Bally Sadharan Granthagar
Chakmaki
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
চমকি
ন/২০০
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
2249,
পৰিগ্ৰহণ সংখ্যা
ইণ্ডিয়ান এসােসিয়েটেড, পাবলিশিং কোং লিঃ
-সি, রানা অজুমদার টি,
প্রকাশক।
নরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়
৮-সি, রমানাথ মজুমদার স্ট্রীট, কলিকাতা
জ্যৈষ্ঠ ১৩৫২
দাম এক টাকা
মুদ্রাকর:
ত্রিদিবেশ বসু, বি. এ.
কে. পি. বস্তু প্রিন্টিং ওয়ার্কস
১১, মহেন্দ্র গােস্বামী লেন, কলিকাতা
৩ শশাঙ্ক মােহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে
No text on this page.
ন/২০০
নাটিকাটি আমার প্রথম
বয়সের রচনা। নাটিকাটির
আখ্যানভাগ অনেকাংশে সত্য। প্রথম বয়সে ঘটনাটি নিয়ে
নাটিকা রচনায় প্রেরণা যুগিয়েছিল আমাদের গ্রামের শখের
থিয়েটারের আবহাওয়া। তারপর দীর্ঘকাল পড়েই ছিল।
একসময় ‘দেশ’ পত্রিকার তাগিদে কোন এক শারদীয়া সংখ্যায়
প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমানে শ্রীযুক্ত নরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের
আগ্রহাতিশয্যে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হল।
বিনীত
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
No text on this page.
২০০.
49.
পরিগ্রহণ সংখ্যা
প্রথম অঞ্চ
প্রথম দৃশ্য। দৃপট।
[ রাস্তার ধারে দত্তকার গােলদারী দোকান। উঠানের
একপাশে কঁাটার ওজনের পাল্লা ঝুলিতেছে। তাহাতে বস্তা বস্তা
ধান ওজন চলিতেছে। একজন ওজন দেখিতেছে ও দুইজন কুলি
বস্তা নামাইতেছে ও চাপাইতেছে। ওজনকারী আপন মনে ।
করিয়া ওজন বলিতেছে
রাম রাম রাম রাম—রামে নামে দুই দুই। দুই দুই দুই দুই
দুই রামে—তিন তিন। তিন তিন তিনাে তিন-তিনে নামে চার
চার। ইত্যাদি ।
দোকানের বারান্দায় কর্মচারি চাটুজ্জে খাতা লিখিতেছে।
কর্তা এখনও দোকানে আসে নাই। এই দোকানের সহিত সমকোণ
করিয়া আর একখানা লম্বা ঘরে কর্তার দৌহিত্র তিনকড়ির কাপড়ের
দোকান। বারান্দার একদিকে
টেলারিং বিভাগ। সেখানে
দেওয়ালে সারি সারি আয়না। তিনড়ি দোকানের বারান্দায়
বসিয়া আপন মনে বঙ্কিং-এর কসরৎ জিতেছে। আয়নার মধ্যে
সারি সারি তাহার প্রতিবিম্ব। দাড়াইয়া খালি-গায়ে আয়নার মধ্যে
ঘুরিয়া ফিরিয়া নিজের পেশগুলির প্রতিবিম্ব দেখিল। ]
(জনৈক ভদ্রলােকের প্রবেশ)
জলােক : বলি হা হে চাটুজ্জেমশায়, দেশলাইয়ের যে
এক পয়সা দাম নিয়েছেন? কেন-দেশলাইয়ে
আগুন লেগেছে না কি?
২
চমকি
কড়ি : হঁ্যা, তবে কারখানায় কি গুদামে নয়, দামে
দামে আগুন লেগেছে। ট্যাক্স–ট্যাক্স হয়েছে
দেশলাইয়ের ওপর।
ভদ্রলােক : ট্যাক্স–দেশলাইয়ের ওপর ট্যাক্স ?
কড়ি : কেন কাগজ পড়েন নি ? যে কাগজে বক্সিং-
চ্যাম্পিয়ন রমেশ ঘােষের ছবি বেরিয়েছিল—সেই
ইমুটাতেই আছে খবরটা।
ভদ্রলােক : কাগজ ? ওই খবরের কাগজ ? বাবা—ওই
তিনচার গজ কাগজ পড়া কি সােজা কথা? ও আমি
পড়ি না। আর সমস্ত ওদের মিছে কথা। টিকিট
দিয়ে বিশখানা দরখাস্ত করলাম কর্মখালির বিজ্ঞাপন
দেখে—একখানার জবাব পেলাম না! টিকিটগুলাে
সুদ্ধ আমার মেরে দিলে।
ওজনকারী : ( একটা বিড়ি লইয়া আসিয়া ) একবার
দেশলাইটা দেন ত চাটুজ্জেমশায় !
চাটুজ্জে : ককেতে-কঙ্কেতে ধরিয়ে নে। দেশলাইয়ের
দর চড়েছে—দেশলাই খরচ কত্তার বারণ হয়ে
গিয়েছে। কৰুেতে ধরিয়ে নে।
কড়ি : ( ভদ্রলােকের প্রতি) ঐ শুনলেন ত!
ভলােক । ( হতাশভাবে) খুব বুঝলাম বাবা। যাঃ বাবা
দেশলাইয়ের ওপরেও ট্যাক্স !
(প্রস্থান)
চমকি
ওজনকারী : আট আট আট আট—আটে রাম নয় নয়
-খােল খােল ধান খােল-হা-নয় নয়।
কড়ি : এই ছিমে ও বস্তাটা সরিয়ে দে। চাটুজে।
এক বস্তা ধান আমি সরাব কিন্তু। বক্সিং দস্তানা এক
জোড়া নতুন আমার চাই ( একটা বিডি ধরাইল)।
ঠিক রাইট অ্যাঙ্গেলে যদি ওয়েট দিয়ে তােমায়
একটা ঘুসি ঝাড়ি চাটুজ্জে-
চাটুজ্জে : ঘুষি সহ্য হবে কড়িবাবু, কিন্তু মিথ্যে ঘুষ
নেওয়ার অপবাদ সহ হবে না।
কড়ি : আচ্ছা আচ্ছা কমিশনি এক টাকা পাবে তুমি--
চুপ কর।
চাটুজ্জে : না–না–
কড়ি : (কড়ি তাহার মুখে একটা বিড়ি গুজিয়া দিয়া দেশলাই
জালিয়া বলিল) টান-টান—দেশলাই নিভে যাবে-
টান। দেশলাইয়ের দর চড়েছে—টান-টান।
অন্য হাতে ছিদামকে ইসারা করিয়া দিল যে,-সরাইয়া ফেল)।
ছিদাম : কত্তাকত্তা—কত্তা আসছেন ছােটবাবু!
(চাটুজ্জে ব্যস্ত হইয়া ফুফু করিয়া বিডিটা ফেলিয়া দিল)।
কড়ি : আঃ মরেও না রে বুড়াে। শালগাছের মত যত
বয়েস বাড়ছে তত পাকছে রে বাবা। দোৰ একদিন
ঝেড়ে ওয়ান সুইট ব্লো-।
(সে বিড়ি টানিতে টানিতে অন্তরালে গেল)
৪ চমকি ( দত্ত কর্তা প্রবেশ করিলেন-গোঁফ দাড়ি কামান- মাথায় পাকা চুলের মধ্যে মত টাক। বেশ সমর্থ নেই)। কর্তা: (গদীতে ৰসিয়া) মাটি করলে সব-ফেরার করলে আমাকে। কড়া-কড়-বলি ওরে কড়া! ( তিনকড়ির প্রবেশ) কড়ি : কি—কিবলছ কি? দত্ত : নেঃ এটা রাখ। (একটা চমকির বেঁকী তাহার হাতে দিল-ফড়ি তাহার মুখের দিকে চাহিয়া রহিল) দত্ত : পকেটে-পকেটে, নবাবজাদা, ওটা পকেটে রাখ। কড়ি : কি এটা? দত্তঃ ওঃ লণ্ডন থেকে নামলেন বাবুর বেটা বাবু। ওর শয়ার, ওকে বলে চমকির বেঁকী। একটা ঘােড়- খুরে পাথর দেখে কুড়িয়ে নিও। আর একটা বাশের চুঙির ভেতর খানিকটে হলুদ রংয়ের কন্তা-বুঝেছ। ওহে চাটুজ্জে, দাও ত’ বাবুকে সব ঠিক করে। চারটে চমকি করেছি—একটা বাড়িতে, একটা দোকানে, একটা আমার পকেটে, একটা এই কড়া শুয়ারের জন্যে। এর পর যদি দেশলাই বের হয় দোকান থেকে, যে চাটুজে তােমার মাইনেতে গরু পড়বে। (চাটুজ্জে সৰ ঠিক করিয়া লিল) কড়ি : এ যে পকেট ছিড়ে যাবে। দত্ত : খেরুয়া কাপড় কিনে নতুন পকেট করে নে। না ৫ यदि পারিস আমাকে দিস-আমি দেব সেলাই করে। আর কি ফেসানই হয়েছে সব-মশারির কাপড়ের জামা-রাম-রাম-মাটি করলে ফেরার করলে আমাকেবেশ দিন কতক করেছিল—গাজী, চটের মত খদ্দরের জামা ! তাগাদা করার সুবিধে কই- এক পকেট টাকা ভরলেও নিশ্চিন্দি—থলের খরচ সুদ্ধ বেঁচে গিয়েছিল। (কড়ি কৌতুহলপরবশ হইয়া চকমকিটা ঠুকিতে ঠুকিতে আপনার দোকানে আসিয়া বসিল। এবং ক্রমাগত ব্যর্থ চেষ্টায় চমকি উঁকিতে লাগিল। ওদিকে ওজন সমানে চলিতেছিল) ওজনকারী : (হাকিয়া) পনের বস্তা সিদুরমুখী ধান। দু’ মণ করে বস্তা—পনের দুগুণে তিরিশ মণ—চলতা দু’ সে হিসেবে তিরিশ সের—জমা করেন। কড়ি : ধ্যেৎ! এতেই আবার আগুন হয়! ( বলিয়া বিরক্ত হইয়া চকমকিটা সে ফেলিয়া দিল ), কিন্তু ছিমের পজিসানটা এখন বিউটিফুল—ঠিক এই অ্যাঙ্গেলে যদি একটি ঘুষি ঝাড়া যায়—ফ্ল্যাট—একদম ফ্ল্যাট। দত্ত : বলি কড়া হারে—তােদের সেই গান্ধী কোথা গেল বল দেখি? লােকটি ভাল লােক ছিল, অনেক খরচ কমিয়ে দিয়ে ছিল বাপু! (একটু চিন্তা করিয়া)
চমকি
বােধ হয় সে পাগল হয়ে গিয়েছে, কিন্তু গলায় দড়ি
দিয়েছে। আর পাগল না হয়েই বা করে কি ?
আবার সব শূয়াররা সেই যাকে তাই—আবার সব
সিগরেট ধরেছে—আবার সেই ফিনফিনে উলঙ্গবাহার
কাপড় পরছে! (আক্ষেপ করিয়া) আঃ হাঃ হাঃ-
লােকটার জেল খাটাই সার হ’ল। আচ্ছা-কড়া,
লােকটি এত হাসে কেন বল দেখি—যে ছবিতেই
দেখি—লােকটি হাসছে।
কড়ি : ( বিরক্ত হইয়া) জানি না বাপু যাও!
দত্ত : আচ্ছা-লােকটির বােধ হয় অনেক টাকা—যে
রকম খরচপত্র কম-কাপড় ত’ পরে দেড় হাত ,
বিড়ি তামাক তাও বােধ হয় খায় না। দেশলাইও
বােধ হয় কেনে না—নিশ্চয় চমকি করেছে সে।
(কড়ি কত্তার দিকে পিছন ফিরিয়া ঈষৎ আড়াল দিয়া
দেশলাই কালিয়া বিড়ি ধরাইল। সারি সারি
আয়নায় কড়িব দেশলাই জালা প্রতিবিম্বিত
হইয়া উঠিল )
দত্ত : ( বিষম ক্রোধে ) আরে আরে--আরে!—মাটি
করলে ফেরার করলে আমাকে। বলি ওরে ও শূয়ার
কড়া—একসঙ্গে এতগুলাে দেশলাই জেলে কি মা-
লক্ষ্মীর চিতে তৈরী করছিস, নাকি ?
কড়ি : ( বিরক্তির সহিত) বলি এতগুলাে কাঠি কোথায়
জাললাম শুনি? একটাই ত’ জাললাম।
৭
চকি
দত্ত : তাই বা জ্বলবি কেন শুনি? মাটি করলে, ফেরার
করলে আমাকে। জানি, ঐ কাঠিতে গাঁ শুদ্ধ পুড়ে
ছাই হয়ে যায়। আর একটা দেশলাইয়ের কাঠির
দাম কত জানিস ? বাক্সতে লেখা থাকে চল্লিশ কাঠি
—ভেতরে তিরিশের বেশি থাকে না। তার মধ্যে
পাঁচটা কাঠি ভাঙ্গা-পাঁচটা কাঠিতে টুপী নাই।
কুড়িটা কাঠির দাম হ’ল এক পয়সা—পাঁচ গণ্ডা।
কুড়ি কড়ায় পাঁচ গণ্ডা—তা হলে একটা কাঠির দাম
হ’ এক কড়া। তুই শূয়ার নামেও কড়া মুরােদও
তাের এক কড়ার বেশী নয়। তাের দামে আর ওই
একটা কাঠির দামে সমান তা জানিস! তুই একটা
কাঠিই জ্বালবি কেন শুনি?
কড়ি : হু—তাই বলে ইয়ে খেতে পাব না নাকি ?
দত্ত : তা--ইয়ে খাও কেন—বলি ইয়ে খাও কেন।
কিন্তু দেশলাই খরচ করবি কেন শুনি ? বলি তাের
চমকি কি হ’ল রে শুয়ার ? এখনি যে সব ঠিক
করে দিলাম। না: মাটি করলে সব -ফেরার করলে
আমাকে।
কড়ি : ( গোঁ গোঁ করিতে করিতে) ও-ও-হবে না
বিশটা ঠুকে এক ফুলকি আগুন বেয়ােয় না—নখের
কোণে রক্ত জমে গেল। দু দিন এখন আমার বক্সিং
এ্যাকুটিল বন্ধ হয়ে গেল-ও-ও-হবে না।
দত্ত : (বিষধ ক্রোধে ) তা বলে দেশলাই খরচ করা
তােমার হবে না। আগুন বেয়ােয়
একটা ঘোড়াখুরে পাথর কুড়িয়ে নিস। শুয়ার
কোথাকার! আর তােকে যে বার বার আমি
বলি—ওরে আয়নাগুলাে বেচে দে—তার হ’ল কি ?
এত আয়না কেন, কিসের জন্যে ? চেহারায় ত’
তুই আস্ত একটি লঙ্কাপােড়া-বলি সে চেহারার
তুই দেখিস কি ? জানিস আমি বিশ বছর আজ
আয়না দেখিনি। আমার দিন যায় না? কালই
সব আয়না খুলে দিবি, বলে দিলাম ।
(কড়ি অন্তরালে থাকিয়া মুখ ভেঙচাইয়া বুড়াে আঙুল
দেখাইয়া দিল। ভিতর হইতে এই সময় রান্নার
ছােকার শব্দ উঠিল)
দত্ত : বলি ছাত্ ছোঁক শব্দ কিসের ? রাস্তায় বুঝি
তেল ঘি দিয়ে ফোড়ন দেওয়া হচ্ছে? সর্বনাশ
করলে--মাটি করলে—আমাকে একা ফেরার করবে
দেখছি। মানদা, মানদা-বলি ছাক ছোঁক শব্দ
কিসের?
