Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Manobikash
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
মনােবিকাশ
রাজকুমারী
কৃষ্ণসঙ্গিনী বসু মল্লিক
১৮নং রাধানাথ মল্লিকের লেন
কলিকাতা,
৫৯নং পটলডাঙ্গা ষ্ট্রীট, ব্যানার্জি প্রেসে
জে, এ, ব্যানার্জি এণ্ড সন্ দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সন ১৩১৮।
No text on this page.
উৎসর্গ ।
অনাদি অনন্ত দেব, তুমি মহেশ্বর।
কেমনে চরণে প্রভু মজিবে অন্তর।
বৃথা এই ভবে আসা হ’ল মাের সার ।
জ্ঞানহীনা ভক্তিহীনা চরণে তােমার ।
চিনিনু সাররত্ন ওহে গুণময়।
পদাশ্রিতা এ দাসীরে দেহ পদাশ্রয় ।
অসীম তােমার স্নেহ তেঁই ক্ষম দোষ।
জানি কি দিয়া দেব, করিব সন্তোষ ।
ঘুচাও এ ঘাের তমঃ জ্ঞান-জ্যোতি দানে
আলােলিত কর চিত তব কৃপাদানে ।
কর দেব, আশীৰ্বাদ করি নমস্কার।
নীরস হৃদয়ে কর ভক্তির সঞ্চার ।
তােমার মহিমা আছে, লহরে হরে।
নিশ্বাসে প্রশ্বাসে যেন সতত সঞ্চারে।
জানি ভকতি স্তুতি না জানি সাধন।
দুর্লভ জনম মম গেল অকারণ।
२
উৎসর্গ ।
কি হবে উপায় মাের, ওহে দয়াময় ।
তুমি না তারিলে দেব, কে দিবে আশ্রয় ।
পতিতপাবন মাের অধম তারণ।
অবলারে দয়া করি দেহ শ্রীচরণ ॥
তােমার চরণ পদ্মে ভক্তিভিখারিণী ।
ভৃঙ্গী হয়ে মধু যেন পীয়ে এ সঙ্গিনী।
নিগুণ বলিয়া মােরে না করিও ঘৃণা।
একে বুদ্ধিহীন তাহে রিপু ছয় জনা।
অক্ষয় শ্রীপদ তব দুর্লভ সম্পদ।
মনে, জ্ঞানে, ধ্যানে, যেন দেখি অবিরত।
রব না বিমুখ আমি তােমার সেবায় ।
কিঙ্করীরে কর কৃপা দিয়া পদাশ্রয় ॥
অন্তিমে হৃদয়াকাশে হইয়া উদয় ।
নবােদিত রবি সম, কর জ্যোতির্ময় ।
তব শ্রীচরণ রাখি শিয়রে এ দাসী।
তব স্নেহে দয়াময় পায় যেন কাশী।
বিদ্যা, বুদ্ধি নাহি মাের তাহে ক্রিয়াহীনা।
কেমনে তরিব, ভবে তব কৃপা বিনা।
করুণাসাগর, শুন প্রার্থনা আমার।
ভক্তি ভিক্ষা চাহি আমি চরণে তােমার ॥
উৎসর্গ।
করি কোটী প্রণিপাত চরণযুগলে।
পাই যেন ভক্তি রস হৃদয়-কমলে।
গভীর তিমিরময় অন্তর অজ্ঞান।
নাহি জানি স্তব স্তুতি নাহি জানি ধ্যান।
অজ্ঞানান্ধ আমি নাথ, নাহি যােগা তব ।
দয়াময়, কর দয়া মহিমা-অর্ণব ৷
একে ত অবলা নারী তব শ্রীচরণে।
তাহে শ্রদ্ধাহীনা আমি ভজন পূজনে ।
সঙ্গের সঙ্গিনী আমি হইয়ে কিঙ্করী।
পার্শ্বে নাহি থাকি তব হয়ে সহচরী।
শয়নেতে নাহি সেবি ত র পদ দুটী ।
ভােজনে অপরিপাটি, হয় কত ত্রুটি ।
গৃহকৰ্ম্ম নাহি পারি গৃহিণীর সম।
এ অধম নারী, দেব, সর্বথা অক্ষম।
করি প্রণিপাত তব যুগল চরণে।
কৃষ্ণ-সঙ্গিনীরে ক্ষমা কর নিজ গুণে।
No text on this page.
মনােবিকাশ
করুণ-কটাক্ষ ।
সুমতি মাতার অঙ্ক করি’ অধিকার।
কুমন্ত্রি-অজ্ঞানে করি দুরে পরিহার ।
শান্তির আশ্রয়ে করি অশান্তির নাশ।
কুচিন্তা রাক্ষসী-মায় উদ্বেগ তরাস ।
কাম, ক্রোধ, লােভ, মােহ, মদ, মাৎসর্য্য।
দুরন্ত এ দসু্যগণ দারুণ অসহ্য ॥
তাহারা আপন কাৰ্য্য করিয়া সাধন।
সুযােগে বিপাকে তােরে ফেলেছে রে মন ।
পাপে তারা সদা মত্ত ভাবিছ না ভ্রমে ।
এ দিকে যে আয়ুঃ ক্ষয় হইতেছে ক্রমে।
পাইয়া দুর্লভ জন্ম ভুলিলে আপন।
থাকিতে সময় এবে হও রে চেতন।
আপনি আপন বন্ধু বুঝিতে না পারি ।
একদিন যেতে হবে নাহি চিন্তা করি ।
মনােবিকাশ।
কারাগারে বদ্ধ সদা শত্রুগণ সনে।
পালাব কেমনে দেব, ভাবি তাই মনে ।
পরম পিতার পদ ধরিয়া আশ্রয়।
ব্যাকুল অন্তরে তাই
ডাকি গগ তােমায়।
অধম তারণ তুমি করুণা-সাগর।
দয়া করি, পদছায়া দাও গাে সত্বর।
মায়া-পাশে বদ্ধ আছি দেহ-কারাগারে।
শমন অপেক্ষা সদা করিছে দুয়ারে ॥
যেতে হবে একদিন জানিও নিশ্চয়।
অবশ্য বিচার হবে কৃতান্ত আলয় ।
নিন্দা, অপমান করি অঙ্গ আভরণ।
দয়া শান্তি হৃদয়ের করিয়া ভূষণ ॥
সকলেরে ভাল বাসি আপনার প্রায়।
হৃদয়ে আনন্দ কর সৰ্ব্বতে বিধায় ৷
সুখের সময় সুখ করিবে সেবন ।
দুঃখের সময় দুঃখ করিবে বহন ৷
হৃদয়ের শত্রুগণে করিয়া দমন।
সদা মনে ধ্যান কর বিভু শ্রীচরণ।
রক্ষ রক্ষ দেব, তুমি অধম তারণ।
একাগ্ৰমানসে কবে লভিব চরণ।
মনােবিকাশ ।
!
কত শত প্রিয়জন গেল সব চলে।
আমি কি থাকিব চির এ মহীমণ্ডলে ।
হায়! হায়! একি ভ্ৰম গেল না আমার।
দয়াময় কর দয়া সন্তান তােমার।
কেমনে ডাকিব ওগগা পতিত পাবন।
যাহাতে বিশ্বাস পাবে মূঢ়মতি জন।
কত শত পাপী জনে, করিছ উদ্ধার ।
অপার মহিমা তব করুণা আধার ।
বৈরাগ্য উদয় যদি না হয় আমার।
কি করিয়া ভব নদী হব তবে পার ॥
আতঙ্কে কম্পিত প্রাণ হ’তেছে ব্যাকুল।
আপনি আপন শত্রু, পতনের মূল ।
মনােসাধ পূর্ণ কর ওহে জগদীশ।
ভালবাসা পাই যেন কর হে আশীষ ।
তােমাতে বিলীন চিত হবে সুশীতল ।
মায়াপাশ ভগ্ন হবে, অন্তর বিমল ।
কেন এত মােহ ভ্রম ঘটে সর্বক্ষণ।
অচেতন মন কেন লভে না চেতন।
মােহ ঘুমে কেটে গেল নশ্বর জীবন।
না জানি, ভাঙ্গিবে কবে সংসার স্বপন।
মনােবিকাশ।
বাল্য কাল বৃথা গেল খেলায় ধূলায় ।
যৌবন কাটিয়া গেল ইন্দ্রিয় সেবায়।
বার্ধক্য কাটিয়া গেল ব্যাধির পীড়নে।
ধৰ্ম্ম অনুষ্ঠিতে কাল না পাই জীবনে।
নাট্যশালা সম এই সংসারের খেলা।
যাদুকর মন্ত্রবশে ভোজবাজি মেলা ॥
অতীত যে দিন তাহা আসিবে না পুনঃ।
দেখিতে দেখিতে পাপ বাড়িতেছে দুন ।
পৰ্বত প্রমাণ পাপ করিয়া সঞ্চয় ।
পাপ-মুগ্ধ দেহ হ’ল কলুষ-নিলয় ।
ওষ্ঠাগত প্রাণ এবে হতেছে দাহন।
দুৰ্বার ইন্দ্রিয় করে দুরন্ত শাসন।
শিথিল ইন্দ্রিয় কিন্তু হ’ল এই বার।
কর যােড়ে ভিক্ষা মাগি চরণে তােমার।
শরণ লইলে মন সুমতি মাতার।
একাধারে দয়া শান্তি মিলিবে অপার ।
অশান্তির হাতে পড়ি ছিলাম ভুলিয়া।
শান্তিদেবি, দেখা দাও তনয়া বলিয়া।
ভুলনা ভুলনা মাতঃ, হইয়া নির্দয় ।
ত্রাহি ত্রাহি ডাক ছাড়ে বিদগ্ধ হৃদয় ।
মনােবিকাশ।
মস্তকের কেশরাশি কর সুচিকণ ।
পরিপাটি গন্ধতৈল করিয়া লেপন ।
সে মস্তক কর হরি চরণে লুণ্ঠিত।
মুছিয়া বিষাদ মন হইবেক প্রীত।
যে ললাটে সদা নানা টিপ ফোটা পর।
শ্রীহরিচরণে তাহা দণ্ডবত কর ।
যে নেত্ৰ লােহিত বর্ণ কোপানলে মাের
লােকজন প্রতি হয় দারুণ কঠোর ।
বিভু প্রেমে সেই নেত্র কর বিগলিত।
তমঃ অবসানে ভক্তি হইবে উদিত ।
নাসিকায় রুদ্ধ করি নিশ্বাস প্রশ্বাস ।
পদ্মগন্ধ ঘ্রাণে লহ ন্যাস সুবাতাস।
যে রসনা যোগে কর রস আস্বাদন।
শিবদুর্গামন্ত্র বীজ করহ সাধন।
যে করে রচনা কর বেশ 'আভরণ।
গুরুপদ সেবা তাহে কর অনুক্ষণ |
যে করে গণিতে অর্থ কত অভিলাষ ।
সে অর্থের মায়া ছাড় পূর্ণ হবে আশ ।
সেই করে সদা কালী নাম কর জপ।
মুছে যাবে পাপ ক্রমে সিদ্ধ হবে তপ।
১০
মনােবিকাশ।
যে হৃদয়ে ধর সদা বিষয় কামনা। ...
জলাঞ্জলি দাও তাহে হয়ে শুদ্ধমনা।
যে চরণে সাধ সদা করিতে ভ্রমণ।
কর তাহে মহাতীর্থ সদা পৰ্যটন ।
মাগি ভিক্ষা করপুটে গললগ্নবাসে।
সঙ্গিনী-হৃদয়-পদ্মে বিরাজ বিলাসে ।
দয়াময়ি, দাঙ্গায়ণি, পতিত-পাবনি !
