Udaynarayanpur Tarun Sangha, Howrah
Eshoponishad
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
বিয়ামৃতমতে
উপনিষলা
ঈশােপনিষৎ
মূল-সাম্বয়াবাদ-লোকাৰ পৰাধৰ
তাৎপৰ্যসম্বলিত
বিদ্যাসাগর কলেজের প্রধাৰ সােধ্যাপক
মাখবাস সাংখ্যতীর্থ, এম, এ
সম্পাদিত ও প্রকাশিত
এনি-
১। সত পুকায়—কর্ণওয়ালিশ ইট, কলিকাতা
•সংস্কৃত বুক চিপপকর্ণওয়ালিশ দ্রীট, কলিকাতা।
৩। হরিহর লাইব্রেরী-ওয়ালিশ টি, কলিকাতা।
১৩৫
নিত্যদিন প্রেম
৯নং শিবনারায়ণ দাস লেন, কলিকাতা।
বরেন্দ্র মুখােপাধ্যায় দ্বারা মুদ্রিত।
}
* SA', A4 শ্লোক সূচী API HLC ( মাতৃকাবক্রমেণ শ্লোক সংখ্যা অয়ে নয় অপখা অনেকে মনসাে জবীয়ঃ অন্ধ তম প্রবিশঙি অন্ধতম প্রবিশস্তি অদেবাহুবিয়া ১২ ১০ . ০ ০ ১৬ অদেবাহু সংভং অৰ্যা নাম তে লােকা ঈশাবাশ্যমিদং সর্ব কুনেবেহ কর্মানি দেজতি জৈতি পূষয়েকর্যে বায়ুরনিলতখােদ যন্ত সর্বানি ভূতানি যম্মি সর্বাণি ভূতানি বিদ্যং চাবিং চ স পর্বগামকায়মণ সংভূতিং চ বিনাশ চ হিরণয়েন পাত্রেণ ০ ০ ০ ১৭ ৮। ১৪
No text on this page.
ভূমিকা যাহা সংসারের কারণীভূত অবিদ্যাকে সম্পূর্ণরূপে বিনাশ করে, তাহাকে উপনিষৎ বা ব্রহ্মবিদ্যা বলে। ব্ৰহ্মবিদ্যাপ্রতিপাদক ও উপচারশত উপনিষং নামে অভিহিত হয়। ব্ৰহ্মবিদ্যাপ্রতিপাদক গ্রন্থসমূহ অবিদ্যা ও অবিদ্যাপ্রসূত সংসারকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করিয়া আমাদের শরীরকে ব্রহ্মবারি যােগ্য করিয়া থাকে এবং আমাদের আত্মাকে ব্রহ্মভাবে উন্নীত করে। এই জন্য আচাৰ্যগণ ব্ৰহ্মবিদ্যা- প্রতিপাদক গ্রন্থসমূহকে উপনিষৎ বলিয়া কহিয়াছেন। প্রতিপাদক- রূপে সংস্বরূপ আত্মার সমীপন্থ বলিয়াও ইহাকে উপনিষৎ বলিতে পারা যায়। বেদ কর্মকাণ্ড ও জ্ঞানকাণ্ড ভেদে দুই ভাগে বিভক্ত। কর্মকাণ্ডকে কর এবং জ্ঞানকাণ্ডকে না বলা হয়। মীমাংসকগণ বেদকে ম ও ব্রাহ্মণ, এই দুই ভাগে বিভক্ত করিয়াছেন ।। বেদের সংহিতা ভাগে ম এবং ব্রাহ্মণ ভাগে ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষং উপনিবন্ধ আছে। মন্ত্রগুলি যদি কাৰ্যে ব্যবহৃত হয়। ব্রাহ্মণে যজ্ঞের প্রণালী এবং দুরুহ সমূহের ব্যাখ্যান প্রদত্ত হইয়াছে। এই জন্য পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণ ব্রাহ্মণকে বেদের অংশ বলিয়া স্বীকার করেন না, কিন্তু বেদের ব্যাখ্যা বলিয়া অভিহিত করেন। অরণ্যে রচিত এবং আরণ্যক- গণের কর্তব্যের প্রতিপাদক বলিয়া ব্রাহ্মণের অংশবিশেষ আরণ্যক নামে আখ্যাত। ব্রহ্মবিদ্যা প্রতিপাদক ব্রাহ্মণের অংশ উপনিষ রূপে পরিচিত। উপনিষদের অপর নাম বেদান্ত। বেদের অন্ত বা প্রতিপাদ্য উপনিষদে রহিয়াছে বলিয়া বেদান্ত এই নামটা সার্থক । জ্ঞানকাণ্ডের অন্তর্গত বলিয়া উপনিষৎকে রহস্য ও বলা হয়। * উপনীয়ং ব্রহ্মাণাং তত। নিৰিতা ও উমাপনিষতা। * মাক্ষায় বেদনামবে। * বেদাত বলিতে আমরা সাধারণত বাসে একে বুঝিয়া । শনিবলের সাহা কৰি গটিত হয় ঈশাস্যোপনিষৎ উপনিষদে ব্ৰহ্মতত্ত্ব, জীবতত্ত্ব ও এতি-তত্বের সবিশেষ আলােচনা রহিয়াছে। উেপনিষৎগুলির মধ্যে ঈশ, কেন, কঠ, প্রম, মুণ্ডক, মাক্য, তৈত্তিরীয়, ঐতরেয়, শ্বেতাশ্বতর, ছান্দোগ্য, বৃহদারণ্যক ও মৈত্ৰায়ণী—এই বাদশখানি প্রাচীন ও প্রামাণিক। আচাৰ্য এর এই বাদশখানি উপনিষদের ভাষ্য প্রণয়ন করিয়াছেন। বেদের সহিত নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্বন্ধ বলিয়া উপনিষৎগুলিও সাধারণতঃ ঋগাদি বেদভেদে চারিটি প্রধান ভাগে বিভক্ত। ঋগবেদীয় উপনিষৎগুলির মধ্যে ঐতরেয় ও কৌষীতকী প্রসিদ্ধ। সামবেদের ঙ্গোগ্য ও কেন, শুরুষজুর্বেদের বৃহদারণ্যক ও ঈশ, কৃষ্ণ যজুর্বেদের তৈত্তিরীয়, কঠ ও তােতন; এবং অথর্ববেদের প্রশ্ন, মুক, মাভুক্য, অথর্ব শিল্প এবং ব্ৰ প্রসিদ্ধ। মুক্তিকা উপনিষদের মতে ঋগবেদের একুশ, যজুর্বেদের একশত নুর, সামবেদের সহস্র এবং অথর্ববেদের পঞ্চাশটি শাখা ছিল এবং প্রত্যেক শাখার একখানি করিয়া উপনিষৎও ছিল , সুতরাং উপনিষদের মােট সংখ্যা ছিল এগারশত উক্ত উপনিষদে নিম্নলিখিত ১০৮খানি উপনিষদের নাম দেওয়া হইয়াছে। * ঋগবেদীয় উপনিষদের দশ, সামবেদীয় উপনিষদের আশী। * ঐন্নয়কৌষীতকীৰিকাৰখযােনিৰ্বালাফালিপিনুয়ভাগ্য চা গবেশনাং ইতালি (শসংখ্যক উপনি)। কালক লংসপরমহংসত্মবালময়িকানিরালম্বলিখিত্রাণকালজি তুমীতাতখ্যাত্মাননাট্যায়ৰীমুকিং ওযজুর্বোহানা এনেৰিণতি সংখ্যানুপনিষদাবিত্যাদি (এফেনিবিংশতিঃ উলমিঃ)। কঠীতৈত্তিরীয় কৈবল্যতাগৰামৰিমৃতালাক্সি-রিকশবায়কহহেলো- বিধানবিৰক্ষ- বিষােগতক্ষিণামূৰ্ত্তিশারীযােগশিখৈাক্ষাতক- যোগলিনী-পাখায়িয়েধরাহকসংখণ- সীমানা যজুর্বেদ- তানজিং উপৰিদান ইত্যাদি (ত্রিংশৎ উপনিৰঃ)। কেনহাগ্যোপি মৈত্রয়ণ-মৈত্রেয়ীচিকানােচূড়ামণি-দৰমহৎসংসাৰ্যািমাৰিীয়া মালদর্শনাবালীলা সাবেদানা বেড়াখানাউপনি ইত্যাদি ( বােড়। উপসি)। এমুনাফাখশিরােমশিখাৰুবাসিনী লাশব্রিাম-সীতাতলারিহস্য- আলিপপরিত্রাপা- সুধাপাপপরক্ষত্রিয়াতপনদেৰীৰৰক্ষাৰাণপতিবাৰুপােলত- मजोराणायामानामपटवागवार बबिना मरणाकाना ननिमार তিনি (এফশিং উপনিষ)।
ভূমিকা যােল, যজুর্বেদীয় উপনিষদের একায় ( ১৯ ও ৩২) এবং অথর্ববেদীয় উপনিষদের একত্রিশ,—এই অষ্টোত্তরশত। ইহা ব্যতীত ও আর অনেক উপনিষদের অত্যুখান হইয়াছিল। প্রতিপাদ্য বিষয় অনুসারে উপনিষগুলি তিনটা প্রধান ভাগে বিভক্ত হইতে পারে। ঐতরেয়, ছান্দোগ্য, কেন, তৈত্তিরীয়, ঈশ, বৃহদাৱণ্যক, কঠ, প্রশ্ন, মুণ্ডক, মাণ্ডুক্যপ্রভৃতি উপনিষদে জীবের মুক্তি ও ব্রহ্মের স্বরূপ সম্বন্ধে সবিশেষ আলােচনা রহিয়াছে, অতএব এই সকল উপনিষৎকে পারমার্থিক উপনিষৎ বলা যাইতে পারে। গর্ভ, আধিক, জাবাল, কঠতি, আৰুণিকসংন্যাস প্রভৃতি উপনিষদে প্রধানভাবে জীব ও ব্রহ্মের এক প্রতিপাদিত হইয়াছে, সুতরাং এই শ্রেণীর উপনিষৎগুলিকে মুমুক্ষপজীব্য উপনিষৎ বলা যায় । নারায়ণ, কৃষ্ণ, শিব, রাম, দেবীপ্রভৃতি উপনিষৎ সাম্প্রদায়িক ভাবের অভিব্যঞ্জক বলিয়া সাম্প্রদায়িক উপনিষৎ নামে অখ্যাত হইতে পারে। বৈদিকাচাৰ্য্য সত্যব্রত সামৰমীর মতে উপনিষৎগুলি বৈদিক, আৰ্য, কাব্য ও কৃত্রিমভেদে চারি একার। ঈশ, কেন, তৈত্তিরীয়, কৌষীতকী, বৃহদারণ্যক, ছান্দোগ্য প্রভৃতি যে সকল উপনিষদে বৈদিক ধর্মতত্ত্ব উপনিৰ আছে, তাহারা বৈদিক উপনিষৎ। মাকে প্রভৃতি ৱে সকল উপনিষদে সংহিতার মন্ত্র প্রমাণৰূপে উদ্ধৃত হইয়াছে, তাহাদিগআৰ উপনিষৎ কহে। নারায়ণ, নৃসিংহ, সরস্বতী, গণেশ প্রভৃতি যে সকল উপনিষদে সাম্প্রদায়িক দেবতা বিশেষ ব্ৰহ্ম বা ব্ৰহ্মশক্তি রূপে কীর্তিত হইয়াছেন, তাহাদিগকে কাব্যোপনিষৎ বলে। কতকগুলি আধুনিক সম্প্রদায় স্বীয় মতের পরিপােষক কোন প্রামাণ্য গ্রন্থ না পাইয়া, উক্ত উদ্দেশ্যসিদ্ধির অভিপ্রায়ে যে সকল উপনিষং রচনা করিয়াছেন, তাহাদিগকে কৃত্রিম উপনিষৎ বলে। গােপালতাপনী, নৃসিংহপনী প্রভৃতি উপনিষৎ এই শ্রেণীর অন্তর্গত। এতদ্ব্যতীত অনেকে জীবিকার নিমিত্ত অর্থের অভিপ্রায়ে উপনিষৎ নাম দিয়া কতকগুলি গ্রন্থ রচনা করিয়াছিলেন। এই শ্রেণীর উপনিষৎকে জীবিকোপনিষৎ নাম দেওয়া যাইতে পারে। আল্লোপনিষৎ প্রভৃতি এই শ্রেণীভুক্ত। উপনিষদের গভীর ও সরস উপদেশে অনুপ্রাণিত হইয়া, সাধারণ লােকের মধ্যে উহার প্রচারের উদ্দেয়ে অনেকে বিভিন্ন ভাষায় ইহাদের ৫ ঈশাস্যোপনিষৎ অনুবাদ করিয়াছেন। মােগল সম্রাট আরঙ্গজেবের ভ্রাতা কতিপয় উপনিষদের ফাসি অনুবাদ করাইয়াছিলেন। পাশ্চাত্য মনীষিগণের মধ্যে ভট্ট মােফমূলার, ডসেন, বার্ণেট, কাউএল, মনােয়ার প্রভৃতির নাম এ সম্পর্কে উল্লেখযােগ্য। ইহারা যে শুধু অনুবাদ করিয়াছেন তাহাই নহে, কিন্তু এতৎসম্পর্কে প্রবন্ধাদি রচনা করিয়াও এই সকল গ্রন্থকে জনসমাজে হৃদয়গ্রাহী করিতে প্রয়াস পাইয়াছেন। উপনিষদের ভাবগাম্ভীর্যে মােহিত হইয়া জাৰ্মাণীর প্রসিদ্ধ দার্শনিক পণ্ডিত শশাপেনহর বলিয়াছেন—এরূপ আভােক বিধায়ক গ্রন্থ আর দ্বিতীয় নাই, ইহা আমাকে জীবনে শান্তি দিয়াছে, মৃত্যুতেও শান্তি দিবে।” বাঙ্গালীদিগের মধ্যে প্রথমে রাজা রামমােহন রায়, উপনিষং প্রচারের জন্য লেখনী ধারণ করিয়াছিলেন এবং ইংরাজী ও বাঙ্গালা ভাষায় উহার তর্জমা করিয়া প্রকাশ ও প্রচার করিয়াছিলেন। এই সকল চেষ্টার ফলেই আধুনিক শিক্ষিত নরনারীর হৃদয়ে উপনিষৎপ্রীতি জাগ্র হইয়াছে। সরল ভাষায় উপনিষদের প্রচার হইলে, দেশের নরনারীর উৎসাহ বর্ধিত হইবে এবং শঙ্করের মতবাদ প্রচারের সহায়ক হইবে মনে করিয়া বীর শকরল এই দুরূহ কাৰ্য্যে হস্তক্ষেপ করিয়াছে। আশাকরি জনসাধারণের সহানুভূতি পাইতে এ সভা বঞ্চিত হইবে না। বিনত নিবেদক মাধবদাস দেবশর্মা সাংব্যতীর্থ সম্পাদকীয় শরসভা।
ঈশােপনিষৎ আমরা পূর্বেই বলিয়াছি উপনিষং ব্রাহ্মণেরই অংশবিশেষ। কিন্তু কতকগুলি উপনিষৎ সংহিতার ও অংশবিশেষ। আমাদের আলােচ্য ঈশাবান্যোপনিষৎ বাজসনেয়িসংহিতার চরিশ অধ্যায়। বাজসনেয়িসংহিতার অন্য একটি নাম যজুর্বেদ। ৰাজসনেয়ি- সংহিতার অন্তর্ভুত বলিয়া ঈশােপনিষদের অন্য আর এক নাম যজেসনেয় উপনিষং। এই উপনিষৎ খানি আকারে ক্ষুদ্র হইলেও উপনিষদের সারশিক্ষা ইহাতে নিহিত রহিয়াছে। ব্ৰহ্মসম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করিতে হইলে, কার্যকারণতত্ব জানা আবশ্যক। এই জন্য উপনিষদে নানা ভঙ্গিতে এই কাষ্যকারণত্বের বিশ্লেষণ রহিয়াছে। এই কাৰ্য্যকাৰণতত্বের বিশ্লেষণই দর্শনের ভিত্তি ভূমি। সেই জন্য উপনিষৎ গুলিও প্রকৃত প্রস্তাবে দর্শনশাস্ত্র। কাৰ্যকারণতত্ত্বের জ্ঞান হইলেই, আমরা জীব, জগৎ ও ঈশ্বরের পরস্পর সম্বন্ধ হৃদয়ঙ্গম করিতে সমর্থ হই। ঈশ উপনিষদেও এই সম্বন্ধ অতি সংক্ষেপে অথচ অতি পরিস্ফুটভাবে বিবৃত হইয়াছে। । ঐখয়ে আ্যকের ২য় ও ৩ এবং ৪ তে শেষ চারি ব্যায় এই ঐwয় উপনিষৎ গঠিত। কৌৰীতকী গণ্যকের শেষ অধ্যায় কৌৰীতকী ব্রাহ্মণো- পৰিৰ নাম এসি। আগে বাণেশী অধ্যা আছে। যার শেষ সময় ঘনা উনি লিমা খাত। জৈমিনীর মা বা ব্যাণে না আর এছ। যার শেষ অ কেন উনিও মানে পরিচিত। তৈরি রিলাকের স এ্যা শিক্ষা বা সহিতােপনিষৎ। উহার অষ্টম ও নব তাকে যে पानमानी स्वनो बना रख। रेराब व पास नाबालीन वा बाधिश উলনি। মৈত্রী সংহিতায় দ্বিতীয় ব্যয় শৈলী উলনি। শত শর শেষ করে মধ্যায় মায়ণ উপনিষৎ। + वनवति मरिया बन गयो विषय। शब Free বার বার বিকাল উপনিও।
ঈশাস্যোপনিষৎ ঈশাস্তের উপদেশ প্রধানতঃ চারি ভাগে বিভক্ত করা যাইতে পারে। প্রথম হইতে তৃতীয় মন্ত্রে আত্মবিদের আত্মরক্ষার বিষয় বর্ণিত রহিয়াছে। মুমু এষণাত্রয়ের সংন্যাস করিয়া আত্মজ্ঞানার্জনে একনিষ্ঠ হইবেন এবং ব্রহ্মস ব্যতীত অন্য সত্বা তাহার নিকট অন্তহিত হইবে, চতুর্থ হইতে অষ্টম মন্ত্রে মুমু-ব্যবহার ও আত্মতত্ত্ব বর্ণিত হইয়াছে। নবম হইতে চতুর্দশ মন্ত্রে ব্রহ্মপ্রাপ্তির উপায় কথিত হইয়াছে। এই প্রসঙ্গে অবিধানের নিন্দা, বিদ্যাক -সংয়ের অবান্তর ফলভেদ, বিদ্যাবিদ্যোপসনার সমুচ্চয়ের কারণ এবং সংভূতি ও অসংভূতি উপাসনা বিবৃত হইয়াছে। পঞ্চদশ হইতে অষ্টাদশ মন্ত্রে সাধক ও সাধ্যের একত্ব বর্ণিত হইয়াছে। এই প্রসঙ্গে আদিত্য, অগ্নি প্রভৃতির সহিত ব্রহ্মের সম্বন্ধ এবং অন্তকালের কর্তব্য নির্দিষ্ট হইয়াছে। সংন্যাসন্তুতিঃ ঈশাবাশ্বমিদং সর্বং যৎকিঞ্চ জগত্যাং জগৎ। তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথা মা গৃধঃ কস্যস্বিদ্ধন।১ সায়ানুবাদ ঃযং (যাহা) কিঞ্চ ( কিছু) গ্যাং (জগতে। জগৎ ( গমনশীল) ইদং ( দৃশ্যমান সেই) সর্বং (সকল) ঈশা (ঈশ্বর- কর্তৃক) বাস্যম্ ( আচ্ছাদন করিতে হইবে)। তেন ( অতএব ) ত্যক্তেন (ত্যাগের দ্বারা অর্থাৎ এষণায় পরিত্যাগ করিয়া । ভুজীথাঃ (অাত্মাকে পালন করিতে অর্থাৎ আত্মতত্ত্ব অনুভব করিতে হইবে)। মাগঃ ( ধনবিষয়ক আকাঙ্ক্ষা করিও না) [ যেহেতু ] * শৈ, বিত্তৈৰণা ও লোকৈৰণ।। * এখানে পাঠায় এবং লোকের পোষাপৰ্যে, িব্যত্যয় আছে। এখানকার বৰ শৰ ওখজুর্বেলের • অধ্যায়ের স্বাদশ , ম ম ব এবং এ এই দুর্বল হয়। আবার ঈশােপনিষৎ এর দশ টি গুর বুজুর্বেদেয় না , অশে মদ ॥ এবং চতুর্থ মন্ত্র একাংশ মাত্র। এখানকার অষ্টাদশ মটি অর্বে • অধ্যায়ে যােণ আম। যজুর্বেদের চবিংশ অধ্যায়ের পঞ্চদশ ও সময়ে সহিত এই উপনিষ যন্ত্রে নিতে ও হ (মূল প্রতি ৰে। এই উপনিষদের বােড় সংখ্যক ই ৰেল দেখিতে পাওয়া যায় না।
