Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Kamalakarunabilaso
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
কমলাকরুণাবিলাসে
নাম
রমােহন-প্রামাণিক-মহাশয়েন রচিতঃ
song d
Hr
শ্ৰীযশােদানন্দন-প্রামাণিকেন প্রকাশিতঃ
কলিকাতরাজধান্যাং
অখিলমিস্ত্রিলেস্থে চতুঃষষ্টিতম ভবনে হিন্দুমেশিনযন্ত্রেণ
শ্রীহরিদাস ঘােষেণ মুদ্রিতঃ
No text on this page.
উৎসর্গপত্র
দিনাজপুরধিপতি
শ্ৰীল শ্ৰীযুক্ত মহারাজ গিরিজানাথ রায়
বাহাদুরের
করকমলে
আমার স্বর্গীয় পিতৃদেবের রচিত এই অভিনব
সংস্কৃত নাটক
সাদরে অপিত হইল
শান্তিপুর
শকাব্দ ১৮২০, মঘি
যশােদানন্দন প্রামাণিক
No text on this page.
একাঙ্কবিশিষ্ট হওয়াতে দশবিধ রূপকের মধ্যে ইহাকে অঙ্ক ব্যতীত অন্য কোন নামে আখ্যাত করা যাইতে পারে না। যদি এ সকল কারণ সত্ত্বেও ইহার অঙ্কাভিধেয়ত্ব সিদ্ধ না হয়, তাহা হইলেও ইহা কোন এক অনির্বচনীয় নাটক বিশেষের একাংশ বটে, সুতরাং সে জন্যও ইহাকে “অঙ্ক” বলিবার বাধা হইতে পারে না। এই গ্রন্থের মধ্যে যে কয়েকটী পদ্য আছে, তাহার সমুদয়ই গৌড়ীয় সাধু ভাষায় অনুবাদিত করা হইয়াছে। এতদ্ভিন্ন পদ্যের মধ্যেও যে যে স্থানে অর্থের কিঞ্চিৎ কাঠিন্য আছে, তাহাও ব্যাখ্যা দ্বারা বিশদ করা হইয়াছে। এই গ্রন্থখানির সমালোচন পক্ষে মদীয় শিক্ষক শ্রীযুক্ত কালিদাস সেন বৈদ্যরত্ন মহাশয় ও শান্তিপুরের রামনগরস্থ বালিকাবিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শিক্ষক শ্ৰীযুক্ত বনমালী ভট্টাচাৰ্য্য বিদ্যাভূষণ মহাশয় অনেক পরিশ্রম স্বীকার করিয়া- ছেন; এবং শান্তিপুরের প্রধান নৈয়ায়িক শ্রীযুক্ত রামগােপাল গােস্বামী তর্করত্ন মহাশয় তার্কিক হইয়াও যে ইহার প্রতি একবার সানুকম্প দৃষ্টিপাত করিয়া- ছিলেন, ইহাই অতিশয় শ্লাঘার বিষয়। অতএব এই মহাত্মাদিগের নিকট আমরা কৃতজ্ঞতাপাশে বদ্ধ রহিলাম। এতদ্ভিন্ন শান্তিপুরের প্রধান স্মাৰ্ত্ত শ্ৰীযুক্ত কালিদাস বিদ্যাবাগীশ ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের পুত্র শ্রীযুক্ত রামনাথ ভট্টা- চাৰ্য্য বিদ্যারত্ন মহাশয়ের উৎসাহমেই এই নাটকের সূত্রপাত হইয়াছে ; এজন্য তাহাকে ইহার দ্বিতীয় রচনাকৰ্ত্তা বােধ করিয়াই আমি এই বিজ্ঞাপনের মধ্যে সৰ্ব্বত্রই “আমি” এই শব্দের স্থলে “আমরা” এই শব্দ প্রয়ােগ করি- মাছি ; অতএব তাহার যত্নের কথা অধিক লেখা বাহুল্য। শাকে বসুগজাব্ধীন্দেী শুভঙ্কাইয়ং কৃতাে ময়া। দুর্ভিক্ষাদিবিনাশিন্যা লক্ষমাঃ প্রীত্যে সুলক্ষণঃ “ন বিদ্যতে যদ্যপি পূর্ববাসনা- গুণানুবন্ধি প্রতিভানমদ্ভূতম্। “তেন যত্নেন চ বাগুপাসিতা ৰং করােপত্যব কমপ্যনু গ্ৰহম্।
প্রকাশকের নিবেদন “ভারতবর্ষীয় কবিদিগের সময় নিরূপণ” প্রকাশের পর গ্রন্থকারকৃত এই নাটকখানি প্রকাশিত হইল। ১৭৮৮ শাকে নাটকখানি রচিত হইয়াছিল। এতদিন মুদ্রাঙ্কিত না হওয়ার কারণ নিম্নে সংক্ষেপে বিবৃত করিলাম। গ্রন্থ- কারের রচিত আরও কয়েকখানি গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি রহিয়াছে ; সেগুলিও ক্রমে ক্রমে মুদ্রাঙ্কিত করিবার বাসনা আছে। ঐ সকল পাণ্ডুলিপির মধ্যে “কবিকল্পলতাকুসুম” নামক অলঙ্কারবিষয়ক গ্রন্থ, “দ্বিরূপকোষ ও উপ- সৰ্গাৰ্থনির্ণয়”, “তত্ত্বসংগ্রহ”, “বচনের নিয়ম ও লিঙ্গার্থসংগ্রহ ও ইংরেজী ভাষায় “The Common Sense of Religion”, বহুমূল্য বােধ হয়। এত- দ্ভিন্ন গ্রন্থকার যে “A Comparative Grammar” নামক পুস্তকের সূত্রপাত করিয়াছিলেন, তাহা নিতান্ত অসম্পূর্ণ অবস্থায় আছে। গ্রন্থকারের দর্শন ও প্রতিভা যে কতদূর বিস্তৃত ছিল, তাহা এই সকল গ্রন্থের নামমাত্র পাঠেই উপলব্ধি হইবে। পরন্তু তাহার সময়ে তাঁহার তুল্য কবি, দার্শনিক, ভাষাবিৎ ও ধৰ্ম্ম- শাস্ত্রবিৎ এদেশে কেহ ছিলেন কি না সন্দেহ। “কবিসময় নিরূপণ” গ্রন্থের ভূমিকাতে তাহার জীবনী সংক্ষেপে সন্নিবেশিত হইয়াছে। গ্রন্থরচনার অল্প দিন পরে গ্রন্থকার রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রকে এ সম্বন্ধে যে পত্র লিখিয়াছিলেন, ঐ পত্র ও তদুত্তর এই স্থানে সন্নিবেশিত করা গেল। “যথাবিহিতবিনয়পুরঃসরনিবেদনমি-- পূর্বে “সংস্কৃত কোকিল দূত” নামক একখানি পুস্তক সমালােচন করিবার নিমিত্ত মহাশয়ের নিকট পাঠাইয়াছিলাম এবং মহাশয় তাহাতে যথােচিত মনােযােগ প্রদর্শন করিয়া যথেষ্ট উৎসাহ প্রদান করিয়াছিলেন। এজন্য হস্তলিখিত “কমলা-করুণা-বিলাস” নামক নাটক একখানি প্রেরণ করিতেছি ; অভিপ্রায় এই মহাশয়ের দ্বারা ইহা সংশােধিত হইলে যদি উপযুক্ত বােধ হয়, তবেই সাধারণ সমীপে প্রকাশ করা যাইবে। শুনিয়াছি সংস্কৃত বিদ্যালােচনাসমাজে প্রধান কর্মচারীর পদে মহাশয় অভিষিক্ত হইয়াছেন; অতএব সংস্কৃত ভাষা-নিবদ্ধ যে কোন প্রবন্ধ হউক, তাহা মহাশয়ের দ্বারা প্রথমে পৰ্যালােচিত হওয়াই সর্বতোভাবে বিধেয়। কিমধিক বিজ্ঞবরেষু নিবেদমিতি। শান্তিপুর, নিঃ শ্রীহরিমােহন দাস প্রামাণিক ১২৭৪ সালের ১৩ই আষাঢ় মান্য বর শ্রীযুক্ত বাবু হরিমোহন প্রামাণিক মহাশয়েষু, যথাবিহিত সমানপুরঃসরনিবেদনমিদং- ভবঙ্গীয় “কমলাকরুণা বিলাস” নাম সংস্কৃত নাটকপানি পাঠ করিয়া পরম পরিতৃপ্ত হইয়াছি। গ্রন্থখানি উত্তম হইয়াছে, এবং মহাশয় তদ্রচনায় ও সংস্কৃত বিদ্যায় অনুরাগ প্রকাশ করেন, এতদৃষ্টে বিশেষ সন্তোষ লাভ করিয়াছি। ভরসা করি মাশয় অবিলম্বে অভিনব নাটকখানি মুদ্রিত করাইয়া সাধারণ জনগণের প্রীতি সম্পাদন করিবেন। ইতি ১৭ই ভাদ্র, ১২৭৪ সাল। নিঃ ৩ :লল মিএস্ক ১২৮০ সালের ভাদ্র মাসে গ্রন্থকারের পরলােক হয়। মূল পাণ্ডুলিপি খানি গ্রন্থকার ক্ষুদ্রাক্ষরেও অনেক স্থানে এতদূর পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করিয়াছিলেন, সে সমগ্র উদ্ধার করা আমার পক্ষে নিতান্ত কঠিন ; অথচ সে সকল পরিত্যাগ করাও অন্যায় বােধে এত দিন মুদ্রাঙ্কণের চেষ্টা হয় নাই। গ্রন্থকারের হস্তাক্ষর পাঠে “বাসুদেববিজয়”-কৰ্ত্তা পূজ্যপাদ শ্ৰীযুক্ত রামনাথ তর্করত্ন মহাশয় বিশেষ সমর্থ ; বিশেষতঃ গ্রন্থকার তাঁহাকে এই নাটকথানির দ্বিতীয় রচনাকর্তা বলিয়া গিয়াছেনণ অবশেষে তাহার যত্ন ও সাহায্য লাভ করিয়া যতদূর সাধ্য গ্রন্থকারের লিপি উদ্ধার করতঃ এই নাটকখানি এত দিন পরে মুদ্রাঙ্কিত হইল। বলা বাহুল্য, গ্রন্থকারের রচনার একটা কথাও পরি- বৰ্তিত বা তাহার কোন অংশও পরিবর্ধিত হয় নাই ; কিন্তু দুঃখের বিষয় তাহার হস্তাক্ষর অনেকাংশে লুপ্তপ্রায় হওয়ায় পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হইয়াছি। গত বৎসর আমি কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হইয়া নাটকখানির মুদ্রাঙ্কণের ভার আমার প্রিয়বন্ধু স্বর্গীয় গােবিন্দসুন্দর ত্রিবেদী মহাশয়ের পুত্র রিপণ কলেজের অধ্যাপক রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর উপর অর্পণ করি। রামেন্দ্রসুন্দর আহলাদ সহকারেই এই কার্যের ভার গ্রহণ করেন এবং তিনি যেরূপ বিবে- চনা, পাণ্ডিত্য ও যত্নসহকারে নাটকখানির মুদ্রাঙ্কণে সাহায্য করিয়াছেন, তাহা পাইলে আমার দ্বারা এ কাজ সংসাধিত হইত না। শান্তিপুর শ্ৰীযশােদানন্দন প্রামাণিক মাঘ, শকাব্দ ১৮২০ }
No text on this page.
কমলাকরুণাবিলাস
নান্দী
যা ক্লিষ্টমালােক্য পতিং নিরম্নং
ত্যক্তষ্ট হস্তান্ দ্বিভুজান্নপূর্ণা ।
সা বিশ্বমালােক নিরম্ননস্টং
দুর্ভিক্ষনাশে ভবতু প্রসন্না ॥
অপিচ
যা বিদ্যা বিমলা বিমুক্তিকরণী মায়া চ যা মােহনী
যা ভক্তিৰ্ভগবৎপ্রসাদজননী মুক্তেস্তিরস্কারিণী।
যা শ্ৰীঃ পুণ্যবতং গৃহেম্বঘবতাং গেহে যা নিঋতিঃ
শক্তিং শক্তিমতো বিভােৰ্ভগবতস্তাং তাং নমস্কুৰ্ম্মহে।
* যিনি নিজ পতিকে অনশননিবন্ধন ম্লান দর্শন করিয়া, দশভুজা হইয়াও
লােকনিন্দা ভয়েই যেন স্বীয় অষ্টভুজ পরিত্যাগ পূৰ্ব্বক, দ্বিভুজা অন্নপূর্ণা মূর্তি
পরিগ্রহ করিয়াছেন, সেই স্নেহময়ী অন্নপূর্ণা অন্নাভাবে নষ্টপ্রায় এই বিশ্বসংসার
অবলােকনে প্রসন্ন হইয়া দুর্ভিক্ষ নাশ করুন।
(১) পতিঃ শিব ইতি শৈবদর্শন।
(২) এই শ্লোকটী বালকবি শ্রীযুক্ত রামনাথ ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয়ের প্রণীত।
(৩) নিতে ত্বতে
সৌখ্যং মন্তে চেজ্জগজ্জনা।
তথাপি ময়ি কারুণ্যাত্মগৃহে নিতে বস।”
দলীস্তু নিখ তিৰিত্যমৰঃ। নির্গত ঋতিরশুভং যস্যা, হে তাদৃশে। ঋতির শুভ
মিতি ধরণিঃ।
২ কমলাকরুণাবিলাস কিঞ্চ লােকোত্তরং হৃত্তব লােকমাতঃ স বেদগর্ভোহপি ন বেদ মাতঃ। যৎ প্রায় কী সুমনােহগ্ৰিয়ং জড়প্রধানং বত ভাগ্যবন্তম্ ॥ + মুক্তিপদবিধায়িনী, সুবিমলা বিদ্যা যিনি, মায়া যিনি ভুবনমােহিনী। যিনি ভক্তি পরাৎপরা, মুক্তির গৌরবহরা, ভগবৎপ্রসাদজননী । ধার্মিকের গৃহে যিনি, * সদা লক্ষ্মীস্বরূপিণী, অলক্ষ্মী পাপীর গৃহে যিনি। তারে করি নমস্কার, সর্বশক্তিমূলাধার, ঈশ্বরের শক্তিমাপা তিনি। * হে মাতঃ লােকমাতঃ লক্ষ্মী, তােমার যে অলৌকিক হৃদয় তাহা ব্রহ্মা বেদগর্ভ হইলেও জানিতে সমর্থ নহেন; যেহেতু তুমি সেই প্রসিদ্ধ “সুমনােহগ্রিয়”, অর্থাৎ সর্বদেবপ্রধান ইন্দ্রকে পরিত্যাগ করিয়া “জড় প্রধান”, অর্থাৎ জলমাত্ৰপ্ৰকৃতিক অর্থাৎ জলাত্মক অথবা সমস্ত জলাশয়ের শ্রেষ্ঠ সমুদ্রকে ভাগ্যবান্ করিয়া থাক । অথবা “সুমনােহগ্রিয়” অর্থাৎ পণ্ডিতের অগ্রগণ্য ব্যক্তিকে পরিত্যাগ করিয়া “জড়প্রধানকে”, ঘােতর মুখ- কেও ভাগ্যবান্ করিয়া থাক। অতএব এ অতি আশ্চৰ্য্য অথচ খেদের বিষয়। (১) সুমনাঃ পুষ্পমালহত্যাঃ স্ত্রী দেববুধয়ােরণীতি বৈজয়ন্তী। (২) এ স্থানে লক্ষধায়া জল শব্দে আশয়াশ্রিতসম্বন্ধে জলাশয়কে বুঝাইল। জড়ং জলমিত্যমরটীকায়াং রায়মুকুটঃ। ডলগ্নেরেকত্বাচ্চ। (৩) পুরাণে বর্ণিত আছে যে দুর্বাসার অভিশাপ হেতু লক্ষ্মী প্রতিফল্পেই একৈকবার ইকে পক্ষিত্যাগ করিয়া সমুদ্রকে আশ্রয় করিয়া থাকেন। (9) খোনুকম্পাসন্তোষবিস্ময়ামন্ত্রণে বঙেত্যমত্মঃ।
কমলাকরুণাবিলাস অপিচ শুদ্ধবর্ণা বেদবাণীত্যে বেদয়িতুং খল। বেদযােনেঃ শুদ্ধবর্ণা বাণী যাজনি তাং ভজে। নান্দ্যন্তে সূত্রধারঃ। অসমতিবিরেণ। (সমন্তাদবলােক) অদ্য খলু সুবিহিতকোজাগররাত্রে সমাহিতসুখাতিমাত্রে পুণ্যরাত্রে ত্রৈলােক্যসৌভাগ্যসিন্ধুনিলয়ায় ভক্তজনহৃদয়- কমলালয়ায়া ভগবত্যাঃ কমলায়া প্ৰবৰ্ত্তমানায়াং বিধিবােধিতপূজায়াং কৃত- মহামহােৎসব নরবাসব বাসস্থলে নানা বাদ্যং লােককোলাহলাঢ্যং স্বৰ্গং মৰ্ত্তং ব্যানশে যচ্চ সৰ্বম্। • “বেদবাণী” বেদবাক্য “শুদ্ধবর্ণা” শুদ্ধাক্ষরা হইয়া থাকে। অর্থাৎ বেদ- বাক্যে কখনই বর্ণদোষের আশঙ্কা হইতে পারে না; যেহেতু তাহা ঈশ্বরপ্রণীত। বােধ হয় ইহা জানাইবার নিমিত্তই যিনি “বেদযােনি” বেদের উৎপত্তিস্থান অথচ বেদগর্ভ ব্রহ্মা হইতে “বাণী” সরস্বতী নামে ‘শুদ্ধবর্ণ” শুকুরূপা হইয়া অবতীর্ণ হইয়াছেন তাহাকে ভজনা করি। (১) তথা কাবাদর্শে সর্বশুক্লা সরস্বতীতি। এবং সরস্বতীর নামও শুক্লা ইতি ত্ৰিকাণ্ডশেষে। শুদ্ধ শুক্লে চ পুতে চ কেবলে চ প্রযুজ্যতে ইতি ধরণিঃ। বর্ণো দ্বিজাদৌ শুক্লাদৌ স্তুতৌ বর্ণন্তু বাক্ষরে ইত্যমঃ। (২) বাণী বাক্যং সরস্বতী চ। যথা ব্রাহ্মীতু ভারতী ভায্যেত্র ব্রাহ্ম্যাদি বচঃপৰ্যন্ত বসি, ব্রাহ্ম্যাদি সরস্বতীপৰ্যন্তং সপ্তকং সত্যাঞ্চেষ্যতে ইত্যমরটীকাকৃম্ভৱতঃ। কোন কোন পুরাণে সরস্বতীকে ব্রহ্মার কন্যা বলিয়া উক্ত করিয়াছেন। এই নিমিত্ত তদধিষ্ঠানভুত নদীবিশেষকে (সরস্বতীকে) রাজনির্ঘণ্টাদিতে “ব্ৰক্ষতা” কহিয়াছেন। এতাব সরস্বতীই যে বেদময়ী মূৰ্ত্তি ইহা ধ্বনিত হইল। এবং “দেবাঃ কং জইনুবীক্ষ্য সুতাং যভিতুমুদা” এই শ্রীমদ্ভাগবতােক্ত শ্লোকের ব্যাখ্যানে মুতাং বাং ইহা এধর স্বামী লিখিয়াছেন।
৪ কমলাকরুণাবিলাস তত্ৰামৰ্ত্ত্যক্ষমাপতেরশ্মিনেয়ে নিৰ্ণিন্যাতে কর্ণশূলে নিদানম্ | এবমন্যত্র “সুঘনং সুততং সুঘনং সুততং সহসা শুধিরৈঃ সহসা শুষিরৈঃ। অথবাদ্যমভূদথ বাদ্যমভূ- রভসােদ্যমভূ রসােদ্যমভূঃ ॥” * নানা বাদ্য লােককোলাহল। স্বর্গ মর্ত্ত ব্যাপিল সকল । ইন্দ্রের জন্মিল কর্ণশূল। অশ্বিনীকুমার চিন্তাকুল। + অথ অনন্তরং অথবাদ্যং মঙ্গলবাদিত্রম্ অভূদিত্যন্বয়ঃ। মঙ্গলানন্তরারম্ভ- প্রশ্নকাশ্নে থাে অপেত্যমর। তৎ কিকারমিত্যাহ সুঘনমিত্যাদি। সুঘনং সুন্দরং কাংস্যতানাদি বাদ্যং, সুততং সুন্দরং বীণাদি বাদ্যঞ্চ, শুষিরৈঃ বংশ্যাদি বাদ্যৈঃ সহেতি শেষঃ। ততং বীণাদিকং বাদ্যমানদ্ধং মুজাদিক। বংশ্যাদিকন্তু শুষিরং কাংস্যতালাদিকং ঘনমিত্যমরঃ। সহসা হঠাৎ সুঘনং নিরন্তরং মুহুর্মুহুঃ সুততং অতিবিস্তৃতং। সুশকোহতিশয়াদিথিতি দুর্গাদাসঃ। অভূদিতি যাবৎ। অতএবেতি পূরণীয়ং। অদ্য নাসী ভূঃ ইতঃ পূৰ্ব্ব- (১) মং মধ্যমলােক ইতি জটাধরঃ। (২) আদিত্য ভবােহস্বপ্না অমর্ত্তা অমৃতাস ইত্যমঃ, অতএব “অমর্ত্ত্যক্ষ্মাপতি শব্দে দেবরাজ ইন্দ্রকে বুঝাইল। (৩) এটা এই শ্লোকের কোন প্রসিদ্ধ টীকা নহে; ইহা আমাদিগের স্বকপোলকল্পিত মাজ। অতএব ইহা দ্বারা শ্লোকের প্রতার্থ বিবৃত হইল কি না সন্দেহ।
কমলাকরুণাবিলাস (পুনঃ পরিতােবলােকা সহর্ষ) অহ কিমাশ্চৰ্য্যম্। অত্র কিল নরেন্দ্র প্রসাদাৎ সৰ্বে নরা নরলােকস্থিতাঅপি সুরলােকাসম্ভবেনাপি ঘৃতাচী-গর্ভ-সম্ভবে- নান্বিতং১ রম্ভাতিলােত্তমাদিসহিতং দেববাঞ্ছিতমমৃতং লব্ধ। পুরন্দরপুরবাস- সুখমপুপলৰূবন্তঃ। (কিঞ্চিদগ্রতে গত্বা পুরশুদিবলােক্য) হস্ত হস্ত কথমেতে কাৰ্যান্তর- বিস্মরা ঘস্মরঃ পৃথুপৃথুকরাশিমিলিতং পয়ােরাশিং প্রাপ্যাপি পুনঃ ‘ন রাত্রে দধিভােজন” ইতি বচনস্তাপবাদমন্বেষণাঃ সন্তো মিথ্যাবিবাদং কুন্তো মুৎপত্তিস্য সঃ অভূঃ অপূৰ্ব্বঃ রভসােহর্ষঃ। ভিসােহর্ষোবেগশ্চেতি মেদিনী। আদ্যং প্রথমং যথা তথা অভূদিতি শেষ। সমুচ্চয়ার্থকবাশব্দেনাম্বয়াৎ। বা শব্দঃ সমুচ্চয়ে ইতি মেদিনী। তেন মাৎ ব্ৰহ্মণো বিষ্ণোৰ্ব্বা। ব্রহ্মেত্যেকারকোষঃ। বিষ্ণুশ্চেতি মেদিনী। প্রথমমুদ্ভবে যস্যাঃ স মভূঃ পৃথিবী। তস্যা এব সৰ্ব্বেমাদ্যোপন্নত্বাৎ। এভসােদ্যমভূঃ হর্ষেণ বেগেন বা য.উদ্যমস্তস্য স্থানভূতা সতী সিরৈঃ বিবরৈঃ করণৈঃ সহসা হাস্যযুক্তা অভূদি- ত্যুহম্। অদ্ভটবাদ্যশব্দেন পৃথ্বী বিদীর্ণাভূদিতি ভাবঃ। অথচ শরৎকালে জলনির্গমেণ পৃথিব্যাঃ স্থানে স্থানে জলপ্রণালীভূতানাং বিবরাণাং প্রকাশােহ- ভূদিতি প্রতীয়মাননৎপ্রেক্ষালঙ্কারগমো বস্তুধ্বনি। অনন্তর মাঙ্গলিক বাদ্য আরব্ধ হইল। ইহাতে বংশীপ্রভৃতির সহিত সুন্দর কাংস্যতালাদি ও বীণাদি বাদ্য যাহা হইতে লাগিল, তাহাতে এমন এক অপূৰ্ব আনন্দের উদ্ভব হইল যে তদ্বারা পৃথিবীও নিজ বিবরসমূহ দ্বারা হাস্য প্রকাশ করিতে লাগিলেন। অর্থাৎ অতি ঘেতর শব্দ প্রযুক্ত পৃথিবীও বিদীর্ণ হইতে লাগিল। বস্তুতঃ বর্ষাকালে জলপ্রয়াণহেতু পৃথিবীর স্থানে স্থানে যে সকল প্রণালী হইয়াছিল, তাহাই এই শরৎকালে জল শুষ্ক হওয়াতে এ মশঃ প্রকাশিত হইতে লাগিল ; ইহাই উৎপ্রেক্ষাক্রমে বর্ণনা করা হইল। (১) “ঘৃতাচী” অঙ্গরা বিশেষ। পক্ষে “ঘৃতাচী-গর্তসম্ভব”, জেলা (বড় এলাচী)। (২) রম্ভা ও তিলােত্তমা নাম্নী বিদ্যাধরী ; পক্ষে কদলী ও উত্তম তিলাদি দ্রব্য। (৩) “অমৃত” ভক্ষণীয় দ্রব্য এবং সুধা।
কমলাকরুণাবিলাস বৰ্ত্তন্তে ? তৎ সম্প্রতি সর্বসম্প্রীতিপ্রদং প্রকটিততরুণচ্ছবিনা কবিতাকমল- রবিণা কেনচিদভিনবকবিনা প্রণীতং “কমলা-করুণা-বিলাসং” নাম রূপকং প্রয়ােক্ত মুদ্যতা বয়মেতানহিতাহিত্বা সহৃদয়মহােদয়বর্গানুপস্থাস্যামঃ। (আকাশে লক্ষং বদ্ধা) কিং ব্রবীষিং কথমাধুনিক ক্ষুদ্রতরজনস্য কৃতিভি- মহতাং সামাজিকজনানাং প্রীতিজননসম্ভাবনেতি। অয়ে শৃণু পুনস্তাবৎ ক্ষুদ্রস্যাত্যল্পকাৰ্যং হি চমৎকারায় কল্পতে। তেনেতি প্রথিতং লােকে অমৃতং বালভাষিতম্। (নেপথ্যে) ভাব! ত্বৰ্য্যতাং ত্বৰ্য্যতাম্। এতে খলু অভিনবনাটকদর্শন- প্রয়ােজনাঃ সর্বে নবনাগরজনাঃ কৌতুকরসতরঙ্গেণ রঙ্গেণ সঙ্গমিতা রঙ্গভুমি- মধিৰােহন্তি ব্যাহন্তি চ সৰ্বমেব শৈলুষজনং প্রতি প্রবর্তামামুখবিধয় ইতি। সূত্র। (আকৰ্ণ সানম্ অহহ মু খলু মে লালসামরুভূমিঃ সন্তোষ- সলিলেন প্লাবয়িতুমারা। (পুননেপথ্যে) তৎকিমিতি পারিপার্শ্বিক! নারয়সি কুশীলবৈঃ সহ সঙ্গীতক- মপারকরুণাসূচকং বরুণালয়সুতায়াঃ। প্রবিশ পারিপার্শ্বিক। ভাব! কহেহি কসস সময়স বঃণেণ তুহ্মাণং মপােরহসম্পত্তিং অহিণদামি। সূত্র। (সহ) মারিষ! নম্বিয়মেব শরদারস্য রমণীয়তা সর্বথা বর্ণ- য়িতবা। কিঞ্চাৰ প্ৰফুল্লরজনীগন্ধাদিসুগন্ধিকুসুমবৃন্দশ্যমানানন্দমকরন্দবিন্দু- সন্দেহসন্দোলিত-নিখিলহৃদয়াভিনন্দন-মমগমনশীল নন্দনবনবাসসৎসুকচন্দন- (১) “অহিত” শব্দে শত্রু ; অর্থাৎ যাহায় কেবল উদরস্তুরি তাহারা সঙ্গীতাদি সর্ব- রসের অরসিক এবং তত্তৎ রসাভিজ্ঞদিগের অপ্রিয়। (২) কিং ব্ৰৰীষীতি যন্নাট্যে বিনাপাত্ৰং প্রযুজ্যতে। ত্বৈবানুক্তমপর্থং তৎ স্থাদাকাশ- ভাষিতমিতি। (৩) কথয় কস্ত সময় বর্ণনেন যুকং মনােরথসম্পত্তিমভিনয়মি। যদিও পারি- পার্শ্বিকের বাক্য প্রায়ই সংস্কৃত ভাষানিবদ্ধ হওয়াই দেখা যায়, তথাপি ধনঞ্জয়বিজয়াদি কোন কোন নাটকে প্রাকৃত ভাষাতেও লিখিত হইয়াছে।
কমলাকরুণাবিলাস পবনকৃতসেবনমেকান্তকান্তরূপরজনীকান্ত-বিমলকর-করাপসারিততিমিরাবগুণ্ঠনং রজনীমুখঞ্চ। পারিপার্শ্বিকঃ। (সকৌতুক) অস্মহে ! মেহােবরােহবিমুখণহথলখি- হিমকরকরােল্লসিদদুগ্ধসিন্ধুপ্রধবলুজ্জলজোছজলপখালিদমুহী অধিঅদররমণি- জদংসণা দেই সরদো। (সংস্কৃতমাশ্রিত্য) কূজৎসারসকাঞ্চিকা মৃদুলসৎকাদম্বপাদাঙ্গদা চক্রান্তনমণ্ডল। দরদলদ্ৰাজীবকোষাননা। নীলান্তোরুহলােচনা মধুকরশ্রেণীভ্রমজ্বলতা রাজত্যদ্য পরাগরঞ্জিবসনা মুর্ভেব দেবী শরৎ | সূত্র। সাধু! সাধু! শ্রবণাঞ্জলিপুটপেয়মিদং সুধাসস্মিতমেব সঙ্গীতকম্। (ইতি সপুলকম্) বিগতজলদজালং বিস্ফুরত্তারমালং স্ফুটতরশশিনালং শােভতে খং বিশাল। * নিরবকর বকর সারসপক্ষিসকল যাহার কাঞ্চীদাম হইয়াছে, মৃদুমন্দ- বিহারী কলহংসগণ যাহার নূপুর হইয়াছে, চক্রবাক সকল যাহার স্তনমণ্ডল এবং চঞ্চল চঞ্চরীকশ্রেণী যাহার জ্বলতা, এবস্তৃতা ঈষদ্বিকশিতকমলকোষাননা নীলনলিনয়না দেবী শরদৃতু পুষ্পপরাগ দ্বারা রঞ্জিত বসন পরিধান করিয়া যেন অদ্য মূর্তিমতী হইয়া বিরাজ করিতেছেন। (১) শরৎকালেও দক্ষিণ বায়ু সঞ্চারিত হয় ; তাহার পরেই শীতের প্রারম্ভে উদীচ্য বায়ু প্রবাহিত হইতে থাকে। এজন্য এ স্থানে নন্দনবনবাসােম্মুখ বলিয়া মলয় পবনের বর্ণনা করা হইল। যেহেতু উত্তরদি সুমেরু পর্বতের মধ্যেই নন্দন বনের অবস্থিতি কথিত হইয়াছে; তথাচ গােলাধ্যায়ে “বনং তথা চিত্ররথং বিচিত্রং, তেরােনননন্দন ফেত্যাদি”। (২) আশ্চর্য ! মেঘেপরােধবিমুক্তভঃস্থলতিহিমকরকয়ােল্লাসিতদুন্ধসিন্ধুপুর বলে- জলজ্যাৎস্নাজলক্ষালিতমুখী অধিকতরমণীয়দর্শনা দেবী শরৎ।