ধ্যানে, যেন দেখা পাই, জগত-জননি ।
:):-
বিশ্বনাথ-স্তোত্র ।
হে ভূতভাবন, দেব বিশ্বনাথ।
করুণা-জলধি জীবের সাক্ষাৎ ।
অগতির গতি জগতের পতি
ভােলানাথ তুমি ভক্তের সংহতি।
বিপদের বন্ধু, অনাথের নাথ।
দুৰ্ব্বলের বল, চৈতন্য সাক্ষাৎ |
অন্ধের নয়ন, মূকের বচন।
ভীরুর ভরসা, বধীর’ শ্রবণ |
মনােবিকাশ ।
।
নিরাশ্রয়াশ্রয় অশান্তির শান্তি।
ধৰ্ম্ম উপদেশে দূর কর ভ্রান্তি।
সচ্চিদানন্দ দেব, ভােলানাথ।
তব পদাম্বুজে কোটি প্রণিপাত ।
আসিয়া এ ভবে মজি পাপপঙ্কে।
অজ্ঞান-তিমিরে মরি যে আতঙ্কে ॥
কে শিখাবে মােরে তত্ত্ব উপদেশ ।
পাব হে, কোথায় সদ্গুরু বিশেষ।
তমঃ প্রভৃতির কবে হবে নাশ।
জ্ঞানের আলােক হইবে বিকাশ।
কত দিনে যাবে বৃথা গৰ্ব মায়া।
কত দিনে হব সুপবিত্র কায়া।
ভক্তি বিনা প্রভাে হ’লনা সাধন।
শক্তি নাহি দেহে কি করি এখন ॥
জ্ঞান হীন হেতু দেখি আত্মপর।
অবিদ্যা-প্রভাবে নিঠুর অন্তর।
বৈরাগ্যবিহীনা বুদ্ধিহীনা নারী।
পাপের শৃঙ্খলে চলিতে না পারি ।
দুর্লভ জনমে হয়ে ক্রিয়াহীনা।
আত্মসুখে সদা একান্ত বিলীনা।
১২
মনােবিকাশ।
না সেবিনু কভু গুরুর চরণ।
না করিনু পর দুঃখ বিমােচন ।
পরহিত ব্রতে না মজিল মন।
বদনে বিমুখ মধুর বচন।
বৃথা বিশ্বনাথ ! হল ভবে আসা।
মিলিল দেব তব ভালবাসা।
নাহি মাের চিত্তগত প্রেমলেশ।
তােমার দেখা কি পাব পরমেশ ॥
ফুরাইল দিন শিয়রে শমন।
জানি কখন পাব দরশন।
কেন বা এলাম, কি করে গেলাম।
বৃথা মায়াবশে কাল হারালাম ।
এই চিন্তা যদি থাকিত হে মনে।
তবে কি হারাই উন্নতি সাধনে।
এত দিনে মম ওহে দয়াময় ।
তুমি যে কি বস্তু, হইল নির্ণয় ।
সদানন্দময়ী হব কত দিনে।
তুষিব সস্নেহে যত দীন হীনে।
হিংসা দ্বেষ কভু থাকিবে না প্রাণে।
জগতের প্রেমে ভাসিব উজানে ।
মনােবিকাশ।
শত্রু মিত্র ভাব হইবে সমান।
আত্মপর ভেদ করিবে প্রস্থান ।
রবে অন্তরে ঐহিক বাসনা।
পরমেশ পদ করিব সাধনা।
অনিত্য এ দেহে অবশ্য মরণ।
বিধির এ বিধি কে করে লঙ্ঘন ।
সাধ যায় তাই না করি ভৎসনা।
ক্ষণিক অনিত্য এ কর্তৃত্বপনা।
থাকি নম্র ভাবে সদা এ বানা ।
সুধাময় শান্তি করিয়া সাধনা।
এই ত মানস, পাই তাহা কই।
রিপু পরবশে কত জ্বালা সই।
চরণে তােমার করি প্রণিপাত ।
সঙ্গিনীরে কৃপা কর গৌরীনাথ ।
শক্তি-স্তোত্র।
দয়াময়ি দুর্গে, জগৎ জননি।
সারাৎসারা মা পতিতপাবনি ।
দুৰ্ব্বলের বল তুমি, মা তারিণি।
দুঃখহরা দুর্গে, দুর্গতিনাশিনি ।
কৃষ্ণমাতা তুমি, কৃষ্ণা গুণময়ী।
ভগবর্তী, হরপ্রিয়া, ব্রহ্মময়ী।
সরজস্তমস্ত্রিগুণধারিণী ।
আদ্যাশক্তি তারা, বিশ্ববিমােহিনী ।
চৈতন্য হনে, মা চৈতন্যরূপিণী ।
দেহ মা চৈতন্য অভয়দায়িনি ।
দাও মা বরদে কৈবল্য-দায়িনি।
ভক্তি শ্রদ্ধা মুক্তি ভূতেশ-ভাবিনি।
জানি না তােমারে ডাকিব কেমনে।
শিখিব কিরূপে তব দয়া বিনে।
ক’র না অবজ্ঞা, আমি গুণহীনা।
মূঢ়মতি নারী সদা পরাধীনা।
চরণ-বন্দনা হল না সাধনা।
ভকতি অভাবে রিপু ছয় জনা ।
মনােবিকাশ।
নিয়ত আমারে প্রবঞ্চনা করে।
ডাকিতে না দেয় নির্ভয় অন্তরে।
গেল দিন বয়ে ও দীনতারিনি ।
মােহমায়া-মুগ্ধ দিবস যামিনী।
প্রেমহীনা আমি নাহি এবে ভক্তি।
ভজনবিহীনা নাহি মনে শক্তি।
আত্মগরিমায় গেল দিন কেটে।
অন্ধকারে বুঝি যায় বুক ফেটে ।
মহাঘুমে সদা আছি অচেতন।
কে করে বলনা আলস্য খণ্ডন।
যাইব যখন শমন সদন ।
কেমনে তখন পাইব চরণ।
থাকিতে সুদিন ডাকিলে তােমারে।
তনয়া বলে, কি দেখিবে না মােরে ।
রক্ষাকালী নাম কর রক্ষা কালি।
করুণায় তব ঘুচাও মা কালি ।
পাপময় চিত্ত তাপপতে তাপিত।
অভয় চরণে কর না বঞ্চিত ।
দয়াময়ী নাম জগতে বিখ্যাত।
অভয়চরণ আশায় চিন্তিত।
মনােবিকাশ।
কবে মা চরণ করিব গাে ধ্যান।
কত দিনে মাের মুচিবে অজ্ঞান।
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব যে চরণ তরে।
উৰ্দ্ধবাহু হয়ে আরাধনা করে ।
ক্ষুদ্র কীট আমি না জানি কেমনে।
সে দুর্লভপদ লভিব জীবনে।
নিস্তারিনি দুর্গে, ভবভয় হরে।
জানি না পাইব তােমায় কি করে ।
কাম ক্রোধ মােহ দূরে পলাইবে।
মান অভিমান অদৃশ্য হইবে ।
নত হয়ে রব লতাসম হয়ে।
চরণে দলিত করিও, অভয়ে ॥
মেরে দাসীরে, শক্তি দিও তায়।
মাগি জ্ঞাননেত্র তােমার কৃপায় ।
বাসনা-বিহীন হবে মা জননী।
পাব কি মা দেখা জলদবরণি ৷
কি গুণে ও পদে মিলিবে মা ঠাই।
ভাবিয়া চিন্তিয়া কিনারা না পাই ।
করযােড়ে যাচি গললগ্নবাসে।
কৃপাময়ি, পূর্ণ কর অভিলাষে ॥
মনােবিকাশ।
কোটি প্রণিপাত কোকনদ পদে।
করুণা-কটাক্ষে চাহ মা কামদে ।
:0:- wa০০ ----
শ্রীহরি-স্তোত্র ।
হে রাধারমণ গােপিকা-রঞ্জন ।
দৈবকীনন্দন ভূভার-হরণ।
অনাথের নাথ পতিত-পাবন।
হতাশের আশা বিপদভঞ্জন।
সর্বশক্তিমান্ ওহে ভগবান্ ।
জীবের কল্যাণে সদা যত্নবান ।
অগতির গতি হে জগৎ পতি।
দুৰ্ব্বলের বল দেহি মে শকতি ।
অপার মহিমা নাহি তার সীমা।
হর দীননাথ কলুষ-কালিমা।
ভক্তিহীনা আমি হে মধুসূদন।
হ’ল না সাধন সাধন-রতন।
১
মনােবিকাশ।
শক্তিহীনা আমি না জানি ভজন।
কি করে ডাকিব ওহে নারায়ণ।
জনার্দন হরি শ্রীবৎসলাঞ্ছন।
কি করে শ্রীপদে লইব শরণ।
তুমি দামােদর জগৎ-জীবন।
প্রেমভক্তিহীনা আমি অভজন ৷
ঘাের মূঢ়মতি নাহি কিছু জ্ঞান।
কেমনে তােমায় সদা করি ধ্যান।
দিন গেল মাের ওহে দীননাথ ।
কর দীনবন্ধু মােরে আশীৰ্বাদ ॥
অধমার ক্ষমা কর অপরাধ।
বিতর হৃদয়ে অনন্ত প্রসাদ ।
বিদ্যা বুদ্ধিহীনা না জানি তােমায়
নিগুণ বলিয়া করাে না বিদায়।
দুর্লভ জীবনে বিহীন চেতন।
নাহি চিনিলাম চিন্তামণি ধন ।
বৃথা ধন আশা অতৃপ্ত বিলাস।
কাঞ্চন ত্যজিয়ে কাচেতে প্রয়াস ।
আত্ম-অভিমানে বৃথা আলাপনে।
যাপিনু জীবন মােহের ছলনে ॥
মনােবিকাশ ।
শিয়রে শমন লইবে কখন ।
নাহিক স্থিরতা যখন মরণ।
আপন বিস্মৃতি রয়েছি যখন।
দয়াময় বিনা কে করে চেতন।
করুণা কর হে করুণা-সাগর ।
পতিতপাবন ক্ষমার আকর।
যুগল করেতে ধরি হে মুরারি।
দেখা দাও হরি লইয়া পিয়রী।
আদ্যাশক্তি রাধা জগতের মাতা।
রাধাপ্রেমে বাধা তুমি ভয়ত্ৰাতা।
ক্রিয়াহীনা আমি ওহে দয়াময় ।
নিজগুণে চিত্তে হও হে উদয় ।
ঘুচাও আমার অনিত্য বাসনা।
তােমাকেই যেন করি হে কামনা।
ওহে কৃষ্ণচন্দ্র মােরে দয়া কর ।
পথ দেখাইয়া দাও গদাধর।
হয় মাের ভয় শমন করালে।
পাই যেন দেখা কৃষ্ণ অন্তকালে ।
বিরিঞ্চিবাঞ্ছিত প্রণতি চরণে।
কর আশীৰ্বাদ এড়াই শমনে ।
মনােবিকাশ।
নাহি জানি স্তুতি নাহি জানি স্তব
হরিনামে সদা ক্লান্তি অনুভব।
পরশ পরশে লৌহবৎ হিয়া।
করহ কাঞ্চন পদধূলি দিয়া।
-
::
গঙ্গা-স্তব।
শিবশিরবিহারিণী ত্রিভুবননিস্তারিণী
মাতৰ্গঙ্গে পতিতপাবনি।
অতুল মহিমা তব
যুগে যুগে অভিনব
বঙ্গের মেখলা নারায়ণি।
পূত মন্দাকিনী নামে বিরাজ মা সুরধামে
ভােগবতী নামে রসাতলে।
মকরবাহনা দেবী বাসনা চরণ সেবি
সচন্দন রকত উৎপলে ।
ভক্তিহীনা মূঢ়মতি পাপপঙ্কে সদা গতি
শ্বেতাঙ্গি মা ত্রিপথগামিনি।
চতুভুজে সুরধুনি পুরাণে মহিমা শুনি
সুখদা মােক্ষদা প্ৰবাহিণী ।..
