Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Shanti-kanon
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শান্তি-কানন।
শ্ৰীমতী পদ্মাবতী সৈ
বিরচিত।
কলিকা,
৮৯ নং হ্যারিসন রােড, গুপ্ত, মুখার্জী এণ্ড কোম্পানী
দ্বারা মুদ্রিত।
১৩১• ।
মূল্য। চাৰি আনা মাত্র
No text on this page.
শুদ্ধিপত্র পৃষ্ঠা। উৎসর্গ পত্র পংক্তি। উদ্ধ। বিধির বরে এ শান্তিকানন, বিধির বরে শান্তিকানন ৭ २ কোন দিক কোন্ দিক আসবেই আসবেই क्षय ৮ ১৩ জানিস জানিস ৭ দেবেন দেবেন না ১৭ ১২ আছে তাহে ১৮ ১১ পেতে হয় পেতে হয় না দুরে করবাে করূবাে ৩৩ আকাঙ্ক্ষা বৈরাগ্য ৫ ৩৩ সমুদ্রে আকাঙ্গা-সমুদ্রে পাপ তাপহারী পাপহারী ৩৪ পৃষ্ঠায়, “নবম দৃশ্যের” পর, “শান্তিদেবী আসীনা ; বিচক্ষণা ও দৃঢ়মতির প্রবেশ” এই লাইনটী হইবে।
No text on this page.
উৎসর্গ পত্র। ।
পরমারাধ্য স্বগীয় শ্বশুরদেবের
চরণ স্মরণপূর্বক উৎসর্গীকৃত
হইল।
পুণ্যের জীবন তব শান্তি নিকেতন দ্বারে
বিরাজিত চিরদিন সুখ শান্তি একাধারে ;
সেই জীবনের ছায়া পড়ুক এ ধরা পরে
এ কুলে তােমার দেব, আর প্রতি ঘরে ঘরে
করুক বিধির বরে এ শান্তি কানন আমার,
সবাকার প্রাণে প্রাণে সুখ শান্তির বিস্তার।
No text on this page.
নন ।
প্রথম দৃশ্য
সুখখাদ্যান।
সুখ ও তাহার সঙ্গিনীগণ আসীনা।
সুখ। বহিছে আমার নিশ্বাস পবন, সুশীতল করে জনপদ বন,
মম নিরমল সুস্নিগ্ধ ছায়ায় কত জীব রয় হরষ ভরে,
কত জীব ওই মম ছবি লয়ে, রেখেছে সাদরে যতন করয়ে,
কত অনুরাগে সােদরে আমার লয়ে গেছে ওই হৃদয়ে ধরে,
সহচর মাের গিয়ে তার পাশ, কত জনে কত দিতেছে আশ্বাস,
প্রফুল্ল সবার দেহ মন প্রাণ নাচিছে তথায় তরঙ্গ আমার।
পিতার সতত পালি অনুমতি, চিরদিন কোথা করিনা বসতি,
জানেনা অবােধ মানব নিচয় মােরে লভি তাই হরষ অপার।
গীত।
সােহিনী বাহার—একতালা।
সহচরীগণ।
কতরে হরষ লহরী মালা উঠে
যথা দেবীর উজল ভাতি ফুটে।
২
শাস্তি-কানন
গাহে পাখী সুমধুর তানে, হাসে উষা বিমল বরণে,
সবােবর কোলে কমলিনী দোলে পবন কুসুম বাস লুটে।
জাগে জীব বিভু গুণ গানে, একে একে প্রফুল্ল পরাণে,
তরু-লতা-চয় ফুল্ল সমুদয় তটিনী হরষ ভরে ছুটে।
(শাস্তি দেবীর প্রবেশ)
শান্তি। কে তুমি রূপসী, গগনের শশী উদিত ধরায় বল কে শুনি ?
গীত। (রতন আসনে রতন ভূষণে) সুর
সুখ। আমি সুখরাণী, সুর সােহাগিনী,
চির আদরিণী সকলে জানে।
ডাকিনা কাহারে তবু বারে বারে
সকলেই ধায় আমারি পানে।
ইন্দ্রপুরী হ’তে নর সিংহাসন, দরিদ্র কুটীর বন উপবন,
পাতি রাখে সদা আমারি আসন,
আমি খেলা করি সকল স্থানে।
সুখ। সরলা বিমলা যেন দেববালা কে দেবি তুমি ?
গীত।
বাহার--একতালা।
শাস্তি। এস রে সংসার আতপে তাপিত ব্যাকুল তৃষিত প্রাণী।
(আমি) বিজন-বাসিনী আরাম-দায়িনী, কান্তি-হারিণী শান্তি-রাণী,
সুপ্রশান্ত হৃদি গভীর পয়ােধি স্নিগ্ধ শান্ত প্রকৃতি খানি
দিব রে সবারে বিন্দু বিন্দু করে, এস ধীরে ধীরে মােরে বাখানি।
শান্তি-কানন
প্রসারি দিগন্ত নাহি মাের অন্ত, অসীম অনন্তে সতত মানি,
সচঞ্চল চিত সুধীরে গঠিত হবে সমাহিত অবশ্য জানি,
রবেনা যাতনা নিভিবে কামনা, হবে উর্দ্ধমনা রমণী মণি,
তবে সে মহতী সুপবিত্র জ্যোতি দেখাবেন মাতা বিশ্বজননী।
সুখ। শান্তি ! চিরদিন তুমি আমার সঙ্গে সঙ্গে থাক এই
আমার একান্ত বাসনা।
শাস্তি। যেখানে ধৰ্ম্মরাজের সিংহাসন সংস্থাপিত নাই সেখানে
আমি তিলাৰ্দ্ধও থাকিতে পারি না।
সুখ। আমিও সেখানে চিরস্থায়ী নহি।
(সকলের প্রস্থান)
নেপথ্যে গীত।
ধুন—কাওয়ালী।
আনন্দে সকল দিক ছায়, আনন্দে চন্দ্রমা ভাতি ভায়,
আনন্দে নক্ষত্ৰকুল চায় ধরা পানে এক মিলিয়া,
কুমুদ আনন্দে ভাসে জলে, সমীর দোলায় তরুদলে,
মৃদু ঘায় পড়ে ভুমিতলে ফুলচয় রহিয়া রহিয়া।
সুখদেবী তরু লতা সনে ঢালে আহা প্রকৃতির প্রাণে
কত সুধা; সুধাময় প্রাণে জগজন উঠিল জাগিয়া,
কল্লোলিনী কুল কুল তানে, আনন্দ ঢালিয়া দিল প্রাণে,
জগত পূরিল যেন গানে আনন্দেতে সুখেতে ভাসিয়া।
৪
শান্তি-কানন।
(রাজকন্যাগণের প্রবেশ)
দৃঢ়মতি। আহা! মধুর সঙ্গীত।
(নেপথ্যে)
যার তরে বাছা হৃদি সিংহাসন, রাখিয়াছ শূন্য করিয়া যত,
আমিরে তােদের সেই সুখদেবী
বিচক্ষণা। কি সুধাময় বাণী!
সুখ-প্রয়াসিনী। ওইকি সেই দেবী ?
