ্ট বিজয়া মহাদ্বাদশী হয়, তখন প্রকৃত বিজয়া মহাদ্বাণীর স্থল কোথায় থাকিবে ? উত্তর,-মলভাদ্রে শ্রবণা দ্বাদশীব্রত হইবে না, মলভাদ্র প্রকৃত বিজয়ার স্থল। যদি বল মলভাদ্র মাসই নহে, মল বলিয়া কর্মের অযােগ্য, এইস্থলে বিজয়ার স্বার্থকতা সঙ্গত নহে। তবে সৌর আশ্বিনমাসে-চা ভাদ্রে শ্রবণা দ্বাদশীব্রত হইবে না, সৌর আশ্বিন মাস চান্দ্রভাদ্র প্রকৃত বিজয়ার স্থল। বিশুদ্ধ ভাদ্রেও প্রকৃত বিজয়ার স্থল রহিয়াছে। পূৰ্ব্বদিন বিষ্ণু শৃঙ্খল, পরদিন দ্বাদশী দেড়প্রহরের অধিক থাকিলে আর শ্রবণা অপর সূর্যোদয় বেধ করিতে বিজয় হইবে। বিজয়া বিষ্ণুশৃঙ্খলের বিঘাতক। পূৰ্ব্বেও বিজয়ার সার্থকতা প্রদর্শিত হইয়াছে। এখন আবার প্রদর্শন করাইয়া পুনরূক্তি করা গেল । শ্রবণা শ্যা অষ্টত্বং নিত্যত্বঞ্চ সিঙ্কং অতিদিষ্টত্বাৎ। শ্রবণা দিশী পক্ষ, অষ্টত্ব ও নিত্যত্ব সাধ্য, অতিদিষ্টত্ব হে।
২৬ শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা ২৭ ভাদ্র একাদশী ২৫১০ পল শ্রবণাদ্বাদশী महार ২৭ ভাদ্র একাদশী, দ্বাদশ ও শ্রবণার যােগে বিষ্ণুশৃঙ্খল হইল। ২৮ ভাদ্র দ্বাদশী দেড়প্রহরের অধিক হইয়াছে। শ্ৰৰণা ৬০ দণ্ড হই- আছে বিজয় মহাদ্বাদশী হইল। বিশৃঙ্খলে উপবাস না হইয়া বিজয়াতে উপবাস হইবে। উত্তরাষাঢ়া, ৫৭১০ পল ২৮ ভাদ্র শুক্লাদ্বাদশ ২৪া পল শ্রবণ '৬০ দণ্ড ২৯ ভাদ্র শ্রবণ। ২৫ পণ্য শ্ৰবণৈকাদশী। শ্রবণকাদশী শ্রবণদ্বাদশীরই ভেদ। শ্রবণা দ্বাদশী প্রস্তাবে নারীয়ে-- যদি ন প্রাপ্যতে ঋক্ষং দ্বাদাং বৈষ্ণবং কচিৎ। একাদশী তদোপোষা পাপগ্নী বান্বিতাঃ । উভয় দেবতাবিষ্ণু পুরাণঃ পুরুষোত্তমঃ। বিভেদে। হত্ৰ ন কর্তব্যে বিভেদাৎ পততে নরঃ | ২৫৩ টাকাচ দিদর্শনী। বৈষ্ণৰং ঋক্ষং শ্রবণং। কচিদিতি। রাত্ৰাদৌ কস্মিংশ্চিৎ সময়েহপীত্যর্থ। হত্যেষা। ৫৩ দিবারাত্রির যে কোন সময়ে শ্রবণানক্ষত্র যদি দ্বাদশাতে না পায়, তাহা হইলে শ্রবণযুক্ত একাদশীতে উপবাস করিবে ; এই একাদশী পাপহঙ্গী। পুরুষোত্তম শ্ৰবণৈকাদশী। ২৭ বিষ্ণু উভয়ের (একাদশী ও দ্বাদশীর) দেবতা। এই উভয়ে ভেদ কর্তব্য নহে, ভেদ করিলে মানব পতিত হবে। “যদি ন প্রাপ্যতে ঋক্ষং” ইত্যাদি বচন দ্বারা শ্রবণযুক্ত একাদশীই দ্বাদশী, শ্রবণাযুক্ত দ্বাদশীই একাদশী ; এইরূপ অভিন্ন বুঝতে হইবে। নিত্য উপােষ্যা একাদশীকে তদা উপােয়। বলায় ব্যতিরেকে ইহাই বুঝা যাইতেছে যে—একাদশীতে শ্রবণা না পাইয়া দ্বাদশীতে শ্রবণা পাইলে দ্বাদশীই উপােষা, একাদশী উপােষ্যা নহে। বিষ্ণু পুরাণে যাঃ কাশ্চি থিয়ঃ প্ৰােক্তাঃ পুণ্যানক্ষত্র যােগতঃ । তাম্বেব ততং কুৰ্য্যা ছুবণ দ্বাদশীং বিনা ॥ ২৫৪ টীকা চ দিদর্শনী। যাঃ কাশ্চিদিতি। যেন কেনচিৎ নক্ষত্রবিশেষ যােগেন যাঃ কাশ্চিং তিথয়ঃ পুণ্যা প্ৰোক্তাঃ তা যদ্বিহিতং তং তৎ তাম্বেব কুৰ্যাৎ। ন তিথ্যন্তরে তত্ত নক্ষত্র যুক্তে। যথা ফান্ধুনী শুক্লাদ্বাদশী পুষ্যক্ষেণ যুক্তা গােবিন্দ দ্বাদশী নাম, তা মুপবাসব্রতং বিহিতং তস্যা মেৰ কুৰ্য্যাৎ, ন চ পুষান্বিতায়াং একাদশ্যাং। এবং নিয়মশ্চ শ্রবণা- দ্বাদশী: বিনা। শ্রবণ দ্ব.দশী ব্রত ন্তু শ্ৰবণৈকাৰখা মপি ভবতীত্যর্থ। ইত্যে ।২৫৪ যে কোন নক্ষত্রবিশেষের যােগে যে কোন তিথি পুণ্যা বলিয়া কথিত হই- যাছে, তাহাতে বিহিত যে ব্রত, তাহা সেই সেই তিথিতেই করিবে। সেই সেই নক্ষত্র যুক্ত যে, অন্য তিথি তাহাতে করিবে না। এই নিয়ম শবণা-দ্বাদশী ভিন্ন। দৃষ্টান্ত। ফাগুনী শুক্লা দ্বাদশী পুষ্যানক্ষত্র যুক্ত হইলে তাহাকে গােনি দ্বাদশী বলে। তাহাতে যে উপবাসব্রত বিহিত হইয়াছে, তাহা সেই গােবিন্দ দ্বাদশীতেই করিবে পুষান্বিত একাদশীতে করিবে না। এই প্রকার নিয়ম শ্রবণাদ্বাদশী ভিন্ন বুঝিতে হইবে। কিন্তু শ্রবণা দ্বাদশীর্বত যে, কেবল শ্রবণ দ্বাদশীতেই হয়, এমন নহে ; তাহা শ্ৰবণৈকাদশীতেও হয়। দ্বাদশীতে শ্ৰৰণা পাইলে দ্বাদশীতেই শ্রবণা দ্বাদশী ব্রত, দ্বাদশীতে শ্রবণার যােগ না.হইলে কেবল একাদশীতেই শ্রবণা হইলে, একাদশীই শ্রবণা দ্বাদশীব্রত। এই নিমিত্ত শ্রবণ। দ্বাদশী ব্রতবিকল্প ।
২৮
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা।
শ্ৰবণৈকাদশী।
পারণ নিগ্ন য়ে গােস্বামিপাদ, শ্রবণা দ্বাণীকে ব্রতবিকল্প বলিয়াছেন,
“স চ ব্রতবিকল্পে দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খলে চ স্পষ্ট এব”। ২৫১
শ্রবণা দ্বাদশী হইলে একাদশী উপােষ। কি না? এখন তাহারই আলােচনা
করা যাউক।
“যদি ন প্রাপ্যতে ঋক্ষং" ইত্যাদি বচনে “একাদশী তদোপােষ্যা” এইস্থলে
“তদা” শব্দের উপাদান থাকায় একাদশ উপোষ্যা নহে। একাদশীতে উপবাস
হইলে “তদা” শকের বৈয়ৰ্থাপত্তি হয়।
“বিভেদোহন কর্তব্যে বিভেদাৎ পততে নরঃ।”
ইত্যাদি বচনে ভেদ নিষিদ্ধ হওয়াতেও শ্ৰৰণা দ্বাদশী হইলে একাদশী উপপাদ্য।
নহে।
শ্রবণা দ্বাদশী অতিদিষ্ট বিজয়া মহাদ্বাদশী হয় বলিয়াও একাশীর উপােষ। নহে।
শ্রবণ দ্বাদশী ব্রতবিকল্প বলিয়াও একাদশী উপােয্য নহে। একাদশী ও শ্রবণা-
দ্বাদশী উভয় উপােষা হইলে বিকল্পত্বের হান হয়।
এই চারিটি কারণ নির্দেশ করা গেল।
এই শ্রবণা দ্বাদশী একাদশী প্রকরণীয় নহে, দ্বাদশী প্রকরণীয়। কেহ একাদশী
প্রকরণীয় বুঝিলে ভুল বুঝিয়াছেন।
এখন আর একটা সংশয়ের নিরাস করা যাইতেছে,
গগাবিন্দ দ্বাদশী
ফাল্গুনে দ্বাদশী শুক্ল। যা পুষ্যক্ষেণ সংযুতা।
গােবিন্দ দ্বাদশী নাম সা স্তা গােবিন্দ ভক্তিদা।
তস্যা মুপে বিধিনা ভগবন্তং প্রপূজয়েৎ।
লিখিতঃ পাপনাশিন্তাং বিধি যাপি স স্মৃতঃ। ১৪ বি, ৮৩
টাকা চ দিদর্শনী। অত্র গােবিন্দ দ্বাদগাং ভগবং পূজনেংপি স এব বিধি
তাে মুনিভি। একদৈবত্যাদিনা দ্বয়ে। রেকরূপাৎ। ইতোষা। ১৪ বি, ৮৩
ফাল্গুনের শুরুদ্বাদশীতে পুষ্যানক্ষত্রের যোগ হইলে তাহাকে গোবিন্দ দ্বাদশী
বলে। সে গোবিন্দ ভক্তিদান করে।
শ্ৰবণৈকাদশী। তাহাতে উপবাস করিয়া যথাবিধি ভগবানকে পূজা করিবে। ভগবানের পূজায় পাপনাশিনীতে যে বিধি, গােবিন্দ দ্বাদশীতেও সেই বিধি। কারণ, পাপ- নাশিনী এবং গােবিন্দ দ্বাদশী দুইয়ের রূপ এক, দেবতাও এক। যথােক্ত লক্ষণ পাপনাশিনী না হইলে একাদশী ত্যাগ করিয়া গােবিন্দ দ্বাদশীতে উপবাস হইবে না। যেহেতু পাপনাশিনী নিত্য এবং গােবিন্দ দ্বাদশী কাম্য। এয়ােদশ বিলাসে অষ্ট মহাদ্বাদশী প্রকরণে পাপনাশিনী ব্রত প্রসঙ্গে। ফাল্গুনে মাসি যন্বেষা দ্বাদশী পাপনাশিনী। ভবে ওদা ব্রতস্যাস্থ মহিমা শ্যা দ্বিশেষতঃ ১৭৭ ফীনমাসে যদি এই পাপনাশিনী দ্বাদশীব্ৰত হয়, তাহা হইলে, এই ব্রতের বিশেষরূপ মহিমা হয়। এই কারিকা লক্ষণান্বিত পাপনাশিনীকে লক্ষ্য করিয়াছে। এখন জিজ্ঞাস্য এই,-দ্বাদশীও শ্রবণার অল্পমাত্র যােগ হইলে যেমন অতিদিষ্ট বিজয় মহাদ্বাদশী হয়, সেইরূপ দ্বাদশীও পুষার অল্পমাত্র যােগে অতিদিষ্ট পাপ- নাশিনী হউক। এইরূপ বলা সঙ্গত হইতেছে না, কারণ শ্রবণা দ্বাদশীর সম্বন্ধে বিশেষ বচন রহিয়াছে। যথা :- ০ == তিথি নক্ষত্ৰয়াে যোগগা যদা চৈব নরাধিপ। দ্বিকলো যদি ওভ্যেত সজ্ঞেয়াে হই যামিকঃ । এই বিশেষ প্রমাণ বলেই শ্রবণা দ্বাদশীতে বিজয় মহাদ্বাদশীর অতিদেশ কর। হইয়াছে। সেইরূপ এইস্থলে “দ্ব দশী ও পুষ্যার অল্প যােগই অবাম” এই প্রকার বিশেষ বচন নাই বলিয়াই গােবিন্দ দ্বাশীতে পাপনাশিনীর অতিদেশ করা যাইতে পারে না। আচাৰ্যাণ। মিয়ং শৈণী প্রাক্ সামান্যে নাভিধায় পশ্চা দ্বিশেষেণ পরি- সমাপ্যতে। আচাৰ্যগণের এই রীতি, পূর্বে সামান্য দ্বারা অভিহিত করিয়া পশ্চাৎ বিশেষ বারা পরিসমাপ্তি করা হয়। শ্রবণা-দ্বাদশী প্রথম স্বা তিথি শুহােরাত্রং এই শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংস। শ্ৰবণৈকাদশী। সামান্য দ্বারা অভিহিত। “দ্বিকলাে যদি লভ্যেত” ইত্যাদি বিশেষ দ্বারা পশ্চাৎ পরিসমাপ্ত হইয়াছে। গােবিন্দ দ্বাদশী সামান্য দ্বারা অভিহিত হইলেও বিশেষ দ্বারা পরিসমাপ্ত হয় নই। সুতরাং গােবিন্দ দ্বাদশী অতিদিষ্ট পাপনাশিনী হইতে পারে না। এখন দেখা যাইতেছে, -দ্বাদশীতে শ্রবণা না পাইয়া একাদশীতে শ্রবণা পাইলে একাদশীই শ্রবণা দ্বাদশী আর একাদশীতে শ্রবণা না পাইয়া দ্বাদশীতে শ্রবণা পাইলে দ্বাদশীই শ্রবণা দ্বাদশী। আর একাদশীও দ্বাদশী উভয় দিনে শ্রবণা পাইলে প্রথম দিন প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল এবং দ্বিতীয় দিন শ্ৰৰণা দ্বাদশী। উভয় দিনে শ্রবণা না পাইলে কর্তব্য কি ? তাহাই বলা যাইতেছে । “দিনদ্বয়েহপি শ্রবণ। ভাবে তদঘাগ হানিত। একাদা পােষ্যৈব দ্বাদশ্যাং বামনং যজেৎ। ১৫ বি, ২৬০ টীকা চ দিদর্শনী। ননু যথা জন্মাষ্টম্যাং রােহিণ্যাদি যােগাভাবে হপি উপবাস স্তথা অত্র শ্রবণ যােগাভাবে হপি শ্রীবামনদেব প্রাদুৰ্ত্তাবাপেক্ষয়া সমর্থেনােপবাসদ্বয়- পক্ষে দ্বাদ। মুপবাস কৰ্তব্যে না ইত্যাশঙ্ক্য লিখতি দিনদ্বয়েতি। তস্য দ্ব:দশ্য। শ্রবণাযোগ হানিতঃ অভাবৎ। যত স্তদ্যোগপেক্ষরৈব দ্বাদখা মুপবাস বিধান মিতি দি। ইত্যেষ। ২৬০ মৎস্য পুরাণে উপোষ্যৈকাদশাং তত্র দ্বাদশ্যাং পূজয়দ্ধরিং | ৫৫ এখন প্রশ্ন হইতেছে,-জ মাষ্টমীতে রােহিণ্যাদি যােগের অভাবেও যেমন উপ- বাস হয়, সেইরূপ শ্রবণাবােগের অভাবে ও বামনদেবের প্রাত্তাবকে অপেক্ষা করিয়া উপবাসদর পক্ষে সমর্থ ব্যক্তির দ্ব:দশীতে উপবাস কৰ্তব্য কি না ? এই আশঙ্কায় লিখিতেছেন, দ্বিনদ্বয়েতি। একাদশী কিম্বা দ্বাদশীতে, উভয় দিনেই শ্রবণা না পাইলে দ্বাদশীতে শ্রবণা- যােগের অভাব হেতু একাদশীতে উপবাস করিয়াই দ্বাদশীতে বামনকে অর্চনা করিবে। যেহেতু শ্ৰবণ মােগকে অপেক্ষা করিয়াই দ্বাদশীতে উপবাসের বিধান। এবার যােগ না হইলে বামন দ্বাদশী বলিয়া দ্বাদশীতে উপৰাস হইবে না।
প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল
৩১
মৎস্য পুরাণে
একাদশীতে উপবাস করিয়াই দ্বাদশীতে হরিকে অর্চনা করিবে।
একাদশ ও দ্বাদশী উভয় দিনে শ্রবণা পাইলে যে দিন একাদশী, দ্বাদশী ও
শ্রবণা পাইবে, সেইদিন বিষ্ণুশৃঙ্খল হইবে ।
বিষ্ণুশৃঙ্খল দ্বাদশীর ক্ষয় বৃদ্ধি অনুসারে দুই প্রকার।
প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল ।
মাৎস্যে—
দ্বাদশী শ্রবণ স্পৃষ্টা স্পৃশে দেকাদশাং ষা।
স এব বৈষ্ণব-যােগো বিষ্ণুশৃঙ্খল সংজ্ঞিতঃ।
তম্মি পােষ্য বিধিব নুরঃ সংক্ষীণকল্মষঃ।
প্রাপােত্যনুত্তমাং সিদ্ধিং পুনরাবৃত্তি তুল্ল ভাং ॥ ইতি ২৫৫
শ্রবণশৃষ্ট। দ্বাদশী যদি একাদশীকে স্পর্শ করে, তাহাকে বৈষ্ণব-যােগ বলে।
তাহাতে যথাবিধি উপবাস করিলে মানব পাপহীন হয় এবং অতি উত্তম সিদ্ধিলাভ
যে সিদ্ধি পাইলে মানবের আর পুনরাবৃত্তি (সংসারে পুনরাগমন) হয়
।
একাদশা পদেনা তদহােরাত্র উচ্যতে ।
অন্যথা দ্বাদশী স্পর্শ স্তস্যাং নিত্যং হি বিদ্যতে ॥ ২৫৫
একাদশী পদে এইস্থলে একাদশার অহােরাত্র বুঝিতে হইবে। “একাদশীর
অহােরাত্রে শ্রবণ স্পৃষ্টা দ্বাদশীর যোগ” ইহা না বলিলে একাদশীতে দ্বাদশীর
স্পর্শ সর্বদাই থাকিবে।
এই নিমিত্ত একাদশীর অহােরাত্রে দ্বাদশীর সহিত শ্রবণার মিলন বলা
হইয়াছে।
একদিনে একাদশী, দ্বাদশী ও শ্রবণার মিলনই বিষ্ণুশৃঙ্খল ।
৩২ বণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা। প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল দৃষ্টান্ত ১৭ ভাদ ১১ ভাদ্র একাদশী একাদশী ৪৫/১০ পল ১৫|১৫ পল শ্রবণ উত্তরাষাঢ়া ৪৮১০ পল ২৫১৫ পল শ্রবণা একাদশীকে স্পর্শ করিয়া দ্বাদশীকে স্পর্শ করি- যাছে,প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল হইল। ১২ ভাদ্র শুক্লাদ্বাদশী ১৭/৪৫ পণ শ্রবণ ১৪ ভাদ্র একাদশী ২৬৪৫ পণ ৪ ১• পল উত্তরাষাঢ়। ৪৫/১০ পল ১১ ভাদ্র একাদশীর অহে- রাত্রে দ্বাদশীর সহিত শ্ৰৰণার যোগ হইয়াছে। প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল হইল। ১২ ভাদ্র শ্রবণাদ্বাদশী হইল। এবণা ও দ্বাদশীর দিবাতে নিবৃত্তি হইয়াছে। শুক্লাদ্বাদশী ৪৫• পল শ্রবণ ৪৮৫• পল ১৪ ভাদ্র প্রথম বিষ্ণুশঙ্খল হইল। ১৫ ভাদ্র শ্রবণা দ্বাদশী হইল। দ্বাদশী ও শ্রবণার রাত্রিতে নিবৃত্তি হইয়াছে।
৩৬ দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল যােগ । দৃষ্টান্ত ৯ ভাদ্র একাদশা একাদশী ১৭, ১৩ পল ৫: {১০ পল উত্তরাষাঢ়। উত্তরাষাঢ়া ৫৬১• পল ৫৮। • পণ ১০ ভাদ ২ ভাদ্র শুক্লাদ্বাদশী শুকাদ্বাদশী ০৪৫ ০ পণ ১৫|৫০ পা শ্রবণ শ্রবণ। ৬০ দ'ও ২৯ ভাদ্র শ্ৰবণা ৫৫৫০ পল ৯ ভাদ্র একাদশীর অহােরাত্রে দ্বাদশীর সহিত শ্রবণার যোগ হইয়াছে। প্রথম বিশৃঙ্খলা হইল। ১০ ভাদ্র শ্রবণাদ্বাদশী হইল। শ্রবণ ও দ্বাদশীর রাত্রিতে নিবৃত্তি হইয়াছে। ১১৫ পল ২৭ ভাদ্র একাদশীর অহো- রাত্রে দ্বাদশর সহিত শ্রবণার যােগে বিষ্ণুশৃঙ্খল হইল। ২৮ ভাদ্র প্রকৃত বিজয়া মহাদ্বাদশী হইল। দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল যােগ। দ্বাদশী শ্রবণক্ষ ঞ্চে যস্মিন্ ভাভে ভবে দিদং। দ্বাদশী শ্রবণস্পৃষ্টে ত্যস্মিংশ্চ পৃষ্টতা খলু । তদ্বৎ সাহিত্য মেবাহ পূৰ্ব্বম্মা দেব হেতুতঃ। তষ্মা দয় ন্তু তত্রৈব বিশেষে। বিনিগদ্যতে। ২৫ ব্যাখ্যা। যস্মিন লাভে একাদশাং ইদং দ্বাদশী বক্ষ দ্বাদশী যুক্ত শ্রবণ। নক্ষং চে যদি ভবেৎ, তা অস্মিন্ াভে একাদশ দ্বাদশী শ্রবণস্পৃষ্টা শৃশে
৩৪
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা।
দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল যােগ।
দেকাদশীং যদা” ইত্যাদি বচনবিহিত পৃষ্টত খলু স্পর্শ এব ভবেৎ। পূৰ্বশ্মদেব
হেতুতঃ “দ্বাদশী শ্রবণস্পৃষ্টা শৃশে দেকাদশীং যা” ইত্যাদি কারণদেব তদ্বৎ
প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলবৎ সাহিত্যং একস্মিন্ দিনে একাদশী দ্বাদশী শ্রবণানাং মেলনং এর
আহ বদতি। তস্মাৎ প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলাৎ অয়ন্তু বক্ষ্যমাণণা বিশেষঃ দ্বাদশী ক্ষয় রূপঃ
তত্রৈব দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খলে এব, বিনিগদ্যতে কথ্যতে।
পাতেইতি লিপিকরপ্রসাদ।
“লা” স্থানে “পা”, “ভে স্থানে ভত” ইতি।
যে কোন একাদশী দিনে এই দ্বাদশী যুক্ত শ্রবণা নক্ষত্র যদি হয়, তবে “দ্বাদশী
শ্রবণস্পৃষ্টা স্পশে দেকাদশীং যদা” ইত্যাদি বচন বিহিত শ্রবণশৃষ্ট। দ্বাদশীর এই
একাদশীতে স্পর্শই থাকিবে।
পূৰ্ব্বহেতু অর্থাৎ “শ্রবণস্পৃষ্টা দ্বাদশা বদি একাদশাকে স্পর্শ করে এই
কারণে প্রথম বিষ্ণুশঙ্খলের ন্যায় দ্বিতীয় বিশৃঙ্খলেও সাহিত্য অর্থাৎ একদিনে
একাদশ দ্বাদশী ও শ্রবণার মিলনই বলা হইয়াছে। তন্মধ্যে প্রথম বিশৃঙ্খল
