Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Lahari

Mukhopadhyay,kalipada · 2009/11/30

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

লহরী

No text on this page.

লহরী।
শ্ৰীকালীপদ মুখোপাধ্যায়
প্রণীত
কলিকাতা।
PUBLISHED BY DAY BROTHERS.
12, Cornwallis Street,
৬৫।২ বিভনীট দেব-যন্ত্রে?
ঐগিরিশচন্দ্র চক্রবর্তী দ্বারা মুদ্রিত।
মূল্য। আনা

No text on this page.

উৎসর্গ
প্রিয় সুরেন্!.
কবিতা ভালবাস বলিয়াই হউক, অথবা
তােমার স্বভাব ভালবাসা বলিয়াই হউক, আমার
কবিতা গুলিতে তােমার বড়ই ভালবাসা ; তাই
যখন তখন দু একটী কবিতা লিখিয়া তােমাকেই
দিতাম, তুমি সে গুলি যত্ন করিয়া রক্ষা করিয়া-
ছিলে বলিয়া আজ তাহা মুদ্রিত ও প্রকাশিত
হইল। ফলতঃ ইহাতে তােমারই অধিকার, তাই
আজ সাধ করিয়া এই “লহরীর” হার তােমার
গলায় পরাইয়া দিলাম দেখিও ভাই দরিদ্রের
দান বলিয়া যেন উপেক্ষা করিও না ইতি।
শুভাকাঙ্ক্ষী
শ্ৰীকালীপদমু খােপাধ্যায়।

No text on this page.

লহরী।
“যাই।”
১
যাই যাই সখা তুমি আর যাই বােলােনা ;
শুনিয়ে তােমার যাই,
প্রাণে প্রাণ নাহি পাই,
হৃদয় শুকায়ে যায় মুখে কথা সরেনা,
যাই যাই সখা সখা তুমি আর মাই বোলােনা।
२
যাই যাই সখা তুমি আর যাই বদলােনা ;
“যা” শুনে প্রাণ কাদে,
যাইতে চরণ বাধে,
“যাই” কথা পৃথিবীতে আর যেন বয়না,
“নাই” কথা শুনবারে আর যেন হয় না।
যাই যাই সখা তুমি মুখে আর এনাে না,
বাই শুনে বুক ফাটে,
নিশ্বাসে নল ছুটে,

২
লহরী।
মাথা ভেঙ্গে বাজ পড়ে প্রাণ আর থাকে
যাই কথা সখা তুমি মুখে আর এনাে না।
৪
যাও যদি প্রিয়তম যাই কথা বােলােনা ;
অশনি সম্পাষ্ট সয়,
শব্দে প্রাণ নাহি রয়,
কত ব্যথা দেয় “যাই” নাহি তার তুলনা ;
যদি না রহিবে সখা তবু “যাই” বােলােনা।
যাও যদি সখা তুমি প্রাণ কভু রবেনা,
চোকের আড়াল হােলে,
হুহু কোর প্রাণ জ্বলে,
চোলে যদি যাও :খা দেখা আর হবেনা ;
তােমার বিরহে এাণ কখনই রবেনা।
ভালবাসা এত জালা ,গেত তা জানিনা
৮
সতত বসনা মনে,
মিলে থকি যথা সনে,
পৃথিবীর ভােগ সুখ বি ডুই তো চাহিনা ;
ভালবাসা এত জ্বালা আগেতো তা জানিনা।
ক্ষণেক দাড়াও সখা একবার দেখিব ;

লহরী।
মিটার প্রাণের আশা,
যুড়াইৰ ভালবাসা,
চিত্তপটে চিরতরে ও মুরতি আঁকিব ;
ক্ষণেক দাড়াও সখ। ধরে তো না রাখিব ।
বারেক দাড়াও সখা প্রাণ ভােরে হেরিব ;
প্রেমের কুসুম বল,
বিরহা গঙ্গাজল,
মিশায়ে যতনে আজি তােমায়ে যে পূজিব ;
প্রাণ দিয়ে প্রেম ব্ৰত উদ্যাপন করিব।
তবু চোলে যাও সখা কেন বাধা দিয়িব ;
হৃদয়ে যে ছবি আছে,
সে রহিবে সদা কাছে,
মন খুলে দুট কথা তার সনে কহিব ;
যখন করিব মনে তখনি ত হেরিব ।
“আসি” বােলে যাও সখা বাধা আর দিবনা ;
কাতরে এ ভিক্ষা চাই,
অন্য কিছু বাঞ্ছা নাই,
পাষাণ হইয়ে প্রাণে ভুলে যেন থেকনা ;
যাবার সময় সখা “যাই” আর বােলােনা।

৪
লহরী।
“আসি।”
১
*আসি” আসে এপরাণ এতক্ষণ রবেনা ;
কি প্রবােধ দিব মনে মনত যে মানেনা ;
“আসি” এই প্রতীক্ষায়,
সময় বহিয়া যায়,
তবু “আসি” সে সময় আর ত যে আসেনা ;
“আসি” আসে এ পরাণ এত ক্ষণ রবেনা।
২
কার তরে কঁাদ প্রাণ সে তােমার হবেনা,
বামনে ধরিবে চাদ এ বাসনা রবেনা;
তবু কেন আশা তার,
বলি তােমা বার বার,
এমন দুরাশা ছিছি কভু আর কোরোনা ।
কার তরে কাদ প্রাণ সে তােমার হবেনা।
নন্দনের পারিজাত নরে কভু পায় না ;
দেবের দুলভ ফুলে মন যেন যায় না;
যদি আশা কর তায়,
সে আশা বিফলে যায়,
মাঝে পড়ি অনুতাপ সার বই হয়না ;
নন্দনের পারিজাত নরে কভু পায় না।

লহরী।
৫
১
চাদ পানে চেয়ে বলি আয় আয় আয় না ;
সে চাদ আকাশ ছাড়া অন্য কোথা যায়না।
ডাকেনা সে কুমুদিনী,
তবুতারে নিশামণি,
কতই আদর করে ডাকাডাকি চায়না ;
ভালবাসা ছেড়ে মন অন্য দিকে ধায়না।
বনে ফুটে বন ফুল কেউত তা জানেনা ;
অমর আপনি যায় ফুল তারে ডাকেনা।
যে যাহারে ভাল বাসে,
ডাকিতে যায় পাশে,
অনাদর অভিমান কিছুইত মানেনা ;
মাথা কুটে মর যদি অন্য ঠাই যাবেন।।
তনু মন কার তরে উচাটন হােতেছ
স্বভাবে নিয়ন বাধা ভুলে কেন যেতেছ
চুম্বক লােহারে টানে,
লোহা তার প্রেম জানে,
প্রেমে বাঁধাবাঁধি সব দেখিতেই পেতেছ ;
তবু কেন তার তরে উচাটন হােতেছ।

৫।
লহরী।
“আসি” বােলে চোলে গেল, ফিরেত সে এলোনা
আসে আসুক কিন্তু তুমি তারে ভুলােনা।
কি গুণ তােমার আছে,
দাড়াইবে তার কাছে,
অভিমান বৃথা তবে কোরােনাইে কোরােনা।
সাধনের ধন যাহা সহজে মেলেনা।
কেন বৃথা কঁাদ প্রাণ আর তুমি কেঁদনা।
“আসি” আশা কোরে বৃথা অার তুমি থেকোনা।
দেবতা আরাধে যারে,
তুমি ভাল বাস তারে,
একথা শুনিলে লােকে হাসিবে কি জাননা
তাই বলি বৃথা প্রাণ আর তুমি কেঁদনা।
ফুলটী।
ফোট তুমি বন ফুল বনের মাঝারে
হাস সে মধুর হাসি,
আমি যাহা ভালবাসি,

লহরী।
দুরে থেকে ফুল
আমি হেরিব তােমারে ;
পীড়িব তােমা কভু গুরু কর ভারে ;
ফোট ফুল কানন মাঝারে
বন মাঝে ফোট ফুল বনেতে বসতি,
সংসার যাতনা সব,
পড়ে না নয়নে তব,
যাতনা সহিতে নয় ও চারু মুরতি ;
তাই বিধি নিরজনে দিল অবস্থিতি ;
হাস ফুল রাখগাে বিনতি।
ছােবনা তোমারে ফুল ছোনা ছােবনা;
সুকোমল দল হয়,
পাছ হতে ৬ যায়,
কোনা সে ভয় ফুণ নে কোরনা,
দূর থেকে হেরে ফুল গুৰৰ বাসনা;
নকটেতে যা যাবনা।
হাসরে কুসুম তুলি হাঃ অনিবার;
হাস ও ঐ এiণভােরে,
দেখিব থাকিয়ে দূরে,

৮
লহরী।
সুকোমল অঙ্গ ফুল যােবনা তােমার
চাবনা তােমার পানে রুক্ষ্ম চক্ষে আর ;
হাস ফুল হাস অনিবার
অতি সুকোমল ফুল তব চারু কায়,
কঠোর পরশ মাের,
সবেনারে অঙ্গে তাের,
বাসন্তি সমীর মৃদু তােমারে দোলায়,
চারু অঙ্গে চারু কর চাদিমা মাখায় ;
কেন স্পর্শ করিব তােমায় ?
ফুল তব চারু অঙ্গে চারু আভরণ,
সাজায় যতনে অতি,
গাথিয়ে মুকুতা পাতি,
শিশিরের বিন্দু কিবা মানস মােহন।
চারু অঙ্গে চারু হার সুচারু ভুষণ।
কেন সবে মম পরশন।
هه
বড় ইচ্ছা করে ফুল তুলিয়ে তােমারে,
আদরে হৃদয়ে ধরি,
হেরি তােরে আঁখিভরি,

লহরী।
পুরাই প্রাণের আশা এ ছার সংসারে,
কিন্তু আশা পূর্ণ ফল কবে দেছে কারে ?
ভয় নাই ছােবনা তােমারে ।
৮
নিকটে তােমার ফুল যাবনা যাবনা,
কি জানি নিশ্বাস পেয়ে,
যাও পাছে শুকাইয়ে,
তাই ফুল দূর থেকে পুরাব বাসনা,
চাবনা চাবনা ফুলছােবনা ছােবনা,
কোন ভয় কোরনা কোরনা।
সহিতে পারনা ফুল পরশ কঠিন,
কিন্তু যবে অলিবরে,
আসিয়ে পীড়ন করে,
নাহি ছিড়ে পর্ণ গুলি না হও মলিন ;
আরাে তব প্রফুল্লতা বাড়ে সেই দিন
সে পরশ না হবে কঠিন।
০
বুঝিয়াছি ওরে ফুল কারণ তাহার,
যে যাহারে ভালবাসে,
সে যায় তাহারি পাশে,

লহরী।
পীড়নেও হয় সুখ অনন্ত অপার;
তুমি ত অলির কেনা, অলিত তােমার,
ভালবাসা সংসারের সার।
•
তােমা বলে নয় ফুল স্বভাবের রীতি
সূর্যের প্রখর করে,
কমলিনী পুড়ে মরে,
তবু হাসে প্রেমভয়ে প্রফুল্পিত মতি;
অথচ শিশির পাতে জর জর অতি
ফুল এই স্বভাবের রীতি।
১২
ফোট তুমি বন ফুল কানন মাঝারে
হাস সে মধুর হাসি,
আমি যাহা ভালবাসি,
দূর থেকে ফুল আমি হেরিব তােমারে।
পীড়িব তােমা কভু গুরু কর ভারে
ফোট ফুল কানন মাঝারে।
একটী কথা।
১
কে বলে সরলে সুচারু ও চাদ ?
কলঙ্ক কালিমা রয়েছে তার।

লহরী।
তৰ মুখ চাৰু নিরমল ছাদ
বিধির কারু প্রকাশ যায়।
২.
ঢল ঢল জ্যোতি উছলি পড়িছে
আপন ভাবেতে আপনি ভরা।
কিরণের সনে কিরণ খেলিছে
নাশিয়ে তিমির উজলি ধরা।
সেই বলে ভাল সুনীল নলিনী
হেরেছে যেই ও চারু আঁখি।
কামের তুলিতে আঁকা সুহাসিনি
বাসনা নয়নে মিশিয়ে থাকি ।
৪
লোকে বলে সুধা চাদে নাকি রয়
তাই সুধাকর চাদেরে বলে ।
কবির কল্পনা কিসে কিবা হয়
কল্পনার কথা সব কি ফলে?
হেরেছি নয়নে কল্পনা এ নহে
সুধার প্রবাহ অধরে তব।
আমরি কেমন ধীরে ধীরে বহে
কিসে সুধাকর চঁাদেৰে কৰ ॥

১২
লহরী
বড় অভিমান কেশরিণী করে,
তব চাৰু কটা দেখিনি বলে।
দেখিতে যদ্যপি ভিলেকের তরে
বাচিত না কভু মরিত জলে।
৭
ফুল দিয়ে বিধি গগড়েছে তোমায়
ফুলের প্রতিমা তুমিললা ধনী।
নতুবা এ শােভা জগত মাঝারে
থাকে কি মানুযে কহ স্বজনি ?
মুষমার সার করিয়ে গ্রহণ
গেড়েছে ওরূপ তােমার বিধি।
বৃথা সেই আঁখি কোরেছে ধারণ
হেরিল না তব ওরূপ যদি।
ও কোমল কায় রূপের বাজার!
রূপের পশরা মাথায় করে।
বসে াছ ধনী নদীর কিনার
দেখো দেখো যেন পাড় না পরে।
মকর কুমীর কত জলচর,
ঘুরে ঘুরে সদা বেড়ায় তীরে।

