Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Kusum-har Vol. 1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
কুসুম-হা।
প্রথম খণ্ড।
বর্ধমান জেলার অন্তর্গত নাচন গ্রাম নিবাসী
শ্ৰীশ্যামাদাস মুখােপাধ্যায় কর্তৃক বিরচিত।
সন ১৩১৯ সাল।
মূল্য ॥ আট আনা মাত্র।
৭০নং কলুটোলা ষ্ট্রীট, হিতবাদী পুস্তকালয় হইতে
মনোরঞ্জন বন্দোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত
৭ নং কলুটোলা স্ট্রীট, হিতবাদী ষ্টীম-মেশিন যন্ত্র হইতে
শ্রনীরদবরণ দাস দ্বারা মুদ্রিত।
কলিকাতা।
উনসর্গ-পত্র।
ভব-ভয়-ত্রাতা-ভব-কাণ্ডারী শিবরূপী মহামন্ত্রদাতা
পরমারাধ্য শ্রীশ্রীগুরুদেবের পবিত্র শ্রীচরণে
কবিতা কুসুম গ্রথিত এই হার খানি ভক্তি সহকারে
উৎসর্গ করিলাম।
( ১ )
শিবরূপী তুমি দেব সহস্রার দলে ;
পাতকীর ত্রাণ হেতু ভ্ৰমিহ ভূতলে।
ভব পারাবারে দেব তুমি হে কাণ্ডারী।
চরণ সরােজে তব প্রণিপাত করি।
( ২ )
জ্ঞানহীন দাস তব আজি শুভক্ষণে,
নবীন উদ্যমে মাতি বন্দি শ্রীচরণ।
ভক্তি সহকারে দেব তব
শ্রীচরণে
ভক্তি উপহার এই করিছে অর্পণ ॥
তুমি গুরু কৃপা সিন্ধু,
বিতরি করুণা বিন্দু,
নিজগুণে, এই অভাজনে।
ল’হ এই উপহার,
কবিতা কুসুমহার,
নিবেদন করি শ্রীচরণে।
শ্রীচরণাশ্রিত সেবক
নাচন
শ্রীশ্যামদাস।
১৩১৯।.
No text on this page.
বিজ্ঞাপন।
এই ক্ষুদ্র পুস্তকখানি হইতে যাহা সামান্য আয় হইবে
তাহা জাতীয় বিদ্যালয়ের ও প্রস্তাবিত হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্রবৃন্দের ধর্মশিক্ষার্থে ব্যয় হইবে। এবং ইহার প্রথম
খণ্ড পাঠকগণের প্রীতিকর হইলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড
ক্রমশ প্রকাশিত হইবে। ইহার সমস্ত সত্ব আমার রহিল
প্রকাশকের কোনও সত্ব রহিল না।
*
গ্রন্থকার।
No text on this page.
চীপত্র।
প্রথম অধ্যায়।
পৃষ্ঠা
. * *
c
অাগমনী
পুষ্পাওলি
অকাল বোধন
দেবীনামাবলী স্তোত্র
বিজয়া দশমী
দ্বিতীয় অধ্যায়।
৩৬
৫ ০
শ্যামা মা
শ্যামা নামাবলী স্তোত্রম্
চণ্ডী-মাহাত্ম্য
নিবেদন
তৃতীয় অধ্যায়।
প্ৰাস মহােৎসব।
বিষ্ণুনামাবণী স্তোত্র
চতুর্থ অধ্যায়।
বিষয়
পৃষ্ঠা
শিব-মাহাত্ম্য
শিব-নামাবলী স্তোত্র
৭
পঞ্চম অধ্যায়।
কবিবর নবীনচন্দ্র সেনের স্বর্গারোহণে শোকাচ্ছাস ৮১
জাতীয়-পতাকা
গো-মাতার সেবা
৯১
ধৰ্ম্ম-সংস্কার
ষষ্ঠ অধ্যায়।
১০
সৰ্বানন্দ ঠাকুর
বিরূপাক্ষ গােস্বামী
ঘাম গোস্বামী
১৩৬
সূচীপত্র সম্পূর্ণ ।
মঙ্গলাচরণ ।
গুরু-সঙ্গীত ।
।
সহস্রারে ওকে বিহরে
কিবা অপরূপ রূপ ত্রিভুবন আলো করে ।
রক্ত জ জিনিয়ে চরণদয়, ভক্ত-ভ্রমর হেরি মুগ্ধ হয়,
মম হৃদি সরোবরে হইয়ে উদয়, সৰ্বভয় নাশ করে ।
শিবরূপী সদা সহস্রার দলে, (আবার) মানব রূপেতে
মেণ ভূতলে, ব্ৰহ্মাও বাধা যার শ্রীচরণ কমলে,
শোভিছে বরাভয় করে।
কম ভাগে তার কেও কামিনী, কি দিব উপমা ভুবনমােহিনী,
পদ-পদ্ম যার স্থলপদ্ম জিনি শোভা পায় তায় সুবর্ণ নুপুরে
শুৰ মণিদাম দোলে সৰা গলে,
শােভিছে কুল কিবা শ্রুতিমূলে,
শ্যামাদাস বলে যার কৃপা হলে জয়ী হব আমি সংসার-সমরে।
( ২ )
ত্বংহি গুরু কল্পতরু কৃপা কুরু মােরে।
তব কৃপা বিনে কেবা সিদ্ধি লভিবারে পারে ।
ত্বংহি ব্ৰহ্মা ত্বংহি বিষ্ণু পূজিত চরাচরে ;
ত্বংহি শক্তি ভক্তি মুক্তি কাণ্ডারী ভবপারে ।
ত্বংহি সারাৎসার প্রভু এ অসার সংসারে ;
ত্বংহি পরমাত্মা রূপী সৰ্বজীবের অন্তরে।
ওহে গুণাকর, করুণাসাগর, কহে শ্যামাদাস কাতর অন্তরে;
(আমার) পামর মানস ভূঙ্গে রেখে সদা সহস্ৰারে ।
No text on this page.
কুসুম-হান।
প্রথম অধ্যায়
আগমনী।
( ১ )
সুষুপ্ত ভারত,
হইল জাগ্রত,
বৎসরান্তে আবার।
জগৎ হাসিল, আনন্দে ভাসিল,
শুভাগমনেতে মার ।
কুসুম-হার।
t
শুভ আগমন
করিছে ঘােষণ।
শুভ নহবত বাণী ।
সুম ধুর তানে
গেয়ে মার নাম,
উথলে অমৃত রাশি।
সুখ সরােবরে সকলে সাতারে
দশভূজা মায়ে হেরি।
বাজিছে উল্লাসে সবাকার হৃদে
অতুল আনন্দ ভেরী ।
( ২ )
ভারতের সুখ-সূৰ্য্য হইল উদয়,
উল্লাসিত আজি সব ভক্তের হৃদয়।
বসি পিক শাখী পরে,
কুহুরবে মনঃ হরে
ধীরে ধীরে প্রবাহিত সুগন্ধ মলয় ।
শরতে, শারদা সহ বসন্ত-উদয় ।
( ৩ )
আহা কি শােভারে আজি ভারত-ভবনে,
বাজাতেছে নানা বাদ্য বাদ্যকরণ
মাতিয়াছে মহোৎসবে আনন্দিত মনে,
করিছে সকলে মিলি পূজা আয়ােজন।
নব সহকার শাখা বাঁধে ঢারি ধারে
দেবদারু নারিকেল শাখাদি সহিত।
কুসুম-হার।
রােপিয় কদলীত প্রতিগৃহদ্বারে
করিছে সকলে দেবালয় সুশােভিত ।
দশভূজা মূৰ্ত্তি মার করিয়ে গঠন,
সাজাইছে তাঁরে সবে রত্ন অলঙ্কারে।
কি সাধ্য আমার তাহা করিতে বর্ণন,
পঙ্গুজন হিমালয় লঙ্ঘিতে কি পারে ?
সাধ্য যদি থাকে কারাে নক্ষত্র গণনে,
কিম্বা নদী-বালুকণা পারে গণিবারে ;
পারে মা কিঞ্চিৎ সে গো ওরূপ বর্ণনে ;
অজ্ঞান তিমিরাচ্ছন্ন জন নাহি পারে।
বামন হইয়ে আশা চাদ ধরিবারে,
অন্ধ হয়ে সাধ যেন লিপি অধ্যয়নে।
মুক হয়ে সাধ যেন গান করিবারে,
তদ্রুপ আমার আশা ওরূপ বর্ণনে ॥
কিন্তু হলে তব দয়া সকলি সম্ভবে
অসাধ্য সাধন হয় তব কৃপা বলে।
কটাক্ষে প্রলয়, সৃষ্টি হয় তব শিবে,
তরিতেছে কত পাপী “দুর্গা দুর্গা” বলে।
পাগল, যে রূপ হেরে. হয়েছেন হর ;
বিধি বিষ্ণু ধ্যানে যার অন্ত নাহি পায়।
৪
কুম হার।
ভকতি বিহীন আমি জ্ঞানহীন নর,
কেমনে বর্ণিব আজি সেই রূপ হায় ।
দক্ষিণ চরণ শশাভে কেশরী উপরে,
বাম পদতলে ওই হের না অসুরে।
ধন্য হে কেশরী তুমি বহু পােবলে,
আশ্রয় পেয়েছ আজি মার পদতলে।
ব্ৰহ্মাদি পূজিত পদ কেশরী উপরে ;
দেবতা-দুর্লভ পদ লভিল অসুরে!
বুঝিনু ও হরি নয় হবে বুঝি হরি (১)
অসুর ও নয় বুঝি হবে ত্রিপুরারী। (২)
নাচিতেছে পল্লীবাসী বালযুবাগণে,
সুসজ্জিত হয়ে তারা স্বদেশী বসনে।
উলু ধ্বনি করে বত কুলবালাগণ,
ভারত সন্তান সবে আনন্দে মগন ।
পুত্রহীনা জননী আনন্দে মাতােয়ারা,
ভুলি পুত্রশোক হায় ক্ষণকাল তরে ।
(১) “সিংহং হরিরূপপাসি স্বয়ং বিষ্ণুৰ্ণসংশয়ঃ ।
“পার্বত্য বাহন ঝুংহি অতত্ত্বাং পূজয়াম্যহম্।”
(২) “মহিষং মহাবীরঃ বিরূপঃ সদাশিবঃ।
অতত্ত্বাং পুজারামিক্ষম মহিষাসুর।”
কুসুম-হার।
পতি পত্নীহীন নরনারী আত্মহারা
হয়েছে অানন্দে মাগাে তব পদ হেরে ।
( ৪ )
‘মা’র শুভ আগমন এই মহােৎসবে ;-
দীন হীন বঙ্গবাসী,
ভুলি আজি দুঃখরাশি,
আনন্দে গাহিছে মার নাম উচ্চরবে ।
বহুদিন পরে আজি জেগেছে ভারত।
ভারত সন্তানগণ,
পূজিবারে শ্রীচরণ,
নিদ্রাতুর ভ্রাতৃগণে করিছে জাগ্রত।
{
তােরণ আকারে কতশত পুষ্পমালা,
শোভিতেছে প্রতিদ্বারে না যায় গণনা।
নিশি আগমনে নানাবিধ দীপমালা,
জ্বলিতেছে ধ্বক্ ধ্বক্ না যায় বর্ণনা।
শােভিতেছে চন্দ্রাতপ মন্দির বাহিরে,
নানাবিধ অভিনয় হয় স্থানে স্থানে।
কেহ নাচে “মা ! মা!” বলে আনন্দের ঘোরে,
আকাশে মিশিছে ধ্বনি সমীরণ সনে।
কুসুম-হার।
আজি কিবা কাৰ্য ভাই বিবিধ আলােকে,
রূপের প্রভায় মার চপলা চমকে।
অজ্ঞান তিমির তিনি করেন হরণ,
সামান্য তিমির নাশে অলে। কি কারণ?
বাজিতেছে কত বাদ্য শঙ্খ, ভেরি, তুরি,
দেবালয়ে দুর্গামার নাম গান করি।
সুমধুর তানে বাশী,
বাজিতেছে অহনিশি;
মার গুণগানে হের আজি সে মগন ;
মত্ত হয়ে মা মা ধ্বনি করে অনুক্ষণ ।
বাজ, বাঁশি আজি তোরে কে করে বারণ ;
কিন্তু কহি এক কথা রেখরে স্মরণ।
যদি ভাগ্যদোষে হায়, কেহ মাকে ভুলে যায়,
সুধাস্বরে মার নাম গাহিয়া অাবার,
জাগাইও এই ভাব অন্তরে তাহার।
( ৭ )
করি বাণী সুধা মাখা মা’র নাম গান,
অনুক্ষণ কত সুধা করিয়া সে পান,
সাননে শ্রোতার কর্ণে করিতেছে দান,
সেই হেতু বাশীরব সুধার সমান।
৭
~~~~~
কুসুমহার।
কেহ ধূপ দীপ অনে কেহবা নৈবেদ্য,
ঢাক, ঢোল, শঙ্খ আদি বাজে নানা বাদ্য।
কি শোভা হয়েছে আজি মরি হায় হায় ;
হয়েছে। ভারত ভূমি ত্রিদিবের প্রায়।
কুমুদ কলার উৎপল শেফালিকা,
রক্ত শুক্ল করবীর জরা ও মল্লিকা।
অপরাজিতা টগর গাদা শতদ্রোন,
ইত্যাদি কুসুম সবে করে আহরণ।
অগুরু ও শ্বেত রক্ত ত্রিবিধ চন্দন,
কুঙ্কুম কপূর শঠী জটামাংসী আর ;
গাটিয়ালা গোরােচনা করি অন্বেষণ,
ভক্তগণ দেন গন্ধ বিবিধ প্রকার।
জবা কোকনদ আদি তুলিয়া যতনে
মহামহোৎসবে মাতি যত ভক্তগণ,
সমর্পিছে ভক্তিভাবে ও রাঙ্গা চরণে।
বলিদান করি সবে আনন্দে মগন ।
ভক্তিভরে কর জোড়ে যত ভক্তগণে
পূজিছে ত্রিদিব সেই বিলােক-তারিণী।
ছাগ মেষ মহিষাদি কত বলিদানে,
ঘন ঘন মা মা শব্দে কম্পিত মেদিনী।
কুসুম-হার।
marion
বলিপ্রিয়া বলির দুর্গে দাক্ষাণী,
বলিদানে তুষ্ট তুমি হও গো জননী !
তাহে মা যতেক তব ভারত সন্তান
ছাগাদি অনেক পশু করে বলিদান ।
কিন্তু স্কুলদশী যারা তারাই কেবল,
পশুগুণে বলি রূপে করে সম্প্রদান।
তত্ত্বজ্ঞানীগণে তাহে হয়েন চঞ্চল,
বাহ্য পূজা ত্যজি হৃদি পূজিবারে চান
পুস্পাঞ্জলি।
পূজিছে ভারতবাসী আজি মা তােমায়,
অর্পি নানা উপহার তব রাঙ্গা পায়।
দীন হীন আমি মাগাে কি দিয়া পূজিব ;
তব যােগ্য উপহার কোথায় পাইব ।
হৃদয়-সরেজে মম বস শবাসনা,
তশ্রু দ্ভিয়ে ধৌত করি ও রাঙ্গা চরণ।
দেহস্থ আকাশে পুষ্প করেছি কল্পনা,
করিব নিঃশ্বাস বায়ু ধুপ সমর্পণ ॥
আছে মা হৃদয়ে অগ্নি দীপ হবে তাের,
হৃদয় সুধাম্বুধি হইবে, নৈবেদ্য ।
আছে মা সকল দ্রব্য কি ভাবনা মাের,
ষড় রিপু দিব.বলি করিগাল বছি ।
হইয়াছে কিন্তু মোর অসির অভাব,
ভাগ্য হীন আমি কিসে করি বলিদান।
স্বভাবে ত্যজিয়ে আজি কৃপণতা ভাব,
এলােকেশি জ্ঞান-অসি কর সম্প্রদান।
কুসুম-হার।
কৰ্ম্ম হ'তে জ্ঞান হয়, জ্ঞান হ'তে ভক্তি,
ভক্তি হতে মুক্তি হয় জানি মা বেদোক্তি।
কর্মহীন আমি হায় কি উপায়ে তরি,
কাণ্ডারী বলেছে মােরে তব নাম তরী।
(২)
মন সখা সনে সদা তব নাম করি ।
নাহি জানি স্তব স্তুতি, কি হবে আমার গতি,
নিরূপায় হয়ে আমি তব নাম স্মরি।
দুর্গে ভব-পারাবারে, করুণা করিয়ে মোরে,
জ্ঞানহীন অধমে দিও মা পদ-তরী
মানস মুকুরে যেন তব রূপ হেরি ।
;
অভাগার পূজা ক্রম শুন মা শরি !
তব নাম মম মন্ত্র, গুরু উপদেশ তন্ত্র,
মন্ত্র মাের শ্রীগুরুর অভয় চরণ ।
দিব তােৱে উপহার,
ভকতি কুসুম-হার,
গুরু ধ্যানােচ্ছন মাঝে করিয়ে চয়ন ;
হয় নাই প্রস্ফুটিত তাই হয় দেরি :
(৩)
কর মা সেচন,
জ্ঞানরূপ বারি,
মাের হৃদি তরুমূলে।
ভক্তি পুষ্প তাহে
হবে প্রস্ফুটিত
যাহে মােক্ষ ফল ফলে।
কুসুম-হার।
১১
হেরিয়ে সে পুষ্প
এই বিশ্বশুরু
পাপ ফলে ভরা
শাখা অপকৰ্মচয়।
ইন্দ্রিয় নিচয়
হায় পত্র তার
মদন প্রন হয়।
মাররূপালতা,
সে তরু বেষ্টিত
কাম পুষ্প প্রস্ফুটিত।
সতত জননি
হইতেছি বিমােহিত।
( ৪ )
স্মর হানে নিজ শর, শিবে মোরে রক্ষা কর,
শ্রীচরণে লইনু শরণ।
ভবে কোন ভয় আর, থাকে না মা সে জনার,
তব নাম সে করে স্মরণ ।
(৫)
ভীষণ সংসার-কূপে হয়েছি পতিত,
দুঃখ-সর্প যথা হয় ভ্রমে শত শত।
বিস্তৃত করিয়ে তারা বিকট বদন,
নিয়ত আমারে মাগাে করিছে দংশন।
! না! মা সংসার বটে অতল সাগর,
ভ্রমে যথা কালরূপ কুম্ভীর হাঙ্গর।
বিস্তৃত করিয়ে তারা বিকট বদন,
গ্রাসিতে আসিছে শিবে কর নিবারণ ।
১২
কুসুম-হার।
৭ ** , , r's
FArn
নিজ গুণে দশভুজা, লহগাে মা মাের পূজা,
কহে দাস জোড় করি কর।
পৃজিতে তােমার শক্তি, * নাহি মা আমার শক্তি,
কাতর কিঙ্করে কৃপা কর ।
(৭)
পূজিলে ও রাঙ্গা পদ সৰ্ব্বাপদ যায় ।
দুর্দান্ত মহিষাসুর,
; জিনি যবে স্বর্গপুর,
সদর্পে লভিল হয় ইন্দ্র সিংহাসন ;
দেবগণ সকাতরে, সকলে পূজিলে তােরে,
দশভূজা হয়ে তারে করিলি নিধন ।
তব কৃপা বলে ইন্দ্র পুনঃ রাজ্য পায়।
পৃজিলে ও রাঙ্গাপদ যায় সৰ্বশোক।
পূৰ্ব্বে ছিল মহাতেজা,
সমাধি সুরথ রাজা,
দৃশভূজা পূজা যারা প্রকাশে ধরায়।
ভক্তি ভরে দুর্গে তােরে, পূজি নানা উপহারে,
শহস্তগত রাজ্য পায় পুনরায় ।
অন্তে গেল দেবীলোকে করি সুখভােগ ।
* “শক এই শব্দ ঐশ্বৰ্য্যবাচক এবং তি এই শব্দটি পরাক্রমবাচক,
সুতরাং যিনি ঐশ্বৰ্য্য ও পরাক্রম স্বরূপ হইয়া ঐ উভয়কে প্রদান করেন,
তাহার নাম শক্তি।”
অকাল-বােধন।
(১)
শিবে ভব ভয়হরা, তুমি সদানন্দ দারা,
কত খেলা খেল ভক্তে লয়ে।
বরপুত্র দশনিনে, বিনাশিলে কি কারণে,
ত্রিলােকের আধিপত্য দিয়ে।
বসন্তের সমাগমে, মহাধুমে লঙ্কাধামে,
দশানন পূজিত তােমায়।
তুমি দুর্গে করে ছল, দিলে তারে প্রতিফল,
করিলে মা নিৰ্বংশ তাহায় ।
(২)
জানকী হরিয়ে যবে সেই দশানন,
অশােক কানন মাঝে রাখিল তাহায় ;
সন্ধান পাইয়ে তাহা শ্রীরঘুনন্দন,
কপি সঙ্গে নানা রঙ্গে আইলী লঙ্কায়।
(৩)
ভীষণ সমরনল জলিল তথায় ।
দশানন রণাঙ্গণে, ক্লান্ত হয়ে রাম বাণে,
“কোথা দুর্গে” বলে যবে ডাকিল তােমায়।
১৪
কুসুম-হার
কর্ণে না শুনিলে তাহা, তব কি পাষাণ হিয়া,
অটল অচল সম রৈন্স বসি হায় ;
অচল-নন্দিনী তার হলে না সহায় ।
ধিক্ শক্তি তাের শক্তি ধিক্ তাের অসি !
নাহি তাের পুত্র-স্নেহ, মা মা বলি আর কেহ,
ডাকিবে না তোরে বুঝি ভুবন ভিতর।
বিপদেতে কেহ কার, তুই বিনে নাহি আর,
রাবণ ডাকিল তাই হইয়ে কাতর ।
কিন্তু তুমি কি মা রহিলে নিশ্চিন্তে বসি ?
(৪)
! না ! ভক্তবৎসলে,
ভক্ত হেতু সেই কালে,
কেঁদেছিল বড় তব প্রাণ।
তীক্ষ্ণ অসি ধরি করে, তুমি “মাভৈ মাভৈ” করে
অভয় করিলে তারে দান।
(৫)
সম্ভব কি হয়,
কাদিলে তনয়,
স্থির হয়ে থাকে মাতা।
কাদিলে সন্তান,
কঁদে মার প্রাণ
মর্মস্থলে পায় ব্যথা।
# কুসুম হার।
fran
ধরি তীক্ষ্ণ অসি উন্মাদিনী প্রায়,
যাইয়ে সে রণস্থলে,
জুড়াইলে আহা! সন্তাপিত হিয়া,
প্রিয়ভক্তে লয়ে কোলে ।
(৬)
কার সাধ্য করে রণ,
তব ক্রোড়ে দশানন,
রাঘব ত্যজিল ধনুঃশর।
হইলেন আত্মহারা
পড়ে কত অশ্রুধারা
স্তব করে জোড় করি কর।
“সুদুর্লভ যােগমার্গে,
ভবভয়হরা দুর্গে
অরি মম ক্রোড়ে তব রয়।
দেবগণ তার ভয়ে
ভীত সদা দেখ চেয়ে
দুষ্টেরে নাশিলে যাবে ভয়।
ওই দেখ কঁদিয়েছে, অশােক কানন মাঝে,
প্রাণপ্রিয়া জনক-নন্দিনী।
মূচ্ছিতা ‘হ নাথ” বলি, কেমনে দেখিছ কালি,
সতি পতি-ভক্তিপ্রদায়িনী ।
কেন রণসাজে সাজি, রণাঙ্গণে তুমি আজি,
কেন তব ক্রোড়ে দশানন ?