(নেপথ্যে মানদা )
মানদা: শুধু হাতা পুড়িয়ে ফোড়ন ভেজে ডালে দিলাম।
তেল ঘি তােমার খরচ করিনি আমি।
কড়ি : সে সব খরচ হবে তােমার পিণ্ডি দেবার সময়।
চকি দত্ত: ( নিতান্ত উদাসীনভাবে ) হরিবল হরিবল গগাবিন্দ হে! •••চাটুজ্জেহরি দত্তর কটা টাকা পাওনা ছিল—দিয়ে দিয়েছ? চাটুজ্জে : আজ্ঞে সে কই আসে নাই ত’ । দত্ত : আসে নাই—তুমি পাঠিয়ে দাও। তাকে দিয়ে দাও–যার কাছে পাব সে আমাকে মিটিয়ে দিক। বুঝেছ—নেতার লাগিয়ে রাখা কাজ আমি ভালবাসি না। মাটি করলে সব—ফেরার করলে আমাকে। (একজন ভদ্রলােকের প্রবেশ ) ভদ্রলোেক : আমি একবার আপনার কাছে এসেছিলাম দত্তমশায় ! গােটা দশেক টাকার জিনিস আমাকে ধারে দিতে হবে। দত্ত : (যােড়হাত করিয়া) মার্জনা করবেন। বিলেতে বাকি আমি ফেলতে পারব না মশায়। বিলেত এখান থেকে অনেক দুর—সেখানে যাবার ক্ষমতা আমার নাই। (কড়ি আপন মনে আবার চকমকি ঠুকিতে আরম্ভ করিল। সমস্তই ব্যর্থ চেষ্টা-কখনও আঙুলে লাগে- সে উঃ করিয়া উঠ) উজ্জলােক : দেখুন- চকমকি দত্ত ও দেখতে আমি পাই না গাঙ্গুলীমশায়, বুড়ো বয়সে শুনতেও কম পাই। আপনি আসুন। না মাটি করলে সব-ফেরার করলে আমাকে। ( ভদ্রলােকের প্রস্থান) দত্ত : ওঃ! দে ধার-দে ধার-দে ধার। আমার পড়েছে, সেই ধারেই গলা কেটে আমার দু ফঁক হয়ে গেল—আবার ধার। মাটি করলে সব ফেরার করলে আমাকে। নেবার সময় সবাই ভদ্রলােক, কিন্তু দেবার সময়ই। দে গাঁয়ের রাস্তা কেউ চেনে না দুনিয়ায়। ওঃ ভাল মনে পড়েছে—গােপালপুরের মিত্তিরদের আজ টাকা দেবার দিন নয় চাটুজ্জে? চাটুজ্জে : আজ্ঞে --হ্যা। দত্ত : ( উঠিয়া) চল্লাম আমি গােপালপুর। শুনছিস-ওরে ও শূয়ার! কড়ি : আচ্ছা—শুধু শুধু গালাগাল দাও কেন বল দেখি ? দত্ত : বেশ করি—খুব করি—ওরে শুয়ার বেশ করি। কড়ি : দেখ বারবার তুমি গালাগাল দিও না বলছি। দত্ত : অ-ই-হ—এটা দেখছি শুধু শয়ার নয়ন- শুয়ার রে হতভাগা। এখন দোকান রইল দেখিস চমকি —আমি গােপালপুর চল্লাম। দুর্গা—দুর্গা-বামন -বামন—গমনে বামনশ্চৈব বামন বামন। ( প্রস্থান ) কড়ি : গঙ্গা নারায়ণ ব্ৰহ্ম-গঙ্গা নারায়ণ ব্ৰহ্ম ! বিদেয় হও ধূমকেতু–বিদেয় হও। ছিমে নিয়ে আয় ত’ এক বাক্স সিগরেট। চাটুজ্জে : ওরে ছিমে, নে ত বাবা একবার তামাক সাজ ত ভাল করে। ছােটবাবুর সুগন্ধি তামাক এক ছিলুম নে ! আঃ, হাঁপ ছেড়ে বাঁচিরে বাবা কড়ি : আচ্ছা, হঠাৎ যদি বদিক থেকে কেউ এ্যাটাক করে, তাহলে? এই—এই—এই ঘুরলাম—now blow-next-next- মােম! (দুইজন বৈষ্ণব ও বৈষ্ণবীর প্রবেশ ) বৈষ্ণব ও বৈষ্ণবী : রাধারাণীর জয় হােক প্রভু! কড়ি : এ্যাই, নাও ত’ বাবা—গান একপদ শােনাও ত’ বাবাজী। কিন্তু দেহতত্ত্ব মত্ত্ব নয়—একপদ রসের গান-বলি গজল গান-গজল-(সুরে) এলো- কেশে ভালােবেসে বুকে এস অচিন পিয়া। বৈষ্ণবী : ( সহাস্যে) আমরা পাড়াগাঁয়ের বৈষ্ণুম বােষ্ট্রমী প্রভু, কি গাছের বেড়ার আড়ালে-আখড়ায় এই one
চাকি
-আখড়ায়—আমরা রাধারাণীর জয় গেয়ে খাই--
অন্য গন বড় জানি না বাবু।
বৈব গাল পেরেক বলে গান হয়েছে নাকি বাবা?
কই সে ত আমরা জানি না।
কড়ি : গজাল নয়—গজল গজল। (সুরে) তােমার
হাসির বিনিময়ে বিকাতে পারি চীন কোরিয়া ;
অচিনপ্রিয়। না জান শেখ। এ আমার বাঁধা
গান। ভাল এখন যা জান তাই গাও।
(বৈষ্ণব বৈষ্ণবীর গান)
জাপান এবং সিঙ্গাপুরায়—যে হাসি ঝুরায় ফুল সাকুরায়-
সে হাসি-ফুরায়—চুয়াতে সুরায়-তােমার হাসি জুড়ায় হিয়া ।
চাটুজ্জে : রাঃ বাঃ বৈষ্টুমীর গলাখানি বড় ভাল।
বৈষ্ণবী : (হাসি) দয়াময়ের দান প্রভু? আপনাদের
আশীর্বাদ। ( মৃত্তিকার ধূলি লইয়া)
দ্বিতীয় ভূখ
[ গােপালপুরের পথে প্রান্তর। দত্ত কত্তার প্রবেশ।]
দত্ত : মাটি করলে—ফেরা করলে আমাকে।
লােক জুটে ফেরার করলে আমাকে। একটা পয়সা
কেউ আদায় দিলে না! তিন শশা-দুশােপচিশাে
-আর খুচরাে তাও দুশাে—সব গােপালপুরে
চমকি
সাতশাে টাকা পাওনা—তার মধ্যে সাতটা আখলা
কেউ দিলে না! উচ্ছন্নে যাবে বেটারা, উচ্ছয়ে যাবে।
নালিশ করে ভিটে মাটি নীলেম করাব আমি।
আমি বাবা তােবলা মােবশ নই! (ক্রোধভরে
যাইতে যাইতে পারে দুচোট খাইয়া) শালা পাথরের
কিছু না করেছে-(পাথরটাকে কুড়াইয়া লইয়া চুড়িতে
গিয়া) চকমকির পাথর নয় ? হ্যা তাই ত বটে! বেশ
ভাল পাথর—যাক ভালই হয়েছে। বনশুয়ারটাকে
একটা ভাল পাথর দিতে হবে। নইলে দেশলাই
খরচ করেই সেটা আমাকে ফেরার করবে। এই
আর একটা—এটাও বেশ। যাক এটাও থাক।
আরে আবার এই একটা থাক কতকগুলাে নিয়ে
যাই -এখন দশ বছর ত’ দেশলাইয়ের খরচ বেঁচে
যাবে। (পাথর কুড়াইয়া লইল) ও পকেট দুটো
ভরে গেল। (চারি দিক চাহিয়া) ও-হ-হ কত--কত
পাথর রে! একটা বস্তা নিয়ে এলে ভাল হত।
অন্ততঃ দু-পুরুষ এখন দেশলায়ের দাম থেকে
রেহাই পাওয়া যেত। কিন্তু এটা ত’ বেশ-বাবাঃ
—এ যে দেখছি রকমারী জিনিস? এমন পাথর ত’
কই দেখা যায় না। আর বেশ বড়ও বটে। কিন্তু
নিয়ে যাই কি করে? ফেলে দেব? না-থাক
হাতে করেই নিয়ে যাই। ( ঘুরাইয়া ফিরাইয়া
১৪
চমকি
পাখটা দেখিতে দেখিতে , বা-বাবা! এযে বেশ
এবা-বাবা।
( প্রস্থান)
.
তৃতীয় দৃশ্য
[ স্থান-কলিকাতা। উকিল হরেন্দ্রদের বাটীর বসিবার
ঘর। ভাইঝি শ্যামা মলিনবেশে ঘর-দুয়ার
ঝাড়িতেছিল। খুড়ী বিমলা ঘরে
প্রবেশ করিল ]
বিমল : এই যে! হাগা রাজনন্দিনী-বলি দিন দিন
কাজকম্মের এসব কি ধারা হচ্ছে। কাপড়ে সাবান
দিতে গিয়ে দাগ লাগালে কি করে ? বলি তােমার
মতলব কি শুনি? এদিকে ত’ আহার বাড়ছে দিন
দিন।
শ্যামা : ইসিরু মুছে খােকা ওতে হাত মুছে দিয়েছে
খুড়ীমা।
বিমলা: খােকা মুছে দিয়েছে ? মিথ্যে কথা বলতে মুখে
একটুও বাধে না তােমার ?
শ্যামা: মিথ্যে কথা আমি বলি নি খুড়ীমাখােকাকে
জিগ্যেস
বিমলা : (খামার গালে চড় মারিয়া) ফের খােক্ষার নামে
মিথ্যে অপবাদ দিবি হারামজাদী।
(স্ফামা চুপ করিয়া রহিক
চমকি
১৫
বিমলা : ষােল বছরের বাড়ী—এক কাড়ি করে ভাত
গিলছ-চোখ চেয়ে কাজ করতে পার না? তার
ওপর মিথ্যেমিথ্যি পরের নামে দোষ দেওয়া ! একটু
লজ্জা করে না! আমি হলে গলায় দড়ি দিতুম, নয়
বিষ খেতুম। জন্মমাত্র যে মাকে খায়—তিন বছরে
বাপকে খায়—সে বেঁচে থাকে কোন্ লজ্জায় ?
আবার তিন বছরে কাকার ঘাড়ে এসে পড়লি—
সঙ্গে সঙ্গে তারও কপাল পুড়ল-ওকালতী পাল :
করে এতটুকু প্র্যাকটিস হ’ল না। এখন আবার ধীঙ্গী
মেয়ের বিয়ে দাও, টাকা খরচ কর! হি-হি-ছি।
ঘেন্নায় যে আমি মরে যাচ্ছি।
তাের মরণ হয় না। ছি-ছি-ছি! (স্থান)
শ্যামা : (আঁচলের খুঁটে চোখ মুছিয়া শুধু একটু ম্লান হালি
হাসিল, তারপর বলিল)
পৃথিবীতে
মৃত্যুর বিরাম নাই, অবিরাম লােক মরছে, কিন্তু
আমার মৃত্যু কেন হয় না?
(রমার প্রবেশ )
( রমাপ্রসাদ হরেন্দ্রবাবুর পুত্র। বয়স-চোপনের কংসর)
মা : বলব দিদি-জামাইবাবু আসবে বলে।
শ্যামা : ছি মা-দিন দিন তুমি বড় বেয়াড়া হচ্ছ।
রমা : কিন্তু অকারের জায়গায় হকার দিয়ে না ভাই
দিদি-সেটা হবেন তােমার জামাইবাবু! আমি
সত্যি কথা,
ক
চমকি
বেয়ারা হতে রাজী আছি—কিন্তু বিবাহ করে
জামাইবাবু হবেন বেহারা?: সত্যি দিদি ভাই, মা
তােমায় বড় বকেছে। আজ বাসীকে কি করি
আমি দেখ না।
শ্যামা : না-না-খােকন, তিনি হলেন গুরুজন, বকলেনই
বা তিনি। কোন উপদ্রব করতে পাবে না কিন্তু
তাহলে তােমার সঙ্গে আড়ি করে দেব।
রমা : রাসী যে বেড়াতে চড়েন।
আমাকেও
বলেছিলেন যেতে। কিন্তু আমি ত’ যাব না—মণিদি
আমায় বলেছে সেদিন-যে, যেদিন কেউ বাড়িতে
থাকবে না, সেদিন খবর দিলে সে তােমার সঙ্গে
দেখা করতে আসবে। কি কাজ আছে তার।
হরেন্দ্র (নেপথ্যে) : খােকা, থােকা।
বমা : রাক্ষুসীর স্বামী এলেন দিদি-সরে পড়—তুমি
সরে পড়। আমি দরজাটা খুলে দিই।
শ্যামা : ছি খােকন—এই কি তােমার শিক্ষা হচ্ছে ?
পিতা পরম গুরু !
রমা : সেটা কি সৰুলের দিদি ?
শ্যামা : নিশ্চয়।
মা: না মেয়েদের নয়—মেয়েদের চিরুণীতে লেখা
থাকে, পতি পরম গুরু। (বলিয়া হাসিতে হাসিতে
দরজা খুলিতে চলিয়া গেল, শ্যামাও এদিকে বাড়ির ভিতরে
চলিয়া গেল)
( হরেন্দ্র ও বিমলে প্রবেশ)
হরেন্দ্র : ওসব বাছাবাছি কিছু নাই আমার—পাত্র
হলেই হ’ল। বুঝেছেন ?
বিমল : কিচ্ছু বুঝি নাই। মানে পাত্র ত’ অনেক
রকম আছে স্যার—সােনা, রূপপা, তামা, কাসা-
মায় নারকেলের মালারও পাত্র হয় মশায়।
হরেন্দ্র : আজ্ঞে পয়সা দিয়ে যে পাত্র কিনতে হবে না-
এমনি পাত্র চাই আমার। তাতে নারকেলের মালা
নারকেলের মালাই সই। তবে দেখবার কথা কি
জানেন—শেষে জামাই শুদ্ধ এসে ঘাড়ে না পড়েন।
তার চেয়ে একা ভাইঝি অন্ন ধ্বংস করছেন সে
অনেক ভাল।
বিমল : তা হলে White wing Black wing মানে
শুক্ল পক্ষ কৃষ্ণ পক্ষ বাছবেন না ত, পক্ষের বালাই
নাই ত, কেমন?
হরেন্দ্র ও কিছু না।
বিমল : মাথার চুলেও না!
হরেন্দ্র ঃ বুঝলাম না।
বিমল : মানে মাথার চুলে যদি শুরু পক্ষই পড়ে থাকে
২
১৮ চমকি এমন কি তিথিতে যদি একাদশী পর্যন্ত এগিয়ে থাকে। পূর্ণিমা হলেও কোন আপত্তি নাই। হরেন্দ্র মােট কথা এ দায় আমার ঘাড় থেকে নামলেই বিমল : অল রাইট। মেয়ে লেখাপড়া গান বাজনা জানে ? হরেন্দ্র : জানে—বেশ ভালই জানে। মেয়েটার বুদ্ধি খুব ভাল-গলা ভাল, দেখতেও ভাল বুঝেছেন— স্কুলে বরাবব ফাস্ট হয়ে আসছিল, ফ্রিও ছিল বরাবর। কিন্তু বড় হয়ে উঠল—আর আমার স্ত্রীর ধরল অম্বলের অসুখ—বাড়ির রান্না বান্না কাজ কর্ম কে করে বলুন, কাজেই ছাড়িয়ে আনতে হ’ল। বিমল ? দেখুন আমার কাছে ওসব আড়াল দিয়ে কথা কইবেন না। আমি খুব প্র্যাকটিকাল লােক। একটা উইভিং ইনডাষ্ট্ৰিসিজারস ফাষ্টাই করেছি, দুটো চামড়ার ট্যানারী মনিব্যাগ তৈরী করেই ফুরিয়ে দিয়েছি—একটা পটারী চা খেতে শেষ হয়ে গেল, একটা ফিসারীর মাছ সমস্ত ঝোল খেতেই শােধ করেছি। এক মাকে তিনবার বধ করে শ্রাদ্ধের জন্যে চাঁদা তুলেছি। এখন করি ইনসিয়ােরেন্সের দালালী, বিয়ের ঘটকালী, ইনকামট্যাঙ্কের এ্যাকাউন্ট্যান্ট-
১৯
চমকি
হরেন্দ্র : ইনকাম ট্যাক্সের এ্যাকাউন্ট্যান্ট ?
বিমল : I mean-ধরুন আপনার ইনকাম ট্যাক্সের
জন্য ফল খাতা দাখিল করতে হবে।
আমি তৈরী করে দি। তারপর বিকেল বেলা
সিনেমার টিকিট কিনে চড়া দামে বেচি। সন্ধ্যের
পর পরচুলাে পরে দাঁতের মাজন, রতি শক্তি বটিকা
বিক্রি করি। বহু-বেশী আমি—আমাকে বহু
বেশেই পাবেন। সুতরাং রেখে ঢেকে আমাকে
কিছু বলবার দরকার নাই। ও আমি বুঝে নিয়েছি,
বেশ করেছেন, ভাত দেবেন কাপড় দেবেন একটু
খাটিয়ে নেবেন না !