সংসাসতি কসম্বিৎ ধন (ধন কাহার ?) [ যাহার তুমি আকাক্ষা করিবে অর্থাৎ আত্মব্যতীত পদার্থ বর্তমান না থাকায়, ধনাকাজা মিথ্যা ]।১ মােকা--এই জগতের সমস্ত পদার্থই ক্ষণভঙ্গুর এবং ইহাদের পারমার্থিক সত্বা নাই, ইহারা ঈশের উপর প্রতিষ্ঠালাভ করিয়াছে। ইহাদের স্বরূপ বুঝিতে হইলে, ব্ৰহ্মস্বরূপ বুঝিতে হইবে। ত্যাগের দ্বারা ভােগই ব্রহ্মস্বরূপাবধারণের একমাত্র উপায়। সুতরাং সংসারের কিছুতেই আত্মবুদ্ধি স্থাপন করিবে না। এই প্রপঞ্চের প্রকাশও বৈচিত্রের কারণ এবং প্রপঞ্চ বলিয়া কোনও স্বতন্ত্র সত্ত্বা নাই, ইহা অনুভব করিতে হইবে। তাহা হইলে সিদ্ধিলাভে সমর্থ হওয়া যাইবে।১। শর্থঃ-(১) ঈশা-ঈশ ধাতুর অর্থ প্রভুত্ব করা। যিনি প্রভুত্ব করেন, তিনি ঈষ্ট, পরমেশ্বর বা পরমাত্মা। ঈশ্বর বৃক্ষের প্রথম কল্পিত বিকার। এখানে ঈশ-শব্দ ঈশর বাচ্য নহে। (২) বাস্যম—বস বাতু ণ্য করিয়া বাস্য এই পদ সিদ্ধ হইয়াছে। বস ধাতুর অর্থ বাস করা বা আচ্ছাদন কর। সুতং বা শব্দের অর্থ নিবাসযােগ্য বা আচ্ছাদনীয়। আচাৰ্য শঙ্কর স্বীয় ভাষ্যে ‘আচ্ছাদনীয় অর্থ ই গ্রহণ করিয়াছেন। শঙ্করানন্দ দীপিকাতে এবং রামচন্দ্র রহস্য বিবৃতিতে উভয় অর্থ ই গ্রহণ করিয়াছেন। ব্রহ্মানন্দকৃত ঈশাবা রহস্যে ও উভয়ার্থ ই গৃহীত হইয়াছে। পরমার্থরূপধারা অনাত্মস্বরূপ তিরস্কৃত হওয়া বা এই শব্দের অর্থ । * যুক্ত বিল বােৰ মহাশয় তৎসম্পাদিত ঈশ উপনিষদে বাস্য পদে তিন অর্থ প্রদান করিয়াছেন-) to be clothed (আচ্ছাদিত ওয়া), (a) to be worn as a garment ( আগে পরিহিত), এবং। to be inhabited বসতি এওহওয়া)। তিনি শয়ের আদনীয় অর্থ সস মনে করেন না, অধিকন্তু এই উপশিদের প্রতিপার্থে বিরােধী বলিয়া মনেন। উপৰিৰ এর কুল বলিয়া তিনি পরবর্তী অর্থই গ্রহণ করিয়াছেন। আমরা কিন্তু এরূপ শবের অর্থ হৃদয় কষিতে পারিলাম না। আমরা পূর্বেই বলিয়াছি ও অর্থ একাৰে পৰ্য্যবসিত । উৎসুক পাঠকবর্গের কৌতুহল চরিতার্থে নিমিত্ত বােৰ হায়ের মন্তব্য নিয়ে এত হইল- “There are three possible senses of Vasyam, '4o be clothed", "to be worn as a garment", and "to be inhabited" The first is the ordinarily accepted meaning. Sbankara explainls it in ঈশাস্যোপনিষৎ (৩) ইম-এই শব্দ সাধারণতঃ প্রপঞ্চের নির্দেশ করিয়া থাকে । (৪) জগৎ-গমনশীল, ক্ষণভঙ্গুর। (৫) কস্যবিনম ইত্যাদি—আচাৰ্য শঙ্কর মাগৃধ ইত্যাদি পাঠের দুই ভাবে অন্বয় করিয়াছেন। (১) কম্বিং (নিরর্থক অব্যয়) ধনং মা গৃধঃ (নিজের বা পরের কাহারও ধনের আকাঙ্ক্ষা করিও না ) (২) মাগৃধ (তৃষ্ণাবর্জন কর) কস্যশিং (প্রশ্নে) ধনম্ (ধন কাহার যে আকাক্ষা করিবে ? )। অর্থাৎ আত্মাই )। অর্থাৎ আত্মাই যখন সকল, তখন ধনুকাকা মিথ্যা। ১। শঙ্করভাষ্য-ঈশাবামিত্যাদয়ে মন্ত্রাঃ কর্মবিনিযুক্ত তেমকশেষ্যাত্মনাে বাধাত্মাণকাং। যাথাত্মং চাত্মনঃ শুদ্ধ- পাপবিদ্ধকৈত্বনিত্যত্বাশরীরত্বসর্বগতাদি বক্ষ্যমাণম্। তচ্চ কণা বিরুধ্যেতেতি যুক্ত এবৈষাং কৰ্মৰবিনিয়ােগ। এবৈষাং কৰিবিনিয়ােগ। নহেব লক্ষণমাত্মন মাথাত্ম্যমুংপাদ্যং বিকাৰ্যমাপ্যং সংস্কাৰ্যং কভােরূপং বা যেন কখশেষ স্থা। সর্বাসামুপনিষদামাত্মাথাত্মনিরূপণেনৈবােপক্ষয়াৎ। গীতানাং মােক্ষধর্মাণাং চৈবংপরা। তথ্যদাত্মনােহনেককর্তৃত্ব- ভাোদি চালুত্বপাপবিদ্ধাদি চোপাদায় লােবুদ্ধিসিদ্ধ কৰ্ম্মাণি বিহিনি। যাে হি কৰ্ম্মফলেনার্থী দৃষ্টেন ব্ৰহ্মবাদিনাদৃষ্টেন স্বর্গাদিনা চ দ্বিজাতিরহং ন কাকুজাদ্যনধিকারপ্রধােকধৰ্ম্মনিত্যাত্মানং মন্থতে সােহবিক্রিয়তে কর্মশিতি অধিকারবিদো বদন্তি। তম্মদেতে মন্ত্রী আত্মনাে যাত্মপ্রকাশনেনাত্মবিষয়ং স্বাভাবিকমজ্ঞানং নিৰ্তম্ভ this significance, that we must lose the sense of this unreal objective universe in the sole perception of the pure Brahman. So explained the first line becomes a contradiction of the whole thought of the Upanishad which teaches the reconciliation, by the perception of essential unity of the apparently incompatible opposites, God and the world, Renunciation and Enjoyment ..etc. The image is of the world either as a garment or as a dwelling place for the informing and governing spirit. The latter significance agrees better with the thought of the Upanishad. । ও সঠিক সমীপৰতি চৈতাপ। বিএবিলিলি।
সকালতি শােকমােহাদিসংসারধর্মবিচ্ছিত্তিসাধনমাত্মৈকত্বদিবিজ্ঞানমূদয়ন্তি। ইত্যেমুক্তাধিকাৰ্যভিধেয়সংবন্ধপ্রয়ােজনামা সংক্ষেপতত ব্যাখ্যাস্যা। বামিত্যাদি ইষ্ট ইতীট তেনেশা। ঈশিতা পরমেশ্বর পরমাত্মা সর্বস্ত। সহি সর্বমীষ্টে সর্বজনামাত্মা সন্ প্রত্যগাত্মতয়া তেন যেন রূপেণাত্মনেশা বাস্যমাচ্ছন্দনীয়, কিম্ ? ইদং সর্বং যৎ কিঞ্চ যৎকিঞ্চিজগত্যা পৃথিব্যাং জগদ্যৎসবং স্বেনাত্মনেশন প্রত্যগাত্ম- তয়াংহমেবেদং সর্বমিতি পরমার্থসত্যৰূপেণামৃতমিদং সর্বং চরাচর- মাচ্ছাদনীজয়ং যেন পরমাত্মনা । যথা চন্দনাগবাদেরুদাদিসংবজ- ক্লেদাদিজমৌপাধিকং দৌর্গন্ধং তৎস্বরূপনির্ঘর্ষণেনাচ্ছাতে (স্বন পার- মার্থিকেন গন্ধেন তবে হি স্বাত্মধ্যন্ত স্বাভাবিক কর্তৃত্বতাের্তৃত্বাদি- লক্ষণং জগদ্বৈতরূপং জগত্যাং পৃথিব্যাং জগত্যামিত্যুপলক্ষণত্বাং সর্বমেব নামরূপকাখ্যং বিকারজাত পরমার্থসত্যাত্মভাবনয়া ত্যক্তং স্মাৎ। এবমীশ্বরাত্মভাবনয়া যুক্তস্য পুত্ৰাদ্যেষণায়সংন্যাস এবাধিকারাে ন ক। তেন ত্যক্তেন ত্যাগেনেত্যৰ্থঃ । ন হি ত্যক্তে মৃতঃ পুত্রো বা ভূতো বাত্মসংবন্ধিতায়া অভাবাদাত্মানং পালয়ত্যতত্যাগেনেত্যয়মে বেদার্থ। ভূমীঃ পালয়েথাঃ। এবং ত্যজৈষণং মাগৃধা, গৃধি- মাকাজাং মাকার্যীনবিষয়াম্। কস্যষিদ্ধনং কস্যচিৎ পরস্য অন্য বা ধনং মাকাজীরিত্যর্থ। স্থিদিত্যনর্থকে নিপাতঃ। অথবা মাধ। কস্মাৎ? কস্যষিদ্ধনমিত্যাপাের্থো ন কস্যনিমন্তি যধ্যেত। আত্মেবেদং সর্বমিতীশ্বরবনয়া সর্বং ত্যক্তমত আত্মন এববং সমাত্মৈব চ সর্বমত মিথ্যাবিষয়াং গৃধিং মাকার্ষীরিত্যর্থ। ১ তাৎপৰ্য—এই মন্ত্র ভেদবুদ্ধি নিবারণ করিয়া সংসারের উচ্ছেদ- সাধন পূর্বক আত্মতত্ত্ব জ্ঞানের উপদেশ প্রদান করিতেছে। শাস্বমাত্রেরই অধিকারী, বিষয়, সম্বন্ধু ও প্রয়ােজন এই অনুব চতুষ্টয় থাকা প্রয়ােজন। এখানে দুঃখের বীজভূত স্বীয় অজ্ঞান নিরণেচ্ছু অধিকারী, স্বরূপকথন বিষয় , আত্মথাতথ্য ও তবাচক শব্দসমূহের প্রতিপাদ্য প্রতিপালক ভাবরূপ সম্বন্ধ এবং অগত অজ্ঞান- নিবৃত্তি দ্বারা স্বরূপানুভূতি প্রয়ােজন। সর্বজ্ঞ, বিহু, পরমেশ্বর, পরমাত্মা সমূদয় ভূতজাতের আত্মস্বরূপ বলিয়া তাহাদের প্রভু এবং তাহাদের সকলের আচ্ছাদক (ব্যাপক):
ঈশাস্যোপনিষৎ অথবা তিনি সমূদয় ভূতের উৎপাদক, স্থাপক ও নিয়ামক। অপিচ এই পৃথিবীর যাহা কিছু চসম্বভাব বা শিরভাব, সেই মিথ্যাস্বরূপ সমুদয়ই সত্যস্বরূপ পরমাত্মা দ্বারা আচ্ছাদিত। চন্দন, অগুরু প্রভৃতি গন্ধদ্রব্য যেমন জলের দোদি নিমিত্তক দুর্গন্ধ স্বীয় সুগন্ধের দ্বারা অভিভূত করে, সেইরূপ আত্মাতে অধ্যন্ত এই বিষয়সমূহ পরমার্থ- ভাবনা দ্বারা তিরােহিত হয়। একমাত্র ত্যাগের দ্বারাই আত্মা রক্ষিত হয়, অতএব যাহাতে শরীর ধারণের উপযােগ কৌপীন, কম্বল প্রভৃতি ব্যতীত অন্য পদার্থ সংগ্রহে আগ্রহ না জন্মে, তজ্জন্ত চেষ্টা করাপ্রয়ােজন। এষায় * পরিশূন্য মুমুর স্বীয় বা পরকীয় ধন বিষয়ে আকাজ করা অনুচিত। অথবা এই বিকারাত্মক ধন কাহারও নহে সুতরাং তংপ্রতি লু হওয়া অসঙ্গত। এই প্রপঞ্চের স ব্ৰহ্মসত্ত্বার উপর প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং মিথ্যা ধন বিষয়ে আকাজ করা উচিত নহে।” সৰ্ব্বভূত- মাত্মানং সৰ্ব্বভূতানি চাত্মনি” প্রভৃতি গীতােক্ত তথ্য ও । এই মন্ত্রের পরিপােষক। আআ দ্রষ্টব্য এবং শ্রোতব্য ইহাই প্রথম মন্ত্রের সারার্থ। * পুত্ৰৰণ, বিত্তৈৰণা ও লােকৈণা। । “জসৈবে সর্ব, সর্বং খৰিং ৰক্ষ” ইতাছি এতে। চাং গীতা পর্বহুমাত্মানং সর্বভূতাৰি চাৰি। ইতে যােগঘুঝা সর্বত্র সমদর্শন। যে মা পতি সর্বত্র স মরি পতি। তাহন এনামি স ট ন প্রতি ৷ সর্বততিঃ বাে মা ভক্তত্বেৰি। সখা বর্তমানেহপি স বােগী মৰি বৰ্ততে। ২১-৩১ বীজং মাং সর্বভূতানা বিড়ি পার্থ সনাতন। • পুরুষ স প গা ভ্যাভ্যানরা। সানি ভূতানি যেন সর্বমিদং । ৮২ যাচ্ছিতো নিত্য বায়ুঃ সর্বজগে মহান। ও সর্বাািনি মনীয়। ১৬ প্রকৃতিং মউত বিজমি পুনঃ পুনঃ। গ্রামিং কমলং এতেবাং। মাধ্যকে এহি সুতে সচিন। ১০ আমায় ভালো। সর্বভূতাতি। অজিত মানা এ চ। ১•• অনাত্মজ্ঞস্য কর্মনিষ্ঠা ১১ অনাত্মজ্ঞস্য কর্তব্য কুন্নেবেহ কর্মণি জিজীবিবেচ্ছতং সমা। এবং বয়ি নান্যখেতােহস্তি ন কম লিপ্যতে নরে ॥২॥ সাবাদ -ইহ (এই সংসারে) কৰ্মাণি (কর্মসমূহ) কুব এব ( করিয়াই) শতং সমাঃ (শতবর্ষ) জিজীবিষে ( বাঁচিতে ইচ্ছা করিবে)। এবং ( এই প্রকারে বর্তমান) নরে (মনুষমাত্ৰ অভিমান- কারী) কৃষি (তােমাতে) কৰ্ম (কাজ) ন লিপ্যতে (অনুসক্ত হয় না)। [ অর্থাৎ এরূপ তুমি কর্মের দ্বারা লেপ প্রাপ্ত হইবে না ] ॥২॥ সােকা—মানুষ মাত্রেই বাঁচিয়া থাকিতে চায় এবং পূর্ণায়ু অর্থাৎ শতবৎসর পরমায়ু লাভ করিতেও ইচ্ছা করে। জীবিত কালের মধ্যে মানুষ কৰ্ম্ম না করিয়া এক মুহূর্ত ও থাকিতে পারে না। সুতরাং এই মন্ত্রে তাহাকে কর্মফলত্যাগ করিয়া স্বীয় বর্ণ ও আম অনুযায়ী নিত্য- নৈমিত্তিক কর্মে নিযুক্ত থাকিতে বলা হইয়াছে। এরূপ করিলে, তাহার চিত্তবৃত্তি নির্মল হইবে এবং মন নিবৃত্তির দিকে অভিমুখ হইবে। শব্দার্থঃ-(১) কাণি—অগ্নিহােত্র প্রভৃতি নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম(শ) (২) শতং সমাঃ—শত সংবৎসর। মানুষের আয়ুকাল। বেদে মানুষের আয়ু শতবৎসর বলিয়া কথিত হইয়াছে | (৩) জিজীবিষেৎ-বাচিতে ইচ্ছা করিবে। এখানে পুরুষ ব্যত্যয় হইয়াছে অর্থাৎ মধাম পুরুষের স্থানে প্রথম পুরুষ ব্যবহৃত হইয়াছে। বিভ্যাহমিং কুমেকাংশেমতো জগৎ। ১২ সর্বত পাশিপাং তৎ সংযোজিশিৰােমুখ। সৰ ত তিল্লোকে সত্য ভিতি। ১৩১৩ রিচ ভূতানাঃ অচং চরমেব চ। ১৫। সর্বমােনিযু কৌন্তেয় দূর্ব সততি যা। ভাসাং ব্ৰহ্ম শহবােনি এইং ৰী পিতা। ১৪৪ নবাংলাে জীবলােকে জীবন্ধুতঃ সনাতন। ১৫| बपिana बरामसचिन । যমনি বায়ে ভেজে বিডিবিক। গামাৰি ভূতানি রামমােজা। পূমি চৌষণীঃ মাসােমে ভূত্ব সাফা ১৫১২-১৩ শতায়ু ৰৈ পুরুষ।
ঈশাস্যোপনিষৎ (৪) লিপ্যতে-লেপযুক্ত হওয়া অর্থাৎ মলিন করা। ২। শরভাব্য-এমাত্মবিদ পুত্রণােলয়সংহাসেনা- জননিষ্ঠতয়াত্মা রক্ষিতব্য ইত্যেষ বেদার্থ। অথেতরস্যানাত্মজ্ঞতয়া- গ্ৰহণায়াশস্যেমুপদিশতি মন্ত্রঃ কুন্নেবেতি কুৱেবেহ নির্বত্তয়বে কৰ্মাণ্য- গ্নিহােত্রাদীনি জিজীবিষেজ্জীবিতুমিচ্ছেচ্ছতং শতসংখ্যাকাঃ সমাঃ সংবৎস- রান। তাবন্ধি পুরুষস্য পরমায়ুনিরূপিতম। তথাচ প্ৰাপ্তানুবাদেন যচ্ছি- জীবিষেচ্ছতং বর্ষাণি তৎ কুৰ্বৰে কৰ্মাণীত্যেতা বিধীয়তে। এবমেবং প্রকারেণ অয়ি জিজীবিষতি নরে নরমাত্রাভিমানিনীত এতদগ্নিহাে- দীনি কৰ্ম্মাণি কুর্বলতা বর্তমান প্রকারাদন্যথা প্রকারান্তরং নাস্তি যেন প্রকারেণালং কৰ্ম্ম ন লিপ্যতে কর্ণণা ন লিপাতে ইত্যর্থ। শাস্ত্রবিহিনি কৰ্মাণ্যগ্নিহােত্রাদীনি কুর্বমেব জিজীবিষেং। পুনরিদমবগম্যতে? পূর্বেণ মন্ত্রেণ সংন্যাসিনাে জ্ঞাননিষ্ঠাতা দ্বিতীয়েন তদশস্য কর্মনিতেঁতুচ্যতে। জ্ঞানকর্মশাের্বিরােধ পর্বতবদকম্প্যং যথােক্তং ন স্মরসি কি? ইহাপ্যক্তং যো হি জিজীবিষেৎ স কর্ম কুন্। ঈশাবাশ্যমিদং সর্বং তেন ত্যক্তেন ভূঞ্জীথা মাগৃধঃ কস্য- দ্ধিনমিতি চ। ন জীবিতে মরণে বা গৃধিং কুৰীতারণ্যমিয়াদিতি চ পদম। তাে ন পুনরিয়াদিতি সংন্যাসশাসনাৎ। উভযােত ফলভেং চ বক্ষ্যতি। ইমৗ বাবে পন্থনৌ অনিক্রান্ততরে ভবতঃ ক্রিয়াপথশ্চৈব পুরন্তাৎ সংন্যাসচোত্তরেণ নিবৃত্তিমার্গেণৈষণাত্রয়স্য ত্যাগ। তমােন সংন্যাসপথ এবাতিরেচয়তি। ব্যাস এবাতারেচয়দিতি চ তৈত্তিরীয়কে। দ্বাবিবথ পন্থানৌ যত্ৰ বেদাঃ প্রতিষ্ঠিত। প্রবৃত্তিলক্ষণে ধৰ্মো নিবৃত্ত বিভাবিত। ইত্যাদি পুত্রায় বিচাৰ্য নিশ্চিতমুক্ত ব্যাসেন বেদাচার্ষেণ ভগবতা। বিভাগং চানয়োদশমিন্যাম । ২ তাৎপৰ্য-পরমাত্মবি পুত্রাদি এষণায় সংন্যাস করিয়া আত্মাকে রক্ষা করিবেন ইহা পূর্ব মন্ত্রেই উক্ত হইয়াছে। অনাত্মবিৎ আত্মতত্ত্ব গ্রহণে অশক্ত বলিয়া এই মন্ত্রে তাহার