ত্যজ তারে শিব-সতী, উদ্ধারি জানকী সতী,
দুষ্টে আজি করিয়ে নিধন।”
১৬
কুসুম-হার।
\
উত্তরিলে তুমি তারে
“কেবা হেন
শক্তি
ধরে,
প্রিয় ভক্তে করিবে নিধন!
ধরিয়াছি অসি আমি, রক্ষিবারে লঙ্কামী,
সাধ্য যদি থাকে দেহ রণ।
( ৭ )
কে যুঝিবে তব সনে বল মা শঙ্করি !
ত্বংহি সৰ্ব্ব-শক্তি-দাত্রী, জগৎ-পালন কত্রী,
বিশ্ব-প্রসবিনী কেন কহ হেন কথা।
কিন্তু যদি ভক্তগণে,
তােরে ভক্তিবাণ হানে,
তখন জননি প্রাণে পাও বড় ব্যথা।
ভক্ত স্থানে পরাজিতা ত্বংহি শুভঙ্করী ।
-
সৰ্ব্ব-শক্তি-াত্রী তুমি তন্ত্রে বলে শিব।
ব্ৰহ্মারে সৃজনশক্তি, মহেশে সংহার-শক্তি,
কেশবে পালন-শক্তি প্রদান করিলে।
কুণ্ডলিনী শক্তি হীন, * হন যদি পঞ্চানন,
শব প্রায় পড়ে থাকে তব পদ তলে।
রাঘবে যুঝিতে বল একি অসম্ভব!
* “শক্তি বিনা মহেশানি! সদাহং শবরূপক
শক্তিযুক্তো যদা দেবী শিববাহহং সর্বকামদ
কুসুম-হার।
''
(৮)
আদ্যাশক্তি সনে,
যুঝে হেন শক্তি,
কার আছে ত্রিভুবনে।
চরণ কমলে
ব্ৰহ্মাণ্ড উদ্ভব,
পুনঃ লয় ও চরণে ॥
(৯)
রণে ভঙ্গ দিয়ে তবে, বৃঘুমণি মনোক্ষোভে,
শিবিরেতে হৈল আগুয়ান।
“জয় দুর্গা” জয়োল্লাসে, উচ্চারিয়ে নিজবাসে,
দশানন করিলা প্রস্থান।
( ১০
শােকাকুল রঘুমণি কহে বিভীষণে,
“হইল না বুঝি আর জানকী উদ্ধার ।
সদয়া যে জগন্মাতা দুষ্ট দশাননে ;
বিভীষণ কহে “সখা কি ভয় তাহার ?
( ১১ )
“দুষ্ট দশানন,
করেছে বন্ধন,
ভকতি পাশেতে তঁারে।
নানা উপহারে তুমি রঘুমণি,
ভক্তিভরে পূজ মারে।
১৮
কুসুম-হার।
দয়াময়ী মাতা
প্রকাশিবে দয়া
বদ্ধপাশ ছিন্ন হবে।
অবহেলে তবে
রাবণে নাশিয়ে
জানকীরে উদ্ধারিবে।”
( ১২ )
বিভীষণ বাণী শুনি শ্রীরঘুনন্দন,
করিলা অকালে মার পূজা আয়ােজন।
অঞ্জনানন্দন আনে সুনীল কমল,
অষ্টোত্তর শত সংখ্য অতি সুকোমল ॥
গঙ্গোদকপূর্ণ
হেম কুন্ত এক,
রাথিলা সম্মুখে তঁার।
বাঞ্ছিত নীলজ,
রাখিলা পার্শ্বেতে,
অর্পিতে চরণে মার।
গণ্ডস্থল বাহি, পড়ে অশধারা,
মরি মরি মরি আহা!
জোড় করে কত,
করিলেন স্তব,
যায় বর্ণনা তাহা ।
( ১৪ )
কিন্তু তুমি মহামায়া অত্যন্ত পাষাণী ;
হল না করুণা তায় পাষাণনন্দিনী।
কুসুম-হার।
সংকল্পিত যত পদ্ম তােমার কারণ,
তুমি মা একটী তার করিলে হরণ ।
( ১৫ )
অকুল পাথারে,
দেখিয়ে রাঘব কঁদিয়ে অকুল,
বুঝি নাহি কুল আর।
ভাসায়ে তাহারে,
দিলে প্রতিফল তার।
বালুকাদিপূর্ণ, মরুভূমি মাঝে
থাকয়ে কি কভু জল?
রাম কৈল পূজা,
তোরে দশভূজা,
আঁখিজল তার ফল !
বল মোরে শিবে,
তারে কোন পপি
ভাসাইলে আঁখিনীরে।
কঁদিয়ে কি যায়
জনম তাহার
যে জন ভাকয়ে তােরে ।
যদি বল তুমি
পুত্রশত্রু যেবা
মাতৃশত্ৰু সেইজন।
ভক্ত পুত্র সম
বিচাৰিলে মনে
পুত্র তব দশানন ?
তোমার সন্তান
নহে কি রাঘব
বল বল শিবে মোরে ?
কুসুম-হার। - Asia --- প্রসবিলে তুমি বিরিঞ্চি বিষ্ণুরে আদিদেব মহেশ্বরে। পূর্ণ ব্ৰহ্ম রাম কাদিলেন তিনি কেমনে হেরিলে শিবে ? বিস্মৃতাত্মা হায় শাপহেতু তিনি পরিচয় কিসে দিবে । তুমিত সৰ্ব্বজ্ঞা তবে কেন তুমি তাহারে হইলে বাম ? ভক্ত, সৰ্বশ্রেষ্ঠ তাই কি জননি রিপু হলো তব রাম ? ক্ষণকলি পরে তবে রঘুমণি বিচারিলা নিজমনে। কমলাক্ষি মােরে কহে সর্বজন দিব আঁখি কাটি বাণে। এত বলি রাম নিল ধনুর্বাণ উদ্যত কাটিতে আঁখি। হলে কি পাষাণী তখন জননি তব প্রতি ভক্তি দেখি । ধরি তর করে তুমি মা কাতরে কহিলে মধুর বাণী ! “ভক্তির পরীক্ষা হইয়াছে শেষ শুন ওহে রঘুমণি।
কুসুম-হরি। হইনু সন্তুষ্ট আমি হে রাঘব যাহ। ইচ্ছা লহ বর।” কহিল রাঘব “যদি দিবে বর ত্যজ তুমি লঙ্কেশ্বর ॥” “তথাস্তু” বলিয়ে অন্তর্ধান হলে হৃষ্ট চিত্ত সীতাপতি। ভীষণ সমর বাধিল অবার ভয়ে কাপে বসুমতী। তীক্ষ বাণ রাম মারেন রাবণে জর্জরিত লঙ্কেশ্বর। ভয়ে দশানন কহে উচ্চৈস্বরে “কোখা দুর্গে রক্ষা কর।” শুনিলে না কথা; হ’ল না মা ব্যথা, যত ডাকে দশানন। ব্ৰহ্মাস্ত্র নিক্ষেপি বধিলেন তরে পূর্ণব্রহ্ম সনাতন । বল মোরে শিবে তুমি কোন্ পাপে তেয়াগিলে দশাননে ? তােমা বিনে দুর্গে অন্য কিছু নাহি জানে। দুষ্ট দশানন জানকী সতীরে ভাসাইল আঁখি নীরে।
૨૨ কুসুম-হার। হেরিতে না পারি সতী আঁখি জল ত্যজিলে কি সতি তারে ? ক্লান্ত রাম বাণে যবে রক্ষোরাজ ডাকে “রক্ষ দুর্গে” বলে। কেন গাে জননী হইলে পাষাণী নিলে নাহি তারে কোলে ? শুনগো জননি পাষাণনন্দিনী তবে কে পূজিবে তােরে ? প্রিয় ভক্তে তব নাশে অন্য জনে, হায় দুর্গে তব বরে ! ! না ! দয়াময়ি ভক্তবৎসলে কে বুঝিবে তব লীলা। ভক্তের লইয়ে সদানন্দময় কর গাে মা কত খেলা । উদ্ধারিতে তারে ধরাতলে অবতার। অপূৰ্ব্ব কাহিনী সে গুপ্ত রহস্য কে বুঝিবে মা তোমার। সীতারূপে হায় করিলে ক্রন্দন তুমি মা অশোক বনে। কামরূপে তুমি ধরি ধনুর্বাণ নাশিলে গাে দশাননে । ব্ৰহ্মশাপ হেতু কুসুম-হার যেবা তব ভক্ত কার সাধ্য হেন করিবে অনিষ্ট তার। ভক্তবৎসলে বুঝি এখন জগতে ভকতি সার । ভক্তের হৃদয়ে কভু শত্রুভাব কিম্বা থাকয়ে কি দ্বেষ। থাকিলে সে ভাব পারে কি লভিতে তোমার দয়ার লেশ। যদি বলে লোকে “দুষ্ট দশানন কেমনে লভিল দয়া”। পরম পণ্ডিত লঙ্কা অধিপতি দয়া ভক্তি পূর্ণ হিয়া। যখন যে কাজ করিতেন তিনি অর্পিতেন তোরে ফল। “যা করাও তুমি তাহা করি আমি ছিল তার এই বল । শাপে উদ্বারিতে নরে শিক্ষা দিতে করাইলে দুষ্ট কাজ। নহে পাপভাগ “যা করাও দুর্গে” কহিতেন লঙ্কারাজ। ব্রহ্মশীপ ভ্রষ্ট ভক্ত দশানন তাহারে করিলে ত্রাণ।
২৪
কুসুম-হার।
দয়াময়ী মাতঃ
অবিজ্ঞ মানবে
সুনীতি করিলে দান।
অতিশয় কিছু
নাহি হয় শুভ
শিক্ষা দিলে তুমি নরে।
কি হয় অন্তিমে
সদা সতীজনে
ভাসাইলে আঁখি নীরে।
(১৬)
শক্তি উপাসক হয়ে নিলে যে বিষ্ণুরে,
তব দয়া সেইজন লভিতে না পারে। *
দশানন ভক্তিভরে, পূজি নানা উপহারে,
দ্বেষভাব হেতু হায় সবংশে মজিল ;
তার প্রতি তাই তব ক্রোধ উপজিল।
(১৭)
তুমি নানা মূর্তি ধরি, ধরা তলে অবতরি
কত শিক্ষা দাও মা মানবে ।
হয়ে তুমি মা অর্পণ কাশীধামে অন্নপূর্ণা
দূর কর ভব-ক্ষুধা শিবে ।
* “শক্তি নারায়ণো ব্ৰহ্মঃ ত্রয়স্তুল্যার্থ বাচকাঃ।
শব্দ মাত্র বিভেদো হি ন তু ভেদঃ কচিদ্ভবেৎ।”
কুসুম-হার।
(১৮)
দুর্গে দুঃখহরা,
সদানন্দ-দার।
অভাজনে দয়া কর ।
থাকে যেন মতি
তব গুণ গানে
দয়াময়ি দেহ বর।
দেবীনামাবলী স্তোত্র।
( বর্ণমালানুসারে )
অদ্রিজা অবিদ্য।
অর্পণা অন্নদা
অপরাজিতা অভয়া।
অসীতবরণী
অসুরনাশিনী
অম্বা অশুিতোষ জায়॥
অশিবনাশিনী
অপবর্গদাত্রী
অন্তরাত্মা স্বরূপিনী ।
ঈশানী ঈশ্বরী
উগ্রচণ্ডা উমা
এলোকেশী কাত্যায়নী ।
কপর্দকামিনী
কুমারজননী
কালী কঙ্কাল-মালিনী।
কলুষহারিণী
ক্লেশনিবারিণী
ত্বংহি কুলকুণ্ডলিনী।
কালভয়হরা
কৃত্তিবাস দারা
করুণাময়ী-কেশিনী।
কৈটভনাশিনী
কৈলাসবাসিনী
কাম্য, কৃতান্তদলনী।
কুসুম হার। Aas AAA গণেশজননী গিরীন্দ্র দুহিতা গৌরী গজেন্দ্রগামিনী। গজাননমাতা জয়মা গিরিজা ত্বংহি গায়ত্রী-রূপিনী । চন্দন চৰ্চিতা চঞ্চলা চণ্ডিকা চণ্ডমুণ্ডবিনাশিনী। চতুৰ্বর্গদাত্রী চামুণ্ডা চিন্ময়ী ছিন্নমস্তা স্বরূপিনী। জয় জগদ্ধাত্রী জগ-জনয়িত্রী জয় জটাধর-জায়া। জগৎজননী জীবাত্মারূপিনী জ্যোতির্ময়ী জবাপ্রিয়া । তুমি ত্রিলােচনী ত্রিশূলধারিণী তারা ত্রিলােকতারিণী। ভবের তরঙ্গে তুমি মা তরণী ত্বংহি ত্রৈলােক্যমােহিনী। দশমহাবিদ্যা দুর্গে দাক্ষাণী দক্ষিণা দৈন্যবারিণী। দেবী দয়াময়ী দিগম্বরী দৈত্যনাশিনী । ত্বংহি ধরাধাত্রী ত্বংহি নগেন্দ্ৰনন্দিনী। ত্বংহি দশভূজা ধীরা ধূমাবতী
২৮
কুসুম-হার।
A
নাগ-বিভূষণা
নিত্যানন্দময়ী
ত্বংহি নিৰ্ব্বাণদায়িনী।
পাৰ্বতী প্রকৃতি, *
প্রলয়কারিণী
পরমাত্মাস্বরূপিনী।
পতিতপাবনী
প্রণবস্বরূপা
পিতৃকানন । বাসিনী ।
ত্বংহি ভাবতী
ভবভয়নিবারিণী।
জু ভদ্রেশ্বরী
ত্বংহি ভয়ঙ্করী
জয় মা ভব-ভাবিনী ।
জয় ভদ্রকালী
ত্বং ভুবনেশ্বরী
জয় ভূতেশসঙ্গিনী।
ভৈরব ভবানী
মঞ্জিরধারিণী
জয় মা মুণ্ডমালিনী।
জয় মহাবিদ্যা
মধুপাননান্মত্তা
ত্বংহি মন্ত্রবাসিনী।
১৮ “প্র অর্থাৎ প্রকৃষ্ট বা আদি এবং কৃতি অর্থাৎ সৃষ্ট, সুতরাং
যিনি সৃষ্টির আদি, তাহার নাম প্রকৃতি। অথবা বেদে প্ৰশব্দে আদিগুণ
অর্থাৎ সত্ত্বগুণ বুঝায় এ কৃ শব্দে রজোগুণ এবং তি শব্দে তমােণ্ড
বলিয়া নির্দিষ্ট অংছে, সুতরাং যিনি ত্রিগুণস্বরূপিনী, তিনিই প্রকৃতি।”
কুসুম-হার। মহিষমর্দিনী মরুরূপিনী মহাপ্রলয়কারিণী। মাণিক্যভূষিত মেনকা-দুহিত। মূল প্রকৃতি মােহিনী। মহাকাল কান্তা মাতঙ্গী মাতৃকা জয় মশানবাসিনী ॥ জয় যােগমায়া যোগেশের জায়া যােগাদ্যা যোগবাসিনী। রূপসী রেবতী জয় রক্তদন্তী রবিজ ভয়বারিণী । ত্বংহি রণোন্মত্ত। রক্তবীজ-হন্ত্রী রজতগিরিবাসিনী । ত্বং লােলরসনা জয় লোকমতি ত্বং লম্বােদরপালিনী । বাসন্তী বিজয়া জয় বিশালাক্ষী ত্বং বারাণসীবাসিনী। ব্ৰহ্মাণ্ড প্রসূতি ব্ৰহ্মস্বরূপিনী জয় মা বিশ্বজননী। বাৎসল্যময়ী বিভীষিকাহরা বরদা বিন্ধ্যবাসিনী। বিপক্ষমর্দিনী ব্যসনহারিণী ত্বং বিঘ্নহর-পালিনী।
কুসুম-হার। শৌরী পূজিতা শৈলজা শৰ্ব্বাণী শত্রব নাশিনী শিবদাত্রী শুভঙ্করী । শালবাহিনী শ্মশানবাসিনী জয় শারদা শঙ্করী ॥ শৈলরাজসূতা জয় মা শ্যামা শিবাণী শিব-সিমন্তিনী শ্মশানবাসিনী শমন-শঙ্কাবারিণী। জয় শান্তরী জয় শবাসনা শুক্রশিষ্যবিনাশিনী। শ্রীখণ্ড চৰ্চিতা শিবে শ্রীকান্ত-জননী। জয় মা ষোড়শী ষটচক্রস্থিত ষড়ানন-প্রসবিনী। জয় সিদ্ধবিদ্যা সুরেন্দ্রসেবিতা সুরেশ্বরী সনাতনী । শ্ৰীকণ্ঠ প্রসূত সাবিত্রী সারদা সন্ধ্যাস্বরূপিনী সুবচনী-সিদ্ধেশ্বরী । ত্বং সিংহবাহিনী সদানন্দ-দারা সৰ্বময়ী সর্বেশ্বরী । স্বয়ম্ভু পূজিতা পাহা-স্বরূপিনী সাধক সিদ্ধিদায়িনী।
কুসুম-হার।
৩১
জয় হরপ্রিয়া
ত্বং সর্বমঙ্গলা
সংহারকারিণী
সচ্চিদানন্দরূপিনী ।
সতী হৈমবতী
ত্বং হিমালয় দুহিতা।
জয় হরিণাক্ষী
হয়গ্রীবহরা
হৈমবলয়-ভূষিতা ॥
বিজয়া দশমী।
(১)
আনন্দ পূরিত হয় ভারত ভিতরে,
কেন শুনি আজি হেন রােদনের ধ্বনি।
মগন সকলে কিবা বিষাদসাগরে
হইয়াছে সবে যেন মণিহারা ফণি।
অহা যে ভারত মার শুভ আগমনে,
ত্রিদিব ত্রিদিব সম হয়েছিল হায়।
কেন রে বিষাদ স্রোত বহি সেই স্থানে,
ভারত সন্তানে আজি বলে ভাষায়।
জন কোলাহল পূর্ণ ছিল দেবালয়,
বাদ্যভাণ্ড কেন নাহি বাজেরে এখন ;
যে দিকে ফিরাই আঁখি হেরি তমােময়,
ভাঙ্গিল কি তবে আজি সুখের স্বপন।
আনন্দ তুফানে সবে ভাসিছিল হায়,
বিষাদ-সাগরে অজি করিলা মগন
দশমী প্রচণ্ড বায়ু বহিয়ে তথায় ;
তাই কি ভারতবাসী করিছে ক্রন্দন ?
কুসুম-হার। দশমী বহু কি আননদ সূর্যের অসিয়ে করিল গ্রাস ? তাই কি ভারত অন্ধকার হেরি পাইয়াছে মনে ত্রাস ! কার বিসর্জন প্রতিমূৰ্ত্তি মার ভাসে সবে আঁখিনীরে ॥ মুখে নাহি কথা অন্তরেতে ব্যথা কর দিয়ে আছে শিরে ॥ আহা কি আনন্দ আরম্ভ যে দিনে হৈল মা বোধন তব। কাল দশমীতে মাতৃহারা সবে হেরি যেন সবে শব ! বুঝিনু সংসারে চিরদিন কিছু নাহি থাকে বিদ্যমান। সুখ দুঃখ দোহে রথ চক্রাকারে সদা হয় ঘূর্ণমান। হের গাে জননি নিবেদি তােমারে ধরি তব রাঙ্গা পায়। ভারত কেমন বিষাদ সাগরে সাঁতার দিতেছে হয়। হের গাে ভারতি ভারতের আজি দুর্দশা হয়েছে কিবা।
কুসুম-হার।
ডাকে মা! মা! বলে ভাসে আঁখি জুলে
নাহি জ্ঞান রাত্রি দিবা ।
মাতৃহীন শিশু
ডাকি প্রাণ ভরে
মা মা বােলে মাতোয়ারা।
বুঝিয়াছে আজি
কতেক যন্ত্রণ
হলে হায় মাতৃহারা ।
কেন গাে জননি
দেও উত্তর
পাষাণী হলে কি তবে ?
সহজেতে দয়া
নাহি হয় তব
জানিলাম এবে সবে ।
( ৩ )
এস তবে ভ্রাতৃগণ করি মার সনে রণ,
ভকতি পাশে বাঁধি তারে।
সদা হয়ে সাবধান হানি গুরুদত্ত বাণ
দেখি মাতা যায় কি প্রকারে ।
( ৪ )
কে বলে হে মােরা মাতৃহারা ?
মাতৃহীন হব যবে,
থাকিব কি ভবে তবে,
সম্বর ক্রন্দন সবে ওহে ভ্রাতৃগণ।
শুদ্ধ চিত্তে যােগাসনে, বসি মায়ে ধর ধ্যানে,
সতত করহ মার গুণ সংকীৰ্ত্তন ;
পরমাত্মা রূপা আদ্যাশক্তি পরাৎপরা ।
কুসুম-হার।
( ৫ )
সংসার দাবাগ্নি হয় অত্যন্ত ভীষণ ;
ভয়ঙ্কর শিখাবলী করে জ্বালাতন।
তাই বলি ভ্রাতৃগণ কর কারে ভয় ;
চরণ-সরােজে মার লহ না আশ্রয় ।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
শ্যামা মা।
মাতিল ভারত ভূমি মাতিল আবার,
হের পুনঃ মা মা শব্দে কম্পিত মেদিনী!
দশমীর তমঃরশি ঘুচেছে সবার,
প্রভাত হয়েছে হের দুঃখের রজনী ।
এসেছেত হের ওই শঙ্করী শিবানী,
সন্তানে ত্যজিয়ে মাতা থাকিতে কি পারে ?
দশমীর আর্তনাদ শুনিয়ে ভবানী,
এসেছেন দেখা দিতে প্রিয় ভারতেরে ।
ভয়ঙ্কর বেশে কেন এলে মা আবার,
হেরি কেন করে তব ভয়ঙ্কর অসি।
সাধ বুঝি আজি হয়েছে তােমার,
রণচণ্ডি রণপ্রিয়ে শিবে এলােকেশী ।
No text on this page.
No text on this page.
কুসুমহার
*««
লঙ্কাপুরে রক্ষঃকুল নিৰ্ম্ম ল করিলে
রাম রূপে তুমি মাগো ধরি ধনুর্বাণ,
কত পতিপ্রাণা কামিনীরে অকুলে ভাসালে,
নাশিলে মা দশাননে হানি ব্ৰহ্মবাণ ।
রণসাধ মিটেনাই এখন কি শিবে ?
কুরুক্ষেত্রে কত হায় ক্ষত্রিয় নাশিলে,
অৰ্জ্জুন সারথি কেবা নাহি জানে ভবে,
মৃত সৈন্যগণে তুমি রুধিরে ভাসালে।
মহাপাপী দুৰ্য্যোধন বিদিত ভূবনে,
পাপীর উচিত দণ্ড করিবারে দান,
বিনাশিয়ে তুমি মাগো দুষ্ট দুর্যোধনে,
ধৰ্ম্মবীর যুধিষ্ঠিরে রাজ্য কৈলে দান ৷
দানবের ভয়ে ত্রাণ কর দেবগণে,
দনুজ দলনী তাই বলে জগজ্জনে।
শত্রু ভয়ে ভীত হয়ে ডাকয়ে যে তােরে,
শত্রুনাশ করি তার ত্রাণ কর তরে।
ভয়ঙ্কর বেশ মাগাে করিয়ে ধারণ,
শুম্ভ নিশুন্তেরে তুমি করিলে নিধন।
দুর্দান্ত মহিষাসুরে নিধন করিলে,
মধুকৈটভেরে মাগো তুমিই নাশিলে।
কুসুম-হার।
বাণদৈত্যরাজ সবে দক্ষিণ মশানে,
লয়ে গেল অনিরুদ্ধে বলিদান তরে,
চঞ্চলা হইয়ে তুমি উষার ক্রন্দনে
বাৎ-মাতৃবেশে সতী রক্ষা কৈলে তঁারে ।
শালিবান * দূত যবে দক্ষিণ মশানে
লয়ে গেল শ্ৰীমন্তেরে বধিবার তরে,
বৃদ্ধা বেশে তুমি মাগাে বধি দূতগণে,
মশানবাসিনী কালী রক্ষা কৈলে তারে ।
একি মা অশ্চিৰ্য্যরূপ হেরি মােরা আজি,
পতিবক্ষোপরে কেন তােমার চরণ ?