হরেন্দ্র : এই আপনি ঠিক বুঝেছেন—আপনি হলেন
খাটি লোেক !
বিমল : খাটি যে আমি দৈনিক খাই, সুতরাং খাঁটি না
হয়ে উপায় কি আমার! কাজেরও আমার সব
Ripe arrangement att পাক্কা বন্দোবস্তু।
থাক—এখন কাজের কথা হােক। কি দেবেন
আপনি ?
হরেন্দ্র : সে আপনি পাত্র পক্ষের কাছে নেন না। বুড়াে
পাত্র দেখে কিছু আদায় করে নিন।
বিমল : গুডবাই, সার গুডবাই। (উঠিয়া দাঁড়াইল)
হরেন্দ্র : আরে বসুন—উঠে দাঁড়ালেন যে?
২০ চকুমকি বিমল : Timeএর জমা খরচের খাতায় আমার বাজে খরচের ঘর নেই স্যার। আমি নাচার-আচ্ছা চল্লাম—আপনি third party দেখবেন। হরেন্দ্র : বেশ ভ’ আপনি কি চান বলুন। বিমল : দর না করে যদি কথার কদর করেন তবেই বলি নইলে পীরবদর বলে ভেসে পড়ি। হরেন্দ্র : বলুন বলুন। কিন্তু বুঝে বলবেন—অবস্থা ত’ দেখছেন! বিমল : কেন? আপনার বস্তা ত শূন্য বলে মনে হয় । ঘরদোর—ফিটফাট—মায় টেলিফোন হরেন্দ্র : সমস্ত ভাড়া আর ধারের কারবার মশায় তাও সবই বাকী। টেলিফোনটা আমার এক ইনসঙ্গভেন্টের আসামী মক্কেলের, সে আমার নামেই ওটা রেখেছে। মামলা চুকলেই ওটা আর থাকবে না। বিমল ? বেশ, একশাে একই তা হলে দেবেন। হরে : মাফ করবেন- বিমল : ভাল-একাশী। হরেন্দ্র : আরও কিছু কম করুন। বিমল : একাত্তর। (হরে কি বলিতে গেলেন, কিন্তু তাহার পূর্বেই বিমল বলিল— একষটি—One-Two--Three, (একখানি ফর্ম
চমকি
বাহির করিয়া আমার স্যার everything in paper
and pen—কাগজে কলমে। লিখুন এইখানে
সিল্পটা ওয়ান, এইখানে সই করুন।
হরেন্দ্র : আর আপনি কি দেবেন আমাকে?
বিমল : Here you are sir--এই নিন আমি সই
করে দিচ্ছি। (একখানি ফর্ম বাহির করিয়া সই করিয়া
দিল) আচ্ছা—নমস্কার। নিশ্চিন্ত থাকবেন আপনি।
এক মাসের মধ্যে শেষ করে দিচ্ছি সব।
হরেন্দ্র : চলুন—আমাকেও একটু বাইরে যেতে হবে।
( উভয়ের প্রস্থান)
( খামার প্রবেশ)
শ্যামা : অদৃষ্টের বন্দোবস্ত পাকাই বটে।
যােগাযােগ মণির সঙ্গে কাঞ্চনের না মিলন হয়ে
উপায় নাই।
(রমার প্রবেশ)
রমা ঃ আসুন না, আসুন না মণি দি, বাড়িতে কেউ
নেই।
(শামার বান্ধবী মণির প্রবেশ, সুসজ্জিতা মণি)
মণি : এই যে শ্যামা—তােকে একটু বিরক্ত করতে এলুম
ভাই—সেই বিদায় গানটার সুর আমার যদি
একবার দেখিয়ে দিস। ক’ জায়গায় আমার ভুল
চমকি
হচ্ছে। কম্পিটিশনে এবার ওটা একেবারে শেষের
সময় আমি গাইব ভাই।
শ্যামা : (স্নান হাসি হাসিয়া গানখানি গাহিল )
এই সময়ে মানে মানে বিদায় নেওয়াই ভাল
( তােমার বিদায় দেওয়াই ভাল।
দিগন্তে ওই মিলিয়ে এল স্নান গােধূলির আলাে।
মুখ যে তােমার মিলিয়ে আসে
আঁধার ঘনায় দীর্ঘশ্বাসে
(এবার) আসি আমি, তুমি ঘরে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালো।
কোনাে কথাও বলিনি ক’ সে নয় আমার হেল
ও মুখপানে চেয়ে চেয়েই ফুরিয়ে গেছে বেলা
আবার যদি কোন প্রাতে
হয় গো দেখা তােমার সাথে
হাতটি রেখে তােমার হাতে বলব ছিলে ভালো।
আবার শুধুই দেখব তােমার নয়নতারা কালাে।
মণি : ( শ্যামার গান শেষ হইলে ) ধন্যবাদ ভাই
অসংখ্য ধন্যবাদ শ্যামা। আচ্ছা আমি যাই।
শ্যামা (মন হাসি হাসিয়া) এস।
(মণির প্রস্থান)
রমা : দিদিভাই!
শ্যামা ভাই ভাই।
চমকি রমা কেন দিন দিন তুমি মুষড়ে পড়ছ বলত। আমি ত বলেছি—যেদিন তুমি বলবে সেই দিনই যেমন করে হােত তােমায় পটাসিয়াম সাইনাইড এনে দেব। ছাদে যাই ঘুড়ি ওড়াইগে। কিন্তু মণিদিটা কি স্বার্থ- পর! উঃ-এ জানলে কখনও ওকে ডাকতুম না। আমি ভাবলুম ও এসে তােমার সঙ্গে গল্প করবে- ও তােমায় ভালবাসে ! উঃ। ( শ্যামা শুধু হাসিল ) চতুর্থ দৃশ্য। [ দত্তব বাটীমধ্যস্থ কক্ষ। কড়ি ঘরে আপন মনে একটা পাশবালিশকে ডামি করিয়া তাহার সহিত বক্সিং লডিতেছে। ] কড়ি : ফাস্ট ব্লো-লেফটহাণ্ড—ইয়া সেকেণ্ড লেফট্যাণ্ড, ইস, থার্ড ব্লো ফসকে গেল। কাম অন —কাম অন—দিস ইস দি ফোর্থ ব্লো রাইটহাণ্ড। এঃ বালিশটা যে ফেটে গেল ! ফুফু-আরে যত তুলল মুখেই এসে ঢােকে যে ! (মানদার প্রবেশ) মানদা: (দেখিয়া ) বালিশটা ফাটিয়ে ফেলি ? কড়ি : ঘূসির জোর ভয়ানক হয়েছে দিদিমা-দাড়াও এবার একটা খড়ের ডামি তৈরী করছি। মানদা: সে আবার কি ?
২৪
কড়ি : খড়ের মানুষ—তারই সঙ্গে লড়াই করব।
মানদা: তার চেয়ে দেখে শুনে সত্যি মানুষ নিয়ে আয়
ভাই-ঝগড়া বিবাদ করে ঢের বেশী আনন্দ
হবে।
কড়ি : (হাসিয়া) আমি হেভী ওয়েট বক্সার দিদিমা-
আমার সঙ্গে লড়াই করবার যােগ্য পাত্র এ মুলুকে
কেউ নেই।
মানদা: আঃ আমার মরণ, পাত্তর কি হবে—পাত্রী মেলা
আছে।
কড়ি । পাত্রী ?
মানদা : হ্যা রে—বৌ নিয়ে আয়—বিয়ে করে ফেল।
কড়ি : হাঃ—যে তােমার দাদা, শুনলে তােমায় আন্ত
রাখবে না। তা’ নইলে বিয়ে ত সবাই করে-
আমারই বা আপত্তি কিসের?
মানদা: (হাসিয়া) কিন্তু তুই বড় বেহায়া হয়েছিস কড়ি।
বিয়ের কথায় লােকের লজ্জা হয়।
কড়ি : মনে পুলক হলেই মুখে লজ্জা আসে দিদিমা,
তােমার দাদার মুখ মনে হলে আমার বুকে যেন
কীলক বসতে থাকে। তাই প্রতিধ্বনি খট খটে
কথায় বেরিয়ে আসে, কি করব বল? আর (মানদার
গলা জড়াই ধরিয়া) তুমি হলে আমার সখি,
চমকি
२०
তােমায় যদি প্রাণের কথা না বলব—ত’ বলব
কাকে ?
(নেপথ্যে দত্ত-হরিবল-হরিবল গােবিন্দ হে!)
কড়ি : ছয়ের পিঠে পাঁচ পয়ষট্টি-পালালাম দিদিম।
বুলাে আসছে।
( পলায়ন)
( দত্তর প্রবেশ )
দত্ত : মাটী করলে সব—ফেরার করলে আমাকে। দেশ
শুদ্ধ লােক মিলে ফেরার করবার মতলব করছে-
একটি পয়সা যদি কেউ দিচ্ছে।
মানদা: কেন দাদা-পকেট যে আজ বােঝাই—
টাকা--
দত্ত : নিবি ? নিবি টাকা? এই নে—
( ঝর ঝর করিয়া পকেট হইতে চকমকির পাথর, ঢালিল)
মানদাঃ ও-মা-এ যে পাথর—এত পাথর কি হবে ?
দত্ত : মাথায় মারব, মেরে আত্মহত্যে করব। দিলে না
বেটারা, একটি পয়সাও কেউ দিলে না! উঃ মাটি
করলে আমাকে—ফেরার করলে ! কই চকমকির
বেঁকীটা কোথা গেল। এই যে।
( চকমকির বেঁকী লইয়া বসিয়া ) প্রথমেই এইটেকে
দেখব। ভারী বাহারের পাথর এটা।
মানদা। একটা কথা বলব দাদা।
চমকি
দত্ত : বল না কেন? বলি তার জন্যে
এত ভনিতে
কিসের?
মানদাঃ কড়ির এইবার বিয়ে দাও !
দত্ত : বিয়ে!
মানদা: হা—তাতে আর আশ্চরি কি আছে ? আব
আমাদেরও বয়স হল, কোন দিন মবে যাব হয়ত।
কড়ির বৌ
দত্ত : মরে যাব ? মরে যাব কি? মরে কি অমনি গেলেই
হ’ল ? তুই মরতে পারিস, কিন্তু আমি মরব কেন?
আমার পরমায়ু পচানব্বই বছর, এই ত সবে
আমার পঞ্চান্ন । এখনও আমার অর্ধেক জীবন
বাকী। তুই বুঝি, এমনি করে আমার মরণ তাকা।
মানদাঃ কি যে বল তুমি দাদা—ছি। বেশ আমি ত’
দত্ত : মরবেই যদি তবে আর কড়ির বৌ দেখার মায়া
কেন? বৌ কি তােমার জগন্নাথ হবেন যে, মুখ
দেখলেই স্বগগে যাবে।
মানদাঃ কিন্তু কড়িও ত বড় হল—তারও ত বিয়ের সাধ
দত্ত : কড়া-কড়া–ওরে ও শুয়ার কড়া হারামজাদা।
( কড়ির প্রবেশ )
কড়ি : কি ? আচ্ছা এত চেঁচাও কেন বলত?
চমকি ২৭ দত্ত : বেশ করি খুব করি--আমার ঘরে আমি চেঁচাই- সে আমি বেশ করি। কিন্তু তুই শুয়ারের মতলব কি শুনি ? বলি লােকে কি কড়াবাবুকে সিকি বলে ভুল করছে যে বাঁয়ে ইলেক নেবার সাধ হয়েছে । বলি ওরে ও শূয়ার, তুই নাকি বিয়ে করবি? মানদা : আচ্ছা দাদা-- দত্ত : চোপ রও। বলি ওরে ও শূয়ার একবার বয়ে ইলেক নিলে কি আর রক্ষে থাকবে হারামজাদা ইলেকের পর ইলেক–ওরে ইলেকের আর বিরাম থাকবে না। কড়া তখন দন্ত কেড়ে দন্তী হয়ে যাবেন। ও সব হবে টবে না। এক সর্বনাশকে বিয়ে করে আমার এই দুর্দশা। মাগী গেল--ত, রেখে গেল এক বেটি, সে বেটি হারামজাদী গেল—সে আবার আমাকে শূয়ােরের পাল পালতে দিয়ে গেল। ও-সব হবে না। এই খরচেই আমি মাটি হলাম—ফেরার করলে আমাকে! বাপরে বাপ-বাপরে বাপ। মানদা : আয়রে কড়ি আয়, বিয়ে করে তাের কাজ নাই। কড়ি : (দত্তর অন্তরালে) বল না বুড়ােকে দিয়ে দি এক সুইট ক্লো! ( মানদা ও কড়ির প্রস্থান) দত্ত : বিয়ে—আবার বিয়ে? আমার সাত পুরুষের মধ্যে কেউ বিয়ে করতে পাবে না-আমি উইল করে;
!
কি
যাব। (পাথরে বেঁকী ঠুকিয়া) বাঃ
তুবড়ী বাজীর মত আগুন ঝরে ! ( আবার
উকিল ) বহুত আচ্ছা! বলিহারী! ফর ফর করে
আগুন বেরুচ্ছেরে বাবা ! (আবার ঠুকিল) ওরে
বাবা-এ পাথর ত নয় এযে লঙ্কাকাণ্ড! এ কি
হনুমানের লেজ থেকে তৈরী নাকিরে বাপু! দাড়াও
-এইটেকে ভেঙ্গে-এই শূয়ার কড়াটাকে খানিকটে
দিতে হবে।
কেবল বলে আগুন বেরােয় না-নে
-নে শূয়ার আগুন নে! এই দেখ ( আবার ঠুকিল )
বহুত আচ্ছ৷ কিন্তু একটা চটা ছেড়ে গেল, যাক! উঃ
–উঃ-গন্ধ কিসের রে বাবা-পুড়ছে—বিছানা
পােড়া গন্ধ ওঠে যে! লে বাবা এযে সাক্ষাৎ
লঙ্কাকাণ্ডরে বাবা ! সর্বনেশে পাথররে বাবা।
( তাড়াতাড়ি দেখিয়া চাপড়াইয়া চাপড়াইয়া আগুন নিভাইল)
নেপথ্যে—দত্ত মশায়-দত্ত মশায় !
দত্ত : এই দেখ কালপুরুষের মত বেটাদের ডাক দেখ।
( প্রস্থান )
(খুদিরামের প্রবেশ)
খুদি : বাঃ বেশ ঠাকুর ত ! সুন্দর ঠাকুর। এটা আমি
পুজো করব।
(প্রস্থান )
( দত্তের প্রবেশ )
দত্ত : এই আমার পাথর? আমার পাথর কোথা গেল?
কে নিলে ? মানদা-মানা !
|
২৯ চমকি (মানার প্রবেশ) এইখানে যে আমার একটা বড় পাথর ছিল কি হল? মানদা: পাথর দিয়ে আমি কি করব দাদা-হয় ত’ ছেলেরা কেউ দত্ত : মরুক-মরুক-মরুক-হারামজাদা বেটারা মরুক সব। মাটি করলে আমাকে—ফেরার করলে সব । এক একটা ছেলে এক একটা ক্ষুদ্দ রাক্ষস-একে- বারে এক একটা ছেলে আধসের ক'রে চালের ভাত খাবে। এত লােক মরে—এগুলাে মরে নারে বাপু! মানদা: ছি দাদা-সংসারে ত’ তােমার অবলম্বন ঐকটি দৌহিত্র। তাদেরও গালাগাল দাও তুমি কি করে আর কি এমন পাথর যে এই ভরা সন্ধ্যে বেলায় তুমি এমন কুরুক্ষেততার বাধিয়ে তুললে! দেখি বাপু আবার কে নিলে--আমার হয়েছে এক মরণ! দত্ত : সে পাথরে আমার লঙ্কাকাণ্ড হয়—কুরুক্ষেত্তর ত পরের কথা! এখন কুরুক্ষেত্তর ত’ হচ্ছেই-পাথর পাওয়া গেলে এর পর মূষলং কূল নাশনং করব আমি । (বেড়াইতে যাইবার বেশভূষা করিয়া কড়ির প্রবেশ) এই কড়া তুই জানিস ? কড়ি : কি ? দত্ত : কি ? পাড়া শুদ্ধ লােক শুনতে পেলে আর নবাব-
৩২
চমকি
দত্ত : কিছু হবে না, তুমি যাও ঘর থেকে।
মানদা : আমি ত যাবই—কিন্তু কি—
দত্ত : আমি টাকাকড়ি গুনব মানদা-( মানদা আর
শুনিল না চলিয়া গেল )
দত্ত : ( পাথবেব সম্মুখে আলাে ধবিয়া ) হু:-আলো
পাথবের ভেতরও জ্বলছে।
বাড়াইয়া দিয়া) উঃ-পাথরটা ঝকমক
কবে উঠল। এটা কি ? এ কি ভেবে যেন সব
দাড়িমের দানার মত কি সব রয়েছে মনে হচ্ছে !