মনােবিকাশ।
২১
মুক্তিদাত্রী মহামায়া জগদম্বে বজায়
সারদা বরদা প্ৰেমাধিনী।
আছে বড় মনে আশা তব তীরে করি বাসা
স্নান ধ্যানে জীবন জুড়াই।
অবলার নাহি গতি আনদে দেহ মা ভক্তি
তব নীরে যেন মুক্তি পাই।
জহ্ন র নন্দিনী নন্দা ত্ৰিজগতে চির বন্দ্যা
মনােআশা পূর ভাগিরথি ।
কলুষনাশিনী গঙ্গে ত্রিবেণী ত্রিভঙ্গ ভঙ্গে
ত্রিতাপহারিণী ভগবতী।
ব্রহ্মা কমণ্ডলু বাসে বিষ্ণুপদ সিক্ত আশে
অজ্ঞাতে আছিলে কত দিন ।
বিপুল সগর বংশ মুনি কোপে কৃত ধ্বংস
তেঁই বসুমতী ভাগ্যাধীন।
ভূপকুল অবতংস
ভগীরথ সূৰ্য্যবংশ
পুণ্যবলে দিলীপনন্দন।
কঠিন তপস্য। ফলে
অবতীর্ণ ধরাতলে
মা তােমার পবিত্র জীবন ।
উদ্ধারিল পিতৃকুল ত্রিভুবন হুলুস্থূল
চৌদিকে বাজিল জয় ডঙ্কা।
२२
মনােবিকাশ।
কপিল আশ্রম মুখে সাগর সঙ্গম সুখে
মহাতীর্থে হয় পাপ শঙ্কা।
অধমতারিণি গঙ্গে কোটি প্রণিপাত অঙ্গে
দাও মুক্তি চরণ কমলে।
সঙ্গিনীর অভিলাষ অন্তিমে শমন ত্রাস
হর মা গাে তব গঙ্গাজলে ।
:);
-
দুর্গা-স্তোত্র।
নমাে নমাে দুর্গে দেবি দশ প্রহারিণী।
ডাকিতে শিখাও গাে মা দুর্গতিনাশিনি ॥
নমাে নমাে দশভুজে মহিষমর্দিনী।
ভক্তিহীন এ অধমা ত্রাহি মা তারিণী।
নমাে নমঃ সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়কারিণী।
জগত জননী দেবী ত্রিলােকমােহিনী ।
নমাে নমাে মহামায়া তুমি নারায়ণী।
অকৃতি অধম সুতে ফেলনা জননী।
নমাে নমাে জগদ্ধাত্রী ত্রিগুণধারিণী।
ক্ষমতা বিহীনে হও ক্ষমাবিধায়িনী।
মনােবিকাশ।
নমাে নমাে মহেশ্বরী অসুর মর্দিনী।
শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম নানাস্ত্রধারিণী ।
নমাে নমাে যজ্ঞেশ্বরী বিশ্ববিমােহিনী।
গললগ্নীকৃতবাসে ডাকে মা সঙ্গিনী ।
নমাে নমাে গিরিতে গিরিশগৃহিণী।
কলুষবিনাশ কর কলুষনাশিনী।
নমাে নমাে হরপ্রিয়ে শিববিমােহিনী।
মহেশেরে ধ্যান সদা করাও জননী।
নমাে নমাে জ্ঞানদাত্রী জ্ঞানপ্রদায়িনী।
জ্ঞানকণা দানে এবে নিস্তার তারিণী ॥
নমাে নমঃ সিদ্ধেশ্বরী মা ভবতারিণী ।
কভু মা পুরুষ কভু প্রকৃতিরূপিণী ।
নমাে নমাে জগৎ-মাতা ব্রহ্মাণ্ডধারিণী।
অন্তিমে উদয় হয়ে হৃদয়ে তারিণী ।
নমস্তে কমলা দেবী কৈটভঘাতিনী।
কুলকুণ্ডলিনি কালী করালবদনি।
নমস্তে চামুণ্ডে দেবি শিবানি সৰ্বানি।
কেমনে চরণে ভক্তি হবে মা কল্যাণি ॥
নমস্তে নারায়ণী কালভয়হারিণী।
চিন্তামণি অচিন্ত্যা মা অনন্তরূপিণী ।
২৪
মনােবিকাশ।
ত্রাহি মাতঃ ত্রাহি মাতঃ বিপদ তারিণী।
সংসারে মা ভুলে কেন আছি তা জানিনী।
ত্রিপাপহারিণী দুর্গে পতিতপাবনী।
শ্রীচরণ ধ্যান সদা করাও জননী।
শমন আগত মা গাে তরাও তারিণী ।
অতি ক্ষুদ্র জীব আমি চাহ মা জননী।
কালভয়হারিণী মা মহাশক্তিময়ে।
কিঞ্চিৎ অভয় দানে রক্ষ মা অভয়ে ।
অভয়ে অভয় দাও অভয়দায়িনী।
পুরাও মা মনন আশা দুর্গতিনাশিনী।
উপায় কি নাই গাে মা তব রাঙ্গা পায়।
ব্ৰষ্ণা বিষ্ণু শিব যার গুণ সদা গায় ।
আমি যে কীটাণুকীট তুমি মা ভরসা।
গুণহীনা ভক্তিহীনা নিদ্রায় অলসা ।
দুরন্ত দুবৃত্ত রিপু না হইল বশ।
শুষ্ক আশা কর গাে মা শৈবাল সরস।
দনুজদলনী দুর্গে দুর্গতিনাশিনি।
কে জানে মহিমা তব পতিতােবনি ॥
অধমতারিণী নাম অধমা এ ভবে।
সন্তান উপরে কোপ কেমনে সম্ভবে ।
মনােবিকাশ।
কেমনে ডাকিলে তারা পাব তব দয়া ।
শিখাইয়ে দাও মোরে ওমা ভবভয়া।
ফুরাইয়া গেল দিন দুর্গতিহারিণী।
পদছায়া আশান্বিতা এ কৃষ্ণসঙ্গিনী ।
মন যদি দুর্গানাম করিত শরণ।
ভব ভয় তরে ভীত হত না এমন।
দুর্গা দুর্গা বলে যদি ডাকিতে বদনে।
করাল কালের দ্বারে না ঠেকি এক্ষণে ॥
দস্যরূপে রিপুগণ হৃদয়ের দ্বারে।
ঘেরিয়াছে দশ দিক ঘাের অন্ধকারে।
কোন্ দিকে যাই পথ দেখিতে না পাই।
নাহি কোন পুণ্যফল কম্পিত সদাই।
এ দেহ তরণী মাগাে হ’ল জরাজীর্ণ।
ও পদ কাণ্ডারী দানে হও অবতীর্ণ।
শিব দুর্গা নামে অসি ধরিয়া বিশ্বাস।
মকর কুম্ভীর পাপে করিব বিনাশ।
সে বিশ্বাস দেহ মােরে হয়ে কর্ণধার ।
কৃপা করে কর মােরে ভবসিন্ধু পার।
শ্রীরামচন্দ্র-স্তোত্র।
নমস্তে শ্রীরামচন্দ্র দেব দাশরথী ।
চিনিব তােমায় কবে আমি মূঢ়মতি।
অধম তারণ তুমি করুণা সাগর।
শ্রীচরণে কত দোষী দাসী নিরন্তর ।
সংসারের অন্ধকূপে সদাই নিমগ্ন।
দারুণ পাপের ভরে দেহ মন ভগ্ন ।
রঘুকুলতিলক হে তব কৃপা বিনা।
কেমনে নিস্তার পাব এ অঙ্গনা দীনা।
শুন দেব সীতাপতি বিষয়ে ভকতি ।
স্তব স্তুতি শক্তিহীনা এ চঞ্চল মতি।
পূর্ণব্রহ্ম নারায়ণ দেব অবতার ।
কেমনে হইব আমি ভবসিন্ধু পার।
অগতির গতি তুমি ওহে দয়াময় ।
অন্তিমে দাসীর প্রতি হবে কি সদয় ?
তােমার করুণা বিনা না হেরি উপায় ।
রঘুনাথ কৃপানাথ হও হে সদয় ।
কর জোড়ে পদাম্বুজে এই ভিক্ষা চাই।
অচিরাৎ তব নামে ভক্তি যেন পাই ।
মহেশ্বর-স্তোত্র।
অহে বিশ্বনাথ ভকত বৎসল।
পার্বতীর প্রেমে দ্বিরেফ-কমল।
ওহে ভােলানাথ সদানন্দময়।
তুমি তুষ্ট হলে ধরা তুষ্ট হয়।
অপরূপ রূপ কি অপূৰ্ব্ব শােভা।
কোটি চন্দ্র জিনি মুখ মনােলােভা।
কণ্ঠে ফণিমালা রুদ্রাক্ষের হার।
পরিধান বাঘম্বর শিরে জটাভার ।
রক্তপদ্ম আভা অতুল চরণ।
প্রভাত অরুণ লাঞ্ছিত বরণ ॥
অর্ধচন্দ্র ভালে ধ ধ জ্বলে।
নীলকণ্ঠ হলে ভুঞ্জিয়া গরলে।
গঙ্গাধর বামে মহিষমর্দিনী।
জগতের মাতা কুলকুণ্ডলিনী।
ত্রিপত্রে শােভিত ধূস্তুরা ভূষিত ।
“বব” “বব” রবে সদা হরষিত ।
বৃষভ বাহন ত্রিশূল ধারণ।
শিঙ্গা ও ডম্বুরে শ্রীকর শােভন ॥
২৮
মনােবিকাশ।
হাড়মালা গলে বিভূতি ভূষণ।
ফণী শিরােমণি ভীষণ গর্জন।
বৃষধ্বজ ত্রিপুরারী পঞ্চানন ।
গাঞ্জা ভাঙ্গ তব প্রিয় ত্রিলােচন।
হে প্রমথ নাথ পাৰ্বতী রঞ্জন।
নিজ সৰ্বত্যাগী যােগ পরায়ণ ॥
অঙ্গে ভস্ম মাখা শ্মশানেতে বাস।
ঐনিবাস ধ্যানে মগ্ন কৃত্তিবাস ।
দুগ্ধ সিদ্ধি প্রভো আর বিশ্বদল।
আতপ তণ্ডুল রম্ভা গঙ্গাজল।
দেব মহেশ্বরে এই উপচারে।
সভক্তি যে পূজে অখিল সংসারে ।
অভীষ্ট প্রদানে তুষ্ট মহেশ্বর।
মনােরথ তার পুরাণ সত্বর ॥
অহে রত্নেশ্বর পূর্ণ মহিমায় ।
জানিনা কেমনে পূজিব তােমায় ।
ভেবে ভেবে আমি হয়েছি কাতর।
সংসার মায়ায় মুগ্ধ নিরন্তর।
নাহি গুণ লেশ, দোষ যে অশেষ ।
কি হবে আমার গতি, পরমেশ।
মনােবিকাশ।
শ্রীচরণ ধরি করিহে মিনতি।
উদ্ধার করহ পাপমগ্ন মতি।
যত কেন দোষে দোষী দয়াময় ।
তবুও তােমারে ডাকিব নিশ্চয় ৷
বিপদ ভঞ্জন পতিত পাবন।
দেব দয়াময় অধম তারণ ॥
তােমারি প্রদত্ত ঐহিক জীবন।
তােমাকেই ভুলে রয়েছি যখন।
কত যে পতিত কত যে অধম ।
বর্ণিতে রসনা একান্ত অক্ষম।
কৃতাঞ্জলি পুটে করি নিবেদন।
তুমি যে কি বস্তু না করি ধারণ !
পরব্রহ্ম, তুমি জগদ্বন্ধু নাম!
মােরে কৃপাদানে হইবে কি বাম ?