কর্তব্য নিণীত হইতেছে। পূৰ্বমন্ত্রে সংন্যাসীর জ্ঞাননিষ্ঠার কথা বলা হইয়াছে। এখন সংন্যাসে অশক্ত ব্যক্তির জন্য কর্মনিষ্ঠা বলা হইতেছে। বেদে প্রবৃত্তি এবং নিবৃত্তি এই দুইটা পন্থা কথিত হইয়াছে। প্রবৃত্তি লক্ষণ কিয়ামার্গের দ্বারা চিত্তশুদ্ধি হইলে, শরীর ব্ৰহ্মাৰাপ্তির অবিলি T যােগ্য হয়, এবং নিবৃত্তি লক্ষণ সংন্যাসের দ্বারা এষপায়ের ত্যাগ করা হয়। এই উভয় পন্থার মধ্যে সন্ন্যাস পথই শ্রেষ্ঠতর। যাহাদের ধনে আকাকা আছে, তাহাদেরই কর্ষে অধিকার, আর যাহাদের ধনুকাকা নাই, তাহাদের কর্মে অধিকার থাকিতে পারেনা। সুতরাং বাঁচিবার ইচ্ছাও কর্মাধিকারীই হয় জানাধিকারীর নহে। কর্মের দ্বারা হিরণ্যগর্ভাদি পদপ্রাপ্তি হয়। মানুষ আজীবন মুক্তিহেতুক অগ্নিহােত্রাদি ক্রিয়ার অনুষ্ঠান করিবে। এরূপ আচরণের দ্বারা তিনি , মুক্তি পাইতে পারিবেন। স্বর্গপ্রাপ্তির নানাপ্রকার উপায় আছে সত্য, কিন্তু মুক্তির একটি ছাড়া দ্বিতীয় পন্থা নাই। কর্ম সংসার উৎপাদন করে বটে, কিন্তু মুক্তির নিমিত্ত কৰ্ম্ম করিলে, মানুষকে গতায়াত করিতে হয় । কারণ মুক্তিদান করিতেই তাহার সমূদয় শক্তি নষ্ট হইয়া যায়। বৃহদারণ্যক ঐতিও এই মর্মে বলিয়াছেন, বােদপাঠ, ব্রহ্মচর্য, তপস্যা, শ্ৰদ্ধাও বিনাশরহিত যজ্ঞের দ্বারা মুমু পুরুষকে জানিতে ইচ্ছা করেন। মােটর উপর কৰ্ম্মফল ঈশ্বরে অর্পণ করিয়া কর্মে প্রবৃত্ত হইলে, মানুষ কর্ম করিয়া কর্মে লিপ্ত হয় না। ভগবতী গীতাও এই দ্বিবিধ পন্থার কথা বলিয়াছেন-“লােকেস্মিন্ দ্বিবিধা নিষ্ঠা পুরাপােক্তা ময়ানঘ। জ্ঞানযােগেন সাংখ্যানাং কৰ্মযােগেন যােগিনা।” শুদ্ধান্তঃকরণে স্বয়ং আত্ম প্রতিফলিত হয় , ইহাই এই মন্ত্রের তাৎপৰ্য । অবিশি অৰ্যা নাম তে লােকা অন্ধেন তমসাংবৃতাঃ। তাংন্তে প্রেত্যাভিগচ্ছতি যে কে চাত্মহনন জনাঃ ॥৩ সায়ানুবাদ অৰ্য্যা (ভােগলম্পট দেবাদির স্বভূত) তে লােকা (প্রসিদ্ধ স্বর্গাদি স্থান বা স্থাবরান্ত জন্ম) অন্ধেন তমসা (গাঢ় অনরূপ * মেং বোচনেন বিৰিবি ৰাখে, তপস, এ, নােনাকেন। । মনে রাখিতে হইবে ১ ও ২ এর ইনােপৰিষদের ভিত্তিভূমি, বা এ এপমাত্র। * অধ্যা ইতি পাঠায়। $ অগিচ্ছতিইতি পাঠায়।
১৫ বাসশাপনিষৎ অকারের দ্বারা আবৃতাঃ (আচ্ছাদিত)। যে কে (কোনও আত্মহনন জনাঃ (আত্মঘাতী লোেক অর্থাৎ অবিধান যাহারা) তে (তাহারা) প্ৰেত্য (প্রাপ্ত শরীর পরিত্যাগ করিয়া) তান্ (ঐ সকল স্থান বা জন্মকে) অভিগচ্ছতি (প্রাপ্ত হইয়া থাকে) ৩। গেকাৰ্থযাহারা অনতা প্রযুক্ত বীয়ম্বরূপ বুঝিতে পারে না, তাহারাই আত্মঘাতী। আত্মঘাতী প্ৰার শরীর পরিত্যাগ করিয়া স্বকর্মানুযায়ী নিবিড় অজ্ঞানরূপ আকারে সমাচ্ছন্ন ভােগসাধন লােক বা জন্ম প্রাপ্ত হইয়া থাকে। শব্দার্থঃ-১, অসূৰ্য্যা নাম—আচাৰ্য শঙ্করের মতে অম্বয় পরমাত্মার অপেক্ষায় দেবাদিও অর বলিয়া তাহাদের স্বভূত লােকের নাম অসূৰ্যৰ থাৎ অষ সম্বন্ধীয়। উবটাচাৰ্যও ভায্যে এই অর্থই গ্রহণ করিয়াছেন। ব্রহ্মানন্দ কত ঈশাস্য রহস্যে ও রামচ কত তাহার বিবৃতিতে পূর্বোক্ত অর্থ ই গৃহীত হইয়াছে। অপিচ রামচন্দ্র অনুর শব্দের নিম্নলিখিত বুৎপত্তিও প্রদান করিয়াছেন-“অমুঘু প্রাণে মন্তের ইত্যরা প্রাণপােষকঃ জ্ঞানহীনা কেবলপ্রাণপােষিণ দেব অপরা। শঙ্করের মতে নাম শব্দ নিরর্থক। অনেকে অসূর্য দীর্ঘ উকারান্ত পাঠ করিয়া “সূৰ্যবিহীন” এইরূপ অর্থ করিয়া থাকেন। শ্ৰীযুক্ত অরবিন্দ ঘােষ মহাশয়ও এই অর্থের ই পক্ষপাতী। এখানেও তিনি শঙ্করের প্রতি কটাক্ষ করিতে ছাডেন নাই। কিন্তু অজ্ঞানের নিন্দার প্রক্রমে অর্ষের আক্ষরিক অর্থগ্রহণ করা যাইতে পারেনা, সুতরাং অনুৰ্য লােককে বিবেক বিরহিত শরীরই স্বীকার করিতে হইবে। ইহা উপনিষদের অর্থের প্রতিকূল হইতে পারে না। উৎসুক পাঠকবর্গের কৌতুহল চরিতার্থের নিমিত্ত ঘােষ মহাশয়ের মন্তব্য নিয়ে প্রদত্ত হইল। "We have two readings, Asurya sunless and Asurya, Titanic or undroine The third verse is, in the thought structure of the Upanishad, the starting point for the final movement in the last four verses. Its suggestions are there taken up and worked out. The prayer to the Sun refers back in thought to the sunless.
অবিষমিলা ১৫ worlds and their blind gloom, which are recalled in the ninth and twelfth verses. The sun and his rays are intimately connected in other Upanishads also with the worlds of light and their natural opposite 18 to the dark and sunless, not the Titanic worlds." 2 লােকা–কর্মফল যেখানে ভাগ করা হয় তাহা লােক বা জন্ম । কর্মফলপ করাদিদেহবিশেষ। 3. অভিগতি-কবশে চালিত হইয়া থাকে। যতএব আচাৰ্য প্ৰতি উদ্ধার করিয়া বলিয়াছেন—“যখাক যথাত।” “অপি গছন্তি পাঠে তু জ্ঞানাভাবেন চান্যথা—ব্রহ্মানন্দ। 4 যে কে-দেবনরাদি অবিশেষে। 5. আন-যাহারা আত্মাকে হনন করে অর্থাৎ স্বর্গাদি প্রাপ্তির হেতুভূত কর্মাদি করিয়া থাকে। এখানে হন ধাতুর অর্থ ত্রির অর্থাৎ প্রচ্ছাদন করা। কর্মফলে জন্ম মৃত্যুর হাত হইতে নিস্তার পাল বলিয়া ইহারা স্বরূপে অনভিজ্ঞ থাকে, সুতরাং নিত্যনিরঞ্জন আত্মাকে কর্তা, ভােজা প্রভৃতি মনে করিয়া আত্মঘাতী পদবাচ্য হয়। ৩। শরভাব্য—অথNদানীমবিয়িন্দার্থোহয়ং মন্ত্র আরভ্যতে। অৰ্যাঃ পরমাত্মভাবময়মপেক্ষ্য দেয়ােইপ্যান্তেং চ স্বভূতা লোেকা অসূৰ্য্যা নাম। নাম-দোহনর্থকনিপাত। তে লােকাঃ কর্ম- ফলানি লােক্যন্তে দৃশ্যতে ভুজ্যন্ত ইতি জন্মনি। অন্ধেদর্শনাত্ম- কেনেন তমসাবৃতা আচ্ছাদিতান্ত স্থাবরাস্তা প্ৰেত্য ত্যমে দেহ অভিগচ্ছতি যথা কর্ম যথা তম্। যে কে চাত্মহন। আত্মানং সুষ্ঠীত্যাত্মহন। কে তে জনা যেংবিঘাংস। কথং ত আত্মানং নিত্য হিংসন্তি ? অবিদ্যাদোষেণ বিদ্যমানস্যাত্মনস্তিররণা। বিদ্য- মানস্যাত্মনাে বৎ কাৰ্যং ফলমজরামরবাদি সংবেদনলক্ষণং ততস্যেৰ * লােৰু কৰ্ম্মফলাৰি লােৰুৱে দৃন্তে ভােজ্যন্তে ইতি জমানি (শঙ্কর)। ধনাভিলাষৰতা আত্মজ্ঞানশূন্যান্য যে খাদিদেরূপাতে লােকা কর্মফলপ বিশে।
ঈশাস্যোপনিং তিরােভূতং ভৰতীতি প্রাকৃবিঘাংসাে জনা আত্মহন উচ্যন্তে। তেন ছাত্মহননদোষেণ সংসরন্তি তে। ৩ ৩। তাৎপৰ্য—অবিদ্বানের নিন্দার নিমিত্ত এই তৃতীয় মন্ত্র আর ইতেছে। যে যেরূপ বিহিত বা প্রতিষিদ্ধ দেবতাদি জ্ঞানের অনুশীলন করে, সে সেইরূপ শরীরই ধারণ করিয়া থাকে। যাহারা স্বীয় কশের দ্বারা আপনাদিগকে সংসারে আবদ্ধ করিয়া থাকে তাহারা আত্মঘাতী। কাম্য কর্মে রত এই আত্মঘাতী বা অবি- গণ অকর্তা ও স্বয়ংপ্রভ আত্মাকে কর্তা ও ভােক্তা মনে করিয়া নিজের স্বরূপের * অপলাপ করিয়া থাকে, সেই জন্য তাহারা অজ্ঞানরূপ অন্ধ কারের দ্বারা আচ্ছন্ন হইয়া নিজ নিজ ধর্ম ও কর্ম অনুসারে পূনঃ পুনঃ সংসারে যাতায়াত করিয়া থাকে। স্বরূপাপহারীর ন্যায় পাপী আর সংসারে নাই। এই আত্মহত্যাজনিত পাপের প্রায়শ্চিত্ত পৰ্যন্ত নাই। সুতরাং ভগবৎপ্রীতিসম্পাদনের নিমিত্ত মানুষ যথাবিহিত বর্ণাশ্রম বিহিত ধর্মের অনুষ্ঠান করিবে। এইরূপে কর্মফলে অনাসক্ত হইয়া কৰ্ম- চরণের ফলে ভগবানের অনুগ্রহে তাহার চিত্ত রজতমমলশূন্য হয়। পরে পরমবৈরাগ্য প্রাপ্ত হইয়া মুক্তিলাভ করিয়া থাকে। ভগবান্ গীতাতে বলিয়াছেন—কৰ্মজ বুদ্ধিযুক্তা হি ফলং ত্যক্ত। মনীষিণঃ । বিনিমুক্তাঃ পদং গচ্ছন্তনাময় । অনেকচিত্তবিভ্রান্তমেহজালসমাবৃতাঃ। প্রসক্তাঃ কামভােগেনু পতন্তি নরকেই চৌ। সেই আত্মতত্ত্ব কিরূপ? যাহার অজ্ঞানতাপ্রযুক্ত মানুষ হীন হইতে হীনতর যােনিতে জন্মগ্রহণ করিয়া থাকে ? এই আকাঙায় শ্রুতি নিম্নলিখিত মন্ত্রের অবতারণা করিতেছেন- আনঃ অরূপম অনেজদেকং মনসাে জবীযাে নৈনদেবা আপ্ন পূর্বমর্ষৎ । তাবতােইন্যানতত্যতি তিষ্ঠন্মিয়পাে মারিশ্যা দধাতি ॥৪ সায়ানুবাদ-[ ব্ৰহ্ম ] অনেকাং (গতিবিহীন) এক (অদ্বিতীয়। মনস (মন হইতেও) জৰীয়ঃ (বেগবান্) এনং (ইহাকে) দেবাঃ "হিট হুসর্ব প্য নারায়ণ তি ইত্যাদিতে। তােৰ। ইনানিতানি জায়" ইত্যাদি এতে। + অ ইতি পাঠায়।
আন বহ্মপন্থ (ইন্দ্রিয়গণ) ন আপু (প্রাপ্ত হয় না) [ বেগবত্বহেতুপূর্ব (মনের পূর্বেই) অষৎ ( ইনি গমন করিয়াছেন)। তৎ (সেই। তিষ্ঠৎ (গতিহীন ব্ৰহ্ম) ধাৰত ( ধাবমান। অন্যান্ (অন্যসমুদয় পদার্থকে) অত্যতি (অতিক্রম করে) তস্মিন (সেই সৎরূপে ) মাতরি (প্রাণরূপী সূত্ৰাত্মা) অপঃ (কর্মসমুদম) দধাতি (ধারণ করেন)। লোকা—এক অদ্বিতীয় ব্ৰহ্মতত্ব কখনও স্বভাব হইতে বিচ্যুত হয় অর্থাৎ সর্বদা একরূপেই অবস্থান করে। ইহার গতি মনের গতি হইতেও অধিক, বেগবান্ ইন্দ্রিয়গণ পর্যন্ত ইহার পশ্চাতে পডিয়া থাকে, কারণ বেগবত্ব প্রযুক্ত মনের পূর্বেই ইনি সর্বত্র বর্তমান রহিয়াছেন। অচল স্বভাব ব্ৰহ্ম ধাবমান সমুদয় পদার্থকে অতিক্রম করিয়া চলিয়া যায় এবং স্পন্দনাত্মক প্রাণরূপী বায়ু ইহাকেই অবলম্বন করিয়া জীবের কর্মসমূহ ধারণ করেন। শা-(১) অনেন এজৎ অর্থাৎ যে কম্পিত হয় না। কম্পন শব্দের অর্থ স্বভাব হইতে প্রতি অতএব তজিত অর্থাৎ সর্বদা শঙ্কানন্দের মতে এই শব্দ বায়ু ও প্রাণের ব্যাবর্তক। বাল্যাদি ও জাগ্ৰদাদির অভাবযুক্ত (রামচন্দ্র)। অভয়-অনাচাৰ্য। (২) চোদি ইন্দ্রিয় (শঙ্কর)। দেবা-দেবতা ( উবট )। ব্ৰহ্মাদ্যা, দ্যোতনারাদয়ঃ ইতি (অনন্যাচাৰ্য)। (৩) অপ্রাপ্ত হইয়াছে (শঙ্কর)। ঋষধাতুর অর্থ গমন করা। অর্ণং এই পাঠে অর্থ ‘অনাদিনিধন। বিশ ধাতুর অর্থ হিংসা করা। ন+ৰিশংঅর্শ। ছন্দে ইকার লােপ হইয়া অং পদ সিদ্ধ হইয়াছে (উবট)। শঙ্করানন্দ ধাতুর বহু অর্থ বলিয়া ৱিশ ধাতুই গমনার্থে গ্রহণ করিয়াছেন। (৪) পুর্ব প্রথমে (শঙ্কর)। অনাদি, জন্মরহিত (রামচন্দ্র) সর্বজগৎকার=অনাচাৰ্য । (৫) অপকর্ম অর্থাৎ প্রাণীর স্পন্দনাদি ক। (শঙ্কর)। কর্মাণি যানহােমারীনি (উট)। কর্ম ও কর্মফল-ব্ৰহ্মানন্দ। শরীরভের কারণ জান ও ক্রিয়া শক্তি (শঙ্করানন্দ)। প্রাণনাদি চেষ্টা ১৮ ঈশাস্যোপনিং ( রামচন্দ্র)। অয়ি, আদিত্য ও পর্জনাদির জ্বলন, দহন প্রকাশ ও বধাদি ( আনন্দভট্ট)। কাৰ্যকারণজাত ( অনাচাৰ্য)। অপশলের আর এক অর্থ জল। শ্ৰীযুক্ত অরবিন্দ ঘোেষ মহাশয় ইহার উপর লিখিয়াছেন— "Apus as it is accentuated in the version of the white Yajurveda, can mean only, "water" If this accentuation is disregarded, we may take it as the singular Apas, work, action Shankara however renders it by the plural, works The difficulty only arises because the true Vedic sense of the word had been forgotten and it came to be taken as referring to the fourth of the five elemental states of matter, the liquid. Such a reference would be entirely irrelevant to context. But the waters, otherwise called the seven streams or the seven fostering Cows are the Vedic symbol for the seven cosmic principles and their activities, three inferior, the physical, vital and mental, four superior, the divine truth, the divine Bliss, the divine will consciousness and divine being On this conception also is founded the ancient idea of the seven worlds in each of wbich the seven principles are separately active by their various harmonies, This is obviously, the right significance of the word in the upanishad." ঘােষ মহাশয় একটু চিন্তা কৰিলেই দেখিতে পাইতেন যে শঙ্করের ‘কর্মণি এই বৈদিক অর্থেই দ্যোতক। ঋগবেদের নাসদীয় সূক্তে { x 19 ) “তম আসী তমসা গমগ্ৰে অপ্রকেত সলিলং সর্বমৈম। তুচ্ছেনাভু অপিহিতং যদাসীং তপস তমহিনা আয়তৈকম্।" ইহার পরেই হিরণ্যগর্তের কামনার কথা বলা হইয়াছে। এবং এই কথাই মহু ‘আপ এর সাদৌ তার বীজমজৎ* এই শ্লো- = আত্মন ধরুপ ১৯ শের দ্বারা স্বীয় সংহিতাতে প্রকাশ করিয়াছেন। ভূদি সপ্ত লােক কর্মফলেই সৃষ্ট হয়, সুতরাং তাহারাও কর্ম নামে অভিহিত। শরা- চার্যের কর্মণি এই বহু বচন দেওয়ার ইহাই উদ্দেশ্য। অগ্নিহােত্রাদি কর্মও এই উদ্দেশ্যেই দেওয়া হইয়াছে। Cf “অগ্নৌ প্ৰান্তাহতং সম্যগাদিত্যমুপতিষ্ঠতে। আদিত্যাজ্জাতে বৃষ্টি বৃষ্টের ততঃ প্রজা।” 