Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sapta Sambodhan Vol.1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
সপ্ত সম্বোধন।
( কাব্য)
প্রথম খণ্ড।
“সংসার-বিষ-বৃক্ষশ্য দ্বে এব বসবৎ ফলম্ ।
কাব্যামৃত-বুসাস্বাদং, সঙ্গমং সুজনৈঃ সহ*
সময়, ২৯এ বৈশাখ, ১২৯২
No text on this page.
উপহার।
কবিবর শ্রীযুক্তবাবু রাজকৃষ্ণ রায়
বান্ধববরেষু-
.
৪
“অবসর-সরােজিনী,” “বীণা,” -বঙ্গ-বিমােহিনী,
গভীর “নিশীথ-চিন্তা,” “নিভৃত-নিবাস,
পৃতিরভা–“পতিব্রতা”, “অনলে বিজলী--সী,
কবিতা-কৌমুদী,”—নানা কবিতা প্রকাশ ;
বঙ্গভূমি-বিভূষণ,
সুচারু ‘বঙ্গভূষণ,
“বাল্মীকির রামায়ণ”-সুধার আধার,
সটীক, সরল ছাদে
অবিকল অনুবাদে,
সাজাইলে বাঙ্গালার কবিতা-ভাণ্ডার।
যে করে এ কাব্যচয় করিলে স্বজন,
সে করে অর্পিনু এই “সপ্ত সম্বােধন।
প্রমথ— /
No text on this page.
সফোঈম
(কাব্য)
ন
প্রথম সম্বােধন।
কমলিনীর প্রতি।
সময়,-উষা।
স্থান,—সরােবর-তীর।
[ ১ ]
খােল খােল, কমলিনি। সুন্দর বদনখানি,
দেখ দেখ দেখ মেলি’ সুচারু নয়ন :
সুনীল গগন-গায়,
ওই মিলাইয়ে যায়,
জ্বলন্ত তারকারাজি যামিনী-ভূষণ ;
ললাটিকা নিশামণি, চারু স্বর্ণকান্ত মণি,
হইয়াছে হীনজ্যোতিঃ মলিন এখন ;
নৈশ সরঃ-সুশােভিনী, প্রমােদিনী-কুমুদিনী,
বিষম প্রমাদ গণি’ ঢাকিল বদন।
থর থর কঁপিতেছে সরসীর নীর ;
ধীরে ধীরে দুলিতেছে তােমার শরীর।
[ ২ ]
ওই আসিতেছে উয়া, পরিয়া কুসুম-ভূষা,
সঙ্গে লয়ে মৃদু মন্দ ধীর সমীরণ ;
ওই দেখ সমীরণ,
নাচাইয়ে কুঞ্জবন,
চলেছে যেখানে আছে কুসুম-বুন।
দেখ দেখ দেখ চেয়ে, ফুল-পরিমল লয়ে,
চঞ্চল অনিল ওই করিছে ভ্রমণ ;
৫২৮ সপ্ত সম্বােধন। হরষে যতেক পাখী, পাইয়ে নূতন আঁথি, পাদপ-শাখায় বসি করিছে কূজন উঠ উঠ, কমলিনি! ঘুমাও না আর, দুখের যামিনী এবে পােহাল তােমার। ; [ ৩ ] দেখ চেয়ে পূর্ব দিকে, আসিতেছে একে একে, ভাঙ্গা ভাঙ্গা রাঙ্গা রাঙ্গা ক্ষুদ্র মেঘগণ ; ত্বরায় আসিবে, সতি, তােমার প্রাণের পতি, উজলিতে, আলােকিতে এ বিশ্বভবন নিশা অবসান হল, চোক খােল, মুখ তােল, আর কেন থাক তুমি ঘুমে অচেতন ? আর কেন কর ভয় ? “জয় দিনমণি জয়! উচ্চরবে সবে ভবে করিছে ঘােষণ। খােল খােল মুখ খােল, রবি-সীমন্তিনি প্রেমের আকৰ্ষি লয়ে আসে দিনমণি। [ ৪ ] সহস্র যােজন'পরে, সুদূর গগনােপরে, ভ্রমণ করেন সদা দেব দিবাকর নিম্ন পাতাল দেশে, জলময় সরােবসে, ফুলরাণি কমলিনি! বসতি তােমার। এত দূর দুই জনে, তবু প্রণয়-বন্ধনে, দৃঢ় বাঁধা আছে মন, হায়, দুজনার ! পবিত্র প্রণয় এই, সুধারস রসময়ী, মিলনে উথলে মুখ-সুধা-পাৰাবাৰ। প্রণয়ের যাহা কিছু আছে তা তোমায়, প্রণয়-আদর্শ তুমি নিখিল ধরায়। ;
সপ্ত সম্বােধন।
[৫]
ওই দেখ, কমলিনি! ধীরে ধীরে দিনমণি,
উঠিছেন তুষিবারে সাদরে তােমায় ;
উষার সীমন্তে বসি, দেখ সরসী রূপসী,
শােভিছেন অভিরাম অরুণ বিভায়।
প্রাণেশ তােমার এল, চোক খােল, মুখ তোল, .
সাজাও সরসী-জল অতুল শােভায় ;
পিপাসিত, অলিকুলে, দান কর প্রাণ খুলে
মিষ্ট মকরন্দ-ধন,-অলি যাহা চায় ।
গুন্ গুন্ রবে গান, করুক ভ্রমর ;
শুনিয়ে জুড়াক মাের শ্রবণ-বিবর।
[ ৬ ].
কমল! তােমার রূপ,
শোভাময় অপরূপ,
নেহারি এখন, মরি, জুড়াল নয়ন!
হাসি-হাসি মুখখানি,
অনন্ত রূপের খনি,
এই কি তােমার, ধনি! নবীন যৌবন ?
ফুটিছে সুন্দর কলি, যুটিছে যতেক অলি,
ছুটিছে চৌভিতে, মরি, সৌরভ এখন!
জলে নামি দিনমণি, তব পাশে, কমলিনি।
ওই দেখ ধীরে ধীরে করিছে গমন।
রাঙ্গা দেহ, ভাঙ্গা ভাঙ্গা তরঙ্গে চড়িয়া,
বুঙ্গিতেছে সরোবর রাঙ্গা রঙ্গ দিয়া।
[ ৭ ]
হায়! যুদি কবিগণ, করিত রে দরশন
হেন সুন্দর ছবি, এ হেন সময় :
সপ্ত সম্বােধন।
তা হলে এ সরােবরে বিমল সলিল’পরে
নলিনি, তােমার থাকা হত মহাদায় !
সবাই তােমারে লয়ে, ছুটে যেত লােকালয়ে,
অন্বেষিত যেথা পেত সুন্দর বদন ;
সু-উরস যেথা পেত, অমনি ছুটিয়া যেত,
ছুটে যেত যেথা পেত সুন্দর চরণ ।
করিত তােমারে লয়ে কত টানাটানি !
বড় ভালবাসে কবি তােমারে, নলিনি!
[ ৮ ]
নাচিতে নাচিতে সুখে, লাখে লাখে ঝাঁকে ঝাঁকে,
ছুটিছে মধুপকুল মধুর আশায় ;
এই মনােরম ছবি যদ্যপি দেখিত কবি,
হয় ত লিখিত গিয়া কবিতা-মালায়,
ভাবে গদ গদ হয়ে, আদি-রসে মেতে গিয়ে,
লিখিত রসিকরাজ রসিক গাথায়,
“রবি অস্তমিত দেখে,
ভ্রমরে লইয়ে বুকে
দ্বিচারিণী কমলিনী যামিনী কাটায়।
কমলিনী দ্বিচারিণী কবি-কল্পনায় ;
শত শত নমস্কার, কবি, তব পায় !
সে সকল ভাব, হায় ! না আছে এ অভাগায়,
কবি-ভাব কোথা পাব, কবি-শক্তি কই ?
কবি হলে দেখিতাম, প্রাণ খুলে লিখিতাম,
দৈব বিড়ম্বনে, হায়, কবি আমি নই।
কমলে আনিয়ে ঘরে, প্রিয়ার বদন ধরে,
তুলনা তুলিতে আমি নারিনু কখন ;
নারিনু মৃণালে আনি,
ধরি প্রেয়সীর পাণি,
সপ্ত সম্বোধন।
নধর মৃণালে, হায়, বলিতে অধম ।
হাস তুমি, কমলিনি, বসি সরােবরে,
কাদাব না অলিকুলে তুলিয়ে তােমারে।
[ ১ ]
যামিনী প্রভাত হল, দিনমণি প্রকাশিল,
হাস তুমি, কমলিনি, হাস বার বার ;
বসি সরসীর নীরে, মৃদু মন্দানিল ভরে,
নাচি নাচি সুশােভিত কর চারি ধার ।
তােমার সুখের দিন, থাক থাক চিরদিন,
থাকুন গগনে দিনমণি দিবানিশি ;
তামসীর মােরাশি, ভয়ঙ্কর বেশে আসি,
পুন যেন না কাদায় তােমায়, রূপসি !
চাই না উজ্জ্বল তারা, পূর্ণ শশধরে,
গেলে যদি রবি আর না আসেন ফিরে।
[ ১১ ]
ভারত-সৌভাগ্য-বি, রুদ্র তেজোময় ছবি,
অস্তমিত চিরকাল-চিরকাল তরে রে ।
আর না আসিল ফিরি,
উজলি উদয় গিরি,
সে সুখ-নলিনী আর হাসিল না নীরে রে ।
তমসে মগন, হায়,
ভারতের সমুদায়
বিশুদ্ধ ভারত-সুখ-নলিনী এখন!
দুষ্ট নিশাচর দল, করি মহা-কোলাহল,
বিলােড়ি ভারতু-বক্ষ করিছে ভ্রমণ!
বিগত সে ভারতের বীর অহঙ্কার ;
ভারত-সৌভাগ্য-রবি ফিরিবে না আর ।
( ১২ ]
তাই বলি, কমলিনি। দিবানিশি দিনমণি,
৫৩২
সপ্ত সম্বােধন।
সুনীল গগনতলে করুন ভ্রমণ ;
যামিনীতে স্থানান্তরে, দিও না যাইতে তারে,
ছেড়ো না ক, কাছে রেখাে, করিয়া যতন।
ভারত-সৌভাগ্য-রবি, রুদ্ৰ তেজোময় ছবি
অস্তমিত চিরকাল—চিরকাল তরে রে !
আর না আসিল ফিরি, উজলি উদয়গিরি,
সে সুখ-নলিনী আর হাসিল না নীরে রে ।
বিগত সে ভারতের বীর-অহঙ্কার।
ভারত-সৌভাগ্য-রবি ফিরিবে কি আর ?
দ্বিতীয় সম্বােধন।
গঙ্গার প্রতি।
لسا
[ ১
পবিত্রসলিলে গঙ্গে, হিমাদ্রি-নন্দিনি ।
ভারতের চিরশােভা, ভারত-মােহিনি।
চঞ্চল তরঙ্গমালা হৃদে ধরি, শৈলবালা !
কোথায় যাইছ বেগে, চঞ্চল-গামিনি ?