অধমার মনে এই আকিঞ্চন।
অবিরাম নাম করিব স্মরণ।
অমূল্য সময় বৃথা কেটে যায়।
এদিকে যে আয়ু ক্ৰমে ক্ষয় পায় ।
কিসে ত্ৰাণ পাই ওহে পশুপতি।
তার প্রতিকার করহ সম্প্রতি, ॥
মনােবিকাশ।
ক্ষমা কর পিতঃ অপরাধ যত ।
চরণে শরণ মাগি অবিরত।
দয়ার আধার সৰ্বগুণাধার।
মহিমা তােমার অসীম অপার ॥
নগণ্য অবলা কীটাণু অধম।
সদা ভ্রান্তচিত্ত দেহ-ভরা তমঃ ।
নাহিক শকতি নাহিক ভকতি ।
ভজন পূজন হীন মূঢ় মতি।
ক্রোধ রিপু মােরে করে বিচলিত।
কবে তব প্রেমে হইব প্লাবিত।
জগতের গতি ওহে জগৎপতি।
হর হর ব্যোম হর হে দুর্গতি।
গুরুবাক্য আমি করি অবহেলা।
সংসার সমুদ্রে খেয়া দিনু ভেলা।
গুরুবাক্য যথা—“শিব তুষ্ট হলে।
সর্বদেব তুষ্ট হয় ভূমণ্ডলে।”
প্রেম ভক্তি হীনা ওহে দয়াময় ।
দেখা দাও মােরে হইয়ে সদয় ।
হে জগৎগুরু বাঞ্ছাকল্পতরু।
শ্রীচরণে আছি অপরাধী গুরু।
মনােবিকাশ।
করুণা করিয়া কর হে কটাক্ষ।
তব পদে লক্ষ্য থাকে, বিরূপাক্ষ ।
বিশ্বনাথ মােরে করাে না নৈরাশ।
তব প্রতি মম একান্ত বিশ্বাস ।
ঘুচাও সংসার এই অভিলাষ।
ওহে দীননাথ হও হে প্রকাশ।
ভালবাসা তব পাই জগদীশ।
করি প্রণিপাত সদা অহর্নিশ।
শ্রীচরণে আছি অপরাধী কত।
সকাতরে ক্ষমা মাগি অবিরত।
ত্রিলােক আরাধ্য সংসারেরি সার।
সেবাতে বিমুখ এ দাসী তােমার।
ভাবিলে যে পায় ও অভয় পদ।
ব্ৰহ্মপদ তার অক্ষয় সম্পদ।
মলমতি আমি ক্ষমা কর দীনে।
সদা ভ্রান্তচিত্ত ভজন বিহীনে ॥
ভগ্ন দেহ তরি তুমি হে কাণ্ডারি।
ডুবে যায় দেহ রাখ ত্রিপুরারী।
দেহ ঠাই পদে হয়ে কর্ণধার।
অকুল পাথারে দিতেছি তার ।
মনােবিকাশ।
অবিরত দয়া কর বিতরণ .
অকৃতজ্ঞ বলে হই বিস্মরণ ॥
কি গতি হইবে ওহে ত্রিলােচন।
অবিশ্রান্ত যেন করি হে স্মরণ ॥
কি আছে যে গুণ চিনিব তােমায় ।
করুণা করিয়া দাও পদাশ্রয়।
কর জোড়ে ধরি করি হে মিনতি।
অজ্ঞানেরে জ্ঞান দাও পশুপতি।
ওহে গৌরীনাথ যুগল চরণে।
করি প্রণিপাত দেখ দীন জনে॥
গণেশ-বন্দনা।
হে গিরিশ আত্মজ গৌরী-নন্দন
সিদ্ধিদাতা ওহে গজেন্দ্র বদন।
দেবের প্রধান সর্বাগ্রবন্দনা।
অগ্রে তব পূজা করি হে কামনা
ওহে লম্বোদর বিপ্ন-বিনাশন।
গণপতি দেব অপূর্ব গঠন।
শৈলসুতা-সুত বন্দে সুরপতি।
শ চ এ গদা পদ্ম অধিপতি ।
ক্ষম তাপরাধ ওহে গজানন ।
আমি মূঢ়মতি না জানি ভজন।
কেমনে তােমার করিব পূজন।
কর আশীর্বাদ করি হে সাধন।
ও রাঙ্গা চরণে করি প্রণিপাত ।
হে গণেশচন্দ্ৰ ক্ষম অপরাধ।
এ ভব-সঙ্কটে রয়েছি পতিত।
গতি মুক্তি দিয়া কর মােরে প্রীত
শ্যামা-স্তোত্র ।
কি করে জননী শ্যামা ত্রিগুণ করুণধামা।
ডাকি তােরে ভক্তিভরে শিখাইয়ে দাও ভামা ।
পাষাণ-নন্দিনী তুমি, হওনা গাে মা পাষাণী ।
সঙ্গিনীর হৃদৃপদ্মে রাখ গাে মা পা দুখানি ।
বিফলে যে গেল দিন না চিনিনু শ্যামা মাকে।
কালী কালী জপ সদা, রক্ষা পাবে যম থেকে।
সুমিষ্ট ভােজনে তুষ্ট, কালী নামে অসন্তুষ্ট।
সংসার-গরল পানে, করিলে সব উচ্ছিষ্ট ।
অমৃত ভাবিয়ে তিক্ত, সেবিলে ভুলিয়া ইষ্ট
কদালাপে মত্ত থেকে কাটালে হয়ে সন্তুষ্ট।
আমােদে প্রমােদে মত্ত লও না যে নিজ তত্ত্ব।
থাকিতে সময় এবে হও নিজ হিতে মত্ত ।
বাসনা তরঙ্গে ভাসি কাটিতেছে সুখনিশি ।
জাননা কি হবে শেষে যমদ্বারে অহর্নিশি ।
গ্রাসিতে আসিছে কাল পাপ তৃণ কাট ছার।
কালী বলে কাট কাল মুক্ত কর স্বর্গদ্বার।
করিয়াছ যত পাপ অনুতাপে যাবে তাপ।
নিঃস্বার্থ হইয়ে এবে কর তাহার আলাপ।
মনােবিকাশ।
৩৫
কলরব যথা হবে তথা হতে দূরে রবে।
নির্জনে থাকিয়া সদা যদি তারে ডাক এবে।
অবশ্য তাহারে পাবে মায়া মােহ দুরে যাবে।
পরনিন্দা কুৎসা যথা শ্রবণেতে না পশিবে।
তমােগুণ রিপুগণ সকলি ত্যাজিবে তায়।
করিবেক সদা ভয় মন যদি চিনে ভঁয় ॥
মণি মুক্তা ভাবি সার না ত্যজিলে অহঙ্কার ।
ধনগৰ্ব্বে মত্ত হয়ে ভুলিলে সে সারাৎসার ॥
অভিমানে মত্ত হয়ে না মানিলে হিতাহিত।
অজ্ঞান তিমিরে মজে জ্ঞানরতনে বঞ্চিত।
সংসারের কারাগারে করি পাপ রাশি রাশি।
ভাবিলে অতুল সুখে মৃত্যুমুখে পাব কাশী ॥
এখন বৈরাগ্য ধর, মদগৰ্ব পরিহর।
কালীমার শ্রীচরণ কায়মনে ধ্যান কর।
তােমার পাপের বােঝা বহিবে কে বল আর ।
তাই বলি এই বেলা কালীপদ কর সার।
না পূরিল অভিলাষ বাড়িল অর্থ পিয়াস।
তব চরণ প্রত্যাশা প্রাপ্ত সমূলে বিনাশ।
মুদিলে নয়নদ্বয়, কেঁদে অশ্রু হল ক্ষয়।
মন পাখি দেহ রাখি কোথায় উধাও হয়।
মনােবিকাশ।
কিছুই হল না তারা অভিমানে দেহ ভরা।
অধম সঙ্গিনী কৃষ্ণ, নিস্তার মা ভবদারা।
অধমা সন্তান বলে করো না বিমুখ মােরে।
রয়েছি তােমায় ভুলে মাতি ভােগ সুখ ঘােরে ।
অধমা তনয়া বলে নাহিক মার্জনা তায় ।
কুমন্ত্রি-মন্ত্রণা শুনে পড়েছি গরলে হায় ।
চৈতন্য দাও মা মােরে অসহ্য বিষের দায়।
কালীনাম মহামন্ত্রে বর্ষে সুধা রসনায় ।
আমি অতি মূঢ়মতি ওমা দীন নিস্তারিণী ।
কি বলে ডাকিলে পাব তব দয়া মা জননী
ডাকিতে শিখাও মােরে জননী গাে দয়া করে।
ভব ঘােরে পড়ে মা গাে আমি ডাকি যে তােমারে।
ভাসাইব অশ্রুজল জাগাইব অন্তরাল ।
তখন কি ব্ৰহ্মময়ি নিদ্রা যাবে মা কমল ॥
কিসে মা তােমারে পাই কুলায়না মম জ্ঞানে।
কৃপাময়ি সঙ্গিনীরে হের এবে সুনয়নে।
কেন ও মা জগদম্বে সদা উৎকণ্ঠিত মন।
সশঙ্কিত চিত্ত কেন হয় এত উচাটন।
থাকিতে পারি না আর ভ্রমে পড়ি অন্ধকার।
অসহ্য হয়েছে ভার বল কি উপায় তার ।
মনােবিকাশ।
৩৭
খল রিপু দ্য বলে ওষ্ঠাগত এবে প্রাণ।
রক্ষ গাে জগৎমাতা কর মম পরিত্রাণ ।
ওরে মন আর কতই বুঝাই অবিরত।
নির্জন না হলে মন সাধন যে অসঙ্গত ।
গৃহে সদা কলরব কেমনে ডাকিব তায়।
যথা কোলাহলহীন সেই স্থান ভাবময়।
শুন না কাহার কথা দেয় দিক্ হৃদে ব্যথা।
কেন না ত্যজি তায় ভাবিছ মন তিনি কোথা।
জাননা কি ওরে মন শ্যামা মা দুর্লভ ধন।
ভজিলে তুমি তারে পাইবে কি করে মন।
মহাকাল পদতলে শিবােপরে শ্যামা রয়।
পদযুগে রক্ত জবা মরি কিবা শোভা তায়।
নরমুণ্ডমালা গলে এলােকেশী দিগম্বরী।
লােল রসনা তায় করে অসি মা ভয়ঙ্করী।