উলাঙ্গিনী হয়ে কেন রণসাজে সাজি
ভারত করিছে আজি অপূৰ্ব দর্শন।
একি বিপরীত ক্রীড়া কর শবাসনা,
শিব-বক্ষোপরে কেন নাচ ত্রিনয়না ।
একি হেরি ভূঙ্গোপরি মতি রসোল্লাসে,
নীল কমলিনী কিবা মৃদুমৃদু হাসে !
সতী কুলরাণী তুমি সকলেতে বলে,
কেন হেন অসম্ভব হেরি মােরা শিবে ;
পতি নিন্দা শুনি সতি প্রাণ তেয়াগিলে,
সতীর পতিই সার শিক্ষা দিলে ভবে।
* সিংহলরাজ শালিবাহন।
কুসুম-হার।
যেদিন দানবকুল নির্মুল কারণ,
ভয়ঙ্করা মূর্তি ধরি নিলে অসি করে,
করিয়ে যােগিনীগণে গভীর গর্জন
কঁপাইলা ত্রিভূবন যবে পদভরে ।
ঘােরর শিবচয় চৌদিকে বেষ্টিত ।
ওষ্ঠ প্রান্ত হতে হয়ে শােণিত নির্গত
বদন মণ্ডলে তব করে বিস্ফুরিত,
দেবগণ হেরি তাহা হইলেন ভীত ।
প্রয় হইবে ভাবি ভীত দেবগণ,
গেলেন সকলে মিলি শঙ্কর সদনে।
দেবগণ বাক্য শুনি বিভূতি ভূষণ ;
শয়ন করিলা দ্রুত ধেয়ে রণাঙ্গনে।
উন্মত্তে পতির বক্ষে দিলে মা চরণ
চৈতন্যরূপিণী কিসে হারলে চেতন?
পদতলে স্ব পতিরে করি দরশন,
লজ্জা পেয়ে জিহ্বা কাটি ত্যজিলে মা রণ
কিম্বা রণাঙ্গনপূর্ণ দৈত্য শবগণ,
শ্রীচরণ স্পর্শে তব শিবত্ব পাইল ।
পতি প্রতিমূৰ্ত্তি পদে করিয়ে দর্শন,
ত্যজিলে মা রণাঙ্গণ-লজ্জা উপজিল।
৪০
কুসুম-হার
তব পদ বিনে আর নাহি অন্য গতি,
বিচারি কি পদতলে পড়ি পশুপতি ?
তাহে সিদ্ধি তুচ্ছ করি সুধার আশায়
চরণ কমলে তব গড়াগড়ি যায় ।
হয় যদি সত্য তাহা তবে কি শঙ্কর
একাকী পিবে কি সুধা না দিয়ে সন্তানে
দয়াময়ী মাতঃ তবে দেহ মমরে বর,
জিনিব শঙ্করে আমি গুরুদত্ত বাণে।
শঙ্কর শমনজয়ী নাহি তাহে ভয়,
কোন কাৰ্য্য নাহি হয় শ্রীগুরু কৃপায় ?
গুরু তুষ্টে শিব তুষ্ট শাস্ত্রে ইহা কয়,
জিনিব শঙ্করে তার পেয়েছি উপায় ।
পূজিব মা গুরুদেবে সদা ভক্তি ভরে,
তুষ্ট হয়ে অবশ্য দিবেন ইষ্ট বর।
বিয়েতে শত্রু বশ জানে মা সংসারে,
সহজেতে তুষ্ট তায় দেব মহেশ্বর।
শিবরূপী গুরুদেব বাস সহস্রারে,
রক্তাজ জিনিয়ে পদ বরাভয় করে।
বিন্দুমাত্র থাকে যদি তার পদে মন,
জিনিয়ে শঙ্করে তবে লব ও চরণ।
কুসুম-হার।
৪১
un
ব্ৰহ্মাণ্ড রহেছে বাঁধা তােমার চরণে,
শঙ্কর একাকী নিল বলে মূঢ়জনে।
নাহি পাব মনােব্যথা কথা সত্য হলে,
পিতৃবন পুত্রে পায় সকলেই বলে।
ধূর্জটী জগৎ-পিতা জানে তা সংসারে,
উপযুক্ত হই নাই তাই কি আমারে,
দেন নাই ধন হায় দেব পঞ্চানন,
পিতার সর্বস্বধন ও রাঙ্গা চরণ ?
! কুপুত্র আমি তাহে পেয়েছেন ব্যথা,
শুনি নাই একদিন তঁার তন্ত্র কথা।
করি নাই কাৰ্য্য গুরু উপদেশ মত,
তাহে মা পরম ধন হয়েছি বঞ্চিত ?
কঁপে কেন শিবে তব করস্থিত অসি ;
ক্রোধাগ্নি জলিল কি মা হেরি পাপিগণে ?
নিবাবে কি ক্রোধানল তাদেরে বিনাশি,
স্পর্শে তাই অসি অগ্র সুনীল গগনে।
কিম্বা গাে মা রণ সাধে কঁপে তব অসি ?
করিতাম আমি রণ গুন এলােকেশী।
গুরুদত্ত বাণ করি নাই সঞ্চালন,
নতুবা আমার সনে দিতে কত রণ?
৪২
আগম * নিগম কিছু করি নাই শিক্ষা,
দয়াময়ি দয়া করি কর মা অপেক্ষা।
পূর্ণব্রহ্ম শিবদাতা গুরুদেব বরে,
জিনিব শঙ্করী তােরে সাধন সমরে।
নামাবলী বৰ্ম্ম গাত্রে করিনি ধারণ,
জপমালা ধনু হায় নাহিগো মা করে ;
যে বেশ হেরিলে ভীত হইয়ে শমন,
ব্যস্তভাবে পলায়ন করে নিজপুরে।
প্ৰসাদ করিলা ভক্তি-পাশেতে বন্ধন,
বাঁধিলে তাহার বেড়া জানে বঙ্গবাসী ।
রুবরে লভিল সে জন মুক্তি ধন
তোমার সনেতে রণ করি অহনিশি ।
হেন বীর কত আছে ভূবন ভিতরে,
বিজন অরণ্য মাঝে পৰ্বত করে।
অহর্নিশি তব সনে করিতেছে রণ;
সংগ্রামে জিনিলে পরে লভে মুক্তি ধন।
;
আগতং শিব বক্তে ভ্য,
গ-তঞ্চ গিরিজা সূতো
মঞ্চ বানুদেব,
তস্মাদাগম উচ্যতে।”
কুসুম-হার।
২৩
পাগল ভাবেতে থাকি পাগলী তােরে ভাবে,
পাগলের সনে তাের বেশী ভালবাসা !
তব প্রেমে মগ্ন যেবা ধন্য সে মা ভবে,
সে প্রেমিক হব যবে মিটিবে পিপাসা।
যে প্রেমে পাগল হ’ল দেব মহেশ্বর,
সর্বস্ব ত্যজিয়ে হয়, ভিখারী শঙ্কর,
সে প্রেমে পাগল হ’ব দেহ মোরে বর,
সকাতরে ভিক্ষা করে তােমার কিঙ্কর।
একান্ত রণেতে সাধ যদি শবাসনা,
পশি হৃদি-দুর্গে মম পূরাও বাসনা।
আছে তথা মহাবীর রিপু ছয় জনে,
সংগ্রামে সবারে তুমি কর মা নিধন ।
রপােলাসী এলােকেশী অসুরনাশিনী,
এ ছয় 'অসুরে ত্বরনাশ গাে তারিণী ।
কত শক্তি ধর শক্তি জানিব তখন,
ছয় দৈত্য যবে মাগো হইবে নিধন ।
মুক্তকেশী কেন তুমি শিব-সিমস্তিনী,
এলােথেলাে কেশরাজি চরণে লুটায় ।
শস্তৃ-শিরঃ-স্থিত-সর্প হের গাে জননি,
হেরি তব কেশরাজি বড় লজ্জা পায়।
কুসুম-হার
০
( ২ )
ভারত সন্তানগণে,
বড় ক্লেশ পায় মনে,
হেরিগো মা তব হেন বেশ।
শঙ্কর ভিখারী তাই, বিন্যাসের দাসী নাই,
তাই কি মা তব মুক্ত কেশ ? .
( ৩ )
যতন করিতে
হরের গৃহেতে,
নাহি কি মা কেহ তব
শ্মশান ভূমিতে,
বেড়ান সদাই ভব ।
ভূতের সহিতে,
( ৪ )
কিন্তু মােরা জানি তব দাস মহেশ্বর,
যতেক ত্রিদিববাসী তােমর কিঙ্কর।
তব পদ সেবিবারে,
সিদ্ধগণ বাঞ্ছা করে,
শ্ৰী, যে তব প্রধানা কিঙ্করী।
কঠোর তপস্যাকারী,
তব সেবা অধিকারী,
তবে কেন হেন বেশ হের ?
( ৫ )
নাহি গো মা তব দাস দাসীর অভাব,
তবে কেন মােরা তব হেরি এই ভাব।
কুসুম-হার।
৪৫
তােমার অদ্ভুত
লীলা কে বুঝিতে পারে,
কত ক্রীড়া কৈলে শ্যামা, শ্যাম অবতারে ।
সােহােেত যশেমতি বৃন্দাবনপুরে,
বাঁধিয়া কুন্তল গুচ্ছ অতি যত্ন করে,
কুসুম স্তবক তায় দিয়া মাঝে মাঝে,
সাজা’ত তােমায় মরি মনোহর সাজে।
মােহন মূরলী হাতে শ্রীদামাদি সনে,
হেলে দুলে নেচে নেচে যেতে গোচারণে।
সেই শ্যামরূপ হেরি, চিনে পাছে ব্রজনারী,
লুকাতে সেরূপ কি মা হলে মুক্তকেশী ?
হেরি তব মৃদুহাসি,
মুগ্ধ হতে ব্রজবাসী,
মুখে অট্টহাসি এবে করে তীক্ষ অসি ।
( ৭ )
উলাঙ্গিনী কেন তুমি বল মা এখন,
ভিখারীর পত্নী তাই জুটে না বসন?
রাজরাজেশ্বরী মাগাে তুমি কাশীধামে,
ত্বংহি সর্বেশ্বরী শিবে কহে বেদাগমে।
বৃন্দাবনে গােপীদের বস্ত্র কৈলে চুরি,
সেই পাপে উলাঙ্গিনী তুমি কি শরি?
& ৬
কুসুম-হার।
কিন্তু জানি তব নাম করিলে স্মরণ,
সৰ্ব্ববিধ পাপ দূর হয় সেইক্ষণ৷
( ৮ )
শপথ করিয়ে আমি বলিবরে পারি,
গােপীদের বস্ত্র তুমি কর নাই চুরি।
সপেছিলে গোপীগণ,
ধন মন প্রাণ মন,
ভক্তি সহকারে শিবে তব শ্রীচরণে।
জানালে জগৎময়,
লােক লজ্জাদির ভয়,
স্থান নাহি পায় কভু ভক্তের সদনে।
( ৯ )
যবে দুষ্ট দুঃশাসন সভার ভিতরে,
বস্ত্রহীনা করিবারে উদ্যত কৃষ্ণারে,
কে রক্ষিল সতীধৰ্ম্ম বল সতি মোরে,
তুমিই রক্ষিলে ধৰ্ম্ম জ্ঞাত চরাচরে ॥
পাছে তােরে চিনে গো মা ব্রজবাসিগণ,
পীতবাস ত্যজিলে কি তাহার কারণ ?
হেন শক্তিধর নাহি সংসার ভিতরে,
শক্তির রহস্য ভেদ করিবারে পারে ।
তােমার
অদ্ভুত
লীলা কে বুঝিতে পারে,
কতরূপে কত শিক্ষা দাও গাে মানবে।
কুসুম-হার।
৪৭
আনন্দে নাচ মা তুমি কভু শবাসনে,
কভু বা বিহর হর হৃদি-পদ্মাসনে ॥
বাঁশি ত্যজি অসি ওবে করিয়ে ধারণ,
উলঙ্গিনী হয়ে তুমি করিতেছ রণ।
বাশি রবে গােপী সবে হইত মোহিত ;
অসি করে দানবেরে করিছ শায়িত।
( ১০ )
সুচতুর ব্রজবাসী * চিনেছে তােমারে।
অধম পামর নরে,
চিনিতে কি পারে তােরে,
নীলাম্বর জিনিরূপ লুকাবে কোথায় ?
বদ্ধ সবে মায়পাশে, তােমারে চিনিবে কিসে,
মিছে দ্বেষ করে সবে মরি হায় হায় !
শ্যামা মা হলেন শ্যাম বৃন্দাবনপুরে ॥
( ১১ )
সুধাভাগকালে তুমি হলে বা মোহিনী,
ভূবনমোহিনী তুমি জানে চরাচরে।
এক ব্ৰহ্ম (১) নাহি অন্য এক মাত্র জানি,
তবে কেন অজ্ঞজন সদা দ্বেষ করে ?
*
ব্রজবাসী-এস্থলে অবৈতবাদী প্রেমিক ভক্তগণ।
১। “একং ব্ৰহ্ম নিরাকারং সাকারত্ব মুপাগমৎ।
ধ্যানার্থং সাত্ম ভক্তানাং সৃষ্টাদৌ পঞ্চমুৰ্ত্তিভিঃ ।
Sb
কুসুমহার।
( ১২ )
আছে ভাই নানা পথ লক্ষ্য এক স্থল ;
কুল পথে না চলিলে হইবে বিফল ।
ভজিলে বিভেদ ভাবে, (১) কোন ফল নাহি পাবে
অবশেষে হবে হায় শাস্তিতে বঞ্চিত,
হারাবে সকল জ্ঞান যা ছিল সঞ্চিত।
দশানন ভক্তিভরে মায়েরে পূজিল,
দ্বেষভাব হেতু হায় দয়া না লভিল।
আহা মরি বিষ্ণু শিবে, ব্যাস ঋষি ভিন্ন ভেবে
কাশীধামে কি দুর্গতি লভিল সে জন,
তাই বলি:দ্বেষ কেন কর ভ্রাতৃগণ ?
এস হে ভারতবাসি ত্যজ সবে দ্বেষ,
পূজহ মায়েরে সবে ঘুচিবে হে ক্লেশ।
সুৰ্য্যো গণপতি বিষ্ণুম হোে ভগবত্যপি।
পঞ্চৈতা দেবতাঃ জােক্তাঃ শ্ৰতিভিব্ৰহ্মমুয়ঃ
(১) “শিবােমমাত্মা মম শক্তিরদ্যা,
জ্ঞানং গণেশশা মম চক্ষুরকঃ ।
বিভেদ ভাবং ময়ি যে ভজন্তি,
মমাঙ্গ হীনং কয়ন্তি মন্দাঃ ॥”।
ইতি তন্ত্র।
কুসুম-হাব।
৪৯
যে পথেতে যেবা থাক, মা বলে বারেক ডাক,
মা বনে সন্তান ব্যথা কে বুঝিবে আর,
এসেছেন মাতা ওই পূজ একবার ।
শ্যামানামাবলী স্তোত্রম্
( ১ )
ত্বং কাল দমনা,
করাল বদনা
কালী কলুষনাশিনী।
ত্বং কমলাচ্চিত,
কেশব পূজিতা
কামরূপ কাত্যায়নী ॥
ত্বং কৃষ্ণা কালিকা,
কালভয় হরা,
ত্বং কালরাত্রি তারিণী ।
কুল ধৰ্ম্ম প্রিয়া
ত্বং কৃষ্ণ বল্লভ
কেশিনী কৃষ্ণরূপিণী ।
কৃষ্ণা পরাজিতা,
কলা ক্রিয়াবতী
কাম্য কৈলাসবাসিনী।
ত্বং কালভূষিত
কুমারী সেবিতা
ত্বংহি কৈবল্য দায়িনী।
কৌতুকৗ কমলা
কঙ্কাল মালিনী
কামাখ্যা কামসুন্দরী।
ত্বং কুল পণ্ডিত,
কুলীন পূজিতা
কাদম্বরী কাশীশ্বরী।
কুসুম-হার।
কৃত্তিবাস দারা
ত্বংহি কামহরা
ত্বংহি কৈটভনাশিনী।
কামা কামিনী
কৃতান্ত দলনী
ত্বংহি কুল কুণ্ডলিনী।
তরলা তারিণী
গগন বাহিনী
কামাখ্যা নীল বাহিনী।
জয়া উগ্রতারা
সদানন্দ দারা
ঈড়া পিঙ্গলা রূপিনী ।
অর্ধ কেশশ্বরী
ত্বংহি মাহেশ্বরী
দক্ষজা গিরিনন্দিনী।
চণ্ডিকা সগুণ।
দ্বিতীয়া নবীনা,
সুষুম্না প্রাণ :রূপিণী ।
জয় মহাবিদ্যা
সৰ্ববিদ্যা আদ্যা
ভৈরবী ভুবনেশ্বরী।
মাতঙ্গী পাটলা
অনন্তা বগলা
চণ্ড ঘণ্টা শাকম্বরী ।
( ২ )
শ্যামাঙ্গিনী শবাসনা শিব শিমন্তিনী,
মাতঙ্গী মাতৃকা ত্বংহি মহিষমর্দিনী।
দা—ক্ষায়ণী দয়াময়ী দেবী দিগম্বরী,
সময়ী সনাতনী ত্বংহি সুরেশ্বরী।
কুসুমহার।
• 5 * * *
।
অনন্ত তােমার নাম শুনেছি মা শিবে,
মাহাত্ম্য জানিবে কি মা অজ্ঞান মনিবে।
নামের মহিমা তব,
কিঞ্চিৎ জানেন ভব,
ভব পতি ভবনদী অতিক্রম হেতু,
প্রকাশিয়ে তন্ত্রে তাহা বাধিলেন সেতু।
তব নামে কত সুধা কি বর্ণিব আমি,
সতত জপেন তব নাম ভবস্বামী।
মুখে সীতারাম বলে, তারা নাম জপে ছলে,
তব নাম জপি মাগো গরল ভক্ষিল ;
সেই হেতু মহেশ্বর মৃত্যুরে জিনিল ।
নামের মহিমা তব বেদে নাহি আন্ত,
দিনান্তে স্মরিলে নাম ঘুচে মনোবান্ত।
মুকতি সালােক্য আদি, অষ্ট সিদ্ধি অনিমাদি,
করায়ত্ব করে যেবা গায় তব নাম ;
তব নামে হয় মাগো পূর্ণ মনস্কাম।
তারা বলে ডাকে যেবা ধন্য সে মা ভবে,
অন্তিমে শ্রীপদে স্থান দাও তঁারে শিবে।
জপ হে ভারতবাসি,
তারা নাম অহনিশি,
সুধা ত্যজি কেন বিষ কর অন্বেষণ ;
। তারা নাম সুধা স্রোতে দেহ সন্তরণ।
চণ্ডীমাহাত্ম্য
দুর্দান্ত অসুরগণ জিনি সুররণে,
লভিল সদর্পে যবে ইন্দ্র সিংহাসন।
ত্যজিয়ে অমরাবতী অতি ক্ষুন্ন মনে,
ছদ্মবেশে দেবগ করে বিচরণ।
অমর নগরী দৈত্য কৈলা কলুষিত
ছিন্ন ভিন্ন হলাে হায় নন্দন কানন !
প্রবল প্রতাপে প্ৰজা হলাে সবে ভীত,
অসুরের অত্যাচারে সঁপে ত্রিভুবন।
হেরি দৈত্য অত্যাচার কহিলা কুমার,
সম্বােধিয়ে দেবগণে অতি উচ্চৈঃস্বরে ।
“সাধের অমরাবতী হলাে ছারখার,
জাগহে ত্রিদিববাসী কেন নিদ্রা ঘােরে ?
“ভীষণ তমসাবৃত অমাবস্যা নিশি,
অমর নগরী আজি বিভাষিকাময় ।
ঘুমে অচেতন কেন হে ত্রিদিববাসি ।
শক্তি সাধনার এই প্রকৃত সময়।
৫৪
কুসুম-হরি।
১। as৮, ১...
“মহামন্ত্রে মোরা সবে হয়েছি দীক্ষিত,
মহামন্ত্রে মহাতন্ত্র করিয়ে অঙ্কিত,
মহানিশাযোগে সবে করিব সাধনা,
শবাসনা বরে আজি পূরিবে বাসনা।
“দৈত্যের তাণ্ডব নৃত্যে কেন কর ভয়,
বাজিয়ে প্রলয় শিঙ্গা মহাকাল করে,
মাভৈঃ রবেতে ওই দিতেছে অভয়,
স্বর্গরাজ্য মোরা পুনঃ লভিব অচিরে।
“মহানিশি আজি সবে কর জাগর।
সাবধানে মহামন্ত্র করিতে সাধন :
যদ্যপি অমর আজি হয় নিদ্রাগত,
হবেরে অমরাবতী ভস্মে পরিণত।
“ছদ্মবেশে কেন আর ওহে দেবগণ,
অসুর সংগ্রামে ত্বর করহ গমন।
ছারখার হলাে স্বর্গ দৈত্য অত্যাচারে,
জাগহে ত্রিদিববাসি কেন নিদ্রাঘােরে ?”
