Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Sangeet-bhandar Ed. 2nd

Ghosh,ashutosh · 2009/12/14

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সঙ্গীত-ভাণ্ডার
শ্ৰীযুক্ত আশুতােষ ঘোষ।
PRATIBASI PRESS.

সঙ্গীত-ভাণ্ডারী
২ঃo:০
ইহাতে পরমার্থ সঙ্গীত, হরিনাম গান, আগমনী,
শ্যামাবিষয়, কৃষ্ণলীলা, রামলীলা ও
সঙ্গীত আছে।
eo:
বিবিধ নূতন
মাননীয় রমেশচন্দ্র দত্ত সি, আই, ই, মহােদয়ের
সংক্ষীপ্ত জীবনী লেখক
শ্রীআশুতােষ ঘােষ প্রণীত ।
-
দ্বিতীয় সংস্করণ।
পরিবর্তিত ও পরিবর্জিত।
কলিকাতা,
১৩ নং নয়ানচাদ দত্তের স্ট্রীট হইতে
গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত।
১৩২২।
মূল্য ও পান

CALCUTTA.
PRINTED BY S. C. MITRA AT THI
PRATIBASI PRESS
199-2 Upper Chitpore Road, Baghbazar.
1915

দ্বিতীয় সংস্করণের বিজ্ঞাপন । এই নূতন সঙ্গীত ভাণ্ডার পুস্তক পুনঃ মুদ্রিত হইল। সংস্করণে মৎত্রচিত অনেক নূতন নূতন গান দেওয়া হইয়াছে। পূৰ্ব্বাপেক্ষা পুস্তক থানি অনেক বড় হইয়াছে। কিন্তু তদনুযায়ী মূল্য অধিক বৃদ্ধি করা হয় নাই। গ্রাহকগণের সুবিধার জন্য পাঁচ পয়সার স্থলে এক্ষণে মূল্য দুই অনা ধাৰ্য্য হইল। গত বৎসরে আমি কাশী ও বৃন্দাবনধাম গিয়াছিলাম। কোশীধামে বিশ্বেশ্বর ও অন্নপূর্ণা দর্শন এবং বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের অন্নকোট দর্শন করিয়া কতক গুলিন ধৰ্ম্ম সঙ্গীত আমি বুচনা করিয়াছিলাম, সেই সকল সঙ্গীত এই পুস্তকে সন্নিবেশিত করিয়াছি। ইহা ব্যতীত এই পুস্তকে অনেক ধর্মসঙ্গীত ও অন্য অন্য সঙ্গীত আছে। “প্রতিবাসী” পত্রিকার কৃতবিদ্য ও সুযোগ্য সম্পাদক শ্রীযুক্ত সত্যচরণ মিত্র মহাশয় নিজ ব্যয়ে তাহার পত্রিকার জন্য আমার ফটো তুলিয়া কিছু দিন পূর্বে প্রতিবাসী পত্রিকায় প্রকাশ করিয়াছিলেন। তিনি আমার জীবনের কতিপয় ঘটনা সংক্ষেপে লিখিয়া সঙ্গীত ভাণ্ডারের শেষ ভাগে প্রকাশ করিয়াছেন। আমার উক্ত ফটো এবারকার সঙ্গীত ভাণ্ডারে প্রথমে দেওয়া হইল। সেই জন্তু সত্য বাবুর নিকট আমি কৃতজ্ঞতাপাশে বন্ধ। কলিকাতা নূতন থেস্পিয়েন ‘টেম্পল থিয়েটারের সুনিপুন সঙ্গীত শিক্ষক এবং প্রসিদ্ধ একটার যুক্ত বাবু পূর্ণচন্দ্র ঘােষ মহাশষ

ro
আমার জ্ঞাতি ভ্রাতা ও পরিচিত। তিনি সঙ্গীত ভাণ্ডারে অনেক
গানের রাগ রাগিণী ও সুর ঠিক করিয়া দিয়াছেন। তাঁহার
নিকট আমি উপকৃত।
কলিকাতা,
২০শে আশ্বিন,
বিনীত
শ্ৰীআশুতােষ ঘােষ।
১৩২২।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার
ত
?oc
ঈশ্বরের স্তব।
ওঙ্কার তােমার নাম তুমি সে ওঙ্কার
ও ব্রহ্ম! ওম্ বিষ্ণু ও মহেশ্বর।
ব্রহ্মা তুমি করিয়াছ ব্ৰহ্মাণ্ড সৃজন,
আকাশ পাতাল ভূমি জীবজন্তুগণ ।
বিষ্ণুরূপে পালন করিছ জীবগণ,
করিতেছ সকলের অভাব মােচন।
রুদ্রমূৰ্তী মহাদেব, প্রাণ নাশ কারি,
কালপূৰ্ণ হ'লে জীব যায় ধরা ছাড়ি।
একে তিন, তিনে এক, ব্ৰহ্মনাম ধর,
পুরুষ প্রকৃতি তুমি, অনাদি ঈশ্বর।
আত্মারূপে বিরাজিত হৃদয়ে সবার,
জ্যোতির্ময় রূপে আছ অন্তরে আমার।
ব্রহ্মতেজে তেজিয়ান যেই জন হয়,
তার নাহি হয় মনে রবি-সুত ভয়,
অনায়াসে চলে যায় অমর ভবন,
নাহি য শোক দুঃখ অকাল মরণ।

২
সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
----------
প্রণব যে ব্রহ্ম মন্ত্র সকলের সার,
মৃত্যুকালে ঐ মন্ত্র যে জপে বারবার,
কষ্ট নাহি হয় তার মৃত্যুর সময়,
উদ্ধার করেন তারে বিভু-দয়াময়।
কেহ বলে ব্ৰহ্মকে নিগুণ নিরাকার,
ধ্যান করে মনে মনে ওঙ্কার ঈশ্বর।
সগুণ সাকার ব্রহ্ম কেহ কেহ বলে,
মূৰ্ত্তীপূজা করিতেছে তাহারা সকলে।
ভক্ত বাঞ্ছাপূর্ণ হেতু জগৎ ঈশ্বর,
দেখা দেন ভক্ত জনে ধরি কলেবর।
যে জন যেরূপ ভাবে হয়ে এক যন।
সে মূৰ্ত্তীতে তিনি আসি দেন দরশন।
মায়াবদ্ধ জীবগণ মায়ার কারণ।
দেখিতে না পায় সেই অখিল কারণ
উচ্চ আশা কামনার বশীভূত নর,
কিছুতে সন্তুষ্ট নহে চঞ্চল অন্তর।
হে বিভু করুণাময়, জগৎ আধার ।
তব পাদপদ্মে যেন থাকে মন আমার ।
মুলতান-আড়াঠেকা।
অখিল ব্ৰহ্মাণ্ডপতি, প্রণমি তব চরণে।
কর হে অভয় দান, তব অকৃতি সন্তানে।
তুমি গাে ভূমা মহান্,
আমি জীব ক্ষুদ্র প্রাণ,
কেমনে যাই বল, তােমার পবিত্র স্থানে।
৭

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
তুমি আরাধ্য দেবতা,
সকলের পূজ্য পিতা,
কৃতঘ্ন সন্তান আমি, শ্রদ্ধা ভক্তি নাহি মনে।
নাহি কিছু ধর্মবল,
নাহি হৃদয়ের বল
বিফল জীবন মম, দয়া কর নিজ গুণে।
সরস্বতী বন্দনা।
ইমন্ কল্যাণ—তাল একতালা।
প্রণমি মাতঃ বীণাপাণি জ্ঞান-বিদ্যা-দায়িনী
শ্বেত-বসনা মরাল-বাহিণী শ্বেত-সরােজবাসিনী।
দাও মা ভক্তি দাও মা মুক্তি মােহ-তামসনাশিনী,
কং হি বেদ বিদ্যান অজ্ঞান-তিমিরনাশিনী ।
ব্ৰহ্ম স্বরূপা পরমা জ্যোতিরূপা সনাতনী,
স্থান দিও চরণ তলে ওমা জগৎ জননী।
দুর্গাষ্টক—বেহাগ-ঠুংরী।
নমস্তে শঙ্করী, শঙ্কর হৃদিবাসিনী
নমস্তে ভবানি ভবভয় নিবারণী,
নমস্তে রুদ্রাণি দৈত্য-কুলনাশিনী,
নমস্তে শিবানি মহিষাসুরঘাতিণী,
নমস্তে জগদত্বে মহাশক্তি রূপিণী,
নমস্তে চণ্ডিকে দশভূজা ত্রিনয়ণী,
নমস্তে শৈলসুতে, গিরিরাজ নন্দিনী,
নমস্তে মহামায়া অনন্ত রূপিশ,