চতুৰ্বর্গ ফল মিলে ও পদে নিলে শরণ।
দিও মা সঙ্গিনীরে—যাচে ভিক্ষা, তব চরণ।
সদা কালী বল মন যদি এড়াবে শমন।
আর ভুলনরে মন কেহ নয় যে আপন।
কত দিনে, দয়াময়ি, জ্ঞান-রবি সমুদিবে।
ও রাঙ্গা চরণ পদ্মে ভক্তি-বারি উথলিবে ।
মনােবিকাশ।
জীবনের খরস্রোতে প্রবল বাসনা ধায়।
ফুরাইলে ক্ষুদ্র আয়ু হবে যে মা নিরুপায়
থাকিতে সময় এবে হও গাে মা কৃপাধীন
ভবনদী পারে যাই ভক্তিভরে হয়ে মীন।
এস এবে শান্তিময়ী কর কৃপা দয়াময়ী।
যে নামেতে নরগণ নিত্য পূজে জগন্ময়ী।
এস এস মম হৃদে যাচি ভিক্ষা রাঙ্গা পদে
তিলেক সঙ্গিনী স্থান পায় যেন তব পদে।
সরস্বতী-বন্দনা।
সিতাজ-বাসিনী জয় সরস্বতী।
বাগীশ্বরী বীণাপাণি ভগবতী।
কুসুমিত কুন্দ-অক্-সুশােভনা।
কলার কুমুদ কুন্দ কৃতসনা ।
চিক্কণ চন্দন ললাট উজলা।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা সনাল বিমলা।
তুষার বরণা পূর্ণেন্দু-বদনা।
গজেন্দ্র মুকুতা হার বিভূষণা।
মণিময় পঞ্জর নূপুর কিঙ্কিনী।
অলিমদ খ েবঙ্কিারকারিণী ।
মৃণাল দ্বিভুজ, লগ্ন সরসিজ।
দ্বিরেফমণ্ডিত চারু পদ্মবীজ।
পীতবাসত, বিম্বারভূত।
বাক্য সুধাময়, কেশ ঘনাবৃত ।
ত্রিভুবনারীধ্যে ত্রিজগত বন্দে।
জয় জয় দেবী কবিকুলানন্দে।
বিজ্ঞানবিধাত্রী সঙ্গীতাধিষ্ঠাত্রী
তন্ত্র মন্ত্র বেদ পুরাণ গায়ত্রী।
৪ ০
মনােবিকাশ।
অসীম মহিমা করুণা আধারে।
হর মা দুর্গতি অবিদ্যা-বিকারে ।
কবিতা-নিকুঞ্জে মন ভৃঙ্গ গুঞ্জে।
অবলা অজ্ঞানে সাধু মধু ভুঞ্জে।
দেহি পদে ভক্তি ধ্যান অনুরক্তি
দুৰ্বল লেখনী আদি কবি শক্তি
মুরারি-মােহিনী সাক্ষাৎ দামিনী
নমস্তে বাগীশে ভক্তিপ্রদায়িনী।
গললগ্নবাসে ত্বদীয় সকাশে।
যাচয়ে সঙ্গিনী পদরেণু আশে ।
ভগবতী-স্তোত্র ।
কৃষ্ণ-মাতা হরপ্রিয়া শৈলেশনন্দিনী।
সদানন্দময় তুমি কৈলাসকামিনী ।
ঙ্গি—যার প্রমথেশ হে ডাকিনী যােগিনী।
নী—রবধি হেরি যেন ঐ পদ দুখানি ।
রবি সুত দূত ভয়ে রক্ষ মা ভাবিনি।
এঘোর সংসার মাঝে ডুবিল তরণী ।
ইহার উপায় কর জগৎ জননী।
মিথ্যা আলাপনে যায় দিবস যামিনী ।
ন---মি মাতঃ ও চরণে রক্ষ মা তারিণী।
তি—ত মাতঃ হৃদপদ্মে তিমিরনাশিনী ।
তােমার চরণ পূজা না করি ভবানি।
মা-বলে ডাকিতে শিক্ষা দাও গো জননী
র—ণ রঙ্গে রক্ষিলে মা মহিষমর্দিনী
চণ্ড মুণ্ড বধে মা গাে নৃমুণ্ডমালিনী।
রমণীর শিরােমণি হর বিলাসিনী।
নেহার তােমার মাতঃ অবােধনন্দিনী।
ভ—বানি ভৈরবি ভিক্ষা ভবেশভাবিনী।
গতি মুক্তিবিধায়িনী ত্রৈলােক্য-তারিণী
৪২
মনােবিকাশ।
বহিয়ে জীবন যায় দিবস যামিনী।
তীব্র কটাক্ষে মাগাে নিস্তার নিস্তারিণী ।
-:0:-
চিন্তেশ্বরী-স্তোত্র।
চিত্তেশ্বরী মা গাে দয়া না মিলিল ।
উদ্বেলিত চিত্ত শান্তি না লভিল
চতুভুজা দেবী গৌরবর্ণ ধরি।
সিন্দুর চন্দন ললাট উপরি ।
কি শােভা জননী ধরেছ আপনি।
সাধ হয় মনে দেখিতে জননী ।
ক্ষণেক দেখা দাও মা চিত্তেশ্বরী।
প্রত্যক্ষ অন্তর সুশীতল করি ।
কভু কি হেরিতে পাব মা ভাবিনী ।
স্তব স্তুতি ধ্যান নাহি কিছু জানি ।
যদি দেখা দাও মা এ অবলায় ।
নিশ্চিত জানিব সে তব কৃপায় ।
মনােবিকাশ।
৪৩
ভাগ্যফলে মাতঃ হেবির তােমায়।
ভক্তিহীনা বলি বঞ্চনা আমায়।
দয়াময়ী, দেহ চিত্ত করি স্থির ।
আরাধনা করি যেন হয়ে ধীর ॥
দেখা দাও তারা দয়া করি মােরে।
ক্ষম অপরাধ বান্ধি ভক্তি ডােরে।
অধম অবােধ কি দিব তােমারে।
ডাকিতে জানিনা সুধাই কাহারে ।
সঙ্কটনাশিনী, শঙ্কর ঘরণী।
কেমনে ডাকি মা, শিখাও জননী।
ভক্তি ভরে মা গাে প্রেমপুস্পাঞ্জলি।
কর জোড়ে দিতে হই কুতুহলী ॥
ক্ষুদ্র কাট জ্ঞানে না হও নিদয়।
রেখ গাে মা অন্তে চরণে আশ্রয় ।
সদা অভিমানে মিথ্যা আলাপনে।
ভ্রমিতেছি সদা সংসারকাননে।
দিনে দিনে দিন যায় সব দিন।
সঙ্গে সঙ্গে আয়ু হতেছে মা ক্ষীণ।
কাঞ্চন ত্যজিয়া কাচেতে যখন।
কেমনে জননী হইবে সাধন।
৪৪
মনােবিকাশ।
মহামায়া মােরে দাও চিত্তবল।
অকৰ্ম্মণ্য হয়ে রয়েছি কেবল।
চরণকমলে করি প্রণিপাত ।
সঙ্গিনীরে মাতঃ কর আশীর্বাদ
অন্নপূর্ণা-স্তোত্র ।
ওমা অন্নপূর্ণা কাশী বিশ্বেশ্বরী।
আদ্যাশক্তি তুমি মা পরমেশ্বরী।
অধমতারিণী পতিতপাবনী ।
সঙ্কটনাশিনী হে মা নারায়ণী ।
অন্নপূর্ণা তুমি ভুবনমােহিনী।
ব্রহ্মময়ী শিবে জীবের জীবনী ।
কি করে জননী চিনিব তােমায়।
দেহ পদাশয় অসীম কৃপায় ।
কি আছে মা বল কি দিয়া পূজিব
শক্তি ভক্তিহীনা কি দিয়া তুষিব ।
মনােবিকাশ।
৪৫
আছে দেহে মাের কাম, ক্রোধ, তম ।
মদ মাৎসৰ্য্য নাহি শম দম।
আত্মশ্লাঘা বেশ নাহি গুণলেশ।
ক্ষম ক্ষেমঙ্করী করুণা অশেষ ।
অন্নপূর্ণা শিবে ভব ভয় হরে।
ত্রাহি ত্রাহি মাতঃ ডাকি যে কাতরে ॥
ও রাঙ্গা চরণে মিনতি না করি ।
ক্ষম অপরাধ ওমা বিশ্বেশ্বরা।
-:):
কামাখ্যা-স্তোত্র।
সঙ্কট-নাশিনি গাে মা ভীতিহর নিস্তারিণী ।
পতিতপাবনী দুর্গে শুম্ভ নিশুম্ভনাশিনী।
মহামায়া জগদ্ধাত্রি মা চণ্ডি ভুবনেশ্বরি।
শরণাগত দীনে মাগাে রক্ষ কৈলাসেশ্বরি।
ব্রাহিমা ত্রাহিমা তারা যােগমায়া জগদম্বে।
দেখ মা দেখ মা চেয়ে একবার অবিলম্বে ।
নামের মহিমা তারা ঢাল মা হৃদয়ে তারা।
নামামৃত পানে যেন হয় দাসী মাতােয়ারা।
জগন্নাথ-স্তোত্র।
হেরি জগন্নাথ রথে অধিষ্ঠান।
পুনর্জন্মভয় করে যে প্রস্থান।
ভীরুর ভরসা, দুর্বল শরণ।
হে বামনদেব, শুন নিবেদন।
এ হেন মহত্ত্ব ধর দয়াময়।
হয় যেন দেখে বৈরাগ্য উদয় ।
শ্রীপদযুগলে দাসীর এ মিনতি।
বারেক কটাক্ষে হের হে শ্রীপতি।
গুণহীন। আমি লয়েছি শরণ।
রেখ হে চরণে এই আকিঞ্চন ॥
ভুলে আছি সদা অভয় চরণ।
বিপদভঞ্জন বিঘ্নবিনাশন।
দাও দয়াময় অভয় চরণ।
তরি যেন ভবে এই নিবেদন ॥
দয়াল ঠাকুর অধম তারণ।
অগতির গতি ওহে নারায়ণ।
না থাকে দুর্গতি যেন গােপীনাথ।
হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধু হে সাক্ষাৎ |
মনােবিকাশ।
৪৭
তুমি হে জগৎবন্ধু জগন্নাথ।
দেখা দাও জোড় করি দুটী হাত
শ্রীপদে প্রণতি করিহে শ্রীধর।
বিপদ কাণ্ডারী মহিমা সাগর ।
.
