Makardah Saraswat Library, Howrah

Agni Shikha

Ghatak, Sri Satishchandra · 2009/08/18

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

ঈদ সাশ্মলনী
অগ্নি-শিখা
। পৌরাণিক নাটিকা।
শ্ৰসতীশচন্দ্র ঘটক, এম-এ, বি-এ
প্রণীত
পূর্বন
শা:
চক্রবর্ত্তী সাহিত্য-ভবন
আট আনা

প্রকাশক–শ্রীবিষ্ণুপদ চক্রবর্তী, বি-এ
চক্রবর্তী সাহিত্য-ভবন
জ, বজ, পােঃ-
বজ, বজ, ২৪ শরণা
প্রথম অভিনয়
মিনাভ। মঞ্চে
৩২শে শ্রাবণ, ১৩৩৭ সাল
মুদ্রাকর-সাশচন্দ্র বিশ্বাস
নিউ পার্ল এস
১৫৭।বি, ধৰ্ম্মতলা স্ট্রীট, কলিকাতা

নিবেদন এই নাটিকার বিষয় সাঁতার অগ্নিপরীক্ষা। এ বিষয়ে আমি বাল্মিকীর. রামায়ণ, অধ্যাত্ম রামায়ণ এবং কৃত্তিবাসী রামায়ণ এই তিনেরই অনুসরণ করেছি। তবে তবে নাটকত্বের অনুরােধে স্থানে স্থানে স্বকপােণকল্পিত ঘটনারও অবতারণা করতে দ্বিধা করিনি যেমন হাস্যরস সৃষ্টির জন্য রাবণবধের পরেও কালনেমিকে জীবিত রেখেছি। আশা করি এই রকম কবি-স্বাধীনতাকে রসিকসমাজ মার্জনা করবে। নাটিকাটির ভাষা একটু সংস্কৃতসো হয়েছে, কিন্তু পৌরাণিক আবহাওয়া সৃষ্টির অন্য উপায় ছিল না। নাটিকাটির নামের সার্থকতা দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে স্ত্রীমের বাক্য হতে এবং ঐ অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যে সরমার বাক্য হতে প্রতিপন্ন হবে। এ নামটির জন্য আমি সু-অভিনেতা রবীন্দ্রমােহন রায়ের নিট ঋণী। আমার কবি-বন্ধু জ্যোতি বাচস্পতি ও জ্ঞানাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় এই নাটিকা রচনায় আমাকে কিছু কিছু সাহায্য করেছেন—সেজন্য তাদের নিকট আমি কৃতজ্ঞ। নটাগ্রণী শ্ৰী অহীন্দ্র চৌধুরী মহাশয় নাটিকাটিকে রঙ্গমঞ্চের উপযােগী রূপ দেবার জন্য যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তার জন্য তাকেও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ৩০ শে শ্রাবণ—- গ্রহকার ১৩৩০ সাল ।

নাটকীয় চরিত্র
পুরুষ
রাম
অযােধ্যারাজ
দশরথের পুত্র
রামের কনিষ্ঠ ভ্রাতা
লক্ষ্মণ
मौन রামের স্ত্রী
মন্দোদরী
রাবণের স্বী
সরমা বিভীষণের স্ত্রী
ব্রিজট। প্রধানা চেড়া
চেড়ীগণ
হনুমান
রামের অনুচর
বিভীষণ
লঙ্কাধিপতি রাবণের
কনিষ্ঠ ভ্রাতা
কালনেমি
রাবণের মাতুল
মাল্যবান রাবণের মাতামহ
'অগ্নি
বৈতালিক
অভিনয়কালীন পরিবর্তন, পরিবর্জন ও পরিবর্ধন মার্জনীয়

অগ্নি-শিখ,
প্রথম অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
ভ্যন্তর! রান একটি অনুচ্চ আসনে বসে আছেন। ‘ার নখ গম্ভীর ও
ভরে अगर অবত।
লক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন, তার
: ধনু:শর। পদ প্রান্তে হনুমান নতজানু হয়ে বসে আছে !
সম্মুখে একদল চেড়া বাগান গাইচে।
{ গান )
নরীর তুমি নবীর তুমি নরবার তুমি রাম
কোথা হতে এসে এ সুদূর দেশে দাড়াইলে অনুপা।
তুমি জিনিলে কনক-লঙ্কা,
পুতিলে তােমার বিজয়-নিশান
বাজালে বিজয়-ডঙ্কা,
সমরে অমর-বিজয়ী রাবণে পাঠালে তিমির-ধাম।
নবীর তুমি নববীর ভুমি নববীর তুমি রাম,
নবজাত শিশু চমকে আজিকে শুনিয়া তােমার নাম।

অগ্নি-শিখা
[প্রথম অঙ্ক
তুমি জিনিলে কনক-লঙ্কা,
আকাশে বাতাসে সৌধে সাগরে
ছড়ালে ভীষণ শঙ্কা,
রাক্ষস-নারী-নয়নে ঝরালে বারিধারা অবিরাম।
যাও চেড়ীগণ।
( চেড়াগণের প্রস্থান)
। স্বগত)
অগ্রজের মুখকান্তি কি হেতু গম্ভীর ?
আষাঢ়ের নভস্তলে নববরষার
ঘন আড়ম্বর সম, নয়ন যুল
অন্তপূঢ় বাষ্পে যেন পরিক্লিন্ন অতি ।
রহি রহি বহে উষ্ণ গভীর নিঃশ্বাস
দীর্ঘতম নাহি জানি কোন ঝটিকার
পূৰ্ব্ব এ সূচনা। নাহি সাহসে কুলায়
আমারাে কহিতে কথা, কিন্তু কিন্তু
( প্রকাশ্যে )
রা। ( চমকিত হয়ে)
কি লক্ষণ ?
দশমাস অবিশ্রাম করিয়া সমর
বিনির্জিয়া আমমাংস-ভক্ষক রাক্ষসে
আমরা বিজয়-লক্ষ্মী করেছি অর্জন,
তবু ও বদন কেন চিন্তাকল আজি
দাদা !

প্রথম দৃশ্য]
অগ্নিশিখা
অপ্রফুল্ল
কিসের—কিসের চিন্তা করিতেছ দাদা?
রা। ( দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে )
জানিবে পশ্চাতে ।
(স্বগত)
এই প্রকাশ-দীনতা
নহে স্বাভাবিক, এই বাক্য পরিমিত
স্মিত হাস্যহীন, যেন নেপুঞ্জ-হারা
নিস্তরঙ্গ সাগরের স্তব্ধ জলরাশি
অকল্লোল
(প্রকাশে)
কং সৌম্য বুঝিতে না পারি
উৎসাহ না দাও কেন করিতে উৎসব ?
উৎসব ! কিসের ভ্রাতা ? লক্ষ রঙ্গোলা
কঁদিছে না সিন্ধুতীরে পতি-পুত্রহীনা
কপালে কঙ্কণ হানি, দগ্ধ চিতা পাশে ?
অনিবাৰ্য অনুষঙ্গ ইহা সমরের।
অনিবাৰ্য জানি কিন্তু সমবেদনায়
ব্যথিত কাতর চিত্ত রণােন্মাদে মাতি
করি নাই অনুভব ইতিপূৰ্ব্বে যাহা ।
করুণাসাগর তুমি রঘুচূড়ামণি ।
রা।
করুণাসাগর ! হায়, নৃশংস কে আর
আছে মাের চেয়ে ? স্বপ্নে দেখিয়াছি কাল
-

অগ্ন-শিখা
[ প্রথম অঙ্ক
রুধির-প্লাবিত লঙ্কা উঠ স্ফীত হয়ে
অনন্ত অম্বর পানে, জল স্থল ব্যোম
পূরিল লােহিত স্রোতে, তার মাঝে আমি
একাকী দাড়ায়ে শুধু রক্ত-কলেবর।
দুৰ্বলতা কেন দাদা ? কর পরিহার
এই দীন আত্মগ্লানি।
(ঈমং ক্রুদ্ধ স্বরে)
শান্ত হও ভ্রাত !
জান নাকি বিশ্বমাঝে সেই সে দুর্বল
পরদুঃখে নাহি গলে হৃদয় আহার ?
(লক্ষ্মণ মাথা নীচু করলেন।
ও কি ! তব মুখে কেন ক্ষুব্ধ অভিমান ?
(লক্ষ্মণ নিরুত্তর রইলে।
আহত হয়েছ বুঝি বাক্যবাণে মাের ?
তিরস্কারে আছে দাদা তব অধিকার :
( সস্নেহে লক্ষ্মণকে কাছে টেনে নিয়ে )
ক্ষম এ রূঢ়তা ভাই অনিচ্ছ-প্রসূত ।
( রামের কাছে নতজানু হয়ে )
দাদা দাম বাড়ায়ােনা অপরাধ মাের
কিন্তু আমি সত্য কথা কহিব নির্ভয়ে,
অত্যাচারী মহাপাপী রাবণে দণ্ডিয়া।
পরিতাপক্লিষ্ট নহে আমার হৃদয়।

প্রথম দৃশ্য ]
অগ্নিশিখা
রা !
দণ্ডিয়াছ শুধু কি রাবণে ?
দণ্ডিয়াছি
সুবিপুল-শাখাময়ী বংশাবলি তার,
একের পাপের ফল ভুঞ্জে শর্তজনে।
বিনাদোষে ?
না দাদা সংসর্গের দোষে ।
দুগ্ধ সথা দবি হয় অম্ল পরশনে,
অম্ন যথা বিষ হয় তা সহযােগে,
ল।
তাম্র যথা-
রা।
ওই চিন্তা–ওই চিন্তা মাের।
(কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উলে।)
ল।
( স্বত)
কী চিন্তা যে অগ্রজের বুঝিতে না পারি ।
ভঙ্গ-দুষ্পে ক্ষ্য মুখ, রােষ-সম্মিলিত
সুতীব্র বেদনা যেন নিম প্রস্তরে
উল্লিখিত, ভাস্করের তক্ষণীর মুখে।
সংসর্গের দোষে দণ্ড নিরপরাধের
(প্রকাশ্যে)
সীতারে আনিতে কেহ গেছে হনুমান ?
গেছে বিভীষণ, প্রভু, তােমারি আদেশে ।
আমারি আদেশে—সত্য, পড়িয়াছে মনে।

অগ্নিশিখা
[ প্রথম অব
। ( স্বগত)
দেবী জানকীর চিন্তা, নাহিক সংশয় ;
কিন্তু সে চিন্তায় এ কী কল্পনা-অতীত
নিরানন্দ ভাব ! এ যে অচিন্ত্য দুর্বোধ।
( হনুমানের প্রতি)
রাবণ-বধের বার্তা পেয়েছে কি সীতা ?
সে বার্তা এ দাস তব সকলের আগে
বিদ্যুতের বেগে গিয়া করেছে প্রদান।
কেমনে সে বার্তা সীতা করিল গ্রহণ ?
কেমনে বৈদেহী-নাথ ? দুই চক্ষু দিয়া
যেন উদ্যানের দুই জলযন্ত্র হতে
ঝরিল অঝােরে অশ্রু জননীর মাের,
ভরলিত মুক্তা সম আনন্দের ধারা।
বা ।
( স্বগত)
আনন্দের বারা ! হায় আনন্দের !
( সসা প্রকাশ্যে )
না।
কি হলো !
কি :লো দাদা ?
কিছু নয়, শুধু
পৃষ্ঠে বেত্রাঘাত সম হ’ল অনুভব !
মায়াবী রাক্ষস কেহ আছে বা জীবিত
হানিছে বা শব্দভেদী অদৃশ্য শায়ক।
৬

প্রথম দৃশ্য ]
অগ্নি-শিখা
ল।
অদৃশ্য বাণের কথা কভু শুনি নাই।
আবার সে অনুভূতি
ল।
বড়ই অদ্ভুত !
নিশ্চয় অদৃশ্য বাণ, চলিলাম আমি
খুজিয়া মারিতে সেই মায়াবী রাক্ষসে ।
( হনুমানের বেগে প্রাঃ)
তিষ্ঠ হনুমান, নহে বাণের আঘাত,
তুচ্ছ বেত্রাঘাত মাত্র, গিয়াছে চলিয়া।
আহা আত্মসুখহীন রামগত প্রাণ ।
এই যে আবার পৃষ্ঠে পড়িছে সনে
শুধু পৃষ্ঠে কেন, হস্তে, পদে, উরঃস্থলে,
সৰ্ব্ব অঙ্গে—কিন্তু এতে কিবা আসে যায়,
সহিব নীরবে-
( নেপথ্যে কলকে "! হিল)
ওকি, কিসের ও ধ্বনি !
(নেপথ্যে বহুকষ্ঠে) সীতারাম সীতারাম জয় সীতারাম !
ল।
কটকের কপিগণ করিছে উল্লাস
আসিছেন আৰ্যা দেবী বুঝি এতক্ষণে ।
( স্বর্ণবের হও বিভাণের প্রবেশ )
বি। (নতশিরে)
এসেছেন শিবিকায় শিবির-দুয়ারে
পত্নী তব হে নরেন্দ্র।
শিবিকায় কেন ?