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
জানিনে মা তব স্তুতি করিব কেমনে,
দয়াকর দয়াময়ী তব অকৃতি সন্তানে।
শিবের স্তব।
আড়ালা-ধামার।
জয় শিব শঙ্কর,
ভােলা মহেশ্বর,
ব্যোমকেশ শূলপাণি।
ব্যাঘ্রচর্ম পরিধান, ভস্ম যার আভরণ,
গলদেশে রহিয়াছে ফণি।
মস্তকেতে জটাভার,
হাড়মালা অলঙ্কার
কপালেতে জ্বলিতেছে মণি।
মৃত্যুকে করিয়া জয়,
নাম তব মৃত্যুঞ্জয়,
মৃত্যু নাহি হয় বিষ পানে।
যে করে তােমার ধ্যান, কর তারে পরিত্রাণ,
সিদ্ধযােগী যােগী শিবরামণি।
তােমার ঘরণী যিনি, আদ্যাশক্তি হন তিনি,
মহিষমর্দিনী সিমন্তিনী
ওহে আশুতােষ,
ক্ষম মম দোষ,
দয়া কর তব আশুতোষে।
বিস-কপােল ।
হর মা দূর্গতি হর, ইর-মন-মােহিণী।
বারে বারে ডাকি তােমায়, দেখা দাওম ঈশানী।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
আদ্যাশক্তি ভগবতী, অনন্তরূপিণী,
দশভূজা ত্রিনেত্রী, বরাভয়দায়িণী।
সিংহ পৃষ্ঠে আরোহণ, মহিষমর্দিনী,
দুরন্ত দানব কুল, সংহারকারিণী।
জ্যোতির্ময়ীরূপে আলাে, করিয়াছ ধরণী,
সুভদে বরদে মাতঃ, মােক্ষদায়িণী,
আশুতােষে দয়াকর, কুলকুণ্ডলিণী ।
বেহাগ-ঝাঁপতাল।
দুর্গতি নাশিনী দুর্গে, শক্তিরূপা মহামায়া,
আসিয়াছ ধরাধামে, জীব প্রতি করি দয়া।
তব শুভ গমনে, সকলে প্রফুল্ল মনে,
করিতেছে আয়োজন, পূজিতে তোমায় অভয়া
ভক্ত বাঞ্ছা পূর্ণ কর, অভাব মোচন কর,
মনের মালিন্য হর, দয়া কর যোগমায়।।
আশুতোষে কৃপাকর, রােগ শোক দুর কর,
তােমার আশ্রিত আমি, দেহ তব পদ ছায়।।
অন্নপুর্ণ। স্তব।
বাগেশ্বরী—আড়াঠেক।।
এস গাে মা অন্নপূর্ণা, এই ধরাতলে।
অন্নদানে রক্ষা কর, মানব সকলে।
দুর্ভিক্ষ দমন কর, অভাব মোচন কর,
ক্ষেত্র পরিপূর্ণ কর, প্রচুর ফসলে।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
করিয়াছ অন্ন দান, তুমি মা শিবেরে,
রক্ষা করিয়াছ প্রাণ, তুমি মহাকালে।
দক্ষযজ্ঞ।
বেহাগ-ঠুংরী।
নারদের মুখে শুনি, যজ্ঞ কথা দাঙ্গায়ণী,
হইল ইচ্ছা যজ্ঞে যাইতে।
দাও গাে অনুমতি, ওহে পশুপতি,
যাইব আমি পিতার যজ্ঞেতে।
হর হর বিশ্বেশ্বর,
তোলা মহেশ্বর,
বঞ্চিত কর না আমাকে।
নন্দি ভূঙ্গির সনে,
যাইব পিতৃ-ভবনে,
চড়িয়া। আমি বৃষভ বাহনে।
শিবের উক্তি।
জোয়ান পুরী টৌরী—একতালা।
বিনা নিমন্ত্রণে, পিতার ভবনে, কেমনে যাইবে বল না।
যাইলে সেখানে, অপমান হবে; তাহা কি তুমি বােঝ না।
দক্ষ প্রজাপতি অহঙ্কারি অতি, অামায় নিমন্ত্রণ কল্লে না।
নিজ দুহিতারে, নাহিক আদরে, তাহাকেও ভালবাসে না।
কেদারাতেওরা।
ডাক, পরাৎপরে, অনাদি ঈশ্বরে, ভবের কাণ্ডারি, বিজ্ঞ বিনাশনে
যিনি মৃত্যুঞ্জয়, করুণা আলয়, দীন-দুঃখহারি, পতিত পাবনে।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
যিনি দয়াময় জগৎ জীবন, দিতেছেন অাহার যত জীবগণে।
যিনি প্রাণময়, হৃদয়ের স্বামী, ভাব তারে মন, সদা নিশি দিনে
০
কীৰ্ত্তন-ফুংরী।
( একবার ) জাগ জাগ, জাগ ওরে মন,
বৃথা কাযে ক'রনাক সময় যাপন।
পূৰ্ব জন্ম কর্ম ফলে, এসেছ এ ধরাতলে,
ডাক সেই পরাৎপরে, হবে দুঃখ নিবারণ
চিরস্থায়ী নহে দেহ, পঞ্চভুতে গঠিত
সময় থাকিতে কর, বিভু নাম সাধন।
কাশীধাম।
হাম্বির—কাওয়ালী ।
বিশ্বেশ্বর হে, নহ তুমি কেবল কাশীবাসী।
সকল স্থানেতে আছ, তুমি ব্ৰহ্মাণ্ড নিবাসী
আমি যেখানে ভ্রমণ করি সেই বারাণসী ।
অপার তব মহিমা, বেদে নাহি পায় সীমা,
তত্ত্বজ্ঞান শিক্ষা দেও, তমঃ গুণ নাশি।
চন্দ্র সূর্য গ্রহগণ, করিলে তুমি সৃজন,
পালন সংহারকারি, তুমি অবিনাশ।
ঐ দেখ মন্দাকিনী, করি কুল কুল ধ্বনি
অবতীর্ণ উদ্ধারিতে, যত মৰ্ত্তবাসী।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার
তব কীর্তি চমৎকার, তুলনা নাহিক তার,
করিয়াছ পুণ্যভূমি, এই বারাণসী।
সকল তীর্থ প্রধান, শিবময় এই স্থান,
মৃত্যু পর শিবলােকে, যায় কাশীবাসী।
যােগী ভাবে যোগাসনে, এক মনে অনশনে
ত্যাগ করি ঘর দ্বার, হয় বনবাসী।
কানেড়া-কাওয়ালী ।
আহা কি পবিত্র ধাম, হয় বারাণসী
এক দিকে বরুণা নদি, অন্য দিকে অসী
বেষ্টিয়া রয়েছে গঙ্গা, সীমা পঞ্চকোষী।
বিশ্বনাথ কেদার নাথে, পূজে কাশীবাসী
শঙ্খ ঘণ্টা বাজিতেছে, দিব। অহর্নিশি ।
অন্নপূর্ণা বিতরিছেন, অন্ন রাশি রাশি ।
কত লােক আসিতেছে, ভিন্ন ভিন্ন দেশী,
অন্নছত্র খায় অন্ন, কেহ থাকে না উপবাসী
হরিনাম মাহাত্ম্য।
মূলতানী—একতালা।
হরি, দেও আমায় এই তার।
যেন জন্ম জন্মান্তরে, তব শ্রীচরণে, স্থির থাকে মন আমার।
ভক্তি রসে যেন আদ্র হয় মন, তব নামে হয় অশ্রু বরিষণ,
হরি হরি বলে চৈতন্য হারাই, ঐহিকের সুখ চাহি নাক আর ।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
৯
কেহ নাহি যার, তুমি আছ তার, যোগও তাহাকে সর্বদা আহার,
অসহায় জনে তুমিহে সহায়, বিপদে তাহাকে করিছ উদ্ধার।
ভৈরব মিশ্র-একতালা।
হরি, আমি চাহিনাক টাকা কড়ি। তোমার ঐ চরণ ভরসা করি ।
আমি দিবস যামিনী তব নাম লব, সৰ্ব্বদ। তােমায় হৃদয়ে রাখিব,
হয়ে প্রেমে মত্ত, নামে মাতােয়ারা, হরি হরি বলে দেব গড়াগড়ী।
কবে হবে আমার মায়া ঘাের ভঙ্গ, কবে হবে আমার ভব লীলাসাঙ্গ
উঠিছে হৃদয়ে চিন্তার তরঙ্গ, সন্মুখে তােমায় হেরিব শ্রীহরি।
আলেয়া—ঝাঁপতাল।
চল ভাই, ত্বরা করি, শ্যাম দরশনে,
মুখে বল হরি নাম, জপ মনে মনে।
ভুলনাক হরিনাম, কভু এ জীবনে,
হরি বিনা গতি নাই, ভেবে দেখ মনে।
বিরিঞ্চি বাঞ্ছিত নাম, বলহে বনে,
বলিতে না পার যদি, শুন হে শ্রবণে ।
হরি নামে কত গুণ, নিমাই ত জানে,
সময় যাপন কর, হরি নাম কীৰ্ত্তনে।
সার—একতলা।
হরি হরি বল মন আমার ।
তিনি দয়াল হরি দুঃখ হরি, হরিৱেন দুঃখ সবার।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
প্রেম ভরে ভক্তি করে, ডাক তারে একবার।
তিনি দীনবন্ধু কৃপাসিন্ধু, হরি সকলের সার।
হরি সুধা পান কুর, হরিনাম জপ কর,
হরিনাম ধ্যান কর, যদি হইবে ভবসিন্ধু পার।
কীৰ্ত্তনদশকুশি।
দিন ফুরাইয়া গেল, ডাক একবার হরি বলে।
থেক না থেক না আর মুগ্ধ হয়ে মায়া জালে।
শেষ হইয়াছে বেলা, করনাক ছেলে খেলা,
ভাব সত্য নিরঞ্জনে, সুখী হবে পরকালে ।
বৃন্দাবন লীলা।
সিন্ধু ভৈরবী-মধ্যমান।
আহা কি পবিত্র স্থান, হয় বৃন্দাবন।
যেখানেতে রাধাশ্যাম একত্র মিলন।
বৈকুণ্ঠবিহারী হরি, মত্তে নররূপ ধরি,
কত লীলা করিয়াছেন, এখানে কেমন।
আহা কিবা রূপ হেরি, বামে হেলে বংশী ধরি,
শােভিছে মন্দিরমাঝে, রাধিকা-রমণ।
ভক্তি রসে আদ্র মন, প্রেমা হয় পতন,
মধাম বােধ হয়, অমর ভবন।
সাধ বড় ছিল মনে, যাব আমি বৃন্দাবনে,
এত দিন পরে আশা, হইল পুরণ।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
কামােদ-- ধামার।
শ্রীহীন শ্রীবৃন্দাবন শ্রীকৃষ্ণ বিহনে।
শ্রীরাধিকা কাদে বসি, যমুনা পুলিনে ।
কোকিল না করে রব, জীবজন্তু নীরব,
শােকে অভিভূত সব, সুখ নাহি মনে।
যত সব ব্রজবাসী, কার নাহি মুখে হাসি,
ফেলিতেছে অশ্রুজল, বসিয়া নিজনে।
গােলকবিহারী হরি, বৃন্দাবন ত্যাগ করি
গেলেন মথুরাপুরী, দাগা দিয়া প্রাণে।
'ওহে কৃষ্ণ দয়াময়, হও হে মােরে সদয়,
দয়া করি আশুতােষে, স্থান দিও ঐ চরণে
সুরট-ঝাঁপতাল।
একবার দাড়াও ওহে বংশীধারি, শ্রীরাধায় বামে লয়ে,
সফল করি জীবণ, যুগল রূপ হেরিয়ে।
আমরা যত ব্রজনারি, শ্রীরাধার সহচরি,
আসিয়াছি ওহে হরি, মনে বড় আশা করে।
পান করি প্রেম সুধা, নিবাৰ অন্তর ক্ষুধা,
আমরা অনায়াসে তরে যাব, তব নাম স্মরিয়ে।
কাফি সিন্ধু-যৎ।
আহা কি সুন্দর দৃশ্য, হেরি নয়নে।
শ্রীকৃষ্ণের দোল লীলা বৃন্দাবন গমে।

১২
সঙ্গীত-ভাণ্ডার
কত সব গােপ-নারি, শ্রীরাধার সহচরি
দিতেছে আবির গায়, কাল-বরণে।
পলা ধরাধরি করি, নাচিছে শ্যামেরে ঘেরি,
ফাগ খেলা খেলিছে, হারি সনে।
যত সব ব্রজ-নারি, লজ্জা ভয় ত্যাগ করি,
কৃষ্ণ প্রেমে মাতােয়ারা, আনন্দ মনে।
আতর গােলাপ জলে, গুলিয়া ফাগ সকলে
দিতেছে পিচকারী গায়, রাধা-রমণে।
বৃন্দাবনে অন্নকোট দর্শন
সাহানা--কাওয়ালী ।
শ্যাম-অন্নকোট আজ তােমার।
রাশি রাশি অন্ন বহিছে দালানে, প্রচুর তরকারী, আছে সেইখানে,
পায়স পিষ্টক মিষ্টান্ন সকল, রহিয়াছে সারে সার।
দাড়ায়ে রহিছ ত্রিভঙ্গিম ঠামে, প্রেমময়ী রাধা রহিয়াছে বামে,
অন্নাদির দিকে চাহিয়া রহেছ, কি আনন্দ সবাকার।
এস সব যত দুঃখী তাপি ভাই, দেখি রাধাশ্যামে নয়ন জুড়াই ;
জীবনের আশা পূর্ণ কর সবে, মনােবাঞ্ছা যে যাহার ।
কত লােক আসে প্রসাদের তরে, দিতেছে প্রণামি তাহারা ঠাকুরে,
কেহ দুই আনা, কেহ এক টাকা দিতেছে প্রণামি ক্ষমতা যাহার।
গরিব ভিখারি, কত শত জন, বিনা ব্যয়ে করে প্রসাদ ভক্ষণ,
বলিতেছে তারা জয় রাধাশ্যাম, অন্তরেতে হয় আনন্দ অপার।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
শ্রীরামকৃষ্ণায় নমঃ।
বঙ্গ সদা রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ নাম।
ঐ নামের গুণে তরে যাব কি মধুর নাম ।
ভৈরবী—ঝাপতাল।
এস বাবা রামকৃষ্ণ, বোস হৃদি মাঝারে,
জীবিতাবস্থায় আমি, হেরিয়াছি তােমারে।
অদ্যাবধি তব মূর্তি, জাগিতেছে অন্তরে,
ভুলিবনা তব মূর্তি, জন্ম জন্মান্তরে।
জাগিতেছে তব মূর্তি অন্তরে বাহিরে,
ধ্যানস্থ মুর্তি তব প্রাণ মন হরে।
কালী নাম মুখে সদা কালী মূর্তি ধ্যান,
মধ্যে মধ্যে করিতে তুমি, কালী নাম গান।
তব উপদেশ বাক্য, আছে মন ভিতরে,
ভক্তি ভাবে ডাকে যে জন, দেখা দাও তাহারে।
রামকেলি-কাওয়ালি ।
দয়াময়—আর দিওনা যাতনা, প্রাণেত আর সহেনা।
তব পদাশ্রিত দাসে, করুণা করনা।
শরীর হয়েছে ক্ষীণ, হস্ত পদ বল হীন,
মস্তক ঘুরিছে সদা, চক্ষু হয়েছে মলিন,
কখন কি হয়, আমি বুঝিতে কিছু পারিনা।
২