::
সন্ধি-পূজা।
কি রকমে জননী গাে চাহিলে মা সন্ধিক্ষণে।
ক্ষমা কর গাে মা তারা যত ত্রুটি শ্রীচরণে ॥
বছরের পরে দেখা কি দিয়া তুষিব হায়।
যা কিছু সকলি যে বিলাইয়াছি রাঙ্গা পায় ।
ওমা উমে দশভুজে যাচি আমি ও চরণ।
প্রেমপুস্পাঞ্জলি দানে ভাসে মম দুনয়ন।
মা জননী আদ্যাশক্তি কিসে হবে মম ভক্তি।
ভক্তি বিনা কোথা মুক্তি পায় ভবে কোন ব্যক্তি।
ক্ষম দোষ ক্ষেমঙ্করি তনয়ারি স্নেহ করি।
সঙ্গিনীর বল বুদ্ধি তুমি গাে মা সিদ্ধেশ্বরী।
গুরু-স্তব।
অহহ গুরুদেব ভক্তিহীনা জনে।
প্রকাশ মহিমা প্রসন্নবদনে ॥
অজ্ঞানান্ধকারে অবিদ্যা-প্রভাবে।
আছি ম্রিয়মাণ জ্ঞানের অভাবে।
দয়াময় তুমি চাহ একবার।
শ্রদ্ধাহীনা দেব চরণে তােমার।
নিজগুণে দয়া কর এ দাসীরে।
কোটী প্রণিপাত শ্রদ্ধা ভক্তি নীরে
:: *
কালী-স্তব ।
জাগ মা জাগ মা কুলকুণ্ডলিনী।
শক্তি নাই জাগাইতে নিস্তারিণী
আর কত ঘুমাইবে গাে জননী।
ঘুম পাড়াইয়ে আমারে আপনি।
ভাঙ্গ মাের মােহনিদ্রা, মুণ্ডমালে
জনম সার্থক কর ইহকালে
মনােবিকাশ ।
৪৯
হৃদয় কমলে ও চরণ ধ্যানে।
পাই যেন মুক্তি আয়ুঃ অবসানে।
তব দয়ায় মা বল কি না হয়।
মহাপাপী মুক্ত কলুষ হৃদয়।
তােমার সে কৃপা কেমনে জাগাই
ভাবি তার তত্ত্ব কিছু নাই পাই।
ত্রিগুণে নিগুণে দেহ মা ভকতি।
ভাসি অশ্রনীরে ও চরণ প্রতি।
ভকতবৎসলা স্নেহ সিন্ধুনীরে।
ডুবাও দাসীরে প্রেম পারাবারে।
মুক্ত করে দাও মায়ার শৃঙ্খল।
দাও দাও মা গাে চরণ কমল।
Tr
মহাদেব-স্তোত্র।
হে হর শঙ্কর শশাঙ্ক শেখর।
মহিমা তােমার অসীম অপার ।
তুমি ক্ষমাময় ত্রিলােক ঈশ্বর।
তুমি নারায়ণ সৰ্ব্ব গুণাধার ।
তব পদে ভক্তি যাচি হে শ্রীপতি।
দেখ মম প্রতি ওহে পশুপতি
ভক্তি ভাবে যদি পূজা নাহি পাও।
কৃপা করে নাথ পদধূলি দাও ।
জানি সদাশিব সদানন্দময়।
অতি শান্ত তুমি ওহে দয়াময় ।
ভক্তি ভিক্ষা মাগি অনাথ শরণ।
দাও শিখাইয়া হে বিশ্বভবন।
দাও মহাদেব পাৰ্বতীবল্লভ।
পতিভক্তি জ্ঞান অতীব দুর্লভ।
কবে আমি দেব প্রসাদে তােমার ।
করিব সার্থক স্ত্রীজন্ম আমার।
কত ত্রুটি হয় পদাম্বুজে তার।
ক্ষম তাহা দেব, ক্ষমার আধার।
মনােবিকাশ।
৫১
ত্রিভুবন-নাথ দেব পরাৎপর ।
দাসীরে সদয় হও বিশ্বম্ভর ॥
দিও দেখা প্রভু অন্তিমে আমারে।
নাহি চিনিলাম আমি যে তােমারে ॥
তুমি দয়াময় অধম আশ্রয়।
রেখ হে চরণে হইয়ে সদয় ।
দাও এ জনমে তব প্রতি ভক্তি।
সেবিতে ও পদ হয় যেন শক্তি।
----:): ----
জগৎমাতা।
কবে গাে মা হব পার এ ভব সংসার ।
অকুল সমুদ্র মাঝে দিতেছি সাঁতার ।
সংসার সাগর মাঝে বড় যে তুফান।
কত ঢেউ উঠিতেছে কে করে সন্ধান।
উঠেছে তুমুল ঝড় ছিন্ন শ্রদ্ধা পাল।
আনাড়ি যে মন মাঝি দেহ কঙ্কাল ।
৫২
মনােবিকাশ।
ডুবিল এ দেহ তরী জননী এবার।
তুমি না করিলে রক্ষা কে করে উদ্ধার ॥
কৈ মা গো হলােনা রক্ষা দেহ কম্পবান ।
থাকিতে সময় ছিল হ’তে সাবধান।
দুর্গানাম ছেড়ে ঘাের ঘুর্ণিপাকে ।
মারা যাই মা গাে দেখ অধমাকে ।
অগতির গতি তুমি গাে মা ভগবতী ।
চরণে শরণ দিয়ে ঘুচাও দুর্গতি।
::---- -
মনের প্রতি।
ওগাে মা জননী পতিতপাবনী ।
ওমা ব্ৰহ্মময়ী সত্য সনাতনী ।
কভু মা পুরুষ কভু মা প্রকৃতি।
বুঝিতে না পারি তােমায় মা সতী ।
ভাবি একবার ভজি নারায়ণ।
পুনরায় ভাবি ভজি ত্রিলােচন।
মনােবিকাশ।
তুমি মা জননী তুমি নীলমণি।
কৃষ্ণ প্রাণাধিকা তুমি রাধারাণী।
তুমি গঙ্গাধর ব্রজের ঈশ্বর ।
তুমি বিশ্বেশ্বর ওহে পীতাম্বর।
সবে বলে মা গাে হও এক দেব।
কালী কৃষ্ণ কিম্বা হর মহাদেব ।
এক এক বার যে হয় কুণ্ঠিত।
কি বলে ডাকিব কি নাম উচিত ।
অতি অজ্ঞ জন না জানি সাধন।
মহা স’ লাগে কি করি এখন ।
এই ভাবে দিন যায় গোলমালে।
চিনিব তােমায় আমি কোন কালে
দিন ফুরাইল শিয়রেতে কাল।
কৃপা দৃষ্টে মাগাে ঘুচাও জঞ্জাল।
দয়াময়ি, যেন পাই প্রেমানন্দ।
তব নাম গানে আছে যে আনন্দ।
শ্ৰী শ্ৰীকৃষ্ণায় নমঃ।
হে রাধারমণ লক্ষীনারায়ণ।
অগতির গতি পােলােক রতন।
দয়াময়ী মাতঃ লমী সরস্বতী।
দেব হৃষীকেশ ব্রহ্মাণ্ডের পতি।
তব চরণে হে লইলে স্মরণ।
সৰ্বাভীষ্ট সিদ্ধি হয় অনুক্ষণ।
তুমি মহৌষধ এ ভব সংসারে।
নামামৃত পানে গরল নিবারে ॥
অখিলের গুরু তুমি চিন্তামণি।
সে ধ্যানে বঞ্চিত সঙ্গিনী রমণী।
হরি দয়াময় কি হবে উপায়।
ঔষধে অনিচ্ছা ভকতি পালায় ।
তাও দয়াময় করিনা’ক পান।
ব্যাধির মন্দির বিমুগ্ধ পরাণ।
সুধাময় নামে অরুচি যখন।
নামামৃত পান করিব কখন।
রােগ শােক হর সুধাময় নাম।
শ্রীবিষ্ণু নামেতে পূর্ণ মনস্কাম।
মনােবিকাশ।
দয়াময় হরি বিপদ ভঞ্জন।
চিনিব কেমনে তুমি যে কি ধন ।
নাহি ভক্তি লেশ নাহি জানি স্তব ।
অতি জ্ঞানহীনা আমি হে কেশব ।
কি রূপেতে হরি হব আমি পার।
অকুল পাথারে দিতেছি সাঁতার।
তুমি যে ভবের নাবিক প্রধান।
কর কৃষ্ণ দয়া হয়ে দয়াবান।
নামের মহিমা অসীম অপার ।
যাতে পার হয় ভব পারাবার ।
হরিনাম মুখে হলে উচ্চারণ।
নামামৃত পানে আনন্দে মগন ।
কি অমৃতময় সে নাম বদনে।
সুধাবৃষ্টি করে নিয়ত শ্রবণে ।
ক্ষুদ্র কীট আমি মােহান্ধ সংসারি ।
সৰ্বেষধ নাম বুঝিতে না পারি ।
ওহে দীননাথ দরিদ্রবৎসল।
জীবসমূহের তুমি মাত্র স্থল।
বৃথা আমােদেতে কেটে গেল দিন।
এ দিকে যে হায় ! আয়ুঃ হল ক্ষীণ।
৫৬
মনােবিকাশ।
অবশেষ যাহা আছে দয়াময়।
বৃথা কাজে যেন নাহি হয় ক্ষয়।
জীবের কল্যাণে সদা যত্নবান্।
দয়াল হরি ঘুচাও অজ্ঞান।
হে গােলােকচন্দ্র কৃষ্ণ সঙ্গিনীরে ।
দাও শিক্ষা ডাকি ভাসি অশ্রনীরে।
হে করুণাময় হও হে সদয়।
আশীৰ্বাদ কর ওহে দয়াময় ।
-:):
করালীস্তোত্র ।
হে রণরঙ্গিনী শ্যামা যােগিনী সঙ্গিনী ।
নাচিছ মা শিবােপরে হয়ে উলাঙ্গিনী ॥
তােমাকে পাবার তরে দেব ঋষিগণ।
পৃজিতেছে ভক্তিভরে তব শ্রীচরণ ॥
জগৎ জননী দেবী কুল কুণ্ডলিনী।
কেমনে তােমার দেখা পাব গো জননী।
মনােবিকাশ।
সংসারের সব জীব তােমারি তনয় ।
তােমাতে উৎপত্তি মা গাে তােমাতেই লয় ৷
বিরিঞ্চি শঙ্কর বিষ্ণু প্রসবিনী তুমি।
তােমার মহিমা শ্যামা কি জানিব আমি ।
শিবের সর্বস্ব ধন তব রাঙ্গা পায়।
সে পদ কেমনে পাব জানিনা উপায় ।
শুনি মা জননী তুমি কলুষ নাশিনী।
কিসে ত্ৰাণ পাব বল অধমতারিণী ।
হে মা কাত্যায়নী, তুমি মধুরহাসিনী।
পৃজিনু তব পদ নগেন্দ্ৰনন্দিনী।
দেখাও সে রূপ মাগাে দয়া প্রকাশিয়া।
জনম সার্থক হবে বারেক দেখিয়া ।
কত ভালবাস তুমি অবােধ কন্যারে ।
আমি কিন্তু কভু মা গাে সেবি না তােমারে।
সব অপরাধ ক্ষমা কর মা জননী।
ভবপারাবারপারে তুমিই তরণী ॥
ভব ভয়ে ভীতা আমি সদা সর্বক্ষণ।
সেই জন্য যাচতেছি তব শ্রীচরণ ॥
দাও মা অভয়, আমি দাসী গাে তােমার।
পারি যাতে হতে পার ভবপারাবার।
৫৮
মনােবিকাশ।
শান্তি দেবী তুমি মা গাে শান্তি প্রদায়িনী
দাও শান্তি হৃদয়েতে মহেশ মােহিনী।
ওমা শিবসিমন্তিনী চাহ মম প্রতি।
জ্ঞানহীনা এ তনয়া তাহে অল্প মতি।
ভজন পূজন আমি কিছু নাহি জানি।
তােমারি তনয়া বলে হের মা জননী ।
করেছি অনেক দোষ তােমার চরণে।
কোলের তনয়া বলে করােনা মা মনে।
ক্ষমা কর ক্ষেমঙ্করী অগতির গতি।
দিওনা মা গুরুদণ্ড তুমি ভগবতী।
অজ্ঞান তনয়া বলে হওনা বিমুখ।
অসুখ ভাবিয়া সুখ দিয়াছি দুখ ।
অজ্ঞানে আবৃত সদা চিত্তেতে সংশয়।
হয়েছি চৈতন্য হত সদা হয় ভয় ।
কুপথ্য আহারে রােগ বাড়ে প্রতিদিন।
বিষম বিকারে তনু হইতেছে ক্ষৗণ।
অতি স্বার্থময় হেন আমার হৃদয় ।
চেয়ে না দেখিনু আয়ুঃ হয়ে গেল ক্ষয়।
কতকাল ধরি ধৈৰ্য্য থাকিব মা আর।
তােমা বিনা দেখিতেছি দিবসে আঁধার।
মনােবিকাশ ।
ওমা শ্যামা পাপভার নামাইয়া দাও।
আপন তনয়া বলে কোলে তুলে নাও।