হইতে দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খলে এই বক্ষ্যমাণ বিশেষ (দ্বাদশীয়রূপ ) সেই দ্বিতীয়
বিশৃঙ্খলেই কথিত হইতেছে।
বিষ্ণুধৰ্ম্মোন্তরে
একাদশী দ্বাদণী চ বৈষ্ণব মপি তদ্ভবেৎ।
তদ্বিষ্ণুশৃঙ্খলং নাম বিষ্ণু সাযুজ্যকৃ দ্ভবেৎ।
তস্মিন্ন, পােষণ দগচ্ছে তদ্বীপ পুরং বং ॥ ২৫৫
দ্বাদশ্য মুপবাসে হত্র ত্রয়োদশ্য ন্তু পারণ।
নিষিদ্ধ মপিকৰ্তব্য মিত্যাজ্ঞা পারমেশ্বরী । ইতি। ২৫৬
টাকাচ দিগনী। নিষিদ্ধমপতি।
“একাদখানুপােয্যব দ্বাৰাং পারণং স্মৃত।
ওয়ােদাং নতৎকাৰ্যং দ্বাদশ দ্বাদর্শীয়াৎ।
ইত্যাদি মৎপুরাণ বচন স্ত্রয়ােদাং পিরণনিষেধাৎ।
দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল যােগ। এত স্থলবৃষ্টা বৈষ্ণবেতর বিষয়ক ব্যবস্থাপেক্ষমা চেতি জ্ঞেয়ং। তত্রৈব শ্রবণক্ষেত্যাদিনা—এয়ােদখা মেব মার্কণ্ডেয়াদিভিঃ পারণােক্তে। তথা প্রায়ো বৈষ্ণবানাং দ্বাদশ্যপবাসেন সৰ্বত্ৰ এয়ােদা মেব পারণাপত্তেঃ । অতএবং ব্যাখ্যেয়ং। বিষ্ণু সযুজ্যাদ্যপেক্ষয়া সৰ্ব্বকৰ্ম্মাদ্যনাদরেণ নিষিদ্ধ মপি কমুচিতং; ইত্যেষা চ পরমেশ্বরাজ্ঞৈব, দ্বাদশী বল্লভ ভগবতে। দ্বাদশী ব্রত প্রিয়ত্বৎ। অতএব সৰ্ব্বত্র বৈষ্ণবানাং দ্বাদশী ব্রত গ্রহণাদি ক্ৰয়তে ইতি দিক্। ইত্যেষা ॥ ২৫৬ একদিনে একাদশী, দ্বাদশী ও শ্রবণ হইলে, তাহার নান বিষ্ণুশৃঙ্খল। সে বিষ্ণুসাযুজ্য উৎপাদন করে। সেই বিকুশৃঙ্খলে উপবাস করিলে শ্বেতদ্বীপপুরে (বৈকুণ্ঠে) গমন করে। ২৫৫ এই ব্রতে দ্বাদশীতে উপবাস ত্রয়োদশীতে পারণ তাহা নিষিদ্ধ হইলেও পরমেশ্বরের আজ্ঞাবলে করিতে পারে। এখন প্রশ্ন হইতেছে, “একাদশীতে উপবাস করিয়াই দ্বাদশীতে পারণ করিবে, এয়ােদশীতে পারণ করিবে না; কারণ ত্রয়ােদশীতে পারণ করিলে দ্বাদ-দ্বাদশীজনিত পুণ্য ক্ষয় হয়।" ইত্যাদি মৎস্যপুরাণাদির বচন দ্বারা ত্রয়োদশীতে পারণের নিষেধ আছে। তা বটে কিন্তু, এই নিষেধ স্থূল দৃষ্টি দ্বারা বৈষ্ণবেতর বিষয়ক ব্যবস্থাকে অপেক্ষা করিয়াই জানিবে। কারণ, সেই শ্রবণা দ্বাদশী ব্রত প্রসঙ্গে “শ্রবণক্ষ সমাযুক্ত দ্বাদশী যদি লভ্যতে। উপােয়। দ্বাদশী তত্র এয়ােদ ন্তু পিরণং । * ইত্যাদি বচন দ্বারা জানা যায়, এয়ােদশীতেই মার্কণ্ডেয়াদি মুনিগণ পারণ করিতে বলিয়াছেন। আর প্রায়ই বৈষ্ণবের সম্বন্ধে দ্বাদশী উপবাসে সৰ্বত্ৰ এয়ােদশীতেই পারণ দেখা যায়। অতএব এইরূপ ব্যাখ্যাই উচিত, যথা- বিষ্ণু সাযুজ্যাদি অপেক্ষায় সকল কৰ্ম্মাদিকে অনাদর করিয়াই নিষিদ্ধ কাৰ্য্য করাও উচিত; ইহা পরমেশ্বরের আজ্ঞাই বটে।” - ১১ পৃষ্ঠাঃ অনুবাদ দেখুন !
৩৬
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা।
দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খল যােগ
যে হেতু, দ্বাদশী বল্লভ ভগবানের দ্বাদশী ব্রত প্রিয়। অতএব বৈঞ্চবদিগের
সর্বত্র দ্বাদশী ব্রত গ্রহণাদি শুনা যায় । ২৫৬
যােগগা হয় মতো দ্বাদষ্ঠাঃ ক্ষয় এবেতি লক্ষ্যতে।
দ্বাদা পবাসাচ্চ প্রয়ােদশ্যাঞ্চ পারণা।
এয়ােদাং পারণং হি শ্রবণে ন নিষেৎস্যতে ॥ ২৫৭
দ্বাদশীতে উপবাস ত্রয়ােদশীতে পারণের বিধান থাকায় এই যে দ্বিতীয় বিষ্ণু
শৃঙ্খল যােগ তাহা দ্বাদশী ক্ষয়েই লক্ষিত হইতেছে, অর্থাৎ দ্বাদশী ক্ষয়েই তাহার
বিষয়।
দ্বিতীয় বিষ্ণু শৃঙ্খল ত্রিশা মধ্যে গণ্য, শ্রবণ। যােগে মহাত্ম অধিক হয় মাত্র।
প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খল যােগের পারণ দিনে দ্বাদশী অধিক, শ্রবণ কম হইলে
যেমন শ্রবণান্তে পারণ হয়, সেইরূপ এয়ােদশীর পারণেও হউক, এই আভাস
অবলম্বনে বলা যাইতেছে, যােদা মিতি। এয়ােদশীতে যে, পারণ তাহা
শ্রবণাতে নিষিদ্ধ হবে না। কারণ নিষেধের কোন প্রমাণ নাই।
স্মাৰ্তমতে একাদশা নিত্য এবং শ্রবণাদ্বাদশী কাম্য সুতরাং স্মাৰ্তমতে দুই
উপবাসের ব্যবস্থা আছে। শক্ত শক্ত। ভেদে এক উপবাসেরও ব্যবস্থা আছে।
বৈষ্ণবমতে একাদশীও নিতা, শ্রবণা দ্বাদশীও নিত্য, উপযুপরি দুইটা নিত্যব্রত
হইতে পারে না, যেহেতু “পরন্তং ব্রতং জ্ঞেমং” ইত্যাদি বিষ্ণু ধৰ্ম্মোন্তরীয় বচন
তাহার বাধক।
ইহা জানি ও বৈষ্ণব পণ্ডিতগণ বিষ্ণু শৃঙ্খলের উপবাসে বিশৃঙ্খল ঘটাইয়া
থাকেন।
পিরণাহে তু দ্বাদা ইত্যাদি ২৫৭ অঙ্ক ধৃত,
ন চা বিধিলোপঃ স্থাদিত্যাদি ২৫৮ অঙ্গ ধৃত,
দ্বাদ। নুপবাসে। হত্র ইত্যাদি ২৫৯ অঙ্ক ধৃত,
বিষ্ণুশৃঙ্খকেপিঙ্গা দিত্যাদি ২৬০ অক্ষত,
কাৱিকাগুলির সহিত কেচিচ্চেদ মুপবাস দ্বয়ে প্রাপ্তে ইত্যাদি ২৫২ অঙ্কধৃত
দিগশনীর বিরােধ দেখিতে পান।
কেহ দুইদিনে উপবাস, কেহ একদিনে উপবাস, কেহ পৃদিনে উপবাস,
৩৭
প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ বিচার।
কেহ পরদিনে উপবাসের ব্যবস্থা করিয়া বিষ্ণুশৃঙ্খলে ও শ্রবণ দ্বাদশীতে বিশৃঙ্খলা
ঘটাইতেছেন।
প্রকৃতপক্ষে প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ বিচারটি মনােযােগের সহিত চিন্তা
করিলে কোন বিরােধই দেখিতে পাইবেন না। আমি তাহা বিষদভাবে বুঝাইবার
চেষ্টা করিব, বৈষ্ণবগণের এক উপবাসই কৰ্তব্য তাহা ও প্রদর্শন করাইব।
প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ বিচার।
অত্রৈব দ্বাদশী মধ্যে পারণং শ্রবণে হধিকে।
বক্ষ্যমাণঞ্চ ঘটতে হথা প্রগ্ধ দ্বিধা ব্রতং ॥ ২৫৫
ব্যাখ্যা। অত্রৈব প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খলে এব শ্রবণে অধিকেসতি দ্বাদশী মধ্যে এব
পিরণং ভবেৎ। অন্যথা এবং প্রকারং বিনা প্রাগবৎ পূৰ্ব্ববৎ শ্রবণা দ্বাদশীবৎ
বক্ষ্যমাণং দ্বিধা দ্বিপ্রকারং ব্রতং ঘটতে।
এই প্রথবিষ্ণু শৃঙ্খলেই দ্বাদশী হইতে শ্রবণা অধিক হইলে দ্বাদশী মধ্যেই পারণ
করিবে। অন্যথা অর্থাৎ—“শ্রবণ। অধিক হইলে দ্বাদশী মধ্যে পারণ করিবে” এই
কথা স্বীকার না কৰিলে পূর্ধ্বর ন্যায় অর্থাৎ শ্রবণা দ্বাদশীর ন্যায় বক্ষ্যমাণ দুই
প্রকার ব্রত ঘটে।
বক্ষ্যমাণ দুই প্রকার ব্রত, যথা :-
( স্মৰ্ত্ত মতে )
পারহে? দ্বাদশ্যাঃ শ্রবণাশ্চ বৃদ্ধিতঃ।
রাত্রে তু পারণাভাবা দ্যক্তং কং ব্ৰতদ্বয়ং।
টীকা চ দিদর্শনী। পিরণাহে ব্রতপারণ দিনে দ্বাদশ্যাঃ শ্রবণায়াশ্চ বৃদ্ধৌ সত্যাং
শক্ত শ্চেৎ ব্রতদ্বয়ং কুৰ্যাৎ ইতােষ ২৫৭
ন চাল বিধি লােপঃ স্য দুভয়ে দেবতা হরিঃ। ২৫৮
টাকা চ দিদর্শনী। ননু-
“পাণান্তং তং জ্ঞেয়ং ব্রতন্তে দ্বিজ ভােজনং।
অসমাপ্ত ব্রতে পূর্বে নৈষ কুৰ্য্যা তারং ॥”
ইতি বিষ্ণুধৰ্ম্মোত্তরেক্তে রপারণে দোযঃ স্যাৎ, তত্রাহ চাত্রেতি। উভয়ে-
রেকাদশী দ্বাদশ্যোঃ ইত্যেষা। ২৫৮