অগ্নিশিখা
[প্রথম অঙ্ক
বি।
পদব্রজে মিত্রবর আনিতে কি পারি
সুচিরবিরহশীর্ণ। প্রতিপদক্ষীণ
চন্দ্রলেখা সম তন্বী রাজকন্যকায় ?
বিলম্ব কি তুে এত !
বি।
বিলম্বের হও,
বি।
মলিন বসন জীর্ণ করি পরিহার
তব সম্ভাষণযােগ্য পট্টবস আর
ত্ন আভরণ আদি অঙ্গে পরিধান।
রত্ন আভরণ ! কিবা প্রয়ােজন ছিল ?
সরমা-নিৰ্বন্ধে শুধু এই সজ্জা তার।
নতুবা না ছিল তার চিত্তে অষি
এমন কি সমাপিতে স্নান অঙ্গরাগ।
সেই ত উচিত ছিল, পতিব্রতা নারী
পতিসঙ্গ-সমুৎসুকা—হয় কি সজ্জিত
ক্ষুদ্র বিলাসিনী সম? বেশ, তারপর ?
তারপর বিলম্বের হেতু, হে রাঘব,
আমার নিৰ্বন্ধে চড়ি বস্ত্ৰ-পরিবৃত
স্বর্ণ-শিবিকায়, যবে হলেন বাহির
রাজপথে, চতুর্দিকে বানর-সংহতি
করিল বেষ্টন তারে দর্শনলালসে।
সে জনতাব্যুহ ভেদি বহুকষ্টে আমি
বেত্রাঘাতে সরাইয়া কৌতুহলী-দলে—

প্রথম দৃশ্য ]
অগ্নি-শি
ধিক্ বিভীষণ ধিক্ ! জাননা কি তুমি
রাজার গৃহিণী হয় প্রজার জননী,
দর্শনীয়া প্রজাদের ? জানােনা কি তুমি
প্রজা আর পুত্র এক, জানােনা কি তুমি
তারা মাের পুত্ৰাধিক, পুত্র হতে প্রিয় ?
সীতার উদ্ধার লাগি তুচ্ছ করি প্রাণ
যুঝিয়াছে রণক্ষেত্রে শেষে বেত্রাঘাত!
এই পুরস্কার ! দেখাে দেখাে বিভীষণ
(পৃষ্ঠবস্ত্ৰ উন্মােচন করে ।
কার অঙ্গে বেত্রাঘাত করিয়াছ তুমি।
সত্যই যে রক্তরেখা উঠেছে ফুটিয়া-
(রামের পা জড়িয়ে ধরে )
ক্ষমা কর মহাপ্রাণ, ক্ষমা কর মাের
ক্ষুদ্র আচরণ, আমি ক্ষুদ্রাশয় অতি ।
ওঠো ওঠো বন্ধুবর, কিন্তু কভু আর
হয়ােনা নিষ্ঠুর হেন, যাও কই গিয়া
সীতারে আদেশ মাের, আসিতে হেথায়
পাচারে-দেখুক না বানরসংহতি।
রমণীর আবরণ নহে বন্ধু জেনাে
কি গুণ্ঠন কি প্রাচীর কি তিরস্করণী,
সচ্চরিত্র একমাত্র আবরণ তার ।
(বিভীষণের প্রস্থান)
বি।
র।

অগ্নিশিখা প্রথম অঙ্ক ল। (স্বগত) আশঙ্কা হতেছে মনে, বুঝি আর নাই আৰ্য্যা প্রতি অগ্রজের পূর্ব সমাদর। (নেপথ্যে বহুকণ্ঠে) জয় সীতা ! জয় সীতা ! জয় সীতারাম ! ল। (স্বগত) আসিছেন, এইবার কি যেন কি হয় । (ধীরে ধীরে সাতার প্রবেশ। প্রেমস্নিগ্ধ সজল চক্ষে রামকে দেখতে দেখতে তিনি অগ্রসর হতে লাগলেন। লক্ষণ সীতাকে প্রণাম করলেন) সী। চিরসুখী হও বৎস, চির-আয়ুষ্মন্ । (পুনৰ্বার স্থির দৃষ্টিতে রামকে দেখতে দেখতে অগ্রসর হতে লাগলেন। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো। রামও অপলক তৃষার্ত দৃষ্টিতে সীতাকে দেখছিলেন—সীতা অতিমাত্র নিকট- বর্তী হতেই সহসা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মুখ নীচ, করলেন। সীতার মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল ) সী। (বাষ্পজড়িত ভগ্নস্বরে ) আরআরআৰ্যপুত্র ! (গলবস্ত্র হয়ে রামকে প্রণাম করলেন) রা। থাক্ থাক্ জনক-দুহিতা। সী। ( স্বগত) এতদিন পরে এই সম্ভাষণ ! প্রিয়তমে দূরে থাক, সীতাও কি নয় ? মাের তরে কত কষ্ট সহিয়াছ নাথ।

দ্বিতীয় দৃশ্য )
অগ্নি-শিখা
• (প্রকাশ্যে
রা।
নহেক তােমার লাগি যিথিলা-নন্দিনী
অযােধ্যার রাজকীর্তি অক্ষুন্ন রাখিতে ।
সী। (স্বগত)
একি ভয়ঙ্কর কথা !
(প্রকাশ্যে)
প্রভু, প্রিয়তম !
বুঝিলে না? সূৰ্য্যবংশ-নৃপতির মান
বক্ষোরাহু করেছিল গ্রাস,
তােমারে উদ্ধার করি সে গৌরবরবি
মুক্ত করিয়াছি। যাও, তুমিও এখন
মুক্ত সেই মত ।
মুক্ত আমি ! এ কথার উদ্দেশ্য কি নাথ ?
সী।
বুঝে দেখ মনে।
সী।
কি বুঝিব? বুদ্ধি মাের হতেছে বিকল ।
কতকাল পরে
রাজীব-চরণ দুটি যদি হেরিলাম
নেত্ৰজল-আবরণ-অন্তরাল হতে,
মিটিতে আঁখির পিয়াসা
“যাও বলি দিতেছ সরায়ে ।
রা।
উপায় কি ? তুমি এবে স্বাধীনা রমণী,

অগ্নি-শিখা
[প্রথম অঙ্ক
যথা ইচ্ছা যেতে পারাে।
(লক্ষ্মণ কুদ্ধভাবে রামের দিকে চাইলেন)
সী। (ঈষৎ স্মিতমুখে)
আৰ্যপুত্র ! পরিহাস বুঝি ?
নহে পরিহাস বালা, সত্য মাের কথা-
তােমারে গ্রহণ করা সাধ্যাতীত মাের।
রাবণের অন্তঃপুরে ছিলে এতদিন
সী।
=
রা।
(শিবিরের একটি শুন্তে মাথা রাখ...)
দেবি ! দেবি !
(সাতার কাছে ছুটে গেলেন।
সী। ধীরে ধীরে চোখ চেয়ে)
এই ছিল অদৃষ্টে আমার ?
তুমি মােরে কর অবিশ্বাস?
অবিশ্বাস বিশ্বাসের কথা নয় সীতা,
ফিরিলে তােমারে লয়ে অযযাধ্যার পুরে
কি বলিবে প্রজাগণ ?
সাঁ ।
কি বলিবে অন্তর তােমার
ত্যাগ করে যদি চলে যাও ?
রা।
অন্তরের কথা মাের অন্তরেই থাক্‌-
বুঝিতে চাহিনা, নাহি চাহি শুনাবারে :
ল। (ক্রুদ্ধস্বরে)
দাদা !

প্রথম দৃশ্য ]
র না। কঠোর বগম্ভীর স্বরে)
লক্ষ্মণ।
ল!
সী।
(চপ করলেন)
এ সিদ্ধান্ত করিয়াছি স্থির
ভূমিষ্ঠ বিচারে।
ল। (স্বত)
যেন কালান্তক যম
অগ্রজের মূর্তি আজ, অতি ভয়ঙ্কর।
হে রাঘব, হে দয়িত, হে জীবিতনাথ,
এই যদি সংকল্প তােমার
এতই কঠিন যদি করেছ হৃদয়,
হে লক্ষ্মণ, হে প্রিয় দেবর,
রাখ আজ্ঞা মাের—
সাজাও জ্বলন্ত চিতা, প্রবেশিব তায়।
(কৃতাঞ্জলিপুটে)
দাদা দাদা রক্ষা কর করিয়া গ্রহণ।
অসম্ভব ! বিপঙ্কিল করিতে পারিনা
বিখ্যাত ইক্ষাকুবংশ-ভ্রাতৃবধূ তব
বলেছেন উপযুক্ত কথা।
উপযুক্ত কথা ।
স্বর্ণের বিশুদ্ধি শুধু জানা যায় ভাই
অগ্নিপরীক্ষায়।
০

[অগ্নিশিখা [প্রথম অঙ্ক সী। ল। স্বর্ণ সে কঠিন দাদা, এ যে স্বর্ণ-চাপা নিমেষেই ভস্ম হয়ে যাবে। রা। যায় যাবে, পুড়ে যাবে কলঙ্ক আমার। ল। দাদা দাদা ক্ষমা কর অনুজে তােমার রা । আজ্ঞা মাের করহ পালন। বিলম্ব করােনা বৎস, মিনতি আমার । শক্তিশেল কোথা তুমি ? এসস আর বার বেঁধাে লক্ষ্মণের বুকে, হায় হনুমান বিশল্যকরণী এনে কেন সেইদিন বাঁচাইলে ? মরিতাম সেই ছিল ভালো হেন নিষ্করুণ কাজ সাধিবার চেয়ে। রা। সাজেনা, সৌমিত্রি, তব এ হেন বিলাপ, ক্ষত্র তুমি। ল। ( সীতার প্রতি) চল মাতা- (রামের প্রতি ) বিদায় প্রাণেশ, চিরতরে অভাগীর শেষ প্রণিপাত । (রামকে প্রণাম করে লক্ষণের সঙ্গে প্রস্থান) রা। হৃদয় বিদীৰ্যমান হয়েছিল, তবু করিয়াছি কোনরূপে কর্তব্য পালন। দশ্য আমি সী।