তনয়ারে করে কোলে মুখপানে চাও।
নিজ গুণে করে কৃপা পদ দুটী দাও।
নারায়ণ-স্তোত্র।
ওহে দয়াময় দেখা দাও দয়া করি ।
নিজ গুণে দয়া করে দেখা দাও হরি।
ভজন সাধন হীনা শক্তি ভক্তি হীনা।
ক্রিয়াহীনা প্রেমহীনা বিদ্যা বুদ্ধি দীনা
অধম তারণ ওহে পতিত পাবন ।
কৃপাসিন্ধু কর কৃপা ওহে নারায়ণ।
মহাভ্রমে নিপতিত দয়া কর হরি।
দয়া যােগ্য অভজন অজ্ঞান কিঙ্করী।
বেদমুখে নাহি শুনি মহিমার সীমা।
ধন্য হে কমলাপতি অতুল গরিমা।
মনােবিকাশ।
ওহে নারায়ণ তুমি বিপদ কাণ্ডারি।
অসীম করুণাধাম চিনিতে না পারি ।
তােমার প্রসাদে জন্ম লভেছি যখন।
ভবনদী কর পার হে মধুসূদন ।
উৎকণ্ঠিত এ হৃদয় যে আশার হেতু।
ও রাঙ্গা চরণ মাের জীবনের সেতু।
ওহে নারায়ণ তব শ্রীচরণ ধরি ।
কৃষ্ণ সঙ্গিনীরে বারেক দেখ শ্রীহরি ।
:0;--
সিংহবাহিনী-স্তোত্র।
কি হবে চৈতন্যময়ি, চৈতন্য উপায় ।
মহামায়া তুমি মাের না হলে সহায় ।
হে সিংহবাহিনী মাগাে দুর্গতিনাশিনী।
কেমনে ভজিব তব পদ দাক্ষায়ণী ।
মায়ানমাহে সদা হায় আছি বিজড়িত ।
কেমনে সে দৃঢ় পাশ করিব খণ্ডিত।
মনােবিকাশ ।
বিফলে জীবন মাের গেল মা তারিণী।
ভক্তিভরে ডাকি তাই ভবেশভাবিনী।
শিয়রে শমন মাের হের মা শঙ্করী।
বারেক দেখ গো মােরে ঈশ্বর ঈশ্বরী ।
জগৎ জননী দেবী কর গাে মা দয়া।
কত পাপী উদ্ধারিছ তুমি মা অভয়া।
ক্ষুদ্র কীট বলে মাগাে হয়ােনাক বাম।
প্রাণভরে ডাকি আমি পুর মনস্কাম ॥
রক্ষ রক্ষ তুমি মাতঃ হে ভবতারিণী।
গেল দিন বয়ে দেখ অভয়দায়িনী।
সৰ্ব্বজনে বলে নানা দেব দেবী এক।
দুর্গা কালী কৃষ্ণ শিব ব্রহ্মাদি যতেক ।
কি বলে ডাকিব মাগাে নাহি তাহা বোধ ।
তুমিত জান মা কৃষ্ণ-সঙ্গিনী নির্বোধ।
শ্রীচরণে ধরি আমি মিনতি মা করি।
সঙ্গিনীরে দেখাে গাে মা শঙ্কর সুন্দরী।
জগদ্ধাত্রী-স্তোত্র।
এস মা গাে জগদ্ধাত্রী হৃৎপদ্ম সিংহাসনে।
তনয়ার অপরাধ ক্ষমা কর ত্রিলােচনে ৷
জানি গাে তব পূজা ওমা যােগেশ মােহিনী।
তব যােগ্য কিবা আছে, দিব আমি মা জননী ।
নাহিক ভক্তির লেশ, দাও তব উপদেশ।
কৃপাদৃষ্টি কর মাগাে, ভেবে এ কীট বিশেষ।
আমি অতি অর্বাচীন তাহে শক্তি হীন তারা।
ধর মাের বিল্বদল, সুরধুনী অশ্রুধারা।
হৃদিপদ্ম শতদলে দাও দেখা মা মঙ্গলে।
করুণা কর মা তার দাসীর এ হৃৎকমলে ।
তব পদ কোকনদ শ্রদ্ধা ভাবে পূজি বসে।
এস মা গাে জগদ্ধাত্রী বস গাে মা এ মানসে ।
ওগাে ওমা জগদ্ধাত্রী তােমারই সকলি সৃষ্টি ।
ভক্তিভাবে পূজিব গাে কর মা করুণ দৃষ্টি ।
তব ভালবাসা পাব, চরণে শরণ লব ।
সন্তান করে মা ভিক্ষা জননী কাছেতে তব ৷
মনােমধ্যে শান্তি নাই, অশান্তিতে কোথা সুখ।
করযােড়ে ভিক্ষা করি, অধমার দেখ মুখ ॥
মনােবিকাশ।
অশান্ত সঙ্গিনী কৃষ্ণ মিনতি করি জননী।
যেন ভক্তিভাবে পূজি মা গাে পাদপদ্মমণি ॥
:0:-
তারা পরমেশ্বরী।
তারা মহাবিদ্যা হের মা জননী।
আয়ুক্ষয় মা গাে দেখ ত্রিনয়নি ।
উপাজ্জিত কত হ’ল পাপরাশি।
কুৎসিত আলাপে মহানন্দে ভাসি ॥
জানি ডাকিতে ওমা এলােকেশী ।
কর মা বন্ধন মুক্ত, মুক্তকেশী ।
চিরদিন কি মা রব অন্ধকারে।
চিদানন্দময়ী জাগ মা অন্তরে।
ডাকি করযােড়ে আমি মা তােমারে ।
পতিতােদ্ধারিণী দেখ গাে মা মােরে ।
হে দীনতারিণী দিন যায় মাের।
মহাঘুম ঘােরে দিবানিশি ভোের।
ডাকিতে না পাই চৈতন্য উদয়ে।
রাখে আবরিয়া কুচিন্তা প্রয়ে।
৬৪
মনােবিকাশ।
নাহি কিছু মাের তারা নাম বিনে।
অন্তিমেতে স্থান দিও মা চরণে।
ও পদ পঙ্কজে করি মধুপান।
কবে গো জননী পাব পরিত্রাণ ।
এ ঘাের সঙ্কটে রবে না মা আশা।
থাকিবে না আর বাসনার তৃষা।
কি আর কহিব তোমার চরণে।
কৃষ্ণ সঙ্গিনীরে ত্রাহি নিজ গুণে।
লক্ষমীর-স্তোত্র।
মনরে বসিয়া কি কর ভাবনা।
অনিত্য ভাবনা ভেবনা ভেবনা
জান যদি মন দেহের পতন।
কেন তবে তুমি আছ অচেতন
পলকে পলকে কত কাল যায়
অহরহ তাই ডাক লক্ষমী মায় ।
দুর্লভ সম্পদ সেই লক্ষীপদ।
ভবার্ণব তরি হউক মােক্ষদ ৷
জগদ্বন্ধু স্তোত্র ।
জয় জগন্নাথ, জগৎ জীবন।
জগদ বন্ধু হে পতিত-পাবন ।
নরের আশ্রয় তুমি নারায়ণ।
কেশব নামেতে ক্লেশ বিমােচন।
দেখা দিলে মােরে অধম তারণ।
দর্শনে হৃদয়, আনন্দে মগন ।
পরশ মণি স্পর্শে হে নারায়ণ।
পাপ যাহা কিছু, হয় বিমােচন।
এক পক্ষ তথা করিয়া হে বাস।
ভগ্নীগণ মিলে কতই উল্লাস।
দেখিয়া তােমায়, ওহে তীর্থরাজ ।
আনন্দ সবার হ’ল সিন্ধুরাজ ।
আলিঙ্গন দিলে তুমি দয়া করে ।
সকলেতে মিলে কোলাকুলি করে।
বিমল আনন্দ পায় তব নীরে।
সামান্য কুটীর করে দিও তীরে ॥
প্রণিপাত করি ও রাঙ্গা চরণ।
শিরে আশীৰ্বাদ করিয়া ধারণা
মনােবিকাশ।
যদি কিছু দোষ হয় গাে আমার।
ক্ষম তাহা দেব ক্ষমার আধার।
পুনঃ ইচ্ছা হয় দেখিতে আমার।
দয়া করে দেখা দিও গাে আবার ॥
সব ভগ্নী মিলে আসিবার কালে ।
কাঁদিলাম কত, যেওনাক ভুলে ।
কবে গাে আবার তােমারে হেরিব ।
কবে গাে আবার প্রসাদ পাইব ।
কন্যা বলে দয়া করিও হে মােরে।
দয়াময় নাম দেখাও সবারে ॥
মনে করে ছিনু স্বপনেতে দেখা।
দিবে হরি মােরে পাণ্ডবের সখা।
মন-আশা মাের নাহিত পুরিল'।
মনের আশা মনেতেই রহিল ৷
বিদ্যা বৃদ্ধি হীনা অবলা এ নারী।
কেমনে জানিব মহিমা তােমারি।
বিরিঞ্চি বাঞ্ছিত কমলা সেবিত।
যােগি ঋষিগণ ধ্যানেতে মুদিত।
সংসার সাগরে হাবু ডুবু খাই।
শ্রীচরণ তব খুজিয়া না পাই।
মনােবিকাশ।
সংসার তরঙ্গে হইতেছে ত্রাস ।
নাহি ইচ্ছা দেব করিতে হে বাস।
সাধু সঙ্গ বাস বড় অভিলাষ ।
দিন দিন আয়ু হইতেছে হ্রাস।
না পারি ধরিতে তব ভক্তি-ডোরে ।
তব তরে প্রেম-অশ্রু নাহি পড়ে ।
অভিমান হলে কত অশ্রু ঝরে।
দাও প্রেম ভক্তি যাচি কর জোড়ে ।
চিন্তামণি চিন্তা না পারি করিতে ।
নাহি চিনিলাম তােমারে চিনিতে।
অবলা-বান্ধব তুমি হে কেশব ।
বাঞ্ছাকল্পতরু তুমি হে মাধব।
জীবনের সন্ধ্যা হইল আগত।
হে জগদ্বন্ধু করাও জাগ্রত।
গৃহের দেবতা অতি দয়াময় ।
অপরাধে ক্ষমা করেন আমায় ।
নাহি যােগ্য তার এ অধম নারী ।
সেবাতে বিমুখ হইয়া কিঙ্করী ॥
ভব পারাবারে কেমনে তরিব ।
করুণা করহে আমারে কেশব শ
৬৮
মনােবিকাশ।
বল বল সদা বদনেতে রাম।
ঘুচে যাক তমঃ পূর্ণ হ’ক কাম ।
শুভদ্রা জননী, শুভ বুদ্ধি দাও।
সুষুম্না নাড়ীতে সদা বাঁধা রও।
জগন্নাথ তুমি ক্ষমাপরায়ণ।
অবলারে বল দাও নারায়ণ ॥
হলনা হলনা চরণ সাধনা।
বিষয়-বাসনা কেনগাে কামনা।
গর্বিত ভাব কেনগাে যায় না।
পর উপাসনা কেনগাে ছাড়ে না।
বাসনা বিলীন হ’ল না হ’ল না।
লােকাচার সদা রাখিতে পারি না।
সংসার যাতনা আর যে সহেনা।
এসব কি আর কভু ত্যজিবে না।
পতিব্রতা ধৰ্ম্ম করিতে পারি না।
পর উপকার করিতে জানি না।
মন্ত্র জপ সদা করিতে পারি না।
হরি নাম গান গাহিতে জানি না।
ডাকিবার মত ডাকিতে জানি না।
জগদ্বন্ধু মােরে কর হে করুণা।
মনােবিকাশ।
জানালাম হরি, বাসনা আমার।
কৃপা করে দেখা দিও গাে আবার।
তুমি পিতা মাতা তুমি ভয়ত্ৰাতা।
রক্ষ রক্ষ তুমি মােরে গাে দেবতা।
করি প্রণিপাত যুগল চরণে।
অবলারে ক্ষমা কর স্নেহ দানে ।
বারেক হেরিয়া আশীর্বাদ করে ।
দাও তব পদ কৃষ্ণসঙ্গিনীরে ॥
দেবী-স্তোত্র ।
নমস্তে, ধরিত্রি দেবি ধৈরজশালিনি।
পদরেণু ভিক্ষা মাগি দাওগগা জননী।
নমাে নমাে দুর্গে দেবি দশপ্রহরিণি।
ডাকিছে অধমা কন্যা চাহ মা জননী ।
নমাে নমাে আদ্যাশক্তি প্রকৃতিরূপিণী ।
বারেক দাও মা দেখা করালবদনী ।
নমাে নাে সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়কারিণী ।
কি জানি মা তব তত্ত্ব মুক্তি প্রদায়িনী।
মনােবিকাশ।
নমাে নমাে হংসারূঢ়া বিরিঞ্চি ব্ৰহ্মাণী।
তুমি মা সাবিত্রী দেবী সর্বের সর্বাণী ।
নমাে নমাে বেদমাতা ক্ষমা-বিধায়িনী।