বিলাসিনী। চল দেবীর অন্বেষণে যাই।
গীত
আয়রে সুখ অন্বেষণে যাই,
আয় সে দেবীরে যদি পাই,
ল’য়ে যাব হৃদয়েতে ধরে,
রাখিব রে যতনে আদরে,
আনন্দের সনে সবে থাকিব সদাই।
(সকলের প্রস্থান)
দ্বিতীয় দৃশ্য।
রাজভবন।
রাজকন্যাগণ আসীনা, আনন্দ ও সম্পদ দ্বারে দণ্ডায়মান।
গীত। (সকলে)
হাস বিভাবরী মধুমাখা হাসি, ঢাল শশী ঢাল চন্দ্রিকার রাশি
প্রসূন বদনে হাস তরুদল, হাস সরােজিনী সলিলে ভাসি।
সুখ পারাবার ধরেছি অন্তরে, নয়নেতে জ্যোতি সুহাসি অধরে
হেরি বিশ্বময় হরষের ধারা, সকলি মধুর মধুর বাসি।
বিচক্ষণা। সুখের আবির্ভাবে এ গৃহের কি চমৎকার দৃশ্যই
হয়েছে।
দৃঢ়মতি। দেবীর আগমনে আনন্দ সম্পদ সর্বদা আমাদের
কাছে থেকে গৃহ যেন উৎসবময় করে তুলেছেন।
সুখ-প্রয়া। আমি একাগ্রচিত্তে যে করে দেবীর সেবা কচ্চি
তাতে মনে হয় তিনি কখনই আমাদের পরিত্যাগ করবেন না।
বিলাসিনী। আমি দিবানিশিই ত তার পদতলে পড়ে আছি।
শান্তি-কানন।
গীত।
পুলকে পূরিল প্রাণ দেবীর আগমনে
উঠিল হরষ তুফান এ গৃহ প্রাঙ্গনে
ভবনে সুখের মেলা আনন্দ-করিছে খেলা
অদূরে মধুর ছবি আশা দেখায় নয়নে।
(অকস্মাৎ অন্ধকার, আনন্দ ও সম্পদের পলায়ন)
বিচক্ষণা। কই আনন্দ কোথা ?
দৃঢ়মতি। সম্পদই বা কোথা ?
সুখ-প্রয়। হায় একি হলাে !!
বিলা। উৎসব একেবারে নিভে গেল কেন ?
(নেপথ্যে)
যাই বাছা.কাল পূর্ণ হয়েছে আমার,
(পিতার আদেশে) এসেছে ভগিনী মম দুঃখ নাম তার।
বিলা। সে আবার কে ?
নেপথ্যে। দ্বার খােল পিতার আদেশ, প্রবেশিব গৃহে আমি ।
ৱিচক্ষণা। পিতার আদেশ ?
সুখ-প্রয়া। দিদি তােমার পায়ে ধরি দ্বার খুলােনা।
দৃঢ়। যখন শুচো পিতার আদেশ, না খুললেও ও আপনি
প্রবেশ করবে।
'।
শাস্তি-কানন
(অন্য দ্বার দিয়া দুঃখের প্রবেশ)
সুখ-প্রয়া । ও দিদি এ রাক্ষসী কোন দিক দিয়ে এল।
দৃঢ়। আমি বলেছি ও আসবেই।
বিলা। ওমা তাইত কি হবে ?
বিচক্ষণা। বিধাতা যা করবেন তাই হবে।
সুখ-প্রয়া । ওঃ মুহূৰ্ত্তমধ্যে সুখ সম্পদ আনন্দ সব কোথা
চলে গেল ।
বিলা। কি ঘাের অন্ধকার।
সুখ-প্রয়া। কিছু যে দেখতে পাচ্ছিনা গাে !!
দৃঢ়। ধৈর্য ধর, অধীর হইওনা।
সুখ-প্রয়া। কি করে ধৈর্য্য ধরি দিদি, প্রাণ যে কেমন শূন্য বােধ
হচ্চে।
বিলা। আনন্দের বিচ্ছেদ অসহ্য হয়েছে। আবাগী কি করে
ঘরে এল দিদি ?
দুঃখ। ওরে মূঢমতি! আমার অগম্য স্থান নাই।
পিতার আদেশে যেখানে সেখানে মুহূর্তেই আমি যাই।
সুখ-প্রয়া। ঐ শােন দিদি ! কি বল্ছে।
বিলা। চুপ কর।
দুঃখ। 'প্রবেশি সত্বর মহাবলে রাজ সিংহাসনে,
লয়ে আসি কত রত্নরাজি।
শাস্তি-কানন
লুটায়ে দিই কত মহারাজার মুকুট
ছিল যাহা সুশােভায় সাজি
নিঃশব্দ-পদসঞ্চারে প্রবেশি কুটীরে
লয়ে আসি দরিদ্রের ধন।
যা পাই যেখানে সকলি সংগ্রহ করি
মানি বারণ।
মম নামে ত্রিভুবন ডরে
সবে জানে প্রতাপ আমার ।
ফিরি সর্বব ঠাই সঙ্গী গণে লয়ে
এই রােগ শােক ভয়ঙ্করাকার।
'সুখ-প্রয়া। সেই দেবী চলে গিয়ে এ রাক্ষসী কেন আমাদের
কাছে এল।
রে অবােধ জানিস না তােরা, সােদরার আমি সহচরী
ক্রমান্বয়ে তার পরে পরে সব ধরে পর্যটন করি।
দুঃখের গীত ।
সিন্ধু-ঠুংরি।
কেনগাে পাঠালে সংসার মাঝারে মানব আমারে চাহেনা।
মাের নাম ভেরী বাজে ভয়ঙ্কর, ভীম বজ্ৰ হ’তে আরাে লাগে ডর
পলায় যে ছুটে ভীত নারী নর এ দুঃখের প্রাণে সহেনা।
শাক্তিকানন।
তােমারি সন্তান আমিত গাে পিতা, তােমারি স্নেহেতে সতত পালিত
তােমারি বিধানে এসেছি বিধাতা অবােধ মানব বােঝেনা।
অসার লালসা হইলে অন্তর, মহাদীক্ষা হবে শিক্ষা হলে পর
পড়ে রবে পায় বিশ্ব চরাচর সুখ দুঃখ কথা কবেনা।
হবে স্বর্গ ধরা সব একাকার, হৃদয় কনক দহনে আবার
বিশুদ্ধ উজল হবে নির্বিকার, তাই চিরসুখ রহেনা।
তৃতীয় দৃশ্য।
অন্ধকারাবৃত দুঃখের আগার।
কাতরা রাজকন্যাগণ।
বিচ। কোথা গেল সব চারি দিক একি ঘাের অন্ধকার।
দৃঢ়। দুদিনের সুখ দুদিনে ফুরাল হৃদয়েতে শুধু হাহাকার।
সুখ-প্রয়া। অধীর হতেছে প্রাণ কি করিলে ফিরি আসিবে
আবার আগেকার দিনচয়।
বিলা। ওরে, আর সহিতে না পারি প্রাণ বাহিরায়।
(আশার প্রবেশ)
আশা। শান্ত হও বাছা, ধর ধৈর্য্য ধর,
ভয়ে দুঃখে এত হওয়ােনা কাতর,
পাশে আছি আমি জেনাে নিরন্তর,
কর কানে কানে আশ্বাস বচন।
২.