এত বলি নিরবিয়া দেব সেনাপতি,
ভীষণ ধনুকে তার দিলেন টঙ্কার।
শুনি কুমারের বাণী বীর মদে মাতি,
মহােৎসাহে দেবগণ করিলা হুঙ্কার ।
কুম-হার।
ইন্দ্র করে ভীম বজ গর্জিলা ভীষণ,
শিবের সংহার শূল করিলা গর্জন।
হর-ত্রিনয়না কিবা ধ্বক্ ধ্বক্ জ্বলে,
ভন্ম বুঝি হয় দৈত্য দেব কোপানলে ।
দেবতার তেজ পুঞ্জ হলো একত্রিত,
মূহূর্তেকে ত্রিভুবন করি আলােকিত,
আবিভূত হলো তথা দেবী ভগবতী,
হেরি তঁারে দেবগণ কৰিলেন স্তুতি ।
স্তবে তুষ্ট হয়ে দেবী:কহে দেবগণে,
“ভয় নাই দেবগণ পূরিবে বাসনা।”
এত বলি দ্রুতগতি ধেয়ে দৈত্য রণে,
অসি করে রণাঙ্গনে নাচে শবাসনা।
মহানৃত্যে মাতােয়ারা হৈলা মুক্তকেশী,
ঘন ঘন কাপে কিবা করস্থিত অসি ।
সমগ্র দানবে মাত করিয়ে নিধন,
শােণিত সাগরে বুঝি দিবে সন্তরণ ।
হইলা মায়ের অতি শােণিত পিপাস।
দৈত্য সনে রণ পুনঃ বহুদিন পরে।
দানব শোণিতে বুঝি মিটিবে সে আশা,
করাল রসনা তাহে ল ল করে ।
কুম-হার।
রক্তপ্রিয়া রণচণ্ডী দৈত্য রসােল্লাসে,
অসি করে উন্মাদিনী খল খল্ হাসে।
আহা কি ভীষণ নৃত্যে হয়েছে মগনা,
চৈতন্যরূপিণী বুঝি চেতন বিহীন।
চৌষট্টি যােগিনী মার করিলা গর্জন,
মূহুর্তে নাশিলা দেবী যত দৈত্যগণে।
অসুরে নিহত হেরি যত দেবীগণ,
ভক্তি ভরে প্রণমিল চণ্ডিকা চরণে।
“জয় মা চণ্ডিকা শ্যাম জয় ভাবতী”
বলি কত দেবগণ করিলেন স্তুতি |
তুষ্ট হয়ে মহাদেবী কহে দেবগণে,
“পুনশ্চ স্মরিও মোরে অসুর পীড়নে।
“যদি কভু স্বর্গরাজ্য লভে দৈত্যগণ,
ভক্তি ভরে করাে সবে শক্তির সাধন।”
এত বলি মইদেধী হৈল। অন্তান,
স্বর্গ লভি দেবগণ পুলকিত প্রাণ।
নিবেদন।
( ১ )
কৈবল্যদায়িনী কালী ত্বংহি শবাসনা,
দয়া করি অভাগার পুরাও বাসনা।
ছেলে যদি মার কাছে কোন দ্রব্য চায়,
মাতার কর্তব্য ইষ্ট প্রদান তাহায় ।
হয় হস্তী রাজা আদি কিছু নাহি চাহি,
পাগল হইয়ে যেন তব গুণ গাহি,
মন ভৃঙ্গ যেন তব চরণ সরকাজে,
সুধা পান করি মাগো সতত বিবাজে ।
( ২
শৈশবেতে মাতৃহীন আমি অভাজন,
পূজি নাহি একদিন জননী চরণ।
১া বলিয়ে আমি কারে, ডাকি নাহি প্রাণ ভরে,
বড় খেদ আছে মনে দুঃখবিনাশিনী।
জানিলাম এবে তুমি জগৎ জননী।
কুসুম-হার।
হৃদি পদ্মাসনে মম ব’স গাে জননি,
একবার পূজি রাঙ্গা পদ দুইখানি।
পিতার বামেতে বসি, হাস মৃদু এলোকেশি,
অভাগার মনসাধ পূর্ণ কর তুমি,
মা মা বলি বাহু তুলি নাচি গাে মা আমি ।
দেহ, গাে জননী তুমি মাতাইয়ে মোরে,
নাচি আমি মা মা বলে ডাকি প্রাণ ভরে।
গাউক আমার সনে,
মা মা বলি পাখিগণে,
যতেক প্রেমিকগণে দিবে যােগদান,
পুলকিত হবে তবে মম মন প্রাণ ।
( ৩ )
হাসু বাচালগণ পাগল বলিয়ে,
নাচু মা পল্লীবাল পাগল হেরিয়ে।
নাচি আমি মা মা বলি ডাকি প্রাণ ভরে,
তুমিও নাচ মা মম হৃদয় মাঝারে ।
অন্যদিকে মতি যেন কভু নাহি যায়,
সদা যেন পড়ে থাকে তব রাঙ্গা পায়।
অন্তিম কালেতে যেন মা বলিতে পারি,
অভাগা সন্তান আমি এই ভিক্ষা করি।
কুসুম-হার।
( ৪ )
সন্তানে নিদয়া কেন বলগো জননি,
দুঃখ বিনা সুখ আমি কভু নাহি জানি।
কহি শুন গাে কাল মা, বিমাতাও যে ভাল মা,
উদ্ধারিয়ে পাপিগণে সদা প্রফুল্লিতা,
শিরােপরে তাহে তঁারে রেখেছেন পিতা।
( ৫ )
! না ! গাে জননী তুমি বড় দয়াময়ী,
হারাধ্যা তুমি আদ্যা জানি ব্রহ্মময়ী।
হর হৃদি পরে তব চরণ বিহরে ;
পঞ্চমুখে পিতা তব গুণগান করে।
উৰ্দ্ধমুখে করি তিনি তন্ত্রের সৃজন,
করেন সতত তব মহিমা কীৰ্ত্তন।
চারি মুখে চারি বেদ করি উচ্চারণ,
তব গুণগান হর করে অনুক্ষণ ।
শিব-ত্রিনয়ন সদা জানি গাে জননী,
তব পাদপদ্মে লগ্ন দিবস রজনী।
ত্রিনয়ন ঢুলু ঢুলু তাহে সদা হেরি,
আনন্দে বিতাের ভােলা তোরে ধ্যান করি
কুসুম-হার।
(৬)
আদ্যাশক্তি! শক্তি তব বিমাতা শরীরে,
আছয়ে কিঞ্চিৎ বলি পূজে লোকে তারে।
যেন মা অন্তিমকালে, বসি বিমাতার কোলে,
মা মা বলি পারি আমি প্রাণ ত্যজিবারে,
কাতর কিঙ্কর তব এই ভিক্ষা করে ।
(৭)
সিদ্ধি কিম্বা মুক্তি আমি কিছু নাহি চাহি,
তারা তারা বলে যেন তব গুণ গহি।
তবে যদি নিজগুণে দেহ ভিক্ষা মোরে,
কৃতাঞ্জলিপুটে দাস ভক্তি ভিক্ষা করে।
আনন্দ সাগরে ভাসি তােরে ধ্যানকালে,
দুঃখ যত পাই মাগাে নিজ কৰ্ম্মফলে।
কৰ্ম্মফলদাতা গুরু কেবা নাহি জানে,
ভক্তি যেন থাকে সদা গুরুর চরণে।
* “ন মিত্রং নচ পুত্রাশ্চ ন পিতা নচ বন্ধিবাঃ।
ন স্বামী চ গুরােস্তুল্যং যদ্দষ্টং পরমং পদং ।
নচ বিদ্যা গুরােস্তুল্যঃ ন তীর্থ নচ দেবতা।
শুনরাস্তুল্যং নৈব কোপি যদ্দষ্টং পরমং পদং 1
একমপ্যক্ষরং বস্তু গুরুঃ শিষ্যে নিবেদয়েৎ।
পৃথিব্যাং নাস্তি তদ্রব্যং যদ্দা চাণী ভবেৎ ॥”
ইতি তন্ত্র।
কুসুমহার।
(৯)
গুরু গুণ * গানে যেন থাকে সদামাত,
পাদপদ্মে থাকে যেন অচল। ভকতি।
সদা এই বাঞ্ছা মম,
গাহিতে গুরুর নাম,
যেন মা ভারতভূমে আসি বারে বারে,
সকাতরে দাস তব এই ভিক্ষা করে।
তৃতীয় অধ্যায়।
রাস মহােৎসব।
(১)
কেবা ওই নটবর সদা রসসঙ্গে,
বিহরে পরম ধামে শ্রীরাধার সঙ্গে।
পরম ধামের শােভা, যােগীজন মনোলােভা,
গােলক জিনিয়ে শোভা তার।
কাম সদা বিদ্যমান,
রাসচক্র ঘূর্ণমান,
অষ্ট সখী সঙ্গে শ্রীরাধার ॥
মধ্যস্থলে রাধাকৃষ্ণ সানন্দে বিহরে,
ব্ৰহ্মাদি দেবতাগণে গুণ গান করে !
বৃন্দাবন নামে খ্যাত, রাসােৎসব অবিরত,
কভু রস * (১) না হয় বিরাম।
* (১) তুরীয় ধাম বৃন্দাবনে চিৎগত পরা প্রকৃতি স্বয়ং আদ্যশক্তি
শ্রীরাধিক। নিকাম, নির্বিকার, চিন্ময় পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণের সহিত সর্বদা
বিহার করিতেছেন, ইহাদের যুগল মিলনের নামই রাস। সেই পরম ধা।
No text on this page.
No text on this page.
কুসুম-হার।
যুত বিশ্ব চরাচরে,
সে ধামের চারি ধারে
রাস চক্রে ঘুরে অবিরাম ॥
(২)
জয় জয় হৃষিকেশ পতিত পাবন,
ভকত বৎসল তুমি দেব নারায়ণ ।
তব লীলা বুঝিবারে সাধ্য আছে কার,
অহর্নিশি রাসে মগ্ন সহ শ্রীরাধার ॥
গল রূপেতে সৰ্ব্ব ঘটে বিরাজিত,
পূর্ণব্রহ্ম তুমি দেব ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপিত।
নামের মহিমা তব বর্ণিতে না পারি,
আপন পাসরি তব হরি * (২) নাম স্মরি।
সৃষ্ট নাই, বিকৃতি নাই এবং তথায় প্রকৃতি নিত্য চিন্ময়ী, আনন্দময়ী ও
প্রেমময়ী এবং চিদানন্দের নিত্য লীলার নিত্য সংঘটনা; তধায় রাস
হোৎসবের কস্মিনকালেও বিরাম হয় না। মায়া প্রকৃতি বা মহত্তত্ত্ব
অহং তত্ত্ব বা অবিদ্যা, আকাশ, বায়ু, তেজ, জল, ক্ষিতিন্মাত্র, স্কুল-ভূত,
অথবা শমদমাদি অষ্টবিধ ধর্ম প্রবৃত্তিই শ্রাধিকার অষ্টসখী।”
(২) ভক্ত চিহরণ করেন বলিয়া তাহার নাম হরি। হর xই-হরি
হয়-শঙ্কর বা পরম পুরুষই ; ই-পার্বতী বা পরাকৃতি। অর্থাৎ
সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডধ্যে ব্রহ্ম ব্যতীত আর কিছুই নাই। ব্রহ্মের দুইরূপ ;
পুরুষ বা চৈতন্য এবং প্রকৃতি বা জড়। পুরুষ শক্তিমান, প্রকৃতি শক্তি;
পুরুষময়ী প্রকৃতি মায়া সর্বত্রই চৈতন্যের অংশ ও প্রকৃতির জড়াংশ
পুরুষ ও প্রকৃতি উভয়ে পরস্পর অর্ধাঙ্গে মিশিয়া বিহার করিতেছেন ;
৬৪ কুসুম-হার। * * * * (৩) সৰ্বগুণধার ওহে দয়াময় হরি, সকাতরে তব পাশে এই ভিক্ষা করি । নিত্য রাস হেরিবারে, দেহ অধিকার মােরে, অন্য কিছু প্রার্থনা না করি। প্রেমিক ভকতগণে, নিত্য সেই বৃন্দাবনে, পিয়ে সুধা রাসোৎসব হেরি ॥ জানিহে আজ্ঞানিগণে বঞ্চিত হয়, সেই হেতু শরণ লই তব পায় । (৪) অধিকার যদি তুমি নাহি দেহ মোরে, প্রবেশিব বৃন্দাবনে বিনা অধিকারে। শ্ৰনাথ প্রদত্ত অসি * সঞ্চালন করি, পরাজয় করিব তােমারে আমি হরি। (৫) ভক্তিভরে পূজে যেবা শ্রীগুরু চরণ, ক্ষণেকে জিনিতে পারে সমগ্র ভুবন। কেবলমাত্র হরিনাম উচ্চারণ বা শ্রবণ করিলে এই পুরুষ প্রকৃতির যুগল- রূপ.সাধকগণের মানসপটে চিত্রিত হয় বলিয়া উহা সাধকের অতি প্রিয়। হরিনাম, পুরুষ ও প্রকৃতির সংক্ষিপ্ত নাম মাত্র ; প্রেমিক ভক্তের অতি আদরের ধন। * এবং উহ গুরু প্রদত্ত মহামন্ত্র ।
কুম-হার।
গুরু ব্রহ্মাণ্ডের রাজা, ইন্দ্রাদি সকলে প্ৰজা,
রাজধানী বৃন্দাবন তার।
তাহার করুণা বলে,
নিত্য রাস অবহেলে,
সানন্দে হেরিব অনিবার।
কিবা বিষ্ণু শিব শক্তি শ্রীগুরু আমার,
হেরিব তথায় আমি সব একাকার।
ছয় স্বর্গোপুরে * শ্রীগুরুর রাজধানী,
রাসােৎসব হয় যথা দিবস রজনী ।
তঁার কৃপা নাহি হলে, নরগণে কোন কালে,
গুপ্ত বৃন্দাবন পৃথ সন্ধান না পায়,
তীর্থে তীর্থে বুথ। হায় ঘুরিয়া বেড়ায়।
* ষটচক্রের উপরিভাগে সহস্রদল কমলে, শিরস্থানে ব্রহ্মরন্ধে, কোটা
সূর্য কিরণ সদৃশ উজ্জ্বল সহস্রদল পদ্ম আছে, তখায় গুরুদেব, পরমাত্মা
পরমশিব বা শ্ৰীকৃষ্ণরূপে এবং গুরুপত্নী, ভগবতী পাপ্রকৃতি বা রাধিকা
রূপে সর্বদা বিহার করিতেছেন। দীর্ঘকাল ব্যাপিয়া কোটী কোটী গ্রন্থ
অধ্যয়ন করিলেও গুরুকৃপা ব্যতীত কেহ উক্ত ষটচক্র সম্বন্ধে সম্পূর্ণ জ্ঞান
লাভ করিতে পারিবেন না; সুতরাং এস্থানে তৎসম্বন্ধে অধিক লেখা
নিষ্প্রয়োজন।
বিষ্ণুনামাবলী স্তোত্র।
( বর্ণমালানুসারে )
(১)
অনন্ত অচ্যুত,
জয় হে অদ্বৈত,
জয় হে অমলাপতি।
জয় আদি দেব
ত্বংহি আত্মারূপ,
ত্বংহি অৰ্জ্জুন সারথি।
জয় অন্তর্যামী
ত্বং ইন্দিরা নাথ
জয় উপেন্দ্র ঈশ্বর।
ত্বং কেশীমদ্দন
কৃষ্ণ * কল্কি অবতার ।
কৌশল্যা নন্দন
* “কৃষ” শব্দের অর্থ পূৰ্বজন্মজ্জিত পাপ এবং “শ” শব্দের অর্থ
নির্বাণ মুক্তি; অতএব যিনি পূর্বজন্মার্জিত পাপরূপ ক্লেশের শক্তিবিধান
করিয়া ভক্তগণকে নির্বাণ মুক্তি প্রদান করেন, তিনিই কৃষ্ণ। অথবা “ক”
শব্দ ব্ৰহ্মবাচক, “ঝ”কার অনন্ত বাচক, মুণ্য “ষ” কা’র শিববাচক,
“+” কা'ব ধৰ্ম্মবাচক, “অ”কা’র বিষ্ণুবাচক, বিসর্গ নরনারায়ণবাচক হয়;
সুতরাং “কৃষ্ণঃ” এই শব্দে ব্ৰহ্মাদি সমস্ত দেবগণের সমষ্টি বুঝায়।
কুসুম-হার। ৬ । কপিধ্বজ সখা কলি ভয়হরী ত্বংহি কেশব কংসারি। ক্লেশ নিবারণ খগেন্দ্র বাহন জয় হে কৌস্তুভধারী। জয় গদাধর গোপাল গােবিন্দ, গরুড়ধ্বজ গৌতম। গােলক বিহারী গোবর্ধন ধারী গৌরচন্দ্র ঘনশ্যাম ॥ ত্বংহি চতুভুজ চতুৰ্বর্গদাতা ত্বং চৈতন্য চক্রপাণি। ত্বং চপল পতি চত্রাবলী নাথ ত্বং চিন্ময় চিন্তামণি । জয় জগদীশ ত্বং জানকী পতি, জয় জগততারণ। ত্বং ঝুলন প্রিয় জাম্ববতী নাথ জয় জয় জনার্দন। ত্বংহি দোল প্রিয় তড়কা নাশক তুলসী প্রিয় তারক। ত্বংহি তেজোময় ত্বংহি ত্রাস-ত্রাতা তুমি হে ত্রিগুণাত্মক।
কুসুম-হার। জয় দামোদর, ত্বংহি দয়াময়, ত্বং দশরথ-নন্দন । জয় দীননাথ ত্বং দৈবকী সুত, দ্রৌপদী লজ্জা বারণ । ত্বংহি দানবারি দ্বারকা নিবাসী জয় হে নন্দনন্দন *। জয় নিত্যানন্দ ত্বংহি নিরঞ্জন নরোত্তম নারায়ণ। ত্বংহি নরহরি নিকুঞ্জ বিহারী নিরাকার পীতাম্বর। ত্বং পাণ্ডব সখা পরমাত্মারূপ তুমি হে পরমেশ্বর। ত্বং পুণ্ডরীকাক্ষ ত্বং পুরুষােত্তম, ত্বংহি মদনমোহন। জয় মথুরেশ ত্বং মহাপুরুষ। ত্বং মধুবন বাসীন। * নদ-নন্দন অর্থাৎ নন্দগােপকুমার । “না” শব্দের অর্থ যিনি সকলের আনন্দ সম্পাদন করেন। “গোপ” শব্দের অর্থ যিনি যে অর্থাৎ সমুদয় ভুবনকে “প” অর্থাৎ শলন করেন। এবং কুমার শব্দের অর্থ যিনি “কু” অর্থাৎ অত্যন্ত অমঙ্গল ‘মার” অর্থাৎ বিনাশ করেন। অতএব স্বয়ং মহাবিষ্ণুরূপী পরব্রহ্ম ব্যতীত কেহ নন্দগোপকুমার হইতে পারেন না:
কুসুম-হার।
ত্বং মৎস্যরূপ
ত্বংহি মুর হর,
মুরারি মধুসূদন।
ত্বং মূরলীধর
ত্বংহি যশােদা নন্দন ।
মুকুন্দ মাধব
জয় যজ্ঞেশ্বর
ত্বং যমুনা প্রিয়
ত্বং, যদুনাথ যাদব।
জয় রাধাকান্ত
ত্বংহি রাবগারি
ত্বং রঘুনাথ রাঘব ।
ত্বং রুক্মিণীনাথ
ত্বংহি রাজীবলােচন।
ত্বং রঘুনন্দন
জয় লক্ষ্মীকান্ত
রবিজ ভয়বারণ ।
জয় বাসুদেব
ত্বংহি বিশ্বরূপ
বনমালী বংশীধারী।
ত্বং বামনরূপ
বাদ বিরিঞ্চি
ত্বংহি বিপিনবিহারী ।
জয় বিষ্ণু বুদ্ধ
বৃন্দাবন বাসী
ত্বংহি বিপত্তিনাশক।
ত্বং বৈষ্ণব প্রিয়
ত্বং বেণীমাধব
ত্বং ব্ৰহ্ম বেণু বাদক ॥
০
কুসুম-হার।
ত্বংহি ব্রজনাথ
শালগ্রাম রূপী
ত্বংহি শ্রীকান্ত শ্রীধর।
জয় শৌরী শ্যাম ত্বং শ্ৰীশ শ্রীপতি,
শিবদাতা শুভঙ্কর ।
ত্বং সর্বতােজয়
সত্যভামা পতি,
জয় সত্যনারায়ণ ।
ত্বং সচ্চিদানন্দ
ত্বং সাত্যকি নাথ
ত্বংহি স্বয়ম্ভু সুষেণ ।
জয় সীতাপতি
ত্বংহি সত্যসন্ধ
ত্বং সর্বজ্ঞ সনাতন।
ত্বংহি সৰ্বময়
হরি হৃষীকেশ *
হিরণ্যকশিপু ঘাতন ।
(২)
;
শ্যাম শ্রীপতি শৌরী শ্রীকান্ত শ্রীধর
মাধব মূরলীধর ত্বংহি মুরহর।
দামোদর দয়াময় দৈবকী নন ;
সর্বময় সনাতন সত্যনারায়ণ ।
* “হৃষীক শব্দের অর্থ ইন্দ্রিয় সকল ; ভগবান সকল ইন্দ্রিয়ের ঈশ্বর
এই জন্য তাহার নাম হৃষীকেশ।
চতুর্থ অধ্যায়।
.
শিব-মাহাত্ম।
( ১ )
কেবা ওই ধ্যানমগ্ন বিবুধ প্রধান
যোগাসনে বসি কার করিতেছে ধ্যান।
কিবা শোভা অহা মরি, চরণ কমলােপরি,
মত্ত হয়ে ভক্ত অলি করিছে গুঞ্জন।
তুলনা রহিত শােভা হৃদয় রঞ্জন ।
৭২
কুসুম-হার।
( ২ )
ত্রিশূল ও জপমালা শােভিতেছে করে,
জটাজুট লটপট করে সদা শিরে।
মন্দাকিনী কুল ধ্বনি করে সদা তায় ;
গর্জে ফণি শুনি তাহা ভব ভয় যায় ।
অর্ধচন্দ্র শােভে ভালে জ্বলে হুতাশন ;
ত্রিনয়ন ঢুলু ঢুলু করে অনুক্ষণ।
ধুতুরা শোভিছে মরি কিবা শ্রুতিমূলে,
করি আলা হাড় মালা দোলে সদা গলে ।
পরিধান ব্যাঘ্ৰ ছাল শ্রী অঙ্গে বিভূতি,
বিহরে কি তবে ওই দেব পশুপতি।
ভৈরব (১) ভূতাদি (২) সঙ্গে সদানন্দ ভরে,
সতত বিহরে যিনি শ্মশান (৩) মাঝারে ।
(১) অসিতাঙ্গ, শুরু, চ, ক্রুদ্ধ, উন্মত্ত, কুপিত, ভীষণ ও সংহার এই
অষ্টবিধ ভৈরব মুর্তি তন্ত্রে নির্দিষ্ট আছে। আধ্যাত্মিক ভাবে অষ্টবিধ
যােগাঙ্গই অষ্ট ভৈরব।
(২) আধ্যাত্মিক ভাবে পঞ্চভূতাত্মক জীবগণের জীবাত্মা রূপে তিনি
বিরাজমান।
(৩) আধ্যাত্মিক ভাবে অনহত পদ্মে ; কারণ উক্ত অনাহত পদ্মে
যােগের সুষুপ্তি অবস্থার উপভােগ হয় বলিয়া উহার নাম মহাশ্মান।
কুসুম-হার।
৩
কঁপাইয়ে ধরাতল যিনি পদভরে,
সতত করেন নৃত্য প্রেমানন্দ ভরে।
ত্রিলোকের আধিপত্য লভে দশানন,
ভক্তি ভরে পূজা করি যার চরণ।
বাণদৈত্য জয় কৈলা ইন্দ্র সিংহাসন,
ভক্তি ভরে পূজা করি যার শ্রীচরণ।
সুদর্শন লভে বিষ্ণু যাহর কৃপায়,
ৱিলে যাহার নাম সৰ্ব্ব ভয় যায়।
পঞ্চশর নিক্ষেপিয়ে দেব ফুলধনু,
পড়ি কোপানলে যার হইলা অতনু।
হৃদাসনে ধ্যান করি যার শ্রীচরণে,
আনন্দ সাগরে মগ্ন হল যযাগিগণ ।
পরমাত্মা রূপে সৰ্ব্ব জীবের অন্তরে,
আনন্দধামেতে – যিনি সতত বিহরে ।
সূৰ্য্যরূপে করে যেবা আলাে বিতরণ,
চন্দ্র রূপে করে যে সুধা বরষণ।
* “নে চিন্ময় ধামে নির্মল পরা প্রকৃতি সুদ্ধ চেহসহ বিষাজ করেন,
তাহার নাম আনন্দ ধাম বা কৈলাস ; অর্থাৎ সহস্রদল পদ্ম। এবং যে
পরম ধামে মায়া প্রকৃতি বা অন্নপূর্ণা অধর চৈ তন্তের অর্থাৎ শিবের
সহিত বিরাজমান সেই পরম ধ'মের নাম কাশী, অর্থাৎ অনাহত
পদ্ম। বরুণ। অথাৎ ঈড়া নাড়ী ও অসি অর্থাৎ পিঙ্গলা নাড়ী এই দুই
৭৪
কুসুম-হার।
বায়ু রূপে যিনি হন জগৎ জীবন,
অগ্নিরূপে করে যিনি আহুতি গ্রহণ।
জল রূপে যিনি সদা করে জীব হিত
আকাশ রূপেতে তিনি ব্রহ্মাণ্ড ব্যাপিত !