তব নামে হয় দিব্য জ্ঞান মা জননী।
নমাে নমাে সরস্বতী বাক্য বিনােদিনী।
তুমি মা ভারতী দেবী কমলবাসিনী ।
নমাে নমাে অন্নপূর্ণা রাজরাজেশ্বরী ।
বিশ্বনাথ অঙ্কলক্ষী তুমি বিশ্বেশ্বরী ।
নমাে নমাে গঙ্গাদেবী ত্রৈলােক্যতারিণী।
ভেগবতী ভাগীরথী তুমি মন্দাকিনী।
নমাে নমাে জগদ্ধাত্রী জগৎবন্দিনী।
জগদম্বা যােগমায়া যােগেশমােহিনী।
নমাে নমাে রাধারাণী তুমি হরপ্রিয়ে।
শ্রীকৃষ্ণচরণে মতি দাও মা আনিয়ে ।
নমস্তে কমলা দেবী কমলবাসিনী।
বিষ্ণুর হৃদয়াসনে ফুল্ল কমলিনী।
নমস্তে মঙ্গলচণ্ডি কুঙ্কুমচরণে।
লােহিত জবায় তুষ্ট হও বরাননে।
নমস্তে শঙ্কটে দেবি শঙ্কটনাশিনি।
যােগহরা মা অভয়া কামদা তারিণী ।
মনােবিকাশ।
৭১
নমাে নমাে চিতেশ্বরী কেশরিবাহিনী।
গললগ্নীকৃতবাসে ডাকে মা সঙ্গিনী।
নমঃ ষষ্ঠী দেবী বটবিটপীশােভিনী।
পুত্ৰহিততরে পূজে মা শুভদায়িনী।
নমস্তে মনসা দেবি বাসুকীভগিনী।
অতি ক্ষুদ্র জীব আমি হের মা জননী।
নাহি শক্তি নাহি ভক্তি ওগো মা জননী।
কি বলিতে কিবা কই মহেশমােহিনী ।
:):
পতি-স্তোত্র ।
পতি ব্রহ্মা বিষ্ণু পতি ভগবান্ ।
পতিই নারীর অমূল্য রতন।
ধৰ্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ পতি সেবা।
পিতা মাতা পুত্র কন্যা বল কেবা ৷
পতি সম বন্ধু নাহি কোন জন।
পতিই নারীর একমাত্র ধন ॥
পতি ধ্যান পতি জ্ঞান জেন সার ।
পতি সুখে সব করিবে স্বীকার ।
৭২
মনােবিকাশ।
পতি ভক্তি সদা করে যেই নারী
পদে পদে তার গুণে বলিহারি ।
সদা পতিপ্রাণা হয় যেই বামা।
সেই জনে, জেন ভবেতে উত্তমা।
প্রভাতে উঠিয়া সেবি পতিপদ।
শিরে পাদোদক অতুল সম্পদ।
যথাসাধ্য পতি পূজে ভক্তিভাবে।
পরম দেবতা জ্ঞান অনুভাবে।
পতিপরায়ণ নারী এ সংসারে ।
কর্তব্য সাধনে সুখ পরিহারে
পারত্রিকে হয় অতি শুভােদয় ।
ইহকালে হয় কলুষের ক্ষয়।
অহল্যা, দ্রৌপদী, কুন্তী, মন্দোদরী।
তারা কি মৈথিলী, সাবিত্রী সুন্দরী।
দময়ন্তী, চিন্তা অরুন্ধতী সতী।
প্রাতঃ স্মরণীয়। দেখ বসুমতী।
নিজ সুখ সব করি বিসর্জন।
পতি সুখে আহা অরণ্যে গমন।
অন্ধরাজরাণী সুশীলা গান্ধারী।
স্বহস্তেতে চক্ষু বিঁধিল সে নারী ।
মনােবিকাশ।
আসিল বালিকা শ্বশুর আলয়।
কে করিল তারে পবিত্রতাময় ।
মােদের কন্যার নাহিক অভাব।
দেখি আমরা তাদের স্বভাব।
তাই বলি সবে হও সাবধান।
পতি হিতে ভাবে তুচ্ছ নিজ প্রাণ।
ভক্তি শ্রদ্ধাভাবে মধুর বচনে।
তুষিবেক সদা বিনীত বদনে।
পার্শ্বেতে বসিয়া করিবে ব্যজন।
তাহাই নারীর বসন ভূষণ।
অলঙ্কার হেতু না দিও যাতনা।
ক্রোধভরা মুখ কভু করাে না।
উচ্চ কথা কভু পতিরে বলাে না।
পতি মনে কভু না দিও বেদনা।
যদি কেহ কর অন্যায় আব্দার।
পতিপদে ক্ষমা মাগিবে সত্বর।
পতি যাহা দিবে তুষ্ট হয়ে মনে।
সৰ্ব্বদাই তাহা রাখিবে যতনে ।
ব্রহ্মা সাক্ষী করে করে কন্যাদান।
যদি সেই স্ত্রীই কষ্টের নিদান ।
৭৪
মনােবিকাশ।
দেব সাক্ষী করে, সঁপে যার করে।
যদি সেই বামা না মানে পতিরে ।
জানিবে সে গৃহ অরণ্য সমান।
ভাগ্যলক্ষী তথা নাহি পান স্থান ।
স্ত্রী যদি না করে মিষ্ট সম্বােধন।
কে বুঝিবে তবে মনের বেদন।
অর্ধাঙ্গিনী জায়া শাস্ত্রের বচন।
স্নেহময়ী ভাৰ্যা সৌভাগ্য মিলন।
অনাথা বিধবা সর্বত্র দুঃখিনী।
শুধাংশু বিহনে যথা তমস্বিনী।
হেন সুখৈশ্বৰ্য কেহ দিতে নারে।
দম্ভ অভিমান পতি অধিকারে ॥
তাই বলি মন হও সাবধান।
অগতির গতি পতি অনুধ্যান।
এ পতির পদ সেবা যে না করে।
দেয় নানা দুঃখ পতির অন্তরে।
ধিক্ ধিক্ ধিক্ তার এ জীবন।
বৃথ। তার ভবে জীবন ধারণ ।
সব জ্বালা ঘুচে যায় দরশনে ।
হেন পতিপদ সেব প্রাণপণে।
উপদেশ ।
শত্রুরূপী রিপু ছয়, এই বপু মাঝে।
প্রখর মূরতি ধরি, সতত বিরাজে ।
হতজ্ঞান নর-নারী
তাদের কুহকে পড়ি,
জড় সড় লাজে সদা, বিচ্যুত সমাজে,
ভ্রময়ে ভুবনে যেন অনাদৃতা সাজে।
সুঠাম, সুরূপ নেত্র মানস-মােহন,
আপাত মধুর সুখে করিতে অর্পণ,
কাম, ক্রোধ, প্রলােভন, মদ, মােহ অনুক্ষণ,
মাৎসর্য্য লইয়া সাথে, দৃঢ় করি মন,
নিত্য সুখ বিনাশনে করিছে যতন।
প্রথম যে—মহা অরি, মদনের দাস,
মােহি জীবে, রূপরসে, করে সর্বনাশ,
বিশেষতঃ নারীকুল, হলে তার অনুকূল,
প্রতিকুল সবে, কেহ করে না বিশ্বাস,
সংসারে দেখাতে মুখ, মনে আসে ত্রাস।
মনােবিকাশ।
তবে যেই নিজবলে, সে কুহকী অরি,
রেখেছে আপন বশে, দৃঢ় হৃদি ধরি।
সাবিত্রী এয়ােতি তার, ধন্য সে রমণী সার,
গায় তার যশ সবে দিবাবিভাবরী,
অবনীতে দেবী সেই নারীরূপ ধরি।
দ্বিতীয় যে—তার কোপে পড়েছে যে জন,
দুখ বিনা সুখ তার নাহিক কখন,
আত্ম কিম্বা পর সনে, বাধে বাদ প্রতিক্ষণে,
থাকেনা কারও সাথে মনের মিলন,
পরিণামে পরিতাপে অনুতপ্ত মন।
সদয় হৃদয়ে যেই নিজ ক্ষাবলে,
শাসনে রেখেছে ক্রোধে, সদা পদতলে,
সবে তার প্রাণ ভরে, সদা সমাদর করে,
সুভাষী, সদয়া তায় সকলেই বলে,
যশােগীতি জীবে তার গায় কুতূহলে।
তৃতীয় যে—জালে তার পড়েছে যে জন,
গৰ্ব্বখৰ্ব্ব, হতাদরে কাটায় জীবন,
মনােবিকাশ।
অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা তার, ক্ষুব্ধ করে অনিবার,
পর ইষ্ট নষ্টে করি অভিষ্ট সাধন,
অসীম অখ্যাতি স্তপে করে আলিঙ্গন ।
কিন্তু যেই করে ধরি জ্ঞানের কৃপাণ,
নাশিয়াছে সেই অরি করি খানখান,
দয়া ধৰ্ম্ম অবিরত, আছে হৃদে বিরাজিত,
সংসারে সে সমাদৃত, কত তার মান,
কে না দেখে চোখে তায় আপন সমান ?
লােভে পাপ পাপে মৃত্যু ” বড় সার কথা,
মানিয়া তায় কেন পাবে মনে ব্যথা।
যা দেছেন দয়াধার, কি অভাব আছে তার,
ব্যবহারে যথারীতি করােনা অন্যথা,
চিত্তসুখে সুখ যেটী সে সুখ সৰ্বথা ।
চতুর্থ যে—তার বশে মুগ্ধ যেবা হয় ;
সে জন সংসার রত, ধৰ্ম্ম কর্মে নয়,
নিয়ত মায়ার ঘােরে,
আমার আমার করে,
কিসে সবে রবে সুখে, এই ভাবনায়,
আজীবন সদা কষ্টে জীবন কাটায়।
৭৮
মনােবিকাশ।
অসার সংসার ইথে তিনি মাত্র সার,
আপন কাহাকে কব ? আত্মাকে তােমার ?
জলের বুদ্বুদ্ যত জলেতে হয়ে উদ্ভত,
ক্ষণ পরে জলে যথা মিশায় আবার,
ভূতে গড়া দেহ তথা ভূতে মিশা সার।
বাস ভাল প্রাণ দিয়া থাক মিলে সবে
আপন ভাবিয়া সবে, এক হয়ে রবে,
পূজ্য জনে প্রাণপণে, কর তুষ্ট সেবা দানে,
স্নেহ'ধারে স্নেহ দিয়া সতত পালিবে,
ভালবেসে ভালবাসা সবার যাচিবে ।
পঞ্চম যে-সদ অরি, উচ্চ হৃদিখানি
বাড়ায়ে গৌরব শেষে, করে মান্যে হানি,
গর্বভরে যেই চলে, মান্য তার কোন কালে ?
ছােট বড় নিন্দা তার করে কাণাকাণি,
পরিণামে অধঃপাত ভালরূপে জানি।
পাশরি আপন মান, সাদরে অপরে,
মানী জ্ঞানে পূজে মনে অতি সমাদরে,
মনােবিকাশ।
৯
বিনয় ক্ষীণতা যার,
শশাভে দেহে অনিবার,
তার বলে রাখে মদে পদানত করে,
লােক লাজ অপমানে কখন না ডরে ॥
ষষ্ঠ যে---মাৎস্য রিপু হইলে প্রবল,
অমনি শ্রীবৃদ্ধি চিহ্ন বিলুপ্ত সকল
যায় অর্থ যায় মান, পদে পদে অপমান,
অতিদর্পে হবে হত
বলে অবিরল
লােক নিন্দা অঙ্গশােভা, সকলি বিফল।
দান, ধ্যান, পুণ্যকর্ম সংসারের সার,
তাদেরে সােহাগে কর দেহ অলঙ্কার
পর কুৎসা হিংসা, দ্বেষ, বিষময় জানি বেশ,
পরিহরি অতি দূরে, হয়ে মিতাচার
সুগুণে সুরূপা সেজে শােভ অনিবার।
নীচ জনে উচ্চ বাক্যে, কটু-সম্ভাষণে,
দিও না দিও না ব্যথা কখনও মনে,
ব্যথা দিলে ব্যথা পাবে, সুনাম ঘুচিয়া যাবে,
নশ্বর দেহের তেজ করি অকারণে,
হারাবে অমূল্য নিধি কেন অযতনে ।
৮০
মনােবিকাশ।
জনম যখন ভবে, মরণ নিশ্চয়,
কেন তবে ভাবে ভুলে কর তারে ভয়,
ধৰ্ম্মেতে নির্ভর করি, শমন দমনে স্মরি,
কৰ্তব্য সাধনে সদা হও পুণ্যময়,
কৃষ্ণ সঙ্গিনীর কথা মনে যেন রয় ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.