শাস্তি-কানন।
সুখ-প্রয়া। কে গাে তুমি এত দয়াবতী, প্রাণ পরিতৃপ্ত হলাে
শুনে তব বাণী।
বিল। বল কোন্ দেবী তুমি ?
আশা। আশ্বাসি কাতর জনে আশা মাের নাম,
সংসারী মানব প্রাণে সদা মম ধাম,
শিশু সনে কথা কই বাল্যক্রীড়া সনে,
যুবাজন সঙ্গে কথা কই সঙ্গোপনে,
জাজ্বল্য সংসার কথা প্রৌঢ় জন সনে,
ধন রত্নে সুশােভিত পুত্র কন্যাগণে।
সংসার বাসনা যার দূরে চলে যায়,
নশ্বর পদার্থে প্রাণ ভাঙে শত যায়,
ত্যজিয়া ধরার সুখ, পরকাল পানে
চেয়ে থাকে এক দৃষ্টে আকুল পরাণে,
তখনাে শিওরে আসি কহি ধীরে তারে,
মিলিবে প্রাণের বস্তু আবার সবারে,
আছেরে অনন্ত লােকে অনন্ত আলয়,
অমর আত্মার তথা হবেনা বিলয়,
এরূপ সবার প্রাণে সান্ত্বনা বচন
শুনাতে আলস্য মম নাই কদাচন।
থাকরে আমার কাছে থাক আমরণ,
মৃত সঞ্জীবনী মন্ত্র করিব অর্পণ।
c
শান্তি-কানন।
১১
!
সকলে। আহা! কি শুনলাম প্রাণের বেদনা লাঘব হয়ে মন
যে সবল হয়ে উঠলাে।
দৃঢ়। আমি জানি দুঃখ এসে আমাদের দ্বারে বিপদকে দাড়
করিয়ে যত কষ্ট দিক্ না, বিধাতা যেমন করেই হােক আর যত দিনেই
হােক আর একজনকে পাঠিয়ে আমাদের প্রাণ বাঁচাবার উপায়
করবেনই।
সুখ-প্রয়া। আচ্ছা দিদি ! বিধাতার একি বিচার ? একদিন
আমরা কত আদরে জনক জননীর স্নেহময় কোলে আনন্দের সহিত
খেলা করেছি, তিনি নির্দয় হয়ে আমাদের তা হতে বঞ্চিত করলেন।
আমরা ব্যাকুল হয়ে ছুটাছুটী করে সুখদেবীকে দেখতে পেলাম, আবার
আনন্দের সঙ্গে কত ক্রীড়া করাম, দুদিন না যেতে যেতে সব হরণ
করে এই দুঃখকে পাঠিয়ে আমাদের কত কেশেই ফেললেন।
দেখ দিদি ! আমি এই বিপদের মাঝখানেই স্বপ্ন দেখিছি
যেন ও আবাগী চলে গিয়েছে, যেন সুখ দেবী আমাদের জন্যে আবার
সেই দিন এনেছেন আবার আমরা সেই রকমে দিন কাটাচ্ছি। তার
পর ঘুম ভেঙ্গে দেখি কোথাও কিছুই নাই।
বিচক্ষণা। বােন! এও ঠিক তাই, যখন আমাদের জীবনের সব
ফুরিয়ে যাবে মােহ নিদ্রা ভেঙে যাবে, তখন আমরা এই রকম করে
হাস্বাে, বলবাে এতক্ষণ মােহ নিদ্ৰাবেশে স্বপনের রাজ্যে ছিলাম এই
সুখ, এই দুঃখ, এই মান সম্পদ, যে রাজ্যের সেই রাজ্যেই পড়ে রইল,
বিলা।
-
শান্তি-কানন।
বিলা।
তখন দেখতে পাব সম্মুখে অনন্ত কাল পড়ে রয়েছে, সেখানকার সেই
অনন্ত রাজ্যের শিক্ষা অনন্ত, কর্মক্ষেত্র অনন্ত, জ্ঞান ধৰ্ম্ম সকলি অনন্ত।
তবে বিধাতা এখানে আমাদের এসব কেন ভােগ্ন কর্তে
দিয়েছেন ?
বিচক্ষণা। কেন যে পাঠিয়েছেন আর দিয়েছেন তা আমরা
জানিনা ; আমাদের বুদ্ধির অগম্য।
দৃঢ়। তবে যে যা বিশ্বাস করে সেই অনুসারে আপনার জীবন
চালায়।
সুখ-প্রয়া। আমি ত বিশ্বাস করি আরামে জীবনটা কাটাতে
পাল্লেই ফুরিয়ে গেল।
বিলা। আমি ও ভাই তাই বলি।
আশার গীত।
সিন্ধু-একতালা।
মধুরভাষিণী শক্তিপ্রদায়িনী আশারে যে চায় সেই পায়।
যে অভাগা যায় সীমান্ত ছাড়িয়ে, মােরে কুহকিনী কয় হতাশ হইয়ে,
মহাভ্রান্তি বশে শান্তি হারাইয়ে হতাশে ডুবিয়ে ধুলায় লুটায়।
সুধা ঢেলে প্রাণে কহি কাণে কাণে সঞ্জীবনী মন্ত্র আবার তাহায়,
জেগে উঠে চিত হয়ে পুলকিত, আবার জগতে নিজ কাজে ধায়।
কেহ নাই যার সংসার মাঝারে, শেষ আশা তার আছে স্বর্গপুরে,
হাতে ধরে আমি লয়ে যাই তারে সে মহা উজল আলােক ধারায়।
শান্তি-কানন।
১৩
;
(বিবেকের প্রবেশ)
বিবেক। সম্পদ লইয়া গেছে সুখে বহুদিন,
হয়েছে তােদের গৃহ আনন্দ বিহীন,
বিধাতার বিধি তারা করিয়া পালন
লয়ে গেছে ধন জন রতন ভূষণ;
তবুও তােদের তরে কত অলঙ্কার
পড়ে আছে আশে পাশে দেখ একবার
দেখায়ে দি তুলে নেরে যতনে রতন,
লজ্জা পবিত্রতা প্রেম বিনয় ভূষণ,
অমূল্য সতীত্বহার পরে সযতনে
ধরম মুকুট শিরে ধর ফুল্ল মনে,
দেখ রে পবিত্র নেত্রে মানব নিচয়ে,
জগতের সেবা কর নিঃস্বার্থ হৃদয়ে,
তার পর আঁখি মেলে দেখ একবার
কত তাের ধন রাজ্য অসীম অাের।
বিচক্ষণা। কে তুমি?