দাঁড়াও ক্ষণেক তরে, শুন মাের বাণী।
২ ]
সুগন্ধি কুসুম-কুল নয়ন-রঞ্জনু,
সুচারু তরঙ্গ-শিরে করি আবােহণ,
কমলিনী কত শত,
বিকশিত সুবাসিত,
নাচিয়া নাচিয়া যায়, বিমােহিয়া মন :
সুন্দর, জাহ্নবি, তব কুসুম-ভূষণ
সপ্ত সম্বােধন। } O তীরে অপরূপ শােভা তােমার তুটিনি ! ফুটিয়া রহেছে কত স্থল-কমলিনী। সুচারু অধরে মধু, বাঙ্গালী কুলের বন্ধু, তােমার পবিত্র নীরে নি, বিনােদিনি, শােভিতেছে-যেন শিশিরা কমলিনী। [ ৪ ] সচঞ্চল জল রাশি করে কল কল, তরুণী বাহিয়া যায় নাবিকের দল, সারি সারি বসি সবে, সারি গায় উচ্চ রবে, উছলে সে রবে তব হৃদয় তরল ; হাসিতে হাসিতে নাচে তরঙ্গ সকল। [ ৫ শারদ উৎসবাগমে উৎসাহে মাতিয়া, বুমণী-রঞ্জন চারু বসন লইয়া, একটি বরষ পরে, আরােহি তর’পরে, বিরহী যাইছে ঘরে, পুলকিত হিয়া ; ধীরি ধরি যায় তরী তব বারি দিয়া । } শতধা বিভক্ত তনু তেজস্বী তপন, তোমার সলিলে পড়ি করে সন্তরণ, কভু ভেবে, কভু ভাসে, দেখিয়া তরঙ্গ হাসে, তরল রজত-শ্রোতঃ ঝলসে নয়ন, উলটি পালটি খায় দিনেশ-রতন। [ ৫ ] অতুল তােমার শােভা এ বিশ্ব ভুবনে, কবিচিত বিমােহিত ক্ষণ দরশনে, ৫ ৩৪ সপ্তসম্বােধন। তরঙ্গেরা তালে তালে নাচে ঘন কুতূহলে, নব নব শােভা আসি নাচায় নয়নে ;- শাের ভাণ্ডার তুমি এ বিশ্ব ভুবনে। কিন্তু গাে হৃদয়ে ও কি করেছ ধারণ ? শশাঙ্কে কলঙ্ক-লেখা কহ কি কারণ? ধরিয়াছ কোন্ মুখে, বিমল কোমল বুকে, বিদেশের জলযান বিষ দরশন ? ভারত বিজেতৃদল অমূল্য রতন। [ ৯ ] আপন শশাণিত দিয়া পালিছ ভারতে, নন্দনকানননি ভূমি এ মরতে । শস্যপূর্ণ সদা সতী, ফুলবতী, ফলবর্তী, জগতের ছবি খানি, বিদিত জগতে, যা নাই ভারতে তাহা নাই এ জগতে। [ ১০ ] – যা নাই কোথাও, আর তাই দস্যগণ, তােমার হৃদয়ে বসি করিছে হরণ, ভারতবরষ-বাসী অমূল্য রতন-রাশি, ভারতের শস্যচয়,-ভারত জীবন, বসিয়ে তােমার বুকে করিছে শোষণ । [ ১১ ] হরষে হসিত মুখ হাসিতে হাসিতে ; যেও না যেও না, গঙ্গে! নাচিতে নাচিতে, শুন কথা অভাগার, দাঁড়াও, যেও না আর ভারত বিজেতৃ-দুর্গ-পদ প্ৰক্ষালিতে, যেও না অরাতি-মন সাদরে তুষিতে।
সপ্ত সম্বোধন।
ক
[ ১২ ]
শুনিয়াছি, ভাগীরথি! পুরাণ-কাহিনী,
হরিপদোবা তুমি স্বর্গ-বিহারিণী।
মহেশের শিরোপরি, বহিতে গাে ধরি ধরি,
ব্ৰহ্মা-কমণ্ডলু মাঝে ছিলে সুরধুনী,
তারিতে পাতকী জনে ভারত-চারিণি।
[ ১৩ ]
.এ হেন কলুষ-শূন্য সুপবিত্র বারি,
হেন পুণ্যময়ী গঙ্গা যবন-কিঙ্করী
ধিক্ শত ধিক, হায়, ধিক্ জাহ্নবী তােমায়,
কি সুখে কি মুখে তােল হাসির লহরী।
কি সুখে কি মুখে বহ কল কল করি ?
[ ১৪ }
পরম পুরুষ বিষ্ণু, দেব গঙ্গাধর,
পাঠালেন তােমারে কি ভারত ভিতর,
ঘােয়াইতে যবনের,
থােয়াইতে * *
পাপ-পঙ্ক-কলুষিত পদ নিরন্তর ?
ধরিতে বিদেশী পপাত বুকের উপর ?
( ১৫ ]
যাও, গঙ্গে! যাও ফিরি হিমালয়াচলে,
চাহি না, চাহি না আর ও পুণ্য সলিলে,
বুকে করি অবহেলে, আনিয়া বিদেশিলে
ভারতের সর্বনাশ তুমিই ঘটালে,
ভারতের স্বাধীনতা তুমিই ঘুচালে।
[ ১৬ ]
ভারতে বিদেশী রাজা তােমারি কৃপায়,
ভারত যবন-পদে তােমারি দয়ায়।
সপ্ত সম্বােধন। নীচ দিকে গতি যার, নীচ দিকে মতি তার, বাঁধিয়া দাসত্বডােরে ভারত মাতায়, বাঁধিলে দাসত্ব-ডাের আপন গলায় ! [ ১৭ } কে বলে তােমার হৃদে সেতু মনােহর ? আমি বলি দাসত্বের শৃঙ্খল সুন্দর! ভারতের সঙ্গে সঙ্গে, বাধিল তােমারে, গঙ্গে, বহ এবে মহােল্লাসে, বহ নিরন্তর, দাসত্ব-শৃঙ্খল অতি সুন্দর সুন্দর । ( ১৮ ] সুরকুলশিয়ােমণি দেবেন্দ্ৰ-বাহন, ভীম পরাক্রমশালী ভীষণ দর্শন, রােধিতে তােমার গতি প্রমত্ত মাতঙ্গপতি এসেছিল দম্ভভরে দান্তিক যখন, তখন কি ছিলে তুমি, হয় কি স্মরণ ? ( ১৯ } প্রমত্ত মাতঙ্গ যবে দন্ত-অবতার, সহিতে নারিল তব তরঙ্গ প্রহার, তৃণবৎ অবশেষে দূরদেশে গেল ভেসে ; অসীম ক্ষমতা ভবে কৃরিলে প্রচার :- সে সকল কথা মনে আছে কি তােমার ? ( ২০ } হায়, দেবি! তুমিই কি সেই ভাগীরথী ? তুমিই কি সেই বেগবতী স্রোতস্বতী ? বল, বল, বল, গঙ্গে। তুমিই কি সেই অঙ্গে পরিয়াছ দাসত্বের শৃঙ্খল সম্প্রতি ? বল দেবি! তুমিই কি সেই ভাগীরথী ?
তৃতীয় সম্বােধন।
আলােকের প্রতি।
[ ১ ]
যামিনীর যবনিকা হলে অপহৃত,
ভেদিয়া পূবাচল কনকবরণ,
উষাৰ অঞ্চল ধরি, আ’স তুমি ধরি ধরি,
শুনিতে বিহঙ্গকুল মধুর কুজন,
দেখিতে বিশ্বের শােভা নয়নরঞ্জন।
[ ২ ]
সুশীতল সমীরণ বহে মৃদু মৃদু,
গুন্ গুন্ গান করে ভ্রমর-নিকর,
ফুলছড়ি হাতে করি, মুক্তামালা গলে পরি,
প্রকৃতি সুন্দরী যবে সাজে মনােহর,
তখনি আইস তুমি অবনী উপর।
]
ব্ৰহ্মমূৰ্ত্তি ধরি যবে ব্রহ্মাণ্ড-প্রকাশ,
দেখা দেন দিনপতি উজলি গগন,
সুগােল মূরতিখানি,
দীপ্ত অনলের খনি,
দেখিয়া প্রফুল্ল হও তুমিও তখন,
রৌদ্ররূপে দাও দেখা দহিতে ভুবন।
[ ৪
এ বিশ্বভুবন যবে হয়নি সৃজিত,
সমুদয় বিশ্ব যবে ছিল একাকার,
আকাশ নক্ষত্র যবে ছিল না বিপুল ভবে,
তুমিও ছিলে না, শুদ্ধ ছিল অন্ধকার,
কিছুই ছিল না,-চিহ্ন না ছিল ধরার ।
لا
সপ্ত সম্বোধন।
[ ৫ ]
কি ছিল তখন, কিছু বুঝিতে না পারি,
কি ভাবে ছিল এ বিশ্ব না পাই চিন্তিয়া,
বিশ্বগ্রাসী অন্ধকার, কি আর ভাবিব তার !
নহে সে গােধূলি, উষা;-কি নিৰ ভাবিয়া ।
ভাবিলে চঞ্চল হয় অচঞ্চল হিয়া।
{
সহসা একটি শব্দ হইল উখিত ;--
“হউক আলােক!”—আজ্ঞা পরম পিতার ;
ঈশ্বর-আদেশক্রমে, জনমিলে তুমি ক্রমে,
তাহারি মহিমারাজি করিতে প্রচার ;-
বিশ্বের সৃষ্টির পূর্বে জনম তােমার।
৭ )
শুনিয়াছি দিনমণি নিজে রশ্মিহীন,
উজ্জ্বল অস্বচ্ছ গ্রহ গগন-মণ্ডলে,
অপরের রশ্মি লয়ে, দ্বিগুণ উজ্জ্বল হয়ে,
উজ্জ্বল করেন বিশ্ব দিব্য রশ্মি-জালে,
চন্থ যথা সসারালােক পায় নিশাকালে ।
( 8 )
সবিতার চারি ধারে ঘেরে আছ তুমি,
তােমার তেজেতে সূৰ্য্য এত তেজোবান,
ৰাইবেল্-বিজ্ঞান-তত্ত্ব যদি হয় সত্য সত্য,
সূৰ্য্য তবে নাম মাত্র, এই বুঝিলাম ;
তুমিই করিছ জীবে নয়ন প্রদান।
[ ১ ]
'পবিত্র ত্রিদিবজাত পবিত্র আলােক।
আদি সৃষ্ট, জগতের তুমি দু’নয়ন!
সপ্ত সম্বােধন। ৫৩৯ ৬ তুমি না থাকিলে, হায়, অন্ধকার সমুদায়, তােমা বিনা সবে অন্ধ থাকিতে নয়ন, গাঢ়তম তমস্তপে অবনী মগন। [ ১০ ) তােমার কারণে দেখি এ বিশ্ব সংসার, আকাশ, নক্ষত্র, চন্দ্র, সূর্য গ্রহগণ, তরু, লতা, গুলু আদি তড়াগ, ভূধর, নদী, সুনাদী বিহঙ্গদল,-বিচিত্র বরণ, যাবতীয় জীবজন্তু-জগত-ভূষণ। • [ ১১ ] কিন্তু, হে আলােক! অমা-যামিনী আসিলে, কোথায় পালাও তুমি বল মােরে বল, তিমিরে ডুবাও বিশ্ব, কিছুই না হয় দৃশ্য, জাগে শুধু গগনের জ্যোতিষ্কমণ্ডল, মেধ-অন্তরাল হ’তে চাহে তারা-দল। [ ১২ ] কাহারে তােমার ভয় ? আদি-সৃষ্ট তুমি, কি ছার তােমার কাছে নৈশ অন্ধকার । দেখ, এ বিপুল ভবে কনিষ্ঠ তােমার সবে, সৃষ্টির মাঝেতে তুমি অগ্রজ সবার, আদি-সৃষ্ট তুমি ; ভয় কাহারে তােমার ? [১৩] নৈশ অন্ধকারে নর হইয়া আকুল, তব আরাধনা করে বিহিত বিধানে, নৈশ তম দূরিবারে, এ জগত দেখিবারে, নানা উপকরণেতে তােমায় আবামে, বসায় দীপের মুখে পরম যতনে।
৫৪০
সপ্ত সম্বােধন।
[ ১৪ ]
তামসীর তম মাঝে বিরাজ’ যখন,
বড় ভালবাসি আমি তােমারে দেখিতে,
ীপের ডগায় বসি, ক্ষুদ্রকায় হাসি হাসি,
নিকটের মােরাশি তাড়াও দূরেতে,
বড় ভালবাসি আমি তােমারে দেখিতে।
[ ১৫ ]
গৃহস্থের গৃহ মাঝে তুমি হে যখন,
নৃত্য কর মৃদু-মন্দ পবন-হিল্লোলে,
অথবা নদীর জলে, যখন পড়িয়ে চলে,
নাচ তুমি তরঙ্গের ভঙ্গ তালে তালে,
গলিতসুবর্ণ যেন দোলে নদী-কোলে-
[ ১৬ ]
কাল জলে জলে যবে ও সুন্দর কায়া,
কি শােভা তখন হয় আমােক, তােমার।
দেখিয়া জুড়াল আঁখি, চঞ্চল মানস-পাখী,
তমার সহিত জলে দেয় হে সর,
ক্ষণেক উপরে থাকে, ডুবে আর বার।
[ ১৭ ]
নারী রূপবতী হলে এ মহীমণ্ডলে,
সবে বলে ‘রূপে আলাে করেছে সুন্দরী ;
কথাটি শুনিতে ভাল, কিন্তু সে কেমন আলাে,
কেমন কিরণ তার বুঝিতে না পারি,
শুনি শুধু ‘রূপে আলাে করেছে সুন্দরী।
[ ১৮ ]
এ কেমন আলাে আমি কিছুই না জানি,
কেবল শুনেছি মাত্র, দেখেনি নয়ন,
সপ্ত সম্বােধন।
৫৪১
রূপসীর গৃঢ় তত্ত্ব,
তাহাতে নাহিক সূত্ব,
যাক, ও কথায় আর নাহি প্রয়ােজন ;
রূপ লয়ে ধাক্ ধুয়ে রূপ-প্রিয়গণ।
[ ১১ ]
ভাবিতে ও ব কথা নাহিক সময়,
হায় রে, ভারতে এবে ঘাের অন্ধকার।
সত্য বটে রবি শশী ল’য়ে তুমি দিবানিশি,
ভ্ৰমিছ সতত ভারতের চারি ধার,
তথাপি ভারতে, হায়, ঘাের অন্ধকার।
[
}
যে দিন হইতে, হায়, দুরও যবন,
ভারতের স্বাধীনতা করেছে হরণ,
সে দিন হইতে, হায়, ভারতের সমুদায়,
গঢ়িতম তমস্তপে হয়েছে মগন,
আঁধার।—অধীর!-হায়, ভারত ভুবন !!