১৪
সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
রাসলীলা।
মল্লার-কাওয়ালি ।
কত সুখী ব্রজাঙ্গনাপণ ।
যমুনা পুলিনে শুনি, শ্রীকৃষ্ণের আগমন।
ভুলিল বিচ্ছেদ জালা, পরিল প্রেমের মালা,
শ্রীকৃষ্ণের করিল বেষ্ঠন।
রাস বিহারি হরি, ব্রজাঙ্গনা সঙ্গে করি,
কত লীলা করিলেন, না যায় বর্ণন।
কি মধুর রাস লীলা, করে যত ব্রজবালা,
মধ্যে করি মদন-মােহন।
ব্রজেশ্বর শ্রীহরি, শত কৃষ্ণ রূপ ধরি,
ব্রজাঙ্গনা মন মুগ্ধ করিল কেমন।
দুই দুই গােপি মাঝে, দাড়ায়ে মােহন সাজে
রসরাজে পেয়ে কাছে, সবে পুলকিত মন।
নাহি কিছু লজ্জ। ভয়, কেহ নাচে কেহ গায়,
শ্রীকৃষ্ণের হস্ত কেহ করিয়া ধারণ।
গলা ধরা ধরি করি, নাচিছে শ্যামেরি ঘেরি,
জ্ঞান শূন্য ব্রজবালা খসিছে অঙ্গ-ভূষণ।
যত সব ব্রজবালা, ভুলিল সংসার জালা,
শ্রীকৃষ্ণের মুখ পদ্ম করি দরশন।
ধন্য ব্রজাঙ্গনাগণ চিনেছ কৃষ্ণ কেমন,
এত প্রেম এত ভক্তি, হৃদয়ে কর ধারণ।
৩
*

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
মল্লার-কাওয়ালি ।
কি খেলা খেলিলে হরি শ্রীবৃন্দাবনে।
ব্রজাঙ্গনা মন চুরি, করিলে কেমনে।
যত সব ব্রজবালা, কৃষ্ণ-প্রেমে মাতােয়ারা,
যাইতেছে ত্বরা করি, কৃষ্ণ দরশনে।
কৃষ্ণ-প্রাণ ব্রজ নারি, পাইয়া নিকটে হরি,
রাসলীলা করে তারা, যমুনা পুলিনে।
প্রেমে মত্ত ব্রজবালা, পাইয়া চিকন কালা,
করিতেছে লীলা খেলা, শ্রীকৃষ্ণের সনে।
ভৈরব-কাওয়ালি ।
উঠ ও গো বৃন্দাবন বাসী,
জয় রাধে রাধে বলে পােহাল নিশি।
রাধাশ্যাম দরশণে, চল সব ব্রজবাসী।
সম্মুখে যমুনা তট, হের ঐ বংশীবট,
শ্রীকৃষ্ণের লীলা ভূমি নিকুঞ্জ কানন;
আহা কি সুন্দর রূপ ধরিয়াছেন শ্রীহরি,
পীত ধরা, মােহন চুড়া করে লয়ে বশী।
বেহাগ—আড়াঠেকা।
পুরুষ প্রকৃতি ছাড়া, রহেনা কখন।
প্রকৃতির বশীভূত পুরুষ রতন ।
কখন বা হিত করী, কখন প্রলয় করী,
বহুরূপ ধরি ব্যাপ্ত এ তিন ভূবন
পালন, নিয়ম কারি, কর্মের কারণ।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
কৃষ্ণের রাধারাণী, মহেশের কাত্যায়নী
শক্তি সঞ্চালন কারী প্রকৃতি যেমন।
বিভু, নাহি কৰ্ম্ম করে, নির্লিপ্ত থাকি সংসারে,
প্রকৃতি ধারায় কর্ম, করেন সাধন।
মল্লার—তাল একলা।
জনক নন্দিনী, রামের ঘরণী, বনেতে ধাইল, নিজ পতি-সনে।
কি কষ্ট পাইল, রাবণ হরিল, রাখিল তাহাকে অশােক কাননে।
অদৃষ্ট লিখন কে খণ্ডাবে বল, হয়ে রাজকন্যা, যাইলেন বনে।
ধন্য সীদেবী, পতিব্রতা সতী, প্রাতঃস্মরণীয় বিখ্যাত ভূবনে।
বেহাগ-কাওয়ালি ।
বঙ্গের মহিলাগণ, হও সাবিত্রী সমান,
গুরুজনে ভক্তি কর, ত্যাজ দন্ত অতিমান।
গৃহ কর্ম কর সবে, ধৰ্ম্মে রাখি মন প্রাণ।
দেখ ঐ সাবিত্রী সতী, পতিব্রতা গুণবতী,
নিজগুণে মৃত পতির করিল জীবন দান।
রাগিণী বিভাসল খয়রা।
বড় সাধ মনে যাব বৃন্দাবনে, শ্যাম দরশনে ভাই।
নয়ন জুড়াবে কৃতার্থ হইব, ঘরে বসি সুখ নাই।
ঐ প্রেম সরােবরে জনমের তরে, ডুবিয়া থাকিতে চাই।
আশা মিটিবে, কামনা পুরিবে, শ্যাম বামে হেরি রাই।

সঙ্গীত-তাণ্ডার।
রাগিণী সিন্ধু—তাল পােস্তা।
মা~-পাগল ছেলেটা তােমার, এসেছে আবার,
সে দ্বারে আসি মা মা বলি, করিছে চীৎকার।
সে কথন হাসে, কখন কাদে, আপনার মনে আপনি থাকে,
মা বিনা আর কেহ নাই জগতে তাহার ।
তােমাকে দেখিবে বলি, সদা ডাকে মা মা বলি
খােল প্রবেশের দ্বার, দেখা দাও একবার,
দেখে তােমারে, সে যে যাবেনাক ঘর।
r
জয়জয়ন্তী-ঝাঁপতাল ।
পরমেশ-গুণ-গান, গাও রে আমার মন,
বীণাযন্ত্র করে ধরি, কর তার নাম গান।
গাও রে মহিমা তাঁর, যিনি ব্যাপ্ত চরাচর,
নিরাকার নির্বিকার, যিনি জীবের জীবন ।
হের ঐ গ্রহগণ, শূন্যপথে অনুক্ষণ,
ভ্রমণ করিছে তারা, করে নিয়ম পালন ।
ভাব রে আমার মন, সেই পদ অনুক্ষণ,
মুনি ঋষি যোগাসনে, যারে সদা করে ধ্যান।
ঝিঝিটকাওয়ালি ।
ডাক সেই পূর্ণব্রহ্মে জগৎ চিন্তামণি রে ।
যাহাকে স্মরিলে দুঃখ-শােক সব যায় দূরে রে।।
যাহার রচনা বিচিত্র কৌশল, চন্দ্র, সূৰ্য্য, ধরণীতল,
আকাশ, জল, পবন, অচল, মহিমা প্রচারে রে ।

১৮
সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
ঝিঝিটল ঠুংরি।
কর রে বিশ্বপতি-গুণকীর্তন, সত্য সনাতন জগৎ-কারণ।
একমেব নিরাকার বিশ্বপালক, দীনবন্ধু সুন্দর বিশ্বনায়ক।
মন মজরে, তাহার গুণ গানে, যুগ্ধ থেক না বিষয়-বিষপানে ।
বিভাস-কাওয়ালি ।
গাও বিভু-গুণ গান ভারতসন্ততিগণ,
শােক দুঃখ দুরে যাবে, পুলকিত হবে মন।
যাহার কৃপার বলে, জীবগণ চলে বলে,
যোগান আহার সবে, দয়া করি চিরদিন।
সুশীতল সমীরণ জুড়ায় তাপিত প্রাণ,
আকাশে চন্দ্রিমা কিবা করে সুধা বরিষণ।
রাগিণী সাহানা-তাল ঝাঁপতাল
বিষয় বিভব চিন্তা, কেন কর সদা মন,
অনিত্য বিষয় চিন্তা, নিত্য সে পরম ধন।
ধন জন যশ মান, কর সব তুচ্ছজ্ঞান,
সঙ্গে কিছু নাহি যাবে, হইলে দেহ পতন।
তাই বলি ওরে মন, ভাব সত্য নিরঞ্জন,
লতিবে পরম সুখ, পেলে তঁার দরশন।
রাগিণী বেহাগ-তাল আড়ঠেকা।
মিছা কেন ভবঘােরে, ঘুরিস ওরে মন।
চক্ষু ঢাকা আনিবদ্ধ বলদ মতন।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
সংসারের মায়াভােরে হইয়া বন্ধন।
অর্থ উপার্জন তরে, দিন রাত্র কষ্ট করে,
ঘৰ্ম্মযুক্ত কলেবরে, করিছ ভ্রমণ।
পৃথিবীর প্রলােভনে, সুখ হবে ভাবি মনে,
কত পাপকাৰ্য্য, তুমি করিছ সাধন।
রাগিণী ললিত—তাল আড়ঠেকা।
পরনিন্দা, পরচর্চা, পরগ্লানি ত্যজ মন,
হিংসা দ্বেষ অভিমান, দেহ তুমি বিসর্জন।
ভাই-ভগ্নি-বন্ধুগণে, তােষ সুমিষ্ট বচনে,
দয়া কর দুঃখী জনে; কর দুঃখ নিবারণ।
মিথ্যাকথা কপটতা, অত্যাচার নিষ্ঠুরতা,
ত্যাগ কর সে সকলে, কর ইন্দ্রিয়-দমন ॥
মিছা কেন ওরে মন, কর সুখ অন্বেষণ,
অলীক সুখের আশে, ভ্রম কেন অকারণ।
ত্যজ বিষয়-বাসনা, করাে না কারে বঞ্চনা,
সৎপথে থাকি কর, ধৰ্ম্ম উপার্জন
রাগ ভৈরবল একতালা।
বনমাঝে পশি, তরুমূলে বসি, কর রে যোগসাধন ।
চেয়ে দেখ কত, সাধু মহাজন, ছাড়িয়া সংসার, পুত্র কন্যাগণ,
ঐহিকের সুখ, দিয়া বিসর্জন, হয় রে ধ্যানে মগন।
স্বভাবের শােভা হেরিয়া নয়নে, পক্ষীদের গান, শুনিয়া শ্রবণে,
পরমার্থ ভাব আসিবে মনে, বিগলিত হবে মশ,