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা। প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ বিচার। ব্রতপারণ দিনে দ্বাদশী এবং শ্রবণা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া রাত্রিতে গমন করিলে, ‘ন রাত্রে পিরণং কুৰ্য্যা দৃতে বৈ রােহিণীব্রতাৎ। নিশায়াং পারণং কুৰ্য্যা দ্বজ্জয়িত্ব মহানিশাম্॥ হতি তিথিতত্ত্ব। রােহিণী ব্ৰত ভিন্ন রাত্রিতে পারণ করিবে না। রােহিণী ব্ৰতেও নিশাতে পারণ করিবে। মহানিশা বর্জন করিবে, মহানিশাতে পারণ করিবে না। এই বচন সামর্থ্যে রাত্রিতে পারণের অভাব অর্থাৎ নিষেধ হেতু শক্ত ব্যক্তির দুই উপবাস করা উচিত। ২৫৭ তবে এখন প্রশ্ন হইতেছে এই, “পারণার শেষ পর্যন্তই ব্রত, তান্তে ব্রাহ্মণভােজন, পূৰ্বৰত সমাপ্ত না হইলে অর্থ ব্ৰত করিবে না এই বিষ্ণুধৰ্ম্মোওরীয় বচনহেতু, অপারণে দোষ দেখা যায়, তাহাতেই বলা হইয়াছে, ন চাত্ৰেতি। এইস্থলে বিধিলােপ হইবে না, যে হেতু একাদশী এবং দ্বাদশী, উভয়ের দেবতাই হার। ভাবষ্যোর বিষ্ণুশৃঙ্খকে হপি স্যা দৃত্তি নিশি পর চ। বদা ধিক্যা তিথিভয়ে শক্তঃ কুৰ্য্যা দূতদ্বয়ম্ । পারগয়া অনৌচিত্যং তাবত্যাং নিশি চেদ্ভবেৎ। অশক্ত,ত্তরং কুৰ্য্যা দ্যোগস্যৈবাস্য গৌরবাৎ | ২৬০ ব্যাখ্যা। দার্চায় পুনরুক্তং। বিষ্ণুশৃঙ্খলকেহপীতি। অপিশঃ সমুচ্চয়ার্থে। ন কেবলং শ্রবণাদ্বাদশ্যাং অপি তু—বিষ্ণুশৃঙ্খলকেপি। যদা তিথিভয়ে দ্বাদশী শ্রবণমােঃ আধিক্যাৎ বৃদ্ধিতঃ পরত্র ব্রতপারণ দিনে নিশি রাত্রে বৃত্তিঃ স্থিতিশ্চেৎ। অসমাপ্তে ব্ৰতে পূৰ্ব্বে ইত্যাদে বাধকত্বং ন স্যাৎ, ন চা বিধিলােপঃ স্যাদি- ত্যাদিবচনাৎ। তদা শক্তো ব্ৰতদ্বয়ং কুৰ্যাৎ। যাবত্যাং নিশি তিথিনক্ষত্রয়ো- বৃত্তি স্তাবত্যাং নিশি ন রাত্রে পিরণং কুৰ্যাদিত্যাদি বচনাৎ পারণায়। অনৌচিত্যং চেৎ তদা অস্ত দ্বাদশ্যাং শ্রবণযোগদ্য গৌরবাৎ অশক্তস্তু উত্তরং ব্রতপিরণদিনং কুৰ্যাৎ উপাষ্যেত্যাদি নারদীয়বচনেভ্য। ইত্যেকবিধবক্ষ্যমাণব্রতম।
প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ বিচার। পুনরুক্তি দ্বারা ইহার (পূর্ব পক্ষের) দৃঢ়ত করা যাইতেছে। স্মাৰ্তমতে, যেমন একাদশী ও শ্রবণা দ্বাদশী উভয়ই উপােবা, সেই রূপ বিষ্ণু শৃঙ্খল যােগেও তিথিনক্ষত্রের আধিক্য বশতঃ ব্রত পাণ দিন রাত্রিতে যদি দ্বাদশী ও শ্রবণার হিতি হয়, তবে শক্ত ব্যক্তি দুই এত করিবে। *এক ব্ৰত সমাপ্ত না হইলে অন্য এত করিতেই নাই”, এই নিষেধেরও বাধকতা নাই, যেহেতু “একাদশীও দ্বাদশী, উভয়ের দেবতা হবি বলিয়া বিধিলোপ হয় না, এইরূপ বচন রহিয়াছে। যে নিশিতে শ্রবণ ও দ্বাদশীর স্থিতি, সেই নিশিতে, “রাত্রিতে পারণ করিতে নাই” ইত্যাদি বচন বলে রাত্রিতে পারণের অনৌচিত্য যদি হয়, তাহা হইলে এই শ্রবণযুক্ত দ্বাদশীর গৌরবহেতু, অশক্ত ব্যক্তি পরদিনে অর্থাৎ ব্রত পারণ দিনে ব্ৰত করিবে। তাহার প্রমাণ উপষ্যেত্যাদি নারদীয় বচন এয়। সমর্থ ব্যক্তি বিষ্ণুশৃঙ্খল এবং শ্রবণা দ্বাদশী ব্রত করিবে, অসমর্থ ব্যক্তি কেবল শ্রবণ দ্বাদশী ব্রত করিবে। এই একবিধ বক্ষ্যমাণ ব্রত। বৈষ্ণব মতে- দ্বাদশা মুপবাদে হত্র ত্রয়ােদান্তু পারণং। ২৫৯ টাকাচ দিদর্শনী। এব সমর্থো ব্রতমেক মেব কুৰ্য্যা দিতায়াত। তচ~- শ্রবণেন সিতা যত্র দ্বাদশী লভ্যতে কচিৎ। উপপাষ্যৈকাদশীং তত্র দ্বাদণ্টা মৰ্চয়ে দ্বারিং। ইত্যাদি শীঘমাছক্তে শক্তস্যৈকাদশা মেব উপবাসাশঙ্কা দতে। লিখতি দ্বাদশ্য। মিতি। বৈষ্ণবেষ্ট মহাদ্বাদশী ব্রত নিত্যত্বাৎ। তচ্চ পূৰ্বমেব তত্রৈব লিখিত মস্তি। ইত্যেষা। ২৫৯ বৈষ্ণবেধষ্ট মহাদ্বাদশী ব্রত মিত্যবাদিত্যনেন শ্রবণ দ্বাদশী ব্রত নিত্যত্ব মষ্টত্ব সাধিতং অতিদিষ্টত্বাদিতি। ইত্যগুবিধ বক্ষ্যমাণ ব্রত। এখন প্রশ্ন হইতেছে,-সমর্থ ব্যক্তি দুই ব্ৰত অসমর্থ ব্যক্তি এক ব্ৰতই করিবে, এইরূপ বলিলে “কদাচিৎ শুক্লাদ্বাদশী শ্রবণার সহিত fাভ হইলে, একাদশীতে উপবাস করিয়া দ্বাদশীতে হরিকে অর্চনা করিবে।”
৪০ শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংস। প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ বিচার। ইত্যাদি যমদ্যুক্তি হতুক ‘অশক্তের একাদশীতেই উপসাস। এই আশঙ্কা হয়, এইজন্যই বলা হইয়াছে, দ্বাদামিতি। এইস্থলে অশক্ত ব্যক্তির দ্বাদশীতে উপবাস, ত্রয়ােদশীতে পারণ। আর বৈষ্ণবের শক্ত শক্ত ভেদ নাই, দুই উপবাসও নাই। অতএব বৈষ্ণবের সম্বন্ধে পারণ দিনে শ্রবণ দ্বাদশীতেই উপবাস হইবে, বিষ্ণুশৃঙ্খল ও শ্রবণা দ্বাদশী দুই উপবাস হইবে না। কারণ বৈষ্ণবের সম্বন্ধে অষ্ট মহাদ্বাদশীর নিত্যতা আছে। তাহা পূৰ্বেই ত্রয়ােদশবিলাসে অষ্ট মহাদ্বাদশী ব্রত নিয়ে লিখিত হইয়াছে। শ্ৰৰণা দ্বাদশী অতিদিষ্ট বিজয়া মহাদ্বাদশী বলিয়া নিত্য ; যথােক্ত লক্ষণ বিজয় বা প্রকৃত বিজয়ার অন্তৰ্ভুক্ত বলিয়া অষ্ট মহাদ্বাদশীর অন্যতম-বিজয়া মহাদ্বাদশীতে গণ্য। সুতরাং শ্রবণ। দ্বাদশীর অষ্টত্ব ও নিত্যত্ব লাভ হইতেছে। নবত্ব ঘটে না। এই অন্যবিধ বক্ষ্যমাণ ব্রত। “তত্রৈব দ্বাদশী মধ্যে পারণং শ্রবণে হধিকে। বক্ষ্যমাণঞ্চ ঘটতে হস্থ প্রগ্ধ দ্বিধা ব্রতং ॥” এই বক্ষ্যমাণ দুই প্রকার ব্রত বলা হইল। (১) (১) “শ্রবণা অধিক হলে দ্বাদশী মধ্যে পারণ হইবে” এই কথা স্বীকার না করিলে দুই প্রকার দোষ ঘটে। আমতে একাদশী নিত্য, শ্রবণা দ্বাদশী কাম্য। পূৰ্বদিন প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল হইয়া পরদিন দ্বাদশী ও শ্রবণার রাত্রিতে নিবৃত্তি হইয়াছে। মনে করুন, ৭ ভাদ্র বিষ্ণুশৃঙ্খল, ৮ ভাদ্র দ্বাদশী ৩৮১০ পল, শ্রবণা ৪২৫• পল, উভয়েই রাত্রিতে নিবৃত্ত হইয়াছে। দ্বাদশী হইতে শ্রবণা অধিক হইয়াছে। রাত্রিতে পারণ নিষিদ্ধ। তখন শক্ত ব্যক্তির দুই উপবাস অর্থাৎ বিষ্ণুশৃঙ্খল ও শ্রবণ দ্বাদশীতে উপবাস আর অশক্ত ব্যক্তির কেবল এক উপবাস অর্থাৎ শ্রবণ দ্বাদশীতে উপবাস হইতে পারে, এই এক প্রকার দোষ। বৈষ্ণবমতে একাদশীও নিত্য, শ্রবণ দ্বাদশীও নিত্য, উপর্যুপরি দুইটা নিত্য ব্রত করাও নিষিদ্ধ। বৈষ্ণবের একটা উপবাস হইবে। দ্বাদশীতে শ্রবগা হইলে অতিদিষ্ট বিজয়া মহাদ্বাদশী হয়। অতিদিষ্ট বিজয় প্রকৃত বিজয়ার অন্তর্মুক্ত, অষ্ট মহাদ্বাদশী মধ্যে গণ্য। সুতরাং অষ্ট মহাদ্বাদশীর নিত্যতায়
প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ বিচার।
৪১
পিরণাহেতু দ্বাদশ্যাঃ শ্রবণাশ্চ বৃদ্ধিতঃ।
রাত্রে তু পারণাভাবা দযুক্তং কং ব্ৰতদ্বয়ং। ২৫৭
ন চা বিধিলােপঃ স্যা দুভয়ো দেবতা হরিঃ ॥ ২৫৮
বিষ্ণুঙ্খলকে হপি স্য। দৃত্তি নিশি পরচ।
যদাধিক্যা তিথিভয়ে শক্ত কুৰ্য্যা দ্রুত দ্বয়ং।
পারণায় অনৌচিত্যং তাবত্যাং নিশি চে দ্ভবেৎ।
অশক্ত স্তরং কুৰ্যাং যােগহৈবা গৌরবাৎ ॥ ২৬০
দ্বাদশা মুপবানাে হত্ৰ এয়ােদা স্তু পারণং। ২৫৯
এই কারিকাগুলি প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ বিচারে পূর্বপক্ষরূপে উল্লিখিত
হইয়াছে, সিদ্ধান্তরূপে নহে।
কেচি চ্চেদ মুপৰাস দ্বয়ে প্রাপ্তে সত্যসমর্থ বিষয়ক মিতি ব্যবস্থাপয়ন্তি। তদযুক্ত,
বৈষ্ণবানাং দ্বাদশ্যাং শ্রবণযােগে মহাদ্বাদশীত্বেন ততোপবাসাৎ, তথা নারদীয়
বচনেত্র শক্তশাদি বিশেষ পরিত্যাগেন নর ইতি সামান্য নির্দেশাচ্চ। ইতি
দিদর্শনী।
এই দিদর্শনী সিদ্ধান্তরূপে কথিত হইয়াছে। সুতরাং কথিত কারিকাগুলির
সহিত এই দিগদর্শনীর কোন বিরােধ নাই।
পারণাহেতু দ্বাদশ্য ইত্যাদি।
২৫৭ অঙ্কত,
ন চা বিধিলােপঃ স্টাদিত্যাদি। ২৫৮ অঙ্কধৃত,
শ্রবণা দ্বাদশীর নিত্যতা সিদ্ধ আছে। (বৈষ্ণবেদষ্ট মহাদ্বাদশী ব্রত নিত্যত্বাৎ )
বৈষ্ণবগণ বিষ্ণুশৃঙ্খলে উপবাস না করিয়া শ্রবণ দ্বাদশীতে উপবাস করিতে
পারে, এই অন্যপ্রকার দোষ।
এই দুইটিী দোষকেই বক্ষ্যমাণ দ্বিধাব্ৰত বলা হইয়াছে। ইহাই পূৰ্বপক্ষ।
সিদ্ধান্ত এই,—স্মাৰ্তমতে শক্তাক্ত সকলেই বিষ্ণুশৃঙ্খলে উপবাস করিবে।
শ্রষণা ও দ্বাদশী রাত্রিগত হইলেও শ্রবণা দ্বাদশীতে দিনেই পারণ করিবে।