চতুথ হোন।
সূর্যের প্রতি।
[ ১ ]
নিশি আসি ধীরে ধীরে, তিমির-সাগর-নীরে,
ডুবায়ে গিয়াছে বিশ্ব আঁধারি নয়ন ;
সে তমঃ-সাগর হতে, এ মহীরে উদ্ধারিতে,
উর, দেব বিশ্বব্যাপী জগত লোচন ।
প্রভাতে পূবাচলে, রক্ত কাদম্বিনী-কোলে,
সিন্দুরে চর্চিতনু তরুণ তপন।
সপ্ত সম্বােধন।
উগরি কিরণরাশি, তামসীর তমঃ নাশি,
আলােকিত কর, দেব ! এ বিশ্ব ভুবন।
যামিনীর অন্ধকার এখনি ঘুচিবে;
কুসুম-ভূষণে মহী এখনি হাসিবে।
[ ২ ] '
হাসিবে প্রকৃতি সতী; কুসুমিত বসুমতী ;
হাসিবে তড়াগ, নদ, নদী, সরােবর ;
প্রেমানন্দে হেলে দুলে, হাসিবে নলিনী জলে ;
হাসিবে মুকুতারাজি তৃণের উপর ;
শ্যামল উজ্জ্বল কায়, হাসিবে পাদপচয় ;
হাসিবে বিহঙ্গকুল প্রফুল্ল অন্তর ;
হর্ষ-নীরে নিমগন ।
হইবে মানব-মন,
হেরি তব আগমন, দেব দিবাকর।
তব আগমনে দেব সবাই হাসিবে,
অভাগা বিরলে কিন্তু একাকী কাদিবে।
{
لا
বিরলে বিজনে বসি, নয়ন-সলিলে ভাসি,
একাকী অভাগা, হায়, নিরন্তর কাঁদিবে ;
তােমার রক্তিম আভা, জগতের চারু শােভা,
অভাগার মনে সুখ দিতে নাহি পারিবে;
দেখি প্রকৃতির হাসি, আমার বিষাদরাশি,
এ তাপিত প্রাণ হতে যাবে না হে যাবে না
শুনিয়ে বিহঙ্গ-গান, পবিত্র প্রভাতী তান,
এ বিষাদ অবসান হবে না হে হবে না।
আমার মনের দুখ মনেতেই হবে,
অন্তরে অন্তরে মােরে সততই দহিবে।
সপ্ত সম্বােধন।
-
[ ৪ ]
শমনের তাড়নায়, এ প্রাণ কাঁদে না, হায়,
সুতীক্ষ্ণ বিরহ-বাণে নহি জর জর,
প্রাণ যারে ভালবাসে, সে আছে প্রাণের পাশে,
দারিদ্র্য-যন্ত্রণা হেতু কঁাদে না অন্তর।
তবু কেন ভ্রান্ত মন, দুঃখ-নীরে নিমগন ?
তবু কেন নয়নেতে বহিছে আসার ?
আশা-বীজ পুতি নাই, সে তরু শুকায় নাই,
অনুভব করি নাই নৈরাশ্য আশার ।
তবু কেন কাদে প্রাণ সতত আমার ?
তবু কেন মনােমধ্যে ঘাের অন্ধকার ?
মুখের কারণ নাই, তবু কেন দুখ পাই ?
থাকিতে না সুখ পাই একি বিপরীত
হৃদয়ের শাস্তি মাের, হরিলেক কোন্ চোর ?
শয়নে স্বপনে মনে না পাই পীরিত !
জানি শান্তি এ ধরায়, মানবের তরে নয়,
তথাপি আংশিক সুখ পায় জীবগণ ;-
অভাগার চক্ষে, হায়,
বিষময় সমুদায়,
যন্ত্রণা-আগ্নেয়-শূল দহে এ জীবন ।
হৃদয়ের শান্তি মাের কোথায় এখন ?
কেন সহি এত দুখ না জানি কারণ।
দেব! ভুমি তমােনাশ, আমার হৃদয়াবাস,
গাঢ়তম তমােপূর্ণ,-কর দরশন।
উজ্জ্বল কিরণজালে, নৈশ তমঃ বিদূরিলে,
হাসাইলে জীব জন্তু স্থাবর জঙ্গম ;
অভাগার হৃদিমাকে, যে তমঃ সদা বিরাজে,
।
৫৪৪
সপ্ত সম্বােধন।
৪
তাড়াইতে সেই তমঃ পার কি এখন ?
হাসাতে আমারে তুমি, পার কি, হে দিবাস্বামী!
যেরূপে হাসালে তুমি এ বিশ্ব ভুবন ?
পার যদি তাড়াও এ মনের অধাির,
নিবেদন তব পদে এই হে আমার।
৭ ]
নৈদাঘ গগনে বসি, উগরিয়া অগ্নিরাশি,
দগ্ধ কর রুদ্র তেজে জীবজন্তুগণ,
প্ৰখর প্রচণ্ড হয়ে, জলপূর্ণ জলাশয়ে,
জলশূন্য কর তুমি তেজেতে আপন।
শােক-নীরে নিমগন, অভাগার প্রাণ মন,
সে শােক-সলিল তুমি পার কি হে শুষিতে ?
পষে অগস্ত্য মুনি, শুষিল সিন্ধুর পাণি,
এ সামান্য শােক-বারি পার না কি শুধিতে ।
তমােনাশ! হৃদয়ের তমঃ নাশ কর,
বিষাদ-সলিল-রাশি নিজ তেজে হর।
[ ৮ ]
গগন-সাগরে, হায়! যে শকতি সদা বা
তােমারে,বুতপােত-হে দেব তপন।
এ সংসার-পারাবারে, যিনি বাহিছেন মোরে,
তিনিই করুন মাের দুঃখ বিমােচন।
জগদীশ ! দিবাকরে চালাইছ যে প্রকারে-
স্থির, অচঞ্চল ভাবে, চালাও আমায়।
আর এ যাতনা ঘাের, সহে না হৃদয়ে মাের,
বিকম্পিত মনােতরী নিমগন-প্ৰায় !
হায়! এ যন্ত্রণানল নিৰ্বাণ হইবে,
যখন শমন আসি আমারে গ্রাসিরে।
পঞ্চম সম্বােধন।
শুকতারার প্রতি।
[ ১ ]
ছড়াইয়া রূপরাশি, উজলিয়া পূর্বদিশি,
কে তুমি সুন্দরী বসি সুনীল গগনে ?
নিশি-শেষে নিতি-নিতি, স্বর্ণ-সিংহাসন পাতি,
কে তুমি বসিয়া থাক বল, সুবদনে।
অগণিত তারাদল, শােভে নীলাম্বর-উল,
সবার উজ্জ্বল তুমি উষা অগ্ৰদূতি।
নাহিক রূপের শেষ, উজ্জ্বল মধুর বেশ,
উজ্জ্বল মাধুরীময় তব দেহ, সতি!
গগন-গবাক্ষ খুলি উজ্জ্বল নয়নে,
কা’র মুখ চেয়ে থাক বল, সুবদনে ?
[ ২ ]
নিশাশেবে শশধর,
পাণ্ডুবর্ণ কলেবর,
তাই কি দেখিছ তুমি বল, বিনােদিনি।
অথবা সরসী-নীরে, ব্যাকুলিতা কুমুদীরে,
দেখিছ কি একদৃষ্টে বল, সীমন্তিনি!
কমলিনী কুমুদিনী, সহােদরা দু’ভগিনী,
এ হাসে উহার দুধে অতি চমৎকার।
সহােদর দুখ-দেখি’,, সহােদর নহে দুখী,
আশ্চর্য্য ভগিনী-স্নেহ। বিচিত্র ব্যাপার ।
নিশায় কুমুদী হাসে-কঁদে কমলিনী,
দিনে কমলিনী হাসে--কঁদে কুমুদিনী
[ ৩ ] .
তাই কি দেখিতে, সতি! আ’স তুমি নিতি-নিতি,
অথবা অর্ধেক সুপ্ত জগত-সংসারে,
৫৪৬
সপ্ত সম্বােধন।
স্বপন যখন গিয়া, নিদ্রা সহ জড়াইয়া,
দেখায় অদ্ভুত দৃশ্য মানবনিকরে ;
কিম্বা গাে যামিনী-শেষে, মধুর উজ্জ্বল বেশে,
আহ্বানিতে আ’স তুমি রবি-আগমন,
কিম্বা বরণ্ডালা করে,
বিদায়-বরণ করে
এসেছ পূর্ণিম-চাদে দিতে বিসর্জন ?
কি লাগি’, গাে দুরবালে! তব আগমন।
বল বল বল মােরে--রাখ নিবেদন।
[ ৪ ]
নেহারি তোমার ভাতি, মনে ভাবি’ দিনপতি,
তারাদল মিলাইল গগনের কোলে,
কেবলি রহিলে তুমি, উজলি’ গগন-ভূমি,
যামিনীর শেষ-আশা তুমি, সুবালে !
চাদের মুখচন্দ্রমা, হায়! হয়েছে কালিমা,
তুমিই উজ্জ্বল শুধু মলিন গগনে।
যামিনীর শেষ দশা, তাহার ভরসা আশা,
তুমিই রহিলে মাত্র এ তিন ভুবনে।
পঁাড়াও-ক্ষণেক থাক, তারাদল-রাণি !
তুমি গেলে ফুরাইবে এখনি যামিনী।
[ ৫ ]
যামিনীর শুকতারা !
তােমায় হইয়া হারা,
যামিনীর নৈশ লীলা এখনি ফুরাবে !