২০
সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
বিশ্বাস নয়নে, হের দেখি তঁারে, যাহার মহিমা এ বিশ্বসংসারে,
শ্রদ্ধাভক্তি কর তাহার উপরে, সফল হবে জীবন
বিভাস-একতালা।
ব্ৰহ্ম সনাতন, এ অধম জন, ঘরে বসি তব করিছে ক্রন্দন।
পাপে জ্বর জ্বর, হইয়া কাতর, ডাকিতেছে তােমায় দেহ দরশন।
দয়াময় তুমি, পতিত পাবন, দীন-দুঃখহারি বিপদভঞ্জন।
তুমি সারাৎসার, করুণা সাগর, নাহি জানি আমি ভজন পূজন।
এ পাপ সংসারে, পড়িয়া রহেছি, সকাতরে নাথ তােমায় ডাকিতেছি
নাহি কোনজন, বলিতে আপন, আমার ভরসা তুমি হে এখন ।
খাম্বাজ জংলাতাল ঠুংরি।
নাথ ! জীবনের আশা মম না পূরিল, কষ্টে চিরকাল কেটে গেল।
ধন আশে ভ্রমি দেশে দেশে, নৈরাশ হইলাম অবশেষে।
সুখ না হইল কোন কালে, এই কি লিখেছিলে মম ভালে।
খাম্বাজ জংলাতাল ঠুংরি ।
প্রভু কর মােরে তব কৃপাদান, তব প্রেম-সুধারসে তৃপ্ত মন।
আমি শােক দুঃখে, হয়ে জ্বালাতন, তব শান্তিজলে করি স্নিগ্ধ মন
আমি নাহি চাহি কিছু ধন মান, অভিবারে ইচ্ছা তব তত্ত্বজ্ঞান।
ললিত--আড়া।
ঘর দ্বার ছাড়ি কেন, যাও পুত্র কন্যাগণ,
সংসারে গ্লাকিয়া কর, পরমেশ আরাধন।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
সুখ মম এ সংসারে, দারা পুত্র পরিবারে,
সকলের সঙ্গে মিলি, কর তার নাম গান।
তীর্থযাত্রা পৰ্যটনে, সুখ নাহি হয় মনে,
মিছা মরীচিকা আশা, গৃহ শান্তি নিকেতন।
ঘরে বসি এক মনে, ডাক সত্য সনাতনে,
মনােবাঞ্ছা পূর্ণ হবে, পাবে তার দরশন ।
খাম্বাজ জংলা-ঠুংরি।
ভু তার মােরে, কৃপাদৃষ্টি করে, আছি ভবঘােরে, কর শান্তি দান
পে জ্বর জ্বর, নাথ রক্ষা কর, দীনে দয়া কর, কর পরিত্রাণ।
টি মায়াপাশ, দুঃখ কর নাশ, বক্ষ পরমেশ দিয়া সুধা দান ।
মি দুঃখহারি, পাপনাশকারি, দিয়া পদতরি, রক্ষা কর প্রাণ।
‘ধ প্রেমডােরে, অতি শক্ত করে, যেন নাহি ছিড়ে, রহে চিরদিন।
মি তব দাস, এই অভিলাষ, থাকি তব পাশ, হয়ে আজ্ঞাধীন ।
মূলতান-আড়াঠেকা ।
এস প্রভু দয়া করি, দেখা দাও এ অকিঞ্চনে,
তেমাকে দেখিব বলে, রহিছি উদ্বিগ্ন মনে।
আমি অতি অভাজন, পাপে কলুষিত মন,
কি বলে ডাকিব তােমায়, ভাবিয়া না পাই মনে
নাহি কিছু ধৰ্ম্ম বল, কি করি পথ সম্বল,
নাহি হৃদয়ের বল, নাহি সুখ এ জীবনে।

२२
সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
জয়জয়ন্তী-ঝাঁপতাল।
সংসারের মায়াজালে জড়িত হইয়ে,
রহিছি তােমায় নাথ সর্বদা ভুলিয়ে।
পাপে জ্বর জ্বর হয়ে, বহিছি যন্ত্রণা সহে
সংসার-কানন-মাঝে, তােমায় ছাড়িয়ে।
ধন উপার্জন আসে, ফিরিতেছি দেশে দেশে,
একাকী সহায়হীন, লাঞ্ছনা সহিয়ে।
আমি নাথ তব দাস, ছিন্ন কর মােহপাশ,
দয়া করি লহ মােরে, তােমার আশ্রয়ে।
বেহাগ—তালঠেকা।
তােমা বিনা কেবা আর, আছে হে আমার ।
যাহা কিছু আছে নাথ, সকলি তোমার।
ধন জন যশ মান পরিচ্ছদ মূল্যবান,
কিছু নাহি চাহি আমি সকলি অসার।
এই ভিক্ষা চাই আমি, ভুল না আমারে তুমি,
ভব-কর্ণধার হয়ে, কর হে আমায় পার।
মধুকানের সুর।
অনাথের নাথ কোথায় তুমি ।
দেখ প্রভু কি হয়েছি, কত কষ্টে কাল কাটাই আমি ;
তব মুখ দেখিবারে, রহিয়াছি আশা করে,
পড়ে আছি তব ধারে, কোথা ওহে জগৎ স্বামি !
পাপে হয়ে জ্বর জ্বর, দুঃখ শোকে কাতর,
প্রভু আমায় দয়া কর, সকাতরে ডাকি আমি।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
মধুকানের সুর ।
কোথ। হে মধুসূদন।
একবার দাড়াও আসি সন্মুখেতে করি তােমায় নিরিক্ষণ।
তােমাকে পাইবার তরে, ভ্রমি দেশ-দেশান্তরে,
দেখিতে না পাই তােমারে, মন যে করে কেমন।
দেখিয়া তােমার মুখ, পাশরিব সব দুঃখ,
করাে না আমায় বৈমুখ, ওহে সত্য নিরঞ্জন ।
মল্লার-ঝাপল ।
অধীনের আকিঞ্চন, নিত্য সত্য সনাতন,
জীবনের শেষ দিন দেহ আসি দরশন।
প্রহলাদ বিপদকালে, মুখে হরি হরি বলে,
লইলে তাহারে কোলে, ওহে বিপদভঞ্জন
ধ্রুব যাইয়া বনেতে , হরি বলিয়া মুখেতে,
ভয়শূন্য হল চিতে, পইল তব দরশন।
হাম্বীর--তাল রূপক।
তারে ডাক ওরে মন, অনাথের নাথ যিনি জগৎ-কারণ
ডুবিয়া সংসার-কূপে, রক্ষা নাই কোনরূপে,
ভাব সেই-সৎস্বরূপে, হবে দুঃখ বিমােচন।
ভক্তিভাবে প্রেমভীর, নিবিষ্ট হয়ে অন্তরে,
ডাক সেই পরাৎপরে, পূর্ণব্রহ্ম সনাতন।
কলিকালে নাম কেবল, হয় জীবের সম্বল,
আর সকলি বিফল, কর বিভুনাম সাধন।

২৪
সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
হাম্বীর-তাল রূপক।
তারে ভুলনা মন,
দয়াময় পিতা যিনি অখিল-কারণ।
তাঁহার অর্চনা বিনা বৃথ। এ জীবন।
মায়াপাশে বদ্ধ হয়ে রহ কি কারণ।
অলীক সুখের তরে শ্রম অকারণ।
সকল সয়য়ে তারে কর রে স্মরণ।
রাগিণী কীৰ্ত্তনমিশ্র-তাল ঝাঁপতাল।
যদি এস হে দয়া করে, গরিবের কুটীরে,
নয়ন ভরে দেখি হে তােমায়।
আমি রহেছি আশা করে, আশা পথ নিরখিয়ে
বঞ্চনা কর না আমায়।
এ অধমে তরালে, দয়াল নামের গুণে,
ঘুষিবে তব যশ ধরায়।
হয়ে পাপেতে মলিন, চিন্তায় তনু ক্ষীণ
দেখি পরিত্রাণ উপায়।
খাম্বাজ-কাওয়ালি
দয়াময় হে! কে জানে মহিমা তােমার,
বিচিত্র কৌশল তব, বুঝে উঠা ভার।
শূন্যপথে গ্রহগণ, ভ্রমিতেছে অনুক্ষণ,
জীবজন্তুগণে তুমি, দিতে আহার ।
বৃক্ষে বসি পক্ষিগণ, করে তব গুণ গান,
স্বভাব করিছে তব, মহিমা প্রচার।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
রাগিণী আলেয়া--একতালা ।
কেমনে বর্ণিব রূপ তোমারি (তােমার)
দেহ মন, মুগ্ধমন, দেহ জ্ঞান, দিব্য জ্ঞান,
তুমি দীনদুঃখহারী।
তুমি সত্য, তুমি নিত্য, তুমি ভুমা, তুরি মহান,
তুমি সকলের সার।
রাগিণী ভৈরবী--"তাল তেওট ।
জীবনের শেষ দিন,
ভাবি রে আমার মন,
যবে পঞ্চভূতে দেহ মিশাবে।
ঐশ্বৰ্য সুখ স্বপন,
দিতে হবে বিসর্জন,
সকলেই পড়ে রহিরে ।
দারাপুত্র গৃহবাস,
যাহা তুমি ভালবাস,
সঙ্গে কিছু তোমার নাহি যাইবে।
তাই বলি ওরে মন,
তব সত্য নিরঞ্জন,
যদি পরকালে সুখী হইবে।
রাগিনী মল্লার তাল অড়াঠেকা ।
অন্তরের কষ্ট মম জানাইব করে,
কে আছে ব্যথার ব্যথী উপশম করে।
তুমি নাথ অন্তর্যামী, সকলি জানিছ তুমি,
কি আর বলিব আমি, নাহি কিছু বলিবারে।
কর দুঃখ নিবারণ, ওহে অনাথ-শরণ,
বিপদে পড়িয়া আমি, ডাকি হে কাতরে ।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
বাবােয়া-ঠুংরী।
কে তুমি হে জ্যোতিৰ্ম্ময়,
আলােকিত করিয়াছ দিক সমুদয় ।
চন্দ্র সূৰ্য্য তারাগণ উদিয়া আকাশে,
কিবা শোভা হইয়াছে, আলােক মালায়
জ্যোতির্ময়রূপে বিরাজিত সৰ্বস্থান,
আলােকিত করিয়াছ, মানব-হৃদয়।
রাগিণী খাম্বাজ-তাল একতালা।
চল সবে মিলি, হরি হরি বলি, দিয়ে করতালি, হরিনাম গাই
জপ হরিনাম, মন অবিশ্রাম, পূর্ণ মনস্কাম, হবে ওহে ভাই।
যে নাম লইয়া, সংসার ছাড়িয়া, বিবাগী হইয়া, যাইল নিমাই।
আমরা সকলে, হরি হরি বলে, হরিপ্রেমে গলে, জগৎ মাই
রাগিণী রামকেলী-তাল দাদা।
হরিনাম গাওরে আমার মন, হরিনাম গাওরে আমার মন,
হরিনামে সুধা রে, মৃত ব্যক্তি পায় জীবন ।
হরিনাম বল রে মন, সৰ্ব্বক্ষণ, উচ্চৈঃস্বরে গাওরে সবাই,
যে নামে জগাই মাধাই তরে গেল, সন্ন্যাসী হল নিমাই।
মুখে হরি বলি, যাও চলি, সেই শান্তি নিকেতন।
যে নামে মহাযোঞ্জ সৰ্ব্বত্যাগী, শশানে করে প্রমণ।
সবে বল রে হরি, প্রাণ ভরি, জুড়াবে তাপিত মন ;
অলীক সুখের তবে, ভব ঘোরে, ঘুরে মরি কি কারণ।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
২৭
রাগিণী বায়ােয়া-তাল ঠুংরি।
মন, কর সদা মুখে হরিগুণ গান;
শুদ্ধ হইবে দেহ, জুড়াইবে প্রাণ ।
ঘুচিবে সংসার-ক্লেশ, রহিবে দুঃখ লেশ,
পুলকিত হবে মন, হবে দিব্য জ্ঞান।
ডাক হরি হরি বলে সকলের সঙ্গে মিলে,
হরিনাম বিনা, তােমার নাহি পরিত্রাণ ।
বাউলের সুর-তাল খেটা।
আমার উপায় কি হবে দয়াল হরি।
লয়ে যাও ভবপারে, কৃপা করে দিয়ে তব চরণ-তরী।
তুমি হে জীবের জীবন, অধম-তরণ, দীনদুঃখহারী।
নাহি মম পিতামাতা, তুমি মম ত্ৰাণকৰ্ত্তা,
নিজগুণে দয়া করি, দেহ চরণ-তরী।
আমি পড়িয়াছি ভবঘোরে, প্রভু উঠাও আমায় কেশে ধরে,
সুপথ দেখাও আমারে, কৃপাদৃষ্টি করি ।
রামপ্রসাদী সুর।
মন, তুমি হরিনাম ভুল না ।
হরিনাম সাধন হলে, ঘুচিবে ভব যন্ত্রণা।
শ্রদ্ধা পূষ্প দিয়া পদে,ভক্তি জল তায় ঢেলে দেন,
( ও মন) যে সকাল বিকাল হরি বলে তাহার কি থাকে ভাবনা
দেথ হরি নামের গুণে হয় কত অসাধ্য সাধন,
সমুদ্রে ডুবিয়া প্রহলাদ, হস্তিপদে মরিল না।