;
বামেতে শােভিতেছে ওই কাহার কামিনী,
কি দিব উপমা তার ভুবন মােহিনী।
প্রকৃতি পুরুষ ওই ব্ৰহ্মাণ্ড ভিতরে,
আলােকিত করি দোহে একত্র বিহরে * ।
জ্ঞান হীন নর আমি কেমনে বর্ণিব,
অসীম মহিমা তব ওহে ভব-ধব।
নিজগুণে অভাজনে করুণ নিদান,
কিঞ্চিৎ করুণ কণা করহ প্রদান।
শ্রোতস্বতীর মধ্যে অবস্থিত এই জন্য কাশীর নাম বারাণসী এবং ইহাতে
চিত্ত সংযত করত যোগী আনন্দময় হয়েন, সেই জন্ত ইহার অপর নাম
আনন্দ-কানন। আর ঈড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্না নাড়ীই শিবের ত্রিশূল ;
সুতরাং কাপ্ত অর্থাৎ অনাহত পদ্ম পৃথিবী অর্থাৎ মূলাধার পদ্ম হইতে
অনেক উচ্চে আছে।
* “যথা শিবঃ স্তথা দেবী যথা দেবী তথা শিবঃ
মানয়োন্তরং বিদ্যচন্দ্ৰিকয়াের্যথা।”
আদ্যাসৈকা পরাশক্তি চিন্ময়ী শিব সংশ্রয়া।”
সমস্ত বিশ্বই এই পুরুষ প্রকৃতির লীলা; প্রতি গৃহে এই পুরুষ প্রকৃতির
মাখামাখি ভাৰ।
;
কুসুম-হার। এ ৫ ( ৩ ) দয়াময় ! তব পদে করি এ মিনতি, গুরু পদে থাকে যেন অচলা ভকতি ! নাহি চাহি পুরুষার্থ, গুরু পদ পরমার্থ, কৃতাঞ্জলি পুটে আমি এই ভিক্ষা করি, দিবানিশি যেন গুরু গুণ গান করি। ৪ ) গুরু * পাদপদ্মে যেন সদা মন ভৃঙ্গ, মত্ত হয়ে থাকে সদা ত্যজি বৃথা রঙ্গ। দয়াময়! যেন মম হৃদি সরােবরে, চরণ সরােজ তার সতত বিহরে । * “গকার সিদ্ধিদ্য প্রােন্তে রেফঃ পাপস্য দহ। উকারঃ শম্ভরিত্যুক্ত তিয়াত্মা শুরু পর।” ইতি তন্ত্র । অর্থাৎ গ কার সিদ্ধিদাত, র কার পাপহাক এবং উ কার স্বয়ং শিৰ, এই ত্রিতায়াত্মক গুরু পরম দেবতা। অথবা গ কার জ্ঞানদ, রকার পাপ- হায়ক ও উ কার শিবস্বরূপত্ব প্রদ, কিংবা গু শব্দে অন্ধকার, রুশব্দে ভন্নিবারক ; সুতরাং জ্ঞানান্ধকারনাশক বলিয়া এই গুরু শব্দ হইয়াছে।
শিব-নামাবলী স্তোত্র।
( বর্ণমালানুসারে )
(১)
জয় অষ্টমূৰ্ত্তি,
অগতির গতি,
অর্ধচন্দ্র শোভে ভালে।
অনঙ্গ বিজয়ী
অনড নি ধ্বজ,
অঙ্ক মালা দোলে গলে ।
অবধূত প্রিয়
উরগ ভূষণ
অনাথের নাথ
আদি দেব আশুতােষ।
ত্বং অমি বেত্ত্বা
ঈশান ঈশ্বর
ত্বং উমাপতি উমেশ।
জয় উৰ্দ্ধরেতাঃ
ত্বংহি ঋষভবাহন।
ওঙ্কার স্বরূপ
কপর্দী কপালী
জয় কন্দর্প মারণ ॥
জয় কৃত্তিবাস
কপাল মালিক
ত্বং কেউটিয়া ভূষণ।
ত্বং করুণাময়
জয় কাশীনাথ
ত্বংঙ্কপাকার শােভন।
কুসুম-হার। ৭ ৭ ত্বং কৈলাসপতি জয় হে কেদার ত্বং গিরীশ গঙ্গাধর। ত্বং গরল পায়ী গণেশ জনক, চন্দ্রচূড় জটাধর ॥ জয় চন্দ্র মৌলী চতুৰ্বর্গদাতা জয় চিপ চিন্ময় । চিতা ভিসারক জগৎ জনক জিতেন্দ্রিয় জ্যোতির্ময় । জীবাত্মা স্বরূপ জগৎ তারক জগত মনােমোহন। জাহুবী শিরেতে উমরু করেতে, ঢুলু ঢুলু সদা নয়ন | এ্যম্বক ত্রিশূলী জয় ত্রিপুরারী তারাপতি ত্রিলােচন। ত্বংহি তন্ত্র বেত্ত্বা ত্বং তত্ত্ব স্বরূপ ত্বং ত্রিগুণ বিভূষণ । ত্বংহি ত্রাস ত্রাতা ত্ব হি তেজোময় দয়াময় দিগম্বর । জয় দেব-দেব জয় দীননাথ দর্পহারী দণ্ডীশ্বর।
কুসুম-হার। ত্বং ধূস্তর ত্বং ধূর্জট ধ্রুব প্রিয় নন্দীকেশ নিরঞ্জন। জয় নীল বস্ত্র ত্বং নীললােহিত, পরম পুরুষ নকুল নাগভূষণ । পুরুষাৰ্থ * দা প্রেত পিশ * রণ। ত্বং হি পশুপতি পিণাক পণ্ডিত পবনাশ । জয় পঞ্চানন বং প্রমথনাথ পাৰ্বতী প্রাণেশ ফুলধনু হর জয় । *ণ ॥ জয় ভদ্রেশ্বর ভক্ত বৎসল ভূশণ। ত্বং হি ভূতনাথ জয় ভােলানাথ ভূ, ত্বংহি ভর্গ ভব ভৈরব স্বরূপ মদন বিজে মরুং স্বরূপ * ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম ও ."
কুসুম-হার । ৭৯ জয় মহাকাল ত্বংহি মহাদেব মহাপাতকি তারণ। ত্বংহি মুক্তি দাতা মন্ত্র দাতারূপ ত্বং মহামারী বারণ । মৃঢ় মৃত্যুঞ্জয় মহামহােদয় মহাপুরুষ মহেশ। জয় মহাযােগী যােগমায়া পতি ত্বং যজ্ঞেশ্বর যােগেশ । জয় রুদ্রদেব রুদ্রাক্ষ ধারক রবিজ-ভয়-বারণ। ত্বং রেবতী পতি রাজ-রাজেশ্বর ত্বং রতি-পতি মারণ । জয় লােকনাথ ত্বংহি লিঙ্গরূপী বিরূপাঙ্ক বাণেশ্বর। বিষাক্ত কণ্ঠক বিষাণ বাদক ব্যাঘ্রাম্বর বিশ্বেশ্বর ॥ জয় বৈদ্যনাথ ত্বং বীজ পুরুষ জয় হে বৃষবাহন। বারাণসী বাসী ত্বংহি বিশ্বনাথ জয় বিভূতি ভূষণ ॥
bu কুসুম-হার। ত্বংহি বৃষধ্বজ জয় ব্যোমকেশ শমন শঙ্কা বারণ। শিরীশ শঙ্কর শিবা মনােহর জয় হে শশিভূষণ। জয় শৰ্ব শিব শিব দাতা শুভঙ্কর। শমন দমন ত্বং শত্র মর্দিন ত্বং শ্রীকণ্ঠ শূলধর ॥ শ্মশানে নাটক ত্বং শূলী শঙ্কর জয় হে শশিশেখর। সংসার তারক শট নাশক ত্বং সর্বজ্ঞ সর্বেশ্বর। সংহার প্রবৃত্ত জয় সতীনাথ সদানন্দ সনাতন। জয় সিদ্ধিনাথ ত্বং সচ্চিদানন্দ ত্বংহি সুরারিনাশন। জয় সুরেশ্বর ত্বংহি সৰ্বময় জয় স্থাণু স্মর-হর। সন্তান * রূপ হলাহল পায়ী হৈমবতী নাথ হর ৷ * কল্প বৃক্ষ।
কুসুম-হার।
( ২ )
শ্যামা পতি শিব দাতা ত্বংহি শুভঙ্কর,
মা-য়া জয়ী মহাযােগী মৃড় মহেশ্বর।
দা—ক্ষায়ণী পতি ত্বংহি দেব দিগম্বর,
সদানন্দ সতীনাথ ত্বংহি স্মর-হর।
.
৬
পঞ্চম অধ্যায়।
কবিবর নবীনচন্দ্র সেনের স্বর্গারােহণে
শােকোচ্ছাস।
নবীন ঝঙ্কারে বীণা সুষুপ্ত বঙ্গেতে,
সহসা জাগ্রত করি বঙ্গবাসী সবে।
নবীন আলােকে দীপ্ত নবীন প্রভাতে
নবীন বীণার ধ্বনি কেন রে নীরবে ।
কে বাজাবে আর হায় নবীন উদ্যমে,
ধরিয়ে নবীন তান মধুর ঝঙ্কারে।
ত্যজিয়ে সাধের বীণা এই মত্তভূমে,
স্বর্গগত বাদ্যকর চিরদিন তরে!
কোথা হে কবীন্দ্র তুমি কোন্ অভিমানে
ত্যজিলে অকালে হায় বঙ্গবাসিগণে।
আকুল শোকেতে তব বঙ্গ নরনারী ;
হের হে কঁদিছে বীণা শশাকেতে ঝঙ্কারি ।
কুসুম-হার।
বর্ণিতে অশেষ গুণ অক্ষম লেখনী,
গুণাকর কবিবর বিখ্যাত বঙ্গেতে।
ভারতীর বরপুত্র কবি চূড়ামণি
কলকণ্ঠ-রাজ তুমি কাব্য নিকুঞ্জেতে।
নবীন উদ্যমে ভ্রমি কবিতা কাননে,
বিবিধ কুসুমচয় করিয়ে চয়ন ;
বুচিয়ে নবীন দাম তুমি সযতনে
পূজিলে হে ভক্তিভরে ভারতী চরণ।
সাহিত্য-সেবক-অলি মধুপান লোভে,
ছুটীলা আকুল হয়ে মধুর সৌরভে !
মরি কি বিচিত্র মালা অদ্ভুত নির্মাণ ;
ধন্য শিল্পকর তব সুশিক্ষা মহান্ ॥
রােপণ করিলা সবে ভারত উদ্যানে,
বেদব্যাস ঋষি এক বিটবী মহান ।
চৌদিকে বেষ্টিত কৈলা কণ্টক কাননে,
যতনে সে তরুবরে সুরক্ষা কারণ।
কল্পতরু জিনি তরু ফুল ফুলে নত,
ধৰ্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ প্রদানে সতত।
তত্ত্বজ্ঞানী বিনে অঙ্গে সন্ধান না পায় ।
কণ্টক কানন মাঝে পথ ভুলে যায় ।
৮৪
কুসুম-হার।
জ্ঞান-অসি করে পশি দুর্গম বিপিনে,
পুরুষার্থ ফল তুমি করিয়ে চয়ন,
সযত্নে রােপিলে বঙ্গ সাহিত্য কাননে,
নবীন উদ্যম বারি করিয়ে সিঞ্চন ।
কৰ্ম্ম, জ্ঞান ভক্তিপুষ্প সাহিত্য কাননে,
ফুটেছে আজি হে কবি তােমার কৃপায়
সযত্নে রক্ষিলে তরু বঙ্গবাসীগণে,
স্বধৰ্ম্ম-উন্নতি ফল লভিবে ত্বরায়।
গীতার নিষ্কাম কৰ্ম্ম ধৰ্ম্ম উপদেশ,
জটিল বেদান্ত সার সরল ভাষায়
শিখালে তুমি হে তব করুণ অশেষ ;
কবিকুল চূড়ামণি কোথা তুমি হায় !
গ্রন্থাবলী তরুমূলে মনােযোগ বারি,
সিঞ্চন করয়ে যদি বঙ্গ নরনারী ;
স্বধৰ্ম্ম উন্নতি ফল ফলিবে ত্বরায় ;
আলোকিত হবে বঙ্গ ধর্মের প্রভায় ।
“কুরুক্ষেত্ৰ” “রৈবতক” মনোহর শাখা,
প্রতিপত্রে প্রতিছত্রে কি অমিয়মাখা।
ভাবুকের মন ভৃঙ্গ সদানন্দ ভরে,
কাব্য-সুধা পান করি যথায় ঝঙ্কারে
ত্রিভুবন মুগ্ধ যার বীণার ঝঙ্কারে,
গ্রন্থাবলী-বীণা লভিতঁাহার কৃপায়,
সিদ্ধিলভি কৈলে তুমি উগ্র সাধনার ;
বাজালে নবীন বীপ সুমধুর স্বরে।
সুমধুর “কুরুক্ষেত্ৰ” “রৈবতক”-তারে,
মহাভারতের গাথা সদা গান করে।
গীতার সে উপদেশ “কুরুক্ষেত্ৰ”-তারে,
ধর্মের গৌরব গান করিছে সুস্বরে।
অভিমন্যু উত্তরার প্রেম আলাপন,
শুনি মুগ্ধ হয় মরি প্রেমিকের মন।
স্বগীয় প্রেমের কথা বীর গাথা কত,
“কুরুক্ষেত্র”-তারে সদা গায় শত শত।
শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ অর্জুনের প্রতি,
“রৈবতকে গায় সেই সুমধুর গীতি ।
সেই তারে গায় কিবা সুভদ্রা হরণ,
শুনি মুগ্ধ হয় যাহে বঙ্গনারীগণ।
“পলাশীর যুদ্ধ”-তারে কামানের ধ্বনি,
বীরের হৃদয় শুনি হয় পুলকিত।
নবাব সেনার সেই বিপুল বাহিনী
গাহিছে সে তারে কিসে হলাে পরাজিত ।
কুসুম-হার।
পুলকিত বঙ্গবাসী করিয়ে শ্রবণ,
বীণা-তারে কামানের ভীষণ গর্জন!
ধন্য তুমি বাদ্যকর ধন্য তব বীণা,
সার্থক হয়েছে তব বিদ্যার সাধনা।
যতনে যে চিত্র তুমি করেছ অঙ্কিত,
নিখুঁত সে চিত্ৰ আহা কিবা সুরঞ্জিত ।
ধন্য তব শিক্ষা তুমি ধন্য চিত্রকর ।
গ্রন্থাবলী-চিত্র তব কিবা মনােহর।
নবীন চন্দ্রের কাব্য-কিরণপ্রভায়,
হয়েছিল বঙ্গভূমি কিবা আলােকিত।
হায় দুষ্টকাল-রাহু গ্রাসিল তাহায়,
শােকান্ধকারেতে বঙ্গ করি আচ্ছাদিত ।
গেছেন অমর কবি অমর সভায়,
রােগ শোক তাপ আহা নাহিক যথায়।
গাহিবে নবীন বীণা মধুর ঝঙ্কারি,
স্তুতিগান শুনি তৃপ্ত হবে সুরপুরী।
সুখেতে থাক হে তুমি অমর সভায়,
মর্ত্য ভূমি নহে তব উপযুক্ত স্থান।
মধুর ঝঙ্কারে পুনঃ নবীন বীণায়,
মহাভারতের গাথা কর তথা গান ।
কুসুম-হার।
৮৭
লভিয়ে অমূল্য নিধি কৃপায় তােমার
আবদ্ধ হয়েছে বঙ্গবাসী মহাঋণে।
কিবা হেন আছে মর্ত্যে বিনিময়ে যার,
ঋণমুক্ত হবে হায় বঙ্গবাসিগণে।
সাহিত্য সেবকগণে হয়ে সম্মিলিত,
চিত্তপটে চিত্র তব করিছে অঙ্কিত।
গ্রন্থাবলী-বীণা তব অতি যত্ন করে,
পূজিবে হে বঙ্গবাসী সবে প্রতি ঘরে ॥
জাতীয় পতাকা।
ভ্রমি সযতনে
সোণার ভারতে,
মণির মন্দিরে,
সুউচ্চ শিখরােপরে।
উড়িতেছে ওই
জাতীয় পতাকা
অনুকূল বায়ু ভরে ॥
পত পত স্বরে
সম্ভাষি সাদরে
ভারত সন্তানগণে।
কহিছে পতাকা
“এস সবে পূজি
ভারতীর শ্রীচরণে ॥
সাহিত্য কাননে
নানাবিধ ফুল তুলি ।
শুভক্ষণে আজি
এস দিব সবে
মাতৃপদে পুষ্পাঞ্জলি।
সনাতন ধর্ম
বিলুপ্ত ভারতে
আমাদের অযতনে।
স্বধৰ্ম্ম উন্নতি
করহ সকলে
যত্ন করি প্রাণপণে ।
দ্বেষ হিংসা সবে,
করি পরিহার
ণে পরস্পরে ।
কুসুম-হার। হয়ে সম্মিলিত কর কোলাকুলি ভ্রাতুসনে প্রতিভরে। স্বদেশ উন্নতি, করিবে যদ্যপি স্বধৰ্ম্ম-উন্নতি কর। ধৰ্ম্ম গাথা সবে করহ প্রচার ভ্রমি প্রতি গৃহদ্বার। জ্বালিয়ে হোমাগ্নি করিয়ে অাবার বেদমন্ত্র উচ্চারণ। দেন ঘৃতাহুতি শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণে তৃপ্ত হবে দেবগণ। হরি গুণগান করহ প্রচার যত্ন করি প্রাণপণে । গীতার নিষ্কাম ধৰ্ম্ম উপদেশ শিক্ষা দেহ প্রতি জনে। বেদান্ত করেতে, ধরিয়ে শঙ্কর শূন্য পথে ওই হের। করি আশীর্বাদ কহিছেন সবে বেদান্ত প্রচার কর। যত আর্য ঋষি অলক্ষ্যেতে আজি আশীৰ্বাদ করে সবে। হেন ভক্ষণে ত্যজিলে নিদ্রা ভারত, শ্মশান হবে।
৯০ কুসুম-হার। করহ যদ্যপি ধৰ্ম্মের গৌরব স্বধৰ্ম্ম উন্নতি রােগ শােক নাহি রবে। দারুণ দুর্ভিক্ষে সােপার ভারত আর না পীড়িত হবে। পত পত রবে উড়িব আবার হয়ে আমি পুলকিত। হেরিয়ে আমারে, সমগ্র পৃথিবী হবে কিবা চমকিত । করিয়ে স্মরণ নবীন উদ্যমে আমি। সুউচ্চ চূড়ায় উড়িব আবার স্তম্ভিয়ে মরতভূমি। মম উপদেশ যদি না শুনিবে” কহিছে পতাকা ধীরে। “চূড়ার সহিতে ফেলিবে ভূমিতে ভীম প্রভঞ্চন মােরে । মণির মন্দিরে সাধের পতাকা রক্ষিবারে যদি চাও। স্বধৰ্ম্ম উন্নতি কর প্রাণপণে ধৰ্ম্মগাথা সবে গাও | তন্ত্রের সাধনা শক্তি আরাধনা করুন সাধক সবে।
কুসুম-হার। করি যােগাভ্যাস শিখিলে সমাধি, অসাধ্য সাধন হবে । ভারত সস্তান ভ্রমি প্রতিদ্বারে গাও হরিণ পান। গো-মাতার সবে করহ পালন রাখহ নারীর মান। ত্যজিয়ে বিলাস ভারত ললনা ব্ৰতপূজা সবে করি। উলুধ্বনি পুনঃ করুন সকলে অতীত গৌরব স্মরি। অধৰ্ম্ম-উন্নতি করহে যদ্যপি রোগ শোক নাহি রবে। সুখ সিন্ধুনীরে অাবার ভারত সুথে সন্তরণ দিবে । পত পত রবে উড়িব আবার হয়ে আমি পুলকিত। হেরিয়ে ভারতে সমগ্র পৃথিবী হবে ত্বরা চমকিত । ধৰ্ম্মের গৌরব করিয়ে স্মরণ নবীন উদ্যমে আমি। উড়িব আবার স্তম্ভিয়ে মরতভূমি।” সুউচ্চ চূড়ায়
গো-মাতার সেবা।
( ১ )
জনমি জননী গর্ভে যত নগণ,
অগ্রে পৃথী মাতা ক্রোড়ে করে আরােহণ ।
এই হেতু পৃথিবীরে মাতৃ সম্বোধন,
করয়ে সতত মরি যত আৰ্য্যগণ ।
গাে-দুগ্ধে করিয়ে অগ্রে জীবন ধারণ,
জননীর স্তন্য পান করে নর পরে !
সাক্ষাৎ সম্বন্ধে হে যত গাভীগণ,
মানবের মাতৃস্থান অধিকার করে ।
( ৩ )
গাে-মাতার সেবা করি যত হিন্দুগণ,
সার্থক করেন তারা আপন জীবন।
পৃথী আর গাভী দেহে প্রত্যক্ষ ভাবেতে
উপবিষ্টা মানবের বিমাতৃ স্থানেতে ।
কুসুম-হার।
( ৪ )
মানবী বিমাতা সহ অছয়ে বিশেষ,
স্বপত্নী পুত্রের প্রতি নাহি হিংসা দ্বেষ ।
উপেক্ষা করিয়ে মরি আপন শাবকে,
করয়ে পালন কিবা সতত সেবকে।
( ৫ );
অনন্ত অক্ষয় পুণ্য গো-সেবার ফল,
হিন্দু শাস্ত্রে লিপি বদ্ধ আছে এ সকল ।
গাভী যদি তৃণ নাহি করয়ে ভক্ষণ,
অসিদ্ধ সে প্রায়শ্চিত্ত জানে হিন্দুগণ ।
( ৬ )
পূর্ণব্রহ্ম ভগবান গােলক-বিহারী,
বাল্যলীলা ছলে গাে-মাতার সেবা করি ;
গোপাল, রাখাল নাম করিয়ে ধারণ,
গাে-জাতির পবিত্রতা কৈলা প্রদর্শন।
( ৭ ৭ )
দেহেতে সপত্নী বটে পৃথী আর গাভী,
কিন্তু হিংসা দ্বেষ নাহি দোহাকার মনে।
পরম্পর সাহায্যেতে দোহে স্বাস্থ্য লভি,
পালন করয়ে সদা মানব সন্তানে।
৯৪
কুসুম-হার।
( ৮ )
হিন্দু ও যবন আর যতেক খৃষ্টান,
যে যেথায় আছি ভাই মানব সন্তান।
পৃথী আর গো-মাতায় সেবিয়া সকলে,
লভিব উন্নতি মােরা ইহ পরকালে ।
( ৯ )
রাজেশ্বরী অন্নপূর্ণা ভারত জননী,
অন্নদান করে কত দীন হীন জনে।
না বুঝি মাতার মর্ম তার পুত্রগণে,
অন্নাভাবে হাহাকারে কঁাপায় মেদিনী।
১০ )
উপেক্ষা করিয়ে হায় গো-মাতৃ সেবার,
বল বীৰ্য বুদ্ধি হীন হয়েছে সবার।
সযত্নে না করি কৃষি কাৰ্য্যের সাধনা,
করিয়াছি পৃথী মারে মােরা শস্যহীন।
( ১১ )
স্বদেশ সেবক তুমি বৃথা কেন হায়,
বাগ্মিতা প্রকাশ কর বিরাট সভায় ।
স্বদেশ উন্নতি সত্য যদ্যপি করিবে,
গো-সেবা ব্যতীত আশা পূর্ণ না হইবে।
কুসুম-হার।
,
( ১২ )
যেহেতু গো-জাতি হের করিছে রক্ষণ,
মানব শিশুর সদা অমূল্য জীবন।
কিরূপেতে গাে-জাতির সাহায্য ব্যতীত,
ভারতীয় কৃষি কাৰ্য্য হবে সংশোধিত ?