কমলাকরুণাবিলাস - নেপথ্যে। (সাধিক্ষেপ) ধি মূখ বাবদূক! নটনকলমাকুশলি কুশীল কুশীলব ! কিং বৃথা বালকবদাকাশমাত্রবর্ণনেন লােকান্ স্তোভয়সি। অরে পশ্য পশু সম্প্রতি রসাতলমিদং রসাতলতমিব লক্ষ্যতে। তথাহি- অহহ জলদদত্তং দোহদং নােপলভ্য প্রপততি পরিশুদ্ধঃ পূর্ণগর্ভা ধরিত্রাঃ ॥ সূত্র। (নেপথ্যাভিমুখমবলােক্য সবৈলক্ষ্য) অয়ে অয়মাসনুদুর্ভিক্ষোপপ্লব- বিক্রবহৃদয়ঃ সুদীনঃ সুদামা নাম ব্রাহ্মণ এব ইতােহভিবৰ্ত্ততে। তদস্মাকং স্থিতির নােপযুজ্যতে। (ইতি নিষ্ক্রান্তেী) ইতি প্রস্তাবনা। + আহা! এই বিশাল গগনমণ্ডল অদ্য মেঘজালবিনিৰ্ম্মক্ত হইয়া সমুজ্জ্বল তারকারূপ বিশুদ্ধ মুক্তাবলী ধারণ করতঃ সুপ্রকাশমান সুধাকর দ্বারা কি অপূৰ্বই শােভমান হইয়াছে। অর্থাৎ চন্দ্র যেন ঐ মুক্তামালার মধ্যে মণি হইয়াছে। * হায় ! কি দুঃখের বিষয়, জলদদত্ত' দোহদ অর্থাৎ জল না পাইয়া পৃথি- বীর পূর্ণগর্ভও পরিশুদ্ধ হইয়া পতিত হইতেছে। (১) অত্র সূত্রধরেণ পঠিত বাক্যাং গৃহীত্বা পাত্রস্থ প্রবেশনাদিয়ং কথােদ- ঘাতাখ্যা। তথাচ সাহিত্যদর্পণে। সূত্রধারস্য বাক্যং বা সমাদায়ার্থমস্য বা। ভবেৎ পাত্র- প্রবেশশ্চেৎ কথোদতঃ স উচ্যতে ইতি। (২) “তার” শব্দে তারকা (নক্ষত্র) এবং বিশুদ্ধ মণ্ডল। তারামুক্তাদিসং শুদ্ধো তরলে শুদ্ধমৌক্তিকে। ঋক্ষাক্ষিমধ্যয়ােস্তারেতি বিশ্ব। তথাচ ‘অসং ভূষণপৰ্য্যাপ্তিশক্তিবারণবাচকমিত্যমঃ। অলং শব্দের সান্নিধ্যধারা চন্দ্রের ভূষণতা প্রতিপাদিত হইতেছে। অর্থাৎ ভূষণবাচী ‘অলং’ এই অব্যয় শব্দটী চন্দ্রের বিশেষণ। কৃ ধাতুর যোগভিন্ন ‘অলং' শব্দের ভূষণার্থ হইতে পারে না এমত আশঙ্কা করিও না। কারণ যখন এই শব্দটি উপসর্গের মধ্যে পরিগণিত না হইয়া কেবল অব্যয়ের মধ্যে পরিগণিত হইতেছে, তখন ইহার অবশ্যই বাচকতাশক্তি আছে স্বীকার করিতে হইবে। যদি ইহার কেবল দ্যোতকত্বশক্তিমাত্ৰ থাকিত, তাহা হইলে ইহাকে একটী স্বতন্ত্র উপসর্গ বলা যাইত। (৩) “দোহদ” গর্ভিণীর অভিলষিত দ্রব্য (সাধ) এবং গর্ভক্ষপৗষধবিশেষ।
কমলকিরুণাবিলাস ততঃ বিশতি নিরন্নভাবাপন্ন বিষগ্নচেতাঃ সুদামা। সুদামা। (সবিমর্ষ দেশকালবাৰ্তানভিজ্ঞ অবিজ্ঞজনগণা এব শরদি নীরদোন্মুক্তগগনস্ত প্রশংসা কুন্তি দিচ্ছন্তি চ প্রতিপাদয়িতু। পর, কৃষীবলানাং বচনমেব বলবদিত্যনুমীয়তে। তথাহি মেঘাে যদা বৰ্ষতি মেঘপুষ্পং কন্যাং গতে ভাস্বতি কর্ণদম্। বাতাদিবিঞ্চ বিনা তুলায়াং শস্যং ভবেত্তৰ্হি বহুপ্রশস্তম্। তথাচ লৌকিকোক্তিঃ- কন্যায় কানেকা। বিনি বায় তুলায় বর্ষে কোথায় রাখবি ধান।” (স্বগতম্) অহহ কিমিদানীং দুরতিক্ৰমণীয়ং দারুণতরকষ্টমাপতিতম্। মন্যে যথাবিহিতমতো রনুষ্ঠানমঞ্জরণ কিং শতমনন্যারন্তরে মন্যু রেষ উদ্ভুতঃ। (প্রকাশ) শক্রো বক্ৰস্তদিহ সুতরাং নাস্তি সম্পাতপাতত বৃত্তস্তস্মাৎ কৃষকনয়নাদ্বারিধারাপ্রপাতঃ। ০ ০ ০ * ভাস্কর কন্যারাশিস্থ হইলে অর্থাৎ আশ্বিন মাসে, মেঘ যদি উর্ধে আকর্ণ- পরিমিত বারিবর্ষণ করে, এবং তুলা রাশিতে অর্থাৎ কার্তিক মাস প্রবৃত্ত হইলে, মেঘ যদি বাতাদি বিঘ্ন ব্যতিরেকে জল প্রদান করে, তাহা হইলে অতি শ্লাঘ্যতম অর্থাৎ অতিশয় প্রচুর শস্যের ও ধান্যাদির উৎপত্তি হইয়া থাকে। (১) প্রশসমিতি ক্য”প্রত্যয়েম নিষ্পন্ন। (২) এখানে “মনু” শব্দে যজ্ঞ। (৩) এখানে “ম” শব্দে ক্রোধ। (৪) এতাবতা সমস্ত শরৎ কালকেই বুঝাইল, যে হেতু আখিন ও কার্তিক এই মাস বাপী কালকেই শরৎকাল বলে।
কমলাকরুণাবিলাস স্মৃত্ব চৈবং সুরপতিকৃতং পূর্ববৎ স্বাবমানং স্লানীভূতা কিমিহ কমলা ধান্যরূপাতিধন্যা ॥ তদিদানীং নিখিলধনধন্যং ধান্যং বিনা লােকানাং কিমপি দুর্গতিঃ সমুপা- গতা। যতঃ " “বহুধান্যকথানিষ্ঠঃ পুরাসী যঃ সুখাশয়ঃ । বহুধান্যকথানিষ্ঠঃ স ইদানীং বিলােক্যতে ॥” । এবঞ্চ অনুং বিনা হা বহুনামত্র নারীপাং ক্ৰয়তে পরিদেবনম্ । সকরুণমহাে অঙ্করক্ষণায়ৈব কেবলম্॥ * ইন্দ্র বক্র হইয়াছেন, সুতরাং জলধারার আর পতন হয় না। এক্ষণে কেবল কৃষকদিগের নয়ন হইতেই বারিধারা পতিত হইতেছে। ইন্দ্রের এই প্রকার নির্দয় ব্যবহার দৃষ্টি করিয়া বুঝি ইন্দ্ৰকৰ্তৃক পূৰ্ব্ববৎ স্বীয় মানের খর্বতা হওয়ার কথা স্মরণ করতঃ ত্রিভুবনধা ধান্যরূপা লক্ষ্মী ম্লানীভূত হইয়াছেন। । পূর্বে যিনি সুস্থচিত্ত থাকিয়া বহুধান্যকথা অর্থাৎ বহুপ্রকার অন্য কথার আলােচনা করিতেন, তিনিই এক্ষণে কেবল বহুধান্য-কথা অর্থাৎ প্রচুর ধান্য যাহাতে হয় সেই কথা লইয়াই আন্দোলন করিতেছেন। + এক্ষণে কেবল ‘অঙ্করক্ষার’ শরীর রক্ষার নিমিত্তই বহুতর স্ত্রীলােকেরা যে বােদন করিতেছে ইহাই শুনা যাইতেছে, অর্থাৎ এক্ষণে আর তাহাদিগের (১) পূর্বে ইন্দ্র দুর্বাসা মুনির প্রদত্ত লক্ষ্মীর নিবাসভূত মালার অবজ্ঞা করাতে লক্ষ্মী আপনাকে অবমানিত জ্ঞান করিয়া আঁহাকে পরিত্যাগ করিয়াছিলেন ; ইহাতে ত্রিভুবন সকলেই একবারে শ্রীভ্রষ্ট হইয়া মহা কষ্ট ভােগ করিয়াছিল। তথাচ বিষ্ণুপুরাণে ইন্দ্রের প্রতি দুর্বাসার বাক্য ;-ঐশ্বর্ধমত্ত দুষ্টান্নতিস্তক্কোহসি বাসব। শিয়াে ধাম অজং যং মাং নাভিনন্দসি। এবং, মত্ত। ভবতা যৎ ক্ষিপ্ত মালা মহীতলে। তম্মাৎ প্রণষ্টলক্ষ্মীক ত্রৈলোক্যং তে ভবিষ্যতি । ইতি। (২) অঙ্কঃ শরীরমিত্যুণাদিকোষঃ।
কমলাকরুণাবিলাস ১১ হন্ত হন্ত ধিগ্ ধিগ বিষময়ে দুর্ভিক্ষসময়ে বুভুক্ষাপি দ্বিগুণং বর্ধতে। যত ইদানীং নিয়তমনশনৱতনিয়তনামৃষিপত্নীনামপি অস্বপতিং প্রতীদৃশং সমা- সেনােক্তং সােবচনং মাকর্ণতে। তথাহি “দ্বন্দ্বে দ্বিগুরপি চাহং মদেগহে নিত্যমব্যয়ীভাবঃ। তৎপুরুষ কর্মধারয় যেনাহং বহুব্রীহিঃ স্যাম্।” # তৎ কিল সম্প্রতি বৃত্তভাবে কিংকর্তব্যবিমূঢ়ঢ়াহস্মি সংবৃত্তঃ। অহহ অস্মাকং বিষমবিপন্নানামেকমাত্রজীবনােপায়স্বরূপােঞ্ছবৃত্তিরপি নিবৃত্তিমাপন্না। যাচ্ঞাপথস্তু বহুবিসঙ্কটকণ্টকাবৃত ইতি নাভিরবলম্বিতুং যুজ্যতে। যতাে মনস্বিগহিতঃ পন্থাঃ সমারােঢ়মসাম্প্রতমিতি অভিযুক্তেরুক্ত। অতএব বেশভূষাদির প্রতি মনঃসংযােগ নাই। কি উপায় দ্বারা জঠরানল নির্বাণ হয় ইহাই সকলের চিন্তা হইয়াছে। * আমি নিজে ‘দ্বন্দ্ব’ অর্থাৎ হে স্বামি, তােমার দ্বিতীয়, অথবা ‘দ্বন্দ্ব রােগবিশেষ অর্থাৎ তােমার গলগ্রহ; এবং “দ্বিগু” [ দ্বাভ্যাং গােভ্যাং ক্রীতা ] দুইটী গরুদ্বারা ক্রীত অর্থাৎ তােমাকর্তৃক আর্যবিবাহ দ্বারা পরিণীত; আমার • ; (১) “সমাসেন” সংক্ষেপেণ। অথচ ষড় বিধসমাস নামােল্লেখেন। (২) বক্রোক্তিঃ। (৩) অথচ পক্ষান্তরে ‘অস্কু’ নামক নাটকবিশেযের নিয়মরক্ষার নিমিত্ত বহুনারীর বিলাপ বর্ণনা করা বিধেয় ; এইপ্রকার অর্থেরও সূচনা হইল। যেহেতু সাহিত্যদর্পণে উক্ত হইয়াছে “উৎসৃষ্টকাঙ্ক একাঙ্কে নেতার প্রকৃত নরঃ। রসােহ করুণঃ স্থায়ী বহুস্ত্রীপরিদেবিত ইতি। (৪) দ্বন্দ্বেীরােগবিশেষ ইতি শব্দরত্নাবলী। (৫) স্ত্রীও একপ্রকার গলগ্রহ, এজন্য কোন প্রাচীন কবি ব্যঙ্গক্রমে কহিয়াছেন, “কাভা কান্ত সহসা বিদধাতি গলগ্রহ” ইতি। (৬) বরের নিকট হইতে দুইটী গােগ্ৰহণ করিয়া কন্যাদান করাকে অর্ষি বিবাহ কহে। যথাহ মনুঃ, একং গােমিথুনং দে বাবরাদদায় ধৰ্ম্মতঃ। কন্যাপ্রধানং বিধিবদাষে। ধর্ম স উচ্যতে। ইতি ।
কমলাকরুণাবিলাস বরং বনে বনে ভ্রাত্ত্বা কন্দমূলনিষেবণম্। তথাপি ধনিনাং দ্বারে যাচ্ঞাকাৰ্যং সুদুষ্করম্ ॥ একত্র মানঃ শিখরিমাণে- হপরত্র দৈন্যং বনবহ্নিতুল্যম্। মধ্যে পতিত্বাহমুপায়হীননা বিসঙ্কটং সঙ্কটমেব লেভে। ভবতু। নিয়তমনৈকান্তিকমেব বিধিকৃতব্যসনমিতি শ্ৰয়তে, তদধুনা নিবৃত্তঃ সন্ গৃহং প্রতি গচ্ছামি। ইতি নিষ্ক্রান্ত। ততঃ প্রবিশতি স্বীয়ক্ষুধাতুরশিশুভিরাকৃষ্টজীর্ণাম্বরা বিশীর্ণকলেবরা ব্রাহ্মণী। ব্রাহ্মণী। (সখেদমুচ্চৈঃ) হা মাতঃ কমলে ! ত্বং কুত্রাসি? কিং চিরমধীর- দুর্গতজনবচনমবধীরয়ন্তী বধিরায়সে? অয়ি ত্রিভুবনবরণ্যে নিখিলজনশরণ্যে কিং নিয়তমরণ্যে রােদনমিম্মাকং পরিদেবনং পরিণংস্থতি। গৃহে নিত্যই “অব্যয়ীভাব” অর্থাৎ ব্যয়ের অসমস্থান। “তৎপুরুষ” অতএব হে পুরুষ, যাহাতে আমি “বহুব্রীহি” বহুধাবিশিষ্টা হইতে পারি, সেই প্রকার “কর্মধারয় কৰ্ম্ম কর, অর্থাৎ এখন আর জপতপের সময় নয়। এখন “ন কৃষেস্তু সমং বিত্ত” বলিয়া কৃষিকার্যে মনােযােগ কর। বরং বনে বনে ভ্রমণ করিয়া কন্দমূলাদি আহার করাও শ্রেয়স্কর; তথাপি ধনীদিগের দ্বারে দণ্ডায়মান হইয়া যাচুঞা করা অতি দুষ্কর কর্ম। । একদিকে পৰ্বতপ্রমাণ মান, অন্যদিকে দাবাগ্নিসদৃশ দৈন্যদশা অবস্থিত রহিয়াছে ; আমি এই দুয়ের মধ্যস্থলে পতিত হইয়া নিরুপায় অর্থাৎ পলায়নাদি চেষ্টারহিত হইয়া আপনাকে বিষম বিপদাপন্ন জ্ঞান করিতেছি। •• (১) “ক” গােলাকৃতি শুরণ ; “মূল” দীর্ঘাকৃতি মূলক ও আলু প্রভৃতি।
কমলাকরুণাবিলাস ১৩ (এবং শিরসি করমাহত্য) শীর্ষং রুক্ষমতীব কিন্তু হৃদয়ং স্নেহেন মে বিদ্রুতং তন্তুর্যন্ত ন ছাত্র কিন্তু স পরং চুল্লীমুখে সন্ততঃ * (পুনদীর্ঘং নিঃশ্বস্য) হা দুর্দৈবমশেষদুঃখনিলয়ে গেহে মদীয়ঃ শিশু ক্ষুৎক্ষামােদগতবাষ্পগদগদগিরা রাত্রিন্দিবং রােদিতি। (ক্ষণমণি বিমুচ্য হা কথং বা বারংবারং লজ্জায়ৈ জলাঞ্জলিং দত্ব প্রতি- বেশিনীগৃহেভ্যস্তণ্ডুলং ধারয়িত্ব দুৰ্ভগানর্ভকান্ পােয়ামি তােষয়ামি চ স্বমুদর। “বিপুলবিলসল্লজ্জাবল্লীবিদারকুঠারিকা। জঠরপিঠরী দুরেয়ং করােতি বিড়ম্বনা।” (কিঞ্চিদ্বিমৃষ্য সাক্ষেপ) অহহ কষ্টাৎ কষ্টতরমিদমাপতিতম্। যতঃ বৈগুণ্যেনৈব ভাগ্যস্য জাতঃ সৰ্ববিপর্যয়। চতুর্মুখস্য বৈমুখ্যং স্বামিনােহপিচ নিঃস্বতা ॥ $ * হায় । আমার মস্তক অতিশয় রুক্ষ হইয়াছে, অর্থাৎ ইহাতে তৈলাদি স্নেহ দ্রব্যের সম্পর্কও নাই; কিন্তু আমার হৃদয়টী স্নেহদ্বারা অর্থাৎ সন্তানদিগের দুঃখ দর্শনে কারুণ্য দ্বারা দ্রবীভূত হইতেছে। এবং এই মস্তকে তন্তুমাত্র নাই। কিন্তু আমার চুল্লীর মুখদেশে প্রচুর “তন্তু” মাকড়সার জাল আবৃত রহি- য়াছে; অর্থাৎ রন্ধন ব্যতিরেকে পাকস্থলীটী তন্তুজালাকীর্ণ হইয়াছে। । হায় কি দুর্দৈব! অশেষদুঃখনিলয় মদীয় নিকেতনে আমার শিশুসন্তান সকল ক্ষুধাজন্য ক্ষীণতর হইতেছে এবং বাষ্পেদগম হেতু সগদগদ বাক্যের দ্বারা কেবল রাত্রিদিন রােদন করিতেছে। # এই দুষ্পৰণীয়া জঠরপিঠরী (জঠররূপ গর্ত) বিপুল লজ্জারূপ লতার বিদারিকা কুঠারিকা স্বরূপ হইয়া কতই বিড়ম্বনা করিতেছে। ৪ ভাগ্যবৈগুণ্যক্রমে সকল বিষয়েরই বিপর্যয় ঘটিয়াছে। দেখ যিনি চতুমুখ অর্থাৎ বিধাতা তিনিও বিমুখ হইয়াছেন । বস্তুতঃ যার চতুর্দিকেই মুখ তার (১) সেহােহন্ত্রী দ্ৰবহায়ােরিতি বৈজয়ন্তী।
১৪
কমলাকরুণাবিলাস
হা বিধাতঃ মাদৃশামকৃতসুকৃতলেশানাং দুর্ভগাণাং জন্মপি নিরর্থকং
গতমেব। ন খলু কদাচিৎ সুখস্যাণুমাত্ৰমপ্যমুভূতম্। তথাহি
বৈশাখে সুভগা নাৰ্য্যো নানাব্রতপরায়ণাঃ।
সহেহহং জঠরস্যাস্য কঠোরব্ৰত্যাতনাঃ ।
জ্যৈষ্ঠে দিষ্টবতীনাঞ্চ নানাপুষ্পবিধারণম্।
শুণে বলেনৈব মম লজ্জানিবারণম্।
শুচৌ নবায়ুদং দৃষ্ট। হৃষ্টা পুণ্যবতী ভবেৎ।
অহ করকাপাতশঙ্কয়া ব্যাকুলান্তরা।
শ্রাবণে নন্দয়ত্যম্ভধারান্তঃপুরবাসিনীঃ।
ভগ্নে গৃহে বসন্তীং মাং প্রপীড়য়তি কেবল।
ভাদ্রে খরতরাে রৌদ্রো দুঃসহােহন্তঃপুরীযুষা।
দহতে বাহমন্তমে তেন চ জঠরাগ্নিনা ॥ *
কখনই বিমুখ হইবার সম্ভাবনা নাই। এবং যিনি স্বামী তিনিও নিঃস্ব, অর্থাৎ
নির্ধন হইয়াছেন [ ফলতঃ ইহাও নিতান্ত অসম্ভব, যেহেতু ‘স্ব অর্থাৎ ধনবিশিষ্ট
ব্যক্তিকেই স্বামী বলা যায় ; তথাচ ব্যাকরণে স্বং বিদ্যতেহত্যের্থে স্বামী।
* বৈশাখে সুভগাগণ নানা ব্রতে রত।
জঠরের কঠোর যাতনা মাের ব্রত।
জ্যৈষ্ঠে ভাগ্যবতীগণ নানা পুষ্প ধরে।
শুদ্ধ বক্কলেতে মাের লজ্জা রক্ষা করে।
আষাঢ়ে নবাভ্র হেরি সবে সুখী হয়।
পাছে শিল পড়ে বলে মাের মনে ভয়।
শ্রাবণেতে বৃষ্টি হয় অন্য জনে সুখ ।
ভগ্নগৃহে থাকি আমি পাই তাহে দুখ ।
ভাদ্রে পুরনারীগণে রৌদ্র নাহি সহে।
ক্ষুধাগ্নি ও রৌদ্রে মাের অন্তবাহ দহে।
কমলাকরুণাবিলাস
দুর্গাéামাশ্বিনে কর্ল্ডং সজ্জন্তে নগরাঙ্গণাঃ।
অহং লজ্জাহ সজ্জা তবৈদ্যপরিগ্রহে।
প্রদীপয়তি তুর্জেন্তঃপুরস্ত্রী দীপমালয়া।
মম কুটীরমেতত্ত্ব পাপেন মেসাবৃতম্ ।
মার্গশীর্ষে নবান্নানি ভুঞ্জতেহন্তঃপুস্ত্রিয়ঃ ।
উঞ্ছেনাপ্তেন ধানে জীবনং ধারয়াম্যহম্।
পৌষে বিবিধপিষ্টান্নং পুরস্ত্ৰীণাং পুরে পুরে।
হৃদো মে পুরুদুঃখেন নিয়তং পিষ্টপেষণম্ ।
মাঘে পুণ্যবতী নারী করােতি পুণ্যসাধন।
পাপীয়সীং ন মাং জাতু জহাতি পাপচিন্তন।
ফানে প্রমদানাং হৃৎপ্রমােদো জায়তেতরা।
হৃদয়ং পীড্যতেইত্যর্থং মমান্নমাত্রচিন্তয়া ॥
* আশ্বিনে অম্বিকাপূজা করে নারীগণে।
আমি লজ্জাহ সজ্জা নৈবেদ্যগ্রহণে।
কার্তিকে প্রদীপমালা দেয় রামাগণ।
তিমিরে আশ্রয় করে মাের নিকেতন।
মার্গশীর্ষে নবান্ন ভুঞ্জয়ে সৰ্বজন।
উঞ্ছপ্রাপ্ত ধান্যে আমি রাখি এ জীবন ।
পৌষে সৰ্ব্বলােকে করে পিষ্টক পােষণ।
দুঃখে করে মাের হিয়ার পিষ্টপেষণ ॥
মাঘ মাসে সবে করে পুণ্যের সাধন।
আমি পাপীয়সী করি পাপের চিন্তন।
ফাল্গুনে দ্বিগুণ সুখ পায় নারীগণ।
জঠর আগুনে করে আমারে দহন।
কমলাকরুণাবিলাস মধৌ সর্বং মধূল্লাসৈৰ্বারীণাং মধুরায়তে। বিষবাতি বিশ্বং মে নিরন্নয়ৈ নিরন্তরম্ ॥ * (ইতি বারংবারং স্বভাগমনুশােন্তী রােদিতি) (ততঃ সাহন্নার্থং ক্রোশট্টি শি ভিতিস্তত আকৃষ্যমাণ হৃদয়াহিতগুৰু- বেদনা চাত্মনঃ ক্লেশাতিশষ্যৎ রূপয়িত্বা স্বগত) অহহা ইদানীং কুত্র মে গৃহপতি- গৃহপতিরিব নিখিলদুঃখনাম্। ইতি নিষ্ক্রান্তা। বিষ্কন্তকঃ।২ ততঃ প্রবিশতি দীনদর্শনঃ সুদামা। সুদামা। (স্বগত) হা হতােহস্মি মন্দভাগ্যঃ। যত কুক্ষ্যাবেগাম্বুভুক্ষাৰ্ত্তঃ ক্ষপিতাঃ ক্ষণে ক্ষণে। আশু দুর্ভিক্ষ্যক্ষোহত্র ব্যথাৎ প্ৰক্ষীণলক্ষণম্ ৷ হা বিধে ! কথমেবংবিধে দুর্ভিক্ষেক্ষিতসময়ে অস্মাকমুশিল বৃত্তিশীলানাং জীবিকানিবৃত্তির্ভবেৎ। কিঞ্চ * মধুমাস অন্য জনে লাগে মধুসম। অন্ন বিনা মাের ভাগ্যে সকলি বিষম৷ + কুক্ষির আবেগ অর্থাৎ জঠরাগ্নির প্রবাল্যহেতু অতিশয় ক্ষুধার্ত যে দুর্ভিক্ষ- রূপ যক্ষ সে ক্ষণে ক্ষণে ইতস্ততঃ দৃষ্টিনিক্ষেপ করিয়া অতি সত্বরই সকল ক্ষয় করিয়া তুলিল। (১) ক্রিয়য়া যমভিপ্রৈতি এই সূত্র হেতু চতুর্থী হইল। (২) বৃত্তবর্তিষ্যমাণানাং কথাংশানাং নিদর্শক। সংক্ষেপার্থ বিতো মধ্যপাত্র- প্রয়োজিত। ইতি দশরূপকে। (৩) ক্ষেত্রনিপতিত ধাকণা গ্রহণ করার নাম “উছু” এবং তাদৃশ ধামঞ্জরী গ্রহণ করার নাম শিল ; তথাচ উঞ্ছোধাশ্যাংশকাদানং কপিশাদ্য…নং শিলমিতি যাদব।
কমলাকরুণাবিলাস ১৭ «« কথং বা দ্রক্ষ্যামি স্নপিবদনায়েত্রসলিলৈ মুহুহা তাতেতি ব্রুবত উপসন্নান্নিজশিশূন্। উদঞ্চন্নেত্রান্তঃপ্রসরলহরীপ্লাবিতমুখীং সদা হা কষ্টং ধিগৃধিগিতি রুদতীং স্বপ্রণয়িনীম্ ॥ * (ইতি স বিহস্তঃ পুনঃ স্বীয়রিক্তহস্তত্বেন বিহস্তঃ২ সন্ মমন্দমুপত্য দুঃখাতিভরেণ ক্ষামাক্ষরেণ প্রকাশ) ব্রাহ্মণি, হা কাসি ব্রাহ্মণি ? (পুননেপথ্যাভিমুখমবললাক্য) অয়ে? ইয়মেব সা মে সুখদুঃখৈকভাগিনী ব্রাহ্মণীতি সসমং কতিচিৎ পদানি দ্রুততরং দধাতি। ততঃ প্রবিশতি ক্রোড়ীকৃতশিশুসন্তানা ব্রাহ্মণী। ব্রাহ্মণী। ( সগদগদং বাষ্পবরুদ্ধকণ্ঠেন) কথমাৰ্য্যপুত্র ? আৰ্যপুত্র ! দ্রুতমেব বদ কেনােপায়েন বাদ্য বৰ্তিতব্যং কৰ্তব্যঞ্চ বা কিমপ্যাভিঃ। অথবা অস্মাকং যথা তথা ভবতু কথয় কথমেতেষামস্মাকং জীবনাধিকাং বালকানাং জীবিকানির্বাহো বা ভবেৎ। সুদামা। (স্বশিরসি করাঘাতং কৃত্বা স্বগত) অহাে নিধনজনানাং নিধন- মেব শ্রেয়। তথাহি দীনাং দিনত্রয়মুপােষ্য বিশীর্ণদেহাং ক্ষুৎপীড়িতেঃ স্বতনয়ৈধৃতজীর্ণবস্ত্রা। * হায় যখন নেত্রসলিলদ্বারা মপিবদন আমার শিশুগণ হা, পিতঃ হা পিতঃ বলিতে বলিতে আমার নিকটবর্তী হইবে, তখন আমি কিরূপে তাহাদিগের ; মুখাবলােকন করিব ? এবং যে নিয়তই “হা ধিক্ কষ্ট হা ধিক্ কষ্ট” বলিয়া রােদন করিতে থাকে সেই নিজ প্রণয়িনীকেই বা আমি কি প্রকারে নিরীক্ষণ করিব ? (১) বিহস্ত পণ্ডিত ইতিমেদিনী। (২) বিহস্তঃ ব্যাকুল ইত্যমঃ। (৩) এখানে “নিধন” শব্দে নিৰ্দ্ধন। অব্যয় ‘নি’ শব্দের নিষেধাৰ্থও বুঝায়। ইহা মুগ্ধবােধ টীকায় দুর্গাদাস লিখিয়াছেন।
১৮ কমলাকরুণাবিলাস কিংবা বেহহমতিদুঃখবিশীর্ণক্ষা ধিগজীবিতং সুকঠিনং বিধিনা হতস্য | ইতি তুষ্টীয় তিষ্ঠতি। ব্রাহ্মণী। (তদভিপ্রায়ং লক্ষীকৃত্য বজ্রাহতপ্রায় সমগদগদম) কথমেতা- দৃশেন চিরমনুষ্ঠিতেনাষাচকতেন কালহরণ সম্ভবেৎ ? তৎ সাম্প্রতং১ প্রাণ- রক্ষার্থং কস্যচিৎ ধনিন আশ্রয় এবান্বেষ্টং সাম্প্রতং ভবতি। সুদামা। (সনির্বেদং স্বগত) বরং প্রায়ােপবেশাখ্যং ব্ৰতং কাৰ্যং মনস্বিনা। তথাপি ধনমত্তানাং দ্বারে যাচঞা সুদুঃসহা ॥ (প্রকাশ): হা প্রিয়ে। সাবিপদেশকালবর্জং ন কদাপি ভিক্ষাশকোহপি মদীয়শ্রবণদেশং প্রাপিতঃ। প্রাণেভ্যোহপি গরীয়সে মানস্যানুরােধা কচিদ্দানস্য প্রতিগ্রহে মমগ্রহােহপি সংজাত। আস্তাং তান্মাদৃশং মানৈষিণাং মানুষাণাং কথা ; পশ্য তির্যগৃজাতীনামপি কীষ্মনস্বিতা। বায়ুমাত্ৰভক্ষণেন প্রাপ্তসন্তর্পঃ প্রৌঢ়সৰ্পঃ কেবলমষচকবৃত্তেরবলম্বনেন কিমপি মহতা দর্পেণ বৰ্ত্ততে। অতএব * যে অদ্য তিন দিন অবধি উপবাস করিয়া বিশীর্ণকলেবরা হইয়াছে, এবং ক্ষুধার্ত বালকগণ যাহার জীর্ণাধর আকর্ষণ করিতেছে সেই এই দীনাকে ( অর্থাৎ ব্রাহ্মণীকে আমি কি বলিয়া উত্তর দিব? যেহেতু অতিশয় দুঃখভরে আমার হৃদয় বিদীর্ণ হইতেছে। ভাগ্যহীন ব্যক্তিগণের সুকঠিন জীবনকে ধিক; অর্থাৎ তাহা অনেক দুঃখেও গত হয় না। + মনস্বী ব্যক্তি বরং প্রায়ােপবেশন ব্রত অবলম্বন করিতে পারে, তথাপি ধনমদমত্তদিগের দ্বারে দণ্ডায়মান হইয়া যাচ্ঞা করা তাহার সহ হইতে পারে না। ; (১) “সাম্প্রতং” সম্প্রতি। (২) “সাম্প্রতং” যােগ্যং যথা, সাম্প্রং চাধুনার্থে স্যাৎ যুজাহেপিচ সাম্প্রতমিতি,বিখ।
কমলাকরুণাবিলাস
ন দৈন্যবিজ্ঞপ্তিরনিচ্ছয়াথবা
ন গর্বিতানাং বচসাং সহিষ্ণুতা।
গতাগতিৰ্ষত্র ন কুত্র বাহপ্যহে-
বরীয়সসা বৃত্তিরহাে গরীয়সী ॥
অতঃ শীল১ শীলমেবানুশীলনীয়। অথবা কিমপরং বক্তব্য। যতঃ
“দেহীতি বচনদ্বারা দেহস্থাঃ পঞ্চদেবতাঃ ।
তৎক্ষণাদেব নশ্যন্তি ধীশ্রীহ্রীকান্তিকীৰ্ত্তয়ঃ ॥” -
ইতি নীতিকোবিদৈরপি নির্ণীত। অতএব শাব্দিকপণ্ডিতা অপি মৃতশব্দেন
যাচিতমমৃতশব্দেনাযাচিতং ব্যপদিশন্তি। তথাচোক্ত
“দ্বে যাচিতাযাচিতয়ােৰ্যথাসংখ্যং মৃতামৃতেং।”
ইতি। অপি মানধনানাং মনস্বিনাং মান এব সম্বল। স কিল প্রাণান্তেইপি
ন পরিত্যক্ত শক্যতে। অতঃ
“ক্ষুৎক্ষমােহপি জরাকৃশােহপি শিথিলপ্রাণােহপি কষ্টাদশা-
মাপন্নোহপি বিপন্নদীধিতিরপি প্রাণেষু নৎস্বপি।
উন্মত্তেভবিভিন্নকুম্ভকবলগ্রাসৈকবদ্ধস্পৃহাে-
নাে জীর্ণং তৃণমত্তি মানমহতামগ্রেসরঃ কেশরী” । :p
* আজাগরী বৃত্তিই শ্রেয়সী। যেহেতু ইহাতে নিজ দৈন্য প্রকাশ করিতে
হয় না। গর্বিত ব্যক্তিদিগের বচনকেও অনিচ্ছাপূৰ্ব্বক সহ করিতে হয় না।
এবং কোনস্থানে গমনাগমন করিতে হয় না।
+ “দেহি” এইবাক্য বলিবামাত্র দেহস্থ বুদ্ধি ভাগ্য লজ্জা কান্তি এবং কীর্তি
এই পঞ্চদেবতা একবারে অন্তর্হিত হয়েন।
# মানীদিগের অগ্রগণ্য যে মত্তরিকুম্ভকবলগ্রাসৈকপ্রিয় সিংহ, সে ক্ষুধায়
ক্ষীণতর, জরাবস্থাতে কৃশতর, কণ্ঠাগতপ্রাণ, অতিশয় কষ্টদশাপন্ন এবং মলিন
(১) শীলঃ অজগরসর্প ইতি শব্দরত্নাবলী ।
(২) যাচিত ও অযাচিত বৃত্তিকে যথাক্রমে মৃত ও অমৃত বলিয়া উক্ত করিয়াছেন। .