6। মারিখ-মারি মন্তরিকে শয়তি গচ্ছতীতি মাতরি বায়ুঃ সর্বপ্রাণভূং ক্রিয়াত্মকো যশয়াণি কাৰ্য্যকারণজালনি যশিয়ে- তানি খােতানি চ যং সুসংকং সর্বস্য জগত বিধায়িত্ব স মারিখ। (শঙ্কর)। উবটাচাৰ্য মাতরিকে বায় অর্থেই গ্রহণ করিয়াছেন। তিনি বলিতেছেন—সর্বাণি কৰ্ম্মাণি যজ্ঞহােমাদীনি সমিষ্ট- যজুঃষি ( আহতি প্রদানের মন্ত্ৰ) ৰায়ে স্থাপ্যন্তে স্বাধাতে ইতি বায়ুপ্রতিষ্ঠাভিধানাং। এই মাতৰি স্বধা ( Matter) ও প্রয়তির ( energy) মাঝখানে থাকিয়া প্রাণির কর্মফল বিধাৰণ করিতেছেন, তাই ক্ষতি বলিতেছেন—যা সর্বাণি কাৰ্য্যকারণজাতানি যস্মিনােতানি প্রােতানি যখসূত্ৰসংকং সর্বস্য জগতত বিধায়িত্ব স মারিখ। ইনিই উপনিষদের হিরণ্যগর্ভ। এই কথাই অরবিন্দ ঘােষ মহােদয় নিম্নলিখিত রূপে বলিতেছেন। "Matarisvan seems to mean 'he wbo extends bimself in the mother or the container' whether that be the containing mother element, ether, or the material energy called earth in the Veda and spoken of there as the mother. It is a Vedic epithet of the god Vayu, who representing the divine principle in the life-energy, Prana, extends himself to matter and vivifies its forms Here it signifies the divine power that presides in all forms of cosmic activity " ৪।শরভাব্য-স্যাত্মনাে হননাদবিদ্বাংস সংসরতি তদ্বিপৰ্যমেণ বিংসাে জনা মূচ্যন্তে তে নাত্মহন। তৎকীদৃশমাত্মতত্ত্বমিত্যুচ্যতে অনেদিতি। অনে, নজ। এ কনে। কশন চলন ঈশাস্যোপনিষৎ বচ্ছাপ্রচ্যুতি ঘর্জিতষং সর্বদৈকরূপমিত্যর্থ। তচ্চৈকং সর্বভূতেষু। মনস সংকরাদিলক্ষণাজবীময় অবত্তরম্। কথং বিক্ষমূচ্যতে? বং নিলমিদং মনসােজবীয় ইতি চ। নৈষ দোষ। নিপাধুপাধিমতে- নােপপতে। তত্র নিরুপাধিকেন যেন রূপেণােচ্যতেহনেজদেকমিতি মনসােহতকরণ সংকল্পবিকলকশস্যোপাধেরনুৰৰ্তনাদিহ দেহস্য মনসাে ব্ৰহ্মলােকানিদুরগমন সংকয়েন ক্ষণমাত্ৰাম্ভবতীত্যতাে মনসাে জবি লােকে প্রসিদ্ধ। তস্মিন্ মনসি ব্ৰহ্মলােকাদী দ্রুতং গচ্ছতি সতি প্রথম প্রাপ্ত ইবাত্মচৈতন্যাবসসা গৃহতেহতে মনসাে জবীয় ইত্যাহ। নৈনদেব হােতনাচেরাদীনীন্দ্রিয়াণ্যেতৎ প্রত্নতমাত্মতত্ত্ব নাপু বর প্রাপ্তব। তেভ্যো মনাে জৰীয়াে মনােব্যাপারব্যবহিতত্ত্বাৎ। আভাসমাত্ৰমপি আত্মননা নৈব দেবানাং বিষয়ে ভবতি। যজ্ঞ বনাননসােহপি পূৰ্বমং পূর্বমেব গতম। ব্যোমবদ্বাপিত্বাং | সর্বব্যাপি তদাত্মতং সর্বসংসারধর্শ্ববর্জিতং ষেন নিরুপাখিকেন স্বরূপেণাবি ক্রিয়মেব সদুপাধিতা সর্ব সংসারবিক্রিয়া অনুভবতীবাবিবেকিং মুানামনেকমিব চ প্রতিদেহং প্রত্যবভাসতে ইত্যেতদাহ—তদ্ধাবতে গচ্ছতােহন্যাত্ম-বিলক্ষণান্মনােবাগীন্দ্রিয়প্রভৃতীনতত্যত্যতীত্য গচ্ছতীব। ইবার্থং স্বয়মেব দর্শমতি—তিষ্ঠদিতি। স্বয়মবিক্রিয়- মেৰ সদিত্যর্থ। তম্মিৱাত্মতত্বে সতি নিত্যচৈতন্থস্বভাবে মাতরিশা মাতৰ্য্যন্তরিক্ষে খয়তি গচ্ছতীতি মাতৰিা বায়ু সর্বপ্রাণভৃৎ ক্রিয়াকে যদায়াণি কার্যকরজাতানি যন্মিমােতানি পােতানি চ ষং সংজ্ঞকং সর্বস্ত জগতত বিধায়িত্ব স মাতরি। অপঃ কর্মাণি প্রাণিনা চেষ্টা- লক্ষণানি। অগ্ন্যাদিত্যপর্জন্তাদীনাং জ্বলনদহনপ্রকাশাভিবষণাদি- লক্ষণানি দধাতি বিহুজতীত্যর্থ। ধারয়তীতি বা। “ভীষাহম্মঘাত পবত ইত্যাদি ক্ষতিভ্য। সর্বা হি কাৰ্যকাণাদিবিক্রিয়া নিত্য- চৈত্যন্যারূপে সর্বকারণভূতে সত্যেব ভবন্তীত্যর্থ। ৪। তাৎপৰ্য—আত্মজ্ঞানের অভাবহেতু অবিদ্বান্ পুনঃ পুনঃ সংসারে গমনাগমন করিয়া থাকে এবং আত্মজ্ঞানের অধিকারী হইয়া বিধানগণ সংসারবন হইতে মুক্তিলাভ করিয়া থাকেন, একথা পূর্বে বলা হইয়াছে। এই শ্লোকে সেই আত্মতত্ত্ব নিরূপিত হইতেছে আত্মা কখনও নিজের স্বভাব হইতে বিচ্যুত হয় না, ইহা সর্বদাই একরূপে অবস্থান করে (একং সৎ বিল বহুধা বদভীত্যাদিতে)। আবার এই আত্মন রূপ ২১ আত্মা সংদিলক্ষণ মন হইতেও বেগবান্। আপাত দৃষ্টিতে আত্মায় এই অনেক্ষত্ব ও জবীয় বিরুদ্ধ বলিয়া প্রতীয়মান হইলেও বাস্তবিক পক্ষে তাহা নহে। নিরুপাধি ও উপাধি ভেদে ইহা উপপন্ন হইতে পারে। উপাধিশূন্য স্বৰূপাবস্থিত আত্মা নিশ্চল। সংকল্পবলে দেহ মন এক মুহূর্তে অতি দূরবর্তী ব্ৰহ্মাদি লােকে গমন করিয়া থাকে, এই জন্য মনের বেগবত্ব লােক প্রসিদ্ধ। ব্ৰহ্মলােকাদিতে দ্রুতগমনশীল মনের বেগবত্ত্ব লােক প্রসিদ্ধ। ব্ৰহ্মলােকাদিতে দ্রুতগমনশীল মনের উপরই যেন আত্মচৈতন্যের অবভাস প্রথম প্রাপ্ত হইয়া গৃহীত হয়, এই জন্য আত্মাকে মন হইতেও বেগবান বলা হয়। আত্মার জবীয়ন্তের কথা বলা হইল বলিয়া আত্মা অশ্বদির ন্যায় ইন্দ্রিয় গ্রাহ এরূপ সন্দেহ আসিতে পারে, সেই জন্য বলা হইতেছে যে, চক্ষুদির প্রবৃত্তি মনােব্যাপার পূর্বক হইয়া থাকে, আত্মা সেই মনের অবিষয় , সুতরাং চাদির যে অবিষয় সে সম্বন্ধে কোন কথাই নাই। এখন কথা হইতে পারে যে, আত্মা মনের অবিষয় কেন? উত্তরে বলা যাইতে পারে যে, যেমন মনস্থ পরিমাণ মনের অত্যন্ত অব্যবহিত বলিয়া মনের বিষয় হইতে পারে না, সেইরূপ মন হইতে অত্যন্ত অব্যবহিত মনের ব্যাপক আত্মা উহার বিষয় হইতে পারে না। মনেতে আত্মার আভাস সম্ভব, কিন্তু ইন্দ্রিয়াদিতে আত্মার আভাস ও হয় না। যেহেতু বেগবত্ব প্রযুক্ত ইহা মনেরও পূৰ্বে চলিয়া যায়, অর্থাৎ আকাশের ন্যায় ব্যাপী বলিয়া আত্মা সর্বদা সর্বত্র বর্তমান রহিয়াছে সুতরাং পরিচ্ছিন্ন মন প্রভৃতি আত্মার পূর্বে কোথাও পৌছিতে পারে না। সর্বব্যাপী, সর্ব সংসার- ধৰ্ম বর্জিত, বিকাররহিত এই আত্মতত্ব স্বীয় নিরুপাধিক রূপের দ্বারা যেন উপাধিত সকল সংসারক্রিয়া অনুভব করিয়া থাকে, এ জন্য ইহা অজ্ঞানাচ্ছন্ন অবিবেকীর নিকট প্রতিদেহে অবস্থান করিতেছে বলিয়া বােধ হয়। ইহাই বুঝাইবার নিমিত্ত শ্রুতি বলিতেছেন যে, গমনশালী আত্মা আপনা হইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাগিন্দ্রিয় প্রভৃতিকে যেন অতিক্রম করিয়া চলিয়া যায়। এই বিষয়টা পরিষ্কার করিবার জন্য প্রতি বলিতেছেন যে, অবিকৃত রূপে বর্তমান আছে বলিয়াই অন্তৰিক্ষাত ক্রিয়াত্মক বায়ু প্রাণিগণের প্রাণধারণে সাহায্য করিতেছে। কাৰ্যকারণ সমূহ ওতপ্রােতভাবে ইহাতেই অনুত রহিয়াছে। তি এই বায়ুকে সূত্ৰাত্মা বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন। এই বায়ু আত্মতত্বে প্রতিষ্ঠিত ঈশাস্যোপনিষৎ থাকিয়া অগ্নি, আদিত্যাদির দহন, প্রকাশ প্রভৃতি চেষ্টার বিভাগ করিতেছে। মােট কথা নিত্য চৈতন্য স্বরূপের সত্তা না থাকিলে কোন বৈকারিক ভাবই উৎপন্ন হইতে পারি না। সুতরাং এই পরমাত্মা যাগহােমাদিরও পরম নিধান । / আস্বরূপ তদেজতি তজৈতি তরে তদ্বন্তিকে। তদন্তর সর্বস্য তদু সর্বস্যাশ্য বাহ্যতঃ ॥৫ সায়ানুবাদ-৩ (সেই ব্ৰহ্ম) এজতি (গমন করেন। তৎ (সেই ব্রহ্ম) ন এজতি ( অচল ) তং (সেই ব্ৰহ্ম) দূরে (ব্যবধানে। তনু ( এবং তাহাই ) অন্তিকে ( নিকটে ) তৎ (সেই ব্ৰহ্ম। অন্য সব স্য (এই সমূদয় জগতের) অনু ( মধ্যে ) ভদ্র ( এবং তিনিই। অশ্য সৰস্য (এই দৃশ্য জগতের) বাতঃ ( বাহিরে )। শ্লোকার্থ-ব্ৰহ্ম ধ্রুব এবং শাশ্বত হইলেও অজ্ঞানীর নিকট চলম্বভাব বলিয়া প্রতীয়মান হয়। বিদ্বান্ ব্যক্তি তাহাকে অন্তরের অন্তর বলিয়া জানেন, কিন্তু অজ্ঞানী তাঁহার স্বরূপ অবগত হইতে পারে না । বি ও সূক্ষ্ম বলিয়া তিনি চরাচব ব্রহ্মাণ্ডের অন্তরে ও বাহিরে বর্তমান রহিয়াছেন। শর্থ এতি—চলে বা কম্পিত হয়। পিচের অর্থ বর্তমান রহিয়াছে বলিয়া কম্পিত করেন এ অর্থও ধরা হয়। অবশ্য ইহা অবিদ্বানের সম্বন্ধে বুঝিতে হইবে। (২) দূরে—অবিদ্বান এব নিকট বুঝিতে হইবে। অবিদ্বান্ আত্মতত্ত্ব হইতে দূরে বলিয়া এই অবিধাগত দূরত্ব বন্ধে উপচরিত হইয়াছে। (৩) অন্তঃসূক্ষ্ম বলিয়া সমুদয় চরাচরের অন্তরে অবস্থিত। (৪) বাত-সপ্তম্যর্থে তস প্রত্যয় হইয়াছে। বাহ্যে অর্থাৎ বাহিরে। সর্বব্যাপী বলিয়া তিনি চরাচরের বাহিরে অবস্থিত। ৫। শঙ্করন মন্ত্রাণাং জামিতাহীতি পূর্বমন্ত্রোক্তমপ্যর্থ পুনরাহ-জেতীতি। তদাত্মতত্ত্বং যং প্রকৃতং তদেজতি চলতি আসসা ব্যবহার তুদেব চ নৈতি স্বতত নৈব চলতি তােহলমে সচ্চলতীবেত্যর্থ। কিংচ তন্দুরে বর্ষকোটাতৈরপ্যবিদুষপ্রাপ্য ই। তং উ অন্তিক ইতিচ্ছেদ। তদ্বন্তিকে সমীপেইত্যমেব কেবল দূরেইন্তিকে চ। তদন্তরভ্যন্তরে সর্বস্য। য আত্মা সর্বান্তর ইতি তে। অন্য সর্বস্য জগতত নামৰূপক্রিয়াযুকস্য উছু অপি সর্বস্যাস্য বাতাে ব্যাপকত্বদা- কাশবৱিরতিষদ। প্রজ্ঞানঘন এবেতি চ শাসনায়িরন্তর চ। ৫ ৫। তাৎপর্য-ব্ৰহ্মতত্মের ন্যায় দুরূহ ব্যাপার একবার বলিলে চিত্ত গ্রহণ করিতে সমর্থ হয়না, এইজন্য হেপ্রবণ অনলস তি দুষ্প্রাপ্য, অন্তর্বামি, ব্যাপক আত্মতত্ম কিরূপে অনায়াসে গৃহীত হইতে পারে তাহা প্রদর্শনের নিমিত্ত প্রকারান্তরে পূর্ববণিত মন্ত্রের তাৎপৰ্য পুনরায় এই মন্ত্রে প্রদান করিতেছেন। আত্মতত্ম নিল হইয়াও চলের ন্যায় প্রতীয়মান হয়। অবিদ্বাণ কোটি কোটি বৎসরেও ইহার সন্ধান পায়না, এইজন্য তাহাদের সম্বন্ধে আত্মা বহুদূরে অবস্থিত , আবার বিধানের নিকট ইহা অতিশয় নিকটে। অথবা সর্বগত বলিয়া আত্মা একই সময়ে দূরে এবং নিকটে অবস্থিত। এই আত্মা প্রত্যক্ষ সমুদয় ভূতজাতের অন্তর্যামিরূপে বর্তমান। আবার এই আত্মাই আকাশের ন্যায় ব্যাপক বলিয়া নামরূপ ও ক্রিয়াত্মক এই জগতের বাহিরেও বর্তমান। অর্থাৎ নিরতিশয় সূক্ষ্মও বিভু বলিয়া আত্মা দৃশ্যমান জগতের অন্তরে ও বাহিরে সর্বত্র বর্তমান। আঞ্জস্য ব্যবহার যন্তু সর্বাণি ভূতান্যাত্মনন্যবানুপশ্যতি । সর্বভূতেষু চাত্মানং ততাে ন বিজুগুগতে। ৬ সায়ানুবাদ (যিনি) সর্বাণি ( সমূদয়) ভূতানি (ভূতজাতকে) আত্মনি (পরমাত্মাতে) অনুপশ্যতি (লশন করিয়া থাকেন) চ (এবং) সর্বভূতুেয়ু (সমুদয়ভূতে) আত্মানং (পরমাত্মাকে দর্শন করেন। [ তিনি ] ততঃ (সেই দর্শন হেতু) ন বিজুগুগতে (কাহাকেও ঘৃণা করেন না)। শ্লোকার্থ-আত্মব্যতিরিক্ত পদার্থে ই লােকের ঘৃণার উদ্রেক হয়, * বিচিকিসতি ইতি পাঠায়।
২৪ ইশাবাস্যোপনিষৎ নিজের প্রতি কাহারও কখনও ঘৃণা উৎপন্ন হয় না। অভেদন সম্পন্ন বিবেকী ব্যক্তির কেহ পর নয় বলিয়া তাহার স্বণাও থাকে না । শব্দা-সর্বাণি ভূতানি—অব্যক্ত হইতে বরান্ত সমুদয় প্রতি। (২) অনুপতি-অব্যতিরিক্ত ভাবে দর্শন করেন। অনুশব্দের অর্থ কারণাত্মরূপে অনুগত (রামচন্দ্র)। (৩) ত—পঞ্চম্যর্থে ত। সেই দশন অর্থাৎ সর্বভূতে আত্মজ্ঞান c আত্মানং সর্বভূতে সর্বভূতানি চানি। সং পন আজী খামাজমিধিগতি। শরভাষ—যন্তু। যঃ পরিব্রাজ, মূমুকু সৰ্বাণি ভূতান্ত- ব্যাদীনি স্থানান্তন্যত্মবােপত্যাত্মব্যতিরিক্তেন ন পতীত্যর্থ। সর্বভূতেষু চ তেঘেবাত্মানং তেমপি ভূতানাং মাত্মানমাত্মবেন যথাস্য দেহস্য কার্যকারণসংঘাতস্যাত্মাহং সর্বপ্রত্যয়সাক্ষিভূত চেয়িতা কেবলাে নির্গণােকনেনৈব স্বৰূপেশাবাদীনাং স্থাবান্তানামহমেবাত্মেতি সর্বভূতেষু চাত্মানং নির্বিশেষং যমুপতি স তত তমাদেব দর্শনা ন বিজুগুগতে বিজুগুণাং স্বং ন কৰােতি। প্রাপ্তস্যৈবাহুবাবাদো- হয়। সর্বা হি ঘৃণাত্মনােহন্তদুষ্টং পশ্যতাে ভৰত্যাআনমেবাত্যবিদ্ধ নিরন্তর পতাে ন স্বশানিমিত্তমর্থান্তরমন্তীতি প্রাপ্তমে। ততােন বিজুগুগত ইতি। ৬ ৬। তাৎপৰ্যসম্প্রতি এই মন্ত্রে মুমুর ব্যবহার কথিত হইতেছে যে পরিব্রাজক মুমুক্ষু অব্যক্ত হইতে স্থাবরান্ত ভূতাতকে নিজ হইতে ভিন্ন রূপে দর্শন করেনা অর্থাৎ যিনি সর্বভূতে আপনাকে কারণাত্মৰূপে অনু- গত দেখেন, তিনি ঐকাত্মজ্ঞানলাভহেতু সংশয় প্রাপ্ত হন না। দ্বৈতদর্শন- কারীরই সংশয় বা উভয়কোটিকন জন্মিয়া থাকে, একাত্মদর্শনকারী উহা হয় না। বৃহদারণ্যক ঐতিতেও রহিয়াছে—যদৈতপশ্যত্যাত্মানং দেবমসা। ঈশানং ভূতব্য ন তা বিচিকিৎসতি । দশীই স্বা, দয়া বা জুলা জন্মিয়া থাকে, অদ্বৈত আত্মতত্মদর্শনকারী এ সমুদায়ই চলিয়া যায়।