( ১৩ )
দেশের শ্রীবৃদ্ধি হয় বাণিজ্য কারণ,
গাে-জাতিই বহু কষ্ট করিয়া স্বীকার ।
দূরদেশে পণ্য দ্রব্য করিয়া বহন,
নিৰ্বাহ করিছে সদা বাণিজ্য ব্যাপার।
( ২৪ )
উপেক্ষা করিয়ে হায় গাে মাতৃ সেবায়,
যজ্ঞের প্রধান দ্রব্য দ্বতের বিকৃতি।
ব্রাহ্মণের বেদ মন্ত্ৰ বীৰ্য্য হীনতায়,
হয়েছে ভারতে তাহে এহেন দুর্গতি ।
( ১৫ )
অর্ঘ্য পাত্রে পঞ্চ গব্য বিকৃতি কারণ,
চৈতন্য বিহীন আজি যত দেবগণ।
অতৃপ্ত হয়েছে আজি হায় পিতৃলােক,
অভিশাপ দেন বুঝি হৃদে পেয়ে শােক।
কুসুম-হার।
( ১৬ )
কিরূপে বর্ণিব আমি গাে-জাতি মহিমা,
কত গুণ আছে মরি নাহি তার সীমা ।
মাতৃরূপে সদা তার! স্তন্য দুগ্ধ দানে,
পােষণ করিছে কিবা মানব সন্তানে।
( ১৭
)
পিতৃরূপে কৃষি কাৰ্য্যে সহায়তা করে,
পালন পােষণ করে ভারতবাসীরে।
ভৃত্যরূপে করি তারা শকট চালন,
পণ্য দ্রব্য সদা হায় কৰিছে বহন ৷
১৮ )
হইয়াছে সপ্রমাণ অধুনা বিজ্ঞানে,
মহামারী উপস্থিত হইবে যে স্থানে ;
গোময়ের ব্যবহার পারে করিবারে
ফিনাইল পরিবর্তে সবে প্রতি ঘরে ।
(১৯)
মাতৃ, পিতৃ, ভৃত্য চিকিৎসক গুণাবলী,
সৰ্বগুণ যে জীবেতে রয় একাধারে ।
পশু বা ঈশ্বর তায় ডাকিব কি বলি,
বিজ্ঞজন দয়া করি বলে দাও মােরে।
কুসুম-হার।
( ২০ )
জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ জীবের আসনে,
হিন্দুশাস্ত্র গাে-মাতায় করিয়ে স্থাপিত।
পূজার ব্যবস্থা করি সানন্দিত মনে,
ভগবতী নামে মরি কৈল অভিহিত।
সযতনে গাে-মতিয় করিয়ে পালন,
পূজিতেন বশিষ্ঠাদি আৰ্য্য ঋষিগণ ।
হিন্দু শাস্ত্রে আছে বহু অপূৰ্ব্ব কাহিনী ।
বিচিত্র সে কামধেনু সুরভি-ননিনী
(২২ )
ভারত সন্তান হয় যে দিন হইতে,
উপেক্ষা করিল মরি গো-জাতি সেবিতে।
সেই দিন কৃষি কাৰ্যে হৈলা অবনতি ,
বাণিজ্য হইলা ধ্বংস স্বাস্থ্যের বিকৃতি ।
(২৩)
গাে-চারণ ক্ষেত্র নাহি আজিরে ভারতে,
স্বাস্থ্যহীন হয়ে গরু প্রত্যেক বর্ষেতে।
কালের করাল গ্রাসে যায় লক্ষ লক্ষ ;
সে দিকে ভ্রমেও কেহ নাহি করে লক্ষ্য।
৯৮
কুসুম-হার
(২৪)
বল দান করে বলি করে অভিহিত,
বলদ নামেতে বৃষে বঙ্গ দেশে সবে।
জন্মে না বলিষ্ঠ বৎস আর পূৰ্ব্বমত,
উপযুক্ত বলবান বৃষের অভাবে।
(২৫)
ভারতবর্ষীয় ক্ষেত্র তাহে শস্যহীন,
অন্তর-বাণিজ্য প্রায় বিলুপ্ত ভারতে।
দুর্দশাও বৃদ্ধি ক্রমে হয় প্রতি দিন,
ভাসিছে ভারতবাসী দুঃখ-সমুদ্রেতে ।
(২৬)
কি ক’ব দুঃখের কথা বুক ফেটে যায়,
বিদেশ হইতে দুগ্ধ আসিছে কৌটায় ।
বিদেশ হইতে দুগ্ধ না আসিলে দেশে,
ভারতবর্ষীয় শিশু রক্ষা পাবে কিসে ?
(২৭)
স্পষ্টভাবে উপলব্ধি হতেছে এক্ষণে,
এক মাত্র গােজাতিরে অবজ্ঞা কারণে।
হয় নাই গােজাতির শুধু অপােগতি,
সঙ্গে সঙ্গে ভারতের এহেন দুর্গতি।
কুসুম-হার।
( ২৮ )
যদ্যপি ভারতবাসী করি প্রাণপণ,
রক্ষিবারে পারে সবে যতনে গোধন।
গাে-মাতৃ সেবার ফলে উন্নতি লভিবে,
সুখ-সিন্ধু-নীরে পুনঃ সানন্দে ভাসিবে ।
(২৯)
কতকাল আর হায় হে ভারতবাসী,
গাে-মাতৃ সেবায় সবে উপেক্ষা প্রকাশি,
মােহ-নিদ্রা ঘােরে হায় হয়ে অচেতন,
ভারতের এ দুর্গতি করিবে দর্শন।
( ৩ )
হিন্দু ও যবন আর যতেক খৃষ্টান,
যে যথায় আছি সবে মানব সন্তান।
দ্বেষ হিংসা পরিহরি করি প্রাণপণ,
এসো ভাই করি সবে গোশালা স্থাপন।
ঐশ্যামাদাস মুখোপাধ্যায় ।
ধ-সংস্কার।
নন্দন কানন সম সোণার ভারতে,
হরিপ্রিয়া কমলার ক্রীড়া নিকেতন।
হেন সুখময় স্থান ছিল কি মরতে ?
জন্মিতে যে স্থানে বাঞ্ছা করে দেবগণ।
হেন সুখময় স্থানে অজি কি কারণ,
ভয়ঙ্কর বিভীষিকা করি দরশন।
নানাবিধ রোগ শোকে হয়ে জর্জরিত
সােণীর ভারত আজি ভস্মে পরিণত
•
শৃগাল ও শকুনির অশিব চীৎকারে,
ভয়ে কার প্রাণ নাহি হয় আতঙ্কিত।
শ্মশানের চিতা ধূমে আবৃত তিমিরে,
হইয়াছে হের আজি সমগ্র ভারত।
অন্নহীন আজি অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার,
অন্নাভাবে সবে হায় করে হাহাকার।
সনাতন ধৰ্ম্ম-পথ করি পরিহার,
অচিরে ভারত বুঝি হবে ছার খার।
কুসুম-হার।
An4A
সনাতন ধৰ্ম্ম-পথ ভারত ভিতরে,
মগন হয়েছে আজি ভীম অন্ধকারে।
দুঃখের দুঃস্বপ্ন হেরি ভারত সন্তান,
বিকট চীৎকার করে হয়ে হতজ্ঞান।
জাগ্রত না হয় কেহ বিকট চীৎকারে।
উদ্বেলিত উত্তেজিত স্বপন বিকারে !
পথিক জিজ্ঞাসে পথ কে দিবে উত্তর,
স্বপনে প্রলাপ বাক্য কহে নিরন্তর।
হেরি আজি ধৰ্ম্ম-পথে ভীম অন্ধকার,
রাক্ষস পিশাচে করে সুখের সঞ্চার।
সিংহ ব্যাঘ্র ভল্লুকাদি ভীম জন্তুগণ,
বিকট চীৎকারে পথ করিলা ভীষণ।
ধৰ্ম্ম-পথে আৰ্য ঋষি করিলা স্থাপন,
সুউজ্জ্বল শাস্ত্র-দীপ করিয়া যতন।
সহস্র খণ্ডেতে চূর্ণ হয়ে আজি হায়,
অযতনে শাস্ত্র-দীপ নিৰ্বাপিত প্রায় ॥
ধরে সে দেশ যার প্রতি ধূলিকণা,
ভগবৎ পদস্পর্শে হয় পবিত্রিত।
ধরে সে দেশ যথা করিয়া করুণা,
সাধু পরিত্রাণে দেব হন আবির্ভূত।
কুসুম-হার।
কৰ্ম্ম শিক্ষা দেন জীবে আপনি বিধাতা
যজমান মূৰ্ত্তি যথা করিয়া গ্রহণ।
ধৰ্ম্ম বিপ্লবেতে যথা নিজে বিশ্বপিতা,
অবতরি করে হায় ধৰ্ম্ম সংস্থাপন ॥
ধরে সে দেশবাসী আত্মােন্ধার আশে,
জাত মঙ্গল যারা করেন সাধন।
অচারের হ্রাস বৃদ্ধি নাহি যেই দেশে,
ধন্যরে সে দেশ যার ধর্ম সনাতন ।
ন্যরে সে দেশ যার কৰ্ম্ম সমুদয়,
শাস্ত্রের নিয়মে সদা হয় নির্বাহিত।
ধৰ্ম্ম-কর্ম যে দেশেতে অভিন্ন হৃদয় ;
কৰ্ত্তব্য-অভ্যাস দেহে হয় সম্মিলিত ।
ধরে সে দেশ যার সমাজ বিজ্ঞান,
হেরিয়া সমগ্ৰ ধৰা হয় চমকিত।
ধরে সে দেশবাসী লভি ব্ৰহ্মজ্ঞান,
অদ্বৈত পরম তত্ত্বে হয় উপনীত।
ধরে সে দেশবাসী করি প্রাণপণ
বর্ণাশ্রম ধৰ্ম্ম যারা করেন পালন।
ধৰ্ম্ম-পথ অজি হায় ভারত ভিতরে
মগন হয়েছে হের ভীম অন্ধকারে।
কুসুম-হার।
অতি ক্ষীণ আলেরেখা হের স্থানে স্থানে
সরল পথিকগণে বিপথে চালায়।
বিজাতীয় আলাে উহা জ্বলে কেরােসিনে
আবৃত হইলা পথ যাহার ধোঁয়ায় ॥
মিত্ৰবেশী শক্র করে পথের সংস্কার,
সনাতন ধৰ্ম্ম-পথ করিয়া সংহার
বিজাতীয় ধৰ্ম্ম পথে করিয়া গমন ;
ভারত সন্তান আজি আনন্দে মগন ।
বিজাতীয় ধর্মালোকে হয়ে আলোকিত
হয়েছে ভারতবাসী অত সুশিক্ষিত।
সুসভ্য হয়েছে তারা পেয়েছে আলােক,
অসভ্য লেখক বৃথা কেন করে শোক।
সুশিক্ষিত হয়ে সবে লভিয়াছে জ্ঞান,
শ্ৰীবেদ হইলা তাহে কৃষকের গান।
ব্যথা পাই প্রাণে হয় বলিতে সে কথা ;
উঠাইতে চায় সবে জাতিভেদ প্রথা।
ওরে কুলাঙ্গার কেন মত্ত অহঙ্কারে,
করি শিক্ষা বিজাতীয় বাহ্যিক বিজ্ঞান।
বহু পূৰ্কে আৰ্য ঋষি ভারত মন্দিরে,
বচিলা বিজ্ঞান সার নাহি কিরে জ্ঞান
১ ০৪
কুসুম-হার।
শিক্ষা করি রাজনীতি কি লভিলে জ্ঞান
শিখিয়াছ কত রূপ শাসন বিধান ?
জান না কি রাজবিধি করিলে লঙ্ঘন,
দণ্ড দান করি রাজা করেন শাসন ?
জান নাকি কেবা এই বিশ্বের সম্রাট,
ত্রিভুবনময় যার সাম্রাজ্য বিরাট ?
যাহার শাসন-বিধি শাস্ত্র নামে খ্যাত
লঙ্ঘিছ সে বিধি হয় কেন অবিরত?
জগতে যদ্যপি সবে চাহ বঁচিবারে,
হিন্দুবংশ যদি হয় চাহ রক্ষিবারে।
স্বধৰ্ম্মে করিয়ে সবে বিশ্বাস স্থাপন
বর্ণাশ্রম ধৰ্ম্ম সবে করহ পালন।
ষষ্ঠ অধ্যায়।
সৰ্বানন্দ ঠাকুর
( পূৰ্ব্ব বৃত্তান্ত )
দাস রাজ নামে ভূপ পূরব বঙ্গেতে।
চাদপুর সন্নিকট মেহার * গ্রামেতে ।
স্থাপি নিজ রাজধানী কৈলা আনয়ন।
রাঢ় দেশবাসী এক পণ্ডিত ব্রাহ্মণ।
ব্রাহ্মণের শুদ্ধাচার হেরি নরপতি।
বৃত্তি ব্রহ্মোত্তর দিয়ে করান বসতি।
দাস রাজ হয়ে অতি আনন্দে মগন ।
দ্বিজ সন্নিধানে মন্ত্র করিলা গ্রহণ।
রাজ-গুরু রূপে সেই বিজ্ঞ দ্বিজবর ।
করেন বসতি আনন্দেতে নিরন্তর ॥
* চাঁদপুর ষ্টেশন হইতে ১৪ মাইল মেহার গ্রাম। পৌষ সংক্রান্তিতে
ও পূজার পর মহামেলা হয়।
কুসুম-হার।
বহুদিন পরে সেই সাধক ব্রাহ্মণ।
গঙ্গা স্নান করিবারে করেন গমন।
স্নান করি গঙ্গা গর্ভে ধ্যানেতে মন।
ইষ্ট মন্ত্র জপ দ্বিজ করে বহুক্ষণ ।
সহসা আকাশ বাণী করেণ শ্রবণ ।
কামাখ্যা ধামেতে দ্বিজ করহ গমন।
শুনিয়া আকাশ বাণী সানন্দ অন্তরে।
জপ শেষ করি দ্বিজ উঠিলেন তীরে ॥
তীরেতে উঠিয়। দ্বিজ করে দরশন।
জনেক বালক তথা করিছে রোদন।
পিতৃ মাতৃহীন শিশু হেরিয়া ব্রাহ্মণে।
করিলা আশ্রয় ভিক্ষা তার সন্নিধানে ।
দ্বিজ বলে হে বালক কিবা তব নাম।
কাহার সন্তান তুমি কোথা তব ধাম ॥
বালক কহিলা তবে শুন মহাশয়।
পূর্ণচন্দ্র নাম মম পুয়ে সবে কয় ।
হইয়াছি শৈশবেতে মাতৃ পিতৃ হীন ।
অন্নাভাবে উপবাস করি বহুদিন ।
কোন্ জাতি কেবা মোর জনক জননী।
কোথা জন্মস্থান তাহা কিছু নাহি জানি।
অন্ন বস্ত্রালবে আমি ভ্রমি নানা স্থানে।
কৃপা করি স্থান দেহ তব শ্রীচরণে ॥
কুসুম-হার।
১০৭
শুনি দ্রবীভূত হৈল ব্রাহ্মণের মন।
বালকের সঙ্গে লয়ে করেন গমন ॥
কামাখ্যা ধামেতে আসি অতি ভক্তিভরে।
ধন্না দিয়ে রহিলেন মায়ের মন্দিরে।
সহসা তৃতীয় দিনে উঠিল। ব্রাহ্মণ ।
সকাতরে পূর্ণচন্দ্র কহিলা তখন।
দেবীর অদেশ কিবা হইলা তােমারে।
হে ঠাকুর দয়া করে কহ তাহা মােরে।
দ্বিজ বলে গুপ্ত কথা না বলিও কারে।
জননী আদেশ এই দিলেন আমারে।
নিজ পৌত্র রূপে আমি সত্বর জন্মিব ।
সেই জন্মে জননীর দর্শন লভিব।
এত বলি দ্বিজবর পূর্ণচন্দ্রে লয়ে ।
উপনীত হইলেন আপন অলিয়ে।
পুত্রেরে রাখিয়া দ্বিজ অল্পদিন পর ।
সজ্ঞানেতে ত্যজিলেন নিজ কলেবর ।
হইলেন পূর্ণচন্দ্র বিষাদে মগন।
শোকাকুল হয়ে কঁাদে পুত্র পরিজন।
( সর্বানন্দ ঠাকুরের জন্ম ও তাহার সিদ্ধ মন্ত্র প্রাপ্তি )
কিছুদিন পরে তার জন্মে পৌত্রগণ ।
পৌত্রগণে হেরি পূর্ণ আনন্দে মগন ।
১০৮
কুম-হার।
নিজ মনে পূর্ণচন্দ্র ভাবে অনুক্ষণ ।
পৌত্রগণ মধ্যে মম কর্তা কোন্ জন।
কোন্ জন জননীর দর্শন লভিবে।
যাহার কৃপায় মোর বাসনা পূরিবে ।
মনে মনে ভাবি কিছু বুঝিতে না পারে।
পৌত্রগণে প্রাণপণে সদা যত্ন করে ।
পূর্ণচন্দ্রে মান্য করে সদা পৌত্রগণ।
“পূয়ে দাদা” বলি তারে করে সম্বোধন।
সযতনে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বিদ্যাশিক্ষা কৈলা।
কনিষ্ঠ হইলা মূৰ্থ বিদ্যা না শিখিলা।
রাজার সভায় জ্যেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা লভিল।
সানন্দেতে রাজা তারে বহু বৃত্তি দিল।
কনিষ্ঠ হইলা মূৰ্থ বিদ্যা নাহি শিখি।
সারাদিন গাছে উঠি ধরিতেন পাখী ।
"সবা” বলি সবে তঁরে করে সম্বোধন।
একদা সে রাজবাড়ী করিল গমন।
রাজসভা মধ্যে তঁারে হেরি নরপতি।
ভক্তি ভরে করিলেন চরণে প্রণতি।
সমাদর করি রাজা জিজ্ঞাসেন তারে।
কি তিথি ঠাকুর আজি বলুন আমারে।
অমাবস্যা দিনে তিনি পূর্ণিমা কহিয়া।
আপন গৃহেতে ত্বরা গেলেন ফিরিয়া ।
কুসুম হার।
সভাসদগণ তাহা করিয়া শ্রবণ।
বহু নিন্দা কৈল। তঁার মূখত কারণ।
অতঃপর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রাজার সভায়।
আসিয়া সকল কথা শুনিলা তথায় ॥
লজ্জায় ঘৃণায় তিনি অতি ক্রোধ ভরে।
স্বগৃহেতে আসিলেন কিছুক্ষণ পরে ।
কনিষ্ঠ ভ্রাতায় বহু করি তিরস্কার।
ক্রোধ ভরে করিলেন অত্যন্ত প্রহার ।
কনিষ্ঠ ঠাকুর তবে করিয়া রোদন।
শয়ন গৃহেতে আসি করিল শমন
ছােট বধূ ঠাকুরাণী সরিয়া রন্ধন।
সযতনে পাতিলেন সকল অসিন।
সকলে আসিয়া তবে বসিলা ভােজনে।
কনিষ্ঠ ঠাকুর কিন্তু রহিল শয়নে ॥
ক্ষণ পরে পূর্ণচন্দ্ৰ কৰি আগমন।
“কোথা সব্বা ভাই” বলি ডাকিলা তখন
জ্যেষ্ঠ বলে পূয়ে দাদা শুন, সব্বা ভাই
সকলের অন্নে বুঝি মাখাইবে ছাই ।
পূর্ণ বলে কেন কি করেছে সব্বা ভাই।
সকলে ভােজন কর সব্বা কেন নাই ।
জ্যেষ্ঠ বলে শুন তার মূৰ্থতা কারণ।
রাজসভা মধ্যে যেতে করেছি বারণ।
কুসুম-হার
নাহি জানে লেখা পড়া অজ্ঞান সে জন।
কি জানি কি বলে তথা ভয় সে কারণ।
শুনি তার কথা রাজা রাগান্বিত হবে।
সেই সঙ্গে আমাদের অন্ন মারা যাবে ।
নিষেধ করেছি তারে আমি সে কারণ।
রাজসভা মধ্যে যেন না করে গমন ।
বলি কাহাকে কিছু, অদ্যকার প্রতে।
একাকী গিয়াছে রাজার সভাতে ।
প্রণাম করিয়া রাজা বহু সমাদরে ।
কি তিথি ঠাকুর আজি জিজ্ঞাসেন তারে।
হতভাগ্য গণ্ড মূখ অমাবস্যা দিনে।
পূর্ণিমা বলেছে আজি রাজ সন্নিধানে।
অবশেষে আমি গিয়া বাজার সভায়।
শুনিয়া সকল কথা মরিনু লজ্জায়।
গুরুবংশে হেন গরু করি দরশন।
লজ্জায় নৃপতি নিজে কিছু নাহি কন্ ।
কিন্তু তীব্র উপহাস করে সভ্যগণ।
লজ্জায় মরিনু তাহা করিয়া শ্রবণ।
বল দেখি পূয়ে দাদা কিবা অপমান।
ইচ্ছা হয় ত্যজি প্রাণ করি বিষ পান ।
পিতা পিতামহ মাের পণ্ডিত সকলে।
বৃত্তি ব্ৰহ্মোত্তর পান, পাণ্ডিত্যের বলে ।
কুসুম-হার।
কিন্তু হায় হতভাগ্য সব্বার জ্বালায়।
বৃত্তি ব্ৰহ্মোত্তর বুঝি না থাকে বজায় ।
পূর্ণ বলে সব কথা করিনু শ্রবণ।
ভোজনে সে না বসিলা কিসের কারণ।
জ্যৈষ্ঠ বলে গৃহে আসি কৈনু দরশন।
গৃহাঙ্গনে বসি করে তামাকু সেবন ।
ধান্য রাশি ছিল রৌদ্রে শুষ্কের কারণ।
কতিপয় গরু তাহা করিছে ভক্ষণ ।
সম্মুখে গরুতে তার খাইতেছে ধান।
লক্ষ্য নাহি, চক্ষু মুদি করে ধূম পান ।
দরশন করি তাহা করি তিরস্কার।
ক্রোধ ভ'রে করিয়াছি তাহারে প্রহার ।
পূর্ণচন্দ্র শুনি তাহা অতি ক্রোধ ভরে।
তিরস্কার করি বহু জ্যৈষ্ঠ ঠাকুরেরে ।
কোথা সব্বা ভাই মাের বলি ত্বরান্বিতে।
প্রবেশ করিলা তার শয়ন গৃহেতে ।
পূর্ণে হেরি সৰ্বানন্দ কঁদিয়া উঠিল।
ক্রন্দন করিয়া পূর্ণ কহিতে লাগিল ।
কেন ওরে সব্বা ভাই করহ ক্রন্দন।
মন দিয়া শুন:তুমি আমার বচন ।
তাল পত্ৰ কাটি অদ্য কর আনয়ন।
লেখা পড়া শিক্ষা দিব করিয়া যতন ॥
কুসুম-হার।
লেখা পড়া শিক্ষা হেতু কর প্রাণপণ ।
অবশ্য শিখিবে বিদ্যা পাঠে দিবে মন ।
এক্ষণেতে শুন তুমি বচন আমার।
ক্রন্দন ত্যজিয়া চল করিবে আহার ।
সর্বানন্দ বলে দাদা শুনহ বচন।
লেখা পড়া শিক্ষা নাহি হয় যতক্ষণ ।
প্রতিজ্ঞা করেছি জল স্পর্শ না করিব ।
অনশনে এ ঘৃণিত পরাণ ত্যজিব।
পূর্ণচন্দ্র বহুরূপে বুঝাইয়া রে।
ভোজনেসম্মত নাহি করিবারে পারে ।
বিষাদিত মনে নিজে থাকি অনশনে।
গোপাল লইয়া পূর্ণ গেল গোচারণে ॥
দ্বিপ্রহরে সকলের ভােজন শেযেতে।
আসিলেন ছোট বধু শয়ন গৃহেতে ।
স্বামীর দুঃখেতে সতী আছে অনাহারে।
স্বামীরে বুঝনি তিনি বিবিধ প্রকারে ।
ভােজন করিতে বহু অনুরােধ কৈলা।
কিন্তু সৰ্বানন্দ তাঁর কথা না শুনিলা ॥
ক্ষণ পরে আসি তিনি নগর প্রান্তরে।
উঠিলেন তাল বৃক্ষে পত্র কাটিবারে।
ভীষণ ভুজঙ্গ এক করিয়া গর্জন।
উদ্যত হইল তঁারে করিতে দংশন।
কুসুম-হার।
অসীম সাহসে তিনি ধরিয়া তাহারে।
খণ্ড খণ্ড করিলেন তালবৃন্ত ধারে ।
তাল-পত্ৰ কাটি তবে সানন্দে নামিলা।
অদূরে জনেক যােগী সমস্ত হেরিলা।
সবিস্ময়ে যােগীবর কহেন তঁাহারে।
কি হেতু উঠিলে তুমি তালবৃক্ষোপরে
সৰ্বানন্দ বলে আমি লেখা শিখিবারে।
উঠেছিঃ বৃক্ষে তাল-পত্ৰ কাটিবারে ॥
আপাদ মস্তক তার করি নিরীক্ষণ।
হইলেন যােগীবর ধ্যানেতে মগন ।
উন্মীলিত করি আঁখি ক্ষণকাল পরে।
কহিলেন যােগীবর সুমধুর স্বরে ॥
পেয়েছ অনেক কষ্ট ভীষণ প্রহারে।
সে কারণে আছ আহা তুমি অনাহারে।
লেখা পড়া নাহি শিখি করিয়াছ পণ ।
বিন্দুমাত্র জল-নাহি করিবে গ্রহণ।
কোথা গেল পূর্ণচন্দ্র বলহ আমায় ।
সৰ্বানন্দ বলে তুমি জান কি তাহায় ?