বিবেক। আমি তােমাদের প্রহরী। লজ্জাদেবী তােমাদের
সম্মুখীন।
(লজ্জার প্রবেশ)
লজ্জা। এসরে আমার কাছে প্রিয় কন্যাগণ,
সর্বজন জানে মােরে তােদের ভূষণ,
১৪
শান্তি-কানন
বিতরি সবারে স্নেহ যতন আমার,
রাজরাণী কাঙ্গালিনী সম অধিকার,
শিয়রে বিপদ বসে মানবের অরি,
রােগ শােক জুরা মৃত্যু ভয়ে সদা ডরি,
আছরে বিপন্ন হয়ে যেন অনাথিনী,
চলে গেছে ঘৃণা করে সুখ গরবিনী,
আমি ত ত্যজিনি তােরে কভু ত্যজিব না,
যতনে রাখিস যদি কখন যাব না।
বিলা। উনি আবার আমাদের কাছে থাকতে চান। আমাদের
ধন মান সব গেছে, ওকে কেমন করে এখন রাখি।
সুখ-প্রয়া। সত্তিই ত, উনি কি আমাদের মনে প্রফুল্লতা আতে
পারবেন, বরং যে কাজটি কর্তে যার আগে বাধা দিতে বসবেন। ওর
আমাদের কাছে এসে কাজ নাই।
বিবেক। সেটা কি ভাল হয়।
সুখ-প্রয়া। ভাল থােক, মন্দ হােক, তার বিচার তােমায় কৰ্ত্তে
হবে না।
লজ্জার গীত।
কে চাহ রে সরম ভূষণ,
আমি তার হৃদে রব ফুল হার সুচিকন।
কর্ণের কুণ্ডল হব, সুকরে বলয় হব,
অধরে তাম্বুল হব নয়নে অঞ্জন।
সুচারু বসনে ঘিরে, তারে সাজাইব ধীরে,
চরণে নূপুর হব কুপথের নিবারণ ।
ললনায় লালিত্য দিয়ে, রাখিব রে সাজাইয়ে,
পুণ্য পথে লয়ে যাব দেব ধৰ্ম্ম নিকেতন।
বিচক্ষণ। বােন! আমরা দুর্বল জাতি, লজ্জা দেবী যদি আমা-
দের কাছে থাকেন তাহলে অনেক বিপদ হতে বাঁচতে পারবাে।
বিবেক। ওঁরা তাঁকে থাকতে দেবেন তােমরা তবে তার সঙ্গে
যাও।
দৃঢ়। চল বিচক্ষণা আমি তােমার সঙ্গে যাই।
বিচক্ষণ। এদের পশ্চাতে ফেলে যেতে পা উঠছেনা।
দৃঢ়মতি। নইলে আমরাও যে বিপদে পড়ব।
বিচক্ষণা। ভগ্নি ! বিদায়, আমরা এ স্থান হতে চলিলাম।
দৃঢ়মতি। বিবেক! আমরা অগ্রসর হই, তুমি ভগ্নীদের বুঝিয়ে
নিয়ে এস।
(উভয়ের প্রস্থান)
বিবেক। আমিত ছাড়বাে না, ওরা যদি আমায় ছাড়েন। অবােধ
রাজ তনয়া তােমাদের এই কি উচিত হলাে, এক পিতা মাতার সন্তান
হয়ে এক জায়গায় পালিত হয়ে এক শিক্ষা লাভ করে, শেষ এত ভিন্ন
প্রকৃতি ধরে ওদের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হলে ? হায় কি পরিতাপ! তােমা-
দের কি দুরদৃষ্ট!
শান্তি-কানন।
সুখ-প্রয়া। বালাই ! আমাদের শত্তুরের দুরদেষ্ট হােক। ওরা
তেজ করে এখান থেকে চলে গেলেন তা আমরা কি করবাে।
বিলাসিনী। বিবেক ! তুমি আমাদের কাছ থেকে সরে দাঁড়াও
বলচি।
(স্লান মুখে বিবেকের প্রস্থান।)
সুখ-প্রয়া। (পদচারণ করিতে করিতে) কি করে আমাদের
সুখদেবীকে ফিরিয়ে আনা যায় বল দেখি?
বিলা। আমি ও ত সেই উপায় অন্বেষণ কচ্চি।
(লােভের প্রবেশ।)
লােভ। এস এস মম সনে ওগাে রাজ তনয়া,
সুখ দেবী তব প্রতি হবে অতি সদয়া,
হৃদয়ের সৎ প্রবৃত্তি বিনিময় করিয়ে,
কত সুখ রত্নরাজি দিব আমি আনিয়ে।
(বিবেকের পুনঃ প্রবেশ)
বিবেক। রাজ কুমারি ! ও যাদুকর, ওর কথায় বিশ্বাস করে
ওর সঙ্গে কখনই যেও না।
সুখ-প্রয়া। আবার এসেচিস্ ! ওকে মেরে তাড়িয়ে দেতােরে।
বিলাসিনী। আমরা তােমায় চাহিনা তুমি কেন কাণের কাছে
ভ্যান ভ্যান কৰ্ত্তে এস ?
(বিবেকের প্রস্থান)
শান্তি-কানন।
১৭
লােভ। চলনা তােমরা যা চাও আমি তাই দিতে পারি।
আমি আড়ালে আড়ালে সবার কাছে থাকি যে আমায়
ডাকে তাকে কত কি দেখাই !
উভয়ে। তুমি এমন ভাল লােক, চল তবে তােমার সঙ্গে যাই।
(গীত)
চলিয়াছে চিতনদী সুখসিন্ধু পানে,
কে পারিবে নিবারিতে এ গতি জীবনে।
মিলিয়া কল্পনা সনে, ভ্রমিতেছি কত স্থানে,
কত কি মাধুৰ্য হেরি বিমিশ্রিত সুখ সনে ;
কত রত্ন ধন জন, কত প্রেম অতুলন,
চিত্রময়ী কল্পনা কত চিত্র আনে
আছে আশা মনােলােভা দেখায় মধুর শােভা,
মেলিয়া কামনা আঁখি হেরি সে দৃশ্য নয়নে।
সকলের প্রধান।
।
চতুর্থ দৃশ্য।
ধৰ্ম্মরাজমন্দির সম্মুখস্থ আত্মপ্রসাদোদ্যান।
বিচক্ষণ ও দৃঢ়মতি আসীনা।
দৃঢমতি। দিদি ! কত দিন হয়ে গেল আমরা ভগ্নীদের ছেড়ে
এখানে এসেছি, বিবেকের পরামর্শ অনুসারে এত দিন জগতের সেবায়
শাস্তি-কানন।
1
.