আত্মস্যপ্রকৃতি २९ আজল্যকৃতিঃ যস্মিন্ সর্বাণি ভূতান্যাত্মৈবাভূবিজানতঃ। তত্র কো মােহঃ কঃ শােক একমপশ্যতঃ ॥৭ সায়ানুবাদ—যস্মিন্ (যে কালে বা অবস্থা বিশেষে) সর্বাণি (সমুদয়) ভূতানি (ভূতজাত) আত্মৈব ( আত্মাই। অভূৎ (হয়) বিজানত (তত্ত্বজ্ঞান সম্পন্ন) একত্বমনুপশ্যতঃ (এবং একাভকারী (পুরুষের) ( সেই কালে বা সেই অবস্থাতে) কঃ মােহ (মােহ কি হইতে পারে ?) কঃ শােক (এবং শােকই বা কি হইতে পারে ?) [ অর্থাৎ শােক বা মােহ কিছুই থাকে না ]। শ্লোকার্ধ-তত্ত্বজ্ঞের নিকট প্রপঞ্চ বলিয়া কোন পদার্থ নাই, এক- মাত্ৰ ব্ৰহ্মই জগৎ ব্যাপিয়া অবস্থান করিতেছেন। পুরুষের আত্মাতে যখন এই অনুভূতি হয়, তখন সেই অবস্থাতে মােহের কারণীভূত আবরণ এবং শশাকের কারণীভূত বিক্ষেপ তিনােহিত হয় , সুতরাং শােকও মােহ তাহাতে উপস্থিত হইতে পারে না। শব্দার্থ য—িযে সময়ে বা যেরূপ আত্মাতে। (২) অতুৎছলে বর্তমান অর্থে অতীত কালের প্রনােগ হইয়াছে। (৩) বিজানতঃ—বিশিষ্টজ্ঞান সম্পন্নের অর্থাৎ পরমার্থতত্ত্বরে। (৪) কঃ মােহকঃ শােক—ইহারা মায়ার সহিত বর্তমান সংসারের অত্যন্তোচ্ছেদ প্রদর্শিত হইয়াছে। কাম ও কবীজই সংসারের প্রতি কারণ। পতিত্ব অবগত হইলে ইহারা সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয় এবং কারণের অভাবে কাৰ্য অর্থাৎ জগতের উৎপত্তি ও তিরােহিত হয়। ৭। রাষ্য—ইমমেবার্থমধ্যোপি মন্ত্র আহ-যস্মিন্ সর্বাণি ভূতানি। যস্মিন্ কালে যথাোত্মনি বা তাবে ভূণি সর্বাণি পরমার্থতত্ত্ব- দর্শনাদাত্মৈবাদাত্মৈব সংবৃত্ত পরমার্থৰিজানতত্ত্ব তম্মিন কালে তানি বা কো মােহ ক শােক। শােক মােহ কামকৰ্ম- বীজমজনতাে ভবতি নাত্মক বিশুদ্ধ গগনােপমং পত। কো মােহ ক শােক ইতি শােকমােহমােরবিদ্যকাৰ্যােরাক্ষেপে ভবনাৎ সকারণ সংসারস্যাত্যমেবােচ্ছেদ প্রশিতে ভৰতি।।
ইবাস্যোপনিষৎ ৭। তাৎপর্য-এই মন্ত্রে পুৰ্বমন্ত্রের অর্থই ব্যাখাত হইতেছে যে কালে বা যে আত্মাতে পরমার্থতত্ত্বদর্শনহেতু সমুদয় ভূত অভিন্ন হইয়া যায় সেইকালে বা তাদৃশ আত্মায় পূত্ৰকলাদিজনিত শােক বা মােহের বাধামাত্ৰ থাকিতে পারেনা। যাহারা কামকর্মের বীজ জানেনা তাহাদেরই শােক এবং মােহ উৎপন্ন হয়, কিন্তু বিশুদ্ধ গগনসদৃশ আত্ম তত্ত্বের উদয়ে উহার সূর্যোদয়ে অন্ধকারের ন্যায় দূরীভূত হইয়া যায়। অবিদ্যার কাৰ্য শােক ও মােহ দূরীভূত হয় বলাতে দেখান হইল যে আত্মবিদের সংসার সম্পূর্ণরূপে উচ্ছিন্ন হয়। তখন সে সােহমশ্বি, অহং ব্ৰহ্মান্মি প্রভৃতি বাক্যের অর্থ অনুভব করে। আলফাম স পৰ্যগাচ্ছ ক্রমকায়মণমবিরং শুদ্ধমপাপবিদ্ধ। কবিমনীষী পরিভূঃ স্বয়ংভূযথাতথ্যতােহর্থান্ ব্যদধাচ্ছাশ্ব- তীভ্য সমাভ্যঃ ॥৮ সায়ানুবাদ—সঃ (সেই ব্ৰহ্ম। পৰ্যগৎ (সর্বত্র ব্যাপ্ত হইয়া রহিয়াছেন। শুক্র ( তিনি দীপ্ত) অকায় (শরীর বিরহিত) অব্ৰণ (অক্ষত) অবিরম্ ( শিরাবর্জিত) শুদ্ধ ( অবিদ্যামলশূন্য। অপাপবিদ্ধ ( এবং পাপসম্পৰ্কশূন্য)। কবি (তিনি কান্তদশী অর্থাৎ সর্বদ্রষ্টা) মনীষী ( সর্বজ্ঞ ) পরিভূ ( সর্বব্যাপী,) স্বয়ম্ভু ( আত্মভূ অর্থাৎ নিত্য। যাথাতথ্যতঃ ( অনুরূপ কর্মফল সাধনের দ্বারা। অর্থাত্ কর্তব্য পদার্থ সমূদয় । শাশ্বতীত্য সমাভ্যঃ (অনাদিকাল হইতে) ব্যবধা (বিধান করিতেছেন অর্থাৎ বিভাগ করিতেছেন)। কাৰ্থ-সেই পরব্রহ্ম আকাশের ন্যায় সর্বব্যাপী, দীপ্ত ও তিনি সুলশরীর বজিত বলিয়া ব্যাধি ও বন্ধন রহিত এবং মলেৰ সহিত সম্পর্ক শূন্য বলিয়া শুদ্ধ ও পাপলেশশূন্য। তিনি সর্বদ্রষ্টা, বুদ্ধির প্রেরক, সকলের শ্রেষ্ঠ ও সনাতন। অনাদিকাল হইতে তিনি ক্রিয়ানুরূপ প্রজা ও প্রজাপতির কর্মফল বিধান করিতেছেন। না—(১) পৰ্য্যগাৎ-পরি অর্থাৎ সর্বত্র গমন করিয়াছেন অর্থাৎ সৰাপী।
আত্মরক্ষণ (২) অকা-অশরীর অর্থাৎ লিঙ্গশরীর বর্জিত। ভােগ- শরীরবর্জিত-অনাচাৰ্য্য। (৩) অণ, অবির—ব্রণ ও শিরারহিত। এই বিশেষণ দ্বয়ের দ্বারা স্থূল শরীরের প্রতিষেধ হইতেছে (শঙ্কর)। আবা শব্দের অর্থ শিরা সুতরাং অবির অর্থ শিরা বা বন্ধন রহিত। (৪) অবিদ্যামরহিত। এই বিশেষণ কাৰণশরীরের প্রতিষেধ করিতেছে (শঙ্কর)। অর্থাৎ আতিবাহিক শরীরও প্রতিষিদ্ধ হইতেছে , সুতরাং শরীর, রহিত। (৫) অপাপবিদ্ধ—ধর্মাধর্মাদি বর্জিত। (৬) কবি—ক্রান্তদশী, সর্বদ্রষ্টা। (৭) মনীষী—মনের প্রেরক অতএব সর্বজ্ঞ। (৮) পরিতুঃ—সকলের পরি অর্থাৎ উপরি বর্তমান। (৯) অয়ঃ—জন্মরহিত, নিত্য। (১০) যাথাতথ্যঃ-যথাতথাভাবঃ যাথাতথ্যম্ তম্মাং যথাভূত- কর্মফলসাধনতঃ অর্থাৎ প্রাণীর কর্মানুযায়ী ফলসাধনের দ্বারা। (১১) ব্যথাৎ-বিধান বা বিভাগ করিয়া থাকেন। (১২) সমাভ্যঃ-সংবৎসরাষ্যেভ্য প্রজাপতি (শঙ্কর)। শাবাশ্বরহস্যে ইহা প্রজা ও প্রজাপতি অর্থে ব্যাখ্যাত হইয়াছে। সকল টীকাকারই কালার্থ গ্রহণ করিয়াছেন। ৮। শঙ্করভাষ্য- যােহষমতীতৈমন্ত্রৈরুক্ত আত্মা স কােন রূপেণ কিং লক্ষণ ইত্যাহায় মন্ত্র—স পৰ্য্যগাং স যথােক্ত আত্মা পৰ্যগাং পরি সমস্তাদগাদ গতবা আকাশবব্যাপীত্যর্থ। শুক্রং শুদ্ধ জ্যোতিষ্মীপ্তি- মানিত্যর্থ। অকায়মশরীরে লিঙ্গশরীরবজিত ইতাৰ্থ অত্রণমত। অন্নাবিং আবাঃ শিরা যন্নি বিন্যস্ত ইত্যাদির। অৱণমবিরমি- ত্যাভ্যাং ফুলশৰীয়প্রতিষেধ। শুদ্ধং নির্মলমবিদ্যামলাহিতমিতি কারণশরীরপ্রতিষেধ। অপাপবিদ্ধ ধর্মাধদিপাপবজিত। এক- মিত্যাদীনি বচাংসি পুংলিঙ্গনে পরিণোনি স পৰ্যাগাদিত্যুপক্রম্য কবিমনীষীত্যাদিনা পুংলিঙ্গবেনােপসংহারা। কবি কাদশী সর্বক নাতন্তি ভ্রষ্টত্যাদিতে। মনীষী মনস ঈষিতা সৰ ঈশ্বর ২৮ ঈশাস্যোপনিষৎ ইত্যর্থ। পরিভূ সর্বেষাং পর্যুপরি ভৰতীতি পৰি স্বয়ংভূ স্বয়মেৰ ভবতীতি যেষামুপরি ভবতি যশোপরি ভবতি স সর্বঃ অয়মেৰ ভৰতীতি স্বয়। স নিত্যমূহ ঈশ্বরে যাথাতথ্যতঃ সর্বজ্ঞ যথাতথাভাবে যাথাতথ্যং তম্মা যথাভূতফলসাধনতােহথান কর্তব্যপদার্থা ব্যথাৎ বিহিত যথানুরূপং ব্যভজদিত্যর্থ। শাশ্বতীভ্যঃ নিত্যাভ্য সমাভ্যঃ সংবৎসখ্যেভ্য প্রজাপতিভ্য ইত্যর্থ । ৮। তাৎপৰ্য-এই মন্ত্রে পুনর্বার আত্মস্বরূপ বর্ণিত হইতেছে পূর্বকথিত আত্মা বিভু ও নিরঞ্জন, ক্ষত ও শিরাদি শুম্ভ, স্কুল ও সূক্ষ্ম শরীররহিত এবং শুদ্ধ ও নিপাপ। ইনি কান্তদশী এবং সর্বত্র ঈশ্বর। সমস্ততজাত ইহাতে ওতপ্রােতভাবে সংযুক্ত রহিয়াছে এবং ইনি নিত্য । দেহত্ৰয়বজিত শান্ত আত্মাকে জানিয়া জীব সমুদয় বন্ধন হইতে মুক্ত হয়। স্বয়ম্ভু পরমেশ্বর অনাদি অনন্তকাল হইতে প্রজাপতি ও প্রজার কর্তব্য বিভাগ করিয়া তাহাদিগকে অর্পণ করিয়াছেন। এই নিত্যমুক্ত স্বভাববান পুরুষের স্বরূপ অবগত হইলে জীব ভবন্ধন হইতে বিমুক্ত হয়। শঙ্কর প্রভৃতি টীকাকারগণ অকায়মব্রণ ইত্যাদি জীব লিঙ্গ শব্দের বিভক্তির বিপরিণাম করিয়া স’ ইহার বিশেষণ রূপে গ্রহণ করিয়াছেন কিন্তু উবটাচাৰ্য ইহার যথাক্রত অর্থ করিয়াছেন। অন্যান্য টীকাকারের ব্যাখ্যা হইতে তাহার ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিয়ে তাঁহার ব্যাখ্যা প্রদত্ত হইল। “যিনি আত্মাকে আত্মরূপেই উপাসনা করিয়া থাকেন তিনি নির্মল, বিজ্ঞানানন্দস্বভাৰ, অশরীরী, অক্ষত, স্নায়ুরহিত, রজন্তমপ্রভৃতি মলৰজিত এবং ক্লেশকর্মাদি অবিদ্যা নিযুক্ত ব্ৰহ্মকে প্রাপ্ত হইয়া থাকেন। এই ব্ৰহ্মতত্ত্ব লাভ করিয়া তিনি কান্তদশী মেধাবী, সর্বজ্ঞ এবং ব্ৰহ্মজ্ঞান সম্পন্ন হন বলিয়া নিত্য আত্মস্বরূপে বিরাজ করিয়া থাকেন। কর্মফলে অনাসক্ত হইয়া কাৰ্য্য করিবার ফলেই তাহার এই অবস্থা হইয়া থাকে। অবিয়িন্দা অন্ধ তম প্রশিন্তি যে বিদ্যামুপাসত্।ে তহােয় ইবতে তমাে য উ বিদ্যায়াং রঃ ৪৯ মায়াবাদ—যে (যাহারা) অবিদ্যাং (বিদ্যাবিরােধী অগ্নিহাে- অবিম্বিন্দা আদি) উপিসতে (অনুষ্ঠানে মৃত থাকে অর্থাৎ এই কর্মকেই যাহারা চরম উদ্দেশ্য বলিয়া মনে করে) [ তাহারা ] অন্ধ তম (অনাত্মক অন্ধকারে বিশতি (এবেশ করিয়া থাকে) বউ (যাহারা আবার ) বিদ্যায়াম (কেবলমাত্র দেবতােপসনে) র (নিযুক্ত থাকে অর্থাৎ চিত্তশুদ্ধির পূর্বে ই কর্ম পরিত্যাগ করিয়া অপু দেবতানে আত্মনিয়ােগ করে) তে (তাহারা) ততঃ পূর্বোক্ত শ্রেণী হইতে) ভূয় ইব তম (আরও গভীরতর অন্ধকারে [ প্রবেশ করে ])। শোকার্থ-আত্মজ্ঞান লাভ করিতে হইলে কর্ম ও জ্ঞান, এই উভয়ের অনুষ্ঠানই প্রয়ােজনীয়। শুধু কর্ম বা শুধু জ্ঞানকে উদ্দেশ্য প্রাপ্তির চরম সাধন বলিয়া মনে করা নিতান্ত ভুল। জ্ঞানের উৎপাদনই কর্মের উদ্দেশ্য। রমমলােপহতচিত্তে কখনও নের প্রতিফলন হয় না, সেই জন্য প্রথমে কৰ্ম্ম করিয়া চিত্তশুদ্ধি করিতে হইবে, তৎপর বিশুদ্ধ চিত্ত হইয়া জানােপাসনায় রত হইবে। বর্তমান মন্ত্র এই উদ্দেশ্যেই অবারিত হইয়াছে। যাহারা কর্মই মােক প্রাপ্তির একমাত্র সাধন মনে করিয়া কর্মের অনুষ্ঠান করে, তাহারা অজ্ঞান অন্ধকারেই থাকিয়া যায় , অর্থাৎ পুনঃ পুনঃ সংসারে যাতায়াত করিয়া থাকে। আবার যাহারা চিত্তশুদ্ধির পূর্বেই জানােপাসনায় হয় তাহারা ও “ইতাে নষ্ট তত ভ্রষ্ট হইয়া সেই অন্ধকারের গণ্ডীতেই পড়িয়া থাকে। অতএব আত্মজ্ঞানলাভে ইচ্ছুক ব্যক্তির প্রথমে কর্ম দ্বারা চিত্তবৃত্তি নির্মল করিয়া পরে জানােপালনায় প্রবৃত্ত হওয়া সঙ্গত। (১) শাংতমসংসাররূপ অদশনাত্মক অন্ধকার। (3) অবি—বিস্তাবিরুদ্ধ অজ্ঞান বা কৰ্ম। এখানে সাধন অগ্নিহােত্ৰাদি কর্মের কথাই বলা হইয়াছে। (৩) দুই-ই এবার্থে ব্যবহৃত হইয়াছে। ভূয় শব্দের অর্থ- এখানে অতিশয়। (৪) বিয়া—দেবতানে, জানােপাসনায়। ৯। শরভাব্য—অত্রান্সেন মন্ত্রেণ সবৈষণাপরিত্যাগেন জ্ঞান- নিটোল এথমে বেদার্থ। বাস্যমিদং সর্বং মা গৃখ কৰি নিত্যানাং জিজীৰিষুণাং আননিঠাসংভৰে পূৰ্বৰেৰহ কৰ্মাণি বিজী- ঈশাস্যোপনিষৎ বিযেদিতি কর্মনিষ্ঠা দ্বিতীয়ো বোর্থ। অনয়ােক নিয়ােবিভাগে মন্ত্রপ্রদর্ণিতমােবৃহদারণ্যকেইপি প্রদর্শিতংসােহকাময়ত মে সাদিত্যাদি। অজস্য কামিন কাণীতি মন এবাস্যাত্মা বাগ জায়েত্যাদিচনা। অজ্ঞত্ব কামিত কর্মনিষ্ঠ্য নিশ্চিত অবগমতে। তথা তৎফলং সপ্তাঃসন্তেৰাত্মভাবেনাত্মস্বরূপাবস্থান জায়ান্বেষণায়সংন্যাসেন চাত্মবিদাং কনিষ্ঠাশ্ৰতিকূল্যেনাত্মস্বরূপ- নিঠৰ দৰ্শিতা—কিং প্রজয়া করিষ্যামাে যে নেয়মাত্মায় লােক- ইত্যাদি। যে তু জ্ঞাননিষ্ঠা সংন্যাসিনতেভ্যোহসুধা নাম ত ইত্যাদিন- বিয়িন্দাদ্বারোত্মনাে যাথাং স পৰ্যগাদিত্যেতমৈরুৈপদিষ্টম। তে হত্ৰাধিতা ন কামিন ইতি। তথা চ শ্বেতাশ্বতরাং মম্রোপনিষদি অত্যাবমিভ্যঃ পরমং পবিত্র প্রােবাচ সমগৃষিসংঘমিত্যাদি বিভ- জ্যোক্ত। যে তু কম্মিণঃ কর্মনিষ্ঠাঃ ক কুৰ্বন্ত এব জিজীবিষব স্তেভ্য ইমুচ্যতে অন্ধং তম ইত্যাদি। কথং পুনরেবাবগম্যতে ন ও সর্বেমিতুচ্যতে—অকামিন সাধ্যসাধনভেদোপমদেন যস্মিন্ সর্বাণি ভূতানাত্মৈবাকৃথিজানতঃ। তত্র কো মােহঃ কঃ শােক একমপত ইতি। যদাত্মৈকত্ববিজ্ঞানং তর কেনচিৎ কণা জ্ঞানান্তরেণ বা মূঢ় সমুচ্চিচীষতি। ইহ তু সমুচ্চিচীষয়াহবিদ্বাদিনিন্দা ক্ৰিয়তে। যস্য যেন সমুচ্চয়ঃ সংভবতি ন্যায়ঃ ভাস্বততা বা তদিহােচ্যতে। যবৈং বিত্তং দেবতাবিষয়ং জ্ঞানং কর্মসংবন্ধিত্বেনােপন্তং ন পরমাত্মজ্ঞানম বিঘয়া দেবলােক ইতি পৃথকফলবণাৎ। তমােনকােরিহৈকৈ- কানুষ্ঠাননিন্দাসমুচ্চিচীষয়। ন নিন্দাপরৈবৈকৈকস্য পৃথকুফলবণা। বিয়া তদাৰােহন্তি। বিয়া দেব লােক। ন তত্র দক্ষিণা যান্তি। কণা পিতৃলোেক ইতি। নহি শাস্ত্রবিহিতং কিঞ্চিদব্যতামিয়াৎ। তত্রা তমােহদর্শনাকং তম প্রশিন্তি। কে ? যে অবিদ্যা বিদ্যায় অন্যা- বিদ্যা তা কৰ্মেত্যর্থ। কপােবিদ্যাবিরােধিত্ব। তামবিদ্যাময়ি- হােত্ৰাদিলক্ষণামেব কেবলামুপাসতে তৎপরা সহেতিষ্ঠীত্যভি- প্রায়। ততস্তম্মান্ধাত্মাত্তমসাে ভূয় ই বহুতরমেব তে তম প্রবি- কে? কী হিবা যে উ যে ত বিদ্যায়ামের দেবতান এব তা অভিরতা । তাবান্তরভেদং বিদ্যকণাে সমুচ্চয়কাৰণমাহ। অন্যথা ফবফলতাে সংনিহিতয়ােরাবিতে সাদিত্যর্থ। ৯। তাপ—এখন একরণ বিভাগ দেখান হইতেছে। প্রথম মঞ্জে শক্তি।