শুন মোর পূয়ে দাদা লেখা পড়া জানে।
পৃথিবীতে তারে বুঝি সকলেই চিনে ।
তাল-পত্ৰ কাটিবারে আমায় কহিয়া।
গরু পাল লয়ে মাঠে গিয়াছে চলিয়া।
১১৪
কুসুম-হার।
রাগে মাের পূয়ে দাদা অাছে অনাহারে
রাত্রিতে সে লেখা পড়া শিখাইবে মোরে
শৈশবে হয়েছি মাতৃপিতৃহীন হায়।
পূয়ে দাদা যত্ন করি পালিল আমায় ।
বয়স অধিক তব কন্যােগীর।
হইবে অনেক দেরী, না হবে সত্বর।
কিন্তু যদি শুন তুমি আমার বচন।।
পার যদি মমাদেশ করিতে পলিন।
অদ্যকার রাত্রি মধ্যে সকল বিদ্যায়।
পরম পণ্ডিত তুমি হইবে নিশ্চয়।
সৰ্বানন্দ বলে তাহা অবশ্য পারিব।
পারি তখন আমি পরাণ ত্যজিব।
এত বলি সৰ্বানন্দ কঁদিতে লাগিল।
কঁদিতে কাদিতে তঁার চরণে ধরিয়া ॥
শুভক্ষণে যােগ তবে সানন্দ অন্তরে।
গােরচনা লয়ে তঁার বক্ষের উপরে
লিখিলেন মহামন্ত্র করিয়া যতন।
উত্তরীয় বস্ত্রে তাহা করি আচ্ছাদন।
কহিলেন গুন যুৱ আমার বচন।
সাবধানে গৃহে তুমি করহ গমন ।
আমার সকল কথা গোপনে রাখিবে
একমাত্র পূর্ণচন্দ্রে সকল কহিবে ।
কুসুম হার।
বক্ষের লিখিত মন্ত্র তারে পড়াইয়া।
শুনিবে হে তুমি তাহা সতর্ক হইয়া ।
ঘোর নিশাযােগে আজি বাইয়া শ্মশানে।
একাগ্র চিত্তেতে তুমি বসি শবাসনে।
অবিরাম এই মন্ত্র নির্ভয়ে জপিবে।
মায়ের দর্শন তাহে অবশ্য পাইবে।
যা ইচ্ছা বর লাভ করিতে পারিবে।
যত বিদ্যা চাও তুমি তাহাই লভিবে।
এতেক বলিয়া যােগী হৈলা অন্তধন।
সানন্দেতে সৰ্বানন্দ গৃহে ফিরি যান।
{ সৰ্বানন্দের শব-সাধন এবং সিদ্ধি লাভ )
ধেনুপাল লয়ে পূর্ণচন্দ্ৰ সন্ধ্যাকলে।
গৃহেতে ফিরিয়া ধেনুবঁধেন গো-শালে ।
সানক্কেতে সৰ্বানন যাইয়া সে স্থানে।
কহিল। সকল কথা তঁাহারে গোপনে।
সবিস্ময়ে সব কথা করিয়া শ্রবণ।
বঙ্গোলিপি হেরি পূর্ণ আনন্দে মগন ।
আপন মনেতে পূর্ণ ভাবিছে তখন।
এতদিনে বুঝিলাম কর্তা এই জন।
মহাকালীকার মহাবীজাতি বক্ষে।
দাড়াইয়া মহাগুরু আমার সমক্ষে।
কুম হার
ত্রিপুরুষ পরে আজি লভিনু কৰ্ত্তারে।
শুভদিন হলাে আজি এতদিন পরে ।
এইরূপে সবিস্ময়ে পূর্ণ আদ্যোপান্ত।
ভাবিতে লাগিল মনে পূর্বের বৃত্তান্ত ॥
রােমাঞ্চ কম্পিত দেহ হয় ক্ষণে ক্ষণে।
অবিরল অশ্রুধারা পড়ে দুনয়নে।
সৰ্বানন্দ হেরি তবে পূর্ণের রোদন।
কঁদিতে দিতে তারে কহেন তখন।
সারাদিন তুমি দাদা আছ অনশনে।
কষ্ট তায় উপবাসে রোদ্রে গাে-চারণে।
কনিষ্ট
বধুরে
ডাকি করহ ভোজন।
সযতনে রাখিয়াছে অন্নাদি ব্যঞ্জন ।
অনশনে যদি তুমি পরাণ ত্যজিবে।
বল দাদা তবে মাের গতি কি হইবে ।
শুনি তাহা পূর্ণচন্দ্র কঁদিয়া উঠিল।
আঙ্গিন করি তারে কহিতে লাগিল ৷
কি গতি হইবে তব মরি যদি আমি ।
ভাবনা হয়েছে, তাই কাঁদিতেছ তুমি !
এত বলি পূর্ণচন্দ্র হাসিয়া উঠিল।
হাসি হেৰি সৰ্বানন অবাক হইল ।
কান্নার সহিত হাসি সুন্দর কি মরি।
ভাষায় সে ভাব হয় বর্ণিতে না পারি
কুসুম-হার।
সৰ্বানন্দ বলে মাঠে করিয়া গমন।
করিয়াছ বুঝি দাদা গঞ্জিকা সেবন?
পূর্ণ বলে টানি নাহি গঞ্জিকা মাঠেতে।
টানায়েছ তুমি তাহা কামাখ্যা পীঠেতে।
ত্রিপুরুষ ঘুরে মরি তাহার নেশায়।
ছুটিবে সে নেশা আজি তােমার কৃপায় ।
কিছুক্ষণ পরে তবে সন্ধ্যা হলে গত ।
শ্মশানেতে দুই জন হৈলা উপনীত।
শ্মশান মাঝারে এক বটবৃক্ষ ছিল।
সে স্থানে আসিয়া পূর্ণ কহিতে লাগিল।
এত রাত্রে শব কোথা করি অন্বেষণ।
আমি যাহা বলি তাহা করহ শ্রবণ ॥
অধােমুখে আমি নিজে করিব শয়ন।
মম পৃষ্টোপরি তুমি করহ আসন।
একমনে সেই মন্ত্র সতত জপিবে ।
হেরিয়া অদ্ভুত দৃশ্য ভয় না করিবে ।
যতক্ষণ মাতার না পাবে দরশন।
জপিবে সে মন্ত্র তুমি না ত্যজি আসন।
তুষ্ট হয়ে যবে মাত করি আগমন।
কহিবে কি বর বাছা করিবে গ্রহণ।
প্রণমি বলিও তঁারে শুনগো জননী।
পূয়ে দাদা জানে তাহা আমি নাহি জানি।
১১৮
কুসুম-হার।
আমার সকল কথা মনেতে রাখিবে।
নির্ভয় অন্তরে মন্ত্র সতত জপিবে।
সৰ্বানন্দ বলে দাদা ভয় না করিব।
এক মনে মহামন্ত্র সতত জপিব ।
ব্ৰহ্মা বিষ্ণু শিব যদি করি অগিমন।
আদেশ করেন মােরে ত্যজিতে আসন
তথাপি তাদের আজ্ঞা কভু না পালিব।
হেরি বিভীষিকা মনে ভয় না করিব ।
শুনি পূর্ণচন্দ্র হয়ে আনন্দে মগন।
অধোমুখে বৃক্ষমূলে করিলা শয়ন ॥..
সুতীক্ষ ছুরিকা তার বস্ত্রাঞ্চলে ছিল।
বিদ্ধ করি গলদেশে পরাণ ত্যজিল।
কিন্তু সৰ্বানন্দ তাহা বুঝিতে নাবিলা।
পৃষ্ঠোপরি বসি মন্ত্র জপিতে লাগিল।
শ্মশানস্থ ভূত প্রেত পিশাচাদিগণ ;
করিতে লাগিল। তঁারে ভয় প্রদর্শন।
ভীষণ ত্রিশূল করে করিয়া ধারণ ।
ভৈরব বেতাল আদি করিছে ভ্রমণ
ভীষণ ভূজঙ্গ কভু করিয়া গর্জন।
উদ্যত হয়েছে:তঁারে করিতে দংশন ।
কভু ব্যাঘ্র ভল্লুকাদি ভীম জন্তুগণ।
গর্জন করিয়া ধায় করিতে ভক্ষণ ।
কুসুমহার।
নানাবিধ বিভীষিকা করিয়া দর্শন।
সৰ্বানন্দ কিছুমাত্র ভীত নাহি হন।
নির্ভয় হৃদয়ে মন্ত্র জপিতে লাগিল।
বহুক্ষণ পরে মাতা সদয়া হইল।
সম্মুখে আসিয়া মাতা কহিলা তখন।
বলহ কি বর বাছা করিবে গ্রহণ।
সৰ্বানন্দ বলে তুমি শুন গাে জননি।
পূয়ে দাদা জানে তাহা, আমি নাহি জানি।
জননী বলেন পূর্ণচন্দ্র এবে মৃত।
জীবনবিহীন সে যে শবে পরিণত।
শুনি সৰ্বানন্দ তারে ডাকিতে লাগিল।
উত্তর না পেয়ে হার কঁদিয়া উঠিলা ।
ভক্তের ক্রন্দন হেরি ভক্তবৎসলা।
সেই ক্ষণে শব দেহে প্রাণ দান দিলা ।
প্রাণ পেয়ে পূর্ণচন্দ্র উঠিয়া বসিল।
ঘােড়করে জননীর স্তব অরিম্ভিল।
স্তবে তুষ্ট হয়ে দেবী কহেন তখন।
মনােমত বর দোহে করহ গ্রহণ।
পূর্ণ বলে চরণ করি দরশন।
সার্থক হইল মাগো মানব জীবন।
দেবতা দুর্লভ পদ দর্শন যে করে।
কি অভাব আছে তার বিশ্ব চরাচরে।
কুসুম-হার।
অজ্ঞান সব্বারে সবে করে অপমান।
আদ্যা মহাবিদ্যা তারে কর বিদ্যা দান ।
দেবী কন বহু বিদ্যা কৈ তারে দান।
বিদ্বান কে আছে মাের ভক্তের সমান ।
মিথ্যা নাহি হয় কভু ভক্তের বচন।
পূর্ণচন্দ্র পূর্ণচন্দ্র কর দরশন।
উপহাস কৈলা রাজসভাসদগণ।
পূর্ণচন্দ্র হেরি হবে বিস্ময়ে মগন ।
আকাশেতে পূর্ণচন্দ্র পূর্ণচন্দ্র হেরি।
কহিতে লাগিলা তবে কর যে করি ।
তােমার অসাধ্য কিবা আছে গো জননী।
কটাক্ষেতে সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়কারিণী।
ব্ৰহ্মময়ী কে বুঝিতে পারে তব লীলা।
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডেতে সদা কর কত খেলা ।
কৃতাঞ্জলি পুটে দেহে এই ভিক্ষা চাই।
ইচ্ছা মত যেন তব দরশন পাই ।
“তথাস্তু” বলিয়া দেবী অন্তধন হৈল ।
সানন্দেতে দুইজনে গৃহেতে ফিরিলা ।
যে স্থানেতে দুইজনে হেরিলা মারে।
অদ্যাপি সে বটবৃক্ষ বিরাজে মেহরে ।
ঐশ্যামদাস মুখোপাধ্যায়।
।
বিরূপাক্ষ গােস্বামী।
( রাজা ভুবনেশ্বরের বৃত্তান্ত)
রাঢ় রাজ্যে ছিল রাজা ভুবন রায়।
নবাব সদনে “সাহাজাদ” অখ্যা পায়।
অতুল ঐশ্বর্যশালী ছিলেন ভূপতি।
হয়েছিল তার রাজ্য সুবিস্তৃত অতি ।
উত্তর সীমানা প্রান্তে নদী সে অয়।
দক্ষিণ সীমানা প্রান্তে দামোদর রয় ।
পূৰ্ব্ব সীমানার প্রান্তে গড় মনিকর।
পশ্চিম সীমানা প্রান্তে নদ বরাকর ।
অড়রা * নগরে তার ছিল রাজধানী।
লোকমুখে খ্যাত তার বিচিত্র জীনী ।
দীন হীন দ্বিজ বংশে জন্মিয়। সে জন।
বনপ্রান্তে এক দিন করে গোচারণ ।
সহসা সে দিন তথা করে দরশন।
বৃক্ষমূলে যোগাসনে যােগী একজন।
* আড়রা-বর্ধমান জেলার অন্তর্গত। ই, আই, রেলওয়ের রাজধ
ষ্টেশন হইতে ৪৫ মাইল উত্তর। যে স্থানে তাহার রাজধানী ছিল, কালক্রমে
তাহা গভীর জঙ্গলে পরিণত হইয়াছে। বন প্রান্তে তাহার প্রতিষ্ঠিত
“রাটেশ্বর” নামে শিবলিঙ্গ অদ্যাপি বৰ্তমান।
১২২
কুসুম-হার।
ভীষণ ভৈরব সম হেরি সে মূরতি।
চরণ যুগলে তঁার করিলা প্রণতি।
আশীৰ্ব্বাদ করি যোগী মধুর বচনে।
বসিতে করেন অজ্ঞা তঁারে সেইস্থানে
অদূরে ভুবন রায় বসি যােড়করে ;
পুলকিত হন অতি হেরি যােগীবরে।
ক্ষণকাল পরে তারে কহেন সন্ন্যাসী।
গত কল্য আমি করেছিনু একাদশী।
হয়ে আছি উপবাসী অমি সে কারণ।
ফল মূল আন কিছু করিব পারুণ ।
ইহাতে হইবে তব পরম মঙ্গল।
রায় বলে বন মধ্যে নাহি কোন ফল ।
যােগী বলে পরিপক্ক তাল ওই হের ।
আমারে আনিয়া তাহা দেহ রে সত্বর।
সু উচ্চ বৃক্ষেতে তাল দরশন করি।
ত্বরায় উঠিলা রায় তাল বৃক্ষোপরি ।
ভীষণ ভুজঙ্গ এক করিয়া গর্জন।
উদ্যত হইল তারে করিতে দংশন।
ভুজঙ্গের ফণা রায় ধরি দৃঢ় করে।
ছেদন করিলা তারে তালবৃন্ত-ধরে।
অতঃপর দুটী তাল সন্ন্যাসী গােচরে।
আনিয়া দিলেন রায় প্রফুল্ল অন্তরে।
কুসুম-হার।
বালকের সাহস হেরিয়া যােগীবর।
হইলেন অতিশয় হরিষ অন্তর ।
সনদ অন্তরে যােগী কহিলা তঁাহারে।
মহামন্ত্র দান অজি করিব তোমারে।
তাহাতে হইবে তব পরম কল্যাণ।
শুন হে রাখাল তুমি বড় ভাগ্যবান ॥
রায় বলে আমি প্রভু জাতিতে ব্রাহ্মণ ।
দীন হীন সে কারণে করি গোচারণ।
শুনি যােগীবর অতি পুলকিত হৈলা।
শুভক্ষণে সিদ্ধ মন্ত্র প্রদান কলি।।
সাধনার উপদেশ করি তারে দান।
প্রস্থান করেন যােগী ত্যজিয়া সে স্থান।
সন্ন্যাসীর উপদেশে যাইয়া শ্মশানে।
হইলেন সিদ্ধ রায় নায়িকা সাধনে।
দেবীর কৃপায় রায় লভিলেন বর।
রাঢ় রাজ্যে রাজা হন কিছু দিন পর।
(রাজা ভুবনেশ্বরের কর্তৃক বিরূপাক্ষ গোস্বামীর
সিদ্ধোপায় কথন )
রায়ের সিদ্ধির কথা কহে সৰ্বজনে ।
অসংখ্য সাধক আসে তার সন্নিধানে।
:২৪
কুম হার
+
গােস্বামী ছিলেন এক জেলা বীরভূমে।
পরম সাধক তিনি বিরূপাক্ষ নামে।
শক্তি সাধনার নানা অনুষ্ঠান কৈলা।
কিন্তু দৈববশে তিনি সিদ্ধি না লভিল।
রায়ের সিদ্ধির কথা করিয়া শ্রবণ।
অড়িরা নগরে আসি উপনীত হন।
তাহারে হেরিয়া য়ায় পুলকিত অতি ।
ভক্তি ভরে গোস্বামীরে করিলা প্রণতি।
নির্জনে যাইয়া:দোহে কিছুক্ষণ পরে ।
কুশল সংবাদ জিজ্ঞাসেন পরস্পরে ।
রায় বলে কি কারণে তব আগমন।
গােস্বামী বলেন আমি করিনু শ্রবণ ॥
সিদ্ধ হইয়াছি তুমি কহে সৰ্ব্বজনে।
করিলে হে সিদ্ধিলাভ বল কি সাধনে।
কোন্ অনুষ্ঠান করি শব সাধনার ।
লভিলে করুণা তুমি সেই শ্যামা মা’র ।
রায় বলে গুপ্ত কথা কহিব কেমনে।
সিদ্ধি হানি হবে তায় ভয় হয় মনে ।
গোস্বামী বলেন তবে শুন নৃপমণি ।
সাধকে কহিলে নাহি হয় সিদ্ধি হানি।
রায় হলে সৰ্ব্ব সিদ্ধিদাতা গুরুদেবে ।
ভক্তি ভাবে পূজি মম আশা পূর্ণ এবে ।
কুসুমহার।
দর্শন করাও মা’কে কহেন গোস্বামী।
রায় বলে অবশ্যই পারি তাহা আমি ।
গোস্বামী বলেন তুমি ধন্য হে রাজন্ ।
ধন্য তব মন্ত্রদাতা গুরু যেই জন ।
ব্ৰহ্মাদি দেবতা যারে ধ্যানে শহি পায়।
দর্শন করিলে ঠায় গুরুর কৃপায় ॥
অতিশয় হীন মতি আমি অভাজন।
না লভিনু গুরু কৃপা শুন হে রাজন৷
করিনু অসংখ্য জপ বহু পীঠস্থানে।
নানা অনুষ্ঠান কৈনু শ্মশান সাধনে।
লভিনু দর্শন তব আজি শুভক্ষণে।
মম শুভ দশা বুঝি হৈল এতদিনে ।
কঠোর সাধনা করি না লভিনু স্বারে।
দয়া করি আজি তুমি দেখাইবে তারে।
রায় বলে মম বাক্য শুন হে গােস্বামী।
অদ্য রজনীতে মাকে দেখাইব আমি ।
স্নান ভােজনাদি করি করহ বিশ্রাম।
অদ্য রজনীতে হবে পূর্ণ মনস্কাম।
গােপনেতে যামিনীর অর্ধ যাম গতে।
যাবেন আপনি মম আত্নিক গৃহেতে ।
এতেক বলিয়া রায় ত্যজিয়া আসন।
আন মহলে ত্বরা করেন গমন ॥
অতঃপর সন্ধ্যাকালে আহিকের ঘরে।
যাইয়া বসিলা রায় সানন্দ অন্তরে ॥
সন্ধ্যা বন্দনাদি করি বসি যোগাসনে।
নায়িকার ধ্যান রায় করে একমনে।
এখানেতে বিরুপাক্ষ নিজ বাসা-ঘরে।
সন্ধ্যা জপ আদি করি সানন্দ অন্তরে।
শুভক্ষণে যামিনীর অদ্ধ যাম গতে।
উপনীত হইলেন আত্মিক গৃহেতে ।
প্রণমি তাহারে রায় অনিন্দিত চিতে।
ব্যাঘ্রচর্মাসন দিলা দ্বারেতে বসিতে।
সানন্দে গোস্বামী তবে বসিলেন দ্বারে।
যোগাসনে বসি রায় ডাকে নায়িকারে ।
স্তব স্তুতি করি রায় কহেন তখন।
দয়া করি বিরূপক্ষে দাও দরশন।
হেন কালে দৈব বাণী হয় সেই স্থানে।
কেমনে যাইব রাজা তব সন্নিধানে।
শিব রূপী বিরূপাক্ষ দ্বারেতে বসিয়া ।
যাইতে না পারি আমি তাহারে লম্বিয়া
রায় বলে বিহর মা হর হৃদি পরি।
তবে কেন এত ভয় বিরূপক্ষে হেরি ।
মাতা কন নহি আমি শঙ্কর-মহিষী।
প্রধান নায়িকা আমি তঁার সেবাদাসী ।
কুসুম-হার।
শুনিয়া তখন রায়ে কহেন গােস্বামী।
নায়িকা সাধনে সিদ্ধ হইয়াছ তুমি।
ব্ৰহ্মাদি দেবতা যারে নাহি পান ধ্যানে।
শব রূপে আছে শিব যার শ্রীচরণে।
তঁার শ্রীচরণ আমি করিতে দর্শন।
তব পাশে আমি রায় কৈ আগমন।
নায়িকা সাধনে সিদ্ধ হলে রাজন।
হলো না দর্শন মম অম্বিকা চরণ।
যে আশায় আমি হায় আইনু ব পাশে।
না হইল পূর্ণ তাহা মম ভাগ্য দোষে ॥
রোষ ভরে রায় তবে কহে গোস্বামীরে।
অকারণে হেন বাক্য কেন কহ মোরে ।
রাজত্ব লভেছি আমি সেবিয়া নায়িকা।
পুনশ্চ তাহার বরে পাইব অধিক।
তত্ত্ব কথা হে গোস্বামী করহ শ্রবণ।
গােপিকা সেবিলে মিলে শ্রীহরি চরণ।
ভক্তেরে সেবিলে মিলে প্রভু নারায়ণে।
তুলসী লভিলা রামে পিশাচ সাধনে।
ইহা শুনি বিরূপাক্ষ সানন্দ অন্তরে।
নায়িকা মাতার স্তব করে ভক্তি ভরে।
শুবে তুষ্ট হয়ে মাতা দিলা-দরশন।
বলেন তাহারে বর করিতে গ্রহণ
১২৮
কুসুমহার।
-
গোস্বামী বলেন নাহি চাহি অন্য বর।
কাতরে প্রার্থনা করি তােমার গোচর ।
যখন যাইবে তুমি ফিরিয়া কৈলাসে।
জিজ্ঞাসিবে মম কথা শঙ্করী সকাশে ॥
কি কারণে দয়া মােরে না করে জননী।
দয়া করে জিজ্ঞাসিবে তঁারে এই বাণী।
কি উত্তর দেন তায় পাষাণী শঙ্করী।
বলিয়া যাইবে মােরে তাহা দয়া করি ।
নায়িকা বলেন তবে শুন হে গােস্বামী।
অবশ্য সে কাৰ্য্য তব করিব হে আমি ।
এতেক বলিয়া দেবী হৈলা অন্তর্ধান।
উপনীত হন আসি মার সন্নিধান।
(দেবী কর্তৃক বিরূপাক্ষের মন্ত্র সংশােধন
ও গুরু-ভক্তি বলে বিরূপক্ষের
সিদ্ধিলাভ)
নায়িকা সত্বর গিয়া মা’র সন্নিধানে।
প্রণাম:করিয়া তঁার যুগল চরণে ॥
সকাতরে যোড় করে কহিলা তখন ।
শুন গাে জননি এক মম নিবেদন।
মর্ত্যভূমে বিরূপাক্ষ ভক্ত চূড়ামণি ।
কি কারণে দয়া তঁারে না কর জননী ॥
কুসুম-হাব।
জননী বলেন দাসি কি কহিব তোরে !