দ্বিতীয় দৃশ্য )
প্রথম অঙ্ক
দ্বিতীয় দৃশ্য
লঙ্কার পথ—কালনেমির প্রবেশ।
কা। বাবা ! লঙ্কার দফা যে দেখচি রফা। সমুদ্রের ধারে দেখে এলুম
সারি সারি চিতা জ্বলচে-ধোঁয়ার চোটে চোখে দেখা যায় না, চামসা
গন্ধে নাকে কাপড় দিতে হয়। মাঠের মধ্যে দেখে এলুম গাদি গাদি
হাতী ঘােড়া রাক্ষস—চোখ উটে, দাত সিটকে পড়ে আছে—শেয়াল
শকুনে সেবা শুশ্রুষা করছে। আবার পথের ধারেও দেখচি বড় বড়
বাড়ীগুলাের বেশীর ভাগই পুড়ে ছাই—যেগুলাে আছে তাদেরও
কোনটা হুমড়ি খেয়ে পড়েছে, কোনটা একেবারেই চিৎপাত।
বাবা!
এর নাম কি যুদ্ধ ! এ যে মড়ক ভূমিকম্প আর অগ্নিবৃষ্টি একসঙ্গে!
আমার বাড়ীটা যেন কোথায়। কি করে ঠিক করবাে ? পথই
চিনতে পারছিনা তার বাড়ী। বােধ হয় বাড়ী ফাড়ী আর
কিছু নেই।
(পর পর কয়েকজন রাক্ষস কলসী মাথায় নিয়ে চলে গেল )
এরা সব কলসী নিয়ে যাচ্ছে কোথায়? হয়েছে। বড় ভাগ্নেটি
সাবাড় হয়েছেন কিনা—ছােট ভাগ্নেটির মাথার সােনার ছাতি
উঠচে। এরা সব যাচ্ছে অভিষেকের জল আনতে। একটাকেও
যে চিনিনা ছাই
( কলসীকক্ষে ত্রিজটার প্রবেশ )
পেয়েছি একটা চেনা । ( ব্রিজটার সামনে গিয়ে) কেমন আছ
দিদি ?
ত্রি। কে, কালনেমি না ?

অগ্নিশিখা
[ প্রথম অঙ্ক
কা। তুমি ব্রিজটাই দিদি, তােমার মাথায় নিশ্চয় জট আছে ।
ত্রি। তুমি বেঁচে আছি !
কা! নৈলে আর এলুম কি করে ?
ত্রি। আমরা শুনেছিলুম তুমি হনুমানের হাতে
কা। মিথ্যে শােননি দিদি। বেটা যে আছাড় দিয়েছিল, আমি বলে তাই
টিকে আছি, আর কেউ হলে হাড়ে মাসে দেখাশুনাে থাকতাে না।
ত্রি। এতদিন কোথায় ছিলে ?
কা। সে দুঃখের কথা আর বল কেন দিদি। বনে জঙ্গলে পাহাড়ে পৰ্বতে।
ত্রি । কেন ?
কা। এই ত দিদি। আচ্ছা তাহলে শােন। লক্ষণের বুকে বিঁধলে
শক্তিশেল, হনুমান চললল বিশল্যকরণী আনুতে। রাবণ বল্লে কি না
হনুমানের কাজে বিঘ্ন ঘটাও। একটু আমতা আমতা করে
মাথা চুলকেছি, আর মুণ্ডুটা ওড়ায় আর কি । বুঝলুম গােণা দিন
ফুরিয়েছে, এ মারলেও মারবে, সে মারলেও মারবে। বললুম, কাজ
হাসিল করলে কি দেবে বাবা।-বলে, অর্ধেক লঙ্কা। কি আর
করি? খানিকটা প্রাণের দায়ে, খানিকটা ঐ অর্ধেকের লােভে
হিমালয়ের তলায় গিয়ে আশ্রম ফাঁদলুম—একেবারে পুরােদস্তুর
যােগী-নখ দাড়ী জটা।
ত্রি। তারপর ?
কা। তারপর আর কি ? হনুমান এসে হাজির—“ঠাকুর গন্ধমাদনটা
কোনদিকে? বল্লুম—“দাড়াও ধ্যান করে দেখি ।
ত্রি। জানতে না বুঝি ?
৬

দ্বতীয় দৃশ্য ] অগ্নি-শিখা কা। আমার চোদ্দ পুরুষ জানতাে না তার আমি। চোখ বুজে একটু ভেবে নিয়ে বন্ধুম—“সে অতি দুর্গম স্থান—সে তুমি যেতে পারবে না। হনুমান দাঁত খিচিয়ে বলে—“পাব্বোনা কি রকম ? এক তাে আছে ক্ষীরােদ সমুদ্রের তীরে চন্দ্র আর দ্রোণ পৰ্বতে—আর আছে ঋষভ আর কৈলাস পর্বতের মাঝখানে। এর আবার দুর্গম কোনটা? তুমি শুধু পথটা দেখিয়ে দাও।'—আমি বল্লম ‘বৎস, তােমার সাহস দেখে খুসী হলুম—আমার তপােবলে তুমি যখন যেটাকে পথ বলে মনে করবে—সেইটেই হবে খাটি পথ। বেটা এক গাল হেসে পায়ের ধুলাে নিতেই বল্লুম—‘পথে জল পাবে না বাপু, একটু জল খেয়ে গেলে পারতে। ত্রি। কমণ্ডলুতে বুঝি বিষের জল ছিল ? কা। ঠিক ধরেছ দিদি। তা বেটা বল্লেও জলে আমার তেষ্টা মিটবে না, আমায় জলাশয় দেখিয়ে দিন। দিলুম একটা সরােবর দেখিয়ে ; এমন সরােবর, যাতে ছিল প্রকাণ্ড এক কুমীর। ভাবলুম আর বেটা ফিরছে না। মনে মনে লঙ্কা ভাগ করতে লাগলুম যে, পূর্ব দিকটা নােব কি পশ্চিম দিকটা নােব। ও বাবা, একটু পরেই বেটা চোখ রাঙিয়ে এসে হাজির। বুঝলুম কুমীরের দফা ত সেরেইচে, আমার দফা না সারে। যা ভেবেছি তাইমুখে বললে তবে রে ভণ্ড, হাতে ধরলে চুলের মুঠো—ব্যস, তার পরেই একটা চড় না আছাড় ঠিক মনে নেই—সঙ্গে সঙ্গে চোখে সরষে ফুল। ত্তি। আঃ তুমি যে ডাল পালা বের করছো, একটু ছেটে বলনা। কা। হেঁটে বলব? আচ্ছ। চট করে মাথায় এক বুদ্ধি এসে গেল।

অগ্নিশিখা
[ প্রথম অঙ্ক
কাঠ হয়ে চোখ বুজে পড়ে রইলুম। বেটা ভাবলে মরিচি, আর
ঘটালে না। তারপর সেও পিছন ফেরা, আর আমিও গা ঝেড়ে উঠে
দে লম্বা-
ত্রি ! লঙ্কায় এলেনা কেন ?
ওরে বাবা ! তা হলে কি আর রাবণ আন্ত রাখতাে। কাল
মাতলির মুখে শুনলুম সে মরেছে—তবে না আজ গুটি গুটি আসছি।
ত্রি। তা বেশ করেছ, এখন হনুমান না তােমাকে দেখতে পায় ।
এ, হনুমান এখনাে আছে নাকি ?
ত্রি। আছে বৈ কি।
কা। নাঃ, রাবণটা দেখচি কিছু নয়। মরলি ত তাকে মেরেও মরতে
পারলি নি ? চল দিদি, তােমার বাড়ী যাই।
ত্রি । আমার বাড়ী কেন ?
কা। একটা বাড়ীতে ত ঢুকতে হবে । তােমার বাড়ীতে থাক্‌লে সে বেটা
সন্দ করবে না।
ত্রি। তাহলে দাড়াও—আমি আচ।
কা। কোথায় চললে ? বেশী দেরী হবে না ত ?
ত্রি। তা একটু হবে বৈ কি। রাবণের চিতায় এই ঘিটুকু চেলে আসবে।
কা! ঘি ঢেলে আসবে ! কি হবে আর ঢেলে ? সে এতক্ষণ নিভে গেছে ।
নেভে কখনাে ? অনবরত সবাই ঘি ঢালচে।
কা। এ, এত ঘি কেন নষ্ট করছে ?
ত্রি। সাধে নষ্ট করছে ? সে দুরাচার ছিল বটে, কিন্তু রাজার মত রাজা।
কা। কিন্তু মরা গরু কখনাে ঘাস খায় ?
ত্রি ।

দ্বিতীয় দৃশ্য ]
অগ্নি-শিখা
ত্রি।
আঃ-সে জন্য নয়। যতক্ষণ চিতা জ্বলচে ততক্ষণ মনে হচ্ছে সে
আছে। সে নেই এ কথা ভাবলেও বুকটা হুহু করে ওঠে।
কা। কিন্তু সে আছে ভাবলে যে বুকটা আরাে হুহু করে ওঠে। দিদি,
তােমার পায়ে পড়চি ও ছাই নিভিয়ে ফেলগে।
ত্রি। কি বলি পাপিষ্ঠ। নিভিয়ে ফেলবাে! তাের মুখ দেখতে
নেই। সরু
(সবেগে প্রস্থান)
ভাল করলুম না চটিয়ে। এখন কার বাড়ী যাই ?
(রাবণের রাজমুকুট নিয়ে মাল্যবানের প্রবেশ)
জুটেচে মাল্যবান বুড়ো।
(মালাবানের দিকে এগিয়ে পায়ের ধূলাে নিয়ে)
প্রণাম হই ।
মা। কেকে তুমি ?
কা। চিনতে পারলেন না ? আমি।
মা। তুমি ! না—তােমার মঙ্গল হােক।
(প্রস্থানােত)
আপনার বাড়ীতেই যাচ্চি জেঠামশাই।
মা। এজেঠামশাই!
কা। আমি যে কালনেমি।
মা। ওঃ তা হবে। কেমন সব গুলিয়ে গেছে কিছু ভাল বুঝতে
পারছি না। আহাহা !
কা! (স্বগত) ভীমরতি ধরলাে না কি ? ধরতেই পারে-রাবণের
মাতামহ ত। (প্রকাশ্যে) ও রাজমুকুট নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন ?