লহরী।
'যদি পায় তারা সীমার ভিতর !!
নারিৰে উঠিতে কখন ফিরে।
ভাঙ্গিল।
ভেঙ্গেছে আমার সাধের বাজার,
ভেঙ্গেছে আমার প্রেমের হাট।
ভাঙ্গা হাটে প্রিয়ে হয়না পসার,
উঠে গ্যাছে সব দোকান পাট ।
২
ভেঙ্গেছে সাধের সাজান বাগান,
ফুল ফল কিছু ধরেনা আর।
হুহু করে মরু দেখে ফাটে প্রাণ,
এত যে যতন.হেলেনা সার !
ভেঙ্গেছে শাখাটি না ফুটিতে ফুল,
শুকায়ে গিয়েছে কুসুম কলি।
আর না গুঞ্জরে আসি অলিকুল,
সুখের সে দিন গিয়াছে চলি।
৪ :
ভেঙ্গেছে আমার সাধের পিঁজর,
পােৰাপাখী মের উড়েছে তাম।

১৪
লহরী।
বসন্তে আমার ঘােটেছে বাদর,
দিবসে আঁধার হয়েছে হায় ।
সাধের নিকুঞ্জ ভেঙ্গেছে আমার,
ললিত লতিকা গিয়াছে ছিড়ি।
ভঙ্গেছে আমার সুখের বিহার,
খালি মাটী হায় রােয়েছে পড়ি।
ভেঙ্গেছে সুখের স্বপন আমার,
বড় দুঃখে যায় হৃদয় জ্বলি।
ভেঙ্গেছে আমার মায়ার বিকার,
আর কেন মিছে ভ্রমেতে চলি।
৭
কাচের বাটিটা ভাঙ্গিলে যেমন,
জোড়া আর প্রিয়ে লাগে না, তা
ভেঙ্গেছে হৃদয় ভেঙ্গেছে তেমন,
মিলায়েছে আশা বাতাসে হায়।
থাক থাক সুখে প্রেয়সি আমার,
গরবে যতন করহে এবে।
হব কন্টক না ফিরিব. আর,
এ পােড়া পরাণে সকলি সবে।

০
লহরী।
‘কেট’ ·
কে অই সাগর তীরে, ফিরিতেছে ধীরে ধীরে,
বিষাদ নিগড়ে বাঁধা চলে না চরণ রে।
দৃষ্টি আকাশের গায়,
ধরা পানে নাহি চায়,
পৃথিবীর কিছু তাতে নাহি যেন মন রে ।
সুতপ্ত সিকতায়, চতুর্দিক অগ্নিময়,
কৃশানু সমান ভানু মাথার উপরে রে ।
অনিলে অনল ঢালে, আলা মরীচিকা জলে,
মুর্তিমতী বিভীষিকা যথায় বিহরে রে ।
নাহি অবসাদ জ্ঞান, যেন দেহে শূন্য প্রাণ,
বাসনা সম্ভোগ আশা কিছুমাত্র নাই রে।
জীর্ণবাস সূচি বিদ্ধ, কোরেছে সুতনু বদ্ধ,
দীর্ঘশ্বাসে জীবিতের চিহু শুধু পাই রে।
খুলে গেছে কেশরাশি, অধরে বিলুপ্ত হাসি,
মেঘে ঢাকা রাকাশশী তবু মিটি চায় রে।
নিবেছে রূপের জ্যোতি, তবু আলাে করে ক্ষিতি,
সুষমার শেষ কভু নহে শূন্যতায় রে।
* (Cowper's Task) পুস্তকে লিখিত আছে কেট নামে
কটী রমণীর স্বামী সাগরে ডুবিয়া যায় সেই জন্য সেই বালিকা
মুদ্রের ধারে পাগলিনীর ন্যায় বেড়াইত। তাহাই লইয়া
ঐ কবিতাটা লিখিত হইয়াছে।

লহরী।
সাগরে প্রাণের পতি, ডুবে গ্যাছে তাই সতী,
মৃতপতি আশে সদা ঘুরিয়ে বেড়ায় রে।
সংসারের বুদ্ধিবল,
সমস্তই রসাতল,
আপন বলিতে আর নাই কেউ তায় রে ।
প্রেমের দেউটী তার, নিবেগেছে অন্ধকার
হােয়েছে জগৎব্যাপী আলাে মাত্র নাই রে ।
সুখের সাগরে মরু,
দাবদগ্ধ প্রেম তক,
জীবনের, গ্রন্থিছিন্ন জনম বৃথাই রে।
কভু বসে কভু উঠে, কভু ধায় ছুটে ছুটে,
কল্পনা জাগায় যেন আগেকার স্মৃতি রে ।
আবার বিষম, বাধা, নয়নে লাগিয়ে ধাধা,
সৈকত পুলিনে পড়ে হারাইয়ে স্মৃতি রে ।
ঝর ঝর অশ্রু ঝরে,
পুন উচ্চহাস্য করে,,
বিকট চীৎকারে কাপে অনন্ত মেদিনী রে ।
পতি বিনা জ্ঞানহারা,
জীবনে সমাধি সারা,
পতিহীন আজি বালা কেট পাগলিনী রে।
‘না’
অইত গগণে,
আবার চাদ,
অইত কুসুম হাসে।
অইত চকোর,
চঁাদের কোলে,
সুধায় ধরণী ভাসে।

লহরী। ১৭ ০ অইত সমীর, সুধীর বহে, জুড়ায় তাপিত কায় । অইযে পাতায়, শিশির কণা, মুকুতা ফলের প্রায়। ফুটিয়ে কুসুম, অই লতাটা, চুমিছে তরুর মুখে। সােহগে সুধীর, অই যে তরু, ধরিছে লতায় বুকে । চাঁদের কিরণ, মাখিয়ে গায়ে, সোহাগ ধরে না আর। হাসিছে কুমুদ, সােহাগী সতী, নাহি আনন্দের পার। চলে কল কল, অই যমুনা, মিশিতে সাগর সনে। সাধ কোরে হার, পরিয়ে গলে, গাদের কণায় এনে । সেই ত সময়, আবার এলাে, সেই ত আবার সাধি। সেই ত সময়, আবার গেলো, আর কতই বা কাদি। সবাই জানে, কুসুম কোমল, শিশির শীতল অতি ।

লহরী
চাদের কিরণ,
মধুর বড়,
এই স্বভাবের রীতি।
বিষের জ্বালায়,
জ্বালায় অতি,
প্রাণ যে কাতর বড়।
চাহ একবার,
নয়ন কোণে,
অই “না” কথাটী ছাড়।
বিদায়।
প্রিয়তমে বিদায় এখন!
বৃথা আশা বার বার,
কেন আর অভাগার,
মানসে উদিত হােয়ে করে জ্বালাতন,
প্রিয়তমে বিদায় এখন।
হবেনা কখন যাহা,
কেন বৃথা আশা তাহা,
কেন মায়া মুগ্ধ হােয়ে কাটাব জীবন,
আকাশের চাঁদ ধরা পারে কি বামন ?
প্রিয়তমে বিদায় এখন!

লহরী)
প্রেয়সিরে ভুলিবনা আর,
বৃথা শ্রমে এত দিন,
কাটায়ে হেয়েছি ক্ষীণ,
পৰমেশ প্রেমে প্রিয়ে মজিব এবার ;
প্রেয়সিরে ভুলিবনা আর,
সংসার নরক মাঝে,
•কপটত নানা সাজে,
ভুলায় মানবগণে কে পায় নিস্তার,
ছলনা বঞ্চনা নিত্য সহচরী তার,
প্রেয়সিরে ভুলিবনা আর।
প্রেয়সিলো ভুলিবনা আর।
লভিয়াছি দিব্যজ্ঞান,
জুড়াব তাপিত প্রাণ,
শান্তির কোমল ক্রোড়ে ত্যজিয়ে সংসার,
প্রেয়সিলাে ভুলিবনা আর।
হয়েছে রজনী তাের,
ভেঙ্গেছে ঘুমের ঘাের,
চিনিয়াছি সত্য তত্ব কেহ নহে কার,
ওকে যে আমার ভাবা কাদা মাখা সার,
প্রেয়সিলাে ভুলিবনা আর।

२०
লহরী।
৪
হেন ভাব ছিলনা, কখন।
প্রেমের সাগরে আগে,
ভাসিতাম অনুরাগে,
প্রেম দিয়া গড়া যেন ছিল এ ভুবন,
মরু সম নিরখি এখন।
প্রেমের মধুর গান,
আগে দিত সুধা দান,
এখন বিষের মত জ্বালায় শ্রবণ,
প্রেম কথা শুনিবারে নাহি চায় মন,
হেন ভাব ছিলনা কখন।
=
ভেবে দেখ পড়ে কিনা মনে ?
আগে আগে কত সুখে,
বসি দোহে মুখে মুখে,
কত মত আলাপন, কোরেছি ললনে,
ভেবে দেখ পড়ে কিনা মনে ?
কখন প্রেমের গান,,,
কখন অমিয় দান,
কোরেছ তুষিতে এই প্রেমাধীন জনে,
হায় বুক ফেটে যায় অতীত স্মরণে ;
ভেবে দেখ পড়ে কিনা মনে ?

লহরী।
ভেবে দেখ পড়ে কিনা মনে ?
একদা গবাক্ষ বসি,
হেরি পূর্ণিমার শশী,
হাসি হাসি বােলেছিনু অয়ি বরাননে।
কি ছার পূর্ণিমাশশী ও চাদ বদনে।
তখনি প্রেয়সি লাজে,
আমার হৃদয় মাঝে,
লুকাইলে চারু মুখ আবরি বসনে,
লভিলাম কত সুখ সে মুখ চুম্বনে।
ভেবে দেখ পড়ে কিনা মনে ?
৭
বল প্রিয়ে হয় কি স্মরণ ?
বকুলের ফুল গুলি,
একদা যতনে তুলি,
গাথি চিকণ মালা মানস মােহন,
বল প্রিয়ে হয় কি স্মরণ ?
কোথা পাব অলঙ্কার,
ধর ভাই ফুল হার,
দরিদ্রের শক্তি যাহা করিল অর্পণ,
অমনি হাসিয়ে গলে করিলে ধারণ !
বল প্রিয়ে হয় কি স্মরণ ?

২২
লহরী।
ৰল গ্রিয়ে হয় কি স্মরণ?
মুক্ত করি কেশ পাশ,
বসিলে আমার পাশ,
সাজাইমু ফুলে ফুলে মনের মতন,
বল প্রিয়ে হয় কি স্মরণ ?
ফুলের করিনু মালা,
ফুলের গড়িনু বালা,
ফুলের প্রতিমা যেন করিল শশাভন,
বন দেবী বলে প্রিয়ে করিনু চুম্বন,
বল প্রিয়ে হয় কি স্মরণ ?
বল প্রিয়ে হয় কি স্মরণ ?
বায়ু সেবনের তরে,
উঠিঃ ছাদের পরে,
গলাগলি হােয়ে তথা বসি দুজন।
বল প্রিয়ে হয় কি স্মরণ ?
সুন্দরী পাইয়ে কোলে,
সমীরণ হেলে দুলে,
নিদ্রার আবাশে তােমা করিল মগন,
কার কোলে ঢেলে প্রিয়ে পড়িলে তখন,
বল প্রিয়ে হয় কি স্মরণ ?

লহরী।
চির দিন সমান না যায়।
এই পুর্ণিমার শশী,
বিমল আকাশে বসি,
এই কাল রাহু আসি গ্রাসিল তাহায়,
অমানিশা হােলল পুর্ণিমায়।
সােনার কমল জলে,
• এই নাচে হেলে দুলে,
এই পুনঃ ছিঃ বৃন্ত কাল ঝটিকায়,
শােভা হীন পর্ণগুলি ভেসে ভেসে যায়,
চিরদিন সমান না যায়”
হায় প্রিয়ে সে দিন কোথায় ?
যখন তােমার সনে,
এক প্রাণ এক মনে,
সুখেতে কেটেছে কাল কত সুখ তায়,
কথায় কি কছু বলা যায় ?
এক আশা নিবারিত,
পুনঃ অন্য সঞ্চারিত,
ভমিতাম সদা কাল অনন্ত আশায়,
হেরিম সুখ ভরা সমগ্র ধরায়।
হায় প্রিয়ে সে দিন কোথায় ?
ক

২৪
লহরী।
* *
১২.
হায় প্রিয়ে সে দিন কোথায় ?
সেই ফুল সেই হাসে,
সেই লতা তরু পাশে,
সেই পাখী সেই গান ওই পুনঃ গায়,
তবু কেন প্রাণ জ্বলে যায় ?
সেই ত সকলি আছে,
কেবল আমার কাছে,
কিছুই লাগেনা ভাল প্রাণের জালায়,
বিষমাখা আজি যেন হেরি সমুদায় ;
হায় প্রিয়ে সে দিন কোথায় ?
ফুরায়েছে সে দিন আমার।
গরল উগারে চাঁদে,
প্রেম নামে প্রাণ কাঁদে,
অনিলে অনলকণা ডালে অনিবার,
ফুয়ায়েছে সে দিন আমার।
কালো আশার তরু,
হৃদয় হইল মরু,
নীরস জীবনে কিবা প্রয়ােজন আর,
তবু কেন থাকে প্রাণ কিবা আশা তার ?
ফুরায়েছে সে দিন আমার ।

লহরী।
শ
ফুরায়েছে সে দিন আমার,
অলক্ষ্যে পশেছে চোর,
কেটেছে প্রেমের ভাের,
ছিন্নতার কাণা প্রিয়ে বাজেনাকো আর,
হায় বৃথা পরিশ্রম সার ;
সুখের ভরন্ত নদী,
হায়রে দারুণ বিধি,
শুকাইল শান্তি নাহি হাতে পিপাসার,
আই ঢাই করে প্রাণ না দেখি নিস্তার,
ফুরায়েছে সে দিন আমার।
হায় বৃথা হইল যতন,
হৃদয়ের কুঞ্জবনে,
প্রেমের লতাটি এনে,
পাধ করে মন সুখে করিনু রােপণ ।
সে সাধ না হইল পুরণ !
ফলিবে সুরস ফল,
আশায় দ্বিগুণ বল,
: ফলিল বিষের ফুল ভাগ্যের লিখন,
হায় রে বিধির বিধি কে করে লঘন ?
হায় বৃথা হইল যতন ।