নিযুক্ত হয়ে পরম সুখে আছি, কিন্তু যখন মনে হয় আমাদের প্রাণের
সহােদরাগণ বিবেকের কথায় কর্ণপাত না করে, লােভের বশবর্তিনী
হয়ে বিপথে গিয়ে কত কষ্ট পাচ্ছেন তখন প্রাণ বড় ব্যাকুল হয়।
বিচক্ষণা। বােন ! জানত লােক নিজের কৰ্ম্মফল ভােগ করে।
তাদের এ মুখতার অপরিণামদর্শিতার ফল একদিন ভােগ করতে
হবেই। আমরা নাকি এক পিতা মাতার সন্তান তাই তাদের দুঃখে
আমাদের প্রাণে এত আঘাত লাগে। মতিভ্রম হয়ে তারা তা
বুঝতে পারলে না। আমাদের মিছে কষ্ট।
দৃঢ়। এখন যদি তারা আপনাদের ভ্রম দেখতে পেয়ে সাবধান
হয়ে বিবেকের পরামর্শ গ্রহণ করেন তা হলে ভবিষ্যতে আর কষ্ট
পেতে হয়।
বিচ। তা আর ভেবে কি করবাে বল, বােন। ও সব জ্ঞান
নিজের না হলে কেউ বুঝিয়ে কিছু কর্তে পারে না। বিধাতার রাজ্যে
অমৃত গরল প্রচুর পরিমাণে আছে। তিনি মনুষকে শ্রেষ্ঠ জীব রূপে
সৃজন করে যথেষ্ট বুদ্ধিশক্তি ও ধর্মপ্রবৃত্তি ও অপরাপর উৎকৃষ্ট
অপকৃষ্ট প্রবৃত্তি সকল প্রদান করে এই বিশাল জগতে বিচরণ কৰ্ত্তে
দিয়েছেন; মানুষ সেই প্রবৃত্তির দ্বারা পরিচালিত হয়ে যে যা গ্রহণ
করে পরিণামে তার ফল ভােগ করে।
সে কথা যথার্থ। কিন্তু দিদি অনেক স্থানে ত এমনও দেখা
যায় যে যথেষ্ট বুদ্ধি বিবেচনা সত্ত্বেও দেবতাবাঞ্ছিত অমৃত তুচ্ছ করে,
কেহ বা সারা জীবনটা আকণ্ঠ গরল পান করে নরকগামী হয়ে পড়ে।
;
দৃট।
শান্তি-কানন।
r
=
বিচ। সে যারা নিতান্ত কুপ্রবৃত্তির দাস, সংসারে যার আত্মসংযম
করবার ক্ষমতা বা চেষ্টা নাই, তার জীবনে বুদ্ধিবৃত্তি সকল জায়গায়
কাজে লাগে না, অথবা সংসার সংগ্রামে সে একেবারেই অপটু।
দৃঢ়। দিদি ! সাধারণ লােকের কি আত্মসংযমের ক্ষমতা থাকে?
বিচ। না থাকলেও চেষ্টা কৰ্তে কৰ্ত্তে সেই ক্ষমতাটা এসে পড়ে।
অনেক স্থলে, ঐরূপ সৎ আকাঙ্ক্ষা থাকলে আর কিছু না হােক, অন্ততঃ
হঠাৎ কুপ্রবৃত্তি দস্যু এসে মনােরাজ্য অধিকার কৰ্তে পারে না।
দৃঢ়। এই দেখ দিদি ! আমরা মায়ামন্দির সম্মুখ দিয়ে কত
রে এসেছি, চল স্বস্থানে যাই।
গীত।
মরমের শিয়রে দাঁড়ায়ে
কে ওই গাইছে যেন গান,
সুধুই কি আপনা লইয়ে
জীবনের হবে অবসান।
জগতের শ্রেষ্ঠ জীব হয়ে
কি করিলি আসিয়ে ধরার,
সম্মুখেতে কর্মক্ষেত্র পড়ে,
ফিরে না চাহিলি একবার।
বৃথা অলসে, বিলাসে মাতিয়া
কত যে সময় বহে যায়,
২•
শান্তি-কানন।
জগতের অভাব ঘুচাতে
নাই কিরে তিলেক সময়।
পঞ্চম দৃশ্য।
;
জনশূন্য প্রান্তর।
বিলাসিনী ও সুখ-প্রয়াসিনী।
সুখ-প্রয়া। কই এখানে যে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না,
আমাদের কি মিথ্যা প্রলােভন দেখিয়ে এখানে আলে নাকি ?
বিলা। আমি আর চল্তে পাচ্ছি না, পিপাসায় প্রাণ কেমন
কচ্চে। হায়! কেন তখন বিবেকের কথায় কাণ দিলাম না।
সুখ-প্রয়া। অত অধীর হও কেন ? সাহস করে চল না ; ঐ
দেখনা ওদিকে ফল পুষ্প শােভিত উদ্যান দেখা যাচ্চে অবশ্য ওখানে
সরােবর আছে।
বিলা। বােন, আমার বােধ হয় ও মরীচিকা মাত্র, বাস্তবিক
ওখানে কিছুই নাই। সুখ দেবকে পুনঃপ্রাপ্ত হব বলে কত কাণ্ডই
কলুম, কই কিছুই ত হলাে না; চল ফিরে যাই, বিবেকের কথা শুনে
ভগ্নীদের অন্বেষণ করে তাদের সঙ্গে মিলিত হই।
সুখ-প্রয়া। তুমি কি পাগল হয়েছ, এ পথে এতদূর এসে ফিরে
যাওয়া কি সহজ কথা ?
শাস্তি-কানন।
.
বিলা। তবে কি এখানে প্রাণ হারাবে ? না দত্যু হস্তে
পড়বে ? শুনেছি এপথে বড় ডাকাতের ভয়। চল আর একটু
এগিয়ে দেখি কোন উপায় হয় কি না।
(অগ্রসর হওন)
পট পরিবর্তন।
বিলা। একি! আরাে দুর্গম স্থানে এলাম যে।
সুখ-প্রয়া। তাই ত এদিকে সন্ধ্যা হয়ে এল।
বিলা। (সরােদনে) মাগাে ! এ কোথায় এসে পড়লুম। এ যে
সেই পাপ ডাকাতের রাজ্যে এসেছি।
সুখ-প্রয়া। তাইত কি সর্বনাশ !!
(উভয়ের গীত)
যােগিয়া বিভাস—একতালা।
কোথায় আসিনু, পথ ভুলিয়ে, তরাসে পরাণকঁপে থর থর।
এ ঘাের আঁধারে সুদূর প্রান্তরে আসিয়ে যে হায়! ব্যাকুল অন্তর।
কোথ। আত্ম জন কোথা সে ভবন, কোথা সে সৌভাগ্য সুখের কানন,
কোথা গেল হায় সে সুখ স্বপন, দুদিনের খেলা ফুরাল সত্বর।
ডাকি গাে কাতরে, বিবেক তােমারে, এসহে বারেক চাহ দয়া করে,
লােভ যাদুকর এনেছে গাে ধরে, এ বিপথে হায় উদ্ধার উদ্ধার।
(পাপ ডাকাতের প্রবেশ)
পাপ। এই যে উদ্ধার করাচ্চি, এখানে এসে আর পালাবে
কোথা ?
રર
শান্তি-কানন।
আয় অনুচর, বেঁধে লয়ে রাখ কারাগারে,
এই দুরাচারদ্বয়ে যন্ত্রণা মাঝারে।
পটক্ষেপণ।
ষষ্ঠ দৃশ্য।
মায়ামন্দির সম্মুখ ।
মায়াদেবী ও বিচক্ষণা ও দৃঢ়মতি।
মায়া দেবীর গীত
বাবােয়া-ঠুংরি।
মায়া ভবের বন্ধন।
মায়া না থাকিলে পরে কে কার আপন।
যতনে দেছেন বিধি, এ অমূল্য মায়া নিধি,
মানব দানব হ’ত বিনা এ রতন।
ভব পারাবার পারে, ডােবে মায়া অন্ধকারে,
ভাবার্তীত নির্বিকারে মায়ার নিধন।
মায়। (বাচারে) কি বারতা ল’তে এসেছিস মম পাশে?