(আলােটা আরও বাড়াইয়া দিল )
তাইত—ঐ যে দানাগুলাে স্পষ্ট হয়ে উঠল। এটা
(আলােটা
( আলােটা চড়াৎ কবিয়া ফাটিযা গেল )
আঃ! কড়াকড়াওরে ও শূয়াব—
নেপথ্যে মানদা : সে বাড়িতে নাই—গানবাজনা করতে
গেছে কোথায়।
দত্ত : মরেছে—মাটি
করলে—সব
করলে
আমাকে! গানবাজনা করতে গেছেন নবাবজাদা।
বনশয়ার আমার তানসেন হয়েছেন। তবে তুই
শশান্ মানা-কড়ার দোকান থেকে হোক বাকী
এনে দিতে বল ছিদেমকে। ••এটা তাহলে কি ?
সামান্য পাথর ত’ নয়। পাথর কখনও ত’ এমনভাবে
দেব।
চমকি
জ্বলে না! তবে কি হীরে—না মণি-না অন্য কোন
দামী পাথর ?
(মানদা একটা হেজাক বাতি বাখিয়া চলিয়া গেল )
( আলােতে পাথবটা ধবিষা) উঃ বাঘের চোখের মত
জ্বলছে? দানাগুলো ভেতবে ঝিকমিক্ করছে !
হীরে—নিশ্চয় হবে! ( একটুক্ষণ চিন্তা করিয়া) হীরে
ত’ কাচ কাটে—দেখি দাড়াও!
(দেওয়ালে উপব হইতে কালীমূৰ্তিব ছবিটি নামাইয়া)
হােক্ ইষ্টদেবীব ছবি—এব পর সােনা দিয়ে বাঁধিয়ে
হে মা কালী—কাটি, চড় চড় কবে কাটিস
মা ! ( কাচখানা খুলিয়া পাথব দিয়া দাগ টানিয়া দিল, তাবপব
চাপ দিতেই কাচখানা দাগে দাগে মট কবি ভাঙ্গিয়া গেল )
( সােল্লাসে দত্ত বলিয়া উঠিল) কেটেছে—কেটেছে ! ওঃ
হীবে—হীবে—হীবে! কড়া-কড়া-কড়া! কালই
কলকাতা যাব। আচ্ছা কত দাম হবে ? এক লাখ ?
যে রকম ওজন তাতে—দুলাখ, দুলাখ কি তিন চাব
পাঁচ লাখ টাকা হবে ! দাড়াও, আর একবার
দেখি—
( বার বাব কাচ কাটিয়া কাচের টুকরায় ঘরখানা ভরাইয়া
তুলিল, নিজের হাত দুখানাও রক্তাক্ত হইয়া উঠিল)
( অবশেষে গান আরম্ভ করিল )
তােম্ না—তােম্ না-তেরে না--নারে না—দ্রিম না
—দ্রিম না-
৩৪
?
চমকি
( মধ্যে মধ্যে তালেব মাথায় হাঃ হাঃ কবিয়া তেহাই
দিতে লাগিল )
(কডির প্রবেশ। দত্ত কডিকে দেখিয়া চুপ কবিয়া গম্ভীব হইল)
কড়ি : এ কি ? তােমাব হল কি ? হঠাৎ যে গান করতে
আবম্ভ কবলে ?
দত্ত ও ওবে শূয়াব—আমবাও গান জানি। আমবাও গান
গাইতাম—শুনবি (সুবে) প্রেয়সীব মুখশশী—দেখে
পূর্ণশশী মেঘে লুকায়।
(কডি অবাক হই। তাহাব মুখের দিকে চাহিয়া বহিল)
দত্ত : এখন দবজাটা বন্ধ কবে দিয়ে আয়।
কড়ি : এ কি ঘবময় কাচের টুকবো, তােমার হাত
কেটে বক্তগঙ্গা—এসব কি কবে হােল ?
দত্ত : ওরে শূয়াব আগে দবজাটা বন্ধ কবে দিয়ে আয়।
কড়ি ও দরজা বন্ধ করে কি হবে ?
দত্ত : বলি কথা শুনবি না কি ? আগে দবজাটা বন্ধ কবে
দিয়ে আয়।
কড়ি : (দরজা বন্ধ কবিয়া দিয়া) এই নাও--হ’ল ত।
দত্ত : বস—এইখানে। এই দেখ । (পাথরটা হাতে দিল)
কড়ি : কি এটা?
দত্ত : হীরে—কিম্বা অন্য কোন দামী পাথর। দেখ,
আলােতে ধরে দেখ। চকমকি পাথর কুড়ােতে--
কুড়িয়ে পেলাম।
চমকি
কড়ি : তাই ত দাদু
দত্ত : তারপব এই দেখ। (কাচ কাটিয়া দেখাইল)
কডি ঃ সত্যিই ত দাদু–এ ত’ দামী পাথবই বটে।
দত্ত ? চল, কালই কলকাতা যাব।
আমাদের বজনী
বায়েব বাসায় যাব সে লােক ভাল। তবে ভয়
বাস্তায—যদি কেউ
কডি : (হাসিয়া ঘুসি পাকাইয়া) ওয়ান সুইট ব্লো-আর
একবাবে ফ্ল্যাট হয়ে যাবে। দেখ না—মাসেল
সব কেমন জমেছে—দেখ না। (হাত ঘুবাইযা দেখাইল)
দত্ত ও হাবে—ওই যে কি সিগবেট ভাল তােব-কাইচি
কি-ওব দাম কত বে ?
কডি : তিন আনা বাক্স।
দত্ত : নে এই তিন আনা পয়সা, নে ! কিন্তু দেশলাই
ব্যবহার করতে পাবি না—চকমকি—চকমকি-
চকমকির দৌলতে-হবে-বুঝেছিস শূয়াব !
(কডি চলিয়া গেল )
দত্ত : (সুরে) প্রেয়সীর মুখশশী দেখে শশী মেঘে লুকায়।
হাঃহাঃহাঃ। (তাল ও তেহাই দিল )
(সহসা উপরের দিকে মুখ ফিরাইয়া) তুই সব্বনাশী মরে
আমার কি সব্বনাশ আর করলি? দেখ, আমার ,
ভােগ দেখ,—নিজের পঁয়ষট্টি হাজার—তার ওপর
ছাপ্পড় ফোড়কে—লাখ-লাখ-লাখ! আমাকে ফাকি
চমকি দিলি, না নিজে ঝুঁকে পড়লি দেখ! খট খট লব- ডঙ্কা-খট খট লবডঙ্কা—তাের কপালে খট খট লবডঙ্কা! পঞ্চম দৃশ্য। [ কলিকাতাব পথ। জনৈক পকেটকাটা একটা গলিব মুখে ডাইয়া হাতে একটি সিগারেট লাইটাব লইয়া আপনার মনেই আক্ষেপ করিতেছিল ] লে-বাবাঃ, এক দেশলাইয়েই শালা বাবুদের পাকিটে আগুন ধরিয়ে দিলে! পাকিট কাটলেই শালা ঝপ করে হাতে এসে পড়ে এইগুলাে। সেই সকাল থেকে দশটা সিগারেট লাইটার এসে পড়ল হাতে (একে একে পকেট হইতে সিগাবেট লাইটাবগুলি বাহিব করিল) যাক—দেখি এই কটা বেচে যা পাই- একবেলার একপাে ক্ষীরেব দাম ত’ হবে। (জনৈক ভদ্রলােকেব প্রবেশ ) ভদ্রলােক : (মুখে বিড়ি গুজিয়া এদিক ওদিক চাহিতে চাহিতে প্রবেশ ) পকেট কাটা : ( তাড়াতাড়ি নিকটে আসিয়া) সিগারেট লাইটার লিবেনবাবু! খুব ভাল জিনিস আছে-
চমকি
বিলিতী মাল ! সস্তা করে দোব! একটা সিকি
দিবেন বাবু।
ভদ্রলােক : নাঃ—আমি পানের দোকান খুজছি—ওদের
দড়ির আগুনে আমার কাজ চলে যায় বাবা।
দেশলাই আমি কিনি নে।
( প্রস্থান)
পকেট কাটা : ধরিয়ে লিয়ে যান বাবু-ধরিয়ে দিয়ে
যান, পয়সা লাগবে না তাতে !
(বিমলের প্রবেশ )
সিগারেট লাইটার লিবেন বাবু? ভারী সস্তা দামী
জিনিস ?
বিমল : আমার পকেটে তিনটি দেশলাই এসে গেছে
দুটো বেচে দোব, দুটো কেন—তিনটেই বেচব, এক
পয়সায় তিনটে—নেবে তুমি !
( প্রস্থান)
পকেটকাটা : এই হ’ল সেরা বিদ্যের সেরা বিদ্যে—চেয়ে
নিয়ে ফেরৎ না দেওয়া।
( প্রস্থান)
ষষ্ঠ দৃশ্য। ( কলিকাতা বজনী বায়ের বাস। দত্ত, কডি ও বজনী। কডি খবরের কাগজে বক্সিংএর খবর পড়িতেছে।] দত্ত : এই দেখুন পাথর। ( পাথর বজনীর হাতে দিল, বজনী দেখিতে লাগিল ) দত্ত ও সূর্যের ছটায় ধরুন—দেখছেন—দেখছেন—কেমন ঝকমক করছে দেখছেন ! বেশ ভাল করে দেখুন- ভেতবে দাড়িমেব দানাব মত সব দেখতে পাচ্ছেন ! আবার কাচ কাটে যাও--কচ, কচ, ক'রে ডাক্তাবে যেমন ফোড়া কাটে ঠিক তেমনি করে একেবারে এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত। আবার রাত্রে যদি আলো জ্বেলে দেখেন তবে দেখবেন পাথবটাও আলাের মত দপ দপ করে জ্বলবে ! বজনী : হ্যা, দামী পাথর বলেই মনে হচ্ছে। তা আমার দ্বাবা যা হয় সে সাহায্য আমি আপনার করব দত্ত মশায় ! দত্ত : হ্যা আপনার ভরসাতেই এখানে আমাব আসা বজনীবাবু; চিরকাল আমরা আপনাদের আশ্রিত • রজনী : কিন্তু মুস্কিল কি জানেন, এ সব পাথর জহরতের ব্যাপার ত’ বিশেষ জানি না আমি; এ সবের আলাদা দালাল আছে।
চমকি
দত্ত : আজ্ঞে না, ও দালালে টালালে আমার কাজ নাই
—ওরা মাটি কবে দেবে ফেবাব করবে আমাকে।
তার চেয়ে আপনি বরং আমাকে বড় বড় জহরতের
দোকানগুলি ঘুবিয়ে আনবেন, তাতেই আমার ভাগ্যে
যা হয় ! আব ধরুন দালালী যা দোব সেটা ববং
আপনি নেবেন, টাকাটা ভূতে খায় কেন?
বজনী : না–না–দালালী আমাকে কিছু দিতে হবে
। তা’ বেশ, আপনারা সকাল সকাল স্নান টান
করে নিন।
দত্ত ও দাড়ান মশায়, একবার তামাক খেতে হবে।
( বোচকা খুলিয়া হুকো তামাক টিকে চকমকি বাহিব কবিল)
হ্যা, আপনার খাজনা সব মিটমাট কবে দিয়ে এসেছি।
বজনীবাবু ! কড়া-কডি খববেব কাগজেব ছবি দেখিয়া
বক্সিং-এব কোন বিশেষ ভঙ্গিমা নকল কবিতেছিল) আবে
হতভাগা দিনবাত ঘুসি পাকাচ্ছে !
কডি ঃ (বজনীৰ উপস্থিতিতে লজ্জা পাইয়া চট কবিয়া স্বাভাবিক
অবস্থায় বসিয়া) না ।
দত্ত : না! সমস্ত বাস্তাটা মশায় ঘুসি পাকিয়ে এসেছে,
যাকে দেখে তাকেই বলে গুণ্ডা। পুলিশে শেষ পর্যন্ত
ওকেই গুণ্ডা বলে ধরত।
কড়ি : আব তুমি? তুমি যে সমস্ত রাস্তা লােকের সঙ্গে
ঝগড়া করতে করতে এলে ! কুলির সঙ্গে ঝগড়া,
৪০ চমকি ঘােড়ার গাড়ীর গাভােয়ানের সঙ্গে ঝগড়া, শেষে Busএর কণ্ডাক্টারের সঙ্গে ঝগড়া, বলে দু আনা ভাড়া হবে না, ছ’পয়সা নাও। আমি না থাকলে দিত ত’ ঘাড় ধরে নামিয়ে ! দত্ত : ওরে শূয়ার দু আনা বলেই দু আনা দোব আমি তােকে ; দর কব না !•••নে একবাব তামাক সাজ দেখি ! কড়ি : দায় পড়েছে আমাব! ( হন হন কবিয়া বাহির হইয়া গেল ) দত্ত : শূয়ার কোথাকার! মাটি করলে ফেরার করলে আমাকে! বলি ওরে ও শূয়ার! (কড়ি উত্তর দিল না অগত্যা নিজেই তামাক সাজিতে আরম্ভ করিল) নেপথ্য হইতে বিমলের গলা শােনা গেল-Expenditure আছ নাকি-মিষ্টার এক্সপেণ্ডিচার ! বজনী : এই ঠিক হয়েছে দত্ত মশায়, ঠিক লােক পেয়েছি আপনার কাজের জন্যে ! আমার দূর সম্পর্কের বেয়াই হন—পাকা লােক! বিমল : (নেপথ্যে) হ্যালো Night Judgment- রজনী বায় ! রজনী : আরে এস এস বেই এস! (বিমলের প্রবেশ ) বিমল ও ননসেল! ব্যাই কি-ব্যাই কি? Say Ex-
চমকি
৪১
penditure। ব্যয় শব্দ থেকে বেই কথার
উৎপত্তি। ব্যয় না করলে সংসাবে বেই পাওয়া যায়।
বল Expenditure !
রজনী : কি রকম-রঙে আছ নাকি ?
বিমল : সেভেন হ্যাণ্ডস্ আর্থ ডিগ কবে পাইস কি
একটা পাই মেলে না স্যর-colour হবে কোত্থেকে
বল! colour-এর মধ্যে colour—all white!
বড়জোব তার মধ্যে ছিটেফোটা সরষে ফুলের yellow
spots--তাও ভেসে বেড়াচ্ছে !
রজনী ও বস-বস, তােমার কথাই ভাবছিলাম ! এখন
একটা জহরতের দালালী করতে পারবে!
বিমল : জহবৎ জুযেলস্ Copper-She-I mean
তামা-কা কবছ না ত!
রজনী : না-না তামাসা নয়।
আমাদের গ্রামের ইনি
শ্ৰীযুক্ত হরিশ্চন্দ্র দত্ত মস্ত ধনী লােক—এরই একটা
পাথর বেচে দিতে হবে। পাথরটা কুড়িয়ে পেয়েছেন
দত্ত মশায়—দামী পাথর বলেই মনে হচ্ছে।
বিমল ঃ ( হা-হা করিয়া হাসিয়া) বলি Village-go টেনেছে
কি! গাজা—গাঁজা-village-মানে গাঁ go
মানে যা। কুড়িয়ে কখনও জহরৎ পাওয়া যায়।
দত্ত : (অবাক হইয়া বিমলকে দেখিতেছিল)
৪২
চমকি
রজনী ও বেশ ত, পাথরটা তুমি দেখই না! কই দেখি
পাথরটা দত্ত মশায় !
(দত্ত পাথরটা বাহির কবিয়া দিল—বিমল ঘুবাইয়া ফিবাইয়া
দেখিতে লাগিল )
বজনী : পাথরটায় কাচও কেটেছে খুব ভাল। কাচ
কেটেও দেখা হয়েছে !