বৈষ্ণবমতেও বিষ্ণুশৃঙ্খলে উপবাস হইবে; শ্রবণ ও দ্বাদশী রাত্রিগত হইলেও
এবণী দ্বাদশীতে দিনেই পারণ হইবে। দিনেই পারণ বিহিত। ইহা বিস্তৃতভাবে
আগে বগ্নিত হইবে।
৪২ শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা। '? - প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ বিচার। বিষ্ণুশৃঙ্খলকেইপি স্তা দিতাদি। ২৬০ অঙ্ক ধৃত, দ্বাদষ্ঠা মুপবাসস হত্র ইত্যাদি। ২৫৯ অঙ্ক ধৃত, কারিকাগুলি দ্বারা স্পষ্টই বুঝা যাইতেছে,- স্মাৰ্ত্ত মতে প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পরদিন শ্রবণা এবং দ্বাদশী বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া রাত্রিতে প্রবেশ করিলে, রাত্রিতে পারণ না থাকায় শক্ত ব্যক্তি দুই উপবাস অর্থাৎ প্রথম বিষ্ণু শৃঙ্খল ও শ্রবণা দ্বাদশীব্রত করিবে আর অশক্ত ব্যক্তি এক উপবাস অর্থাৎ শ্রবণ। দ্বাদশী ব্রতই করিবে। শক্তাক্ত সকলেই ত্রয়ােদশীতে পারণ করিবে। বৈষ্ণব মতে- বৈষ্ণবের পক্ষে এক উপবাস, অষ্ট মহাদ্বাদশী নিত্য বলিয়া বৈষ্ণবের বিষ্ণু শৃঙ্খলে উপবাস না হইয়া শ্রবণাদ্বাদশীতে উপবাস হইবে, ত্রয়ােদশীতে পারণ হইবে, ইহা সিদ্ধান্ত নহে, ইহা পূৰ্ব্ব পক্ষ। এখন সিদ্ধান্ত বলা যাইতেছে, স্মৰ্ত্ত মতে- শ্রবণা দ্বাদশী প্রসঙ্গে শূণপাণিকৃত তিথিবিবেকে ভবিষ্যপুরাণং। বিষ্ণু শৃঙ্খলকে লক্ষ্য করিয়াই বলা হইয়াছে। একাদশী দিনে রাজন্ শ্রবণা সম্ভবে যদি। একাদশা নুপবসে দৃাদাং ন কদাচন।” একাদশী এবং দ্বাদশী, উভয় দিনে শব: পাইলে একাদশীতে উপবাস করিবে, দ্বাদশীতে কখনও উপবাস করিবে না। “দ্বাদাং ন কদাচন” এই স্থলে দ্বাদশপদে শ্রবণ দ্বাদশী, কারণ একাদশীতে উপবাস সম্ভব হইলে, দ্বাদশীতে উপবাস হয় না; শ্রবণাদ্বাদশা হইলে উপবাস হইতে পারে। একাদশী ও দ্বাদশী উভয় দিনে শ্রবণার যােগেই “দাং ন কদাচন” এই নিষেধ। “একাদশী দিনে রাজন্ শ্রবণা সম্ভবে যদি এই বাক্য দ্বারা একাদশী, দ্বাদশী ও শ্রবণার এক দিনে মিলনই পাওয়া যাইতেছে । তিথিতত্বে শ্রবণা দ্বাদশী প্রসঙ্গে, উভয়দিনে তল্লাভে তু একাদশীযুতা গ্রাহ, যুগাৎ, • ৩ প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ বিচার। ৪৩ “দ্বাদশীচ প্রকৰ্ত্তব্য একাদশীযুত বিভাে। সদা কাৰ্যাচ বিদ্বন্দ্বি বিষ্ণুভক্তেশ্চ মানবৈঃ।” ইতি স্কান্দাচ্চ। উভয়দিনে দ্বাদশীতে শ্রবণা লাভ হইলে একাদশীযুক্ত দ্বাদশীই গ্রাহ, তাহার একারণ যুগ্ম। অন্য কারণ, বিষ্ণুভক্ত পণ্ডিত মানবের একাদশীযুক্ত দ্বাদশীই কর্তব্য। এই স্কান্দবচন। সুতরাং বিষ্ণুশঙ্খলে উপবাস শ্রবা দ্বাদশীতে পারণ হইবে। এখন যুগ্ম তিথি বলা যাইতেছে, তিথিতত্ত্বে দ্বিতীয়া তৃতীয়য়য়া, তুর্থী পঞ্চম, ষষ্ঠী সপ্তম, অষ্টমী নবমো, রেকাদশী দ্বাদণ্ডো, শ্চতুর্দশী পৌঃ মাগো, প্রতিপদ মাবগয়ে। যুগ। যুগ্মং মেলনং পরম্পরাভিসম্বন্ধ। ইতি কাশীরামঃ । দ্বিতীয়া এবং তৃতীয়, চতুর্থী এবং পঞ্চমী, ষষ্ঠী এবং সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী, একাদশী এবং দ্বাদশী, চতুর্দশী এবং পূর্নিমা প্রতিৎ এবং অমাবস্যা; ইহারা যুগ্ম তিথি। যুগ্ম অর্থ মিলন পরস্পর অভিসম্বন্ধ। স্মাৰ্ত্তমতের সিদ্ধান্ত প্রদর্শিত হইল। এখন বৈষ্ণবমতের সিদ্ধান্ত প্রদর্শিত হইতেছে, যিষ্ণুশৃঙ্খল ও অতিদিষ্ট বিজয়া মহাদ্বাদশী ; শ্রবণা দ্বাদশী ও অতিদিষ্ট বিজয়। মহাদ্বাদশী ; কোন দিনে উপবাস হইবে? উত্তর,—বিশৃঙ্খলেই উপবাস হইবে শ্রবণা দ্বাদশীতে পারণ হইবে। প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ, পরদিন শ্রবণা দ্বাদশীতে বিহিত হওয়ায় পিরণ দিনের শ্রবণা দ্বাদশী অতিদিষ্ট বিজয়া মহাদ্বাদশী হইবে না। বিষ্ণুশৃঙ্খলই অতিদিষ্ট বিজয়া মহাদ্বাদশী হইবে । তবে যদি বিষ্ণুশৃঙ্খলের পরদিনে দ্বাদশী দেড় প্রহরের অধিক থাকে, আর শ্রবণা অপর সূর্যোদয়ের সমান বা অধিক হয়, তাহা হইলে পরদিনে প্রকৃত বিজয়া হইবে, বিষ্ণুশৃঙ্খলে উপবাস না হইয়া প্রকৃত বিজয়ায় উপবাস হইবে। এই সিদ্ধান্ত। স্মাৰ্তমত ও বৈষ্ণব মতের সিদ্ধান্ত একইরূপ। বৈষ্ণব পণ্ডিতগণ স্মৃতিশাস্ত্রের অধ্যাপনা না করায়, হরিভক্তি বিলাসের ব্যবস্থাগুলি বিশেষভাবে পর্যালােচনা না করায় বৃদ্ধ পরম্পরা উপদেশ না জানায়, শ্রবণা দ্বাদশীতে ও বিষ্ণুশৃঙ্খলে বিশৃঙ্খল ঘটাইতেছেন। ;
৪৪
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা
পারণ কালনিয়ঃ ।
সচ ব্ৰত বিকল্পে দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খলেচ স্পষ্ট এব। কেবল শ্রবণ নির্ষে তু ন
ভদাদর।
পায়ণ কালটী ব্রতবিকল্পে এবং দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খলে স্পষ্টই আছে। শ্রবণ
দ্বাদশীকে ব্ৰত বিকল্প বলে।
ব্ৰত বিকল্পে যথা
শ্রবণক্ষ সমাযুক্তা দ্বাদশী যদি লভ্যতে।
উপােষ্য। দ্বাদশী তত্র প্রয়ােদা ন্তু পিরণং ২৫১ *
দ্বিতীয়ে বিশৃঙ্খলে যথা
উপোষ্যা দ্বাদশী তত্র ত্রয়োদশ্য ন্তু পিরণং ২৫৬
উভয় ব্রতেই দ্বাদশীয় ।
কেবল শ্রবণার নির্গমে শ্রবণার আদর নাই। দ্বাদশী ও শ্রবণার নির্গম প্রথম
বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ দিনেই হয়, সেইস্থলেই শ্রবণার আদর।
প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণ।
অনুবৃত্তি দ্বয়াে রেব পিরণাহে ভবে দ্যদি।
তাধিক্যে তিথে বৃত্তে ভান্তে সত্যে পিরণ২৬১
টীকাচ দিদর্শনী। দ্বয়ে। স্তিথ্যক্ষয়ঃ দ্বাদশ শবণয়েঃ পিরণাহে অনুবৃত্তি,
বৃদ্ধি ক্রমণাগমঃ। তিথে দ্বাদশ্য। আধিক্যে বৃদ্ধৌ বৃত্তে সতি ভান্তে শ্রবণান্তে
পারণং। এত চ বিষ্ণুশৃঙ্খল যােগাপেক্ষা পূর্বদিনেপবাসাভিপ্রায়েশােহং ।
ইত্যেষা। ২৬১
যদি দ্বাদশী তিথি এবং শ্রবণা নক্ষত্রের পারণ দিনে অনুবৃত্তি অর্থাৎ বৃদ্ধি হয়
তবে দ্বাদশী তিথির আধিক্য হইলে শ্রবণার অন্তে পারণ করিবে। ইহা বিষ্ণু
শৃঙ্খল যােগ অপেক্ষায় পূৰ্বদিন উপবাস অভিপ্রায়ে বুঝিতে হইবে।
নারদীয়ে
তিথি নক্ষত্ৰয়াে যোগে উপবাসে। ভবে যা।
পারণ ন কৰ্তব্যং যাব স্নৈক সক্ষয়ঃ ॥ ২৬১
* ১১ পৃষ্ঠায় অনুবাদ দ্রষ্টব্য।
পারণ কালনিন্নয়ঃ।
৪৫
বে সময় তিথি এবং নক্ষত্রের যােগে উপবাস হয়, সেইস্থলে একের যে পর্যন্ত
ক্ষয় না হয়, সেই পৰ্যন্ত পারণ করিবে না।
খাক্ষস্য সতি চাধিক্যে তিথিমধ্যে হি পিরণং।
দ্বাদশী লঙ্ঘনে দোষে বহুশো লিখিতে যতঃ। ২৬২
টীকাচ দিদর্শনী। ঋক্ষ শ্রবণানক্ষত্র আধিক্যে দ্বাদশীতে বৃদ্ধেী সত্যাং
দ্বাদশী মধ্যে এ পিরণঃ স্যাৎ অত্র ন ঋক্ষান্ত অপেক্ষণীর ইত্যর্থ। ননু ঋক্ষান্তে
পারণং কুৰ্য্যা দিত্যুক্তং তত্র লিপতি দ্বাদশীতি পূৰ্ব্বং দ্বাদশী পারণ নিয়ে।
ইত্যেষ। ২৬২
শ্রবণানক্ষত্রের অধিক্য হইলে অর্থাৎ দ্বাদশী হইতে বৃদ্ধি পাইলে দ্বাদশী মধ্যেই
পারণ করিবে। এখানে নক্ষত্রান্তের অপেক্ষা করিবে না।
এখন প্রশ্ন হইতেছে, ঋক্ষান্তে পারণ করিবে। ইহা উক্ত হইয়াছে ; এই
বিষয়ে বলা যাইতেছে, দ্বাদশী ইত্যাদি।
দ্বাদশী লঙ্ঘনে বহু প্রকার দোষ পূৰ্বে এয়ােদশ বিলাসে দ্বাদশী পারণ নিয়ে
লিখিত হইয়াছে। ২৬২
তথাচোক্তং ভবিষোত্তরে
তিথি নক্ষত্র সংযােগে উপদো যদা ভবেৎ।
তাৰদেব ন ভােক্তব্যং যাবল্লৈকস্যসংক্ষয়।
বিশেষেণ মহীপাল শ্রবণং বর্ধতে যদি।