". কমলাকরুণাবিলাস কিঞ্চ, চিরাবলম্বিতস্য পুরুষপরম্পরাবৃত্তস্য চ ব্রতস্য কদাচিভঙ্গপ্রসঙ্গোহপি ন কর্তব্য। তথাচ “শক্যতে যেন কেনাপি জীবনেনৈব জীবিতুম্। কিন্তু কৌলব্রভােঙ্গপ্রসঙ্গঃ পরদুঃসহঃ ॥” * পরয়িং সাধুজনস্তৈব প্রতিজ্ঞা নত্বশস্যতি জ্ঞেয়। তদন্তেরপি দুঃসাধ্য- নিয়মসাধনকর্তৃত্বে সাধুপদস্য প্রবৃত্তিনিমিত্তত্বাৎ। তথাচোক্ত “বিপদ্মচ্চৈঃ স্বেয়ং পদমনু বিধেয়ঞ্চ মহতাং । সংকেনােদ্দিষ্টং বিষমমসিধারা ব্রতমিদ।” । অথবা মহাবিপন্ন হইলেও কিংবা তাহার প্রাণ পৰ্য্যন্ত নষ্ট হইলেও কখনও জীর্ণ তৃণকে আহার করে না। * যে কোন প্রকারেই জীবিকা নির্বাহ করিয়া অনায়াসেই জীবন ধারণ করিতে পারা যায়। কিন্তু কুলক্রমাগত বতের ভঙ্গ করার প্রসঙ্গকেও দুঃসহ বলিয়া বিবেচনা করিতে হয় । + মহান্ যে সাধু ব্যক্তি সকল ইহারা মহা বিপদেও ধৈৰ্য্যাবলম্বন করিয়া স্থিতি করেন। ইহাদিগের এইপ্রকার অসিধারাখ্যং ব্রত ‘কেন কাহার কর্তৃক নির্দিষ্ট হইয়াছে, অথবা [বুঝিলাম] ইহা কেন ব্রহ্মার কর্তৃক নির্দিষ্ট হইয়াছে। } (১) যেহেতু সাধূ ধাতু হইতে সাধু শব্দটী নিষ্পন্ন হইয়াছে, অতএব সাধু শব্দের অর্থ অন্য জনের দুঃসাধ্য যে কৰ্ম্ম তাহার সাধনকর্তা। ধৰ্ম্ম দ্বারায় যে ধৰ্ম্মীর জ্ঞান হয়, সেই ধৰ্ম্মকে সেই ধৰ্মীর প্রবৃত্তিনিমিত্ত কহে। এতবতা সাধুর সাধুত্বই অর্থাৎ সাধনকর্তৃত্বই সাধু পদের প্রবৃত্তিনিমিত্ত হইল। (২) আমার মন যদি এই অনুষ্ঠিত ধৰ্ম্ম হইতে বিচলিত হয় তবে আমি আপনার মস্তক ইহাদ্বারায় ছেদন করিব বলিয়া সম্মুখে একখানি অসি স্থাপন করিয়া ধৰ্ম্মানুষ্ঠায়ীগণ যে ব্রত করেন তাহার নাম অসিধারাব্রত। (৩)। “ক” শব্দে ব্ৰহ্মা। { কমলকরুথাবিলাস । ব্রাহ্মণী। ( কিঞ্চিৎ সবিমর্ষ) কিংকিল ১ জঠরানলসন্তপ্তজনস্য পুন- ব্রতান্তরস্যাপেক্ষা? যস্য স্বভাবসিদ্ধধৰ্ম্মরক্ষণে হঋপেক্ষা দৃশ্যতে। তথাচ “ত্যজেৎ ক্ষুধার্তো বনিতাং স্বনাথে মীনাঃ স্বপুত্রানপি ভক্ষয়ন্তি। খাদেৎ ক্ষুধার্তা ভুজগী স্বমণ্ডং বুভুক্ষিতঃ কিং ন করােতি পাপ” । “ সত্যমেব ভিক্ষুকাণাং তৃণতুল্যত্বং সর্বৈরপি স্বীকৃতমিতি। তথাপি অবশ্য পােষ্যবর্গাণাং পােষণায় তদ্ধর্মাবলম্বনং কস্যচিদ্বা নিরালম্ব জনস্য তােষণায় ন ভবতি? কিঞ্চ, গৃহস্থানাং নিষ্কিঞ্চনতৈব বিড়ম্বনং যথাকথঞ্চিৎ কিঞ্চিদপি সঞ্চয়িতব্য অন্যথা যত্নহীন পুরুষরত্নস্যাপি কাপুরুষত্বং ব্যজ্যতে। তেন নীতি- বিদাং বরা অপীত্যেবং বারংবারং বদন্তি। যথা “উদ্যোগিনং পুরুষসিংহমুপৈতি লক্ষমী- দৈবেন দেয়মিতি কাপুরুষা বদন্তি। দৈবং নিহত্য কুরু পৌরুষমাত্মশক্ত্যা যত্নে কৃতে যদি ন সিধ্যতি কোহত্র দোষঃ ॥” ইতি “উৎসাহসম্পন্নমদীর্ঘসূত্রং ক্রিয়াবিধিজ্ঞং ব্যসনেসক্ত। শূরং কৃতজ্ঞং দৃঢ়সৌহৃদঞ্চ লক্ষমীঃ স্বয়ং যাতি বিলাসহেততঃ॥” ন * ক্ষুধার্ত স্বামী নিজ অর্ধাঙ্গস্বরূপা বনিতাকে পরিত্যাগ করিয়া থাকে, ক্ষুধিত মৎস্য সকল স্বীয় প্রসূত সন্তানগণকেও ভক্ষণ করিয়া থাকে, ক্ষুধাতুর ভুজঙ্গী নিজ ডিম্ব সমূহকে আহার করিয়া থাকে। অতএব দেখ দেখি বুভুক্ষিত হইয়া কে না কি পাপ করিয়া থাকে। + উদ্যোগী যে পুরুষশ্রেষ্ঠ তাহাকেই লক্ষ্মী আশ্রয় করিয়া থাকেন ; দৈব কর্তৃক দেয় এ কথা কাপুরুষেরাই কহিয়া থাকে; অতএব দৈবকে অনাদর (১) কিংকিল শব্দটী অব্যয়, ক্রোধাৰ্থ স্বচক।
২২ কমলাকরুণাবিলাস কিঞ্চ, শুভাশুভকৰ্মাত্মকফলজাতান্তর জাতবীজরূপাষ্টস্য যত্নাদিরূপামৃত- সলিলাদে: সহকারং বিনা কথঙ্কারং কাৰ্যকারিত্বং সম্ভবতু? অতঃ সর্বেষামপি প্রাণিনীং যথাবিহিত্যত্ব এব বিধেয়। যদুমভিযুক্তৈঃ “যথা হেকেন চক্রেণ ন রথস্য গতির্ভবেৎ। এবং পুরুষকারেণ বিনা দৈবং ন সিধ্যতি ॥” st সুদামা। প্রিয়ে ! ভবত্বেবং তথাপি সৰ্ব্বদা যদৃচ্ছলাভসন্তুষ্টচিত্তেনৈব ভবিতব্য। যতঃ “সাঃ সম্পয়স্তস্য সন্তুষ্টং যস্য মানসম্। কিঞ্চিৎকালােপভােগ্যানি যৌবনানি ধনানি চ ৷” অপিচ “সন্তোষামৃততৃপ্তানাং যৎ সুখং শান্তচেতসাম্। কুতস্তদ্ধনলুব্ধানামিতশ্চেতশ্চ ধাবতাম্।” : করতঃ শক্ত্যনুসারে চেষ্টা করাই বিধেয়ণ যত্ন করিলে যদি কাৰ্য্য সিদ্ধ না হয় তাহাতে দোষ কি? অপিচ উৎসাহশীল, অদীর্ঘসূত্ৰী, ক্রিয়াবিধিজ্ঞ এবং ব্যসন অর্থাৎ অক্ষক্রীড়াদিতে অনাসক্তচিত্ত যে শূর, কৃতজ্ঞ এবং দৃঢ় প্রণয়ী ব্যক্তি তাহাকেই লক্ষ্মী স্বয়ং বিলাসের নিমিত্ত আশ্রয় করিয়া থাকেন। * যেমন একমাত্র চক্রের দ্বারায় রথের গতি হয় না, তেমনি পুরুষের যত্ন ব্যতীত কেবল দৈব বল দ্বারা কোন কাৰ্য্যই সিদ্ধ হয় না। । যার চিত্ত স্বভাবতঃ সন্তুষ্ট তার অধিকারে সকল সম্পত্তিই আছে ; যেহেতু যৌবন ও ধনাদি যদিও সুখের হেতু বটে, তথাপি সে সকল কেবল কিঞ্চিৎ- কালের নিমিত্ত উপভােগ্য মাত্র। + সন্তোষরূপ সুধাপানতৃপ্ত শান্তচিত্ত ব্যক্তিদিগের মনে যে প্রকার সুখের অনুভব হইয়া থাকে, তাহা ধনের নিমিত্ত ইতস্ততঃ ভ্রমণকারী ব্যক্তিদিগের সম্বন্ধে কখনই হইবার সম্ভাবনা নাই। (১) “অন্তর” শব্দে মধ্য এবং শেষ।
কমলাকরুণাবিলাস ২৩ কিঞ্চ অযত্নেনাপি যৎ প্রাপ্যং যত্নেনাপি ন রক্ষ্যতে। দৈবায়ত্তং ধনং তস্য সাধনং যুজ্যতে কথম্ ॥ * অপিচ, লােকবিধাত্রা বিধাত্রা জীবানাং জীবনদানাৎ প্রাগেব জীবিকা নির্বাহিতা। তেন তদর্থমতিচেষ্টাপি নচেষ্টা। যদুক্ত “বৃত্ত্যর্থং নাতি চেষ্টেত সা বিধাত্রা বিনির্মিতা।” ইতি। যৎ পুনবৃথাভিমানং বিহায় জীবিকানিৰ্বাহায় কস্যচিদেকাপ্যথাগমাে- পায়ামুসরণং কর্তব্যমিত্যুক্তং তৎখলু না ব্রাহ্মণজাতীয় প্রতীতি প্রতীয়তে ; যতােস্মাকমুপজীব্যদেন যদুর্দিষ্টং নির্দিষ্টঞ্চ সর্বেষু ধর্মশাস্ত্রে তদ্ভৈক্ষ্যন্তু নাকাঙ্ক্ষাপরিপূরণায় প্রত্যুত বিড়ম্বনায়ৈব। তথাচ, ভিক্ষায়াং নৈব নৈব চেতি বচনস্য দার্চপ্রতিপাদনার্থমসকৃদুচ্চরিতং নৈব নৈবেতি। এবঞ্চ, ভিক্ষাবৃত্তি ন মানিনাং কদাচিন্নিবৃতিজননায় ভবিতু মহতি। অতএব “ভৈক্ষ্যং চেমিলং গজারজতং স্বর্ণঞ্চ ক্ষৌমারং রাজ্যং বা বিপুলং ত্যজন্তি মহতা মানেন ধীরাঃ স্বয়ম্। কৌপীনং কঠিনং কুটীরকবরং কচ গ্রন্থান্বিতা স্বীয়ং যৎ সকলং ভজন্তি সুদৃঢ়ং স্বর্গীয়বৎ সাদরাৎ। গ * যাহা অষত্নেও অর্থাৎ মৃত্তিকাখননাদি দ্বারায় হঠাৎ পাওয়া যায় এবং অনেক যত্ন করিলেও যাহা রক্ষা করা যায় না (অর্থাৎ কিঞ্চিত্র অসাবধানতাতেই যাহা চৌরাদি দ্বারা অপহৃত হইয়া থাকে), এমত যে দৈবাধীন ধন তাহার সাধন করা কিপ্রকারে উপযুক্ত হইতে পারে। অর্থাৎ দৈবাধীন ধনের নিমিত্ত চেষ্টা করা বৃথা ; দৈবের আরাধনা করাই কর্তব্য। । জীবিকার নিমিত্ত অতিশয় চেষ্টা করা বৃথা ; যে হেতু যিনি জীবন দিয়া- ছেন তিনি তাহার উপায় করিয়া রাখিয়াছেন। + পরের নিকট ভিক্ষা করিয়া যদি হন্তী অশ্ব স্বর্ণ রৌপ্য এবং দিব্য বস্ত্রাদি অথবা বিপুলরাজ্য প্রাপ্ত হওয়া যায় তাহা হইলেও মানী ব্যক্তিরা তাহাতে কমলাকরুণাবিলাস যদি কদাচিদাপদ্ধৰ্ম্মানুরােধাৎ স্বজাতীয়ধৰ্ম্মবিরােধেনাপি বিজাতীয়ধৰ্ম্ম- কৰ্ম্মাদিকমাশ্রয়িং যুজ্যতে তথাপি নহষ্মভিঃ কিঞ্চিদাশ্রয়ণীয়মিব দৃশ্যতে। যত বার্তাশাস্ত্ৰেষু কিল বাণিজ্যং কৃষিকৰ্ম্ম রাজসেবনঞ্চৈতৎ ত্রয়মেব,যৎ ধনাগম- স্যোপায়ত্বেন নির্দিষ্টমেং তদায়িলােকানাং সুস্বাদিষ্টানুসারেণ তত্র ফলমপি সঞ্জায়ত ইত্যুক্তং তন্তু নাস্মভিঃ পণ্ডিতস্মন্যৈব্রাহ্মণৈরধিকং শক্যতে। যতঃ “বাণিজ্যং বহুসাধ্যমেব কৃষিরপ্যেতাদৃশী দৃশ্যতে সেবাং ক্ষীণতনােজ্জনো ন মনুতে বিপ্রস্য চৌং কুতঃ। শাস্ত্রং কঃ শৃণুতে তং ন বুবুধে বুদ্ধা ন দত্তে ধনং জীবাতুর্বিদুষাং জগদ্বিরচনব্যগ্ৰাত্মনা বিস্মৃতঃ।” * এবং পরাধীনবৃত্তিস্তু সৰ্ব্বথা নিন্দনীয়া, বগাহ মনুঃ ‘সত্যানৃতন্তু বাণিজ্যং তেন চৈবাপি জীব্যতে । সেব। শবৃত্তিরাখ্যাতা তস্মাত্তাং পরিবজ্জয়েৎ ॥ সুখবােধ করেন না। কিন্তু তাহাদিগের নিজের সে কৌপীন, কঠিন । স্থালী) কুটীর এবং শত শত গ্রন্থিবিশিষ্ট কস্থা, সেই সকলকে তাঁহারা স্বর্গীয় বস্তু তুল্য জ্ঞান করিয়া সাদরে গ্রহণ করিয়া থাকেন। * বাণিজ্য অর্থ সাধ্য কৃষিকৰ্ম্ম ও তাদৃশ, কৃশাদি ব্যক্তি কর্তৃক সেবা কার্য্য কাহারও গ্রাহ্য নহে চৌর্যবৃত্তি অবলম্বন করাও ব্রাহ্মণের পক্ষে নিতান্ত গর্হিত শাস্ত্র ত কেহই শুনে না, শুনিলেও বুঝে না ; আবার বুঝিলেও তাহাতে কিছু দিতে চায় না ; অতএব বিধাতা বুঝি জগদ্বিরচনকার্যে ব্যগ্রচিত্ত থাকিয়া ব্রাহ্মণ- পণ্ডিতদিগের জীবিকানির্বাহের উপায়বিধান করিতে একেবারেই বিস্মৃত হইয়া থাকিবেন। + সত্যমিথ্যামিশ্রিত বাণিজ্য১ কাৰ্য্য কর। চাকুরী কুকুরী বৃত্তি দূরে পরিহর। ক (১) বাণিজ্য কার্যের মধ্যে প্রায়ই কিঞ্চিৎ সত্যতা ও অসত্যতা থাকাতেই তাহার নাম সত্যানৃতং হইয়াছে। ফলতঃ মিথ্যারােপ করা শাস্ত্রের অভিপ্রেত নহে। অতএব উক্ত শ্লোকের ব্যাখ্যাতে কুল্লক ভট লিখিয়াছেন, প্রায়েণ সন্তিব্যবহারসাধ্যত্বাৎ সত্যান্তং বাণিজ্য ন তু বাণিজ্যশাস্ত্ৰেণ সত্যান্তাভ্যনুজ্ঞানম্ ইতি।
কমলাকরুণাবিলাস এবমেতদপি বিশেষেণ বিবেক্তব্যং বিবেকিজনৈস্তথা যুত্র যত্রৈব যাস্যামি প্রেরিতঃ সন্ ধনাশয়া। তত্র তত্রৈব ভাগ্যং মে পুরােগামি ভবিষ্যতি ॥ * অতএবােক্ত “আকাশমুৎপততু গচ্ছতু বা দিগন্ত মম্ভোনিধিং বিশতু তিতু বা যথেষ্ট। জন্মান্তরাজ্জিতশুভাশুভকৃরাণাং ছায়েব ন ত্যজতি কৰ্ম্মফলানুবন্ধঃ ॥” “ অন্য “মজ্জত্বম্ভসি যাতু মেরুশিখরং শক্ৰঞ্জয়াহবে বাণিজ্যং কৃষিসেবনাদিসকলা বিদ্যাঃ কলাঃ শিক্ষতু। আকাশং বিপুলং প্রয়াতু খগবৎ কৃত্বা প্রযত্নং পরং নাভাব্যং ভবতীহ কৰ্ম্মবশত ভাব্যস্ত নাশঃ কুতঃ। * আমি ধনাশার দ্বারা প্রেরিত হইয়া যেখানে যেখানে গমন করিব, আমার ভাগ্যও সেখানে সেখানে আমার অগ্রগামী হইয়া যাইবেক। + আকাশেই উখিত হউক, দিগন্ত পৰ্য্যন্তই গমন করুক, সমুদ্রে প্রবিষ্ট হউক, অথবা যেখানে সেখানে অবস্থিতি করুক, তথাপি ছায়া যেমন কায়কে পরিত্যাগ করেন, তদ্রুপ জন্মান্তরীণ শুভাশুভকৰ্ম্মানুরূপ ফল কখনই তত্তৎ- কৰ্ম্মকারিগণকে পরিত্যাগ করেনা। + জলে মগ্ন হউক, সুমেরু শিখরে আরােহণ করুক, যুদ্ধে শত্রুগণকে পরাভব করুক, অথবা বাণিজ্য কৃষিকৰ্ম্ম ও রাজসেবাদি সমুদয় কার্য শিক্ষা করুক, কিংবা নানা প্রকার কল কৌশলই অভ্যাস করুক, বা অতিশয় যত্নপূৰ্ব্বক পক্ষীর ন্যায় আকাশপথে উড্ডীয়মান হউক; তথাপি যাহা অসম্ভাব্য তাহাও কখন হইতে পারে না, যাহা কৰ্ম্মবশতঃ অবশ্যম্ভাব্য তাহারও কখন অভাব হইতে পারেনা। ৪
কমলাকরুণাবিলাস
ব্রাহ্মণী। (সপ্রণয়রােষ) যথাবিহিতপরায়ুখাণাং নিয়তমালস্যো-
মুখানাং বিমুখবিধিজনানামেবৈবং নিরুৎসাহসূচকং বচনং ক্রয়তে। পরন্তু
“যৎ কিঞ্চিৎ কুরুতে কৰ্ম্ম স্বল্পং বা যদি বা মহৎ।
অবশ্যং ফলদং কাপি ন মাে জায়তে বৃথা।”
এবমস্মদেশীয়ঃ সাধারণজনা অপি পঠন্তি তথাচ
“যাও গিয়ে ধর হাল, কিংবা ক্ষেতে বান্ধ আ,
কিংবা কর মৃত্তিকা খনন।
কর কোন ব্যবসায়, ছােট কিম্বা বড় তায়,
করিহ মনেতে গণন।
যদ্যপিও নীচ হও,
তথাপি নিন্দিত নও,
কর পরিমিত পরিশ্রম।
ইহাতে নিষ্ঠা করিলে, অবশ্যই ফল মিলে,
ব্যবসায় এই সে নিয়ম।”
[ সুদামা তামুত্তরােত্তরং মহত্তরপ্রণয়কোপােত্তরলিতচিত্তামনুভূয় ভূয়ঃ
দীনাং দীনমুখৈঃ স্বকীয়শিশুকৈরাকৃষ্টজীর্ণারাং
ক্রোশপ্তিঃ ক্ষুধিতৈর্নিরম্নজঠরাং দৃশ্যেত চেদেগহিনীম্।
* অত্যল্পই হউক আর মহৎই হউক, যে কোন প্রকার কৰ্ম্ম করা যায়,
অবশ্যই তাহাতে ফলােৎপত্তি হইয়া থাকে ; যে হেতু পরিশ্রম কখনই বিফল
হইবার নহে।
১। নিয়তং যথা স্যাধা আলস্যবিষয়ে উন্নমিতং মুখং যৈস্তেমিত্যর্থে নিয়মিতত্রা-
মনক্রিয়ায় বিশেষণম্। অতএবাস্থ কারকাভিম্নত্বাৎ সাপেক্ষত্বেহপি সমাসঃ। যদুক্ত,
প্রতিযােগিপদাদন্যদ যদৎ কারকাদপি। বৃত্তিশকৈদেশস্য সম্বন্ধন্তেন নেষ্যতে ইতি। তেন
অমং কন্দর্পজনিত চিন্তাকুলতয়েত্যাদি মহাকবিপ্রয়ােগেপি দৃশ্যতে।
কমলাকরুণাবিলাস যাঙ্ক্ষাভঙ্গভয়েন গদগদগলস্তদ্বদ্বিলীনাক্ষরং কো দেহীতি বদেৎ স্বদগ্ধজঠরস্যার্থে মনস্বী পুমান্ ॥ * ইতি কেনচিদনে স্বীয়দুঃস্থাবস্থায়ামুপস্থিতায়াং পঠিতস্য শ্লোকস্যাত্মবে তাৎপৰ্যং পরিজ্ঞায় তুষ্টীভূয়াবস্থিতঃ।] ততঃ প্রবিশতি অপটীক্ষেপেণ কশ্চিৎ প্রতিবাসী। প্রতিবাসী। (প্রবি) হংহে সখে সুদাম বৃমিদানীং কথং দুৰ্মনাইব লক্ষ্যসে? ব্রাহ্মণী । (তচ্ছতিমাত্রেণ তং প্রত্যভিজ্ঞায় স্বগত) হুং সুদেবঃ প্রাপ্তঃ । (ইতি কিঞ্চিদন্তরি) সুদামা। (সসম) কথং সখা মে সুদেবঃ। সখে স্বাগতং স্বাগতম্। (ইতি তস্য হস্তং স্পষ্ট। আসনং দদাতি) সুদেবঃ। (আসনং পরিগৃহ পুনর্নিপুণং নিভাল্য চ) সখে সুদামন্ কথং সম্প্রতি বিমনাই প্রতীয়সে ? সুদামা। (দীর্ঘং নিশ্বস্ত) সখে নৈতৎ সম্প্রতি প্রশ্নবিষয়এব ভবিতুমর্হতি। দুর্ভিক্ষোপপ্লবপ্লাবিতজনপদস্থিত দুঃস্থজনস্য কুলােবা চিত্তস্বাস্থস্য সম্ভাবনা। কিন্ন, ভবতা নিখিলজ্ঞানালােকবর্ত দয়াবত চ লােক বিস্পষ্টমপি কষ্টং নালােচিতং নাপি পৰ্যালােচিতঞ্চৈতৎ। তথাহি “ভক্তৃভক্তিং সুতস্নেহং শুশ্রুষাং পিত্রোরেব চ। হিত্বা স্বপ্রাণরক্ষায়ৈ চেরুঃ স্ত্রীপুরুষাঃ ক্ষুধা।” । * মনস্বী ব্যক্তি, স্বীয় রােরুদ্যমান ম্লানবদন ক্ষুধার্ত শিশুগণ কর্তৃক আকৃষ্ট জীর্ণাহুরা এবং অন্নভাবে ক্ষীণােদরা নিজ বনিতাকে দর্শন করিয়া, পাছে যাঙ্ক্ষা করিলে তাহার ভঙ্গ হয় এই ভয়েতে ভীতচিত্ত হইয়াও, তথাপি কেবল স্বীয় দগ্ধ উদরের নিমিত্ত গদগদ স্বরে অস্পষ্টাক্ষরে, কেহ কিছু দিবে, কেহ কিছু দিবে, এই প্রকার দৈন্যোক্তি করিতে বাধ্য হইয়া থাকেন। । স্বামীর সেবা, পুত্রাদির প্রতিপালন এবং পিতামাতার শুশ্রুষা পরিত্যাগ করিয়া কেবল আত্মপ্রাণরক্ষার নিমিত্তই স্ত্রীপুরুষ সকলে ইতস্ততঃ ভ্রমণ করিতেছে।
২৮
কমলাকরুণাবিলাস
অতােহতঃপরমকমন্তঃকরণস্য কারণায়া:১ কারণান্তমপি নাস্তি।
সুদেবঃ। (সখরাকৃতিং প্রকৃতিঞ্চ সমালােচ্য তৎপূৰ্ববৃত্তান্ত স্মৃত্ব স্মিত্বা চ
স্বগত)
সিন্ধোস্তীরে কৃতনি সত্যোকুলস্তৃষ্ণয়াত্মা
ক্ষুদ্বাধাপ্তা তনুরতিকৃশা কল্পবল্লীং শ্রিতস্য।
চিন্তা চিন্তামণিগুণনিকাধারিণঃ কাচহেতঃ
শ্রীনাথস্য প্রবরসুহৃদঃ শ্রীচ্যুতিহা বিড়ম্বম্ ॥ *
( প্রকাশ) সখে সমালােচিতমেব। পরন্তু সর্বোপদ্রবদ্রাবিলাে দ্রবিণাধি-
পতি প্রভৃতিভিপি চিন্তনীয়স্য নিত্যনিখিলসৌভগবতত ভগবতঃ শ্রীকৃষ্ণ প্রিয়-
বান্ধবাে ভবানপি কথং চিন্তাবান্ সংবৃত্তঃ ?
সুদামা। ( স্মৃতিমভিনীয় সােচ্ছ সিম্) কিং নাম মম নিখিলগুণানাং
সত্তীর্থস্য সতীর্থ তীর্থতিপাবনং নাম গৃহাতি ভবা?
সুদেব। অথ কিম্ ? ৫
সুদামা। (সানুনয়)
* হা বিড়ম্বনা! সমুদ্রের তীরে বাস করিয়াও পিপাসায় ব্যাকুল হওয়ার
ন্যায়, কল্পলতাকে আশ্রয় করিয়াও ক্ষুধায় কাতর ও ক্ষীণকলেবর হওয়ার ন্যায়
এবং চিন্তামণির মালাও ধারণ করিয়াও কাচের নিমিত্ত চিন্তাযুক্ত হওয়ার ন্যায়,
শ্রীকান্তের প্রধান সখারও (অর্থাৎ এই সুদামার) শ্রীভ্রষ্টতা দেখা যাইতেছে।
১। কারণ তীব্রবেদনেত্যমরঃ।
২। “নাম” স্মরণে যথা-নাম কোপেহভপগমে বিস্ময়ে স্মরণেহপি, চেতি মেদিনী।
৩। “সত্তীর্থস্থ” সৎপাত্রস্ত। তথাচ, যােনৌ জলাবতারে চ মাদষ্টাদশপি। পুণ্যক্ষেত্রে
তথা পাত্রে তীর্থঃ স্যাদ্দর্শনেধপীতি হলায়ুধঃ।
৪। সতীর্থাকৈরব ইত্যমঃ।
৫। স্বীকারে।
৬। গুণনিকা মালেত্যানন্দলহরীটীকা।
কমলাকরুণাবিলাস স রাজা রাজশ্রীগ্রথিতবরমালাবরধরাে দ্বিজোহহং দারিদ্র্যানুগতদশয়া দর্শিতমুখ। কথং বা বৰ্তেত প্রণয় উভয়ােনৌ বিসদৃশশা- যত মৈত্রং বৈরং সদৃশজনয়ােরেব কথিতম্ ॥ * সুদেব। সখে নৈবমাশঙ্কনীয়। স খলু নিখিলগুণগণালঙ্কতত জগদ্বন্ধুরেব। তথাহি যথা বিধাের্নাসমরশ্মিপাতত যথায়ুদস্যাপি ন পক্ষপাতঃ। তথা কৃপাক্কেরপি নাস্তি তস্য কচিৎ কৃপায়া বিষমদোষঃ ॥ * তিনি রাজা, রাজলক্ষ্মী কর্তৃক গ্রথিত শ্রেষ্ঠ যে বরমালা (পতিযােগ মালা) তাহা ধারণ করিয়াছেন; আমি ব্রাহ্মণ, দরিদ্রদশা কর্তৃক দর্শিতবদন হইয়াছি ( অর্থাৎ আমি দারিদ্র্যদশারই পাণিগ্রহণ করিয়াছি, যেহেতু বিবাহকালে বনি- তারই মুখাবলােকন করিতে হয়)। অতএব এ প্রকার পরস্পর বিসদৃশ আমাদিগের উভয়ের মধ্যে কি প্রকারে আর বন্ধুতা থাকার সম্ভাবনা ; কারণ মিত্রতা ও শত্রুতা সদৃশ ব্যক্তির মধ্যেই হইয়া থাকে। + যেমন চন্দ্ৰ অসমভাবে রশ্মি প্রদান করেন না,যেমন জলবিতরণে জলধরের কুত্রাপি পক্ষপাত নাই, তেমনি সেই কৃপাসিন্ধুর কৃপাগুণেতে কিছুমাত্র বৈষম্য দোষ নাই। । ১। বরে জামাতৃবােঢ়াৱাৰিতি বিশ্বঃ। ২। তথাচ উক্ত হইয়াছে, বিবাহমৈত্রবৈরাণি ভবন্তি সমশীলয়ােরিতি। ৩। তথাচ বেদান্তদর্শনে “বৈষম্য নৈঘূণ্যে ন সাপেক্ষাৎ তথাহি দর্শয়তি” ; সুখীর আর দুঃখীর সৃষ্টিকর্তা এবং সুখ আর দুঃখের সৃষ্টিকর্তা যে পরমাত্মা, তাহার বৈষম্য এবং নির্দয়ত্ব জীবের বিষয়ে নাই; জীবের স্ব স্ব কৰ্ম্মানুসারে তিনি কল্পতরুর ন্যায় ফলদান করেন। যেমন মেঘ সর্বত্র সমভাবে জলদান করেন ও বীজের ভিন্ন ভিন্ন প্রকার অঙ্কুর হইয়া থাকে;
কমলাকরুণাবিলাস অপি তু দীনেযু তস্য কারুণ্যং সম্পূর্ণ দৃশ্যতে যতঃ তেনাসৌ জগতীমধ্যে দীননাথ ইতি শ্ৰতঃ ॥ * সুতরামগতীনাং দীনতাৰ্দিতজনানাং সব গতিরিত্যবধায় যথেচ্ছ বিধীয়তাম্। সুদামা। সখে তদ্দর্শনলাভ এব সর্বথা প্রার্থনীয়। কিন্তু “রহস্যভেদো যা চ নৈৰ্যং চলচিত্ততা। ক্রোধ নিঃসত্যতা দূতমেতস্মিত্ৰস্য দূষণম্ ॥” । তেন চ মিত্ৰসন্নিধানে যাজ্ঞায়াঃ সৰ্বথা নিষিদ্ধত্বৎ কথং বা তত্ৰাস্মাকং প্রবৃত্তি- ভবেৎ। তথা যাচাং বিনা কথং বা সৰ্বাভীষ্টসিদ্ধিঃ সম্ভবেৎ। সুদেব। (ঈষদ্ধসিতবদনেন) সখে নৈতচ্চিয়িতব্য। যতঃ কৰুণাবরুণা- লয়স্য তস্য লােকাতীতং বদান্যত্বং শ্ৰয়তে। তথাহি “সিন্ধুবিন্দুমপি প্রযচ্ছতি ন হি স্বৈরী ন ধারার সঙ্কল্পে বিনা দদাতি ন কদাপ্যয়ঞ্চ কল্পদ্রুমঃ। স্বচ্ছন্দোছপি বিধুঃ সুধাবিতরণে রাত্রিং দিবাপেক্ষতে দাতা কোহপি ন দৃশ্যতে বিনিয়মঃ শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রং বিনা।” # * যেহেতু দীনজনের প্রতি তাহার সম্পূর্ণ দয়া দেখা যায়। এই জন্য এই ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে তিনিই দীননাথ বলিয়া বিখ্যাত হইয়াছেন। + গুপ্ত মন্ত্রণার প্রকাশ, যাচ্ঞা, নিষ্ঠুরতা, অস্থিরচিত্ততা, ক্রোধ, মিথ্যাবচন এবং ন্যূতক্রীড়া এই কয়েকটী কাৰ্য্য বন্ধুদিগের পক্ষে দোষাবহ। + সমুদ্র জলনিধি হইয়াও স্বয়ং বিন্দুমাত্রও জল দান করেন না; মেঘ জল প্রদাতা বটে, কিন্তু সেও স্বাধীন নহে, অর্থাৎ সে বায়ুদ্বারায় সর্বদা ইতস্ততঃ সেই প্রকার পরমেশ্বর সর্বত্র সমভাব প্রকাশ করিলেও জীবগণের বাসনানুরূপ বীজের অসাধারণ বশতঃ নানাপ্রকার সুথদুঃখাদি ভােগের উৎপত্তি হইয়া থাকে।
কমলাকরুণাবিলাস [সুদামা শ্রীকৃষ্ণদর্শনসঞ্জাতলালসাে মৌনাবলম্বনেন স্বীয়সম্মতিং সুচয়তি] (ইতি নিষ্ক্রান্তাবুভৌ) ততঃ প্রবিশতি কিঞ্চিৎ সমাসিতচিত্তা ব্রাহ্মণী। ব্রাহ্মণী। (স্বগত) অদ্য মে গৃহস্বামী স্বীয়বান্ধবস্য যাদবে দর্শনার্থ- মুল্লাসিতমনা বৰ্ত্ততে। তত্তস্য প্রয়াণসময়ে বন্ধুজনােপহারযােগ্যং কিঞ্চিদপি দ্রব্যং তৎসমভিব্যাহারেণ প্রেরয়িতুং যুক্তম্ভবতি। কিন্তু ময়া হতভাগিন্যা কেনাে- পায়েন কুততা বা তৎ প্রাপ্তবমিতি ন জ্ঞায়তে। (ক্ষণং বিচিন্ত্য) আং স্মৃতম্। বিগতবাসরে লক্ষ্মীপূজার্থমস্মাকং প্রতিবাসিভিঃ প্রদত্তস্য পৃথকতণ্ডুলস্য কিয়- দপবশিষ্টমদ্যাপি বিদ্যতে তদেবাদ্যোপহারথমাহৰ্ত্তব্য। (পুনঃ কিঞ্চিদ্বিমৃষ্য) কিং ন্বেতাদৃশং তুচ্ছং বস্তু বস্তুততা দেয়মুপাদেয়ঞ্চ ভবিতুং নাহতি ? ন হি ন হি প্রেমাম্বতেন মিলিতং যদি কিঞ্চিদেব তদ্বৈ সুধাসুমধুরং, ভবতি প্রিয়াণাম্। হৃষ্টং হি মিরসততারসনেন্দ্রিয়ঞ্চেৎ সর্বেন্দ্রিয়াধিপমনঃ প্রণয়েন তুষ্ট। * ; সঞ্চালিত হইতে থাকে। কল্পবৃক্ষ সংকল্প ব্যতিরেকে অল্পমাত্র দান করেন না; সুধাকরের সুধাবিতরণে স্বাধীনতা থাকিলেও তিনি কচিৎ দিবাভাগে উদিত হইয়াও রাত্রিকালকে অপেক্ষা করিয়া থাকেন ; অতএব এক শ্রীকৃষ্ণ ব্যতীত আর কেহই নিয়মরহিত অর্থাৎ নিরপেক্ষ দাতা দৃষ্টিগােচর হয়েন না। * যে কোন বস্তু হউক যদি প্রেমামৃতরসে মিলিত হয়, তাহা হইলেই তাহা বন্ধুবর্গের সমীপে সুধা হইতেও সুমধুর বলিয়া প্রতীয়মান হইয়া থাকে। কারণ যদিও কেবল এক রসনেন্দ্রিয় মাত্র মিষ্টরসের দ্বারা সৃষ্ট হয় বটে; তথাপি সকল ইন্দ্রিয়ের প্রধান যে মনঃ সে কেবল শুদ্ধ এক প্রণয়ের দ্বারাই সন্তুষ্ট হইয়া থাকে।
কমলাকরুণাবিলাস
অতএবােক্ত
“নানােপচারকৃতপূজনমাত্মবন্ধো
প্রেমৈব ভক্তহৃদয়ং সুখবিতং স্যাৎ।
যাবৎ ক্ষুদস্তি জঠরে জঠরা পিপাসা
তাবৎ সুখায় ভবতাে ননু তােক্ষ্যপেয়ে।” ও
তেনাহং তদেব দ্রব্যং সত্বরণ সংগৃহ চেখণ্ডে বন্ধা গৃহস্বামিনে সমর্পয়ামি।
(ইতি নিষ্ক্রান্তা)
ততঃ প্রবিশতি সােৎসাহচিত্তঃ সুদামা ।
সুদামা। (পুরাদবলােক্য) অহহ সুপ্রভাতা রজনী। তথাহি
তরুণতরণিরেষােহশেষদুৰ্বাদলেষু
প্ৰপতিতহিমবিন্দ রঞ্জয়ঃংশুজালৈঃ।
বিদধদধিকমূল্যস্থূলমুক্তানুরূপা-
নধনজনগণানাং লােভয়ত্যন্তরাণি। ৭
* হে আত্মবন্ধো পরমাত্মন্ পরমেশ্বর ! ভক্তদিগের হৃদয় যদ্যপি বহুবিধ
উপহারের দ্বারা তােমার সেবা করে, তাহা হইলেই যে তাহাতে সে আপনাকে
সুখী মনে করে এমত নহে; কিন্তু সে কেবল এক প্রেমরসের দ্বারাই আপনি
দ্রবীভূত হইতে থাকে। ইহার দৃষ্টান্ত এই ; উদরেতে যে পৰ্য্যন্ত ক্ষুধা থাকে,
সেই পৰ্য্যন্ত তােক্ষ্য পেয় দ্রব্য সকল যেমন সুখের কারণ হয়, তদ্রুপ হৃদয়ে
যে পর্যন্ত প্রেমের সদ্ভাব থাকে, সেই পৰ্যন্তই পূজাদি অন্য ক্রিয়া সকল সুখের
হেতু হইয়া থাকে।
। এই তরুণ অরুণ অশেষ দুৰ্ব্বাদলােপরি নিপতিত হিমবিন্দু সকলকে স্বীয়
কিরণদ্বারা সুরঞ্জিত করিয়া বহুমূল্যবৎ স্কুলমুক্তার ন্যায় প্রকাশ করতঃ নিধন
ব্যক্তিগণের অন্তঃকরণকে লােভযুক্ত করিতেছেন।
১। যেহেতু ঈষদৰুণাভ মুক্তারই অধিক মূল্য হইয়া থাকে।
কমলাকরুণাবিলাস (পুনঃ সমাদবােক্য সাধিক্ষেপ। কাকাবলিঃ কলকলৈঃ কিল কোকিল কিং কাকলীং সুকলিং বিকলীকৰােতি। (ক্ষণং বিমৃষ্য) হুং কেবলং ন সুখকেলিপরং কুলায়ে কিন্তুাকুলং খগকুলং ক্ষুধয়ােষকালে। * (পুনরন্যতােবলােক্য প্রৌঢ়িপূর্বক) মন্তি ভ্রমরা এতে প্রাতঃ ক্ষুদূমিসঙ্কুলাঃ। বর্ণয়ন্ত্যন্যথাপ্যত্র ভ্রমণ কাব্যকোবিদাঃ ॥ * আঃ এই কাক সকল কি নিমিত্ত কলকল রব করিয়া কোকিলের কল কল ধ্বনিকে বিকল করিতেছে। হা এই পক্ষিসকল নিজ নিজ নীড় মধ্যে কেলিকৌতুকরসে মগ্ন নয়; কিন্তু তাহারা সমস্ত রাত্রি অনাহারে থাকিয়া প্রাতঃকালে ক্ষুধার জন্যই ব্যাকুল হইতেছে। তাৎপর্য এই, যদি ইহারা কেলি- কৌতুকান্বিত হইত, তবে কখনই সুমিষ্ট কোমল ধ্বনির বাধা দিত না। ইহারা ক্ষুধায় কাতর, এই জন্যই নানা প্রকার চীৎকার করিতেছে। । এই সকল ভ্রমরগণ প্রাতঃকালে ক্ষুধাজন্য ভ্রমিতে ভ্রান্ত হইয়া ইতস্ততঃ ৮। “উষ” অকারান্ত রাত্রিশেষ ইতি মেদিনী। যথা, ‘উষঃ ক্ষারমৃত্তিকায়াং প্রভাতেহপি পুমানয়মিতি। অধিকন্তু “সর্বে সান্তা অদস্তাঃ, অর্থাৎ দন্ত্যসকারান্ত সমুদয় শব্দই অকারান্ত হইতে পারে, এই প্রকার নিয়ম আছে। ২। প্রগলভতাপূর্বক অর্থাৎ অন্যমতখণ্ডনার্থ। ৩। অপির্ভিক্রমে অত্রাপীত্যখঃ । ৪। কোলাহল কলকলস্তিয়শ্চাং বাশিতং রুমিত্যমর। ৫। শরৎকালেও দুই একটী কোকিলধ্বনি হওয়ার সম্ভাবনা আছে ; এজন্য “এক- কোকিলনাদেন কার্তিকে৷ ন মধুর্ভবেৎ” এই প্রকার দৃষ্টান্তস্থলেও। অতএব শ্লোকের মধ্যে সম্ভাবনাসূচক ‘কিল’ শব্দের গ্রহণ করা হইয়াছে এবং কোকিল এই পদটী একবচনে প্রয়ােগ করা হইয়াছে।
কমলাকরুপাবিলাস (ক্ষণ প্রণিধানং বিধায়) অহে, অহমদ্য সমাহিতচিত্তেন মিত্রেণ সুখ- দুঃথৈকভাগিন্য। সহধর্মিণ্যা চ জগদানন্দকদস্য মুকুন্দস্ট সন্দর্শনার্থং প্রহি- তােহম্মি। কিস্কৃেতদতীব সুদুর্লভমেব মনমােননয়াের। (ইতি সুনয়নদ্বয়মুদ্দিশ্য ) ইন্দিরাক্ষীন্দিন্দিরাভ্যাং১ সান্দ্রানন্দপ্রদামিমে। কিং গােবিন্দশ্য বিনেতাং মুখারবিন্দমাধুরী ॥ * (ইতি সপুলকং বারংবারমুক্ত। বৈকল্যং নাটয়তি। পুনধৈৰ্য্যমষ্টভ্য ক্ষণং ধ্যানং বিধ্বত্য চ) অহহ আশ্চর্ধমাশ্চৰ্যং তস্যৈকরসবিগ্রহে। লাবণ্যং মধুরত্বঞ্চ সমভাবেন বৰ্ত্ততে। ভ্রমণ করিতেছে; কিন্তু কবিসকল ইহাদিগের ভ্রমণ বিষয়ে যে অন্যপ্রকার অর্থাৎ শৃঙ্গার রসের বর্ণন করিয়া থাকেন, সে তাহাদিগের ভ্ৰমবিলসিত মাত্র * লক্ষ্মীর নেত্ররূপ মধুকরের নিবিড়ানন্দদায়িনী যে শ্রীগােবিন্দবদনারবিল- মাধুরী, তাহা আমার এই নেত্র দুইটী কি লাভ করিতে পারিবেক ? + অহ কি আশ্চৰ্য্য, কি আশ্চর্য, তাহার (অর্থাৎ সেই শ্রীকৃষ্ণের) একরস- বিগ্রহে, একমাত্র সময় শরীরে, অথচ একরস’ শব্দার্থ যে চিদানন্দস্বরূপ তন্ময়বিগ্রহে অর্থাৎ সচ্চিদানন্দশরীরে, ‘লাবণ্য’ সৌন্দৰ্যবিশেষ এবং মধুরত্ব’ অঙ্গের শােভাবিশেষ এই দুইটা সমান ভাবে বিদ্যমান রহিয়াছে; অথচ ১। ইন্দিরিঃ কৃষ্ণদেহে ভ্রমরেহপি নিগদ্যতে। ইতি গীতগােবিন্দটীকা বালবােধিনী। ২। একসং সন্মামিতি ভাগবতের ত্যধ্যায়ে প্রধাস্বামী। কেবলানশস্বরূপমিতি চক্রবর্তী। ৩। মুক্তাফলের মধ্যে যে প্রকার উজ্জ্বল দীপ্তির চঞ্চলতা প্রকাশ পায়, সেই প্রকার অঙ্গকান্তির চঞ্চলতাকে লাবণ্য কহে। যথা মুক্তাফলেষু ছায়ায়ান্তরলত্বমিবান্তরা। প্রতি ছাতি যদঙ্গে তল্লাবণ্যমিহােচ্যতে ইত্যুজ্জ্বলনীলমণিঃ । ৪। “পরিচ্ছদ বিনা শােভে মধুরতা সেই”। ইতি ভারতচন্দ্ৰকৃত রসমঞ্জরীর গৌড়ীয়ানুবাদ। সর্বাবস্থাবিশেষেযু মাধুৰ্য্যং রমণীয়তেতি দর্পণ।
কমলাকরুণাবিলাস তদধুনা বিলম্বেনাল। শুভকাৰ্য্যসম্পাদনায় রৈব যুক্ত। (ইব্যুক্ত। ক্ষণং n) নমস্তে জগন্নাথ হে দীননাথ শ্রিয় প্রাণনাথাণিমাদ্যৈঃ সনাথ। অহং নাথ এমােসামনাথঃ স্বহীনং সুদীনং সদা রক্ষ রক্ষ ॥ (পুনমুক্তিবাঞ্ছয়া ) চিদানন্দমূৰ্তে সদানন্দপূৰ্ত্তে সদানন্দবন্দ্যাচ্ছি যুগারবিন্দ। পন্নে প্রসন্নো ভবাস্মিন্ ভবান্ধো নিমগ্নং নিরালম্বমাশূদ্ধর ত্বম্। + লবণতা এবং ‘মধুরত্ব’ মিষ্টতা দুইটী সমভাবে একত্র বিদ্যমান থাকাও নিতান্ত আশ্চৰ্য্য। যদিও ইক্ষুদণ্ড ও হরীতকী প্রভৃতি প্রাকৃত বস্তুতে লবণত্ব ও মধুরত্ব এই উভয়বিধ বস থাকে বটে, কিন্তু তথাপি তাহাদিগের সমভাবে থাকিবার সম্ভাবনা নাই। অপিচ শ্রীকৃষ্ণেতে লাবণ্য ও মধুরত্ব এই উভয় প্রকার থাকাতেও যে তিনি একরস বলিয়া বিখ্যাত, ইহাও অত্যাশ্চর্য্য। * হে জগন্নাথ! হে দীননাথ ! হে অণিমাদিসর্বৈশ্বৰ্য্যবিশিষ্ট লক্ষ্মীর প্রাণ- নাথ ! তােমাকে আমি নমস্কার করি ; এবং আমি অনাথ তােমার নিকটে এই বারংবার প্রার্থনা করিতেছি, যে ধনহীন সুদীনজনকে নিয়ত রক্ষা কর। । হে চিদানন্দমূৰ্তে! হে পূর্ণ পরমানস্বরূপ ! হে সদাশিবকর্তৃকবল্যমান- পদারবিন্দ! প্রপন্নজনের প্রতি প্রসন্ন হও, এবং সংসারসাগরে নিমগ্ন নিরাশ্রয় জনকে উদ্ধার কর। ১। তথাচ গীতগােবিন্দে “হরিমেকরস” ইত্যাদি।
কমলাকরুণাবিলাস মুহুর্মুহুর্ভিন্নভিন্নভাবাবেশেনাবিষ্ট সন্ “হরিস্মৃতিঃ সৰ্ববিপদিনাশিনী হরিস্মৃতিঃ সৰ্ববিপদিনাশিনীইচ্চৈভাষমাণঃ প্ৰস্থিতঃ ) (ইতি ইতি নিষ্ক্রান্তঃ। ততঃ প্রবিশন্তি নানাদিগ্দেশীয়ঃ পান্থজনাঃ। তত্র কশ্চিৎ পাশ্চাত্যদেশীয়াে ভীষণদর্শনাে ব্রাহ্মণঃ। যথা হরিচন্দনচর্চিতভালতটো ধৃতখণ্ডিতশােণশিরস্ত্রপটঃ। অতিলম্বিতলােমকরালমুখ- শূণকৈকবিচণমাত্ৰসুখঃ ॥ * ব্রাহ্মণঃ। হা মাতলোকমাতঃ! কথং ত্বং ত্বদেকগতেরপি ঢােকশ্য দুর্গতি- মুপেক্ষসে? কিং দ্বিদানীং ত্বং নিদ্রাভিনিবিষ্টাসি? কিমুত পুনর্জলনিধিজল প্রবিষ্টাসি ? অয়ি করুণাময়ি! সকৃদপি করুণালিঙ্গিতকটাক্ষেণ নিরীক্ষ খানপানদানেন অসন্তানগণানাং রক্ষা করু। অয়ি মাতঃ পশ্য পশু দুর্ভিক্ষদুজ্জনতয়া জনতাতিমাত্ৰং দুঃখং সুদুঃসহমহাে নিতরাং গতান্তি। যার ললাটদেশ হরিচন্দন দ্বারা চর্চিত হইয়াছে, যিনি মস্তকে:ছিন্ন বক্ত- ১। খানা পিনা ইতি হিন্দী ভাষা। অস্ত শব্দশ্য প্রাচীনত্বং যথা গাড়ে। “সপ্তাবেন হি তুষ্যন্তি দেবাঃ সৎপুরুষাঃ দ্বিজাঃ। ইতঃ খানপানেন বাপ্রদানেন পণ্ডিতাঃ”। ইতি ২। তৈলপকিং গােশীর্যং হরিচন্দনমস্ত্রিয়ামিত্যমঃ। কেহ কেহ ঐ তিনটী শব্দই একপর্যায়ক কহেন। কেহ কেহ ঐ তিনটীকে বিশেষ বিশেষ চন্দন খাঁ ভিন্নভিন্নপৰ্যায়ক কহেন। তন্মধ্যে ধবল ও সুশীতল চন্দনকে তৈলপর্ণিক, কৃষ্ণ তাত্ৰব্যামিবর্ণ পদ্মগন্ধি অতি শীতল চন্দনকে গােশীর্য এবং হরিদ্বর্ণ চন্দনবিশেষকে হরিচন্দন কহে। অথবা পারিভাষিক হৰিচন্দন যখা। “ঘৃষ্ট তুলসী গং কপূরাগুৰুযােগতঃ। অথবা কেশৱৈৰ্যোজ্যং হরি- সরণে চনমুচ্যতে”। ইতি প
কমলাকরুণাবিলাস
সর্বংসহা বসুমতী যদি বা সহেত
ত্বং কোমলাপি কমলে সহসে কথং বা । #
ততঃ কশ্চিদ্বঙ্গদেশীয়ভিক্ষুঃ। যথা
তনুতনুর্বিষমজুরকারাে
নিয়তমৌষধসেবনতৎপরঃ।
কটুরসস্বদনে কটুভাষণে
পটুরিতি প্রথিততা ভুবনেষু যঃ ।।
প্রবি চ সঃ।
দুর্ভিক্ষোপপ্লবকৃতমিদং দারুণং বীক্ষ্য কষ্টং
দারুয়া বিপুলশসাে দানিনাে মানিনশ্চ।
বর্ণবস্তুনিৰ্ম্মিত উষ্ণীষ ধারণ করিয়াছেন, যাঁহার মুখমণ্ডল অতিলষিতলােম
অর্থাৎ শ্মশ্র প্রভৃতির দ্বারা ভীষণদর্শন হইয়াছে এবং যিনি মধ্যে মধ্যে এক
একটী চণকচর্বণদ্বারাই কেবল সুখের অনুভব করিতেছেন।
* দেখ মা! দুর্ভিক্ষের দৌর্জন্য১জন্য জনসমূহ অতিশয় দুঃখকে সহ্য করি-
তেছে। সর্বংসহা বসুমতী লােকের এ সকল কষ্ট দেখিয়াও যদ্যপি সহ
করিয়া আছেন (অর্থাৎ রসাতলগামিনী না হইয়াছেন), তথাপি তুমি, কমলা
কোমল হইয়াও ইহা কিরূপে সহ করিতেছ?