অগ্নিশিখা
[প্রথম অঙ্ক
মা । কেন, চিতায় দিতে।
কা। চিতায় দিতে ! মুকুট।
মা। তা নৈলে যে বিভীষণ পরবে। তার মাথায় কখনাে মানায় ?
কা। হ্যা তার মাথাটা ছােট বটে। তা দিন, আমি কেটে ছােট করে আনি।
মা। নানা-না—এর এক টুকরোও তার মাথায় মানাবে না।
ভাইকে ছেড়ে শত্রুর সঙ্গে মেশে
তা সে কি কৰ্ব্বে ? সে ধাৰ্ম্মিক, ধৰ্ম্ম কথা বললে--রাবণ দিলে
তাড়িয়ে। বেচারী যায় কোথায় ?
মা। যায় কোথায় ? বন জঙ্গল পাহাড় সমুদ্র কিছু ছিল না? ধাম্মিক !
ধৰ্ম্মের জন্য আত্মীয় স্বজন দেশ সব ডুবিয়ে দিতে হবে, না? আহাহা !
ওরই জন্যে বাছা আমার --যাই তার জিনিষ তাকেই দিইগে।
( প্রস্থান)
কা। ওর দামই অর্ধেক লঙ্কা। না, ছাড়া হবে না। ওর ত মাথার দফা
ঠাণ্ডা। ভুলিয়ে ভালিয়ে ভােগা দিয়ে
( মাল্যবানের পশ্চাতে অগ্রসর হয়েই থমকে দাঁড়িয়ে )
এই সেরেছে! বেটা হনুমান যে। যদি চিনে ফেলে ! সরে পড়ি।
পা যে পাথর। রামভক্ত হয়ে রাম নাম করি। (ঢাক গিলে )
গল। যে কাঠ। আবার যােগী সেজে ববাে ? কাজেই।
( চোখ বুজে বসে পড়লেন।
হনুমানের প্রবেশ )
ও কে! একটা রাক্ষস না? চোখ বুজে কি বিড়বিড় করছে ?
নিশ্চয় এরই কাজ। (কালনেমির কাছে গিয়ে) কে তুমি?
২০

১৮৬০ দ্বিতীয় দৃশ্য ] অগ্নিশিখা কা। (চোখ না চেয়ে ) কে বাবা, রামচন্দ্র এলে ? আমি তােমারি নাম জপচি। । নাম জপচো না অদৃশ্য বাণের মায়ামন্ত্র আওড়াচ্চো ? কা। সে কি কথা বাবা? আমি যে তােমার পরম ভক্ত। আমি দিব্যি গেলে বলুচি-আমি তােমারি নাম জপচি। এখন ইষ্টনাম জপাে । কা। বাবা, কেন অমন নিষ্ঠুর কথা বলছো? তুমিই আমার ইষ্ট। ইষ্ট হয়ে তুমি যদি আমার অনিষ্ট করে তাহলে কিন্তু তােমার নবদুর্বাদল- শ্যাম নামে কলঙ্ক হবে। চোখ চাও। কা না বাবা, চোখ চাইলেই ভক্তিতে বুক ঢিপ ঢিপ করবে, জপের খেই হারিয়ে ফেলবাে। আর জপ করতে হবেনা। তাের সিদ্ধিলাভ হয়েছে, বর নে । কা। বর ! না বাবা, আমি ত মেয়ে লােক নই, আমি বরং বৌ হলে নিতে পারতুম। হ। আচ্ছা তাই নে । ( চুলের মুঠো ধরে টেনে তুলে পিঠে কিল মারলেন ) কা। উঃ- (চোখ চেয়ে কাপতে লাগলেন। আর নিবি ? কা। না বাবা, আমি যােগী ব্ৰহ্মচারী। আমি কি একটার বেশী দুটো বৌয়ের ঠেলা সামলাতে পারি ?

অগ্ম-শিখা
[ প্রথম অঙ্ক
২। কঁপচিস, কেন ?
কা। ভক্তির লক্ষণই এই—স্বেদ কম্প বেপথু। কিন্তু এ কী মূর্তিতে এসে
দেখা দিলে বাবা ?
হ। তাের যমের মূর্তিতে। বল—এখনো বল, তুই কে।
কা। আমি-আমি—কাল-না,-না-
হ। কালনেমি ! তুই বেঁচে আছিস? আয় তােকে কালের নেমিতে
করে ঘােরাই।
(হাত ধরে ঘােরাতে লাগলেন।
কা। ঘুরিও না বাবা, ঘুরিও না। আমি কালনেমি হব কেন ? সে ত
তােমার এক থাপ পড়েই শিঙ্গে কঁ কেচে।
হ। তুই জানলি কি করে ? (নিরীক্ষণ করে ) হু, ঠিক সেই চেহারা।
কা। না-না আমি তার শালা কিনা, তাই অনেকটা একরকম দেখতে।
হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ, আয় তােকে দুরকম করে দিই।
কা। ও দিদি, ও জেঠামশাই, শীগগির এসােতােমাদের কালনেমি
যায়।
( বিভীষণের প্রবেশ )
বি।
হনুমান, হনুমান, যাও শীঘ্র যাও।
কি হয়েছে লঙ্কাপতি ?
হয় নাই কিছু
এখনাে, আশঙ্কা কিন্তু হতেছে বড়ই ।
বি।

দ্বিতীয় দৃশ্য)
অগ্নিশিখা
মনে হলাে রামচন্দ্র বড়ই কুপিত
দেবী জানকীর প্রতি
অসম্ভব কথা !
অসম্ভব বটে কিন্তু যদি বা সম্ভবে,
যাও শীঘ্র অনর্থ না ঘটিবার আগে।
বধ করে যাব না এ ভণ্ড মায়াবীরে ?
বিভীষণ, বিভীষণ, রক্ষা কর মােরে,
নতুবা ফুরাবে তব মামা ডাক ডাকা ।
মাতুল যে ! কোথা হতে এত কাল পরে ?
হনুমান, কেন এরে চাহ বিনাশিতে ?
সন্দেহ হয়েছে মাের, মায়ামন্ত্র বলে
হেনেছে এ গুপ্ত বাণ, পড়িয়াছে যাহা
বেত্রাঘাত সম প্রভু রামচন্দ্র দেহে।
ভুল, ভুল, ছেড়ে দাও ভয়ার্ত মাতুলে,
অজ্ঞাতে সে বেত্রাঘাত হানিয়াছি আমি।
কি প্রকারে ?
শুনিও পশ্চাতে, এবে যাও
শীঘ্রগতি।
( হনুমানের প্রস্থান)
বাবা বিভীষণ, বাচালে । চিরজীবি হয়ে মন্দোদরীকে নিয়ে সংসার
করাে। হ্যা বাবা, তাতে কোন দোষ নেই। রাজার স্ত্রী রাজাতে
পায় এ আমাদের চিরকেলে নিয়ম।
নিয়ম টিয়ম জানিনা, তবে ধৰ্ম্মবীর রামচন্দ্রের আদেশ।

অগ্নি-শিখা [প্রথম অঙ্ক কা। রামচন্দ্রও মত দিয়েছেন ? বাঃ বাঃ, তিনি হচ্চেন উদারচরিত্র যাকে বলে। (স্বগত) এর পিঠে একটু মােলায়েম করে হাত বুলােতে হচ্ছে । লঙ্কার অর্ধেক টা না হােক সিকিটাও অন্তত প্রকাশ্যে) যাক তারপর—হা পাপিষ্ঠ রাবণটা গেছে না পৃথিবী হাল্কা হয়েছে। আর আমি ত বরাবরই বলেছি যে তুমিই হচ্চো আমাদের কুলপ্রদীপ। বি। কিন্তু আমার যেন মনে হচ্ছে আপনি আমাকে কুলাঙ্গারই বলতেন। কা। হাঃ হাঃ, বিভীষণ, আমার কথার অর্থ বােঝনি। ও কুলাঙ্গারও যা কুলপ্রদীপও তাই। কেননা, অঙ্গার মানে কি? আঙরা। আঙরা মানে কি ? যাতে আগুন গগ করছে অর্থাৎ কয়লায় জ্বালা প্রদীপ। যাক্, এখন তুমি যখন রাজা হয়েছ, সব মন্ত্রীদের ছাড়িয়ে দাও। আমি একাই তােমার মন্ত্রীত্ব করবাে । বি। মন্ত্রীত্ব করবার জন্যই এসেছেন বুঝি ? কা। আসবােনা ? রাবণ যে উচ্ছন্ন গেল, সে কার দোষে ? মন্ত্রীদের। সুমন্ত্রণা দিতে কি সকলে পারে ? এই যে রাবণ আমাকে বলেছিল, মামা, তােমায় অর্ধেক রাজত্ব দিচ্ছি, তুমি দয়া করে আমার মন্ত্রী হও—হলুম ? অমন পাষণ্ডের কখনাে উপকার করতে আছে? আমি এচে বসে ছিলুম যে দিন পাইতে তােমার মন্ত্রীত্ব করবে, কেননা তুমি হচ্চো ধার্শ্বিকতা : মি আমাকে অর্ধেক ছেড়ে যদি সিকি রাজ্যও দাও বি। আপনি দেখ চি আমায় বড়ই স্নেহ করেন। কা। সে আর বলুচো কেন বিভীষণ ? আমি যে তােমার কত হিতৈষী, অর্থাৎ তােমায় কত ভালবাসি তা এই থেকেই বুঝে নেও যে যুদ্ধ বাধতেই চলে গিয়েছিলুম এক দুর্গম পৰ্বতে সেখানে এই এতকাল ==

দ্বিতীয় দৃশ্য ]
অগ্নিশিখা
ধরে তপস্যা করছিলুম। আর এটাও জেনে রেখাে বাবা, যে রামচন্দ্র
কেবল উপলক্ষ মাত্র, আমার তপস্যার জোরেই তােমার মনস্কামনা
সিদ্ধ হয়েছে।
বি। তাই নাকি? তাহলে আপনি আবার গিয়ে তপস্যায় বসুন।
কা। কেন কেন, তুমিত রাজা হয়েচ ।
বি। তা হয়েছি বটে কিন্তু (চারদিক চেয়ে ) রামের অধীনতা আমার ভাল
লাগচেনা।
কা। তাত লাগবেই না—কেন না, সে হচ্ছে একটা তুচ্ছ মানুষ।
তা বেশ,
সে অযযাধ্যায় যাক, আমি মন্ত্রীত্বের জোরেই তােমাকে তার অধীনতা
হতে মুক্ত করব।
অত দেরী আমার সইবে না। আমি ঠিক করেছি কালই তার সঙ্গে
যুদ্ধ ঘােষণা করব।
কা। যুদ্ধ! রামচন্দ্রের সঙ্গে ! তােমার আবার এ দুৰ্ম্মতি কেন ? শােননা,
আমি মন্ত্রণা দিচ্চি-
বি। না, মন্ত্রণা নয়। হয় আপনি গিয়ে তপস্যায় বসুন, না হয় যুদ্ধের জন্য
প্রস্তুত হােন কেননা আপনার মত যােদ্ধা-ওঃ বড় সময়েই
এসেচেন।
কা। না, না, যুদ্ধ কেন ? যুদ্ধের চেয়ে তপস্যাই ভালল—আমি এখুনি তপস্যা
করতে চললুম।
(কালনেমির প্রস্থান। অপর দিক দিয়ে হাসতে হাসতে
বিভীষণের প্রস্থান)
বি।

তৃতীয় দৃশ্য
কাঠের প সাজানো রয়েছে। সীতা স্তুপের সামনে দাড়িয়ে আছে—তার
চোখ দিয়ে জল পড়ছে! দূরে লক্ষ্মণ নতশিরে দাড়িয়ে আছেন।
সী।
আলাে বৎস, জ্বালাে অগ্নি এবে।
আলিতেছি। ধরা পরে শ্মশান-চণ্ডাল
কে কোথায় আছ, এসাে, দেখে যাও আজ
চণ্ডাল কাহাকে বলে ।
তােমরা চিতায়
শব দগ্ধ করো, তাও অনাত্মীয় শব,
সজীব ভ্রাতৃজায়া আমি দগ্ধ করি।
( চিতার উপর একটী বাণ নিক্ষেপ করলেন,
চিতা জ্বলে উঠলাে )
সী।
জ্বলে জ্বলে দেব বৈশ্বানর,
আরাে অলো, আরাে তব বাড়াও সত্তাপ,
নতুবা যে অগ্নি মাের জ্বলিছে হৃদয়ে
তার তেজে পুড়ে যাবে ও মৃদু পাবক।
( অগ্নি প্রদক্ষিণ করে চোখ বুজে )
এইবার এসাে প্রিয়তম
ছবি হয়ে বুকের মাঝারে,

তৃতীয় দৃশ্য ) অগ্নিশিখা মনের নয়ন ভরি তােমা হেরি শেষ দেখা। দাও দাও, ভাল করে দাও শেষ দেখা প্রিয়ারে তােমার । চাও চাও হাসিমুখে চাও সেই প্রেম-বিগলিত চোখে, একবার বল নাথ শুনি সেই প্রেম-গদগদ ভাষা ; বাবি ওই পাথেয় সম্বল সযতনে অঞ্চলের কোণে চলে যাই অফুরণ পথে অসীম অনন্ত কাল ধরি। এ দেহের অণু পরমাণু তুমিময় ছিল এতদিন, তােমারি চরণ-প্রান্তে আজ ফেলে যাই করি নিবেদন ; লক্ষ্য করে দেখিলে দেখিবে তােমারি ও চন্দ্রমুখখানি আঁকা আছে চিতা ভস্মে মাের- দেখে যেন হয়ােনা বিহ্বল, কেঁদোনা কেঁদোনা মাের তরে, ভুলে যেয়ো অভাগী সীতায়,