২
সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
কীৰ্ত্তন-তুরী।
একবার হরি হরি বল মন আমার ।
তিনি দয়াল হরি, দুঃখহারী, হরিবেন দুঃখ সবার।
সবে প্রেমভরে ভক্তি করে, ডাক তারে এক বার।
তিনি প্রেমসিন্ধু, দীনবন্ধু, হরি, সকলের সার।
হৰি সুধা পান কর, হরি নাম জপ কর,
হরিনাম ধ্যান কর, যদি হইবে ভব সিন্ধু পার।
সার-একলা।
হরি হরি বল আমার মন,
পাপ-তাপ দুরে যাবে পবিত্র হবে জীবন।
ঐ সুধা-মাখা নামের গুণে, তরেছে পাতকী জনে,
ভয় কি আছে শমনে, মরণান্তে পাব ঐ শ্রীচরণ।
হরি তােম বিনা সব ফাকা, তুমি মানবের সখা,
আমি আসিয়াছি ভবে একা, সহায় সম্পত্তি হীন।
বিশ্বাস আছে যে মনে, তবে এ অধম জনে,
মুক্ত হব ভব-বন্ধনে, অন্তে পাব তব দরশন
কীৰ্ত্তন-একতালা।
একবার হরি বল হরি বল হরি কল মন,
ত্যজ ধন আশা, মৃগ তৃষ্ণা, সুখ প্রলােতন।
তুমি কর ভক্তি, হবে মুক্তি, লভিবে সে ধন,
মুখে হরি বলে, যাও চলে শান্তি নিকেতন।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
পরজ-কাওয়ালী।
(হরি) কৃপা করি দেখা দাও আমারে,
কত মহাপাপী তরে গেল ঐ নাম জপ করে।
(হরি) যারে তুমি দয়া কর, কি ভয় আছে তাহার,
সে অনায়াসে চলে যায় ভবসিন্ধু পারে।
দ্রৌপদী শ্রীকৃষ্ণের প্রতি।
বেহাগ-আড়া।
কোথায় শ্রীমধুসূদন, রক্ষা কর এ বিপদে বিপদভঞ্জন
সভামাঝে দুঃশাসন, করি কেশ আকর্ষণ
করে মােরে অপমান, কর দুঃখ-বিমােচন।
বিবস্ত্র করিতে চায়, পাপমতি নীচাশয়,
না দেখি কোন উপায়, কর লজ্জা নিবারণ।
পাণ্ডবের সখ হরি, এস প্রভু দয়া করি,
আমি অধীন তােমারি, করি এই নিবেদন।
শ্যামাবিষয়।
বিষ-একতালা।
জয় মা ভবানী জগৎতারিণী,ব্রহ্ম সনাতনী জগৎ-পালিকে।
জয় দিগম্বরী, ভবতয়হারী, দর্পচূর্ণকারী, জয় মা কালিকে।
অট্ট অট্ট হাসি, করে শােভে অসি, হয়ে মুক্তকেশী, অসুরনাশিকে।
হরের ঘরণী, নীরদ বরণী, অনন্তরূপিণী, নৃমুণ্ডমালিকে।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
জয়জয়ন্তী-চৌহাল।
কে জানে তােমার রূপ, তুমি অনন্তরূপিণী,
তুমি আদি, তুমি অন্ত, তুমি মুক্তি-প্রদায়িণী
বিরাজ অন্তর মাঝে, ওহে অন্তর-যামিনী,
পতিত সন্তান বলে, ত্যজ না তুমি জননী।
ভৈরব-ঠুংরী।
কে রে বামা, অনুপমা, ভূধরবাসিনী
রূপে আলাে করিয়াছে হর-মনমােহিনী।
হাসি হাসি মুখশশী সুন্দরবদনী,
ভাঙ্গে মণি জ্বলিতেছে বামা ত্রিনয়নী;
নাশিবারে দৈত্যকুল অবতীর্ণা ধরণী।
ভৈরব-ঠুংরি।
ঘােরা রজনী শশানবাসিনী, কে ঐ বামা, বিরাজ করিছে ।
করে ধরি আসি,
অট্ট অট্ট হাসি,
অন্ধকার নাশি, দাড়ায়ে রয়েছে।
ভয়ঙ্কর বেশে,
এলো থেলাে কেশে,
ডাকিনী যােগিনী, ঘেরিয়া নাচিছে।
বােমার) গলে মুণ্ডমাল,
ভালে শশীকলা,
পদতলে ভােলা, পড়িয়া বহিছে ।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
৩১
রামপ্রসাদী সুর।
মা আমায় খাটাবি কত।
( যেন ) স্যাগরাগাড়ীর ঘােড়ার মত।
আসিয়া ভবের হাটে, বেচা কেনা কল্লাম কত,
হইল লাভ আমার, লােশকান ক্রমাগত।
পূজি ফুরাইয়া গেল, দেনা হল রাশীকৃত,
কি করি উপায় এখন, ভেবে হলাম বুদ্ধি হত।
অসারে ভাবিয়া সার, বৃথামােহে কলগত,
( মা) নিজ গুণে দয়া করি, ক্ষম আমার অপরাধ ।
.
আশা-ঠুংরি।
কে বামা রণরঙ্গিণী ।
কৃষ্ণবর্ণ কেশ পাশ চুম্বিয়াছে ধরণী।
বামা হয়ে বিবসনা, চঞ্চলা নয়না পদতরে কাপে মেদিনী।
বামা সদা হুঙ্কারিছে অরাতি নাশিছে আপ্তহারা পাগলিনী।
ভীমা-ভয়ঙ্করা বেশ নাহি লজ্জ। শেষ, শর্কর হৃদি-বাসিনী ।
তীক্ষ্ণ খড়গহস্ত ধরি নাশিছে দানব অরি গলে মুণ্ডমালা শশাতে
বরাভয় দায়িনী
পূরবী—কাওয়ালী ।
কার বামা সমরে, জলদ বরণী,
নির্ভয়েতে রণমাঝে, যুঝিছে একাকিনী।
( বামা) হয়ে শবাসনা, আরক্ত নয়না, ভব-ভয়-নিবারণী ।
( বামা) শক্তিরূপা, মহামায়া, অনন্তরূপিণী ।
লােল বসনা, হয়ে বিবসনা, যেন উন্মাদিনী।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
ভৈরব-একতালা।
দূর কর দুঃখরাশি দুঃখ-নিবারণী,
পড়েছি সঙ্কটে মাগাে তার ত্রিনয়নী।
অকৃতি সন্তান বলে, তেজ না জননী,
হৃদয়-কমল-মাঝে উরগাে গরিণী।
দয়া কর দয়াময়ী দনুজ-দলনী,
এ বিপদে রক্ষা কর দুর্গতিনাশিনী ।
কৃষ্ণলীলা।
সিন্ধুড়া খাম্বাজ-টিমে তেতালা।
ঐ শুন বনমাঝে বাজিছে বাঁশরী,
সুমধুর তানে,
হরিণ গানে,
হরিনামে মাতিয়াছে যত নর-নারী।
প্রেমে মত্ত হয়ে,
হরিনাম গেয়ে,
হের বনস্থল কিবা শোভা হয়।
বাণীরব শুনে,
হরিগুণ গানে,
বিমােহিত হইয়াছে যত বনচারী।
বেহাগ—আড় খেটা।
বাজিল বাশরী (ঐ) নিকুঞ্জ বনে।
চল যাই ত্বরা করি, খাম দরশনে ।
ফুলরাশি, ফুলমালা, ফুল আভরণে,
সাজাব তাহারে আঙ্গি, যত সখীগণে

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
বীণাযন্ত্র লয়ে করে, গাইব পঞ্চম স্বরে,
মােহিত করিব সবে, সুমধুর গানে।
হাত ধরাধরি করি, নাচিব মেরে ঘেরি,
ফাগ খেলা খেলিব, তাহারি সনে ।
রাধিকার
ইমন মিশ্রিত—আড়াঠেকা।
বাজিল মােহন বঁাশি শুন লাে স্বজনী,
মােহিত করিল সব, গােকুল-রমণী ।
কম্পিত তমাল তল, অস্থির যমুনা জল,
ছাইল গগন-তল, কিমধুর ধ্বনি,
নীরব গােকুল কেন, গোকুলবাসিনী।
সদা হয় উচাটন, বৈরজ না ধরে মন,
কেন যে হয় এমন, কিছুই না জানি ।
সিন্ধুড় খাম্বাজ-তাল যৎ।
শ্যাম তােমার প্রিয়রাধিকা, হয়ে অভিমানি,
ধরাতলে পড়ে আছে, কাঞ্চন-বরণী ।
রুক্ষকেশে হীনবেশে,
যেন
উন্মাদিনী,
রহিয়াছে মানভরে, দিবস রজনী।
ডাকিলে না কথা কয়, মৌনভাবে সদা রয়,
হইয়াছে শীর্ণ দেহ, শুধাংশুবদী ॥