t যিনি অতিশয় কৃশাঙ্গ এবং বিষমজ্বরে কাতর হইয়া সৰ্ব্বদাই ঔষধসেবনে
তৎপর। এবং যিনি কটুরসের আস্বাদন করিতে এবং কটু বাক্য প্রয়ােগ
করিতে পটু বলিয়া ভুবনের মধ্যে বিখ্যাত।
১। যেমন উপচারক্রমে চেতনারহিত কালের নির্দয়তা বলা যায়, সেই প্রকার
দুর্ভিক্ষেরও দৌৰ্জস্য বলা যাইতে পারে।
২। অথচ পৃথিবীর আর একটী নাম সর্বংসহা ।
৩। সম্ভত ও তৃতীয় এবং চতুর্থক প্রভৃতি জ্বরকে বিষ
কমলাকরুণাবিলাস ভিক্ষাশিক্ষাপ্যতিবিফলং ভিক্ষুকস্যাপি যাতা নাস্তীদানীং জঠরপিঠরাবৰ্ত্তপূৰ্ত্তেঃ প্রকারঃ। * ততঃ কশ্চিন্নিৰ্বিত্বদুৎকলচিত্ত উৎকলদেশীয়াে গৃহস্থঃ। যথা সচ্ছিদ্রমূদ্ধতিলকং হরিমন্দিরাখ্যং চক্রাঙ্কচক্ৰমিলিতং দধদজশঙ্খম্। কর্ণে দধান উরুগুষ্ঠিততাম্রকূট- পর্ণঞ্চ পরসভুগ্নিহিতােপবাসঃ ॥ প্রবি চ সঃ। দুর্ভিক্ষরক্ষো নরভক্ষণাশং বীক্ষ্যাগতং জীবনরক্ষণায়। * দুর্ভিক্ষনামক মহােপদ্রব দ্বারা যে এই দারুণ কষ্ট উপস্থিত হইয়াছে, তাহা দেখিয়া অনেক মহাযশস্বী দানী ব্যক্তিগণ ' অর্থাৎ দাতাসকলং এবং মানী ব্যক্তিসকলও কাষ্ঠপ্রায় হইয়াছেন। অর্থাৎ কিসে ধৰ্ম্ম রক্ষা হইবে ও কিসে মান রক্ষা হইবে, সর্বদা এই প্রকার চিন্তাতেই তাহাদিগের অন্তরাত্মা শুষ্ক হইয়া গিয়াছে। সুতরাং ভিক্ষুকদিগের ভিক্ষা শিক্ষা করাও নিস্ফল হইয়া উঠিয়াছে। এমতে সম্প্রতি উদররূপ গভীর গর্ভের পূর্তি হওয়ার আর উপায় নাই। + যিনি হরিমন্দিরনামক সচ্ছিদ্র উৰ্দ্ধতিলক এবং চক্রাঙ্কসমূহমিলিত পদ্ম ও শঙ্কৃতি চিহ্নসকল ধারণ করিয়া কর্ণের উপরিভাগে উরুগুণ্ঠিত তাম্রকূটপত্র (অর্থাৎ চুরুট) রাখিয়া নিয়ত উপবাসী থাকিয়াও কেবল তাম্বুলসের আস্বাদন গ্রহণ করিতে থাকেন। ১। উৎকলঃ উৎকণ্ঠি ইতি শ্রীমদ্ভাগবতব্যাখ্যানে শ্ৰীধৰস্বামী। ২। দানং বিদ্যতেহত্যের্থে দানী। যথা “নবীনদীনহীনস্থ যাচ্যমান দানিনঃ। বচো- জীবিতয়ােরাসীৎ পুরাে নিঃসরণে রণঃ ॥” ইতি। ৩। অতিশয় গুড়ি। যজোরুবিপুলমিত্যমরঃ।
কমলাকরুণাবিলাস ত্যক্তাত্মতুল্যানপি বন্ধুবৰ্গা দেশে চ দেশে চ পলায়িতােহস্মি ॥ ততঃ কশ্চিদ্রাঢ়দেশীয়ঃ কৃষিকর্মোপজীবী দ্বিজবন্ধুঃ১। যথা স্বচিকুরনিকুম্বিং পৃষ্ঠতাে লম্বমানং হলভৃতিকঠিনাভিৰ্ম্মাজ্জয়ঙ্গুলীভিঃ। সড়মনতিকিঞ্চিৎ সঞ্চিতং পূৰ্ববর্ষে- রবিহিতমপি ভুক্তে তণ্ডুলং স্থূলমেব ॥ বিশ্য চ সােহপি তথা। ধান্যাতিধন্যা কিল রাঢ়বঙ্গ- ভূমীতি যাসীৎ সুচিরপ্রসিদ্ধ। খ্যাতির্জনানামিব কর্ণভূষা কথাবশেষ বত সাম্প্রতং সা ॥ এবমহেপি কতিপয়ে দুর্ভিক্ষোপদ্রবদ্রবীভূতমানসা দরিদ্ৰজনাঃ। (প্রবি সখেদ) মাতঃ কমলাফি! কমলে! প প ত্বৎপুত্ৰাণামধুনা কিমপ্যত্যাহিত মাহিতম্। অয়ি মাতঃ ! রভক্ষণেচ্ছ, দুর্ভিক্ষরূপ রাক্ষসকে সমাগত দেখিয়া আমি স্বীয় প্রাণরক্ষার নিমিত্তে প্রাণােপম বন্ধুবৰ্গকেও পরিত্যাগ করিয়া দেশে দেশে পলায়ন করিতেছি। * যিনি পৃষ্ঠদেশ পর্যন্ত লম্বমান স্বীয় কেশপাশকে হলধারণনিবন্ধন সুকঠিন অঙ্গুলীসকল দ্বারা মার্জনা করতঃ পূর্ব পূৰ্ব্ব বর্ষের সঞ্চিত অনতিকিঞ্চিৎ গুড়মিশ্রিত স্কুল তণ্ডুলকে অবিহিতরূপে অর্থাৎ স্নানাদি ব্যতিরেকেও ভক্ষণ করিয়া থাকেন। + ‘রাঢ়দেশ ও বঙ্গদেশ ধান্যহেতুই ধন্য এই প্রকার জনদিগের শ্রুতিভূষা- ১। নীচকহেতু নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ।
৪০
কমলাকরুণাবিলাস
লােকানাং দুঃখনাশায় যদি তে নাস্তি মানসম্ ।
তা তে লােমাতেতি কথং নাম দয়াময়ি ॥
(নেপথ্যে )
প্রচগুকররশ্মিভিভুবি বিয়সি জ্বালিতে
বিহায় ন বিহায়সস্তরুমটন্তি কুত্রাপি চ।
অতােহতিনিবিড়চ্ছদক্ষিতিরুহস্য মূলে ক্ষণং
বিরম্য পথিকব্রজ স্বকমভীষ্টদেশং ব্রজ।
(সৰ্বে আকর্নয়ন্তি)
ততঃ কশ্চিৎ পান্থজনঃ। অয়ে মধ্যাহ্নমারূঢ়া ভগবান্ মরীচিমালী। তন্বয়ং
সহস্ৰপাদপাদ২-প্রহারাৎ পরিত্রাণায় প্রহরপাদমপি৩ পাদপ পায়াম।
যতঃ ‘পাদাৎ পাদপ্রহারাৎ ‘পালনং’ রক্ষণমিতি পাদপস্তৈব কাৰ্য। (ইতি
সর্বৈঃ সহ মিলিত্বা বৃক্ষমূলমুপমৃত্য পুরতােবলােক্য চ সসম্রম) অয়ে তরঃ
কথমেতেষাং তরুকোটরস্থানাং শকুনানাং শােকশকুন-কাকুন্মিকুকুধ্বনিঃ
শায়তে। (ক্ষণং বিমৃষ্য) আঃ ইদমেবাত্রোৎপ্রেক্ষণীয়।
স্বরূপ পূর্বে যে একটি চিরপ্রসিদ্ধ খ্যাতি অর্থাৎ যশঃ ছিল, তাহা এক্ষণে
‘কথাবশেষা’ কথামাত্রে অবশিষ্ট অর্থাৎ নষ্ট হইয়াছে।
*হে দয়াময়ি! যদি লােকের দুঃখ বিনাশ করিবার নিমিত্ত তােমার মন না
থাকে তবে “লােকমাত” এই নামটীণ তােমার কেন হইয়াছে।
। হে পথিকগণ ! সুর্যের রশ্মিদ্বারা পৃথিবী ও অন্তরীক্ষ উভয়ই প্রজ্বলিত
হওয়াতে পক্ষিকলও বৃক্ষকে পরিত্যাগ করিয়া কোন খানে গমন করিতে-
১৪। পাদো গচ্ছিতুর্যাংশ ইত্যম। পাদো বৃক্ষমূলমিতি যথ। পাদো ব্ৰধে
তুরীয়াংশে শৈলপ্রত্যন্তপর্বতে ইতি মেদিনী।
৫। ইহাকে “কবিপ্রৌঢ়োক্তি” বলে।
৬। শকুনং ফললক্ষণমিত্যজয়পালঃ।
৭। লক্ষ্মীর একটী নাম ‘লােকমাতা যথা। ইন্দিরা লােকমাতা মা ক্ষীরাৰূিতনয়া রমে-
৮৯। বিহায়ঃ স্থাৎ খগে দিৰীতি জয়াদিত্য।
কমলাকরুণাবিলাস ৪১ তথাহি, দিনকরেণ করেণ সমস্ততাে তরসা তরসা তরুসংহতিঃ। ইতি বিধেঃ২ সবিধে সঘৃণং রুতং পরিকয়ােহতি কয়রাতি পতত্ৰিণাম ॥ * (সৰ্বে এবমেবেতি বিহস্য তত্রৈবােপবেশং নাটয়ন্তি) ততঃ প্রবিশতঃ কশ্চিন্নবদ্বীপাদিপ্রদেশীয়াে বিদ্বদেশীয়াে গােস্বামীতি ব্যপ- দেশভাগ্ বহুদেশদেশিক-চ্চরণামুচরাে নীচচরঃ৪ কশ্চিদ্ ভিক্ষাচরে নিরক্ষরাে বৈষ্ণব। যথাক্রমেণ গােস্বামী যথা শুভ্রতরাংশুকশােভিতদেহে ভাববিভাবিতমানসগেহঃ। ছেনা। অতএব তােমরাও ঘনপত্রবিশিষ্ট বৃক্ষমূলে ক্ষণকাল বিশ্রাম করিয়া স্বীয় স্বীয় অভীষ্টদেশে গমন কর। *দিবাকর নিজকরের দ্বারা তরুগণের সমুদয় রসই বলপূর্বক অথবা সত্বরেই হরণ করিতেছেন, ইহা দেখিয়া পক্ষিগণ স্ব স্ব আশ্রয়ভূত বৃক্ষসকলের বিনাশ শঙ্কা করিয়া বুঝি বিধাতার নিকটে অতিশয় আর্ন্তধ্বনি করিতেছে। ১। তরসা বলরংহসীতি যাদব। ২। নানুস্বারবিসগৌচ চিত্রভঙ্গায় সম্মতাবিতি আলঙ্কারিকাঃ । ৩। দেশিকে গুরুরিতি শ্রীহরিভক্তিবিলাসাদৌ। এখানে বহুদেশ শব্দে লক্ষণ দ্বারা বহুদেশস্থ জন বুঝাইল। ৪। ভূতপূৰ্বে। নীচ ইত্যর্থে নীচচর। কিন্তু এখানে ইনি পরম পবিত্র হইয়াছেন, কারণ “মুচি হয়ে শুচি হয় যদি কৃষ্ণ ভজে”। ৫। বিভাবঃ পরিচয় ইতি মেদিনী। ভাবস্য বিবেহিস্য জাহ ইত্যর্থে ‘‘ভাববিতা- বিহঃ”, অথবা বিশেষেণ প্রাপিত ইতি ভূধর্থদর্শনাৎ।
৪২ কমলাকরুণাবিলাস কৃষ্ণগুণাসবপানসুমত্ত- শ্চারুবিচারিতসাত্বততত্ত্বঃ ॥ * বৈষ্ণবাে যথা শুদ্ধাপাঙ্গো বিচিত্রাঙ্গো নটো দীর্ঘশিখাধর। কালমালালসৎকণ্ঠে। নীলকণ্ঠ ইবােম্মদঃ ॥ ” * যাঁর শরীর অতি শুভ্রবসন দ্বারা শােভিত হইয়াছে, যার মনােরূপ মন্দির কত কত প্রেমময় ভাবের দ্বারা বিভাবিত হইয়াছে, যিনি কৃষ্ণগুণরূপ মধুপানে মত্ত হইয়া সতত সাত্বত ধর্মেরই উত্তম রূপে বিচার করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন। 1 [ প্রথম অর্থ) যিনি শুদ্ধাপাঙ্গ’ নির্বিকার অর্থাৎ দোষশূন্য কটাক্ষ যার এতাদৃশ; অথবা বৈষ্ণবদিগের পক্ষে নিতান্তনিষিদ্ধ যে সহুিদাদিসেবন তদ- ভাবে ‘শুদ্ধ’ শুক্লবর্ণ হইয়াছে ‘অপাঙ্গ’ নয়নের প্রান্তভাগ যার এবস্তুত ; অর্থাৎ যিনি শ্বেতচক্ষুঃ (শাদাচখাে)। এবং যিনি ‘বিচিত্রাঙ্গ’ নানাবর্ণের তীর্থমৃত্তিকার বিলেপন হেতু কৰ্ব্বরিতদেহ। এবং নট’ নিয়ত নটনশীল ; অথবা ‘অনট’ অহিংস্র। এবং দীর্ঘশিখাধর’ অতিলম্বিতশিখাবিশিষ্ট। ও ‘কালমালালসৎকণ্ঠ’ কৃষ্ণতুলসী দ্বারা সুশােভিত হইয়াছে কণ্ঠদেশ যার ঈদৃশও। এবং ‘উন্মদ’ নিয়ত হর্ষযুক্ত। (১) শুদ্ধ শুকে চ পুতে চ কেবলে চ প্রযুজ্যতে ইতি ধরণিঃ। (২) নট’ নৃত্যহিংসয়ারিতি কবিকল্পদ্রুমে। বৈষ্ণবদিগের অহিংসাই পরম ধর্ম। (৩) ইহা দ্বারা কণ্ঠের নীলবর্ণত্ব প্রকাশ পাইতেছে। কালমাল+আ+লসৎ = কাল- মালালসৎ। কালমালঃ কৃষ্ণতুলসীতি রাজনির্ঘণ্টে। তুলসীপত্রের মালাধারণের বিষয় যথা স্কন্দপুরাণে-তুলসীদলজাং মালাং কণ্ঠস্থাং বহতে তু যঃ। মনুষ্যাণাং বিশেষেণ স নমস্কো দিবোকা। ইতি। (৪) উদগতে মদো হর্ষো যস্যেত্যর্থ। মাদ। হর্ষ ইত্যময়।
কমলাকরুণাবিলাস গগাস্বামী। (সােদ্বেগমুচ্চৈঃ) হে হলধরসােদর দামােদর। কথং হল- ধরাণামপি ন দয়সে ? হে ইন্দ্রাবরজোপেন্দ্র! ভ্রাতুরিন্দ্রস্য দুরন্তকোপং দূরীকৃত্য সম্প্রতি নিরবগ্রহলােকানুগ্রহেণ কুগ্রহজাতাবগ্রহস্য নিগ্রহং কৃত্বা বর্ষাভাবাদ্বিমর্ষিতকর্মকাণাং তর্যানুরূপহপ্রদো ভব। অথবা কিং বক্তব্য। ; [ দ্বিতীয় অর্থ] এই বৈষ্ণব ‘নীলকণ্ঠ' অর্থাৎ ময়ূরের ন্যায় ; যেহেতু ময়ূরও ‘শুদ্ধাপাঙ্গ’ শুক্লাপাঙ্গ, ও ‘বিচিত্রাঙ্গ’ নানাবর্ণযুক্তদেহ, ও ‘নট’ নটনশীল, ও দীর্ঘশিখাধর, ও ‘কালমালালসৎকণ্ঠ’ অর্থাৎ কৃষ্ণবর্ণ রেখার দ্বারা সুশােভিত- কণ্ঠদেশ, এবং ‘উন্মদ’ উন্মত্ত। [ তৃতীয় অর্থ ] অথবা যিনি হরিপরায়ণতাপক্ষে ‘নীলকণ্ঠ’ মহাদেবের তুল্য। যেহেতু মহাদেবও শুদ্ধাপাঙ্গ অর্থাৎ ‘শুদ্ধ’ পবিত্র বা শুদ্ধ’ কেবল ও ‘অপাঙ্গ’ নিরাকার। তথাপি অচিন্ত্যশক্তিত্বহেতু ‘বিচিত্রাঙ্গ’ আশ্চৰ্যাকার- বিশিষ্ট; অথবা বিচিত্র অদ্ভুত ‘অঙ্গ’ মন১০ যার তাদৃশ ; কিংবা বিচিত্র ১। বা স্মৃত্যর্থদয়েশাং কৰ্ম্মণি। শরণার্থ দয় ও ঈশ ধাতুর কৰ্ম্মে বিকল্পে ষষ্ঠী হয়, ইতি কৌমুদী। ২। ময়ূরের একটি নাম সিতাপাঙ্গ। ৩। বিচিত্রাঙ্গো ময়ূর ইতি শব্দরত্নাবলী। ৪। ময়ুরের অপর নাম শিখী এবং শিখাধর। ৫। মালা রেখেতি হেমচন্দ্রঃ। ময়ূরের কণ্ঠদেশে কৃষ্ণ বর্ণও আছে। কবিদিগের মতে কৃষ্ণ ও নীল এই উভয় বর্ণকে এক বলিয়া স্বীকার করা যায়। অধিকন্তু কৃষ্ণে নীলাসিত, মেত্যাদ্যমঃ। ৬। যেহেতু “বৈষ্ণবানামহং শম্ভুঃ” এই বাক্যে মহাদেবই বৈষধের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হইয়া- ছেন। সজাতীয়ের মধ্যে যে বস্তু শ্রেষ্ঠ হইয়া থাকে, তাহারই সহিত অন্য সজাতীয় বস্তুর তুলনা হইতে পারে। ৭। শুদ্ধমপাপবিদ্ধমিত্যাদি শ্রুতে। ৮। শুদ্ধশ্চাসাবপাঙ্গশ্চেতি বিশেষণয়োঃ কর্মধারয়ঃ । অপাঙ্গোহঙ্গহীন ইতি মেদিনী। তথা বেদান্তসূত্রম্ । অরূপবদেব হি তৎপ্রধানত্বাদিতি। আহ চ তন্মাত্রমিতি চ। ৯। তথা বেদান্তে। প্রকাশ বচ্চাবৈয়াদিতি। অঙ্গং মনসি কায়ে চেতি শব্দকল্পদ্রুমধৃতকোষান্তর। যেহেতু অদ্ভুত মন না হইলে ৪৪ কমলাকরুণাবিলাস স্বয়ং সীতাপতিত্বা সীতাপ্রণয়বিস্মৃতঃ। হলধরান্ ন দয়সে ভূত্ব হলধরঃ স্বয়ম্ । * আশ্চৰ্য্য ‘অঙ্গ’ উপায় যার তাদৃশ। এবং ‘অনট’ প্রধান নটঃ ; অথবা ‘নট’ অর্থাৎ সৰ্ব্বকারণের কারণ; অথবা ‘অনট’ অহিংস্রঙ; বা নট হিংস্র। ও ‘দীর্ঘশিখার’ কপালদেশে অতিশয় প্রজ্বলিত অত্যুচ্চ বহ্নিজালার ধারণকর্তা। এবং ‘কালমালালসৎকণ্ঠ’ কালবর্ণ রুদ্রাক্ষাদিমালা দ্বারা সুশােভিতকণ্ঠ ; অথবা নীলকণ্ঠত্বহেতু কৃষ্ণবর্ণ রেখায় সুন্দরকণ্ঠদেশ। এবং ‘উন্মদ’ নিরহঙ্কার১০। তুমি স্বয়ং সীতাপতি (রামচন্দ্র) হইয়াও “সীতার” (লাঙ্গলপদ্ধতির) প্রণয় •০ ; তিনি একাকী এই জগতের সৃষ্টি স্থিতি ও সংহারের কর্তা হইতে পারেন না; অবশ্যই মায়াতে মােহিত হইতে হয়। ১। তান্ত বিশেষণ কখনও পূৰ্ব্বে ও কখনও বা পরে থাকে, যথা-জাতসুখ, সুখজাতঃ ; পীততৈলঃ, তৈলপীতঃ ; উঢ়ভাৰ্য, ভযোঢ় ; ইত্যাদি। ২। অঙ্গমুপায় ইতি মেদিনী। ৩। এই কাৰ্যরূপ জগতের বৈচিত্র্য দৃষ্টি এরিয়া ইহার কারণেরও বিচিত্ৰতা স্বীকার করিতে হয় । ৪। এখানে অকারের প্রশ্লেষ হইল ; অর্থাৎ নাস্তি নটো যৎ। মহানটঃ শিব ইতি জটাধরঃ। ৫। কুসুমাঞ্জলৌ-সাপেক্ষত্ব দিনাদিত্বাদবৈচিত্রাদ্বিধবৃত্তিত। প্রত্যাত্মনিয়মাদ ভুক্তেরস্তি হেতুরলৌকিক। ৬। নট হিংসায়াম্। নতীতি নটঃ। অনটঃ অহিংস্রঃ। ৭। যেহেতু ইনি কল্পান্তে সংহারকর্তা হইয়া থাকেন। তথাচ ভাগবতে নারদ প্রতি ব্রহ্মা--সৃজামি তন্নিযুক্তোহহং হয়রা হরতি তদ্বশঃ। বিশ্বং পুরুষরূপেণ পরিরক্ষতি শক্তিধ। ইতি। । বয়োেজ্জ লকীলাবéিহেতিঃ শিখা স্ত্রিয়ামিত্যমঃ। ৯। উদগতে। মদো গর্বে যম্মাদিত্যর্থে। যথা, উত্তমশ্লোক ইত্যস্য ব্যাখ্যানে উদগত- স্তমাে যম্মাৎ স উত্তম ইতি শ্রীধরস্বামী। এতবতা ইনি সদাশিব, তমােগুণবিশিষ্ট ৰুদ্ৰ নহেন, ইহাই বুঝাইতেছে। তথাচ ভাগবতামৃতে-সদাশিবাগ্য। তন্ম স্তিমোগন্ধৰিবৰ্জিত। সৰ্ব্বকারণভূত সা রঙ্গরূপা স্বয়ং ।
কমলকরুণাবিলাসম ৪৫ হে কৃষ্ণ পুণ্ডরীকাক্ষ দুঃখসিন্ধেী নিমজ্জিতাম্। দুর্ভিক্ষাখ্যহিরণ্যাক্ষং হত্বা ক্ষাং পুরুদ্ধর। বৈষ্ণবঃ। (অপবাৰ্য স্বদেশীয়নীচভাষামাশ্ৰিত্য চ২ গোঁসাই মিছে বচন পরায় কাজ নেই। অ্যাকোন বচনই পুইরে খেতে হবে দেখচি। ঐ তাে নতুন বরাে বারি খানা দেকে পেইটে ছিলে। যাওয়া মাই ঐ বারির বরে কাটী এমন অ্যাক ধাক্কা দিচে, যে মুই অ্যাকোন্ও ঘর সােজা কত্তে পাল্লাম না। অ্যাকোন হলুদই বা পাই কোতা, চুণই বা পাই কোতা। ক্যাবােল ভেবে ভেবে মুকে চুণ পলো। গােস্বামী। (সাবমর্ষন্) কিম্ ? ধনগৰ্ব্বপৰ্বতারূঢ়জন-মীদৃশঃ কিল নিষ্ঠ রব্যবহার? যন্নিরাহারজনেপি তৈঃ প্রহারঃ কৃতঃ। বিস্মৃত হইয়াছ ; এবং স্বয়ং হলধর (বলরাম) হইয়াও হলধরদিগের প্রতি নির্দয় হইয়াছ। * হে পুণ্ডরীকাক্ষ শ্রীকৃষ্ণ ! দুর্ভিক্ষনামক হিরণ্যাক্ষ দৈত্যকে বধ করিয়া তৎ কর্তৃক দুঃখসাগরে নিমজ্জিত হইছে যে এই পৃথিবী ইহাকে পুনৰ্ব্বার উদ্ধার কর। প্রভাে৷ ইতি। এবং, হরঃ পূরুষধামত্বান্নিণঃ প্রায় এব সঃ। বিকারবানিহ তমেযােগাৎ সর্কৈ: প্রতীয়তে। যথা শ্রীদশমে, শিবঃ শক্তিযুক্তঃ শশ্বত্রিলিঙ্গে গুণসংবৃতঃ ইতি। ১। পৌরাণিকেরা কহিয়া থাকেন যে, পূর্বে একবার বিষ্ণ, বরাহরূপ ধারণ করিয়া হিরণ্যাক্ষ দৈত্যকে বধ করিয়া জলময় পাতাল হইতে পৃথিবীকে উদ্ধার করিয়াছিলেন। ২। তথা চ সাহিত্যদর্পণে “যদ্দেশং নীচপাত্ৰন্তু তদ্দশং তস্য ভার্ষিতম ইতি। এই বৈষ্ণবোক্তির প্রায় সমুদয় অংশই শ্ৰীযুক্ত রামনাথ ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের রচিত। ৩। জশব্দ প্রায় নীচ প্রাণী পশুদিগের প্রতি ব্যবহৃত হইয়া থাকে। এবং পশু বিশেষে পর্বতে পর্বতে ভ্রমণ করিয়া থাকে। ৪। কৃষ্ণের দশাবতার মধ্যে বলরামের নাম উল্লিখিত হইয়াছে, যথা “বনজৌ বনজৌ হংসস্ত্রিরামী সকৃপােহকৃপঃ”। অর্থাৎ দুইটি ‘বনজ” জলজ রূপ—মৎস্য ও কুৰ্ম্ম, দুইটি “বনজ” বন্যরূপ—বরাহ ও নৃসিংহ। আর তিনটি “রাম”-ভৃগুরাম, শ্রীরাম ও বলরাম। আর “সকৃপ” অর্থাৎ বুদ্ধ এবং “অৰূপ” অর্থাৎ কল্কি। এই দশ অবতার।
৪৬ কমলাকরুণাবিলাস “অহ কনকমাহাত্মং ব্যাখ্যাতুং নৈব শক্যতে। নামসম্পৰ্কত যস্য ধুস্তয়ােহপি মদপ্রদঃ ॥”# অহঙ্কারমলঙ্কারং বালিশাঃ কলয়ন্তি যে। হলপ্রয়ােগকার্যেহপি বিমূঢ়াস্তে নরাধমাঃ । প্রত্যুত নিম্নং যথাপঃ প্রবণাঃ পাত্ৰমায়ান্তি সম্পদ। ইতি যদৃষিভিঃ প্রােক্তং২ তচ্ছুনুন্নতে ভবেৎ * হায় ! কনকের কি আশ্চর্য্য মাহাত্ম্য, তাহার কিছুই বলা যায় না। প্রকৃত কনকের কথা দূরে থাকুক, তার নামমাত্রের সম্পর্কেতেই ধুর মদদ হইয়া থাকে। অর্থাৎ অভিধানমধ্যে “ধুর কনকায়ঃ”, কনকের যে কয়েকটী নাম, ধুস্তরেরও সেই কয়েকটী নাম, ইহা উক্ত হইয়াছে ; এই জন্য ধুস্তরের সেবন মাত্রেই লােকের মত্ততা জন্মিয়া থাকে। ইহাতে যাহারা যথার্থ কনক (স্বর্ণ) প্রাপ্ত হইয়াছে তাহারা যে মত্ত হইবে তাহাতে আর আশ্চর্য কি ? + যে মূখের অহঙ্কারকে অলঙ্কার বলিয়া বিবেচনা করে, সেই নরাধমেরা হলপ্রয়ােগ কাৰ্যেও অর্থাৎ “অহঙ্কার” শব্দের হকারের স্থানে লকার প্রদান করায়, তাহারা হ ও ল এই দুই অক্ষর বিন্যাস কাৰ্যেও অতিশয় বিমূঢ়। অথবা “হল” শব্দে ব্যঞ্জন তদ্বিন্যাস কাৰ্যেও অতিশয় মূঢ়। এতবতা নিরক্ষর বুঝাইতেছে।'কিংবা “হল” শব্দে লাঙ্গল ; তাহার প্রয়ােগ কাৰ্য্যেও তাহারা মূঢ় ; অর্থাৎ তাহারা চাষারও অধম। ১। উক্তবৈপরীত্যে। অর্থাৎ অহংকৃত না হইয়া বরং নম্র হইবে। ২। পরাশদিভিবিষ্ণুপুরাণদৌ। ৩। ইহা কোন আভিধানিক শব্দ নহে। কোন কোন ব্যাকরণে ব্যঞ্জন বর্ণের হল সংজ্ঞা করিয়াছেন।
৪৭ কমলাকরুণাবিলাস অন্যথােচ্ছিতদেশাত্ত, যথা নীরস্য নিঃস্থতিঃ। তথা গর্বোন্নতা ঢাৎ সম্পদোপি পরিচ্যুতিঃ * * বৈষ্ণবঃ। তার পড়তো খানিক দূড়ে গিএ অ্যাক বারিতে বডে জাক জমক দ্যাখলাম। কত গারি ঘাের পতে গ গ করচে। শােনলাম আজ এখানে একটা জগগি হবে। তাইতে ভাবলাম একানে অবিশ্যিই কিছু ভাল সামিগিড়ি পাওয়া যাবে। হা পােরা কপাল ! যেই দেউরিতে গিএ ঢুকিচি, অমনি অ্যাক বেটা যােমের মােতে পেয়াদাং এসে মাের হাতের নলাটা না ধরে অ্যাটা পাক্কার দিয়ে মােকে ফেলে দিলো। দ্যালাম কতাে বাবু ভেয়ে সেকানে বস্তে গল্প মাচে। মুই “দোহাই বাবু দোহাই বাবু” বলতে লাগলাম ; কেউ অ্যাকবাড় মাের পানে তাইকেও দ্যাক্লাে না। কি কৰ্ব্বো, মুই আস্তে আস্তে সেকান থেকে পলাে কেলাম। গােস্বামী। সমগেবাহ ভবান্ যতাে ধনগৰ্বিনামীদৃগেব স্বভাবঃ। তথাহি, • * যেমন জল সকল নীচাভিমুখ হইয়া নিম্ন স্থানেই গমন করে, তদ্রুপ সম্পদ সকলও নম্র ব্যক্তির প্রতি ধাবমান হয় ; এই প্রকার ঋষিদিগের কর্তৃক উক্ত যে বাক্য তাহা শ্রবণ করিয়া নত হইবেক। নচেৎ উন্নত দেশ হইতে যে প্রকার জলের নিঃসরণ হইতে থাকে, গৰ্ব্বোত ব্যক্তি হইতেও সেই প্রকার সম্পত্তির বিচ্যুতি হওয়া সম্ভব। ১। তাৎপৰ্য এই যে দেবরাজ উদ্ধত হইলে লক্ষ্মী তাহাকে পরিত্যাগ করিয়া গেলেন ; দেবরাজ পুনরায় ঐ নিমস্থানের উপাসনা করিয়া তাহাকে পুনরায় প্রাপ্ত হইলেন। ২। সংস্কৃতমূলক যাবনিক ভাষা এদেশে বহুকালাবধি প্রচলিত থাকা সম্ভব। যেহেতু এদেশে অতি পূৰ্ব্বেও কালযবন প্রভৃতির গমনাগমন ছিল। পেয়াদা শব্দটীও সংস্কৃত “পদা- তিক” কিম্বা “পত্তি” শব্দের বিকৃতি। ৩। যানিক ভাষায় ইহাকে “আহস্তা” বলে ; অতএব ইহা অবশ্যই সংস্কৃত “অশস্ত শব্দের বিকৃতি হইবে। যেহেতু “অশস্ত” শব্দের অর্থ অপ্রশস্ত, মন্দ, অল্প ইত্যাদি। ৪। পলাইলাম।
৪৮ কমলাকরুণাবিলাস “করােতি মুখবিক্রিয়াঃ কতি তনােতি ভঙ্গীস্তননা কতি প্রকটয়ত্যলং নিজবিভূতিশোৰ্যাদিকম্। দৃশাহপি ন বিলােকতে গুণবতঃ পুরােবর্তিনাে ন কিং বিষদৃগীক্ষাতে ধনমদেন মতো জনঃ॥” তৎ খলু বৃথা ব্যয়ং কুৰ্ব্বতাং ধনগৰ্ব্বসৰ্ব্বস্বজনানা-১মনভিজ্ঞতাদোষেণৈবে- দানীমীদৃগর্থস্থানৰ্থকত্বমাপাদিত। অহাে লােকহিতায় বিহিতং রূঢ়মপি বচনজাতং কিমেতেষাং মুঢ়ানাং শ্রবণপদবীমপি নাধিরূঢ়ম্ ? তথাচ “দরিদ্রা ভর কৌন্তেয় মা যচ্ছেরে ধনম্। ব্যাধিসৌষধং পথ্যং নীরুজস্য কিমোষধৈঃ ॥” * ততন্ততঃ ? বৈষ্ণবঃ। তার পড় মুই ঘুত্তে ঘুত্তে অ্যাকটা তেতালা বারির কাছে গিয়ে পলাম। দ্যাম অ্যাটা মেয়ে মানুষ—বুজি সেই বারির দাসী হবে—গুচ্চি- খানিক সােনার গয়না হাতে করে নিয়ে ঐ বারির মদ্দে ঢুকলাে। মুইও তার * যাহারা ধনমদে মত্ত, তাহার কি প্রকার বিকৃত ভাবেই না দৃষ্ট হইয়া থাকে। যেহেতু তাহারা নানাপ্রকার মুখবিকার প্রদর্শন করিতে থাকে এবং ভঙ্গীমে আপনাদের ঐশ্বৰ্যাদি প্রকাশ করিতে থাকে। সম্মুখস্থিত গুণবান্ লােকসকলকেও হার যেন দেখিয়াও দেখে না। * হে কৌন্তেয় ! দরিদ্ৰব্যক্তিগণকে প্রতিপালন কর; ধনী ব্যক্তিকে ধন- প্রদান করা অনর্থক। যেহেতু রােগী ব্যক্তির পক্ষেই ঔষধ পথ্য হইয়াছে ; নীবােগ ব্যক্তির ঔষধে কোন কাৰ্য্যই নাই। ১। ধনগর্ব এব সৰ্ব্বং যোং তেষাম। ২। প্রসিদ্ধমপি। তপাচ রূট জাতে প্রসিদ্ধ চেহি মেদিনী।
৪৯ কমলাকরুণাবিলাস পিচে পিচে যেমন দুরে গিয়ে দেইরিচি, অমনি অ্যাক বেটা-বুজি সে ঐ বারির কত্তা হবে—বেরে বেরাে করে চেঁচিয়ে উটলো। মুই কত কাকুতি মিনুতি কল্লাম সে বেটা কিচুই শােলো না। ঠাকুর গাে আর কিব্যা বলবে,—অ্যাক- বার তাইকে দ্যাকলাম, বেটার কত্তাও জ্যামন গােওাড়ের মােতাে, গরণও তেমি চোয়ারের মােতো। কি কৰ্ব্বো সেকান থেকেও পটোল তােম। গগাস্বামী। সত্যমেবাথ। যত আকৃত্য। প্রকৃত্যা চ যক্ষ এব সঃ। তথাহি কস্মিংশ্চিদম্মদেশীয়নব্যকবিকৃতগৌড়ীয়সাধুভাষানিবদ্ধসাহিত্যগ্রন্থবিশেষে করেছিল সংসারের মধ্যে ধনিজন। কেহ বা লক্ষ্মীরে কেহ কুবেরে ভজন। লক্ষ্মীর ভজন করেছিল যে শ্রীমান্। দাতা তােক্তা বলিয়া সৰ্ব্বত্র তার মান। যার ভজনীয় বস্তু ছিলেন কুবের। যক্ষ বলি খ্যাত তিনি রূপেতে কুবের। অতএব ভিক্ষুগণ বলি বারে বারে। লক্ষ্মীবরপুত্র যেন,বলল না সবারে। যদি বল দাতা বটে রূপবান্ নয়। তারে কি বলিতে পারি লক্ষ্মীর তনয় । ইহার উত্তর শুন হয়ে সাবধান। রূপ হৈতে গুণ বটে সর্বত্র প্রধান। কিঞ্চ, এবংবিধানাং দুরাত্মনাং সম্পত্তিস্তু তেমপি বিপত্তিনিষ্পত্তয় এব । ১। অর্থাৎ চলিয়া গেলাম। ২। শ্ৰীমা অর্থাৎ রূপবান্ এবং ধনবান্। ৩। কুবের’ কুশরীর। বেরং কলেবরে ক্লীবং বার্তাকৌ কুসুমেহপি চেতি মেদিনী। ৪। অত এবােক্ত, শরীরস্য গুণাঞ্চ দূরত্যন্তমন্তর। শরীরং ক্ষণবিধ্বংসি কল্পান্ত- স্থায়িনো গুণাঃ। ইতি। এই কবিতার উভয়পার্শ্বে " এই প্রকার চিহ্ন না থাকাতেই ইহা অন্যের কৃত নহে বিবেচনা করিবেন।
কমলাকরুণবিলাস
তথাহি
“আত্মানং পরিবঞ্চ যাচককুলং কুন্তি যে সঞ্চয়ং
তেষাং পাপজুষাং তদেব হি ধনং ভােগায় নাে জায়তে।
নিত্যং সঞ্চিতে মধূনি সরঘা দত্বানলং তম্মুখে
নী দেবপিতৃন্ সদা সুকৃতিঃ সন্তোষয়ন্তি ধ্রুবম্।” *
অহো কস্যর্থং বা তৈরনকমর্থসঞ্চয় এল ক্ৰিয়তে ? যতঃ
“যদ্দদাতি বিশিষ্টেভ্যো যদশ্নতি দিনে দিনে।
তত্ত বিত্তমহং মন্যে শেযং কস্যাপি রক্ষিতম্ ॥” “
“অয়াসশতলব্ধস্য প্রাণেভ্যোহপি গরীয়সঃ।
একৈব গতিরর্থস্য দানমন্যে বিপত্তয়ঃ ॥” :
বৈষ্ণবঃ। আবার শােল্লাম তার একটা পুণ্যি পেকাশ আছে। সে
আবার টাকার কুমীর ; বাপের সঙ্গে ভেন্নো ; কেবল আপনার ও মাগ ছেলের
সেবা করে ; ভিকিরী গেলে কখনও একমুটো দেয় না।
;
* যে ব্যক্তি আত্মাকে ও যাচকগণকে বঞ্চনা করিয়া অর্থ সঞ্চয় করে সেই
পাপিষ্ঠের যে ধন তাহা কখনই ভােগের নিমিত্ত হয় না। দেখ মধুমক্ষিকাগণ
প্রতিদিন পরিশ্রম পূৰ্ব্বক মধু আহরণ করতঃ একত্র সঞ্চয় করিয়া রাখে ; কিন্তু
পুণ্যবান্ ব্যক্তিগণ তাহাদিগের মুখে অগ্নি প্রদান করিয়া ঐ সকল মধু অপহরণ
করতঃ তাহার দ্বারা দেশ ও পিতৃলােকের তৃপ্তি জন্মাইয়া থাকেন।
+ যাহা বিশিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থাৎ সৎপাত্রকে প্রদান করা যায় এবং যাহা ভােগ
করা যায়, তাহাই যথার্থ অর্থ; নচেৎ সঞ্চিত ধন যে কাহার তাহা কি বলা যায় ?