দত্ত : (হুকাটা টানিয়া ধােয়া না পাইয়া কল্কেটায় ফু দিতে দিতে )
এই দেখুন না। ( বলিয়া বিমলেব হাত হইতে পাথরটা
লইয়া ঘবেব সার্সীতে দাগ দিতে গেল )
বজনী : আরে আবে কবেন কি দত্ত মশায়—দোরের
কাচ কাটবেন না !
বিমল : ( দত্তেব হাত হইতে পাথবটা লইয়া সার্সীতে দাগ টানিয়া
সার্সীব কাচখানা কাটিয়া ফেলিল )-I see !
রজনী : কবলে কি—সার্সীর কাচখানা কেটে ফেললে !
বিমল : (বজনীৰ কথা গ্রাহ্য না কবিয়া) উঃ একেই বলে
leaf covered fore head, পাতা চাপা কপাল,
ফু দিয়ে পাতা উড়িয়ে—কপাল খুলে গেল। আব
আমাদের বাবা পাথর চাপা কপাল-ঝড়েও ওড়ে
-বানেও নড়ে না। (একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া)
যা -এখন কাজের কথা হােক।
দত্ত : দেখলেন -
বিমল : ( বাধা দিয়া) yes—পাথর দামী
বলেই মনে
৪৩ চমকি হচ্ছে। এখন কমিশনের কথা হয়ে যাক। পাথর বেচে আমি দেব—কিন্তু টোয়েন্টি ফাইভ পারসেন্ট আমাকে দিতে হবে। সিকি সিকি দালালী দিতে হবে। দত্ত : মাটি কববে ফেবার করবে আমাকে। আজ্ঞে না, মার্জন করবেন—মােটমাট দশটি টাকা আপনাকে পান খেতে আমি দোব। (বিমল পকেট হইতে একটি আধলা বাহিব কবিয়া দত্তেব হাতে দিয়া) বিমল : একখিলি পানের দাম আধ পয়সা-এই নাও কিনে খেয়াে তুমি-অনেক বকেছ ! (বলিয়া দত্তর দিকে পিছন ফিরিবা বসিল ) দত্ত : (ক্ষণেক হতভম্ভেব মত থাকিয়া তাবপব একটা পয়সা বিমলেব দিকে ছুডিয়া দিয়া) এতে আপনাব পান-বিড়ি দুই-ই হবে—আধপয়সার পান আধপয়সাব বিড়ি। আপনি আমার চেয়ে ঢের বেশী বকেছেন। ( প্রস্থানােত) বিমল ? উঃ ভেরী টাইট মার্কেট-এ মার্কেটে নিডল বেচা সােজা নয় !—বলি ওহে কত্তা শােন-শােন— বলি শতকরা পনের দেবে তুমি ! দত্ত : আজ্ঞে না। মােটমাট দশ বলেছি—পনের বলব- শেষ পচিশ দোব। তার বেশী একটি ছিদেম নয়।
৪৪
চমকি
বিমল : শতকরা পাঁচ-না হয় দুশাে মােষ্টমাট।
রজনী : না হে ব্যাই—একশাে
দত্ত : আচ্ছা রায় মশায় যখন বলছেন তখন না হয়
পঞ্চাশই দোব আমি।
বিমল : অল বাইট। ঠিক একটার সময় আসব আমি-
বাড়ি ঢুকব আর তােপ পড়বে। তােমরা বেড়ী
থাকবে। প্রথমেই যাব হ্যামিল্টনের বাড়ি।
দত্ত : আচ্ছা তাবা এখানে আসবে না ! কলকাতা।
রাস্তা—দামী জিনিস সঙ্গে যাওয়া—গাড়ি করলে
ভাড়া লাগবে অনেক
বিমল : অল রাইট—তারাই এখানে আসবে। তাদেরই
নিয়ে আসছি আমি। তােমরা রেডী থাকবে।
রজনী : দেখাে যেন কোথাও গিয়ে আন-বেডী হয়ে
পড়ােনা।
বিমল : ননসেন্স! I am more ready than your
ever-ready batteries
প্রস্থান)
রজনী : আসুন দত্ত মশায়-স্নান করে ফেলুন, সকাল
সকাল খেয়ে নিয়ে তৈরী হয়ে থাকা দরকার।
একটার সময় সাহেবকে নিয়ে আসবে।
দত্ত ? চলুন। কিন্তু সে শুয়ারটা কোথা গেল। হতভাগা
কোথায় কোনদিন খুন হয়ে থাকবে।
(উভয়ের প্রস্থান)
।
৪৫ চমকি (অপর দিক হইতে কড়ির প্রবেশ) কড়ি ? উঃ কলকাতার সকল মেয়েই দেখলাম সুন্দর! কি কাপড় পরবার ভঙ্গী—কি সুন্দর চুল বাঁধার বাহার ! সুন্দব কলকাতা সুন্দরীর রাজ্য। তন্বী তরুণী যেন এক একটি মেশিন মেড সিগারেট গােল্ডফ্লেক—আর পাড়াগেঁয়ে মেয়ে ? রাম-রাম থেলােহুকে। নাঃ বিয়ে যদি করতে হয় তবে কলকাতাতেই করব। আব কলকাতাতেই বাড়ি করব—আব একখানা গাড়ী মােটর—কি বলে—ডি- লাক্স না কি ওই গাড়ী একখানা। নিজে ড্রাইভ কবব। (ষ্টীয়াবিং ঘুবাবাব অভিনয়)। ফটি ফিফটী সিক্সটী মাইল স্পীডে—পাশে থাকবে সুন্দবী তরুণী প্রিয়া—রুক্ষ্ম চুল বাতাসে উড়ে আমার মুখে লাগবে, আমার মুখেও থাকবে গােল্ডফ্লেক সিগারেট হঠাৎ একটা লােক সামনে পড়ে গেল—কাট-কাট- কাট ষ্টিয়াবিং—উঃ—। ( দত্তর প্রবেশ ) দত্ত : এই যে-হতভাগা। কড়ি : উঃ খুব বেঁচে গিয়েছি ! (দ্রুত প্রস্থান) দত্ত : মাটী করবে—হতভাগা আমাকে ফেরার করবে। ওরে একটা যে আর বাজে। ( হঠাৎ টেলিফোনের ঘণ্টা বাজিয়া উঠিল ) ৪৬ চমকি যাঃ, গেল—এ কি ঘণ্টা বাজে কোথায় রে বাপু ! ওই-ওই এযে এক নাগাড় বেজেই চলেছে! আবে এইটার মধ্যে বাজে দেখি। (টেলিফোনটা চাপিয়া ধরিয়া) এই চুপ-চুপ-থাম্ থামবে। বে বাপু! মাটি কবলে-ফেরাব করলেরে বাবা। বজনীবাবু-ও-রজনীবাবু। (বজনীব প্রবেশ) রজনী : ( তাড়াতাড়ি টেলিফোন ধবিষ ) Hallo-Vcsyes Ray speaking, yes, We are ready, (টেলিফোন বাখিয়া দিয়া । দত্ত মশায়, হ্যামিল্টন কোম্পানীব লােক আসছে। দাড়ান আমি চাকব- টাকে বলে আসি। (প্রস্থান) দত্ত : ( গুন গুন কবিয়া সুরে) প্রেয়সীর মুখশশী দেখে শশী মেঘে লুকায়। কিন্তু এটা কি রকম হল ? (টেলিফোনের বিসিভার তুলিয়া) (সুরে) প্রেয়সীব মুখ- শশী দেখে শশী মেঘে লুকায়! ওই এ কি কথা কয় যে ? ওরে বাবা! এযে মেয়েমানুষের গলা। ওরে কড়া—ওরে কড়া—দেখত—দেখত কি বলে। (কডির প্রবেশ ) কড়ি : (টেলিফোন ধরিয়া) এ্যা? songs ? গান ? কে গাইছিল? No never,-কক্ষণও না। (দত্তের প্রস্থান) -নাম্বার-যাঃ গেল!
৪৭
চমকি
নম্বর কি নম্বব বলব ? দি বলে !2345, বড়বাজাব
-or Calcutta- ? Calcutta-Calcutta,
হ্যালাে ! কে? এ ও বাবা এও যে মেয়েমানুষেব
গলা? এ ঢােক গিলিয়া) কাব বাড়ি? হবেন্দ্র দে
—ও--তা আপনি কে? ও—তিনি বাড়ি নেই।
তা-ইয়ে-ইয়ে মানে (ঢােক গিলিয়া) কিন্তু আপনি কে ?
তার ভাইঝি ? (ঢোক গিলিয়া) তা-ইয়ে মানে আমি
জিজ্ঞাসা কবছি—মানে ইয়ে–কি নাম আপনাব।
বলুন ত ।
দৃশ্যান্তর
হরেন্দ্রর বাট
(টেলিফোন ধরিয়া শ্যামা)
শ্যামা : আমার নামে আপনার দরকার কি? কি আশ্চর্য
—তবু বলবেন—আপনার নাম কি ? ক্ষতি কি?
ক্ষতি আছে বৈকি—কেনো বলব আপনাকে আমার
নাম। আপনি অপরিচিত ব্যক্তি। আমি ভদ্রঘরের
কুমারী মেয়ে। আঃ কি বিপদ ! কে বলছে আপনার
বদ মতলব আছে ! বেশ শুনুন—আমার নাম শ্যামা।
আপনার কি নাম—কি ? তিনকড়ি চন্দ? এইবার
বলুন—কি বলব কাকাবাবুকে ?
৪৮
চমকি
{ বিমলায় প্রবেশ)
বিমলা : এই যে হারামজাদী বদমায়েসের ধাড়ী--বলি,
তাের কাণ্ডটা কি শুনি? তুই কি আমার সর্বনাশ
করবি ? ঘিয়ের ভাঁড়টা ভাঙ্গলি কি করে শুনি?
শ্যামা : আমি ত, জানি না খুড়ি মা !
বিমলা : জানি না ? দেখে যা হারামজাদী সর্বনাশী-
দেখে যা। বড় বড় চোখ দুটো ত’ আছে—দেখে
যা। রূপ রূপসী—রূপসী আমাব—ৰূপের গববে
চোখে দেখতে পাও না! সৰ্ব্বনাশী—তুমি মর না
কেন? একটা খরচেব হাত থেকে যে বাচি। রূপ
দেখে ত’ একটা বুড়াে এসেও বিনা পয়সায় বিয়ে
কবতে রাজী হল না! আয়-আয়!
(থােকনেব প্রবেশ)
থােকন : কেন মিছি মিছি বকছ মা!
বিমলা : ধরত’ তুই টেলিফোনটা! আয় পােড়ারমুখী।
(শ্যামাকে লইয়া প্রস্থান)
থােকন : টেলিফোন ধরিয়া) হালােএ্যা—একি ও বাবা
এ যে আমাকে বিয়ে করতে চায়। ওঃ এ ত’ খুব
রসিক লােক দেখছি ! দাড়াও (মিহি গলায়) এ
কি ? আমার লাঞ্ছনার কথা আপনি শুনতে
পেয়েছেন! ও—এ আপনার বুক ফেটে যাচ্ছে?
কি—আমরা কি জাত ? আমরা গন্ধবনিক। কি-
!
৪৯
চমকি
আপনারাও তাই।বেশ।
দেশ?
কি-কি-বাঙালা
।
দৃশ্যান্তর
পূর্বদৃশ্য রজনী রায়ের বাস
( নেপথ্যে হর্ণের শব্দ)
কড়ি : (টেলিফোন ধরিয়া) বাঙলা দেশ-বাঙালী জাতি-
এই কুমারীদেব দীর্ঘনিশ্বাসে উচ্ছন্ন যাবে। তাদের
সে দীর্ঘনিঃশ্বাস অগ্নিশিখাব মত জ্বলে উঠছে।
আমি আপনাকে উদ্ধার করব। প্রতিজ্ঞা করছি-
ভগবানেব নামে প্রতিজ্ঞা করছি--আমি আপনাকে
বিনা পণে বিবাহ করব। এ আমার বয়স
আমার বয়স বাইশ। নাম? তিনকড়ি চন্দ। আরও
শুনুন--আমার অবস্থা মন্দ নয়। আমার স্বাস্থ্য
ভাল। আর আপনাকে কি বলব—আমার জীবন
দিয়ে আমি সুখী করবার চেষ্টা কবব। পূজা করব
-হে দেবী—
-হে অজানা অচেনা লাঞ্ছিতা দেবী
আমি আপনার পূজা করব।
এ-কি আমার
ঠিকানা? আমার ঠিকানা।
নেপথ্যে দত্ত : মাটি করলে—ফেরার করলে আমাকে।
ওরে শয়ার-বলি করছিস্ কি ?
কড়ি : আমার ঠিকানা।
৪
চমকি
( দত্ত, বিমল, রজনী ও স্যামিল্টন কোম্পানীর সাহেবের
প্রবেশ, সাহেব পাথরটা দেখিতে দেখিতে আসিতেছিল)
সাহেব : Well-you see (কডির আর ঠিকানা বলা হইল
, সে টেলিফোন রাখিয়া দিল)
দত্ত : মাটি করলে ফেরার করলে আমাকে! ওরে কড়া
ওরে ও শূয়ার—এসে শােন না কি বলছে সাহেব।
আমি যে বুঝতে পারছি না কিছু!
সাহেব : আচ্ছা মহাশয়, আমি বাংলাতেই বাে-লছি।
দেখেন—অনুমান হয় পাথরটি মূল্যবান পাথরই
আছে। Valuable Stone হওয়াই সম্ভব। (পকেট
হইতে ম্যাগিফায়িং গ্লাস বাহির করিয়া দেখিয়া) হা-
মূল্যবানই অনুমান হােচ্ছে। তবে কি জানেন—
ঠিক কিছু বলা যায় না। জানেন ত’ পিতলও
সােনার মত ঝম করে। আমি বলি এটি আপনি
কাটাইয়া ফেলেন।
তখন ঠিক কদর বােঝা যাবে।
দত্ত : আচ্ছা—কি রকম দাম হবে সাহেব?
সাহেব : ঠিক কি করিয়া বলি, তবে ভাল জিনিস যদি
মিলে যায়, তবে দু’ লাখ তিন লাখ—কি আরও
বেশী হ'তে পারে।
দত্ত; তা আমাকে এক লাখ দিয়ে আপনারা নেন না
কেন, তারপর আপনারা কাটিয়ে নেবেন।
সাহেব ঃ এ অবস্থায় একটি টাকা দিয়েও এ পাথর
চমকি
আমরা লিব না। আপনারা এক কাজ করেন--
বড়বাজারে বাঁশটোল লেনে যান—সেখানে যারা
জহরৎ কাটে তাদের দিয়া কাটাইয়া ফেলেন।-ভয়
নাই—তারা খুব সাচ্চা লােক Honest People,
দত্ত : মাটি করলে--ফেরার করলে বাবা-
962: Well-wish you good luck, pihtoate
পরে আমাদের কল দেবেন দয়া করে। Good-bye
Mr. Mukherji.
fax : Good-bye.
(সাহেবের প্রস্থান)
দত্ত : হঁ্যা মুখুজে মশায়—এ যে আবার কাটাই করতে
বিমল : ও মুখ
থাকলেই বলে দত্তমশায়—আপনি
ভড়কান কেন ? দেখুন না—কাগই আবার রাজ্যের
জহুরি নিয়ে আসছি আমি। কিন্তু কমিশন বাড়াতে
হবে দত্তমশায়।
দত্ত : আচ্ছা—আচ্ছা—আর কিছু দোব আপনাকে।
কিন্তু তিন লাখ যখন নিজে মুখে বলে গেল—তখন
দাম আরও বেশি হবে কি বলেন?
বিমল : নিশ্চয় !