অবিশ্বয়িন্দা দেখান হইয়াছে যে যােগ কর্মসংতা করিয়া পরমেশ্বরকে জানিবেন। তাহাতে অশক্ত হইলে অগ্নিহােত্রাদি কর্ষের অনুষ্ঠান করিয়া শরীরকে ব্ৰহ্মৰাপ্তিৰ বােগ্য করিবেন, ইহা দ্বিতীয় মন্ত্রে প্রদর্শিত হইয়াছে। কামুকের সংসার এবং নিষ্কামের মােক্ষলাভ হয়, ইহা দেখাইবার জন্য নয় মত্রের আরম্ভ হইতেছে। যাহারা কেবলমাত্র অবিদ্যা বা স্বর্গপ্রাপক আগ্নহােত্রাদিলক্ষণ কমাত্রের অনুষ্ঠান করে তাহারা অনাত্মক তমে প্রবেশ করিয়া থাকে। আবার যাহারা চিত্তশুদ্ধি হওয়ার পূর্বেই কর্ম পরিত্যাগ করিয়া শুধু দেবতাদির উপাসনায় রত থাকে তাহারা কর্মত্যাগ হেতু পাপযুক্ত হইয়া কৰ্ম্মানুষ্ঠানী অপেক্ষা অধিকতর তমে প্রবেশ করিয়া থাকে। কর্ম না করিলে অন্তঃকরণ শুদ্ধ হয় না এবং অশুদ্ধচিত্তে জানােদয় ও হয় না। কর্ণ বা দেবতােপাসনা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে করিলেই নরকের প্রতি কারণ হয় , কিন্তু পরাগতির দিকে লক্ষ্য রাখিয়া ক্রমে উহাদের অনুষ্ঠান করিলে প্রত্যেকের দ্বারাই প্রাণীর উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইতে পারে। কর্মের ফলে আমাদের প্রাত্যহিক ভোজনের অন্ন, দেবতাগণের হত এবং প্রত বা দৰ্শ এবং পূর্ণমাস, মনােবাক ও কায়লক্ষণ তিনটী ভােগ সাধন এবং পশ্বৰ্থপয়, এই সপ্তাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। কৰ্মনিরত ব্যক্তিগণের ঐ সকল পদার্থে আত্মবােধ হইয়া থাকে। যাহারা শুধু কর্মেতেই রত থাকে তাহাদের জন্য অং তম প্রভৃতির অবতারণা করা হইয়াছে। কারণ “যম্মি সর্বাণি ভূতানি” প্রভৃতি মন্ত্র দ্বারা দেখান হইয়াছে যে আননিগণ উপায় উপেয়ের ভেদের পরপারে অবস্থিত। জ্ঞানবান কখনও কর্ম ও জ্ঞানের সমুচ্চয় করিবে । অত লােক ঐরূপ করিতে ইচ্ছা করে বলিয়া তাহারা নিন্দিত হয়। এখানে যুক্তি ও শাস্ত্রের দ্বারা যাহার সহিত বাহার সমুচ্চয় হইতে পারে তাহাই দেখান হইতেছে। দেবতাজ্ঞানের সহিত কর্মের সমুচ্চয় হইতে পারে, কিন্তু পরমাত্মানের সহিত হইতে পারে না। কতি কী ও দেবতাজ্ঞানের বিভিন্ন ফল প্রদর্শন করিয়াছেন, ক ফলের দ্বারা পিতৃলােক লাভ হয়, দেবতানের দ্বারা দেবলােক লাভ হয়। বাস্তবিক পক্ষে এ মন্ত্র কম বা দেবতাজ্ঞানের নিন্দার জন্য আর হয় নাই, উভয়ের সমুদয়ের জন্যই আয় হইয়াছে। শাস্ত্রবিহিত কম কখনও অকরণীয় হইতে পারে না। কর্ম ও দেবতান সু
ইশাবাসোপনিষৎ
ক ও দেবতানের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাবে অনুষ্ঠিত হইলে মােক
আনয়ন করিতে পারে না, কিন্তু সমুচ্চিত হইয়া অনুষ্ঠিত হইলে উহা
আনয়ন করিতে সমর্থ হয়। বিশেষতঃ একে ফলপ্রসু ও অন্তে বা
হইলে একটী অন্যটার শুধু অঙ্গরূপেই পরিণত হইয়া যায়।
বিদ্যাবিদ্যমােঃ ফলম
অন্যদেবাহুবিয়াইন্যদাহুবিদয়া।
ইতি শুক্রম ধীরাণাং যে নচিচক্ষিরে৷৷ ১০
সাবাদ-বিদায়া (দেবতােপাসনার ফল) অন্যদেবাহু (ধীর
ব্যক্তিগণ সম্পূর্ণ পৃথক বলিয়া থাকেন। অবিদ্যয়া (এবং কর্মের ফল )
অন্যদাহ ( অন্যরূপ বলিয়া থাকেন [ অর্থাৎ বিদ্যার দেবলােক এবং
কর্যের দ্বারা পিতৃলােক লাভ হইয়া থাকে 1) ইতি (এইরূপ) বীণা
বিশ্বব্যক্তিগণের বচন) ৩ম (আমরা শুনিয়াছি)। যে (যে
ধীর ব্যক্তিগণ) ন (আমাদিগকে) তৎ (সেই বিদ্যা ও অবিদ্যার ফুল)
বিচচন্দিরে ( ব্যাখ্যা করিয়াছেন)।
লোকাধীর ব্যক্তিগণ সম্প্রদায় পরম্পরায় এই উপদেশই প্রদান
করিয়া আসিতেছেন যে, কর্ম ও জন উপাসনার ফল একেবারে বিভিন্ন
দেবতারাধনের দ্বারা দেবলােক এবং কর্মানুষ্ঠানের দ্বারা পিলােক
লাভ হইয়া থাকে। গীতা বলিতেছেন—
“যাতি দেবব্রত দেবান, পিতৃ, বাতি পিতৃতা।
ভূতানি শান্তি ভুতেজ্যা যাক্তি মদ্যাজিনােহপি মা।” ২৫
শাধ—(১) জয়দেব—অন্যই অর্থাৎ সম্পূর্ণ পৃথক।
(২) বীণা-বচন এখানে উহ রহিয়াছে।
(৩) ত—বিদ্যা ও অবিদ্যার ফল।
শরতাল-অন্যদেবেত্যাদি। অন্য পৃথগেৰ বিদ্যা
জিতে ফলমিত্যাহুবদন্তি বিয়া দেবলােক বিয়া তদানােহভীতি
অন্যদাইবিয়া কৰ্মশা ক্রিতে কণা পিতৃলােক ইতি
১০।
बाबासारिंशाबा बवामाविबा रेजिनागतम्।
বিদ্যাবিদ্যমােঃ সমুচ্চয়ফল এতে। ইত্যেবং গুম ততো বয়ং ধীণাং ধীমতাং বচন। যে আচাৰ্যা নােহভ্যং তৎ ক চ নং চ বিচচন্দিরে ব্যাখ্যাতবস্তন্তেময়- মাগম পারম্পর্যাগত ইত্যর্থ। ১০ ১০। তাৎপর্য-অবান্তর ফলভেদ যে বিদ্যা ও কর্মের সমুচ্চয়ের প্রতি কারণ তাহা দেখাইবার জন্য এই মন্ত্রের আরম্ভ। ক্ষতি বলিয়াছেন যে বিদ্যার দেবলােক ও কর্মদ্বারা পিতৃলােক লাভ হয়। সুতরাং বিদ্যাও কর্মের ফল পৃথক। আমরা সেই জানিগণের এরূপ বাক্য শুনিয়াছি, যে আচাৰ্য্যগণ আমাদিগকে কৰ্ম্ম ও জ্ঞানের উপদেশ দিয়াছেন। তাহাদের এই আগম পরম্পরাগত , সুতরাং নিত্য বলিয়া বিশ্বাস্য। বিদ্যাবিদ্যমােঃ সমুয়ফল বিদ্যাং চাবিদ্যাং চ যন্তঘেদোভয়ং সহ। অবিদ্য মৃত্যুং তী। বিদ্যয়াহমৃতমতে॥ ১১ সায়ানুবাদঃ ( যে পুরুষ) বিদ্যাং (দেবতােপাস) অবিদ্যাং চ (এবং কর্ম) উভয়ং। এই দুইটাই) সহ (এক পুরুষ কত্ত্বক অনুষ্ঠেয় বলিয়া) বেদ (জানে) [ সেই পুরুষ ] অবিদয়া ( কর্মদ্বারা। মৃত্যুং (সংসারকে) তী। ( অতিক্রম করিয়া বিদ্যমা ( দেবতােপাসনাদ্বারা) অমৃতং (দেবতাত্মস্বরূপ) অণুতে (প্রাপ্ত হইয়া থাকে)। শ্লোকার্থ-যে ব্যক্তি কর্ম ও দেবতােপাসনার ক্রম অবগত আছেন তিনি সংসার অতিক্রম করিয়া দেবরূপ প্রাপ্ত হইতে পারেন। এখানে দেবতাত্মলাভের নামই অমৃতত্ব। তাই তিও বলিয়াছেন—যদেবতাত্ম- গমনং তদমত। এখানে কর্ম ও জ্ঞানের যুগপং অনুষ্ঠানের কথা বলা হইতেছে না, কৰ্ম্মানুষ্ঠানের পর জ্ঞানােপশনার কথা বলা হইতেছে। শ—(১) বি—দেবতােপাসনা বা জ্ঞানােপাসনা। (২) অবিদ্যা- বিদ্যার বিপরীত অর্থাৎ কর্ম। (৩) সহ–সহ শষের অর্থ—এখানে সমুচ্চয় নহে, একাধারেব বাচক মাত্র অর্থাৎ একই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে কর্ম ও জ্ঞানের অনুষ্ঠান কবিকেন।
৩ ঈশাস্যোপনিষৎ । (৪) মৃত্যু শব্দের অর্থ—এখানে সংসার। সরস্বতী উপনিষৎ ও সংসার অর্থাৎ নামও রূপকে মৃত্যু বলিয়াছেন। cf" অন্তি তাতি প্রিয়ং রূপং নাম চেত্যংশপঞ্চক। আয়ং এরূপং জগজ্রপ তততা স্বয়ম্।” (৫) তম শঙ্করের মতে দেবতাত্মপ্রাপ্তি। উবটাচার্বের মতে ব্রহ্মপ্রাপ্তি। “আভূতসংগবনং অমৃতং হি ভায়তে।” ১১। শরব্য-যত এবমতাে বিদ্যাং চাবিদ্যাং চ দেবতাজ্ঞান কর্ম চেত্যর্থ। ধদেতদুভয়ং সহৈকেন পুরুষেণানুষ্ঠেয়ং বেদ তস্য এবং সমুচ্চয়কারিণঃ এবৈকপুৰুষাৰ্থসম্বন্ধ কমেণ স্যাদিত্যুচ্যতে—অবিদয়া কণাগ্নিহােত্রাদিনা মৃত্যুং স্বাভাবিক কর্ম আনং চ মৃত্যুশবাসমূভয়ং তীতিক্রম্য বিদ্যমা দেবতাজ্ঞানেনাতং দেবতাত্মভাবমনুতে প্রাপ্নোতি। তদ্ধতমুচ্যতে যদ্দেবতাত্মগমনম্ ॥ ১১ ১১। তাৎপর্য—যদি অগ্নিহােত্রাদি কর্মের ফল এক প্রকার এবং উপাসনার ফল অন্য প্রকার হয়, তাহা হইলে উহাদের অনুষ্ঠান কি করিয়া করা যাইতে পারে ? প্রয়ােজন ব্যতিরেকে কর্মের অনুষ্ঠান হইতে পারে না, সুতরাং কৈবল্য প্রাপ্তির নিমিত্ত উহার ফল বিশদরূপে বর্ণনা করিতে হইবে। অগ্নিহােত্রাদি ক্রিয়া এবং দেবতােপাসনা রূপ বিদ্যা যদি একই উদ্দেশ্য প্রাপ্তির উপায়ৰূপে চিন্তা করিয়া অনুষ্ঠান করা যায় তাহা হইলে উহারা কৈবল্যপদ লাভের সহায়ক হয়। সণ এ নিণ ভেদে ব্ৰহ্ম দুই প্রকার। নিণ ব্ৰহ্ম বাস্তব এবং সগুণ ব্রহ্ম পরিকল্পিত। কর্ণ ও বিদ্যার এক অনুষ্ঠান করিলে ব্ৰহ্ম লােক নিবাসী সমষ্টিজীবাত্মম্বরূপ হিরণ্যগর্তের প্রাপ্তি হয়, তংপর ঐ হিরণ্য- গর্ভের সহিত ব্ৰহ্ম প্রাপ্তি ঘটিয়া থাকে। হিরণ্যগর্ভপ্রাপ্তির নাম মৃত্যুর উত্তরণ এবং ব্ৰহ্ম প্রাপ্তির নাম অমৃতত্ব লাভ করা। কারণ মারাত্মক অন্তঃকরণ মলের নাম মৃত্যু এবং নিত্য পুরুষরূপ লাভের নাম অন্ত বা মােক। অবিন্নিা অন্ধং তম প্রবিন্তি যেসংভূতিমুপাসতে। ততাে ভূয় ইবতে তমাে য সংত্যাং রতাঃ। ১২ অবিলি সায়ানুবাদ-যে (যাহার) অসভূতিং ( অব্যাক্ত এরূপ অর্থাৎ প্রকৃতিকে) উপিসতে (উপাসনা করে) [ তাহারা অন্ধ তমঃ ( গাঢ় অন্ধকারে ) প্রবিশক্তি প্রবেশ করে), যে উ (যাহারা আবার) সংভূত্যা রতাঃ (ব্যাকৃতরূপ অর্থাৎ কাধে রত থাকে) তে (তাহারা) ততঃ (পূর্ববর্তী লােকদিগহইতে) ভূয় ইৰ (যেন আরও অধিক) তমঃ (অজ- কারে) [ প্রবেশ করিয়া থাকে]। লোকা—এখানে অব্যাকৃত স্বরূপের দ্বারা তাহাদের অধিষ্ঠাতা কারণ ও কাৰ্যব্ৰহ্ম অর্থাৎ ঈশ ও হিরণ্যগর্ভকে বুঝাইতেছে। আচাৰ্য্য শঙ্কর-অসংভূতি অর্থে কামকর্মের বীজভূত অবিদ্যা বা প্রকৃতিকে গ্রহণ করিয়াছেন এবং সংভূতি দ্বারা কাৰ্য ব্ৰহ্ম বা হিরণ্যগর্ভকে বলিয়াছেন। যাহারা অব্যক্তকেই ব্রহ্ম বােধে উপাসনা করিয়া থাকে তাহাদের প্রকৃতি- লয় হয়। তাই পুরাণ বলিতেছেন—“দশ মন্বন্তরাণীহ তিন্ত্যব্যক্ত- চিন্তকা।” আর যাহারা ব্যক্তস্বরূপ অর্থাৎ কাৰ্যব্রহ্ম বা হিরণ্যগর্ভকে আত্মবােধে উপাসনা করে তাহারা আরও গাঢ় অন্ধকারে গমন করে অর্থাৎ ইহাদের কেই সংসাররূপ গতায়াতের হাত হইতে নিস্তার পায় না। N. B উবটাচায্য এই মন্ত্র । পরবর্তী পাঁচটী মন্ত্র বৌদ্ধগণের নিন্দাপর বলিয়া ব্যাখ্যা করিয়াছেন। যাহারা জীবকে জলবুবুদ তুল্য এবং বিজ্ঞানকে মশক্তিবং মনে করে তাহারা অন্ধ মে প্রবেশ করে। তাহারা মনে করে মৃত্যুর পর আর জীব জন্মগ্রহণ করেনা, সুতরাং শরীব- গ্রহণ আমাদের মুক্তির প্রতিই কারণ। বিজ্ঞানস্বরূপ কোন স্থির আত্মা নাই, সুতরাং যম-নিয়মাদির সহিত তাহার সম্বন্ধ হইতে পারে না। এই ক্ৰতিবিরুদ্ধ পথের অনুগামী বলিয়া তাহাদের মুক্তি হইতে পারেনা। বাহারা আবার কর্মপরা মুখ হইয়া কেবল বিজ্ঞানবাদেই রত থাকে তাহারা আরও গাঢ়তর অনান্ধকারে প্রবেশ করে। শব্দার্থ-অসংভুতিম-সংভব বা কাধ্যের নাম সংভূতি তদন্য অসংভূতি—কারণরূপ অব্যাত প্রকৃতি। (২) সংভূতি-কাৰ্য্য ব্রহ্ম বা হিরণ্যগর্ভ। সাখ্যকারগণ প্রকৃতির প্রথম কাৰ্য মহৎকেই—এই স্বয়, মহের বা জগৎকারণ ঈশ্বর সংজ্ঞা দিয়াছেন।
শাস্যোপনিষং ১২। শঙ্কর-অধুনা ব্যাব্যাকলােপাসনয়ােঃ সমুচ্চিচীষয়া প্রত্যেক নিলোচ্যতে অন্ধ তম প্রবিশন্তি যেহুসংকিং সংভবন সংভূতিঃ সা যস্য কাৰ্য্যস্ত সা সংভৃতি শ্যা অন্যাহসংভূতি প্রকৃতিঃ কারণ- মবিদ্যাহব্যাখ্যা তামসংভূমিব্যাখ্যা প্রকৃতিং কারণমবিদ্যা কামকৰ্মবীজভূতামদর্শনাত্মিকানুপাসতে যেতে তদনুপমেবান্ধং তমােক- দর্শনাত্মকং প্রবিশষি। ততস্তম্মাদপি ভূয়াে বহুমিব তম প্রবিশপ্তি য উ সংভৃত্যাং কাৰ্যব্রহ্মণি হিরণ্যগর্ভাখ্যে রতাঃ। ১২ ১২। তাপ-পূর্বে কৰ্ম ও জ্ঞানের সমন্বয় করিতে ইচ্ছা করিয়া পৃথক পৃথক ভাবে অনুষ্ঠিত উহাদের নিন্দা করা হইয়াছে। এখন ব্যাকৃত ও অব্যাক্ত প্রকৃতির উপাসনার সমন্বয়ের অভিশযী হইয়া পৃথক ভাবে অনুষ্ঠিত উহাদের নিন্দা করা হইতেছে। সংভূতি শব্দের অর্থ জন্ম বা কায্য, যাহা হইতে এই কাষ্য আসে তাহা অসংভূতি বা প্রকৃতি। এই প্রকৃতি কাবণ, অবিদ্যা, অব্যাকৃত প্রভৃতি নামে শাস্ত্রে কথিত হইয়া থাকে। যাহারা এই কামকম্মের বীজভূত অদর্শনাত্মিকা প্রকৃতিকে আত্মজ্ঞানে উপাসনা করিয়া থাকে তাহারা তদনুরূপ অন্ধমে প্রবেশ করে। আবার যাহারা কাৰ্য ব্রহ্ম হিরণ্যগর্ভের উপাসনায় রত হয় তাহারা উহা অপেক্ষাও অধিকতর অন্ধতমে প্রবেশ করিয়া থাকে। সংভূতি সপ্তদশাত্মক লিঙ্গ শরীর। ইহা মায়াবীজের কাষ্য। ইহাকেই তদর্শিগণ সুত্ৰাত্মা বলিয়া থাকেন। পরমাত্মা মায়া ও তাহার কার্যের বাহিরে। পরমাত্মাকে জানিলেই মােক্ষ প্রাপ্তি ঘটে। সংবাগংতবােপনিয়াঃ ক অন্যদেবাহুঃ সংভবাদন্যদাহুরসংভবৎ। ইতি শুক্রম ধীবাণাং যে ন স্তচিক্ষিরে। ১৩ সায়ানুবাদ-সংভং (কাব্ৰহ্মোপাসনার ফল) অন্যদেব( ভিয়ই) অসংভং (এবং অব্যাক্ত কারণ বা প্রকৃতির উপাসনা হইতে যে ফল হয় তাহা) অন্য(অন্য প্রকারই) আহঃ (ধীর ব্যক্তিগণ বলিয়াছেন। যে (যে ধীর ব্যক্তিগণ ) নঃ (আমাদিগের নিকট তং ( এই সংভূতি তাসংস্কৃতিমুফল ও অসংভূতির ফল) বিচচন্সিরে (ব্যাখ্যা করিয়াছেন। ধীরাণাং ( ধীর ব্যক্তিগণের ) ইতি ( এই পূর্বোক্ত সিদ্ধান্ত) ওম ( আমরা শুনিয়াছি)। লোকাৰ্থ-বিদ্বান্ ব্যক্তিগণ—কাৰ্য ব্রহ্মের উপাসনার ফল হইতে অব্যক্তের উপসনার ফল সম্পূর্ণ পৃথক বলিয়া সম্প্রদায় ক্রমে ব্যাখ্যা করিয়া আসিতেছেন। শব্দার্থ-(১) সংবাৎ ও অসংভবৎ-পূর্বশ্লোকোক সংস্কৃতি ও অসংভূতির স্থানে গৃহীত হইয়াছে। ১৩। শরভাষ্যম—অধুনােভয়ােৰুপাসনয়ােত সমুচ্চয়কাৰণমবয়ব- ফলভােমাহ-অন্যদেবেতি । অন্যদেব পৃথগবাহুঃ ফল সংভং সংভূতে কাৰ্যব্রহ্মোপাসনাদণিমাদ্যৈশ্বলক্ষণং ব্যাখ্যাতৰম্ভ ইত্যর্থ । তথাচান্যদাহরসংভবাদসংভূতেরব্যাদব্যাকুলতাপাসনাদ, যদুমন্ধ তম প্রবিশম্ভীতি প্রকৃতিলয় ইতি চ পৌরাণিকৈরুচ্যতে ইতােব ওম নীরাণাং বচনং যে ন দ্বিচচন্দিরে ব্যাকব্যাকুলতাপাসনাফলং ব্যাখ্যাতব ইত্যর্থ। ১৩ ১৩। তাৎপর্য-এই মন্ত্রে সংভূতি ও অসংভূতির সমন্বয়ের কারণ প্রদর্শিত হইতেছ। কাৰ্যব্রহ্ম হিরণ্যগর্ভের উপাসনার ফল একরূপ এবং অব্যাকুত প্রকৃতি উপাসনার ফল অন্যরূপ। কাৰ্য্য ব্রহ্মের উপাসনাদারা অণিমাদি ঐশ্বর্য লাভ হয় এবং প্রকৃতির উপাসনা দ্বারা প্রকৃতি লয় হয়। তদর্শিগণ ব্যাকৃত ও অব্যাঙ্কত উপাসনার ফল এইরূপে বর্ণনা করিয়াছেন। কাৰ্যব্রহ্ম ও প্রকৃতির ভেদ মতিভেদ হইতে উৎপন্ন। বাস্তবিক পক্ষে উহাদের কোন ভেদ নাই। ব্ৰহ্মতত্ত্ব ব্যাখ্যা করিবার জন্যই এই ভেদ দেখান হয়। এবং এই ব্রহ্মজ্ঞানই পরম পুরুষার্থ । সংভুত্যসংভূতিসমুচয়ফলম সংভূতিং চ বিনাশং চ যন্তৰেদোভয়ং সহ। বিনাশেন মৃত্যুং তীব্দা সংভূতামৃতমশুতে। ১৪ সায়ানুবাদঃ (যে ব্যক্তি) সংভূতিং চ (কারণরূপ প্রকৃতি) বিনাশং চ (এবং কাৰ্যরূপ হিরণ্যগর্তকে) উভয়ং সহ (একব্যক্তি ঈশাবাসস্যাপনিষৎ নিপাদ্য বলিয়া) বেদ (জানে) [ সে] বিনাশেন (হিরণ্যগর্ভের উপাসনা দ্বারা) মৃত্যুং তী। ( সংসারকে অতিক্রম করিয়া) সংকৃত্যা ( অব্যক্ত প্রকৃতির উপাসনা দ্বারা) অমৃতং ( দেবতাত্মভাব ):অনুতে ( লাভ করিয়া থাকে)। শ্লোকার্থ-যে ব্যক্তি প্রকৃতি ও তৎকাৰ্য্যকে ক্রমে একই ব্যক্তির নিপিন্থ বলিয়া জানে সে কাৰ্য ব্রহ্মের উপাসনা দ্বারা সংসার অতিক্রম করে এবং কারণের উপাসনাম্বার দেবতাত্মভাব প্রাপ্ত হয়। উবটাচাৰ্য এখানেও সংস্কৃতি এবং বিনাশকে পরব্রহ্ম এবং জগরূপে ব্যাখ্যা করিয়াছেন। শব্দার্থ-১) সংভুতিশঙ্করাচাৰ্য পূষােদরাদি দ্বারা অকারলােপ করিয়া অসংভূতি অর্থ করিয়াছেন। উবটাচায্য সমস্ত জগতের উৎপত্তির একমাত্র কারণ পরব্রহ্ম অর্থ করিয়াছেন। (২) বিনাশকাৰ্য্য। যাহার বিনাশ আছে তাহাই বিনাশ অর্শ আদিবাৎ অচ। ধর্মে ধম্মার আরােপ হইয়াছে। ১৪। শর—যত এবমতঃ সমুচ্চয়ঃ সংভৃত্যসংভূতুপাসন- মাের্যক্ত এবৈপুরুষাৰ্থৰাং চেত্যাহ—সংভৃতিং চ বিনাশং চ যদ্বেদোভয়ং সহ। বিনাশেন বিনাশশা ধৰ্মো যস্য কাৰ্যন্ত স তেন ধণিভেদেনােচ্যতে বিনাশ ইত। তেন তদুপানেনানৈর্যাধকামাদিদোষজাতং চ মৃত্যু তী। হিরণ্যগর্ভেপাসনেন হণিমাদিপ্রাপ্তি ফল। তেনানৈশ্বৰ্য্যাদি মৃত্যুমতীত্যাসংভূতাহব্যাকতেপাসনামৃত প্রকৃতিলয়লক্ষণমতে। সংস্কৃতি চ বিনাশং চেত্যাবর্ণলােপন নির্দেশে দ্রষ্টব্যঃ। প্রকৃতি- লমফলতাহুয়ােৰাং। ১৪ ১৪। তাৎপর্য-সংভৃতি এবং অসংভূতি, এই উভয়বিধ উপাসনা একই পুরুষার্থের জন্য অনুষ্ঠিত হইয়া থাকে। ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উপাসনা করিলে যখন সেই পুরুষার্থ লাভ হয় না, তখন তাহাদের সমম্বয় একান্ত প্রয়ােজন। এই মন্ত্রে সমন্বয়ের ফুল কথিত হইতেছে। অনেশ্বৰ্য্য, অধর্ম ও কাম প্রভৃতি দোষসমূহকেই শাস্ত্রবিদগণ মৃত্যু বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। হিরণ্যগর্তের উপাসনা দ্বারা পূর্বোক্ত মৃত্যু অতিক্রম করিয়া অণিমাদি ঐশৰ্য লাভ করিতে পারা যায় এবং অব্যাত উপাসনা দ্বারা প্রকৃতি রূপ অমৃত লাভ হয়।
সূৰ্য্য-প্রার্থনা সংস্কৃতি কারণ এবং বিনাশ কাৰ্য। এই মন্ত্রে কার্যকারণের একত্ব প্রদর্শিত হইয়াছে। যিনি কাৰ্যকারণ তত্বের একত্ব নেন তিনি অনৈশ্বর্যাদি মৃত্যু অতিক্রম করিয়া প্রকৃতিলয়রূপ অমৃতত্ব লাভ করিয়া থাকেন। কাৰ্য্যের বিনাশ হইলে তাহা মায়াবীজ কারণে লীন হয়। এই মায়া চৈতন্যের ক্রীড়নক মাত্র। প্রকৃতির উপাসনা দ্বারা স্বাভাবিক অজ্ঞান দূরীভূত হয়। তৎপর উপাসকের পরব্রহ্ম সম্বন্ধীয় স্থান জন্মে। এই পরব্রহ্মই বস্তুতঃ কাৰ্যকারণাত্মক। ইহার দর্শনই মুক্তি। সূৰ্য-প্রার্থনা হিরন্ময়েন পাত্রেণ সত্যস্যাপিহিতং মুখম্। তত্ত্বঃ পূষন্নপাণু সত্যধৰ্ম্মায় দৃষ্টয়ে ১৫ সায়ানুবাদ-হিয়েন ( হিরণ্যবদুজ্জল) পাত্রে (পত্তি অর্থাৎ ঢাকনী দ্বারা) সত্যস্য (সত্যস্বরূপ পুরুষ অর্থাৎ ব্রহ্মের। মুখ (শরীর) পিহিত ( আবৃত রহিয়াছে ।। পৃষ (হে সৰ্বলােকপােষক আদিত্য। ত্বং (তুমি) তৎ (সেই অপিধানপাত্র) সত্যবৰ্মায় (সত্যজ্ঞানে মুমুর) দৃষ্টয়ে (অবগতির নিমিত্ত) অপাণু (অপাত কর অর্থাৎ সরাইয়া লও)। কো-আদিত্যমণ্ডলের তেজ সেই পরহ্মের তেজের প্রকাশক, তাই নারায়ণ বা ব্রহ্মকে আদিত্যমণ্ডল মধ্যবর্তী বলিয়া বলা হইয়াছে। আমরা ব্রহ্মের বাহরূপের দ্বারা যাহাতে, মােহিত না হই সেই জন্য এই প্রার্থনা। আমরা নদীমে যেন মরীচিকায় আবদ্ধ না হই, সবিতৃ- তভেদ করিয়া যেন পরব্রহ্মে উপনীত হইতে পারি। শব্দার্থ৭১) হিরন্ময়ে—স্বর্ণনিম্বিত অর্থাৎ স্বর্ণের ন্যায় দীপ্তিশালী। (২) পিতি-অপি উপসর্গের আকারের লোেপ হইয়া পিহিত শষ হইয়াছে। (৩) সত্য-সত্যস্বরূপ ব্রহ্মের। সত্যং জ্ঞানমনষত্ৰ ক্ষেতিতে। (৪) বু—শরীর বা স্বরূপ। অবয়বের দ্বারা অবয়বী লক্ষিত হইতেছে। * বেদের দ্বিতীয় লাইনে-বােসাবাদিতা পুবঃ সােহসাবই আছে।
:: ঈশাস্যোপনিষৎ । (৫) সত্যধায়-সত্য হইয়াছে ধর্ম যার তাহার জন্য। মানুষ স্বীয়স্বভাব ভুলিয়া রহিয়াছে , সেই ভ্ৰমাপনােদনের জন্য। যীর অর্থে চতুথী। (৬) দুষ্টয়ে প্রকৃত দর্শনের নিমিত্ত অর্থাৎ বাহিরের চাকচিক্যেই যেন আত্মবিশ্বত না হয় সেই জন্য । ১৫ | শঙ্করভাষ-মানুষদৈববিত্তসাধ্যই ফলং শাসুলক্ষণংপ্রকৃতি- লয়ান্ত। এতাবতী সংসারগতি। অতঃপরং পূর্বোক্তমাত্মৈবাভ- দ্বিজানত ইতি সর্বাত্মভাব এব সর্বৈষণাসংন্যাস জ্ঞাননিষ্ঠাফল। এবং দ্বিপ্রকার প্রবৃত্তিনিবৃত্তিলক্ষণে বেদার্থেহত্র প্রকাশিত। প্রবৃত্তিলক্ষণস্য বেদার্থস্য বিধিপ্রতিষেধলক্ষণস্য কৃৎস্য প্রকাশনে প্রবর্গান্তং ব্রাহ্মণমুপযুক্ত। ব্রাহ্মণমুপযুক্ত। নিবৃত্তিলক্ষণস্য নিবৃত্তিলক্ষণস্য বেদার্থস্য প্রকাশেন অতঃ উৰ্দ্ধং বৃহদারণ্যকমুপযুক্ত, তত্র নিষোদিবানাং কৰ্ম্ম কুন্ জিজীবিষযদ যােবিদয়া সহাপরব্রহ্মবিষয়য় ভক্ত বিদ্যাং চাবিদ্যা চ যন্তঘেদোভয়ং সহ। অবিদায়া মৃত্যু তীৰ্বাবিদ্যায়ামৃতমত ইতি। তত্র কেন মার্গোমূতমত ইফতে—তং যৎ সত্যমসৌ স আদিত্যো ষ এষ এতস্মিন্ মণ্ডলে পুরুষাে যায় দক্ষিণে অক্ষ পুরুষ এতদুভয়ং সত্যং ব্রহ্মোসীনাে যথােক্তককৃচ্চ যঃ সােহন্তকালে প্রাপ্তে সত্যাত্মাননা প্রাপ্তিদ্বারং বাচতে- হিয়েন পাত্রেণ। হিরণয়- মিব হিরণমং জ্যোতির্ময়মিত্যেৎ। তেন পাত্রেণেবাপিধানভূতেন সত্যশৈবাদিত্যমণ্ডলস্থ ব্ৰহ্মণােহপিহিমাচ্ছাদিত মুখং দ্বারং তত্ত্ব হে পূষপার্বণ অপসারয় সত্যৰ্মায় তব সত্যস্যোপাসনাং সত্য ধৰ্মো যস্য মম সােহহং সত্যধৰ্ম্মা তস্মৈ মহমথবা তােতন্য ধর্মানুষ্ঠাত্রে দৃষ্টয়ে সত্যাত্মা নতউপলব্ধমে। ১৫ ১৫। তাৎপৰ্য্য—মানুষ ও দৈববিত্তের দ্বারা যে সকল শাস্ত্রীয় কাধের অনুষ্ঠান করা যায় তাহার ফলে প্রকৃতিলয় পয্যন্ত হইতে পারে। এই প্রকৃতিলয় পৰ্য্যন্তই সংসার। এই তর উত্তীর্ণ হইলেই পরমাত্মার সাক্ষাৎ হয়। অতএব দেখা যাইতেছে যে, বৈদিক কর্ম দ্বিবিধ-প্রবৃত্তি লক্ষণ ও নিবৃত্তি লক্ষণ। প্রবৃত্তি লক্ষণ কাৰ্যদ্বারা সংসার ও নিবৃত্তি লক্ষণ কাৰ্য্য দ্বারা পরাগতি প্রাপ্ত হওয়া যায়। এই মন্ত্র অমৃততের পথই বলিয়া দিতেছে। আর ব্যতীত ক্ষের নিকট যাওয়া যায় না, এই জন্য সূ্য-প্রার্থনা ১ সৰ্বাত্মস্বরূপ আদিত্যের নিকট দ্বার প্রার্থনা করা হইতেছে। এই আদিত্য মণ্ডলে যে অক্ষি পুরুষ বাস করেন তিনিই আত্মা। আদিত্যের তেজে সেই সত্যস্বরূপ ব্রহ্মের মুখ আবৃত রহিয়াছে বলিয়া আদিত্যকে প্রার্থনা করা হইতেছে—হে পূষ, আপনি সত্যস্বরূপ ব্রহ্মের দ্বার উদঘাটিত করুন , অনুষ্ঠান যেন সেই সত্যরূপের উপলব্ধি করিতে পারে। সবিতার বরণীয় ভর্গই আমাদিগকে আত্মজ্ঞানের অভিমূখে লইয়া যায়। অরুণের কিরণ যেমন সু কিরণ হইতে অভিন্ন, সূর্যের জ্যোতিও সেইরূপ ব্ৰহ্মজ্যোতি হইতে অভিন্ন। আদিত্যমণ্ডলস্থ পুরুষ পূর্ণ। অনুষ্ঠাতাও পূর্ণ, যেহেতু তিনি এ দেহ, ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধির সাক্ষী। এই সত্যস্বরূপ ব্ৰহ্মজ্ঞান হইলেই মুক্তি হয়। সূৰ্য-প্রার্থনা পূল্পেকর্ষে যম সূৰ্য্য প্রাজাপত্য ব্যহ রশ্মী সমূহ। তেজো যত্তে রূপং কল্যাণতম তত্তে পশ্যামি যােহসাবসৌ পুরুষঃ সােহহমন্মি ॥১৬ সায়ানুবাদ—পূষন্ (হে জগৎপােষক) একর্ষে (হে এক- রূপেগঃ) যম (হে অন্তর সংযমনকারী) সূৰ্য্য (হে সুগমনকর্তঃ ) প্রাজাপত্য (হে প্রজাপতির পুত্র) রশ্মী (তােমার রশ্মি সমূহকে) বুহ (বিশেষ-রূপে সংহার কর। তেজ (এবং তাপক [ভজক) তেজ সমুহকে) সমূহ (সম্যকরূপে সংহার কর) [যেন] ঘং তে | যাহা তােমার) কল্যাণতম হে মঙ্গলদাতঃ) রূপং ( স্বরূপ। তংতে (তােমার সেইরূপ) পশ্যামি (দেখিতে পারি)। যঃ ( যিনি) অসৌ অসৌ (ঐ দূরবর্তী আদিত্যমণ্ডলস্থ ) পুরুষ (ব্যাহৃতির অবয়বরূপী পুরুষ) সঃ { তিনি। অহমশ্মি ( আমিই অর্থাৎ আমাতে ও আদিত্য মণ্ডলস্থ পুৰুষে কোনভেদ নাই)। কােকা--ঋষি আত্মদর্শনের অভিলাষী হইয়া আদিত্যের প্রতি করিতেছেন। ভগবান্ সবিতা যেন অনুগ্ৰহ করিয়া দৃষ্টিরােধরী স্বীয় বুখি সমূহ বিদূরীত করেন এবং ঋষি যেন সবিতৃমণ্ডলাগত পুরুষের মূর্তিকে স্বীয় মুভি হইতে অভিন্নভাবে দর্শন করিয়া কুততার্থ হইতে পারেন।
s૨ ঈশাস্যোপনিষৎ শক্ষার্থ-(১) একৰে—একমাত্র স্রষ্টা। একমাত্র গন্ত। ২) বােবসে—প্রথম অসৌ —প্রথম অসৌ দ্বারা আদিত্যমণ্ডলস্থ পযােঙ্ক ব্রহ্মের কথা বলা হইতেছে এবং দ্বিতীয় অসৌ দ্বারা শাস্ত্র দৃষ্টিতে তাহাই অপনােক ভাব সূচিত হইতেছে। (৩) হল—অপ্রত্যয়ালম্বনভূত। এখানে অহংগ্ৰহ উপাসনার কথা বলা হইতেছে। ১৬। শঙ্করত্য—পূন্নিতি। হে পুষ। জগতঃ পােষণাৎ পূষা রবিহুথৈক এব ঋষতি গচ্ছতীত্যেকষি। হে একর্ষে। তথা সর্ব সংঘনা যম। হে যম! রীনাং প্রাণানাং রসনা চ স্বীকরণা সূৰ্য্য। হে সূৰ্য। প্রজাপতেপত্য প্রাজাপত্য। প্রাজাপত্য। বহ বিগময় রশ্মী স্বান্। সমূহ একীকুরু উপসংহর তে তেজপকং জ্যোতিঃ। যত্তে তব রূপং কল্যাণতমমত্যশােভনং তত্তে তবাত্মনঃ প্ৰসাৰাং পশ্যামি। কিং চাহং ন তু ত্বং ভৃত্যবদ, যাচে ঘােসাবাদিত্যমণ্ডল ব্যাহত্যবয়বঃ পুরুষঃ পুরুষাকারত্বং পূর্ণ বানন প্রাণবুদ্ধাত্মনা জগৎ সমস্তমিতি পুরুষ পুৰি শয়নাদ্বা পুরুষ সােহহমন্মি ভবামি। ১৬ ১৬৷ তাৎপর্য-এই মন্ত্রে পূষার স্বরূপ কথিত হইতেছে। জগতের পােষণ করেন বলিয়া ইনি পূষা, তিনিই একাকী গমন করেন বলিয়া একৰ্ষি, তিনি সকলকে সংমিত করেন বলিয়া যম, বশি, প্রাণ ও রসের গ্রহণকারী বলিয়া ইনি সূৰ্য, প্রজাপতির অপত্য বলিয়া ইনি প্রাজাপত্য-এতাদৃশ পূষা স্বীয় রশ্বিসমূহ দূরীভূত করিয়া আপনার তাপক জ্যোতি-সমূহের সংহার করুন ইহাই তাঁহার নিকট প্রার্থনা। আত্মার প্রসাদে আমি যেন তাহার শােভন স্বরূপ দেখিতে পাইতেছি। আমি ভৃত্যের ন্যায় তাঁহাকে যা করিতেছি না, আমি তাহারই স্বরূপ এবং ঐ আদিত্যমগুলস্থ পূর্ণ পুরুষ হইতেও আমি ভিন্ন নই। মুমুরন্তকালকৰ্তব্য বায়ুরনিমমৃতমথেদং ভস্মান্তং শরীর। ক্রতাে স্মর কৃতং মুর তাে স্মর কৃতং স্মর। ১৭ মায়াবাদ—বায়ু (বায়ু) অনিলং (সূত্মরূপ) অমৃত (অধিদৈবতাকে [ প্রাপ্ত হউক ]) অথ (লিঙ্গদেহের উক্রান্তির পরে) ৩ মুমূক্ষেরকালকৰ্তব্য ইদং শরীর (এই স্কুল দেহ ভস্মং (হত হইয়া ভস্মৃশেষ ) [ হউক ] ওম্ (হে অগ্নিরূপী আত্ম) তত (হে সংকরাত্মক) কৃতং (এতাবৎ যে ভাতাভের সম্পাদন করিয়া তাহা) স্মর ( স্মরণ কর)। [ততা ইত্যাদি বিক্তি আদর প্রদর্শনের জন্য। শ্লোকার্থ-এই মন্ত্রে যােগ অন্তিমকালে স্বীয় কর্তব্য স্মরণ করিতে- ছেন। তিনি বলিতেছেন—ম্রিয়মাণ আমার প্রাণবায়ু অধ্যাত্ম পরিচ্ছদ পরিত্যাগ করিয়া অধিদৈবিকা অমৃতস্বরূপ অনিলকে প্রাপ্ত হউক , আমার এই স্কুল শরীর অগ্নিতে হত হইয়া ভম্মেতে পরিণত হউক। হে সংকল্পাত্মক মন। এতাবৎকাল যে সকল শুভাশুভ কর্শের অনুষ্ঠান করিয়াছ তাহা স্মরণ করিবার সময় উপস্থিত হইয়াছে। অতএব প্রণব-স্বরূপ ব্রহ্মেতে নিবদ্ধ হইয়া তাহা স্মরণ কর। শব্দার্থ (১)—বায়ুপ্রাণবায়ু। (২) অনিল-মূত্ৰাত্মস্বরূপ জগতের প্রাণ। পূর্বে মাতরিশ বলা হইয়াছে। (৩) এই শব্দ ব্রহ্মের বাচ্য ও বাচক উভয়রূপেই ব্যবহৃত হইয়া থাকে। Cf “ওঁ ইত্যেকাক্ষরং ব্ৰহ্ম”-গীতা। “ত বাচক প্রণব”—পাতঞ্জল দর্শন। (4) ক্ৰগেকতু এই শব্দের সমােবন। বেদে ক্রতুশ কর্ম ও কর্মফল, এই উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হইয়া থাকে। এখানে যজ্ঞরূপী ভগবান্ বা সংকল্পাত্মক মন এই উভয়েতেই প্রযুক্ত হইতে পারে। (৫) কৃ—এবং কাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কৰ্ম্ম। ১৭। শঙ্করভা—বায়ুরিতি। অথেদানীং মম মরিষ্যত বায়ু প্রাসােহধ্যাত্মপরিচ্ছেদ হিবাধিদৈবতাত্মানং সর্বাত্মকমনিলং অমৃত সূত্ৰাত্মানং প্রতিপদ্যতামিতি বাক্যশেষ। লিঙ্গ চেদং জ্ঞান- সংস্কৃতমুক্তামথিতি সৃষ্টব্য। মাচনসামর্থ্যাৎ। অগ্নৌ দুত ভয় ভূয়াং। এমিতি যথােপানম্ ওঁ প্ৰতীকাত্ম- কং সত্যাত্মমগ্নখ্যং ক্ষাভেদেনােচ্যতে। হে তাে সংকরাত্মক শর যম স্মৰ্তব্যং তৎ কালােইয়ং প্রত্যুপতিােহতঃ স্বর এবং কাল ভাবিত কৃতময়ে মর যন্ময়া বাল্যভৃত্যটিত কৰ্ম তুচ্ছ সুর। কতাে ঘর কৃতং শুয়েতি পুনর্বচনমাদরার্থ। ১৭ অথবং শরীর s; ঈশাবাদ্যোপন ১৭। তাৎপর্য-দেহের কাৰ্য্য আমার শেষ হইয়াছে, অতএব মৃত্যুকালে আমার প্রাণবায়ু এই জীবাত্মা দ্বারা পরিচ্ছিন্ন দেহকে পরি