২৬
লহরী।
হায় বৃথা হইল যতন,
+ সাধের শারিটী ধােরে,
প্রাণের পিঞ্জরে ভােরে,
রাখিনু শিখানু কত প্রেম আলাপন।
হায় বুলি ধরিল যখন,
কার সনে ছিল বাদ,
কে সাধিল পরমাদ,
ফাকি দিয়ে পাখীটির ভুলাইল মন,
পােষ পাখী ফিরে মাের চায় না এখন,
হায় বৃথা হইল যতন!
1.
১৭
বিধাতার দারুণ ছলনা,
সাধের গােলাপ গাছ,
আনিনু বাছের বাছ,
প্রেমের কাননে রােপি পুরানু কামনা,
হায় সার হলাে আনা গােনা,
ফুটিল ফুলটি যবে,
সুবাস ছুটিল তবে,
তুলিতে বিধিল কাটা ঘাের বিড়ম্বনা,
আঘ্রাণে দংশিল কীট হায় রে যাতনা,
বিধাতার দারুণ ছলনা।

লহরী।
२१
১৮
প্রেয়সিলাে ছিলেন এমন ;
রূপ গুণ ধন মন
কোরেছিলে তুচ্ছ জ্ঞান,
হৃদয় ভরিয়া ভাল বাসিতে তখন,
কেন হেন হইলে এখন ?
প্রেমের লহরী সঙ্গে,
উঠিতে বসিতে রঙ্গে,
প্রেমের উচ্ছাসে তব ভাসিত জীবন,
ছিল প্রেম মূল মন্ত্র তােমার তখন,
প্রেয়সিলাে ছিলে না এমন।
প্রেয়সিলাে ছিল না এমন,
মিশাইলে প্রাণে প্রাণ,
আনন্দে হরিল জ্ঞান,
প্রেম বিনিময়ে প্রেম অমূল্য রতন,
পরিণাম তার কি এমন ?
প্রেমের কুহক বলে,
হাতে স্বর্গ দেখাইলে,
নিরাশা নরকে পুনঃ করিলে ক্ষেপণ,
এই কি জগতে প্রিয়ে প্রেমের লক্ষণ,
প্রেয়সিলাে ছিলে না এমন।

২৮
লহরী।
२०
প্রিয়ে তব কি কঠিন মন ।
এত ভাল বাসাবাসি,
এত হাসা এত হাসি,
কোন্ প্রাণে প্রেয়সিলো দিলে বিসর্জন ?
হায় তব কি কঠিন মন।
যে বিধি গােলাপে কাটা,
চঁাদেতে কলঙ্ক গোটা
দিয়াছে, সে বিধি তােমা কোরেছে সৃজন,
কুসুমের দেই হায় পাষাণে গঠন,
প্রিয়ে তব কি কঠিন মন।
৫
প্রিয়ে তব কি কঠিন মন,
আরাধ্য প্রতিমা জ্ঞানে,
যে তােম পূজিত ধ্যানে,
হৃদি সিংহাসনে রাখি তারে কি কারণ,
দুঃখ নীরে করিলে মগন ?
পতঙ্গ অবােধ প্রাণী,
কি দোষ তাহার মানি,
অনলে মজিয়ে তাই হারায় জীবন,
হায় রে রূপের বটে হেন আকর্ষণ।
প্রিয়ে তব কি কঠিন মন।

লহরী
২৯
২২
ধন্যরূপ জগত মাঝারে ;
পিরীতি শৃঙ্খল দিয়া,
বাধা ছিল দুটী হিয়া,
গুলিতে কাহার সাধ্য ছিল না সংসারে,
ধন্য রূপ জগত মাঝারে,
শিকল ফেলিল ছিড়ি,
এক প্রাণ নিল কাড়ি,
ভাসিল অন্তটি হায় অকূল পাথারে,
হাবু ডুবু খায় তবু কে দেখে তাহারে,
ধন্য রূপ জগত মাঝারে ।
থাক সুখে প্রেয়সী আমার ।
ত্যজেছ এ অভাজনে,
তবু প্রিয়ে এক মনে,
বাসিব তোমারে ভাল চাহিব না আর,
থাক সুখে প্রেয়সী আমার,
কিছু আর নাহি চাই,
আশায় পােড়েছে ছাই,
জ্বলেছে অনন্ত জ্বালা নিভিবে না আর,
পুড়ে যাক এ হৃদয় হােক ছার খার,
থাক সুখে প্রেয়সী আমার।

লহরী।
২৪
থাক সুখে প্রেয়সী আমার,
বৃথাশ্রমে এত দিন,
কাটায়ে হয়েছ ক্ষীণ,
পরমেশ প্রেমে গিয়ে মজিব এবার,
থাক সুখে প্রেয়সী আমার ।
সংসার নরক মাঝে,
কপটতা নানা সাজে,
ভুলায় মানবগণ কে পায় নিস্তার,
প্রেয়সীলে এ জনমে ভুলিব না আর,
থাক সুখে প্রেয়সী আমার।
২৫
প্রেয়সিরে ভূলিবনা আর,
লভিয়াছি দিব্য জ্ঞান,
জুড়ার তাপিত প্রাণ,
শান্তির কোমল ক্রোড়ে ত্যজিয়ে সংসার,
প্রেয়সিরে ভুলিবনা আর।
হয়েছে রজনী তাের,
ভেঙ্গেছে ঘুমের ঘোের,
চিনিয়াছি সত্য তত্ব কেহ নহে কার,
তবে যে আমার ভাবা কাদামাখা সার,
প্রেয়সিরে ভুলিবনা আর।

লহরী।
৩১
প্রেম পরিহার ।
কে তুমিরে দেবতা কি নর,
ভুলাইলে আমার অন্তর,
ধােরেছ মোহন বেশ,
রূপের নাহিক শেষ,
বিজলী খেলিছে কিবা অধরে সুন্দর,
কে তুমিরে দেবতা কিনর।
হবে না মানব, মানবে কখন,
এ অপূৰ্ব্ব রূপ নহে সম্ভাবন,
স্বর্গের প্রতিমা,
জলন্ত সুষমা,
শরীরী মাধুরী কিম্বা শশাঙ্ক কিরণ,
হবেনা মানব মানব কখন।
দেবের অতীত রূপের কল্পনা,
এ নিধি সৃজিল বল কোন জনা,
কোন উপাদান,
করিয়া বিধান,
কোন বিধি পাঠাইল নাহিক তুলনা,
দেবের অতীত রূপের কল্পনা।

৩২
লহরী
৪
---
দেখিছি কুসুম হাসিতে সুন্দর,
দেখিছি চপল চমকে নিথর,
দেখিছি আকাশে,
শশাঙ্ক সু হাসে,
না হেরিনু কোথা অই হাসি মনােহর,
নাহি কিছু অই হাসির সােসর।
৫
ললিত বল্লরী বাসন্তি হিল্লোলে,
আহা কিবা মৃদু নাচে হেলে দুলে,
দেখিছি লতার,
ললিত আকার,
এ নব লালিত্য হায় কোথাও না মিলে,
তুমিরে লতিকা বল কোথা ছিলে।
দেখিছি ঝরিতে চঁাদের কিরণ,
দেখিছি কতই পুষ্প বরিষণ,
দেখিছি বিস্তর,
গােমুখী নিঝর,
ঝরেনা তেমন যথা ও মৃদু বচন,
স্নিগ্ধ তার করে প্রাণ মন।

লহরী।
৭
বিধাতার মানস নির্মাণ,
একাধারে তাই এত সমাধান,
সৌন্দৰ্য্য সমস্যা,
করিয়া খণ্ডন,
করিল বিধাতা তােমা আদর্শ নেধান,
বিধাতার কল্পনা উদ্যান।
যে হও সে ইও ক্ষতি কিবা তায়,
ভুলিব না আর ও বৃথা মায়ায়,
মায়ার বন্ধন,
করেছি ছেদন,
ফিরে নাহি বদ্ধ হব তাহে পুনরায়,
ভুলিব না বৃথা ও মায়ায় ।
দূরে থাকি অই রূপের মাধুরী,
জুড়াইব প্রাণ সতত নেহারি,
যাবনা নিকটে,
কি জানি কি ঘটে,
মানব হৃদয়ে নিত্য খেলিছে চাতুরী,
হেরিব দূরেতে ওরূপ মাধূরী।

৩৪
লহরী
অনন্ত আশায় ঘুরিব না আর,
মোহ নিদ্রা হায় ভেঙ্গেছে আমার,
চিনেছি সংসার,
ছলনা ভাণ্ডার,
মানব হৃদয় হায় বিষের আধার,
হায় রে জগত, জগত অসার
দয়া মায়া প্রেম এ জগতে নাই,
প্রেম সনে স্বার্থ ঘুরিছে সদাই,
স্বার্থের বিজ্ঞান,
প্রেম অভিধান,
স্বার্থের সাধনে সদা প্রেমের দোহাই,
সত্য প্রেম এ জগতে নাই।
১২
প্রেম সনে স্বার্থ অলন্ত রৌরব,
সে প্রেমের হায় কে করে গৌরব,
প্রফুল্ল কুসুমে,
কীটের আবাস,
কেবা চায় বল সেই ফুলের সৌরভ,
তামৃতেতে গরল সম্ভব।

লহরী ।
ও প্রেমে মানস হবে না মােহিত,
চাহিনা ও প্রেম স্বার্থ বিজড়িত,
দেহ প্রেম তায়,
যারে প্রাণ চায়,
প্রেম নামে প্রাণ আর নহে আকুলিত,
হােক প্রেম জগতে বিস্মৃত।
১৪
ভুলিব না প্রেমে সংকল আমার,
চিনেছি মানব চিনেছি সংসার,
হাসি প্রেম হাসি,
পরাইল ফঁাসি,
ভাসাইয়া দিল শেষে অকূল পারি,
ধিরে মানব ধিক্ দুরাচার।
হায় রে সে দিন গিয়াছে আমার,
প্রেমীরে যবে দিতাম সাতার,
প্রেমের সঙ্গীত,
করিত মােহিত,
কোকিল কাকলী দিত প্রেমের ঝঙ্কার,
সেই দিন নাহি এবে আর ।

৩৬
লহরী
ভাল মন্দ জ্ঞান ছিল না তখন,
প্রেমের কথায় পুলকিত মন,
হাসিয়া খেলিয়া,
প্রেমেতে মাতিয়া,
করিতাম দিবা নিশি প্রেমের কীৰ্ত্তন,
ভাবতাম প্ৰেম অমূল্য রতন।
১৭
বহিত মধুর মৃদু সমীরণ,
নাচিত হৃদয় নাচিত যে মন,
যারে ভাল বাসি,
তার কাছে আসি,
গাহিতাম প্রেম গাথা। ললিত কেমন,
শুনিতাম তার প্রেম সম্ভাষণ ।
১৮
ফুটিত কুসুম কানন মাঝারে,
ছুটিত সুবাস সমীরণ ভরে,
হৃদয় মাতিত,
প্রেম উছলিত,
ঝরিত সুখের উৎস অনিবার ধারে,
গাথি মালা পরাতাম তারে।

লহরী।
৩৭
ডাকিত বিহঙ্গ সুমধুর তানে,
ঝরিত অমিয় জুড়াইত প্রাণে,
তুলিতাম তান,
মাতাইয়া প্রাণ,
তুষিবারে প্রাণাধিক সেই প্রিয়জনে,
হায় রে সে দিন গিয়াছে এক্ষণে।
নাচিত সরসে সমীর হিল্লোলে,
সােণার কমল বিমল কমলে,
বসি মুখে মুখে,
হেরিতাম সুখে,
প্রণয়ি যুগল ক্ষণ ধরাধাম ভুলে,
ডুবেছে সে সুখ অতল সলিলে।
২১
বহিত জানুবী পরি বীচি হার,
দেখিতাম তায় সুখের ভাণ্ডার,
প্রিয়জন পাশে,
বসিয়া হরষে,
অনন্ত সুখের স্রোতে দিতাম সাতার,
সেই প্রেমে আজি ঘটিল বিকার।

৩৮
লহরী।
ঢেলে দিনু প্রাণ প্রাণের আশায়,
এবে দেখি ফাকি ভাসি নিরাশায়,
পুরিল সাধ,
ঘটিল বিষাদ,
ছলনা চাতুরী স্বার্থ প্রেম সাধনায়,
তবে কেন আর ভুলিব মায়ায় ?
ভাসে যথা মেঘ আকাশের গায়,
ভাসিত এ প্রাণ সুখের আশায়,
অকিতাম কত,
ছবি নানা মত,
ধরিতাম তার পাশে দেখাতে তাহায়,
সে স্বপন ভেঙ্গে গ্যাছে হয় ।
২৪
স্বর্গ কোথা রয় ভাবিতাম মনে,
স্বর্গ স্বার্থহীন প্রেমের মিলনে,
কবির কল্পনা,
সে স্বর্গ বুঝিনা,
ভুমি স্বর্গ সুখ থাকি তার সনে,
ভাবিতাম স্বর্গ এইখানে।

লহরী।
প্রান্ত চিত্ত নর বুঝিব কেমনে,
কুমেতে কীট ছিল সংগােপনে,
যতন করিয়া,
আনিম্ন তুলিয়া,
যায় প্রাণ এবে তার বিষের দংশনে,
আর কেন ভুলি আশার ছলনে।
ত্যজিয়াছি আশা উচ্চ অভিলাষ,
ত্যজিয়াছি ভােগ বাসনা বিলাস,
প্রেমের সাধন,
হােলাে উজ্জাপন,
ফলিল অপূৰ্ব ফল সুদীর্ঘ নিশ্বাস,
আর কেন তবে প্রেমের প্রয়াস।
২৭
লীলা খেলা ভবে কত দিন আর,
মুদিলে নয়ন সকলি আঁধার,
ফুরায়েছে দিন,
ক্রমে দেহ ক্ষীণ,
বৃথা আর ভাবিনা অনিত্য অসার,
মােহময় এ সংসার ছার।