অস্তমিত হবে শশী, সূর্ণবর্ণ হবে মসী,
বিমল সরসী-নীরে কুমুদী কাদিবে।
কাঁদিবে কুমুদী জলে, সুনীল গগনতলে,
আর না ভাতিবে ক্ষুদ্র তারকা-নিচ,
সপ্ত সম্বােধন।
৫৪৭
স্বর্ণ-সম্মার্জনী ধরি’, উষা আসি’ ত্বরাত্বরি,
কুড়াইবে গগনের রত্ন সমুদয় ।
ত্বরায় ধরিবে বিশ্ব নূতন মূরতি,
যেও না, ক্ষণেক থাক, গগনেতে, সতি।
[ ৬ ]
সতেজ সরক্ত তৰু, পূরব অচলে ভানু,
এখনি উদিবে, হায়, দহিতে ভুবন,
নিশার সুষমা রাশি, এখনি নাশিবে আসি,
উষ্ণতর করি’ নৈশ মৃদুল পবন।
প্রফুল্ল সৌরভময়,
নিশার কুসুমচয়,
এখনি হইবে, হায়, বিষাদে মলিন
কেবল হাসিবে, সতি। পাইয়া প্রাণের পতি,
বিমল সরসী-নীরে কোমল নলিন।
নব রাজা, নবাসনে, নব নভঃস্থলে,
নব রাজ্যে, নব ভাবে, শাসিবে সকলে।
{ ৭ ]
দেখিতে দেখিতে, হায়, রঞ্জিত গগন-গায়,
ওই যে ক্রমশঃ তুমি যাইতেছ মিশা'য়ে,
না শুনি’ সকল কথা, অন্তরেতে দিয়ে ব্যথা,
অদৃশ্য হই’ছ ক্ৰমে যামিনীরে নাশিয়ে ;
যামিনীর জীবলীলা, চন্দ্রমার নৈশ খেলা
দেখিতে দেখিতে, হায়, ফুরাইয়া আসিল।
ওই দেখ সরােবরে, কমলিনী ধীরে ধীরে,
মধুর অধর পাশে মধু হাসি হাসিল।
প্রভাতের শুকতারা, ক্ষণেক দাড়াও,
অভাগার কথা ক’টি শুনে তবে যাও।
৫৪৮
সপ্ত সম্বােধন।
!
( ৮ ]
সবাই যামিনী-শেষে, অচেতন নিদ্রাবশে,
আমিই এসেছি হেথা দেখিতে তােমায়,
অন্তরের কথাগুলি, অন্তর হইতে তুলি,
তােমারে বলিতে আজ জেগেছি নিশায়।
আমার অজ্ঞাতে, সতি! আ’স যাও নিতি-নিতি,
ক্ষণমাত্র গগনেতে করি অবস্থান,
বিনাশিয়া কামিনীরে, বিদারিয়া শশধরে,
ডাকি’ দেব দিবাকরে কর অন্তর্ধান।
পেয়েছি তােমায় আজ ক্ষণেক দাড়াও,
অভাগার কথা ক’টি শুনে তবে যাও।
[ ১ ]
যামিনীর শেষ দশা, যামিনীর শেষ আশা;
শেষের ভরসা তা’র, জানি হে তােমায়,
আমার তেমনি, হায়, শুকতারা তব প্রায়,
একটি শেষের আশা ছিল এ ধরায়।
আমারে একটি ছিল, কিন্তু সে কোথায় গেল,
শূন্য করি’ এ হৃদয় আঁধারি’ নয়ন।
আমার ভরসা আশা, অন্তরের ভালবাসা,
ফেলিয়ে আমারে কোথা করিল গমন ?
তােম বিনা যামিনীর যাই’ছে জীৰন ;
সে বিনা অভাগা কিন্তু জীবিত এখন।
{ ১• .
সেই আশালতা ধ'রে, এত দিন এ সংসারে,
বেড়াতাম ঘূৰে ঘূরে ৩ন,বদনে!
দিয়ে নিদারুণ ব্যথা, আমার যে আশালতা,
নিয়াছে ছিড়িয়া, হায়, বুকে বঞ্জ হেনে।
সপ্ত সম্বোধন। ৫৪৯ हम कि করিয়াছি কি বা পাপ, কেন হেন মনস্তাপ! কি দোষে যে দোষী আমি বিধাতৃ-চরণে; কিছুই না জানি আমি, জানেন অন্তরযামী, এত দুখ ভাগ্যে মাের কিসের কারণে ? আমি কঁাদি যা’র তরে শয়নে স্বপনে, কভু আমায় গাে করে থাকে মনে ? ( ১১ ] হায় রে, শৈশবাবধি, যারে আমি নিরবধি, প্রাণের অধিক ভাল বেসেছি যতনে ; যা’র মুখ নিরখিয়ে, মহাদুখ পাশরিয়ে, ধরেছিনু এত দিন তাপত জীবনে ; সা’রে হেরে ভবিতাম, সংসার সুখের ধাম, ভেবেছিনু যারে লয়ে কাটাব জীবন, শৈশবের সহচরী, সংসার সাগর তরী, সে আমায় ফেলে কোথা করিল গমন ? শুকতারা। তােমা বিনা যামিনী মরি’ছে ; সে বিনা কেমনে প্রাণ আমার রহি’ছে। [ ১২ } বিষম কৌলিন্য-প্রথা, খাইছে দেশের মাথা, আমার সে আশালতা ছিন্ন সে কারণে ; কৌলিন্য-শ্মশানকালী, তাহার চরণে বলি দিয়াছে নিষ্ঠরগণ মাের প্রাণধনে। ভাহর সুখের আশা, আমার সুখের বাসা, জনমের মত, হায়, ঘুচাইয়া দিয়াছে । সে নয় আমার আর, আমি আর নই তার, আমার সে শুকতারা অস্তমিত হয়েছে। তােমার বিহনে নিশি জীবন ত্যজিল আমি আর কি লইয়ে বেঁচে থাকি বল।
সপ্ত সম্বোধন।
[ ১৩ ]
ভারতের শুকতারা, ভারত হইয়া হারা,
হয়েছে জীবনে মরা, হায় রে, এখন!
হৃদয়ে জানিয়ে বাজ, পৃথীপতি পৃথ্বীরাজ,
শমন-ভবনে, হায়, করেছে গমন !
ভারতের সুখনিশি,
ভারতের সুখশশী,
ভারতের সুখরাশি যবন-কবলে ;
আমার সুখের আশা, অন্তরের ভালবাসা,
ডুবেছে অতল বিষ-সাগরের জলে।
আশা বাসা যাহা ছিল-গেল যদি চলে,
যা এ দুখের ধরা, যা রসাতলে।
( ১৪ ]
আবার আসিবে নিশি, আবার আসিবে শশী,
আবার আসিবে তুমি, পূরব-আকাশে ;
কিন্তু, হায়, অভাগার, জীবন-জীবনাধার,
আর কি আসিবে পূন অভাগার পাশে ?
আর কি হাসিবে আসি, ভারতের মুখশশী ?
ভারতের সুখনিশি আর কি আসিবে ?
আর কি সে শুকতারা, উজ্জ্বল কিরণভরা,
ভারতে আসিয়ে পুন হাসা’বে হাসিবে ?
আর কি পাইব আমি জীবন-জীবনে ?
আর কি ভারত পাবে সে অমূল্য ধনে ?
–
ষষ্ঠ সম্বােধন।
পাখীর প্রতি।
[ ১ ]
প্রভাত হইল নিশি, গাও পাখী গাও,
পবিত্র প্রভাতী তান, মধুর ঝঙ্কারে,
মধুর ঝঙ্কারে গান গাইয়া জাগাও,
নিদ্রায় চৈতন্য-হীন মানব-নিকরে,
এখনাে মানবগণ ঘুমে অচেতন,
এখনাে কুহক-খেলা খেলিছে স্বপন।
[
স্বপন চেতনা সহ জড়াজড়ি করি’
খুলিতে না দেয় আঁখি নিদ্রিত মানবে,
পারে উঠিতে কেহ নিদ্রা পরিহরি,
জাগুক জগত-জন তোমার ও রবে।
ঊষা-আগমন-বাৰ্তা কর হে মােষণা,
বাজাইছে স্রোতস্বতী প্রভাতী বাজনা।
3
ও কণ্ঠ-নিঃসৃত গীত এ প্রভাত কালে,
প্রভাত-সমীর-শিরে করি আরােহণ,
পশিলে আমার এই শ্রবণযুগলে,
বড় প্রতি পাই আমি, ওরে বিহঙ্গম।
গাও পাখী ! কল কণ্ঠে, গাও গীত গাও,
নকে ৩ শত শত মানবে জাগাও।
সপ্ত সম্বোধন।
[ ৪
যামিনীতে রমণীর সুর শুনিয়া,
বিলাসী বাঙ্গালীগণ হয়েছে নিদ্রিত
তােমার সুরবে এবে উঠুক জাগিয়া,
গাও পাখী, গাও, গাও গীত সুললিত।
বাঙ্গালী সঙ্গীত-প্রিয় বিদিত ভুবনে,
এখনি জাগিবে তব সঙ্গীত শ্রবণে ।
[ ৫
অথবা বাঙ্গালীগণ গাঢ় নিদ্রাগত,
ভাঙ্গে না তাদের ঘুম বিহঙ্গম-গানে,
তা না হলে সুললিত ভারত-সঙ্গীত,
পারে তাদের ঘুম ভাঙ্গাতে সুতানে ?
বীণার ঝঙ্কার কানে সদাই পশিছে,
তথাপি বাঙ্গালীগণ ঘুমাইয়া আছে।
]
]
হায় রে ! অসাড় এবে বাঙ্গালী জীবন,
তাদের সুনিদ্রা এবে অনড়-অচল,
চাহে না তাহারা কিছু পেলে নিদ্ৰাধন,
সার করিয়াছে তারা রমণী-তাঞ্চল।
কি ছার ও সুললিত রব তোমাদের,
শত বজ্রাঘাতে ঘুম না ভাঙ্গে তাদের।
[ ৭,
কানন-নিবাসী পাখী! কামন-রতন।
কানন আনন্দময় তােমারে লইয়া,
রূপে কর কাননের শােভা সংবর্ধন,
শাখি-শাখা শিরে শিরে নাচিয়া নাচিয়া।
সপ্ত সম্বােধন।
নাচিয়া নাচিয়া গাও, কাননের পাখী,
দেখিয়া জুড়াক মাের এ যুগল আঁখি।
( ৮ )
স্বাধীন অন্তরে, পাখী, বেড়াও কাননে,
স্বাধীন অন্তরে গান গাও হে উল্লাসে,
অধীনতা কারে বলে জান না স্বপনে,
বনবাসী! বনে আছ মনের হরষে !
বনে থাকি বন-ফলে বাঁচাও জীবন,
বিমণ্ডিত তব শিরে স্বাধীনতা-ধন ।
[ ১ ]
কিন্তু পাখী।
যে ভাবে সঙ্গীত গাও কানন মাঝারে,
সে ভাব ভােমার কেন না হেরি নয়নে,
যখন মানবগণ আনিয়া তােমারে,
লালন পালন করে পরম যতনে।
যে জন যতনে করে তােমারে পালন ;
তার কাছে কেন আর গাওনা তেমন।
[ ১ ]
আশ্রয়দাতার প্রতি কপট আচার।
তবে কি কৃতঘ্ন তুই, ওরে বিহঙ্গম ?
কি রূপ বুঝিতে নারি তাের ব্যবহার,
সৃষ্টির মাঝেতে তারা নিতান্ত অধম।
না না না, তা নয়, বুঝি স্বাধীনতা-শােকে,
দিবানিশি পিঞ্জরেতে থাক মনােহুখে ?
[ ১১ ]
বিহঙ্গ! আবদ্ধ ভুমি সুবর্ণ-পিঞ্জরে,
পরাধীন তুমি পাখী, পরের প্রত্যাশা,
৫ ৫৪
সপ্ত সম্বােধন।
دسا
স্বাধীনতা তােমার সে কানন মাঝারে,
তাই মনােদখে তুমি থাক দিবানিশি।
সে স্বর কাননে তব স্বাধীনতা সনে,
তাই আর গাও না ক উল্লাসিত মনে
[ ১২
ভারতের সুবিস্তৃত কবিতা-কানন,
হায় রে, বিহঙ্গশূন্য নিরানন্দ-ময়,
কে গায় মধুর গীত শ্রবণ-রঞ্জন ?
গিয়াছে সুকণ্ঠ পাখী শমন-আলয় ।
ভারতের কবিগণ আছে কি রে আর,
বরষিতে এ ভারতে অমৃতের ধার ।
১৩ ]
যখন গাইত তারা ভারত-কাননে,
ললিত মধুর তানে, মধুর ঝঙ্কারে,
প্রতিধ্বনি চমকিয়া ভ্ৰমিত ভুবনে,
প্রবেশিত সুধাসম শ্রবণবিবরে ।
ব্যাস বাল্মীকির গীত সুধার আধার,
কালিদাস, ভবভূতি অমৃত-ভাণ্ডার।
[ ১৪
L
বঙ্গের বিহঙ্গগণ বঙ্গ শূন্য করি,
চলিয়া গিয়াছে, হায়, শমন-ভবন ;
আর রে শুনি না সেই সুস্বর-লহরী,
নীরব সুরব হায়, বঙ্গেতে এখন!