তিথি ক্ষয়ে ন ভােব্যং দ্বাদশীং নৈব লয়েৎ। ২৬৩
টীকাচ দির্শনী। তাবদিতি। তিথিনক্ষত্র সংযুগং যাবৎ ন ভােব্যং। এক
বিয়ােগেন পিরণং কর্তব্য। অত্রচ দ্বাদশ্যাং সত্যাং তস্য মেব পিরণং, নতু তদতি-
ক্রমেণ ইত্যর্থ। ইতোষা। ২৬৩
-
* তিথিয়েণ একাদশী ক্ষয়েণ ভােক্তব্যং দ্বাদগাং পারয়েদিত্যর্থ। ভত্ৰহেতু
দ্বাদশী মিত্যাদি। ইতি তিথিতত্ত্বে রঘুনন্দন।
রঘুনন্দন “তিথিয়েণ” এইরূপ তৃতীয়া পাঠ করিয়া ব্যাখ্যা করিয়াছেন।
নির্মমৃতকার এবং গােস্বামিপাদ দন্ত্য নকার নির্দেশ করিয়া তিথিয়ে” এইরূপ
সপ্তম্যন্ত পাঠের সমর্থন করিয়াছেন।
৪৬ শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা। পারণ কালনিগ্নয়:। যখন তিথিনক্ষত্র সংযে'গে উপবাস হয়, তখন তাহার পারণ কিরূপ হইবে ? ইহাই কথিত হইতেছে। হে মহীপাল ! যে পর্যন্ত তিথি নক্ষত্রের সংযােগ থাকে, সেই পৰ্য্যন্ত পারণ করিবে না; ত মধ্যে একের, ক্ষয় হইলেই পারণ করিবে। বিশেষ এই,যদি দ্বাদশী হইতে শ্রবণা বৃদ্ধি হয়, তবে তিথিক্ষয়ে ভােজন করিবে না ; দ্বাদশীতেই ভােজন করিবে। দ্বাদশী লঙ্ঘন করিবেই না। এবং দ্বয়য়া নিশা ব্যাপ্তে চাহ্নি পারণ মীরিতং । ন রাত্রে পিরণং কুৰ্য্যাদিতি হত্র সমতং (১) অতো রাত্রিগতে দ্বাদগংশে। মাত্র বিচাৰ্য্যতে। অতাে বন্ধত হতাহ পারণা সময়াত্যয়ং। যতো রাত। বৃক্ষলা বাপ দ্বাদশ্যতিক্রম। অতঃ কৃতং পেনিরুক্তং দ্বাদশীং নৈব লঘয়েৎ ॥ এবারেণ চ পুন স্তদেব নিরধারি যৎ। দ্বাদনাদরে। নাতঃ কাৰ্য্যো ভতু স স্মৃতঃ। ২৬৩ এইপ্রকার দ্বাদশী ও শ্রবণা রাত্রি পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত হইলে দিনেই পারণ করিবে । “রাত্রিতে পারণ করিতে নাই।” ইহার বিষয় অন্যত্র। অতএব রাত্রি গত দ্বাদশীর অংশ বিচারের বিষয়ীভূত নহে। অতএব “শ্রবণং বর্ধতে যদি এই “বৰ্দ্ধতেইহা দ্বারা পিরণ। সময়ের অতিক্রমকেই বুঝাইয়াছে। যেহেতু বৃদ্ধি প্রাপ্ত শ্রবণার অন্তে পায়ণ করিলে, দিবাতে শ্রবণার লাভ লইলে ও দ্বাদশীর অতিক্রম হয় এবং রাত্রিতে শ্রবণার লাভ হইলেও দ্বাদশীর অতিক্রম হয়। অতএব পুনরুক্তি করা হইয়াছে। “দ্বাদশীং নৈৰ লঘয়েৎ” দ্বাদশী লঙ্ঘন করিবেই না। “নৈব লঙ্ঘয়েৎ” এই ‘এব” শব্দদ্বারা দ্বাদশীতে পারণেরই নির্ধারণ করা হইয়াছে। অতৰ দ্বাদশীর অনাদর কর্তব্য নহে; পরন্তু নক্ষত্রেরই অনাদর কর্তব্য। স্কানে যা কাচ্চি থিয়ঃ প্ৰােক্তাঃ পুণ্যা নক্ষত্ৰযোগিতঃ। ঋক্ষান্তে পারণং কুৰ্য্যা দ্বিন। শ্রবণ রােহিণীং ॥ ২৬৩ (১) ন রাত্রে পিরণং কুৰ্য্যা দূতে বৈ রােহিণী ব্ৰতাৎ। " পারণ কালনিগ্ন য়ঃ । ৪৭ নক্ষত্রযােগে যে সকল তিথি পুণ্যা বলিয়া কথিত হইয়াছে। তমধ্যে রােহিণী ও শ্রবণা ভিন্ন সমস্ত তিথিরই নক্ষত্রান্তে পারণ হইবে। কিন্তু রােহিণ ও শ্রবণার মধ্যেই পায়ণ হইবে। পারণ বিচার, সন্দেহ নিরাস ভয়ােদাং পারণন্তু নৈত দ্বিষয় মুচ্যতে। ত্রয়োদশা মপীত্যেত দনুক্তে রদ্বিধা ততঃ | প্রত্যুত্র তু শব্দেন তস্যৈকত্ব প্রদর্শিতং। পৰ্যশ্যে দতো যুক্ত্যা দ্বাদশীয় এব তং । তথাপি সন্দিহানশ্চে দগৃহীয়া চরণামৃতং। পারণায়াঃ পঃ সম্যক্ পূরকং তদ্ভবে দযতঃ॥ ২৬৩ এখন প্রশ্ন হইতেছে- “দ্বাদশা মুপসে হত্ৰ এয়ােদাত্ত পারণম্।” প্রথম বিশৃঙ্খলের পরদিনে দ্বাদশী এবং শ্রবণা রাএিপর্যন্ত পরিব্যাপ্ত হইলে, রাত্রিতে পারণের নিষেধ বলিয়া রোদশীদিনে এয়োদশীদিনে এয়ােদশীতে পারণ হইবে, এই আভাসে বলা যাইতেছে, এয়ােদামিতি। এয়ােদশীতে যে, পারণ তাহা প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খল বিষয়ক নহে, ইহা দ্বিতীয় বিষ্ণু- শৃঙ্খল বিষয়ক। প্রথম বিষ্ণুঙ্খলে এয়ােদশীতে পারণের বিধান থাকিলে “মেদশ্যামপি এইরূপ পাঠ হইত। কেবল ষ্ণে দ্বাদশীতে পারণ তাহা নহে, এয়ােদশীতেও পারণ হইবে। অপি শব্দদ্বারা এই অর্থ ই লাভ হইত। তাহা হইলে বিষ্ণুশৃঙ্খলে উপবাস, শ্রবণাদ্বাদশীতে পারণ, এই একপ্রকার । বিষ্ণুশৃঙ্খলও শ্রবণাদ্বাদশীতে উপবাস করিয়া ওয়ােদশীতে পারণ, এই অন্য প্রকার। এই দুই প্রকার পারণ হইত। “য়ােদা মপি” এইরূপ পাঠ যখন উক্ত হয় নাই, তখন দুইপ্রকার পারণ হইবে না। প্রত্যুত “য়ােদান্তু পারণং” এইস্থলে “তু” শব্দ দ্বারা পারণের একই প্রদর্শিত হইল। এয়ােদশীতে যে পারণ, তাহা যুক্তি অনুসারে দ্বাদশীক্ষয়েই (১) (১) বৈষ্ণবোপবাস ব্রতমীমাংস। দ্বিতীয় বিষ্ণুশৃঙ্খলে যুক্তি দ্রষ্টব্য।
৪৮
শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা।
পারণ কালনিয়ঃ।
পৰ্যবসান। দ্বাদশী বৃদ্ধিতে নহে। দুই উপবাসে অনুরাগী দিগকে লক্ষ্য করিয়া
বলা হইয়াছে,
তথাপি যদি কেহ সন্দিহান হয়, তবে চরণামৃত গ্রহণ করিবেন। যে হেতু
চরণামৃতই পারণের সম্যক্রূপে শ্রেষ্ঠ পূরক বটে।
কালমাধবীয়ে
উপবাসেধু সর্বেষু পূর্বাহ্নে পারণং ভবেৎ।
সমস্ত উপবাসেই পূর্বাহ্নে পারণ হইবে।
তত্রৈব প্রতিপৎ প্রকরণে
তিথ্যন্তে চৈব ভান্তে চ পিরণং বত্র চোদ্যতে।
যামব্রয়ােজবত্তিাং প্রাতরেব হি পারম্ ।
তিথ্যন্তে কিম্বা নক্ষত্রান্তে যেখানে পারণ কথিত হইয়াছে। তথায় তিথি
কিম্বা নক্ষত্র যাময়ের (সাড়েতিনপ্রহরের) উদ্ধবর্তিনী (অধিক) হইলে; প্রাতঃ
কালেই পারণ করিবে
তিথি কিম্বা নক্ষত্র কিম্বা তিথিনক্ষত্র উভয়ই রাত্রি ব্যাপিয়া অৰস্থিতি করিলে
কোন সময় পারণ হইবে ? এই আভাসে বলা যাইতেছে’
গৌতমীয়ে স্ফট মেব উক্তম্।
যক্ষ বা তিথি বাপি রাত্রিং ব্যাপ্য ব্যবস্থিত।
দিবসে পিরণং কুৰ্য্যা দৃথা পতনং ভবেৎ। ২৬৩
গৌতমীয়ে স্পষ্টভাবেই উক্ত হইয়াছে-
নক্ষত্রই হউক বা তিথিতই হউক রাত্রি ব্যাপিয়া অবস্থিতি করিলে দিনেই
পারণ করিবে। দিনে পিরণ না করিলে পতন হইবে।
পিরণাহেতু দ্বাদশ্যঃ শ্রবণায়াশ্চ বৃদ্ধিতঃ।
রাত্রে তু পারণাভাবা দ্যক্তং কং ব্রত দ্বয়ম্ ॥ ২৫৭
বিষ্ণুশৃঙ্খলকেইপি স্যা দৃত্তি নিশি পরত্র চ।
যাধিক্যা তিথিভয়াের শক্ত কুৰ্য্যা দ্রুত দ্বয়ম্।
পারণায়। অনোচিত তাবত্যাং নিশি চে গুবেৎ।
সারব্যবস্থা। ৪৯ অশক্ত ওরং কুৰ্য্যা দ্যোগতৈবা গৌরাৎ। দ্বাদশ্য। মুপবাসস হত্ৰ এয়ােদশ্য ন্তু পারণম্ ॥ ২৫৯ গােস্বামিপদ বিষ্ণুশৃঙ্খলের পারণের বিচারে যে, এই সকল কারিকার উল্লেখ করিয়াছেন, তাহা পূৰ্বপক্ষরূপে, সিদ্ধান্তরূপে নহে, যে হেতু পারণ দিনে তিথি- নক্ষত্র রাত্রি পর্যন্ত অবস্থিতি করিলে দিনেই পারণ বিহিত এবং তিথিনক্ষত্র যাম- জয়ের উদ্ধে গমন করিলে প্রাতেই পারণ বিহিত হইয়াছে। বিষ্ণুশৃঙ্খলের পরদিনে তিথি ও নক্ষত্রের রাত্রিতে স্থিতি হইলে, শক্তের দুই উপবাস, অশক্তের পরদিন উপবাস যে হইবে না, তাহা পাঠক এখন বুঝিতে পারিলেন। যাহার। শক্তাশক্তভেদে দুই উপবাস ও এক উপবাসের ব্যবস্থা দিয়া থাকেন, তাহারা ভ্রান্ত কি না বিবেচনা করিবেন। এখন সার ব্যবস্থা বলা যাইতেছে, সাব্যবস্থা নিত্য উপবাসের পর যেমন কাম্য উপবাসের ব্যবস্থা আছে, সেইরূপ উপযুপরি দুইটা নিত্য উপবাসের ব্যবস্থা নাই, নিষেধ আছে। একাদশীও নিত্য, শ্রবণাদ্বাদশীও নিত্য, তখন “পারণান্তং ব্রতং জ্ঞেয়ং” ইত্যাদি বচন দ্বারা দুই উপবাস নিষিদ্ধ হওয়ায় শ্রবণাদ্বাদশীতে উপবাস হইবে। ত্রয়ােদশীতে পারণ হইবে। পূৰ্বদিন বিষ্ণুঙ্খল, পরদিন শ্রবণাদ্বাদশী। এইরূপ স্থলে বিষ্ণুশৃঙ্খলে