৪০
লহরী
২৮
যাওরে প্রেমিক যাও দূরে যাও,
প্রেম নামে কেন আবার ভুলাও,
স্বার্থ প্রেমে মাখা,
ফণী ফুলে ঢাকা,
চিনেছি কুহক তব আর না মজাও,
যাওরে প্রেমিক যাও দূরে যাও
অধরে অমিয় অন্তরে গরল,
এই কি প্রেমের হৃদয় সরল,
চাহি না তোমারে,
চাহিনা কাহারে,
চাহিনা সংসারে সব জ্বলন্ত অনল,
শান্তি মাত্র চাহিগাে কেবল।
০
ও মধুর হাসি হেরিনা আর,
কেন কেন ফাসি পরিব আবার,
আশার আশ্বাস,
করি বিশ্বাস,
শঠতা ছলনা নিত্য পরিণাম তার,
হাসি তব হেরিবনা আর।

লহরী।
৪১
ভুলিবনা আর মধুর কথায়,
ভুলিবনা আর প্রেমের আশায়,
যাও তুমি যাও,
ও প্রেম বিলাও,
ঘাটে মাঠে হাটে বাটে যারে মন চায়,
আমি আর মজিনা তায়।
৩২
নহে প্রেম তব নরক ভীষণ,
নহে বাক্য তব বিষ উদগীরণ,
নহে মৃদু হাসি,
গরলের রাশি,
নহে ও লালিত্য তব কুহক সাধন,
প্রেম তব নরক ভীষণ।
যাও রে প্রেমিক যাও দূরে যাও,
প্রেম নামে কেন আবার ভুলাও,
স্বার্থ প্রেমে মাখা,
ফুণী ফুলে ঢাকা,
চিনেছি কুহক তব আর না মজাও,
যাওরে প্রেমিক যাও দূরে যাও।

৪২
লহরী
৩৪
.
ত্যজিয়াছি আশা উচ্চ অভিলাষ,
ত্যজিয়াছি ভােগ বাসনা বিলাস,
প্রেমের সাধন,
হােলল উজ্জাপন,
ফলিল অপূৰ্ব ফল সুদীর্ঘ নিশ্বাস,
কেন আর প্রেমের প্রয়াস ?
মানব সঞ্চার না আছে যথায়,
মানব ক্ষমতা যেখানে না যায়,
চাতুরী ছলনা,
স্বার্থের সাধনা,
প্রেম আবরণে যথা নাহি স্থান পায়,
দম্ভ তেজ না রহে যথায়।
t
দ্বেষ হিংসা ঘৃণা স্বার্থ অভিমান,
উচ্চ নীচ ভেদ নাহি যথা জ্ঞান,
রূপের গরিমা,
যেখানে সাজে না,
নিত্য শান্তি প্রফুল্লতা যথা বিদ্যমান,
পবিত্রতা প্রমােদ উদ্যান।

লহরী
৪৩
বিজন কানন প্রকৃতি নিবাস,
অনন্ত সুখের অনন্ত উচ্ছাস,
বিহঙ্গের তানে,
বিভু গুণ গানে,
জুড়াব তাপিত প্রাণ কাটি মায়া পাশ,
সংসার নরক, নরক আবাস।
তরু লতা ফুল সকলি আপন,
আমি ভাল বাসি তারাও তেমন,
সকলে মিলিয়া,
হৃদয় খুলিয়া,
গাইব প্রাণের গাথা বহিবে পবন,
প্রতিধ্বনি বিশ্ব মাঝে করাবে শ্রবণ,
‘দয়া মায়া প্রেম এ জগতে নাই,
প্রেম মামে স্বার্থ ঘুরিছে সদাই,
স্বার্থের বিজ্ঞান,
প্রেম অভিধান,
স্বার্থের সাধনে সদা প্রেমের দোহাই,
সত্য প্রেম এ জগতে নাই।

৪৪
লহরী।
“ভাল বাসি বলে কিরে এত অভিমান”
ভাল বাসি বােলে কিরে এত অভিমান,
ভাল বাসি তাই আসি,
ভাল বাসি তাই হাসি,
ভাল বাসি তাই সদা চায় তােমা প্রাণ,
নীরস কঠোর দৃষ্টি তার প্রতি দান,
এই কিলাে প্রণয় বিধান ?
২
সুখে সুখ দুঃখে দুঃখ প্রণয়ে শিখায়,
প্রণয়ী সুখেতে হাসে,
বসিয়ে প্রণয়ী পাশে;
কাদিয়ে একটী তার অন্যেরে কাঁদায়,
অশ্রুবিন্দু মুক্তাহার তাহারে পরায়,
জানি প্রেম এইত শিখায়।
বনবাস সুখ বাস প্রণয়ীর সনে,
হৰ্ম্মতল নাহি চাই,
বৃক্ষ মূল যদি পাই,
তুচ্ছ করি রাজ্য ভােগ সুখের কারণে,
থাকে যদি প্রিয় জন সে নিবিড় বনে,
স্বর্গ সুখ নাহি ধরে মনে।

লহরী।
৪৫
৪
জগতের সার রত্ন প্রণয় রতন,
রূপ গুণ ধন মান,
প্রেমে নহে উপাদান,
প্রেমে চায় ভাল বাসা অপার্থিব ধন,
প্রেমে চায় ‘ভাল বাসি’ ঢেলে প্রাণ মন,
‘ভাল বাস’ চায় না কখন।
তাই আসি প্রিয়তমে দেখিতে তােমায়,
আর কিছু নাহি চাই,
কেবল দেখিতে পাই,
আশার অতীত ধনে বাসনা সদায়,
মিটে পিয়াসা তাই আসি পুনরায়,
কেন বল অভিমান তায়?
প্রেমের ভরন্ত নদী ধীরে বােয়ে যায়,
পিপাসায় বুক ফাটে,
দাড়ায়ে রোয়েছি তটে,
সে নীর পরশে হায় শকতি কোথায়,
দেখিব ফাটিব আরাে বিড়ম্বনা তায়,
হায় তট ভেঙ্গে পড়ে যায়।
".

৪৬
লহরী
পুর্ণিমার শশধর শারদ গগণে,
কেনা ভাল বাসে তায়,
কেনা বল তারে চায়,
হয় কি চাদের তাহে অভিমান মনে,
সমভাবে সদা কাল হেরে সর্বজনে,
স্নিগ্ধ সব চাদের কিরণে
শারদ সরসে ফুল অমল কমল,
যে হেরে তাহার পানে,
কত সুখ তার প্রাণে,
না হয় কাহারে কভু বাসনা বিফল,
হাসে ফুল সেই হাসি বিমল সরল,
নাহি জানে অভিমান ছল।
:
তুমি ও ত প্রিয়তমে পূর্ণ শশধর,
হৃদয় আকাশ মাঝে,
ও চারু মুরতি রাজে,
তুমিই মানস সরে কমল সুন্দর,
অভিমান পূর্ণ কেন তবে ও অন্তর?
বল বল প্রাণ মনােহর ?

লহরী।
৪৭
অনিত্য এ ভবধাম নিত্য কিছু নয়,
লীলাস্থল ভব ভূমি,
জাননা কি প্রিয়ে তুমি,
তবে কেন বৃথা ভােগে প্রমত্ত হৃদয়,
শ্রান্ত পান্থ যথা বসে তরুর আশ্রয়,
ভবে তাই জীব সমুদয় ।
জলবিন্দু সম প্রায় জীবের বিকাশ,
মুহূর্তে উদয় হয়,
মূহুর্তেই পায় লয়,
কলিকা কীটেতে কাটে না হােতে প্রকাশ,
তবে কেন বল প্রিয়ে বাসনা বিলাস,
অভিমানে কেন অভিলাষ।
রূপের গৌরবে যদি মত্ত থাকে মন,
জেনাে তাহা ঘাের ভ্রান্তি,,
কভু স্থির নহে কান্তি,
রাহুগ্রাসে শশাঙ্কের অবশ্য পতন,
মলিন কমল মালা ডুবিলে তপন,
অভিমান বল কি কারণ?

৪৮
লহরী।
বিভৰ সম্পদ কভু নহে নিত্য ধন,
জোয়ারের বারি প্রায়,
এই আসে এই যায়,
সমুন্নতি অবনতি পৰ্য্যায় ঘটন,
প্রকৃতি নিয়ম নিত্য কে করে খণ্ডন,
অভিমান কোন প্রয়ােজন?
১৪
কেন তবে মােহ ভ্রান্তি কেন অভিমান,
সুরূপ কুরূপ জন,
কিবা ধনী কি নিধন,
জ্ঞানী মূখ একত্রেতে হবে অবস্থান,
না রবে সমাধি ক্ষেত্রে প্রভেদ বিজ্ঞান,
তবে বল কেন অভিমান ?
তাই বলি ফিরে চাও ত্যজলে গরব,
হাস সে সরল হাসি,
আনন্দ সাগরে ভাসি,
দেহ দান ক্ষীণ প্রাণে প্রেমের বিভব,
সঞ্জীবনী প্রেম তব অমৃত সম্ভব,
ফিরে চাও ত্যজলাে গরব

লহরী।
নীরব নিশীথ ঘন ঘাের অন্ধকার,
চপল চমকে ঘন,
অশনির গরজন,
প্রলয় পবন বহে কম্পিত সংসার,
নিষ্কম্প হৃদয়ে তবে কি চিন্তা আমার,
চিন্তুা মাত্র প্রণয় তােমার।
সুবিমল শশধর শারদ গগণে,
হাসিতেছে নিশিথিনী,
পেয়ে কোলে নিশামণি,
হাসিছে রজনীগন্ধা সুচারু মিলনে,
আমি ভাবি তব প্রেম পাইব কেমনে?
মিলে প্রেম প্রাণ সমর্পণে?
প্রেম কভু নহে প্রিয়ে পৃথিবীর ধন,
কুসুমে সৌরভ রাশি,
থাকে হইলে বাসি,
অমার গগণে চাঁদে (র) না করে কিরণ,
বসন্তুগমনে শুষ্ক ব্রততী বদন,
প্রেম কভু নহেলাে এমন।

লহরী
১৯
প্রেমের জগতে নিত্য বসন্ত বিকাশ,
প্রফুল্ল কুসুম চয়,
কভু শুষ্ক নাহি হয়,
চির দিন রহে তার মধুর সুবাস,
বিমল গগণে নিত্য চন্দ্রমবিভাস,
লতামুখে হাসি বারমাস ।
হাসির জগতে সেই হাসি বিরাজিত,
হাসে লতা হাসে ফুল,
হাসে সুখে তরুকুল,
মধুর মলয় সব করে পুলকিত,
অনন্ত সুখের স্রোত ধীরে প্রবাহিত,
নিত্য সুখ তথা বিরাজিত
২১
বিমিশ্র সুখের স্থান পরম সুন্দর,
আছে গােলাপে কাটা,
না আছে চাঁদেতে খোটা,
কোকিল কাকলী গায় মােহিয়া অন্তর
সরল মধুর ভাব ব্যক্ত নিরন্তর,
অনুপম জগৎ সুন্দর।

লহরী।
२२
নহে স্বার্থ কলুষিত সে পূত আবাস,
প্রেমিক প্রফুল্ল চিত,
সদা হর্ষ পুলকিত,
নিতই নূতন তথা প্রেমের বিকাশ,
বিকাশ বিরাজে নিত্য, নাহি অপ্রকাশ,
ধন্ত সেই প্রেমের নিবাস।
নাহি দ্বেষ নাহি হিংসা নাহি অভিমান,
নাহি কপটত লেশ,
অনন্ত সুখের শেষ,
প্রেমিকের তথা সদা প্রফুল্ল বয়ান,
ভালবাসা পূর্ণতায় নিত্য বিদ্যমান,
ভালবাসা আশার সমান।
২৪
চল ভাই লয়ে যাই তােমারে তথায়,
প্রাণ ভােরে ভালবাসা,
দিব মিটাইব আশা,
গাইব প্রেমের গান প্রেমের ভাষায়,
হৃদয় খুলিয়া দিব রাখিতে তােমায়,
অভিমান নাহিক তথায়।

লহরী।
যতনে গাঁথিব হার প্রেমের উদ্যানে,
যতনে পরায়ে গলে,
ইব হৃদয়ে তুলে,
লিখিব প্রেমের গাথা অক্ষয় পাষাণে,
‘ভুলনা ভুলনা প্রিয়ে পাষাণ পরাণে,
ভুলনালে কঠিন পরাণে।
“সরল অন্তরে বল কারে তুমি ভালবাস”
১
সরল অন্তুরে বল কারে ভাল বাস রে,
ডাকিলে না কথা কও,
গুমুরে গুমুরে রও,
আপন ভাবের স্রোতে আপনিই ভাসরে,
সরল অন্তরে বল কারে ভাল বাস রে ?
২
না দেখিলে উঁদ মুখ আই ঢাই করি রে,
চারি দিকে ছুটে যাই,
কোথা না দেখিতে পাই,
আপন মনের দুঃখে আপনিই মরিরে,
হতাশে মানসে সথা তােমারেই স্মরি রে ?