জানি আমি ; শুধাওনা আর,
প্রাণ চমকিত হয় শ্রবণে সে সব,
নয়নেতে বহে অশ্রুধার।
শান্তি-কানন।
২৩
দৃঢ়। সে কি ? ওমা তাদের কি হয়েছে?
মায়া। ছাড়িয়া তােদের সঙ্গ সহােদরাদ্বয়,
ভমিল যে কত স্থান কত দেশময় ;
শুনিল বিবেকের বাণী একবার,
ভাবিল না কি হইবে পরিণাম তার ;
অনিত্য সুখের তরে প্রাণের ভূষণ,
অকাতরে বিসর্জন দিল ধৰ্ম্ম ধন;
লােভ যাদুকর পরে বিপথে লইয়া,
পাপ ডাকাতের রাজ্যে দিল সে ফেলিয়া,
ভীষণ সে দরাজ মুদগর হানিয়া,
যন্ত্রণা কারার দিল বন্দিনী করিয়া।
বিচ। আহা হা ! আমরা যা ভেবেছি তাই।
দৃঢ়। দিদি, তারা কি অবস্থাতেই পড়েছে; এখন উপায়
হবে কি ?
বিচ। অপরিণামদর্শিতার ফল এই। এখন অনুতাপ যদি
তাদের দয়া করেন, তিনিই বিবেককে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধারের উপায়
করুবেন।
দৃঢ়। আঃ ভাবলুম কোথায় জীবনের অবশিষ্ট কাল নির্জনে
বসে ভগবানের ধ্যানে মগ্ন হব। তা আর কপালে ঘটছে না।
বিচ। বােন, জানত যে ঈশ্বরের প্রিয়কাৰ্য্য সাধন করাই
জীবনের প্রধান কর্তব্য। শুধু নির্জনে বসে ধ্যান করায় সে হয় না।
;
?
০
২৪ শান্তি-কানন। যাতে সমস্ত জগতের মঙ্গল হয় আগে সেইটী দেখা উচিত। কোন মহাত্মা বলেছেন, যে মানুষ যখন ছােট থাকে তখন সে যেমন সুধু পিতাকে খাতিরটুকু করে ভাই বােনকে অযত্ন কল্লে তিনি অসন্তুষ্ট হন। বিদ্যার্থী বিদ্যাভ্যাস না করে শুধু গুরুসেবা কল্লেও যেমন গুরুর প্রিয় হতে পারেন না, পত্নী পতির আজ্ঞানুসারিণী হয়েও সংসারে যত্নহীনা হলে যেমন পতির মনােরঞ্জিনী হতে অপারগ হন। তেমনি মনুষ্য শুধু ধ্যানে বসে থেকে জগতের মঙ্গলসাধনে দেহ মন নিযুক্ত না কল্লে দেহান্তে মুক্তি লাভ হয় না। এ কথা অনেকেই বিশ্বাস করেন। দৃঢ়। সত্যি দিদি। সে কথা যথার্থ। এখন আমার ভ্রম দূর হলাে, মনই যদি চঞ্চল হতে লাগলাে, তখন ভাল কাজে চিত্তের প্রবৃত্তি না হলে, ধ্যান ধারণার প্রকৃত অবস্থা হতে অনেক দূরে পড়ে থাকতে হয়। বিচ। বিবেচনা কর, কোন নিষ্ঠাবতী রমণী গৃহকর্মে, পতিপুত্র- সেবায়, আত্মীয় পরিজনের প্রতি, দাস দাসীর প্রতি, ব্যথিত, অসহায়ের, সকলের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তবে দিনান্তে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞ হৃদয়ে নিজের ইষ্টদেবতাকে সরল বিশ্বাসের সহিত সুস্থমনে একবার পূর্ণপ্রাণে ডাকতে পারে, তবে তার সংসারে কত তৃপ্তিতে দিন যায় । আর যে রমণী জগতের পানে না তাকিয়ে, সংসারকে অবহেলা করে, সকলের বিরাগভাজন হয়ে, প্রথম জীবনে অপরিপক্ক বয়সে কেবলি বসে জপ তপ করে, সকল সময় সে কি মনে শান্তি পায়, যদি তার ৩ সংসারের কর্তব্য সাঙ্গ না হয় ?
শান্তি-কানন।
२०
দৃঢ়। দিদি, বিধাতা কি সকলকেই এক কাজের জন্য পৃথিবীতে
পাঠিয়েছেন, আমার মনে হয় কেউ বা ধর্মের মাহাত্ম প্রচার করতে,
কেউ বা সংসারের কাজে নিযুক্ত থাকতে, সেবার জন্য এসেছে।
বিচ। অবশ্য। তবে মনুষ্য জাতি, কেবলি মস্তিষ্কবান্ জড়পিণ্ড
নয়, বিধাতা প্রদত্ত চোক্, মুখ, নাক, কান, হাত, পা নিয়ে জন্মেছে,
এ জগতে সবাই অম্লাধিক পরিমাণ কৰ্ম্মে নিযুক্ত থাকিতে জগদীশ্বরের
নিয়মেই বাধ্য।
বাধ্য। ভেবে দেখ, নিজের ভগ্নীদের সুপথে আনবার জন্য
পরিশ্রম ও সময় ব্যয় কখনই বৃথা হবে না।
দৃঢ়। তবে চল আর বিলম্ব কেন ?
গীত।
দেশ—আড়াঠেকা।
সে শুভ মুহূর্ত দেব আসিবে কখন,
সপিব ভােমার পদে দেহ প্রাণ মন।
জগতের হিত তরে,
নিয়ােজিব দুটি করে,
রিপুকুলে ত্যজি হব নিৰ্ম্মল জীবন।
বিনাশি বাসনাগণে,
তােমারি অভয় চরণে
নির্ভর করিব প্রভু জীবন মরণ।
।
৪
শান্তি-কানন!
সপ্তম দৃশ্য।
( পাপের ) যন্ত্রণা কারাগার।
বন্দিনী বিলাসিনী ও সুখপ্রয়াসিনী ; এবং অনুতাপ।
(গীত)
পাহাড়ী—আড়।
কন্যাদ্বয়। কলঙ্কে কলুষমন, পাপ দণ্ডে অবসন্ন,
কাতরে কঁদে গাে পাপী, কোথা পাতকী তারণ।
ভগ্নপ্রাণে নিরবধি, অবনী লুটায়ে কঁদি,
কভু কি এ বেদনার হবে না গাে অবসান।
শুনেছি পাপ যাতনা, মরণেও ফুরাবে না,
বিনা বিভুর করুণা করুণা নিধান,
সে করুণা কণা দানে, তারগাে আকুল জনে,
ঘুচাও প্রাণের জ্বালা মুছাও দীন নয়ন।
সুখ-প্রয়া। হায় কি করলুম, কি হলাে, অনিত্য সুখের আশায়
উন্মত্ত হয়ে অমৃত ভ্রমে গরল পান করে পাপ দর রাজ্যে যন্ত্রণায়
ছট কপি।
বিলা। হা দুরদৃষ্ট ! বিধাতা কি আমাদের এই জন্যে সৃজন
করেছেন ?