অগ্নিশিখা
[ প্রথম অঙ্ক
যােগ্য সে ত নহেক তােমার
একবিন্দু চরণ-ধুলার,
আরআর-পার যদি তবে
যােগ্যতর প্রেয়সী লভিয়া
সুখী হয়াে, সুখী হয়ে থেকো।
(নেপথে সরমার গান)
(গান)
কোথায় আমার অশােক-বনের সই ?
তার বিরহে শােক জেগেছে অশােক-বনে ওই ।
(সরমার প্রবেশ। তার হাতে সিদূর-কৌটা ও আলতা)
স। এই যে সখী, তােমায় দেখতে এলুম। ও কি—আগুন জ্বালা কেন ?
সী। তােমার গান শেষ কর।
স। (স্বগত) বুঝেছি, স্বামী-মিলনের মঙ্গল আচার।
সী । আর একবার শুনি। আরত ও গান শুনবোনা ।
স। আমিও শুনিয়ে দিই। তুমি চলে গেলে আর কাকে শােনাবাে? কেই
বা এমন শােনবার আগেই চোখের জল ফেলবে ?
(গান)
কোথায় আমার অশােক-বনের সই ?
তার বিরহে শােক জেগেছে অশােক-বনে ওই।
পতির মিলন সােহাগ তরে
' ছাড়লে আমায় বিরাগ ভরে,

তৃতীয় দৃশ্য )
অগ্নিশিখা
মন টেকেনা কিন্তু ঘরে হায়রে তারে বই।
তার যে রাঙা চরণ দুটি,
স্থল-কমলে উঠতে ফুটি
আমার হৃদয়-সাজী লুটি যে নিল সে কই?
স। সখী, তােমার চোর পূজারী কই ? আসবেন না এখানে? এলে
আমি নিশ্চয় বলবাে যে তিনি সব লুটে নিকেবল ওই স্থল-কমলদুটি
ছাড়া। ও দুটি আমার, ওতে যেন তিনি না হাত দেন।
সী। সখী-সরমা !
স। না, কঁদলে হবে না। আমার জিনিষ আমায় দাও।
(নীচু হয়ে পায়ে আলতা পরিয়ে দিলেন।
তারপর
সিদুর-কৌটা খুলে সীথায় ও কঙ্কণে সিদুর
পরিয়ে দিয়ে পায়ের ধুলাে নিলেন। আলতা
সিদুর পাবার সময় নিম্নলিখিত গানটি
গাইলেন)
(গান)
রাঙা পায়ে আলতা রাঙা
একটু পরলো,
ঘাসের বুকে পলাশগােছ
ফুটিয়ে ধরলো।
সিদূর-শিখা অটুট হয়ে
অলুক সীথির দীপে,

অগ্নিশিখা
[ তৃতীয় দৃশ্য
উজল কর কঁাকণখানি
সুকল্যাণের টিপে---
পতির ভরা অনুরাগের
সুখে ভরলাে।
সী। ( সরমার গলা জড়িয়ে ধরে ) সখী, সখী, আমায় চিরবিদায় দাও।
স। (সীতার চোখের জল মুছিয়ে) কেঁদোন। সখী। আবার লঙ্কায়
আসবে, আবার দেখা হবে।
সী! না সখা, তােমায় দেখা আমার শেষ। তােমার ভালবাসার শেষ উপহার
নিয়েছি, এইবার তােমারি সামনে আগুনে প্রবেশ করবে।
( আগুনে প্রবেশ করিতে উদ্যত )
স।. (সীতার হাত ধরে ) সখী, সখী, কর কি ?
সী: ছেড়ে দাও সরমা, আমার বাঁচার সুখ ফুরিয়েছে।
স। কেন কেন কি হয়েছে ?
সী। স্বামী আমায় ত্যাগ করেছেন।
স। ত্যাগ করেচেন ! তােমাকে ! তবে কার জন্য এতদিন সীতা সীতা
বলে কাঁদলেন, কার জন্য দণ্ডকারণ্য ছেড়ে লঙ্কায় এলেন, সমুদ্রের তলায়
পাথরের হার পরালেন, লঙ্কার বুকে রক্তের নদী বহালেন ?
সা। সে আর কোন সীতা, আমি নই।
তােমার অপরাধ?
সী। আমি রাবণের অন্তঃপুরে ছিলাম।
রামচন্দ্র, তােমায় দেবতা বলে জানতুম। তুমি এত ক্ষুদ্র, এত সংকীর্ণ,
।
এত নী--
2O

তৃতীয় দৃশ্য ) অগ্নিশিখা সী। (সরমার মুখ চেপে ধরে ) সখী, চুপ করো। এখনো আমি জীবিত আছি । স। এই স্ত্রী ! এই স্ত্রীকে যে ত্যাগ করে সে মানুষ? সী। সখী, তুমি অন্যায় বিচার করছে। তিনি রাজা, তাকে লােকনিন। মেনে চলতে হয়। স। লােকনিন্দা ! অযােধ্যার প্রজাই পৃথিবীর সব লােক নয়। একদিন বিশ্বের লােক তার নিন্দা করবে। সী। সখী, সখী, তােমার কথা প্রত্যাহার করে। পতিব্রতার কথা অভিশাপ হয়ে দাড়ায় : স। দাড়ায় দাড়া। লােকনিন্দা ! না, না, এ সন্দেহ—এ পুরুষজাতির চিরন্তন ক্ষুদ্র সন্দেহ । চলাে, আমি তােমায় সঙ্গে করে তার কাছে নিয়ে যাচ্ছি, দেখি কেমন করে তােমায় ত্যাগ করেন। সী। না সখী, আমি বিদায় নিয়ে এসেছি। তবে চলল তুমি আমার কাছেই থাকবে, যেমন এতদিন ছিলে ? সী। সে আর এখন হয় না। পতিপরিত্যক্তার কোথাও স্থান নেই। স। তবে আগুনেই প্রবেশ করবে ? সী। নিশ্চয়। পারাে ত এই চিতাক্ষেত্রে এসে মাঝে মাঝে দু ফোটা অশ্রু উপহার দিয়ে। ওঃ রামচন্দ্র, তুমি মানুষ নও, পিশ- সী। আবার? আচ্ছা, আগে আমার কান বধির হোক। ( অগ্নিতে প্রবেশ করলেন। স। সখী ! সখী ( মূত হয়ে পড়ঙ্গেন) সুহৃদ স। -

পূর্বর ছদ সম্মিলনী
অগিশিখা
[প্রথম অঙ্ক
গেল, গেল, সব শেষ
চক্ষে আর দেখা নাহি যায়।
( চোখে হাত দিয়ে মুখ নীচু করলেন।
( সরমা উঠে দাড়িয়ে উন্মাদিনীর মত অগ্নিকুণ্ডের
চার পাশে ঘুরতে ঘুরতে গান গাইতে লাগলেন।
(গান)
এসাে এসো ফিরে এসাে,
সখীগাে ফিরে এসাে ;
আমার আকুল শূন্য নয়নে
পুণ্যচরিতে এসাে।
জ্বলিছে আগুন ধূ ধূ করে ওই
বিশ্ব নিখিল জুড়িয়া,
সুখ-সীতা মাের তার মাঝে পড়ি
ছাই হয়ে যায় পুড়িয়া,
বাঁচাও ফিরাও কে কোথায় আছ
কে আমায় ভালবাসাে ।
পত সন ১৩৩৪ সাল।
প

পৃষ্ণ সড: হৃদ সম্মিলন
দ্বিতীয় অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
পত... ন ৩৪ সাল।
শিবিরাভ্যন্তর রামচন্দ্ৰ অধীরভাবে পদচারণা করছেন।
নিয়াছি বস্ত্র তব কুসুম-হৃদয়ে
পরুষ বাক্যের । হায় মাের মুখ হতে
বিনিৰ্গত বলে বুঝি বস্ত্রেরও অধিক
সুকঠোর—কিন্তু অয়ি মূল্কে প্রিয়তমে
উপায় ছিল না অন্য ; এ আঘাত বিনা
অনল-মজ্জনে তুমি হতে কি তৎপর ?
জানি তুমি অক্লেশেই অক্ষত শরীরে
সমুত্তীর্ণ হবে ঘাের অগ্নিপরীক্ষায়,
প্রমাণ করিয়া নিজ শুদ্ধি নিরমল
লােকচক্ষে হবে চির-অনিন্দ্য পূজিতা।
এ পরীক্ষা বিন লােমা করিলে গ্রহণ
স্ত্রৈণ কামপরায়ণ এই পরিবাদ
থাকিত সংসক্ত হয়ে আমারাে এ নামে,
বাজিত যা অহর্নিশ বিষশল্য সম
তােমারি অন্তরে। তাই, তাইত আমার
অন্তরের উৎস হতে উঠিল যখন
শত প্রিয় সম্বােধন প্রেমগর্ভ বাণী

অগ্নিশিখা
[ দ্বিতীয় অঙ্ক
উচ্ছসি অধরপুটে, প্লাবিতে তােমায়,
তখন চাপিয়া তারে সবলে, দিলাম
গলিত লৌহের মত দুঃসহ বচন ;
করিলাম নারীত্বের প্রণয়ের তব
মর্মান্তিক অবমান-তবে তবে প্রিয়া
উদ্দেশ্য বুঝিয়া মােরে করিও মার্জনা।
অগ্নিস্নাতা হয়ে তুমি আসিবে যখন
তখন দেখিবে আছে সঞ্চিত এ হৃদে
কত সুগভীর প্রেম, আদর সােহাগ
সুমিষ্ট বচনরাশি তােমারি লাগিয়া ।
কিন্তু কিন্তু—দহিবেনা যদিও কৃশানু
দীপ্ত কৃশ তনুখানি, পবিত্রে তােমার,
যদিও সে এতক্ষণ বিরাজিছ তুমি
অগ্নিমাঝে—রক্তোৎপলদল মাঝে যেন
সুবণ কেশর, তবু—তবু যদি সেই
সৰ্বভুক্, রসনার লােভ সম্বরণ
করিতে না পারি, করে লেহন কেবল
কোমল বরাঙ্গ তব—যদি সে লেহনে
লেশমাত্র তাপ লাগে—ও ভাবি নাই,
ভাবি নাই পূর্বে ইহাওঃ ঝলসিল,
ঝলসিল অঙ্গ মাের—রে বহ্নি লােলুপ
সাবধান! না-না, আমি একি অসম্ভব

প্রথম দৃশ্য
অগ্নি-শিখা
ভাবিতেছি—কিন্তু কিন্তু কি জানি কি জানি
ও কে ? বৈতালিক । কর কর মােরে ত্রাণ
নিদারুণ চিন্তা হতে, ঢালিয়া তােমার
( বৈতালিকের পবেশ।
সঙ্গীত-সুর-ধারা,—গাও, গান গাও।
(গান)
বৈ ।
রঘুপতি রাম
নয়নাভিরাম
নানা রঘুপতি নয়— সীতা সীতা শুধু।
(গান)
সীতাপতি রাম
নয়নাভিরাম
সীতা সতীকুলবন্দিতা
রাম রাম বলি আঁখি-নীরে গলি
গেল চলি চির-নন্দিত।
৩ঃ
বৈ!
(গান)
সীতা-শােকে রাম শুনিয়াছিলাম
কেঁদেছিলে নিশিদিন,
সেই সীতা আসি দাড়াইল হাসি
বিরহ-মলিনা ক্ষীণ ,
তারে মুখ চুমি
বুকে নিলে তুমি
হ’ত সে পুলক-স্পন্দিতা ।
হ’ত হ'ত জানি—কিন্তু পারি নাই তবু
রা