৩৪
সঙ্গীত-ভাণ্ডার
বেহাগ—আড়াঠেকা।
ধরাতলে বিলুণ্ঠিত, রাধা-বিনােদিনী,
হেরে সে শ্যামচাদে যেন উন্মাদিনী ।
বিন ত্যাগ করি, মথুরায় যান হরি,
শোকাকুলা গােপনারী, মুখে নাহি বাণী।
গােকুলে যত রমণী, কৃষ্ণপ্রেম কাঙ্গালিনী,
হা কৃষ্ণ, হা কৃষ্ণ বলি, করিতেছে শােকধ্বনি।
আগমনী।
বেহাগ-আড়াঠেকা।
ত্বরা করি যাও গিরি, আনতে আমার উমাশশী,
সেই অসামান্যা রূপরাশি, জাগে মনে দিবানিশি।
উমা আমার দুধের মেয়ে, অনেক দিন হয়েছে বিয়ে
এস তারে সঙ্গে নিয়ে, আমি তারে ভালবাসি।
( গিরি) ভুলে গেছ একেবারে, স্নেহময়ী তনয়ারে,
আমি পলকে প্রমাদ গণি, না হেরে সেই এলােকেশী।
( গিরি ) কঠিন মন তােমার, ( মার) নাহি লহ সমাচার,
( আমি না হেরে সে উমাধনে, দুঃখের সাগরে ভাসি।
বেহাগ-একতালা ।
গিরি আমি বাঁচি কেমনে।
অস্থির অন্তর হতেছে অামার, যাও ত্বরা করি, অনি উমাধনে।
নয়নে নয়নে রাখিতাম তারে, যতনে পালিছ আমি সে উমারে
স্নেহ ভালবাসা তাহার উপরে, রেখেছিলাম তারে অতি যতনে।
হেরিয়া আকাশে পূর্ণিমার শশী, মনে পড়ে আমার সেই মুখশশী,
হৃদয়-মুকুরে হেরি দিবানিশি, সেই রূপরাশি সদা জাগে মনে।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার ।
য় ধরি গিরি যাও ত্বর। করি, কৈলাস হইতে অনিবরে গৌরি,
হেরে বাছারে থাকিতে না পারি, কেমনে বাচিব উমা বিহনে ।
। সে আমার নয়নের মণি, অঞ্চলের নিধি হয় অভিমানী,
‘স হাসি মুখ শুধাংশুবদনী, খেলিত ঘরতে সঙ্গিনীর সনে।
। সে আমার প্রাণের পুতুলি, হৃদয় সর্বস্ব তাহারি সকলি,
মনে তাহাকে থাকি আমি ভুলি, তার মিষ্টবাণী সদা পড়ে মনে।
জয়ার উক্তি।
বেহাগ--আড়াঠেকা।
উঠ ওগে! গিরিজায়া, দুহিতা তোমার এসেছে ।
পুত্র কন্যা সঙ্গে লয়ে, ঘরেতে দাড়ায়ে আছে ।
উমা নয় সামান্য মেয়ে, চক্ষু খুলি.দেখ চেয়ে,
সে যে অনন্তরূপেতে জগৎ আলাে করে রয়েছে।
( মা) এই কি তোমার সতী, ওযে অদ্যাশক্তি ভগবতী,
জীবের উদ্ধার হেতু অবতীর্ণ হয়েছে।
মা তােমার কপাল ভাল, ঘর করিয়াছে আলাে,
আনন্দ-লহরী হৃদে সকলের বহিছে ।
খাম্বাজ-আড়াঠেকা।
আয় গো প্রাণের উমা, অয় গো মা করি কোলে,
অনেক দিন দেখিনে তােরে, ভাসে বক্ষঃ নয়ন জলে ।
তাের সুধামাখা-বাণী, অনেক দিন শুনিনি আমি,
আয় কোলে কাত্যায়ণী; চুমি তাের বদন কমলে।
অয় কর্তিক গণপতি, লক্ষী আর সরস্বতী,
বসিয়া মায়ের কোলে, ভাক একবার মা মা বলে '

সঙ্গীত-ভাণ্ডার
কৌশল্যা রামের প্রতি।
বেহাগ-~~-আড়াঠেকা।
রাম, যেওনা বনে।
অস্থির অন্তর হতেছে আমার, কেমনে ধচিব তব অদর্শনে।
দশ মাস তােমায় ধরিয়া জঠরে, প্রসব করেছি কত কষ্ট করে,
রাখিয়াছি, তােমায় নয়ন উপরে, পালিয়াছি তােমায় অতি যতনে ।
পাইয়াছি তােমায় দেবতার বরে, কত আরাধনা বাগ যজ্ঞ করে,
দিও না বেদনা মায়ের অন্তরে, কেমনে চিব তব বিহনে ।
থাক তুমি ঘরে বলি বার বার, যাবে নাক বনে কর অঙ্গিকার,
কঠিন হৃদয় পিতার তােমার, সেই ভালবাসা নাহিক সন্তানে।
কৈকেয়ী সতিনী বিমাতা তােক, দিবে ওরতে এই রাজ্যভার,
মন্ত্রণা কৌশল সকলি হার, এতিজ্ঞায় বৃদ্ধ করিল রাজনে।
}
রাম সীতার প্রতি
ভৈরবী-মধ্যমাণ।
প্রয়ে! কি বলিব আর, এসেছি তোমার কাছে লইতে বিদায়
রাত্র অবসান হলে, কল্য উঠিয়া সকালে,
যাব আমি বনে চলে, আদেশ পিতার।
চৌদ্দ বৎসরের লাগি,হব আমি দেশত্যাগী,
তুমি থাকিবে একাকী, ঘরেতে আমার ।
বিমাতার শুনি বাণী, দশরথ নৃপমণি,
পাঠালেন আমায় বনে, করিয়া বিচার।
আমার লাগি জননী, যদি হন বিষাদিনী,
সান্ত্বনা করিবে তঁারে বিবিধ প্রকার

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
সীতা রামের প্রতি।
ভৈরবী--মধ্যমান।
মন, করে যে কেমন, বুঝাইলে সে যে না মানে বারণ ।
যাবে নাথ বনে ছাড়িয়া আমারে, একাকী খাকিব আমি কেমন করে,
দিও নাক ব্যথা রমণী অন্তরে, দেহ অনুমতি যাব আমি বন।
চাহি নাক আমি বস্ত্র অলঙ্কার, রাজভোগ আমার নাহি দরকার,
বনেতে থাকিব সহিত তােমার, সর্বদা করিব ও পদ সেবন।
ব্রহ্মচারী বেশ করির ধারণ, বনে বনে আমি করিব ভ্রমণ,
বন-বৃক্ষ-ফল করিব ভক্ষণ, তরু তলে আমি করিব শয়ন।
রমণীর গুরু হয় তার পতি, বিহনে তাহার নাহি অন্য গতি,
পতির সুখেতে সুখী হয় সতী, দুঃখে দুঃখভাগী হয় একমন ।
বেহাগ-আড়।।
অশােক কাননে সীতা, একাকিনী কঁাদে বুসি,
দূর্বাদল শ্যামরূপ, ভাবে মনে দিবানিশি।
কোথা রাম গুণধাম, কোথা দেবর লক্ষণ,
উদ্ধার কর হে মােরে, স্বর্ণলঙ্কাপুরে আসি।
বধি দুষ্ট দশাননে, মারি নিশাচরগণে,
পোড়াইয়া লঙ্কাপুরি, আর যত শক্র নাশি।
বাগে—আড়াঠেকা।
কে ঐ অনাথিনী দ্বারে আসি ভিক্ষা চায়,
সহায় নাহিক কেহ, নাহিক কোন উপায়।
৪

সঙ্গীত-তারি ।
==
শরীর হয়েছে শীর্ণ, পরিধনবস্তু জীর্ণ,
উদর নহেক পূর্ণ, কষ্টে দিন কেটে যায়।
স্বামী পুত্র নাহি তার, কষ্টে বহে দুঃখ তার,
ভিক্ষা করে দ্বার দ্বার, তবু ভিক্ষা নাহি পায় ।
ধনিদের বাটী যায় মুষ্টিভিক্ষা মিলঃ দায়,
শীতবস্ত্র নাহি গায়, বিবর্ণ হয়েছে কায় ।
যদি কেহ দয়া করে, কিছু ভিক্ষা দেয় তারে,
আহলাদ হয়ে অন্তরে, আশির্বাদ করে তায়
রগিণী লুম-~~-তাল আড়াঠেকা।
কি দশা হয়েছে দেশ, ভারত মাতার,
জীর্ণ বস্ত্র পরিধানা, বহে.দুঃখ ভার ।
হস্তপদ বলহীণ, মুখ হয়েছে মলিন,
শরীর হয়েছে ক্ষীণ, বিহনে অাহার।
দাসত্ব শৃঙ্খল পায়, মুখে নাহি হাসি হায়,
তেজহীন মৃতপ্রায়, শূন্য ভাণ্ডার।
মল্লার-একতালা।
মাইল বৰষা, ছাইল গগন, নিবিড় মেঘেতে, ধূসর বরণ।
কােকিছে বাবিদ, নিনাদে কুলিশ, চমকে চপলা,অাকাশে কেন ?
প্লাতি ধরশী, হইল জলেতে, প্রবল বেগেতে, বহিছে পবন ।
প, হইল তরুতে, স্বভাব পরিল, সুন্দর বসন।
ক্লক কবীগণ আহলাদে মগন করে আজ ভূমে,ধাত্যাদি রোপন।

সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
পিঞ্জরবদ্ধ পক্ষীর প্রতি।
ললিত-আড়া।
কেন বিহঙ্গম তুমি আছ পিঞ্জর ভিতরে,
হেঁটমুখে মৌনভাবে বিষাদিত অন্তরে।
স্বাধীম হারাইয়া, পর মুখ তাকাইয়া,
পর মন যােগাইয়া, পর দত্ত আহারে।
যাও তুমি উড়ে যাও, ইচ্ছামতে খাদ্য খাও,
কেন এত কষ্ট সহ, বদ্ধ হয়ে কারাগারে।
বিচরণ কর বনে, সুথে সঙ্গিনীর সনে,
ডালে বসি কর গান, প্রফুল্লিত অন্তরে।
প্রত বর্ণন।
ঝিঝিট-কাওয়ালি।
গত বিভাবরী প্রভাত সুন্দরী, উজ্জ্বল বসন পরিধান করি,
যাইতেছে চলি রূপে আলাে করি, ভেটিবারে পুনঃ ধরণীর সনে।
বিহঙ্গমকুল ধরি মিষ্টতান, গাহিতেছে শুন তার গুণ গান,
ভ্রমর ভ্রমরী গুণ গুণ করি ফুলে ফুলে ভ্রমে মধু অন্বেষণে ।
ধীরে ধীরে বহে প্রাতঃ সমিরণ, পুষ্পগন্ধে হয় আমােদিত মন,
পূৰ্ব্বদিকে কিবা লােহিত বরণ, তরুণ অরুণ উদিছে গগনে।
ধরণী পরিল সুন্দর বন, তুষিবার প্রিয় প্রজাতির মন,
উভয়ে হইল মিলন কেমন, আহলাদে মগন হল সর্বজনে
যে জন সৃজিল বন্তু মনােহর, তেজঃপুঞ্জ রবি বায়ু স্নিগ্ধকর,
যাহার মহিমা ব্যাপ্ত চরাচর’ কি সাধ্য আমার সেরূপ বর্ণনে।