অনুতাপ। বিধাতার দোষ কি বল, তােমরা আপন কৰ্ম্মের ফল
শান্তি-কানন।
२१
ভােগ করছে, এখনও যদি আমার কাছে এস, বিবেকের শরণাপন্ন
হও, তবে উদ্ধারের উপায় হয়।
সুখ-প্রয়া। তুমি কেগাে এ পাতকিনীদের কাছে ? এখান
হ’তে মুক্ত হবার আর কি উপায় আছে ?
অনুতাপের উক্তি
বার বার পাপাচারে কঠিন পাষাণ
হয়ে যায় হৃদি যার বিষম অজ্ঞান
সেও যদি মম সনে মিলেরে কখন,
অচিরে কলঙ্ক তার হয় বিমােচন,
বাহু প্রসারিয়া আমি কোলে লই তারে,
লয়ে যাই জ্ঞানালােকে পাপরাজ্য পারে,
যতনে নয়নদ্বয় খুলে দিয়ে তার
দেখায়ে দি’ করেছে সে যত পাপাচার,
অধৰ্ম্ম কম্মেতে পরে ঘৃণা জন্মাইয়া,
ত্যজি তবে তারে আমি ধৰ্ম্মপথে দিয়া।
জগতের লােকে ত্যজে পাপী দুরাচারে,
পতিতপাবন কভু না ত্যজেন কারে।
গীত।
কন্যাদ্বয়।
প্রাণে, কি অমৃত ঢালিলে,
হতাশ কাতর জনে আশা দানে জুড়াইলে,
২৮
শান্তি-কানন
পাপ প্রাণ যে তাপিত, হবে কিগাে তিরপিত,
কি সুখ বারতা আজ অভাগীরে শুনাইলে।
(অনুতাপের অলক্ষ্যে অবস্থান ও বিবেকের প্রবেশ।)
বিবেকের উক্তি
•
উপেক্ষিয়া মম বাণী অভাগিনী বালা,
ধরেছি গলে আজ বিষময় মালা
হায় রে । হৃদয় হতে দিছি যখন,
দয়া ধৰ্ম্ম লজ্জা প্রেম করে উৎপাটন,
স্বার্থসুখ তরে কত হৃদয়ের ধন
বিকায়েছ অবহেলে; কিনেছ. যখন
লােভ পরতন্ত্র হয়ে কুবাসনাচয়ে,
লয়েছ সে সব প্রাণে যতনে নির্ভয়ে,
কালেতে সে কাল ফণী করিবে দংশন,
বিষের জ্বালায় জ্বলি করিবে রােদন,
তখন অবােধ মনে হয়নি কখন
জগত কলঙ্কী বলে করিবে ঘােষণ।
লােভ সহকারে করে যথা ইচ্ছাচার
পাপ রাজ্যে পড়ে দেখ অকুল পাথার।
সুধাভ্রমে করিয়াছ গরল সেবন,
এবে সদা করিতেছ গতানুশােছন,
শান্তি-কানন।
২৯
,
পড়িয়া এ কারাগারে মহাযন্ত্রণায়
অধীর হইয়া কঁাদ প্রাণ যায় যায়।
( ভগ্নীদ্বয়ের, বিবেকের পদতলে পড়িয়া )
বিলা। আর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিওনা, চৈতন্য হয়েছে,
অধর্মের প্রতিফল হাতে হাতে পেয়েছি। আর নয় প্রাণ বড়
ব্যাকুল হয়েছে, আর যে পারিনা সহিতে, দয়া কর, দয়া করে এ
নরক হতে উদ্ধার কর।
ওগাে আর কুপথে যাবনা, তােমার সঙ্গ ছাড়া হব না, এবার ক্ষমা
কর; তােমার কথা না শুনে; ভগ্নীদের ছেড়ে এই দুর্দশায় পড়েছি,
উদ্ধার করগাে, উদ্ধার কর, যথার্থ কাতর প্রাণে বলচি উদ্ধার কর।
সুখপ্রয়া। আর এমন হবেনা, অনুতাপের সঙ্গে মিলে জীবনের
পরিবর্তন হয়েছে, এবার অন্তরের অন্তর থেকে বিশ্বের ভাই ভগ্নীকে
বলবাে “পাপ পথে যেওনা, ধৰ্ম্মধনে ত্যজোনা, অসার সুখেতে কভু
ভুলােনা।”
বিবেকের পুনরুক্তি।
তবে ওরে আয় চলে আয়,
ভগ্ন প্রাণে হাে পুনঃ বল,
ডেকে লও লজ্জাশীলতায়,
জীবনের সুসঙ্গী সকল
দ্বিগুণ উৎসাহ দিবে তােরে,
৩০
শান্তি-কানন।
পাপ সনে করিতে সংগ্রাম
সাজ সাজ বিলম্ব না করে,
তবে তােরা পাবি নিজ ধাম,
ত’রে যাবি চির দিন তরে,
রবেনারে যাতনা অপার,
ভাসিবি আনন্দ সরােবরে,
দেখা পাবি সাধ্বী সােদরার,
সুপবিত্র পােবন মাঝে
সুখে তারা করিছে বসতি, :
তথা দেব ধৰ্ম্মরাজ রাজে
চির শান্তি দেবীর সংহতি,
বিশ্বাস অনল চারিভিতে
জুলিতেছে উজল আভায়,
বাহিরের কল্লোল নাশিতে
আছে শত প্রহরী তথায়,
শুদ্ধ আত্মা নর নারীচয়
সুখে বাস করেরে তথায়,
হিংসা দ্বেষ শূন্য যে হৃদয়,
সংসারে যে সুকৃতি করয়।
কোথা সেই সুখময় সুন্দর কানন,
লয়ে চল সাথে করে করি দরশন,
সুখ-প্রয়া।
শান্তি-কানন।
হইব নিষ্কাম হৃদি করিয়া মার্জিত,
নতুবা পরাণ সহ করি উৎপাটিত,
ত্যজি কারা, ছিন্ন করি পাপের বন্ধন,
সংগ্রাম করিব আজ করে প্রাণপণ ।
পটক্ষেপণ
অষ্টম দৃশ্য
তপােবন ।
দ্বারে প্রহরী দণ্ডায়মান। বিলাসিনী ও সুখপয়াসিনীর
গীত।
যােগিয়া বিভাস – একতালা।
মােরা পথহারা ক্লান্ত কলেবরা,
আসিয়াছি গাে অমৃত দুয়ারে,
কৃপা বিতরণে চাহ দীন জনে,
বাঁচাও গাে প্রাণে এ সংসারে,
এস নর নারী, শান্তি ভিখারী, :
চল সারি সারি কানন মাঝারে,
সে কানন মাঝে, ধৰ্ম্মরাজ রাজে
সুপবিত্র সাজে লইতে পারে।
।
শান্তি-কানন।
দ্বারী। কি করবাে বাছা দ্বার খুলবে না, ফিরে যাও।
সুখপ্রয়া। আমরা বড় আশা করে এসেছি যে গােয় যতক্ষণ
দ্বার না খােলে এইখানে পড়ে থাকবে।
দ্বারী। (অন্যদিকে ফিরিয়া) এত বড় মুষ্কিলের কথা দেচি!