অগ্নি-শিখা
[ দ্বিতীয় অঙ্ক
বৈ
( গান )
রাম রাম বলি আঁখিনীরে নি
গেল চলি চির-নন্দিতা।
থাক, থাক্‌-যাও, যাও, যাও বৈতালিক।
( বৈলিকের প্রস্থান
করেছি যা কেমনে সে কৃতকৰ্ম্ম আর
ফিরাব এখন? না—না, করিনি অন্যায় ;
তােমার মঙ্গল লাগি, দিয়ে থাকি যদি
কিছু ক্লেশ—স্নেহাতুর জননীও দেয়
সান্তনের ব্রণ কাটি ছুরিকার ধারে।
আর যদি—আর যদি করে থাকি দোষ,
আমরণ কাল ধরি সংশােধিব তায়,
ঙ্গে অনুরাগে-“হায় সরল লহ্মণ,
ভক্তি প্রীতি মমতায় তব পদাজে
উৎসৃষ্ট পরাণ, হয়ে আছে রুষ্ট অতি
আমার উপর বুঝি ভাবিয়াছে মনে
সন্দিহান হয়ে আমি সতীত্বে তােমার
করেছি এ ত্রুর কৰ্ম্ম-আমি কি জানিনা
অনন্ত-হৃদয়া তুমি, করিয়াছি জয়
যুদ্ধ শুধু তােমারি ও পাতিব্ৰত্যগুণে ?
জানি না কি তব অগ্নিশিখায় রাবণ

প্রথম দৃশ্য ) অগ্নি-শিখা ভস্মীভূত হত যদি পতঙ্গ-প্রয়াসে মনেও ধর্ষিত তােম, অধ্যা তুমি ? স্পর্শ বা সে করেছিল হরণের কালে সে শুধু সৃজিতে তার মৃত্যুর কারণ। অযােনি-সম্ভবা তুমি জাহ্নবীর মত শাশ্বত পাবনী, হায় কে আছে নিখিলে কলুষিবে অঙ্গ তব অমেধ্য পরশে ? কিন্তু কই—এখনাে ত আসিছনা তুমি, এখনো কি হয় নাই পরীক্ষার শেষ ? এসো এসাে প্রিয়তমে প্রতীক্ষা-কাতর রয়েছে বল্লভ তব- ( অৰ্দ্ধ নিমীলিত চোখে অাবিষ্ট ভাবে কিছুক্ষণ রইলেন—পরে ধীরে ধীরে চোখ বিস্ফারিত করে শূন্যে চেযে। • ওই নেওই যে এসেছ, এসেছ—এস কুণ্ঠিতা প্রেয়সী কম্প্রবক্ষে ননেত্রে ধীরপদক্ষেপে আসিতেছ কেন ? এসো ঝটিকার মত, মীর-গুঞ্জন তুলি—আঃ, “আঃ, নাসিকায় পশে তব কুন্তলের স্নিগ্ধ পরিমল, বিলম্ব সহেনা আর--অধীর চঞ্চল হয়েচে হৃদয় গাঢ় মিলনের লাগি ।

অগ্নি-শিখ।
[ দ্বিতীয় অঙ্ক
এসাে এসো বিসর্জিয়া ভীতি অভিমান,
ও কি, অশ্রুকণা কেন নয়নের কোণে ?
মুছ মুছ, এসাে আমি দিই মুছাইয়া
( হাত বাড়িয়ে ) এসাে মাের প্রসারিত ভুজবল্লী-পাশে
দিতে নিতে চুম্বনের সুচিরবাঞ্ছিত
ঘন বিনিময়—এসাে তপ্ত তৃষাতুর
এ বক্ষের আলিঙ্গন নিবিড় বন্ধনে।
(কল্পিত সীতাকে আলিঙ্গন করে )
আঃ সীতা-সী! প্রিয়ে। কতকাল পরে-
( উদ্ভ্রান্তের মত লক্ষ্মণের প্রবেশ)
দাদা! দাদা !
কে, লক্ষ্মণ ! সীতা কই মাের ?
তুমি এলে সে কোথায় ?
কোথায় ? কোথায় ?
হয়, দেখো দেখাে দাদা
অম্বর-চুম্বিত ওই লেলিহান শিখা
তরঙ্গিত অনল-সাগর।
ওরই মধ্যে দিছি বিসর্জন
সুবর্ণ-প্রতিমা, মাের মাতৃসমা দেবী।
সুচির-আরাধ্যা চিপবিত্রা জানকী
অযােধ্যার রাজলক্ষ্মী, ধূমাইছে ওই

প্রথম দৃশ্য )
অগ্নিশিখা
রা।
শূন্য নীলিমায় ।
ধূমাইছে ! না না ভাই, সাধ্য কি যে দহে
চিত্রভানু দেহ তার ।
হায়রে দূরাশা!
এই ভ্রান্ত অলীক বিশ্বাসে
অমূল্য
জীবন লয়ে খেলিলে নির্ভয়ে
জ্ঞানশূন্য বালকের কৌতুকের খেলা?
গেছে গেছে, দগ্ধ হয়ে গেছে
সে লাবণ্য, সেই তেজ, সেই পবিত্রতা
সেই স্নেহ মমতার অপার্থিব খনি ।
( সভয়ে )
দেখিয়ায় অগ্নিমাঝে করি নিরীক্ষণ ?
দেখিয়াছি বারবার, চিহ্নমাত্র নাই।
হায়রে লক্ষ্মণ !
কার তরে ক্ষুৎপিপাসানিদ্রাহীন হয়ে
সমাধিস্থ যােগীসম করিলি পালন
চতুর্দশবর্ষব্যাপী সুকঠোর ব্রত ?
কার তরে-কার তরে? কারাে তরে নয়--
কেহ নাই, কেহ নাই, কেহ নাই তাের।
(ভূমিতলে লুণ্ঠিত হয়ে পড়লেন )
দহিল অনল তবে সত্যই দহিল
সামান্যা রমণী জ্ঞানে নিস্পাপ নির্মল
ব!

অগ্নিশিখা
দ্বিতীয় অঙ্ক
পবিত্রতাময়ী মাের প্রেম পুত্তলিরে ?
আর আমি আর আমি দিলাম আহুতি
নির্বিচার অনলের ঘৃণ্য বুভুক্ষায়
মাের প্রাণাধিক প্রিয়া সহধর্মিনীরে
যজ্ঞীয় পশুর মত ! এই ভর্তা আমি !
এই কি রক্ষক সেই নির্ভরশীলার !
লক্ষ্মণ, লক্ষ্মণ, মিথ্যা অপকীত্তি-ভয়ে
নিতান্ত নৃশংস সম এ কী করিলাম ?
কি করিলে তুমি জান, যশােলিপ্সা তরে,
তুমি জানো যশশালিষ্প-আমি শুধু জানি
হারায়েছি চিরতরে শক্তি শান্তি মাের ;
নিজ হস্তে নিয়েছি আনন্দ-প্রদীপ।
( উঠে দাড়িয়ে) ওঃ সাঙ্গ আজি---
সাঙ্গ আজি লক্ষণের যুদ্ধ-ব্যবসায়
অসি চৰ্ম্ম ধনুঃশর আর না ধরিব ।
(ধনুঃশর তাগ করলেন)
দাও দাদা বিদায় আজিকে
আজন্ম সেবকে তব ।
চলে যাই ধরিত্রীর বক্ষোভেদ করি
প্রাণিহীন প্রাণহীন অন্ধ রসাতলে ।
রসাতলে ! যাবে তুমি! আমি কোথা যাব ?
কোথা গিয়া জুড়াইব? হায় কোথা গিয়া
।
=O

প্রথম দৃশ্য )
অগ্নিশিখা
অনন্ত নরকজ্বালা করিব নির্বাণ ?
স্বেচ্ছায় বল্কল পরি সৌধ তেয়াগিয়া
অরণ্য-প্রবাসে মাের যে হল সঙ্গিনী,
পথশ্রমক্লান্ত হলে করিত যে মাের
বিনিদ্র রজনী জাগি পদ সংবাহন,
প্রিয়তমা সম্বােধনে প্রতি অঙ্গে যার
কদম্বের শিহরণে ফুটিত পুলক,
তারে তারে কোন্ প্রাণে
( বক্ষে করাঘাত করে চাপ বুলো ;
আলুথালু রুক্ষ চলে মন্দোদরার প্রবেশ।
র চলে অস্বাভাবিক দীপ্তি)
রাম কই ? রাম কই ? তুমি বুঝি রাম ?
শােননা রাম ধনুর্ধর—তব শরাঘাতে
হয়েছি বিধবা আমি রাণী মন্দোদরী ;
চন্দ্র সূৰ্য্য ভৃত্য যার, কিন্তু যার মুখ
স্পর্ধা করে নাই তারা কখনো হেরিতে,
লজ্জাহীনা ভিখারিণী সম
আজি সে ভ্ৰমিছে পথে, তােমারি কৃপায়।
কিন্তু যা আত্মকথা, দেখিতে এলাম
হয়েছ কেমন সুখী সীতার মিলনে।

অগ্নিশিখা ' [ দ্বিতীয় অর্থ ম অয়ি দশানন-পত্নী লভ তৃপ্তি শুনি ভর্তৃহন্তা শত্রু তব প্রপীড়িত এবে ভস্মীভূতা জানার সুচির বিচ্ছেদে। হাঃ হাঃ! তুমি প্রত্যাখ্যান করেছিলে বুঝি ? সত্য অনুমান তব। ৩াঃ হাঃ তবে মাের ফলিয়াছে আশীৰ্বাদ—হাঃ হাঃ ধৰ্ম্ম আছে। শােন রাম, সীতা যবে আনন্দিত-মতি শিবিকাররাহণে ধায়, বাণিজ্য-তরণী স্ফীতবক্ষে ধায় যথা তরঙ্গ ভেদিয়া, কহিলাম গলদ মুখে যেতেছ রাঘব-ভাৰ্যা পতি-সম্মিলন- মহােৎসবে, অনাথিনী করিয়া আমায় ; কিন্তু আমি যদি সতী হই, ক্ষণিকের মেঘমুক্ত সৌভাগ্য-তপন অকাল-জলদাবৃত হইবে আবার ; হেরিবেন রামচন্দ্র তব মুখচ্ছবি হেরে যথা নেত্ররােগী দীপবর্তিকায় । তাই, তাই সর্বনাশ ঘটেছে মােদের, মতিচ্ছন্ন হয়েছিল অগ্রজের তাই । মন্দোদরী তিষ্ঠ ক্ষণকাল, পাঠাই তােমারে নৈকষেয় সন্নিধানে। (ধনুকে শর সংযােজন করলেন) ল।

প্রথম দৃশ্য )
অগ্নিশিখা
রা!
( লক্ষ্মণের হাত ধরে )
সংহর সংহর ভাই তব তীক্ষ্ণ বাণ,
শরব্য। হেক এই দুর্ভাগিনী নারী।
নারীহত্যা-অপাশ-কলঙ্ক-রেখায়
মাের সম কেন আর চিহ্নিবে ললাট ?
হাঃ হাঃ আছে, দয়া আছে তােমার শরীরে,
কিন্তু দয়াময় এত দয়। কেন আর ?
নারীহত্যা করিবে না ! নারীর পতিরে
হত্যা করি বাঁচাইছ নারীর জীবন!
জাননা এ জীবনের অর্ধাংশ গিয়াছে
পতির জীবন সনে, পরলােকপারে
পরিচৰ্য্যা তরে-আর রয়েছে পড়িয়া
অর্ধাংশ পতির যত স্মৃতিচিহ্নগুলি
জড়ায়ে জড়ায়ে বুকে করিতে ক্রন্দন ?
দিনে দিনে দণ্ডে দণ্ডে পলে ও বিপলে
তিলে তিলে দগ্ধ হতে স্মৃতির চিতায় ?
সান্ত্বনা কি দিব তােমা রাক্ষস-মহিষী ?
পার যদি কিছু শান্তি লভ চিন্তা করি
সমদুঃখী আমি তব
কেন বীরবর ?
কেন সমদুঃখী হবে ? বীরের কি সাজে
দুঃখ শােক এক তুচ্ছ নারীর কারণ ?
ম।
Bত