দত্ত : আচ্ছা আপনাকে পুরাে একশাে টাকাই দোব
আমি।
জানি না।
চমকি
কড়ি : (অন্তরালে) ডজ-ডি-লাক্স-একখানা আর একখানা
বাড়ি। কিন্তু কে সেকি তার ঠিকানা—তা ত’
ফোন নাম্বার চেয়েছিলাম—তাও তাে
মনে নাই।
রজনী : এস এস—চা খাই গিয়ে।
(কডি ব্যতীত সকলের প্রস্থান)
কড়ি : আ-হা-হা-লাঞ্ছিতা বালিকা—কি করুণ তার
কণ্ঠস্বর ! আর আমি মনশ্চক্ষে দেখতে পাচ্ছি—
কি অপরূপ তব রূপ—কি বেদনার ছায়াম্নান শান্ত
মুখচ্ছবি ;
কি সুন্দর তার নাম—শ্যামা—শ্যামা
শ্যামা! খুজবাে-খুজবাে-আমি সারা কলকাতা
খুজে দেখবাে।
( প্রস্থান)
দ্বিতীয় অঙ্ক প্রথম দৃশ্য [ হরেন্দ্রদের বাটী। হরেন্দ্র ও বিমল ] হরেন্দ্র : এ যদি হয় বুঝেছ—তা'হলে আমাদের দুঃখ শুদ্ধ ঘুচে যাবে। ঘটক বললে বুড়ােব নাকি লক্ষ টাকা ঘরের মেঝেতে পোঁতা আছে। আবার একটা পাথর পেয়েছে—সেটারও দাম দু’ তিন লাখ টাকা হতে পারে। হ্যামিল্টনের বাড়ির সাহেব এসে তাই বলে গিয়েছে। এখন গাঁথলে হয় ? বিমলা : শুনে অঙ্গ আমার শীতল হয়ে গেল। বলি বেল পাকলে কাকের কি ? হরেন্দ্র : নাঃ তােমাকে বােঝতে আমার বাবারও ক্ষমতা নাই! অচ্ছািবুড়াে আর ক’দিনবয়স শুনলাম যাট পার হয়েছে। বুড়াে মলেই ত’ বিষয়ের মালিক- হবে শ্যামা। একটু বুঝে কথা বল-বুঝেছ ? বিমল : সেই আশায় তুমি গোঁফে তেল দিয়ে বসে থাক। এখন আপদ বিদেয় হলে বাঁচি। দেখাে-- সেই বুড়াের মত এ আবার এসে টাকা না চেয়ে বসে। হরেন্দ্র : সে এবার আমি বলে দিয়েছি। আর এ ঘটক খুব পাক্কা লােক। বুঝেছ ? বিমলা : বুঝেছি—ঢের বুঝেছি।
৫৪
চমকি
হরেন্দ্র : কি মুস্কিল, বলছি মেয়েটাকে দু’ দিন না
খাটিয়ে একটু সুস্থির হতে দাও। সাবান-টাবান
মাখুক। তা কি হবার উপায় আছে ? কি বিপদ।
( প্রস্থান)
(খােকনেব প্রবেশ)
খােকন : লােকটা ত’ জোচ্চর বলে মনে হােল না।
কিন্তু ঠিকানাটা দিলে না। নাম বললে তিনকড়ি
কলকাতা হল টাকাপয়সাব বাজ্য—এখানে দিদির
কাণাকড়িটি আমি কি করে খুঁজে বের করব?
(হরেন্দ্র ও শ্যামাব প্রবেশ)
হবেন্দ্র : খান দুই গান ভাল করে গেয়ে ঠিক করে
রাখ। সেদিনের মত গলা যদি কাপে, তবে বুঝতে
পারবে। গান গাইলেন, না মেয়ে যেন কাদলেন !
কই গান গা—আমি ও-ঘরে কাজ করতে করতে
(প্রস্থান)
খােকন ? না —দিদি তােমার কাণাকড়ি—তিনকড়ি কোন
সন্ধানই হল না।
শুনি।
(শ্যামা শুধু ম্লান হাসি হাসিল)
নেপথ্যে হরেন্দ্র : শ্যামা—গান গাইতে বললাম যে।
(শ্যামার গান)
দ্বিতীয় দৃশ্য [ রজনী রায়ের বাসার কক্ষ। কক্ষটীর দরজা বন্ধ কিন্তু একটা জানালা খােলা আছে। সে দিক দিয়া বারান্দার কিয়দংশ দেখা যাইতেছে। দত্ত ও বিমল । বিমল : এতেই আপনি বুঝুন না—ভগবানের অভিপ্রায়- টা কি? অভাব ত’ আপনাব ছিল না—রজনী বলেছে আমাকে, আপনি লক্ষপতি। কিন্তু তার ওপর হঠাৎ আবাব এই হীরে, কথায় বলে মাণিক —এ কুড়িয়ে পেলেন কেন? এর অর্থ কি ? ভগবান ইঙ্গিতে জানাচ্ছেন—তুমি ভােগ কর ! যদি বলেন নাতিবা ভােগ করবে—বেশ তবে নাতিরাই ত’ কুড়িয়ে পেতে পাবত! দত্ত : তা—বলেছেন আপনি ঠিক কথা মুখুজ্যে মশায় ! বিমল : ঠিক কথা ছাড়া আমার কাছে পাবেন না দত্ত- মশায়! সাধকের গুষ্টি—সাধক বাচ্চা আমরা ! দেখুন এই বাদুলিটা—দেখুন। মাদুলির পুংলিঙ্গ এটা। এটাকে আমি বাবাদুলিই বলি। এ হচ্ছে আমাদের বংশের এক সিদ্ধপুরুষের কবচ। আমাদের মুখ থেকে যা বেরুবে—সে হ’ল বেদবাক্যতার আর লঙ্ঘন নাই। কোন দ্বিধা করবেন না আপনি। সংসারে বহু কষ্ট করেছেন—এখন দু দিন আনন্দ
চমকি
দত্ত : তা বটে—আনন্দ সংসারে আর করলাম কৈ!
মাটি করলে সব, ফেরার করে দিলে আমাকে।
ভূতের বোরই খেটে মলাম। দুটো মনের কথা
-বুঝেছেন কিনা; কিন্তু এখন কন্যাই বা তেমন
যাকে বলে রূপবতী গুণবতী---
( জানালার ওধাবে বারান্দায় কডির প্রবেশ
কড়ি : নাঃ পেলাম না—কোন সন্ধান পেলাম না ! কি
করব ? সমস্ত কলকাতা তন্ন তন্ন করে খুজব!
দিনের পর দিন—মাসের পর মাস ! কিন্তু যদি বাসা
বদল করে তার মধ্যে ! যে দিক খুজে গেলাম—
সেই দিকেই যদি উঠে আসে। তাই ত?
গডেস্যাকে বলে দেবকন্যা—
সাক্ষাৎ লক্ষ্মী ! বয়সও আপনার পনের ষােল—যেমন
চান! স্বভাব একেবারে ললাটাস হনি—Jotus
Honey—পদ্মমধু। চোখে রাখলে চোখ জুড়ােন
হয়—চোখের দৃষ্টি ভাল হয়। লাল কেটে যায়।
কড়ি : একি—আমার বিয়ের কথা হচ্ছে দেখছি। লাখে
লাখ টাকা পেয়ে দাদুর দেখছি—মেজাজ শুদ্ধ পালটে
গেল! কিন্তু টাকা নিয়ে আমি বিয়ে করব না। আর
তাকে খুঁজে বের করব-নইলে
দত্ত : (দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া) আমার ত’ ইচ্ছে বটে মুখুজ্জে-
মশায়, কিন্তু
বিমল গডেস্
৫৭ চমকি বিমল : নাে কিন্তু। কিসের কিন্তু আপনার? এত লাখে লাখে টাকা আপনার অদৃষ্টে আসছে—আপনি ভােগ করবেন না? দত্ত : তা ত’ বলিনি। মানে ধরুন উপযুক্ত নাতি— মাটি করলে--ফেরার করলে আমাকে। বিমল : কিসের উপযুক্ত—যদি আপনার দুঃখই না বুঝলে তবে কিসের উপযুক্ত। আর আপনি ত’ তাদের একেবারে কঁকি দিচ্ছেন না, দিয়ে দেন ওদের এক লাখ টাকা। বলুন ব্যস্ Compromise হয়ে গেল। এই নাও—নিয়ে তােমরা যা খুসী করগে। আমাকে ছেড়ে দাও—হিংসেটিংসে কর’না। আপনি দু’ লাখ তিন লাখ নিয়ে পাতুন নতুন সংসার। তাতে আপত্তি করে—দিন নাতিদের ত্যজ্যপুত্তব করে। কড়ি ? উঃ-সৰ্ব্বনাশ! দত্ত : তা হলে গাঁয়ে কিন্তু আর বাস করব না। মাটি করে দেবে—ফেরার করে দেবে আমাকে। এই- খানেই একখানা বাড়ি কিনে ফেলা যাক—কি বলেন? আর একখানা গাড়ি-মােটর একখানা ! বিমল : আলবৎ। আর হাজার বিশেক টাকার লাইফ, ইনস্যুরেন্স একটা করে ফেলুন। ব্যস নিশ্চিন্দি। খান হাওয়া সস্ত্রীক মােটরে চড়ে, সিনেমা দেখুন,
চমকি
থিয়েটার দেখুন, দার্জিলিং যান—ভােগ করে নেন
-সংসাবকে ভােগ কবে নেন! পাটে বসবার
আগে Blood evenning লাগিয়ে দিন।
দত্ত : তবে তাই আপনি ঠিক করে দেন। আমারও ত’
ধরুন জীবনের সাধ আলাদ বলে একটা জিনিস
আছে—না, কি বলেন? আর ধরুন শেষ বয়সও
আছে—তখন যদি নাতিরা কি নাত-বৌরা না-ই
সেবা করে ! বৃদ্ধ বয়সে একটু হাওয়া বাকি
এটা ওটা খাবাব করে দেওয়া—কি ধন পাকাচুল
তুলে দেওয়া–কি বলেন?
কড়ি : (একান্তে আক্রোশভবে ) পাকাচুল বাছতে গেলে
ক্ষুর দিয়ে চাচতে হবে বুড়াে যখ। দাড়াও না বিয়ে
তােমার করাচ্ছি আমি।
বিমল : তার আর ভাবনা কি! আজই রাতে গিয়ে
সমস্ত কথাবার্তা কয়ে ফেলছি আমি। আমারই
আলাপী এক গন্ধবণিক ভদ্রলােক—বড় ভাল লােক
তিনি। তারই এক পরমাসুন্দরী ভাইঝি আছে—
বল্লাম যে Goddess-দেবকন্যা। লেখাপড়া জানে,
গান জানে—বল্লাম যে রূপে গুণে সাক্ষাৎ লক্ষ্মী।
কড়ি : উঃ-উঃ-কি পাষণ্ড নরাধম বুড়াে উঃ! আমার
সর্বনাশের চেষ্টা হচ্ছে। আর এই চণ্ডাল দালালটা
৫৯
চমকি
—কি শয়তান উঃ ! দেব দুই চণ্ডালকে ঘুষি
চালিয়ে! আচ্ছা দাড়াও।
( প্রস্থান)
দত্ত : গানটানগুলাে আজকালকার ফেশান হয়েছে বটে!
তা ধরুন মন্দও নয় ! ধরুন হঠাৎ মনটন খারাপ হয়ে
গেল, তখন যদি স্ত্রী একখানা গানই শােনালে—
মনটাও ঠাণ্ডা হল। তা মন্দ কেন—ভালই বলতে
হবে।
বিমল : নিশ্চয়। কিন্তু টাকাকড়ি তারা কিছু দিতে
পারবে না !
দত্ত : রাম বাম মুখুজ্জেমশায়—বিয়েতে টাকা নিয়ে কে
কবে বড়লােক হয়েছে। একটা পয়সাও আমি চাই
।
বিমল : বাস্তবে কালই চলুন মেয়ে দেখিয়ে নিয়ে
আসি। আপনি পাথর মাণিক কুড়িয়ে পেয়েছেন--
আমি আপনাকে সজীব মাণিক পাইয়ে দিচ্ছি।
কিন্তু ঘটকালির বিদেয়টা মনে রাখবেন-বাদুলি
ঠেকিয়ে যুগলকে আশীর্বাদ করে দেব। জপতপ
করে দোব—জপাৎ সিদ্ধি।
দত্ত : বেশ বেশ, তা দোব আপনাকে—আরও একশাে
টাকা দোব আমি।
চমকি
বিমল : ব্যাস্ ব্যাস! তাহলে আমি যাই সেখানে
এক্ষুণিই যাব রাত্রি হয়ে যাচ্ছে !
দত্ত : দেখুন, বাড়ি যা কেনা হবে—তার সামনে বাগান
যেন খানিকটে থাকে। মানে-চাদের আলােয়
স্বামী স্ত্রীতে একট বেড়ালাম-বুঝেছেন।
Fax : Just like Adam and Eve, alright
তাই হবে—টাকা থাকলে ভাবনা কিসের ? মায়
টাইগাস মিল্ক পাবেন। আচ্ছা, আমি এখন যাই।
নিশ্চিন্ত থাকুন আপনি, সব ঠিক করে দিচ্ছি আমি।
রাত্রি বানােটা হল প্রায়, শুয়ে পড়ুন।
প্রস্থান)
দত্ত : ( বিছানায় শুইয়া) (সুবে) প্রেয়সীর মুখশশী দেখে
শশী মেঘে লুকায় ! চাদভ্রমে কমলিনী বিমলিনী মুখ
শুকায়।
2
( কডিব প্রবেশ )
কড়ি : বলি আয়নাতে একবার নিজের চেহারাখানা
দেখছ
দত্ত : কেন, কেন রে, শূয়ার, আয়নাতে মুখ দেখে কি
হবে শুনি?
কড়ি : পেছনে যে যমের দূত পঁড়িয়ে হাসছে, সেটা
দেখতে পাবে।
চমকি
দত্ত: (উঠিয়া গম্ভীরভাবে) কি বল্লি, আমার মরণ কামনা
করছিস তুই হারামজাদা শূয়ার ?
কড়ি : দেখ, তুমি ওসব বদ মতলব ছাড়! লজ্জা লাগে
তােমাব—একটা কচি মেয়ে তার অকাল-বৈধব্য
ঘটাতে লজ্জা হচ্ছে না তােমার, মায়া হচ্ছে না ? এই
বয়সে তুমি বিয়ে করতে চাও ! বিয়ের পবেই ত’
মেয়েটা বিধবা হবে !
দত্ত : ওরে শূয়ার, আমার পরিবার বিধবা হবে, তাতে
তােমার করুণাসিন্ধু উথলে উঠছে কেন ?
কড়ি : এই দেখ, তুমি ওসব মতলব ছাড় বলছি। নইলে
বিয়ের সাধ তােমার আমি মিটিয়ে দেবে।
দত্ত : (ক্রোধে উন্মত্তবৎ) কেন, কি করবি তুই আমার ?
নিকা বলছি আমার বাড়ি থেকে—নিকা বলছি!
কড়ি : খবরদার বলছি, গায়ে হাত দিয়াে না।
দত্ত : (কডির ঘাড়ে হাত দিয়া) আভি নিকাল-হারামজাদা,
আমার সুখে তােমার হিংসে ! নিকাল বলছি আমার
বাড়ি থেকে!
কড়ি : (ধাক্কা দিতেই দত্ত পডিয়া গেল) তােমার বাবার বাড়ি
এটা? বুড়াে যখ—আমার ভাগ্যের প্রাপ্য ধনে তুমি
আমাকে ফাকি দেবে? কিসের ধন তাের? ও সমস্ত
আমাদের পাওনা।
চমকি দত্ত: (উঠিয়া কড়িকে চড় মারিতে মারিতে) তাের ধন? হারামজাদা, শূয়ার কি বাচ্চা-কডি ঘুষি খেলার ভঙ্গীতে চড আটকাইতে লাগিল) গাধা-গণ্ডার, তাের বাবার ধন? ছােটলােক, ভিখিরীর বংশ- কড়ি : তবে রে বুড়াে যখ, কামুক, লম্পট। বিয়ের সাধ তােমাব মিটিয়ে দিই এস (প্রথম ঘুষি মারিয়া) এই তােমার গায়ে হলুদ! (দ্বিতীয় ঘুষি মারিয়া) এই সাত- পাক—(পাক খাইতে খাইতে দত্ত পড়িল--কড়ি তাহার বুকে চাপিয়া বসিয়া গলা টিপিয়া ঘুষি তুলিল-দত্ত গোঁ গোঁ করিতে লাগিল ) এই তােমার ফুলশয্যা। (ঘুষি কিন্তু মারা হইল না ) ! নেপথ্যে রজনী : দত্তমশায়—দত্তমশায় ! কড়ি, কড়ি তিনকড়ি! ( ধাক্কা দিয়া দরজা খুলিয়া প্রবেশ করিয়া) এই যে দরজা খােলাই আছে। (ভিতরের অবস্থা দেখিয়া হতভম্ব হইয়া দাঁড়াইয়া) একি কড়ি, একি ? (কডি দত্তকে ছাডিয়া দিয়া উঠিয়া একপাশে পিছন হইয়া ক্রোধভরে দাড়াইয়া রহিল) দত্ত : (উঠিয়া কাদিয়া) দেখুন রজনীবাবু, দেখুন! বুনাে- শুয়ােরের কাণ্ড দেখুন। আপনি না এলে কুলাঙ্গার আমায় মেরেই ফেলত। কড়ি : (সবেগে ঘুরিয়া) না, তােমাকে ফুলচন্দন দিয়ে পুজো
চমকি
৬৩
করব আমি! বুড়াে ভেড়া আজ বাদে কাল মরবে
তুমি --আবার বিয়ে করতে যাচ্ছ—
দত্ত : (কান্না থামিয়া গেল, কড়ির মুখের কথা কাডিয়া লইয়া
সরােযে গৰ্জন কবিয়া উঠিল) আলবৎ করব, হাজারবার
করব, লক্ষবার বিয়ে করব আমি। পৌষ মাসে
ধানের সময় একটা ইদুরে দশটা বিয়ে করে। আমি
চার পাঁচ লাখ টাকার মালিক—একটা বিয়ে করব
না আমি? ইচ্ছে করলে বিশটা বিয়ে করতে পারি
—তাদের ভরণপােষণ করবার আমার আয় আছে।
কড়ি : টাকা তােমার কিসের শুনি? মায়ের বিয়ের সময়
কথা কি ছিল তােমার ?