অনেক পরিশ্রমলব্ধ এবং প্রাণ হইতেও প্রিয় যে অর্থ, একমাত্র দানই
তাহার গতি। নচেৎ আর আর সকলই তাহার বিপত্তিজনক।
১। অর্থাৎ পুত্র।
২। অর্থাৎ অনেক টাকার অধিকারী। টঙ্ক শব্দ ক্রমশঃ বিকৃত হইয়া টাকা হইয়াছে
দুই শত গুঞ্জ। পরিমিত মনিকে পূলে টঙ্ক কহিত। ইতি রহস্য সন্দর্ভের ৩ পরে ৩০ খণ্ডে
৯৩ পৃষ্ঠায়।
কমলাকরুণাবিলাস গােস্বামী। হুম্ এতাদৃশা দুরাশয়া অপি বহবাে দৃশ্চন্তে। (ইভি ক্ষেপ) হন্ত হন্ত হন্তকারং ন দাল্পমপি কচিৎ। সন্তানিকাদিদানং বা সন্তানেভ্যঃ কিমর্থকম্ । অহহ আত্মম্ভরিযশ্চ পরদুঃখেকাতরঃ। হীনসংজ্ঞঃ স পাপিষ্ঠো দারুণােহপি দারুণঃ । বৈষ্ণব। তার পর ভাবতে ভাবতে আকটা পুরণাে ভাঙ্গা বারির কাছে গিয়ে পলাম। ভাবলাম এরা আগুকার বরমা বে ; এদের বাপ পিতামাে অতিৎসেবা করে থাকবে। যাই দেকি এদের বারিতে অাকবার যাই। ইই ভাবতে ভাবতে যেনি বারির মদ্দে গিয়ে “জয় রাধে কিষ্ট” বলে দেইরিচি, অনি অ্যাক জন ঘরের মধ্যে থেকে এসে গােসাইজী বল্লে কি! ও কে, বাবাজি এসেচো, বর ভাগির কতা, আজ মাের ভিটেয় তােমার পার স্কুলে পলাে ; কিন্তু হায়! কি কৰ্ব্বো আমার একন আর কিছু নেই ; বাপ পিতামাের যে ব্যাসাৎ ছিল, মাের দাদামােশাই বর নাম বেরােবে ধল্যে “দীয়তাং ভুজতাং” * হায় হায় অল্পপরিমিতও হন্তকার (অতিথিদেয় তল) বিতমণ না করিয়া সন্তানগণকে সন্তানিকাদিং মিষ্টান্ন প্রদান করার প্রয়ােজন কি? যে ব্যক্তি আত্মম্ভরি ও পরদুঃখে অকাতর হয়, সে পাপিষ্ঠ “হীনসংজ্ঞ” অথাৎ চেতনাহীন ; সুতরাং কাষ্ঠ হইতেও সুকঠিন। তাৎপৰ্য এই যদি তাহার চেতনা থাকিত, তবে সে অবশ্যই পরদুঃখে দুঃখী হইত। অথবা সে “হীনসংজ্ঞ” অর্থাৎ নীচনামা ; যেহেতু এতাদৃশ লােকের নাম কেহই গ্রহণ করে না। ১। যথা লঘুষিক্ত বচনে, নিষীত-২গুকারে মনুষ্যংয়েদপেতি। ২। সন্তানিকা সরভাজা ইতি শব্দকল্পদ্রুমপরিশিষ্টপৃতপাকরাজেশ্বরঃ। ৩। এখানে “সংজ্ঞ।” শব্দের অর্থ নাম। ৪। তথাচ, অঋনান রােম নামানি কৃপণস্য চ। প্রাণান্তেহপি ন গৃহীয়াজ জ্যেষ্ঠ পুত্র কলত্রয়োঃ। ইতি ক লোচনে।
কমলাকরুণাবিলাস করে সব ঘুইচে গিচেন্; অ্যাকোন আমি বর কষ্টেই দিনপাত করচি। ইই বল্যে ঘরের মদ্দে দৈরে গিয়ে একটু কাঁচা গুর ও অ্যাকটা মেট্যে বদনা করে জল এনে দিয়ে বল্ল্যে অ্যাকবার পা ধুন্। গোঁসাই প্রিভু, তার কথা শুনে মাের গাটা জুইড়ে গ্যালাে; রােদ্দুরে ঘুত্তে ঘুত্তে আত্তাপুরুষটো শুইকে গিয়েলাে, এই, না জল খেয়ে যেন ধরে পেরাণ এলাে। গগাস্বামী। (সহর্ষ) তাদৃশঃ প্রিয়ংবদজনএব নিথিলজনানামনুরাগভাজনম্। “বাঙমাধুৰ্যাৎ সর্বলােকপ্রিয়ত্ব বাপারুষ্যাৎ সৰ্বলােকাপ্রিয়ত্ব। কিংবা লােকে কোকিলেনােপনীতং কো বা লােকে গর্দভস্যাপরাধঃ ॥ * অপিচ “পিকঃ কৃষ্ণো নিত্যং পরমরুণয়া পশ্যতি দৃশা পরাপত্যদ্বেষী স্বতমপি নো লালয়তি চ। তথাপপ্যযােহমীযাং সকলজগং বল্লভতমাে ন দোষ গৃহন্তে মধুরবচসাং কেনচিদপি।” + * বাক্যের মাধুৰ্য হেতুই সকলে সকল লােকের প্রিয় হইয়া থাকে, এবং বাপারুয্য হেতুই সকলে সকল লােকের অপ্রিয় হইয়া থাকে। দেখ কোকিলও লােকের কোন উপকার করে নাই এবং গর্দভও লােকের কোন অপকার কএ নাই; তথাপি বাক্যের মিষ্টতা হেতু কোকিল লােকের প্রিয় হইয়াছে এবং বাক্যের কর্কশতা হেতু গর্দভ লােকের অপ্রিয় হইয়াছে। ৫ কোকিল মলিন বর্ণ এবং ক্রোধন ব্যক্তির ন্যায় নিয়তই অরুণিত নয়নে অন্যের প্রতি নিরীক্ষণ করিয়া থাকে। পরের ( অর্থাৎ কাকের) সন্তান- ১। “বদনা” শব্দটীও সংস্কৃত ‘বনী’ শব্দ হইতে উৎপন্ন। প্রতিষ্ঠাদি কর্মে ইহা প্রশস্ত। অথচ গরুড়ে “দেবস্তু কলসে পূজ্যে বর্ধন্য বস্তুমুত্তমম্। বর্ধন্য তু সমায়ুক্তং কলসং ভ্ৰময়েদ নু” ইতি। অতএব বন্ধনী ঘটতি মেদিনী। তৎপৰ্য্যায় যথা। শ্ৰীকক্করী-পারী-বন্ধনী চ নলত্তিকেতি জটাধরঃ। অতএব হিন্দুদিগের বাটীতেও পূর্বে ইহার অভাব ছিল না।
কমলাকরুণাবিলাস
কিঞ্চ সৰ্ব্বধৰ্ম্মসাধনহেতুভূত ধনস্য যথাযথং ব্যয় এবােপযুক্তোইন্যথাহপরিমিত
ব্যয়েনাহৰ্থ পরিক্ষয়ে মহাননৰ্থঃ দেব।
“ক্ষি প্রময়মনালােক্য ব্যয়মানঃ স্ববাঙুয়া।
ক্ষুদ্র এব ভবেচ্চাসৌ ধনী বৈশ্রবােপমঃ ॥” *
এবমত্র বিশ্রতৈকদৃষ্টে তাপরদৃষ্টে ভার্গবষ্যেপদেশমার্গ এব সৰ্বথা
মার্গণীয়াে নাে চেৎ প্রতিপদমেব বিপদাপষ্ঠেত। তথাস্থ্যক্ত
“ন তদ্দানং প্রশংসন্তি যেন বৃত্তিৰ্বিপদ্যতে।
দানং যজ্ঞস্তপঃ কৰ্ম্ম লােকে বৃত্তিমতাে যতঃ” ॥ ইতি।
অতঃ সঞ্চিতার্থ সার্থকতা প্রতিপাদয়িতুমিচ্ছভিমহর্নিভিরেতাবান্ নিয়মােহপি
নির্ণীত। তথাহি মার্কণ্ডেয়পুরাণে
“পাদেন তস্য পারক্যং কুৰ্যাৎ সঞ্চয়মাত্মবান্।
অর্ধেন চাত্মভরণং নিত্যং নৈমিত্তিকং তথা ॥
গুলিকে নষ্ট করে ; অথচ স্বীয় সন্তানগণকেও প্রতিপালন করে না। তথাপি
ইহার এক মধুর বাক্যের গুণে কেহই ইহার কোন দোষই গ্রহণ করে না।
বরং সকলেই ইহাকে প্রিয় জ্ঞান করে।
* যে ব্যক্তি আয়ের সম্ভাবনা না দেখিয়া যথেষ্ট ব্যয় করিতে প্রবৃত্ত হয়, সে
ব্যক্তি যদিও কুবেরের ন্যায় ধনবান হউক, তথাপি শীঘ্রই নির্ধন হইয়া যায়।
। যাহাতে নিজ বৃত্তি পৰ্য্যন্ত নষ্ট হয় এমত দান কখনই শুভনিদান বলিয়া
গণ্য হইতে পারে না। যেহেতু দান, যজ্ঞ, তপস্যা, ও অন্য অন্য কৰ্ম্ম এ সমুদয়ই
এক বৃওিবিশিষ্ট ব্যক্তিরই হইয়া থাকে, বৃত্তি না থাকিলে ইহার কিছুই সিদ্ধ
৩
হয় না।
১। এখানে “দৃষ্টি” শব্দে চক্ষু।
২। এখানে “দৃষ্টি” শব্দে জ্ঞান এবং চক্ষু।
৫৪ কমলাকরুণবিলাস পদস্যাৰ্দ্ধাৰ্দ্ধমর্থস্য মূলভূতং বিবর্ধয়েৎ। এবমাচরতঃ পুংসশ্চার্থসাফল্যমৃচ্ছতি অপিচ মুদং যা রাতি সা মুদ্রা দেবীতি মন্ততে জনৈঃ। অবস্থিতিং বিনা তস্যাঃ কুততা হর্ষস্য সম্ভবঃ । * এবং চিরবিগতনিদ্রায়ৈ মুদ্রায়ৈ সংহারমুদ্রা প্রদর্শনং ন বিধেয় বিনি (মুদং হর্ষং রাতি দদাতি এই প্রকার ব্যুৎপত্তিক্রমে ) হর্ষ প্রদান করেন, তাঁহাকেই লােকে মুদ্ৰানাম্নী দেবী বলিয়া মান্য করিয়া থাকে। সুতরাং তাহার অবস্থিতি ব্যতীত কি প্রকারে হর্যের সম্ভব হইতে অতএব জাগ্ৰপা নিত্যপূজনীয়া যে মুদ্রাদেবী তাহাকে কখনই সংহারমুদ্রা দর্শন করাইবে না। অর্থাৎ তাঁহাকে কখনও বিসর্জন না দিয়া নিয়তই ভঁহার পূজা করিবেক। পারে। । ১। মুদ্র। শব্দের অর্থ টাকা প্রভৃতি বুঝায় এমত কোন অভিধান নাই। তথাপি উহা বহু কালবধি ঐ সকল অর্থে ব্যবহৃত হইয়া আসিতেছে ; যথা মিতাক্ষরার ব্যবহারাধ্যায়ে, সৌবণীং রাজতীং তাম্ৰীময়সীং বা সুশোভিতাম্। সলিলেন সকৃদ্ধেতাং প্রক্ষিপেত্র মুদ্রি- কাম্। ২। অর্থাৎ জাগ্ৰদেবতা। ৩। মুদ্রাকেই পরমদেবী বলিতে হয় ; যেহেতু দেবী শব্দটা যাহা হইতে উৎপন্ন হই- আছে, সেই “দিব” ধাতুর সমুদয় অর্থই মুদ্রাকে পর্যবসিত হইয়াছে। তথাচ “দিব” ধাতুর অর্থ যে জিগীষা, ইচ্ছা, পণি ( ব্যবহার ) দ্যুতি ( কান্তি ), ক্রীড়া ও গতি; ইহা সকলেই এক মুদ্রার দ্বারা প্রতিপাদিত হইতে পারে। ক্রমেতে উদাহরণ যথা। মুদ্রার প্রভাবেই লােকের ‘জিগীষা’ (অন্যকে জয় করিবার ইচ্ছা) হইয়া থাকে। মুদ্রাস্বত্বেই লোকের নানা বিষয়ে “ইচ্ছা” হইয়া থাকে। মুদ্রাই “ব্যবহার” মাত্রে অর্থাৎ সকল কায্যেই প্রয়ো- এবং মুদ্র। সর্বদাই “দ্যোতমান” অর্থাৎ সমুজ্জ্বলা ; কারণ উহা মলিন হইলেও মলিন নহে ; উহাকে দেখিবামাত্রই চক্ষুর সন্তোষ উপস্থিত হয়। এ সংসারে মুদ্রারই নানা প্রকার “ক্রীড়।” দেখা যায়, অর্থাৎ এ সংসারে টাকারই খে। আর ইস্ত হইতে হস্তান্তরে মুদ্রার নিয়তই “গতি” হইয়া থাকে। ৪। বিসজ্জনমুদ্রা। ইতি তন্ত্ৰাদিক। জিত হয়।
• ; কমলাকরুণাবিলাস বৈষ্ণবঃ। যা বল্লেন ঠিক। গােস্বামী। ততস্ততঃ ? বৈষ্ণব। তার পর হাটতে হাটতে আর অ্যাক গেরােস্তের উটনে গিয়ে ওটুলাম। দেখি যে অ্যাক জন ঘার জ্যে বসে কাগজে কি ন্যাকা পরা কচ্চে ; মােকে দেকে বলে বাবাজী রাও। মুই ট্ৰেইরিই আছি, তবু আর কতা কয় না। আমি অ্যাকবার “হরে কেষ্টো” “হরে কেষ্টে” বল্যে উটি ; তাই শুনে সেও অ্যার দারাও দারাও করে। শেষে অনেক পান্ পর এক মুটো চাইল এন্যে দিএ বলে, মুই আর কিছু দিতে টিতে পাব্বো না, বােজ- লাম তার কিছুই নেই ; সে যা দিলাে সেই ঢের। যা হােক্ শিগগির দিলিই ভালাে হতাে। গােস্বামী। সত্যমেব জ্বযে। “অৰ্থিনঃ শীঘ্রদানেন তৃপ্তিৰ্ভবতি যাদৃশী । বহুদানং বিলম্বেন ন তথা তৃপ্তিকারক।” # ততকিমষ্যৎ বৈষ্ণব। তার পরতো আতে আসতে সরকের ধারে অ্যাখানা মুদির দোকান দ্যাক্লাম্। ভাবলাম চাট্টি চাই পেয়েছি, এই মুদি যদি আর চাটি দ্যায়, তা হলেই গোসাইর সেবা দিয়ে পেসাদ পাই। এই ভেবে অ্যাত বল্লাম, তবু সে কিছুতেই চাটি দেলাে না। শেষে মােরে নাছাের দেকে অ্যাটা পয়সা ফেলে দিলে। কি কৰ্ব্বো তাই কুইড়ে নেলাম। যতঃ * অবিলম্বে অল্প দান করিলেও যাচকগণের যে প্রকার তুষ্টি হয়, বিলম্বে অধিক দান করিলেও সে প্রকার হয় না। কাগজ শব্দটীও সংস্কৃত কাগজ শব্দ হইতে উৎপন্ন হইয়াছে। তথাচ ভূৰ্জে বা বসনে রক্তে ক্ষোমে বা তালপত্রকে। কাগদে চাষ্টগন্ধেন পঞ্চগন্ধেন বা পুনঃ। ইতি ঘটনন্দদাসবিরচিতমন্ত্রকরুমে হনুমকবচ। ২। “সরক” ক্ষুদ্র পথ। সরক শব্দ টীও সংস্কৃত গতৰ্থ সৃ” ধাতু হইতে উৎপন্ন হইয়া থাকিবে। ৩। ছোরণং পরিত্যাগ ইতি ত্রিকাগুশেষঃ।
কমলাকরুণাবিলাস গগাস্বামী। স খলু প্রকৃতদানধৰ্ম্মস্য মৰ্ম্মানভিজ্ঞব। যতঃ “যদত্ৰ দীয়তে জন্তোস্তৎ পরত্র সদা লভেৎ। অন্নদানানুপঃ শ্বেতঃ স্বর্গেহভূৎ স স্বমাংসভুক্।” # অতএব ন চান্নেন সমং দানমিতি পুরাণান্তরেহপি শায়তে। ততস্ততঃ ? বৈষ্ণবঃ। আর ঠাকুর কি বলবে সাড়া দিটে ফ্যা ফ্যা করে লাম কিছুই হলাে না। আজ সেই যক্ষি বেটার কত সুন্যে গাটা আবার জ্বল্যে গিচে। এদিগে ক্ষিদেয় নারীও জ্বল্যে যাচ্চে। যা কিছু পেয়েলাম তা পতের মাজেই ফুইরে গ্যালাে প্রিভুর সেবার তরে কিছুই আতে পাল্লাম । পােরা পেটের লেগে ধরম্ করম্ সবই গ্যালাে। ঠাকুর গাে অপরাহ্ন নেবেন্না। কিপা আগে হাে। (ইতি চরণে সৃষ্ট। দণ্ডবৎ প্রণমতি) গােস্বামী। (সস্মিত) ভদ্র ! ভবদ্বিধানামীদৃশমের সদ্বিধানং যুক্তম্ভবতি। অথচ্চ “আত্মানং সততং রদ্দোরৈরপি ধনৈরপি। গুরুভিলঘুভির্বাপি কিমুন্যজনৈপি ॥” । * ইহলােকে যে যাহা দান করে, পরলােকে সে তাহাই প্রাপ্ত হয়। যে হেতু শ্বেতনামক রাজা অন্নদান না করাতে স্বর্গে গিয়া স্বীয় মাংস ভােজন করিয়াছিলেন। * দারা ও ধনাদি দ্বারাতেও, অর্থাৎ এ সকলকে পরিত্যাগ করিয়াও, নিয়ত আত্মাকে রক্ষা করিবেক। ইহাতে গুরুই হউ, আর লঘুই হউ, অন্য জনের কথা আর কি আছে ? অর্থাৎ আপনার নিমিত্তে সকলকেই উপেক্ষা করিতে ১। ফ্যা শব্দ সংস্কৃত ফাঃ শব্দের অপভ্রংশ। ইহার অর্থ বিফলকথন। যথা ফিঃ কোপে ফাশ্চ সন্তাপে তথা নিস্ফলভাষণে ইতি শব্দরত্নাবলী।
কমলাকরুণাবিলাস পরন্তু ভিক্ষুকাণামসন্তোষ এব সৰ্ব্বদোষ পােষক। যথা যাচ্যমাননা মানবানাং স্বীয়ধৰ্ম্মরক্ষা কৰ্তব্যা তথা ভিক্ষাজীবানাং জীবনামপীতি জ্ঞেয়ম্। ন কেবলং গৃহবাসিন এব ধৰ্ম্মসূত্ৰেণ নদ্ধাঃ পরন্তু গৃহত্যাগিনােহপি তদ্বদ্বদ্ধা এব। তেন যাচকানামপি সৰ্ব্বথা পালনীয় কতিপয়ান্ ধৰ্ম্মান্ সমাহিতচিত্তেন শ্রুত্বা তদ্রক্ষণায় যথাবিহিতং যত্নং কুরু। নােচেদ্ধৰ্ম্মস্য গ্লানিতশ্চিত্তস্য স্লানির্ভাবিনীতি নীতিবিট্টিরপ্যঙ্গীকৃতবচনস্য কাৰ্যতঃ প্ৰমাণত্বং দর্শয়িষ্যসি। তদ্ধৰ্ম্মেী যথা “বৃত্তিং মাধুকরীং কুৰ্যাৎ । ” ইতি ; অপি চ “লােভেন বুদ্ধিশ্চলতি লােভভ জনয়তে তৃষা।” । এবং ভিক্ষুকাণাং তিতিক্ষামাত্ৰমুপচিতমিতি শিক্ষাপি নিয়তং মনসি কাৰ্য্যা। তথাহি “অসন্তুষ্টা দ্বিজা নষ্টা” ইত্যাদি অত্র দ্বিজেতি পদ ভিক্ষুমাত্ৰপরম্। বৈষ্ণবঃ। ভাল ঠাকুর। আর বতে হবে না। যা শােনলাম্ ইই আগে কদ্দর হয় দেকি। বলি প্ৰিভু গাে ! এমনি অকালেই কি চিরকাল ভিক্ষুকেরা মাধুকরী বৃত্তি করিবেক। অর্থাৎ মধুকর যেমন নানা পুষ্প হইতে কিঞ্চিৎ কিঞ্চিৎ মধু গ্রহণ করিয়া স্বীয় উদর পূৰ্ত্তি করে, তাহাতে কোন পুষ্পেরই কিছুমাত্র হানি বােধ হয় না; তদ্রুপ ভিক্ষুকেরা গৃহস্থদিগের নিকট হইতে অল্পে অল্পে ভিক্ষা গ্রহণ করিয়াই আপনাদিগের প্রাণযাত্রা নির্বাহ করিবেক। কখই এক স্থান হইতে অধিক পাইবার আশ্বাস করিবে না। + লােভের দ্বারা বুদ্ধি বিচলিত হয় এবং লােভই সকল তৃষ্ণার হেতুভূত ; অতএব লােভকে পরিত্যাগ না করিলে কখনই শান্তিলাভ হইতে পারে না। + দ্বিজ অর্থাৎ ভিক্ষুক যদ্যপি অসন্তুষ্ট হয়, তবেই নষ্ট হয়। অতএব ভিক্ষুক সকল যদৃচ্ছালব্ধ বস্তুতেই সতত সন্তুষ্ট থাকিবেক।
কমলাকরুণাবিলাস যাবে। কিষ্টো কি মুখ তুলে তাকাবে না? কাঙ্গালের কতা তার কি গােজার হবে না ? গােস্বামী। নৈতৎ কদাচিচ্চেতসি চিন্তরিতব্য। পরন্তু সুখস্যানন্তরং দুঃখং দুঃখস্যানন্তরং সুখম্। ইতীশ্বরেণ নির্দিষ্টং কথমন্যাদৃশম্ভবেৎ। * বৈষ্ণব। এবার বুজি ও পেথা ঘুচ্যে থাকবে। তাঃ নল্যে কি অ্যাত দিন যত কষ্টে যায়। যা হােক্ অ্যাকোন্ কোত গেলে নিস্তের পাই বলুন দেকি, পেটের দায়ে নিশ্চিন্দি হয়ে দুটো গেন্তোর কত জেগ্গাসা করি। গগাস্বামী। তাত ! ভাবিপ্রলব্ধভোগস্য বৈফল্যায় লব্ধমানবদেহস্য সাফল্যায় চ সম্প্রতি শ্রীনিবাসস্থ নিবাসস্থলী দ্বারকৈব গন্তব্য। বৈষ্ণবঃ। (সচকিত) উঃ সে যে ঢের ধুর! গােস্বামী। নাতিদূরে বৰ্ততে সা। বৈষ্ণবঃ। (সভয়) মােড়া দুজনায় সেখানে কেমন করে যাব ? পতে কত বাগ ভালুক আছে। আবার শুনেছি"সমুদ্দর নাকি পার হতে হয়। বাপরে আমি তো পারবাে না। সেকানে তো ছীপ কোষা মানায় না যে টুক্ করে পার হবে। সেকানে বরাে বরো হােহারে উটতে হয়। গােস্বামী। (সহাস্থ) অত্র কা ভীতিঃ ? পশ্যৈতদ্বক্ষমূলমুপতিষ্ঠমানা পান্থজনা অপি তদভিমুখগমনােখা ইব লক্ষ্যন্তে। ঈশ্বরের নির্দেশানুসারে সুখের পর দুঃখ এবং দুঃখের পর সুখ পৰ্যায়ক্রমে হইয়া থাকে। অতএব ইহা কোন ক্রমেই অন্যথা হইবার নহে। ১। “গােজার” সংস্কৃত গােচর শব্দ হইতে উৎপন্ন। এবং “ওঁজরৎ” শব্দও ঐরূপ গােচরাৎ শব্দের বিকৃতি। ২। কোষার ন্যায় আকার হওয়াতেই নৌকা বিশেষের নাম সীপ ( ছিপ) ও কোষা হইয়াছে। যেহেতু “সীপ” শব্দেও কোষা। ৩। হােড়ং বহিং (নৌকাবিশেষঃ) ইতি ত্রিকাগুশেষঃ।
কমলাকরুণাবিলাস । তদয়ং পথিকসার্থোপ্যস্মাকং সার্থে ভবিষ্যতি। অপিচ সংসারদুঃখজলধো বিকরালবত্তৈ কামাদিজন্তুনিকরৈঃ পরিতাে বৃতেহস্মিন্ । যৎপাদপদ্মরণিঃ ক্রিয়তেহবলম্ব- স্তন্নামকীৰ্ত্তনবতাং কিমু সিন্ধুভীতিঃ || * অথবা, কিমুতান্তভীতিঃ। বৈষ্ণবঃ। (সােৎসাহমুখায় বিকটং পরিক্রম্য চ) “হরিনাম লইতে অলস করাে না রসনা, যা হবার তাই হবে। দুখাে পেএছে আরাে না পাবে, ঐহিকের সুখ হলাে না বলে কি ঢেউ দেখে না ডুবাবে ॥” (ইতি বারংবারমুচ্চৈঃ সংকীৰ্ত্তয়াট্যং নাটতি ; সৰ্ব্বে পথিকজন দূরতােহপি তচ্চীৎকারং ত্বা সচকিতমবলােকয়ন্তি) গােস্বামী। ( হস্তমুত্তোল্য উচ্চৈঃস্বরেণ) ভাে ভােঃ পান্থজনাঃ যুয়ং কুত্র বা গমনােৎসুকাঃ স্থ ? * কামাদিরূপ বিকটবদনজন্তুসমূহের দ্বারা পরিবৃত এই সংসাররূপ দুঃখ- সমুদ্রে যার পাদপদ্মরণিকে তােক অবলম্বন করিয়া থাকে, তাহার নাম যাহারা কীৰ্ত্তন করে, তাহাদিগের কি সামান্য সমুদ্র হইতে অথবা অন্য কোন কিছু হইতে ভয় উপস্থিত হইতে পারে ? ১। “সার্থ” ভাষায় সেথাে বলে। ইহার প্রকৃত অর্থ “বণিসমুহ”। সকল দেশেই পূৰ্বে পথের দুর্গমতাপ্রযুক্ত এই প্রকার রীতি ছিল যে, বণিকসমূহ যখন একত্র হইয়া দূরদেশে বাণিজ্য করিতে যাইত, তথনই অন্য অন্য লােক ঐ সঙ্গে দূর দেশে গমন করিত। নচেৎ নির্বিঘ্নে দূর দেশে গমনাগমনের অন্য কোন উপায় ছিল না। কালক্রমে ঐ “স” শব্দটী “সেখাে” এই শব্দে বিকৃত হইয়া পথপ্রদর্শক অর্থে ব্যক্তিমাত্রের প্রতি প্রয়ােজিত হইতেছে। এজন্য বণিকদিগের নামও “সার্থবাহ" হইয়াছে। তথাচ অমরকোষে “বৈদেহক সার্থবাহে নৈগমাে বাণিজো বণিক। ২। নৌকা।
কমলাকরুণাবিলাস
পান্থজনাঃ। (তাদৃপ্রতিস্বরেণ) দ্বারকায়ামিতি।
গগাস্বামী। অস্মাকমপীদমেবভিীষ্ট। তৎক্ষণমপি বিলম্বং কুরুধ্বম্।
( ইতি বৈষ্ণবেন সহ দ্রুততরং গমনং নাটয়তি)
ততঃ প্রবিশতি চেলথণ্ডৈকোত্তরীয়বসনঃ সুদামা
সুদামা। (সখেদ)
মিত্রং মমান্তঃকরণজমিত্রং
দ্রষ্টং প্রয়ামি ত্বরমাণচিত্তঃ।
উপায়নােপায়বিশেষহীনঃ
কথং সভায়ামুপমি তস্য ॥ *
(ইতি মনসা চিন্তয় কিঞ্চিদগ্রতাে গত্বা সহর্ষ অয়ে ইমে পান্থজন অপি
খলু দ্বারকাভিমুখমভিবর্তন্তে। তদহমপ্যেতেষামনুগামী ভবামি। (ইতি সত্বরগমনেন
তানুপসর্পতি ; এবং সৰ্বে সয় বােভূয়মান হর্ষাবেগেন গমনং নাটয়ন্তি)
ততঃ কশ্চিৎ কিঞ্চিদ্রততা গত্বা শ্রুতিমভিনীয় সপুলক।
অয়েহনতিদূরেইসৌ দ্বারকা। যতােহা দ্বারােপরিস্থদুন্দুভিপ্রভৃতীনাং
দুমদুমায়মানধ্বনিরাকর্ণতে। তথাহি
নিশম্য সিন্ধুসন্নিধৌ সমৃদ্ধদুন্দুভিধ্বনিং
পয়ােগজ্জিততাপমাশব্দসংঘসংগতম্।
সুরাসুরাদিরূৰ্ধতা নিরীক্ষতেহতিবিস্মিতঃ
কিমেতদেব বৰ্ত্ততে পুনঃ পয়ােধিমন্থনম্ ॥ ৭
•
* আমার অন্তঃকরণরূপ পদ্মের ‘মিত্ৰ সূৰ্য্যস্বরূপ (অর্থাৎ অন্তঃকরণ
মধ্যে যাহার উদয় হইবামাত্রই অন্তঃকরণ প্রফুল্ল হইয়া থাকে) ‘মিত্রকে
বন্ধুকে দর্শন করিবার নিমিত্ত আমি গমন করিতেছি। কিন্তু তাহাকে
কোন উপযুক্ত উপায়ন প্রদান করিবার আমার কোন উপায় নাই। অতএব,
তাহার সভাতে আমি কেমন করিয়া উপস্থিত হইব।
+ সমুদ্রের সন্নিকটে মেঘগর্জনতুল্য অন্য অন্য শব্দসমূহমিলিত অতি গাঢ়তর
২। মিত্ৰং সুৰ্যঃ সুহৃদিতি বামনঃ ।
কমলাকরুণাবিলাস
ততঃ কশ্চিদপরঃ। অয়ে পশু পশ্য
ইতস্ততশ্চন্ত্যে পতাকা পরিদৃশ্যতে।
দরিদ্ৰানায়ন্তীব প্রাসাদোপরিস্থিতা ॥ *
অতত মুহূৰ্ত্তমাগমোহয়ং পন্থা বৰ্তত ইত্যনুমীয়তে।
( এতচ্ছ ত্বা সৰ্ব্বে
বেগেনােপসপন্তি )
ততাে গােস্বামী। (সমন্তাদবলােক্য প্রমদাতিভরেণ গদগদাক্ষরেণ) অয়ে
ভ্রাতরঃ ! ইয়মেব সা ত্রিভুবনগরীয়সী নগরী। তথাহি
যা চিন্তামণিনামভূবিরচিতা চিচ্ছক্তিবৃত্তিমত
যা রত্নাকরদত্তরত্নবহুলা ভূমীতি লােকে ।
নিত্যানন্দপুরী চ যা ভগবতঃ সেয়ং প্রপঞ্চাগতা
মুক্তিদ্বারমসৌ যতস্তমুভৃতাং খ্যাতা তত দ্বারকা।
(ইতি সভক্তি প্রণমতি, তৎসহচরা অপি সৰ্বে তমকুৰ্বস্তি)
দুন্দুভিধ্বনি শ্রবণ করিয়া সুরাসুর প্রভৃতি বিমানচারিগণ অতিশয় বিস্ময়াপন্ন
হইয়া, এ কি আবার সমুদ্র মন্থন আরম্ভ হইল, ইহা মনে করিয়া উদ্ধ হইতে
নিরীক্ষণ করিতেছেন।
* ওহে দেখ দেখ ‘শ্রী’র লক্ষ্মীর মন্দিরের উপরিস্থিত পতাকা বায়ু দ্বারা
ইতস্ততঃ সঞ্চালিত হওয়াতে যেন দরিদ্রদিগকে নিকটে আহ্বান করিবার নিমিত্ত
নিযুক্ত আছে, এই প্রকার দৃষ্ট হইতেছে।
+ যিনি চিন্তামিণ নামী ভূমিদ্বারা বিরচিতা এবং চিচ্ছক্তিবৃত্তিস্বরূপা, যিনি
রত্নাকরের প্রদত্ত রত্নময়ী ভূমি বলিয়া লােকমধ্যে খ্যাত। যিনি ভগবানের নিত্য
১। এখানে “” শব্দের অর্থ লক্ষ্মী এবং শ্রীযুক্ত।
২। তথাচ চৈতন্যচরিতামৃতে। চিচ্ছক্তিবিলাস এক শুদ্ধসত্ত্ব নাম। শুদ্ধসত্ত্বময় যত
বৈকুণ্ঠাদি ধাম ইত্যাদি।
৩। সমুদ্র শ্রীকৃষ্ণের আদেশমত স্বীয় গর্ভ মধ্যে যে একটী স্থান প্রদান করেন, তাহাতেই
দ্বারকাপুরী নির্মিত হয়। ইতি পুরাণবার্তা।
৬২ কমলাকরুণাবিলাস ততঃ কশ্চিদশ্যঃ। ( অন্ততােহবললাক্য) অয়ে পৌরজনহৃদয়ানুরাগেণেব সান্ধ্যরাগেণ পুরমেতদাবৃতং দৃশ্যতে। তদ্বয়ং ত্বরিতমেব পান্থশালাপ্রাপকং পন্থান- মেবাবলম্বেমহি। কশ্চিদপরঃ। হা হন্ত হা হন্ত। অচিরাদেব পান্থজননয়নান্ধকরণেনান্ধ: কারেণ বয়মপি সৰ্ব্বেন্ধাইব সঞ্জাতাঃ। “পদ্মিনীজনবিয়ােগসুতপ্তো নিৰ্ম্মম… জলধো দিননাথঃ। সাভ্রধূমপটলৈরিব তস্মা- দুদগতৈজগদপূরি তমােভিঃ”। ততস্তদিত কশ্চিৎ। (সােচ্ছাস) অয়ে ভগবত দ্বারকানাথস্য নিদেশ প্রতিপালয়িতুমিব তামসীনাথােহয়ং তিমিরতিমসীমলীমসীকতপুরস্থ পরি- স্কারায় স্বরনিকরং প্রসারয় স্বীয়সুধাকরত্ব১ পরিচয়ং প্রদদাতি। পশ্য পশ্য দুর্জন দৌর্জং নাতিকালং বৰ্ততে। তথাহি “দশশক্ষককুকরিনিঃস্তঃ কিরণকেশরভাস্বরঞ্জিরঃ। আনন্দধাম, তিনিই এই ‘প্রপঞ্চাগতা’ প্রপঞ্চের গােচরীভূতা অর্থাৎ প্রকটরূপা হইয়া প্রাণীদিগের মুক্তিদ্বার স্বরূপে দ্বারকা নামে খ্যাত হইয়াছেন। * এই জগৎ অন্ধকার দ্বারা আবৃত হওয়াতে এই প্রকার বােধ হইতেছে,যেন দিনমণি নিজ পদ্মিনীর’ অর্থাৎ উত্তমলক্ষণবিশিষ্ট স্ত্রী অথচ পদ্মসমূহের বিরহে সন্তাপিত হইয়া সমুদ্রে ঝম্প প্রদান করাতে তথা হইতে মেঘের ন্যায় ধূমপটল উখিত হইয়া এই ব্রহ্মাণ্ডকে পরিপূর্ণ করিতেছে। ১। “সুধা” শব্দে অমৃত এবং চুলেপ (অর্থাৎ চূণকাম); এই জন্য সুপালিপ্ত অট্টা- লিকাকে সৌধ কহে। ২। অযােধ্যা মথুরা মায়া কাশী কাঞ্চী অবন্তিকা। পুরী দ্বারাবতী চৈব সপ্ততা মােক্ষদায়িকাঃ ইতি। ৩। পদ্মিনী স্ত্রবিশেষেৎপাঁতি বিশ্বঃ। ৪। পদ্মিনী পদ্ধমিতি বিশ্ব।