অগ্নি-শিখা
[ দ্বিতীয় অ
তাহলে কেমনে আর দেখাবে তােমার
বীরত্ব দ্বিতীয় রণে দ্বিতীয় লঙ্কায় ?
কেমনে দেখিবে বল অশ্রুহীন চোখে
ধরণী-ধূসর-স্তনী বিকীর্ণ-কুন্তলা
শত শত্রুনারীগণে? হাসাে, হাসাে বীর,
বীরের কেবল পত্নী বিজয়-গৌরব।
রা।
বিজয় গৌরব ! ওই বিজয় গৌরবে
হাসিছে কাল কাল—ওই শুধু বীর
অজিত অমিতশক্তি—চূর্ণ করিয়াছে
সকল বীরত্ব মাের ওই দণ্ডদাতা।
এত শীঘ্র বীরত্বের হল অবসান ?
জানি হবে। বুঝাইতে পরের বেদনা
বিধাতার এই এক অমােঘ কৌশল।
কঁদিতেছ ? কাঁদো-কঁদো—এবার বুঝিবে
কি মৰ্ম্ম-যাতনা লয়ে মুছিব অচিরে
সীথার সির-রেখা, ভাঙিব কেমনে
এই রত্নকঙ্কণের আয়তী-লক্ষ্মণ ।
রা।
আয়তী সিন্দুর তব ভাঙিতে মুছিতে
হবেনা রাবণ-প্রিয়া, মাের আশীর্বাদে
রাবণের চিতাবহ্নি নিভিবেনা কভু।
নিভিবেনা ?
ম।
৪
=e

• প্রথম দৃশ্য ]
অগ্নি-শিখা
রা।
ম ।
নিভিবেনা তােমার নয়নে,
যেমন সে নিভিবেনা রামের বুকের
শােকচিতাবহ্নি রাম আছে যতদিন।
রামচন্দ্র, যমজয়ী পতিরে আমার
বধিয়াছ যবে, আমি তখনি জেনেছি
তুমি ব্ৰহ্ম নিরঞ্জন আশীৰ্বাদ তব
অবশ্য ফলিবে। বেশ, আমিও তােমায়
করিলাম আশীৰ্বাদ-কিছু মনে মনে।
চলিলাম, মিটিয়াছে মনােসাধ মাের,
ঝরায়েছি সংসারের শােকদুঃখদাতা
লীলাময় পাষাণের নেত্রে বারিধারা।
( মন্দোদরীর প্রস্থান)
গেল চলি উন্মাদিনী—ওরই মত আমি-
আমিও উন্মাদ হতে যদি পারিতাম ।
( হনুমানের প্রবেশ)
२
কোথা মা জানকী মাের পিতৃব্য লক্ষ্মণ ?
কোথায় মারুতি ? আমি জানিনা কোথায় ;
রাক্ষস-সাগর মন্থি ও মন্দারভুজে
তুলিলে যে রত্ন তুমি, গিয়াছে হারায়ে ।
হারায়ে গিয়াছে ! আমি পবন-নন্দন
থাকিতে জীবিত মর্ত্যে ! কোথায় হারাল ?
=2

অগ্নি-শিখা
[ দ্বিতীয় অঙ্ক
ল।
কোথায় আমারে কেন, জিজ্ঞাস হুতাশে,
জিজ্ঞাস দাদারে মাের, যিনি সমর্পণ
করেছেন হুতাশনে বিশুদ্ধির তরে।
হুতাশনে সমর্পণ আমার মাতারে !
ই!
( সহসা গজ্জন করে
না :
উত্তাল বারিধি আমি করেছি লঙ্ঘন
একলম্ফে যার তরে, অশােক-উদ্যানে
বিষাদিনী মূর্তি যার করি নিরীক্ষণ
পাঠায়েছি মৃত্যুপুরে লক্ষ রক্ষ-শুরে
দগ্ধ করিয়াছি স্বর্ণ-লঙ্কার দেউল,
তার তরে দেখ আজ কি করিতে পারি।
রামচন্দ্র সাবধান ! আত্মরক্ষা কর ।
হনুমান বৎস হুনুমান !
নহি আর বৎস আমি বীভৎস দারুণ ;
দুই মূর্তি পাশাপাশি মাের বক্ষোমাঝে
ছিল স্বর্ণ-সিংহাসনে, একটি তাহার
মুছে গেল যদি আজ, মুছিব নিশ্চয়
অচিরে অপর মূর্তি, ধর ধনুর্বাণ
অশনি-সম্পাত সম বজ্রমুষ্টি মাের
পড়িবে তােমার শীর্ষে, হানিব উপাড়ি
বক্ষে তব হিমাদ্রি ও সুমেরুর চূড়া;
অরাম করিয়। পৃথী লভিব বিরাম।
e৬

| পৃষ্ণপ! সুহৃদ সম্মিলনী
প্রথম দৃশ্য )
অগ্নিশিখা
রা।
অরাম হয়েছে পৃথী, রামচন্দ্র নাই !
এই যা দেখিছ মােরে, ছায়ামাত্র তার !
ভাঙিল যে হরধনু অবলীলাক্রমে,
একবাণে সপ্ততাল করিল বিদার,
বালী কুম্ভকর্ণ আর রাবণে পাড়িল ;
সে রাম কি আমি ? দেখ নাহি শক্তি মাের
আপনার দেহভার করিতে বহন,
চলােৰ্মিতাড়িত বংশদণ্ডের মতন
বিকম্পিত পদদ্বয়। মাতৃবক্ষ হতে
শিশু যদি উঠে বক্ষে হানে মুষ্ট্যাঘাত,
ছিন্নমূল তরু সম পড়িব ভূতলে।
এ দুৰ্বল দেহ লয়ে জীবন ধারণ
কেমনে করিব আর ? চল চল যাই
সীতার চিতার পার্শ্বে, দেখিবে নয়নে
পত্নী-সহমৃত হয় কেমনে যে পতি।
( রামচন্দ্রের বেগে প্রস্থান। হনুমান ও লক্ষ্মণ
শশাস্তে তার অনুসরণ করলেন।
মাক
হাড়
স্থাপিত- সন ১৩৩৪ সাল।
শাখা
৪৭

দ্বিতীয় দৃশ্য { লঞ্চার পথ—কালনিমির প্রবেশ কা। একেই বলে ফুটো বরাত—এত তােড় জোড় সব ফসকে গেল পেলুম লঙ্কা না পেলুম মুকুট। আবার বলে যুদ্ধ করে বাবা ! শেষে প্রাণটাও দিয়ে যাই আর কি-ওই যে মাল্যবান আছেন- ( মালাবানের প্রবেশ) তারপর জেঠামশাই—মুকুটটা কি সত্যই চিতায় দিয়ে এলেন ? মা। হাদিয়ে এলুম বৈ কি।তার জিনিষ তাকে দোব না ? আহাহা ! কি মানানই তাকে মানাতাে- কা। (স্বগত) গলবে না-চিতা নিভলে পাওয়া যাবে প্রকাশ্যে ) দেখুন, মুকুটটা যে চিতায় দিয়েছেন তা যেন কাউকে বলবেন না। মা ! ববব বৈ কি। প্রহরীদের বলবাে। নৈলে যদি বিভীষণের লােক তুলে নেয়। কতক্ষণ প্রহরীরা থাকবে ? মা । যতক্ষণ না গলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়--আর যদি না গলে—তুলে নিয়ে তার নাম করে সমুদ্রে ফেলে দেবে। কা। কি দরকার জেঠামশাই অত হাঙ্গামে ? আমি বলি কি-ও মুকুটের কথা একেবারে ভুলে গিয়ে চুপটা করে বাড়ী বসে থাকুন গে—যা কবার তা আমিই কবুবাে’ খন। মা। নানা-এ তােমাকে করলে হবে না—আমাকেই করতে হবে । আর কারাে উপর ভার দিলে আমার মন সুস্থির হবে না—আমি =

দ্বিতীয় দৃশ্য )
অগ্নি-শিখা
।
ঘুমােত পাৰ্বো না—আহাহা !—প্রহরীদের উপরও ভার দেওয়া
চলবে না—আমাকেই চিতার সামনে বসে থাকতে হবে ।
কা। (স্বগত) হলাে। প্রহরীদের যে ঘুস দিয়ে কাজ হাসিল কবুবাে
সে পথও মারুলো প্রকাশ্যে) আচ্ছ৷ জেঠামশাই রাবণের মুকুট তাে,
গেল তার জামা, জুতাে সব কি হলাে ?
মা। সে আছেভােলা আছে-
কা। (স্বগত) তাতেও অনেক হীরে মুক্তো প্রকাশ্যে ) সে যেন আর
চিতেয় দেবেন না
মা । সে যা করবে সে আমার মনেই আছে। আহাহা !
কা। কি করূবেন ?
মা। টুকরাে টুকরাে করে কেটে গরীব দুঃখীদের বিলিয়ে দেব--তারা
বেচে খাবে—আর রাবণকে মনে কবে।
কা। কিন্তু জেঠামশাই—আমি যে ওগুলাে আমার প্রাণের ভাগ্নের স্মৃতি-
চিহ্ন বলে বাক্সের মধ্যে তুলে রাখতে চাই।
মা ।
নানা-না—স্মৃতিচিহ্ন রেখােনা। বুকে যে স্মৃতিচিহ্ন আছে-
তাই যথেষ্ট-—তাকে কোন বাইরের জিনিষ দিয়ে ধরে রাখতে যেয়ে
—বাইরের জিনিষ তার চেয়ে বড় নয় । পাছে তার চেয়ে বড়
করতে যাও তাইত আরাে বিলিয়ে দোব—এক টুকরােও রাখবো
—আহাহা !
( প্রস্থান)
হায়রে অদৃষ্ট! ছেদা ভাড়ে কি আঙ্গুল গু’জলে জল ঠেকায় ?
( প্রস্থান)
a

“ সে! উ সুহৃদ সাননী
স্থাপিত--- সৃন ৩৪ সাল।
তৃতীয় দৃশ্য
তার
অগ্নিকুণ্ড জ্বলছে । ধীরে ধীরে দীর্ঘচ্ছন্দে পা বাড়িয়ে রামচন্দ্রের প্রবেশ ।
চোখে উন্মত্তের বিস্ফারিত দৃষ্টি। পিছনে পিছনে বরারুদ্যমান
লক্ষ্মণ ও হনুমানের প্রবেশ ।
( একদৃষ্টে অগ্নিকুণ্ডের দিকে চেয়ে )
সীতা, সীতা, মৈথিলী, জানকী !
রামচন্দ্র-নয়ন-কৌমুদী,
রামগাত্রে অমৃতবর্ষিনী!
কথা কও, উঠে এসাে,
আনিছে রাম ।
উঠিবেনা ? কহিবেনা কথা ?
অয়ি সতী নিরভিমানিনী
আজ কেন এত অভিমান ?
অলক্ত রঞ্জিত তব চরণযুগল
বক্ষে তুলি অশ্রুজলে দিব ধােয়াইয়া
দেখি মান ভাঙে কিনা, কহ কিনা কথা।
( অগ্নি প্রবেশে উদ্যত )
20