উপবাস শ্রবণদ্বাদশীতে পারণ হইবে। তথাহি দ্বাদশ্যেকাদশী বাস্তা দুপােয়া শ্রবণান্বিতা। বিষ্ণুশৃঙ্খলযােগশ্চ তত্ত্বয়ং মিশ্রিতং যদি ২৫১ টাকা চ দির্শনী। দ্বাদশীতি। শ্ৰৰণানক্ষত্রযুক্তা যদি দ্বাদশী ত্যা হুদা শক্তৈ রশক্তৈশ্চ সর্বৈ রেব দ্বাদশ্যে বােপোষা। যদি বা একাদশী শ্রবণান্বিতা স্যাৎ, দ্বাদাং শ্রবণং নাস্তি, তদা সর্বৈ রেকাশ্যে বােপােষা। ৭ ৫০ শ্রবণাদ্বাদশীব্রতমীমাংসা । স সারব্যবস্থা। যদি চ তিথিয়াৎ ইয়ং দ্বাদশ্যেকাদশী শ্রবণঞ্চ মিশ্ৰিতং, একস্মিবে দিনে অন্যোন্য মিলিতং স্যাৎ, তদ। বিষ্ণুশৃঙ্খলল নাম যােগ। বিষ্ণুদৈবত্যানাং এয়াণা মেব তেষা মেকত্র শৃঙ্খলাব থিতত্বাৎ। ততশ্চ স এবােপােষা ইত্যর্থ। তত্তদ্বিশেষ উদাহরিমাণ বচনতাে হর্থে ব্যক্তো ভাবী। ইত্যেষা। ২৫১ তিথিক্ষয়াদিত্যনেন তিথিবৃদ্ধাবপত্যায়াত। ১। শ্রবণা নক্ষত্র যুক্তা যদি দ্বাদশী হয়, তাহা হইলে শক্ত এবং অশক্ত সকলেই দ্বাদশীতেই উপবাস করিবে। একাদশীতে করিবে না। এব’ শব্দ একাদশীর ব্যাবৰ্ত্তক। ২। যদি বা একাদশী শ্রবণান্বিত হয়, দ্বাদশীতে শ্রবণার যােগ না থাকে, তাহা হইলে সকলেই একাদশীতেই উপবাস করিবে। বামন দ্বাদশ বলিয়া দ্বাদশীতে উপবাস করিবে না। এব’ শব্দ দ্বাদশীর ব্যাবৰ্ত্তক। যদি চ-এদশী তিথির হ্রাস বশতঃ একাদশী দ্বাদশী ও শ্রবণা এই তিনটী এক দিনে পরস্পর মিলিত হয়, তাহা হইলে তাহাকে বিষ্ণুশৃঙ্খল নাম যােগ বলে। কারণ, সেই তিনেরই দেবতা বিষ্ণু। তাহারা একত্র শৃঙ্খলের ন্যায় গ্রথিত। সেই হেতু বিষ্ণুশৃঙ্খলেই উপবাস করিবে। যদি বা প্রথম বিষ্ণুশৃঙ্খলের পর দিনে দ্বাদশ ও শ্রবণার নির্গম হয়, তাহা হইলে বিষ্ণুশৃঙ্খলেই উপবাস করিবে, পরদিন শ্রবণা দ্বাদশীতে উপবাস করিবে না। এব’ শব্দ শ্রবণা দ্বাদশীর ব্যাবৰ্ত্তক। সেই সেই বিশেষ উদাহরিষ্যমাণ বচন হইতে আগে প্রকাশ পাইবে। গােস্বামিপদ পূর্বে সার ব্যবস্থা লিখিয়া পরে বচন দ্বারা তাহা প্রমাণ করিয়াছেন। আমরা পূর্বে বিচারসহ প্রমাণ বচন সকল লিখিয়া পরে সার ব্যবস্থা লিখিলাম। * ইতি শ্ৰীস্বরূপ দামোদর গােস্বামি ভাতৃবংশােদ্ভব শ্রীনন্দকুমার গােস্বামি তত্বনিধি কাব্যতীর্থ প্রণীতা শ্রবণা দ্বাদশী ব্রত মীমাংসা সমাপ্তা।
৭
যােশ বিলাসে
গােবর্ধন পূজা মীমাংসা ।
শ্রীকৃষ্ণদাস বৰ্য্যো হয়ং শ্রীগগাবর্ধন ভূধর।
শুক্লাপতিপদি প্রাতঃ কার্তিকে হচ্চো হত্ৰ বৈষ্ণবৈ | ১১৮
প্রাতরিতি। পূর্বাহ্নে তাৎপৰ্যকং।
শ্রীকৃষ্ণ ভক্তমধ্যে শ্রেষ্ঠ এই গােৰ্ধন পৰ্বত কার্তিকমাসে শুক্লা প্রতিপদে প্রাতে
অর্থাৎ পূর্বাহ্নে বৈষ্ণবগণ কর্তৃক পূজিত হন।
ইদং কৰ্ম্ম গােবর্ধন প্রাধানে গাে প্রান্তে ন চ খ্যাত।
এই গােবন পূজা গােবর্ধন প্রাধান্যে এবং গাে প্রাধান্যে প্রসিদ্ধ।
এই গােবর্ধন পুজায় গােবন পূজা এবং গগগণের পূজা করিতে হয়।
নিয়ামৃতে পুরাণান্তর বচনং।
যা কুহুঃ প্রতিপন্মিশ্র তত্র গাঃ পূজয়ে নুপ ?
পূজামাত্রেণ বর্ধন্তে প্রজা গাবদা মহীপতিঃ ॥ ১১৮
হে নৃপ! অমাবস্যাযুক্ত প্রতিপদে গােগণের এবং গাের্ধনের পূজা করিবে।
পূজামাত্রে প্রজা গােগণ ও ভূপতি বর্ধিত হয় অর্থাৎ সম্পদ সম্পন্ন হয়।
দেবলঃ।
প্রতিপদর্শ সংযোগে পূজন স্তু গৰাং যতম্।
পরবিদ্ধা ন্তু যঃ কুৰ্য্যাৎ পুত্র দ্বার ধন ক্ষয়ঃ ॥ ১১৮
অমাবস্যাযুক্ত প্রতিপদে গােবর্ধন পূজাও গােগণ পূজা করিবে। পরবিদ্ধা
অর্থাৎ দ্বিতীয়াযুক্ত প্রতিপদে করিবে না। যে দ্বিতীয়াযুক্ত প্রতিপদে পূজা করে,
তার স্ত্রী পুত্র ও ধন ক্ষয় প্রাপ্ত হয়।
নায়াং দর্শনে রক্ষা * বলিদানং দশাচ।
ভদ্রায়াং গােকুলক্রীড়া দেশনাশায় জায়তে। ১১৮
পোমাস্যাৎ হরে রক্ষাবন্ধনং বিধিপূর্বকং।
কুমারত্ব কচি দিচ্ছক্তি সাধষঃ।
গগাবর্ধন পূজা মীমাংসা। চত্তৰ্দশীযুক্ত পুঞ্জি মায়াং রক্ষাবন্ধন বিধানং প্রতিপদযুক্ত পূর্গিমায়া নিষেধ। দেৰ পূজায়াং তিথি সামাষুে বলিদান বিধানং দশমীমু নিষেধ। অমাবস্যাযুক্ত প্রতিপদি গােকুলক্রীড়া বিধানং দ্বিতীয়াযুক্ত প্রতিপদি নিষেধ। ইত্যাদ্যাভাসেনাহ নন্দায় মিতি। নায়াং পূন্নাযুক্ত নন্দায়াং পূগ্নিমাযুক্ত প্রতিপদি দর্শনে সতিয়া রক্ষাবন্ধনং দশা দশমীধু বলিদানং ভদ্রায়াং নন্দাযুক্ত ভট্রায়াং প্রতিপদযুক্ত দ্বিতীয়ায়াং গােকুলক্রীড়া গােবৰ্ধনপূজা গং পূজাচ দেশনাশায় জায়তে ভবতি। চত্তৰ্দশীযুক্ত পূর্নিমাতে রক্ষাবন্ধনের বিধান, প্রতিপদযুক্ত পূর্ণিমাতে নিষেধ। দেবপূজায় তিথি সামান্যে বলিদানের বিধান, দশমীতে নিষেধ। অমাবস্যাযুক্ত প্রতিপদে গােবর্ধন পূজা ও গােগণের পূজার বিধান, দ্বিতীয়া- যুক্ত প্রতিপদে নিষেধ। ইত্যাদি আভাসে বলা হইয়াছে নায়ামিত্যাদি। প্রতিপদযুক্ত পূর্গিমাতে রক্ষাবন্ধন, দশমীতে বলিদান, দ্বিতীয়াযুক্ত প্রতিপদে গােকুলক্রীড়া অর্থাৎ গােবন পূজাও গােগণের পূজা দেশনাশের জন্যই হয়। দ্বিতীয়াযুক্ত প্রতিপদেও গােবর্ধন এবং গােগণের পূজা হইতে পারে, যদি রাত্রিতে চন্দ্র দর্শনের সম্ভাবনা না থাকে। উৎকল স্মৃতৌ উদয়ে পূর্বয়া তিথ্য। বিধ্যতে ত্ৰিমুহূর্তকে। সায় প্রয়া তদন্ন ব্যুনা বেধ মহতি । উদয়ে পূৰ্ব্বতিথির সহিত পতিথির ত্রিমুহূৰ্ত্ত দ্বারা বেধ হয়, সায়াহ্নে পতিথির সহিত পূৰ্ব্বতিথির মুিহূৰ্ত্ত দ্বারা বেধ হয়। এই ত্রিমুহূর্ত বেধ কোন কোন কাৰ্য্যে আবশ্যক হয়। চন্দ্রদর্শনেও তিমুহূৰ্তবেধের আবশ্যকতা আছে। পুরাণ সমুচ্চয়েতু- সম্ভাবিত চন্দ্রোদয় দ্বিতীয় সংযোগ এব নিষিদ্ধ্যতে। গং ক্রীড়াদিনে চৈব রাত্রে দৃশ্যেত চন্দ্রমা। সােমমা রাজা পশু হন্তি সুরভী পূজাকাং শুথা। ১১৮ রাজেত্যাধ। রাজা রাজানং।
} গােবর্ধন পূজা মীমাংসা। পুরাণ সমুচ্চয়ে,-যে প্রতিপদহুক্ত দ্বিতীয়াতে চন্দ্রোদয়ের সম্ভাবনা থাকে, সেই দ্বিতীয়াযুক্ত প্রতিপদেই গােবন পূজা ও গােগণের পূজা নিষিদ্ধ। যথা- গােৰন্ধন পূজা ও গােগণের ক্রীড়া অর্থাৎ পূজা-দিবসে রাত্রিতে চন্দ্র দৃষ্ট হইলে সেই চন্দ্র রাজা, পশু এবং সুরভী পূজকদিগকে বিনাশ করে। এখন সম্ভাবিত চন্দ্রোদয় বর্মিত হইতেছে, নিগ্নয়াতে। প্রতিপদ্যাপরাহ্নিক তিমুহূৰ্তব্যাপিং দ্বিতীয়ায়াং চন্দ্রদর্শনং সম্ভাব্যতে। তদুক্তং মগ্নাধান বিষয়ে বৃদ্ধশাতপেন। দ্বিতীয়া তিমুহূৰ্তা চেৎ প্রতিপদ্যাপরাহিকী। অগ্নাধানং চত্তৰ্দশ্যাং পরতঃ সোমদর্শনাৎ ১১৮ দ্বিতীয়া তিমুহূর্ত ষষ্ঠাং আপরাহ্নিক্যাং সা। পরতঃ পরদিনে প্রতিপদি আপরাহিকী দ্বিতীয় বিমুহূৰ্তা চেৎ তদা সােমদর্শনাৎ চন্দ্ৰদৰ্শনাৎ চত্তৰ্দশ্যাং আগাধানং গৎ। প্রতিপদ তিথিতে অপরাহ্নে ত্রিমুহূৰ্ত্ত ব্যাপিনী দ্বিতীয়া হইলে চন্দ্র দর্শনের সম্ভাবনা আছে। অগ্ন্যাধান বিষয়ে বৃদ্ধ শাতাতপ তাহা বলিয়াছেন, “পরদিন অপরাহ্নে প্রতিপদে দ্বিতীয়া ত্ৰিমুহূৰ্ত্তব্যাপিনী হইলে চন্দ্রদর্শনের সম্ভাবনা আছে.বনিয়া চতুর্দশীতে অগ্নাধান হইবে। যত্র প্রতিপদি যমুহূৰ্ত্ত ব্যাপিনী দ্বিতীয়া তত্র চন্দ্রদর্শন সম্ভাবন মিতি। যে প্রতিপদে সমুহূৰ্ত্ত ব্যাপিনী দ্বিতীয়া হয়,সেই প্রতিপদে চন্দ্রদর্শনের সম্ভাবনা। কেহ বলেন প্রতিপদে সায়াহ্ন বিমুহূৰ্ত্ত ব্যাপিনী দ্বিতীয়া হইলেও চক্ৰদৰ্শন হয়। এইজন্য দ্বিতীয় দিনে প্রতিপৎ সাড়ে তিন প্রহর থাকিলে গােবর্ধন পূজা হইতে পারে। পুরাণ সমুচ্চয়ে। বর্ধমান তিথৌ নদা যদা সাদ্ধ ত্রিমিকা। দ্বিতীয় বৃদ্ধিগামিত্ব দুত্তরা তত্র চোচ্যতে। যদি তিথি বৃদ্ধি ক্রমে না অর্থাৎ প্রতিপদ দ্বিতীয় দিনে সাড়ে তিন প্রহর -