লহরী
বুঝিতে না পার ভাই সে মনােবেদনরে,
দেখিলে ও বয়ান,
যে করে আমার প্রাণ,
জানে সেই ভগবান আর মম মনরে,
বলিলে তােমার ঠাই অরণ্যে রােদনরে ।
৪
যদি ভাগ্যে পাই দেখা কদাচ কখনরে,
হাসিয়ে মধুর হাসি,
পরাইয়ে প্রেম ফাসি,
কোথায় সরিয়া যাও নাহি দরশন রে,
দেখা হলে পুন হাসি মজাও এমন রে।
কাননে ফুটিলে ফুল ছুটে তথা যাই রে,
গাথিয়ে চিকণ হার,
ভাবি কারে উপহার,
দিব কোথা প্রাণ সখা খুজিয়ে না পাই রে,
আকুল অন্তরে ভাই চারি দিকে চাই রে।
বদি পাই তব দেখা সহসা তথায় রে,
আমােদ ধরেনা প্রাণে,
ধেয়ে যাই তােমা পানে,

৫৪
লহরী
আদরে পরায়ে দিই তােমার গলায় রে,
পর মালা খুলে ফেল আবার তাহায় রে ।
৭
কুসুম নিগড়ে চাই বাঁধিতে তােমায় রে,
হাসিয়ে সে বেড়ী পর,
পুন তাহা ছিন্ন কর,
সুধালে বুঝাও মােরে মধুর কথায় রে,
অবাক হইয়া থাকি বােঝা নাহি যায় রে ।
৮
জিজ্ঞাসিলে হাসি হাসি দুট কথা কও রে,
আবার তখনি ফিরি,
সে ভাব নাহিক হেরি,
পুন যেন তুমি আর সেই তুমি নও রে,
এ ছল শিখেছ কোথা কও সখা কও রে ?
গগণে উঠিলে চাদ কার কথা মনে রে,
কে হাসে চাঁদের হাসি,
কে ছড়ায় সুধা রাশি,
তুমি সখা নাই কাছে হৃদয় গগনে রে,
অমার আঁধারে ঘেরা তােমার বিহনে রে ।
ভাল বাসি ভাল বাস যদি মনে জানি রে,
আর কিছু নাহি চাই,

লহরী।
৫৫
ধরায় স্বরগ পাই,
সকল সুখের সেই সার বলে মানি রে,
ভাল বাসি ভাল বাস যদি মনে জানি রে।
তাই বলি প্রেমে সুখ যদি বিনিময় রে,
আমি ভালবাসি যারে,
সে যদি না বাসে মােরে,
দুঃখের তরঙ্গাঘাতে ভাঙ্গে যে হৃদয় রে,
বল সখা সে প্রেমে কি হয় সুখােদয় রে ?
ফোটে ফুল হাসে বন ভাল বাসা বাসিরে,
হেরিলে যে চন্দ্রমায়,
সাগর ভাসিয়ে যায়,
ধরেনা কুমুদীমুখে প্রেম ভরা হাসি রে,
হাসির তরঙ্গ যথা ভালবাসাবাসি রে।
-
তাই বলি হাস ভাই প্রাণের সে হাসি রে,
হৃদয় উথলি থাক,
আমােদে ভাসিতে ধাক,
বহিয়া বহিয়া যাক অমৃতের রাশি রে,
আমি ভাল বাসি তুমি বল ‘ভাল বাসি’রে।

লহরী।
১৪
ছেড়ে দেও মৌন ভাব প্রাণ খুলে হাস রে।
চাদে ফুলে হাসাহাসি,
কত ভাল বাসাবাসি,
মন কথা দোহাকার করিছে প্রকাশ রে,
বল সখা বল তুমি কারে ভাল বাস রে।
অই দেখ দোলে লতা তমালের কোলে রে,
নবীন মেঘের পাশে,
অই সৌদামিনী হাসে,
অই চাদ উৰ্ম্মি সনে কত খেলা খেলে রে,
কিরণ প্রবাহে দের ভাল বাসা ঢেলে রে ।
১৬
ভালবাসা যেবা যার সব ভাল তার রে, •
নিদাঘ তপন করে,
কমলিনী হাস্য করে,
কুমুদী শুকায়ে হয় বৃন্ত মাত্র সার রে,
ভাল বাসা যেবা যার সব ভাল তার রে।
রবি করে সরােবরে পদ্ম সুখে হাসে রে,
অই সূর্য অস্ত যায়,
গুঞ্জ ছলে অলি কয়,

লহরী।
যেওনারে ভানু পদ্ম বড় ভাল বাসে রে,
হেন শশিকর তারে অনল বরষে রে।
১৮.
প্রণয় বিজ্ঞান সখা স্বভাবেতে লেখা রে,
প্রকৃতির উপদেশ,
শিক্ষার নাহিক লেশ,
প্রণয়ী প্রণয়ী চিনে না থাকিলে দেখা রে,
অন্তর জানায়ে দেয় কেবা কার সখ রে।
অন্তর বাহিরে প্রেম ভিন্ন কভু নয় রে,
ভাল বাসে যেবা যারে,
নীরবে থাকিতে নারে,
ভালবাসা কভু সখা গােপনে কি রয় রে,
মেঘে ঢাকা ভানু পদ্ম তবু হাস্যময় রে।
অই শুন কুহুরবে কোকিল জানায় রে,
বসন্তের সখা আমি,
বসন্তের অনুগামী,
বসন্ত আমার প্রাণ সুখের মেলায় রে,
বসন্ত ছাড়িয়ে প্রাণ কিছু নাহি চায় রে ?
২১
অই দেখ হাসে ফুল কুসুম কাননে রে,
অই অলি অই যায়,

লহরী
অই ফুল আড়ে চায়,
ভাল বাসি বােলে অলি সে মুখ চুম্বনে রে,
প্রতি দান করে ফুল হৃদয় অর্পণে রে।
২২
জানি প্রেমে সরলতা আর কিছু নাই রে,
যারে প্রাণে ভাল বাসি,
তার পাশে হাসি হাসি,
বসিয়ে মনের কথা কতই জানাই রে,
প্রাণের কপাট খােলা ঢাকা কিছু নাই রে।
ধরিয়া রাখিতে চাই ফাকি দিয়ে যাও রে,
ভাগ্যে দেখা হয় যদি,
যেন কত অপরাধী,
শূন্য বাক্যে শূন্য প্রাণে আশা ঢেলে দাও রে,
আবার চাহিয়ে দেখি তুমি তথা নও রে ।
২৪
তাই বলি বল সখা কারে ভাল বাস রে,
ভাল বাসে যেবা যারে,
প্রকাশে জানায় তারে,
নীরবের ভালবাসা না মিটায় আশা রে,
তাই বলি বল সখা কারে ভাল বাস রে।

লহরী।
२९
আমার আমার করি বােঝেনা এ প্রাণ রে,
বুঝিয়াছি ভালবাসা,
তথাপি শুনিতে আশা,
ভালবাসা কারে সখা প্রাণের সমান রে,
সরল অন্তরে বল কারে চায় প্রাণ রে ।
ছাড়িয়া প্রেমের ভাণ সরল অন্তরে রে,
বল ভালবাস করে,
প্রাণ তব চায় কারে,
সদা মন উচাটন বল কার তরে রে,
বল বল বল সখা সরল অন্তরে রে।
আশা
কেন আশা মায়াবিনী ভুলাও আমায় রে।
যা কভু হবার নয়,
কেন তাহা মনে হয়,
কত দিন ভুলে রব তােমার মায়ায় রে,
কেন আশা কুহকিনী ভুলাও আমায় রে।

লহরী
২
কেন আশা কুহকিনী ভুলাও আমায় রে,
দেবের দুর্লভ ধন,
কেন চিন্তা অকারণ,
কেন আলি তার তরে অনন্ত জ্বালায় রে,
কেন আশা কুহকিনী ভুলাও আমায় রে।
চিনেছি তােমার মায়া মজিব না তায় রে,
তােমার মােহিনী বেশ,
রাখেন জ্ঞানের লেশ,
সতত বেড়াই ছুটে পাগলের প্রায় রে,
পাই খুজিয়া তারে মন যারে চায় রে ।
৪
দূর হও মায়াবিনী কে তােরে বা চায় রে,
সব ঠাই সদা থাক,
সবাকার মন রাখ,
তােমা হতে কেহ কভু সুখ নাহি পায় রে,
যে জন জেনেছে তােমা সেকি আর চায় রে।
আশা তুমি কবে কার হয়েছ কোথায় রে,
তৃষায় পীড়িত হােয়ে,
মৃগ মৃগী শিশু লােয়ে,

লহরী।
৬১
অই জল ভেবে দেখ মাঠ পানে ধায় রে,
কোথা জল মরীচিকা প্রলোভ দেখায় রে।
আশা তুমি কবে কার হােয়েছ কোথায় রে,
অই দেখ দীন হীন,
গলিত পলিত ক্ষীণ,
এখনাে কুহকে তব ঘুরিয়া বেড়ায় রে,
কি করিলে তুমি তার কালে নিয়ে যায় রে ।
৭
ছি ছি এ ছলনা আশা শিখেছ কোথায় রে ?
অই বালা অই হাসে,
প্রাণেশ আসিবে পাশে,
আশায় ভরিয়ে বুক বসিয়ে কাটায় রে,
শুকালে ফুলের মালা যামিনী পােহায় রে ।
৮
অই দেখ সহকারে মাধবী জড়ায় রে,
মৃদুল হিল্লোলে দোলে,
মাতােয়ারা তক কোলে,
পুরিতে সাধ, তরু শুকাইয়ে যায় রে,
ছি ছি এ ছলনা আশা শিখেছ কোথায় রে ?
অই দেখ অই চঁাদ কিরণ ছড়ায় রে,
সুধা আশে চকোরিণী,

৬২
লহরী।
ধায় কিবা প্রমােদিনী,
সহসা দুরন্ত রাহু গ্রাসিল তাহায় রে,
সুধার বাসনা তার বাতাসে মিলায় রে।
কেন আশা কুহকিনী ভুলাও আমায় রে,
যা কভু হবার নয়,
কেন তাহা মনে হয়,
কত দিন ভুলে রব তােমার মায়ায় রে,
কেন আশা কুহকিনী ভুলাও আমায় রে।
ভাল বাসি তাই প্রাণ দেখিতে যে চায় রে,
তােমার কুহক পাই,
অমনি ছুটিয়ে যাই,
আবার ফিরিয়ে আসি সে থাকে কোথায় রে
আবার কুহকে প্রাণ ছুটে ছুটে যায় রে ।
কেন আশা বৃথা আর কাদা আমায় রে,
কেন বল বার বার,
সে আমার আমি তার,
কই সে আমা পানে ফিরিয়া না চায় রে ;
তবু তুই কুহকিনি! ভুলাবি আমায় রে ?

লহরী।
তবু তুই কুহকিনি ভুলাবি আমায় রে।
প্রাণ দিয়ে ভাল বাসি,
তাই দেখিবারে আসি,
ভালবাসা তার কাছে বল কেবা চায় রে,
বিনিময়ে ভাল বাসা কভু কি বিকায় রে ?
১৪
অদ্ভুত তােমার মায়া বােঝ নাহি যায় রে,
যখন যে দিকে চাই,
তারে দেখিবারে পাই,
নানা ছাঁদে ধর তুমি আনিয়ে তাহায় রে,
অদ্ভুত তােমার মায়া বোঝা নাহি যায় রে ।
হেরিতে সে ধনে প্রাণ সততই চায় রে ;
কোথা শান্তি নাহি পাই,
কাননে ছুটিয়ে যাই,
ফোটা ফুলে হাসি তার দেখালে আমায় রে ;
রাখিতে সে ফুল বুকে শুকাইয়া যায় রে।
১৬
আবার কাতর প্রাণ চাদ পানে চায় রে,
অমনি চাদের পাশে,
সেই মুখ খানি হাসে,

৬৪
লহরী
দেখাও রে কুহকিনি কুহক মায়ায় রে,
আবার কুহক বলে মেঘে ঢেকে যায় রে ?
১৭
বাসন্তী সমীরে কিবা লতাটা নাচায় রে,
চেয়ে দেখি লতা পানে,
সে মাধুরী পড়ে মনে,
হৃদয়ে সুখের ঢেউ উথলিয়া যায় রে,
হায় রে সাধের লতা ভূমিতে গড়ায় রে ।
১৮
কেন আশা বার বার জ্বলাস আমায় রে,
কেন সে মূরতি খানি,
দেখাও সম্মুখে আনি,
নানা রঙ্গে নানা ছদে বিচিত্র মায়ায় রে,
কেড়ে নিয়ে পুনরায় রাখ বা কোথায় রে ?
মনে করি ভুলে থাকি ভাবিব না তায় রে,
দিব প্রাণ তার তরে,
তবু ভাবিনা তারে,
চোক্‌ ফেটে জল পড়ে বুক ভেসে যায় রে,
তুইত দেখা এনে তখনি তাহায় রে।
২০
তুইত তখনি এনে দেখাস্ তাহায় রে,
সেই মুখ সেই হাসি,

লহরী।
“কুমুদে কৌমুদী বাশি,
সেই ভাল বাসাবাসি মনে পড়ে যায় রে,
আবার ভুলিতে তারে প্রাণ নাহি চায় রে।
ভুলিব ভুলিব করি ভােলা নাহি যায় রে,
সে ছবি মাধুরী মাখা,
প্রাণের ভিতরে আঁকা,
কেমনে ফেলিয়া দিব বল আজি তায় রে,
ফেলিতে হৃদয় ছিড়ে কি বিষম দায় রে।
২২
মনে করি তার সনে দেখা যদি হয় রে,
দিবহে পরাণ খুলি,
হৃদয়ে লইব তুলি,
মন কথা প্রাণ ভােরে কব সমুদয় রে,
আবার তখনি ভাবি সে আমার নয়রে ।
আবার তখনি ভাবি সে আমার নয় রে,
অমনি হারাই জ্ঞান,
ছট ফট করে প্রাণ,
শিরায় শােণিত স্রোত ছুটে ছুটে বয় রে,
কে জানিত ভালবাসা এত বিষময় রে।