তৃতীয় দৃশ্য ।
অগ্নি-শিখা
দাদা, দাদা কোথা যাও ? ধরিত্রী-দুহিতা
আৰ্য। জানকীর দেহ গিয়াছে মিশিয়া
জননীর পঞ্চভূতে, কোথা পাবে আর ?
নাই, সীতা নাই!
সীতা-শব্দ পড়ে আছে শুধু মাের মুখে ।
নীড় আছে, পক্ষী নাই ।
বান্য আছে, নাহি শস্য-কণা !
এ চাতুরী মাের সনে কে করিল ভাই ?
কে করিল কহ হনুমান
রাধবের হেন সৰ্ব্বনাশ ?
অগ্নি, অগ্নি, দুরাত্ম৷ পাবক
গ্রাসিয়াছে জননীরে মাের,
লকলক সহ রসনা
ব্যাদিত বদন হতে করিয়া বিস্তার
রে লক্ষ্মণ !
দাও ধনুঃশর,
শতধা বিদীর্ণ করি অগ্নি-অজগরে ;
কিংবা কাজ নাই, এই রিক্ত হস্ত দিয়া
নিষ্পেষিব কণ্ঠ ওর, যতক্ষণ নাহি
উদিগরণ করে প্রিয়া জানকীরে মাের।
( অগ্নিকুণ্ডে লাফিয়ে পড়লেন।
সহসা অগ্নি
নির্বাপিত হলাে এবং দেখা গেল সীতা
পদ্মাসনে বসে আছেন, অগ্নিদেব নতজানু
হয়ে তার পায় স্বর্ণপদ্ম দিচ্ছেন )
।
4

অগ্নিশিখা দ্বিতীয় অঙ্ক না। সীতা,সীতা ! দেবী। দেবী ! ল। হ মা। মা ! ( লক্ষণ ও হনুমান দৌড়ে সীতার কাছে গেলেন । রামচন্দ্র লহ সীতা লক্ষ্মীস্বরূপিনী। বৈশ্বানর ! দেব বৈশ্বানর, বলাে বলাে একবার বলল- এ সীতা সত্যই সীতা, মায়াসীতা নয় ? কেন এ সন্দেহ রঘুনাথ ? মায়া যায় স্পর্শে মিলাইয়া, স্পর্শে কর সত্য অনুভব। ( রাম কম্পিত হন্তে সীতার পদস্পর্শ করতে গেলেন। সী। ওকি-ওকি আৰ্যপুত্র ! ( পা সরিয়ে নিয়ে রামের পায়ের ধুলো নিলেন। অ। অয়ি পাপড়ীতে। আজ হতে রীত-বিপৰ্যয়, দিও নিত্য এ পাপীরে ও-চরণ-ধুলি । ও-চরণ-ধূলি পেয়ে আমি পুণ্যবান ; আমার পরশে নাকি পবিত্রতা লভে অপবিত্র, কিন্তু আজ আমিও লভেছি নব পবিত্রতা ওই চরণ-পরশে ।

তৃতীয় দৃশ্য ] অগ্নি-শিখা সী। ( উঠে দাড়িয়ে) আৰ্যপুত্র কি করিব? দহিল না মােরে সর্বাহী অগ্নি, বল সমুদ্রের জল নিমজ্জিত করিবেনা সেও কি দাসীরে ? সীতা প্রিয়তমে আর দিও না গুঞ্জনা, নিমজ্জিত হবে যদি, এস বক্ষে মাের- অতল প্রেমের সিন্ধু উদ্বেল যথায়। রা। সীতার হাত ধরলেন। সী। রা। ছাড়ো প্রভু, কি বলিবে অযযাধ্যার প্রজা দেখে যদি এই দৃশ্য ? ক্ষমা কর প্রিয়ে, ক্ষমা কর অনুতপ্ত স্বামীরে তােমার, নতুবা জীবন ভরি এ নয়নদ্বয় শুষ্ক নাহি হবে । মুছ অশ্রুধারা নাথ। সী। ( আঁচিলে রামের চোখ মুছিয়ে দিলেন। ক্ষমা যদি কর তবে কহিব পশ্চাতে কি কারণে থাক আমি চাহিনা শুনিতে, ভুলিয়াছি সব ব্যথা স্বপ্নের মতন। সী ।

অগ্নি-শিখা
[ দ্বিতীয় অঙ্ক
(লক্ষ্মণ ও হনুমানের প্রতি)
হে বৎস লক্ষ্মণ আর পুত্র হনুমান,
অচিহ্ন রহিয়াছে গণ্ডে তােমাদের,
কেঁদেছিলে মাের লাগি, পাপীয়সী আমি
এত শীঘ্র মরিতে কি পারি কোন মতে ?
দিয়াছি অনেক কষ্ট, আরাে কষ্ট দিব।
মার দেওয়া কষ্ট, চেয়ে সুখ কিবা আর ?
সুমিত্রা-জননী চেয়ে তুমি মাের মাতা।
একলম্ফে লঘিয়াছি কি ক্ষুদ্র সাগর,
লঘিবারে পারি এবে বিশ্বচরাচর।
চল হনুমান, চল উগ্রচণ্ডা-পদে
বক্ষের শােণিত-জবা করিগে অর্পণ ।
হ
ল।
( লক্ষ্মণ ও হনুমানের প্রস্থান । অপর দিক
দিয়ে বিভীষণ ও সরমার প্রবেশ)
ৰি।
(সরমার প্রতি)
এই জন্য তুলেছিলে ক্রন্দনের রােল ?
অগ্নিমাঝে দহমান এই তব সখী ?
বিভীষণ মিথ্যাবাদী নহে পত্নী তব,
সৰ্ব্বভূক হয়ে তবু জীর্ণ করিবারে
নারিলাম ওই পুষ্পসুকোমল তনু।
সখী ! সখী !
স।
( হাত বাড়িয়ে সীতার দিকে অগ্রসর হলেন।
4

তৃতীয় দৃশ্য ]
অগ্নি-শিখা
( সরমাকে আলিঙ্গন করে )
সখী-প্রীতিরঞ্জু দিয়া তুমি
টানিয়া তু লছ মােরে জীবনের তীরে
মৃত্যু-কূপ হতে ।
এবে চল মােরা যাই,
সখীদ্বয়-প্রণয়ের অবাধ উচ্ছাসে
দিই অবসর ।
4
( আগে আগে অগ্নি ও বিভীষণের প্রস্থান,
তাদের পিছনে রামচন্দ্রের প্রস্থা•েদ্যম ।
যাবার সময় তিনি ফি ফিরে সীতাকে
দেখতে লাগলেন)
স;
( তির্যক দৃষ্টিতে রামের ভাব নিরীক্ষণ করে।
সখী, ডাকো কান্তে তব ।
আৰ্যপুত্র !
প্রিয়তমে !
পী।
* সীতার কাছে গেলেন)
সী।
এই সখী মাের
তােমার বিরহ-ক্লেশ-তিমিরগুন্তিত
চেড়া-অত্যাচার-বিভীষিকা-কণ্টকিত
অশােক-উদ্যানে হয়ে সুবর্ণ দেউটি
ছিল পার্শ্বে মাের, দিতে ক্ষীণরশ্মি আশা,
ক্ষীণ সান্ত্বনার বাণী।

! দ্বিতীয় অঙ্ক
বিভীষণ-প্রিয়া,
লহ কৃতজ্ঞতা মাের, লহ নমস্কার ।
( সীতার প্রতি ।
বল সখি বল তব প্রাণকান্ত শূরে
নাহি প্রয়ােজন মম ও বদান্য দানে।
দিতে হয় যদি দান প্রার্থনার মত
দিন মােরে অগ্নিদগ্ধা সখীটি আমার,
তুচ্ছ বলি ত্যাগ যারে করিয়াছিলেন,
অগ্নিদাহে মূল্য যার আরাে কমিয়াছে।
তীব্র রসিকত৷ তব সঙ্গর সরমা,
দিওনা আঘাত আর আৰ্যপুত্রপ্রাণে ।
তুমি সখী বড় স্নিগ্ধ বড় লঘু নারী।
(হাস্যমুখে )
প্রেয়সীর সখী তুমি সরমা সুন্দরী
সখীপদবাচ্যা মাের, তােমার বিদ্রুপ
শিরােধার্য্য করিলাম, কিন্তু জেনাে সখী—
অগ্নিদাহে মূল্য কমে সকল বস্তুর
শুধু সুবর্ণের বাড়ে, সুবণ-প্রতিমা
সখী তব, ত্যাগ তারে করি নাই আমি
স্বত্ব তেয়াগিয়া-শুধু দিয়াছিনু তারে
ক্ষণিক আহুতি কুণ্ডেদানযােগ্য নহে
প্রত্যর্পিত সে আহুতি-

তৃতীয় দৃশ্য )
অগ্নি-শি:
ক্ষণিক আহুতি !
জিজ্ঞাসা করবে সখী বারেক কি ত
সদয় হােতারে, যদি দেব বৈশ্বানর
কৃপা করি ফিরায়ে না দিতেন তােমায়
কোথায় থাকিত এত রসবাকছটা ?
কোথায় থাকিত স্বত্ব ? পুনগ্রহীতার
কৃপণতা ? আহুতির মােগ্যই ত বটে
সহধর্মিনীর দেহ, স্বামী যে নারীর
চিরন্তন অধিকারী, সৰ্বময় প্রভু ।
নিবেদন কর সখী আরাে কান্তে তব
অপূর্ণ আহুতি বাহা রহি গেল হেথা
গৃহে গিয়া পূর্ণাহুতি দেন্ সেন তাই ;
সরমা ! সরমা !
সী ।
প্রিয়ে, সখীরে তােমার
বল, আমি ধন্য তার কঠোর শাসনে
( ঈষৎ হেসে)
শাসনে যে ধন্য হয়, মনে রেখাে সখী
শাসন-শৈথিল্য করি, কখনো তঁাহায়
করােনা অন্য—তুমি অগ্নিশিখা হয়ে
যেমন জ্বলেছ ভস্ম করিতে লঙ্কায়,
তেমনি জ্বলিও নিত্য পতির ভবনে
জ্বালায়ে করিতে ভস্ম, যত ক্ষুদ্ৰ হােক
A৭

পূনওপাড়া সুহৃদ নলিনী
•[ দ্বিতীয় অঞ্চ
তার দেবচরিত্রের মানবিক ত্রুটি ।
( ঈষৎ হেসে)
অগ্নিশিখা সনে হেন তীব্র ঘৃতাহুতি
জীবনের যজ্ঞে যেন জন্মে জন্মে পাই ।
( চেড়ীগণের প্রবেশ ও নৃত্য সহকারে গান ।
(গান)
অপরূপ তুমি অপরূপ তুমি
অপরূপ তুমি রাম,
কঠিনে কোমল, রুদ্রে মধুর
ভীষণেও সুললাম।
তুমি অনলে দহিলে ভাৰ্যা,
অ-সলিলে সিঞ্চিয়া তারে
ডাকিলে প্রেয়সী আৰ্য ;
তােমার পাষাণে প্রেম-নিঝর
ঝরে আজি হেরিলাম।
श
স্থাপিত- সন ১৩৩৪ সাল।
*}
৭-২-৪৪
1
৬)

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Agni Shikha

Author
Ghatak, Sri Satishchandra
Title
Agni Shikha
File name
Agni Shikha
Text
OCR done
Citation
1930
Published
2009/08/18
Publisher
Sri Bishnupad Chakraborty, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
69
Library
Makardah Saraswat Library, Howrah
Classification
Drama. Plays.
Keywords
Mythological drama
DLI number
512260
Barcode
4990010019354.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
zp1dwcO2Ki0
Download PDF

Agni Shikha