কৃত্তিবাস, কাশীদাস কোথায় এখন ?
ভারত, ঈশ্বর কোথা শ্রীমধুসুদন ?
সপ্ত সম্বােধন।
পর-নিন্দা-গত-প্রাণ বঙ্গের বানর,
সাহিত্য-শাখা যা শিখেছে ধরিতে
মধুময় মধুর সে সঙ্গীত সুন্দর,
বুসহীন ব'লে নিন্দা করে নানা মতে।
বঙ্গ-কাব্যোদ্যানে যার অভিনব তান,
করিতে চাহে রে তারা অকবি প্রমাণ।
[ ১৬ )
কাননের পাখী! তরু-শাখায় বসিয়া,
স্বাধীন-সঙ্গীত গাও এক বার তরে,
ভারতে স্বাধীন গান গিয়াছে ঘুচিয়া,
অন্তরের তান লয় নিহিত অন্তরে।
গাও রে ! তােমার মুখে শুনি সেই তান,
ভারতে নাহিক আর সে স্বাধীন গান ।
[ ১৭ ]
হায় রে, দুরন্ত ব্যাধ ভারত:কাননে,
পশিয়াছে বলদর্পী ঘাের অত্যাচারী,
দেয় গাইতে গান বিহঙ্গমগণে,
দেয় তুলিতে আর সুর-লহরী।
কাননব্যাপিত জাল করিয়া বিস্তার,
বন্দী করিয়াছে সবে কৌশলে এ বার ।
[ ১৮
নীরব নীরব হায়, ভারত-সঙ্গীত,
সমুচ্চ সপ্তম স্বরে সুরাগে সুনে,
বাজে না মধুর বীণা হয়ে পুলকিত,
রুদ্ধকুষ্ঠ পিককুল ব্যাধের কৌশলে।
]
সপ্ত সম্বোধন।
না পারে ফুটিতে মুখে মনে যত আশ,
কালরূপী কিরাতের হােক সর্বনাশ।
[ ১১ ]
তাই বলি, পাখী! তুমি এক বার গাও,
প্রাণ পূরে, তান ধরে, স্বাধীন অন্তরে,
নিভৃত কাননস্থল ঝঙ্কারে মাও,
জাগাও এ নিদ্রাগত মানবনিকরে।
তুমি ছাড়া, গলা ছেড়ে কে আর গাইবে ?
স্বাধীন তুমি, রে পাখী, এ বিপুল ভবে।
( ২০
ওই দেখ উষা দেবী পূৰ্ব্ব-প্রাচী হতে,
ধীরে ধীরে নামিছেন বিশ্ব-বিকাসিনী,
তােমার সে মধুমাখা সঙ্গীত শুনিতে,
গাও, পাখী, উচ্চ তানে পূরাও মেদিনী।
উষা-আগমন-বাৰ্তা কর হে ঘােষণা,
ওই বাজে নদীগর্ভে প্রভাতী বাজনা।
3
সপ্তম সম্বােধন।
তরুর প্রতি।
[ ১ ]
তরুবর! তব তলে কত শত বার,
এসেছি গিয়াছি আমি এই নিশাকালে ;
তরু হে! তােমার তলে হৃদয় আমার,
কত বার ভেসেছিল আনন্দ-সলিয়ে।
সপ্ত সম্বােধন। ০ সম্মুখে সরসী—স্বচ্ছ তরল দর্পণ, কত সুখ-প্রতিবিম্ব দেখাত তখন ; সুনীল গগনে চাদ, পাতিয়ে রূপের ফাদ, হাসা’ত বিচিত্র রূপে নিখিল ধরায়, শােভাময়ী বিভাবরী, পুষ্প-অলঙ্কার পরি, ফুটা’ত উজ্জ্বল ফুল গগন-তলায়, তােমার মল পত্র, সুশীতল আতপত্র, কৌমুদী-বিধৌত দেহ শাখি-শাখা-গায়, খরিত হে কত শােভা, নীরদে বিজলী-প্রভা, হাসাইত প্রকৃতিরে, হাসা’ত আমায়। আমি হাসিতাম আর প্রেয়সী হাসিত, নব নব শােভা যত নয়নে পশিত। আমাদের দুজনায় তুমি লয়ে কোলে, আবরি দোহার দেহ তিমির বসনে, বসায়ে রাখিতে তব অভয়দ তলে, আশ্রিতে আশ্রয় দান করিতে যতনে। [ ২ ] কত হাসি হাসিতাম বসিয়া এখানে, কত শােভা দেখিতাম সরসীর জলে, কত সুখী হইতাম প্রেয়সীর সনে, কত প্রীতি পাইতাম বষি’ তব তলে। সুন্দর বদনখানি রাখি মাের বুকে, কত হাসি হাসিতেন প্রিয়া মনোসুখে। কিন্তু হে এখন, হায়, নিময় সদয়, বিষময় তব তল, বিষম , বিষ নৈশ সমীরণ, বিৰ চক্ৰমা-করণ, বিষময়ী শােভনী: :: :: শি।
সপ্ত সম্বোধন।
সেই ত সকলি আছে, সেই পাতা সেই গাছে,
সেই চাদ সেই তার গগনের তলে,
সেই সে বিজলী-হাস, তব পত্রে পরকাশ,
সেই আমি বসি তব তমোময় ফোলে।
সেই ত রয়েছে সব শােভা মনােম,
কিন্তু হে, কোথায় সেই সুখ অনুপম ?
হায় রে ! মনের সুখ গিয়াছে চলিয়া,
অন্তর আমার এবে বিষাদে মগন,
প্রেমবৃত্ত হতে, হায়, লয়েছে তুলিয়া,
সুখের কুসুম মাের-আঁধারি নয়ন।
[ ৩ ]
তরুবর ! ভিলাকার বীজ হতে তুমি,
ধরিয়াছ ক্রমে ক্রমে এ দীর্ঘ আকার,
আবরণ করিয়াছ তব তল-ভূমি,
সুশ্যামল সুবিস্তৃত দেহেতে তােমার।
প্রসারিয়া কর শত হস্ত পরিমাণ,
করিতেছ কাননের দৈর্ঘ্য পরিমাণ।
হায়, তরু! এ বিজনে,
সমীরণ পরশনে,
কি গা’স আপন মনে বল রে আমায় ?
স সর সর তুলে,
কার গুণ হেলে দুলে,
গা’ প্রেমানন্দে গলে, বল্ রে আমায় ?
গভীর রজনীষােগে, কি শোক উঠে রে জেগে
তাের মনে, বল আগে, বল্ রে আমায় ?
কি জালা অন্তরে জ্বলে, নিবাইতে যে অনলে
ভাসি নন-জলে, বল রে আমায়?
প্রভাতে দেখি রে তাের নয়নেতে নীর,
লোকে বলে পড়িয়াছে নিশির শিশির।
সপ্ত সম্বােধন।
নিশিই বা কি কারণে আঁখি-জল ফেলে,
প্রকাশিয়া, তরু! তুই দে আমায় বলে,
আমি জানি আমি ভাসি নয়নের জলে,
আশায় আমার ছাই পড়িয়াছে বলে।
[ ৪ ]
তকুর! তিলাকার বীজ হ'তে, হায়,
বাড়িয়াছে যতনের প্রণয় আমার,
এক মনে এক প্রাণে রজনী দিবায়
করিতেছি আরাধনা আমি রে তাহার।
মনােমন্দিরেতে চায় কারিয়া স্থাপন,
ভাবিতেছি মনে মনে মুদিয়া নয়ন।
প্রাণ সমা প্রিয়া সনে, বসি এ বিজন স্থানে,
বিনিময় প্রাণে প্রাণে করিতাম, হায়,
হৃদয়-কবাট খুলি, হৃদয়ের কথাগুলি,
করিম বলাবলি মােরা দুজনায়।
প্রাণ-সম প্রিয়া সনে, বসি এ বিজন স্থানে,
দেখিতাম এ মরতে স্বরগ উদয়,
তারে লয়ে ভাবিতীম, সংসার সুখের ধাম,
হায়, এবে তমােপূর্ণ অনন্ত নিরয়।
ধরা-গর্ভ-গামী মুল তরু হে তােমার!
পশেছে প্রণয়-মূল হৃদয়ে আমার।
জড়াইয়া হৃদয়ের প্রত্যেক পঞ্জরে,
বিধিয়াছে মূল তার হদি অন্তস্তলে,
ক্ষুদ্র দেহ বট যথা ইষ্টক-প্রাচীরে,
প্রত্যেক ইষ্টকে রাখে জড়াইয়া মূলে।
সপ্ত সম্বােধন।
[ ৫ ]
ব, তরু! বল মােরে, সেই বট গাছে,
না ভাঙ্গি প্রাচীরে কে বা পারে উৎপাটিতে ?
কে বা পারে উৎপাটিতে, কে এমন আছে,
দদি-বিদ্ধ এ প্রণয়ে এ হৃদয় হতে ?
হৃদয়-পঞ্জর একে একে চূর্ণ হবে,
তবু এ প্রণয় হায়, উঠান না যাবে।
মনে ভাবি, ভাবিব না, আর মনে আনিব না,
সেই মুখ, সেই চোখ, সেই বিশ্বধর,
মনে করি বিধিমতে, মনে মনে দৃঢ় হতে,
হায় রে, বালির বাঁধ ভাঙ্গে অতঃপর !
সিন্ধু সমাগম আশে, হেসে হেসে ভেসে ভেসে,
নদীর তরল জল একমুখে ধায়,
দুৰ্বল বালির বাঁধে, কে আছে তাহারে বাঁধে,
ফিরাইতে তার গতি কে পারে ধরায় ?
ধরা-প্রেমাকাক্ষী তব বৃন্তচুত ফলে,
কে বা পারে উড়াইতে উদ্ধ
শূন্যস্থলে ?
প্রেম-গুণে বাধা সবে এ মহীমণ্ডলে,
তকুতে জড়িতা লতা"প্রেমের কারণে,
প্রেমে চন্দ্র সূৰ্য্য তারা বাধা নভন্তুলে,
ঈশ্বর আপনি বাঁধা প্রেমের বন্ধনে।
[ ৬ } .
যে বলে বলুৰু প্ৰেম-তরু বিষময়,
বিষময় ফল তার বিষময় সব,
আমি বলি সুধাময় পবিত্র প্রণয়,
বিরহ-অনলে যদি না পােড়ে মানব।
সপ্ত সম্বোধন। মাস বর্য দিন ক্ষণ ক্রমে ক্রমে যায়, প্রণয় প্রণয়ি-হৃদে সুধা বরষয়। দিন যায়, ক্ষণ যায়, সাধের যৌবনায়, প্রণয়-পিপাসা, হায়, কোন কালে থামে না, দিন যায়, ক্ষণ যায়, অনলে আহুতি প্রায়, প্রণয়ীর প্রেম-আশা বাড়ে বই কমে না। দিন যাবে, ক্ষণ যাবে, সাধের যৌবন যাবে, আমার প্রণয়-আশা সমভাবে রবে, দিন যাবে, ক্ষণ যাবে, মাস বর্ষ গত হবে, দিন দিন প্রেম-তরু হৃদয়ে বাড়িবে। হৃদয়ে প্রণয়-মূল ক্রমেই বিধিবে, হৃদয়ের সঙ্গে শেষে উৎপাটিত হবে। ভীম প্রভঞ্জনকিম্বা মানবের বলে, হও যদি উৎপাটিত তুমি, তরুবর ! যত মৃত্তি জড়াইয়া রবে তব মূলে, তত মৃত্তি মূল সহ উঠিবে উপর। [ ৭ ) বল, তরু, কোথা মাের জীবন-রূপিণী ? আমি যে এসেছি তারে দেখিতে হেথায়। লুকায়েছে তাহারে কি তামসী যামিনী ? ৰল, তরু! বল মােরে, বল রে আমায় । বসিতে বিজন স্থানে সে ভালবাসিত, তাই সে আমার সনে এখানে আসিত। সৰু সৰু পর তুলে, কেঁপে কেঁপে দুলে দুলে, কি বলিলে ?-ওহ!-থাম, আর বলিও না, হয়, ও দারুণ কথা, বল না, বল না হেথা, “শমন লয়েছে তারে”!-আর বলিও না !!