'কমলাকরুণাবিলাস তিমিরবরণযুথবিদারণঃ সমুদয়াদুদয়াচলকেশরী ॥” “অঙ্কশৈবলবিভূষিতপূষ্ঠো বিভ্রদল্পতরভানুমৃণালম্। পূৰ্বদিতটসরােবরমধ্যা- দুম্মমজ্জ শনকৈঃ শশিহংসঃ ॥” ৭ গোস্বামী। (অপৰাৰ্য) কিং বৃথা প্রকৃতবিষয় নিবেনৈবদপহ্ন- বারােপাদিবর্ণনয়া। বস্তুতেহয় সিন্ধুনা স্থাপিতং দৃষ্ট। বিধুং বিগতলাঞ্ছন। আত্মানং লাঞ্ছিতং মত্বা বিধুর্বিষ্ণুপদং শ্রিতঃ ॥ অতএব রসজ্ঞপণ্ডিতাঃ শান্তিরসস্ত স্থায়িরূপনে যন্নিদোখ্যং ভাবং বর্ণয়ন্তি তৎ সত্যমেব । = * দেখ দেখ পুরন্দরাধিষ্ঠিত দিরূপ গিরিকর হইতে বিনিঃসৃত কিরণরূপ কেশরদ্বারা ঘন-পিঞ্জর এবং তিমিররূপ ইস্তিযুথের বিদারণকারী এই পূৰ্ব্ব- পৰ্ব্বতারূঢ় কেশরী (অর্থাৎ চন্দ্র) উদয় হইতেছেন। + যার পৃষ্ঠদেশ কলঙ্করূপ শৈবাল দ্বারা শােভিত হইয়াছে, সেই এই চন্দ্ররূপ হংস, অতি সূক্ষ্ম কিরণরূপ মৃণালকে ধারণ করিয়া পূৰ্ব্বদিক্স্থিত সরােবরের মধ্য দেশ হইতে অল্পে অল্পে উথিত হইতেছেন। + লাঞ্ছনরহিত অর্থাৎ নিষ্কলঙ্ক ‘বিধু কৃষ্ণ২ সমুদ্র কর্তৃক এক্ষণে সংস্থাপিত হইয়াছেন দেখিয়া ‘বিধু চন্দ্র আপনাকে লাঞ্ছিত অবমানিত, বস্তুতঃ কলঙ্কিত মনে করিয়া ‘বিষ্ণুপদকে আকাশকে আশ্রয় করিয়াছেন। তাৎপৰ্য্য এই যে ১। উদয়কালীন চন্দ্রেতে কিঞ্চিৎ পীত ও রক্তবর্ণের প্রকাশ হইয়া থাকে। ঐ উভয় বর্ণমিশ্রিত বর্ণকেই পিঞ্জর বর্ণ কহে। ২-৩। বিধুবিকে চন্দ্রমসাত্যময়। ৪। বিয়দিপদং বা দু পুংস্তাকাশবিয়সীতমঃ ।
৬৪ কমলাকৰুণাবিলাস সৰ্বে। (সশিরঃকম্প) এবং নাম। ততঃ কশ্চিৎ পুরতােহলােক্য। অয়ে পশ্য পশু ক্ষুধাতুরাণাং কীদৃশ্বিবেক। চাতুর। তথাহি “ছায়াচ্ছদানাং শশিনশ্চদীধিতী- মূলে তরূণাং মিলিতাঃ সমন্ততঃ। আলােক্য ভােক্ত তিলতণ্ডুলভ্ৰমাৎ ক্ষুন্দন্তি চঞ্চপুটকৈয়ােগণাঃ ॥” কশ্চিদপরঃ। (সাধিক্ষেপ) আয়ে বৃথা বচনেনা। সম্প্রত্যস্মাভিঃ কেন পথা বা গমনং বিধীয়ত ইত্যবধীয়তাম্। (অথ সৰ্বে ক্ষণং কিংকর্তব্যমূঢ়তামূঢ়- বন্তঃ স্থাণুবদবস্থিতাঃ) ততঃ প্রবিশতি কশ্চিদ্রাজপুরুষঃ রাজপুরুষঃ। ভাে ভাে বৈদেশিকাঃ কথং যুয়ং দণ্ডবদ্দণ্ডায়মানঃ প্রতীক্ষধ্বে। ইতস্তু দক্ষিণা হি যা রাজপুরী তামুত্তরে সুবিশালাং পান্থশালামুদ্দিশ্যৈ। চন্দ্র চিরকালাবধি সমুদ্রের আশ্রয়ে যে স্থানে বাস করিতেন, এক্ষণে সমুদ্র আর এক জনকে সেই স্থানে সংস্থাপন করাতে চন্দ্র অভিমানে আপনাকে ধিক্কার দিয়া গৃহাশ্রম পরিত্যাগ করতঃ বিষ্ণুপদকে আশ্রয় করিয়াছেন, অর্থাৎ বৈষ্ণব, ধর্মের অবলম্বন করিয়াছেন। অন্য ব্যক্তিও ঐ প্রকার রাজাদিকর্তৃক স্থান- ভ্রষ্ট হইলে গৃহধর্ম পরিত্যাগ করিয়া অগত্যা বৈষ্ণব ধৰ্ম্ম অর্থাৎ ভেকাদি গ্রহণ করিয়া থাকে। * পত্রের ছায়া এবং চন্দ্রের কিরণ এক মিলিত হইয়া বৃক্ষের মূলে পতিত হওয়াতে ক্ষুধার্ত্ত পক্ষিসকল উহাদিগকে তিলততুল ভ্রমে চঞ্চুপুট দ্বারা বারম্বার খুটিতেছে। ১। “ভিক্ষা” শব্দ হইতেই “কে” শব্দের উৎপত্তি হইয়াছে।
কমলাকরুণাবিলাস বানেন সম্যগুপতিষ্ঠমানেন পথা প্রতিষ্ঠধ্বম্। গত্বা চ তত্র কিল নিখিললােকাভি মাত্ৰামন্নকুটযাত্ৰাং প্রত্যক্ষীকুরুধ্বম্। তথাহি গৃহতাং বহুবিধােত্তমোদনং ভুজ্যতাং চ নিয়তং যথারুচি। ইত্যমুক্ষণমপি প্রবৰ্ত্ততে তত্ৰ কৰ্ম্মঠগণস্য ভাষিতম্ ॥ * কিঞ্চ, গুণে গুণগণস্তাত্র গণয়িতুং ন শক্যতে। গুণােহপি গুণনা যস্য গুণবাতি নিশ্চিত। ততঃ কশ্চিন্মিষ্টান্নপ্রিয়ঃ। (সুমিষ্টবচনেন) কঞ্চিৎ তত্র বিমােদকাদি নিৰ্ম্মিতে মুদগমােদকাদিরপি মােদতে ? কিমু সৰ্ব্ব-মনােহরা কুণ্ডলিনী চণ্ড বিরাজতে? * নানাপ্রকার উত্তম উত্তম অন্ন গ্রহণ কর এবং নিয়ত যথাভিলষিত ভােজন কর, এই প্রকার বাক্য যেখানে কর্মচারীদিগের কর্তৃক নিয়তই উক্ত হইতেছে। । এখানকার ‘গুণগণের পশ্চকদিগের যে কত গুণ তাহার গণনা করা যায় না। যে হেতু প্রধান পাচক বলিয়া প্রসিদ্ধ যে ‘গুণ ভীম মহাশয় তিনিও যাহাদিগের গুণের গুণন অর্থাৎ চিন্তা করিতে গিয়া স্বয়ং গুণবৎ১০ প্রতীয়মান হইয়া থাকেন, অর্থাৎ তিনিও আপনাকে তাহাদিগের সদৃশ বিবেচনা ১। কশ্চিৎ কামপ্রবেদনে ইত্যমরঃ। কোন অভিলষিত বিষয়ের জিজ্ঞাসা স্থলে এই • শব্দের প্রয়ােগ হইয়া থাকে। ২। “ বিমােদক বামুনময়র। ইতি খ্যাত। ৩। “মুদগমােদকঃ” মতিচুর ইতি ভাবপ্রকাশঃ। ৪। “সর্ব” সকল পক্ষে শিৰ। ৫। কুণ্ডলিনী জিলবী ইতি ভাবপ্রকাশঃ। পক্ষে কুলকুণ্ডলিনী শক্তি। যথা, ধ্যায়েৎ কুণ্ডলিনীং সূক্ষ্মাং মূলাধারনিবাসিনীমিতি তন্ত্রসারঃ। ৬। “মােদতে” ও “বিরাজতে” এই দুই শব্দ অতিশয় আদরসুচনাৰ্থ কথিত হইয়াছে। ৭-১০। গুণােপ্রধানে রূপাদৌ মৌ্যাং সুদে বৃকোদরে। স্তম্ভে সৰ্বাদিসন্ধ্যাদি বিদাদিহরিদিঘিতি বিশ্বঃ।
কমলাকরুণাবিলাস (রাজপুরুষঃ সহাসং বাঢ়ং বামিত্যুক্ত। প্রস্থিতঃ। এবং সৰ্বে শ্রুতি- সুখকরবচনতিমাত্রেণ পুলকিতগাত্রেণ পরস্পরমালিঙ্গ্য “বরং তত্রৈব কিয়ৎ- কালং নিবাসং কৃত্বা কঠোরােপবাসস্য হস্তান্নিষ্কৃতিং লভেমহি” ইত্যতোহন্তমভিধায় মনঃ সমাধায় চ মৃগবদযুগপদেব প্রস্থিতবন্তঃ) কিঞ্চিদগ্রতাে গত্বা কশ্চিদ্ভীরুস্বভাবঃ। অয়ে ভ্রাতরঃ কস্তত্র দুরন্তদৌবারিক হস্তাৎ পরিত্রাণস্যোপায় ইতি চিন্ত্যতাম্। কিং তত্ৰাৰ্দ্ধচন্দ্রদেয়১-দর্শনমাত্রেণ হৃৎপুণ্ডরীক মালিন্যং ন ভাব্যম্ ? ততঃ কশ্চিৎ সাহসিকঃ। (সাটোপ) হংহাে উল্কবীলুক ! সততং সাহসিকেন ভবিতব্য। যতঃ সাহসে ভজতে লক্ষ্মীরিতি সৰ্বেরপি নীতি- কোবিদৈনির্ণীয়তে। পুনঃ প্রথমঃ। অরে রে ক্ষোমশুর ক্ষমস্ব ; নৈতদ্বচনং নিয়তং ক্ষেমায় কল্পতে। যতঃ সাহসে ভজতে লক্ষীরিত্যাহুরর্থগৃধুবঃ। কচি কচিদৰ্থবমনথোহপজায়তে । * “সহসা বিদধীত ন ক্রিয়া- মবিবেকঃ পরমাপদাম্পদ। করেন না। ইহার দ্বারা ভীম মহাশয়ও যে ভােজনাভিলাষী হইয়া মধ্যে মধ্যে দ্বারকায় আসিয়া থাকেন ইহাও বলা হইল। * অর্থলােপুপগণ কহিয়া থাকে যে সাহসেতেই সম্পত্তি হয়। কিন্তু দেখা যায় সে কখন কখন অর্থের পরিবর্তে অনর্থও আসিয়া উপস্থিত হইয়া থাকে। ১। অর্ধচন্দ্রঃ গলহস্তঃ। অগ্নিহােত্রহগ্নিহবিষাের্ধচন্দ্রে নক্ষতে। গলহন্তে বাণভেদে কৃষ্ণত্রিবৃতি তু স্ত্রিয়ামিতি মেদিনী। ২। “ক্ষোমশুর” নির্ভয়স্থানে শুর ইতি শ্রীমদ্ভাগবতটীকায়াং শ্রীধরস্বামী।
কমলাকরুণাবিলাস ১৭ বৃণুতে হি বিমৃষ্যকারিণং গুণলুব্ধাঃ স্বয়মেব সম্পদঃ ॥” * ইতি যৎ সাধুভিরুক্তং তদেব সাধু। ততাে গােস্বামী। কথমকাণ্ডে প্রকাণ্ডবাদানুবাদোহয়ং প্রবর্ততে ? কিমস্যাং ভিক্ষুকাণামবারিতদ্বারকায়াং দ্বারকায়াং পুনর্বারপালস্য শঙ্কা? (ইত্যেবং সর্বে বহুবিধসংলাপং কুৰ্ব্বন্ত উপসর্পন্তি) ততঃ সুদামা। (স্বাগতম্) অতঃ পরমেতেষামনুগামী ভবিতুং ন যুজ্যতে। অহন্তু মমাসেচনকস্য দর্শনরসেন চিরসন্তপ্তদর্শনযুগলস্য সেচনং কুৰ্য্যাম্। (ইতি পরাবৃত্য নিষ্ক্রান্তঃ) ততঃ প্রবিশতঃ কশ্চিদ্ভগবৎপাশ্ববর্তী ভৃত্যঃ কশ্চিৎ পরিচারকো ব্রাহ্মণ। ভৃত্যঃ২। (সবিস্ময়) ঠাকুরজী ! আজ এক বড়ী চমৎকারকী বৃত্তান্ত পড়িহে। ব্রাহ্মণঃ। (সম্পূহ) অরে তৎ কথয় তাবৎ কীদৃশম্ ? ভৃত্য। আজ সারু হেনেনি পিছে এক দীনহীন তন্ ছীন্ দরিদ্দ বাহ্মণ প্রভুকে পাস্ আয়া। কেয়া জানে উহাকু চেন্ দুর্ভাগা ব্রাহ্মণনে ঐসা ক্যা অগলে জনমূমে পুণ্য কিয়া থা জো ত্রিলােকীনাথ মহারাওনে উকো দেখতে হী সিংহাসমে উত আগবঢ়ে ভেট কর অতি প্যারসে হাত পকড় উকো লে গয়ে, পুনি সিংহাসন প বেঠায় পাও পথকে চরণামৃত লিয়া আগে চন্দন চর * সহসা কোন কৰ্ম্ম করিবে না, কারণ যাহারা বিবেচনা না করিয়া হঠাৎ কোন কৰ্ম্ম করে তাহারা নানা বিপদাপদে আপন্ন হয়। গুণলুব্ধ সম্পদ সে কেবল বিমৃষ্যকারী ব্যক্তিকেই বরণ করিয়া থাকে। ১। তদসেচনকং তৃপ্তেনাস্ত্যন্তে যস্য দর্শনাদিত্যমরঃ। ২। ভৃত্যের উক্তিতে যে সকল হিন্দিভাষা লিখিত হইয়াছে, তাহার অধিকাংশই কোন প্রাচীন গ্রন্থ-কিশেষ হইতে উদ্ধত।
কমলাকরুণাবিলাস অচ্ছত দিয়া অম্বুর ঔর চলিকী আরকং লগায় পুষ্প চঢ়ায়া ধূপ, দীপ, নৈবিদ কর উল্কী পূজাকী। ব্রাহ্মণঃ। (সা) অহহ “লােকব লীলাকৈবল্য” ইতি যত্মনিভি- নির্ণীতং তদধুনা প্রত্যক্ষমেব দৃশ্যতে। তথাহি যৎপাদপঙ্কজরজো বিধিশঙ্করাচ্ছা বাগুন্তি সন্ততমনন্যধিয়ানুরক্তাঃ। ধৰ্ম্মস্য রক্ষণকৃতে স কৃতাবতারাে লােকান্ বিড়ম্বয়তি লৌকিকতা প্রদর্শ।* ভৃত্য। উহ ব্রাহ্মণ প্রভুকে গুরু ভাই হৈ ঐসি সমুরুতে হোঁ। কেঁওকে প্রভুনে উসে গুরুকে ঘরকি বাতেঁ করনে লগে থে। ব্রাহ্মণঃ। তৎ কিমিব বিস্তারেণ বদ। ভৃত্যঃ। প্রভুনে উসে কহে কি ভাই তুমহে উহ শুধ হৈ জো একদিন গুরু পত্নীনে হমে তুহে ইন্ধন লানে ভেজী র্থী ঔজর বনমে ইন্ধন লে গঠড়িয়া বান্ধি শির প ধ ঘরকো চলে তব আন্ধি ঔর মােহ আয়া ঔ লাগা মুষলধার বারি বরখনে। জল স্থল চারে। ওর ভর গয়া। হম্ তােম্ ভীগ, কর, মহা দুখ * ব্রহ্মা ও শিব প্রভৃতি নিয়ত অনুরক্ত ও অনন্যচিত্ত হইয়া যাহার পাদপদ্ম- রেণুর বাঞ্ছা করিয়া থাকেন, সেই প্রভু ধৰ্ম্মরক্ষার নিমিত্ত অবতীর্ণ হইয়া, লােকিক ব্যবহার প্রদর্শন করতঃ লােকসকলকে বিড়ম্বনা করিতেছেন। অর্থাৎ স্বীয় ঐশ্বৰ্য্যভাবের গােপন করিয়া লােক সকলের মােহ জন্মাইতেছেন। ১। “অম্বরং” সুগন্ধিদ্রব্যবিশেষ ইতি বিশ্বঃ। আরবী প্রভৃতি অন্য অন্য ভাষাতেও এই শব্দটি এই অর্থেই ব্যবহৃত হইয়াছে। ২। “অর্কঃ” নিৰ্যাসবিশেষঃ। তথচি রাবণ-মন্দোদরী-সংবাদে অর্কপ্রকাশগ্রন্থে, চল্যকপলং বাপি শীতার্তো মালতীভব, ইত্যাদি। আরবী ভাষাতে এই শব্দ বিকৃত হইয়া অরক শব্দ হইয়াছে। ৩। বেদান্তদর্শনে। ব্রহ্মসূত্রে ২, ১, ৩৩।
কমলাকরুণাবিলাস
পায় জাড়া খায় রাত, ভন্ এক বৃক্ষকে নীচে রহে। ভােরহী গুরুদেওনে
বনূমে উঁঢ়নে আয় ওর
হম্ দোনোকে দেখকে অতি করুণা কর আসীস দে
হমে তুমহে আপনে সাথ ঘর লিবায় লায়ে।
ব্রাহ্মণঃ। (সােৎকম্পম্)
আজ্ঞা গুরূণাং প্রতিপালনীয়া
শরীরতাে মানসতােহপি সর্বৈবঃ।
ইত্যেব বিজ্ঞাপয়িতুং সুনীচং
কৃতং ত্রিলােকীগুরুণাপি কাৰ্যম্ ॥ *
ততস্ততঃ ?
ভৃত্যঃ। পিছে প্রভুনে কহে, কে ভাই তুম্ অব গুরু ঘরকে ছােড় কর
ঘর বনায়ে হে। এসসৈ মৈনে ঐসি সমুরুতে হোঁ কে তুন্ অব, তন বহুসি
ইস্ত্রিকী পানি-পীড়ন কিয়ে হাে। উহ ব্ৰাহণনে ইহে বাতকো ছুন্ কর
মুচকায়া ঔর কহা কে মেই দরিদ্দর হে মুঝছে ঐসি কাম হােনা দূরতর হৈ।
আপ মহারাজ ধিরাজ হৈ, হে বহু বিহা হােনেকী বাত নিট আপকে
লিয়ে হৈ।
ব্রাহ্মণঃ। এতৎ সমীচীনমেবােক্তং ব্রাহ্মণেন। যতােহত্রেদমেব তত্ত্ব। তথাহি
একো দেবঃ কেশবাে বা শিববা বা
একং মিত্রং ভূপতিৰ্বা যতির্বা।
একো বাসঃ পত্তনে বা বনে বা
একা ভাৰ্য্যা সুন্দরী বা দরী বা +
* সকলের কর্তৃকই কায়মনঃসহকারে গুরুর আজ্ঞা অবশ্যই প্রতিপালনীয়া,
ইহা জানাইবার নিমিত্ত যিনি ত্রিলােকের গুরু, তিনিও অতি নীচ কর্মের
( অর্থাৎ কাঠাহরণাদির) সংসাধন করিয়াছিলেন।
হরি হউন অথবা হর হউন, একাগ্রচিত্ত হইয়া এক দেবতার উপাসনা
করাই শ্রেয়স্কর। ভূপতি হউন কিম্বা ব্রহ্মচারী হউন এক জনের সহিত মিত্ৰতা
৭০ কমলাকরুণাবিলাসম পরন্তু পরমপুরুষ পরমেশ্বরস্য স্বীয়শক্তয় এব তস্য প্রকৃতিত্বেন ব্যপশ্চিন্তে। তেন “পরাস্য শক্তিৰ্বিবিধৈব শায়তে” ইতি তত্বেন তুচ্ছজীনাং বহুলত্বাৎ তস্য বহুদারত্বং ন দোযাবহ। ততস্ততঃ ? ভৃত্য। ইসেভি ঔর এক বড় হর্ষকী বাত হৈ। মহারাজনে উহ ব্রাহ্মণ সে ঔর ঔর বাৎচিৎ ক পিছে কহাকে, ভাই ভামিনীনে ইমারে লিয়ে ক্যা ভেট ভেজী হৈ সে দেতে কেঁও নেহি কাহে কেঁামে দবায় রাখে হে।। ঠাকুরজী ইহে বচন সুন উহ ব্রাহ্মণ তাে সংকুচায় মুরঝায় বহা, ঔ প্রভুনে ঝট- পট কর চালকী পােটলী জো উকী বগলমে থী সাে নেকালী পুনি খােল- কর উসমেসে অতিরুচি কর দো মুঠি চাল খায়ে ঔর খাতেহী উনকে আঁখছে বারি নেকনে লগী। ব্রাহ্মণঃ। (সপুলকং বাষ্পবরুদ্ধ কণ্ঠেন) “পত্রং পুষ্পং ফলং তােয়ং যাে মে ভক্ত্যা প্রযচ্ছতি। তদহং ভক্তপহৃতমশ্নামি প্রতাত্মনঃ॥” ইতি যদ্ভগবাক্যং তদেব প্রতিপাদিতম্। বিদুরেণ কৃতং পূৰ্ব্বং ব্রাহ্মণেনাপি সাম্প্ৰতম্ ॥ * - করাই উত্তম। নগরে হউক অথবা বনে হউক, একস্থানে বাস করাই উচিত। সুরূপা হউক অথবা কুরূপা হউক, এক স্ত্রীর পাণিগ্রহণ করাই বিধেয়। * যে ব্যক্তি ভক্তিসহকারে আমাকে পত্ৰপুষ্পদিমাত্র প্রদান করে আমি সেই প্রতাত্মার অর্থাৎ নিষ্কাম শুদ্ধচিত্ত ব্যক্তির সমর্পিত পত্ৰপুষ্প সকল অতি প্রতি পূর্বক গ্রহণ করি ; এই যে ভগবদ্বাক্য ইহা পূৰ্বে বিরের কর্তৃক প্রতি- পাদিত হইয়াছিল; এক্ষণে এই ব্রাহ্মণ কর্তৃক আবার প্রতিপাদিত হইল। ; ১। পুরাণে বর্ণিত আছে যে ভক্তাধীন ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ দুর্যোধনের কর্তৃক অহঙ্কারক্রমে প্রস্তুত নানাবিধ মিষ্টান্ন পরিত্যাগ করিয়া বিদুরের গৃহে শাকান্নমাত্র পরমসুখে ভােজন করিয়াছিলেন। অতএব দেহা নামক ভজনাখ্য গীতে "জিৰ্য্যোধকী মেওয়া ছেড়ে শাক বিদুর ঘরে পাওয়ে” ইত্যাদি।
কমলাকরুণাবিলাস
৭১
ভৃত্যঃ। ওঁর জও তিসরী মুঠি ভরি ও শ্ৰীকৃমিনী দেবীনে প্রভুকা
হাথ পাড়ী ঔর কহি, মহারাজ আপনে দো লােক তাে ইহে দিয়ে অব,
আপনে রহনে কো ভি কোয়ি বখােগে কে নেহী। উহতাে ব্রাহ্মণ সুশীল
কুলী অতি বৈরাগী মহাত্যাগী দৃষ্ট আতা হেয় ইকো বিভৌপনেমে ন কুছ
হর্ষ ন জানে সে কুছু শােগ।
ব্রাহ্মণঃ। (সশিরঃকম্প) ধন্যাসি মাতা রুক্মিণী। অয়ি কৃষ্ণমনােরথা-
ভিজ্ঞে পরমবিজ্ঞে! অতিক্রান্তাস্তি ভবতা ভগবত্যা শ্রুতিঃ স্মৃতিশ্চ। যতঃ
তুলসীদলমাত্রেণ জলস্য চুলুকেন বা।
বিক্ৰীণীতে স্বমাত্মানং ভক্তেভ্যো ভক্তবৎসল।
ইতি তত্ত্বেন জানন্তী ত্বং সর্বতত্ত্বরূপিণী।
ন্যবারয়াে হলংবুদ্ধ্যা তমসকৃৎপরিগ্রহাৎ ॥ *
তত্ততঃ ?
ভৃত্য। অব, তত উহ ব্ৰাহ্মণ প্রভুকে বচন লিয়ে শয়নমন্দির মে পৈঠা।
ঔর এক রতনকি জড়াও ছপ্পরমে লীটা। দেখে কান্ প্রামে কেয়া পুনি
আশ্চৰ্য্য হােয়।
ব্রাহ্মণঃ। তদহমপি খাৎ শ্রোতুকামােহস্মি ।
(ইতি নিষ্ক্রান্তেী)
* ভক্তবৎসল ভগবান্ কেবল একটী তুলসী পত্রের ও এক গণ্ডুষ পরিমিত
জলমাত্রের বিনিময়ে আপনার আত্মাকেও ভক্তের নিকটে বিক্রয় করিয়া
থাকেন, এই কথা যথার্থরূপে জানিয়া সৰ্ব্বতত্ত্বরূপা যে তুমি অলং বুদ্ধিক্রমে
অর্থাৎ আর কেম, ইহাই যথেষ্ট হইয়াছে, এই প্রকার বিবেচনা করিয়াই
শ্রীকৃষ্ণকে বারম্বার গ্রহণ করিতে যে নিবারণ করিয়াছ, ইহাই লিখিত হইতেছে।
১। তত্ত্বং ব্রহ্মণি যাথার্থে ইত্যমরঃ।
২। এখানে “তত্ত্ব” শব্দে সাংখ্যোক্ত সমুদায় পদার্থ।
৭২ কমলাকরুণাবিলাস ততঃ প্রবিশতি কশ্চিদ্বীণাহস্তো বৈণিকো বৈতালিকঃ কশ্চিদঘান্টিক বৈতালিকঃ। (সুমধুরষ্পরেণ) জয় গুণসিন্ধো- হখিলজনবন্ধো জাগৃহি তল্পং ত্যজ শশিকল্প। শ্রিতচরণানাং প্রণতজনানাং দত্ত্বাহ্লাদং দর্শয় পাদম্ ॥ * (ঘান্টিকো দূরতত ঢণঢণিতি ঘণ্টাং বাদয়তি) পুনবৈতালিকঃ। (কিঞ্চিদুচ্চকৈঃ) হে জনলােচন কমলবিয়ােছন সত্বরমুদয়ং স্বীকুরু সদয়ম্ । প্রণতিপরাণাং স্বপরিকরাণাং হৃদগতমচিরং নাশয় তিমিরম্ ॥ (এবং ঘান্টিকঃ ক্ষণে ক্ষণে ঢণায়মান ঘণ্টাং চালয়তি) , জয় জয় গুণসিন্ধু নিখিল জনের বন্ধু নিদ্রা ত্যজি কর জাগরণ। ত্যজ শয্যা মনােরম তুহিনকিরণসম করহে করুণা বিতরণ ॥ যারা তব পদদ্বয় করিয়াছে সমাশ্রয় যারা তব চরণে প্রণত। তাহাদের সুখসগ্ন তােমার যে পাদপদ্ম। তাহা দশাও অবিরত। + ওহে লােক-নেত্র কমলের মিত্র সত্বরে উদয় কর। প্রণতগণের হৃদয়-তিমির হর ৷ স্বপরিজনের ১। “রাজ্ঞঃ প্রবােধসময়ে ঘণ্টাশিল্পাস্তু ঘটিকা ইতি নৈষধটীকা। ২। সম্প্রদানস্থলে ষষ্ঠীও হয়। অথবা “জনানামাদি এই প্রকার অন্বয় করিলে সম্বন্ধেও ষষ্ঠী হইতে পারে।
কমলাকরুণাবিলাস অতিমধুরবিপঞ্চীপঞ্চমধ্বানমিশ্রং, সুললিতমবিগীতং গীতমেতন্নিশম্য। যদুবরপরিবারাে বীতনিদ্রঃ প্রভাতে ত্যজতি মৃদুলশয্যাং কৃষ্ণ কৃষ্ণেতি জল্প। ততঃ প্রবিশতি জাহ্নদভরসজাতপুলকাবলিঃ সুদামা। সুদামা। (আত্মগত) অহাে ব্ৰহ্মণ্যদেবস্য ব্রাহ্মণপ্রিয়তা। কাহং দরিদ্রঃ কৃতদুষ্কৃতশ্চ কাসৌ হরিঃ শ্রীপতিরীড্যকীর্তি। * প্রভাতকালে অতি সুমধুর বীণার পঞ্চম স্বরমিশ্রিত এই ‘সুললিত’ মনোেহর অথবা সুন্দর ললিতাখ্য রাগ অথবা রাগিণী দ্বারা যুক্ত ‘অবিগত অনিন্দিত গীত শ্রবণ করিয়া যদুবংশীয় পরিবারস্থ সকলেই বিগতনিদ্র হইয়া “কৃষ্ণ কৃষ্ণ” এই শব্দ উচ্চারণ করতঃ নিজ নিজ কোমল শয্যা পরিত্যাগ করিতে আরম্ভ করিলেন। = ১। ইহাকে কোনমতে রাগ ও কোনমতে রাগিণী কহে। ২। যদিও, প্রভাতে সুরতে নিন্দ্য ঋষভঃ পঞ্চমোহপি চ। জনয়েৎ ধনং হাক্ষা পঞ্চত্বং পঞ্চমােহপি চ। পঞ্চম বিশেষােবয়ং কথিতঃ পূর্বসূরিভিঃ। প্রাতঃ প্ৰগীতে জনয়েশনস্য বিপর্যয়ম্। ইত্যাদি জ্ঞানগুরু ভরতােক্ত বচন দ্বারা প্রভাতকালে পঞ্চম স্বরের আলাপ করায় নিষেধ দেখা যায়। তথাপি কেবল শুদ্ধ পঞ্চম স্বরের প্রতিই উক্ত প্রতিষেধ হওয়া বিবেচনা করিতে হইবেক। নচেৎ প্রাতঃ সঙ্গীয়মান ললিতাদি রাগের মধ্যে অন্য অন্য স্বর মিশ্রিত পঞ্চম স্বরেরও যে নিষেধ বুঝাইবে এমত তাৎপৰ্য নহে; কারণ ইহা হইলে রাগের অঙ্গহানি হইয়া উঠে। যেহেতু ললিত রাগের মধ্যে পঞ্চম স্বর একটী প্রধান। তথাচ সঙ্গীত তরঙ্গে ললিত রাগিণীর লক্ষণকথনে। সম্পূরণ ভাবে সালঙ্ক জাতি। অধিক নাগ যে বসত ভাতি। গিরি আর বাদি ধৈবত বাসে। পরম সম্বাদি বাদীর পাশে। মধ্যম সুরের শুদ্ধ বিচার। পুনঃ মধ্যমের তীয়র তার। তীয়র বিখভ বিবাদি ভাবে। রজনী প্রভাতে সময়ে গাবে। ইতি।
৭৪
কমলাকরুণাবিলাস
তথাপ্যনেন প্রিয়ভাষণেন
মুহুভুজাভ্যাং পরিরন্তিতেহস্মি । #
ইদানীং গৃহং প্রতিযাতুং সমাদিষ্টোহস্মি মিষ্টবচনেন পরমবন্ধুনা শ্রীকৃষ্ণেন। পরন্তু
আত্মারামগণাকর্ষী গুণাে যস্য নিরন্তর।
বিমুচ্যাকর্ষণং তস্য ক্ক বা কস্য গতিৰ্ভবেৎ। *
তথাপি
“শ্রবণাদ্দর্শনাদ্ধ্যানান্ময়ি ভাবােহনুকীৰ্ত্তনাৎ।
ন তথা সন্নিকর্ষেণ প্রতিযাত ততাে গৃহম্ ।”
ইতি যদ্ভগবদ্বাক্যং সর্ববেদার্থসম্মিতম্।
সর্বথা পালনীয়ং তদস্মাভিঃ শুদ্ধবুদ্ধিভিঃ ॥ st
* কোথায় আমি দরিদ্র এবং পাপীয়া, কোথায় এই শ্রীকৃষ্ণ লক্ষ্মীপতি এবং
বিশ্রুতকীর্তি অর্থাৎ পুণ্যশ্লোক (এতবতা আমাতে এবং তাহাতে অতিশয়
অন্তর)। তথাপি এই প্রিয়ংবদ শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক আমি কত বারম্বার বাহুযুগ দ্বারা
আলিঙ্গিত হইলাম।
+ যার ‘নিরন্তর’ নিয়ত (অথচ অভেদ্য) “গুণ’ সৌন্দৰ্য্য ও মাধুৰ্য্যাদি (অথচ
রজ্জ্ববিশেষ) “আত্মারাম’ অর্থাৎ বিষয়বিমুখ নির্বিঘ্নচিত্ত জনগণেরও আকর্ষক
হইয়াছে, তার সেই গুণের আকর্ষণকে পরিত্যাগ করিয়া কার বা কোথায়
‘গতি’ গমন (অথচ নিস্তার) হইয়া থাকে।
* শ্রবণ দর্শন ধ্যান এবং কীৰ্ত্তনে যেমন সহজে আমার প্রতি ভাবােদয়
হইতে পারে, আমার সন্নিকর্ষে তেমন হয় না। অতএব তােমরা স্বীয় স্বীয়
১। তথাচ ভাগবতে, আত্মারামাশ মুনয়ে নিগ্রন্থ অপুৰুক্রমে কুৰ্বস্ত্যহৈতুকীং
ভজিমিথস্থতগুণে। হরিঃ। ইতি।
২। গতিমার্গে দশায়াং চ জ্ঞানে যাত্রাপায়য়ােরিতি বিশ্বঃ।
৩। এখানে ‘দর্শন’ শব্দে প্রতিমাদির দর্শন অথবা ভগবানের কাদাচিৎক দর্শনকে
বুঝাইবে।
কমলাকরুণাবিলাস (ইতি মনসি বিমৃষ্য কিঞ্চিদপ্ততে গত্বা পুনঃ স্বগত) অয়ে কথং স সৰ্বান্ত- যামী দয়িতো দারিদ্র্যবিভ্রাবণদ্রবিণদানেন মাং কৃতার্থং ন কৃতবান্। (ক্ষণং বিচিত্য) আং জ্ঞাত। অধনােহয়ং ধনং প্রাপ্য মাছন্ন চ্চৈ মাং স্মরেৎ। ইতি কারুণিকো নুনং ধনং মে ভূরি নাদদৎ । * অথবা ধনদানন্তু সুদূরস্তু, যস্যামনুগৃহ্নামি হরিষ্যে তদ্ধনং শনৈঃ ইতি যস্য বচস্তস্মাদ্ধনো যুজ্যতে কথম্ । অপিচ পরমপ্রেয়সীং পট্টমহিষীং প্রতি তদীয়রহস্যবচনমপ্যেতাবচ্ছ হতে। তথাচ, নিক্কিঞ্চনা বয়ং শশ্বগ্নিফিঞ্চনজনপ্ৰিয়াঃ। তস্মাৎ প্রায়েণ নহাটা মাং ভজন্তি সুমধ্যমে। এ -h গৃহের প্রতি নিবৃত্ত হও। এই ঔষ সৰ্ব্ববেদার্থসদৃশ ভগবদ্ধাক্য, ইহা বিশুদ্ধা- ন্তঃকরণে অর্থাৎ নিংসদেহচিত্তে আমাদিগের কর্তৃক পালনীয় হইয়াছে। * এ ব্যক্তি নির্ধন, ধন পাইয়া অত্যন্ত মত্ততায় আমাকে আর স্মরণ করিবে ; ইহা ভাবিয়াই সেই করুণানিধান আমাকে ধন দান করেন নাই। + অথবা ধনদান করা দূরে থাকুক, তিনি স্বয়ংই এই প্রকার কহিয়াছেন, যে আমি যার প্রতি অনুগ্রহ করি তার সঞ্চিত ধনও ক্রমে ক্রমে হরণ করিয়া থাকিং। অতএব এ প্রকার যাহার নিজ শ্রীমুখের উক্তি, তাঁহার নিকটে ধনের প্রত্যাশা করাই বা কি প্রকারে উচিত হইতে পারে। + আমি অতি নিষ্কিঞ্চন, সুতরাং নিষ্কিঞ্চন জনেরই প্রিয় হইয়া থাকি। অত- এব সুমধ্যমে, যাহারা আঢ্য তাহারা আমাকে প্রায়ই ভজনা করে না। ১। যুধিষ্ঠির প্রতি ভাগবতধৰ্ম্মকথনপ্রসঙ্গে। ২। অতএব চৈতন্যচরিতামৃতে কৃষ্ণ কহে আম ভজে মাগে বিষয় সুখ। অমৃত ছাড়ি বিষ মাগে এই বড় মুর্থ ।
কমলাকরুণাবিলাস
পুনর্নিবেদমাপদ্য কৃতং কৃতং ক্ষুদ্রাশয়ানুসেবিতধনাশয়া। পরন্তু
বিষয়াবিষ্টচিত্তানাং কৃষ্ণপ্রাপ্তিঃ সুদুল্লভ।
বরুণীদিগগতং বস্তু ব্ৰজন্দ্রৈীং কিমায়াৎ।
অতএব,
পরার্থ-প্রত্যর্থিতিরর্থসার্থৈ-
যঃ স্বং কৃতার্থং মনুতে বিমূঢ়ঃ।
দেহাত্মতত্ত্ব বিবেকহীন
পশুমনুষ্যাকৃতিরেব বৈ সঃ ॥
* যাহাদের চিত্ত নিয়ত বিষয়-বাসনাতেই আবিষ্ট থাকে, তাহাদিগের সম্বন্ধে
কৃষ্ণপ্রাপ্তি দুল্লভ। পশ্চিমদিকে যে বস্তু অবস্থিত থাকে, তাহা কি ক্রমাগত
পূৰ্বাভিমুখে গমন করিলে কখন পাওয়া যায় ?