লহরী
২৪
কে জানিত ভালবাসা এত বিষময় রে,
পলকে প্রলয় জ্ঞান,
বিরহে রহে না প্রাণ,
ছুটে ছুটে যায় হায় অবােধ হৃদয় রে,
আবার তখনি ভাবি সে আমার নয় রে।
আবার আবার আশা তোমার মায়ায় রে,
ভাবি তারে সে আমার,
হৃদয়ের কণ্ঠহার,
নয়নের ধ্রুব তারা শান্তির আলয় রে,
আবার আবার ভাবি সে আমার নয়রে ।
কত খেলা খেল আশা অন্ত কেবা পায় রে,
কভু চাঁদ হাতে পাই
কভু প্রাণ আই ঢাই
কত গড়ি কত ভাঙ্গি তবু না ফুরায় রে,
জীবনের শেষ, শেষ নাই বাসনায় রে ।
অনন্ত কালের স্রোত বেয়ে বেয়ে যায় রে,
কালে সৃষ্টি যত হয়,
সকলেই তাতে লয়,

লহরী।
৬৭
অনন্ত বাসনা হায় ভাসিয়ে বেড়ায় রে,
বাসনার দাস জীব, এ জীব লীলায় রে।
২৮
নীরবে থাকিব ভাবি ধ্যান মগ্ন প্রায় রে,
নীরবে প্রেমের ঢেউ,
উঠুক না জানে কেউ,
নীরবে ভাসুক প্রাণ প্রেমের বেলায় রে,
মনে পড়ে সেই মুখ ধৈৰ্য্যধর দায় রে।
২৯
তাই বলি এস আশা পুর বাসনায় রে,
নাহি অন্য কিছু মনে,
হেরিব সে প্রাণ ধনে,
রাখিব হৃদয়ে তুলি ভুলি যাতনায় রে,
বড় ভালবাসি তারে বলিনু তােমায় রে।
বড় ভালবাসি তারে বলিনু তােমায় রে,
হৃদয়ের তরে তরে,
রাখিয়াছি চিত্র কোরে,
সেই হাসি মাখা ছবি অতুল শােভায় রে,
পুরাব মনের সাধ প্রেম সাধনায় রে।
৩১
তুমিই ভুলালে মেরে অজ্ঞানের প্রায় রে,
তুমিই শিখালে মােরে,

লহরী।
আমার বলিতে তারে,
কই সে আমার হােলো সে যে অন্যে চায় রে,
তােমার কুহকে আজি অলি এ জ্বালায় রে।
৫
যদি না পারিবে কেন মজালে আমায় রে,
যাও এবে দূর হও,
কি কাজে এখানে রও?
তুমি গেলে প্রাণ যাবে শিখাব সবায় রে,
ভাল যেন কেউ কারাে বাসেনা ধরায় রে ।
বন্ধু-বিচ্ছেদে।
বাজ, বীণা বাজ, একবার ;
যে দিন বন্ধুর সনে,
ছিনু প্রেম আলাপনে,
সে দিন যে রবে তুই করিলি ঝঙ্কার,
বাজু দেখি সেই রবে আজ রে আবার,
বাজ, বীণা বাজ, একবার
আবার দেখাও আনি,
সখার মুরতি খানি,

লহরী।
সেই মুখ সেই হাসি শােভার আধার,
জগতে তুলনা বীণা নাহিক যাহার ;
বাজু বীণা বাজ একবার।
२
বাজ বীণা বাজ, আর বার,
বাজরে সে রব তুলি,
যে রবে ছিলাম ভুমি,
সখা সনে হৃষ্ট মনে আনন্দ অপার,
সে আনন্দ বীণা তুই কবে দিবি আর ?
বাজ, বীণা বাজ, আর বার।
বাজ, সুমধুর তানে,
সে তান সখার কাণে,
উঠুক বাতাসে মিশি উঠুক আবার,
উছলিয়া হৃদয়ের প্রেম পারাবার ;
বাজ বীণা বা আর বার ।
গাও বীণা গাওরে আবার,
গাও সখা গুণগান,
জুড়া তাপিত প্রাণ,
ঢাল সে সঙ্গীত ধারে অমৃতের ধার,
মৃত দেহে কর বীণা জীবন সঞ্চার।
গাও বীণা গাওরে আবার।

৭০.
লহরী
গাও সে সখার হাসি,
বিমল জোছনা রাশি,
গাও সেই সরলতা মাখা ব্যবহার,
গাইতে যেমন আগে নিকটে তাহার,
গাও বীণা গাওরে আবার।
৪
গাও বীণা গাওরে আবার,
ব্ৰজেতে যেমন আগে,
গাইতে ললিত রাগে,
যমুন। উজান যেত যে স্বরে তােমার,
উথলিত ব্রজধামে প্রেম পারাবার,
গাও বীণা গাওরে আবার।
শুনিলে তােমার রব
ব্রজে পুলকিত সব
মাধব আসিবে আশে আনন অপার
তাই বীণা গাও অন সখারে আমার ।
গাও বীণা গাওরে আবার ।
কেন বীণা রহিলি নীরব ?
শুনিলে তােমার গান,
হবে পুলকিত প্রাণ,
ব্ৰজ কুঞ্জধামে পুনঃ আসিবে মাধব,

লহরী।
' ৭১
আসিবে আমার সেই প্রাণের বান্ধব,
কেন বীণা রহিলি নীরব ?
থেকোনা নীরব আর ,
গাও বীণা একবার,
একে একে সখার সে গুণ গুলি সব ;
বরিষায় করি আজি বসন্ত উৎসব,
বীণা আর থেকোন নীরব।
কেন চাদ উঠিলি আবার ?
কেন মিটি মিটি হাসি,
ঢালিতেছ সুধারাশি ?
সুধায় গরল বােধ হােতেছে আমার,
সখার বিরহে হেরি সব অন্ধকার,
কেন চাদ উঠিলি আবার ?
চাদ তব চারু মুখ,
হেরে দুঃখে ফাটে বুক,
সখা বিনা সেই দিন নাহি মম আর,
অমৃতে গরল বােধ আলােকে আঁধার,
কেন চাদ উঠিলি আবার ?
৭
কেন চাদ উঠিলি আবার,
বধি জাহ্নবীর কুলে,
সকল যাতনা ভুলে,

৭২
লহরী।
সুখের সাগরে হায় দিয়েছি তার,
সে সুখ গিয়াছে এবে কাদি অনিবার,
কেন চাদ উঠিলি আবার।
অন্ধকার ভালবাসি,
কাজ কি তােমার হাসি,
ছড়াও ও হাসি যথা বাসনা তােমার,
অনলে আহুতি বল কেন ঢাল আর,
কেন চাদ উঠিলি আবার ?
৮
কেন ফুল ফুটিলি কাননে ?
রূপের সাগরে ভাসি,
মুখে মৃদু মৃদু হাসি,
ও হাসি লাগেনা ভাল সখার বিহনে
পােড়ায় অন্তর আরাে ঘাের হুতাশনে
কেন ফুল ফুটিলি কাননে।
কুসুম তােমার হিয়া,
গড়েছে পাষাণ দিয়া,
কাদি তােমা কাছে তুমি হাসিছ কেমনে,
ছি ছি ফুল কি বলিবে লােকে যদি শুনে,
কেন ফুল ফুটিলি কাননে ?
কেন ফুল ফুটিলি আবার,
ছিনু যবে সুখাসনে,

লহরী ।
আসিতাম একাননে,
তুলিতাম তােরে ফুল গাঁথিতাম হার,
দিতাম পরায়ে গলে সাদরে সখার,
জুড়াইত নয়ন আমার ;
এবে সখা কাছে নাই,
ফুল তােরে নাহি চাই,
ফুটিও আসিলে সখা মিনতি আমায়,
ভালবাসে সখা মম ও হাসি তােমার,
কেন ফুল ফুটিলি আবার ?
কোথা যাও শুন সমীরণ!
বারেক ফিরিয়ে চাও,
দুট কথা শুনে যাও,
জানাব তােমারে আজি মনের বেদন,
পর দুঃখে দুঃখী যেই সেইত সুজন,
কোথা যাও শুন সমীরণ,
ছিল সখা মম পাশে,
ভাসিতাম মােলাসে,
বিরহে তাহার এবে কঁাদি অনুক্ষণ,
দেখা হেলে, বােলে তারে মরিল এ জন,
বােলো বােলো বােলো সমীরণ ।
*

৭৪
লহরী
১১
সমীরণ কি ভাব তােমার ?
আমি কাদি তব ঠাই,
তােমার কি দয়া নাই,
পরশি দ্বিগুণ জ্বালা বাড়ালে আবার,
জগতের প্রাণ হােয়ে একি অবিচার,
সমীরণ কি ভাব তােমার ?
হৃদয়ে অনল জ্বলে,
সে তোমার সখা বােলে,
মিলিলে তাহার সনে আনন্দ অপার,
বাড়িল তােমার প্রীতি প্রাণান্ত আমার,
স্বার্থপর নিখিল সংসার।
૨
এ যাতনা সহেনাকো আর ;
নিভে যাও তারামালা,
জুড়া প্রাণের জ্বালা,
ডুবে যাও চদি তুমি সাগরে আবার,
ভুবে থাক্ অন্ধকারে নিখিল সংসার,
আলাে ভালাে লাগে না আমার।
হেসােনারে তুমি ফুল,
ডেকোনারে পাখীকুল,

লহরী।
৭৫
জগতে না থাকে যেন সমীর সঞ্চার,
বহেনা জাহ্নবী যেন ওরূপে আবার,
এ যন্ত্রণা সহেনা যে আর।
এ যাতনা সহেনা যে আর, -
সদা প্রাণ চায় যারে,
হেরিতে না পাই তারে,
ভাই দুঃখে হাবু ডুবু খাই অনিবার,
লা পুরিল আশা যদি জনম কি ছার ?
মিছে বহ। এ জীবন ভার ।
দাবদগ্ধ মরু প্রায়,
এ প্রাণ পুড়িয়া যায়,
এস এস প্রিয়তম হেরি এক বার,
বিদায় মাগিয়া নিব নিকটে তােমার,
কত জ্বালা সব বল আর ।
১৪
গাও বীণা গাও একবার,
কেমন হাসিত শশী,
ছড়ায়ে অমিয় রাশি,
কেমন হাসিত ফুল কানন মাঝার,
ছিল যবে প্রিয় সখা নিকটে আমার,
গাও বীণা গাও একবার।

৭৬
লহরী
পল্লব মাঝারে থাকি,
কেমন গাইত পাখী,
কেমন ঝরিত মধু সে স্বরে তাহার,
পরিত জাহ্নবী কিবা লহরীর হার,
গাও বীণা গাও একবার।
গও বীণা গাওরে আবার,
গাহিতে যেমন আগে,
ব্ৰজেতে ললিত রাগে,
যমুনা উজান যেত যে স্বরে তােমার,
উথলিত ব্রজধামে প্রেম পারাবার,
গাও বীণা সে রবে আবার।
শুনিলে তােমার রব,
পুলকিত ব্ৰজে সব,
মাধব আসিবে আশে আনন্দ অপার,
তাই বীণা গাও আন সখারে আমার,
গাও বীণা গাওরে আবার।

বিবাগী যুবক
(১)
কে অই কে অই বসিয়া বিজনে,
দর দর বারে ফেলিছে ধার,
হিয়া দুরু দুরু কাপিছে সঘনে,
হৃদয়ে দারুণ বিষাদ ভার ?
२
কে অই কে অই বসিয়া বিজনে,
বিষাদ সঙ্গীত গাইছে বসি ;
বিষাদের গীতি বিষাদ পবনে,
আকাশের গায় উঠিছে মিশি ?
মিশিয়া অদূরে স্রোতস্বতী সনে,
কল কল রবে বহিয়া ধায়।
মিশিয়া আবার সে ঘাের বিজনে,
বিজন প্রাতে মিলিয়া যায় ।
৪
জ্যোতি হীন আঁখি দৃষ্টি উদাসীন,
আকাশের সনে রােয়েছে মিশি?
(১) কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর নিকট ভালবাসার প্রতিদান
পাইয়া ও স্ত্রীকৃত দুস্কৃতের জন্য সংসার পরিত্যাগ করে সেই
উপলক্ষে এই কবিতাটা লিখিত হইয়াছে।

লহরী।
উঠিছে ডুবিছে কত নিশি দিন,
নাহি জ্ঞান তার দিবস নিশি ।
৫
কত নদ নদী কত বা ভূধর,
প্রকৃতি আবর্তে ডুবিছে আসি।
প্রতিক্ষণে ধরি নব কলেবর,
আবার উঠিছে উঠিছে ভাসি।
কখন উদয় কখন বিলয়,
প্রকৃতির খেলা জগত সনে।
কে করিল অই প্রকৃতি বিজয়,
অচল অটল বিজন বনে ।
৭
* একই ধেয়ানে একই আসনে,
একই চিন্তায় মগন থাকি।
একই প্রবাহে ভাসায়ে জীবনে,
অলক্ষ্যঅন্তর আপনা রাখি।
৮
কে অই
যুবক
শিরে জটাপাশ,
গাছের বাকল পােরেছে হায় !
ত্যজিয়াছে ভােগ বাসনা বিলাস,
এড়ায়েছে ঘাের সংসার দায় ?