৫৪
গােবর্ধন পূজা মীমাংসা।
থাকে, দ্বিতীয়াও বৃদ্ধিগামিনী হয়, তাহা হইলে অমাবস্যাযুক্ত প্রতিপদে গোবর্ধন ও
গােগণের পূজা না হইয়া দ্বিতীয়াযুক্ত প্রতিপদেই পূজা হইবে।
প্রতিপদের বৃদ্ধিতে ও রুয়েতে ও দ্বিতীয় দিনে প্রতিপদ সাড়ে তিন প্রহর বা
অধিক থাকিলে সেই দিনেই পূজা হইবে।
দ্বিতীয় দিনে প্রতিপৎ–সাড়ে তিন প্রহরের কম হইলে চন্দ্র দর্শনের সম্ভাবনা
থাকে বলিয়া পূর্বাহ্নে অমাবস্যাযুক্ত প্রতিপদে পূজা হইবে, তাহা সম্ভব না
হইলে প্রতিপদযুক্ত অমাবস্যাতেও পূজা হইতে পারিবে।
এই বিষয়ে প্রমাণ,
যা কুহুঃ প্রতিপন্মিশ্র তত্রগা পূজয়ে নূপ।
প্রতিপক্ত অমাবস্যাতে গােবর্ধন ও গােগণের পূজা করিবে।
ইতি গােবর্ধনপুজা দিন নিগ্নয় ।
* ইতি নন্দ কুমার গােস্বামি তত্ত্বনিধি কাব্যতীর্থ কৃতা
গােবর্ধনপূজা মীমাংসা সমাপ্তা।
রাসযাত্রা মীমাংসা ।
রমণমিতি রাসঃ। নিপাতনে সিদ্ধঃ।
‘ন দিবা রময়েৎ কদা” ইত্যাদিচনাৎ দিবারাসনিষেধ।
রমণস্থানে রাস’ শব্দ নিপাতনে সিদ্ধ।
“দিবাতে কখনও রমণ করিবে না” ইত্যাদি বচনানুসারে দিবাতে রাসের
নিষেধ।
ভগবান পূর্ণচন্দ্রে পূর্মিমাতে রাসলীলা করিয়াছিলেন।
দৃষ্ট। কুদুদ্বন্ত মখণ্ডমণ্ডলং” ইত্যাদি শ্রীভগবতীয়বচনে অখণ্ডমণ্ডল মিতি
তত্তিখাবেৰতাৎপৰ্যং, শেষক্ষণে অখণ্ডমণ্ডলত্বেন রাসলীলায়াঃ অনুপপত্তেঃ।
শীভাগবতীয়বচনে অখণ্ডমণ্ডলং” ইহার তত্তিথি অর্থাৎ পূর্ণিমা তিথিতেই
তাৎপৰ্য্য, কারণ শেষক্ষণে অখণ্ডমণ্ডল হয় বলিয়া রাসলীলার অনুপপত্তি হয়।
অতএব পূর্ণিমা তিথিতেই রাসযাত্রা হইবে।
কার্তিকে পৌঃমাস্তান্তু রাসযাত্রা মহানিশি।
নন্দনােঃ প্ৰকৰ্তব্যা মহা বিভব বিস্তরৈঃ ।
ইহলােকে সুখং প্রাপ্য অন্তে বিষ্ণুপুরং ব্রজেৎ।
পূজা কাৰ্যাৰ্ধ রাত্রে তু নয়েৎ শেষং মহােৎসবৈঃ।
গীতৈ নানাবিধৈ বাদ্যৈ বেণুবীণামৃদঙ্গকৈঃ ॥ ইত্যাদি।
মহাবিভৰৰ বিস্তরে যেষাং তে।
ধনবান ব্যক্তিগণ কার্তিক মাসের পূর্নিমায় মহানিশিতে শ্রীকৃষ্ণের রাসযাত্রা
করিবে। রাসযাত্ৰা কৰিলে ইহলােকে সুখলাভ করিয়া পরকালে বিষ্ণুলােকে
গমন করিবে। অর্ধরাত্রে পূজাকাৰ্য সম্পন্ন করিবে। পরে গীত নানাবিধ বেণু
বীণা মৃদঙ্গাদি বাদ্য মহােৎসব দ্বারা অবশিষ্ট রাত্রি যাপন করিবে।
উত্তীর্মে সায়ং সময়ে গােপপ্যা বৃন্দাবনং বযুঃ।
রাসক্রীড়াং তত তাতি ক্রেচ জগদীশ্বর।
গােপ্যোরাসক্রীড়া ঋতুঃ পৌঃমস্যাং মহানিশি।
ন পক্ষি নিনদ শুত্র ন ঝলী নিনস্তথা।
রাসযাত্রা মীমাংসা । মহানিশা দে ঘটিকে রাত্রে মধ্যম যাময়েঃ । তদপ্রাপ্তৌ চ কৰ্তব্যং পৌঃমাস্তাং নিশামূখে । এবং রাসক্রীড়ং বস্তু কারয়েৎ ভূৰি মানব। স সৰ্ব্বং দুষ্কৃতং ত্যক্ত। নিৰ্বাণ মুক্তি মায়াৎ ॥ ইতি শব্দকল্পদ্রুম ধৃত উৎকল কলিক।। সায়ং সময় উত্তীর্ঘ হইলে গােপীগণ বৃন্দাবন গমন করিয়াছিলেন, অনন্তর জগদীশ্বর শ্রীকৃষ্ণ গােপীগণের সহিত রাসক্রীড়া করিয়াছিলেন, ভগবান সহ গােপী- গণ পূর্ণিমায় মহানিশিতে রাসক্রীড়া করিয়াছিলেন। সেই সময় পক্ষিগণের কলধ্বনি ও বীল্লীরব অর্থাৎ ঝঝ পােকার শব্দ ছিল না। (মহানিশা তু বিজ্ঞেরা মধ্যমং প্রহর দ্বয়ং) রাত্রির মধ্যম দুই প্রহর মহানিশা হইলেও তন্মধ্যে পারিভাষিক রাত্রির মধ্যম দুই ঘামের দুই ঘটিকা মহানিশা। অর্থাৎ সতর আঠার দও রাত্রি। মহানিশায় রাসযাত্রা করিবে। তাহার অপ্রাপ্তিতে অর্থাৎ মহানিশা সম্ভব না হইলে পূর্ণিমা তথিতে নিশামুখে রাসযাত্রা করিবে। সন্ধ্যা হইতে চারিদণ্ড রাত্রি পর্যন্ত ‘নিশামুখ'। অভিজিৎ সময়ব্যাপি-পৌঃমাসী যদা ভবেৎ। তদা বাসােৎসবঃ কাৰ্যোনচ যুগ্ম মপেতে। অভিজিৎ সময় ব্যাপিনী পোর্ঘ মাসী যখন হয়, তখন রাস উৎসব করিবে। যুগ্ম অর্থাৎ দুই দিনে করিবে না। অভিজিৎ মুহূর্তকালের নক্ষণা করিলে অভিজিৎ সময় সপ্তদশ দণ্ড। অভিজিৎ নক্ষত্ৰকালের নক্ষণা করিলে অভিজিৎ সময় উনবিংশ দণ্ড। সুতরাং অভিজিৎ সময় মহানিশার উপলক্ষণ। মহানিশা অষ্টাদশ দণ্ড রাত্রি। এই বচনটী রাস বিবেকে, রাসতত্বে, উৎকল কণিকায় নাই। বচনটা অমূলক বলিয়া বােধ হয়। এই বচনটীর ‘অভিজিৎ সময়’ অভিজিৎ অর্থাৎ দিবসের অষ্টম মুহূৰ্ত্ত অর্থ গ্রহণ করিয়া কেহ বলেন, যেদিন দিবাতে সতর দণ্ড পূৰ্ত্তিমা থাকে, সেই দিন রাত্রিতে প্রতিপদে রাসযাত্রা হইবে। দিবাতে রাসযাত্রা নিষেধ, পূগ্নিমা রাত্রে বিধান। রাসযাত্রা প্রতিপদে হইবে না। এই মত অসঙ্গত। কেহ বলেন, অভিজিৎ সময় উনিশ দও। যে দিন রাসযাত্ৰা মীমাংসা। পূর্ণিমা উন্নিশ দণ্ড রাত্রি প্রাপ্ত হয়, সেই দিনেই রাস হইবে। এই মত সঙ্গত। যে দিন পূৰ্ণিমা মহানিশা পাইবে, সেই দিন রাস হইবে। চতুর্দশী যুক্ত পুর্নিমায় মহানিশা পাইলে সেই দিনে রাসযাত্রা হইবে, অথবা প্রতিপদ পূর্নিমায় মহানিশা পাইলেও সেইদিন রাসযাত্রা হইবে। উভয় দিনে মহানিশা পাইলে যুগ্ম বলিয়া পূৰ্ব দিন, * উভয় দিনে মহানিশা না পাইলে বিশিমুখে পরদিনে রাসযাত্রা হইবে। ফলকথা-চতুর্দশী দিন রাত্রিতে এক ঘামের অর্থাৎ এক প্রহরের পর পূর্মিমা আর হইলে সেই দিনেই রাস হইবে, নচেৎ পূর্নিমা দিন রাত্রিতে মহা নিশা পাইলে মহানিশায়, না পাইলে নিশামুখে রাস হইবে। রাকেশ কররঞ্জিতং” শ্রীভাগবতের এই বচন অবলম্বন করিয়া কেহ বলেন- প্রতিপযুক্ত পূর্নিমাতে রাস হইবে, চতুর্দশীযুক্ত পূর্নিমাতে রাস হইবে না। ইহা অযুক্ত, কারণ ‘রাকা’ শব্দে পূগ্নেন্দুকে বুঝায়, চতুর্দশীযুক্ত বা পূর্গিমাযুক্তকে বুঝায় না। পূর্নিমা তিথির ক্ষয়ে এবং পূর্নিমা তিথির বৃদ্ধিতে ‘পূর্ণেন্দু থাকিবে। পূর্ণেন্দু শব্দে পূর্নিমাকে বুঝাইতেছে । কৃষ্ণাষ্টমী দলাদুদ্ধ যাবৎ শুক্লাষ্টমীদলং। তাবদেব শশী ক্ষীণঃ পূঃস্তস্যোপরিস্থিতঃ । কৃষ্ণাষ্টমী দল হইতে আরব্ধ হইয়া শুক্লাষ্টমী দল পর্যন্ত শশী ক্ষীণ হন, অর্থাৎ ইহাকে ক্ষীণচন্দ্র বলে। তাহার উদ্ধে পূর্ণ চন্দ্র। শুক্লা নবমী হইতে আর হইয়া কৃষ্ণা সপ্তমী পর্যন্ত পূর্ণ চন্দ্র। পূর্নিমা তিথিতে ‘পূগ্নেন্দু ব্যবহার আছে। যদা চাস্তমিতে সূর্যে পূর্ণ চন্দ্র চোদগমঃ। রাকাং তা মনুমন্তে দেবতাঃ পিতৃভিঃ সহ। সূৰ্যাস্ত সময়ে পূর্ণচন্দ্রের উদয় হইলে পিতৃগণ সহ দেবগণ তাহাকে রাকা বলিয়া জ্ঞাত আছেন। চতুর্দশীযুক্ত কিম্বা প্রতিপ দ্যক্ত পূর্নিমায় অস্ত হইতে পারে। * চতুর্দশী ও পূর্মিমা যুগ্ম তিথি। ইতি রাসযাত্রা। ইতি শ্রীনন্দকুমার গোস্বামি তত্ত্বনিধি-কাব্যতীর্থকৃত রাসযাত্রা-মীমাংসা সমাপ্তা।* .
জিপত্র। পংবি যিত্তি বিচাখা। চান্য ফলবিশেষ চা কলবিশেষ একাদণী আহুতই ব্যভিচারিত দ্বাদশী শ্রবণযুক্ত ২৩ বিডি বিচাাত্র চা ব্রত ফলবিশেষ চাত ব্ৰত ফলবিশেৰং একাদশী জহুতই ব্যভিচারিং দ্বাদশী শ্রবণযুক্ত শ্রবণদ্বাদশীব্রত নিয়ে দ্বাদশীকে একাদশী দ্বাদশীতে দ্বাদশবাদশী ন চাৰেতি ২৩ এবণশীব্রত নিয়ে দ্বাণীকে একাদশীর শীতে দ্বশদ্বাদশী চায়েতি উপাস পারণা ভাৰা দযুক্ত গৌরাৎ উপবাস পারণাভাব, গৌরবাৎ ১ : বং পূণিমায়াৎ প্রতিপদযুক্ত পৌ মাসী পুর্ণিমায়া প্রতিপদক পৌঞ্জ মাসী
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.