বিল। দ্বারি ! আমরা বড় দুঃখী, অনেক কষ্টে এসেছি, দ্বার
মােচন করবার উপায় করে দাও, আর কোথা যাব, আমাদের স্থান
নাই
দ্বারী।
এতে আর বাছা কাশী বৃন্দাবন নয় যে মনে কল্লেই
যাওয়া যায়। এখানে আসা বড় শক্ত কথা। অর্থাৎ যে সে লােকের
পক্ষে শক্ত, আবার সাধুদের পক্ষে তেমনি সহজ।
সুখপ্রয়া। আমরা শুনেছি যে গাে, যে যত কেন পাপ করুক না,
সময়ে বুঝে সেই পাপ ঘৃণা কল্লেই তা হতে মুক্ত হয়।
দ্বারী। আরে বাপু মুক্ত হলেই কি হয় ? কত সুকৃতি ফলে
যে এ কাননবাসী হতে পারে তা জান ?
বিলা। আবার কি তবে দুঃখসাগরে ভাসতে হবে ?
দ্বারী। মিছে দুঃখ কল্লে বাছা কি হবে বল ।
সংসারে নানা রূপ সৎকৰ্ম্ম করে, প্রলােভনে জয়ী হয়ে জীবন পবিত্র
রেখে আত্মপ্রসাদ লাভ করেছেন তিনিই এখানে ধৰ্ম্মরাজের পদতলে
শান্তি দেবীর শীতল ছায়ায় অবস্থান করে চির সুখ প্রাপ্ত হন। আর
যে হতভাগ্য জীবনের অপব্যবহার করে পাপে লিপ্ত হয় পরিণামে
সে পাপ মুক্ত হলেও অনুতাপের সহিত কাল কাটায়, পরে বহু সৎকৰ্ম্ম
শান্তি-কানন।
ও সাধনা ও পরীক্ষার ফলে এই পােবন প্রাপ্ত হয়। আর যে
আত্মসংযমে অক্ষম হয় সে কখনই এখানে স্থান পায় না।
(বিবেকের প্রবেশ)
বিবেক।
যাও বাছা যাও সংসারে আবার,
সমুৎসাহ মনে
সুকাৰ্য সাধনে
রত হও পাবে আনন্দ অপার।
সাধিলেই সিদ্ধ হয়রে মানব,
কিন্তু রেখাে মনে নিত্য ধৰ্ম্ম বলে
হবেরে মঙ্গল তাহাতেই সব।
যাও বাছা পুন সংসারে ফিরিয়া
করাে প্রাণপণে,
মনের দমনে,
প্রয়াস সতত স্বার্থে বিনাশিয়া।
করােনারে কভু যশের কামনা,
পুণ্য পথে রয়ে দৃটমতি হয়ে,
করিও ইন্দ্রিয় জয়ের সাধনা।
পরহিত তরে দিও রে জীবন,
সংসারের কাজে
প্রােভন মাঝে
জয়ী হয়ে লও এই পােবন।
(বৈরাগ্যের প্রবেশ।)
এস, মানবের শেষ জীবনের বন্ধু আকাঙ্ক্ষা তুমি এস, নতুবা
সংসার সমুদ্রে ডুবে মরে।
৩৪
শান্তি-কানন
গীত।
বৈরাগ্য।
আমি বৈকুণ্ঠের দ্বারী উদাসী ভিখারী, সাধুজনে ডেকে লয় রে,
বিলাসী সংসার করেগাে দহন পড়ে থাকি মরু প্রান্তরে,
ডেকে লয় যেবা করি তার সেবা স্মরিয়ে চিন্ময় হৃদয়ে।
পট ক্ষেপন।
নবম দৃশ্য।
গীত।
খাম্বাজ-একতালা।
আয়রে ত্রিদিব শােভা কে দেখিবি আয়,
ব্ৰহ্মাণ্ড মথিয়া শােভা বিরাজে হেথায়,
পবিত্র প্রকৃতি সাজ,
সিংহাসনে ধৰ্ম্মরাজ,
পূতনীর পুণ্য নদী ধীরে বহে যায়,
সাধু হৃদি শতদল,
কত যে তাপস দল,
সে তটিনী তীরে ব্রহ্ম ধ্যানে মগ্ন রয়।
বিচক্ষণা। দিদি ! এখানে কত দিন আছি তবু এখানকার দৃশ্যের
শােভা দেখে কখনও বিতৃষ্ণা হয় না। যত দেখি তত নূতন বােধ হয়।
দৃঢ়মতি। এখানকার সকল দ্রব্য, সকল কাৰ্য্য, সকল দৃশ্য,
সুপবিত্র, সুন্দর, সুকোমল ও সুস্নিগ্ধ।
শান্তি-কানন।
৩৫
বিচ। দিদি। ভগিনীরা তাে শুনেছি অনেক দিন সংসারের
হিতসাধনে নিযুক্ত থেকে পুণ্য লাভ করে পবিত্র হয়েছেন, এখনাে
তবে কেন এখানে আগমন করচেন না?
(নেপথ্যে)
গীত।
সাহান-ঝাপতাল।
ভ্ৰমিয়া সংসারণ্যে এসেছি হেথায়,
দাও গাে মা শান্তিরাণী, পদছায়া তনয়ায়,
বিমল বিমুক্ত প্রাণে,
এসেছি তােমার পানে,
কোলে লও কোলে লও জুড়াক তাপিত কায় ।
( বিলাসিনী ও সুখপ্রয়াসিনীর প্রবেশ; শান্তিদেবী স্বয়ং বাহু প্রসারিত
করিয়া আলিঙ্গন।)
শান্তি। হও মগন সত্বর, হেথা আছে অমৃত সাগর।
( সুখদেবীর প্রবেশ ।)
সুখদেবী। নই আমি ধনে মানে ভূষণে তুষিত,
লােভাসক্ত নরে নই প্রীতিময়ী কখনই
আমারে লভিতে চাও লও নিজ হিত,
পুণ্যপথ কর সাব, পাবে শান্তি অনিবার,
যেথা শান্তি, সেথা সুখ চির বিরাজিত।
(নেপথ্যে শঙ্খধ্বনি ও সঙ্গীত)
শান্তি-কানন
জয় লােকাশ্রয়,
ধৰ্ম্মরাজ জয়,
জয় জয় জগতারণ,
জয় বিশ্বপাতা,
অখিল বিধাতা,
জীবকুল সুখ-নিধান,
জয় পাপ তাপহারী, সাধুচিত্তচারী,
পাষণ্ড পাতকী দলন।
তুমি নিরাকার, নিত্য নির্বিকার,
অতীত মনুজ লােচন,
জয় দীন জন ধন,
অন্ধের নয়ন,
জীবন বিহীনে জীবন,
জয় সুরপতি,
নরপতি পতি,
ব্যাপ্ত চরাচর ভুবন,
দীনে দয়া কর,
দেখাও মুরতি মােহন,
দাও শ্রীচরণ,
অনাথ শরণ,
সকাতরে করি বন্দন।
(পট ক্ষেপন)
সবর্বতাপ হর,
সমাপ্ত
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.