লহরী।
কে অই কে অই বসিয়া বিজনে,
দর দর ধারে ফেলিছে ধার,
দুরু দুরু হিয়া কাঁপিছে সঘনে,
হৃদয়ে দারুণ বিষাদ ভার ?
চিনেছি হে যুবা চিনেছি তােমায়,
ছিল এক দিন তােমার ভবে,
সুখের সাগরে খেলিতে সাঁতার,
ভাব নাই কভু এমন হবে ।
ছিল এক দিন সংসারে তােমার,
হাসিতে খেলিতে সুখেতে কত।
সুখ ছাড়া কিছু দেখ নাই আর,
সুখ দিয়ে গড়া ভাবিতে যত।
১২
কে নিল এখন সে দিন তোমার,
সাধের সুধায় বিষ কে দিল।
কে ভাঙ্গিল তব সাধের বাজার,
এমন কণ্টক কেই বা ছিল ?
প
বুঝেছি হে যুবা বুঝেছি কারণ,
কঁাদ অনিবার কাদহে তুমি।

وسط
লহরী
অশ্রুময় হােক সকল ভুবন,
অশ্রুধারে ডুবে থারে ভূমি ।
১৪
গাও তুমি গাও বিষাদের গান,
কাপায়ে আকাশ পাতাল ধরা।
কপায়ে ভােগীর ভােগ সুখী প্রাণ,
গাও তুমি গান বিষাদে ভরা।
১৫
শিখাও জগতে শিখাও সবায়,
ছিল এক দিন তােমার ভবে।
হায়রে সে দিন গিয়াছে কোথায়,
কে জানিত হায় এ দশা হবে ।
গাও তুমি গাও বিষাদের গান,
কঁপায়ে আকাশ পাতাল ধরা।
কাপায়ে ভােগীর ভােগ সুখী প্রাণ,
গাও তুমি গান বিষাদে ভরা।
১৭
গাও গাও তুমি গাওরে আবার,
শোকের উচ্ছাস বহিয়া যাক্।
ফুটাও ফুটাও নয়ন সবার,
ঘুচুক অ ধার লাগুক তা ॥

লহরী।
১৮
দেখরে জগত মেলিয়ে নয়ন,
দেখ দেখ চেয়ে যুবার পানে।
নবীন বয়সে দিয়া বিসর্জন,
ভােগ সুখ যত মগন ধ্যানে।
ভাসায়ে বাসনা অতল সলিলে,
রোয়েছে যুবক অচল প্রায়।
যুঝিছে অন্তর অনল অনিলে,
ঘন দীর্ঘশ্বাসে বুঝয়ে দ্যায় ।
২০
বলহে যুবক বল কি কারণ,
নবীন বয়সে সেজেছে যোগী?
কোন্ দুঃখে বল দুঃখী তব মন,
কি কারণে বল সকল ত্যাগী ?
বুঝেছি হে আর বলিতে হবে না,
দারুণ বিকার হৃদয়ে তব।
দিয়াছ হৃদয়ে ফিরিয়ে পেলে না,
হ ধিক্ রমণী তােরে কি কৰ ।
২২
ছিল হে সুন্দরী রমণী তােমার,
রূপেতে বিজলী খেলিত সদা।

৮২
লহরী।
হেরিতে সেরূপ তুমি অনিবার,
নয়নে তােমার লাগিত ধাধা।
বুঝে না বুঝিতে ভাবিতে আপন,
আপন বলিয়া ধরিতে বুকে।
কে জানিত হয় ঘটিবে এমন,
ফুলে কাল কীট গােয়েছে ঢুকে ।
২৪
কতই হাসিতে কতই খেলিতে,
প্রেমের তুফান উঠিত কত।
রমণীর প্রেম নারিলে বুঝিতে,
মজিলে আপনি জনম মত।
মধুর কথায় ভুলিতে সতত,
ভাল মন্দ জ্ঞান ছিল না কভু।
প্রতিফল তার পেলে সমুচিত,
ভ্রান্ত নর হায় বােঝে না তবু!
রমণীর প্রেমে হইয়ে মগন,
হেরিতে জগৎ রমণীময়।
ভাব নাই মনে কখন এমন,
রমণী অন্তরে গরল রয় ।

লহরী।
२१
ফুটন্তু কমল প্রেমের সরসে,
আপন রূপেতে আপনি তাের।
ভাব নাই হেন কখন মানসে,
রবে তার মাঝে সাপিনী ঘাের ।
২৮
ভাবিয়ে যাহারে পূর্ণিমার চাঁদ,
হৃদয় আকাশে দিয়িলে স্থান।
কে জানিত হয় ঘটাবে প্রমাদ,
উগারি গরল বধিবে প্রাণ।
বসন্তের লতা হেলে দুলে নাচে,
হেরিয়ে অমনি ধরিলে সুখে ।
হায় রে কপাল ঘটিল এ পাছে,
অহি রূপে হায় দংশিল বুকে।
আশার সুশীত সরসী হেরিয়ে,
ভাবিলে পিপাসা রবে না আর।
একি বিড়ম্বনা দেখ না চাহিয়ে,
ধু ধু করে মরু তাকান ভার ।
p
প্রেমের পাথারে পাইলে তরণী,
ভাবিলে সুখেতে হইবে পার ।

৮৪
লহরী।
দারুণ ঝটিকা উঠিয়ে অমনি,
ডুবালে তোমায় হবে কি আর ?
৩২
শ্রান্ত পান্থবর তরুর ছায়ায়,
বসিলে আসিয়া বিশ্রাম তরে ।
মড় মড় রবে ভেঙ্গে গেল হায়,
ডাল পালা যত মাথার পরে ॥
আশা বারি সেকে হৃদয় উদ্যানে,
যতনে রোপিলে প্রণয় লতা।
ভূলেও ভাবনি কভু হেন মনে,
বিষময় ফল ফলিবে তথা ।
৩৪
ভাবিলে যাহারে হৃদয়ের ধন,
হৃদি ছাড়া কভু করনি যারে ।
সেই তাে তােমায় করিল এমন,
শাণিত চুরীকা হৃদয়ে মারে।
শয়নে স্বপনে কিম্বা জাগরণে,
যে দেবী মূরতি করিতে ধ্যান।
দেখ ভ্রান্ত এবে দেখ না নয়নে,
ডাকিনী সে ঘাের বধিল প্রাণ।

লহরী।
৮৫
৩৬
ভবের সম্বল ভাবিয়ে যাহারে,
সুখেতে কাটালে এতেক কাল।
দেখ দেখ এবে সে ছাড়ে তােমারে,
কে বুঝে রমণী চাতুরী জাল।
হা ধিক রমণি! ধিক শতবার,
পাষাণে হৃদয় গড়েছে বিধি।
নাহি দয়া মায়া কপটতা সার,
খেলিছে চাতুরী সতত হৃদি।
৩৮
মুখে মধু ভরা অন্তরে গরল,
ফুলে ঢাকা কাল সাপিনী নারী।
নারীর জনম মজাতে কেবল,
ধিক নারী তােরে বুঝিতে নারি।
কে বলে সরলা কোমল রমণী,
নৃশংস রাক্ষসী রমণী বেশে।
রমণীর পাপে পূরিত ধরণী,
তবু ভ্রান্ত নর রমণী বশে।
৪ ০
দেখরে পাপিনি.দেখ একবার,
দেখ একবার নয়ন মেলি ।

৮৬
লহরী
কে অই যুবক অস্থি মাত্র সার,
রয়েছে সংসার যাতনা ভুলি ।
৪১
কে ঐ যুবক দেখরে আবার
শিরে জটা জুট বাকল পরা,
মুদিত নয়ন যােগীর আকার
হায়রে জীবন খাকিতে মর।
৪২
দেখ দেখ চেয়ে দেরে আবার
পূজিত যে তােরে দেবতা জ্ঞানে,
হেন দশা তুই করিলি তাহার
এখনও জীবিত আছিস্ প্রাণে !
দেখ চেয়ে হােথা স্থবির জননী
পুত্র শশাকে হায় কাটিছে প্রাণ,
ত্যজিল সংসার নয়নের মণি
জগতে তাহার আঁধার জ্ঞান।
৪৪
দেখু দেথু চেয়ে দেখরে আবার
স্থবির জনক ভূমেতে পড়ি,
পুত্রশােকে হায় করে হাহাকার
তুই রে অনর্থ দিলিরে পাড়ি।

লহরী।
৮৭
৪৫
দেখ পুন চেয়ে দেখ, এক বার
কাদে বন্ধুগণ শোকেতে অতি,
সােণর সংসার দিলি ছার খার
ধিরে পাপিমি ধিকলাে মতি।
৪৬
শােভিত সুন্দর আগে যে ভবন
আমােদে সতত ছিল হে ভরা,
শ্মশান সমান হয়েছে এখন
ধিরে তাের এ জীবন ধরা।
৪৭
ফুল ফলে ভরা ছিল গাছ গুলি
শুকায়ে মলিন হয়েছে তারা,
শুকাল কুসুম না ফুটিতে কলি
জড় দেহে বয় প্রেমের ধারা।
৪৮
দেখরে পাপিনি দে এক বার
পাখী গুলি আর বলেনা বুলি,
চারি দিকে সব শােকে অন্ধকার,
শশাকের নিশান দিলিরে তুলি।
৪৯
রূপের গরবে ছিলি গরবিণী
রূপের বড়াই করেছ কত,

লহরী
পদে পদে মান করেছ মানিনি।
সকলি এখন হইল গত।
৫০
3
জান না কি মনে ওরে কলঙ্কিনি
চির দিন হয় কিছু না থাকে,
আজ রাজ্যেশ্বরী কালি ভিখারিণী
সকলি ঘটিছে বিধির পাকে।
নিলি ইন্দীবর যুগল নয়নে
খেলে যে কটাক্ষ মানস হরে,
কোথা রবে হায় অতীত যৌবনে ?
সকলি সমান হইবে পরে।
৫২
কৃষ্ণ কেশ রাশি নিতম্বচুম্বিত
চির দিন কিছু রবে না হায়!
হবে না ওরূপে মানস মােহিত
চির দিন, সম কারাে না যায়।
তবে কেন বৃথা করিলে বড়াই
রূপের গরবে উঠিলে মাতি।
রূপহীন পতি মনে ধরে নাই
এইত জগতে রমণী রীতি।

লহরী।
মােহান্ধ রমণী রূপে অন্ধ হােয়ে
নারিলে চিনিতে কিধন পতি।
থাক থাক তুমি থাক রূপ লােয়ে
রূপবানে তব বাড়ুক রতি।
বিজন কানন বিজন আবাস ,
শান্তি সদা হয় বিরাজে তথা ।
হতাশ সেখানে পাইবে আশ্বাস
অভেদ সুরূপ কুরূপ যথা।
যাও যাও তুমি বিলাস ভবনে
ভােগ সুখে সদা থাকহে রত।
কিন্তু মনে জেনে তােমারি কারণে
উদাসী সে জন জনম মত।
হায়রে কি দশা হােলােরে ভারতে
সােণার ভারত হােলোরে ছাই।
বুক ফেটে যায় এ দশা হেরিতে
ভারত এখন ভারত নাই।
৫৮
কোথায় সাবিত্রি কোথা সীতাপতি
কোথা দময়ন্তী চিন্তা বা কোথা।

.
লহরী।
কোথা গেলে খনা কোথা লীলাবতি
একবার ফিরে এসগো হেথা।
কোথা রাজোয়ার সাধ্বীসতী নারী
কোথা বা রাঠোর চোহন বালা।
অনল কৃপাণ সব তুচ্ছ করি
রেখেছ সতীত্ব ভুবন আলা।
দেখরে এখন চেয়ে একবার
সােনার ভারত হােয়েছে ছাই।
চারিদিকে সব ঘোর অন্ধকার
সতী নাম বুঝি ভারতে নাই ।
দোষ কার ?
একি কথা আজিলে রূপসি ?
আগে মন মজাইয়ে, এবে সব পাশরিয়ে,
একাই আমারে শুধু করিলে গাে দোষী,
এই কি ধর্মের কাজ তােমার প্রেয়সি ?

লহরী।
৯
ছেলে বেলা কচিটী যখন,
কার হাত ধধরে ধােরে, বেড়াইতে ঘুরে ফিরে,
মিটি মিটি হাসি হাসি ছবিটী মতন,
ননীর পুতুল কিম্বা মােমের গড়ন।
পােহাতে না পােহাতে রজনী,
কার কাছে আগে গিয়ে, ভরা ঘুম ভাঙ্গাইয়ে,
হাত ধরে টেনে টেনে তুলেছ তখনি,
যাবনা বলিলে তুমি তবুত ছড়িনি।
৪
সেই ভােরে চোলেছি দুজনে,
কোথা কিছু ঠিক নাই, চোলেছ চোলেছি তাই
দাড়ালে দাড়িয়ে থাকি চেয়ে মুখপানে,
কি যেন কি যাদু মাখা ছিলরে সেখানে।
আসি পুনঃ নদী কিনারায়,
ছােট ছােট ঢেউ গুলি, ছুটিয়াছে মাথা তুলি,
তুলিয়ে চাঁপার কলি দেখাতে আমায়,
অবাক্ হইয়ে চেয়ে দেখিতাম তায়।
কভু গিয়ে ফুলের বাগানে,
গাছের আড়ালে থেকে,
বলিতে আমারে ডেকে,

৯২
লহুরী।
দেখ চেয়ে ফুল হয়ে ফুটেছি এখানে,
গাছে থেকে ফুটে রই যাবনা ওখানে।
৭
তখনি যে আসিয়ে আবার,
দুইটী মােলাম করে,
গলাটী জড়িয়ে ধােরে
এই যে এসেছি বােলে হাসিয়ে কুয়ার,
হাসিতে ফুটিত ফুল সুষমার সার।
কখন বা তখনি আবার,
ফুটন্ত কুসুম গুলি, একে একে আনি তুলি
বলিতে গাঁথিতে মােরে সুচিকণ হার,
গাথিয়ে পরিয়ে গলে দিতাম তােমার।
কি জানি কি ভাবিয়ে আবার ;
সেই হার খুলে ফেলে,
পরায়ে আমার গলে
নীরবে থাকিতে চেয়ে কি বুঝিব তার!
সে হারে বহিত হয় অমৃতের ধার ।
১০
খেলা ঘরে খেলিতে খেলিতে,
গায় হাতে মাখা ধুলি, এলাে থেলাে চুলগুলি,
ছুটে এসে গলা ধোরে আমারে বলিতে,
তুমি না থাকিলে ভাল লাগে না খেলিতে।