বিরূপাক্ষ সম ভক্ত নাহি ত্রিসংসারে।
দাসী বলে কি কারণে নাহি কর দয়া।
বীজ মন্ত্র ভূল তার কন্ মহামায়া।
বারেক সে সিদ্ধ মন্ত্র যদি যপ করে।
বিশুদ্ধ মন্ত্রের গুণে লভিবে আমারে।
দাসী বলে সিদ্ধ মন্ত্র কেবা দিবে তঁারে ।
দয়া করি দয়াময়ি বলহ আমারে।
জননী বলেন দাসী করহ শ্রবণ।
ত্বরা করি বিল্বপত্র কর আনয়ন।
এত শুনি বিল্বপত্র আনিলা নায়িকা।
স্বহস্তে তাহাতে মন্ত্র লিখিয়া অম্বিকা ।
দাসীর করেতে দিয়া কহেন তখন।
বিরূপাক্ষ পাশে তুমি করহ গমন।
লইয়া লিখিত মন্ত্র নায়িকা তখন।
বিরূপাক্ষ সন্নিধানে দিলা দরশন।
সাধকপ্রবর বিরূপাক্ষ সে সময় ।
শবাসনে শ্মশানেতে জপে মগ্ন রয় ।
হেরিয়া গােস্বামী তথা নায়িকা মারে।
সানন্দেতে প্রণমিলা ভক্তিতরে তারে ।
সাননে নায়িকা তবে কহে গােমীরে।
সুপ্রসন্না জগদম্বা তােমার উপরে।
কুসুমহার
গোস্বামী বলেন মােরে কহ গাে জননী
কি কারণে দরশন নাহি দেন তিনি।
নায়িকা বলেন তুমি করহ শ্রবণ।
যে কারণে তুমি তার না পাও দর্শন।
দিয়াছে অশুদ্ধ মন্ত্র তব কর্ণধার ।
সিদ্ধ মন্ত্র বিনা দেখা নাহি পাবে তার।
স্বকরে লিখিয়া মন্ত্র তােমার সযতনে।
পাঠান জননী তব সিদ্ধির কারণে।
লইয়া লিখিত মন্ত্র অতি সমনে।
অষ্টোত্তর শত বার জপ একমনে ।
জপ শেষে পাবে তুমি মাতার দর্শন।
ক্রোধেতে গােস্বামী তারে কহেন তখন।
নাহি চাহি সিদ্ধ মন্ত্র নাহি চাহি রে।
হেন কটু বাক্য পুনঃ নাহি কহ মােরে
ঘৃণা ভরে বিশ্বপত্র নিক্ষেপিয়া দূরে।
পুনরায় নায়িকারে কন্ ক্রোধভরে।
দিয়াছেন শুদ্ধ মন্ত্র মাের মন্ত্রদাতা।
অশুদ্ধ সে মন্ত্র যদি বলিলেন মাতা।
কহ গিয়া তার পাশে করিয়া গমন ।
নাহি চাহি করিবারে তঁারে দরশন।
যে মন্ত্র দিলেন গুরু করুণা করিয়া ।
জপিব অন্য কিছু সে মন্ত্র ত্যজিয়া।
কুসুম-হার।
জপিব সে গুরু মন্ত্র করিয়া যতন।
ত্যজিব আমি তাহা থাকিতে জীবন ।
হবে না আসিতে তঁারে মম সন্নিধানে।
পূজিব সে গুরুদেবে সদা একমনে।
গুরু ব্রহ্মা গুরু বিষ্ণু গুরু মহেশ্বর।
ব্রহ্মাণ্ডেতে কেবা আছে গুরুর উপর ।
পরমাত্মা রূপে সর্বজীবের অন্তরে।
বিরাজেন গুরুদেব বিশ্ব চরাচরে।
ব্ৰহ্মাণ্ড বহিছে গাঁথা গুরুর চরণে।
কই মাতা মন্ত্র তার ত্যজিবে কেমনে।
সাধন প্রণালী মম শুন গাে জননী।
তন্ত্র মোর শ্রীগুরুর উপদেশ বাণী ।
যন্ত্র মাের শ্রীগুরুর অভয় চরণ ।
মন্ত্র মাের গুরুদেব জপি অনুক্ষণ ।
সঞ্চালিব গুরু বাণ বসি বীরাসনে।
জয় গুরু বলি আজি পশিয়াছি রণে ॥
ভক্তি যদি থাকে মোর শ্রীগুরু চরণে।
থাকয়ে বিশ্বাস যদি তাহার চরণে।
জপি যদি মন্ত্র তঁার আমি এক মনে ।
অবশ্য হইব জয়ী ও ভীষণ রণে।
সাধন সমরে বিঘ্ন কর কি কারণ।
এ স্থান ত্যজিয়া ক স্ব স্থানে গমন ।
কুসুম-হার।
এত বলি বিরূপাক্ষ জপ আরম্ভিল।
কৈলাসেতে জননীর আসন টলিল।
যুক্ত করে জয় তবে কহে সকাতরে।
আসন টলিল কেন কহ মাতা মােরে ।
জননী বলেন জয়া করহ শ্রবণ।
যে কারণে অকস্মাৎ টলিল আসন।
স্মরণ করিছে মোরে আজি মৰ্ত্তভূমে।
ভক্ত চূড়ামণি এক বিরূপাক্ষ নামে।
ভক্তের কারণে হয় মন উচাটন।
করিব তাহার আজি বাসনা পূরণ ।
জয়া বলে শুদ্ধ মন্ত্র না নিল সে জন।
আসন টলিল মাতা তবে কি কারণ?
সহাস্যে জয়ারে তবে কহেন পার্বতী।
অসীম ভকতি তার আছে গুরু প্রতি ।
গুরুরে মানিল সেই মােরে তুচ্ছ করি ।
এ কারণে আমি আর তিষ্ঠিত না পারি ।
নিষ্ঠা যার গুরু প্রতি আছে সদা মনে।
অসাধ্য কি আছে জয় তঁার ত্রিভুবনে ?
ইষ্টদেব, বীজমন্ত্র আর গুরুদেবে।
এই তিনে যেই জন মনে ভিন্ন ভাবে।
গুরুরে মনুষ্য বলি যেবা করে জ্ঞান।
শালগ্রামে ভাবে যেবা শিলার সমান।
কুসুম-হার।
নদী জল সম যে ভাবে গঙ্গোদকে।
যে জন অক্ষরে জ্ঞান করয়ে মন্ত্রকে।
বিষ্ণু শিব আর মোরে ভিন্ন করে জ্ঞান।
নরাধম কেবা অাছে তাহার সমান ।
অতিশয় হীন মতি সেই নরগণ।
ভীষণ নরক কুণ্ডে হয় নিমগণ।
গুরুর কৃপায় যার হয় তত্ত্বজ্ঞান।
জীবন্মুক্ত সেই জন অতি ভাগ্যবান।
এত বলি সিংহ পৃষ্ঠে করি আরােহণ ।
বিরূপাক্ষ পাশে মাত দিল দরশন।
হেরিয়া গােস্বামী মারে করেন প্রণতি।
প্রেম ভরে হইলেন পুলকিত অতি ।
দেবী কন্ শুন বৎস আমার বচন।
স্বইচ্ছায় বর তুমি করহ গ্রহণ ॥
পুলকে গােস্বামী মা’রে কহেন তখন।
না চাহি জননী আমি ছার রাজ্য ধন।
পূরণ হয়েছে আজি মনের বাসনা।
তব রাঙ্গা পাদ-পদ্ম হেরি শবাসনা।
সৰ্ব্ব সিদ্ধিদাতা গুরুদেবের কৃপায় ।
স্বার্থক জনম মম হইলা ধরায়।
শঙ্কর পূজিত পদ দেবতা দুর্লভ।
গুরুর কৃপায় আজি হয়েছে সুলভ।
১৩৪
কুসুম হার
তােমার আদেশে যদি নিতে হয় বর ।
সকাতরে ভিক্ষা করে তােমার কিঙ্কর ||
শ্মশানেতে শিলা ওই কর দরশন।
এই শিলা-খণ্ড হবে জপের আসন।
যে দিন যে স্থানে আমি করিব গমন ।
এই শিলা-সন মম করিবে বহন।
করি মম গুরু নিন্দা দারুণ বেদনা।
দিয়াছ আমার প্রাণে তুমি শবাসনা ।
দণ্ড ভোগ কর তুমি বহি শিলাসন।
“তথাস্তু” বলিয়ে মাতা করেন গমন ।
রক্ষিতে ভক্তের মান ভক-বৎসলা।
বহুদিন বহন করেন সেই শিলা।
পালন করিতে মরি ভক্তের আদেশ।
বঙ্কিম হইলা হয় মর কটিদেশ ।
সর্বশক্তি দাত্রী স্বয়ং আদ্যশক্তি যিনি ।
প্রস্তর বহনে হন্ শক্তিহীন। তিনি ।
মায়ের রহস্য লীলা কে বুঝিতে পারে।
করেছেন কত ক্রীড়া বিশ্ব চরাচরে।
শ্রীভুবন রায়ে মাতা স্বপন বিতরি।
লওয়াইলা সেই শীল-সন ছল করি ।
শিলা-খণ্ড লভি য়ায় রাঢ়েশ্বর নামে।
নির্মাণ করান শিবলিঙ্গ নিজ ধামে।
কুসুম-হার।
কবীন্দ্র নামেতে বিরূপক্ষের নন্দন।
সাধন বলেতে তিনি শিব তুল্য হন।
অদ্ভুত ক্ষমতা তার কহে সৰ্বজন।
যার বরে ননিনীটি হইলা নন্দন।
ছলেতে লইলা রাজা পিতৃ-জপাসন।
একথা কবীন্দ্র যবে করেন শ্রবণ।
বাজারে দিলেন শাপ অতি ক্রোধ ভরে।
রাজ্য নষ্ট হবে রায় তোমার অচিরে।
মিথ্যা নাহি হয় কভু সাধক বচন।
ত্বরায় হারায় রায় নিজ রাজ্যধন ।
খণ্ডিতে না পারে হায় কেহ বিধি-লিপি।
রাঢ়েশ্বর শিব লিঙ্গ বিরাজে অদ্যাপি।
কবীন্দ্র গোস্বামী সাধকের চূড়ামণি ।
বর্ণিতে তঁাহার গুণ অক্ষম লেখনী।
বর্ধমান অন্তর্গত কেন্দুল * গ্রামেতে।
আসিয়া বসতি তিনি কৈলা সাননেতে ।
মহিষমর্দিনী তথা করিয়া স্থাপন।
বহু শব মুণ্ডোপরি কৈলা জপসন ।
অদ্যপি বিরাজে তথা তার সিদ্ধাসন।
সে আসনে বসিতে না পারে কোন জুন।
* কেলাই, আই, রেলওয়ের দুর্গাপুর অথবা ওয়ারিয়া ষ্টেশন
নামিয়া উত্তরাংশে প্রায় ১০ ১১ মাইল যাইতে হয়।
ঘনশ্যাম গােস্বামী।
(গােস্বামীর মাহাত্ম )
বর্ধমান অন্তর্গত কেঁদা-পাঠ গ্রামে।
গোস্বামী ছিলেন এক ঘনশ্যাম নামে।
কাষ্ঠের পাদুকা তিনি ধারণ করিয়া।
অজয় নদীর জলে যেতেন চলিয়া।
প্রকৃত অদ্বৈতবাদী ছিলেন গােস্বামী।
অপার মহিমা তার কি বর্ণিব আমি ।
শ্যামা শ্যাম পূজি এক মন্দির ভিতর।
প্রেমানন্দে মাতোয়ারা সাধকবর।
শাক্তে বলিদান করে নাচে নাড়াগণ।
ঘনশ্যাম পাটে এই অদ্ভুত ঘটন।
করিতেন যােগবলে অসাধ্য সাধন।
অদ্ভুত ক্ষমতা তার কহে সৰ্বজন।
সিদ্ধ ছিল একজন খুটিকুরী গ্রামে।
জাতিতে যবন তিনি খনকার নামে।
একদা শার্দলে তিনি করি আরােহণ।
ঘনশ্যাম দরশনে করিল গমন।
সে সময় ঘনশ্যাম সাধক প্রবর।
ছিলেন বসিয়া ভগ্ন প্রাচীর উপর ।
কুসুম-হার।
r's
যােগ বলে জানিয়া গােস্বামী নিজ মনে।
আসিতেছে খকার শার্দল বাহনে ।
গোস্বামী তাহার দর্প চূর্ণ করিবারে।
গমন করিতে আজ্ঞা করেন প্রাচীরে ॥
গোস্বামীর অনুমতি করিয়া শ্রবণ।
পবন গমনে ভিত্তি করিল গমন।
সাহেব আসিল। যবে অজয়ের ধারে ।
মিললা গােস্বামী তার সহ পরপারে ।
খনকার হেরি সেই বিচিত্র ব্যাপার ।
সেলাম করেন তঁারে শত শত বার।
গোস্বামী সেলাম করি সাহেবে সাদরে।
সানন্দে লইতে চান আপনার ঘরে ।
খকার গমন না করি কোন্দা গ্রামে
ঘনশ্যামে লয়ে যান আপনার ধামে ।
সেখানেতে সাহেবের ভৃত্য একজন।
ব্যস্ত হয়ে আনি দিলা বিচিত্র আসন ॥
সাহেব অগ্রেতে বসি তাহার উপরে।
বসিবারে অনুরােধ করে গােস্বামীরে ।
গােস্বামী তখন ভাবিলেন নিজ মনে।
একাসনে তঁার সনে বসিব কেমনে ।
রোষ নেত্রে আসনে করিলা নিরীক্ষণ।
দ্বিখণ্ডে বিভক্ত তবে হইলা আসন।
কুসুম-হার।
গােস্বামী তখন গিয়া বসিলা অসনে।
বিস্মিত হইল তাহা হেরি সর্বজনে ॥
কৃতাঞ্জলি হয়ে সবে করে স্তব স্তুতি।
ঘন ঘন ঘনশ্যামে করিলা প্রণতি ।
তুষ্ট হয়ে নিজালয়ে যান মহামতি।
পরম বিচিত্র ঘনশ্যামের ভারতী ।
একদিন ঘনশ্যাম দন্ত ধৌত করে।
রােপিলেন দন্ত কাষ্ঠ মৃত্তিকা উপরে।
কহিলেন তুমি কভু শুষ্ক নাহি হবে ।
আমার বরেতে বড় বৃক্ষ হয়ে যাবে ।
ছায়া বিস্তারিয়া তুমি এস্থলে থাকিবে।
হইবে পুষ্পিত কিন্তু ফল না ধরিবে ।
গােস্বামী অজ্ঞায় বৃক্ষ বর্ধিত হইল।
অদ্যাপি পুষ্পিত হয়ে, ফল না ধরিল ।
( রাজা মাধব রায় চৌধুরী কর্তৃক ঘনশ্যাম গােস্বা-
মীর নিন্দা এবং গােস্বামীর অভিশাপে
চৌধুরীর রাজ্য নষ্ট )
কিছুদিন পরে সেই সিদ্ধ ঘনশ্যাম।
আগমন করিলেন কুমারডিহী গ্রাম।
বর্ধমান অন্তর্গত সুবিখ্যাত ধাম।
ধন ধান্যে পরিপূর্ণ কুমারডিহী গ্রাম ।
কুসুম-হার।
১৩৯
মাধব চৌধুরী রাজা ছিলেন তথায়।
তঁাহার রাজ্যতে ছিল লক্ষাধিক আয় ।
f নজালয়ে গােম্বামীরে করি দরশন।
মাধব চৌধুরী অতি পুলকিত হন।
সযত্নেতে বহুদিন অতি সমাদরে।
আপন ভবনে রাখিলেন গােস্বামীরে।
একদিন হয় কোন জ্ঞানহীন জুনে।
করিলা গােস্বামী নিন্দা রাজ সন্নিধানে।
সেই বুদ্ধিহীন নর কহিলা বাজারে।
তােমার গোস্বামী প্রভু সুরা পান করে ।
শৌণ্ডিক অলিয়ে ভণ্ড গোস্বামীর চেল।।
সুরা ভাও আনে গিয়া নিত্য সন্ধ্যা বেলা।
স্বচক্ষেতে বহুদিন কৈনু দরশন।
সত্য সত্য সুরা পান করেন সে জন।
এরূপ ঘৃণিত বাক্য করিয়া শ্রবণ।
ক্রোধে প্রজ্বলিত হৈলা মাধবের মন ।
গােস্বামী নিকটে রায় আসিয়া ত্বরায়।
কহিলেন প্রভু আজি একি শুনা যায় ।
গোস্বামী কহেন কি শুনিলে নৃপমণি।
রায় বলে সুরা পান করেন আপনি।
স্বামী বলে সুরা পান না করি রাজন।
দুগ্ধ এনে দেয় মােরে মাের চেলাগণ ॥
১৪
কুসুম-হার।
গােস্বামীর বাক্যে রাজা করিয়া প্রত্যয়।
সে দিবস অন্য আর কিছু নাহি কয় ।
পর দিন ভাণ্ড যবে লয়ে যায় চেলা।
সুরাসহ ভাণ্ড রায় ধরিয়া ফেলি ।
ভাণ্ড হস্তে রায় গিয়া গোস্বামী গোচরে।
ক্রোধ ভরে কহিলেন:কটু বাক্য তারে !
গোস্বামী বলেন কেন কহ কটু কথা।
মম বাক্য কভু নাহি হইবে অন্যথা।
ভাণ্ডে সুরা নাহি রাজা দুগ্ধ আছে তায়।
দুগ্ধ পূর্ণ ভাণ্ড হেরি মুগ্ধ হৈল রায়।
গোস্বামী বলেন তবে শুনহে রাজন।
সাজা দিয়া এই দুগ্ধে করহ রক্ষণ।
সাজা দিয়া রাখ যদি অদ্য রজনীতে।
হইবে উত্তম দধি কল্যকার প্রাতে।
মনি লইয়া দধি যতনে মথিবে।
উত্তম নবনী তাহে অবশ্য উঠিবে ।
অগ্নির উত্তাপে জব করি সে নবনী।
সে সদ্য ঘৃত মোরে দিবে নৃপমণি।
গেমী মাধব রায়ে যেরূপ কহিল
সভ অন্তুরে রায় তাহাই করিলা
পর দি। সেই ঘৃত লয়ে নিজ করে।
মাধব চৌধুরী আনি দিলা গােস্বামীরে ।
কুসুম-হার।
১৪।
গোস্বামী বলেন তবে শুন হে রাজন।
যজ্ঞ কাষ্ঠ ত্বরা কিছু কর আহরণ ।
আহ্নিক সমাধা করি যজ্ঞ আরম্ভিব।
পূর্ণাহুতি দিয়ে পরে ভোজন করিব।
এত শুনি কুক্ষণেতে শ্রীমাধব রায়।
যজ্ঞ কাষ্ঠ সেই স্থানে অনিলা ত্বরায়।
যজ্ঞ আরম্ভিয়া তারে কহিলা গোস্বামী।
ওহে রায় রাজপদ যোগ্য নহ তুমি।
করিলাম এই যজ্ঞ তােমার কারণে।
যজ্ঞ শেষে পূর্ণাহুতি দিব হে এমণে।
ত্বরা করি কহ মােরে ওরে হীনজ্ঞান।
নিভূম হইবে কিংবা হবে নিঃসন্তান ।
কাতরে মাধব রায় কহে গােস্বামীরে।
দয়া করি ক্ষমা কর অধম দাসেরে।
গোস্বামী বলেন নাহি ক্ষমিব তোমায় ।
অটল আমার বাক্য জান নাকি রায়।
রায় বলে যদি নাহি ক্ষমিবে গোস্বামী।
নির্বংশ না কর মােরে করহ নিভূমি।
এত শুনি করি নিজ ইষ্টদেবে স্তুতি।
তথাস্তু বলিয়ে স্বামী দিলে পূর্ণাহুতি।
অটল অব্যর্থ কিবা স্বামীর বচন।
ত্বরায় হারায় রায় নিজ রাজ্যধন।
১৪২
কুসুম-হার
হায়রে মাধব রায় নিজ কর্মদোষে।
নিভুম হইয়া বহু কষ্ট পায় শেষে।
বিরাজে অদ্যাপি হায় বংশাবলী তার ।
নিভূম হইয়া তারা করে হাহাকার।
সেই গোস্বামীর সাধনার সিদ্ধি স্থান।
অদ্যাপিও কেঁদা গ্রামে আছে বিদ্যমান।
১ম খণ্ড সম্পূর্ণ
শুদ্ধিপত্র। পৃষ্ঠা পংক্তি অশুদ্ধ ৭ ? ? ১ ৩ ৩৪ ৩৮ ১৩ যন্ত্র তোমার তােমারে করিলি করিলে অসি অসি, ভৈরবী সূর্যের সূৰ্য্যেরে ১২ পাশে পাশেতে এসেচেত এসেছেন মতি মাতি জ্বনে জন সপেছিলে সপেছিল ১৮ মানবে মানরে শাস্তিতে শান্তিতে শাকম্বয়ী ১৭ শিমন্তিনী সীমন্তিনী ২ মহামন্ত্রে মহাতন্ত্র মহাযন্ত্রে মহামন্ত্র বাজিয়ে বানিছে। হর-ত্রিনয়না ... হর-ত্রিনয়ন দেবীগণ দেবধণ ১১ ৪৬ ৪৮ ৪ ৫৪ ৫৪ छी পংকি (২) (২) (২) ইরx হ+ই পরাকৃতি পুরুষময়ী শ্রীচরণে পপ্রকৃতি পুরুষমায়ী ৭৪ ৭৮ ৩ ১৪ ২ শোভিতেছে শোভিছে অক্ষমালা স্কৃপাকায় অপকর নীলবস্ত্র নীলকণ্ঠ যিরূশাঙ্ক বিরূপাক্ষ শিল্পকর শিল্পকার সবে যবে দিবে দিলে ভূবনেশ্বরের ভুবনেশ্বর বরূপ। বিরূপাক্ষ ষপ প তােমার সষতনে অতীব যতনে সমনে সনে ত্যজিবে ত্যজিব ক্ষরে করেছেন কৰিছেন ১২৩ ১৭ ১২৯ ২ ৭ ১৪ ২৮ भी পংক্তি কস সঙ্গে पर्शान রস রকে মহাশনি ৭২
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.