স সম্বােধন।
এই কি উচিত তার? এই কি রে সুবিচার,
দয়াময় প্রেমমধু পরম পিতার ?
নিয় নিষ্ঠুর যমে,
সমপিয়া
পুত্রপ্রেমে
করিলেন প্রেমের কি মাহাত্ম প্রচার ?
হায়, যদি তারে হরি লয়েছে শমন,
আমিও তাহার পাশে করিব গমন।
না, না, নারী-প্রেম কভু সুখময় নয় রে !
প্রথমে মধু, কিন্তু শেষে বিষময় রে !
কুমেতে কীট আছে গরল সুধায় রে !
প্রণয়ে বিরহ আছে, হায় হায় হায় রে !!
।
সম্পূর্ণ।
গন্থাবলী সমাপ্ত।
Printed at the Vina Press Calcutta,
প্রমথনাথ মিত্র প্রণীত গ্রন্থাবলী সম্বন্ধে সম্পাদকগণের অভিপ্রায়। জয়পাল নাটক “নাটকখানি পাঠ করিলে সময় বৃথা গেল বলিয়া পাঠকের আক্ষেপ করিবার কোন কারণ নাই। আমাদের বিবেচনায় নাট্যশালায় ইহা অভিনীত হইলে দর্শক ও শ্রাতৃবৃন্দের নিতান্ত সন্তোষজনক হইবে।” সহচর। *এই গ্রন্থখানি পাঠ করিয়া আমরা অতিশয় সন্তুষ্ট হইয়াছি। ইহাতে গ্রন্থকার যে অনেক চতুরতা ও নৈপুণ্য দেখাইয়াছেন, তাহার ভুল নাই। এ পুস্তকখানি যিনি পাঠ করিবেন, তিনি বিরক্ত হই- বেন না।”-অমৃতবাজার পত্রিকা। এখানি যে প্রণালীতে লিখিত হইয়াছে, তাহাতে নাট্যশালার বিলক্ষণ উপযােগী হইয়াছে। ইহার লেখার সৌন্দর্য আছে। ইহা পাঠ করিলে যবনদিগের প্রতি বিজাতীয় ঘৃণা ও ভারতের উদ্ধারসাধনার্থ উৎসাহের উদ্রেক হয়। জয়পাল এই নাটকের নায়ক, তাঁহার পালা। যাযথ চিত্রিত হইয়াছে। জয়পালের লেখা উৎকৃষ্টই হইয়াছে। ভারত সংস্কারক। “সদানন্দ নামক রাজপাৰিষদের চরিত্র অতি সুন্দর ও নূতনরূপে সংগঠিত হইয়াছে।”—এডুকেশন গেজেট। “ইহাতে গ্রন্থকার নাটক লিখিবার ক্ষমতার পরিচয় দিয়াছেন।” সমাজদর্পণ। জয়পালের ভাষা অধিকতর পরিপক্ক, বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল। জয়- পালের রচনা-প্রণালী অধিকতর গভীর। গ্রন্থকার এই নাটকে আপ- নার ক্ষমতার পরিচয় দিয়াছেন। নাটকখানি অধিকতর হৃদয়গ্রাহী হইয়াছে। গ্রন্থের দোষ ভাগ অপেক্ষা গুণ ভাগ অধিক। গ্রন্থের পাত্র- দিগের মধ্যে সদানন্দের চিত্রটি অতি সুচারুরূপে চিত্রিত হইয়াছে।
বিজয়কেতুকে গ্রন্থকার বেস্ প্রচ্ছন্নভাবে রাখিয়াছেন। নাটকের গীত- গুলি অতি সুন্দর। গ্রন্থকারের কবিত্বও বেশ আছে।” সাপ্তাহিক সমাচার। "It seems, the author has a command over a cloar style. He has produced a work, whose literary merits, any educated native cannot, but approve. The pieces of poetry and especially those exhortatives to the soldiers i are indeed lively and vigorous, and reflect much credit on the young author."—National Magazine. "The play bas considerable merit, especially in descriptions, which are lively and graphic.” Bengal Magazine. "The descriptions of the author are lively and full of spirit."--National Paper. নগ-নলিনী নাটক। লেখক যদিও অল্পবয়স্ক, তথাপি লেখা মন্দ হয় নাই। কবিতাগুলি উত্তম হইয়াছে, নাটকের কল্পনাও মধ্যবিৎ অপেক্ষা ভাল। ভবিষ্যতে ইনি এক জন সুলেখক হইবেন সন্দেহ নাই।-সহচর। “লেখকের রচনাশক্তি আছে। গদ্য অপেক্ষা পদ্যে সেই শক্তির অধিক স্বর্তি পাইয়াছে।”—সাপ্তাহিক সমাচার। “সমালােচ্য বাক্য হইতে কিয়দংশ অবিকল তুলিয়া দিতেছি, ইহাতে থার্থই কবিত্ব ও লালিত্য আছে—* * * হলিসহর পত্রিকা, *এরূপ কখনই বলা যাইতে পারে না যে, গ্রন্থকার নাটক লিখিতে অক্ষম। তঁাহার সুললিত কবিতা লিখিবারও বিশেষ ক্ষমতা আছে।” মধ্যস্থ। “গ্রন্থকার রচনাশক্তির ও কবিত্বশক্তির বিশেষ পরিচয় দিয়াছেন।” তমােলুক পত্রিকা।
*The author seems to possess a deal of merit. His style is generally clear and his pieces ef poetry in several instances are beautiful indeed and reflect credit on the author. National Paper, বীরকলঙ্ক নাটক। “বীরকলঙ্ক নাটক, প্রমথনাথ মিত্র-প্রণীত। সপ্তরথী বেষ্টন করিয়া অভিমন্যুকে বধ করেন, সেই বিষয় অবলম্বন করিয়া নাটক- খানি রচিত হইয়াছে। গ্রন্থকারের গুণে গ্রন্থখানি আরও মনােহারী হইয়াছে। গ্রন্থের অনেক স্থানে গ্রন্থকারের রচনা-গুণের বিশেষ পরিচয় পাওয়া যায়।”-সােমপ্রকাশ, ৩০এ শ্রাবণ, ১২৮৪ সাল। শুভসংহার নাটক। “শুম্ভবধ উপাখ্যান অপরিচিত নহে, কিন্তু লেখকের রচনাগুণে উহা অপূৰ্ব্ব জ্যোতিযুক্ত হইয়াছে। এরূপ নাটকের বহুল প্রচার প্রার্থনীয়।”—মুরশিদাবাদ পত্রিকা। “পুৰুপানির অনেক স্থলেই কবিত্বশক্তির বেস বিকাশ হই- ছে। ভগবতীর প্রতি দৈত্য সেনানায়ক ধূম্রলােচনের উক্তিগুলি পাঠ করিলে বােধ হয় যেন সৌম্য, বীৰ্য্য এবং গাভীৰ্য্য একাধারে মূৰ্ত্তিমা।”—প্রভাতী। স্থানে স্থানে ইহা পাঠ করিয়া আমাদের শরীর রােমাঞ্চ হইয়া উঠিয়াছিল। সাধারণত আমরা যে সকল পদ্যময় গ্রন্থ পাঠ করিয়া থাকি, তদপেক্ষা এখানি উচ্চদরের হইয়াছে।”—সমাচার চন্দ্রিকা। প্রমথ বাবু এক জন জানিত লেখক। * * * তঁাহার রচনা মিষ্ট ও ললিত, ভাব সরল ও সুন্দর। নাট্যাংশে গ্রন্থকারের বিশেষ গুণ- পনা দৃষ্ট হইল। দৈত্যপতি শুন্তের চারিটা সেনাপতির চরিত্র ভিন্ন ভিন্ন প্রকারে অতি সুন্দররূপে চিত্রিত হইয়াছে ; গ্রন্থকার এক চরি- ত্রের সহিত অন্য চরিত্রের অতি সুন্দর মিলন করিয়াছেন। বৃত্রসংহা- রের ঐন্দ্রিলা ঐশ্বৰ্যগর্বে গর্বিতা, গৰ্ব্ব বজায় রাখিতে তিনি স্বামীর অমঙ্গলেও কুণ্ঠিতা নন। কিন্তু সংসারের শুভ্রা গর্বিত। অথচ পতিব্রতা। গর্বের সহিত পাতিব্রতের এই সংমিশ্রণটা আরও সুন্দর হইয়াছে। প্রশংসার আরও অনেক জিনিষ আছে।” আনন্দবাজার পত্রিকা, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১২৮৭। “আমরা এই গ্রন্থখানির আদ্যোপান্ত পাঠ করিয়া প্রীত হইলাম। ইহাতে রক্তবীজের সহিত দেবীর যুদ্ধবর্ণনায় গ্রন্থকার আপন প্রতিভার বিশেষ পরিচয় দিতে সক্ষম হইয়াছেন।”- শ্রীহট্ট প্রকাশ। “কয়েক বৎসর হইল, শুম্ভবধ উপাখ্যান অবলম্বন করিয়া বাবু রামচন্দ্র মুখােপাধ্যায় “দানব-দলন” নামে একখানি কাব্য লিখিয়া- ছিলেন। দানব-দলন কাব্যে দুইটী দোষ না থাকিলে কবিদিগের মধ্যে উচ্চাসন প্রাপ্ত হইতে পারিতেন। সে দুইটী দোষ এই, প্রথমতঃ রামবাবু যুদ্ধের সামরিক দৃশ্যের মধ্যে মধ্যে দুই চাৰিটী কোমল দৃশ্য ছড়াইয়া দিয়া পূৰ্ব্ব দৃশ্যের উগ্রভাব হ্রাস করিতে পারেন নাই। দ্বিতী- য়তঃ উচ্চ ভাব ও ভাষার মধ্যে মধ্যে তিনি রূঢ় ও গ্রাম্য ভাষা ব্যবহার করিয়া পাঠককে সামান্য কারণে অসন্তুষ্ট করিয়াছেন। প্রমথনাথ এই দুইটী দোষই অনেক পরিমাণে পরিহার করিয়াছেন। শুভসংহা- রের ভাষা মধ্যে একটা অসমান কি কঠোর শব্দ পাওয়া যাইবে না, তাহার ভাষা বর্ষার নদীর ন্যায় নিঃশকে বহিয়া যাইতেছে। অভিনীত হইলে শুম্ভ-সংহার যে দর্শকের মন হরণ করিবে, তাহাতে আমাদের সন্দেহ নাই।”—ভারতমিহির। “ইহা পাঠ করিতে আরম্ভ করিলে শেষ না করিয়া ক্ষান্ত হইতে পারা যায় না, এবং শেষ হইলে আর নাই বলিয়া আপােস হয়। ইহা পাঠ করিতে করিতে শরীর রােমাঞ্চিত হয়-ও মন, বীর, করুণ প্রভৃতি রসে উৎসাহিত ও আদ্র হয়। ইহাতে অন্তঃপ্রকৃতির ঘাত প্রতিঘাত সুন্দর রূপে চিত্রিত হইয়াছে। শুক্ত হইতে সামান্য দূতের অবধি, চরিত্রের নির্মল ও উপযােগিতা দেখিলে প্রমথ বাবুকে বিশেষ প্রশংসা না করিয়া থাকা যা না।”—হালিশহর প্রকাশিকা।