৪.
সঙ্গীত-ভাণ্ডার।
ঝিঝিটকাওয়ালি ।
গভীর রজনী নীরব ধরণী,গগনে শোভিছে শশী নিশামণি।
হাসিছে তারকা ভাসিছে অম্বরে, জলে প্রস্ফুটিত হের কুমুদিনী।
নীরব বিহঙ্গ, জীব জন্তুগণ, মিদ্রা বসে সব, হয়ে অচেতন।
প্রকৃতির কোলে, করিয়া শয়ন, শান্তি সুখ ভােগ করিতেছে সবে।
ফুটিয়া কুসুম, উদ্যান ভিতরে, সুমিষ্ট সৌরভ সকলে বিতরে।
পুলকিত তৰু মৃদু সমিরণে, আহা কিবা শােভা হইল মেদিনী।
যে জন সৃজিল স্বভাব এমন, পরাইল তারে সুন্দর বসন।
কে বলিতে পারে সেজন কেমন, ভেবে নাহি পাই সেই চিন্তামণি ।
কাশীধামে কোন নবীন সাধুসন্ন্যাসীর সহিত সাক্ষাৎ।
বাহার-একতালা।
এসেছে এক নবীন সন্যাসী ।
দেখবি যদি ত্বরা করি আয় প্রতিবাসী।
গেড়য়া বসন পরা তার হাতে কমল,
খালি পায় আসিয়াছে, তার মাথায় নাহি চুল,
আড়ম্বর নাহি কিছু মুখে সদা হাসী।
সে কত দেশ ভ্রমিয়াছে এবার আসিয়াছে কাশী ।
বেহাগ মিশ্র--একতালা।
দিয়াছ মান, দিয়াছধন, তুমি দয়াময় হে।
দিয়াছ পুত্র, দিয়াছি কন্যা, তুমি দয়াময় হে।
দিয়াছ গেহ, করিয়া স্নেহ, তুমি কৃপাময় হে।
দেওগো প্রেম, দেওগে। ভক্তি আমার হৃদয়ে হে।
দেওগাে বিদ্যা, দে ওগাে জ্ঞান অজ্ঞান সন্তানে হে,
নাশােগো মায়া নাশগাে মােহ এই ভিক্ষা মাগি হে।
সমাপ্ত।

শ্ৰীযুক্ত আশুতােষ ঘােষ মৎ-সম্পাদিত “প্রতিবাসী” নামক মাসিক পত্রে প্রবীণ লেখক যুক্ত আশুতােষ ঘোষ মহাশয়ের “কর্মবীর রমেশচন্দ্রের জীবন- লােচনা” শীর্ষক প্রবন্ধ ও তাহার একখানি চিত্র বাহির হইবার পর লেখকের চতুর্থ ভ্রাতা মাননীয় দেশ-হিতৈষী শ্ৰীযুক্ত অপু কৃষ্ণ ঘােষ এম-এ মহাশয় তাহার জ্যেষ্ঠ সহােদরের সংক্ষিপ্ত জীবন-কথা ও সাহিত্য চর্চার কাহিনী আমাকে লিখিবার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেন। অপূর্ব বাবুর অনুরােধে আমি এই প্রবীণ লেখকের জীবন কাহিনী যাহা আজ পর্যন্ত সংগ্রহ করিয়াছি তাহ লেখকের “সঙ্গীত-ভাণ্ডার” নামক গ্রন্থের পরিশিষ্ট প্রদত্ত হইল। ছাপান্ন বৎসর পূর্বে যে সকল ব্যক্তি বাঙ্গালা সাহিত্যের পরিচর্যায় আকৃষ্ট হইয়া আমাদিগের সহিত সুপরিচিত হইয়াছেন শ্ৰীযুক্ত আশুতােষ ঘোষ মহাশয় তাহাদিগের অন্যতম। ১৮৪৩ খৃষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে হুগলী জেলার অন্তর্গত আঁটপুর নামক গ্রামের প্রসিদ্ধ জমিদার স্বর্গীয় দুর্গাপ্রসাদ মিত্র মহাশয়ের ভবনে অশুতােষ বাবু জন্মগ্রহণ করেন। দুর্গাপ্রসাদ মিত্র ইহার মাতামহ ছিলেন। ইনি বিখ্যাত কৃষ্ণরাম মিত্র মহাশয়ের বংশােদ্ভব। কৃষ্ণরাম মিত্র অর্থ উপার্জন করিয়া অনেক জমিদারী স্বয়ং খরিদ করিয়াছিলেন। তিনি বর্ধমান রাষ্টেটের একজন বিশিষ্ট কর্মচারী ছিলেন। আঁটপুরের অনেক দেবালয় ও ঠাকুরবাড়ী তাহার অক্ষয় কীর্তি স্বরূপ আজও বর্তমান দেখিতে পাওয়া যায়। আঁটপুর গ্রামের এই মিত্র বংশ জনসাধারণের নিকট বিশেষ পরিচিত। আশুবাবুর পিতার নাম প্রসন্ন • ঘােষ। প্রসন্ন বাবু তৎকালীন সমাজের একজন কেশ গণ্য মান্য ব্যক্তি ছিলেন। তিনি গবর্ণমেন্ট অফিসে কৰ্ম্ম করিতেন। তাহার ছয় পুত্র ও তিন কন্যা। তন্মধ্যে আশু বাবু সৰ্ব্বজ্যেষ্ঠ। প্রসন্নবাবুর অন্যান্য পুত্রগণ সকলেই কৃতবিদ্য ও উচ্চশিক্ষিত। প্রঃ বাবুর চতুর্থ পুত্র মাননীয় দেশ-হিতৈষী শ্ৰীযুক্ত অপূৰ্ব্বকৃষ্ণ ঘােষ এম-এ মহোদয়ের সহিত বঙ্গের সকল কৃতী সন্তান সুপরিচিত। ইনি বেঙ্গল সেক্রেটেরিয়েটের রেভেনিউ ডিপার্টমেন্টের হেড এ্যাসি- ট্যান্ট ছিলেন। আজ কয় বৎসর হইল ইনি সুখ্যাতির সহিত কৰ্ম্ম হইতে অবসর গ্রহণ করিয়া কয়েকটা দেশ হিতে কার্যে আপনাকে নিযুক্ত করিয়াছেন। সুবিখ্যাত “ওরিয়েন্টাল সেমিনারী” নামক কলিকাতার প্রসিদ্ধ ও প্রধান ইংরাজী বিদ্যা- লয়টী ইহার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হইতেছে। ইহার জীবন- কাহিনী প্রতিবাসীতে প্রকাশ করিবার সন্ধল্প আমাদের আছে । কেন না হঁহার ন্যায় প্রকৃত বাঙ্গালীর গৌরব খুব কমই ব্যক্তি বর্তমানে আমাদের দৃষ্টি গোচর হইয়া থাকে । কলিকাতা সহরে আবাবুদের বাস প্রায় দুইশত বর্ষের ও অধিক কাল হইবে। বাশী গ্রাম হইতে ইহাদের একজন পূর্ব- পুরুষ বারাকপুরের উত্তরে গঙ্গার সন্নিকট চন্দনপুর গ্রামে আসিয়া বসবাস করিয়াছিলেন। সেই স্থান হইতে অাত্মারাম ঘোষ নামক এক বক্তি আসিয়া কলিকাতায় অবস্থান করেন। তদবধি ইহাদের কলিকাতায় বসাস চলিয়া আসিতেছে। এই ঘোর বংশের সদর বাটীতে প্রসন্ন বাবুর “নিউ প্রেস” নামক একটা ছাপাখানা ছিল। তৎকালীন সময়ে এই প্রেস হইতে সুলভ পত্রিকা” নামক এক মাসিক পত্রিক বাহির

•
হইত। পণ্ডিত দ্বারিকানাথ বিদ্যাভূষণ এবং প্রসন্ন বাৰু এই সুলত
পত্রিকায় মধ্যে মধ্যে প্রবন্ধাদি লিখতেন। প্রসন্ন বাবু অনেক
কষ্ট ও পরিশ্রম করিয়া ভারতচন্দ্রের গ্রন্থাবলী, তাহার জীবনী,
দুরূহ শব্দের ব্যাখ্যা ও টীকাসহ প্রথমে এই নিউপ্রেস হইতে
মুদ্রিত করিয়াছিলেন । এই পুস্তকে অনেক চিত্র ছিল।
১৮৬৭ খৃষ্টাব্দের মার্চ মাসে বৎসর বয়ঃক্রমের সময়
ইহার দেহান্ত
হয়। তখন আশু বাবুর বয়ঃক্রম ২৪
বৎসর। প্রসন্ন একজন স্বধৰ্ম্মনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন।
তাহার দয়া ও পরোপকারে অনেক বিপন্ন আত্মীয় যার পর নাই
প্রীত ছিল। মহানগরী কলিকাতার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত বিখ্যাত
বিডন স্ট্রীটের অন্তর্গত সিমুলিয়া নয়াচঁদ দত্তের স্ট্রটে প্রসন্ন
ঘােধ মহাশয়ের বসত বাড়ী। এই বাড়ীতেই আশুবাবু ও
তাহার কৃতবিন্থ প্রতাগণ অবস্থান করিতেছেন। এ অঞ্চল
ইহারা বেশ প্রসিদ্ধ। অধীনও এই অঞ্চলে একুশ বৎসর কাল
অবস্থান করেন। সুতরাং অধীনের সহিত এই ঘােষ বংশ নূতন
পরিচিত নহে।
১৯০২ খৃষ্টাব্দে ৭৮ বৎসর বয়ঃক্রমের সময় আশু
বাবুর মাতার কাশী ধামে মৃত্যু হয়। কাশীধামে ইনি একাদি-
ক্রমে বিশ বৎসর অবস্থান করিয়াছিলেন। কাশীবাসিনী হইয়া
ইনি জীবনের অবশিষ্ট কাল পর্যন্ত বেশ সুখে ছিলেন। দেবতা
দ্বিজে ভক্তি-পরায়ণ এমন বৃদ্ধা আদর্শ মহিলা তখন কাশীধামে
খুব কমই দেখিতে পাওয়া যাইত। প্রসন্ন বাবুর বাটীর সদর
অংশে একটা পাঠশালা ছিল। এই পাঠশালায় প্রথমে ৫৬
বৎসর অশুবাবু অধ্যয়ন করেন। বর্ধমান নিবাসী হরেরা
মুখোপাধ্যায় নামক এক ব্যক্তি এই পাঠশালার গুরু মহাশয়