দত্ত : সে কথায় আমি
রজনী : (বাধা দিয়া) থামুন মশায় আপনারা
দত্ত : কেন থামবাে মশায়, ওই অপােগণ্ড কুলাঙ্গারকে
আমার বিষয় দিতে হবে নাকি? মাটি করবে,
ফেরার করবে আমাকে ওঃ! ওঃ !
রজনী : দেখুন, সে যা আপনার খুশী করবেন। কিন্তু
এই রাত্রি দুটো আড়াইটার সময় যদি এইভাবে
আপনারা গােলমাল করেন, তবে পুলিশ আসবে।
আর আমরা মশায় সারাদিন খেটেখুটে এসেছি,
আমাদের একটু ঘুম দরকার, বুঝেছেন !
৬৪ চমকি দত্ত : বলুন তাই ওই গণ্ডারকে, বুনােশূয়ােরকে ! বজনী : আচ্ছা বিপদ যা-হােক্ রে বাবা! দত্ত : যান—আপনি রজনীবাবু, আপনি শুয়ে পড়ুন। আমি না হয় সারারাত্রি জেগেই কাটিয়ে দেবাে। রজনী : নুইসেন্স—বেগুলার নুইসেন্স ! ছিঃ ! ( দত্ত ও কডি—উভয়ে পরস্পবের দিকে পিছন ফিরিয়া ক্রোধ- স্ফীত মার্জাবের মত বসিয়া বহিল। মধ্যে মধ্যে ক্রুদ্ধ দৃষ্টি বিনিময় হইতেই পবম্পর মুখ ফিবাইয়া লইতেছিল) তৃতীয় দৃশ্য { ধীবে ধীরে কলিকাতাব পথে উষার আলােকে ফুটিতেছিল। হিন্দুস্থানী ও মাড়ােয়াড়ী গঙ্গাস্নানার্থিনীগণ গান গাহিতে গাহিতে চলিতেছিল | [ রজনী রায়ের বারান্দা। কড়ি ও দত্ত দূরে দূরে বসিয়া আছে মধ্যে রজনী রায় ) দত্ত : আপনিই বিচার করুন না রায় মশায়, দোষ কার ! রজনী : যাক—যাক্, ও যেতে দিন।—ছেলেমানুষ, তায় নাতি- দত্ত : আজ্ঞে না, আমার দোষ হয়ত কান মলে দিন ধরে আমার! কত মুনি ঋষিতে বুড়াে বয়সে বিয়ে করেছে
৬৫
চমকি
বলুন দেখি ! আমার ত’ এ অর্ধেক বয়সে। কুষ্ঠিতে
আমার পরমাযু হ’ল—পঁচানব্বই এখন ত মােটে
পঞ্চান্ন পার হয়ে ছাপ্পান্ন হল আমাব। শরীরও
আমার রীতিমত সমর্থ আছে! আব ভগবান আমার
ছাপ্পর ফোড়কে টাকা দিলেন। বিয়ে করব
আমি ?
( বিমলের প্রবেশ)
বিমল : Good morning দত্তমশায়! দেরী হয়ে গেল
আমার একটু ! তা জুহুরিরা আসবে বেলা চারটেয়—
এখন এই তিনটে !
দত্ত : এই যে মুখুয্যে মশায়, প্রাতঃপ্রণাম ! দেখুন, আমি
মনস্থির করে ফেলেছি। বিবাহ আমি কববই।
আপনি সম্বন্ধ পাকা করে ফেলুন আজই।
( কডির ম্লানমুখে প্রস্থান)
বিমল : হাতে পাজী Tuesday দত্তমশায়, মেয়ের খুড়াে
হরেনবাবু আমার সঙ্গেই এসেছেন—আপনি নিজেই
কথাবার্তা ripe করে ফেলুন। দে মশায়, হরেনবাবু
-আসুন, আসুন !
(হরেনবাবুর প্রবেশ)
হরেন ? নমস্কার ।
দত্ত : (উঠিয়) নমস্কার—নমস্কার! আসুন, আসুন—
বসুন, এই যে—এই যে—এই চেয়ারটায় বসুন।
চমকি বিমল : ইনি হচ্ছেন—শ্রীযুক্ত হরিশ্চন্দ্র দত্ত, নিবাস হােল বীরভূমের প্রেমপুর গ্রাম। মস্ত ধনী লােক—প্রকাণ্ড কারবার—বুঝেছেন ! আর ইনি হলেন বাবু হরেন্দ্র- নাথ দে-উকিল--অতি ভদ্র সজ্জন ব্যক্তি ! বুঝলেন দত্ত মশায়, ওই সজ্জন বলেই ভদ্রলােকের পসাব হল । পাত্রী এবই ভাইঝি, বাপ নাই মা নাই—এরই দায়! এখন আপনার দয়া হলেই ভদ্রলােক দায় থেকে মুক্তি পান। দত্ত : বেশ, কথা আমার পাকা মুখুয্যে মশায়—ওর আর নড়চড় নাই-- রজনী : বেশ ত’, মেয়ে দেখুন, দেখে পাকা কথা দেবেন। বিমল ও মেয়ে—সে দেবকন্যারূপেগুণে সাক্ষাৎ লক্ষ্মী। দত্ত : দেখলেন রজনীবাবু, দেখলেন? মুখুয্যে মশায় —মেয়ে যখন আপনার দেখা, তখন আমার আব দেখবার দরকার নাই। আমার কথা পাকা। (রজনীও এবার উঠিয়া গেল) হরেন্দ্র : দেখুন মশায়, অন্য একটি পাত্র আমার হাতে আছে। সেটিকে জবাব দিতে হবে। সুতরাং পাকা কথা মুখে না হয়ে বিমল : অল রাইট। তাই হবে হরেনবাবু-কাগজ কলমেই হবে। আমি কি ডরাই সখি beggar ' !
চমকি রাঘবে ?? দত্তমশায় কি তাতেই পেছােবেন নাকি ? কি দত্তমশায় ? ; দত্ত : তা বেশ ত’, হয়ে যাক্ কাগজকলমে। হরেন্দ্র : আমি মেয়ের ফটো একখানা এনেছি। এই দেখুন। (ফটো দিল) আর দেখতেই যদি হয়, তবে চলুন—আজই চলুন। বিমল : কিছু দবকার নাই। আমি এই ফাদলাম- শ্ৰীশ্ৰীপ্রজাপতয়ে নমঃ। শ্ৰীযুক্ত হরিশ্চন্দ্র দত্ত ও শ্ৰীমতী শ্যামা দাসীর শুভ পরিণয়ের লগ্নপত্র মিদং কার্যঞ্চাগে।—লিখব নাকি দত্তমশায় ? দত্ত : (ফটো দেখিতে দেখিতে) নাঃ, মাটি করলে, ফেরার করলে আমাকে! বলি মানুষকে বলে কবার মুখুয্যে। মশায় ! লিখে শেষ করুন, আমি সই করে দিচ্ছি। বিমল : এতদ্বারা পাত্রপক্ষে আমি স্বয়ং শ্রীহরিশ্চন্দ্র দত্ত শ্ৰীযুক্ত হরেন্দ্র দে’র ভ্রাতুস্পুত্ৰী শ্ৰীমতী শ্যামাকে বিবাহ করিতে প্রতিজ্ঞা করিয়া এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিতেছি। এবং অঙ্গীকার করিতেছি যে, যদি আমি বিবাহ না করি বা অস্বীকার করি, তবে কন্যাপক্ষের অভিভাবকের নিকট ঐ কন্যার বিবাহের যাবতীয় খরচ আমি বহন করিতে বাধ্য থাকিলাম ৬৮ চমকি এবং সম্মানহানির ক্ষতিপূরণস্বরূপ পাঁচহাজার টাকা দিতে স্বীকার করিলাম। এই পত্র দলিলস্বরূপে ব্যবহৃত হইতে পারিবে। আরও প্রকাশ থাকে যে, আমি বিবাহের পণস্বরূপ এক কপর্দকও গ্রহণ করিব আর ঘটক বিদায়স্বরূপ বিমল মুখখাপাধ্যায়কে একশত এক টাকা আমাকেই দিতে হইবে। ইতি। নি, সই করুন। -এই আমি সাক্ষী হয়ে আগেই সই করলাম ! দত্ত : (সই করিয়া দিল) তাহলে কাল সকালে কন্যা আশীর্বাদ কবে আসব আমি। হরেন্দ্র ও বেশ, বেশ! তাহ'লে আমি আসি, নমস্কার । দত্ত তাইত, জলটল যে কিছু খাওয়া হল না। কড়া কড়া, বলি ওরে ও শুয়ার! আঃ, মাটি করলে— ফেরার করলে আমাকে। হরেন্দ্র ঃ না না, ব্যস্ত হবেন না। হবে হবে, পরে হবে। দত্ত : না না, ভারি অন্যায় হ’ল । বিমল ও সে অন্যায় আমরা সংশােধন করে দেবাে দত্ত- মশায়। সেই পাত্রটির আবার আসবার কথা আছে --ওঁকে এখন ছেড়ে দিন। দত্ত : বেশ, বেশ। তবে না হয় পরেই হবে। বিমল চলুন, আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি। (হরেন্দ্র ও বিমলের প্রস্থান)
চমকি
দত্ত : (ফটো দেখিতে দেথিতে) (সুরে)
প্রেয়সীর মুখশশী দেখে শশী মেঘে লুকায়।
চাদ ভ্রমে কমলিনী-বিমলিনী মুখ শুকায়।
আঃ! মাটি কবলে, ফেরার করলে আমাকে রে
বাবা! পঙ্গপালের মত সব এসে পড়ল।
(বিমল ও কয়েকজন সিন্ধি-ভাটিয়া জহবৎওয়ালাব প্রবেশ)
বিমল : এই দেখুন দত্তমশায়, এরা সব এসে পড়েছেন।
ইনি হলেন ডায়মণ্ড ট্রেডিংএব ম্যানেজাব-ইনি
কোহিনূর জুয়েলাবিব প্রােপ্রাইটব-ইনি হলেন
হীবালাল মণিলালেব লােক।
দত্ত : আসুন--আসুন।
বিমল : আনুন আপনার পাথর। বৈঠিয়ে, আপনােক
বৈঠিয়ে!
(দত্ত তাড়াতাড়ি পাথর লইয়া আসিল ও টেবিলের উপর রাখিল।)
ডাঃ ট্রেঃ : (পাথর লইয়া) হঁ্যা, প্রেসাস্ স্টোন মালুম হােত
হয়! বহুত পিলদার হয়। লেকেন, ইসকো কাটাই
ককে নেহি নিকানে সে তত ঠিক কুছ, মালুম
নেহি হােগা !
লাল মণিলাল : (পাথর লইয়া) হঁ্যা, ভিতকে দানা
ভি মালুম হােত হয়। ইসকো পহেলে আপনােক
কাটাই ক লিজিয়ে।
৭০
চমকি
কোহিনূর : উ দেখকে হামারা কেয়া মালুম হােগা ! হাম
শুনা থা কি বাবুজি কাটাই কর লিয়া। বাবুজি
কাটাই কবুকে লিজিয়ে। বাঁশতল্লা লেনসে উ জহুরী
লােক হয়—উ লােক্ ঠিক বাতা দেঙ্গে—কাটাই
হােনেসে ক্যাইসা চিজ, নিকলে গা ! আচ্ছা, রাম
রাম বাবুজি ।
(প্রস্থান)
অপর জহুরিগণ : হামলােক ভি যাই বাবুজি ! রাম
বাম !
(প্রস্থান)
দত্ত : বাঁশতলা, রাম রাম । এরা কি আমার শ্রাদ্ধ করতে
চায় নাকি মুখুয্যে ?
বিমল : ভড়কান কেন? আমি বাঁশতলার ওদেরও
আসতে বলে এসেছি। দেখুন না, তারা কি বলে।
নয়ত শেষ পর্যন্ত বােম্বাই ধাওয়া করব। সেখানে
দামও মিলবে বােম্বাই!
(নেপথ্যে) : বাবুজি, বাবুজি !
বিমল : অই—অই— এসে গেছে তারা। আইয়ে
আইয়ে—ভিতর আইয়ে।
(জহুরীর প্রবেশ)
জহুরী : রাম রাম বাবুজি ।
বিমল : বল ত’ বাবা—এই দেখ পাথর। দেখ ত’
৭১
চমকি
ভেতরে কি আছে ? আব কাটাইয়েরই বা দর কি
তােমার শুনি !
জহুরী : (দেখিয়া) পাথর ত’ একদম কাঁচা পাথব আছে।
বাবুজি ! তৈয়াব কবণেওয়ালার খেয়ালসে এইস্যা
হাে গিয়া—সব হি ঠিক হুয়া-কঁহঁসে থােড়া গতি
হাে গিয়া—ব্যস্, একদম্ বৰবাদ হো গিয়া। একশাে
কে একই বাদ হাে গিয়া।
দত্ত : মাটি কবলে বে বাবা, ফেরার করলে আমাকে।
আরে বেশ ত’ তুমি কাটাই করেই দেখ হে বাপু !
জহুরী : ফরমাস্ হােগা তো জৰুব কান্ দেঙ্গে হামলােক্
—লেকি পান্ টাকা রতি মজুবি দেনে হােগা।
দত্ত : কত রতি হবে ?
জহুরী ।
পঁচাশ-একশাে—চাহি কি বেশী হােনে
সেক্ত।
দত্ত : তারপর কত দাম হবে ?
জহুরী : উ আপকা নসীব। হামরা মালুম হােতা কুছ,
হােগা ! একদম কাচ্চা পাথর বাবুজি !
দত্ত : (একটু চিন্তা করিয়া পরে সযত্নে পাথরটিকে বাধিয়া) হু
আচ্ছা, থাকরে বাবা, লক্ষ্মীর হাঁড়িতে ওকে রেখে
দেবাে। কঁচা পাথর একদিন ত’ পাকবে, বংশাবলীর
কেউ না কেউ ত’ ভােগ করবে।
:
। ৭২
চমকি
জহুরী : (হাসিয়া) ফল নেহি যে পাকবে বাবুজি—উত্সকো
পাকা শেষ হো গিয়া! আচ্ছা, রাম রাম বাবুজি !
(প্রস্থান)
(পিছন পিছন বিমলও গেল। দত্ত স্তব্ধ হইয়া রহিল।
কিছুক্ষণ পবে ধীৰে ধীরে গিয়া ঘরে প্রবেশ করিল )
(বিমলের প্রবেশ)
বিমল : দত্তমশায়, কই দত্তমশায় ! ও দত্তমশায় ! যাঃ
বাবা-now here, now gone ! গেল কোথায়
রে বাবা ?
(ঘরে উকি মাবিয়া) এই যে! আর দশটা দোকান
দেখলে হত না?