লহরী।
৯৩
১১,
নিশামুখে আকাশের গায়,
দেখিয়ে একটা তারা, ছুটিয়ে পাগল পারা,
থাকিতাম যেথা আসি বলিতে তথায়,
বল দেখি কয় চোক, তােমায় আমায় ?
কত দিন সাজ না জালিতে,
ছুটে এসে কাছে বােসে, বিধুমুখে মধুহেসে,
একথা সে কথা কোয়ে ঘুমিয়ে পড়িতে,
ঘুম চোকে ছাই পাশ কতকি বলিতে।
সেই মুখ আজো জাগে মনে,
চাদের কিরণে মাখা, নিখুত করিয়ে আঁকা,
কিবা ছার রাকা শশী তাহার তুলনে,
দেখেনা মিটিত আশা,—মেটেনা জীবনে।
১৪
অনিমিখে থাকিতাম চেয়ে,
ঘুমে ভরা আঁখি দুটী,
মুদিত কমল দুটী,
খেলিত বাতাস তব চারু বাস কােয়ে,
সাধ কোরে দিত চাদ জোছনা মাখায়ে ।
মৃদুল সে সমীরণ বেগে,
পড়িত ঘুমের ঘােরে, চুলগুলি মুখপরে,

৯৪
লহরী
আধ ঢাকা চাদ যেন আলাকুল মেঘে,
এখনাে সে চারু ছবি হৃদি মাঝে জাগে।
এলাইয়ে পড়িত শরীর,
তােলা মােলামের মত, হাত দুটী পােড়ে রত,
নয়নে তিমিত পদ্ম ক্ষীর পয়ােধিয়,
লাবণ্য লহরী লীলা ক্ষীরোদ নিথির।
১৭
বাল্য লীলা ক্ৰমে অবসান,
ফুরালাে উষার বিভা, ক্রমে প্রকাশিল দিবা,
সপ্তমীর কলা ক্রমে হােলাে তিরােধান,
বহিল ভাদ্রের গঙ্গা ভরন্ত তুফান।
১৮
ক্রমে কলি হােলাে বিকসিত,
ছড়াইয়ে পত্র পুঞ্জ,
শােভিল মাধবী কুঞ্জ
রূপের তরঙ্গ অঙ্গে হােলাে উছলিত,
কুলে কুলে কাল জলে যমুনা পূরিত।
যৌবনের নবীন সঞ্চারে,
বাড়িল রূপের আভা, বসন্তে বল্লরী শােভা,
অথবা ফুটিল পদ্ম হিমানী অন্তরে।
ভাসিল শৈশবী খেলা চির দিন তরে।

লহরী।
১৫
সরমের কলিকা ফুটিল,
সেই মিছি হাসাহাসি, সেই মিছি আসা আসি,
একে একে কোন্ দিকে সকলি ফুটিল,
কাছে যেন তবু কেবা যােজনে রাখিল।
পােহইত সেইত যামিনী,
সেই শুয়ে থাকি আমি, আরনা আসিতে তুমি,
আর নাহি হাত ধরে তুলিতে ভাবিনি !
আর না ভ্রমণে হােতে সুখের সঙ্গিনী।
কত ফুল ফুটিত কাননে,
আর না গাঁথিয়ে হার, দিতে মােরে উপহার,
আর না সাজিতে তুমি কুসুম ভূষণে,
শুকাত সাধের ফুল যতন বিহনে।
উচু ডালে সজিনার ফুল,
আর না বলিতে মােরে, পেড়ে দিতে ডাল ধােরে,
আর না যাইতে সাথে তটিনীর কুল,
আর না বসিতে তখা পাদপের মূল।
२8
ভাগ্যে যদি দেখা বা ঘটিত,
অমনি পড়িত আঁখি, কে যেন কি কোথা থাকি,

লহরী।
সজোরে আঁখির দ্বারে চাপাইয়া দিত,
শিরায় শশাণিত স্রোত সবেগে ছুটিত।
সেই চাদ উঠিত গগণে,
ছড়ায়ে কিরণ রাশি, ফুটায়ে ফুলের হাসি,
আপনি হাসিত বসি আপনার মনে,
জাগায়ে সুখের স্মৃতি শৈশব জীবনে।
ভাবিতাম কত মনে মনে,
কেন বা শৈশব যায়, কে বল যৌবন চায়,
বাল্য দিয়ে গড়া কেন হয়নি জীবনে,
বাল্যে যদি এত সুখ কি কাজ যৌবনে।
२१
ফোটে ফুল শুকাতে নিশ্চয়,
কলিকার
ক্ষুদ্র হাসি, ফুটে থাকে দিবা নিশি,
পৌর্ণমাসী অন্তে শশী অবশ্যই ক্ষয়,
পূর্ণতায় তবে বল কিবা সুখােদয় ?
২৮
প্রভাতের কত মধুরতা,
প্রভাতী মৃদুল বায়,
জুড়ায় তাপিত কায়
প্রভাতী সঙ্গীতে মাখা,শােক পাসরতা,
কেন সে প্রভাত অন্তে দিবার খরতা।

লহরী।
৯৭
২৯
সদা হাসি শিশুর বদন,
নাহি শােক ক্ষোভ জ্বর, সে চিত প্রমােদে ভরা,
স্বর্গের কোমল বিভা, শান্তি নিকেতন,
কেন তায় শেষে বল কুটী ভীষণ ?
কে গেল সুখের শৈশব ?
তােমাধনে দূরে রাখি,
জুড়াতে না পাই আঁখি
যে দিকে নিরখি দেখি জ্বালাময় সব,
বিকল প্রেমের বীণা বাজেনা নীরব।
নিরাশার নিবিড় আঁধার,
প্রাণের ফুটন্তু আলাে,
নিবাইয়া দূরে গেল,
ঢেলে দিল জ্বালাময় জ্বলন্ত বিকার,
নীরবে বহিল নেত্রে অশ্রনীর ধার।
শুনিলাম বিৰাহ তােমার,
করল আবৰ্ত্ত সঙ্গে,
উত্তাল তরঙ্গ ভঙ্গে,
ভাঙ্গিল হৃদয় বেলা ; ঘাের অন্ধকার,
ব্যাপিল বিপুল বিশ্ব বল আঁধার ।

লহরী।
চাহিলাম আকাশের পানে,
আর না ভানুর ভাতি, আর না তারার পাঁতি,
আর না চাদিমা বসে গগন অঙ্গনে,
আর সে সুধার ঝর ঝরেনা তেমনে।
৩৪
ভুবিলাম বিষাদ সাগরে,
এত যতনের নিধি, হায়রে দারুণ বিধি,
কেড়ে নিয়ে পুনঃ তুই দিবি কার করে,
শুকাবে সাধের পদ্ম নিশ্বাসের ভরে।
সে যে মাের আদরের লতা,
কঠোর পরশ ভার,
সবেনারে অঙ্গে তার,
বসন্তের স্নেহ মাখা যতনে ললিতা,
পরশে সমীর ধীরে পাছে লাগে ব্যথা।
হা হতাশ সতত অন্তরে,
একে একে সব কথা, আসে মনে লাগে ব্যথা,
জুড়াবার নাই স্থান পৃথিবী ভিতরে,
ভাসাইয়া দিমু কায় ঘটনা সাগরে।

লহরী।
৯৯
৩৭
লীলাখেলা.সব বিধাতার,
নিদাঘ মার্তণ্ড করে,
শুষ্ক করে তরুবরে,
সরস বরষা বশে রসের সঞ্চার,
উঠে লতা ফোটে ফুল আনন্দ অপার ।
সুচিভেদ্য অমার আঁধার,
চকোরের সুধাপান,
সে আধারে তিরােধান,
নিরাশায় ভাসে হৃদি-উদিত আবার,
গগনে বিমল শশী সুধার আধার।
দুঃখ সুখ চিরদিন নয়,
প্রকৃতি প্রভুত্ব বশে এক যায় আর আসে,
হেমন্ত সমন্তে আসি বসন্ত উদয়,
আজি পরাভব কালি আবার বিজয়।
৪০
পরিণয় তােমায় আমায়,
পােহাল নিরাশা নিশা, উদিল সুখের উষা,
চিন্তার আঁধার ঘাের পালাল কোথায়,
আবার হাসিল পদ্ম সরসে শােভায়।

লহরী।
৪১
আবার নূতন
শশী,
নব সৃষ্টি যেন পুনরায়,
নূতন গগনে বসি,
ঢেলে দিল যেন পুন নবীন সুধায়,
আর না কলঙ্ক অঙ্ক অঙ্গে শশাভা পায়।
৪২
।
সব ফুল ফুটিল আবার,
অকণ্টক মৃণালিনী, নিত্য ফুল্ল প্রমােদিনী,
গােলাপে কন্টক চিহু না রহিল আর,
বারমাস ভরা মধু মাধুরী সম্ভার।
৪৩
ধীরে পুনঃ বহিল সমীর,
মন্দারের রেণুমাখা, সঙ্গে মধু পিক সখ,
পরশে সন্তাপ দূর জুড়ায় শরীর,
সুখকর মৃদুকর তপন মিহির।
৪ ৪
(
বনকুঞ্জ আবার হাসিল,
পাতায় পাতায় ফুল, দলে দলে অলিকুল,
মধুর মােহনরবে পুনঃ গুঞ্জরিল,
কোকিলে সপ্তমে তান আবার ধরিল।

লহরী।
দুঃখ শােক অতলে ডুবিল,
হাসি হর্ষ মুখভরা,
আবার জাগিল ধরা,
প্রকৃতির স্বর্ণরাজ্য আবার আসিল,
হৃদয়ের হারা তারা হৃদয়ে উদিল
৪৬
কত সুখ সে মিলনে হায়,
হাতে বাঁধা গলাগলি, বুকে বুকে দোহে মিলি,
কহিনু শৈশব কথা কুসুম শয্যায়,
যামিনীর শেষ, শেষ নাইরে কথায়।
৪৭
কত ভাবে ভুলায়েছ মােরে,
কখন তুলেছ বুকে,
কখন বা মুখে মুখে,
কখন ভ্রমণ দোহে করে করে থােরে,
ছাড়িয়া দিতে না কভু তিলেকের তরে।
Sb
এলাইয়ে কাল চুল,
কখন বা বনদেবী বেশে,
দোলাইয়ে বন ফুল,
কতই
মধু হাসি হেসে,
এই কি করিলে শেষে এত ভালবেসে?
তুষেছ প্রিয়ে

১০২
লহরী।
কখন বা মােহিনী সুন্দরী,
বিলােল কবরী বাঁধা, আবেশে মুদিত আধা,
নয়ন কমল দুটী আহা মরি মরি,
লম্বিত প্রলম্ব কিবা পীন বঙ্গোপরি ।
কখন বা সরলা বালিকা,
স্থিরতার নেত্র দুটী,
যেন বা সফরী যুটী,
ফোট ফোট আহা কিবা সরম কলিকা,
সােহাগ মাখন যেন দুলালী লতিকা।
৫
কখন বা ফুলের সাজনি,
ফুলেতে সজ্জিত কেশ, ফুলেতে রচিত বেশ,
ফুলের শরীরে ফুল কেমনে বাখানি,
ফুল কুল মাঝে আহা যেন ফুলরাণী।
কোথা গেল সে ভাব এখন,
কোথা সে প্রেমের ভাষা, বুকভরা ভালবাসা,
প্রাণভরা সরলতা মধুর বাঁধন,
কোথা সেই হাব ভাব চলন বলন।

লহরী।
১০৩
ফুরালো কি সে দিন,সহস,
এখন সকলি দোষ, কথায় কথায় রোষ,
অভিমান ছল ছল চাতুরী বিরসা,
সরল প্রেমের বুঝি এই শেষ দশা।
৫৪
সেই তুমি এখন সে নও,
যেন কত অপরাধী, কথায় কথায় সাধি,
কহিলে নয় তাই দুট কথা কও,
নতুবা লাে গরবিণী গরবেই রও।
এবে পুনঃ কথায় কথায়,
বল অভিমান ভরে, কেনবা মজালে মােরে,
যত দোষ সব বুঝি আমার বেলায়,
তােমার কি কিছু নয় সুধাই তােমায় ?
বল প্রিয়ে সরল তান্তরে,
শৈশবে পাতিয়ে ফাদ, ও চারু বদন চাঁদ,
কে ধরিল এ বিহঙ্গে? মন্ত্রমুগ্ধ করে
কে রাখিল বল পুরে প্রেমের পিঞ্জরে।

১০৪
লহরী।
কেবা বল নবীন যৌবনে,
দেখায়ে সুধাব খনি,
হরিল মানস মণি,
কেবা স্বগ দেখাই এ মর ভুবনে,
কে ফুটালে প্রেমকলি বিলাস কাননে,
কে শিখালে প্রেমের বিজ্ঞান,
মাধবী তমাল কোলে,
হাসিযে দুলাল দোলে,
হাসে ফুল নেহারিয়ে শশাঙ্ক বয়ান,
হাসিয়ে তটিনী করে সাগরে পয়াণ।
পুনঃ নব জলদেব কোলে,
আছয়ে অভেদে মাখা,
স্থির সৌদামিনী বেখা,
হেরিয়ে চাদের মুখ সাগর উথলে,
তরঙ্গে তরঙ্গে মিলি কত খেলা খেলে,
আজি পুনঃ একি লাে রূপসি,
সব কথা গেলে ভুলে, যত দোষ মােরে দিলে,
হাত ধুয়ে এড়াইয়ে বহিলে গাে বসি,
এই কি ধর্মের কাজ, তোমায় প্রেয়সি ??

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Lahari

Author
Mukhopadhyay,kalipada
Title
Lahari
File name
Lahari
Text
OCR done
Citation
1890
Published
2009/11/30
Publisher
Day Brothers,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
116
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Mukhopadhyay,Kalipada
DLI number
512850
Barcode
4990010019884.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
z3qUoNW6Rkm
Download PDF

Lahari