• ছিলেন। এই গুরু মহাশয় শুভঙ্করী অঙ্ক বেশ ভাল জানিতেন। মনকসা, সেরকসা, মাসমাহিনা হিসাব এবং নামতা মুখে মুখে তাহার ছাত্রদিগকে শিক্ষা দিতেন। স্বর্গীয় ব্যারিষ্টার উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ( W. c. Bannerjee), ডাক্তার শ্রীযুক্ত অমূল্যধন বসাক ( Dr. A. R. Bysack Rai Bahadur ), প্রসিদ্ধ এটণী ও প্রবীণ লেখক মহেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বি-এ,বি-এল,মাননীয় যুক্ত ভূপেন্দ্র নাথ বসু মহাশয়ের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ত্রৈলক্ষ্য নাথ বসু, ক্ষেত্ৰনাথ মিত্র প্রভৃতি বহু গণ্য মান্য ব্যক্তি তৎকালীন সময়ে প্রথমে এই পাঠশালায় অধ্যয়ন করেন। পরে ইংরাজী শিক্ষা করিবার জন্য আশু বাবু প্রসিদ্ধ ওরিয়েন্টাল সেমিনারীতে ভর্তি হন। তখন ইহার বয়ঃক্রম ১০/১১ বৎসর হইবে। আশু বাবু যখন উপর শ্রেণীতে পড়িতেন তখন এই স্কুলে কেলাস চন্দ্র বসু মহাশয় ইংরাজী পড়াইতেন। বামাচরণ দত্ত নামক এক ব্যক্তি ভূগােল ও অঙ্ক ইঁহাদিগকে শিক্ষা দিতেন। কৈলাস বাবু এই স্কুলের তখন হেড মাষ্টার ছিলেন। তাঁহার সময় এই স্কুলটির ছাত্র সংখ্যা ও উন্নতি বেশ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়াছিল। কৈলাস চন্দ্র বসু প্রসিদ্ধ নাট্যকার ও অভিনেতা শ্ৰীযুক্ত অমৃত লাল বসু মহাশয়ের পিতা ছিলেন। অশু বাবু যখন স্কুলে পড়েন তখন ইহার পিতার আদেশ মত ইনি “Homer's illiad”এর খানিকটা পদ্যে তরজমা করেন। এই তরজমা দেখিয়া অশুবাবুর পর নাই খুব সন্তুষ্ট হন। এই বিষয়ে হঁহার পিতৃদেব ইহাকে উৎসাহিত করিতে থাকেন। প্রসন্ন বাবু নিজে একজন লেখক ছিলেন। কবিতাদি রচনায় তঁাহার হাত বেশ ধুলিয়াছিল। পুত্রের এই কাৰ্য দেখিয়া ইনি পিতা যার 1/ আশু বাবুকে বাঙ্গালা প্রবন্ধাদি রচনা করিতে মধ্যে মধ্যে বলি- তেন। সেই সময় প্রসিদ্ধ “প্রভাকর” ইহাদের বাড়ীর নিকট হইতে বাহির হইত। তৎকালীন সময়ে এই প্রভাকরই বেশ জনসাধারণকে আকৃষ্ট করিয়াছিল। প্রসন্ন কুমারের জ্যেষ্ঠ পুত্রের «Homen's Illiad” এর এই পদ্য তরজমা দেখিয়া কবিবর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত মহাশয় ইহাকে তাহার পত্রিকায় লিখিতে বলেন। গুপ্ত মহাশয়ের বারংবার অনুরােধ এড়াইতে না পারিয়া প্রথমে আশু বাবু এই প্রভাকরে তাঁহার রচনাবলী প্রকাশিত করেন। ঈশ্বর গুপ্তের দৈনিক ও মাসিক প্রভার পত্রিকা তখন আশু বাবুদের বাড়ীতে আসিত। ইহাদের সহপাঠী- গণ এই পত্রিকাখানি আসিলেই বেশ মনােযােগ সহকারে তাহ পাঠ করিতে বসিতেন। পরে ঈশ্বর গুপ্তের মৃত্যুর পর তাঁহার ভ্ৰাত ৰামচন্দ্র গুপ্ত এই প্রভাকরের সম্পাদক হন। তিনিও আশু বাবু ও তঁাহার বাল্যবন্ধু মহেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই প্রভাকরে লিখিতে বিশেষ জেদাজেদী করেন। তাহারই ফলে ইহারা দুই বন্ধুতে পুনরায় প্রভাকরে লিখিতে আরম্ভ করেন। তখন ইহাদের পাঠ্যাবস্থা। বয়স অনুমান ১৭/১৮ বৎসর। ২০/২১ বৎসর বয়ঃক্রমের সময় রিতীমত ইংরাজী বিদ্যা শিক্ষা লাভ করিয়া আশু বাবু কোন্নগর নিবাসী প্রসিদ্ধ বসুবংশের নব- গােপাল বসু মহাশয়ের জ্যেষ্ঠ কন্যাকে বিবাহ করেন। নবগােপাল বসুর কণিষ্ঠ কন্যাকে বাঙ্গালী ও বাঙ্গালার গৌরব মাননীয় রমেশচন্দ্র দত্ত মহাশয় বিবাহ করেন। পরে আশু বাবু এক সওদাগর অফিসের কর্মে নিযুক্ত হন। কিছু দিন এই কৰ্ম্ম করিতে করিতে ইহার স্বাস্থ্যভঙ্গ হয় ।

1
এই স্বাস্থ্যঙ্গের জন্য বায়ু পরিবর্তনের হেতু কিছুদিন
ইনি জামালপুরে অবস্থান করেন। ইহার পর কিছুদিন
ইনি রেলওয়ে অফিসে কৰ্ম্ম করেন। তাহার পর আশু বাবু
যশােহর জেলার অন্তর্গত বনগ্রাম সাহায্য কৃত ইংরাজী
বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে ৭ বৎসর কর্ম করেন। এই সময়
ইনি ইংরাজীতে লিখিত “Three Years in Europe” নামক
রমেশচন্দ্র দত্ত মহাশয়ের সুবিখ্যাত গ্রন্থখানির বাঙ্গালা অনুবাদ
“ইউরােপে তিন বৎসর” নামক গ্রন্থখানি প্রকাশিত করেন।
এই অনুবাদ কাৰ্যে ফৌজদারী আদালতের হেড ক্লার্ক ভুবনচন্দ্র
দত্ত মহাশয় ইহাকে বিশেষ সাহায্য করেন। বনগ্রামে ভীষণ
ম্যালেরিয়ার প্রকোপ হইলে ইনি বাধ্য হইয়া শিক্ষকতা কাৰ্য্য
ত্যাগ করেন। পরে ইনি রেলী ব্রাদার্সের অফিসের কর্মে নিযুক্ত
হন। এইখানে ইনি সুখ্যাতির সহিত অনেক দিন কর্ম করেন।
পরে বাঙ্গালা ১৩০২ সালে মাননীয় বঙ্গগৌরব রমেশচন্দ্র দত্ত
মহাশয়ের একধানি সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত ইনি প্রনয়ণ ও
পুস্তকাকারে প্রকাশিত করেন। এই পুস্তকের শেষ ভাগে
যে সকল কৰিতা আছে, সেই সকল কবিতা রমেশবাবুর
ইংরাজী পুস্তক হইতে ইনি তাহার বঙ্গানুবাদ করিয়াছিলেন ।
মাননীয় রমেশচন্দ্র সেই সময় আগুবাবুর পদ্যানুবাদ
গুলি ও তঁাহার বাঙ্গালা সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত খানি বেশ
ভাল করিয়া দেখিয়া দিয়াছিলেন। এই সংক্ষিপ্ত জীবনীতে
রমেশবাবুর জীবনের অনেক কাহিনী লেখক দিয়াছেন। আমা-
দের স্মরণ আছে, একসময় রমেশচন্দ্রের এই জীবনী খামির
আদর বেশ সকলের মুখে আমরা শুনিয়াছিলাম। দেশজ্য

= । la আচাৰ্য স্বামী বিবেকানন্দ তাহার কোন বিশিষ্ট বন্ধুকে কর্মবীর রমেশরে এই সংক্ষিপ্ত জীবনী খানি পাঠ করিয়া রমেশবাবুর একখানি বড় জীবন চরিত সঙ্কলন করিতে কয়েক বার বিশেষ অনুরােধ করেন। স্বামীজির বন্ধু এ বিষয়ের জন্য কয়েকবার রমেশবাবুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাহাতে মাকি রমেশবাবু বলিয়াছিলেন, “বাঙ্গালা দেশে জীবিত ব্যক্তির জীবন কাহিনী বিস্তৃত ভাবে আলােচনা করিবার সময় এখনও আসে নাই। আমাদিগের মধ্যে যে সব মহাত্মা জ্ঞানে, বিদ্যায় ও ধৰ্ম্মে বড় হইয়া গিয়াছেন, জীবিত কালে ভঁহাদিগের আদর বড় একটা দেখিতে পাওয়া যায় নাই। মৃত্যুর পর তাহাদিগকে সকলেই জানিতে পারিলেন। তবে এ প্রথা চিরকাল থাকিবে না। এমন সময় আসিবে যে, জীবিত ব্যক্তির জীবন চরিত তাহার জীবিত কালেই বাহির হইয়া যাইবে। তবে সে সময় এখনও কিছু দেরী আছে। আমি বর্তমানে ইচ্ছা করি না আমার একখানি বিস্তৃত জীবন-চরিত আমার জীবিত কালেই বাহির হয়। তবে আশুবাবুর বিশেষ জেদাজেদিতে তাঁহার অনুবােধ এড়াইতে না পারিয়া আমার জীবিত কালেই এই আমার সংক্ষিপ্ত জীবনী খানি প্রকাশিত হইয়াছে।” কবীরের সেই অতীত বাণী এতদিন পরে সত্যে পরিণত হইয়াছে। এক্ষণে কয়েক জন বিশিষ্ট জীবিত ব্যক্তির জীবন- চরিত ও তাঁহাদের মধুমাখা কাহিনী তাঁহাদেরই জীবিত কালে ৰাহির হইতে আরম্ভ হইয়াছে। রমেশচন্দ্রের সংক্ষীপ্ত জীবনী পুস্তকাকারে বাহির হইবার পর আবাৰু বিবিধ বিষয়ে অনেক গুলি সঙ্গীত রচনা করেন।

•
!
পরে বঙ্গাব্দ ১৩০৩ সালে ইনি সেই গুলি একত্রে সঙ্গীত-ভাণ্ডার
নাম দিয়া পুস্তকাকারে বাহির করেন। ইহার রচিত সঙ্গীত
বৈষ্ণব বাবাজীগণ, ও অনেক ভিখারী কলিকাতা সহরে ও
পল্লীগ্রামে দ্বারে দ্বারে গান করিয়া ভিক্ষা করিতেছে এইরূপ
কয়েকবার আমরা প্রত্যক্ষ করিয়াছি। শাবদীয় পূজার
সময় আশুবাবুর রচিত আগমনী সঙ্গীত (১) ত্বরা করি যাও গিরি,
আতে আমার উমাশশী, (২) গিরি আমি বঁচি কেমনে, এই
সে দিনও ভিখারী গাহিতেছে আমরা শুনিয়াছি। হঁহার রচিত
পরমার্থ সঙ্গীত গুলি বেশ ধৰ্ম্ম ভাব পূর্ণ। সঙ্গীত সম্বন্ধে যতগুলি '
বই পুস্তকাকারে বাহির হইয়াছে দেখিতে পাওয়া যায় তন্মধ্যে
“সীত-ভাণ্ডারের নাম সাহিত্য-সমাজে বেশ আছে। সম্প্রতি
লেখক ৭২ বৎসরে পদার্পণ করিয়া তাহার সঙ্গীত-ভাণ্ডার নামক
গ্রহের পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বাহির করিয়া-
ছেন। এই নূতন সংস্করণে ইহার অনেক গুলি বৃদ্ধ বয়সের
বুচিত নূতন গান সন্নিবেশিত হইয়াছে। সেই গুলিও আমাদের
বেশ ভাল বলিয়া ধারণা। এতদ্ভিন্ন ইনি আমাদের প্রতিবাসীর
জন্য “কর্মবীর রমেশচন্ত্রের জীবনালােচনা” শীর্ষক এক প্রবন্ধের ।
পাণ্ডুলিপি ইতিপূর্বে আমাদিগকে দিয়াছেন। তাহার কিয়দংশ
ইতিপূর্বে প্রতিবাসীতে বাহির হইয়া গিয়াছে, বাকী অবশিষ্ট
হস্তলিখিত কপি যাহা অমিাদিগের নিকট আছে তাহাও ক্রমশ
বাহির হইতে থাকিবে। এক্ষণেও আমাদের আশা আছে যে,
ইনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বাঙ্গালা সাহিত্য-সেবায় নিযুক্ত
থাকিবেন। ইতি-বরনগর ১৫ই আশ্বিন, ১৩২২।
সত্যচরণ মিত্র।

No text on this page.

No text on this page.

Sangeet-bhandar Ed. 2nd

Author
Ghosh,ashutosh
Title
Sangeet-bhandar Ed. 2nd
File name
Sangeet-bhandar Ed. 2nd
Text
OCR done
Citation
1915
Published
2009/12/14
Publisher
Ashutosh Ghosh,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
59
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Lyrics
Keywords
Ghosh,Ashutosh
DLI number
513217
Barcode
4990010020216.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
xQJVK75hPST
Download PDF

Sangeet-bhandar Ed. 2nd