* যে মূঢ় ব্যক্তি পরমার্থের বিরােধী অথসার্থকে প্রাপ্ত হইয়াই আত্মাকে
চরিতার্থ জ্ঞান করে, সে ব্যক্তি দেহ কারে বলে এবং আত্মাই বা কারে বলে
ইহা জানে না ; সুতরাং সে নিশ্চিতই নরাকৃতি পশুমাত্র। তাৎপৰ্য্য এই যে
সামান্য ধনের দ্বারা কেবল শরীরেই সুখ হইতে পারে ; কিন্তু শরীরেতে ও
আত্মাতে অনেক অন্তর, ইহা যাহারা বিবেচনা না করিয়া শারীরিক সুখােদ্দে-
শেই নিবিষ্ট থাকে, তাহারা কখনই যথার্থ মনুষ্যপদবাচ্য হইতে পারে না।
অামি বিজ্ঞ এই মুখে বিষয় কেন দিব।
স্বচরণামৃত দিয়া বিষয় ভুলাইব।
আ মরি মরি কি দয়া!
১। কৃতম্ অমর্থমিতি। তদ্যােগে ধনশিয়েত্যত্র তৃতীয়া। কৃতং যুহেলমর্থেহপি বিহিতে
হিংসিতে ত্ৰিযু। ইতি মেদিনী।
২। “প্রতুে বা” অর্থাৎ প্র ও হ্র এই দুইটী যুক্তাক্ষর পরে থাকিলে পূর্ববর্তটী বিকল্পে গুরু
হয়। এ জন্য এখানে “” এই অক্ষরটী পরে থাকাতে “” এই পূর্ব বর্নটী বিকল্পে গুরু
হইল না।
৭৭ কমলাকরুণাবিলাস : ( ইত্যন্তচিন্তয়ন্ স্বান্তমপি সান্ত্বয় নিজনিশান্তাভিমুখমুপসৰ্প পরিক্রামতি। ততঃ কিয়ৎকালানন্তরং স্বীয়গ্রামাভ্যন্তরমাগত্য স্বকীয়পর্ণময়কুটীরস্থলে স্বর্ণময়- কুটীরং দৃষ্ট। কিমহমধ্বশ্রান্তো দিগ্ভ্রান্তোহপি সংবৃত্ত ইতি সবিস্ময়ং সমাদ- বলােক্য) যে যে ক্ষুধাতুরসুতাং পরিপালয়ন্তি দত্বা ফলানি সময়ে সময়ে বহুনি। তে তেহখিলা বিটপিনঃ পরিতাে বিভান্তি তদ্বা কথং ন মম দৃথিষয়ঃ কুটীর ॥ ** (ইতি শঙ্কাশতাকুলান্তঃকরণেন হা হন্ত হা হন্তেতি বারংবারং ব্যাহৃত্য বাষ্পমুৎস্যজ ভূমৌ নিপততি পুনঃ কিঞ্চিদ্ধৈৰ্যমষ্টভভ্যাখায় চ) কিং গ্রহ- বিশেষগৃহীত উত স্বপ্নাভিভূতােহহং নাে চেৎ কস্মাদকসৌ ধবলশিললচ্চিয় ইব সৌধবরঃ পুরতে দৃশ্যতে। হংহে অভ্রংলিহাগ্রৈ-ৰ্ম্মিলিতসিততরস্বর্ণদীবারিধারা- ধৌতং নিধূতপঙ্কো গিরিশগিরিবিব ভ্রাজতে রম্যহম্মম্। * যারা আমার ক্ষুধার্ত শিশু সকলকে সময়ে সময়ে প্রচুর ফল প্রদান করিয়া প্রতিপালন করিয়া থাকে, সেই এই বৃক্ষসকল চতুর্দিকে বিদ্যমান আছে দেখিতেছি ;তবে আমার পর্ণময় কুটীরখানি কিজন্য দৃষ্টিগােচর হইতেছে না ? ১। নিশান্তবাসদনং ভবনাগামন্দিরমিত্যমঃ। ২। সুতানিত্যত্র সম্প্রদনিং বাধিত্ব। কৰ্ম্ম প্রবৃত্ত। তথাচ “কর্তৃকৰ্ম্মাধিকরণং করণং সম্প্রদানক। অপাদান সন্দেহে পরঃ পূর্বেণ বাধ্যতে।” ইতি। ৩। অথবা ‘কুটীর ইতি পাঠঃ। কুটীরমিতি পাঠে তু বিষয়ইত্যত্র অনিষ্টলিঙ্গত্বৎ পুংত্ব। ৪। অভ্রংলিহানি মেঘস্পর্শীনি অগ্রাণি যেষাং তৈঃ। যথ মেঘদূতে অগুস্তোয় মণিময়ভুবস্তুঙ্গমংলিহাগ্ৰাঃ আসাদাস্বামিত্যাদি।
৭৮ কমলাকরুণাবিলাস বিশ্বেষাং বিস্ময়ার্থং কিমিদমিহ হঠাৰ্ম্মিমে বিশ্বকৰ্মা পাতালাদুথিতং কিং ফণিপতিপুরমিন্দ্রালয়ং জেতুকামম্ ॥* (ইতি বারংবারং সােৎপ্রেক্ষং নিরীক্ষতে; পুনঃ পরিতােবােক্য) হা হতােহস্মি অশ্য হতভাগ্যশ্য হৃদয়াভিনন্দনৈঃ নন্দনৈঃ সহ সহধর্মিণী বা কুত্র গত ? কিমসৌ মম বিলম্বমসহমান মানিনী ভূত্বা কাপি লতাবৃতনিভৃতনিলয়ে নিলীয় নিবসতি ? ন হি ন হি সা মম প্রতীপদশিপিং ন কদাচিন্মম প্রতীপ- দশিনী দৃষ্টাহভূৎ তৎ কিং বৃথা বিতর্কয়ামি। (ইতীতস্ততঃ সমালােক্য সবাষ্প- মুচ্চকৈঃ) স্ত্রীণাং যন্তু নিসর্গতত ভবতি তৎ ক্ষীণােদরত্বং শুভং চিহ্নং তন্মম যােষিতােহপি সমভূদন্নং বিনা জন্মতঃ। তত্রাপি প্রতিবাসরং মম মহদ্দষ্ট। কুলমেদ্ভবং দুঃখং যা হতিদুঃখিতা ভবতি সা হা হা কুততা ব্রাহ্মণী । “ * উঃ! এই রম্য অট্টালিকা ইহার গগনস্পশী অগ্রভাগের সহিত মিলিত হইয়াছে যে শুভ্ৰতর মন্দাকিনী তাহার জলধারা দ্বারা ধৌত হইয়া যেন পঙ্ক- রহিত কৈলাস পর্বতের ন্যায় শােভা পাইতেছে। ও কি জগৎকে বিস্ময় সাগরে নিমগ্ন করিবার নিমিত্ত বিশ্বকর্মা ইহাকে এখানে হঠাৎ নির্মাণ করিলেন ; না ইহা সেই বাসুকির পুরী ইন্দ্রালয়কে পরাজয় করিবার নিমিত্ত পাতাল হইতে উথিত হইল ? + স্ত্রীলােকদিগের স্বভাবতঃ.যে ক্ষীণােদরত্ব হইয়া থাকে, সেটা তাহাদিগের সুলক্ষণ (ইহা সামুদ্রিকবিদ্যাবিৎ পণ্ডিতেরা কহিয়া থাকেন); আমার স্ত্রীরও জন্মাবধি অন্নব্যতিরেকে সেই প্রকার ক্ষীণােদরত্ব হইয়াছে বটে; তথাপিও যিনি প্রতিদিন কুলম্মের ফলস্বরূপ আমার দারুণ কষ্ট দেখিয়া নিয়ত দুঃখিত হইয়া থাকেন, হায় ! সেই ব্রাহ্মণী আমার কোথায় ? * ; ; ১। মন্দাকিনী প্রভৃতিকে শুভ্রবর্ণ পদার্থ বলিয়া কবিকল্পলতা গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন। ২। “প্রতীপদর্শিনী” খ্রী। যথা প্রতীপদর্শিনী বামেত্যমঃ। ৩। “প্রতীপদর্শিনী” প্রতিকুলদর্শিনী অর্থাৎ প্রতিকুলা। ৪। জন্মাবধি যে দোষগুণের প্রকাশ হয় তাহাকেও এক প্রকার নৈসর্গিক বলা যায়।
কমলাকরুণাবিলাস (ক্ষণং বাষ্পরুদ্ধকণ্ঠস্বরাষ্টায় পুনরুচ্চৈস্তম্) নীয়ন্তে দিবস ময়া বহুবিধৈদুঃখৈঃ ভৃশং খিদ্যতা হা দুর্দৈবমিতি স্ফটং নিগদতা চিন্তাগ্নিনা স্বিদ্যতা। তত্রাপি ক্ষণদাক্ষণে সহ যয়া সংলাপতাে মে বপুঃ সিক্তং সাধু সুধারসৈৰ্ভবতি সা হা হা কুততা ব্রাহ্মণী । (ইত্যুব্যথিতহৃদয়েন শির উরে নিহত রােদিতি) ততঃ প্রবিশতি সখীগণসমাবৃতা বিচিত্রবসনাবৃতা নানাভরণভূষিতা চন্দ্র শাল- রূঢ়া চনিভাননা ব্রাহ্মণী ব্রাহ্মণী । (সখেদম্) অগ্নি প্রিয়সখ্যঃ ! সংজ্ঞাহীনাে যথা কায়ঃ সুখং নানুভবেৎ কচিৎ। নানুভবামি সৌভাগ্যং তথাহং দয়িতং বিনা ॥ ন সখ্যঃ। অয়ি মাতঃ! কিঞ্চিৎকালমাত্ৰং ধৈৰ্য্যমবলম্ব বৰ্ত্ত। নিবর্তস্ব চাম্মাৎ পরিদেবনাৎ। বরং তজ্জীবিতনাথােত্রাগত প্রায় ইত্যনুভবামঃ। সুদামা । (উম বললাক্য সবিস্ময়) অহহ কেয়ং কেলােচনচন্দ্রিকেব সমুদিতা। নন্বিয়ং কস্যচিৎ সৌভাগ্যরত্নাকরস্ত রত্নসম্পত্তিরিব লক্ষ্যতে। তথাচ * মওপ্রায় ক্ষণে ক্ষণে অতি খেদান্বিত মনে হা দুর্দৈব বলি উচ্চৈঃস্বরে। চিন্তানলে দগ্ধ হয়ে দারুণ যন্ত্রণা সয়ে দিবস বঞ্চিয়া দুঃখভরে ॥ নিশাকালে যার মুখে কিঞ্চিৎ মনের সুখে শুনে দুটা অমৃতকাহিনী। দেহ মাের ভাগ্যবশে সিক্ত হয় সুধারসে, কোথা গেল সে মাের ব্রাহ্মণী । । যেমন চেতনাবিরহে শরীর কোন সুখেরই অনুভব করিতে পারে না, তেমনি স্বামিবিরহে আমি এই সৌভাগ্যসুখের অনুভব করিতে পারিতেছি না। ১। প্রাসাদোপরিগৃহমিতি ত্রিকাগুশেষঃ।
কমলাকরুণাবিলাস কেয়ং রামা শিখরদশনা পদ্মরাগাধরােষ্ঠী, রাজম্মুক্তাস্মিতমধুরিমা চন্দ্রকান্তস্য বিশ্ব। উদ্দীপ্তেন্দ্রাপলকচরুচিভূষণৈঃ সংবহন্তী বৈদূৰ্য্যাভাং নিখিলরমণী রত্নমালেব দৃশ্যা। (ইতি নির্নিমেষনয়নেন নিপুণং নিরীক্ষ্য সচমৎকৃতি) অহহ কিমিদমত্যতম্। যস্যা দর্শনমাত্ৰেণ নির্নিমেষত্বমুদ্ভবেৎ। তৎসান্নিধ্যং ন কিং দদ্যাদ্দেবত্বাধিকসম্পদ। * নিখিল রমণীর রত্নমালার ন্যায় সুদৃশ্য এই রমণীটী কে? [ যদি বল রত্নমালা কিরূপে হইলেন এজন্য কহিতেছেন ] ইহার মাণিক্যের ন্যায় দর্শন, পদ্মরাগ মণির ন্যায় ওষ্ঠাধর, মুক্তাশ্রেণীর ন্যায় হাস্য-হিল্লোল, চন্দ্রকান্তমণির ন্যায় বদনবিম্ব, এবং উজ্জ্বল নীলমণির ন্যায় কেশপাশ দেখিতেছি ; এবং ভুষণের দ্বারা বৈদূর্য মণির ( নানাবর্ণবিশিষ্ট মণিবিশেষের) প্রভাকেও বহন করিতেছেন। + যার দর্শনমাত্রেই নির্নিমেষত্বণ উৎপন্ন হয়, তার সন্নিধান অর্থাৎ নিকটে ১। “অল্পাক্ষরং ভবেৎ পূর্বং দ্বন্দ্বে যচ্চার্চিতং দ্বয়ে?” এই নিয়ম দ্বারা দ্বন্দ্ব সমাসে “ওষ্ঠাধর ব্যতীত “অধরােষ্ঠ” কদাচিৎ হইতে পারে না, এমত আশঙ্কা করিও না। যেহেতু এখানে পূর্ব অকানের সহিত “অধর” শব্দের অকার মিলিত হওয়াতে অবশিষ্ট “ধর” এই অংশটা অল্পাক্ষর হইয়াছে বলিয়া ইহার পূর্বনিপাতন হইয়াছে। অথবা “অক্সাক্ষরং ভবেৎ পূৰ্ব্বং” ইত্যাদি নিয়মটী মনুষ্যজাতি ভিন্ন অন্যত্র প্রায়িক বলিয়া গৃহীত হইয়া থাকে এজন্য “চক্রবাকগডুড়ো” “উদুখলমুষলৌ” ইত্যাদি স্থলে উহার ব্যভিচার হওয়া দৃষ্ট হইয়া থাকে। ২। পক্ষান্তরে ‘রত্ন' শব্দে শ্রেষ্ঠ (রত্নং সজাতিশ্রেষ্ঠেহপীত্যমঃ) অর্থাৎ সকল যুবতীর শ্রেষ্ঠা। ৩। শিখরং পদাড়িমবীজাভমাণিক্যাম্। শিখয়ােস্ত্রী মাগ্ৰেহদ্বিশৃঙ্গে পুলককয়াের। পদাড়িমবীজাভমাণিক্যসকলাগ্ৰয়ােরিতি মেদিনী। ৪। গরুড়ে “পদ্মরাগমুপাদায় মণিবর্ণ। হি যে ক্ষিতে। সৰ্বাংস্তান বর্ণশােভাভি- বৈদুৰ্য্যমনুগচ্ছতি। বৈদূৰ্য্য মণিকে হিন্দি ভাষায় “লহসুনিয়া” বলে। ৫। পক্ষে “দেবত্ব”, যেহেতু দেবতাদিগেরও নিমেষ নাই।
কমলাকরুণাবিলাস ৮১ (ইতি ক্ষণং সম্পৃহমালােক) আবিষ্ণু আবিষ্ণু! কথং পরাঙ্গণাসু১ বারাঙ্গণাভাবঃ সম্ভাব্যতে। (ইত্যতাে নিরীক্ষতে) ততঃ প্রবিশতি ব্রাহ্মণ্যা প্রেষিতা কাচিৎ সহচরী সহচরী। (সকৃতাঞ্জলি) অয়ে স্বামি প্রণমামি। সুদামা। (সচকিত) কথমহং স্বামী। (কুটিমাবধ্য) দরিদ্রদ্বিজোপরি পরিহাসনিক্ষেপঃ ন কচিদপি পরিতােষায় পরিকল্পতে। (ইত্যন্যত্র গন্তুমুদ্যতঃ) সহচরী। ( অন্তঃ স্মি) বয়ং ব্রাহ্মণমাত্রং স্বামিন্নিতি ভগবগ্নিতি চ বাক্যেনামন্ত্রয়ামস্তদত্র কো দোষঃ ? সুদামা। ( ক্রোধং সংবৃত্য) এবঞ্চেদত্ৰ ন কস্যাপি বিপ্রস্থ বিপ্ৰতিপত্তিঃ সম্ভবেৎ। সহচরী। স্বামি! অস্মাকং ভর্তৃদারিকা ভবন্তমাহবয়তি। সুদামা। ( সভরম্ ) কিমালি! বৃথালীকং প্রলপসি। সহচরী। ন কদাপি মিথ্যাবাদিন্যহম্। পরস্মাকং স্বামিন্যা অয়মেকো দৃঢ়- তরনিয়মােহস্তি, যৎ প্রত্যহমেব কস্যচিদেক স্বয়মুপাগতস্য ব্রাহ্মণস্য চরণকমলো- দকং স্বকরকমলেনাদায় পিবতি। যদস্য, দিনত্ৰয়াবধি বিধিবিপাকতাে ন কস্যাপি দ্বিজস্তাত্র সমাগমম জাতন্তেন তয়ৈতাবৎকালপৰ্যন্তং ন কিমপ্যঙ্গীকৃত। সা পুনরঙ্গ দৈববশাদভবন্তং ভবন্তমত্র ভবন্তং দৃষ্ট। ত্বরিতমেব মাং ভব- চরণসন্নিধৌ প্রেরয়ামাস। তদধুনা ভবানে কর্তব্যমবধারমিতুমহতি। উপস্থিত হইলে কি দেবত্ব হইতেও অধিক সম্পৎ পাওয়া যাইতে পারে না ? অর্থাৎ অবশ্য পাওয়া যাইতে পারে। ১। এখানে গৌরবে বহুত্ব হইল, অথবা ইহা দ্বারা সখীগণেরও উদ্দেশ করা হইল। ২। যেহেতু বেশ্যাদর্শনে দোষ নাই, স্পর্শনেই দোষ ; পরস্ত্রীর দর্শনমাত্রেও দেব । তথা প্রমাণচনার্নি। দ্বিজনৃপগণিকাপুস্পমালাপতাকেত্যাদি শুভদর্শনীয়কথনে সময়প্রদীপঃ। পশুবেশ্যাভিগমনে প্রজাপত্যং বিধীয়তে ইতি স্মৃতিঃ। দৈবাৎ পরস্বিয়ং দৃষ্ট। বিরমেচ্চ হরিং স্মরম্নিতি ব্রহ্মবৈবর্তম্ । ৩। “অভং” পূজ্য। তথাচ পূজো হত্ৰভবানভবাংশ্চ ভগবানপীতি বিশ্ব। ৪। “অত্র ভবন্ত” অস্মিন্ স্থলে ভবন্তমুপস্থিতমিতি যাবৎ।
৮২ কমলাকরুণাবিলাস সুদামা। (স্বগত) কথমন্যথৈতাদৃশী সৌভাগ্যবতী সঞ্জাতা। যত আয়ুর্বিদ্যাযশোধর্মধরাধান্যধনানি চ । সর্বাণ্যেতানি বদ্ধান্তে বিপদস্য সেবনাৎ ॥ * (প্রকাশ) যদ্যুভ্যং রেচতে তদেবাশ্মভিঃ কর্তব্য। (ইতি তয়া সহ পরিক্রমতি) ততঃ প্রবিশতি অর্ঘ্যপাত্রহস্তা ব্যগ্রচিত্তা ব্রাহ্মণী ব্রাহ্মণী। (সােচ্ছ,সম্) অভাব্যমপি ভাব্যং স্যাদিচ্ছতি সতি ধাতরি। মৃৎপাত্ৰাণ্যপি জাতানি স্বর্ণপাত্রাণি সম্প্রতি। ( ইত্যর্ঘ্যং সমপ্য প্রণমতি) সুদামা। (অর্ঘ্যমাদায় সূক্ষ্মং নিৰ্বর্ণ চ স্বগত) কথমিমপি মম ব্রাহ্মণী ব লক্ষ্যতে কথং বাস্যা বাক্যেনাপি তৎ প্রমাণয়তি। কিমাশ্চৰ্য্য সা মূৰ্ত্তিঃ সা সৌম্যদৃষ্টিৰ্গতেঃ সা ভঙ্গী চাপি ব্যক্তমস্যাং বিভাতি। কিন্তু স্ত্যত্র স্পষ্টমেকো বিশেষ স। দুর্ভাগ্যা জন্মতেহিসৌ সুভাগা | | ( ইতি মুৎমুহবিস্ময়বিস্ফারিতলোচনেন তাং সমালেচয়তি) * পরমায়ুঃ বিদ্যা, যশঃ ধৰ্ম্ম, ধরা, (ভূমিসম্পতি), ধান্য এবং ধন ইহা সক- লই কেবল ব্রাহ্মণের পদসেবা দ্বারা বৃদ্ধি পাইয়া থাকে । + যদি বিধাতা মনে করেন তবে অসম্ভব বিষয়েরও সম্ভাবনা হইতে পারে। যেহেতু এখন আমার মৃন্ময় পাত্র সকল ও স্বর্ণময় পাত্র হইয়াছে। + সেই প্রকার মূর্তি, সেই প্রকার সৌম্যদৃষ্টি এবং সেই প্রকার গতিভঙ্গী, এ সমুদয়ই ইহাতে ব্যরূপে প্রকাশ পাইতেছে। কিন্তু কে বল-এই এক মাত্র স্পষ্ট বিশেষ দেখিতেছি বে আমার যিনি ব্রাহ্মণী, তিনি জন্মাবধিই ভাগ্যহীনা, ইনি কিন্তু পরম ভাগ্যতী। ১। (গে। ভাগ্যমিহি শব্দ রত্নাবলী।
কমলাকরুণাবিলাসম ; ততঃ প্রবিশন্তি পিতৃমুখদর্শনমাত্রেণ জাতাহাদাস্তাত তেতি বদন্তে নৃত্যং কুৰ্ব্বন্তশ্চ বালকগণ তত্রৈক। অয়ে অদ্য তাতেনােপনীতান্ ক্ষুদ্রতণ্ডুলানহমেব পূৰ্বং গ্রহিষ্যামি। (ইতি বেগেন ধাবতি) ( অন্যে তু অহং পূৰ্ব্বমহং পূৰ্ব্বমিতি বদন্তস্তমতিক্রম্য ধাবন্তঃ পিতুরুপকণ্ঠ- মুপসৃত্য নির্ভয়েন তৎকণ্ঠমালিঙ্গন্তি ; প্রথমঃ পুনঃ পরাজিতমিবাত্মানং মা সঞ্জাতলজ্জতয়া মাতমারিতি ফুৎকারং কুন্ ব্রাহ্মণ্যা বাঞ্চলং ধারয়তি) সুদামা। (তান্ বিশেষেণ পরিচিত্য চিত্তোচ্ছলিতসুখসিন্ধুবিন্দু বাষ্পচ্ছলেন বিস্জ্য সােৎসাহ) অহহ সৌভাগ্য প্রতিকূলে বিধৌ সিন্ধুবৰ্ধতেহন্যত্র নিশ্চিত। বর্ধিতঃ সুখসিন্ধুর্মেংনুকূলত্বং গতে বিধৌ। * (ইতি স্বতনয়াংস্তান্ স্বাঞ্চমারােপ্যানন্দবৈবং নাটতি ; ব্রাহ্মণী সত্বরমুপসৃত্য হস্তং গৃহূতি ) সুদামা । (ধৈৰ্যমবলম্ব) প্রিয়ে কথয় কথং বৈদৃশী দেবদুল্লভা সম্পত্তিরবিগতা ? ‘বিধৌ’ বিধু অর্থাৎ চন্দ্র যদ্যপি প্রতিকূল’ বিপরীতদিকে অবস্থিত হন তাহা হইলে সমুদ্রের বৃদ্ধি হইয়া থাকে ইহাই নিশ্চিত আছে; কিন্তু আমার সম্বন্ধে ‘বিধৌ’ বিধি অর্থাৎ বিধাতা অনুকূল হওয়াতে আমার সুখসিন্ধু বৰ্ধিত হইল। অর্থাৎ বিধাতার আর প্রতিকুলতাচরণ করিতে হইল না, এ বড়ই ভাগ্যের কথা। ১। যেহেতু চন্দ্রের গতিক্রমেই সমুদ্রের জলােচ্ছাস জোয়ার হইয়া থাকে। ২। অত্র বিধাবিতি বিধুবিধিশব্দয়ােৰুকারেকারয়ােৰ্বর্ণয়ােরৌকাররূপত্বাৎ শ্লেষঃ। তথা সাহিত্যদর্পণে। শ্লিষ্টৈ পদৈরনেকাখাভিধানে শ্লেষ ইষ্যতে। বর্ণপ্রত্যয়লিঙ্গানাং প্রকৃত্যো: পদয়ােরপি। শ্লেষাধিভক্তিবচনষাণীসম্ভধা চ সঃ ॥ ইতি।
৮৪
কমলাকরুণাবিলাস
ব্রাহ্মণী। দেব দেবপ্রসাদাদেব।
যদি বিধিরনুকূলে ভাগ্যতঃ স্যাৎ কদাচিদ
ভবতি বিপুলসম্পদ্ধেতুমন্যং বিনাপি।
বনভুবি তরুজাতং মাল্যকারপ্রয়ােগং
ন খলু নিজ ফলস্যোৎপয়েহপেক্ষতেহি।
সুদামা। হুং, মক্তবিষয় এব “দৈবায়ত্তং ধনমিত্যাদি” বাক্যেন কথিত
সম্প্রতি প্রত্যক্ষীভূত। তথাপি কস্য দেবস্য বায়ং প্রসাদ ইত্যনুসন্ধাতব্য ।
( ইতি ক্ষণং বিমৃষ্য) আং জ্ঞাত।
তমপ্রাকৃতকৃষ্ণাং বিনা তাপহরামৃতম্।
কিমু প্রাকৃতকৃষ্ণাব্দে নিঃশব্দেন প্রযচ্ছতি ॥ +
( ইতি সহর্ষমুথায় সৰ্বতঃ.পরিক্রম্য প্রত্যুৎফুল্ললােচনেন সমস্তং পৰ্যালােচয়তি)
* বিধাতা যদি অনুকূল হ, তাহা হইলে হেত্বন্তরের অপেক্ষা না করিয়াও
প্রচুর সম্পত্তি হইয়া থাকে। তদৃষ্টান্ত যথা, বনস্থ তরুসকল মালাকারদিগের
হস্তপ্রয়োেগকে অর্থাৎ জলসেচনাদিকে অপেক্ষা না করিয়াও স্বতঃই ফল
প্রদান করিয়া থাকে।
+ সেই অপ্রাকৃত কৃষ্ণরূপ মেঘব্যতীত কি প্রাকৃত কৃষ্ণবর্ণ মেঘ কখনও
নিঃশব্দে সন্তাপহর “অমৃত” জল, পক্ষে, ত্ৰিতাপহরহ ধন অথচ মােক্ষপদ দান,
করিতে পারে ? যেহেতু যিনি মােক্ষরূপ অমৃতদায়ী, তাহাকেই কেবল বেদে
“শব্দহীন” বলিয়া উক্ত করিয়াছেন। তথাচ “অশব্দমস্পর্শমরূপময়” ইত্যাদি।
১। যেহেতু উক্ত হইয়াছে। আজগাম যদা লক্ষীনারিকেলফলাবৎ। নির্জগাম যদা
লক্ষীৰ্গজভুক্তকপিখবৎ”। ইতি
২। অমৃতং জলং সুধাচের। ধনমিতি হেমচন্দ্রঃ।
৩। আধিভৌতিক, আধিদৈবিক, ও আধ্যাত্মিক তাপকে ত্ৰিতাপ কহে। অর্থ ও মােক্ষ
তিশ্ন ইহাদিগের নিঃশেষ নিবারণ হয় না।
কমলাকরুণাবিলাস দেবাধিদেবস্য মম বান্ধবদৈবায়মনুগ্রহ ইত্যবগৃহতে। তথাহি চলমুক্তালম্বস্ফুরিতবিমলস্তম্ভনিবহং লসদ্ভিত্তিপ্রান্তোল্লিখিতহরিলীলাসমুদয়। বিচিত্রাভিঃ কাভিঃ স্থগিতগগনাভিৰ্বিজয়তে পতাকাভিঃ সন্তৰ্পিতভবনমন্তঃপুরবরম্ । ততাে মধ্যেগেহং বিবিধমণিমালাবিরচিতং বিতানং বিস্তীর্ণং তুহিন করনিন্দাকররুচি। নিরঙ্কে পলঙ্কে কনক করিদন্তাদিঘটিতে পয়ঃফেনয়া মৃদুলতরশয্যা বিনিহিতা। সুবৰ্ণং দুবর্ণং কচিদতুলরাশীকৃতমতি- প্রিয়ং ভক্ষ্যদ্রব্যং হৃদভিরুচিকৃচ্চাপি বিপুলম্। সুবস্ত্রালঙ্কারাদিকমপি চকাস্তি প্রতিগৃহং কিমস্যাভাবাে বা সদয়হৃদয়া যং প্রতি রমা।' * যার নির্মল স্তম্ভসমুদয় দোদুল্যমান মুক্তালম্ব দ্বারা শােভা পাইতেছে, যার উজ্জল ভিত্তিপ্রান্তে শ্রীকৃষ্ণের সমুদয় লীলা চিত্রিত রহিয়াছে, যার অন্তগৃহ গগনস্পর্শি বিচিত্র পতাকা দ্বারা সুশীতল হইতেছে, এমত এক অন্তঃপুরপ্রধান বিরাজ করিতেছে। + গৃহের মধ্যভাগে নানা মণিমালদ্বার বিরচিত চন্দ্ৰবিনিন্দিত চন্দ্রাতপ বিস্তীর্ণ রহিয়াছে, এবং সুবর্ণ ও হস্তিদন্তাদি নির্মিত নিষ্কলঙ্ক পল্যঙ্কে দুগ্ধ- ফেননি শয্যা সংস্থাপিত রহিয়াছে। : কোনখানে সুবর্ণ ও রৌপ্য সকল রাশীকৃত রহিয়াছে, কোনখানে অতি প্রিয় অভিলষিত ভক্ষ্য দ্রব্য সকল প্রস্তুত রহিয়াছে এবং অতি মনােহর বা- ১। “গেহস্য মধ্যে” ইত্যর্থে মধ্যেগহমিতব্যয়ীভাব। তথাচ সিদ্ধান্তকৌমুদ্যা পার মধ্যে ষষ্ঠ্যা বা। পারমধ্যৌ শব্দেী ষষ্ঠ্যন্তেন সহ সমধ্যেতে। এদম্ভঞ্চায়োনিপাত্যতে। পক্ষে ষষ্ঠীতৎপুরুষ’ ইতি।
৮৬ কমলাকরুণাবিলাস চতুঃশালােপান্তে তুরগগজশালাপরিবৃতং সুরম্যারামস্থং বিকচকমলামােদি চ সরঃ। মঠপ্রাসাদাদ্যৈরুপচিতবিশিষ্টদ্যুতিভৃতে বিরাজন্তে পান্থাতিথিজনগৃহ-১স্তস্য পুরতঃ ॥ * মহালক্ষীনারায়ণচরণপূজাদ্যবহিতাঃ শুচিস্বান্তাঃ শান্তাঃ কতি কতি সুভৃত্যাশ্চ মিলিতাঃ সমূহাে দাসানামতিথিপরিচৰ্যাকৃতমতিঃ করােতি প্রীত্যা চংক্রমণমভিতঃ সত্বরগতিঃ ॥ ” ) লঙ্কারাদি প্রতি গৃহেই শােভা পাইতেছে। লক্ষ্মী যার প্রতি কৃপকটাক্ষপাত করেন, তাহার আর কিসের অভাব থাকে ? চতুঃশালার ( চৌঘরার) নিকটে অশ্ব ও হাতিশালা পরিব্রত গৃহােদ্যানের মধ্যে বিকসিত কমলকাননের সৌরভে সুবাসিত সরােবরও শোভা পাইতেছে। এবং তাহার অগ্রভাগে মঠ ( ছাত্রাদিনিল) এবং প্রাসাদ (দে-মন্দিঃ) এভৃতি দ্বারা বিশেষরূপে সুশােভিত পথিক ও অতিথিগণের (অথবা পান্থ অথাৎ বিদেশগামী অতিথিগণের ) আবাসস্থান সকল বিরাজমান রহিয়াছে। + মহালক্ষ্মীর ও নারায়ণের চরণপূজাদি কাৰ্যে অবিহিতচিত্ত কত কত বিশুদ্ধহৃদয় ও শান্তচিত্ত সত্যগণ উপস্থিত রহিয়াছে এবং দাসসমুহ ১। গৃহাঃ পুংসি চ ভূম্নোবেত্যমরঃ। ২। ইনি নারায়ণের প্রধান শক্তি রাধার অংশভূত। অথচ ব্রহ্মবৈবৰ্ত্তে। যন্মায়য়া মােহিতাশ্চ ব্ৰহ্মবিষ্ণুশিবাদয়ঃ। বৈষ্ণবাস্তাং মহালক্ষ্মীং পরাং রাধা বদন্তি তে। যদৰ্দ্ধাঙ্গ। মহালক্ষ্মীঃ প্রিয়া নারায়ণস্য সা। ইতি। ৩। শ্রেষ্ঠ কর্মচারীকে ভৃত্য কহে। গৃহমাৰ্জনাদিকারী নীচ কর্মচারীকে দাস কহে। তথাচ। শুষকঃ পঞ্চবিধঃ শাস্ত্রে দৃষ্টে মনীষিভিঃ। চতুঝিধঃ কর্মকরস্তেষাং দাসস্তু পঞ্চকঃ। শিষ্যান্তেসিভৃতকাতুৰ্থত্ত্বধিককৃৎ। এতে কর্মকরা জ্ঞেয়া দাসান্তু গৃহীতদয়ঃ। কৰ্ম্মাপি দ্বিবিধং জ্ঞেয়মগুতং শুভমেচ। ইতি নারদ।
কমলাকরুণাবিলাস
৮৭
(ইতি সৰ্বতেহরলােক্য পূৰ্ব্বতােহপ্যধিকতরবিস্ময়ভরেণ)
অহাে বদান্যত্বমতীব তস্য
কারুণ্যসিন্ধোৰ্মম বান্ধবস্য।
সংকল্পিতাৰ্থব্যতিরিক্তদানা-
দল্লীকৃত যেন স কল্পবৃক্ষঃ । *
এব
“ময়ােপনীতং পৃথুকৈকমুষ্টিং
প্রত্যগ্রহী প্রীতিযুতে মহাত্মা ॥” •
(ইত্যস্য বারংবারমাবৃত্তিং করােতি)
[পুনরন্ততে গত্বা কচিদ্দেবমন্দিরাভ্যন্তরে দিব্যসিংহাসনােপরি
শীরুক্মিণ্যা সহ স সহসা শ্রীহরিং রাজমনিং
সৌদামিন্যা সহ ঘনমিব ভ্ৰাজমানঞ্চ দৃষ্টা।
আনন্দাশ্রুস্তিমিতনয়নাে মত্তকেকীব ভূয়ঃ
কে ও কে ও ইতি, হ১ বিবশাে ভাষমাণঃ পপাত । ]
অতিথিগণের পরিচৰ্যার নিমিত্ত অতিশয় আহলাদিতমনে অর্থাৎ বিরক্ত না
হইয়া দ্রুতগতিতে ইতস্ততঃ গমনাগমন করিতেছে।
* অহে! আমার সেই করুণাসিন্ধু বন্ধুর কি আশ্চর্য্য বদান্যতা। যিনি
সংকল্পিতাতিরিক্ত বিষয় দান করিয়া সেই প্রসিদ্ধ কল্পবৃক্ষকেও অল্পীকৃত করিয়া-
ছেন। যেহেতু কল্পবৃক্ষ সংকল্পিত ( প্রার্থিত) বিষয় ব্যতীত আর কিছুই দিতে
পারেন না।
+ সেই মহাত্মা ( অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ) মৎকর্তৃক উপনীত একমুষ্টি তণ্ডুলও প্রীতি
পূৰ্ব্বক গ্রহণ করিয়াছিলেন।
সৌদামিনী
সহ নব জলধর নেন।
রুক্মিণীর সহিত কৃষ্ণেরে হেরি হেন।
১। হ’ শুরু চম।
৮৮ কমলাকরুণবিলাস শ্রীকৃষ্ণ। সখে । উক্তিষ্ঠোতিষ্ঠ (ইতি সুকোমলস্বকরকমলেন তদগাত্র শতি) সুদামা। (শ্রীকৃষ্ণকরস্পর্শমাত্রেণ সংবিদং লব্ধ) ধারাধর মমৃতং ভৰতাপশাস্ত্যৈ দাতুং ক্ষমােহপি নিয়তং ন তু মে প্রদায়। বিদ্যুভিং সুচপলং বিভবং প্রদর্শ বজাগ্নিশঙ্কিহৃদয়ং কিমু মাং করেষি। * * মত্ত ময়ূরের মত তিতি আঁখিজলে। কেও কেও বলিয়া পড়িল ভূমিতলে। তুমি ধারাধর, সংসার সন্তাপের শান্তি নিমিত্ত নিয়তই অমৃত ( মােক্ষরূপ জল) প্রদান করিতে পার (অর্থাৎ তুমি সামান্য ধারাধরের ন্যায় অন্যের অর্থাৎ পবনাদির বশবর্তী নও); তথাপি তুমি আমাকে সেই “অমৃত” অর্থাৎ মােক্ষপদ প্রদান না করিয়া চপলার ন্যায় সুচপল বৈভব প্রদর্শন করিয়া কেন । ১। বিভবং সুচপলং কিস্তুতং বিভিং বিদ্যুৎসমং বেতি বাক্যর্থঃ। যথা চালঙ্কার- কৌস্তুতে। মৃদুলমপি শিরীষতুল্যমঙ্গং কমলসমং বিকসম্মুখং তবেদমিত্যাদি। ২। যদিও ব্রাহ্মণের বদন হইতে সংস্কৃত ভিন্ন অন্য ভাষা নির্গত হওয়া নাটককৰ্ত্তাদিগের অভিপ্রেত নহে, তথাপি মত্ততাবস্থায় তার ব্যতিক্রমও হইতে পারে ; কারণ সে সময়ে অসাবধানতাপ্রযুক্ত দুই একটী অপভ্রংশ শব্দের উচ্চারণ হইয়া থাকে । অধবা হঠাৎ ব্যক্তিগ্রহ না হওয়াতে শ্ৰীমতী রুক্মিণীদেবী এবং তৎসহচর ব্যক্ত্যন্তরকে দেখিবামাত্রই স্ত্রীলিঙ্গ “কি” শব্দের দ্বিবচনা “কে”* এবং সম্বােধনবাচক “ও' । এই দুইটা শব্দ একত্র করিয়া বারম্বার উক্ত করিয়াছিলেন বিবেচনা করিতে হইবে। ময়ুরের সহিত সাদৃশ্য দর্শাইবার জন্য ঐ দুইটী শব্দের প্রয়ােগ করা হইয়াছে। কেও এই শব্দটা অপভ্রংশ ও সংস্কৃত এই ভাষায় সমার্থ হওয়াতে ইহাকে ভাষাসম বলা যাইতে পারে। ৩। এখানে শ্লিষ্টপরম্পরিত রূপকালঙ্কার হইল। . * অতএব “মেয়ে” এই সূত্র দ্বারা সন্ধির নিষেধ হইল। । ও সম্বােধন অদ্বিানে স্মরণে চাকম্পনে। ইতি মেদিনী।
কমলাকরুণাবিলাস শ্ৰকৃষ্ণঃ। ( স্মিতশােভিতবদনঃ সন্) সখে। কিং দু মম সন্দর্শনেনাপি পুনঃ সংসারদর্শন চিন্তা ? নহি নহি। অপিতু মদ্দত্তং বৈভবং নৈব পুনর্ভবস্য কারণম্। প্রত্যুতামৃতমেবাস্তি ভবব্যাধিবিনাশনম্ ॥ * শ্ৰীমতী রুক্মিণী। আৰ্য্য ! উচ্যতাং কিমস্মাৎ পরমিহ লােকে প্রার্থনীয়। সুদামা। (সগদগদম্) অয়ি মাতঃ । আমাকে বাগ্নির ভয়ে ভীত করিতেছ ? [ ভাবার্থ এই যেমন বিদ্যুতের প্রকাশ হইলেই বিজ্ঞ লােকেরা তৎপশ্চাৎ ভাবী বজ্রপাতের আশঙ্কা করিয়া ভীত হন, কিন্তু অজ্ঞ লােকেরা তাহা বুঝিতে না পারিয়া হঠাৎ আলােকদর্শনে আহা- দিত হয় ; তেমনি বিষয় প্রাপ্ত হইলে জ্ঞানী লােকেরা তাহাতে অবশ্যম্ভাবী বিরহহেতুক দুঃখের সম্ভাবনা করিয়া শঙ্কাকুল থাকেন। কিন্তু মূঢ় লোকেরা তাহাতে আপাতরমণীয় সুখের অনুভব করিয়া মহা হৃষ্ট হইয়া থাকে । * আমি যে বৈভব প্রদান করি তাহা কখনই ‘পুনর্ভবের জন্মান্তরের কারণ হইতে পারে না (অর্থাৎ তাহা কখনই সংসারজনক মােহের হেতু হইতে পারে না)। প্রত্যুত তুমি যে অমৃতের কথা কহিলে, ইহাও সেই ভবয়োগ-বিনা- শন ‘অমৃত' অর্থাৎ ঔষধস্বরূপ হইয়া থাকে। (যেমন সরসতাদিমিশ্রিত দ্রব্যাদি জ্বরাদি রােগের বৃদ্ধিকর হইলেও তাহা সদ্বৈদ্য কর্তৃক রসায়নৌষধরূপে প্রস্তুত হইয়া প্রদত্ত হইলে তারা জ্বরাদি রােগের শান্তি হয়, তেমনি ঐহিক সম্পত্তি সংসারবন্ধনের কারণ হইয়াও যদি ভগবদিচ্ছাক্রমে লব্ধ অর্থাৎ ন্যযয্যাপায় দ্বারা সঞ্চিত হয়, তাহা হইলে ঐ সম্পত্তি পুনৰ্ব্বার ভগবানের প্রিয় কাৰ্য্য সাধনােদ্দেশে নিয়ােজিত হইয়া সংসারবিমােচনের হেতু হইয়া থাকে) ১। “কিং মু” অত্যাশ্চর্য এই অর্থে প্রয়ােগ হইয়া থাকে। ২। অতএব এতাদৃশ বিষয়কেই শাব্দিক পণ্ডিতেরাও “অমূহ” কহিয়াছেন যথা “মৃতং ধন” ইতি হেমচন্দ্রঃ।