ভিতর হইতে দত্ত : না।
বিমল : দেখলে কিন্তু ভাল হত। বরং কাল মেয়ে
আশীর্বাদের পব—
ভিতর হইতে দত্ত : না।
বিমল : বিয়ের কথাবার্তাটা এখন
ভিতর হইতে দত্ত : না।
বিমল ? বেশ, তাহলে আমি এখন আসি-রাত্তির
হয়ে গেছে। (স্বগত) যাক্ বাবা, বিয়ের কন্টাক্টটা
পাকা হয়ে গেছে। ওই আমার লাভ । (প্রস্থান)
(কড়ির প্রবেশ)
বড়ির ঃ উঃ অর্থের কি মােহ ! মায়ের বাপ-যে আমাকে
বুকে করে এত বড় করে তুললে--তাকে—উঃ-
৭৩
চমকি
ভিতর হইতে দত্ত : কড়ি । কড়ি রে ।
(কডির ভিতরে গমন)
(রজনী বায়ের প্রবেশ)
বজনী : যাঃ গেল ! এরা সব গেল কোথায় ? ও দিকটা
দেখে আসি।
(প্রস্থান ও পুনঃ প্রবেশ)
কোথায় গেলরে বাপু, ভাল বিপদে পড়েছি ! রাত্রি
হয়ে গেছে ! একি, ঘরের মধ্যে শব্দ কিসের রে
বাপু?
(ঘরের দরজা খুলিয়া ফেলিল। ভিতরে ঢেখা গেল কড়ি
দত্তর কোলের উপর ফোপাইয়া ফোপাইয়া কঁদিতেছে।
দত্তও কাদিতেছে!)
রজনী : কি বিপদ, এ আবার কি—আজ আবার ব্যাপার
কি ?
দত্ত : (কঁদিতে কাদিতে) অর্থের কি মহিমা রজনীবাবু--
(ধীরে ধীরে রজনীর গাঢ় কাল যবনিকার অন্তরালে
সমস্ত দৃশ্যপট অদৃশ্য হইল।)
(ধীরে ধীরে আবার যবনিকা উঠিল—দিবালােকে দেখা গেল
বারান্দায় বসিয়া রজনী, কড়ি ও দত্ত মহাশয়)
কড়ি : কি ভাবছ দাদু ?
দত্ত : ভাবছি (হাসিয়া) না ভাবনা কিসের?
৭৪
চমকি
কড়ি ও কোন সঙ্কোচ তুমি ক’রােনা দাদু, তুমি নিশ্চিন্ত
মনে বিয়ে কর। আমাদের মানুষ করে দিয়েছ।
দত্তঃ ওরে শুয়ার, মানুষ আর করতে পারলাম কই ?
তৈবি করলাম একটা বুনােশূয়ার। উঃ, এগুলাের্তে
আমার কালসিটে পড়ে গেছে—গতর আমার ভেঙে
।
দিয়েছে !
আমার।
?
কড়ি ও আমাকে মাফ কর দাদু,
চোখ
ফুটেছে—জ্ঞান হয়েছে। আমি এবার নিজের পায়ে
ভ দিয়ে দাড়াব। সত্যিই এবার আমি মানুষ হব।
দত্ত : দেখি, তাহলে তােব কোন আপত্তি নাই ত’
কড়ি : না।
দত্ত : আমাব সম্পত্তি টম্পত্তিব আশা ক’র না যেন।
কড়ি : হাসিমুখে ছেড়ে দিচ্ছি দাদু ! তােমার অয়ে
তােমার যত্নে পুষ্ট এই দেহই হবে আমার মূলধন।
(স্বগত) নিজে খেটে আমি উন্নতি করব আর তাকে
খুঁজে বের করব আমি, তার দুঃখ দূর করব আমি ।
দত্ত : শূয়ার, আমাকে মাটি করলে–ফেরার করলে রে
বাবা ! ওসব হবে না বাপু, অন্নের আমার দাম দিতে
হবে হে বাপু, আমার দোকান দেখবে কে হে বাপু!
বিয়ের পরে ছেলেপিলে, দোকান—সব আমাকে
সামলাতে হবে নাকি ?
৭৫ চমকি কড়ি বেশ, তাই হবে—আমি তােমার কর্মচারীর মতই থাকব ! রজনী : তাই থাক্ কড়ি, দত্তমশায় কি আর তােকে ফাঁকি দেবেন। দেবেন বৈকি কিছু! কি বলেন দত্তমশায় ? বিয়ে-থা তুইও কর । কড়ি : (স্বগত) তাকে খুঁজে বের করব আমি—সারা পৃথিবী খুঁজব ! দত্ত : কৈ, মুখুয্যে কৈ এল? এত দেবী কবছে কেন সে? মাটি কববে—ফেরার করবে দেখছি। কড়ি : তুমি কিন্তু এই পােষাকে যেতে পারবে না দাদু। দত্ত : তা' কি হ'লে ভাল হয় বল দেখি? কড়ি : একখানা ভাল ধুতি, সিল্কের পাঞ্জাবী একটা চাদব জুতাে একজোড়া বেশ ভাল—এ না হলে দত্ত : আঃ মাটি করলে-ফেরাব করলে আমাকে। আরে বাপু, তাই যদি ভাল হয় ত’ তাই নিয়ে আয়। ক’টাকা দাম লাগবে? কড়ি : গােটা পনেব- দত্ত : এই নে তিরিশ টাকা—তােবও একসাজ কিনে আনবি। নাহলে সে ত’ ধ আমারই লজ্জা। কি বলেন রজনীবাবু? যা রে বাপু, তাই তাড়াতাড়ি যা’! (কড়ির প্রস্থান)
৭৬
চমকি
দত্ত : আপনাকেও কিন্তু যেতে হবে রজনীবাবু!
রজনী : না না আমাকে আর কেন ?
দত্ত : না না সে বলে শুনব না আমি।
(বিমলের প্রবেশ)
বিমল : কৈ দত্তমশায় ? একি, এখনও আপনি তৈরি
হনি ?
দত্ত : আঃ মাটি করলে বে—ফেরাব করলে আমাকে,
শুয়ারটা! দেরি করছে দেখ না ! কি বিপদ ?
বিমল : চুলটা আঁচড়ে ফেলুন এই সময়ে ! আয়না
চিকণীটা কই?
দত্ত : না না আয়না চাই না, আয়না কি হবে ? হু,
আয়না আমি দেখি না! নিজের রূপ দেখে কি
হবে হু ।
পঞ্চম দৃশ্য
[ হরেন্দ্রের বাড়ি—বসিবাব ঘব, বেশ একটু পবিষ্কার পরিচ্ছন্ন
করিয়া সাজান হইয়াছে। হরেন্দ্র ও বিমলা ]
(জানালার ভিতর দিয়া নিঃশেষে পত্রহীন একটী পুষ্পিত
কৃষ্ণচূড়ার গাছ দেখা যাইতেছে)
হরেন্দ্র : যাও–যাও, মেয়েটাকে একটু মেজে ঘসে
দাও। আর বােধ হয় এরা এসে পড়বে এইবার !
আর খাবার টাবারগুলাে-
৭৭
চমকি
বিমলা : সে তুমি বাজাব থেকে আনিয়ে দাও বাপু।
আগুনের আঁচ আমার সইবে না। ওঃ, যে আমার
বিয়ে, তার দু'পায়ে আলতা!
হবে : দেখ ভবিষ্যৎটা বােঝ। লােকটা অর্থশালী
লােক ! মলেই সমস্ত আমাদের হাতে আসবে।
বিমলা : দেখি বাপু, কষ্টেসৃষ্টে কোন রকমে দেখি !
(নেপথ্যে হর্ণ)
ওই—ওই, যাও–যাও ভেবে যাও।
(বিমলাব প্রস্থান)
এই যে, আসুন—আসুন !
(কডি, দত্ত, বজনী, বিমলেব প্রবেশ, সুসজ্জিত দত্ত ও কডি)
বিমল ও শাখ বাজাতে বলুন হবেনবাবু, শাঁখ বাজাতে
(হরেন্দ্র দ্রুত ভিতবে গিয়া) আঃ, শাঁখ বাজাও
গো-শাঁখ বাজাও !
নেপথ্যে বিমলা : ওই মােটরের ভেঁপু বাজছে—ওতেই
হবে ! পারিনে বাপু, দেহ আমার জ্বলে গেল।
দত্ত : হু! (বলিয়া ঘাড় নাড়িয়া) মুখুয্যে মশায়, শুভসময়
বেশিক্ষণ থাকবে না! কন্যা আনতে বলুন!
বিমল : হরেনবাবু, হরেনবাবু—দে মশায় ! কন্যা নিয়ে
আসুন-শ্যামাকে নিয়ে আসুন।
কড়ি : (স্বগত) হরেনবাবু—দে মশায়—হরেন দে। শ্যামা
এ্যা। (উঠিয়া দাড়াইল)
বলুন।
৭৮
চমকি
দত্ত : এই—এই মাটি
করবে-হতভাগা আমাকে
ফেরার করবে রে বাপু! বলি ওরে ও শূয়ার, এমন
করে তেউড়ে উঠছিস কেন তুই ? বস্“চুপ করে
ব!
নেপথ্যে বিমলা : বলি যাও না, রূপসী-রূপধূপসী-
খুব সাজা হয়েছে, যাও!
কড়ি ঃ (স্বগত) সেই কর্কশ কণ্ঠ ! হা ভগবান !
দত্ত : আরে, আবাব ছটফট করে। তক্তাপােষে কি
ছারপােকা আছে নাকি যে অমন করছিস্ তুই
শূয়ার?
বিমল : (জানালার দিকে চাহিয়া) বাঃ বাঃ কৃষ্ণচূড়ার গাছে
কি সুন্দর ফুল ফুটেছে ! অথচ পাতা নিঃশেষে ঝরে
গেছে। সুন্দর লাগছে।
দত্ত : তাইত বটে। বাঃ বাঃ বাঃ বাঃ! বলিহারি--
বলিহারি ।
বিমল : শুক্নাে গাছে ফুল ফুটেছে দত্তমশায়—শুকনাে
গাছে ফুল ফুটেছে।
(শ্যামাকে লইয়া হরেন্দ্রের প্রবেশ , পশ্চাৎ পশ্চাৎ
খােকনের প্রবেশ)
হরেন্দ্র : প্রণাম কর! (শ্যামা প্রণাম করিল) দত্তমশায়,
এইটা আমার ভাইঝি।
৭৯
চমকি
দত্ত : (চোখে চশমা দিয়া) বাঃ বেশ মেয়ে ! মুখটি তােল
ত, তােল -তােল। (শ্যামা কিন্তু মুখ তুলিতে পারিল না)
দত্ত : (অগ্রসর হইয়া চিবুকে হাত দিয়া মুখে তুলিয়া) হঁা বেশ
মেয়ে-খাসা মেয়ে, খুব পছন্দ আমার ! এখন একটু
হাসত’ লক্ষ্মী মেয়ে ! হাসত' দেখি ! কি ভাই
দিদিমণি-
বিমল : ওই—ওই-ও কি বলছেন দত্তমশায় ? সেরেছে
রে, বুড়াের মাথা ঘুবে গিয়েছে।
দত্ত : (হাসিয়া) হ্যা মুখুয্যে মশায়—দিদিমণি,-আমার
নাতবৌ হবে মেয়েটি ! মােহ আমাব কেটেছে মুখুয্যে
অদৃষ্ট আমার সঙ্গে রহস্য কছিল— এবার আমি
তাকে রহস্য কছি ! কি ভাই, বুড়ােকে বর ভেবে
বুঝি হাসি আসছে না? এইবার ত’ হাসি এসেছে ।
বাঃ বাঃ, মুখুয্যে, এইবার হাজার হাজার মাণিক
আমার সিন্দুকে জমা হবে।
কড়ি ও দাদু-দাদু!
দত্ত : বস্ বস্ বনশুয়ার, তুই বস। মাটি করবি, তুই
আমাকে ফেরার করবি! এ! নাতবৌ শুনবামাত্র
একেবারে লড়য়ে ঘােড়ার মত লাফিয়ে উঠেছে।
হরেনবাবু, এইটি আমার নাতি-নাম তিনকড়ি
চন্দ। এই হবে আপনার জামাই।
!
চমকি
খােকন : তিনকড়ি! Hallo! (কড়ি হাসিয়া ফেলিল)
(শ্যামা সবিস্ময়ে পুলক হাস্যে কডির দিকে চাহিল)
হরেন্দ্র : কিন্তু আপনি ত’ বলেছিলেন যে আপনি-
দত্ত : কি বিপদ! মাটি করলে—সব ফেবার করলে রে
আমাকে ! মশায়, তখন আমার ঘাড়ে ভুত চেপেছিল
—টাকার ভুত—আর এই দালাল ভুত। উঃ কি
সর্বনাশই কছিলে তুমি মুখুয্যে ?
বিমল : What ?
দত্ত ? ও হ্যাট ম্যাট আমার কাছে চলবে না ঠাকুর।
চালাকিতে তুমি আধলা হলে আমি পয়সা-বুঝেছ ?
আশ্চর্য—টাকার স্বপ্নও ভাঙল-নেশাও কাটল ।
কিন্তু কি সর্বনেশে ঠ্যাটা লােক তুমি বাবা বামুনের
পাে ! যাক্, বলেছি যখন, তখন টাকা একশাে
তােমাকে দেবো আমি। এখন বস ত’ ভাই
দিদিমণি-
আশীর্বাদ করি আমি।
(চোখে চোখে ইসারা করিয়া হরেন ও
বিমল বাহিরে গেল )
( আশীর্বাদ হইয়া গেল )
দত্ত : এই কড়া এই শূয়ার-হাঁ করে দেখছে দেখ, যেন
চোখ দিয়ে গিলছে, শুয়ারের একেবারে লজ্জা নাই ।
৮১
চমকি
তা এক-একবার দেখ চোরা ছকে ! হ্যা। কিন্তু
খবরদার ঘুষি খেলতে পাবে না আর! তাহলে কিন্তু
বৌ কেড়ে নেবাে আমি!
কড়ি : কাড়াকাড়িতে দরকার কি দাদুকর না তুমি
বিয়ে। ছেড়ে দিলে কেন ? বেশ মানাত কিন্তু দাদু।
দত্ত : ওরে শূয়ার, কি বলি, মানাত না? তবে দেখ, এস
ত’ ভাই দিদিমণি দাড়াও ত’ আমার পাশে এসে--
দেখিয়ে দিই শূয়াবকে একবাব !
খােকন : আঃ যাও না দিদি-যা বলছেন শােন—উনি
তােমার দেবতা। যাও, যাও!
(শ্যামা সলজ্জভাবে বৃদ্ধ দত্তর পাশে গিয়া
দাডাইল)
দত্ত : শুকনাে গাছেও ফুল ফোটেরে শূয়াব, শুকনাে
গাছেও ফুল ফোটে। এই দেখ। কি ? হাসছিস্ যে?
মানাচ্ছে না?
কড়ি না দাদু সত্যিই খুব ভাল মানিয়েছে। এই দেখ
তুমি নিজেই দেখ।
(দেওয়ালের গায়ে একখানি বড় আয়না ছিল—
আবরণে আবৃত , কড়ি আয়নার
আবরণ সরাইয়া দিল।)
দত্ত : (আয়নার দিকে চাহিয়া আর্তস্বরে) ঢেকে দেঢেকে
দে—ওটা ঢেকে দে কড়ি। ওটা ঢেকে দে।
৬
চমকি
কড়ি : কি হ’ল দাদু ?
দত্ত ঃ (আত্মসম্বরণ করিয়া মানায় নি রে মানায় নি। তাই
বলছিলাম। শুকনাে গাছ আছে, ফুল আছে বোঁটা
নাই। তুই আয় তুই আয় পাশে। দেখ এইবার
দেখ, শুকনাে গাছে ফুল ফুটেছে।
( হরেনের প্রবেশ )
হরেন: দত্ত মশায় একটু মিষ্টিমুখ।
বিমল : সার্টেনলি ! নিয়ে আসুন। জলদি নিয়ে আসুন
মশায়!
( হরেনের প্রস্থান)
দত্ত : দিদি ভাই, তুমি ততক্ষণ একটা গান শুনিয়ে দাও।
বামনা বলছিল তুমি গান করতে পাব।
থােকন : গাও দিদি-নইলে কিন্তু মাকে বলে দেব।
(শ্যামাব গান)
এই সময়ে মানে মানে বিদায় নেওয়াই ভাল।
(তোমার বিদায় দেওয়াই ভাল)
দিগন্তে ওই মিলিয়ে এ মান গােধূলির আলাে।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.