দ্বাদশ নারী। শ্রীদুর্গাদাস লাহিড়ী প্রণীত। মূল্য কাগজে বাঁধাই • দশ আনা। সুন্দর কাপড়ে স্বর্ণনামা- ঙ্কিত বাঁধাই ৭০ বার আনা। আকার সুবৃহৎ-১২ পেজী ফৰ্ম্মার প্রায় ১৪• পৃষ্ঠা। সচিত্র। দ্বাদশ নারী সম্বন্ধে সংবাদপত্রের মত। “মহতের চরিত্র মহদুপদেশময়। কল্পিত চরিত্র পাঠাপেক্ষা প্রকৃত জীবনী পাঠে যে কত উপকার, তাহা বলিয়া শেষ করা যায় না। আমরা অপতিত, তাই আমরা মহতের মহত্ত্ব বুঝি না, গৌরবময় জীবনের গৌরব অনুভব করিতে পারি না। পৃথিবীর কোন স্থানে যদি বীরত্বের পূর্ণ বিকাশ হইয়া থাকে, তবে তাহা ভারতেই হইয়াছে। ইতিহাস ইহা স্পষ্টরূপে দেখাইয়া দিতেছে; অহং-মত্ত ইউরােপও ইহা অবনত মস্তকে স্বীকার করিতেছে। এ সকল কথা জানিতে, এ সকল কাহিনী গুনিতে বাঙ্গালীর যেন একটু একটু আগ্রহ হইতেছে। “আৰ্যকীৰ্ত্তি” এখন গৃহে গৃহে পূজ্যপাদ আৰ্যদিগের কীৰ্ত্তি প্রচার করিতেছে। আবার আজ যুক্ত দুর্গাদাস লাহিড়ী ভারতের দ্বাদশ নারীর জীবন- কাহিনী জলন্ত ভাষায় বর্ণন করিয়া বাঙ্গালীর হস্তে দিয়াছেন, ইহা বড়ই সুখের বিষয়। ইহাতে তারাবাই, অহল্যাবাই, দুর্গাবতী, বিদুল প্রভৃতি নয়টি আর বঙ্গের রাণী-ভবানী, রাণী রাসমণি, বেহুল এই তিনটি রমণীরত্বের উজ্জ্বল কাহিনী, অতি উজ্জ্বল ভাষায় বর্ণিত হই- যাছে।” ইত্যাদি দৈনিক, ১৬ই বৈশাখ, ১২৯২। “আজি কালি অামাদের বঙ্গমহিলাগণের বিদ্যানুশীলনের স্রোত- দিন দিন যেরূপ বাড়িতেছে, তাহার সঙ্গে সঙ্গে সেইরূপ তাহাদের পাঠোপযােগী গ্রন্থের সংখ্যা বৃদ্ধি দেখিয়া আমরা পরম আহলাদিত হই ছি। তাহাদের উন্নতি সাধনেচ্ছায় যাহারা অতি সামান্য সাহায্য করিয়াছেন, তাহারাও আমাদের ধন্যবাদাহঁ। মহৎ লােকের জীবনী অধ্যয়ন, চরিত্র গঠনের এক প্রধান উপায়, তাহা সকলেই মুক্ত করে স্বীকার করিবেন। এইরূপ আলােচনায় হৃদয়ের গ্রন্থি খুলিয়া যায় এবং সদ্ভাবের ফুৰ্ত্তি পাইয়া মহত্ত্বে পরিপূর্ণ হয়। এই কারণেই সভ্যসমাজে জীবনীর এতাকি আদর। আজি কয়েক বৎসর হইতে আমরা বহিত্যে কয়েকখানি জীবনী প্রাপ্ত হইয়াছি, কিন্তু তাহার দ্বারা আমাদের অভাব-সমুদ্রের এক গণ্ড য মাত্ৰও পূর্ণ হয় নাই। তবে পূৰ্বে একখানিও দেখিতে পাওয়া যাইত না, আজি কালি দুই একখানি দেখিতে পাইতেছি। ইতিপূর্বে যে সকল জীবনী প্রকা- শিত হইয়াছে, তন্মধ্যে অধিকাংশই পৌরাণিক ও বিদেশীয়। আমা- দের দেশীয় স্ত্রীলােকদিগের জীবীই আমাদের মহিলাগণের বিশেষ উপযােগী। কারণ, ইহা প্রকৃত ঘটনা বলিয়া আমাদের কুলবালা- গণের অধিক শ্রদ্ধা ও ভক্তি জন্মিবার সম্ভাবনা। তারা বাই, জবহর বাই, পান্না, মহারাণী অহল্যা বাই, দুর্গাবতী, বিদুলা, বীরাঙ্গনা লক্ষ্মী বাই, রাণী ভবানী, সুন্দরী পদ্মিনী, বেহুলা, রাণী রাসমণি, চন্দ্রাবতী বা মহারাণী ঝিনন, এই বারটী আদর্শ নারীর জীবনের কতকগুলি প্রধান প্রধান ঘটনা লইয়া এই পুস্তক বিরচিত। তারা বাই, জবহর বাই, দুৰ্গাৰতী, বিদুলা, লক্ষ্মী বাই, এবং মহা- রাণী বিন্দন স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য বীরােচিত যুদ্ধ করিয়া শেষে অকাতরে স্ব স্ব জীবন বিসর্জন দিয়াছেন। পদ্মিনী অসামান্য কৌশলে নিজ সতীত্ব রক্ষা করিয়া স্বামীকে শত্রু-শিবির হইতে উদ্ধার করিয়াছিলেন। বেহুলা অসাধারণ পতিভক্তি, একনিষ্ঠা ও অধ্যবসারের দ্বারা সর্পদষ্ট স্বামীকে বাঁচাইয়াছিলেন। রাণী ভবানী ও অহল্যা বাই রাজনীতিকুশলা, পরােপকারিণী ও দয়াবতী ছিলেন, এবং অত্যন্ত বিশৃঙ্খল সময়ে রাজ্যের সুশাসন করতে সক্ষম হইয়াছিলেন। পান্না রমণী-জীবনের স্বার্থশূন্যতার মূর্তিমন্ত দৃষ্টান্ত। তিনি অম্লানবদনে নিজসম্মুখে আপনার পুত্রের প্রাণ দিয়াও প্রভু পুত্রের প্রাণরক্ষা করিয়াছিলেন। রাণী রাসমণি বাঙ্গালী-রমণী হইয়া যেরূপে দরিদ্রের দুঃখ মােচনাৰ্থ পরাক্রান্ত বৃটিশ সিংহের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়া নিজ উদ্দেশ্য ও সম্মান রক্ষা করিয়াছিলেন, অতি আশ্চর্য্য! এই দ্বাদশটী রমণীর জীবনী যথার্থ ই আদর্শস্বরূপ। ইহাদ্বারা আমাদের রমণীকুলের বিশেষ উপকার হইবে, আমরা নিশ্চয় বলিতে পারি। জীবনী লিখিতে হইলে বাল্যকাল হইতে সকল ঘটনাই উল্লেখ করিতে হয়, কারণ তাহার অভাবে কি প্রকারে চরিত্র গঠন হইল, তাহা ঠিক বুঝা যায় না। তবে আমাদের দেশে কোন জীবনীর বিশেষ বৃত্তান্ত না থাকায় এই সামান্য জীবনীতেও পরিতৃপ্ত হইতে হইতেছে। নৰনারী নামক পুস্তকে অহল্যা বাই ও রাণী ভবানীর জীবনী আছে; কিন্তু তাহা ব্যতীত আরও দশটি নারীর বিষয় এই পুস্তকে সম্পূর্ণ বিভিন্ন। এই বিপ্লবময় ভারতে বা পুটু অকর্মণ্য বাঙ্গালীর মনে বিশেষতঃ অর্ধশিক্ষিতা বিলাসিনী বাঙ্গালী রমণীদিগের চক্ষে এইরূপ আদর্শ-জীবন চিত্রিত হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়। উপন্যাস, নাট্যগীতি ইত্যাদি অসার বিষয়ে কালক্ষেপ • না করিয়া এরূপ আবশ্যকীয় বিষয়ের আলােচনা করিয়া গ্রন্থকার দেশের হিতসাধন করিয়াছেন। আশা করি, তিনি আরও এইরূপ গ্রন্থ লিখিয়া আমাদিগকে সুখী করিবেন।” সময়, ২৯এ বৈশাখ, ১২৯২।
৭০ ম বিজ্ঞাপন। অতি সুলভ! অতি সুলভ ! অতি সুলভ !!! সুকবি ৬ প্রমথনাথ মিত্রের গ্রন্থাবলী। ৪• মূল্যের ৭ খানি গ্রন্থ ২ টাকা মূল্যে, কিন্তু আগামী ১৫ই জ্যৈষ্ঠ হইতে ১৫ই ভাদ্র পর্যন্ত তিন মাস মধ্যে ১, টাকা মূল্যে প্রাপ্তব্য। তাহার পর আর ১ টাকায় কেহ পাইবেন না। কি ২ টাকায়, কি ১ টাকায় সকল সময়েই ডাকমাসুল। আনা হিসাবে লাগিবে। এই গ্রন্থাবলীতে নিম্নলিখিত সাতখানি গ্রন্থ আছে। ১। জয়পাল নাটক মূল্য ১ ৬। বীরকলঙ্ক, ২য় খণ্ড, ২। নগনলিনী নাটক ১ জয়দ্রথবধ নাটক মূল্য ১, ৩। শুন্তসংহার নাটক # জয়দ্রথবধ নাটক পূৰ্ব্বে ৪। প্রেমপারিজাত প্রকাশিত হয় নাই। (গীতিনাট্য), • ৭। সপ্তসম্বােধন (কাব্য) মূল্য। ৫। বীরকলঙ্ক, ১ম খণ্ড, অভিমন্তবধ নাটক পূৰ্বে আমি সৰ্বপ্ৰথমে যখন রাজকৃষ্ণ বাবুর গ্রন্থাবলী সুলভ মূল্যে সাধারণ্যে প্রকাশ করি, তখন সকলেই সন্তুষ্ট হইয়া আমাকে অন্যান্য প্রসিদ্ধ গ্রন্থকারগণের গ্রন্থাবলী এইরূপ সুলভ মূল্যে প্রকাশ করিতে অনুরােধ করেন। আমিও সেইরূপ চেষ্টা করিয়া আসিতেছি। সম্প্রতি প্রমথনাথ মিত্রের সুপ্রসিদ্ধ ও সুপাঠ্য পুস্তকগুলি সুলভ মূল্যে প্রকাশ করিলাম। গ্রন্থকার অকালে কালকবলিত হওয়াতে তাহার পরি- শ্রমের সুন্দর রত্নগুলি সঞ্চয় করিয়া রাখাই আমার উদ্দেশ্য। ভরসা করি, বঙ্গীয় পাঠক মহাশয়গণ মৃত কবির স্মরণার্থ তদীয় গ্রন্থাবলীর এক এক খণ্ড গ্রহণ করিবেন। মূল্য ও ডাকমাসুল আমার নিকট পাঠা- ইতে হইবে। শ্রীগুরুদাস চট্টোপাধ্যায়, বেঙ্গল মেডিক্যাল লাইব্রেরী প্রকাশক। ১৭ নং কলেজ স্ট্রীট-কলিকাতা। ১৫ই জ্যৈষ্ঠ,১২৯২ সাল।