ত্যাগ করিয়া বাহ বায়ুতে মিশ্রিত হউক অর্থাৎ সূত্ৰাত্মা বায়ুকে অবলম্বন করুক। জ্ঞানকর্মসংস্কৃত এই লিঙ্গ শরীর উৎক্রান্ত হউক। অনন্তর এই শরীর অগ্নিতে হত হইয়া ভস্মে পরিণত হউক। হে ওঁ প্ৰতীকাত্মক অগ্নি, হে সংকল্পাত্মক যজ্ঞ, আমার স্মরণীয় বিষয় স্মরণ কর, এতকাল পর্বস্ত যে ভাবনা কবিয়াছ তাহা স্মবণ কর। আদরে দ্বিরুক্তি। অগ্নি-প্রার্থনা (a) অগ্নে নয় সুপথা রায়ে অম্মাম্বিশ্বানি দেব বয়ুনানি বিদ্বান্। যুযুধ্যজুহুরাণমেনাে ভূযিষ্ঠাং তে নম-উক্তিং বিধেম। ১৮ ইপনিষৎ। ইতি বাজসনেয়-সংহিতােপনিষং সমাপ্তা। (a) সায়ানুবাদ—দেব অগ্নে, (হে দ্যোতনাত্মক অগ্নিদেব ) বিশ্বানি ( সমস্ত ) বয়ুনানি (কসমূহ) বিদ্বান জানিয়া) অম্মান (আমাদিগকে) রায়ে (ধন অর্থাৎ কৰ্ম্মফল ভােগের নিমিত্ত) সুপথা শােভন অর্থাৎ গতি দ্বারা) নয় ( চালিত কর । অম্মৎ ( আমাদিগ হইতে) জুহুরাণ ( বঞ্চনাত্মক) এনঃ ( পাপকে) যুযযাবি ( বিযােজিত কর) তে (তােমাকে) ভূয়িষ্ঠাং ( যথেষ্ট) নমউক্তি (নমােবাক্য) বিধেম নিবেদন করিতেছি)। শ্লোকার্থ-মৃত্যুরপর মানুষ কৰ্ম্মানুযায়ী শুরু ও কৃষ্ণ এই দ্বিবিধ গতি প্রাপ্ত হইয়া থাকে। শুক্লমার্গে গমন করিলে তাহাকে আর পৃথিবীতে ফিরিয়া আসিতে হয় না, কিন্তু কৃষ্ণমার্গে গমন করিলে তাহাকে গতায়াত করিতে হয়। যােগী দেহান্তকালে অগ্নির নিকট তাই গতি প্রার্থনা করিতেছে। শুধু প্রার্থনা কবিলে হইবে না, স্বীবকে যকৃত পাপ ও পুণ্যের ফলভোগ করিতেই হইবে। তাই তিনি যাহাতে অশুভ কর্মের অনুষ্ঠান না করেন তাহার জন্যও অগ্নির নিকট প্রার্থনা করিতেছেন। লােভজনক পাপের সংস্পর্শে আসিয়া মানুষ অধঃপাতে যায় অতএব যাহাতে শাপের সংস্পশে আসিতে না হয় ; পাপ হইতে দূরে অবস্থান করা যায় তাহার জন্য প্রার্থনা করা হইতেছে। এখন আর সময় নাই, তাই বেশী কিছু না বলিয়া তিনি শুধু অগ্নির নিকট আত্মনিবেদন ৫ অগ্নিপ্রার্থনা করিতেছেন। ভগবানের নিকট আত্মনিবেদনই পাপ সংস্পৰ্শত্যাগের শ্রেষ্ঠ উপায়। শর্থ-সুপথা—শােভন পথে অর্থাং উত্তরায়ণমার্গে । ভাষাকার বলিতেছেন-সুপথেতি বিশেষাং দক্ষিণমানিবৃত্তা। এই পথদ্বয় দেবযান, পিতৃষান , দক্ষিণায়ন, উত্তরায়ণ এবং শুরু, কৃষ্ণ পথ প্রভৃতি নামে খ্যাত। (২) রায়ে-ধনের নিমিত্ত অর্থাৎ কর্মফল ভােগের নিমিত্ত। যুক্তি লক্ষণ বনের নিমিত্ত-উবটাচাৰ্য। কর্মও জ্ঞান ফল ভােগের নিমিত্ত আনন্দ ভট্টোপাধ্যায়। (৩) বয়ুনানি-কৰ্ম বা প্রজ্ঞা। (৪) যুষােধি-বিযুক্ত কর। (৫) নম-উক্তি—নমােবা। না এই কথা। ইহাই আত্ম- নিবেদনের কথা। মানুষ যখন নিজকে নিতান্ত দুর্গত মনে করে তখনই এই আত্মনিবেদনের ভাব তাহার মনে জাগ্রং হয় এবং সত্যের পথে অগ্রসর হইতে সমর্থ হন্ন। ভগবানের প্রিয়ভক্ত ও সখা অর্জন তাই বলিতেছেন -শিষ্যন্তেইং শাপি মাং তুং প্রপন্ন। ৮। শঙ্করভাষ্যপুনরন্তন মন্ত্রেণ মাগং যাচতে অগ্নে নয়েতি। হে অগ্নে নয় গময় সুপথা শােভনেন মার্গেণ। সুপথেতি বিশেষণ দক্ষিণমার্শনিবৃভ্যর্থ। নির্বিশ্লোহহং দক্ষিণেন মার্গেণ গতাগতলক্ষণে- নাতাে যাচে ত্বাং পুনঃ পুনর্গমনাগমনবর্জিতেন শােভনেন পথা নয়। রায়ে ধনায় কর্মফলভােগয়েত্য । অস্মন্ যথােক্তধৰ্ম্মফলবিশিষ্টান্ বিশ্বনি সর্বাণি হে দেব বয়ুনানি কৰ্ম্মাণি প্রজ্ঞানানি বা বিদ্বান্ জন। কিং চ মূযােধি বিধােজয় বিনাশয় অস্মং অশ্বতে জুহুরাশং কুটিলং বঞ্চনাত্মক এনঃ পাপ। তত বয়ং বিশুদ্ধঃ সম্ভঃ ইষ্টং প্রাপন্যাম ইত্যভিপ্রায়। কিন্তু বয়মিদানীং তে ন শরুম পরিচাৰ্যাংক। ভূমিষ্ঠা বহুতরা। তে তুভ্যং নমউজিং নমস্কারবচনং বিধেম নমস্কারেণ পরিচয়েমেত্যর্থ। অবিঘয়া মৃত্যুং তীব্ৰ বিয়ামতে। বিনাশেন মৃত্যুং তীত্ব। সংস্কৃত্যামূতমত ইতি বা কেচিং সংশয় কুন্তি। অতন্নিরাকরণার্থ সপেতত বিচারণাঃ করিষ্যাম।
ঈশাস্যোপনিষৎ । তত্র তাৰং কিংনিমিত্ত সংশয় ? ইত্যুচ্যতে। বিদ্যাশনে মুখ্য পরমাত্ম- বিবৈ কমায় গৃতে অমৃতত্বং চ। নায়াঃ পরমাত্মবিয়া কর্মশ বিনােপাৎ সমুচ্চয়ানুপপত্তি। সত্য। বিনােধ নাবগম্যতে বিরােধাবিরোেধরী শাস্ত্ৰপ্ৰমাণকা। যথা বিদ্যানুষ্ঠান বিদ্যোপান চ শাস্ত্রমাণ তথা তদ্বিরােবিনােধাবপি। যথা চ ন হিংস্যাৎ সর্বভূতানি ইতি শাদবগতং পুনঃ শাস্ত্রেণৈব বাধ্যতে অধরে পণ্ড হিংস্রাদিতি। এবং বিদ্যাবিয়ােরপি স্যাৎ। বিদ্যাকৰ্মণাে সমুচ্চয়াে ন। দুরমেতে বিপরীতে বিষ্ণুচী অবিদ্যা যা চ বিদ্যেতি এতে। বিদ্যা চাবিদ্যা চেতি বচনাদবিৰােধ ইতি চেয়। হেতুষরূপকল- বিনােধা। বিদ্যাবিদ্যাবিরােধাবিধেমােবিকল্পসংভং সমুচ্চয়- বিধানাং অবিবােধ এৰ ইতি চেন্ন। সহসংতুবানুপপত্তেঃ। মেণৈ- কাশয়ে খাতায় বিদ্যাবিতে ইতি চেন্ন। বিদ্যোৎপভাববিদ্যা হাত- দায়েহবিদ্যাপপতে। ন হয়িষ্ণ প্রকাশশ্চেতি বিজ্ঞানােৎপত্তো যশিয়ে তদুৎপন্ন তমিয়েবায়ে শীতােহগ্নিপ্রকাশশা বা ইত্য- বিদ্যায়া উৎপত্তিনাপি সংশয়ােইজ্ঞানং বা। যস্মিন্ সর্বাণি ভূতান্যাত্মৈবা- ভূদ্বিজানতঃ। তত্র কো মােহঃ কঃ শােক একমপত ইতি শােক- মােহাদ্যসংভবতে। অবিদ্যাসম্ভবাদুপাসনস্ত কণােইপ্যমুপপত্তি- মবােচাম। অমৃতমত ইত্যাপেক্ষিকমমৃতং বিদ্যাশনে পরমাত্ম- বিদ্যগ্রহণে হিয়েনেতাদিনা ধারমার্গাদিযচনমনুপপং স্যাম্মাদু- পাসনয়া সমুচ্চমােন পরমাত্মবিজ্ঞানেনেতি যথাশ্মভিব্যাখ্যাত এব মন্ত্রাণামর্থ ইত্যুপরম্যতে। ১৮ ইতি গােবিন্দভগবৎপাদশিষ্য পরমহংসপরিব্রাজকাচায্য ঐশঙ্করভগবত তৌ বাজসনেয়াংহিতােপনিষদ্ভাষ্যং সংপূর্ণ। এ তসং। ১৮। তাৎপর্য-আদিত্যের নিকট মার্গ প্রার্থনা করিয়া এখন অগ্নির নিকট, মার্গ প্রার্থনা করা হইতেছে। হে অগ্নি, শােভন পথে আমায় লইয়া যাও। যাহাতে দক্ষিণমার্গে যাইতে না হয় এই জন্য সুপথ বলা হইল। দক্ষিণমার্গে গমন করিলে আবার ফিরিয়া আসিতে হয় এই জন্য দক্ষিণ- মার্গের নিবৃত্তির কামনা করা হইতেছে। হে অয়ি আপনি আমাদের সমুদয় করে বিষয় অবগত আছেন, অতএব আমাদিগকে কর্মফল ভােগ অগ্নিপ্রার্থনা করিবার নিমিত্ত লইয়া চলুন। বঞ্চনাত্মক পাপ আমাদিগ হইতে বিযুক্ত করুন। তাহা হইলে আমরা বিত হইয়া ইউফল লাভ করিতে সমর্থ হই। বিশেষরূপে তােমার পরিচর্যা করিতে অশক্ত বলিয়া আমরা নমস্কারের দ্বারা তােমার পরিচৰ্য্যা কৰিব। बासिम (b) ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে। পূর্ণ পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাশিষতে। ওঁ শান্তিঃ ওঁ শান্তিঃ ওঁ শান্তিঃ। N B আদি ও অন্তে শান্তিমন্ত্র পাঠ করিতে হয় তাই শান্তিম বলা হইতেছে। (b) সায়ানুবাদ- (ইহা দ্বারা ব্রহ্মের স্বরূপ নির্দেশ করা হইতেছে)। অ (বুদ্ধির অতীত যিনি) পূর্ণম্ (তিনি পূর্ণ ) ইদং { এবং বুদ্ধির বিষয়ীভূত যিনি পূর্ণম্ (তিনিও পূর্ণ) পূর্ণাং (এই পূর্ণব্রহ্ম হইতে) পূর্ণম্ (হিরণ্যগর্ভাশ্য পূর্ণব্রহ্ম) উদচ্যতে ( অবতীর্ণ কয়েন)। পূর্ণং ( বিরাট) পূর্ণস্য আদায় (পূর্ণেরই মহিমা গ্রহণ করিয়া) [ থাকে ] পূর্ণমেব ( কিন্তু সর্বত্র পূর্ণই) অবশিষ্যতে ( বিরাজ করে)। কোর্থ-হিরণ্যগর্ত হইতে প্রপঞ্চ পৰ্য্যন্ত সকলই পূর্ণব্রহ্মের মহিমা সুতরাং পূর্ণ। তাই ঋগবেদ বলিতেছে-এতাবান মহিমা ততােজায়াংশ পুরুষঃ। মহিমা বা বিকার অবাস্তব বলিয়া পূর্ণরূপের হানি প্রসঙ্গ নাই। ওঁ শান্তিঃ
ঈশাস্যরহস্যসারঃ
(১)
সত্যং জ্ঞানমনস্তং চ নিষ্কলং নিক্ৰিয়ং ধ্রুবম্।
বােয়স্তি মৃত সত্যং সৰ্বে বেদাঃ ষডঙ্গকাঃ ।
ঈশা ঈশেন সংব্যাপ্তং ত্রৈলােক্যং সচরাচরম্।
সুগন্ধচন্দনেনৈব দুর্গন্ধদ্যতে যথা।
নামরূপাত্মক বিশ্বমাত্মনাচ্ছাদিতং তথা ।
তম্মাদাত্মৈব দ্রষ্টব্যঃ শ্রোতব্য সর্বদৈব হ
ইত্যেষ এব বোর্থ প্রথমাে বৈ নিরূপিত ॥
(২)
সৰ্ব্বকৰ্মাণি সংস্ক মন্তব্য: পরমেশ্বরঃ ।
তদশস্য কৰ্মাণি কর্তব্যানি নির্জগো
ঈশ্বরাপণবৃদ্ধা তু কর্মকুৰ্ব্ব লিপ্যতে ।
প্রসীদতি পরাে হাত্মা শুদ্ধান্তঃকরণে স্বয়ম্।
ইতি দ্বিতীয়মাৰ্থঃ স্বমেব নিরূপিতঃ ।
( ৩ )
অবিবেকা, সংসারঃ বিবেকামৈব বিদ্যতে।
অবিবেকনিবৃত্ত্যর্থং মধ্যোয়ং সংপ্ৰবৰ্ততে ।
আত্মজ্ঞানমূপেক্ষ্যাম দেবা যে ভােগলম্পটা
অনুরাঃ এব তে জ্ঞেয়া আত্মবহিতা ||
যেইন্যথা সম্ভমাত্মান অকর্তার স্বয়ং প্রম।
কর্তা ভােক্তেতি অন্যন্তে ত এত্মহনন জনা
যেথাসম্ভমাত্মানমন্যথা প্রতিপন্থতে।
কিং তেন ন কৃতং পাপং চৌরেণাত্মাপহারিণা
আজ জ্ঞানং পুরস্কৃত্য সংসেদিই বুদ্ধিমান্।
বাত্মানং পরমং জ্ঞাত্বা মুচ্যতে জন্মবনা |
বাসরহস্য
(৪)
কীদৃশং তৎপরং তত্ত্বং পূৰ্বশ্ৰেণ কীর্তিত।
তদর্থপ্রতিপত্তৰ্থং চতুর্থোহয়ং প্রবর্ততে।
তন্সিঠিতি পুর্ণেংশ্বিন পরে ব্রহ্মণি কেবলে।
অপ কৰ্ম্মাণি সৰ্বাণি মারিখ দধাতি চ।
অন্তরিকে স্বয়ং যাতি পুত্র পবন স্বয়ম্।
কর্ম চৈতৎ ফলং চৈব ধারত্যেবসৰ্ব্বদা ।
(৫)
ন মন্ত্রাণাং জামিতাদিদোষ কনবিদ্যতে।
উক্তমেব বদত্যর্থ ব্ৰহ্মতত্ত্বপ্রকাশক।
তদেজতি পরব্রহ্ম ব্ৰহ্মাবিষ্ণুশিবাত্মক।
সাকার মায়া জাতি নিরাকারং তু বাস্তবম্ ॥
উপাধিচলনেনৈব চলনং তু বিভাতে।
তৱৈতি পরং ব্রহ্ম নিণং প্রকৃতেঃ পরম্ ।
তচ্চ দূরে পরং ব্ৰহ্ম সর্বদৈবাবিবেকিনা।
তদেব অন্তিকে ব্ৰহ্ম আত্মরূপং বিবেকিনা।
তদ্বাহাভ্যন্তরে অক্ষ কাৰ্যকারণবন।
বিশাতীতং পরব্রহ্ম বিশ্বস্যাভ্যন্তরে স্থিত।
( ৬ )
তৱক্ষ পরমং শুদ্ধং কর্মশা নৈৰ লভ্যতে।
কর্মত্যাগী পরং ব্রহ্ম আপ সম প্রমুচ্যতে ।
যু দয়া জুতা বা জায়তে ভেনি।
ন তু নির্ভেদদ্বৈতমাত্মৈকত্বং প্রপশ্যতঃ ।
(৭)
পরিত্রাভেব তঘেৰি ৰাত্মানং প্রকৃত পর।
হ্মৈৰ সকল বিশ্বমহমশীতি তৎপদ।
পদ্যতে গমতে নিত্যং স্বরূপ ।
শােকমােহাদিস তৰিয়ৈ তুবিষ্যতে ॥
শাস্যরহস্য
আত্মানং সর্বগং অং নিরূপন্তিতুমঞ্জস।
আগ্নোতি সকলং কাৰ্যং তস্মাদাত্মেতি গীয়তে।
সমাপ্তঃ সৰ্বগগা ফাত্মা নিত্যং সর্বভাবক।
সােমশ্মীতি বিজ্ঞায় মুচ্যতে সর্বতাে ভয়া।
(৯ )
কণা বধ্যতে জন্তু বিদ্যা চ বিমুচ্যতে।
ইতি প্রদর্শনার্থে তু মম্রোহংসপ্রবর্ততে ।
অন্ধং মূঢ় তমাে যান্তি কেবলং কচিন্তকাঃ ।
দেবতােপাসকা যে চ তেইপি যান্তি পুনমঃ ।
একৈকোণাসনাং ভিন্ন নিন্দয়িত্ব পুনঃ পুনঃ ।
একেনৈব স্বয়ং সেবং তিরাহ পুনঃ স্বয়ম্ ।
(১০)
একং তু নচৈবান্তি বিশার্বয়ােরিব।
পৃথগেব দয়িতু কৰ্ম্মবিজ্ঞানং ফলম্ ।।
বিদ্যমা অন্যদেবাহ পৃথগেব ফলং বুধাঃ।
অবিদ্যমা অন্যদাহ অগ্নিহােত্রাদিকৰণঃ
=
(১১)
অগ্নিহােত্রং চ বিদ্যাং চ দেবতােপাসনং পরম্।
একীকৃত্য চিন্তিতং চেং কৈবল্যং লভতে পদম্ ।
বিবিধ তৎপরং ব্রহ্ম সগুণং নির্গণাত্মক।
নিগুণ বাস্তবং ব্রহ্ম সগুণং পরিকল্পিত
কর্মবিদ্যা চৈকীত্য যন্তজেদেভয় সহ।
মৃত্যু তীর্জা কণা তু বিদ্যমৃতময়তে ||
হিরণ্যগর্ভমাত্মানং ব্রক্ষ্মলােকনিবাসিন।
তং প্রাপ্য নে সান্ধং পরং ব্রহ্মধিগচ্ছতি ॥
ঈশাল্যরহস্য
(১২)
মূক তু সংসার নিষ্কাম পরাগতি।
ইতি প্রদর্শনার্থ মায়ং সংর্ততে।
সংভবন চ সংভূতি লিঙ্গং সপ্তদশাত্মক।
অসংভূতি যা সাত্ৰ মাতত্ব প্রচক্ষতে।
মায়াতাত্ত সংসারে জায়তে সৰ্ব্বদেহিনা।
কায্যকারণনিং ত্বাত্মানং বিমুচ্যতে।
(১৩)
সংভবাদন্যদেবহু ফলং কাৰ্যন্ত চিং
কারণা বীজৰূপ চিন্তনাদন্যদেৰ হি ।
মতিভেদাত্ত ভেদেইয়ং দর্শিতাে ন তু বস্তুতঃ।
ধীরাণাং পরমং বাক্যং ব্রহ্মতত্ত্ব প্রদর্শক।
(১৪)
কাষ্যকাররূপৌ চ হ্মৈব কেবলং শিবম্ ।
কাৰ্যকারণনিমুক্ত পরং ত্বা বিমুচ্যতে ॥
আত্মবিদ্যাবধিঃ সােথ পরং কারণমুচ্যতে ॥
(১৫)
বারঃ বিনা কথং গং শক্যতে ব্ৰহ্মতৎপর।
সত্যলােক চাত্মানং সুভূতং সনাতনম্ ॥
হিয়েন পাত্রেণ সত্য ঋণঃ মূখ।
তীশে জ্যোতিষ ব্যাপ্তং গং নৈব তু শক্যতে ।
রমিজা নিত্য রং মে দেহি ভার।
ভৃত্যবাং নৈৰ বাচে রূপােহ তবাচ্যুত ।
(১৬)
এর্ষে যম সূর্যাদি সবিতু রূপমুচ্যতে।
ARUN SANGHA RURAL
বাল্যৱহস্যপনি
(১৭)
শাশ্বতং কাপ চ প তৎপর পুন।
তত্রৈবােপাসক সাক্ষাৎ বায়ু প্রার্থয়তে স্বয়ম্ ।
সূত্ৰাত্মানং পরং দিব্য অমৃতং শিবমব্যয়।
প্রাণে গজ মে শীং স্বয়ং গচ্ছতু নিশ্চল।
অথথদানীং শরীরং মে ভস্মীভবতু বৈ এবম্।
ক্রতােশর নিবজায় কৃতং কর্ম শুভা।
কতমুপাসনং কর্ম ফলং দাতুং চ শাশ্বতম্ ।
(১৮)
উপাসকেন গন্তব্য কেন মার্গেণ সাম্প্ৰতম্।
অখে প্রকাশরূপেইসি শােভনেন পথা নয় ।
বিখানি দেব সৰ্বাণি নানি বরুনানি চ।
বি জানাতি সর্ব প্রসীদ বৰদো ভব।
বিমােজয় জুহাণং কৌটিং পাতক মম।
নউক্তি বিধেম জং এসী পরমেশর।
মাধবদাসদেবশর্শণা সংক্ষিপ্তম
der Act.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.