কমলাকরুণাবিলাসম অপৃথুপৃথুকান্নস্য প্রদানেনাপ্তবানহম্। ঐশ্বৰ্যং পৃথুরাজস্য কিমু প্রাথমতঃ পরম্ ॥ * তথাপীদমস্তু। কৰ্ম্মফলানুরূপঞ্চেৎ পৃথগুপং ভবেন্মম। তথাপি ন পৃথগভূয়াদযুৰয়ােশ্চরণাম্মতিঃ | * হে মাতঃ! আমি যৎকিঞ্চিৎ পৃথুকা প্রদান করিয়া এই পৃথুরাজ-তুল্য ঐশ্বৰ্যকে লাভ করিলাম। অতএব ইহার পর তার কি প্রার্থনীয় হইতে পারে ? । যদি আমার স্বকৰ্ম্মফলনুপ পৃথক্ ‘রূপ’ আকার হয়, অর্থাৎ যদি আমায় পুনৰ্ব্বার জন্ম পরিগ্রহ করি। হয়, তাহা হইলেও তোমাদিগের উভয়ের চরণ হইতে আমার মন যেন ‘পৃথক্ স্বতন্ত্র না হয়, অর্থাৎ মন যেন ঐ চরণেতেই লীন হইয়া থাকে। ১। ইনি পৃথিবীর আদি রাজা ছিলেন। ইহার তুল্য ঐশ্বৰ্য্যবান্ আর কোন রাজাই হন নাই। ২। রূপং স্বভাবসৌন্দৰ্যনামকে পশুশব্দয়ো। গ্রন্থাবৃত্তৌ নাটকাদাবাকারম্নোকয়ো- রপতি মেদিনী। ৩। ইহাকেই মুমুক্ষু যােগীদিগের যোগসাধনের চরম ও পরম ফল বলিয়া উক্ত করিয়াছেন। তথচি বিষ্ণুপুরাণে “অপ্রিযত্নসাপেক্ষবিশিষ্ট। যা মনােগতিঃ। তস্য। ব্রহ্মণি সংযােগােযােগ ইত্যভিধীয়তে। যদ্যন্তরীয়দেযেণ কৃষতে চাস্থ মানসমূ। জন্মান্তরেরভ্যসতো মুক্তিঃ সর্বস্য জায়তে”। ইত্যাদি। শ্রীকৃষ্ণের চরণই ব্ৰহ্মপদার্থ ; যেহেতু “তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদম্” বলিয়া শাস্ত্রে উক্ত হইয়াছে। ভগবানের পাদপদ্ম ও তাহার নিত্যধামকে তত্ত্বদর্শীরা ব্ৰহ্ম বলিয়া নির্দেশ করেন ও তাহাকে বিষ্ণুর পরম পদও কহেন। তথাচ বৈষ্ণবে। প্রথমপুরুষাৰ্যক্ত- কালনিং পরমং হি যৎ। পশ্যন্তি সূরয়ঃ শুদ্ধং তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদম্ । ইতি। স্থানং তৎ পরম বিপ্র পুণ্যপাপপরিক্ষয়ে। অপুণ্যপুণ্যে পিরমে ক্ষীণাংশে যান্তি হেতবঃ। যত্র গত্যা ন শোচন্তি তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদম্ । দিবীব চক্ষুরাততং যোগিনাং তন্ময়াত্মনাম্ ॥ বিবেকজ্ঞানদৃষ্ট তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদমিত্যাদি ।
কমলাকরুণাবিলাস ৯১ এবং সর্বলােকহিতায়েদমপি। তথাহি কালে কালে বিতরতুতরাং বারিদো বারি ভূরি ক্ষমা শস্যাঢ্যা ভবতু চ নৃপা: সন্তু সন্তুষ্টচিত্তাঃ। দুর্ভিক্ষঞ্চ প্রবলমরুদাদ্যঞ্চ মারীভয়ঞ্চ মা ভূদেব কুচিদপি পুনর্দেবি যুৎপ্রসাদাৎ। * উভৌ। (স্মেরাননো ভূত্ব) তথাস্তু তথাস্তু। (ইতি নিষ্কান্তাঃ সর্বে) অর্থ পুনঃ সূত্রধারস্য প্রবেশ সূত্রধারঃ। (সসাল্লাসচিত্ত)২ ধাত্রী ধাত্রী স্বয়মপি কিমূৎপত্তিকালেহস্য জাতে- ত্যানন্দেনাতহরিহরিধ্বানমন্তঃপুরেহভূৎ। * হে দেবি ! আবার সকল লােকের হিতের নিমিত্ত ইহাও প্রার্থনীয় যে তােমাদিগের উভয়ের প্রসাদাৎ মেঘ যেন সময়ে সময়ে বারি বিতরণ করে ; পৃথিবী যেন বহুশস্যপূর্ণ হন ; রাজগণ সন্তুষ্টচিত্ত অর্থাৎ লােভশূন্য হন ১। যদিও ইহা প্রাচীন নাটকের স্ত্রীত্যনুযায়ী নহে, তথাপি এক্ষণে নবীন নাটক রচনাকর্তারা প্রায় সকলেই এই প্রকার নূতন রীতি অনুগামী হইয়াছেন। এজন্য আমিও ঐ নূতনবিষ্কৃত প্রণালীর অবলম্বন করিলাম। যেহেতু যা : সহৃদয়গণের হৃদয়পকর্ষক না , এমত কোন নূতন বিষয়ের প্রকাশ করতে দোষ নাই, রং তাহা অলঙ্কারিক পণ্ডিতদিগের মতানুমােদিত বটে। তথাচ কাবাদর্শে। কবিভাবকৃতং চিহ্নমন্যত্রাপি ন দুষ্যতি। সুখ- মিষ্টার্থসংসিদ্ধৌ কিং নহি স্যাৎ কৃতাত্মনাম্। ইতি। কেবল নাগানন্দের শেষে – “তথাপীদমস্তু ভরতবাক্য” এই সকল কথা যে লেখা আছে ইহা দ্বারা নাটকের শেষেও সূত্ৰধারাদির বাক্য কখনও সম্ভব হইতে পারে। ২। অতঃপর যে সকল শ্লোকাদি লিখিত হইল, ইহা সমুদয় শ্রীযুক্ত রামনাথ ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয়ের প্রণীত। মধ্যে মধ্যেও ভঁহার শ্লোক আছে ; তাঁহার এখন পাঠ্যাবস্থা, তিনিই এই নাটকের সূত্রধার।
কমলাকরুণাবিলাস তন্মাহাত্মদিব হরিকথকৃষ্টহৃজ্জন্মতাে য- স্তস্যৈবেয়ং কৃতিরপি হরের্দাস ইত্যাদৃতস্য । * (প্রজাদিগের উপর নানা প্রকার কর ধার্য্য না করেন ); এবং এমন দুর্ভিক্ষ ঝটিকা ও মারীভয় যেন আর কখনই না হয়। * ইহার উৎপত্তিসময়ে ধাত্রী (পৃথিবী) কি স্বয়ং ধাত্রী হইলেন? এই প্রকার মনে করিয়াই আনন্দেতে অন্তঃপুর মধ্যে অদ্ভুত হরি হরি ধ্বনি হইয়া- ছিল।২ বােধ হয় যেন সেই হরিধ্বনির মাহাত্ম্যক্রমে যিনি জন্মাবধি হরি কথায় আকৃষ্টচিত্ত হইয়াছেন এই গ্রন্থখানিও, সেই “হরির দাস” বলিয়া সমা- দৃত কোন ব্যক্তিবিশেষের রচিত। ১। যদিও রাজ্য রক্ষার নিমিত্তও সর্বদা ধন সঞ্চয় করার প্রয়োজন ; এজন্য “অসন্তুষ্ট। দ্বিজা নষ্টাঃ সন্তুষ্ট ইব পার্থিবা?” এই বাক্যে নাতিশাস্ত্রে রাজদিগকে সন্তুষ্টচিত্ত অর্থাৎ যদৃচ্ছা- লাভসন্তুষ্ট ভিক্ষুদিগের ন্যায় নির্লোভচিত্ত হইতে নিষেধ করিয়াছেন বটে; তথাপি প্রজা- দিগের অনমিতে ধনাহরণ করা তাহাদিগের কর্তব্য নহে; যেহেতু প্রজাদিগের মনােরঞ্জন করাই “রাজ” শব্দের ব্যুৎপত্তিলভ্য অর্থ। তথাচ বিষ্ণুপুরাণে রাজেতি জনরঞ্জনাদিতি। ২। বৃত্তান্ত এই, এই গ্রন্থকার জন্ম সময়ে কোন ধাত্রী উপস্থিত ছিল না ; ইতি অনা- সেই স্বয়ং ভূমিষ্ঠ হ। ইহাতে অন্তঃপুরবাসিনী সকলেই হঠাৎ আনন্দধ্বনি করাতে ইহার পিতা তৎকারণ জিজ্ঞাসা করিয়া জানিলেন যে পুত্র সন্তান হইয়াছে। অতএব সন্তান জন্মাইবার পূর্বে পিতার অন্তঃকরণে যেরূপ ব্যাকুলতা উপস্থিত হইয়া থাকে, তাহা কিছুমাত্র হওয়াতে তিনি হর্ষপূৰ্ব্বক হরিধ্বনি করিতে আদেশ করিলেন। তাহাতে সকলে মিলিত হইয়া হরিধ্বনি করিয়াছিল এবং তদনুসারে ইহার নামও রক্ষিত হইয়াছিল। জন্মকালে উললু ধ্বনি ব্যতীত হরিধ্বনি হওয়ার কখনই সম্ভাবনা নাই। অতএব ইহার জন্মকালে যে হরিধ্বনি হইয়াছিল ইহা একটী অদ্ভুত ব্যাপার বটে। ৩। মূলস্থ “ইব” শব্দটী উৎপ্রেক্ষাব্যঞ্জক ; তথাচ কাবাদর্শে “মধ্যে শঙ্কে ধ্রুবং প্রায়াে- নুনমিত্যেৰমাদিভিঃ। উৎপ্রেক্ষা ব্যজাতে শব্দেরিব শব্দোহপি তাদৃশ” ইতি। ৪। মূলস্থ “অপি” শব্দটী অনুক্তসমুচ্চয়ার্থে প্রয়ােজিত হইয়াছে। তাহা দ্বারা ইহা জানাইতেছে যে “সংস্কৃত কোকিল দূতখানিও ইহার প্রণীত। এতদ্ভিন্ন শব্দ, অলঙ্কার, গর্শন ও ধর্মশাস্ত্রবিষয়ক কয়েক খানি গ্রন্থও ইনি রচনা করিয়াছেন। এবং ইনি সম্প্রতি কবিসময়
কমলাকরুণাবিলাস
৯৩
সম্প্রতি তস্য মহােদয়স্তাদয়াৰ্থমেতন্নারায়ণস্তোত্ৰসমুদিতং পঠতে।
তথাহি
সাক্ষাদ্ব্ৰহ্মস্বরূপং নিরুপমপরমােদারকারুণ্যপূর্ণ
বামমারুন্যস্তলােলা,মুখকমলললল্লাচনং লােকপাম্।
অধ্যাসীনং খগেন্দ্রং সজলজলধরশ্যামলং পদ্মমালং
বন্দে নারায়ণং তং ধৃতকমলগদাশঙ্খচক্রং করাজৈঃ ১।
বন্দ্যং বৃন্দারকাদ্যৈর্নবযুবসরুচিং২ সচ্চিদানন্দরূপং
স্বাত্মারামৈমুনীঃৈ কথমপি হৃদয়ে স্থাপিতং ভন্তিযােগৎ।
তত্ত্বাতীতং মহত্ত্বস্মিতমুখকমলং জানকীনন্দকং
নাথ ত্বাং যুদ্ধবীরং দশমুখনিধনে রামপং ননামি। ২।
বলে বৃন্দাবনে ত্বাং ব্রজ কুলললনালাস্যলীলাবিলাস
রাধাপ্রেমপ্রমুগ্ধং মণিমুকুটলসচ্চারুবহাবতংস।
নীলাশ্মেঘপ্রকাশং মধুররসনিধিং বিদ্যুদাভাসবাসং
গগাবিন্দং গােপবেশং যদুকুলতিলকং গােকুলানন্দমূর্তি। ৩।
সান্দ্রানন্দং সুরেন্দ্রঃ করকমলপুটৈঃ স্তয়মানং সমস্তাদ
দেবং কারুণ্যসিন্ধুং শমদমনিরতং শুদ্ধসত্ত্বস্বরূপ।
মিথ্যাত্বং দর্শয়ন্তং জগদুপকৃতয়ে কর্মকাণ্ডঞতীনাং
ত্বাং দুষ্টান্ মােহন্তং বিয়তপশুবধং যুদ্ধ রপং স্মরামি। ৪।
নিরূপণ” ( যাহাতে ভারতীয় প্রধান প্রধান কবিদিগের বর্তমান সময় নিরূপিত হইয়াছে।
নামক গ্রন্থও প্রণয়ন করিতে আরম্ভ করিয়াছেন।
১। লােলা লগীরিতি। সতৃষ্ণে চঞ্চলে লােল। জিকমলয়ােঃ খ্রিয়াম। ইতি
মেদিনী।
২। নবদুর্বাদলশ্যাম।
৩। আনন্দমুল।
।। বাসঃ অকারাঃ বমিত্যম।
৯৪ 1 কমলাকরুণাবিলাস পুণ্যপ্রেমপাদ্যৈঃ প্রণয়সরসিজৈর্ভক্তিগন্ধেন সম্য- গাঢ়াসক্তিযুক্তেঃ সুললিতবলিভিঃ প্রেমনৈবেদ্যদানৈঃ। শ্ৰীকৃষ্ণাখ্যং মহস্তৎ স্তুতিনতিরতিভিঃ পূজয়িত্বা মনং দত্ত্বাত্মানং চ তস্যাভয়দপদযুগে দক্ষিণান্তং বিধেহি । ৫। কস্তাং স্তোতুং সমর্থস্তব গুণগণনাং কোহপি শক্তো ন কৰ্ত্ত কর্ল্ডং চেষ্টা, তথাপি স্তবমনুদিনং বৰ্ত্ততে মামকীনা। তেনাহং নৈব নিন্দ্যস্তব চরণরতিমূঢ়ধীরত্র বিষ্ণো তস্মন্মেপূতমেতদ্বচনমপি হরে ত্বস্তুতৌ নিৰ্ম্মলং স্যাৎ ॥ ৬ ত্বং ক্ষৌণী ব্যোম বহ্নির্জলমসি পবনশ্চমাশ্চরােচি- স্বঞ্চ ব্রহ্মা পুরারির্ভয়মভয়মপি ব্যক্তমব্যক্তমেবং। ত্বং ব্রহ্মাণ্ড প্রপঞ্চং সৃজসি চ হরসি স্থাপয়স্যন্তরালে কালব্যালাবলীঢ়ং পতিতমপি কুরু স্বীয়দাসং প্রভাে মাম্ ॥ ৭ আয়ুঃ কল্লোললােলং জলজলজলস্পৰ্ধিনাে বন্ধুবর্গা লক্ষমীঃ সংকল্পকল্লা জলদগততড়িদ্বিভ্রম যৌবন : বােগাগারং শরীরং তদপি চ মনুজৈর্মায়য়া তে বিমুগ্ধৈঃ সংসারাসক্তচিত্তৈঃ ক্ষণমপি ন বিভাে চিন্তিতঃ শাশ্বতম্ ॥ ৮ হে প্রাণেশ প্রসীদ প্ৰণতজনমমুং মােহিতং রক্ষ মােহা- ধৰ্ম্মে বুদ্ধিং বিধেহিং প্রবলতরমঘং সংহরাশেষরূপ। ভক্তিত্বৎপাদপদ্মে মম ভবতু সদা প্রার্থয়ে দীনবন্ধো সাধূনামেকবন্ধুস্থমসি মুরহর ত্বং গতিঃ পাপিনাঞ্চ। ৯। ১। অত্র কথিতপদদোযাে নাশঙ্কনীয়ঃ। বিহিতানুবাদ্যত্বেন তস্য পরিহরণীয়ত্বাৎ। ২। ব্যক্তং জগৎ জুলাবস্থা। অব্যক্তং প্রধানং সুশ্রাবস্থা। ৩। বিদেহীতি বা পাঠঃ।
কমলাকরুণাবিলাস ৯৫ বৃন্দরিণ্যে বরেণ্যব্রজকুলসুদৃশং চারুবেণীং প্ৰণীয় প্রেদিল্লীপ্রমােদং বিলুলিতমধুপং শীলয় মালমস্যা। চঞ্চম্মাধুৰ্যসিন্ধুঃ প্রমুদিতমদননা মাধবব মাধবীভি- যান্তৈঃ প্রসূনৈর্বিরচিতশয়নে ত্ৰায়তাং নঃ শয়ানঃ ! ১০। (ততঃ সামাজিকা প্রতি প্রস্তুত বন্ধস্থ প্রতিমূর্তি দর্শয়িত্ব পঠতি) ৪ চক্রবন্ধঃ দ্বিগ্নি ল शा এ # তমি শোনা all ১। নিত্যবৃন্দাবনে। ২। বিলুলিস্তরলিতাঃ মধুপা যত্র তৎ। বিলুলিতস্তরলিত- ইতি ভূরি প্রয়োেগঃ। ৩। মাধব পত্নী মাধবী অর্থাৎ গােপিকা। তথাচ গােপালতাপনীয়ে গােপীঃ প্রতি দুর্বাসা। স বে হিস্বামী ভবতীতি। রাসপ্রসঙ্গে চ ভগবান্ বাদরায়ণিঃ “কৃষ্ণবধ্ব” ইতি প্ৰাহ। এইটী যথার্থ তত্ব হইলেও প্রকট লীলাতে রসের অধিক্যহেতু যোগমায়ার প্রভাবে পরকীয়াভাবের আবির্ভাব হইয়া থাকে। ৪। এইটী শ্রীকৃষ্ণের করস্থ কালচক্র। ইহার প্রতিমূৰ্ত্তি প্রকাশ করিয়া উপাসনা কর। যাইতেছে। ইনি যেন আর কুটিল গতিতে মা চলেন।
১৬ কমলাকরুণাবিলাস যদ্ধি গিরা যশাে নাম যশস্বিনায়তং মিথঃ১। ভুবি ধীরা ধাধাম তদ্বত নাগরা অথ।* * যে কোন যশস্বী ব্যক্তি অর্থাৎ কবিজন বাক্যের দ্বারা যে যশকে বিস্তীর্ণ করিয়াছেন, তাঁহার সেই সুধাময় যশের কথা হে নাগরগণ! (রসবিদগ্ধ জন সকল।) আপনারা পরস্পরকে বলিতে থাকুন। অর্থাৎ পূর্ধ্বতন কবিদিগের যশো বর্ণনা দ্বারা অধুনাতন কবিদিগকে প্রােৎসাহিত করুন্। ( এখানে মূলস্থ“ অথ” শব্দটীর অর্থ অনন্তর এবং মঙ্গল ; এজন্য ইহা মঙ্গলসূচনাৰ্থ গ্রন্থের শেষে প্রয়াে- জিত হইয়াছে। মঙ্গলানন্তরারম্ভ প্রশ্নকাৎদেখাে অথেত্যমর।) ১। নানুস্বারবিসর্গেীচ চিত্রভঙ্গায় সম্মাবিতি পূৰ্বমুক্ত। ২। অত্র বহুত্বেংপেকবচনং জাতিবিবক্ষয়া সম্পন্নো শত্ৰ ইতি বৎ। তথাপি বহুত্বঃ বােধয়ত্যেব জাত্যা ব্যঞ্জিং ব্যঙ্গাত্বাৎ। অতএব জাত্যাখ্যায়ামেকস্মিন বহুমমতরস্যামিতি পাণিনিতম্।
বিজ্ঞাপন vহরিমােহন প্রামাণিক মহাশয়ের রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে কমলা- করুণাবিলাস নাটক ব্যতীত নিম্নলিখিত দুই খানি গ্রন্থ প্রকাশিত হইয়াছে। ১। সংস্কৃত-কোকিলদূতম্ (কাব্য) শীঘ্রই দ্বিতীয়বার মুদ্রাঙ্কিত হইবে। ২। ভারতবর্ষীয় কবিদিগের সময় নিরূপণ শেষােক্ত গ্রন্থ সম্বন্ধে কতিপয় সংবাদপত্র ও পণ্ডিতগণের মত বঙ্গবাসী, ২২ ডিসেম্বর, ১৮৯৫ বহুকাল পরে এরূপ একখানি বহু গবেষণাপূর্ণ, বহুচিন্তাপ্রসূত, বহুশ্রমসাধ্য গ্রন্থ সমালােচনা করিতে পাইয়া অমরা পরম আনন্দিত হইয়াছি। গ্রন্থের আলােচ্য বিষয় গ্রন্থের নাম করণেই পরিস্ফুট; তাহার অন্য পরিচয় দিবার কোনই প্রয়ােজন নাই। এই মাত্র বলিলেই যথেষ্ট হইবে যে, গুণাঢ্য হইতে আরম্ভ করিয়া চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার পর্যন্ত এই আলােচনার বিষয়ীভূত। আজ বাইশ বৎসর হইল এই গ্রন্থ রচিত হইয়াছিল। আজ বাইশ বৎসর পরে, গ্রন্থ- কারের পরলােকান্তে, তাহার কৃতী ও উপযুক্ত পুত্র বাবু যশােদানন্দন প্রামাণিক তাঁহার পিতৃকীর্তির স্থায়িত্ব বিধান করিলেন। এই বাইশ বৎসরের মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে অনেক নুতন তত্ত্বের আবিষ্কার হইয়াছে; সুতরাং ইহা সহজেই অনুমেয় যে, এই গ্রন্থে প্রকটিত কোন কোন মতের ও নির্ধারণের সহিত এক্ষণে দ্বৈধ উপস্থিত হইবে। যােদা বাবু যেরূপ সুশিক্ষিত ও সদ্বিবেচক, তাহাতে তিনি, ইচ্ছা করিলেই এই মতদ্বৈধের কারণ অপনােদিত করিতে পারিতেন। তিনি যে তাহা না করিয়া তাঁহার পিতৃদেবের কীত্তি অপরিবর্তিত ও অক্ষুন্ন রাখিয়াছেন, ইহা ভালই করিয়াছেন, জাতীয় সাহিত্যের ইতিহাস সঙ্কলনের পথ পরিষ্কার রাখিয়াছেন। গ্রন্থকার যে স্বদেশ ও স্বভাষায় বিশেষ অনুরাগী ছিলেন, v তাহাতে সন্দেহ হইতে পারেনা; সে অনুরাগ না থাকিলে এত পরিশ্রম কেহ স্বীকার করেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলিতে ইচ্ছা করে। কথাটা এই যে, এই প্রেত নাটক ও প্রেতন্যাসের রাজত্বকালে এই চিন্তাপূর্ণ ও ও সচিপাঠ্য গ্রন্থের পাঠক যুটিবে কি? যদি না যুটে, সেটা বাঙ্গালি জাতির বড়ই দুর্ভাগ্য ও দুর্ণামের কথা। ভরসা করি, যে দুর্ভাগ্য ও দুর্নাম আমরা এড়াইতে পারিব । সময়, ৩০ বৈশাখ, ১৩০৩ রাজা বিক্রমাদিত্যের সময় হইতে আধুনিক কাল ( গ্রন্থকারের মৃত্যুকাল ) পর্যন্ত ১৬১ জন সংস্কৃত কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী সংগ্রহ করিতে কত পুস্তক পড়িতে হইয়াছে, কত অনুসন্ধান করিতে হইয়াছে, তাহা পাঠক অনুমান করিতে পারেন। এক জন বাঙ্গালী যে এত বৃহৎ ব্যাপারে হস্ত দিতে পারেন, ইহা আমাদের পূর্বে ধারণা ছিল না। আমরা এই গ্রন্থ খানি আদ্যোপান্ত পাঠ করিয়া পরম সুখী হইয়াছি। ৮.মােহন বাবু সংসার মধ্যে নানা কাৰ্য্যে লিপ্ত থাকিয়াও কি প্রকারে এই দুরূহ ব্যাপারে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন, ইহা আশ্চর্যের বিষয়। আরও আশ্চর্যের বিষয়, তিনি অতি অল্পকাল ৪৬ বৎসর মাত্র পৃথিবীতে ছিলেন । এই বয়সের মধ্যেই তিনি এই সুবৃহৎ কাৰ্য্য নিষ্পন্ন করিয়া গিয়াছেন। এতগুলি কবির জীবনী লেখা দূরে থাকুক, তাহাদের রচিত পুস্তক পাঠ দূরে থাকুক, বােধ হয় এমন কোন এদেশীয় পণ্ডিত নাই, যিনি এই গ্রন্থলিখিত কবিদিগের সকলের নাম ক.িতেও সক্ষম। বলা বাহুল্য, এত বড় কাৰ্যে অনেক দোষ ও ভ্ৰম থাকিবার সম্ভাবনা। আর গ্রন্থকার স্বয়ং যখন স্বীকার করিয়াছেন যে, ইহাতে অনেক ভ্রম আছে, তখন তৎসম্বন্ধে আমর কিছুই বলিবনা। তবে এই মাত্র বলি ইহাতে যে সকল আধুনিক কবির নাম আছে, তাহাদের মধ্যে অনেকেই কবি উপাধি পাইবার যােগ্য নহেন। আবার ৮ রামধন ন্যায়ভূষণ, বনমালী তর্কালঙ্কার, কমলাকান্ত ভট্টাচাৰ্য, ইত্যাদি বহু নাম বাদ পড়িয়া গিয়াছে। আমাদের বিবেচনায় হরিমোহন বাবুর উপযুক্ত পুত্র যশােদানন্দন বাবু যদি এই সকল অভাব মােচন করিয়া গ্রন্থখানি মুদ্রাঙ্কণ করিতেন, তাহা হইলে তাহার ন্যায় উপযুক্ত লােকের কাৰ্য্য হইত। বােধ হয় যশােদানন্দন বাবু তাঁহার পিতার লেখায় কোন হস্তক্ষেপ করিবেন না মনে করিয়া এরূপ সংশােধন করেন নাই। গ্রন্থের কাগজ ও মুদ্রাঙ্কণ অতি পরিপাটী হইয়াছে। তবে আক্ষেপের বিষয় এই, আমাদের দেশে এরূপ গ্রন্থের আদর নাই। বিলাত হইলে ইহা মুদ্রাঙ্কণ হইবামাত্র বিক্রয় হইয়া যাইত। এডুকেশন গেজেট, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৬ এরূপ পুস্তক বাঙ্গালায় আর নাই। ইহাতে অতি প্রাচীন কালের কাব্য হইতে জীবিত সংস্কৃত কবি মহামহােপাধ্যায় চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কারের “সতী- পরিণয়” এবং শ্রীযুক্ত মহেশচন্দ্র চূড়ামণির “কাব্যপেটিকা” পৰ্য্যন্ত উল্লেখ আছে। পুস্তকখানি স্বর্গীয় গ্রন্থকারের অনেক পরিশ্রমের ফল ; নমুনা স্বরূপে একটি প্রবন্ধের কিয়দংশ উদ্ধৃত করিয়া দিলাম। পুরােহিত ও অনুশীলন, ৩য় ভাগ, ৪র্থ সংখ্যা ভারতবর্ষীয় প্রাচীন কবিদিগের লিখিত কোন বৃত্তান্ত নাই। পূর্বে আমাদের এতাদৃশ বিষয়ের বিবরণে ততটা আগ্রহ ও অনুরাগ ছিল না। বিদেশীদের সমাগমে আমরা পুরাকালের প্রত্যেক বিষয় অবগত হইতে এখন ব্যস্ত ও যত্নপর। এই শ্রেণীয় চেষ্টার অন্যতম ফল—এই “ভারতবর্ষীয় কবি দিগের সময় নিরূপণ”। প্রতীচ্য দেশবাসী মহাত্মগণ এবং বাঙ্গালার মুখােজ্জল- কারী ডাক্তার রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্ৰ, সৰ্বজনপরিচিত অক্ষয়কুমার দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রামদাস যেন প্রভৃতি কতিপয় শিক্ষিত ও বিখ্যাত পুরাতত্ত্ববেত্তা ব্যক্তিগণ, প্রাণপণ যত্ন ও আগ্রহে কবিশ্ৰেষ্ঠদিগের যে জীবনী লিপিবদ্ধ করিয়াছেন, তহাই নেত্রগগাচর হয়। তদ্ভিন্ন কত কবি নীরবে ভারতে আসিয়া নীরবে চলিয়া গিয়াছেন, তাহা সংখ্যা করা যায়না, বলিলেও চলে। যাহারা স্বীয় প্রতিভাবলে সৰ্বলােকপরিচিত হইতেন, তাহাদের জীবন বৃত্তান্ত কোন পুস্তকে অর্ধ ছত্র বা এক পঙক্তি মাত্র দেখিতে পাই। আবার তাহাও কিংবদন্তীত পরিপূর্ণ। কবিদিগের স্বরচিত পুথিতে যে পরিচয় পাওয়া যায়, তাহাই তাঁহাদের জীবনবৃত্তান্ত ও সময় নিরূপণ করিবার পক্ষে এক মাত্র ভরসাস্থল। বড়ই আহলাদের বিষয় যে, এখন আধুনিক কবিদিগের জীবন বিবরণ লিখিত ও আলােচিত হইতেছে।
এই পুস্তক সংগ্রহে স্বর্গীয় গ্রন্থকারের যথেষ্ট যত্ন ও প্রয়াস দেখিতে পাওয়া যায়। আমাদের বিশ্বাস, এই পুস্তক অল্প দিনে রচিত হয় নাই। ইহা বহু দিনের গবেষণার ফল। । ঘঁহারা প্রাচীন কবিদিগের বিষয় জানিতে ইচ্ছ, তাঁহারা এই গ্রন্থপাঠে নিরানন্দ হইবেন না। পুস্তকের ভাষা, চতুর্বিংশতি বৎসরের পূর্বের হইলেও, বিশুদ্ধ ও মার্জিত। পরিশেষে প্রকাশক সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলিতে ইচ্ছা করি। প্রকাশক শ্ৰীযুক্ত যশােদানন্দন প্রামাণিক, এম্ এ, বি এল মহাশয়, গ্রন্থকারের কৃতী সন্তান। তিনি কলিকাতার সর্বোচ্চ বিচারালয়ে আইনব্যবসায়ী। এই পুস্তক প্রকাশ করিয়া তিনি স্বর্গীয় পিতৃদেবের শুভাশীৰ্বাদপত্র ও আমাদের কৃতজ্ঞতা ভাজন ইয়াছেন। বঙ্গভাষার প্রতি তাহার অচলা ভক্তির নিদর্শন, এই পুস্তক প্রচারে সুব্যক্ত। The Bengalee, 28th December, 1895. The country ought to be grateful to Babu Jasodanandan Pramanik, M. A., B. L., for giving out to the public his father's posthumous work, which is a chronological account of nearly two hundred poets. The account, begins with poets some of whom flourished in the ante-Vikramaditya age of Indian literature and ends with writers in classic sanskrit some of whom are living amidst us yet. The author himself was a Sanskrit poet of no mean merit, and an edition of his poem, the Kokiladuta was before the public scveral years ago. The treatment accorded to each poet in the present work, though necessarily brief, is thorough ; and the amount of scholarship brought to bear upon the subject is without doubt surprising. The scope of the work and the treatment are the author's own; and while guiding himself by all the light that the European research of his day in the dark field of Indian chronology had to throw, the author had sufficient conuder.ce in his own conclusions to put boldly forth, and marshal evidence in favour of, the views that his own researches had led him to. In points of Indian chronology there are hardly statements that can yet be regarded as final ; and results of recent research would have led the author, had he been living to-day, to modify his conclusions in certain places. As it is, the present work is not merely remarkable as being unique of its kind in the whole range of Bengali literature, but has a far wider interest as a valuable, independent and original contribution to the ever-growing literature of Indian antiquities. The Calcutta Gasette, June 17, 1896. A short account of the Sanskrit poets of India, beginning with Gunadhya, the writer of the Vrihat-Katha, and ending with the author himself, who wrote in Sanskrit a poem called the Kokiladuta. Though the chronological portion of the book is open to criticism, there can be no doubt that it shows a good deal of patient research and contains a mass of interesting information regarding the earlier poets. It is written in good correct Bengalec. The author is not living, and the werk under notice has been published by his son, a wellknown High Court pleader: শ্ৰীযুক্ত বাবু কালীপ্রসন্ন ঘােষ, ঢাকা “ ভারতবর্ষের কবিদিগের সময়নিরূপণ” প্রকৃতই অতি উপাদেয় গ্রন্থ হইয়াছে। যদিও ইহাতে অনেক অভাব ও অপূর্ণতা আছে, কিন্তু এখনকার বঙ্গে এরূপ গ্রন্থ সৰ্বাংশেই অপূৰ্ব্ব। আমি গ্ৰন্থখানি নিত্য ব্যবহারের জন্য নিকটে রাখিয়াছি এবং ইহা পাঠ করিয়া প্রকৃতই সুখী হইয়াছি। Extract from a letter of Mr. R. C. Dutt, B. C. S., dated the 23rd of July 1896. I will read your father's work and consult it with the greatest interest ani profit. There are many things in the book connected with the lives of the authors of a deeply interesting nature, which your father has brought together in a convenient shape. And even the traditions and stories connected with these ancient authors have an interest and a value,
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.