বিজ্ঞাপন খুব সুলভ ! একবার অবশ্য দেখুন, ভক্তরী পুস্তক সকলের মূল্য অপেক্ষাকৃত বেশী হওয়ায় মফস্বলবাসী ডাক্তর ও স্কুলের ছাত্রগণ অনেক সময়ে টাকা জুটাইয়া পুস্তক ক্রয় করিতে পারেন না, ইচ্ছা সত্তেও পুস্তক পাঠ করিয়া তৃপ্তিলাভ করিতে অসমর্থ হন, এই জন্য আমি কয়েক জন ডাক্তরী পুস্তকের গ্রন্থকারকে বিশেষরূপ অনুরােধ করিয়া নিয়- লিখিত পুস্তকগুলির মূল্য ৩ মাসের জন্য কমাইয়া দিলাম, এমন সুবিধা আর হইবে না, এই তিন মাসের মধ্যে যাহার. যাহা আবশ্যক, কিনিয়া লউন, পুস্তক না ফুরাইলে পূজা পর্যন্ত এই নিয়মে পুস্তক দিব। ১। ভিষকবন্ধু ৩য় সংস্করণ, ডাক্তর দুর্গাদাস কর প্রণীত, ইংলণ্ড- প্রত্যাগত ডাক্তর রাধাগােবিন্দ কর কর্তৃক সংশােধিত ও পরিবর্ধিত। উৎকৃষ্ট কাপড়ে বাঁধাই মুল্য ২ দুই টাকার স্থলে ১ টাকা, ডাঃ মাঃ ও রেজিষ্টরী খরচা । ২। সরল ভৈষজ্য-পাঠ, বাবু ঈশানচন্দ্র সরকার প্রণীত, মূল্য ১ টাকার স্থলে মায় ডাকমাসুল ॥১০। ৩। ডাক্তর কৃষ্ণহরি ভট্টাচাৰ্য কৃত চক্ষু-চিকিৎসা, মূল্য ৪, চারি টাকার স্থলে ২ টাকা, ডাকমাসুল •| ডাক্তর অম্বিকাচরণ রক্ষিত প্রণীত ভারত-ভৈষজ্যতত্ত্ব ১ম ও ২য় খণ্ড একত্রে, ৩ টাকার পরিবর্তে ডাঃ মাঃ সহ ২০। ৫। ঐ কৃত গাহস্থ্য চিকিৎসাবিদ্যা, ১০ টাকার পরিবর্তে মানুল সহ •। সময় অতীত হইলে নিশ্চয় পূর্ণ মূল্য, হইবেক। ৬। ভাবপ্রকাশ-প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, ৫০ পরিবর্তে মাশুল সহ ৩ টাকা। ৭। ভিষকৃসুহৃদ জর রাধাগােবিন্দ কর প্রণীত, ৩২ টাকার পরিবর্তে মাশুলসহ ২া। ৮। সচিত্র কুষ-তুরস্ক যুদ্ধ, এক টাকার পরিবর্ভে ॥• আনা, ইহাতে প্রায় ২০ খানি ছবি আর্ক। ৪।
০ যারপর নাই সুলভ! সৰ্ব্বাপেক্ষা সুলভ !! শ্ৰীযুক্ত বাবু রাজকৃষ্ণ রায়ের গ্রন্থাবলী। তৃতীয় সংস্করণ। তৃতীয় সংস্করণ ! তৃতীয় সংস্করণ ! ১ অবসর-সরােজিনী কাব্য (১ম ভাগ) ১। ২ অবসর-সরাে- জিনী কাব্য (দ্বিতীয় ভাগ, নূতন কবিতাবলী-সম্বলিত) ১৮। ৩ শারদোৎসব (কাব্য) •। ৪ গিরিসন্দর্শন (কাব্য) । ৫ কালচক্র (কাব্য)।। ' দেবসঙ্গীত (কাব্য)। | ৭৮ নিভৃতনিবাস (কাব্য) (১ম ভাগ নিশীথ-চিন্তা সমেত) । ৯ নিভৃতনিবাস (কাব্য) ২য় ভাগ ।। ১০ পতিব্রতা (নাট্য-গীতি-Opera, অনেকগুলি নব গীত সম্বলিত) ।। ১১ নাট্যসম্ভব (উপরূপক--Mask) •| ১২ স্তব- মালা (কাব্য) । ১৩ দ্বাদশ গোপাল (প্রহসন) •। ১৪ ভারত- সান্ত্বনা (কবিতাত্মক রূপক) ১০। ১৫ অনলে বিজলী (নাটক) ১, ১৬ তারক-সংহার (নাটক) ১। ১৭ লৌহকারাগার (নাটক) ৮০। ১৮ উৎকট বিরহ-বিকট মিলন(ঔপহাসিক হাস্যনাট—A Parodical Comedy) ৪০। ভারত-গান (ভারত সম্বন্ধে ১০০ গীত) ৩০। ২০ ভারতে যুবরাজ। | ২১ ছয় রাগ-ছত্রিশ রাগিণী (মূল, পদ্যানুবাদ ও পরিশিষ্ট সমেত) • ২২ হিরন্ময়ী (উপন্যাস) (১ম খণ্ড) ১০। ২৩ হিরন্ময়ী (উপন্যাস) (২য় খণ্ড) ১। ২৪ কিরন্ময়ী উপন্যাস, (হির- স্ময়ী উপন্যাসের পরিশিষ্ট) ১৩। মােট ১৪ টাকা। এই সমস্ত পুস্তক সম্বলিত তৃতীয় সংস্করণ গ্রন্থাবলী বর্তমান ১২১২ সালের ১লা বৈশাখে প্রকাশিত হইয়াছে। ঐ তারিখ হইতে আগামী ৩২এ আষাঢ় পৰ্য্যন্ত তিন মাসের মধ্যে মূল্য ২ টাকা, ডাকমাশুল ॥e, তৎপরে ৪১ টাকা, ডাকমাশুল না । রেও অল্পসংখ্যক পুস্তক মুদ্রিত হইয়াছে। রাজকৃষ্ণ বাবুর গ্রন্থাবলীর গ্রাহকগণের যথেষ্ট সুবিধা বাল্মীকীয় সপ্তকাণ্ড রামায়ণ। শ্ৰীযুক্ত রাজকৃষ্ণ রায় কর্তৃক মূল সংস্কৃত হইতে বাঙ্গালা পদ্যে অনু- বাদিত। অবিকল পদ্যানুবাদ! মূবতী টাকা! রাজকৃষ্ণ বাবুর -যথেষ্ট লাভ ছাবলী অপেক্ষা এই রামায়ণ দ্বিগুণ বড় ; গ্রন্থাবলীর ন্যায় আটপেজী রয়েল ফৰ্ম্মার প্রায় ২০০ দুই শত ফৰ্ম্মা ;—দুই খণ্ডে স্বতন্ত্র বাঁধা। মূল্য ১০, দশ টাকা, ডাকমানুল ১ টাকা। কিন্তু রাজকৃষ্ণ বাবুর ১ম ২য় ও ৩য় সংস্করণ গ্রন্থাবলীর গ্রাহকগণ বৰ্ত্তমান বৈশাখ মাস হইতে আগামী ৩২শে জ্যৈষ্ঠ পৰ্যন্ত ডাকমাল সমেত ৫, পাঁচ টাকা। অগ্রিম মূল্য পাঠাইলে আগামী আষাঢ় মাসে একেবারে দুই খণ্ডে সপ্তকাণ্ড রামায়ণ-পাইবেন। জ্যৈষ্ঠ মাসের পর আবার ডাকমাসুল সমেত ১১ এগার টাকা মূল্য দিতে হইবে। এই রামায়ণে প্রায় ২০০ দুই শত মূল্যবান গ্রন্থ হইতে রাশি রাশি প্রয়ােজনীয় টীকা সন্নিবেশিত হইয়াছে। ফল কথা আজ পর্যন্ত এরূপ ধরণের আর একখানিও রামায়ণ প্রকাশিত হয় নাই। অগ্রিম মূল্য আমার নিকট পাঠাইতে হইবে। নিম্নলিখিত পুস্তকগুলি অদ্য হইতে আগামী আশ্বিন মাস পর্যন্ত সুলভ মূল্যে বিক্রয় হইবেক। যাঁহাদের অবশ্যক, তাহারা শীঘ্র লইবেন। বিলম্ব হইলে, না পাইবার সম্ভাবনা। শ্ৰীযুক্ত দামােদর মুখোপাধ্যায় প্রণীত উপন্যাস। বিমলা ১১। দুই ভগিনী ১। কমল-কুমারী ১/৩। মা ও মেয়ে ১০। প্রতাপ সিংহ ১০। শুক্লবসনা সুন্দরী ১০। পূর্ণ বাবুর শৈশব- সহচরী ১। এই সমস্ত পুস্তক একত্রে লইলে, ইহার অর্প মূল্যে পাইবেন। ডাকমাসুল। আনা লাগিবেক। ৪০ টাকা শীঘ্র পাঠাইবেন। শ্ৰীযুক্ত দেবীপ্রসন্ন চৌধুরী প্রণীত । শরচ্চন্দ্র (উপন্যাস) দুই খণ্ড ১০০। সন্ন্যাসী ১১ । বিরাজমােহন (উপন্যাস) ১০। ভিখারী ১,। যােগজীবন ১। সােপান ১ । বিবেকবাণী ৭০। উপরােক্ত ৭ সাতখানি পুস্তক একত্রে লইলে, সক- লের জন্য এই ছয় মাস অর্ধ মূল্যে দেওয়া যাইবেক। ডাকমাসুল • আনা লাগিবেক। মােট ৪• মাত্র। শ্ৰীযুক্ত উমেশচন্দ্র গুপ্ত প্রণীত। হেমনলিনী •। মহারাষ্ট্র-কলঙ্ক ॥•। বীরবাল •। একত্রে তিনখানি লইলে, এক টাকায় পাওয়া যাইবে। ডাকমাসুল • আনা। কথাসরিৎ-সাগর প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ, ৩, তিন টাকার পরিবর্তে ১৪ টাকা, ডাকমাল • আনা।
চিত্তবিনােদিনী (উপন্যাস) ১০ টাকার পরিবর্তে • আনা, ভক্ত মাসুল • আনা। সচিত্র পারস্য উপন্যাস, ১০ টাকার পরিবর্তে ১১, ডাক • আনা। সচিত্র আরব্য উপন্যাস, ১০ টাকার পরিবর্তে ॥ আনা। ডাক • আনা। সমর-শায়িনী (উপন্যাস) প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড একত্রে ১০০ টাকার পরিবর্তে ১ টাকা ডাক /১০ আনা। ঐ যুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপূৰ্ব্ব পুস্তক সকল যারপরনাইনুলভ মূল্যে বিক্রয় করিতেছি। আশ্বিন মাসের পর নিশ্চয় পূর্ণ মূল্যে বিক্রয় হইবেক। প্রভাত-সঙ্গী ॥ ০। সন্ধ্যা-সঙ্গীত ।। শৈশব-সঙ্গীত ১। বউ "ঠাকুরাণীর হাট ১০। ভগ্নহৃদয় ১। রুদ্রচণ্ড ।। ইউরােপ- প্রবাসীর পত্র ১। বিবিধ প্রসঙ্গ। •। ছবি ও গান || ০ । প্রকৃতির প্রতি শােধ ॥০। ভানু ঠাকুরের পদাবলী ।। নলিনী।। বাবু জ্যোতিরীল নাথ ঠাকুরের সরােজিনী নাটক ১/• মােট ডাকমাসুল সমেত ৯০% । সকলগুলি অর্থাৎ উপরােক্ত ১৩ খানি পুস্তক যিনি এককালে লইবেন, তিনি অন্ধমূল্যে আশ্বিন মাস পর্যন্ত পাইবেন। অর্থাৎ ৪|| পাঠাইলে ডাকমাল লাগিবেক না। দোকানদারে অধিক সেট সইলে, টাকায় ১০ আনা কমিশন পাইবেন। ভেলুপেয়েবলে অধিক চাজ হইবেক। এজন্য মূল্য সমেত পত্র লিখিতে অনুরােধ করি। সচিত্র হীরাপ্ৰভা উপন্যাস ২||• পরিবর্তে ২০০। গুপ্তলিপি, প্রথম ও দ্বিতীয়, ২০০ টাকার স্থলে মাসুলসহ ১০। স্ত্রীর সহিত কথােপকথন ১ম ও ২য় টাকার স্থলে মামুলসহ ১০ { নবন্যাস (আমার এক মজার কথা, অতি আশ্চৰ্য) s চারি খণ্ডে সম্পূর্ণ, মূল্য ৩|| • স্থলে মালসহ ২০ | ভক্তিচৈতন্য-চন্দ্রিকা ১০ পরিবর্তে ১,। মাতৃশিক্ষা। ডাক্তার গঙ্গাপ্রসাদ মুখােপাধ্যায় প্রণীত-মূল্য ২০ টাকা, তিন মাসের জন্য মামুলসহ ১০। ৯৭ নং কলেজ স্ট্রীট, বেঙ্গল মেডিক্যাল লাইব্রেরিতে আমার নিকট উল্লিখিত ও অন্যান্য ডাক্তারী, কবিরাজ, কাব্য, নাটক, উপন্যাস ও বিদ্যালয়পাঠ্য পুস্তক পাওয়া যায়। ৫ শ্ৰীগুরুদাস চট্টোপাধ্যায়।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.